পবিত্র ইঞ্জিল শরিফ দুছরা ছিপারা
আল-মার্কুছ
পরিচিতি
আল-মার্কুছ ছিপারার মুল তালিম অইলো, হজরত ইছা আল-মসীর কামর খেমতা। আল্লা পাকে তানরে খেমতা দিছইন, ইবলিছ-শয়তানর হকল লাখান খেমতা আর বল-শক্তির উপরে। তান খেমতা আছিল বেমারি অকলর বেমার ভালা করা, জিন-ভুত খেদানি, প্রকৃতি মানি হাওয়া-বাতাস আর পয়দা করা হকলতার উপরে, আর হায়াত-মউতর উপরেও। আল্লায় তানরে অউ খেমতাও দিছইন, যেরা তৌবা করিয়া তান উপরে ইমান আনে, তাইন এরার গুনা মাফ করতা পারইন।
আল-মার্কুছ ছিপারার ১০ রুকু ৪৫ আয়াতো হজরত ইছায় কইরা, “মনো রাখিও, আমি বিন-আদম খেজমত পাওয়াত আইছি না, আইছি তো খেজমত করাত। আর বউত মানষর জান বাচানির লাগি নিজর জান বিলাই দেওয়াত আইছি।”
লেখক পরিচিতি আর সময়
আল্লা পাকর হুকুমে অউ ছিপারা লেখছইন, হজরত ইছা আল-মসীর সাহাবি হজরত পিতরর (রাঃ) খাদিম হজরত মার্কুছ (রঃ)। ইতিহাস থাকি জানা মতে, হজরত মার্কুছে আল্লার হুকুম পাইয়া তান উস্তাদ হজরত পিতরর মুখ থাকি বয়ানি হুনিয়া অউ ছিপারা লেখছইন। হজরত ইছায় বেহেস্তো তশরিফ নেওয়ার অনুমান ২০-৩০ বছরর মাজে ইখান কিতাব আকারে লেখা অইছে।
এরমাজে আছে,
(ক) হজরত ইছায় খেলাফতি পাইলা ১:১-১৩ আয়াত
(খ) গালিল জিলাত হজরত ইছার মোজেজা আর তবলিগ ১:১৪—৭:২৩
(গ) গালিল জিলার বারে হজরত ইছার মোজেজা ৭:২৪—১০:৫২
(ঘ) জেরুজালেম টাউনো হজরত ইছা ১১—১৩ রুকু
(ঙ) হজরত ইছার দুখ-কষ্ট আর মউত ১৪—১৫ রুকু
(চ) মউত বাদে জিন্দা অইলা হজরত ইছা ১৬ রুকু
1হজরত ইছায় খেলাফতি পাইলা (১:১-১৩)
হজরত এহিয়া (আঃ) অর তবলিগ
1আল্লা পাকর খাছ মায়ার জন ইবনুল্লা হজরত ইছা আল-মসীর ইঞ্জিল, মানি খুশ-খবরি বয়ানির শুরু।
2বউত দিন আগে, হজরত ইশায়া নবীর কিতাবো আল্লা পাকে বাতাইছইন,
হুনো, আমি তুমার আগে
আমার পেগাম্বররে বেজিয়ার,
এইন তুমার পথ ছহি করবা।
3মরুভুমির মাজে জুরে জুরে একজনে এলান কররা,
তুমরা মালিকর পথ ছহি করো,
তান চলার রাস্তা অকল সিদা করো।
4অউ আয়াত মাফিক হজরত এহিয়া নবীয়ে মরুভুমিত গিয়া তবলিগ করতা আর তৌবার গোছল করাইতা। তাইন এলান করতা, গুনার মাফির লাগি তৌবা করো, তরিকাবন্দি লও। 5তেউ আস্তা এহুদিয়া জিলা আর জেরুজালেম টাউনর হকল মানুষ বার অইয়া এহিয়ার গেছে আইয়া, যারযির গুনার লাগি তৌবা করলা, আর এহিয়ায় তারারে জর্দান গাংগর পানিত তৌবার গোছল করাইতা।
6এহিয়া নবীয়ে উটর রুমর কাপড় ফিন্দিতা আর কমরো চামড়ার বেল্ট বান্দিতা। তাইন পাড়িয়া মউ আর ফরিং খাইতা। 7তাইন মানষরে কইতা, “আমার বাদে আরো একজনে তশরিফ আনরা, এইন আমা থনেও হিম্মত আলা। উন্দা অইয়া তান পাওর জুতার ফিতা খুলার লাখও আমি নায়। 8আমি তুমরারে পানিদি তৌবার গোছল করাইলাম, অইলে তাইন তুমরারে পাক রুহ দিয়া গোছল করাইবা।”
হজরত ইছার পাক গোছল আর পরিক্ষা
9অউ সময় হজরত ইছা গালিল জিলার নাছারত গাউ থনে এহিয়ার গেছে আইয়া, জর্দান গাংগো তরিকাবন্দি লইলা। 10আর পানিত বুড় দিয়া উঠতেউ ইছায় লগে লগে দেখলা আছমান দুই ভাগ অইগেছে, আল্লার রুহ পারোর ছুরত ধরিয়া তান উপরে লামিয়া আইরা। 11অউ সময় আছমান থনে আওয়াজ অইলো, “ও পুত, তুমিউ আমার খাছ মায়ার জন, তুমার উপরে আমি খুব খুশি।”
12এরবাদেউ আল্লাই পাক রুহর তাগিদে তানরে মরুভুমিত বেজা অইলো। 13অউ মরুভুমিত শয়তানে চাল্লিশ দিন ধরি ইছারে লালছ দেখাইয়া গুনা করাইতো চাইলো। হিনো জংলি জানুয়ারর লগে তাইন রইলা আর আল্লার ফিরিস্তা অকলে তান খেজমত করতা।
গালিল জিলাত হজরত ইছার মোজেজা আর তবলিগ (১:১৪-৭:২৩)
হজরত ইছার পয়লা তবলিগ কাম
14হজরত এহিয়া জেলখানাত বন্দি অওয়ার বাদে ইছা গালিল জিলাত আইয়া আল্লার বাতাইল অউ খুশ-খবরি তবলিগ করলা, 15“সময় পুরা অইগেছে, আল্লার বাদশাই নজদিক আইচ্ছে। আপনারা তৌবা করউক্কা আর অউ খুশ-খবরির উপরে ইমান আনউক্কা।”
16বাদে তাইন গালিল আওরর পারেদি আটিয়া যাইরা, অউ সময় দেখলা, সাইমন আর তান ভাই আন্দ্রিয়াছে আওরো জাল বাইরা। এরা তো মাইমল আছলা। 17ইছায় এরারে কইলা, “আমার লগে আও, আমি তুমরারে মানুষ ধরার জালুয়া বানাইমু।” 18লগে লগে এরা জালর লগ ছাড়িয়া ইছার লগে লগ ধরলা। 19অন থনে থুড়া আগে গিয়া তাইন দেখলা, ইয়াকুব আর হান্নান দুইও ভাইয়ে নাওয়ো বইয়া জাল জুইত-জাইত কররা, এরার বাফর নাম জিবুদিয়া। 20ইছায় এরারে দেখিয়াউ ডাক দিলা, ডাক হুনিয়া এরাও নিজর বাফ জিবুদিয়ারে কামলাইন্তর লগে নাওয়ো থইয়া ইছার লগ ধরলা।
জিনর আছর আলা বেটারে শিফা করা
21বাদে এরা হকলে মিলিয়া কফরনাউম টাউনো গেলা, আর ইহুদির জুম্মাবারে তারার মছিদো হামাইয়া ইছায় তালিম দিলা। হজরত মুছার রেওয়াজ মাফিক ইহুদির জুম্মাবার অইলো শুক্রবার সুরুজ ডুবা থাকি শনিবারর সুরুজ ডুবা পর্যন্ত। ই দিন কুনুজাত কাম করা হারাম। 22তান তালিম হুনিয়া মানুষ তাইজ্জুব বনিগেলা, তাইন তো তারার আলিম-উলামার লাখান বয়ান কররা না, তাইন খেমতাআলা মানষর লাখান তালিম দিরা।
23অউ সময় জিনর আছর আলা এক বেটাও অউ মছিদর ভিতরে আছিল। 24হে চিল্লাইয়া কইলো, “ও নাছারতর ইছা, আমরার লগে আপনার কুনু জায়-জরুর আছে নি? আপনে কিতা আমরারে বিনাশ করাত আইছইন নি? আমি তো আপনারে চিনি, আপনেউ আল্লার হউ পাক জন।” 25ইখান হুনিয়া ইছায় তারে ধামকি দিলা, “চুপ, অখনউ এরে ছাড়িয়া যা।” 26অউ হি জিনে বেটারে মুরানি মারিয়া জুরে চিক দিয়া ছাড়িয়া গেলগি। 27ইতা দেখিয়া হকলে তাইজ্জুব অইয়া একে-অইন্যে কইলো, “দেখরায় নি! আচানক কারবার! ইতা কুন জাতর নয়া তালিম? তান খেমতা খাটাইয়া জিন্নাতরে হুকুম দেইন, আর তারাও মানে।” 28এরদায় ইছার নাম আস্তা গালিল জিলার চাইরোবায় খুব জলদি উড়ি গেল।
সাইমনর হড়ির বাড়িত হজরত ইছা
29মছিদ থাকি বার অইয়া তাইন তাইন ইয়াকুব আর হান্নানর লগে অইয়া সাইমন আর আন্দ্রিয়াছর বাড়িত গেলা। 30সাইমনর হড়ির খুব তাপ অইছিল, তাইন বিছনাত পড়নো আছলা। ইছায় তশরিফ আনতেউ তানরে বেমারির কথা জানাইল অইলো। 31বেমার হুনিয়া তাইন অউ বেটির আতো ধরি তুললা, আর লগে লগে তাপে ছাড়ি দিলো, বেটি উঠিয়া গিয়া এরার মেহমানদারি করাত লাগলা।
32অউ জুম্মার দিন শেষে হাইঞ্জা বালা, সুরুজ ডুবার বাদে মানষে হকল বেমারিরে আর জিনর আছর আলা মানষরে ইছার গেছে লইয়া আইলো। 33আস্তা টাউনর মানুষ আইয়া অউ বাড়ির উঠানো দলা অইগেল। 34তেউ ইছায় নানান নমুনার বউত বেমারির শিফা করলা আর বউতর লগ থনে জিন্নাত ছাড়াইলা। অইলে জিন্নাতে তান পরিচয় জানাই দিবা করি, তাইন ইতারে কুনু মাত মাতার সুযোগ দিলা না।
গালিল জিলাত তবলিগ
35বাদে পতাবালা উঠিয়া তাইন নিরাই জাগাত গিয়া দোয়া করাত বইলা। 36তেউ সাইমন আর তান লগর হকলে ইছারে তালাশ করাত বার অইলা। 37বার অইয়া তানরে পাইয়া কইলা, “হুজুর, হক্কল মানষে আপনার তালাশ করের।” 38ইছায় কইলা, “আও, আমরা অউ কান্দা-কাছার গাউয়াইন্তো গিয়া তবলিগ করি। এরলাগিউ তো আমি আইছি।” 39বাদে তাইন হারা গালিল জিলার মছিদাইন্তো গিয়া তবলিগ করলা আর জিন্নাত ছাড়াইলা।
পচা-কুষ্ঠ বেমারিরে শিফা করা
40একদিন এক পচা-কুষ্ঠ বেমারিয়ে হজরত ইছার কান্দাত আইয়া তান পাওত পড়িয়া মিনত করিয়া কইলো, “হুজুর, আপনার মর্জি অইলে আমারে শিফা করিয়া পাক-ছাফ করউক্কা।” 41বেটার বায় তান খুব দয়া হামাইলো। তাইন নিজর আত বাড়াইয়া তারে ছইয়া কইলা, “অয় আমি চাইরাম, তুমি পাক-ছাফ অও।” 42কওয়ার লগে লগে তার বেমার ভালা অইয়া হে পাক-ছাফ অইগেল। 43ইছায় অউ সময়উ তারে বিদায় দিলা আর দড়াইয়া কইলা, 44“হুনো, ইতা খবর কেউররে হুনাইও না। খালি ইমাম ছাবর গেছে গিয়া দেখাও আর পাক-ছাফ অওয়ার লাগি হজরত মুছার কিতাবর হুকুম মাফিক, কুরবানি আদায় করো। তেউ সমাজেও জানিলিব, তুমি ভালা অইগেছো।”
45অইলে হে বারে গিয়াউ ইতা হক্কল বায় রটাই দিলো। এরদায় ইছা আর খুলা-মেলা কুনু গাউত যাইতা পারলা না। তাইন বারা নিরাই জাগাত গিয়া রওয়া লাগলো, অনোও চাইরোবায় থনে মানুষ তান গেছে আইলা।
2অর্ধং বেমারিরে শিফা করা
1কয়দিন বাদে হজরত ইছা হিরবার কফরনাউম টাউনো ফিরিয়া আইলে মানষে হুনিলিলা তাইন ঘরো আছইন। 2তেউ অতো মানুষ ইনো জমা অইলা, ঘরো তো দুরর কথা, ঘরর বারেও আর জাগা রইলো না। তাইন এরা হকলর গেছে আল্লার কালাম তবলিগ করাত আছলা।
3অউ সময় চাইর জন মানষে একজন অর্ধং বেমারিরে বইয়া লইয়া ইছার গেছে আইলো, এরার লগে আরো মানুষ আছলা। 4অইলে ভিড়র লাগি তারে ইছার গেছে লইয়া যাইতা পারলা না। এরদায় তাইন যে জাগাত বওয়াত আছলা, ঠিক তার উপরর চাল ফুড় করিয়া পলো সুদ্দা অউ বেমারিরে লামাত লামাই দিলো। 5তারার ইমানর বল দেখিয়া তাইন অউ অর্ধং বেমারিরে কইলা, “বাবা, তুমার তামাম গুনা মাফ করি দিলাইলাম।”
6অইলে হিকানো কয়জন মৌলানা বওয়াত আছলা। তাইন তাইন মনে মনে কইলা, 7“ই মানষে ইলাখান মাতের কেনে? হে তো শিরিকি করের। একমাত্র আল্লা ছাড়া আর কে গুনা মাফ করতো পারে?”
8তানরে লইয়া মৌলানা অকলে যে অলাখান চিন্তা কররা, ইছায় তান গাইবি বলে ইখান বুজিলিলা, বুজিয়া এরারে কইলা, “আপনারা কেনে মনে মনে ইলা চিন্তা কররা? 9ই অর্ধং বেমারিরে কুনখান কওয়া আমার লাগি সুজা, তুমার গুনা মাফ করা অইলো, না, উঠো তুমার পলো লইয়া আটিয়া যাওগি? 10তে অখন আপনারা পরমান দেখউক্কা, ই দুনিয়াত গুনা মাফ করার খেমতা আমি বিন-আদমর আছে,” অখান কইয়াউ তাইন বেমারি বেটারে কইলা, 11“আমি তুমারে কইয়ার, উঠো, তুমার পলো লইয়া তুমার বাড়িত যাও।”
12তেউ লগে লগে অউ বেমারি বেটা উঠিয়া তার পলো লইয়া হকলর ছামনেউ বার অইয়া গেল। ইখান দেখিয়া হকলে তাইজ্জুব অইয়া কইলা, “ছুবহানাল্লা, জিন্দেগিয়ে কুনুদিন ইলাখান কাম দেখছি না।”
হজরত ইছা গুনাগারর কান্ডারি
13বাদে হজরত ইছা হিরবার বার অইয়া গালিল আওরর ধারো গেলা, তেউ হক্কল মানুষ তান কান্দাত আইলো, তাইন তারারে তালিম দেওয়াত লাগলা। 14তালিম দিয়া পথেদি যাইতে যাইতে দেখলা, আলফির পুয়া লেবি খাজনা তুলার অফিসো বই রইছইন। দেখিয়া তানরে কইলা, “আও আমার উম্মত অও।” তেউ লেবি উঠিয়া ইছার লগে লগে গেলা।
15বাদে তাইন লেবির বাড়িত গিয়া খাওয়াত বইলা। বউত খাজনা তুলরা আর গুনাগার মানুষও ইছা আর তান উম্মত অকলর লগে খানিত আছলা। অউ সময় বউত মানুষ তান খরে খরে ঘুরাত আছিল। 16অইলে তাইন গুনাগার অকলর লগে বইয়া খানি খাইরা দেখিয়া ফরিশি মজহবর মৌলানা অকলে তান উম্মত অকলরে কইলা, “এইন ঘুষখুর খাজনা তুলরা আর খবিছ অকলর লগে খাওয়া-দাওয়া করইন কেনে?”
17ইখান হুনিয়া ইছায় অউ মৌলানা অকলরে কইলা, “ভালা মানষর কবিরাজ লাগে না, অইলে বেমারির তো লাগে। আমি পরেজগারর গেছে আইছি না, গুনাগার অকলরেউ দাওত দিতাম আইছি।”
পুরান তালিম থাকি হজরত ইছার নয়া তালিম ভালা
18একবার হজরত এহিয়ার উম্মত আর ফরিশি অকল রোজা আছলা, ইতা দেখিয়া কিছু মানষে ইছার গেছে আইয়া কইলা, “এহিয়া নবীর উম্মত আর ফরিশি অকলে রোজা রাখইন, অইলে আপনার উম্মত অকলে রোজা রাখইন না কেনে?”
19ইছায় তারারে কইলা, “নশা লগে থাকতে কিতা বৈরাতি অকলে রোজা রাখতো পারে নি? না, কেউ রোজা রয় না, যতদিন নশা লগে থাকইন, অতো দিন তারা রোজা রাখতো পারে না। 20অইলে অলা অখত আইবো, যেবলা নশারে তারার গেছ থনে হরাইল অইযিব, অউ সময় তারা রোজা রাখবা। 21পুরান কাপড়র মাজে কেউ নয়া কাপড় জুড়া দেয় না। জুড়া দিলে অউ কাপড় ধইয়া হারলে খুছ অইয়া ছিড়িয়া ই ফুড় আরো বড় অইযায়। 22পুরান চামড়ার থলিত কেউ তাজা আংগুরর রস ভরে না। ভরলে অউ তাজা রসর ফাফে থলি ফাটিয়া রস আর থলি দুইওতা বরবাদ অয়। তাজা রস নয়া থলিত থইতে অয়।”
জুম্মাবারর বেয়াপারে নয়া তালিম
23এক জুম্মাবারে হজরত ইছা খেতর আইলেদি আটিয়া যাওয়াত আছলা। আটি আটি তান উম্মত অকলে ধানর ছড়া ছিড়াত লাগলা। 24ইতা দেখিয়া ফরিশি দলে ইছারে কইলা, “আমরার মুছা নবীর শরিয়ত মাফিক তো জুম্মাবারে কুনুজাত কাম করা জাইজ নায়, তে তারা ই ধানর ছড়া ছিড়িরা কিতার লাগি?”
25ইছায় জুয়াপ দিলা, “দাউদ নবী আর তান লগর হকলে একবার পেটর ভুকে যেতা করছলা, ইতা কিতা তুমিতাইন কুনু সময় পড়ছো না নি? 26তাইন তো পরধান ইমাম আবিয়াথরর আমলো আল্লার ঘরো হামাইয়া, যে পবিত্র রুটি ইমাম ছাব বাদে আর কেউ খাওয়া জাইজ নায়, অউ রুটি খাইছলা আর তান লগর মানষরেও দিছলা।” 27ইছায় তারারে আরো কইলা, “জুম্মাবারর ভালাইর লাগি তো মানষরে বানাইল অইছে না, অইলে মানষর ভালাইর লাগিউ জুম্মাবার বানাইল অইছে। 28হুনো, জুম্মাবারর তামাম এখতিয়ার আমি বিন-আদমর আতো আছে।”
3আত হুকনা বেমারির শিফা
1হজরত ইছা হিরবার মছিদো গিয়া হামাইলা, হনো অলা এক বেটা আছিল, তার এক আত বেমারে হুকাই গেছে। 2তাইন জুম্মাবারে অউ বেটারে ভালা করইন কি না দেখার লাগি ফরিশি মজহবর কয়জন মানষে তানবায় খুব খিয়াল রাখলা, তারা চাইলা তান কুনু খুত বার করিয়া ফান্দো ফালাইতা। 3ইছায় অউ হুকনা আতআলা বেটারে কইলা, “ওবা, হকলর ছামনে আইয়া উবাওছাইন।” 4বেটা আইয়া হারলে তাইন হকল মানষরে জিকাইলা, “ছাব অকল, জুম্মাবারে কিতা করা জরুর, নেক কাম, না বদ কাম? জানর হেফাজত করা, না জানে মারা?” ইখান হুনিয়া তারা মুখ বন্দ করি বইরইলা। 5তারার মনর ই পাষান হালত দেখিয়া, ইছার দিলো খুব দুখ হামাইলো। তাইন তারার বায় চাইয়া গুছা করি হউ বেমারি বেটারে কইলা, “তুমার আতখান বাড়াও।” হে তার আত বাড়াইতেউ আগর লাখান পুরা ভালা অইগেল। 6ইখান দেখিয়াউ ফরিশি অকল লগে লগে বার অইগেলা, গিয়া রাজা হেরোদর মানষর লগে মিলিয়া ইছারে কাতল করার পরামিশ করলা।
7-8বাদে ইছায় তান সাগরিদ অকলরে লইয়া আওরর পারো গেলাগি, হনোও বউত মানুষ তান খরে খরে গেলা। তান নানান মোজেজা আর কেরামতির খবর পাইয়া, এহুদিয়া জিলা, গালিল, জেরুজালেম, ইদোম, জর্দান গাংগর হপার, সোর আর সিদন এলাকা থাকি অউ মানুষ অকল আইছলা। 9মানষর ভিড় দেখিয়া তাইন সাগরিদ অকলরে কইলা, “তুমরা আমার লাগি একখান নাও জুইত করো, আরনায় মানষে ঠেলা-ধাক্কা খাইয়া আমার উপরে আইয়া পড়িযিবা।” 10তাইন বউত বেমারিরে শিফা করায় বেমারি মানষে তানে ছইতা করি ঠেলিয়া ধাক্কাইয়া আইয়া তান উপরে পড়িযিতা। 11আর জিন-ভুত অকলে তানে দেখলেউ তান ছামনে মাটিত পড়িয়া সইজদা করিয়া চিল্লাইয়া কইতো, “আপনেউ আল্লার খাছ মায়ার জন ইবনুল্লা।” 12অইলে ইছায় তারারে খুব কড়াকড়ি হুকুম দিতা, “খবরদার! তুমরা আমার পরিচয় জাইর করিও না।”
বারোজন সাহাবি পছন্দ করা
13বাদে হজরত ইছা পাড়র উপরে গেলাগি, গিয়া তান পছন্দ করা কিছু সাগরিদরে তান কান্দাত ডাকাইয়া নিলা। 14-15এরা আইয়া হারলে এরার মাজ থনে বারোজনরে তাইন আলগ করলা, এরা যানু তান লগে লগে রইন, আর জিন-ভুত ছাড়ানির খেমতা দিয়া এরারে তবলিগ কামো বেজিতা পারইন। অউ বারোজন অইলা তান সাহাবি। 16তাইন সাইমনর নয়া নাম রাখলা পিতর। 17জিবুদিয়ার দুই পুয়া ইয়াকুব আর হান্নান, তাইন এরার নয়া নাম দিলা বোনেরগশ, মানি মেঘর ডাকর পুয়া। 18আন্দ্রিয়াছ, ফিলিফ, বর্থলময়, মথি, থুমাছ, আলফির পুয়া ইয়াকুব, থদ্দেয়, মুক্তিযুদ্ধা সাইমন, 19আর ইহুদা ইস্কারিয়াত, অউ ইহুদায় বাদে বেইমানি করিয়া ইছারে দুশমনর আতো ধরাইয়া দিছিল।
হজরত ইছা আর জিনর বাদশা
20হজরত ইছা এক বাড়িত গেলা। অনো আইয়াও অতো বেশি মানষে ভিড় বান্দিলা, ভিড়র লাগি ইছায় আর সাহাবি অকলেও খানা খাইতা পারলা না। 21তান ভাই-বিরাদরে ই খবর হুনিয়া তানরে অন থাকি বার করি নেওয়াত আইলা, এরা কইলা, “তার তো মাথা খারাপ অইগেছে।” 22জেরুজালেম থাকি কয়জন মৌলানা আইছলা, তারা কইলা, “জিনর বাদশা বেল-সবুলে তারে আছর করছে। অউ বেল-সবুলর বলে হে জিন-ভুত ছাড়ায়।” 23ইখান হুনিয়া ইছায় অউ মৌলানা অকলরে ধারো আনাইয়া কিচ্ছা দিয়া কইলা, “শয়তানে কিলা শয়তানরে খেদায়? 24কুনু দেশর ভিতরে দলাদলি লাগি গেলে ই দেশ তো আর টিকে না। 25অউলা কুনু পরিবারর মাজেও যেবলা দলাদলি লাগি যায়, অউ পরিবারও আর টিকে না। 26তে শয়তানেও যুদি নিজর মাজে দলাদলি লাগাই দেয়, হে-ও তো টিকতো নায়, বিনাশ অইযিব। 27আসল হাছা কথা অইলো, কুনু ডাকাইত ডাকাতিত আইয়া পয়লা অউ বাড়ির বলআলা মুল গিরস্তরে না বান্দিলে, হে লুট-তরাজ করতো পারতো নায়। অইলে তারে বান্দিয়া হারলে লুট-তরাজ করতো পারব। 28হুনউক্কা, আমি হাছা কথা কইরাম, মানষর তামাম নমুনার গুনা আর কুফুরির মাফি আছে, 29অইলে পাক রুহর বেয়াপারে কুফুরি করলে, কুনুমন্তেউ ই গুনার মাফি মিলতো নায়। ই গুনা রোজ হাশর পর্যন্ত জারি রইব।” 30ইছার উপরে জিনে আছর করছে, মৌলানা অকলে অউ কথা কওয়ায় তাইন তারারে অউলা জুয়াপ দিলা।
হজরত ইছার আপন মানুষ কে?
31অউ সময় হজরত ইছার মা আর ভাইয়াইন আইয়া বারে থনে তান গেছে খবর পাঠাইলা। 32অইলে চাইরো গালাবায় মানষর ভিড় লাগাইল আছিল, মানষে তানরে কইলা, “হুজুর, আপনার আম্মা আর ভাইয়াইন আইয়া বারে আপনার তালাশ কররা।” 33তাইন কইলা, “আমার মা আর ভাইয়াইন কে?” 34কইয়া তাইন চাইরো গালার মানষর বায় চাইয়া কইলা, “হুনো, এরাউ তো আমার মা আর ভাইয়াইন। 35যেরা আল্লার মর্জি যুগাইয়া চলইন, তারাউ তো আমার মা, আর ভাই-বইন।”
4আল্লার বাদশাইত ফল ধরার নানান নমুনা
1হজরত ইছা হিরবার গালিল আওরর পারো আইয়া মানষরে তালিম দিতা লাগলা। তান চাইরো গালাবায় বউত মানষে ভিড় বান্দিল্লা, এরদায় তাইন এক নাওত উঠিয়া বইলা, আর মানষে পারো থনে তান বয়ান হুনলা। 2তাইন কিচ্ছা হুনাই-হুনাই মানষরে তালিম দেওয়াত আছলা, এরমাজে তাইন কইলা, 3“ধরউক্কা, এক গিরস্তে জালা বাইন করাত গেল। 4গিয়া বাইন করার সময় কিছু জালা পথর কান্দাত পড়লো, আর পাখিন্তে আইয়া ইতা খাইলিলো। 5কিছু জালা পাথর আলা মাটিত পড়লো, ইতার তলে বেশি মাটি আছিল না, এরদায় তলেদি বল না করিয়াউ জলদি করি ফুটিগেল। 6বাদে সুরুজ উঠিয়া হারলে জইর খাইলিল, আর তলর জড়ে রস না পাওয়ায় হুকাইয়া মরিগেল। 7কিছু জালা জংলার মাজে পড়লো, তেউ জংলা বড় অইয়া ইতারে জাতিয়া ধরলো, এরদায় কুনু ছড়া ছাড়লো না। 8অইলে কিছু জালা ভালা জমিনো পড়লো, ইতায় আলি বার অইয়া বড় অইয়া ছড়া ছাড়ল, কুনু ছড়ায় তিশ, কুনু ছড়ায় ষাইট, কুনু ছড়ায় একশো গুন বেশি ধান ধরলো।” 9হেশে ইছায় কইলা, “হুনার লাখ কান যার আছে, হে হুনউক।”
10বাদে ভিড় কমিয়া হারলে তান লগর মানষে আর বারোজন সাহাবিয়ে তানরে জিকাইলা, “হুজুর, ই কিচ্ছার মুল মানি কিতা?” 11ইছায় জুয়াপ দিলা, “আল্লার বাদশাইর গোপন রহস্য জানার সুযোগ তুমরারে দেওয়া অইছে, অইলে বাইরা মানষর গেছে কিচ্ছার মাজদি কওয়া অইছে। 12এর কারন অইলো, আল্লার কালামর অউ আয়াত ফলিতে অইবো,
তারা চাইয়া থাকলেও কুন্তাউ দেখতো নায়,
হুনলেও কুন্তা বুজতো নায়।
কিযানু তারা যুদি আল্লার বায় ফিরিযাইন,
আর মাফি পাইলাইন।”
13বাদে ইছায় তারারে কইলা, “তুমরা অউ কিচ্ছার মানি খানও বুজলায় না নি? তে বাকি কিচ্ছার মানি কিলা বুজবায়? 14হুনো, গিরস্তে যে জালা বাইন করের, ই জালা অইলোগি আল্লার কালাম। 15পথর কান্দাত পড়া জালা দিয়া তারার বেয়াপারে বুজাইল অইছে, যেরা ই কালাম হুনে, অইলে লগে লগে ইবলিছ আইয়া তারার দিল থাকি ই কালামরে কাড়িয়া নেয়গি। 16পাথরর উপরে পড়া জালাদি বুজাইল অইছে, যেরা ই কালাম হুনে আর খুব খুশি অইয়া লগে লগে কবুল করিলায়, 17অইলে তারার দিলো ভালামন্তে হামায় না করিয়া, ইতা খালি থুড়া কয়দিন কাইম রয়, বাদে ই কালামর লাগি কুনু জুলুম-মছিবত আজির অইলে তারা পিছলাই যায়। 18জংলার মাজে পড়া জালার মানি অইলো, যেরা ই কালাম হুনে, 19অইলে জগতর চিন্তা-ভাবনা, ধন-ছামানার মায়া আর দুনিয়াবি লালছে ই কালামরে জাতিয়া ধরিলায়, এরদায় কালামে কুনু আমল করে না। 20আর ভালা জমিনো পড়া জালার মানি অইলো, যেরা ই কালাম হুনে, কবুল করে আর ভালা ফল ধরে, কেউ তিশ, কেউ ষাইট, কেউ একশো গুন ফল ধরে।”
21ইছায় আরো কইলা, “কুনু মানষে লেম জালাইয়া টুকরির তলে বা চকির তলে থয় নি? লেম জালাইয়া গাছার উপরে থইন না নি? 22তে ইলা লুকাইল কুন্তাউ নাই, যেতা বার অইতো নায়। আর ইলা কুনু বাতুনি বেয়াপারও নাই, যেতা জাইর অইতো নায়। 23হুনার লাখ কান যার আছে, হে হুনউক।” 24বাদে তাইন কইলা, “তুমরা খিয়াল করিয়া হুনো, তুমরা যেলা মাপিয়া দেও, তুমরার লাগি অউলা মাপা অইবো। ধরিলাও, তুমরার লাগি আরো বেশ করি মাপা অইবো। 25যার আছে তারে আরো দেওয়া অইবো, অইলে যার নাই, তার যেতা আছে এওতা নেওয়া অইযিব।”
26তাইন আরকবার কইলা, “হুনো, আল্লার বাদশাই অইলো অউ লাখান। ধরিলাও, এক গিরস্তে তার জমিনো জালা বাইন করলো। 27বাদে হে রাইত অইলে ঘুমাইলো আর দিনর বালা ঘুরা-ঘুরি করলো। অইলে জালা ফুটিয়া কেমনে গাছ অইলো, হে তো কুন্তা জানে না। 28জমিনে নিজে নিজেউ ইতা ফলাইলো, পয়লা চেরা, বাদে ছড়া আর ছড়ার মাজে পুষ্ট ধান ধরল। 29ধান পাকিয়া হারলে হে বুজিলায় দাওয়ার সময় অইগেছে, তেউ কাচি লাগাইয়া দায়।”
ডেংগা বিচির কিচ্ছা
30হজরত ইছায় কইলা, “আল্লার বাদশাইরে আমরা কিতার লগে তুলনা করতাম? কিতাদি বুজাইতাম? 31আইচ্ছা, মনে করো, আল্লার বাদশাই অইলো এগু ডেংগা বিচির লাখান। ই বিচি বাইন করার বালা দেখা যায়, হকল জাতর বিচি থনে ইটা হুরু-মুরু। 32অইলে বাইন করার বাদে ইটা হক্কল জাতর হাগ থনেও বড় বড় পাতা আর গাছ অয়। আর মোটা মোটা ডাল বারয়, ই ডালর ছায়াত পাখিন্তে আইয়া আশ্রয় লইন।”
33অউ লাখান বউত নমুনার কিচ্ছা কইতা, আর যে যেলা বুজতো পারে, তার বুজ মাফিক তারে আল্লার কালাম হুনাইতা। 34কিচ্ছা ছাড়া তারারে কুনু তালিম দিতা না। অইলে খালি সাহাবি অকল যেবলা তান লগে রইতা, অউ সময় তাইন হকল ভেদ ভাংগিয়া বুজাইতা।
আওরর তুফান বন্দ করা
35অউ দিন হাইঞ্জা বালা হজরত ইছায় তান সাহাবি অকলরে কইলা, “আও, আমরা আওরর হপারো যাইতাম।” 36তেউ সাহাবি অকলে মানষর গেছ থাকি বিদায় লইয়া, ইছা যে নাওয়ো বওয়াত আছলা অউ নাওয়ো উঠিয়া রওয়ানা দিলাইলা, এরলগে আরো নাওয়াইনও আছিল। 37নাও চলের, অউ সময় আখতাউ খুব বড় এক তুফান আইলো, তুফানর দায় আফালর পানি হামাইয়া নাও বুড়িযিবার দশা। 38ইছা নাওর খর গালাত এক বালিশো হিতান দিয়া ঘুমো আছলা। সাহাবি অকলে তানরে হজাগ করিয়া কইলা, “হুজুর, আপনে খিয়াল কররা না নি, আমরা তো মরি যাইয়ার।” 39তাইন উঠিয়া তুফানরে ধমক দিলা আর আওররে কইলা, “দম লও, থির অও।” কওয়ার লগে লগে তুফান বন্দ অইগেল, আর হক্কলতা থির অইলো। 40বাদে তাইন সাহাবি অকলরে কইলা, “তুমরা অতো ডরালোক কেনে? তুমরা অখনও ইমান আনছো না নি?” 41ইতা দেখিয়া সাহাবি অকলে খুব ডরাইলা, আর একে-অইন্যে কইলা, “এইন আসলে কে? পানিয়ে আর বাতাসেও দেখি তান হুকুম মানে।”
5ভুতর পালরে খেদাই দেওয়া
1হজরত ইছায় তান সাহাবি অকলরে লইয়া গালিল আওর পাড়ি দিয়া জেরাসিনি অকলর দেশো আইলা। 2তাইন নাও থাকি লামতেউ ভুতে ধরা এক বেটা, কবরস্থান থাকি বার অইয়া তান ছামনে আইলো। 3হে কয়বরর মাজে রইতো, কুনু মানষে লুয়ার জিনজুরদি বান্দিয়াও তারে আটকাইতা পারতা না। 4তার আত-পাও বউত বার জিনজুরদি বান্দিলেও হে ইতা ছিড়িয়া, পাওর বেড়িও ভাংগিলিতো। তারে কেউ সামলাইতা পারতা না। 5হে পাড়র টিল্লায় টিল্লায়, কয়বরে কয়বরে হারা দিন-রাইত ঘুরতো আর চিল্লাইতো, পাথর দিয়া তার নিজর শরিলো মারতো।
6ইছারে হে দুরই থাকি দেখিয়াউ দৌড়াইয়া আইয়া তান পাওত পড়িয়া সইজদা করলো, 7আর চিল্লাইয়া কইলো, “ও ইছা, আল্লাতালার খাছ মায়ার জন ইবনুল্লা, আপনে কেনে আমার গেছে আইছইন? আমি আল্লার কছম খাইয়া কইয়ার, আপনে আমারে ছাতাইন না যানু।” 8ইছায় আগে অউ ভুতরে কইছলা, “তুই অউ বেটারে ছাড়িয়া বার অইয়া যা,” এরদায় হে ইছারে অউ মিনতি করলো। 9তাইন অউ ভুতরে জিকাইলা, “তোর নাম কিতা?” হে কইলো, “আমার নাম ফৌজ, কারন আমরা বউত জন আছি।” 10অখান কইয়া হে ইছার গেছে বারে বারে মিনত করি কইলো, “আপনে আমরারে ই এলাকা থাকি খেদাইন না যানু।”
11অউ সময় হনো পাড়র গালাত বড় এক শুয়রর পালে খাওয়াত আছিল। 12ভুতর পালে ইছারে মিনত করি কইলো, “হুজুর, আমরারে অউ শুয়রর পালর মাজে পাঠাই দেউক্কা, আমরা গিয়া অতার ভিতরে হামাই।” 13ইছায় ইজাজত দিয়া হারলে তারা গিয়া অউ শুয়রর পালর মাজে হামাই গেল। তেউ শুয়রর পালে পাড়র টিল্লার পেটেদি খুব জুরে দৌড়াইয়া গিয়া আওরর মাজে বুড়িয়া মরলা। ই পালো অনুমান দুই আজার শুয়র আছিল। 14ইতা দেখিয়া শুয়রর রাখাল অকলে দৌড়াইয়া গিয়া গাউত আর কান্দা-কাছার হকলরে খবর জানাইলা। খবর হুনিয়া মানষে ইতা দেখাত আইলা। 15তারা ইছার কান্দাত আইয়া দেখলা, ভুতর ফৌজে যে বেটারে ধরছিল, ই বেটা ভালা অইয়া কাপড়-চুপড় ফিন্দিয়া বইরইছে। ইতা দেখিয়া তারার মনো ডর হামাইগেল। 16তেউ যেরা অউ ঘটনা দেখছিল, তারা হউ ভুতে ধরা বেটার কথা আর শুয়রর ঘটনা এরারে জানাইলো। 17এরদায় মানষে হজরত ইছারে মিনত করি কইলা, “মেহেরবানি করি আমরার এলাকা থাকি তশরিফ নেউক্কাগি।”
18তাইন যেবলা নাওত উঠিযিরা, অউ সময় ভুতে ধরা বেটাও তান লগে অইয়া যাইতো করি মিনত লাগাইলো। 19অইলে ইছায় তারে অখান কইয়া বিদায় করি দিলা, “তুমি তুমার বাড়িত যাও, গিয়া বাড়ির মানষরে দেখাও, মাবুদে তুমারে কত মেহেরবানি আর বড় তাইজ্জুবি কাম করছইন।” 20তান কথা হুনিয়া বেটা গেলোগি আর আস্তা দিকাপলি এলাকার মানষরে কইলো, ইছায় তার লাগি কত বড় কাম করছইন। ইখান হুনিয়া তারাও তাইজ্জুব অইগেলা।
মরা পুড়িরে জিন্দা করা
21হজরত ইছা নাওত করিয়া হিরবার আওরর হপারো গিয়া হারলে, চাইরোবায় থনে মানষে আইয়া অউ আওরর পারোউ ভিড় লাগাই দিলা। 22অউ সময় মছিদ কমিটির যায়ীর নামর এক নেতা আইয়া ইছারে দেখিয়া তান পাওত পড়িয়া, 23খুব মিনত করি কইলা, “হুজুর, আমার পুড়িগু মরার পথি অইগেছে। আপনে তশরিফ আনিয়া আমার পুড়িগুরে আতাই দিলেউ তাই ভালা অইযিবো।”
24তেউ তাইন অউ নেতার বাড়িত রওয়ানা দিলাইলা। তান চাইরো গালাবায় ভিড় বান্দিয়া ঠেলা-ঠেলি করিয়া আরো বউত মানুষ তান লগে অইয়া যাইরা। 25অউ ভিড়র মাজে একজন বেটি মানুষ আছলা, বারো বরছ ধরি তান বেটিয়ারা বেমারর লউ যাইতো। 26বউত ডাক্তর কবিরাজ দেখাইয়া কষ্ট করি নিয়ম-কানুন মানিয়া, হকল টেকা-পয়সা খুয়াইয়াও কুনু ফায়দা অইছে না। দিনে দিনে বেমার আরো বাড়িছে। 27ইছার বেয়াপারে হুনিয়া বেটিয়ে অউ ভিড়র মাজে ঠিক তান খরেদি আইয়া, তান ফিন্নর চাদ্দর খানর এক কুনাত ছইলো। 28তাই একিন করছিল যেন, ইছার ফিন্নর কুনু কাপড়র মাজে ছইতে পারলেউ বেমার শিফা অইযিবো। 29হাছাউ, ইছার চাদ্দরর কুনাত ছইতেউ, বেটির লউ যাওয়া এক্কেরে কমিগেল। বেটিয়ে নিজর শরিলর হালত বুজিলিলো, বেমার কমিগেছে। 30ইছায়ও টের পাইলা, তান শরিল মুবারক থাকি বল বার অইছে। অউ তাইন ভিড়র মাজে চাইরোবায় চাইয়া জিকাইলা, “আমার কাপড়ো কে ছইলো?”
31তান সাগরিদ অকলে কইলা, “হুজুর, আপনে তো দেখরা, মানষে কিলা চাইরোবায় ঠেলা-ঠেলি কররা, তে আর কেনে জিকাইরা, কে আপনারে ছইলো?” 32অইলে ইছায় চাইরোবায় চউখদি তাল্লাশিত রইলা, কে তানে ছইলো। 33তেউ বেমার শিফা অওয়া বেটিয়ে নিজর হালত বুজিয়া ডরাইয়া কাপি কাপি তান ছামনে আইয়া পাওত পড়লো, আর হকলতা খুলিয়া কইলো। 34ইছায় বেটিরে কইলা, “মাই গো, তুমার ইমানে তুমি বাচলায়। অখন শান্তিয়ে বাড়িত যাও, আর ই বেমার থাকি হেফাজত রও।”
35তাইন অতা মাতো রইছইন, অউ সময় মছিদর হউ নেতার বাড়ি থাকি খবরিয়া আইয়া নেতারে কইলো, “ছাব, আপনার পুড়ি তো আর নাই, দুনিয়া ছাড়িয়া গেছইনগি। তে হুজুররে আর তকলিফ দিবার কাম নাই।” 36অইলে ইখান হুনিয়া ইছায় হউ নেতারে কইলা, “ডরাইবা না, খালি একিন করউক্কা।” 37কইয়া তান সাহাবি পিতর, ইয়াকুব, আর ইয়াকুবর ভাই হান্নান, খালি অউ তিন জন বাদে আর কেউররে তান লগে নিলা না। 38এরারে লইয়া তাইন হউ নেতার বাড়িত আইয়া দেখলা, মানষে কান্দা-কাটি, বিলাপ আর মাত্বম কররা। 39তাইন ভিতরে গিয়া মানষরে কইলা, “তুমরা ই কান্দা-কাটি আর মাত্বম কররায় কেনে? ই পুড়ি তো মরছে না, খালি ঘুমাইছে।” 40ইখান হুনিয়া মানষে তানরে ছিড়াইলা। তেউ তাইন মুর্দার কুঠা থাকি হকলরে বার করি দিয়া, খালি পুড়ির মা-বাফ আর সাহাবি অকলরে লইয়া কুঠাত হামাইলা। 41তাইন পুড়ির আতো ধরিয়া কইলা, “টালিথা কুম,” মানি, “ও পুড়ি, তুমারে কইয়ার, উঠো।” 42হাছাউ, মুর্দা পুড়ি লগে লগে উঠিয়া আটা ধরলো, পুড়ির বয়স আছিল বারো বছর। ইতা দেখিয়া এরা আচানক তাইজ্জুব অইগেলা। 43ইছায় এরারে হুকুম দিলা, ইতা কেউররে হুনাইও না। আর অউ পুড়িরে অখন খাইবার কুন্তা দেও।
6নিজর গাউ নাছারতো হজরত ইছার অসম্মান
1হজরত ইছা হন থনে নিজর গাউ নাছারতো তশরিফ আনলা। তান সাহাবি অকলও লগে আছলা। 2জুম্মাবারে তাইন মছিদো গিয়া তালিম দিলা। বউত মানষে তান তালিম হুনলা, হুনিয়া তাইজ্জুব অইয়া কইলা, “ই বেটায় ইতা তালিম কুয়াই থাকি পাইলো? হে কেমনে ইতা ইলিম হাছিল করছে, আর যেতা মোজেজা অকল দেখার, ইতার ভেদ কিতা? 3এ তো হউ মরিয়মর পুয়া কাঠ-মেস্তইর নায় নি? হে ইয়াকুব, ইউছি, এহুদা আর সাইমনর ভাই নায় নি? তার বনিন তো আমরার গাউতউ রইরা।” ইছার বেয়াপার লইয়া মানষর দিলর মাজে বিতিশনা দেখা দিলো।
4তেউ ইছায় তারারে কইলা, “যেকুনু নবীউ নিজর গাউ, নিজর দেশ, নিজর বাড়ি, খেশ-কুটুমর বাইরাখানো ইজ্জত পাইন।” 5বাদে তাইন কয়জন বেমারিরে আতাই দিয়া বেমার শিফা করলা। অইলে হিনো আর কুনু মোজেজা জাইর করার উপায় অইলো না। 6মানষে তান উপরে ইমান না আনায় তাইন খুব তাইজ্জুব অইগেলা। বাদে তাইন গাউয়ে গাউয়ে চাইরোবায় ছফর করিয়া মানষরে তালিম দিলা।
সাহাবি অকলরে তবলিগো পাঠানি
7ইছায় তান বারোজন সাহাবিরে নিজর ধারো আনিয়া, জিন-ভুতর উপরে খেমতা দিয়া, দুইজন দুইজন করি তবলিগ কামো পাঠাইলা। 8ছফরর সময় খালি আতর লাঠি ছাড়া আর কুন্তাউ এরারে লগে নিতে দিলা না। খানি-খুরাকি, বেগ বা কমরর থলিত বান্দিয়া কুনু পয়সা-কড়ি নিতেও না করলা। 9তাইন কইলা, “পাওত জুতা ফিন্দিতায় পারবায়, অইলে ফিন্নর এক কাপড় বাদে আর কুনু কাপড়-চুপড় নিও না।” 10আর হুকুম দিলা, “তুমরা গিয়া পয়লা যে বাড়িত হামাইবায়, ই গাউ ছাড়িয়া যাওয়ার আগ পর্যন্ত অউ বাড়িতউ রইও। 11কুনু জাগার মানষে যুদি তুমরারে কবুল না করে, আর তুমরার বয়ান না হুনে, তে হন থাকি বারনির বালা তুমরার পাওর ধুইল ঝাড়িয়া ফালাইও, অউ ধুইল তারার নাফরমানির সাক্ষি রইবো।” 12তেউ সাহাবি অকলে গিয়া তবলিগ করলা, মানষরে তাগিদ দিলা তৌবা করার লাগি। 13এরা বউত ভুত ছাড়াইলা, আর বউত বেমারি মানষর মাথাত তেল মাখাইয়া বেমাররে শিফা করলা।
হজরত এহিয়া (আঃ) রে কাতল করা
14হজরত ইছার সুনাম চাইরোবায় রটি যাওয়ায় রাজা হেরোদর কানোও গিয়া আজিলো। কুনু কুনু মানষে কইলা, তাইন অইলা এহিয়া নবী, এইন হিরবার জিন্দা অইয়া উঠিয়া আইছইন করিউ অউ কেরামতি দেখাইরা। 15কেউ কইলো, এইন অইলা হজরত ইলিয়াছ নবী। আর কেউ কেউ কইলো, এইন পুরানা জমানার কুনু নবীর লাখান নয়া এক নবী। 16ইতা হুনিয়া হেরোদে কইলো, “এইন তো হউ এহিয়া, যেন কল্লা আমি কাটাইছলাম। তাইন হিরবার জিন্দা অইয়া উঠছইন।”
17-18এর আগে হেরোদে তার ভাবি হেরোদিয়ার মন যুগানির লাগি, এহিয়া নবীরে আটক করাইয়া জেলো হারাই থইছিল। হে তার ভাই ফিলিফর বউরে হাংগা করায় নবীয়ে তারে হামেশা কইতা, “আপন ভাইর বউরে নিয়া হাংগা করা তুমার জাইজ অইছে না।” 19এরদায় এহিয়া নবীর বায় হেরোদিয়ার খুব গুছা আছিল। তাই এনরে কাতল করার নিয়ত করলো, অইলে পারল না। 20হেরোদে এনরে ডরাইতো আর জানতো, এইন একজন পাক-পরেজগার কামিল মানুষ, এরদায় হামেশা এনরে তাইর আত থাকি বাচাইতো। এন নছিয়ত হুনতে তার ভিতরে ধড়-ফড় করলেও হে ইতা খুব পছন্দ করতো।
21হেশে তাই এক সুযোগ পাইলো, হেরোদর জনম দিনর অনুষ্ঠানো তার উজির-নাজির, সিপাইর অফিসার অকল, আর গালিল জিলার গইন্য-মাইন্য হকল মানষর লাগি খানি জুইত করা অইলো। 22অউ অনুষ্ঠানো হেরোদিয়ার পুড়িয়ে আইয়া নাচ দেখাইয়া হকল মেহমান আর হেরোদরে খুশি করলো। খুশি অইয়া হেরোদ রাজায় পুড়িরে কইলো, “ও মা, তুমি আমার গেছে কিতা চাও? যেতা চাইবায়, অতাউ পাইবায়।” 23হে কছম খাইয়া কইলো, “তুমি আমার গেছে যেতা চাইবায়, অতাউ দিমু। আমার রাইজ্যর অর্ধেক চাইলেও দিলাইমু।”
24অউ পুড়িয়ে তাইর মাʼর গেছে গিয়া জিকাইলো, “মাই গো, আমি কিতা চাইতাম?” মা হেরোদিয়ায় হিকাই দিলো, “তুমি হউ এহিয়ার কল্লা চাইও।” 25পুড়িয়ে জলদি করি আইয়া রাজারে কইলো, “আমি চাইরাম, আপনে হউ এহিয়ার কল্লা কাটিয়া এক থালো করি আমারে দেউক্কা।” 26ইখান হুনিয়া রাজা খুব বেজার অইগেল, অইলে অনুষ্ঠানর মেহমান অকলর ছামনে কছম করায় অউ পুড়িরে না করার কুনু উপায় আছিল না। 27-28তেউ লগে লগে রাজায় জল্লাদরে হুকুম দিলো এহিয়ার মাথা কাটিয়া আনার লাগি। জল্লাদে গিয়া জেল খানাত বন্দি হজরত এহিয়ার মাথা কাটিয়া এক থালো করি লইয়া আইলো। রাজায় ই থাল অউ পুড়ির আতো দিলে, তাই নিয়া তাইর মাʼর গেছে দিলো। 29এহিয়া নবীর সাগরিদ অকলে ই খবর হুনিয়া জেল থনে তান লাশ নিয়া দাফন করলা।
পাচ আজার মানষর গাইবি খানি
30হজরত ইছার বারোজন সাহাবিয়ে তবলিগ থনে ফিরিয়া আইয়া তানরে জানাইলা, তবলিগো গিয়া কিতা কিতা করছইন, কিলাখান তালিম দিছইন। 31অউ সময় বউত মানুষ ইছার গেছে আওয়া-যাওয়াত থাকায় সাহাবি অকলে কুনু খানা-পিনারও সুযোগ পাইলা না। এরদায় তাইন সাহাবি অকলরে কইলা, “তুমরা আমার লগে কুনু নিরাই জাগাত আইয়া থুড়া জিরাও।” 32কইয়া নাওত উঠিয়া এক নিরাই জাগাত রওয়ানা অইলা। 33এরারে যাওয়াত দেখিয়া বউত মানষে চিনিলিলা, তেউ এরা পৌছার আগেউ আশ-পাশর গাউয়াইন থাকি মানুষ দৌড়াইয়া গিয়া হনো পৌছিগেলা। 34ইছা নাও থাকি লামিয়াউ দেখলা, বউত মানষে তান বার চাইরা। দেখিয়া এরার বায় তান বড় দরদ হামাইলো। এরা আছিল আ-রাখালি মেড়ার লাখান। অউ ইছায় এরারে বউত লাখান তালিম দিলা। 35হাইঞ্জা অইয়া হারলে তান সাহাবি অকলে কইলা, “হুজুর, ইখান খুব নিরাই জাগা, আর হাইঞ্জাও অইগেছে, 36তে অতা মানষরে বিদায় দিলাউক্কা, এরা কান্দা-কাছার অতা গাউয়াইন্তো গিয়া তারার খানি-খুরাকি লউক।” 37ইছায় কইলা, “তুমরাউ এরার খানির ইন্তেজাম করো।” সাহাবি অকলে জুয়াপ দিলা, “আমরা কিতা দুইশো দিনারর খানি লইয়া আনিয়া এরারে খাওয়াইতাম নি?” দুইশো দিনার তো পইঞ্চাশ আজার টেকার হমান। 38তাইন কইলা, “তুমরা চাইয়া দেখো, তুমরার গেছে কি পরিমান রুটি আছে।” তারা দেখিয়া কইলা, “ছাব, পাচখান রুটি আর দুইটা বিরান মাছ আছে।” 39তাইন সাহাবি অকলরে হুকুম দিলা, “তুমরা অউ ঘাসর উপরে লাইন ধরাইয়া মানষরে বওয়াই দেও।” 40তেউ মানষে একশো জন করি কাতার বান্দিয়া পইঞ্চাশ কাতার বইলা। 41ইছায় হউ পাচখান রুটি আর দুইটা বিরান মাছ আতো লইয়া আল্লার আরশর বায় চাইয়া শুকরিয়া আদায় করিয়া, মানষরে বাটিয়া দিবার লাগি অউ রুটি টুকরা টুকরা করি সাহাবি অকলর আতো দিলা। অউ লাখান মাছ দুইটাও বাটিয়া দিলা। 42হকল মানষে পেট ভরি খাইলা। 43খাইয়া হারলে বাড়তি রুটি আর মাছর টুকরাইন নিয়া বারোটা টুকরি ভরলা। 44ই দলর মাজে খালি বেটা মানুষউ পাচ আজার জনে বইয়া খাইলা।
পানির উপরেদি আটা
45খানির বাদেউ হজরত ইছায় সাহাবি অকলরে তাগদা দিলা, তারা নাওত করি আওরর হপারো বায়ত-ছয়দা গাউত যাওয়ার লাগি, তাইন অনর মানষরেও বিদায় দিলা। 46মানুষ বিদায় অইয়া হারলে তাইন দোয়া করার লাগি পাড়র উপরে উঠিলা। 47রাইতর বালা সাহাবি অকলর নাও আওরর মাজখানো আছিল, অইলে ইছা একলা হুকনাত আছলা। 48তাইন দেখলা, উফতা বাতাসর মাজে এরা খুব কষ্ট করি দাড় বাইরা। পতাবালা ইছায় অউ আওরর পানির উপরেদি আটিয়া, সাহাবি অকলর গালাবায় তারারে পার অইয়া আগেদি যাইরা। 49-50তানরে আওরর পানির উপরেদি আটিয়া যাওয়াত দেখিয়া, ভুত মনো করিয়া ডরাইয়া এরা হকলে চিক-চিল্লানি লাগাইলা। অউ তাইন কইলা, “ডরাইও না, হিম্মত করো, ই তো আমি।”
51তাইন আইয়া সাহাবি অকলর নাওত উঠতেউ উফতা বাতাস দম লইলিলো। ইতা দেখিয়া এরা আচানক তাইজ্জুব বনিগেলা। 52অইলে আগর হউ রুটি-মাছর গাইবি খানির ভেদ এরা বুজলা না। এরার দিলর দুয়ার তো বন্দ আছিল।
53আওর পাড়ি দেওয়ার বাদে এরা গিনেসরত এলাকাত আইয়া নাও ভিড়াইলা। 54-55নাও থাকি লামতেউ তানে দেখিয়া মানষে চিনিলিলা, আর চাইরোবায় দৌড়া-দৌড়ি লাগাইলা। দৌড়াইয়া তারা যারযির বেমারি অকলরে পলোদি বইয়া আনিয়া, তাইন যে জাগাত আছলা অউ জাগাত লইয়া আইলো। 56টাউনো বা গাউত, অল্লিয়ে-গল্লিয়ে তাইন যেনোউ তশরিফ নিতা, অনোউ মানষে বেমারি অকলরে আনিয়া বাজারো দলা করতা। আর তানরে মিনত-কাজ্জি করিয়া কইতা, বেমারি অকলে যানু তান চাদ্দরর কুনাখানো ছইতা পারইন। আর যেরা ছইতা, হাছাউ এরার বেমার শিফা অইযিতো।
7ময়-মুরব্বির গেছ থাকি পাওয়া রছুমত
1বাদে জেরুজালেম থাকি কয়জন মৌলানা আর ফরিশি মজহবর কিছু মানুষ হজরত ইছার গেছে আইলা। 2আইয়া দেখলা, ইছার কয়জন উম্মতে আত না ধইয়া এমনেউ খানিত বইগেছইন। 3আসলে আগর জমানার মৌলানা অকলর বাতাইল রছুমত মাফিক, হক্কল ইহুদি আর ফরিশি অকলেও অজু না করিয়া কুনু খানি খাইন না। 4বাজার-আট থাকি কুনু জিনিস আনলে পাক-ছাফ না করিয়া মুখো দেইন না, থাল-বাসন ধইয়া ছাফ-ছুতরা করা, অউ লাখান বউত রীতি-রেওয়াজ তারা মানে। 5এরদায় অউ মৌলানা আর ফরিশি অকলে ইছারে জিকাইলা, “আপনার উম্মত অকলে আগর জমানার মৌলানা অকলর বাতাইল রছুমত কেনে মানইন না? তারা তো নাপাক আতে খানি খাইন।”
6তাইন জুয়াপ দিলা, “আপনারা তো ভন্ড! হজরত ইশায়া নবীয়ে আপনাইন্তর বেয়াপারে ঠিকউ কইছইন,
ইতা মানষে মুখ দিয়া খালি আমারে ইজ্জত করে,
অইলে তারার দিল আমা থনে বউত দুরই।
7তারা হুদার খামোখা আমার এবাদত করে,
তারার তালিম অকল তো
মানষর বানাইল মনগড়া শরিয়ত।
8তে আপনারা তো আল্লার দেওয়া হুকুম-আহকাম বাদ দিয়া, মানষর বানাইল রছুমত আমল কররা।”
9ইছায় তারারে আরো কইলা, “আল্লার দেওয়া হুকুম বাদ দিয়া, নিজর মনগড়া রছুমত কাইম করার ধান্দা তো আপনারা খুব ভালা করিউ জানইন। 10যেলা হজরত মুছায় কইছইন, মা-বাবারে ইজ্জত করিও, যে মানষে আপন মা-বাফর বদনাম গায়, তারে কাতল করা অইবো। 11অইলে আপনারা মানষরে তালিম দিরা, কুনু মানষে যুদি তার মা-বাফরে কইলায়, আমার যেতা ছামানা দিয়া আপনাইন্তর খেজমত করতাম আছিল, ইতা আল্লার নামে লিল্লা দিলাইছি, 12তে তার মা-বাফর লাগি আর কুন্তাউ করা লাগে না। 13অউ লাখান আপনারার বাফ-দাদার মনগড়া নিয়ম দিয়া আল্লার কালাম বাতিল করিলিছইন। ইখান বাদেও আপনারা অউলা আরো বউত কাম কররা।”
14বাদে ইছায় মানষরে তান কান্দাত নিয়া কইলা, “আপনারা হকলে আমার কথা খিয়াল করি হুনউক্কা আর বুজউক্কা। 15-16বাইরে থাকি যেতা জিনিস মানষর ভিতরে হামায়, ইতায় তো তারে নাপাক বানায় না। বরং মানষর ভিতরে থাকি যেতা বারয়, অতায়উ তারে নাপাক বানায়।”
17বয়ান বাদে তাইন মানষর গেছ থাকি হরিয়া গিয়া ঘরো হামাইলা, তেউ সাহাবি অকলে তানরে এর মানি জিকাইলা। 18ইছায় কইলা, “তুমরা কিতা অউলাউ বেআক্কল নি? তুমরা বুজো না নি, বারে থাকি যেতা জিনিস মানষর ভিতরে হামায়, ইতায় মানষরে নাপাক করতো পারে না। 19ইতা তো তার দিলর ভিতরে হামায় না, খালি পেটর মাজে হামায়, আর পেট থাকি হিরবার বার অই যায়।” ইছায় অউ তালিম দিয়া বুজাইলা, কুনুজাত খানিউ নাপাক নায়। 20তাইন কইলা, “মানষর ভিতরে থাকি যেতা বারয়, অতায়উ মানষরে নাপাক করে। 21মানষর দিল থাকিউ তো হকল নমুনার কু-চিন্তা আয়; জিনা, চুরি, খুন, 22লোভ-লালছ, পরর খেতি করার ধান্দা, ছল-চতুরি, বদমাইশি, বদ-নজর, ইংসা-নিন্দা, বড়াই-বেটাগিরি আর শয়তানি বারয়। 23অউ তামাম নাফরমানি মানষর দিল থাকি বার অইয়া তারারে নাপাক বানায়।”
গালিল জিলার বারে হজরত ইছার মোজেজা (৭:২৪-১০:৫২)
বিধর্মী বেটির ইমানর বল
24বাদে ইছা অউ এলাকা থনে সিরিয়া দেশর সোর টাউনর কান্দাত তশরিফ নিলাগি। অনো আইয়া তাইন এক ঘরর ভিতরে লুকাই রইলা, চাইলা মানষে যানু না জানইন তাইন আইছইন করি। অইলে তান খবর রটি গেল। 25হনো এক বেটি মানষর পুড়িরে ভুতে ধরায়, ইছায় তশরিফ আনছইন হুনিয়া অউ বেটিয়ে, জলদি করি আইয়া তান পাওত পড়লো। 26ই বেটির বাড়ি সিরিয়া দেশর ফৈনিকিয়া এলাকাত, অইলে মাতিতো ইউনানি ভাষায়। তাই ইছার গেছে মিনত-কাজ্জি করিয়া কইলো, “হুজুর, ভুতর কবজা থাকি আমার পুড়িগুরে বাচাউক্কা।” 27ইছায় কইলা, “আগে নিজর হুরুতাইন্তে পেট ভরি খাউক্কা, নিজর ছাবালর খানি কুকরর ছামনে ফালানি ঠিক নায়।” 28বেটিয়ে কইলো, “জিঅয় হুজুর, আপনার কথাউ ঠিক, অইলে নিজর ছাবালর খানির যেতা গুড়া-গাড়া গালাবায় পড়ে, ইতা তো কুকরে খায়।” 29তাইন কইলা, “তুমি তো খাটি মাতউ মাতছো। তে যাও, গিয়া দেখো, ভুতে তুমার পুড়িরে ছাড়িয়া গেছেগি।” 30হাছাউ বেটিয়ে বাড়িত গিয়া দেখলো, তাইর পুড়ি ভালা অইয়া বিছনাত হুতিরইছে।
খালুয়া তুতলা বেটারে শিফা করা
31বাদে ইছায় সোর এলাকা থনে সিদন টাউন অইয়া, গালিল আওরর হপারো দিকাপলি এলাকাত আইলা। 32অনো আইয়া হারলে মানষে এক খালুয়া তুতলা বেটারে তান গেছে আনিয়া মিনত লাগাইলা, তারে আতাই দিবার লাগি। 33তাইন এরে মানষর ভিড় থনে বারে নিরাই জাগাত নিয়া, তার দুইও কানো তান আতর আংগুইল হারাইলা, তান মুখর ছেফ লাগাইয়া তার জিফরা আতাই দিলা। 34আর উপরে আছমানেদি চাইয়া লাম্বা করি শাস ফালাইয়া কইলা, “ইফ্ফাতা,” মানি, “খুলি যাউক।” 35লগে লগেউ বেটার কান খুলি গেল। তুতলামি ছাড়ি গেল, হে পরিস্কার মাতা ধরলো। 36হেশে তাইন এরারে হুকুম দিলা, “খবরদার, তুমরা ইতা কেউররে হুনাইও না।” অইলে তাইন যতো বেশি না করলা, তারা অতো বেশ করি ইতা রটাইলো। 37তারা আচানক তাইজ্জুব অইয়া কইলা, “এইন তো হকল কামউ খুব নিখুত করি করইন। দেখরায় নি, তাইন খালুয়ারে হুনার শক্তি, আর বোবারে মাতিবার তাক্কত দিছইন।”
8চাইর আজার মানষর গাইবি খানি
1বাদে আরকবার বউত মানুষ আইয়া তান গেছে দলা অইলা। এরার গেছে কুনু খানি-খুরাকি না থাকায়, ইছায় তান সাহাবি অকলরে ধারো নিয়া কইলা, 2“ইতা মানষর লাগি আমার বড় দরদ লাগের, আইজ তিন দিন ধরি তারা আমার লগে লগে আছইন, অইলে অখন তারার খানির কুন্তা নাই। 3অউ হালতে এরারে বিদায় করি বাড়িত পাঠাই দিলে, ইতা পথোউ বেউশ অইযিবা, এরা কেউ কেউ তো বউত দুরই থাকি আইছে।” 4সাহাবি অকলে কইলা, “হুজুর, ই নিরাই-মরুভুমির মাজে কে কুয়াই থাকি অতো রুটি যুগাইয়া এরারে খাওয়াইবো?” 5তাইন কইলা, “তুমরার গেছে রুটি কয়খান আছে?” এরা কইলা, “ছাব, সাতখান আছে।” 6তাইন মানষরে কইলা, “আপনারা খানির লাগি মাটিত বইযাইন।” কইয়া রুটি সাতোখান নিয়া আল্লা পাকর শুকরিয়া আদায় করি অখনাইন ছিড়িলা, আর সাহাবি অকলরে দিয়া বাটিয়া দেওয়াইলা। 7সাহাবি অকলর গেছে হুরু হুরু কয়টা বিরান মাছও আছিল, তাইন অউ মাছর লাগি শুকরিয়া আদায় করলা, আর এরারে কইলা মানষরে বাটিয়া দিতা। 8হকল মানষে পেট ভরি খাইলা। খানির বাদে যেতা রইছিল, সাহাবি অকলে অতা দলা করিয়া হারলে সাত টুকরি ভরিগেল। 9ই দলর মাজে খালি বেটা মানুষউ অনুমান চাইর আজার জনে খাইলা। বাদে তাইন এরারে বিদায় দিয়া, 10সাহাবি অকলরে লইয়া নাওত করি দালমানুথা জিলাত গেলাগি।
11অনো আইয়া হারলে ফরিশি অকলে তান লগে তর্কা-তর্কি লাগাইলা, আর তানরে যাচাই করার লাগি তারা আছমানি কুনু মোজেজা দেখতা চাইলা। 12ইখান হুনিয়া ইছায় লাম্বা করি শাস ফালাইয়া কইলা, “ই জমানার মানষে খালি মোজেজা তুকাইন কেনে? আমি হক কথা কইয়ার, এরারে কুনুজাত মোজেজা দেখাইল অইতো নায়।” 13কইয়া তাইন এরার গেছ থাকি হরিগেলা, আর নাওত উঠিয়া হিরবার আওরর হপারো গেলাগি। 14সাহাবি অকলে লগে করি রুটি নিতে ফাউরিলিলা। নাওর মাজে এরার লগে খালি একখান রুটি আছিল। 15অউ সময় ইছায় কইলা, “তুমিতাইন হুশিয়ার অও, রাজা হেরোদ আর ফরিশি মজহবর খামির থাকি হুশিয়ার রইও।” 16ইখান হুনিয়া সাহাবি অকলে কানা-কানি করি কইলা, “আমরা লগে করি রুটি না আনায় তাইন মনোলয় অখান কইরা।”
17অইলে সাহাবি অকলে কিতা মাতিরা, ইছায় ইখান বুজিয়া তাইন এরারে কইলা, “তুমিতাইন কেনে কইরায়, রুটি আনছো না করি আমি ইখান কইছি? তুমরা কিতা অখনও কুন্তা জানো না নি, কুন্তাউ বুজো না নি? তুমরার দিল পাষান অইগেছে নি? 18তুমরার চউখ থাকতেও দেখরায় না নি? কান থাকতেও হুনরায় না নি? তুমরার মনো পড়ের না নি, 19যেবলা আমি পাচ আজার মানষর লাগি খালি পাচখান রুটি ছিড়িছলাম, অউ মানষে খাইয়া হারলে তুমরা কত টুকরি গুড়া-গাড়া দলা করছলায়?” এরা কইলা, “হুজুর, বারো টুকরি।” 20তাইন হিরবার কইলা, “আইচ্ছা, আমি যেবলা চাইর আজার মানষর লাগি সাতখান রুটি ছিড়িছলাম, মানষে খাইয়া হারলে তুমরা কয় টুকরি দলা করছলায়?” এরা কইলা, “সাত টুকরি।” 21অউ তাইন কইলা, “এরবাদেও তুমরা বুজলায় না নি?”
আন্দার চউখ ভালা করা
22বাদে ইছায় তান সাহাবি অকলরে লইয়া বায়ত-ছয়দা গাউত আইলা, আইয়া হারলে মানষে এক আন্দা বেটারে তান গেছে আনিয়া কইলো বেটাগুরে আতাই দিবার লাগি। 23ইছায় অউ বেটার আতো ধরি গাউর বারে লইয়া গেলা। গিয়া তান মুখর ছেফ বেটার চখুত লাগাইয়া তার গতরো আত দিয়া কইলা, “ওবা, তুমি কুন্তা দেখরায় নি?” 24বেটায় চউখ খুলিয়া চাইয়া কইলো, “জিঅয় হুজুর, আমি তো মানুষ দেখরাম, অইলে ইতারে গাছর লাখান লাগের, এরা আটা-উটি করের।” 25তেউ ইছায় আরকবার তার চখুর উপরে আতাই দিলে, হে ভালা করি চাইলো আর হক্কলতা পরিস্কার দেখল। 26ইছায় তারে তার বাড়িত পাঠাই দিয়া কইলা, “হুনো, বায়ত-ছয়দা গাউত আর যাইও না।”
হজরত ইছাউ আল্লার ওয়াদা করা আল-মসী
27বাদে তাইন আর সাহাবি অকল কৈছরিয়া-ফিলিপি টাউনর কান্দা-কাছার গাউয়াইন্তো গেলা। পথো তান সাহাবি অকলরে জিকাইলা, “কওছাইন, মানষে আমার বেয়াপারে কিতা মনো করইন, আমি কে?” 28এরা জুয়াপ দিলা, “কেউ কয়, আপনে হজরত এহিয়া। কেউ কয় ইলিয়াছ নবী। কেউ কেউ কইন, আপনে অইন্য কুনু নবী।” 29অউ তাইন কইলা, “অইলে তুমরা কিতা মনো করো, আমি কে?” সাহাবি পিতরে জুয়াপ দিলা, “আপনেউ আল্লার ওয়াদা করা হউ আল-মসী।” 30তাইন এরারে হুশিয়ার করি কইলা, “তুমরা আমার বেয়াপারে কেউররে হুনাইও না।”
পয়লা বার নিজর মউতর আগাম খবর
31বাদে তান সাহাবি অকলরে অউ বয়ান হুনাইলা, “আমি বিন-আদমে বউত দুখ-মছিবত পুয়ানি লাগব। মুরব্বি অকলে, বড় ইমাম অকলে, আর মৌলানা অকলেও আমারে মানতা নায়। আমারে কাতল করা অইবো, অইলে মউতর তিন দিন বাদে হিরবার জিন্দা অইয়া উঠা লাগব।” 32তাইন খুব খুলা-মেলা করি ইতা কইলা। এরদায় পিতরে তানরে আলগা হরাইয়া নিয়া কইলা, “হুজুর, সাবধান, ইলা মাত মাতইন না যানু।” 33ইছায় সাহাবি অকলর বায় মুখ ফিরাইয়া পিতররে ধামকি দিয়া কইলা, “ধুর ইবলিছ, আমার গেছ থাকি বাগ! তুই আল্লাই মুনশারে বাদ দিয়া, মানষর লাখান চিন্তা কররে।”
34বাদে তান সাহাবি আর আম মানষরেও তান ধারো নিয়া কইলা, “হুনো, আমার তরিকায় কেউ জিন্দেগি কাটাইতে চাইলে, হে তার নিজর খুশিয়ে চলা বাদ দেউক। তার আপন দুখ-কষ্টর সলিব বইয়া লইয়া আমার খরে আউক। 35যে জনে তার নিজর স্বাধীনে চলতো চায়, হে তার হাছারর জিন্দেগি খুয়াইলিব। অইলে যে জনে আমার লাগি আর আল্লার দেওয়া খুশ-খবরির লাগি তার জান বিলায়, হে তার হাছারর জিন্দেগি বাচাইবো। 36কেউ যুদি আস্তা দুনিয়ার মালিক বনিয়াও তার হাছারর জিন্দেগি, মানি আখের খুয়াইলায়, তে তার কুনু ফায়দা অইলো নি? 37হেশে হাছারর জিন্দেগি পাওয়ার লাগি হে কুন ধন বিলাইবো? 38হুনউক্কা, ই জমানার বেইমান আর গুনাগার অকলর মাজে, কেউ যুদি আমার লাগি বা আমার তালিমর লাগিয়া মুখ লুকায়, তে আমি বিন-আদম যেবলা পবিত্র ফিরিস্তা অকলরে লগে লইয়া, আমার গাইবি বাফর শান-তজল্লিয়ে জগতো হিরবার আইমু, অউ সময় আমিও এরারে দেখলে মুখ লুকাইমু।”
9হজরত ইছা রুহুল্লার নুরানি ছুরত
1হজরত ইছায় তান সাহাবি অকলরে কইলা, “আমি তুমরারে হাছাউ কইরাম, ইনো ইলাখান কয়জন আজির আছইন, যেরা আল্লার বাদশাইর শান-তজল্লিরে নিজর চউখে না দেখার আগে মউত অইতো নায়।” 2ইখান কওয়ার ছয়দিন বাদে তাইন খালি হজরত পিতর, ইয়াকুব আর হান্নানরে লইয়া উচা এক পাড়র উপরে উঠিলা। অউ তিনো জনর চউখর ছামনে তান নিজর ছুরত বদলি গেল। 3তান ফিন্নর লেবাছ অতো বেশি ধলা চকচকা অইলো যেন, দুনিয়ার কুনু ধুপায়উ ইলা চকচকা করি ধোয়ার তাক্কত নাই। 4সাহাবি অকলে হজরত মুছা আর ইলিয়াছ নবীরে দেখলা, এরা আইয়া হজরত ইছার লগে বাতচিত কররা। 5তেউ পিতরে কইলা, “হুজুর, আমরা তো অনো আছি, খুব ভালা অইছে। আমরা তিনখান ডেরা-ঘর তিয়ার করিলাই, একখান আপনার লাগি, একখান হজরত মুছা আর একখান ইলিয়াছ নবীর লাগি।” 6এরা খুব বেশি ডরাইগেছলা, এরদায় কিতা মাতিতা কুনু তাল পাইলা না। 7অউ সময় গাইবি এক মেঘর টুকরায় আইয়া এরারে গুরিলিলো, আর অউ টুকরা থাকি গাইবি আওয়াজ অইলো, “এইনউ আমার খাছ মায়ার জন, তুমরা এন নছিয়ত হুনো।” 8ঠিক অউ সময় তারা চাইরোবায় চাইয়া খালি ইছা ছাড়া আর কেউররে ইনো দেখলা না। 9বাদে পাড় থাকি লামিয়া আইবার বালা ইছায় এরারে হুকুম দিলা, “আইজ যেতা দেখলায়, আমি বিন-আদম মরা থাকি জিন্দা অইয়া উঠার আগ পর্যন্ত ইতা আর কেউররে হুনাইও না।”
10এরা তান হুকুম মানলা, অইলে মরা থাকি জিন্দা অওয়ার ভেদ কিতা অখান না বুজায়, তারা একে-অইন্যে জিকাইলা। 11বাদে ইছার গেছে আরজ করলা, “হুজুর, মৌলানা অকলে কেনে কইন, হজরত ইলিয়াছ নবীয়ে পয়লা তশরিফ আনা জরুর?” 12তাইন কইলা, “ইখান হাছা কথা, পয়লা হজরত ইলিয়াছে আইয়া হক্কলতা আগর হালতো ফিরাই আনবা। অইলে বিন-আদমর বেয়াপারে আল্লার কালামো কেনে লেখা অইছে, তাইন খুব দুখ-মছিবত পুয়ানি লাগব, মানষে তানরে কবুল করতা নায়? 13আমি তুমরারে কইয়ার, ইলিয়াছ নবীর বেয়াপারে পাক কিতাবো যেলা লেখা আছে, অলাখানউ তাইন আইছলা। মানষেও তান লগে যেতা মনোলয় অতা করছে।”
জিনর আছর আলা পুয়ারে ভালা করা
14ইছায় অউ তিনো জনরে লইয়া পাড় থনে লামিয়া বাকি সাহাবি অকলর গেছে আইয়া দেখলা, বউত মানুষ আইয়া চাইরোবায় দলা অইছইন, আর কয়জন মৌলানায় এরার লগে তর্কা-তর্কি কররা। 15ইছারে দেখিয়াউ মানুষ তাইজ্জুব অইয়া, দৌড়াইয়া আইয়া তানরে ছালাম করলা। 16তাইন অউ মৌলানা অকলরে জিকাইলা, “আপনারা কিতা লইয়া এরার লগে তর্ক কররা?”
17ভিড়র মাজ থাকি একজনে কইলো, “ছাব, আমার পুয়াগুরে লইয়া আপনার গেছে আইছলাম, অগুরে বোবা জিনে আছর করছে। 18অউ জিনে তারে যেবলাউ ধরে, তারে আছাড় মারিয়া মাটিত ফালায়। তার মুখ থাকি ফেনা বারয়, দাতো কবট লাগিয়া ডাট্টা অইযায়। আমি তারে লইয়া আপনার সাহাবি অকলর গেছে আইছলাম, অইলে এরা পারছইন না।” 19তেউ ইছায় কইলা, “হায়রে বেইমান অকল! আমি আর কতদিন তুমরার লগে রইমু, তুমরার জালা কতদিন সইয্য করমু? আইচ্ছা, পুয়ারে অনো আনো।” 20মানষে পুয়ারে তান গেছে আনলা। তানে দেখিয়াউ জিনে তারে খুব জাতিয়া ধরল। পুয়ায় মাটিত পড়িয়া মুখর ফেনা বার করি গড়া-গড়ি লাগাইলো। 21ইছায় তার বাফরে জিকাইলা, “তার ই দশা কতদিন থাকি?” বেটায় কইলো, “হুরুমান থাকিউ। 22আর ই জিনে তারে মারিলিতো করি বউত বার তারে আগুনিত আর পানিত ফালাইছে। অখন আপনে যুদি পারইন, তে আমরারে দয়া করউক্কা।” 23ইছায় কইলা, “যুদি পারইন, ই কথার মানি কিতা? যে একিন করে তার লাগি হক্কলতাউ অয়।” 24অউ বেটায় জুরে জুরে কইলো, “হুজুর, আমি একিন করছি। আমার ইমানর কমজুরি হরাই দেউক্কা।” 25আরো বউত মানুষ দৌড়াইয়া তান গেছে আইরা দেখিয়া, তাইন জিনরে ধামকি মারি কইলা, “অই খালুয়া আর বোবা জিন, আমি হুকুম দিয়ার, এর গেছ থাকি বার অই যা। তারে আর কুনুদিন ধরিছ না।” 26ইখান হুনিয়া জিনে তারে খুব জুরে চিক দিয়া জাতা মারি ছাড়িয়া গেলোগি। তেউ ই পুয়া মুর্দার লাখান মাটিত পড়ি রইছে দেখিয়া মানষে কইলা, “এ তো মারা গেছে।” 27অইলে ইছায় তারে আতো ধরি তুলতেউ হে উবাই গেল।
28বাদে তাইন ঘরো হামাইয়া হারলে সাহাবি অকলে তানরে নিরালায় জিকাইলা, “হুজুর, আমরা পারলাম না কেনে?” 29তাইন জুয়াপ দিলা, “দোয়া না করলে আর কুনুমন্তেউ ই লাখান জিন ছাড়াইল যায় না।”
দুছরা বার নিজর মউতর আগাম খবর
30বাদে হকলে মিলি ই জাগা ছাড়িয়া গালিল জিলার মাজেদি রওয়ানা অইলা। চাইলা, মানষে যানু ইতা না জানইন। 31অউ সময় তো তান সাহাবি অকলরে তালিম দেওয়াত আছলা, তাইন কইলা, “আমি বিন-আদমরে মানষর আতো ধরাই দেওয়া অইবো, কাতল করা অইবো, আর মউতর তিন দিন বাদে হিরবার জিন্দা অইয়া উঠমু।” 32সাহাবি অকলে তান ই তালিমর কুনু ভেদ বুজলা না, আর তান গেছে জিকানিরও সাওস পাইলা না।
দামি মানুষ কে?
33বাদে ইছায় তান সাহাবি অকলরে লইয়া কফরনাউম টাউনো আইলা। আইয়া ঘরো হামাইয়া এরারে জিকাইলা, “পথো তুমরা কিতা লইয়া তর্ক করলায়?” 34এরা মুখ বন্দ করি বইরইলা। আসলে পথো তারা তর্ক করছলা, তারার মাজে কে হকল থাকি দামি মানুষ। 35ইছা বইগেলা, বইয়া এরা বারোজনরে তান ধারো নিয়া কইলা, “কেউ যুদি দামি মানুষ অইতো চায়, তে হে হকলর খরে রইতে অইবো। আর হকলর খেজমত করা লাগবো।” 36বাদে এক হুরুতারে আনিয়া এরার ছামনে উবা করাইলা। তারে কুলো লইয়া কইলা, 37“যে জনে আমার লাগি অউ হুরুতার লাখান কুনু ছাবালরে কবুল করে, হে আমারেউ কবুল করে। আর আমারে যে কবুল করে, হে খালি আমারে নায়, আমারে যেইন বেজিছইন তানরেও কবুল করলো।”
38তান সাহাবি হান্নানে কইলা, “হুজুর, আমরা এক বেটারে দেখছি, হে আপনার নাম লইয়া জিন্নাত ছাড়ায়। দেখিয়া আমরা তারে নিষেধ করছি, হে তো আমরার তরিকার মানুষ নায়।” 39তাইন কইলা, “এরে নিষেধ করিও না। আমার নাম লইয়া কেউ কেরামতি দেখানির বাদে, হে অতো জলদি আমার গিবত গাইতো পারতো নায়। 40যেরা আমরার বিপক্ষে নায়, তারা তো আমরার পক্ষে। 41হুনো, আমি হাছা কথা কইয়ার, আল-মসীর তরিকার মানুষ অওয়ার খাতিরে, কেউ যুদি তুমরারে এক গেলাস পানি খাওয়ায়, তে হে এর পুরুস্কার পাইবোউ পাইবো।
রিপু থাকি হুশিয়ার রওয়া
42“আর আমার তরিকার অউ হুরু-মুরু একজনরে যুদি কেউ তার ইমানর পথে বাধা দেয়, তে এর চাইতে তার লাগি আরো ভালা অইবো, তার গলাত পাথর বান্দিয়া দরিয়াত ফালাই দেওয়া। 43তুমার আত যুদি তুমার রিপু অইযায়, তে আত কাটিয়া ফালাই দেও। 44দুইও আত লইয়া জাহান্নামি অওয়া থাকি, এক আত লইয়া জান্নাতো যাওয়া তুমার লাগি ভালা। জাহান্নামর আগুইন তো কুনুদিন নিভে না। 45তুমার পাও যুদি তুমার রিপু অইযায়, তে পাও কাটিয়া ফালাই দেও। দুইও পাও লইয়া জাহান্নামো জলা থাকি, লেংড়া অইয়া জান্নাতো যাওয়া তুমার লাগি ভালা। 46-47তুমার চউখ যুদি তুমার রিপু অইযায়, তে চউখ তুলিয়া ফালাই দেও। দুইও চউখ লইয়া জাহান্নামো জলা থাকি, কানা অইয়া আল্লার বাদশাইত দাখিল অওয়া তুমার লাগি ভালা। 48ই জাহান্নামর বিচ্ছু অকল মরে না, আর হিনর আগুইনও কুনুদিন নিভে না।
49“হুনো, পরতেক মানুষউ আগুনিত নুনতা অইবো। 50নুন তো ভালা জিনিস, অইলে নুনে যুদি তার নুনতা গুন খুয়াইলায়, তে তারে আর নুনতা বানাইল যাইবো নি? তুমরা যারযির দিলর মাজে ই নুন কাইম রাখো, আর একে-অইন্যে শান্তিয়ে বসত করো।”
10তালাকর মুছলা
1কফরনাউম থাকি হজরত ইছা এহুদিয়া জিলাত আইলা, আর জর্দান গাংগর হপারো গেলা। অনো আইলে হিরবার বউত মানুষ আইয়া তান গেছে দলা অইলা। তাইনও তান রেওয়াজ মাফিক এরারে তালিম দিলা। 2অউ সময় তানরে পরিক্ষা করার নিয়তে ফরিশি মজহবর কয়জনে আইয়া জিকাইলো, “ছাব, কউক্কাছাইন, বউরে তালাক দেওয়া জাইজ আছে নি?” 3তাইন জুয়াপ দিলা, “হজরত মুছায় আপনাইন্তরে কিতা বাতাইছইন?” 4তারা কইলা, “তাইন কইছইন, তালাক নামা লেখিয়া হারি বউ তালাক দেওয়া জাইজ আছে।” 5ইছায় কইলা, “তুমরার দিল পাষান, এরলাগিউ মুছা নবীয়ে ই মুছলা লেখছইন। 6অইলে এওখান তো লেখা আছে, আল্লায় পয়লা আদম আর হাওয়ারে মর্দ আর আওরত বানাই পয়দা করছইন। 7এরদায় মানষেও তারার মা-বাফরে থইয়া বউর লগে আশিক অইবা। 8জামাই আর বউ এক কায়া অইবা। তারা দুই রইতা নায়, এক অইবা। 9তে আল্লায় যেতা জুড়া লাগাইছইন, মানষে ইতারে আলগ না করউক।”
10বাদে সাহাবি অকলে ঘরো হামাইয়া, হিরবার তানরে অউ মুছলা জিকাইলা। 11তেউ ইছায় কইলা, “যে মানষে তার বউরে তালাক দিয়া আরক বেটিরে নিকা করে, হে তো অউ বউর লগে জিনা করে। 12অউলা বউয়েও যুদি নিজর জামাইরে তালাক দিয়া আরক বেটার গেছে নিকা বয়, তে তাইও জিনা করে।”
হুরু হুরুতাইন্তর বেয়াপারে তালিম
13বাদে মানষে হুরু হুরু হুরুতাইন্তরে লইয়া ইছার গেছে আইলা তারারে আতাই দিবার লাগি। অইলে সাহাবি অকলে এরারে বকা-জকা করলা। 14ইতা দেখিয়া ইছা নারাজ অইয়া তারারে কইলা, “হুরুতাইন্তরে আমার গেছে আইতে মানা করিও না, আল্লার বাদশাই তো এরার লাখান মানষর লাগিউ। 15আমি হক কথা কইরাম, হুরু হুরুতাইন্তে যেলা বড়র শাসন মানইন, আল্লার শাসনরে অউ লাখান না মানলে, মানুষ কুনুমন্তেউ আল্লার বাদশাইত হামাইতো পারতো নায়।” 16বাদে তাইন তারারে কুলো লইয়া তারার মাথাত আত রাখিয়া দোয়া করলা।
গরিব আর ধনির বেহেস্ত
17হজরত ইছা যেবলা বার অইয়া রওয়ানা অইলা, অউ সময় এক বেটা দৌড়াইয়া আইয়া আটু গাড়িয়া তান ছামনে বইয়া কইলো, “উস্তাদ, আপনে তো মেহেরবান। তে আমারে বাতাই দেউক্কা, আখের পাওয়ার লাগি আমি কিতা করতাম?” 18তাইন কইলা, “আমারে কেনে মেহেরবান কইরায়? এক আল্লা ছাড়া আর কেউ মেহেরবান নায়। 19তুমি তো তৌরাত কিতাবর হুকুম জানো। খুন করিও না, জিনা করিও না, চুরি করিও না, মিছা সাক্ষি দিও না, টগা-টগি করিও না, মা-বাফরে ইজ্জত করিও।” 20বেটায় কইলো, “ছাব, আমি তো হুরুমান থনেউ ইতা আমল করিয়ার।” 21তেউ ইছায় মায়ার নজরে তার বায় চাইয়া কইলা, “খালি একখান জিনিস তুমার বাকি রইছে। তুমি যাও, গিয়া তুমার হকল ধন-ছামানা বেচিয়া গরিব অকলরে বিলাই দেও। তেউ তুমি বেহেস্তো তুমার ছামানা কামাইবায়। বাদে আইয়া আমার উম্মত অইও।” 22ইখান হুনিয়া বেটার মুখ কালা অইগেল। তার বউত ধন-ছামানা আছিল করি মনো দুখ লইয়া গেলগি।
23তেউ ইছায় চাইরোবায় চাইয়া তান সাহাবি অকলরে কইলা, “ধনি মানুষ আল্লার বাদশাইত হামানি বড় মশকিল।” 24ইখান হুনিয়া এরা তাইজ্জুব অইগেলা। ইছায় হিরবার কইলা, “বাবা অকল, দেখরায় নি, দুনিয়াবি ধন-ছামানার উপরে যেরা ভরসা করে, আল্লার বাদশাইত হামানি তারার লাগি বউত মশকিল। 25ধনি মানুষ আল্লার বাদশাইত হামানির চাইতে, ছুইর ফুড়েদি উট হামানি আরো সুজা।” 26ইখান হুনিয়া সাহাবি অকল আরো তাইজ্জুব অইয়া একে-অইন্যে কইলা, “তে কুন মানষে নাজাত হাছিল করব, কে রেহাই পাইবো?” 27ইছায় এরার বায় চাইয়া কইলা, “মানষর লাগি অসম্ভব অইতো পারে, অইলে আল্লার নজরো ইতা তো মামুলি। তাইন হকলতাউ পারইন।” 28সাহাবি পিতরে কইলা, “হুজুর, আমরা তো হকলতা ফালাই থইয়া আপনার খরে আইছি।” 29তাইন কইলা, “আমি তুমরারে হক কথা কইরাম, যে মানষে আমার লাগি আর আল্লার বাতাইল খুশ-খবরির লাগি নিজর বাড়ি-ঘর, মা-বাফ, ভাই-বইন, পুয়া-পুড়ি, জমি-মিরাস ছাড়ি দিছে, 30হে অউ দুনিয়াত ইতার একশো গুন বেশি বাড়ি-ঘর, মা-বাফ, ভাই-বইন, পুয়া-পুড়ি, জমি-মিরাস পাইব। ইতার লগে হে জুলুম-তকলিফও পাইব। বাদর জিন্দেগিত হে আখেরও পাইব। 31অইলে যেরা পয়লা কাতারো আছইন, এরার মাজে বউত জন খরে পড়িযিবা, আর যেরা খরর কাতারো আছইন, তারার বউত জন পয়লা কাতারো আইবা।”
তিছরা বার নিজর মউতর আগাম খবর
32হজরত ইছায় সাহাবি অকলরে লইয়া জেরুজালেমো যাইরা। তাইন আগে অইয়া আটিরা, আর সাহাবি অকল ডরাই ডরাই খরে খরে যাইরা। আরো যেরা তান খরে অইয়া যাইরা তারার জানোও ডর আছিল। ইছায় তান বারোজন সাহাবিরে আলগা হরাইয়া নিয়া হিরবার কইলা, তান কুন দশা ঘটিবো। 33তাইন কইলা, “হুনো, আমরা অখন জেরুজালেম যাইরাম। হনো আমি বিন-আদমরে ধরিয়া বড় ইমাম আর মৌলানা অকলর আতো সপি দেওয়া অইবো। তারা বিচার করিয়া কাতল করার রায় দিবা। আমারে বিধর্মী জাতির আতো সমজাই দিবা। 34অউ বিধর্মী অকলে ঠাট্টা-মশকরা করিয়া, শরিলো ছেফ ছিটাইয়া, বেজুইতা চাবুক মারবা, আর কাতল করবা। মউতর তিন দিন বাদে হিরবার জিন্দা অইয়া উঠমু।”
মন্ত্রী অওয়ার লাগি অনুরোধ
35বাদে জিবুদিয়ার দুই পুত ইয়াকুব আর হান্নান নামর দুইও সাহাবি হজরত ইছার গেছে আইয়া কইলা, “হুজুর, আমরা একখান আরজি লইয়া আইছি, মনো কররাম, আপনে আমরার আরজিখান রাখবা।” 36তাইন কইলা, “আমি তুমরার লাগি কিতা করতাম, তুমরা কিতা চাইরায়?” 37এরা কইলা, “আপনে যেবলা পুরাপুর দাপটর লগে রাজ-গদিত বইবা, অউ সময় আমরা একজনরে আপনার ডাইনর গদি, অইন্য জনরে বাউওর গদিখান দিবা।” 38ইছায় কইলা, “তুমরা তো বুজরায় না তুমরা কিতা চাইরায়। আমি যে তকলিফর পিয়ালাদি খাইমু, ইতা কুনু তুমরা খাইতায় পারবায় নি? আমি যে তকলিফর গোছল করমু, তুমরা ইতা পারবায় নি?” 39তারা কইলা, “জিঅয় পারমু।” তাইন কইলা, “আইচ্ছা, আমি যে পিয়ালাদি খাইমু, তুমরাও অগুদি খাইবায়। আমি যে গোছল করমু, তুমরাও অউলা করবায়। 40অইলে আমার ডাইন বা বাউ গালাত বওয়ানির এখতিয়ার আমার আতো নায়। ই গদি অকল যেরার লাগি জুইত করা অইছে, খালি তারাউ পাইবা।” 41বাকি দশজন সাহাবিয়ে ইয়াকুব আর হান্নানর ই আরজি হুনিয়া খুব বিরক্ত অইলা। 42তেউ ইছায় এরা হকলরে একখানো দলা করিয়া কইলা, “তুমরা তো জানো, বিধর্মী জাতির রাজা অকল তারার প্রজার মুনিব অয়। তারার জমিদার অকলে নিজর গুলামর উপরে বেটাগিরি করে। 43অইলে তুমরার মাজে ইলা অওয়া ঠিক নায়। তুমরার কেউ দামি বনতে চাইলে, হে তুমরার খেজমত করউক। 44আর কেউ বড় অইতে চাইলে, হে হকলর গুলামি করউক। 45মনো রাখিও, আমি বিন-আদমেও খেজমত পাওয়াত আইছি না, আইছি তো খেজমত করাত। আর বউত মানষর জান বাচানির লাগি নিজর জান বিলাই দেওয়াত আইছি।”
আন্দা বেটারে শিফা করা।
46হজরত ইছায় তান সাহাবি অকল লইয়া যিরিহো টাউনো আইলা। বাদে এরারে আর আরো বউত মানষরে লইয়া টাউন থাকি বারনির বালা, তীময়র পুয়া বরতীময় নামর এক আন্দা বেটায় পথর ধারো বইয়া ভিক করাত আছিল। 47এইনউ নাছারত গাউর ইছা, ইখান হুনিয়া বেটায় জুরে চিল্লাই চিল্লাই কইলো, “ও ইছা, হজরত দাউদর আওলাদ, আমারে রহম করইন।” 48চিল্লানি হুনিয়া বউতে কইলা, “চুপ, চিল্লাইছ না।” অইলে হে আরো জুরে চিল্লাইয়া কইলো, “দাউদর আওলাদ, আমারে রহম করইন।” 49তার চিল্লানি হুনিয়া ইছায় দম লইয়া কইলা, “এরে অনো আনো।” মানষে অউ আন্দা বেটারে কইলা, “ডরাইও না, আও। হুজুরে তুমারে ডাকিরা।” 50তেউ বেটায় তার শরিলর চাদ্দর খুলিয়া, ফালদি উঠিয়া তান কান্দাত গেল। 51ইছায় তারে জিকাইলা, “তুমি কিতা চাওবা? আমি তুমারে কিতা করতাম?” বেটায় কইলো, “হুজুর, আমি চউখে দেখতাম চাই।” 52তাইন কইলা, “আইচ্ছা যাও, তুমার ইমানর বলেউ তুমি ভালা অইলায়।” কইতেউ তার দেখার শক্তি আইলো আর ইছার খরে খরে রওয়ানা অইলো।
11জেরুজালেম টাউনো হজরত ইছা (১১:১-১৩:৩৭)
বাদশার বেশে জেরুজালেমো হামানি
1হজরত ইছায় তান সাহাবিরে লইয়া জেরুজালেমর কাছাত, জয়তুন পাড়র লগে বায়ত-আনিয়া আর বায়ত-ফাইজ্জা গাউত আইয়া আজিলা। অনো আইয়া তাইন দুইজন সাহাবিরে কইলা, 2“তুমরা দুইও জন ছামনর অউ গাউত যাও। গিয়া গাউত হামাইতেউ দেখবায় এগু গাধার বাইচ্চা বান্দা আছে। এর উপরে কেউ কুনুদিন ছওয়ার অইছে না। অগুর গলার দড়ি খুলিয়া অনো লইয়া আইও। 3কেউ জিকাইলে কইও, হুজুরর দরকার আছে, এরদায় নিরাম। তাইন জলদি করি ফিরত দিলাইবা।” 4তান হুকুম মাফিক এরা গেলা। গিয়া দেখলা, হাছাউ পথর কান্দাত এক বাড়ির উঠানো গাধার বাইচ্চা বান্দা আছে। দেখিয়া এরা তার বান্দ খুলিতা চাইলা, 5অউ সময় হনো উবা কয়জন মানষে জিকাইলা, “ওবা, তুমরা ই বাইচ্চার দড়ি খুলরায় কেনে?” 6তেউ ইছায় যেলা হিকাই দিছলা, এরা অউলাউ জুয়াপ দিলা। ইখান হুনিয়া মানষে আর কুন্তা কইলা না। 7গাধার বাইচ্চা লইয়া ইছার গেছে আইয়া হারলে, মানষে নিজর গতরর চাদ্দর খুলিয়া গাধার পিঠিত বিছাইলা। বাদে তাইন এর উপরে চড়িলা। 8আরো বউত মানষে তারার গতরর চাদ্দর খুলিয়া পথর মাজে বিছাই দিলা, আর বউতে গাছর পাতাইন ছিড়িয়া আনিয়া পথো বিছাইলা। 9ইছার লগে অইয়া আগে-খরে যেরা যাওয়াত আছিল, এরা জুরে জুরে এলান দিলা,
“মারহাবা! মাবুদর নামে যেইন তশরিফ আনরা,
তান তারিফ অউক।
10আমরার মুল-মুরব্বি দাউদর বাদশাই কাইম অর,
আল-হামদুলিল্লা! বেহেস্তোও মারহাবা!”
11জেরুজালেম আইয়া তাইন পবিত্র বায়তুল-মুকাদ্দছো হামাইলা আর চাইরোবায় চাইয়া হকলতা দেখলা। বাদে হাইঞ্জা অইযাওয়ায় তান বারোজন সাহাবিরে লইয়া বায়ত-আনিয়াত গেলাগি।
12বাদর দিন বায়ত-আনিয়া থাকি বিদায় অওয়ার সময় তান পেটো ভুক লাগলো। 13অউ তাইন দুরই থাকি পাতায় ভরা এগু ডুমুর গাছ দেখিয়া, অগুর ফল খাইবার নিয়তে গাছর ধারো গেলা। অউ সময় ডুমুর গাছো ফল ধরার দিন নায়। তাইন গিয়া দেখলা, গাছর মাজে খালি পাতা, কুনু ফল নাই। 14তাইন অউ গাছরে কইলা, “আর কুনুদিন কেউ যানু তুমার ফল না খায়।” তান ই বুলি সাহাবি অকলে হুনিলিলা।
জেরুজালেমর কাবা শরিফরে পাক-ছাফ করা
15বাদে জেরুজালেম আইয়া তাইন পবিত্র বায়তুল-মুকাদ্দছো হামাইলা। আর কাবা ঘরর সীমানাত যতো খরিদ-বিকির কারবারি আছিল, ইতারে খেদাই দিলা। তাইন টেকার বাট্টার কারবারি অকলর কেশ বাক্স, আর পারো বেচরা অকলর আসন উল্টাইয়া ফালাই দিলা। 16বায়তুল-মুকাদ্দছর উঠানেদি কুনুজাত মাল-ছামানা লইয়া চলাচল করতে নিষেধ দিলা। 17তাইন তালিম দিলা, “আল্লার কালামো বাতাইল অইছে না নি, আমার ঘররে দুনিয়ার তামাম জাতির এবাদত খানা কইয়া ডাকা অইবো? অইলে তুমরা ই ঘররে ডাকাইতর বালাখানা বানাইলিছো।” 18ইখান হুনিয়া বড় ইমাম আর মৌলানা অকলে তানরে কাতল করার ধান্দাত লাগলা। অইলে তারা ইছারে খুব ডরাইতা, কারন তান তালিম হুনিয়া মানষর মাজে আচানক এশকি পয়দা অইছিল। 19হাইঞ্জা বালা তাইন সাহাবি অকলরে লইয়া টাউনর বারে গেলাগি।
মজবুত ইমানর দোয়া
20বিয়ানে সাহাবি অকলে পথেদি আটিয়া আওয়ার বালা দেখলা, অউ ডুমুর গাছ এক্কেরে জড়ে-ফড়ে হুকাইয়া মরি গেছে। 21দেখিয়া সাহাবি পিতরর মনো অইগেল। অউ তাইন কইলা, “হুজুর, আপনে যে গাছরে বদদোয়া দিছলা, দেখউক্কা, ইগু মরি গেছে।” 22তাইন এরারে কইলা, “আল্লার উপরে একিন রাখো। 23আমি তুমরারে হাছাউ কইরাম, কুনু মানষে তার দিলর মাজে সন্দয় না করিয়া, পুরাপুর ইমানে যুদি অউ পাড়োরে কয়, যাও, উড়িয়া গিয়া দরিয়াত পড়ো, তে হে যেলা কইবো তার লাগি অলা করা অইবো। 24এরদায় আমি তুমরারে কইরাম, দোয়া করার সময় তুমরা যেতা মাংগো, একিন করিও তুমরা ইতা পাইলিছো। তেউ হাছাউ ইতা পাইবায়। 25-26তুমরা যেবলাউ দোয়া করাত উবাও, অউ সময় কেউরর বিরুদ্ধে তুমরার কুনু নালিশ থাকলে, তারে মাফ করি দিও। তেউ তুমরার বেহেস্তি বাফ আল্লায়ও তুমরার তামাম গুনা মাফ করি দিবা।”
হজরত ইছায় কার এখতিয়ারে কাম করইন?
27বাদে হজরত ইছায় তান সাহাবি অকলরে লইয়া হিরবার জেরুজালেম আইলা। তাইন কাবা ঘরর উঠানো আটিরা, অউ সময় বড় ইমাম অকলে, মুরব্বি আর মৌলানা অকলে তান ধারো আইয়া জিকাইলা, 28“তুমি কুন এখতিয়ারে ইতা কররায়? কে তুমারে ই খেমতা দিছে?” 29তাইন কইলা, “আমি আপনারারে একখান ছওয়াল করমু। আপনারা এর জুয়াপ দিলাইলে, আমিও কইমু, কার এখতিয়ারে আমি ইতা করিয়ার। 30আইচ্ছা কউক্কা ছাইন, হজরত এহিয়ায় তরিকার গোছল দেওয়ার এখতিয়ার কার গেছ থাকি পাইছলা, আল্লার গেছ থাকি, না মানষর গেছ থাকি?” 31ইখান হুনিয়া তারা কানে কানে মাতিলা, “আমরা যুদি কই আল্লার গেছ থাকি, তে তাইন কইবা, তুমরা তান উপরে ইমান আনলায় না কেনে? 32আর যুদি কই মানষর গেছ থাকি, তে তো?” তারা মানষরে খুব ডরাইতা, কারন হকল মানষেউ মানতা, হজরত এহিয়া একজন নবী। 33এরদায় তারা জুয়াপ দিলা, “আমরা ইখান জানি না।” তেউ ইছায়ও কইলা, “তে আমিও আপনারারে কইতাম নায়, কার এখতিয়ারে আমি ইতা করিয়ার।”
12আংগুর খেতর গিরস্তর কিচ্ছা
1তেউ হজরত ইছায় হউ মৌলানা অকলরে কিচ্ছা হুনাইয়া বুজাইলা, “একজন মানষে আংগুর খেত করিয়া তার চাইরোবায় বেড়া দিলা। বাদে আংগুরর রস বার করার লাগি এক গাত খুদিলা আর চকিদারর লাগি উচা করি একখান টং-ঘর বানাইলা। হেশে মানষর গেছে খেত বাগি দিয়া মালিক বিদেশ গেলাগি। 2আংগুর পাকিয়া হারলে মালিকে তান এক গুলামরে বাগিদারর গেছে পাঠাইলা, তান বাট আনার লাগি। 3অইলে বাগিদার অকলে ই গুলামরে ধরি মাইর-ধইর করি, খালি আতে বিদায় করি দিলো। 4তেউ মালিকে তান আরো এক গুলামরে পাঠাইলা। বাগিদার অকলে তারেও গালা-গালি করিয়া মারিয়া তার মাথা ফাটাইলিলো। 5এরবাদে তাইন আরো একজনরে পাঠাইলা। এনরে তারা জানে মারিলিলো। অলাখান করি তাইন আরো বউত জনরে পাঠাইলা। এরার মাজর কয়জনরে তারা মাইর-ধইর করলো, আর কয়জনরে জানে মারিলিলো। 6হেশে মালিকর খালি একজন মানুষ বাকি রইছিল, হে অইলো তান মায়ার পুত। হেশ-মেশ তাইন অউ পুয়ারেউ তারার গেছে পাঠাইলা, মনো করলা, আমার পুয়ারে তারা ইজ্জত দিবো। 7অইলে বাগিদার অকলে একে-অইন্যে পরামিশ করি কইলো, ‘অউ পুয়াউ তো বাদে ই সম্পত্তির মালিক অইবো। তে আও, এরেও আমরা মারিলাই, তেউ আমরাউ ইতার মালিক বনিযিমু।’ 8কইয়াউ তারা পুয়ারে ধরিয়া জানে মারিয়া, আংগুর খেতর বারে নিয়া ফালাই দিলো।
9“তে অখন কউক্কা ছাইন, খেতর মালিকে কিতা করবা? তাইন আইয়া তো অউ বাগিদার অকলরে মারিলিবা আর খেত অইন্য মানষর গেছে বাগি দিবা। 10আপনারা আল্লার কালামো পড়ছইন না নি,
রাজ মেস্তইর অকলে যে পাথররে বেকামা কইয়া ফালাই দিছিল,
অকটা দিয়াউ ঘরর ইয়ান খুটি অইলো।
11মাবুদে নিজেউ ইতা অওয়াইলা,
ইতা দেখিয়া তো আমরার তাইজ্জুবি লাগের।”
12ইতা হুনিয়া তারা ইছারে ধরিলিতো চাইলো। তারা বুজিলিলো, তাইন ই কিচ্ছা তারার বিপক্ষেউ কইরা। অইলে মানষরে ডরাইয়া তানরে ছাড়িয়া গেলগি।
খাজনা দিবার বেয়াপারে তালিম
13বাদে অউ মুরব্বি আর মৌলানা অকলে ইছারে ফান্দো ফালানির লাগি, ফরিশি আর রাজা হেরোদর দলর কয়জন মানষরে তান গেছে পাঠাইলো। 14তারা আইয়া কইলো, “হুজুর, আমরা তো জানি, আপনে একজন হক মানুষ। মানষে কিতা মনো করে বা না করে, ইতায় আপনার কুন্তাউ যায় আয় না, আপনে তো কেউরর মুখর বায় চাইয়া কুন্তা করইন না। হক-হালাল নিয়মে মানষরে আল্লার রাস্তা বাতাই দিরা। তে আমরারে বাতাই দেউক্কা, হজরত মুছার শরিয়ত মাফিক রোমান বাদশারে খাজনা দেওয়া জাইজ নি? 15আমরা তানরে খাজনা দিতাম নি, না দিতাম না?” তাইন তারার ভন্ডামি বুজিলিলা, বুজিয়া কইলা, “তুমরা কেনে আমারে পরিক্ষা কররায়? দেখি, একটা দিনার আনিয়া আমারে দেখাও।” 16তারা দিনার লইয়া তান গেছে আইলে, তাইন জিকাইলা, “ই পয়সার উপরে কার নাম আর ছবি?” তারা কইলা, “রোমান বাদশার।” 17তাইন কইলা, “তে হুনো, বাদশার যেতা ইতা বাদশারে দেও, আর আল্লার যেতা ইতা আল্লারে দেও।” ইখান হুনিয়া তারা আম্মক বনিগেলা।
মরন বাদে জিন্দা অওয়া
18বাদে সিদ্দেকিয়া মজহবর কয়জন মানুষ ইছার কান্দাত আইলা। এরা একিন করইন, মউতর বাদে কুনু মানুষ আর জিন্দা অইয়া উঠইন না। এরদায় তারা ইছারে জিকাইলা, 19“হুজুর, হজরত মুছায় আমরার লাগি অউ মুছলা লেখিয়া গেছইন, কুনু মানষে বিয়া করিয়া, তার বউরে নিআওলাদি হালতে থইয়া হে যুদি মারা যায়, তে তার ভাইয়ে অউ বেটিরে বিয়া করিয়া তার ভাইর বংশ বাচাইতে অইবো। 20তে ধরউক্কা, এক পরিবারো সাত ভাই আছিল। বড় জনে বিয়া করিয়া নিআওলাদি হালতে মারা গেল। 21বাদে দুছরা ভাইয়ে তার অউ ড়াড়ি ভাবিরে বিয়া করলো। অইলে হে-ও নিআওলাদি রইয়া মারা গেল। বাদে তিন নম্বর ভাইয়ে বিয়া করিয়া হে-ও অউলা মারা গেল। 22অউ নমুনায় তারা সাতো ভাইর কেউররউ হুরুতা অইলো না। হেশে অউ বেটিও মারা গেল। 23তে মরন বাদে যেবলা মানুষ জিন্দা অইয়া উঠবা, অউ সময় ই বেটি, এরা কুন ভাইর বউ অইবো? তারা হকলেউ তো ই বেটিরে বিয়া করছিল।”
24তাইন জুয়াপ দিলা, “আপনারা তো আল্লার কালামও জানইন না, আল্লার কুদরতি তাক্কতও বুজইন না। এরদায় আপনারা ই ভুল কররা। 25হুনউক্কা, মুর্দা অকল যেবলা জিন্দা অইয়া উঠবা, অউ সময় তারা বিয়া-শাদি করতা নায়, কেউ তারারে বিয়া দিতোও নায়। এরা তো ফিরিস্তার লাখান বনিযিবা। 26তৌরাত কিতাবো তুর পাড়র জংলা জলার বয়ানির মাজে, মুর্দা অকল জিন্দা অওয়ার বেয়াপারে কিতা লেখা আছে, ইতা আপনারা পড়ছইন না নি? আল্লায় মুছা নবীরে কইলা, ‘আমিউ ইব্রাহিম, ইছহাক আর ইয়াকুবর আল্লা’। 27তে আল্লা তো মুর্দা অকলর আল্লা নায়, তাইন জিন্দা অকলর আল্লা। আপনারা তো বউত বড় ভুল করছইন।”
হকল থাকি বড় হুকুম
28অউ সময় একজন মৌলানা আইয়া এরার তর্কা-তর্কি হুনলা। আর ইছায় যেন ঠিক জুয়াপ দিছইন ইখান বুজিয়া এইন জিকাইলা, “কউক্কা ছাইন, তৌরাত শরিফর মাজে হকল থাকি বড় হুকুম কুনটা?” 29ইছায় জুয়াপ দিলা, “হকল থাকি বড় হুকুম অইলো, ও বনি ইছরাইল, আমরার মাবুদ আল্লা এক। 30তুমরার আস্তা দিল, জান, মন আর হকল শক্তি দিয়া তুমরার মাবুদ আল্লারে মহব্বত করিও। 31দুছরা হুকুম অইলো, তুমরার আরি-ফরিরে নিজর লাখান মায়া করিও। অউ দুইও হুকুম থাকি বড় আর কুনু হুকুম নাই।” 32ইখান হুনিয়া হি মৌলানায় কইলা, “হুজুর, মারহাবা! আপনে তো ঠিকউ কইছইন, আল্লা এক, তাইন ছাড়া আর কুনু মাবুদ নাই। 33আর আস্তা দিল, বিবেক-বুদ্ধি, হকল শক্তি দিয়া তানরে মহব্বত করা, আরি-ফরিরে নিজর লাখান মায়া করা অইলো, হকল নমুনার পশু কুরবানি আর লিল্লা-ছদগা থাকিও জরুরি।” 34ইছায় যেবলা দেখলা, অউ মৌলানায় খুব সুন্দর করি জুয়াপ দিছইন, অউ তাইন কইলা, “আল্লার বাদশাই থাকি আপনে তো বেশি দুরই নায়।” এরবাদে থনে ইছারে কুনু ছওয়াল করার সাওস আর কেউরর অইলো না।
আল-মসী কে?
35ইছায় বায়তুল-মুকাদ্দছো তালিম দেওয়ার সময় জিকাইলা, “মৌলানা অকলে কেমনে কইন, আল-মসী অইলা হজরত দাউদর আওলাদ? 36দাউদে তো পাক রুহর বলে কইছইন,
মাবুদে আমার মুনিবরে কইলা,
আমি যতো সময় তুমার দুশমন অকলরে
তুমার পাওর তলাত না ফালাই,
অতো সময় তুমি আমার ডাইনর তখতো বও।
37দাউদে যেবলা নিজেউ আল-মসীরে তান মুনিব কইছইন, তে আল-মসী কেমনে দাউদর আওলাদ অইবা?” বউত মানষে খুশি অইয়া ইছার বয়ান হুনাত আছিল।
38বয়ানর মাজে তাইন কইলা, “মৌলানা অকলর বেয়াপারে হুশিয়ার রইও। তারা খালি লাম্বা লাম্বা জুব্বা ফিন্দিয়া বাজার-আটো ঘুরা-ফিরা করইন আর ইজ্জত পাইতা চাইন। 39তারার শখ অইলো কুনু মজলিছো গেলে দামি জাগাত বওয়া, খানির সময় ছামনর কাতারো বইয়া খাওয়া। 40একবায় তারা লাম্বা লাম্বা দোয়া করিয়া মানষর মন গলাইন, আরক বায় ড়াড়ি বেটিন্তর জমি-মিরাস দখল করি নেইন। হাশরর ময়দানো এরার হকল থাকি বড় মছিবত অইবো।”
গরিব ড়াড়ি বেটির ছদগা দেওয়া
41বাদে তাইন বায়তুল-মুকাদ্দছর লিল্লার ডেগর কান্দাত বইয়া দেখলা, মানষে আইয়া কেমনে লিল্লা-ছদগা দিরা। তাইন দেখলা, বউত ধনি মানষে বেশ করি টেকা-পয়সা দান কররা। 42বাদে এক গরিব ড়াড়ি বেটিয়ে আইয়া খালি দুইটা পয়সা দান করলো। 43দেখিয়া তান সাহাবি অকলরে কইলা, “আমি তুমরারে হক কথা কইরাম, হকল মানুষ থনে অউ বেটিয়ে বেশি দান করলো। 44হকল মানষে তারার বউত ধন-ছামান থাকি কিছু অংশ দান করছে, অইলে ই বেটি অভাবি অইলেও, বেটিয়ে নিজর লাগি কুন্তা না রাখিয়া, হকলতাউ দান করি দিলো।”
13কিয়ামতর আলামত
1হজরত ইছা বায়তুল-মুকাদ্দছ থাকি বার অইয়া যাওয়ার বালা তান একজন সাহাবিয়ে কইলা, “হুজুর, অউ দেখউক্কা, কত বড় বড় পাথরর ওয়াল আর সুন্দর সুন্দর দলান।” 2তাইন কইলা, “তুমি অউ যেতা বড় বড় দলান দেখরায়, ইতার দুই পাথর একখানো লাগাইল রইতো নায়, হকলতা ভাংগা অইযিবো।” 3বাদে তাইন যেবলা জয়তুন পাড়র উপরে বায়তুল-মুকাদ্দছ কাবা শরিফ মুখা বওয়াত আছলা, অউ সময় সাহাবি পিতর, ইয়াকুব, হান্নান আর আন্দ্রিয়াছে তানরে নিরালায় জিকাইলা, 4“হুজুর, আমরারে জানাউক্কা, ইতা কুন সময় অইবো? কুন আলামত দেখিয়া আমরা বুজমু, ইতা বিনাশ অওয়ার সময় আইচ্ছে?” 5তাইন কইলা, “দেখিও, কেউ যানু তুমরারে না টগে। 6বউত জনে আমার নাম ধরিয়া আইয়া কইবো, আমিউ হেইন, কইয়া বউতরে টগিবো। 7অইলে যুদ্ধর আওয়াজ আর লাড়াইর খবর হুনিয়া তুমরা ডরাইও না। ইতা নিচয় ঘটব, ঘটলেও ইতা তো শেষ নায়। 8এক জাতিয়ে আরক জাতির লগে, এক দেশে আরক দেশর লগে লাড়াই করবো। বউত জাগাত ভৈছাল আর নিদান দেখা দিবো। অইলে ইতা তো খালি মছিবতর শুরু।
9“তুমরা নিজর বেয়াপারে হুশিয়ার রইও। মানষে তুমরারে ধরিয়া বিচারর আদালতো সমজাইবো। মছিদর ভিতরে তুমরারে ছিংলাদি মারা অইবো। আমার লাগি তুমরারে দেশর রাজা-বাদশার ছামনে নেওয়া অইবো। তুমরা এরার ছামনে আমার বেয়াপারে সাক্ষি দিবায়। 10পয়লা দুনিয়ার তামাম জাতির গেছে আল্লার দেওয়া খুশ-খবরি তবলিগ করা জরুর। 11তুমরারে ধরিয়া যেবলা বিচারো নেওয়া অইবো, অউ সময় কিতা জুয়াপ দিতায়, ইতা লইয়া আগে কুনু চিন্তা করিও না। হউ সময় তুমরারে যেতা হিকাইয়া দেওয়া অইবো, তুমরা অতাউ কইও। আসলে তুমরা তো হিনো মাততায় নায়, পাক রুহেউ মাতিবা। 12ভাইয়ে ভাইরে, বাফে পুয়ারে জানে মারার লাগি ধরাই দিবো। পুয়া-পুড়িয়ে আপন মা-বাফর বিরুদ্ধে গিয়া, মা-বাফরে খুন করাইবো। 13আর আমার লাগি হকলে তুমরারে ঘিন্নাইবো, অইলে হেশ পর্যন্ত যে টিকিয়া রইব, হে রেহাই পাইবো।
14“যে তিলাওত করের হে বুজউক, বেজুইতা মছিবতর ঘিন্নার ই চিজ যে জাগাত আওয়ার কথা নায়, ই চিজরে যেবলা অনো দেখবায়, অউ সময় যেরা এহুদিয়া জিলাত আছইন, তারা বাগিয়া পাড়িয়া এলাকাত যাউক। 15ছাতর উপরে যেরা রইবা, তারা লামাত লামিয়া কুন্তা নেওয়ার লাগি ঘরর ভিতরে আর না হামাউক। 16খেতর মাজে যেরা রইবা, তারার গতরর চাদ্দর নেওয়ার লাগি বাড়িত না আউক। 17অউ সময় যেতা বেটিন্তর হুরুতা অইতা, আর যেরা হুরুতারে বুকুর দুধ খাওয়াইরা, তারার বড় জবর মছিবত অইবো। 18তুমরা দোয়া করো, ইতা যানু শীতর দিনো না অয়। 19অউ সময় তো অতো বেজুইতা কষ্ট অইবো, যেতা দুনিয়ার পয়লা থনে আইজ পর্যন্ত কুনুদিন অইছে না, আর কুনুদিন অইতোও নায়। 20মাবুদে যুদি ই সময়রে কমাইয়া না দিতা, তে কেউ জিন্দা রইলো না অনে। অইলে আল্লায় তান পছন্দ করা বন্দা অকলর লাগি ই সময় কমাই দিছইন। 21হি সময় কেউ যুদি তুমরারে কয়, হুনছো নি, আল-মসী অনো আইছইন, বা দেখো, অউনু তাইন, তে তুমরা ইতা একিন করিও না। 22কারন বউত ভন্ডয় আইয়া কইবো, আমিউ আল-মসী, আর বউত ভন্ড নবীও আইবা। সম্ভব অইলে তারা আল্লার পছন্দ করা বন্দা অকলরেও ধুকা দিয়া বে-পথে নিতা করি বউত কেরামতি-মোজেজা দেখাইবা। 23অইলে তুমরা হুশিয়ার রইও, আমি তো তুমরারে আগেউ ইতা হাল-হকিকত জানাই দিলাম।
24“অউ মছিবতর সময় পারনির বাদে,
সুরুজ আন্দাইর অইযিবো,
চান্দে আর ফর দিতো নায়।
25তেরা অকল আছমান থাকি খুলিয়া পড়িযিবো,
আছমানর কুনু শক্তিআলা চিজউ
ঠিক-ঠাক রইতো নায়।
26অউ সময় মানষে দেখবা, বিন-আদমে আল্লার কুদরতি জালাল আর শান-তজল্লিয়ে, মেঘর টুকরাত অইয়া দুনিয়াত তশরিফ আনরা। 27তাইন ফিরিস্তা অকলরে দুনিয়ার এক মাথা থাকি আরক মাথাত পাঠাইয়া, আল্লার পছন্দ করা বন্দা অকলরে চাইরোবায় থনে দলা করবা।
28“ডুমুর গাছর বায় চাইয়া ইলিম কামাই করো। গাছর ডালপালা নরম অইয়া যেবলা নয়া কুড়ি বারয়, অউ সময় তুমরা বুজিলাও গরমর দিন আইচ্ছে। 29তে অউ লাখান তুমরা যেবলা দেখবায় ইতা হকলতা ঘটের, দেখিয়া বুজিলিও, বিন-আদমও ধারো আইচ্ছইন। খালি ধারো নায়, তাইন আইয়া দুয়ারো ঠুকাইরা। 30আমি তুমরারে হক কথা কইরাম, ইতা না ঘটা পর্যন্ত ই জমানার মানুষ ফুড়াইতা নায়। 31আছমান-জমিন হকলতা বিনাশ অইযিবো, অইলে আমার কালাম হামেশা কাইম রইবো।
32“হউ দিন আর হি সময়র বেয়াপারে খালি আমার গাইবি বাফ বাদে আর কেউ জানইন না। আছমানি ফিরিস্তা বা খাছ মায়ার জনেও জানইন না। 33তুমরা হুশিয়ার অও, খিয়াল করি চলো আর দোয়া করো। হি দিন কুন সময় আইবো, তুমরা কেউ তো জানো না। 34অলা এক মানষর লাখান হি দিন আইবো, যেইন বিদেশ যাওয়ার সময় তান গুলাম অকলর আতো হকলতা সমজাই দিয়া যারযির কাম বুজাই দিলা। আর চকিদাররে কইলা হজাগ রইতো। 35তুমরাও অউলা হজাগ রইও। বাড়ির মালিক কুন সময় আইবা, হাইঞ্জা বালা, মাজ রাইতে, পতাবালা না ফজরে আইবা, ইখান তো তুমরা কেউ জানো না। 36তাইন আখতা আইলে যানু না দেখইন, তুমরা ঘুমাই রইছো। 37আমি তুমরারে যেলা কইলাম, হকলরেউ অউলা কইরাম, হজাগ রও।”
14হজরত ইছার দুখ-কষ্ট আর মউত (১৪:১-১৫:৪৭)
হজরত ইছারে হাজানির ভেদ
1আজাদি ইদ আর খামির ছাড়া রুটির ইদর খালি দুই দিন বাকি রইছে। বড় ইমাম আর মৌলানা অকলে, হজরত ইছারে মানষর আফরখে ধরিয়া কাতল করার ধান্দা লাগাইলা। 2তারা কইলা, “ইদর সময় তারে ধরতাম নায়। ধরলে মানষে গন্ডগোল লাগাই দিতো পারে।”
3ইছা অউ সময় বায়ত-আনিয়া গাউর পচা-কুষ্ঠ বেমারি সাইমনর বাড়িত আছলা। অনো বইয়া তাইন খানা খাইরা, আখতাউ এক বেটি মানষে চিনর এক বোতলো করি খুব দামি খাটি আতর লইয়া আইয়া, বোতল ভাংগিয়া হকল আতর তান মাথাত ঢালি দিলো। 4ইতা দেখিয়া হিনো আজির কুনু কুনু জনে না-খুশ অইয়া একে-অইন্যে কইলো, “ই আতর ফুটাইন কেনে বরবাদ করা অইলো? 5ই ফুটিন বেচিলে তো তিনশো দিনার পাইয়া গরিব অকলরে বিলাই দেওয়া গেলো অনে।” অতার লাগি তারা বেটিরে বকা-জকা করলা। 6অইলে ইছায় কইলা, “অইছে, তানরে আর কুন্তা কইও না। তাইন তো আমার লাগি খুব সুন্দর কাম করছইন। 7গরিব অকল তো হামেশাউ তুমরার লগে রইবা। তুমরার যেবলা মনে চায় তারারে সাইয্য করতায় পারবায়। অইলে আমারে তো হামেশা পাইতায় নায়। 8বেচাড়িয়ে যেখান পারছইন অখানউ করছইন। এইন আইয়া আমার গতরো আতর ঢালিয়া, দাফন-কাফনর লাগি আমারে আগেউ জুইত করছইন। 9আমি তুমরারে হক কথা কইয়ার, দুনিয়ার যেকুনু জাগাত আল্লার খুশ-খবরি তবলিগ করার সময়, অউ বেচাড়িরে মনো করার লাগি, তান ই কামর কথা খানও কওয়া যাইবো।”
10বাদে তান বারোজন সাহাবির মাজর একজন, এন নাম ইহুদা ইস্কারিয়াত, এইন ইছারে ধরাইয়া দেওয়ার লাগি বড় ইমাম অকলর গেছে গেলা। 11ইমাম অকলে হুনিয়া খুব খুশি অইয়া কইলা, “তারে ধরাইয়া দিলে তুমারে টেকা দিমু।” তেউ ইহুদায় তানরে ধরাই দেওয়ার সুযোগ তুকানিত রইলো।
হজরত ইছার আখেরি ইদ
12খামির ছাড়া রুটির ইদর পয়লা দিন, আজাদি ইদর লাগি মেড়ার বাইচ্চা জবো করা অইতো। এরদায় সাহাবি অকলে ইছারে জিকাইলা, “হুজুর, আমরা কুন জাগাত গিয়া আপনার লাগি ইদর খানা তিয়ার করতাম?” 13অউ ইছায় তান দুইজন সাহাবিরে কইলা, “তুমরা টাউনো যাও। গিয়া দেখবায় হনো এক বেটা মানষে খৈলাদি পানি ভরিয়া নিরা। তুমরা তান খরে খরে যাইও। 14তাইন যে বাড়িত গিয়া হামাইবা, হউ বাড়ির মালিকরে তুমরা কইও, ‘ছাব, মুরশিদে কইছইন, সাহাবি অকলরে লইয়া আমি যেখানো আজাদি ইদর খানা খাইতাম, হউ মুছাফিরখানা খান দেখাই দেউক্কা।’ 15তাইন তুমরারে উপর তালাত হাজাইল-পাড়াইল এক বড় কুঠা দেখাই দিবা। তুমরা অনো হকলতা তিয়ার করিও।” 16তেউ সাহাবি অকল গিয়া টাউনো হামাইলা। হামাইয়া ইছায় যেলাখান কইছলা, ঠিক অউ লাখান হকলতা পাইলা আর ইদর খানা তিয়ার করলা।
17হাইঞ্জা বালা ইছায় তান বারোজন সাহাবিরে লইয়া অনো আইলা। 18আইয়া খানি খাওয়ার সময় তাইন কইলা, “আমি তুমরারে হক কথা কইরাম, তুমরার মাজর এক জনেউ বেইমানি করিয়া আমারে ধরাই দিবো, হে অখন আমার লগে বইয়া খার।” 19ইখান হুনিয়া তারা খুব বেজার অইগেলা। আর এক এক করি জিকাইলা, “হুজুর, ই জন কিতা আমি নি?” 20তাইন কইলা, “হে অউ বারোজনর মাজরউ একজন। হে অখন আমার লগে থালো আত হারার। 21বিন-আদমর মউতর বেয়াপারে আছমানি কিতাবো যেলা লেখা আছে, তান মউত তো অউলাউ অইবো, অইলে আফছুছ হউ মানষর লাগি, যে তানরে ধরাইয়া দিবো। দুনিয়াত তার জনম না অওয়াউ, তার লাগি বউত ভালা আছিল।”
22খানাত রইছইন, অউ সময় ইছায় রুটি আতো লইয়া আল্লার শুকরিয়া আদায় করিয়া, ছিড়িয়া টুকরা টুকরা করি সাহাবি অকলর আতো দিয়া কইলা, “অউ নেও, মনো করো ইতা আমার শরিল।” 23বাদে তাইন আংগুরর শরবতর পিয়ালা লইয়া আল্লার শুকরিয়া জানাইয়া এরারে দিলা। এরা হকলে অউ পিয়ালা থাকি শরবত খাইলা। 24ইছায় কইলা, “খাও, মনো করো ইতা আমার লউ। অউ লউর জরিয়ায় আদম জাতির বউতর বাচিবার লাগি নয়া উছিলা কাইম করা অইবো। 25আমি হাছা কথা কইরাম, যেই পর্যন্ত আল্লার বাদশাইত দাখিল অইয়া আমি আংগুরর শরবত না খাইছি, অতো দিন ই লাখান শরবত আর খাইতাম নায়।” 26হেশে হকলে মিলি এক গজল গাইয়া, ঘর থাকি বার অইয়া জয়তুন পাড়ো গেলাগি।
হজরত পিতরে অস্বীকার করার আগাম ইশারা
27পাড়ো গিয়া ইছায় তান সাহাবি অকলরে কইলা, “তুমরা হকলেউ তো আমারে ফালাইয়া বাগিবায়। আল্লার কালামো আছে, ‘আমি পালর রাখালরে মারিলিমু, তেউ পালর মেড়াইন চাইরোবায় ছিতরিযিবা।’ 28অইলে আমারে মুর্দা থাকি জিন্দা করার বাদে, তুমরার আগেউ আমি গালিলো যাইমুগি।” 29পিতরে তানরে কইলা, “হুজুর, হকল বাগি গেলেও আমি বাগিতাম নায়।” 30ইছায় কইলা, “তে হুনো, আমি তুমারে কইরাম, আইজ পতাবালা মুরগায় দুইবার বাং দিবার আগেউ, তুমি তিনবার কইবায়, তুমি আমারে চিনো না।” 31অইলে পিতরে আরো বড় গলায় কইলা, “হুজুর অউ কিতা কইন, আপনার লগে যুদি আমার মরনও অয়, তা-ও আমি কুনুমন্তেউ কইতাম নায় আমি আপনারে চিনি না।” হকল সাহাবিয়েও অউ লাখান কইলা।
গেতশিমানি বাগানো হজরত ইছা
32বাদে হজরত ইছায় তান সাহাবি অকলরে লইয়া গেতশিমানি নামর এক বাগানো আইলা। আইয়া তাইন এরারে কইলা, “আমি যতো সময় ধরি দোয়া করমু, অতো সময় তুমরা অনো বওয়াত রইও।” 33অখান কইয়া তাইন পিতর, ইয়াকুব আর হান্নানরে তান লগে রাখলা, মনর দুখ আর জালায় তাইন বড় তকলিফ পাইলা। 34তাইন এরারে কইলা, “দুখে আমার জান বার অই যারগি। তুমরা হকল অনো রও আর হজাগ থাকো।” 35কইয়া থুড়া হরিয়া গিয়া তাইন মাটিত সইজদাত পড়িয়া আরজ করলা, সম্ভব অইলে ই মছিবতর অখতখান হরিযিবার লাগি। 36তাইন কইলা, “ও আব্বা, আমার অলি, তুমি তো হকলতাউ করতায় পারো। তুমি আমার উপর থাকি আনেওয়ালা অউ মছিবত খান হরাইলাও। অইলে ইতা আমার ইচ্ছায় নায়, তুমার মর্জি মাফিকউ অউক।”
37সইজদা থাকি উঠিয়া তাইন সাহাবি অকলর গেছে আইয়া দেখলা, এরা ঘুমাই গেছইন। অউ তাইন পিতররে হজাগ করি কইলা, “সাইমন, তুমি ঘুমাই গেলায় নি? একখান ঘন্টাও হজাগ রইতায় পারলায় না নি? 38হজাগ রও, পরিক্ষা থাকি বাচতায় করি দোয়া করো। দিলর মাজে নিচয় খিয়াল আছে, অইলে কায়া তো কমজুর।” 39বাদে তাইন হিরবার গিয়া হউ একই দোয়া করলা। 40ফিরিয়া আইয়া দেখলা, এরা হিরবার ঘুমাই গেছইন, ঘুমে তারার চউখ ফালাই দের। তারা ইছারে কিতা জুয়াপ দিতা, কুন্তা বুজলা না। 41তিন নম্বর বার তাইন আইয়া এরারে কইলা, “তুমরা দেখি অখনও আরামে ঘুমাইরায়। আইচ্ছা অইছে, সময় আইচ্ছে তো। দেখরায় নি, বিন-আদমরে গুনাগার অকলর আতো সমজাই দেওয়া অর। 42উঠো, আমরা রওয়ানা দেই। আমারে যেগিয়ে দুশমনর আতো ধরাই দিবো, হে আইয়া আজিগেছে।”
হজরত ইছা আল-মসী দুশমনর আতো বন্দি
43তাইন এরার লগে মাতো রইছইন, অউ সময় ইহুদা হনো আইলো। হে আছিল বারোজন সাহাবির মাজর একজন। তার লগে অইয়া আরো বউতে লাঠি-ছটা-তলোয়ার লইয়া আইলো। বড় ইমাম, মৌলানা আর মুরব্বি অকলে এরারে পাঠাইছইন। 44তানরে যেগিয়ে ধরাইয়া দিতো, হে তার লগর এরারে আগে হিকাইয়া দিছিল, “আমি গিয়া যেন গালো হুংগা দিমু, এইনউ হউ জন। তুমরা এনরে বন্দি করিয়া খুব সাবধানে লইয়া যাইও।” 45তেউ ইহুদায় সুজা-সুজি ইছার গেছে গিয়া কইলো, “হুজুর!” কইয়া হে তানরে হুংগা দিলো। 46লগে লগে তারা আইয়া ইছারে ধরিলিলো। 47তান কান্দাত যেরা উবাত আছলা, এরা একজনে নিজর তলোয়ার বার করিয়া পরধান ইমামর গুলামরে ছেদ মারলা, ছেদর লগে তার এক কান কাটিয়া পড়িগেল। 48ইছায় অতা মানষরে কইলা, “কিতাবা, আমি কুনু চুর-ডাকাইত নি, তুমরা দেখি লাঠি-ছটা-তলোয়ার লইয়া আমারে ধরাত আইছো? 49আমি তো পরতেক দিন বায়তুল-মুকাদ্দছো গিয়া তুমরার ছামনেউ তালিম দিতাম। অউ সময় তো তুমরা আমারে ধরলায় না। নিচয় আল্লার কালামর আয়াত তো ফলিতে অইবো।”
50তানরে বন্দি করতেউ তান হকল সাহাবি তানে থইয়া বাগি গেলা। 51খালি একজন জুয়ানে একখান লংগি ফিন্দিয়া তান খরে খরে গেল। অইলে মানষে যেবলা তারেও ধরতা চাইলা, 52হে তার লংগি ফালাইয়া লেমটা অইয়া দৌড়াইয়া বাগিলো।
ফতোয়া কমিটির দরবারো বিচার
53অউ মানষে হজরত ইছারে ধরিয়া হারি পরধান ইমামর গেছে লইয়া গেল। হনো বড় ইমাম অকল, মুরব্বি আর মৌলানা অকলও একখানো দলা অইলা। 54সাহাবি পিতর ইছার গেছ থনে দুরই হরি হরি রইয়া তান খরে খরে গিয়া পরধান ইমামর বাড়ির উঠানো গেলা। গিয়া হনো পারাদার অকলর লগে মিলিয়া আগুইন তাবানিত বইলা। 55বড় ইমাম অকলে আর ফতোয়া কমিটির হকল মানষে ইছারে কাতল করার লাগি কুনু নালিশ তুকাইলা, অইলে পাইলা না। 56মজলিছো ইছার বিরুদ্ধে বউতে মিছা সাক্ষি দিলেও, তারার সাক্ষির মিল অইলো না। 57তেউ আরো কয়জনে তান বিরুদ্ধে অউ মিছা সাক্ষি দিলো। তারা কইলো, 58“আমরা হুনছি, হে কইছে, মানষর আতর বানাইল জেরুজালেমর অউ কাবা শরিফ, আমি ভাংগিলিমু, আর তিন দিনর মাজে কুনু মানষর আত না লাগাইয়া আমি আরকখান বানাইমু।” 59অইলে এরার সাক্ষিও মিললো না। 60হেশে পরধান ইমাম উবাইয়া হকলর ছামনে ইছারে জিকাইলা, “ওবা, তুমি কুনু মাতর জুয়াপ দিতায় না নি? ইতা মানষে তুমার বেয়াপারে কিতা সাক্ষি দিরা, হুনরায় নি?” 61অইলে তাইন কুনু জুয়াপ না দিয়া নিরাই রইলা। পরধান ইমামে তানরে হিরবার জিকাইলা, “তুমি কিতা আল্লাতালার ওয়াদা করা হউ আল-মসী নি, তান খাছ মায়ার জন ইবনুল্লা নি?” 62তাইন জুয়াপ দিলা, “জিঅয়, আমিউ হেইন। আপনারা দেখবা, আমি বিন-আদম আরশে-আজিমো আল্লা রাব্বুল আলামিনর ডাইনর তখতো বওয়াত আছি। আর দেখবা, আমি বেহেস্তি মেঘর খুটিত অইয়া দুনিয়াত তশরিফ আনিয়ার।” 63ইখান হুনিয়াউ পরধান ইমামে নিজর ফিন্নর কাপড় ছিড়িয়া কইলা, “আর কুনু সাক্ষির জরুর আছে নি? 64আপনারা নিজর কানেউ তো হুনলা, হে শিরিকি করলো। তে অখন আপনারা কিতা রায় দিবা?” অউ তারা হকলে তানে দুষি সাইবস্তো করিয়া, কাতল করার হুকুম দিলো। 65কেউ কেউ তান উপরে ছেফ দিলো। তান মুখ বান্দিয়া ঘুষি মারিয়া কইলো, “হই, তুইন বুলে নবী, তে অখন ওহী কছ না।” বাদে সিপাই অকলেও তানে নিয়া মাইর-ধইর করলো।
হজরত পিতরে তিনবার অস্বীকার করলা
66পিতর যেবলা লামাত উঠানো আছলা, অউ সময় পরধান ইমামর এক বান্দি বেটি তান কান্দাত গেল। 67গিয়া তানরে আগুইন তাবানিত দেখিয়া, ভালা করি তান বায় চাইয়া হারি কইলো, “আপনেও তো অউ নাছারতর ইছার লগে আছলা।” 68পিতরে অস্বীকার করিয়া কইলা, “না গো, তুমি অউ কিতা কইরায়? আমি ইতা কুন্তাউ জানি না, বুজিও না।” অখান কইয়া পিতর গেইটর ধারো গেলা, আর অউ সময় মুরগায় বাং দিলাইলো। 69বান্দি বেটিয়ে যেবলা দেখলো, পিতর অনো গিয়া উবাইছইন, অউ তান কাছাত উবা মানষরে গিয়া তাই কইলো, “অউ বেটাও এরার লগর একজন।” 70পিতরে হিরবার না করলা। অইলে তান কান্দাত যেরা উবা আছিল, থুড়া বাদে তারা কইলা, “তুমি নিচ্চয় এরার লগর, তুমার বাড়িও তো গালিল জিলাত।” 71পিতরে কইলা, “আল্লার গজব পড়উক, আমি কছম খাইয়া কইয়ার, তুমরা অউ যার কথা কইরায়, তারে আমি চিনিও না।” 72অখান কইতেউ মুরগায় দুয়ারা বাং দিলো। বাং হুনিয়াউ পিতরর মনো অইগেল, ইছায় কইছলা, “মুরগায় দুইবার বাং দিবার আগেউ তুমি তিনবার কইবায়, তুমি আমারে চিনো না।” অখান মনো অইতেউ তাইন আউ আউ করি কান্দন ধরলা।
15পরধান হাকিম পিলাতর আদালতো হজরত ইছা
1বড় ইমাম অকলে ছবরে উঠিয়া মুরব্বি অকল, মৌলানা আর ফতোয়া কমিটির হকলর লগে পরামিশ করিয়া, হজরত ইছারে বান্দিয়া রোমান হাকিম পিলাতর গেছে লইয়া গেলা। 2গিয়া হারলে হাকিম পিলাতে ইছারে জিকাইলা, “তুমি কিতা ইহুদি অকলর বাদশা নি?” তাইন কইলা, “আপনে ঠিক কথাউ কইরা।” 3বড় ইমাম অকলে তান নামে বউত নালিশ দিলা। 4পিলাতে হিরবার কইলা, “তুমি কুন্তা জুয়াপ দিতায় না নি? দেখরায় নি, তারা তুমার বিরুদ্ধে কতো নালিশ দের।” 5অইলে ইছায় কুনু জুয়াপ না দেওয়ায় পিলাত তাইজ্জুব অইগেলা। 6আজাদি ইদর সময় হাকিমে দেশর মানষর পছন্দ মাফিক, একজন আজতিরে খালাছ দিতা। 7অউ সময় বারাব্বা নামর একজন মানুষ জেলো আছিল। সংগ্রামর সময় হে ফৌজর লগে রইয়া মানুষ খুন করছিল। 8মানষে পিলাতর গেছে আইয়া দাবি জানাইলা, “আপনে আপনার নিজর রেওয়াজ মাফিক কাম করউক্কা।” 9তাইন জিকাইলা, “তুমরা চাইরায় নি, আমি ইহুদি অকলর বাদশারে ছাড়ি দিতাম?” 10পিলাতে জানতা, বড় ইমাম অকলে ইংসা করিয়া ইছারে নিয়া তান আতো দিছইন। 11বড় ইমাম অকলে মানষরে উছকাইয়া দিলা, মানষে ইছার মুক্তি না চাইয়া বারাব্বার মুক্তি চাইন। 12এরদায় পিলাতে হিরবার মানষরে জিকাইলা, “তে তুমরা যারে ইহুদির বাদশা কও, তারে আমি কিতা করতাম?” 13তারা হকলে চিল্লানি লাগাইলো, “তারে সলিবো দেও।” 14তাইন কইলা, “কেনে, হে কিতা দুষ করছে?” অইলে মানষে আরো জুরে জুরে চিল্লাইয়া কইলো, “সলিবো দেও।” 15তেউ পিলাতে তারারে খুশি করতা করি বারাব্বারে খালাছ দিলাইলা, আর ইছারে বেশ করি চাবুক মারিয়া, সলিবো লটকাইয়া কাতল করার হুকুম দিলা। (সলিব অইলো লাকড়িদি বানাইল মানষরে লটকাইয়া মারার এক জিনিস।)
সিপাই অকলর ঠাট্টা-মশকরা
16বাদে সিপাই অকলে ইছারে ধরিয়া পরধান হাকিমর বাড়ির ভিতরে লইয়া গেলা। হনো তারা আরো সিপাই অকল দলা করলা। 17তারা ইছারে বাইংগনি রংগর বাদশাই লেবাছ ফিন্দাইলা, আর গছা-কাটা দিয়া মুকুট বানাইয়া তান মাথাত দিলা। 18বাদে তারা মশকরা করি মিছিল দিলো, “ইহুদির বাদশা, মারহাবা।” 19আর এক লাঠি আনিয়া বারে বারে তান মাথাত মারলো, গতরো ছেফ দিলো, তানে ইজ্জত দেখানির ভান করিয়া তান ছামনে আটু গাড়িয়া বইলো। 20অউ লাখান ঠাট্টা-মশকরা আর বেতমিজি করার বাদে তান ফিন্নর বাইংগনি লেবাছ খুলিয়া, তান নিজর কাপড় ফিন্দাইলো আর সলিবো নিয়া কাতল করার লাগি রওয়ানা দিলো।
সলিবর উপরে হজরত ইছা
21তারা লইয়া যাইরা অউ সময় কুরিনি এলাকার ছিকন্দর আর রউফর বাফ, সাইমন নামর একজন মানুষ গাউ থাকি অউ পথেদি আটিয়া যাওয়াত আছলা। সিপাই অকলে জুর করিয়া এনেদি হউ সলিব বওয়াইয়া নিলা। 22তারা ইছারে গলগাথা, মানি কল্লার চাড় নামর জাগাত লইয়া গেলা। 23হনো নিয়া তানরে মুরা নামর ওষুধ পুরাইল আংগুরর শরবত খাইতে দিলা, অইলে তাইন ইতা খাইলা না। 24বাদে তারা তানরে সলিবো, মানি গাছো লটকাইলো। সিপাই অকলে তান কাপড়-চুপড় বাটিয়া নেওয়ার লাগি লটারি মারিয়া ভাইগ্য পরিক্ষা করলো।
25বিয়ানে নয়টার সময় তারা তানরে জানে মারার লাগি সলিবো গাথিলো। 26আর তান অপরাধ-নামার মাজে লেখলো, “ইহুদির বাদশা।” 27তারা দুইজন ডাকাইতরেও তান লগে সলিবো লটকাইলো, একজন ডাইন গালাত, অইন্যজন বাউ গালাত। 28এরদায় আল্লার কালামর অউ আয়াতও ফলিগেল, “তানরে নাফরমান অকলর লগে গনা অইছে।”
29হউ পথেদি যেরা যাওয়াত আছিল তারা মাথা লাড়াইয়া ইছারে ছিড়াইয়া কইলো, “ওই মিয়া, তুমি বুলে কাবা ঘর ভাংগিয়া তিন দিনর মাজে হিরবার বানাইতায় পারবায়! 30তে অখন সলিব থাকি লামিয়া আইয়া নিজর জান বাচাও না।” 31বড় ইমাম আর মৌলানা অকলেও তানরে ছিড়াইয়া মাতা-মাতি করলা, “হে তো মানষর জান বাচাইতো, অখন নিজর জান বাচাইতো পারের না। 32হে বুলে ওয়াদা করা হউ আল-মসী, বনি ইছরাইলর বাদশা! তে পারলে অখন সলিব থাকি লামিয়া আউক, তেউ আমরাও অতা দেখিয়া ইমান আনমু।” তান ডাইনে-বাউয়ে যেরারে সলিবো লটকাইল অইছিল, তারাও তানরে ছিড়াইলো।
হজরত ইছা আল-মসীর উফাত
33বাদে বেইল দুইফর থাকি জোহরর বাদ পর্যন্ত তিন ঘন্টা আস্তা দেশ আন্দাইর অইগেল। 34এরবাদেউ তাইন খুব জুরে জুরে কইলা, “এলোই, এলোই, লামা ছাবাক্তানী,” মানি, “ও আমার আল্লা, আমার মউলা, তুমি কেনে আমার লগ ছাড়ি দিলায়?” 35অউ সময় যেরা তান ধারো উবা আছিল, তারা ইখান হুনিয়া কইলা, “হুনো, হুনো, হে হজরত ইলিয়াছ নবীরে ডাকের।” 36অখান হুনিয়া একজন মানষে দৌড়াইয়া গিয়া একখান তেনা আনিয়া টেংগা আংগুরর শরবতর মাজে ভিজাইয়া, এক লাঠির মাথাত বান্দিয়া উচা করি তানরে খাইতে দিলো। হে কইলো, “অউক, দেখি না ইলিয়াছে তারে লামাইয়া নেওয়াত আইন নি।”
37হেশে ইছায় জুরে আওয়াজ করিয়া আখেরি দম ফালাইয়া ইন্তেকাল করলা। 38লগে লগে জেরুজালেমো কাবা ঘরর হেরেম শরিফর পর্দাখান, উপরে থাকি তল পর্যন্ত ছিড়িয়া দুই টুকরা অইগেল। 39সিপাইর যে অফিসার হনো পারা দেওয়াত আছলা, এইন ইছার মউতর ই হালত দেখিয়া কইলা, “নিচ্চয়, এইনউ আছলা আল্লার খাছ মায়ার জন ইবনুল্লা।”
40কয়জন বেটি মানষেও দুরই উবাইয়া ইতা দেখলা, এরার মাজে আছলা মগদিলিনী মরিয়ম, ইউছি আর হুরু ইয়াকুবর মা মরিয়ম, আর বিবি সালোমী। 41ইছা যেবলা গালিলো আছলা, অউ সময় অউ বেটিন হামেশা তান লগে লগে রইতা আর তান খেজমত করতা। আরো বউত বেটি মানুষ, যেরা তান লগে অইয়া জেরুজালেমো আইছলা, তারাও ইতা দেখলা।
হজরত ইছার রওজা মুবারক
42ই দিন আছিল ইন্তেজামর দিন, মানি ইহুদির জুম্মাবারর আগর দিন, অউ দিন সুরুজ ডুবার বাদে থনে কুনুজাত কাম করা হারাম আছিল। 43এরদায় অউ বিয়ালি বালা ফতোয়া কমিটির ইজ্জতি মন্ত্রী, আরিমাথিয়া গাউর ইউছুফ নামর একজন মানষে, সাওস করিয়া হাকিম পিলাতর গেছে আইয়া, হজরত ইছার লাশ নিতা চাইলা। আল্লার বাদশাই কাইম অওয়ার লাগি এইন বার চাওয়াত আছলা। 44পিলাতে হুনিয়া খুব তাইজ্জুব অইগেলা যেন, ইছায় অতো জলদি করি ইন্তেকাল ফরমাইছইন। এরদায় তাইন সিপাইর ছুবেদাররে আনিয়া জিকাইলা, হাছাউ ইছার রুহ বার অই গেছে নি। 45ছুবেদারে যেবলা কইলা, “জিঅয়, তাইন মারা গেছইন”, অউ পিলাতে ইছার লাশ ইউছুফর জিম্মায় সমজাই দিলা। 46ইউছুফে গিয়া কাফনর কাপড় খরিদ করি আনিয়া, ইছার লাশ সলিব থাকি লামাইয়া, কাফন ফিন্দাইয়া, পাথর কাটিয়া বানাইল এক কয়বরর মাজে তানরে দাফন করলা, ই লাখান কয়বরো মাটি দেওয়া লাগে না। এরদায় তারা বড় এক পাথর গড়িয়াইয়া আনিয়া কয়বরর মুখো দিলা। 47অউ সময় মগদিলিনী মরিয়ম আর ইউছির মা মরিয়মে দেখলা, তানরে কুন জাগাত দাফন করছইন।
16মউত বাদে জিন্দা অইলা হজরত ইছা (১৬:১-২০)
হজরত ইছা জিন্দা অওয়ার পরমান
1তারার জুম্মার দিন শেষ অইয়া হারলে মগদিলিনী মরিয়ম, ইয়াকুবর মা মরিয়ম আর বিবি সালোমীয়ে, হজরত ইছার লাশো মাখানির লাগি খুশবয় আলা মশলা লইয়া আনাইলা। 2হাপ্তার পয়লা দিন বিয়ানে, মানি রবিবারে ফজরে সুরুজ উঠার লগে লগেউ এরা তান কয়বরর কাছাত গেলা। 3অউ সময় তারা একে-অইন্যে জিকাইলা, “কয়বরর মুখর অউ পাথর কে হরাইবা?” 4মাতি মাতি তারা চাইয়া দেখলা, ই পাথর হরাইল অইগেছে। পাথরটা আছিল খুব বড়। 5বাদে তারা কয়বরো হামাইয়া দেখলা, এক জুয়ান বেটায় ধলা কাপড় ফিন্দিয়া ডাইন গালাত বই রইছইন। এনে দেখিয়া তারা খুব তাইজ্জুব অইগেলা। 6অউ হেইন কইলা, “তাইজ্জুব অইও না গো। তুমিতাইন তো নাছারত গাউর ইছারেউ তালাশ কররায়, যেনরে সলিবো গাথিয়া কাতল করা অইছে? তাইন অখন ইনো নায়, তানরে জিন্দা করা অইছে। দেখিযাও, অউ জাগাতউ তানরে দাফন করা অইছিল। 7তে তুমিতাইন অখন যাও, গিয়া তান সাহাবি অকলরে আর পিতররেও কও, তাইন আগে যেলাখান কইছলা, অউলা তুমরার আগে গালিলো যাইরা। তুমরা হনো গেলে তান দরশন পাইবায়।” 8ইখান হুনিয়া বেটিন্তে কয়বর থাকি বার অইয়া দৌড়াইয়া বাগিলা। তারা তাইজ্জুব বনিগেলা, ডরর চুটে কেউররে কুন্তা কইলা না।
9হাপ্তার পয়লা দিন ফজর অখতো ইছা মুর্দা থাকি জিন্দা অইয়া উঠলা, আর পয়লাউ মগদিলিনী মরিয়মরে দরশন দিলা। অউ মরিয়মর লগ থাকি তাইন সাতগু জিন্নাত ছাড়াইছলা। 10তান দরশন পাইয়াউ মরিয়মে গিয়া ইছার লগর হকলরে খবর জানাইলা। অউ সময় তারা কান্দা-কাটি আর আহাজারি করাত আছিল। 11অইলে তাইন জিন্দা অইছইন আর মরিয়মরে দরশনও দিছইন, ইতা তারা কেউ একিন করলা না।
12বাদে তান দুইজন উম্মতে আটি আটি গাউ বায়দি রওয়ানা অইলা, অউ সময় ইছায় তান ছুরত বদলাইয়া তারারে দরশন দিলা। 13তারা গিয়া বাকি হকলরে অউ খবর জানাইলা। অইলে তারার কথাও এরা একিন করলা না।
হজরত ইছার আখেরি ছবক
14হেশে হজরত ইছায় তান এগারো জন সাহাবিরে দরশন দিলা। অউ সময় এরা খাওয়াত আছলা। মুর্দা থাকি জিন্দা অওয়ার বাদে যেরা তানরে দেখছিল, তারার কথা একিন না করায়, এরার ইমানর কমজুরি আর দিলর না-হুমারির লাগি তাইন এরারে ধমকাইলা। 15আর অউ সাহাবি অকলরে কইলা, “তুমরা দুনিয়ার তামাম জাগাত যাও, গিয়া হকল মানষর গেছে আল্লার বাতাইল খুশ-খবরি তবলিগ করো। 16যে মানষে ইমান আনিয়া তৌবার গোছল করে, হে-উ রেহাই পাইবো। যে মানষে ইমান আনতো নায়, হে আল্লার দরবারো দুষি বনিয়া সাজা পাইবো। 17যেরা ইমান আনবো, এরার মাজে অউ নিশানা দেখা যাইবো: আমার নামে তারা জিন্নাত ছাড়াইবো, নয়া নয়া ভাষায় গাইবি বুলি মাতিবো। 18তারা জাতি হাফরে আতো লইবা, বেজুইতা বিষাক্ত কুন্তা খাইলেও তারার কুনু খেতি অইতো নায়। আর কুনু বেমারিরে আতাইয়া দিলে বেমার শিফা অইযিবো।”
হজরত ইছার বেহেস্তো যাওয়া
19সাহাবি অকলর লগে বাতচিত করার বাদে হজরত ইছারে আরশে-আজিমো তুলিয়া নেওয়া অইলো। হনো তাইন আল্লা পাকর ডাইনর তখতো তশরিফ রাখছইন। 20বাদে সাহাবি অকলে হকল জাগাত গিয়া তবলিগ করলা। হজরত ইছায় এরার মাজদি কাম করলা, আর এরারে কেরামতি কামর তাক্কত দিয়া পরমান দেখাইলা, এরা যেতা তবলিগ কররা, ইতা হাছা। আমিন॥