পবিত্র ইঞ্জিল শরিফ ৬ নম্বর ছিপারা

আল-রোমান

পরিচিতি

আছমানি কিতাব পবিত্র ইঞ্জিল শরিফর পয়লা হিস্যা মানি, পয়লা পাচ ছিপারার মাজে হজরত ইছা আল-মসীর জনম, তান কাম-কাজ, তালিম, তান মউত, মউতর বাদর জিন্দেগির বয়ানি। তান সাহাবি অকলর কাম-কাজ, আর হউ জমানার জমাত অকলর কিছু ইতিহাস।

আর ইঞ্জিল শরিফর দুছরা হিস্যা অইলো, চিঠির আকারে লেখা বাদর ২১ ছিপারা। অখনাইন পড়লে আমরা বুজতাম পারমু, হউ আমলর ইছায়ী জমাত অকলর হাল-হকিকত, চাল-চলন, তারার ইমান আর দুনিয়াবি আচার-বেবহার কিলাখান আছিল। অউ আল-রোমান ছিপারা অইলো, ই হিস্যার হকল পয়লা ছিপারা, ইখান বউত মুল্যবান।

অউ ছিপারার লেখক হজরত ইছা আল-মসীর সাহাবি হজরত পাউলুছ (রাঃ)। হজরত ইছায় দুনিয়া থাকি বেহেস্তো তশরিফ নেওয়ার অনুমান ২৫ বছর বাদে অউ ছিপারা লেখছইন। ইখান লেখার আগে তাইন কুনুদিন রোম টাউনো গেছইন না। অখন তান খিয়াল অইলো, নানান দেশো তবলিগ করি করি, রোম টাউনো যাইতা, বাদে অন থাকি স্পেন দেশো যাইবা। এরলাগি রোম টাউনর ইছায়ী উম্মত অকলরে তান ছফরর কথা জানাইরা। এরলগে বউত জরুরি তালিম আর নছিয়ত জানাইরা।

ই ছিপারার ১-৮ রুকুর মাজে তান তালিমর খুব গুরুত্বপুর্ন নছিয়ত আছে, খাছ করি হজরত ইছার উপরে ইমান আনলে মানুষ কেমনে আল্লার দরবারো বে-কছুর খালাছ হিসাবে গইন্য অয়, আর আল্লার দেওয়া পাক রুহ পাইয়া হারি কিলা পাক-পবিত্র জিন্দেগি কাটায়, যেলা ১:১৭ আয়াতো লেখা আছে, “ইমানর বলেউ বে-কছুর খালাছ অওয়া জনর জান বাচিবো।”

৯-১১ রুকুত লেখা আছে, হজরত মুছা (আঃ) অর শরিয়তর হুকুম-আহকাম পুরাপুর মানতে অপারগ অওয়ায় বনি ইছরাইল জাতি আল্লার নাফরমান বনিগেছে, আর অউ শরিয়তর উপরে ভরসা করায় তারা হজরত ইছার খুশ-খবরিরেও এলামি করছে। আসলে অউ খুশ-খবরির উপরে ইমান আনলেউ হেশ-মেশ তারার জান বাচিব।

বাদে ১২-১৬ রুকুত আছে, আল্লার দরবারো কবুল কুরবানি হিসাবে কিলা নিজরে সপি দেওয়া যায়, আর জমাতর মানষর লাগি বাস্তব জিন্দেগির চাল-চলনর তালিম, দেশর রাজা বা সরকারর লগে মুমিন অকলর সম্পর্ক কিলাখান অইবো, অতা নানান বেয়াপারে যুক্তি-তর্কর নমুনায় অউ ছিপারা লেখা অইছে।

এরমাজে আছে,

(ক) আল্লার দরবারো মানুষ কিলা বে-কছুর খালাছ অইন ১—৮ রুকু

(খ) শরিয়তে অপারগ অইলেও বনি ইছরাইলর হেশ রক্ষা ইমানে ৯—১১ রুকু

(গ) ইছায়ী মুমিন অকলর চাল-চলন ১২—১৬ রুকু

1

আল্লার দরবারো মানুষ কিলা বে-কছুর খালাছ অইন (১:১-৮:৩৯)

মানষর জান বাচানির খুশ-খবরি

1আমি পাউলুছ তো হজরত ইছা আল-মসীর গুলাম। রোমান বাদশাইর রাজধানি রোম টাউনর মুমিন অকলর গেছে অউ ছহিফা খান লেখরাম। আল্লা পাকে আমারে পছন্দ করিয়া আনছইন আল-মসীর সাহাবি অওয়ার লাগি আর তান বাতাইল খুশ-খবরি তবলিগ করার লাগি। 2আল্লায় তান নবী অকলর মাজদি পাক কিতাবর মাজে অউ খুশ-খবরির কথা আগেউ ওয়াদা করছইন। 3-4অউ খুশ-খবরি অইলো তান খাছ মায়ার জন ইছা আল-মসীর বেয়াপারে। তাইনউ আমরার মালিক। রক্ত-মাংসর ছিলছিলায় তাইন অইলা হজরত দাউদ নবীর আওলাদ, আর আল্লাই পাক রুহুর কুদরতিয়ে মুর্দা থাকি জিন্দা অইয়া ইবনুল্লা হিসাবে জাইর অইছইন। 5তান নাম উজিলা করার লাগি, তান মাজদিউ আমরা আল্লার নিয়ামত আর সাহাবি পদ পাইছি, যাতে হকল জাতির মানষে ইমান আনিয়া আল্লার বাইধ্য অইয়া চলে। 6অউ মানষর মাজে তুমরাও আছো। আল্লায় তো তুমরারে দাওত করিয়া আনছইন, ইছা আল-মসীর আপন জন অওয়ার লাগি।

7তে অউ রোম টাউনো আল্লার যতো মায়ার বন্দা অকল আছইন, আল্লায় তান পাক বন্দা অওয়ার লাগি যেরারে দাওত করিয়া আনছইন, তুমরা হকলর গেছে আমি অউ চিঠি খান লেখরাম। আমরার গাইবি বাফ আল্লা পাক আর হজরত ইছা আল-মসীয়ে তুমরারে রহমত আর শান্তি দান করউক্কা।

8আমি পয়লাউ কইরাম, তুমরার মজবুত ইমানর কথা আস্তা দুনিয়াইর মাজে রটিগেছে করি, আমি ইছা আল-মসীর নামে আমার আল্লার শুকরিয়া আদায় কররাম। 9আল্লার খাছ মায়ার জন ইবনুল্লার বেয়াপারে খুশ-খবরি তবলিগ করিয়া, আমি দিলে-জানে আল্লার এবাদত কররাম। এক আল্লাউ সাক্ষি আছইন, আমি পরতেক বার মুনাজাতর সময় তুমরার কথা ইয়াদ করি। 10আমি হামেশা অউ কথা মাগিরাম, অতদিন বাদে অইলেও আল্লার মর্জিয়ে যেকুনু মন্তে আমি যানু তুমরার গেছে আইতাম পারি। 11আমি তুমরার লগে দেখা করতাম চাইরাম, যাতে রুহানি কুনু নিয়ামত দিয়া তুমরারে বলবান করতাম পারি। 12মানি, আমার ইমান দেখিয়া তুমরা হকলে আর তুমরার ইমান দেখিয়া আমি নিজেও উত্‍সাহ পাই।

13ও ভাইয়াইন হুনো, আমি বউত বার তুমরার গেছে আইতাম চাইছি, অইলে বার বার বাধা আইছে। নানান জাগাত গিয়া ভিন জাতির গেছে তবলিগ করিয়া যেলা ফল পাইছি, তুমরার গেছেও অলা ফল দেখার আশায় আইতাম চাইরাম। 14ভদ্র ইউনানি জাতি বা অভদ্র বর্বর জাতি, শিক্ষিত বা অশিক্ষিত, হকলর লাগিউ তো আমার এক হমান দায়-ভার আছে। 15এরলাগি তুমরা যেরা রোম টাউনো বসত কররায়, আমি আমার সাইধ্য মাফিক তুমরার গেছেও খুশ-খবরি তবলিগ করার লাগি খিয়ালি।

16কারন হজরত ইছা আল-মসীর বেয়াপারে খুশ-খবরি তবলিগ করতে আমি কুনু শরম মনো করি না, অউ খুশ-খবরি হুনিয়া যেরা ইমান আনে, তারার জান বাচানির লাগি ইটা অইলো আল্লাই বল। পয়লা বনি ইছরাইলর লাগি যেরা এক আল্লা মানইন, বাদে বে-দীন ভিন জাতি অকলর লাগি। 17অউ খুশ-খবরির মাজেউ তো বাতাইল অইছে, আল্লায় কিলা মানষরে বে-কছুর খালাছ হিসাবে কবুল করইন। খালি ইমানর মাজদিউ মানষরে আউয়াল থাকি আখের পর্যন্ত বে-কছুর খালাছ কইয়া গইন্য করা অয়। যেলা কিতাবো লেখা আছে, “ইমানর বলেউ বে-কছুর খালাছ অওয়া জনর জান বাচিবো।”

হকল মানুষউ নাফরমান

18মানষে নিজর নাফরমানি দিয়া আল্লাই হকরে লুকাইয়া রাখে। তারার নাফরমানি আর আল্লার বায় ডর-খফ না থাকায় আছমান থাকি তারার উপরে গজব নাজিল অয়। 19আল্লার বেয়াপারে যতখান বুজার তাক্কত আছে ইতা মানষর গেছে পরিস্কার, আল্লায় নিজেউ তো ইতা জাইর করছইন। 20তান যেতা গুনাগুন মানষর আ-দেখা, মানি তান চিরকালিন খেমতা আর আল্লাই স্বভাব, ইতা দুনিয়া পয়দা অওয়ার আগ থাকিউ পরিস্কার ফুটিয়া উঠছে। তান পয়দা করা জিনিস দেখলেউ মানষে ইতা বুজতো পারে। এরলাগিউ তানরে চিনিনা কইয়া কুনু মানষে ভানা দেখানির উপায় নাই। 21আল্লার বেয়াপারে অততা জানার বাদেও মানষে তানরে আল্লা ভাবিয়া তান এবাদত-বন্দেগি আর শুকুর-গুজারি না করায়, তারার বিচার-বিবেক অসার অইগেছে আর বেআখল মন আন্দাইর অইগেছে। 22যুদিও তারা নিজরে আখলদার মনো করইন, আসলে তারা বেআখল। 23তারা চিরকালিন জিন্দা আল্লার এবাদত বাদ দিয়া অস্থায়ী মানুষ, পশু-পাখি, আর বুকে চলরা জানদারর মুর্তি বানাইয়া অতার পুজা করছে, আল্লার পাওনা গৌরব-মহিমা অতারে দিছে।

24এরলাগি আল্লা পাকেও তারার দিলর বদ খাইশ মাফিক, তারারে নফরতি কামর আতো ছাড়ি দিছইন, অতার দায় তারা একে-অইন্যর লগে বদমাইশি-বেইজ্জতি করের। 25তারা আল্লার হকরে বাদ দিয়া মিছারে পছন্দ করছে। পয়দা কররা আল্লারে বাদ দিয়া, তান পয়দা করা জিনিসর পুজা করছে। অইলে যুগে যুগে চিরকাল হকল তারিফ একমাত্র পয়দা কররা আল্লারউ। আমিন।

26মানষে অলাখান নফরতি কাম করের দেখিয়া, আল্লায়ও তারারে অউ বদ খাইশর আতো সপি দিছইন। অতার বেটিন্তেও জামাইর লগে মিলা-মিশা বাদ দিয়া অইন্য বেটিন্তর লগে খবিছি কাম করছে। 27অউলা বেটাইন্তেও বেটিন্তর লগে মিলা-মিশা বাদ দিয়া অইন্য বেটার লগে মিলা-মিশার লাগি পাগল অইগেছে, বেটাইন্তে বেটাইন্তর লগে খবিছি কাম করছে। এরলাগি তারা পরতেকর জিন্দেগিত যারযির বদ কামর সাজা পাইরা। 28মানষে তার দিল থাকি আল্লা পাকরে মানের না দেখিয়া, আল্লায়ও তারারে অলা বদ খাইশর খবিছি দিলর আতো ছাড়ি দিছইন, এরলাগি তারা অতা করাত রয়। 29তারা হকল নমুনার নাফরমানি, বদ কাম, লোভ-লালছ, ইংসা-নিন্দা, খুন-খারাপি, মারা-মারি, ছল-চতুরি আর কানা-কানি করার লাগি উস্তাদ। 30তারা মানষর গিবত গায়, আর আল্লারে ঘিন্নায়। তারা বদ-মিজাজি, অহংকারি, বড়াই-বেটাগিরি আর নয়া নয়া নাফরমানির ধান্দায় থাকে। তারা মা-বাফরও অবাইধ্য। 31নেকি-বদি বুজার আখল নাই, ওয়াদা খেলাফ কারি, পাষান, ইতার দিলো কুনু দয়া-মায়া নাই। 32তারা তো আল্লার ই বিচারর কথা ভালা করিউ জানে, যেরা ইলাখান কাম করে, তারার সাজা অইবো মউত। ইখান জানিয়াও, তারা খালি নিজে ইতা করে না, বাকি যেরা ইলা কাম করে, তারার পক্ষেও সায় দেয়।

2

মানষর গুনার বিচার

1এরলাগিউ কইরাম, ও মানুষ জাতি, তুমি তো অইন্য জনরে দুষি সাইবস্তো কররায়, ইতা বিচার তুমি হিকলায় কিলা? তুমার জুয়াপ দিবার কুনু পথ আছে নি? কারন তুমি নিজে যে অপরাধ কররায়, অউ একই অপরাধে তুমি আরক জনরে দুষি কইরায়। তে ই দুষ তুমার উপরেও পড়ের না নি? 2আমরা তো জানি, যেরা ইলাখান অপরাধ করে, আল্লায় হক ইনছাফ মাফিক তারার পাওনা সাজা দিবা। 3ও মানুষ জাতি, যে কাম তুমি নিজেও করো, অউ একই কামর লাগি তুমি আরক জনরে দুষি সাইবস্তো করো, তে কেমনে বুজলায়, তুমি আল্লার সাজা থাকি রেহাই পাইলিবায়? 4তুমি তো আল্লা পাকর অশেষ মেহেরবানি, তান ধৈর্য-শক্তি আর ছবরগারিরে এলামি কররায়। তান মেহেরবানিয়ে তুমারে খালি তৌবা করার পথে টানিয়া নেয়, ইখান ফাউরিলিছো নি?

5অইলে তুমার পাষান দিল আর তৌবা না করার মনোভাবর লাগি, তুমার উপরে আল্লার গজব দলা করি থইরায়, আল্লায় যেদিন গজব জাইর করবা, হক বিচার করবা, হউ দিনর লাগি সাজা দলা কররায়। 6তাইন পরতেক মানষরে যারযির কামর ফল দিবা। 7যেরা ধৈর্য ধরিয়া নেক কামর মাজদি আল্লাই তারিফ, ইজ্জত, আর ক্ষয়হীন জিন্দেগি তালাশ করে, আল্লায় তারারেউ আখেরি জিন্দেগি দান করবা। 8অইলে যেরা নিজর খাইশর বশে চলে, আল্লাই হকর বিরুদ্ধে রয়, নাফরমানির পক্ষে থাকে, তারার উপরে আল্লাই দুখ-মছিবত, গজব আর লান্নত আইবো। 9পরতেক নাফরমানর উপরে ইতা আইবো, পয়লা বনি ইছরাইলর উপরে, বাদে ভিন জাতির উপরে। 10অইলে যেরা নেক কাম করে, তারা পরতেকে তারিফ, ইজ্জত আর শান্তি পাইবো। পয়লা বনি ইছরাইলে বাদে ভিন জাতিয়ে পাইবা। 11আল্লার দরবারো তো পক্ষপাতির কুনু কারবার নাই, হকলউ হমান।

12শরিয়তর বাইরে রইয়া যেতা মানষে গুনা করছে, তারা বিনাশও অইবা শরিয়ত ছাড়া, আর শরিয়তর ভিতরে রইয়া যেরা গুনা করে, অউ শরিয়ত মাফিকউ তারার বিচার অইবো। 13যেতা মানষে শরিয়তর বয়ান খালি হুনে, আল্লার নজরো তো তারা বে-কছুর নায়, অইলে যেরা শরিয়ত আমল করে, তারাউ খালি বে-কছুর খালাছ কইয়া গইন্য অইবা। 14ভিন জাতি অকলে আল্লাই কুনু শরিয়ত না পাইলেও, তারা যেবলা এমনেউ শরিয়ত মাফিক চলইন, অউ সময় তারার বিবেকউ শরিয়ত বনিযায়। 15এতে দেখা যায়, শরিয়ত মাফিক যেতা করা জরুর, ইতা তারার দিলর বিবেকর মাজে লেখা আছে। তারার বিবেকে তারার কামর সাক্ষি দেয়, কুনু কুনু সময় তারার বিবেকে তারারে দুষি সাইবস্তো করে, আর কুনু কুনু সময় তারার পক্ষেও সায় দেয়। 16তে আল্লায় যেদিন ইছা আল-মসীর মাজদি হকল মানষর লুকাইল আমলর বিচার করবা, হউ দিনউ ইতা জাইর অইবো। আর আমি অখন যে খুশ-খবরি তবলিগ করিয়ার, অউ মাফিকউ বিচার অইবো।

বনি ইছরাইল আর শরিয়ত

17তুমি যেবলা নিজর পরিচয় দিরায় বনি ইছরাইল কইয়া, তুমি হজরত মুছার শরিয়তর উপরে ভরসা কররায় আর আল্লার মায়ার বন্দা কইয়া বড়াই দেখাইরায়। 18তে আল্লায় তুমার গেছ থাকি কিতা আশা করইন, তুমি কিতা করতায়, ইখান তো তুমি জানোউ, শরিয়ত থাকি তুমি ইতার তালিম পাইছো। 19তুমি মনে মনে কইরায়, আমি তো আন্দারে পথ দেখাইয়ার, আন্দারিত যেতা আছইন, ইতার গেছে আমি নুরর রুশনি। 20বেআখলরে হেদায়ত করিয়ার, হুরুতাইনরে তালিম দিয়ার। তুমি বুজরায়, শরিয়তর ভিতরে হক আর আখল-বুদ্ধি আছে। 21ইতা খুব ভালা কথা, অইলে তুমি যেবলা অইন্য মানষরে হিকাইরায়, তে নিজেও ইতা হিকো না কেনে? তুমি মানষরে কইরায়, চুরি করিও না, অইলে তুমি নিজেউ চুরি কররায় না নি? 22মানষরে কইরায়, জিনা করিও না, অইলে তুমি নিজে কুনু জিনা কররায় না নি? তুমি তো দেব-দেবীর মুর্তিরে ঘিন্নাইরায়, হিরবার নিজেউ মুর্তির মন্দিররে লুট-তরাজ কররায় না নি? 23যে শরিয়ত লইয়া তুমি বড়াই কররায়, ই শরিয়তর উল্টা চলিয়া তুমি নিজেউ আল্লারে অসম্মান কররায় না নি? 24আল্লার কালামো আছে, “তুমরার চাল-চলন দেখিয়া ভিন জাতি অকলে আল্লার নামরে বেইজ্জত করের।”

25হুনো, তুমি যুদি শরিয়ত মানিয়া চলো, তে মছলমানি কাম করানির দাম আছে, আর শরিয়ত মাফিক না চললে, মছলমানি কাম করাইলেও যেতা, না করাইলেও অতা। আল্লার নজরো তুমি মছলমানি না করাইল বে-দীনর লাখান। 26অখন মছলমানি না করাইয়াও যুদি কেউ শরিয়ত মানিয়া চলে, তে আল্লায় তারে মছলমানি করাইল কইয়া সমজিতা নায় নি? 27আর মছলমানি না করাইল মানষে যেবলা শরিয়ত মানিয়া চলে, তে লিখিত শরিয়ত পাইয়া আর মছলমানি করাইয়াও যুদি তুমি এর উল্টা চলো, তাইলে হউ মছলমানি না করাইল বেটায় তুমারে দুষিতো নায় নি?

28বিষয়টা বুজরায় নি? খালি নামে বনি ইছরাইল অইলেউ কেউ আসল বনি ইছরাইল নায়। শরিলর অংগ কাটিয়া মছলমানি করাইলেও তো, আসল মছলমানি অয় না। 29অইলে মন থাকি যেরা বনি ইছরাইল, তারাউ আসল বনি ইছরাইল। ইতা কুনু লিখিত আইন কানুনর বেয়াপার নায়, দিলর ভিতরর রুহানি বেয়াপার। দিলর মছলমানিউ অইলো আসল মছলমানি। জগতর মানষে এরার তারিফ না করলেও, আল্লায় তারিফ করইন।

3

1তে ইলাখান বেয়াপার অইলে, বনি ইছরাইল অওয়ায় বাড়তি কুনু লাভ আছে নি? মছলমানি কাম করানিত কুনু ফায়দা আছে নি? 2নিচ্চয় আছে। বউত নমুনার ফায়দা আছে। পয়লা ফায়দা: আল্লা পাকে তান হক্কল কালাম নাজিল করছইন বনি ইছরাইলর গেছে। 3অবইশ্য তারার কুনু কুনু জনে বেইমানি করছে, এতে কিতা অইছে? তারা বেইমানি করলেও আল্লা পাকে কুনু তারার লাখান বেইমানি করবা নি? 4নাউজুবিল্লা! হকল মানষে মিছা মাতলেও আল্লা তো হামেশা হক থাকইন। পবিত্র জবুর শরিফো আছে:

এরবাদেও পরমান মিলবো তুমার জবান সঠিক,

তুমার পক্ষে রায় যাইবো।

5দুনিয়াবি মানষে কইতো পারে, আমরার না-হক কামে যেবলা আরো পরিস্কার বুজা যায় আল্লা পাক কতো হক, তে আমরার না-হকে তান গৌরব অওয়ার বাদেও তাইন আমরারে সাজা দিলে ইতা তান অইন্যায়? নাউজুবিল্লা। 6আল্লায় যুদি হক ইনছাফ না করইন, তে তাইন কিলা আস্তা জগতর বিচার করবা? 7তারা কইন, “আমার মিছা মাতর মাজদিউ বুজা যায়, আল্লা পাক হক-ইনছাফকারি। আর আমার মিছা মাতে যেবলা আল্লার গৌরব-তারিফ অয়, তে তাইন আমারে গুনাগার সাইবস্তো করইন কেনে?” 8ইখান খুব সুন্দর যুক্তি। এরলাগি আমরা কইতাম নি, “আও, আমরা নাফরমানি করাত রই, যাতে অউ নাফরমানির মাজদি ভালা ফল মিলে?” কুনু কুনু মানষে আমরার বদনাম গাইয়া কইন, আমরাও বুলে অলা তালিম দেই। ইতায় তারার পাওনা সাজা পাইবা।

আল্লার দরবারো হকল মানুষউ দুষি

9অখন আমরা কিতা কইতাম? বনি ইছরাইল হিসাবে আমরার হালত কিতা ভিন জাতি থাকি ভালা নি? নিচ্চয় না। আগেউ আমরা কইছি, বনি ইছরাইল আর ভিন জাতি হকলউ গুনার গুলাম। 10আল্লার কালামো আছে,

বে-কছুর বলতে কেউ নাই, একজনও নাই;

11আখলদার একজনও নাই,

কেউ আল্লার তালাশ করে না।

12হকল মানুষ বে-পথি অইগেছে,

হকল একলগে নাফরমান অইগেছে,

নেক কাম করে ইলা কেউ নাই, একজনও নাই।

13তারার মুখ তো পচা লাশর খুলা কয়বরর লাখান,

তারার জিবে ছল-চতুরি মাতে,

আর ঠোটর তলে আছে, হাফর বিষ।

14তারার গলার মাজে বদদোয়া আর তিত্তা মাত-কথায় ভরা,

15খুন-খারাপির লাগি তারার পাও আগুয়াইল,

16তারার পথো খালি বিনাশ আর আহাজারি।

17শান্তির পথ তারা চিনে না,

18তারার দিল থাকি আল্লার ডর-খফ হরিগেছে।

19আমরা জানি, হজরত মুছার শরিয়ত তারার লাগিউ, যেরার গেছে অউ শরিয়ত দেওয়া অইছে। যাতে খালি ভিন জাতি নায়, শরিয়ত পাওরা বনি ইছরাইলও, মানি আস্তা জগতর কেউ কুন্তা মাতিবার সুযোগ নাই, সবউ আল্লার বিচারর দাড়ো পড়ে। 20কারন শরিয়ত আমল করলেউ, আল্লায় মানষরে বে-কছুর খালাছ কইয়া গইন্য করিলিবা, ইলা কুন্তা নায়। অইলে শরিয়তর মাজদিউ মানুষ গুনার বেয়াপারে হুশিয়ার অয়।

মানুষ কিলা বে-কছুর হিসাবে গইন্য অইন

21অখন তো আল্লা পাকে পথ বাতাই দিছইন, শরিয়ত ছাড়াও তাইন কিলা মানষরে বে-কছুর খালাছ হিসাবে গইন্য করইন। আগে তাইন তৌরাত শরিফ আর নবী অকলর কিতাবো অউ বেয়াপারে ইশারা দিছইন। 22অউ পথ অইলো, হজরত ইছা আল-মসীর উপরে যেরা ইমান আনে, অউ ইমানর মাজদিউ আল্লায় তারারে বে-কছুর কইয়া গইন্য করইন। ই বেয়াপারে বনি ইছরাইল অউক বা ভিন জাতি অউক হকলউ এক হমান। 23কারন, হকলেউ গুনা করছে, আল্লার শান-তজল্লিত হামানির সামর্থ কেউরর নাই। 24অইলে ইছা আল-মসীয়ে মানষরে গুনার আত থাকি বাচানির বেবস্তা করছইন, তাইন আল্লার রহমতর দান হিসাবে মানষরে বে-কছুর কইয়া গইন্য করার পথ করছইন। 25যেরা তান উপরে ইমান আনে, আল-মসীয়ে তারার লাগি নিজর লউরে কফরার কুরবানি দিয়া আল্লা পাকরে খুশি করছইন। অউ নমুনায় আল্লায় দেখাইছইন, যুদিও তান নিজর ছবরগারির লাগি মানষর পুরানা গুনার সাজা দিতে দেরি কররা, তেবউ তাইন হক-ইনছাফকারি। 26আর অখন তাইন ইতা দেখাইছইন, যাতে পরমান অয়, তাইন নিজে হক-ইনছাফকারি আর যেরা আল-মসীর উপরে ইমান আনইন, তারারে বে-কছুর খালাছ কইয়া গইন্য করইন।

27এরবাদেও মানষে বড়াই দেখানির কুন্তা আছে নি? না, কুন্তাউ নাই। কেনে নাই? মানষে শরিয়ত মানে করি তার বড়াই করার কুন্তা নাই নি? না, আসল কথা অইলো, ইমানর মাজে বড়াই করার জাগা নাই। 28আমরা জানি, আল্লায় মানষরে তার ইমানর লাগিউ বে-কছুর খালাছ কইয়া গইন্য করইন, শরিয়ত মানার লাগি নায়।

29তে আল্লা খালি বনি ইছরাইলর নি, ভিন জাতির লাগিও নায় নি? নিচ্চয়, তাইন ভিন জাতিরও আল্লা। 30কারন আল্লা তো একজনউ। তাইন বনি ইছরাইলরে যেলা ইমানর মাজদি বে-কছুর কইয়া গইন্য করইন, অলা ভিন জাতি অকলরেও করবা। 31অখন কওছাইন, ইমানর লাগি আমরা শরিয়ত বাতিল কররাম নি? না, মোটেউ না! বরং আমরা শরিয়তরে মজবুত করিয়ার।

4

হজরত ইব্রাহিম (আঃ) থাকি তালিম

1তে আমরার খান্দানর মুল বাফ হজরত ইব্রাহিমর জিন্দেগির বেয়াপারে কিতা কইতাম? তাইন কিতা পাইলা? 2শরিয়ত মানার লাগিউ যুদি তানরে বে-কছুর কইয়া গনা অয়, তে তাইন নিজর বড়াই দেখাইতা পারইন, অইলে আল্লার দরবারো তো নায়। 3কারন আল্লার কালামো আছে, “ইব্রাহিমে আল্লার উপরে ইমান আনায়, আল্লায় তানরে বে-কছুর খালাছ কইয়া গইন্য করলা।” 4কামলায় কাম করিয়া যে বেতন পায়, ইকটা কুনু দান নায়, ইকটা তার পাওনা মজুরি। 5অইলে কুনু মানষে যুদি নিজর আমলর উপরে ভরসা না করিয়া, খালি তান উপরে ইমান আনে, যেইন গুনাগাররে বে-কছুর কইয়া গইন্য করইন, তে তার ইমানর লাগি হে খালাছ পায়। 6আর নিজ আমল ছাড়া আল্লা পাকে যারে বে-কছুর কইয়া গইন্য করছইন, হজরত দাউদেও তারে নেক-কপালি কইছইন। পবিত্র জবুর শরিফো তাইন কইরা,

7নেক-কপালি তারাউ, যেরার নাফরমানিরে মাফ করা অইছে,

মাবুদ মউলায় যেরার গুনারে আর হিসাবো ধরতা নায়।

8নেক-কপালি হউ জন, যার গুনারে আল্লায় তার আমল-নমা থাকি কাটি দিছইন।

9তে নেক-কপালি খালি তারারেউ কওয়া অইছে নি, যেরার মছলমানি কাম করাইল অইছে? মছলমানি না করাইল মানষরেও কওয়া অইছে না নি? অয়, তারারেও নেক-কপালি কওয়া অইছে। কারন আল্লার কালামো পাইছি, হজরত ইব্রাহিমর ইমানর লাগিউ, আল্লায় তানরে বে-কছুর খালাছ কইয়া গইন্য করলা। 10কুন সময় করলা? মছলমানি করানির আগে, না বাদে? নিচ্চয়, মছলমানি করানির আগেউ অইছলা। 11মছলমানি কাম করানির আগেউ আল্লায় তানরে ইমানর লাগি বে-কছুর কইয়া গইন্য করছলা, আর মছলমানি কাম করানি আছিল এর পরমান বা নিশানা। এ থাকি বুজা যায়, মছলমানি না দিলেও, খালি ইমানর লাগি যেরারে বে-কছুর খালাছ কইয়া ধরা অয়, তারার মুল বাফ অইলা হজরত ইব্রাহিম। 12মছলমানি করানির আগে হজরত ইব্রাহিমর ইমান যেলাখান আছিল, মছলমানি করাইয়া যতো মানষে অউ ইমানে চলে, তারারও মুল বাফ অইলা অউ ইব্রাহিম।

ইমানর বলেউ আল্লাই ওয়াদা পুরন

13আল্লা পাকে ওয়াদা করছলা, হজরত ইব্রাহিম আর তান খান্দানরে ই দুনিয়ার দখলদারি দিবা। শরিয়ত মানার লাগি ই ওয়াদা করা অইছে না, বরং ইব্রাহিমর ইমানর লাগিউ তানরে বে-কছুর খালাছ কইয়া গইন্য করিয়া অউ ওয়াদা করছলা। 14শরিয়ত মানিয়া কেউ যুদি দখলদারি পাইলায়, তে তো ইমান বেকামা বনিযায় আর আল্লার ওয়াদারও কুনু দাম রয় না। 15শরিয়তে তো আল্লার গজব লামায়। আসল কথা অইলো, যেখানো শরিয়ত নাই, ইনো শরিয়ত ভংগর কথাও নাই।

16এরলাগি ই ওয়াদা খালি মানষর ইমানর মাজদি পুরা করা অয়, যাতে ইটা আল্লার রহমতর দান হিসাবে রয়। তে ইব্রাহিমর খান্দানর গেছে যে ওয়াদা করা অইছে, ইখান নিচ্চয় পুরা করা অইবো। খালি শরিয়ত মানরা অকলর লাগিউ পুরন করা অইতো নায়, যেরা ইব্রাহিমর ইমানর লগে শরিক, তারার লাগিও ই ওয়াদা পুরা করা অয়। 17আল্লার কালামো যেলা লেখা আছে, “আমি তুমারে বউত জাতির মুল বাফ বানাইলাম।” অউ হিসাবে আল্লার নজরো ইব্রাহিম অইলা আমরা হকলর মুল বাফ। যেইন মরারে জিন্দেগি দেইন আর যেতা অওয়ার নায়, অতা অওয়াইতা পারইন, হউ আল্লার উপরে তাইন ইমান আনছলা।

18অউ ইব্রাহিমে যেবলা আওলাদ পাওয়ার কুনু আশা করার কথা নায়, হউ সময়ও তাইন আল্লার উপরে ভরসা করিয়া ইমানে মজবুত রইছইন। আল্লায় তানরে কইছলা, “তুমার খান্দানরে আমি আছমানর তেরার লাখান বেহিসাব করমু।” আর অউ কথার উপরে তাইন ইমান আনলা। 19একশো বছর বয়সর ইব্রাহিমে যুদিও বুজছিলা, হুরুতা জনম দেওয়ার খেমতা আর তান নাই, তান বিবি ছায়রারও হুরুতা অওয়ার বয়স শেষ অইগেছে, তেবউ তান ইমান মজবুত আছিল। 20আল্লার ওয়াদার বেয়াপারে তান মনো কুনু সন্দয় আইছে না, বরং তাইন ইমানে আরো মজবুত অইয়া আল্লার তারিফ করলা। 21ইব্রাহিমে পুরাপুর একিন করলা, আল্লায় যে ওয়াদা করছইন, ইতা পুরা করার খেমতাও তান আছে। 22অউ কারনেউ তান ইমানর লাগি তানরে বে-কছুর কইয়া গইন্য করা অইছিল। 23“বে-কছুর কইয়া গইন্য করা অইছিল,” ইখান খালি ইব্রাহিমর লাগি লেখা অইছে না, 24আমরার লাগিও লেখা অইছে। ইমানর লাগিউ আল্লায় আমরারে বে-কছুর কইয়া গইন্য করবা, কারন যে আল্লায় আমরার মালিক ইছারে মুর্দা থাকি জিন্দা করছলা, আমরা তান উপরেউ ইমান আনছি। 25আমরার গুনার কফরা হিসাবে অউ ইছারে মউতর আতো তুলি দেওয়া অইছিল, আর আমরারে বে-কছুর খালাছ কইয়া গইন্য করার লাগি তানরে মুর্দা থাকি জিন্দা করা অইছিল।

5

বে-কছুর খালাছ বনিয়া খুশি করা

1ইমানর মাজদি আমরারে বে-কছুর খালাছ কইয়া গইন্য করা অইছে, গতিকে মালিক ইছা আল-মসীর উছিলায় আল্লা পাক আর আমরার মাজে সু-সম্পর্ক বওয়াল অইছে। 2অউ যে রহমতর তলে আমরা আছি, আল-মসীয়ে আমরারে ই জাগাত আনিয়া পৌছাইছইন। এরলাগি আল্লার মহিমা পাওয়ার আশায় আমরার মন অখন নিচ্চিত খুশিয়ে ভরি গেছে। 3খালি ইখান নায়, আমরা দুখ-কষ্টর মাজেও খুশি-বাসি কররাম। কারন দুখ-কষ্টয় ছবর আনে, 4ছবরে মেওয়া ফলে, অউ মেওয়ায় আশা-ভরসা আনে, 5আর অউ আশা-ভরসা বেকামা যায় না। কারন আল্লায় আমরারে যে পাক রুহ দিছইন, ই পাক রুহে আমরার দিলর মাজে আল্লাই মহব্বত জন্মায়।

6আমরা তো কমজুর-লাছার আছলাম, সঠিক সময়ে আমরার লাখান গুনাগাররে বাচানির লাগি, আল-মসীয়ে নিজর জান কুরবানি দিলা। 7কুনু পরেজগার মানষর লাগি সাধারনত কেউ জান দিলাইতো চায় না, তা-ও খুব ভালা জনর লাগি আখতা কেউ দিলেও দিলাইতো পারে। 8অইলে আমরা গুনাগার হালতেউ আল-মসীয়ে আমরার লাগি নিজর জান কুরবানি দিছইন। অখান থাকি পরমান মিলে, আল্লায় আমরারে কতো মায়া করইন।

9আর আল-মসীর কুরবানির উছিলায় যেবলা বে-কছুর খালাছ কইয়া গইন্য অইছি, তে অখন আল-মসীর মাজদি আমরা আল্লার সাজা থাকিও রেহাই পাইমু, ইটা তো ষোলআনা নিচ্চিত। 10আমরা আগে আল্লার দুশমন আছলাম, হউ সময় তান খাছ মায়ার জন ইবনুল্লার মউতর উছিলায়, তান লগে আমরার মিলন অইছে। তে তো আল-মসীর জিন্দা অইয়া উঠার মাজদি অখন আরো বেশি নিচ্চিত, আমরা নাজাত পাইমু। 11খালি ইখান নায়, যার উছিলায় অউ মিলন অইছে, আমরার মালিক অউ ইছা আল-মসীর মাজদি অখন আল্লার নামে খুশি-বাসিও কররাম।

হজরত আদম (আঃ) আর আল-মসীর তুলনা

12একজন মানষর মাজদি দুনিয়াইত গুনা আইয়া হামাইছিল, আর অউ গুনার মাজদি মউতও আইছিল। বাদে হকল মানষেউ গুনা করছে, এরলাগি হকলর লাগিউ মউত আইয়া আজিছে। 13হজরত মুছার শরিয়ত নাজিলর আগেও দুনিয়াইত গুনা আছিল। অইলে শরিয়ত আছিল না গতিকে গুনারে হিসাবো ধরা অইতো না। 14তা-ও বাবা আদম থাকি মুছা নবীর আমল পর্যন্ত যেরা আদমর লাখান সরাসরি আল্লার হুকুমরে ভাংগিছে না, তারার উপরেও মউতে বেটাগিরি করছে।

তে কুনু কুনু কারনে বাবা আদমর লগে, বাদে তশরিফ আনা অউ আল-মসীরও মিল আছিল। 15অইলে বাবা আদমর নাফরমানি আর আল্লার রহমতর দানর মাজে বউত তফাত আছে। হউ একজনর নাফরমানির দায় বউতর লাগি মউত আইলো আর আরক জন, মানি ইছা আল-মসীর মেহেরবানির মাজদি যে রহমতি দান আইলো, আল্লার ই রহমত আরো বউত বেশি বাড়ি গেল। 16আর একজন মানষর গুনায় যেলা ফল দেখা গেল, আল্লার রহমতর দান তো ইলাখান নায়। খালি একজন মানষর গুনার লাগি বউত মানষরে দুষি সাইবস্তো করা অইছে। অইলে বউত বেশি পরিমানে গুনা করার বাদেও আল্লার অউ রহমতে বউত জনরে বে-কছুর খালাছ কইয়া গইন্য করা অইছে। 17একজন মানষর গুনার লাগি যেবলা মউতে আমরার উপরে বেটাগিরি করছে, তে দুছরা আরক জন, মানি ইছা আল-মসীর মাজদি আমরা যেরা আল্লার রহমতে বে-কছুর খালাছ হিসাবে গইন্য অইছি, আমরাও অলা কতো বেশি নিচ্চিত অইয়া আল্লাই জিন্দেগি পাইয়া হকলতার উপরে রাজত্ব করমু।

18আসল কথা অইলো, একজন মানষর গুনার লাগি যেলা হকল মানষরে দুষি সাইবস্তো করা অইছে, অউলা একটা নেক কামর মাজদি হকল মানষরে বে-কছুর খালাছ কইয়া গইন্য অওয়ার সুযোগ দেওয়া অইছে। অউ সুযোগর ফল অইলো আখেরি জিন্দেগি। 19যেমন ধরো, একজন মানষর অবাইধ্যতার লাগি বউত মানুষ গুনাগার অইছইন। অউলা একজন মানষর বাইধ্যতার লাগি বউত মানষরে বে-কছুর খালাছ কইয়া গইন্য করা অইছে। 20এরমাজে শরিয়তর হুকুম-আহকামও নাজিল অইগেল, যাতে ই নাফরমানির হিসাবর পরিমান আরো বাড়ি যায়। অইলে নাফরমানি যেনো বাড়িলো, ইনো আল্লার রহমত আরো বউত বাড়িগেল। 21ই রহমত বাড়িলো, যাতে মউতর মাজদি আগে গুনায় যেলা বেটাগিরি করছিল, অখন বে-কছুর খালাছ অওয়ার মাজদি আল্লার রহমতে অউলা রাজত্ব করে। আর অতার ফল হিসাবে আমরার মালিক ইছা আল-মসীর উছিলায় আখেরি জিন্দেগি পাই।

6

গুনার জিন্দেগি শেষ, নয়া জিন্দেগির শুরু

1তে অখন আমরা অলা কইতাম নি, আমরার উপরে যাতে আল্লার রহমত আরো বাড়ে, এরলাগি আমরা আরো গুনা করাত রই? 2নাউজুবিল্লা, মোটেউ না! গুনার বাবতে আমরা তো মরি গেছি, তে ই মুর্দা হালতে অখন আর কেমনে গুনার কামো রইতাম? 3আইচ্ছা, আমরা যতো জনে আল-মসীর নামে তৌবার গোছল করছি, আমরা তো তান মউতর লগেও শরিক অইছি। 4অউ গোছলর কালো আমরারে তো আল-মসীর লগে কয়বর দেওয়া অইছে। আর গাইবি বাফ আল্লায় তান মহা কুদরতে আল-মসীরে যেলা কয়বর থাকি জিন্দা করি তুলছইন, ঠিক অউলা আমরাও যানু নয়া জিন্দেগিয়ে দিন কাটাই। 5আর আমরা যেবলা আল-মসীর মউতো শরিক অইছি, তে তাইন যেলা মুর্দা থাকি জিন্দা অইয়া উঠছইন, অলা আমরাও তান জিন্দা অওয়ার লগে শরিক রইমু। 6আমরা ইখান জানি, আমরার শরিলর বদ খাইশরে বেকামা করার নিয়তে আমরার পুরান “আমি” রে আল-মসীর লগে সলিবর উপরে মারিয়া ফালাইল অইছে, যাতে আমরা আর গুনার গুলাম না রই। 7কারন যার মউত অইযায়, হে তো গুনার কবজা থাকি খালাছ পাইলিছে। 8তে আল-মসীর লগে যেবলা আমরার মরন অইছে, অখন আমরার ইমান অইলো, তান লগে জিন্দেগিও পাইমু।

9আমরা জানি, আল-মসী মুর্দা থাকি জিন্দা অইয়া উঠিছইন করি তান আর মউত অইতো নায়। মউতর কুনু খেমতা তান উপরে নাই। 10আসলে তান যে মউত অইছে, ইতা তো গুনার খেমতা বিনাশ করার লাগি খালি একবারউ অইছে। আর অখন তান যে জিন্দেগি আছে, ইটা তো আল্লার মহিমার লাগি জিন্দা আছইন। 11ঠিক অউলা, তুমরাও মনো করিও, গুনার খেমতার বেয়াপারে তুমরার মরন অইগেছে, অখন খালি ইছা আল-মসীর নামে আল্লার মহিমার লাগি জিন্দা আছো।

12এরলাগি মউতর জুকা তুমরার ই শরিলর উপরে গুনারে কুনু লাখান বেটাগিরি করতে দিও না, শরিলরে বদ খাইশর আতো সপি দিও না। 13শরিলর কুনু অংগরে বদ কামর আতিয়ার বানাইও না। বরং নিজরে মুর্দা থাকি জিন্দা অওয়া জন মনো করিয়া পুরাপুরি আল্লার আতো সপি দেও, শরিলর হকল অংগরে নেক কামর আতিয়ার হিসাবে আল্লার নামে বিলাই দেও। 14তুমরা তো গুনার গুলাম নায়, শরিয়তর আওতায়ও নায়, খালি আল্লার রহমতর তলে আছো।

15তে অখন কিতা করতাম? শরিয়তর আওতা থাকি ছাড়া পাইয়া, আল্লার রহমতর আওতায় আছি করি, আমরা খালি গুনা করতাম নি? নাউজুবিল্লা, মোটেউ না! 16তুমরা বুজো না নি, তুমরা যেবলা নিজরে কেউরর আতো সপি দিয়া তার হুকুম মাফিক চলো, তে এমনেউ তো তার গুলাম বনিযাও। অলাখান তুমরা হয়তো গুনার গুলাম বনিয়া মরবায়, আরনায় আল্লার গুলাম বনিয়া নেক কাম করবায়। 17আল্লা পাকর শুকুর, আগে যুদিও তুমরা গুনার গুলাম আছলায়, তা-ও ইছায়ী তরিকার তালিম পাইয়া হারি, দিলে-জানে ইতার আশিক অইছো। 18গুনার গুলামি থাকি ছাড়া পাইয়া, নেক কামর গুলাম অইছো।

19ভাইয়াইনরে, তুমরার আখলর কমজুরি দেখিয়া আমি তুমরার লগে মানুষ বুলিয়ে মাতিরাম, আগে যেলা তুমরার শরিলর অংগরে নাপাকি আর বদ খাইশর গুলাম বানাইছলায়, অখনও ঠিক অউলা, পাক-পবিত্র জিন্দেগি কাটানির লাগি, যারযির অংগরে নেক কামর গুলামিত সপি দেও।

20তুমরা যেবলা গুনার গুলাম আছলায়, ই সময় তো নেক কামর দায়-দায়িত্ব থাকি আজাদ আছলায়। 21আগর বদ কাম-কাজর কথা মনো অইলে অখন তুমরার শরম লাগে, তে কওছাইন, ইতা কামে তুমরার কিতা লাভ অইতো? ইতার হেশ ফল তো মরন। 22অইলে অখন তুমরা গুনার গুলামি থাকি আজাদ অইয়া, আল্লার পথর গুলাম বনিয়া পাক-পবিত্র জিন্দেগি কাটাইরায়, এর হেশ ফল তো আখেরি জিন্দেগি। 23আসলে গুনার মজুরি অইলো মউত, অইলে আল্লার রহমতর দান অইলোগি আমরার মালিক ইছা আল-মসীর উছিলায় আখেরি জিন্দেগি।

7

শরিয়তর গুলামি থাকি খালাছ

1তে ও ভাই অকল, হজরত মুছার শরিয়তর বিষয় তো তুমরার জানাউ আছে। তা-ও তুমরা বুজো না নি, শরিয়তর দাবি-দাওয়া মানষর উপরে বওয়াল থাকে, খালি জিন্দা থাকা পর্যন্ত। 2যেলা, জামাই যতদিন জিতা আছে, অতদিন তার বউ তার আওতায় বান্দা রয়, আর জামাইর মউতর বাদে তার বউ ই বান্দন থাকি খালাছ পায়। 3আর জামাই জিতা থাকতে বউ যুদি দুছরা বেটার গেছে হাংগা বয়, তাইরে তো জিনাকুর হিসাবে গনা অয়। অইলে জামাইর মউতর বাদে তাই জামাইর বান্দন থাকি আইন মাফিক খালাছ পায়, এরবাদে তাই অইন্য জনর গেছে বিয়া বইলে জিনাকুর নায়।

4ভাইয়াইনরে, ঠিক অউ লাখানউ, আল-মসীর শরিলর মউতর মাজদি শরিয়তর বান্দন থাকি তুমরার মউত অইগেছে করি, অখন তুমরা অইন্য জনর বান্দনো যাইতায় পারো, আর অউ অইন্য জন অইলা, মুর্দা থাকি জিন্দা অওয়া হউ ইছা আল-মসী, যাতে আমরার জিন্দেগিত আল্লার নামে নেক পথর ফল ধরে। 5আগে যেবলা আমরা শরিলর মর্জিয়ে চলতাম, অউ সময় শরিয়তে আমরার মাজর গুনার বদ খাইশরে খুচাইয়া হজাগ করতো, অউ কারনে আমরার শরিলর অংগ অকলে মউতর পথি গুনার ফল ধরতো। 6তে আগে আমরা যে শরিয়তর বান্দনো আছলাম, ইতা থাকি আমরার মউত অইগেছে, অখন আমরা ই শরিয়তর বান্দন থাকি খালাছ পাইছি। এরলাগি আমরা আর হি লিখিত শরিয়তর গুলাম নায়, খালি আল্লাই পাক রুহে নয়া জিন্দেগির গুলামি করি।

শরিয়তে গুনারে হজাগ করে

7অখন আমরা অলা কইতাম পারি নি, শরিয়তেউ গুনা করায়? নাউজুবিল্লা, মোটেউ না! আসল কথা অইলো, শরিয়ত না থাকলে তো আমি বুজতাম পারলাম না অনে, গুনা কি জিনিস। শরিয়তে যুদি না কইতো, লোভ-লালছ করিও না, তে লালছ করলে কিতা অয়, ইতা আমরা বুজলাম না অনে। 8আর অউ হুকুমর সুযোগ বুজিয়া আমার ভিতরে গুনা হামাইয়া, হকল নমুনার লোভ-লালছ জনম দিছে। শরিয়ত না থাকলে তো গুনাও মরার লাখান চুপচাপ রয়। 9আমার জিন্দেগিত শরিয়তরে ভালামন্তে চিনার আগে আমি তো জিতা আছলাম, অইলে অউ হুকুম জানার লগে লগেউ গুনা হজাগ অইলো, আর আমার মউত অইলো। 10বুজরায় নি, যে শরিয়তে আমি জিন্দেগি পাওয়ার কথা, হউ শরিয়তে আমার লাগি মরন লইয়া আইলো। 11শরিয়তর অউ হুকুমর সুযোগ পাইয়া গুনায় আমারে টগিলো, অউ হুকুমর বলেউ গুনায় আমার জান কাড়িয়া নিলো।

12অইলে ইখান তো হাছা, মুছা নবীর দেওয়া শরিয়ত পবিত্র, এর হুকুম-আহকামও পবিত্র, ইতা সঠিক আর ভালা জিনিস। 13তে অউ ভালা জিনিসেউ কিতা আমার মরন আনলো নি? নাউজুবিল্লা, মোটেউ নায়! বরং গুনায়উ ইতা করছে, হে ভালা জিনিস দিয়া আমারে মারিয়া হারি পরমান দেখাইলো, গুনা তো গুনা। আর অউ হুকুম-আহকামেউ বুজা যায়, গুনা অইলো মস্ত বড় জঘইন্য।

দিলর লগে শরিলর লাড়াই

14আমরা তো জানি, শরিয়ত অইলোগি রুহানি জগতর, অইলে আমি অইলাম রক্ত-মাংসর জগতর, আমি শরিলর মর্জির বান্দনো থাকায় গুনার গুলাম অইছি। 15আমি নিজেউ তো বুজি না, আমি কিতা কাম করি। আসলে আমি যেতা করতাম চাই, ইতা না করিয়া, যেতারে ঘিন্নাই অতাউ করি। 16আর যেতা করতাম চাই না, অলা গুনার কাম যেবলা করি, তে আমি এমনেউ স্বীকার করিয়ার, শরিয়ত আসলেও ভালা জিনিস। 17ইতা থাকি বুজা যায়, আমি নিজে ইলা করিয়ার না, অইলে আমার মাজে যে গুনায় বসত করে, হে-উ আমারে দিয়া ইতা করায়। 18আর আমি তো বুজিয়ার, আমার লউর মাজে, মানি শরিলর খাইশর মাজে ভালা কুনু জিনিসউ নাই। আমি নেক কাম করার খিয়াল থাকলেও, আমার সামর্থয় কুলায় না। 19কারন আমি যেতা নেক কাম করতাম চাই, ইতা করতাম পারি না, অইলে যে বদ কাম করতাম চাই না, অতাউ করি। 20তে যেতা করতাম চাই না, অতাউ যেবলা করি, এর মানি অইলো ইতা আমি করি না, বরং যে গুনায় আমার মাজে বসত করে, হে-উ ইতা করায়।

21অখন আমার নিজর ভিতরেউ দেখিয়ার, একটা বদ রিপুয়ে কাম করের, আমি নেক কাম করাত লাগলে, বদ কাম এমনেউ আইয়া আজি যায়। 22আসলে আমার দিলর খাইছলত মাফিক আমি আল্লাই হুকুম-আহকামে খুশি অই। 23অইলে আমার শরিলর অংগর মাজে দুছরা আরক খাইছলতে কাম করের, আমার দিলে নেক কামরে পছন্দ করলেও, অউ বদ খাইছলতে আমার দিলর লগে যুদ্ধ করিয়া, আমারে তার গুলামিত বান্দিয়া রাখে। 24আমার বড় বদ নছিব! আমার শরিলর অউ বদ খাইছলত, যেগিয়ে আমারে মউতর পথে টানে, তার আত থাকি কে আমারে বাচাইবো? 25আল্লার শুকুর, আমরার মালিক ইছা আল-মসীয়ে তার আত থাকি আমারে বাচাইছইন! অখন নিচ্চিত বুজা যায়, দিলর দিক থাকি আমি আল্লাই শরিয়তর গুলামি করি, অইলে শরিলর মর্জির দিক থাকি আমি গুনার খাইছলতর গুলামি করি।

8

আল্লাই পাক রুহ পাওয়ার ফল

1তে অউ তালিম থাকি আমরা বুজি, ইছা আল-মসীর যেরা আপন জন বনি গেছইন, অখন তারারে আর দুষি সাইবস্তো করা অইতো নায়। 2গুনা আর মউতর আত থাকি আমারে খালাছ করা অইছে, জিন্দেগি দেওরা রুহে ইছা আল-মসীর উছিলায় খালাছ করছইন। 3রক্ত-মাংসর শরিলর বদ খাইশর লাগি শরিয়তে আমরারে বাচাইতো পারছে না, আর শরিয়তে যেতা করতো পারছে না, আল্লায় তো নিজেউ ইতা করছইন। তাইন তান নিজর খাছ মায়ার জন ইবনুল্লারে আমরার লাখান গুনাগার মানষর ছুরতে পাঠাইলা, গুনার খেমতারে বিনাশ করার লাগি। আর অউ মায়ার জনর জান কুরবানির মাজদি গুনার বিচার করিয়া তার খেমতারে বাতিল করি দিলা। 4তাইন আমরার পক্ষ লইয়া ইতা করলা, আমরা যেরা রক্ত-মাংসর শরিলর খাইশে না চলিয়া রুহর বশে চলি, অউ আমরার লাগি শরিয়তর দাবি-দাওয়া আদায় করলা।

5শরিলর বদ খাইশর আওতায় যেতা মানুষ চলইন, তারার মনও বদ খাইশর বায় খিয়ালি থাকে, আর যেরা পাক রুহর আওতায়, তারার মন তো পাক রুহর খুশি মাফিক চলতে খিয়ালি রয়। 6শরিলর বদ খাইশ যে কামর খিয়ালি, ইতার ফল অইলো মরন, অইলে পাক রুহর খিয়ালে চলার ফল অইলো জিন্দেগি আর শান্তি। 7যে জনর মন শরিলর বদ খাইশর বায় খিয়ালি, ই মন তো আল্লার দুশমন, হে আল্লাই শরিয়ত মানতে রাজি নায়, মানতো পারেও না। 8এরলাগিউ যেতা মানুষ শরিলর বদ খাইশর আওতায় চলইন, তারা আল্লারে খুশি করতা পারইন না।

9অইলে তুমরার দিলো যেবলা আল্লার রুহ বসত করইন, তে তুমরা তো শরিলর বদ খাইশর আওতায় নায়, বরং পাক রুহর আওতায়। আসল কথা অইলো, আল-মসীর রুহ যার মাজে নাই, হে আল-মসীর নায়। 10আর হাছাউ যুদি আল-মসী তুমরার মাজে থাকইন, তে গুনার ফল হিসাবে তুমরার শরিল মরার পথি অইলেও, পাক রুহর ফল হিসাবে তুমরা তো জিন্দা। আল্লায় তো তুমরারে বে-কছুর খালাছ কইয়া গইন্য করছইন। 11আর হউ ইছারে যেইন মুর্দা থাকি জিন্দা করছইন, অউ আল্লার রুহ যেবলা তুমরার দিলো বসত করইন, তে তান অউ রুহর বলে মউতর আওতায় থাকা তুমরার শরিলরেও জিন্দেগি দান করবা।

12এরলাগি ও ভাই অকল, শরিলর বদ খাইশর গেছে আমরা আর ঠেকাত নায়, অউ বদ খাইশর অধীনে চলারও জরুর নায়। 13অখন শরিলর বদ খাইশর আওতায় চললে তো তুমরা চিরকালর লাগি মরবায়, অইলে পাক রুহর বলে শরিলর হকল নাফরমানিরে বিনাশ করিল্লে চিরকাল জিন্দা রইবায়। 14কারন আল্লার রুহর বলে যেরা চলে, তারাউ আল্লার আওলাদ। 15তুমরা তো গুলামির রুহ পাইছো না, তে আর ডরাইতায় কেনে? তুমরা খালি হউ আল্লার রুহ পাইছো, যেইন তুমরারে আওলাদ অওয়ার এখতিয়ার দিছইন। এরলাগিউ আল্লা পাকরে আমরা রুহানি আব্বা, পবিত্র বাবা কইয়া ডাকি। 16আমরার দিলর মাজর আল্লাই পাক রুহেও অলা সাক্ষি দিয়া কইরা, আমরা আল্লার আওলাদ। 17আমরা যেবলা আওলাদ, তে আমরা মৌরসি বাট পাইমু। আল-মসীয়ে আল্লার গেছ থাকি মৌরসি বাট পাইবা, আর তান লগে আমরাও পাইমু। খালি আমরা তান লগে দুখ-কষ্ট সইয্য করলে, তান লগে গৌরব-মহিমারও ভাগ পাইমু।

আমরা কুন লাখান বাট পাইমু

18ভাইয়াইনরে, আমরা বাদে যে মহিমা পাইমু, ইতার তুলনায় অখনকুর ই দুখ-কষ্ট কুন্তাউ নায়, ইতা তো আমি জানি। 19হউ সময় আইলে দেখা যাইবো কে কে তান আসল আওলাদ, এরারে দেখার লাগিউ আল্লার পয়দা করা হকলতায় জানে-পরানে বার চাইরা। 20কারন তান পয়দা করা হকলতাউ অখন অসার অইগেছে। ইতা কুনু নিজে নিজে অসার অইগেছে নি? না, বরং আল্লায়উ তারারে হউ পথে ছাড়ি দিছইন। অইলে এরলগে তাইন অউ আশাও দিছইন, 21একদিন ইতা হকলতা বিনাশর আত থাকি খালাছ অইয়া, আল্লার আওলাদ অকলর স্বাধীনতা আর গৌরবর ভাগি অইতো পারবো। 22অখন পর্যন্ত দেখিয়ার, হুরুতা পয়দার কালো মাʼয় যেলা বুক ফাটাইয়া চিল্লাইন, তান পয়দা করা হকলতায়উ অলা আহাজারি করি চিল্লাইরা। 23খালি ইখান নায়, আমরাও হউ যে মহিমা বাদে পাইমু, এর পয়লা কিস্তি হিসাবে আল্লাই পাক রুহরে অখন পাইছি, পাইয়া বাকি কিস্তির লাগি আমরাও অলা চিল্লাইয়ার। আর হউ কিস্তি পাওয়ার দিনর লাগি বার চাইয়ার, যে দিন আমরারে আল্লার আওলাদ হিসাবে জাইর করা অইবো, মানি যে দিন আমরার শরিলরে বিনাশর আত থাকি খালাছ করা অইবো। 24আমরা খালাছ অওয়ার অউ আশা পাইছি, ইমান আনার কালো। তে যেতা জিনিস মানষে দেখিলায়, ইতা দেখার লাগি হে আর আশা করে না, যেতা দেখা অইগেছে, ইতারে দেখার আশা আর কেনে করতো? 25অইলে না দেখা জিনিসরে দেখার লাগি আমরা ধৈর্য ধরিয়া বার চাই।

26ইতা ছাড়া আমরার কমজুরির সময় তো পাক রুহে আমরারে সাইয্য করইন। দোয়া করার কালো আমরা কিতা চাইতাম, ইতা তো আমরা জানি না। অইলে মুখদি যেতা কওয়ার সাইধ্য নাই, দিলর কান্দনর লগে পাক রুহে নিজেউ আমরার পক্ষ অইয়া, ইতার লাগি মিনতি করইন। 27কারন যেইন মানষর দিলর তালাশ করইন, তাইন তো পাক রুহর কথাও বুজইন। পাক রুহে আল্লার মর্জি মাফিক তান পাক বন্দা অকলর লাগি মিনতি করইন।

28আমরা জানি, আল্লারে যেরা মহব্বত করইন, মানি আল্লায় তান নিজর মর্জি মাফিক যেরারে দাওত দিছইন, তারার ভালাইর লাগি হকলতায় একলগে কাম করের। 29আল্লায় যেরারে আগ থাকিউ তান নিজর লাগি পছন্দ করি রাখছিলা, তারারে তান খাছ মায়ার জন ইছার লাখান অওয়ার লাগিউ পছন্দ করছিলা, যাতে অউ ইছা ইবনুল্লাউ, এরা হকলর বড় ভাই অইন। 30তাইন আগে যেরারে পছন্দ করছিলা, তারারেউ দাওত দিলা। আর যেরারে দাওত দিলা, তারারে বে-কছুর খালাছ কইয়া গইন্য করলা, আর যেরারে বে-কছুর গইন্য করলা, তারারে তান নিজর গৌরব-মহিমাও দান করলা।

আল্লার মহব্বতর বল-শক্তি

31অখন ইতা বেয়াপারে আমরা কিতা কইতাম? স্বয়ং আল্লা পাক যেবলা আমরার পক্ষে, তে আমরার বিপক্ষে খেগু লাগতো? 32আমরা হকলরে বাচানির লাগি, আল্লায় যেবলা তান খাছ মায়ার জন ইবনুল্লারে বিলাই দিতেও নারাজ অইলা না, তানরে মউতর আতো সপি দিলা, তে অউ মায়ার জনর লগে হকলতাউ আমরারে দান করতা নায় নি? 33আর আল্লায় তান নিজর লাগি যেরারে পছন্দ করছইন, এরার বিরুদ্ধে নালিশ দিবার সাইধ্য কার? আল্লায় নিজেউ তারারে বে-কছুর খালাছ কইয়া গইন্য করছইন। 34তে তারারে খেগুয়ে দুষিতো? যেরার লাগি হউ ইছা আল-মসীর মউত অইছে, মউতর বাদে জিন্দা করিও তুলা অইছে, তাইন অখন আল্লা পাকর ডাইন গালার তখতো বইয়া, আমরার লাগি মিনত-কাজ্জি করাত আছইন। 35এরলাগি ইলা কুনু জিনিস আছে নি, যেতায় আমরারে আল-মসীর মহব্বত থাকি আলগ করতো? জুলুম-নির্যাতন, জালা-যন্ত্রনা, মনর কষ্ট, খাওয়া-ফিন্দার অভাব, বিপদ-আপদ বা দুশমনর তলোয়ার? 36পবিত্র জবুর শরিফো আছে,

তুমার নামর লাগি

আমরারে হর-হামেশা খুন করা অর।

মানষর চখুত আমরা অইলাম বলির পাঠা।

37না, ইলা কুন্তাউ নাই। কারন যে ইছায় আমরারে অতো মহব্বত করছইন, তান বলে আমরা ইতা হকলতাতউ পুরাপুর জয়ী অইয়ার। 38তে আমি ইখান ভালামন্তেউ জানি, জিন্দেগি বা মউত, ফিরিস্তা বা ইবলিছর কুনু চেলা, অখন বা ভবিষ্যতর কুনুতায়উ, কুনু লাখান শক্তিয়েউ, 39আছমানর বা পাতালর বা পয়দা অওয়া কুনু জিনিসেউ আমরারে আল্লার মহব্বত থাকি আলগ করতো পারতো নায়। তান অউ মহব্বত তো আমরার মালিক ইছা আল-মসীর উছিলায় পাইছি।

9

শরিয়তে অপারগ অইলেও বনি ইছরাইলর হেশ রক্ষা ইমানে (৯:১-১১:৩৬)

আল্লার পছন্দ আর অপছন্দ

1আমি আল-মসীরে সাক্ষি রাখিয়া, এক্কেরে হাছা কথা কইরাম, আমার বিবেকেও পাক রুহর লগে অইয়া অউ সাক্ষি দের। 2বনি ইছরাইলর লাগি আমার বড় আফছুছ আর সীমাহীন কষ্ট লাগের। 3হায়রে হায়, আমি লান্নতির কাতারো গিয়া আল-মসীর গেছ থাকি হরাইল অইয়াও যুদি, আমার জাতির ভাইয়াইন বনি ইছরাইলরে বাচাইতাম পারতাম। 4আল্লায় তো বনি ইছরাইলরে তান নিজর আওলাদর এখতিয়ার দিছইন, তান শান-তজল্লি দেখাইছইন, তান লগে মিলনর উছিলা অকল কাইম করছইন, শরিয়ত নাজিল করছইন, তান এবাদত-বন্দেগির সুযোগ করি দিছইন আর বউত লাখান ওয়াদাও করছইন। 5হজরত ইব্রাহিম, ইছহাক আর ইয়াকুব নবী আছলা বনি ইছরাইলর মুল মুরব্বি। বাদে ইছা আল-মসীও তো রক্ত-মাংসর বায় থাকি এরার খান্দানোউ জনম লইছইন, এইন হকলতার উপরআলা, যুগে যুগে চিরকাল তান তারিফ অউক। আমিন।

6হুনো, আল্লার ওয়াদা অকল অখন যেন বেকামা অইগেছে, ইলা কুন্তা নায়। কারন বনি ইছরাইলর মাজে জনম অইলো করিউ, এরা হকল তো আসল বনি ইছরাইল নায়। 7হজরত ইব্রাহিমর খান্দান করিউ তারা যেন তান আসল আওলাদ, ইলা কুন্তা নায়। বরং কিতাবো লেখা আছে, “তুমার পুয়া ইছহাকর খান্দানরেউ তুমার খান্দান কইয়া গনা অইবো।” 8মানি ইছরাইল জাতির মাজে জনম অইছে গতিকেউ মনো করিও না, তুমরা আল্লার আওলাদ বনিগেছো। খালি আল্লার ওয়াদা মাফিক যেরা আওলাদ বনছে, তারারেউ ইব্রাহিমর খান্দান হিসাবে গইন্য করা অইবো।

9বুজরায় নি, আল্লায় তো হজরত ইব্রাহিমর গেছে অউ ওয়াদা করছলা, “ছামনর বছর অউ চান্দো আমি ফিরিয়া আইমু, অউ সময় তুমার বিবি ছায়রার কুলো এক পুয়া থাকবো।” 10আর অউ পুয়া অইলা, আমরার পুর্ব-পুরুষ হজরত ইছহাক। খালি ইখান নায়, অউ ইছহাকর বিবি রেবেকার পেটর জুড়র পুয়াইন একই বাফর আওলাদ অইলেও, 11-12এরা মাʼর পেটো থাকা হালতে যেবলা ভালা-বুরা কিচ্ছু করছইন না, হউ সময় আল্লায় রেবেকারে কইছলা, “তুমার বড় পুয়া তো হুরু পুয়ার গুলাম অইবো।” অন থাকি বুজা যায়, আল্লায় তান মুনশা পুরা করার খিয়ালে মানষরে পছন্দ করইন, কেউরর আমলর বায় না চাইয়া, তান নিজর পছন্দ মাফিক বাছিয়া নেইন। 13এরলাগিউ পাক কিতাবো লেখা আছে, “আমি তো ইয়াকুবরে মহব্বত করছি, অইলে তার ভাই ঈষʼরে হরাইয়া রাখছি।”

14তে অখন আমরা কইতাম নি, আল্লায়ও অবিচার করইন? নাউজুবিল্লা, মোটেউ না! 15আল্লায় হজরত মুছারে কইছলা, “আমি যারে খুশি দয়া করমু, আর যারে খুশি রহম করমু।” 16অন থাকি বুজা যায়, রহমত তো কেউরর চেষ্টায় বা ইচ্ছায় মিলে না, খালি আল্লার মেহেরবানি থাকিউ মিলে। 17আছমানি কিতাবর আয়াতো আছে, আল্লায় ফেরাউনরে কইছলা, “আমি তুমারে বাদশা বানাইছি, যাতে তুমার মাজদি হকলে আমার লিলা-খেলা দেখিয়া, হারা দুনিয়াইত আমার নাম জাইর অয়।” 18তে দেখা যায়, আল্লায় তান নিজর খুশি মাফিক কেউররে দয়া করইন, আর কেউরর দিলরে পাষান বানাইন।

আল্লার গজব আর রহমত

19অখন তুমরা আমারে জিকাইতায় পারো, “আল্লার মর্জির বাইরা যেবলা কেউ কুন্তা করতো পারে না, তে আল্লায় কেনে মানষর দুষ-তিরুটি গনইন?” 20ই ছওয়ালর সুজা জুয়াপ অইলো, আল্লার উপরে মাতার তুমি কে? কেউ যুদি কুনু জিনিস বানায়, তে তার বানাইল জিনিসে জিকাইতো পারবো নি, আমারে কেনে ইলা বানাইলায়? 21এক মাটি থাকি কুমারে নানান জাতর জিনিস বানাইতো পারে না নি? ইতার কুনুটা ইজ্জতি কামো আর কুনুটা সাধারন কামো লাগে।

22ঠিক অলাখান, আল্লায় তান লান্নত আর কুদরতি খেমতা দেখাইতা চাইছলা, আর যেরার উপরে ই লান্নত ঢালিতা চাইছলা, এরার পাওনা আছিল খালি বিনাশি গজব, তা-ও তাইন বউত বড় ছবর করিয়া তারার ইতা সইয্য করলা। 23তাইন ইতা সইয্য করলা, কারন আরকবার নিজর কুদরতি শান-তজল্লির কথা জানাইতা চাইলা। আর যেরারে দয়া করছইন, এরারে তাইন আগে থাকিউ জুইত করিয়া রাখছিলা, তান শান-তজল্লি দেখানির খিয়ালে। 24আসলে আমরাউ অইলাম হউ দয়ার জন। আমরারে তাইন খালি বনি ইছরাইলর মাজ থাকিউ দাওত দিয়া আনছইন না, অইন্য জাতির মাজ থাকিও তো আনছইন। 25হজরত হোছিয়া নবীর ছহিফাত আল্লায় কইছইন,

যেতা মানুষ আমার প্রজা নায়,

তারারেও আমার নিজর প্রজা বানাইমু।

আর যেরা আমার মায়ার মানুষ আছিল না,

তারারেও মায়ার মানুষ কইয়া ডাকমু।

26যে জমিনো কওয়া অইছিল,

তুমরা আমার প্রজা নায়,

হউ জমিনোউ তারারে

জিন্দা আল্লার আওলাদ কওয়া অইবো।

27অইলে বনি ইছরাইলর বেয়াপারে হজরত ইশায়া নবীয়ে কইছলা,

গনার বালা যুদিও তারা দরিয়ার চরর বালুর লাখান বেহিসাব,

তেবউ তারার মাজর খুব হুরু এক অংশয় খালাছ পাইবা।

28মাবুদ মউলায় জগতর পাওনা যে সাজা জুইত করছইন,

অউ ষোলআনা সাজা খুব জলদিউ দিবা।

29হজরত ইশায়া নবীয়ে আরো বাতাইছইন, “আল্লা রাব্বুল আলামিনে যুদি আমরার লাগি কিছু মানষরে জিন্দা না রাখতা, তে আমরার দশা তো লান্নতি ছাদুম আর আমুরা টাউনর লাখান অইলো অনে।”

বনি ইছরাইল বে-পথি অওয়ার কারন

30তে আমরা অউ কথাউ কইমু, ভিন জাতি অকলে যুদিও আল্লার পরেজগার বন্দা অওয়ার চেষ্টা করছে না, তেবউ ইমান আনার মাজদি তারা আল্লার দরবারো পরেজগার বনিগেছে। 31আর বনি ইছরাইলে খালি শরিয়ত মানিয়া পরেজগার বনতো চাইছিল, অইলে শরিয়ত মানতো পারছে না। 32আইচ্ছা, তারা কেনে পারছে না? তারা ইমানর উপরে ভরসা না করিয়া, খালি কাম-কাজর আমলর উপরে ভরসা করছে, এরলাগি পারছে না। মানষে যে পাথরো উষ্টা খাইন, তারাও অউ পাথরো উষ্টা খাইছইন। 33ই বেয়াপারে আছমানি কিতাবো লেখা আছে,

হুনো, আমি জেরুজালেমো অলা এক পাথর বওয়াইছি,

যে পাথরো মানষে উষ্টা খাইয়া পড়বো।

অইলে যে জনে তান উপরে ইমান আনবো,

হে কুনুমন্তেউ শরমিন্দা অইতো নায়।

10

1তে ও ভাই অকল, বনি ইছরাইলর লাগি আমার দিলর অউ ফরিয়াদ আছে, আমি আল্লার দরবারো দোয়া করিয়ার, তারা যানু নাজাত পাইন। 2তারার বেয়াপারে আমি অখানউ কইরাম, তারার মনর মাজে আল্লার এশকি আছে, অইলে তারা জানে না, আল্লার দরবারো কেমনে পরেজগার বনা যায়। 3আল্লার দরবারো বে-কছুর খালাছ অওয়ার পথ না জানায়, তারা ই পথরে মানছেও না, তারা খালি শরিয়ত আমল করিয়া পরেজগার বনতো চায়। 4অউ শরিয়তর হকল দাবি-দাওয়া আল-মসীয়ে তো আদায় করিলছইন, এরলাগি তান উপরে যেরা ইমান আনে, আল্লার দরবারো তারারে বে-কছুর খালাছ কইয়া গইন্য করা অয়।

আল্লাই নাজাতর বেবস্তা হকলর লাগি

5শরিয়ত আমল করিয়া আল্লার দরবারো পরেজগার অওয়ার বেয়াপারে, হজরত মুছায় তৌরাত কিতাবো লেখছইন, “যেরা শরিয়ত মানতো চায়, তারা পুরাপুর মানলে বাচিবো।” 6আর ইমানর বলে মানুষ কিলা আল্লার দরবারো পরেজগার বনে ই বেয়াপারে আল্লার কালামো লেখা আছে, “মনে মনে কইও না, কে গিয়া আছমানো উঠিতো?” এর মানি অইলো, হনো উঠিয়া আল-মসীরে লামাইয়া আনতো। 7বা ইখানও কইও না, “কে গিয়া পাতালো লামতো?” এর মানি অইলো, হনো লামিয়া আল-মসীরে কয়বর থাকি তুলিয়া আনতো। 8না ইলা কুন্তা নায়, কারন লেখা আছে, “আসলে আল্লার কালাম তো তুমার খুব ধারো আছে, ইতা তুমার মুখো আর তুমার দিলো আছে।” আর আমরা যেতা তবলিগ কররাম, ইতাউ তো হউ কালাম। 9অখন তুমি যুদি মুখে স্বীকার করো হজরত ইছাউ মালিক, আর দিলে একিন করো, আল্লায় তানরে মুর্দা থাকি জিন্দা করছইন, তে তুমি আখের পাইবায়। 10কারন দিলে ইমান আনলে আল্লায় মানষরে বে-কছুর খালাছ কইয়া গইন্য করইন, আর মুখে স্বীকার করলে আল্লায় নাজাত দান করইন। 11আল্লার কালামে বাতায়, “যে জনে তান উপরে ইমান আনবো, হে কুনুমন্তেউ শরমিন্দা অইতো নায়।” 12বনি ইছরাইল অউক বা ভিন জাতি অউক, এরার মাজে কুনু তফাত নাই, কারন হকলর মালিক তো একজন। যে মানষে আল্লার নাম লয়, আল্লায় তারে বউত মেহেরবানি করইন। 13আল্লার কালামে তো কয়, “যেকুনু মানষে মাবুদর নামে ডাকিলে, হে নাজাত হাছিল করবো।”

14অইলে যান উপরে তারা ইমানউ আনছে না, তানরে কিলা ডাকিবো? আর যান বেয়াপারে তারা হুনছেউ না, তান উপরে ইমান আনবো কিলা? তবলিগ কররা না থাকলে, তারা হুনবো কিলা? 15আর তবলিগো কেউ না পাঠাইলে, তারা কিলা তবলিগো যাইবো? যেলা আল্লার কালামো বাতাইল অইছে, “ধইন্য তারার পাও খানাইন, যেরা আটি আটি খুশ-খবরি তবলিগ করইন।” 16অইলে হকল মানষে তো ই খুশ-খবরিরে কানো ঠাই দেয় না। হজরত ইশায়া নবীয়ে কইছইন, “ও মাবুদ, আমরার তবলিগ হুনিয়া কে ইমান আনছে?” 17তে দেখা যার, আল্লার কালাম হুনলে ইমান আয়, অউ কালাম অইলো, আল-মসীর বেয়াপারে তবলিগ।

18অইলে আমি কইরাম, বনি ইছরাইল অকলে ই কালাম হুনছে না নি? নিচ্চয় হুনছে। পাক কালামে কয়,

তারার আওয়াজ তো

হারা দুনিয়াইত ছিতরি গেছে,

ছিতরি গেছে তারার মাত-কথা,

দুনিয়ার এক মাথা থাকি আরক মাথা পর্যন্ত।

19আমি হিরবার কইরাম, বনি ইছরাইলে হউ কালাম বুজছইন না নি? নিচ্চয় বুজছইন, আল্লায় তো হজরত মুছা নবীর মাজদি তারারে কইছইন,

যেটা জাতি নাই ইলা জাতি দিয়া ইংসা করাইমু,

আম্মক জাতি দিয়া তারার গুছা তুলাইমু।

20বাদে ইশায়া নবীয়ে খুব সাওস করিয়া ই আয়াতো কইছইন,

আমারে যেরা তালাশ করছে না,

তারাউ আমারে পাইছে।

আমার গেছে যেরা কুন্তা চাইছে না,

তারারে আমি দিদার দিছি।

21অইলে বনি ইছরাইলর বেয়াপারে তাইন কইরা,

আমি আত বাড়াইয়া ডাকিরাম,

হারা দিন ধরি দুইও আতে ডাকিরাম,

নাফরমান আর পাষান এক জাতিরে ডাকিরাম।

11

বে-পথি বনি ইছরাইলেও হেশ-মেশ নাজাত পাইবা

1এরলাগি আমি অখন জিকাইরাম, আল্লায় কুনু তান আপন বন্দা বনি ইছরাইলর লগ ছাড়ি দিছইন নি? নিচ্চয় না! কারন আমি নিজেও তো একজন বনি ইছরাইল আর হজরত ইব্রাহিমর বংশধর, বিন-ইয়ামিন খান্দানর মানুষ। 2আল্লায় পয়লা থাকি তান যে প্রজারে পছন্দ করিয়া আলগ করছিলা, তাইন তো এরার লগ ছাড়ছইন না। হজরত ইলিয়াছ নবীর বেয়াপারে আল্লার কালামো কিতা আছে, ইতা তুমরা জানো না নি? তাইন তো বনি ইছরাইলর বিরুদ্ধে আল্লার দরবারো অউ নালিশ দিছলা, 3“ও মাবুদ, ইতায় তুমার নবী অকলরে কাতল করছে, তুমার কুরবানি খানাইনও ভাংগিলিছে। খালি আমিউ বাচিয়া রইছি, অখন তারা আমার জান খানও নিতাগি চাইরা।” 4তেউ আল্লায় তানরে কিতা জুয়াপ দিছলা মনো আছে নি? তাইন কইছলা, “ও ইলিয়াছ, আমি তো সাত আজার মানষরে আমার নিজর লাগি আলগ করিয়া রাখছি, এরা তো ই বাআল দেবতারে পরনাম করছে না।”

5ঠিক অলাখান, আল্লায় রহম করিয়া বনি ইছরাইলর একটা অংশরে অখনও আলগ করি রাখছইন। 6আর আল্লায় যেবলা রহম করিয়া এরারে আলগ করছইন, তে ইটা কুনু নেক আমলর ফল নায়। আমলর ফল অইলে তো আর রহমত কওয়া অইলো না অনে। 7তে বুজা যায়, বনি ইছরাইলে শরিয়ত আমল করিয়া যেতা পাইতা চাইছলা, ইতা তারা পাইছইন না। খালি আল্লার পছন্দ করা জনে পাইছইন। অইলে বাকি হকলর দিল পাষান বনিগেছে। 8যেলা আল্লার কালামে কইছে,

আল্লায় তারার দিলরে বেউশি ঘুমো ফালাইছইন,

তারার চউখ থাকতেও দেখে না,

কান থাকলেও হুনে না।

আইজ পর্যন্ত অউ হালতো আছে।

9অলা হজরত দাউদ নবীয়েও কইরা,

তারার ধুমধাম করি খাওয়া-দাওয়াউ

শিকারর জাল আর ফান্দ বনিযাউক।

ইতা তারার বিপদর কারন অউক,

বদ কামর সাজা বনিযাউক।

10তারার চউখ আন্দা অইযাউক যাতে না দেখে,

তুমি তারার কমররে হামেশা গুজা করি রাখিও।

11তে বনি ইছরাইল অকল চিরকালর লাগি অউ বিপদর ফান্দো রইবো নি? নিচ্চয় না। বরং তারার নাফরমানিয়ে ভিন জাতি অকলর লাগি নাজাতর দুয়ার খুলিগেল। আল্লায় চাইলা, ইতা দেখিয়া তারার দিলো যানু জালা পয়দা অয়, কারন ভিন জাতিয়ে নাজাত পাইলিরা। 12অখান থাকি বুজা যায়, তারার নাফরমানির লাগি জগতর মানষর বউত ফায়দা অইছে, আর তারার খেতিয়ে যেবলা ভিন জাতির লাভ অইলো, তে তারা যেবলা আল্লার নাজাতর দাওত কবুল করবা, অউ সময় ভিন জাতি অকলে আরো কতো বেশি রহম পাইবা।

ভিন জাতি অকলর নাজাত

13ও ভিন জাতি অকল, আমি তুমরারে কইরাম, হুনো, তুমরার গেছেউ আমারে সাহাবি হিসাবে পাঠাইল অইছে করি, আমি আমার কামরে খুব দাম দিরাম। 14কারন, অউ কাম দেখাইয়া আমার নিজর জাতি বনি ইছরাইলর দিলো কুনু জালা পয়দা করতাম পারি, আর অউ জালায় তারার মাজর কিছু মানষর জান বাচাইতাম পারি। 15তারা দুরই হরি যাওয়ায় যেবলা জগতর মানষর লগে আল্লার মিলন অইলো, তে তারারে যেবলা হিরবার ঠাই দিবা হউ সময় কুন হালত অইবো? ইতা মরা মানুষ জিতা অওয়ার লাখান নায় নি? 16ধরো, আল্লার নামে বিলানির রুটির মুল খাই যুদি পবিত্র অয়, তে তো বানাইল রুটিও পবিত্র। গাছর মুল জড় পবিত্র অইলে, এর ডালপালাও নিচ্চয় পবিত্র। ঠিক অলা, বনি ইছরাইলর মুল বাফ হজরত ইব্রাহিম যেবলা পবিত্র, তে বনি ইছরাইলও পবিত্র।

17আর মনে করো, গাছর কিছু ডালপালা কাটা অইলো, বাদে অউ কাটা জাগাত তুমার লাখান জংলি জয়তুন গাছর কিছু ডাল কলম দিয়া জুড়া দেওয়া অইলো, তে তুমি নিচ্চয় মুল গাছ থাকিউ রস পাইরায়। 18অখন তুমিও নিজরে হউ কাটিয়া ফালাইল ডাল থাকি বড় মনো করিও না, ইয়াদ রাখিও, তুমি মুল গাছরে টিকাই রাখছো না, বরং মুল গাছেউ তুমারে টিকাইয়া রাখছে।

19তুমি ইখান কইতায় পারো, “আমারে জুড়া দিবার লাগিউ তো আগর ডালপালাইন কাটা অইছিল।” 20ইখান ঠিক আছে, অইলে ইমান না আনার কারনেউ তো তারারে কাটিয়া ফালাইল অইছে, আর ইমান আনায় তুমারে হনো লাগাইল অইছে। তে তুমিও বেটাগিরি না দেখাইয়া আল্লারে ডরাও। 21মনো রাখিও, আল্লায় যেবলা মুল ডালপালারেউ রেহাই দিছইন না, তে তুমি কলমর ডালরে কুনু রেহাই দিবা নি?

22এরলাগিউ চিন্তা করিয়া দেখো, আল্লা পাক কতো দয়াল আর কতো পাষান। যেরা বে-পথে ফাটি গেছইন তারার লাগি তাইন পাষান, আর তুমার বায় তাইন দয়ালু, যুদি তুমি তান দয়ার মাজে রও, না রইলে তুমারেও অলা কাটিয়া ফালাই দিবা। 23আর হউ বনি ইছরাইলেও যুদি হিরবার ইমান আনইন, তে তারারেও তাইন মুল গাছর লগে জুড়া দিবা, আল্লায় তো ইলা জুড়া দিতা পারইন। 24আসলে তো তুমি আছলায় জংলি জয়তুন গাছর ডাল, তুমারে যেবলা হন থাকি কাটিয়া আনিয়া মালিকানা বাগানর জয়তুন গাছর লগে আচানক হালতে জুড়া লাগাইল অইছে। তে চিন্তা করো, যেরা অউ গাছর আসল ডাল, তারারে মুল গাছর লগে লাগানি কতো সুজা।

আল্লার দয়া হকলর উপরে

25ও ভাই অকল, তুমরা যাতে নিজে নিজে আখলদার না বনো, এরলাগি একটা বাতুনি বেয়াপার আমি তুমরারে হিকাই দেই। হুনো, ভিন জাতি অকলর নাজাত পাওয়ার সংখ্যা পুরা না অওয়া পর্যন্ত বউত বনি ইছরাইলর দিল পাষান হালতে রইবো। 26হেশে অলাউ হকল বনি ইছরাইলে নাজাত হাছিল করবা, যেলা আছমানি কিতাবো আছে,

তরানেআলায় তশরিফ আনবা

জেরুজালেমর ছিয়ন পাড় থাকি,

তাইন ইয়াকুব নবীর খান্দান থাকি

নাফরমানি খেদাই দিবা।

27আমি অলাউ তারার গুনারে হরাইলিমু

ইটা তো আমার দেওয়া ওয়াদা।

28হুনো, তুমরার ভালাইর লাগি খুশ-খবরির বেয়াপারে তারা তো অখন আল্লার দুশমন, অইলে আল্লাই পছন্দর বেয়াপারে বাফ-দাদার ছিলছিলায় তারা অইলা আল্লার মহব্বতর মানুষ। 29কারন আল্লায় তান রহমতর দান-দক্ষিনা আর তান দাওতর কথা কুনুমন্তেউ মত বদলাইন না। 30যেলা তুমরাও এক সময় নাফরমান আছলায়, অইলে অখন বনি ইছরাইলে নাফরমানি করায় তুমরা তান মেহেরবানি পাইছো, 31ঠিক অউ লাখান, তুমরা মেহেরবানি পাওয়ায় তারা অখন নাফরমানি করের, যাতে তারাও অলা মেহেরবানি পাইন। 32আর আল্লার মুনশা অইলো, তাইন যাতে হকলর বায় মেহেরবানি দেখাইতা পারইন, অতার লাগি হকলরেউ নাফরমানির মাজে বন্দি করছইন।

33বুজরায় নি, আল্লার ভান্ডার কতো বড়! তান আখল-হেকমত কতো গইন! তান বিবেক-বিচার বুজার অসাইধ্য, তান কাম-কাজ অকল তালাশ করি বুজা যায় না। 34যেলা কিতাবো আছে,

কারন মাবুদর মন চিনার সাইধ্য কার আছে?

তানরে পরামিশ দিবার লাখ কে আছে?

35কে আগে আল্লারে কুন্তা দিলাইতো পারছে,

যে কারনে তাইন তার গেছে দেনাদার আছইন?

36আসলে হকলতাউ তো তান গেছ থাকি, তান মাজদিউ আয়, তান নিজর লাগি পয়দা করছইন। যুগে যুগে চিরকাল তান তারিফ অউক। আমিন।

12

ইছায়ী মুমিন অকলর চাল-চলন (১২:১-১৬:২৭)

আল্লার নামে জিন্দা কুরবানি

1এরলাগি ও ভাই অকল, আল্লায় তুমরারে অলা মেহেরবানি করায়, আমি তুমরারে খাছ মিনতি করিয়ার, তুমরা যারযির শরিলরে আল্লার আতো সপি দেও, ইলা জিন্দা পবিত্র কুরবানি আল্লার দরবারো কবুল অয়, অকটাউ অইবো তুমরার ছহি-শুদ্ধ এবাদত। 2আর অউ খারাপ জমানার তালো পড়িও না, বরং নিজর দিলর ভাব বদলাইয়া নয়া মানুষ অও। তেউ তুমরা আল্লার মর্জি বুজবায়। তান মর্জি তো ভালা আর পুরাপুর নিখুত, অলা করলে তাইন খুশি অইন।

3তালিম দিবার লাগি আল্লায় আমারে যে খাছ নিয়ামত দিছইন, অউ নিয়ামতর বলে আমি তুমরা পরতেক জনরে কইরাম, নিজরে যতখান বড় মনো করা উচিত, এর চাইতে বেশি মনো করিও না। আল্লায় যারে যতখান ইমানি বল দিছইন, হে যানু নিজরে এর থাকি বেশি কুন্তা মনো না করে। 4খিয়াল রাখিও, আমরা হকলর শরিলো বউত অংগ আছে, হকল অংগয় তো এক লাখান কাম করে না। 5ঠিক অউ লাখান, মুমিন হিসাবে আমরা বউত জন অইলেও, আল-মসীর লগে শরিক অইয়া খালি এক শরিল অইছি। একই শরিলর অংগ গতিকে আমরার একে-অইন্যে মিল আছে। 6আল্লার রহমতে আমরা নানান জনে নানান লাখান নিয়ামত পাইছি, অউ নিয়ামত যুদি গাইবি ওহী জানানির বেয়াপারে অয়, তে আমরার ইমান মাফিক অলি-আউলিয়ার লাখান ওহী কইতে থাকি। 7কেউ যুদি খেজমত করার নিয়ামত পায়, তে খেজমত করউক। আর তালিম দিবার নিয়ামত যে পাইছে, হে তালিম দেউক। 8উত্‍সাহ দিবার নিয়ামত যে পাইছে, হে মানষরে উত্‍সাহ দেউক। দান করার নিয়ামত যে পাইছে, হে খালিছ নিয়তে দান করউক। মুরব্বিয়ানা করার নিয়ামত যে পাইছে, হে দিলে-জানে হকলতা চালাউক। মানষরে সাইয্য করার নিয়ামত যে পাইছে, হে খুশি মনে সাইয্য করউক।

মুমিনি চাল-চলন

9মায়া-মহব্বতর মাজে কুনু খাদ মিশাইও না। খারাপিরে ঘিন্নাও, ভালাইর আশিক অও। 10একে-অইন্যরে আপন ভাইর লাখান দিলে-জানে মায়া করো, নিজ থাকি অইন্যরে বেশি দাম দেও। 11খেজমত কামো দুর্বল অইও না, রুহরে গরম রাখো, মালিকর গুলামি করাত রও। 12ছামনর পুরুস্কারর আশায় হামেশা খুশি-বাসি করো, দুখ-মছিবতো ছবর করো, হর-হামেশা মুনাজাত করাত রও। 13আল্লার পাক বন্দা অকলর অভাবো সাইয্য করো। মেহমানদারি করতে খিয়ালি অও।

14তুমরার উপরে যেরা জুলুম করে, তারার লাগি নেক দোয়া করিও, বদদোয়া দিও না। 15যেরা খুশি-বাসি করের, তারার লগে খুশি করো, যেরা কান্দের তারার লগে অইয়া কান্দো। 16তুমরা একে-অইন্যে ভাই ভাই অইয়া রও। বড়লোকি ভাব না দেখাইয়া, সাধারন মানষর লগে মিলি-মিশি চলো। নিজর পন্ডিতি দেখাইও না। 17খারাপির বদলা হিসাবে কেউরর খারাপি করিও না, হকল মানষে যেতারে ভালা মনো করইন, তুমরা চিন্তা-ভাবনা করিয়া অতাউ করো। 18তুমরার তরফ থাকি যতখান সম্ভব হকল মানষর লগে শান্তিয়ে বসত করো।

19ও মায়ার ভাই অকল, তুমরা কেউরর বদলা লইও না, ইতা আল্লার আতো ছাড়ি দেও, বদলা দেওয়া তান কাম। আল্লার কালামো আছে, “নাফরমানির সাজা দিবার এখতিয়ার খালি আমারউ আছে, যার যেলা পাওনা আমি তারে অলা বদলা দিমু, ইখান আমি মাবুদে কইরাম।” 20বরং কিতাবে কয়, “তুমার দুশমনর পেটো ভুক লাগলে, তারে খানি দেও। পিয়াছে ধরলে তারে পানি দেও। অলা করলে তো তুমি তার মাথার উপরে জালাইল আংরার টুকরি থইলায়।”

21খারাপির গেছে কুনুমন্তেউ আরিও না, বরং ভালারে দিয়া খারাপিরে আরাও।

13

রাজার হুকুম মানিয়া চলো

1পরতেক মানষে দেশর রাজারে মানিয়া চলউক, কারন আল্লার মর্জি ছাড়া কেউ রাজত্ব পায় না, রাজা অকলরে তো আল্লায়উ গদিত বওয়াইন। 2এরলাগি যে মানষে দেশর রাজার দুশমনি করে, হে আসলে আল্লাই হুকুমর দুশমনি করে। ইলা কাম যেতায় করইন, তারা তো নিজর উপরে গজব ডাকিয়া আনইন। 3আর ভালা কাম কররা জনে তো রাজারে ডরানির কুন্তা নাই, অইলে কু-কাম কররা জনর লাগি কঠিন বিপদ। তে তুমরা কিতা নির্ভয়ে রইতায় চাও নি? তাইলে ভালা পথে আটো, তেউ রাজায় তুমরার তারিফ করবা। 4রাজায় তো তুমরার ভালাইর লাগিউ আল্লার খাদিম হিসাবে কাম করইন। অইলে তুমরা যেরা কু-কাম করো, তুমরার লাগি বিপদ আছে। তাইন খামোখা কেউররে মারইন না, অইলে কু-কাম কররারে আল্লার খাদিম হিসাবে ঠিকউ সাজা দেইন। 5তে খালি সাজার ডরে নায়, বরং যারযির বিবেকর বিচারেও রাজার হুকুম মানা জরুর।

6অতার লাগিউ তো তুমরা খাজনা দেও, কারন খাজনা তুলিয়া খরচ করার মাজদি তারা আল্লার খেজমত কররা। 7অখন যার যেলা পাওনা, তারে অলা দেও। যেনরে খাজনা দিবার কথা, এনরে খাজনা দেও; যেনরে মাশুল দিবার কথা, এনরে মাশুল দেও; যেনরে ইজ্জত করার কথা, এনে ইজ্জত করো; যেনরে তাজিম করার কথা, এনে তাজিম করো।

একে-অইন্যে মায়া করো

8খালি মায়ার রিন ছাড়া দুছরা কুনু বেয়াপারে কেউরর গেছে রিনি অইও না। জানো নি, যে মানষে অইন্য জনরে মায়া করে, হে তো শরিয়তর হুকুম-আহকাম ষোলআনা আদায় করছে। 9যেলা শরিয়তর হুকুম আছে, “জিনা করিও না, খুন করিও না, চুরি করিও না, লোভ-লালছ করিও না,” বা ই লাখান আরো যতো হুকুম আছে, ই হকল হুকুমরে একখানো করি কওয়া অইছে, “তুমার আরি-ফরিরে নিজর লাখান মায়া করো।” 10আর মায়া থাকলে কেউ আরি-ফরির খেতি করতো পারে না, এরলাগি মায়া করলে পুরাপুর শরিয়তউ মানা অইযায়।

11তে ভাই অকল, অখনকুর জমানার হালত তো তুমরা জানোউ, এরলাগি বুজি-হুনি চলো। তুমরা ঘুম থাকি হজাগ অওয়ার সময় অইগেছে, কারন আমরা যে সময় ইমান আনছিলাম, হউ হালত থাকিও আমরার নাজাত অখন আরো ধারো আইচ্ছে। 12রাইত পুয়াইয়া হারি বিয়ান অইযার; অখন জলদি আও, আমরা আন্দারির বদ কাম ছাড়িয়া নুরর লেবাছ লাগাই, আল্লাই আতিয়ার ফিন্দিলাই। 13হৈ-হুল্লা করি মদ খাইয়া টাল অওয়া, জিনা-বদমাইশি বা মনগড়া চলা, ইংসা আর কাইজ্জা-ফসাদ বাদ দিয়া, আও, আমরা দিনর ফরে চলরা মানষর লাখান চলি। 14ফিন্নর লেবাছর লাখান তুমরা মালিক ইছা আল-মসীরে পুরাপুর ফিন্দিলাও। শরিলর বদ খাইশ মিটানির চিন্তা এক্কেরে বাদ দেও।

14

ইমানে কমজুর ভাইরে মায়া করো

1তুমরার মাজর যে ভাই ইমানে কমজুর, তারেও আপন হিসাবে সমজো, তার পছন্দ-অপছন্দ লইয়া তর্কা-তর্কি করিও না। 2বুজরায় নি, একজনে মনো করে, হে হকল জাতর খানি খাইতো পারবো, অইলে কমজুর ইমানদার জনে খালি নিরামিষ খায়। 3তে মাছ-মাংস খাওরা জনে অউ নিরামিষ খাওরা জনরে যানু না ছিড়ায়। আর নিরামিষ খাওরায়ও যানু মাছ-মাংস খাওরারে না দুষে, কারন আল্লায় তো দুইও জনরেউ নিজর কইয়া কবুল করছইন। 4আর তুমারে খেগিয়ে খেমতা দিলো, আরক বেটার গুলামর বিচার করতায়? হে ঠিক পথে আছে, না ভুল পথে আছে ইখান তো তার মুনিবে বুজবা। আসলে তো হে ঠিক পথেউ রইবো, মালিকেউ তারে ঠিক পথে রাখতা পারবা।

5কুনু কুনু মানষে মনো করইন, সাধারন দিন থাকি কুনু খাছ দিনর ফজিলত বেশি। আর কেউ কেউ হকল দিনরেউ এক লাখান মনো করে। তে ই বেয়াপারে কে কিতা করতো না করতো, ইতা যানু তার দিল থাকি পুরাপুর সায় দেয়। 6যে মানষে কুনু খাছ দিনরে মানে, হে তো মালিক ইছারে খুশি করার নিয়তেউ ইতা মানে। যে জনে হকল জাতর খানি খায়, হে-ও তো মালিকরে খুশি করার নিয়তেউ খায়, হে আল্লার শুকরিয়া আদায় করিয়া খায়, আর যে জনে হকলতা খায় না, হে-ও মালিকরে খুশি করার নিয়তে খায় না, হে-ও আল্লার শুকরিয়া আদায় করে। 7আমরার মাজর কুনু বন্দাউ নিজর লাগি নিজে জিন্দা রয় না, আর নিজর লাগি মরেও না। 8কারন আমরা যেবলা জিন্দা রই, খালি মালিকর লাগিউ জিন্দা রই, আর যেবলা মরন অয়, খালি মালিকর লাগিউ মরন অয়। তে আমরা জিন্দা রইলেও যেতা, মরলেও অতা, আমরা তো মালিক ইছারউ। 9মালিক আল-মসীও তো মারা গেছলা আর হিরবার জিন্দা অইয়া উঠছইন, যাতে তাইন জিন্দা আর মুর্দা দুইও দলরউ মালিক বনইন। 10তে তুমি কেনে তুমার ভাইর খুত তুকাইরায়? তারে কেনে ছিড়াইরায়? আল্লার বিচারর ছামনে তো আমরা হকলউ উবাইমু। 11যেলা আল্লার কালামো আছে,

মাবুদে কইরা, আমার নামর কছম খাইয়া কইয়ার,

হকলেউ আমার ছামনে আইয়া সইজদা করবো,

পরতেক মুখেউ স্বীকার করবো, আমিউ আল্লা।

12অনো দেখা যায়, আল্লার দরবারো আমরা পরতেকেউ যারযির কামর হিসাব দিতে অইবো। 13তে আও, অখন থাকি আমরা একে-অইন্যর খুত ধরা বন্দ করি, আর নিয়ত করি, ইলা কুনু কাম করতাম নায়, যে কামে আরক ভাইর ইমানর খেতি অইবো, বা তারে গুনার পথে নিবো।

14মালিক ইছার উম্মত অওয়ায় আমি ভালামন্তেউ জানি আর বুজি, এমনে তো কুনু জিনিসউ নাজাইজ নায়, অইলে কেউ যুদি ইতারে নাজাইজ মনো করে, তে তার লাগিউ ইতা নাজাইজ। 15যুদি তুমার কুনু খানির লাগি আরক ভাইয়ে মনো দুখ পায়, তে তো তুমি তারে মহব্বত কররায় না। যে ভাইরে বাচানির লাগি আল-মসীয়ে মউত কবুল করলা, কুনু খানির লাগি ই ভাইর সর্বনাশ করিও না। 16তুমি যেতারে পছন্দ করো, ইতার লাগি দুছরা জনে যানু তুমারে না নিন্দায়। 17আল্লার বাদশাই তো খালি খানা-পিনার লাগি নায়, বরং আল্লাই পাক রুহে দেওয়া পরেজগারি, শান্তি আর খুশি-বাসির বেয়াপার। 18অউ নমুনায় যেরা আল-মসীর খেজমত করে, এরার উপরে আল্লা খুশি থাকইন, আর মানষেও ভালা পাইন।

19এরলাগি আও, আমরা অলা কাম করি, যে কামে শান্তি কাইম অয়, যে কামে একে-অইন্যরে গড়িয়া তুলতাম পারি। 20আর কুনু লাখান খানির লাগি আল্লার কামরে বিনাশ না করি, খানির জুকা হকলতাউ তো হালাল। অইলে তুমি কুনু এক বিশেষ খানি খাওয়ায় যুদি দুছরা মানষর ইমানো কষ্ট লাগে, তে ইতা খাওয়া তুমার লাগি জাইজ নায়। 21বিশেষ কুনু গোস্ত বা শরাব খাওয়া, যে কামে তুমার ভাইয়ে মনো দুখ পায়, ইমানে বাধা পায়, ইলা কুনু কাম করা তুমার লাগি ঠিক নায়। 22তুমার দিলর একিনরে, খালি তুমি আর তুমার আল্লার মাজে রাখো। নেক-কপালি তো হউ জন, যে জনে ভালা মনো করিয়া কুনু কাম করিয়া হারলে, তার মনো খুতখুতি আয় না। 23অইলে মনো খুতখুতি লইয়া যুদি হে কুন্তা খায়, তে তো হে দুষি। কারন হে যেতা খাইছে, ইতা তার বিবেকর অপছন্দ, আর বিবেকর উল্টা কামউ অইলো গুনা।

15

মানষর ভালাই করার চেষ্টা করো

1এরলাগি আমরা যেরার ইমান মজবুত আছে, আমরা খালি নিজর খুশির বায় না চাইয়া, আমরার কমজুর মতোসক্কি মনা ইমানদার ভাইয়াইনরেও যানু সইয্য করি। 2অতা ভাইয়াইন্তরে গড়িয়া তুলার নিয়তে, পরতেকেউ তারার ভালাইর লাগি তারার মনর পছন্দরে যানু খুশ রাখি। 3আল-মসীয়েও তো তান নিজরে খুশি করছইন না, বরং পবিত্র জবুর শরিফো আছে, “ও মাবুদ, তুমারে যেরা বেইজ্জত করছে, তারার অউ হকল বেইজ্জতি আমার উপরেউ আইছে।” 4তে আগর আছমানি কিতাবো যততা লেখা অইছে, ইতা তো আমরারেউ তালিম দিবার লাগি লেখা অইছে, যাতে অতা দেখিয়া আমরার ছবর আর সান্তনা আয়, আর আশা-ভরসা পাই।

5অখন ছবর আর সান্তনা দেওরা আল্লায় ইছা আল-মসীর পথে চলার লাগি, তুমরা হকলর মন এক করউক্কা। 6তেউ তুমরা এক মনে আর এক মুখে, আমরার মালিক ইছা আল-মসীর গাইবি বাফ আল্লার তারিফ করতায় পারবায়।

হকলর লাগি আল-মসীর তশরিফ

7এরলাগিউ ও ভাই অকল, আল-মসীয়ে যেলা তুমরারে আপন করছিলা, তুমরাও অলা একে-অইন্যরে আপন করিলাও, যাতে আল্লার গৌরব অয়। 8মনো রাখিও, আল্লায় বনি ইছরাইলর মুল মুরব্বি অকলর লগে যতো ওয়াদা করছলা, অতার হকিকতি পরমান করার লাগি আল-মসী আইয়া বনি ইছরাইলর খেজমতগার অইলা। 9আর ভিন জাতির গেছেও আইলা, যাতে এরাও আল্লার রহমত দেখিয়া তান তারিফ করে। ই বেয়াপারে জবুর শরিফো আগেউ কওয়া অইছে,

এরলাগিউ আমি ভিন জাতি অকলর মাজে তুমার তারিফ করমু

তারার মাজে তুমার গুনগান গাইমু।

10আর তৌরাত শরিফো কওয়া অইছে,

ও দুনিয়ার হকল জাতির মানুষ,

আল্লার আপন প্রজা বনি ইছরাইলর লগে মিলিয়া,

তুমরাও তান তারিফ করো।

11হিরবার জবুর শরিফো কওয়া অইছে,

দুনিয়ার হকল জাতিয়ে মাবুদর তারিফ করো,

হকল মানষে তান গুনগান গাও।

12আর হজরত ইশায়া নবীয়ে লেখছইন,

যেইন বাদশা দাউদ বিন-ইয়াসর খান্দানর মুল খুটি,

হকল জাতির উপরে বাদশাই করার লাগি এইন আইবা,

তান উপরেউ থাকবো হকল মানষর আশা-ভরসা।

13তে দিলর মাজে আশা দেওরা আল্লায় ইমানর বলে, তুমরারে হকল লাখান খুশি-বাসি আর শান্তির মাজে হাবু-ডুবু খাওয়াউক্কা। তেউ আল্লাই পাক রুহর কুদরতিয়ে তুমরার আশা-ভরসা বাইয়া পড়বো।

হজরত পাউলুছর তবলিগ কামর নিয়ম-সুত্র

14ও ভাই অকল, তুমরার বেয়াপারে আমি পুরাপুর বুজরাম, তুমরার দিল খান নেক নিয়তে ভরা আর ছহি-শুদ্ধ ইমানি আখল আছে, যাতে একে-অইন্যরে পরামিশ দিতায় পারো। 15তা-ও কয়েকটা বেয়াপারে আমি তুমরারে মনো করাই দিরাম, আল্লায় আমারে অউ নিয়ামত দিছইন করি, আমি সাওস করি তুমরার গেছে লেখিয়ার, 16ইছা আল-মসীর খাদিম হিসাবে আল্লায় আমারে তুমরার লাখান ভিন জাতি অকলর গেছে পাঠাইছইন। এরলাগিউ তান দেওয়া খুশ-খবরি তবলিগর মাজদি আমি ইমামতির কাম করিয়ার, যাতে অউ ভিন জাতি অকল আল্লার পাক রুহে পবিত্র অইয়া তান দরবারো কবুল অওয়ার জুকা কুরবানি অইন।

17আল্লা পাকর লাগি আমি যে খেজমত করিয়ার, অউ কামর কারনে ইছা আল-মসীর মাজদি আমার বড়াই দেখানির এখতিয়ার আছে। 18আল-মসীয়ে আমার মাজদি যে কাম হাছিল কররা, এর বাইরে কুন্তা মাতিবার সাওস আমার নাই। তাইন আমার মুখর কথা, আমার কাম-কাজ, 19কেরামতি-মোজেজা আর আল্লাই পাক রুহর কুদরতি বলে ভিন জাতি অকলরেদি আল্লার গুলামি করাইছইন। এরলাগিউ আমি আল-মসীর খুশ-খবরিরে জেরুজালেম থাকি ইলুরিকা পর্যন্ত হকল জাগার মাজে পুরাপুর তবলিগ করছি। 20তে যে জাগাত কুনুদিন আল-মসীর খুশ-খবরি তবলিগ করা অইছে না, হউ জাগাত তবলিগ করাউ আমার জিন্দেগির মুল কাম মনো করি। আমি চাই না আরক জনর গাড়া খুটির উপরে ভর করিয়া ঘর বানাইতাম। 21যেলা আল্লার কালামো আছে,

তান কথা যেরার গেছে জানাইল অইছে না

অখন তারা ইতা দেখবা,

তান বেয়াপারে আগে যেরা হুনছইন না

তারা অখন বুজবা।

হজরত পাউলুছ রোম টাউনো যাওয়ার খিয়াল

22তে অউ কারনে আমি বউত বার তুমরার গেছে যাওয়ার পথে বাধা পাইছি। 23অইন্য জাগাত আমার কাম শেষ না অওয়ায় যাওয়া বন্দ অইগেছে, অইলে অখন তো ইতা জাগাত আমার তবলিগ কাম শেষ, কুনু জাগাউ বাদ রইছে না। আসলে বউত বছর ধরিউ আমার খিয়াল আছিল তুমরার গেছে যাইতাম, 24এরলাগি অখন স্পেন দেশো যাওয়ার কালো আমি তুমরার গেছে যাইতাম চাইরাম। আমি আশা কররাম, হনো যাওয়ার সময় তুমরার লগে দেখা অইবো, আর খুশি-বাসি করিয়া কয়খান দিন তুমরার লগে কাটাইমু। বাদে স্পেনো যাওয়ার লাগি তুমরাউ আমার বেবস্তা করিয়া দিবায়। 25অইলে অখন আমি আল্লার পাক বন্দা অকলর মাজে রিলিফ বাটিবার লাগি জেরুজালেম টাউনো যাইরাম। 26হিনো অভাব-অনটনর মাজে আল্লার যে বন্দা অকল আছইন, তারার গেছে বাটিয়া দিবার লাগি মাকিদনিয়া আর গ্রীস দেশর জমাত অকলে কিছু সাইয্য তুলছইন। 27তারা খুব খুশি অইয়া ইতা তুলছইন। জানো নি, ই জমাতর ভাই-বইন অকল জেরুজালেম টাউনর আল্লার পাক বন্দা অকলর গেছে রিনি আছইন। কারন আল্লাই বাতুনি নিয়ামতর বাট যেবলা বনি ইছরাইলর মাজদি ভিন জাতিয়ে পাইছইন, তে ভিন জাতির লাগিও জরুর অইলো, বনি ইছরাইলরে দুনিয়াবি বেয়াপারে সায়-সাইয্য করা। 28আমার অউ রিলিফ বাটাত গিয়া হারি আমি যেবলা নিচ্চিত অইমু, ইতা পুরাপুর তারার আতো পৌছি গেছে, অউ সময় আমি তুমরার গেছে আইয়া স্পেন দেশো যাইমু। 29আমি বুজিয়ার, আমি যেবলা তুমরার গেছে আইমু, অউ সময় আল-মসীর ষোলআনা রহম-নিয়ামত লইয়া আইমু।

30ও ভাই অকল, আল্লার পাক রুহর মহব্বতে আর আমরার মালিক ইছা আল-মসীর নামে আমি তুমরারে খাছ মিনতি করিয়ার, আমার লগে অইয়া তুমরাও আমার লাগি আল্লার দরবারো দোয়া-মুনাজাতর জিহাদ চালাও। 31দোয়া করিও, এহুদিয়া জিলাত ইছায়ী তরিকার বিরুধি মানষর আত থাকি আমি যানু রেহাই পাই, আর আমার আনা ই রিলিফ খানাইন যানু জেরুজালেম টাউনো আল্লার পাক বন্দা অকলে সমজইন। 32তেউ আমি খুশি মনে তুমরার গেছে যাইতাম পারমু, তুমরার লগে আরাম-আয়েশ করমু, ইনশাল্লা। 33শান্তি দেওরা আল্লা পাক তুমরার লগে লগে রউক্কা। আমিন।

16

মুমিন অকলরে ছালাম জানানি

1তে অখন আমরার বইন ফৈবি বিবিরে পাঠাইরাম, তাইন অইলা কিংক্রিয়া টাউনর ইছায়ী জমাতর খাদিম, তান বেয়াপারে কইয়ার, 2আল্লার বন্দা অকলরে যেলা আপন করা জরুর, মালিক ইছার নামে এনরেও অলা আপন মনো করিও। তাইন তো আমারে আর আরো বউত মানষরে সাইয্য করছইন, এরলাগি যেকুনু বেয়াপারে সাইয্য চাইলে, তুমরা তানরে সাইয্য করিও।

3আমার লগে অইয়া আল-মসীর লাগি যেরা কাম করছইন, অউ ফিছকিলা আর আকিলরে আমার ছালাম জানাইও। 4আমার জান বাচানির লাগি, তারা নিজরে মউতর আতো সপি দিছলা। খালি আমি নায়, ভিন জাতির মাজর হকল জমাতউ তারার গেছে রিনি। 5অখন তারার বাড়ির জমাতো আইয়া যেরা শরিক অইন, এরা হকলরেউ আমার ছালাম জানাইও। তুরস্কর আছিয়া এলাকাত হকল পয়লা যেইন আল-মসীরে কবুল করছলা, হউ আপিনিতুছ ভাইরে ছালাম জানাইও, এইন আমার মায়ার মানুষ। 6আর হউ মরিয়ম বিবিরেও ছালাম জানাইও, যেইন তুমরার লাগি বউত মেনত করছইন। 7আমার নিজর জাতির মানুষ আন্দ্রনিকুছ আর জুনিয়ারেও ছালাম জানাইও, এরা তো আমার লগে অইয়া জেল খাটিছইন। আল-মসীর সাহাবি অকলর গেছে এরা খুব ইজ্জতি জন, এরা আমার আগে ইমান আনছইন।

8আমার মায়ার মুমিন ভাই আমফিলুছরে ছালাম জানাইও। 9আমরার লগর তবলিগকারি উরবান ভাইরে, আর আমার মায়ার দুস্ত স্তাখিছরেও ছালাম কইও। 10আল-মসীর পরিক্ষাত পাশ করা সিপাই আফিলিছ ভাইরেও ছালাম দিও। ভাই আরিস্তাবুলর বাড়ির হক্কলরে ছালাম জানাইও। 11আমার জাতির ভাই হেরোদুনরে ছালাম দিও। মরহুম নাকিছুছর বাড়ির যেরা মালিক ইছার উম্মত অইছইন, তারারেও ছালাম জানাইও।

12তুরফানা আর তুরফাছা বিবিরেও ছালাম দিও। অউ বেটিন্তে মালিক ইছার লাগি বড় মেনত কররা। মায়ার বইন ফার্ছিয়ারেও ছালাম কইও, মালিকর লাগি তাইনও বউত মেনত করছইন। 13মালিক ইছার পছন্দর মানুষ রউফ ভাইরে ছালাম দিও, তান আম্মারেও ছালাম কইও, ই বেটি তো আমারও মা। 14ছিংকিরাত, ফিলিগুন, হার্মিছ, ফাতরুব, হের্মাছ আর তারার লগে যতো ইমানদার বন্দা আছইন, এরা হকলরে ছালাম জানাইও। 15ভাই ফিলাগি, জুলিয়া বিবি, নিরিয়াছ আর তান বইনরে, আর অলিম্পাছরে ছালাম কইও, আল্লার যতো বন্দা তারার লগে আছইন এরা হকলরে ছালাম দিও। 16হুনো, তুমরা একে-অইন্যে পবিত্র গলাগলি করিও। আল-মসীর হকল জমাতর ভাই-বনিন্তে তুমরারে ছালাম জানাইরা।

হজরত পাউলুছর (রাঃ) বিদায়ি নছিয়ত

17ও ভাই অকল, তুমরারে মিনত করি কইরাম, আগে যেতা তালিম পাইছো, অউ তালিমর উল্টা তালিম দিয়া যেগুইন্তে দলাদলি আর বাধা-বিঘ্নর জনম দেইন, অতার বায় নজর রাখিও, তুমরা ইতার গেছ থাকি হরিয়া রইও। 18কারন ইতায় আমরার মালিক আল-মসীর গুলামি না করিয়া, তারার পেটর গুলামি করে। মিঠা-মিঠা মাত মাতিয়া আর তেল মালিশ করিয়া সরল-সুজা মানষরে বে-পথি বানায়। 19আর তুমরা যেন আল্লার হুকুম মাফিক চলরায়, ইতা তো হকলেউ জানে, ই খবর হুনিয়া আমিও খুব খুশি অইছি। তে আমি চাইরাম, তুমরা নেক পথে কামিল অও, বদ পথ থাকি বাচিয়া রও। 20শান্তি দেওরা আল্লায় ইবলিছ-শয়তানরে খুব জলদি করি তুমরার পাওর তলে ফালাই পিষাইবা।

আমরার মালিক ইছা আল-মসীর রহম-নিয়ামত তুমরার উপরে জারি রউক।

21আমার লগে খুশ-খবরি তবলিগ করইন যে তিমথি ভাই, এইন তুমরারে ছালাম জানাইরা। আমার জাতি ভাই লুকিয়াছ, জাছুন আর ছুপাতছেও তুমরারে ছালাম কইরা।

22হজরত পাউলুছর বুলি হুনিয়া আমি তর্তিউছ মহরিরে লেখরাম, মালিক ইছার নামে আমিও তুমরারে ছালাম জানাইরাম।

23-24আমি পাউলুছ আর জমাতর হকলরে যেইন মেহমানদারি করইন, হউ গউছ ভাইয়ে তুমরারে ছালাম জানাইরা। অউ টাউনর সরকারি কেশিয়ার ইরাস্তাছ ভাইয়ে আর মুমিন ভাই কুয়াতুছে তুমরারে ছালাম জানাইরা।

25আল-হামদুলিল্লা, আমি পাউলুছে ইছা আল-মসীর বেয়াপারে যে খুশ-খবরি তবলিগ করি, আল্লা পাকর খেমতা আছে অউ খুশ-খবরির উছিলায় তুমরারে ইমানে থির রাখা। মনো রাখিও, বউত জমানা ধরি আল্লায় তান ই বাতুনি মুনশার কথা লুকাই রাখছিলা, 26অইলে অখন ইতা দুনিয়ার হকল জাতির গেছে জাইর অর। চিরকালিন জিন্দা আল্লার হুকুমে, আগর জমানার নবী অকলে যেতা লেখিয়া রাখছিলা, অতা জাইর অর, যাতে তারা আল-মসীর উপরে ইমান আনিয়া আল্লা পাকর বাইধ্য অইন। এরলাগি অউ খুশ-খবরি অখন তবলিগ করা অর। 27তাইনউ একমাত্র আল্লা, তাইনউ আখলদার, যুগে যুগে চিরকাল ইছা আল-মসীর মাজদি তান তারিফ অউক। আমিন॥