পবিত্র ইঞ্জিল শরিফ ২০ নম্বর ছিপারা

আল-ইয়াকুব

পরিচিতি

আল্লা পাকর হুকুমে অউ ছিপারা লেখছইন হজরত ইছা আল-মসীর হাতন ভাই হজরত ইয়াকুব (রাঃ)। হজরত ইছা বেহেস্তো তশরিফ নেওয়ার অনুমান ১৩-১৮ বছর বাদে ইখান লেখা অইছে। অউ লেখক তো বনি ইছরাইল খান্দানর মুল বাফ হউ হজরত ইয়াকুব (আঃ) নায়। আর হজরত ইছার বারোজন সাহাবির মাজর একজনর নাম আছিল জিবুদিয়ার পুয়া ইয়াকুব, এইনও অউ ছিপারার লেখক নায়। অইলে অউ লেখক তো জেরুজালেম জমাতর বড় মুরব্বি নেতা (সাহাবি নামা ১৫ রুকু)। তাইন আল-মসীর বেয়াপারে তবলিগ করার সময় নাফরমান ইহুদি অকলর আতো পবিত্র বায়তুল-মুকাদ্দছো শহীদ অইছলা।

অউ ছিপারা তিলাওত করলে, হজরত ইছা আল-মসীর উম্মত অকলে দুনিয়াবি জিন্দেগি কাটানির লাগি কুন লাখান ইমান-আকিদা, আমল-খাছলত করা জরুরি, অউ বেয়াপারে জানা যাইবো। এর তালিমর লগে হজরত ইছার “পাড়র উপরর তালিম” অর লগে পবিত্র ইঞ্জিল শরিফর মথি ছিপারার ৫-৭ রুকু বউত মিল আছে। অউ ছিপারার ১ রুকু ২৬ আয়াতো আছে, “যে মানষে নিজরে পরেজগার মনো করে, অইলে নিজর জিফরারে সামলায় না, হে তো তার নিজরে টগে, তার হক্কল এবাদতিউ মিছা।”

এরমাজে আছে,

(ক) আসল ইমান আর আমল ১—২ রুকু

(খ) জিফরা সামলানি আর আসল আখল-হেকমত ৩ রুকু

(গ) মাইর-দরবার, গিবত, বড়াই, জুলুম না করা ৪:১—৫:৬ আয়াত

(ঘ) ছবর, মুনাজাত আর হেদায়ত করা ৫:৭-২০

1

1আমি ইয়াকুব, আল্লা আর হজরত ইছা আল-মসীর গুলাম, দুনিয়ার নানান দেশো ছিতরাইল বনি ইছরাইলর বারো গুষ্টির মানষরে ছালাম জানাইরাম।

ইমান আর হেকমত

2ও আমার ভাই অকল, তুমরা যেবলা নানান জাতর পরিক্ষার মাজে পড়ো, ই সময় ইতা খুব খুশির বেয়াপার মনো করিও। 3জানো তো, ইমানর পরিক্ষায় তুমরারে থির থাকার খেমতা বাড়াই দেয়। 4আর ই থির থাকার খেমতারে কামো লাগাও, যাতে তুমরা কামিল আর খাটি অইয়া তুমরার কুনু কমতি না রয়।

5তুমরার মাজে কেউরর যুদি আখলর কমতি থাকে, তে হে যানু আল্লার গেছে চায়, তেউ পাইব। তাইন কুনু বেজারি ভাব না আনিয়া হক্কলরেউ বেহিসাব দান করইন, খালি আতে ফিরাইন না। 6অইলে হে মনো কুনু সন্দয় না রাখিয়া একিন করিয়া চাইতে অইবো। যে সন্দয় করে হে তো দরিয়ার ঢেউর লাখান, তারে আউলা-জাউলা বাতাসে উড়াইয়া লইয়া যায়। 7ইলাখান মানষে যানু মাবুদর গেছ থনে কুন্তা পাওয়ার আশা না করে, 8হে তো দু-দিলা মানুষ, তার হকল কামোউ অশান্তি।

গরিব আর ধনি

9যে ইমানদার ভাই গরিব, তারে বড় বানাইছইন করিয়া হে নিজরে মুবারক মনো করউক। 10আর যে ধনি, তারে হুরু বানাইছইন করিয়া হে-ও নিজরে মুবারক মনো করউক, কারন হে ঘাস ফুলর লাখান জরিয়া পড়িযিবো। 11সুরুজ যেবলা উঠে, ই সময় তার তেজে ঘাস হুকাই যায়, ফুল জরিয়া পড়িযায়, আর তার সুন্দর নষ্ট অইযায়। ধনি মানুষও অলাখান তার ব্যস্ততার মাজে জরিয়া পড়িযিব।

12মুবারক হউ জন, যে জন পরিক্ষার সময় মজবুত রয়। পরিক্ষাত কামিয়াব অইলে জয়র মালা হিসাবে হে আখের পাইবো। অউ মালা তান আশিক অকলরে দিবা করি স্বয়ং আল্লা পাকে ওয়াদা করছইন। 13কুনু মানষে গুনার বায় এশকি অইয়া যানু না কয়, আল্লায় আমারে গুনার পথে টানিরা। কুনু নাফরমানির পথেউ আল্লারে টানা যায় না, তাইনও কেউররে ই পথে নেইন না। 14অইলে মানষর নিজর দিলেউ টানিয়া নিয়া তারে ফান্দো ফালায়। 15বাদে দিলর বদ নিয়ত পুরা অইলে গুনার বিচ পেটো লয়, আর গুনা বড় অইয়া মউতর জনম দেয়।

16ও আমার মায়ার ভাই অকল, তুমরা অউ লাখান ভুল করিও না। 17হক্কল ভালা আর নিখুত দান তো বেহেস্ত থনে লামিয়া আয়, যেইন আছমানি নুর অকল পয়দা করছইন, হউ আল্লার গেছ থনে আয়। অউ নুর অকল ছেবার লাখান ডুলাডুলি করলেও, তাইন ইলা করইন না। 18তাইন নিজর খুশিয়ে আমরারে হক কালাম দিয়া তান বন্দা বানাইছইন, আমরা যানু আশরাফুল-মখলুকাত, সৃষ্টির সেরা মানুষ অই।

কালাম হুনিয়া আমল করা

19ও আমার মায়ার ভাই অকল, মনো রাখিও, তুমরা আগে হুনো বাদে মাতো, জলদি গুছা করিও না। 20মানষে গুছা করলে আল্লার দরবারো কুনু ভালা কাম করতো পারে না। 21গতিকে তুমরা হকল জাতর হারাম আর নাফরমানি কাম বাদ দিলাও। তুমরার দিলর মাজে যে কালাম রুয়া অইছে, নরম দিলে অউ কালাম কবুল করো। তুমরারে তরানির খেমতা ই কালামর আছে।

22আল্লার কালাম খালি হুনলেউ অইতো নায়, অলাখান আমলও করো। কালাম হুনিয়া যুদি আমল না করো, তে তুমরা নিজরে টগিরায়। 23কেউ যুদি ই কালাম হুনিয়া আমল না করে, তে হে অউ মানষর লাখান, যে আয়নাত নিজর চেরা দেখিয়া যায়গি, 24বাদে হরিয়া গিয়া ফাউরিলায় তার চেরা কিলাখান। 25অইলে যে খাটি আইন মানষরে আজাদ করে, আর অউ আইনর বায় নজর রাখিয়া যেরা হামেশা জিয়াইল রয়, ইতা হুনিয়া হারি ফাউরে না, আমল করে, তারা হকল কামো মুবারক অইবো।

26যে মানষে নিজরে পরেজগার মনো করে, অইলে নিজর জিফরারে সামলায় না, হে তো তার নিজরে টগে, তার হক্কল এবাদতিউ মিছা। 27এতিম অকলরে আর ড়াড়ি বেটিন্তরে বিপদর সময় সায়-সাইয্য করা, এরলগে দুনিয়ার হকল নাফরমানি থাকি নিজরে পাক-ছাফ রাখাউ অইলো, আল্লার নজরো খাটি আর ছহি এবাদতি।

2

হকলরে এক নজরে দেখা

1ও আমার ভাই অকল, তুমরা যেবলা আমরার কুদরতি মালিক হজরত ইছা আল-মসীর উপরে ইমান আনছো, তে হকলরে এক নজরে দেখিও। 2ধরো, একজন মানুষ তুমরার মজলিছ খানাত সুন্দর কাপড়-চুপড় ফিন্দিয়া আতো সোনার আংটি লাগাইয়া আইলো, আর ময়লা কাপড় ফিন্দিয়া একজন গরিব মানুষও আইলো। 3তুমরা যুদি সুন্দর কাপড় আলা মানষর মুখেদি চাইয়া কও, “আপনে অউ ভালা জাগাখানো বউক্কা,” আর গরিব বেটারে কও, “ওবা, তুই হনো উবা, আরনায় আমার পাওর কান্দাত বও,” 4তে তুমরা নিজর মাজে হার-পর কররায় না নি, আর শয়তানি নিয়তে বিচার কররায় না নি? 5ও আমার মায়ার ভাই অকল, হুনো। ই দুনিয়ার গরিব মানষরে আল্লায় পছন্দ করছইন না নি ইমানে ধনি বানানির লাগি? আল্লার আশিক মানষরে আল্লায় যে বাদশাই দেওয়ার ওয়াদা করছলা, ই বাদশাইর মালিক অওয়ার লাগি তাইন গরিব অকলরে পছন্দ করছইন না নি? 6অইলে তুমরা তো ই গরিব অকলরে এলামি করছো। ধনি অকলে কিতা তুমরারে জুলুম করে না নি? তারাউ তো তুমরারে টানিয়া-ছেছরাইয়া বিচারো লইয়া যায়। 7যে মহান নামর খাতিরে তুমরারে ডাকা অয়, তারা কিতা ই নামরে লইয়া কুফুরি করের না নি?

8পাক কিতাবো লেখা আছে, “তুমার আরি-ফরিরে নিজর লাখান মায়া করিও,” তুমরা যুদি হাছাউ আল্লার বাদশাইর অউ হুকুম আমল করো, তে তো ভালাউ কররায়। 9অইলে তুমরা যুদি হকলরে এক নজরে না দেখো, তে তো গুনা কররায়, আর শরিয়তর বরখেলাফ করিয়া দুষি অইরায়। 10কেউ যুদি শরিয়তর হক্কল হুকুম আমল করিয়াও খালি এক হুকুম ভাংগে, তে ধরা অইবো হে আস্তা শরিয়তউ অমাইন্য করছে। 11কারন যেইন কইছইন, “জিনা করিও না,” তাইনউ হিরবার কইছইন, “খুন করিও না।” তে তুমি যুদি জিনা না করিয়া খুন করো, তেবউ তো শরিয়তর বরখেলাফ করছো। 12যে আইনে মানষরে আজাদ করে, অউ আইন দিয়াউ তুমরার বিচার অইবো। গতিকে বুজি-হুনি মাত মাতো আর কাম করো। 13মনো রাখিও, যে মানষে দয়া করছে না, বিচারর সময় তারেও দয়া করা অইতো নায়। হাশরর ময়দানো দয়াগির অকলেউ দয়া পাইব।

ইমান আর আমল

14ও আমার ভাই অকল, কেউ যুদি কয় আমার ইমান আছে, অইলে আমল না করে, তে ফায়দা কিতা অইবো? ই ইমানে তারে বাচাইতো পারবো নি? 15মনো করো, তুমরার কুনু ভাই বা বইনর ঘরো খানি নাই, ফিন্দার কাপড়ও নাই। 16ই হালতে যুদি তারে কও, “তুমার ভালাই অউক, খাইয়া-ফিন্দিয়া সুখে রও,” অইলে তার নিদান হরানির লাগি কুনু উপায় না করো, তে তার কুনু ফায়দা অইলো নি? 17অলাখান যে ইমানর লগে আমল নাই, ই ইমান তো মুর্দা। 18মনো করো কেউ কইলো, “তুমার ইমান আছে আর আমার আমল আছে।” ঠিক আছে, তুমার আমল ছাড়া ইমান আমারে দেখাও, আর আমি তুমারে আমার আমলর মাজ দিয়া ইমান দেখাইমু। 19তুমি একিন করছো আল্লা এক, খুব ভালা কথা। ভুতেও তো অলা একিন করে, আর আল্লার ডরে কাপে।

20ও বেআখল, তুমারে আমি কিলা বুজাইতাম, আমল ছাড়া ইমান তো কুনু কামর নায়? 21আমরার বাফ ইব্রাহিমে যেবলা তান পুয়া ইছহাকরে কুরবানি দেওয়ার লাগি কুরবানির জাগাত নিছলা, ই সময় কিতা তান ই কামর লাগি তানরে পরেজগার হিসাবে কবুল করা অইছে না নি? 22তুমি তো দেখছো, তান ইমান আর আমল একলগে কাম করছিল, আর আমলর লাগিউ ইমান কামিয়াব অইলো। 23অলাখান পাক কিতাবর আয়াত পুরা অইলো, “ইব্রাহিমে আল্লার ওয়াদায় ইমান আনায়, আল্লায় তানরে দীনদার কইয়া কবুল করলা।” তান উপাধি দিলা আল্লার দুস্ত। 24তুমরা তো দেখলায়, আমলর লাগি মানষরে পরেজগার হিসাবে কবুল করা অয়, খালি ইমানর লাগি নায়। 25অউ লাখান হউ ছিনাল বেটি রাহবারেও তাইর আমলর লাগি পরেজগার হিসাবে কবুল করা অইছিল না নি? তাই তো হউ দুইও গুইয়ারে লুকাইয়া রাখিয়া, দুছরা পথেদি ছহি-ছালামতে বার করি দিছিল।

26অউ হালতে আমরা বুজতাম পারি, রুহ ছাড়া কায়া মুর্দা, আমল ছাড়া ইমানও মুর্দা।

3

জিফরা সামলাইয়া রাখা

1ও আমার ভাই অকল, তুমরা হকল উস্তাদ অইও না। তুমরা তো জানো, আমরা উস্তাদ গতিকে আমরার বিচার আরো কঠিন অইবো। 2আমরা হকলউ নানান নমুনায় বে-পথি অই। কেউ যুদি জবান দিয়া কুনু গুনা না করে, তে হে কামিল মানুষ, তার আস্তা শরিলউ সামলাইতো পারবো। 3ঘোড়ারে সামলানির লাগি মুখো লাগাম লাগাইয়া আমরা যেবায় ইচ্ছা অবায় নিতাম পারি। 4আর কাড়ালিয়েও হুরু এক কাড়াল ধরিয়া বড় বড় জাজরে তুফানি বাতাস ঠেলিয়া, যেবায় খুশি অবায় নিতো পারে। 5অউলা জিফরা খুব হুরু অইলেও বউত বড় বড় মাত মাতে।

আর সামাইন্য আগুইনে কিলা বড় জংগল জালাইতো পারে! 6জিফরাও অলা এক আগুইন। আমরার শরিলর মাজে জিফরা একটা খারাপির ভান্ডার, জাহান্নামর আগুইনে জিফরারে জালায় আর জিফরায় আস্তা শরিলরে জালাইয়া কলংকি বানাইয়া, আমরার জিন্দেগিত আগুইন ধরায়। 7মানষে যদিও হক্কল জাতর পশু-পাখি, হাফ-বিচ্ছু আর দরিয়ার বড় বড় মাছরে সামলাইছে আর অখনও সামলায়, 8অইলেও হুরু-মুরু জিফরারে কেউ সামলাইতো পারে না। ইখান খুব চঞ্চল আর খারাপ, বেজুইতা বিষে ভরা। 9এক জিফরা দিয়াউ আমরার গাইবি বাফ আল্লার তারিফ করি, হিরবার অউ জিফরা দিয়াউ আল্লার ছুরতে পয়দা করা মানষরে বদদোয়া দেই। 10এক মুখ থাকিউ তারিফ আর বদদোয়া বার অইয়া আয়। ভাই অকল, ইতা তো ঠিক নায়। 11ঝরনার মুখ থাকি একলগে মিঠা আর তিত্বা পানি বার অইয়া আয় নি? 12ভাই অকল, আম গাছো কিতা জাম ধরে নি? আর আংগুর গাছো আম ধরে নি? অউলা তিত্বা পানির মাজে মিঠা পানি মিলে না।

দুই নমুনার আখল-হেকমত

13তুমরার মাজে আখল-হেকমত আলা কেউ আছে নি? থাকলে হে ভালা আমল-খাইছলতে নরম অইয়া অতা দেখাউক। 14অইলে তুমরার দিল যুদি ইংসায় তিত্বা অইয়া স্বার্থয় ভরা থাকে, তে তুমরা বড়াই করিয়া হাছারে মিছা বানাইও না। 15ইলাখান হেকমত বেহেস্ত থনে আয় না, ইতা দুনিয়া, খারাপ নফছ, আর ইবলিছ থাকিউ আয়। 16কারন যে জাগাত ইংসা আর স্বার্থপরি থাকে, ই জাগাত ফিতনা-ফসাদ আর হকল জাতর নাফরমানি থাকে। 17অইলে বেহেস্ত থাকি যে হেকমত আয়, ইকটা অইল খাটি। ইকটা শান্তিয়ে ভরা, ছবরআলা আর নরম মিজাজি, দয়া আর হক কামে ভরা, তার মাজে কুনু হার-পর বা ভন্ডামি নাই। 18যারা সমাজো শান্তির বিচ ছিটায়, তারার ফল অইলো পরেজগার জিন্দেগি।

4

মাইর-দরবারর খুটি

1তুমরার মাজে কুয়াই থনে মাইর-দরবার আর কাইজ্জা পয়দা অয়? তুমরার সুখর খাইশে শরিলর যে রিপুয়ে লাড়াই করে, অগু থাকিউ আয়। 2যেতা তুমরার নায়, অতা তুমরা মনে মনে চাও, এরলাগি তুমরা খুন করো। আর লালছ করো অইলে পাও না, এরদায় তুমরা মাইর-দরবার আর কাইজ্জা করো। তুমরা তো চাও না, এরদায় পাও না। 3আর চাইলেও পাও না, কারন তুমরা তো বদ নিয়তে চাও, যেলা তুমরার মনর খাইশ পুরা অয়।

দুনিয়ার দুস্ত আল্লার দুশমন

4ও বেইমান অকল, তুমরা কিতা জানো না নি, দুনিয়ার লগে দুস্তির মানি আল্লার লগে দুশমনি? যে দুনিয়ার মায়ায় বুড়ি যায়, হে আল্লার দুশমন অইযায়। 5“আমরার ভিতরে যে রুহ দেওয়া অইছে, ইকটায় আমরারে ইংসার বায় টানে।” পাক কিতাবর অউ তালিম কুনু এমনে বাতাইল অইছে নি? 6অইলে ইতা থাকি আমরার উপরে আল্লার রহমত আরো বেশি। এরলাগি কিতাবর মাজে লেখা আছে, “বড়াই কররার উপরে আল্লায় আত তুলইন, অইলে নরম মানষরে রহম করইন।” 7গতিকে তুমরা আল্লার জিম্মায় রইয়া শয়তানর মুকাবিলা করো, তেউ হে তুমরার গেছ থনে বাগিবো। 8আল্লার বায় চাও, তেউ তাইনও তুমরার বায় চাইবা। ও গুনাগার অকল, তুমরা নিজরে পাক-ছাফ করো, ও দুʼদিলা মানুষ, তুমরার দিল খাটি করো। 9দুখে কাতর অইয়া আহাজারি করো, আসির বদলা কান্দো, খুশির বদলা মাত্বম করো। 10মাবুদর দরবারো নতো অও, তেউ তাইন তুমরারে উচা করবা।

গিবত আর বিচার

11ও ভাই অকল, তুমরা একজনে আরক জনর গিবত গাইও না। কেউ যুদি ভাইর বদনাম গায় বা তার বিচার করে, এর মানি হে শরিয়তর বদনাম করলো আর শরিয়তর বিচার করলো। তুমি যুদি শরিয়তর বিচার করো, তে তো শরিয়ত মানরায় না, উল্টা তার বিচার করাত খাড়া অইছো। 12শরিয়ত আর বিচারর খেমতা খালি একজনর আতোউ আছে। তাইনউ বাচাইন, তাইনউ মারইন। তে আরি-ফরির বিচার কররা তুমি আরক জন কে?

ফুটানি দেখাইও না

13হুনো, তুমরা যারা কও, আইজ বা কাইল আমরা অমুক টাউনো যাইমুগি, গিয়া হনো এক বরছ রইয়া কায়-কারবার করিয়া লাভ করমু। 14অইলে কাইলকুর খবর তো তুমরা জানো না। তুমরার জিন্দেগিউ বা কিতা? তুমরার জিন্দেগি তো কছু পাতার পানি, থুড়া সময় থাকে, বাদে পড়িযায়। 15এরদায় ইলা না কইয়া অলা কও, “ইনশাল্লা, আমরা হায়াতি পাইমু, আর অতা-হতা করমু।” 16অইলে তুমরা তো বড়াই করিয়া ফুটানি দেখাইরায়। ইলাখান ফুটানি ভালা নায়।

17কেউ যুদি জানিয়াও ভালা কাম না করে, তে হে গুনার ভাগি অইবো।

5

ধনি অকলরে হুশিয়ারি

1ও ধনি অকল, হুনো, তুমরার উপরে যে মছিবত আর, ইতার লাগি তুমরা কান্দো আর আহাজারি করো। 2তুমরার ধন-সম্পদ বিনাশ অইগেছে, তুমরার কাপড়-চুপড় উন্দুরে কাটিলিছে। 3তুমরার সোনা-রুপাত জংগারে ধরিলিছে, ই জংগারে তুমরার বিপক্ষে সাক্ষি দিবো, আর আগুনির লাখান তুমরার গোস্ত খাইবো। ইতা তো কিয়ামতর লাগি তুমরা দলা করি থইছো। 4হুনো, তুমরার ধান দাওরা কামলার যে বেতন আটকাইছো, অউ বেতনে অখন চিল্লাইয়া আহাজারি করের। ই কামলাইন্তর আহাজারি আল্লা রাব্বুল আলামিনর কানো গিয়া আজিছে। 5দুনিয়ার বুকুত বিলাসিতা আর রং-তামশার মাজে তুমরা দিন কাটাইছো, দোজখর খুরাক বনার লাগি নিজরে খুব ফুলফুলা বানাইছো। 6তুমরা নি-অপরাধিরে দুষি সাইবস্তো করিয়া খুন করছো, অইলে এরা কুনু প্রতিবাদ করছে না।

মছিবতো ছবর করা

7গতিকে ও আমার মায়ার ভাই অকল, আমরার মালিকে তশরিফ আনার আগ পর্যন্ত তুমরা কষ্ট করিয়া থুড়া ছবর করো। তুমরা তো দেখছো, গিরস্তে ভালা ফসল পাওয়ার লাগি মেঘর আশায় কিলা ছবর করি বই রয়। 8তুমরাও অলা ছবর করো, অস্থির অইও না, কারন মালিকে খুব জলদিউ তশরিফ আনরা। 9ও ভাই অকল, তুমরা যাতে আল্লার নজরো দুষি না বনো, এরলাগি তুমরা খালি একজনে আরক জনর খুত তুকানিত রইও না। হুনো, বিচার করার লাগি তো আল্লা পাক আমরার ছামনে আইয়া উবাই রইছইন।

10ও মায়ার ভাই অকল, যে নবী-রছুল অকলে মাবুদর নামে তবলিগ করছলা, তারার কষ্ট আর ছবরর কথা চিন্তা করি দেখো। 11তারা তো কষ্ট পাইয়াও থির রইছইন, এরলাগি আমরা তারার গুনগান গাই। তুমরা তো আইয়ুব নবীর ছবরর কথা ভালা করি জানো, আর এওখান জানো, আল্লায় বাদে তানরে কিলা রহম করছলা। আল্লা তো দয়া-মায়ার সাগর।

12ও আমার ভাই অকল, আমার আসল কথা অইলো, তুমরা কুনুজাত কছম করিও না। আছমানর নামেও না, জমিনর নামেও না, অলা কুনু নামেউ কছম করিও না। এর বদলা তুমরার অয় খান অয়, আর না খান না অউক, যাতে তুমরা বিচারর দাড়ো না পড়ো।

মুনাজাত আর হেদায়ত করা

13তুমরার মাজে কেউ মছিবতো থাকলে হে দোয়া করউক। কেউ সুখে থাকলে হামদ-কাওয়ালি গাউক। 14কেউরর বেমার অইলে হে জমাতর মুরব্বি অকলরে দাওত দেউক, তারা আইয়া আল্লার নাম লইয়া তার মাথাত তেল দিয়া দোয়া করউক্কা। 15তেউ ইমানর ছাতে দোয়া করার খাতিরে আল্লায় ই বেমারিরে শিফা করবা। হে যুদি গুনাও করিয়া থাকে, তে তার গুনা মাফ করা অইবো। 16এরলাগি তুমরা একজনে আরক জনর গেছে যারযির গুনা স্বীকার করো, আর একে-অইন্যর লাগি দোয়া করো, যাতে ভালা অইতায় পারো। পরেজগার অকলর মুনাজাত আচানক বলআলা। 17ইলিয়াছ নবী আমরার লাখানউ রক্তয়-মাংসয় মানুষ আছলা। তাইন দিলে-জানে দোয়া করলা মেঘ না অওয়ার লাগি, হাছাউ সাড়ে তিন বরছ কুনু মেঘ অইলো না। 18বাদে তাইন মেঘর লাগি দোয়া করলা, তেউ মেঘ অইলো, আর জমিনো ফসল ফলিলো।

19ও আমার ভাই অকল, তুমরার মাজে কেউ যুদি বে-পথি অইযায়, আর কেউ তারে ফিরাইয়া আনে, 20তে জানিও, যে মানষে কুনু গুনাগাররে বে-পথ থনে ফিরাইয়া আনে, হে অউ গুনাগারর জান বাচায় আর তার গুনা বেশি অইলেও মাফি পায়॥