পবিত্র ইঞ্জিল শরিফ তিছরা ছিপারা

আল-লুক

পরিচিতি

আল-লুক ছিপারাত নানান তালিম আছে, এরমাজর মুল তালিম অইলো, হজরত ইছা আল-মসীউ অইলা সারা জগতর হকল মানষর নাজাতর কান্ডারি। তাইন দুনিয়াত তশরিফ আনিয়া দেখাইলা, তাইন মানষরে কতো মায়া করইন। গরিব-দুখি, অনাথ-এতিম, ড়াড়ি, নিরাশ্রয় মানষরে তাইন মায়া করিয়া আশ্রয় দেইন। দুনিয়ার মানষে যারারে এলামি বা তুচ্ছ করে, তাইন এরারেও আদর করইন। হুরু হুরু নাবালিক হুরুতা, নিরাশ্রয় বেটিন্তরে তাইন খুব আদর করইন। আল্লার যতো বন্দা আল্লার দরবার থাকি হরিয়া গেছেগি, তারারে তুকাইয়া আনিয়া হিরবার আল্লার বাদশাইত জাগা দিছইন। হজরত ইছা রুহুল্লার নামউ বিন-আদম, মানি আদমর আওলাদ, মানুষ ছুরতে আওয়া আল্লার খলিফা।

ই ছিপারার পয়লা রুকুত আছে আল-মসীয়ে দুনিয়াত তশরিফ আনরা, ইটা আল্লা পাকর খাছ মর্জি। হিরবার আখেরি রুকুত বয়ান করা অইছে, তাইন জিন্দা হালতে বেহেস্তো তশরিফ নিছইন। ইটাও মাবুদর খাছ মর্জি, আর হারা দুনিয়ার মানষর লাগি খুশির খবর।

অউ ছিপারার বউত তালিম বাতাইল অইছে মিছাল বা কিচ্ছা দিয়া। ই তালিম, কেরামতি-মোজেজা, আর তবলিগর বয়ানদি বুজাইল অইছে, হজরত ইছাউ অইলা আস্তা দুনিয়ার মানষর লাগি আল্লাই রহমত। খালি তান উছিলায় হকল নমুনার গুনার মাফি পাওয়া যায়। তাইনউ আস্তা দুনিয়ার নাজাতর কান্ডারি।

আমরা অউ ছিপারার ১৯ রুকু ১০ আয়াতো দেখি, হজরত ইছায় কইরা, “অউ লাখান বে-পথি অকলরে তুকাইয়া বার করিয়া, তারারে বাচানির লাগিউ তো আমি বিন-আদম ই দুনিয়াত আইছি।”

লেখক পরিচিতি আর সময়

আল্লা পাকর হুকুমে অউ ছিপারা লেখছইন হজরত লুক (রঃ)। পবিত্র ইঞ্জিল শরিফ থাকি জানা যায়, হজরত লুকর পেশা আছিল হেকিমি ডাক্তর। তাইন হজরত ইছার সাহাবি হজরত পাউলুছর খেজমতো রইয়া নানান দেশর নানান জাতির গেছে আল্লার কালাম তবলিগ করতা। হজরত ইছা দুনিয়া থাকি বেহেস্তো তশরিফ নেওয়ার অনুমান ৩০ বছর বাদে অউ ছিপারা কিতাব আকারে লেখা অইছে। অউ আল-লুক ছিপারা অইলো হজরত লুকর লেখা পয়লা ছিপারা, বাদে তাইন সাহাবি নামা নামর আরক ছিপারা লেখছইন।

এরমাজে আছে,

(ক) ভুমিকা, হজরত এহিয়া আর হজরত ইছার জনম আর পয়লা জিন্দেগি ১:১—২:৫২ আয়াত

(খ) আল্লার কাম করার লাগি হজরত ইছা জুইত অইলা ৩:১—৪:১৩

(গ) গালিল জিলাত হজরত ইছার কেরামতি আর তবলিগ ৪:১৪—৯:৫০

(ঘ) জেরুজালেম যাওয়ার পথে হজরত ইছা ৯:৫১—১৯:২৭

(ঙ) জেরুজালেম টাউনো হজরত ইছা ১৯:২৮—২১:৩৮

(চ) হজরত ইছার দুখ-কষ্ট আর মউত ২২—২৩ রুকু

(ছ) মউতর বাদে জিন্দা অইলা হজরত ইছা ২৪ রুকু

1

1-2মহামাইন্য থিওফিলাছ,

আপনার তো জানা আছে, আমরার মাজে যেতা যেতা ঘটিছে, ইতা যেরা পয়লা থাকিউ নিজর চউখে দেখছইন আর তবলিগও করছইন, এরার মুখর কথা হুনিয়া ভালামন্তে সমজিয়া হারি, বউত মুমিনে লেখাত লাগছইন। 3এরলাগি অখন আমিও আদি-অন্ত হক্কলতা তালাশ করিয়া, এক এক করি লেখিয়া আপনারে জানানি খান ভালা মনো করলাম। 4অখান থাকি আপনে সমজিতা পারবা, আপনে আগে যেতা তালিম হুনছইন, ইতা এক্কেবারে ঠিক।

হজরত এহিয়া আর হজরত ইছার জনম আর পয়লা জিন্দেগি (১:৫-২:৫২)

হজরত এহিয়া (আঃ) অর জন্মর গাইবি খবর

5রাজা হেরোদে যেবলা এহুদিয়া জিলা চালাইরা, অউ সময় জেরুজালেম টাউনো বায়তুল-মুকাদ্দছর ইমাম অকলর মাজর একজনর নাম আছিল জাকারিয়া। তাইন বনি ইছরাইলর মুল ইমাম হারুনর খান্দানর আবিয়া দলর মানুষ। তান বিবির নাম এলিছাবেত, এইনও হারুনর বংশর মানুষ। 6এরা দুইও জনউ আল্লার নজরো কামিল দীনদার আছলা। মাবুদর হকল হুকুম-আহকাম ষোলআনা আদায় করতা। 7অইলে এরা আছলা নিআওলাদি, বিবি এলিছাবেত অইলা আটখুরা বেমারি। অউ হালতে দুইও জন মুরব্বি অইগেছইন।

8এরমাজে অইন্য দলর ইমামতির দিন শেষ অইয়া তান নিজর দলর ইমামতির বারি আইলো, তেউ জাকারিয়া আল্লার ঘরো ইমামতিত আছলা। 9ইমামতি কামর নিয়ম মাফিক লটারি মারিয়া তানে পছন্দ করা অইলো, যাতে তাইন বায়তুল-মুকাদ্দছর পবিত্র হেরেম শরিফো হামাইয়া আগর-খুশবয় জালাইন। 10তাইন ভিতরে অতা জালাইরা, আর বারে বউত মানষে দোয়া-দুরুদ কররা।

11আখতাউ আগর-খুশবয় জালানির টেবুলর ডাইনেদি আল্লার একজন ফিরিস্তায় তানরে দরশন দিলা। 12ফিরিস্তারে দেখিয়াউ তান দিল কাপিগেল, জানো ডর আইলো। 13ফিরিস্তায় কইলা, “ও জাকারিয়া, ডরাইও না। হুনো, আল্লার দরবারো তুমার দোয়া কবুল অইছে। তুমার বিবি এলিছাবেতর ঘরো এক পুয়া অইবা, তুমি এন নাম রাখিও এহিয়া। 14অউ পুতে তুমার জিন্দেগিত বউত খুশি বাড়াইবা, তাইন জনম লওয়ায় আরো বউত জন খুশি অইবা। 15এইন তো মাবুদর নজরো বউত বড় ইজ্জতি অইবা। জিন্দেগিয়ে কুনুদিনউ আংগুরর শরাব বা কুনুজাত নিশা খাইতা নায়। তান মাʼর পেটো থাকতেউ পাক রুহে কামিল অইবা। 16আর বনি ইছরাইলর বউত মানষরে তারার মাবুদ আল্লার বায় ফিরাইয়া আনবা। 17তাইন ইলিয়াছ নবীর লাখান হিম্মত আর তাক্কতে মালিকর আগে অইয়া আইবা। আইয়া বাফ অকলর দিলরে আওলাদর বায়, আর নাফরমান অকলর দিলরে পরেজগারির বায় ফিরাইবা। অউ লাখান মাবুদর লাগি এক দল বন্দারে তাইন পুরাপুর তিয়ার করবা।”

18ইতা হুনিয়া জাকারিয়ায় ফিরিস্তারে কইলা, “এর পরমান কিতা, আমি কেমনে একিন করতাম? আমি তো বুড়া অইগেছি, আমার বউও এক্কেরে মুরব্বি অইগেছইন।”

19ফিরিস্তায় কইলা, “আমি জিব্রাইল, আমি আল্লার ছামনে আজির থাকি। তুমার লগে বাতচিত করিয়া, অউ খুশ-খবরি তুমারে জানানির লাগিউ আল্লায় আমারে বেজিছইন। 20দেখিও, আমার কথা সময় মত ফলিবো। অইলে আমার মাত একিন না করায়, ইখান ফলিবার আগ পর্যন্ত তুমি বোবা বনিযিবায়, কুন্তা মাততায় পারতায় নায়।”

21ইবায় মানষে জাকারিয়ার লাগি বার চাইরা। বায়তুল-মুকাদ্দছর ভিতরর অউ পাক জাগাত তান দেরি অর দেখিয়া, তারা হকল চিন্তাত পড়িগেলা। 22বাদে জাকারিয়া বার অইয়া আইলা, অইলে তাইন কুন্তাউ মাততা পারলা না। তাইন বোবা অইগেলা আর ইশারা-আশারায় বুজাইলা। ই হালত দেখিয়া মানষে বুজিলিলা, পাক জাগার ভিতরে তাইন কুনু দরশন পাইছইন। 23ইমামতি কামর বারি শেষ অইয়া হারলে, তাইন নিজর বাড়িত গেলাগি।

24এরবাদে তান বিবি এলিছাবেতর পেটো হুরুতা আইলো, এরদায় এলিছাবেত পাচ মাস বাড়ির বারে বার অইলা না। 25তাইন কইলা, “ইতা তো আল্লাই লিলা-খেলা। মানষর গেছে আমি যে খুটার ভাগি অইছি, অউ খুটার শরম হরানির লাগি তাইন আমার বায় খিয়াল করছইন।”

ইছা রুহুল্লার জন্মর গাইবি খবর

26-27এলিছাবেতর পেটো যেবলা ছয় মাসর হুরুতা, অউ সময় গালিল জিলার নাছারত গাউত একজন আবিয়াতি সতী নারী আছলা, এন নাম বিবি মরিয়ম। আল্লায় জিব্রাইল ফিরিস্তারে তান গেছে বেজিলা। তান বিয়া ঠিক অইছিল, বাদশা দাউদর খান্দানর ইউছুফ নামর একজনর লগে। 28ফিরিস্তায় আইয়া বিবি মরিয়মরে কইলা, “আছছালামু আলাইকুম; আল্লা পাকে আপনারে রহমত করছইন, তাইন আপনার লগে আছইন।”

29ইখান হুনিয়া মরিয়মর মন পেরেশান অইগেল। তাইন মনে মনে কইলা, ই ছালামর মানি কিতা? 30ফিরিস্তায় কইলা, “ও মরিয়ম, আপনে ডরাইবা না, আল্লায় আপনারে রহমত করছইন। 31হুনউক্কা, আপনার ঘরো এক পুয়া পয়দা অইবা, আপনে এন নাম রাখবা, ইছা। 32তাইন বউত বড় ইজ্জতি অইবা। তানরে কওয়া অইবো ইবনুল্লা, আল্লাতালার খাছ মায়ার জন। আল্লা মাবুদে তান খান্দানর মুরব্বি বাদশা দাউদর গদি তানরে দিবা। 33তাইন দুনিয়া আখেরাতো বনি ইছরাইলর উপরে বাদশাই করবা, তান বাদশাই কুনুদিনউ ফুড়াইতো নায়।”

34তেউ বিবি মরিয়মে ফিরিস্তারে কইলা, “ইতা কিলান অইবো? আমার তো বিয়া-শাদিউ অইছে না।” 35ফিরিস্তায় কইলা, “পাক রুহ আপনার উপরে নাজিল অইবা, আর আল্লার কুদরতি ছায়া আপনার উপরে আইবো। এরদায়উ আপনার ঘরো যে পাক আওলাদে জনম লইবা, তানরে ইবনুল্লা, মানি আল্লার খাছ মায়ার জন কইয়া ডাকা অইবো। 36হুনউক্কা, আপনার কুটুম বিবি এলিছাবেতর বেয়াপারে মানষে কইতা না নি, তান কুনু হুরুতাউ অইতা নায়? অইলে অখন তো অউ মুরব্বি বয়সো তান পেটোও ছয় মাসর পুয়া আছে। 37তে আল্লায় পারইন না, ইলা কুন্তাউ নাই।”

38মরিয়মে কইলা, “আমি তো আল্লার বান্দি; আপনার কথামতোউ হকলতা ফলউক।” বাদে ফিরিস্তা তান গেছ থাকি বিদায় অইগেলা।

বিবি মরিয়ম বিবি এলিছাবেতর বাড়িত গেলা

39এরবাদে বিবি মরিয়ম উড়া-তাড়া করি, এহুদিয়া জিলার এক পাড়িয়া গাউত গেলা। 40গিয়া হনো ইমাম জাকারিয়ার বাড়িত হামাইয়া, তান বিবি এলিছাবেতরে ছালাম করলা। 41এলিছাবেতে মরিয়মর আওয়াজ হুনার লগে লগেউ, তান পেটর হুরুতা আখতা লড়িয়া উঠিলা। তাইন পাক রুহে কামিল অইয়া, 42জুরে জুরে কইলা, “দুনিয়ার তামাম বেটিন্তর মাজে তুমিউ কপালি, তুমার পেটর ছাবালও কপালি। 43আমার মুনিবর মা আমার ঘরো তশরিফ আনছইন, আমার অতো বড় কপাল কিলা অইলো? 44আমি তুমার আওয়াজ হুনার লগে লগেউ, আমার পেটর গেদায়ও খুশিয়ে লড়িয়া উঠিছইন। 45তুমি তো কপালি বেটি, কারন মাবুদে তুমারে যেতা জানাইছইন, তুমি দিলে-জানে ইতা একিন করছো।”

46অউ বিবি মরিয়মে কইলা,

“আমার কলবে তারিফ করের আমার মাবুদর,

47বেহেস্তি খুশিয়ে ভরিগেছে আমার অন্তর,

তরাওরা চান্দ আইছইন, অভাগিনির ঘর।

48চউখ তুলিয়া চাইছইন দয়াল, কাংগাল বান্দির বায়,

এরদায়উ তামাম জাতিয়ে সাবাস সাবাস গায়,

বড় কপালি কইবা মোরে, যুগ-যুগান্তর।

49শক্তিমানে করলা মোরে অতো বড় কাম,

আমার লাগি অইছইন তাইন কুদরতি আছান,

তাইনউ তো ছুবহানাল্লা, পাক-পবিত্র তাইন।

50যেরা তানে তাজিম করি রইন ডরাইয়া,

রহম করইন তাইন ইতারে নিজর জানিয়া,

ওয়ারিশে ওয়ারিশে রহম, তাইনউ বিলাইন।

51তানউ কুদরতি আতে করছইন মহা কাম,

মনর গরিমায় যেতায় করে বড়াই শান,

ইতারে খেদাইয়া দিয়া, বৈতল বানাইছইন।

52রাজা-বাদশাইন হকির অইলা গদি খুয়াইয়া,

হকির অকল বাদশা অইলা রহমত পাইয়া,

উচা-নীচা হকির-বাদশা, তাইনউ বানাইছইন।

53উপাসি কাংগালরে দিলা ভালা ভালা খানি,

ভুকাসির পেটো গেল দামি দানা-পানি,

ধনি জনরে খালি আতে, খেদাইয়া দিছইন।

54তাইন যেলা ওয়াদা করছলা ময়-মুরব্বির লগে,

অলাউ তো আছান করছইন বনি ইছরাইলরে,

বনি ইছরাইল অইলা আল্লার আপন গুলাম।

55ইব্রাহিমরে ইয়াদ রাখছইন রহম বরকত দিবা,

লগে তান খান্দানেও অউ দয়া পাইবা,

চিরকালিন অউ ওয়াদা মনো রাখিছইন॥”

56বিবি মরিয়ম তান কুটুম এলিছাবেতর গেছে তিন মাস রইলা, হেশে তান নিজর বাড়িত গেলাগি।

হজরত এহিয়া (আঃ) অর জনম

57বাদে মিয়াদ পুরা অইয়া হারলে এলিছাবেতর ঘরো এক পুয়া অইলা। 58মাবুদে তানরে অতো বড় রহম করছইন হুনিয়া, আরি-ফরি আর খেশ-কুটুম অকল আইয়া তান লগে খুশি-বাসি করলা।

59ইহুদি অকলর রেওয়াজ মাফিক জন্মর আট দিনর দিন, পুয়ার মছলমানি আর আকিকা করানির লাগি তারা হকল দলা অইলা। তারা চাইলা, বাফর নামর লাখান পুয়ার নামও অউক। 60অইলে মাʼয় ইখান মানলা না, তাইন কইলা, “না, এর নাম অইবো এহিয়া।” 61তারা কইলা, “তুমার খেশ-কুটুমর মাজে তো ইলা নাম কেউরর নাই।”

62তেউ তারা ইশারায় পুয়ার বাফরে জিকাইলা, তাইন কুন নাম পছন্দ করইন। 63জাকারিয়ায় তারার গেছ থাকি খাতা-কলম নিয়া লেখলা, “তার নাম এহিয়া।”

অউ তারা হকল তাইজ্জুব অইগেলা। 64আর লগে লগেউ জাকারিয়ার জবান খুলি গেল, তাইন মাত-কথা মাতিলা আর আল্লার শুকরিয়া আদায় করলা। 65ইতা দেখিয়া আরি-ফরি হকলে ডরাইগেলা। এহুদিয়া জিলার পাড়িয়া অঞ্চলর হকল মানষর মুখে মুখে অউ খবর রটিগেলো। 66যতো মানষে ই ঘটনা হুনছিল, তারা হকলেউ মনে মনে চিন্তা করি কইলো, বড় অইয়া হারলে ই পুয়া কিতা অইবো। কারন মাবুদর কুদরতি আত তান উপরে আছিল।

হজরত জাকারিয়া (আঃ) নবীর মুখো গাইবি খবর

67বাদে পুয়ার বাফ জাকারিয়া, পাক রুহে কামিল অইয়া অউ গাইবি খবর কইলা,

68“শুকরিয়া জানাই আমি বন্দায় আল্লা মাবুদর,

আছান করছইন তাইন নিজে আপন ইছরাইলর,

খিয়াল করি করলা আজাদ নিজর গুলাম দল।

69আমরার লাগি পছন্দ করলা দাউদ খান্দানরে,

বল-তাক্কতি কান্ডারিরে আনলা অখান থনে,

দেখাইলায় দয়াল মোরে নাজাত কররা জন।

70নবী অকলে জবানদি কইছলা বউত আগে,

তাইনউ কওয়াইছলা ইতা নবী অকলর মুখে,

তাক্কতি কান্ডারিউ অইবা দাউদ কুলর বল।

71দুশমন অকলর কবজা থাকি তাইন বাচাইলা,

ঘিন-ইংসা কররা থাকি অখন ফানা দিলা,

আমরারে বাচাইলা আইয়া দয়াল মউলার জন।

72বাচাইলা আমরারে খালি ময়-মুরব্বির খাতিরে,

কছম করা পাক ওয়াদা পুরানির নিয়তে,

ময়-মুরব্বিরে জবান দেওয়ায় আমরা বাচিলাম।

73কছম করি ওয়াদা করছলা দয়াল আল্লায়,

ইব্রাহিমরে জানাইলা তাইন নাজাতর উপায়,

ইব্রাহিম নবীউ অইলা আমরার আসল বাফ।

74-75আমরারে বাচাইতা করি মউলার অউ কছম,

দুশমন থাকি বাচার লাগি বাতাই দিলা নিয়ম,

জিন্দা যদিন আছি আমরা নিচিন্তা রইতাম।

ডর-খফ ছাড়া আমরা যানু করি এবাদত,

পরেজগার আর ছহি পথে থাকি নিরাপদ,

তান ছামনে রইয়া যাতে করি তান খেজমত।

76ওরে আমার মায়ার পুত এহিয়া বাবাজি,

তুমারে তো ডাকা অইবো আল্লাতালার নবী,

মুনিবর আগে রইয়া ছহি করবায় পথ।

77বাতাই দিবায় তুমি তান বন্দা অকলরে,

গুনা মাফির পথ চিনবা তুমার তালিমে,

বাতাইয়া দিবায় বাবা নাজাত পাওয়ার পথ।

78আমরার আল্লার রহম আর হউ মহব্বতে,

বেহেস্তি নুরর এক সুরুজ আইবা উপরেতে,

আমরার উপরে আইয়া হারি রাখিবা নজর।

79মউত আর আন্দারির গাতো যেরা কাটায় দিন,

নুরর পথ দেখবা তারা করিয়া একিন,

আমরারেও শান্তির পথে চালাইবা অউ জন।

অউ হুজুর নাজিল অইয়া দেখাইবা কুদরত,

তাইনউ হউ ওয়াদা করা আল্লাই রহমত॥”

80বাদে এহিয়া আস্তে আস্তে বড় অইলা, লগে অইয়া তান রুহানি বলও বাড়িলো। বনি ইছরাইলর ছামনে খুলা-মেলা জাইর অইবার আগ পর্যন্ত, তাইন মরুভুমির মাজে দিন কাটাইলা।

2

হজরত ইছা আল-মসীর জনম

1অউ সময় রোমান বাদশা আগস্ত কৈছরে হুকুম দিলা, তান আস্তা বাদশাইর হকল প্রজায় যারযির নাম লেখানির লাগি। 2সিরিয়ার হাকিম কুরিনিয়াছর আমলো, অউ পয়লা বার মানুষ গনার লাগি নাম লেখাইল অইলো। 3তেউ নাম লেখানির লাগি হকল মানুষ যারযির বুনিয়াদি গাউত গেলা।

4অউ লাখান ইউছুফও নাম লেখানির লাগি গালিল জিলার নাছারত গাউ থাকি বাদশা দাউদর গাউত আইলা। তাইন তো দাউদর খান্দানর মানুষ। গাউর নাম বেথেলহাম, ইটা এহুদিয়া জিলাত। 5বিবি মরিয়মও অউ ইউছুফর লগে অইয়া নাম লেখানিত গেলা। অউ ইউছুফর লগেউ তান শাদি ঠিক অইছিল, আর তান পেটো অউ সময় হুরুতা আছিল। 6বেথেলহামো থাকতেউ মরিয়মর হুরুতা অইবার বিষে ধরলো। 7আর তান পয়লা পুয়ার জনম অইলো। অইলে হিনো কুনু মেহমান খানাত থাকার জাগা মিললো না, এরদায় মরিয়মে অউ হুরুতারে তেনাদি বেরাইয়া গোয়াল ঘরর খেরর গামলাত হুতাই থইলা।

ফিরিস্তা আর রাখাল অকল

8অউ বেথেলহাম গাউর কান্দাত বন্দর মাজে, মেড়ার রাখাল অকলে রাইতকুর বালা তারার মেড়া পারা দেওয়াত আছিল। 9আখতাউ আল্লার এক ফিরিস্তা তারার ছামনে আইয়া দরশন দিলা, আর মাবুদর নুরর তেজে চাইরোবায় ফর অইগেল। ইতা দেখিয়া রাখাল অকল ডরর চুটে বেদিশা বনিগেলা।

10অইলে ফিরিস্তায় তারারে কইলা, “তুমরা ডরাইও না। আমি তুমরার লাগি খুব খুশির খবর লইয়া আইছি। ই খুশ-খবরি দুনিয়ার তামাম মানষর লাগি। 11হুনো, তুমরার তরানেআলা আইজ দাউদর গাউত জনম লইছইন। তাইনউ আল-মসী, তাইনউ মালিক। 12তুমরা গিয়া এর পরমান দেখবায়, দেখবায় এক কাচা হুরুতারে তেনাদি বেরাইয়া, গোয়াল ঘরর খেরর গামলাত হুতাইয়া থওয়া অইছে।”

13অউ সময় আখতাউ হউ ফিরিস্তার লগে আরো বউত ফিরিস্তারে দেখা গেল। এরা আল্লার জিকির-আজকার করি করি কইলা,

14“আছমানো আল্লার লিলা-খেলা দেখা যাউক,

দুনিয়ার বুকুত তান পিয়ারা বন্দার শান্তি অউক।”

15বাদে ফিরিস্তা অকল তারার গেছ থাকি আছমানো গিয়া হারলে, রাখাল অকলে একে-অইন্যরে কইলো, “আও, আমরা বেথেলহামো যাই। মাবুদে আমরারে যে খবর জানাইলা, অতা দেখিয়া আই।”

16মাতি মাতি তারা জলদি করি গেলা, গিয়া মরিয়ম, ইউছুফ আর খেরর গামলাত হুতাইল অউ হুরুতারে পাইলা। 17পাইয়া অউ হুরুতার বেয়াপারে তারারে যে খবর জানাইল অইছিল, ইতা তারা হকলরে কইলা। 18তারার মাত হুনিয়া হকলেউ তাইজ্জুব অইগেলা। 19অইলে মরিয়মে হকলতা দিলর মাজে গাথিয়া রাখলা, আর মনে মনে চিন্তাত রইলা। 20ফিরিস্তা অকলে রাখাল অকলরে যেলা কইছলা, এরা ইতা দেখিয়া হুনিয়া আল্লার জিকির তারিফ করি করি ফিরত গেলাগি।

21বাদে জন্মর আট দিনর দিন আকিকা আর মছলমানি করানির বালা, তান নাম রাখা অইলো ইছা। মাʼর পেটো আইবার আগেউ ফিরিস্তায় অউ নাম থইছলা।

গেদা ইছারে বায়তুল-মুকাদ্দছো আনলা

22এরমাজে মুছা নবীর শরিয়ত মাফিক তারার পাক-ছাফ অওয়ার সময় অইলো। তেউ ইছারে মাবুদর আতো সপিয়া দিবার নিয়তে, ইউছুফ আর মরিয়মে তানে লইয়া জেরুজালেম টাউনো আইলা। 23মাবুদর শরিয়তর হুকুম আছিল, পরতেক জানদারর পয়লা পুয়ারে আল্লার নামে সপিয়া দিতে অইবো। 24এরলগে, এক জুড়া ডুপি পাখি বা পারোর দুইটা বাইচ্চা কুরবানি দিতে অইবো, শরিয়তর অউ হুকুম মাফিক তারা কুরবানি দেওয়াত আইলা।

25অউ সময় জেরুজালেম টাউনো ছামাউন নামর একজন আল্লারাইয়া বুজুর্গ আছলা, তাইন পাক রুহে কামিল। তাইন মনে মনে বার চাওয়াত আছলা, আল্লায় কুন সময় বনি ইছরাইলরে শান্তি দিবা। 26পাক রুহ তান লগে আছলা, অউ রুহে তানরে বাতাইছলা, তান মউতর আগেউ আল্লার ওয়াদা করা আল-মসীরে তাইন দেখবা। 27পাক রুহর ইশারায় ছামাউন অউ দিন বায়তুল-মুকাদ্দছো আজির অইলা। ইছার মা-বাফেও শরিয়তর হুকুম আদায় করার নিয়তে, গেদা ইছারে লইয়া অনো আইলা। 28অউ কামিল বুজুর্গ ছামাউনে ইছারে কুলো লইয়া আল্লার শুকরিয়া আদায় করলা। তাইন কইলা,

29“ও মালিক, তুমার জবান মাফিক

তুমার ই গুলামরে অখন শান্তিয়ে বিদায় দেও।

30-31আদম জাতিরে তরানির লাগি,

তামাম মানষর চউখর ছামনে,

তুমি যে উছিলা কাইম করছো হউ আল-মসীরে

আমার নিজ চউখে দেখিয়া গেলাম।

32তুমার খাছ প্রজা বনি ইছরাইলর গৌরব তো এইনউ,

বাদ-বাকি তামাম জাতিরেও পথ দেখানির নুর।”

33ছামাউনে ইছার বেয়াপারে অউ যেতা কইলা, ইতা হুনিয়া ইছার মা-বাফ তাইজ্জুব অইগেলা। 34ছামাউনে তারারে দোয়া দিলা, তাইন ইছার মা মরিয়মরে কইলা, “হুনো, আল্লা পাকর খিয়াল অইলো, অউ হুরুতার দরুন বনি ইছরাইলর বউত জনে নাজাত হাছিল করবা, আর বউত জন লান্নতি অইবা। তাইন অউ লাখান এক নিশানা, তান বিপক্ষে বউতেউ মাতিবো। 35অতা থাকি তারার দিলর হাল-হকিকত বুজা যাইবো। আর হুনো, তলোয়ারে কাটিলে যেলা অয়, তুমার দিলোও অলা দুখর ছেল হামাইবো।”

36অউ সময় হান্না নামর একজন বেটি মানুষও আছলা, তাইন আল্লার নবী। তান বাফর নাম পানুয়েল, আর খান্দানর নাম আশির। তান বউত বয়স অইগেছে, সাত বছর জামাইর ঘর করিয়া হারি, 37চৌরাশি বছর পর্যন্ত ড়াড়ি হালতে আছলা। তাইন বায়তুল-মুকাদ্দছর ভিতরে রোজা রাখতা আর দোয়া করতা। এবাদত-বন্দেগির মাজে রাইত-দিন কাটাইতা, বারে বার অইতা না। 38ঠিক অউ সময় তাইনও অনো আইয়া আল্লার শুকরিয়া আদায় করলা। আর যেরার দিলো অউ আশা আছিল, আল্লা পাকে জেরুজালেমরে আজাদ করবা, তারার লগেও তাইন ইছার বেয়াপারে বাতচিত করলা।

39মরিয়ম আর ইউছুফে মাবুদর শরিয়ত মাফিক হকল কাম শেষ করিয়া হারলে, তারার বসত বাড়ি গালিল জিলার নাছারত গাউত গেলাগি।

40নাবালিক ইছার বয়স বাড়িলো, এরলগে তাইন শরিলর বল আর ইলিম-আখলেও মজবুত অইলা। আল্লার রহমত তো তান লগে আছিল।

বারো বছরর হজরত ইছা জেরুজালেম কাবা শরিফো

41ইহুদি অকলর আজাদি ইদর সময় আইলে ইছার মা-বাফ পরতি বছরউ জেরুজালেমো যাইতা। 42ইছার বয়স যেবলা বারো বছর, অউ সময়ও হউ রেওয়াজ মাফিক তারা জেরুজালেমো আইলা। 43ইদ শেষ অইয়া হারলে তারা বাড়িত রওয়ানা দিলা, অইলে ইছা অউ সময় ই দলর লগে না গিয়া জেরুজালেমো রইগেলা। তান মা-বাফে ইখান টের পাইলা না। 44ইছাও দলর ভিতরে আছইন মনো করিয়া তারা একদিনর পথ আগুয়াই গেলা। গিয়া তারার খেশ-কুটুম আর লগর মানষর গেছে তালাশ করিয়া তানরে পাইলা না। 45না পাইয়া তানরে তুকাই তুকাই হিরবার জেরুজালেমো আইলা। 46তিন দিন তালাশ করিয়া তানরে বায়তুল-মুকাদ্দছো পাইলা। তারা দেখলা, তাইন মৌলানা অকলর লগে বইয়া তারার বয়ান হুনরা, আর নানান মুছলা জিকাইরা। 47আর যতো মানষে তান মাত হুনলা, তারা হকলেউ তান আখলদারি বাতচিত হুনিয়া তাইজ্জুব বনিগেলা। 48তান মা-বাফেও তানরে দেখিয়া এক্কেরে চমকিগেলা। মাʼয় তানরে জিকাইলা, “পুতরে, তুমি আমরার লগে ইতা করলায় কেনে? আমি আর তুমার বাফে কত পেরেশান অইয়া তুমারে তুকাইরাম।” 49ইছায় জুয়াপ দিলা, “তুমিতাইন কেনে আমারে তুকাইরায়? জানো না নি, আমি তো আমার গাইবি বাফর ঘরোউ রইতে অইবো?” 50তান মা-বাফে ই মাতর কুনু ভেদ বুজলা না। 51বাদে তাইন বার অইয়া মা-বাফর লগে অইয়া নাছারতো গেলা, আর তারার কথামতো চললা। অইলে তান মাʼয় ইতা হক্কলতা দিলো গাথিয়া রাখলা।

52এরমাজে আল্লার মহব্বত, মানষর মায়া, বয়স আর ইলিম-আখলে তাইন আস্তে আস্তে বড় অইলা।

3

আল্লার কাম করার লাগি হজরত ইছা জুইত অইলা (৩:১-৪:১৩)

হজরত এহিয়া নবীর তবলিগ

1রোমান বাদশা তিবিরিয় কৈছরর বাদশাইর পনরো বছর চলের। অউ সময় পন্তীয় পিলাত আছলা তান অধীনর এহুদিয়া জিলার হাকিম, আর হেরোদ আছলা গালিল জিলার রাজা, হেরোদর ভাই ফিলিফ আছলা যিতুরিয়া আর তাখুনিতি জিলার রাজা, আর লুসানিয়াছ আছলা আবিলিনি জিলার রাজা। এরা হকলউ আছলা রোমান বাদশার অধীনে। 2অউ আমলর ইহুদি জাতির পরধান ইমাম আছলা, ইমাম হানন আর কায়াফা। ঠিক অউ সময় জাকারিয়ার পুত এহিয়ার গেছে মরুভুমি এলাকাত আল্লায় তান কালাম নাজিল করলা। 3তেউ এহিয়া নবীয়ে জর্দান গাংগর কান্দা-কাছার হকল খানো গিয়া তবলিগ করলা। কইলা, গুনা থাকি মাফি পাওয়ার লাগি তৌবা করিয়া তরিকার গোছল করা জরুর। 4এহিয়া নবীর বেয়াপারে ইশায়া নবীর কিতাবো যেলা লেখা আছিল, তাইন অউলা করলা। লেখা আছে,

মরুভুমির মাজে একজনে এলান কররা,

তুমরা মালিকর পথ ছহি করো,

তান চলার রাস্তা অকল সিদা করো।

5পাড়িয়া হক্কল নীচা জাগা ভরাট অইবো,

উচা-নীচা টিল্লাইন হমান করা অইবো।

তেড়া-বেকা হকল পথ সুজা অইবো,

গাত-গাড়া হকলতা হমান করা অইবো।

6আর দুনিয়ার মানষরে তরানির লাগি

আল্লায় নাজাতর যে উছিলা করছইন

তামাম মানষেউ ইতা দেখবা।

7এহিয়া নবীর তবলিগ হুনিয়া তৌবার গোছল করার নিয়তে যেরা আইলো, তাইন এরারে কইলা, “ও হাফর বাইচ্চাইন, আছমানি গজব আইওর দেখিয়া জান বাচানির পথ তুমরারে খেগিয়ে বাতাই দিলো? 8হাছাউ যুদি তুমরা তৌবা করিয়া থাকো, তে এর ফলও দেখাও। মনে মনে কইও না, তুমরা ইব্রাহিমর আওলাদ। হুনো, আমি কইরাম, আল্লায় চাইলে তো অউ পাথর অকল থাকিউ ইব্রাহিমর আওলাদ বানাইতা পারবা। 9গাছর গুড়িত তো কুড়াল লাগাইলউ আছে। যে গাছো ভালা ফল ধরে না, ই গাছ কাটিয়া আগুনিত ফালাইল অইবো।”

10ইতা হুনিয়া মানষে এহিয়ারে জিকাইলা, “তে আমরা কিতা করতাম?” 11তাইন কইলা, “কেউরর যুদি দুইটা কোর্তা থাকে, তে যার নাই তারে একটা দেউক। যার ঘরো ধান-চাউল আছে, হে-ও অউলা বিলাউক।”

12খাজনা তুলরা কয়জন তশিলদারে তৌবার গোছল করাত আইয়া জিকাইলা, “মুরশিদ, আমরা কিতা করতাম?” 13তাইন কইলা, “নিয়ম থাকি বেশি টেকা আদায় করিও না।”

14কয়জন সিপাইয়েও জিকাইলা, “হুজুর, তে আমরা কিতা করতাম?” তাইন কইলা, “কেউররে জুর-জুলুম করিয়া বা ফান্দো ফালাইয়া কুন্তা আদায় করিও না। যারযির বেতনে খুশি রইও।”

15মানষে মনে মনে আল-মসীর লাগি বার চাওয়াত আছিল, এহিয়ারে দেখিয়া তারা খুব আশা করলো, এইনউ মনোলয় আল-মসী। 16অইলে এহিয়ায় তারারে কইলা, “আমি খালি পানিদি তৌবার গোছল করাইয়ার, তে আমার বাদে যেইন তশরিফ আনরা, তাইন আমা থাকিও তাক্কত আলা। তান পাওর জুতার ফিতা গেছা খুলার জুকাও আমি নায়। তাইন আইলে পাক রুহ আর আগুইন দিয়া তুমরারে গোছল করাইবা। 17তান কুলা তো তান আতোউ আছে, মাড়া দেওয়া ধান অউ কুলাদি উয়াইয়া হারি ধান নিয়া উগারো তুলবা, আর ছুছারে অমন আগুনিত ফালাই জালাইবা, যে আগুইন কুনুদিন নিভে না।”

18অউ লাখান আরো বউত নছিয়ত করিয়া এহিয়ায় মানষর গেছে খুশ-খবরি তবলিগ করলা। 19অইলে রাজা হেরোদে বউত নমুনার খারাপ কাম করায়, আর তার ভাইর বউ হেরোদিয়ারে হাংগা করায়, এহিয়ায় তারে দুষি সাইবস্তো করলা। 20এরদায় হে তার হকল কু-কামর লগে এওখানও বাড়াইলো, হে নবী এহিয়ারে জেলো হারাইলিলো।

হজরত ইছায় পাক গোছল করলা

21এহিয়া নবী জেলো হামানির আগে, তান গেছে আইয়া যেবলা বউত মানষে তৌবার গোছল কররা, অউ সময় ইছাও অনো আইয়া তারার লগে গোছল করলা। গোছলর বাদে ইছায় যেবলা দোয়া কররা, আখতাউ আল্লার আরশর দুয়ার খুলি গেল, 22আর পাক রুহ পারোর ছুরত ধরিয়া তান উপরে নাজিল অইলা। লগে লগে বেহেস্তি অউ আওয়াজও হুনা গেল, “তুমিউ আমার খাছ মায়ার জন, তুমার উপরে আমি খুব খুশি।”

হজরত ইছা আল-মসীর খান্দানর পরিচয়

23অনুমান তিশ বছর বয়সর কালো ইছায় তবলিগ কাম শুরু করলা। মানষে জানতা তাইন ইউছুফর পুয়া। ইউছুফর ময়-মুরব্বি অইলা,

24আলি, মাত্থাত, লেবি, মালকি, ইয়ান্নাই, ইউছুফ,

25মাত্থাতিয়া, আমোজ, নাউম, ইছলি, নাগ্গাই,

26মাহাত, মাত্থাতিয়া, শিমীয়, ইউসেখ, ইয়োদা,

27ইউহান্নান, রীসা, জেরবাবিল, সালতিয়েল, নীরি,

28মালকি, আদ্দি, কাছাম, ইলমাদাম, ইয়ের,

29ইউছা, এলিয়েজের, ইউরিম, মাত্থাত, লেবি,

30শিমিয়ন, এহুদা, ইউছুফ, ইউনান, ইলিয়াকিম,

31মালিয়া, মান্না, মাত্থাতা, নাথান, দাউদ নবী,

32ইয়াছ, উবায়েদ, বোয়াজ, সেলিম, নাহিশ,

33আমিনাদাব, আদমিন, আরনী, হাছির, ফিরোজ, এহুদা,

34ইয়াকুব নবী, ইছহাক নবী, ইব্রাহিম নবী, তারেখ, নাহুর,

35সারুজ, রাউ, ফালেজ, আবের, শালেখ,

36কিনান, আর্ফাক্সাদ, সাম, নুহ নবী, লামাক,

37মাতুশালাখ, ইদ্রিছ নবী, ইয়ারেদ, মাহলাইল, কেনান,

38ইনোস, শিস নবী, আদম,

আল্লা পাক।

4

হজরত ইছারে ইবলিছ-শয়তানে পরিক্ষা করলো

1ইছা পাক রুহে কামিল অইয়া, জর্দান গাংগো থাকি উঠিয়া মরুভুমিত গেলাগি। গিয়া পাক রুহর ইশারায় একলাগা চাল্লিশ দিন মরুভুমিত ঘুরিলা। 2আর ইবলিছ আইয়া তানরে পরিক্ষা চালাইলো। অউ চাল্লিশ দিন একলাগারে রোজা আছলা, কুনুজাত খানা খাইছইন না। এরবাদে তান পেটো ভুক লাগলো।

3তেউ ইবলিছে তানরে কইলো, “তুমি যুদি ইবনুল্লা, আল্লার খাছ মায়ার জন অও, তে অউ পাথররে কও না রুটি অইযিতো।” 4ইছায় জুয়াপ দিলা, “আল্লার কালামো বাতাইল অইছে, খালি রুটি খাইলেউ মানুষ বাচে না।” 5বাদে ইবলিছে তানরে খুব উচা এক জাগাত লইয়া গেল, নিয়া হারি এক পলকে দুনিয়ার তামাম মুল্লুক তানরে দেখাইলো আর কইলো, 6“ই তামাম মুল্লুকর বাদশাই আর জাক-জমক আমি তুমারে দিলাইমু। ইতা হক্কলতার মালিকানা আমারে দেওয়া অইছে। আমি যারে খুশি তারে দিতাম পারি; 7খালি তুমি আমারে সইজদা করিলাও, তেউ ই হক্কলতা তুমার অইযিবো।” 8ইছায় তারে কইলা, “আল্লার কালামো আছে, তুমি খালি আপন মাবুদ আল্লারে সইজদা করবায়, খালি তান এবাদত করবায়।” 9তেউ হে ইছারে লইয়া জেরুজালেম টাউনো গেল, গিয়া পবিত্র কাবা ঘর বায়তুল-মুকাদ্দছর মিনারার উপরে তানে উবা করিয়া কইলো, “তুমি যুদি ইবনুল্লা, আল্লার খাছ মায়ার জন অও, তে দেখিছাইন, অন থাকি ফাল দিয়া লামাত পড়ো। 10কিতাবো তো লেখা আছে,

আল্লায় তান ফিরিস্তা অকলরে হুকুম দিবা,

আর তারা তুমারে বাচাইবা।

11তারা নিজর আতদি তুমারে ধরিলিবা,

যাতে তুমার পাওত কুনু পাথরর চুট না লাগে।”

12ইছায় তারে কইলা, “কিতাবো লেখা আছে, তুমি তুমার মাবুদ আল্লারে পরিক্ষা করাত লাগিও না।”

13ইবলিছে তার হকল নমুনার পরিক্ষা শেষ করিয়া, আপাততো তান গেছ থাকি হরিয়া গেলগি।

গালিল জিলাত হজরত ইছার কেরামতি আর তবলিগ (৪:১৪-৯:৫০)

নিজর গাউত হজরত ইছা

14বাদে পাক রুহর কুদরতে ইছা গালিল এলাকাত গেলা, গিয়া হারলে তান নাম চাইরোবায় রটিগেল। 15তাইন হনর মছিদো মছিদো গিয়া বয়ান-তালিম দিলা, তেউ হকল মানষে তান তারিফ করলো।

16আর ইছা হউ নাছারত গাউত আইলা, যে গাউত তাইন হুরু থাকি বড় অইছইন। অনো আইয়া তাইন নিজর নিয়ম মাফিক জুম্মাবারে মছিদো গিয়া খুতবা পড়াত উবাইলা। 17ইশায়া নবীর ছহিফাখান তান আতো দেওয়া অইলো। তাইন কিতাব খুলিয়া অউ আয়াত বার করলা, যে আয়াতো লেখা আছে,

18আমার দিলো মাবুদর রুহ বসত করইন,

তাইনউ আমারে খেলাফতি দিয়া বেজিছইন,

গরিব অকলর গেছে খুশ-খবরি জানানির লাগি।

আর বন্দি অকলর গেছে আজাদির কথা,

আন্দা অকলর গেছে চউখে দেখার কথা,

যেরার উপরে জুলুম অর তারারে বাচানির কথা

এলান করার লাগি বেজিছইন।

19আর অউ কথা এলান করার লাগিও বেজিছইন,

অখন মাবুদর রহমত দেখানির সময় অইগেছে।

20খুতবা তিলাওত করিয়া হারলে, তাইন কিতাবখান আটাইয়া মছিদর মতল্লীর আতো দিয়া বইলা, মছিদর হকল মানষে তান বায় ধিয়ান ধরি চাই রইছে। 21তাইন কইলা, “আছমানি কিতাবর ই আয়াত খানাইন, আইজ আপনারা হুনার লগে লগেউ ফলিগেল।” 22হকল মানষে তান তারিফ করলো, তান মুখ থাকি অতো সুন্দর বয়ান হুনিয়া তাইজ্জুব অইগেল। তারা কইলো, “এইন ইউছুফর পুয়া নায় নি বা?”

23এরমাজে ইছায় তারারে কইলা, “আপনারা নিচয় আমারে অউ ছিল্লেখ হুনাইবা, ডাক্তর সাব, নিজর বেমার শিফা করো। কফরনাউমো বুলে বউত কেরামতি-মোজেজা দেখাইছো, তে অখন নিজর গাউতও অতা দেখাও না। 24হুনউক্কা, আমি আপনাইন্তরে হক কথা কইরাম, কুনু নবীরেউ তান নিজর গাউর মানষে মানইন না। 25আর ইখানও হাছা কথা, ইলিয়াছ নবীর জমানাত একলাগা সাড়ে তিন বছর কুনু মেঘ অইছিল না, আস্তা দেশো বেজুইতা নিদান আছিল। হউ সময় তো ইছরাইল দেশো বউত ড়াড়ি বেটিন আছলা, 26অইলে ইলিয়াছ নবীরে এরা কেউরর গেছে না বেজিয়া, খালি সিদন দেশর সারিফত গাউর এক ড়াড়ি বেটির গেছে বেজা অইছিল। 27আর আলিয়াছা নবীর আমলো ইছরাইল দেশো বউত পচা-কুষ্ঠ বেমারি আছলা, অইলে এরা কেউররে ভালা না করিয়া, খালি সিরিয়া দেশর নামানরে ভালা করা অইছিল।”

28ইখান হুনিয়াউ মছিদর সব মানুষ গুছায় আগুইন অইগেলা। 29তারা উঠিয়া তানরে ঠেলিয়া খেদাইয়া গাউর বারে লইয়া গেল, গিয়া গাউর কুনার খাড়া টিল্লার উপরে নিয়া, ধাক্কাদি তলে ফালাইতো চাইলো। 30অইলে ভিড়র মাজ থনে তাইন আটিয়া হরিয়া গেলাগি।

আল-মসীয়ে বউত বেমারির শিফা করলা

31বাদে ইছা গালিল এলাকার কফরনাউম টাউনো গেলা, গিয়া জুম্মাবারে মানষরে ওয়াজ-নছিয়ত করলা। 32তান ওয়াজ হুনিয়া মানুষ তাইজ্জুব অইগেলা, তাইন তো পুরা হিম্মত আলা জনর লাখান তালিম দিতা।

33হউ মছিদো জিনর আছর আলা এক বেটা আছিল। হে জুরে জুরে চিল্লাইয়া কইলো, 34“ও নাছারতর ইছা, আমরার গেছে কেনে আইছইন? আমরারে বিনাশ করাত আইছইন নি? আমি জানি আপনে কে, আপনেউ আল্লার হউ পাক-পবিত্র জন।” 35ইছায় তারে ধামকি দিয়া কইলা, “চুপ, এর ভিতরে থাকি বার অই যা।” জিনে লগে লগেউ তারে আছাড় মারি হকলর মাজখানো ফালাইয়া, কুনুজাত খেতি না করিয়া ছাড়িয়া গেলোগি। 36ইতা দেখিয়া মানুষ তাইজ্জুব বনিয়া মাতা-মাতি লাগাইলা, “ইতা কিতা দেখলাম? তাইন হিম্মত আর খেমতা খাটাইয়া জিন অকলরে হুকুম দেইন, তারাও দেখি বার অইয়া যায়গি।” 37বাদে হিনর হক্কল জাগাত ইছার কেরামতির খবর রটিগেল।

38মছিদ থাকি বার অইয়া তাইন সাইমনর বাড়িত গেলা। সাইমনর হড়ির খুব বেশি তাপ উঠছিল, এরদায় হকলে ইছারে খুব মিনত করলা। 39তাইন সাইমনর হড়ির কান্দাত উবাইয়া তাপরে ধমক দিলা। ধমকর লগে লগেউ তাপে ছাড়িদিলো। বেটিয়ে উঠিয়া তারার মেহমান দারিত লাগলা।

40হাইঞ্জা বালা মানষে বউত জাতর বেমারিরে লইয়া ইছার গেছে আইলা। ইছায় তারা হকলর গতরো আতাই দিয়া বেমার ভালা করলা। 41জিনর আছর আলাও বউত বেমারি আছলা, তারাও ভালা অইলা। জিন অকলে জুরে জুরে চিল্লাইয়া কইলা, “আপনেউ ইবনুল্লা, আল্লার খাছ মায়ার জন।” অইলে তাইন ইতারে ধামকি দিয়া মুখ বন্দ করলা। তারার তো জানা আছিল, তাইনউ আল্লার ওয়াদা করা হউ আল-মসী।

42বিয়ানে উঠিয়া হারি, ইছা হি গাউ ছাড়িয়া এক নিরাই জাগাত আইলা। মানষে তানরে তুকাই তুকাই তান ধারো আইলো, আইয়া মিনত-কাজ্জি করলো যাতে তাইন তারার গেছে রইন। 43অইলে তাইন জুয়াপ দিলা, “আমি আরো বউত জাগাত গিয়া আল্লার বাদশাইর খুশ-খবরি তবলিগ করা জরুর, অউ কামর লাগিউ আল্লায় আমারে বেজিছইন।” 44বাদে তাইন আস্তা ইহুদি দেশর মছিদাইন্তো গিয়া তবলিগ করলা।

5

গাইবি মাছ পাইয়া ইমান আনা

1এক দিন ইছা গালিল আওরর পারো উবা আছলা, অউ সময় বউত মানুষ আল্লার কালাম হুনার লাগি তান কান্দাত আইয়া ঠেলাঠেলি লাগাইলা। 2ইছায় দেখলা, আওরর কিনারো দুখান জালুয়া নাও লাগাইল। নাও থাকি লামিয়া জালুয়া অকলে তারার জাল ধইরা। 3ইছা গিয়া সাইমন নামর এক জালুয়ার নাওয়ো উঠিয়া তারে কইলা, নাওখান ভাসাইয়া কিছু পানিত নিবার লাগি। কইয়া তাইন নাওয়ো বইয়া মানষরে ওয়াজ-নছিয়ত করাত লাগলা।

4নছিয়ত বাদে তাইন জালুয়া সাইমনরে কইলা, “নাওখান গইন পানিত নেও আর জাল ফালাও।” 5সাইমনে কইলা, “হুজুর, আস্তা রাইত কষ্ট করিয়াও কুনু মাছ পাইছি না, তা-ও আপনার কথায় জাল ফালাইরাম।”

6জাল ফালানির বাদে অতো বেশি মাছ জালো হামাইলা, মাছর ঠেলায় জাল ফারিযিবার দশা। 7অউ তারা সাইয্যর লাগি লগর নাওর জালুয়ারে ডাক দিলা। তারা আইয়া মাছ ধরিয়া নাও ভরিলিলা, জালো অতো মাছ হামাইছিল যেন, মাছর ভারে দুইও নাও ডুবুডুবু অইগেল। 8ইতা দেখিয়া, সাইমন-পিতরে ইছার পাওয়ো পড়িয়া কইলা, “হুজুর, আমি তো গুনাগার মানুষ, আমার গেছ থাকি তশরিফ খান নেউক্কাগি।” 9কারন, অতো মাছ দেখিয়া সাইমন-পিতর আর তান লগর হক্কলে তাইজ্জুব বনিগেলা। 10সাইমনর লগর জালুয়া জিবুদিয়ার দুইও পুয়া ইয়াকুব আর হান্নানেও ইতা দেখিয়া তাইজ্জুব অইলা। তেউ ইছায় সাইমনরে কইলা, “ডরাইও না, অখন থাকি আর মাছ নায়, তুমি আল্লার নামে মানুষ ধরবায়।” 11বাদে তারা নাও লইয়া কিনারাত আইলা, আর হক্কলতা থইয়া ইছার লগে রওয়ানা অইগেলা।

নাপাক পচা-কুষ্ঠ বেমারিরে ভালা করা

12একবার ইছা এক গাউত গেলা। হউ গাউর এক বেটার আস্তা গতর জুড়ি নাপাক পচা-কুষ্ঠ বেমার আছিল। ইছারে দেখিয়াউ হে তান পাওয়ো পড়িয়া মিনত-কাজ্জি লাগাইলো, “হুজুর, আপনার মনে চাইলে তো আমারে অউ নাপাক বেমার থাকি ভালা করতা পারবা।” 13ইছায় আত বাড়াইয়া তারে ছইয়া কইলা, “অয়, আমিও চাইরাম, তুমি পাক-ছাফ অও।” কওয়ার লগে লগেউ তার বেমার কমিগেল।

14ভালা অইয়া হারলে ইছায় তারে হুকুম দিলা, “ইতা আর কেউররে হুনাইও না, তুমি গিয়া খালি ইমাম ছাবরে দেখাও। মুছা নবীর শরিয়ত মাফিক পাক-ছাফ অওয়ার লাগি যেলা কুরবানি করা জরুর, অউ কুরবানি দিলেউ মানষে জানিলিবা, তুমি ভালা অইছো।” 15অইলে ইছার খবর চাইরোবায় রটিগেল। এরদায় তান মুখর বুলি হুনার লাগি আর বেমারি অকল ভালা অওয়ার নিয়তে, বউত মানুষ তান গেছে আইলা। 16অইলে তাইন কুনু না কুনু নিরাই জাগাত গিয়া হামেশা দোয়া করতা।

গুনা মাফ করার খেমতা হজরত ইছার আছে

17একদিন ইছা তালিম দেওয়াত আছলা, অউ মজলিছো আলিম অকল আর ফরিশি মজহবর বউত মোল্লাইন বওয়াত আছলা। তারা জেরুজালেম টাউন, গালিল আর এহুদিয়া জিলার নানান গাউয়াইন থাকি আইছইন। ইছার মাজে মাবুদর কুদরতি বল আছিল, অউ বলেউ বেমারি অকলরে শিফা করতা।

18এরমাজে কয়জন মানষে একজন অবশ বেমারিরে পলোদি বইয়া লইয়া আইলা। তারা চাইলা তারে নিয়া ঘরর ভিতরে ইছার ছামনে থইতা। 19অইলে ভিড়র লাগি ঘরো হামানির পথ পাইলা না। অউ তারা চালর উপরে উঠিয়া, চালর ছানি খুলিয়া পলো সুদ্ধা বেমারিরে ইছার ছামনে মানষর মাজখানো লামাই দিলা। 20তারার ইমানর বল দেখিয়া ইছায় কইলা, “ভাইরে, তুমার গুনা মাফ করি দিলাম।”

21ইখান হুনিয়া আলিম অকলে আর ফরিশি দলর মোল্লাইন্তে মনে মনে কইলা, “ই মানুষগু খেগু, হে অলা শিরিকি করের? খালি আল্লা ছাড়া আর কেউ গুনা মাফ করতো পারে নি?” 22তারার দিলর চিন্তা ইছায় বুজিলিলা, বুজিয়া কইলা, “আপনারা কেনে ইলা চিন্তা কররা? 23আমি কুনখান কওয়া সুজা, তুমার গুনা মাফ করি দিলাম? বা তুমি উঠিয়া আটিয়া তুমার বিছনা লইয়া বাড়িত যাওগি? কুনখান সুজা? 24তে অখন আপনারা পরমান দেখউক্কা, ই দুনিয়াত গুনা মাফির খেমতা আমি বিন-আদমর আছে।” অখান কইয়াউ তাইন বেমারি বেটারে কইলা, “ওবা, আমি তুমারে কইরাম, উঠো, তুমার খেতা-বালিশ লইয়া বাড়িত যাওগি।” 25কইতেউ হি বেমারি বেটা হকলর ছামনে উবাইয়া, তার খেতা-বালিশ লইয়া আল্লার তারিফ করি করি নিজর বাড়িত গেলোগি। 26ইতা দেখিয়া হকল তাইজ্জুব বনিয়া, আল্লার তারিফ করি ডরাই ডরাই কইলা, “আইজ ইতা কিজাত কেরামতি কাম দেখলাম।”

আল-মসীয়ে লেবিরে দাওত দিলা

27বাদে ইছা বারে গেলা, গিয়া তশিল অফিসো লেবি নামর এক খাজনা তুলরারে বওয়াত দেখলা। দেখিয়া তারে কইলা, “আও, আমার উম্মত অও।” 28দাওত হুনিয়াউ লেবিয়ে তান হকলতা ফালাইয়া ইছার লগে অইয়া রওয়ানা দিলাইলা।

29বাদে লেবিয়ে তান নিজর বাড়িত ইছার লাগি বড় এক খাওয়া-দাওয়ার বেবস্তা করলা। তারার লগে বউত ঘুষখুর খাজনা তুলরা আর আরো মানুষ খাওয়াত বইলা। 30তেউ ফরিশি আর তারার দলর আলিম অকলে না-খুশ অইয়া ইছার সাগরিদ অকলরে কইলা, “তুমরা খাজনা তুলরা টগবাজ আর নাফরমান অকলর বাড়িত খানা-পিনা খাও কেনে?” 31ইছায় তারারে জুয়াপ দিলা, “ভালা মানষর লাগি তো ডাক্তরর জরুর নাই, অইলে বেমারি অকলর লাগি জরুর আছে। 32তে আমিও পরেজগার অকলরে দাওত দেওয়াত আইছি না, খালি গুনাগার অকলরে দাওত দেওয়াত আইছি, যাতে তারা তৌবা করইন।”

পুরান তালিম থাকি হজরত ইছার তালিম ভালা

33বাদে হউ আলিম আর ফরিশি অকলে কইলা, “এহিয়ার শিষ্য অকলে হামেশা রোজা রাখইন, দোয়া করইন, আর ফরিশির শিষ্য অকলেও অলা করইন, তে আপনার শিষ্য অকলে কুনু সময়উ খানি বাদ দেইন না কেনে?”

34ইছায় জুয়াপ দিলা, “নশা লগে থাকলে লগর বৈরাতিরে কুনু উপাস রাখা যায় নি? 35অইলে অমন এক দিন আইবো, যেবলা নশারে তারার গেছ থাকি নেওয়া অইযিব। হউ সময় তারা রোজা রাখবা।” 36ইছায় তারারে তালিম দিবার লাগি অউ মিছাল হুনাইলা, কইলা, “নয়া কোর্তার টুকরা ছিড়িয়া, কেউ পুরান কোর্তাত তালি দেয় না। ইলা করলে তো নয়াটাও নষ্ট অইবো, আর নয়া কাপড়র তালি তো পুরান কাপড়র লগে মিলতোও নায়। 37পুরান চামড়ার থলিত কেউ তাজা আংগুরর রস ভরে না। ভরলে অউ তাজা রসর ফাফে থলি ফাটিয়া রস আর থলি দুইওতা বরবাদ অয়। 38তাজা রস নয়া থলিত থইতে অয়। 39আর আংগুরর পুরান রস খাইয়া হারি কুনু মানষে নয়া রস খাইতো চায় না। তারা কইন, পুরানতাউ মজা।”

6

জুম্মাবারর বেয়াপারে তালিম

1এক জুম্মাবারে ইছা গম খেতর আইলেদি আটিয়া যাইরা। অউ সময় তান সাগরিদ অকলে গমর ছড়া ছিড়িয়া আতো ঘষি ঘষি খাইরা। 2ইতা দেখিয়া ফরিশি মজহবর কয়জনে কইলা, “মুছা নবীর শরিয়ত মাফিক তো জুম্মাবারে যেকুনু কাম করা হারাম, তে তুমরা ই ছড়া ছিড়িরায় কেনে?” 3ইছায় জুয়াপ দিলা, “তে দাউদ নবী আর তান লগর হকলর যেবলা পেটো ভুক লাগছিল, হি সময় তারা কিতা করছলা, ইতা আপনারা পড়ছইন না নি? 4তাইন নিজে আল্লার ঘরো হামাইয়া পবিত্র রুটি খাইছলা, আর তান লগর অকলরেও খাওয়াইছলা। আসলে খালি ইমাম অকল ছাড়া আর কেউ ই রুটি খাওয়া জাইজ আছিল না।” 5বাদে ইছায় তারারে কইলা, “হুনো, আমি বিন-আদমউ জুম্মাবারর মালিক।”

6আরক জুম্মাবারে ইছা মছিদো গিয়া ওয়াজ-নছিয়ত করাত আছলা। হনো এক বেমারি বেটা আছিল, তার ডাইনর আত বেমারে হুকাই গেছে। 7মৌলানা আর ফরিশি দলর মানষে ইছারে ফান্দো ফালাইতা করি ভানা তুকানিত আছলা। তারা দেখতা চাইলা, জুম্মার দিন তাইন কেউররে ভালা করইন নি, করলে তানরে দুষি বানাইতা পারবা। 8ইছায়ও তারার দিলর কু-মতলব বুজিলিলা। বুজিয়া তাইন হুকনা আত আলা বেটারে কইলা, “ওবা, তুমি আইয়া হকলর ছামনে উবাওছাইন।” তেউ বেটা আইয়া উবাইলো। 9ইছায় তারারে জিকাইলা, “আমি আপনাইন্তরে একখান কথা জিকাইরাম, জুম্মাবারে কুন কাম করা জাইজ, ভালা কাম না বাদ কাম? জান বাচানি, না জানর বিনাশ করা?”

10বাদে তাইন চাইরো গালার হকলর বায় চাইয়া হউ বেটারে কইলা, “তুমার আতখান বাড়াও।” বেটায় তার আত বাড়াইলো, আর পুরাপুর ভালা অইগেল। 11ইতা দেখিয়া হউ মোল্লা অকলর খুব গুছা উঠলো। তারা পরামিশ চালাইলা, ইছারে কেমনে থামাইল যায়।

বারোজন খাছ সাহাবি

12বাদে ইছা দোয়া করার লাগি এক পাড়ো উঠিলা, আর আস্তা রাইত আল্লার গেছে দোয়া করলা। 13বিয়ানি বালা তান সাগরিদ অকলরে ডাকিয়া কান্দাত আনলা, এরার মাজর বারো জনরে পছন্দ করিয়া, তান খাছ সাহাবি বানাইলা। 14অউ বারো জন অইলা,

সাইমন—ইছায় এন নয়া নাম দিলা পিতর,

সাইমনর ভাই আন্দ্রিয়াছ,

ইয়াকুব, হান্নান,

ফিলিফ, বর্থলময়,

15মথি, থুমাছ,

আলফির পুয়া ইয়াকুব,

মুক্তিযুদ্ধা সাইমন,

16ইয়াকুবর পুয়া ইহুদা,

আর ইহুদা ইস্কারিয়াত—অউ ইহুদায় বাদে বেইমানি করছিল।

পাড়র পেটো হজরত ইছার তালিম

17এরমাজে ইছায় তান সাহাবি অকলরে লইয়া উপরে থাকি লামিয়া পাড়র পেটো হমান এক জাগাত আইয়া উবাইলা। হিনো তান বউত উম্মত দলা অইছলা, জেরুজালেম টাউন আর এহুদিয়া জিলা থাকি, দরিয়ার পারর সোর আর সিদন এলাকা থাকিও দল বান্দি বান্দি মানুষ আইছলা। 18তারা তান বয়ান হুনার খিয়ালে আর বেমার থাকি শিফা অওয়ার নিয়তে আইলা। আর যারার উপরে জিনর আছর আছিল, তারাও ভালা অইলা। 19হকল মানষেউ তানরে আত দিয়া ছইতো চাইলো, কারন তান ভিতর থাকি কুদরতি শক্তি বারনিয়ে, এরা হকলর বেমার কমছিল।

20তেউ ইছায় আপন সাগরিদ অকলর বায় চাইয়া কইলা,

তুমরা যেরা গরিব তুমরাউ কপালি,

আল্লার বাদশাই তো তুমরার লাগিউ।

21তুমরা যতো জনর পেটো ভুক আছে,

তুমরাউ কপালি,

তুমরা পেট ভরিয়া খাইবায়।

তুমরা যেরা কান্দিরায় তুমরাউ কপালি,

বাদে তো আসিবায়।

22“তুমরাউ কপালি, যেবলা বিন-আদমর দায় মানষে তুমরারে ঘিন্নায়, গাউ থাকি বাছিয়া একঘরি করে, বদনাম গায়, আর তুমরার নাম হুনলে মুখর থু ফালায়। 23ইলা করলে তুমরা খুশি অইও, ফুর্তিয়ে নাচিও, কারন বেহেস্তো তুমরা বউত বড় পুরুস্কার পাইবায়। জানো নি, অউ নাফরমান অকলর বাফ-দাদাইন্তেও আল্লার নবী অকলর উপরে অলা জুলুম করতা।

24হায়রে ধনি অকল,

তুমরার সুখ তো দুনিয়াতউ কামাইলিরায়।

25হায়রে পেট ভরিয়া খাওরা অকল,

তুমরাও ভুকে ছটফট করবায়।

হায়রে হায় যেরা অখন আসিরায়,

তুমরা কান্দা-কাটি আর আহাজারি করবায়।

26হায়রে হায়, মানষে যেবলা তুমরার সুনাম গায়,

জানো নি, অতা মানষর বাফ-দাদাইন্তেও

আগর আমলর ভন্ড নবী অকলর

অলা সুনাম গাইতো।

27“তুমরা যতোজন আমার তরিকায় চলতায় চাও, আমি তুমরারে কইরাম, তুমরা যারযির দুশমনরেও মহব্বত করিও। যেরা তুমরারে ঘিন্নায়, তুমরা তারার ভালাই করিও। 28যেরা তুমরার লাগি লান্নত মাংগে, তুমরা তারার লাগি রহমত চাইও। আর যেরা তুমরার বদনাম করে, তুমরা তারার লাগি দোয়া করিও। 29যে তুমার এক গালো চড় মারে, তারে আরক গাল পাতিয়া দিও। যে তুমার চাদ্দর কাড়িয়া নিতো চায়, তারে কোর্তাও খুলিয়া দিও। 30যারা তুমার গেছে চায়, তারারে দিও। কেউ তুমার কুনু চিজ নিলেগি, তার গেছে আর ফিরত চাইও না। 31হুনো, তুমরা মানষর গেছ থাকি যেলাখান বেবহার পাইতায় চাও, তুমরাও হকলর লগে অউ লাখান বেবহার করো।

32“যারা তুমরারে মায়া করে, তুমরা যুদি খালি তারারেউ মায়া করো, তে তুমরা বাহবা পাইতায় কিলা? ইলা তো নাফরমান অকলেও একে-অইন্যরে মায়া করে। 33আর যারা তুমরার ভালাই করে, তুমরা যুদি খালি তারার ভালাই করো, তে বাহবা পাইবায় কিলা? নাফরমান অকলেও তো ইলা করে। 34যে মানষর গেছ থাকি তুমরা করজো পাইবার আশা আছে, তুমরা যুদি খালি তারেউ করজো দেও, তে কিলা বাহবা পাইবায়? নাফরমান অকলেও একে-অইন্যরে ইলা করজো দেয়, হে আশা করে বিপদো পড়লে হে-ও হন থাকি করজো পাইবো। 35তে আমি তুমরারে কইরাম, তুমরা যারযির দুশমনরেও মায়া করিও, তারার ভালাই করিও। বদলা পাওয়ার আশা না করিয়া করজো দিও, তেউ তুমরার লাগি বড় বখশিশ আছে। তুমরা আল্লা পাকর আওলাদ বনবায়। তাইন তো নিমক-হারাম আর খারাপ মানষরেও দয়া করইন। 36তুমরার নিরাকার বাফ যেলা দয়াল, তুমরাও অলান দয়াল অও।

37“মানষর বিচার করিও না, তেউ তুমরাও বিচারর দাড়ো পড়তায় নায়। কেউররে দুষি সাইবস্তো করিও না, তেউ তুমরাও দুষি অইতায় নায়। মাফ করিয়া দিও, তেউ তুমরাও মাফি পাইবায়। 38দান-খয়রাত দেও, তেউ তুমরারেও দেওয়া অইবো। মানষে জাতাই জাতাই ভরিয়া আনিয়া তুমরার গাটিত বান্দিয়া দিবা। তুমরা যেলা মাপিয়া দিবায়, তুমরার লাগিও অলা মাপা অইবো।”

39বাদে ইছায় তারারে অউ কিচ্ছা হুনাইলা, “এক আন্দায় কুনু আরক আন্দারে পথ দেখাইতো পারে নি? তে দুইওজনউ গাতো পড়তো নায় নি? 40সাগরিদ উস্তাদ থাকি বড় নায়, অইলে যে সাগরিদে পুরাপুর তালিম লয়, হে-ও উস্তাদর লাখান বনিযায়। 41তুমার ভাইর চখুত গুড়া হামাইছে অখানউ দেখরায়, অইলে নিজর চউখো গাছর চেলি আছে ইতা দেখরায় না? 42তুমার চখুত চেলি হামাইছে ইখান না চাইয়া তুমার ভাইরে কিলা কইবায়, ভাইছাব, তুমার চউখো যে গুড়া পড়ছে, আও, অগু বার করিয়া দেই। তুমার নিজর চখুর চেলিউ তো দেখরায় না। ও ভন্ড, পয়লা তুমার নিজর চউখ থাকি চেলি হরাও, তেউ ভাইর চউখ থাকি গুড়া বার করাত লাগলে ভালা করি দেখতায় পারবায়। 43ভালা গাছে তো মন্দ ফল ধরে না, আর মন্দ গাছে ভালা ফল ধরে না। 44ফল দেখিয়া গাছ চিনা যায়। মানষে তো রিফুজি লত থাকি বরই পাড়ে না, বা ছুতরা গাছ থাকি আংগুর পাড়ে না। 45ভালা মানষর দিলর নেক ভান্ডার থাকি ভালাই বারয়, আর বদ মানষর বদ দিল থাকি বদউ বারয়। মানষর দিলর ভান্ডারো যেতা জমা আছে, অতা থাকিউ তো জবানর বুলি বারয়।

46“তুমরা কেনে আমারে খালি হুজুর হুজুর কইরায়, অথচ আমি যেতা কই, ইতা মানো না? 47আমার কান্দাত আইয়া আমার বয়ান হুনিয়া যে জনে আমল করে, হে কার লাখান, আমি তুমরারে কইরাম। 48হে অউ মানষর লাখান, যে ঘর বানানির নিয়তে গইন করি মাটি খুদিয়া মজবুত করি ঘরর খুটি বানাইলো, বাদে বইন্যা আইলো আর পানির ফুতে অউ ঘররে ঠেলিলো, অইলে ইখান লড়াইতো পারলো না, ইখান তো মজবুত করি বানাইল। 49আর আমার বয়ান হুনিয়া যে জনে আমল না করে, হে অউ লাখান মানুষ, যেগিয়ে গাত না খুদিয়া খালি নরম মাটির উপরে ঘর বানাইলো, বাদে বানর ফুতর ধাক্কায় তার ঘর পড়িয়া ভাংগিয়া চুরমার অইগেল।”

7

বিদেশি ছুবেদারর গুলামর শিফা

1ইছায় তান বয়ান শেষ করিয়া মানষর গেছ থাকি বিদায় লইয়া কফরনাউম টাউনো গেলাগি। 2হিনো রোমান সিপাইর এক ছুবেদারর গুলাম বেমার পড়িয়া মরার পথি অইগেছিল, ছুবেদার ছাবে ই গুলামরে খুব মায়া করতা। 3তাইন ইছার খবর হুনিয়া কয়জন ইহুদি মুরব্বিরে ইছার গেছে পাঠাইলা, তান গুলামরে ভালা করতা সুপারিশর লাগি। 4মুরব্বি অকল আইয়া ইছারে মিনত-কাজ্জি করি কইলা, “ছাব, যে জনে আমরারে আপনার গেছে পাঠাইছইন তান গুলামর লাগি মিনত করতাম, এইন আসলেও দয়া পাওয়ার লাখ। 5তাইন বিদেশি অইলেও আমরার ইহুদি জাতিরে খুব মায়া করইন। আমরার মছিদ খানও তাইন বানাই দিছইন।”

6ইছা তারার লগে অইয়া রওয়ানা দিলা, তাইন ছুবেদারর বাড়ির কান্দাত আইতেউ ছুবেদারে নিজর দুস্ত অকলরে পাঠাইয়া জানাইলা, “হুজুরে আর কষ্ট করইন না যানু, আপনার মতো জনে আমার বাড়িত তশরিফ আনরা, আমি তো ইতার লাখ নায়। 7আপনার ছামনে উবানির যোইগ্যও আমি নায়, এরদায় আমি আইরাম না। তে আপনে খালি জবানদি কইলেউ, আমার গুলামর বেমার শিফা অইযিবো। 8আপনে তো বুজরা, আমি আমার কামান্ডারর হুকুমে চলি, অউলা আমার সিপাই অকলও আমার হুকুমে চলইন। আমি এরা একজনরে আও কইলে আয়, যাও কইলে যায়, আমার গুলামরে অউ কাম করো কইলে, হে করে। তে আপনেও অলা খালি মুখদি কইলেউ, হক্কলতায় মানবো।”

9ইখান হুনিয়া ইছা এক্কেরে তাইজ্জুব বনিগেলা, দলে দলে যতো মানুষ তান খরে অইয়া আওয়াত আছিল, এরার বায় ফিরিয়া কইলা, “আমি তুমরারে কইরাম, ই ছুবেদার তো বিধর্মী রোমান মানুষ, অইলে আমার বনি ইছরাইলর মাজেও তো অতো মজবুত ইমানদার আমি কুনুখানো দেখছি না।” 10হাছাউ ছুবেদারে যারারে পাঠাইছলা, তারা ঘরো আইয়া দেখলা, হি গুলামর বেমার কমিগেছে।

হজরত ইছায় মুর্দারে জিন্দা করলা

11থুড়া কয় দিন বাদে ইছায় তান সাগরিদ অকল আর আরো বউত মানুষ লইয়া নায়িন নামর এক গাউত আইলা। 12তাইন যেবলা হউ গাউত আইয়া হামাইরা, অউ সময় মানষে খরারো করি এক মইয়ত লইয়া যাইরা। ই মইয়ত আছিল এক ড়াড়ি বেটির একমাত্র পুয়া। গাউর বউত মানুষ অউ খরারর লগে আছলা। 13অউ ড়াড়ি বেটিরে দেখিয়া ইছার দিলো দয়া হামাইলো, তাইন কইলা, “ওগো, কান্দিও না।” 14কইয়া তাইন খরারর কান্দাত গিয়া খরারো ছইলা, তেউ মইয়ত বইয়া নেওরা বেটাইন উবাই গেলা। ইছায় কইলা, “ও বেটা, আমি কইরাম, তুমি উঠো।”

15তেউ হি মুর্দা বেটা উঠিয়া বইগেল, বইয়া মাত-কথা মাতিলো। ইছায় তারে তার মাʼর আতো সমজাই দিলা। 16ইতা দেখিয়া হকলর ভিতরে ডর হামাইগেল। তারা কইলা, “ছুবহানাল্লা, একজন মহান নবীয়ে আমরার মাজে তশরিফ আনছইন, আল্লায় মেহেরবানি করিয়া তান বন্দা অকলর বায় চউখ ফিরাইছইন।”

17ইছার অউ কেরামতির কথা আস্তা এহুদিয়া জিলাত আর আশ-পাশ হক্কল জাগাত মাশুর অইগেল।

হজরত ইছার দরবারো এহিয়া নবীর সাগরিদ

18এহিয়া নবীর সাগরিদ অকল গিয়া অউ হক্কলতা এহিয়ারে জানাইলা। 19অউ এহিয়ায় তান দুইজন সাগরিদরে ইছার গেছে পাঠাইলা। তারা আইয়া ইছারে কইতা, “হুজুরে কইছইন আমরা জানিয়া যাইতাম, যেইন তশরিফ আনার কথা, আপনেউ হেইন নি? না আমরা আর কেউরর লাগি বার চাইতাম?” 20তেউ দুইও সাগরিদ আইয়া ইছারে কইলা, “এহিয়া নবীয়ে আমরারে পাঠাইছইন, আপনারে জিকাইতাম, যেইন তশরিফ আনার কথা, আপনেউ হেইন নি? না আমরা আর কেউরর লাগি বার চাইতাম?”

21ঠিক অউ সময় ইছায় বউত মানষরে বেমার-আজার আর জিন-ভুতর আছর থাকি ভালা করলা। বউত আন্দারেও দেখার খেমতা দিলা। 22অতা করিয়া হারলে এহিয়ার দুইও সাগরিদরে ইছায় কইলা, “তুমরা যাওগি, তুমরা অনো আইয়া নিজর চউখে যেতা দেখলায় আর হুনলায়, অতা গিয়া এহিয়ারে জানাও। তানরে কইও, আন্দায়ও চউখে দেখরা, লেংড়া অকলে আটিরা, পচা-কুষ্ঠ বেমারি ভালা অইরা, খালুয়ায়ও হুনরা, মুর্দা মানুষ জিন্দা অইরা, আর গরিব অকলর গেছেও আল্লাই খুশ-খবরি তবলিগ করা অর। 23আর এরাউ কপালি মানুষ, আমার বেয়াপারে যেরার দিলো কুনু বাধা না পায়।”

24এহিয়ার সাগরিদ অকল গিয়া হারলে, এহিয়ার বেয়াপারে ইছায় মানষরে কইলা, “তুমরা মরুভুমিত কিতা দেখাত গেছলায়? বাতাসে লড়ে-ছড়ে অতা খাগড়া-বন দেখাত গেছলায় নি? 25না, কিতা দেখাত গেছলায়? সুন্দর কাপড় ফিন্নো কুনু মানষরে নি? যেরা দামি দামি কাপড় ফিন্দিয়া জাক-জমক করে, আর সুখির্তা দিন কাটায়, তারা তো রাজবাড়িত থাকইন। 26তে তুমরা কিতা দেখাত গেছলায়? কুনু নবীরে দেখাত গেছলায় নি? অয়, হাছাউ আমি তুমরারে কইরাম, ই এহিয়া তো খালি নবী নায়, নবী থাকিও বড় জন। 27এইন তো হউ জন, যেন কথা আছমানি কিতাবো লেখা আছে,

হুনো, তুমার আগে বেজিয়ার আমি

আমার পেগাম্বর,

এইন গিয়া ঠিক-ঠাক করবা

তুমার চলার পথ।

28তে আমি তুমরারে কইরাম, আস্তা দুনিয়ার কুনু আদমউ এহিয়া থাকি বড় নায়। অইলে আল্লার বাদশাইর হকল থাকি হুরু জনও, এহিয়া থাকি মহান।”

29সমাজর হকল ধরনর আম মানষে আর ঘুষখুর খাজনা তুলরা অকলেও এহিয়ার তবলিগ হুনলা, তারা তৌবার গোছল করিয়া আল্লা পাকরে হক ইনছাফকারি হিসাবে মানলা। 30অইলে ফরিশি দলর মানষে আর মৌলানা অকলে এহিয়ার গেছে তৌবার গোছল না করিয়া, তারার বেয়াপারে আল্লা পাকর যে খিয়াল আছিল, ইটারে কুনু দাম দিলো না।

31তেউ ইছায় হিরবার কইলা, “কওছাইন, অখন ই জমানার মানষরে আমি কিতার লগে তুলনা করতাম? তারা কার লাখান? 32তারা তো অমন হুরুতার লাখান, যেতায় বাজারো বইয়া একে-অইন্যরে ডাকিয়া কয়,

বাশি তো বাজাইলাম দুস্ত তুমরার লাগিয়া,

তুমরা কেউ নাচিলায় না বাশি হুনিয়া।

মাত্বমর জারি-গান গাইলাম আমরা সবে,

কান্দিলায় না তুমরা কেউ মাত্বমর সুরে।

33তে এহিয়া নবী আইয়া হারি ভাত-রুটি আর আংগুরর শরবত না খাওয়ায়, তুমরা কইলায় তানরে ভুতে ধরিলিছে। 34আর বিন-আদম আইয়া খানা-পিনা কররা দেখিয়া তুমরা কইরায়, দেখরায় নি, ই বেটা তো পেটুয়া আর মদখুর। হে ঘুষখুর খাজনা তুলরা আর নাফরমান মানষর লগে দুস্তি করে। 35তা-ও আখল খাটাইয়া যেরা চলে, তারার চাল-চলন থাকিউ পরমান মিলে, আখলউ অইলো খাটি-নিখুত চিজ।”

খবিছ বেটির গুনা মাফ

36ফরিশি দলর একজন মানষে ইছারে তান বাড়িত খানির দাওত দিলা, ইছা অউ বাড়িত গিয়া খানিত বইলা। 37অইলে অউ গাউত এক খবিছ বেটি আছিল। ইছা অনো দাওতো আইছইন হুনিয়া হউ খবিছ বেটিয়ে দামি এক পাথরর বৈয়ামো করি আতর লইয়া অনো আইলো। 38আইয়া ইছার পিছন গালাবায় তান পাওর কান্দাত উবাইয়া, কান্দিয়া চউখর পানিদি তান পাওর পাতা ভিজাইলিলো। বাদে তাইর মাথার চুলদি পাও ফুছিয়া দিলো পাওর মাজে হুংগা দিতে দিতে আতর মাখাইলো।

39ইতা দেখিয়া ইছারে যেইন দাওত দিছলা, এইন মনে মনে কইলা, “ই বেটা কুনু নবী অইলে তো এমনেউ বুজলো অনে ই বেটি খেগু, ইগু কত বড় খবিছ গুনাগার বেটি।” 40ইছায় তারে কইলা, “সাইমন, তুমার লগে আমার কিছু কথা আছে।” সাইমনে কইলা, “কউক্কা হুজুর।”

41ইছায় তানরে কইলা, “মনে করো, এক মাজনর গেছ থাকি দুইজন মানষে কিছু টেকা করজ নিছিল, একজনে পাচশো, আরক জনে পইঞ্চাশ দিনার। 42তারার কেউররউ তাক্কত আছিল না ই টেকা ফিরত দেওয়া, তেউ মাজনে এরা দুইও জনরে মাফ করি দিলাইলা। অখন কওছাইন, এরা কুন জনে মাজনরে বেশি ভালা পাইবো?” 43সাইমনে কইলা, “আমার মনে কয়, যার বেশি টেকা মাফ দেওয়া অইছে।” ইছায় কইলা, “তুমি ঠিকউ কইছো।”

44তেউ ইছায় অউ বেটির বায় চাইয়া কইলা, “সাইমন, অউ বেটিগুর বায় খিয়াল করো আর হুনো, আমি তুমার ঘরো আইয়া হারলে তুমি তো আমারে পাও ধোয়ারও পানি দিছো না, অইলে তাইর চউখর পানিদি আমার পাও ভিজাইয়া, মাথার চুলদি ফুছিয়া দিছে। 45তুমি তো আমার লগে আইঞ্জা করি ধরিয়া হুংগা দিছো না, অইলে দেখরায়নি আমি তুমার বাড়িত হামানির বাদ অনেউ তাই আমার পাওত হুংগা দেওয়াতউ আছে। 46তুমি কুনুজাত তাজিম করি আমারে আগুয়াই আনছো নি? অইলে তাই আমার পাওত আতর ঢালিয়া তাজিম করছে। 47তে আমি তুমারে কইরাম, তাই বেশি মায়া করছে করি বুজা যার, তাই বড় গুনাগার অইলেও গুনার মাফি পাইছে। যার থুড়া গুনা মাফ করা অয়, হে থুড়া মায়া করে।”

48বাদে ইছায় বেটিরে কইলা, “ওগো, তুমার তামাম গুনা মাফ করা অইছে।” 49যারা ইছার লগে খানিত বইছলা তারা মনে মনে কইলা, “এইন কে, যেইন গুনাও মাফ করিলাইন?”

50ইছায় হি বেটিরে কইলা, “ও বেটি, তুমার ইমানর বলেউ তুমি নাজাত পাইলায়, অখন শান্তি অইয়া বাড়িত যাও।”

8

হজরত ইছার খেজমতো বেটি মানুষ

1বাদে ইছায় অউ বারোজন সাহাবিরে লইয়া গাউয়ে গাউয়ে, টাউনে টাউনে ঘুরিয়া আল্লার বাদশাইর তবলিগ করাত রইলা। 2তারার লগে কয়জন বেটিনও আছলা। অউ বেটিন জিনর আছর আর বউত জাতর বেমার থাকি ভালা অইয়া তান লগ ধরছলা। এরার নাম অইলো: মগদিলিনী মরিয়ম, এন গেছ থাকি সাতগু জিন ছাড়াইল অইছিল; 3রাজা হেরোদর উজির কুজাইর বউ সোহানা; সুসানা; আর আরো বউত বেটিন আছলা। অউ বেটিন্তে তারার নিজর ছামানা দিয়া ইছা আর তান সাগরিদ অকলর খরচ-পাতি চালাইতা।

গিরস্তি কামর লগে ইমানর তুলনা

4বাদে যেবলা নানান জাগা থাকি বউত মানুষ আইয়া ইছার গেছে দলা অইলা, অউ সময় তাইন এক কিচ্ছা হুনাইলা। 5তাইন কইলা, “এক গিরস্তে ধানর জালা বাইন দেওয়াত গেল। গিয়া বাইন দেওয়ার বালা কিছু জালা আইলর মাজে পড়িগেল, মানষে পাওদি উড়িয়া ই জালা নষ্ট করিল্লো, আর পাখিন্তেও আইয়া খাইলিলো। 6গিরস্তর কিছু জালা হুকনা-শক্ত মাটির উপরে পড়লো, ইতায় আলি বার অইলেও হেশে রস না পাইয়া হুকাইয়া মরিগেল। 7কিছু জালা বন-জংলার মাজে পড়লো, ই জালায় আলি ফুটলেও ইতারে বন-জংলায় জাতিয়া ধরলো। 8অইলে কিছু জালা ভালা জমিনো পড়লো, ই জালায় ভালা ধান অইলো, আর একশো গুন বেশি ধান ধরলো।”

অউ কিচ্ছা কইয়াউ তাইন জুরে জুরে কইলা, “যার কান আছে, হে হুনউক।”

9সাগরিদ অকলে আরজ করলা, “হুজুর, ই কিচ্ছার মানি কিতা?” 10তাইন কইলা, “আল্লার বাদশাইর গোপন রহস্য জানার সুযোগ খালি তুমরারে দেওয়া অইছে, অইলে বাকি মানষর গেছে তো ইতা কিচ্ছার লাখান কইরাম, যাতে তারা দেখিয়াও না দেখে, হুনিয়াও না বুজে।

11“তে ই কিচ্ছার মানি অইলো, ই ধানর জালা অইলো আল্লার কালাম। 12আইলর মাজে পড়া জালাদি বুজাইল অইছে, যেরা আল্লার কালাম হুনে, বাদে ইবলিছে আইয়া তারার দিল থাকি ইতা কাড়িয়া নেয়গি। ইবলিছে চায় না মানষে ইমান আনিয়া নাজাত হাছিল করউক। 13আর হুকনা-শক্ত মাটির উপরে পড়া জালাদি বুজাইল অইছে, যারা ই কালাম বেশ খুশি অইয়া হুনে, অইলে কালামে তারার দিলো ভালামন্তে জড় করে না। এরদায় ই ইমান থুড়া কয়দিন টিকে, কুনু পরিক্ষাত পড়লেউ তারার ইমান খুয়াইলায়। 14বন-জংলাত পড়া জালাদি বুজাইল অইছে, যেরা ইমানর দাওত হুনে, অইলে দুনিয়াবি ধান্দাত পড়িয়া ধন-ছামানার লালছ, আর আরাম-আইশর বায় চাইয়া ইতা ফাউরিলায়। এরদায় তারার জিন্দেগিত কুনু ভালা ফল ধরে না। 15ভালা জমিনো পড়া জালাদি বুজাইল অইছে, যেরা হক আর ছহি দিলে আল্লার কালাম হুনে, হুনিয়া নিজর দিলো ভালামন্তে গাথিয়া রাখে, আর ইমানে মজবুত রইয়া জিন্দেগিত ভালা ফল ধরে।

16“কুনু মানষে লেম জালাইয়া হারি চকির তলে থয়নি বা টুকরিদি গুরিলায় নি? নিচয় না, তারা গাছার উপরে থয়, যাতে ঘরর ভিতরে ফর দেখা যায়। 17তে ইলা গাইবি কুন্তাউ নাই যেতা জাইর অইতো নায়। ইলা লুকাইলও কুন্তা নাই যেতা কেউ হুনতো নায় বা জানতো নায়। 18এরদায় তুমরা কিলা হুনরায় খিয়াল করিও, যার আছে তারে আরো দেওয়া অইবো, আর যার নাই, তার যেতা আছে বলিয়া হে মনে করের, অতাও নেওয়া অইযিবো।”

হজরত ইছার মা ভাই কে

19এরমাজে ইছার মা আর ভাইয়াইন তান গেছে আইয়া আজিলা, অইলে ভিড়র লাগি তারা কাছাত আইতা পারলা না। 20তেউ একজন মানষে আইয়া ইছারে কইলা, “আপনার মা আর ভাইয়াইন আপনার লগে দেখা করাত আইয়া বারে উবাই রইছইন।” 21ইছায় জুয়াপ দিলা, “আমার মা-ভাই তো এরাউ, যেরা আল্লার কালাম হুনইন আর আমল করইন।”

হজরত ইছায় আওরর তুফান বন্দ করলা

22একদিন ইছা আর তান সাহাবি অকল গিয়া নাওয়ো উঠলা, উঠিয়া তাইন সাহাবি অকলরে কইলা, “আও, আমরা আওরর হপারো যাই।” তেউ সাহাবি অকলে নাও ভাসাইলা। 23নাও চলতির মাজে ইছা ঘুমাই গেলা। আখতাউ আওরর মাজে অমন তুফান আইলো, তুফানে নাওত পানি হামাইয়া ভরিযার, তারা দেখলা বড় মছিবত আইছে। 24সাহাবি অকল ইছার ধারো গিয়া তানে হজাগ করিয়া কইলা, “হুজুর, হুজুর, আমরানু মরিযিরাম।” ইছা উঠিয়া পানির ঢেউ আর বাতাসরে ধামকি দিলা। লগে লগেউ ঢেউ আর তুফান থামিয়া হকলতা থির অইগেল। 25ইছায় তারারে কইলা, “অউ অতানি তুমরার ইমান?” তারা ডরাইয়া তাইজ্জুব অইয়া একে-অইন্যরে কইলা, “এইন আসলে কে, দেখরায়নি বাতাসে আর পানিয়েও তান হুকুম মানে?”

জিনে ধরা বেমারিরে ভালা করা

26ইছায় তান সাহাবি অকল লইয়া গালিল আওর পার অইয়া জেরাসিনি এলাকাত গেলা। 27গিয়া হারি তাইন নাও থাকি লামলা, অউ সময় হউ গাউর জিনর আছর আলা এক বেটা তান গেছে আইলো। জিনর পালে আছর করায় হে বউত দিন ধরি লেমটা আর কুনু বাড়ি-ঘরো রইতো না, খালি কবরস্থানো রইতো। 28ইছারে দেখিয়াউ হে চিল্লাইয়া উঠলো, তান ছামনে পড়িয়া জুরে জুরে কইলো, “ও আল্লার খাছ মায়ার জন, আপনে কেনে আমার ইনো তশরিফ আনলা? মেহেরবানি করি আমারে ছাতাইন না যানু।”

29ইখান কওয়ার কারন অইলো, ইছায় হি জিনরে হুকুম দিছলা অউ বেটারে ছাড়িয়া যাওয়ার লাগি। ই জিনে তারে বউত দিন থাকি আছর করছিল, বেটারে ডান্ডা-বেড়ি আর শিকলদি বান্দিয়া রাখলেও, হে ইতা ছিড়িলিতো, হউ জিনে তারে নিরাই জাগাত নিতোগি। 30ইছায় তারে জিকাইলা, “তোর নাম কিতা?” হে কইলো, “ফৌজ পাল” কারন তারা বউত জিন একলগে আছিল। 31তেউ হি ফৌজ পালে ইছারে মিনত-কাজ্জি করিয়া কইলা, তাইন যানু তারারে রসাতলে না গাড়ইন।

32হিনো পাড়র এক গালাত বড় এক শুয়রর পাল আছিল। ফৌজ পালে তানরে মিনত করিয়া কইলা, তারারে হউ শুয়রর ভিতরে হামানির ইজাজত দিতা। তাইন ইজাজত দিলা। 33অউ তারা হি বেটারে ছাড়িয়া শুয়রর ভিতরে গিয়া হামাইলো, এতে শুয়রর পাল পাড়র ঢালেদি দৌড়িয়া গিয়া আওরর পানিত বুড়িয়া মরলা।

34ইতা দেখিয়া শুয়রর রাখাল অকল দৌড়িয়া গিয়া টাউনো আর গাউয়ে গাউয়ে খবর দিলো। 35খবর পাইয়া চাইরোবায় থনে মানুষ আইলা, আইয়া দেখলা, যে বেটার লগ থাকি ফৌজ পাল বার অইয়া গেছইন, হে পুরাপুর ভালা অইয়া কাপড়-চুপড় ফিন্দিয়া ইছার পাওর কান্দাত বইরইছে। দেখিয়া তারা চমকি গেলা। 36আর অউ ঘটনা ঘটিতে যেরা দেখছিল, তারা হকল মানষরে হুনাইলা, ই বেটা কিলা ভালা অইছে। 37হুনিয়া জেরাসিনি এলাকার হকল মানুষ ডরাইগেলা। ডরর চুটে তারা ইছারে মিনত-কাজ্জি করিয়া কইলা, তাইন তারার গেছ থাকি তশরিফ নিতাগি। তেউ ইছা নাওয়ো উঠিয়া হিরবার গালিলো আইলা। 38অইলে যে বেটারে জিনে ধরছিল, হে আরজ করলো তান লগে রইবার লাগি। ইছায় তারে অখান কইয়া বাড়িত পাঠাই দিলা, 39কইলা, “তুমি তুমার বাড়িত যাও, আর আল্লায় তুমার লাগি যে কুদরতি কাম করছইন, অতা গিয়া কও।” তেউ হে গেলগি, গিয়া টাউনর হকল মানষরে জানাইলো, ইছায় তার লাগি অতো বড় কাম করছইন।

এক মরা পুড়ি আর বেমারি বেটি

40ইছা গালিলো আইয়া হারলে হিনর মানষে খুশি অইয়া তানরে কবুল করলা, তারা তান লাগি বার চাওয়াত আছিল। 41অউ সময় যায়ীর নামে মছিদ কমিটির এক মতল্লী আইয়া ইছার পাওয়ো পড়িয়া মিনত লাগাইলা, হুজুররে তান বাড়িত নিবার লাগি। 42কারন তান একমাত্র পুড়ি ছরখাতো আছিল, পুড়ির বয়স বারো বছর। ইছা যেবলা অউ বাড়িত যাইবার লাগি রওয়ানা দিলা, মানষে আইয়া তান চাইরোবায় ভিড় করিয়া ঠেলাঠেলি লাগাইলা।

43ভিড়র মাজে এক বেটি মানুষও আছলা, এইন বারো বছর ধরিয়া মাসিক বেমারি। তান হকল ধন-ছামানা ডাক্তরর তলে খুয়াইয়াও ভালা অইতা পারছইন না। 44তাইন ইছার খরেদি আইয়া ইছার চাদ্দরর কুনাত ছওয়ার লগে লগেউ তান বেমার কমিগেল। 45তেউ ইছায় জিকাইলা, “আমারে কে ছইলো?” কেউ স্বীকার না করায় পিতর আর তান লগর মানষে ইছারে কইলা, “হুজুর, আপনার চাইরোবায় কত মানষে ঠেলাঠেলি করিয়া আপনার গাʼত লাগের।” 46অইলে ইছায় কইলা, “কেউ আমারে ছইছে, কারন আমি বুজরাম, আমার ভিতর থাকি গাইবি বল বার অইছে।” 47অউ বেটিয়ে যেবলা দেখলো ধরা পড়িগেছে, তাই কাপি কাপি ইছার ছামনে আইয়া তান পাওয়ো পড়িয়া হকলর ছামনেউ কইলো, কেনে তাই ইছারে ছইছিল আর কিলান লগে লগেউ ভালা অইগেছে। 48ইছায় বেটিরে কইলা, “মাই গো, তুমি একিন করছো করি ভালা অইছো। অখন শান্তিয়ে বাড়িত যাও।”

49ইছায় অতা মাতিরা, অমন সময় মছিদর মতল্লীর বাড়ি থাকি খবরিয়া আইয়া তানরে কইলো, “ছাব, আপনার পুড়ি দুনিয়া থাকি গেছইনগি, তে হুজুররে আর কষ্ট দিবার কাম নাই।” 50ইখান হুনিয়া ইছায় কইলা, “ডরাইও না, খালি একিন করো। দেখবায়নে, তাই ভালা অইযিবো।” 51ইছা হউ বাড়িত গেলা, গিয়া পিতর, হান্নান, ইয়াকুব আর পুড়ির মা-বাফ ছাড়া অইন্য কেউররে ঘরর ভিতরে হামাইতে দিলা না। 52হকলে যেবলা পুড়ির লাগি কান্দা-কাটি আর আহাজারি কররা, অউ সময় ইছায় কইলা, “কান্দিও নারে, তাই তো মরছে না, ঘুমার।” 53ইখান হুনিয়া তারা তানরে ছিড়াইলা। তারা হকলেউ জানতো পুড়ি মরি গেছে। 54তেউ ইছায় পুড়ির আতো ধরিয়া ডাক দিলা, “মাই গো, উঠো।” 55লগে লগেউ পুড়ির জান ফিরত আইলো। তাই উঠিয়া বইগেল। ইছায় কইলা, পুড়িরে কুন্তা খাইবার দিতা। 56পুড়ির মা-বাফ এক্কেরে তাইজ্জুব বনিগেলা। বাদে ইছায় কইলা, “হুনো, ইতা কেউররে হুনাইও না।”

9

বারোজন সাহাবিরে তবলিগো পাঠাইলা

1বাদে ইছায় হউ বারোজন সাহাবিরে একখানো দলা করলা, তারারে হকল জাতর জিন-ভুত ছাড়ানি, বেমারিরে ভালা করার ইজাজত আর খেমতা দিলা। 2বাদে তাইন আল্লার বাদশাইর তবলিগ আর বেমারিন্তরে শিফা করাত এরারে পাঠাইলা। 3তাইন কইলা, “তুমরা পথর লাগি লাঠি, গাইট-বুছকি, খানি-খুরাকি, টেকা-পয়সা, বা দুইটা কোর্তাও লগে নিও না। 4কুনু গাউত গেলে তুমরা যে বাড়িত হামাইবায়, অউ বাড়িতউ রইও, আর অন থাকি হিরবার বিদায় অইও। 5মানষে যুদি তুমরারে জাগা না দেইন, তে হন থাকি বার অইবার আগে তুমরার পাওর ধুইল ফুছিয়া ফালাইও, অউ ধুইলেউ তারার বিপক্ষে সাক্ষি দিবো।” 6সাহাবি অকল রওয়ানা অইয়া গাউয়ে গাউয়ে গিয়া, আল্লার খুশ-খবরি তবলিগ আর বেমারিন্তরে শিফা করাত লাগলা।

7রাজা হেরোদে ইছার অউ কাম-কাজর খবর হুনিয়া খুব ঘাবড়ি গেলা। কুনু কুনু মানষে তানরে কইলা, এহিয়া নবী হিরবার জিন্দা অইয়া উঠি গেছইন। 8আর কুনু কুনু জনে কইলা, ইলিয়াছ নবীয়ে দরশন দিছইন। হিরবার কেউ কেউ কইলো, পুরানা জমানার কুনু নবী জিন্দা অইয়া আইছইন। 9তেউ হেরোদে কইলা, “আমি নিজেউ তো এহিয়ার মাথা কাটাইছি, তে অউ যেতা হুনরাম, এইন আসলে কে?” এরদায় হেরোদে ইছারে দেখার খিয়াল অইলো।

পাচ আজার মানষর গাইবি খানি

10ইছায় যে বারোজন সাহাবিরে তবলিগো পাঠাইছলা, তারা ফিরিয়া আইলা। আইয়া তানরে জানাইলা, তবলিগি ছফরো কিতা কিতা করছইন, অউ তাইন এরারে লইয়া খুব নিরিবিলি হালতে বায়ত-ছয়দা নামর এক গাউত গেলা। 11অইলে মানষে ই খবর হুনিয়া দলে দলে ইছার খরে অইয়া রওয়ানা দিলাইলা। তাইন এরারে খুশি মনে কবুল করলা। তারার গেছে আল্লার বাদশাইর বয়ানি তবলিগ করলা, আর যেতা বেমারির বেমার শিফা অওয়া জরুর আছিল, তাইন এরারে শিফা করলা।

12হাইঞ্জা বালা হউ বারো জন সাহাবি আইয়া ইছারে কইলা, “হুজুর, আমরা যে জাগাত আছি, ইখান খুব নিরিবিলি জাগা। তে অতা মানষরে বিদায় দিলাউক্কা, তারা কান্দা-কাছার গাউত গিয়া রাইতকুর থাকা-খাওয়ার বেবস্তা করউক।” 13ইছায় জুয়াপ দিলা, “তুমরা তারারে খানা খাওয়াও।” তারা কইলা, “আমরার গেছে তো খালি পাচখান রুটি, দুইটা বিরান মাছ আছে, আর কুন্তা নাই। তে আমরা বাজারো গিয়া এরার লাগি খানা লইয়া আনতাম নি?” 14ইছায় কইলা, “এরারে পইঞ্চাশ-জন, পইঞ্চাশ-জন করি বওয়াই দেও।” ইনো খালি বেটা মানুষউ আছলা পাচ আজারর লাখান। 15তেউ সাহাবি অকলে তারারে বওয়াইলা। 16ইছায় অউ পাচোখান রুটি আর দুইও মাছ লইয়া আছমানর বায় চাইয়া আল্লার শুকরিয়া আদায় করলা। বাদে রুটি আর মাছ টুকরা টুকরা করি ভাংগিয়া, সাহাবি অকলর আতো দিয়া কইলা বাটিয়া দিলাইতা। 17অউ খানায় হকল মানষে পেট ভরিয়া খাইলা। খাইয়া হারলে যেতা গুড়া-গাড়া রইছিল অতা দলা করলে বারো টুকরি ভরিগেল।

হজরত ইছার মউতর আগাম খবর

18একদিন ইছা এক নিরাই জাগাত দোয়া করাত বইরা, খালি সাহাবি অকল তান লগে আছলা। তাইন এরারে জিকাইলা, “কওছাইন, মানষে কিতা মনো করইন, আমি কে?” 19তারা জুয়াপ দিলা, “কুনু কুনু মানষে কইন, আপনে এহিয়া নবী। কুনু জনে কইন ইলিয়াছ নবী, আর কেউ কেউ কয় বউত আগর জমানার কুনু নবী হিরবার জিন্দা অইয়া উঠিছইন।” 20ইছায় এরারে জিকাইলা, “অইলে তুমরা কিতা মনো করো, আমি কে?” সাহাবি পিতরে কইলা, “আপনেউ আল্লার ওয়াদা করা হউ আল-মসী।” 21ইছায় তারারে কইলা, “খবরদার! ইতা আর কেউররে হুনাইও না।”

22বাদে তাইন কইলা, “আমি বিন-আদমে বউত কষ্ট সইয্য করা লাগবো। সমাজর মুরব্বি অকলে, বড় ইমাম, আর মৌলানা অকলে আমারে এলা করবা। আমারে কাতল করা অইবো, অইলে মউতর তিন দিনর দিন আমার হিরবার জিন্দা অইয়া উঠা জরুর।”

23তাইন এরা হকলরে কইলা, “আমার তরিকায় কেউ জিন্দেগি কাটাইতে চাইলে, হে তার নিজর খুশিয়ে চলা বাদ দেউক। তার আপন দুখ-কষ্টর সলিব পরতেক দিন বইয়া লইয়া আমার খরে খরে আউক। 24যে মানষে নিজর জান বাচাইতো চায়, হে তার হাছারর জিন্দেগি খুয়াইবো। অইলে যে জনে আমার লাগি নিজর জান কুরবানি দেয়, হে হাছারর জিন্দেগি পাইবো। 25কুনু মানুষ যুদি আস্তা দুনিয়ার মালিক বনিয়াও তার হাছারর জিন্দেগি মানি আখের খুয়াইলায়, তে তার কুনু ফায়দা অইলো নি? 26হুনউক্কা, কেউ যুদি আমার লাগি বা আমার তালিমর লাগিয়া মুখ লুকায়, তে আমি বিন-আদম যেবলা আমার নিজর, আর পবিত্র ফিরিস্তা অকলর, আর গাইবি বাফর শান-তজল্লিয়ে দুনিয়াত হিরবার আইমু, অউ সময় আমিও এরারে দেখলে মুখ লুকাইমু। 27আমি তুমরারে হাছা কথা কইরাম, অউ মজলিছো অউলা কয়জন মানুষ আজির আছইন, আল্লার বাদশাই না দেখিয়া এরার মউত অইতো নায়।”

হজরত ইছার নুরানি ছুরত

28অউ তালিমর একদ হাপ্তা বাদে, ইছা দোয়া করার লাগি তান সাহাবি পিতর, হান্নান, আর ইয়াকুবরে লইয়া এক টিল্লার উপরে উঠলা। 29তাইন দোয়া কররা, অমন সময় আখতাউ তান মুখর রংগ বদলিগেল, তান ফিন্নর কাপড়-চুপড় ধলা চকচকা অইগেল। 30অউ সময় দেখা গেল, দুইজন মানষে আইয়া তান লগে বাতচিত কররা, এরার একজন অইলা মুছা নবী, দুছরা জন ইলিয়াছ নবী। 31তারা আল্লাই জালাল আর শানে দেখা দিলা। জেরুজালেম ছফরর কালো ইছা যেন আল্লার মর্জি মাফিক মউতর মুখামুখি অইরা, অউ বেয়াপারেউ তারা বাতচিত করলা।

32সাহাবি পিতর আর তান লগর অকল বেমালুম ঘুমো আছলা। আখতাউ ঘুম ভাংগি যাওয়ায় তারা ইছার জালাল-শান দেখলা, আর তান কান্দাত উবা অউ দুইও জনরেও দেখলা। 33হউ দুইওজন যেবলা ইছার গেছ থাকি রওয়ানা দিলাইরা, অউ সময় পিতরে কইলা, “হুজুর, আমরাও তো অনো আছি, খুব ভালা অইছে, তে এককাম করিলাই, আমরা অনো তিনখান ডেরা-ঘর বানাইলাই, একখান আপনার, একখান ইলিয়াছ নবী, আর একখান মুছা নবীর লাগি।” পিতরে যেন কিতা কইরা, ইতা তাইন নিজেউ বুজলা না।

34পিতরে অতা মাতিরা, অউ সময় আখতাউ মেঘর কালনি আইয়া তারারে গুরিলিলো। তারা কালনির আওড়ে হামানির বাদে সাহাবি অকল ডরাইগেলা। 35আর কালনির ভিতর থাকি অউ আওয়াজ আইলো, “এইনউ আমার খাছ মায়ার জন, তুমরা এন কথা মানো।”

36ই আওয়াজর বাদেউ দেখা গেল, ইছা হনো একলা উবাই রইছইন। সাহাবি অকল নিরাই অইগেলা, তারা যেতা দেখছিলা অউ সময় ইতা আর কেউররে হুনাইলা না।

জিনর আছর আলা পুয়া

37বাদর দিন ইছা আর সাহাবি অকল পাড়র টিল্লা থাকি লামিয়া আইলে, বউত মানুষ তান লগে দেখা করাত আইয়া ভিড় বান্দিল্লা। 38অউ ভিড়র মাজর একজনে চিল্লাইয়া কইলো, “হুজুর, আমার পুয়াগুর বায় খিয়াল করউক্কা, অগু আমার একমাত্র আওলাদ। 39তারে একটা জিনে ধরে, ইগিয়ে তারে ছাড়তো চায় না, হে আখতাউ চিক দিয়া উঠে আর মাটিত পড়িয়া ছাটিয়ায়। তার মুখেদি ফেনা বারয়, হেশে তারে আছাড়িয়া আধ-মরা করি ফালাই থইয়া যায়। 40আমি আপনার সাহাবি অকলর গেছে মিনত-কাজ্জি করছলাম অগুতারে খেদাইবার লাগি, অইলে তারা পারছইন না।”

41ইছায় কইলা, “ও বেইমান আর নাফরমানর জাত, আমি আর কতদিন তুমরার লগে রইমু, তুমরার ছাতানি সইয্য করমু? দেখিছাইন, তুমার পুয়ারে অনো আনো।” 42বেটায় পুয়ারে লইয়া আগুয়ার, অউ সময় জিন্নাতে তারে মাটিত ফালাইয়া জাতিয়া ধরলো, হে হুতিয়া ছাটিয়ানি লাগাইলো। তেউ ইছায় জিন্নাতরে ধামকি দিলা, তাইন অউ পুয়ারে ভালা করিয়া তার বাফর আতো সমজাই দিলা। 43আল্লার কুদরতি লিলা-খেলা দেখিয়া হকল মানুষ তাইজ্জুব অইগেলা।

দুছরা বার তান মউতর আগাম খবর

ইছার কেরামতি কাম-কাজ দেখিয়া হক্কলে তাইজ্জুব বনিয়া চিন্তা কররা, অউ সময় তাইন সাহাবি অকলরে কইলা, 44“আমার কথা খানাইন তুমরা মন দিয়া হুনো, আমি বিন-আদমরে তো মানষর আতো ধরাই দেওয়া অইবো।” 45সাহাবি অকলে ই মাতর কুনু মানি বুজলা না। আল্লায় তারার গেছে ইখান গাইব রাখলা, যাতে তারা না বুজইন। আর অউ বেয়াপারে ইছারেও কুন্তা জিকাইতে তারার সাওস অইলো না।

বড় কে?

46সাহাবি অকলর মাজে কে হকল থাকি বড়, অতা লইয়া তারা তর্কা-তর্কি কররা, 47এরমাজে ইছায় তারার দিলর ভাব বুজিলিলা। তাইন এক নাবালিক হুরুতারে কান্দাত আনিয়া কইলা, 48“যে জনে আমার লাগি অউ হুরুতার লাখান কুনু ছাবালরে কবুল করে, হে আমারেউ কবুল করে। আর আমারে যে কবুল করে, হে খালি আমারে নায়, আমারে যেইন বেজিছইন তানরেও কবুল করলো। তুমরার মাজে যে জন হকল থাকি হুরু, হে-উ হকল থাকি বড়।”

49বাদে সাহাবি হান্নানে কইলা, “হুজুর, আমরা দেখলাম আপনার নাম লইয়া একজনে ভুত ছাড়ার। দেখিয়া আমরা তারে মানা করছি, হে তো আমরার তরিকার নায়।” 50ইছায় তানরে কইলা, “আর মানা করিও না, যে তুমরার বিপক্ষে নায়, হে তো পক্ষেউ আছে।”

জেরুজালেম যাওয়ার পথে হজরত ইছা (৯:৫১-১৯:২৭)

হজরত ইছা জেরুজালেমর বায় রওয়ানা

51ইছায় বেহেস্তো তশরিফ নিবার দিন ঘনাইয়া আইলো, অউ তাইন জেরুজালেমো যাইতা করি নিয়ত করলা। 52তান আগে অইয়া খবরিয়া অকল পাঠাইলা। তারা আগে গিয়া হকলতা জুইত-জাইত করার খিয়ালে শমরিয়া জাতির এক গাউত গিয়া হামাইলা। 53অইলে হি গাউর মানষে যেবলা হুনলা, ইছা জেরুজালেম যাইতা, হুনিয়া তারা তানরে আশ্রয় দিলো না। 54এরদায় তান সাহাবি ইয়াকুব আর হান্নানে কইলা, “হুজুর, ইলিয়াছ নবীর লাখান আমরাও অখন আরজ করতাম নি, আছমানি আগুইন লামিয়া অতারে বিনাশ করিলাউক?” 55ইছায় তারার বায় ফিরিয়া ধামকি দিয়া কইলা, “তুমরা জানো না নি তুমরা কুন লাখান রুহর গড়া? আমারে কুনু বেজা অইছে নি মানষর বিনাশ করতাম? আমারে তো বেজা অইছে মানষর জান বাচাইতাম।” 56অখান কইয়া এরা আরক গাউত গেলাগি।

57তারা যেবলা পথেদি যাইরা, অউ সময় এক বেটা আইয়া ইছারে কইলো, “ছাব, আপনে যেখানো যাইবা, আমিও আপনার লগে হনো যাইমু।” 58ইছায় তারে কইলা, “বাবারে, হিয়ালর গাত আছে, পাখিন্তর বাদা আছে, অইলে আমি বিন-আদমর মাথা গুজার কুনু ঠাই নাই।” 59বাদে ইছায় আরক জনরে দেখলা, দেখিয়া তারে কইলা, “ওবা, আমার লগে চলো।” হে জুয়াপ দিলো, “হুজুর, আমার বাফর মউতর বাদে তানরে মাটি দিয়া হারলে আমি আইমু।” 60ইছায় তারে কইলা, “মরা অকলে তারার মরারে মাটি দেউক, তুমি আইয়া আল্লার বাদশাইর দাওত দেও।” 61আরো একজনে কইলো, “হুজুর, আমি আপনার লগে যাইমু, তে আমার বাড়িত গিয়া বিদায় লইয়া আই।” 62ইছায় তারে কইলা, “লাংগলর খুটিত ধরিয়া যেগুয়ে খরেদি ফিরিয়া চায়, হে আল্লার বাদশাইর লাখ নায়।”

10

সত্তইর জন সাগরিদরে তবলিগো পাঠাইলা

1বাদে হজরত ইছায় আরো সত্তইরজন সাগরিদরে তবলিগো পাঠাইতা করি পছন্দ করলা। তাইন নিজে যেতা টাউন বা গাউয়াইন্তো যাওয়ার ইরাদা করছিলা, হনো যাইবার আগে এরারে দুইজন দুইজন করিয়া পাঠাইলা।

2পাঠানির বালা এরারে কইলা, “হুনো, জমিনো তো ফসল বউত আছে, অইলে কামলা খুব কম। এরলাগি জমিনর মালিকর গেছে দোয়া করো, তান ফসল তুলার লাগি তাইন কামলা পাঠাইবা। 3তুমরা অখন রওয়ানা অইযাও। খিয়াল রাখিও, বাঘর পালর মাজে মেড়া-বাইচ্চার লাখান আমি তুমরারে পাঠাইলাম। 4তুমরা যাওয়ার কালো টেকার থলি, গাইট-বুছকি, পাওর জুতা ইতা কুন্তাউ লগে নিও না, আর পথর মাজে কেউররে ছালামও করিও না। 5যে বাড়িত গিয়া হামাইবায়, হামাইয়াউ কইও, আছছালামু আলাইকুম। 6ছালাম লওয়ার জুকা কেউ হিনো থাকলে, তুমরার ছালাম তার উপরে বর্তিবো, আর ইলা কেউ না থাকলে, তুমরার ছালাম তুমরার গেছেউ ফিরত আইবো। 7পয়লা যে বাড়িত হামাইবায়, হউ বাড়িতউ রইও। ই বাড়ি ছাড়িয়া দুছরা বাড়িত যাইও না। তারা যেতা দেইন অতা খাইও, কারন কামলায় তার বেতন পাওয়ার যোইগ্য।

8“যেবলা কুনু গাউত যাইবায়, হিনর মানষে তুমরারে কবুল করিয়া, তারা যেতা খাইতে দেইন, অতাউ খাইও। 9তারার বেমারি অকলর বেমার ভালা করিও। তারারে কইও, আল্লার বাদশাই তো তুমরার ধারো আইচ্ছে। 10অইলে কুনু গাউত গেলে হনর মানষে যুদি তুমরারে কবুল না করইন, তে গাউত আটি আটি অখান কইও, 11হবা, তুমরার গাউর যে ধুইল আমরার পাওত লাগছে, ইতা আমরা ফুছিয়া ফালাই দিরাম, অউ ধুইলেউ তুমরার বিপক্ষে সাক্ষি দিবো। অইলে মনো রাখিও, আল্লার বাদশাই কান্দাত আইচ্ছে। 12আমি তুমরারে কইরাম, কিয়ামতর দিন লান্নতি ছাদুম টাউনর দশা থাকি, হি গাউর দশা আরো কঠিন অইবো।

13“হায়রে বায়ত-ছয়দা আর খুরাছিন গাউ, তুমরা তো লান্নতি। তুমরার মাজে যেতা কুদরতি কাম দেখাইল অইছে, ইতা সোর আর সিদন এলাকাত দেখাইল অইলে, তারা কাতর অইয়া তৌবা করলো অনে। 14আসলে কিয়ামতর দিন সোর আর সিদন এলাকার দশা থাকিও, তুমরার দশা বউত কঠিন অইবো। 15আর ও কফরনাউম টাউন, তুমি বুলে উচা অইয়া আছমানো গিয়া লাগতায়? না, পারতায় নায়! তুমারে পাতালো লামাইল অইবো।

16“তুমরা মনো রাখিও, যেরা তুমরার কথা মানে, তারা আসলে আমার কথাউ মানে। আর যেরা তুমরারে মানে না, তারা আমারেও মানে না। যেরা আমারে মানে না, তারা আসলে হউ আল্লারেও মানে না, যেইন আমারে বেজিছইন।”

17বাদে হি সত্তইরজন সাগরিদে তবলিগ করিয়া খুব খুশ মিজাজে ফিরত আইলা। আইয়া কইলা, “হুজুর, আপনার নাম হুনলে জিন-ভুতেও আমরার কথা মানে।” 18ইছায় তারারে কইলা, “হুনো, আমি দেখছি, ইবলিছ-শয়তান মেঘর জিলকির লাখান বেহেস্ত থাকি পড়িযার। 19তে আমি তুমরারে হাফ-বিচ্ছুর উপরেদি আটার খেমতা দিছি, আর তুমরার দুশমন, ইবলিছর হকল শক্তির উপরে তুমরারে খেমতা দিছি। কুনুজাত কুন্তায়উ তুমরার খেতি করতো পারতো নায়। 20আর জিন-ভুতে তুমরার কথা হুনের দেখিয়া খুশি না অইয়া, বরং বেহেস্তি খাতাত তুমরার নাম লেখা অইছে করিউ খুশি করো।”

21অউ সময় ইছাও পাক রুহর বলে খুশি অইয়া কইলা, “ও গাইবি বাবা, তুমিউ তো আছমান-জমিনর মালিক। আমি তুমার শুকরিয়া আদায় কররাম, কারন তুমি আখলদার-বুদ্ধিমান অকলর গেছে ইতা জাইর না করিয়া, বেবুজ-হুরুতার লাখান মানষর গেছে জাইর করছো। বাবা, আসলে তো ইতা হকলতাউ তুমার মর্জি। 22আমার গাইবি বাবায় হকলতাউ আমার আতো সপি দিছইন। বাফ ছাড়া দুছরা কেউ জানে না অউ পুত কে, আর পুত ছাড়া দুছরা কেউ জানে না অউ বাফ কে। পুতে বাফরে যার গেছে জাইর করার খিয়াল অয়, খালি হে-উ বাফর পরিচয় পায়।”

23বাদে তাইন সাগরিদ অকলর বায় ফিরিয়া কানে কানে কইলা, “তুমরা যেতা যেতা দেখছো, ইতা দেখার সুযোগ যার অয়, হে-উ নেক-কপালি। 24আমি তুমরারে কইরাম, তুমরা যেতা দেখরায়, ইতা বউত নবীয়ে আর রাজা-বাদশায় দেখার আশা করলেও, দেখার কপাল অইছে না। তুমরা যেতা হুনরায়, ইতা তারা হুনতে চাইলেও হুনার কপাল অইছে না।”

হকল থাকি বড় হুকুম

25একবার এক আলিম ছাব ইছার গেছে আইলা। আইয়া তানরে পরিক্ষা করার লাগি জিকাইলা, “হুজুর, কিতা কাম করলে আমি বেহেস্ত পাইমু?” 26ইছায় কইলা, “মুছা নবীর কিতাবো কিতা লেখা আছে? আপনে কিতা পাইছইন?” 27আলিমে জুয়াপ দিলা, “লেখা আছে,

তুমি তুমার আস্তা দিল দিয়া, জান দিয়া,

হকল বল-শক্তি দিয়া,

তুমার ষোলআনা মন দিয়া,

তুমার মাবুদ আল্লারে মহব্বত করবায়।

আর,

তুমার আরি-ফরিরে নিজর লাখান মায়া করবায়।”

28ইছায় তানরে কইলা, “আপনে ঠিক কথা কইছইন। তে আপনেও অউলা করউক্কা, তেউ বেহেস্ত পাইবা।”

29অউ আলিমে নিজর দাম বাড়ানির লাগি ইছারে কইলা, “আইচ্ছা, তে আমার আরি-ফরি কে?”

30ইছায় কইলা, “হুনউক্কা, একজন মানুষ জেরুজালেম থাকি যিরিহো টাউনো যাওয়াত আছিল। পথো ডাকাইতে পাইয়া তার কাপড়-চুপড় হকলতা কাড়িয়া নিয়া, তারে মারিয়া আধ-মরা করি ফালাই থইয়া গেলগি। 31বাদে এক ইমাম-ছাব অউ পথেদি যাইরা, তাইন অউ বেটারে দেখিয়া গালাবায় হরিয়া গেলাগি। 32অউ লাখান লেবির খান্দানর এক খাদিম ছাবও অউ পথেদি আইলা, তাইনও এরে দেখিয়া গালাবায় গেলাগি। 33হেশে শমরিয়া জাতির এক বেটা অউ পথেদি আইলো, হে বিধর্মী জাতির অইলেও এর হালত দেখিয়া তার দিলো দরদ হামাইলো। 34অউ হে এর জখমর উপরে তেল আর আংগুরর রস মালিশ করিয়া পট্টি বান্দিয়া দিলো। বাদে তার নিজর গাধার উপরে তুলিয়া, এক মুছাফির খানাত নিয়া তার যতন করলো। 35বাদর দিন অউ শমরিয় বেটায় মুছাফির খানার মালিকর আতো দুইটা দিনার দিয়া কইলো, অউ মানুষগুর যতন করবা। এর বেশি খরচ অইলেও, আমি আইয়া দিমু।

36“তে আলিম ছাব, আপনার কিতা মনো অয়, অউ তিন জনর মাজে কুন জন, ডাকাইতর আতো পিটা খাওরা বেটার আরি-ফরি?” 37আলিমে কইলা, “যে মানষে তারে দরদ করলো হে-উ তো।” তেউ ইছায় কইলা, “তে আপনেও গিয়া অউলা করউক্কা।”

বিবি মার্থা আর তান বইন

38বাদে ইছা আর তান সাহাবি অকল আটি আটি এক গাউত গেলা। হউ গাউর এক বেটি মানষে খুশি অইয়া ইছারে তান বাড়িত নিয়া মেহমানদারি করলা। অউ বেটির নাম মার্থা। 39বেটির এক বইনর নাম অইলো মরিয়ম, এইন হুজুরর পাওর কান্দাত বইয়া নছিয়ত হুনরা। 40আর মার্থা গিয়া রান্দা-বাড়া আর খাতির-যতন করাত পেরেশানিত রইলা। এরমাজে মার্থা আইয়া হুজুর ইছারে কইলা, “হুজুর, দেখরা নি আমার বইনে হক্কল কাম-কাজ একলা আমার উপরে থইয়া অনো আইছে? তে আপনে কউক্কা, আমারে সাইয্য করতো।” 41হুজুরে কইলা, “মার্থা, তুমি বউত বেয়াপারে চিন্তা করিয়া পেরেশান অইগেছ। 42হুনো, আসলে একটা বেয়াপারউ খালি জরুর আছে। তুমার বইন মরিয়মে হউ জরুরি বেয়াপাররে পছন্দ করছে। ইতা তো তাইর গেছ থাকি কাড়িয়া নেওয়া যাইতো নায়।”

11

দোয়া করার কায়দা-কানুন

1একদিন হুজুর ইছায় কুনু এক জাগাত দোয়া করাত আছলা। দোয়া শেষ অইয়া হারলে তান এক সাহাবিয়ে কইলা, “হুজুর, এহিয়া নবীয়ে তো তান সাহাবিরে দোয়া করা হিকাইতা, তে আপনেও আমরারে দোয়া করা হিকাউক্কা।” 2ইছায় এরারে কইলা, “দোয়া করার সময় তুমরা অউলা কইও,

ও আছমানি বাবা, তুমার নাম পবিত্র কইয়া মানা অউক,

দুনিয়াত তুমার বাদশাই কাইম অউক।

3আমরার পরতেক দিনর রিজেক পরতিদিন যুগাই দিও;

4বাবা, আমরার তামাম গুনারে মাফ করিয়া দিলাও,

যেলা আমরাও মাফি দিলাইছি আমরার অপরাধি অকলরে;

আর পরিক্ষা থাকি হেফাজত করো আমরারে।”

5বাদে ইছায় তারারে কইলা, “ধরিলাও, আধা রাইতকুর বালা তুমরার কুনু দুস্তর বাড়িত গিয়া কইলায়, দুস্ত, আমারে তিনখান রুটি করজ দেও। 6আমার এক বন্ধু পথেদি যাওয়ার বালা আখতাউ আমার বাড়িত উঠছইন। অখন তানে কিতা খাওয়াইতাম, আমার ঘরো তো কুন্তা নাই। 7তেউ দুস্তে ঘরো থনে জুয়াপ দিলা, আমি দরজা বন্দ করিয়া আমার হুরুতাইন লইয়া হুতিরইছি, আমারে কষ্ট দিও না। অখন উঠিয়া কুন্তা দিতাম পারতাম নায়। 8অইলে আমি কইরাম, অউ দুস্তে উঠিয়া বন্ধু হিসাবে কুন্তা দিতে না চাইলেও, তুমি বার বার মিনত করলে হে উঠবোউ। উঠিয়া তুমি যেতা চাইরায়, ইতা ঠিকউ দিবো।

9“তে আমি তুমরারে কইরাম, তুমরা চাও, তেউ দেওয়া অইবো। তালাশ করো, তেউ পাইবায়। দুয়ারো ঠুকা দেও, তুমরার লাগি দুয়ার খুলা অইবো। 10যারা চায়, তারাউ তো পায়। যে তালাশ করে হে পায়। যে দুয়ারো ঠুকা দেয়, তার লাগি দুয়ার খুলা অয়। 11তুমরার মাজে ইলা কুনু বাফ আছে নি, যার পুতে রুটি চাইলে তারে মাটি দিবো, মাছ চাইলে হাফ দিবো, 12বা এন্ডা চাইলে বিছা দিবো? 13তে তুমরা নাফরমান অইয়াও যুদি তুমরার হুরুতাইনরে ভালা ভালা চিজ দিতায় জানো, তে যারা বেহেস্তি বাফর গেছে চাইব, তাইন নিচয় তারারে পাক রুহ দান করবাউ।”

হজরত ইছায় কুন বলে কেরামতি দেখাইন

14একদিন এক বেটার লগ থাকিয়া ইছায় এক বোবা জিন্নাত ছাড়াইলা। জিন্নাতে ছাড়ার বাদে হি বেটার জবান খুলি গেল, মাত-কথা মাতিলো। ইতা দেখিয়া মানুষ তাইজ্জুব বনিগেলা। 15অইলে কুনু কুনু মানষে কইলো, “ই বেটায় জিনর বাদশা বেল-সবুলর বলে জিন ছাড়ায়।” 16আরো কয়েক জনে তানরে পরিক্ষা করার নিয়তে, তান আতর কুনু কেরামতি দেখতো চাইলো। 17ইছায় তারার দিলর ভাব বুজিলিলা। বুজিয়া কইলা, “কুনু রাইজ্য নিজে নিজে ভাগ অইগেলে, ই রাইজ্য বিনাশ অইযায়। অউলা কুনু পরিবারো যেবলা বিবাদ লাগি যায়, ই পরিবারও আর টিকে না। 18তে জিন্নাত যুদি তার নিজর বিপক্ষে লাগি যায়, তাইলে তার রাইজ্য কেমনে টিকবো? তুমরা তো কইরায়, আমি বেল-সবুলর বলে জিন্নাত ছাড়াই। 19খুব ভালা কথা, আমি যুদি বেল-সবুলর বলে জিন্নাত ছাড়াই, তে তুমরার মানষে কিতাদি ছাড়ায়? তুমরার মাতর বিচার তুমরার মানষেউ করবো। 20অইলে আমি যুদি আল্লাই কুদরতে জিন্নাত ছাড়াই, তে তো আল্লার বাদশাই তুমরার নজদিক আইচ্ছে।

21“হুনো, কুনু বলআলা মানষে অস্ত্র-শস্ত্র লইয়া তার বাড়ি পাহারা দিলে, তার ছামানা নিরাপদ থাকে। 22অইলে তার থাকি জবরদস্ত আরক জন আইয়া হামলা করিয়া তারে আরাইলিলে, হে যেতা অস্ত্র-শস্ত্রর বড়াই করছিল, ই অস্ত্রও কাড়িয়া নিবোগি। তার হকল মাল-ছামানাও লুটিয়া নিয়া বাটিলিবো।

23“তে যে জন আমার পক্ষে নায়, হে তো আমার বিপক্ষ। যে আমার অইয়া কাম না করে, হে তো আমার বিরুদ্ধে কাম করে।

24“কুনু জিনে যেবলা এক বেমারির লগ ছাড়িয়া যায়গি, গিয়া বসত করার লাগি মরুভুমিত ঘুরা-ঘুরি করে। বাদে কুনুখানো রইবার জাগা না পাইয়া মনে মনে কয়, দুর! আমি যেন থাকি আইছি অনোউ হিরবার যাইগি। 25ফিরত আইয়া হারি দেখে, হি জাগা সুন্দর করি হাজাই-পাড়াই থওয়া। 26অউ হে গিয়া তার থাকি আরো বদ সাতগু জিন লগে করি আনে। আনিয়া অনো হামাইয়া বাসা বানায়। এরদায় অউ বেমারির দশা পয়লা থাকি হেশে আরো খারাপ অয়।”

27ইছায় অতা বয়ান কররা, আখতাউ ভিড়র মাজ থাকি এক বেটিয়ে জুরে জুরে কইলো, “হুজুর, যে মাʼয় আপনারে পেটো লইছইন আর দুধ খাওয়াইছইন, এইন বড় কপালি মা।” 28ইছায় কইলা, “ইখান হাছা কথা, অইলে এর চাইতেও বড় কপালি তারা, যারা আল্লার কালাম হুনে, হুনিয়া অলা আমল করে।”

হজরত ইউনুছ নবীর আলামত

29বাদে আরো বউত মানুষ হজরত ইছার গেছে আইলা। তাইন এরারে কইলা, “ই জমানার মানুষ তো নাফরমান। তারা খালি কেরামতি তুকায়, অইলে ইউনুছ নবীর আলামত ছাড়া দুছরা কুনু কেরামতি তারারে দেখাইল অইতো নায়। 30ইউনুছ নবী নিজে নিজেউ যেলা নিনভ টাউনর মানষর গেছে এক আলামত অইছলা, বিন-আদমও অউলা ই জমানার মানষর গেছে নিজেউ আলামত অইবা। 31রোজ কিয়ামতর দিন দউকনর দেশর রানী উঠিয়া অউ জমানার মানষর দুষ জাইর করবা। কারন বাদশা সুলাইমানর আখলর কথা হুনার নিয়তে তাইন দুনিয়ার হেশ মাথা থাকি আইছলা। অইলে অখন তো সুলাইমান থাকিও আরো মহান একজন অনো আছইন। 32কিয়ামতর দিন নিনভ টাউনর মুর্দা অকল উঠিয়া ই জমানার মানষর দুষ জাইর করবা। কারন ইউনুছ নবীর তবলিগ হুনিয়া তারা তৌবা করছিলা। অইলে অখন তো ইউনুছ থাকিও আরো মহান একজন ইনো আছইন, তা-ও মানষে তৌবা করের না।

চউখ ভালা যার, দিল ভালা তার

33“কুনু মানষে তো লেম জালাইয়া হারি চকির তলে বা টুকরির তলে থয় না, বরং গাছার উপরেউ থয়, যাতে ঘরর মানষে ফর দেখে। 34তুমার চউখউ অইলো তুমার কায়ার বাত্তি। চউখ যুদি ভালা অয়, তে তুমার আস্তা শরিলো ফর অইবো। আর চউখ খারাপ অইলে, তুমার শরিলও আন্দারিত রইবো। 35তে খিয়াল রাখিও, তুমার দিলো যে নুর আছে, ইতা আন্দাইর অইযার কি না? 36তুমার আস্তা শরিলো যুদি ফর থাকে, কুনু অংগ আন্দাইর না থাকে, তে লেমে যেলা তার নিজর তেজে তুমারে ফর দেয়, অউলা ই নুরেও তুমার আস্তা শরিলরে ফর করিলিবো।”

দিলরে পাক-পাকিজা রাখা জরুর

37ইছায় বয়ান কররা অউ সময় ফরিশি দলর একজনে তানরে খাইবার দাওত দিলা। তাইন গিয়া এন ঘরর ভিতরে খানিত বইলা। 38ফরিশিয়ে দেখলা, খাওয়াত বইবার কালো ইছায় ইহুদি নিয়ম মাফিক আত ধইছইন না, অউ তাইন তাইজ্জুব বনিগেলা।

39তেউ ইছায় তানরে কইলা, “হুনউক্কা, আপনারা ফরিশি অকলে তো বাসন-বর্তনর বাইর গালা খুব সুন্দর করইন, অইলে আপনারার ভিতরে তো নাফরমানি আর লালছে ভরা। 40ও বেআখলর দল, যেইন বারগালা বানাইছইন, তাইনউ কিতা ভিতরগালাও বানাইছইন না নি? 41এরলাগি আপনারার ভিতরে যেতা আছে, অতা আগে আল্লার ওয়াস্তে লিল্লা-ছদগা দেউক্কা। তেউ দেখবানে, আপনারার হকলতাউ পাক-ছাফ অইযিব।

42“হায়রে ফরিশি অকল, লান্নত তুমরারে, তুমরা খালি তেজপাতা, পদিনা পাতা আর হক্কল হাগ-তরকারির দশ বাটর এক বাট আল্লার নামে যকাত দেও, অইলে আল্লার মহব্বত আর হক ইনছাফর বায় তুমরার কুনু খিয়ালউ নাই। আসলে অউ পয়লাতা মানার লগে লগে বাদরতাও আমল করা ফরজ। 43ও লান্নতি ফরিশি অকল! মছিদো হামাইয়া ছামনর কাতারো বওয়া, আর বাজার-আটো গিয়া ছালাম পাইতে তুমরা খুব পছন্দ করো। 44লান্নত তুমরার উপরে, তুমরা অইলায় অ-চিনা কয়বরর লাখান। মানষে না চিনিয়া এর উপরেদি আটা-ফিরা করে।”

45ইখান হুনিয়া একজন আলিমে ইছারে কইলা, “হুজুর, অখান কইয়া তো আপনে আমরারেও বেইজ্জত কররা।” 46ইছায় কইলা, “নিচয়, আপনারাও লান্নতি, আপনারা মানষর কান্দো ভার বোঝাই করিয়া দেইন, অইলে তারার আছানর লাগি আংগুলটাও লাড়ইন না।

47“হায়রে লান্নতি অকল, তুমরা নবী অকলর রওজারে সুন্দর করিয়া পাক্কা করো, অইলে তুমরার ময়-মুরব্বিয়েউ তো এরারে কাতল করছলা। 48অতা দেখিয়াউ বুজা যায়, তুমরা তুমরার ময়-মুরব্বির কামর সাক্ষি অইরায়, তুমরাও অলা অইরায়। তারা নবী অকলরে কাতল করছিল, আর তুমরা হউ নবীর রওজারে পাক্কা কররায়। 49এরদায় আল্লা পাকেও তান নিজর মর্জিয়ে কইলা, আমি তারার গেছে আমার নবী-রছুল বেজিমু, এরার কেউররে তারা জুলুম করবো, আর কেউররে কাতল করবো। 50এতে দুনিয়ার পয়লা থাকি অখন পর্যন্ত যতো নবীরে কাতল করা অইছে, এরা হক্কলর দায়ী অইবা অউ জমানার মানুষ। 51হুনউক্কা, আমি আপনাইন্তরে কইরাম, পয়লা আদমর পুত হাবিলর খুন থাকি শুরু করিয়া, নবী জাকারিয়ার খুন পর্যন্ত হকল লউর সাজা অউ জমানার মানষর গেছ থাকি আদায় করা অইবো। নবী জাকারিয়ারে তো জেরুজালেমর পবিত্র কাবা শরিফর কুরবানি খানা, আর খাছ পাক জাগার মাজখানো কাতল করা অইছে। 52হায়রে লান্নতি আলিম অকল, তুমরা মানষরেও আল্লার পথ চিনাইরায় না, নিজেও আল্লার বাদশাইত হামাইরায় না, আর যেরা হামাইতো চার, তারারেও বাধা দিরায়।”

53-54বয়ান বাদে ইছা ইখান থাকি রওয়ানা দিলাইলা। তেউ আলিম আর ফরিশি অকলে মিজাজ গরম করিয়া ইছারে ফান্দো ফালাইতা করি খুচাই-ফাড়াই মাতিলা। নানান নমুনার ছওয়াল করিয়া তানরে আটকানির সুযোগ তুকাইলা।

12

আখেরাতর ছামান কামাই করো

1অউ সময় আজার আজার মানুষ দলা অইগেলা, তারা ঠেলাঠেলি করি একে-অইন্যর উপরে পড়লা। ইছায় পয়লা তান সাহাবি অকলরে কইলা, “তুমরা ফরিশি মজহবর খামির থাকি হুশিয়ার রইও, অউ খামির অইলো তারার ভন্ডামি। 2ঠিক অউ খামিরর লাখান, ইলা লুকাইল কুন্তাউ নাই, যেতা জাইর অইতো নায়। ইলা গোপন কুন্তাউ নাই, যেতা জানা যাইতো নায়। 3তুমরা আন্দাইর ঘরো যেতা মাতিছো, মানষে ইতা ফরর মাজে হুনবো। ঘরর ভিতরে কানে কানে যেতা কইছো, ইতা চালর উপরে রটাইল অইবো।

4“ও আমার দুস্ত অকল, আমি তুমরারে কইয়ার, যারা খালি শরিলরে বিনাশ করা ছাড়া আর কুন্তাউ করতো পারে না, তারারে ডরাইও না। 5তে কারে ডরাইতায় এওখানও কইরাম, মারার বাদে দোজখো হারানির খেমতাও যান আছে, খালি তানরেউ ডরাইও। আমি হিরবার কইরাম, তুমরা খালি তানেউ ডরাইও। 6মাত্র দুই আনায় পাচগু চড়া পাখি মিলে না নি? আল্লায় তো অউ চড়ার কথাও ফাউরইন না। 7আর কিতা কইতাম, তুমরার মাথার চুলর হিসাবও তান গেছে আছে। তুমরা ডরাইও না, বউত চড়া পাখি থনেও তুমরার দাম তান গেছে বেশি।

8“হুনো, আমি তুমরারে কইরাম, যে মানষে সমাজর ছামনে আমারে কবুল করে, আমি বিন-আদমেও আল্লার ফিরিস্তা অকলর ছামনে তারে কবুল করমু। 9অইলে যে মানষে সমাজর ছামনে আমারে অস্বীকার করবো, আমিও তারে আল্লার ফিরিস্তা অকলর ছামনে অস্বীকার করমু। 10আমি বিন-আদমর বিরুদ্ধে কেউ কুন্তা মাতিলেও মাফি পাইবো। অইলে কেউ যুদি পাক রুহর বিরুদ্ধে কুফুরি করে, তে তার কুনু মাফি নাই।

11“মানষে যেবলা তুমরারে মছিদর পাইঞ্চাইতো, বিচারি অকলর ছামনে, বা থানাত নিবো, অউ সময় কিতা জুয়াপ দিতায় বা কিতা কইতায়, ইতা লইয়া কুনু চিন্তা করিও না। 12কিতা মাতিতায় ইতা পাক রুহে তুমরারে হউ সময় বাতাই দিবা।”

13ভিড়র মাজ থাকি একজনে ইছারে কইলো, “হুজুর, আপনে আমার ভাইরে কউক্কা, আমার বাবায় যেতা ধন-ছামানা থইয়া গেছইন, অতা বাট-বাটুরা করিয়া দিতা।” 14ইছায় তারে কইলা, “ওবা, তুমরার বিচার করতাম আর ধন-ছামানা বাটিতাম, ইতা এখতিয়ার আমারে খেগুয়ে দিছে?” 15তাইন মানষরে কইলা, “খবরদার! হক্কল নমুনার লোভ-লালছ থনে নিজরে বাচাও। কারন ধন-ছামানা বাইয়া গেলেও ইতায় মানষর জান বাচায় না।” 16বাদে ইছায় তারারে অউ কিচ্ছা হুনাইলা, কইলা, “এক ধনি বেটার জমিনো বউত ধান ফলিছিল। 17ধান দেখিয়া হে মনে মনে কইলো, অতো ধান অখন কিতা করতাম? আমার তো থইবারউ জাগা নাই। 18তে আমি এক কাম করি, আমার উগার ভাংগিয়া বড় করি কয়টা উগার বানাইলাই। তেউ আমার হকল ধান আর মাল-ছামানা জাগা অইবো। 19হেশে আমার জানরে কইমু, ও জান, বউত বছরর মাল-ছামানা আর খানি-খুরাকির লাগি নিচিন্তা অইগেছো। অখন আরাম-আয়েশে তুমি খাইয়া ফিন্দিয়া ফুর্তি করো। 20অইলে আল্লায় তারে কইলা, ওরে বেআখল, তোর জান তো আইজ রাইতউ কবজ করা অইবো। তে তুই যেতা জমাইছছ, ইতা খেগুয়ে খাইবো?” 21হেশে ইছায় কইলা, “যে মানষে খালি দুনিয়াবি ধন-ছামানা দলা করে, অইলে আখেরর ধন না জমায়, তার হালত অউলাউ অয়।”

22বাদে ইছায় তান সাগরিদ অকলরে কইলা, “এরদায়উ আমি তুমরারে কইরাম, কিতা খাইয়া বাচতাম, আর কিতা ফিন্দিতাম, ইতা লইয়া তুমরা চিন্তা করিও না। 23জান থাকি তো খানি বড় নায়, আর শরিল থাকি কাপড় বড় নায়। 24অউ কাউয়া গুইন্তর বায় খিয়াল করো, তারা তো খেতও করে না, ফসলও কাটে না। তারার উগারও নাই, ভান্ডারও নাই। আল্লায় তারার রিজেক যুগাইয়া দেইন। তে তুমরা তো অউ কাউয়া থাকি বউত দামি। 25কওছাইন, তুমরার মাজে কেউ চিন্তা-ভাবনা করিয়া তার হায়াতি একখান ঘন্টাও বাড়াইতো পারবো নি? 26আর অউ হুরু কামখানউ যেবলা পারো না, তে কেনে বাড়তি চিন্তা করো?

27“তুমরা অউ জংলি ফুলর বায় চাও, ইতা কতো সুন্দর! ইতায় তো নিজর সুন্দরর লাগি কুন্তাউ করেনা, কুনু রংগ সিলাইও করে না, বাইনও করে না, এমনেউ অয়। তে আমি কইয়ার, বাদশা সুলাইমান অতো জাক-জমকর মাজে রইলেও তান লেবাছ তো অতা এগু জংলি ফুলর লাখানও সুন্দর আছিল না। 28দেখরায় নি, জংগলর মাজে অউ যতো সুন্দর ফুল অখন আছে, কাইল অইলেউ মানষে ইতা দারু বানাইয়া আগুইনদি জালাইবো। আল্লায় যুদি অউ জংগলরে অলা সুন্দর করি হাজাইছইন, তে ও কমজুর ইমানদার অকল, তুমরারেও তাইন সুন্দর করি হাজাইতা নায় নি? 29তে কিলা খাইতাম, কিলা চলতাম, ইতা বেয়াপারে চিন্তা করিও না, বা অস্থির অইও না। 30ই দুনিয়ার মানষে খালি অতা লইয়াউ ধান্দা করে। অইলে তুমরার বাতুনি বাফে তো এমনেউ জানইন, তুমরার কিতা কিতা লাগবো। 31এরদায়উ তুমরা ইতা বাদ দিয়া, খালি আল্লার বাদশাইর ধান্দাত রও, তেউ ইতা হক্কলতাউ তাইন যুগাইবা।

32“তুমরাউ আমার মেড়ার পাল, তুমরার দল হুরু-মুরু অইলেও ডরাইও না, তুমরার বাতুনি বাফর মর্জি অইলো, তুমরা তান বাদশাইর ভিতরো হামাও। 33তুমরার যততা আছে, হক্কলতা বেচিয়া গরিব অকলরে বিলাই দেও, আর নিজর লাগি খালি অউলা এক কুথি-বেগ তিয়ার করো, যে কুথি কুনুদিন পুরান অয় না। অউ বেহেস্তো ছামানা জমা করো, যেখানো ছামানা ক্ষয় অয় না, চুরেও নেয় না, পুকেও খায় না। 34কারন তুমরার ধন যেনো রয়, মনও হনো রইবো।

হামেশা তিয়ার রইও

35“তুমরা কাপড়-চুপড় ফিন্দিয়া আর বাত্তি জালাইয়া তিয়ার রইও। 36তুমরা অউ জাত কামলার লাখান অও, যারা তারার মুনিবর লাগি বার চায়, তাইন বিয়ার দাওত থাকি ফিরত আইয়া দুয়ারো ঠুকা দিলেউ, লগে লগে দুয়ার খুলতো পারে। 37হউ গুলাম অকলউ কপালি, যেরারে তারার মুনিবে আইয়া হজাগ পাইবা। আমি হাছা কথা কইরাম, মুনিবে আইয়া হারি তান নিজর কমরো গামছা বান্দিয়া তারারে খানিত বওয়াইবা, আর নিজর আতে বাড়িয়া খাওয়াইবা। 38তারাউ বড় কপালি, যেরারে তারার মুনিবে আধা রাইত বা হেশ রাইতে আইয়া ডাক দিলেউ হজাগ পাইবা। 39মনো রাখিও, চুর কুন সময় আইবো, গিরস্তে ইখান জানলে তো হে হজাগ রইলো অনে, তার ঘরো হিং কাটতে দিলো না অনে। 40তুমরাও অলা তিয়ার রইও, কারন যে অখতর কথা তুমরা চিন্তাউ করতায় নায়, হউ সময়উ বিন-আদমে তশরিফ আনবা।”

41তেউ সাহাবি পিতরে কইলা, “হুজুর, ই নছিয়ত খালি আমরার লাগি, না হকল মানষর লাগি?” 42হুজুরে জুয়াপ দিলা, “আখলদার আর হক-হালালি অউ জন কে, যার আতো মালিকে তান গুলাম-বান্দিরে দেখা-হুনার ভার দিবা, হে অখতর কালো তারার খানি বাটিয়া দিবো? 43হউ গুলামউ কপালি, যারে তার মুনিবে আইয়া অউ লাখান কাম করাত দেখবা। 44আমি তুমরারে হাছা কথা কইরাম, হউ মুনিবে তারে তান নিজর হকল ধন-ছামানা তদারকির এখতিয়ার দিবা। 45অইলে ধরিলাও, হউ গুলামে মনে মনে কইলো, আমার মুনিব আইতে তো বউত দেরি আছে, আর অউ ফাকে হে হক্কল বান্দি-গুলামরে মাইর-ধইর করলো, খাইয়া-দাইয়া ফুর্তি করিয়া, মদ খাইয়া টাল অইয়া পড়ি রইলো। 46বাদে যে দিন আর যে অখতর কথা হে চিন্তাউ করতো নায়, হউ দিন আর হউ অখতো তার মুনিব আইয়া আজির অইবা। তাইন তারে এক ছেদে দুই টুকরা করিয়া নাফরমান অকলর কাতারো মিশাইবা।

47“আর যে গুলামে তার মুনিবর মর্জিরে বুজিয়াও তিয়ার অইছে না, তান হুকুম মাফিক কাম করছে না, তারে বেজুইতা মাইর মারা অইবো। 48অইলে না জানিয়া যুদি হে সাজা পাইবার কাম করিলায়, তে তার সাজা কম অইবো। যারে বেশি দেওয়া অইছে, তার গেছ থনে বেশি চাওয়া অইবো, আর যার গেছে বেশি পরিমানে থওয়া অইছে, তার গেছেউ বেশি দাবি করা অইবো।

49“আমি তো দুনিয়াত আগুইন লাগানিত আইছি। অখন যুদি ই আগুইনখান জলিযিতো, তে বড় ভালা অইলো অনে। 50আমি তো এক খাছ গোছল করাউ লাগবো। তে আমার দুখ-কষ্টর ই গোছল যতদিন না অইছে, অতো দিন আমার পেরেশানির কুনু সীমা নাই। 51তুমরা মনো কররায় নি, আমি দুনিয়াত শান্তি দিতাম আইছি? না, মোটেউ নায়, আমি কইরাম, আমি তো দুনিয়াত এক মতোভেদ লাগানিত আইছি। 52অখন থাকি এক ঘরর পাচজন যারযির আলগ অইযিবো। তিনজন দুইজনর বিপক্ষে, আর দুইজন তিনজনর বিপক্ষে লাগব। 53বাফে পুয়ার বিপক্ষে আর পুয়া বাফর বিপক্ষে। মা পুড়ির বিপক্ষে আর পুড়িয়ে মাʼর বিপক্ষে। হড়ি বউর বিপক্ষে আর বউয়ে হড়ির বিপক্ষে লাগবো।”

54বাদে ইছায় মানষরে কইলা, “তুমরা তো পইচমেদি কালনি দেখলেউ কও, মেঘ আইওর। আর হাছাউ মেঘ আয়। 55হিরবার দকিনা বাতাস চালু অইলে তুমরা কও, খরা অইবো, আর অলাউ অয়। 56ও ভন্ড অকল! তুমরা আছমান আর জমিনর ছুরত বুজতায় পারো, তে আখেরি জমানার হাল-হকিকত কেনে বুজো না?

57“কুনখান ঠিক, ইতা তুমরা নিজে নিজেউ বিচার করো না কেনে? 58কুনু নালিশ লইয়া হাকিমর ছামনে যাইবার আগে, বিপক্ষর লগে পথো বইয়াউ মিট-মাট করার চেষ্টা করিও। আরনায় হে তুমারে ধরিয়া হাকিমর ছামনে নিবো, হাকিমে পুলিশর আতো দিবো, আর পুলিশে নিয়া জেলো হারাইবো। 59হেশে শেষ পয়সাটা আদায় না করা পর্যন্ত, কুনুমন্তেউ জেল থাকি ছাড়া পাইতায় নায়, ইতা আমি তুমরারে কইরাম।”

13

তৌবা না করলে বিনাশ অইবায়

1হজরত ইছায় বয়ান কররা, অউ সময় হনর কয়জন মানষে তানরে কইলা, “হুজুর, গালিল জিলার কিছু মানষে আল্লার পাক জাগাত গিয়া পশু কুরবানি দেওয়াত আছলা, অউ সময় হাকিম পিলাতে তারারে হউ পাক জাগাত কাতল করিয়া, তারার লউ আর কুরবানির লউ একলগে মিশাইছইন।” 2ইখান হুনিয়া ইছায় কইলা, “অউ কুরবানি দেওরার মউত অলা অওয়ায়, তুমরা মনো কররায় নি, গালিলর অইন্য মানুষ থাকি এরা বেশি গুনাগার আছিল? 3আমি তুমরারে কইরাম, না, ইলা নায়, অইলে তুমরা যুদি গুনা থাকি তৌবা না করো, তে তুমরাও অলা বিনাশ অইবায়। 4হুনো, জেরুজালেমর ছীলোয়া এলাকার হউ উচা মিনারা ভাংগায় যে আঠারো জন মারা গেছিল, তারার বেয়াপারে কিতা মনো করো? জেরুজালেমর বাকি মানুষ থাকি এরা বেশি গুনাগার নি? 5আমি তুমরারে কইরাম, না, ইখান ঠিক নায়, অইলে তুমরা যুদি গুনা থাকি তৌবা না করো, তে তুমরাও অলা বিনাশ অইবায়।”

6বাদে তাইন অউ কিচ্ছা হুনাইলা, “এক গিরস্তে তান বাগানো ডুমুরর একটা গাছ লাগাইলা। সময় আইলে এইন আইয়া গাছো ফল তুকাইলা, অইলে কুনু ফল পাইলা না। 7না পাইয়া বাগানর মালিরে কইলা, হুনো, আইজ তিন বছর ধরি অউ ডুমুর গাছো ফল তুকাইরাম, অইলে কুন্তাউ পাইরাম না। তে তুমি গাছগু কাটিলাও, ইগুয়ে খামোখা জমিনর রস টানের। 8মালিয়ে কইলো, ছাব, ই বছরখানও থাকউক। আমি অগুর চাইরো গালার মাটি কুড়িয়া সার দিমু। 9ছামনর বছর যুদি ফল ধরিলায়, তে তো ভালা, নাইলে কাটিলিমু।”

জুম্মাবারে কেরামতি

10এক জুম্মাবারে ইছা মছিদর ভিতরে নছিয়ত করাত আছলা। 11হনো এক বেটি মানুষ আছিল, ই বেটির উপরে আঠারো বছর ধরি আতশি-দেওয়ে আছর করছিল। দেওয়ে বেটিরে গুজা বানাইলিছিল, বেটি সিদা অইয়া উবাইতো পারতো না। 12ইছায় বেটিরে ডাকদি কান্দাত আনিয়া কইলা, “মাই গো, তুমি অখন ই বেমার থাকি রেহাই পাইছো।” 13অখান কইয়াউ তাইন বেটিরে আতাই দিলা। লগে লগেউ বেটি সিদা অইয়া উবাইলো, আর আল্লার শুকুর-গুজার করলো।

14অইলে জুম্মার দিন তাইন ই বেটিরে ভালা করায়, মছিদর মতল্লীয়ে গুছা করিয়া কইলা, “কাম করার লাগি তো বাকি ছয়দিনউ আতো আছে। তুমরা জুম্মার দিন না আইয়া অইন্য যেকুনু দিন আইয়া ভালা অইও।”

15তেউ ইছায় হি মতল্লীরে কইলা, “ও ভন্ড অকল! জুম্মার দিন আপনারার গরু-গাধারে গোয়ালার বারে নিয়া পানি খাবাইন না নি? 16আইজ আঠারো বছর ধরি ইব্রাহিমর অউ আওলাদরে শয়তানে বান্দিয়া রাখছিল। অখন জুম্মাবারে ই বেটিরে আজাদ করা জাইজ অইছে না নি?”

17ইখান হুনিয়া যেরা তান বিপক্ষে আছিল তারা হকলেউ শরমিন্দা অইলো। অইলে বাকি মুছল্লি অকলে তান হকল কেরামতি দেখিয়া খুশি অইলা।

ডেংগা বিচি আর খামিরর কিচ্ছা

18বাদে ইছায় কইলা, “আল্লার বাদশাইরে আমি কিতার লগে তুলনা করতাম? 19মনো করউক্কা, আল্লার বাদশাই অইলোগি এগু ডেংগা বিচির লাখান, কুনু গিরস্তে তার জমিনো নিয়া অউ বিচি বাইন দিলো, বাদে ইটা বড় অইয়া গাছ অইগেল, আর পাখিন্তে আইয়া গাছর ডালো বাদা বানাইলো।”

20তাইন হিরবার কইলা, “আল্লার বাদশাইর তুলনা আমি কিতার লগে করতাম? 21ধরউক্কা, আল্লার বাদশাই অইলোগি খামিরর লাখান, কুনু এক বেটিয়ে থুড়া খামির নিয়া এক মন ময়দার লগে মাখিলো, আর খামিরর ফাফে হকল ময়দা ফুলিয়া উঠিলো।”

নাজাতর বেয়াপারে তালিম

22হজরত ইছায় আটি আটি গাউয়ে গাউয়ে আর টাউনে টাউনে গিয়া তবলিগ করিয়া জেরুজালেমর বায় আগুয়াইলা। 23এরমাজে একজন মানষে তানে জিকাইলো, “হুজুর, যেরা নাজাত পাইবা, এরা পরিমানে খুব কম নি?”

অউ ইছায় মানষরে কইলা, 24“চিপা দুয়ারেদি হামানির লাগি দিলে-জানে ফিকির করো। হুনো, আমি তুমরারে কইরাম, বউত জন ইনো হামাইতে চাইলেও, হামাইতো পারতো নায়। 25ঘরর মালিকে যেবলা দুয়ার বন্দ করিলিবা, তুমরা বারে উবাইয়া দুয়ারো ঠুকাইতে ঠুকাইতে কইবায়, হুজুর, আমরারে দুয়ার খান খুলিয়া দেউক্কা। অইলে তাইন জুয়াপ দিবা, তুমরা কুয়াই থাকি আইছো, আমি তো চিনিউ না। 26তেউ তুমরা কইবায়, আমরা আপনার লগে খাইছি-বইছি, আপনে তো আমরার পথো-ঘাটো আইয়া আমরারে নছিয়ত করতা। 27অইলে তাইন কইবা, হায়রে নাফরমান অকল, আমার গেছ থাকি বাগো। তুমরা কুয়াই থাকি আইছো, আমি তো চিনিউ না।

28“তুমরা দেখবায় ইব্রাহিম, ইছহাক, ইয়াকুব আর তামাম নবী অকল আল্লার বাদশাইত দাখিল অইছইন, অইলে তুমরারে হরাইয়া ফালানি অইছে। তুমরার মাজে কেউ কান্দা-কাটি করবায় আর কেউ দাত কিড়িমিড়ি খাইবায়। 29আরো দেখবায়, দুনিয়ার চাইরোবায় থাকি মানুষ আইয়া আল্লার বাদশাইত দাখিল অইয়া খানা-দানা খাইরা। 30তে যেরা অখন খরর কাতারো আছে, তারা কেউ কেউ আগে আইবো, অইলে অখন যেরা আগর কাতারো আছে তারা কেউ কেউ খরে যাইবোগি।”

জেরুজালেমর লাগি আফছুছ

31তাইন অতা মাতিরা, এরমাজে আখতাউ ফরিশি দলর কয়জন আইয়া ইছারে কইলা, “আপনে ইন থাকি হরিয়া যাইনগি, কারন রাজা হেরোদে আপনারে মারিলিতা চাইরা।” 32ইছায় তারারে কইলা, “আপনারা গিয়া হউ হিয়ালর ছাওরে কউক্কা, আইজ আর কাইল আমি জিন্নাত ছাড়াইমু, বেমারি অকলর শিফা করমু, পরু দিন আমার কাম শেষ অইবো। 33তে যেলাউ অউক, আইজ, কাইল আর পরু, অউ তিন দিন আমার চলাউ লাগব। আমি তো জানিউ, জেরুজালেমর বারে কুনু নবীরে কাতল করা অয় না।

34“জেরুজালেম! হায়রে জেরুজালেম! তুমি নবী অকলরে কাতল করো। তুমার গেছে যারারে বেজা অইছে, তুমি তারারে পাথর মারছো। মুরগিয়ে যেলা তাইর ছাওরে ডাখনার তলে আশ্রয় দেয়, আমি অউলা তুমার মানষরে আশ্রয় দিতাম চাইছি, অইলে তুমি রাজি অইলায় না। 35তে হুনো, তুমার বাড়ি খালি-বাড়ি অইবো। আমি তুমরারে কইরাম, যতদিন তুমরা না কইবায়, আল্লার নাম লইয়া যেইন আইরা তাইনউ মুবারক, অতো দিন তুমরা আর আমারে দেখতায় নায়।”

14

খানির দাওতো বইয়া তালিম

1হজরত ইছা ফরিশি দলর এক মুরব্বির বাড়িত কুনু এক জুম্মাবারে দাওতো গেলা, গিয়া হারলে তারা তানবায় খুব ভালা করি চউখ রাখলো। 2আখতাউ তান ছামনে এক বেমারি বেটা আইলো, তার আস্তা শরিল বেমারে ফুলিগেছিল। 3তেউ ইছায় হনর আলিম আর ফরিশি অকলরে জিকাইলা, “মুছা নবীর শরিয়ত মাফিক জুম্মাবারে কুনু মানষর বেমার শিফা করা জাইজ নি?” 4ইখান হুনিয়া তারা হকল নিরাই রইলা, আর ইছায় হি বেমারিরে শিফা করিয়া বিদায় দিলাইলা। 5বাদে তারারে কইলা, “তুমরার মাজে ইলা কুনু জন আছে নি, যার কুনু হুরুতা বা গরু-ছাগল জুম্মার দিন পানিত পড়িগেলে, হে ইগুরে পানি থাকি তুলে না?” 6ইখান হুনিয়া তারা কুনু জুয়াপ দিতা পারলা না।

7আর যে মেহমান অকল দাওতো আইছইন, তারা হকলে ভালা ভালা জাগা তুকাই বইরা দেখিয়া, ইছায় তারারে অউ তালিম দিলা, 8“কুনু মানষে তুমারে বিয়ার দাওত দিলে, তুমি মজলিছো হামাইয়া দামি জাগাত বওয়া ঠিক নায়। কারন মালিকে কিবান তুমার থাকি আরো ইজ্জতি কেউররে দাওত দিছইন। 9তে অইলে যেইন তুমারে দাওত দিছইন তাইন আইয়া কইবা, অউ সিট থাকি উঠিয়া আমার দামি মেহমানরে বইবার দেইন। তেউ তুমি শরমিন্দা অইয়া এমনেউ হকল থাকি নীচা জাগাত গিয়া বইবায়। 10এরদায় তুমি কুনু দাওতো গেলে পয়লা নীচা জাগাত গিয়া বইও। তেউ যার বাড়িত দাওতো গেছো তাইন আইয়া কইবা, ভাইছাব, ইনো কেনে বইছইন, ভালা জাগাত তশরিফ আনউক্কা। এতে আরো মেহমান অকলর ছামনে তুমার ইজ্জত বাড়বো। 11আসলে যে নিজরে বড় মনো করে, তারে হুরু করা অইবো। আর যে নিজরে হুরু মনো করে, তারে বড় করা অইবো।”

12যে মৌলানায় হজরত ইছারে দাওত দিছলা, ইছায় এনরে কইলা, “দিনর বা রাইতকুর খানির লাগি তুমি কুনু অনুষ্ঠান করলে, তুমার বন্ধু-বান্ধব, ভাই-বিরাদর, খেশ-কুটুম, আর ধারো কাছর ধনি মানষরে দাওত দিও না। তারারে খাওয়াইলে বাদে তারাও তুমারে খাওয়াইয়া বদলা দিলাইবা। 13এরলাগি তুমি কুনু মেহমানদারি করতে চাইলে, খালি গরিব মানুষ, আতুর, আন্দা, লুলা-লেংড়ারে দাওত দিও। 14এরা তো ফিরিয়া তুমারে খাওয়াইতো পারতো নায়। এতে কিয়ামতর দিন তুমি পরেজগার অকলর লগে ইতার বদলা পাইবায়।”

15ইতা হুনিয়া হউ খানির মজলিছর একজনে কইলা, “মুবারক হউ বন্দা, যেইন আল্লার বাদশাইত বইয়া খানা-পিনা খাইবা।” 16তেউ ইছায় কইলা, “কুনু একজন মানষে খুব বড় এক মেজবানি করিয়া, বউত মানষরে দাওত দিলা। 17খাওয়ার সময় অইলে তান গুলামরেদি কওয়াইলা, আপনারা আইউক্কা, খানা তিয়ার অইগেছে। 18অইলে হকল দাওতিয়ে এক একটা উজর দেখাইলো। পয়লা জনে কইলো, আমি থুড়া জমিন খরিদ করছি, অখন দেখাত যাইতাম, তে হনো না গেলে অইতো নায়, এরলাগি আমারে মাফ করউক্কা। 19দুছরা জনে কইলো, আমি আলর লাগি পাচ জুড়া বিছাল লইছি। অখন গিয়া দেখতাম, ইতায় আল বাইন কি না, আমারে মাফ করউক্কা। 20আরক জনে কইলো, আমি তো নয়া বিয়া করছি। অখন যাইতাম পারতাম নায়। 21হি গুলামে আইয়া তার মালিকরে হকলতা জানাইলো। ইতা হুনিয়া মালিকে গুছা করিয়া কইলা, তুই জলদি করি টাউনর অল্লিয়ে-গল্লিয়ে যা, গিয়া গরিব, আতুর, আন্দা, লুলা-লেংড়ারে আনগি। 22তেউ হে অলা করিয়া হারি বাদে আইয়া কইলো, হুজুর, আপনার হুকুমে হকলতা করা অইছে, অইলে অখনও জাগা খালি রইছে। 23অউ তাইন কইলা, তে টাউনর বারে পথো-ঘাটো, আর চিপায়-চাপায় যা, গিয়া মিনত-কাজ্জি করি মানষরে আন। মানুষ আইয়া মজলিছ ভরি যাউক্কা। 24আর তুমরা খিয়াল করি হুনো, আগে যেতারে দাওত দিছলাম, ইতা কুনুগিয়ে যানু আমার খানি না পাইন।”

আল-মসীর উম্মত অওয়ার শর্ত

25বাদে হজরত ইছার লগে অইয়া বউত মানুষ আটাত আছলা। অউ সময় তাইন এরার বায় চাইয়া কইলা, 26“কেউ যুদি আমার তরিকাত আইতো চায়, তে তার নিজর মা-বাফ, বউ-বাইচ্চা, ভাই-বিরাদর, আর নিজর জানরেও আমার থাকি হুরু মনে করতে অইবো। আরনায় হে আমার উম্মত অইতো পারতো নায়। 27যে মানষে নিজর দুখ-কষ্টর সলিব কান্দো লইয়া আমার খরে খরে রয় না, হে আমার উম্মত অইতো পারে না।

28“তুমরার কেউ যুদি উচা কুনু দলান বানাইতো চায়, তে হে পয়লা তার খরচর হিসাব মিলাইয়া দেখে, দলানর কাম শেষ করার লাগি তার টেকা আছে কি না। 29না অইলে, ইয়ান দিয়া হারি কাম শেষ করতে না পারলে, মানষে টাট্টা করবা, 30তারা কইবা, বেটায় দলান তুলিয়া অখন শেষ করতো পারের না।

31“আর যুদি এক রাজা আরক রাজার বিপক্ষে যুদ্ধ করাত লাগইন, তে পয়লা বইয়া পরামিশ করবা, তাইন কইবা, বিশ আজার ফৌজ লইয়া যেরা আমার বিপক্ষে আইরা, আমি দশ আজার ফৌজ লইয়া এর মুকাবিলা করতাম পারমু নি? 32যুদি না পারইন, তে হামলা কররা রাজা দুরই থাকতেউ আপোসর লাগি কয়জন তিয়াইত পাঠাইবা। 33ঠিক অউলা, তুমরার মাজে কেউ যুদি তার হক্কলতার মায়া ছাড়তো না পারে, তে হে আমার উম্মত অইতো পারতো নায়।

34“নুন তো ভালা জিনিস, অইলে নুনর যুদি স্বাদ নষ্ট অইযায়, তে আর নুনতা করা যায় নি? 35ইতাদি সারও বানাইল যায় না, জমিনো দেওয়া যায় না, এরলাগি মানষে ইতা বারে ফালাই দেইন। হুনার মত কান যার আছে, হে হুনউক।”

15

আরাইল মেড়ার কিচ্ছা

1হজরত ইছার বয়ান হুনার লাগি বউত ঘুষখুর খাজনা তুলরা আর বে-শরিয়তি আম মানুষ তান গেছে দলা অইলা। 2ইতা দেখিয়া ফরিশি দলর মানষে আর মৌলানা অকলে কানা-কানি করি কইলা, “ই মানুষগু খালি নাফরমান অকলর লগে উঠা-বওয়া আর খানা-পিনা খায়।”

3তেউ ইছায় তারারে অউ কিচ্ছাইন হুনাইলা। তাইন কইলা, 4“মনো করউক্কা, আপনারা কুনু একজনর একশোটা মেড়া আছে। এরমাজর এগু মেড়া আরাই গেলে, হে বাকি নিরান্নব্বইটা বন্দো থইয়া হউ আরাইল অগু তুকানিত যায় না নি? 5গিয়া অগু তুকাইয়া পাইলে, খুশিয়ে ইটারে কান্দো করি আনে। 6বাদে বাড়িত গিয়া বন্ধু-বান্ধব আর আরি-ফরিরে কয়, আও, আমার লগে ফুর্তি করো। আমার আরাইল মেড়াগু তুকাইয়া পাইলিছি। 7আমি আপনারারে কইরাম, এক্কেরে অউ লাখানউ, যারা গুনা থাকি তৌবা করার জরুর মনো করে না, ইলা নিরান্নব্বই জন পরেজগার থাকি একজন গুনাগারে মন বদলাইয়া তৌবা করলে, বেহেস্তো আরো বেশি খুশি-বাসি অয়।

আরাইল টেকার কিচ্ছা

8“বা ধরউক্কা, কুনু এক বেটির গেছে রুপার দশটা টেকা আছিল। এরথাকি এগু টেকা যুদি আরাইযায়, তে বেটিয়ে হি টেকার লাগি লেম জালাইয়া হুরুইনদি হুরিয়া আস্তা ঘর তুকায় না নি? 9বাদে তুকাইয়া পাইলিলে বন্ধু-বান্ধব আর আরি-ফরিরে ডাকিয়া কয়, আও না, আমার লগে খুশিত সামিল অও। আমার আরাইল টেকাগু তুকাইয়া পাইলিছি। 10আমি আপনারারে কইরাম, এক্কেরে অউ লাখানউ, একজন গুনাগার মানষে মন বদলাইয়া তৌবা করলে, আল্লার ফিরিস্তা অকলে অউলা খুশি করইন।”

আরাইল পুয়ার কিচ্ছা

11বাদে ইছায় কইলা, “এক গিরস্তর দুই পুয়া আছিল। 12একদিন হুরু পুয়ায় তার বাফরে কইলো, বাবা, আমি বাবাইতি জমি-জমা আর ধন-ছামানা যেতা পাইতাম, আমার অউ বাট-খান অখনউ আলগাইয়া দিলাউক্কা। অউ বাফে তান ছামানা দুইও পুয়ার নামে বাটিয়া দিলাইলা। 13এর কয়দিন বাদে হুরু পুয়ায় তার হক্কল ছামানা বেচিয়া বিদেশ গেলগি। বিদেশ গিয়া বাদ পথে চলিয়া তার টেকা-পয়সা হক্কলতা খুয়াইলিলো। 14হকলতা খুয়াইয়া হারলে হউ দেশর হকল জাগাত খুব নিদান দেখা দিলো এরদায় হে খুব কষ্টত পড়লো। 15হে হউ দেশর এক গিরস্তর বাড়িত গিয়া চাকরি চাইলো। মালিকে তারে চাকরি দিয়া শুয়রর পাল রাখার লাগি বন্দো পাঠাইলো। 16বন্দো গিয়া শুয়রে যেতা খায়, হে-ও অতা খাইয়া পেটর ভুক মিটাইতো চাইলো, অইলে অতাও কেউ তারে দিতো না।

17“বাদে আখতা একদিন তার হুশ অইলো। হে মনে মনে কইলো, আমার বাবার বাড়িত তো বউত চাকর-বাকরে পেট ভরি ভাত খাইরা। তে আমি অনো উপাসে মররাম কেনে? 18আমি গিয়া আমার বাবারে কইমু, বাবা, আমি তো আল্লার গেছে আর তুমার গেছেও নাফরমান বনিগেছি। 19তুমার পুয়া কইয়া আমি আর পরিচয় দিবার লাখ নায়। খালি তুমার চাকরর লাখান আমারে একজরা আশ্রয় দেও। 20অখান কইয়া হে তার বাড়িত রওয়ানা দিলাইলো। বাড়ির কান্দাত আইতেউ তার বাফে তারে দেখিলিলা। দেখিয়া তান দিল গলি গেল। তাইন দৌড়িয়া গিয়া তারে আইঞ্জা করি ধরিয়া হুংগা দিলা। 21তেউ পুয়ায় কইলো, বাবা, আমি তো তুমার পুয়া কইয়া পরিচয় দিবার লাখ রইছি না। আমি আল্লার গেছে আর তুমার গেছেও নাফরমান বনিগেছি। 22অইলে বাফে লগে লগে কামলাইন্তরে কইলা, হই, জলদি করি ঘর থাকি ভালা জুব্বাটা আনিয়া আমার পুয়াগুরে ফিন্দাও। তার আতো আংটি আর পাওত জুতা ফিন্দাই দেও। 23আর হুনো, পালো থাকি তাজা ডেকা-বাছুরগু আনিয়া জবো করো। আও, আমরা হকলে মিলিয়া খুশি-বাসি করি খানা খাই। 24আমার ই পুয়াগু তো মরিগেছিল, অখন হিরবার জিন্দা অইছে। অগু নাই অইগেছিল, অখন ফিরত পাইছি। তেউ হকলে মিলিয়া খুশি-বাসিত লাগলা।

25“অউ সময় বেটার বড় পুয়া বন্দো আছিল। হে বাড়ির কান্দাত আইয়া নাচ-গান আর ডুল-ডপকির আওয়াজ হুনিয়া, 26তারার এক চাকররে জিকাইলো, কিতারে, ইতা কিতা অর? 27চাকরে কইলো, ছাব, আপনার হুরু ভাই বাড়িত আইছইন। আপনার আব্বায় তানরে ছহি-ছালামতে পাইয়া, তাজা অউ ডেকা-বাছুর জবো করছইন। 28ইখান হুনিয়া বড় পুয়ায় গুছা করিয়া বাড়ির ভিতরে আইতো চাইলো না। তেউ তার বাফ বার অইয়া আইয়া তারে মিনত-কাজ্জি করলা। 29হে তার বাফরে কইলো, দেখউক্কা, আমি অতো দিন ধরিয়া আপনার খেজমত কররাম, কুনুদিনউ আপনার হুকুম উল্টাইছি না। অইলে আমার বন্ধু-বান্ধব লইয়া খুশি করার লাগি এগু বকরির বাইচ্চাও কুনুদিন দিছইন না। 30আর আপনার যে পুয়ায় নটি বেটিন্তর তলে হকল ছামানা খুয়াইছে, হে আইতেউ তাজা ডেকা-বাছুরগু আনিয়া জবো করিলাইলা! 31বাফে কইলা, পুতরে, তুমি তো হামেশাউ আমার লগে আছো। আমার যেতা ছামানা রইছে, ইতা হক্কলতাউ তো তুমার। 32অখন আমরা হকলে দিল ছাফ করিয়া খুশি-বাসি করা জরুর। তুমার ই ভাই তো মরিউ গেছিল, অখন হিরবার জিন্দা অইছে। অগু এক্কেরে নাই অইগেছিল, অখন ফিরত পাইছি।”

16

বেইমান মেনেজারর কিচ্ছা

1বাদে হজরত ইছায় তান সাগরিদ অকলরে কইলা, “হুনো, কুনু এক জমিদারর এক মেনেজার আছিল। অউ মেনেজারর বদনাম বার অইলো, হে বুলে তার মুনিবর ধন-ছামানা বিনাশ করিলার। 2বদনাম হুনিয়া মুনিবে তারে আনাইয়া কইলা, তুমার নামে ইতা কিতা হুনরাম? তুমার হিসাব-নিকাশ হকলতা সমজাই দেও। তুমারে আর চাকরিত রাখতাম নায়। 3ইখান হুনিয়া মেনেজারে মনে মনে কইলো, অখন আমি কিতা করতাম? মুনিবে তো আমারে বিদায় দিলাইরা। আমি তো মাটি কামও করতাম পারতাম নায়, ভিক করতেও শরম লাগে। অখন খাইমু কিলা? 4আইচ্ছা, এক কাম করি, যাতে আমার মেনেজারি গেলেগিও মানষর ঘরো আশ্রয় পাই। 5অউ হে কিতা করলো, যারার গেছে তার মুনিবর পাওনা আছিল, এক এক করি এরারে আনাইলো। আনাইয়া পয়লা জনরে কইলো, তুমার গেছে আমার মুনিবর কত পাওনা আছে? 6হেইন কইলা, একশো মন তেল। মেনেজারে কইলো, জলদি করি তুমার খাতা বার করো, আর একশর বদলা পইঞ্চাশ মন লেখিলাও। 7বাদে মেনেজারে দুছরা জনরে জিকাইলো, তুমার গেছে কত পাইন? হেইন কইলা, একশো ফুরার গম। মেনেজারে কইলো, তুমার হিসাবো আশি ফুরার লেখিলাও। 8ইতা হুনিয়া হি জমিদারে অউ বেইমান মেনেজারর তারিফ করলা। তাইন কইলা, হে ধান্দাবাজ অইলেও বউত বড় বুদ্ধিমানর কাম করছে। তে কিতা মনো করো, ইতায় বুজা যায় না নি, আল্লারাইয়া মানষর আখল থাকিও, ই জমানার দুনিয়াবি মানষর পেচ-পাইচ্ছা বেশি। 9হুনো, আমি কিতা কইরাম, তুমরাও নাফরমান অউ জগতর ছামানা দিয়া মানষর লগে দুস্তি পাতাও, যাতে ই ছামানা ফুড়াইগেলেও তুমরারে বেহেস্তর বাগানো ফুলর মালা দেওয়া অয়।

10“যে মানুষ সামাইন্য বেয়াপারে হক-হালাল রয়, হে বড় বেয়াপারেও হক-হালাল রয়। অইলে যে জনে সামাইন্য বেয়াপারে বেইমানি করে, হে বড় বেয়াপারেও বেইমানি করে। 11তে তুমরা যুদি দুনিয়াবি ধন-ছামানার বেয়াপারে হক না রও, তাইলে কে তুমরারে বিশ্বাস করিয়া আসল ধন দিবো? 12পরর ছামানা যুদি তুমরা ঠিক-ঠাক মতো বেবহার করতায় না পারো, তে কে তুমরার নিজর ছামানা তুমরার আতো দিবো? 13কুনু গুলামে একলগে দুই মুনিবর গুলামি করতো পারে না। তে অইলে হে একজনরে ইংসাইবো, আরক জনরে মায়া করব। একজনরে ইজ্জত দিবো আর আরক জনরে এলামি করব। তুমরাও অউলা, আল্লাতালা আর ধন-ছামানা দুইওতার গুলামি একলগে করতায় পারতায় নায়।”

14ইখান হুনিয়া ফরিশি মজহবর মানষে ইছারে লইয়া ঢং-তামশা লাগাইলা, তারা তো টেকা-পয়সারে খুব মায়া করতা। 15ইছায় তারারে কইলা, “তুমরাউ তো মানষর ছামনে নিজর পরেজগারি দেখাও, অইলে আল্লায় তুমরার দিলর খবর জানইন। মানষর গেছে যেতা খুব দামি, আল্লায় ইতারে ঘিন্নাইন। 16হুনো, এহিয়া নবীর সময় পর্যন্ত মুছার শরিয়ত, আর নবী অকলর ছহিফা জারি আছিল। অইলে অখন আল্লার বাদশাইর খুশ-খবরি তবলিগ করা অর, আর মানষেও দিলে-জানে অনো দাখিল অইতা চাইরা। 17ই শরিয়তর একটা হরফ বাতিল অওয়ার চাইতে, আছমান-জমিন বিনাশ অওয়াখান বউত সুজা। 18তে হুনো, যে বেটায় নিজর বউরে তালাক দিয়া আরক বেটিরে হাংগা করে, হে জিনাকুর। অউলা তালাক পাওয়া কুনু বেটিরে যেগিয়ে বিয়া করে, হে-ও জিনাকুর।”

লাছার হকির আর এক ধনি মানুষ

19“এক ধনি বেটা আছিল, হে রাজা-বাদশা অকলর লাখান দামি দামি কাপড়-চুপড় ফিনতো, আর হামেশা জাক-জমক করিয়া ফুর্তি-আমোদ করতো। 20মানষে লাছার নামর এক হকির বেটারে হামেশা অউ ধনির দুয়ারর ছামনে বওয়াইয়া থইতা, তার আস্তা গতরো পচা-ঘা আছিল, 21আর পথর কুত্তাইন্তে আইয়া তার ঘা জিফরাদি লেইতা। অউ ধনিয়ে ভাত খাইয়া হারি আড্ডি-গুড্ডি গুড়া-গাড়া যেতা তলে ফালাইতা, অতা খাওয়ার লাগি তার খুব ইচ্ছা আছিল। 22একদিন অউ হকির বেটা মরিগেল, মরার বাদে আল্লার ফিরিস্তা অকলে তারে ইব্রাহিম নবীর কুলো নিয়া বওয়াইলা। এরমাজে হউ ধনি বেটাও মরিগেল, তারে দাফন করা অইল। 23বাদে হে দোজখর আজাব থাকি আখতা উপরেদি চাইয়া দেখলো, দুরই বেহেস্তর মাজে ইব্রাহিম নবী বই রইছইন, তান কুলো হউ লাছার। 24দেখিয়াউ হে চিল্লাইয়া কইলো, বাবা ইব্রাহিম! আমারে রহম করউক্কা। লাছাররে আমার গেছে পাঠাউক্কা, হে তার আংগুলির আগাখান পানিত বুড়াইয়া আমার জিফরারে ঠান্ডা করউক। দোজখর ই আগুনিত আমার বড় আজাব অর। 25ইব্রাহিমে কইলা, বাবারে, মনো করিয়া দেখো, তুমার সুখ তুমি দুনিয়াতউ কামাইলিছো, আর লাছারে বউত কষ্ট করছে। অখন ইনো আইয়া হে আরামে আছে, আর তুমি আজাবো আছ। 26হুনো, ইতা ছাড়াও তুমরার আর আমরার মাজে অখন বউত বড় ফাক রাখা অইছে। ইনর কেউ ইচ্ছা করলেও তুমরার গেছে যাইতো পারতো নায়, আর তুমরাও কেউ ইচ্ছা করলে ইনো আইতায় পারতায় নায়। 27অউ হি ধনি বেটায় কইলো, বাবা, তে দয়া করি লাছাররে আমার বাবার বাড়িখানো পাঠাউক্কা। 28হনো আমার আরো পাচগু ভাই রইছইন। হে গিয়া আমার ভাইয়াইনরে হুশিয়ার করউক, তারা যানু ই দোজখর আজাব থাকি বাচইন। 29ইব্রাহিমে জুয়াপ দিলা, তারার গেছে তো হজরত মুছা আর নবী অকলর উছিলায় বউত কিতাব বেজা অইছে, তারা অউ তালিম হুনউক। 30হউ ধনিয়ে কইলো, না, না, বাবা ইব্রাহিম! মুর্দা থাকি কেউ জিন্দা অইয়া তারার গেছে গেলেউ, তারা তৌবা করবা। 31ইব্রাহিমে কইলা, তারা যুদি হজরত মুছা আর নবী অকলর কথা না হুনে, তে মুর্দা থাকি জিন্দা অইয়া গেলেও তারা মানতো নায়।”

17

নানান বেয়াপারে নছিয়ত

1হজরত ইছায় তান সাগরিদ অকলরে কইলা, “গুনার পথে নেওয়ার লাগি উছকানি আইবোউ আইবো। অইলে লান্নত হউ জনর উপরে, যেগিয়ে গুনা করার লাগি উছকানি দেয়। 2অউ বেবুজ অকলর একজনরেও যেগিয়ে গুনার পথে টানিয়া নেয়, অগুর লাগি আরো ভালা অইলো অনে, অগুর গলাত পাথর বান্দিয়া দরিয়াত ফালাই দেওয়া। 3তুমরাও যারযির বেয়াপারে হুশিয়ার রইও। তুমার কুনু ভাইয়ে তুমার গেছে দুষ করলে তারে বুজাইও। হে দিল বদলাইয়া মাফ চাইলে তারে মাফি দিও। 4হে দিনর মাজে সাতবার দুষ করিয়া, সাতবার আইয়া তুমার গেছে মাফ চাইলে, তারে মাফ করি দিও।”

5সাহাবি অকলে হজরত ইছার গেছে আবদার করলা, “হুজুর, আমরার ইমানি বল বাড়াই দেউক্কা।” 6তাইন কইলা, “তুমরার দিলো যুদি এগু ডেংগার বিচির পরিমান ইমান থাকে, আর তুমরা অউ হেওরা গাছরে কও, জড় সুদ্ধা হুরিয়া গিয়া দরিয়াত গাড়িযাও, তে হে তুমরার কথা হুনবো।

7“তুমরার মাজে ইলা কুনু গিরস্ত আছে নি, যার কামলায় আল বাইয়া বা গরু রাখিয়া বন্দো থাকি বাড়িত আইতেউ, হে তার কামলারে কয়, তুমি জলদি আইয়া খানা খাও? 8না, কেউ ইলা কয় না। বরং অউলা কয়, ওবা, তুই আমার খানা জুইত কর। আমি যতো সময় খানা খাই, তুই অনো উবাইয়া ভালামন্তে আমারে বাতাস দে। বাদে তুই খাইছ। 9আর হউ গুলামে তান হুকুম মানছে করি তাইন তারে কুনু ধইন্যবাদ দেইন নি? নিচয় না। 10অউ লাখান তুমরাও হকল হুকুম-আহকাম আদায় করলেও কইও, মালিক, আমরা তো তুমার নালায়েক গুলাম। আমরা যেতা কাম করা জরুর আছিল, খালি অতাউ কুনু রকমে আদায় করছি।”

দশজন পচা-কুষ্ঠ বেমারিরে শিফা করা

11হজরত ইছা জেরুজালেম টাউনো যাওয়ার বালা শমরিয়া আর গালিল জিলার মাজেদি আটিয়া যাইরা। 12অউ সময় এক গাউত হামানির পথর মুখো দশজন পচা-কুষ্ঠ বেমারিয়ে তানরে দেখাত আইলা। তারা দুরই উবাইয়া জুরে জুরে কইলা, 13“ও হুজুর ইছা, আমরারে রহম করউক্কা।” 14তারারে দেখিয়া তাইন কইলা, “যাও, ইমাম ছাব অকলরে গিয়া তুমরার হালত দেখাও।”

পথেদি যাইতে যাইতে তারা হকলর বেমার কমিগেল। 15তারার মাজে একজনে যেবলা দেখলো, হে ভালা অইগেছে, দেখিয়াউ জুরে জুরে আল্লার তারিফ করি করি হে ফিরিয়া আইলো। 16আইয়া ইছার পাওত পড়িয়া তানরে শুকরিয়া জানাইলো। হে অইলো শমরিয়া জাতির মানুষ।

17তেউ ইছায় কইলা, “দশো জনরেউ কুনু ভালা করা অইছে না নি? তে বাকি নয়জন কুয়াই? 18আল্লার তারিফ করার লাগি অউ বিদেশি বেটা ছাড়া আর কেউ ফিরিয়া আইলো না নি?” 19বাদে ইছায় তারে কইলা, “ভাই, তুমার ইমানর বলেউ তুমি ভালা অইছো। অখন ছহি-ছালামতে যাও।”

কিয়ামতর আলামত

20ফরিশি মজহবর কয়জন আইয়া হজরত ইছারে জিকাইলা, আল্লায় কুন সময় তান বাদশাই চালু করবা। তাইন কইলা, “আল্লার বাদশাই তো কেউররে জানাই-হুনাই আয় না। 21কেউ কওয়ার সাইধ্য নাই, আল্লার বাদশাই অনো বা হনো দেখছি। হুনউক্কা, আল্লার বাদশাই তো অখনউ আপনারার মাজে চালু আছে।”

22বাদে তান সাগরিদ অকলরে কইলা, “অমন এক সময় আইবো, যেবলা তুমরা আমি বিন-আদমর একখান দিন দেখতায় চাইবায়, অইলে পারতায় নায়। 23মানষে তুমরারে কইবা, অনো দেখো, হনো দেখো। অইলে তুমরা তারার কথায় দৌড়িও না, কুনুখানো যাইও না। 24হুনো, মেঘর জিলকির লগে আছমানর এক মাথা থাকি আরক মাথা যেবলা ফর অয়, অউ সময় তো হকলে দেখে। তে আমি বিন-আদম যেবলা আইমু হউ সময়ও অলা হকলে দেখবো। 25অইলেও পয়লা ই জমানার মানষর আতো আমি বউত কষ্ট পাইতাম অইবো, তারা আমারে দুর-দুর করবা।

26“যেলা নুহ নবীর আমলো অইছিল, আমি বিন-আদমর জমানাতও অলা অইবো। 27নুহ নবী জাজো উঠার আগ পর্যন্ত মানষে খানা-পিনা, বিয়া-শাদি আর ঘর-সংসার করতা, নুহ নবীর বইন্যা আইয়া ইতারে নিপাত করলো। 28অউলা লুত নবীর আমলোও মানষে খানা-পিনা, খরিদ-বিকি, খেত-গিরস্তি আর বাড়ি-ঘর বানানিত বেস্তো আছলা। 29অইলে লুত নবী যেদিন ছাদুম টাউন ছাড়িয়া বিদায় অইগেলা, হউ দিনউ আছমান থাকি আগুইন আর গন্ধকর গজব লামিয়া ইতা হক্কলটিরে নিপাত করলো। 30ঠিক অউলা, আমি বিন-আদম যেদিন জাইরা অইমু, হউদিনও অলা আখতা আইবো।

31“হিদিন কেউ যুদি ঘরর চালর উপরে থাকে, তে তার ঘরর মাল-ছামানা নিবার লাগি, লামাত লামিয়া ঘরর ভিতরে না হামাউক। অউ লাখান কেউ যুদি বন্দো থাকে, হে-ও আর বাড়িত না আউক। 32লুত নবীর বিবির ঘটনা ইয়াদ করো। 33মনো রাখিও, যে জনে জান বাচাইতো চায়, হে নিজর জিন্দেগি খুয়াইবো, অইলে যে জনে জান সপিয়া দেয়, হে জিন্দেগি পাইবো। 34হি রাইত একই বিছনাত দুইজন হুতিলেও, একজনরে নেওয়া অইবো, দুছরা জন বাদ পড়িযিবো। 35-36দুই বেটিয়ে একলগে বারা-বানাত থাকলেও, এরার একজনরে নেওয়া অইবো, আরক জন বাদ পড়িযিবো।”

37সাহাবি অকলে কইলা, “হুজুর, ইতা কুয়াই অইবো?” তাইন জুয়াপ দিলা, “মরা লাশ যেখানো, হকুনও হনো দলা অয়।”

18

নিরাশ অইও না, হামেশা মুনাজাত করো

1মুনাজাতর বেয়াপারে সাগরিদ অকল নিরাশ না অইয়া হামেশা যাতে মুনাজাত করইন, অখান বুজানির লাগি ইছায় এক কিচ্ছা হুনাইলা। 2কইলা, “কুনু এক টাউনো একজন হাকিম আছলা। এইন আল্লারেও ডরাইতা না, কুনু মানষরেও তোয়াক্কা করতা না। 3হউ টাউনো এক ড়াড়ি বেটি আছিল। অউ বেটিয়ে আইয়া হামেশা তানরে কইতো, হাকিম ছাব, আমারে দুশমনর আত থাকি বাচাউক্কা, দয়া করি অউ ন্যায্য বিচার খান করউক্কা। 4ই হাকিমে কয়দিন কুন্তা কইলা না। বাদে মনে মনে কইলা, আমি তো আল্লারে ডরাই না, মানষরেও তোয়াক্কা করি না, 5অইলে ই ড়াড়িয়ে আইয়া তো হামেশা ছাতায়, অখন অগুর ন্যায্য বিচার খান করিলাই। নাইলে তাই আইয়া বার বার ছাতাইবো।”

6বাদে হুজুরে কইলা, “দেখলায় নি, অউ নাফরমান হাকিমে কিতা করছে? 7তে যেরা হামেশা দিনে-রাইতে আল্লার গেছে কান্দে, আল্লায় কিতা তান ই মায়ার বন্দা অকলর হক ফরিয়াদ হুনতা নায় নি? তাইন হুনতে কুনু আর দেরি করবা নি? 8আমি কইরাম, তাইন জলদি করিউ এরার হক ফরিয়াদ হুনবা। অইলে আমি বিন-আদম দুছরা বার যেবলা ই দুনিয়াত আইমু, হউ সময় দুনিয়াত কুনু ইমান পাইমু নি?”

ফরিশি আর খাজনা তুলরার দোয়া

9যেতা মানষে নিজরে খুব পরেজগার, আর বাদ-বাকি হকল মানষরে হুরু মনো করতো, হজরত ইছায় তারারে অউ কিচ্ছা হুনাইলা। 10কইলা, “দুইজন মানুষ দোয়া করার লাগি বায়তুল-মুকাদ্দছো গেল। এরার একজন ফরিশি দলর আর দুছরা জন ঘুষখুর খাজনা তুলরা। 11ফরিশি বেটায় আলগা উবাইয়া অউলা দোয়া করলো, ও আল্লা, আমি তুমার শুকরিয়া আদায় কররাম, আমি তো সমাজর মানষর লাখান নাফরমান, জালিম, আর জিনাকুর নায়, বা অউ ঘুষখুর খাজনা তুলরার লাখানও নায়। 12আমি হাপ্তাত দুইদিন রোজা রাখি, আর আমার হক্কল রুজির দশবাটর এক বাট তুমার নামে যকাত দেই। 13অইলে অউ খাজনা তুলরা বেটায় দুরই উবাই রইলো, আল্লার আরশর বায় চউখ তুলার সাওসও তার অইলো না। হে বুকুত মারি মারি কান্দি কান্দি কইলো, ও আল্লা, আমি বড় গুনাগার, আমারে রহম করো।

14“আমি তুমরারে কইরাম, অউ খাজনা তুলরা বেটাউ পরেজগার বনিয়া তার ঘরো গেল, হি ফরিশি নায়। আসলে যে নিজরে বড় মনো করে, তারে হুরু করা অইবো। আর যে নিজরে হুরু মনো করে, তারে বড় করা অইবো।”

হুরুতাইন্তর লাখান বনিযাও

15মানষে তারার হুরু হুরুতাইনরে লইয়া ইছার গেছে আইলো, তাইন যানু হুরুতাইনরে আতাই দিয়া দোয়া করইন। ইতা দেখিয়া সাহাবি অকলে মানষর উপরে বিরক্ত অইয়া না করলা। 16অইলে ইছায় হুরুতাইনরে তান কান্দাত নিলা, নিয়া কইলা, “হুরুতাইনরে আমার কান্দাত আইবার দেও, তারারে বাধা দিও না। আল্লার বাদশাই তো অউ নমুনার মানষর লাগিউ। 17আমি হক কথা কইয়ার, হুরু হুরুতা বনিয়া আল্লার শাসন না মানলে, কুনু জনউ আল্লার বাদশাইত হামাইতো পারতো নায়।”

হজরত ইছার গেছে এক ধনি

18হজরত ইছার গেছে পাইঞ্চাইতর এক মুরব্বি আইলা, আইয়া কইলা, “ও হক উস্তাদ, আমারে বাতাই দেউক্কা, কিতা করলে আমি আখের পাইমু?” 19ইছায় কইলা, “আমারে কেনে হক কইরা? খালি এক আল্লা বাদে আর কেউ হক নায়। 20আপনে তো শরিয়তর হুকুম-আহকাম জানইন,

জিনা করিও না।

খুন করিও না।

চুরি করিও না।

মিছা কুনু সাক্ষি দিও না।

তুমার মা-বাফরে ইজ্জত করিও।”

21হি মুরব্বিয়ে কইলা, “হুজুর, ই হক্কলতা তো হুরুমান থনেউ আদায় কররাম।”

22ইখান হুনিয়া ইছায় কইলা, “অখন খালি একখান কাম বাকি আছে, আপনার হকল ধন-ছামানা বেচিয়া গরিব অকলরে লিল্লা দিলাউক্কা। তেউ আপনে বেহেস্তো ধন পাইবা। বাদে আইয়া আমার উম্মত অউক্কা।” 23ইখান হুনিয়া হি মুরব্বি খুব বেজার অইগেলা, তাইন আসলে বউত বড় ধনি আছলা। 24তাইন বেজার অইগেছইন দেখিয়া ইছায় কইলা, “ধনি মানুষ আল্লার বাদশাইত হামানি বড় মশকিল। 25ধনি মানুষ আল্লার বাদশাইত হামানির চাইতে, ছুইর নাʼ বায়দি উট হামানি আরো সুজা।”

26ইখান যারা হুনলা, তারা আরজ করলা, “তে আর খেগিয়ে রেহাই পাইবো?” 27তাইন কইলা, “মানষর গেছে যেতা অসম্ভব, আল্লার গেছে তো ইতা সম্ভব।”

28অউ সময় পিতরে কইলা, “হুজুর, আমরা তো হকলতা ফালাই থইয়া আপনার উম্মত অইছি।” 29তেউ ইছায় সাহাবি অকলরে কইলা, “আমি তুমরারে হাছা কথা কইরাম, আল্লার বাদশাইর লাগি যেরা নিজর বাড়ি-ঘর, মা-বাফ, বউ, পুয়া-পুড়ি, ভাই-বিরাদর ফালাইয়া আইছে, 30তারা অউ দুনিয়াতউ এর বউত বেশি পাইবা, আর বাদর জিন্দেগিত আখেরও পাইবা।”

হজরত ইছার মউতর তিন নম্বর আগাম খবর

31বাদে ইছায় তান বারোজন সাহাবিরে ধারো বওয়াইলা। বওয়াইয়া কইলা, “হুনো, আমরা অখন জেরুজালেমো যাইরাম, তে আমি বিন-আদমর বেয়াপারে নবী অকলে যততা লেখিয়া গেছইন, ইতা অখন পুরা অইবো। 32আমারে বিধর্মী জাতির আতো সপি দেওয়া অইবো। মানষে লইয়া ঢং-তামশা করবা, বেইজ্জত করবা, আর থু-থু করি মুখো ছেফ দিবা। 33আমারে চাবুক মারবা বাদে কাতল করবা। মউতর তিন দিনর দিন আমি হিরবার জিন্দা অইয়া উঠমু।” 34অইলে তান সাহাবি অকলে অউ মাতর কুনু ভেদ বুজলা না। তাইন কিতা কইরা তারা সমজিতা পারলা না, কারন তারার গেছে গোপন রাখা অইছিল।

আন্দা হকিররে ভালা করা

35ইছা যেবলা যিরিহো টাউনর কান্দাত আইলা, অউ সময় এক আন্দা বেটায় পথর কান্দাত বইয়া ভিক করাত আছিল। 36আখতাউ বউত মানষর পাওর তালি হুনিয়া বেটায় জিকাইলো, “কিতাবা, কিতা অর?” 37মানষে কইলা, “নাছারতর ইছায় অউ পথেদি তশরিফ নিরা।” 38অউ হে চিল্লাইয়া উঠলো, “ও দাউদর আওলাদ ইছা, আমারে দয়া করউক্কা।” 39চিল্লানি হুনিয়া ভিড়র ছামনর কাতারর মানষে তারে ধমক দিলা, “চুপ করো, নিরাই রও।” অইলে হে আরো জুরে চিল্লাইয়া কইলো, “ও দাউদর আওলাদ, আমারে রহম করউক্কা।”

40তেউ ইছা উবাই গেলা। উবাইয়া আন্দা বেটারে তান কান্দাত আনাইলা। বেটা ধারো আইয়া হারলে তাইন জিকাইলা, 41“কিতাবা, তুমারে কিতা করতাম?” বেটায় কইলো, “হুজুর, আমি খালি চউখে দেখতাম চাই।”

42ইছায় তারে কইলা, “আইচ্ছা তে দেখো। তুমার ইমানর বলেউ তুমি ভালা অইলায়।”

43লগে লগেউ বেটার চউখ খুলি গেল, দেখার শক্তি পাইলো। বেটায় আল্লার শুকরিয়া আদায় করি করি তান খরে অইয়া রওয়ানা দিলাইলো। ইতা দেখিয়া হকল মানষে আল্লার তারিফ করলা।

19

ধনি জাকিরর তৌবা

1হজরত ইছা যিরিহো টাউনর মাজেদি আটিয়া যাইরা, 2হনো জাকির নামর বড় এক ধনি মানুষ আছলা। এইন অইলা খাজনা তুলরা অকলর পরধান। 3ইছারে দেখার লাগি তান খুব খাইশ আছিল, অইলে তাইন বাট্টি মানুষ, এরদায় অতো ভিড়র মাজে দেখার উপায় অইলো না। 4অউ দৌড়িয়া আগেদি গেলা, গিয়া ইছা যে পথেদি আইরা অউ পথর কান্দার এক ডুমুর গাছো উঠলা। 5ইছা যেবলা হউ ডুমুর গাছর তলে আইলা, তাইন উপরেদি চাইয়া জাকিররে ডাক দিলা, “জাকির, জলদি লামিয়া আও। আমি আইজ তুমার বাড়িত রইতে অইবো।” 6জাকির লগে লগেউ লামিয়া আইলা। তাইন খুশি অইয়া ইছারে তাজিম করিয়া তান বাড়িত নিলা। 7ইতা দেখিয়া হকলে কানা-কানি করি কইলা, “তাইন কেনে এক নাফরমান বেটার বাড়িত রাইত কাটানিত গেলা?”

8জাকিরে হকলর ছামনে উবাইয়া কইলা, “হুজুর দেখউক্কা, আমি অখনউ আমার ধন-ছামানার অর্ধেক গরিবরে লিল্লা দিলাইরাম। আর যেরার হক টগিয়া আনছি, তারারে চাইর অতখান ফিরত দিলাইমু।” 9তেউ ইছায় কইলা, “আইজ থাকি ই বাড়িত নাজাত আইছে। এইনও তো ইব্রাহিমর খান্দানর একজন। 10অউ লাখান বে-পথি অকলরে তুকাইয়া বার করিয়া, তারারে বাচানির লাগিউ তো আমি বিন-আদম ই দুনিয়াত আইছি।”

রাজা আর দশ গুলামর কিচ্ছা

11হজরত ইছায় তারার লগে অতা মাতিরা, অউ সময় তাইন জেরুজালেম থাকি থুড়া দুরই রইছইন। তারা মনো করলা, জেরুজালেম পৌছিয়াউ তাইন আল্লার বাদশাই জাইর করিলিবা। এরলাগি ইছায় তারারে অউ কিচ্ছা হুনাইলা, 12“নবাব পরিবারর একজন বেটা মানুষ বউত দুরই এক দেশো ছফরো গেলা। তান খিয়াল আছিল হনো গিয়া রাজা অইয়া ফিরত আইবা। 13যাইবার আগে তান দশজন গুলামরে আনিয়া পরতেক জনরে একটা করি সোনার মহর দিয়া কইলা, আমি আইবার আগ পর্যন্ত অগুইনদি তুমরা কায়-কারবার করো।

14“অইলে তান প্রজা অকলে তানরে পছন্দ করতা না। এরলাগি তারা তান খরে অইয়া গুইয়া পাঠাইয়া হউ বাদশারে জানাইলা, আমরা চাই না, এইন আমরার রাজা অউক্কা। 15অইলেও তাইন রাজা বনিয়া ফিরত আইলা। আইয়া হউ যে দশজন গুলামরে তাইন মহর দিছলা, তারারে আনাইয়া জিকাইলা, কায়-কারবার করিয়া তারা কে কত লাভ করছইন। 16পয়লা জনে আইয়া কইলো, হুজুর, আপনার এক মহরদি আমি দশ মহর রুজি করছি। 17রাজায় তারে কইলা, ভালা করছো! তুমি তো ভালা গুলাম, তুমি খুব সামাইন্য বেয়াপারেও হক আছো। তে তুমি অউ দশ পরগনার উপরে জমিদারি করো। 18দুছরা জনে কইলো, হুজুর, আপনার মহরদি আমি পাচ মহর রুজি করছি। 19তাইন কইলা, তুমিও পাচ পরগনার উপরে জমিদারি করো। 20বাদে আরক জনে কইলো, হুজুর, অউ নেউক্কা, আপনার হি মহর। আমি আপনারে ডরাইয়া আপনার মহর রুমালো বান্দিয়া থই দিছি। 21আপনে তো কড়া মিজাজর মানুষ। জমা না করিয়াও আদায় করইন, খেত না করিয়াও ফসল কাটইন।

22“তেউ রাজায় কইলা, ও খবিছ গুলাম! তোর মুখর কথায় আমি তোর বিচার করমু। তুই তো জানছউ আমি কড়া মিজাজর মানুষ, জমা না করিয়াও আদায় করি, খেত না করিয়াও ফসল কাটি! 23তে আমার মহর তুই বেপারির গেছে থইলে না কেনে? তে তো আমি আইয়া মুল মহরর লগে কিছু লাভও পাইলাম অনে। 24রাজায় তান উজির-নাজিররে কইলা, অগুর গেছ থাকি অউ মহর ফিরত আনো, আর যার দশ মহর আছে তারে দেও। 25তেউ হকলে কইলা, হুজুর, তার তো এমনেউ দশ মহর আছে। 26রাজায় কইলা, আমি তুমরারে কইরাম, যার আছে তারে আরো দেওয়া অইবো। যার নাই, তার যেতা আছে অতাও কাড়িয়া নেওয়া অইবো। 27আর আমার যেতা দুশমনে চাইছইন না আমি রাজা অইতাম, অতারে অনো ধরিয়া আনিয়া আমার ছামনে মারিলাও।”

জেরুজালেম টাউনো হজরত ইছা (১৯:২৮-২১:৩৮)

হজরত ইছা জেরুজালেমো হামাইলা

28অখান কইয়া হারি ইছায় তারার আগে অইয়া জেরুজালেমর বায় তশরিফ নিলা। 29তাইন জয়তুন পাড়র কান্দাত বায়ত-ফাইজ্জা আর বায়ত-আনিয়া গাউর গালাত আইয়া হারলে, তান দুইজন সাহাবিরে অখান কইয়া পাঠাইলা, “তুমরা অউ ছামনর গাউত যাও। 30গাউত হামাইয়াউ দেখবায়, এগু গাধার বাইচ্চা বান্দা আছে। অগুর উপরে কেউ কুনুদিন চড়ছে না। তুমরা অগুর বান খুলিয়া অনো লইয়া আইও। 31কেউ যুদি জিকায়, ইগুর বান খুলো কেনে বা? তে কইও, হুজুরর গরজ আছে।”

32যে সাহাবি অকলরে পাঠাইছলা, তারা গিয়া তান কথামতো হকলতা পাইলা। 33তারা যেবলা গাধার বাইচ্চার বান খুলরা, অউ সময় মালিকে জিকাইলা, “ওবা, দড়ি খুলরায় কেনে?” 34তারা কইলা, “হুজুরর গরজ আছে করি খুলরাম।” 35বাদে গাধার বাইচ্চা লইয়া ইছার কান্দাত আইয়া, এরার গতরর চাদ্দরদি গাধার পিঠিত গদি বানাইয়া ইছারে বওয়াইলা। 36তাইন যেবলা গাধা চড়িয়া পথেদি রওয়ানা দিলা, পথর মাজে মানষে তারার যারযির চাদ্দর বিছাই দিলা।

37ইছা জেরুজালেমর কান্দাত জয়তুন পাড় থনে লামার পথো আইয়া আজিলা, অউ সময় তান উম্মত অকলও লগে আছলা, এরা তান যেতা কেরামতি কাম দেখছিলা, অতার লাগি তারা খুশিয়ে জুরে জুরে চিল্লাইয়া আল্লার তারিফ করিয়া কইলা,

38“মুবারক হউ বাদশা, যেইন মাবুদর নামে তশরিফ আনরা।

বেহেস্তো শান্তি, আল্লার আরশো গৌরব!”

39ভিড়র মাজে ফরিশি দলর কয়জনে ইছারে কইলা, “হুজুর, আপনার উম্মত অকলরে ধমক দেউক্কা।” 40ইছায় কইলা, “আমি আপনারারে কইরাম, এরার মুখ বন্দ করিল্লেও, পাথর অকলে চিল্লাইয়া উঠবো।”

41তাইন যেবলা জেরুজালেমর কান্দাত আইলা, অউ সময় জেরুজালেম টাউন দেখিয়া কান্দি দিলা। 42তাইন কইলা, “হায়রে হায়! আইজ যুদি তুমি বুজতায়, শান্তি কিলা কাইম অয়! অইলে অখন ইতা তুমার চখুর আওড়ে রইছে। 43তুমার উপরে ইলা সময় আজির অইবো, যেবলা দুশমন অকলে দেওয়ালর চাইরো গালাবায় মাটির টেকি বান্দিবো। তুমারে বেরিলিবো, আর হক্কলবায় আটক করবো। 44তারা তুমারে আর তুমার পেটর আওলাদ অকলরে মাটির লগে মিশাইবো। তুমার এক পাথরর উপরে আরক পাথর রইতো নায়। কারন আল্লায় তুমারে বাচাইতা করি যে সুযোগ দিছইন, তুমি ই সময়-সুযোগরে চিনলায় না।”

জেরুজালেমর কাবা শরিফো হজরত ইছা

45বাদে তাইন বায়তুল-মুকাদ্দছো হামাইলা। হামাইয়া হনো যেতায় ব্যবসা করাত আছলা, অতা হক্কলটিরে খেদাই দিলা। 46তাইন কইলা, “পাক কালামো লেখা আছে, আমার ঘর অইবো মুনাজাতর ঘর, অইলে তুমরা ইখানরে ডাকাইতর আখড়া বানাইলিছো।”

47হজরত ইছা পরতেক দিন বায়তুল-মুকাদ্দছো গিয়া নছিয়ত করতা। অউ সময় বড় ইমাম, মৌলানা আর সমাজর মুরব্বি অকলে তানরে মারিলিতা চাইলা। 48অইলে কিলা তানরে মারা যায়, এর কুনু ফন্দি তারা পাইলো না। কারন হকল মানষে আশিক অইয়া দিলে-জানে তান বয়ান হুনতা।

20

হজরত ইছা দুশমনর মুকাবিলা অইলা

1অউ ছফরর কালো একদিন হজরত ইছা বায়তুল-মুকাদ্দছর মাজে, মানষর গেছে আল্লাই খুশ-খবরি তবলিগ করাত আছলা। আখতাউ বড় ইমাম আর আলিম অকল তারার মুরব্বি অকলরে লইয়া আইয়া কইলা, 2“আইচ্ছা কওছাইন, তুমি কুন খেমতায় ইতা কাম কররায়, তুমারে ইতার এখতিয়ার খেগিয়ে দিছে?” 3ইছায় জুয়াপ দিলা, “তে আমিও আপনাইন্তরে জিকাইরাম, কউক্কাছাইন, 4এহিয়া নবীয়ে তৌবার গোছল করানির খেমতা পাইছলা, মানষর গেছ থাকি না আল্লার গেছ থাকি?”

5অউ তারা একে-অইন্যে যুক্তি-পরামিশ করলো, “যুদি কই আল্লার গেছ থাকি, তে হে কইবো, তাইলে তান উপরে ইমান আনলায় না কেনে? 6আর যুদি কই মানষর গেছ থাকি, তে মানষে আমরারে পাথরদি মারবা। এহিয়ারে তো তারা আল্লার নবী কইয়া মানইন।”

7অউ তারা কইলো, “ই খেমতা কুয়াই থাকি পাইছলা, আমরা জানি না।” 8ইছায় তারারে কইলা, “তে আমিও কইতাম নায়, কুন খেমতায় ইতা কররাম।”

আংগুর বাগান বাগিদারর কিচ্ছা

9বাদে ইছায় মানষরে অউ কিচ্ছা হুনাইলা, “এক গিরস্তে আংগুরর বাগান করলা, বাদে তান বাগানরে খেতাল অকলর গেছে বাগি দিয়া বউত দিনর লাগি বিদেশ গেলাগি। 10আংগুর পাকার সময় অইলে মালিকে তান বাট নিবার লাগি এক গুলামরে পাঠাইলা। অইলে খেতাল অকলে তারে মাইর-ধইর করিয়া খালি আতে ফিরাই দিলো। 11বাদে তাইন আরক গুলামরে পাঠাইলা। তারা ই গুলামরেও মাইর-ধইর করি বেইজ্জত করিয়া খালি আতে ফিরাই দিলো। 12বাদে তিন নম্বর গুলামরে পাঠাইলে, তারা এও গুলামরে মারিয়া জখম করিয়া বারে ফালাই দিলো। 13তেউ বাগানর মালিকে কইলা, আমি কিতা করতাম? অখন আমি আমার মায়ার পুতরে পাঠাইমু, তেউ তারা মানতো পারে। 14অইলে মালিকর পুয়ারে দেখিয়া খেতাল অকলে কইলো, অউ পুয়াউ তো তার বাফর হকলতার মালিক অইবো। আও, এরে মারিয়া ফালাই দেই। তেউ মালিকর হকলতা আমরা পাইলিমু। 15অখান কইয়া হারি তারে বাগানর বারে নিয়া খুন করিলাইলো।

“অখন কউক্কা ছাইন, বাগানর মালিকে ই বাগিদার অকলরে কিতা করবা? 16তাইন আইয়া তারারে নিপাত করিলিবা না নি? আর তান বাগান দুছরা মানষর গেছে দিবা না নি?” ইতা হুনিয়া তারা কইলা, “নাউজুবিল্লা! আল্লায় ফানা দেউক!”

17তেউ ইছায় তারার বায় চাইয়া কইলা, “তে আল্লার কালামো কেনে ইলা লেখা আছে,

রাজ মেস্তইর অকলে যে পাথররে বেকামা কইয়া ফালাই দিছিল,

অকটা দিয়াউ ঘরর ইয়ান খুটি অইলো।

18ই পাথরর উপরে কেউ পড়লে, ই জন ভাংগিয়া টুকরা টুকরা অইযিব, আর ই পাথরও কেউরর উপরে পড়লে, হে-ও জন চুরমার অইযিব।”

19অখান হুনিয়াউ মৌলানা আর বড় ইমাম অকলে ইছারে ধরিলতা চাইলা। তারা বুজিলিলা, ইছায় ই কিচ্ছা তারার নিয়তেউ কইরা। অইলে মানষরে ডরাইয়া তারা কুন্তা করলা না।

বাদশার খাজনা দেওয়া জাইজ নি

20এরলাগি তারা ইছারে চউখে চউখে রাখলা, তান খরে কয়জন গুইয়া লাগাইলা। গুইয়া অকলে মুমিনি বেশ ধরিয়া চললেও, তারার নিয়ত অইলো ইছারে কথার ফান্দো ফালাইতা, যাতে তানে দেশর পরধান হাকিমর আদালতো চালান করাইল যায়। 21অউ গুইয়া অকলে ইছারে কইলা, “হুজুর, আপনে তো হকলরে হমান চউখে দেখইন। আপনে হক মাত মাতইন, হক তালিম দেইন। কেউররে তোয়াক্কা না করিয়া, মানষরে আল্লার হক পথ দেখাইন। 22তে কউক্কা ছাইন, রোমান বাদশা কৈছররে খাজনা দেওয়া জাইজ নি, না নাজাইজ?”

23ইছায় তারার কু-মতলব বুজিলিলা। বুজিয়া কইলা, 24“দেখি, আমারে একটা দিনার দেখাও।” দিনার দেখিয়া কইলা, “ইগুর উপরে কার ছবি আর নাম আছে?” তারা কইলা, “বাদশা কৈছরর।” 25ইছায় কইলা, “তে কৈছররতা কৈছররে দেও, আর আল্লারতা আল্লারে দেও।”

26তান জুয়াপ হুনিয়া তারা তাইজ্জুব বনিয়া নিরাই অইগেলা। গুইয়া অকলে মানষর ছামনে তানরে কথার ফান্দো ফালাইতো পারলো না।

আখেরাতর বেয়াপারে প্রশ্ন

27বাদে সিদ্দেকিয়া মজহবর কিছু মানুষ ইছার গেছে আইলা। অউ মজহবর মানষে মনো করইন, মরার বাদে কুনু জানদারউ আর জিন্দা অইতা নায়। 28তারা ইছারে জিকাইলা, “হুজুর, মুছা নবীয়ে আমরার লাগি অউ নিয়ম লেখিয়া গেছইন, কুনু মানষে তার বউ থইয়া নিআওলাদি হালতে মরিগেলে, তার ভাইয়ে অউ বউরে বিয়া করিয়া মরা ভাইর ওয়ারিশ পয়দা করবো। 29অখন মনো করউক্কা, এক ঘরো সাত ভাই আছিল। পয়লা জনে বিয়া করিয়া নিআওলাদি হালতে মরিগেল। 30-31বাদে দুই নম্বর আর তিন নম্বর ভাইয়ে অউ বেটিরে বিয়া করলো। অউ লাখান তারা সাতো ভাইয়েউ অউ বেটিরে বিয়া করিয়া নিআওলাদি হালতে মরিগেল। 32হেশে অউ বেটিও মরিগেল। 33তে কিয়ামতর দিন ই বেটি কার বউ অইবো? সাতো জনেউ তো ই বেটিরে বিয়া করছিল।”

34ইছায় কইলা, “ই দুনিয়ার মানষে বিয়া-শাদি করইন, আর বিয়া-শাদি দেইন। 35অইলে মউতর বাদে জিন্দা অইয়া যেরা আখেরাতো কামিয়াবির লাখ অইযায়, তারা আর বিয়া-শাদি করতা নায়, বা বিয়া-শাদি বইতাও নায়। 36তারার কুনু মউতও অইতো নায়, তারা ফিরিস্তার লাখান অইযিবা। মউতর বাদে আখের পাওয়ায় তারা আল্লা পাকর আওলাদ বনিযিবা। 37তুর পাড়র জালাইল জংলার বয়ানির মাজে মুছা নবীয়ে বুজাইছইন, মুর্দা অকল তো জিন্দা অইয়া উঠইন, এরলাগিউ বউত আগে যে নবী অকল মারা গেছইন মুছায় মাবুদরে হউ নবী অকলর আল্লা কইয়া ডাকিলা। তাইন মাবুদরে কইলা, ইব্রাহিমর আল্লা, ইছহাকর আল্লা আর ইয়াকুবর আল্লা। 38তে আল্লা তো মুর্দা অকলর আল্লা নায়, তাইন জিন্দা অকলর আল্লা। তান নজরো হক্কল মানুষউ জিন্দা আছইন।”

39তেউ কয়জন আলিমে কইলা, “হুজুর, আপনে তো খাটি মাত মাতছইন।” 40হেশে তারা ইছারে আর কুনু ছওয়াল করার সাওস পাইলো না।

আলিম অকলরে হেদায়ত

41এরমাজে ইছায় অউ আলিম অকলরে জিকাইলা, “মানষে কেনে আল-মসীরে দাউদ নবীর আওলাদ কইন? 42-43জবুর শরিফর মাজে দাউদে নিজেউ তো অখান কইরা,

মাবুদে আমার মুনিবরে কইলা,

যতদিন তুমার দুশমন অকলরে

তুমার পাওর তলে না ফালাই,

অতো দিন তুমি আমার ডাইন গালাত বইরও।

44দাউদে তো আল-মসীরে তান মুনিব কইয়া ডাকিলা, তে আল-মসী কেমনে দাউদর আওলাদ অইবা?”

45মানষে ইছার বয়ান হুনরা, অউ সময় তাইন সাগরিদ অকলরে কইলা, 46“আলিম অকলর বেয়াপারে হুশিয়ার অও। তারা লাম্বা লাম্বা জুব্বা ফিন্দিয়া ঘুরিতে খুব ভালা পাইন। বাজার-আটো গিয়া ছালাম পাইতে পছন্দ করইন। মছিদো গিয়া ছামনর কাতারো বইতে আর মজলিছো গিয়া দামি জাগাত বইতে পছন্দ করইন। 47তারা মানষরে দেখানির লাগি লাম্বা লাম্বা দোয়া করইন। হিরবার ড়াড়ি বেটিন্তর ঘর-বাড়ি দখল করইন। কিয়ামতর দিন এরার বড় কঠিন সাজা অইবো।”

21

ড়াড়ি বেটির দান-খয়রাত

1হজরত ইছায় চাইয়া দেখলা, ধনি অকলে বায়তুল-মুকাদ্দছর লিল্লার ডেগর মাজে দান-খয়রাত দিরা। 2এরমাজে দেখলা, খুব গরিব এক ড়াড়ি বেটিয়েও আইয়া ডেগর মাজে দুইটা পয়সা দান করলো। 3দেখিয়া তান সাহাবি অকলরে কইলা, “আমি তুমরারে হাছা কথা কইরাম, অউ গরিব ড়াড়ি বেটিয়ে হকল থাকি বেশি দান করছে। 4কারন বাকি হকলে খরচ করার বাদে যেতা দেড়িয়া রইছে, অন থাকি থুড়া অংশ ডেগর মাজে দান করছে। অইলে ই বেটিয়ে নিজর অভাব-অনটন থাকলেও, তাইর কামাইল হক্কলতাউ দান করিলিছে।”

কিয়ামতর আগর আলামত

5কয়জন সাহাবিয়ে বায়তুল-মুকাদ্দছ কাবা শরিফর বেয়াপারে মাতিলা, কইলা, “দেখরা নি, অতো সুন্দর সুন্দর পাথরদি আর দান-খয়রাতদি ঘরখানরে হাজাইল অইছে।” 6ইছায় তারারে কইলা, “তুমরা অউ যততা দেখরায়, অলা এক দিন আইবো, যেবলা ইতা এক পাথরর উপরে আরক পাথর রইতো নায়। হকলতা মাটির লগে মিশিযিবো।”

7সাহাবি অকলে তানরে জিকাইলা, “হুজুর, ইতা কুন জমানাত অইবো? কুন আলামত দেখলে বুজা যাইবো, হি সময় অইগেছে?” 8তাইন কইলা, “হুশিয়ার রইও, কেউ যানু তুমরারে বে-পথে না নেয়। বউত জনে আমার নাম ধরি আইয়া কইবো, সময় অইগেছে, আমিউ আল-মসী। অইলে তুমরা ইতার খরে যাইও না। 9তুমরা যেবলা যুদ্ধ আর গন্ডগোলর খবর হুনবায়, ডরাইও না। কারন পয়লা ইতা অইবোউ অইবো, অইলে ইতা তো শেষ নায়।”

10বাদে তাইন কইলা, “জাতিয়ে জাতির বিপক্ষে, রাজায় রাজার বিপক্ষে যুদ্ধ করবো। 11বড় বড় ভৈছাল অইবো, জাগায় জাগায় নিদান আর বেজুইতা বেমার-আজারে মানুষ মরবা। আছমানোও খুব ডর-খফর নিশানা আর আজব আজব কুদরতি লিলা জাইর অইবো।

12“অইলে ইতা ঘটার আগে মানষে তুমরারে খেদাইবো, ধরবো। বিচারর লাগি মজলিছর ছামনে আজির করবো, জেলো হারাইবো। আমার নামর লাগি তুমরারে রাজা-বাদশা আর হাকিম অকলর ছামনে নেওয়া অইবো। 13তেউ আমার নামে তবলিগ করার লাগি তুমরা সুযোগ পাইবায়। 14অইলে তুমরা মনো রাখিও, কিতা জুয়াপ দিতায়, ইতা আগে চিন্তা করার কুনু জরুর নায়। 15কারন আমি তুমরারে অউলা জবান আর হেকমত যুগাইয়া দিমু, তুমরার বিপক্ষ অকলে ইতা ফিরাইতো পারতো নায়, এর জুয়াপ দিবারও তাক্কত অইতো নায়। 16তুমরার মা-বাফ, ভাই-বিরাদর, খেশ-কুটুম আর দুস্ত অকলেও তুমরারে ধরাইয়া দিবা। তারা তুমরার কুনু কুনু জনরে জানে মারাইলিবা। 17আর আমার নামর লাগি তুমরারে হক্কলে ঘিন্নাইবো। 18অইলেও কুনুমন্তেউ তুমরার মাথার একছা চুলরও খেতি অইতো নায়। 19তুমরা ইমানে মজবুত রইলে, নিজর হাছারর জিন্দেগি হাছিল করবায়।

20“তুমরা দেখবায়, সিপাই অকলে আইয়া চাইরোবায় থনে জেরুজালেমরে ঘেরাও করিলিরা, তেউ বুজিলিও, জেরুজালেমর বিনাশ আইচ্ছে। 21হি সময় যারা এহুদিয়া জিলাত থাকবা, তারা পাড়েদি গিয়া বাগউক। যারা অউ জেরুজালেমো থাকবা, তারা টাউনর বারে যাউক। যারা গাউ-গেরামো থাকবা, তারা যানু কুনুমন্তেউ টাউনো না আইন। 22কারন ই অখত অইলো আল্লাই গজবর অখত, আল্লার কালামর আয়াত অকল পুরা অইবার অখত। 23ইস! ই সময় যেতা বেটিন্তর পেটো হুরুতা থাকবা, যেরা হুরুতারে বুকুর দুধ খাওয়াইবা, এরার বউত কষ্ট অইবো! দেশর উপরে বেজুইতা দুর্গতি, আর ইহুদি অকলর উপরে গজব নাজিল অইবো। 24তলোয়ারর তলে তারা জান খুয়াইবা, বন্দি অইয়া হক্কল জাতির মাজে যাইবা। অউ বিধর্মী জাতির খেমতার সময় পুরা অওয়ার আগ পর্যন্ত, ই জেরুজালেম তারার পাওর তলে রইবো।

25“চান-সুরুজ আর আছমানর তেরার মাজে নানান আলামত দেখা যাইবো। দুনিয়ার হকল দেশর মানষর কষ্ট অইবো। দরিয়ায় উতাল-পাতাল করবো। ঢেউর আওয়াজে মানুষ বেদিশা লাগবা। 26দুনিয়াত কুন দশা ঘটিবো অতা চিন্তা করিয়া ডরর চুটে মানুষ বেউশ অইযিবো, আছমানি চান-সুরুজ, তেরা হক্কলতা আউলা জাউলা অইযিবো। 27অউ সময় দেখবায়, আমি বিন-আদমে আল্লার কুদরতি শক্তি আর নুরর মহিমায় মেঘর খুটিত অইয়া দুনিয়াত তশরিফ আনিয়ার। 28ইতা হাল-হকিকত দেখলে তুমরা মজবুত অইও, মাথা উচা করিও, বুজিলিও তুমরার নাজাত ধারো আইচ্ছে।”

29ইছায় তারারে অউ মিছাল হুনাইলা, কইলা, “তুমরা ডুমুর গাছ আর অইন্য গাছাইন্তর বায় দেখো, 30ইতার নয়া কুড়ি-পাতা বারনি দেখলেউ তুমরা বুজিলাও, গরমর দিন আইচ্ছে। 31অউলা তুমরা যেবলা দেখবায়, ইতা হাল-হকিকত ঘটের, তে বুজিলিও আল্লার বাদশাই নজদিক আইচ্ছে। 32আমি তুমরারে হাছাউ কইরাম, ইতা হক্কলতা না ঘটার আগে, ই জমানার মানুষ ক্ষয় অইতা নায়। 33আছমান-জমিন ক্ষয় অইযিবো, অইলে আমার কালাম কুনুদিনও ক্ষয় অইতো নায়।

34“তুমরা নিজে হুশিয়ার রইও, যাতে মজার মজার খানি, মদ খাইয়া টাল অওয়া আর রুজি-রুজগারর নেশায় আউলা-জাউলা না অও, আরনায় হউ দিন আইয়া আখতাউ তুমরারে ফান্দো হারাইতো পারে। 35দুনিয়ার তামাম মানষর উপরেউ হি দিন আজির অইবো। 36অইলে তুমরা হামেশা হজাগ রইও, আর দোয়া করিও, যাতে অউ যেতা জাইর অইবো অতা পার অইয়া হারি আমার ছামনে উবানির বল পাও।”

37ইছায় পরতেক দিন বায়তুল-মুকাদ্দছো আইয়া নছিয়ত করতা। বাদে রাইত অইলে তাইন বার অইয়া জয়তুন পাড়ো যাইতাগি। 38হকল মানষে তান বয়ান হুনার নিয়তে বিয়ান-ছবরে বায়তুল-মুকাদ্দছো আইতা।

22

হজরত ইছার দুখ-কষ্ট আর মউত (২২:১-২৩:৫৬)

হজরত ইছা আল-মসীরে কাতল করার ফন্দি

1ইহুদি অকলর খামির ছাড়া রুটির ইদ কাছাত আইলো, অউ ইদর নাম আজাদি ইদ। 2ইবায় মৌলানা আর বড় ইমাম অকলে পরামিশ করলা, হজরত ইছারে আম মানষর গেছ থাকি লুকাইয়া কিলা কাতল করতা। তারা আম মানষরে খুব ডরাইতা।

ইহুদা ইস্কারিয়াতর বেইমানি

3অউ সময় তান বারোজন সাহাবির মাজর একজন, এন নাম ইহুদা ইস্কারিয়াত, এন ভিতরে শয়তান হামাইলো। 4এইন ইছারে ধরাইয়া দেওয়ার লাগি লুকাইয়া বায়তুল-মুকাদ্দছো গেলা। গিয়া হনর দারোগা আর বড় ইমাম অকলর লগে পরামিশ করলা, কুন নমুনায় ইছারে তারার আতো ধরাই দেওয়া যায়। 5তেউ ইমাম অকল খুব খুশি অইয়া ওয়াদা করলা, তানরে ধরাইয়া দিলে তারে বখশিশ দিবা। 6এতে ইহুদাও রাজি অইয়া মানষর আফরখে, তানরে ধরাই দেওয়ার সুযোগ তুকানিত রইলো।

হজরত ইছার আখেরি মেজবানি

7বাদে আজাদি ইদ আইলো, অউ ইদর দিন মেড়ার বাইচ্চা কুরবানি দেওয়া অয়। 8তেউ ইছায় সাহাবি পিতর আর হান্নানরে হুকুম দিলা, “তুমরা গিয়া আমরার লাগি ইদর খানি তিয়ার করো, আমরা হকল আইয়া একলগে খাইমু।” 9এরা জিকাইলা, “হুজুর, আপনার খিয়াল কিতা, আমরা কুনানো গিয়া খানা তিয়ার করতাম?” 10তাইন কইলা, “হুনো, টাউনো হামাইয়া হারলে তুমরা দেখবায়, এক বেটায় পানির খৈলা ভরিয়া লইয়া যাইরা। তুমরা এন খরে খরে যাইও, গিয়া এইন যে ঘরো হামাইবা, 11হউ ঘরর মালিকরে কইও, হুজুরে জিকাইছইন, তান সাহাবি অকলরে লইয়া আজাদি ইদর খানি যে ঘরো খাইতা, ই মুছাফির খানা কুয়াই? 12হে তুমরারে উপরর তালাত হাজাইল-পাড়াইল বড় এক কুঠা দেখাইয়া দিবো। হনো গিয়া তুমরা রান্দা-বাড়া করিও।” 13হাছাউ তারা গিয়া তান কথা মাফিক হকলতা পাইলা, পাইয়া আজাদি ইদর খানিও তিয়ার করলা।

14বাদে সময় আইলে ইছায় তান বারোজন সাহাবি লইয়া খানিত বইলা। 15বইয়া কইলা, “আমার বড় খিয়াল আছিল মছিবতর মুখামুখি অইবার আগে, আখেরি ইদর খানি খান তুমরারে লইয়া খাইতাম। 16আমি তুমরারে কইরাম, আল্লার বাদশাইর আসল মর্জি-মুনশা পুরাপুর হাছিল না অওয়া পর্যন্ত, আমি আর কুনু ইদর খানি খাইতাম নায়।”

17বাদে তাইন শরবতর পিয়ালা লইয়া আল্লার শুকরিয়া জানাইয়া কইলা, “অউ ফুটাইন তুমরা বাটিয়া খাইলাও। 18আর হুনো, আমি তুমরারে কইরাম, আল্লার বাদশাই না আওয়া পর্যন্ত, আমি আর আংগুরর কুনু শরবত খাইতাম নায়।”

19এরবাদে রুটি আতো লইয়া আল্লার শুকরিয়া জানাইলা। রুটি টুকরাইয়া সাহাবি অকলরে দিলা, কইলা, “মনো করিও ইটা আমার কায়া, অউ কায়া আমি তুমরার লাগি সপি দিমু। আমারে মনো করার লাগি তুমিতাইনও অলা করিও।”

20খাওয়ার বাদে শরবতর পিয়ালা আতো লইয়া কইলা, “আমার লউর জরিয়ায় আল্লার লগে মানষর মিলনর যে নয়া উছিলা নাজিল অর, অউ পিয়ালা অইলো এর নিশানা। আমার অউ লউ তুমরার নাজাতর লাগি দিমু। 21তে দেখরায় নি! আমারে যেগিয়ে ধরাইয়া দিবো, হে অখন আমার লগে অউ দস্তারখানাত বইয়া খার। 22আল্লায় যেলা হুকুম করছইন, আমি বিন-আদমর মউত তো অলাউ অইবো। হায়রে হায়! লান্নতি হউ আদম, যেগিয়ে আমারে ধরাইয়া দিবো।” 23সাহাবি অকলে একে-অইন্যরে জিকাইলা, “তে আমরার মাজর কুন মানষে ইলা কাম করব?”

কুন জন হকল থাকি বড়

24অউ সময় সাহাবি অকলর মাজে কুন জন হকল থাকি বড়, অতা লইয়া তারার মাজে তর্কা-তর্কি লাগিগেল। 25তেউ ইছায় তারারে কইলা, “বিধর্মী দেশর রাজা অকলে তারার প্রজার উপরে মুনিবগিরি দেখাইন। তারার জমিদাররে কওয়া অয় জনগনর দুস্ত। 26অইলে তুমরা ইলান অইও না। তুমরার মাজে যেইন হকল থাকি বড়, এইন হকলর হুরু অউক। আর যেইন নেতা, এইন খাদিমদারর লাখান অউক। 27কওছাইন কুন জন বড়? যেইন খানা খাইন, না যে খাদিমদারি করে? যেইন খানা খাইন এইনউ নায় নি? তে আমি নিজেউ তো তুমরার খাদিমদারি করিয়ার।

28“হুনো, আমার হকল বালা-মছিবতো তুমরা আমার লগে লগে আছলায়। 29আর আমার বাতুনি বাফে আমারে যেলা গদি আর খেমতা দান করছইন, আমিও অউলা তুমরারে খেমতা দান কররাম। 30অউ খেমতা পাইয়া, তুমরাও আমার বাদশাইত দাখিল অইয়া আমার লগে বইয়া খানা-পিনা খাইবায়, আমার লগে গদিত বইয়া বনি ইছরাইলর বারো গুষ্টির বিচার-আদালত করবায়।

হজরত পিতরর বেয়াপারে আগাম খবর

31“সাইমন, সাইমন, হুনো, ধান-চাউল যেলা চাইনদি চানিয়াইন, শয়তানেও তুমরারে অলা চানিয়াইতো চাইছে। 32অইলে তুমার লাগি আমি আরজ করছি, তুমার ইমান যানু কমজুর না অয়। তে তুমি একবার গেলেগিও তৌবা করিয়া যেবলা ফিরত আইবায়, অউ সময় তুমার অউ ভাইয়াইন্তর ইমানি বলও মজবুত করিও।” 33পিতরে কইলা, “হুজুর, আমি তো আপনার লগে অইয়া জেলো যাইতে, বা জান দিতেও তিয়ার আছি।” 34তাইন কইলা, “পিতর, আমি তুমারে কইরাম, আইজ পতাবালা মুরগায় বাং দিবার আগেউ, তুমি তিন-তিনবার কইবায়, তুমি আমারে চিনো না।”

35বাদে তান সাহাবি অকলরে জিকাইলা, “কওছাইন, আমি যেবলা তুমরারে টেকার থলি, গাইট-বুছকি ইতা কুন্তা না দিয়া খালি পাওয়ে পাঠাইছলাম, হি সময় তুমরার কুন্তার অভাব অইছিল নি?” তারা কইলা, “জি না, কুনু অভাব অইছে না।” 36ইছায় কইলা, “তে অখন আমি কই, অখন যার টেকার থলি বা গাইট-বুছকি আছে, হে অতা লগে রাখউক। যার তলোয়ার নাই, হে তার চাদ্দর বেচিয়া তলোয়ার খরিদ করউক। 37পাক কালামর আয়াতো তো লেখা আছে, তানরে নাফরমান অকলর কাতারো মিলাইল অইবো। ই আয়াত তো আমার উপর দিয়াউ ফলিবো। আমার বেয়াপারে যততা লেখা আছে, ইতা হক্কলতা অখন ফলিযার।” 38তেউ সাহাবি অকলে কইলা, “হুজুর দেখউক্কা, ইনো দুখান তলোয়ার আছে।” তাইন কইলা, “অতাউ তো বউত।”

জয়তুন পাড়ো হজরত ইছার তকলিফ

39খানা-পিনার বাদে ইছা বার অইয়া বরাবরকুর লাখান হউ জয়তুন পাড়ো গেলা, সাহাবি অকলও তান খরে খরে গেলা। 40হনো গিয়া হারলে ইছায় তারারে কইলা, “তুমরা দোয়া করো, যাতে কুনু পরিক্ষাত না পড়ো।” 41কইয়া হারি সাহাবি অকলর গেছ থাকি চাইর নল পরিমান দুরই গিয়া, জানু পাতিয়া দোয়া করাত বইলা। 42তাইন কইলা, “বেহেস্তি বাবা, তুমার ইচ্ছা অইলে মছিবতর ই পিয়ালাটা আমার গেছ থনে হরাইলাও। অইলে আমার ইচ্ছায় নায়, তুমার ইচ্ছায়উ অউক।” 43তেউ বেহেস্ত থাকি এক ফিরিস্তা আইয়া ইছারে দরশন দিয়া তান বল বাড়াইলা। 44বাদে তাইন মনর দুখে পেরেশান বনিয়া আরো কাতর অইয়া দোয়া করলা। এরলাগি তান গতরর ঘাম লউর ফুটার লাখান মাটিত পড়তো লাগলো। 45দোয়া শেষ করিয়া সাহাবি অকলর কান্দাত আইয়া দেখলা, মনর দুখে কাতর অইয়া তারা ঘুমাই গেছইন। 46দেখিয়া তারারে কইলা, “ঘুমাইরায় কেনে? উঠিয়া দোয়া করো, যাতে পরিক্ষাত না পড়ো।”

47ইছা মাতো রইছইন, অউ সময় আখতাউ হিকানো বউত মানুষ আইলা। এরার হক্কলর আগে আছিল ইহুদা, হে ইছার বারোজন সাহাবির মাজর একজন। ইহুদায় তানরে হুংগা দিবার লাগি কান্দাত আইলো। 48ইছায় তারে কইলা, “ইহুদা, আমি বিন-আদমরে হুংগা দিয়া ধরাই দিরায় নি?”

49অউ সময় ইছার কান্দাত যেরা আছলা, তারা বুজিলিলা কিতা অর। বুজিয়া কইলা, “হুজুর, অতারে আমরার তলোয়ারদি মারতাম নি?” 50কইয়াউ এক সাহাবিয়ে তলোয়ারদি ছেদ মারি পরধান ইমামর গুলামর ডাইনর কান কাটিলিলা। 51অইলে ইছায় কইলা, “বাদ দেও, আর মারিও না।” অখান কইয়া তাইন হি গুলামর কান আতাই দিয়া তারে ভালা করিল্লা।

52হজরত ইছারে আটক করাত যতো বড় ইমাম, বায়তুল-মুকাদ্দছর দারোগা, আর মুরব্বি অকল আইছলা, ইছায় তারারে জিকাইলা, “মানষে চুর-ডাকাইত ধরতে যেলা লাঠি-ছুলফি লইয়া যাইন, তুমরা আমারে ধরাত অউলা আইছো নি? 53আমি তো পরতেক দিনউ বায়তুল-মুকাদ্দছো তুমরার ছামনে আছলাম, হি সময় আমারে ধরলায় না কেনে? ও, অখন নিচয় তুমরার সময়, আন্দাইরর রাজত্ব চালু অইছে।”

হজরত পিতরর অস্বীকার

54দুশমনর দলে ইছারে আটক করিয়া পরধান ইমামর বাড়িত লইয়া গেলাগি। সাহাবি পিতর দুরই হরি হরি ইছার খরে অইয়া গেলা। 55উঠানর মাজে বাক্কা মানষে আগুইন ধরাইয়া থাবানিত লাগলা, পিতরও অনো আইয়া শরিক অইলা। 56অউ সময় এক বান্দি বেটিয়ে আগুনির ফরর মাজে পিতররে দেখিয়া ভালা করি চাইয়া কইলো, “অউ বেটাও হগুর লগে আছিল।”

57পিতরে কইলা, “না বেটি, আমি এরে চিনিউ না।” 58থুড়া বাদে আরক জনে পিতররে দেখিয়া কইলো, “তুমিও অতার লগর একজন।”

তাইন কইলা, “না-বা, আমি নায়।” 59আরো একদ ঘন্টা বাদে আরক জনে বড় গলায় কইলো, “অয়, অয়, অগুও এর লগে আছিল, এ-ও তো গালিলর মানুষ।” 60তাইন কইলা, “দুর বেটা! তুমি ইতা কিতা মাতো, কুন্তা বুজি না।”

পিতরে অতা কইরা, এরমাজে আখতাউ মুরগায় বাং দিলাইলো। 61তেউ ইছায় মুখ ফিরাইয়া পিতরর বায় চাইলা। চাইতেউ পিতরর মনো অইগেলগি, হুজুরে তো আগেউ কইছলা, “আইজ পতাবালা মুরগায় বাং দিবার আগেউ, তুমি তিন বার কইবায়, তুমি আমারে চিনো না।” 62তেউ পিতর বারে গিয়া খুব কান্দন কান্দিলা।

দেশর ফতোয়া কমিটির ছামনে হজরত ইছা

63হজরত ইছারে ধরিয়া আনিয়া পারাদার অকলে তানরে ঠাট্টা-মশকরা আর মাইর-ধইর করলো। 64তান চউখ বান্দিয়া কইলো, “হই, তুই বুলে নবী, তে অখন গাইবি কওছাইন, তরে খেগিয়ে মারলো?” 65অউলা আরো বউততা কইয়া তানরে বেইজ্জত করলো।

66রাইত পুয়ানির বাদে দেশর ফতোয়া কমিটির মুরব্বিয়ান, বড় ইমাম আর আলিম অকল দলা অইলা, আর ইছারে তারার ছামনে আনাইয়া কইলা, 67“তুমি যুদি আল্লার ওয়াদা করা হউ আল-মসী অও, তে আমরারে কও।” ইছায় কইলা, “আমি কইলেও তো তুমিতাইন একিন করতায় নায়। 68কুন্তা জিকাইলেও জুয়াপ দিতায় নায়। 69অইলে আমি বিন-আদম অখন থাকিউ আরশে-আজিমো আল্লার ডাইনর কুরছিত বইমু।” 70তেউ হক্কলে জিকাইলো, “তে তুমিউ কিতা আল্লার খাছ মায়ার জন ইবনুল্লা নি?” তাইন কইলা, “অয়, তুমিতাইনউ তো কইরায়, আমিউ হেইন।” 71তেউ তারা হক্কলে কইলো, “তে আর সায়-সাক্ষিদি কিতা করতায়? আমরা নিজর কানেউ তো তার জবানবন্দি হুনলাম।”

23

রোমান হাকিমর ছামনে হজরত ইছা

1তারা হকলে একলগে দল বান্দিয়া ইছারে লইয়া রোমান হাকিম পিলাতর গেছে গেলা। 2গিয়া ইছার বিপক্ষে নালিশ দিলা। তারা কইলা, “আমরা দেখছি, অউ বেটায় আমরার দেশর মানষরে বিগড়াই দের, হে মানষরে নিষেধ করে আমরার বাদশা কৈছররে খাজনা দিতা না। হে নিজেউ বুলে আল-মসী নামর এক বাদশা।” 3পিলাতে ইছারে জিকাইলা, “তুমি কিতা ইহুদি অকলর বাদশা নি?” তাইন জুয়াপ দিলা, “আপনে যেলা কইন, অলাউ।” 4তেউ পিলাতে বড় ইমাম আর হকল মানষরে কইলা, “আমি তো ই আসামির কুনু দুষউ পাইরাম না।” 5অইলে তারা জিদ করিয়া কইলো, “ই বেটায় গালিল জিলা থাকি আরম্ভ করিয়া আস্তা এহুদিয়া জিলার মানষরে বিগড়াইয়া, অখন আমরার অনো আইয়াও হক্কলরে বিগড়াইলার।”

6ইখান হুনিয়া পিলাতে জিকাইলা, “হে কিতা গালিলর মানুষ নি?” 7হাকিমে যেবলা হুনলা, ইছার বাড়ি অইলো রাজা হেরোদর অধীনর গালিল জিলাত, হুনিয়া তাইন ইছারে হেরোদর গেছে পাঠাই দিলা, কারন হেরোদও অউ সময় জেরুজালেমো আছলা।

8ইছারে দেখিয়া হেরোদ খুব খুশি অইলা। তাইন বউত দিন ধরি ইছারে দেখতা চাইরা। আগে তাইন ইছার বেয়াপারে বউততা হুনছিলা, এরলাগি তান মনর আশা আছিল, ইছায় তানরে কুনু কেরামতি-মোজেজা দেখাইবা। 9তাইন ইছারে বউত নমুনার প্রশ্ন করলা, অইলে ইছায় ইতার কুনু জুয়াপ দিলা না। 10আদালতো উবাইয়াও বড় ইমাম আর মৌলানা অকলে খুব গরম অইয়া ইছার বিপক্ষে নালিশ হুনানিত রইলা। 11এরলগে হেরোদে আর তান সিপাই অকলেও ইছারে ঠাট্টা-মশকরা, বেইজ্জতি করলা, হেশ-মেশ তানরে বাদশাই চকচকা লেবাছ ফিন্দাইয়া হাকিম পিলাতর গেছে ফিরত পাঠাই দিলা। 12এর আগে রাজা হেরোদ আর হাকিম পিলাতর মাজে দুশমনি আছিল, অইলে অউ দিন থাকিউ তারার মাজে দুস্তি অইগেল।

13বাদে পিলাতে বড় ইমাম, মুরব্বি অকল, আর আম মানষরে একখানো দলা করিয়া, 14কইলা, “অউ আসামিরে তুমরা ধরিয়া আনিয়া আমার গেছে নালিশ দিলায়, হে হক্কল মানষরে বিগড়াইলার, অইলে আমি তো তুমরার ছামনেউ তারে জেরা করলাম, তে তুমরা যেলা নালিশ দিছো, তার মাজে তো ইলা কুনু দুষউ পাইলাম না। 15আর রাজা হেরোদেও নিচয় তার কুনু দুষ পাইছইন না, এরলাগিউ তাইন তারে আমার গেছে ফিরত পাঠাইছইন। আমি দেখরাম, মউতর সাজার জুকা কুনু দুষউ হে করছে না। 16তে আমি তারে ছিংলাদি মারিয়া ছাড়ি দিমু।” 17আসলে হাকিম পিলাতর রেওয়াজও আছিল, তাইন আজাদি ইদর অখতো একজন কয়দিরে খালাছ দিতা।

18অইলে মানষে একলগে চিল্লাইয়া কইলো, “না, না, অগুরে মারিলাও। বারাব্বারে ছাড়ি দেও।” 19অউ বারাব্বারে আগে জেলো হারাইল অইছিল, হে জেরুজালেম টাউনো খুন আর সন্ত্রাস করছিল। 20অইলে পিলাতে ইছারে ছাড়ি দেওয়ার নিয়তে হিরবার তারার লগে বাতচিত করলা। 21তা-ও তারা একলগে চিল্লাইয়া উঠলো, “অগুরে সলিবো দেও, সলিবো দেও।” (সলিব অইলো লাকড়িদি বানাইল মানষরে লটকাইয়া মারার এক জিনিস।) 22পিলাতে তিন-তিনবার তারারে জিকাইলা, “কেনে? ই আসামিয়ে কিতা দুষ করছে? মউতর সাজার জুকা তার কুনু দুষউ আমি পাইরাম না। আমি খালি ছিংলাদি মারিয়া তারে ছাড়ি দিমু।” 23অইলে তারা মাইরমুখি অইয়া, চিল্লাইয়া, মিছিল লাগাইলা, “অগুরে সলিবো লটকাও, সলিবো লটকাও।” চিল্লানির চুটে তারার দাবি পুরা অইলো। 24তারার দাবি মাফিকউ পিলাতে রায় দিলাইলা। 25তাইন হজরত ইছারে তারার বদ খাইশ মাফিক তারার আতো ছাড়ি দিলা আর হউ খুনি-সন্ত্রাসিরে খালাছ দিলাইলা।

সলিবর উপরে হজরত ইছা আল-মসীর মউত

26হাকিমর রায় পাইয়া সিপাই অকলে ইছারে কাতল করাত লইয়া যাইরা। অউ সময় সাইমন নামর কুরিনিয়ার একজন মানুষ গাউ থাকি টাউনো আওয়াত আছিল। তারা অউ বেটারে ধরিয়া লাকড়িদি বানাইল সলিব তার কান্দো তুলিয়া দিয়া কইলো, হে অগু লইয়া ইছার খরে খরে যাইতো। 27ইছার খরে খরে বউত মানুষ আছিল, এরার লগে বউত বেটিনও আছলা। তারা তান লাগি বিলাপ আর আহাজারি করিয়া বুকুত থাবাইয়া কান্দন লাগাইলা। 28অইলে ইছায় তারার বায় চাইয়া কইলা, “ও জেরুজালেমর মাই অকল, আমার লাগি কান্দিও না। তুমরা নিজর লাগি আর নিজর পুয়া-পুড়ির লাগি কান্দো। 29হুনো, অমন এক দিন আইবো, যেবলা মানষে কইবা আটখুরা বেটিনউ বড় কপালি। যেরার কুনু হুরুতাউ অইছে না, বুকর দুধও কুনুদিন খাওয়াইছে না, তারাউ কপালি। 30হি সময় মানষে বড় বড় পাড়রে কইবো, তুমরা আইয়া আমরার উপরে পড়ো। পাড়র টিল্লা অকলরে কইবো, আমরারে লুকাইয়া রাখো। 31তুমরা দেখরায় না নি, তাজা গাছরেউ ইতায় অউ হালত কররা, তে হুকনা গাছর কুন দশা অইবো।”

32হজরত ইছার লগে করি মারার লাগি সিপাই অকলে দুইজন দাগি আসামিরে লইয়া আইলো। 33বাদে মাথার-খুলি নামর জাগাত আনিয়া, তারা ইছারে আর হউ দুইও দাগি আসামিরে গাছর টুকরাদি বানাইল সলিবো লটকাইলো, একজনরে তান ডাইন গালাত, আরক জনরে বাউ গালাত লটকাইলো। 34অউ সময় ইছায় কইলা, “বাবা, এরারে মাফ করি দিলাও। তারা তো বুজের না তারা ইতা কিতা করের।”

বাদে তারা তান কাপড়-চুপড় নিতা করি লটারি মারিয়া বাটা-বাটি করলা। 35বউত মানষে উবাইয়া ইতা দেখলা, অইলে তারার মুরব্বি অকলে ইছারে টিটকারি মারিয়া কইলা, “হে তো বউত মানষর জান বাচাইতো, হে যুদি হাছাউ আল্লার ওয়াদা করা হউ আল-মসী অয়, তে অখন তার নিজর জানও বাচাউক।” 36রোমান সিপাই অকলেও তানরে লইয়া মশকারি করলো, তারা টেংগা আংগুরর শরবত লইয়া তান কান্দাত গিয়া কইলা, 37“তুমি যুদি ইহুদি অকলর হাছারর বাদশা অও, তে অখন নিজর জান বাচাও না।” 38তান মাথার উপরে একখান সাইনবোর্ড লাগাইল অইলো, হনো লেখা আছিল, “হে ইহুদির বাদশা।”

39অউ সময় তান লগে আরো যে দুইজন আসামিরে সলিবো লটকাইল অইছিল, অতা একজনে তানরে টিটকারি মারিয়া কইলো, “তুমি বুলে হউ আল-মসী? তে অখন আমরারে আর তুমারেও বাচাও না।” 40অখান হুনিয়া দুছরা জনে এরে ধামকি দিয়া কইলো, “তুমি কিতা আল্লারেও ডরাও না নি? তুমিও তো অউ হমান সাজা পাইরায়। 41আর আমরা তো পাইরাম আমরার উচিত সাজা, আমরা যেলান কাম করছি অউলান পাইরাম। অইলে এইন তো কুনু দুষউ করছইন না।” 42বাদে হে কইলো, “ও ইছা, আপনে ফিরিয়া আইয়া যেবলা নিজে বাদশাই করবা, অউ সময় খানো আমারে ইয়াদ রাখইন যানু।” 43তাইন কইলা, “আমি তুমারে হক কথা কইরাম, তুমি আইজ থাকিউ আমার লগে আরশে-আজিমো থাকবায়।”

44অউ সময় বেইল অনুমান দুইফর, এরবাদ থাকি জোহরর বাদ পর্যন্ত তিন ঘন্টা ধরি আস্তা দেশ আন্দাইর অইগেল। 45সুরুজর ফর নিভিগেল। এরমাজে জেরুজালেমো কাবা ঘরর পবিত্র হেরেম শরিফর পর্দাখান, উপরে থাকি তল পর্যন্ত ছিড়িয়া দুই টুকরা অইগেল। 46হেশে ইছায় জুরে আওয়াজ করিয়া কইলা, “বাবা, আমার রুহ তুমার আতো সপিয়া দিলাইলাম।” অখান কইয়াউ আখেরি দম ফালাইয়া ইন্তেকাল করলা। 47রোমান সিপাইর যে বড় অফিসার হনো পারা দেওয়াত আছলা, এইন ইছার মউতর ই হালত দেখিয়া আল্লার তারিফ করিয়া কইলা, “নিচ্চয়, ই বেচাড়া খাটি দীনদার মানুষ আছলা।” 48আর ইতা দেখার লাগি যতো মানুষ দলা অইছলা, তারাও ই হালত দেখিয়া বুকুত মারি মারি আহাজারি করিয়া ফিরিয়া গেলা। 49ইছার পরিচিত জন অকলে, আর গালিল জিলা থাকি যেতা বেটিন তান লগে অইয়া আইছলা, তারা হক্কলে দুরই উবাইয়া ইতা দেখলা।

হজরত ইছার কয়বর

50-51দেশর ফতোয়া কমিটির একজন ইজ্জতি মেম্বার আছলা, এন নাম ইউছুফ, এন বাড়ি আরিমাথিয়া গাউত। এইন তো পরেজগার আর হক মানুষ, ইছারে কাতল করার অউ কু-ধান্দাত তাইন তারার লগে রাজি অইলা না। তাইন আল্লার বাদশাইর লাগি বার চাওয়াত আছলা। 52অউ ইউছুফ হাকিম পিলাতর গেছে গেলা, গিয়া ইছার লাশ নিতা চাইলা। 53বাদে হজরত ইছার লাশ সলিব থাকি লামাইয়া, কাফন ফিন্দাইলা, আর পাথর খুদিয়া বানাইল অউলা এক কয়বরর মাজে দাফন করলা, ই কয়বরো কুনুদিন আর কেউররে দাফন করা অইছে না।

54ই দিন আছিল ইহুদির জুম্মার আগর দিন, থুড়া বাদেউ জুম্মাবার শুরু অইযিবো। 55আর যেতা বেটিন গালিল থাকি ইছার লগে অইয়া আইছলা, তারা ইউছুফর খরে খরে গিয়া হউ কয়বর দেখলা, আর কিলাখান তান লাশ দাফন করা অইলো এওতা দেখলা। 56বাদে তারা ফিরিয়া গিয়া হারি আতর-গোলাপ আর চন্দন-মলম বানাইলা, হেশে শরিয়তর হুকুম মাফিক জুম্মার দিন জিরাইলা।

24

মউতর বাদে জিন্দা অইলা হজরত ইছা (২৪:১-৫৩)

হজরত ইছা জিন্দা অওয়ার সাক্ষি-পরমান

1অউ বেটিন্তে যেতা আতর-গোলাপ তিয়ার করছলা, হাপ্তার পয়লা দিন খুব ছবরে তারা অতা লইয়া, ইছার কয়বরর কান্দাত আইলা। 2আইয়া দেখলা, কয়বরর মুখর পাথরখান হরাইল অইগেছে। 3দেখিয়া তারা কয়বরর ভিতরে হামাইয়া দেখইন, ইছার লাশ তো কয়বরো নাই। 4তেউ তারা চিন্তাত পড়িগেলা। অউ সময় ধলা চকচকা কাপড় ফিন্নো দুই জন আইয়া তারার কান্দাত উবাইলা। 5এরারে দেখিয়া বেটিন্তে ডরাইয়া মাথা নোয়াইলিলা। অউ দুইওজনে তারারে কইলা, “ওগো, তুমিতাইন জিন্দারে কেনে মুর্দা অকলর মাজে আইয়া তুকাইরায়? 6তাইন তো অনো নাই, তাইন জিন্দা অইগেছইন। তাইন গালিলো থাকতে তুমরার গেছে কিতা কইছলা, মনো করিয়া দেখো। 7তাইন কইছলা না নি, বিন-আদমরে নাফরমান মানষর আতো ধরাই দেওয়া অইবো। তানরে সলিবো লটকাইয়া কাতল করা অইবো, অইলে মউতর তিন দিনর দিন হিরবার জিন্দা অইয়া উঠবা?”

8অখান হুনতেউ ইছার আগর কথা অকল তারার মনো অইগেল। 9তারা কবরস্থান থাকি ফিরিয়া গিয়া, হউ এগারো জন সাহাবিরে আর বাকি হকলর গেছে খবর জানাইলা। 10মগদিলিনী মরিয়ম, সোহানা, ইয়াকুবর মা মরিয়ম আর তারার লগে যেতা বেটিন আছলা, এরা হকলে গিয়া ই খবর কইলা। 11অইলে যেরা ইতা হুনলা, এরা মনো করলা ইতা নিচয় বাজে মাত, ইতা বেটিন্তর মাত তারা একিন করলা না। 12অইলে পিতর দৌড়াইয়া কয়বরর কান্দাত গেলা। গিয়া উন্দা অইয়া দেখলা, খালি কাফনখান পড়ি রইছে। ইতা দেখিয়া তাইন তাইজ্জুব বনিয়া ফিরত আইলা।

দুইজন সাগরিদে জিন্দা ইছারে দেখলা

13অউ দিনউ দুইজন সাগরিদ জেরুজালেম থাকি সাত মাইল দুরই ইমুয়াছ নামর এক গাউত যাওয়াত আছলা। 14পথো তারা অতা বেয়াপার অকল লইয়াউ মাতি মাতি যাইরা। 15তারা মাতো রইছইন অউ সময় আখতাউ ইছা নিজে তারার কান্দাত আইয়া একলগে আটা ধরলা। 16অইলে তারার চখুত ছাটা লাগি গেছিল, তারা ইছারে দেখিয়াও চিনলা না। 17ইছায় তারারে জিকাইলা, “আটি আটি আপনারা ইতা কিতার বাতচিত কররা?” ইখান হুনিয়া এরা মুখ বেজার করি উবাই গেলা। 18এরমাজে কিলিওফাছ নামে একজনে ইছারে কইলা, “আপনেউ একমাত্র জন, যেইন হুনছইন না ই কয়দিনে জেরুজালেমো কিতা ঘটিছে?”

19ইছায় তারারে জিকাইলা, “কিতা ঘটিছে বা?” তারা কইলা, “নাছারতর ইছারে লইয়া যততা ঘটিছে। তাইন তো আল্লার নবী, তান মুখর জবান আর কামে-কাজে আল্লার নজরো আর হকল মানষর চখুতও খুব তাক্কতি আর মরতুবাআলা নবী আছলা। 20আমরার বড় ইমাম আর মুরব্বি অকলে তানরে জানে মারার লাগি রোমান অকলর আতো ধরাইয়া দিলাইলা, তারা তানরে নিয়া সলিবর উপরে কাতল করিলিছে। 21অইলে আমরার আশা আছিল, তাইন বনি ইছরাইলরে আজাদ করবা। আইজ তিন দিন অইলো ই ঘটনা ঘটিছে। 22আর আমরার লগর কয়জন বেটি মানষে আইয়া আমরারে তাইজ্জুব বানাইলিছইন। তারা খুব ছবরে ইছার কয়বরো গেছলা, 23গিয়া দেখছইন, তান লাশ নাই। তারা ফিরত আইয়া কইলা, তারা ফিরিস্তার দরশন পাইছইন, আর ফিরিস্তা অকলে তারারে কইছইন, ইছা জিন্দা আছইন। 24বাদে আমরার লগে যারা আছলা, তারার মাজেও কেউ কেউ কয়বরো গিয়া দেখলা, বেটিন্তর কথাউ হাছা, ইছার লাশ কয়বরো নাই।”

25হকলতা হুনিয়া ইছায় তারারে কইলা, “আপনারা তো কুন্তাউ বুজইন না। আপনাইন্তর দিল অলা অসাড় বনিগেছে নি? আল্লার নবী অকলে যেতা বাতাইয়া গেছইন, অতারেও আপনারা একিন কররা না। 26নবী অকলে কইছইন না নি, আল্লার ওয়াদা করা আল-মসীয়ে দুখ-মছিবত সইয্য করিয়া হারি তান জালাল আর গৌরব হাছিল করবা?” 27বাদে তাইন মুছা নবীর তৌরাত কিতাব থাকি শুরু করিয়া, হক্কল নবীর কিতাবর মাজে তান বেয়াপারে যততা লেখা আছে, অতা তারারে বুজাইলা।

28আর যে গাউত যাইতা করি তারা রওয়ানা দিছলা, হউ গাউর কান্দাত আইলে ইছায় আরো দুরই যাওয়ার ভাব দেখাইলা। 29অইলে তারা খুব মিনত-কাজ্জি করিয়া তানরে কইলা, “অখন তো বেইল গেছেগি, হাইঞ্জা অইযার, তে রাইতখান আপনে আমরার গেছে রই যাউক্কা।” অউ তাইন রওয়ার লাগি বাড়িত হামাইলা। 30বাদে যেবলা খানিত বইলা, অউ সময় ইছায় রুটি লইয়া টুকরাইয়া আল্লার শুকরিয়া আদায় করিয়া তারারে দিলা। 31তেউ তারার চউখ খুলিগেল, তারা ইছারে চিনিলিলা। চিনার লগে লগেউ তাইন এরার গেছ থাকি আউড়ি দিলাইলা। 32বাদে তারা একে-অইন্যরে কইলা, “পথো যেবলা তাইন আমরার লগে বাতচিত করছলা, আমরারে আল্লার কালাম বুজাইয়া দিছলা, হউ সময় আমরার দিলর মাজে এক এশকি পয়দা অইছিল না নি?”

33লগে লগে তারা দুইওজন বার অইয়া জেরুজালেম আইলা। আইয়া হউ এগারো জন সাহাবি আর বাকি হক্কলরে একখানো বওয়াত পাইলা। 34তারা অনো বইয়া অতা মাতিরা, হজরত ইছা আসলেউ জিন্দা অইগেছইন, জিন্দা অইয়া সাইমন-পিতররে দেখা দিছইন। 35অউ সময় হউ দুইও জনেও এরারে কইলা, পথর মাজে তারা কিলা ইছার দেখা পাইলা, রুটি টুকরাইবার সময় কিলা তানরে চিনলা, ইতা হকলতা জানাইলা।

জিন্দা ইছারে হকল সাগরিদে দেখলা

36সাহাবি অকলে তো অতা লইয়া বাতচিত কররা, অউ সময় আখতাউ ইছা নিজে অনো আইয়া তারার মাজখানো উবাইয়া কইলা, “আছছালামু আলাইকুম।” 37তানে দেখিয়া তারা খুব ডরাইগেলা, মনো করলা ভুত আইছে। 38ইছায় তারারে কইলা, “তুমরা অতো অস্থির অইগেলায় কেনে? কেনে তুমরার দিলো সন্দয় হামাইলো? 39আমার আত-পাও ভালামন্তে দেখো, দেখো না, ই তো আমি। আমারে আতাইয়া দেখো, ভুতর তো আমার লাখান আড্ডি-মাংস নাই।” 40অখান কইয়া তাইন নিজর আত-পাও তারারে দেখাইলা। 41অইলে তারা তানে দেখিয়া অতো বেশি খুশি অইলা, খুশির চুটে বেদিশা বনিগেলা, কুন্তা বিশ্বাস করতা পারলা না। তেউ ইছায় তারারে কইলা, “ইনো খাইবার কুন্তা আছে নি?” 42তারা এক টুকরা বিরান মাছ তানরে দিলা। 43অউ মাছ তাইন হকলর ছামনে খাইলা।

44খাইয়া এরারে কইলা, “আমি যেবলা তুমরার লগে আছলাম, হউ সময় তুমরারে কইছলাম না নি, মুছা নবীর তৌরাত শরিফ, নবী অকলর ছহিফা, আর জবুর শরিফর মাজে যেতা লেখা আছে, ইতা হকলতা নিচ্চিত ফলিবো।” 45অখান কইয়া হারি, তাইন সাহাবি অকলর দিলর দুয়ার খুলি দিলা, যাতে আল্লার কালামর মানি এরা বুজতা পারইন। 46তাইন কইলা, “আল্লার কালামো লেখা আছে, আল-মসীয়ে বউত কঠিন দুখ-তকলিফ পাইবা, মউতর তিন দিনর দিন তাইন মুর্দা থাকি জিন্দা অইযিবা। 47যেকুনু মানষে তান নামে তৌবা করলে, গুনার মাফি মাগিলে মাফি পাইবো, অউ বয়ানি জেরুজালেম থাকি শুরু অইয়া আস্তা দুনিয়ার হকল জাতির কানো পৌছানি লাগবো। 48তুমরাউ ই হক্কলতার সাক্ষি। 49আর হুনো, আমার বাতুনি বাফে যেতা দান করার ওয়াদা করছইন, আমি ইতা তুমরার গেছে বেজিমু। অইলে বেহেস্ত থাকি বল-তাক্কত না পাওয়া পর্যন্ত, তুমরা অউ জেরুজালেমো রইও।”

হজরত ইছারে বেহেস্তো তুলিয়া নেওয়া অইলো

50বাদে ইছায় সাহাবি অকলরে লইয়া বায়ত-আনিয়া গাউর মুখো গেলা, গিয়া তাইন আত তুলিয়া তারারে দোয়া দিলা। 51আর অউ দোয়ার হালতেউ তাইন তারার গেছ থনে আলগ অইগেলা, তানরে বেহেস্তো তুলিয়া নেওয়া অইলো। 52তারা হকলে তানরে সইজদা করিয়া, খুব খুশি অইয়া জেরুজালেমো ফিরত আইলা। 53আর বায়তুল-মুকাদ্দছর মাজে হামেশা আল্লার হামদ-তারিফ করাত রইলা। আমিন॥