পবিত্র ইঞ্জিল শরিফ ৯ নম্বর ছিপারা

আল-গালাতিয়া

পরিচিতি

আল্লা পাকর হুকুমে হজরত ইছা আল-মসীর সাহাবি হজরত পাউলুছে (রাঃ) চিঠির আকারে অউ ছিপারা লেখছইন। হজরত ইছায় বেহেস্তো তশরিফ নেওয়ার অনুমান ১৬ বছর বাদে ইখান লেখা অইছে। হজরত পাউলুছ বর্তমান তুরস্ক দেশর গালাতিয়া এলাকাত গিয়া তবলিগ করলা, খালি হজরত ইছার উপরে ইমান আনলেউ নাজাত মিলে। অইলে তাইন হন থাকি যাওয়ার বাদে কয়জন ইহুদি মৌলানা আইয়া কইলা, খালি ইমান আনলেউ নাজাত মিলে না, এরলগে ইহুদি ধর্ম মাফিক মুছা নবীর শরিয়তও মানতে অইবো। তারার অউ ভন্ডামি তালিম থাকি বাচানির লাগি তাইন অউ পয়গাম লেখলা।

তাইন বুজাইরা, আল্লার ওয়াদা করা আল-মসীর উপরে ইমান আনলেউ নাজাত পাওয়া যায়, নাজাতর লাগি মুছার শরিয়ত আমল করার জরুর নায়। অইলে নাজাতর ফল অইলো শরিয়তর হুকুম-আহকাম মাফিক চলা।

অউ জমানার ইহুদি আর অইন্য জাতির মাজে কুনু বনি-বনা আছিল না। ইহুদি অকলে মনে করতা খালি তারাউ আল্লার মায়ার জাতি, তারা ছাড়া বাদ-বাকি হকল মানুষউ বে-দীন আর নাফরমান। অইলে হজরত পাউলুছে কইরা, না, ইহুদি বা অইন্য জাতি এরা হকলউ নাফরমান, কুনু মানষরউ তাক্কত নাই ষোলআনা শরিয়ত আমল করা, এরলাগি হকলউ লান্নতি বনিগেছে। তে ইছা আল-মসী ছাড়া বাচার কুনু পথ নাই।

এরমাজে আছে,

(ক) আল্লাই খুশ-খবরি খালি একটাউ ১:১-১০ আয়াত

(খ) হজরত পাউলুছ কিলা সাহাবি অইলা ১:১১—২:২১

(গ) শরিয়ত না রহমত? ৩—৪ রুকু

(ঘ) মুমিন অকলর স্বাধীনতা ৫ রুকু

(ঙ) একে-অইন্যর আছান করো ৬ রুকু

1

আল্লাই খুশ-খবরি খালি একটাউ

1আমি পাউলুছ, ইছা আল-মসীর একজন সাহাবি। আমি কুনু মানষর হুকুম-পরামিশে বা কুনু মানষর উছিলায় সাহাবি অইছি না। খালি ইছা আল-মসী আর আমরার গাইবি বাফ আল্লা, যেইন আল-মসীরে মুর্দা থাকি জিন্দা করি তুলছইন, এরার গেছ থাকিউ খেলাফতি পাইছি। 2আমি আর আমার লগর হকল মুমিন ভাইয়াইন্তে মিলিয়া, গালাতিয়া দেশর ইছায়ী জমাত অকলর গেছে অউ ছহিফা খান লেখরাম।

3আমরার গাইবি বাফ আল্লা পাকে আর ইছা আল-মসীয়ে তুমরারে রহমত আর শান্তি দান করউক্কা। 4আমরার গাইবি বাফ আল্লা পাকর মুনশায়, হউ ইছায় আমরার গুনার মাফির লাগি নিজর পবিত্র জান কুরবানি দিছইন, যাতে অউ খারাপ জমানার আত থাকি আমরারে বাচাইতা পারইন। 5আল্লা পাকর তারিফ হর-হামেশা জারি রউক। আমিন।

6আমি বড় তাইজ্জুব অইগেছি, আল-মসীর রহমে যেইন ডাকিয়া আনিয়া তুমরারে নিজর বন্দা বানাইছইন, তানে ছাড়িয়া তুমরা কিলা অতো জলদি আরক নমুনার খুশ-খবরির বায় ফিরিগেলায়। 7আসলে তো ইটা কুনু খুশ-খবরিউ নায়। অইলে কয়জন মানুষ আছে, যেতায় তুমরার ইমান লইয়া খেইড় খেলাইরা, তারা আল-মসীর খুশ-খবরিরে উল্টা-পাল্টা করিলতা চাইরা। 8হুনো, আমরা যে খুশ-খবরি তুমরার গেছে তবলিগ করছি, অউ খুশ-খবরি ছাড়া দুছরা কুনু খুশ-খবরি যুদি তুমরার গেছে তবলিগ করা অয়, ইতা যুদি আমরা নিজেউ করি, বা আছমানি কুনু ফিরিস্তায় আইয়া করইন, তে অগুর উপরে লান্নত পড়উক। 9আমি আগে যেমনে কইছি, অখন হিরবার অউলা কইরাম, আগর যে খুশ-খবরি তুমরা মানছো, ইতা ছাড়া দুছরা কুনু খুশ-খবরি কেউ তুমরার গেছে তবলিগ করলে, অগুর উপরে লান্নত পড়উক।

10ইতা করিয়া আমি কার গেছ থাকি তারিফ পাইতাম চাইয়ার, কুনু মানষর গেছ থাকি না আল্লার গেছ থাকি? আমি কুনু মানষরে খুশ করার চেষ্টা করিয়ার নি? আমি যুদি অখনও মানষরে খুশ করার চেষ্টা করতাম, তে আমি আল-মসীর খাদিম অইলাম না অনে।

হজরত পাউলুছ কিলা সাহাবি অইলা

11ও ভাইছাব অকল, আপনারা জানিয়া রাখউক্কা, আমি যে খুশ-খবরি তবলিগ করছি, ইতা তো কুনু মানষর বানাইল মতবাদ নায়। 12আমি ইতা কুনু মানষর গেছ থাকি পাইছি না, কেউ আমারে ইতা হিকাইছেও না। খালি ইছা আল-মসীয়ে নিজে আমার গেছে ইতা জাইর করছইন।

13আমি আগে যেবলা ইহুদি ধর্ম মানতাম, হউ সময় আমার চাল-চলন কিলা আছিল ইতা তো তুমরা হুনছো। আমি আল্লার জমাত অকলরে কত বেশি জুলুম করতাম, আর ইতারে বিনাশ করার চেষ্টাত আছলাম, এওতা তুমরা জানো। 14আমার বাফ-দাদার গেছ থাকি পাওয়া শরা-রছুমত মানাতও আমি খুব খিয়ালি আছলাম। এরদায় আমার বয়সি ইহুদি অকলর মাজে আল্লা-বিল্লা করাত আমি বউত আগুয়াইল আছলাম। 15অইলে আল্লায় তো আমার মাʼর পেটো থাকতেউ আমারে পছন্দ করছইন, তাইনউ নিজর রহমতে আমারে দাওত দিছইন। তান মুনশা আছিল, 16আমি তান খাছ মায়ার জনর দিদার পাইয়া, অইন্যান্য জাতির গেছে খুশ-খবরি তবলিগ করি। তে অউ দিদার পাইয়াও আমি কুনু আদম জাতর লগে পরামিশ করছি না। 17আর আমার আগর কুনু সাহাবির লগে মুলাকাত করার লাগি আমি জেরুজালেম টাউন খানোও গেছি না। বরং আমি আরব দেশো গেছলামগি, গিয়া ঘুরি-ফিরি হিরবার দামেস্ক টাউনো আইছি।

18এর তিন বরছ বাদে সাহাবি পিতরর লগে মুলাকাত করার নিয়তে জেরুজালেম গেছলাম, গিয়া তান অনো পনরো দিন আছলাম। 19অউ সময় হজরত ইছার ভাই সাহাবি ইয়াকুব ছাড়া, দুছরা কুনু সাহাবির লগে আমার দেখা অইছে না। 20এক আল্লা সাক্ষি আছইন, আমি অউ যেতা লেখলাম, এর একটা হরফও মিছা নায়। মনো রাখবা, অউ খুশ-খবরি তো কুনু মানষর গেছ থাকি পাইছি না, খালি ইছা আল-মসীয়ে নিজে আমার গেছে জাইর করছইন।

21বাদে আমি সিরিয়া আর কিলিকিয়া দেশর বউত জাগাত গেছলাম। 22অউ সময় এহুদিয়া জিলার ইছায়ী জমাত অকলেও আমারে চিনতা না। 23তারা খালি অউ খবর হুনছিলা, “আগে যে বেটায় আমরার উপরে জুলুম করতো, আর ইছার নামরে দুনিয়া থাকি তুড়িলিতো চাইছিল, অখন হউ বেটায় আল-মসীর ইমানর খুশ-খবরি তবলিগ করের।” 24আমি ইমান আনিয়া বদলি যাওয়ায়, তারা আল্লার শুকুর-তারিফ করতা।

2

জমাতে হজরত পাউলুছরে কবুল করলা

1চৌদ্দ বরছ বাদে বার্নাবাছর লগে অইয়া আমি হিরবার জেরুজালেম গেলাম, অউ সময় তীতাছরেও লগে নিলাম। 2আল্লাই হুকুমে আমি হনো গেলাম। গিয়া হনর ভাইয়াইনরে কইলাম, অইন্যান্য জাতির গেছে আমি কুন খুশ-খবরি তবলিগ করি। অইলে জমাতর মুরব্বি অকলরে ইতা নিরালায় কইলাম, আমার চিন্তা আছিল, আমার অতো দৌড়র কাম যাতে বেকামা না যায়। 3আমার লগর ভাই তীতাছ অ-ইহুদি অইলেও, তান মছলমানি কাম করানির লাগি এরা কুনু চাপ দিছে না। 4আসলে ইমানদার দলর ভিতরে কয়জন মুনাফিক হামানিয়ে অলা অইলো। ইছা আল-মসীর উম্মত বনায় আমরা যে স্বাধীনতা পাইছি, অতার খুত ধরার লাগিউ এরা হামাইছিল, যাতে আমরারে মুছার শরিয়তর গুলামিত রাখতো পারে। 5অইলে আমরা এক পলকর লাগিও তারার গুলামি মানলাম না, যাতে খুশ-খবরির হকিকতি তুমরার গেছে কাইম রয়।

6আর জমাতর নাম-ডাকি জন অকলর লগে আমি মাতিলাম, এরা যেইনউ অইন না কেনে, ইতায় আমার কুন্তাউ যায় আয় না, আল্লায় তো মুখ চাইয়া মছলমানি করইন না। এরা তো আমারে নয়া কুন্তা দিছইন না, 7বরং তারা বুজিলিলা, ইহুদি সমাজর গেছে খুশ-খবরি তবলিগো পিতররে যেলা দায়িত্ব দেওয়া অইছিল, অউ লাখান অইন্যান্য জাতির গেছে তবলিগর দায়িত্ব আমারে দেওয়া অইছে। 8তারা অখান দেখলা, ইহুদি অকলর গেছে সাহাবি-কামো পিতররে যেইন চালাইছইন, হউ আল্লায়উ অইন্যান্য জাতির মাজে সাহাবি-কামো আমারে চালাইছইন। 9অখান দেখিয়া জমাতর গইন্য-মাইন্য মুরব্বি, মানি ইয়াকুব, পিতর আর হান্নানে বুজিলিলা, আল্লার তরফ থনে আমি খাছ রহমত পাইছি। তেউ তারাও আমরার লগে একমত আছইন অখান দেখাইতা করি, আমার আর বার্নাবাছর লগে তারার আত মিলাইলা। আর অউ মাতে রাজি অইলা, আমরা তবলিগ করমু অইন্যান্য জাতির গেছে, অইলে তারা তবলিগ করবা ইহুদি সমাজর গেছে। 10তারা খালি একখান আবদার করলা, আমরা যানু জমাতর গরিব অকলর বায় খিয়াল রাখি। আসলে আমারও অলা করার খুব ইচ্ছা আছিল।

হজরত পাউলুছ আর পিতরে অমিল

11বাদে পিতর আন্তিয়খিয়া টাউনো আইলা। এরমাজে তাইন এক বড় অইন্যায় করায় আমি তান মুখর ছামনেউ আপত্তি জানাইলাম। 12অউ সময় ইহুদি থাকি মুমিন অওয়া একদল মানষে ফতোয়া দিতা, অইন্যান্য জাতি থাকি যেরা ইছার উম্মত অয়, তারার মছলমানি কাম করানি জরুর। অউ ফতোয়া দলর কিছু মানুষ সাহাবি ইয়াকুবর গেছ থাকি আইবার আগে পিতরে অইন্য জাতির লগে মিলা-মিশা করি খানা-দানা খাইতা। ইটা তো খুব ভালা। অইলে এরা আওয়ায় এরার ডরে তাইন অউ ভালা কাম বন্দ করিল্লা। অকটাউ বড় অইন্যায়। 13আন্তিয়খিয়ার আরো বউত ইহুদি মুমিনেও পিতরর লগে অউ ভন্ডামিত সামিল অইলা। হেশ-মেশ বার্নাবাছও তারার লগে ভুল পথে পাও দিলাইলা।

14অইলে আমি যেবলা দেখলাম, খুশ-খবরির হকিকতর লগে তারার কাম-কাজ মিলের না, অউ হকলর ছামনে পিতররে কইলাম, “আপনে ইহুদি অইয়াও যুদি ইহুদি নিয়ম বাদ দিয়া অইন্য জাতির লাখান চলইন, তে অইন্য জাতিরে কেনে অখন ইহুদি নিয়ম মানার তাগিদ দিরা? 15আপনে-আমি দুইওজনউ তো ইহুদি, নাফরমান অ-ইহুদি কুলো জন্মিছি না। 16এরবাদেও তো আমরা জানি, মুছার শরিয়ত আমল করলেও আল্লায় মানষরে দীনদার কইয়া কবুল করইন না, খালি ইছা আল-মসীর উপরে ইমান আনলেউ দীনদার কইয়া কবুল করইন। এরদায়উ আমরা তান উপরে ইমান আনছি, যাতে শরিয়তর আমলে নায়, অইলে আল-মসীর উপরে ইমান আনায় আমরারে দীনদার কইয়া কবুল করইন। কারন শরিয়ত আমল করলেও কুনু মানষরে দীনদার কইয়া গনা অইতো নায়।”

17অইলে অখন আমরা আল-মসীর তরিকায় দীনদার বনতাম চাইরাম করি, ইহুদি শরার নিয়ম-কানুন বাদ দিলাইছি। এতে যুদি কুনু কুনু জনে আমরারে নাফরমান কইন, তে কিতা বুজা যায়, আল-মসীয়ে কুনু গুনার খেজমত করইন নি? নাউজুবিল্লা, নিচয় না। 18আমি নিজে যেতা বাদ দিলাইছি, অতা যুদি হিরবার করি, তে তো নিজেউ নিজরে দুষি পরমান করিয়ার। 19শরিয়তর নিয়মে শরিয়তর আতোউ আমার মউত অইগেছে, যাতে আল্লার তারিফর লাগি আমি জিন্দা রই। 20তে ধরিলাও, আমারে আল-মসীর লগে গাছো লটকাইয়া কাতল করা অইছে। আমি আর জিন্দা নায়, আমার কায়ার মাজে আল-মসীউ জিন্দা আছইন। অউ কায়ায় অখন যে জিন্দেগি কাটাইরাম, ইটা আল্লার খাছ মায়ার জনর উপরে ইমানর বলে কাটাইরাম। তাইন আমারে মহব্বত করিয়া, আমারে তরানির লাগি নিজর জান কুরবানি দিছইন। 21আল্লা পাকর ই রহমত আমি বিফল অইতে দিতাম নায়। শরিয়ত আমল করিয়া যুদি মানুষ দীনদার বনিযিতো, তে আল-মসী খামোখা কুরবানি অইলা নি?

3

শরিয়ত না রহমত?

1ও বেআখল গালাতি অকল, তুমরারে খেগিয়ে যাদু করছে? তুমরার গেছে তো খুলা-মেলা আর ছাফ-ছফা তবলিগ করা অইছে, ইছা আল-মসীরে গাছো লটকাইয়া কাতল করা অইছিল। 2তে অখন আমি খালি অউ কথাখান জানতাম চাইরাম, তুমরা যে পাক রুহ পাইছো, ইটা কিতা মুছার শরিয়ত আমল করিয়া পাইছো নি? না খুশ-খবরি হুনিয়া ইমান আনায় পাইছো? 3তুমরা কুনু অলা বেআখল নি? পাক রুহর বলে নয়া জিন্দেগি শুরু করিয়া, অখন নিজর বলে কামিয়াব অইতায় চাইরায়? 4তে খামোখা অতো দুখ-কষ্ট করলায় নি? আমি আশা করি তুমরার ই কষ্ট মোটেউ বেহুদা গেছে না। 5আইচ্ছা, আল্লায় তো তুমরারে পাক রুহ দান করছইন, আর তুমরার মাজে বউত কেরামতি কামও করছইন। তে কওছাইন, তান শরিয়ত মানায় তাইন ইতা করলা নি? না খুশ-খবরি হুনিয়া তুমরা ইমান আনায় ইতা করছইন?

6ইব্রাহিম নবীর বেয়াপার খান দেখো, আল্লার কালামো আছে, “ইব্রাহিমে আল্লার ওয়াদায় ইমান আনায়, আল্লায় তানরে দীনদার কইয়া কবুল করলা।” 7এরদায় তুমরাও সমজিলাও, যেরা ইমান আনে, তারাউ ইব্রাহিমর আসল আওলাদ। 8আছমানি কিতাবো আগেউ বাতাইল অইছে, আল্লার উপরে ইমান আনলেউ তো তাইন অইন্যান্য জাতিরে দীনদার কইয়া কবুল করইন। ইব্রাহিমর গেছে অউ আয়াতর খুশ-খবরি আগেউ জানাইল অইছিল, “তুমার উছিলায় দুনিয়ার তামাম জাতিয়ে বরকত পাইবা।” 9তে বুজা যায়, আল্লার ওয়াদায় ইমান আনায় ইব্রাহিমে যেলা বরকত পাইছইন, তান বাদে যেরা ইমান আনবা তারাও অলা বরকত পাইবা।

10আছমানি কিতাবে কয়, “যে মানষে শরিয়তর কিতাবো লেখা তামাম হুকুম-আহকাম আমল না করে, হে লান্নতি।” অন থাকি বুজা যায়, যেরা শরিয়ত মানার উপরে ভরসা করে, তারা হকলর উপরেউ ই লান্নত আছে। 11আল্লার কালামে বাতায়, “দীনদার কইয়া যারে কবুল করা অয়, হে তার ইমানর জরিয়ায় জিন্দেগি পাইবো।” এরদায় বুজা যায়, শরিয়তর হুকুম-আহকাম মানলেও আল্লায় কেউররে দীনদার কইয়া কবুল করইন না। 12অইলে শরিয়তে কয়, “শরিয়তর হুকুম-আহকাম মাফিক যে মানুষ চলে, হে শরিয়তর মাজদিউ জিন্দেগি কাটাইবো।” তে তো বুজা যায়, শরিয়তে ইমানর উপরে ভরসা করে না। 13শরিয়তর বরখেলাফ করায় আমরার উপরে যে লান্নত আছিল, অউ লান্নত আল-মসীয়ে তান নিজর কান্দো নিয়া আমরারে আজাদ করছইন। আল্লার কালামো তো আছে, “গাছো লটকাইয়া যারে কাতল করা অয়, হে লান্নতি।” 14আল্লায় ইব্রাহিম নবীরে যে বরকত দান করছইন, ইছা আল-মসীর জরিয়ায় অউ বরকত যাতে অইন্য জাতি অকলেও পাইন, আর আমরাও যাতে ইমানর মাজদি ওয়াদা করা হউ পাক রুহ পাই, অতার দায়উ আল-মসীয়ে ই লান্নত নিজর কান্দো নিছইন।

শরিয়ত আর ওয়াদা

15ও ভাই অকল, আমি দুনিয়াবি কথাদি বুজাই দিরাম। দুই পক্ষ মানষর মাজে যেবলা কুনু চুক্তি পাকা-পুক্ত অইযায়, অউ চুক্তি এক পক্ষয় আর বাতিল করতো পারে না, বা এর মাজে নয়া কুন্তা লাগাইতোও পারে না। 16তে ইব্রাহিম নবী আর তান আওলাদর লগে আল্লায় যে ওয়াদা করছলা, আল্লার কালামো তো কওয়া অইছে না, “আওলাদ অকলর লগে” মানি বউত আওলাদর লগে। বরং কওয়া অইছে খালি “তুমার আওলাদর লগে” মানি এক আওলাদর লগে, আর অউ আওলাদউ অইলা আল-মসী। 17আমি কইতাম চাইরাম, আল্লায় ইব্রাহিমর আমলো ওয়াদার মাজদি যে নিয়ম বওয়াল করছলা, এর চাইরশো তিশ বরছ বাদে শরিয়ত দেওয়া অইছিল। অউ শরিয়ত আওয়ায় আগর হউ ওয়াদার নিয়ম তো বাতিল করতো পারে না। তে তো তান ওয়াদা জারি রইলো। 18আর আল্লার বরকত পাওয়া যুদি শরিয়ত আমলর উপরে নির্ভর করতো, তে ওয়াদার উপরে নির্ভর রইলো না অনে। অইলে আল্লায় ওয়াদার মাজদিউ ইব্রাহিমরে বরকত দান করছলা।

19তে কইবা, শরিয়ত কেনে দেওয়া অইছিল? মানষে গুনার কাম না ছাড়ায়, আল্লার তরফ থাকি ওয়াদার লগে শরিয়তও সামিল করছলা। আর ইব্রাহিমর যে আওলাদর বেয়াপারে আল্লায় ওয়াদা করছলা, অউ জনে তশরিফ না আনা পর্যন্ত ই শরিয়ত বওয়াল আছিল। আল্লার ফিরিস্তার জরিয়ায় মুছা নবীর গেছে ই শরিয়ত নাজিল অইছিল। অউ মুছাউ আছলা আল্লা আর মানষর মাজে শাফায়াতকারি, মানি মাজর মানুষ। 20অইলে খালি একপক্ষ থাকলে তো মাজর মানষর জরুর আছিল না; আর আল্লা তো একজনউ। তাইন ইব্রাহিমর লগে ওয়াদার কালো কুনু মাজর জন লাগছে না।

21তে শরিয়ত কুনু আল্লার ওয়াদা অকলর উল্টা নি? নিচয় না। আল্লায় যুদি অউ লাখান শরিয়ত দান করতা, যেতায় আখেরি জিন্দেগি মিলে, তে শরিয়ত মানিয়াউ মানুষ আল্লার দরবারো কবুল অইগেলোনে। 22অইলে আছমানি কিতাবে বাতায়, তামাম মানুষউ গুনার কবজায় বন্দি, তারা যানু ইছা আল-মসীর উপরে ইমান আনিয়া, ইমানর জরিয়ায় ওয়াদা করা হউ বরকত পাইন।

23ইমান আওয়ার আগে শরিয়তে আমরারে পারা দিছিল। ইমান জাইর না অওয়া পর্যন্ত অউ শরিয়তেউ আমরারে বান্দিয়া রাখছিল। 24এরদায় বুজা যায়, আল-মসীর গেছে পৌছানির আগে অউ শরিয়তেউ অতদিন আমরারে চালাইছে, যাতে ইমানর জরিয়ায় আমরারে দীনদার কইয়া কবুল করা অয়। 25অইলে অখন ইমান কাইম অওয়ায়, আমরা আর চালকদার শরিয়তর তলুয়া নায়।

আল্লার নুরর আওলাদ

26ইছা আল-মসীর উপরে ইমান আনায় তুমরা হক্কল অখন আল্লার আওলাদ বনিগেছো। 27তুমরা যারা আল-মসীর তরিকা কবুল করছো, তুমরা তো ফিন্নর নয়া কাপড়র লাখান আল-মসীর ভিতরে হামাইগেছো। 28ইহুদি আর অ-ইহুদি, গুলাম আর আজাদ, বেটিন আর বেটাইন্তর মাজে অখন কুনু তফাত নাই। ইছা আল-মসীর লগে মিশি যাওয়ায় তুমরা হকলউ তো এক অইগেছো। 29তুমরা যেবলা আল-মসীর জন অইগেছো, তে তো ইব্রাহিমর আওলাদও অইছো, আর আল্লায় ইব্রাহিমরে যেতা দিবা করি ওয়াদা করছলা, তুমরাও অতার ভাগি বনিগেছো।

4

1আসলে আমি বুজাইতাম চাইরাম, বাফর হকল ধন-ছামানাত আওলাদর এখতিয়ার থাকলেও, হে যতদিন নাবালিক রয় অতদিন আওলাদ আর গুলামর মাজে কুনু তফাত মিলে না। 2তার বাফে যে সময়র কথা অছিয়ত করি যাইন, অতদিন হে তার মুরব্বি বা জিম্মাদারর আওতায় রইতে অয়। 3অউ লাখান আমরাও যেবলা নাবালিক আছলাম, হউ সময় দুনিয়ার নানান চাল-চলনর গুলাম আছলাম। 4অইলে সময় পুরা অইয়া হারলে, আল্লায় তান খাছ মায়ার জনরে বেজিলা। তাইন একজন নেক আওরতর পেটো জনম লইয়া, শরিয়তর হুকুম-আহকাম মাফিক জিন্দেগি কাটাইলা। 5যাতে শরিয়তর আওতায় থাকা মানষরে আজাদ করতা পারইন, আর আমরারেও আল্লার আওলাদ বনার এখতিয়ার দেইন। 6এরদায় তুমরা আল্লার আওলাদ বনিযাওয়ায় তুমরার দিলো বসত করার লাগি, আল্লায় তান খাছ মায়ার জনর রুহরে বেজিছইন। তুমরার দিলর অউ রুহে তো আল্লা পাকরে আব্বা কইয়া ডাকইন। 7গতিকেউ তুমরা গুলাম রইছো না, আওলাদ বনিগেছো; আর আওলাদরে আল্লায় যেতা দেওয়ার ওয়াদা করছিলা, অখন তুমরা এওতার মালিকানাও পাইছো।

ইমানে মজবুত আর খাটি অও

8আগে তুমরা যেবলা আল্লা পাকরে চিনতায় না, হউ সময় তুমরা যেতার গুলামি করতায়, ইগুইন তো আসলে কুনু দেবতাউ নায়। 9অইলে অখন তো আল্লারে চিনছো; আসলে আল্লায়উ তান নিজর পরিচয় দিছইন। তে তুমরা কিলা হিরবার দুনিয়াবি হউ কমজুর আর বাতিল চাল-চলনর বায় ফিরিযিরায়? আরকবার অতার গুলাম বনতায় চাইরায় নি? 10তুমরা হিরবার অমুক আর তমুক দিন, মাস, রিতু আর বছররে মানরায়। 11এরদায় আমার ডর করের, তুমরার তলে আমার অতো মেনত নি মাটি অইযায়।

12ও ভাই অকল, আমি তুমরারে মিনত করিয়ার, আমি যেলা তুমরার লাখান অইগেছি, তুমরাও অলা আমার লাখান অও। তুমরা তো অতদিন আমার কুনু খেতি করছো না। 13তুমরার জানা আছে, আমার শরিলো বেমার অওয়ায়, আমি তুমরার গেছে পয়লা বার খুশ-খবরি তবলিগর সুযোগ পাইছলাম। 14আমার বেমারর দায় তুমরার কষ্ট অইলেও, তুমরা তো ঘিন বা এলা করিয়া আমারে ফালাইছো না। বরং আল্লার কুনু ফিরিস্তা বা ইছা আল-মসীরে যেলাখান কবুল করতায়, অউ লাখান আমারেও কবুল করছো। 15অইলে অখন তুমরার দিলর হি এশকি গেল কুয়াই? আমি তো তুমরার বেয়াপারে অখানউ কইতাম পারি, হউ সময় পারলে তুমরা নিজর কইলজা খুলিয়া আমারে দিলাইলায় অনে। 16তে তুমরার গেছে হক কথা মাতায়, আমি অখন দুশমন অইগেলাম নি?

17হুনো, অউ যেগুইন্তে তুমরার খুজ-খবর লইরা, অগুইন তো বদ নিয়তে আইরা। তারা চাইন, তুমরারে আমার বায় থনে ফিরাইয়া, তারার আশিক বানাইতা। 18ভালা নিয়তে অলা করলে ফায়দা অইলো অনে। অইলে আমি যেবলা তুমরার ছামনে আই, খালি অউ সময় নায়, নেক নিয়তে হর-হামেশা খুজ-খবর লওয়া ভালা। 19ও আমার পিয়ারা আওলাদ অকল, তুমরা যতদিন আল-মসীর লাখান না বনছো, অতদিন আমি হিরবার তুমরার লাগি হুরুতা পয়দার বিষর লাখান ছটফট কররাম। 20আমার মনে চার, অউ পয়গাম লেখা বাদ দিয়া অখনউ আমি নিজে তুমরার গেছে আইয়া, ঠান্ডা মাথায় বাতচিত করতাম। তে তুমরারে লইয়া কিতা করতাম কুন্তা বুজরাম না।

বিবি ছায়রা আর বান্দি হাজেরা থাকি তালিম

21তুমরা যেরা মুছার শরিয়তর গুলামি করতায় চাও, তুমরা কওছাইন, শরিয়তে যেতা কয় ইতা তুমরার কানো হামায় না নি? 22আল্লার কালামে বাতায়, ইব্রাহিম নবীর দুই পুয়া আছলা, পয়লা পুয়া বান্দি বেটি হাজেরার তরফা আর দুছরা পুয়া আসল স্বাধীন বিবি ছায়রার তরফা। 23বান্দি বেটির তরফা পুয়ার জনম অইছিল দুনিয়ার নিয়মে, অইলে আসল স্বাধীন বিবির পুয়ার জনম অইছিল আল্লা পাকর ওয়াদায় কুদরতি বলে।

24ই মাতর মানি অইলো, অউ দুই বেটি অইলা দুইটা নিয়ম। এক নিয়ম তুর পাড় থনে আইছে, ইটায় তার খেজমত কররা মানষরে গুলামির পথে টানে; এইন অইলা বান্দি হাজেরা। 25অউ হাজেরা মানি আরব দেশর তুর পাড়। আর হাজেরা অইলা অউ জগতর জেরুজালেম টাউনর এক নমুনা, জেরুজালেম টাউনে তো তার পুয়া-পুড়িনরে লইয়া বান্দি বনছে। 26অইলে আছমানি যে জেরুজালেম, এইন তো স্বাধীন; এইনউ আমরার মা। 27আছমানি কিতাবে কয়, “ও নিআওলাদি বেটি, যার কুনু হুরুতা অইছে না, তুমি খুশির গজল গাও। হুরুতা পয়দার বিষে যারে ধরছে না, তুমি গলা ফাটাইয়া জুরে জুরে গজল গাও। জামাইর ঘরর বউর চাইতেও, যার কেউ নাই তাইর বউত বেশি আওলাদ অইবা।”

28ভাই অকল, এরদায়উ তুমরার জনম অইছে আল্লার ওয়াদার ইছহাকর লাখান। 29অইলে হউ সময় দুনিয়ার নিয়মে যার জনম অইছিল, হে জুলুম করতো অউ জনরে, যেইন জনম লইছইন আল্লার পাক রুহর বলে; আর অখনও অউলা জুলুম অর। 30এরদায় দেখো, আল্লার কালামে কয়, “বান্দিরে আর তাইর পুয়ারে বাড়ি থনে খেদাই দেও; বান্দির তরফা পুয়ায় কুনুমন্তেউ আসল বিবির পুয়ার লগে, ধন-ছামানার বাট পাইতো নায়।” 31তে ও ভাই অকল, অউ আয়াতে বুজা যায়, আমরা বান্দির আওলাদ নায়, আমরা তো আসল স্বাধীন বিবির ঘরর আওলাদ।

5

মুমিন অকলর স্বাধীনতা

1ও মুমিন অকল, আল-মসীয়ে আমরারে স্বাধীন করছইন, স্বাধীন হালতে রওয়ার লাগি। এরদায় তুমরার স্বাধীনতারে ধরিয়া রাখো, গুলামির লাগাম আর ফিন্দিও না।

2হুনো, আমি পাউলুছে তুমরারে কইরাম, তুমরা যুদি অখনও মছলমানি কাম করাও, তে আল-মসীর কুনু দামউ তো তুমরার গেছে নাই। 3আমি হকলর গেছে হিরবার অখান কইরাম, যে জনরে মছলমানি করাইল অয়, তার উপরে ফরজ অইযায় শরিয়তর তামাম হুকুম-আহকাম মানা। 4তুমরা যারা শরিয়ত আমল করিয়া দীনদার বনতায় চাইরায়, তুমরা তো আল-মসীর গেছ থনে আলগ অইগেছো, আল্লার রহমত থনে হরিগেছো। 5অইলে আমরারে দীনদার কইয়া কবুল করা অইবো, ইমানে অউ নিচয়তা পাইয়া পাক রুহর বলে আমরা বার চাইরাম। 6ইছা আল-মসীর উম্মত বনিয়া হারলে মছলমানি কাম করাইলেও যেতা, না করাইলেও অতা। বরং মহব্বতর মাজদি যে ইমান জাইর অয়, অউ ইমানউ অইলো আসল।

7তুমরা তো ভালা পথে চলাত আছলায়; তে অউ হক পথে চলতে তুমরারে খেগিয়ে বাধা দিল? 8হুনো, তুমরা অখন যে মতবাদ মানরায়, যে আল্লায় তুমরারে পছন্দ করি আনছইন, ই মতবাদ তো তান বাতাইল পথ নায়। 9জানো নি, এক ফুটা চেনায় এক বালতি দুধরে বরবাদ করিলায়। 10তে তুমরার বেয়াপারে আমি মালিকর দরবারো অউ ভরসা করি, তুমরা দুছরা কুনু মতবাদো যাইতায় নায়। অইলে যেগিয়ে তুমরারে ছাতার, হে যে-উ অয় না কেনে, তার পাওনা সাজা হে পাইবো।

11ও ভাই অকল, আমি যুদি অখনও অখান কই, মানষে মছলমানি কাম করানি জরুর, তে আমার উপরে কেনে অখনও জুলুম অর? তে দুখ-কষ্টর সলিবর উপরে আল-মসীর মউতর কথা হুনলে যেতায় মুখ লুকাইন, তারার মুখ লুকানি তো বন্দ অইগেলো অনে। 12এরদায় আমি চাইরাম, তুমরার দিলো যেতায় গন্ডগোল লাগাইছইন, অগুইন্তে তারার আস্তা নফছ কাটিয়া ফালাই দেউক।

গুনার গুলামি ছাড়ো, পাক রুহে খাটি অও

13ও ভাই অকল, আল্লায় তুমরারে পছন্দ করিয়া আনছইন আজাদ অওয়ার লাগি। অইলে আজাদ বনিয়া তুমরার দিলর গুনার খাইশ পুরানিত লাগিও না, বরং দিলর মহব্বতে একে-অইন্যর খেজমত করো। 14কারন আস্তা শরিয়তরেউ একখানো করিয়া কওয়া অইছে, “তুমার আরি-ফরিরে নিজর লাখান মায়া করিও।” 15অইলে তুমরা যুদি একে-অইন্যে কাইজ্জা-ফসাদ আর রেশা-রেশি করো, তে হুশিয়ার অইযাও! ইতা করলে তো তুমরা একে-অইন্যরে বিনাশ করিলিবায়।

16হুনো, আমি তুমরারে কইরাম, পাক রুহর বলে জিন্দেগি কাটাও, তেউ দিলর অউ খাইশ মিটানির খিয়াল অইতো নায়। 17অউ খাইশে যেতা কয়, ইতা তো পাক রুহর বিপক্ষে, আর পাক রুহে যেতা কইন ইতা বদ খাইশর বিপক্ষে। বদ খাইশ আর পাক রুহ এরা একে-অইন্যর বিরুধি, এরদায় নেক কামর নিয়ত করিয়াও তুমরা ইতা পুরা করো না। 18আর তুমরা যুদি পাক রুহর বলে জিন্দেগি কাটাও, তে তুমরা শরিয়তর গুলাম নায়।

19দিলর বদ খাইশর কাম-কাজ তো খুলা-মেলাউ চিনা যায়, ইতা অইলোগি জিনা, নাপাকি, বদমাইশি, 20দেবতা পুজা, যাদু-টুনা, দুশমনি, কাইজ্জা-ফসাদ, লোভ-লালছ, গুছা, নিজ-মতলবি, অমিল, দলাদলি, 21ইংসা, মাতলামি, হৈ-হুল্লা করি বজ্জাতি করা, আর অউ নমুনার আরো বউত কাম। তে আমি আগে যেলা হুশিয়ার করছলাম, অখন হিরবার অউলা কইরাম, দিলর অউ বদ খাইশর গুলামি যেরা করে, আল্লার বাদশাইত তারার কুনু ঠাই নাই।

22অইলে পাক রুহে চলা জিন্দেগির ফল অইলো মহব্বত, খুশি-বাসি, শান্তি, ছবর করা, দয়ালু ভাব, ভালা-মানষি করা, হক-হালালি রওয়া, 23নরম অওয়া আর নিজরে সামলাইয়া রাখা। অউ নেক কামর বিরুধি কুনুজাত আইন নাই। 24আর ইছা আল-মসীর আপন উম্মতে তো, যারযির রিপুরে, দিলর হকল বদ খাইশ সুদ্ধা ইছা আল-মসীর সলিবো কয়বর দিলাইছে। 25অখন আমরা যুদি একিন করি পাক রুহর জরিয়ায় নয়া জিন্দেগি পাইছি, তে আও, আমরা পাক রুহর জিম্মায় জিন্দেগি কাটাই। 26আমরা বেহুদা বড়াই-বেটাগিরি বাদ দেই, একে-অইন্যরে ছাতানি আর ইংসা-ইংসি এক্কেরে ছাড়ি দেই।

6

একে-অইন্যর আছান করো

1ও ভাই অকল, জমাতর কেউ যুদি আখতা কুনু গুনার ফান্দো পড়িযায়, তে তুমরা যেরা পাক রুহে জিন্দেগি কাটাইরায়, তুমরা তারে তুলিয়া আনিও। আর খুব নরম দিলে ই কাম করিও, নিজর বেয়াপারেও হুশিয়ার রইও, যাতে নিজেও ফান্দো না পড়ো। 2তুমরা একে-অইন্যর ভার বও, তেউ আল-মসীর নিয়ম পুরাপুর মানা অইবো। 3কুন্তা না বনিয়াও যে মানষে নিজর বড়াই-বাহাদুরি দেখায়, হে তো নিজেউ নিজরে টগায়। 4তে পরতেক মানষে যারযির আমল-খাইছলত পরিক্ষা করউক। তেউ অইন্যর লগে নিজর তুলনা না করিয়া, তার নিজর কামর লাগি বড়াই করতো পারবো। 5পরতেক জনেউ নিজর গাইট নিজে বও।

6হুনো, যে জনরে আল্লার কালাম হিকাইল অয়, হে তার উস্তাদর ভালাইর লাগি খেজমত করউক।

7ভাই অকল, তুমরা বে-পথি বনিও না, আল্লার লগে তো ঠাট্টা-মশকরা চলে না। যেইন যেলা খেত করবায়, এইন অলা ফসল পাইবায়। 8দিলর অউ বদ খাইশরে খুশ করার লাগি খেত করলে, ই খেত থাকি গজব মিলবো। অইলে পাক রুহরে খুশ রাখার লাগি খেত করলে, ই পাক রুহ থাকি আখেরি জিন্দেগি মিলবো। 9নেক কাম করাত লাগিয়া আমরা যানু নিরাশ না অই। হামেশা লাগিয়া রইলে ঠিক সময়ে এর ফসল পাইমু। 10সুযোগ পাইলেউ আমরা যানু হকল মানষর, খাছ করি আল্লার পরিবারর মানষর আছান করি।

আখেরি নছিয়ত

11দেখরায় নি, কত মোটা মোটা হরফে আমি নিজর আতে তুমরার গেছে লেখছি! 12যেগুইন্তে তারার নিজর ভালা-মানষি জাইর করতো চায়, অতায় তুমরারে মছলমানি কাম করানির লাগি তাগিদ দের। আল-মসীর সলিবর লাগি যাতে তারার উপরে কুনু জুলুম না অয়, জুলুম থাকি বাচার লাগি তারা ইতা করের। 13হুনো, মছলমানি কাম যেতায় করাইছইন, অতায়ও তো শরিয়তর বরখেলাফ করইন। অইলে এরবাদেও তারা তুমরারে মছলমানি করাইতো চায়, যাতে তারা বড়াই করিয়া কইতো পারে তুমরাও তারার দলো আছো। 14অইলে আমি কইরাম, খালি ইছা আল-মসীর সলিব ছাড়া দুছরা কুনু বেয়াপারেউ আমি বড়াই করি না। অউ সলিবর মাজদিউ ই দুনিয়া আমার গেছে মরিগেছে, আর আমিও দুনিয়ার চখুত মরিগেছি। 15এরদায় মছলমানি কাম করাইলেও যেতা, না করাইলেও অতা। আল-মসীর জরিয়ায় হিরবার নয়া পয়দা অওয়াউ অইলো আসল বেয়াপার। 16আর অউ ইমানে যেরা জিন্দেগি কাটায়, মানি খাটি আল্লার বন্দারে, তাইন রহম আর শান্তি দান করউক্কা।

17হেশ-মেশ কইরাম, হজরত ইছার লাগি মাইর খাইয়া কত নমুনার জখম আমার নিজর শরিলো লইয়া চক্কর দিয়ার। তে আমারে কেউ দুখ দিও না।

18ভাই অকল, আমরার মুনিব ইছা আল-মসীর রহমত তুমরার দিলো কাইম রউক। আমিন॥