পবিত্র ইঞ্জিল শরিফ পয়লা ছিপারা
আল-মথি
ছিলটি ভাষায় তরজমা
পরিচিতি
আল-মথি ছিপারার মুল তালিম অইলো, হজরত ইছা আল-মসী একজন বাদশা। আল্লা পাকর বওয়াল করা বাদশা। তাইন ই দুনিয়াত তশরিফ আনিয়া মানষরে দাওত দিলা, তান উপরে ইমান আনার লাগি। যেরা তান উপরে ইমান আনবা, এরা অইবা আল্লার নয়া জাতি। এরার নাম অইবো, আল্লার প্রজা বা বেহেস্তি বাদশাইর জন, আর হজরত ইছা আল-মসীউ অইলা অউ বাদশাইর মালিক। আল্লা পাকে তানরে বওয়াল করলা, যাতে রোজ হাশরর দিন তাইন দুনিয়ার হক্কল মানষর বিচার করইন।
অউ আল-মথি ছিপারা তিলাওত করলে, আমরা হজরত ইছার তালিমর মুল্যবান হকল বয়ানির বিস্তারিত দেখমু। আমরা দেখমু, হজরত ইছার জনম কিলা অইছিল, তান দুনিয়াবি বাবা মানি বিবি মরিয়ম (আঃ) অর জামাই হজরত ইউছুফর জবানবন্দি পাইমু। অউ ছিপারাত আমরা পাইমু, হজরত ইছায় কিলা কাম-কাজ করছইন, কেমনে জিন্দেগি কাটাইছইন, তাইন কুয়াই থাকি বল-শক্তি পাইতা। আমরা আরো দেখমু, বউত জমানা আগে আল্লা পাকে হজরত মুছা (আঃ) আর হজরত দাউদ (আঃ) অর পবিত্র তৌরাত আর জবুর শরিফর মাজে, এরলগে বাদ-বাকি আরো নবী-রছুল অকলর গেছে যেতা যেতা বাতাইছইন, হজরত ইছার জমানাত আইয়া তান আতো অতা হকলতা ফলিছে।
আল-মথি ছিপারার ৫ রুকু ১৭, ২০ আয়াতো আছে, হজরত ইছায় কইরা, “তুমরা ইখান মনো করিও না, আমি তৌরাত কিতাব আর নবী অকলর ছহিফা বাতিল করাত আইছি। আমি তো ইতা বাতিল করাত নায়, বরং পুরা করাত আইছি। হুনো, আমি তুমরারে কইরাম, আলিম-উলামার আমল থাকিও তুমরার আমল যুদি আরো ভালা না অয়, তে কুনুমন্তেউ বেহেস্তি বাদশাইত হামাইতায় পারতায় নায়।”
আর ১১ রুকু ২৮-৩০ আয়াতো আছে, হজরত ইছায় কইরা, “ভার-বোঝা বইতে বইতে তুমরা যেরা হেরান অইগেছো, তুমরা হকল আমার গেছে আও, আমি তুমরারে আরাম দিমু। আমার জুয়াল তুমরার কান্দো তুলো আর আমার গেছ থাকি তালিম লও, তেউ তুমরার আরাম অইবো। আমার জুয়াল বইয়া নেওয়া সুজা, আমার দেওয়া ভার খুব পাতলা। আমার মিজাজ খুব নরম আর ঠান্ডা।”
লেখক পরিচিতি আর সময়
আল্লা পাকর হুকুম মাফিক অউ ছিপারা লেখছইন, হজরত ইছা আল-মসীর সাহাবি হজরত মথি (রাঃ)। হজরত ইছার উপরে ইমান আনার আগে তান পেশা আছিল খাজনা আদায় করা। তাইন মানষর গেছ থাকি খাজনা তুলিয়া রোমান সরকারর আতো সমজাই দিতা। হজরত ইছায় তানরে ইমানর দাওত দিলে তাইন ইমান আনিয়া ইছা আল-মসীর উম্মত অইলা। আর হজরত ইছায় বেহেস্তো তশরিফ নেওয়ার অনুমান ২৫-৩৫ বছর বাদে অউ ছিপারা কিতাব আকারে তাইন লেখছইন।
এরমাজে আছে,
(ক) হজরত ইছার পরিচয় আর পয়লা জিন্দেগি ১—২ রুকু
(খ) হজরত ইছায় কাম শুরু করলা ৩—৪ রুকু
(গ) পাড়র পেটো হজরত ইছার তালিম ৫—৭ রুকু
(ঘ) হজরত ইছার দশ কেরামতি ৮—৯ রুকু
(ঙ) বারোজন সাহাবিরে পছন্দ আর তালিম ১০ রুকু
(চ) হজরত ইছারে সন্দয় আর বিরুধিতা করা ১১—১২ রুকু
(ছ) হজরত ইছার বাতাইল সাত কিচ্ছা ১৩:১-৫২ আয়াত
(জ) হজরত ইছায় কেনে তশরিফ আনছইন ১৩:৫৩—১৭:২৭
(ঝ) উম্মতর লাগি হজরত ইছার জরুরি তালিম ১৮ রুকু
(ঞ) সমাজর মানষর লাগি হজরত ইছার তালিম ১৯—২২ রুকু
(ট) নেতা অকলরে হজরত ইছার হুশিয়ারি ২৩—২৫ রুকু
(ঠ) হজরত ইছার উফাত আর জিন্দা অওয়া ২৬—২৮ রুকু
1হজরত ইছার পরিচয় আর পয়লা জিন্দেগি (১:১-২:২৩)
হজরত ইছা আল-মসীর খান্দান
1হজরত ইছা আল-মসী অইলা দাউদ নবীর বংশধর, আর দাউদ অইলা হজরত ইব্রাহিমর বংশধর। ইছা আল-মসীর খান্দানর পরিচয় অইলো,
2হজরত ইব্রাহিমর পুয়া হজরত ইছহাক, ইছহাকর পুয়া হজরত ইয়াকুব, ইয়াকুবর পুয়া এহুদা আর তান ভাইয়াইন, 3এহুদার পুয়াইন ফিরোজ আর জারাহ, এরার মাʼর নাম তামার। ফিরোজর পুয়া হাছির, হাছিরর পুয়া রায়াম, 4রায়ামর পুয়া আমিনাদাব, আমিনাদাবর পুয়া নাহিশ, নাহিশর পুয়া সেলিম, 5সেলিমর পুয়া বোয়াজ, তান মাʼর নাম রাহবা। বোয়াজর পুয়া উবায়েদ, তান মা অইলা রুত। উবায়েদর পুয়া ইয়াছ, 6ইয়াছর পুয়া বাদশা দাউদ।
দাউদর পুয়া নবী সুলাইমান, এন মা আছলা উরিয়ার ড়াড়ি বউ বাতছেবা। 7সুলাইমানর পুয়া রহবিয়াম, রহবিয়ামর পুয়া আবিয়া, আবিয়ার পুয়া আসা, 8আসার পুয়া যিহোছাফট, যিহোছাফটর পুয়া উরাম, উরামর পুয়া উজিয়া, 9উজিয়ার পুয়া যোথম, যোথমর পুয়া আহাজ, আহাজর পুয়া হিজকিয়া, 10হিজকিয়ার পুয়া মানশা, মানশার পুয়া আমন, আমনর পুয়া ইউশিয়া, 11ইউশিয়ার পুয়া ইয়াকুনিয়া আর তার ভাইয়াইন। ইছরাইল জাতিরে বাবিল দেশো বন্দি করি নেওয়ার বালা এরার জনম অইছিল।
12ইছরাইল জাতিরে বাবিল দেশো বন্দি করি নেওয়ার বাদে ইয়াকুনিয়ার পুয়া সালতিয়েলর জনম অইছিল। সালতিয়েলর পুয়া জেরবাবিল, 13জেরবাবিলর পুয়া আবীহুদ, আবীহুদর পুয়া ইলিয়াকিম, ইলিয়াকিমর পুয়া আজর, 14আজরর পুয়া ছাদিক, ছাদিকর পুয়া আখিম, আখিমর পুয়া এলিহুদ, 15এলিহুদর পুয়া আলি-আজর, আলি-আজরর পুয়া মতিন, মতিনর পুয়া ইয়াকুব, 16ইয়াকুবর পুয়া ইউছুফ, অউ ইউছুফ অইলা বিবি মরিয়মর জামাই। বিবি মরিয়মর পেটো হজরত ইছার জনম অইছিল, এনরে ডাকা অয় আল-মসী।
17অউ লাখান হজরত ইব্রাহিম থাকি দাউদ নবী পর্যন্ত চৌদ্দ ছিড়ি। দাউদ নবী থাকি বাবিলো বন্দি করি নেওয়া পর্যন্ত চৌদ্দ ছিড়ি। বাবিলো বন্দি অওয়া থাকি আল-মসী পর্যন্ত চৌদ্দ ছিড়ি।
হজরত ইছা আল-মসীর জনম
18ইছা আল-মসীর জনম অইছিল অউ লাখান। ইউছুফ নামর এক জনর লগে বিবি মরিয়মর শাদি ঠিক অইছিল, অইলে তারা একলগে মিলা-মিশা করার আগেউ আল্লার পাক রুহর কুদরতি বলে মরিয়মর পেটো হুরুতা আইলো। 19ইউছুফ আছলা হক মানুষ, মরিয়মর পেটো হুরুতা আছে, ই খবর হুনিয়া তাইন মরিয়মরে মানষর ছামনে শরম দিতা চাইলা না, এরদায় মনে মনে ঠিক করলা, লুকাইয়া ই বিয়া ভাংগিলিতা।
20তাইন যেবলা অলাখান চিন্তা কররা, অউ সময় মাবুদর এক ফিরিস্তায় খোয়াবর মাজে তানরে দরশন দিয়া কইলা, “ও ইউছুফ বিন দাউদ, তুমি মরিয়মরে শাদি করতে ডরাইও না। তান পেটো যে হুরুতা আইছে, ইতা তো পাক রুহর কুদরতি বলেউ অইছে। তান ঘরো এক পুয়ায় জনম লইবা। 21তুমি ই পুয়ার নাম রাখিও ইছা। কারন ই নামর মানি তরানেআলা, এইন নিজর উম্মত অকলরে গুনা থাকি তরাইবা।”
22আগর জমানার নবীর মাজদি মাবুদে যেলা বাতাইছলা, অখান ফলিবার লাগিউ ইতা অইবো। 23মাবুদে বাতাইছলা, “হুনো, একজন আবিয়াতি সতী নারীর পেটো হুরুতা আইবো, তাইন এক পুয়ার জনম দিবা, ই পুয়ারে ডাকা অইবো ইম্মানুয়েল।” ই নামর মানি অইলো, আল্লা আমরার লগে আছইন।
24বাদে ঘুম থাকি উঠিয়া ইউছুফে ফিরিস্তার হুকুম মাফিক বিবি মরিয়মরে শাদি করলা। 25অইলে অউ পুয়ার জন্মর আগ পর্যন্ত তাইন মরিয়মর লগে কুনু মিলা-মিশা করলা না। সময় মত অউ পুয়ার জনম অইলো, তাইন অউ পুয়ার নাম রাখলা ইছা।
2হজরত ইছার তালাশে গনক অকল
1রাজা হেরোদর আমলো এহুদিয়া জিলার বেথেলহাম গাউত হজরত ইছার জনম অইছিল। জন্মর বাদে পুবর দেশর কয়জন গনক জেরুজালেম টাউনো আইয়া জিকাইলা, 2“ইহুদি জাতির যে বাদশার জনম অইছে, এইন কুয়াই? আমরা আছমানর পুবেদি তান জন্মর তেরা দেখছি, দেখিয়া তানরে ভক্তি দেওয়াত আইছি।”
3নয়া বাদশার কথা হুনিয়া রাজা হেরোদ আর জেরুজালেমর বাদ-বাকি হকল মানুষ খুব চিন্তাত পড়িগেলা। 4এরলাগি হেরোদে দেশর বড় ইমাম আর মৌলানা অকলরে একখানো দলা করি জিকাইলা, “আপনারা জানইন নি, আল-মসী কুয়াই জনম লইবা?” 5এরা কইলা, “তান জনম অইবো এহুদিয়া জিলার বেথেলহাম গাউত। আগর জমানার এক নবীর কিতাবো লেখা আছে,
6ও এহুদিয়া জিলার বেথেলহাম,
এহুদিয়ার নামি-দামি জাগার মাজে
তুমি কুনুমন্তেউ হুরু নায়,
তুমার মাজ থাকিউ তো
অলা একজন বাদশা পয়দা অইবা,
যেইন আমার ইছরাইল জাতিরে চালাইবা।”
7তেউ হেরোদে হউ গনক অকলরে নিরালায় নিয়া জিকাইয়া জানলা, ঠিক কুন সময় হউ জন্মর তেরা দেখা গেছিল। 8তাইন অউ গনক অকলরে কইলা, “আপনারা বেথেলহাম যাউক্কা, গিয়া ভালা করি অউ হুরুতার তালাশ করউক্কা। তান কুনু খবর পাইলে আমারে জানাইবা, তেউ আমিও গিয়া তানরে ভক্তি দিমু।”
9রাজার হুকুম পাইয়া গনক অকল রওয়ানা দিলা। তারা পুবর আছমানো যে জনম তেরা দেখছিলা, অউ তেরা তারার আগে আগে গেল। আর অউ হুরুতা যে জাগাত আছলা, ঠিক অউ জাগাত আইয়া তেরা থামি গেল। 10তেরা থামি গেছে দেখিয়া গনক অকলর ভিতরে খুশির ঢেউ উঠলো, খুশির মাইরে তারা ঘরর ভিতরে হামাইলা। 11ঘরো হামাইয়া অউ হুরুতারে তান মা মরিয়মর কান্দাত দেখলা। দেখিয়া তারা মাটিত পড়ি তানরে ভক্তি দিলা, আর তারার বেগ খুলিয়া দামি দামি উপহার দিলা। অউ উপহার অইলো সোনা, লোবান আর মুরা-আতর। 12অইলে আল্লায় খোয়াবর মাজে তারারে হুশিয়ার করি দিলা, তারা যানু রাজা হেরোদর গেছে আর ফিরিয়া না যাইন। তেউ তারা দুছরা পথে নিজর দেশো গেলাগি।
হজরত ইছা আল-মসীর খুজে রাজা হেরোদ
13গনক অকল গিয়া হারলে আল্লার এক ফিরিস্তায় খোয়াবর মাজে ইউছুফরে দরশন দিয়া কইলা, “ও ইউছুফ উঠো, পুয়া আর তান মাʼরে লইয়া মিসর দেশো বাগিয়া যাওগি, বাদে আমি যতদিন না কই, অতদিন হনোউ রইও। ই পুয়ারে মারিলিতো করি হেরোদে তুকাইবো।”
14তেউ ইউছুফ উঠিয়া অউ রাইতউ তারারে লইয়া মিসরো রওয়ানা দিলা, 15আর রাজা হেরোদ মরার আগ পর্যন্ত হনো রইলা। ইতা ঘটিছিল, যাতে আগর এক নবীর মাজদি মাবুদে যেতা জানাইছলা, অতা পুরা অয়। মাবুদে বাতাইছলা, “আমি আমার পুতরে মিসর থাকি ডাকিয়া আনলাম।”
16গনক অকলে রাজা হেরোদরে টগিছইন করিয়া তাইন খুব গুছা করলা। এরলাগি গনক অকলর গেছ থাকি তাইন যে সময়র কথা হুনছলা, অউ সময় মাফিক বেথেলহাম গাউ আর এর আশ-পাশ এলাকাত দুই বছর বা তার কম বয়সি যতো পুয়াইন আছলা, ইতা হকলরে মারিলিবার হুকুম দিলা। 17এতে নবী ইয়ারমিয়ার মাজদি মাবুদে যেতা জানাইছলা, অতা ফলিগেল। মাবুদে বাতাইছলা,
18রামাত খুব কান্দা-কাটির আওয়াজ হুনা যার,
রাহেলায় তাইর হুরুতাইন্তর লাগি কান্দের,
কুনুমন্তেউ শান্তি অর না,
তাইর হুরুতাইন শেষ অইগেছইন।
19বাদে রাজা হেরোদ মরিয়া হারলে মাবুদর এক ফিরিস্তা আইয়া, মিসর দেশো ইউছুফরে খোয়াবর মাজে কইলা, 20“ও ইউছুফ, উঠো, অউ পুয়া আর তান মাʼরে লইয়া ইছরাইল দেশো যাওগি। পুয়ারে যেতায় মারিলিতা চাইছলা, ইতা তো মরি গেছইন।”
21তেউ ইউছুফ উঠিয়া পুয়া আর পুয়ার মাʼরে লইয়া ইছরাইল দেশর সীমানাত আইলা। 22আইয়া হুনলা, হউ হেরোদর পুয়া আর্খিলাউছ অখন এহুদিয়া জিলার রাজা অইগেছে। এরলাগি তাইন হিনো যাইতে ডরাইলা। বাদে খোয়াবে হুকুম পাইয়া গালিল জিলাত গেলাগি। 23গালিলো গিয়া নাছারত নামর এক গাউত বসত করলা। ইতা ঘটিলো, যাতে আগর নবী অকলর মাজদি যেতা জানাইল অইছিল, অতা অখন পুরা অয়। জানাইল অইছিল, “তানরে নাছারতি কইয়া ডাকা অইবো।”
3হজরত ইছায় কাম শুরু করলা (৩:১-৪:২৫)
হজরত এহিয়া (আঃ) অর তবলিগ
1অউ সময় এহুদিয়া জিলার মরুভুমিত আইয়া এহিয়া নবীয়ে তবলিগ করলা, 2“তৌবা করো, দুনিয়ার মাজে বেহেস্তি বাদশাই চালু অইতে আর বেশি দেরি নায়।” 3অউ এহিয়া নবীর বেয়াপারেউ ইশায়া নবীয়ে আগে বাতাইছলা,
মরুভুমির মাজে একজন মানষে
জুরে জুরে এলান কররা,
তুমরা মালিকর পথ ছহি করো,
তান চলার রাস্তা অকল সিদা করো।
4এহিয়া নবীয়ে তো উটর রুমর কাপড় ফিন্দিতা আর কমরো চামড়ার বেল্ট বান্দিতা। তাইন পাড়িয়া মউ আর ফরিং খাইতা। 5তান তবলিগ হুনার লাগি আস্তা এহুদিয়া জিলা, জেরুজালেম টাউন আর জর্দান গাংগর চাইরোবায় থাকি বউত মানুষ তান গেছে আইলা। 6আইয়া যারযির গুনা স্বীকার করলা, বাদে তাইন এরারে জর্দান গাংগো তৌবার গোছল করাইলা।
7তাইন দেখলা, তৌবার গোছল করার লাগি বউত ফরিশি আর সিদ্দেকিয়া মজহবর মানুষও তান গেছে আইরা। অউ তাইন কইলা, “ও হাফর বাইচ্চাইন, আছমানি গজব আইওর দেখিয়া জান বাচানির পথ তুমরারে খেগিয়ে বাতাই দিলো? 8তুমরা যুদি হাছারর তৌবা করিয়া থাকো, তে এর ফলও দেখাও। 9মনে মনে কইও না, তুমরা ইব্রাহিমর আওলাদ। হুনো, আমি কইরাম, আল্লায় চাইলে তো অউ পাথর অকল থাকিউ ইব্রাহিমর আওলাদ বানাইতা পারবা। 10গাছর গুড়িত তো কুড়াল লাগাইলউ আছে। যে গাছো ভালা ফল ধরে না, ই গাছ কাটিয়া আগুনিত ফালাইল অইবো।
11“তৌবা করছো গতিকে আমি তুমরারে পানিদি গোছল করাইলাম, অইলে আমার বাদে আরো একজন আইরা, এইন আমা থনেও হিম্মত আলা, তান পাওর জুতা বওয়ার লাখও আমি নায়। তাইন আইয়া তুমরারে পাক রুহ আর আগুইনদি গোছল করাইবা। 12তান কুলা তো তান আতোউ আছে, ইখান দিয়া তাইন ধান উয়াইয়া উগারো তুলবা, আর ছুছারে অউ আগুনিত ফালাইয়া জালাইবা, যে আগুইন কুনু সময় নিভতো নায়।”
হজরত ইছার পাক গোছল
13অউ সময় গালিল জিলা থাকি হজরত ইছাও পাক গোছল করার লাগি, জর্দান গাংগো এহিয়া নবীর গেছে আইলা। 14অইলে এহিয়ায় তানরে অখান কইয়া না করলা, “আপনে আইছইন নি আমার গেছে, আমারউ জরুর আছিল আপনার গেছে গিয়া গোছল করা!” 15ইছায় জুয়াপ দিলা, “আইচ্ছা, অখন অলাউ অউক, কারন আমরার উচিত অইলো আল্লার মর্জি পুরন করা।” ইখান হুনিয়া এহিয়া রাজি অইগেলা।
16পাক গোছল করিয়া পানি থাকি উঠতেউ ইছায় দেখলা, আছমান দুই ভাগ অইগেছে, আর আল্লার রুহ পারোর ছুরত ধরিয়া তান উপরে লামিয়া আইরা। 17অউ সময় আছমান থনে গাইবি আওয়াজ অইলো, “এইনউ আমার খাছ মায়ার জন ইবনুল্লা, এন উপরে আমি খুব খুশি।”
4হজরত ইছারে ইবলিছে পরিক্ষা করলো
1পাক গোছল করার বাদে, আল্লার পাক রুহর ইশারায় ইছারে মরুভুমিত নেওয়া অইলো, যাতে অউ সময় ইবলিছে তানে পরিক্ষা করার সুযোগ পায়। 2মরুভুমির মাজে তাইন একলাগারে চাল্লিশ দিন চাল্লিশ রাইত রোজা আছলা, কুনুজাত খানি খাইছইন না। এরবাদে তান খুব পেটো ভুক লাগলো। 3অউ সময় ইবলিছে আইয়া তানরে কইলো, “তুমি যুদি ইবনুল্লা, আল্লার খাছ মায়ার জন অও, তে অতা পাথররে কওনা রুটি অইযিতো।”
4ইছায় জুয়াপ দিলা, “আল্লার কালামো লেখা আছে, খালি রুটি খাইলেউ মানুষ বাচে না, বরং আল্লার পরতেক কালামেউ মানুষ বাচে।”
5তেউ হে ইছারে লইয়া পবিত্র টাউন জেরুজালেমো গেল, গিয়া বায়তুল-মুকাদ্দছ কাবা ঘরর মিনারার উপরে তানে উবা করাইয়া কইলো, 6“তুমি যুদি আল্লার খাছ মায়ার জন অও, তে দেখিছাইন, অন থাকি ফাল দিয়া লামাত পড়ো, কিতাবো তো লেখা আছে,
আল্লায় তান ফিরিস্তা অকলরে হুকুম দিবা;
আর তারা নিজর আতদি তুমারে ধরিলিবা,
যাতে তুমার পাওয়ো কুনু পাথরর চুট না লাগে।”
7ইছায় তারে কইলা, “কিতাবো অউ কথাও লেখা আছে,
তুমি তুমার মাবুদ আল্লারে পরিক্ষা করাত লাগিও না।”
8বাদে ইবলিছে তানরে খুব উচা এক পাড়র উপরে লইয়া গেল, নিয়া এক পলকে দুনিয়ার তামাম মুল্লুক আর অতার হকল জাক-জমক দেখাইলো আর কইলো, 9“তুমি যুদি আমারে সইজদা করিলাও, তে ই হক্কলতা আমি তুমারে দিলাইমু।”
10ইছায় জুয়াপ দিলা, “ধুর শয়তান, বাগ। আল্লার কালামো আছে, তুমি খালি তুমার মাবুদ আল্লারেউ ডরাইও, খালি তান এবাদত করিও।”
11অখান হুনিয়া ইবলিছ তান গেছ থাকি হরিয়া গেলগি, আর আল্লার ফিরিস্তা অকল আইয়া তান খেজমত করলা।
হজরত ইছা আল-মসীর তবলিগ
12বাদে ইছায় খবর পাইলা, এহিয়া নবীরে আটক করিয়া জেলো হারাইল অইছে, অখান হুনিয়া তাইন গালিল জিলাত গেলাগি। 13হনো গিয়া নাছারত গাউ ছাড়িয়া সবুলন-নপ্তালি এলাকার আওরর পারর কফরনাউম টাউনো গিয়া রইলা। 14ইতা হকলতা অইলো, যাতে ইশায়া নবীর মাজদি আল্লায় যেতা বাতাইছলা, অতা অখন ফলিযায়। ইশায়া নবীয়ে কইছলা,
15বিধর্মী মানষর বসত খানা গালিল জিলার
আওরর পারর সবুলন-নপ্তালি এলাকার মানুষ,
আর জর্দান গাংগর দুছরা পারর মানষর গেছে
আল্লার নুর জাইর অইবো।
16যেতা মানুষ বে-পথি বনিয়া আন্দারির মাজে জিন্দেগি কাটাইরা,
তারা আল্লার নুরর মহা রুশনি দেখবা।
আর যেরা গইন আন্দারির মাজে বসত করে,
তারার গেছেও আল্লার নুর জাইর অইবো।
17অউ সময় থাকি ইছায় তবলিগ করলা, কইলা, “তৌবা করো, কারন দুনিয়ার মাজে বেহেস্তি বাদশাই চালু অইতে আর বেশি দেরি অইতো নায়।”
হজরত ইছার পয়লা সাগরিদ অকল
18হজরত ইছা গালিল আওরর পারেদি আটিয়া যাইরা, অউ সময় দেখলা, সাইমন উরফে পিতর আর এন ভাই আন্দ্রিয়াছে আওরো জাল বাইরা, এরা তো জালুয়া আছলা। 19ইছায় এরারে কইলা, “আমার লগে আও, আমি তুমরারে মানুষ ধরার জালুয়া বানাইমু।” 20লগে লগে এরা জাল ফালাইয়া ইছার লগে রওয়ানা অইগেলা।
21অন থনে থুড়া আগে গিয়া দেখলা, ইয়াকুব আর হান্নান তারা দুইও ভাইয়ে বাফর লগে নাওয়ো বইয়া জাল জুইত-জাইত কররা। এরার বাফর নাম জিবুদিয়া। ইছায় এরারে দেখিয়া ডাক দিলা, 22ডাক হুনিয়া এরাও তারার বাফরে নাওয়ো থইয়া ইছার লগে আইলা।
হজরত ইছায় বউত বেমারিরে শিফা করলা
23বাদে ইছা গালিল জিলার হকল জাগাত ঘুরি ঘুরি, হনর নানান মছিদো গিয়া নছিয়ত করলা, আর বেহেস্তি বাদশাইর খুশ-খবরি তবলিগ করলা। এরলগে বউত নমুনার বেমারিরে ভালা করলা। 24আস্তা সিরিয়া দেশর মাজে তান খবর রটি গেল। এতে নানান নমুনার বেমার-আজার আর জালা-যন্ত্রনায় যেতা মানষে কষ্ট পাইছিল, যেরারে জিন-ভুতে ধরছিল, মিরগি আর অর্ধং বেমারি যতো মানুষ আছিল, মানষে অতারে ইছার গেছে লইয়া আইলা। তাইন এরা হকলরে ভালা করলা। 25গালিল, দিকাপলি, জেরুজালেম, এহুদিয়া আর জর্দানর অইন্য পার থাকি বউত মানুষ ইছার খরে খরে রওয়ানা অইলা।
5পাড়র পেটো হজরত ইছার তালিম (৫:১-৭:২৯)
কুন কুন মানুষ নেক-কপালি
1বউত মানুষ আইছইন দেখিয়া ইছা গিয়া এক পাড়র উপরে উঠিলা। উঠিয়া বওয়ার বাদে তান সাগরিদ অকল কান্দাত আইলা। 2সাগরিদ অকলরে দেখিয়া তাইন অউ তালিম দিলা, কইলা,
3“নেক-কপালি অউ মানুষউ যারা দিল থাকি নিজরে গরিব মনো করে,
বেহেস্তি বাদশাই তো তারাউ পাইবা।
4তারাউ কপালি যারার মনো অখন দুখ আছে,
তারাউ তো সুখ পাইবা।
5তারাউ কপালি যারার চাল-চলন নরম,
ই দুনিয়া তো তারারউ অইবো।
6তারাউ কপালি যারা দিলে-জানে পাক-পরেজগারির লাগি কান্দে,
তারার অউ আশা পুরা অইবো।
7তারাউ কপালি যারা মানষরে দয়া করে,
তারাউ তো দয়া পাইবা।
8তারাউ কপালি যারার দিল খাটি,
কারন তারাউ আল্লার দিদার পাইবা।
9তারাউ কপালি যারা মানষরে শান্তিয়ে রাখার লাগি মেনত করে,
আল্লায় তারারে তান আপন আওলাদ কইয়া ডাকিবা।
10তারাউ কপালি যারা আল্লার হুকুম মাফিক চলাত গিয়া
জুলুম-মছিবত সইয্য করে,
বেহেস্তি বাদশাই তো তারাউ পাইবা।
11“আর তুমরাউ কপালি যারারে আমার লাগি মানষে ঘিন্নায়, মানষে তুমরারে জুলুম করে আর নানান নমুনার মিছা বদনাম গায়। 12ইলা অইলে মনো রাখিও, তুমরার আগে যে নবী অকল আইছলা, ইতা মানষে অউ নবীর উপরেও অলা জুলুম করতা। তে তুমরা খুশি-বাসি আর ফুর্তি করিও, কারন তুমরাও অউ নবী অকলর লাখান বেহেস্তো বউত বড় পুরুস্কার পাইবায়।
মুমিন অকল দুনিয়ার বাত্তি আর নুন
13“তুমরা অইলায় দুনিয়ার নুন, অইলে নুনর গুন যুদি নষ্ট অইযায়, তে আর নুনতা করা যায় নি? ই নুন তো আর কুনু কামো লাগে না। মানষে ইতা বারে ফালাই দেইন আর ইতার উপরেদি আটইন।
14“হুনো, তুমরা অইলায় দুনিয়ার বাত্তি। পাড়র উপরর কুনু টাউন তো লুকাইল রাখা যায় না। 15আর কুনু মানষে লেম জালাইয়া টুকরির তলে থয় না, ইকটা লেম-দানির উপরেউ থয়, যাতে ঘরর হকলে ফর দেখইন। 16অউ লাখান তুমরার ফরও মানষর ছামনে জলউক, যাতে তুমরার ভালা কাম দেখিয়া মানষে তুমরার বেহেস্তি বাফ, আল্লা পাকর তারিফ করইন।
শরিয়তর বেয়াপারে তালিম
17“তুমরা ইখান মনো করিও না, আমি তৌরাত কিতাব আর নবী অকলর ছহিফা বাতিল করাত আইছি। আমি তো ইতা বাতিল করাত নায়, বরং পুরা করাত আইছি। 18আমি হাছা কথা কইরাম, তৌরাত কিতাবর হকল কথা যতদিন না ফলিছে, অতো দিন ই কিতাবর একটা হরফ বা জের-জবরও বাতিল অইতো নায়। আছমান-জমিন ক্ষয় না অওয়া পর্যন্ত, ইখান বাতিল অইতো নায়। 19তৌরাত কিতাবর কুনু হুরু-মুরু হুকুমও যুদি কেউ না মানে, বা ই হুকুম না মানার লাগি মানষরে পরামিশ দেয়, তে বেহেস্তি বাদশাইত তারেও হকল থাকি হুরু কওয়া অইবো। অইলে যে জনে ই হুকুম-আহকাম আমল করে আর মানষরেও হিকায়, বেহেস্তি বাদশাইত তারে বউত দাম দেওয়া অইবো। 20আমি তুমরারে কইরাম, আলিম-উলামা আর ফরিশি অকলর আমল থাকিও, তুমরার আমল যুদি আরো ভালা না অয়, তে কুনুমন্তেউ বেহেস্তি বাদশাইত হামাইতায় পারতায় নায়।
রাগ-গুছার বেয়াপারে হুশিয়ারি
21“তুমরা হুনছো, আগর আমলর মানষর গেছে কওয়া অইছে, ‘খুন করিও না, যেগিয়ে খুন করবো, হে ই খুনর দাড়ো পড়বো।’ 22অইলে আমি তুমরারে কইরাম, যে মানষে তার ভাই-বিরাদরর লগে রাগ-গুছা করে, হে বিচারর দাড়ো পড়বো। হে যুদি তার ভাইরে কয়, ‘তুমি তো বেআখল’ তে আরো বড় বিচারর দাড়ো পড়বো। আর যে জনে তার ভাইরে কয়, ‘তুমি বেওকুফ,’ হে দোজখর আগুইনো জলবো।
23“এরদায় কুরবানি খানাত গিয়া আল্লার নামে লিল্লা-ছদগা দিবার সময় যুদি তুমার মনো অইযায়, তুমার লগে তুমার কুনু ভাইর বিবাদ আছে, 24তে তুমার লিল্লা-ছদগা অউ জাগাত থইয়া, আগে গিয়া তুমার ভাইর লগে মিট-মাট করো, বাদে গিয়া তুমার কুরবানি দেও।
25“কেউ তুমার বিরুদ্ধে কুনু মামলা করলে আদালতো যাওয়ার আগেউ তার লগে জলদি মিট-মাট করিলিও। ইলা না করলে, হে তুমারে হাকিমর আতো দিবো, হাকিমে তুমারে পুলিশর হাওলা করবা, আর পুলিশে তুমারে জেলো হারাইবা। 26হেশে তার ষোলআনা পাওনা আদায় না করা পর্যন্ত, তুমি কুনুমন্তেউ ছাড়া পাইতায় নায়। আমি তুমরারে আসল কথা কইলাম।
জিনা আর কছমর বেয়াপারে হুশিয়ারি
27“তুমরা হুনছো, আগে বাতাইল অইছে, ‘জিনা করিও না।’ 28অইলে আমি তুমরারে কইরাম, কুনু বেটায় যুদি কুনু বেটি মানষর বায় কু-নজরে চায়, তে হে অউ সময় মনে মনে তাইর লগে জিনা করলো।
29“তুমার ডাইন চউখে যুদি তুমারে গুনার পথে টানে, তে ই চউখ তুলিয়া ফালাই দেও। আস্তা শরিল লইয়া দোজখো যাওয়া থাকি, একটা অংগ বিনাশ করিলাওয়া তুমার লাগি ভালা। 30তুমার ডাইন আতে যুদি তুমারে গুনার পথে টানে, ই আত কাটিয়া ফালাই দেও। আস্তা শরিল লইয়া দোজখো যাওয়া থাকি, একটা অংগ বিনাশ করিলাওয়া তুমার লাগি ভালা।
31“আরো কওয়া অইছে, ‘যে মানষে তার বউরে তালাক দেয়, হে বউরে তালাক নামা দেউক।’ 32অইলে আমি তুমরারে কইরাম, যে মানষে জিনা ছাড়া অইন্য কুনু কারনে নিজর বউরে তালাক দেয়, হে তো তার বউরে জিনাকুর বানায়। আর তালাক পাওয়া বেটিরে যেগিয়ে বিয়া করে, হে-ও জিনাকুর বনে।
33“তুমরা তো জানো, আগর জমানার মানষর গেছে বাতাইল অইছে, ‘মিছা কুনু কছম করিও না, আর যেকুনু কছম করলে ইটা আল্লার নামে আদায় করিও।’ 34অইলে আমি তুমরারে কইরাম, কুনুজাত কছম করিও না। বেহেস্তর নামে কছম করিও না, ইখান তো আল্লার আরশ। 35দুনিয়ার নামে করিও না, ইখান তো আল্লার কদম মুবারক থওয়ার জাগা। জেরুজালেমর নামেও কছম করিও না, ইখান অইলো মহান বাদশা আল্লার টাউন। 36তুমার নিজর মাথার নামে কছম করিও না, ই মাথার একছা চুলরে ধলা বা কালা করার খেমতা তো তুমার নাই। 37তুমরার মাতর অয় খান অয়, আর না খান না অউক। হুনো, ইতার বারে আর যততাউ অয়, ইতা ইবলিছ থাকি অয়।
বদলা লওয়ার বেয়াপারে তালিম
38“তুমরা তো হুনছো, আগে বাতাইল অইছে, যে পরিমানে খেতি অইছে, অউ পরিমানে সাজা দিও, ‘চউখর বদলা চউখ আর দাতর বদলা দাত।’ 39অইলে আমি কইরাম, কেউ যুদি তুমরার লগে খারাপ বেবহার করে, তে তুমরা এর বদলা লইও না, বরং কুনু মানষে তুমার ডাইন গালো চড় মারলে, তারে বাউ গালও পাতিয়া দিলাইও। 40কেউ যুদি মামলা-মকদ্দমা করিয়া তুমার কোর্তা নিতোগি চায়, তে তুমার চাদ্দরও দিলাইও। 41কেউ যুদি তুমারে কয়, তার গাইট বইয়া লইয়া এক মাইল যাইতায়, তে তুমি তার লগে দুই মাইল যাইওগি। 42কেউ তুমার গেছে কুন্তা খুজিলে তারে দিও। কেউ আওলাত চাইলে, তারে ফিরাই দিও না।
দুশমনরে মহব্বত করো
43“তুমরা জানো, আগে তো বাতাইল অইছিল, ‘তুমার আরি-ফরিরে মায়া করিও আর দুশমনরে ঘিন্নাইও।’ 44অইলে আমি তুমরারে কইরাম, তুমরার দুশমনরেও মায়া করিও। যেরা তুমরারে জুলুম করে, তারার লাগি দোয়া করিও। 45ইতা দেখিয়া মানষে বুজবা, তুমরা হাছাউ তুমরার বেহেস্তি বাফ আল্লা পাকর মায়ার আওলাদ বনিগেছো। তাইন তো ভালা-বুরা হকলর উপরে তান সুরুজ উঠাইন, দীনদার আর নাফরমান হকলর উপরেউ মেঘ-পানি দেইন। 46যারা তুমরারে মহব্বত করে, তুমরা যুদি খালি তারারেউ মহব্বত করো, তে তুমরা কিতা পুরুস্কার পাইবায়? ঘুষখুর তশিলদার অকলেও ইলা করে না নি? 47তুমরা যুদি খালি নিজর ভাইরে ছালাম দেও, তে অইন্য মানুষ থাকি বেশি আর কিতা কররায়? বিধর্মী অকলেও ইলা করইন না নি? 48এরলাগি আমি কইরাম, তুমরার বেহেস্তি বাফ আল্লা পাক যেলা খাটি, তুমরাও অলা খাটি অও।
6দান-খয়রাতর বেয়াপারে তালিম
1“তুমরা হুশিয়ার রইও, মানষরে দেখানির লাগি এবাদত-বন্দেগি করিও না, ইলা করলে তুমরার বেহেস্তি বাফ আল্লা পাকর গেছ থাকি কুনু পুরুস্কার পাইতায় নায়।
2“কুনু মানষরে দান-খয়রাত দিলে ভন্ড অকলর লাখান দিও না। তারা তো মানষর গেছ থাকি তারিফ পাইতা করি মছিদো-মন্দিরো আর পথে-ঘাটে, ডুল-ডপকি বাজাইয়া লিল্লা-যকাত দেইন। আমি তুমরারে হাছাউ কইরাম, তারার পুরুস্কার তো তারা পাইলিছে। 3অইলে তুমি কুনু দান-খয়রাত দিলে, তুমার ডাইন আতে বিলাইলে বাউ আতে যানু না জানে। 4অউলা লুকাইয়া দান করিও। তেউ তুমার বেহেস্তি বাফ আল্লা, যেইন লুকাইয়া হকলতা দেখইন, তাইনউ তুমারে পুরুস্কার দিবা।
দোয়া করার বেয়াপারে তালিম
5“তুমরা যেবলা দোয়া করো, অউ সময় ভন্ড অকলর ভাব ধরিও না। তারা মানষরে দেখানির লাগি মছিদো-মন্দিরো আর পথর মুখো উবাইয়া দোয়া করে। আমি তুমরারে হাছাউ কইরাম, ইতায় তো তারার পুরুস্কার পাইলিছে। 6অইলে তুমি দোয়া করার বালা ঘরর দরজা-জানালা লাগাইয়া দোয়া করিও, আর তুমার নিরাকার বাফ, যেনরে দেখা না গেলেও আজির আছইন, হউ আল্লার গেছে চাইও। তাইন তো গোপন হকলতা দেখইন, তাইনউ তুমারে ফল দিবা।
7“তুমরা যেবলা দোয়া করো, অউ সময় দুনিয়ার মানষর লাখান খামোখা বের-বেরি করিও না। তারা মনো করইন, বেশি বেশি কইলে আল্লায় তারার দোয়া কবুল করবা। 8তুমরা তারার লাখান অইও না, তুমরার বেহেস্তি বাফ আল্লার গেছে চাওয়ার আগেউ, তাইন জানইন তুমরার কিতা দরকার। 9এরলাগি তুমরা অলাখান দোয়া করিও,
ও বাবা, আমরার বেহেস্তি বাফ,
তুমার নাম পাক-পবিত্র মানা অউক।
10দুনিয়াইত তুমার বাদশাই জলদি আউক,
সব তুমার মর্জি মাফিক করা যাউক,
বেহেস্তো যেলা অউলা দুনিয়াইত,
বেহেস্তো যেলা অউলা দুনিয়াইত।
11ও বাবা, আইজকুর খানি আইজকু দেও,
মাফ করো আমরার হকল অপরাধ,
12যারা আমরার বিরুদ্ধে করছে পাপ,
আমরা তো তারারে দিলাইছি মাফ।
13ফালাইও না আমরারে পরিক্ষাত,
শয়তানর কবজা থাকি করো খালাছ॥
14হুনো, তুমরা যুদি আরক জনর অপরাধ মাফ করো, তে তুমরার বেহেস্তি বাফ আল্লায়ও তুমরার অপরাধ মাফ করি দিবা। 15অইলে তুমরা যুদি অইন্যরে মাফ না করো, তে তুমরার বেহেস্তি বাফে তুমরারেও মাফ করতা নায়।
রোজার বেয়াপারে তালিম
16“তুমরা যেবলা রোজা রাখো, অউ সময় ভন্ড অকলর লাখান মুখ কালা করিও না। তারা রোজা রাখছইন, অখান দেখানির লাগি চউখ-মুখ কালা করি রাখইন। আমি তুমরারে হাছাউ কইরাম, ইতায় তো তারার পুরুস্কার পাইলিছে। 17অইলে তুমি রোজা রাখলে মুখ-আত ধইও, মাথাত তেল-পানি দিও, 18যেলা মানষে বুজতো না পারে, তুমি রোজা রাখছো। তেউ তুমার নিরাকার বাফ, যেনরে দেখা না গেলেও আজির আছইন, হউ আল্লায়উ ইতা দেখবা। তাইন তো গোপন হকলতা দেখইন, তাইনউ তুমারে ফল দিবা।
আখেরাতর ধন কামাও
19“ই জিন্দেগিত তুমরা নিজর লাগি অতো ধন-সম্পদ জমাইও না। দুনিয়ার সম্পদর মাজে জংগারে ধরে, পুকে খায় আর হিং খুদিয়া চুরে নেয়। 20অইলে বেহেস্তর মাজে নিজর লাগি ছামানা জমাও, হিনো জংগারে ধরে না, পুকেও খায় না আর চুরিও অয় না। 21মনো রাখিও, তুমার ধন যেনো, মনও হনো রয়।
22“জানো তো, চউখ অইলো শরিলর বাত্তি। তুমার চউখ যুদি ভালা অয়, তে তুমার আস্তা শরিলো চকচকা ফর অইবো। 23অইলে তুমার চউখ যুদি খারাপ অয়, তে আস্তা শরিলউ কালা আন্দাইর অইযিবো। তুমার দিলর বাত্তি আন্দাইর অইলে, ই আন্দাইর বড় বেজুইতা।
24“জানো নি, কুনু গুলামেউ দুই মুনিবর খেজমত করতো পারে না, হে একজনরে ঘিন্নাইবো আরক জনরে ভালা পাইবো। আরনায় একজনর বায় খিয়াল করবো, আরক জনরে এলামি করবো। তে তুমরাও আল্লা পাক আর ধন-ছামানা, দুইওতার খেজমত একলগে করতায় পারো না।
25“এরদায় আমি তুমরারে কইরাম, কিলা খাইতাম আর কিলা ফিন্দিতাম, ইতা লইয়া চিন্তা করিও না। খানি থাকি জান বড়, কাপড়-চুপড় থাকি শরিল বড়।
26“আছমানর অউ পাখিন্তর বায় চাও, তারা জালাও বাইন করে না, ফসলও কাটে না, উগারো কুন্তা জমায় না, খালি তুমরার বেহেস্তি বাফ আল্লায় তারার খুরাক দেইন। তে তুমরা কুনু ইতা থাকি আরো দামি নায় নি? 27কওছাইন, তুমরার মাজে কেউ চিন্তা-ভাবনা করিয়া তার হায়াতি একখান ঘন্টা বাড়াইতো পারবো নি?
28“ফিন্নর কাপড়র লাগি চিন্তা করো কেনে? তুমরা অউ জংলি ফুলর বায় চাইয়া দেখো, ইতা কতো বেশি সুন্দর! ইতায় তো নিজর সুন্দরর লাগি কুন্তাউ করে না, কুনু রংগও সিলাই করে না, বাইনও করে না, এমনেউ অয়। 29তে আমি কইরাম, বাদশা সুলাইমান অতো জাক-জমকর মাজে রইলেও তান লেবাছ তো অতা এগু জংলি ফুলর লাখানও সুন্দর আছিল না। 30দেখরায় নি, জংগলর মাজে অউ যেতা সুন্দর ফুল অখন আছে, কাইল অইলেউ মানষে ইতা দারু বানাইয়া আগুইনদি জালাইবো। আল্লায় যুদি অউ জংগলরে অলা সুন্দর করি হাজাইছইন, তে ও কমজুর ইমানদার অকল, তুমরারেও তাইন সুন্দর করি হাজাইতা নায় নি? 31এরদায় কিতা খাইতায় আর কিতা ফিন্দিতায়, ইতা লইয়া চিন্তা করিও না। 32ই দুনিয়ার মানষে খালি অতা লইয়াউ ধান্দা করে। তুমরার বেহেস্তি বাফ আল্লায় তো জানইনউ, ইতা হকলতা তুমরার জরুর আছে। 33এরলাগি তুমরা পয়লাউ আল্লার মর্জি যুগাইয়া চলো, তান বাদশাইর ধান্দাত রও। তেউ ইতা হক্কলতাও তুমরা পাইবায়। 34কাইলকুর চিন্তা করিও না, কাইলকুর বেয়াপার কাইলকুর উপরে ছাড়ি দেও। দিনর আজাব দিনর লাগি যথেষ্ট।
7মানষর দুষ তুকাইও না
1“তুমরা মানষর দুষ তুকানিত রইও না, তেউ তুমরার দুষও তুকাইল অইতো নায়। 2তুমরা যেলা মানষর দুষ তুকাও, আল্লায়ও অউলা তুমরার দুষ তুকাইবা। তুমরা যেলা পাল্লাদি মাপিবায়, তুমরার লাগিও অলা মাপা অইবো।
3“তুমার ভাইর চউখর ভিতরে গুড়া আছে ইখান দেখরায়, অইলে নিজর চউখো গাছর চেলি আছে ইখান দেখরায় না কেনে? 4তুমার চখুত চেলি হামাইছে ইখান যেবলা দেখরায় না, তে তুমার ভাইরে কিলা কইবায়, ভাই, তুমার চখুত গুড়া হামাইছে, আও, বার করিয়া দেই? 5হায়রে ভন্ড, পয়লা নিজর চউখ থাকি চেলি বার করো, বাদে তুমার ভাইর চউখ থাকি গুড়া বার করাত লাগলে ভালা করি দেখতায় পারবায়।
6“হুনো, কুত্তার ছামনে পাক-পবিত্র কুনু চিজ দিও না। শুয়রর ছামনে মনি-মুক্তা ছিটাইও না। আরনায় অউ চিজরে তারার পাওদি উড়িয়া, উল্টা আইয়া তুমরারেও হামলা করতা পারইন।
দোয়া-মুনাজাতর বেয়াপারে ওয়াদা
7“আমি তুমরারে কইরাম, চাও, তুমরারে দেওয়া অইবো। তালাশ করো, তেউ পাইবায়। দুয়ারো ঠুকা দেও, তেউ দুয়ার খুলা অইবো। 8যারা চায়, তারাউ তো পায়। যে তালাশ করে হে পায়। যে দুয়ারো ঠুকায়, তার লাগি দুয়ার খুলা অয়। 9তুমরার মাজে ইলা কুনু মা-বাফ আছে নি, যার পুতে রুটি চাইলে মাটি দিবো? 10মাছ চাইলে হাফ দিবো? 11তুমরা খারাপ অইয়াও যুদি তুমরার হুরুতাইনরে ভালা ভালা চিজ দিতায় জানো, তে যারা বেহেস্তি বাফ আল্লা পাকর গেছে চাইবো, তাইন তো নিচয় তারারে ভালা ভালা চিজ দান করবা, ইতা তো স্বাভাবিক। 12হুনো, তুমরা মানষর গেছ থাকি যেলাখান বেবহার পাইতায় চাও, তুমরাও হকলর লগে অউ লাখান বেবহার করো। অতাউ অইলো তৌরাত কিতাব আর নবী অকলর ছহিফার মুল তালিম।
কুন পথে চলতায়
13“হুনো, তুমরা চিপা দুয়ারেদি হামাইও, কারন যে পথে বিনাশর বায় টানে, ই পথ মোটা, পথর দুয়ারও বড়, বউত মানুষ অউ দুয়ারেদি হামাইন। 14অইলে যে পথে গেলে জিন্দেগি মিলে, ই পথর দুয়ার চিপা, পথও হুরু-মুরু। খুব কম মানষেউ ই দুয়ারর খুজ পাইন।
15“ভন্ড নবী অকল থাকি হুশিয়ার রইও। তারা তুমরার গেছে মেড়ার ছুরতে আয়, অইলে ভিতরে ভিতরে তারা রাইক্কস বাঘর লাখান। 16তারার জিন্দেগি দেখিয়াউ চিনতায় পারবায়। জানো তো, গছা-কাটার মাজে কুনু আংগুর ধরে নি বা বন-জংলার মাজে কুনু ডুমুর ফল ধরে নি? 17ঠিক অউ লাখান, ভালা গাছে তো ভালা ফলউ ধরে আর মন্দ গাছে মন্দ ফলউ ধরে। 18ভালা গাছে তো মন্দ ফল ধরে না, আর মন্দ গাছে ভালা ফল ধরে না। 19যে গাছে ভালা ফল ধরে না, ইগুরে কাটিয়া দারু জালাইল অয়। 20অলাউ ভন্ড নবী অকলর জিন্দেগির ফল দেখলেউ ইতারে চিনবায়।
বেহেস্তি বাদশাইত কে হামাইবো?
21“মনো রাখিও, আমারে ‘হুজুর, হুজুর!’ কইলেউ যেন বেহেস্তি বাদশাইত হামাইযিবায়, ইখান ঠিক নায়। বরং যে জনে আমার বেহেস্তি বাফ আল্লা পাকর মর্জি যুগাইয়া চলে, খালি হে-উ হামাইতো পারবো। 22হউ দিন আইলে বউতে কইবা, ‘মুনিব, মুনিব, আমরা তুমার নামে গাইবি খবর কইছি না নি? তুমার নামে জিন-ভুত ছাড়াইছি না নি? তুমার নামে বউত কেরামতি দেখাইছি না নি?’ 23অইলে আমি তারারে জুয়াপ দিমু, ‘ধুর, ইবলিছর দল! আমি তো তুমরারে চিনিউ না, আমার গেছ থাকি বাগো।’
ইমানর দুই নমুনা
24“যে মানষে আমার অউ তালিম হুনিয়া আমল করে, হে আখলদার মানষর লাখান মজবুত খুটির উপরে তার ঘর বানায়। 25বাদে মেঘ-তুফান আর জোয়ার আইয়া অউ ঘররে ঠেলা দিলেও ফালাইতো পারে না, কারন ইখান তো মজবুত খুটির উপরে বানাইল অইছে। 26অইলে যে আমার তালিম হুনিয়াও আমল করে না, হে বেআখলর লাখান নরম মাটির উপরে ঘর বানায়। 27বাদে যেবলা মেঘ-তুফান আর জোয়ার আইয়া অউ ঘররে ঠেলা দেয়, অউ সময় ইখান পড়িয়া চেপটা অইযায়।”
28ইছার ইতা তালিম হুনিয়া মানুষ তাইজ্জুব বনিগেলা। 29কারন তাইন তো তারার মৌলানা অকলর লাখান তালিম না দিয়া, খেমতাবান মানষর লাখান তালিম দিতা।
8হজরত ইছার দশ কেরামতি (৮:১-৯:৩৮)
পচা-কুষ্ঠ বেমারিরে ভালা করা
1হজরত ইছা পাড় থাকি লামিয়া আইলে বউত মানুষ তান খরে খরে আইলা। 2অউ সময় এক পচা-কুষ্ঠ বেমারিয়ে তান কান্দাত আইয়া পাওত পড়িয়া কইলো, “হুজুর, আপনার মর্জি অইলে আমারে অউ নাপাক বেমার থাকি ভালা করতা পারইন।” 3তেউ তাইন আত বাড়াইয়া তারে ছইয়া কইলা, “অয় আমি চাইরাম, তুমি পাক-ছাফ অও।” কওয়ার লগে লগেউ তার বেমার শিফা অইগেল। 4ইছায় তারে কইলা, “হুনো, ইতা কেউররে হুনাইও না, খালি ইমাম ছাবর গেছে গিয়া দেখাও। মুছা নবীর শরিয়ত মাফিক পাক-ছাফ অওয়ার লাগি যেলা কুরবানি করা জরুর, অউ কুরবানি দিলেউ সমাজে জানিলিবা তুমি ভালা অইগেছো।”
রোমান ছুবেদারর গুলামরে ভালা করা
5এরবাদে ইছা গিয়া কফরনাউম টাউনো হামাইলা। হিনো রোমান সিপাইর এক ছুবেদারে তান গেছে আইয়া মিনত-কাজ্জি লাগাইলা, 6“হুজুর, আমার গুলামর অবশ বেমার অইয়া বিছনাত পড়ি রইছে, হে খুব কষ্ট করের।”
7ইছায় এনরে কইলা, “আইচ্ছা, আমি যাইমুনে, গিয়া তারে ভালা করমু।”
8তেউ ছুবেদারে কইলা, “হুজুর, আপনার মতো জনে আমার বাড়িত তশরিফ নিতা, আমি তো এর লাখ নায়। আপনে খালি মুখ-খানদি কইলেউ হে ভালা অইযিবো। 9আপনে তো বুজরা, আমিও আমার কামান্ডারর হুকুমে চলি, অউলা আমার সিপাই অকলও আমার হুকুমে চলইন। আমি এরা একজনরে আও কইলে আয়, যাও কইলে যায়। আমার গুলামরে যুদি কই, অখান করো, হে ইখান করে, তে আপনেও অলা মুখদি হুকুম দিলেউ হে ভালা অইযিবো।”
10ইখান হুনিয়া ইছা এক্কেরে তাইজ্জুব অইগেলা, তান খরে অইয়া যতো মানুষ আওয়াত আছিল, এরারে কইলা, “আমি তুমরারে হাছাউ কইরাম, ই ছুবেদার তো বিধর্মী রোমান মানুষ, অইলে আমার বনি ইছরাইলর মাজেও অতো বড় মজবুত ইমানদার আমি আর দেখছি না। 11হুনো, পুব আর পইচমর দেশ থাকি বউত জন আইবা, তারা হজরত ইব্রাহিম, ইছহাক আর ইয়াকুব নবীর লগে বেহেস্তি বাদশাইত খানিত বইবা। 12অইলে বেহেস্তি বাদশাইত যারা থাকার কথা, তারারে বারে আন্দাইর গাতো ফালাই দেওয়া অইবো। হিনো তারা কান্দা-কাটি করবা আর জালা-যন্ত্রনায় দাত কিড়িমিড়ি খাইবা।”
13বাদে ইছায় অউ ছুবেদাররে কইলা, “তুমি যাওগি। তুমি যেলা একিন করছো, অলাউ অউক।” হাছাউ, লগে লগেউ হউ গুলাম ভালা অইগেল।
হজরত পিতরর হড়ির শিফা
14এরবাদে হজরত ইছা হজরত পিতরর বাড়িত গেলা, গিয়া দেখলা, পিতরর হড়ির খুব তাপ উঠছে, তাইন বিছনাত পড়নো। 15তানে দেখিয়া ইছায় তান আতো ছইলা, আর লগে লগে তাপ ছাড়ি দিলো। বেটিয়ে উঠিয়া ইছার মেহমানদারিত লাগলা।
16অউ দিন হাইঞ্জা বালা মানষে জিনর আছর আলা বউত জনরে ইছার গেছে লইয়া আইলা। ইছায় তান মুখর কথায়উ এরার জিন ছাড়াইলা, আর হক্কল বেমারিরে ভালা করলা। 17ইতা ঘটলো, যাতে ইশায়া নবীর মাজদি বউত আগে যেতা বাতাইল অইছিল, অতা অখন পুরা অয়। হনো বাতাইল অইছিল,
আমরার হকল কমজুরি তান কান্দো নিলা,
আমরার বেমার-আজার হরাইলা।
খাটি উম্মত অওয়ার তাগিদ
18ইছার চাইরো গালাবায় ভিড় লাগি গেছে দেখিয়া, তান সাগরিদ অকলরে হুকুম দিলা আওরর হপারো যাইতাগি। 19অউ সময় একজন মৌলানা আইয়া ইছারে কইলা, “হুজুর, আপনে যেনো যাইবা, আমিও হনো যাইমু।”
20ইছায় এনরে কইলা, “হুনউক্কা, হিয়ালর গাত আছে, পাখিরও বাদা আছে, অইলে আমি বিন-আদমর মাথা থওয়ার ঠাই নাই।”
21আরক জন সাগরিদে আইয়া কইলা, “হুজুর, আমারে বাড়িত যাইতে দেউক্কা, আমি পয়লা গিয়া আমার বাবার দাফন-কাফন করিয়া আই।” 22তাইন কইলা, “মরা অকলেউ তারার মরারে মাটি দেউক, তুমি আমার লগে চলো।”
আওরর তুফান বন্দ করা
23ইছা আওরর হপারো যাইতা করি, তান সাগরিদ অকলরে লইয়া এক নাওয়ো উঠলা। 24ইছা নাওর মাজে ঘুমাইরা, অউ সময় আখতাউ আওরর মাজে বড় এক তুফান আইলো, তুফানে নাও খান বুড়িযিবার দশা অইগেল। 25ই দশা দেখিয়া সাগরিদ অকলে ইছারে হজাগ করি কইলা, “হুজুর, আমরারে বাচাউক্কা, আমরানু মরি যাইরাম।”
26ইছায় জুয়াপ দিলা, “ও কমজুর ইমানদার অকল, তুমরা ডরাইরায় কেনে?” অখান কইয়া তাইন উঠিয়া তুফান আর আওররে ধমক দিলা, তেউ হক্কলতা থির অইগেল। 27ই কেরামতি দেখিয়া তারা তাইজ্জুব অইয়া কইলা, “এইন আসলে কে? তুফান আর আওরেও দেখি তান হুকুম মানে!”
ভুতে ধরা দুইজন মানুষ
28এরবাদে ইছা আওর পাড়ি দিয়া জেরাসিনি অকলর দেশো আইলা। অউ সময় ভুতে ধরা দুইজন মানুষ কবরস্থান থাকি বার অইয়া তান গেছে আইলো। তারা অলা জনুন পাগল আছলা যেন, তারারে ডরাইয়া কেউ অউ পথেদি যাইতো পারতো না। 29তারা চিল্লাইয়া ইছারে কইলো, “ও আল্লার খাছ মায়ার জন ইবনুল্লা, আমরার লগে আপনার কিতা দরকার? সময় অওয়ার আগেউ আপনে আমরারে ছাতানিত আইচ্ছইন নি?”
30অউ সময় তারার গেছ থাকি থুড়া দুরই বড় এক শুয়রর পালে খাওয়াত আছলা। 31ভুত অকলে ইছারে মিনত করি কইলো, “আপনে আমরারে খেদাইতে চাইলে, অউ শুয়রর পালর মাজে পাঠাই দেউক্কা।”
32ইছায় তারারে ইজাজত দিয়া হারলে তারা গিয়া অউ শুয়রর পালর মাজে হামাইগেল। আর শুয়রর পালে আওরর খাড়া চরেদি খুব জুরে দৌড়াইয়া গিয়া পানির মাজে বুড়িয়া মরলা।
33ইতা দেখিয়া শুয়রর রাখাল অকলে দৌড়াইয়া গিয়া গাউর হকল মানষরে খবর জানাইলা, এরলগে অউ ভুতে ধরা মানষর কথাও কইলা। 34ই ঘটনা হুনিয়া গাউর হকল মানুষ ইছার লগে দেখা করাত আইলা। তান লগে দেখা করিয়া তারা মিনত করি কইলা, “মেহেরবানি করি আমরার দেশ থাকি যাউক্কাগি।”
9অবশ বেমারিরে শিফা করা
1বাদে হজরত ইছা নাওয়ো করি আওর পাড়ি দিয়া নিজর টাউনো আইলা। 2আইয়া হারলে কয়জন মানষে একজন অবশ বেমারিরে পলোদি বইয়া লইয়া তান গেছে আইলো। তারার ইমানর বল দেখিয়া ইছায় অউ বেমারিরে কইলা, “মনো বল রাখোরে পুত, তুমার গুনা মাফ করা অইছে।”
3ইখান হুনিয়া কয়জন মৌলানায় মনে মনে কইলা, “ই বেটায় তো শিরিকি করের।” 4ইছায় তারার দিলর ভাব বুজিয়া কইলা, “আপনারা কেনে ইলা কু-চিন্তা কররা? 5আমার লাগি কুনখান কওয়া সুজা, তুমার গুনা মাফ করি দিলাইলাম, না উঠো, তুমার বিছনা লইয়া বাড়িত যাওগি? 6তে অখন আপনারা পরমান দেখউক্কা, ই দুনিয়াত গুনা মাফির খেমতা আমি বিন-আদমর আছে।” অখান কইয়াউ তাইন বেমারি বেটারে কইলা, “ওবা উঠো, তুমার খেতা-বালিশ লইয়া বাড়িত যাওগি।”
7কইতেউ হি বেমারি বেটা উঠিয়া তার বাড়িত গেলোগি। 8ইতা দেখিয়া মানুষ তাইজ্জুব অইগেলা, আল্লায় মানষরে অতো খেমতা দিছইন করি তারা আল্লার তারিফ করলা।
হজরত মথিরে তরিকার দাওত
9ইছায় পথেদি আটিয়া যাইরা, অউ সময় দেখলা, মথি নামর একজন মানুষ খাজনা তুলার অফিসো বইরইছইন। দেখিয়া তানরে কইলা, “আও, আমার উম্মত অও।” তেউ মথি উঠিয়া ইছার খরে খরে গেলা।
10এরবাদে ইছায় তান সাগরিদ অকলরে লইয়া মথির বাড়িত গিয়া খাওয়াত বইলা। তান লগে বউত খাজনা তুলরা আর নাফরমান অকলও খানিত আছলা। 11ইতা দেখিয়া ফরিশি মজহবর মানষে ইছার সাগরিদ অকলরে কইলা, “তুমরার মুরশিদে ঘুষখুর খাজনা তুলরা আর খবিছ অকলর লগে খাওয়া-দাওয়া করইন কেনে?”
12ইখান হুনিয়া ইছায় কইলা, “ভালা মানষর লাগি কবিরাজ লাগে না, অইলে বেমারির লাগি তো লাগে। 13আল্লার কালামো বাতাইল অইছে, ‘আমি কুনু পশু কুরবানি নায়, খালি দয়া দেখতাম চাই।’ তে অউ আয়াতর মানি কিতা, অখান তালাশ করউক্কা। মনো রাখবা, আমি কুনু পরেজগাররে দাওত দেওয়াত আইছি না, খালি গুনাগার অকলরেউ দাওত দিতাম আইছি।”
পুরান তালিম থাকি হজরত ইছার তালিম ভালা
14এরবাদে এহিয়া নবীর উম্মত অকলে আইয়া ইছারে জিকাইলা, “হুজুর, আমরা আর ফরিশি মজহবর মানষে হামেশা রোজা রাখি, অইলে আপনার উম্মত অকলে রোজা রাখইন না কেনে?” 15তাইন জুয়াপ দিলা, “নশা লগে থাকলে লগর বৈরাতিরে কুনু দুখ দেওয়া যায় নি? দেখবানে, ইলা সময় আইবো, যেবলা নশারে তারার গেছ থাকি হরাইল অইযিবো, হউ সময় তারা রোজা রাখবা।
16“আনা-ধোয়া নয়া কাপড়র টুকরাদি কেউ পুরান কোর্তাত তালি দেয় না। ইলা করলে ধইয়া হারলে পুরান কাপড় থাকি নয়া তালি খুছ অইয়া ছিড়িযায়, আর ছিড়াখান আরো বড় অয়। 17পুরান চামড়ার থলিত কেউ নয়া আংগুরর রস ভরে না। ভরলে অউ তাজা রসর ফাফে থলি ফাটিয়া রস আর থলি দুইওতা বরবাদ অয়। এরলাগি মানষে তাজা রস নয়া থলিত থইন। তেউ দুইওতা বাচে।”
এক মরা পুড়ি আর বেমারি বেটি
18হজরত ইছায় যেবলা অতা বেয়াপারে তালিম দিরা, অউ সময় এক নেতা আইয়া তান পাওয়ো পড়িয়া কইলা, “হুজুর, আমার পুড়িগু অউ মাত্র মারা গেছে। তে আপনে আইয়া মেহেরবানি করি তাইরে আতাই দিলেউ পুড়িগু জিন্দা অইযিবো।” 19তেউ ইছায় তান সাগরিদ অকলরে লইয়া এন লগে রওয়ানা দিলা।
20যাওয়ার পথে এক বেটিয়ে খরেদি আইয়া ইছার চাদ্দরর কুনাত ছইলো। বারো বছর ধরি ই বেটির বেটিয়ারা বেমারর লউ যাইতো। 21বেটির একিন আছিল, তাই যুদি খালি তান চাদ্দরর কুনাত ছইলিতো পারে, তে বেমার ভালা অইযিবো। 22ইছায় টের পাইয়া খরেদি চাইয়া অউ বেটিরে কইলা, “ডরাইও না গো মাই, তুমার ইমানর বলেউ তুমি ভালা অইলায়।” অখান কওয়ার লগে লগে বেটি ভালা অইগেল।
23এরবাদে ইছা হউ নেতার বাড়িত গেলা। গিয়া দেখলা, আস্তা বাড়ির মানষে হৈ-হুল্লা কররা, আর তারার সমাজর রেওয়াজ মাফিক মরা বাড়িত বাশি-বাজনা বাজাইরা। 24তাইন কইলা, “তুমরা হকল ঘর থাকি বারে যাও। পুড়িগু মরছে না, তাই তো ঘুমার।” ইখান হুনিয়া মানষে তানরে লইয়া আসা-আসি লাগাইলা। 25মানষরে বার করিয়া হারলে, তাইন গিয়া ঘরর ভিতরে হামাইয়া পুড়ির আতো ধরলা, ধরতেউ তাই উঠিয়া বইগেল। 26আর ই ঘটনার কথা অউ এলাকার হকল বায় রটি গেলো।
আন্দা আর বোবারে ভালা করা
27ইছা অউ নেতার বাড়ি থাকি বিদায় অইয়া হারলে দুইজন আন্দা বেটা তান খরে খরে গেলো। তারা জুরে জুরে কইলো, “ও দাউদর আওলাদ, আমরারে রহম করউক্কা।” 28বাদে তাইন আইয়া ঘরো হামাইলে, হউ দুইও আন্দাও তান গেছে আইলো। তাইন জিকাইলা, “তুমরা একিন কররায় নি, আমি তুমরারে ভালা করতাম পারমু?” তারা কইলো, “জিঅয় হুজুর, আপনেউ পারবা।”
29তেউ তাইন এরার চউখ আতাই দিয়া কইলা, “তুমরা যেলা একিন করছো, অলাউ অউক।” 30অখান কইতেউ তারার চউখ ভালা অইগেল। বাদে ইছায় তারারে খুব দড়াইয়া কইলা, “হুনো, ইতা কেউররে হুনাইও না।” 31অইলে তারা বার অইয়া গিয়া আশ-পাশ হকল জাগাত তান ই খবর রটাই দিলো।
32হউ দুইও আন্দা যেবলা ভালা অইয়া যাইরাগি, অউ সময় মানষে ভুতে ধরা এক বোবা বেটারে ইছার গেছে লইয়া আইলো। 33তাইন ই বেটার ভুত ছাড়ানির বাদে তার জবান খুলিগেল, হে মাত-কথা মাতিলো। ইতা দেখিয়া হকলে তাইজ্জুব অইয়া কইলা, “আস্তা ইছরাইল দেশর মাজে ইলা কাম তো কুনুদিন দেখছি না।” 34অইলে ফরিশি অকলে কইলা, “ইগিয়ে তো ভুতর বাদশার সাইয্যয় ভুত ছাড়ায়।”
জমিনো ফসল বউত, কামলা কম
35হজরত ইছায় গাউয়ে গাউয়ে আর টাউনে টাউনে গিয়া তারার মছিদো হামাইয়া তালিম দিলা। তাইন বেহেস্তি বাদশাইর খুশ-খবরি তবলিগ করলা, আর হকল নমুনার বেমারিরে ভালা করলা। 36অউ সময় মানষর ভিড় দেখিয়া তান খুব দুখ লাগলো, ইতা মানুষ তো আ-রাখালি মেড়ার লাখান বে-ফানা লাগি ঘুরিরা। 37তেউ ইছায় সাগরিদ অকলরে কইলা, “জমিনো তো ফসল বউত আছে, অইলে কামলা খুব কম। 38এরলাগি জমিনর মালিকর গেছে দোয়া করো, তান ফসল তুলার লাগি তাইন কামলা পাঠাইবা।”
10বারোজন সাহাবিরে পছন্দ আর তালিম (১০:১-৪২)
বারোজন সাহাবিরে তবলিগো পাঠানি
1বাদে ইছায় তান বারোজন সাহাবিরে ডাকাইয়া আনলা, আনিয়া জিন-ভুত ছাড়ানি, আর হকল জাতর বেমারিরে ভালা করার খেমতা দিলা। 2অউ বারোজন সাহাবি অইলা,
সাইমন উরফে পিতর আর তান ভাই আন্দ্রিয়াছ,
জিবুদিয়ার পুয়াইন ইয়াকুব আর হান্নান,
ফিলিফ আর বর্থলময়,
3থুমাছ আর খাজনা তুলরা মথি,
আলফির পুয়া ইয়াকুব আর থদ্দেয়,
4মুক্তিযুদ্ধা সাইমন আর ইহুদা ইস্কারিয়াত।
অউ ইহুদায় বাদে বেইমানি করিয়া ইছারে দুশমনর আতো ধরাই দিছিল।
5অউ বারোজন সাহাবিরে ইছায় হুকুম দিলা, কইলা, “তুমিতাইন তবলিগো যাও, অইলে কুনু বিধর্মীর গেছে বা শমরিয়া জাতির কুনু গাউত যাইও না, 6খালি বনি ইছরাইলর আরাইল মেড়া অকলর গেছে যাও। 7যাওয়ার পথে তবলিগ করি করি যাইও, কইও, বেহেস্তি বাদশাই ধারো আইচ্ছে। 8আর তুমরা বেমারি অকলরে ভালা করিও, মরারে জিন্দা করিও, পচা-কুষ্ঠ বেমারিরে ভালা করিও, আর জিন-ভুত ছাড়াইও। তুমরা যেলা বিনা টেকায় পাইছো, অউলা বিনা টেকায়উ দিও। 9যাওয়ার সময় লগে করি টেকা-পয়সার থলি, সোনা-রুপা বা একটা সিকিও নিও না। 10তুমরা পথর লাগি লাঠি, গাইট-বুছকি, জুতা, বা দুইটা কোর্তাও লগে নিও না। যে জনে কাম করে, হে খাওয়া-ফিন্দা পাওয়ার জুকা। 11তুমরা যে গাউত হামাইবায়, অউ গাউর একজন যোইগ্য মানষরে তুকাইয়া বার করিও, ই গাউ ছাড়িয়া যাওয়ার আগ পর্যন্ত এন বাড়িতউ রইও। 12বাড়ির ভিতরে হামানির বালা তারারে ছালাম দিও। 13ই বাড়ি যুদি ছালাম পাওয়ার জুকা অয়, তে তুমরার দেওয়া অউ শান্তি তারা পাইবা, আর জুকা না অইলে তুমরার শান্তি তুমরার গেছেউ ফিরিয়া আইবো। 14ই জাগার কেউ যুদি তুমরারে কবুল না করে, তুমরার কথা না হুনে, তে ই বাড়ি বা গাউ থাকি বারনির বালা তুমরার পাওর ধুইল ঝাড়িয়া ফালাইয়া আইও। 15আমি তুমরারে হাছা কথা কইরাম, হাশরর দিন অউ গাউর দশা থাকি, হউ লান্নতি ছাদুম আর আমুরা টাউনর দশা বউত ভালা অইবো।
সাহাবি অকলরে আগাম হুশিয়ারি
16“হুনো, রাইক্কস বাঘর ছামনে মেড়ার লাখান আমি তুমরারে পাঠাইরাম। এরলাগি তুমরা হাফর লাখান চালাক-চতুর আর পারো পাখির লাখান সরল অও। 17হুশিয়ার রইও, মানষে তুমরারে ধরিয়া আদালতো সমজাইবা, আর তারার মছিদো নিয়া তুমরারে ছিংলাদি মারবা। 18আমার নাম লওয়ার লাগি তুমরারে রাজা-বাদশার ছামনে নেওয়া অইবো। তুমরা এরার ছামনে আর বিধর্মী অকলর গেছে আমার বেয়াপারে সাক্ষি দিবায়। 19মানষে যেবলা তুমরারে ধরাই দিবো, অউ সময় কিতা মাততায় বা কিতা কইতায়, ইতা লইয়া কুনু চিন্তা করিও না। হউ সময় তুমরারে ইতা হিকাই দেওয়া অইবো। 20আসলে তুমরার মুখদি যেন তুমরা নিজে মাতবায়, ইখান নায়, তুমরার বাতুনি বাফর যে রুহ তুমরার ভিতরে আছে, হউ রুহেউ ইতার জুয়াপ দিবা।
21“ভাইয়ে ভাইরে আর বাফে পুয়ারে খুন করানির লাগি ধরাই দিবো। পুয়া-পুড়িয়েও তারার মা-বাফর বিপক্ষে গিয়া তারারে খুন করাইবো। 22আমার কারনে হকল মানষে তুমরারে ঘিন্নাইবো, অইলে হেশ পর্যন্ত যে টিকিয়া রইবো, হে-উ রেহাই পাইবো। 23কুনু গাউর মানষে তুমরারে জুলুম করলে, ই গাউ ছাড়িয়া অইন্য গাউত যাইওগি। হুনো, আমি হাছা কথা কইরাম, ইছরাইল দেশর হক্কল টাউন আর গাউত তুমরার তবলিগ শেষ অওয়ার আগেউ বিন-আদম হিরবার আইবা।
24“মনো রাখিও, উস্তাদ থাকি সাগরিদ বড় নায়, আর মুনিব থাকি তার গুলাম বড় নায়। 25তে সাগরিদ তার উস্তাদর সমান, আর গুলাম তার মুনিবর সমান অওয়াউ যথেষ্ট। হুনরায় নি, ঘরর মুনিবরে যেবলা ভুতর বাদশা বেল-সবুল কইরা, তে ঘরর বাকি হকলরে তারা আরো কতোতা কইবা!
26“অইলে তুমরা তারারে ডরাইও না, কারন ইলা গোপন কুন্তাউ নাই যেতা জাইর অইতো নায়। ইলা লুকাইলও কুন্তা নাই যেতা কেউ হুনতো নায় বা জানতো নায়। 27আমি আন্দারির মাজে যেতা তুমরারে কইছি, তুমরা ইতা ফরর মাজে কইও। যেতা কানে কানে হুনছো, ইতা ছাটর উপরে থাকি জুরে জুরে এলান করিও। 28যারা মানষর কায়ারে বিনাশ করতো পারে, অইলে রুহরে কুন্তা করতো পারে না, তারারে ডরাইও না। যেইন কায়া আর রুহ দুইওতারে দোজখো জালাইতা পারইন, খালি তানরেউ ডরাইও। 29হুনো, দুইটা চড়া পাখি খালি দুই টেকায় বিকে না নি? অইলে তুমরার বাতুনি বাফ আল্লার হুকুম না অইলে অতা এগু চড়া পাখিও মাটিত পড়ে না। 30জানো তো, তুমরার মাথার চুল গেছাইনও গনা আছে। 31এরদায় তুমরা ডরাইও না। তুমরার দাম তো বউত চড়া থাকিও বেশি।
32“সমাজর ছামনে যে জনে আমারে কবুল করে, আমিও আমার বেহেস্তি বাফ আল্লা পাকর ছামনে তারে কবুল করমু। 33অইলে যে মানষে সমাজর ছামনে আমারে অস্বীকার করবো, আমিও তারে আমার বেহেস্তি বাফ আল্লার ছামনে অস্বীকার করমু।
34“তুমরা মনো কররায় নি, আমি দুনিয়াত শান্তি দিতাম আইছি? না, মোটেউ নায়, আমি তো দুনিয়াত এক মতোভেদ লাগানিত আইছি। 35আমি বাফে-পুয়ায়, মায়-পুড়িয়ে, আর হড়িয়ে-বউয়ে বিবাদ লাগানিত আইছি। 36মানষর নিজর পরিবারর জনেউ তার লগে দুশমনি করবো।
37“যে মানষে আমা থাকি তার মা-বাফরে বেশি মায়া করে, হে আমার উম্মত অইতো পারতো নায়। আর যে জনে আমা থাকি তার পুয়ারে বা তার পুড়িরে বেশি মায়া করে, হে-ও আমার উম্মতর জুকা নায়। 38যে জনে নিজর দুখ-কষ্টর সলিব বইয়া লইয়া আমার খরে না আয়, হে-ও আমার জুকা নায়। 39যে জনে তার নিজর জান বাচাইতো চায়, হে তার আসল জিন্দেগি খুয়াইবো। অইলে যে জনে আমার লাগি তার জান কুরবানি দিলায়, হে আসল জিন্দেগি পাইবো।
40“যে জনে তুমরারে কবুল করে, হে আমারেউ কবুল করে, আর যে আমারে কবুল করে, হে আসলে হউ আল্লারেউ কবুল করে, যেইন আমারে পাঠাইছইন। 41কেউ যুদি কুনু নবীরে নবী কইয়া কবুল করে, তে অউ নবীয়ে যে পুরুস্কার পাইবা, হে-ও অউ পুরুস্কার পাইবো। কুনু আল্লারাইয়া মানষরে কেউ যুদি আল্লারাইয়া কইয়া কবুল করে, তে অউ আল্লারাইয়া মানষে যে পুরুস্কার পাইবা, হে-ও অউ পুরুস্কার পাইবো। 42আর আমার উম্মত জানিয়া কেউ যুদি তুমরার মাজর এক নগইন্য জনরেও এক গেলাস পানি খাওয়ায়, তে হে কুনুমন্তেউ এর পুরুস্কার থাকি বাদ পড়তো নায়।”
11হজরত ইছারে সন্দয় আর বিরুধিতা করা (১১:১-১২:৫০)
হজরত ইছার দরবারো এহিয়া নবীর সাগরিদ অকল
1হজরত ইছায় তান বারোজন সাহাবিরে অউ তালিম দিয়া হারলে, তাইন গাউয়ে গাউয়ে গিয়া তবলিগ আর তালিম দেওয়ার লাগি রওয়ানা অইগেলা।
2এহিয়া নবীয়ে জেলো থাকি যেবলা আল-মসীর কামর কথা হুনলা, অউ সময় তান কয়জন সাগরিদরে পাঠাইলা খবর জানার লাগি। এরা গিয়া ইছারে জিকাইলা, 3“হুজুরে কইছইন, যেইন আইবার কথা আছিল, আপনেউ হেইন নি? না আমরা আর কেউরর লাগি বার চাইতাম?”
4ইছায় কইলা, “হুনো, অনো আইয়া তুমরার নিজর চউখে যেতা দেখছো আর হুনছো, অতা গিয়া এহিয়ারে কও। 5তানরে কইও, আন্দা মানষে চউখে দেখরা, লেংড়ায়ও আটিরা, পচা-কুষ্ঠ বেমারি ভালা অইরা, খালুয়া অকলে হুনরা, মরা মানুষ জিতা অইরা, আর গরিব অকলর গেছে আল্লাই খুশ-খবরি তবলিগ করা অর। 6হুনো, হে-উ নেক-কপালি, যার দিলো আমার বেয়াপারে কুনু বাধা আয় না।”
এহিয়া নবী আসলে কে
7এহিয়া নবীর সাগরিদ অকল যাইরাগি, অউ সময় এহিয়ার বেয়াপারে ইছায় মানষরে কইলা, “কিতাবা, মরুভুমিত কিতা দেখাত গেছলায়? বাতাস আইলে যেতা নল-খাগড়ায় লড়ে, অতা দেখাত গেছলায় নি? 8না, কিতা দেখাত গেছলায়? সুন্দর কাপড় ফিন্নো কুনু মানষরে নি? আসলে, যেরা দামি দামি কাপড় ফিন্দইন, তারা তো রাজবাড়িত থাকইন। 9তে তুমরা কিতা দেখাত গেছলায়? কুনু নবীরে দেখাত নি? হুনো, আমি কইরাম, এহিয়া তো খালি নবী নায়, নবী থাকিও বড়। 10এইন তো হউ জন, যেন বেয়াপারে আছমানি কিতাবো লেখা আছে,
হুনো, তুমার আগে পাঠাইয়ার আমি, আমার পেগাম্বর,
এইন গিয়া ঠিক-ঠাক করবা তুমার চলার পথ।
11তে আমি তুমরারে হাছা কথা কইরাম, এহিয়া থাকি বড় আস্তা দুনিয়াতউ কুনু আদম আছলা না। অইলে বেহেস্তি বাদশাইর মাজে হকল থাকি হুরু জনও, এহিয়া থাকি মহান। 12এহিয়া নবীর আমল থাকি অখন পর্যন্ত বেহেস্তি বাদশাই খুব মজবুত অইয়া আগুয়ার, আর যেরা ইমানে মজবুত, তারা দিলে-জানে আইয়া এর ভিতরে হামাইরা। 13হুনো, এহিয়া নবীর আমল পর্যন্ত হজরত মুছার তৌরাত কিতাব আর সব নবীর ছহিফার মাজে, আল্লার বাদশাই আওয়ার কথা জানাইল অইছে। 14অখন যুদি আপনারা আমার মাত একিন করইন, তে হুনউক্কা, যে ইলিয়াছ নবীয়ে হিরবার আইবার কথা আছিল, অউ এহিয়াউ অইলা হউ ইলিয়াছ। 15যার কান আছে, হে হুনউক।
16“ই জমানার মানষরে আমি কিতার লগে তুলনা করতাম? তারা তো অমন হুরুতার লাখান, যেতায় বাজারো বইয়া একে-অইন্যরে ডাকিয়া কইন, 17‘হই, আমরা তুমরার লাগি বাশি বাজাইলাম, তুমরা তো নাচলায় না, আহাজারির গান গাইলাম, তুমরা তো কানলায় না।’ 18ঠিক অলাখান, এহিয়া নবীয়ে আইয়া সমাজর লগে খাওয়া-দাওয়া না করায়, মানষে কইরা তানে ভুতে ধরছে। 19অইলে আমি বিন-আদম আইয়া খাওয়া-দাওয়া করায় তুমরা কইরায়, ‘দেখউক্কা, ই বেটা তো পেটুয়া, মদখুর, হে ঘুষখুর খাজনা তুলরা আর নাফরমান অকলর লগে দুস্তি করে।’ তে আখল খাটাইয়া যেরা চলে, তারার চাল-চলন থাকিউ পরমান মিলে, আখলউ অইলো খাটি-নিখুত চিজ।”
লান্নতি গাউ আর টাউন
20হজরত ইছায় যেতা গাউয়াইন্তো আর টাউনো বেশির ভাগ কেরামতি দেখাইছলা, ইতার মানষে তৌবা করছইন না। এরলাগি তাইন ই গাউ আর টাউনর উপরে বেজার অইয়া কইলা, 21“হায়রে বায়ত-ছয়দা আর খুরাছিন গাউ, তুমরা তো লান্নতি। তুমরার মাজে যেতা কুদরতি কাম দেখাইল অইছে, ইতা যুদি সোর আর সিদন এলাকাত দেখাইল অইতো, তে বউত আগেউ তারা কাতর অইয়া তৌবা করলো অনে। 22অইলে আমি তুমরারে কইরাম, কিয়ামতর দিন সোর আর সিদন এলাকার দশা থাকিও, তুমরার দশা বউত কঠিন অইবো। 23ও কফরনাউম টাউন, হুনো, তুমি বুলে উচা অইয়া আছমানো গিয়া লাগতায়? না, পারতায় নায়! তুমারে পাতালো লামানি অইবো। তুমার মাজে যেতা কুদরতি মোজেজা দেখাইল অইছে, ইতা যুদি ছাদুম টাউনো দেখাইল অইতো, তে ই টাউন অখনও টিকিয়া রইলো অনে। 24অইলে আমি তুমরারে কইরাম, হাশরর দিন ছাদুম টাউনর হালতও তুমরার থাকি বউত ভালা অইবো।”
হজরত ইছার দোয়া আর আরামর দাওত
25এরবাদে ইছায় কইলা, “ও আমার গাইবি বাফ আল্লা, তুমি তো আছমান-জমিনর মালিক। আমি তুমার শুকরিয়া জানাইরাম, কারন তুমি আখলদার আর বুদ্ধিমান অকলর গেছে ইতা জাইর না করিয়া, বেবুজ-হুরুতার লাখান মানষর গেছে জাইর করছো। 26বাবা, আসলে ইতা হকলতাউ তুমার মর্জি।
27“আমার গাইবি বাবায় হকলতাউ আমার আতো সপি দিছইন। বাফ ছাড়া দুছরা কেউ অউ পুতরে চিনে না, আর পুত ছাড়া দুছরা কেউ অউ বাফরে চিনে না। পুতে বাফরে যার গেছে জাইর করার খিয়াল অয়, খালি হে-উ বাফর পরিচয় পায়।
28“ভার-বোঝা বইতে বইতে তুমরা যেরা হেরান অইগেছো, তুমরা হকল আমার গেছে আও, আমি তুমরারে আরাম দিমু। 29-30আমার জুয়াল তুমরার কান্দো তুলো আর আমার গেছ থাকি তালিম লও, তেউ তুমরার আরাম অইবো। আমার জুয়াল বইয়া নেওয়া সুজা, আমার দেওয়া ভার খুব পাতলা। আমার মিজাজ খুব নরম আর ঠান্ডা।”
12জুম্মাবারর বেয়াপারে তালিম
1এক জুম্মাবারে হজরত ইছা খেতর আইলেদি আটিয়া যাওয়াত আছলা। তান সাগরিদ অকলর পেটো ভুক লাগায়, তারা ধানর ছড়া ছিড়ি ছিড়ি খাওয়াত লাগলা। 2ইতা দেখিয়া ফরিশি মজহবর মানষে ইছারে কইলা, “আমরার শরিয়তে কয়, জুম্মাবারে কুনু কাম করা জাইজ নায়, তে আপনার সাগরিদ অকলে ধানর ছড়া ছিড়িরা কেনে?”
3ইছায় জুয়াপ দিলা, “দাউদ নবী আর তান লগর মানষে একবার পেটর ভুকে যেতা করছলা, ইতা আপনারা পড়ছইন না নি? 4তাইন আল্লার কাবা ঘরো হামাইয়া হউ পবিত্র রুটি খাইছলা, ই রুটি খাওয়া তো তাইন আর তান লগর মানষর লাগি নাজাইজ, ইতা খালি ইমাম ছাবর লাগি জাইজ আছিল। 5আর আপনারা তৌরাত শরিফো পড়ছইন না নি, বায়তুল-মুকাদ্দছর ইমাম অকলে জুম্মাবারে জুম্মার দিনর নিয়ম ভাংলেও তারার কুনু গুনা অয় না। 6অইলে আমি আপনারারে কইরাম, বায়তুল-মুকাদ্দছ থাকিও দামি এক মানুষ অনো আছইন। 7আল্লার কালামর অউ আয়াতর ভেদ যুদি আপনারা বুজতা, যে আয়াতো আছে, ‘আমি দয়া দেখতাম চাই, পশু-কুরবানি নায়।’ তে আপনারা নি-অপরাধিরে অপরাধি বানাইলা না অনে। 8হুনউক্কা, জুম্মাবারর তামাম এখতিয়ার আমি বিন-আদমর আতো।”
হুকনা আত আলা বেমারির শিফা
9বাদে হজরত ইছা ইনথনে গিয়া অউ ফরিশি অকলর মছিদো হামাইলা। 10হনো অলা এক বেটা আছিল, তার এক আত বেমারে হুকাই গেছে। ইছার কুনু খুত বার করিয়া তানরে দুষি বানানির নিয়তে, অউ মছিদর মানষে তানরে জিকাইলো, “ছাব, মুছার শরিয়ত মাফিক জুম্মাবারে কেউরর বেমার শিফা করা জাইজ নি?”
11ইছায় জুয়াপ দিলা, “ধরউক্কা, আপনারা একজনর এগু মেড়া যুদি জুম্মাবারে গাতর মাজে পড়িযায়, তে অউ দিন ই মেড়ারে গাতো থাকি তুলতা নায় নি? 12আর মানষর দাম তো মেড়া থাকি বউত বেশি। এরলাগি বুজা যায়, জুম্মাবারেও নেক কাম করা জাইজ আছে।” 13বাদে তাইন অউ হুকনা আত আলা বেটারে কইলা, “তুমার আত খান বাড়াও।” হে তার আত বাড়াইতেউ হুকনা আত অইন্য আতর লাখান পুরাপুর ভালা অইগেল। 14বাদে হউ ফরিশি অকলে বারে গিয়া পরামিশ করলা, ইছারে কিলা জানে মারা যায়।
হজরত ইছাউ আল্লার খাছ মায়ার জন
15তারার অউ পরামিশর খবর ইছায় জানিলিলা, এরলাগি তাইন হিনথনে হরি গেলা। অউ সময় বউত মানুষ তান খরে খরে আইলা। এরার মাজে যতো বেমারি আছলা, তাইন এরা হকলরে ভালা করলা। 16তাইন এরারে দড়াইয়া কইলা, “খবরদার, তুমরা আমার পরিচয় জাইর করিও না।” 17ইতা অইছিল যাতে আগর আমলর নবী ইশায়ার মাজদি যেতা বাতাইল অইছিল, অতা ফলিযায়। তাইন কইছলা,
18হুনো, আমি আমার অউ গুলামরে পছন্দ করছি।
এইনউ আমার মায়ার জন, তান উপরে আমি খুব খুশি।
এন উপরে আমি আমার রুহ দিমু,
হকল জাতির গেছে তাইন আমার হক বিচারর কথা জানাইবা।
19তাইন কুনু তর্কা-তর্কি বা চিল্লা-চিল্লি করতা নায়,
পথে-ঘাটে কুনু মানষে তান আওয়াজ হুনতো নায়।
20হক বিচার কাইম অওয়ার আগ পর্যন্ত,
তাইন ছেছা নল-খাগড়া ভাংগিতা নায়,
আর মিট মিট করি জলরা লেমর ফিতাও লিমাইতা নায়।
21দুনিয়ার হকল জাতিয়ে তান উপরেউ ভরসা করবা।
হজরত ইছা আর জিনর বাদশা
22বাদে মানষে জিনর আছর আলা এক বেটারে ইছার গেছে লইয়া আইলো। ই বেটা আছিল আন্দা আর বোবা। তাইন অউ বেটারে ভালা করলা। হে ভালা অইয়া মাত-কথা মাতিলো আর চউখেও দেখলো। 23ইতা দেখিয়া হকল মানুষ তাইজ্জুব অইয়া কইলা, “দাউদ নবীর খান্দানো যেইন জনম অওয়ার কথা, এইনউ হেইন নি?” 24ইখান হুনিয়া ফরিশি অকলে কইলা, “ইগিয়ে তো জিনর বাদশা বেল-সবুলর বলে জিন্নাত ছাড়ায়।”
25তারার মনর চিন্তা বুজিয়া ইছায় কইলা, “কুনু দেশর ভিতরে দলাদলি লাগি গেলে, ই দেশ তো বিনাশ অইযায়। অউ লাখান কুনু পরিবারর মাজে বা কুনু টাউনো যেবলা দলাদলি লাগি যায়, ইতাও আর টিকে না। 26অউলা শয়তানে যুদি শয়তানরে খেদাই দেয়, তে তো তার নিজর মাজেউ দলাদলি লাগি গেল। তার রাজত্ব আর কিলা টিকবো? 27আমি যুদি বেল-সবুলর বলে জিন্নাত ছাড়াই, তে তুমরার মানষে কার বলে ছাড়ায়? তুমরার মাতর বিচার তুমরার মানষেউ করবা। 28অইলে আমি যুদি আল্লার রুহর বলে জিন্নাত ছাড়াই, তে তো আল্লার বাদশাই তুমরার ধারো আইচ্ছে।
29“কুনু বলআলা মানষর বাড়িত লুট-তরাজ করাত আইয়া, পয়লা বলআলা জনরে না বান্দিলে, কেমনে লুট-তরাজ করবো? অইলে তারে বান্দিয়া হারলে লুট-পাট করতো পারবো।
30“কেউ যুদি আমার পক্ষে না থাকে, হে তো আমার বিপক্ষে। যে জনে আমার লগে তুকায় না, হে তো ছিতরায়। 31আমি তুমরারে কইরাম, মানষর তামাম নমুনার গুনা আর কুফুরির মাফি আছে, অইলে পাক রুহর বেয়াপারে কুফুরি করলে, ই কুফুরির কুনু মাফি মিলতো নায়। 32আমি বিন-আদমর বিরুদ্ধে কেউ কুন্তা মাতিলেও হে মাফি পাইবো, অইলে পাক রুহর বিরুদ্ধে মাতিলে তার কুনু মাফি নাই, ই জিন্দেগিতও নাই, আখেরোও নাই।
ফল দেখিয়া গাছ চিনা যায়
33“মনো রাখবা, গাছ ভালা অইলে তার ফলও ভালা অয়, আর গাছ বুরা অইলে তার ফলও বুরা অয়। ফল দিয়াউ গাছ চিনা যায়। 34ও হাফর বাইচ্চাইন, তুমরা নিজেউ তো খারাপ, তে তুমরার মুখ থনে ভালা বুলি কেমনে বার অইবো? মানষর দিল যেতাদি ভরা, মুখ থাকি তো অতাউ বারয়। 35ভালা মানষর দিলর ভিতরর ভালাই থনে ভালা বুলি বারয়, আর বাদ মানষর দিলর বুরাই থনে বাদ বুলি বারয়। 36অইলে আমি তুমরারে কইরাম, যে মানষে আজে-বাজে বের-বেরি করে, হাশরর ময়দানো তার পরতেক মাতর হিসাব দিতে অইবো। 37তুমার জবানেউ তুমারে দুষি বানাইবো, আর অউ জবানেউ তুমারে নির্দুষিও বানাইবো।”
38বাদে কয়জন মৌলানা আর ফরিশিয়ে ইছারে কইলা, “হুজুর, আমরা আপনার একখান কেরামতি দেখতাম চাই।” 39ইছায় জুয়াপ দিলা, “ই জমানার নাফরমান আর বেইমান অকলে খালি কেরামতি দেখতা চাইন, অইলে ইউনুছ নবীর কেরামতি ছাড়া দুছরা কুনু কেরামতি তারারে দেখাইল অইতো নায়। 40ইউনুছ নবী যেলা মাছর পেটো তিন দিন, তিন রাইত আছলা, আমি বিন-আদমও অউলা তিন দিন, তিন রাইত মাটির তলে রইমু। 41কিয়ামতর দিন হউ নিনভ টাউনর মুর্দা অকল উঠিয়া হারি, ই জমানার মানষর দুষ জাইর করবা। কারন ইউনুছ নবীর তবলিগ হুনিয়া তারা তৌবা করছিলা। অইলে অখন তো ইউনুছ থাকিও আরো মহান একজন ইনো আছইন, তা-ও মানষে তৌবা করের না। 42রোজ কিয়ামতর দিন দউকনর দেশর রানী উঠিয়া আইয়া অউ জমানার মানষর দুষ জাইর করবা। কারন বাদশা সুলাইমানর আখলর কথা হুনার খিয়ালে তাইন দুনিয়ার হেশ মাথা থাকি আইছলা। অইলে অখন তো সুলাইমান থাকিও আরো মহান একজন অনো আছইন।
43“হুনো, কুনু ভুতে যেবলা মানষর লগ ছাড়িয়া যায়গি, অউ সময় হে আরামে থাকার খিয়ালে হকল হুকনা জাগাত আশ্রয় তুকায়। অইলে আরামর জাগা না পাইয়া বাদে কয়, 44ধুর, আমার আগর ঘরউ ভালা, যেগুর গেছ থাকি আইছি, অগুর গেছেউ ফিরিয়া যাইগি। ফিরিয়া আইয়া দেখে ই ঘরখান খালি, ছাফ-ছফা আর হাজাইল-পাড়াইল। 45দেখিয়া হে গিয়া তার থনে আরো খারাপ সাতগু ভুত লগে লইয়া আয়, আইয়া অউ ঘরো রয়। এরদায় অউ মানষর দশা পয়লা থাকি হেশে আরো বেশি খারাপ অয়। তে ই জমানার নাফরমান অকলর দশাও অলাখান অইবো।”
হজরত ইছার মায়ার মানুষ কে?
46ইছায় যেবলা মানষর লগে মাতিরা, অউ সময় তান মা আর ভাইয়াইন বারে আইয়া, তান লগে দেখা করার লাগি বার চাওয়াত আছলা। 47তেউ একজন মানষে আইয়া তানরে কইলো, “হুজুর, আপনার মা আর ভাইয়াইন আপনার লগে মাতার লাগি বারে উবাই রইছইন।”
48ইখান হুনিয়া ইছায় তারে কইলা, “আমার মা কে, আর আমার ভাইয়াইনউ বা কে?” 49বাদে তান সাগরিদ অকলরে দেখাইয়া কইলা, “এরাউ আমার মা আর ভাইয়াইন। 50যারা আমার বেহেস্তি বাফ আল্লা পাকর মর্জি যুগাইয়া চলইন, তারাউ আমার মা আর ভাই-বইন।”
13হজরত ইছার বাতাইল সাত কিচ্ছা (১৩:১-৫২)
এক গিরস্তর জালা বাইন করার কিচ্ছা
1হজরত ইছা অউ দিন ঘর থাকি বার অইয়া আওরর পারো গিয়া বইলা। 2বইয়া হারলে বউত মানুষ তান গেছে আইয়া ভিড় লাগাই দিলা, ভিড় দেখিয়া তাইন গিয়া এক নাওয়ো উঠিয়া বইলা আর হকল মানুষ পারো উবাই রইলা। 3অউ সময় তাইন কিচ্ছা হুনাই হুনাই নানান নমুনার তালিম দিলা।
তাইন কইলা, “মনো করো, এক গিরস্তে জালা বাইন করাত গেল। 4গিয়া বাইন করার বালা কিছু জালা আইলর মাজে পড়লো, আর পাখিন্তে আইয়া ইতা খাইলিলো। 5তার কিছু জালা হুকনা-শক্ত মাটির উপরে পড়লো, ই জালা ফুটিয়া আলি বার অইলেও তলে বেশি মাটি না থাকায়, জলদি বাড়িলো। 6বাদে সুরুজ উঠিয়া হারলে জইর খাইলিলো, আর তলর জড়ে রস না পাওয়ায় হুকাইয়া মরিগেল। 7কিছু জালা বন-জংলার মাজে পড়লো, আর অউ বন-জংলা বাড়িয়া ইতারে জাতিয়া ধরলো। 8অইলে কিছু জালা ভালা জমিনো পড়লো, ই জালায় ভালা ধান অইলো, ইতার কুনু ছড়ায় তিশ, কুনু ছড়ায় ষাইট, কুনু ছড়ায় একশো গুন বেশি ধান ধরলো।”
9অউ কিচ্ছা হুনানির বাদে ইছায় কইলা, “যার কান আছে, হে হুনউক।”
10বাদে তান সাগরিদ অকলে কইলা, “আপনে খালি কিচ্ছা কইয়া মানষরে তালিম দিরা কেনে?”
11তাইন কইলা, “বেহেস্তি বাদশাইর গোপন রহস্য জানার সুযোগ তুমরারে দেওয়া অইছে, অইলে বাকি মানষর গেছে ইতা বাতুনি রইছে। 12হুনো, যার আছে, তারে আরো দেওয়া অইবো, তার আরো বাড়িবো। অইলে যার নাই, তার যেতা আছে, অতাও কাড়িয়া নেওয়া অইবো। 13এরলাগি আমি কিচ্ছার মাজদি এরারে তালিম দিরাম, এরা তো দেখিয়াও দেখে না, হুনিয়াও হুনে না আর কুন্তা বুজেও না। 14এরার মাজদিয়াউ ইশায়া নবীর বাতাইল অউ আয়াত পুরা অইছে, তাইন কইছলা,
তুমরা কানে হুনলেও কুন্তা বুজতায় নায়,
চউখে দেখলেও কুন্তা চিনতায় নায়।
15ইতা মানষর দিল অসাড় অইগেছে,
তারার কানো তালা লাগি গেছে।
তারা যারযির চউখ মুজি বইরইছে,
যাতে চউখে না দেখে,
কানে না হুনে,
দিল দিয়া না বুজে।
কিযানু তারা তৌবা করিয়া
আমার বায় ফিরিযাইন,
আর আমি তারার শিফা করিলাই।
16অইলে নেক-কপালি তো তুমরা, তুমরার চউখে দেখে, আর কানে হুনে। 17আমি তুমরারে হক কথা কইরাম, তুমরার চউখে যেতা দেখরায় আর কানে যেতা হুনরায়, ইতা বউত নবী আর অলি-আউলিয়ায় দেখার আশা করলেও দেখার কপাল অইছে না, আর হুনার আশা করলেও হুনার কপাল অইছে না।
18“অখন তুমরারে অউ গিরস্তর কিচ্ছার মানি বুজাই দিরাম, 19হুনো, আইলর মাজে পড়া জালা দিয়া অলাখান মানষর বেয়াপারে বুজাইল অইছে, যে মানষে বেহেস্তি বাদশাইর কথা হুনিয়াও বুজে না, এরলাগি ইবলিছে আইয়া অউ জনর দিলো আল্লার যে কালাম বাইন করা অইছিল, অতা কাড়িয়া নেয়গি। 20হুকনা-শক্ত মাটির উপরে পড়া জালাদি বুজাইল অইছে, যেরা ই কালাম হুনে আর খুব খুশি অইয়া কবুল করে, 21অইলে তারার দিলো ভালামন্তে হামায় না, এরলাগি ইতা থুড়া কয়দিন রয়, বাদে ই কালামর লাগি কুনু জুলুম-মছিবত আইলেউ তারা খরলামি যায়। 22বন-জংলার মাজে পড়া জালাদি বুজাইল অইছে, যেরা ই কালাম হুনে, অইলে দুনিয়াবি চিন্তা-ভাবনা আর ধন-ছামানার মায়ায় ই কালামরে জাতিয়া ধরিলায়, এরদায় কালামে কুনু ফায়দা অয় না। 23আর ভালা জমিনো পড়া জালাদি বুজাইল অইছে, যেরা ই কালাম হুনে, হুনিয়া বুজে আর আমল করে। কেউ জিন্দেগিত তিশ গুন, কেউ ষাইট গুন, কেউ একশো গুন বেশি ফল দেয়।”
ধান আর ফুফরা গাছর কিচ্ছা
24বাদে ইছায় তালিম দিবার লাগি আরেক কিচ্ছা হুনাইলা। কইলা, “বেহেস্তি বাদশাই অলা এক গিরস্তর লাখান, যেইন নিজর জমিনো ভালা ধানর জালা বাইন দিলা। 25বাদে রাইত অইয়া হারলে যেবলা হকল মানুষ ঘুমাই গেছইন, অউ সময় তান এক দুশমনে আইয়া বাইন দেওয়া অউ জমিনর মাজে ফুফরা গাছর বিচি ছিটাইয়া গেলগি। 26হেশে ধানর গাছ যেবলা বড় অইয়া ছড়া ছাড়লো, অউ সময় এরমাজে ফুফরা গাছও দেখা গেল। 27ইতা দেখিয়া বাড়ির চাকর অকলে তারার মুনিবরে কইলা, ‘আপনে জমিনো খালি ভালা ধান বাইন দিছলা না নি? অখন ফুফরা গাছ অইলো কুয়াই থাকি?’
28“তাইন কইলা, ‘কুনু দুশমনে ই কাম করছে।’ চাকর অকলে তানরে জিকাইলো, ‘তে আমরা গিয়া অউ ফুফরা গাছ ছাফ করিলতাম নি?’ 29মুনিবে কইলা, ‘না, না, তুমরা ফুফরা গাছ ছাফ করাত গিয়া, ধানর গাছও তুলিলিবায়। 30এরলাগি ধান দাওয়ার আগ পর্যন্ত ইতা থাকউক। বাদে দাওয়ার বালা আমি মানষরে কইমু, পয়লা হকল ফুফরা গাছ তুলতা, আর দারু জালানির লাগি আটি বান্দিতা, বাদে ধান দাইয়া আমার উগারো তুলবা।’ ”
ডেংগা বিচি আর খামিরর কিচ্ছা
31হজরত ইছায় আরক কিচ্ছা হুনাইলা। কইলা, “বেহেস্তি বাদশাই অইলো এগু ডেংগা বিচির লাখান। একজন মানষে এগু ডেংগার বিচি তার জমিনো বাইন দিলো। 32ই বিচি তো হকল জাতর বিচি থাকি হুরু। অইলে বাইন দেওয়ার বাদে ই গাছ হক্কল জাতর হাগ-তরকারি থাকি বড় অয়, আর পাখিন্তে আইয়া তার ডালপালাত বাদা বানায়।”
33এরবাদে আরক কিচ্ছার মাজে কইলা, “বেহেস্তি বাদশাই অইলো খামিরর লাখান। একজন বেটি মানষে তিন বস্তা ময়দার মাজে থুড়া খামির মিশাইলো। খামিরর ফাফে হকল ময়দা ফুলিয়া উঠলো।”
34হজরত ইছায় কিচ্ছা হুনাই হুনাই হকল নমুনার তালিম দিলা। কিচ্ছা ছাড়া তাইন কুনু তালিম দিলা না। 35ইতা হক্কলতা অইলো, যাতে নবীর মাজদি যেতা বাতাইল অইছিল, অতা অখন পুরা অয়,
তালিমে ভরা কিচ্ছা হুনাই হুনাই
আমি মাতিমু,
দুনিয়ার পয়লা থাকি যততা বাতুনি আছিল,
অতা অখন খুলমু।
ধান আর ফুফরা গাছর কিচ্ছার অর্থ
36বাদে ইছায় মানষরে বিদায় দিয়া ঘরো হামাইলা। অউ সময় তান সাগরিদ অকলে আইয়া কইলা, “হুজুর, ফুফরা গাছর কিচ্ছার মানি খান আমরারে বুজাই দেউক্কা।”
37তাইন কইলা, “ভালা ধানর জালা যেইন বাইন করইন, এইন অইলাম আমি বিন-আদম। 38জমিন অইলো অউ জগত, আর বেহেস্তি বাদশাইর মানুষ অইলা ভালা বিচ। ইবলিছর খান্দান অইলো অউ ফুফরা গাছ। 39যে দুশমনে ফুফরা গাছ বাইন দিছিল, হে অইলো ইবলিছ। ধান দাওয়ার সময় অইলো কিয়ামত, আর দাওরা অকল অইলা আল্লার ফিরিস্তা। 40ফুফরা গাছ আটি বান্দিয়া যেলা দারু জালানি অয়, কিয়ামতর সময় ঠিক অলাউ অইবো। 41বিন-আদমে তান ফিরিস্তা অকল পাঠাইবা। যে মানষে নিজে গুনা করে আর আরক জনরে গুনার পথে টানে, তারা হকলরে ফিরিস্তা অকলে বিন-আদমর বাদশাইর মাজ থাকি একখানো দলা করিয়া, 42দোজখর আগুনিত ফালাইবা। হিনো মানষে কান্দা-কাটি করবা আর জালা-যন্ত্রনায় দাত কিড়িমিড়ি দিবা। 43হি সময় আল্লারাইয়া মানষে তারার বেহেস্তি বাফ আল্লা পাকর বাদশাইত নুরানি ছুরতে সুরুজর লাখান ঝিলমিল করবা। হুনার লাখ কান যার আছে, হে হুনউক।
বেহেস্তি বাদশাইর আরো তিন কিচ্ছা
44“হুনো, বেহেস্তি বাদশাই অইলো, মাটির তলে লুকাইল কুনু ধনর লাখান। কুনু মানষে অউ ধন তুকাইয়া পাইলো, পাইয়া হিরবার গাড়িয়া থই দিলো। ই ধন পাইয়া খুশি অইয়া হে তার হকল ছামানা বেচিয়া, অউ জমিন খান খরিদ করলো।
45“হিরবার, বেহেস্তি বাদশাই অইলো অলা এক সদাগরর লাখান, ই সদাগরে খাটি মনি-মুক্তা তুকানিত আছিল। 46হে একটা দামি মুক্তার খবর পাইয়া, তার হক্কলতা বেচিয়া অউ মুক্তা খরিদ করলো।
47“বা বেহেস্তি বাদশাই অলা এক জালর লাখান, ই জালদি আওরো টান দিলে এর ভিতরে হক্কল জাতর মাছ হামাইলো। 48মাছে জাল ভরিগেলে জালুয়া অকলে ইখানরে টানিয়া পারো তুললো। বাদে তারা ভালা ভালা মাছ বাছিয়া চাংগাত থইলো আর বাদ গুইন ফালাই দিলো। 49তে হাশরর ময়দানো অউ হালত অইবো। ফিরিস্তা অকলে আইয়া আল্লারাইয়া মানষর দল থাকি, নাফরমান অকলরে আলগাইয়া দোজখর আগুনিত ফালাইবা। 50হিনো তারা কান্দা-কাটি করবা আর জালা-যন্ত্রনায় দাত কিড়িমিড়ি দিবা।”
51এরবাদে ইছায় তান সাগরিদ অকলরে জিকাইলা, “তুমরা ইতা হকলতা বুজছো নি?”
তারা কইলা, “জিঅয়, বুজছি।”
52তেউ ইছায় তারারে কইলা, “যে মৌলানা অকলে বেহেস্তি বাদশাইর তালিম পাইছইন, তারা অলা এক গিরস্তর লাখান, যে গিরস্তে তান সন্দুক থাকি নয়া আর পুরানা মাল বার করইন।”
হজরত ইছায় কেনে তশরিফ আনছইন (১৩:৫৩-১৭:২৭)
নিজর গাউত হজরত ইছার অসম্মান
53হজরত ইছায় কিচ্ছা কইয়া কইয়া তালিম দিয়া হারলে ইনথনে গেলাগি। 54গিয়া তান নিজর গাউর মছিদো হামাইয়া ওয়াজ-নছিয়ত করলা। তান বয়ান হুনিয়া মানষে তাইজ্জুব অইয়া কইলা, “ই বেটায় কেমনে অতো ইলিম আর কেরামতি পাইলো? 55এ কিতা হউ কাঠ মেস্তরির পুয়া নায় নি? তার মাʼর নাম মরিয়ম নায় নি? হে ইয়াকুব, ইউছুফ, সাইমন আর এহুদার ভাই নায় নি? 56তার বইনাইন তো আমরার গাউতউ রইরা? তে হে ইতা ইলিম কই থাকি পাইলো?” 57অউ লাখান ইছারে লইয়া মানষর দিলো বিতিশনা আইলো। অউ সময় ইছায় তারারে কইলা, “নিজর বাড়ি-ঘর বা গাউ-দেশ ছাড়া আর হকল জাগাতউ নবী অকলে সম্মান পাইন।”
58গাউর মানষর ইমান নাই দেখিয়া, তাইন হিকানো বেশি কেরামতি দেখাইলা না।
14হজরত এহিয়া নবীর মউত
1অউ সময় গালিল জিলার রাজা হেরোদে ইছার বেয়াপারে হুনলা, 2হুনিয়া তান উজির-নাজিররে কইলা, “এইন তো তৌবার গোছল করাওরা এহিয়া। এইন মরা থাকি জিন্দা অইয়া উঠায় অউ কেরামতি দেখাইরা।”
3অউ হেরোদে তার ভাই ফিলিফর বউ হেরোদিয়ারে হাংগা করছিল। তাইর মন যুগানির লাগি হে এহিয়া নবীরে জেলো বন্দি করিয়া থইছিল, 4কারন এহিয়ায় হেরোদরে কইতা, “তাইরে হাংগা করা তো তুমার ঠিক অইছে না।” 5এরলাগি হে এহিয়া নবীরে মারিলিতো চাইলো, অইলে মানষর ডরে মারতো পারলো না, মানষে জানতা এইন একজন নবী।
6বাদে রাজা হেরোদর জনম দিনর অনুষ্ঠানো হেরোদিয়ার পুড়িয়ে নাচিয়া রাজারে খুশি করলো। 7এরদায় রাজায় কছম খাইয়া কইলো, “অউ পুড়িয়ে যেতা চাইবো, অতা দিমু।” 8পুড়িয়ে তাইর মাʼর লগে পরামিশ করি কইলো, “তৌবার গোছল করাওরা এহিয়ার কল্লা কাটিয়া একখান থালো করি, অখন আনিয়া আমারে দেউক্কা।”
9ইখান হুনিয়া রাজার মন খুব বেজার অইগেল। অইলে তার লগে বওয়া মেহমান-মুছাফিরর ছামনে নিজে কছম করছে, এরলাগি হে অউ কল্লা কাটিবার হুকুম দিল। 10তার জল্লাদ পাঠাইয়া জেলর ভিতরে এহিয়া নবীর কল্লা কাটাইলো। 11বাদে অউ কল্লা এক থালো করি আনিয়া অউ পুড়িরে দেওয়া অইলো, পুড়িয়ে নিয়া তাইর মাʼর গেছে দিল। 12এরবাদে এহিয়া নবীর উম্মত অকলে তান লাশ নিয়া দাফন করলা, আর হজরত ইছার গেছে গিয়া অউ খবর জানাইলা।
পাচ আজার মানষর গাইবি খানি
13এহিয়ার মউতর খবর হুনিয়া ইছায় একখান নাওত উঠিয়া নিরাই এক জাগাত গেলাগি। তাইন গেছইনগি হুনিয়া, নানান জাগার মানুষ হুকনা বায় আটি আটি তান খরে রওয়ানা অইলা। 14তাইন নাও থনে লামার বাদে মানষর ভিড় দেখিয়া তান ভিতরে দয়া হামাইগেল। এরদায় তারার মাজে যতো বেমারি আছলা, তাইন এরারে ভালা করলা।
15বিয়ালি বালা সাহাবি অকল কান্দাত আইয়া কইলা, “হুজুর, ইখান তো খুব নিরাই জাগা, আর বেইলও যারগি। তে অতা মানষরে বিদায় দিলাউক্কা, এরা কান্দা-কাছার গাউয়াইন্তো গিয়া তারার খানি-খুরাকি লউক।” 16ইছায় কইলা, “না, তারা যাওয়ার দরকার নাই, তুমরাউ এরারে খানি দেও।” 17সাহাবি অকলে কইলা, “আমরার গেছে তো খালি পাচখান রুটি আর দুইটা বিরান মাছ ছাড়া আর কুন্তাউ নাই।”
18তাইন কইলা, “অখনাইন আমার গেছে আনো।” 19বাদে তাইন মানষরে কইলা, ঘাসর উপরে বইযিতা। তাইন হউ পাচখান রুটি আর দুইটা বিরান মাছ আতো লইলা, আর আছমানেদি চাইয়া শুকরিয়া আদায় করলা। বাদে অউ রুটি টুকরাইয়া সাহাবি অকলর আতো দিলে, এরা বাটিয়া দিলাইলা। 20অতাদি হকল মানষে পেট ভরি খাইলা। খাইয়া হারলে বাড়তি যেতা রইলো, অখনাইন দলা করলে বারো টুকরি ভরিগেল। 21অনুমান পাচ আজার বেটা মানষে অউ খানা খাইলা, এরার লগে বেটিন আর হুরুতাইনও আছলা।
পানির উপরেদি আটা
22খানির বাদেউ তান সাহাবি অকলরে হুকুম দিলা, তাইন যাইবার আগে তারা নাওয়ো উঠিয়া আওরর হপারো যাইতাগি। কইয়া তাইন অনর মানষরে বিদায় দিলাইলা। 23এরা গিয়া হারলে তাইন দোয়া করার লাগি পাড়র উপরে উঠিলা। হাইঞ্জা বাদ পর্যন্ত হনো একলা রইলা। 24অউ সময় সাহাবি অকলর নাও আওরর মাজখানো গেছেগি, আর উফতা বাতাসর ঢেউয়ে নাও খুব ইলকানি ধরলো। 25পতাবালা হজরত ইছা আওরর পানির উপরেদি আটিয়া সাহাবি অকলর কান্দাত আইরা। 26অউ সময় সাহাবি অকলে তানরে দেখিয়া খুব ডরাইলা, তারা ভুত মনো করিয়া ভুত, ভুত কইয়া চিল্লাইয়া উঠলা।
27অউ তাইন কইলা, “ডরাইও না, সাওস করো, ই তো আমি।”
28তেউ সাহাবি পিতরে কইলা, “হুজুর, আপনেউ যুদি অইন, তে আমারে ইজাজত দেউক্কা, আমিও পানির উপরেদি আটিয়া আপনার গেছে আইতাম।” 29ইছায় কইলা, “আও।” তেউ পিতর নাও থাকি লামিয়া পানির উপরেদি আটা ধরলা। 30অইলে বাতাসর জুর দেখিয়া তাইন ডরাইগেলা, আর বুড়িযিরা দেখিয়া জুরে জুরে ইছারে ডাক দিলা, “হুজুর, হুজুর, আমারে বাচাউক্কা।”
31লগে লগে ইছায় আত বাড়াইয়া তানরে ধরিয়া কইলা, “অউনি তুমার ইমান? মনো সন্দয় আনলায় কেনে?” 32বাদে ইছা আর পিতর নাওয়ো উঠতেউ বাতাস থামি গেল। 33তেউ নাওর হকলে তানরে সইজদা করিয়া কইলা, “হুজুর, আসলেউ আপনে আল্লা পাকর খাছ মায়ার জন, ইবনুল্লা।”
34আওর পাড়ি দিয়া তারা গিনেসরত এলাকাত আইয়া নাও থাকি লামলা। 35লামতেউ হনর মানষে তানরে দেখিয়া চাইরোবায় খবর পাঠাইলা। খবর পাইয়া মানষে হকল জাতর বেমারিরে লইয়া তান গেছে আইলো, 36তারা মিনত করি কইলো, অউ বেমারি অকলে যানু তান গতরর চাদ্দরর কুনা খানো ছইতা পারইন। আর যতো মানষে ছইলা, তারা হক্কলউ ভালা অইগেলা।
15মানষর বানাইল রছুমত
1জেরুজালেম টাউন থাকি কয়জন মৌলানা আর ফরিশি মজহবর কিছু মানুষ ইছার গেছে আইলা, আইয়া তানরে জিকাইলা, 2“আপনার উম্মত অকলে আগর জমানার মৌলানা অকলর বাতাইল রছুমত মানইন না কেনে? তারা তো অজু না করিয়াউ খানি খাইলাইন।” 3ইছায় জুয়াপ দিলা, “অউ মৌলানা অকলর রছুমত মানার লাগি আপনারা কেনে আল্লার হুকুমর বরখেলাফ কররা? 4আল্লায় হুকুম দিছইন, ‘মা-বাফরে ইজ্জত করিও, আর যে মানষে তার মা-বাফর বদনাম গায়, তারে নিচয় মারিলিতে অইবো।’ 5অইলে আপনারা কইন, কুনু মানষে যুদি তার মা-বাফরে কইলায়, ‘আমার যেতা ছামানা দিয়া আপনাইন্তর খেজমত করতাম আছিল, ইতা আমি আল্লার নামে লিল্লা দিলাইছি,’ 6তে তার মা-বাফরে আর কুন্তা করা লাগে না। অউ লাখান আপনারার বাফ-দাদার মনগড়া নিয়ম দিয়া আল্লার কালাম বাতিল করিলিছইন। 7ও ভন্ড অকল! হজরত ইশায়া নবীয়ে তুমরার বেয়াপারে ঠিকউ কইছইন,
8ইতা মানষে মুখ দিয়া খালি আমারে ইজ্জত করে,
অইলে তারার দিল আমা থাকি বউত দুরই।
9তারা হুদার খামোখা আমার এবাদত করে,
তারার তালিম অকল তো মানষর বানাইল মনগড়া রছুমত।”
মানুষ কিলা নাপাক অয়
10বাদে ইছায় মানষরে ডাকিয়া কইলা, “আমার তালিম খানাইন খিয়াল করি হুনউক্কা। 11বাইরে থাকি যেতা জিনিস মানষর মুখর ভিতরে হামায়, ইতায় তো তারে নাপাক বানায় না। বরং মানষর মুখ থাকি যেতা বারয়, অতায়উ তারে নাপাক বানায়।”
12তেউ তান সাগরিদ অকলে কইলা, “হুজুর, আপনে বুজছইন নি, ফরিশি অকলে মনো কররা, অউ তালিম দিয়া আপনে তারারে বেইজ্জত করছইন?” 13-14তাইন কইলা, “ইতার মাত ফালাও। আমার বেহেস্তি বাফ আল্লায় যে গাছ লাগাইছইন না, ই গাছ তান বাগান থাকি হুরিয়া ফালাইল অইবো। তারার দায়িত্ব আছিল আন্দা মানষরে পথ দেখাইতো, অইলে তারা নিজেউ আন্দা বনিগেছে। কুনু আন্দায় আরক আন্দারে পথ দেখানিত গেলে, দুইও আন্দাউ গাতো পড়ি মরবো।”
15তেউ সাহাবি পিতরে কইলা, “আপনে যেতা বাতাইরা, অতা আমরারে বুজাই দেউক্কা।” 16ইছায় কইলা, “তুমরা অখনও বেবুজ রইছো নি? 17তুমরা বুজো না নি, বাইরে থাকি যেতা জিনিস মানষর মুখো হামায়, ইতা তো খালি পেটো হামায়, আর পেট থাকি হিরবার বার অই যায়। 18অইলে মানষর মুখ থাকি যেতা বারয়, ইতা দিলো থাকি আয়, আর অতায়উ মানষরে নাপাক বানায়। 19মানষর দিল থাকিউ তো হকল নমুনার কু-চিন্তা বারয়, যেমন খুন, জিনা, চুরি, মিছা সাক্ষি, আর ইংসা-নিন্দা বারয়। 20অতায়উ মানষরে নাপাক বানায়, অইলে অজু ছাড়া খানি খাইলে কেউ নাপাক অয় না।”
বিধর্মী বেটির ইমানর বল
21বাদে হজরত ইছা নিজর দেশ ছাড়িয়া সোর আর সিদন দেশো গেলাগি। 22হনো গিয়া হারলে কেনানী জাতির এক বিধর্মী বেটি তান গেছে আইয়া জুরে জুরে কইলো, “ও হুজুর, দাউদর আওলাদ, আমারে রহম করইন। আমার পুড়িগুরে জিনে ধরায় তাই বড় কষ্ট করের।”
23অইলে ইছায় কুন্তা মাতিলা না। তেউ তান সাহাবি অকলে তানরে মিনত করি কইলা, “হুজুর, অউ বেটিগুরে বিদায় দিলাউক্কা, তাই আমরার খরে অইয়া চিল্লার।” 24ইছায় কইলা, “আমারে তো পাঠাইল অইছে, খালি বনি ইছরাইলর আরাইল মেড়া অকলর লাগি।”
25অইলে অউ বেটি তান কান্দাত আইয়া কদমবুছি করিয়া কইলো, “হুজুর, আমারে অউ আছান খান করউক্কা।” 26তাইন কইলা, “নিজর হুরুতার রিজেক কুত্তার ছামনে দেওয়া ঠিক নায়।” 27বেটিয়ে কইলো, “জিঅয় হুজুর, আপনার কথাউ ঠিক, অইলে মুনিবর খানি থাকি যেতা গুড়া-গাড়া গালাবায় পড়ে, ইতা তো কুকরে খায়।” 28তেউ তাইন বেটিরে কইলা, “আসলে গো মাই, তুমার ইমান বড় মজবুত। আইচ্ছা, তুমি যেলা চাইরায়, অলাউ অউক।” অখান কওয়ার লগে লগেউ পুড়ি ভালা অইগেল।
চাইর আজার মানষর গাইবি খানি
29বাদে ইছা হনথনে গালিল আওরর পারেদি আটিয়া গেলা, গিয়া এক পাড়র উপরে উঠিয়া বইলা। 30বইয়া হারলে মানষে লুলা-লেংড়া, আতুর, আন্দা, বোবা, অলাখান আরো বউত জাতর বেমারিরে দলে দলে তান গেছে লইয়া আইলো। আনিয়া তান পাওর কান্দাত থইলো, তাইন এরা হকলরে ভালা করলা। 31মানষে যেবলা দেখলা, লুলা-লেংড়া ভালা অইযিরা, বোবা অকলে মাতিরা, আতুর মানষে আটিরা, আন্দায় চউখে দেখরা, দেখিয়া তারা হকল তাইজ্জুব অইগেলা, আর বনি ইছরাইলর মাবুদ আল্লার শুকরিয়া আদায় করলা।
32এরবাদে ইছায় তান সাহাবি অকলরে কান্দাত আনিয়া কইলা, “ইতা মানষর লাগি আমার বড় দরদ লাগের, আইজ তিন দিন ধরি তারা আমার খরে খরে ঘুরিরা, অইলে তারার লগে খানির কুন্তা নাই। তে অউ হালতে এরারে বিদায় দিতাম চাই না, আরনায় ইতা পথোউ বেউশ অইযিবা।”
33সাহাবি অকলে কইলা, “হুজুর, ই নিরাই মরুভুমির মাজে অতো মানষরে খাওয়ানির লাগি রুটি আমরা কুয়াই পাইমু?” 34তাইন কইলা, “তুমরার গেছে কয়খান আছে?” এরা কইলা, “সাতখান রুটি আর বিরান করা কয়টা হুরু মাছ আছে।” 35তেউ ইছায় মানষরে মাটিত বওয়ার লাগি কইলা। 36কইয়া তাইন অউ সাতোখান রুটি আর বিরান মাছ আতো লইয়া, আল্লার শুকরিয়া আদায় করিয়া অখনাইন টুকরাইলা, বাদে সাহাবি অকলরেদি বাটাইলা। 37হক্কল মানষে পেট ভরি খাইলা। খাইয়া যেতা রইছিল, সাহাবি অকলে অতা দলা করার বাদে সাত টুকরি ভরিগেল। 38অনুমান চাইর আজার বেটা মানষে অউ খানা খাইলা, এরার লগে বেটিন আর হুরুতাইনও আছলা। 39বাদে তাইন এরারে বিদায় দিয়া নাওয়ো উঠিয়া মগদন এলাকাত গেলাগি।
16মানষে খালি কেরামতি দেখতা চাইন
1বাদে ইছারে পরিক্ষা করার লাগি ফরিশি আর সিদ্দেকিয়া মজহবর কিছু মানুষ আইলা, আইয়া আছমানি কুনু নিশানা দেখতা চাইলা। 2ইছায় কইলা, “বিয়ালি বালা আছমানর লাল রং দেখিয়া আপনারা কইন, কাইলকুর দিন তো ভালা অইবো। 3আর বিয়ানি বালা আছমানো কালনি দেখিয়া কইন, আইজ মেঘ-তুফান অইবো। তে আছমানর হালত আপনারা ঠিকউ বুজইন, অইলে জমানার হালত আপনারা বুজইন না। 4অউ জমানার বেইমান আর নাফরমান অকলে খালি কেরামতি দেখতা চাইন, অইলে ইউনুছ নবীর নিশানা ছাড়া দুছরা কুনু নিশানা তারারে দেখাইল অইতো নায়।” অখান কইয়া তাইন এরারে থইয়া হরি গেলা।
5বাদে আওর পাড়ি দিয়া যাওয়ার কালো সাহাবি অকলে লগে করি রুটি নিতা ফাউরিলিলা। 6ইছায় তারারে কইলা, “তুমরা সাবধান অও, ফরিশি আর সিদ্দেকিয়া দলর খামির থাকি হুশিয়ার রইও।”
7ইখান হুনিয়া সাহাবি অকলে কানা-কানি করি কইলা, “আমরা রুটি আনছি না করি মনোলয় তাইন অখান কইরা।” 8ইছায় তারার ভাব বুজিলিলা, বুজিয়া কইলা, “হায়রে কমজুর ইমানদার অকল, তুমরার গেছে রুটি নাই, ইখান কইরায় কেনে? 9তুমরা অখনও কুন্তা বুজো না নি, কুন্তা মনো অর না নি? আমি যেবলা পাচখান রুটিদি পাচ আজার মানষরে খাওয়াইছলাম, খানির বাদে তুমরা কত টুকরি গুড়া-গাড়া দলা করছলায়? 10আর হউ যে সাতখান রুটিদি চাইর আজার মানষে খাইছলা, খাইয়া হারলে কত টুকরি দলা করছলায়? 11তে অখন তুমরা বুজো না কেনে, আমি অউ রুটির বেয়াপারে কইয়ার না? হুনো, ফরিশি আর সিদ্দেকিয়া অকলর খামির থাকি হুশিয়ার অও।” 12তেউ সাহাবি অকলে বুজলা, তাইন আসলে খাইবার খামির থাকি হুশিয়ারর কথা কইরা না, বরং ফরিশি আর সিদ্দেকিয়া অকলর তালিম থাকি হুশিয়ার অইতে কইছইন।
হজরত ইছা আসলে কে?
13বাদে তান সাহাবি অকলরে লইয়া কৈছরিয়া-ফিলিপি টাউনর কান্দা-কাছাত গেলা। পথো সাহাবি অকলরে জিকাইলা, “কওছাইন, মানষে কিতা মনো করইন, আমি বিন-আদম কে?” 14এরা জুয়াপ দিলা, “কুনু কুনু মানষে কইন, আপনে এহিয়া নবী। কুনু জনে কইন ইলিয়াছ নবী। কেউ কেউ কয় ইয়ারমিয়া নবী, বা অইন্য কুনু নবী।” 15অউ তাইন কইলা, “অইলে তুমরা কিতা মনো করো, আমি কে?” 16সাহাবি সাইমন-পিতরে জুয়াপ দিলা, “আপনে তো আল্লার ওয়াদা করা হউ আল-মসী ইবনুল্লা, জিন্দা আল্লার খাছ মায়ার জন।” 17ইছায় কইলা, “ও সাইমন বিন ইউনুছ, তুমি বড় নেক-কপালি, কারন, দুনিয়ার কুনু মানষে তুমারে ইতা জানাইছে না, অইলে আমার বেহেস্তি বাফ আল্লায়উ জানাই দিছইন। 18তে আমি তুমারে কইরাম, তুমি তো পাথর, এরলাগি তুমার নাম দিছলাম পিতর, আর অউ পাথরর উপরেউ আমার তরিকার তামাম জমাত গড়িয়া তুলমু। দোজখি কুনু শক্তিয়েউ এর লগে পারতো নায়। 19তুমার আতো আমি বেহেস্তি বাদশাইর চাবি দিমু, অউ দুনিয়াত তুমি যেতারে নাজাইজ কইবায়, ইতা আল্লার দরবারো নাজাইজ অইযিবো, আর তুমি যেতারে জাইজ কইবায়, আল্লার দরবারোও ইতা জাইজ অইযিবো।”
20বাদে ইছায় তারারে দড়াইয়া কইলা, “আমিউ যেন হউ আল-মসী, ইতা কেউররে হুনাইও না।”
পয়লা বার নিজর মউতর আগাম খবর
21অউ সময় থাকি ইছায় তান সাহাবি অকলরে জানানি ধরলা, তাইন জেরুজালেমো যাইতে অইবো। হনর মুরব্বি অকলে, বড় ইমাম অকলে আর মৌলানা অকলে তানরে বউত দুখ-মছিবতো ফালাইবা। বাদে তানরে কাতল করা অইবো, অইলে মউতর তিন দিনর দিন হিরবার জিন্দা অইয়া উঠবা।
22ইখান হুনিয়া সাহাবি পিতরে তানরে থুড়া হরাইয়া নিয়া কইলা, “হুজুর, অসম্ভব, আপনার উপরে কুনুমন্তেউ ইতা অইতে পারে না।” 23ইছায় পিতরর বায় ফিরিয়া কইলা, “ধুর ইবলিছ, আমার গেছ থাকি বাগ। তুই আমার পথর জইঞ্জাল। তুই আল্লাই মুনশারে বাদ দিয়া, মানষর লাখান চিন্তা কররে।”
24বাদে তাইন এরারে কইলা, “কেউ যুদি আমার তরিকাত আইতো চায়, তে হে তার নিজর খুশিয়ে চলা বাদ দেউক, তার আপন দুখ-কষ্টর সলিব বইয়া লইয়া আমার খরে আউক। 25যে মানষে তার নিজর জান বাচাইতো চায়, হে তার আসল জিন্দেগি খুয়াইবো। অইলে যে জনে আমার লাগি তার জান কুরবানি দেয়, হে আসল জিন্দেগি পাইবো। 26কুনু মানষে আস্তা দুনিয়া পাইয়াও যুদি তার আসল জিন্দেগি খুয়াইলায়, তে তার কুনু ফায়দা অইলো নি? হেশে আসল জিন্দেগি পাওয়ার লাগি হে কুন ধন বিলাইবো? 27আমি বিন-আদমে যেবলা আমার ফিরিস্তা অকলরে লগে লইয়া আমার গাইবি বাফর কুদরতি মহিমায় জগতো হিরবার আইমু, অউ সময় পরতেক মানষরে তার আমল মাফিক ফল দিমু। 28হুনো, আমি তুমরারে হাছা কথা কইরাম, অনো ইলাখান কয়জন আজির আছইন, আমি বিন-আদম বাদশা হালতে না আওয়া পর্যন্ত, কুনুমন্তেউ এরার মউত অইতো নায়।”
17হজরত ইছা রুহুল্লার নুরানি ছুরত
1এর ছয়দিন বাদে হজরত ইছায় খালি পিতর, ইয়াকুব আর ইয়াকুবর ভাই হান্নানরে লইয়া উচা এক পাড়র উপরে উঠলা। 2উঠিয়া হারলে এরার চউখর ছামনে তান নিজর ছুরত বদলি গেল। তান মুখ অইগেল সুরজর লাখান জলমল, আর ফিন্নর লেবাছ অইলো ধলা চকচকা। 3সাহাবি অকলে দেখলা, হজরত মুছা আর ইলিয়াছ নবীয়ে আইয়া তান লগে বাতচিত কররা।
4অউ সময় পিতরে কইলা, “হুজুর, আমরা তো অনো আছি, খুব ভালা অইছে। আপনে চাইলে আমি তিনখান ডেরা-ঘর বানাইলাই, একখান আপনার, একখান মুছা নবীর আর একখান ইলিয়াছ নবীর লাগি।” 5তাইন ইছার লগে মাতিরা, আখতাউ ধলা ধবধবা মেঘর এক টুকরায় আইয়া এরারে গুরিলিলো, আর অউ টুকরা থাকি গাইবি আওয়াজ আইলো, “এইনউ আমার খাছ মায়ার জন ইবনুল্লা, এন উপরে আমি খুব খুশি, তুমরা এন নছিয়ত হুনো।”
6ইখান হুনিয়া সাহাবি অকল খুব ডরাইলা, ডরাইয়া মাটিত পড়ি গেলা। 7অউ সময় ইছা আইয়া তারারে ছইয়া কইলা, “উঠো, ডরাইও না।” 8তেউ তারা চউখ তুলি চাইলা, চাইয়া খালি ইছা ছাড়া আর কেউররে ইনো দেখলা না।
9পাড় থাকি লামিয়া আওয়ার বালা ইছায় এরারে হুকুম দিলা, “আইজ যেতা দেখলায়, আমি বিন-আদম মরা থাকি জিন্দা অইয়া উঠার আগ পর্যন্ত ইতা আর কেউররে হুনাইও না।” 10সাহাবি অকলে ইছারে জিকাইলা, “হুজুর, মৌলানা অকলে কেনে কইন, আল-মসী আইবার আগে, পয়লা ইলিয়াছ নবীর আওয়া জরুর?” 11তাইন কইলা, “ইখান হাছা কথা, পয়লা হজরত ইলিয়াছে আইয়া হক্কলতা আগর হালতো ফিরাইয়া আনবা। 12অইলে আমি তুমরারে কইরাম, ইলিয়াছ নবী ঠিকউ আইছলা। ই দুনিয়ার মানষে তানরে না চিনায়, তান লগে যেতা মনোলয় অতা করছে। আর আমি বিন-আদমেও অউ লাখান দুখ-মছিবত পুয়ানি লাগব।” 13তেউ সাহাবি অকলে বুজিলিলা, তাইন অখন এহিয়া নবীর কথা কইরা।
জিনর আছর আলা মিরকি বেমারির শিফা
14বাদে তারা পাড় থাকি লামিয়া আইলা। অনো মানষর ভিড় আছিল, অউ ভিড়র মাজে এক বেটা আইয়া ইছার ছামনে আটু গালাদি বইয়া কইলো, 15“হুজুর, আমার পুয়াগুরে বাচাউক্কা, হে মিরকি বেমারে খুব কষ্ট করের। অউ বেমার উঠলে হে হামেশা আগুনিত আর পানিত পড়ি যায়। 16আমি তারে লইয়া আপনার সাহাবি অকলর গেছে আইছলাম, অইলে তারা ভালা করতা পারছইন না।”
17ইছায় কইলা, “হায়রে বেইমান আর নাফরমানর জাত, আমি আর কতদিন তুমরার লগে রইমু, তুমরার জালা কতদিন সইয্য করমু? দেখি, তুমার পুয়ারে অনো আনো।” 18ইছায় পুয়ার লগর হউ জিন্নাতরে ধামকি দিলা, ধামকি খাইয়া জিনে পুয়ারে ছাড়িয়া গেলগি, লগে লগে হে ভালা অইগেল।
19বাদে সাহাবি অকলে নিরালায় ইছারে জিকাইলা, “হুজুর, আমরা কেনে অউ জিন্নাত ছাড়াইতাম পারলাম না?”
20তাইন কইলা, “তুমরার ইমানর কমজুরির লাগিউ পারছো না। আমি হাছাউ কইরাম, তুমরার দিলো যুদি এগু ডেংগা বিচি পরিমান ইমান থাকে, আর তুমরা অউ পাড়রে কও, ‘অন থাকি ডুলিয়া হনো যাওগি,’ তে অউ পাড়ও ডুলিযিবো। তুমরার অসাইধ্য কুন্তাউ রইতো নায়। 21হুনো, দোয়া আর রোজা রাখা ছাড়া ই-জাত জিন ছাড়াইল যায় না।”
দুছরা বার নিজর মউতর আগাম খবর
22বাদে গালিল জিলাত আইয়া ইছায় তান সাহাবি অকলরে কইলা, “আমি বিন-আদমরে মানষর আতো ধরাই দেওয়া অইবো। 23তারা আমারে জানে মারিলিবা, মরার তিন দিনর দিন আমি হিরবার জিন্দা অইয়া উঠমু।” ইখান হুনিয়া সাহাবি অকল খুব বেজার অইগেলা।
মাছর মুখো রুপার টেকা
24এরবাদে ইছায় সাহাবি অকলরে লইয়া কফরনাউম টাউনো গেলা, অউ সময় বায়তুল-মুকাদ্দছর খাজনা তুলরা অকলে সাহাবি পিতররে কইলা, “আপনারার উস্তাদে বায়তুল-মুকাদ্দছ কাবা শরিফর চান্দা দেইন না নি?” 25পিতরে জুয়াপ দিলা, “জিঅয়, দেইন তো।” অখান কইয়া পিতর ঘরো হামাইয়া কুন্তা মাতার আগেউ ইছায় কইলা, “পিতর, তুমি কিতা মনো করো? দুনিয়ার বাদশা অকলে কার গেছ থাকি খাজনা-চান্দা আদায় করইন? নিজর মানষর গেছ থাকি, না বারা মানষর গেছ থাকি?”
26পিতরে কইলা, “বারা মানষর গেছ থাকি।” তেউ ইছায় কইলা, “তে তো নিজর মানুষ ইতা থাকি বাচি গেলো, আর আমরাও আল্লার আপন মানুষ অওয়ায় আল্লার ঘরর খাজনা থাকি বাচি গেছি। 27অইলে আমরা এরারে বেজার করতাম নায়, এরলাগি তুমি আওরো যাও, গিয়া মাছ মারার লাগি বরি ফালাও, বরিত পয়লা যে মাছ লাগবো, অগুর মুখর ভিতরে একটা রুপার টেকা পাইবায়। অউ টেকা নিয়া তুমার আর আমার চান্দা দিলাও।”
18উম্মতর লাগি হজরত ইছার জরুরি তালিম (১৮:১-৩৫)
বেহেস্তি বাদশাইত বড় কে?
1অউ সময় সাহাবি অকলে হজরত ইছার কান্দাত আইয়া জিকাইলা, “হুজুর, বেহেস্তি বাদশাইর মাজে হক্কল থাকি বড় কে?”
2তেউ ইছায় এক হুরুতারে ডাকিয়া আনিয়া তারার মাজে উবা করাই কইলা, 3“আমি তুমরারে হাছাউ কইরাম, তুমরা যুদি মন ফিরাইয়া অউ হুরুতার লাখান না অও, তে কুনুমন্তেউ বেহেস্তি বাদশাইত হামাইতায় পারতায় নায়। 4যে জনে নিজরে অউ হুরুতার লাখান হুরু মনো করে, বেহেস্তি বাদশাইত হে-উ হকল থাকি দামি। 5আর যে জনে আমার লাগি অউ হুরুতার লাখান কুনু ছাবালরে কবুল করে, হে আমারেউ কবুল করে।
গুনার কাম থাকি হুশিয়ার রওয়া
6“হুনো, আমার তরিকার অউ হুরু-মুরু একজনরে যেগিয়ে গুনার পথে টানিয়া নেয়, অগুর লাগি আরো ভালা অইলো অনে, অগুর গলাত পাথর বান্দিয়া দরিয়াত ফালাই দেওয়া। 7হায়রে দুনিয়া, গুনার পথে নেওয়ার লাগি তুমার মাজে কতো উছকানি আছে! উছকানি তো আইবোউ আইবো। অইলে লান্নত হউ জনর উপরে, যেগিয়ে গুনা করানির লাগি উছকানি দেয়। 8তুমার আত বা পাও যুদি তুমারে গুনার পথে টানে, তে ই আত-পাও কাটিয়া ফালাই দেও। দুইও আত-পাও লইয়া দোজখো জলা থাকি, আতুর অইয়াও বেহেস্তো যাওয়া তুমার লাগি ভালা। 9তুমার চউখে যুদি তুমারে গুনার পথে টানে, তে ই চউখ তুলিয়া ফালাই দেও। দুইও চউখ লইয়া দোজখো জলা থাকি, কানা অইয়াও আখের পাওয়া তুমার লাগি ভালা।
10“হুনো, আমি কইরাম, তুমরা অউ হুরুতার লাখান কুনু ছাবালরেও এলামি করিও না। তারার ফিরিস্তা অকলে বেহেস্তর মাজে হর-হামেশা আমার বেহেস্তি বাফ আল্লা পাকর মুখ দেখরা। 11জানো নি, যেরা বে-পথে গেছেগি, এরারে বাচানির লাগিউ আমি বিন-আদম ই দুনিয়াত আইছি।
12“মনো করো, কুনু মানষর একশোগু মেড়া আছে, এর মাজর এগু মেড়া আরাই গেলে হে বাকি নিরানব্বইটা বন্দো থইয়া, হউ আরাইল অগু তুকানিত যায় না নি? 13আমি তুমরারে হাছাউ কইরাম, হে যুদি ইকটা তুকাইয়া পায়, তে যে নিরানব্বইগু আরছিল না, অগুইন থইয়া যেগু আরি গেছিল, অগুর লাগিউ হে খুব খুশি-বাসি করে। 14ঠিক অউ লাখান, তুমরার বেহেস্তি বাফ আল্লায়ও চাইন না, অউ হুরুতাইন্তর মাজর এগু হুরুতাও বিনাশ অউক।
অপরাধিরে বুজাও
15“তুমার কুনু ভাইয়ে যুদি তুমার গেছে দুষ করিলায়, তে হে যেবলা নিরালায় থাকে, অউ সময় তুমি একলা গিয়া তারে বুজাইও। তুমার বুজ যুদি মানিলায়, তে অউ ভাইর লগে তুমার ভাইয়ালি বাচাইলিলায়। 16অইলে হে যুদি তুমার বুজ না মানে, তে আরো দুই-একজন মাজর মানুষ লইয়া যাইও। গিয়া তারার ছামনে তারে বুজাইও। তেউ মুছার শরিয়তর অউ হুকুম পুরা অইবো, ‘দুই-তিনজন সাক্ষির কথায় যেকুনু বেয়াপার পরমান অয়।’ 17এরার বুজও যুদি হে না মানে, তে তার বেয়াপারে জমাতো নালিশ দেও। জমাতর কথা যুদি মানিলায় তে ভালা, আর না মানলে তারে বিধর্মী বা ঘুষখুর তশিলদার মনো করিয়া, তারে তার পথে ছাড়ি দেও। 18তে আমি তুমরারে হাছা কথা কইরাম, অউ দুনিয়াইত তুমরা যেতারে নাজাইজ কইবায়, ইতা আল্লার দরবারো নাজাইজ অইযিবো, আর তুমরা যেতারে জাইজ কইবায়, আল্লার দরবারোও ইতা জাইজ অইবো।
19“হুনো, আমি তুমরারে আরো কইরাম, তুমরার মাজর দুইজন যুদি একমত অইয়া কুনু বেয়াপারে দোয়া করে, তে আমার বেহেস্তি বাফ আল্লায় অউ দোয়া কবুল করবা। 20আমার নামে যে জাগাত দুই বা তিন জন জমা অয়, হউ জাগাত আমিও আজির থাকি।”
মাফ করার বেয়াপারে তালিম
21অউ সময় পিতরে আইয়া ইছারে কইলা, “হুজুর, আমার ভাইয়ে যুদি আমার গেছে বার বার দুষ করে, তে আমি কতবার তারে মাফ করতাম? সাত বার নি?” 22ইছায় কইলা, “খালি সাত বার নায়, আমি কইরাম, তারে সত্তইর গুন সাত বার মাফ করিও।
23“হুনো, বেহেস্তি বাদশাই অলা এক বাদশার লাখান, যেইন তান উজির-নাজিরর গেছে হিসাব-নিকাশ চাইলা। 24বাদশায় হিসাব লওয়াত বইলে এরার মাজর অলা এক জনরে তান ছামনে আনা অইলো, বাদশায় এর গেছে লাখ লাখ টেকা পাওনা আছলা। 25অউ পাওনা ফিরত দিবার খেমতা এর নাই। এরদায় বাদশায় হুকুম দিলা, হে সুদ্ধা তার বউ, পুয়া-পুড়িন গুলাম হিসাবে বিকি খাইয়া, হকল সয়-সম্পত্তি বেচিয়া তান পাওনা আদায় করার লাগি। 26অউ হুকুম হুনিয়া হে বাদশার পাওত ধরিয়া কান্দিয়া কইলো, ‘হুজুর, আমারে থুড়া সুযোগ দেউক্কা, আমি আপনার হকল পাওনা দিলাইমু।’ 27অউ তাইন দয়া করিয়া তারে ছাড়ি দিলা, আর হকল দেনা মাফ করি দিলাইলা।
28“বাদে হে বারে গিয়া তার লগর আরক চাকরিয়ানরে পাইলো। অউ জনর গেছে হে একশো টেকা পাওনা আছিল। পাইয়া তারে গলাত টিপা মারি ধরিয়া কইলো, ‘অই, তুই আমার পাওনা টেকা দে।’ 29হউ জনে তার পাওয়ো পড়ি মিনত করি কইলো, ‘আমারে থুড়া সুযোগ দেও, আমি তুমার হকল পাওনা দিলাইমু।’ 30অইলে হে এর কথা মানলো না। তার টেকা না দেওয়া পর্যন্ত তারে জেলো হারাই থইলো।
31“ইতা দেখিয়া তার লগর উজির-নাজির অকল খুব বেজার অইলা। তারা গিয়া ইতা বাদশারে জানাইলা। 32বাদশায় হউ চাকরিয়ানরে আনাইয়া কইলা, ‘হায়রে নাফরমান, তুমি আমারে মিনত করায় আমি তুমার হকল দেনা মাফ করি দিলাইছলাম। 33তে আমি যেলা তুমারে দয়া করছলাম, তুমিও অউলা তুমার লগর চাকরিয়ানরে দয়া করা উচিত আছিল না নি?’ 34বাদে বাদশায় গুছা করিয়া তারে জেলো হারাইলা, তান পাওনা আদায় অওয়ার আগ পর্যন্ত জেলর জল্লাদ সিপাইয়ে তারে কড়াকড়ি সাজা দিলা।
35“ঠিক অউ লাখান, তুমরাও যুদি তুমরার ভাইরে দিল থাকি মাফ করি না দেও, তে আমার বেহেস্তি বাফ আল্লায়ও তুমরারে অউলা সাজা দিবা।”
19সমাজর মানষর লাগি হজরত ইছার তালিম (১৯:১-২২:৪৬)
তালাকর মুছলা
1অউ তালিমর বাদে হজরত ইছা গালিল জিলা থাকি জর্দান গাংগর হপারো এহুদিয়া জিলার পুব এলাকাত আইলা। 2অউ সময় বউত মানুষ তান খরে খরে আইলা, তাইন এরা হকলর বেমার ভালা করলা।
3আর ফরিশি মজহবর কয়জন মানুষ আইয়া ইছারে পরিক্ষা করার লাগি জিকাইলা, “কউক্কাছাইন, মুছা নবীর শরিয়ত মাফিক কুনু মানষে যেকুনু কারনে তার বউরে তালাক দেওয়া জাইজ নি?” 4ইছায় কইলা, “আপনারা আল্লার কালামো পাইছইন না নি, আল্লায় পয়লা আদম আর হাওয়ারে বেটা আর বেটি বানাই পয়দা করছইন, তাইন কইছইন, 5‘এরলাগিউ বেটাইন্তে তারার মা-বাফরে ছাড়িয়া বউর লগে থাকবা, তারা দুইওজন এক শরিল অইবা।’ 6এরদায় তারা দুই রইতা নায়, এক কায়া অইবা। তে আল্লায় যেরারে জুড়া বান্দিয়া দিছইন, মানষে ইতারে আলগ না করউক।”
7তেউ ফরিশি অকলে তানরে কইলা, “তে মুছা নবীয়ে কেনে বাতাইছইন, তালাক নামা লেখিয়া বউরে তালাক দেওয়া জাইজ?” 8তাইন কইলা, “তুমরার দিল পাষান গতিকেউ মুছায় ই অনুমতি দিছইন। অইলে পয়লা থাকি ইলা নিয়ম আছিল না। 9আমি তুমরারে কইরাম, যে মানষে জিনার দুষ ছাড়া অইন্য যেকুনু কারনে তার বউরে তালাক দিয়া আরক বেটিরে হাংগা করে, হে নিজেউ জিনা করে।”
10তেউ সাহাবি অকলে তানরে কইলা, “জামাই-বউর মাজেও যুদি অলা ঘটনা ঘটে, তে তো বিয়া না করাউ ভালা।”
11ইছায় তারারে কইলা, “হকল মানুষ তো ইলা রইতো পারে না, খালি আল্লায় যেরারে ই খেমতা দিছইন, তারাউ পারে। 12কুনু কুনু মানুষ না-মর্দ হালতেউ দুনিয়াত জনম লয়, এরলাগি তারা বিয়া করে না। আর কুনু কুনু জনরে মানষেউ না-মর্দ বানাইলায়, এরদায় তারাও বিয়া করে না। হিরবার কেউ কেউ আছে বিয়া-শাদি না করিয়া, খালি বেহেস্তি বাদশাইর খেজমতো জিন্দেগি কাটানির নিয়ত করিলায়। তে ইখান যেরা আমল করতো পারে, তারা আমল করউক।”
হুরু হুরুতাইন্তর বেয়াপারে তালিম
13বাদে মানষে হুরু হুরু হুরুতাইনরে লইয়া ইছার গেছে আইলা, তারা চাইলা তাইন যানু হুরুতাইন্তর মাথাগু আতাই দিয়া দোয়া করইন। অইলে সাহাবি অকলে এরারে বকা-জকা করলা। 14ইতা দেখিয়া তাইন কইলা, “হুরুতাইনরে আটকাইও না, তারারে আমার গেছে আইতে দেও। আল্লার বাদশাই তো এরার লাখান মানষর লাগিউ।” 15হুরুতাইন্তর মাথা আতাইয়া দোয়া করিয়া হারলে, তাইন হিন থাকি গেলাগি।
গরিব আর ধনির বেহেস্ত
16বাদে এক জুয়ান বেটায় আইয়া তানরে জিকাইলো, “হুজুর, আখেরাত পাওয়ার লাগি আমি কুন হক কাম করতাম?” 17ইছায় কইলা, “হক কামর বেয়াপারে আমারে কেনে জিকাইরায়? হক তো খালি একজনউ আছইন, তুমি আখেরাত পাইতে চাইলে, তান হকল হুকুম-আহকাম আমল করো।” 18হউ জুয়ানে কইলো, “হুজুর, কুন কুন হুকুম মানতাম?”
তাইন কইলা, “খুন করিও না, জিনা করিও না, চুরি করিও না, মিছা সাক্ষি দিও না, 19মা-বাফরে ইজ্জত করিও আর আরি-ফরিরে নিজর লাখান মায়া করিও।”
20বেটায় কইলো, “ছাব, ইতা তো আমি এমনেউ আমল করিয়ার, অইলে আর কিতা করতাম কউক্কা?” 21তেউ ইছায় তারে কইলা, “তুমি যুদি ষোলআনা খাটি অইতায় চাও, তে তুমার বাড়িত যাও, গিয়া তুমার হকল ধন-ছামানা বেচিয়া গরিব-দুখিরে বিলাই দেও। তেউ তুমি বেহেস্তো ধন-ছামানা পাইবায়। এরবাদে আইয়া আমার উম্মত অইও।” 22ইখান হুনিয়া বেটা বেজার অইয়া গেলগি, তার তো বউত ধন-ছামানা আছিল।
23তেউ ইছায় তান সাহাবি অকলরে কইলা, “আমি হাছা কথা কইরাম, ধনি মানুষ আল্লার বাদশাইত হামানি বড় মশকিল। 24হুনো, ধনি মানুষ আল্লার বাদশাইত হামানির চাইতে, ছুইর ফুড়েদি উট হামানি আরো সুজা।” 25ইখান হুনিয়া সাহাবি অকল তাইজ্জুব অইয়া কইলা, “তে কুন মানুষ নাজাত হাছিল করবো, কে রেহাই পাইবো?” 26তাইন এরার বায় চাইয়া কইলা, “মানষর লাগি অসম্ভব অইতো পারে, অইলে আল্লার নজরো ইতা তো মামুলি। তাইন হকলতাউ পারইন।” 27অউ সময় পিতরে জিকাইলা, “হুজুর, আমরা তো হক্কলতা ফালাই থইয়া আপনার খরে আইছি। তে আমরা কিতা পাইমু?”
28ইছায় কইলা, “আমি তুমরারে হাছা কথা কইরাম, তুমরা যারা আমার উম্মত অইছো, আমি বিন-আদম জিন্দা অইয়া যেবলা আল্লার বাদশাইর গদিত বইমু, অউ সময় তুমরাও আমার লগে অইয়া বারোটা তখতো বইবায়, বইয়া বনি ইছরাইলর বারো গুষ্টির বিচার করবায়। 29হুনো, যে মানষে আমার লাগি নিজর বাড়ি-ঘর, মা-বাফ, ভাই-বইন, পুয়া-পুড়ি, আর জমি-মিরাস ফালাইয়া আইছে, হে অউ দুনিয়াত ইতার একশো গুন বেশি পাইবো, এরলগে আখেরও পাইবো। 30অইলে অখন যেরা আগর কাতারো আছে, এরার বউত জন খরে পড়িযিবো, আর খরর কাতারর বউত জন আগে আইবো।”
20আংগুর বাগানর গিরস্তর কিচ্ছা
1হজরত ইছায় আরো কইলা, “বেহেস্তি বাদশাই তো অলা এক গিরস্তর লাখান। ই গিরস্তে তান খেতর কামর লাগি খুব বিয়ানে উঠিয়া কামলা তুকানিত গেলা। 2গিয়া কামলা চাইয়া তারারে একশো টেকা রোজ ফুড়াইয়া তান আংগুর বাগানো কামো লাগাইলা। 3কিছু বেইল অইয়া হারলে তাইন হিরবার বার অইলা, বার অইয়া দেখলা আরো কয়জন কামলা বেকার উবাই রইছইন। 4দেখিয়া কইলা, ‘তুমরাও গিয়া আমার বাগানো কামো লাগো, আমি তুমরারে উচিত টেকা দিমু।’ 5তেউ তারা গিয়া কামো লাগলা। অলাখান বেইল দুইফরি বালা আর জোহরর বাদে গিরস্ত হিরবার বার অইয়া গিয়া আরো কামলাইন আনিয়া কামো লাগাইলা। 6হেশে বিয়ালি বালা তাইন বারে গিয়া, আরো কামলাইন উবাই রইছইন দেখিয়া কইলা, ‘তুমরা হারাদিন ধরি ইনো উবাই রইছো কেনে?’ 7এরা কইলা, ‘ছাব, আমরা কুনু কাম পাইছি না।’ গিরস্তে কইলা, ‘তুমরাও গিয়া আমার বাগানো কামো লাগো।’
8“হাইঞ্জা বালা গিরস্তে তান নিজর চাকররে কইলা, ‘ওবা, বাগানর অউ কামলাইন্তরে আনিয়া, শেষর জন থাকি পয়লা জন পর্যন্ত হকলর রোজ দিলাও।’ 9বিয়ালি বালা যেরা কামো লাগছিল, তারা একশো করি পাইলো। 10ইতা দেখিয়া পয়লা যারা কামো লাগছিল, তারা মনো করলো তারা আরো বেশি টেকা পাইবো, অইলে গিরস্তে এরা হকলরে এক হমান রোজ দিলা। 11এরদায় পয়লা দল অউ গিরস্তর উপরে বেজার অইয়া কইলা, 12‘আমরা হারা দিন ধরি রইদে জলি-পুড়ি কাম করিয়া একশো টেকা পাইলাম। অইলে তারা হেশে আইয়া থুড়া সময় কাম করায়ও, আপনে তারারে আমরার হমান টেকা দিলা।’
13“তেউ গিরস্তে তারার একজনরে কইলা, ‘ওবা, আমি অইন্যায় কুন্তা করছি নি, তুমি নিজেউ তো একশো টেকায় কাম করতে রাজি অইছো না নি? 14অখন তুমার পাওনা লইয়া তুমি যাও। আমি আমার নিজর ইচ্ছায় হকলরে এক হমান দিছি। 15আমার নিজর ছামানা, নিজর ইচ্ছামতো খরচ করার অধিকার নাই নি? আমি তারারে দয়া করায় তুমার চখুত জলের নি?’ ”
16অউ কিচ্ছা হুনানির বাদে ইছায় কইলা, “বুজছো নি, যেরা খরর কাতারো আছে তারা আগে আইবো, আর আগর কাতারর তারা খরে যাইবো।”
তিছরা বার নিজর মউতর আগাম খবর
17বাদে তাইন যেবলা জেরুজালেম মুখা রওয়ানা অইযিতা, অউ সময় তান বারোজন সাহাবিরে আলগা হরাইয়া নিয়া কইলা, 18“হুনো, আমরা অখন জেরুজালেম যাইরাম। হনো আমি বিন-আদমরে ধরিয়া বড় ইমাম আর মৌলানা অকলর আতো সপি দেওয়া অইবো। তারা বিচার করিয়া কাতল করার রায় দিবা। 19আমারে ভিন-দেশি অকলর আতো সমজাইবা। তারা আমারে ঠাট্টা-মশকরা করিয়া, বেজুইতা চাবুক মারিয়া, লাকড়ির সলিবো লটকাইয়া কাতল করবা। মউতর তিন দিনর দিন আমি হিরবার জিন্দা অইয়া উঠমু।”
মন্ত্রী অওয়ার লাগি অনুরোধ
20বাদে জিবুদিয়ার দুইও পুয়ারে লইয়া তারার মাʼয় ইছার গেছে আইলা। আইয়া কুন্তা চাওয়ার আশায় তান পাওয়ো পড়লা। 21ইছায় বেটিরে জিকাইলা, “আপনে কিতা চাইন?” বেটিয়ে কইলা, “হুজুর, আমার এগু পুয়ারে আপনার রাজত্বর ডাইনর গদি, আর আরোগুরে বাউর গদিখানো বইবার সুযোগ দিবা নি?”
22ইছায় তারারে জুয়াপ দিলা, “তুমরা তো বুজরায় না, তুমরা কিতা চাইরায়। আমি যে দুখ-মছিবতর পিয়ালাদি খাইমু, ইতা কুনু তুমরা খাইতায় পারবায় নি?” তারা কইলা, “জিঅয়, পারমু।” 23তাইন কইলা, “আইচ্ছা, আমি যে পিয়ালাদি খাইমু তুমরাও অউ পিয়ালাদি খাইবায়, অইলে আমার ডাইনে বা বাউয়ে বওয়ানির এখতিয়ার তো আমার আতো নায়। আমার বেহেস্তি বাফ আল্লায় যারার লাগি ই গদি ঠিক করছইন, খালি তারাউ পাইবা।”
24জিবুদিয়ার দুইও পুয়ার আরজি হুনিয়া, বাকি দশোজন সাহাবি এরার উপরে খুব বিরক্ত অইলা। 25তেউ ইছায় এরা হকলরে কান্দাত আনিয়া কইলা, “তুমরা তো জানো, বিধর্মী জাতির রাজা অকল তারার প্রজার উপরে হুকুম জারি করে, আর তারার জমিদার অকলে গুলামর উপরে বেটাগিরি করে। 26অইলে তুমরার মাজে তো ইলা অওয়া ঠিক নায়। তুমরার কেউ দামি বনতে চাইলে, হে তুমরার খেজমত করউক। 27আর কেউ বড় অইতে চাইলে, হে হকলর গুলামি করউক। 28মনো রাখিও, আমি বিন-আদমেও খেজমত পাওয়াত আইছি না, আইছি তো খেজমত করাত। আর বউত মানষর জান বাচানির লাগি, নিজর জান বিলাই দেওয়াত আইছি।”
হজরত ইছায় দুই জন আন্দারে ভালা করলা
29হজরত ইছায় তান সাহাবি অকলরে লইয়া যিরিহো টাউন থাকি রওয়ানা অইগেলা, অউ সময় বউত মানুষ তান খরে খরে গেলা। 30যাওয়ার সময় পথর কান্দাত দুই আন্দা বেটা বওয়াত আছিল। তাইন অউ পথেদি যাইরা হুনিয়া তারা জুরে জুরে চিল্লাইয়া কইলো, “ও হুজুর, ও দাউদ নবীর আওলাদ, আমরারে রহম করইন।” 31চিল্লানি হুনিয়া অনর মানষে তারারে ধমক দিলা। অইলে তারা আরো জুরে জুরে চিল্লাইয়া কইলো, “ও হুজুর, ও দাউদ নবীর আওলাদ, আমরারে রহম করইন।”
32এরার চিল্লানি হুনিয়া তাইন উবাই গেলা, উবাইয়া অউ দুইও আন্দারে কান্দাত আনাইয়া জিকাইলা, “কিতাবা, কিতা চাও? আমি তুমরারে কিতা করতাম?” 33তারা কইলো, “হুজুর, আমরার চউখ গুইন ভালা করি দেউক্কা।” 34ইখান হুনিয়া তান দরদ হামাই গেল। তাইন তারার চউখ আতাই দিলা, লগে লগেউ তারার চউখ ভালা অইগেল। বাদে তারাও তান খরে খরে রওয়ানা অইলো।
21পবিত্র জেরুজালেমো হজরত ইছা
1হজরত ইছায় তান সাহাবি অকলরে লইয়া জেরুজালেমর কাছাত, জয়তুন পাড়র লগে বায়ত-ফাইজ্জা গাউত আইয়া আজিলা। অনো আইয়া তান দুইজন সাহাবিরে কইলা, 2“তুমরা অউ ছামনর গাউত যাও। গাউত হামাইতেউ দেখবায় এগু গাধা বান্দা আছে, লগে তার বাইচ্চাও বান্দা। অগুইন্তর গলার দড়ি খুলিয়া অনো লইয়া আইও। 3কেউ কুন্তা জিকাইলে কইও, হুজুরর দরকার আছে, এরদায় নিরাম। তেউ হে লগে লগে রাজি অইযিবো।”
4ইতা অইলো যাতে আগর জমানার হউ নবীর মাজদি যেতা বাতাইল অইছে, অতা অখন ফলিযায়। 5তাইন কইছলা, “ছিয়ন-কইনা জেরুজালেমরে তুমরা কইও, তুমার বাদশা তুমার গেছে আইরা। তাইন খুব নরম মিজাজি। তাইন গাধা চড়িয়া, গাধীর বাইচ্চা চড়িয়া আইরা।”
6তেউ ইছায় যেলা হিকাই দিছলা, দুইও সাহাবিয়ে গিয়া অলা করলা। 7অউ গাধা আর তার বাইচ্চা আনার বাদে সাহাবি অকলে নিজর গতরর চাদ্দর খুলিয়া গাধার পিঠিত বিছাই দিলা, তেউ ইছা এর উপরে ছওয়ার অইলা। 8আরো বউত মানষে তারার গতরর চাদ্দর খুলিয়া পথর মাজে বিছাই দিলা, আর বউতে সুন্দর সুন্দর গাছর পাতাইন ছিড়িয়া আনিয়া পথো বিছাইলা। 9ইছার আগে-খরে আরো বউত মানুষ যাওয়াত আছিল, এরা জুরে জুরে মিছিল দিলা,
“বাদশা দাউদর আওলাদ, মারহাবা!
মাবুদর নামে যেইন আইরা,
তান তারিফ অউক।
বেহেস্তোও মারহাবা!”
10হজরত ইছা জেরুজালেম আইয়া হারলে আস্তা টাউনো উলইস্তল লাগি গেল। হকলে জিকাইলা, “ওবা, এইন কে?” 11মানষে কইলা, “এইন তো হউ ইছা নবী, এন বাড়ি গালিলর নাছারত গাউত।”
জেরুজালেম কাবা শরিফরে পাক-ছাফ করা
12বাদে জেরুজালেম আইয়া তাইন পবিত্র বায়তুল-মুকাদ্দছো হামাইলা। হনো কাবা ঘরর সীমানাত যেরা খরিদ-বিকির কারবারি আছিল, ইতারে খেদাই দিলা। তাইন টেকার বাট্টার কারবারি অকলর কেশ বাক্স, আর পারো বেচরা অকলর আসন উল্টাইয়া ফালাই দিলা। 13তাইন কইলা, “আল্লার কালামো বাতাইল অইছে, আমার ঘর অইবো এবাদতর ঘর, অইলে তুমরা ইখানরে ডাকাইতর আড্ডাখানা বানাইলিছো।”
14এরবাদে আন্দা, লুলা-লেংড়া মানুষ অকল ইছার গেছে বায়তুল-মুকাদ্দছো আইলা, তাইন এরা হকলরে ভালা করলা। 15হজরত ইছায় যে কুদরতি মোজেজা কাম করছলা, বড় ইমাম আর মৌলানা অকলে ইতা দেখলা। তারা হুনলা, বায়তুল-মুকাদ্দছর ভিতরে হুরুতাইন্তে কইরা, “মারহাবা, দাউদর আওলাদ, মারহাবা।” ইখান হুনিয়া তারা জলি-পুড়ি উঠলা। 16তারা ইছারে কইলা, “অউ হুরুতাইন্তে কিতা চিল্লাইরা, ইতা তুমি হুনরায় না নি?” তাইন কইলা, “অয়, হুনিয়ার তো। আল্লার কালামো পড়ছইন না নি, ‘নাবালিক হুরুতাইন্তর মুখ থাকি তুমি তুমার তারিফ আদায় করছো’?”
17বাদে হজরত ইছা তারার গেছ থাকি গেলাগি, গিয়া টাউনর বারে বায়ত-আনিয়া গাউত রাইত রইলা।
মজবুত ইমানর মুনাজাত
18বাদর দিন বিয়ানে বায়ত-আনিয়া থাকি জেরুজালেম টাউনো আওয়ার সময় তান পেটো ভুক লাগলো। 19অউ তাইন পথর কান্দাত এগু ডুমুর গাছ দেখিয়া, অগুর ফল খাওয়ার খিয়ালে গাছর ধারো গেলা। গিয়া দেখলা, গাছর মাজে খালি পাতা, কুনু ফল নাই। তাইন অউ গাছরে কইলা, “তুমার মাজে যানু আর কুনুদিন ফল না ধরে।” অখান কওয়ার লগে লগেউ গাছটা হুকাইয়া মরিগেল। 20সাহাবি অকলে ইতা দেখিয়া তাইজ্জুব অইয়া কইলা, “গাছটা অতো জলদি হুকাই গেল কিলা?” 21ইছায় জুয়াপ দিলা, “আমি তুমরারে হাছাউ কইরাম, তুমরা যুদি দিলর মাজে সন্দয় না করিয়া, পুরাপুর ইমানে মজবুত থাকো, তে আমি অউ ডুমুর গাছরে যেতা করছি, তুমরাও অলা পারবায়। খালি ইখান নায়, তুমরা যুদি অউ পাড়োরে কও, ‘উড়িয়া গিয়া দরিয়াত পড়ো,’ তে অলাউ অইবো। 22তুমরা যুদি খালিছ নিয়তে একিন করিয়া দোয়া করো, তে তুমরা যেতা চাইবায়, অতাউ পাইবায়।”
বায়তুল-মুকাদ্দছো হজরত ইছা আল-মসী
23বাদে হজরত ইছা হিরবার বায়তুল-মুকাদ্দছো আইয়া ওয়াজ-নছিয়ত করাত আছলা। অউ সময় বড় ইমাম আর মুরব্বি অকল আইয়া তানরে জিকাইলা, “আইচ্ছা, কওছাইন, তুমি কুন এখতিয়ারে ইতা কররায়? কে তুমারে ই খেমতা দিছে?” 24ইছায় জুয়াপ দিলা, “আমিও আপনারারে একখান ছওয়াল করিয়ার, আপনারা এর জুয়াপ দিলাইলে আমিও কইমু, কুন এখতিয়ারে আমি ইতা কররাম। 25আপনারা কউক্কাছাইন, হজরত এহিয়ায় তরিকার গোছল দেওয়ার এখতিয়ার কার গেছ থাকি পাইছলা? মানষর গেছ থাকি, না আল্লার গেছ থাকি?” ইখান হুনিয়া তারা কানে কানে মাতিলা, “আমরা যুদি কই, আল্লার গেছ থাকি, তে হে কইবো, তাইলে তুমরা তান উপরে ইমান আনলায় না কেনে? 26আর যুদি কই, মানষর গেছ থাকি, তে মানষে আমরারে মারবা, কারন মানষে তো এহিয়ারে নবী কইয়া মানইন।” 27এরলাগিউ তারা জুয়াপ দিলা, “আমরা ইখান জানি না।” ইছায় কইলা, “তে আমিও কইতাম নায়, কুন খেমতায় আমি ইতা কররাম।”
28এরবাদে ইছায় কইলা, “আইচ্ছা, আপনারা কিতা মনো করইন? ধরউক্কা, এক বেটার দুই পুয়া আছিল। বেটায় তার বড় পুয়ারে কইলো, ‘তুমি আইজ আংগুরর বাগানো কামো যাও।’ 29পুয়ায় পয়লা কইলো, ‘আমি পারতাম নায়।’ অইলে বাদে তার মন বদলাইয়া কামো গেল। 30বাদে বেটায় তার হুরু পুয়ার গেছে গেল, গিয়া অউ কামর কথা কইলো। হে জুয়াপ দিল, ‘আইচ্ছা আমি যাইমুনে,’ অইলে বাদে গেল না। 31তে কউক্কাছাইন, অউ দুইও পুয়ার মাজে কে বাফর হুকুম মানলো?” তারা কইলা, “বড় পুয়ায়।” তেউ ইছায় কইলা, “আমি আপনাইন্তরে হাছা কথা কইরাম, ঘুষখুর তশিলদার আর ছিনাল বেটিন আপনাইন্তর আগে অইয়া আল্লার বাদশাইত হামাইযিরা। 32কারন এহিয়া নবীয়ে হক পথ বাতাইয়া দেওয়াত আইছলা, তা-ও আপনারা তান কথায় ইমান আনছইন না। অইলে ঘুষখুর তশিলদার আর ছিনাল বেটিন্তে ইমান আনলা। অতা দেখার বাদেও আপনারা ইমান আনছইন না, তৌবাও করছইন না।”
আংগুর বাগানর গিরস্তর কিচ্ছা
33বাদে হজরত ইছায় কইলা, “আপনারা অখন আরক কিচ্ছা হুনউক্কা। একজন গিরস্তে আংগুরর বাগান করিয়া চাইরোবায় বেড়া দিলো। বাদে চকিদারর লাগি উচা করি একখান টং-ঘর বানাইলো আর আংগুরর রস বার করার লাগি গাত খুদিলো। হেশে খেত বাগি দিয়া গিরস্ত বিদেশ গেলোগি। 34আংগুর পাকিয়া হারলে গিরস্তে তার বাট নিবার লাগি, বাগিদার অকলর গেছে তার চাকর অকল পাঠাইলো। 35অইলে বাগিদারে গিরস্তর এক চাকররে ধরিয়া খুব মাইর-ধইর করলো, দুছরা চাকররে পাথরদি মারিয়া জখম করলো আর আরক চাকররে জানে মারিলিলো। 36বাদে তাইন আরো বেশ করি এক দল চাকর পাঠাইলা, অইলে বাগিদার অকলে তারার লগেও অউলা বেবহার করলো। 37হেশ-মেশ গিরস্তে তান নিজর পুয়ারে তারার গেছে পাঠাইলা, মনো করলা, তারা তান পুয়ারে দাম দিবো। 38অইলে বাগিদার অকলে পুয়ারে দেখিয়া, একে-অইন্যে পরামিশ করি কইলো, অউ পুয়াউ তো বাদে ই সম্পত্তির মালিক অইবো। তে আও, অগুরে মারিলাই, তেউ আমরাউ ইতার মালিক বনিযিমু। 39কইয়াউ তারা পুয়ারে ধরিয়া আংগুর বাগানর বারে নিয়া জানে মারিলিলো। 40অখন কউক্কাছাইন, বাগানর মালিক যেবলা আইবা, আইয়া অউ বাগিদার অকলরে কিতা করবা?” 41তারা কইলা, “তাইন আইয়া তো অউ নাফরমান অকলরে খুন করবা আর সময় মত যেরা ফসলর বাট দিবো, তারার গেছে খেত বাগি দিবা।” 42হজরত ইছায় কইলা, “আপনারা আল্লার কালামো পড়ছইন না নি,
রাজ মেস্তইর অকলে যে পাথররে বেকামা কইয়া ফালাই দিছিল,
অকটা দিয়াউ ঘরর ইয়ান খুটি অইলো।
মাবুদে নিজেউ ইতা অওয়াইলা,
ইতা দেখিয়া তো আমরার তাইজ্জুবি লাগের।
43এরলাগি কইরাম, আল্লার বাদশাই আপনারার গেছ থাকি কাড়িয়া নেওয়া অইবো। আর যেরার জিন্দেগিত অউ বাদশাইর ফল দেখা যাইবো, তারারেউ অউ বাদশাই দেওয়া অইবো। 44হুনো, অউ পাথরর উপরে যে জন পড়বো, হে টুকরা টুকরা অইযিবো। আর অউ পাথরও যার উপরে পড়বো, হে-ও চুরমার অইযিবো।”
45ইছার অউ তালিম হুনিয়া বড় ইমাম আর ফরিশি অকলে বুজিলিলা, তাইন ইতা তারার বিপক্ষেউ কইরা। 46এরদায় তারা ইছারে ধরিলিতো চাইলো। অইলে মানষরে ডরাইয়া তানরে কুন্তা করলো না। মানষে তো হজরত ইছারে নবী হিসাবে মানতা।
22বিয়া বাড়ির দাওতর কিচ্ছা
1হজরত ইছায় হিরবার তারারে আরো কিচ্ছা হুনাইলা। তাইন কইলা, 2“বেহেস্তি বাদশাই অলা এক বাদশার লাখান, যে বাদশায় তান পুয়ার বিয়ার খানির বেবস্তা করলা। 3আর দাওতি মেহমান অকলরে আনার লাগি তান কয়জন চাকররে পাঠাইলা, অইলে তারা কেউ আইলো না। 4বাদে তান আরো চাকররে অখান হিকাই দিয়া পাঠাইলা, কইলা, ‘তুমরা গিয়া মেহমান অকলরে কইও, আমি আমার তাজা বিছাল আর ডেকাইন জবো করিয়া খানি জুইত করছি। অখন খানি তিয়ার অইগেছে, আপনারা আইয়া খাইলাউক্কা।’
5“দাওতি অকলে এরার কথাও না হুনিয়া, কেউ তার নিজর খামারো আর কেউ তার দোকানো গেলগি। 6আর বাকি মানষে অউ চাকর অকলরে ধরিয়া বেইজ্জত করিয়া খুন করিল্লো। 7বাদশায় ইতা হুনিয়া গুছায় আগুইন অইগেলা। তাইন নিজর সিপাই দল পাঠাইয়া হউ খুনি অকলরে বিনাশ করলা, তারার আস্তা টাউন আগুইনদি জালাইলিলা। 8বাদে তান চাকর অকলরে কইলা, ‘খানি তো তিয়ার অইগেছে, অইলে যেতারে দাওত দিছলাম, ইতা তো ই দাওতর জুকা নায়। 9তে হুনো, তুমরা অখন রাস্তার মুরায় মুরায় যাও, গিয়া যতো মানষরে পাইবায়, তারা হক্কলরে বিয়ার আসরো লইয়া আও।’ 10বাদশার হুকুম পাইয়া তারা বার অইয়া গিয়া বাদ-ভালা যতো জনরে পাইলো, হকলরে আনলো। এরলাগি মেহমানে আস্তা বিয়া বাড়ি ভরি গেল।
11“এরবাদে বাদশায় মেহমানর লগে দেখা করাত আইলা, আইয়া মজলিছর ভিতরে হামাইয়া দেখইন, এক বেটায় সাধারন কাপড় ফিন্দিয়া খানিত আইচ্ছে। 12তাইন এরে জিকাইলা, ‘ওবা, বিয়া বাড়ির জুকা কাপড় না ফিন্দিয়া ইনো হামাইলে কিলা?’ অইলে হে কুনু জুয়াপ দিতো পারলো না। 13তেউ বাদশায় তান গুলাম অকলরে হুকুম দিলা, ‘অগুর আত-পাও বান্দিয়া বারে নিয়া আন্দাইর গাতো ফালাই দেও।’ হনো মানষে কান্দা-কাটি করবা আর জালা-যন্ত্রনায় দাত কিড়িমিড়ি খাইবা।”
14কিচ্ছার বাদে ইছায় কইলা, “এরলাগিউ আমি কইরাম, দাওত পাইছইন বউতে, অইলে পছন্দ অইছইন কম।”
খাজনার বেয়াপারে দুশমন অকলর প্রশ্ন
15অখান হুনিয়া ফরিশি দলর মানুষ ইছার গেছ থাকি হরিয়া গেলাগি, গিয়া পরামিশ করলা তানরে কিলা কথার ফান্দো ফালাইল যায়। 16তেউ তারা নিজর কয়জন সাগরিদ আর রাজা হেরোদর দলর কিছু মানষরে ইছার গেছে পাঠাইলা। অতায় আইয়া কইলা, “হুজুর, আমরা তো জানি, আপনে একজন হক মানুষ। হক-হালাল পথে মানষরে আল্লার রাস্তা বাতাই দিরা। কে কিতা মনো করে বা না করে, ইতায় আপনার কুন্তাউ যায় আয় না, আপনে তো মুখ চাইয়া কুন্তা করইন না। 17তে আমরারে বাতাই দেউক্কা, হজরত মুছার শরিয়ত মাফিক রোমান বাদশারে খাজনা দেওয়া জাইজ নি? আমরা তানরে খাজনা দিতাম নি, না দিতাম না?”
18ইতার কু-পরামিশ তাইন বুজিলিলা, বুজিয়া কইলা, “ও ভন্ড অকল, তুমরা কেনে আমারে পরিক্ষা কররায়? 19যে টেকাদি খাজনা দেইন, অতা এগু টেকা আমারে দেখাও।” অউ তারা একটা দিনার আনিয়া ইছার আতো দিলা। 20তাইন জিকাইলা, “ই পয়সার উপরে কার নাম আর ছবি?” 21তারা কইলা, “রোমান বাদশার।” তাইন কইলা, “তে হুনো, বাদশার যেতা ইতা বাদশারে দেও, আর আল্লার যেতা ইতা আল্লারে দেও।” 22ইখান হুনিয়া তারা তাইজ্জুব বনিয়া তান গেছ থাকি গেলাগি।
মরন বাদে জিন্দা অওয়ার প্রশ্ন
23অউ দিন সিদ্দেকিয়া মজহবর কয়জন মানুষ ইছার কান্দাত আইলা। এরা একিন করইন, মউতর বাদে কুনু মানুষ আর জিন্দা অইয়া উঠইন না। এরদায় তারা ইছারে ফান্দো ফালাইবার লাগি জিকাইলা, 24“হুজুর, হজরত মুছায় কইছইন, কেউ যুদি তার বউরে নিআওলাদি হালতে থইয়া মারা যায়, তে তার ভাইয়ে অউ ড়াড়ি বেটিরে বিয়া করিয়া তার ভাইর বংশ বাচাইতে অইবো। 25তে আমরার অনো এক পরিবারো সাত ভাই আছিল। বড় জনে বিয়া করিয়া নিআওলাদি হালতে মারা গেল। 26বাদে দুছরা ভাইয়ে তার অউ ড়াড়ি ভাবিরে বিয়া করি মারা গেল। অউ নমুনায় তিছরা ভাই থাকি শুরু করিয়া সাতো ভাইয়ে অউ বেটিরে বিয়া করলো। 27হেশে অউ বেটিও মারা গেল। 28তে কউক্কাছাইন, মরন বাদে যেবলা তারা জিন্দা অইয়া উঠবা, অউ সময় ই বেটি, এরা কুন ভাইর বউ অইবো? তারা হকলেউ তো ই বেটিরে বিয়া করছিল।”
29তাইন জুয়াপ দিলা, “আপনারা তো আল্লার কালাম জানইন না, আল্লার কুদরতি বেয়াপারও বুজইন না। এরদায় আপনারা ই ভুল কররা। 30হুনউক্কা, মুর্দা অকল যেবলা জিন্দা অইয়া উঠবা, অউ সময় তারা বিয়া-শাদি করতা নায়, কেউ তারারে বিয়া দিতোও নায়। এরা তো ফিরিস্তার লাখান বনিযিবা। 31মুর্দা অকল জিন্দা অওয়ার বেয়াপারে আল্লায় কিতা বাতাইছইন, ইতা আপনারা কিতাবো পড়ছইন না নি? 32কিতাবো লেখা আছে, ‘আমি ইব্রাহিমর আল্লা, ইছহাকর আল্লা আর ইয়াকুবর আল্লা।’ অখান থাকি বুজা যায়, অউ নবী অকলর উফাত অইলেও এরা তো আল্লার চখুত অখনও জিন্দা আছইন। আল্লা তো মুর্দা অকলর মাবুদ নায়, তাইন জিন্দা অকলর মাবুদ।” 33ই তালিম হুনিয়া তারা তাইজ্জুব অইগেলা।
হকল থাকি বড় হুকুম কিতা?
34ফরিশি অকলে যেবলা হুনলা, সিদ্দেকিয়া মজহবর মানষে ইছার মাতর কুনু জুয়াপ দিতা পারছইন না, তেউ তারা হকল একখানো অইলা। 35তারার দলর একজন মৌলানা আইয়া ইছারে পরিক্ষা করার লাগি জিকাইলা, 36“হুজুর, মুছার শরিয়তর মাজে হকল থাকি বড় হুকুম কুনটা?”
37-38ইছায় জুয়াপ দিলা, “হকল থাকি বড় হুকুম অইলো, ‘তুমরার আস্তা দিল, আস্তা জান, আস্তা মন আর হকল শক্তি দিয়া তুমরার মাবুদ আল্লারে মহব্বত করিও।’ 39দুছরা হুকুমও অউ লাখান, ‘তুমরার আরি-ফরিরে নিজর লাখান মায়া করিও।’ 40অউ দুইও হুকুমর উপরে আস্তা তৌরাত শরিফ আর আছমানি কিতাব অকল নির্ভর করে।”
আল-মসী কে?
41ফরিশি অকল একখানো দলা রইছইন, অউ সময় ইছায় তারারে জিকাইলা, 42“আল-মসীর বেয়াপারে আপনারা কিতা জানইন? তাইন কার আওলাদ?” তারা কইলো, “দাউদ নবীর আওলাদ।” 43তেউ ইছায় তারারে কইলা, “তে পাক রুহর বলে দাউদ নবীয়ে কিলা আল-মসীরে তান নিজর মুনিব কইছইন? দাউদে তো কইছইন,
44মাবুদে আমার মুনিবরে কইলা,
আমি যতো সময় তুমার দুশমন অকলরে
তুমার পাওর তলাত না ফালাই,
অতো সময় তুমি আমার ডাইনর তখতো বও।
45দাউদে যেবলা নিজেউ আল-মসীরে তান মুনিব কইছইন, তে আল-মসী কেমনে দাউদর আওলাদ অইবা?”
46তারা এর কুনু জুয়াপ দিতা পারলা না, আর অউ দিন থাকি কেউ তানরে কুন্তা জিকানিরও সাওস পাইলো না।
23নেতা অকলরে হজরত ইছার হুশিয়ারি (২৩:১-২৫:৪৬)
মৌলানা অকলর লাগি আফছুছ
1হজরত ইছায় তান লগর মানষরে আর সাহাবি অকলরে কইলা, 2“মুছা নবীর শরিয়ত তালিম দিবার এখতিয়ার তো মৌলানা আর ফরিশি অকলর আতো। 3এরলাগি তারা যেতা কইন, অতা মানিও, আর যেতা আমল করার হুকুম দেইন, অতা আমল করিও। অইলে তারা নিজে যেতা করইন, তুমরা ইতা করিও না। কারন, তারা মুখ দিয়া যেলা কইন, ইলা কাম করইন না। 4তারা আম মানষর কান্দো বড় বড় গাইট তুলিয়া দেইন, অইলে সাইয্যর লাগি তারা একটা আংগুলও লাড়াইন না। 5তারা খালি মানষরে দেখানির লাগি হকলতা করইন। আল্লার কালামর আয়াত দিয়া বড় বড় তাবিজ বান্দইন আর নিজর পরেজগারি দেখানির লাগি লাম্বা লাম্বা পাউগড়ি বান্দইন। 6তারা খানির মজলিছো ভালা ভালা জাগা তুকাইন আর মছিদো হামাইয়া ছামনর কাতারো বইতা চাইন। 7বাজার-আটো গিয়া ছালাম পাইতে খুব পছন্দ করইন, আর চাইন মানষে তারারে হুজুর হুজুর করউক।
8“অইলে তুমরারে কেউ হুজুর হুজুর করউক, ইতা আশা করিও না। তুমরার আসল হুজুর তো খালি একজনউ আছইন, তুমরা খালি ভাই ভাই রইও। 9ই দুনিয়াত কেউররে বাবা কইয়া ডাকিও না, কারন তুমরার বাতুনি বাফ তো একজনউ, তাইন বেহেস্তো আছইন। 10কেউ তুমরারে নেতা কইয়া ডাকউক, ইতা আশা করিও না। তুমরার নেতা তো একজনউ, তাইন অইলা আল-মসী।
11“তুমরার মাজে যেইন হকল থাকি বড়, এইন তুমরার খেজমত করউক। 12যে জনে নিজরে বড় মনো করে, তারে হুরু করা অইবো। আর যে নিজরে হুরু মনো করে, তারে বড় করা অইবো।
13“হায়রে মৌলানা আর ফরিশির দল, আফছুছ তুমরার লাগি, তুমরা ভন্ড! তুমরা মানষর ছামনে বেহেস্তি বাদশাইর দুয়ার বন্দ করি থইছো। তুমরা নিজেও অনো হামাইরায় না, মানষরেও হামাইতে দিরায় না। 14হায়রে ভন্ড মৌলানা আর ফরিশির দল, মানষরে দেখানির লাগি তুমরা লাম্বা লাম্বা দোয়া করো, হিরবার ড়াড়ি বেটিন্তর জাগা-মিরাসও দখল করো। এরলাগি তুমরার কঠিন সাজা অইবো। 15হায়রে ভন্ড মৌলানা আর ফরিশির দল! একজন মানষরে তুমরার দলো নিবার লাগি সাত সমুদ্র তের নদী পার অইয়া তুমরা দৌড়াও। অইলে হে তুমরার দলো হামাইয়া হারলে, তারে তুমরা থাকি আরো বড় দোজখি বানাও।
16“হায়রে আন্দা পথ দেখাওরা! তুমরা নিজে আন্দা অইয়া অইন্যরে কিলা পথ দেখাও? তুমরা তো কও, বায়তুল-মুকাদ্দছর নামে কছম খাইলে কুন্তা অয় না, অইলে বায়তুল-মুকাদ্দছর সোনার নামে কছম খাইলে মানতে অইবো। 17হায়রে আন্দা বেআখলর দল, কুনখান বড়? বায়তুল-মুকাদ্দছ, না সোনা? বায়তুল-মুকাদ্দছেউ তো অউ সোনারে পাক-পবিত্র করে। 18হিরবার তুমরা কও, কুরবানি খানার নামে কেউ কছম করলে কুন্তা অয় না, অইলে কুরবানির চিজর নামে কছম করলে মানতে অইবো। 19ও আন্দা অকল, কুনখান বড়? কুরবানি খানা, না কুরবানির চিজ? অউ কুরবানি খানায়উ অউ চিজরে পাক-পবিত্র করে না নি? 20এরলাগি যে জনে কুরবানি খানার নামে কছম করে, হে কুরবানি খানা আর কুরবানির চিজ, ই দুইওতার নামেউ কছম করে। 21অলাউ বায়তুল-মুকাদ্দছর নামে যে জনে কছম করে, হে-ও বায়তুল-মুকাদ্দছ আর এর ভিতরে যেইন থাকইন, তান নামেউ কছম করে। 22যে জনে বেহেস্তর নামে কছম করে, হে আল্লার আরশ আর আরশো যেইন আছইন, তান নামেউ কছম করে।
23“হায়রে ভন্ড মৌলানা আর ফরিশির দল! তুমরা গুয়ামুরি, পদিনা পাতা, আর জিরার দশ বাটর এক বাট আল্লার ওয়াস্তে যকাত দিরায়, অইলে মুছা নবীর শরিয়তর হুকুম মাফিক আরো জরুরি বেয়াপার, মানি হক ইনছাফ, দয়া আর আল্লার মহব্বত তুমরা বাদ দিলাইছো। তে পয়লা হুকুম আমল করার লগে লগে বাদরতাও আমল করা জরুর। 24তুমরা নিজেউ আন্দা, অথচ আরক জনরে পথ দেখাইরায়। তুমরা এগু মশাও ছাকিয়া তুলো, অইলে উটরে গিলিলাও।
25“হায়রে ভন্ড মৌলানা আর ফরিশির দল! তুমরা তো বাসন-বর্তনর বারগালা ভালা করি ছাফ করো, অইলে ইতার ভিতর গালা জুলুম আর লোভ-লালছে ভরা। 26হায়রে আন্দা ফরিশির দল, তুমরা পয়লা অতার ভিতর ছাফ করো, তেউ বারগালা এমনেউ ছাফ অইবো।
27“হায়রে ভন্ড মৌলানা আর ফরিশির দল! তুমরা অইলায় চুন-কাম করা কয়বরর লাখান, এর বারগালা চকচকা অইলেও ভিতরে তো খালি মরা মানষর আড্ডি-গুড্ডি আর খাছরায় ভরা। 28ঠিক অউ লাখান, মানষে মনে করইন তুমরা খুব পরেজগার, আসলে তুমরার দিল তো ভন্ডামি আর নাফরমানিয়ে ভরা।
29“হায়রে ভন্ড মৌলানা আর ফরিশির দল! তুমরা নবী অকলর রওজারে সুন্দর করি পাক্কা করো, আর অলি-আউলিয়ার মাজাররে চকচকা করি হাজাও। 30আর তুমরা কও, ‘ইস, আমরা যুদি আমরার বাফ-দাদার জমানাত দুনিয়াত আইতাম, তে নবী অকলরে কাতল করার বালা বাফ-দাদার লগে গেলাম না অনে।’ 31অউ মাতে তুমরা পরমান দিরায়, নবী অকলরে যেতায় কাতল করছলা, অতার বংশধরউ তুমরা। 32তে তুমরার বাফ-দাদাইন্তে যেতা শুরু করিয়া গেছইন, তুমরা অতার বাকি গালা পুরা কররায়।
33“ও হাফর বাইচ্চাইন, দোজখর আজাব থাকি তুমরা কিলা বাচতায়? 34এরলাগি আমি তুমরার গেছে নবী-রছুল, আর আলিম-উলামা পাঠাইয়ার। এরার মাজর কয়জনরে তুমরা কাতল করবায়, কয়জনরে দুখ-কষ্টর সলিবো লটকাইয়া মারবায়। আর কয়জনরে তুমরার মছিদো হারাইয়া চাবুক মারিয়া, এক গাউ থাকি আরক গাউত খেদাইয়া নিবায়। 35এরদায়উ নির্দুষি হউ হাবিলর লউ থাকি বারাখিয়ার পুত জাকারিয়ারে কাতল করা পর্যন্ত, দুনিয়াত যতো খুন-খারাপি অইছে, ইতা হকল খুনর দায়ী অইবায় তুমরা। অউ জাকারিয়ারে তো বায়তুল-মুকাদ্দছর ভিতরর কুরবানি খানা আর খাছ পাক জাগার মাজখানো কাতল করা অইছিল। 36আমি তুমরারে হাছা কথা কইরাম, অউ তামাম খুনর দায়ী অইবায় ই জমানার মানুষ।
জেরুজালেমর লাগি আফছুছ
37“জেরুজালেম! হায়রে জেরুজালেম টাউন! তুমি নবী অকলরে কাতল করো, তুমার গেছে যারারে পাঠাইল অয়, তুমি তারারে পাথর মারো। মুরগিয়ে যেলা তাইর বাইচ্চারে ডাখনার তলে আশ্রয় দেয়, আমিও অউলা তুমার মানষরে আশ্রয় দিতাম চাইছি, অইলে তারা হুনলা না। 38ও জেরুজালেমর বাসিন্দা অকল, তুমরার চখুর ছামনেউ তুমরার বসত খানা খালি বাড়ি অইবো। 39আমি তুমরারে কইরাম, যতদিন তুমরা ইখান না কইবায়, ‘মুবারক তাইনউ, আল্লার নাম লইয়া যেইন আইরা,’ অতো দিন তুমরা আর আমারে দেখতায় নায়।”
24কিয়ামতর আলামত
1হজরত ইছা বায়তুল-মুকাদ্দছ থাকি বার অইয়া যাইরাগি, অউ সময় তান সাহাবি অকল তান গেছে আইলা, তানরে বায়তুল-মুকাদ্দছর সুন্দর সুন্দর দলান দেখানির লাগি। 2তাইন কইলা, “আমি তুমরারে হক কথা কইরাম, তুমরা অউ যেতা বড় বড় দলান দেখরায়, ইতার দুই ইট একখানো রইতো নায়, হকলতা মাটিত মিশিযিবো।”
3বাদে তাইন যেবলা জয়তুন পাড়র উপরে বওয়াত আছলা, অউ সময় সাহাবি অকলে আইয়া তানরে নিরালায় জিকাইলা, “হুজুর, আমরারে কইবা নি, ইতা কুন সময় অইবো? কুন আলামত দেখিয়া আমরা বুজমু, আপনার আওয়ার সময় আর কিয়ামতরও সময় আইচ্ছে?” 4ইছায় কইলা, “দেখিও, কেউ যানু তুমরারে না টগে। 5বউত জনে আমার নাম ধরিয়া আইবো, আইয়া কইবো, আমিউ আল-মসী, কইয়া বউতরে টগিবো। 6হুনো, যুদ্ধর আওয়াজ আর লাড়াইর খবর তুমরা পাইবায়, অইলে ইতায় ডরাইও না। ইতা নিচয় ঘটবো, ঘটলেও ইতা তো শেষ নায়। 7এক জাতিয়ে আরক জাতির লগে, এক দেশে আরক দেশর লগে লাড়াই করবো। বউত জাগাত ভৈছাল আর নিদান দেখা দিবো। 8অইলে ইতা তো খালি মছিবতর শুরু।
9“অউ সময় আইলে মানষে তুমরারে জুলুম করার লাগি ধরাই দিবো আর খুন করাইবো। আমার লাগি হকল জাতিয়ে তুমরারে ঘিন্নাইবো। 10তেউ বউত জন পিছলিযিবো, একে-অইন্যরে ঘিন্নাইবো আর ধরাই দিবো। 11বউত ভন্ড নবী আইয়া মানষরে টগিবা। 12নাফরমানির পরিমান বাড়িযিবো, এরলাগি বউত মানষর মায়া-মমতা কমিযিবো। 13অইলে হেশ পর্যন্ত যেরা টিকিয়া রইবা, এরাউ রেহাই পাইবা। 14হকল জাতির গেছে সাক্ষি হিসাবে বেহেস্তি বাদশাইর খুশ-খবরি তবলিগ করা অইবো, এরবাদেউ কিয়ামত আইবো।
আখেরি জমানার হালত
15“হজরত দানিয়াল নবীর মুখ থাকি যে বেজুইতা নফরতি জিনিসর কথা জানাইল অইছে, তুমরা অউ পাক জাগাত ই জিনিস দেখবায়। যে জনে তিলাওত করের, হে বুজউক। 16অউ সময় যেরা এহুদিয়া জিলাত থাকবা, তারা পাড়েদি গিয়া বাগউক। 17হিদিন কেউ যুদি ঘরর চালর উপরে থাকে, হে তার ঘরর মাল-ছামানা নিবার লাগি, লামাত লামিয়া ঘরর ভিতরে না হামাউক। 18যেরা বন্দর মাজে আছে, তারার গতরর চাদ্দর নিবার লাগি বাড়িত না আউক। 19অউ সময় যেতা বেটিন্তর পেটো হুরুতা, আর যেরা হুরুতারে বুকুর দুধ খাওয়াইরা, তারার বড় মছিবত অইবো। 20তুমরা দোয়া করো, শীতর দিনো বা জুম্মাবারে যানু তুমরার বাগিয়া যাওয়া না লাগে। 21অউ সময় অতো বেজুইতা কষ্ট অইবো, যেতা দুনিয়ার পয়লা থাকি আইজ পর্যন্ত কুনুদিন অইছে না, আর অইতোও নায়। 22মাবুদে যুদি ই সময়রে কমাইয়া না দিতা, তে কেউ জিন্দা রইলো না অনে। অইলে আল্লায় তান পছন্দ করা বন্দা অকলর লাগি ই সময় কমাইয়া দিবা।
23“হি সময় কেউ যুদি তুমরারে কয়, ‘হুনছো নি, আল-মসী বুলে অনো আইছইন’ বা ‘হনো আইছইন’ তে তুমরা একিন করিও না। 24কারন আল-মসী নাম লইয়া বউত ভন্ড আইবা, নবী হাজিয়াও বউত ভন্ড আইবা। ইতায় বউত বড় বড় আচানক কেরামতি কাম দেখাইবা। তারা চাইবা, সুযোগ পাইলে আল্লার পছন্দ করা বন্দারে ধুকা দিয়া বে-পথে নিতাগি। 25দেখিও, আমি ইতা হক্কলতা তুমরারে আগেউ জানাই দিলাম।
26“হুনো, কেউ যুদি তুমরারে কয়, ‘আল-মসী বুলে মরুভুমিত আছইন,’ তে তুমরা যাইও না। যুদি কয়, ‘তাইন ঘরর ভিতরে আছইন,’ তে একিন করিও না। 27মেঘর জিলকির লগে পুবে-পইচমে হকল বায় যেলা ফর অইযায়, আমি বিন-আদম আইলেও অলা অইবো। 28হুনো, লাশ যেনো থাকে, হকুন এমনেউ হনো দলা অয়।
29“অউ মছিবতর সময় শেষ অওয়ার বাদেউ, ‘সুরুজ আন্দাইর অইযিবো, চান্দে আর ফর দিতো নায়। তেরা অকল আছমান থাকি পড়িযিবো, আছমানর কুনু শক্তিআলা চিজউ ঠিক-ঠাক রইতো নায়।’ 30অউ সময় আছমানর মাজে আমি বিন-আদমর নিশানা দেখা যাইবো। দুনিয়ার হকল মানষে আহাজারি করবা। তারা দেখবা, আল্লার কুদরতি শক্তি আর নুরর মহিমায়, ‘মেঘর খুটিত অইয়া বিন-আদম দুনিয়াত আইরা।’ 31অউ সময় জুরে জুরে শিংগার আওয়াজ অইবো, এর লগে লগেউ দুনিয়ার এক মাথা থাকি আরক মাথাত তাইন ফিরিস্তা অকলরে পাঠাইবা, এরা আল্লার পছন্দ করা বন্দা অকলরে চাইরোবায় থনে দলা করবা।
32“অউ ডুমুর গাছর বায় চাইয়া তালিম লও। গাছর ডালপালা নরম অইয়া যেবলা নয়া কুড়ি বারয়, অউ সময় তুমরা বুজিলাও গরমর দিন আইচ্ছে। 33তে অউ লাখান তুমরা যেবলা দেখবায় ইতা হকলতা ঘটের, দেখিয়া বুজিলিও, বিন-আদমও ধারো আইচ্ছইন। খালি ধারো নায়, তাইন আইয়া দুয়ারো ঠুকাইরা। 34আমি তুমরারে হাছা কথা কইরাম, ইতা না ঘটা পর্যন্ত ই জমানার মানুষ ফুড়াইতা নায়। 35আছমান-জমিন হকলতা বিনাশ অইযিবো, অইলে আমার কালাম হামেশা জারি রইবো।
36“হউ দিন আর হি সময়র বেয়াপারে খালি আমার গাইবি বাফ আল্লা ছাড়া আর কেউ জানইন না। আছমানি ফিরিস্তা বা ইবনুল্লায়ও জানইন না। 37নুহ নবীর আমলো যে হালত অইছিল, আমি বিন-আদম দুছরা বার আওয়ার সময় ঠিক অলাখানউ অইবো। 38বইন্যা শুরু অওয়ার আগে নুহ নবী জাজো উঠার আগ পর্যন্ত মানষে খাওয়া-দাওয়া করছে, একে-অইন্যরে বিয়া-শাদি করছে। 39নুহ নবীর বইন্যার পানিয়ে ইতারে ভাসাইয়া নেওয়ার আগ পর্যন্ত তারা কুন্তাউ টের পাইলা না। আমি বিন-আদম আইবার সময়ও ঠিক অলাখান অইবো। 40অউ সময় দুইজন মানুষ একলগে বন্দো থাকলে, একজনরে নেওয়া অইবো আর দুছরা জনরে বাদ দেওয়া অইবো। 41দুই বেটিয়ে একলগে বারা-বানাত থাকলেও, এরার একজনরে নেওয়া অইবো, আরক জন বাদ পড়িযিবো। 42এরলাগি কইরাম, তুমরা হুশিয়ার রইও, তুমরার মালিক কুন দিন আইবা, ইতা তো তুমরা জান না। 43অইলে ইখান মনো রাখিও, চুর কুন সময় আইবো, ইখান যুদি গিরস্তে জানতো, তে তো হে হজাগ রইলো অনে আর চুররে ঘরো হামাইতে দিলো না অনে। 44এরলাগি তুমরাও হামেশা তিয়ার রইও, যে সময়র কথা তুমরা চিন্তাও করতায় নায়, হউ সময় বিন-আদম আইবা।
45“ইলা হক-হালালি আর আখলদার চাকর কে আছে, যার আতো তার মুনিবে দায়িত্ব দিলা হে অখতর কালো অইন্য চাকর অকলরে খানি বাটিয়া দিবো। 46কপালি তো হউ চাকর, যারে তার মুনিবে আইয়া হক-হালাল পাইবা। 47আমি তুমরারে হাছা কথা কইরাম, মুনিবে অউ চাকরর আতোউ তান নিজর হকল ধন-ছামানার ভার দিবা। 48অইলে ধরো, হউ চাকরে মনে মনে কইলো, আমার মুনিব আইতে তো বউত দেরি আছে, 49আর অউ ফাকে হে হক্কল চাকর-বাকররে মাইর-ধইর করলো, আর মদখুরর লগে খানা-দানা করিয়া মদ খাইলো। 50বাদে যে দিন আর যে অখতর কথা হে চিন্তাউ করতো নায়, হউ দিন আর হউ অখতো তার মুনিব আইয়া আজির অইবা। 51তাইন আইয়া তারে কাটিয়া টুকরাইয়া ভন্ড অকলর লগে মিশাইবা। হিনো মানষে কান্দা-কাটি করবা, আর জালা-যন্ত্রনায় দাত কিড়িমিড়ি দিবা।”
25বেহেস্তি বাদশা কেমনে আইবা
1এরবাদে ইছায় কইলা, “বেহেস্তি বাদশাই অইলো অলা দশগু পুড়ির লাখান, যেতা পুড়িন্তে বিয়ার দামান্দরে আগুয়াইয়া আনার লাগি লেম-লেমটন লইয়া বার অইলো। 2এরার মাজে পাচ জন আছিল আখলদার আর পাচ জন আছিল বেআখল। 3বেআখল পুড়িন্তে খালি লেম লইয়া বার অইলো, লেমর কুনু তেল নিলো না। 4অইলে আখলদার পুড়িন্তে লেমর লগে ফিফাত করি তেলও নিলো। 5দামান্দ আইতে দেরি অওয়ায় তারা হকলউ উংগাইতে উংগাইতে ঘুমাই গেল।
6“বাদে আধা-রাইতকুর বালা চিল্লানি হুনা গেল, ‘দামান্দ আইচ্ছইন, দামান্দ আইচ্ছইন, জলদি বারও।’ 7চিল্লানি হুনিয়া অউ পুড়িন উঠিয়া লেম-লেমটন ঠিক করাত লাগলা। 8হউ বেআখল পুড়িন্তে আখলদার পুড়িনরে কইলা, ‘আমরারে থুড়া তেল দেও না, আমরার লেম লিমিযারগি।’ 9তারা কইলা, ‘আমরার গেছে যেতা তেল আছে, ইতা তো আমরারউ লাগবো। তে তুমরা দোকান থাকি তেল আনাইলাও।’ 10অউ বেআখল পুড়িন তেল আনাত গিয়া হারলেউ দামান্দ আইল্লা। অউ সময় আখলদার অউ পুড়িন জুইত আছলা, তারা দামান্দরে লইয়া বিয়া বাড়িত হামাইলো। তারা হামানির বাদেউ দুয়ার বন্দ করা অইলো। 11বাদে অউ বেআখল পুড়িন্তে আইয়া দুয়ার বন্দ দেখিয়া কইলা, হুনরা নি, দুয়ার খান খুলউক্কা। 12দামান্দে জুয়াপ দিলা, আমি হাছাউ কইরাম, আমি তো তুমরারে চিনি না।”
13অউ কিচ্ছার বাদে ইছায় কইলা, “এরদায় তুমরা হুশিয়ার রইও, হি দিন আর হি সময়র কথা তো কেউরর জানা নাই।”
তিন চাকরর কিচ্ছা
14তাইন আরও কইলা, “বেহেস্তি বাদশাই অলা একজন মানষর লাখান, এইন বিদেশ যাওয়ার বালা তান চাকর অকলর আতো আস্তা সম্পত্তির ভার সমজাই দিলা। 15এরার যোইগ্যতা মাফিক তাইন একজনরে পাচ আজার টেকা, দুছরা জনরে দুই আজার আর আরক জনরে এক আজার টেকা দিলা। 16পাচ আজার টেকা যে পাইছিল, হে অউ টেকাদি কারবার করিয়া আরো পাচ আজার লাভ করলো। 17দুই আজার টেকা যে পাইছিল, হে-ও আরো দুই আজার লাভ করলো। 18অইলে এক আজার টেকা যে পাইছিল, হে তার মালিকর ই টেকা কামো না লাগাইয়া গাত খুদিয়া মাটির তলে থইলো।
19“বউত দিন বাদে হউ মালিক দেশো আইয়া তারার হিসাব-নিকাশ চাইলা। 20তেউ পাচ আজার টেকা যে পাইছিল, হে আরো পাচ আজার লইয়া আইয়া মালিকরে কইলো, ‘ছাব, আপনে আমারে পাচ আজার টেকা দিছলা, অউ টেকাদি আমি আরো পাচ আজার লাভ করছি।’ 21ইখান হুনিয়া মালিকে কইলা, ‘সাব্বাস, তুমি খুব হক-হালালি মানুষ। তুমি হুরু-মুরু বেয়াপারেউ হক-হালাল রইছো, এরলাগি আমি তুমারে আরো বউত বড় দায়িত্ব দিমু। আও, আমার খুশির ভাগি অও।’ 22বাদে দুই আজার টেকা যে পাইছিল, হে আইয়া কইলো, ‘ছাব, আপনে আমারে দুই আজার টেকা দিছলা। আমি তো আরো দুই আজার লাভ করছি।’ 23তেউ মালিকে কইলা, ‘সাব্বাস, তুমি খুব হক-হালালি মানুষ। তুমি থুড়া বেয়াপারেউ হক-হালাল রইছো, এরলাগি আমি তুমারে আরো বউত বড় দায়িত্ব দিমু। আও, আমার খুশির ভাগি অও।’ 24অইলে এক আজার টেকা যারে দিছলা, হে আইয়া কইলো, ‘ছাব, আমি জানি আপনে খুব কড়া মানুষ। আপনে খেত না করিয়াও ধান কাটইন আর বাইন না দিলেও আলি হুরইন। 25এরদায় আমি ডরাইয়া আপনার টেকা মাটির তলে লুকাইয়া থইছলাম। অউ নেউক্কা আপনার টেকা।’ 26মালিকে কইলা, ‘হায়রে খবিছ, তুইন তো কুড়িয়া। তুই যুদি ইখান মনো করলে, আমি খেত না করলেও ধান কাটি আর বাইন না দিলেও আলি হুরি, 27তে আমার টেকা তুই বেপারির গেছে দিলে না কেনে? তে তো আমি আইয়া মুল টেকার লগে কিছু লাভ পাইলাম অনে।’ 28বাদে তাইন অইন্য চাকর অকলরে কইলা, ‘তুমরা অগুর গেছ থাকি অউ টেকা নিয়া, দশ আজার যার গেছে আছে তারে দেও। 29হুনো, যার আছে তারে আরো দেওয়া অইবো, তার আরো বাড়িবো। অইলে যার নাই, তার যেতা আছে অতাও কাড়িয়া নেওয়া অইবো। 30অউ বজ্জাত চাকররে নিয়া তুমরা আন্দাইর গাতো ফালাই দেও। হউ গাতো মানষে কান্দা-কাটি করবো আর জালা-যন্ত্রনায় দাত কিড়িমিড়ি দিবো।’
আখেরাতর বিচারর বয়ান
31“বিন-আদমে যেবলা ফিরিস্তা অকলরে লইয়া নিজর মহিমায় হিরবার আইবা, আইয়া নিজর বাদশাইর গদিত বইবা। 32অউ সময় দুনিয়ার তামাম জাতির মানষরে তান ছামনে আনা অইবো। রাখালে যেলা মেড়া আর ছাগলরে আলাদা করে, তাইনও অউলা হকল মানষরে আলগাইয়া দুই ভাগ করবা। 33তান ডাইন গালাবায় মেড়া আর বাউ গালাবায় ছাগলরে রাখবা।
34“এরবাদে বাদশায় তান ডাইন গালার মানষরে কইবা, ‘তুমরা যারা আমার বাতুনি বাফর রহম পাইছো, তুমরা আও। আর দুনিয়ার পয়লা থাকি তুমরার লাগি যে বাদশাই তিয়ার করি রাখা অইছে, অউ বাদশাইর দখল সমজিয়া নেও। 35মনো আছে নি, আমার যেবলা পেটো ভুক লাগছিল, তুমরা আমারে খানি দিছলায়, পিয়াছর সময় পানি দিছলায়, আর মুছাফির হালতে আমারে আশ্রয় দিছলায়। 36আমি যেবলা উদলা আছলাম, তুমরা কাপড় দিছলায়, বেমারর সময় খেজমত করছলায়, আর জেল খানাত আমারে দেখাত গেছলায়।’
37“অউ সময় হউ আল্লাওয়ালা মানষে কইবা, ‘মালিক, আপনার ভুক লাগায় আমরা কুন সময় আপনারে খাওয়াইলাম? কুন সময় আপনারে পানি দিলাম? 38আর কুন সময় মুছাফির হালতে আপনারে আশ্রয় দিলাম, খালি গা দেখিয়া কুন সময় কাপড় দিলাম? 39আর কুন সময়উ বা বেমারি হালতো আপনার খেজমত করলাম, বা জেল খানাত দেখাত গেলাম?’ 40অউ সময় বাদশায় তারারে কইবা, ‘আমি হক কথা কইরাম, আমার অউ হুরু-মুরু একজন মানষর লাগি তুমরা যেবলা ইতা করছো, এর মানি আমারেউ করছো।’
41“বাদে বাদশায় তান বাউ গালার মানষরে কইবা, ‘ও লান্নতির দল, আমার ছামন থাকি বাগো। ইবলিছ-শয়তান আর তার চামছা জিন্নাত অকলর লাগি দোজখর যে আগুইন তিয়ার করা অইছে, হনো যাও। 42আমার পেটো ভুকর কালো তুমরা আমারে খাওয়াইছো না, পিয়াছর সময় পানি দিছো না। 43আমার মুছাফির হালতো রইবার আশ্রয় দিছো না, আমি যেবলা উদলা আছলাম, কাপড় দিছো না, বেমারর সময় চাইছো না, আমারে দেখার লাগি জেলখানাতও গেছো না।’
44“অউ সময় তারা কইবা, ‘হুজুর, আমরা কুন সময় ইতা করলাম? আপনারে ভুকাসি, পিয়াছি, মুছাফির, উদলা গতর, বেমারি আর জেল খানাত দেখিয়াও সাইয্য করলাম না?’ 45বাদশায় তারারে কইবা, ‘আমি হক কথা কইরাম, আমার অউ হুরু-মুরু একজন মানষর লাগিউ তুমরা যেবলা ইতা করছো না, এর মানি আমারেউ করছো না।’”
46হেশে ইছায় কইলা, “অউ নাফরমান অকলে আখেরাতো চিরকাল সাজা পাইবা, অইলে আল্লাওয়ালা মানষে আখেরি জিন্দেগি পাইবা।”
26হজরত ইছার উফাত আর জিন্দা অওয়া (২৬:১-২৮:২০)
হজরত ইছারে কাতল করার পরামিশ
1অউ বয়ান শেষ অইয়া হারলে, ইছায় তান সাহাবি অকলরে কইলা, 2“তুমরার তো জানা আছে, আর দুই দিন বাদেউ আজাদি ইদ। ইদর সময় আমি বিন-আদমরে সলিবো লটকাইয়া মারার লাগি ধরাই দেওয়া অইবো।”
3অউ সময় বড় ইমাম আর মুরব্বি অকল আইয়া, তারার পরধান ইমাম কায়াফার বাড়িত দলা অইলা। 4দলা অইয়া অউ পরামিশ করলা, ইছারে কিলা লুকাইয়া আটক করিয়া কাতল করা যায়। 5অইলে তারা কইলা, “ইদর সময় তারে ধরতাম নায়। ধরলে মানষে গন্ডগোল লাগাই দিতো পারে।”
হজরত ইছারে হাজানির ভেদ
6ইছা যেবলা বায়ত-আনিয়া গাউর পচা-কুষ্ঠ বেমারি সাইমনর বাড়িত আছলা, 7অউ সময় এক বেটি মানুষ তান গেছে আইলা। বেটিয়ে চিনর এক বৈয়ামো করি খুব দামি খাটি আতর আনছিলা। ইছা খাওয়াত বইয়া হারলে বেটিয়ে হকল আতর তান মাথাত ঢালি দিলা। 8ইতা দেখিয়া সাহাবি অকল বিরক্ত অইয়া কইলা, “অউ আতর ফুটাইন কেনে বরবাদ করা অইলো? 9ই ফুটিন বেচিলে তো বউত টেকা পাইয়া গরিব অকলরে বিলাই দেওয়া গেলো অনে।”
10ইখান বুজিয়া ইছায় কইলা, “তুমরা ই বেটিগুরে দুখ দিরায় কেনে? তাইন তো আমার লাগি ঠিক কামউ করছইন। 11গরিব অকল তো হামেশাউ তুমরার লগে রইবা। অইলে আমারে তো হামেশা পাইতায় নায়। 12এইন আইয়া আমার গতরো আতর মাখাইয়া, দাফন-কাফনর লাগি আমারে জুইত করছইন। 13আমি তুমরারে হাছা কথা কইরাম, দুনিয়ার যেকুনু জাগাত আল্লার খুশ-খবরি তবলিগ করার সময়, অউ বেচাড়িরে মনো করার লাগি, তান ই নেক কামর কথাখানও কওয়া যাইবো।”
সাহাবি ইহুদার বেইমানি
14বাদে তান বারোজন সাহাবির মাজর একজন, এন নাম ইহুদা ইস্কারিয়াত, এইন বড় ইমাম অকলর গেছে গিয়া কইলা, 15“ইছারে আপনারার আতো ধরাইয়া দিলে আমারে কিতা দিবা?” তেউ বড় ইমাম অকলে তারে রুপার তিশ টেকা দিলা। 16এরবাদ থাকিউ ইহুদায় ইছারে ধরাইয়া দেওয়ার সুযোগ তুকানিত রইলো।
হজরত ইছার আখেরি ইদ
17খামির ছাড়া রুটি খাওয়ার ইদর পয়লা দিন, সাহাবি অকলে আইয়া ইছারে জিকাইলা, “হুজুর, আমরা কুন জাগাত গিয়া আপনার লাগি আজাদি ইদর খানা তিয়ার করতাম?” 18তাইন জুয়াপ দিলা, “তুমরা টাউনো যাও। গিয়া অমুক মানষরে কইও, ‘হুজুরে কইছইন, আমার সময় ঘনাইয়া আইচ্ছে, তে আমি আমার সাহাবি অকলরে লইয়া তুমার বাড়িত ইদ করমু।’ ” 19ইছার হুকুম মাফিক সাহাবি অকলে গিয়া আজাদি ইদর খানি তিয়ার করলা।
20বাদে হাইঞ্জা বালা ইছায় তান বারোজন সাহাবিরে লইয়া খানিত বইলা। 21বইয়া কইলা, “আমি তুমরারে হাছা কথা কইরাম, তুমরার মাজর এক জনেউ তো আমারে দুশমনর আতো ধরাই দিবো।” 22ইখান হুনিয়া তারা খুব বেজার অইগেলা। এরলাগি তারা এক এক করি জিকাইলা, “হুজুর, ই জন কিতা আমি নি?”
23তাইন কইলা, “অখন যে জনে আমার লগে অইয়া থালো আত হারার, হে-উ আমারে ধরাইয়া দিবো। 24আমি বিন-আদমর মউতর বেয়াপারে আছমানি কিতাবো যেলা লেখা আছে, আমার মউত তো অউলাউ অইবো। অইলে আফছুছ হউ জনর লাগি, যেগিয়ে আমারে ধরাইয়া দিবো। দুনিয়াত তার জনম না অওয়াউ, তার লাগি বউত ভালা আছিল।” 25যে ইহুদায় ইছারে ধরাই দিতো চার, হে তানরে জিকাইলো, “হুজুর, হি জন কিতা আমি নি?” ইছায় তারে কইলা, “তুমি ঠিকউ কইরায়।”
আল-মসীর মেজবানির নমুনা
26তারা খানা খাইরা, অউ সময় ইছায় রুটি আতো লইয়া আল্লার শুকরিয়া আদায় করলা। তাইন রুটি ছিড়িয়া টুকরা টুকরা করি সাহাবি অকলরে দিলা। দিয়া কইলা, “অউ নেও, খাও, মনো করো ইতা আমার কায়া।”
27বাদে তাইন শরবতর পিয়ালা লইয়া আল্লার শুকরিয়া জানাইলা, আর এরারে দিয়া কইলা, “তুমরা হকলে অউ পিয়ালা থাকি আংগুরর শরবত খাও। 28মনো করিও, ইতা আমার লউ। অউ লউর জরিয়ায় আদম জাতির বউতর গুনা মাফি অইবো। আল্লার লগে মানষর মিলনর উছিলা অইলো অউ লউ। 29আমি হাছা কথা কইয়ার, আমি আমার গাইবি বাফর বাদশাইত দাখিল অইয়া হারি, তুমরারে লগে লইয়া যতদিন নয়া হালতে আংগুরর শরবত না খাইছি, অতো দিন ই শরবত আর খাইতাম নায়।” 30হেশে তারা হকলে মিলি এক গজল গাইয়া, ঘর থাকি বার অইয়া জয়তুন পাড়ো গেলাগি।
হজরত পিতরে অস্বীকার করার আগাম ইশারা
31বাদে ইছায় তান সাহাবি অকলরে কইলা, “হুনো, আইজ রাইত তুমরা হকলেউ তো আমারে ফালাইয়া বাগিবায়। আল্লার কালামো আছে, ‘আমি মেড়ার পালর রাখালরে মারমু, তেউ পালর মেড়াইন চাইরোবায় ছিতরিযিবা।’ 32অইলে আমারে মুর্দা থাকি জিন্দা করার বাদে, তুমরার আগেউ আমি গালিল জিলাত যাইমুগি।”
33তেউ সাহাবি পিতরে তানরে কইলা, “হুজুর, হকল বাগি গেলেও আমি বাগিতাম নায়।” 34ইছায় কইলা, “তে হুনো, আমি তুমারে হাছা কথা কইরাম, আইজ পতাবালা মুরগায় বাং দিবার আগেউ তুমি তিনবার কইবায়, তুমি আমারে চিনো না।” 35অইলে পিতরে কইলা, “হুজুর, অউ কিতা কইন, আপনার লগে যুদি আমার মরনও অয়, তা-ও আমি কুনুমন্তেউ আপনারে অস্বীকার করতাম নায়।” হকল সাহাবিয়ে অউ এক লাখান কইলা।
গেতশিমানি বাগানো হজরত ইছা
36বাদে হজরত ইছায় তান সাহাবি অকলরে লইয়া গেতশিমানি নামর এক বাগানো আইলা। আইয়া এরারে কইলা, “তুমরা অনো বও, আমি হগালাত গিয়া দোয়া করমু।” 37অখান কইয়া তাইন পিতর আর জিবুদিয়ার দুই পুয়ারে তান লগে নিলা। আস্তে আস্তে তান দিলর মাজে দুখ আর হায়-হুতাশ বাড়িলো। 38তাইন এরারে কইলা, “ভাইয়াইনরে, দুখে আমার কইলজা ফাটিযার। তুমরা অনো বইরও আর আমার লগে হজাগ রইও।”
39অখান কইয়া থুড়া হরিয়া গিয়া তাইন মাটিত সইজদাত পড়িয়া কইলা, “ও আমার বেহেস্তি আব্বা, আমার উপরে অউ যে জুলুম-মছিবত আইওর, দুছরা কুনু উপায় থাকলে ইখানতা হরাইলাও। অইলে ইতা আমার ইচ্ছায় নায়, তুমার মর্জি মাফিকউ অউক।” 40সইজদা থাকি উঠিয়া তাইন সাহাবি অকলর গেছে আইয়া দেখলা, এরা ঘুমাই গেছইন। অউ তাইন পিতররে হজাগ করি কইলা, “তুমরা একখান ঘন্টাও হজাগ রইতায় পারলায় না নি? 41হজাগ রও দোয়া করার লাগি, আর দোয়া করো পরিক্ষা থাকি বাচার লাগি। তুমরার দিলর মাজে নিচয় খিয়াল আছে, অইলে কায়া তো কমজুর।”
42বাদে তাইন দুছরা বার গিয়া দোয়া করলা, “ও আমার বেহেস্তি আব্বা, অউ জুলুম-মছিবত আমি সইয্য না করলে, যুদি দুছরা কুনু পথ না থাকে, তাইলে তুমার মর্জি মাফিকউ অউক।” 43বাদে তাইন হিরবার আইয়া দেখলা, এরা ঘুমাই গেছইন, ঘুমে তারার চউখ ফালাই দের।
44দেখিয়া তারারে থইয়া তাইন তিছরা বার গিয়া একই দোয়া করলা। 45এরবাদে তাইন সাহাবি অকলর গেছে আইয়া কইলা, “তুমরা দেখি অখনও আরামে ঘুমাইরায়। হুনো, সময় আইচ্ছে, আমি বিন-আদমরে গুনাগার অকলর আতো সমজাই দেওয়া অইবো। 46উঠো, আমরা রওয়ানা দেই। আমারে যেগিয়ে দুশমনর আতো ধরাই দিবো, হে আইয়া আজিগেছে।”
হজরত ইছা দুশমনর আতো বন্দি
47তাইন এরার লগে মাতো রইছইন, অউ সময় ইহুদা হনো আইলো। হে আছিল বারোজন সাহাবির মাজর একজন। তার লগে অইয়া আরো বউতে লাঠি-ছটা, তলোয়ার লইয়া আইলো। বড় ইমাম আর মুরব্বি অকলে এরারে পাঠাইছইন। 48তানরে যেগিয়ে ধরাইয়া দিতো, অউ ইহুদায় তার লগর এরারে আগে হিকাইয়া দিছিল, “আমি গিয়া যার গালো হুংগা দিমু, হে-উ হউ জন। তুমরা এরে আটক করিও।” 49এরলাগি ইহুদায় সুজা-সুজি ইছার গেছে গিয়া কইলো, “হুজুর, আছছালামু আলাইকুম।” কইয়া হে তানরে হুংগা দিল। 50ইছায় তারে কইলা, “ভাইরে, যেতা করাত আইছো, করিলাও।” লগে লগেউ তারা আইয়া ইছারে ধরিলিলো।
51অউ সময় ইছার লগর একজনে নিজর তলোয়ার বার করিয়া পরধান ইমামর গুলামরে ছেদ মারলা, ছেদর লগে তার এক কান কাটিয়া পড়িগেল। 52তেউ ইছায় এনরে কইলা, “তুমার তলোয়ার বেগো হারাইলাও। তলোয়ারদি যারা খেলায়, তলোয়ারর তলেউ তারার জান যায়। 53তুমি ইখান চিন্তা করো না নি, আমি আমার বাতুনি বাফর দরবারো আরজ করলে, তাইন কয়েক আজার ফিরিস্তা পাঠাইতা নায় নি? 54অইলে আমি ইলা করলে কিতাবর কথা কিলা ফলিবো? কিতাবো যততা বাতাইল অইছে, ইতা তো ঘটবোউ।”
55বাদে তাইন অতা মানষরে কইলা, “কিতাবা, আমি কুনু চুর-ডাকাইত নি, তুমরা দেখি লাঠি-ছটা, তলোয়ার লইয়া আমারে ধরাত আইছো। আমি তো পরতেক দিন বায়তুল-মুকাদ্দছো বইয়া তালিম দিতাম। অউ সময় তো তুমরা আমারে ধরলায় না। 56আসলে ইতা হক্কলতা ঘটের, যাতে আছমানি কিতাবো নবী অকলে যেলা বাতাইছইন, অতা পুরা অয়।” অউ সময় সাহাবি অকলে ইছারে থইয়া বাগি গেলা।
দেশর ফতোয়া কমিটির ছামনে হজরত ইছা
57হজরত ইছারে ধরিয়া হারি অউ মানষে পরধান ইমাম কায়াফার গেছে লইয়া গেল। হনো মৌলানা আর মুরব্বি অকল একখানো দলা অইলা। 58সাহাবি পিতর ইছার গেছ থনে দুরই হরি হরি রইয়া তান খরে খরে পরধান ইমামর বাড়ির উঠানর কান্দাত গেলা। গিয়া হেশ-মেশ কিতা অয়, অখান দেখার লাগি উঠানর ভিতরে হামাইয়া, হনর পারাদার অকলর লগে বইলা।
59হজরত ইছারে কাতল করার লাগি বড় ইমাম অকলে আর মজলিছর হকল মানষে ইছার বিপক্ষে কুনু নালিশ তুকাইলা, 60অইলে পাইলা না। মজলিছো ইছার বিপক্ষে বউতে মিছা সাক্ষি দিলেও, তারার সাক্ষির মিল অইলো না। বাদে দুইজন মানষে আইয়া তান বিরুদ্ধে মিছা সাক্ষি দিয়া কইলো, 61“আমরা হুনছি, হে কইছে, আল্লার কাবা শরিফ, মানি বায়তুল-মুকাদ্দছরে হে ভাংগিলিবো, আর তিন দিনর ভিতরে হিরবার বানাইবো।” 62তেউ পরধান ইমাম উবাইয়া হকলর ছামনে ইছারে জিকাইলা, “ওবা, তুমি কুনু মাতর জুয়াপ দিতায় না নি? ইতা মানষে তুমার বেয়াপারে কিতা সাক্ষি দিরা, হুনরায় নি?” 63অইলে তাইন কুনু জুয়াপ না দিয়া নিরাই রইলা। পরধান ইমামে তানরে হিরবার কইলা, “তুমি জিন্দা আল্লার কছম খাইয়া কওছাইন, তুমি কিতা আল্লার ওয়াদা করা হউ আল-মসী নি, তুমিউ আল্লার খাছ মায়ার জন ইবনুল্লা নি?” 64তাইন জুয়াপ দিলা, “আপনারাউ তো কইরা। অইলে আমি কইরাম, আপনারা দেখবানে, আমি বিন-আদম আরশে-আজিমো আল্লা রাব্বুল আলামিনর ডাইনর তখতো বওয়াত আছি। আরো দেখবা, আমি বেহেস্তি মেঘর খুটিত অইয়া দুনিয়াত আইয়ার।”
65ইখান হুনিয়াউ পরধান ইমামে নিজর ফিন্নর কাপড় ছিড়িয়া কইলা, “হে তো শিরিকি করলো, তে আর কুনু সাক্ষির জরুর আছে নি? আপনারা নিজর কানেউ তো হুনলা, হে শিরিকি করলো। 66তে অখন আপনারা কিতা রায় দিবা?” তারা কইলা, “এরে তো মারিলাওয়া দরকার।” 67অউ সময় তারা তান মুখো ছেফ দিল, আর তানরে চড়-তাবড় মারলো। কেউ কেউ ঘুষি মারিয়া কইলো, 68“হই আল-মসী, গাইবি কওছাইন, তরে খেগিয়ে মারলো?”
হজরত পিতরে তিনবার অস্বীকার করলা
69পিতর উঠানো বওয়াত আছলা, অউ সময় এক বান্দি বেটি তান কান্দাত আইয়া কইলো, “গালিলর অউ ইছার লগে তো আপনেও আছলা।” 70অইলে পিতরে হকলর ছামনে অস্বীকার করিয়া কইলা, “না গো, তুমি ইতা কিতা মাতো? ইতা কুন্তাউ আমি জানি না।”
71অখান কইয়া পিতর গেইটর ধারো গেলাগি। তানরে দেখিয়া আরক বান্দি বেটিয়ে কইলো, “অউ বেটাও তো নাছারত গাউর ইছার লগে আছিল।” 72অইলে পিতরে হিরবার কছম করি কইলা, “না, না, আমি তারে চিনিউ না।”
73অউ সময় তান কান্দাত যেরা উবা আছিল, থুড়া বাদে তারা কইলা, “ওবা, তুমিও নিচ্চয় এরার লগর, তুমার মাত-কথায়উ তো বুজা যার।” 74তেউ পিতরে কইলা, “আল্লার গজব পড়উক, আমি কছম খাইয়া কইয়ার, আমি মোটেউ তারে চিনি না।” 75অখান কইতেউ মুরগায় বাং দিলাইলো। বাং হুনতেউ পিতরর মনো অইগেল, ইছায় আগে কইছলা, “মুরগায় বাং দিবার আগেউ তুমি তিনবার কইবায়, তুমি আমারে চিনো না।” এরলাগি তাইন বারে গিয়া আউ-আউ করি কান্দন ধরলা।
27হাকিম পিলাতর ছামনে হজরত ইছা
1বিয়ানে উঠিয়া বড় ইমাম আর মুরব্বি অকলে হজরত ইছারে কাতল করার পরামিশ করলা। 2তারা তানরে বান্দিয়া রোমান হাকিম পিলাতর গেছে লইয়া গেলা।
ইহুদার মরন
3যে জনে হজরত ইছারে দুশমনর আতো ধরাই দিছিল, হউ ইহুদায় যেবলা দেখলো বিচারো তানরে দুষি সাইবস্তো করা অইছে, অউ তার ভিতরে খুব দুখ হামাইলো। হে বড় ইমাম আর মুরব্বি অকলর গেছে হউ রুপার তিশ টেকা লইয়া আইয়া কইলো, 4“আমি তো একজন নি-অপরাধি মানষরে কাতল করার লাগি ধরাই দিয়া গুনা করছি।” ইখান হুনিয়া তারা কইলা, “তেউ আমরার কিতা অইলো? ইতা তো তুমার বেয়াপার।” 5অউ সময় ইহুদায় হউ তিশ টেকা বায়তুল-মুকাদ্দছো ইটা মারি ফালাইয়া গেলগি, গিয়া নিজে নিজেউ ফাস লাগিয়া মরিগেল।
6বড় ইমাম অকলে ই টেকা আতো লইয়া কইলা, “ইগুইন তো বায়তুল-মুকাদ্দছর তহবিলো রাখা ঠিক নায়, কারন ইতা অইলো লউর দাম।” 7বাদে তারা পরামিশ করিয়া অউ টেকাদি মুছাফির মানষর কবরস্থানর লাগি এক কুমারর গেছ থাকি জাগা লইলা। 8এরলাগি অউ জাগারে অখনও “লউর জাগা” কওয়া অয়। 9ইতা অওয়ায়, ইয়ারমিয়া নবীর মাজদি যেতা বাতাইল অইছিল, অতা ফলিগেল। তাইন কইছলা, “তারা যে তিশ টেকা নিলো, ইকটা অইলো তান দাম। বনি ইছরাইলে তান অউ দাম সাইবস্তো করছিল। 10আল্লায় আমারে যেলা হুকুম দিছইন, অলাউ তারা কুমারর জাগা লওয়ার লাগি টেকা গুইন দিলো।”
হাকিম পিলাতর আদালতো হজরত ইছা
11হজরত ইছারে রোমান পরধান হাকিম পিলাতর আদালতো আজির করা অইলো। হাকিমে তানরে জিকাইলা, “কিতাবা, তুমি ইহুদি অকলর বাদশা নি?” তাইন কইলা, “জিঅয়, আপনে ঠিকউ কইরা।” 12বড় ইমাম আর মুরব্বি অকলে তান নামে বউত নালিশ দিলা। অইলে ইছায় কুনু জুয়াপ দিলা না। 13অউ সময় পিলাতে জিকাইলা, “তুমি কুনু জুয়াপ দিতায় না নি? দেখরায় নি, তারা তুমার বিরুদ্ধে কতো নালিশ দিরা।” 14অইলে ইছায় ইতার একখানও জুয়াপ না দেওয়ায় পিলাত খুব তাইজ্জুব অইগেলা।
15দেশর পরধান হাকিমর নিয়ম আছিল, আজাদি ইদর সময় মানষর পছন্দ মাফিক একজন আজতিরে খালাছ দিতা। 16অউ সময় ইছা-বারাব্বা নামর এক নামকরা আজতি জেলো আছিল। 17হকল মানুষ একখানো দলা অওয়ার বাদে হাকিম পিলাতে তারারে জিকাইলা, “তুমরা কিতা কও? আমি কারে ছাড়তাম, ইছা-বারাব্বারে, না হউ ইছারে, যারে আল-মসী কওয়া অয়?” 18পিলাতে জানতা, বড় ইমাম অকলে ইংসা করিয়া হজরত ইছারে নিয়া তান আতো দিছইন। 19পিলাত যেবলা হাকিমর আসনো বওয়াত, অউ সময় তান বিবিয়ে খবর পাঠাইয়া জানাইলা, “অউ নিঅপরাধ মানষরে তুমি কুন্তা করিও না, তান বেয়াপারে আমি আইজ একটা খোয়াব দেখিয়া বড় দুখ লাগছে।”
20অইলে বড় ইমাম আর মুরব্বি অকলে মানষরে উছকাইয়া দিলা, তারা যানু বারাব্বার মুক্তি চাইন আর ইছারে কাতল করার কথা কইন। 21বাদে পরধান হাকিম পিলাতে অনর মানষরে জিকাইলা, “অউ দুইও জনর মাজে আমি কারে ছাড়তাম?” তারা কইলা, “বারাব্বারে।” 22তেউ পিলাতে তারারে জিকাইলা, “তে তুমরা যারে আল-মসী কও, হউ ইছারে কিতা করতাম?” তারা হকলে চিল্লানি লাগাইলো, “তারে সলিবো গাথিয়া মারো।” 23তাইন কইলা, “কেনে, হে কিতা দুষ করছে?” অইলে মানষে আরো জুরে জুরে মিছিল লাগাইলো, “সলিবো দেও, সলিবো দেও।”
24পিলাতে যেবলা দেখলা, তাইন কুনুমন্তেউ ইছারে বাচাইতা পাররা না, বরং গন্ডগোল আরো বাড়ের। অউ তাইন পানি দিয়া হকলর ছামনে তান আত ধইয়া কইলা, “ই মানষর লউর দায়ী আমি নায়, তুমরাউ এর জুয়াপ দিবায়।” 25তেউ হকল মানষে কইলা, “ঠিক আছে, আমরা আর আমরার আওলাদ অকল ই লউর দায়ী অইমু।” 26তেউ পিলাতে তারারে খুশি করতা করি বারাব্বারে খালাছ দিলাইলা। আর ইছারে বেশ করি চাবুক মারিয়া, সলিবো দেওয়ার হুকুম দিলা। (সলিব অইলো লাকড়িদি বানাইল মানষরে লটকাইয়া মারার এক জিনিস।)
সিপাই অকলর ঠাট্টা-মশকরা
27বাদে পিলাতর সিপাই অকলে ইছারে ধরিয়া তারার কেম্পর ভিতরে লইয়া গেলো। হনো আস্তা সিপাই দল দিয়া তানরে বের করি রাখলো। 28তারা তান ফিন্নর কাপড়-চুপড় খুলিয়া, লাল-বাইংগনি রংগর বাদশাই লেবাছ ফিন্দাইলো। 29আর গছা-কাটা দিয়া রাজ-মুকুট বানাইয়া তান মাথাত দিলো। তান ডাইন আতো দিলো একটা রাজ-লাঠি। তানে ইজ্জত দেখানির ভান করিয়া তান ছামনে আটু গাড়িয়া বইয়া কইলো, “ইহুদির বাদশা, মারহাবা।” 30অউ সময় তারা তান উপরে ছেফ দিলো আর অউ লাঠি দিয়া বারে বারে তান মাথাত মারলো। 31অউ লাখান ঠাট্টা-মশকরা আর বেতমিজি করার বাদে তান ফিন্নর বাইংগনি লেবাছ খুলিয়া, তান নিজর কাপড় ফিন্দাইলো। তানরে সলিবো নিয়া কাতল করার লাগি রওয়ানা দিলো।
সলিবর উপরে হজরত ইছা
32সিপাই দলে ইছারে লইয়া যাইরা, অউ সময় তারা কুরিনি এলাকার সাইমন নামর একজন মানষরে দেখলো। সিপাই অকলে জুর করিয়া এনেদি হউ সলিব বওয়াইয়া নেওয়াইলো। 33তারা ইছারে লইয়া গলগাথা, মানি কল্লার চাড় নামর জাগাত গেল। 34হনো নিয়া হারি মুরা নামর ওষুধ পুরাইল আংগুরর শরবত তান মুখো দিলো, অইলে তাইন ইতা খাইলা না।
35বাদে তারা ইছারে নিয়া অউ সলিবো গাথিলো। সিপাই অকলে তান কাপড়-চুপড় বাটিয়া নেওয়ার লাগি লটারি মারিয়া ভাইগ্য পরিক্ষা করলো। 36আর তারা অনো বইয়া তানরে পারা দিলো। 37সলিবো তান মাথার উপরে অপরাধ-নামার মাজে লেখলো, “এন নাম ইছা, ইহুদির বাদশা।”
38দুইজন ডাকাইতরেও তান লগে লটকাইল অইলো, একজন ডাইন গালাত, অইন্যজন বাউ গালাত। 39পথেদি যেরা যাওয়াত আছিল তারা মাথা লাড়াইয়া ইছারে ছিড়াইয়া কইলো, 40“ওই মিয়া, তুমি বুলে বায়তুল-মুকাদ্দছ কাবা ঘর ভাংগিয়া তিন দিনর মাজে হিরবার বানাইলিবায়! তে অখন নিজর জান বাচাও না। তুমি বুলে আল্লার খাছ মায়ার জন ইবনুল্লা, তে সলিব থাকি লামিয়া আও না।”
41বড় ইমাম, মৌলানা আর মুরব্বি অকলেও তানরে ছিড়াইয়া কইলা, 42“হে বুলে মানষর জান বাচাইতো, অখন তো নিজর জানউ বাচাইতো পারের না। হিরবার বনি ইছরাইলর বাদশাও বুলে হে! তে অখন পারলে সলিব থাকি লামিয়া আউক, তেউ আমরাও অতা দেখিয়া তার উপরে ইমান আনমু। 43হে তো আল্লার উপরে ভরসা করে। অখন আল্লা যুদি তার উপরে খুশি থাকইন, তে তারে বাচাউক্কা। হে তো দাবি করতো, হে ইবনুল্লা, আল্লা পাকর খাছ মায়ার জন।” 44তান ডাইনে-বাউয়ে যে দুই ডাকাইতরে সলিবো লটকাইল অইছিল, তারাও তানরে অতা কইয়া ছিড়াইলো।
হজরত ইছা আল-মসীর উফাত
45অউ দিন দুইফর থাকি জোহরর বাদ পর্যন্ত তিন ঘন্টা আস্তা দেশ আন্দাইর অইগেল। 46আর ইছায় খুব জুরে জুরে কইলা, “এলোই, এলোই, লামা সাবাক্তানী?” মানি, “ও আমার আল্লা, আমার মউলা, তুমি কেনে আমার লগ ছাড়ি দিলায়?” 47অউ সময় তান ধারো যারা উবা আছিল, তারা ইখান হুনিয়া কইলা, “হুনো, হুনো, হে হজরত ইলিয়াছরে ডাকের।” 48তারা একজনে দৌড়াইয়া গিয়া একখান তেনা আনিয়া টেংগা আংগুরর শরবতর মাজে ভিজাইয়া, এক লাঠির মাথাত বান্দিয়া উচা করি তানরে খাইতে দিলো। 49বাকি হকলে কইলো, “আইচ্ছা, দেখি না, ইলিয়াছ নবী তারে বাচানিত আইন নি।”
50হেশে ইছায় হিরবার জুরে আওয়াজ করিয়া আখেরি দম ফালাইয়া ইন্তেকাল করলা। 51লগে লগে বায়তুল-মুকাদ্দছ মানি কাবা ঘরর হেরেম শরিফর পর্দাখান, উপরে থাকি তল পর্যন্ত ছিড়িয়া দুই টুকরা অইগেল। আর ভৈছালর লগে বড় বড় পাথর অকল ফাটি গেল। 52বউত কয়বরর মুখ খুলিগেল, আর আল্লার মায়ার যে বন্দা অকল মারা গেছলা, এরা বউত জন জিন্দা অইয়া উঠলা। 53তারা কয়বর থাকি বার অইয়া আইলা। ইছা মুর্দা থাকি জিন্দা অইয়া হারলে, তারা পবিত্র টাউনো গিয়া হামাইলা, আর বউত জনরে দেখা দিলা। 54পরধান সিপাইর লগে আরো যেতা সিপাই অকলে ইছারে পারা দেওয়াত আছলা, তারা অউ ভৈছাল আর হকল হালত দেখিয়া খুব ডরাইয়া কইলা, “নিচ্চয়, এইনউ আছলা আল্লার খাছ মায়ার জন, ইবনুল্লা।”
55গালিল জিলা থাকি যেতা বেটিন্তে ইছার খেজমত করার লাগি তান লগে অইয়া আইছলা, তারাও দুরই উবাইয়া ইতা দেখলা। 56এরার মাজে আছলা মগদিলিনী মরিয়ম, ইউছি আর ইয়াকুবর মা মরিয়ম, আর জিবুদিয়ার বউ।
হজরত ইছার রওজা মুবারক
57অউ দিন হাইঞ্জা বালা আরিমাথিয়া গাউর ইউছুফ নামর একজন ধনি মানুষ হনো আইলা। তাইন ইছার এক সাগরিদ আছলা। 58তাইন হাকিম পিলাতর গেছে আইয়া, হজরত ইছার লাশ নিতা চাইলা। তেউ পিলাতে তানরে লাশ নেওয়ার ইজাজত দিলা। 59ইউছুফে ইছার লাশ সলিব থাকি লামাইয়া কাফন ফিন্দাইলা। 60তাইন পাড় কাটিয়া নিজর লাগি যে কয়বর খুদিছলা, অউ কয়বরর মাজে ইছারে দাফন করলা। বাদে বড় এক পাথর ঠেলিয়া আনিয়া কয়বরর মুখো দিয়া গেলাগি। 61অইলে মগদিলিনী মরিয়ম আর আরক মরিয়ম অউ কয়বরর ধারো বই রইলা।
62বাদর দিন জুম্মাবারে বড় ইমাম আর ফরিশি অকল আইয়া হাকিম পিলাতর গেছে কইলা, 63“হুজুর, আমরার মনো আছে, অউ টগে জিন্দা থাকতে কইছিল, হে বুলে মরার তিন দিন বাদে হিরবার জিন্দা অইয়া উঠবো। 64এরলাগি আপনে হুকুম দেউক্কা, কয়বরটা যানু তিন দিন পর্যন্ত কড়া পারা দিয়া রাখা অয়। আরনায় তার উম্মত অকলে তার লাশ চুরি করি নিয়া মানষরে কইতো পারে, তাইন তো জিন্দা অইগেছইন। তাইলে আগে যেতা কইয়া ধুকা দিছে, অখন আরো বেশি ধুকা দিবো।” 65পিলাতে কইলা, “তুমরা পারাদার অকলরে নেও, নিয়া যেলা পারো, অলা পারা দেওয়ার বেবস্তা করো।” 66অউ তারা গিয়া কয়বরর মুখো যে পাথর আছিল, অউ পাথরর উপরে সীল-চাপ্পড় মারি থইলা আর কড়াকড়ি পারা দেওয়ার বেবস্তা করলা।
28হজরত ইছা মউতর বাদে জিন্দা অইলা
1জুম্মাবার শেষ অইয়া হাপ্তার পয়লা দিন ফজর অখতো, মগদিলিনী মরিয়ম আর অইন্য মরিয়মে হজরত ইছার কয়বর দেখাত গেলা। 2অউ সময় আখতাউ বড় এক ভৈছাল অইলো আর আছমান থাকি আল্লার এক ফিরিস্তা লামিয়া আইলা। আইয়া তাইন কয়বরর মুখর পাথরটা হরাইয়া, এর উপরে বইলা। 3তান ছুরত আছিল খুব নুরানি আর ফিন্নর কাপড় আছিল ধলা চকচকা। 4তানরে দেখিয়া পারাদার অকলে ডরাইয়া কাপা ধরলা আর তারা বেউশ অইয়া পড়ি রইলা।
5ফিরিস্তায় অউ বেটিন্তরে কইলা, “ডরাইওনা গো। আমি জানি, সলিবো লটকাইয়া যারে কাতল করা অইছে, তুমরা হউ ইছারেউ তুকাইরায়। 6অইলে তাইন তো ইনো নায়। তাইন যেলা কইছলা, অলাউ জিন্দা অইয়া উঠি গেছইন। আও, তানরে যে জাগাত হুতাইয়া রাখা অইছিল, অখান আইয়া দেখো। 7আর তুমরা জলদি যাও, গিয়া তান সাহাবি অকলরে কও, তাইন মুর্দা থাকি জিন্দা অইয়া তারার আগে অইয়া গালিলো যাইরাগি। হনোউ তান লগে তারার দেখা অইবো। হুনো, আমি আগেউ তুমরারে ইখান জানাই দিলাম।” 8বেটিন্তে যুদিও ডরাইছলা, তেবউ তারা খুশির চুটে তান সাহাবি অকলরে ই খবর জানানির লাগি দৌড়াইয়া রওয়ানা অইলা। 9অউ সময় আখতাউ হজরত ইছা আইয়া এরারে ছালাম দিলা। লগে লগে তারা তান ছামনে আইয়া পাওত ধরিয়া কদমবুছি করলা। 10ইছায় তারারে কইলা, “ডরাইও না গো। তুমরা গিয়া আমার ভাইয়াইনরে কও, তারা গালিলো যাইতাগি। হনো তারার লগে আমার দেখা অইবো।”
11ইছার লগর বাতচিত শেষ করিয়া তারা যেবলা যাইরাগি, অউ সময় হউ পারাদারর কয়জনে টাউনো গিয়া বড় ইমাম অকলরে ইতা হক্কলতা জানাইলা। 12তেউ বড় ইমাম আর মুরব্বি অকল একখানো দলা অইয়া পরামিশ করলা, অউ পারাদার সিপাই অকলরে বউত টেকা দিবার লাগি। 13তারা সিপাই অকলরে কইলা, “তুমরা কইও, ‘আমরা যেবলা ঘুমো আছলাম, অউ সময় সাগরিদ অকলে আইয়া তান লাশ চুরি করি নিছইনগি।’ 14ইখান যুদি দেশর পরধান হাকিম ছাবে হুনিলাইন, তে আমরা তানরে বুজ দিমু, তান আত থাকি তুমরারে বাচাইমু।” 15তেউ পারাদার অকলে অউ টেকা নিলা, আর তারারে যেলা হিকাইল অইছিল, অলা কইলা। অখন পর্যন্ত ই মিছা কথা ইহুদি সমাজো রটাইল আছে।
হজরত ইছা আল-মসীর আখেরি হুকুম
16ইছায় তান সাহাবি অকলরে গালিলর যে পাড়ো যাওয়ার কথা কইছলা, হউ এগারো জন সাহাবি অউ পাড়ো আইলা। 17আইয়া ইছারে দেখিয়া তারা সইজদা করলা, এরমাজে কয়জনর ভিতরে সন্দয় আছিল। 18অউ সময় ইছা তারার কান্দাত আইয়া কইলা, “বেহেস্ত আর দুনিয়ার হক্কল খেমতা আমারে দেওয়া অইছে। 19এরলাগি তুমরা গিয়া তামাম জাতির মানষরে আমার উম্মত বানাও। বেহেস্তি বাবা আল্লা পাক, তান খাছ মায়ার জন ইবনুল্লা, আর পাক রুহর নামে মানষরে তরিকার গোছল করাও। 20আমি তুমরারে যেতা হুকুম দিছি, অতা আমল করার লাগি তারারে তালিম দেও। মনো রাখিও, কিয়ামতর আগ পর্যন্ত সব সময় আমি তুমরার লগে লগে আছি।” আমিন॥