পবিত্র ইঞ্জিল শরিফ ২৭ নম্বর ছিপারা

জাইরা কালাম

পরিচিতি

জাইরা কালাম ছিপারা খান অইলো, আছমানি কিতাব পবিত্র ইঞ্জিল শরিফর শেষ ছিপারা। আল্লা পাকর হুকুমে অউ ছিপারা লেখছইন, হজরত ইছা আল-মসীর মায়ার সাহাবি হজরত হান্নান (রাঃ)। হজরত ইছায় বেহেস্তো তশরিফ নেওয়ার বাদে ৬০-৬৫ বছরর কালো ইখান লেখা অইছে। অউ ছিপারা লেখার সময় আল-মসীর উম্মত অকলর উপরে খুব বেশি জুলুম-অত্যাচার আছিল। অউ হালতর মাজে মুমিন অকলরে আশা-উত্‍সাহ যুগানি, ছবর করা, আর অউ জুলুমর মাজেও ইমানে মজবুত রইয়া আল্লার দরবারর পুরুস্কারর লাগি জুইত রইতে পরামিশ দেওয়া অইছে। অউ ছিপারার লগে আগর জমানার নবী হজরত দানিয়াল, হজরত হেজকিল আর হজরত জাকারিয়া (আঃ) অর কিতাবর লগে বউত মিল আছে। এর মাজে লেখা আছে, কিয়ামতর আগে মুমিন অকলর হাল-হকিকত কিলা অইবো, কতো বেশি জুলুম-মছিবত অইবো, বাদে আল্লা পাকে হজরত ইছা আল-মসীর উছিলায় লান্নতি শয়তানরে এক্কেবারে বিনাশ করিলিবা, আর অউ সময় যেরা ইমানে মজবুত রইবা, তারা আল্লার দরবার থাকি পুরুস্কার পাইবা।

ই ছিপারাত পাইবা, সাতটা ইছায়ী জমাতর গেছে চিঠির ভাষায় বয়ানি লেখা আছে। অউ সাতো জমাতর ঠিকানা অইলোগি, হউ আমলর রোমান বাদশাইর আছিয়া দেশ, বর্তমান তুরস্ক দেশর পচ্চিম এলাকা। জমাতর হাল-হকিকত বুজা, আর আমরা জানিয়া হারি নিজর জিন্দেগিত আমল করা জরুর।

অউ ছিপারাত বউত বাতুনি নম্বর লেখা আছে। অউ নম্বরর কিছু মানি অউলা অইতো পারে:

২ = হকর বেয়াপারে সাক্ষি দেওয়া; হামেশা দুইজনর সাক্ষি জরুর।

৪ = আল্লার আরশ আর অউ বেয়াপারে; এরলাগি কাবা শরিফ অইলো চাইর কুনি, যাতে অউ আরশর লগে মিল দেখা যায়।

৬ = মানুষ আর গুনাগার মানষর বেয়াপারে; ছয় নম্বর দিন মানুষ পয়দা, আর ছয় অইলো পবিত্র নম্বর ৭ থাকি কম। এরলাগি ৬৬৬ বুজায়, কিয়ামতর আগে আস্তা দুনিয়ারে বে-পথে নিবার লাগি যে দর্জাল আইবো তার নামর মার্কা বা নম্বর।

৭ = আল্লার পবিত্র নম্বর, খাছ করি তান নিজর পুরাপুর কামর বেয়াপারে; সাত দিনে আছমান-জমিনর হকলতা পয়দা, অউ ছিপারার মাজে আল্লার পুরাপুর পবিত্র প্রজার সাত জমাত, আর তান পুরাপুর গজব ঢালিবার সাত নমুনা বার বার উল্লেখ করা অইছে।

১২ = আল্লার খাছ প্রজা; হজরত ইছার আগে আছিল বনি ইছরাইলর বারো খান্দান, বাদে হজরত ইছার বারোজন খাছ সাহাবি, এরলাগি ১২+১২=২৪ আর ১২×১২=১৪৪ বুজায়, হকল জমানার আল্লার খাছ প্রজা অকল।

১০০০ = আস্তা দুনিয়া বা পুরা এক যুগ; এরলাগি ১৪৪০০০ বুজায় হকল জমানার আর আস্তা দুনিয়ার আল্লার খাছ প্রজা অকল।

১২৬০ = সাত বছরর অর্ধেক দিন। উপরর সাত দেখবা।

জাইরা কালাম ছিপারার মাজে নানান নমুনার দরশনর মাজদি, অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত হকল জমানার কথা লেখা অইছে। ১ রুকু ১৯ আয়াতো আছে, “এরলাগিউ তুমি অখন যেতা দেখরায়, এর আগে যেতা ঘটিছে আর বাদে যেতা ঘটিবো, ইতা হক্কলতা তুমি লেখিয়া থও।”

এরমাজে আছে,

(ক) সাহাবি হান্নানর বেহেস্তি দরশন ১ রুকু

(খ) সাতো জমাতর লাগি উপদেশ ২—৩ রুকু

(গ) আল্লার পবিত্র তখতর দরশন ৪—৫ রুকু

(ঘ) গজবি সাতটা সীল-চাপ্পড় আর সাতটা শিংগা ৬—১১ রুকু

(ঙ) শয়তান দানবর লগে আল্লার খাছ বন্দার যুদ্ধ ১২:১—১৪:৫ আয়াত

(চ) আখেরি সাতটা গজব ১৪:৬—১৬:২১

(ছ) নাফরমান বাবিল টাউনর বিচার ১৭:১—১৯:১০

(জ) আখেরাতর বিচার ১৯:১১—২০:১৫

(ঝ) নয়া পয়দা ২১—২২ রুকু

1

সাহাবি হান্নানর বেহেস্তি দরশন (১:১-২০)

ছালাম আর দোয়া

1অউ কিতাবো যততা লেখা অইছে, ইতা আল্লা পাকে ইছা আল-মসীরে জানাইছইন, আর আল-মসীয়ে ইতা জাইর করছইন। থুড়া দিনর ভিতরে যেতা যেতা বেয়াপার নিচ্চিত ঘটিবো, ইতা যাতে তান গুলাম অকলে জানইন। আল-মসীয়ে তান ফিরিস্তা পাঠাইয়া নিজর গুলাম সাহাবি হান্নানরে ইতা হকলতা জানাইলা। 2সাহাবি হান্নানে আল্লার কালাম আর ইছা আল-মসীর সাক্ষির বেয়াপারে যতো দরশন দেখলা, অউ দরশনর বেয়াপারেউ তাইন জবানবন্দি দিলা। 3আর হউ জনউ নেক-কপালি, যেইন ই কালামর আগাম খবর অকল তিলাওত করইন, আর তারাও নেক-কপালি, যেরা ই কালাম হুনইন, হুনিয়া হারি আমল করইন; কারন সময় তো ধারো আইচ্ছে।

4-5তে আমি হান্নানে রোমান বাদশাইর আছিয়া দেশর সাতো জমাতর গেছে অউ জবানবন্দি লেখরাম। যেইন আছলা, যেইন আছইন আর যেইন হামেশা রইবা হউ আল্লা পাক, আর তান তখতর ছামনে যে সাত নমুনার রুহ থাকইন, এরা আর যেইন হক-হালাল সাক্ষি হউ ইছা আল-মসীয়ে তুমরারে রহমত আর শান্তি দান করউক্কা। তাইন তো মুর্দা অকলর মাজ থাকি পয়লা জিন্দা অইয়া উঠিছইন, তাইনউ দুনিয়ার রাজা অকলর বাদশা। তাইন আমরারে মহব্বত করইন, এরলাগি নিজর জান কুরবানি দিয়া, আমরারে গুনার সাজা থাকি বাচাইছইন। 6তাইন আমরারে লইয়া এক বাদশাই তিয়ার করিয়া, তান গাইবি বাফ আল্লার এবাদতির লাগি ইমাম বানাইছইন। তান মহিমা আর কুদরতি বল হর-হামেশা বওয়াল রউক। আমিন।

7হুনো, তাইন মেঘর চাকাত অইয়া তশরিফ আনরা, পরতেকে তানরে চউখদি দেখবো, যারা লাকড়িদি বানাইল সলিবো গাথিয়া তানরে কাতল করছিল তারাও দেখবো, আর তান লাগি দুনিয়ার হকল জাতিয়ে জুরে জুরে কান্দিবা। অউলাউ অউক, আমিন। 8আল্লা মাবুদে বাতাইরা, “আমিউ আলিফ আর ইয়া, যেইন আছইন, যেইন আছলা আর যেইন হামেশা রইবা। আমিউ সর্ব-শক্তিমান।”

হজরত ইছার নুরর ছুরত

9আমি তো তুমরার ভাই হান্নান, হজরত ইছার উম্মত অওয়ায় আমিও তুমরার লাখান একই কষ্ট, একই বাদশাই আর একই ছবরর ভাগি অইছি। আল্লার কালাম তবলিগ করায় আর ইছার পক্ষে জবানবন্দি দেওয়ায় আমারে পাতমুছ নামর দ্বীপো নিয়া বনবাস দেওয়া অইছিল। 10এরমাজে হজরত ইছার পবিত্র দিন, এক রবিবারে আমি আল্লাই পাক রুহর মাজে পুরাপুর ডুবি গেলাম, অমন সময় আমার খরেদি শিংগার আওয়াজর লাখান এক আওয়াজ হুনলাম। 11হুনলাম, কুনু এক জনে আমারে কইরা, “হুনো, তুমি অখন যেতা দেখরায়, ইতা এক কিতাবো লেখো, লেখিয়া ইফিছ, ইজমির, ফরগাম, থুয়াতিরা, ছার্দি, ফিলাদিলফিয়া আর লাওদিকেয়া টাউনর সাতো জমাতর গেছে পাঠাও।”

12আমার লগে যেইন মাতিরা, তানরে দেখার খিয়ালে আমি খরেদি ঘুরলাম, ঘুরিয়া দেখি, সোনার সাতটা চেরাগ দানি। 13অউ চেরাগ দানির মাজখানো ইবনে-আদমর লাখান একজনরে দেখলাম। তান ফিন্নো পাও পর্যন্ত লাম্বা পাইঞ্জাবি, আর বুকুর উপরে সোনালী এক পট্টি। 14তান মাথার চুল দুধর লাখান ধলা চকচকা। তান চউখ আগুনির লুক্কার লাখান। 15পাও অইলোগি, আগুইনদি জালাইয়া মাঞ্জিয়া পরিস্কার করা চকচকা পিতলর লাখান, আর তান গলার আওয়াজ অইলো, জুরে জুরে কল-কলাইয়া যাওয়া পানির ফুতর লাখান। 16তান মুখর ছুরত আছিল পুরা জলমল কররা সুরুজর লাখান। তান মুখ থাকি ধারাইল একখান তলোয়ার বার অইলো, ই তলোয়ারর দুইও গালাবায় ধার আছিল, আর তান ডাইন আতো আছিল আছমানর সাতটা তেরা।

17তানে দেখিয়া আমি মরার লাখান তান পাওর কান্দাত পড়ি রইলাম। তেউ তান নিজর ডাইনর আত আমার উপরে থইয়া কইলা, “ডরাইও না। আমিউ আউয়াল আর আমিউ আখের, 18আমিউ হাইউল-কাইয়ুম, যেইন নিজে নিজে হর-হামেশা আছি। আমার মউত অইছিল, অইলে অখন আমি যুগ যুগ ধরি চিরকাল জিন্দা আছি। মউত আর কয়বরর চাবি আমার আতো আছে। 19এরলাগিউ তুমি অখন যেতা দেখরায়, এর আগে যেতা ঘটিছে আর বাদে যেতা ঘটিবো, ইতা হক্কলতা তুমি লেখিয়া থও। 20তুমি সোনার যে সাতটা চেরাগ দানি দেখছো আর আমার ডাইন আতো সাতটা তেরা দেখছো, ইতার মানি অইলো, সাতো তেরা অইলো সাত জমাতর সাত জন ফিরিস্তা, সাতটা চেরাগ দানি অইলো হউ সাতো জমাত।”

2

সাতো জমাতর লাগি উপদেশ (২:১-৩:২২)

(১) ইফিছিয়া জমাতর গেছে

1ইফিছ টাউনর জমাতর ফিরিস্তার গেছে লেখো: যেইন নিজর ডাইন আতো আছমানর সাতটা তেরা ধরিয়া, সোনার সাতটা চেরাগ দানির মাজখানো চলা-ফিরা করইন, তাইন অউ কথা কইরা,

2আমি তো তুমরার কাম-কাজ, তুমরার মেনত আর তুমরার ছবরর কথাও জানি। আমি জানি, তুমরা কুনুজাত বদ মানষরে সইয্য করতায় পারো না, আর সাহাবি না অইয়াও যেগুইন্তে নিজরে সাহাবি কইয়া পরিচয় দেইন, তারারে পরিক্ষা করিয়া দেখছো, আর পরমানও পাইছো তারা যেন বেইমানি মাতের। 3তুমরার বউত ছবর আছে, তুমরা আমার লাগি বউত কষ্ট কররায়, কুনুমন্তে হেরান অইছো না।

4অইলে তুমরার বিরুদ্ধে তো আমার নালিশ আছে, তুমরা পয়লা আমারে যেলা মহব্বত করতায়, অখন ইতা বাদ দিলাইছো। 5থুড়া চিন্তা করি দেখো, তুমরা কতো উচা থাকি কতো লামাত লামি গেছ। ই হালত থাকি দিল বদলাইয়া, আগে যেতা করতায় অখন হিরবার অলা করো। আর যুদি দিল না ফিরাও, তে আমি তুমরার গেছে আইয়া তুমরার চেরাগ দানি খান জাগা থাকি হরাইলিমু। 6তুমরার তো একটা গুন আছে, নিকুলায়তি অকলে যেতা কাম করইন তুমরা ইতারে ঘিন্না করো, আর আমিও ইতারে ঘিন করি।

7যার কান আছে হে হুনউক, পাক রুহে জমাত অকলরে কিতা বাতাইরা। যে জন জয়ী অইবো তারে আমি আল্লা পাকর জান্নাতুল-ফেরদৌছর জিন্দেগি-গাছর ফল খাইতে দিমু।

(২) ইজমির জমাতর গেছে

8ইজমির টাউনর জমাতর ফিরিস্তার গেছে অউ কথা লেখ: যেইন আউয়াল আর আখের, যেইন মারা গেছলা, বাদে জিন্দা অইছইন, তাইন অখান কইরা,

9আমি তো তুমরার অভাব-অনটন আর কষ্টর কথা জানি, অইলে এরবাদেও তুমরা ধনি। যেতা মানষে খাটি ইহুদি নামে নিজর পরিচয় দেয়, অথচ ইহুদির আমল নাই, বরং ইবলিছর দলর মানুষ, ইতায় তুমরার বিরুদ্ধে কিতা মাতিরা আমি তো জানি। 10তুমরা যে মছিবতর মাজে পড়বায়, ই মছিবতরে একদম ডরাইও না। জানো নি, ইবলিছে পরিক্ষা করার নিয়তে তুমরার মাজর কয়জনরে জেলো দিবো, হনো তুমরা দশ দিন কষ্ট পাইবায়। হুনো, ইমানর পথে তুমরা মরন পর্যন্ত হক-হালাল রইও, তেউ জয়র মালা হিসাবে আমি তুমরারে আখেরর জিন্দেগি দিমু।

11যার কান আছে হে হুনউক, পাক রুহে জমাত অকলরে কিতা বাতাইরা। যে জন জয়ী অইবো, দুছরা বারর মউতে, মানি দোজখে তার খেতি করার কুনু সাইধ্য নাই।

(৩) ফরগাম জমাতর গেছে

12ফরগাম টাউনর জমাতর ফিরিস্তার গেছে অউ কথা লেখ: ধার আলা যে তলোয়ারর দুইও গালাবায় ধার আছে, অউ তলোয়ারর মালিকে অখান কইরা,

13তুমরা কুন জাগাত বসত কররায় ইতা তো আমি জানি, ইখানো ইবলিছর সিংহাসন আছে। অইলে আমার বেয়াপারে তুমরা হক-হালাল আছো, আমার উপরর ইমানরে অস্বীকার করছো না। আমার তবলিগ কররা হউ হক-হালাল জন আন্তিপাছ যেবলা কাতল অইছলা, ইবলিছর আখড়ার মাজে, তুমরার টাউনো তারে খুন করা অইছিল, হউ সময়ও তুমরার ইমানরে অস্বীকার করছো না।

14তা-ও তুমরার বিরুদ্ধে আমার কিছু মাত আছে। তুমরার অনো অলা কিছু মানুষ আছইন, যেতায় মুছা নবীর আমলর ভন্ড নবী বালামর তালিমে চলইন। অউ বালামে বাদশা বালাকরে হিকাইছিল, যাতে হে দেবতার মুর্তির ছামনর পসাদ খাওয়াইয়া আর জিনা করাইয়া, বনি ইছরাইলরে গুনার পথে নেয়। 15ইতা ছাড়াও নিকুলায়তি অকলর তালিমে যেতা চলইন, অতা কয়গুও তুমরার অনো আছইন। 16এরলাগি ই হালত থাকি তুমরা দিল বদলাও, আর না বদলিলে আমি খুব জলদি তুমরার ধারো আইমু, আইয়া আমার মুখর তলোয়ারদি তারার লগে জিহাদ করমু।

17যার কান আছে হে হুনউক, পাক রুহে জমাত অকলরে কিতা বাতাইরা। যে জন জয়ী অইবো, আমি তারে লুকাইল বেহেস্তি মান্না থাকি থুড়া মান্না আর একটা ধলা পাথর দিমু। অউ পাথরর উপরে অমন এক নাম লেখা থাকবো, ই নাম কেউ চিনে না; যে জনে অউ পাথর পাইবো, খালি হে-উ ই নাম চিনবো।

(৪) থুয়াতিরা জমাতর গেছে

18থুয়াতিরা টাউনর জমাতর ফিরিস্তার গেছে অউ কথা লেখ: আল্লার খাছ মায়ার জন ইবনুল্লা, তান চউখ অইলো আগুনির লুক্কার লাখান, পাও দুইও খান মাঞ্জিয়া পরিস্কার করা চকচকা পিতলর লাখান, তাইন অখান কইরা,

19আমি তো তুমরার কাম-কাজ, তুমরার মায়া-মহব্বত, ইমান, খেজমত আর তুমরার ছবরর কথা জানি। আর এওখানও জানি, তুমরা আগে যেতা কাম করছো, অখন এর থাকি আরো বেশি কাম কররায়।

20অইলে তুমরা তো ইজাবেল নামর অউ বেটিরে আশ্রয় দিরায়, এরলাগি তুমরার বিরুদ্ধে আমার একখান কথা আছে, তাই নিজরে নবী কইয়া পরিচয় দেয়। আমার বন্দা অকলরে তাই জিনা করা আর দেবতার ছামনর পসাদ খাওয়া হিকাইয়া বে-পথে নেরগি। 21অউ জিনা থাকি তৌবা করার লাগি আমি তাইরে সময় দিছলাম, অইলে তাই তৌবা করতে রাজি নায়। 22হুনো, এরলাগি আমি তাইরে এক বিছনাত ফালাইয়া থইমু, তাইর লগে যেতায় জিনা করইন, ইতায় যুদি তৌবা না করইন, তে তারারেও বড় মছিবতো ফালাইমু। 23তাইর পুয়া-পুড়িনরেও আমি মারিলিমু। তেউ হকল জমাতে জানিলিবা, আমি তো মানষর দিলর আর মনর খবর রাখি। আমি আমল-নমা দেখিয়া তুমরা পরতেক জনর ফল দিমু। 24থুয়াতিরা জমাতর বাকি মুমিন অকলরে কইরাম, তুমরা যেরা অউ বেটির কথায় চলো না, মানষে যেতারে ইবলিছর গইন তালিম কইন, তুমরা যেরা হউ পথ চিনো না, আমি তুমরারে দুছরা কুনু ভার দিতাম নায়। 25খালি তুমরার যেতা আছে, আমি না আওয়া পর্যন্ত অখনাইনরে তুমরা মজবুত করি ধরিয়া রইও।

26আমার গাইবি বাফে যেলা হক্কল জাতির উপরে আমারে খেমতা দিছইন, যেরা জয়ী অইবো, তারারেও আমি অউ খেমতা দিমু। আমি যে কামে খুশি অই অউ কাম যেরা আখের পর্যন্ত করবো, তারা ই খেমতা পাইবা। 27তারা লুয়ার লাঠি দিয়া ইতারে শাসন করবা, আর মাটির পাতিলর লাখান ইতারে চুরমার করবা। 28যেরা জয়ী অইবো, আমি তারে ফজরর শুক-তেরাও দিমু।

29যার কান আছে হে হুনউক, পাক রুহে জমাত অকলরে কিতা বাতাইরা।

3

(৫) ছার্দি জমাতর গেছে

1ছার্দি টাউনর জমাতর ফিরিস্তার গেছে লেখ: আল্লার সাত নমুনার রুহ আর সাতটা তেরা যেইন ধরিয়া রাখছইন, তাইন অখান কইরা,

তুমরার কাম-কাজ তো আমি জানি। তুমরা জিন্দা আছো করিয়া তুমরার বউত সুনাম আছে, অইলে আসলে তো তুমরা মুর্দা। 2তুমরা হজাগ অইয়া উঠো, আর বাদ-বাকি যততা মরার পথি অইগেছে, ইতারে বল যুগাও। হুনো, আমার আল্লার ছামনে তুমরার একখান কামও আমি সঠিক দেখছি না। 3এরলাগি তুমরা যেতা পাইছো আর যেতা হুনছো, অতা ইয়াদ রাখো আর আমল করো। তুমরার অখনকুর হালত থাকি দিল বদলাও। তুমরা যুদি হজাগ না অও, তে আমি চুরর লাখান লুকাইয়া আইমু, কুন বালা তুমরার গেছে আইমু, তুমরা টেরউ পাইতায় নায়। 4তে অউ ছার্দি জমাতো তুমরার অলা কয়জন মানুষ আছইন যেরার লেবাছো কুনু খুত নাই, মানি তারার চাল-চলন খারাপির বায় গেছে না। তারা পরেজগার বন্দা, এরলাগি তারা পরিস্কার ধলা লেবাছ ফিন্দিয়া আমার লগে চলা-ফিরা করবা। 5যে জন জয়ী অইবো, হে অলা ধলা লেবাছ ফিনবো। আখেরাতর জিন্দেগি খাতা থাকি তার নাম আমি কুনুদিনও ফুছতাম নায়। বরং আমার গাইবি বাফ আর তান ফিরিস্তা অকলর ছামনে আমি তারে আমার কইয়া স্বীকার করমু।

6যার কান আছে হে হুনউক, পাক রুহে জমাত অকলরে কিতা বাতাইরা।

(৬) ফিলাদিলফিয়া জমাতর গেছে

7ফিলাদিলফিয়া টাউনর জমাতর ফিরিস্তার গেছে লেখ: যেইন হক আর পাক-পবিত্র, যেন আতো বাদশা দাউদ নবীর চাবি আছে, যেইন খুললে আর কেউ বন্দ করতো পারে না, আর বন্দ করলে কেউ খুলতো পারে না, তাইন অখান কইরা,

8আমি তো তুমরার কাম-কাজ জানি। হুনো, আমি তুমরার ছামনে একখান দুয়ার খুলা রাখলাম, ইখান বন্দ করার খেমতা কেউরর নাই। আমি তো জানি, তুমরা খুব কমজুর, এরবাদেও তুমরা আমার হুকুম আমল করছো আর আমারে অস্বীকার করছো না। 9যেরা ইহুদি কইয়া নিজর পরিচয় দেয় অথচ আসল ইহুদি নায়, ইবলিছ-শয়তানর দলর হউ বেইমান অকলরে আমি তুমরার গেছে আনাইমু, তুমরার পাওয়ো ধরাই কদমবুছি করাইমু, আর তারারে জানাই দিমু আমি তুমরারে মহব্বত করি। 10তুমরারে ছবর করার লাগি আমি যে হুকুম দিছলাম ইতা তুমরা মানছো; এরলাগি ই দুনিয়ার উপরে মছিবতর যে সময় আইয়া আজের, হউ সময় থাকি আমি তুমরারে হেফাজত করমু। দুনিয়ার মানষরে পরিক্ষা করার লাগি অউ মছিবতর সময় আইবো।

11হুনো, আমি খুব জলদি আইরাম। তুমরার যেতা আছে অতারে মজবুত করি ধরিয়া রাখ, যাতে তুমরার জয়র মালা কেউ কাড়িয়া নিতো না পারে। 12যে জন জয়ী অইবো, তারে আমি আমার আল্লার ঘরর একটা খুটি বানাইমু, হে আর কুনুদিন বার অইয়া যাইতো নায়। আমি তার উপরে আমার আল্লার নাম আর আল্লার টাউনর নামও লেখমু। হউ টাউন অইলোগি নয়া জেরুজালেম। বেহেস্তর মাজ থাকি, আমার আল্লার ধারো থাকি হউ টাউন লামিয়া আইবো। আর যে জন জয়ী অইবো, তার উপরে আমি আমার নয়া নাম খানও লেখমু।

13যার কান আছে হে হুনউক, পাক রুহে জমাত অকলরে কিতা বাতাইরা।

(৭) লাওদিকেয়া জমাতর গেছে

14লাওদিকেয়া টাউনর জমাতর ফিরিস্তার গেছে লেখ: যেন নাম আমিন, যেইন হক-হালাল সাক্ষি, যেইন আল্লার পয়দা করা হক্কলতার মুল খুটি, তাইন অখান কইরা,

15তুমরার কাম-কাজর কথা তো আমি জানি। তুমরা অইলায় না ঠান্ডা, না গরম। তুমরা হয় ঠান্ডা না অয় গরম অইলে ভালা অইলো অনে। 16অইলে তুমরা তো উমলি গরম, না ঠান্ডা, না গরম, এরলাগি আমি আমার মুখর ছেফর লাখান থু করি তুমরারে ফালাই দিমু। 17তুমরা তো কইরায়, তুমরা বউত ধনি, তুমরা বড়লোক অইগেছো, এরলাগি তুমরার কুন্তার অভাব নাই। ইতা খুব ভালা কথা, অইলে আসলে তো তুমরা বুজরায় না, তুমরা খুব দুখি, কাংগাল, গরিব, আন্দা আর লেমটা আছো। 18এরলাগি আমি তুমরারে অউ উপদেশ দিরাম, আগুইনদি জালাইল খাটি সোনা তুমরা আমার গেছ থাকি লইয়া নেও, যাতে তুমরা হাছারর ধনি অইতায় পারো। আমার গেছ থাকি ধলা লেবাছ লইয়া নিয়া ফিন্দো, তেউ তুমরারে আর লেমটা দেখা যাইতো নায়। আমার গেছ থাকি চখুত লাগানির সুরমা লইয়া নেও, তেউ তুমরা হাছারর চউখে দেখবায়।

19হুনো, আমি যেরারে মায়া করি, তারার দুষ-তিরুটি দেখাই দেই আর শাসনও করি। এরলাগি তুমরা উমলি গরম থাকি পুরা গরম অইয়া তৌবা করো। 20জানো নি, আমি দুয়ারর গেছে উবাইয়া দুয়ারো ঠুকাইরাম। আমার গলার আওয়াজ হুনিয়া যুদি কেউ তার দুয়ার খুলিয়া দেয়, তে আমি তার ভিতরে হামাইমু, তার লগে খানা-দানা খাইমু আর হে-ও আমার লগে খানা-দানা খাইবো। 21আমি যেলা জয়ী অইয়া আমার গাইবি বাফর লগে তান পবিত্র আরশর কুরছিত বইছি, ঠিক অউ লাখান যে জন জয়ী অইবো, তারেও আমি আমার লগে আমার কুরছিত বওয়ার অধিকার দিমু।

22যার কান আছে হে হুনউক, পাক রুহে জমাত অকলরে কিতা বাতাইরা।

4

আল্লার পবিত্র তখতর দরশন (৪:১-৫:১৪)

আল্লার তখতর ছামনে এবাদত

1এরবাদে আমি দরশন দেখলাম, বেহেস্তর একখান দুয়ার খুলা আছে। আর আমি তান গলার আওয়াজ হুনলাম, শিংগার আওয়াজর লাখান যেইন আগে মাতিছলা, তাইন আমারে ডাক দিলা, কইলা, “তুমি অনো উঠিয়া আও। আমি অখন তুমারে দেখাইমু, এরবাদে কিতা কিতা নিচ্চিত ঘটিবো।” 2ডাক হুনার লগে লগেউ আমি পাক রুহে কামিল অইলাম, আর দেখলাম, বেহেস্তর মাজে একখান তখত আছে, অউ তখতর উপরে একজন বওয়াত আছইন। 3এন ছুরত অইলো, দামি হীরা আর লাল-মনির লাখান। ই তখতর চাইরো গালাবায় আছিল রংধেনু, ইতা দেখতে এক্কেরে কছুয়া পান্না মনির লাখান। 4অউ তখতর চাইরো কান্দাবায় আরো চব্বিশ খান তখত আছিল, হউ তখতো বওয়াত আছলা চব্বিশ জন মুরব্বি নেতা। এরার লেবাছ আছিল ধলা চকচকা আর মাথাত আছিল সোনার তাজ। 5মাজ খানর তখত থাকি মেঘর জিলকানি, গুড়-গুড়ি ডাক আর বেজুইতা ঠাঠারি শব্দ বারনিত আছিল। এর ছামনে সাতটা মুশাল জালাইল আছিল, ই মুশাল অইলো আল্লার সাত নমুনার রুহ। 6তখতর ছামনে ফটিকর গ্লাসর লাখান পরিস্কার কাচর এক দরিয়া আছিল। আর অউ মাজর তখতর চাইরো গালাত চাইর জন জানদার আছিল, এরার ছামনে-পিছে দুইওবায় চউখ অকলে ভরা। 7পয়লা জানদারটা দেখতে সিংহর লাখান, দুছরাটা বিছালর লাখান, তিন নম্বরটা মানষর লাখান আর চাইর নম্বরটা উড়াল দেওরা চিলর লাখান। 8অউ চাইরো জানদারর পরতেকর ছয়টা করি ডাখনা আছিল, আর বারে-ভিতরে চাইরোবায় চউখ আছিল। তারা দিন-রাইত হামেশা অউ জিকির কররা,

“কুদ্দুছুন, কুদ্দুছুন, কুদ্দুছুন, রাব্বু ইলাহুল ক্বাদির,

কানা ওয়া-হুয়া কাইনুছ ছাইয়াতিন।

পবিত্র, পবিত্র, পবিত্র আল্লা মাবুদ সর্ব-শক্তিমান,

যেইন আছলা, যেইন আছইন, আর যেইন হামেশা রইবা।”

9যেইন চিরকালিন জিন্দা, যেইন তখতো বওয়াত আছইন, অউ জানদার অকলে যেবলাউ তান তারিফ, সম্মান আর শুকরিয়া জানাইন, 10অউ সময় যেইন তখতো বওয়াত আছইন, যেইন চিরকালিন জিন্দা, এন ছামনে হউ চব্বিশ জন মুরব্বি নেতা নতো অইয়া সইজদা করইন। ই নেতা অকলে যারযির মাথার তাজ সিংহাসনর ছামনে খুলিয়া থইয়া কইন,

11“ও আমরার মাবুদ আল্লা,

তুমি তো ইজ্জত, তারিফ আর কুদরতি খেমতার যোইগ্য।

তুমিউ তো হকলতা পয়দা করছো,

তুমার মর্জিয়ে হকলতা পয়দা অইছে আর টিকিয়া আছে।”

5

গাইবি কিতাব আর মেড়ার বাইচ্চা

1অউ তখতর মাজে যেইন বওয়াত আছলা, তান ডাইনর আতো আমি একখান কিতাব দেখলাম। কিতাবর বারে-ভিতরে কুন্তা লেখা আছে, ইখান সাতটা সীল দিয়া সীল-চাপ্পড় মারা। 2বাদে আমি দেখলাম, খুব শক্তিআলা একজন ফিরিস্তায় জুরে জুরে কইরা, “ইলা যোইগ্য কেউ আছইন নি, যেইন অউ সীল-চাপ্পড় ভাংগিয়া কিতাব খান খুলতা পারবা?” 3অইলে আছমান-জমিন বা পাতালর মাজে ইলা কেউ মিললো না, যেইন ইখান খুলা বা এর ভিতর দেখার যোইগ্য। 4তেউ আমি হান্নানর খুব কান্দন আইলো, কারন ই কিতাব খান খুলার বা এর ভিতর দেখার যোইগ্য একজনও পাওয়া গেল না। 5বাদে হউ মুরব্বি নেতা অকলর মাজর একজনে আমারে কইলা, “ওবা, কান্দিও না। হুনো, যেইন এহুদা খান্দানর সিংহ, দাউদ নবীর বংশধর, তাইন জিতিছইন। তাইন অউ সাতো সীল-চাপ্পড় ভাংগিয়া কিতাব খান খুলতা পারবা।”

6আমি আরো দেখলাম, মুরব্বি নেতা অকলর, চাইরো জানদারর, আর অউ তখতর মাজখানো এক মেড়ার বাইচ্চা উবাই রইছে। দেখতে মনো অইলো, ই বাইচ্চারে জবো করা অইছে। ই মেড়া-বাইচ্চার সাতটা হিং আর সাতটা চউখ। আল্লার যে সাত নমুনার রুহরে দুনিয়ার মাজে পাঠাইল অয়, অউ সাতো চউখ অইলো হউ সাতো রুহ। 7বাদে অউ মেড়ার বাইচ্চা আইয়া, তখতো যেইন বওয়াত আছলা, এন ডাইন আত থাকি অউ কিতাব খান নিলা। 8কিতাব নেওয়ার বাদে হউ চাইরো জানদারে আর চব্বিশ জন মুরব্বি নেতায় অউ মেড়ার বাইচ্চারে সইজদা করলা। এরা পরতেকর আতো এগু করি সারিন্দা, আর আগর-খুশবয়ে ভরা এগু সোনার বাটি আছিল। ই আগর-খুশবয় অইলো আল্লার পাক বন্দা অকলর দোয়া-মুনাজাত। 9আর তারা নয়া অউ গজল গাইলা,

“খালি তুমিউ সঠিক জন অউ কিতাব খান নিবার,

নিয়া এর সীল-চাপ্পড় খুলবার।

তুমারে তো কাতল করা অইছিল।

তুমি তুমার লউ দিয়া হক্কল খান্দান থাকি,

আল্লার লাগি মানুষ খরিদ করছো।

হক্কল জাতর বুলিয়ে মাতরা মানুষ,

হকল দেশ আর জাতি থাকিও খালাছ করছো।

10এরারে লইয়া তুমি এক বাদশাই কাইম করছো,

আমরার আল্লার এবাদতির লাগি ইমাম বানাইছো,

এরাউ আস্তা জগতো বাদশাই করবা।”

11বাদে আমি চাইলাম, আর হউ তখত, চাইরো জানদার আর মুরব্বি নেতা অকলর চাইরোবায় বউত ফিরিস্তা অকলর আওয়াজ হুনলাম। ইনো হাজারে-হাজার, কোটি কোটি ফিরিস্তা আছলা। 12এরা জুরে জুরে অউ গজল কইলা,

“যে মেড়া-বাইচ্চারে জবো করা অইছিল,

এইনউ খেমতা, ধন-দৌলত, আখল, বল-শক্তি,

ইজ্জত, গৌরব আর তারিফ পাওয়ার যোইগ্য।”

13এরবাদে আমি হুনলাম, আছমানো, জমিনো, পাতালো আর দরিয়ার মাজে যতো জানদার আছে, বা ইতার ভিতরে আরো যততা আছে, এরা হক্কলে অখান কইরা,

“তখতর মাজে যেইন বওয়াত আছইন,

তাইন আর অউ মেড়া-বাইচ্চার,

তারিফ, ইজ্জত, গৌরব আর খেমতা হর-হামেশা জারি রউক।”

14তেউ হউ চাইরো জানদারে কইলা, “আমিন।” আর হউ মুরব্বি নেতা অকল নতো অইয়া সইজদা করলা।

6

গজবি সাতটা সীল-চাপ্পড় আর সাতটা শিংগা (৬:১-১১:১৯)

কিতাবর পয়লা ছয়টা সীল-চাপ্পড় খুলা

1বাদে আমি দেখলাম, হউ মেড়ার বাইচ্চায় যেবলা সাতো সীল-চাপ্পড়র মাজ থাকি পয়লা সীল ভাংগিরা, অউ সময় হউ চাইরো জানদারর মাজর একজনে ঠাঠা পড়ার আওয়াজর লাখান জুরে কইলা, “আও।” 2তেউ আমি চাইয়া দেখলাম, ধলা একটা ঘোড়া, এর উপরে যেইন ছওয়ার অইছইন তান আতো তীর-ধনুক আছে। তান মাথাত তাজ লাগাইল অইলো, তাইন জয় করার লাগি জয় করি করি রওয়ানা অইলা।

3আর তাইন যেবলা দুছরা সীল ভাংগিলা, অউ সময় আমি দুছরা জানদারর আওয়াজ হুনলাম, এইন কইলা, “আও।” 4তেউ লাল চুরুক আরকটা ঘোড়া বার অইলো, আর এর উপরে যেইন ছওয়ার অইছইন, এনরে অউ খেমতা দেওয়া অইলো, যাতে তাইন দুনিয়া থাকি হকল শান্তি কাড়িয়া নেইনগি, মানষে একে-অইন্যরে খুন করইন, এনরে বড় একখান তলোয়ারও দেওয়া অইলো।

5বাদে মেড়ার বাইচ্চায় যেবলা তিন নম্বর সীল ভাংগিলা, অউ সময় আমি তিন নম্বর জানদারর আওয়াজ হুনলাম, তাইন কইলা, “আও।” তেউ আমি দেখলাম, একটা কালা ঘোড়া। এর উপরে যেইন ছওয়ার অইছইন, তান আতো একখান পাল্লা আছে। 6আর আমি হুনলাম, হউ চাইর জন জানদারর মাজখান থাকি কেউ যানু কইরা, “এক দিনারে খালি এক সের গম বা এক দিনারে তিন সের বার্লি মিলে। অইলে তুমি জয়তুন আর আংগুর গাছর খেতি করিও না।”

7অউ মেড়ার বাইচ্চায় যেবলা চাইর নম্বর সীল ভাংগিলা, অউ সময় আমি হুনলাম, চাইর নম্বর জানদারে কইলা, “আও।” 8তেউ আমি চাইয়া দেখলাম, ছালি রংগর এক ঘোড়া, অউ ঘোড়ার যেইন ছওয়ার, এন নাম অইলো মউত আর তান খরে খরে কয়বরে আটের। এরারে দুনিয়ার চাইর বাটর মাজর এক বাটর উপরে খেমতা দেওয়া অইলো, যাতে তারা তলোয়ার দিয়া, নিদান দিয়া, গজবি মউত আর জংলি জানুয়ার দিয়া মানষর জান নেইন।

9বাদে তাইন যেবলা পাচ নম্বর সীল ভাংগিলা, অউ সময় আমি দেখলাম, কুরবানি খানার তলে অউ লাখান মানষর রুহ অকল আছে, যেরারে আল্লার কালামর লাগি আর হজরত ইছার পক্ষে জবানবন্দি দেয়ার লাগি কাতল করা অইছে। 10এরা জুরে জুরে কইলা, “ও পাক-পবিত্র হক্কানি মউলা, আমরার কাতলর বিচার করতে আর বদলা লইতে, তুমি দুনিয়ার মানষরে আর কতদিন সময় দিতায়?” 11তেউ এরা হকলরে ধলা লেবাছ দান করা অইলো, আর কওয়া অইলো, তারার লগর খেজমতগার আর তারার যতো ভাইয়াইনরে তারার নমুনায় কাতল করা অইবো, এরার সংখ্যা পুরা না অওয়া পর্যন্ত, আরো কিছু দিন বার চাইতে অইবো।

12বাদে আমি দেখলাম, মেড়ার বাইচ্চায় ছয় নম্বর সীল ভাংগিলা, অউ সময় খুব বড় ভৈছাল অইলো। সুরুজর রং অইগেল কালা ছিয়াই আর ভরা চান্দর রং অইলো লউর লাখান লাল। 13তুফান আইলে যেলা ডুমুর গাছ থাকি কাচা ফলও তুফানে ফালাই দেয়, ঠিক অউলা আছমানর তেরা অকল খুলিয়া জমিনর উপরে পড়িগেল। 14আস্তা আছমান দলা অইয়া কাগজর পুটলা লাখান বনিয়া গাইব অইগেল। পাড়-পর্বত আর দ্বীপ অকলও যারযির জাগা থাকি হরিগেল। 15আর দুনিয়ার হকল রাজা-বাদশাইন, নামকরা জন, সিপাইর পরধান, জমিদার, পয়লোয়ান, গুলাম বা আজাদ পরতেক জনউ পাড়র গাতে গাতে, পাথরর আওড়ে লুকাইলো। 16তারা অউ পাড় আর পাথর অকলরে কইলো, “আমরার উপরে আইয়া পড়ো, যেইন তখতো বওয়াত আছইন তান চউখর ছামন থাকি আর মেড়ার বাইচ্চার গজব থাকি আমরারে লুকাও। 17তারার গজবি হউ কিয়ামতর দিন তো আইচ্ছে, অখন আর টিকিয়া থাকার সাইধ্য কার আছে?”

7

আল্লার সীল-চাপ্পড় মারা গুলাম

1এরবাদে আমি দেখলাম, দুনিয়ার চাইর কুনাত চাইর জন ফিরিস্তা উবাই রইছইন। তারা দুনিয়াত, দরিয়াত আর হকল গাছ-পালাত বাতাস হামানির দুয়ার বন্দ করার লাগি উবাইছইন। 2বাদে আমি দেখলাম, পুবে থাকি আরক জন ফিরিস্তা উঠিয়া আইরা, জিন্দা আল্লার সীল-চাপ্পড় তান গেছে আছে। তাইন আইয়া যে চাইর জন ফিরিস্তারে দুনিয়া আর দরিয়ার খেতি করার লাগি খেমতা দেওয়া অইছিল, হউ চাইরো ফিরিস্তারে জুরে জুরে ডাকিয়া কইলা, 3“আমরা যতোবইল আমরার আল্লার গুলাম অকলর কপালো সীল না মারছি, অতোবইল তুমরা দুনিয়ার, দরিয়ার বা গাছ-পালার খেতি করিও না।” 4বাদে আমি হউ সীল-চাপ্পড় মারা মানষর পরিমান হুনলাম। বনি ইছরাইলর হকল খান্দান থাকি এক লাখ চৌচাল্লিশ আজার জনরে সীল মারা অইছে।

5এহুদা খান্দানর বারো আজার জন সীল মারা;

রুবেন খান্দান থাকি বারো আজার;

ছাদু খান্দান থাকি বারো আজার;

6আশির খান্দান থাকি বারো আজার;

নপ্তালি খান্দান থাকি বারো আজার;

মানশা খান্দান থাকি বারো আজার;

7শিমিয়ন খান্দান থাকি বারো আজার;

লেবি খান্দান থাকি বারো আজার;

ইছাখর খান্দান থাকি বারো আজার;

8সবুলন খান্দান থাকি বারো আজার;

ইউছুফ খান্দান থাকি বারো আজার;

বিন-ইয়ামিন খান্দান থাকি বারো আজার জন সীল মারা।

ধলা লেবাছ ফিন্দা মানষর মিছিল

9বাদে আমি দেখলাম, পরতেক দেশ, হকল খান্দান, হকল জাতি আর হকল জাতর বুলিয়ে মাতরা বউত মানুষ দলা অইছইন, এরারে গনিয়া ফুড়ানির সাইধ্য কেউরর নাই। এরা ধলা লেবাছ ফিন্দিয়া খেজুর পাতা আতো লইয়া, হউ তখত আর মেড়ার বাইচ্চার ছামনে উবাই রইছইন। 10তারা জুরে জুরে কইরা,

“আমরার আল্লা যেইন তখতো বওয়াত আছইন,

আর মেড়ার বাইচ্চার আতোউ,

গুনার মাফি আর নাজাত আছে।”

11এরবাদে তামাম ফিরিস্তা অকল, হউ তখতর, হউ মুরব্বি নেতা অকলর আর চাইরো জানদারর চাইরো কান্দাবায় উবাইলা। তারা তখতর ছামনে সইজদাত পড়িয়া কইলা,

12“আমিন।

তারিফ, গৌরব, আখল আর শুকরিয়া,

ইজ্জত, খেমতা আর বল-শক্তি,

যুগে যুগে আমরার আল্লারউ অউক।

আমিন।”

13বাদে মুরব্বি নেতা অকলর মাজর একজনে আমারে কইলা, “বুজরায় নি, ধলা লেবাছ ফিন্দা অউ মানুষ অকল কে, এরা কুয়াই থাকি আইছইন?” 14আমি তানরে কইলাম, “ও মালিক, ইতা তো আপনেউ জানইন।” তেউ তাইন কইলা, “এরা অইলা হউ জন অকল, যেরা হউ মহা মছিবতর মাজ থাকি আইছে। তারার লেবাছরে মেড়ার বাইচ্চার লউদি ধইয়া ধলা বানাইছে।

15এরলাগি এরা আল্লার তখতর ছামনে আছে;

তারা দিন-রাইত বেহেস্তি এবাদত খানার মাজে এবাদত-বন্দেগি কররা।

আর তখতো যেইন বওয়াত আছইন,

তাইন নিজে এরার উপরে তাম্বু টানাই দিবা।

16এরার আর কুনুদিন ভুক লাগতো নায়,

পানির পিয়াছে ধরতো নায়;

সুরুজর তেজ এরার গতরো লাগতো নায়,

কুনু গরমও লাগতো নায়।

17তখতর মাজর মেড়ার বাইচ্চায়উ এরার রাখালি করবা।

তাইন এরারে আবে-হায়াতর

জিন্দেগি-পানির ঝরনার গেছে লইয়া যাইবা,

আর আল্লায় এরার চউখর পানি ফুছিয়া দিবা।”

8

সাত নম্বর সীল-চাপ্পড় খুলার ঘটনা

1বাদে অউ মেড়ার বাইচ্চায় যেবলা সাত নম্বর সীল-চাপ্পড় ভাংগিলা, অউ সময় অনুমান আধা ঘন্টা সময় বেহেস্তো কুনু আওয়াজ হুনা গেল না। 2আর যে সাত জন ফিরিস্তা আল্লার ছামনে উবাত থাকইন, আমি এরারে দেখলাম, এরার আতো সাতটা শিংগা দেওয়া অইলো।

3এরবাদে আরক জন ফিরিস্তা আইয়া কুরবানি খানার ছামনে উবাইলা। তান আতো সোনার আগর-খুশবয় দানি। তখতর ছামনর আগর জালানির সোনার টেবুলর উপরে জালানির লাগি বউত আগর-খুশবয় তানরে দেওয়া অইলো, আল্লার তামাম পাক বন্দা অকলর দোয়া-মুনাজাতর লগে মিশানির লাগি ইতা দেওয়া অইলো। 4এরলাগি হউ ফিরিস্তার আতর আগর-খুশবয়র ধুমার লগে, পাক বন্দা অকলর দোয়া-মুনাজাতও আল্লার ছামনে উঠলো। 5বাদে অউ ফিরিস্তায় কুরবানি খানা থাকি আগুইন নিয়া আগর দানিত ভরলা, ভরিয়া ইতা দুনিয়াত ফালাইলা। তেউ ঠাঠারি আওয়াজ, মেঘর ডাক, জিলকানি, আর ভৈছাল অইলো।

সাতটা শিংগা

6আর হউ যে সাতজন ফিরিস্তার আতো সাতটা শিংগা আছিল, এরা অউ শিংগা বাজানির লাগি জুইত অইলা। 7পয়লা ফিরিস্তায় শিংগা বাজানির লগে লগে লউ মাখাইল হিল আর আগুইন জমিনো ফালাইল অইলো। তেউ জমিনর তিন বাটর এক বাট, গাছ-গাছালির তিন বাটর এক বাট, আর হকল ঘাস-পাতা জলি গেল।

8এরবাদে দুছরা ফিরিস্তায় তান শিংগা ফুকিলা। অউ সময় জালাইল পাড়র লাখান মোটা এক চিজ দরিয়াত ফালাইল অইলো। ইতায় দরিয়ার তিন বাটর এক বাট পানি লউ অইগেল। 9দরিয়ার তিন বাটর এক বাট জানদার মরিগেল, তিন বাটর এক বাট জাজ বিনাশ অইগেল।

10বাদে তিন নম্বর ফিরিস্তায় তান শিংগা ফুকিলা। তেউ আছমানর চকচকা বিরাট এক তেরা বড় মুশালর লাখান জলি জলি তলে পড়লো, ইটা আইয়া হকল গাং, খাল-বিলর তিন বাটর এক বাটর উপরে পড়লো। 11অউ তেরার নাম আছিল নাগদানা। ইটা পড়িয়া তিন বাটর এক বাট পানি তিত্বা-জহর অইগেল, ই পানির লাগি বউত জন মরলা।

12আর চাইর নম্বর ফিরিস্তায় যেবলা শিংগা ফুকিলা, অউ সময় চান্দ, সুরুজ আর তেরা, ইতা হক্কলতার তিন বাটর এক অংশ জখম অইগেল, তেউ হকলতার তিন বাটর এক বাট আন্দাইর অইগেল, এরলাগি দিনর তিন বাটর এক বাটো আর রাইতর তিন বাটর এক বাটো কুনুজাত রুশনি রইলো না।

13বাদে আমি চাইলাম, চাইয়া দেখি, একটা চিল পাখি বউত উচাত আছমানর মাজেদি উড়ের, আর হে জুরে জুরে মাতের, “বাকি যে তিন জন ফিরিস্তায় শিংগা ফুকিবা, তারার শিংগা ফুকিলে দুনিয়ার বাসিন্দা অকলর উপরে গজব, গজব, গজব লামবো।”

9

1বাদে পাচ নম্বর ফিরিস্তায় শিংগা ফুকিলা, তেউ আমি দেখলাম, আছমানর একটা তেরা বেহেস্ত থাকি দুনিয়াত পড়লো। অউ তেরারে হাবিয়া দোজখর চাবি দেওয়া অইলো। 2তেউ হে হাবিয়া দোজখর দুয়ার খুললো, বউত বড় ডমকা থাকি যেলা ধুমা বারয়, ই দোজখ থাকি অলা ধুমা বার অইলো। অউ দোজখি ধুমায় আছমান আর সুরুজ আন্দাইর অইগেল। 3হউ ধুমা থাকি বউত পংগপাল বার অইয়া দুনিয়াত আইলা। ইতারে দুনিয়ার কাকড়া-বিছার লাখান খেমতা দেওয়া অইলো। 4তারারে হুকুম দেয়া অইলো, তারা যানু দুনিয়ার কুনু ঘাস-পাতা, গাছ-পালা বা হাগ-তরকারির খেতি না করে। খালি যেতা মানষর কপালো আল্লার সীল-চাপ্পড় মারা নাই, অতার খেতি করইন। 5ইতা মানষরে জানে মারার কুনু খেমতা তারারে দেওয়া অইলো না, অইলে পাচ মাস পর্যন্ত জালা-যন্ত্রনা দিবার খেমতা দেওয়া অইলো। কাকড়া-বিছায় কুনু মানষরে কামড় দিলে যেলা বিষ-বেদনা অয়, অউ পংগপালে কামড়াইলেও অলা অইবো। 6হউ সময় মানষে মউত মাংগিবা, তা-ও মউত অইতো নায়। তারা মরতা চাইবা অইলে মরন তারার গেছ থাকি বাগিবো।

7ই পংগপাল অকল দেখতে যুদ্ধর লাগি জুইত করা ঘোড়ার লাখান। তারার মাথাত সোনার তাজর লাখান চিজ আছিল, আর মুখর গঠন অইলো মানষর লাখান। 8তারার চুল অইলো বেটিন্তর চুলর লাখান আর দাত অইলো সিংহর দাতর লাখান। 9তারার বুকুর মাজে আছিল লুয়ার পাতর লাখান খসখসা ছাল। যুদ্ধর ঘোড়ার গাড়ি টানিয়া ঘোড়ার পাল একলগে গেলে যেলা আওয়াজ অয়, তারার ডাখনার আওয়াজও আছিল অউ লাখান। 10তারার লেইনজ আর লেইনজর মুখর বিষ-দাত আছিল কাকড়া-বিছার লাখান। পাচ মাস ধরি মানষরে কষ্ট দিবার খেমতা ই লেইনজো আছে। 11হাবিয়া দোজখর ফিরিস্তা আছলা অউ পংগপালর রাজা। ইবরানি ভাষায় ই ফিরিস্তার নাম অইলো আবাদ্দন, আর ইউনানি বা গ্রীক ভাষায় এর নাম অইলো আপল্লিয়ন, মানি গজবি ফিরিস্তা।

12পয়লা গজব হরলো, অইলে হুনো, আরো দুইটা গজব আইয়া আজের।

13বাদে ছয় নম্বর ফিরিস্তায় তান শিংগা ফুকিলা। তেউ আল্লার ছামনর আগর জালানির সোনার টেবুলর চাইরটা হিংগর গেছ থাকি আমি একজনরে অখান কইতে হুনলাম, 14এইন হউ শিংগা আলা ছয় নম্বর ফিরিস্তারে কইলা, “মহা গাং ফোরাতর মাজে যে চাইর জন ফিরিস্তা আটক আছইন, তারারে খুলিয়া দেও।” 15এরলাগি হউ চাইরো ফিরিস্তারে ছাড়ি দেওয়া অইলো। দুনিয়ার তিন বাটর এক বাট মানষরে মারার লাগি অউ ফিরিস্তা অকলরে সঠিক সময়, সঠিক দিন, মাস আর বছরর লাগি জুইত করি রাখা অইছিল। 16বাদে আমি হুনলাম, ঘোড়াত চড়িয়া যাওয়া অউ সিপাইর পরিমান আছিল বিশ কোটি।

17অউ দরশনো আমি যতো ঘোড়াইন আর ঘোড়-ছওয়ার অকল দেখলাম, ই ছওয়াররে দেখতে অলা লাগলো, এরার বুকুর উপরর ফৌজি লেবাছ আগুনির লাখান লাল, আকাশর লাখান লীল আর গন্ধকর লাখান অলদিয়া। ঘোড়াইন্তর কল্লা আছিল সিংহর কল্লার লাখান, ইতার মুখো থাকি আগুইন, ধুমা আর গন্ধক বারর। 18এরার মুখর অউ আগুইন, ধুমা আর গন্ধকর গজবদি তিন বাটর এক বাট মানুষ মারা অইলো। 19ই ঘোড়াইন্তর লেইনজ আর মুখর মাজেউ আছিল তারার বল, ই লেইনজ আছিল দু-মুখি হাফর লাখান। অউ লেইনজদি তারা মানষর খেতি করে।

20অইলে অউ গজবর বাদেও যেতা মানুষ জিতা রইলা, তারা নিজর আতর বানাইল মুর্তিপুজা থাকি তৌবা করলো না। তারা নানান নমুনার ভুতর পুজা, আর যেতায় দেখইন না, হুনইন না বা আটা-চলা করতা পারইন না অতা মুর্তির পুজা করাত রইলা। সোনা, রুপা, পিতল, পাথর আর লাকড়িদি বানাইল মুর্তিপুজাত রইলা। 21এরলগে খুন-খারাপি, যাদু-টুনা, জিনা আর চুরি থাকিও তৌবা করলো না।

10

ফিরিস্তা আর হুরু-মুরু কিতাব

1বাদে আমি দেখলাম, বেহেস্ত থাকি খুব শক্তিআলা আরক জন ফিরিস্তা লামিয়া আইরা। মেঘর চাকা আছিল তান লেবাছ, তান মুখ সুরুজর লাখান চকচকা, তান পাও আছিল আগুনির খুটির লাখান। তান মাথার উপরে আছিল রংধেনু। 2তান আতো হুরু-মুরু একখান কিতাব খুলা আছিল। তান ডাইনর পাও দরিয়াত আর বাউওর পাও জমিনর উপরে থইয়া, 3সিংহর লাখান খুব জুরে গর্জিয়া উঠিলা। অউ গর্জনর লগে লগেউ ঠাঠা পড়ার মত সাতটা আওয়াজ অইলো। 4অউ সাতো আওয়াজ হুনিয়া আমি লেখাত লাগলাম; এরমাজে বেহেস্ত থাকি অউ শব্দ আইলো, “হুনো, অউ সাতো ঠাঠারি আওয়াজে যেতা কইছইন, ইতা বাতুনি রাখো, লেখিও না।”

5বাদে হউ ফিরিস্তা, যেনরে আমি দরিয়া আর জমিনর উপরে উবাত দেখছলাম, তাইন বেহেস্তর বায় নিজর ডাইন আত তুললা। 6তুলিয়া যেইন হর-হামেশা চিরকাল জিন্দা আছইন, যেইন আছমান, জমিন, দরিয়া আর ইতার মাজর হক্কলতা পয়দা করছইন, তান নামে কছম খাইয়া কইলা, “আর তো দেরি অইতো নায়। 7অইলে সাত নম্বর ফিরিস্তায় শিংগা ফুকিবার দিন আল্লার বাতুনি লিলা-খেলা পুরা অইবো। আল্লায় তান নিজর গুলাম, নবী অকলর গেছে যেলা বাতাইছলা, অউলাউ ফলিবো।”

8বেহেস্ত থাকি আগে যে শব্দ হুনছিলাম, এইন হিরবার আমারে কইলা, “হুনো, দরিয়া আর জমিনর উপরে যে ফিরিস্তা উবাত আছইন, তান গেছে যাও, গিয়া তান আত থাকি খুলা কিতাব খান নেও।” 9তেউ আমি এন গেছে গিয়া কইলাম, অউ হুরু-মুরু কিতাব খান আমার আতো দেওয়ার লাগি। তাইন কইলা, “আইচ্ছা নেওগি, নিয়া খাইলাও। ইখানে তুমার পেটরে তিত্বা করিলিবো, অইলে তুমার মুখো মউ লাখান মিঠা লাগবো।” 10অউ আমি হি ফিরিস্তার আতর হুরু-মুরু কিতাব খান নিয়া খাইলিলাম। খাইতে সময় হাছাউ আমার মুখো মউ লাখান মিঠা লাগলো, আর গিলিয়া হারলে আস্তা পেট তিত্বা অইগেল। 11বাদে আমারে কওয়া অইলো, “তুমি বউত দেশ, বউত জাতি, নানান বুলিয়ে মাতরা মানুষ, আর বাদশার বেয়াপারে হিরবার ওহী জানাইতে অইবো।”

11

দুইজন সাক্ষি

1বাদে মাপিবার লাগি লাঠির লাখান একটা নল আমার আতো দেওয়া অইলো, আর একজনে কইলা, “হুনো, পবিত্র বায়তুল-মুকাদ্দছ কাবা শরিফ আর কুরবানি খানারে মাপো। মাপিয়া হনো যেরা এবাদত করে তারার পরিমান গনো। 2অইলে অউ কাবা ঘরর উঠানরে মাপিও না, ইখান বাদ দেও, ইখান তো বিধর্মী অকলরে দেওয়া অইছে। তারা বেয়াল্লিশ মাস ধরি ই পবিত্র জাগা খানরে পাওদি কছলাইবো। 3আর আমি আমার দুইজন সাক্ষিরে অলা খেমতা দিমু, ই খেমতা পাইয়া এরা কাতর অইয়া ছলার চট ফিন্দিয়া, এক আজার দুইশো ষাইট দিন নবীর লাখান ওহী বাতাইবা।”

4এরা অইলা হউ জয়তুন গাছ জুড়া, আর হউ চেরাগ দানি জুড়া, তারা তো দীন-দুনিয়ার মালিকর ছামনে উবাত আছইন। 5কেউ তারার খেতি করতে চাইলে, তারার মুখ থাকি আগুইন বার অইয়া হি দুশমন অকলরে জালাইলিবো। যেকুনু জনে তারার খেতি করাত লাগলে অউ দশায় মউত অইবো। 6এরা যতদিন নবী হালতে ওহী বাতাইবা, অতো দিন যাতে কুনু মেঘ না অয় এরলাগি আছমানর দুয়ার বন্দ করি দিবার খেমতা তারার আছে। পানিরে লউ বানানি, আর যতবার খুশি অতবার যেকুনু গজব ঢালিয়া জগতর খেতি করার খেমতাও তারার আছে।

7তারার জবানবন্দি দেওয়া শেষ অইগেলে হাবিয়া দোজখ থাকি হউ জানুয়ার উঠিয়া আইয়া তারার লগে লাড়াই করিয়া, তারারে আরাইয়া খুন করবো। 8আর তারার লাশ হউ মহান টাউনর রাস্তার মাজে পড়ি রইবো, যে টাউনো তারার মালিকরে সলিবর উপরে লটকাইয়া খুন করা অইছিল। ই টাউনর নাম ঠিক ছাদুম বা মিসর না অইলেও একই লাখানউ খারাপ। 9-10হউ সময় হকল দেশ, খান্দান, হকল জাতর বুলিয়ে মাতরা মানষে আর হকল জাতির মানষে সাড়ে তিন দিন ধরি অউ লাশগুইন দেখবা। আর এরা মারা গেছইন করি জগতর দুনিয়াবি মানষে খুশিয়ে ফুর্তি-আমোদ করবা, একে-অইন্যরে উপহার দিবা। আর ই লাশ দাফন করার পারমিশন দিতা নায়, কারন অউ দুইও নবীর লাগি দুনিয়াদারি মানষর কষ্ট অইছিল।

11বাদে হউ সাড়ে তিন দিন পার অইয়া হারলে আল্লার দেয়া জান এরার ভিতরে হামাইলো, তেউ এরা পাওয়ো ভরদি উবাইলা। আর যতো জনে এরারে দেখলা, হকলেউ ডরাইয়া কাপিলা। 12বাদে এরা হুনলা, বেহেস্ত থাকি ডাকিয়া জুরে জুরে কওয়া অর, “তুমরা অনো উঠিয়া আইও।” তেউ এরা নিজর দুশমনর ছামনে এক মেঘর চাকাত অইয়া বেহেস্তো গেলাগি। 13অউ সময় খুব বড় ভৈছাল অইলো, আর হি টাউনর দশ বাটর এক বাট ভাংগি গেল। ভৈছালে সাত আজার মানুষ মরলা। ইতা দেখিয়া বাদ-বাকি হকলে ডরাইয়া বেহেস্তর আল্লার তারিফ করাত লাগলা।

14অউ নমুনায় দুছরা গজব পার অইলো, অইলে হুনো, তিন নম্বর গজব খুব জলদি আইয়া আজিবো।

সাত নম্বর শিংগা ফুকিলা

15বাদে সাত নম্বর ফিরিস্তায় তান শিংগা ফুকিলা। তেউ বেহেস্তর মাজে জুরে জুরে এলান করা অইলো, “অখন তো দুনিয়ার বাদশাই আমরার মাবুদ আর তান মসীর হুকুমো আইছে। তাইন যুগ যুগ ধরি চিরকাল বাদশাই করবা।”

16বাদে হউ চব্বিশ জন মুরব্বি নেতা, যেরা আল্লার ছামনে যারযির তখতো বওয়াত আছলা, এরা আল্লারে সইজদা করিয়া কইলা,

17“ও সর্ব-শক্তিমান মাবুদ আল্লা,

তুমি আগেও আছলায় আর অখনও আছো।

আমরা তুমার শুকুর-গোজার কররাম,

তুমি তো তুমার মহা খেমতা আতো লইয়া অখন বাদশাই কররায়।

18হক্কল জাতিয়ে গুছা করিয়া চিল্লাইছে,

তে অখন তুমার গজব ঢালিবার সময় অইগেছে।

মুর্দা অকলর বিচারর সময় আইছে,

আর তুমার আপন গুলাম নবী অকলর,

তুমার পাক বন্দা অকলর,

হুরু-বড় যতোজনে তুমারে ডরাইন,

তারারে পুরুস্কার দিবার সময় আইছে।

আর যেরা দুনিয়ার খেতি করছে,

তারারে বিনাশ করার সময়ও আইছে।”

19বাদে আল্লার বেহেস্তর এবাদত খানার দুয়ার খুলা অইলো, আর এর ভিতরে আল্লাই শাহাদত সন্দুক দেখা গেল। অউ সময় মেঘর জিলকানি, গুড়-গুড়ি ডাক, ঠাঠা পড়া, ভৈছাল আর খুব বেশি হিল-মেঘ অইলো।

12

শয়তান দানবর লগে আল্লার খাছ বন্দার যুদ্ধ (১২:১-১৪:৫)

হউ বেটি আর দৈত্য-দানব

1বাদে আছমানর মাজে এক কুদরতি কারবার দেখা গেল, একজন বেটি মানুষ আছইন, তান ফিন্নো আছিল সুরুজ আর পাওর তলে চান্দ, এন মাথাত আছে বারোটা তেরা দিয়া গাথা একটা তাজ। 2বেটির ঘরো হুরুতা অইতা, এরলাগি হুরুতা অওয়ার বেদনায় বেটিয়ে খালি চিল্লাইরা। 3এরবাদে আছমানো আরক কারবার দেখা গেল, আগুনির লাখান লাল এক বিরাট দানব। তার সাতটা মাথা আর দশটা হিং, সাতো মাথাত সাতটা তাজ লাগাইল। 4তার লেইনজুড়দি বাড়িয়াইয়া আছমানর তিন বাটর এক বাট তেরারে দুনিয়াত ফালাই দিলো। আর যে বেটির ঘরো হুরুতা অইতা, অউ দানব আইয়া বেটির ছামনে অউ নমুনায় উবাত আছিল যেন, বেটির ঘরো হুরুতা অইতেউ হে খাইলিতো। 5বেটির ঘরো এক পুয়া পয়দা অইলো, অউ পুয়ায় হক্কল জাতিরে লুয়ার লাঠি দিয়া শাসন করবা। অউ হুরুতারে আল্লা আর তান তখতর গেছে ছু মারি তুলিয়া নেওয়া অইলো। 6আর অউ বেটি মানুষ মরুভুমির বায় বাগিয়া গেলাগি। আল্লায় হি মরুভুমির মাজে বেটির লাগি একখান জাগা জুইত করছিলা, এইন হনো এক আজার দুইশো ষাইট দিন লালন-পালন পাইবা।

7বাদে বেহেস্তো যুদ্ধ লাগিগেল। ফিরিস্তা মিকাইল আর তান অধীনর ফিরিস্তা অকলে হউ দানবর লগে লাড়াই করলা, আর হউ দানবেও তার চেলা-চামছারে লইয়া এরার লগে লাড়াই করলো। 8লাড়াইত হি দানব আরিগেল, আর তারারে বেহেস্ত থাকি বার করি দেওয়া অইলো। 9হউ দানবরে আর তার চেলা-চামছা অকলরে দুনিয়াত ফালাই দেওয়া অইলো। অউ দানব অইলো হউ পুরানা হাফ, যেগুর নাম ইবলিছ-শয়তান, হে দুনিয়ার হকল মানষরে বে-পথি বানায়।

10বাদে আমি হুনলাম, বেহেস্ত থাকি একজনে জুরে জুরে কইরা, “অখন তো আমরার আল্লার নাজাত, তান বল-শক্তি, তান বাদশাই আর তান মসীর খেমতা আজির অইগেছে। কারন যেগিয়ে আমরার ভাইয়াইন্তরে দুষি বানাইতো, তারে তো বেহেস্ত থাকি ফালাই দেওয়া অইছে। হে দিন-রাইত হামেশা আমরার আল্লার গেছে তারার নামে নালিশ দিতো। 11মেড়ার বাইচ্চার লউ আর যারযির তবলিগি জবানবন্দির বলে তারা ইবলিছরে আরাইছইন। তারা নিজর কায়ারে বেশি মায়া না করিয়া, জান দিতেও জুইত আছলা।

12“এরলাগিউ ও বেহেস্ত, তুমি খুশি করো। তুমরা যেরা বেহেস্ত বাসি, তুমরাও ফুর্তি করো। অইলে আফছুছ দুনিয়া আর দরিয়ার লাগি, ইবলিছ তো তারার গেছে লামিগেছে। হে গুছায় ফুস-ফাস করের, হে তো জানেউ, তার সময় আর বেশি নাই।”

13হউ দানবে যেবলা দেখলো তারে দুনিয়াত ফালাই দেওয়া অইছে, দেখিয়া হউ যে বেটির ঘরো পুয়া পয়দা অইছিল, হে অউ বেটির খরে লাগলো। 14এরলাগি অউ বেটিরে খুব বড় এক চিল পাখির দুখান ডাখনা দেওয়া অইলো, বেটিয়ে অউ ডাখনাদি উড়াল দিয়া মরুভুমিত নিজর জাগাত যাইতা পারবা। হনো হউ দানব-হাফর চউখর আওড়ে সাড়ে তিন বছর তানরে লালন-পালন করা অইবো। 15তেউ হি হাফে তার মুখ থাকি পানি বার করিয়া এক গাং বানাইলিলো, গাংগর ফুতে বেটিরে ভাসাই নিতোগি করি। 16অইলে দুনিয়ায় বেটিরে সাইয্য করলো, ই হাফে যে পানি বার করলো, দুনিয়ার মাটিয়ে আ করিয়া ই পানিরে খাইলিলো। 17এরলাগি ই দানব-হাফে বেটির বায় আরো বেশি গুছা করলো, হে বেটির অইন্য আওলাদ অকলরে, মানি যেরা আল্লার হুকুমে চলে আর হজরত ইছার পক্ষে জবানবন্দি দেয়, তারার লগে যুদ্ধ করাত গেল।

18গিয়া হে দরিয়ার চরর বালুর উপরে উবাই রইলো।

13

দরিয়া থাকি আওয়া জানুয়ার

1বাদে আমি দেখলাম, দরিয়া থাকি এক জানুয়ার উঠের, তার দশগু হিং, সাতগু কল্লা, পরতেক হিংগর মাথাত একটা করি তাজ, আর পরতেক কল্লার উপরে নানান কুফুরি নাম লেখা। 2ই জানুয়ারগু দেখতে চিতা বাঘর লাখান, তার পাও অইলো ভাল্লুকর পাওর লাখান, আর মুখ অইলো সিংহর মুখর লাখান। হউ দানবে তার শক্তি, তার গদি আর মহা খেমতা অউ জানুয়াররে দিলাইলো। 3ই জানুয়ারর একটা কল্লার মাজে অমন এক জখম আছিল, অউ জখমে হে মরার লাখ অইগেছিল, অইলে জখমটা ভালা অইগেল। ইতা দেখিয়া দুনিয়ার হকল মানুষ তাইজ্জুব বনিয়া তার খরে খরে গেল। 4আর হউ দানবে তারে ই খেমতা দিছিল করি মানষে হউ দানবরে সইজদা করলো, এরলগে অউ জানুয়াররেও সইজদা করলো। তারা কইলো, “ই জানুয়ারর লাখান আর কে আছে? তার লগে লাড়াই করার খেমতা কার আছে?”

5ই জানুয়াররে কুফুরি বুলি আর বেটাগিরি মাতর মুখ দেওয়া অইলো। বেয়াল্লিশ মাস ধরি তার কাম চালানির খেমতা পাইলো। 6এরলাগি হে আল্লার বিরুদ্ধে কুফুরি মাত মাতিলো, হে আল্লার নাম, তান বসত খানা আর বেহেস্ত বাসি অকলর বদনাম করাত রইলো। 7তারে খেমতা দেওয়া অইলো, হে আল্লার পাক বন্দা অকলর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিয়া জিতিতো পারবো। আর পরতেক খান্দান, পরতেক দেশ, পরতেক জাতি, পরতেক নমুনার বুলিয়ে মাতরা মানষর উপরেও তারে খেমতা দেওয়া অইলো। 8ইতা দেখিয়া দুনিয়াবি হকল মানষে তারে সইজদা করবো। জগত পয়দা করার আগে যে মেড়া-বাইচ্চারে জবো করার কথা সাইবস্তো করা অইছে, হউ মেড়া-বাইচ্চার জিন্দেগি খাতাত যেরার নাম নাই, এরা পরতেকে তারে সইজদা করবো। 9যার কান আছে, হে হুনউক:

10যে জন বন্দি অওয়ার কথা, হে তো বন্দি অইবোউ।

তলোয়ারর তলে যার খুন অওয়ার কথা, হে অলা খুন অইবো।

এরলাগি পাক বন্দা অকলে মজবুত ইমান আর ছবর করা জরুর।

জমিন থাকি বার অইল জানুয়ার

11বাদে আমি দেখলাম, জমিন থাকি আরকটা জানুয়ার বার অইয়া আইলো। মেড়ার হিংগর লাখান তার দুই হিং আছে, অইলে হে মাতিতো হউ দানবর লাখান। 12অউ মেড়ার হিং আলা জানুয়ারে হউ পয়লা জানুয়ারর হকল খেমতা বেবহার করতো। দুনিয়ার হকল মানষরে হে জুর করিয়া হউ জখম ভালা অওয়া পয়লা জানুয়াররে সইজদা করাইতো। 13হে হকলর ছামনে বড় বড় কেরামতি কাম করতো, এমনকি আছমান থাকি জমিনো আগুইন লামাইয়া দেখাইতো। 14হউ পয়লা জানুয়ারর লাগি যতো লাখান কেরামতি দেখানির খেমতা তারে দেওয়া অইছিল, অতা দেখাইয়া হে মানষরে বে-পথি বানাইলো। পয়লা যে জানুয়ার তলোয়ারর ছেদ খাইয়াও বাচি গেছিল, তার একটা মুর্তি বানানির লাগি দুছরা জানুয়ারে মানষরে পরামিশ দিল। 15আর মুর্তির ভিতরে জান হারানির খেমতা তারে দেওয়া অইলো, যাতে ই মুর্তিয়ে মাতিতো পারে, আর যেরা ই মুর্তিরে সইজদা করতো নায়, তারারে জানে মারার খেমতাও তারে দেওয়া অইলো। 16হে হুরু-বড়, ধনি-গরিব, মুনিব বা গুলাম হকলরে বাইধ্য করলো, যারযির ডাইন আতো বা কপালর উপরে একটা সীল মারার লাগি। 17এরলাগি অউ সীল ছাড়া কেউ কুনু চিজ খরিদ-বিকির উপায় রইলো না। ই সীল আছিল হউ জানুয়ারর নাম বা নামর মার্কা নম্বর। 18ইতা হকলতা বুজতে বউত আখলর দরকার। যার আখল আছে হে অউ জানুয়ারর নামর হরফর নম্বর গনউক, ইতা তো কুনু মানষর নামর নম্বর। এর পরিমান অইলো, ৬৬৬; ছয়শো ছয়ষট্টি।

14

মেড়ার বাইচ্চা আর নিখুত মানুষ

1বাদে আমি চাইয়া দেখি, হউ মেড়ার বাইচ্চা জেরুজালেমর পবিত্র ছিয়ন পাড়র উপরে উবাই রইছইন। তান লগে আছইন এক লাখ চৌচাল্লিশ আজার মানুষ। তারার কপালর উপরে অউ মেড়ার বাইচ্চা আর তান গাইবি বাফর নাম লেখা আছে। 2এরবাদে আমি বেহেস্ত থাকি জুরে জুরে কল-কলাইয়া যাওয়া পানির ফুতর আওয়াজ আর জুরে ঠাঠা পড়ার শব্দর লাখান এক আওয়াজ হুনলাম। আমার মনো অইলো, কুনু সারিন্দা বাজাওরা দলে সারিন্দা বাজাইরা। 3এরা হউ তখত, হউ চাইরো জানদার আর হউ মুরব্বি নেতা অকলর ছামনে এক নয়া গজল গাইরা। কুনু মানষে ই গজল হিকতো পারলো না, খালি দুনিয়া থাকি খালাছ করি নেওয়া অউ এক লাখ চৌচাল্লিশ আজার জন ছাড়া। 4এরা তো হউ মানুষ, যেরা কুনু বেটিন্তর লগে জিনা করিয়া নিজর কায়ারে নাপাক বানাইছে না। অউ মেড়ার বাইচ্চা যে জাগাত যাইন, তারাও এন খরে খরে রইন। আল্লা আর মেড়ার বাইচ্চার নামে খেতর পয়লা ফসল হিসাবে এরারে জগতর মানষর গেছ থাকি খালাছ করা অইছিল। 5এরা কুনুদিনও মিছা মাত মাতিছইন না, এরা ষোলআনা নিখুত।

আখেরি সাতটা গজব (১৪:৬-১৬:২১)

তিন জন ফিরিস্তা

6বাদে আমি আরক জন ফিরিস্তা দেখলাম, এইন আছমানর মাজেদি উড়িরা। দুনিয়াত বসত কররা পরতেক দেশ, পরতেক খান্দান, পরতেক ভাষায় মাতরা আর পরতেক জাতির মানষর লাগি চিরকালিন খুশির খবর তান গেছে আছে। 7তাইন জুরে জুরে এলান করলা, “আল্লা পাকরে ডরাও, তান ইজ্জত-তারিফ করো, তান বিচারর সময় আইচ্ছে। যেইন আছমান-জমিন, দরিয়া আর খাল-বিল, গাং অকল পয়দা করছইন, তান এবাদত করো।”

8বাদে তান খরে খরে দুছরা ফিরিস্তা আইয়া কইলা, “বিনাশ অইগেল, বিনাশ অইগেল, হউ নামকরা বাবিল টাউন বিনাশ অইগেল। যে টাউনে তাইর জিনার কামর কড়া নিশা-পানি হকল জাতিরে খাওয়াইছে, তাই বিনাশ অইগেল।”

9বাদে তিন নম্বর ফিরিস্তা এরার খরে খরে আইয়া জুর গলায় কইলা, “কুনু মানষে যুদি অউ জানুয়ার আর অগুর মুর্তির পুজা করে, অগুর সীল তার আতো বা কপালো লাগায়, 10তে হে-ও আল্লাই গজবি নিশা-পানি খাইতে অইবো। অউ নিশার লগে কুনুজাত পানি না মিশাইয়া আল্লাই গজবি বাটিত ভরা অইছে। পবিত্র ফিরিস্তা অকল আর আল্লাই মেড়ার বাইচ্চার ছামনে, আগুইন আর গন্ধক দিয়া ই মানষরে সাজা দেওয়া অইবো। 11যে আগুনিত ইতারে জালাইল অইবো, ই আগুনির ধুমা কুনুদিন বন্দ অইতো নায়। যে মানষে অউ জানুয়ার আর তার মুর্তির পুজা করবো, অগুর নামর হউ সীল লাগাইবো, হে দিন-রাইত কুনু সময়উ আজাব থাকি রেহাই পাইতো নায়।”

12এরলাগি যেরা আল্লার হুকুম মানে আর হজরত ইছার তরিকার ইমানে মজবুত রয়, আল্লার অউ পাক বন্দা অকলে ই হালতর মাজে ছবর থাকা জরুর।

13বাদে আমি হুনলাম, বেহেস্ত থাকি একজনে কইরা, “অউ আয়াত লেখ, অখন থাকি মালিকর তরিকাত রইয়া যতো জনর জান যাইবো, এরাউ নেক-কপালি।” পাক রুহে অউ সাক্ষি দিরা, “নিচ্চয় এরাউ নেক-কপালি। তারার কাম-কাজ থাকি তারা রেহাই পাইবা, কারন তারার কামর ফল তারার লগে লগে রইবো।”

দুনিয়ার ফসল কাটা

14বাদে আমি চাইয়া দেখলাম, ধলা এক মেঘর চাকা, অউ চাকার উপরে বিন-আদমর লাখান কেউ একজন বওয়াত আছইন। তান মাথাত সোনার তাজ আর আতো আছিল ধারাইল কাচি। 15বাদে আরক জন ফিরিস্তা বেহেস্তি এবাদত খানা থাকি বার অইয়া আইলা, আর যেইন মেঘর উপরে বওয়াত আছলা তানরে জুরে চিল্লাইয়া কইলা, “দুনিয়ার ফসল কাটিবার সময় অইছে, ফসল পুরাপুর পাকি গেছে, আপনার কাচি লাগাউক্কা আর ফসল কাটউক্কা।” 16তেউ অউ মেঘর চাকার উপরে যেইন বওয়াত আছলা, এইন দুনিয়াত তান কাচি লাগাইলা আর দুনিয়ার ফসল কাটা অইলো।

17বাদে বেহেস্তর এবাদত খানা থাকি আরক জন ফিরিস্তা বার অইয়া আইলা, তান গেছেও একখান ধারাইল কাচি আছিল। 18এরবাদে কুরবানি খানার গেছ থাকি একজন ফিরিস্তা বার অইয়া আইলা, তান খেমতা আছিল আগুনির উপরে। আইয়া তাইন জুরে জুরে হউ কাচি আলা ফিরিস্তারে ডাকিয়া কইলা, “তুমার ধারাইল কাচি খান লাগাও আর দুনিয়ার আংগুর গাছ থাকি আংগুরর ছড়িন কাটিয়া দলা করো, ইতা তো পাকি গেছে।” 19তেউ হউ ফিরিস্তায় দুনিয়াত তান কাচি লাগাইলা আর দুনিয়ার আংগুর গাছর হকল আংগুর দলা করিয়া, আংগুর মাড়ার গাতো ফালাইলা। অউ গাত অইলো আল্লার গজবর মহা গাত। 20টাউনর বারে আংগুর মাড়ার গাতো ই আংগুর মাড়িয়া হারলে, ইতা থাকি লউ বার অইলো, ই লউর বইন্যায় ঘোড়াইন্তর লাগাম পর্যন্ত আইয়া ছইলো। লউয়ে এক আজার ছয়শো স্তাদিয়া (অনুমান দুইশো মাইল) জাগা ডুবি গেল।

15

আখেরি সাত গজব

1বাদে আমি বেহেস্তর মাজে আরকটা লিলা-খেলা দেখলাম, ইটা বড় মহান তাইজ্জুবি। আমি দেখলাম, সাতজন ফিরিস্তা আছইন, এরার আতো আখেরি সাতটা গজব। ইতারে আখেরি গজব কওয়ার কারন অইলো, অগুইন দিয়া আল্লা পাকর গুছার শেষ ফয়ছালা অইবো।

2বাদে আমি দেখলাম, আগুইন আলা এক কাচর দরিয়া, আর যতো মানষে হউ জানুয়ার, তার মুর্তি বা তার নামর নম্বরর উপরে জিতছইন, তারারেও দেখলাম। দেখলাম, তারা আল্লার দেওয়া সারিন্দা আতো লইয়া কাচর দরিয়ার পারো উবাই রইছইন। 3তারা আল্লার বন্দা মুছা নবীর আর হউ মেড়ার বাইচ্চার অউ কাওয়ালি গাইরা,

“ও সর্ব-শক্তিমান মাবুদ আল্লা,

তুমার লিলা-খেলা কত মহান আর আচানক!

ও তামাম জাতির বাদশা,

কত হক আর সঠিক তুমার পথ!

4ও মাবুদ, তুমারে ডরাইতো নায় কুন জনে?

কুন জনে তুমার নামর তারিফ করতো নায়?

খালি তুমিউ তো পাক-পবিত্র,

তামাম জাতিউ আইবো তুমার দরবারো,

হক্কলেউ তুমার এবাদত করবো,

তুমার হক বিচার তো জাইর অইগেছে।”

5এরবাদে আমি দেখলাম, বেহেস্তর হউ শাহাদত তাম্বুর ভিতরর পবিত্র কাবা ঘর খান খুলা অইলো। 6অউ সময় হউ সাতজন ফিরিস্তায় সাতটা গজব লইয়া কাবা ঘর থাকি বার অইয়া আইলা। তারার ফিন্নর লেবাছ আছিল চকচকা পরিস্কার আর বুকুত আছিল সোনালী পট্টি। 7হউ চাইর জন জানদারর একজনে অউ সাতো ফিরিস্তারে সাতটা সোনার বাটি দিলা। ই সাতো বাটি ভরা আছিল খালি আল্লা পাকর গুছা, যেইন যুগে যুগে হর-হামেশা জিন্দা আছইন। 8আল্লার কুদরতি মহিমা থাকি যে ধুমা বারনিত আছিল, অউ ধুমায় আস্তা ঘর ভরি গেল। আর অউ সাতজন ফিরিস্তার সাতটা গজব না ফুড়ানি পর্যন্ত কেউ গিয়া কাবা ঘরো হামাইতো পারলো না।

16

আল্লার গজবি সাতটা বাটি

1বাদে আমি হুনলাম, হউ কাবা ঘর থাকি একজনে অউ সাতো ফিরিস্তারে জুরে জুরে ডাকিয়া কইরা, “তুমরা যাও, গিয়া আল্লার গজবে ভরা অউ সাতো বাটি দুনিয়ার উপরে উপইত করি ঢালি দেও।”

2তেউ পয়লা ফিরিস্তায় গিয়া তান বাটি দুনিয়ার উপরে উপইত করলা। এরলাগি যারার গতরো হউ জানুয়ারর সীল আছিল, যেরা তার মুর্তির পুজা করতো, ইতা হক্কলটির গতরো এক জাতর খুব বাদ বিষ ফুড়া দেখা দিলো।

3দুছরা ফিরিস্তায় তান বাটি দরিয়ার উপরে উপইত করলা। তেউ দরিয়ার হকল পানি মরা মানষর লউর লাখান অইগেল, দরিয়ার হকল জানদার মরিগেল।

4আর তিন নম্বর ফিরিস্তায় তান বাটি গাং আর হকল খাল-বিলর উপরে উপইত করলা। এরলাগি ইতা অইগেল লউর গাং আর খাল-বিল। 5আর আমি হুনলাম, পানির উপরে যে ফিরিস্তার খেমতা আছিল, এইন কইরা,

“ও পাক-পবিত্র আল্লা, তুমি আগেও আছলায়, অখনও আছো।

তুমি হক-ইনছাফকারি, তুমিউ তো ই গজবি সাজা দিরায়।

6ইগুইন্তে পাক বন্দা অকলর লউ ঝরাইছে,

নবী অকলরও লউ ঝরাইছে।

এরদায়উ তুমি ইতারে অউ লউ খাবাইরায়,

ইতাউ তারার সঠিক পাওনা সাজা।”

7আমি হুনলাম, কুরবানি খানায় সায় দিলা,

“ও সর্ব-শক্তিমান মাবুদ আল্লা,

তুমার হকল বিচারউ হক আর সঠিক।”

8চাইর নম্বর ফিরিস্তায় তান বাটি সুরুজর উপরে উপইত করলা। তেউ সুরুজরে খেমতা দেওয়া অইলো, মানষরে আগুনিত জালাইয়া কুলশ তুলার লাগি। 9অউ সময় খুব গরমে মানষর শরিল জলি গেল, আর অউ গজব অকলর উপরে যান খেমতা আছে, হউ আল্লার বিরুদ্ধে তারা কুফুরি মাত মাতিলো। অততার বাদেও তারা তৌবা করলো না, বা আল্লার তারিফও করলো না।

10বাদে পাচ নম্বর ফিরিস্তায় হউ জানুয়ারর গদির উপরে তান বাটি উপইত করলা। তেউ ই জানুয়ারর বাদশাই আন্দাইর অইগেল। মানষে জালা-যন্ত্রনায় যারযির জিবো কামড়াইলো। 11অউ জালা-যন্ত্রনা আর শরিলর বিষ ফুড়ার কারনে তারা বেহেস্তি আল্লার বিরুদ্ধে কুফুরি মাতো রইলো, অতার বাদেও তারার বদ কামর লাগি তৌবা করলো না।

12আর ছয় নম্বর ফিরিস্তায় হউ মহা গাং ফোরাতর উপরে তান গজবি বাটি উপইত করলা। তেউ গাংগর পানি হুকাইয়া পুবর দেশর রাজা অকলর যাইবার পথ অইলো। 13অউ সময় আমি দেখলাম, বেঙর লাখান তিনটা ভুত। ই তিনোটা হউ দানব, হউ জানুয়ার আর হউ ভন্ড নবীর মুখ থাকি বার অইয়া আইছে। 14অউ ভুত অকলে কেরামতি কাম দেখানিত আছিল। তারা হারা জগতর রাজা অকলরে একখানো দলা করলো, সর্ব-শক্তিমান আল্লার হউ মহান দিনো যুদ্ধ করার লাগি।

15মনো রাখিও, হজরত ইছায় কইরা, “হুনো, আমি তো চুরর লাখান নিরালায় আইমু। তে ধইন্য হউ জন, যে জন হজাগ রইবো আর নিজর লেবাছ ফিন্দিয়া রইবো, যাতে হে লেমটা অইয়া ঘুরা না লাগে, আর মানষে তার শরম না দেখে।” 16ইবরানি ভাষায় যে জাগার নাম আর-মাজাদ্দুন, ভুত অকলে হউ রাজাইন্তরে আনিয়া অনো দলা করলা।

17বাদে সাত নম্বর ফিরিস্তায় তান বাটি বাতাসর উপরে উপইত করলা। অউ সময় বেহেস্তি এবাদত খানার তখত থাকি জুরে জুরে অউ আওয়াজ অইলো, “অখন অইছে।” 18তেউ মেঘর জিলকানি, গুড়-গুড়ি ডাক আর ঠাঠা পড়তো লাগলো, এরলগে অলা বেজুইতা ভৈছাল অইলো, ইলা ভৈছাল দুনিয়াত মানুষ পয়দা থাকি অখন পর্যন্ত কুনুদিন অইছে না। 19হউ মহান টাউন তিন টুকরা অইগেল, দুনিয়ার নানান জাতির টাউন অকল চুরমার অইগেল। আর আল্লা পাকর মনো অইলো, হউ নামকরা বাবিল টাউনর কথা, তাইন তান নিজর গজবি নিশা-পানির পিয়ালা ভরিয়া অউ বাবিলরে খাবাইলা। 20অউ সময় তামাম দ্বীপ অকল বাগিয়া গেলগি, পাড় অকলরে আর দেখা গেল না। 21আছমান থাকি বড় বড় পাথরর লাখান হিল অকল মানষর উপরে পড়াত রইলো। ইতা একো পাথরর উজন অইলো, অনুমান এক মন। অউ হিলর গজবর লাগি মানষে আল্লার বিরুদ্ধে কুফুরি মাত মাতিলো, ইতা আছিল খুব মারাত্মক গজব।

17

নাফরমান বাবিল টাউনর বিচার (১৭:১-১৯:১০)

নামকরা মহা বদমাইশনি

1যে সাতজন ফিরিস্তার আতো সাতটা বাটি আছিল, এরার মাজর একজনে আইয়া আমারে কইলা, “আও, আইয়া দেখো, বউত পানির উপরে যে মহা বদমাইশনি বইছে, তাইর কিতা সাজা অইবো। 2জগতর রাজা অকলে তাইর লগে জিনা করছলা, হনর মানষে তাইর জিনার নিশা-পানি খাইয়া টাল অইছলা।” 3বাদে হউ ফিরিস্তায় রুহানি হালতে আমারে মরুভুমিত নিলা। হনো আমি দেখলাম, লাল রংগর এক জানুয়ারর উপরে এক বেটি বইরইছে। অউ জানুয়ারর গতরো বউত কুফুরি নাম লেখা আছে। অগুর সাতগু কল্লা আর দশগু হিং দেখলাম। 4অউ বেটিয়ে লাল আর বাইংগনি রংগর খুব দামি কাপড় ফিন্দিছে, তাই সোনা আর দামি দামি মনি-মুক্তার গয়নাদি হাজিছে। তাইর আতো জিনার ময়লা আর নানান নমুনার নফরতি জিনিসে ভরা সোনার এক পিয়ালা। 5তাইর কপালো অলা এক নাম লেখা আছিল, ই লেখার এক গোপন মানি আছিল। ই নাম অইলো, “নামকরা বাবিল টাউন, বদমাইশ বেটিন আর জগতর হকল নফরতি জিনিসর মা।” 6আমি দেখলাম, অউ বেটিয়ে আল্লার পাক বন্দা অকলর লউ আর যেরা হজরত ইছার কথা তবলিগ করে, এরার লউ খাইয়া টাল অইগেছে।

তাইরে দেখিয়া আমি আচানক তাইজ্জুব অইলাম। 7তেউ হউ ফিরিস্তায় আমারে কইলা, “তুমি তাইজ্জুব অইগেলায় কেনে? অউ বেটির বেয়াপারে, আর যে জানুয়ারে তাইরে বইয়া নের, যেগুর সাতগু কল্লা আর দশগু হিং, ইতার গোপন ভেদ আমি তুমারে জানাইয়ার। 8তুমি যে জানুয়ার দেখছিলায়, ইগু আগে আছিল, অখন নাই, বাদে হে হাবিয়া দোজখ থাকি উঠিয়া আইয়া চিরকালর লাগি সাজা পাইবো। হউ যেরা অউ জগতর মানুষ, যেতার নাম দুনিয়ার পয়লা থাকিউ আল্লার জিন্দেগি খাতাত লেখা নাই, তারা অউ জানুয়াররে দেখিয়া তাইজ্জুব অইযিবা, কারন ইগু আগে আছিল, অখন নাই, অথচ হিরবার দেখা দিবো।

9“হুনো, অখন যেতা বাতাইল অইবো, ইতা বুজার লাগি আখলর দরকার। অউ সাতো কল্লা অইলোগি, সাতটা পাড়, যে পাড়র উপরে অউ বেটি বইছে। অউ সাতো কল্লারে সাতজন রাজাও বুজা যাইবো। 10এরার মাজর পাচ রাজা আগেউ শেষ অইগেছে। একজন অখন আছে আর একজন অখনও আইছে না। অউ রাজা আইয়া হারলে থুড়া কয়দিন রইতেউ অইবো। 11হউ যে জানুয়ার আগে আছিল অখন নাই, হে সাতজনর মাজর একজন অইলেও, হে আসলে আট নম্বর রাজা। বাদে হে হর-হামেশা চিরকাল সাজা পাইবো।

12“আর তুমি যে দশগু হিং দেখছো, ইতা অইলোগি দশজন রাজা। তারা অখনও রাজত্ব করা শুরু করছে না, অইলে হউ জানুয়ারর লগে রাজা বনিয়া তারা খুব কম সময় রাজত্ব করার খেমতা পাইবো। 13ই রাজা অকলর মন অইবো একই লাখান, তারা হকলে তারার খেমতা আর এখতিয়ার হউ জানুয়াররে দিলাইবো। 14তারা মেড়ার বাইচ্চার লগে যুদ্ধ করবো, আর মেড়ার বাইচ্চায় তারারে আরাইবা। কারন তাইন অইলা মালিক অকলর মালিক, বাদশা অকলর বাদশা। আর তান লগে যেরা রইবা তারারে দাওত দেওয়া অইছে, আর বাছিয়া আলগাইল অইছে, তারা হক-হালালি।”

15বাদে অউ ফিরিস্তায় আমারে কইলা, “তুমি যে পানি দেখছো, যে পানির উপরে অউ মহা বদমাইশনি বইছে, ইতা অইলোগি বউত দেশ, বউত মানুষ, বউত জাতি আর বউত জাতর বুলিয়ে মাতরা মানুষ। 16আর যে দশগু হিং দেখছো, ইতায় আর অউ জানুয়ারে ই বদমাইশনিরে বাদে ঘিন্নাইবা, তারা তাইরে পথর হকির বানাইয়া লেমটা করবা, আর তাইর গোস্ত খাইবা, হেশে তাইরে আগুনিত ফালাই জালাইবা। 17এর কারন অইলো, আল্লায় তারার দিলর মাজে অলা এক নিয়ত দিছইন, যাতে তান মর্জি পুরাপুর ফলে। এরলাগি তারা একমত অইয়া হউ জানুয়াররে হক্কল খেমতা দিলাইবা, যাতে আল্লার কালাম পুরাপুর ফলিবার আগ পর্যন্ত হে রাজত্ব করে। 18তুমি যে বেটিরে দেখছো, ইগু অইলোগি হউ নামকরা টাউন, ই টাউনে জগতর হকল রাজাইন্তর উপরে রাজত্ব করের।”

18

নামকরা বাবিল টাউনর বিনাশ

1ইতার বাদে আমি আরক জন ফিরিস্তারে দেখলাম, তাইন বেহেস্ত থাকি লামিয়া আইরা। তান বউত বড় খেমতা আছে, তান মহিমার বলে আস্তা দুনিয়ায় জলমল করলো। 2তাইন জুরে জুরে কইলা, “বিনাশ অইগেছে, বিনাশ অইগেছে, হউ নামকরা বাবিল টাউন। ইখান অখন ভুতর আখড়া অইছে, হক্কল নমুনার ভুত-পেরতর আখড়া, নাপাক আর জঘইন্য পাখিন্তর বসত খানা অইছে। 3কারন ইখানে তাইর জিনার কামর বেজুইতা নিশা-পানি দুনিয়ার হকল জাতিরে খাবাইছে। জগতর রাজা অকলে তাইর লগে জিনা করছে, জগতর বেপারি সদাগর অকলে অখানর তালে তালে লাগাম-ছাড়া নিশায় ধনি বনছে।”

4বাদে আমি হুনলাম, বেহেস্ত থাকি আরক জনে কইরা, “ও আমার বন্দা অকল, তুমরা বাবিল টাউন থাকি বার অইয়া আও, যাতে তুমরা তাইর গুনার ভাগি না অও। আর তাইর উপরে যেতা গজব নাজিল অইবো, ইতা গজবে তুমরারে না পায়। 5তাইর গুনা গিয়া তো আছমানো লাগি গেছে, তাইর নাফরমানির বায় আল্লায় খিয়াল করছইন। 6অইন্য জনর লগে তাই যেলা করছে, তুমরাও তাইর লগে অলা করো, তাইর কামর পুরাপুর পাওনা তাইরে দেও। যে পিয়ালার মাজে তাই অইন্যর লাগি নাফরমানি গুলাইতো, অউ পিয়ালাত তাইর পুরাপুর সাজা, ষোলআনা সাজা গুলিয়া তাইরে খাবাও। 7তাই নিজরে লইয়া যতখান বড়াই করছে, যতো বেশি বিলাসিতার মাজে জিন্দেগি কাটাইছে, ঠিক অতখান যন্ত্রনা আর দুখ তাইরে দেও। তাই তো মনে মনে কয়, আমি কুনু ড়াড়ি বেটি নি? আমি তো রানীর আসনো বইছি, আমি কুনুমন্তেউ দুখ-মছিবতো পড়তাম নায়। 8এরলাগি তাইর উপরে একদিনেউ হকল গজব পড়বো। ই গজব অইলো মউত, বিলাপ-আহাজারি আর নিদান। তাইরে আগুইনদি জালাইল অইবো, কারন যেইন তাইর বিচার করবা, ই আল্লা মাবুদ খুব বলবান।”

9জগতর যতো রাজা অকলে অগুর লগে জিনা করছে, তাইর লগে হৈ-হুল্লা করি বিলাসি দিন কাটাইছে, তাইরে জালানির বালা তাইর ধুমা দেখিয়া অতায় কান্দিবা, তাইর লাগি আহাজারি করবা। 10তাইর যন্ত্রনা দেখিয়া তারা ডরাইয়া দুরই উবাইয়া কইবা, “হায়রে বাবিল, হায়রে হায়! অতো নামকরা টাউন, অতো খেমতাআলা টাউন! অলা জলদি তুমার উপরে গজব আইলো নি?”

11জগতর বেপারি সদাগর অকলেও তাইর লাগি কান্দিবা আর আহাজারি করবা, কারন তারার মাল-ছামানা অখন কুনু মানষে লইতো নায়। 12তারার ইতা মাল-ছামানা অইলো, সোনা, রুপা, দামি দামি মনি-মুক্তা, দামি দামি কাপড়, বাইংগনি রংগর বাদশাই কাপড়, রেশমি আর লাল কাপড়, নানান নমুনার খুশবয় আলা লাকড়ি, আত্বির দাতদি বানাইল নানান চিজ, দামি লাকড়িদি বানাইল চিজ, পিতল, লুয়া আর মার্বেল পাথরদি বানাইল নানান ছামানা, 13ডাইল-চিনি, এলাইচ, আগর-খুশবয়, মুরা-আতর, লোবান, আংগুরর রস, জয়তুনর তেল, ময়দা-গম, গরু-মেড়া, ঘোড়া আর ঘোড়ার গাড়ি, এরলগে খরিদা গুলাম-বান্দি অকল।

14হউ সদাগর অকলে কইবা, “ও বাবিল, তুমি যে আরাম-আয়েশ পাইতায় চাইছলায়, ইতা তো তুমার গেছ থাকি হরি গেছে। তুমার হকল ধন-ছামানা, জাক-জমক বিনাশ অইগেছে। ইতা তো আর কুনুদিনউ ফিরত পাওয়া যাইতো নায়।” 15যেতা সদাগর অকলে অতা মালর ব্যবসা করিয়া ধনি অইছলা, তাইর যন্ত্রনা দেখিয়া হউ বেপারি অকলে ডরাইয়া দুরই উবাই রইবা। তারা কান্দি কান্দি মাত্বম করিয়া কইবা, 16“ইস, হায়রে হায়, দামি দামি মসলিন কাপড়, বাইংগনি আর লাল রংগর বাদশাই কাপড় ফিন্দা বাবিল টাউন, সোনা আর দামি দামি মনি-মুক্তা দিয়া হাজাইল-পাড়াইল অতো নামকরা টাউন! 17অতো জলদি তুমার অতো ধন-ছামানার ভান্ডার বিনাশ অইগেল নি?”

সদাগরি জাজর সারং আর কাপ্তান অকলে, নাইয়া অকলে, জাজ আর পালর নাইয়া কারবারি অকলে দুরই উবাইয়া ইতা দেখবা। 18তাইরে জালানির সময় তাইর ধুমা দেখিয়া তারা চিল্লাইয়া কইবা, “ই টাউনর লাখান নামকরা, জগতর আর কুনু টাউন আছিল নি?” 19তারা নিজর মাথাত ধুইল মাখাইয়া চিল্লা-চিল্লি করবা আর কান্দি কান্দি মাত্বম করিয়া কইবা, “হায়রে হায়, হউ নামকরা বাবিল টাউন, হায়রে হায়! দরিয়ার মাজে যেরার জাজ চলাচল করে, তারা তো জাজর কামাই দিয়া বড়লোক অইছলা, অখন দেখরায় নি, অতো জলদি কিলা হকলতা বিনাশ অইগেল!”

20অউ সময় হউ ফিরিস্তায় কইলা, “ও বেহেস্ত, তুমি ফুর্তি করো, অউ টাউনরে বিনাশ করায় খুশি করো। ও আল্লার পাক বন্দা অকল, নবী-রছুল অকল আর সাহাবি অকল, ফুর্তি করো। অগিয়ে তুমরার বিরুদ্ধে যততা করছিল, অখন আল্লায় তাইর বিচার করছইন।”

21বাদে খুব শক্তিআলা এক ফিরিস্তায় বিরাট এক পাথর আনিয়া দরিয়াত ফালাইয়া কইলা, “হুনো, অউ নামকরা বাবিল টাউনরেও অলা ডেক্কা মারি ফালাই দেওয়া অইবো, তাইরে আর কুনুদিন পাওয়া যাইতো নায়। 22যেরা সারিন্দা বাজায়, গান গায় আর বাশি বা শিংগা বাজায়, তারার আওয়াজ আর কুনুদিন তুমার মাজে হুনা যাইতো নায়। আর কুনুদিনউ তুমার মাজে কুনুজাতর মেস্তরি মিলতো নায়। কুনু মশলা পিষার পাটার আওয়াজ কুনুদিন হুনা যাইতো নায়। 23তুমার মাজে কুনুদিন কুনু বাত্তির ফর জলতো নায়। দামান্দ-কইনার গলার আওয়াজ আর কুনুদিন তুমার মাজে হুনা যাইতো নায়। কারন আস্তা জগতর মাজে তুমার সদাগর অকল নামকরা আছিল, জগতর হকল জাতি তুমার ছল-চতুরির যাদুয়ে পাগল অইযিতো। 24আর নবী-রছুল অকলরে, আল্লার পাক বন্দা অকলরে, আর যতো মানষরে ই জগতো খুন করা অইছে, তারার লউ তো তুমার অউ বাবিল টাউনো মিলছে।”

19

বেহেস্তো আল্লাতালার তারিফ

1এরবাদে আমি বেহেস্তর মাজে বউত মানষর ভিড়র আওয়াজ হুনলাম। তারা কইরা, “আল-হামদুলিল্লা! মহিমা আর খেমতা, আখেরাতর নাজাত, হক্কলতাউ আমরার আল্লার। 2তান বিচার তো হক আর সঠিক। যে টাউনে নিজর জিনার কাম দিয়া আস্তা দুনিয়ারে নাপাক বানাইছিল, হউ মহা-বদমাইশনিরে আল্লায় সাজা দিছইন। তান মায়ার গুলাম অকলর লউর বদলা, তাইন অগুর গেছ থাকি লইছইন।” 3এরা হিরবার কইলা, “আল-হামদুলিল্লা! অগুর মাজ থাকি হর-হামেশা ধুমা বার অইবো।” 4আল্লা পাক যেইন তখতো বওয়াত আছইন, হউ চব্বিশ জন মুরব্বি নেতায় আর হউ চাইরো জানদারে তানরে সইজদা করিয়া কইলা, “আমিন! আল-হামদুলিল্লা।”

5অউ সময় বেহেস্তি তখতো থাকি একজনে কইলা, “ও আল্লার মায়ার গুলাম অকল, তুমরা যেরা আল্লারে ডরাও, তুমরা হুরু-বড় হক্কলে আমরার আল্লার তারিফ করো।”

6বাদে আমি বউত মানষর ভিড়র আওয়াজ বা জুরে জুরে কল-কলাইয়া পানি পড়ার আওয়াজ বা জুরে ঠাঠা পড়ার আওয়াজর লাখান অউ কথা খানাইন হুনলাম, “আল-হামদুলিল্লা! আমরার সর্ব-শক্তিমান মাবুদ আল্লায় বাদশাই করা শুরু করছইন। 7আও, আমরা মনর খুশিয়ে ফুর্তি করি, আর তান তারিফ করি, কারন মেড়ার বাইচ্চায় শাদি করার সময় অইগেছে, তান কইনা জুইত অইয়া হাজিগেছইন। 8তানরে চকচকা পরিস্কার দামি কাপড় ফিন্দাইল অইছে।” ই কাপড় অইলো আল্লার পাক বন্দা অকলর পরেজগারি চাল-চলন।

9বাদে হউ ফিরিস্তায় আমারে কইলা, “তুমি অখান লেখ, মেড়ার বাইচ্চার শাদির মজলিছো যেরারে দাওত দেওয়া অইছে, তারা মুবারক।” তাইন এওখান কইলা, “ইতা অইলো আল্লার কালাম, ইতা খাটি হাছা।” 10তেউ আমি অউ ফিরিস্তারে সইজদা করার নিয়তে তান পাওয়ো পড়লাম, অইলে তাইন আমারে কইলা, “হায়, হায়! ইতা কিতা কররায়, আমিও তো তুমার লাখান গুলাম, আর তুমার যে মুমিন ভাই অকলে হজরত ইছার পক্ষে জবানবন্দি দেওয়াত রয়, আমি তারার লাখানও গুলাম। তে খালি আল্লারে সইজদা করো। অউ ইছার জবানবন্দিউ অইলো, নবী-রছুল অকলর জবানবন্দির মুল খুটি।”

আখেরাতর বিচার (১৯:১১-২০:১৫)

বাদশা অকলর বাদশার জয়

11বাদে আমি দেখলাম, বেহেস্তর দুয়ার খুলা, আর হনো ধলা একটা ঘোড়া আছে। হউ ঘোড়ার উপরে যেইন তশরিফ রাখছইন, তান নাম অইলো, হক আর হক-হালালি। তাইন পাক-পরেজগারিয়ে বিচার-ইনছাফ আর যুদ্ধ করইন। 12তান চউখ অইলো জালাইল চকচকা আগুনির লাখান, তান মাথাত বউত তাজ আছে। তান শরিলো অমন এক নাম লেখা, যে নামর মানি তাইন ছাড়া দুছরা কেউ জানে না। 13তান ফিন্নো আছে লউর মাজে ডুবাইল লেবাছ, আর তান নাম অইলো, “কালিমাতুল্লা, আল্লার কালাম।” 14আর বেহেস্তর সিপাই অকলে দামি ছাফ-ছুতরা ধলা লেবাছ ফিন্দিয়া, ধলা ঘোড়ার উপরে ছওয়ার অইয়া তান খরে খরে যাইরা। 15তাইন যাতে জগতর হকল জাতিরে সাজা দিতা পারইন, অতার লাগি তান মুখ থাকি একখান ধারাইল তলোয়ার বার অইয়া আইলো। তাইন লুয়ার লাঠি দিয়া তামাম জাতিরে শাসন করবা, আর আংগুর মাড়ার গাতো মানষে যেলা পাওদি আংগুর মাড়ইন, সর্ব-শক্তিমান আল্লার লান্নতি গজবদি তাইন অলা মাড়িবা। 16তান উরাতর মাজে আর তান লেবাছো অউ নাম লেখা আছে, “বাদশা অকলর বাদশা, মালিক অকলর মালিক।”

17বাদে আমি দেখলাম, সুরুজর মাজে একজন ফিরিস্তা উবাই রইছইন। আছমানর মাজে যেতা পাখিন্তে উড়িরা, তাইন এরা হকলরে জুরে জুরে ডাকিয়া কইলা, “আও, আল্লার দরবারো মহা-দাওত খাওয়ার লাগি একখানো দলা অও, 18যাতে তুমরা আইয়া গোস্ত খাইতায় পারো, বাদশা, পরধান সিপাই, পয়লোয়ান অকল, ঘোড়াইন আর ঘোড়াইন্তর ছওয়ার অকল, আজাদ আর গুলাম, হুরু-বড় হকল মানষর গোস্ত খাও।”

19এরবাদে আমি দেখলাম, অউ ঘোড়াত যেইন ছওয়ার অইছইন, এন লগে আর এন সিপাই দলর লগে যুদ্ধ করার লাগি হউ জানুয়ার, আস্তা দুনিয়ার রাজা অকল, তারার সৈন্য-সিপাই দল লইয়া একখানো দলা অইলা। 20তেউ হউ জানুয়াররে ধরিয়া আটক করা অইলো, আর যে ভন্ড নবীয়ে তার পক্ষ লইয়া আচানক কাম দেখাইতো, তারেও ধরা অইলো। যেতা মানষে হউ জানুয়ারর সীল লাগাইছে, তার মুর্তির পুজা করছে, অউ ভন্ড নবীয়ে তার আচানক কাম দেখাইয়া অতা মানষরে বে-পথি বানাইছে। ই দুইওটারে জিন্দা হালতে, জালাইল গন্ধকর আগুনির মাজে ফালানি অইলো। 21হউ ধলা ঘোড়ার উপরে যেইন বওয়াত আছলা, তান মুখ থাকি যে ধারাইল তলোয়ার বার অইয়া আইছিল, অখানদি তারার লগর সাংগ-পাংগ অকলরে খুন করা অইলো। এরলাগি হকল পাখিন্তে পেট ভরিয়া অতার গোস্ত খাইলা।

20

এক আজার বছরর বয়ান

1এরবাদে আমি দেখলাম, বেহেস্ত থাকি একজন ফিরিস্তা লামিয়া আইরা। তান আতো আছিল হাবিয়া দোজখর চাবি, আর খুব বড় একছা লংগর। 2তাইন হউ দানবরে ধরলা, ইগু অইলো হউ পুরানা হাফ, এর নাম অইলো ইবলিছ বা শয়তান। তারে ধরিয়া এক আজার বছরর লাগি বান্দিলা, 3বান্দিয়া হাবিয়া দোজখো ফালাইলা। বাদে অউ দোজখর দুয়ারো তালা লাগাইয়া এর উপরে সীল-চাপ্পড় মারলা, যাতে হে অউ এক আজার বরছর মাজে বার অইয়া, দুনিয়ার কুনু জাতিরে বে-পথি বানাইতো না পারে। হেশে তারে থুড়া কয়দিনর লাগি ছাড়া অইবো।

4বাদে আমি দেখলাম, বউত তখত আছে। যেরা অউ তখতর উপরে বইছইন, এরারে বিচার করার খেমতা দেওয়া অইছে। আল্লার কালাম আর হজরত ইছার বেয়াপারে জবানবন্দি দেয়ায় যেরারে গর্দান মারা অইছিল, এরার রুহ অকলরেও আমি দেখলাম। এরা হউ জানুয়াররে বা তার মুর্তিরে পুজা করছে না, আর আতো বা কপালর উপরে তার সীলও লাগাইছে না। এরা জিন্দা অইয়া উঠলা, উঠিয়া এক আজার বছর ধরি আল-মসীর লগে বাদশাই করলা। 5-6ইটা অইলো পয়লা বার মুর্দা থাকি জিন্দা অইয়া উঠা, আর অউ যেরা জিন্দা অইলা তারাউ ধইন্য আর পবিত্র। পয়লা বার যেরা জিন্দা অইয়া উঠলা, এরার উপরে তো মউতর দুছরা বার কুনু বল খাটানি চলতো নায়। তারা অইবা আল্লা পাক আর আল-মসীর ইমাম। তারা হউ এক আজার বছর ধরি আল-মসীর লগে বাদশাই করবা। অইলে অউ আজার বছর ফুড়ানির আগ পর্যন্ত বাদ-বাকি কুনু মুর্দা জিন্দা অইলা না।

ইবলিছ-শয়তানর শেষ দশা

7অউ এক আজার বছর গিয়া হারলে শয়তানরে তার জেল খানা থাকি খালাছ দেওয়া অইবো। 8তেউ হে গিয়া আস্তা জগতর হকল জাতিরে, মানি ইয়াজুজ-মাজুজরে বে-পথি বানাইবো, আর যুদ্ধ করার লাগি তারারে একখানো দলা করবো। তার মানুষ অইবা, দরিয়ার চরর বালুর লাখান, ইতা গনিয়া ফুড়ানি যাইতো নায়। 9অউ সময় আমি দেখলাম, তারা আস্তা দুনিয়া থাকি বার অই গিয়া আল্লার পাক বন্দা অকলর রওয়ার জাগা, আল্লার মায়ার টাউনরে গিয়া বেরিলিলো। অইলে আছমান থাকি আল্লাই আগুইন লামিয়া ইতারে জালাইলিলো। 10আর যে ইবলিছে এরারে বে-পথি বানাইছিল, তারে ধরিয়া জালাইল গন্ধকর আগুনির গাতো ফালাইল অইলো। হউ জানুয়ার আর ভন্ড নবীরে আগেউ অউ গাতো ফালাইল অইছিল। হনো তারা চিরকাল রইবা, আর দিনে-রাইতে জালা-যন্ত্রনার আজাব পাইবা।

রোজ হাশরর দিন

11বাদে আমি দেখলাম, বড় একখান ধলা তখত, অউ তখতো একজন বওয়াত আছইন। তান ছামনা থাকি আছমান আর দুনিয়া বাগি গেল, কুনুখানো এরার জাগা রইলো না। 12এরবাদে দেখলাম, হুরু-বড় তামাম মুর্দা অকল অউ তখতর ছামনে উবাই রইছইন। বাদে কয়খান খাতা খুলা অইলো, এরবাদে আরো একখান খাতা খুলা অইলো, ইখানর নাম জিন্দেগি খাতা। অউ খাতা অকলর মাজে হউ মুর্দা অকলর যেতা আমল-নমা লেখা অইছিল, হউ আমল মাফিক তারার আখেরি বিচার করা অইলো। 13দরিয়ার মাজে যতো মুর্দা অকল আছলা, দরিয়ায় এরার লাশ বার করি দিল। আর মউত আর কয়বরর মাজে যেতা মুর্দাইন আছলা, মউত আর কয়বরে তারারে বার করি দিল। পরতেক জনরে তার নিজর আমল-নমা মাফিক বিচার করা অইলো। 14হেশে মউত আর কয়বররেও আগুনির গাতো ফালাইল অইলো। অউ আগুনির গাতো পড়াউ অইলো দুছরা বার মউত মানি, আখেরি মউত। 15যেরার নাম হউ জিন্দেগি খাতাত মিললো না, তারারেউ আগুনির গাতো ফালাইল অইলো।

21

নয়া পয়দা (২১:১-২২:২১)

নয়া আছমান আর নয়া জমিন

1বাদে আমি একখান নয়া আছমান আর নয়া জমিন দেখলাম। পয়লা আছমান আর পয়লা জমিন মিলাই গেছে, কুনু দরিয়াও আর রইলো না। 2আমি দেখলাম, হউ পবিত্র টাউন, মানি নয়া জেরুজালেম। ইখান বেহেস্তর মাজ থাকি আর আল্লার দরবারো থাকি লামিয়া আর। কুনু বিয়ার কইনারে যেলা দামান্দর লাগি হাজাইল অয়, অউ টাউনরেও অলা সুন্দর করি হাজাইল অইছিল। 3বাদে আমি হুনলাম, হউ বেহেস্তর তখতো থাকি একজনে জুরে জুরে কইরা, “অখন মানষর মাজে রওয়ার লাগি আল্লা পাকর জাগা অইছে। তাইন মানষর লগে বসত করবা, আর তারা অইবা তান বন্দা। তাইন স্বয়ং তারার লগে রইবা, তারার আল্লা অইবা। 4তাইন এরার চখুর পানি ফুছিয়া দিবা। আর কুনু মরন অইতো নায়, দুখ, কান্দন, কষ্ট আর রইতো নায়, আগর ইতা হকলতাউ শেষ অইগেছে।”

5তখতো যেইন বওয়াত আছলা তাইন কইলা, “হুনো, আমি হক্কলতারে নয়া করি পয়দা করিয়ার।” বাদে তাইন হিরবার কইলা, “আমার অউ কথা খান লেখ, কারন ইতা একিন করার লাখ হাছা।”

6তাইন আমারে এওখান কইলা, “শেষ অইগেছে। আমিউ আলিফ আর ইয়া, আউয়াল আর আখের। হুনো, যার পানির পিয়াছে ধরছে, তারে আমি আবে-হায়াতর জিন্দেগি-পানির ঝরনা থাকি বিনা পয়সায় পানি দিমু। 7যে জন জয়ী অইবো, হে ইতা হকলতার অধিকার পাইবো। আমি অইমু তার আল্লা, আর হে অইবো আমার পুত। 8অইলে কা-পুরুষ, বেইমান, হারামকুর, খুনি, জিনাকুর, যাদুগির, মুর্তিপুজা কররা, আর হকল নমুনার মিছা মাতরা অকল জালাইল আগুইন আর গন্ধকর গাতো রইবা। এর নামউ অইলো দুছরা বারর মউত।”

নয়া জেরুজালেম টাউন

9হউ যে সাতজন ফিরিস্তার আতো আখেরি সাতো গজব ভরা সাতটা বাটি আছিল, এরার মাজর একজনে আমার কান্দাত আইয়া কইলা, “আও, আমি তুমারে কইনা-বেটি দেখাইমু, মানি মেড়ার বাইচ্চার বউরে দেখাইমু।” 10বাদে হউ ফিরিস্তায় রুহানি হালতে আমারে বড় এক উচা পাড়র উপরে লইয়া গেলা। নিয়া আল্লার মহিমায় চকচকা যে পবিত্র জেরুজালেম টাউন, বেহেস্তর মাজ থাকি আর আল্লার দরবারো থাকি লামিয়া আওয়াত আছিল, অউ ফিরিস্তায় আমারে অতা দেখাইলা। 11ই টাউনর রং খুব দামি মনি-মুক্তার লাখান চকচকা, ফটিকর গ্লাসর নমুনায় দামি হীরার লাখান। 12হউ টাউনো বড় একখান উচা ওয়াল আছিল, অউ ওয়ালো বারো খান গেইট আছিল, বারো গেইটো বারো জন ফিরিস্তা আছলা। অউ গেইটর উপরে বনি ইছরাইলর বারো খান্দানর নাম লেখা। 13ই গেইটর তিনখান পুবেদি, তিনখান উতরেদি, তিনখান দউকনেদি আর তিনখান পইচমেদি আছিল। 14ই টাউনর ওয়ালর বারোটা পিলার আছিল, ইতার উপরে মেড়ার বাইচ্চার বারো জন সাহাবির বারো খান নাম লেখা।

15আমার লগে যেইন বাতচিত করাত আছলা তান আতো সোনার একটা নল আছিল, যাতে তাইন অউ টাউন, টাউনর গেইট আর ওয়াল মাপিতা পারইন। 16ই টাউন আছিল চাইর কুনি গোল, লাম্বায় আর ফাড়ে সমান। বাদে তাইন অউ নলদি টাউন খান মাপিলে, ইখান লাম্বা, ফাড় আর উচায় অইলো বারো আজার স্তাদিয়া (অনুমান দেড় আজার মাইল)। 17বাদে তাইন ওয়াল মাপিলা, ই ওয়াল আছিল একশো চৌচাল্লিশ আত উচা। মানষর আতর মাপর লাখান ই ফিরিস্তায়ও মাপিলা। 18ই ওয়াল খান হীরাদি বানাইল, আর ই টাউন আছিল ফটিকর গ্লাসর লাখান খাটি সোনাদি বানাইল। 19টাউনর ওয়ালর পিলার অকলর মাজে দামি দামি মনি-মুক্তা লাগাইল আছিল। পয়লা পিলার হীরার, দুছরাটা আকিক মনির, তিন নম্বরটা তামা মনি, চাইর নম্বরটা পান্না মনি, 20পাচ নম্বরটা সুরুজ মনি, ছয় নম্বরটা ইয়াকুত মনি, সাত নম্বরটা লীলমনি, আট নম্বরটা বৈদুর্য মনি, নয় নম্বরটা পীত মনি, দশ নম্বরটা উপল মনি, এগারো নম্বরটা ফিরুজ মনি, আর বারো নম্বরটা পদ্মরাগ মনি। 21বারো খান গেইট বারোটা মুক্তাদি বানাইল। পরতেক গেইট আছিল একোটা দামি মুক্তার। টাউনর রাস্তা আছিল ফটিকর গ্লাসর লাখান খাটি সোনাদি বানাইল।

22ই টাউনো আমি কুনু এবাদত খানা দেখলাম না, সর্ব-শক্তিমান আল্লা মাবুদ আর মেড়ার বাইচ্চাউ আছলা ইনর এবাদত খানা। 23ই টাউনরে ফর করার লাগি কুনু চান-সুরুজর জরুর নাই। আল্লার নুরর মহিমায় ফর দেয়, আর মেড়ার বাইচ্চাউ অইলা ইনর বাত্তি। 24হকল জাতির মানুষ অউ নুরর ফরে চলা-ফিরা করবা, দুনিয়ার বাদশা অকলে তারার জাক-জমক লইয়া অউ টাউনো আইবা। 25দিনর বালা কুনু সময়উ ই টাউনর গেইট বন্দ অইতো নায়, আর হিনো কুনু রাইত অইতো নায়। 26তামাম জাতির ইজ্জত আর গৌরব অনো আনা অইবো। 27নাপাক কুনু চিজ, হারামকুর বা মিছা মাতরা কুনু মানুষ, কুনুদিনও ইনো হামাইতো পারতো নায়। খালি মেড়ার বাইচ্চার জিন্দেগি খাতার মাজে যেরার নাম লেখা আছে, তারাউ হামাইবা।

22

জিন্দেগি-পানির গাং

1এরবাদে হউ ফিরিস্তায় আমারে আবে-হায়াত, মানি জিন্দেগি-পানির গাং দেখাইলা। ইকটা দেখতে চকচকা কাচর লাখান। ইটা আল্লা পাক আর হউ মেড়ার বাইচ্চার তখতর ধারো থাকি বার অইয়া, 2টাউনর বড় গল্লির মাজখানেদি যাওয়াত আছিল। আর অউ গাংগর দুইও পারো জিন্দেগি-গাছ আছিল। অউ গাছাইন্তো বারো জাতর ফল ধরে। পরতেক মাসে মাসে ফল ধরে, অউ গাছর পাতায় হকল জাতির মানষর বেমার শিফা অয়। 3কুনুজাত লান্নত আর রইতো নায়। আল্লা পাক আর মেড়ার বাইচ্চার তখত অউ টাউনো রইবো, আর তান গুলাম অকলে তান এবাদত করবা। 4তারা তান পবিত্র মুখ দেখবা, তারার কপালো তান নাম লেখা থাকবো। 5আর কুনু রাইত অইতো নায়, তারার লাগি লেমর বা সুরুজর ফরর জরুর অইতো নায়, কারন আল্লা মাবুদর নুরউ অইবো তারার ফর। তারা হর-হামেশা চিরকাল ধরি বাদশাই করবা।

হজরত ইছা আল-মসী জলদি আইরা

6বাদে হউ ফিরিস্তায় আমারে কইলা, “ইতা হকলতা একিন করার লাখ হাছা। আল্লা মাবুদ, যেইন আগে তান নবী অকলর মাজদি বাতচিত করছইন, তাইন নিজর ফিরিস্তারে দিছইন, যাতে থুড়া কয়দিনর মাজে যেতা ঘটিবো, অউ ফিরিস্তায় ইতা তান গুলাম অকলরে দেখাইন।”

7হজরত ইছায় কইরা, “হুনো, আমি খুব জলদিউ আইরাম। যে জনে অউ কিতাবর হকল আয়াতর আগাম খবর আমল করে, হে-উ নেক-কপালি।”

8তে ইছা আল-মসীর সাহাবি আমি হান্নানে ইতা দেখছি আর হুনছি। হকলতা হুনা আর দেখার বাদে, যে ফিরিস্তায় আমারে ইতা দেখাইছইন, আমি তানরে সইজদা করার নিয়তে তান পাওয়ো পড়লাম। 9অইলে তাইন আমারে কইলা, “না, না! তুমি আমারে নায়, খালি আল্লা পাকরে সইজদা করো। আমি তো খালি তুমার লাখান গুলাম, তুমার ভাইয়াইন মানি নবী অকলর লাখান আর ই কিতাবর হকল আয়াত যেরা মানে, তারার লাখানউ গুলাম।”

10এরবাদে তাইন আমারে কইলা, “অউ কিতাবর কুনু আগাম খবর তুমি লুকাইয়া রাখিও না, কারন সময় ঘনাইয়া আইচ্ছে। 11যেগিয়ে নাফরমানি করের, হে অলা করাত রউক। যেগু খবিছ, ইগু তার খবিছিত রউক। আর পরেজগার জনে পরেজগারি করাত রউক, পাক-পবিত্র জন পাক-পবিত্র রউক।”

12হজরত ইছায় কইরা, “হুনো, আমি খুব জলদি আইরাম, আর পরতেক মানষর আমল-নমার পুরুস্কার আমার আতো আছে। 13আমিউ আলিফ আর ইয়া, আউয়াল আর আখের, শুরু আর শেষ।

14“তারাউ নেক-কপালি, যেরা নিজর কাপড়-চুপড় ধইয়া পরিস্কার করে, যাতে জিন্দেগি-গাছর ফল খাওয়ার অধিকার পায়, আর গেইটেদি গিয়া পবিত্র টাউনো হামায়। 15কুকরর লাখান জঘইন্য মানুষ, যাদুগির, জিনাকুর, খুনি, মুর্তিপুজা কররা, আর যেতায় মিছা মাত পছন্দ করে, মিছার মাজে চলে, ইতা হক্কলটি বারে পড়ি রইছে।

16“তে আমি ইছায় আমার ফিরিস্তারে পাঠাইছি, যাতে এইন জমাত অকলর লাগি তুমরার গেছে অতা হকল বেয়াপারে জবানবন্দি দেইন। আমি তো বাদশা দাউদর খান্দান আর মুল জড়, ফজরর চকচকা শুক-তেরা।” 17পাক রুহে আর কইনায় কইরা, “আও।” আর যে জনে অউ কথা হুনের, হে-ও কউক, “আও।” পানির পিয়াছে যারে ধরছে, হে আউক। যে জনে পানি খাইতো চায়, হে বিনা পয়সায় জিন্দেগি-পানি খাউক।

18যে জনে অউ কিতাবর হকল আগাম খবর হুনে, তার গেছে আমি অউ জবানবন্দি দিয়ার, কেউ যুদি অউ আয়াত অকলর লগে দুছরা কুন্তা বাড়ায়, তে আল্লায়ও অউ কিতাবো লেখা হকল নমুনার গজব তার জিন্দেগিত বাড়াইবা। 19আর অউ কিতাবর আয়াত অকল থাকি কেউ যুদি কুন্তা বাদ দেয়, তে আল্লায়ও ই কিতাবো লেখা জিন্দেগি-গাছ আর পবিত্র টাউনর অধিকার, তার জিন্দেগি থাকি বাদ দিবা।

20অউ বেয়াপার অকল লইয়া যেইন জবানবন্দি দিরা, তাইন কইরা, “হাছাউ, আমি খুব জলদি আইরাম।”

আমিন। হজরত ইছা, আপনে তশরিফ আনউক্কা।

21আল্লার তামাম পাক বন্দা অকলর উপরে, হজরত ইছার রহমত জারি রউক। আমিন॥

খতম॥