আছমানি কিতাব
হজরত ইউনুছ নবীর ছহিফা
ছিলটি ভাষায় তরজমা
পরিচিতি
অউ ছহিফাত আমরা খুব বড় বড় নানান কুদরতি ঘটনার কথা পাইমু। পয়লা, আল্লা পাকর একজন নবীয়ে আল্লার হুকুম মানতে রাজি অইলা না। দুছরা, মাছর পেটো এক মানুষ তিন দিন, তিন রাইত জিন্দা রইলা। তিন নম্বর, অউ নবী যতো জাগাতউ গেলা না কেনে, গিয়া দেখলা, কাফির-মুশরিক অকলে, মুর্তিপুজারি মানষে, তান চাইতেও বেশি আল্লারে মানে, আর আল্লার মর্জি-মুনশা তারা আরো ভালামন্তে বুজে। অউ নবী অইলা হজরত ইউনুছ (আঃ)। আসলে, তাইন আল্লার হুকুম না মানার পিছনে বড় এক কারনও আছিল, কারন অইলো, আল্লায় তো তানরে নিনভ টাউনো তবলিগ করার লাগি পাঠাইতা চাইলা, আর ই নিনভর মানুষ আছলা হউ জমানার হকল থাকি নিষ্ঠুর আর জুলুমবাজ জাতি। খালি ইখান নায়, তারা হামেশা ইউনুছ নবীর নিজর জাতি বনি ইছরাইলর লগে লাড়াই-যুদ্ধ করতা।
আছমানি কিতাব পবিত্র ইঞ্জিল শরিফো, হজরত ইছা আল-মসীয়ে তান নিজর জাতির মানষর দুষ দেখাইয়া কইলা, “ইউনুছ নবী যেলা মাছর পেটো তিন দিন, তিন রাইত আছলা, আমিও অউলা তিন দিন, তিন রাইত মাটির তলে রইমু। কিয়ামতর দিন হউ নিনভ টাউনর মুর্দা অকল উঠিয়া হারি, ই জমানার মানষর দুষ জাইর করবা। কারন ইউনুছ নবীর তবলিগ হুনিয়া তারা তৌবা করছিলা। অইলে অখন তো ইউনুছ থাকিও আরো মহান একজন ইনো আছইন, তা-ও মানষে তৌবা করের না।”
মুল কথা অইলো, হজরত ইছা আল-মসীর জমানার মানষে এক আল্লারে ঠিকউ মানতা, তারা খুব আল্লা-বিল্লা করতা, অইলে তারা গুনা-নাফরমানির কাম বাদ না দেওয়ায়, গুনার লাগি তৌবা না করায় আল্লার দরবারো দুষি রইলা। অইলে নিনভ টাউনর হউ নাফরমান জুলুমবাজ আর মুর্তিপুজারি মানষে যেবলা তৌবা করলা, তারা লগে লগে আল্লার দরবারো দয়া-মেহেরবানি পাইলা, আর নিচ্চিত গজব থাকি বাচিগেলা। আল্লা তো রহমানুর রহিম, তাইন নিজর বন্দার খাছ দুশমনরেও মায়া করইন, অইলে আল্লা পাকর অউ দয়া-মায়ার লাগি ইউনুছ (আঃ) নবীয়ে পয়লা গুছা করলা, যুদিও হেশে তাইন বুজ পাইলা।
হজরত ইছা আল-মসীর জন্মর ৭৫০-৮০০ বছর আগে অউ ছহিফা লেখা অইছে।
এরমাজে আছে:
(ক) হজরত ইউনুছ (আঃ) বাগি যাওয়া ১ রুকু
(খ) মাছর পেটো হজরত ইউনুছর তৌবা ২ রুকু
(গ) নিনভ টাউনো তবলিগ করা ৩ রুকু
(ঘ) ইউনুছর গুছা আর আল্লার মায়া-মমতা ৪ রুকু
1হজরত ইউনুছ (আঃ) বাগি যাওয়া
1মাত্তার পুয়া ইউনুছর গেছে মাবুদর অউ ওহী নাজিল অইলো, 2“তুমি রওয়ানা দেও, আর নিনভ নামর হউ বড় টাউনো যাও, গিয়া আমার গজবর কথা জানাও। তারার নাফরমানি আমার দরবারো জাইর অইগেছে।” 3অইলে ইউনুছে মাবুদর হুকুমর বরখেলাফ করিয়া বাগিয়া স্পেন দেশো যাওয়ার লাগি রওয়ানা অইগেলা। তাইন জাফা নামর জাজর ঘাটো গিয়া স্পেন দেশো যাওরা একখান জাজ পাইয়া, জাজর ভাড়া আদায় করিয়া ভিতরে হামাইয়া মাবুদর ছামনে থনে বাগিতা করি নাইয়াইন্তর লগে অইয়া রওয়ানা দিলাইলা।
4অইলে মাবুদে দরিয়ার মাজে এক বেজুইতা তুফান ছাড়িলা। তুফানর ঠেলায় জাজখান ভাংগি যাওয়ার দশা অইলো। 5নাইয়াইন্তে ডরাইয়া যারযির দেবতার গেছে কান্দা-কাটি করাত লাগলা। আর জাজর ভার কমানির লাগি মাল-ছামানা দরিয়াত ফালাই দিলো। অইলে ইউনুছ জাজর তলর তালাত লামিয়া হুতি রইলা, হুতিয়া বেদুম ঘুমো পড়লা। 6অউ সময় জাজর সারং ইউনুছর গেছে গিয়া কইলা, “ওই মিয়া! তুমি কেমনে ঘুমাইরায়? কুন্তা হুনরায় নায় নি? উঠো, তুমার দেবতারে ডাকো। অইতো পারে তাইন আমরার বায় খিয়াল করবা, আমরার জান বিনাশ অইতো নায়।”
7বাদে নাইয়াইন্তে একে-অইন্যয় কইলো, “আও আমরা লটারি মারিয়া দেখি, কার দুষে ই মছিবত আইছে।” তেউ তারা লটারি মারলো আর লটারির মাজে ইউনুছর নাম উঠলো। 8অউ তারা তানরে জিকাইলা, “কওছাইন, কার দুষে আমরার উপরে ই মছিবত আইছে? তুমি কিতা কাম করো? কুয়াই থাকি আইছো? কুন দেশর মানুষ? তুমি কুন জাতর মানুষ?” 9ইউনুছে জুয়াপ দিলা, “ভাইয়াইনরে, আমি একজন ইবরানি, ইছরাইল জাতির মানুষ। আমি বেহেস্তর মালিক আল্লা মাবুদর এবাদত করি, তাইনউ দরিয়া আর জমিন পয়দা করছইন।” 10তাইন আরো কইলা, মাবুদর ছামনে থনে বাগিবার নিয়তে তাইন আইয়া জাজো উঠছইন। ইখান হুনিয়া তারা খুব ডরাইয়া কইলা, “হায়, হায়! তুমি ইতা কুন জাতর কাম করলায়?”
11দরিয়ার তুফান যেবলা আরো বেজুইতা ভাব ধরলো, অউ সময় তারা তানরে জিকাইলো, “আমরা তুমারে কিতা করলে দরিয়া থির অইবো?” 12ইউনুছে জুয়াপ দিলা, “আমারে ধরিয়া দরিয়াত ফালাই দেও, তেউ দরিয়া শান্তি অইযিবো। আমি তো জানি, আমার দুষেউ আপনাইন্তর উপরে ই গজবি তুফান আইছে।” 13অইলে নাইয়াইন্তে তানে না ফালাইয়া জাজখান কিনারো ভিড়ানির লাগি জান-পরান সপিয়া দাড় বাইলা, তুফানর জুর খালি বাড়তেউ রইলো, এরদায় তারা জাজখান কিনারো নিতা পারলা না। 14তেউ তারা আল্লার গেছে ফরিয়াদ করলো, কইলো “ও মাবুদ, রহম করো, অউ মানষর জানর লাগি তুমি আমরারে মারিও না, ই নি-অপরাধির জানর কারনে আমরারে দায়ী করিও না। ও মাবুদ, ইতা হকলতাউ তো তুমার মুনশা।” 15বাদে তারা ইউনুছ নবীরে ধরিয়া দরিয়াত ফালাই দিলো, আর দরিয়ার তুফানর ঢেউ দম লইলিলো। 16ই হালত দেখিয়া তারা মাবুদরে খুব ডরাইলা। তারা মাবুদর নামে পশু-কুরবানি দিলা আর মান্নত মানলা।
17মাবুদে খুব বড় এক মাছরে যুগাই থইছলা ইউনুছরে গিলিলিবার লাগি, তাইন তিন দিন, তিন রাইত হউ মাছর পেটো রইলা।
2মাছর পেটো হজরত ইউনুছ (আঃ) অর তৌবা
1ইউনুছে মাছর পেটো থনে মাবুদ আল্লার দরবারো দোয়া করলা।
2মছিবতো পইড়া মউলা ডাকিলাম তরে,
রহম করিয়া তুই জুয়াপ দিলে মোরে।
পাতালর পেটো বইয়া আমি কান্দিলাম,
কবুল করিলায় আরজ রহিম রহমান।
3দরিয়ার মুরো বন্ধু মোরে ফালাইলায়,
তুমার পানির ঢেউয়ে আমায় ভাসাই লইয়া যায়।
4মিলে না দিদার তুমার নাই কান্ডারি,
তাল্লাশি করিয়া মুকাম জিকির করি।
5ঢেউওর মাজেতে পড়ি জান ধড়ফড় করে,
দরিয়ার লতা-পাতায় পেচিলিলো মোরে।
6পাতালর তলে গিয়া মিলের না কিনার,
খরেদি চাইয়া দেখি দুয়ার নাই আর।
বন্দি অইয়া কান্দি আমি নিরাশ বদনে,
আজাদ করিলায় মউলা গইন গাড়া থনে।
7জান আমার যায় যায় অইলো যখন,
কাতর অইয়া গো বন্ধু করিনু স্মরন।
ভিক্ষা মাংগিলাম কাংগাল দরবারে তুমার,
আরশো থাকিয়া দয়াল দেখাইলায় দিদার।
8মুর্তিপুজা করে যারা না পাইব রহমত,
এলামি করিয়া তারা আরাইলো কুদরত।
9শুকুর-গুজার করো ইউনুছ মাবুদ মেহেরবান,
তুমার দরবারে আমি করিমু কুরবান।
লিল্লা-ছদগা দান-খয়রাত সপিমু তরে,
নাজাতর মালিক-মউলায় বাচাও আমারে।
10বাদে মাবুদে হউ মাছরে হুকুম দিলা, মাছে ইউনুছরে নিয়া হুকনা জমিনর উপরে বাইত করি ফালাই দিলো।
3নিনভ টাউনো তবলিগ করা
1বাদে ইউনুছর উপরে দুছরা বার মাবুদর অউ ওহী নাজিল অইলো। 2তাইন কইলা, “তুমি রওয়ানা দেও, অখন হউ বড় টাউন নিনভ যাও, আর আমি তুমারে যেতা বাতাই দিমু তুমি অউতা তারার গেছে এলান করো।” 3মাবুদর হুকুম মাফিক ইউনুছ রওয়ানা অইয়া নিনভ গেলা। নিনভ অইলো খুব বড় টাউন, ই টাউনর এক মাথা থাকি আরক মাথাত যাইতে তিন দিন লাগতো। 4ইউনুছ হউ টাউনো হামাইয়া একদিনর পথ গেলা, গিয়া এলান করলা, কইলা, “ও নিনভর বাসিন্দা অকল, আর চাল্লিশ দিন বাদে নিনভ টাউন উলট-পালট অইযিবো।”
5ইখান হুনিয়া নিনভর মানষে আল্লার উপরে ইমান আনলা, তারা রোজা রাখার লাগি এলান করলা, আর হুরু-বড় হকলে দুখ জাইর করার লাগি ছলার চট ফিন্দিলা। 6ই খবর গিয়া বাদশার দরবারো আজিলো, তাইনও বাদশাই গদি ছাড়িয়া ফিন্নর লেবাছ খুলিয়া, ছলার চট ফিন্দিয়া ছালির মাজে বইলা। 7আর তাইন আস্তা নিনভ টাউনো অউ এলান করাইলা, “বাদশা আর তান উজির-নাজির অকলর হুকুম অইলো: মানুষ বা পশু, গরু-ছাগল কেউ কুনুজাত দানা-পানি কুন্তাউ মুখো দিও না। 8মানুষ আর পশু, হকলে মিলিয়া ছলার চট ফিন্দিয়া দিলে-জানে আল্লার নাম লও, হকলে যারযির নাফরমানির পথ ছাড়ো আর জুর-জুলুম বাদ দিয়া আল্লার বায় ফিরো। 9অইতো পারে আল্লায় রহম করবা, গজবর খিয়াল বদলাইলিবা, তান দাউ দাউ করা গুছা অনে ঠান্ডা অইযিবো, আর আমরা বিনাশ অইতাম নায়।”
10আল্লায় তারার ই হালত দেখলা, তারা যারযির নাফরমানির পথ বাদ দিয়া তৌবা করছইন। দেখিয়া তাইনও তান আগর চিন্তা বদলাইলিলা, তারারে বিনাশ করার কথা কইলেও অখন আর বিনাশ করলা না।
4হজরত ইউনুছ (আঃ) অর গুছা আর আল্লার মায়া-মমতা
1অইলে ইউনুছে ইতার লাগি তেখতো অইয়া খুব গুছা করলা। 2তাইন মাবুদর দরবারো ফরিয়াদ করলা, “ও মাবুদ, আমি দেশো থাকতেউ তো জানতাম ইলাখান অইবো। এরদায় আমি আগেউ স্পেন দেশো হরিয়া যাইতামগি চাইছলাম। আমি তো জানি, তুমি দয়া-মমতায় ভরা আল্লা, গুছা করো ধীর গতিয়ে, রহম করো বেহিসাব, আর গজব নাজিলর বেয়াপারে তুমার মর্জি বদলাইলাও। 3ও মাবুদ, আমি অখন আরজ কররাম, তুমি আমার জানখান নেওগি, আমার তো বাচা থাকি মরাউ ভালা।” 4মাবুদে জুয়াপ দিলা, “তুমার গুছা করা ঠিক অরনি?” 5বাদে ইউনুছ টাউনর বারা গেলা, গিয়া পুবেদি এক জাগাত ডেরা টাংগাইয়া, ডেরার ছেবাত বইরইলা। আর টাউনর কিতা দশা অয় অউতা দেখার লাগি বার চাওয়াত রইলা।
6মাবুদ আল্লায় হনো এক গাছ যুগাইলা। ই গাছর লত বাড়িয়া লাম্বা অইয়া, ইউনুছর কষ্ট কমানির লাগি তান মাথার উপরে আরামর ছেবা দিলো। আর ইউনুছেও ই গাছর ছেবা পাইয়া খুব আল্লাদে গদগদ করলা। 7অইলে বাদর দিন ফজর অখতো আল্লায় এগু পুক যুগাইলা। পুকে আইয়া গাছর গুড়ি কাটিদিলো, কাটার বাদে ইগু হুকাইগেল। 8বাদে যেবলা সুরুজ উঠলো, অউ সময় আল্লায় পুবালি গরম হাওয়া যুগাইলা। রইদে ইউনুছর মাথাত খুব গরম লাগলো, তাইন বেউশ অইযিবার দশা। তেউ ইউনুছে মরন মাংগিলা, কইলা, “আমার তো বাচা থাকি মরনউ ভালা।”
9অইলে আল্লায় ইউনুছরে কইলা, “ই গাছর লাগি তুমার গুছা করা কুনু ঠিক অরনি?” তাইন কইলা, “ইতার কারন আছে। আমি গুছা করিয়াউ মরমু।” 10মাবুদে কইলা, “তুমি তো ই গাছর লাগিয়া কুনু কষ্ট করছো না, আর ইগু বড়ও করছো না। ইগু তো খালি এক রাইতে অইছে, আর এক রাইতেউ মরিগেছে, তেবউ ইগুর লাগি তুমার মায়া লাগছে। 11অইলে ই নিনভ টাউনো তো এক লাখ বিশ আজাররও বেশি মানুষ আছইন, যেরা নিজর ডাইন-বাউ কিতা চিনে না। আর বউত হেমান-জানুয়ারও আছইন, তে অতো বড় টাউনর বায় আমি কিতা মায়া-মমতা করতাম না নি?”