পবিত্র ইঞ্জিল শরিফ ১১ নম্বর ছিপারা
আল-ফিলিপিয়া
পরিচিতি
আল্লা পাকর হুকুমে পবিত্র আছমানি কিতাবর অউ ছিপারা চিঠির আকারে লেখছইন, হজরত ইছা আল-মসীর সাহাবি হজরত পাউলুছে (রাঃ)। অনুমান করা অয়, হজরত ইছা বেহেস্তো তশরিফ নেওয়ার বাদে ৩১-৩৩ বছরর মাজে ইখান লেখা অইছে। অউ সময় হজরত পাউলুছ রোম টাউনো বাদশা কৈছরর রাজবাড়ির জেল খানাত বন্দি আছলা।
অউ ছিপারা লেখার কয় বছর আগে তাইন ফিলিপি টাউনো আইছলা হজরত ইছার খুশ-খবরি তবলিগ করার লাগি, আইয়া তাইন জমাত কাইম করলা, ইতা অইলো ইউরোপ মহাদেশর হকল পয়লা জমাত (সাহাবি নামা ১৬ রুকু দেখউক্কা)।
ইমান আনার বাদে অউ ফিলিপি জমাতর মানুষ খুব গরিব আর জুলুম-মছিবতর মাজে রইলেও, তারা অইন্য মুমিন অকলরে আর হজরত পাউলুছরে টেকা-পয়সা দিয়া সাইয্য করায়, তাইন খুশি অইয়া এরারে ধইন্যবাদ জানাইছইন। তারার ইমানর ফল দেখিয়া তাইন পরামিশ দিরা, তারা যানু হামেশা আল্লাই খুশি-বাসিত রইয়া আল-মসীর লাখান ত্যাগি আর নিস্বার্থ জিন্দেগি কাটাইন।
এরমাজে আছে,
(ক) ছালাম, শুকরিয়া আর খুশি-বাসির কথা ১:১-১১ আয়াত
(খ) হজরত পাউলুছর নিজর হালত ১:১২-২৬
(গ) হজরত ইছার ত্যাগর নমুনা ১:২৭—২:১৮
(ঘ) দুইজন উস্তাদরে পাঠানি ২:১৯-৩০
(ঙ) দাদির মুছলা বাদ দিয়া আল্লার রুহে এবাদত করো ৩ রুকু
(চ) দান-খয়রাতর লাগি ধইন্যবাদ ৪ রুকু
11আমি পাউলুছ আর তিমথি অইলাম হজরত ইছা আল-মসীর গুলাম। অউ ফিলিপি টাউনো বসত কররা, যে পাক বন্দা অকলে হজরত ইছা আল-মসীর উপরে ইমান আনছইন এরারে, এরার উস্তাদ অকলরে আর খাদিমদার অকলর গেছে লেখরাম।
2আমরার গাইবি বাফ আল্লা পাক আর হজরত ইছা আল-মসীর রহমত আর শান্তি তুমরার উপরে নাজিল অউক।
ফিলিপি জমাতর লাগি মুনাজাত
3তুমরার কথা যতবারউ আমার ইয়াদ অয়, অতবারউ আমি আমার আল্লার শুকরিয়া আদায় করি। 4আমি যেবলা তুমরার লাগি দোয়া করি, আমার মনো খুব খুশি লইয়া দোয়া করি। 5হজরত ইছা আল-মসীর তবলিগ কামর লাগি তো তুমরা পয়লা থাকি অখন পর্যন্ত আমারে সাইয্য কররায়। 6আমি একিন করি, যে আল্লায় তুমরার দিলর মাজে অউ নেক কাম শুরু করছইন, আল-মসীয়ে দুছরা বার তশরিফ আনা পর্যন্ত, অউ আল্লায় ই কাম পুরা করবা।
7তুমরা তো আমার মায়ার মানুষ, এরলাগি তুমরার বেয়াপারে আমার মনর ভাব অলা অওয়া উচিত। আমি জেলো বন্দি হালতে বা খুশ-খবরির হক কথা যেনোউ তবলিগ করি না কেনে, তুমরাও আমার লগর রহমতর ভাগি। 8এক আল্লায় জানইন, আল-মসীর মহব্বতে আমি তুমরার লাগি কত আশিক।
9আমি দোয়া করি, তুমরার মহব্বত যানু কামিল বিবেক আর আখলে দিন দিন বাড়ে। 10যাতে তুমরা আখল কাটাইয়া ভালা ভালা বেয়াপার অকল চিনবায়, আর আল-মসীয়ে দুছরা বার তশরিফ আনার আগ পর্যন্ত, 11তান বলে তুমরা নেক কাম-কাজ করিয়া খাটি পথে নিখুত অইয়া রইবায়। তেউ আল্লা পাকর গৌরব আর তারিফ জাইর অইবো।
হজরত পাউলুছর নিজর হালত
12ও আমার ভাই অকল, আমি চাইরাম তুমরাও জানো, আমার উপরে যেতা যেতা ঘটিছে, ইতার লাগি আসলে খুশ-খবরি তবলিগর কাম আরো বাড়িগেছে। 13এরলাগি অনর রাজবাড়ির সিপাই অকলে আর বাদ-বাকি মানষেও জানিলিছইন, আমি তো খালি আল-মসীর লাগিউ জেল খাটিয়ার। 14আর আমি জেলো হামানিয়ে আমরার বউত ভাইয়াইন্তে মালিকর উপরে আরো বেশ করি ভরসা করা হিকছইন, তারা ডর-ভয় ফাউরিয়া আল্লার কালাম তবলিগর লাগি আরো সাওসি অইছইন।
15এরার মাজে কেউ কেউ ইংসা আর দলাদলির নিয়তে আল-মসীর তবলিগ করের, অইলে কেউ কেউ ভালা নিয়তে করের। 16এরার দিলর মহব্বতেউ আল-মসীর তবলিগ করের। তারা জানইন, খুশ-খবরির পক্ষে মাতার লাগিউ আমারে আটক করা অইছে। 17অইলে যেরা নিজর ফায়দা কামানির লাগি আল-মসীর তবলিগ করে, এরা তো ভালা নিয়তে কাম করে না। তারা চায়, আমি জেলো বন্দি রই আর আমার কষ্ট বাড়উক। 18অইলে ইতায় কিতা আয় যায়? আসল কথা অইলো, যেমনেউ অয় না কেনে, আল-মসীর নাম তো তবলিগ অর। ইতা ধুকাবাজির নিয়তে অউক বা ছহি নিয়তেউ অউক। আর অতা দেখিয়াউ আমি খুশি।
আমার ই খুশি কুনুদিন ফুড়াইতো নায়। 19আমি তো জানি, আমার উপরে যেতা ঘটিছে, ইতার হেশ ফল অইলো, আমি নিস্তার পাইমু। তুমরার দোয়া আর ইছা আল-মসীর রুহর বলে ইতা অইবো। 20আমার খুব মজবুত একিন আছে, আমি কুনুমন্তেউ শরম পাইতাম নায়। আমি পুরাপুর সাওস করিয়া আগে যেলা আল-মসীর গৌরব জাইর করছি, আমি মরি বা বাচি অখনও অলা জাইর অইবো। 21কারন আমার লাগি জিন্দেগি অইলা আল-মসী আর মরন অইলো লাভ। 22অইলে আমি যুদি বাচিয়া রই, তে আমার জিন্দেগিত খুব ভালা কাম করার সুযোগ অইবো। এরলাগি আমি বুজরাম না, আমি কুন পথ লইতাম। 23দুইও পথেউ আমারে টানের। আমার ইচ্ছা অইলো, আমি মরিয়া হারি আল-মসীর লগে রইতাম, অখানউ আমার লাগি ভালা। 24অইলে তুমরার লাগি আমার বাচিয়া রওয়াখান আরো জরুরি। 25আর অউ মনোবলে আমি ভালা করি জানি, আমি বাচমু আর তুমরার লগে রইমু, যাতে তুমরার ইমান আরো মজবুত অইয়া তুমরার খুশি বাড়ে। 26আমি তুমরার মাজে হিরবার আইয়া হারলে, আমারে লইয়া তুমরা ইছা আল-মসীর নামে খুব খুশি করবায়।
ইছা আল-মসীর তরিকার জিন্দেগি
27আসল বেয়াপার অইলো, তুমরা যারযির জিন্দেগিরে অউ নমুনায় কাটাও, যে জিন্দেগি আল-মসীর খুশ-খবরির লাখ। তেউ আমি নিজে আইয়া দেখি বা দুরই থাকি হুনি, আমি বুজমু, তুমরা দিলে-জানে মিলিয়া মজবুত আছো। আর খুশ-খবরির মাজদি যে ইমান পয়দা অয়, অউ ইমানর লাগি হকলে মিলিয়া এক দিলে মেনত কররায়। 28যেতায় তুমরার বিরুধিতা করইন, কুনু বেয়াপারেউ তুমরা ইতারে ডরাইও না। তেউ পরমান অইযিবো, তারা বিনাশর পথে যাইরাগি আর তুমরা রেহাই পাইরায়। ই রেহাই খালি আল্লার গেছ থাকিউ মিলে। 29আল-মসীর উপরে ইমান আনছো ইটা যেলা রহমত, তান লাগি জুলুম-মছিবত সইয্য করার সুযোগ পাইছো ইটাও তুমরার লাগি রহমত। 30তুমরা আগে আমারে যেলা কষ্ট করাত দেখছো আর অখনও যেতা কষ্টর কথা হুনরায়, তুমরাও তো অউ লাখান কষ্টর মাজে পড়িগেছো।
2হজরত ইছার ত্যাগর নমুনা
1আল-মসীর উপরে ইমান আনলে যেবলা ভরসা মিলে, তান মহব্বতে যেবলা শান্তি মিলে, তুমরার লগে যেবলা পাক রুহর ভালা সম্পর্ক আছে, আর তুমরার দিলো যেবলা মায়া-মমতা আছে, 2তে তুমরা আমার ভিতরর খুশিখান পুরাইলাও। তুমরা হকল এক মনে চলো, দিলে-জানে এক অও, আর একে-অইন্যরে মহব্বত করো। 3নিজর লাভর আশা বা বেটাগিরি দেখানির লাগি কুন্তা করিও না, বরং নতো অইয়া নিজর চাইতে অইন্যরে বেশি দাম দেও। 4খালি নিজর স্বার্থর চিন্তা করিও না, পরর কথাও চিন্তা করিও। 5হজরত ইছা আল-মসীর মন যেলাখান আছিল, তুমরার মনও অলাখান বানাইলাও। 6তাইন আসলে আল্লাই ছুরতে রইলেও, আল্লাই সিংহাসন ধরিয়া রাখার লাগি লালছি আছলা না। 7বরং গুলাম বনিয়া মানুষ হিসাবে জনম লইয়া নিজরে হুরু বানাইলা। 8তাইন মানুষ ছুরতে রইয়া মউত পর্যন্ত, দুখ-কষ্টর সলিবর উপরর মউত পর্যন্ত বাইধ্য রইয়া নিজরে নতো করলা। 9এরলাগিউ আল্লায় তানরে আরশে-আজিমো উঠাইলা আর অলা ইজ্জতি এক নাম দিলা, যে নাম হকল থাকি সেরা। 10যাতে অউ নামর গুনে আছমান-জমিন আর পাতালর তামাম জানদার ইছার ছামনে নতো অইন, 11আর গাইবি বাফ আল্লা পাকর গৌরবর লাগি স্বীকার করইন, ইছা আল-মসীউ মালিক।
মুমিন অকল নুরর লাখান
12ও আমার মায়ার ভাই অকল, তুমরা তো হামেশাউ আমার হুকুম মানিয়া আইরায়। তে আমি ছামনে থাকলে যেলা মানো, অখন আমার আফরখেও অলা তুমরার দিলর ডর-খফে নেক আমল করো। অউ আমলর মাজদি দেখাও, তুমরা গুনা থাকি নাজাত পাইলিছো। 13বুজরায় নি, আল্লায় তুমরার দিলর মাজে অলা এক ভাব দান করছইন, ইতা আমল করলে তাইন খুশি অইন, অউ আমল করার নিয়ত আর তাক্কতও তাইন তুমরারে দিছইন।
14তুমরা কুনুজাত তর্কা-তর্কি বা কাইজ্জা-ফসাদ না করিয়া হকল কাম করো। 15-16যাতে ষোলআনা পরেজগার আর নিখুত বনো, আর ই জমানার খবিছ নাফরমান সমাজর মাজেও তুমরা আল্লার আওলাদ হিসাবে রও। অতা মানষর ছামনে আল্লার পাক কালাম তবলিগ করিয়া, অউ দুনিয়াতউ তুমরা আছমানর চান-সুরুজর লাখান চকচকা বনিযাও। তেউ আল-মসী যেবলা দুছরা বার তশরিফ আনবা, হউ দিন আমি বুক ফুলাইয়া কইতাম পারমু, আমার অউ মেনত আর আটনি-খাটনি বেকামা গেছে না। 17হুনো, যে ইমানর কুরবানির মাজদি তুমরা আল্লার এবাদত কররায়, এর উপরে যুদি আমার নিজর লউরে কুরবানি হিসাবে ঢালি দেওয়া অয়, তা-ও আমি খুশ আছি, তুমরারে লইয়া খুশি কররাম। 18ঠিক তুমরাও অলা খুশি অও, আমার লগে খুশি করো।
দুইজন উস্তাদরে পাঠানি
19আমি আশা করি, হজরত ইছার মর্জি অইলে আমি তিমথিরে খুব জলদি করি তুমরার গেছে পাঠাইমু, তেউ তুমরার হালত জানিয়া আমি শান্তি অইমু। 20তিমথির লাখান ইলা আর কেউ আমার গেছে নাই, যেইন তুমরার লাগি চিন্তা করইন। 21বাকি হকলেউ ইছা আল-মসীর বেয়াপারে চিন্তা না করিয়া, তারা যারযির ধান্দায় আছইন। 22অইলে তিমথির বেয়াপার তো তুমরা জানো, পুতে যেলা নিজর বাফর লগে কাম করে, তাইনও অলা আল-মসীর খুশ-খবরি তবলিগর লাগি আমার লগে মেনত করছইন। 23এরলাগিউ আমি আশা করিয়ার, আমার দশা কিতা অইবো, অখান জানার বাদেউ আমি তানরে পাঠাইতাম। 24অইলে আমি মালিকর উপরে ভরসা করি কইয়ার, আমি নিজেও খুব জলদি করি আইতাম পারমু।
25আর আমি মনো করিয়ার, উছাইদরে তুমরার গেছে পাঠানি খান খুব জরুর। আমার খেজমত করার লাগি তুমরা তানরে আমার গেছে পাঠাইছলায়। আমরা একলগে তবলিগ করি, ইছা আল-মসীর লাগি জিহাদ করি। এইন আমার ইমানদার ভাই। 26তাইনও তুমরার লগে দেখা করতা চাইরা, তুমরা তান বেমারর খবর হুনায়, তাইন পেরেশানিত পড়িগেছইন, এরলাগি আমি তানরে পাঠাইয়ার। 27আসলে তাইন খুব বেমার আছলা, বেমারে তান না-বাচার হালত অইগেছিল। অইলে আল্লায় তানরে রহম করছইন। খালি তানরে নায়, তাইন বাচি যাওয়ায় আল্লায় আমারেও বউত বড় রহম করছইন, যাতে আমি এক কষ্টর উপরে আর কুনু কষ্ট না পাই।
28এরলাগি আমি খুব খিয়ালি অইয়া তানরে পাঠাইয়ার, যাতে তানরে পাইয়া তুমরাও খুশি অও, আর আমার মনর চিন্তাও হরি যায়। 29তে আল্লার বন্দা হিসাবে পুরাপুর খুশি অইয়া তানরে কবুল করিও, আর এরার লাখান মানষরে ইজ্জত করিও। 30আল-মসীর তবলিগ করাত গিয়া তাইন মরার পথি অইগেছলা। আমার ছামনে না থাকায় তুমরা যে কাম করতায় পারছো না, অউ কামর লাগি তাইন নিজর জান দিতেও রাজি আছলা।
3দাদির মুছলা বাদ দিয়া আল্লার রুহে এবাদত করো
1ও আমার ভাই অকল, হেশ-মেশ কইরাম, মালিকর নামে খুশি করো। এক বেয়াপার লইয়া বারে বারে লেখতে আমার কুনু কষ্ট অর না, তুমরারে বাচানির লাগিউ আমি ইতা কররাম। 2হুনো, হউ কুকরর পাল থাকি, মানি নাফরমান দলর দাদির মুছলা থাকি হুশিয়ার রইও। ইতায় তো তারার শরিলর কাটা-চিরার উপরেউ ভরসা করে। 3আসলে আমরাউ অইলাম খাটি মছলমানি করাইল মানুষ, আমরা তো ইছা আল-মসীর নামে গৌরব করি, আল্লার রুহর বলে তান এবাদত করি, শরিলি কুনু এবাদতর উপরে ভরসা করি না।
4আসলে কেউ যুদি মনো করে, নিজর শরিলি এবাদতর উপরে ভরসা করার যুক্তি আছে, তে হে বুজিলাউক, তার চাইতে আমার আরো বেশি যুক্তি আছে। আমিও ইতার উপরে ভরসা করতাম পারলাম অনে। 5জন্মর আট দিনর দিনউ আমার মছলমানি কাম করাইল অইছিল। আমি একজন খাটি ইবরানি, আমার জনম অইছে তো বনি ইছরাইলর বিন-ইয়ামিন গুষ্টিত। হজরত মুছা নবীর শরিয়তর বেয়াপারে আমি তো ফরিশি জমাতর। 6শরিয়ত মানার বেয়াপারে কুনু মানষে আমার খুত বার করতো পারছে না। ধর্মর বেয়াপারে আমি খুব কড়া, আল-মসীর জমাতর উপরেও আমি জুলুম করতাম।
7অইলে অউ আমল করায় আমার যতো ফায়দা অইছিল, অখন আল-মসীর লাগি আমি ইতারে খেতি মনো করি। 8আসলে আমি যার লাগি ই খেতি স্বীকার করিয়ার, এইনউ আমার মালিক ইছা আল-মসী। তানরে জানার মাজেউ হকল থাকি বড় ফায়দা, তান তুলনায় বাদ-বাকি হক্কলতারেউ আমি খেতি মনো করি। আমি যাতে আল-মসীরে পাই, আর আমারে যাতে আল-মসীর লগে একখানো মিলাইল দেখা যায়, অউ নিয়তেউ আমি ইতা হক্কলতারে ময়লার লাখান হরাইয়া ফালাইছি। 9তে শরিয়ত মানায় আমি যে পরেজগার বনিগেছি, ইখান নায়, আল-মসীর উপরে ইমান আনায়উ আল্লায় আমারে পরেজগার হিসাবে কবুল করছইন। ই পরেজগারি খালি আল্লা থাকিউ মিলে, ইটা তো ইমানর উপরে নির্ভর করে। আল-মসীর লগে মিলার বাদেউ আমার অউ হালত অইছে। 10তে আমি আল-মসীরে চিনতাম চাই, যে কুদরতি বলে তানরে মরা থাকি জিন্দা করা অইছিল, অউ বলরেও চিনতাম চাই। আমি তান দুখ-মছিবতর ভাগি অইতাম চাই, তাইন যেলা নিজর জান কুরবানি দিছলা, আমিও অউ মউতো শরিক অইতাম চাই। 11আর যেকুনু লাখান মরন থাকি জিন্দা অওয়াতও শরিক রই।
আখেরাতর পথে চলো
12তে আমি যেতা পাইতাম চাইরাম, ইতা যে অখনউ পাইলিছি, বা পুরাপুর কামিয়াব অইগেছি ইলা কুন্তা নায়। হজরত ইছা আল-মসীয়ে যে নিয়তে আমারে বন্দি করছইন, অউ নিয়ত পুরা করার লাগিউ আমি দৌড়াইরাম। 13ভাই অকল, আমি মনো কররাম না, আমি ইতার লাগাল পাইলিছি। অইলে খরর হকলতা ফালাইয়া আমি দিলে-জানে ছামনেদি দৌড়াইয়ার। 14দৌড়াই দৌড়াই চেষ্টা করিয়ার, ইছা আল-মসীর জরিয়ায় আল্লা পাকর যে বেহেস্তি দাওত আছে, পুরুস্কার হিসাবে অউ দাওতো হামাইতাম পারি।
15এরলাগি কইরাম, আমরা যারা হজরত ইছার পথে বউত আগুয়াই গেছি, আমরার নিয়তও অলাখান অওয়া জরুর। আর তুমরার যুদি অইন্য কুনু নিয়ত থাকে, তে আল্লায়উ পথ বাতাই দিবানে। 16যাই অউক, আমরা যতখান আগুয়াইছি, অউ লাখান জিন্দেগিও কাটানি উচিত।
17ভাই অকল, তুমরা কিলান জিন্দেগি কাটাইতায়, ইতা তো আমি হিকাইছি। তুমরা আমার লাখান চলো, আর অউ লাখান যারা চলে, তারারে দেখিয়া হিকো। 18আমি তো বউত বার তুমরারে কইছি, আর চখুর পানি ফালাইয়া অখনও কইরাম, ইলাও বউত জন আছে, যেরা আল-মসীর দুখ-কষ্টর সলিবর দুশমনর লাখান চলের। 19তারার কপালো আছে বিনাশ। তারার পেটউ তারার আল্লা। নাফরমানি কাম লইয়া তারা বড়াই করে, খালি দুনিয়ার ধান্দায় পাগল। 20অইলে আমরার আসল বাড়ি তো বেহেস্তো। আমরার তরাওরা মালিক, হজরত ইছা আল-মসীয়ে হন থাকি তশরিফ আনবা। আমরা তান লাগি দিলে-জানে বার চাইরাম। 21তাইন আইয়া আমরার অউ কমজুর কায়া বদলাইয়া, তান কায়ার লাখান খেমতাআলা নুরর কায়া দিবা। যে কুদরতি বলে তাইন হক্কলতা করতা পারইন, হউ বলেউ তাইন ইতা করবা।
41ও আমার মায়ার ভাই অকল, আমি তুমরারে দেখতাম চাই। তুমরাউ আমার খুশি, আমার জয়র মালা। আমরার মালিকর লগে তুমরা মজবুত অইয়া লাগিয়া রও।
হজরত পাউলুছর পরামিশ
2ও আমার বইন ছালিমা আর ছাইদা, আমি মিনত করি কইরাম, এক মালিকর খেজমতো লাগাইল আছো করি, তুমরা মিলি-মিশি এক মনে চলো। 3ও আমার লগর আসল সংগি, আমি তুমারেও মিনত কররাম, তুমি অউ বেটিন্তরে সাইয্য করিও। আল-মসীর খুশ-খবরি তবলিগ কামো এরা আমার লগে বউত কষ্ট করছইন। কিলিমান আর অইন্যান্য ভাইয়াইন্তর লগেও কষ্ট করছইন। তারার নাম তো আল্লার জিন্দেগি খাতাত লেখা আছে।
4মালিক ইছার নামে তুমরা হামেশা খুশি-বাসি করো। আমি হিরবার কইরাম, খুশি-বাসি করো। 5তুমরার নরম বেবহার যানু হকল মানষর চখুত পড়ে। জানো তো, আমরার মালিক খুব জলদিউ আইরা। 6কুনু বেয়াপারেউ তুমরা পেরেশান অইও না, বরং মুনাজাত করো। তুমরার যততা চাইবার আছে, আল্লার শুকরিয়া আদায় করিয়া তান গেছে চাও। 7তেউ আল্লার দেওয়া যে শান্তির কথা মানষে চিন্তাও করতো পারে না, ইছা আল-মসীর মাজদি অউ শান্তি আইয়া তুমরার দিল আর মনরে রইক্ষা করবো।
8ও ভাই অকল, আমি হেশ-মেশ কইরাম, যেতা হাছা, যেতা উপযুক্ত, হক, খাটি, সুন্দর, আর ইজ্জত পাওয়ার জুকা, মানি যেতা ভালা আর যেতায় তারিফ অয়, অউ লাখান বেয়াপারে তুমরা খিয়ালি অও। 9তুমরা আমার গেছ থাকি যে তালিম পাইছো, যেতা হুনছো, যেতা দেখছো, আর যেতা কবুল করছো অতা অখন আমল করো। তেউ শান্তি দেওরা আল্লাও তুমরার লগে লগে রইবা।
দান-খয়রাতর লাগি ধইন্যবাদ
10মালিকে আমার খুশি আরো বাড়াই দিলা, বউত দিন বাদে তুমরা আমারে মনো কররায়। আমার লাগি তো হামেশাউ তুমরা চিন্তা করছো, অইলে ইতা দেখানির সুযোগ পাইছো না। 11কুনু অভাবো পড়িয়া আমি ইখান কইরাম না, যেকুনু হালতেউ সন্তুষ্ট রওয়াখান আমি জানি। 12অভাবি বা নবাবি হালতে, উপাসি পেটে বা ভরা পেটে, ধনি বা গরিবির মাজে কিলা সন্তুষ্ট রওয়া যায়, ইতা তালিম আমি পাইছি। 13আসলে যেইন আমারে বল-শক্তি যুগাইয়া দেইন, তান বলেউ আমি হক্কলতা করতাম পারি। 14তা-ও তুমরা আমার কষ্টর লগে শরিক অইয়া, খুব ভালা কাম করছো।
15ও ফিলিপি জমাতর মুমিন অকল, তুমরা তো জানো, তুমরা পয়লা খুশ-খবরি পাওয়ার বাদে আমি যেবলা মাকিদনিয়া দেশ থাকি গেছলামগি, অউ সময় তুমরা ছাড়া আর কুনু জমাতেউ আমার লগে কুনুজাত লেন-দেন করছে না। 16আমি যেবলা থিষলনিকি টাউনো আছলাম, অউ সময় আমার অভাবর কালো তুমরা কয়বার সাইয্য পাঠাইছো। 17আমি তুমরার গেছ থাকি কুনু দান-দক্ষিনা চাইরাম না, অইলে তুমরার লাগি অলা এক ফল আশা কররাম, যেতা তুমরার আমল-নমাত জমা রইবো।
18আমার হকল পাওনাউ আমি পাইলিছি। আসলে আমার যতখান জরুর, এর চাইতেও বেশি আছে। উছাইদ ভাইর আত থাকি তুমরার উপহার পাইয়া অখন আমার বউত অইছে। অউ উপহার তো আল্লাই খুশবয় আলা, আল্লার দরবারো কবুল অওয়ার জুকা কুরবানি। আল্লা পাক ইতায় খুশি অইন। 19আমার আল্লায় তান নিজর গৌরবর ধন হিসাবে, হজরত ইছা আল-মসীর উছিলায় তুমরার হকল অভাব দুর করবা। 20যুগে যুগে হর-হামেশা আমরার গাইবি বাফ আল্লা পাকর তারিফ জারি রউক। আমিন।
আখেরি মুনাজাত আর ছালাম
21হজরত ইছা আল-মসীর তরিকার আল্লার হকল বন্দারে আমার ছালাম দিও। আমার লগর হকল ভাইয়াইন্তে তুমরারে ছালাম জানাইরা। 22আল্লার যতো পাক বন্দা ই জাগাত আছইন, খাছ করি বাদশা কৈছরর বাড়ির মুমিন অকলে ছালাম জানাইরা।
23হজরত ইছা আল-মসীর রহমত তুমরার দিলো থাকউক। আমিন॥