পবিত্র তৌরাত শরিফ পয়লা ছিপারা

পয়দা নামা

ছিলটি ভাষায় তরজমা

পরিচিতি

এরমাজে আছে,

হজরত আদম (আঃ) —দুনিয়ার পয়দা ১—৫ রুকু

হজরত নুহ (আঃ) —পানির গজব ৬—১০ রুকু

হজরত ইব্রাহিম (আঃ) —আল্লার ওয়াদা ১১—২৩ রুকু

হজরত ইছহাক (আঃ) —হিরবার আল্লার ওয়াদা ২৪—২৬ রুকু

হজরত ইয়াকুব (আঃ) —বনি ইছরাইলর শুরু ২৭—৩৬ রুকু

হজরত ইউছুফ (আঃ) —বনি ইছরাইল মিসর দেশো আইলা ৩৭—৫০ রুকু

1

হজরত আদম (আঃ) (১:১—৫:৩২)

আছমান-জমিন পয়দা

1পয়লাউ আল্লায় আছমান আর দুনিয়া পয়দা করলা। 2দুনিয়াই নিরাকার আর খালি আছিল, গইন পানির উপরে পুরা আন্দাইর আছিল। আল্লার রুহ এর উপরে চলাচল করতা। 3বাদে আল্লায় ফরমাইলা ফর অউক, আর ফর অইলো। 4আল্লায় দেখলা ফর ভালা। তাইন আন্দাইর থাকি ফররে আলগা করিয়া 5এর নাম রাখলা দিন, আর আন্দাইরর নাম রাখলা রাইত। হাইঞ্জা গেল, বিয়ানও গেল, ইকটা অইলো পয়লা দিন।

6বাদে আল্লায় ফরমাইলা, পানির মাজে গুম্বুজর লাখান ফাক জাগা অউক, আর পানি দুই ভাগ অই যাউক। 7আর আল্লায় ফাক জাগা পয়দা করিয়া, তলর আর উপরর পানি আলগা করলা। আর অউলা অইলো। 8আল্লায় গুম্বুজর লাখান যে জাগা বানাইলা, তার নাম রাখলা আছমান। হাইঞ্জা গেল, বিয়ানও গেল, ইকটা অইলো দুই নম্বর দিন।

9এরবাদে আল্লায় ফরমাইলা, আছমানর তলর পানি এক জাগাত দলা অউক, আর হুকনা জাগা দেখা যাউক। আর অউলা অইলো। 10আল্লায় হুকনা জাগার নাম রাখলা জমিন আর জমাইল পানির নাম দরিয়া। তাইন দেখলা ইতা ভালা। 11বাদে আল্লায় ফরমাইলা, জমিনো ঘাস ফলউক; আর হকল জাতর বিচআলা লতা-পাতা গাছ-বিরিকর জনম অউক। আর জমিনর উপরে হকল জাতর ফলর গাছও অউক, এরা নিজর জাতমত ফল ধরব আর ফলর মাজে যারযির বিচও থাকব। আর অউলা অইলো। 12জমিনো ঘাস ফলিলো, হকল জাতর বিচআলা লতা-পাতা গাছ-বিরিক জন্মিলো। জমিনর উপরে হকল জাতর ফলর গাছ অইলো যেতায় যারযির জাতমত ফল ধরে, হি ফলর মাজে যারযির বিচও আছে। আল্লায় দেখলা ইতা ভালা। 13হাইঞ্জা গেল, বিয়ানও গেল, ইকটা অইলো তিন নম্বর দিন।

14বাদে আল্লায় ফরমাইলা, আছমানর মাজে অউলা চেরাগ অকল অউক, যারা রাইত থাকি দিনরে আলগা করে। ইতা আলগা আলগা দিন, বছর আর ইদ-উৎসবর নিশানা অইবো। 15আছমান থাকি তারা দুনিয়াইর উপরে ফর দিবো। অউলাউ অইলো। 16আল্লায় দুইটা বড় চেরাগ বানাইলা, এরমাজে বড়টারে দিনর উপরে বাদশাই করার লাগি আর হুরুটারে রাইতর উপরে। ইতা ছাড়া তাইন তেরা অকলও পয়দা করলা। 17তাইন এরারে আছমানর মাজে বওয়াইলা যাতে তারা দুনিয়াইত ফর দেয়। 18এরা দিন আর রাইতর উপরে বাদশাই করে, আন্দাইর থাকি ফররে আলগা করে। আল্লায় দেখলা ইতা ভালা। 19হাইঞ্জা গেল, বিয়ানও গেল, ইকটা অইলো চাইর নম্বর দিন।

20বাদে আল্লায় ফরমাইলা, পানির মাজে জানদার অকল পালে পালে ভরি যাউক, আর দুনিয়াইর উপরে আছমানর মাজে পাখিন উড়উক। 21আর আল্লায় দরিয়ার বিরাট জানদার অকল, আর পানির মাজে পাল বান্দিয়া ঘুররা হকল জাতর জানদার পয়দা করলা, আর হকল জাতর পাখিও পয়দা করলা। তাইন দেখলা ইতা ভালা। 22তাইন তারা হকলরে অউ লাখান বরকত নাজিল করলা, তুমরা ফলআলা অইয়া বাড়ো আর দরিয়ার পানি ভরি যাও, দুনিয়াইর মাজে পাখি অকলও বাড়উক। 23হাইঞ্জা গেল, বিয়ানও গেল, ইকটা অইলো পাচ নম্বর দিন।

24এরবাদে আল্লায় ফরমাইলা, মাটি থাকি অউলা জানদার অউক যারার নিজর জাত অকলরে বাড়াইব, এরার মাজে পালা হেমান, পুক-জুক আর জংলি জানুয়ার অকলও। অউলাউ অইলো। 25আল্লায় দুনিয়াইর মাজে হকল জাতর জংলি জানুয়ার, পালা হেমান আর মাটির মাজে বুকে চলরা জানদার বানাইলা। তাইন দেখলা ইতা ভালা।

26এরবাদে আল্লায় ফরমাইলা, আও আমরার ছুরতে আমরার লগে মিল রাখিয়া মানুষ বানাই। তারা দরিয়ার মাছ, আছমানর পাখি, জানুয়ার, মাটির মাজে বুকে চলরা জানদার, আর আস্তা দুনিয়াইর উপরে বাদশাই করউক।

27তাইন তান নিজর ছুরতে মানুষ পয়দা করলা, এক্কেরে নিজর মত করি পয়দা করলা, পয়দা করলা বেটা আর বেটি। 28আর তারারে বরকত নাজিল করিয়া কইলা, তুমিতাইন ফলআলা অইয়া বাড়িয়া দুনিয়াই ভরি যাও। দুনিয়াইরে শাসন করো, আর দরিয়ার মাছ, আছমানর পাখি, মাটির উপরে চলরা হকল জানদারর উপরে বাদশাই করো। 29এরবাদে আল্লায় ফরমাইলা, হুনো, দুনিয়ার উপরর হকল জাতর বিচআলা গাছ-বিরিক, আর হকল জাতর ফলর গাছ যারার নিজর জাতমত ফল ধরে যার ফলর মাজে তারার নিজর বিচ আছে, ইতা হকলতা আমি তুমরার খানির লাগি দিলাম। 30দুনিয়ার পরতেক জানুয়ার, আছমানর পাখিন, মাটির মাজে বুকে চলরা জানদার, ইতা হক্কল জানদারর খানির লাগি আমি হকল লতা-পাতা আর ঘাস দিলাম। অউলাউ অইলো। 31আল্লায় তান পয়দা করা হকলতা দেখলা, ইতা হকলতাউ খুব ভালা অইছে। হাইঞ্জা গেল, বিয়ানও গেল। ইকটা অইলো ছয় নম্বর দিন।

2

1অউ লাখান আছমান-জমিন আর এর মাজর হকলতা পয়দা করা শেষ অইলো। 2আল্লায় ই হকল কাম শেষ করিয়া হারলে সাত নম্বর দিন আরাম করলা, তাইন ইদিন আর কুন্তা পয়দা করলা না। 3অউ সাত নম্বর দিনরে বরকত নাজিল করিয়া পাক দিন করলা, তান হকলতা পয়দা করা শেষ করি তাইন অউ দিন জিরাইলা।

আদম-হাওয়া পয়দা

4অউ অইলো আছমান আর জমিন পয়দার বয়ান। মাবুদ আল্লায় যেবলা আছমান আর জমিন পয়দা করছিলা, 5ই সময় জমিনর উপরে কুনুজাতর গাছ-পালা আছিল না আর কুনু লতা-পাতাও ফলিছে না, কারন তাইন জমিনর উপরে মেঘ দিছইন না, আর জমিন আবাদ করার মানুষও আছিল না। 6অউ সময় মাটির মুর থাকি পানি উঠতো আর জমিন ভিজতো। 7বাদে মাবুদ আল্লায় ফেক মাটি দিয়া মানুষ বানাইয়া তার নাকর মাজে ফু দিয়া জান হারাইলা। আর অউ মানুষ জানদার অইলো। 8মাবুদ আল্লায় পুবেদি আদনো একটা বাগান করছিলা, হনো তানর বানাইল অউ মানুষরে রাখলা। 9হিকানর মাটিত তাইন অউ লাখান গাছ অকল ফলাইছলা, যেতা দেখতে খুব সুন্দর আর ফলও খাইতে খুব মজা। আর বাগানর মাজখানো তাইন “জিন্দেগি-গাছ” আর “নেকি-বদির আখল দেওরা গাছ” নামর দুইটা গাছও রাখছিলা।

10হউ বাগানো পানি যুগাইয়া দিতো এক গাং আছিল, যেকটা আদনর মাজেদি বার অইয়া চাইর ভাগ অইগেছিল। 11পয়লা গাংগর নাম আছিল পিশোন, ইকটা আস্তা হবিলা দেশর ভিতরে দিয়া গেছে। ইনো সোনা পাওয়া যায়, 12আর অউ দেশর সোনা খুব খাটি, ইতা ছাড়াও হিনো মেশকে-আম্বর আর আকিক মনি পাওয়া যায়। 13দুই নম্বর গাংগর নাম জিহোন, ইকটা আস্তা কুশ দেশর ভিতরে দিয়া গেছে। 14তিন নম্বর গাংগর নাম দজলা, ইকটা আশিরিয়া দেশর পুবে দিয়া গেছে। আর চাইর নম্বর গাংগর নাম অইলো ফোরাত।

15বাদে মাবুদ আল্লায় অউ মানুষরে আদন বাগানো রাখলা, হিনো খেত-খামার আর হেফাজত করার লাগি। 16তাইন আদমরে হুকুম দিলা, “তুমি তুমার খুশিমত ই বাগিচার যেকুনু গাছর ফল খাইতায় পারবায়, 17খালি নেকি-বদির আখলর গাছর ফল খাইও না, যেদিন তুমি অউ গাছর ফল খাইবায় ইদিন তুমি মরবায়উ মরবায়।”

18এরবাদে মাবুদ আল্লায় কইলা, “মানষর লাগি একলা থাকা ভালা নায়। আমি তার লাখ একজন জুড়ি বানাইমু।” 19আর মাবুদ আল্লায় দুনিয়াইর হকল জানদার আর আছমানর হকল পাখি মাটিদি বানাইয়া অউ মানষর ছামনে আনলা, দেখলা এইন ইতারে কিতা কইয়া ডাকইন, আর তাইন যারে যে নামে ডাকলা, তার অউ নাম অইলো। 20আদমে হকল পালা হেমান, আছমানর পাখি আর জংলি জানুয়ারর নাম রাখলা, ইতার মাজে তান লাখ কুনু জুড়ি মিললো না। 21এরবাদে তাইন আদমর মাজে বেহুশি ঘুম আনলা। অউ ঘুমর মাজে তান পাইঞ্জরর একটা আড্ডি খুলিয়া নিয়া জাগাটা বন্দ করি দিলা, 22আর অউ আড্ডি দিয়া মাবুদ আল্লায় এক বেটিমানুষ বানাইয়া আদমর গেছে আনলা। 23তানে দেখিয়া আদমে কইলা, “অখন অইছে, তাই আমার আড্ডির আড্ডি, গোস্তর গোস্ত। তাইর নাম অইবো নারী, তাইরে নর থাকি নেওয়া।” 24এরলাগি বেটাইন্তে মা-বাফরে ছাড়িয়া বউর লগে রইবা, তারা দুইওজন এক শরিল অইবা। 25আদম আর তান বিবির শরিল উদাম থাকতো, ইতা কুনু শরম আছিল না।

3

আদম-হাওয়ার গুনা আর বিচার

1মাবুদ আল্লার পয়দা করা জমিনর হকল জানদারর মাজে হাফ অইলো হকল থাকি ফন্দিবাজ। অউ হাফে এক দিন হি বেটি মানষরে কইলো, “আল্লায় হাছাউ তুমাতানরে কইছইন নি, বাগানর হকল গাছর ফল তুমরা খাইতায় পারতায় নায়?” 2বেটিয়ে কইলা, “বাগানর যেকুনু গাছর ফল আমরা খাইতাম পারি, 3খালি বাগানর মাজখানো যে গাছটা আছে, আল্লায় কইছইন, তুমরা এর ফল খাইও না, ছইও-ও না, ছইলেউ মরবায়।” 4অউ হাফে তানরে কইলো, “না, কুনুমন্তেউ মরতায় নায়। 5আল্লায় তো জানইন, যেদিন তুমরা ই গাছর ফল খাইলিবায় ইদিন তুমরার চউখ খুলিযিব, আর নেকি-বদির আখল পাইয়া তুমরা আল্লার লাখান অইযিবায়।” 6বেটিয়ে যেবলা বুজলা, অউ গাছর ফল খাইতে মজা অইবো, দেখতেও সুন্দর, আর আখলদারও অইযিমু, অউ তাইন ফল পাড়িয়া খাইলা, আর তান জামাইরেও দিলা আর জামাইয়েও খাইলিলা। 7লগে লগে তারা দুইও জনর চউখ খুলি গেল, আর বুজলা তাইন-তাইন লেমটা। অউ তারা ডুমুর গাছর কয়টা পাতা ছিড়িয়া সিলাই করি লেমটি বানাইলা।

8হাইঞ্জা বালা তারা মাবুদ আল্লার আওয়াজ হুনলা, তাইন বাগানর মাজে ফাখানিত আইরা। তেউ আদম আর তান বউ মাবুদ আল্লার ছামনে না পড়ার লাগি বাগানর গাছর আওড়ে লুকাইলা। 9মাবুদ আল্লায় আদমরে ডাক দিয়া জিকাইলা, “তুমি কুয়াই?” 10তাইন কইলা, “বাগানর মাজে আমি তুমার আওয়াজ হুনছি। আমি তো লেমটা, এরলাগি ডরাইয়া লুকাই রইছি।” 11তেউ মাবুদ আল্লায় জিকাইলা, “তুমি যে লেমটা কে কইলো? যে গাছর ফল খাইতে তুমারে না করছিলাম, খাইলিছো না কিতা?” 12আদমে কইলা, “যে বেটিমানুষ তুমি আমার লগে দিছো, তাই অউ গাছর ফল আমারে খাওয়াইছে।” 13অউ মাবুদ আল্লায় বেটিরে জিকাইলা, “তুমি ইতা কিতা করলায়?” তাইন কইলা, “হাফে আমারে ছাল্লা দিয়া খাওয়াইছে।” 14তেউ মাবুদ আল্লায় হাফরে কইলা, “তুমার ই কামর লাগি হকল পালা হেমান আর হকল জংলি জানুয়ারর মাজে তুমিউ লান্নতি অইলায়। তুমি জিন্দেগিভর পেটো ভরদি চলবায় আর ধুলা-বালু খাইবায়। 15আমি তুমার আর বেটির মাজে, তুমার বংশ আর বেটি মানষর বংশর মাজে দুশমনি পয়দা করমু। হি বংশে তুমার কল্লা গুড়া করব, আর তুমি তার পাওর মুরাত কামড়াইবায়।” 16আর তাইন বেটিরে কইলা, “তুমার হুরুতা অইবার সময় তুমার মছিবত খুব বাড়াই দিমু, তুমি খুব কষ্ট করিয়া হুরুতা পয়দা করবায়। জামাইর বায় তুমার খুব খাইশ থাকব, আর হে তুমার উপরে বেটাগিরি করব।” 17তাইন আদমরে কইলা, “যে গাছর ফল আমি হারাম করিয়া দিছলাম, তুমি তুমার বউর কথা হুনিয়া ইতা খাইছ, অউ কারনে জমিনরে লান্নতি করা অইলো। জিন্দেগিভর জবর তকলিফ করিয়া তুমি জমিনর ফসল খাইবায়। 18তুমার লাগি মাটির মাজে কাটা-গছা আর বিষআলা জংগল জন্মাইব, আর তুমার খানি অইবো অউ মাটির ফয়-ফসল। 19যে মাটি থাকি তুমারে পয়দা করছলাম, হউ মাটিত ফিরিয়া না যাওয়া পর্যন্ত তুমার মাথার ঘাম পাওত ফালাইয়া খানি খাইবায়। তুমার মাটির শরিল, মাটিতউ মিশিযিবো।”

20আদমে তান বিবির নাম রাখলা হাওয়া [মানি, জিন্দেগি-দেওরা], কারন তাইন হকল জিন্দা মানষর মা অইবা। 21আদম আর তান বিবির লাগি মাবুদ আল্লায় জানুয়ারর চামড়াদি লেবাছ বানাইয়া ফিন্দাইলা।

22এরবাদে মাবুদ আল্লায় কইলা, “দেখো, নেকি-বদির আখল পাইয়া মানুষ আমরার লাখান অইগেছে, অখন হে যাতে আত বাড়াইয়া জিন্দেগি-গাছর ফল খাইয়া হামেশা জিন্দা না রয়।” 23অউ কথা কইয়া মাবুদ আল্লায় যে মাটি দিয়া মানষরে পয়দা করছলা, হউ মাটিত খেত-খামার করার লাগি তারে আদন বাগান থাকি খেদাই দিলা। 24খেদাই দিয়া তাইন জিন্দেগি-গাছর গেছে যাওয়ার পথ পারা দেওয়ার লাগি আদন বাগানর পুবেদি কারুবী ফিরিস্তা অকল রাখলা আর আগুইনর তলোয়ারও ঘুরানিত রাখলা।

4

হাবিল-কাবিল

1আদমে তান বিবি হাওয়ার লগে মিলার বাদে তান পেটো হুরুতা আইল, আর কাবিল4:1 মানি, কবুল নামে তান এক পুয়ার জনম অইলো। তেউ বিবি হাওয়ায় কইলা, “মাবুদর গেছ থনে আমি এক মানুষ কবুল করছি।” 2হিরবার তান ঘরো কাবিলর ভাই হাবিলর4:2 হাবিল মানি, বেকামায়া জনম অইলো। হাবিলে ছাগল-মেড়া রাখত, আর কাবিলে খেত করত। 3বাদে এক দিন কাবিলে মাবুদর গেছে তার খেতর ফয়-ফসল আনিয়া লিল্লা দিলো 4আর হাবিলেও তার পালর মাজে পয়লা জন্মিছে অউলা কয়টা ছাগল-মেড়া জবো করিয়া চর্বিআলা অংশ লিল্লা দিলো। মাবুদে হাবিল আর তার লিল্লা কবুল করলা, 5কাবিল আর তার লিল্লা কবুল করলা না, গতিকে হে খুব গুছা করিয়া মুখ কালা করলো। 6মাবুদে কাবিলরে কইলা, “তুমি গুছা কররায় কেনে, আর কিতার লাগি তুমি মুখ কালা করছো? 7তুমি ভালা কাম করলে তুমার মুখ ফর অইলো অনে? আর না করলে তো গুনায় তুমারে ধরার লাগি তুমার দুয়ারো উবাই রইছে। ইগুর উপরে তুমি জিততে অইবো।”

8বাদে কাবিলে তার ভাই হাবিলরে ডাকিয়া কইলো, “আও আমরা বন্দো যাই।” আর বন্দো গিয়া তার ভাই হাবিলর উপরে আখতা হামলা করিয়া খুন করলো। 9হেশে মাবুদে কাবিলরে জিকাইলা, “তুমার ভাই কুয়াই?” কাবিলে কইলো, “আমি জানি না, আমার ভাইরে আমি দেখা-হুনা করি নি?” 10তেউ মাবুদে কইলা, “তুমি ইতা কিতা করলায়? দেখো, জমিন থাকি তুমার ভাইর লউয়ে আমার গেছে ফরিয়াদ করের। 11জমিনে যেবলা তুমার কারনে তুমার ভাইর লউ খাইল, অউ সময় তুমি লান্নতি অইয়া জমিন থাকি খেদাইল অইলায়। 12তুমি যেবলা জমিনো খেত করবায়, জমিনে আর তুমারে ফসল দিতো নায়। তুমি বৈতল অইয়া দুনিয়াই জুড়ি ঘুরবায়।” 13তেউ কাবিলে মাবুদরে কইলো, “ই শাস্তি আমার আংগাজ অইতো নায়। 14আইজ তুমি আমারে জমিন থাকি খেদাই দিরায়, আমি তুমার ছামনে থনে হরি যাইমুগি। আর বৈতল অইয়া যেবলা আমি দুনিয়াইত ঘুরমু, অউ সময় যার ছামনেউ আমি পড়মু, হে-উ আমারে খুন করব।” 15মাবুদে তারে কইলা, “তে তুমারে যে খুন করব, তার উপরে আমি সাতগুন বদলা লইমু।” অউ কথা কইয়া মাবুদে কাবিলরে একটা চিন্নত দিলা, যাতে কেউ তারে আতো পাইয়াও না মারে। 16এরবাদে কাবিল মাবুদর ছামন থাকি হরিয়া আদনর পুবেদি নোদ [মানি, ঘুরা-ফিরা] দেশো গেলোগি।

কারিগরি কাম আর ধর্ম-কর্ম শুরু

17আর কাবিল তার বউর লগে মিলায় তাইর পেটো হুরুতা আইল, আর হনোকর জনম অইলো। কাবিলে একটা টাউন বানাইয়া তার পুয়ার নামে টাউনর নাম রাখলো হনোক। 18হনোকর পুয়া ইরদ, ইরদর পুয়া মহুয়ায়েল, মহুয়ায়েলর পুয়া মথুশায়েল, মথুশায়েলর পুয়া লেমক। 19লেমকে দুই বিয়া করছলা, এক বউর নাম আদা, আরক বউর নাম সিল্লা। 20আদার ঘরো যাবলর জনম অইলো, যারা তাম্বুত থাকে আর পশু পালে, অউ যাবল তারার মুল বাফ। 21যাবলর ভাইর নাম যুবল। যারা বাশি আর বীণ বাজায়, অউ যুবল তারার মুল বাফ। 22সিল্লার পেটো তুবল-কাবিলর জনম অইলো। পিতল আর লুয়ার আতিয়ার বানানি আছিল তার কাম। তার বইনর নাম নায়েমা।

23একদিন লেমকে তার দুই বউরে কইলো,

“ও আদা আর সিল্লা, আমার কথা হুন,

লেমকর বিবিন, আমার কথায় দেও কান।

যে বেটায় আমারে করিল জখম,

যে বেটায় আমার গাত তুলল আত,

হেরে আমি করিলাম নিপাত।

24কাবিলর খুনর বদলা যুদি সাতগুন অয়,

লেমকর বদলা সাতত্তইর গুন নিচ্চয়।”

25এরমাজে আদমে হিরবার তান বউর লগে মিলায়, তান পেটো আরক পুয়া অইলো, হাওয়ায় তার নাম রাখলা শিস4:25 মানি, যুগাই দেওয়া । তাইন কইলা, “কাবিলে হাবিলরে খুন করছে করি আল্লায় হাবিলর বদলা আমারে এক চেরাগ যুগাই দিছইন।” 26বাদে শিসরও এক পুয়া অইলো, হে তার নাম রাখল আনুশ, অউ সময় থনে মানষে মাবুদর নাম লওয়া শুরু করলা।

5

হজরত আদম (আঃ) অর খান্দান-নামা

1ইতা অইলো আদমর খান্দানর কলমবন্দি বয়ান। মানুষ পয়দা করার সময় আল্লায় তান নিজর ছুরতে পয়দা করলা। 2পয়দা করলা বেটা আর বেটি, আর তারারে মাবুদে বরকত দিলা, পয়দা করিয়া নাম রাখলা আদম।

3আদমর একশো তিশ বরছ বয়সো তান লগে মিল রাখিয়া তান ছুরতে এক পুয়া অইলো। তাইন এর নাম রাখলা শিস। 4শিসর জনমর বাদে আদম আরো আটশো বরছ বাচলা, এর মাজে তান আরো পুয়া-পুড়িন অইছিল। 5মোট নয়শো তিশ বরছ জিন্দা থাকার বাদে আদম মারা গেলা।

6শিসর একশো পাচ বরছ বয়সো তান পুয়া আনুশর জনম অইলো। 7আনুশর জন্মর বাদে শিস আরো আটশো সাত বরছ বাচলা। এর মাজে তান আরো পুয়া-পুড়ি অইছিল। 8মোট নয়শো বারো বরছ বাচার বাদে শিস মারা গেলা।

9আনুশর নব্বই বরছ বয়সো তান পুয়া কিনানর জনম অইলো। 10কিনানর জন্মর বাদে আনুশ আরো আটশো পনরো বরছ বাচলা। এর মাজে তান আরো পুয়া-পুড়ি অইছিল। 11মোট নয়শো পাচ বরছ বাচার বাদে আনুশ মারা গেলা।

12কিনানর সত্তইর বরছ বয়সো তান পুয়া মাহলাইলর জনম অইলো। 13মাহলাইলর জন্মর বাদে কিনান আরো আটশো চাল্লিশ বরছ বাচলা। এর মাজে তান আরো পুয়া-পুড়ি অইছিল। 14মোট নয়শো দশ বরছ বাচার বাদে কিনান মারা গেলা।

15মাহলাইলর পয়ষট্টি বরছ বয়সো তান পুয়া ইয়ারেদর জনম অইলো। 16ইয়ারেদর জন্মর বাদে মাহলাইল আরো আটশো তিশ বরছ বাচলা। এর মাজে তান আরো পুয়া-পুড়ি অইছিল। 17মোট আটশো পচানব্বই বরছ বাচার বাদে মাহলাইল মারা গেলা।

18ইয়ারেদর একশো বাষট্টি বরছ বয়সো তান পুয়া ইদ্রিছর জনম অইলো। 19ইদ্রিছর জন্মর বাদে ইয়ারেদ আরো আটশো বরছ বাচলা, এর মাজে তান আরো পুয়া-পুড়ি অইছিল। 20মোট নয়শো বাষট্টি বরছ বাচার বাদে ইয়ারেদ মারা গেলা।

21ইদ্রিছর পয়ষট্টি বরছ বয়সো তান পুয়া মাতুশালাখর জনম অইলো। 22মাতুশালাখর জন্মর বাদে তিনশো বরছ পর্যন্ত, আল্লার লগে ইদ্রিছর খাছ দিদার আছিল। এর মাজে তান আরো পুয়া-পুড়ি অইছিল। 23ইদ্রিছ মোট তিনশো পয়ষট্টি বরছ দুনিয়াইত আছলা। 24এরবাদে তানে আর দেখা গেল না। আল্লার লগে তান খাছ দিদার আছিল গতিকে আল্লায় তানরে জিন্দা হালতে নিজর গেছে নিলাগি।

25মাতুশালাখর একশো সাতাশি বরছ বয়সো তান পুয়া লামাকর জনম অইলো। 26লামাকর জন্মর বাদে মাতুশালাখ আরো সাতশো বিরাশি বরছ বাচলা। এর মাজে তান আরো পুয়া-পুড়ি অইছিল। 27মোট নয়শো উনুসত্তইর বরছ বাচার বাদে মাতুশালাখ মারা গেলা।

28লামাকর একশো বিরাশি বরছ বয়সো তান এক পুয়া অইলো। 29তাইন এর নাম রাখলা নুহ5:29 মানি, আরাম আর কইলা, “হে আমরার আতর ই লেজারতি কাম থাকি, মাবুদর লান্নতি জমিন থাকি অখন আরাম দিবো।” 30নুহর জন্মর বাদে লামাক আরো পাচশো পচানব্বই বরছ বাচলা, এর মাজে তান আরো পুয়া-পুড়ি অইছিল। 31মোট সাতশো সাতত্তইর বরছ বাচার বাদে লামাক মারা গেলা।

32নুহর পাচশো বরছ বয়সর বাদে তান পুয়াইন সাম, হাম আর ইয়াফেতর জনম অইলো।

6

হজরত নুহ (আঃ) (৬:১—১০:৩২)

দুনিয়াইত নাফরমানি বাড়ছে

1দুনিয়ার উপরে যেবলা মানুষ বাড়া আরম্ভ অইলো, আর বউত পুড়িন্তরও জনম অইলো। 2তেউ আল্লার খাদিম অকলে অউ পুড়িন্তরে খুবছুরত দেখিয়া, যে যারে খুশি তারে বিয়া করাত লাগলা। 3ইতা দেখিয়া মাবুদে কইলা, “আমার রুহ হামেশা মানষর লগে থাকত নায়। মানুষ তো খালি লউ আর গোস্ত, অখন থাকি আমি তারারে একশো বিশ বরছ হায়াত দিয়ার।” 4অউ পুড়িন্তর লগে আল্লার খাদিম অকলর মিলা-মিশার কারনে যে আওলাদর জনম অইলো, তারা আছলা পুরানা জমানার পয়লোয়ান অকল। হি সময় বা তার বাদেও দুনিয়াইত ছামুদ জাতর মানুষ আছিল।

5মাবুদে দেখলা, দুনিয়াইত মানষর নাফরমানি খুব বাড়ি গেছে, আর তারার দিলর খাইশ, খিয়াল-খুশি খালি খারাপির বায়। 6ইতা দেখিয়া মাবুদে খুব তকলিফ পাইলা, তাইন দুনিয়াইত মানুষ পয়দা করছিলা করি খুব বেজার অইলা। 7আর কইলা, “আমার পয়দা করা মানষরে, আর তারার লগে হকল জাতর জানুয়ার, পুক-জুক আর আছমানর পাখিও খতম করি দিমু। ইতারে পয়দা করিয়া আমার দিলো দুখ লাগের।” 8অইলে নুহর উপরে মাবুদ খুশি আছলা।

হজরত নুহ (আঃ) অর জাজ

9ইতা অইলো নুহর জিন্দেগির বয়ান। নুহ একজন কামিল মানুষ, তান আমলর মানষর মাজে তাইনউ আছলা পাক-পরেজগার। আল্লার লগে তানর খাছ দিদার আছিল। 10সাম, হাম আর ইয়াফেত নামর তান তিন পুয়া আছিল।

11ই সময় আল্লার চখুত হারা দুনিয়াই গুনায় পচি গেছে আর জুর-জুলুমে ভরি গেছে। 12আল্লায় দুনিয়ার বায় চাইয়া দেখলা, ইতা গুনায় পচি গেছে। কারন দুনিয়ার মানষর খাইছলত বে-পথে গেছেগি। 13ইতা দেখিয়া আল্লায় নুহরে কইলা, “তামাম মানুষ জাতরে আমি খতম করিলাইতাম ঠিক করছি। মানষর লাগি দুনিয়াই জুর-জুলুমে ভরি গেছে। মানষর লগে লগে দুনিয়ার হকলতা আমি শেষ করিলিতাম। 14তুমি গফরর তক্তা দিয়া তুমার লাগি একখান জাজ বানাও। এর ভিতরে আলগা আলগা কুঠা থাকব। আর জাজর বারে-ভিতরে আলকাতরা লাগাইও। 15জাজখান লাম্বায় তিনশো আত, পাশে পইঞ্চাশ আত আর খাড়া-উবি তিশ আত বানাইও। 16আর চালো থাকি এক আত তলে চাইরোবায় খিড়কি রাখবায়, আর দুয়ার দিবায় জাজর এক কান্দাত। জাজখান তিতালা বানাইও। 17দেখিও, আমি দুনিয়াইত অলা বইন্যা দিমু, আছমানর তলে যতো জানদারে দম ফালায় হকলতাউ বিনাশ অইযিব। দুনিয়াইর হকল জানদারউ মরিযিব। 18খালি তুমার লগে আমার ওয়াদা জারি রাখমু। তুমি গিয়া জাজো উঠবায়, আর তুমার লগে তুমার পুয়াইন, তুমার বিবি আর তুমার পুয়াইন্তর বউ-ও। 19আর জান বাচানির লাগি তুমি হকল জাতর জানদারর বেটা-বেটির জুড়া মিলাইয়া তুমার লগে জাজো তুলবায়। 20পরতেক জাতর পাখি, হেমান-জানুয়ার আর মাটির মাজে বুকে চলরা জানদাররে বাচানির লাগি জুড়া জুড়া করি তুমার গেছে আনবায়। 21আর তুমি হকল জাতর লাগি খানির জিনিস যোগাড় করি রাখবায়। ইতা তুমার আর তারার খানি অইবো।” 22নুহে আল্লার হুকুম মাফিক হকলতাউ করলা।

7

দুনিয়াইত গজবি বান

1আর মাবুদে নুহরে কইলা, “তুমি আর তুমার পরিবারর হকল আইয়া জাজো উঠবায়। আমি দেখিয়ার ই জমানার মানষর মাজে তুমিউ খালি দীনদার। 2তুমি হালাল জানুয়ার অকল থাকি নর-মেদি মিলাইয়া সাত জুড়া করি আর হারাম জানুয়ার থাকি এক জুড়া করি তুমার লগে লইও। 3আছমানো উড়রা পাখির মাজ থাকি নর-মেদি মিলাইয়া সাত জুড়া করি লইও। দুনিয়ার মাজে এরার বংশ বাচানির লাগি ইখান করিও। 4আমি সাত দিন বাদে দুনিয়াইর উপরে চাল্লিশ দিন চাল্লিশ রাইত একলাগারে মেঘ দিমু, আর হকল জানদাররে দুনিয়া থাকি খতম করমু।” 5মাবুদর হুকুম মাফিক নুহে হকল কাম করলা।

6বইন্যা শুরুর সময় নুহর বয়স আছিল ছয়শো বরছ। 7বইন্যা থাকি বাচার লাগি নুহ, তান বিবি, তান পুয়াইন আর পুয়াইন্তর বউরে লইয়া জাজো গিয়া উঠলা। 8-9আল্লার হুকুম মাফিক হালাল-হারাম জানুয়ার, পাখি, বুকে চলরা জানদারর নর-মেদি মিলিয়া জুড়া জুড়া অইয়া নুহর গেছে আইয়া জাজো হামাইলা। 10অউ সাত দিন বাদে দুনিয়াইত বইন্যা অইলো।

11নুহর ছয়শো বছরর সময় দুছরা মাসর সতরো তারিখ পাতালর হকল পানি বার অইতো লাগল, আর আছমান যেনু ফাটি গেল। 12চাল্লিশ দিন চাল্লিশ রাইত দুনিয়াইর উপরে মেঘ অইলো। 13যেদিন মেঘ শুরু অইলো, ইদিন নুহ, তান বিবি, তান পুয়াইন সাম, হাম, ইয়াফেত আর তারার বউ অকলও জাজো আইয়া উঠলা। 14তারার লগে জুড়া জুড়া করি হকল জাতর জংলি জানুয়ার, পালা হেমান, মাটির মাজে বুকে চলরা জানদার, পাখি আর ডাখনা আলা হকলতাও উঠলা। 15দম ফালাইয়া বাচে ইলা হকল জাতর জানদার নুহর গেছে আইয়া জাজো উঠছিল। 16আল্লার হুকুম মাফিকউ নর-মেদির জুড়া মিলিয়া তারা উঠছিল। এরবাদে মাবুদে জাজর দুয়ার বন্দ করি দিলা।

17চাল্লিশ দিন ধরি দুনিয়াইত পানি বাড়তেউ থাকলো। পানি বাড়ি যাওয়ায় জাজখান মাটি থাকি উপরে ভাইয়া উঠলো। 18বাদে পানি খুব বাড়ল আর জাজখান পানির উপরে চলাচল করলো। 19আর পানি বাড়তেউ থাকলো। এতে যেনো যতো বড় বড় পাড় আছিল, হক্কলতা বুড়ি গেল। 20হকল পাড়-পর্বত বুড়িয়া পানি আরো পনরো আত উপরে উঠলো। 21আর দুনিয়াইত চলরা হকল জানদার, মানি পাখি, পালা হেমান, জংলি জানুয়ার আর পাল বান্দিয়া ঘুররা হকলতা, মানষর লগে বিনাশ অইগেল। 22মাটির উপরে যতো রকমর যতো জানদার দম ফালাইয়া বাচে ইতা হকলতাউ মরিগেল। 23আল্লায় অউ নমুনায় জমিনর হকল জানদার দুনিয়াইর উপর থাকি ফুছিলাইলা। এতে মানুষ, জানুয়ার, বুকে চলরা জানদার আর আছমানর পাখি দুনিয়াই থাকি ছাফ অইগেল। খালি নুহ আর তান লগে যারা আছিল, তারাউ বাচিয়া রইলা। 24দুনিয়া দেড়শ দিন পানিত বুড়াইল রইল।

8

বানর পানি থাকি রেহাই

1জাজো নুহ আর তান লগে যতো জানদার আর পালা হেমান আছিল, আল্লায় তারার কথাও ফাউরিলা না। তাইন দুনিয়াইত বাতাস চালাইলে পানি কমা শুরু অইলো। 2মাটির তল থাকি পানি বারনি আর আছমান থনে মেঘ পড়ার ফাটা বন্দ অইগেল, আর মেঘও দম লইলো। 3মাটির উপরর পানি হরি গেল, আর দেড়শ দিন বাদে দেখা গেল পানি বউত কমছে। 4সাত নম্বর মাসর সতরো তারিখ জাজখান আরারাতর পাড়ি এলাকাত গিয়া আটকিলো। 5এরবাদেও পানি কমাত থাকল, আর দশ নম্বর মাসর পয়লা দিন পাড় অকলর মাথা দেখা গেল।

6এর চাল্লিশ দিন বাদে নুহে জাজর খিড়কি খুললা। 7আর খিড়কিবায় এক কাউয়া ছাড়লা। মাটি থাকি পানি না হুকানি পর্যন্ত কাউয়াটা আওয়া-যাওয়াত রইল। 8মাটির উপর থনে পানি কমছে কি না দেখার লাগি নুহে বাদে একটা পারো ছাড়লা। 9ই সময়ও আস্তা দুনিয়াইত পানি আছিল করি পাও থইবার জাগা না পাইয়া পারোটা হিরবার ফিরিয়া আইল। তাইন আত বাড়াইয়া তারে ভিতরে আনলা। 10হেশে তাইন আরো সাত দিন বার চাইয়া হিরবার তারে ছাড়লা। 11হাইঞ্জা বালা হে তান গেছে ফিরিয়া আইল, আর তার ঠোটো আছিল জয়তুন গাছর হাজমা পাতা, তাইন বুজলা মাটির উপর থাকি পানি কমি গেছে। 12আরো সাত দিন বাদে তাইন হিরবার পারোটা ছাড়লা, ইকটা আর ফিরিয়া আইলো না।

13নুহর বয়স ছয়শো এক বছরর সময় পয়লা মাসর পয়লা দিন মাটির উপর থাকি পানি হরি গেল, আর নুহে জাজর চাল খুলিয়া চাইয়া দেখলা, মাটি হুকানি ধরছে। 14দুছরা মাসর সাতাইশ দিনর দিন মাটি একইবারে হুকাই গেল। 15আল্লায় তানরে কইলা, 16“তুমি তুমার বিবি, তুমার পুয়াইন আর তুমার পুয়াইন্তর বউরে লইয়া জাজ থাকি বার অইয়া আও। 17আর তুমার লগে যতো জাতর জানদার আছে—পাখি, জানুয়ার আর মাটির মাজে বুকে চলরা জানদার—তারারেও বার করি লইয়া আও, যেনু হারা দুনিয়াই জুড়ি তারা ছিতরিয়া গিয়া ফলআলা অইয়া বাড়ে।” 18তেউ নুহে তান বিবি, তান পুয়াইন আর তারার বউরে লইয়া জাজ থাকি বার অইলা। 19তারার লগে দুনিয়াইর হকল জানুয়ার, পুক-জুক আর পাখি, এক কথায় দুনিয়াইত চলরা হকল জানদার, যারযির জাতমত বার অইলো।

20বাদে নুহে মাবুদর নামে একখান কুরবানি খানা বানাইলা, আর পরতেক জাতর হালাল পশু-পাখি থাকি এক একটা লইয়া জবো করিয়া, জালাইয়া কুরবানি দিলা। 21মাবুদ ই কুরবানির ধুমার খুশবুয়ে খুশি অইলা, আর তাইন কইলা, “মানষর লাগি আমি আর কুনু সময়ও মাটিরে লান্নত দিতাম নায়, যদিও হুরুবালা থাকিউ মানষর মনর খিয়াল খারাপির বায় থাকে। ইফিরা যেলা হকল জানদাররে মারছি, ইলাখান আর কুনু দিনউ মারতাম নায়। 22যতদিন ই দুনিয়াই থাকব, অতদিন নিয়মমত বিচ ফালানি আর ফসল কাটা, ঠান্ডা আর গরম, বারিশা আর এওত, দিন আর রাইত চলতেউ থাকব।”

9

হজরত নুহ (আঃ) অর লগে ওয়াদা

1আল্লায় নুহ আর তান পুয়াইন্তরে বরকত দিয়া কইলা, “তুমিতাইন ফলআলা অইয়া বাড়িয়া দুনিয়াই ভরি যাও। 2দুনিয়াইর জানুয়ার, আছমানর পাখি, মাটির মাজে বুকে চলরা জানদার আর দরিয়ার মাছ, হকলেউ তুমরারে ডর-ভয় করি চলব। ইতারে তুমরার আতো দেওয়া অইলো। 3যেলা তুমরারে খেতর ফল-ফসল আর তরি-তরকারি দিছলাম, অউলা অখন জিতা জানদার হকলরেও তুমরার খানির লাগি দিলাম। 4খালি লউ-সহ গোস্ত তুমরা খাইও না, লউ অইলোগি জান। 5কেউ যুদি মানষরে খুন করে তে আমি অবশ্যউ তার খুনর বদলা লইমু। হে জানুয়ার অউক বা মানুষ অউক, মানষর জান যে নেয়, তার জানও দেওন লাগব। 6মানষর লউ যে বার করে, মানষেও তার লউ বার করব, কারন আল্লায় মানষরে নিজর ছুরতে বানাইছইন। 7তুমিতাইন বেশ করি ফলআলা অইয়া বাড়ো আর দুনিয়াইত ছিতরিয়া যাও।”

8বাদে আল্লায় নুহ আর তান পুয়াইন্তরে কইলা, 9“হুনো, আমি জবান দিয়ার, তুমরা আর তুমরার বাদর হকল মানষরে, 10আর পাখি, পালা হেমান আর দুনিয়াইর যতো জানুয়ার তুমরার লগে জাজ থাকি বার অইছে, তারারেও। 11জবানটা অইলো, বানর পানি দিয়া আর কুনু সময়উ হক্কল জানদাররে মারা অইতো নায়, আর তামাম দুনিয়াই ছাফ করার লাগি ইলা কুনু বানও অইতো নায়।” 12আল্লায় আরো কইলা, “যে জবান আমি তুমরারে আর তুমরার লগর জানদার অকলরে দিলাম, ইকটা কিয়ামত পর্যন্ত বওয়াল রইবো। 13আর মেঘর কালনির মাজে আমার রংধেনু দিলাম, ইকটা অইলো দুনিয়াইত আমার জবানর নিশানা। 14যেবলা আমি দুনিয়াইর উপরে কালনি দিমু, ই সময় অউ রংধেনু দেখবায়। 15আর অউ সময়উ আমি তুমরার আর হকল জানদারর লগে আমার জবানর কথা ইয়াদ করমু। আর কুনু সময়উ বইন্যা অইয়া হকল জানদাররে পানি দিয়া ধইয়া নিতো নায়। 16কালনির মাজে যেবলা হি রংধেনু দেখা যাইব অউ সময় আমি দুনিয়াইর হকল জানদারর লগে আমার ই হামেশাকুর জবানর কথা ইয়াদ করমু।” 17হেশে আল্লায় নুহরে কইলা, “দুনিয়াইর হকল জানদারর লগে আমি যে জবান দিছি, ইকটা অইলো তার নিশানা।”

হজরত নুহ (আঃ) আর তান পুয়াইন

18জাজ থনে নুহর যে পুয়াইন বার অইছলা, তারার নাম অইলো সাম, হাম আর ইয়াফেত। অউ হাম অইলো কেনানর বাফ। 19নুহর অউ তিনও পুয়ার খান্দান হারা দুনিয়াইত ছিতরি গেলা।

20নুহে খেত-খামার শুরু করিয়া এক আংগুর-খেত করলা। 21আর আংগুরর শরাব খাইয়া টাল অইয়া তাম্বুর ভিতরে উদাম অইয়া পড়ি রইলা। 22কেনানর বাফ হামে আইয়া তার বাফর অউ হাল দেখিয়া বারে গিয়া তার দুইও ভাইর গেছে কইলো। 23অইলে সাম আর ইয়াফেতে কান্দো করি একখান কাপড় লইয়া পিছে আটিয়া বাফরে অউ কাপড়দি গুরিয়া দিলা, তারার চউখ উল্টা বায় থাকায় বাফরে বে-আবরু হালতে দেখলা না। 24নিশা কমি যাওয়ার বাদে নুহে তান পুয়ার কান্ড হুনিয়া 25কইলা, “কেনানর উপরে লান্নত পড়উক, হে তার ভাইয়াইন্তর গেছে গুলামর গুলাম অইবো।” 26তাইন আরো কইলা, “হকল তারিফ সামর মাবুদ আল্লার, কেনান সামর গুলাম অউক। 27আল্লায় ইয়াফেতরে বউততা দেউক্কা, হে সামর তাম্বুত থাকউক, আর কেনান তার গুলাম অউক।”

28বানর বাদে নুহ আরো সাড়ে তিনশো বরছ বাচলা। 29মোট সাড়ে নয়শো বরছ বয়সো তাইন মারা গেলা।

10

হজরত নুহ (আঃ) অর খান্দান-নামা

1নুহর পুয়াইন সাম, হাম, আর ইয়াফেতর খান্দানর বয়ান। বানর বাদে তারার পুয়া-পুড়ি অইছলা।

2ইয়াফেতর পুয়াইন্তর নাম: গোমর, মাজুজ, মাদয়, ইয়াবান, তুবল, মেশক আর তীরস। 3গোমরর পুয়াইন: অস্কিনস, রিফত আর তোগর্ম। 4ইয়াবানর পুয়াইন অইলা: ইলিশাহ, তর্শীশ, কিত্তীম আর রোদানীম। 5এরার বংশর মানষে নানান জাতর মাত-কথা, পরিবার আর জাত হিসাবে দরিয়ার পারর নানান দেশো ছিতরি গেলা।

6হামর পুয়াইন্তর নাম: কুশ, মিসর, পুট আর কেনান। 7কুশর পুয়াইন: সবা, হবিলা, সপ্তা, রয়মা আর সপ্তকা। রয়মার পুয়াইন অইলা: সাবা আর দদান। 8কুশর এক পুয়ার নাম আছিল নমরুদ। অউ নমরুদ দুনিয়াইত পয়লোয়ান অইয়া উঠছিল। 9মাবুদর গেছে হে আছিল পয়লোয়ান শিকারি। এরলাগি কথায় কয়, মানুষটা যেন মাবুদর ছামনে নমরুদর লাখান পয়লোয়ান শিকারি। 10শিনার দেশর বাবিল, এরক, অক্কদ আর কলনী নামর টাউন অকল লইয়া হে বাদশাই শুরু করলো। 11অন থাকি তার রাইজ্য বাড়িয়া আশিরিয়া দেশ পর্যন্ত গেল। হখানর নিনভ, রহবতপুর, কেলহ 12আর রেষন নামর টাউন অকলও তার বানাইল। রেষন আছিল নিনভ আর কেলহর মাজখানো, ই তিনটায় মিলিয়া এক বিরাট শহর অইলো। 13মিসরর বংশ অইলা অউ জাত অকল: লুদী, অনামী, লহাবী, নপ্তোহী, 14পথ্রোষী, কসলুহী, আর কপ্তোরী, অউ কপ্তোর দ্বীপ থাকি ফিলিস্তিনী অকল বার অইয়া আইলা।

15কেনানর বড় পুয়া সিদন, বাদর পুয়া হিট, হিট্টী জাতির মুল বাফ। 16কেনান আছলা যিবুজী, আমোরী, গির্গাশী, 17হিব্বী, আর্কী, সীনী, 18আর্বাদী, জমারী আর হামাতী, অউ জাতি অকলর মুল বাফ। হেশে অউ কেনানী অকল চাইরোবায় ছিতরি গেছলা। 19সিদন টাউন থাকি গেরারর মুখা গাজা পর্যন্ত, আর গাজা থাকি ছাদুম, আমুরা, অদমা আর ছবয়িম যাওয়ার পথে লাশা পর্যন্ত কেনানী অকলর রাজত্ব আছিল। 20পরিবার, মাত-কথা, দেশ আর জাত হিসাবে এরা আছিল হামর খান্দান।

21ইয়াফেতর বড় ভাই সামরও পুয়া-পুড়ি অইছলা। সাম অইলা আবের আর তার খান্দানর বাফ। 22সামর পুয়াইন্তর নাম: ইলাম, আশুর, আর্ফাক্সাদ, লুদ আর ইরাম। 23ইরামর পুয়াইন: উজ, হূল, গেথর আর মশ। 24আর্ফাক্সাদর পুয়া শালেখ, আর শালেখর পুয়ার নাম আবের। 25আবেরর দুই পুয়া অইছলা, একজনর নাম ফালেজ [মানি, আলগা], তান সময় দুনিয়া আলগ অইছিল করি তান অউ নাম অইলো। ফালেজর ভাইর নাম ইয়াকতান। 26ইয়াকতানর পুয়াইন অইলা: অলমোদদ, শেলফ, হাযরামাওত, যেরহ, 27হদোরাম, উজাল, দিক্‌লা, 28ওবল, অবিমায়েল, সাবা, 29ওফির, হবিলা আর যোবব। এরা হকল অইলা ইয়াকতানর পুয়াইন। 30মেষা থাকি পুবেদি ছেফারো যাওয়ার পথো যে পাড়ি জাগা আছে, অনো তারা থাকতা। 31পরিবার, মাত-কথা, দেশ, আর জাত হিসাবে এরা অইলা সামর খান্দান।

32জাত আর বংশ হিসাবে এরা অইলো নুহর পুয়াইন্তর পরিবার। বানর বাদে এরার বংশ অকলে নানান জাত অইয়া আস্তা দুনিয়াইত ছিতরি গেছলা।

11

হজরত ইব্রাহিম (আঃ) (১১:১—২৩:২০)

বাবিল মিনার

1হি জমানাত আস্তা দুনিয়াইত খালি এক ভাষায় মাততা, আর তারার বুলি অকলও একলাখানউ আছিল। 2তারা পুবেদি আগুয়াইয়া যাইতে যাইতে শিনার দেশর এক থল জাগা পাইয়া হখানোউ বসত করলা। 3তারা একে-অইন্যরে কইলো, “আও, আমরা ইট বানাইয়া আগুইনদি জালাই।” কইয়াউ তারা পাথরর বদলা ইট আর চুন-সুরকির বদলা তারতেল লাগাইলো। 4তারা আরো কইলো, “আও, আমরার নিজর লাগি একটা শহর বানাই, আর অউলা একটা ঘরও বানাই, যেকটার মিনার গিয়া আছমান লাগাল পাইব। তেউ আমরার নামও অইবো আর আমরা দুনিয়াইত ছিতরিতামও নায়।” 5মানষে যে উচা ঘর আর শহর বানাইরা ইকটা দেখাত মাবুদ লামি আইলা। 6আর কইলা, “এরা এক জাতর মানুষ, এরার মাত-কথাও এক; এরলাগি তারা অউ কামর মাজে আত দিছে। নিজর মতলব হাছিলর লাগি এরা আর কুনু বাধাউ মানতো নায়। 7তে আও, আমরা লামিয়া গিয়া তারার বুলির মাজে গোলমাল লাগাই দেই, যাতে তারা একজনে আরক জনর মাত বুজতো না পারে।” 8এরবাদে মাবুদে হউ জাগা থাকি তারারে আস্তা দুনিয়াইত ছিতরাই দিলা। আর তারার হউ শহর বানানির কামও বন্দ অইগেল। 9অউ কারনে হউ জাগার নাম অইলো বাবিল [মানি, গোলমাল], হখানোউ মাবুদে হারা দুনিয়াইর বুলির মাজে গোলমাল লাগাই দিছলা। হখান থাকিউ তাইন তারারে আস্তা দুনিয়াইত ছিতরাইলিলা।

হজরত ইব্রাহিম (আঃ) অর বাফ-দাদাইন

10অউ অইলো সামর খান্দানর বয়ান। বানর দুই বরছ বাদে সামর বয়স যেবলা একশো বরছ, অউ সময় তান পুয়া আর্ফাক্সাদর জনম অইলো। 11আর্ফাক্সাদর জন্মর বাদে সাম আরো পাচশো বরছ বাচিয়া আছলা। এর মাজে তান আরো পুয়া-পুড়ি অইছলা।

12আর্ফাক্সাদর পায়তিশ বছরর সময় তান পুয়া শালেখর জনম অইলো। 13শালেখর জন্মর বাদে তাইন আরো চাইরশো তিন বরছ বাচিয়া আছলা। এর মাজে তান আরো পুয়া-পুড়ি অইছলা।

14শালেখর তিশ বরছ বয়সর সময় তান পুয়া আবেরর জনম অইলো। 15আবেরর জন্মর বাদে শালেখ আরো চাইরশো তিন বরছ বাচিয়া আছলা। এর মাজে তান আরো পুয়া-পুড়ি অইছলা।

16আবেরর চৌতিশ বছরর সময় তান পুয়া ফালেজর জনম অইলো। 17ফালেজর জন্মর বাদে আবের আরো চাইরশো তিশ বরছ বাচিয়া আছলা। এর মাজে তান আরো পুয়া-পুড়ি অইছলা।

18ফালেজর তিশ বরছ বয়সর সময় তান পুয়া রাউর জনম অইলো। 19রাউর জন্মর বাদে ফালেজ আরো দুইশো নয় বরছ বাচিয়া আছলা। এর মাজে তান আরো পুয়া-পুড়ি অইছলা।

20রাউর বত্তিশ বছরর সময় তান পুয়া সারুজর জনম অইলো। 21সারুজর জন্মর বাদে রাউ আরো দুইশো সাত বরছ বাচিয়া আছলা। এর মাজে তান আরো পুয়া-পুড়ি অইছলা।

22সারুজর তিশ বছরর সময় তান পুয়া নাহুরর জনম অইলো। 23নাহুরর জন্মর বাদে সারুজ আরো দুইশো বরছ বাচিয়া আছলা। এর মাজে তান আরো পুয়া-পুড়ি অইছলা।

24নাহুরর উনতিশ বছরর সময় তান পুয়া তারেখর জনম অইলো। 25তারেখর জন্মর বাদে নাহুর আরো একশো উন্নিশ বরছ বাচিয়া আছলা। এর মাজে তান আরো পুয়া-পুড়ি অইছলা।

26তারেখর সত্তইর বছরর সময় তান পুয়াইন আব্‌রাম (তান বাদর নাম ইব্রাহিম), নাহুর আর হারনর জনম অইছিল।

27অউ অইলো তারেখর খান্দানর বয়ান। তারেখর পুয়ার নাম আছিল আব্‌রাম, নাহুর আর হারন। আর হারনর পুয়ার নাম লুত। 28হারন তান বাবা জিন্দা থাকতেউ, তান জনম-মাটি বাবিল দেশর উর টাউনো মারা গেছলা। 29আব্‌রাম আর নাহুর দুইজনে বিয়া করছলা। আব্‌রামর বউর নাম আছিল ছারা। আর নাহুরর বউর নাম মিলকা। মিলকা আর ইসকা আছলা হারনর পুড়িন। 30অইলে ছারার কুনু পুয়া-পুড়ি আছিল না, তাইন নিআওলাদি আছলা।

31তারেখে আব্‌রাম, লুত আর ছারারে লইয়া কেনান দেশো যাওয়ার লাগি বাবিল দেশর উর টাউন থাকি রওয়ানা অইলা। আব্‌রাম অইলা তারেখর পুয়া, হারনর পুয়া লুত অইলা তারেখর নাতি, আর ছারা অইলা তারেখর পুয়া আব্‌রামর বউ। পয়লা তারা হারান নামে এক টাউনো গেলা আর হখানো বসত করলা। 32তারেখ দুইশো পাচ বরছ বয়সো হারান টাউনো মারা গেলা।

12

হজরত আব্‌রাম [ইব্রাহিম] (আঃ) অর ছফরর হুকুম

1বাদে মাবুদে আব্‌রামরে ফরমাইলা, “তুমি তুমার নিজর দেশ, খেশ-কুটুম, আর বাবাইতি ভিটা-মাটি ছাড়িয়া আমি যে দেশ দেখাইমু হউ দেশো যাও। 2তুমার মাজ থাকি আমি বউত বড় এক জাতি পয়দা করমু। তুমারে রহম-বরকত দিমু। আমি তুমারে বড় ইজ্জতি বানাইমু, আর তুমার উছিলায় আস্তা দুনিয়ার মানষে রহম-বরকত পাইবা। 3আর হুনো, তুমারে যারা দোয়া দিবা, আমি আল্লায় তারারে রহম-বরকত দিমু, অইলে যারা তুমারে বদদোয়া দিবা, আমি তারারে লান্নত দিমু। দুনিয়ার হকল জাতিয়ে তুমার উছিলায় রহম-বরকত পাইবা।”

4মাবুদর হুকুম মতউ আব্‌রাম বার অইগেলা, তান ভাতিজা লুতও তান লগে গেলা। হারান টাউন ফালাইয়া যাওয়ার সময় আব্‌রামর বয়স আছিল পচত্তইর বরছ। 5তান বিবি ছারা আর ভাতিজা লুতরে লইয়া তাইন বার অইলা। হকল মাল-ছামানা লইয়া আর যে গুলাম অকলরে তাইন-তাইন হারান এলাকাত পাইছলা তারারে লইয়া কেনান দেশো যাইতা করি রওয়ানা দিলা। হেশে হনো গিয়া পৌছলা। 6কেনানর মাজেদি যাইতে যাইতে আব্‌রাম শিখিমো আইয়া মোরির এলন গাছর গেছে জিরাইলা। ই সময় কেনানী অকল হউ দেশো বসত করতা। 7মাবুদে আব্‌রামরে দরশন দিয়া কইলা, ই দেশখান আমি তুমার ওয়ারিশরে দিলাইমু। আব্‌রামরে যেইন দেখা দিলা, হউ মাবুদর নামে তাইন হনো এক কুরবানি খানা বানাইলা। 8হন থাকি তাইন বেথেল টাউনর পুবেদি পাড়ি এলাকাত আগুয়াই গেলা, গিয়া পইচমে বেথেল পুবে অয় টাউনর মাজখানো তাইন তাম্বু গাড়িলা। মাবুদর নামে তাইন ইনো এক কুরবানি খানা বানাইলা আর মাবুদর নাম লইলা। 9বাদে তাইন হিন থাকি হরতে হরতে নেগেভ নামর দউকনর মরুভুমির বায়দি গেলাগি।

হজরত ইব্রাহিম (আঃ) মিসর দেশো গেলা

10ই সময় কেনান দেশো নিদান দেখা দিলো। ই নিদান খুব বেথায়া অওয়ায়, আব্‌রামে মুছাফির হাজিয়া মিসর দেশো গেলাগি। 11মিসরর কান্দাত আইয়া আব্‌রামে তান বিবি ছারারে কইলা, “হুনো, আমি জানি তুমি খুব সুন্দরি। 12তুমি যেবলা মিসরী অকলর চউখো পড়বায়, তেউ তারা বুজব তুমি আমার বউ, আর তুমারে রাখিয়া আমারে খুন করিলিব। 13এরলাগি কইও, তুমি আমার বইন। এতে তুমার লাগি আমার ভালা অইবো, আর আমারে বাচাইয়া রাখব।” 14আব্‌রাম মিসরো আইয়া হারলে মিসরর মানষে দেখলা ছারা খুব সুন্দরি। 15মিসরর বাদশা ফেরাউনর গুইয়া অকলে তানে দেখিয়া ফেরাউনর গেছে গিয়া তান তারিফ করিয়া বউততা কইলা। আর ছারারে রাজবাড়ির ভিতরে নেওয়া অইলো। 16ছারার লাগি ফেরাউনে আব্‌রামরে মায়া করতা লাগলা। তাইন আব্‌রামরে বউত গরু-ছাগল, গাধা-গাধী, উট, আর বান্দি-গুলাম উপহার দিলা।

17অইলে বিবি ছারার লাগি মাবুদে ফেরাউন আর তার বাড়ির হকল মানষর মাজে বেসেবা বেমার পয়দা করলা। 18তেউ ফেরাউনে আব্‌রামরে নিয়া জিকাইলা, “আপনে আমার লগে ইতা কিতা করলা? তানরে কেনে আপনার বউ না কইয়া 19বইন কইলা? আর আমি তো তানরে বিয়া করার লাগি নেওয়াইছলাম। এইন তো আপনার বিবি, এনে লইয়া আপনে ইন থাকি হরি যাউক্কাগি।” 20অউ কথা কইয়া ফেরাউনে তান মানষরে হুকুম করলা, আর তারা আব্‌রামর হকল মাল-ছামানা সহ তানে আর তান বিবিরে বিদায় করি দিলা।

13

হজরত ইব্রাহিম আর হজরত লুত (আঃ)

1তেউ আব্‌রাম আর তান বিবিয়ে হকলতা লইয়া মিসর দেশ ফালাইয়া নেগেভ মরুভুমিত গেলাগি, লুতও তান লগে আছলা।

2আব্‌রাম খুব ধনি আছলা, তান বউত হেমান-জানোয়ার আর সোনা-রুপা আছিল। 3বাদে তাইন নেগেভ থাকি হরতে হরতে বেথেল পর্যন্ত গেলা। গিয়া তাইন বেথেল আর অয় টাউনর মাজখানো পৌছলা, যে জাগাত তাইন আগে তাম্বু গাড়িছলা 4আর পয়লা কুরবানি খানা বানাইছলা। অনো গিয়া তাইন হিরবার মাবুদর নাম লইলা। 5আব্‌রামর লগে মুছাফির আছলা তান ভাতিজা লুত, এনও বউত গরু-ছাগল আর তাম্বু আছিল। 6অইলে জাগাটা ইলা আছিল না যেন, দুইওজনর পশুর পালে একলগে খাইতা পারবা। গরু-ছাগল আর তাম্বু অতো বেশি আছিল যেন, ইতা লইয়া তারার থাকার উপায় আছিল না। 7এরলাগি আব্‌রাম আর লুতর রাখাল অকলে হামেশা দরবার-কাইজ্জা করতা। আর হি সময় কেনানী আর ফারিজী অকলও হি দেশো বসত করতো।

8তেউ আব্‌রামে লুতরে কইলা, “হুনো, আমরা তো দুইওজনউ আপন। তে তুমার-আমার মাজে আর তুমার-আমার রাখালর মাজেও দরবার-কাইজ্জা করা ঠিক নায়। 9হারা দেশটাউ তুমার ছামনে পড়ি রইছে। তে আও, আমরা আলগা অইযাই। তুমি বাউয়ে পছন্দ করলে, আমি ডাইনে, আর তুমি ডাইনে গেলে, আমি বাউয়ে যাইমু।” 10লুতে চাইয়া দেখলা, জর্দান গাংগর থল জাগার হকল বায় সোয়ার গাউ পর্যন্ত বউত পানি আছে, মাবুদর বাগিচা বা মিসর দেশর লাখান ই জাগাও ঘাস-পানি আলা। অউ সময়ও মাবুদে ছাদুম আর আমুরা টাউন বিনাশ করছইন না। 11এরলাগি লুতে জর্দান গাংগর হকল থল জাগা নিজর লাগি বাছিয়া পুবেদি হরিয়া গেলাগি। অউলা তারা আলগা অইগেলা। 12আব্‌রাম কেনান দেশো রইলা, আর লুত হউ থল জমিনর টাউন অকলর কাছাত গিয়া বসত করলা। তাইন ছাদুম টাউনর কিনারো তাম্বু গাড়িল্লা। 13ছাদুমর মানুষ অকল খুব খবিছ আছিল, মাবুদর নজরো তারা বেথায়া গুনাগার।

14লুত আলগা অওয়ার বাদে মাবুদে আব্‌রামরে কইলা, “তুমি যে জাগাত উবাইছো, ইকান থাকি উতরে-দউকনে, পুবে-পইচমে একবার চাইয়া দেখো। 15যে জাগা অকল তুমি দেখরায়, ইতা আমি তুমারে আর তুমার ওয়ারিশ অকলরে হামেশাকুর লাগি দিলাইমু। 16আমি তুমার ওয়ারিশরে দুনিয়াইর ধুইল-বালুর লাখান বেহিসাব করমু। দুনিয়ার ধুইল-বালু যুদি কেউ গনিয়া ফুড়াইতো পারে, তাইলে তুমার ওয়ারিশরেও গনতো পারব। 17উঠো, আস্তা দেশটা তুমি একবার ঘুরিয়া আও, অউ দেশউ আমি তুমারে দিমু।” 18তেউ আব্‌রামে তান তাম্বু তুলিয়া, হেবরন এলাকাত মম্রির এলন বনর কান্দাত নিয়া গাড়িলা। হখানো তাইন মাবুদর লাগি কুরবানি খানা বানাইলা।

14

হজরত লুত (আঃ) বন্দি অইলা

1বাবিল দেশর বাদশা অম্রাফেল, ইল্লাসরর বাদশা আরিয়াক, ইলামর বাদশা কদর-লাউমর আর গোয়ীমর বাদশা তিদিয়ল, এরা চাইরোজনে এক অইয়া 2ছাদুমর বাদশা বিরা, আমুরার বাদশা বিরশা, অদমার বাদশা শিনাব, ছবয়িমর বাদশা শিমেবর আর বিলার বা সোয়ারর বাদশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাত গেলা। 3অউ পাচজন বাদশায় তারার সিপাই অকলরে একখানো করিয়া সিদ্দিমর তল জাগাত লইয়া গেলা। ই জাগারে লোনা সাগর কইন। 4হি বাদশা অকলে বারো বরছ বাদশা কদর-লাউমরর গুলামি করিয়া তেরো বছরর সময় বিদ্রোহ করলা। 5এর বাদর বরছ বাদশা কদর-লাউমর আর তান লগর বাদশা অকলে গিয়া অস্তরোথ-কর্নয়ীমো রফায়ী অকলরে, হমো গিয়া জুজী অকলরে, আর শাবি-কিরিয়াতাইমো গিয়া এইমী অকলরে আরাইলা। 6বাদে মরুভুমির কাছার এল-ফারন পর্যন্ত সেয়ীর পাড়র হোরীয় অকলরেও আরাইলা। 7হেশে অউ বাদশা অকলে ঘুরিয়া গিয়া ঐন-মিস্পটো বা কাদেশ গেলা। তারা আমালেকী অকলর আস্তা দেশ দখল করলা আর হাজাজন-তামার টাউনো যে আমোরী অকল আছিল তারারেও দখল করলা। 8বাদে ছাদুম, আমুরা, অদমা, ছবয়িম আর বিলা বা সোয়ারর বাদশা অকলে 9ইলামর বাদশা কদর-লাউমর, গোয়ীমর বাদশা তিদিয়ল, বাবিলর বাদশা অম্রাফেল আর ইল্লাসরর বাদশা আরিয়াকর লগে যুদ্ধ করার লাগি সিদ্দিম নামর তল জাগাত তারার সিপাই অকল হাজাইলা। চাইর বাদশার বিরুদ্ধে পাচ বাদশায় লাগলা। 10সিদ্দিমর তল জাগাত তারতেলর বউত গাত-গাড়া আছিল। ছাদুম আর আমুরার বাদশাইন যেবলা বাগিয়া যাইরা, ই সময় তারার লগর কেউ কেউ অউ তারতেলর গাতো পড়ি গেলা, আর বাকি অকলে বাগিয়া পাড়ো গেলা। 11তেউ তারার দুশমন অকলে ছাদুম-আমুরার হকল ধন-ছামানা আর খানি-দানির হকলতা লুটিয়া লইয়া গেলোগি। 12আর তারা আব্‌রামর ভাতিজা লুতর হকল মাল-ছামানা সুদ্ধা হউ লুতরেউ ধরিয়া লইয়া গেলাগি, কারন এইনেউ ছাদুম টাউনো রইতা।

13তেউ একজনে বাগিয়া আইয়া ইবরানি আব্‌রামরে অউ খবর দিলো। আব্‌রাম ই সময় আমোরী মম্রির এলন বনর কাছাত থাকতা। ই মম্রি আছলা আশকুল আর আনেরর ভাই, আব্‌রামর লগে এরার যুদ্ধর সাইয্যর চুক্তি আছিল। 14তান ভাতিজারে ধরিয়া লইয়া গেছইনগি হুনিয়া আব্‌রামে লাড়াই জানরা নিজর তিনশো আঠারো জন গুলামরে লইয়া দান টাউন পর্যন্ত দুশমনর খরে খরে গেলা। অউ গুলাম অকল তান বাড়িতউ জন্মিছিল। 15রাইতর বালা দুশমনর দলর লাগাল পাইয়া এরা হামলা করিয়া হেরারে আরাই দিলা, আর খেদাইতে খেদাইতে দামেস্ক টাউনর উতরে হোবা পর্যন্ত গেলা। 16লুট করা হক্কল জিনিস তাইন ফিরাইয়া আনলা, মাল-ছামানা সুদ্ধা তান ভাতিজা লুতরেও উদ্ধার করলা। এর লগে হকল বেটিন্তরে আর হকল মানষরেও উদ্ধার করি আনলা।

বাদশা মালকী-সিদ্দিকে দোয়া দিলা

17কদর-লাউমর আর তার লগর বাদশা অকলরে আরাইয়া আব্‌রাম ফিরিয়া আওয়ার সময় ছাদুমর বাদশায় তান লগে দেখা করার লাগি শাবী বা বাদশা নামর তল জাগাত বার অইয়া আইলা। 18আর শালেমর বাদশা মালকী-সিদ্দিকে আব্‌রামর লাগি রুটি আর আংগুরর শরবত লইয়া আইলা, তাইন অইলা আল্লাতালার ইমাম। 19তাইন আব্‌রামরে দোয়া করিয়া কইলা, “যেইন আছমান আর জমিন পয়দা করছইন, হউ আল্লাতালা আব্‌রামরে বরকত দান করউক্কা। 20আপনার দুশমন অকলরে যেইন আপনার আতো সপিছইন, তান নাম ধইন্য অউক।” অউ আব্‌রামে তান হক্কলতার দশবাটর একবাট মালকী-সিদ্দিকরে দিলাইলা। 21আর ছাদুমর বাদশায় আব্‌রামরে কইলা, “আপনে মাল-ছামানা হকলতা রাখি দেউক্কা, খালি মানুষ গুইন আমারে ফিরত দিলাইন।” 22আব্‌রামে ছাদুমর বাদশারে কইলা, “যেইন আছমান-জমিন পয়দা করছইন হউ মাবুদ আল্লাতালার নামে আমি আত তুলিয়া কছম করছি, 23আপনার কুনু জিনিসউ, একছা সুতাউ বা পাওর জুতার একছা ফিতাও আমি নিতাম নায়। আরনায় বাদে আপনে কইবা, আমার ধনেউ আব্‌রাম ধনি অইছে। 24আমার মানষে যেতা খাইলিছইন ইতা ছাড়া আমি আর কিচ্ছু নিতাম নায়। খালি আনের, আশকুল আর মম্রি যেরা আমার লগে গেছলা, তারার পাওনা বাট তারা নেউক্কাগি।”

15

হজরত ইব্রাহিম (আঃ) অর লগে আল্লার ওয়াদা

1অতা ঘটনা অকলর বাদে ওহীর মাজে মাবুদর কালাম আব্‌রামর গেছে নাজিল অইলো। তাইন কইলা, “ও আব্‌রাম, ডরাইও না, আমিউ তুমার হেফাজতকারি, তুমার বউত বড় পুরুস্কার।” 2আব্‌রামে কইলা, “ও মাবুদ মউলা, আমারে কিতা দিতায়? আমি তো নিআওলাদি। আমি মরার বাদে দামেস্কর এলিয়েজের আমার সম্পত্তির মালিক অইবো। 3তুমি তো আমারে কুনু আওলাদ দিলায় না, এরলাগি আমার বাড়ির গুলাম আমার ওয়ারিশ অইবো।” 4অউ মাবুদে আব্‌রামরে কইলা, “না, হে নায়, তুমার নিজর বউর আওলাদউ তুমার ওয়ারিশ অইবো।” 5মাবুদে আব্‌রামরে বারে আনিয়া কইলা, “আছমানর বায় চাও, আর পারলে অউ তেরা অকল গনিয়া ফুড়াও, তুমার বংশর ওয়ারিশ অউলা বেহিসাব অইবো।” 6আব্‌রামে মাবুদর অউ ওয়াদারে একিন করলা, আর মাবুদে হউ একিনরে দীনদারি কাম হিসাবে কবুল করলা।

7আর তাইন আব্‌রামরে কইলা, “আমিউ মাবুদ। ই কেনান দেশর অধিকারি অইবার লাগি আমি তুমারে বাবিল দেশর উর টাউন থাকি বার করিয়া আনছি।” 8অউ আব্‌রামে কইলা, “ও মাবুদ মউলা, আমি ইতার মালিক অইমু করি কিলা বুজমু?” 9তাইন কইলা, “তুমি তিন বছরর একটা করি ডেকি, বকরি, আর মেড়ার পাঠা আমার ছামনে লইয়া আও, এর লগে একটা ডুপি পাখি আর একটা পারোর বাইচ্চাও আনিও।” 10আব্‌রামে অউলা করলা। তাইন ইতা হকলটি আনিয়া দুই টুকরা করিয়া উল্টা-উল্টি করি হাজাইয়া রাখলা, খালি পাখি অকলরে টুকরাইলা না। 11তেউ হকুন আইয়া অউ টুকরা অকলর উপরে পড়লে, আব্‌রামে খেদাইলা।

12সুরুজ ডুবার সময় আব্‌রামর এক বেউশি ঘুম আইলো। ঘুমর মাজে বেথায়া ডর আর আন্দাইরে তানে আছর করলো। 13অউ মাবুদে তানরে কইলা, “তুমি নিচ্চয় অইয়া জানিও, তুমার ওয়ারিশ অকলে অউলা দেশো গিয়া রইবা যেকটা তারার নিজর নায়। হনো তারা খুব জুলুম-মছিবতর মাজে রইয়া চাইরশো বরছ পর্যন্ত গুলামি করবা। 14আর যে জাতিয়ে তারারে গুলাম বানাইবা, আমি হি জাতির বিচার করমু। বাদে তারা বউত ধন-দৌলত লইয়া হন থনে বার অইয়া আইবা। 15আর তুমি শান্তিয়ে তুমার বাফ-দাদার গেছে যাইবায়। তুমি পুরা মুরব্বি বয়সো কয়বরো হামাইবায়। 16তুমার চাইর ছিড়ি বাদে এরা অনো ফিরিয়া আইবা, কারন আমোরী অকলর গুনা অখনও পুরা অইছে না।”

17সুরুজ ডুবিয়া যেবলা আন্দাইর অইগেল অউ সময় ধুমায় ভরা এক উন্দাল আর আগুনির মুশাল হউ হাজাইয়া রাখা কুরবানির টুকরাইন্তর মাজেদি গেল। 18মাবুদে হউ দিনউ আব্‌রামর লগে অউলা ওয়াদা করলা, “মিসরর গাং থনে বড় গাং ফোরাত পর্যন্ত আস্তা দেশ আমি তুমার ওয়ারিশরে দিলাম। 19ইকটা অইলো কেনী, কনিজী, কদমোনী, 20হিট্টী, ফারিজী, রফায়ী, 21আমোরী, কেনানী, গির্গাশী আর যিবুজী অকলর দেশ।”

16

হজরত ইছমাইল (আঃ) অর জনম

1বিবি ছারার পেটো আব্‌রামর কুনু হুরুতা অইছইন না, অইলে হাজেরা নামে ছারার এক মিসরী বান্দি বেটি আছলা। 2একদিন ছারায় আব্‌রামরে কইলা, “হুনো, মাবুদে আমারে নিআওলাদি করছইন। তে তুমি আমার বান্দির কাছাত যাও, কিবা তাইরে দিয়া আমি আওলাদ পাইলিতাম পারি।” অউ আব্‌রামও ছারার মাতে রাজি অইলা। 3কেনান দেশো আব্‌রাম দশ বরছ রওয়ার বাদে ছারায় তান মিসরী বান্দি হাজেরারে নিজর জামাই আব্‌রামর লগে বিয়া দিলা। 4বাদে আব্‌রাম আর হাজেরা একখানো রইলে তাইর পেটো হুরুতা আইল। হাজেরায় যেবলা বুজল তাইর হুরুতা অইতা তেউ তাইর মালিক বিবির বায় বড়াই দেখানিত লাগল। 5অউ ছারায় আব্‌রামরে কইলা, “আমার বায় তাইর বেয়াদবির লাগি তুমিউ দায়ী। আমার ই বান্দিরে আমিউ তুমার বিছনাত তুলিয়া দিছলাম, আর অখন তাইর হুরুতা অইতা করি আমারে বড়াই দেখার। মাবুদে তুমার-আমার বিচার করউক্কা।” 6আব্‌রামে ছারারে কইলা, “দেখো, তুমার বান্দি তো তুমার আতোউ আছে। তুমার যেলা ভালা মনে কয় অলাউ করো।” অউ ছারায় হাজেরারে অউলা দুখ দিলা, দুখে তাই তান গেছ থাকি বাগিয়া গেলগি।

7পথো মরুভুমির মাজে একটা পানির কুয়ার কাছাত মাবুদর ফিরিস্তায় হাজেরারে পাইলা। ই কুয়া আছিল শুর নামর জাগাত যাওয়ার পথো। 8ফিরিস্তায় কইলা, “ও ছারার বান্দি হাজেরা, তুমি কই থাকি আইরায় আর কই যাইতায়?” হাজেরায় কইলো, “আমি আমার মালিক বিবি ছারার গেছ থাকি বাগিয়া যাইরামগি।” 9তেউ মাবুদর ফিরিস্তায় কইলা, “তুমার মালিক বিবির গেছে ফিরিয়া গিয়া কল্লা নোয়াইয়া হিরবার তান খেজমতো লাগো।” 10তাইন আরো কইলা, “আমি তুমার ওয়ারিশ অউলা বাড়াই দিমু, তারারে গনিয়া ফুড়াইতো নায়। 11হুনো, তুমার পেটো হুরুতা আছে। তুমার এক পুয়া অইবো, তার নাম রাখিও ইছমাইল [মানি, আল্লায় হুনইন], কারন মাবুদে তুমার দুখ হুনছইন। 12আর বড় অইলে হে লাগাম ছাড়া ঘোড়ার লাখান অইবো। হে হক্কলর বায় আত তুলব, আর হক্কলে তার বায় আত তুলবা। ভাইয়াইন্তর লগে হামেশা তার লাগ থাকব।” 13আর হাজেরার লগে মাবুদে মাতিলা করি, তাই তান নাম দিলো “তুমি দেখা দেনেআলা আল্লা”; তাই কইলো, “যেইন আমারে দেখইন, আমি অনোউ তানরে দেখলাম নায় নি?” 14এরলাগি কাদেশ আর বেরেদর মাজর হি কুয়ার নাম অইলো, বের-লহয়-রোয়ী [মানি, যেইন জিন্দা আর আমারে দেখরা, তান কুয়া]।

15বাদে সময় আইলে হাজেরার ঘরো এক পুয়া অইলো, আব্‌রামে অউ পুয়ার নাম রাখলা ইছমাইল। 16আব্‌রামর বয়স যেবলা ছিয়াশি বছর অইগেছে, অউ সময় হাজেরার ঘরো ইছমাইলর জনম অইলো।

17

আব্‌রাম থাকি নয়া নাম ইব্রাহিম

1আব্‌রামর নিরান্নব্বই বরছর সময় মাবুদে হিরবার তানরে দিদার দিয়া কইলা, “আমি সর্ব-শক্তিমান আল্লা। তুমি আমার দেওয়া পথো থাকিয়া কামিল অও। 2আমি তুমার-আমার মাজে চুক্তি কাইম করমু আর তুমার ওয়ারিশ খুব বেশি বাড়াই দিমু।” 3তেউ আব্‌রাম সইজদাত পড়লা, আর আল্লায় তান লগে বাতচিত করি কইলা, 4“তুমার লগে আমি ওয়াদা কাইম করিয়ার, তুমি বউত জাতির মুল বাফ অইবায়। 5তুমারে আর আব্‌রাম [মানি, বড় বাফ] কইয়া ডাকা অইতো নায়, অখন থাকি তুমার নাম অইলো ইব্রাহিম [মানি, বউত জাতির বাফ], আমি তুমারে বউত জাতির মুল বাফ বানাইলাম। 6আমি তুমারে বউত ফলআলা করমু, আর তুমার মাজ থনে বউত জাতি আর বাদশা অকল পয়দা করমু। 7আমি তুমার আর তুমার ওয়ারিশর পর ওয়ারিশ অকলর লগে যে চুক্তি কাইম করমু, ইকটা হর-হামেশা বওয়াল থাকব, এর জরিয়ায় আমি তুমার আর তুমার ওয়ারিশর পর ওয়ারিশ অকলর আল্লা অইমু। 8আর যে কেনান দেশো তুমি অখন মুছাফির অইয়া থাকরায়, ই পুরাটাউ আমি তুমারে আর তুমার ওয়ারিশ অকলরে হর-হামেশাকুর দখলর লাগি দিমু। আমি তারার আল্লা অইমু।”

মছলমানি কামর চুক্তি

9আল্লায় ইব্রাহিমরে কইলা, “তুমি আমার কাইম করা চুক্তি মানিও, তুমি আর তুমার ওয়ারিশর পর ওয়ারিশ অকলেও মানিয়া চলিও। 10তুমরার লগে আর তুমরার ওয়ারিশর লগে আমার অউলা চুক্তি কাইম অইলো, তুমরার হকল বেটাইন্তর মছলমানি কাম করাইতে অইবো। 11তুমরা হকলে নিজর পুরুষ-অংগর মুখার চামড়া কাটবায়। অকটাউ তুমরার আর আমার মাজে বওয়াল করা চুক্তির নিশানা। 12ওয়ারিশর পর ওয়ারিশ ধরিয়া তুমরার হকল পুয়াইন্তরে জন্মর আট দিনর দিন মছলমানি করাইবায়। যারা তুমার ওয়ারিশ নায়, খালি তুমরার বাড়িত জন্মিছে বা তুমরার খরিদা গুলাম, তারারও মছলমানি করানি লাগব। 13তুমরার ঘরো জন্মিছে বা খরিদা গুলাম অকলরে নিচয় মছলমানি করাইবায়। তুমরার শরিলো জারি করা আমার ই চুক্তি হর-হামেশাকুর চুক্তি অইবো। 14যে বেটায় পুরুষ অংগর মুখার চামড়া কাটত নায়, তারে তার জাতির মাজ থাকি ফুছিয়া ফালাইল অইবো। হে তো আমার চুক্তির বরখেলাফ করছে।”

15আল্লায় ইব্রাহিমরে কইলা, “তুমার বিবিরে আর ছারা কইয়া ডাকিও না। এন নাম অইবো ছায়রা [মানি, রানী]। 16আমি তাইরে বরকত নাজিল করমু, তাইর ঘরো তুমার এক পুয়া দিমু। আর বরকত নাজিল করিয়া বউত জাতির মুল মা বানাইমু, আর বউত মুল্লুকর বাদশা অকলও পয়দা অইবা।” 17অউ ইব্রাহিমে মাটিত সইজদাত পড়ি আসিয়া মনে মনে কইলা, “হাছাউ একশো বছরর বুড়ার হুরুতা অইতো নি! তা-ও নব্বই বছরর বুড়ি ছায়রার পেটো?” 18তাইন আল্লারে কইলা, “আহ! ইছমাইলগু যানু তুমার রহমতে বাচিয়া থাকে।” 19অউ আল্লায় ফরমাইলা, “ঠিক আছে। অইলে তুমার বিবি ছায়রার পেটো হাছাউ তুমার পুয়া অইবো, তুমি তার নাম রাখবায় ইছহাক [মানি, হে আসে]। তার লগে আমার চুক্তি কাইম করমু, তার ওয়ারিশর লগে ইকটা আমার হর-হামেশাকুর চুক্তি অইবো। 20আর ইছমাইলর লাগিও তুমার দোয়া হুনছি। হুনো, আমি তারেও বরকত নাজিল করমু আর তারে ফলআলা করিয়া বউত বাড়াই দিমু। হে বারোজন রাজার বাফ অইবো আর তার মাজেদি আমি বিরাট জাতি পয়দা করমু। 21ছামনর বরছ ই চান্দো ছায়রার ঘরো তুমার যে হুরুতা অইবো, হউ ইছহাকর লগে আমি আমার চুক্তি কাইম করমু।” 22ইব্রাহিমর লগে বাতচিত শেষ করিয়া আল্লায় তান গেছ থাকি উঠিয়া তশরিফ নিলাগি।

23আল্লার হুকুম মত ইব্রাহিমে হউ দিনউ ইছমাইলরে মছলমানি করাইলা। এর লগে খরিদা গুলাম অকল আর তান বাড়িত জন্মিছে ইলা হকল গুলামরে, বাড়ির হক্কল বেটাইন্তরে মছলমানি করাইলা। 24ইব্রাহিমর নিজর মছলমানি কাম করানির সময় তান বয়স আছিল নিরান্নব্বই বরছ, 25আর তান পুয়া ইছমাইলর বয়স তেরো। 26এক দিনেউ ইব্রাহিম আর তান পুয়া ইছমাইলর মছলমানি করাইল অইলো। 27হি দিন বাড়ির হকল বেটাইন্তর, যারা তান বাড়িত জন্মিছিল আর যেরারে বিদেশ থাকি লইয়া আনছইন, ইতা হকলরউ মছলমানি কাম একলগে করাইল অইলো।

18

বিবি ছায়রার ঘরো পুয়ার ওয়াদা

1বাদে মম্রির এলন বনর কাছাত মাবুদে ইব্রাহিমরে দেখা দিলা। তাইন দিনর গরমর সময় তাম্বুর দরজাত বওয়াত আছলা। 2অউলা সময় চউখ তুলিয়া দেখলা, তান ছামনে তিনজন মানুষ উবাইরইছইন। দেখিয়াউ তাইন দরজার গেছ থাকি দৌড়াইয়া গিয়া, মাটিত সইজদা করিয়া তারারে কইলা, 3“ও মুনিব, আমি যুদি আপনারার মায়ার কুনু মানুষ অই, তাইলে আপনারার ই গুলামরে ফালাইয়া যাইন না যেন। 4আমি থুড়া পানি আনিয়া দিয়ার আপনারা আত-পাও ধইয়া, অউ গাছ তলাত জিরাউক্কা। 5আর ই গুলামর কাছাত যেবলা আইছইন, তে থুড়া খানি আনিয়া দেই, অতা খাইয়া জানো আরাম অইলে আপনারা হিরবার রওয়ানা দিবানে।” তারা কইলা, “ভালা, আপনে যেবলা কইরা, তে করউক্কা।” 6ইব্রাহিমে লগে লগে ভিতরে গিয়া ছায়রারে কইলা, “জলদি করিয়া তিন পেটু ভালা ময়দা মাখিয়া পিঠা বানাও।” 7তাইন দৌড়াইয়া গিয়া গরুর পাল থনে খুব ভালা একটা কছমা বাছুর আনিয়া তান গুলামরে দিলা। হে-ও জলদি করি অকটা রান্দিলো। 8অউ ইব্রাহিমে দুধ, দই আর গোস্ত আনিয়া তারারে খাইবার দিলা, তারা খাওয়া-দাওয়া করলা। তাইন তারার কান্দাত গাছ তলাত উবাইলা।

9তারা ইব্রাহিমরে জিকাইলা, “আপনার বিবি ছায়রা কই?” তাইন কইলা, “অউনু, তাম্বুর ভিতরে আছইন।” 10অউ এরার মাজে একজনে কইলা, “ছামনর বরছ ই চান্দো আমি অবশ্যউ আপনার গেছে আইমু। দেখবা, অউ সময় আপনার বিবি ছায়রার কুলো এক পুয়া থাকব।” ছায়রায় ইব্রাহিমর খরে তাম্বুর দরজাত উবাইয়া ইতা হুনলা। 11ই সময় ইব্রাহিম আর ছায়রা বুড়া-জইফ অইগেছইন, হুরুতা অওয়ার লাখান বয়সও ছায়রার রইছিল না। 12এরলাগি ছায়রায় মনে মনে আসিয়া কইলা, “আমার অউলা হেশকালি বয়সো ইতা খুশি আর আইবো নি? আমার মালিকও মুরব্বি অইগেছইন।” 13তেউ মাবুদে ইব্রাহিমরে কইলা, “ছায়রায় কিতার লাগি ইতা কইয়া আসলো যেন, হাছাউ আমার হুরুতা অইবো নি, আমি তো বুড়ি? 14মাবুদে পারইন না ইলা কুন্তা আছে নি? দেখিও, ঠিক সময়ে আমি হিরবার তুমার গেছে আইমু, আর ই সময় ছায়রার কুলো পুয়া থাকব।” 15ছায়রায় ডরাইয়া কইলা, “জি না, আমি তো আসছি না।” অউ তাইন কইলা, “না-রেবা, তুমি নু আসিলায়।”

ছাদুম টাউনর লাগি ইব্রাহিম (আঃ) অর মিনতি

16এরবাদে হউ তিনজনে ইন থনে উঠিয়া ছাদুমর বায় চাইলা। ইব্রাহিমে তারার লগে অইয়া বিদায় দেওয়াত গেলা। 17তেউ মাবুদে কইলা, “আমি যেতা করতাম চাইয়ার, ইতা কুনু ইব্রাহিমরে লুকাইতাম নি? 18ইব্রাহিম থাকিয়াউ তো আমি এক মহান হিম্মতআলা জাতি পয়দা করমু, দুনিয়াইর হকল জাতিয়ে অন থনে বরকত কামাইবা। 19এরলাগিউ আমি তারে খাতির করছি, হে তার ওয়ারিশ আর তার নিজর হকলরে আমার মর্জি মানিয়া হক আর ইনছাফর কাম করার হুকুম দেয়। তারাও যুদি অউ লাখান চলে, তাইলে আমি মাবুদে ইব্রাহিমর বেয়াপারে যততা কইছি, হকলতাউ পুরা করমু।” 20বাদে মাবুদে কইলা, “ছাদুম আর আমুরার বিরুদ্ধে খুব নালিশ আর ফরিয়াদ হুনিয়ার, তারার গুনাও খুব বেজুইতা। 21এরলাগি আমি তলে লামিয়া গিয়া দেখি, আমি যেলা নালিশ হুনিয়ার, ইতা হাছাউ অউলা খারাপ কি না। আর না অইলেও তো দেখমু।”

22অউ হি দুইওজনে ফিরিয়া ছাদুমর বায় রওয়ানা দিলা আর ইব্রাহিম মাবুদর গেছে উবাই রইলা। 23বাদে ইব্রাহিমে মাবুদর বায় আগুয়াইয়া গিয়া কইলা, “আপনে গুনাগারর লগে হক মানুষ অকলরেও মারিলাইতা নি? 24টাউনর মাজে যুদি পইঞ্চাশ জন হক মানুষ থাকে তাইলে হউ পইঞ্চাশ জনর খাতিরে টাউনরে মেহেরবানি না করিয়া বিনাশ করিলাইবা নি? 25তে আপনার কাম তো অউলা নায়, হক আর গুনাগাররে একলগে মারিলাওয়া, এক হমান সাজা দেওয়া, আপনার লাগি তো ঠিক নায়। যেইন হারা দুনিয়ার বিচার করইন, তাইন কুনু হক ইনছাফ করতা নায় নি?” 26মাবুদে কইলা, “যুদি ছাদুম টাউনো পইঞ্চাশ জনও হক মানুষ থাকইন, তাইলে তারার খাতিরে আমি আস্তা টাউনরে রেহাই দিলাইমু।” 27ইব্রাহিমে কইলা, “দেখউক্কা, আমি তো ধুইল আর ছালি ছাড়া কুন্তা নায়, তা-ও আমি সাওস করিয়া আমার মালিকর লগে মাতিয়ার। 28ধরউক্কা, যুদি পইঞ্চাশ জন হক মানুষ না অইয়া পাচ জন কম অয়, তাইলে কিতা অউ পাচ জন কমর লাগি আপনে আস্তা টাউন বিনাশ করিলাইবা নি?” তাইন কইলা, “আমি যুদি হিনো পয়তাল্লিশ জনরে পাই, তাইলে ইকটা বিনাশ করতাম নায়।” 29ইব্রাহিমে তানরে হিরবার কইলা, “ধরউক্কা, যুদি হিনো চাল্লিশ জন পাওয়া যায়?” মাবুদে কইলা, “হউ চাল্লিশ জনর খাতিরে আমি বিনাশ করতাম নায়।” 30ইব্রাহিমে কইলা, “আমার মালিক যানু আমার মাতে নারাজ না অইন। আইচ্ছা, যুদি হিনো তিশ জনরে পাওয়া যায়?” তাইন কইলা, “যুদি আমি তিশ জনরেও পাই, তাইলেও আমি বিনাশ করতাম নায়।” 31ইব্রাহিমে কইলা, “আমি যেবলা হিম্মত করিয়া মালিকর লগে বাতচিত করিয়ার তে হিরবার কইয়ার, যুদি হিনো বিশ জনরে পাওয়া যায়?” মাবুদে জুয়াপ দিলা, “হউ বিশ জনর খাতিরেউ আমি ইকটা বিনাশ করতাম নায়।” 32হেশে ইব্রাহিমে কইলা, “আমার মালিক যানু নারাজ না অইন, আমি খালি আরো একবারতা কইয়ার, যুদি হিনো দশ জন থাকইন?” মাবুদে কইলা, “হউ দশ জনর খাতিরেউ আমি ইকটা বিনাশ করতাম নায়।” 33ইব্রাহিমর লগে মাবুদর বাত-ছওয়াল শেষ অইয়া হারলে রওয়ানা দিলাইলা, আর ইব্রাহিমও তান বাড়িত ফিরিয়া আইলা।

19

ছাদুম টাউনর উপরে আল্লার গজব

1বাদে হাইঞ্জা বালা হউ দুইজন ফিরিস্তা ছাদুম টাউনো গেলা। ই সময় লুত টাউনর মুল গেইটর গেছে বওয়াত আছলা, এরারে দেখিয়া তাইন উবাইলা আর মাটিত সইজদা করিয়া কইলা, 2“ও আমার মালিক অকল, আমি মিনতি করি কইয়ার, দয়া করি আপনারার অউ গুলামর ঘরো তশরিফ আনিলাউক্কা আর আত-পাও ধইয়া রাইতখান কাটাউক্কা। বিয়ানে হিরবার রওয়ানা অইবানে।” এরা কইলা, “না, আমরা অউ টাউনর ময়দানো রাইত কাটাইমু।” 3তাইন যেবলা খুব মিনত-কাজ্জি কররা অউ সময় এরা তান বাড়িত হামাইলা। বাদে লুতে রুটি বানাইয়া এরার লাগি খানা-দানা জুইত করলা, আর তারা খাইলা। 4এরার হুতিবার আগেউ ছাদুম টাউনর হক্কল জুয়ান-বুড়া বেটাইন্তে আইয়া হি বাড়িরে বেরিলাইলা, 5আর লুতরে ডাকিয়া কইলা, “আইজ রাইত যে দুইজন মানুষ তোর ইনো আইছে, তারা কই? অতারে বার করিয়া আমরার গেছে আন। আমরা অতার লগে মউজ করতাম।” 6অউ সময় লুতে দরজার বারে গিয়া তান খরর দরজা বন্দ করিয়া তারারে কইলা, 7“ভাইয়াইনরে, আমি মিনত করিয়ার, তুমরা ইলা বদ-কাম করিও না। 8দেখো, আমার দুইটা সতী পুড়ি আছে। আমি বার করিয়া তুমরার গেছে লইয়া আইয়ার, তারা কুনু বেটাইন্তর গেছে রইছইন না, তুমরার যেতা মনে চায় করো; তা-ও, ই মানষর লগে তুমরা কুন্তা করিও না, এরা আমার ঘরো আশ্রয় লইছইন।” 9অইলে তারা কইলো, “যা, যা, পথ থাকি হর!” তারা আরো কইলো, “অই বেটা, তুই একলা বৈতল অইয়া আইছছ আর খালি আমরার উপরে নেতাগিরি কররে। অখন এরার চাইতে তোর লগে আরো বেশি খবিছি করমু।” কইয়াউ তারা লুতরে ঠেলিয়া হরাইয়া দরজা ভাংগতো চাইলো। 10অউ সময় হউ দুইজনে আত বাড়াইয়া, লুতরে ঘরর ভিতরে টানিয়া নিয়া দরজা বন্দ করি দিলা। 11আর দরজার বারে উবাইল হুরু-বড় হকল আখতাউ আন্দা অইগেল, আর দরজা তুকাইতে তুকাইতে হেরান অইগেল।

12বাদে হউ দুইওজনে লুতরে জিকাইলা, “ইনো তুমার আর কে কে আছে? তুমার পুয়া-পুড়ি আর দামান্দরে লইয়া ইন থনে হরিয়া যাওগি। 13কারন আমরা ই জাগারে ছারখার করিলাইয়ার। ইনর মানষর বিরুদ্ধে মাবুদর গেছে অউলা বেজুইতা নালিশ অইছে যেন, ইকটা বিনাশ করার লাগি তাইন আমরারে পাঠাইছইন।” 14অউ লুতে বারে গিয়া তান দামান্দ অকলরে কইলা, “আও, তুমরা ই জাগা ছাড়িয়া বারও কারন মাবুদে ই টাউনরে বিনাশ করার লাগি তিয়ার অইরইছইন।” অইলে তারা মনে করলো, তাইন ইতা তামশা কররা।

15পতাবালা হউ ফিরিস্তায় লুতরে তাগদা দিয়া কইলা, “উঠো, জলদি করি তুমার বউ আর ই দুইও পুড়িরে লইয়া অন থনে যাওগি। নাইলে অউ গজবর মাজে পড়িয়া বিনাশ অইযিবায়।” 16লুতে যাই-যাইরাম অউলা কররা। অইলে মাবুদর মায়া তান উপরে আছিল করি হউ দুইওজনে, তাইন আর তান বউ আর তান দুইও পুড়িন্তর আতো ধরি টানিয়া টাউনর বারে লইয়া আইলা। 17হকলরে বার করিয়া আনার বাদে তারা কইলা, “বাচতে চাইলে বাগো, খরেদি চাইওনা, বাগিয়া পাড়ো যাও, ই থল জাগার কুনুখানো উবাইওনা আরনায় তুমরাও মরবায়।” 18অউ লুতে কইলা, “ও আমার মালিক অকল, ইলা করইন না যেন; 19দেখউক্কা, আপনার ই গুলামরে আপনে মেহেরবানি করছইন, আর আমার জান বাচাইবার লাগি আপনে আমারে মহা দয়া দেখাইছইন। অইলে আমি বাগিয়া পাড়ো যাইতাম পারতাম নায়। হয়ত ই বিপদ আইয়া আমারে জাতা মারি ধরলে, আমিও মরমু। 20দেখউক্কা, বাগিয়া যাইতে তো অউ হুরু গাউটা কাছাত আছে। জান বাচাইবার লাগি আমারে অনো পাঠাই দেউক্কা। গাউটা হুরু-মুরু আছে।” 21তাইন কইলা, “ঠিক আছে, আমি তুমার ই আরজি মানলাম। তুমি যে গাউর কথা কইলায়, ইটা আমি ধ্বংস করতাম নায়। 22জলদি করি হিনো যাও। তুমি হনো না পৌছানি পর্যন্ত আমি কুন্তা করতাম পারিয়ার না।” লুতর কথার লাগি হউ গাউর নাম অইলো সোয়ার [মানি, হুরু]। 23লুতে যেবলা সোয়ারো গিয়া পৌছলা ই সময় সুরুজ উঠিগেছে।

24এরবাদেউ মাবুদে আছমান থাকি ছাদুম আর আমুরার উপরে আগুইন আর গন্ধকর গজব ছাড়িলা। 25তাইন হি টাউন অকল, হকল থল জাগা, হক্কল মানুষ আর হি মাটির উপরর হক্কলতা ধ্বংস করিলাইলা। 26এরমাজে লুতর বউয়ে খরেদি ফিরিয়া চাওয়ায়, তাইন একটা নুনর চাক্কা অইগেলা।

27বাদর দিন ইব্রাহিমে বিয়ানে উঠিয়া হউ জাগাত গেলা যেনো আগর দিন তাইন মাবুদর গেছে উবাইছলা। 28তাইন তলে ছাদুম, আমুরা আর হকল থল জাগার বায় চাইয়া দেখলা, ইট-ভাটা থাকি যেলা ধুমা বারয়, অউ লাখান হউ এলাকা থাকি ধুমা উড়ের।

29আর লুতে যেখানো বসত করতা, হউ থল জাগার টাউন অকল ধ্বংস করার সময়, আল্লায় ইব্রাহিমর কথা মনো করিয়া লুতরে হিনর গজবর মাজ থাকি হরাইয়া আনলা।

মোয়াব আর বিন-অম্মি জাতির খবিছি পয়দা

30সোয়ার গাউত রইতে ডরাইলা করি, লুতে তান দুইও পুড়িরে লইয়া হিন থাকি বার অইয়া পাড়ো আইয়া, এক গাতর ভিতরে রইলা। 31একদিন তান বড় পুড়িয়ে হুরু বইনরে কইলো, “বাবা তো মুরব্বি অইগেছইন। আর জগতর সমাজর নিয়ম মত আমরারে বিয়া করার লাগি ইনো কুনু বেটাইনও নায়। 32তে আয়, আমরা বাবারে শরাব খাওয়াইয়া তান কাছাত রই। তেউ বাবারেদি আমরার বংশ বাচাইতাম পারমু।” 33অউ তারা দুইওজনে রাইতর বালা তানরে শরাব খাওয়াইয়া টাল বানাইলো। বাদে বড় বইন বাফর গেছে হুতিতো গেল, অইলে কুন সময় হুতিলো আর কুন সময় উঠিলো, বাফে কুন্তাউ টের পাইলা না। 34বাদর দিন বড়গুয়ে হুরুগুরে কইলো, “দেখ, কাইল রাইত আমি বাবার গেছে হুতিছলাম। আয়, আইজ রাইতও তানে অউলা শরাব খাওয়াইয়া টাল বানাই, বাদে তুইও গিয়া তান গেছে হুতিছ। তে বাবারেদি আমরার বংশ বাচাইতাম পারমু।” 35অউ লাখান তারা হউ রাইতও তারার বাফরে শরাব খাওয়াইয়া টাল বানাইলো, আর হুরু পুড়ি তাইর বাফর গেছে হুতিল। তাই কুন সময় হুতিল আর কুন সময় উঠিল, ইতা তাইন কুন্তাউ টের পাইলা না। 36অউ নমুনায় লুতর দুইও পুড়ির পেটো বাফরেদি হুরুতা আইল। 37বাদে বড় পুড়ির ঘরো পুয়া অইলে, এর নাম রাখলো মোয়াব [মানি, বাবার গেছ থনে]। অউ মোয়াবউ অখনকুর মোয়াবী অকলর মুল বাফ। 38আর হুরু পুড়িরও এক পুয়া অইলো, এর নাম রাখলো বিন-অম্মি [মানি, আমার মুল্লুকর পুয়া]। হে অখনকুর বনি-আম্মানর মুল বাফ।

20

গেরারর বাদশায় বিবি ছায়রারে নিলা

1আর ইব্রাহিমে হিনথনে নেগেভর মরুভুমির বায় গিয়া কাদেশ আর শুরর মাজখানো গেরার দেশো রইলা। 2হনো হিরবার তান বউ ছায়রারে নিজর বইন কইয়া পরিচয় দিলা। এরলাগি হিনর বাদশা আবিমালিকে মানুষদি ছায়রারে তান গেছে নিলাগি। 3আর রাইত আল্লায় আবিমালিকরে খোয়াবে কইলা, “হুনো, অউ যে বেটিরে তুমি লইয়া আইছো, তাইর তো জামাই আছে, এরলাগি তুমি অখন মউতর মুখো।” 4আবিমালিক অখনও ছায়রার গেছে গেছইন না। এরলাগি তাইন কইলা, “ও মালিক, নি-অপরাধি জাতি অইলেও কিতা আপনে মারিলাইতা নি? 5অউ মানুষটায় তো নিজেউ কইছে, এইন তার বইন। আর অউ বেটিয়েও কইছইন না নি, এইন তান ভাই? আমি তো সরল মনে নি-অপরাধি আতে ই কাম করছি।” 6আল্লায় খোয়াবে তানরে কইলা, “আমিও জানি, তুমি সরল মনে ই কাম করছো। এরলাগি তুমারে গুনার কাম থাকি আমি দম লওয়াইলাম। তাইরে ছইতে দিলাম না। 7অখন তুমি তান বিবিরে তান গেছে ফিরত দিলাও। তাইন একজন নবী। তাইন তুমার লাগি দোয়া করবা, তেউ তুমার জান বাচব। আর যুদি তাইরে ফিরত না দেও, তে জানিলিও, তুমি আর তুমার হকলউ নিচয় মরবায়।”

8অউ আবিমালিকে ফজরে উঠিয়া তান নিজর উজির-নাজির অকলরে ইতা হকলতা কইলা, ইতা হুনিয়া তারা খুব বেশি ডরাইলা। 9বাদে আবিমালিকে ইব্রাহিমরে আনাইয়া কইলা, “আপনে আমরার লগে ইতা কুন জাতর বেবহার করলা? আমি আপনার গেছে কিতা দুষ করছি যেন, আপনে আমারে আর আমার বাদশাইরে অতো বড় গুনার দায়ে ফালাইলা? আপনে তো আমার লগে ইতা অইন্যায় কাম করলা।” 10আবিমালিকে আরো কইলা, “আপনে কিতা দেখিয়া ইলা কাম করলা?” 11ইব্রাহিমে জুয়াপ দিলা, “আমি মনে করছলাম, ই জাগার মানষর আল্লার বায় কুনু ডর-ভয় নায়, এরলাগি আমার বউর লালছে হয়ত তারা আমারে খুন করবা। 12আর তাই হাছাউ আমার বইন লাগে, কারন তাই আমার হাতন ঘরর বইন, আর অখন আমার বউ। 13আল্লায় যেবলা আমারে আমার বাফর বাড়ি থনে বার করি আনলা, অউ সময় আমি তাইরে কইছলাম, ‘তুমি আমারে অউ মায়াখান করিও, আমরা যেনোউ যাই না কেনে, তুমি আমারে তুমার ভাই কইয়া পরিচয় দিও।’” 14বাদে আবিমালিকে কতটা মেড়া-গরু, বান্দি-গুলাম ইব্রাহিমরে দিলা আর তান বিবি ছায়রারেও ফিরত দিলাইলা। 15আবিমালিকে কইলা, “দেখউক্কা, আমার আস্তা দেশটাউ আপনার ছামনে পড়িরইছে, তে আপনার যেনো পছন্দ অনোউ রউক্কা।” 16তাইন ছায়রারে কইলা, “দেখউক্কা, আমি আপনার ভাইরে এক আজার রুপার টেকা দিলাম। আর আপনার ইজ্জতর হকল বিচারর ফয়ছালা অইলো।” 17বাদে ইব্রাহিমে আল্লার গেছে দোয়া করলা, আর আল্লায় আবিমালিক, তান বউ আর তান বান্দি অকলরে শিফা করলা আর তারার হুরুতাও অইলা। 18কারন ইব্রাহিমর বিবি ছায়রার লাগি মাবুদে আবিমালিকর বাড়ির হকল বেটিন্তর হুরুতা অওয়া বন্দ করি দিছলা।

21

হজরত ইছহাক (আঃ) অর জনম

1মাবুদে তান কালাম মুতাবেক বিবি ছায়রারে হেফাজত করলা, তাইন যেলা ওয়াদা করছলা, অলাউ করলা। 2আর বিবি ছায়রার পেটো হুরুতা আইল। আল্লায় যে সময়কুর কথা কইছলা, হউ সময়েউ ইব্রাহিমর মুরব্বি বয়সো তান পুয়ার জনম অইলো। 3ইব্রাহিমে ছায়রার ঘরর তান অউ পুয়ার নাম রাখলা ইছহাক [মানি, আসা]। 4আল্লার হুকুম মত তাইন আট দিনর দিন তান পুয়া ইছহাকর মছলমানি কাম করাইলা। 5ইব্রাহিমর একশো বছরর সময় তান পুয়া ইছহাকর জনম অইলো। 6বিবি ছায়রায় কইলা, “আল্লায় আমার মুখো আসি বার করলা, আর ইতা যে হুনব, হে-ও আমার লগে আসিব।” 7তাইন আরো কইলা, “ছায়রায় পুয়াইন্তরে বুকুর দুধ খাওয়াইব, ইতা ইব্রাহিমরে কে কইলো অনে? আর অখন তো অউ বুড়া বয়সো, আমার পেটো তান পুয়া পয়দা অইলো।”

বিবি হাজেরা আর তান পুয়ারে খেদাই দেওয়া

8ইছহাক বড় অওয়ার বাদে যেদিন তানে মাʼর দুধ ছাড়াইল অইলো, হউদিন ইব্রাহিমে এক বড় মেজবানি করলা। 9আর মিসরী হাজেরার পেটো ইব্রাহিমর যে পুয়া অইছিল, ছায়রায় দেখলা হে তামশা করের। 10অউ তাইন ইব্রাহিমরে কইলা, “পুয়া সহ ই বান্দিরে বার করি দেও, বান্দির পুয়া আমার ইছহাকর লগে অংশিদার অইতো পারতো নায়।” 11পুয়ার ইতা হুনিয়া ইব্রাহিমে মনো খুব তকলিফ পাইলা। 12অউ আল্লায় তানরে কইলা, “তুমার বান্দি আর তাইর পুয়ার লাগি তুমি বেজার অইও না। ছায়রায় যেলা তুমারে কইছে অউলা করো, কারন তুমার পুয়া ইছহাকর খান্দানরেউ তুমার খান্দান কইয়া গনা অইবো। 13আর ই বান্দির তরফা পুয়া থাকিও আমি একটা জাতি তৈয়ার করমু, কারন হে-ও তো তুমার আওলাদ।” 14অউ ইব্রাহিমে আগুয়ান উঠিয়া কিছু রুটি আর পানি ভরা একটা চামড়ার থলি হাজাইয়া হাজেরার কান্দো তুলিয়া দিয়া, পুয়াগুরে তাইর আতো সপিয়া বিদায় করলা। হিনথনে বার অইয়া হাজেরায় বের-শেবার মরুভুমির মাজে চক্কর দিতা লাগলা।

15থলির পানি শেষ অইগেলে তাইন পুয়ারে একটা জংলার তলে হুতাইয়া থইলা। 16আর এক ডাকর পরিমান দুরই গিয়া তাইন বইরইলা। “পুয়ার মউত যাতে আমার চউখে না দেখি” মনে মনে কইয়া, তাইন হনো বইয়াউ চিল্লাইয়া কান্দিলা। 17পুয়াগুর কান্দন আল্লায় হুনলা, আর আল্লার ফিরিস্তায় আছমান থনে ডাকিয়া হাজেরারে কইলা, “হাজেরা, ও হাজেরা, তুমার কিতা অইছে? ডরাইও না, পুয়াগু যেনো আছে, হন থাকিউ তার কান্দন আল্লায় হুনছইন। 18তুমি উঠিয়া পুয়াগুর আতো ধরো, আমি তারেদি এক বিরাট জাতি পয়দা করমু।” 19অউ আল্লায় হাজেরার চউখ খুলিয়া দিলা, আর তাইন এক কুয়া দেখলা। হি কুয়া থনে চামড়ার থলিত পানি ভরি আনিয়া পুয়ারে খাওয়াইলা।

20আল্লায় হউ পুয়ারে হেফাজত করলা। হে বড় অইল, আর মরুভুমিত থাকিয়া তীর-ধনুক চালানির উস্তাদ অইল। 21হে ফারান মরুভুমিত থাকতো। তার মাʼয় মিসরর এক পুড়িরে আনিয়া তারে বিয়া করাইলা।

বের-শেবাত গেরারর বাদশার লগে চুক্তি

22হউ সময় আবিমালিক আর তান সেনাপতি ফীখোলে ইব্রাহিমরে কইলা, “আপনে যেতাউ করইন, অতাতউ আল্লায় আপনার লগে থাকইন। 23এরলাগি আল্লার নামে আপনে অখন অনো আমার গেছে কছম করউক্কা, আমার বা আমার আওলাদ অকলর লগে, আপনে কুনু বেইমানি করতা নায়। আর আমি যেলা আপনারে দয়া দেখাইছি, আপনেও আমার লগে আর আপনার মুছাফিরির জাগা, ই দেশর লগে অউলা দয়ার নজর রাখবা।” 24ইব্রাহিমে কইলা, “জিঅয়, কছম করলাম।”

25আর আবিমালিকর গুলাম অকলে একটা পানির কুয়া জুরে নিছিলগি করি, তাইন নালিশ দিলা। 26আবিমালিকে জুয়াপ দিলা, “ইতা কাম কে করছে আমি তো জানি না। আপনেও আমারে ইতা কইছইন না, আইজউ আমি ইকটা হুনলাম।” 27বাদে ইব্রাহিমে কিছু মেড়া আর গরু আনিয়া আবিমালিকরে দিলা আর দুইওজনে চুক্তি করলা। 28আর ইব্রাহিমে পাল থনে সাতগু মেড়ি-বাইচ্চা আলগাইলা। 29আবিমালিকে তানে জিকাইলা, “ই মেড়ি-বাইচ্চা সাতগু আলগা করার মানি কিতা?” 30ইব্রাহিমে কইলা, “আপনে অগুইন্তরে নেউক্কা। ই কুয়াটা যে আমি খুদছি ইকটা অইলো তার পরমান।” 31এরলাগি অউ জাগার নাম অইলো বের-শেবা [মানি, কছমর কুয়া], অনোউ তারা দুইও জনে কছম করছলা। 32তারা বের-শেবাত অউ চুক্তি করার বাদে, আবিমালিক আর তান সেনাপতি ফীখোল উঠিয়া ফিলিস্তিনী অকলর দেশো ফিরিয়া গেলাগি। 33বাদে ইব্রাহিমে বের-শেবাত একটা ঝাউ গাছ রুইলা, আর যে মাবুদর শুরুও নায় শেষও নায়, তান এবাদত করলা। 34আর ইব্রাহিমে ফিলিস্তিনী অকলর দেশো বউত দিন কাটাইলা।

22

হজরত ইব্রাহিম (আঃ) অর মহা কুরবানি

1ই ঘটনার বাদে আল্লায় ইব্রাহিমর এক পরিক্ষা লইলা। আল্লায় তানরে ডাক দিলা, “ইব্রাহিম!” তাইন জুয়াপ দিলা, “অউনু আমি।” 2মাবুদে ফরমাইলা, “তুমার পুয়ারে, যারে তুমি অতো মহব্বত করো, হউ খাছ মায়ার পুত ইছহাকরে লইয়া তুমি মোরিয়া এলাকাত যাও। হখানো যে পাড়র কথা আমি তুমারে কইমু, এর উপরে তারে নিয়া জালাইল কুরবানি দেও।” 3তেউ ইব্রাহিমে ফজরে উঠিয়া গাধার পিঠিত গদ্দি লাগাইয়া তান পুয়া ইছহাক, দুইজন গুলাম আর জালাইল কুরবানির লাগি লাকড়ি কাটিয়া লইয়া, যে জাগার কথা আল্লায় তানরে কইছলা, হবায়দি রওয়ানা অইলা। 4তিন দিনর দিন ইব্রাহিমে চউখ তুলিয়া চাইতেউ দুরই থাকি হউ জাগাখান দেখলা। 5অউ তান গুলাম অকলরে কইলা, “তুমরা গাধাটা লইয়া অনো উবাও, আমি আর আমার পুয়া হনো গিয়া এবাদতি শেষ করিয়া হারলে তুমরার গেছে আইমু।” 6ইব্রাহিমে জালাইল কুরবানির লাকড়ির আটা তান পুয়া ইছহাকর কান্দো তুলিয়া দিয়া নিজে আগুইনর পাতিল আর ছুরি লইয়া, দুইও জনে ছামনর বায় আগুয়াইলা। 7অউ ইছহাকে তান বাফরে কইলা, “বাবা।” তাইন কইলা, “কিতারে বাফ কও?” ইছহাকে কইলা, “ইনো তো লাকড়ি আর আগুইন আছে, তে কুরবানির মেড়ার বাইচ্চা কুয়াই?” 8তাইন জুয়াপ দিলা, “বাবারে, কুরবানির লাগি আল্লায় নিজেউ মেড়ার বাইচ্চা যুগাইবা।” অতা মাততে মাততে তারা আগুয়াই গেলা।

9আল্লার পছন্দর জাগাত পৌছিয়া ইব্রাহিমে কুরবানি খানা বানাইয়া, লাকড়ি হাজাইলা। বাদে নিজর পুয়া ইছহাকরে বান্দিয়া অউ দারুর উপরে হুতাইলা। 10আর তাইন নিজর পুয়ারে কুরবানির লাগি ছুরি আতো লইলা। 11অউ মাবুদর ফিরিস্তায় আছমান থনে তানে ডাক দিলা, “ইব্রাহিম! ও ইব্রাহিম!” তাইন কইলা, “অউনু আমি।” 12ফিরিস্তায় কইলা, “পুয়াগুর বায় তুমার আত তুলিও না, বা তারে আর কুন্তা করিও না। তুমি যেন আল্লারে ডরাও ইতা বুজা গেছে, কারন আমারে তুমার পুয়া, তুমার খাছ মায়ার পুয়া দান করতেও না-খুশ অইছো না।” 13ইব্রাহিমে চউখ তুলি চাইয়া দেখইন, তান খরে একটা দুম্বা আর তার হিং জংগলর মাজে আটকি রইছে। অউ তাইন গিয়া দুম্বাটা আনিয়া, নিজর পুয়ার বদলা জালাইল কুরবানি দিলা। 14তাইন হি জাগার নাম রাখলা ইয়াওয়েহ্‌-যিরিহ্‌ [মানি, মাবুদে যুগাইন]। এরলাগি অখনও মানষে কইন, “মাবুদর পাড়ো যুগাইল অইবো।”

15মাবুদর ফিরিস্তায় আছমান থনে হিরবার ইব্রাহিমরে ডাকিয়া কইলা, 16“হুনো, মাবুদে কইরা, তুমি অউলা করলায়, তুমার পুয়ারে, তুমার খাছ মায়ার পুয়ারে দান করতেও নারাজ অইলায় না। এরলাগি আমি মাবুদে কছম করিয়া কইয়ার, 17আমি নিচয় তুমারে বরকত নাজিল করমু, তুমার বংশরে আছমানর তেরা আর দরিয়ার চরর বালুর লাখান বেহিসাব করমু। তুমার বংশয় তারার দুশমনর টাউন অকল দখল করবা। 18আর তুমার বংশর উছিলায় দুনিয়ার হকল জাতিয়ে বরকত হাছিল করবা। কারন তুমি আমার হুকুম মানছো।” 19বাদে ইব্রাহিমে তান গুলাম অকলর গেছে ফিরিয়া আইলা, আর তারা একলগে বের-শেবা নামর জাগাত গেলা। অউ জাগাতউ তাইন বসতি করলা।

হজরত ইব্রাহিম (আঃ) অর ভাই নাহুরর খান্দান

20ই ঘটনার বাদে ইব্রাহিমে খবর পাইলা, তান ভাই নাহুরর বিবি মিলকার কয়গু পুয়াইন অইছইন। 21এর বড় পুয়ার নাম আউজ, তার ভাইয়াইন্তর নাম বুজ, আর ইরামর বাফ কমুয়েল, 22এরবাদে কেসদ, হসো, পিলদশ, যিদলফ আর বথুয়েল। বথুয়েলর পুড়ির নাম রেবেকা। 23ইব্রাহিমর ভাই নাহুরর বিবি মিলকার পেটো থাকি ই আটজন পুয়ার জনম অইছিল। 24নাহুরর এক হাংগার বউ আছিল, তাইর নাম রউমা। তাইর পেটো টেবহ, গহম, তহশ আর মাখার জনম অইছিল।

23

বিবি ছায়রার ইন্তেকাল আর কয়বর

1বিবি ছায়রা একশো সাতাইশ বরছ বাচিলা; আল্লায় তানে অতদিনর হায়াতি দিছলা। 2বাদে কেনান দেশর কিরিয়ত-অর্ব মানি হেবরনো ইন্তেকাল করলা। আর ইব্রাহিমে তান লাগি বউত কান্দা-কাটি আর আহাজারি করলা। 3হেশে তান মুর্দা বিবির গেছ থনে হরিয়া গিয়া হউ দেশর হিট্টী অকলরে কইলা, 4“আমি তো বিদেশি মুছাফির অইয়া আপনারার অনো রইয়ার। মেহেরবানি করি কবরস্থান বানাইবার লাগি আমারে থুড়া জমি দেউক্কা, আমি আমার ছামনে থনে আমার মুর্দারে দাফন করি।” 5হিট্টী অকলে তানে কইলা, 6“হুজুর, আমরার কথা হুনউক্কা। আপনে তো আমরার মাজে আল্লার মহব্বতর বুজুর্গ। আমরার গুরুস্থানর মাজে যেনো পছন্দ অয়, অনোউ আপনার মুর্দারে দাফন করউক্কা। তানরে দাফন করার লাগি আমরার কেউ-উ নিজর বানাইল কয়বর ছাড়তে অমত করতো নায়।” 7অউ ইব্রাহিমে উবাইয়া হিনর হিট্টী অকলর ছামনে মাথা নোয়াইয়া ইজ্জত করি কইলা, 8“আমার বিবিরে ইনো দাফন করাত যুদি আপনারার কুনু অমত না থাকে, তে দয়া করি আমার আরজিখান হুনউক্কা। আপনারা আমার অইয়া সোহরর পুয়া ইফ্রোনরে কউক্কা, 9তান জমিনর হেশ মাথাত মকপেলা যে গুহা আছে, অখানতা যেনু কবরস্থান বানানির লাগি তাইন পুরা দাম লইয়া আমার গেছে বেচিলাইন।” 10আরো হিট্টী অকলর লগে ই সময় ইফ্রোনও হনো বওয়াত আছলা। ইব্রাহিমর মাতর জুয়াপে হউ হিট্টী অকলর ছামনে ইফ্রোনে কইলা, 11“না, না, আপনে দয়া করি আমার মাতখান হুনউক্কা। আমি হকলর ছামনেউ ই জমি আর গুহা আপনারে দিলাইলাম, আপনার মুর্দারে দাফন করিলাইন।” 12তেউ ইব্রাহিমে হিরবার হিনর হকলর ছামনে মাথা নোয়াইয়া, 13হি দেশর হক্কলরে হুনাইয়া ইফ্রোনরে কইলা, “হুনউক্কা, জমিখানর দাম আমি দিলাই। আপনেও জমিখানর দাম নেউক্কাগি, বাদে আমার মুর্দারে অনো দাফন করমু।” 14ইফ্রোনে তানরে জুয়াপ দিলা, 15“হুজুর, আমার কথা হুনউক্কা, অউ জমিখানর দাম অইলোগি চাইরশো তোলা রুপা, তে আপনার-আমার লাগি ইতা কুন্তাউ নায়। আপনার মুর্দারে কয়বর দিলাউক্কা।” 16অউ ইব্রাহিমে ইফ্রোনর কথা মানিয়া হিট্টী অকলর ছামনে তাইন, ইফ্রোনর চাওয়া দাম মাফিক, পাইকারি মাপে চাইরশো তোলা রুপা তানরে মাপিয়া দিলা।

17অউ লাখান মম্রি টাউনর গেছে মকপেলাত ইফ্রোনর যে জমিন আছিল হউ জমিন আর হনর গুহা আর জমিনর চাইরোবায় যতো গাছ-গাছালি আছিল, 18ইতা হকলতাউ হিনর হিট্টী অকল আর টাউনর মুখর হকলর ছামনে, ইব্রাহিমর মালিকানায় আইলো। 19বাদে ইব্রাহিমে কেনান দেশর মম্রি টাউন বা হেবরনর মকপেলার গুহাত তান বিবি ছায়রারে দাফন করলা। 20অউ লাখান মকপেলার অউ গুহা সহ আস্তা জমিনখান গুরুস্থানর লাগি, হিট্টী অকলর আত থনে ইব্রাহিমর আতো আইলো।

24

হজরত ইছহাক (আঃ) (২৪:১—২৬:৩৫)

হজরত ইছহাক (আঃ) অর বিয়া

1ইব্রাহিম ই সময় খুব মুরব্বি আর যাওয়াগির পথি অইগেছইন। মাবুদে তানরে হকল বায় থনে বরকত নাজিল করছলা। 2আর তান খাছ গুলাম, বাড়ির পুরান যে গুলামর উপরে তান হকলতার ভার দেওয়া আছিল তারে কইলা, “তুমার আতখান আমার উরাতর তলে হারাও। 3আমি তুমারে আছমান-জমিনর মালিক আল্লা মাবুদর নামে কছম করাইয়ার, আমি যে কেনানী অকলর মাজে থাকিয়ার, তারার কুনু পুড়িরে আমার পুয়ার বউ বানাইয়া তুমি আনিও না। 4তুমি আমার দেশো গিয়া, আমার পুয়া ইছহাকর লাগি আমার খেশ-কুটুমর মাজ থাকি এগু কইনা চাইয়া আনবায়।” 5অউ হি গুলামে তানরে কইলা, “যুদি কুনু পুড়িয়ে আমার লগে ই দেশো আইতে রাজি না অইন, তাইলে যে দেশ ছাড়িয়া আপনে আইছইন, আপনার পুয়ারে আমি হনো লইয়া যাইতাম নি?” 6তাইন কইলা, “খবরদার! তুমি আমার পুয়ারে কুনুমন্তেউ হিনো লইয়া যাইও না। 7যে আছমানি আল্লা মাবুদে আমারে, আমার বাফর বাড়ি আর জনম মাটি থনে বার করিয়া আনছইন, তাইন আমার লগে বাত-ছওয়াল করি কছম করিয়া কইছইন, ই দেশখান তাইন আমার ওয়ারিশ অকলরে দিবা। তাইন তুমার আগেউ তান ফিরিস্তারে হনো পাঠাইবা, যাতে আমার পুয়ার লাগি তুমি হন থনে এগু কইনা আনতায় পারো। 8যুদি কুনু পুড়িয়ে তুমার লগে আইতে রাজি না অয়, তে আমার ই কছম থাকি তুমি খালাছ; তা-ও আমার পুয়ারে তুমি কুনু লাখানউ হিনো লইয়া যাইও না।” 9অউ হি গুলামে তান মুনিব ইব্রাহিমর উরাতর তলে আত হারাইয়া অউলা কছম করলা।

10বাদে হউ গুলামে তান মুনিবর উটর পাল থাকি দশটা উট লইলা। আর মুনিবর ভালা ভালা জিনিস অকল লইয়া, ইরাম-নহরয়িম দেশর যেনো নাহুর থাকতা হবায়দি রওয়ানা অইলা। 11আর হাইঞ্জা বালা যেবলা বেটিন্তে পানি আনাত বার অইন, অউ সময় হি গুলামে টাউনর বারে এক কুয়ার কাছাত তান উট অকলরে থইলা। 12থইয়া অউ দোয়া করলা, “ও মাবুদ, আমার মুনিব ইব্রাহিমর আল্লা, আরজ করি, আইজ আমার ছামনে কামিয়াবি জাইর করো, আর আমার মুনিব ইব্রাহিমরে মেহেরবানি করো। 13দেখো, ই টাউনর পুড়িন্তে পানি নেওয়াত আইরা আর আমি ইনো কুয়ার কাছাত উবাই রইছি। 14তে অউ পুড়িন্তর মাজে আমি যারে কইমু, ‘আপনার খৈলা লামাইয়া আমারে থুড়া পানি খাওয়াউক্কা’, এর জুয়াপে যুদি হউ পুড়িয়ে কইন, ‘আপনে পানি খাউক্কা আর আপনার উট অকলরেও আমি পানি খাওয়াইমু’ তাইলে অউ পুড়িউ যানু তুমার গুলাম ইছহাকর লাগি তুমার পছন্দর পুড়ি অইন। তেউ আমি বুজমু, তুমি আমার মুনিবরে মেহেরবানি করলায়।”

15তান দোয়া শেষ না অইতেউ বথুয়েলর পুড়ি রেবেকায় খৈলা কাখো লইয়া টাউন থাকি বার অইয়া আইলা। অউ বথুয়েল অইলা ইব্রাহিমর ভাই নাহুরর বিবি মিলকার পুয়া। 16রেবেকা আছলা খুব সুন্দরি, আবিয়াতি, সতী নারী। তাইন কুয়া থাকি খৈলা ভরিয়া যেবলা উঠিয়া আইরা, 17অউ সময়উ ইব্রাহিমর গুলামে দৌড়াইয়া তান গেছে গিয়া কইলা, “দয়া করি আপনার খৈলা থাকি আমারে থুড়া পানি খাওয়াউক্কা।” 18রেবেকায় কইলা, “হুজুর, পানি খাউক্কা।” অউ কথা কইয়াউ তাইন জলদি করি খৈলাটা কাখো থনে আতো আনিয়া পানি খাইতে দিলা। 19পানি খাওয়াইবার বাদে রেবেকায় তানরে কইলা, “আমি আপনার উট অকলরেও তারার পিয়াছ মিটাইয়া পানি খাওয়াইমু, তারা পেট ভরিয়া পানি খাইবা।” 20কইয়াউ তাইন জলদি করি পানির গামলাত খৈলার পানি ঢালিয়া হিরবার দৌড়াইয়া কুয়ার গেছে গেলা। আর হকল উটরে পানি তুলি দিলা। 21মাবুদে তান ই ছফর কামিয়াব করছইন কি না ইটা জানার লাগি হি গুলামে নীরবে রেবেকার বায় চাই রইলা।

22উট অকলে পানি খাইয়া হারলে, তাইন আধা তোলার একটা সোনার নাকর নথ আর দুই আতো দশ তোলার দুইটা সোনার বালা রেবেকারে দিয়া জিকাইলা, 23“আপনার বাবার নাম কিতা? আপনে কউক্কাছাইন, আপনার বাফর বাড়িত আমরার রাইত থাকার জাগা অইবো নি?” 24রেবেকায় কইলা, “আমার বাবার নাম বথুয়েল। দাদার নাম নাহুর আর দাদির নাম মিলকা। 25তে আপনার উটর খানির লাগি আমরার বাড়িত বউত খের-ভুষি আছে আর রইবার জাগাও আছে।” 26অউ হি গুলামে মাবুদর সইজদা করিয়া কইলা, 27“হক্কল প্রশংসা মাবুদর, যেইন আমার মুনিব ইব্রাহিমর আল্লা। তাইন আমার মালিকরে তান দেওয়া ওয়াদা রাখতে আর ইমানদারি দেখাইতে ফাউরিছইন না। তাইন আমারেও পথ চিনাইয়া আমার মুনিবর কুটমর বাড়িত লইয়া আইছইন।”

28রেবেকায় দৌড়াইয়া গিয়া তান মাʼর বাড়ির হকলরে ইতা জানাইলা। 29রেবেকার এক ভাইর নাম আছিল লাবন। অউ লাবনে দৌড়াইয়া কুয়ার কাছাত আইলা এনরে দেখতা করি। 30বনির আতর বালা আর নাকর নথ দেখিয়া, আর হি মানষে যেতা কইছে ইতা হুনিয়া, তাইন আইয়া দেখলা, মানুষটা কুয়ার কান্দাত তার উটর গেছে উবাই রইছে। 31লাবনে তানরে কইলা, “ও মাবুদর রহমতর মানুষ, আউক্কা। বারে উবাই রইছইন কেনে? আমি আপনারার লাগি ঘর, আর উটর লাগি জাগা জুইত করিয়া আইছি।” 32অউ হি গুলামে তারার বাড়িত গিয়া উট অকলর গাইট লামাইতেউ, লাবনে খের আর ভুষি আনিয়া দিলা। তানে আর তান লগর হকলরে আত-পাও ধোয়ার পানিও দিলা। 33বাদে তান ছামনে খানি দেওয়া অইলো, তেউ তাইন কইলা, “আমি কিতার লাগি ইনো আইছি, ইতা না হুনাইয়া খানি খাইতাম নায়।” লাবনে কইলা, “তে কইলাউক্কা।”

34অউ তাইন কইলা, “আমি ইব্রাহিমর গুলাম। 35আমার মালিকরে মাবুদে বউত বরকত নাজিল করছইন, আইজ তাইন বউত ধনি-মানী। মাবুদে তানরে বউত গরু-মেড়া, উট-গাধা, সোনা-রুপা, আর বান্দি-গুলাম দিছইন। 36তান বিবি ছায়রার মুরব্বি বয়সো মুনিবর একজন পুয়া অইছইন, আর অউ পুয়ারেউ তাইন, তান হকলতা দিলাইছইন। 37তাইন আমারে কছম করাইয়া কইছইন যেন, তাইন যে দেশো বসত কররা, হি কেনান দেশর কুনু পুড়িরে যাতে তান পুয়ার বউ না বানাই। 38এর বদলা তান বাফর আর তান খান্দানর বাড়িত গিয়া তান পুয়ার লাগি একজন কইনা চাইয়া নেই। 39অউ আমি আমার মুনিবরে কইলাম, ‘যুদি কুনু পুড়ি আমার লগে আইতে রাজি না অইন?’ 40তাইন কইলা, ‘মাবুদ, যানরে আমি খেজমত করি, তাইনউ তান ফিরিস্তারে পাঠাই দিবা, যাতে তুমার ছফর কামিয়াব অয়। আর তুমি আমার নিজর বংশ আর আমার বাফর খান্দান থনে, এগু পুড়িরে আমার পুয়ার লাগি চাইয়া আনবায়। 41তারার হিনো গেলে যুদি তারা কুনু পুড়িরে না দেইন, তাইলে তুমি আমার ই কছম থাকি খালাছ পাইবায়।’

42“অউ আইজ আমি কুয়ার গেছে আইয়া দোয়া করলাম, ‘ও মাবুদ, আমার মুনিব ইব্রাহিমর আল্লা, তুমি যুদি আমার ই ছফর কামিয়াব করো তাইলে, 43দেখো, আমি অউ ভরা কুয়ার গেছে উবাই রইছি, আর কুনু পুড়িয়ে অনো পানি নেওয়াত আইলে আমি কইমু, খৈলা থাকি আমারে থুড়া পানি খাওয়াও। 44আর যুদি তাই কয়, তুমিও পানি খাও আর তুমার উট অকলরেও আমি পানি তুলিয়া দিমু, তাইলে অউ পুড়িউ যানু আমার মুনিবর পুয়ার লাগি তুমার পছন্দ করা পুড়ি অয়।’

45“আমার দোয়া শেষ না অইতেউ দেখি, রেবেকায় খৈলা কাখো লইয়া কুয়াত আইরা পানি তুলতা। পানি তুলার বাদে আমি কইলাম, ‘দয়া করিয়া আমারে থুড়া পানি খাওয়াউক্কা।’ 46তাইন জলদি করি কাখো থনে খৈলা লামাইয়া আমারে কইলা, ‘অউ নেইন, পানি খাইন। আমি আপনার উট অকলরেও পানি খাওয়াইমু।’ তেউ আমি পানি খাইলাম, আর তাইন আমার উট অকলরেও পানি খাওয়াইলা। 47বাদে আমি তানে জিকাইলাম, ‘আপনে কার পুড়ি?’ তাইন কইলা, ‘আমি বথুয়েলর পুড়ি, আমার দাদার নাম নাহুর আর দাদির নাম মিলকা।’ অউ আমি তান নাকো নথ আর আতো বালা ফিন্দাইয়া দিলাম। 48বাদে আমি মাবুদর সইজদা করলাম। আর যেইন আমার মুনিব ইব্রাহিমর আল্লা, হউ মাবুদর শুকুর আদায় করলাম, তাইনউ আমারে ঠিক পথে চালাইয়া আনছইন যাতে আমি আমার মুনিবর ভাতিজিরে, তান পুয়ার লাগি তুকাইয়া পাই। 49তেউ অখন আপনারা আমার মুনিবর বায় দরদ আর ইনছাফ করবা নি, কউক্কা। যুদি না করইন তা-ও কউক্কা, যাতে আমি ডাইনে-বাউয়ে যাইতাম পারি।”

50অউ লাবন আর বথুয়েলে কইলা, “ঘটনা তো মাবুদ থাকিউ অইছে। অখন আমরার ভালা-বুরা মাতার কুন্তাউ নায়। 51অউ দেখউক্কা, রেবেকা তো অনো আছে, তে মাবুদর হুকুম মত আপনার মুনিবর পুয়ার বউ বানাইবার লাগি এরে লইয়া যাইতা পারবা।”

52ই মাত হুনিয়া ইব্রাহিমর গুলামে মাবুদর সইজদা করলা। 53এরবাদে তাইন সোনা-রুপার গয়না-গাটি আর কাপড়-চুপড় বার করিয়া রেবেকারে দিলা, এর লগে রেবেকার মা-ভাইরেও বউত দামি দামি উপহার দিলা। 54বাদে তাইন আর তান লগর হকলে খাওয়া-দাওয়া শেষ করিয়া হখানোউ রাইত কাটাইলা। বিয়ানে ঘুম থাকি উঠিয়া তাইন কইলা, “আমার মুনিবর গেছে যাওয়ার লাগি আমারে বিদায় দিলাউক্কা।” 55তেউ রেবেকার মা আর ভাইয়ে কইলা, “পুড়িগু আরো দশখান দিন আমরার গেছে থাকউক, বাদে যাইবোনে।” 56অউ হি গুলামে তারারে কইলা, “মাবুদে যেবলা আমার ই ছফর কামিয়াব করছইন, তাইলে আমারে দেরি না করাইয়া বিদায় দিলাউক্কা, আমার মুনিবর গেছে যাইগি।” 57এরা কইলা, “আমরা তাইলে পুড়িরে ছামনে আনিয়া জিকাইলাই।” 58আর রেবেকারে ডাকিয়া আনিয়া জিকাইলা, “তুমি কিতা তান লগে যাইবায় নি গো?” তাইন কইলা, “আইচ্ছা, যাইমুনে।” 59অউ তারা ইব্রাহিমর গুলাম আর তান লগর মানষর লগে তারার বইন আর তান বান্দি বেটিরে বিদায় দিলা। 60আর রেবেকারে দোয়া করিয়া কইলা, “বইন গো, তুমি লাখ লাখ আওলাদর মা অও। তুমার আওলাদে দুশমন অকলরে ঘাইল করউক।” 61রেবেকা আর তান বান্দি অকলে তৈয়ার অইয়া উটর উপরে চড়িয়া, ইব্রাহিমর গুলামর খরে অইয়া রওয়ানা দিলা। অউ লাখান হউ গুলামে রেবেকারে লইয়া বার অইলা।

62ইছহাক ই সময় নেগেভো থাকতা। তাইন বের-লহয়-রোয়ী নামর জাগা থনে ফিরত আইলা। 63একদিন বিয়ালি বালা তাইন বন্দেদি আটাত বার অইলা। আখতাউ চউখ তুলিয়া চাইয়া দেখলা, কয়টা উট আইরা। 64রেবেকায়ও দুরই থনে ইছহাকরে দেখিয়াউ উটর উপর থাকি লামি গেলা। 65আর হউ গুলামরে জিকাইলা, “অউ যেইন বন্দর মাজেদি আমরার বায় আইরা, এইন কে?” গুলামে কইলা, “এইন তো আমার মুনিব।” অউ রেবেকায় বুরকার পর্দা লামাই দিলা। 66আর হি গুলামে যেতা যেতা করিয়া আইছইন, হকলতা ইছহাকরে জানাইলা। 67ইছহাকে তান মা বিবি ছায়রার তাম্বুত রেবেকারে লইয়া গিয়া তানে বিয়া করলা। আর তানরে মায়া করলা। তান মাʼর মউতর বাদে, রেবেকার মায়ায়উ তান জানো শান্তি পাইছলা।

25

বিবি কাতুরার ঘরো হজরত ইব্রাহিম (আঃ) অর খান্দান

1ইব্রাহিমে কাতুরা নামর আরো একজন বেটিরে বিয়া করছলা। 2তান পেটো যিম্রন, যকষন, মদান, মাদিয়ান, যিশবক আর শূহার জনম অইছিল। 3সাবা আর দদান অইলা যকষনর আওলাদ। আশুরী, লটূশী, লিয়ূম্মী অকল অইলা দদানর আওলাদ। 4মাদিয়ানর আওলাদ অইলা ঐফা, এফর, হনোক, অবীদ আর ইলদায়া। এরা হকলউ কাতুরার আওলাদ। 5ইব্রাহিমে তান হকলতা ইছহাকরে দিলাইলা। 6অইলে তাইন জিন্দা থাকতেউ, তান হেশর বিয়ার আওলাদ অকলরেও আলগা আলগা দান করিয়া, এরারে ইছহাকর লগে না রাখিয়া পুবেদি, পুবর দেশো পাঠাই দিলা।

হজরত ইব্রাহিম (আঃ) অর ইন্তেকাল আর কয়বর

7ইব্রাহিম একশো পচত্তইর বরছ বাচিলা, আল্লায় তানে অতদিনর হায়াতি দিছলা। 8তাইন মুরব্বি অইয়া পুরাপুর বুড়া বয়সো ইন্তেকাল করলা, আর তান বাফ-দাদার গেছে গিয়া আজিলা। 9হেশে তান পুয়া ইছমাইল আর ইছহাকে মম্রি টাউনর পুবেদি, হিট্টী সোহরর পুয়া ইফ্রোনর জমির মকপেলা-গুহাত, তানরে দাফন করলা। 10ই জমিখান তাইন হিট্টী অকলর গেছ থনে লইছলা। অনোউ তান বিবি ছায়রারে আর তানে দাফন করা অইছে। 11ইব্রাহিমর মউতর বাদে আল্লায় তান পুয়া ইছহাকরে বরকত নাজিল করলা। তাইন বের-লহয়-রোয়ীর গেছে রইতা।

হজরত ইছমাইল (আঃ) অর ইন্তেকাল আর খান্দান

12অউ অইলো ইছমাইলর খান্দানর বয়ান। বিবি ছায়রার বান্দি মিসরী হাজেরার পেটো ইব্রাহিমর পুয়া ইছমাইলর জনম অইছিল। 13অউ অইলো ইছমাইলর আওলাদর নাম আর গুষ্টির বয়ান। তান বড় পুয়ার নাম নাবাউত, বাদে কায়দার, অদবেল, মিবসম, 14মিশমা, দূমা, মাছা, 15হদদ, তেমা, যিটুর, নাফীশ আর কেদমা। 16ইছমাইলর অউ বারোজন পুয়া আছলা বারো গুষ্টির সর্দার। তারার নামর লাখান হি গাউ আর তাম্বু বিছাইল জাগারও অউ নাম অইছিল। 17ইছমাইলর হায়াত একশো সাড়তিশ বরছ আছিল, হেশে তাইন মারা গেলা আর তান বাফ-দাদার গেছে গেলাগি। 18হবিলা থনে আশিরিয়ার বায় মিসরর ছামনর শুর পর্যন্ত তান আওলাদ অকল রইতা। ইছমাইলে তান হকল ভাইয়াইন্তর গালাবায় রওয়ার জাগা পাইলা।

হজরত ইছহাক (আঃ) আর তান ভাই শেখ ঈষ

19অউ অইলো ইব্রাহিমর পুয়া ইছহাকর খান্দান-নামা। ইব্রাহিমর ঘরো ইছহাকর জনম অইলো। 20ইছহাকে চাল্লিশ বরছ বয়সো তান মামুর ঘরর বইন রেবেকারে আনাইয়া বিয়া করলা। রেবেকা অইলা পদ্দন-ইরাম দেশর ইরামী বথুয়েলর পুড়ি, ইরামী লাবনর বইন। 21তান বউ নিআওলাদি আছলা গতিকে, ইছহাকে মাবুদর গেছে দোয়া করলা। মাবুদে তান দোয়া কবুল করলা, আর রেবেকার পেটো হুরুতা আইলো। 22বাদে পেটর ভিতরে হুরুতায় লড়া-চড়া করাত লাগলা। অউ তাইন কইলা, “আমার পেটো ইলা লাগের কেনে?” কারন জানার লাগি তাইন মাবুদর গেছে দোয়া করলা। 23মাবুদে তানরে কইলা, “তুমার পেটো দুইটা জাতি আছে, পেটো থনেউ তারা দুই বংশ অইয়া পয়দা অইবা। এক বংশ থনে আরক বংশ শক্তিআলা অইবো, আর বড়গুয়ে হুরুগুর খেজমত করব।” 24হুরুতা পয়দার বালা দেখইন, হাছাউ তান পেটো জোড়র পুয়া। 25পয়লা যার জনম অইলো হে লাল রংগর আর তার শরিলো পশমি কাপড়র লাখান রুমায় ভরা। তার নাম রাখলা ঈষ [মানি, রুমাআলা]। 26বাদে ঈষʼর পাওর মুরাত ধরি তার ভাইর জনম অইলো, এর নাম রাখলা ইয়াকুব [মানি, পাওত ধররা]। ইছহাকর ষাইট বরছ বয়সো এরা জোড়ে পয়দা অইলা।

27অউ পুয়াইন বড় অওয়ার বাদে ঈষ খুব ভালা শিকারি আর মরুভুমিত ফাখাওরা অইলা, অইলে ইয়াকুব আছলা নিরাই-জিরাই, তাইন তাম্বুত থাকতা। 28শিকারর গোস্ত মজা লাগত করি ইছহাকে ঈষʼরে মায়া করতা, আর রেবেকায় ইয়াকুবরে মায়া করতা।

29একদিন ইয়াকুবে ডাইল রান্দিছইন, অউ সময় তান বড় ভাই ঈষ মরুভুমি থাকি পেটর ভুকে খুব কাতর অইয়া আইলা, আইয়া হুরু ভাই ইয়াকুবরে কইলা, 30“ভাইরে, আমার খুব ভুক লাগছে। তে অউ রংগিল, রংগিল অতা আমারে পেট ভরি খাইতে দে।” অউ কথার লাগি তান চিড় লাগল ইদোম [মানি, রংগিল]। 31ইয়াকুবে কইলা, “তাইলে বড় ভাই অওয়ার মালিকানা, তুমি আইজ আমার গেছে বেচিলাও।” 32ঈষে কইলা, “দেখো, আমার জান বার অইযার, আর বড় ভাইর মালিকানাদি আর কিতা করতাম?” 33ইয়াকুবে কইলা, “আগে তুমি আমার গেছে কছম করো।” অউ ঈষে কছম করিয়া বড় ভাই অওয়ার মালিকানা ইয়াকুবর গেছে বেচিলাইলা। 34বাদে ইয়াকুবে ঈষʼরে ডাইল আর রুটি খাইতে দিলা। খাওয়া-দাওয়া করিয়া তাইন উঠিয়া গেলাগি। অউ লাখান ঈষে বড় পুয়া অওয়ার কুনু দামউ রাখলা না।

26

হজরত ইছহাক (আঃ) অর গেছে আল্লার ওয়াদা

1ইব্রাহিমর জমানার লাখান ইফিরাও দেশো হিরবার এক নিদান দেখা দিলো। তেউ ইছহাক গেরার টাউনো ফিলিস্তিনী অকলর বাদশা আবিমালিকর গেছে গেলাগি। 2আর মাবুদে ইছহাকরে দিদার দিয়া কইলা, “তুমি মিসরো লামিয়া যাইও না। আমি তুমারে যে দেশর কথা কইমু, অনোউ থাকিও। 3অউ দেশো তুমি মুছাফির অইয়া রও। আমি তুমার লগে রইয়া, তুমারে বরকত নাজিল করমু। ই দেশ অকল আমি তুমারে আর তুমার ওয়ারিশ অকলরে দিমু। আর তুমার বাফ ইব্রাহিমর গেছে আমি যে কছম করছলাম, অকটা পুরা করমু। 4আমি তুমার ওয়ারিশ অকলরে আছমানর তেরার লাখান বেহিসাব করমু, অউ দেশ অকলও তারারে দিমু। তুমার ওয়ারিশরেদি, দুনিয়াইর হকল জাতিয়ে বরকত হাছিল করবা। 5ইব্রাহিমে আমার মাত হুনিয়া, আমার হুকুম, আমার আইন আর আমার শরিয়ত অকল আমল করছে।”

6অউগি ইছহাক গেরার টাউনো রইলা। 7আর হিনর মানষে তান বউর কথা জিকাইলে, তাইন কইলা এইন আমার বইন। এনরে বউ কইতে তাইন ডরাইলা, মনে করলা, রেবেকা সুন্দরি করিয়া হিনর মানষে রেবেকারে নেওয়ার লাগি তানরে খুন করিলিবা। 8ইছহাক বউত দিন হনো রওয়ার বাদে একদিন ফিলিস্তিনী অকলর বাদশা আবিমালিকে তান খিড়কি বায়দি চাইয়া মালুম করলা, ইছহাকে তান বিবি রেবেকারে মায়া কররা। 9দেখিয়া তাইন ইছহাকরে নেওয়াইয়া কইলা, “দেখউক্কা, রেবেকা তো আসলে আপনার বিবি, তে আপনে কেনে তানরে আপনার বইন কইলা?” ইছহাকে জুয়াপ দিলা, “আমি মনে করছলাম তাইর লাগি আমার জান আরাইমু।” 10তেউ আবিমালিকে কইলা, “আমরার লগে আপনে ইতা কিতা বেবহার করলা? যেকুনু মানষে তো আপনার বিবির লগে মিলা-মিশা করতো চাইলো অনে আর আপনে আমরারে দুষি বানাইলা অনে।” 11বাদে আবিমালিকে হকল মানষরে অউ হুকুম জারি করলা, কেউ যুদি ইছহাক বা তান বিবির শরিলো আত দেয়, তারে নিচয় কাতল করা অইবো।

12আর ইছহাকে হি বরছ খেত করিয়া তান জমিনো রুয়া বিচ থাকি একশো গুন বেশি ফসল পাইলা, মাবুদে তানরে অউলা বরকত নাজিল করলা। 13তান খালি বাড়তেউ লাগলো, আস্তে আস্তে তাইন খুব মালদার অইগেলা। 14তান গরু-ছাগল আর গুলাম-বান্দি অউলা বাড়লো যেন, ইতা দেখিয়া ফিলিস্তিনী অকলে ইংসাইতা লাগলা। 15আর তান বাফ ইব্রাহিমর আমলো, তান গুলাম অকলে যে কুয়া অকল খুদিছলা, ফিলিস্তিনী অকলে ইগুইন মাটিদি ভরিয়া বন্দ করিলাইছলা। 16বাদে আবিমালিকে ইছহাকরে কইলা, “আপনে আমরার গেছ থনে যাউক্কাগি, আপনে তো আমরা থনে বেশি শক্তিআলা অইগেছইন।”

17অউ ইছহাকে হন থনে হরিয়া গিয়া গেরার মরা গাংগর চরো তাম্বু গাড়িয়া রইলা। 18আর তান বাফ ইব্রাহিমর আমলর খুদা কুয়াইন, তাইন হিরবার খুদিলা, কারন ইব্রাহিমর মউতর বাদে ফিলিস্তিনী অকলে ইতা ভরিলাইছলা। আর তান বাফে অউ কুয়াইন্তর যে নাম রাখছলা, তাইনও অউ নাম রাখলা। 19ইছহাকর গুলাম অকলে অউ গাংগর চরো খুদিয়া পানির ফুতআলা এক কুয়া পাইলা। 20আর গেরারর রাখাল অকলে তান রাখাল অকলর লগে দরবার করিয়া কইলো, ই পানি আমরার। অউ তাইন ই কুয়ার নাম রাখলা এষক [মানি, দরবার]। 21বাদে ইছহাকর রাখাল অকলে আরো এক কুয়া খুদিলা, আর ইটা লইয়াও তারা দরবার করলা। অউ তাইন ইটার নাম রাখলা সিটনা [মানি, দুশমনি]। 22হেশে তাইন হন থনে হরিয়া গিয়া আরো এক কুয়া খুদাইলা, ইফিরা তারা আর কুনু দরবার করলা না। তেউ ইছহাকে অউ কুয়ার নাম রাখলা রহবত [মানি, বউত জাগা]। তাইন কইলা, “অখন মাবুদেউ আমরারে বউত জাগা দিলা, আমরা ই দেশো আরো বাড়তাম পারমু।”

23বাদে ইছহাকে হন থনে হরিয়া বের-শেবাত গেলাগি। 24হউ রাইতউ মাবুদে তানরে দিদার দিয়া কইলা, “আমি তুমার বাফ ইব্রাহিমর আল্লা। তুমি ডরাইও না, আমার গুলাম ইব্রাহিমর খাতিরে আমি তুমার লগে আছি। আমি তুমারে বরকত নাজিল করমু আর তুমার বংশ বাড়াইমু।” 25অউ ইছহাকে হনো একখান কুরবানি খানা বানাইয়া মাবুদর নাম লইলা। হনো তাইন তান তাম্বু গাড়িলা আর তান গুলাম অকলে এক কুয়া খুদিলা।

26বাদে আবিমালিকে তান উজির অহুজত আর সেনাপতি ফীখোলরে লইয়া গেরার থাকি ইছহাকর গেছে আইলা। 27ইছহাকে এরারে কইলা, “আপনারা আমার গেছে কিতার লাগি আইলা? আপনারা তো ইংসা করিয়া আমারে আপনারার গেছ থনে খেদাই দিলাইছইন।” 28তারা কইলা, “আমরা অখন ছাফ বুজিয়ার যেন, মাবুদ আপনার লগে আছইন। এরলাগি আপনার লগে আমরার এগু ওয়াদা অইযাউক। আউক্কা, আমরা এক চুক্তি করিলাই। 29আমরা যেলা আপনারে ছইছি না আর আপনার ভালাই ছাড়া কুনু খেতি করছি না, যেলা আপনারে শান্তিয়ে বিদায় দিছি, অউলা আপনেও আমরারে খেতি করতা না। আপনেউ তো মাবুদর বরকতর মানুষ।” 30বাদে ইছহাকে তারার লাগি খানা-দানা জুইত করলে, তারা খানা-দানা করলা। 31বাদর দিন বিয়ানে উঠিয়া তারা দুইও জনে কছম করলা। আর ইছহাকে তারারে বিদায় দিলে, তারা দিলর মাজে শান্তি পাইয়া রওয়ানা অইলা। 32হউ দিনউ তান গুলাম অকলে আইয়া তারার খুদা এক কুয়ার খবর জানাইলা, তারা পানির লাগাল পাইছইন। 33অউ তাইন এর নাম দিলা শেবা [মানি, কছম]। এরলাগি আইজও হিনর নাম বের-শেবা রইছে।

34ঈষে চাল্লিশ বরছ বয়সো হিট্টী বেরির পুড়ি যিহুদীথ আর হিট্টী এলনর পুড়ি বাসমতরে শাদি করলা। 35ই দুইও বেটিয়ে ইছহাক আর রেবেকার জানর মাজে খুব দুখ দিলা।

27

হজরত ইয়াকুব (আঃ) (২৭:১—৩৬:৪৩)

হজরত ইছহাক (আঃ)-এ হুরু পুয়ারে দোয়া দিলা

1মুরব্বি বয়সো ইছহাকর চউখর জুতি কমি যাওয়ায় তাইন আর চউখে দেখতা না। তাইন তান বড় পুয়া ঈষʼরে আনাইয়া কইলা, “বাবারে।” ঈষে জুয়াপ দিলা, “অউনু আমি।” 2তাইন কইলা, “দেখো, আমি তো বুড়া অইগেছি, কুন দিন মরিযিমু কইতাম পারিয়ার না। 3তুমি এগু কাম করো; তুমার আতিয়ার, তীর ধনুক লইয়া জঙ্গলো শিকারো যাও, আর আমার লাগি কুন্তা শিকার করিয়া, 4আমার পছন্দর ভালা খানি তৈয়ার করি আনো, তেউ মরার আগে ইতা খাইয়া আমার জানে তুমারে দোয়া দিবো।”

5ইছহাকে যেবলা তান পুয়া ঈষʼর লগে ইতা মাতিরা, ই সময় রেবেকায় ইতা হুনছিলা। তেউ ঈষ যেবলা শিকারো গেলাগি, 6তাইন আইয়া তান পুয়া ইয়াকুবরে কইলা, “হুনো, আমি হুনলাম তুমার বাফে তুমার ভাই ঈষʼরে কইরা, 7‘তুমি আমার লাগি কুন্তা শিকার করি ভালা খানি তৈয়ার করো, তেউ আমি মরার আগে অতা খাইয়া, মাবুদর ছামনে তুমারে দোয়া দিমু।’ 8তে রে পুত, আমি তুমারে অখন যেতা করতায় কইমু, তুমি অউলা হুনিও। 9তুমি গিয়া পাল থাকি দুইটা তাজা খসি আনো। আমি ইতাদি তুমার বাফর শখর খানি, আচানক মজা করি রান্দিয়া দেই। 10তেউ তুমি অতা লইয়া তুমার বাফর গেছে যাইও, তাইন ইতা খাইয়া মরার আগে তুমারে দোয়া করবা।” 11ইয়াকুবে তান মাʼরে কইলা, “হুনো, আমার ভাই ঈষʼর শরিল তো রুমাআলা, আমার শরিলো তো রুমা নায়। 12যুদি বাবায় আমার শরিলো আতাইন, তে মনো করবা আমি তানে ধুকা দিয়ার, তাইলে আমি দোয়ার বদলা আরো লান্নত ডাকিয়া আনমু।” 13তেউ তান মাʼয় কইলা, “পুতরে, তুমার ই লান্নত আমার উপরেউ পড়উক। তুমি খালি আমার মাতখান হুনো আর খসিগুইন আনিয়া দেও।” 14অউ ইয়াকুবে গিয়া খসি আনিয়া তান মাʼরে দিলা। আর তান বাফে যেলা শখ করইন, তাইন অউলা মজা করি রান্দিলা। 15বাদে তাইন ঘরর মাজে থোয়া বড় পুয়া ঈষʼর ভালা ভালা কাপড়-চুপড় আনিয়া তান হুরু পুয়া ইয়াকুবরে ফিন্দাইলা। 16ইয়াকুবর আতো আর গলাত যে জাগাত রুমা নায়, হউ জাগাত অউ খসির চামড়া লাগাই দিলা। 17আর নিজর রান্দা হউ মজার খানি আর রুটি তান পুয়া ইয়াকুবর আতো দিলা।

18ইয়াকুবে তান বাফর গেছে গিয়া ডাক দিলা, “বাবা।” ইছহাকে জুয়াপ দিলা, “অউনু আমি, তুমি কে রে পুত?” 19ইয়াকুবে তান বাফরে কইলা, “আমি আপনার বড় পুয়া ঈষ। আপনে আমারে যেলা কইছলা, আমি অউলা করছি। দয়া করি উঠিয়া বউক্কা, আমার শিকারর গোস্ত খাউক্কা, খাইয়া হারলে আপনে আমারে দোয়া দিবা।” 20ইছহাকে তান পুয়ারে কইলা, “বাবারে, তুমি অতো জলদি শিকার পাইলায় কিলা?” তাইন কইলা, “আপনার মাবুদ আল্লায় মিলাই দিছইন।” 21অউ ইছহাকে ইয়াকুবরে কইলা, “বাবা, আমার কাছাত আও তেউ তুমার গতরো আত দিয়া বুজমু, তুমি হাছাউ আমার পুয়া ঈষ নি।” 22ইয়াকুব তান বাফ ইছহাকর আরো কাছাত গেলা। তাইন শরিলো আতাইয়া কইলা, “গলার আওয়াজটা ইয়াকুবর, অইলে আত দুইওখান তো ঈষʼর।” 23ইয়াকুবর আত তান ভাই ঈষʼর মত রোমে ভরা আছিল করি ইছহাকে তানরে চিনলা না। অউ তাইন ইয়াকুবরে দোয়া দিলা। 24তাইন জিকাইলা, “তুমি কিতা হাছাউ আমার পুয়া ঈষ নি?” ইয়াকুবে কইলা, “জিঅয় বাবা।” 25অউ ইছহাকে কইলা, “পুয়ার শিকারর গোস্ত আমার গেছে আনো, ইতা খাইয়া হারলে আমার জানে তুমারে দোয়া দিবো।” ইয়াকুবে গোস্ত লইয়া আইলে তাইন খাইলা। বাদে তানরে আংগুরর শরবত দিলে তাইন এওতা খাইলা। 26হেশে তান বাফে কইলা, “ও পুত আও, কাছাত আইয়া আমারে হুংগা দেও।” 27অউ ইয়াকুবে কাছাত গিয়া হুংগা দিলা, আর ইছহাকে তান শরিলর কাপড়র ঘেরান হুংগিয়া তানরে দোয়া দিলা, “দেখো, আমার পুয়ার ঘেরান তো মাবুদর বরকতি খেতর ঘেরানর লাখান। 28আল্লায় আছমানর খুয়া থনে আর রসাইল জমিন থনে তুমারে দেউক্কা; বউত ফসল আর আংগুরর শরবত তুমারে দেউক্কা। 29হকল মানুষ তুমার গুলাম অউক, হকল জাতিয়ে তুমার গেছে মাথা নোয়াউক। নিজর জাতর মাজে তুমি বড় মুরব্বি অও, তুমার মাʼর পেটর ভাইয়াইন্তে তুমার গেছে মাথা নোয়াউক। যে তুমারে লান্নত দিবো, তার উপরে লান্নত পড়উক। যে তুমারে দোয়া করব, হে রহমতি অউক।”

শেখ ঈষে বাবাইতি পাওনা দোয়া আরাইলা

30ইছহাকে ইয়াকুবরে দোয়া করা শেষ অইলে, ইয়াকুব তান বাফ ইছহাকর ছামনে থনে হরতেউ, তান ভাই ঈষে শিকার লইয়া ঘরো আইলা। 31তাইনও ভালা খানি তৈয়ার করিয়া বাফর গেছে লইয়া আইয়া কইলা, “বাবা, উঠিয়া বইয়া আপনার পুয়ার শিকারর গোস্ত খাউক্কা, খাইয়া হারলে আপনার জানে আমারে দোয়া দিবা।” 32অউ তান বাফে কইলা, “তুমি কে?” তাইন কইলা, “বাবা, আমি তো আপনার বড় পুয়া ঈষ।” 33আর ইছহাকর শরিলো বেজুইতা কাপা শুরু অইলো। কাপি কাপি তাইন কইলা, “তাইলে আমার গেছে শিকারর গোস্ত লইয়া যে আইছিল, হে কে? তুমি আইবার আগেউ আমি অতা খাইয়া তারে দোয়া করছি, আর দোয়ার ফল হে-উ পাইব।” 34বাফর মাত হুনিয়াউ ঈষে একেবারে বুক ভাংগিয়া চিল্লাইয়া তান বাফরে কইলা, “বাজান, আমারে, আমারেও দোয়া করো!” 35ইছহাকে কইলা, “তুমার ভাইয়ে আইয়া চতুরি করিয়া তুমার পাওনা দোয়া নিছেগি।” 36ঈষে কইলা, “তার নাম ইয়াকুব [মানি, ধুকাবাজ] নায় নি? হাছাউ হে দুইবার আমারে ধুকা দিছে। বড় পুয়া হিসাবে আমার মালিকানা হে আগে চুরি করি নিছিল, আর দেখউক্কা, ইফিরা আমার দোয়াও লইয়া গেলগি।” তাইন ফিরিয়া কইলা, “আপনে আমার লাগি কুনু দোয়াউ রাখছইন না নি?” 37ইছহাকে জুয়াপ দিলা, “হুনো, আমি তারে তুমার নেতা বানাইছি, আর তার গুষ্টিরে তার গুলাম বানাইছি, তারে ফসল আর আংগুরর শরবত দিয়া ছামানি করছি; অখন তুমার লাগি আর কিতা করতামরে পুত?” 38ঈষে ফিরিয়া তান বাফরে কইলা, “ও বাজান, আপনার গেছে কিতা অউ এক দোয়াউ আছিল নি? বাজান রে-বা, আপনে আমারে, আমারেও দোয়া করউক্কা!” অতা কইয়া তাইন জুরে জুরে চিল্লাইয়া কান্দাত লাগলা।

39অউ তান বাফ ইছহাকে কইলা, “তুমার বসতখানার মাটি নিরস অইবো, হিনো আছমানর খুয়াও পড়তো নায়। 40তলোয়ারউ তুমার জিন্দেগি অইবো, আর নিজর ভাইর গুলাম অইবায়; অইলে যেবলা তুমি না-মানরা অইযিবায়, অউ সময় নিজর গর্দনা থাকি তার জুয়াল হরাইবায়।”

হজরত ইয়াকুব (আঃ) শেখ ঈষʼর গেছ থনে বাগিলা

41ইয়াকুবে তান বাফর গেছ থনে দোয়া পাইছলা করি ঈষে তানরে ইংসাইতা লাগলা। ঈষে মনে মনে কইলা, “আমার বাফর লাগি মউতর কান্দনর দিন আইচ্চে। এরবাদেউ তারে খুন করমু।” 42রেবেকায় তান বড় পুয়া ঈষʼর ইতা মাতা-মাতি হুনলা, তেউ হুরু পুয়া ইয়াকুবরে আনাইয়া কইলা, “হুনো, তুমার ভাই ঈষে তুমারে খুন করার নিয়তে দিলরে বান্দিলাইছে। 43আমার পুত, তুমি আমার মাতখান হুনো, তুমি হারান টাউনো আমার ভাই লাবনর গেছে হরিয়া যাওগি, 44আর তুমার ভাইর গুছা না কমা পর্যন্ত তান গেছে থাকো। 45তার গুছা কমিগেলে, তুমি তার লগে যেতা করছো ইতা হে ফাউরিলিলে, আমি খবরিয়াদি তুমারে আনাইমু। কিতাল্লাগি আমি একদিনে তুমরা দুইও জনরে আরাইতাম?”

46বাদে রেবেকায় ইছহাকরে কইলা, “অউ হিট্টী পুড়িন্তর লাগি আমার আর বাচার স্বাদ নাই। ইয়াকুবেও যুদি অউ লাখান, ই দেশর কুনু হিট্টী পুড়িরে শাদি করিলায়, তাইলে আমার আর বাচিয়াউ লাভ কিতা?”

28

1রেবেকার মাত হুনিয়া ইছহাকে, ইয়াকুবরে আনাইয়া দোয়া করলা আর অউ হুকুম দিলা, “তুমি কেনান দেশর কুনু পুড়িরে বিয়া করিও না। 2তুমি পদ্দন-ইরাম দেশো তুমার নানা বথুয়েলর বাড়িত যাওগি, হনো তুমার মামু লাবনর কুনু পুড়িরে বিয়া করিও। 3সর্ব-শক্তিমান আল্লায় তুমারে বরকত নাজিল করউক্কা আর ফলদার করিয়া বউত বাড়াউক্কা, যাতে করি তুমি বউত গুষ্টিআলা জাতি অও। 4যে বরকত তাইন ইব্রাহিমরে নাজিল করছলা, হউ বরকত তাইন তুমারে আর তুমার বংশরে দান করউক্কা। আর যে দেশ আল্লায় ইব্রাহিমরে দিছইন, যেখানো তুমি অখন মুছাফির আছো, ই দেশখান যানু তুমার অয়।” 5বাদে ইছহাকে ইয়াকুবরে বিদায় দিলা, আর তাইন পদ্দন-ইরামো ইরামী বথুয়েলর পুয়া লাবনর গেছে রওয়ানা অইলা। লাবন অইলা রেবেকার ভাই, ইয়াকুব আর ঈষʼর মামু।

হজরত ইছমাইল (আঃ) অর পুড়ির লগে শেখ ঈষʼর বিয়া

6ঈষে যেবলা হুনলা, ইছহাকে ইয়াকুবরে দোয়া করিয়া বিয়া করানির নিয়তে পদ্দন-ইরামো পাঠাইছইন আর কেনানী পুড়িন্তরে বিয়া করতে নিষেধ করছইন, 7আর ইয়াকুবে তান মা-বাফর হুকুমে পদ্দন-ইরামো গেছইনগি, 8অউ ঈষে বুজলা যেন, তান বাফ ইছহাক কেনানী বেটিন্তর উপরে খুশি নায়। 9এরলাগি দুই বউ থাকলেও তাইন ইব্রাহিমর পুয়া ইছমাইলর গেছে গিয়া তান পুড়ি মহলতরে বিয়া করলা। মহলত অইলা নাবাউতর বইন।

বেথেলো হজরত ইয়াকুব (আঃ) অর খোয়াব

10আর ইয়াকুবে বের-শেবা ছাড়িয়া তান মামুর বাড়ি হারান টাউনর বায় রওয়ানা দিলা। 11পথো এক জাগাত সুরুজ ডুবি গেলে তাইন হনোউ রাইত কাটাইলা। হনর পাথরদি হিতান দিয়া ইয়াকুবে ঘুমাইতা করি হুতিলা। 12হুতিয়া হারলে খোয়াবে দেখলা, দুনিয়াইর উপরে একখান মই উবাই রইছে, ই মইর মাথা আছমানো লাগাইল। তাইন দেখলা আল্লার ফিরিস্তা অকলে অগুবায় উঠা-নামা কররা, 13আর মাবুদে এর উপরে উবাইয়া কইরা, “আমি মাবুদ, তুমার বাফ-দাদাইন ইব্রাহিমর আল্লা আর ইছহাকর আল্লা। তুমি অউ যে জমিনো হুতিছো, ইটা আমি তুমারে আর তুমার ওয়ারিশ অকলরে দিমু। 14তুমার ওয়ারিশ অকল দুনিয়াইর ধুইল-বালুর লাখান বেহিসাব অইবা। আর পুবে-পইচমে, উত্তরে-দউকনে চাইরোবায় মেলিযিবা। তুমি আর তুমার বংশর মাজেদি দুনিয়াইর হক্কল জাতিয়ে বরকত হাছিল করবা। 15আমি তুমার লগে লগে আছি, তুমি যেনোউ যাও না কেনে আমি তুমারে হেফাজত করমু আর অউ দেশো হিরবার তুমারে ফিরাইয়া আনমু। আমি তুমারে যেতা যেতা কইছি ইতা হাছিল অওয়ার আগে, তুমারে ছাড়তাম নায়।” 16বাদে ইয়াকুবে ঘুম থাকি উঠিয়া কইলা, “তাইলে হাছাউ মাবুদ ইনো আছইন, আমি তো জানতাম না।” 17অউ তাইন ডরাইয়া কইলা, “কিজাত গরম ই জাগা! ইখান নিচ্চয় আল্লার ঘর, অখানোউ বেহেস্তর দুয়ার।”

18তাইন ফজরর সময় উঠিয়া, যে পাথরটা তান মাথার তলে হিতান দিছলা, ইকটা খুটির মতো করি গাড়িয়া এর উপরে তেল ঢালিলা। 19আর হি জাগার নাম রাখলা বেথেল [মানি, বায়তুল্লা], ইনর আগর নাম আছিল লুজ। 20বাদে ইয়াকুবে কছম খাইয়া কইলা, “আল্লায় যুদি আমার ই ছফরো হেফাজত করইন, তাইন আমার খানি-খুরাক, ফিন্দার লেবাছ যুগাই দেইন, 21আমি হিরবার ছহি-ছালামতে বাফর বাড়িত ফিরিয়া আই, তে অউ মাবুদরেউ আমার আল্লা মানমু। 22আর অউ যে পাথর আমি খুটি গাড়িয়া থইলাম, অনো বায়তুল্লা শরিফ অইবো। আর তুমি আমারে যততা দিবায়, এর দশ বাটর এক বাট আমি নিচ্চয় তুমারে দিলাইমু।”

29

হজরত ইয়াকুব (আঃ) মামার বাড়িত গেলা

1বাদে ইয়াকুবে আটি আটি পুবর দেশর মানষর এলাকাত গেলাগি। 2গিয়া হনর বন্দর মাজে এক কুয়া দেখলা। হউ কুয়ার গেছে তিন পাল মেড়া হুতি রইছে; রাখাল অকলে অন থনে তারারে পানি খাওয়াইন। আর কুয়ার মুখো বড় এক পাথর থওয়া অইছে। 3হকল মেড়ার পাল যেবলা একখানো অইতো, তেউ রাখাল অকলে কুয়ার মুখ থনে পাথরগু হরাই দিয়া মেড়াইন্তরে পানি খাওয়াইতো। বাদে পাথররে হিরবার কুয়ার মুখো থইতো।

4ইয়াকুবে তারারে জিকাইলা, “ভাই অকল, আপনারা কোন জাগার মানুষ?” তারা কইলা, “হারান টাউনর।” 5অউ তাইন কইলা, “আপনারা নাহুরর নাতি লাবনরে চিনইন নি?” তারা কইলা, “জিঅয়, চিনি।” 6ইয়াকুবে জিকাইলা, “তাইন ভালা আছইন নি?” তারা কইলা, “জিঅয়, ভালা আছইন। অউনু তান পুড়ি রাহেলায় মেড়ার পাল লইয়া আইরা।” 7তাইন কইলা, “দেখউক্কা, অখনও বউত বেইল আছে। তে পশু অকল একখানো অইবার সময় তো অইছে না। আপনারা মেড়াইন্তরে পানি খাওয়াইয়া হিরবার রাখাত লইয়া যাইনগি।” 8তারা কইলা, “না, আমরা ইলা করতাম পারি না, হক্কল পাল একখানো দলা অইলে বাদে কুয়ার মুখ থনে পাথর হরাইয়া আমরা মেড়াইন্তরে পানি খাওয়াই।”

9তাইন অখনও তারার লগে মাতো রইছইন, অউ সময় রাহেলায় তান বাফর মেড়ার পাল লইয়া অনো আইলা, তাইন ই পালর রাখালিত আছলা। 10ইয়াকুবে তান মামু লাবনর পুড়ি রাহেলারে আর তান মেড়ার পাল দেখিয়াউ কুয়ার গেছে গিয়া কুয়ার মুখ থনে পাথরটা হরাইয়া মেড়াইন্তরে পানি খাওয়াইলা। 11বাদে তাইন রাহেলারে মায়া দিয়া জুরে জুরে কান্দিতা লাগলা। 12আর তাইন রাহেলারে কইলা যেন, তাইন লাবনর ভাইগনা, রেবেকার পুয়া। অউ রাহেলায় দৌড়াইয়া গিয়া তান বাফরে ই খবর দিলা।

13লাবনে তান ভাইগনা ইয়াকুবর খবর হুনিয়া দৌড়াইয়া তান লগে দেখা করাত আইলা। তানরে আইঞ্জা করি ধরিয়া হুংগা দিয়া বাড়িত লইয়া গেলা। গিয়া হারলে ইয়াকুবে লাবনরে তান আইবার হক্কলতা জানাইলা। 14লাবনে কইলা, “তুমি তো আমারউ জান আর আমারউ গোস্ত।” আর ইয়াকুব লাবনর বাড়িত একমাস রইলা।

হজরত ইয়াকুব (আঃ) অর দুই বিয়া

15একমাস বাদে লাবনে ইয়াকুবরে কইলা, “তুমি আমার কুটুম অইলায় করি বিনা বেতনে আমার চাকরি করতায় নি বা? তুমারে কিতা দিতাম, কইলাও।” 16লাবনর দুইটা পুড়ি আছিল। বড়গুর নাম লেয়া আর হুরুগুর নাম রাহেলা। 17লেয়ার খালি চউখউ সুন্দর আছিল, অইলে রাহেলার গঠন আর চেহারা-ছুরত, হক্কলতা সুন্দর আছিল। 18ইয়াকুবে রাহেলারে পছন্দ করতা করি তাইন কইলা, “আপনার হুরু পুড়ি রাহেলার লাগি আমি সাত বরছ আপনার গুলামি করমু।” 19লাবনে কইলা, “রাহেলারে মানষর আতো দেওয়ার চাইতে তুমার গেছে দেওয়াউ ভালা। তুমি আমার গেছে রও।” 20তেউ ইয়াকুবে রাহেলার লাগি সাত বরছ গুলামি করলা। রাহেলারে মহব্বত করতা করি, ইতা একো বরছ তান গেছে এক দিনর হমান মনো অইলো।

21হেশে তাইন লাবনরে কইলা, “আমার গুলামির মিয়াদ পুরি গেছে। অখন আমার বউরে আমার আতো সমজাইয়া দেউক্কা, আমি তাইর গেছে রইতাম চাই।” 22তেউ লাবনে হউ এলাকার হকল মানষরে বিয়ার দাওত করিয়া খানা-দানা খাওয়াইলা। 23হেশে রাইত অইলে তাইন তান পুড়ি লেয়ারে ইয়াকুবর গেছে দিলা, আর ইয়াকুবে এন লগে রইলা। 24লাবনে নিজর বান্দি জিল্পারে, তান পুড়ি লেয়ার বান্দি গিরিত দিলা। 25অইলে বিয়ানে উঠিয়া দেখইন, এইন তো লেয়া। তেউ ইয়াকুবে লাবনরে কইলা, “আপনে আমার লগে ইতা কুন জাতর কাম করলা? অতো দিন আমি রাহেলার লাগি আপনার গুলামি করছি নায় নি? তে আমারে ধুকা দিলা কেনে?” 26লাবনে কইলা, “বড় পুড়ির আগে হুরু পুড়ির বিয়া দেওয়া আমরার দেশর চল নায়। 27তুমি বিয়ার খুশি-বাসির হাপ্তাটা পার অইতে দেও। তেউ হি পুড়িরেও তুমার গেছে বিয়া দিমু, অইলে তুমি আরো সাত বরছ আমার গুলামি করতে অইবো।” 28ইয়াকুবে তান কথা মানিয়া অউ খুশি-বাসির হাপ্তা পার করলা। বাদে লাবনে তান পুড়ি রাহেলারেও ইয়াকুবর গেছে শাদি দিলা। 29আর তান বান্দি বিলহারে রাহেলার বান্দি গিরিত দিলা। 30ইয়াকুবে রাহেলার লগেও রইলা, তাইন লেয়ার চাইতে রাহেলারে বেশি মায়া করতা। বাদে তাইন আরো সাত বরছ তান মামু লাবনর গুলামি করলা।

31অইলে লেয়ারে মায়া না করায়, মাবুদে লেয়ারে হুরুতা পয়দার খেমতা দিলা, আর রাহেলা নিআওলাদি রইলা। 32আর লেয়ার ঘরো এক পুয়া অইলো। তাইন পুয়ার নাম রাখলা রুবেন [মানি, পুয়ারে দেখো]। তাইন কইলা, “মাবুদে আমার দুখ দেখছইন, অখন নিচ্চয় আমার জামাইয়ে আমারে মায়া করবা।” 33বাদে হিরবার তান ঘরো এক পুয়া অইলো। তাইন পুয়ার নাম রাখলা শিমিয়ন [মানি, হুনইন] তাইন কইলা, “আমারে এলামি করার কথা মাবুদে হুনছইন, এরলাগি তাইন আমারে অউ পুয়া দিছইন।” 34বাদে হিরবার তান ঘরো এক পুয়া অইলো। তাইন কইলা, “অখন আমার জামাইয়ে আমার লগে আশিক অইবা, তান তিনটা পুয়া আমার পেট থনে পয়দা অইলো।” অউ এর নাম রাখলা লেবি [মানি, আশিক]। 35বাদে হিরবার তান আরো এক পুয়া অইলে তাইন কইলা, “ইফিরা আমি মাবুদর তারিফ করমু।” আর তাইন অউ পুয়ার নাম রাখলা এহুদা [মানি, তারিফ]। এরবাদে তান হুরুতা অওয়া বন্দ অইগেল।

30

1রাহেলায় যেবলা দেখলা, তান ঘরো ইয়াকুবর কুনু আওলাদ অইরা না, অউ সময় তান বনির বায় ইংসা পয়দা অইলো। তাইন ইয়াকুবরে কইলা, “আমারে আওলাদ দেও, নাইলে আমি মরিযিমু!” 2তেউ রাহেলার লগে ইয়াকুবে খুব গুছা করিয়া কইলা, “আমি কুনু আল্লা নি? তাইনউ তো তুমার পেট বন্দ করি দিছইন।” 3রাহেলায় কইলা, “হুনউক্কা, আমার বান্দি বিলহা অনো আছে, আপনে তাইর গেছে যাউক্কা, তাইরেদি হুরুতা পাইয়া আমিও হুরুতা আলা অইযিতাম পারি।” 4অখান কইয়া হারি রাহেলায় তান বান্দি বিলহারে ইয়াকুবর গেছে হাংগা দিলা, আর ইয়াকুব তাইর গেছে রইলা। 5তেউ বিলহার ঘরো ইয়াকুবর এক পুয়া অইলো। 6আর রাহেলায় কইলা, “আল্লায় আমারে ইনসাফ করছইন, আর আমার আহাজারি হুনিয়া এগু পুয়া দিছইন।” তাইন ই পুয়ার নাম রাখলা দান [মানি, ইনসাফ]। 7বাদে রাহেলার বান্দি বিলহার ঘরো হিরবার ইয়াকুবর দুছরা পুয়া পয়দা অইলো। 8আর রাহেলায় কইলা, “বইনর লগে মহা লাড়াইত আমি জিতছি।” অউ তাইন ই পুয়ার নাম রাখলা নপ্তালি [মানি, লাড়াই]।

9লেয়ায় যেবলা দেখলা তান ঘরো আর হুরুতা অইরা না, তেউ তাইনও তান বান্দি জিল্পারে ইয়াকুবর গেছে হাংগা দিলা। 10তেউ লেয়ার বান্দি জিল্পার পেটো ইয়াকুবর এক পুয়া অইলো। 11আর লেয়ায় কইলা, “আমার কপাল খুলছে!” তাইন এর নাম রাখলা ছাদু [মানি, কপাল]। 12বাদে লেয়ার বান্দি জিল্পার ঘরো ইয়াকুবর আরক পুয়া অইলো। 13আর লেয়ায় কইলা, “আমার কত সুখ! হকল বেটিন্তে আমারে সুখি কইবা।” তেউ তাইন ই পুয়ার নাম রাখলা আশির [মানি, সুখি]।

14গম দাওয়ার সময় রুবেনে বন্দো গিয়া কিছু ধুতরা-গুটা পাইয়া, তান মা লেয়ার গেছে আনিয়া দিলা। আর রাহেলায় লেয়ারে কইলা, “তুমার পুয়ার কয়গু ধুতরা-গুটা আমারে দেওছাইন।” 15লেয়ায় কইলা, “তুমি আমার জামাইরে দখল করছো, ইতায় অইছে না নি? অখন আমার পুয়ার ধুতরা-গুটাও চাইরায় নি?” রাহেলায় কইলা, “তাইলে তুমার পুয়ার ধুতরা-গুটার বদলা আইজ রাইত তাইন তুমার লগে রইবা নে।” 16হাইঞ্জা বালা ইয়াকুবে বন্দো থনে আইতেউ লেয়ায় বার অইয়া তানে কইলা, “আইজ আমার লগে রইবায়, কারন আমার পুয়ার ধুতরা-গুটার বদলা আমি তুমারে আওলাত নিছি।” অউ হি রাইত তাইন লেয়ার ঘরো হুতিলা। 17আল্লায় লেয়ার দোয়া কবুল করায়, তান ঘরো ইয়াকুবর পাচ নম্বর পুয়ার জনম অইলো। 18অউ লেয়ায় কইলা, “আমার জামাইর গেছে আমার বান্দিরে দিছলাম করি, আল্লায় আমারে এর বদলা দিলা।” এরলাগি তাইন ই পুয়ার নাম রাখলা ইছাখর [মানি, বদলা]। 19বাদে হিরবার লেয়ার ঘরো ইয়াকুবর ছয় নম্বর পুয়ার জনম অইলো। 20লেয়ায় কইলা, “আল্লায় আমারে বউত বড় এক নিয়ামত দিলা। অখন আমার জামাইয়ে আমারে দাম দিবা, কারন আমি তান ছয়গু পুয়ার জনম দিছি।” তাইন ই পুয়ার নাম রাখলা সবুলন [মানি, দাম]। 21হেশে লেয়ার এক পুড়ি অইলো, তাইর নাম রাখলা দীনা।

22আল্লায় রাহেলার বায়ও খিয়াল করলা। তাইন রাহেলার দোয়া কবুল করিয়া, তানরে হুরুতা পয়দার তাক্কত দিলা। 23আর রাহেলার ঘরো এক পুয়া অইলে তাইন কইলা, “আল্লায় আমার শরম হরাইছইন।” 24তাইন ই পুয়ার নাম রাখলা ইউছুফ [মানি, বাড়ানি]। তাইন কইলা, “মাবুদে আমারে আরোগু পুয়া বাড়াই দেউক্কা।”

হজরত ইয়াকুব (আঃ) অর ধন-সম্পদ বাড়িছে

25রাহেলার ঘরো ইউছুফ অওয়ার বাদে, ইয়াকুবে লাবনরে কইলা, “অখন আমারে বিদায় দিলাউক্কা, আমি নিজর দেশর বাড়িত যাইগি। 26আপনে তো জানইন, আমি কিলা আপনার গুলামি করছি, আমি আমার বউয়াইন আর পুয়া-পুড়ির লাগি আপনার গুলামি করছি। অখন তারারে লইয়া আমারে যাইতে দেউক্কা।” 27লাবনে তানরে কইলা, “আমার লাগি যুদি তুমার মায়া থাকে, তে যাইও না। আমি আলামতে বুজিয়ার যেন, তুমার খাতিরে মাবুদে আমারেও বরকত নাজিল করছইন। 28তুমার বেতন তুমি নিজেউ কইলাও। আমি তুমারে অলাউ দিমু।” 29অউ ইয়াকুবে তানরে কইলা, “আমি কিলা আপনার গুলামি করছি, আর আমার আতো আপনার পশুর পাল কিলাখান অইছে, ইতা আপনেউ জানইন। 30আমি আওয়ার আগে আপনে গরিব আছলা। আর অখন তো বাড়িয়া বউততা অইছে। আমার কারনে মাবুদে আপনারে বউত বরকত দিছইন। অইলে আমার নিজর পরিবারর লাগি কুনদিন কামাই করতাম?” 31তেউ লাবনে কইলা, “আমি তুমারে কিতা দিতাম?” ইয়াকুবে কইলা, “আপনে আমারে কুন্তাউ না দিয়া যুদি আমার এগু মাত রাখইন, তাইলে আমি হিরবার আপনার পশুর পালর খেজমত করমু। 32আমি আইজ আপনার পশুর পালর মাজে গিয়া, ফুটা ফুটা দাগআলা আর কালা আর চিতরা মেড়াইন আর ছাগলর মাজে চিতরা আর ফুটা ফুটা রংগর হক্কলটি আমার বেতন বাবত নিমুগি। 33তেউ আপনে যেবলাউ বেতনর কারনে আইবা, ই সময় দেখবা, আমার ইমানদারিয়ে আমার লাগি জুয়াপ দিবো। আর ফুটা ফুটা দাগআলা আর কালা আর চিতরা মেড়াইন আর ছাগলর মাজে চিতরা আর ফুটা ফুটা রংগরতা ছাড়া আর কুন্তা পাইলে মনো করবা, আমি চুরি করছি।” 34অউ লাবনে কইলা, “আইচ্ছা, তুমার কথাউ ঠিক থাকউক।” 35লাবনে হউ দিনউ পাল থাকি লাম্বা দাগআলা আর চিতরা ছাগল, ফুটা ফুটা দাগ আর চিতরা থুড়া থুড়া ধলা ছাগিন আর কালা মেড়া অকল আলগাইয়া নিজর পুয়াইন্তর গেছে দিলাইলা। 36দিয়া তাইন ইয়াকুবর গেছ থাকি তিন দিনর পথ দুরই হরিয়া গেলাগি আর ইয়াকুবে লাবনর বাকি পাল অকলরে রাখাত রইলা।

37ইয়াকুবে লিবনী, লাউজ আর আর্মোন গাছর কাচা ডাল কাটিয়া উপরে থাকি বাখল ফালাইয়া ডালর মাজে লাম্বা লাম্বা ধলা দাগ দিলা। 38ছাগলর পালে আইয়া যেখানো পানি খাইন, তাইন অউ বাখল ফালাইল দাগআলা ডাল অকল, হনো পানির গামলার ছামনে থইলা। আর পানি খাওয়ার সময় এরা ফাল খাইতো। 39তেউ অউ ডালর গেছে আইয়া ফাল খাওয়ায় তারার বাইচ্চাইনও চিতরা, লাম্বা দাগআলা আর ফুটা ফুটা রংগর অইতা।

40বাদে তাইন অউ বাইচ্চাইন আলগাইতা, আর লাবনর ডোরাআলা আর কালা মেড়াইন্তর বায় মেড়িন্তর চউখ রাখাইতা। অউ লাখান তাইন, তান নিজর পালরে লাবনর পালর লগে মিলাইতা না। 41আর জুরআলা মেড়ি-ছাগিন্তে ফাল খাওয়ার সময়, তাইন গামলাত তারার চউখর ছামনে অউ ডাল অকল থইতা, 42অইলে কমজুর পশুর ছামনে ই ডালাইন থইতা না। তেউ লাবনর পশুইন অইতা কমজুর, আর ইয়াকুবর পশুইন অইতা জুরআলা। 43অউ লাখান কাম করিয়া তাইন বউত ধনি অইলা। তান গুলাম-বান্দি, উট-গাধা আর পশুর পাল বউত বলিগেল।

31

হজরত ইয়াকুব (আঃ) হউর বাড়ি থাকি বাগিলা

1বাদে ইয়াকুবর কানো আইলো লাবনর পুয়াইন্তে মাতিরা যেন, “ইয়াকুবে আমরার বাফর হক্কলতা নিছেগি, আর আমরার বাফর মাল দিয়াউ হে মালদার অইগেছে।” 2আর ইয়াকুবেও খিয়াল করলা, তানবায়দি লাবনর আগর হি মনর ভাব আর নায়। 3মাবুদে ইয়াকুবরে কইলা, তুমি তুমার বাফ-দাদার দেশো নিজর মানষর গেছে ফিরিয়া যাওগি। আমি তুমার লগে থাকমু। 4অউ ইয়াকুবে খবরিয়া পাঠাইয়া লেয়া আর রাহেলারে বন্দো তান পশুর পালর গেছে আনাইয়া কইলা, 5“আমি তুমারতানর বাফর মুখ দেখিয়া বুজিয়ার, তান আগর হি মনর ভাব আমার বায় নায়, অইলে আমার বাবার আল্লা আমার লগে লগে রইছইন। 6তুমিতাইন তো জানো যেন, আমি আমার হকল শক্তি দিয়াউ তান কত গুলামি করছি, 7তা-ও তাইন আমারে টগিছইন আর দশ-দশবার করিয়া আমার বেতন বদলাইছইন, অইলে আল্লায় আমার কুনু খেতি অইতে দিছইন না। 8তাইন যেবলা কইলা, তুমার বেতন অইবো, ফুটা ফুটা রংগর পশু, তেউ পালর হকল পশুয়ে অউ লাখান বাইচ্চা দিলো। হিরবার তাইন যেবলা কইলা, তুমার বেতন অইবো ডোরাআলা পশু, তেউ পালর হকল পশুয়ে ডোরাআলা বাইচ্চা দিলো। 9আল্লায় অউ লাখান করি তান পালর পশু আনিয়া আমারে দিছইন।

10“একবার পশুইন্তে ফাল খাওয়ার সময় আমি খোয়াবে দেখলাম, মেড়ি-ছাগিন্তর উপরে যে পাঠা অকল উঠিরা, ইগুইন ডোরাআলা, চিতরা আর ফুটা ফুটা রংগর। 11খোয়াবর মাজে আল্লার ফিরিস্তায় আমারে ডাকিলা, ‘ইয়াকুব!’ আমি কইলাম, ‘অউনু আমি।’ 12তাইন কইলা, ‘তুমি চউখ তুলিয়া দেখো, মেড়ি-ছাগিন্তর উপরে যেতা পাঠাইন উঠিরা, হক্কলটি ডোরাআলা, চিতরা আর ফুটা ফুটা রংগর। লাবনে তুমার লগে যেতা যেতা করছে, ইতা হকলতাউ আমি দেখছি। 13আমি হউ বেথেলর আল্লা, যেনো তুমি খুটির উপরে তেল ঢালিয়া আমার নামে কছম করছলায়। অখন চলো, ই দেশ ছাড়িয়া তুমার জনম মাটিত ফিরত যাও।’ ”

14অউ লেয়া আর রাহেলায় কইলা, “বাবার সম্পত্তির কুনু দাবি আর আমরার রইলো নি? 15তাইন তো আমরারে বেগানা মানুষ মনো করিয়া, আমরারে বেচিলাইছইন আর আমরার হক্কলতাউ খাইলিছইন। 16এরলাগি আল্লায় আমরার বাবার ছামানা থনে যততা নিছইন, ই হক্কলটিউ অখন আমরার আর আমরার আওলাদর অইছে। তে আল্লায় তুমারে যেলা হুকুম করছইন, তুমিও অউলা করো।”

17বাদে ইয়াকুবে তান হুরুতাইন আর বিবিন্তরে উটর উপরে তুলিয়া, 18পদ্দন-ইরামো তান কামাইল পশু অকল আর মাল-ছামানা হক্কলতা লইয়া, কেনান দেশো তান বাফ ইছহাকর গেছে রওয়ানা দিলাইলা। 19হউ সময় লাবনে তান মেড়াইন্তর রুমা কাটার লাগি গেছলা, আর অউ ফাকে রাহেলায় তান বাফর মুর্তি অকল চুরি করিলিলা। 20ইয়াকুবে তান যাওয়ার কথা ইরামী লাবনরে না জানাইয়া তানরে টগিলা। 21আর তাইন হক্কলতা লইয়া বাগিয়া, ফোরাত গাং পার অইয়া গিলিয়দর পাড়র ছামনেদি যাওয়াত রইলা।

হউরে হজরত ইয়াকুব (আঃ) রে ধরাত আইলা

22যাওয়ার তিন দিন বাদে লাবনে হুনলা যেন, ইয়াকুব বাগিয়া গেছইনগি। 23অউ তাইন খেশ-কুটুমরে লইয়া, ইয়াকুবর খরে অইয়া সাত দিনর পথ গিয়া, গিলিয়দর পাড়ো তারার লাগাল পাইলা। 24অইলে রাইতর বালা আল্লায় খোয়াবে ইরামী লাবনর গেছে আইয়া কইলা, “খবরদার! ইয়াকুবরে ভালা-বুরা কুন্তাউ কইও না।”

25ইয়াকুবে পাড়র মাজে তাম্বু গাড়িছলা, আর লাবনে গিয়া তানরে অনোউ লাগাল পাইলিলা, তেউ লাবন আর তান খেশ-কুটুম অকলেও গিলিয়দর হউ পাড়র মাজে তাম্বু গাড়িলা। 26বাদে লাবনে ইয়াকুবরে কইলা, “তুমি কেনে ইতা করলায়? আমারে টগিয়া আমার পুড়িন্তরে কেনে যুদ্ধর বন্দির লাখান লইয়া আইলায়? 27কেনে তুমি ধুকা দিয়া আমারে না জানাইয়া, লুকাইয়া বাগিয়া আইলায়? আমারে জানাইলে তো আমি খুশি-বাসি করিয়া, দুতারা আর মন্দিরা বাজাইয়া গান গাইয়া, তুমারে বিদায় দিলাম অনে। 28তুমি আমার পুড়িন্তরে আর নাতি-নশারেও হুংগা দিতেও দিলায় না, বেআখলর মত কাম করলায়। 29অখন আমি তো তুমরার খেতি করতাম পারমু, অইলে তুমরার বাফ-দাদার আল্লায় গত রাইত আমারে কইছইন, ‘খবরদার! ইয়াকুবরে ভালা-বুরা কুন্তাউ কইও না।’ 30তুমার বাফর বাড়িত যাওয়ার লাগি মনে কান্দিছিল করি, তুমি বাগিয়া আইছো মানলাম, তে আমার দেবতা অকল কেনে চুরি করলায়?” 31ইয়াকুবে জুয়াপ দিলা, “আমি ডরাইছলাম, মনো করছলাম, আপনে জুর করিয়া আপনার পুড়িন্তরে, আমার গেছ থনে কাড়িয়া রাখি দিবা। 32তে অখন যার গেছে আপনার দেবতাইন পাইবা, তারে জিতা রাখতাম নায়। আমরার খেশ-কুটমর ছামনে হক্কলতা তালাশ করিয়া যুদি আপনার কুন্তা পাইন, তাইলে নেউক্কাগি।” হউ মুর্তি অকল যেন রাহেলায় চুরি করছইন, ইতা তো ইয়াকুবে জানইন না।

33অউ লাবনে ইয়াকুব, লেয়া আর দুইও বান্দির তাম্বুত হামাইয়া হকলতা তুকাইয়া কুন্তা না পাইয়া, হেশে লেয়ার তাম্বু থনে রাহেলার তাম্বুত গিয়া হামাইলা। 34রাহেলায় ই মুর্তি অকল নিয়া উটর গদ্দির ভিতরে থইয়া, তাইন অউ গদ্দির উপরে বইলা। লাবনে তান তাম্বুর হকলতা তুকাইয়া হনোও ইতা পাইলা না। 35আর রাহেলায় তান বাফরে কইলা, “বাজান আমি উঠিয়া উবাইতাম পারিয়ার না করি আপনে বেজার অইন না যেন, বেটিয়ারা বেমারর লাগি আমার শরিল খারাপ।” অউ লাবনে হি মুর্তি অকল আর তুকাইয়া পাইলা না।

36হেশে ইয়াকুবে গুছা অইয়া লাবনরে ছিড়াইয়া কইলা, “আমার অপরাধ কিয়ানো? আমি কিতা দুষ করছি, আপনে আমার খরে অইয়া অউলা খেদানিত আইলা? 37আমার হকল মাল-ছামানা আউলাইয়া আপনার ঘরর কুন জিনিসখান পাইলা? পাইলে ইতা আপনার-আমার খেশ-কুটমর ছামনে রাখউক্কা, তারা আমরার বিচার করবা। 38আমি ই বিশ বরছ আপনার লগে আছলাম। এর মাজে আপনার কুনু মেড়ি বা ছাগির পেটর বাইচ্চা নষ্ট অইছে না বা আপনার পালর কুনু মেড়াও আমি খাইছি না। 39আর জংলি জানুয়ারে মারা কুনু পশুও আপনার গেছে আনছি না, ইতা আমি নিজেউ পুরিয়া দিছি। দিনো বা রাইত কুনু পশু চুরি অইলে, আপনে আমার গেছ থাকি ভরিয়া লইছইন। 40আমি অউলা দিন কাটাইছি, দিনো জলছি গরমে আর রাইতে কাপছি শীতে। আমার চখুত ঘুম আইত না। 41যে বিশ বরছ আপনার বাড়িত রইছি, এর চৌদ্দ বরছ আমি আপনার দুই পুড়ির লাগি গুলামি করছি, আর ছয় বরছ গেছে আপনার পশুর লাগি। এর মাজে আপনে দশ-দশবার আমার বেতনও বদলাইছইন। 42আমার বাবার আল্লা, ইব্রাহিমর আল্লা আর ইছহাকে যানরে ডরাইতা তাইন যুদি আমার লগে না থাকতা, তে হাছাউ অখন আপনে আমারে খালি আতে বিদায় দিলা অনে। আল্লায় আমার মেনত আর দুখ দেখছইন। এরলাগিউ তাইন কাইল রাইত আপনারে ধমকাইছইন।”

হজরত ইয়াকুব (আঃ) অর লগে হউরর চুক্তি

43লাবনে ইয়াকুবরে জুয়াপ দিলা, “ই পুড়িন আমারউ পুড়িন, আর অউ হুরুতাইন আমারউ নাতি-নশা, আর ই পশুর পাল অকলও আমার। তুমি অনো যততা দেখরায়, হকলতাউ আমার, তা-ও আমার পুড়িন্তরে বা তারার হুরুতাইন্তরে আমি আর কিতা করমু? 44আও, আমরা দুইওজনে এক চুক্তি করিলাই। অউ চুক্তির নিশানাটা তুমার-আমার মাজে সাক্ষি রইব।” 45অউ ইয়াকুবে এক পাথর লইয়া খুটি গাড়িলা। 46আর তান খেশ-কুটুম অকলরে কইলা, “আপনারাও পাথর আনউক্কা।” তেউ তারাও পাথর আনিয়া এক ভিটা বানাইলা, হেশে অউ ভিটার গেছে খানি খাইলা। 47লাবনে হউ ভিটার নাম রাখলা যিগর-সাহদুতা [মানি, সাক্ষি-ভিটা] অইলে ইয়াকুবে এর নাম রাখলা গল-এদ। 48লাবনে কইলা, “অউ ভিটা অখন থনে তুমার-আমার সাক্ষি অইলো।” এরলাগি অউ ভিটার নাম অইলো গল-এদ, 49আর অউ খুটির নাম অইলো মিস্পা [মানি, পাহারার জাগা]। লাবনে কইলা, “আমরা যেবলা হরিয়া যাইমুগি অউ সময় মাবুদেউ তুমার-আমার পাহারা দিবা। 50তুমি যুদি আমার পুড়িন্তরে দুখ দেও বা আমার পুড়িন ছাড়া আর কেউররে বিয়া করো, তাইলে কুনু মানুষ আমরার লগে না রইলেও আল্লা আমরার সাক্ষি রইলা।”

51লাবনে ইয়াকুবরে আরো কইলা, “অউ ভিটা বায় আর অউ খুটির বায় চাও, ইটা তুমার-আমার মাজখানো আমি গাড়লাম। 52ই দুইওটা তুমার-আমার সাক্ষি রইল। তুমিও ইংসা করি অউ ভিটা আর খুটি ডিংগাইয়া আইবায় না আর আমিও বুরাইর নিয়তে ইতা ডিংগাইয়া যাইতাম নায়। 53ইব্রাহিমর আল্লা, নাহুরর উপরআলা আর তারার বাফর উপরআলায় তুমার-আমার বিচার করবা।” আর ইয়াকুবে, তান বাফ ইছহাকে যানরে ডরাইতা তান নামে কছম করলা। 54ইয়াকুবে হউ পাড়র উপরে কুরবানি করিয়া তান খেশ-কুটুম অকলরে খাওয়ার দাওয়াত দিলা। খাওয়া-দাওয়া শেষ করিয়া হারি তারা হউ পাড়র মাজে রাইত রইলা।

55বাদর দিন ফজরে লাবনে তান পুড়িন্তরে আর নাতি-নশারে হুংগা দিয়া দোয়া করলা, হেশে তান বাড়ি মুখা পথ দিলা।

32

মহনয়িমো ফিরিস্তা অকলর লগে দেখা

1ইয়াকুবও তান পথে রওয়ানা অইলে, আল্লার ফিরিস্তা অকলে তানরে দেখা দিলা। 2এরারে দেখিয়া তাইন কইলা, “ইতা আল্লার ফৌজ।” আর ই জাগার নাম রাখলা মহনয়িম [মানি, দুই ফৌজ]।

শেখ ঈষʼর গেছে উপহার পাঠানি

3ইয়াকুবে তান আগে করি সেয়ীর বা ইদোম দেশো, তান বড় ভাই ঈষʼর গেছে কয়জন খবরিয়া পাঠাইলা। 4তাইন এরারে হিকাই দিলা, “তুমরা আমার মুনিব ঈষʼরে কইও, তান গুলাম ইয়াকুবে কইছে, আমি অতদিন থনে আমরার মামু লাবনর গেছে মুছাফিরিত আছলাম। 5আমার গরু-গাধা, ছাগল-মেড়া আর গুলাম-বান্দি হকলতাউ আছে। আমার মুনিবর গেছে দয়া পাওয়ার আশায় তুমরারে পাঠাইলাম।”

6খবরিয়া অকলে ফিরিয়া আইয়া ইয়াকুবরে কইলা, “আমরা আপনার ভাই ঈষʼর গেছে গেছলাম। তাইন চাইরশো মানষরে লইয়া আপনার লগে মুলাকাত করাত আইরা।” 7অউ ইয়াকুবে ডরাইয়া খুব অস্থির অইগেলা। তাইন লগর হকল মানষরে, গরু-ছাগল, মেড়া-মেড়ি আর উট-গাধা অকলরে দুই দলে আলগাইলা। 8তাইন কইলা, ভাইয়ে আইয়া এক দলরে হামলা করলেও আরক দল নিরাপদে রইব।

9আর ইয়াকুবে দোয়া করলা, “ও মাবুদ, আমার দাদা ইব্রাহিমর আল্লা আর আমার বাবা ইছহাকর আল্লা, তুমিউ আমারে হুকুম করছো যেন, ‘তুমার দেশো তুমার নিজর মানষর গেছে ফিরিয়া যাও, তেউ আমি তুমারে রহম করমু।’ 10তুমার ই গুলামর বায় যে রহম আর ইমানদারি দেখাইছ, আমি ইতা কুন্তারউ লাখ নায়। আমি তো এগু লাঠি লইয়া ই জর্দান গাং পার অইছলাম, আর অখন দুই দল অইগেছি। 11মাবুদ, আমি আরজ করিয়ার, আমার ভাই ঈষʼর আত থনে আমারে বাচাও। আমার ডর করের, হে আইয়া বউ পুয়া-পুড়ির লগে আমারেও খুন করব। 12তুমিউ তো ওয়াদা করছো, ‘আমি অবশ্যউ তুমার ভালাই করমু, তুমার ওয়ারিশ অকলরে দরিয়ার পারর বালুর লাখান বেহিসাব করমু, যেলা গনিয়া ফুড়ায় না।’ ”

13ইয়াকুবে ই রাইত হনো রইলা আর তান যততা আছিল এর মাজ থাকি কতখান লইয়া তান ভাই ঈষʼর লাগি এক উপহার তৈয়ার করলা। 14ইতা অইলো দুইশো ছাগি, কুড়িটা ছাগল, দুইশো মেড়ি, কুড়িটা মেড়া, 15তিশগু বাইচ্চাআলা দুধর উট, দুই কুড়ি গাই, দশগু বিছাল, এক কুড়ি গাধী আর দশগু গাধা, 16বাদে তাইন এক এক গুলামর আতো এক এক পাল সমজাই দিয়া কইলা, “তুমরা আমার আগে অইয়া যাও আর এক পাল থাকি আরক পালর মাজে ফাক রাখিও।” 17পয়লা দলর গুলামরে তাইন হিকাই দিলা, “আমার ভাই ঈষʼর লগে দেখা অওয়ার বাদে যেবলা জিকাইবা, ‘কই যাইতায়বা? তুমি কার মানুষ? তুমার হমখর পশুইন কার?’ 18তুমি জুয়াপ দিও, ‘ইতা আপনার গুলাম ইয়াকুবর। তাইন আমার মুনিব ঈষʼর লাগি, ইতা উপহার পাঠাইছইন। আর তাইন আমরার খরে অইয়া আইরা।’ ” 19অউ লাখান তাইন দুই নম্বর, তিন নম্বর দলর গুলাম অকলরেও হিকাই দিলা যেন, “ঈষʼর লগে দেখা অইলে তুমরাও অউলা কইও। 20আর হেশে কইও, আপনার গুলাম ইয়াকুবও আমরার খরে অইয়া আইরা।” ইয়াকুবে মনো করলা, “আগে উপহার অকল পাঠাইয়া তানে ঠান্ডা করমু, বাদে তান লগে দেখা-সাইক্ষাত করমু, তে তাইন আমারে মায়া করিলিতা পারইন।” 21তান আগে অইয়া উপহার অকল গেলগি, অইলে তাইন রাইত তান ডেরাত রইলা।

ফিরিস্তার লগে কুস্তির বাদে নয়া নাম ইছরাইল

22হেশে রাইত উঠিয়া তান দুইও বিবিন, দুইও বান্দি আর এগারগু পুয়ারে লইয়া পাওয়ে আটিয়া, জাব্বোক খালর হপারো থইয়া আইলা। 23তাইন এরারে খাল পার করাইয়া তান হকল মাল-ছামানাও হনো পাঠাই দিলা। 24আর তাইন একলা অনো রইলা, তেউ গাইবি একজন মানুষ আইয়া তান লগে রাইতভর কুস্তা-কুস্তি করলা। 25অইলে তাইন ইয়াকুবরে কাবু করতা না পারায় এন উরাতর জুড়াত মারলা আর ইয়াকুবর উরাতর আড় জাগা থনে ডুলি গেল। 26হেশে হি মানষে কইলা, “ফজর অইযার, অখন তুমি আমারে ছাড়িদেও।” ইয়াকুবে কইলা, “আপনে আমারে দোয়া না করলে ছাড়তাম নায়।” 27হি মানষে জিকাইলা, “তুমার নাম কিতা?” তাইন কইলা, “ইয়াকুব।” 28অউ হেইন কইলা, “তুমি আল্লা আর মানষর লগে লাড়াই করিয়া জিতছো করি, তুমার নাম আর ইয়াকুব রইতো নায়, তুমার নাম অইলো ইছরাইল [মানি, আল্লার লগে কুস্তি কররা]।” 29ইয়াকুবে তানরে কইলা, “আপনার নামখান কিতা কউক্কা।” তাইন কইলা, “তুমি কিতার লাগি আমার নাম জিকাইরায়?” হেশে তাইন ইয়াকুবরে দোয়া করলা। 30অউ ইয়াকুবে ই জাগার নাম রাখলা পনুয়েল [মানি, আল্লার ছুরত]। তাইন কইলা, “আমি আল্লা পাকরে মুখামুখি দেখিয়াও জিন্দা রইছি।” 31আর ইয়াকুবে পনুয়েল পারনির বাদে সুরুজ উঠি গেল। তান উরাতর মাইরর লাগি লেংড়াইতা লাগলা। 32এর লাগি বনি ইছরাইলে অখনও রানর জুড়ার গোস্ত খাইন না, কারন তাইন উরাতর জুড়ার রগর মাজে ইয়াকুবরে মারছলা।

33

বড় ভাই শেখ ঈষʼর লগে মিট-মাট

1ইয়াকুবে চাইয়া দেখলা, তান বড় ভাই ঈষে চাইরশো মানুষ লইয়া আগুয়াইয়া আইরা। অউ তাইন হুরুতাইন্তরে তান বিবিন লেয়া আর রাহেলা আর দুইও বান্দির গেছে বাটিয়া দিলাইলা। 2তাইন তান বান্দিন আর তারার হুরুতাইন্তরে ছামনর কাতারো রাখলা। বাদে লেয়া আর তান হুরুতাইন্তরে, হকল হেশে রাখলা রাহেলা আর ইউছুফরে। 3আর নিজে এরার আগে গিয়া সাতবার মাটিত সইজদা করিয়া তান ভাইর গেছে আজির অইলা।

4তেউ ঈষে তান গেছে দৌড়াইয়া আইয়া আইঞ্জা করি গলাত ধরিয়া হুংগা দিলা, আর দুইওজনে কান্দিতা লাগলা। 5বাদে ঈষে মুখ তুলিয়া অউ বেটিন আর হুরুতাইন্তরে দেখিয়া জিকাইলা, “তুমার লগে এরা খেগু?” তাইন কইলা, “আল্লায় তান রহমতে আপনার গুলামরে ই হুরুতাইন দিছইন।” 6তেউ পয়লা বান্দি অকলে ঈষʼর কাছাত আইয়া তারার হুরুতা লইয়া মাথা নোয়াইলা, 7বাদে লেয়ায়ও হুরুতাইন্তরে লইয়া আগুয়াইয়া মাথা নোয়াইলা, হেশে ইউছুফ আর রাহেলায় গিয়া মাথা নোয়াইলা। 8তেউ ঈষে কইলা, “পথো যেতা দলবল দেখলাম, ইতা কিয়র লাগি?” তাইন কইলা, “আমার মুনিবর গেছে দয়া পাওয়ার লাগি।” 9ঈষে কইলা, “ভাইরে, আমার বউততা আছে, তুমার ইতা তুমারউ থাকউক।” 10তাইন কইলা, “জি না, আমি মিনত করিয়া কইয়ার, যুদি আমার বায় আপনার দয়া অয়, তাইলে আমার দেওয়া ই দক্ষিনা আপনে নেউক্কা। আপনে যেবলা আমারে খুশি মনে কবুল করছইন, তে আপনার মুখ দেখা আর আল্লার ছুরত দেখা আমার লাগি হমান। 11আল্লায় আমারে রহমত দান করছইন, আমার বউততা আছে আর অউ যেতা উপহার আপনার লাগি আনছি, ইতা আপনে নেউক্কা।” তাইন অউলা মিনত-কাজ্জি করায়, ঈষে ইতা কবুল করলা। 12ঈষে কইলা, “চলো, আমরা রওয়ানা অই, আমি তুমার লগে রইমু।” 13ইয়াকুবে তানরে কইলা, “আমার মুনিবে তো জানরা, ই হুরুতা অকলও হুরু আর দুধাল গাইয়াইন-মেড়িনও লগে আছে, বেজান অইয়া ইতারে একদিনউ আটাইলে, হক্কলটি মরিযিবা। 14তে মুনিব, আপনে আমার আগে যাউক্কাগি, পশুর পাল আর হুরুতা অকলর চলার খেমতা বুজিয়া আমি আস্তে আস্তে সেয়ীর এলাকাত আপনার গেছে আইরাম।” 15ঈষে কইলা, “তাইলে আমার লগর অতা কয়জনরে তুমার গেছে থইয়া যাইগি।” তাইন কইলা, “ইতার দরকার কিতা? আমার মুনিবর গেছে আমি যে রহম পাইছি, অটাউ তো বউততা।” 16আর ঈষ হউ দিনউ সেয়ীরর বায় রওয়ানা দিলাইলা। 17অইলে ইয়াকুবে সুক্কতো পৌছিয়া নিজর লাগি ডেরা বানাইয়া, পশুর পালর লাগিও কয়খান বাথান বানাইলা, তেউ ই জাগার নাম অইলো সুক্কত [মানি, ডেরা অকল]।

18পদ্দন-ইরাম থনে বার অইয়া ইয়াকুবে, ছহি-ছালামতে কেনান দেশর শিখিম টাউনো আইয়া, টাউনর বারে তাম্বুইন গাড়িলা। 19হেশে অউ তাম্বুআলা জমিনখান তাইন, শিখিমর বাফ হমোরর পুয়াইন্তর গেছ থনে, রুপার একশো টেকা দিয়া খরিদ করলা। 20আর হনো একখান কুরবানি খানা বানাইয়া এর নাম দিলা এল-ইলোহে-ইছরাইল [মানি, আল্লা, ইছরাইলর উপরআলা]।

34

বিবি দীনার লগে খবিছি কামর বদলা লওয়া

1লেয়ার ঘরো দীনা নামে ইয়াকুবর যে পুড়ি অইছিল, এইন একদিন হনর পুড়িন্তর লগে দেখা করাত গেলা। 2আর শিখিম নামর একজন মানষর চউখো পড়লা। ই শিখিম আছিল হিব্বী জাতির সর্দার হমোরর পুয়া। শিখিমে এরে জুর করি ধরিয়া নিয়া খবিছি কাম করিল্লো। 3দীনার বায় তার দিল আশিক অইগেল। হে এরে মহব্বত করি এর লগে মিঠা মিঠা মাত মাততো লাগল। 4বাদে শিখিমে তার বাফ হমোররে কইলো, “তুমি অউ কইনারে আমার লগে বিয়ার বন্দোবস্ত করো।”

5ইয়াকুবে খবর পাইলা, শিখিমে তান পুড়িরে বেইজ্জতি করছে, অইলে তান পুয়াইন পশুর পাল লইয়া বন্দো থাকায়, তাইন না-মাতিয়া নিরাই রইলা। 6শিখিমর বাফ হমোরে ইয়াকুবর গেছে বিয়ার মাত লইয়া আইলো, 7আর ই খবর হুনিয়া ইয়াকুবর পুয়াইনও বন্দো থনে আইলা। তারা বেথায়া গুছা আর গরম অইলা, কারন ইয়াকুবর পুড়িরে বেইজ্জতি করায় শিখিমে আস্তা ইছরাইলর লগে বেইজ্জতি আর নাজাইজ কাম করছে।

8তেউ হমোরে এরারে কইলো, “আপনারার কইনার লাগি আমার পুয়া আশিক অইগেছে। দয়া করি, আমার পুয়ার লগে এর শাদি দিলাউক্কা। 9আমরার লগে কুটুমিতা করউক্কা, আমরার কইনাইন্তরে আপনারা নেউক্কা আর আপনারারতা আমরারে দেউক্কা। 10আর আমরার লগে থাকউক্কা, ই আস্তা দেশউ তো ছামনে রইছে, আপনারা অনোউ থাকইন, কায়-কারবার করিয়া, নিজর মালিকানা কাইম করইন।” 11শিখিমে দীনার বাফ-ভাইরে কইলা, “আমার বায় আপনারা দয়া করইন, আপনারা আমার গেছে যেতা চাইবা, আমি অতাউ দিমু। 12মহরানা আর মাল-ছামানা আপনারা যেতা দাবি করবা আমি দিমু, যেকুনু লাখানউ দীনারে আমার লগে বিয়া দেউক্কা।”

13শিখিমে তারার বইনরে বেইজ্জতি করছিল করি ইয়াকুবর পুয়াইন্তে তারে আর তার বাফ হমোররে ভানা দেখাইয়া কইলা, 14“মছলমানি কাম না করাইল কুনু দামান্দর লগে আমরার বইনরে বিয়া দিলে আমরার বেইজ্জতি অইবো। 15অইলে অউ কাম করলে আমরা রাজি অইমু, আপনারা হকল বেটাইন্তে মছলমানি করাইয়া, আমরার লাখান অইবা। 16তাইলে আমরার পুড়িন্তরে আপনারার গেছে দিমু আর আপনারার পুড়িন্তরেও আমরা আনমু, আমরাও আপনারার লগে এক জাতি অইয়া বসত করমু। 17অইলে আপনারা ই মছলমানির কথা না মানলে, আমরার কইনারে লইয়া যাইমুগি।”

18তেউ তারার ই মাতে হমোর আর তার পুয়া শিখিম খুশি অইলা। 19অউ শিখিম অইলো গুষ্টির মাজে হকল থনে দামি মানুষ। হে দেরি না করিয়া কথা মানিলাইলো, কারন ইয়াকুবর পুড়ির বায় হে আশিক আছিল। 20বাদে টাউনর দুয়ারর গেছে আইয়া, হমোর আর তান পুয়ায় হক্কল মানষর লগে মাতিয়া কইলা, 21“ই মানুষগুইন্তে আমরারে কুনু জামেলা করের না। আমরার দেশো এরার থাকার লাগি বউত জাগাও আছে, তে এরা অনোউ থাকউক আর কায়-কারবার করউক, আমরা এরার পুড়িন্তরে বিয়া করিয়া আনি আর আমরার পুড়িন্তরেও তারার গেছে দেই। 22অইলে আমরা একখান কাম করলে, তারা আমরার লগে এক জাতি অইতে রাজি আছইন। কামটা অইলো, তারার লাখান আমরারও হক্কল বেটাইন্তর মছলমানি করানি লাগব। 23আর তারার গরু-মেড়া, মাল-ছামানা হক্কলতাউ তো আমরার অইবো, তারার কথায় রাজি অইলেউ তারা আমরার লগে থাকবা।” 24অউ টাউনর হকল বেটাইন হমোর আর তান পুয়া শিখিমর মাতে রাজি অইলো, আর তারা হকলর মছলমানি কাম করাইলো।

25হেশে তিন দিনর দিন যেবলা হকল বেটাইন্তে মছলমানির বেদনায় কষ্ট পাইরা, অউ সময় দীনার আপন ভাই ইয়াকুবর দুই পুয়া শিমিয়ন আর লেবি, তারার তলোয়ার লইয়া টাউনো হামাইয়া, এরারে বে-খিয়ালো পাইয়া হকল বেটাইন্তরে কাতল করলো। 26তারা হমোর আর তান পুয়া শিখিমরেও তলোয়ারদি কাতল করিয়া শিখিমর ঘর থনে দীনারে লইয়া আইলো। 27এরা তারার বইনরে বেইজ্জতি করছিল করি, ইয়াকুবর হকল পুয়াইন্তে মরা লাশর গেছে আইয়া টাউনো লুট-তরাজ করলা। 28আর টাউনর ভিতর-বাইরর গরু-গাধা, ছাগল-মেড়া, আর খেতর হকলতা লুটিয়া লইয়া আইলা। 29হকল মাল-ছামানা, পুয়া-পুড়িন, বেটিন, আর ঘরর হকলতাও লুট-পাট করলা। 30হেশে ইয়াকুবে শিমিয়ন আর লেবিরে কইলা, “তুমরা ই দেশর কেনানী আর ফারিজী অকলর গেছে আমারে পচা-ঘিন্নার মানুষ বানাইয়া মছিবতো ফালাইছো। আমার মানুষ কম, অখন তারা একখানো অইয়া আমারে হামলা করলে, আমি পরিবারর হক্কলরে লইয়া মরমু।” 31তারা জুয়াপ দিলা, “হে আমরার বইনরে নিয়া খানকি বানাইলিতো নি?”

35

হজরত ইয়াকুব (আঃ) হিরবার বেথেলো

1এরবাদে আল্লা পাকে ইয়াকুবরে কইলা, “তুমি হিরবার বেথেলো যাওগি। তুমার ভাই ঈষʼর গেছ থনে বাগিবার বালা, যেইন তুমারে দরশন দিছলা, হউ আল্লা পাকর নামে তুমি হনো একখান কুরবানি খানা বানাও।” 2তেউ ইয়াকুবে তান আপন মানষরে আর লগর হকলরে কইলা, “তুমরার গেছে দেবতার যেতা মুর্তিন আছে, ইতা হক্কলটি ফালাও; আর হকলে পাক-ছাফ অইয়া, ছাফ-ছুতরা লেবাছ ফিন্দো। 3আর চলো, আমরা বেথেলো যাইতামগি। হনো আমি আল্লার নামে একখান কুরবানি খানা বানাইমু, যেইন মছিবতর দিনো আমার দোয়া কবুল করছলা, আর আমার ছফরর লগি অইছলা।” 4তেউ তারার যতো লাখান দেবতার মুর্তিন আর কানর জেওরাত আছিল, হকলতা ইয়াকুবর আতো দিলাইলা। তাইন ইতা নিয়া শিখিম টাউনর কান্দাত এলন গাছর তলে গাড়িলাইলা।

5বাদে তারা হন থনে রওয়ানা অইলা আর আল্লায় চাইরোবায় হকল গাউ-গেরামো এক ডর পয়দা করলা, তেউ হিনর কুনু মানষে ইয়াকুবর পুয়াইন্তরে খেদানিত গেল না। 6হেশে ইয়াকুব আর তান লগর হকলে কেনান দেশর লুজ নামর জাগা, মানি বেথেলো আইয়া পৌছলা। 7অনো তাইন এক কুরবানি খানা বানাইয়া, অউ জাগার নাম দিলা এল-বেথেল [মানি, বেথেলর আল্লা], কারন ভাইর গেছ থাকি বাগিবার বালা আল্লায় অনোউ তানরে দিদার-দরশন দিছলা। 8আর রেবেকার দাইমা দবোরা মারা গেলা। তানে বেথেলর লামাত এক এলন গাছর তলে মাটি দিলা, তেউ ই জাগার নাম অইলো এলন-বাখুত [মানি, কান্দনর গাছ]।

9ইয়াকুবে পদ্দন-ইরাম থাকি আওয়ার বাদে, আল্লায় হিরবার তানরে দিদার দিয়া বরকত নাজিল করলা। 10আল্লায় কইলা, “তুমার নাম তো ইয়াকুব; অইলে মানষে তুমারে আর ইয়াকুব কইয়া ডাকতা নায়, তুমারে ইছরাইল কইবা।” তেউ তান নাম অইল ইছরাইল। 11আল্লায় তানরে কইলা, “আমিউ সর্ব-শক্তিমান আল্লা। তুমি ফলআলা অইয়া বাড়ো। তুমা থনে এক জাতি পয়দা অইবো, ইটা অইবো বউত গুষ্টিআলা জাতি, আর তুমার খান্দানো বাদশা অকল পয়দা অইবা। 12আমি ইব্রাহিম আর ইছহাকরে যে দেশ দান করছি, হউ দেশ অখন তুমারে আর তুমার বাদর ওয়ারিশরে দিমু।” 13আল্লায় হনো ইয়াকুবর লগে বাতচিত করিয়া হারলে আছমানো তশরিফ নিলাগি। 14ইয়াকুবে হউ বাতচিতর জাগাত পাথরর এক খুটি গাড়িয়া, এর উপরে তাইন আল্লার নামে শরবত-পানির ছদগা ঢালিলা, হেশে তেলও ঢালিলা। 15আল্লায় যেখানো তানরে দিদার দিছলা, ইয়াকুবে ই জাগার নাম রাখছলা বেথেল।

16বাদে ইয়াকুব আর তান লগর হকলে বেথেল থাকি রওয়ানা করিয়া ইফ্রাথো পৌছার বাক্কা আগে, রাহেলার হুরুতা অওয়ার বিষে ধরলো, তান খুব তকলিফ অইলো। 17হুরুতা অওয়ার বিষ আরো বাড়ল, তেউ দাই বেটিয়ে কইলো, “ডরাইও না গো, ইবারও তুমার ঘরো পুয়া অইবো।” 18অইলে রাহেলা মারা গেলা। মরার বেলা তাইন পুয়ার নাম রাখলা বিন-অনী [মানি, আমার তকলিফর পুয়া] অইলে বাফে তার নাম রাখলা বিন-ইয়ামিন [মানি, আমার বলর পুয়া]। 19রাহেলার মউতর বাদে ইফ্রাথ, মানি বেথেলহাম, যাওয়ার পথর কান্দাত তানরে মাটি দেওয়া অইলো। 20মাটি দিয়া হারলে ইয়াকুবে তান কয়বরর উপরে এক পাথরর খুটি গাড়লা, ই খুটি আইজও অনো আছে। 21অন থনে ইছরাইলে হিরবার রওয়ানা দিলা, আর এদর মিনার ফালাইয়া আইয়া তান তাম্বু গাড়িলা।

22ইছরাইল যেবলা হনো রইরা, অউ ফাকো রুবেনে গিয়া তার বাফর বাদর বিয়ার বউ বিলহার লগে জিনা করলো আর ইতা ইছরাইলর কানো গেল।

23ইয়াকুবর বারোজন পুয়া আছলা, লেয়ার তরফা তান বড় পুয়া রুবেন, বাদে শিমিয়ন, লেবি, এহুদা, ইছাখর আর সবুলন। 24রাহেলার তরফা ইউছুফ আর বিন-ইয়ামিন। 25রাহেলার বান্দি বিলহার তরফা, দান আর নপ্তালি। 26লেয়ার বান্দি জিল্পার তরফা, ছাদু আর আশির। তান অউ হুরুতা অকল পদ্দন-ইরামো অইছলা।

হজরত ইছহাক (আঃ) অর ইন্তেকাল

27হেশে ইয়াকুব কিরিয়ত-অর্বর, মানি হেবরনর কাছাত মম্রি নামর জাগাত, তান বাফ ইছহাকর গেছে আইলা। অউ জাগাত ইব্রাহিম আর ইছহাকেও বসত করতা। 28ইছহাকর বয়স একশো আশি বরছ অইছিল। 29আর ইছহাক পুরাপুর বুড়া অইয়া, মুরব্বি বয়সো মারা গিয়া তান বাফ-দাদার গেছে গিয়া আজিলা। তান পুয়া ঈষ আর ইয়াকুবে তানরে দাফন করলা।

36

শেখ ঈষ উরফে ইদোম খান্দানর নেতা অকল

1অউ অইলো ঈষ বা ইদোমর খান্দানর বয়ান। 2ঈষে কেনানী দুই পুড়িরে বিয়া করছলা। এরা অইলা হিট্টী এলনর পুড়ি আদা, আর হিব্বী জিবিয়নর নাতিন, অনার পুড়ি অহলীবামা। 3এরার বাদেও তাইন ইছমাইলর পুড়ি নাবাউতর বইন বাসমতরে বিয়া করছলা। 4আদার পেটো ইলিফজ আর বাসমতর পেটো রুয়েলর জনম অইছিল, 5আর অহলীবামার পেটো যিয়ূশ, যালম আর কোরহর জনম অইছিল। ঈষʼর ই পুয়াইন্তর জন্ম অইছিল কেনান দেশো।

6বাদে ঈষে তান বউয়াইন, পুয়া-পুড়িন, ঘরর হকল মানুষ আর পশুর পালাইন, কেনান দেশো কামাই করা হকল ধন-দৌলত লইয়া, তান ভাই ইয়াকুবর গেছ থনে হরিয়া আরক দেশো গেলাগি। 7ঈষ আর ইয়াকুবর পশুর পাল, মাল-ছামানা অতো বেশি আছিল যেন, এরা একখানো রইতে হি দেশর ই জাগায় আর কুলাইলো না। 8তেউ ঈষ সেয়ীরর পাড়ি এলাকাত গিয়া বসত করলা। এইনউ ইদোম।

9অউ অইলো সেয়ীরর পাড়র ইদোমী অকলর মুল বাফ ঈষʼর খান্দানর বয়ান। 10ঈষʼর পুয়াইন্তর নাম অইলো, ইলিফজ আর রুয়েল। ইলিফজ আদার পুয়া, রুয়েল বাসমতর পুয়া। 11ইলিফজর পুয়াইন অইলা, তৈমন, ওমার, জফো, গাথাম আর কেনাজ। 12ঈষʼর পুয়া ইলিফজর তিমনা নামর এক হাংগার বউ আছিল, এর ঘরো আমালেকর জনম অইছিল। এরা হকলেউ ঈষʼর বউ আদার আওলাদ। 13রুয়েলর পুয়াইন অইলা নহথ, জারাহ, শম্ম আর মিজ্জা। এরা ঈষʼর বউ বাসমতর আওলাদ। 14জিবিয়নর নাতিন, অনার পুড়ি অহলীবামার তরফা ঈষʼর পুয়াইন অইলা যিয়ূশ, যালম আর কোরহ।

15ঈষʼর আওলাদর মাজে এরা আছলা গুষ্টির নেতা। ঈষʼর বড় পুয়া ইলিফজর পুয়াইন অইলা তৈমন, ওমার, জফো, কেনাজ, 16কোরহ, গাথাম, আর আমালেক। এরা অইলা ইদোম দেশো, আদার পুয়া ইলিফজর আওলাদ। 17ঈষʼর পুয়া রুয়েলর পুয়াইন যেরা গুষ্টির নেতা অইছলা, তারা অইলা নহথ, জারাহ, শম্ম আর মিজ্জা। এরা অইলা ইদোম দেশো ঈষʼর বউ বাসমতর পুয়া রুয়েলর আওলাদ। 18ঈষʼর বউ অহলীবামার যে পুয়াইন গুষ্টির নেতা অইছলা, তারা অইলা যিয়ূশ, যালম আর কোরহ। এরা আছলা অনার পুড়ি অহলীবামার আওলাদ। 19এরা অইলা ঈষ বা ইদোমর খান্দান আর গুষ্টির নেতা।

20হনর হোরীয় সেয়ীরর পুয়াইন্তর নাম অইলো লোটন, শোবল, জিবিয়ন, অনা, 21দিশোন, এথসর আর দীশান। এরা হকলে ইদোম দেশো সেয়ীরর পুয়াইন, হোরীয় খান্দানর নেতা আছলা। 22লোটনর পুয়ার নাম অইলো হোরী আর হেমাম, আর বনির নাম তিমনা। 23শোবলর পুয়াইন্তর নাম অইলো অলবন, মানহথ, ইবাল, শফো আর ওনম। 24জিবিয়নর পুয়াইন্তর নাম অইলো অয়া আর অনা। অউ অনাউ তান বাবা জিবিয়নর গাধা রাখাত গিয়া, মরুভুমির মাজে গরম পানির ঝরনা তুকাইয়া পাইলা। 25অনার পুয়ার নাম দিশোন আর পুড়ির নাম অহলীবামা। 26দিশোনর পুয়াইন্তর নাম অইলো হিমদন, ইশবন, যিত্রন আর করান। 27এথসরর পুয়াইন্তর নাম অইলো বিলহন, জাওয়ান আর আকন। 28দিশোনর পুয়াইন্তর নাম অইলো আউজ আর অরান। 29হোরীয় অকলর নেতা অইলা লোটন, শোবল, জিবিয়ন, অনা, 30দিশোন, এথসর আর দীশান। এরা অইলা সেয়ীর দেশর হোরীয় গুষ্টির নেতা।

31বনি ইছরাইলর মাজে বাদশাই হুকুমত আইবার আগে, ইদোম দেশো এরাউ রাজা আছলা। 32বাউরর পুয়া বেলা ইদোমর রাজা অইলা। তান রাজধানির নাম আছিল দিনহাবা। 33বেলা মরার বাদে, তান জাগাত বসরা টাউনর জারাহর পুয়া যোবব রাজা অইলা। 34যোবব মরার বাদে তৈমন দেশর হুশম হনর রাজা অইলা। 35হুশম মরার বাদে তান জাগাত বদদর পুয়া হদদ রাজা অইলা। তাইন যুদ্ধ করি মোয়াব দেশর মাদিয়ানী অকলরে আরাইলা। তান রাজধানির নাম অইলো অবীথ। 36হদদ মরার বাদে মস্রেকা টাউনর ছামলা হনর রাজা অইলা। 37ছামলা মরার বাদে হনর ফোরাত গাংগর পারর রহবত টাউনর শৌল রাজা অইলা। 38শৌল মরার বাদে তান জাগাত আকবারর পুয়া বাআল-হানন রাজা অইলা। 39আকবারর পুয়া বাআল-হানন মরার বাদে তান জাগাত হদর রাজা অইলা। তান রাজধানির নাম আছিল পাউ, আর তান বউর নাম আছিল মহেটাবেল। এইন মট্রেদর পুড়ি আর মেজাহাবর নাতিন।

40ঈষʼর যেতা আওলাদ অকল গুষ্টি আর এলাকার নেতা আছলা, তারার নাম অইলো, তিমনা, অলবা আর যিতেথ, 41অহলীবামা, এলা, পীনোন, 42কেনাজ, তৈমন, মিবজার, 43মগদিয়েল আর ইরাম। এরা আছলা যারযির দেশর, যারযির এলাকার ইদোমী নেতা। ইদোমী অকলর মুল বাফ ঈষʼর বয়ান অনোউ শেষ।

37

হজরত ইউছুফ (আঃ) (৩৭:১—৫০:২৬)

হজরত ইউছুফ (আঃ) অর দুই খোয়াব

1ইয়াকুব কেনান দেশোউ রইলা, তান বাফও হনো মুছাফির অইয়া আছলা। 2অউ অইলো ইয়াকুবর খান্দানর বয়ান। ইউছুফে সতরো বরছ বয়স থনে তান ভাইয়াইন্তর লগে মেড়া-ছাগল রাখতা। তাইন হুরুমান থনেউ তান হাতন মা বিলহা আর জিল্পার পুয়াইন্তর লগে রইতা। আর এরার হকল বাদ চাল-চলনর খবর বাফরে জানাইতা। 3ইউছুফ, ইছরাইলর বুড়া বয়সর পুয়া গতিকে, তাইন এরে হকল থনে বেশি মায়া করতা। তাইন এরে এক খান্দানি জুব্বা বানাই দিলা। 4বাফে ইউছুফরে হকল থনে বেশি মায়া করইন দেখিয়া, ভাইয়াইন্তে তানরে ঘিন্নাইতা। তারা এন লগে ভালা মনে মাত-কথাও মাততা না।

5ইউছুফে এক খোয়াব দেখিয়া তান ভাইয়াইন্তরে হুনাইলা, তেউ তারা আরো বেশি ঘিন্নাইলা। 6তাইন কইলা, “আমি খোয়াবে কিতা দেখছি হুনো: 7আমি দেখলাম, আমরা খেতর মাজে ধানর মুইট বান্দিয়ার আর আমার বান্দা মুইটখান উবাইগেল, তেউ তুমরার মুইট অকলে আমার মুইটরে চাইরোবায় বেরিয়া সইজদা করের।” 8অউ তান ভাইয়াইন্তে কইলা, “তুই হাছাউ আমরার রাজা অইতে চাইরে নি? তুই রাজা অইয়া আমরার উপরে বেটাগিরি করতে নি?” তেউ তান খোয়াব আর তান মাতর লাগি তারা আরো বেশি ঘিন্নাইলা।

9ইউছুফে হিরবার এক খোয়াব দেখিয়া তান ভাইয়াইন্তরে হুনাইলা। তাইন কইলা, “হুনো, আমি হিরবার খোয়াবে দেখছি, চান-সুরুজ আর এগারটা তেরায় আমারে সইজদা করের।” 10তাইন ই খোয়াবর কথা তান বাফ আর ভাইয়াইন্তর গেছে কইয়া হারলে, বাফে তানরে ধমকাইয়া কইলা, “তুইন ইতা কুন জাতর খোয়াব দেখলে, রে পুত? তোর মা-ভাইয়াইন আর আমিও কিতা হাছাউ তরে সইজদা করতাম নি?” 11আর ইউছুফরে তান ভাইয়াইন্তে খুব ইংসাইতা। অইলে বাফে ই খোয়াবর কথা মনো রাখলা।

গুলাম বানাইয়া ভাইয়াইন্তে বেচিলা

12আর তান ভাইয়াইন্তে বাফর পশুর পাল লইয়া শিখিমো রাখাত গেলা। 13তেউ ইছরাইলে ইউছুফরে কইলা, “তোর ভাইয়াইন্তে পশুর পাল রাখাত শিখিমো গেছইন, তে আয়, আমি তরেও হনো পাঠাই।” তাইন কইলা, “আচ্ছা, আমি যাইমু।” 14ইছরাইলে তানে কইলা, “তুই গিয়া তোর ভাইয়াইন আর পশুর পালর খবর-আন্তর হুনিয়া আইয়া আমারে কইছ।” তেউ তাইন ইউছুফরে হেবরন থনে শিখিমো পাঠাইলা। আর ইউছুফও গিয়া শিখিমো আজির অইলা।

15আইয়া হারলে তানরে খেতর মাজে ঘুরা-ফিরাত দেখিয়া এক বেটায় জিকাইলা, “তুমি কিতা তুকাইরায় বা?” 16ইউছুফে কইলা, “আমি আমার ভাইয়াইন্তরে তুকাইয়ার। আপনে জানইন নি, এরা পশুর পাল কুন জাগাত রাখরা?” 17হি বেটায় কইলা, “তারা ইন থনে গেছইনগি। আমি হুনছি তারা মাতিরা, আও, আমরা দোথনো যাইগি।” অউ ইউছুফে তুকাই তুকাই দোথনো গিয়া তারারে পাইলা। 18ভাইয়াইন্তে দুরই থনে তানরে দেখল, আর তারার গেছে পৌছার আগেউ তারা এনে খুন করার মতলব করলো। 19তারা একজনে আরক জনরে কইলো, “অউ দেখো, খোয়াব দেখরা ছাব আইরা। 20আও, অখনউ আমরা এনে খতম করিয়া অউ কুফো হারাই দেই; বাদে কইমু, কুনু জংলি জানুয়ারে খাইলাইছে, হেশে দেখমুনে, তার খোয়াবর দশা কিতা অয়?” 21অইলে রুবেনে ইতা হুনিয়া তারার আত থাকি এনরে বাচাইবার লাগি কইলা, “তারে জানে মারিও না।” 22তাইন এরারে পরামিশ দিলা, “খুন-খারাপি করাত যাইও না, নিজর আতে না মারিয়া অগুরে এমনেউ কুফর মাজে ফালাই দেও।” অউলা তাইন ইউছুফরে তারার আত থনে বাচাইয়া, বাফর আতো পাঠানির চেষ্টা করলা। 23ইউছুফ তান ভাইয়াইন্তর গেছে আইতেউ তারা, তান গতর থনে জুব্বা খুলিলাইলা, হউ খান্দানি জুব্বাটা টানিয়া খুলিলিলা। 24আর তানে ধরিয়া কুফর মাজে ফালাই দিলা। ই কুফ হুকনা আছিল, কুনু পানি আছিল না।

25হেশে তারা খাওয়াত বইয়া চাইয়া দেখলা, গিলিয়দ থাকি ইছমাইলী এক বেপারির দল ইবায় আর। এরা উটর পিঠিত করি খুশবয় মশলা, আগর, আর মেশকে-আম্বর লইয়া মিসর দেশো যাইতা। 26অউ এহুদায় তার ভাইয়াইনরে কইলো, “ধরো, ভাইরে খুন করিয়া আমরা লুকাইলিলাম, তেউ আমরার কিতা লাভ অইবো? 27হে তো আমরারউ ভাই, আমরার আপন লউ আর গোস্ত। তে তার শরিলো আত না দিয়া আও, ইছমাইলী অকলর গেছে তারে বেচিলাই।” অউ ভাইয়াইনও রাজি অইগেলা। 28হউ মাদিয়ানী বেপারি অকল কাছাত আইতেউ, ভাইয়াইন্তে ইউছুফরে কুফো থনে টানিয়া তুললা আর এক কুড়ি রুপার টেকার বদলা, ইছমাইলী অকলর গেছে তানে বেচিলাইলা। এরা ইউছুফরে লইয়া মিসরো গেলাগি।

29বাদে রুবেনে হউ কুফর গেছে আইয়া ইউছুফরে না দেখিয়া, তান গতরর কোর্তা ফারিল্লা। 30ভাইয়াইন্তর গেছে গিয়া কইলা, “পুয়াগু তো ইনো নায়। অখন আমি কিতা করতাম?” 31অউ তারা এক বকরি মারিয়া, এর লউ ইউছুফর হউ জুব্বাত লাগাইলা। 32বাদে মানুষদি অউ জুব্বা তারার বাফর গেছে পাঠাইয়া কইলা, “ইটা আমরা পথো পাইছি, তে আপনে ভালা করিয়া দেখউক্কা, ইটা আপনার পুয়ার জুব্বা নি?” 33ইয়াকুবে ই জুব্বা চিনিয়া কইলা, “ইটা তো আমার পুয়ারউ। তারে কুনু জংলি জানুয়ারে খাইলিছে, তারে নিচয় ছিড়ি-বিড়ি লাইছে।” 34তাইন ফিন্নর কাপড় ছিড়িয়া, কমরো ছলার চট বান্দিয়া, পুয়ার লাগি বউত দিন মাত্বম করলা। 35তান হকল পুয়া-পুড়িয়ে তানে বুজাইতা চাইলা, অইলে কুনু বুজেউ তান বুক ঠান্ডা অইলো না। তাইন কইলা, “আমি মাত্বম করি করি আমার পুয়ার গেছে কয়বরো হামাইমু।” পুয়ার লাগি তাইন অউ লাখান কান্দা-কাটিত রইলা। 36এর মাজে মাদিয়ানী অকলে ইউছুফরে মিসরো নিয়া, ফেরাউনর কর্মচারি পোটিফর [আজিজর] গেছে বেচিলাইলা, ই কর্মচারি আছলা তান পরধান গাড।

38

বিবি তামারর লগে এহুদার খবিছি কাম

1এহুদায় তার ভাইয়াইন্তরে থইয়া অদুল্লম গাউর হীরা নামর এক মানষর লগে রওয়াত গেল। 2হনো রইয়া শূয়া নামর এক কেনানী মানষর পুড়ির লগে দেখা অইলো, দেখিয়া হে অউ পুড়িরে বিয়া করলো। 3বিয়ার বাদে হউ বেটির ঘরো এক পুয়া অইলো, এহুদায় তার নাম রাখলো এইর। 4হিরবার বেটির ঘরো আরক পুয়া অইলে, মাʼয় তার নাম রাখলো ওনন। 5হেশে অউ বেটির আরক পুয়া অইলে, তার নাম রাখলো শেলা। ই সময় তারা কষীব গাউত রইতা। 6আর এহুদায় তার বড় পুয়া এইরর লগে তামার নামর এক পুড়িরে বিয়া দিলো। 7অইলে তার ই পুয়া মাবুদর নজরো খুব খবিছ আছিল গতিকে, মাবুদে তারে মারিলাইলা। 8অউ এহুদায় ওননরে কইলো, “তুমার ভাবিরে বিয়া করিলাও। তাইর দেওর অওয়ায় তুমার যেতা করা জরুর আছে, ইতা আদায় করো আর নিজর ভাইর ওয়ারিশ পয়দা করো।” 9ওননে জানতো, ই ওয়ারিশ তার নিজর অইতো নায়, আর তার ভাইর ওয়ারিশ রাখতে তার খিয়াল আছিল না গতিকে, তাইর লগে মিলা-মিশার সময় তার বিজ বাইরে মাটিত ফালাই দিতো। 10মাবুদে তার ই কামে নারাজ অইলা, তাইন এইররেও মারিলাইলা। 11অউ এহুদায় তার পুয়ার বউ তামাররে কইলো, “আমার পুয়া শেলা যতদিন বড় না অয়, অতদিন তুমার বাফর বাড়িত গিয়া ড়াড়ি অইয়াউ রও।” এহুদায় ডরাইলো, শেলাও তার ভাইয়াইন্তর লাখান মরিযিব। আর তামার বাফর বাড়িত গেলগি।

12বাক্কা কয়দিন বাদে এহুদার বউ, শূয়ার পুড়ি মরিগেল, তেউ কান্দা-কাটি করার বাদে এহুদায় শান্তি অইয়া অদুল্লম গাউর তার দুস্ত হীরার লগে তিমনা গাউত, তার মেড়ার পালর রুমা কাটরা মানষর গেছে রওয়ানা দিলো। 13আর তামাররে গিয়া কেউ খবর দিলো “তুমার হউরে তান মেড়ার রুমা কাটার লাগি তিমনাত যাইরা।” 14তামারে দেখল, শেলা বড় অইলেও হউরে শেলার লগে তাইর বিয়া দিরা না, অউ তাই ড়াড়ির কাপড় বদলাইয়া হাজি-পাড়ি মুখো ঘুমটা দিয়া, আয়নাইমর পথর মুখো গিয়া বইলো। আয়নাইম আছিল তিমনাত যাওয়ার পথো। 15আর তাই মুখ লুকাইয়া রাখায়, এহুদায় মনো করলো ইগু ছিলান বেটি। 16তেউ এহুদায় পুয়ার বউরে না চিনায়, পথর ধারো তামারর গেছে গিয়া কইলো, “আও, তুমার লগে মিলা-মিশা করি।” তামারে কইলো, “তে আমারে কিতা দিবায়?” 17হে কইলো, “আমার পাল থনে ছাগলর বাইচ্চা এগু পাঠাই দিমু।” তামারে কইলো, “ইটা পাঠানির আগে আমার গেছে কুন্তা জিম্মা থইয়া যাউক্কা।” 18এহুদায় কইলো, “কিতা থইতাম?” তাই কইলো, “আপনার অউ ফিতাআলা সীল আর আপনার আতর লাঠি থইয়া যাউক্কা।” তেউ এহুদায় অগুইন জিম্মা থইয়া তাইর লগে মিলা-মিশা করলো আর তামারর পেটো হুরুতা আইলো। 19বাদে তামার উঠিয়া গেলগি আর হি কাপড় বদলাইয়া হিরবার ড়াড়ির কাপড় ফিন্দিলো।

20হেশে অউ বেটির গেছ থাকি জিম্মার মাল ফিরত নিবার লাগি, তার অদুল্লমর দুস্তরে দিয়া ছাগলর বাইচ্চা এগু পাঠাইলো। হে আইয়া তাইরে তুকাইয়া পাইলো না। 21অউ হে হনর মানষরে জিকাইলো, “আয়নাইমর পথর ধারো এক সেবক বেটি আছিল, অগু কই?” তারা কইলা, “ইনো তো ইলা কুনু বেটি নায়।” 22তেউ হে এহুদার গেছে গিয়া কইলো, “আমি গিয়া তাইরে তুকাইয়া পাইলাম না। হনর মানষেও কইলা, ইনো তো ইলা কুনু বেটি আইছে না।” 23এহুদায় কইলো, “তে ইতা আর তাইর গেছেউ থাকউক। নাইলে আমরা শরমিন্দা অইমু। ছাগলর বাইচ্চা তো পাঠাইলাম, তা-ও তুমি এরে তুকাইয়া পাইলায় না।”

24অনুমান তিন মাস বাদে এহুদায় হুনলো, তার পুয়ার বউ তামারে জিনা করছে, এরলাগি তাইর হুরুতা অইতা। অউ এহুদায় কইলো, “অগুরে বারে নিয়া আগুইনদি জালাইলাও।” 25তামাররে যেবলা বারে নিরা, অউ সময় তাইর হউররে খবর দিল যেন, “যার হুরুতা আমার পেটো আছে, অউ মাল-ছামানা অকল তার। তে দেখউক্কা, অউ ফিতাআলা সীল আর লাঠিগু কার চিনইন নি?” 26এহুদায় ইতা দেখিয়া কইলো, “তাই তো আমা থাকি বউত বড় পরেজগার। আমার পুয়া শেলার লগে তাইরে বিয়া করাইছি না।” এরবাদে এহুদায় আর কুনু দিনও তামারর গেছে হুতিছে না।

27হুরুতা অইবার বালা দেখইন, তামারর পেটো জুড়র হুরুতা। 28পয়লা এগুয়ে তার আত বার করলো আর দাই বেটিয়ে লাল সুতা একছা তার আতো বান্দিয়া কইলো, “ইগু পয়লা পয়দা অইলো।” 29অইলে হে আত টান দিয়া ভিতরে নিলগি, তেউ তার ভাই পয়লা বার অইলো আর দাই বেটিয়ে কইলো, “তুমি কিলা ফাক করিয়া বার অইলায়?” এরলাগি এর নাম অইলো ফিরোজ [মানি, ফাক করা]। 30বাদে তার ভাই লাল সুতা আতো বান্দা লইয়া বার অইলো, তার নাম রাখলা জারাহ।

39

হজরত ইউছুফ (আঃ) আর আজিজর বউ

1ইউছুফরে মিসর দেশো লইয়া যাওয়ার বাদে, ইছমাইলী অকলর গেছ থনে, আজিজ নামর ফেরাউনর একজন মিসরী কর্মচারিয়ে, ইউছুফরে খরিদ করলা। আজিজ অইলা ফেরাউনর পরধান গাড। 2মাবুদে ইউছুফর লগি অইলা, এরলাগি ইউছুফ হকল কামো কামিয়াব অইলা। তাইন হউ মিসরী মুনিবর বাড়িত কাম করতা। 3মাবুদ তান লগে লগে আছইন আর হকল কামো তানে কামিয়াব কররা, তান মুনিবেও ইতা বুজিলাইলা। 4তেউ মুনিবে ইউছুফরে মায়া করতা লাগলা, তানে মুনিবর খাছ খেজমতগার বানাইলা আর তান বাড়ির হকলতা দেখা-হুনার ভারও ইউছুফর গেছে সমজাই দিলা। 5ইউছুফরে তান বাড়ির আর হকলতার ভার সপি দেওয়ার বাদে থনে, মাবুদে ইউছুফর লাগিউ, তান মুনিবর হকলতার মাজে বরকত নাজিল করলা। আজিজর বাড়িত আর খেত-খামার, হকল জাগাত মাবুদে বরকত নাজিল করলা। 6ইতা দেখিয়া আজিজে তান হকলতার ভার ইউছুফর উপরে সপি দিলা, তান নিজর খানা-দানা ছাড়া আর কুন্তারউ খবর লইতা না।

ইউছুফর শরিলর গঠন আর চেহারাও সুন্দর আছিল। 7ইতা দেখিয়া তান মুনিবর বউয়ে তান বায় লালছ করলো। তাই ইউছুফরে কইলো, “আমার বিছনাত আও।” 8অইলে ইউছুফ রাজি না অইয়া মুনিবর বউরে কইলা, “দেখউক্কা, ই বাড়িত কিতা কিতা আছে, আমার মুনিবে কুন্তাউ খবর লইন না, হকলতার ভার আমার উপরে সমজাই দিছইন। 9ই বাড়িত আমা থনে বড় আর কেউ নায়। আপনে তো তান বিবি, এরলাগি আপনারে ছাড়া আর হকলরে তাইন আমার জিম্মায় রাখছইন, তে আমি কিলা অতো বড় এক জঘইন্য কাম করিয়া আল্লার বিরুদ্ধে গুনা করতাম?” 10তাই হামেশা ইউছুফরে অউলা মিনত করলেও ইউছুফে তাইর গেছে হুততে বা কাছাত রইতেও রাজি অইলা না। 11হেশে একদিন কুনু এক কামর লাগি ইউছুফ ঘরর ভিতরে হামাইলা, অউ সময় আর কেউ হিনো আছিল না। 12তেউ আজিজর বউয়ে ইউছুফর কাপড়ো ধরি কইলো, “আমার বিছনাত আয়।” অইলে ইউছুফে তান কাপড় ফালাইয়া দৌড়িয়া গেলাগি। 13ইউছুফে তাইর আতো কাপড় থইয়া দৌড়াইয়া গেলাগি করি, 14আজিজর বউয়ে ঘরর মানষরে ডাকিয়া কইলো, “হুনো, তাইন আমরার লগে তামশা করার লাগি ই ইবরানি বেটারে আনছইন। হে আমারে বেইজ্জতি করার মতলবে ঘরো হামাইছিল, অউ আমি চিল্লাইয়া উঠছি। 15আমার চিল্লানি হুনিয়া হে তার ফিন্নর কাপড় আমার গেছে থইয়া বাগিছে।” 16ইউছুফর মুনিব বাড়িত না আওয়া পর্যন্ত, ই কাপড় তাই নিজর গেছে রাখল। 17তাইন আইয়া হারলে তাই নালিশ দিলো, “তুমি যে ইবরানি গুলামরে আমরার গেছে আনছো, হে আমারে বেইজ্জতি করার মতলবে আমার ঘরো হামাইছিল। 18অইলে আমার হাউকা-হাউকি আর চিল্লানিয়ে হে আমার গেছে তার কাপড় ফালাই থইয়া বাগিছে।”

19বউর মাত হুনিয়া ইউছুফর মুনিবে গুছায় আগুইন অইগেলা। তান বউয়ে কইলো, “তুমার গুলামে আমার লগে অউ লাখান কাম করছে।” 20তেউ আজিজে ইউছুফরে নিয়া জেল খানাত হারাইলা।

জেল খানাত হজরত ইউছুফ (আঃ)

মিসরর বাদশার বন্দি অকলরে যেনো রাখইন, তানেও হউ জেল খানাত থইলা। 21অইলে ইউছুফর উপরে মাবুদর ছায়া আছিল, তাইন ইউছুফরে বড় জেলার ছাবর গেছে মায়ার মানুষ বানাইলা। 22বড় জেলার ছাবে জেল খানার হকল বন্দি অকলর সর্দারি ইউছুফর উপরে ছাড়ি দিলা, তেউ হনর হকল কাম-কাজ ইউছুফর হুকুমে চলত। 23আর বড় জেলার ছাবে কুন্তাউ দেখা-হুনা করা লাগত না, কারন মাবুদ ইউছুফর লগে আছলা, এরলাগি ইউছুফে যেতাত আত দিতা, মাবুদে ইতা কামিয়াব করতা।

40

জেল খানাত দুই কয়দির খোয়াব

1ইতার বাদে মিসরর বাদশার দরবারর শরাব বিলাই দেওরা আর রুটি বানাওরা ই দুইওজনে বাদশার গেছে কছুর করলা। 2তেউ ফেরাউন তারা দুইওজনর উপরে গুছা অইলা, 3তাইন এরারে বন্দি করিয়া তান বড় জল্লাদর বাড়ির জেলো হারাইলা। অউ জেলো ইউছুফও আছলা। 4বড় জল্লাদে ই দুইও কয়দির ভারও ইউছুফর আতো দিলা, আর ইউছুফে তারার খেজমত করতা লাগলা। অউলা এরা কিছুদিন জেলো রইলা। 5বাদে মিসরর বাদশার হউ রুটি বানাওরা আর শরাব বিলাওরা দুইওজনে এক রাইতে দুখান খোয়াব দেখলা, তারার খোয়াবর মানিও আছিল দুই লাখান। 6বিয়ানে ইউছুফে তারার গেছে গিয়া দেখলা, তারা খুব মন-মরা অইরইছইন। 7ইউছুফে তারারে জিকাইলা, “কিতা অইছে, আইজ অতো বেজার কেনে?” 8তারা জুয়াপ দিলা, “আমরা তো খোয়াব দেখছি, অইলে এর তাবির বুজাই দেওরা কেউ নায়।” ইউছুফে তারারে কইলা, “মানি বুজানির খেমতা কিতা আল্লায় দেইন না নি? দেখিছাইন, আমারে হুনাউক্কা।”

9অউ হি শরাব বিলাওরায়, তান স্বপন ইউছুফরে হুনাইলা। হে কইলো, “আমি দেখলাম, আমার ছামনে এক আংগুরর গাছ। 10গাছর তিনগু ডাল আছে; হউ ডালো কুড়ি বারনির লগে লগে ফুল ধরলো, আর ছড়া ছড়া আংগুর ধরি পাকি গেল। 11অউ সময় ফেরাউনর শরবতর পিয়ালা আমার আতো আছিল। আমি হউ আংগুর অকল চিপিয়া রস বার করি ফেরাউনর আতো দিলাম।” 12ইউছুফে তারে কইলা, “আপনার স্বপনর মানি অইলো, তিন ডাল মানি তিন দিন। 13অউ তিন দিনর মাজে ফেরাউনে আপনারে বার করিয়া হিরবার আগর কামো লাগাইবা। আপনে হিরবার আগর লাখান ফেরাউনর আতো পিয়ালা তুলি দিবা। 14অইলে আপনারে মিনতি করি কইয়ার, আপনার ভালাই অওয়ার বাদে আমারে মনো করবা আর দয়া করি ফেরাউনর গেছে আমার কথা কইয়া, ই জেলখানা থনে আমারে খালাছ করাইবা। 15ইবরানি অকলর দেশ থনে আমারে জুর করি ধরিয়া আনা অইছে। আর অনো আইয়াও আমি জেল খাটার মতো এমন কুন্তা করছি না।”

16বাদে হি রুটি বানাওরায় যেবলা দেখলো যেন, শরাব বিলাওরার খোয়াবর মানি ভালা আছে, তেউ হে ইউছুফরে কইলো, “আমিও খোয়াবে দেখছি, দেখলাম যেন আমার মাথাত তিন টুকরি ময়দার রুটি লইছি। 17আর উপরর টুকরিত আছিল, ফেরাউনর লাগি বউত জাতর পিঠা; তেউ পাখি অকলে আইয়া, আমার মাথার উপরর টুকরি থাকি ইতা খাইলিরা।” 18ইউছুফে জুয়াপ দিলা, “ই স্বপনর তাবির অইলো, তিন টুকরি মানি তিন দিন। 19অউ তিন দিনর মাজে, ফেরাউনে আপনার ধড় থনে কল্লা আলগাইয়া, গাছর মাজে লটকাইবা, হেশে পাখিন্তে আইয়া আপনার ধড়র গোস্ত খাইবা।”

20এর তিন দিনর দিন ফেরাউনর জনম দিন আছিল। ফেরাউনে তান দরবারর হকল মানষর লাগি, খানি তিয়ার করাইলা। আর হউ রুটি বানাওরা আর শরাব বিলাওরা দুইওজনরে আনাইয়া তান দরবারর ছামনে আজির করলা। 21তাইন শরাব বিলাওরারে হিরবার তান কামো লাগাইলা, হে ফেরাউনর আতো হিরবার পিয়ালা তুলিয়া দিলো। 22অইলে রুটি বানাওরারে গাছো লটকাইলা। ইউছুফে যেলা কইছলা, এক্কেরে অউলা অইলো। 23তা-ও ইউছুফর কথা হি শরাব বিলাওরার ইয়াদ রইলো না, হে ফাউরিলিলো।

41

বাদশা ফেরাউনর দুই খোয়াব

1এর পুরা দুই বরছ বাদে ফেরাউনে খোয়াবে দেখলা। তাইন দেখলা, নীল নদর গেছে তাইন উবাই রইছইন, 2আর নীল নদ থনে সাতগু সুন্দর তরতাজা গরু উঠিয়া আইয়া নল বনর মাজে আটিয়া খাইরা। 3এরবাদে দেখইন, আরো সাতগু হালাক আর খবিছর লাখান গরু উঠিয়া আইয়া, নীল নদর পারর হউ গরুইন্তর কাছাত উবাইলো। 4হেশে অউ হালাক আর খবিছর লাখান গরুইন্তে হউ সুন্দর আর তরতাজা সাতো গরুরে খাইলিলো, তেউ ফেরাউনর ঘুম ভাংগি গেল। 5বাদে তাইন হিরবার ঘুমাইলা আর দুয়ারা খোয়াবে দেখলা, এক গমর ডেটাত সাতগু পুষ্ট আর তাজা ছড়া বার অইছে। 6হেশে বার অইলো, পুবালি বাতাসর গরমে হুকনা সাতগু কম পুষ্ট ছুছাআলা ছড়া, 7আর অউ কম পুষ্ট ছড়ায় হউ সাতো পুষ্ট-তাজা ছড়ারে গিলিলাইলো। বাদে ফেরাউনর ঘুম ভাংগি গেল, তাইন বুজলা যেন ইতা তো খোয়াব। 8বিয়ানে তান মন অস্থির অইগেল, তেউ মিসর দেশর হকল যাদুগির আর পন্ডিতরে খবরিয়াদি আনাইয়া, তান খোয়াব তারারে হুনাইলা, অইলে এরার কেউ এর তাবির কইতো পারলো না।

9হেশে ফেরাউনর হউ শরাব বিলাওরায় কইলো, “হুজুর, আইজ আমার এক দুষ মনো অইছে। 10বউত দিন আগে হুজুরে নিজর দুই গুলামর উপরে গুছা করছলা, তাইন আমারে আর রুটি বানাওরারে বড় জেলার ছাবর বাড়ির জেলো থইছলা। 11আর এক রাইতে আমরা দুইওজনে আলগ আলগ খোয়াব দেখলাম, দুইও খোয়াবর দুই লাখান তাবির আছিল। 12ই সময় জেলার ছাবর, এক ইবরানি জুয়ান গুলামও অনো আছিল। তারে আমরার খোয়াবর কথা হুনাইলাম, আর হে আমরার খোয়াবর তাবির কইয়া দিলো। 13হে আমরার খোয়াবর তাবির যেলা কইছিল, এক্কেরে অউ লাখানউ ফলিলো। হুজুরে আমারে হিরবার তান কামো লাগাইলা, অইলে রুটি বানাওরারে গাছো লটকাইলা।”

14অউ ফেরাউনে ইউছুফরে আনার লাগি মানুষ পাঠাইলা, তারা গিয়া জলদি করি জেলখানা থনে তানরে বার করি আনলা। ইউছুফে দাড়ি-মুছ কামাইয়া, কাপড় বদলাইয়া ফেরাউনর দরবারো আজির অইলা। 15ফেরাউনে তানরে কইলা, “আমি একখান খোয়াব দেখছি, অইলে এর তাবির কেউ কইতো পারের না। তে আমি হুনলাম যেন তুমার গেছে খোয়াব হুনাইলে, তুমি এর তাবির কইতায় পারো।” 16ইউছুফে জুয়াপ দিলা, “হি খেমতা তো আমার নায়, আল্লা পাকে মহারাজর দিলর শান্তির জুয়াপ বাতাইয়া দিবা নে।” 17ফেরাউনে ইউছুফরে কইলা, “খোয়াবে দেখলাম, আমি নীল নদর পারো উবাই রইছি। 18আর দেখি, গাংগো থনে সাতগু সুন্দর, তরতাজা গরু উঠিয়া আইয়া নল বনর মাজে আটিয়া খাইরা। 19এরবাদে আরো সাতগু গরু উঠিয়া আইলো। ইতা হালাক আর খবিছর লাখান, মিসর দেশর কুনু খানো ইলাখান বে-ছুরত গরু কুনু দিনও দেখছি না। 20বাদে অউ হালাক আর বে-ছুরত গরুইন্তে, আগর হি সাতো তরতাজা গরুরে খাইলিলো। 21অইলে তারা ইতারে গিলার বাদে, খাইছে করি বুজাও গেলো না, কারন তারা আগর লাখানউ হালাক আর বে-ছুরত রইল। হেশে আমার ঘুম ভাংগি গেল। 22বাদে আমি হিরবার দেখলাম, গমর এক ডেটার মাজে সাতগু বড় আর পুষ্ট ছড়া বার অইলো। 23পুবালি হাওয়ার গরমে হুকনা সাতগু কম পুষ্ট ছুছাআলা ছড়াও বার অইলো। 24আর অউ সাতো ছড়ায়, হউ তাজা সাতো ছড়ারে গিলিলিলো। ই খোয়াব আমি যাদুগির অকলরে হুনাইছলাম, অইলে কেউ এর মানি কইতো পারছে না।”

25ইউছুফে ফেরাউনরে কইলা, “হুজুর, ই দুইও খোয়াবউ আদতে এক। আল্লায় যেতা করতা চাইরা, ইতা আপনারে দেখাইছইন। 26অউ তরতাজা সাতো গরুর মানি সাত বরছ, আর পুষ্ট সাতো গমর ছড়ার মানিও সাত বরছ। দুইও খোয়াবউ এক। 27আর হেশে উঠিয়া আওয়া সাতো হালাক আর বে-ছুরত গরু, আর পুবালি হাওয়ার গরমে হুকনা সাতো গমর ছড়া, এরার মানি অইলো, আকালর সাত বরছ। 28তে আল্লায় যেতা করতা চাইরা, ইতা মহারাজরে দেখাইছইন। অউ কথাউ আমি আপনারে আগে কইছি। 29হুনউক্কা, হারা মিসর দেশো সাত বরছ খুব বেশি ফসল ফলিব। 30এরবাদেউ আইবো আকালর সাত বরছ। তেউ আগর হি বেশি ফসলর কথা মানষে ফাউরিলিবা, আর আকালে দেশরে শেষ করি দিবো। 31অউ আকালর দরুন, আগর হি ফসলর কথা মানষর মনো রইত নায়। ই আকাল অইবো খুব বেজুইতা মছিবতর। 32ই খোয়াব আপনারে দুইবার দেখানির মানি অইলো, আল্লায় ই দশা ঘটাইবা, এক্কেরে ঠিক করি লাইছইন, ইতা খুব জলদি করিউ ঘটিবো। 33অখন হুজুরে একজন চতুর-বুজদার পন্ডিত মানষরে তুকাইয়া, এন গেছে মিসররে সপি দেউক্কা। 34আর আপনে অউলা করউক্কা, দেশো আপনার কর্মচারি লাগাইন, অউ সাত বছরে যেবলা খুব বেশি ফসল ফলবো, ই সময় তারা এর পাচ বাটর একবাট দলা করবা। 35তারা অউ সুদিনর বছরর ধান দলা করিয়া হুজুরর দখলে, বাজারে বাজারে গুদামো ভরিয়া থউক আর হেফাজত করউক। 36সাত বরছ ধরি মিসরো যে আকাল অইবো, হউ আকালর লাগি ধান জমাইয়া রাখবা, তেউ আকালে দেশর মানুষ মরতা নায়।”

ফেরাউনে ইউছুফ (আঃ) রে মন্ত্রী বানাইলা

37ইউছুফর ই মাত, ফেরাউন আর তান দরবারর হকলর গেছে খুব ভালা মনো অইলো। 38ফেরাউনে তান উজির-নাজির অকলরে কইলা, “ই বেচাড়ার লাখান আল্লার রুহআলা মানুষ আমি কুয়াই তুকাইয়া পাইমু?” 39অউ ফেরাউনে ইউছুফরে কইলা, “আল্লায় যেবলা তুমার গেছে ইতা হক্কলতা জাইর করছইন, তে তুমার লাখান বুজদার আর বিবেকমান তো আর কেউ নায়। 40অখন রাজবাড়ির হক্কলতা তুমিউ চালাইবায়। আমার হকল প্রজা তুমার হুকমে চলবা। খালি বাদশার তখতো, আমি তুমার উপরে থাকমু।” 41তাইন ইউছুফরে কইলা, “হুনো, আমি আস্তা মিসর দেশ তুমার আতো সপি দিলাম।” 42আর ফেরাউনে নিজর আংগুইল থাকি বাদশাই সীলর আংটি খুলিয়া ইউছুফর আতো ফিন্দাইলা, তান গলাত সোনার হার দিলা আর দামি কাপড়র সাদা লেবাছও ফিন্দাইলা। 43বাদে তাইন ইউছুফরে তান রাইজ্যর দুই নম্বর রথর মাজে তুললা আর ইউছুফর আগে আগে এলান করা অইলো, “পরনাম করো! পরনাম করো!” অউ লাখান তাইন ইউছুফর উপরে আস্তা মিসর দেশর ভার সমজাই দিলা। 44ফেরাউনে ইউছুফরে কইলা, “আমিউ ফেরাউন, মিসরর বাদশা! অইলে তুমার হুকুম ছাড়া, আস্তা মিসর দেশো কেউ রুম লাড়াইতো পারতো নায়।” 45ফেরাউনে ইউছুফর নয়া নাম রাখলা, সাফনথ-পানেহ। তাইন ওন মন্দিরর বাবন-ঠাকুর পোটিফেরার পুড়ি আসনতরে ইউছুফর লগে বিয়া দিলা আর ইউছুফে আস্তা মিসর দেশো ঘুরা-ঘুরি করাত লাগলা।

46ইউছুফে তিশ বরছ বয়সো, মিসরর বাদশা ফেরাউনর কামো লাগলা, তাইন ফেরাউনর দরবার থনে বার অইয়া দেশর হকল জাগা ছফর করলা। 47আর বেশি ফসলর অউ সাত বছরে দেশো বউত ফসল ফলিলো। 48তেউ ইউছুফে ই সুদিনর সাত বছরে মিসরর হকল ধান, বাজারর গুদাম ঘরাইন্তো জমা করাইয়া থইলা। তাইন হক্কল বাজারর চাইরো গালার ধান অকল, হউ বাজারর গুদামো জমাইলা। 49তাইন দরিয়ার বালুর লাখান অউলা বেহিসাব ধান দলা করলা যেন, ইতা আর মাপিয়া ফুড়াইতা পারলা না, তেউ মাপা-মাপি করা বাদ দিলাইলা।

50আর আকালর আগে ওন মন্দিরর বাবন-ঠাকুর, পোটিফেরার পুড়ি আসনতর পেটো ইউছুফর দুই পুয়া অইলা। 51ইউছুফে তান বড় পুয়ার নাম রাখলা মানশা [মানি, ফাউরি লাওয়া]। তাইন কইলা, “আল্লায় আমার হকল তকলিফ আর বাফর বাড়ির হক্কলতা, আমার দিল থনে ফাউরাইলা।” 52বাদে তান দুছরা পুয়ার নাম রাখলা আফরাইম [মানি, ফলদার]। তাইন কইলা, “আমি যে দেশো তকলিফ পাইছি, হউ দেশোউ আল্লায় আমারে ফলদার বানাইলা।”

53আর মিসর দেশর খুব বেশি ফসলর হি সাত বরছ পুরিগেল। 54তেউ ইউছুফে যেলা কইছলা, অউলা আকালর হউ সাত বরছ আইয়া আজিলো। এর লগে কান্দা-কাছার হকল দেশোও নিদান দেখা দিলো অইলে মিসরর কুনু জাগাত খানি-খুরাকির অভাব অইলো না। 55হেশে আস্তা মিসর দেশো আকাল দেখা দিলে, প্রজা অকলে আইয়া ফেরাউনর গেছে খানি মাগিলা, তেউ ফেরাউনে কইলা, “তুমরা ইউছুফর গেছে যাও। এইন যেলা কইন, ঠিকউ অউলা করো।” 56ই আকাল আস্তা দেশ জুড়ি দেখা দিলো। বাদে আরো বেজুইতা অওয়ায় ইউছুফে হকল জাগার গুদাম ঘরাইন খুলিয়া, মিসরী অকলর গেছে ধান বেচাত লাগলা। 57আস্তা দুনিয়াইত নিদান দেখা দিল আর হকল দেশর মানষে ধান খরিদ করার লাগি মিসর দেশো ইউছুফর গেছে আইলা।

42

হজরত ইউছুফ (আঃ) অর দশ ভাই মিসরো গেলা

1ইয়াকুবেও হুনলা মিসর দেশো ধান আছে, অউ তান পুয়াইন্তরে কইলা, “তুমরা এগুয়ে আরগুর মুখর বায় চাই রইছো কেনে? 2হুনো, আমি হুনছি, মিসর দেশো ধান আছে, তুমরা হনো গিয়া আমরার লাগি কিছু ধান লইয়া আনো, তেউ আমরা ই মরন থাকিয়া জানে বাচমু।” 3অউ ইউছুফর দশো ভাইয়ে ধান লইয়া আনার লাগি মিসরো গেলা। 4অইলে ইয়াকুবে ইউছুফর আপন মাʼর পেটর ভাই বিন-ইয়ামিনরে তারার লগে যাইতে দিলা না, তাইন কইলা, এর কুনু বিপদ অইযিতো পারে। 5ধান খরিদর লাগি কেনান দেশ থাকি যেরা মিসরো গেল, ইছরাইলর পুয়াইনও তারার দলর লগো অইয়া গেলা, কারন কেনান দেশোও আকাল আছিল।

6ই সময় ইউছুফউ আছলা মিসর দেশর হক্কলতার মালিক। দেশর হকল মানষর গেছে তাইনউ ধান বেচতা। তেউ ইউছুফর ভাইয়াইনও তান গেছে গিয়া, তারা মাথারে মাটিত লাগাইয়া তানরে ইজ্জত করলা। 7ইউছুফে তান ভাইয়াইন্তরে দেখিয়াউ চিনিলিলা, অইলে না চিনার ভান করিয়া, তাইন খুব কড়া গলায় তারারে জিকাইলা, “তুমরা কুয়াই থাকি আইছো?” তারা কইলা, “আমরা কেনান দেশ থনে আইছি, ধান নিবার লাগি।” 8ইউছুফে তান ভাইয়াইনরে হাছারর চিনলেও, ভাইয়াইন্তে তানরে চিনলা না। 9তাইন এরারে লইয়া খোয়াবে যেতা দেখছলা, হউ কথা তান মনো অইলো। অউ তাইন এরারে কইলা, “তুমরা তো গুইয়া! আমরার দেশর ফাক-ফুকর অতা দেখাত আইছো।” 10তারা কইলা, “জি না হুজুর, আপনার ই গুলাম অকলে খালি ধান লওয়াত আইছি। 11আমরা তো হকল এক বাফর আওলাদ আর ছাইচ্চা মানুষ; আপনার ই গুলাম অকল কুনু গুইয়া নায়।” 12ইউছুফে হিরবার তারারে কইলা, “না, না, তুমরা আমার দেশর ফাক-ফুকর দেখাত আইছো।” 13তারা কইলা, “আপনার গুলাম অকল, হকলে মিলিয়া বারো ভাই। আমরা কেনান দেশর এক বাফর আওলাদ। আমরার হুরু ভাই অখন বাবার গেছে রইছে, আর আরক ভাই নায়।” 14ইউছুফে তারারে কইলা, “না, না, আমি ঠিকউ কইছি, তুমরা গুইয়াউ! 15তে তুমরার পরিক্ষা অলাউ অইযাউক: আমি ফেরাউনর জানর কছম করি কইয়ার, তুমরার হুরু ভাই অনো না আইলে, তুমরাও ইন থনে ছাড়া পাইতায় নায়। 16তুমরার একজনরে পাঠাইয়া, তুমরার হউ ভাইরে আনাও আর বাকি হকলে বন্দি রও। অউ পরিক্ষায় তুমরার মাতর হাছা-মিছা বুজমু। তারে না আনলে, আমি ফেরাউনর জানর কছম করি কইয়ার, তুমরা নিচয় গুইয়া!।” 17আর ইউছুফে তিন দিন তারারে আজত খানাত বন্দি করি থইলা।

18হেশে তিন দিনর দিন, ইউছুফে তারারে কইলা, “হুনো, আমি তো আল্লারে ডরাই, তুমরা বাচতে চাইলে, আমি যেলা কই, অউলা করো। 19তুমরা হাছারর ছাইচ্চা মানুষ অইলে, তুমরার এক ভাই আজতো থাকউক আর বাকি হকলে তুমরার আকালি পরিবারর লাগি ধান লইয়া যাওগি। 20তুমরার মাত হাছা কি না ইটা বুজার লাগি, তুমরার হুরু ভাইরে আমার গেছে লইয়া আইও। তেউ তুমরা মরতায় নায়।” অউ তারাও রাজি অইলা। 21বাদে তারা মাতা-মাতি করলা, “হাছাউ তো, আমরার হি ভাইর লগে যেতা করছি ইতা অইন্যায়। হে আমরার গেছে কাজ-মিনতি করলেও, আমরা তার মাতো কান দিছি না। এরলাগি আমরার উপরে ই মছিবত আইছে।” 22তেউ রুবেনে তারারে কইলা, “আমি তো তুমরারে কইছলাম, তার উপরে কুনু জুলুম করিও না, তুমরা হুনলায় না। দেখো, অখন তার লউর হিসাব-নিকাশ দিতে অর।” 23অইলে ইউছুফে যেন তারার মাত বুজরা, ইতা তারা জানল না। কারন তাইন মাত বুজাওরা একজনরে মাজে রাখিয়া, তারার লগে মাততা। 24তেউ ইউছুফে তারার গেছ থনে হরিয়া গিয়া কান্দিতা লাগলা। বাদে হিরবার আইয়া তারার লগে মাতিলা আর তাইন শিমিয়নরে ধরিয়া তারার ছামনেউ বান্দাইল্লা। 25বাদে ইউছুফে তারার বস্তার মাজে ধান ভরাইয়া, যারযির টেকা তার বস্তাত ফিরাই দিয়া, এরার পথর লাগি মছা দেওয়ার লাগি হুকুম দিলা। আর অউলা করা অইলো।

26হেশে তারা যারযির গাধার পিঠিত ধানর গাইট বান্দিয়া রওয়ানা অইলা। 27পথো জিরানির জাগাত গিয়া যেবলা একজনে গাধারে খাওয়ানির লাগি বস্তা খুলল, আর দেখল, বস্তার মুখো তার টেকার খুতি। 28অউ হে তার ভাইয়াইনরে কইলো, “দেখো, দেখো, আমার টেকা আমার বস্তাত ফিরত দেওয়া অইছে।” দেখিয়াউ তারার জান উড়ি গেল আর ডরাইয়া কাপতে কাপতে কইলো, “আল্লায় আমরারে ইতা কিতা করলা?”

29বাদে কেনান দেশো গিয়া তারার বাফ ইয়াকুবর গেছে আজির অইয়া, ইতা হকলতা হুনাইয়া কইলা, 30“হি দেশর মালিকে, আমরারে খুব কড়া গলায় কইছইন, আমরা গুইয়া অইয়া হি দেশো গেছি। 31আমরা কইছি, আমরা হক মানুষ, কুনু গুইয়া নায়। 32আমরা বারোজন ভাই, এক বাফর বারো পুয়া, অইলে আমরার একজন নায় আর হকল থনে হুরু ভাই অখন কেনান দেশো বাবার গেছে রইছে। 33অউ হি মানষে, যেইন হি দেশর মালিক, তাইন আমরারে কইলা, ‘আমি অউলা বুজমু যেন, তুমরা হক মানুষ। তুমরার এক ভাইরে আমার গেছে থইয়া, তুমরার আকালি পরিবারর লাগি ধান লইয়া যাও। 34আর তুমরার হুরু ভাইরে আমার গেছে লইয়া আইও। তেউ আমি বুজমু, তুমরা হক মানুষ, কুনু গুইয়া নায়। বাদে আমি তুমরার ভাইরে ফিরাই দিমু আর তুমরা ই দেশো কায়-কারবার করতায় পারবায়।’ ”

35বাদে তারা বস্তা থনে ধান ঢালতেউ দেখইন, তারার হকলর টেকার খুতি বস্তার মাজে রইছে। ইতা দেখিয়া তারার বাফে আর তারাও ডরাইগেলা। 36তেউ বাফে তারারে কইলা, “তুমরা আমারে আওলাদ ছাড়া বানাইছো। ইউছুফ নায়, শিমিয়নও নায় আর অখন তুমরা হিরবার বিন-ইয়ামিনরেও নিতায় চাইরায়। ইতা হকলতাউ আমার জুলুম।” 37রুবেনে তান বাফরে কইলা, “আমি বিন-ইয়ামিনরে তুমার গেছে ফিরাইয়া আনতে না পারলে, তুমি আমার দুইও পুয়ারে খুন করিলিও। তারে তুমি আমার আতো ছাড়ি দেও, আমি তারে তুমার গেছে ফিরাইয়া আনমু।” 38ইয়াকুবে কইলা, “না, আমার ই পুয়া তুমরার লগে দিতাম নায়। তার ভাই মরি গেছে, আর অখন হে একলা জিতা আছে। তুমরার যাওয়ার পথো যুদি তার কুনু বিপদ অয়, তে অউ পাকনা চুলে বউত দুখ দিয়া তুমরা আমারে কয়বরো হারাইবায়।”

43

দশ ভাইয়ে বিন-ইয়ামিনরে লইয়া গেলা

1কেনান দেশর আকালর ভাব আরো বেহাল অইলো। 2আর মিসর দেশ থনে যেতা ধান নিছলা, ইতা ফুড়াই গেলে ইছরাইলে কইলা, “তুমরা হিরবার গিয়া আমরার লাগি কিছু খানি-খুরাকি লইয়া আনোগি।” 3তেউ এহুদায় তানরে কইলো, “হউ মানষে আমরারে দুয়ারা করি কইয়া দিছইন, তুমরার ভাই তুমরার লগে না আইলে তুমরা আর আমার ছামনে আইও না। 4অখন তুমি আমরার ভাইরে আমরার লগে করি দেও, তেউ আমরা গিয়া তুমার লাগি খানি লইয়া আইমু। 5আর তারে লগে না দিলে আমরাও যাইতাম নায়। হি মানষে আমরারে কইয়া দিছইন, তুমরার ভাইরে লগে না আনলে, তুমরা আর আমার ছামনে আইও না।” 6ইছরাইলে কইলা, “তুমরা কেনে আমার লগে অউলা ফাতরামি করলায়? তুমরার আরক ভাই আছে, ইতা তানরে কেনে কইলায়?” 7তারা কইলা, “হি মানষে আমরার আর আমরার পরিবারর আগা-গুড়ি হক্কলতা জিকাইছইন, তুমরার বাফ কিতা অখনও জিন্দা আছইন নি? তুমরার আর কুনু ভাই আছইন নি? আমরা খালি তান ছওয়ালর জুয়াপ দিছলাম, আমরা কুনু জানতাম নি, তাইন কইবা তুমরার ভাইরেও লইয়া আইও?” 8এহুদায় তান বাফরে কইলা, “তারে আমার লগে করি দিলাও, আমরা জলদি জলদি রওয়ানা অইযাই, তেউ তুমি, আমরা আর আমরার হুরুতাইন হক্কলউ জানে বাচমু, কেউ মরতাম নায়। 9আমি নিজেউ তার লাগি জামিন রইলাম, তারে আমার গেছ থনে সমজিয়া নিও। আমি তারে তুমার গেছে ফিরাইয়া না আনলে, তুমার গেছে আজির না করলে, হারা জিন্দেগি ভরা আমি তুমার গেছে দায়ী রইমু। 10আর অতো দেরি না করলে, আমরা অতদিনে দুইবার ঘুরিয়া আইতাম পারলাম অনে।”

11অউ তারার বাফ ইছরাইলে কইলা, “অউলা অইলে এক কাম করো, তুমরা যারযির বেগর মাজে অনর ভালা ভালা মাল, আগর, মউ, খুশবয় মশলা, মেশকে-আম্বর, পেস্তা আর বাদাম ভরিয়া হউ মানষর লাগি ছালামি লইয়া যাও। 12আর তুমরার লগে করি আগর ডাবুল টেকা নেও, বস্তার মুখো যে টেকা ফিরত আইছে, তা-ও হিরবার লইয়া যাও, কিজানি কুনু ভুল অইগেছিল। 13তুমরার ভাইরে লগে লইয়া, জলদি করি হউ মানষর গেছে যাও। 14সর্ব-শক্তিমান আল্লায় তুমরার বায়, হউ মানষর মেহেরবানি পয়দা করউক্কা, যাতে তাইন তুমরার হউ ভাই আর বিন-ইয়ামিনরে তুমরার আতো ফিরত দেইন। আর আমার পুয়া খুয়ানি গেলে, না অয় গেলোউ।” 15তেউ তারা হউ ছালামি, ডাবুল টেকা আর বিন-ইয়ামিনরে লইয়া রওয়ানা অইয়া, মিসর দেশো পৌছিয়া ইউছুফর ছামনে আজির অইলা।

16তারার লগে বিন-ইয়ামিনরে দেখিয়া ইউছুফে তান বাড়ির খাদিমরে কইলা, “অউ মানুষ অকলরে বাড়ির ভিতরে নেও আর খসি জবো করিয়া গোস্ত রান্দো। তারা মাধানে আমার লগে খাইবা।” 17ইউছুফে যেলা কইলা, খাদিমেও ঠিক অউলা করলো, হে এরারে বাড়ির ভিতরে লইয়া গেল। 18আর হে এরারে ইউছুফর বাড়ির ভিতরে নেওয়ায়, তারা ডরাইয়া মাতা-মাতি করলা, “আগর ফিরা যে টেকা আমরার বস্তাত করি ফিরত গেছিল, অতার লাগিউ আমরারে অনো নিরা, অখন আমরার দুষ দেখাইয়া মাইর-ধইর করিয়া আমরারে গুলাম বানাইবা, আর গাধা অকলও কাড়িয়া নিবা।” 19তেউ ইউছুফর বাড়ির দরজার ছামনে আইয়া তারা বাড়ির খাদিমরে কইলা, 20“হুজুর, আমরা এর আগেও ধান লওয়াত আইছলাম, 21হেশে ফিরত যাওয়ার বালা, দম লইবার জাগাত পৌছিয়া, বস্তা খুলতেউ দেখি, আমরার পুরা টেকা-পয়সা যারযির বস্তার মুখো রইছে, অখন অউ টেকা ফিরত আনছি। 22আর ধান নেওয়ার লাগি আরো টেকা আনছি, অইলে হি টেকা আমরার বস্তার ভিতরে কে থইছিল জানি না।” 23অউ খাদিমে কইলো, “তুমরার ভালাই অউক, ডরাইও না। তুমরার আর তুমরার বাফর আল্লায়, ই গাইবি ধন তুমরার বস্তার মাজে দিছইন। তুমরার টেকা আমি পাইছি।” বাদে হে শিমিয়নরে বার করিয়া তারার গেছে লইয়া আইলো। 24হে হকলরে ইউছুফর বাড়ির ভিতরে নিয়া পানি দিলো তারা পাও ধুইলা আর হে তারার গাধা অকলরেও খানি দিলো। 25ইউছুফ মাধানে আইবা গতিকে, এরা তারার ছালামি অকল জুইত করলা। তারা হুনছলা যেন, তান লগেউ তারার খানা-দানা অইবো।

26বাদে ইউছুফ বাড়িত আইলে, তারার হউ ছালামি অকল ঘরর ভিতরে নিয়া তানরে দিলা, দিয়া হারলে তানরে সইজদা করলা। 27তারার ভালা-বুরা খবর হুনিয়া তাইন জিকাইলা, “তুমরার যে মুরব্বি বাফর কথা কইছলায়, তাইন ভালা আছইন নি? তাইন জিন্দা আছইন নি?” 28তারা জুয়াপ দিলা, “জিঅয়, আপনার গুলাম আমরার বাবা অখনও জিন্দা আছইন আর ভালা আছইন।” হেশে তারা মাথা নোয়াইয়া তানরে ইজ্জত করলা। 29ইউছুফে চউখ তুলিয়া তান নিজর ভাই বিন-ইয়ামিনরে দেখিয়া কইলা, “অউনি তুমরার হউ হুরু ভাই, যার কথা আগে কইছলায়?” তাইন বিন-ইয়ামিনরে কইলা, “আল্লায় তুমারে রহম করউক্কা।” 30ভাইরে দেখিয়া ইউছুফর দিল কান্দিতো লাগল। তাইন জলদি করি বার অইয়া, নিজর কুঠাত গিয়া কান্দিলা। 31বাদে চউখ-মুখ ধইয়া বার অইয়া আইলা আর নিজরে সামলাইয়া খানি বিলাইবার হুকুম দিলা। 32অউ ইউছুফরে, তান ভাইয়াইনরে আর তান লগে খানেআলা মিসরী অকলরে আলগ আলগ জাগাত খানি দিলা। কারন মিসরীন্তে ইবরানি অকলর লগে বইয়া খানা-দানা করতো না, ইতা তারা ঘিন করইন। 33তারা ইউছুফর ছামনে তান ভাইয়াইনরে বড়রে বড়র জাগাত, হুরুরে হুরুর জাগাত বওয়াইলা, তেউ তারা তাইজ্জুব অইয়া একজনে আরক জনর বায় চাই রইলা। 34আর ইউছুফে নিজর থালর খানি থনে তান ভাইয়াইনরে দেওয়াইলা, অইলে বিন-ইয়ামিনরে হকল থনে পাচ গুন বেশি দেওয়া অইলো। খাইয়া হারলে তারা খুশি অইয়া উঠলা।

44

বিন-ইয়ামিনরে বন্দি করলা

1বাদে ইউছুফে তান বাড়ির খাদিমরে অউ লাখান হুকুম দিলা, “ই মানুষ অকলর বস্তাত যতো ধান জাগা অয়, ভরিয়া দিলাও আর যারযির টেকা তার বস্তার মুখো থইও। 2অইলে অউ হুরু জনর বস্তার মুখো তার টেকার লগে আমার রুপার বাটিও থইও।” ইউছুফে তারে যেলা কইলা, হে অউলা করলো। 3বাদর দিন বিয়ানেউ তারা গাধা লইয়া বিদায় অইলা। 4তারা টাউন থাকি বার অইয়া থুড়া দুরই যাইতেউ ইউছুফে তান বাড়ির খাদিমরে কইলা, “জলদি করি এরার খরে দৌড়াইয়া গিয়া, এরার লাগাল পাইয়া হারলে কইবায়, তুমরা উপকারর বদলা কেনে খেতি করলায়? 5অউ বাটিত করিয়া তো আমার মুনিবে পানিয় খাইন আর তদবিরর কামও করইন। তুমরা ই কামখান খুব অইন্যায় করছো।”

6হি খাদিমে তারার খরেদি গিয়া লাগাল পাইয়া অউ লাখান কইলো। 7অইলে তারা কইলা, “হুজুর ইলা মাত কেনে মাতিরা? আপনার গুলাম অকলে কুনু লাখানউ ইতা কাম করতো নায়। 8দেখউক্কা, আগরবার আমরার বস্তার মুখো যে টেকা পাইছলাম, ইতা আমরা কেনান দেশ থনে হিরবার আপনার গেছে ফিরত আনছি, তে আমরা কুনু আপনার মুনিবর বাড়ি থনে সোনা-রুপা চুরি করমু নি? 9আপনার ই গুলাম অকলর মাজে যার গেছে অউ বাটি পাইবা, তারে মারিলাইবা আর আমরাও হুজুরর গুলাম অইযিমু।” 10তেউ খাদিমে কইলো, “ভালা কথা, তে তুমরা যেলা কইলায়, অউলাউ অউক। যার গেছে অউ বাটি মিলব, খালি তারে আমার গুলাম বানাইমু আর বাকি হকল খালাছ পাইবায়।” 11অউ তারা জলদি করি হকলর বস্তা মাটিত লামাইয়া খুলল। 12আর খাদিমে বড় ভাই থনে হুরু ভাই তরি হকলর বস্তা তুকাইলেও হেশে বিন-ইয়ামিনর বস্তাত হি বাটি মিলল। 13তেউ তারা যারযির ফিন্নর কাপড় ফাড়িল্ল, বাদে হিরবার গাধার পিঠিত গাইট বান্দিয়া টাউনো আইলো।

14তেউ এহুদা আর তার ভাইয়াইন ইউছুফর বাড়িত গেলা, ই সময় তাইন হনো আছলা। তারা তান ছামনে গিয়া মাটিত পড়লা। 15ইউছুফে তারারে কইলা, “তুমরা ইতা কিতা করলায়? আমি যেন হকলতা গনতাম পারি, ইতা তুমরা জানো না নি?” 16এহুদায় কইলো, “হুজুরর গেছে আমরা কিতা কইমু? কিতা জুয়াপ দিমু? আর কিলা আমরারে বে-কছুর কইতাম? আল্লায়উ তান গুলাম অকলর দুষ দেখাই দিছইন, তে যার গেছে ই বাটি মিলছে, হে আর আমরা হকলেউ হুজুরর গুলাম অইলাম।” 17অইলে ইউছুফে কইলা, “না, না, আমি ই কাম কুনু লাখানউ করতাম নায়। যার গেছে অউ বাটি মিলছে, হে-উ আমার গুলাম অইবো, বাকি সব ছহি-ছালামতে তুমরার বাফর গেছে যাওগি।”

18তেউ এহুদায় ইউছুফর কাছাত গিয়া কইলো, “হুজুর আপনে তো ফেরাউনর হমান, তে দয়া করি আপনার গুলামরে একখান মাত মাতার সুযোগ দেউক্কা। আপনার গুলামর উপরে গুছা অইন না যেন। 19হুজুরে আগে ই গুলাম অকলরে জিকাইছলা, তুমরার বাফ বা কুনু ভাই আছইন নি। 20আমরা জুয়াপ দিছলাম, আমরার মুরব্বি বাবা জিন্দা আছইন, আর তান হেশকালি বয়সর এগু পুয়া আছে। তার ভাই মরি গেছে, আর হে এক মাʼর এক পুত গতিকে বাবায় তারে খুব মায়া করইন। 21বাদে আপনার ই গুলাম অকলরে কইছলা, তারে আমার গেছে লইয়া আইও, আমি তারে নিজর চউখে দেখমু। 22হিসময় আমরা হুজুররে কইছলাম, বাবারে থইয়া হে আইতো পারতো নায় আর থইয়া আইলেও বাবা মারা যাইবা। 23অইলে আপনে ই গুলাম অকলরে কইছলা, তুমরার হুরু ভাইরে লগে না আনলে, তুমরা আর আমার ছামনে আইও না। 24এরলাগি আমরা ফিরিয়া গিয়া আপনার গুলাম, আমরার বাবারে হুজুরর হকল কথা হুনাইছলাম। 25বাদে বাবায় কইলা, তুমরা হিরবার গিয়া আমরার লাগি আরো থুড়া ধান লইয়া আনোগি। 26তেউ আমরা কইলাম, আমরার হুরু ভাইরে লগে দিলে আমরা যাইমু, আরনায় আমরা গিয়া হি মানষর ছামনে মুখ দেখাইতাম নায়। 27অউ আপনার গুলাম, আমরার বাবায় কইলা, তুমরা তো জানো, আমার ই বিবির তরফা দুগু পুয়া আছিল। 28এরার একজন আমার চখুর ছামন থাকি বার অইয়া গেল, আর তো কুনুদিন তারে দেখলাম না, আমি বুজলাম যেন, নিচয় কুনু জানুয়ারে তারে ছিড়ি-বিড়ি লাইছে। 29অখন তুমরা এরেও আমার গেছ থনে নিলেগি আর এর কুনু খেতি অইলে, তার দুখে তুমরা আমারে অউ পাকনা চুলে কয়বরো হারাইবায়। 30এরলাগি অখন যুদি আপনার গুলাম, আমার বাবার গেছে আমি যাই আর তান ই পুয়ারে লগে না দেখইন, তে এর জানর লগে তান জান একখানো বান্দা গতিকে, 31তারে না দেখলে, তাইন নিচয় মারা যাইবা। আপনার গুলাম, আমরার মুরব্বি বাফ বউত দুখে পাকনা চুল লইয়া কয়বরো হামাইবা। 32আর আপনার গুলাম আমি, আমার বাবার গেছে তার লাগি জামিন অইয়া কইছি যেন, তারে ফিরাইয়া আনতে না পারলে, হারা জিন্দেগি ভরা আমি তুমার গেছে দাবিত রইমু। 33তে হুজুর আমি মিনতি করিয়ার, তার বদলা আমি আপনার গুলামি করমু আর তারে আপনে এরার লগে যাইবার দিলাউক্কা। 34এরে লগে না নিয়া আমি কিলা বাবার গেছে যাইমু? নাইলে বাবার জানর সর্বনাশ আমার নিজর চউখে দেখন লাগব।”

45

ভাইয়াইনরে পরিচয় দিলা

1ইউছুফে তান কর্মচারি অকলর ছামনে নিজরে আর ঠিক রাখতা পারলা না, তাইন চিল্লাইয়া কইলা, “আমার গেছ থনে হক্কল হরি যাও!” তেউ ভাইয়াইন্তর গেছে নিজর পরিচয় দেওয়ার সময় তান ছামনে আর কেউ রইল না। 2তাইন চিল্লাইয়া কান্দন শুরু করলা, তেউ মিসরী অকলে ইতা হুনলা আর ফেরাউনর বাড়ির মানষেও ই খবর পাইলা। 3ইউছুফে তান ভাইয়াইন্তরে কইলা, “আমি ইউছুফ; আমার বাবা অখনও জিন্দা আছইন নি?” অউ তান ভাইয়াইন্তে ডরাইয়া জবান বন্দ অইগেল, মাততা পারলা না।

4তেউ ইউছুফে তান ভাইয়াইনরে কইলা, “তুমরা আমার কাছাত আও।” তারা কাছাত আইলে তাইন কইলা, “আমি তুমরার হউ ভাই ইউছুফ, মিসরো যাওরা বেপারি অকলর গেছে, তুমরা যারে বেচিলাইছলায়। 5অইলে তুমরা আমারে বেচিছলায় করি অখন বেজার অইও না, বা নিজর উপরে নারাজ অইও না। মানষর জানর হেফাজতর লাগি, আল্লায়উ তুমরার আগে আমারে অনো পাঠাইছইন। 6আকাল চলের অউ দুই বরছ ধরি, তে আরো পাচ বরছ কুনু খেত-খামার বা ফসল ফলতো নায়। 7দুনিয়াইত তুমরার আওলাদ অকলরে বাচাইয়া রাখার লাগি আল্লায়উ তান কুদরতে তুমরার আগে আমারে পাঠাইছইন। 8তেউ বুজা যায় যেন, তুমরা আমারে ইনো পাঠাইছো না, আল্লায়উ পাঠাইছইন। তাইন আমারে ফেরাউনর বাফর হমানি করিয়া তান পরিবারর চালকদার বানাইছইন, আর হারা মিসর দেশ শাসনর এখতিয়ার দিছইন। 9অখন তুমরা জলদি করি বাবার গেছে গিয়া কও, তান পুয়া ইউছুফে কইছে, আল্লায় আমারে হারা মিসর দেশর চালকদার বানাইছইন, তে তুমি আর দেরি না করিয়া আমার গেছে আইও। 10তুমি, তুমার পুয়া-পুড়িন, নাতি-পুতি, গরু-মেড়ার পাল আর তুমার যততা আছে, হক্কলতা লইয়া আমার গেছে গোশন এলাকাত রইবায়। 11হনো আমি তুমারে দেখা-হুনা করমু, আকাল তো আরো পাচ বরছ রইব, আরনায় তুমিতাইন হকলে ই আকালে বে-হালত অইযিতায় পারো। 12আমার আপন ভাই বিন-ইয়ামিনে আর তুমরা হকলে নিজর চউখে দেখরায় যেন, আমি নিজর মুখে তুমরার লগে মাতরাম। 13মিসর দেশো আমার যেতা দাপট, মান-ইজ্জত দেখরায়, তুমরা আমার বাবারে ইতা কইবায়, আর তানরে জলদি করি অখানো লইয়া আইবায়।” 14হেশে ইউছুফে তান ভাই বিন-ইয়ামিনর গলাত আইঞ্জা করি ধরিয়া কান্দন শুরু করলা আর বিন-ইয়ামিনেও গলাত ধরি কান্দা-কাটি করলা। 15বাদে ইউছুফে তান হকল ভাইয়াইনরে হুংগা দিলা আর তারার গলাত ধরিও কান্দিলা। তেউ ভাইয়াইন্তেও তান লগে মাত-কথা মাতলা।

16ইউছুফর ভাইয়াইন আওয়ার খবর ফেরাউনর বাড়িত পৌছিলে, ফেরাউন আর তান কর্মচারি অকল খুশি অইলা। 17ফেরাউনে ইউছুফরে কইলা, “তুমার ভাইয়াইনরে কও যেন, তুমরা গাধার পিঠিত ধান বান্দিয়া কেনান দেশো গিয়া, 18বাবারে আর তুমরার পরিবারর হক্কলরে লইয়া আমার গেছে আইও। আমি তুমরারে মিসরর ভালা ভালা চিজ অকল দিমু আর তুমরা দেশর হকল থনে ভালা জাগাও পাইবায়। 19আর তুমরারে আমি হুকুম দিয়ার, তুমরা যারযির বউ, পুয়া-পুড়িন্তর লাগি মিসর দেশ থাকি গাড়ি লইয়া গিয়া, তারারে আর বাবারে লইয়া আইও। 20আর হনো তুমরার মাল-ছামানার লাগি মায়া দেখাইও না, হারা মিসর দেশর ভালা ভালা চিজ অকল তো তুমরারউ।”

21ইছরাইলর পুয়াইন্তে অউলাউ করলা। ফেরাউনর হুকুমে ইউছুফে তারার লাগি গাড়ি আর পথর খানির মছা দিলা। 22তাইন এরা হক্কলরে এক সেট করিয়া কাপড় দিলা, অইলে বিন-ইয়ামিনরে দিলা পাচ সেট কাপড় আর তিনশো রুপার টেকা। 23তাইন তান বাফর লাগি দশগু গাধার পিঠিত করি মিসরর ভালা ভালা চিজ অকল, আর দশগু গাধীর পিঠিত করি খানির লাগি রুটি আর ধান বোঝাই করি পাঠাইলা। 24অউ লাখান তান ভাইয়াইন্তরে বিদায় দিলা, বিদায় বালা তাইন এরারে কইলা, “তুমরা পথো লাগা-লাগি করিও না।”

25বাদে তারা মিসর থনে কেনান দেশো, তারার বাফ ইয়াকুবর গেছে গিয়া কইলা, 26“ইউছুফ অখনও জিন্দা আছে। হে তো অখন আস্তা মিসর দেশর অর্তাকর্তা।” অইলে ইতা হুনিয়া ইয়াকুবর হুশ উড়ি গেল, তান বিশ্বাসউ অইলো না। 27বাদে ইউছুফে তারারে যেতা কইয়া দিছলা ইতা হুনিয়া, আর তানে নেওয়ার লাগি ইউছুফর পাঠাইল গাড়িন দেখিয়া, তারার বাফ ইয়াকুবর হুশ ঠিক অইল। 28ইছরাইলে কইলা, “আমার পুয়া ইউছুফ যেন অখনও জিতা আছে, অটাউ তো বউত, মরার আগে আমি গিয়া তারে দেখাউ লাগব।”

46

হজরত ইয়াকুব (আঃ) মিসর দেশো আইলা

1ইছরাইলে তান হক্কলতা লইয়া বার অইগেলা। আর বের-শেবাত আইয়া তান বাফ ইছহাকর আল্লার নামে কুরবানি করলা। 2বাদে রাইতর বালা আল্লায় ইছরাইলরে দিদার দিয়া কইলা, “ও ইয়াকুব, ইয়াকুব!” তাইন জুয়াপ দিলা, “অউনু আমি।” 3আল্লায় ফরমাইলা, “আমি আল্লা, তুমার বাফর মাবুদ। তুমি মিসরো যাইতে ডরাইও না, হনো আমি তুমার এক বিরাট জাতি পয়দা করমু। 4আমি তুমার লগে লগে মিসরো যাইমু, আর আমিউ তুমারে হিরবার ফিরাইয়া আনমু আর তুমার পুয়া ইউছুফে তুমার চউখ মুজাইয়া দিবো।”

5বাদে ইয়াকুবে বের-শেবা থাকি রওয়ানা অইলা। ফেরাউনে তারারে নেওয়ার লাগি যেতা গাড়িন দিছলা, ইছরাইলর পুয়াইন্তে অতাত করি তারার বাফরে আর তারার বউ, পুয়া-পুড়িনরে লইয়া গেলা। 6হেশে ইয়াকুব, তান পুয়াইন আর তান পুরা গুষ্টি, পশুর পাল অকল আর কেনান দেশো কামাই করা হক্কল ধন-দৌলত লইয়া মিসরো পৌছলা। 7অউ লাখান ইয়াকুবে তান পুয়া-পুড়িন, নাতি-নাতিন, পুরা গুষ্টির হক্কলরে লইয়া মিসরো পার অইগেলা।

8বনি ইছরাইল, মানি ইয়াকুব আর তান আওলাদ অকল যেরা মিসরো গেছলা, তারার খান্দান-নামা অইলো: ইয়াকুবর বড় পুয়া রুবেন; 9আর রুবেনর পুয়াইন: হনোক, ফালু, হাছির আর কর্মি। 10শিমিয়নর পুয়াইন: যিমুয়েল, যামীন, ওহদ, যাখীন, সোহর, আর কেনানী বউর তরফা শৌল। 11লেবির পুয়াইন: জারছুন, কাহাত আর মারারি। 12এহুদার পুয়াইন: এইর, ওনন, শেলা, ফিরোজ আর জারাহ। অইলে ওনন আর এইর কেনান দেশোউ মরি গেছলা। ফিরোজর পুয়াইন: হাছির আর হামুল। 13ইছাখরর পুয়াইন: তোলা, ফওয়া, যাশুব আর শিমরন। 14সবুলনর পুয়াইন: ছেরেদ, এলন আর যহলেল। 15তারা অইলা লেয়ার হুরুতাইন, পদ্দন-ইরামো লেয়ার তরফা ইয়াকুবর ই হুরুতাইন আর তান পুড়ি দীনার জন্ম অইছিল, এরা হক্কলতায় তেত্রিশ জন।

16ছাদুর পুয়াইন অইলা: ছিফন, হগি, শূনি, ইষবোন, এইরি, অরোদি আর অরেলি। 17আশিরর পুয়াইন: ইমনা, যিছবা, যিছবি, বরিয়া আর তারার বইন ছেরা। বরিয়ার পুয়াইন: হেবর আর মল্কিয়েল। 18তারা অইলা জিল্পার হুরুতাইন, লাবনে তান পুড়ি লেয়ার লগে অউ বান্দি জিল্পারে দিছলা, এরা হকলউ তাইর তরফা ইয়াকুবর হুরুতাইন, অউ ষোল জন।

19ইয়াকুবর বিবি রাহেলার পুয়াইন অইলা: ইউছুফ আর বিন-ইয়ামিন। 20ইউছুফর পুয়াইন মানশা আর আফরাইম মিসর দেশো জন্মিছলা। এরার মা অইলা ওন মন্দিরর বাবন-ঠাকুর, পোটিফেরার পুড়ি আসনত। 21বিন-ইয়ামিনর পুয়াইন: বেলা, বেখর, অশবেল, গেরা, নামান, এহী, রোশ, মুপ্পীম, হুপ্পীম আর অর্দ। 22তারা অইলা রাহেলার তরফা ইয়াকুবর হুরুতাইন, অউ চৌদ্দ জন।

23দানর পুয়া: হুশীম। 24নপ্তালির পুয়াইন: যহসিয়েল, গুনি, ইজের আর শিল্লেম। 25তারা অইলা বিলহার হুরুতাইন, লাবনে তান পুড়ি রাহেলার লগে অউ বান্দি বিলহারে দিছলা। এরা হকলউ তাইর তরফা ইয়াকুবর হুরুতাইন, অউ সাত জন।

26ইয়াকুবর নাড়ী থাকি জন্মিয়া যারা মিসরো আইলা, তান পুয়াইন্তর বউ বাদ দিয়া, এরা হকলে মিলিয়া ছয়ষট্টি জন আছলা। 27মিসর দেশো ইউছুফর দুইজন পুয়া জন্মিছলা। এরা সহ ইয়াকুবর পরিবারর যারা মিসরো আইলা, তারা মোট সত্তইর জন।

28এর আগে ইয়াকুবে এহুদারে ইউছুফর গেছে পাঠাইলা, গোশনো যাওয়ার পথ চিনার লাগি, তেউ তারা হক্কল অনো গিয়া পৌছলা। 29আর ইউছুফেও ঘোড়ার গাড়ি হাজাইয়া তান বাফ ইছরাইলর লগে গোশনো দেখা করাত গেলা, আর তানরে দেখিয়াউ আইঞ্জা করি গলাত ধরিয়া বউত সময় কান্দিলা। 30তেউ ইছরাইলে ইউছুফরে কইলা, “তুমি যেন জিন্দা আছ রে পুত, ইটা নিজর চউখে দেখলাম। অখন শান্তিয়েউ মরতাম পারমু।” 31অউ ইউছুফে তান ভাইয়াইন্তরে আর তান বাফর লগর হকলরে কইলা, “আমি গিয়া ফেরাউনরে জানাইমু, আমার ভাইয়াইন আর আমার বাফর বাড়ির হকল, কেনান দেশ থনে আমার গেছে আইচ্ছইন। 32তারার কাম অইলো পশু পালা। তারা তো ছাগল-মেড়া পালইন, আর তারার পশুর পাল অকল আর হক্কল মাল-ছামানা লইয়া আইচ্ছইন। 33ফেরাউনে যেবলা তুমরারে জিকাইবা, আপনারা কিতা কাম করইন? 34অউ সময় তুমরা কইও, আপনার ই গুলাম অকলে আর তারার বাফ-দাদা অকলেও হুরুমান থনেউ পশু পালিয়া বাচইন। তেউ তুমরা গোশনো রইতায় পারবায়। কারন পশু পালরা মানষরে মিসরী অকলে ঘিন করইন।”

47

1ইউছুফে ফেরাউনর গেছে গিয়া কইলা, “আমার বাবা আর ভাইয়াইন্তে, তারার গরু-ছাগল আর তারার হক্কলতা লইয়া, কেনান দেশ ছাড়িয়া আইছইন। তারা আইয়া গোশনো পৌছি গেছইন।” 2ভাইয়াইন্তর মাজে পাচ জনরে নিয়া তাইন ফেরাউনর ছামনে আজির করলা। 3ফেরাউনে তারারে জিকাইলা, “তুমরা কিতা কাম করো?” তারা কইলা, “আপনার ই গুলাম অকলে বাফ-দাদার আমল থাকিউ পশু পালি।” 4তারা হিরবার কইলা, “আমরা ই দেশো মুছাফির অইয়া থাকার লাগি আইছি। কেনান দেশো অখন বেজুইতা নিদান চলের করি, হিনো আমরার পশুর পালর খুরাকি নায়। এরলাগি দয়া করি আপনার ই গুলাম অকলরে, গোশনো রইবার সুযোগ দেউক্কা।” 5ফেরাউনে ইউছুফরে কইলা, “তুমার বাফ-ভাইয়াইন তুমার গেছে আইছইন; 6আস্তা মিসর দেশউ তো তুমার ছামনে পড়ি রইছে। দেশর হকল থাকি ভালা জাগাত তারারে রইতে দেও, তারা গোশনোউ থাকউক আর এরার মাজে যোইগ্য মানুষ পাইলে, তারারে আমার পশুর পালর চালকদার বানাইলাও।”

7বাদে ইউছুফে তান বাফ ইয়াকুবরে ফেরাউনর ছামনে আনাইলা আর ইয়াকুবে ফেরাউনরে দোয়া দিলা। 8ফেরাউনে ইয়াকুবরে জিকাইলা, “আপনার বয়স কত অইছে?” 9ইয়াকুবে কইলা, “দুনিয়াইত আমার মুছাফিরির আয়ু একশো তিশ বরছ অইছে, ইতা তো বেশি নায়, আর খুব তকলিফেউ ই দিন কাটছে; আমার বাফ-দাদার মুছাফিরির আয়ুর হমান অখনও অইছে না।” 10হেশে ইয়াকুবে ফেরাউনরে দোয়া করিয়া বিদায় লইলা। 11তেউ ইউছুফে ফেরাউনর হুকুম মত, তান বাফ-ভাইয়াইনরে মিসর দেশর হকল থাকি ভালা জাগা, রামাষেষ এলাকাত রইতা দিলা। 12ইউছুফে তান বাফ ভাইয়াইন আর তারার পরিবাররে যারযির দরকারি, খানি-খুরাকি হকলতা যুগাই দিলা।

মিসর দেশো নিদান বাড়ছে

13বাদে আকাল আরো বেথায়া অইলো, দেশর কুনু জাগাত খানির কুন্তা আছিল না। তেউ মিসর আর কেনান দেশ এক্কেবারে কাহিল অইগেল। 14মিসর আর কেনান দেশর মানষর যতো টেকা-পয়সা সোনা-রুপা আছিল, ইতাদি তারা ধান খরিদ করায়, ইউছুফে অতা দলা করিয়া ফেরাউনর ভান্ডারো জমাইলা। 15মিসর আর কেনান দেশর হকল সোনা-রুপা যেবলা ফুড়াই গেল, তেউ মিসরী অকলে আইয়া ইউছুফরে কইলা, “আমরারে খানির কুন্তা দেউক্কা। আমরার সোনা-রুপা ফুড়াই গেছে করি আপনার চউখর ছামনে মরিযিতাম নি?” 16ইউছুফে কইলা, “তাইলে তুমরার পশু অকল আনিয়া দেও, সোনা-রুপা ফুড়াই গেলেও পশু অকলর বদলা আমি তুমরারে খানি-খুরাকি দিমু।” 17তেউ তারা যারযির গরু-ছাগল, ঘোড়া-মেড়া, গাধা-গাধী ইউছুফর গেছে আনলা আর ইউছুফে এর বদলা তারারে ধান দিলা। অউ লাখান তারার হক্কল পশুর বদলা, হি বছরর খুরাকি চালাইলা।

18আর হি বরছ গেল, এর বাদর বরছ মানষে আইয়া ইউছুফরে কইলা, “হুজুরর গেছে আমরা কুন্তাউ লুকাইয়ার না, আমরার হকল সোনা-রুপা শেষ অইগেছে আর পশু অকলও আপনারে দিলাইছি। অখন আমরার আর কুন্তাউ রইছে না, খালি অউ শরিল আর জাগা-জমিন ছাড়া। 19এরলাগি আপনার চউখর ছামনে জমি-জমা সহ আমরা কিলা মরিযিতাম? তে আপনে আমরারেও আর আমরার হকল জমি-জমাও লইলাউক্কা, আমরা ফেরাউনর গুলামি করমু, তা-ও আমরারে খানি দেউক্কা আর বিচ দেউক্কা, তেউ আমরাও মরা থনে বাচমু আর জমিন খানাইনও বরবাদ অইতো নায়।” 20অউ ইউছুফে মিসর দেশর হক্কল জমিন ফেরাউনর নামে লইলিলা, কারন ই আকাল অউলা বেজুইতা অইছিল যেন, মিসরর হকলেউ তারার জাগা-জমিন বেচিলাইলা। তেউ দেশর হকল জমিন ফেরাউনর আতো আইল্লো। 21আর ইউছুফে মিসর দেশর এক মাথা থাকি আরক মাথার হকল মানষরে টাউনো পার করিলিলা। 22খালি বাবন অকলর জাগা-জমিন তাইন লইলা না, কারন এরারে ফেরাউনে বেতন দিতা, আর অতা দিয়াউ তারা চলতা। 23হেশে ইউছুফে মানষরে কইলা, “হুনো, ফেরাউনর নামে আমি তুমরারে আর তুমরার হকল জাগা-জমিনও লইলিলাম। অখন তুমরা অউ বিচ অকল নেও আর জমিনো বাইন করো। 24তেউ জমিনো যেতা ফসল ফলিব, এর পাচ বাটর এক বাট ফেরাউনরে দিও আর বাকি চাইর বাট, জমিনর বিচ, তুমরা আর তুমরার পরিবার আর হুরুতাইন্তর খানির লাগি নিওগি।” 25তেউ মানষে কইলা, “আপনে আমরার জান বাচাইলা। হুজুরে আমরারে দয়া করলে, আমরা ফেরাউনর গুলামি করমু।” 26বাদে ইউছুফে মিসর দেশর জাগা-জমিনর লাগি অউ আইন জারি করলা, হকল ফসলর পাচ বাটর এক বাট ফেরাউনে পাইবা, খালি বাবন অকলর জমিন বাদে। অউ আইন অখনও চলের।

হজরত ইয়াকুব (আঃ) রে দাফনর লাগি অছিয়ত

27বনি ইছরাইলে মিসর দেশর গোশনো বসত করলা। তারা হনোর দখলদারি পাইয়া, খুব ফলআলা অইলা আর তারার বউত আওলাদ অইলা। 28মিসর দেশো আইয়া ইয়াকুব সতরো বরছ জিন্দা রইলা। তেউ তাইন হকলতায় একশো সাতচাল্লিশ বরছ বাচিলা। 29ইছরাইলর মউতর দিন কাছাইয়া আইলে তান পুয়া ইউছুফরে খবর দি আনাইয়া কইলা, “আমার বায় তুমার মেহেরবানি অইলে একখান কউল করাইতাম, তুমি আমার উরাতর তলে তুমার আতখান হারাও, তুমি আমার বায় দয়া আর হালালি দেখাইও, আমারে মিসরো দাফন করিও না। 30আমি যেবলা আমার বাফ-দাদার গেছে যাইমুগি, অউ সময় তুমি আমারে মিসর দেশ থাকি নিয়া, আমার বাফ-দাদার কবরস্থানো দাফন করিও।” ইউছুফে কইলা, “আপনে যেলা কইলা, অউলাউ করমু।” 31তেউ ইয়াকুবে কইলা, “তে তুমি আমার গেছে কছম করো।” ইউছুফে কছম করলা। অউ ইছরাইলে তান বিছনার হিতান মুখা সইজদাত পড়লা।

48

ইয়াকুব (আঃ) এ দুই নাতিরে দোয়া দিলা

1এরবাদে ইউছুফে খবর পাইলা, তান বাফ বেমার, অউ তান দুইও পুয়া মানশা আর আফরাইমরে লইয়া বাফরে দেখাত আইলা। 2ইয়াকুবে যেবলা হুনলা, তান পুয়া ইউছুফ আইছইন, অউ তাইন শরিলর হকল বল খাটাইয়া, উঠিয়া বিছনাত বইলা। 3আর তাইন ইউছুফরে কইলা, “সর্ব-শক্তিমান আল্লায় কেনান দেশর লুজ টাউনো, আমারে দিদার দিয়া বরকত দান করিয়া কইছলা, 4‘হুনো, আমি তুমারে ফলদার করমু আর বউত আওলাদ দিমু, তুমা থনে বউত গুষ্টিআলা এক জাতি পয়দা করমু আর তুমার ওয়ারিশ অকলরে, হামেশাকুর লাগি ই দেশর মালিকানা দিমু।’ 5আমি তুমার গেছে মিসরো আইবার আগে, তুমার যে দুইও পুয়া মিসরো জন্মিছইন, তারা আমারউ। রুবেন আর শিমিয়ন যেলা আমার, অউলা মানশা আর আফরাইমও আমার অইবা। 6অইলে এরার বাদে তুমার যেতা হুরুতা অইছইন, তারা তুমারউ রইবা, আর তারার ভাইর নামেউ এরার মালিকানা কাইম অইবো। 7আর পদ্দন থাকি আমরা আওয়ার সময়, কেনান দেশর ইফ্রাথ থাকি থুড়া দুরই থাকতেউ, রাহেলা মারা গেলা। তেউ আমি হনর ইফ্রাথো, বেথেলহামর পথর ধারো তানরে দাফন করলাম।”

8বাদে ইউছুফর পুয়াইন্তর বায় চাইয়া ইছরাইলে জিকাইলা, “এরা কে?” 9ইউছুফে তানরে কইলা, “এরা আমার পুয়াইন, আল্লায় অউ দেশোউ এরারে দিছইন।” তাইন কইলা, “এরারে আমার কাছাত আনো। আমি তারারে দোয়া করতাম।” 10মুরব্বি বয়সো চউখর জুতি কমি যাওয়ায় ইছরাইলে ভালা করি দেখতা না। তেউ এরা কাছাত আইলে, ইছরাইলে তারারে আইঞ্জা করি ধরিয়া হুংগা দিলা। 11তাইন ইউছুফরে কইলা, “বাবারে, আমি মনো করছলাম তুমার মুখ আর কুনু দিন দেখতাম নায়, অইলে আল্লায় তুমার আওলাদ অকলরেও দেখাইলিলা।” 12তেউ ইউছুফে তান বাফর গেছ থনে, পুয়াইন্তরে হরাইয়া মাটিত সইজদা করলা। 13আর ইউছুফে তান দুইও পুয়ারে লইয়া, ডাইন আত দিয়া আফরাইমরে ধরিয়া ইছরাইলর বাউ গালাত, আর বাউ আত দিয়া মানশারে ধরিয়া ইছরাইলর ডাইন গালাত আনিয়া আজির করলা। 14অইলে ইছরাইলর নিজর আখলে, তান আত আড়া-আড়ি করিয়া, ডাইনর আত হুরু পুয়া আফরাইমর মাথাত আর ইউছুফর বড় পুয়া মানশার মাথাত থইলা তান বাউ আত। 15বাদে তাইন ইউছুফরে দোয়া করিয়া কইলা, “হউ আল্লা, যান মর্জিয়ে আমার বাফ-দাদা, ইব্রাহিম আর ইছহাকে চলতা, হউ আল্লা, যেইন পয়লা থাকি আইজ পর্যন্ত আমারে পালিয়া আইরা, 16হউ ফিরিস্তা, যেইন আমারে হকল মছিবত থাকি বাচাইছইন, তাইনউ অউ দুইও পুয়ারে বরকত নাজিল করউক্কা। এরারে দিয়াউ ইব্রাহিম আর ইছহাক আর আমার নাম জিন্দা থাকউক। দুনিয়াইর মাজে তারার বউত গুষ্টি অউক।” 17বাফে তান ডাইন আত আফরাইমর মাথাত রাখলা করি ইউছুফ বেজার অইগেলা। আর আফরাইমর মাথা থাকি হরাইয়া, মানশার মাথাত দেওয়ার লাগি, তান বাফর আত উচা করলা। 18তাইন আতো ধরিয়া কইলা, “বাবা, ই লাখান নায়। অউনু আমার বড় পুয়া, তে আপনার ডাইন আত তার মাথাত রাখউক্কা।” 19অইলে তান বাফে না-খুশ অইয়া কইলা, “বাবারে, আমি ইতা জানি, আমি ইতা জানিরে পুত। তারও এক জাতি অইবো আর মহান অইবো, অইলে তার হুরু ভাই তার চাইতেও মহান অইবো, আর তার আওলাদর বউত গুষ্টি অইবো।” 20ইছরাইলে এরবাদে অউ দুইও নাতিরে দোয়া করিয়া কইলা, “বনি ইছরাইলে কুনু মানষরে দোয়া করলে অউলা কইবা, আল্লায় তুমারে আফরাইম আর মানশার লাখান করউক্কা।” অউলা তাইন মানশার চাইতে আফরাইমরে বড় বানাইলা। 21হেশে ইছরাইলে ইউছুফরে কইলা, “দেখো, আমার মরনর অখত আইচ্চে। আল্লা তুমরার লগে রইবা, আর তুমরারে হিরবার তুমরার বাফ-দাদার দেশো নিচ্চয় ফিরাইয়া নিবা। 22তুমার ভাইয়াইন্তর চাইতে তুমারে এক বাট বেশি দিলাম। অউ বাট তো শিখিম এলাকা, ইতা আমার তলোয়ার-ধনুক দিয়া আমোরী অকলর গেছ থাকি আনছলাম।”

49

হজরত ইয়াকুব (আঃ) অর অছিয়ত

1বাদে ইয়াকুবে তান পুয়াইন্তরে আনাইয়া কইলা, “তুমরা হক্কল একখানো অও। ভবিষ্যতে তুমরার জিন্দেগি কিলা যাইব, ইতা আমি তুমরারে কইরাম।

2ইয়াকুবর পুয়াইন, তুমরা একখানো আও;

তুমরার বাফ ইছরাইলর বুলি হুনো।

3রুবেন তুমি আমার বড় পুয়া,

তুমি আমার বল, আমার জুয়ানকির পয়লা ফল;

তুমি হকল থাকি তেজি আর হিম্মতি।

4তুমি উতরাইল গরম পানির লাখান,

তুমার বড়াই রইতো নায়;

তুমি আপন বাফর বিছনাত গেছো,

হাতন মাʼর লগে নাপাকি কাম করছো।

5শিমিয়ন আর লেবি দুই ভাই;

তারার তলোয়ার জালিমর আতিয়ার।

6ও আমার জান, তারার মজলিছো হামাইও না;

ও আমার শান, তারার সমাজো যাইও না।

তারা গুছা করি খুন করলো;

আড়ুয়ামি করি বিছালর রগ কাটল।

7তারার গুছা তো লান্নতি, ইতা বড় বেজুইতা;

লান্নতি তারার জুলুম, ইতা তো পাষান।

আমি তারারে ইয়াকুবর মাজে বাটিমু;

বনি ইছরাইলর মাজে ছিতরাই দিমু।

8এহুদা, তুমার ভাইয়াইন্তে তুমার তারিফ করবা;

তুমি দুশমনর গর্দনাত ধরবায়;

তুমার বাফর ওয়ারিশ অকলে,

তুমার গেছে মাথা নোয়াইবা।

9তুমি তো সিংহর বাইচ্চা এহুদা।

তুমি শিকারর গোস্ত খাইয়া হরিয়া আইলায়;

হে সিংহর লাখান লেটিয়া হুতিয়া গড়িয়াইলো;

সিংহীরে খেগুয়ে ঘুম ভাঙ্গাইতো?

10এহুদার আত থনে তো

রাজ-লাঠি হরতো নায়;

তার দুইও পাওর মাজথনে

বিচারর গদা যাইতো নায়;

যতদিন শীলো না আইবা,

আর হকল জাতি তান হুকুমে চলবা।

11হে আংগুর গাছো বানব তার গাধা;

আংগুরর সুন্দর ডালো বানব গাধার বাইচ্চা;

লাল আংগুরর রসদি ধুইব তার জুব্বা,

আংগুরর লউদি করব লেবাছ ছফা।

12তার চউখ আংগুরর রসে লাল টক-টকা,

আর তার দাত দুধর লাখান ধলা।

13সবুলন দরিয়ার পারো বসত করিবো,

হে জাজ ভিড়ানির ঘাট অইবো,

সিদন পর্যন্ত তার সীমানা অইবো।

14ইছাখর এগু বলআলা গাধা,

হে খুঅড়র ভিতরে হুতে।

15হে দেখল জিরানির জাগাখান ভালা,

দেশখান সুন্দর;

তেউ গাইট বইবার লাগি কান্দ লামাইলো,

আর জুরর গুলাম অইলো।

16দানে তার নিজর প্রজা অকলর বিচার করব,

ইছরাইলর এক গুষ্টির লাখান।

17হে অইবো সড়কর ধারর হাফ,

পথর বিষআলা আলদ;

যেগিয়ে ঘোড়ার পাওত কামড় মারে,

ঘোড়-ছওয়ার খরেদি উল্টিয়া পড়ে।

18ও মাবুদ, আমি তুমার নাজাতর মুখা চাই রইছি।

19ছাদুরে লুটরা দলে হামলা করব,

বাদে হে-ও তারার খরেদি লুটিব।

20আশিরর খুব ভালা ফসল ফলব,

হে বাদশার জুকা খানি যুগাইব।

21নপ্তালি অইলো ছাড়া হরিনী,

তার মুখো আছে মিঠা মিঠা মাত।

22ইউছুফ ফলআলা গাছর ডাল,

ঝরনার পারর ফলআলা গাছর ডাল;

তার ডালাইন বেড় পার অই যায়।

23তীর-ধনুক আলাইন্তে তারে বেজুইতা তকলিফ দিছলা,

তীর মারিয়া তারে বেকায়দা করছলা;

24অইলে তার ধনুক দড়ো রইল,

তার আতর হনাত বল রইল;

ইয়াকুবর হউ মহান শক্তিআলার আত দিয়া,

যেইন ইছরাইলর হেফাজত কররা পাথর, তানরে দিয়া।

25তুমার বাফর হউ আল্লারে দিয়া,

যেইন তুমারে সাইয্য করবা;

হউ সর্ব-শক্তিমানরে দিয়া,

যেইন তুমারে বরকত নাজিল করবা;

উপরে থওয়া আছমান থাকি লামরা বরকতে,

তলে বিছাইল পানি থাকি বার অওয়া ঝরনার বরকতে,

বুকুর দুধ আর পেট থাকি বার অওয়া বরকতে।

26আমার বাফ-দাদার দোয়া থাকি,

তুমার বাফর দেওয়া দোয়া বউত ভালা অউক;

ইতা হামেশাকুর খাড়া হাজাইল পাড়-পর্বত থাকি লামউক।

হউ দোয়া ইউছুফর মাথাত পড়উক;

ভাইয়াইন থাকি আলগর মাথার তালুত পড়উক।

27বিন-ইয়ামিন অইলো বড়-বাঘর লাখান,

হে বিয়ানে খায় শিকারর গোস্ত,

আর হাইঞ্জায় বিলায় লুটর মাল।”

28এরা অইলা ইছরাইলর বারো গুষ্টি, তারার বাফে তারার লাগি দোয়ার সময় অউলা কইলা। তাইন এরা হক্কলরে যারযির পাওনা দোয়া দিলা।

হজরত ইয়াকুব (আঃ) অর ইন্তেকাল আর দাফন

29বাদে ইয়াকুবে তান পুয়াইন্তরে অছিয়ত করাইলা যেন, “আমার তো বাফ-দাদার গেছে যাওয়ার সময় অইগেছে, তে হিট্টী ইফ্রোনর জমিনর গুহাত, আমার বাফ-দাদার কান্দাত আমারে দাফন করিও। 30ই গুহা কেনান দেশর, মম্রির ধারো মকপেলার জমিত। ইব্রাহিমে হিট্টী ইফ্রোনর গেছ থনে অউ জমিন লইছলা কবরস্থান বানানির লাগি। 31অনোউ ইব্রাহিম আর তান বিবি ছায়রারে দাফন করা অইছে, ইছহাক আর তান বিবি রেবেকারেও অনো দাফন করা অইছে, আর আমি লেয়ারেও অনো দাফন করছি। 32ই জমিন আর এর মাজর গুহা হিট্টী অকলর গেছ থনে লইছলা।”

33ইয়াকুবে তান পুয়াইন্তরে অছিয়ত করা শেষ অইলে, বিছনার উপরে তান দুইও পাও একখানো করলা আর আখেরি দম ছাড়িয়া তান বাফ-দাদার গেছে গেলাগি।

50

1ইউছুফে তান বাফর মুখর উপরে মুখ লাগাইয়া কান্দিতা লাগলা আর তানরে হুংগা দিলা। 2বাদে তাইন নিজর অধীনর হেকিম অকলরে হুকুম দিলা, তারা তান বাফর লাশরে মমি বানাইবার লাগি। তেউ তারা তান গতরো মমির মশলা লাগাইলা। 3তারা ই কামো চাল্লিশ দিন লাগাইলা, অউ কামো তো চাল্লিশ দিনউ লাগে। আর মিসরী অকলে তান লাগি সত্তইর দিন ভরিয়া আহাজারি করলা। 4অউ আহাজারির দিনর বাদে, ইউছুফে ফেরাউনর বাড়ির মানষরে কইলা, “আপনারা যুদি আমারে দয়া করইন, তে ফেরাউনরে আমার অউ কথাখান জানাউক্কা যেন। 5বাবায় আমারে কছম করাইয়া কইছলা, ‘হুনো, আমি তো মরিযিমু, তে কেনান দেশো আমার লাগি জুইত করা কয়বরো আমারে দাফন করিও।’ তেউ অখন তানরে দাফনর লাগি, দয়া করি আমারে যাইতে দেউক্কা, বাবারে কয়বর দিয়াউ আমি হিরবার আইমু।” 6ফেরাউনে জুয়াপ দিলা, “তাইন তুমারে যেলা কছম করাইছইন, তুমি গিয়া অউলাউ করো।” 7তেউ ইউছুফে তান বাফরে দাফনর লাগি রওয়ানা দিলা; আর ফেরাউনর হকল গুলামে, তান দরবারর মুরব্বি অকলে আর মিসরর ময়-মুরব্বি অকলে, 8ইউছুফর নিজর পরিবার, তান ভাইয়াইন আর তান বাফর পরিবারর হকলে রওয়ানা দিলা। গোশনো খালি তারার হুরুতাইন আর গরু-মেড়ার পালাইন থইয়া গেলা। 9তারা বউত ঘোড়ার গাড়ি আর ঘোড়-ছওয়ার অকল লইয়া এক বিরাট দল হাজিয়া রওয়ানা দিলা। 10আর জর্দান গাংগর হপারো আটাদর ধান মাড়ার জাগাত গিয়া, তারা হকলে সাতদিন ধরি ইউছুফর বাফর লাগি খুব আহাজারি আর বিলাপ করলা। 11আটাদর ধান মাড়ার জাগাত তারারে ইলা আহাজারি করাত দেখিয়া, হি দেশর বাসিন্দা কেনানী অকলে কইলা, মিসরী অকলর লাগি ইটা খুব বেজুইতা আহাজারি; এরলাগি জর্দান গাংগর পারর অউ জাগার নাম অইগেল, আবেল-মিসরয়ীম [মানি, মিসরী অকলর আহাজারি]। 12ইছরাইলে তান পুয়াইন্তরে যেলা অছিয়ত করছলা, তারা তানরে অলাউ করলা। 13তারা তান লাশ কেনান দেশো লইয়া গেলা, আর মম্রির গেছে মকপেলার জমিনর, গুহার মাজে তানরে দাফন করলা। ইটা কবরস্থান বানানির লাগি ইব্রাহিমে, হিট্টী ইফ্রোনর গেছ থাকি লইছলা। 14বাফরে দাফন করার বাদে ইউছুফ, তান ভাইয়াইন আর যতো মানুষ তান বাফরে দাফন করাত লগে গেছলা, তারা হকলে মিসরো ফিরিয়া আইলা।

হজরত ইউছুফ (আঃ) এ ভাইয়াইনরে মাফ করলা

15বাফ মরিগেছইন দেখিয়া ইউছুফর ভাইয়াইন্তে মাতা-মাতি করলা, ইউছুফে কিবা আমরারে ঘিন্নাইব আর আমরা তার যেতা খেতি করছি, অখন ইতা হক্কলতার বদলা লইব। 16তেউ তারা ইউছুফর গেছে খবরিয়া পাঠাইয়া কইলা, “তুমার বাফে মরার আগে ই কউল করছলা যেন, 17তুমরা ইউছুফরে অউ কথাখান কইও, তুমার ভাইয়াইন্তে তুমার যেতা খেতি করছইন, দয়া করি তুমি তারার হি অইন্যায় আর গুনা মাফ করি দিও। এরলাগি আমরা মিনত করিয়ার, তুমার বাফর আল্লার অউ গুলাম অকলরে মাফ করি দিলাও।” তারার মাত হুনিয়া ইউছুফর কান্দন আইল্লো। 18বাদে তান ভাইয়াইন্তে তান ছামনে আইয়া মাটিত পড়িয়া কইলা, “হুনো, আমরা তো তুমার গুলাম।” 19অইলে ইউছুফে তারারে কইলা, “তুমরা ডরাইও না। আমি কুনু আল্লার খলিফা নি? 20তুমরা তো আমার খেতি করতায় চাইছলায়, অইলে আল্লায় ইতারে ভালাই বানাইল্লা, যেলা আইজ দেখরায়, তে তান খিয়াল আছিল অউ লাখান করি বউত মানষর জান বাচাইতা। 21তুমরা অখন ডরাইও না। আমি তুমরারে আর তুমরার পুয়া-পুড়িন্তরে দেখা-হুনা করমু।” তাইন অউ লাখান করি তারারে বুজ দিলা আর খুশ দিলে মাত-কথা মাতিলা।

হজরত ইউছুফ (আঃ) অর ইন্তেকাল

22বাদে ইউছুফ আর তান বাফর আওলাদ অকলে মিসরো বসত করাত রইলা। ইউছুফ একশো দশ বরছ জিন্দা আছলা। 23তাইন আফরাইমর নাতি-নশা পর্যন্ত দেখলা আর মানশার পুয়া মাখীরর হুরুতাইনও ইউছুফর আতো পয়দা অইলা। 24বাদে ইউছুফে তান ভাইয়াইন্তরে কইলা, “আমার তো মউতর অখত আইচ্চে, নিচয় আল্লায় তুমরার বায় নজর রাখবা। তাইন ইব্রাহিম, ইছহাক আর ইয়াকুবর গেছে যে দেশ দিতা করি কছম করছইন, তুমরারে অন থাকি হউ দেশো লইয়া যাইবা।” 25আর ইউছুফে বনি ইছরাইলরে অউ কউল করাইলা, “নিচয় আল্লায় কুনু দিন তুমরার বায় নজর করবা। তে অন থাকি যাওয়ার বালা তুমরা আমার আড্ডি অকল তুলিয়া লইয়া যাইও।” 26হেশে একশো দশ বরছ বয়সো ইউছুফ মারা গেলা। তেউ মানষে তান লাশরে খুশবু-মশলাদি মাখিয়া মমি বানাইয়া মিসর দেশো এক কাফনর বাক্সর ভিতরে থইলা॥