পবিত্র ইঞ্জিল শরিফ ১৯ নম্বর ছিপারা

আল-ইবরানি

পরিচিতি

পবিত্র আছমানি কিতাবর অউ আল-ইবরানি ছিপারা লেখছইন, আল্লা পাকর হুকুমে হজরত ইছা আল-মসীর একজন সাহাবিয়ে। হজরত ইছায় বেহেস্তো তশরিফ নেওয়ার অনুমান ৩০-৩৫ বছর বাদে অউ ছিপারা লেখা অইছে। হজরত মুছা (আঃ) অর উম্মত ইহুদি ধর্মর যেতা মানষে হজরত ইছার তরিকা কবুল করছিলা, তারা নানান নমুনার বিপদো পড়লা, অউ বিপদর লাগি তারার মাজর কেউ কেউ হিরবার পুরানা ধর্মত ফিরিয়া যাইতাগি চাইছইন, এরারে উত্‍সাহ দিবার লাগি অউ ছিপারা লেখা অইছে।

আমরা জানি, দুনিয়ার হকল ধর্মর এবাদত খানার মাজে একটা খাছ পবিত্র জাগা বা হেরেম শরিফ থাকে, এর ভিতরে সাধারন এবাদতকারি হামানি নিষেধ। অতা থাকি আমরা বুজি, ধর্ম মানিয়া আল্লার ধারো যাইবার উপায় নাই, কুনুমন্তেউ আল্লার খাছ দিদার মিলে না। তান দিদার মিলে খালি হজরত ইছা আল-মসীর উছিলায়; যেলা ই ছিপারার ৯ রুকু ২৪ আয়াতো আছে, “আল-মসী তো মানষর আতর বানাইল কুনু পাক জাগাত হামাইছইন না, তাইন খালি আসল বেহেস্তো হামাইছইন, যাতে আমরার নাজাতর লাগি আল্লার ছামনে অখন আজির অইতা পারইন।” আর ১০ রুকু ১৯ আয়াতো আছে, “এরলাগিউ ও ভাই অকল, হজরত ইছা আল-মসীর লউর জরিয়ায়, আমরা বেহেস্তি খাছ পাক জাগাত হামানির সাওস পাইছি।”

এরমাজে আছে,

(ক) নবী আর ফিরিস্তা অকল থাকি ইছা আল-মসী মহান ১—২ রুকু

(খ) আল-মসীর জরিয়ায়উ আল্লার দেওয়া আরাম ৩:১—৪:১২ আয়াত

(গ) হকল কুরবানি থাকি আল-মসীর কুরবানি মহান ৪:১৩—৭:২৮

(ঘ) আল্লার লগে মিলনর নয়া আর চিরকালিন উছিলা ৮—১০ রুকু

(ঙ) ইমানি বুজুর্গান আর আল-মসীর বায় চাইয়া ছামনেদি দৌড়াই ১১—১৩ রুকু

1

নবী আর ফিরিস্তা অকল থাকি ইছা আল-মসী মহান (১:১-২:১৮)

হজরত ইছা আল-মসীউ কলিমাতুল্লা

1আল্লা পাকে আগর জমানাত নানান নমুনায় নবী অকলর মাজদিয়া আমরার ময়-মুরব্বি অকলর গেছে টুকরা টুকরা করি ওহী বেজিছইন, 2অইলে অখন আখেরি জমানাত আইয়া তাইন ওহীরে মানুষ ছুরতে সরাসরি বেজিছইন। অউ মানুষ অইলা আল্লার খাছ মায়ার পুতর লাখান, এন নামউ কলিমাতুল্লা, মানি আল্লার ওহী। অউ মায়ার পুত কলিমাতুল্লার আতোউ তাইন হক্কলতার মালিকানা দিলাইছইন, এন উছিলায় আছমান-জমিন আর হক্কলতা পয়দা অইছে। 3এইনউ অইলা আল্লার শান-তজল্লির নুর, তান মাজদিয়াউ আল্লা পাকে নিজরে জাইর করছইন। অউ মায়ার পুত কলিমাতুল্লার হুকুমর বলে, তামাম জগতর হক্কলতা চলে। তাইন দুনিয়ার মানষর গুনারে ধইয়া ছাফ করিয়া, আরশে-আজিমো আল্লার ডাইনর তখতো তশরিফ রাখছইন।

ফিরিস্তা অকল থাকি হজরত ইছা মহান

4ইতা দেখিয়া আমরা বুজি, আল্লায় তানরে ফিরিস্তা অকল থাকি আরো বেশি মরতুবা আলা নাম দিছইন, আর যেলা নাম অউলা ইজ্জতও দান করছইন। 5আল্লায় কুনুদিন কুনু ফিরিস্তারে ইলা কথা কইছইন না,

তুমি তো আমার পুত,

আইজ আমিউ তুমার বাফর লাখান অইলাম।

বা,

আমিউ তার বাফর লাখান অইমু

আর হে অইবো আমার পুত।

6তাইন যেবলা তান খাছ পরধান পুতরে দুনিয়াত বেজিলা, অউ সময় ফিরিস্তা অকলরে হুকুম দিলা,

ও ফিরিস্তা অকল, তুমরা এনরে সইজদা করো।

7আল্লায় ফিরিস্তা অকলর বেয়াপারে কইরা,

ফিরিস্তা অকলরে তাইন হাওয়ার নমুনায় পয়দা করছইন,

নিজর খাদিম অকলরে আগুনির ফুলকির লাখান বানাইছইন।

8অইলে অউ পুতর বেয়াপারে তাইন কইরা,

ইয়া-এলাহি, তুমার তখত হর-হামেশা বওয়াল রইবো,

তুমার ইনছাফউ অইলো হক ইনছাফ,

9তুমি নাফরমানিরে ঘিন্নাও আর দীনদারিরে ভালা পাও,

এরলাগি আল্লায়ও, তুমার আল্লায় তুমারে খেলাফতি দিছইন,

তুমারে ইজ্জতি গদি দান করছইন,

তুমার ভাই-বিরাদর থাকিও

তুমারে বউত বেশি খুশি দিছইন।

10আল্লায় আরো কইরা,

ও মালিক, তুমিউ পয়লা দুনিয়ার ইয়ান খুটি গাড়িছো,

আছমান অকলও তুমার আতে পয়দা করছে।

11ইতা হক্কলতা বিনাশ অইযিবো,

অইলে তুমি তো হামেশা বওয়াল রইবায়।

ইতা কাপড়র লাখান পুরান অইযিবো,

12তুমি ইতারে চাদ্দরর লাখান ভাইঞ্জ করিয়া থইবায়,

ফিন্দিবার কাপড়র লাখান ইতা হক্কলতা বদলাইবায়।

অইলে তুমি যেলা আছো, অউলাউ রইবায়,

তুমার হায়াতি কুনুদিনউ ফুড়াইতো নায়।

13আর আল্লায় কুনুদিন কুনু ফিরিস্তারে ইলা কথা কইছইন না,

তুমার দুশমন অকলরে যতদিন তুমার পাওর তলাত না ফালাই,

অতো দিন তুমি আমার নিজর তখতর ডাইন গালাত বও।

14ফিরিস্তা অকল তো খালি খেজমত কররা রুহ নায় নি? যেরা নাজাত হাছিল করবা, তারার উপকার করার লাগিউ এরারে বেজা অইছে।

2

খিয়ালি অওয়ার লাগি হুশিয়ারি

1তে অউ পুতর বেয়াপারে আমরা যততা হুনছি, ইতা খুব খিয়াল করিয়া সমজা দরকার, আরনায় আস্তে আস্তে ই তালিম থাকি বে-পথে যাইতামগি পারি। 2ফিরিস্তার মারফতে বাতাইল কালাম যেবলা কাইম রইছে, আর যেরা ই কালামর উল্টা চলছিল, এরাও তারার পাওনা সাজা পাইছে, 3তাইলে আল্লায় তান খাছ মেহেরবানিয়ে আমরার লাগি অখন যে নাজাতর পথ তিয়ার করছইন, ই পথর উল্টা চললে আমরা কুনু বাচমু নি? অউ নাজাতর কথা তো হক্কল পয়লা মালিক ইছায় নিজেউ কইছইন, আর যেরা ইতা হুনছিল তারাও পুরাপুর ছাফ করিয়া আমরারে কইছইন, ইতা এক্কেবারে হাছা। 4এরার লগে আল্লায় নিজেও নানান কিছিমর কুদরতি আলামত, কেরামতির বল-তাক্কতদি অউ নাজাতর পক্ষে সাক্ষি দিছইন। আর নিজর মর্জিয়ে পাক রুহর দেওয়া নানান নিয়ামত বিলাই দিয়াও সাক্ষি দিছইন।

দুখ-কষ্টর মাজদি হজরত ইছা নাজাতর কান্ডারি

5তে আমরা যে বাতুনি বাদশাইর কথা কইয়ার, ই বাদশাই তো আল্লায় কুনু ফিরিস্তার জিম্মায় রাখছইন না। 6বরং আল্লার কালামর মাজে একজনে বাতাইছইন,

মানুষ আরকতা কিতা যেন তুমি তারারে ইয়াদ করো?

মানষর আওলাদউ বা কিতা যেন তারারে দেখা-হুনা করো?

7তুমি তো মানষরে ফিরিস্তা থাকি খালি থুড়া লামাত লামাইছো,

গৌরব আর ইজ্জতর মালা তো মানষরেউ দান করছো।

তুমার পয়দা হক্কলতার উপরে এরারে ইজ্জত দিছো,

8হক্কলতাউ এরার পাওর তলাত, এরার আওতায় রাখছো।

তে আল্লায় হক্কলতারে এরার আওতায় আনায়, এরার খেমতার বারে আর কুন্তাউ রইছে না। অইলে অখনও তো হক্কলতারে আমরার নিজর আওতায় দেখরাম না। 9খালি হউ ইছারে দেখরাম, তানরে ফিরিস্তা অকল থাকি থুড়া লামাত লামাইল অইছিল, যাতে আল্লার রহমতে দুনিয়ার তামাম মানষর জান বাচানির লাগি, তান নিজর জান বিলাই দেইন। হাছাউ তাইন খুব কষ্ট পাইয়া নিজর জান বিলাই দিয়া মারা গেছইন, এরলাগিউ দেখরাম, আল্লায় তানরে অউ ইজ্জত আর গৌরবর মালা ফিন্দাইছইন।

10আসলে হক্কলতাউ তো আল্লার লাগি, তাইনউ হক্কলতা পয়দা করছইন, আর তান খিয়াল অইলো তান বউত আওলাদও তান শান-মহিমার ভাগি অইন। এরলাগিউ তারার নাজাতর কান্ডারি অউ ইছারে দুখ-কষ্ট দিয়া কামিল বানাইছইন, যাতে এন লগ ধরিয়া এরা তান গেছে আইন। 11তে যে ইছায় মানষরে পাক-ছাফ করইন আর যেরা পাক-ছাফ বনইন, এরা হক্কলউ তো এক আল্লার পরিবারর। অতার দায় ইছায় এরারে ভাই কইয়া ডাকতে কুনু শরম পাইন না। 12তাইন কইছইন,

আমি আমার ভাইয়াইন্তর গেছে তুমার নাম তবলিগ করমু,

সমাজর মাজে তুমার তারিফ-গজল গাইমু।

13তাইন হিরবার কইছইন, আমি আল্লার উপরে ভরসা করমু।

আর আরকবার কইছইন,

দেখউক্কা, আমিও আছি আর হউ আওলাদ অকলও অনো আছইন,

যেরারে আল্লায় আমার আতো সপিয়া দিছইন।

14আইচ্ছা, তে ই আওলাদ অকল তো রক্ত-মাংসর মানুষ, গতিকে ইছা নিজেও অউলা রক্ত-মাংসর কায়ায় জনম লইলা। খালি অউ কায়ার মউতর উছিলায়, মউতর খেমতার মালিক হউ ইবলিছরে ঘায়েল করতা পারইন, 15আর মরনর ডরে যেরা হারা জিন্দেগি মউতর গুলামর লাখান কাটাইরা, তারারেও আজাদ করতা পারইন। 16তাইন তো ফিরিস্তা অকলরে সাইয্য করইন না, খালি ইব্রাহিমর আওলাদ অকলরেউ সাইয্য কররা। 17ই হক্কলতা পুরাপুর আদায় করার লাগি ইছারও জরুর আছিল, তাইন নিজেও অউ ভাইয়াইন্তর লগে হকল বেয়াপারে হমানি অওয়া। হমানি অইয়া আল্লার দরবারো নির্ভর করার জুকা, দিল-দরদি পরধান ইমাম অইতা পারইন। ইমাম বনিয়া মানষর গুনার কফরার লাগি নিজর জান কুরবানি দেইন। 18তাইন নিজে পরিক্ষাত পড়িয়া দুখ-কষ্ট সইয্য করছইন, এরলাগিউ যেরা পরিক্ষাত পড়ইন তারারেও তাইন সাইয্য করতা পারইন।

3

আল-মসীর জরিয়ায়উ আল্লার দেওয়া আরাম (৩:১-৪:১২)

মুছা নবী থাকি হজরত ইছা ইজ্জতি

1এরলাগি ও আমার পাক-পরেজগার ভাই অকল, তুমরা যেরা বেহেস্তি দাওতো শরিক অইছো, তুমরা পরতেকেউ ইছার বায় চউখ রাখো। আল্লা পাকে তান ই খাছ খলিফারে বেজিছইন, তাইনউ তো হউ পরধান ইমাম, ইখান আমরা মানছি। 2হজরত মুছা যেলা আল্লার ঘর-সংসারো নির্ভর করার জুকা আছলা, অউ লাখান ইছারেও যেইন বেজিছইন, অউ আল্লার দরবারো তাইন আছলা নির্ভর করার জুকা। 3তে ঘর বানাওরা মালিকে যেলা ঘর থাকিও বেশি ইজ্জত পাইন, অউ লাখান আল্লার ঘর-সংসারো হজরত ইছায়ও মুছা নবী থাকি বেশি ইজ্জত হাছিল করছইন। 4হক্কল ঘরাইনউ তো কুনু না কুনু মানষে বানাইছইন, অইলে যেইন হক্কলতা বানাইছইন তাইনউ আল্লা। 5আসলে ছামনর জমানার লাগি যেতা বাতাইল অইবো, অতা বেয়াপার জানানির লাগি, মুছা আছলা আল্লার ঘর-সংসারর কাম-কাজো নির্ভর করার জুকা কামলার লাখান। 6অইলে আল-মসী তো আল্লার ঘর-সংসারর জিম্মাদার হিসাবে নির্ভর করার জুকা পুতর লাখান আছলা। অখন আমরাও যুদি যারযির দিলর আশা আর হিম্মত রাখিয়া মউত পর্যন্ত কাইম রই, তে দেখা যাইবো যেন, আমরাও আল্লার ঘর-সংসারর ভাগি অইছি।

বেইমানির লাগি হুশিয়ারি

7এরলাগিউ আল্লার পাক রুহে বাতাইছইন,

আইজ যুদি তুমরা তান আওয়াজ হুনো,

8তে তুমরার ময়-মুরব্বির লাখান,

তুমরার নিজর দিলরে পাষান বানাইও না।

আল্লায় কইরা, তারা যেলা মরুভুমির মাজে,

আমার বিরুদ্ধে গিয়া আমারে পরিক্ষা করছলা,

তুমরা ইলা করিও না।

9তুমরার বাফ-দাদাইন্তে চাল্লিশ বছর ধরি

আমার কুদরতি কাম দেখার বাদেও,

হনো আমারে পরিক্ষা করছইন।

10এরলাগি আমি তারার উপরে খুব বেজার অইয়া কইলাম,

এরার দিল তো হামেশা বে-পথে চক্কর দের,

তারা তো আমার পথ চিনলো না।

11তেউ আমি গুছা করিয়া কছম খাইয়া কইছলাম,

আমার দেওয়া হউ আরামর জাগাত,

এরা হামাইতো পারতো নায়।

12ভাইয়াইন অকল, হুশিয়ার অও! তুমরার দিলর মাজে যানু নাফরমানি আর বেইমানি না হামায়, ইতা হামাই গেলে জিন্দা আল্লার গেছ থাকি নিজরে দুরই হরাইলায়। 13ইতার বদলা যতদিনরে আইজ কইয়া ডাকা অয়, অতদিন তুমরা একে-অইন্যরে সাওস দেও, যাতে কেউ গুনার ফান্দো পড়িয়া নিজর দিলরে পাষান না বানায়। 14কারন আমরা যুদি পয়লাকুর লাখান হেশ পর্যন্ত ইমানে মজবুত রইয়া চলি, তে বুজা যাইবো আমরা আল-মসীর লগে শরিক অইছি। 15থুড়া আগে বাতাইল অইছে,

আইজ যুদি তুমরা তান আওয়াজ হুনো,

তে তুমরার ময়-মুরব্বির লাখান,

তুমরার নিজর দিলরে পাষান বানাইও না।

16আইচ্ছা কওছাইন, আল্লার নিজর জবানর বুলি হুনার বাদেও খেগিয়ে তান বিরুধিতা করছিল? এরাউ নায় নি, যেরারে মুছা নবীয়ে মিসর থাকি বার করি আনছিলা? 17কওছাইন, আল্লায় চাল্লিশ বছর ধরি কার উপরে বেজার আছলা? এরার উপরেউ নায় নি, যেরা গুনা করছলা আর মরুভুমির মাজে লাশ অইয়া পড়ছলা? 18আল্লায় কার উপরে বেজার অইয়া কছম খাইয়া কইছলা, “আমার দেওয়া হউ আরামর জাগাত এরা হামাইতো পারতো নায়”? অউ এরার উপরেউ নায় নি, যেরা তান জবানর বুলি হুনিয়াও নাফরমানি করছিল? 19অতা থাকিউ তো আমরা বুজরাম, ইমান না আনায় তারা আল্লার দেওয়া হউ আরামর জাগাত হামাইতো পারছে না।

4

আল্লার বন্দা অকলর লাগি আরাম

1আল্লার দেওয়া আরামর জাগাত হামানির ওয়াদা অখনও আমরার লাগি চালু আছে। এরলাগি আও, আমরা আরো হুশিয়ার অইয়া চলি, নাইলে দেখা যাইবো হেশে তুমরা কেউ আরামর জাগা থাকি বাদ পড়িগেছো। 2আমরার গেছে যেলা খুশ-খবরি তবলিগ করা অইছে, বনি ইছরাইলর গেছেও অউলা তবলিগ করা অইছিল, ই খুশ-খবরি হুনিয়া তারার কুনু ফায়দা অইছে না, কারন তারা ইতা হুনলেও ইমান আনছে না। 3অইলে আমরা তো ইমান আনছি আর আল্লার ওয়াদা করা হউ আরামর জাগাত হামাইতাম পারিয়ার। অউ আরামর বেয়াপারে আল্লায় কইছইন,

তেউ আমি গুছা করিয়া কছম খাইয়া কইছলাম,

আমার দেওয়া হউ আরামর জাগাত,

এরা হামাইতো পারতো নায়।

যুদিও দুনিয়া পয়দা করার বাদ থাকিউ, আল্লার ই আরাম তিয়ার করা অইছে, তা-ও তাইন অলা কইছইন। 4অউ আরামর বেয়াপারে আরক আয়াতো লেখা আছে, “আল্লায় ই হকল কাম শেষ করিয়া সাত নম্বর দিন আরাম করলা, তাইন ইদিন আর কুন্তা পয়দা করলা না।” 5অইলে তাইনউ হিরবার কইছইন,

আমার দেওয়া হউ আরামর জাগাত,

এরা হামাইতো পারতো নায়।

6এরলাগি অউ কথাউ ফয়ছালা অইলো যেন, কিছু মানুষ আল্লার হি আরামর মাজে হামাইতা পারবা, অইলে পয়লা যেরার গেছে খুশ-খবরি তবলিগ করা অইছিল, তারার নাফরমানির কারনেউ তারা আল্লার হি আরামর মাজে হামাইতো পারছে না। 7আল্লায় বউত দিন আগে ইতা বনি ইছরাইলর গেছে বাতাইছলা, বাদে তান আরামর মাজে হামানির লাগি হিরবার নয়া দিন ঠিক করিয়া অউ দিনর নাম দিলা, আইজ। হিরবার বউত দিন বাদে তাইন দাউদ নবীর গেছে কইছইন, যেলা উপরে লেখা আছে,

আইজ যুদি তুমরা তান আওয়াজ হুনো,

তে তুমরার নিজর দিলরে পাষান বানাইও না।

8অখান কওয়ার মানি অইলো, হজরত মুছার মউতর বাদে ইউছা নবীয়ে যুদি তারারে হি আরামো হারাইলিতা পারতা, তে আল্লায় বাদে আরক দিনর কথা কইলা না অনে। 9তে বুজা যায়, আরামো হামানির পথ আল্লার বন্দা অকলর লাগি অখনও খুলা আছে। 10মুল কথা অইলো, আল্লায় যেলা তান হক্কল কাম শেষ করিয়া বাদে আরাম করছলা, অউ লাখান কুনু বন্দাও তান আরামর মাজে হামাইয়া হারলে, হে-ও তার কাম থাকি আরাম পায়। 11তে আও, আমরাও হি আরামর মাজে হামানির লাগি খাছ দিলে আগুয়াই, যাতে হউ নাফরমান বনি ইছরাইলর লাখান আল্লার হুকুমর বিরুদ্ধে গিয়া, ই আরাম থাকি বাদ না পড়ি।

12আল্লার কালাম তো জিন্দা আর বলআলা কামলা, দুইও গালা ধারাইল তলোয়ারর চাইতেও বেশি ধারআলা। ই কালামে ফুড় করিয়া মানষর ভিতরে হামাইয়া দিল-রুহ, আড্ডি-গোস্তরে আলগায়, আর দিলর ভিতরর নিয়ত-চিন্তা হক্কলতারে পরিক্ষা করিয়া দেখে। 13আল্লার পয়দা করা কুনু মখলুকাতউ তান গেছে লুকাইল নায়। তান চউখর ছামনে হক্কলতাউ খুলা-মেলা জাইর আছে, তান গেছেউ আমরার হিসাব দিতে অইবো।

হকল কুরবানি থাকি আল-মসীর কুরবানি মহান (৪:১৩-৭:২৮)

হজরত ইছা আল-মসীউ পরধান ইমাম

14আমরা তো অলা এক পরধান ইমাম পাইছি, যেইন তামাম আছমান পার অইয়া হারি আল্লার আরশো তশরিফ নিছইন, তাইনউ আল্লার খাছ মায়ার জন, ইছা ইবনুল্লা। তে আউক্কা, আমরা তান কলিমারে মজবুত করি মানি। 15কারন আমরার পরধান ইমাম ই লাখান নায় যেন, আমরার কুনু কমজুরির দুখে তাইন দুখি অইতা নায়, তাইনও আমরার লাখান হক্কল জাতর গুনার পরিক্ষাত পড়ছইন, অইলে কুনুজাত গুনা করছইন না। 16এরলাগি আউক্কা, আমরা হিম্মত করিয়া আল্লার রহমতর তখতর কিনারো যাই, যাতে মেহেরবানি হাছিল করতাম পারি, আর যেলাখান রহমতর গরজ আছে, অউ লাখান রহমতও পাই।

5

1মানষর পক্ষে রইয়া আল্লার এবাদতির লাগি মানষর মাজ থনেউ পরতেক পরধান ইমামরে পছন্দ করি নেওয়া অয়। তান কাম অইলো মানষর গুনা মাফির লাগি পশু কুরবানি দেওয়া আর হকল জাতর লিল্লা-ছদগা বখশিয়া দেওয়া। 2যেরা না বুজিয়া গুনা করে আর বে-পথি অয় এরার লগে তাইন নরম বেবহার করতা পারইন, কারন তান মাজেও কমজুরি আছে। 3তাইন যেলা অইন্য মানষর গুনার লাগিয়া কুরবানি দেইন, অউলা তান নিজর কমজুরি আর গুনার লাগিও কুরবানি করা ফরজ।

4পরধান ইমাম অওয়ার ইজ্জত কেউ নিজে নিজে কামাইতো পারে না, খালি আল্লায় যেনরে পছন্দ করইন তাইনউ ই ইজ্জত হাছিল করইন, যেলা আল্লায় হারুন নবীরে ই ইজ্জত দিছলা। 5ইছায়ও অউলা পরধান ইমাম অওয়ার লাগি নিজে নিজরে বড় বানাইলা না, বরং আল্লায়উ তানরে অউ গৌরব দান করছইন, আল্লায় বাতাইছইন,

তুমি তো আমার পুত,

আইজ আমিউ তুমার বাফর লাখান অইলাম।

6তাইন অউলা আরক আয়াতো কইছইন,

বাদশা মালকী-সিদ্দিকর নমুনায়,

তুমিউ হর-হামেশাকুর ইমাম।

7আল্লায় তো ইছারে মউতর আত থাকি বাচাইতা পারলা অনে, ইছা দুনিয়াত থাকার সময় তান গেছে আহাজারি করি কান্দিয়া দোয়া-মিনতি করি ভিক মাগিছইন, তান মাজে আল্লার ডর-খফ আর বাইধ্যতা থাকায় ইতার জুয়াপও পাইছইন। 8তাইন পুত অইলেও কষ্ট সইয্য করিয়া, আল্লার বাইধ্য অইয়া রওয়া হিকিছইন, 9-10আর অউ লাখান রইয়া তাইন যেবলা পুরাপুর কামিল বনিগেলা, আল্লায় তানরে মালকী-সিদ্দিকর নমুনায় পরধান ইমামর খেতাব দিলা, অউ নমুনায় তান বাইধ্য উম্মত অকলর লাগি আল্লাই নাজাতর পথ খুলিয়া দিছইন।

ইমান থাকি না হরার লাগি হুশিয়ারি

11মালকী-সিদ্দিকর বেয়াপারে আমরার আরো বউত বয়ান আছে, অইলে তুমরার কানো তালা লাগাই দিছো করি তুমরারে ইতা বুজানি খুব কষ্ট। 12অতদিনর মাজে তুমরাও উস্তাদ অইযিতায় আছিল, অইলে অখনও দেখা যার তুমরারে আল্লার কালামর পয়লা ছবক হিকানি লাগবো। তুমরারে অখনও হুরুতার লাখান দুধ খাওয়ানি লাগের, শক্ত খানা হজম করতায় পাররায় না। 13আর যেরা দুধ খায় তারা তো গেদা হুরুতা, শরিয়তর হুকুম-আহকামর বেয়াপারে তারা কুন্তাউ বুজে না। 14শক্ত খানা তারার লাগিউ যেরার বয়স অইছে, তারা ভালা-বুরার তফাত বুজিয়া আখল খাটাইয়া চলে।

6

1ইছার বেয়াপারে আমরা পয়লা যেতা তালিম পাইছি, আউক্কা ইতারে পার অইয়া আমরা আরো আগেদি আগুয়াইয়া কামিল অই। হউ পয়লাকুর তালিম হিরবার হিকার আর গরজ নাই, যেমন নাফরমানি কাম থাকি দিলরে বদলানি, আল্লার উপরে ইমান আনা, 2নানান নমুনার গোছল, দোয়া নিবার সময় আতাই দেওয়া, মউতর বাদে জিন্দা অইয়া উঠা, আর আখেরাতর বিচার। 3ইনশাল্লা, আমরা অলাউ করমু।

4অইলে যেরা একবার আল্লার পথ দেখিলাইছে, বেহেস্তি দানর মজা পাইছে, পাক রুহে শরিক অইছে, 5আল্লার রহমতর কালামর মজা বুজছে, আর ছামনর জমানার নানান কুদরতি কাম দেখছে, 6দেখার বাদেও কাফিরি কাম করছে, এরার দিলরে আর বদলাইল যাইতো নায়, কারন তারা নিজে আল্লার খাছ মায়ার জন ইবনুল্লারে হিরবার দুখ-কষ্টর সলিবো কাতল করের, আর হকলর ছামনে খুলা-মেলা তান গিবত গার। 7যে মাটিয়ে বারে বারে মেঘর পানি অজম করিয়া গিরস্ত অকলরে হাগ-তরকারি যুগাইয়া দেয়, ই মাটিত আল্লার রহমত নাজিল অয়। 8অইলে যে মাটিত খালি বন-জংগল আর কাটা-গছা ফলে, ইতা বেকামা মাটি, ই মাটিত লান্নত পড়ে। মানষে ইতারে আগুইনদি জালাইন।

9ও মায়ার দুস্ত অকল, যুদিও আমরা ইলাখান কইরাম, অইলে আসলে আমরা খাছ দিলে মনো করি, তুমরার হালত এ থাকি বউত ভালা আছে, আর তুমরার জিন্দেগিত নাজাতর ফলও দেখা যার। 10আল্লা তো হক-ইনছাফকারি, তুমরা তান লাগি যে মহব্বত দেখাইরায়, তান লাগি যেতা কাম-কাজ কররায়, তান পাক বন্দা অকলর খেজমত করিয়া আইরায়, ইতা তো তাইন ফাউরিতা নায়। 11আমরার খুব ইচ্ছা অইলো, তুমরা পরতেক জনেউ হেশ পর্যন্ত একই লাখান কাম করাত আগুয়াই আইবায়, যাতে তুমরার আশা পুরা অয়। 12অউ লাখান কামো আগুয়াইতে তুমরার আলসি না আয়; বরং ইমানে আর ছবরে যেরা আল্লার ওয়াদা করা বরকত হাছিল করছইন, তুমরাও তারার লাখান অইযাও।

আল্লার ওয়াদার নিচ্চয়তা

13হজরত ইব্রাহিমর লগে আল্লায় যেবলা ওয়াদা করছলা, ই সময় দুছরা কুন্তার নামে তাইন কছম খাইছইন না, কারন তান থাকি বড় দুছরা কুন্তাউ নাই, এরলাগি তাইন নিজর নামে কছম করিয়া কইছলা,

14আমি নিচয় তুমারে বরকত নাজিল করমু,

তুমার আওলাদ বউত পরিমানে বাড়াই দিমু।

15ইব্রাহিমে অউলা বউত লাম্বা সময় ছবর করিয়া আল্লার ওয়াদার ফল পাইলা। 16মানষে যেবলা কুনু কছম খায়, হে তার চাইতে দামি কেউরর নামে কছম খায়, তেউ বুজা যায় তার কছম হাছা, আর অউ কছমর লাগি হকলতা মিট-মাট অইযায়। 17অউলা আল্লায়ও যেরার লগে ওয়াদা করছইন, তান ওয়াদার নিচ্চয়তার লাগিয়া তাইনও কছম খাইছইন, যাতে তান ওয়াদা রদ-বদল অওয়ার সন্দয় না থাকে। 18আর আল্লায় কুনু মিছা মাতা তো বউত দুরর কথা। তে তাইন যেবলা ওয়াদার লগে কছমও করছইন, অখন আমরা আরো কত বেশি ভরসা রাখতাম পারি। এরলাগি আও, আমরা যেরা তান দরবারো গিয়া আশ্রয় পাইছি, পাইয়া যে আশা পয়দা আছে, আমরার ছামনর হউ আশারে মজবুত করি ধরিয়া রই। 19অউ আশা আমরার জানর লংগরর লাখান, কাইম আর মজবুত। ইটায় আল্লার বেহেস্তি এবাদত খানার পর্দা পার অইয়া খাছ পাক জাগার ভিতরে আমরারে নিয়া পৌছায়। 20আর আমরার পক্ষ অইয়া ইছা গিয়া আমরার আগে হি জাগাত পৌছি গেছইন। তাইন তো মালকী-সিদ্দিকর ছিলছিলার রেওয়াজ মাফিক হর-হামেশাকুর লাগি পরধান ইমাম অইছইন, তে অউ বেয়াপারে অখন কইরাম।

7

আল্লাই ইমাম মালকী-সিদ্দিকর পরিচয়

1ই মালকী-সিদ্দিক অইলা আল্লাতালার ইমাম, শালেমর বাদশা। ইব্রাহিমে বাদশা অকলরে যুদ্ধত আরাইয়া হারি ফিরিয়া আওয়ার বালা অউ মালকী-সিদ্দিকর লগে তান মুলাকাত অইলে, মালকী-সিদ্দিকে ইব্রাহিমরে দোয়া করছলা। 2ইব্রাহিমে তান হক্কলতার দশ বাটর এক বাট এনরে দিলাইলা। মালকী-সিদ্দিক নামর মানি অইলো, পরেজগারর বাদশা। তাইন শালেম টাউনরও বাদশা, মানি শান্তির বাদশা। 3মালকী-সিদ্দিকর মা নাই, বাফও নাই, তান কুনু খান্দান-নামাও নাই, তান হায়াতির শুরু বা শেষ নাই। তে বুজা যায়, তাইন আল্লার খাছ মায়ার পুতর লাখান, হর-হামেশাকুর ইমাম।

4তে চিন্তা করি দেখউক্কা, এইন কত মহান, যেনরে আমরার খান্দানর মুল বাবা ইব্রাহিমেও তান গনিমতর মালর দশ বাটর এক বাট দান করি দিছইন। 5আর লেবি গুষ্টির মাজে যেরা ইমামতি কাম করইন, তারা শরিয়তর হুকুম মাফিক তারার ভাইয়াইন, মানি বনি ইছরাইলর গেছ থাকি দশ বাটর এক বাট আদায় করার এখতিয়ার পাইছইন। অউ বনি ইছরাইলও তো ইব্রাহিমর খান্দানর মাজে জন্মিছইন। 6অইলে হউ যে মালকী-সিদ্দিক ইব্রাহিমর খান্দানর না অইলেও, ইব্রাহিমর গেছ থাকি দশ বাটর এক বাট নিছলা, আর ইব্রাহিমরে দোয়াও দিছলা, যেন লগে আল্লায় নিজে ওয়াদা করছইন। 7হুরু অকলে বড় অকলর গেছ থাকি দোয়া পাইয়া থাকইন, এর মাজে তো সন্দয় নাই। 8একবায়দি যে ইমামর মউত অয়, অউ লেবি গুষ্টির ইমাম অকলে দশ বাটর এক বাট আদায় করইন, আর আরকবায় মালকী-সিদ্দিক, কিতাবে কয় তাইন হর-হামেশা জিন্দা আছইন, তাইনও দশ বাটর এক বাট আদায় করছইন। 9হিরবার ইখানও কওয়া যায়, লেবি গুষ্টির যে ইমামে দশ বাটর এক বাট আদায় করছইন, তাইনও ইব্রাহিমর মাজদি মালকী-সিদ্দিকরে দশ বাটর এক বাট দিছইন, 10কারন মালকী-সিদ্দিকে যেবলা ইব্রাহিমর লগে মুলাকাত করলা, লেবি তো অউ সময় ইব্রাহিমর নাড়র ভিতরে আছলা।

হজরত ইছা মালকী-সিদ্দিকর ছিলছিলার ইমাম

11লেবি গুষ্টির ইমাম ছাব অকলর কাম-কাজর উপরে নির্ভর করিয়া আল্লায় বনি ইছরাইলরে শরিয়ত দিছলা, ই ইমামর মাজদি যুদি কামিল অওয়া যাইতো, তে লেবি গুষ্টির পয়লা ইমাম হারুনর বদলা মালকী-সিদ্দিকর নমুনার আরক ইমাম আওয়ার কুনু গরজ আছিল নি? 12ইমামর ছিলছিলা বদলাইল অইলে তো শরিয়তরেও বদলানি লাগে। 13ই হকল বয়ান যান নিয়তে কররাম, এইন তো লেবি গুষ্টির নায়, আরক গুষ্টির, হি গুষ্টির কেউ কুরবানি খানার খাদিম আছলা না। 14আমরার মুনিব তো এহুদা গুষ্টির মাজে পয়দা অইছইন, ই গুষ্টির কেউ ইমাম অইবা করিয়া মুছায় কুন্তা কইছইন না। 15মালকী-সিদ্দিকর নমুনায় যেবলা আরক জন ইমামে তশরিফ আনইন, ই সময় তো আমরার বয়ান আরো ছাফ অইগেছে। 16ইছা তো রক্ত-মাংসর কুনু নিয়মে ইমাম অইছইন না, খালি তান হর-হামেশাকুর কুদরতি জিন্দেগির বলেউ অইছইন। 17তান বেয়াপারে পাক কালামে কয়,

মালকী-সিদ্দিকর নমুনায়,

তুমিউ হর-হামেশাকুর ইমাম।

18তে দেখউক্কা, একবায় আগর ইমামতির হুকুম-আহকাম অকল কমজুর আর বেকামা অইযাওয়ায় ইতারে হরাই দেওয়া অইছে, 19মুছার শরিয়তে তো কুন্তারেউ কামিল বানাইতো পারছে না। আর আরকবায় অউলা এক মহান নয়া ওয়াদা জারি করা অইছে, ই ওয়াদার জরিয়ায় আমরা আল্লার আরো কাছাত আইতাম পারমু।

20আর আগর ইমাম অকলর বেয়াপারে তো কুনু কছম করা অইছে না, অইলে ইছার ইমামতির বেয়াপারে আল্লায় কছম করছইন। 21তাইন কছম করিয়া এনরে বওয়াল করছইন, আর কইছইন,

মাবুদে কছম খাইয়া কইরা, তুমিউ হর-হামেশাকুর ইমাম,

তুমার বেয়াপারে তান মুনশা বদলাইতা নায়।

22তে আমরা বুজরাম যেন, ইছা আল্লার লগে মানষর মিলনর আরো মহান এক উছিলার জামিনদার অইছইন। 23আর লেবির গুষ্টি থাকি বউত মানষে ইমামতি করছইন, মউত অইযায় করি এরা কুনু জনউ হামেশা ইমামতি করতা পারছইন না। 24অইলে ইছা তো হর-হামেশা জিন্দা আছইন, এরলাগি তান ইমামতি কুনুদিনও ফুড়াইতো নায়। 25এরলাগিউ যেরা তান উছিলা লইয়া আল্লার কাছাত আয়, আল্লায় তারারে পুরাপুর নাজাত দান করইন, কারন তারার পক্ষে সুপারিশ করার লাগি তাইন হামেশা জিন্দা আছইন।

26আসলে আমরার লাগি অউলা একজন পরধান ইমামর জরুরও আছিল, যেইন পাক-পরেজগার, বে-গুনা, গুনাগার অকল থনে আলগ, আর আল্লায় যেনরে আছমান অকলর উপরে তুলছইন। 27বাকি হক্কল পরধান ইমামে পয়লা তান নিজর লাগি, বাদে তান কউমর গুনার লাগি পরতেক দিন কুরবানি আদায় করা লাগতো। অইলে অউ ইমামর লাগি ইতার জরুর আছিল না, কারন তাইন তান নিজরে কুরবানি দিয়া একই বারে ই কাম আদায় করিলিছইন। 28শরিয়তে যতো পরধান ইমাম অকলরে বওয়াল করছে এরা হকলউ কমজুর, অইলে শরিয়তর বাদে আল্লার কছম মাফিক যেনরে বওয়াল করা অইছে, এইনউ খাছ মায়ার পুত, হর-হামেশাকুর ইমামতির লাগি এনরে কামিল বানাইল অইছে।

8

আল্লার লগে মিলনর নয়া আর চিরকালিন উছিলা (৮:১-১০:৩৯)

আল্লার লগে মিলনর নয়া উছিলা

1আমরার বয়ানর মুল বেয়াপার অইলো, আমরার অউলা একজন পরধান ইমাম আছইন, যেইন বেহেস্তো আরশে-আজিমো আল্লার ডাইনর তখতো তশরিফ রাখছইন। 2তাইন হউ আসল পাক জাগা, মানি বেহেস্তি এবাদত খানাত এবাদতি কররা, ই এবাদত খানা তো কুনু মানষর আতর বানাইল নায়, খালি মাবুদে নিজে বানাইছইন।

3পশু কুরবানি আর লিল্লা-ছদগা আদায় করা অইলো পরতেক পরধান ইমামর দায়িত্ব, এরলাগি অউ পরধান ইমামর গেছেও কুরবানির জিনিস থাকতে অইবো। 4তাইন যুদি অখন দুনিয়াত থাকতা তে ইমামতি করতা পারলা না অনে, কারন শরিয়তর হুকুম মাফিক কুরবানি দিবার ইমাম তো আছইনউ। 5হি ইমাম অকলর কাম অইলো বেহেস্তি কামর নমুনা বা ছায়া, যেলা মুছায় হি এবাদত খানা বানানির সময় আল্লায় মুছারে হুশিয়ার করি কইলা, “দেখিও, অউ পাড়র উপরে তুমারে যেলা নকশা দেখাইলাম, এক্কেরে অউ লাখান করি হকলতা বানাইও।” 6অইলে অখন আমরা দেখরাম, ইছায় ইমামতির যে দায়িত্ব পাইছইন, ইটা হি ইমাম অকল থাকি বউত ভালা, যেলা আল্লার লগে মানষর মিলনর আরো ভালা এক উছিলার লাগি তাইন জিম্মাদার অইছইন। ই উছিলা আগর উছিলা থাকি বউত ভালা; ই উছিলা তো বউত ভালা ভালা ওয়াদার উপরে কাইম অইছে। 7আল্লার লগে আমরার মিলনর পয়লা উছিলা যুদি নিখুত অইতো, তে দুছরা উছিলা কাইমর কুনু জরুর আছিল না। 8অইলে আল্লায় তারার দুষ দেখাইছইন, যেলা আছমানি কিতাবে কয়,

মাবুদে কইরা, হুনো, অলা এক অখত আইবো,

যেবলা আমি বনি ইছরাইল আর এহুদা গুষ্টির লাগি,

আমার লগে মিলনর এক নয়া উছিলা কাইম করমু।

9অউ নয়া উছিলা আগর হি উছিলার লাখান নায়,

মিসর দেশ থাকি তারার ময়-মুরব্বি অকলরে,

আজাদ করি আনার বালা যে উছিলা করছলাম।

কারন তারা আমার উছিলার উপরে ঠিক রইছে না,

এরলাগি আমিও তারার লগ ছাড়ি দিছি,

ইখান মাবুদে কইরাম।

10অইলে আমি মাবুদে এওখানও কইরাম,

ই জমানার বাদে আমি বনি ইছরাইলর লগে,

আমার নয়া অউ উছিলা কাইম করমু,

আমার শরিয়ত তারার দিলর মাজে দিমু,

তারার অন্তরর মাজে আমি লেখিয়া দিমু,

আমি তারার আল্লা অইমু,

তারা অইবা আমার প্রজা।

11তারা হকলেউ তারার আরি-ফরিরে,

যারযির ভাই-বিরাদররে

ইলা তালিম দেওয়া লাগতো নায় বুলে, তুমরা আল্লারে চিনো।

তারা হুরু-বড় হক্কলে এমনেউ তো আমারে চিনবা,

12কারন আমি তারার হক্কল নাফরমানি মাফ করমু,

তারার গুনারে আর কুনুদিনউ মনো রাখতাম নায়।

13তে বুজা যায়, “নয়া উছিলা” কথা কইয়া তাইন পয়লা উছিলারে পুরান বানাইছইন, আর যেতা অচল-পুরান অইযায়, ইতা তো জলদি করি আরাইযায়।

9

দুই লাখান এবাদত খানা

1আল্লার লগে মানষর মিলনর পয়লা উছিলার মাজে, আল্লার এবাদতির লাগি নানান নমুনার নিয়ম-কানুন আছিল, আর দুনিয়াত এবাদত করার লাগি একখান এবাদত খানার কথাও লেখা আছিল। 2হউ নিয়ম মাফিক একখান এবাদত-তাম্বু বানাইল অইছিল, হি এবাদত-তাম্বুর পয়লা কুঠাত আছিল চেরাগ দানি, পবিত্র রুটি আর ইতা রাখার টেবুল। ই কুঠার নাম আছিল পাক জাগা। 3দুছরা পর্দার ভিতরে খাছ পাক জাগা নামে আরক কুঠা আছিল, ইখান অইলো হেরেম শরিফ। 4ই কুঠার মাজে আছিল, সোনাদি বানাইল আগর-খুশবয় জালানি টেবুল, সোনাদি লেপা শাহাদত সন্দুক, সন্দুকর ভিতরে আছিল সোনার বৈয়ামো ভরা কুদরতি খানি মান্না, ইমাম হারুনর লাঠি, অউ লাঠিত কুদরতি ফুল ফুটিছিল। আরো আছিল আল্লার লগে মিলনর উছিলা লেখা হউ দুইও শাহাদত পাথর। 5হি সন্দুকর উপরে আছিল আল্লার জালালি দুইও কারুবী, এরার ডাখনার ছায়ার তলর ছানিত গুনার কফরা আদায় করা অইতো। ইতা হক্কলতার খুটিনাটি বয়ান করা অখন জরুর নায়।

6ই হক্কলতা জুইত করার বাদে ইমাম অকলে ইমামতি কামর লাগি হামেশা পয়লা কুঠার ভিতরে হামাইতা। 7অইলে দুছরা কুঠাত, মানি খাছ পাক জাগাত খালি পরধান ইমাম বছরো একবারউ হামাইতা পারতা, তাইনও কুরবানির লউ বিনা হিনো হামাইতা পারতা না। তান নিজর গুনা আর তান কউমর না-জানা হকল গুনার মাফির লাগি, কুরবানির লউ লইয়া হনো হামাইতা। 8তে পাক রুহে দেখাইয়া দিরা, ই দুনিয়ার পয়লা এবাদত খানা যতদিন কাইম আছে, অতদিন হি খাছ পাক জাগাত হামানির পথ খুলা অইতো নায়। 9হি এবাদত খানা অইলো ই জমানার লাগি এক নিশানা, ই নিশানায় আমরারে বাতাই দেয়, অউ লাখান কুরবানি আর লিল্লা-ছদগায় এবাদতকারির বিবেকর খুতখুতি ভাব দুর করতো পারে না। 10ইতা তো খালি খাওয়া-দাওয়া, অজু-গোছলর বেয়াপার, হক্কলতাউ খালি জাইরা শরিয়ত, দিলর কুন্তা নায়। ই শরিয়ত কাইম আছিল, আরো ভালা কুনু উছিলা আইবার আগ পর্যন্ত।

11অইলে অখন যতো ভালা ভালা বেয়াপার আইছে, আল-মসী তো অউ নয়া তরিকার পরধান ইমাম অইছইন। তাইন আরো ইজ্জতি আরো বেশি কামিল এবাদত খানা অইয়া আইছইন। ই এবাদত খানা কুনু মানষর আতর বানাইল নায়, ইখান ই দুনিয়ার দুনিয়াবি কুন্তা নায়। 12কুনু বিছাল বা ছাগলর লউ আতো লইয়া তাইন হিনো হামাইছইন না। খালি তান নিজর জান কুরবানির লউ দিয়া একবারউ খাছ পাক জাগাত হামাইছইন, হামাইয়া আমরারে হর-হামেশাকুর লাগি খালাছ করছইন। 13আগে যেরা নাপাক বনিযিতো, তারার লাগি বিছাল বা ছাগলর লউ আর ডেকি-গরুর জালাইল ছালি ছিটাইয়া পাক-ছাফ করা অইতো, অইলে ইতায় তো এরার শরিলর বাইরগালা খালি পাক-ছাফ অইতো। 14তে যেইন হর-হামেশাকুর জিন্দা রুহর মাজদিয়া, বে-গুনা কুরবানি অইয়া তান নিজর জানরে আল্লার নামে সপিয়া দিলাইছইন, হি আল-মসীর লউয়ে আমরার দিলরে নাপাকি কাম-কাজ থাকি আরো কত বেশি পরিমানে পাক-ছাফ করবো, যাতে আমরা জিন্দা আল্লার এবাদত-বন্দেগি করতাম পারি।

15আর পয়লা উছিলা চালু থাকতে মানষে যেতা গুনা করছলা, অউ গুনার আত থাকি খালাছ করার নিয়তে, কফরা হিসাবে আল-মসীর মউত অইছে। আল্লায় যেরারে দাওতদি আনিয়া চিরকালিন মৌরসি সম্পদ দিবার ওয়াদা করছইন, আল-মসী তো এরার লাগিউ নয়া উছিলার জিম্মাদার অইছইন। অউ মৌরসি সম্পদ অখন মানষে পাইবার সুযোগ অইছে, 16কারন দুনিয়াবি নিয়মে মৌরসি সম্পদর কুনু অছিয়ত-নামা কামো লাগাইতে অইলে, পয়লা অউ অছিয়ত কররার মউত অইছে করি পরমান দরকার অয়। 17মানষর মউতর বাদে তার অছিয়ত-নামা কামো লাগে, অছিয়ত কররা জিন্দা থাকতে ইতা কুনু কামো লাগে না।

18ঠিক অউ লাখানউ, আল্লার লগে মিলনর পয়লা উছিলাও, মউতর লউ ছাড়া কামো লাগাইল অইছে না। 19হজরত মুছায় শরিয়তর তামাম হুকুম-আহকাম বনি ইছরাইলরে জানানির বাদে, তাইন বিছাল আর ছাগলর লউর লগে পানি মিশাইলা, বাদে লাল রং করা মেড়ার রুমা আর এছুব গাছর ডেটাদি আল্লাই শরিয়ত কিতাবর উপরে, আর হক্কল মানষর গতরো ছিটাইয়া দিলা। 20মুছায় কইলা, “ই লউ অইলো আল্লাই মিলনর হউ উছিলার লউ, যে উছিলা মাফিক চলার লাগি আল্লায় তুমরারে হুকুম দিছইন।” 21অউ নমুনায় তাইন এবাদত খানা আর এবাদতি কামর হক্কল মাল-ছামানার উপরেও লউ ছিটাইয়া দিলা। 22আসল কথা অইলো, মুছার শরিয়ত মাফিক বেশির ভাগ জিনিসউ লউ দিয়া পাক-ছাফ অইতে অয়, কুরবানির লউ ছাড়া কুনুমন্তেউ গুনার মাফি পাওয়া যায় না।

হজরত ইছাউ তামাম গুনার কফরা

23যেতা জিনিস অকল খালি বেহেস্তি জিনিসর নিশানা, অতারে কুরবানির পশুর লউদি পাক-ছাফ করা জরুর আছিল, অইলে যেতা জিনিস আসল বেহেস্তি, ইতারে পাক-ছাফ করার লাগি তো আরো মহান কুরবানির জরুর। 24আর আল-মসী তো হউ নিশানার জিনিসর লাখান, মানষর আতর বানাইল কুনু পাক জাগাত হামাইছইন না, তাইন খালি আসল বেহেস্তো হামাইছইন, যাতে আমরার নাজাতর লাগি আল্লার ছামনে অখন আজির অইতা পারইন। 25হকল পরধান ইমামে কুরবানির পশুর লউ লইয়া যেলা পরতেক বছর খাছ পাক জাগাত হামানি লাগে, আল-মসী তো ই লাখান বারে বারে কুরবানি অওয়ার লাগি বেহেস্তো তশরিফ নিছইন না। 26ই লাখান অইলে তো দুনিয়া পয়দা থাকি অখন পর্যন্ত তাইন বারে বারে কষ্ট পাইয়া কুরবানি অইতে অইলো অনে। অইলে তাইন তো আখেরি জমানাত আইয়া খালি একবারউ জাইর অইছইন, যাতে নিজরে কুরবানি দিয়া তামাম গুনার কফরা অইন। 27আল্লায় তো ঠিক করিয়া দিলাইছইন, হক্কল মানষর খালি একবার মরন অইবো, আর মরন বাদে বিচার। 28ঠিক অউ লাখান, বউত মানষর গুনার বোঝা বইবার লাগি আল-মসীরেও খালি একবারউ কুরবানি দেওয়া অইছে। তাইন দুছরা বার তশরিফ আনবা, অইলে গুনার কফরা বনার লাগি আইতা নায়। খালি যেরা তান আশিক অইয়া বার চার, তারারে পুরাপুর নাজাত করার লাগি দুছরা বার আইবা।

10

হজরত ইছার চিরকালিন কুরবানি

1শরিয়ত অইলোগি খালি এক নিশানা, ইতায় ভবিষ্যতর নিয়ামতর কথা বাতাই দেয়, ইটা তো আসল কুনু বেয়াপার নায়। এরলাগিউ যেরা আল্লার এবাদত করার খিয়ালি অয়, শরিয়তর নিয়মে তারা বছর বছর একই লাখান কুরবানি দিয়া তো কুনুমন্তেউ কামিল অইতো পারে না। 2শরিয়তে যুদি তারারে পুরাপুর কামিল বানাইলিতো, তে তো পশু কুরবানি দেওয়া একবারেউ বন্দ অইগেল অনে। এবাদত কররা অকল যুদি একবারেউ পাক-ছাফ বনিযিতো, তে এরা নিজরে আর গুনাগার মনো করলো না অনে। 3অইলে অউ পশু কুরবানিয়ে তারারে পরতেক বছর ইয়াদ করাইয়া দেয় যেন, তারা আসলে গুনাগার। 4মুলত, ছাগল বা বিছালর লউয়ে মানষর গুনারে কুনু লাখানউ ছাফ করতো পারে না।

5এরলাগিউ আল-মসীয়ে দুনিয়াত তশরিফ আনার কালো আল্লার দরবারো কইছইন,

পশু কুরবানি বা দান-ছদগা তো আসলে তুমি চাও না,

অইলে আমারে একখান কায়া দিছো বিলাই দিবার লাগি।

6জালাইল কুরবানি বা গুনার কফরার কুরবানিয়ে

তুমি তো খুশি অইছো না।

7তেউ আমি কইলাম, ও আল্লা,

দেখউক্কা, আমি তো অনো আইছি;

তুমার কালাম শরিফো যেলা আছে,

আমার জনম অইবো অউ জগতো,

তুমার মুনশারে কাইম করার লাগি,

আর হাছাউ আমি আইছি।

8উপরর আয়াত অকলর মাজে আল-মসীয়ে পয়লা কইরা, “পশু কুরবানি বা দান-ছদগা তো আসলে তুমি চাও না, জালাইল কুরবানি বা গুনার কফরার কুরবানিয়ে তুমি তো খুশি অইছো না।” শরিয়তর হুকুম মাফিক অউ কুরবানি অকল আদায় করা অইলেও, আল-মসীয়ে অলা কইলা। 9বাদর আয়াতো তাইন হিরবার কইলা, “দেখউক্কা, আমি তো অনো আইছি, তুমার মুনশারে কাইম করার লাগি।” তে বুজা যায়, দুছরা উছিলারে কাইম করার নিয়তে, তাইন পয়লা উছিলারে বাতিল করিলিলা। 10এরলাগি আল্লা পাকর হউ মুনশা মাফিক ইছা আল-মসীর কায়ারে খালি একবারউ কুরবানি দেওয়া অইছিল, অউ কুরবানির বলে আল্লার দরবারো আমরারে পাক-ছাফ করা অইছে।

11পরতেক ইমাম ছাবে পরতিদিন আজির অইয়া আল্লার এবাদতি করইন আর বারে বারে কুরবানি আদায় করইন, তা-ও অউ লাখান কুরবানিয়ে কুনুদিনউ গুনারে ধইয়া ছাফ করতো পারে না। 12অইলে আল-মসীয়ে তো চিরকালর গুনার মাফির লাগি খালি একবারউ কুরবানি অইয়া, আরশে-আজিমো আল্লার ডাইনর তখতো তশরিফ রাখছইন। 13আর হউ সময় থাকি তাইন বার চাইরা, যতদিন পর্যন্ত দুশমন অকলরে তান পাওর তলাত ফালাইয়া চুরমার করা না অয়, অতো দিন বার চাইবা। 14কারন তান অউ একবারর কুরবানির উছিলায় যেরারে পাক-ছাফ করা অইছে, এরারে চিরকালর লাগিউ তাইন পুরাপুর কামিল করছইন। 15অউ বেয়াপারে আল্লার পাক রুহেও আমরার গেছে সাক্ষি দিরা, তাইন পয়লা কইছইন,

16আমি মাবুদে কইরাম,

ই জমানার বাদে আমি বনি ইছরাইলর লগে,

আমার নয়া অউ উছিলা কাইম করমু,

আমার শরিয়ত তারার দিলর মাজে দিমু,

তারার অন্তরর মাজে আমি লেখিয়া দিমু।

17বাদে হিরবার কইরা,

আমি তারার নাফরমানি আর গুনারে

আর কুনুদিনউ মনো রাখতাম নায়।

18তে বুজরায় নি, আল্লায় যেবলা গুনা আর নাফরমানিরে মাফি দিলাইন, এরবাদে তো গুনার লাগি কুনুজাত কুরবানিরউ জরুর নাই।

ইমানে মজবুত রওয়ার পরামিশ

19এরলাগিউ ও ভাই অকল, হজরত ইছা আল-মসীর লউর জরিয়ায়, আমরা বেহেস্তি খাছ পাক জাগাত হামানির সাওস পাইছি। 20আল-মসীয়ে আমরার লাগি নয়া আর জিন্দা এক তরিকা খুলছইন, তান শরিল কুরবানির উছিলায় আমরা যানু খাছ পাক জাগার দুয়ারর পর্দা পার অইয়া, আল্লার ছামনে আজির অইতাম পারি। 21তে আমরার একজন পরধান ইমামও আছইন, আল্লার পরিবারর তামাম মানষর জিম্মা তো তান আতো দেওয়া অইছে। 22এরলাগি আও, ইমানর মাজদি আমরা পুরাপুর নিচ্চিত বনিয়া খাটি দিলে আল্লার দরবারো আজির অই; কারন দুষি বিবেকর আত থাকি আমরার দিলরে আল-মসীর লউয়ে পাক-ছাফ বানাইছে, আর পরিস্কার পানি দিয়া আমরারে নাওয়াইল অইছে।

23মুমিন হিসাবে আমরার দিলো যে ভরসা আছে কইয়া স্বীকার করি, আও, অউ ভরসায় পুরাপুর মজবুত রইয়া তান তরিকায় চলি, কারন যেইন ওয়াদা করছইন এইন তো ষোলআনা হক-হালালি। 24আমরা একে-অইন্যর লাগি খিয়াল করি, মহব্বত আর নেক কাম করার লাগি একে-অইন্যরে সাওস-পরামিশ দেই। 25কুনু কুনু জনর স্বভাব অইলো, তারা জমাতো আইয়া শরিক অয় না, অইলে আমরা যানু অউ লাখান না অই। আল-মসীয়ে দুছরা বার তশরিফ আনার অখত যতো ঘনাইয়া আইওর, আমরা অতো বেশি করি একে-অইন্যরে সাওস-পরামিশ দেওয়াত রই।

26আল্লা পাকর হক তরিকা জানার বাদেও যুদি আমরা জানিয়া-হুনিয়া গুনা করাত রই, তে ই গুনার কফরার লাগি কুনুজাতর কুরবানি নাই। 27আছে খালি হাশরর ময়দানো কঠিন বিচারর লাগি ডরাই ডরাই বার চাওয়া, আর আল্লার দুশমন অকলরে জালাইয়া ছালি করার গজবর ডর। 28কুনু জনে মুছার শরিয়তর হুকুম-আহকামর বরখেলাফ করলে, এরে কুনু মায়া-মমতা না করিয়া দুই বা তিনজনর সাক্ষি লইয়া কাতল করিলতে অয়। 29তে চিন্তা করি দেখউক্কা, যে জনে আল্লার খাছ মায়ার জন ইবনুল্লারে ঘিন করে, হে আরো কত বড় আজাবর ভাগি অইছে! যে লউর উছিলায় হে পাক-ছাফ অইছে, আল্লাই হউ উছিলার লউরে হে এলামি করছে, আর যে পাক রুহে রহমত বখশিয়া দেইন, হউ রুহরেও বেইজ্জত করছে। 30আসলে আমরা তো তানরে চিনিউ, যেইন ফরমাইছইন,

নাফমানির সাজা দেওয়া আমারউ কাম,

আমল মাফিক বদলা দিমু তামাম ইনছান।

আরক আয়াতো তাইন কইছইন,

মাবুদে তান বন্দা অকলর বিচার করবা।

31বুজরায় নি, জিন্দা আল্লার ছামনে আজিরা দেওয়া কত বড় মছিবতর বেয়াপার!

32তুমরা হউ দিনর কথা ইয়াদ করো, যেবলা ইছার তরিকার নুরর পথ পাইয়া হারি, বউত নমুনার জুলুম-মছিবতর মাজেও মজবুত রইছলায়। 33কুনু কুনু সময় সমাজর ছামনে বেইজ্জতি, জুলুম-টিটকারি, টাট্টা-মশকরা হুনিয়াও তুমরা নিজে কষ্ট সইয্য করছলায়। আর কুনু কুনু সময় অইন্যর উপরে অউ লাখান কষ্ট আইছে হুনিয়া, তারার লগে তুমরাও দুখিত অইছলায়। 34তুমরার মাজর যেরা জেল খাটিছলা, তারার দুখে তুমরাও দুখি অইছলায়। তুমরার ধন-ছামানা লুট-পাট করা অইলেও খুশি আছলায়, আসলে বুজতায় পারছলায়, তুমরার লাগি আরো বউত ভালা ভালা ছামানা জমা আছে, যে ছামানা চিরকাল রইবো।

35তে অখন তুমরার হি মনোবল খুয়াইও না, এর মাজে তো বউত দামি পুরুস্কার আছে। 36তুমরা মজবুত রওয়া দরকার, যাতে আল্লায় যে পুরুস্কার দিবা করি ওয়াদা করছইন, তান মর্জি মাফিক চলিয়া তুমরাও হউ পুরুস্কার পাও। 37আল্লায় তো কইছইন,

আর থুড়া কয়খান দিন বাকি আছে, যেইন তশরিফ আনার কথা,

তাইন তশরিফ আনিলিবা, বেশি দেরি করতা নায়।

38আমার দীনদার বন্দায় ইমানর বলেউ আখের পাইবো,

অইলে কেউ খরেদি পিছলি গেলে তার উপরে আমি খুশি রইতাম নায়।

39অইলে আমরা তো খরেদি পিছলিয়া বিনাশ অওয়ার মানুষ নায়। যেরা ইমান আনিয়া নাজাত হাছিল করে, আমরা অইলাম হউ দলর মানুষ।

11

ইমানি বুজুর্গান আর আল-মসীর বায় চাইয়া ছামনেদি দৌড়াই (১১:১-১৩:২৫)

ইমানি বুজুর্গান

1ইমান কিতা? আমরা যেতা পাইমু করি আশা করছি, ইতা অখন না পাইলেও বাদে পাইমুউ পাইমু, অউ একিনর নামউ ইমান। অউ ইমানর বলেউ আমরা নিচ্চিত অইয়া বুজি, অখন যেতা আমরার চউখে দেখরাম না, ইতা আসলেও আছে। 2অউ ইমানর বলেউ আমরার ময়-মুরব্বি অকলে আল্লার গেছ থাকি তারিফ কামাইছইন। 3ইমানেউ আমরা বুজরাম যেন, আল্লায় তান কালামর বলেউ আছমান-জমিনর হক্কলতা পয়দা করছইন, ইতা আমরার চখুর দেখা কুনু চিজ থাকি এমনে পয়দা অইছে না।

4ইমানর বলে হাবিলে আল্লার নামে কাবিলর চাইতে ভালা কুরবানি আদায় করলা। এরলাগি আল্লায় হাবিলর বেয়াপারে বাতাইলা, এইন একজন কামিল মানুষ। তে বউত জমানা আগে হাবিলর মউত অইলেও, ইমানর বেয়াপারে তাইন অখনও আমরার লগে মাতিরা।

5ইমানর বলর লাগিউ ইদ্রিছ নবীর মউত অইলো না, আল্লায় তানরে জিন্দা হালতে বেহেস্তো তুলিয়া নিলাগি, দুনিয়াত তানরে তুকাইয়া মিললো না। ইদ্রিছরে বেহেস্তো তুলিয়া নেওয়ার আগে আল্লায় জানাইছলা, ইদ্রিছ আমার খুশি মাফিক চলছইন। 6অইলে ইমান ছাড়া তো কেউ আল্লারে খুশি করতো পারে না। যেকুনু মানুষ আল্লার ধারো যাইতে চাইলে, হে একিন করা লাগবো যেন, আল্লা আছইন, আর যেরা তান তালাশ করে, তাইন এরারে পুরুস্কার দেইন।

7ইমানর বলে নুহ নবীর জমানাত যেতা ঘটনা দেখা গেছিল না, আল্লার হুশিয়ারি পাইয়া তাইন অতা একিন করলা, একিন করিয়া নিজর পরিবাররে বাচানির লাগি একখান জাজ বানাইলা। তান অউ ইমানি কামর মাজদি জগতর নাফরমানির পরমান দেখাইলা, আর আল্লার দরবারো পরেজগার হিসাবে গইন্য অইগেলা, খালি ইমানর বলেউ ইলা অওয়া যায়।

8ইমানর বলে ইব্রাহিম নবীয়ে আল্লার হুকুম পাইয়াউ নিজর ভিটা-মাটি ছাড়িয়া রওয়ানা দিলা। আল্লায় তানরে যে দেশ দিতা করি ওয়াদা করছইন, হি দেশখান কুন জাগাত, ইখান না জানিয়াও তাইন রওয়ানা অইগেলা। 9ইমানর বলে তাইন আল্লার ওয়াদা করা হউ কেনান দেশর ভিতরেও মুছাফিরর লাখান দিন কাটাইলা। তান লগে আরো যেরা হি ওয়াদার ভাগি আছলা, হউ ইছহাক আর ইয়াকুবর লাখান তাইনও তাম্বুয়ে তাম্বুয়ে রইয়া জিন্দেগি কাটাইলা। 10আসলে যে টাউন হর-হামেশা কাইম রইবো, হউ বেহেস্তি টাউনর লাগি তাইন বার চাওয়াত আছলা, ই টাউনর নকশা-নমুনা সহ হক্কল কারিগরি স্বয়ং আল্লার কাম।

11ইমানর বলে ইব্রাহিমর নিআওলাদি বিবি ছায়রায় আওলাদ জনম দেওয়ার খেমতা পাইলা, তারার হুরুতা পয়দার বয়স পার অইগেলেও ইব্রাহিমে একিন করছলা, যেইন ই ওয়াদা করছইন, এইন তো হক, এইন নিজর ওয়াদা পুরাইবাউ পুরাইবা। 12এরলাগি বয়সর ভারে মরার পথি অউ এক ইব্রাহিম থাকি অতো মানুষ জনম লইলা, যেরা আছমানর তেরা আর দরিয়ার চরর বালুর লাখান, গনিয়া ফুড়াইল যায় না।

13মজবুত ইমানে জিন্দেগি কাটাইয়া এরা হকলর মউত অইছে, এরা কেউ হি ওয়াদার ফল ভোগ করতা পারছইন না, খালি দুরই থাকি ইতা দেখিয়া হারি খুশি অইছইন। ই দুনিয়াত তারা মুছাফিরিত আইছইন, ইখান তারার নিজর বসত খানা নায়, ইতা তো তারা মানছইন। 14আর যেরা ইখান মানছইন, তারা হকলেউ সুন্দর করি বুজাইছইন যেন, তারা নিজর আপন দেশর তালাশ কররা। 15যে জমিন থাকি তারা বার অইয়া আইছলা, হি জমিনর কথা খিয়াল করলে তো তারা হিরবার হনো হামানির সুযোগ পাইলা অনে। 16অইলে তারা তো আরো ভালা এক দেশ, মানি বেহেস্তর তালাশ করছলা। এরলাগিউ আল্লা পাকে নিজরে তারার আল্লা কইয়া পরিচয় দিতে কুনু শরম পাইন না, তাইনউ তারার লাগিয়া আরামর এক টাউন তিয়ার করছইন।

17ইব্রাহিম নবী পরিক্ষাত পড়িয়া হারি ইমানর বলেউ তান পুয়া ইছহাকরে কুরবানি দিছলা। যে ইব্রাহিমর লগে আল্লায় নিজে ওয়াদা করছইন, হউ জনে তান খাছ মায়ার পুতরে কুরবানি দিলাইতা চাইছইন। 18যে পুতর বেয়াপারে আল্লায় বাতাইছলা, “তুমার পুয়া ইছহাকর খান্দানরেউ তুমার খান্দান কইয়া গনা অইবো।” 19ইব্রাহিমর দিলর অউ একিনে তাইন কুরবানি দিতে রাজি অইছলা যেন, আল্লায় তো মুর্দারেও জিন্দা করতা পারইন। আর হাছাউ মউতর তল থাকি ইছহাকরে ফিরত পাইলা।

20ইমানর বলে ইছহাকে তান পুয়াইন ইয়াকুব আর ঈষʼর ভবিষ্যত জিন্দেগির লাগি দোয়া দিছলা।

21ইমানর বলে ইয়াকুবে মউতর অখতো ইউছুফর দুইও পুয়ারে দোয়া দিলা, তাইন নিজর লাঠির উপরে ভরদি আল্লার এবাদতি করলা।

22ইমানর বলে ইউছুফে মউতর অখতো কইছলা, তান নিজর জাতি বনি ইছরাইল মিসর দেশ থাকি বার অইয়া যাইবা, তারা যাওয়ার কালো তান আড্ডি-গুড্ডিরে বইয়া নেওয়ার হুকুম দিলা।

23ইমানর বলেউ মুছার মা-বাফে মুছার জন্মর বাদে তিন মাস পর্যন্ত লুকাইয়া থইলা, তারা দেখছলা, পুয়াগু খুব সুন্দর, বাদশার হুকুমেও তারা ডরাইলা না। 24ইমানর বলেউ মুছায়, তান বুজদার অওয়ার বাদে ফেরাউনর পুড়ির ঘরর নাতি কইয়া পরিচয় দিতে রাজি অইলা না। 25তাইন গুনার মাজে রইয়া থুড়া কয়দিন সুখ কামানির চাইতে, আল্লার বন্দা অকলর লগে মিলিয়া জুলুম-মছিবতর মাজে রওয়াউ পছন্দ করলা। 26তাইন মিসরর হক্কল জাক-জমকর চাইতে, আল-মসীর নামে দুর্নাম হাছিলরেউ বেশি মুল্যবান মনো করলা, কারন তান নজর আছিল বেহেস্তি পুরুস্কারর বায়। 27ইমানর বলে তাইন মিসর থাকি বার অই গেলা, বাদশার গুছারেও ডরাইলা না। নিরাকার আল্লারে দেখিলাইছইন, অউলা মনো করিয়াউ তাইন ছবর করি রইলা। 28ইমানর বলেউ তাইন আজাদি ইদ আর লউ ছিটাইয়া দেওয়ার নিয়ম মানলা, যাতে আজরাইল ফিরিস্তায় বনি ইছরাইলর পয়লা পুয়াইন্তরে না ছইন।

29ইমানর বলেউ মানষে নীল দরিয়ার মাজেদি হুকনা মাটির পথর লাখান আটিয়া গেলা, অইলে মিসরী অকলে ইলা যাওয়াত লাগিয়া বুড়িয়া মরলা।

30ইমানর বলেউ বনি ইছরাইলে যিরিহো টাউনর বাউন্ডরির ওয়াল সাতদিন চক্কর দেওয়ার বাদে এমনেউ পড়িগেল।

31ইমানর বলেউ অউ টাউনর রাহবা নামর বদমাইশ বেটিয়ে বনি ইছরাইলর গুইয়া অকলরে মেহমানদারি করায়, হিনর নাফরমান অকলর লগে ই বেটি বিনাশ অইলা না।

32আর কত জনর বয়ান কইতাম? জিদাউন, বারাক, শিমশুন, ইফতা, দাউদ, শামুয়েল আর নবী অকলর ইমানি বলর বয়ান করাত লাগলে সময়ে কুলাইতো নায়। 33ইমানর বলে এরা বউত দেশ দখল করছইন, হক ইনছাফ কাইম করছইন, আল্লাই ওয়াদার ফায়দা হাছিল করছইন, সিংহর মুখ বন্দ করছইন, 34আগুনির কুন্ডলির তেজ কমাইলিছইন, তলোয়ারর ছামন থাকি রেহাই পাইছইন, কমজুর থাকিও বল হাছিল করছইন, জিহাদর মাজে বল-খেমতা দেখাইছইন, ভিন-দেশি অকলর ফৌজরে খেদাইয়া দিছইন। 35বেটিন্তে তারা যারযির মুর্দা অকলরে হিরবার জিন্দা হালতে পাইলা।

আরো বউতে জানর মায়া ছাড়িয়া জুলুম-নির্যাতন সইয্য করিয়া মরলা, যাতে কিয়ামতর বাদে বেহেস্তি সুখ পাইন। 36বউতে টাট্টা-মশকরা আর মাইর-ধইর সইয্য করছইন, বউতে ডান্ডা-বেড়ি সহ জেল খাটিছইন। 37মানষে তারারে পাত্বরদি ইটাইছইন, করাতদি চিরিয়া দুই টুকরা করছইন, তলোয়ারদি কাতল করছইন। তারা জুলুম-মছিবত, জালা-যন্ত্রনা পাইছইন, অভাবর ঠেলায় পশুর চামড়া ফিন্দিয়া শরম লুকাইছইন। 38ই দুনিয়া তারার জুকা আছিল না, তারা পাড়-জংগল, মরুভুমি, আর গাত-গাড়ার মাজে রইয়া দুনিয়ার জিন্দেগি কাটাইছইন।

39ইমানর বলর লাগি এরা হক্কলে তারিফ কামাইছইন, তা-ও আল্লার ওয়াদার ফল ই দুনিয়াত পাইছইন না। 40কারন আল্লায় আমরার লাগি হউ জমানা থাকি আরো ভালা পুরুস্কার থইছইন, যাতে আমরারে বাদ দিয়া তারা কামিল না বনইন।

12

আল্লায় মুমিন অকলরে শাসন করইন

1তে আমরা দেখরাম, ইমানি তেজর বউত সাক্ষি আমরার চাইরোবায় আছে। এরলাগি আও, আমরাও হকল জায়-জামেলা হরাই, যে গুনায় আমরারে পেচাইয়া রাখে, অতারে হরাইয়া ফালাই, আর দৌড়াওরা দলর লগে অইয়া ধৈর্য ধরি হেশ পর্যন্ত দৌড়াই। 2আউক্কা, আমরার নজর রাখি মালিক ইছার বায়, আউয়াল থাকি আখের পর্যন্ত তাইন অইলা আমরার ইমানর মুল খুটি। তান লাগি যে খুশি রাখা অইছে, অউ খুশির বায়দি চাইয়া, দুখ-কষ্টর সলিবর উপরর মউতরেও কবুল করলা, ই বেইজ্জতিরে কুনু দাম দিলা না। আর অখন আরশে-আজিমো আল্লার ডাইনর তখতো তাইন তশরিফ রাখছইন। 3তে যেইন গুনাগার মানষর অতো বড় দুশমনিরে সইয্য করলা, তান বেয়াপারে চিন্তা করো, যাতে তুমরার দিলো কুনু কমজুরি বা নিরাশা না আয়।

4গুনার লগে লাড়াইত লাগিয়া তো লউ বারনির দশা তুমরার অখনও অইছে না। 5তুমরার গাইবি বাফ আল্লায়, তান আওলাদ হিসাবে তুমরারে যে নছিয়ত করছইন, তুমরা ইতা ফাউরিলিছো নি? কিতাবো আছে,

ও আমার পুত, মাবুদর শাসনরে এলামি করিও না,

তাইন কুনু ধামকি দিলে, বেজার অইও না।

6কারন মাবুদে যেরারে মহব্বত করইন,

তারারেউ শাসন করইন,

যেরারে তাইন আওলাদ হিসাবে কবুল করিলাইন,

এরা পরতেক জনরে সাজা দেইন।

7শাসন মনো করিয়া তুমরা কষ্ট স্বীকার করো। বাফে-পুতে যেলাখান সম্পর্ক, আল্লায়ও তুমরার লগে অউলা সম্পর্ক রাখছইন। ইলা কুনু পুত আছে নি, যারে তার বাফে শাসন করইন না? 8হক্কল পুতরেউ শাসন করা অয়। তুমরারে যুদি শাসন করা না অয়, তে তো তুমরা ফুংগা, আসল পুত নায়। 9জানো তো, আমরার দুনিয়াবি বাফ অকলে আমরারে শাসন করইন, আর আমরা তারারে ইজ্জত করি। তে যেইন আমরার আছমানি বাফ, তান গেছে গর্দনা নোয়াইয়া চলা আমরার লাগি জরুর নায় নি, যাতে আমরা জিন্দেগি পাই? 10আমরার দুনিয়াবি বাফ অকলে যেলা ভালা মনো করতা, অলা আমরারে শাসন করতা, আর ইতা তো থুড়া কয়দিনর লাগি, অইলে আল্লায় তো আমরারে শাসন কররা যাতে আমরাও তান পাক-পবিত্রতা হাছিল করি। 11কুনু শাসনরেউ খুশির বেয়াপার মনো করা অয় না, দুখর বেয়াপারউ মনো অয়, অইলে যেরা শাসন মানিয়া চলে, তারা বাদে দীনদারির শান্তিআলা জিন্দেগি পায়। 12এরলাগি তুমরার কমজুর আতরে মজবুত করো, দুর্বল আটুরে সবল করো। 13তুমরা সিদা পথে আটো, যাতে লেংড়া পাও আর না কচকে, বরং ভালা অইযায়।

আল্লার গজব থাকি জান বাচাও

14হকল মানষর লগে শান্তিয়ে বসত করা আর পাক-পাকিজা অইয়া চলার লাগি খিয়ালি অও, ইলা না চললে কেউ মালিকর দরশন পাইতায় নায়। 15হুশিয়ার রইও, যাতে কেউ আল্লার রহমত থাকি বাদ না পড়ো। খিয়াল রাখিও, তুমরার মাজর কেউ যানু বিষাক্ত তিত্বা গাছর জড়র লাখান বার অইয়া না ছাতায়, আর বউত মানষরে নাপাক না বানায়। 16হজরত ইয়াকুবর ভাই ঈষʼর লাখান কুনু বে-পথি নাফরমান পয়দা না অয়। ঈষে তো খালি এক অখতর খানির লাগি, তার নিজর মৌরসি মালিকানা বেচিলাইছে। 17তুমরার তো জানাউ আছে, যুদিও বাদে হে চখুর পানি ফালাইয়া কান্দি কান্দি দোয়া মাংগিছিল, অইলে তৌবা করার সুযোগ আর হে পাইছে না।

18তুমরা নিচ্চয় ইলা কুনু পাড়র কান্দাত আইছো না, যে পাড়ো আতদি ছওয়া যায়। হউ তুর পাড়র জালাইল আগুইন, গইন আন্দাইর, হিল-তুফান, 19শিংগার আওয়াজ, বা জুরে জুরে মাত-কথার কুনু আওয়াজর গেছেও আইছো না। জুরে জুরে মাতর অউ আওয়াজ যেরা হুনছিল, তারা মিনত করি কইছিল, যাতে তারার লগে আর বাতচিত করা না অয়। 20তারা আল্লার অউ হুকুম সইতো পারছিল না, আল্লায় কইছলা, “যুদি কুনু পশুয়েও ই পাড়ো ছয়, তে তারেও পাত্বর মারিয়া মারিলিতে অইবো।” 21অউ সময় যেরা মাবুদর দিদার দেখছিল, তারা অতো ডর ডরাইছিল যেন, স্বয়ং মুছা নবীয়ে কইলা, “ডরর চুটে আমি কাপিরাম।”

22অইলে তুমরা তো পবিত্র ছিয়ন পাড় আর জিন্দা আল্লার টাউনর কাছাত আইছো, আজার আজার ফিরিস্তায় যেখানো খুশি-বাসির মাহফিল কররা, হনো আইছো। ই টাউন অইলোগি, বেহেস্তি জেরুজালেম। 23বেহেস্তি খাতাত যেরার নাম লেখা অইগেছে, বড় পুয়ার লাখান যেরারে ইজ্জত দেওয়া অইছে, এরার বানাইল জমাতর ধারো আইছো। যেইন তামাম মানষর বিচার করইন, হউ আল্লার কাছাত আইছো। যে পরেজগার অকল পুরাপুর কামিল অইগেছইন, এরার রুহর মজলিছো আইছো। 24যে ইছা আল্লার লগে মিলনর নয়া উছিলার জিম্মাদার, হউ ইছার গেছে আইছো। হাবিলর লউ থাকি আরো মরতুবাআলা যে লউ, তুমরা ছিটাইল হউ লউর কাছাত আইছো।

25মুছা নবীয়ে আল্লাই হুশিয়ারির কথা দুনিয়ার মানষরে জানানির বাদে যেরা তান হুশিয়ারিরে এলামি করছিল, এরা যেবলা রেহাই পাইছইন না, তে যেইন বেহেস্তো থাকিয়া আমরারে হুশিয়ার কররা, তান হুশিয়ারিরে এলামি করলে তো এক্কেবারে নিচ্চিতউ আমরা কুনু রেহাই পাইতাম নায়। এরলাগি খিয়াল রাখিও, যেইন হউ বাতচিত করছইন, তান হুকুমরে এলামি করিও না। 26হি আমলো আল্লা পাকর মুখর আওয়াজে হারা দুনিয়ারে কাপাইছিল, অইলে অখন তাইন অউ ওয়াদা করছইন, “আমি দুছরা বার খালি ই দুনিয়ারে নায়, আছমানরেও কাপাইমু।” 27তে “দুছরা বার” অউ শব্দ থাকি বুজা যায় যেন, যেতা জিনিস অকল লাড়া-চাড়া করাইল যায়, মানি যেতা পয়দা করা অইছে, ইতারে বাদ দেওয়া অইযিবো, আর যেতারে লাড়া-চাড়া করা যায় না, অতা কাইম রয়। 28বুজরা নি, যে বাদশাইরে লাড়া-চাড়া করা যায় না, আমরা তো হউ বাদশাই পাইরাম, এরলাগি আউক্কা, আমরা আল্লার দরবারো শুকরিয়া জানাই। আল্লা পাক যে নমুনায় খুশি অইন, অউ নমুনায় আমরা তান এবাদত করতাম পারমু, তানরে ডরাইয়া, তাজিম করিয়া এবাদত করমু। 29কারন আমরার আল্লা তো বিনাশ কররা আগুনির লাখান।

13

আখেরি নছিয়ত

1তুমরা একে-অইন্যরে আপন ভাইর লাখান হামেশা মায়া করিও। 2মেহমানদারি করা ফাউরিও না। জানো নি, কুনু কুনু জনে না চিনিয়া আল্লার ফিরিস্তারও মেহমানদারি করছইন। 3জেল খানাত যেতা মানুষ বন্দি আছইন, নিজরেও অলা বন্দি মনো করিয়া তারারে সাইয্য করিও, আর যেরার উপরে জুলুম-মছিবত করা অর, নিজে অউ মছিবতো পড়ছো মনো করিয়া, তারারে খিয়াল করিও।

4হকলেউ বিয়া-শাদিরে ইজ্জত করিও। জামাই-বউর সম্পর্করে পাক-পবিত্র রাখিও। মনো রাখিও, আল্লায় কু-নজরি, জিনাকুর আর লুচ্ছা অকলর বিচার করবা।

5দুনিয়াবি ধন-ছামানার লালছ থাকি হরিয়া রইও। তুমরার যেতা আছে, অতা লইয়াউ খুশি রইও। আল্লায় বাতাইছইন,

আমি কুনুমন্তেউ তুমারে ছাড়তাম নায়,

কুনু হালতেউ তুমারে ফালাইতাম নায়।

6এরলাগিউ আমরা হিম্মত করিয়া কইতাম পারিয়ার,

মাবুদ আমার সহায় আছইন, আমি ডরাইতাম নায়।

মানষে আমার কিতা করতো?

7হুনো, যে বুজুর্গ অকলে তুমরারে আল্লার কালাম তালিম দিছইন, তারার কথা ইয়াদ করিও। তারার জিন্দেগির হালতর কথা ভালামন্তে চিন্তা করিয়া, তুমরাও তারার লাখান ইমানে মজবুত অও। 8ইছা আল-মসী গতকাইল যেলা আছলা, আইজও অলা আছইন, আর হর-হামেশাউ অলা রইবা।

9নানান নমুনার নয়া নয়া তালিমে যানু তুমরারে বে-পথে না নেয়, খানা-পিনার খুটিনাটি বিষয় না তুকাইয়া, বরং আল্লার রহমতর উপরে কাইম রও। ইলা খুটিনাটি নিয়মর উপরে যেরা ভরসা করতো, ইতায় তো তারার কুনু লাভ অইছে না। 10আমরার তো একখান কুরবানি খানা আছে, ইখানর কুন্তা খাইবার এখতিয়ার মুছা নবীর এবাদত-তাম্বুর ইমাম অকলর নাই।

11গুনার মাফির লাগি জবো করা পশুর লউ লইয়া, বনি ইছরাইলর পরধান ইমাম অকল এবাদত খানার খাছ পাক জাগাত হামাইন, অইলে অউ পশুর আড্ডি-মাংস হকলতা বনি ইছরাইলর কেম্পর বারে নিয়া জালাইল অয়। 12অউ লাখান হজরত ইছাও জেরুজালেম টাউনর বারে গিয়া জুলুম-কষ্ট সইয্য করিয়া মউত কবুল করলা, যাতে তান নিজর লউর উছিলায় মানষরে গুনা থাকি পাক-ছাফ করতা পারইন। 13অখন আউক্কা, আমরাও তান বদনামরে নিজর কান্দো লইয়া কেম্পর বারে তান কান্দাত যাইগি। 14কারন ই দুনিয়াত আমরার লাগি স্থায়ী কুনু টাউন নাই, আমরা খালি হউ টাউনর তালাশ কররাম, যে টাউনর দিদার বাদে পাইমু।

15তে অখন আমরা আল-মসীর জরিয়ায় হামেশা আল্লার দরবারো জিকির-আজকার কুরবানি করি, মানি দুইও ঠোটে তান নামর গুনগান গাই। 16নেক কাম করা আর অভাবি মানষরে দান-খয়রাত বিলানি ফাউরিও না, কারন অউ লাখান কুরবানিয়ে আল্লা পাক খুশি অইন।

17তুমরার মুরব্বি অকলর হুকুম মানিয়া তারার গেছে মাথা নোয়াইয়া রইও, আল্লার দরবারো হিসাব দেওয়া লাগবো করি তারা হামেশা তুমরার জানর পারাদার অইয়া কাম কররা। অখন তারা যাতে খুশি মনে ইতা করইন, এরলাগি তুমরা বাইধ্য রইও। তারা যুদি মনো দুখ পাইয়া তুমরার লাগি কাম করইন, তে তুমরার ভালাই অইতো নায়।

18আমরার লাগি দোয়া করিও। আমরা তো জানি, আমরার বিবেক ছাফ-ছফা আছে, হক্কল বেয়াপারে হক পথে চলতাম চাই। 19আমি খাছ করি তুমরার গেছে অউ দোয়া চাইরাম, যাতে জলদি করি আমি হিরবার তুমরার লগে মুলাকাত করতাম পারি।

বিদায়ি ছালাম আর দোয়া

20আল্লার লগে আমরার মিলন, হর-হামেশাকুর উছিলা,

পুরাপুর কাইম করার লাগিয়া,

আমরার মালিক হজরত ইছা, নিজর লউ বিলাই দিয়া,

মেড়া পালর মহান রাখাল বনিছইন।

হজরত ইছার মউতর বাদে, শান্তি দেউরা আল্লা পাকে,

মুর্দা থাকি তানরে জিন্দা করিছইন।

21হকল নেক কামর তৌফিক দেউক্কা, তান মর্জি যুগাইয়া চলার,

আর তাইন যেতা পছন্দ করইন,

দিলো অতার এশকি দেউক্কা, ইছা আল-মসীর জরিয়ায়,

এন মহিমা হর-হামেশা রউক, আমিন।

22ভাই অকল, তুমরার গেছে মিনত কররাম, তুমরা বিরক্ত না অইয়া ই নছিয়ত হুনো, আমি খুব শটকাটে লেখলাম। 23হুনো, আমরার ভাই তিমথিয়ে খালাছ পাইছইন, তাইন যুদি সময় মত আমার অনো আইন, তে আমি তুমরার গেছে আওয়ার সময় তানে লগে লইয়া আইমু।

24তুমরা নিজর মুরব্বি অকলরে, আর পাক বন্দা অকলরে আমার ছালাম জানাইও। ইতালি দেশর মানষে তুমরারে ছালাম জানাইরা।

25তুমরা হকলর উপরে আল্লার রহমত কাইম রউক। আমিন॥