পবিত্র ইঞ্জিল শরিফ ৫ নম্বর ছিপারা
সাহাবি নামা
তরিকার খেজমতো সাহাবি অকল
পরিচিতি
পবিত্র আছমানি কিতাবর অউ সাহাবি নামা ছিপারার মাজে আমরা পাইমু, হজরত ইছা আল-মসীর সাহাবি আর উম্মত অকল আল্লাই পাক রুহর বলে পয়লা জেরুজালেম টাউন, বাদে বর্তমান ফিলিস্তিন দেশর এহুদিয়া আর শমরিয়া এলাকা, হেশে এশিয়া আর ইউরোপ মহাদেশর বউত জাগা অইয়া রোমান বাদশাইর রাজধানি রোম টাউন পর্যন্ত আইয়া কিলা আল্লাই খুশ-খবরি তবলিগ করছইন, আর কিলা অউ হকল জাগাত নয়া নয়া ইছাই জমাত জন্মিছে।
অউ ছিপারাত আছে, তবলিগ কামর ছফরো বার অইয়া সাহাবি অকলে আর হজরত ইছার উম্মত অকলে কত বেশি জুলুম-মছিবত পাইছইন, নিজর জাতি থাকি, ভিন জাতি থাকি আর নানান নমুনার মুর্তি পুজারির গেছ থাকি অউ দুখ-মছিবত, জেল-জুলুম, চাবুকর মাইর সইয্য করছইন। তা-ও তারা তবলিগ কাম করছইন আর আল্লা পাকে তারারে হামেশা কতো বড় বড় সাইয্য করছইন, তারার মাজদি নানান নমুনার কেরামতি জাইর অইছে। এরলাগি মানুষ দলে দলে আইয়া ইমান আনছে।
আমরা অউ ছিপারার ১ রুকু ৮ আয়াতো পাইমু, হজরত ইছায় সাহাবি অকলরে কইরা, “পাক রুহ তুমরার উপরে কাইম অইয়া হারলে তুমরা গাইবি বল পাইবায়, অউ বলে জেরুজালেম, আস্তা এহুদিয়া আর শমরিয়া এলাকা, আর দুনিয়ার হেশ সীমানা পর্যন্ত আমার সাক্ষি অইবায়।”
লেখক পরিচিতি আর সময়
আল্লা পাকর হুকুমে অউ সাহাবি নামা ছিপারা লেখছইন হজরত লুক (রঃ)। পবিত্র ইঞ্জিল শরিফ থাকি জানা যায়, হজরত লুকর পেশা আছিল হেকিমি ডাক্তর। তাইন হজরত ইছার সাহাবি হজরত পাউলুছর খেজমতো রইয়া নানান দেশর নানান জাতির গেছে আল্লার কালাম তবলিগ করতা। হজরত ইছা দুনিয়া থাকি বেহেস্তো তশরিফ নেওয়ার অনুমান ৩০ বছর বাদে অউ ছিপারা কিতাব আকারে লেখা অইছে। অউ সাহাবি নামা ছিপারা অইলো হজরত লুকর লেখা দুই নম্বর ছিপারা, এর আগে তাইন আল-লুক নামর ছিপারা লেখছলা।
এরমাজে আছে,
(ক) হজরত ইছার বেহেস্তো ফিরত যাওয়া ১:১-১১ আয়াত
(খ) জেরুজালেম ইছায়ী জমাতর জনম ১:১২—৫:৪২
(গ) এহুদিয়া আর শমরিয়া এলাকাত ইছায়ী জমাত ৬—১২ রুকু
(ঘ) হজরত পাউলুছর (রাঃ) পয়লা তবলিগি ছফর ১৩:১—১৫:৩৫ আয়াত
(ঙ) হজরত পাউলুছর দুয়ারা তবলিগি ছফর ১৫:৩৬—১৮:২৮
(চ) হজরত পাউলুছর তিন নম্বর ছফর ১৯:১—২১:১৪
(ছ) বন্দি হালতে হজরত পাউলুছ ২১:১৫—২৮:৩১
1হজরত ইছার বেহেস্তো ফিরত যাওয়া (১:১-১১)
1মহামাইন্য থিওফিলাছ,
হজরত ইছারে বেহেস্তো তুলিয়া নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাইন যেতা তালিম দিছইন আর যেতা যেতা করছইন ই হকলতাউ আমি আগর কিতাবো লেখছি। 2যে সাহাবি অকলরে তাইন বাছিয়া লইছলা, তানরে তুলিয়া নেওয়ার আগে পাক রুহ দিয়া এরার গেছে অছিয়ত করাই গেছইন। 3তান তকলিফ কাইমর বাদে তাইন যেন জিন্দা আছইন ইটার বউত কিছিমর আলামত দেখাইছইন। চাল্লিশ দিন ধরি তাইন সাহাবি অকলরে দেখা দিয়া আল্লার বাদশাইর বিষয়ে বাতচিত করছইন। 4ইছায় তারা হক্কলর লগে একখানো শরিক অইয়া অউ হুকুম দিলা, “তুমরা জেরুজালেম থাকি যাইও না, আমার গাইবি বাফর ওয়াদা করা যে দানর কথা তুমরা আগে আমার গেছে হুনছো, এর লাগি অনো বার চাও। 5হজরত এহিয়ায় তো পানির মাজে তৌবার গোছল করাইতা, অইলে বেশ দেরি অইতো নায় আল্লায় তুমরারে পাক রুহ দিয়া গোছল করাইবা।”
6তারা হক্কল একখানো দলা অইয়া ইছারে জিকাইলা, “হুজুর, ই সময় কিতা বনি ইছরাইল অকলর আতো রাইজ্য ফিরত আনবা নি?” 7ইছায় জুয়াপ দিলা, “যে অখত বা জমানা আমার গাইবি বাফে তান নিজর এখতিয়ারো রাখছইন, ইতা তুমরা জানার গরজ নাই। 8অইলে পাক রুহ তুমরার উপরে কাইম অইয়া হারলে তুমরা গাইবি বল পাইবায়, অউ বলে জেরুজালেম, আস্তা এহুদিয়া আর শমরিয়া এলাকা, আর দুনিয়ার হেশ সীমানা পর্যন্ত আমার সাক্ষি অইবায়।” 9অউ মাতর বাদেউ সাহাবি অকলর চউখর ছামনে ইছারে তুলিয়া নেওয়া অইলো, আর তাইন মেঘর টুকরার আওড় অইগেলা। 10ইছা যেবলা আছমানো উঠিরা ই সময় সাহাবি অকলে চউখ না ফিরাইয়া আছমানর বায় চাইরইলা, অউ সময় ধলা কাপড় ফিন্দা দুইজন বেটা মানুষ তারার কান্দাত উবাইয়া 11কইলা, “ও গালিলর মানুষ অকল, ইখানো উবাইয়া আছমানর বায় চাইরিছো কেনে? যারে তুমরার গেছ থাকি তুলিয়া নেওয়া অইলো, অউ ইছারে যেলাখান তুমরা বেহেস্তো যাইতে দেখলায়, অউ লাখান তাইন ফিরিয়াও আইবা।”
জেরুজালেম ইছায়ী জমাতর জনম (১:১২-৫:৪২)
নয়া সাহাবি পছন্দ করা
12অউ সাহাবি অকল জয়তুন নামর পাড়ো থাকি জেরুজালেমো ফিরিয়া আইলা। ই পাড় জেরুজালেম টাউন থনে থুড়া দুরই। 13টাউনো ফিরিয়া তারা যে ঘরর উপরর তালাত রইতা হউ ঘরো গেলা। তারা অইলা পিতর, হান্নান, ইয়াকুব, আন্দ্রিয়াছ, ফিলিফ, থুমাছ, বর্থলময় আর মথি, আলফির পুয়া ইয়াকুব, মুক্তিযুদ্ধা সাইমন, আর ইয়াকুবর পুয়া ইহুদা। 14ঘরো হামাইয়া হকলে মিলিয়া খাছ দিলে দোয়া করাত রইলা, এরার লগে আছলা ইমানদার বেটিন, ইছার মা মরিয়ম আর তান ভাইয়াইন।
15হউ সময় একদিন পিতরে অনুমান একশো বিশজন মুমিন অকলর মাজে উবাইয়া কইলা, 16“ভাই অকল, ইছারে যেরা ধরাত আইছিল তারারে পথ চিনাইয়া নিছিল ইহুদা, তার বেয়াপারে বউত আগে দাউদ নবীর মুখো পাক রুহে যেতা কইছলা, পাক কালামর ই কথা পুরা অওয়ার দরকার আছিল। 17হে তো আমরারউ একজন আছিল, আর আমরার লগে তরিকার খেজমতর লাগি তারেও সাহাবি হিসাবে পছন্দ করা অইছিল।” 18অউ নাপাকি কামর টেকা দিয়া হে একজরা জমি লইছিল, আর অউ জমিনো উপইত অইয়া পড়িয়া তার পেট ফাটিয়া আত-ভড় বার অইলো। 19জেরুজালেমর হকল মানষে ইতা হুনছিল, এরলাগি হকলে অউ জমিনরে ডাকইন আকেলদামা বা লউর জমিন।
পিতরে আরো কইলা, 20“অউ কথা পবিত্র জবুর শরিফো আছে:
তার বসত খানা খালি রউক,
হনো রওয়ার কেউ না থাকউক।
তার গদি আরক জনে পাউক।
21-22এরলাগি এহিয়ায় যেবলা তৌবার গোছল করাইতা হউ সময় থাকি, ইছারে আমরার গেছ থনে তুলিয়া নেওয়ার আগ পর্যন্ত, যতদিন ইছা আমরার লগে চলা-ফিরা করছিলা, অতদিন যেরা আমরার দলো আছিল, এরার মাজ থনে ইছা যেন মুর্দা থাকি জিন্দা অইয়া উঠছইন, এর সাক্ষি হিসাবে অইন্য আরক জনরে আমরা সাহাবি অকলর দলো হারানি লাগবো।”
23তেউ তারা অউ দুইজনরে উবা করাইলা, ইউছুফ বার্শাব্বা, তান আরক নাম ইউছতুছ; আর মাতিয়াছ। 24-25বাদে তারা দোয়া করলা, “ও মাবুদ, তুমি হকলর দিলর খবর জানো, ইহুদায় তো তার নিজর জাগাত যাওয়ার লাগি খেজমত আর সাহাবি পদর কাম বাদ দিলাইছে, ইহুদার বদলা ই দুইজনর মাজে তুমি কারে পছন্দ করো আমরারে চিনাইয়া দেও।” 26হেশে তারা দুইজনর নামে লটারি মারলে মাতিয়াছর নাম উঠলো; তেউ মাতিয়াছ অউ এগারো জন সাহাবির লগে যোগ অইলা।
2উম্মত অকলে পাক রুহ পাইলা
1পঞ্চাইশা ইদর দিন তারা হকল এক জাগাত দলা আছলা। 2অউ সময় আছমান থাকি তুফানর লাখান এক আওয়াজ অইলো, তারা যে ঘরো বওয়াত আছলা ই আওয়াজে আস্তা ঘর ভরিগেল। 3তারা দেখলা, আগুইনর লুক্কার লাখান কিতার টুকরাইন আইছে, আর ই লুক্কাইন তারা হকলর উপরে আইয়া বইলো। 4তেউ তারা হকলে পাক রুহে কামিল অইলা, আর রুহর গাইবি বলে তারা আলগ আলগ ভাষায় মাততা লাগলা।
5ই সময় দুনিয়ার হক্কল দেশর পরেজগার ইহুদি অকল জেরুজালেমো আছলা। 6ই আওয়াজর লগে লগেউ তারা আইয়া ভিড় করিল্লা আর বেআখল অইগেলা, কারন এরারে যারযির নিজর ভাষায় মাত-কথা মাততে দেখলা। 7দেখিয়া তারা তাইজ্জুব অইয়া মাতা-মাতি করলা, “অউ যেরা মাতরা এরা হকলউ কিতা গালিলর মানুষ নায় নি? 8যুদি অয় তে আমরা কিলা যারযির নিজর ভাষার বুলি এরার গেছ থাকি হুনরাম? 9আমরা তো পার্থীয়, মাদীয়, ইলামীয়, আর মেসপতামিয়ার বাসিন্দা, এহুদিয়া, কাপ্পাদকিয়া, পন্ত, আছিয়া, 10ফরুগিয়া, পামফুলিয়া আর মিসর দেশর মানষেও; লিবিয়ার কুরিনি এলাকার মানষে, ইনো ঘুরাত আইছইন অউলা রোমান অকলে, 11যেরা ইহুদি জাতি বা ইহুদি ধর্মর মানুষ, আর ক্রীতীয়, আরবি, আমরা হকলেউ তো যারযির নিজর ভাষায় আল্লার কুদরতি কামর কথা এরার মুখ থাকি হুনরাম!” 12অউ লাখান তারা তাইজ্জুব আর বেআখল বনিয়া একে-অইন্যয় জিকাইলা, “এর মানি কিতা?” 13আর বাকি অকলে ঠাট্টা করিয়া কইলো, “এরা তো মদ খাইয়া মাতলামি করের!”
হজরত পিতরর বয়ান
14ইতা হুনিয়া পিতরে অউ এগারো জন সাহাবির লগে উবাইয়া জুরে জুরে তারারে কইলা, “ও ইহুদি অকল আর জেরুজালেমর বাসিন্দা অকল, আপনারা জানিয়া রাখউক্কা আর মন দিয়া আমার বয়ান হুনউক্কা। 15আপনারা মনো কররা এরা মাতাল অইগেছে, না, আসলে ঠিক নায়, অখন তো খালি সকাল নয়টা বাজের। 16ইটা তো অউ ঘটনা যার বেয়াপারে নবী যোয়েলে কইছলা:
17আল্লায় ফরমাইরা,
আখেরি জমানাত অউলা ঘটবো,
আমি আমার রুহ হক্কলর মাজে বেজিমু;
তেউ তুমরার পুয়া-পুড়িন্তে নবীর লাখান বাতুনি মাত মাতবা,
তুমরার জুয়ান অকলে গাইবি আলামতর দেখা পাইবা,
মুরব্বি অকলে খোয়াব দেখবা।
18অউ সময় আমার বন্দা-বান্দির উপরে
আমার রুহ বেজিমু,
তারা নবীর লাখান ওহী কইবা।
19আমি উপরে আছমানো বউত কেরামতি দেখাইমু,
আর তলে দুনিয়াত বউত নিশানা ঘটাইমু,
লউ, আগুইন আর কালা-ধুমা দেখাইমু।
20মাবুদর ই মহান আর খাছ দিন আইবার আগে,
সুরুজ আন্দাইর অইযিব,
চান্দ লউর লাখান অইযিব।
21আর অউলান অইবো,
যেকুনু মানষে মাবুদর নামে ডাকিলে,
হে নাজাত হাছিল করব।
22ও বনি ইছরাইল অকল, হুনউক্কা, নাছারতর ইছার মাজদিয়া আল্লায় তান কুদরতি আর কেরামতি কাম করাইয়া, আপনাইন্তর গেছে পরমান করছইন, তাইনউ ইছারে পাঠাইছলা, আর ইতা তো আপনারাও জানইন। 23আল্লা, যেইন আগেউ জানইন আর ফয়ছালাও করিয়া রাখছইন, ইছারে আপনাইন্তর আতো সপিবা। আর আপনারা বে-দীন অকলর আতানে তানরে দুখ-কষ্টর সলিবো দিয়া কাতল করছইন। 24অইলে আল্লায় মউতর আজাব থাকি তানরে খালাছ করিয়া জিন্দা করছইন, কারন মউতর খেমতা আছিল না তানরে কবজা করার। 25দাউদেও তান কথা কইছইন:
আমি হামেশা মুনিবরে আমার ছামনে দেখতাম,
তাইন আমার ডাইন গালাত আছইন,
আমি যানু অস্থির না অই।
26এরলাগি আমার দিল খুশি অয়,
আমার মুখ থাকি ফুর্তি বারয়,
আমার কায়া অউ আশায় জিতা রইব,
27কারন তুমি আমার জানরে
পাতালো ফালাইয়া থইতায় নায়,
তুমার পাক বন্দার শরিলরে
পচা-গলা অইতে দিতায় নায়।
28তুমি আমারে জিন্দেগির পথ জানাইছো।
তুমার দিদারর মাজে আছে পুরাপুর ফুর্তি।
29ভাই অকল, অউ মহান-বাফ দাউদর বেয়াপারে আমি আপনারারে খুলা-খুলি কইরাম, তাইন মারা গেছইন, তানরে দাফন করা অইছে, আর তান কয়বর আইজও অখানো আছে। 30তাইন একজন নবী আছলা আর তাইন জানতা, আল্লায় কছম করিয়া ই ওয়াদা করছইন যেন, তানউ ওয়ারিশর একজনরে তান গদিত বওয়াইবা। 31এরলাগি আগ থনে দেখিয়াউ তাইন আল্লার ওয়াদা করা বাদশা, মানি আল-মসীর মুর্দা থাকি জিন্দা অইয়া উঠার বেয়াপারে অউ কথা কইছলা, এনরে পাতালো ফালাইয়া থওয়া অইতো নায়, এন কায়াও পচতো নায়। 32আল্লায় অউ ইছারেউ জিন্দা করিয়া তুলছিলা, আমরা হক্কল এর সাক্ষি। 33আল্লার ডাইনর তখতো বইবার তাক্কত তানরেউ দেওয়া অইছে, গাইবি বাফর ওয়াদা করা পাক রুহ তাইনউ পাইছলা, আর অখন আপনারা যেতা দেখরা আর হুনরা ইতা তাইনউ করছইন। 34দাউদ তো নিজে বেহেস্তো হামাইছইন না, অইলে তাইন কইছইন:
মাবুদে আমার মুনিবরে কইলা,
তুমি আমার ডাইন গালাত বও,
35আমি তুমার দুশমন অকলরে
তুমার পাওর তলাত ফালানি পর্যন্ত বও।
36এরলাগি হক্কল বনি ইছরাইলে অউ কথা ভালা করি জানউক্কা, আপনারা যেনরে সলিবো গাথিছলা, আল্লায় অউ ইছারেউ মালিক আর আল-মসী দুইও তখত দিছইন।”
37ইতা হুনিয়া মানষর দিলো ছেল হামাইলো, তারা পিতর আর সাহাবি অকলরে জিকাইলো, “ভাইয়াইনরে, আমরা কিতা করতাম?” 38পিতরে জুয়াপ দিলা, “মন ফিরাউক্কা, আপনারা হকলে গুনার মাফির লাগি ইছা আল-মসীর নামে তৌবার গোছল করউক্কা, তেউ আপনারা দান হিসাবে পাক রুহ পাইবা। 39ই ওয়াদা আপনাইন্তর লাগি, আপনাইন্তর আওলাদর লাগি, যেরা দুরই আছে তারার লাগি, যতো মানষরে আমরার মাবুদ আল্লায় তান খাছ বন্দা অইবার লাগি দাওত দিবা তারা হক্কলর লাগি।”
40আরো বউততা কইয়া পিতরে হুশিয়ার আর মিনত করি কইলা, “ই জমানার নাফরমান অকলর গেছ থাকি আপনাইন্তর জান বাচাউক্কা।”
মুমিন অকলর চাল-চলন
41তান বয়ান হুনিয়া যেরা ইমান আনলা তারা তৌবার গোছল করলা, অনুমান তিন আজার মানুষ ইদিন উম্মত অকলর লগে শরিক অইলা। 42তারা সাহাবি অকলর তালিম হুনা, তারার লগে শরিক অইয়া আল-মসীর মেজবানি খাওয়া, আর দোয়া করাত হামেশা কাইম রইতা।
43তেউ হকলে ডরাইতো কারন সাহাবি অকলে বউত কেরামতি আর মোজেজা কাম দেখাইতা। 44হক্কল ইমানদার অকল একখানো রইতা আর যারযির দরকারি ছামানা অন থাকি নিতা। 45তারার জমি-জমা ধন-দৌলত বেছিয়া যার যেলা দরকার অউলা বাটিয়া দিতা। 46তারা পরতেক দিন বায়তুল-মুকাদ্দছো একখানো মিলতা, আর খুশি অইয়া একলগে সরল মনে ঘরো ঘরো গিয়া খানা-পিনা করতা। 47তারা আল্লার তারিফ করাত রইতা আর হক্কল মানষর মহব্বতর মানুষ অইলা। যেরা নাজাত হাছিল করতা, আল্লায় তারারেও আনিয়া দিনে দিনে এরার লগে শরিক করতা।
3লেংড়া হকিররে শিফা করা
1একদিন আছর অখতর নমাজর লাগি পিতর আর হান্নান বায়তুল-মুকাদ্দছো যাওয়াত আছলা; 2মানষে পরতেক দিন একজন মানষরে বইয়া আনিয়া বায়তুল-মুকাদ্দছর “সুন্দর” নামর গেইটর গেছে থইতা, হে জন্মগত লেংড়া-আতুর আছিল, যেরা বায়তুল-মুকাদ্দছো যাইন তারার গেছে ভিক চাওয়ার লাগি তারে হিকানো থওয়া অইতো। 3পিতর আর হান্নানরে বায়তুল-মুকাদ্দছো হামানিত দেখিয়া হে তারার গেছে মিনত-কাজ্জি করি ভিক খুজিলো। 4পিতর আর হান্নান তার বায় ধিয়ান ধরি চাইয়া কইলা, “আমরার বায় চাও।” 5তেউ হে তারার গেছ থাকি কুন্তা পাওয়ার লালছে ধিয়ান ধরি চাইরইলো। 6পিতরে তারে কইলা, “আমরার গেছে তো সোনা-রুপা কুন্তা নাই রেবা, অইলে যেতা আছে তুমারে দান কররাম। নাছারতর ইছা আল-মসীর নামে আটিয়া যাও।” 7কইয়া হারি তাইন এর ডাইন আতো ধরিয়া উচা করলা, আর লগে লগেউ তার পাও আর গুছিত বল আইলো। 8হে ফালদি উঠিয়া উবাইলো আর আটা শুরু করলো, আটি আটি ফালাই ফালাই আল্লার তারিফ করতে করতে এরার লগে অইয়া বায়তুল-মুকাদ্দছো হামাইগেল। 9হক্কল মানষে তারে আটাত আর আল্লার তারিফ করাত দেখিয়া 10এরে চিনিলিলো, ইগু দেখি অউ মানুষ, যেগুয়ে বায়তুল-মুকাদ্দছর সুন্দর নামর গেইটো বইয়া ভিক করতো! তার হালত দেখিয়া মানুষ আচানক তাইজ্জুব অইগেল।
বায়তুল-মুকাদ্দছো হজরত পিতর আর হান্নান
11অইলে লেংড়া হকিরে পিতর আর হান্নানর খরে অইয়া ঘুরায়, মানষে পিতরর ই কামে তাইজ্জুব অইয়া দৌড়িয়া সুলাইমান নামর বারিন্দাত তান গেছে আইলো। 12ইতা দেখিয়া পিতরে মানষরে কইলা, “ও বনি ইছরাইল অকল, এরে দেখিয়া আপনারা তাইজ্জুব অইগেলা কেনে? আমরার নিজর পীরাকি বা পরেজগারির গুনে তারে চলার শক্তি দিছি মনে করিয়া, কেনে আমরার বায় ধিয়ান ধরি চাইরইছো? 13ইব্রাহিম, ইছহাক আর ইয়াকুবর আল্লা, আমরার বাফ-দাদা অকলর আল্লা, তান আপন বন্দা ইছার মহিমা জাইর করছইন, যেনরে আপনারা দুশমনর আতো সপি দিছলা। আর হাকিম পিলাতে যেবলা তানরে ছাড়ি দিতা করি নিয়ত করছলা, ই সময় আপনারা ইছারে দুরই হরাই দিছইন। 14আপনারা অউ পাক-পরেজগার মানষরে হরাই দিয়া একজন খুনিরে ছাড়ানির লাগি সুপারিশ দিছইন। 15যেইন জিন্দেগি দান করইন তানরে আপনারা কাতল করছইন, অইলে আল্লায় তানরে মুর্দা থাকি জিন্দা করছইন, আমরা এর সাক্ষি। 16আর তান উপরে ইমান আনায়, অউ যে বেটারে আপনারা চিনরা আর দেখরা, হউ ইছার নামউ তারে বলআলা করছে। ইছার মাজেদি যেতা ইমান পয়দা অয়, অউ ইমানর বলেউ আপনারা হকলর ছামনে তারে ভালা করা অইছে।
17“ও ভাই অকল, আমি অখন জানি আপনাইন্তর মুরব্বি-সালিশ অকলর লাখান আপনারাও না-বুজিয়া ই কাম করিলিছইন। 18অইলে আল্লায় তান তামাম নবী অকলর মাজদি আল-মসীর তকলিফর বেয়াপারে আগে যততা জানাইছইন, ই হক্কলতা অউ লাখান করি পুরা করছইন। 19এরলাগি আপনারা মন ফিরাউক্কা আর আল্লার মুখি অউক্কা, যাতে আপনাইন্তর গুনা অকল ফুছিয়া ছাফ করা অয়। 20তে অউ লাখান অখত আইবো, যেবলা মাবুদে হউ ইছারে মানি তান পছন্দ করা আল-মসীরে বেজিয়া আপনাইন্তরে তরতাজা করবা। 21আল্লায় হকলতারে আগর হালতো ফিরাইবা, ইতা বউত দিন আগেউ পাক নবী অকলর জবান দিয়া কইছইন। যতদিন তান ই ওয়াদা পুরা না করবা, অতো দিন ইছাও বেহেস্তর মাজে রইবা। 22মুছায় তো কইছলা, ‘মাবুদ আল্লায় তুমরার লাগি তুমরার নিজর মানুষ অকল থাকি আমার লাখান এক নবী পয়দা করবা, তাইন তুমরারে যেতা কইবা, তুমরা ই হকলতাউ আমল করিও। 23যেগুয়ে তান কথা হুনতো নায়, আল্লায় এরে নিজর বন্দার খাতা থাকি ফুছিয়া ফালাই দিবা।’ 24আর [বাদশা দাউদর আমলর] শামুয়েল নবী থাকি শুরু করি যতো নবী অকলে কালাম বাতাইছইন, এরা হকলেউ ই অখতর কথা কইছইন। 25আপনারা তো ই নবী অকলর ওয়ারিশ, আর হউ কানুনরও ওয়ারিশ যেতা আল্লায় আপনাইন্তর বাফ-দাদা অকলর লগে কাইম করছিলা। আল্লায় হজরত ইব্রাহিমরে কইছলা, ‘তুমার ওয়ারিশর মাজেদি দুনিয়ার হক্কল জাতিয়ে বরকত পাইবা।’ 26হউ ওয়ারিশ, মানি তান খাছ গুলাম ইছারে, আল্লায় পয়লাউ আপনাইন্তর গেছে বেজিছইন, যাতে তাইন আপনারারে বে-দীনি কাম অকল থাকি ফিরাইয়া হারি বরকত দেইন।”
4হজরত পিতর আর হান্নানরে আটক করা
1পিতর আর হান্নানে যেবলা মানষরে বয়ান কররা অউ সময় ইমাম অকল, বায়তুল-মুকাদ্দছর বড় দারোগা আর সিদ্দেকিয়া মজহবর মানুষ আখতাউ তারার গেছে আইলা। 2পিতর আর হান্নানে মানষরে তালিম দিরা আর ইছার মাজদিয়াউ মুর্দা অকল হিরবার জিন্দা অইয়া উঠার বেয়াপারে তবলিগ কররা দেখিয়া তারা খুব নারাজ অইছলা। 3তারা পিতর আর হান্নানরে আটক করলা আর হাইঞ্জা অইগেছিল করি এরারে বাদর দিন পর্যন্ত বন্দি করি থইলা। 4যেরা পিতরর বয়ান হুনছিলা এরার মাজে বউতে ইমান আনলা, তেউ ইমানদার বেটাইন্তর পরিমান পাচ আজারর লাখান অইলো।
5বাদর দিন ইহুদির নেতা অকল, মুরব্বি-সালিশ আর মৌলানা অকল একলগে জেরুজালেমো দলা অইলা। 6হিকানো পরধান ইমাম হানন, কায়াফা, ইউহোন্না, ছিকন্দর আর পরধান ইমামর খেশ-কুটুম অকলও আজির আছলা। 7তারা পিতর আর হান্নানরে তারার মাজখানো উবা করাইয়া জিকাইলা, “তুমরা কুন বলে আর কার নামে ই কাম কররায়?” 8তেউ পিতরে পাক রুহে কামিল অইয়া তারারে কইলা, “ও মুরব্বি ছায়বাইন আর দেশর বুজুর্গ অকল, 9একজন লেংড়া-আতুর মানষর ভালাই করছি করি আপনারা আইজ আমরারে জেরা কররা, মানুষগু কিলা ভালা অইলো। 10তে আপনারা হকলে আর বনি ইছরাইল অকলেও হুনউক্কা, নাছারতর ইছা আল-মসীর নামে, যেনরে আপনারা সলিবো গাথিয়া কাতল করছলা, যেনরে আল্লায় মুর্দা থাকি জিন্দা করছইন, তান বলেউ ই মানুষগু আপনাইন্তর ছামনে ভালা অইয়া উবাইছে। 11তাইন হউ পাথর, যেটারে রাজ মেস্তইর অকলে, মানি আপনারা এলামি করি বাদ দিলাইছলা, পাক কিতাবর কথা মাফিক হউ পাথরউ আইজ ইয়ান কুনার হকল থাকি জরুরি খুটি অইছে। 12তরানির খেমতা আর কেউরর গেছে নাই, কারন আছমানর তলে আর জমিনর উপরে অউলা আর কুনু নাম দেওয়া অইছে না, যেন নামে আমরা রেহাই পাইমু।”
13পিতর আর হান্নানর সাওস দেখিয়া, এরা যেন অশিক্ষিত সামাইন্য মানুষ ইতা জানিয়া তারা তাইজ্জুব অইগেলা, আর এরা ইছার লগে আছলা করিও চিনলা। 14যে বেটা ভালা অইছিল, হে এরার লগে উবাইরইছে দেখিয়া এরারে আর কুন্তা কওয়ার সাওস অইলো না। 15বাদে মজলিছ থাকি এরারে বারে যাওয়ার হুকুম দিয়া তারা হকলে পরামিশ করাত বইয়া 16কইলা, “ই মানষরে লইয়া আমরা কিতা করতাম? এরা তো বউত বড় এক কেরামতি কাম করছে আর ইতা তো আস্তা জেরুজালেমর হকলে জানে, আর আমরাও ইটারে অস্বীকার করতাম পারিয়ার না। 17অইলে মানষর গেছে যানু ই কথা আর জানা-জানি না অয়, এরলাগি এরারে ডর দেখাইল অউক, যাতে ই জনর নামে তারা আর কেউরর গেছে কুন্তা না কয়।” 18বাদে তারা পিতর আর হান্নানরে হিরবার আনাইয়া অউ হুকুম দিলা, “তুমরা ইছার নামে আর কুনুদিন একদম কিচ্ছু কইও না, কুনুজাত নছিয়তও করিও না।” 19পিতর আর হান্নানে তারারে জুয়াপ দিলা, “আমরা আপনাইন্তর হুকুম মানতাম, না আল্লার হুকুম মানতাম? আল্লার নজরো কুনখান ঠিক, ইতা আপনারাউ বিচার করউক্কা। 20আমরা যেতা দেখছি আর হুনছি, ইতা না কইয়া তো থাকতাম পারি না।” 21তেউ তারা পিতর আর হান্নানরে আরো ডর দেখাইয়া ছাড়ি দিলা। মানষরে ডরাইয়া তারা এরারে কুনু সাজা দিতা পারলা না, কারন যেতা ঘটছিল ইতা দেখিয়া হকল মানষে আল্লার প্রশংসা করাত আছিল। 22যে মানুষগু কেরামতি কামর মাজদি ভালা অইছিল তার বয়স চাল্লিশ বছরর বেশি আছিল।
তবলিগ কামর সাওসর লাগি দোয়া
23ই বিচার থাকি তারারে ছাড়ার বাদে পিতর আর হান্নান তারার আপন মানষর গেছে গেলাগি, গিয়া বড় ইমাম অকলে আর মুরব্বি-সালিশ অকলেও তারারে যেতা যেতা কইছলা, ইতা হক্কলতা জানাইলা। 24ইতা হুনার বাদে তারা হকলে এক দিলে আল্লার গেছে জুরে জুরে দোয়া করলা, “ও মালিক, তুমি আছমান, জমিন, দরিয়া আর ইতার মাজে যততা আছে হক্কলতা পয়দা করছো। 25তুমি তুমার গুলাম, আমরার খান্দানর বাফ দাউদর জবানো পাক রুহর মাজদিয়া অউলা কইছো,
হক্কল জাতিয়ে কেনে অস্থির অইয়া চিল্লাইরা?
কিওরলাগি মানষে বেহুদা ফন্দি করের?
26জগতর বাদশা অকল উবাইলো,
রাজা অকল একখানো অইলো,
মালিকর বিরুদ্ধে আর তান আল-মসীর বিরুদ্ধে।
27তুমার পবিত্র গুলাম ইছা, যেনরে তুমি আল-মসী করিয়া দুনিয়াত পাঠাইছো, তান বিরুদ্ধে রাজা হেরোদ আর পন্তীয় পিলাত, অউ শহরো অ-ইহুদি আর বনি ইছরাইলর লগে একখানো অইছিল। 28তুমার মর্জি আর তুমার কুদরতে যেতা ঘটার লাগি তুমি আগেউ ঠিক করি রাখছিলায়, তারা অউতাউ ঘটাইছে। 29অখন ও মালিক, তারা আমরারে কিলা ডর দেখাইরা, তুমি খিয়াল করো, তুমার গুলাম অকলরে অউলা তাক্কত দেও যাতে, পুরাপুর সাওস করিয়া তুমার কালাম তবলিগ করতাম পারি। 30বেমারি অকলর শিফার লাগি তুমার আত মুবারক বাড়াই দেও, আর তুমার পাক গুলাম ইছার নামে মোজেজা আর কেরামতি দেখানির তৌফিক দেও।”
31তারার দোয়া করার বাদে যে জাগাত তারা দলা অইছলা, হি জাগা কাপিয়া উঠলো। আর তারা হকলে পাক রুহে কামিল অইয়া সাওস করিয়া আল্লার কালাম তবলিগ করাত রইলা।
ইমানদারর মহব্বত
32যেরা আল-মসীর উপরে ইমান আনছিলা, তারার এক মন আর এক দিল আছিল। তারা একজনেও নিজর ধন-দৌলতরে নিজর কইয়া দাবি করতা না, হক্কলতাউ হকলর দরকার মতো খরচ করতা। 33সাহাবি অকলে খুব হিম্মত করিয়া, হজরত ইছার মুর্দা থাকি জিন্দা অইয়া উঠার বিষয়ে তবলিগ করতা, আর তারা হক্কলর উপরে আল্লার খাছ রহমত আছিল। 34তারার মাজে কেউ অভাবি আছলা না, কারন যেরার জমিন বা বাড়ি আছিল তারা ইতা হকলতা বেচিয়া, 35সাহাবি অকলর গেছে আনিয়া দান করিলিতা, বাদে যার যেলা গরজ তারে অউলা দেওয়া অইতো।
36আর ইউছুফ নামে লেবির বংশর একজন মানুষ আছলা, তান বাড়ি সাইপ্রাস দ্বীপ, সাহাবি অকলে তানরে ডাকিতা বার্নাবাছ, মানি উত্সাহ যুগাওরা, 37তান একজরা জমিন আছিল, তাইনও তান জমিনখান বেচিয়া টেকা আনিয়া সাহাবি অকলর কদমো দান করলা।
5অননিয় আর সাফীরার বেইমানির ফল
1অউ সময় অননিয় নামে একজন মানুষ আর তার বউ সাফীরায় তারারও একজরা জমিন বেচিলা, 2বেচিয়া তার বউর জানা মন্তেউ জমিনর কিছু টেকা নিজর লাগি লুকাইয়া, বাকি টেকা সাহাবি অকলর পাওত দিলা। 3তেউ পিতরে কইলা, “অননিয়, শয়তানে কেমনে তুমার দিলরে দখল করলো, তুমি পাক রুহর গেছে কিলা মিছা মাতলায়, আর জমিন বেচার টেকা কিছু লুকাই রাখলায়? 4বেচার আগে জমিনখান কিতা তুমার আছিল না নি? আর বেচার বাদেও তো ই টেকা তুমার এখতিয়ারো আছিল, তে কেনে তুমার ভিতরে ইতা হামাইলো? তুমি তো মানষর গেছে মিছা মাতছো না, আল্লার গেছেউ মিছা মাতলায়।” 5ইতা হুনার লগে লগেউ অননিয় মাটিত পড়িয়া মরিগেল। আর যেরা ই ঘটনা হুনলো তারা হকলেউ খুব ডরাইগেল। 6বাদে জুয়ান অকলে আইয়া তারে কাফন ফিন্দাইয়া বারে নিয়া মাটি দিলা।
7অনুমান তিন ঘন্টা বাদে তার বউও হনো আইলো, অইলে আগে কিতা ঘটছে তাই জানতো না। 8তেউ পিতরে তাইরে জিকাইলা, “আমারে কওছাইন, তুমরা ই জমিন অতো টেকায় বেচিছলায় নি?” তাই কইলো, “জিঅয় অতো টেকায়উ।” 9অউ পিতরে কইলা, “মাবুদর রুহরে পরিক্ষা করার লাগি তুমরা কেনে একমত অইলায়? দেখো, যেরা তুমার জামাইরে দাফন করছে তারা অখন দরজার ছামনে আইওর, তারা তুমারেও বারে লইয়া যাইবো।” 10লগে লগেউ সাফীরা পিতরর পাওত পড়িয়া মরিগেল, আর অউ জুয়ান অকলে ঘরো আইয়া তাইরে মরা দেখিয়া বারে নিয়া জামাইর কান্দাত মাটি দিলা। 11তেউ হক্কল জমাত, আর যতো মানষে ইতা হুনলো, হকলেউ খুব ডরাইলো।
সাহাবি অকলর কেরামতি কাম
12সাহাবি অকলর আতানে মানষর মাজে বউত মোজেজা আর কেরামতি নিশানা জাইর অইতো, তারা হকলে এক দিল অইয়া বায়তুল-মুকাদ্দছর সুলাইমানর বারিন্দাত দলা অইতা। 13যদিও মানষে তারারে ইজ্জত করতা, তা-ও আর কেউ তারার লগে মিশতে সাওস করলো না। 14আর দিনে দিনে বউত বেটাইন-বেটিন্তে ইমান আনিয়া আল্লার দলো হামানিত লাগলা। 15আর মানষে বেমারি অকলরে বারে আনিয়া পথর কান্দায় কান্দায় হুতাইয়া আর বিছনা পাতিয়া বওয়াইয়া থইতা, যাতে পিতরে চলা-ফিরার সময় অন্তত তান ছেবা খানও তারা কেউরর উপরে পড়ে। 16আর জেরুজালেমর কান্দা-কাছার গাউয়াইন থাকি মানষে তারার বেমারি অকলরে আর জিনর আছর আলা মানষরে লইয়া আইয়া ভিড় জমাইতো, তারা হক্কলউ ভালা অইতো।
হক্কল সাহাবিরে আটক করা
17ইতা দেখিয়া পরধান ইমাম আর তান লগর সিদ্দেকিয়া অকল ইংসায় জলি-পুড়ি উঠলা, 18আর সাহাবি অকলরে ধরিয়া সরকারি জেলো হারাইলা। 19অইলে রাইতকু মাবুদর একজন ফিরিস্তায় জেলর দুয়ার খুলিয়া তারারে বারে আনিয়া কইলা, 20“তুমরা যাও, বায়তুল-মুকাদ্দছো উবাইয়া মানষর গেছে নয়া জিন্দেগির কথা কও।” 21ইতা হুনিয়া তারা খুব সকালে বায়তুল-মুকাদ্দছো হামাইয়া মানষরে নছিয়ত করাত লাগলা। ইবায় পরধান ইমাম আর তান লগর হকলে আইয়া দেশর ফতোয়া কমিটিরে আর বনি ইছরাইলর মুরব্বি অকলরে একখানো দলা করলা, আর সাহাবি অকলরে আনার লাগি জেল খানাত মানুষ পাঠাইলা। 22অইলে তারা গিয়া এরারে জেল খানাত পাইলা না। অউ তারা ফিরিয়া আইয়া খবর কইলা, 23“আমরা দেখছি, জেলর দরজা শক্ত করি লাগাইল, আর দুয়ারো দুয়ারো পারাদার উবাই রইছইন, অইলে দুয়ার খুলিয়া ভিতরে কেউররে পাইলাম না।” 24ইতা হুনিয়া বায়তুল-মুকাদ্দছর বড় দারোগায় আর বড় ইমাম অকলে বেওকুফ অইয়া চিন্তাত পড়লা, এর ফল কিতা অইবো। 25এরমাজে কুনু একজনে আইয়া তারারে খবর দিলো, “দেখউক্কা, আপনারা যে মানষরে জেলো হারাইছলা, তারা বায়তুল-মুকাদ্দছো উবাইয়া মানষরে নছিয়ত করের।” 26তেউ বড় দারোগায় তান সিপাই দলরে লইয়া হনো গিয়া সাহাবি অকলরে ধরিয়া আনলা, অইলে জুর-জবরদস্তি করলা না কারন তারা ডরাইগেলা, মানষে তারারে পাথরদি মারতা পারইন।
27বাদে সাহাবি অকলরে আনিয়া তারা ফতোয়া কমিটির ছামনে উবা করাইলা, আর পরধান ইমামে এরারে জিকাইলা, 28“আমরা তুমরারে দড়াইয়া হুকুম দিছলাম, ই নামে কুনু নছিয়ত না করার লাগি, তা-ও আস্তা জেরুজালেম জুড়ি তুমরার তালিমে ভরিলিছো, আর অউ জনর খুনর ভার আমরার উপরে ফালাইতায় চাইরায়।” 29তেউ পিতর আর তান লগর সাহাবি অকলে জুয়াপ দিলা, “মানষর হুকুম মানার চাইতে আল্লার হুকুম মানা তো ফরজ। 30আমরার বাফ-দাদার আল্লায় হউ ইছারে মুর্দা থাকি জিন্দা করছইন, যেনরে আপনারা গাছো লটকাইয়া কাতল করছলা, 31আল্লায় তানরেউ তরানেআলা আর বাদশা বানাইয়া নিজর ডাইন গালাত বইবার ইজ্জত দান করছইন, যাতে তাইন বনি ইছরাইল অকলরে তৌবা করার সুযোগ, আর গুনার মাফি দিতা পারইন। 32আমরা ই হকলতার সাক্ষি, আর আল্লায় তান নিজর হুকুম মানরা বন্দা অকলরে যে পাক রুহ দিছইন, হউ পাক রুহও এর সাক্ষি।”
33ইতা হুনিয়া তারা গুছায় আগুইন অইগেলা, আর সাহাবি অকলরে জানে মারার লাগি নিয়ত করলা। 34অইলে অউ মজলিছ থাকি গমলীয়েল নামে ফরিশি মজহবর একজন মানুষ উবাইলা, তাইন একজন নামকরা মৌলানা আছলা, হক্কলে তানরে ইজ্জত করতো, তাইন সাহাবি অকলরে থুড়া বারে নেওয়ার হুকুম দিলা। 35বাদে তাইন ফতোয়া কমিটির মানষরে কইলা, “ও বনি ইছরাইল অকল, ই মানুষ অকলরে তুমরা যেতা করতায় চাইরায় ই বেয়াপারে হুশিয়ার অও। 36হুনো, অউ কয়দিন আগে থুদা নামে একজন মানুষ আইয়া খুব বড়-মানষি দেখাইছিল, আর অনুমান চাইরশো মানুষ তার দলো হামাইছিল। তারে খুন করা অইলো, আর তার দলর হকল মানুষ চাইরোবায় ছিতরিগেছে, কেউ দলো রইছে না। 37বাদে গালিলর এহুদা আইয়া দেশর মানুষ গননার বছর, একদল মানষরে তার দলো হারাইয়া ফিতনা খাড়া করলো, হে-ও মরিগেল, আর তার লগর হক্কলও ছিতরিগেছে। 38ইতা দেখিয়া আমি তুমরারে কইরাম, তুমরা ই মানুষ অকলরে কুন্তা করিও না, তারারে ছাড়ি দেও, তারার কাম-কাজ আর নিয়ত যুদি মানুষ থাকি অয়, তে ইতা এমনেউ বিনাশ অইযিবো। 39আর যুদি আল্লা থাকি অয়, তে তুমরা তারারে থামাইতায় পারতায় নায়, কি জানি হেশে দেখা যাইবো যেন, তুমরাউ আল্লার বিরুদ্ধে জিহাদ কররায়।” গমলীয়েলর মাতে নেতা অকল রাজি অইলা, 40তারা সাহাবি অকলরে কাছাত আনাইয়া ছিংলাদি মারলা আর কইলা, “তুমরা ইছার নামে কুন্তা মাতিও না।” হেশে তারারে ছাড়ি দিলা।
41তেউ সাহাবি অকলে, ইছার নামর লাগি বেইজ্জতি কামানির জুকা অইছইন গতিকে খুশি অইয়া ফুর্তি করি করি মজলিছ থাকি বার অইয়া গেলা। 42সাহাবি অকলে পরতেক দিন বায়তুল-মুকাদ্দছো আর বাড়িয়ে বাড়িয়ে গিয়া নছিয়ত করতা, আর ইছাউ যেন আল-মসী ইখান তবলিগ করা বাদ দিতা না।
6এহুদিয়া আর শমরিয়া এলাকাত ইছায়ী জমাত (৬:১-১২:২৫)
সাত জন খাদিমদার
1হি সময় উম্মত অকলর পরিমান বাড়তেউ আছিল, আর উম্মত অকলর মাজে যেতা ইহুদি অকলে ইউনানি ভাষায় মাততা, তারা ইবরানি ভাষায় মাতরা ইহুদি অকলর লগে কাইজ্জা করতা লাগলা। তারা দুষ দেখাইলা, পরতেক দিন খানি বিলানির সময় তারার ড়াড়ি বেটিন্তে কুন্তা পাইন না। 2তেউ হউ বারোজন সাহাবিয়ে হকল উম্মতরে এক জাগাত দলা করিয়া কইলা, “আমরা আল্লার কালামর তবলিগ বাদ দিয়া, খানা-পিনার বেয়াপারে ব্যস্ত অওয়াখান ঠিক নায়। 3অইলে ভাই অকল, তুমরার মাজ থাকি অউলা সাতজন সুনাম আলা মানষরে পছন্দ করো, যেরা পাক রুহে আর হেকমতে পুরা কামিয়াব আছে, আমরা তারার উপরে ই কামর জিম্মা দিলাইমু। 4আর আমরা কালামর খেজমত আর দোয়া করার কামো কাইম রইমু।” 5তেউ হক্কল মানুষ শান্তি অইলা, তারা পাক রুহ আর ইমানে কামিল স্তিফানরে পছন্দ করলা, তান লগে ফিলিফ, ফখর, নীকানর, তীমোন, পার্মিনা আর আন্তিয়খিয়া টাউনর নয়া ইহুদি নিকুলায়রে বাছিয়া নিলা। 6বাদে তারা অউ সাত জনরে সাহাবি অকলর গেছে লইয়া আইলে, সাহাবি অকলে দোয়া করিয়া তারার উপরে আত রাখলা।
7আর আল্লার কালাম ছিতরিয়া চাইরোবায় পৌছিগেল, তেউ জেরুজালেমো উম্মতর পরিমান খুব জলদি করি বাড়তো লাগলো, ইহুদি ইমাম অকলর মাজেও বউত জনে আল-মসীর উপরে ইমান আনলা।
হজরত স্তিফানর হালত
8স্তিফান আল্লার রহমত আর হিম্মতে কামিল অইয়া, মানষর মাজে বউত কেরামতি আর মোজেজা কাম করতা লাগলা। 9ইহুদির যে মছিদরে আজাদ-অওয়া গুলাম অকলর মছিদ ডাকা অইতো, হউ মছিদর কয়জন মানুষ, কুনু কুনু কুরিনি, আলেকজান্দ্রিয়া, কিলিকিয়া আর আছিয়া দেশর কিছু মানষে স্তিফানর লগে কাইজ্জা-তর্ক করাত লাগলা। 10অইলে স্তিফানে পাক রুহর বলে খুব আখলদার মানষর লাখান তারার লগে মাতায়, তারা তান লগে মাতিয়া কুলাইতো পারছিল না। 11তেউ তারা কয়জন বাজে মানষরে ঘুষ দিয়া অখান হিকাই দিলো, “তুমরা কইও, আমরা হুনছি অউ বেটায় হজরত মুছা আর আল্লার বিরুদ্ধে কুফুরি মাত মাতের।” 12অতা করি তারা মানষরে, মুরব্বি অকলরে, আর আলিম সমাজরে স্তিফানর বিরুদ্ধে বিগড়াইলো, আর তানরে জবরদস্তি করি ধরিয়া দেশর ফতোয়া কমিটির ছামনে বিচারো আনলো। 13আর মিছা সাক্ষি অকলে কইলা, “অউ বেটায় হামেশা মুছার শরিয়তর বিরুদ্ধে আর অউ পবিত্র মোকামর বিরুদ্ধেও মাতে। 14আমরা হুনছি হে কর, হউ নাছারতর ইছায় ই বায়তুল-মুকাদ্দছ ভাংগিলিবো আর মুছা নবীয়ে আমরার লাগি যে শরিয়ত থইয়া গেছইন, ইতা বদলাইলিবো।” 15ই সময় যেরা ফতোয়া কমিটিত বওয়াত আছলা তারা হকলে ধিয়ান ধরি স্তিফানর বায় চাইয়া দেখলা, তান মুখ ফিরিস্তার মুখর লাখান অইগেছে।
7হজরত স্তিফানর আখেরি বয়ান
1তেউ পরধান ইমামে স্তিফানরে জিকাইলা, “ইতা কিতা হাছাউ নি?” 2স্তিফানে জুয়াপ দিলা, “ও ভাই অকল, বাবা অকল, হুনউক্কা, আমরার মুল বাফ ইব্রাহিম যেবলা হারান শহরো রওয়ার আগে মেসপতামিয়াত আছলা, হউ সময় আল্লায় তানরে দিদার দিয়া কইছলা, 3‘তুমি তুমার দেশ আর খেশ-কুটুম ছাড়িয়া রওয়ানা দেও, আমি তুমারে যে দেশ দেখাইমু হউ দেশো যাও।’ 4অউ তাইন কলদীয় অকলর বাবিল দেশ থাকি বার অইয়া, হারান শহরো বসত করলা; আর তান বাফর মউতর বাদে আল্লায় তানরে হন থাকি ই দেশো আনছইন, যেখানো আপনারা অখন বসত কররা। 5তা-ও আল্লায় ইনো ইব্রাহিমরে তান নিজর বলতে কুন্তাউ দিলা না, পাও থইবার জাগা খানও না, অইলে আল্লায় তান লগে ওয়াদা করলা, তানরে আর তান ওয়ারিশ অকলরে অউ জমিনর মালিকানা দিবা, যদিও ই সময় ইব্রাহিমর কুনু আওলাদ অইছইন না। 6আল্লায় তানরে কইলা, ‘তুমার আওলাদ অকল বিদেশো মুছাফির রইবা, মানষে তারারেদি গুলামি করাইবা, আর চাইরশো বরছ তারার উপরে জুলুম চলব।’ 7আল্লায় এওখানও কইলা, ‘যে জাতিয়ে তারারেদি গুলামি করাইবা, আমি হি জাতির বিচার ফয়ছালা করমু; বাদে তারা হি দেশ থাকি বার অইয়া আইয়া, অউ জাগাত আমার এবাদত করবা।’ 8আল্লায় তানরে মছলমানি করার হুকুম দিলা; হেশে ইব্রাহিমর পুয়া ইছহাকর জনম অইলো, আর তাইন আট দিনর দিন তার মছলমানি করাইলা। বাদে ইছহাকে ইয়াকুবরে, আর ইয়াকুবে তান পুয়াইন বারো খান্দানর বারোজন বাফর মছলমানি করাইলা।
9“হউ খান্দানর বাফ অকলে ইংসা করিয়া ইউছুফরে বেচিলাইলে, তানরে মিসর দেশো নেওয়া অইলো। অইলে আল্লা ইউছুফর লগে লগে আছলা, 10তাইন ইউছুফরে হকল তকলিফ থাকি হেফাজত করলা, মিসরর বাদশা ফেরাউনর নজরো দয়া আর কামিয়াবি দান করলা; তেউ ফেরাউনে তানরে মিসরর হাকিম আর আস্তা রাজবাড়ির দেখা-হুনার ভার দিলা। 11বাদে পুরা মিসর আর কেনান দেশো নিদান দেখা দিলো এরলাগি মানষর খুব দুর্গতি অইছিল, আর আমরার বাফ-দাদা অকলও খানির অভাবো পড়লা। 12অইলে মিসরো ফসল আছে হুনিয়া, ইয়াকুবে আমরার বাফ-দাদা অকলরে পয়লা বার হিকানো পাঠাইলা। 13বাদে দুছরা বারর বালা ইউছুফে তান ভাইয়াইনরে জানাইলা তাইন কে, আর ফেরাউনে ইউছুফর পরিবাররে চিন পাইলা। 14ইউছুফে তান বাবা ইয়াকুব আর নিজর খেশ-কুটুম মিলাইয়া হক্কলতায় পচত্তইর জনরে খবরদি আনাইলা। 15ইয়াকুব মিসরো আইলা, হেশে তাইন আর আমরার বাফ-দাদা অকলও মারা গেলা। 16তারার লাশ শিখিমো আনিয়া কয়বর দেওয়া অইলো, ই কবরস্থান ইব্রাহিমে শিখিম শহরর হমোরর খান্দানর গেছ থাকি রুপার টেকা দিয়া খরিদ করছলা।
17“ইব্রাহিমর গেছে আল্লায় যেতা ওয়াদা করছিলা, হি ওয়াদা পুরন অওয়ার সময় যেবলা কাছাই গেল, ই সময় মিসরো আমরার মানষর পরিমান বউত অইগেছে। 18হেশে মিসরো এক নয়া বাদশা অইলা, এইন ইউছুফর বেয়াপারে কুন্তা জানতা না। 19হি বাদশায় আমরার মানষরে টগাইতা আর আমরার বাফ-দাদা অকলর উপরে খুব জুলুম করতা, তান নিয়ত আছিল এরার হুরুতাইন জন্মর বাদেউ যাতে বারে ফালাই দেওয়া অয়, আর তারা মরি যাইন। 20হউ সময় হজরত মুছার জনম অইলো, আল্লার নজরো তাইন খুব সুন্দর আছলা। তিন মাস পর্যন্ত তাইন তান মা-বাফর বাড়িত আছলা। 21বাদে তানরে বারে ফালাই দেওয়া অইলে, ফেরাউনর পুড়িয়ে তানরে নিয়া নিজর পুয়া বানাইয়া পালিয়া বড় করলা। 22মুছা মিসরীয় ইলিম আর আদব-খাইছলতে বড় অইলা, তাইন কথায় আর কামে হিম্মতি আছলা। 23বাদে মুছার বয়স যেবলা চাল্লিশ বরছ অইলো, অউ তান দিলর মাজে নিজর বনি ইছরাইলি ভাই অকলরে দেখা-হুনা করার খিয়াল অইলো। 24তাইন বার অইয়া দেখলা, একজন মিসরীয়ে এক ইছরাইলির উপরে জুলুম করের, তাইন হউ ইছরাইলিরে সাইয্য করাত গেলা, আর মিসরীরে কাতল করিয়া এর বদলা লইলা। 25মুছায় মনে করছিলা তান জাতির মানষে বুজবা যেন, আল্লায় তানরে দিয়াউ তারারে উদ্ধার করবা; অইলে তারা ইতা বুজলা না। 26বাদর দিন মুছায় দুইজন ইছরাইলিরে মাইর করাত দেখিয়া, তারারে মিল-মিশ করার নিয়তে কইলা, ‘অই তুমরা তো ভাই ভাই, তে তুমরা কেনে একজনে আরক জনর লগে মারা-মারি কররায়?’ 27অইলে যে মানষে বাদ বেবহার করাত আছিল, হে মুছারে ঠেলা মারি ফালাইয়া কইলো, ‘ওবা, তুমারে খেগিয়ে আমরার উপরে সালিশ আর হাকিম বানাইছে? 28কাইল যেলা হউ মিসরীরে খুন করছো, আমারেও অলা করতায় চাও নি?’ 29ইখান হুনিয়াউ মুছায় বাগিয়া মাদিয়ান দেশো গেলাগি, আর হিকানো তান দুই পুয়ার জনম অইলো।
30“বাদে আরো চাল্লিশ বরছ গুজরি গেলে, তুর পাড়র কান্দাত মরুভুমিত, আগুইন জালাইল জংলার মাজ থনে এক ফিরিস্তায় মুছারে দরশন দিলা। 31মুছায় ইতা দেখিয়া এক্কেরে তাইজ্জুব বনিগেলা, আর ভালা করি দেখার নিয়তে কান্দাত যাইরা, অউ সময় মাবুদর আওয়াজ হুনলা, 32‘আমি তুমার বাফ-দাদার আল্লা, ইব্রাহিম, ইছহাক আর ইয়াকুবর আল্লা।’ তেউ মুছায় ডরাইয়া কাপা শুরু করলা, আর ভালা করি দেখার সাওস পাইলা না। 33মাবুদে তানরে কইলা, ‘তুমার পাওর জুতা খুলিলাও, কারন তুমি যেনো উবাইছো ইখান পাক জাগা। 34হুনো, আমি মিসর দেশো আমার প্রজা অকলর তকলিফ দেখছি, আমি তারার আহাজারি হুনছি, তারারে উদ্ধার করার লাগি লামিয়া আইছি, অখন আমি তুমারে মিসর দেশো ফিরত পাঠাইমু।’
35“এইন হউ মুছা, যারে ইছরাইলি অকলে অউ কথা কইয়া ফিরত দিছিল, কে তুমারে সালিশ আর হাকিম বানাইছে? তানরেউ আল্লার যে ফিরিস্তায় জংলার মাজে দেখা দিছলা, হউ ফিরিস্তার আতানে বনি ইছরাইলর সালিশ আর তরানেআলা বানাইয়া পাঠাইলা। 36আর অউ মুছায়উ মিসরর নীল দরিয়া আর মরুভুমিত চাল্লিশ বরছ বউত কেরামতি আর মোজেজা কাম করিয়া, মিসর দেশ থাকি ইছরাইলি অকলরে বার করি আনছলা।
37“এইন হউ মুছা, যেইন বনি ইছরাইলরে কইছলা, আল্লায় তুমরার লাগি তুমরার নিজর মানুষ থাকি, আমার লাখান একজন নবীরে বেজিবা। 38অউ মুছাউ তো মরুভুমিত আমরার বাফ-দাদা বনি ইছরাইলর লগে আছলা। আর যে ফিরিস্তায় তুর পাড়ো বাতচিত করছিলা, অউ মুছার লগেউ তাইন মাতিছলা। আর আমরারে দিবার লাগি জিন্দা-কালাম অউ মুছার গেছেউ দেওয়া অইছিল।
39“অইলে আমরার বাফ-দাদা অকলে মুছার হুকুম মানতা চাইলা না, তারা মুছারে হরাই থইয়া মনে মনে হিরবার মিসরর বায় নিয়ত করিয়া হারুনরে কইলা, 40‘আমরারে পথ চিনাইয়া লইয়া যাওয়ার লাগি দেবতা বানাই দেউক্কা। কারন যে মুছায় মিসর দেশ থাকি আমরারে বার করি আনছইন, তান দশা কিতা অইছে, আমরা তো জানি না।’ 41অউ সময় তারা গরুর বাছুরর লাখান এক মুর্তি বানাইলা, আর অউ মুর্তির নামে বলি দিলা, নিজর আতর বানাইল মুর্তিরে লইয়া তারা ফুর্তি-আমোদ করলা। 42অইলে আল্লায় নারাজ অইয়া তারার লগ ছাড়ি দিলা, আর তারারে আছমানর চান-সুরুজ, তেরার পুজাত বুড়াই থইলা; যেলা নবী অকলর কিতাবো লেখছইন:
ও ইছরাইল জাতি, মরুভুমিত হি চাল্লিশ বরছ,
তুমরা আমার নামে কুনু পশু কুরবানি দিছলায় নি?
43না, তুমরা তো মোলক দেবতার মুর্তি,
আর রিফন দেবতার তেরা বানাই কান্দো লইয়া ঘুরছো।
হউ দুইও পুতুল তো পুজা করার নিয়তে বানাইছলায়,
এরলাগি আমি তুমরারে বাবিল দেশর হপারো বনবাস দিমু।
44তে শাহাদত তাম্বুর কাবা শরিফ মরুভুমিত আমরার বাফ-দাদাইন্তর গেছে আছিল। তাইন মুছারে হুকুম দিছলা, তুমি যেলাখান নকশা দেখলায়, অউ লাখান করি ইটা তিয়ার করো। 45আমরার বাফ-দাদা অকলে হি কাবা শরিফ পাইয়া, তারার আমির ইউছার আতানে নিজর লগে করি আমরার ই দেশো আনছিলা, তারা যেবলা হি দেশো হামাইছিল ই সময় আল্লায় তারার ছামন থাকি হিনর মানষরে খেদাই দিছলা। হি তাম্বু হজরত দাউদর আমল পর্যন্ত অউ দেশো আছিল।
46“দাউদে আল্লার রহমত হাছিল করছিলা, আর ইয়াকুবর আল্লার নামে একখান ঘর বানাইবার আরজি করছলা। 47অইলে হজরত সুলাইমানে তান লাগি হি ঘর বানাইছলা। 48তা-ও আল্লাতালা তো মানষর আতর বানাইল ঘরো বসত করইন না; যেলা নবীয়ে কইছইন, 49মাবুদে কইন,
বেহেস্ত আমার তখত,
দুনিয়া আমার পাও থইবার জাগা,
তুমরা আমার লাগি কিজাত ঘর বানাইবায়?
আমার জিরানির জাগা কুয়াই?
50ই হক্কলতা কিতা আমার নিজর আতে
বানাইছি না নি?
51“ও গাড়তেড়ার জাত! কান আর দিলর মছলমানি না করাইল জাত! তুমরা হামেশা পাক রুহর দুয়ার বন্দ করি থও। তুমরার বাফ-দাদাইন যেলা আছলা, তুমরাও অউলা অইছো। 52তুমরার বাফ-দাদাইন্তে কুন নবীর উপরে জুলুম করছইন না? তারা তো হউ নবী অকলরে কাতলও করছে, যেরা আগে ই দীনদার জন আইবার কথা এলান করছইন। অউ দীনদার জনরে অখন তুমরাও দুশমনর আতো সপিয়া কাতল করাইছো। 53ফিরিস্তা অকলর মাজদি নাজিল অওয়া শরিয়ত তুমরারে দেওয়া অইছিল, অইলে ইতা আমল করছো না।”
পয়লা শহীদ হজরত স্তিফান
54ইতা হুনিয়াউ তারা গুছায় আগুইন অইগেলা, আর দাত কিড়ি-মিড়ি করা ধরলা। 55অইলে স্তিফানে পাক রুহে কামিল অইয়া বেহেস্তর বায় ধিয়ান ধরি চাইয়া আল্লার শান-তজল্লি দেখলা, আর ইছারে আল্লার ডাইন বাজুত উবা দেখলা। 56তেউ তাইন কইলা “দেখউক্কা, আমি দেখরাম বেহেস্ত খুলা আছে, আর ইছা বিন-আদম আল্লার ডাইনে উবাই রইছইন।” 57আর তারা কানো আংগুল দিয়া একলগে চিল্লাইয়া স্তিফানর উপরে উড়িয়া গিয়া পড়লা। 58তানরে টানিয়া শহরর বারে নিয়া পাথর মারাত লাগলা; আর বাদি অকলে যারযির কাপড় খুলিয়া শৌল নামর এক জুয়ানর পাওর কান্দাত থইলা। 59মানষে যেবলা স্তিফানরে পাথর মাররা, অউ সময় তাইন দোয়া করিয়া কইলা, “ও মালিক ইছা, আমার রুহরে কবুল করউক্কা।” 60কইয়াউ তাইন আটু গালা দিয়া জুরে চিল্লাইয়া কইলা, “মালিক, এরার ই গুনারে আমলো ধরিও না।” অখান কইয়াউ তাইন আখেরি দম ছাড়ি দিলা।
আর শৌলে হনো স্তিফানর খুনর হুকুমর লগে সায় দিলা।
8জমাতর উপরে জুলুম
1হিদিন থাকি জেরুজালেমর জমাতর উপরে খুব জুলুম-মছিবত খাড়া অইলো, এরলাগি খালি সাহাবি অকল বাদে আর হকলেউ এহুদিয়া আর শমরিয়া এলাকার জাগায় জাগায় ছিতরি গেলা। 2কয়জনে মিলিয়া আল্লারাইয়া মানুষ স্তিফানরে দাফন করলা আর তান লাগি বউত আহাজারি করলা। 3অইলে শৌলে জমাতরে বিনাশ করার নিয়তে, ঘরো ঘরো হামাইয়া ইমানদার বেটাইন-বেটিনরে বন্দি করি টানিয়া ছেছরাইয়া জেল খানাত হারানিত লাগলা।
শমরিয়াত হজরত ফিলিফর তবলিগ
4তেউ যেরা চাইরোবায় ছিতরি গেছিল, তারা হক্কল জাগাত ঘুরি ঘুরি ইঞ্জিলর খুশ-খবরি তবলিগ করলা। 5আর ফিলিফ শমরিয়ার এক শহরো গিয়া আল-মসীর বেয়াপারে তবলিগ করলা। 6মানষে ফিলিফর বয়ান হুনিয়া আর তান কেরামতি কাম অকল দেখিয়া, ধিয়ান ধরি এক দিলে তান নছিয়ত হুনলা। 7কারন বউতর গেছ থাকি ভুত অকল জুরে জুরে চিল্লাইয়া ছাড়িয়া গেল, আর বউত অর্ধং বেমারি আর লেংড়া অকল ভালা অইলা। 8ইতা দেখিয়া হি শহরর মানুষ খুব খুশি অইলা।
9অইলে হিকানো সাইমন নামর একজন মানষে বউত দিন ধরি যাদু-টুনার কাম করতো, শমরিয়ার মানষরে ধান্দা লাগাইয়া হে নিজরে একজন কামিল পীর কইয়া দাবি করতো। 10আর হুরু-বড় হকলে তার কথার দাম দিতো, মানষে কইতো, আল্লার যে কুদরতরে খাছ কুদরত কইন, ই বেটা অইলো হউ খাছ কুদরতি বেটা। 11মানষেও তার কথামতো চলতো কারন বউত দিন ধরি হে তার যাদু-টুনা দেখাইয়া তারারে তাইজ্জুব বানাইছিল। 12অইলে ফিলিফে যেবলা আল্লার বাদশাই আর ইছা আল-মসীর বেয়াপারে খুশ-খবরি তবলিগ করলা, আর মানষে তান তবলিগে ইমান আনলা, ই সময় বেটাইন-বেটিন্তে আইয়া তৌবার গোছল করলা। 13হউ সাইমনও ইমান আনিয়া তৌবার গোছল করিয়া ফিলিফর খরে খরে রইলা, বউত কেরামতি আর বড় বড় কুদরতি কাম হাছিল অর দেখিয়া তাইজ্জুব অইগেলা।
14জেরুজালেমর সাহাবি অকলে যেবলা হুনলা, শমরিয়ার মানুষ অকলে আল্লার কালামর উপরে ইমান আনছইন, তেউ তারা পিতর আর হান্নানরে এরার গেছে পাঠাইলা। 15পিতর আর হান্নান আইয়া তারার লাগি দোয়া করলা, যাতে তারা পাক রুহ পাইন। 16কারন অখনও তারার উপরে পাক রুহ নাজিল অইছে না, তারা খালি হজরত ইছার নামে তৌবার গোছল করছইন। 17পিতর আর হান্নানে তারার উপরে আত রাখলা, তেউ তারা পাক রুহ পাইলা। 18আর সাইমনে যেবলা দেখলা, সাহাবি অকলর আত রাখার কারনে পাক রুহ মিলের, অউ তাইন টেকা আনিয়া এরার গেছে দিয়া কইলা, 19“আমারেও অউ খেমতা দেউক্কা, যাতে আমি কেউরর উপরে আত রাখলে হে-ও অউ পাক রুহ পায়।” 20পিতরে তারে কইলা, “তুমার রুপা তুমার লগেউ বিনাশ অউক, তুমি মনো করছো আল্লার দান টেকাদি খরিদ করা যায়। 21আমরার ই কামো তুমার কুনু ভাগ নাই, কারন আল্লার নজরো তুমার দিল সরল নায়। 22এরলাগি ই নাজাইজ কাম থাকি তুমার দিল ফিরাও। আর আল্লার গেছে মিনত-কাজ্জি করো, কিবা তুমার দিলর ই নাজাইজ খিয়াল তাইন মাফ করিলিতা পারইন। 23আমি দেখরাম, তুমার দিল লিপসায় ভরা আর তুমি গুনার মাজে বন্দি অইরইছো।” 24তেউ সাইমনে কইলা, “আপনারা আল্লার গেছে আমার লাগি দোয়া করউক্কা, যাতে আপনারা যেতা যেতা কইছইন ইতা যানু আমার উপরে না আয়।” 25বাদে পিতর আর হান্নানে মালিকর কালাম তবলিগ করিয়া জেরুজালেমো ফিরত যাওয়ার পথো, শমরিয়ার বউত গাউত খুশ-খবরি তবলিগ করি করি গেলা।
হজরত ফিলিফ আর রাজ খাজাঞ্চি
26একদিন আল্লার এক ফিরিস্তায় হজরত ফিলিফরে কইলা, “উঠো, দউকনর যে পথ জেরুজালেম থাকি গাজা টাউনর বায় গেছে হউ পথে রওয়ানা দেও।” ই পথ আছিল মরুভুমিত। 27তেউ ফিলিফ উঠিয়া হবায় রওয়ানা দিলা, যাইতে যাইতে পথো ইথিওপিয়া দেশর কান্দাকি রানীর একজন বড় রাজ খাজাঞ্চির লগে তান মুলাকাত অইলো, হি খাজাঞ্চি আছলা না-মর্দ, আর রানীর হক্কল ধন-রত্নর জিম্মাদার। আল্লার এবাদত-বন্দেগি করার লাগি এইন জেরুজালেমো আইছলা। 28বাদে বাড়িত যাওয়ার বালা পথো তান নিজর ঘোড়ার গাড়িত বইয়া ইশায়া নবীর কিতাব তিলাওত করাত আছলা। 29অউ সময় পাক রুহে ফিলিফরে কইলা, “অউ গাড়ির কান্দাত যাও, আর এন লগে লগ ধরো।” 30তেউ ফিলিফে দৌড়িয়া অউ গাড়ির কান্দাত গিয়া হুনলা, এইন ইশায়া নবীর কিতাব তিলাওত কররা; ফিলিফে তানরে জিকাইলা, “আপনে যেতা তিলাওত কররা ইতার মানি বুজরা নি?” 31হেইন কইলা, “কেউ বুজাইয়া না দিলে আমি কেমনে বুজমু?” অউ তাইন ফিলিফরে গাড়িত উঠিয়া তান কান্দাত বওয়ার লাগি মিনত করলা। 32হেইন কিতাবর যে আয়াত তিলাওত করাত আছলা, ইতা অইলো,
জবো করার লাগি মেড়ারে যেলা নেইন,
মারার নিয়তে তানরে অউলা নেওয়া অইলো,
রুমা কাটরার ছামনে মেড়ার বাইচ্চা যেলা নিরাই রয়,
অউলা তাইনও জবান খুললা না।
33তাইন বেইজ্জত অইলা,
তানরে বে-ইনছাফ করা অইলো।
তান ওয়ারিশর কথা খেগিয়ে কইতো পারব?
তান জানরে দুনিয়া থাকি কাড়িয়া নেওয়া অইছিল।
34হউ খাজাঞ্চিয়ে ফিলিফরে কইলা, “কউক্কা ছাইন, নবীয়ে কার বেয়াপারে ইতা কইছইন? নিজর বেয়াপারে না আর কেউরর?” 35ফিলিফে জবান খুলিয়া পাক কালামর অউ আয়াত থাকি লইয়া ইছার খুশ-খবরি পর্যন্ত তান গেছে তবলিগ করলা। 36-37পথো যাইতে যাইতে তারা পানিআলা এক জাগাত আইয়া পৌছলা, তেউ হি খাজাঞ্চিয়ে কইলা, “অউ দেখউক্কা অনো পানি আছে, তে আমি তৌবার গোছল করতে কুনু বাধা আছে নি?” 38কইয়া তাইন ঘোড়ার গাড়ি উবা করার হুকুম দিলা, ফিলিফ আর হউ না-মর্দ খাজাঞ্চি দুইও জন পানিত লামলা, আর ফিলিফে তানরে তৌবার গোছল করাইলা। 39তারা যেবলা পানি থাকি উঠিয়া আইলা, অউ সময় মাবুদর রুহে আখতাউ ফিলিফরে আওড়ে নিলাগি। হি না-মর্দে আর ফিলিফরে দেখলা না, তেউ তাইন ফুর্তি করি করি তান নিজর পথে গেলাগি। 40অইলে ফিলিফরে আসদুদ টাউনো দেখা মিললো; তাইন গাউয়ে গাউয়ে খুশ-খবরি তবলিগ করি করি হেশে কৈছরিয়া টাউনো গেলা।
9জালিম শৌলর দিল বদলানি
1-2ই সময়ও শৌলে আল-মসীর উম্মত অকলরে কাতল করতা করি ডর দেখানিত রইছইন। আর দামেস্ক শহরর ইহুদির মছিদাইন্তো দেওয়ার লাগি তাইন পরধান ইমামর গেছ থাকি চিঠি চাইলা, যতো বেটাইন-বেটিন ইছার পথে চলইন, তারারে বান্দিয়া জেরুজালেমো আনতা অউ খেমতা পাওয়ার লাগি চিঠি চাইলা। 3পথো যাইতে যাইতে যেবলা দামেস্ক টাউনর কান্দাত আইলা, তেউ আখতাউ আছমান থাকি তান চাইরো গালাবায় ফর অইয়া চমকাইয়া উঠলো। 4অউ তাইন মাটিত পড়ি গেলা আর গাইবি আওয়াজ হুনলা, কে যানু তানরে কর, “শৌল, শৌল, কেনে আমারে জুলুম কররায়?” 5শৌলে জিকাইলা, “মালিক, আপনে কে?” তাইন কইলা, “আমি ইছা, যেনরে তুমি জুলুম কররায়। 6তুমি অখন উঠিয়া শহরো যাও, তুমি কিতা করতায় তুমারে জানাইল অইবো।” 7অইলে যেরা শৌলর লগে যাওয়াত আছলা তারা চমকি গেলা, তারা ই আওয়াজ ঠিকউ হুনছিলা, অইলে কেউররে দেখলা না। 8বাদে শৌল মাটি থাকি উঠলা, আর চউখ মেলিয়া হারলে কুন্তাউ দেখলা না; তান লগর মানষে তানরে আতো ধরিয়া দামেস্কো লইয়া গেলা। 9শৌলে তিন দিন ধরি চউখে কুন্তাউ দেখলা না আর কুনুজাত খানা-পিনাও খাইলা না।
10দামেস্ক শহরো অননিয় নামে একজন মুমিন আছলা, 11মাবুদে তানরে দরশন দিয়া কইলা, “অননিয়!” তাইন জুয়াপ দিলা, “মালিক, অউনু আমি।” মাবুদে তানরে কইলা, “সুজা নামর যে সড়ক আছে, তুমি হউ সড়কে যাও, গিয়া হনর এহুদার বাড়িত তার্ষ শহরর শৌল নামর একজন মানষর তালাশ করো। 12হনো হে দোয়া করের, আর হে দরশন পাইছে, অননিয় নামর একজন মানুষ আইয়া তার শরিল আতাইয়া দিবো, তেউ হে হিরবার চউখে দেখব।” 13অননিয়য় কইলা, “মালিক, আমি বউত মানষর গেছে ই মানুষগুর খাইছলত হুনছি, হে জেরুজালেমো তুমার পাক বন্দা অকলর উপরে বউত জুলুম করছে। 14আর অউ জাগাতও যতো মানষে তুমার পথে চলে, এরারে বান্দিয়া নেওয়ার খেমতা হে বড় ইমাম অকলর গেছ থাকি পাইছে।” 15অইলে মালিকে তানরে কইলা, “তুমি যাও, কারন অ-ইহুদি অকল, তারার রাজা অকল, আর বনি ইছরাইলর গেছে আমার নাম তবলিগর লাগি আমি তারে পছন্দ করছি। 16আমি তারে দেখাইমু, আমার নামর লাগি তারে কতো জালা-যন্ত্রনা সইয্য করা লাগবো।” 17তেউ অননিয় বার অইয়া হউ বাড়িত গিয়া হামাইলা, আর শৌলর গতরো আত দিয়া কইলা, “ভাই শৌল, অনো আওয়ার পথো যেইন তুমারে দরশন দিছইন তাইন হজরত ইছা, তাইন আমারে পাঠাইছইন, যাতে তুমি হিরবার চউখে দেখতায় পাও আর পাক রুহে কামিল অও।” 18আর লগে লগেউ তান চউখ থাকি মাছর-ফইরর লাখান কিতা পড়ি গেল, তাইন দেখতা পারলা আর উঠিয়া পানিত গিয়া তৌবার গোছল করলা; 19খাওয়া-দাওয়ার বাদে শরিলো হিরবার বল পাইলা।
আর তাইন কিছুদিন দামেস্কর উম্মত অকলর লগে রইলা। 20শৌলে আর দেরি করলা না, তাইন জাগায় জাগায় মছিদাইন্তো গিয়া তবলিগ করাত লাগলা, হজরত ইছাউ আল্লার হউ খাছ মায়ার জন, ইবনুল্লা। 21যেরা তান বয়ান হুনতো তারা হকলেউ তাইজ্জুব অইয়া মাতা-মাতি করতো, “এইন হউ মানুষ নায় নি যেইন জেরুজালেমো ইছার উম্মত অকলরে জুলুম করতা? আর অনোও তো অতার লাগিউ আইছইন, যেরা ইছার পথে চলে তারারে বান্দিয়া বড় ইমাম অকলর গেছে লইয়া যাইতা?” 22অইলে শৌল দিন দিন আরো হিম্মত আলা অইলা, আর দামেস্কর ইহুদি অকলরে লা-জুয়াপ বানাইতা লাগলা, তাইন পরমান দেখাইলা, অউ ইছাউ হি আল-মসী।
23এর বউত বাদে ইহুদি অকলে তানরে মারার লাগি সলা-পরামিশ করলা, 24আর শৌলে ই খবর পাইলা। তারা তানরে মারার লাগি শহরো হামানি বারনির হক্কল দুয়ারো দিনে-রাইতে চকিদার বওয়াইলা। 25একদিন রাইত উম্মত অকলে শৌলরে এক টুকরির ভিতরে হারাইয়া, বাউন্ডরি ওয়ালর খিড়কিবায় পার করি বারে লামাইয়া দিলা।
হজরত শৌল জেরুজালেমো আইলা
26বাদে তাইন জেরুজালেমো আইয়া উম্মত অকলর লগে শরিক অইতা চাইলা; অইলে হক্কলে তানরে ডরাইলো, তাইন যেন হাছাউ ইমান আনছইন তারা বিশ্বাস করলা না। 27তেউ বার্নাবাছে তানরে আতো ধরিয়া সাহাবি অকলর গেছে লইয়া গেলা, আর দামেস্ক যাওয়ার পথো কিলা তাইন আল-মসীর দিদার পাইলা, আর কিলা মালিকে তান লগে বাতচিত করলা, দামেস্কো কিলা তাইন সাওস করি ইছার নামে তবলিগ করছইন হকলতা এরারে জানাইলা। 28বাদে শৌল জেরুজালেমো এরার লগে লগে রইতা, তাইন জেরুজালেমর হকল জাগাত ঘুরিয়া ফিরিয়া সাওস করি ইছার নামে তবলিগ করতা। 29তাইন ইউনানি ভাষায় মাতরা ইহুদি অকলর লগে দীনি বাতচিত আর তর্ক করতা; ইহুদি অকলে তানরে জানে মারিলতা চাইলা। 30মুমিন অকলে ই খবর হুনিয়া তানরে কৈছরিয়া শহরো লইয়া গেলা, হন থাকি তানরে তার্ষ শহরো পাঠাই দিলা। 31হি সময় এহুদিয়া, গালিল আর শমরিয়া এলাকার জমাত অকল শান্তির মাজে তৈয়ার অইলো, ই জমাত অকল মাবুদর ডরে আর পাক রুহর ইশারায় চলি চলি বউত পরিমানে বাড়লো।
হজরত পিতরর ছফর আর কেরামতি
32পিতরে হক্কল জাগাত ঘুরতে ঘুরতে লুদ্দা গাউর মুমিন অকলর গেছে আইয়া আজিলা। 33হউ গাউত ঐনিয় নামে একজন মানুষ আছিল; হে অর্ধং বেমারে আট বরছ ধরি বিছনাত পড়নো আছিল। 34পিতরে তারে দেখিয়া কইলা, “ঐনিয়, ইছা আল-মসী তুমারে ভালা করলা, উঠো, তুমার বিছনা তুলিলাও।” আর লগে লগেউ ঐনিয় উঠিয়া উবাই গেলো। 35তেউ লুদ্দা গাউ আর শারোন এলাকার হকল মানষে ঐনিয়র হালত দেখিয়া আল্লার বায় ফিরলা।
36জাফা শহরো টাবিথা নামে একজন মুমিন বেটি আছলা, ইউনানি ভাষায় টাবিথা নামর অর্থ দর্কা, মানি হরিনী, তাইন হকল সময় ভালা কাম করতা আর গরিবরে সাইয্য করতা। 37তাইন বেমার পড়িয়া মারা গেলা, আর মানষে তানরে গোছল দেওয়াইয়া উপরর কুঠাত নিয়া থইলা। 38জাফা শহর লুদ্দার কাছাত আছিল গতিকে, উম্মত অকলে যেবলা হুনলা, পিতর লুদ্দাত আছইন, অউ তারা দুইজন মানষরে তান গেছে পাঠাইয়া মিনত করলা, “আপনে জলদি করি আমরার গেছে আউক্কা।” 39তেউ পিতর তারার লগে রওয়ানা দিলা, তাইন হনো যাওয়ার বাদে তারা তানরে উপরর কুঠাত লইয়া গেল, হকল ড়াড়ি বেটিন্তে পিতরর চাইরোবায় উবাইয়া কান্দন শুরু করলা আর দর্কা জিতা থাকতে যেতা কাপড়-চুপড় বানাইছলা, অতা পিতররে দেখাইলা। 40পিতরে তারা হক্কলরে কুঠা থাকি বার করি দিয়া জানু পাড়িয়া দোয়া করলা; বাদে মরা বেটির লাশর বায় ফিরিয়া কইলা, “টাবিথা, উঠো।” লগে লগে দর্কায় চউখ খুললা, আর পিতররে দেখিয়া উঠিয়া বইলা। 41পিতরে তান আতো ধরিয়া উবা করলা, বাদে হি ড়াড়ি বেটিন আর মুমিন অকলরে ডাকিয়া দেখাইলা, দর্কা জিতা অইছইন। 42ই খবর জাফা শহরর হকল জাগাত উড়িগেল আর বউত মানষে আল-মসীর উপরে ইমান আনলা। 43পিতর বউত দিন জাফা শহরো সাইমন নামর এক চামারর বাড়িত রইলা।
10ছুবেদার কর্নিলুছ আর হজরত পিতরর দরশন
1কৈছরিয়া শহরো কর্নিলুছ নামে একজন মানুষ, ইতালি নামর সিপাই দলর ছুবেদার আছলা। 2তাইন একজন পরেজগার মানুষ, তান পরিবারর হকলেও আল্লারে ডরাইতা। তাইন গরিব অকলরে বউত টেকা-পয়সা দান-খয়রাত আর হামেশা আল্লার গেছে দোয়া করতা। 3একদিন অনুমান তিনটার সময় তাইন এক ছাফ দরশন পাইলা। দেখলা, আল্লার এক ফিরিস্তায় তান গেছে আইয়া ডাকিরা, “কর্নিলুছ!” 4কর্নিলুছে ডরাইয়া হি ফিরিস্তার বায় চাইয়া কইলা, “মালিক, কউক্কা, হুনরাম।” ফিরিস্তায় তানরে কইলা, “তুমার মুনাজাত আর গরিব অকলরে দানর কথা বেহেস্তো পৌছিছে আর আল্লায় ইতা কবুল করছইন। 5অখন তুমি জাফা শহরো মানুষ পাঠাও, আর সাইমন উরফে পিতররে তালাশ করাই আনাও। 6এইন দরিয়ার পারো আরক সাইমনর বাড়িত থাকইন, হি সাইমনে চামড়ার কারবার করে।” 7যে ফিরিস্তায় কর্নিলুছর লগে বাতচিত করছিলা, তাইন যাওয়ার বাদে কর্নিলুছে তান বাড়ির দুইজন কামলা আর তান সাইয্যকারি একজন পরেজগার সিপাইরে ডাক দিলা। 8তাইন এরারে হকলতা বুজাই দিয়া জাফা শহরো পাঠাইলা।
9বাদর দিন যেবলা হউ মানুষ অকল যাইতে যাইতে জাফা শহরর কাছাত আইলা, ই সময় বেইল অনুমান দুইফর, পিতরে দোয়া করার লাগি হউ সময় ছাতো উঠছইন। 10তান খুব ভুক লাগছিল, তেউ কুন্তা খাইতা চাইলা আর মানষে খানি তিয়ার কররা, অউ সময় ঘুমে তান উংগানি আইলো। 11অউ হালতো তাইন দেখলা, আছমান খুলিগেছে আর খুব বড় চাদ্দরর লাখান এক চিজর চাইর কুনাত ধরিয়া দুনিয়াত লামাই দেওয়া অর; 12আর ই চাদ্দরর মাজে দুনিয়ার হক্কল জাতর পশু, বুকে চলরা জানদার আর পাখিন আছে। 13বাদে তাইন অউ আওয়াজ হুনলা, কে যানু তানরে কর, পিতর, উঠো, মারিয়া খাও। 14পিতরে কইলা, না, না, মালিক, কুনুমন্তেউ না, আমি কুনু সময়উ নাপাক আর হারাম কুন্তা খাই না। 15তাইন হিরবার অউ আওয়াজ হুনলা, আল্লায় যেতা হালাল করছইন, ইতারে তুমি হারাম কইও না। 16অউলা তিনবার অওয়ার বাদে হউ চাদ্দরখান আছমানো তুলিয়া নিলাগি।
17পিতরে যে বাতুনি দরশন দেখলা, এর মানি কিতা অইতো পারে তাইন ধিয়ান কররা, অউ সময় কর্নিলুছর পাঠাইল হি মানুষ অকল সাইমনর বাড়ি তুকাইয়া পাইয়া, বাড়ির দুয়ারর ছামনে আইয়া উবাইলা। 18তারা ডাকিয়া জিকাইলা, “সাইমন যেনরে পিতর কইয়া ডাকইন, তাইন ইখানো আছইন নি?” 19পিতরে হউ দরশনর কথা চিন্তা কররা, অউ সময় পাক রুহে তানরে কইলা, “দেখো, তিনজন মানষে তুমারে তুকানিত আইছইন। 20তুমি লামাত লামো আর তারার লগে রওয়ানা দেও, কুনু সন্দয় করিও না, তারারে আমিউ পাঠাইছি।” 21তেউ পিতর লামিয়া গিয়া তারারে কইলা, “আপনারা যারে তুকাইরা আমিউ হেইন; কউক্কাছাইন, কিতাল্লাগি আইছইন?” 22তারা কইলা, “শ-সিপাইর ছুবেদার কর্নিলুছে আল্লার ফিরিস্তার হুকুম পাইয়া আমরারে পাঠাইছইন, তাইন একজন পরেজগার মানুষ, আল্লার হুকুম মাফিক চলইন, ইহুদি অকলে তানরে খুব তাজিম করইন। ফিরিস্তায় তানরে কইছইন, যাতে আপনারে তান বাড়িত নেওয়াইয়া আপনার নছিয়ত হুনইন।” 23অউ পিতরে তারারে ভিতরে ডাকিয়া নিয়া, তারার মেহমানদারি করলা।
বাদর দিন উঠিয়া পিতর তারার লগে রওয়ানা দিলা, আর জাফা শহরর কয়জন ইমানদারও তান লগে গেলা। 24এর বাদর দিন তারা কৈছরিয়াত পৌছলা; অউ সময় কর্নিলুছে তান খেশ-কুটুম আর বন্ধু-বান্ধব অকলরে দলা করিয়া তারার বার চাইরা। 25আর পিতর গিয়া যেবলা ঘরো হামাইলা, ই সময় কর্নিলুছে তান কাছাত গিয়া পাওত পড়িয়া সইজদা করলা। 26অইলে পিতরে তানরে তুলিয়া কইলা, “উঠউক্কা, আমি নিজেও তো একজন মানুষ।” 27বাদে কর্নিলুছর লগে মাতি মাতি ভিতরে হামাইয়া পিতরে দেখলা, বউত মানুষ দলা অইরইছে। 28অউ তাইন কইলা, “আপনারা তো জানইন, একজন ইহুদি মানষে কুনু অ-ইহুদির কাছাত যাওয়া বা মিলা-মিশা করা আমরার শরিয়তর নাজাইজ। অইলে আল্লায় আমারে দেখাইছইন যেন, কুনু মানষরে নাপাক বা অপবিত্র কওয়া আমার লাগি নাজাইজ। 29এরলাগি আপনারা যেবলা আমারে খবর দিছইন, তে আমি কুনু অমত না করিয়াউ আইছি। অখন আমি আপনারারে জিকাইরাম, আমারে কিতাল্লাগি আনাইছইন?”
30কর্নিলুছে জুয়াপ দিলা, “আইজ থাকি চাইর দিন আগে অমন বালা মানি তিনটার সময় আমি আমার ঘরো দোয়া করাত আছলাম, অউ সময় চমকাইল কাপড় ফিন্দা এক বেটা মানুষ আমার ছামনে আইয়া উবাইলা, 31তাইন কইলা, কর্নিলুছ, আল্লায় তুমার দোয়া কবুল করছইন। আর তুমার দান-খয়রাতও কবুল করছইন। 32অখন তুমি জাফা শহরো মানুষ পাঠাও আর সাইমন উরফে পিতররে আনাও। তাইন দরিয়ার পারো সাইমন নামর এক চামড়ার কারবারির বাড়িত আছইন। 33এরলাগি আমি জলদি করি আপনারে আনাত মানুষ পাঠাইলাম। আপনে তশরিফ আনছইন দেখিয়া খুব খুশি অইলাম। অখন আমরা হকল আল্লার ছামনে আজির আছি, আল্লায় আপনারে যেতা হুকুম করছইন, আমরা হক্কলতা জানমু।”
বিধর্মীর দিলো হজরত পিতরর নছিয়তর ফল
34তেউ পিতরে জবান খুলিয়া কইলা, “আমি অখন হাছারর বুজলাম, আল্লার নজরো হকলউ হমান। 35হকল জাতির মাজে যেরা তানরে ডরায় আর তান হুকুম মানিয়া চলে, তারারে তাইন কবুল করইন। 36আপনারা তো জানইন, তাইন বনি ইছরাইলর গেছে খুশির একখান খবর জানাইছইন। হজরত ইছা আল-মসী, যেইন হকলর মালিক, তান উছিলায় শান্তি পাওয়া যায়। 37মানষর লাগি তৌবার গোছল করা জরুর, এহিয়ায় ইখান তবলিগ করার বাদেউ গালিল থাকি আস্তা এহুদিয়া জুড়ি যেতা ঘটছিল, ইতা হকলতাউ আপনারা হুনছইন। 38আল্লায় নাছারতর ইছারে পাক রুহ আর কুদরতে কিলা খাছ খলিফা বানাইছলা; তাইন ভালা কাম করি করি ছফর করতা, আর জিনে ধরা বেমারি অকলরে ভালা করতা, আল্লা পাক তো তান লগে আছলা। 39তাইন ইহুদি অকলর জমিনো আর জেরুজালেমো যেতা করছিলা, আমরা ইতা হকলতার সাক্ষি; আর মানষে তানরে গাছো লটকাইয়া মারলো। 40আল্লায় তানরে তিন দিন বাদে জিন্দা করি উঠাইলা, আর মানষেও তানরে দেখলা। 41তা-ও হক্কলে তানে দেখার নছিব অইছে না, খালি আল্লায় যেরারে আগে পছন্দ করছিলা, হউ সাক্ষি অকলরে, মানি আমরারে দেখাইলা, আর মুর্দা থাকি তাইন জিন্দা অইয়া উঠার বাদে আমরা তান লগে খানা-পিনাও খাইছি। 42তাইন আমরারে হুকুম দিছইন, আমরা যানু ইহুদি অকলর গেছে তবলিগ করি আর সাক্ষি দেই যেন, তানরেউ আল্লায় জিন্দা আর মুর্দা অকলর হাকিম বানাই পাঠাইছইন। 43হকল নবীয়েও তান বেয়াপারে অউলা সাক্ষি দিছইন যেন, যেরা তান উপরে ইমান আনে, তারা হকলেউ তান নামর উছিলায় গুনার মাফি পায়।”
44পিতরে বয়ান কররা, ই সময় যেরা তান বয়ান হুনাত আছিল, তারা হকলর উপরে আল্লাই পাক রুহ নাজিল অইলো। 45আর পিতরর লগে অইয়া মছলমানি করাইল যেতা ইমানদার অকল আইছলা, তারা ইতা দেখিয়া চমকিয়া উঠলা, কারন অ-ইহুদি অকলর উপরেও পাক রুহ বর্ষিছইন। 46তারা দেখলা, অউ অ-ইহুদি অকলে নানান গাইবি ভাষায় মাতিরা, আর আল্লার তারিফ কররা। 47তেউ পিতরে কইলা, “অউ যেতা মানষে আমরার লাখান পাক রুহ হাছিল করছইন, এরা পানিত তৌবার গোছল করতে কিতা কেউ বাধা দিতো পারবো নি?” 48বাদে তাইন এরারে ইছা আল-মসীর নামে তৌবার গোছল করার হুকুম দিলা। আর তারা পিতররে মিনত করলা, তারার গেছে কয়খান দিন রওয়ার লাগি।
11জেরুজালেমো হজরত পিতর
1বাদে সাহাবি অকলে আর এহুদিয়া জিলার হক্কল মুমিন ভাইয়াইন্তে হুনলা, অ-ইহুদি অকলেও আল্লার কালামর উপরে ইমান আনছইন। 2এরলাগি পিতর যেবলা জেরুজালেমো আইলা, ই সময় মছলমানি করাইল ইমানদার অকলে তানে দুষি সাইবস্তো করিয়া কইলা, 3“আপনে তো মছলমানি না করাইল মানষর ঘরো হামাইছইন, আর তারার লগে খানাও খাইছইন।” 4তেউ পিতরে পয়লা থাকি যেতা যেতা ঘটছিল, তারার গেছে এক এক করি বুজাইয়া কইলা, 5“আমি জাফা শহরো দোয়া করাত আছলাম, অমন সময় পাক রুহর দরশন পাইলাম, আমি দেখলাম, আছমান থাকি বড় চাদ্দরর লাখান একখান চিজর চাইর কুনাত ধরিয়া আমার গেছে লামাইয়া দেওয়া অর। 6আমি ধিয়ান ধরি চাইয়া চিন্তাত পড়ি গেলাম, আর দেখলাম, এর মাজে হকল জাতর পশু, পাখি, জংলি জানুয়ার আর বুকে চলরা জানদার অকল আছইন। 7বাদে এক আওয়াজ হুনলাম, পিতর, উঠো, মারিয়া খাও। 8আমি কইলাম, না, না মালিক, কুনুমন্তেউ না, নাপাক বা হারাম কুন্তা আমি কুনুদিন মুখো দিছি না। 9বাদে দুছরা বার আছমান থাকি অউ আওয়াজ হুনলাম, আল্লায় যেতা হালাল করছইন, তুমি ইতারে হারাম কইও না। 10অউলা তিনবার কওয়ার বাদে হকলতা আছমানো তুলি নেওয়া অইলো। 11আর এর লগে লগেউ, আমি যে বাড়িত আছলাম অউ বাড়িত আইয়া তিনজন মানুষ হামাইলো, তারারে কৈছরিয়া থাকি পাঠাইল অইছিল। 12তেউ পাক রুহে আমারে কইলা, কুনু সন্দয় না করিয়া তারার লগে অইয়া যাওয়ার লাগি। আর অউ ছয়জন ভাইও আমার লগে গেছলা। বাদে আমরা অউ অ-ইহুদির বাড়িত হামাইলাম। 13তাইন কিলা তান বাড়িত একজন ফিরিস্তার দরশন পাইছলা ইতা আমরারে হুনাইলা। হউ ফিরিস্তায় তো তানরে কইছলা, সাইমন উরফে পিতররে আনার লাগি জাফা শহরো মানুষ পাঠাও। 14হে তুমারে অউলা নছিয়ত করবো, যেতা মানিয়া তুমি আর তুমার পরিবারর হকলে নাজাত পাইবায়। 15আর আমি বয়ান শুরু করার বাদে, পাক রুহ পয়লা যেলা আমরার উপরে আইছলা, এক্কেরে অউলা তারার উপরেও আইলা। 16অউগি আল-মসীর তালিম আমার মনো অইলো, তাইন কইছলা, এহিয়ায় তৌবার গোছল করাইছইন পানিত, আর তুমরার গোছল অইবো পাক রুহে। 17তে ভাই অকল, ইছা আল-মসীর উপরে ইমান আনায় আল্লায় আমরারে যেলা দান দিছইন, হউ একই দান যেবলা তারারেও দিলা, তে আমি আরক জন কে, আল্লারে না করতাম?” 18ইখান হুনার বাদে এহুদিয়ার ইমানদার অকলে আর কুনু আপত্তি না করিয়া, আল্লার তারিফ করা ধরলা, তারা কইলা, “তে আল্লায় অ-ইহুদি অকলরেও গুনা থাকি মন বদলাইয়া, জিন্দেগি পাওয়ার তৌফিক দিছইন।”
আন্তিয়খিয়াত পয়লা ইছায়ী উপাধি
19স্তিফানর মউতর ঘটনার বাদে যেতা ইমানদার অকল জুলুমর লাগি ছিতরি গেছলা, তারা ফৈনিকিয়া, সাইপ্রাস আর আন্তিয়খিয়া পর্যন্ত গিয়া খালি ইহুদি অকলর গেছে আল্লার কালাম তবলিগ করলা। 20অইলে এরার মাজে কয়জন আছলা সাইপ্রাস দ্বীপ আর কুরিনি এলাকার মানুষ, এরা আন্তিয়খিয়াত গিয়া ইউনানি অকলর গেছেও হজরত ইছার খুশ-খবরি তবলিগ করলা। 21আর আল্লায় তান কুদরতি বলে তারারে সাইয্য করলা, তেউ বউত মানুষ ইমান আনিয়া তান মুখি অইলা। 22ই খবর জেরুজালেম জমাতর মুমিন অকলর কানো আইলো, খবর হুনিয়া তারা বার্নাবাছরে আন্তিয়খিয়াত পাঠাইলা। 23তাইন হনো পৌছিয়া আন্তিয়খিয়াত আল্লার মেহেরবানি দেখিয়া খুব খুশি অইলা, আর মানষরে আশা দিতা থাকলা, যাতে তারা দিলে-জানে মালিকর নামে ইমানে মজবুত রইন। 24বার্নাবাছ একজন হক মানুষ, তাইন পাক রুহ আর ইমানে কামিল আছলা। আর বউত মানুষ মালিকর মুখি ফিরিয়া আইছিল। 25বাদে বার্নাবাছ শৌলর তালাশে তার্ষ টাউনো গেলা, 26আর তানরে পাইয়া আন্তিয়খিয়াত লইয়া আইলা। বার্নাবাছ আর শৌল পুরা এক বরছ হনো জমাতর লগে মিলিয়া বউত মানষরে তালিম দিলা। অউ আন্তিয়খিয়াতউ আল-মসীর উম্মত অকলরে পয়লা ইছায়ী নামে ডাকা অইলো। 27অউ সময় কয়জন নবী জেরুজালেম থাকি আন্তিয়খিয়াত আইলা। 28এরার মাজে আগাবুছ নামর এক নবীয়ে পাক রুহর জরিয়ায় খাড়া অইয়া কইলা, আস্তা দুনিয়াই জুড়িয়া এক বেজুইতা নিদান দেখা দিবো; বাদশা কেলাদুছর রাজত্বর কালো ইখান পুরা অইলো। 29এরলাগি মুমিন অকলে নিয়ত করলা, এহুদিয়া জিলার ইমানদার অকলর খেজমতর লাগি, তারা যারযির খেমতা মাফিক সাইয্য পাঠাইতা। 30আর নিয়ত মাফিক কামও তারা করলা, তারা বার্নাবাছ আর শৌলর আতানে এহুদিয়ার জমাতর মুরব্বি অকলর গেছে সাইয্য পাঠাইলা।
12হজরত ইয়াকুবরে কাতল আর পিতরর খালাছ
1হি সময় রাজা হেরোদে জমাতর কয়জন মানষরে ধরাই আনিয়া জুলুম করলা। 2তাইন হান্নানর ভাই ইয়াকুবরে তলোয়ার দিয়া কাটিলিলা। 3এরলাগি ইহুদি অকল খুশি অইছইন দেখিয়া, তাইন খামির ছাড়া রুটির ইদর অখতো পিতররেও আটক করলা। 4আর তানরে জেলো হারাইলা, জেলোও পাহারা দেওয়ার লাগি চাইর জন করি, চাইর দল সিপাইরে হুকুম দিলা। হেরোদর নিয়ত আছিল আজাদি ইদর বাদে পিতররে মানষর ছামনে বার করি বিচার করবা। 5পিতর জেল খানাত বন্দি রইলা, অইলে জমাতর মানষে পিতরর লাগি দিলে-জানে আল্লার দরবারো দোয়া করাত রইলা।
6বিচারর লাগি যেদিন পিতররে বারে আনাইতা, এর আগর রাইত তাইন দুইজন সিপাইর মাজখানো দুইগেছা চেইনদি বান্দা হালতে ঘুমো আছলা, আর বারে সিপাই অকলে দুয়ারো পাহারা দিরা। 7অমন সময় আখতাউ মাবুদর একজন ফিরিস্তা হনো আইয়া উবাইলা, আর জেলর ভিতর ফর অইগেল। ফিরিস্তায় পিতরর গতরো ঠেলা দিয়া তানরে হজাগ করি কইলা, “জলদি উঠো!” তেউ পিতরর দুইও আত থাকি চেইন খুলিয়া পড়িগেল। 8বাদে ফিরিস্তায় তানরে কইলা, “তুমার কমরো কাপড় ফিন্দো আর জুতা পাওত দেও।” তাইন অউলা করলা। ফিরিস্তায় কইলা, “তুমার চাদ্দর গতরো দিয়া আমার খরে খরে আও।” 9পিতর ফিরিস্তার খরে খরে জেলখানা থাকি বার অই আইলা, অইলে ফিরিস্তায় যেতা করলা, ইতা যেন হাছাররউ অর, ইতা কুন্তাউ পিতরে বুজতা পারলা না, তাইন মনো করলা ইতা কুনু দরশন দেখরা। 10তারা পয়লা আর দুই নম্বর পারাদারর দলরে পার অইয়া যেবলা শহরো হামাইবার লুয়ার গেইটর গেছে আইলা, গেইট নিজে নিজেউ খুলিগেল। তারা বার অইয়া এক গল্লির হেশ গালাত আইয়া আজিলা, আর অউ সময় ফিরিস্তা পিতরর লগ থাকি গেলাগি। 11তেউ পিতরর হুশ অইলো আর তাইন কইলা, “অখন আমি হাছাররউ বুজলাম যেন, মাবুদে তান ফিরিস্তারে পাঠাইয়া, হেরোদর আত থাকি আর ইহুদি অকলর বদ খাইশ থাকি আমারে হেফাজত করছইন।” 12তাইন মনে মনে ইতা মাতি মাতি মরিয়মর বাড়ির মুখা গেলা, ই মরিয়ম অইলা হান্নান উরফে মার্কুছর মা। অনো বউত মানুষ দলা অইয়া দোয়া করাত আছলা। 13পিতরে গেইটো ঠুকা মারার বাদে রোদা নামর এক বান্দি বেটিয়ে গেইট খুলাত আইলো; 14আর পিতরর গলার সুর হুনিয়া খুশিয়ে তাই গেইট না খুলিয়া দৌড়িয়া গিয়া হকলর গেছে কইলো, “পিতর আইয়া বারে গেইটো উবাই রইছইন।” 15তারা ইতা হুনিয়া হি বেটিরে কইলা, “তুমার মাথা খারাপ অইছে নি?” বেটিয়ে তারার লগে নিয়ায় করিয়া কইলো, “না, হাছাউ পিতরর গলা হুনছি!” তেউ হকলে কইলা, “তে এইন মনে অয় পিতরর ছুরতে কুনু ফিরিস্তা।” 16ইবায় পিতরে গেইটো ঠুকানিত রইলা। অউ তারা খুলিয়া পিতররে দেখিয়া তাইজ্জুব অইগেলা। 17পিতরে আতদি ইশারা দিলা তারারে নিরাই অওয়ার লাগি, আর জেলখানা থাকি মাবুদে কিলা তানরে বার করি আনলা, অউতা হকলতা কইলা। বাদে তাইন কইলা, “ই খবরখান তুমরা ইয়াকুব আর বাকি ভাইয়াইন্তরেও জানাইও।” হেশে তাইন অন থাকি বার অইয়া আরক জাগাত গেলাগি। 18রাইত পুয়ানির বাদে পিতর কুয়াই গেলা, ই মাত লইয়া সিপাই অকলর মাজে উলুস্থল পড়িগেল। 19হেরোদে তানরে তুকাইয়া না পাওয়ায় পাহারাদার অকলরে জেরা করলা, আর তারারে জানে মারার হুকুম দিলা, বাদে হেরোদ নিজেও এহুদিয়া ছাড়িয়া কয়দিনর লাগি কৈছরিয়াত গেলাগি।
রাজা হেরোদর লান্নতি মউত
20হি সময় হেরোদে সোর আর সিদনর মানষর উপরে খুব গুছা আছলা। অইলে রাজা হেরোদর দেশ থাকি তারার দেশো খানির ছামানা আইতো করি, হিনর হকল মানষে একলগে মিলিয়া হেরোদর গেছে আইলা, তারা রাজার হুতিবার ঘরর বেলাস্তছ নামর এক বড় গুলামরে আত করিয়া রাজার লগে আপোস করাত আইলা। 21আর হেরোদে এক দিন ঠিক করিয়া, হিদিন তান রাজ লেবাছ ফিন্দিয়া সিংহাসনো বইয়া তারার ছামনে ভাষন দেওয়াত আছলা। 22তান কথা হুনিয়া তারা চিল্লাইয়া কইলা, “ইতা তো মানষর বুলি নায়, কুনু দেবতার বুলি!” 23আর লগে লগে মাবুদর এক ফিরিস্তায় তানরে মারলা, কারন হেরোদে আল্লার ইজ্জত রাখলা না। তেউ কিরমির খুরাক বনিয়া তান দম বার অইলো।
24অইলে আল্লার কালাম হকলবায় আরো বেশি ছিতরিলো, আর বউত মানষে ইমান আনলা। 25ইবায় বার্নাবাছ আর শৌলর তবলিগ কাম শেষ অওয়ায় তারা হান্নান উরফে মার্কুছরে লগে লইয়া জেরুজালেমো ফিরত গেলা।
13হজরত পাউলুছর পয়লা তবলিগি ছফর (১৩:১-১৫:৩৫)
হজরত বার্নাবাছ আর শৌলরে পাঠানি
1আন্তিয়খিয়া জমাতো কয়জন নবী আর উস্তাদ আছলা, এরার নাম বার্নাবাছ, ছামাউন উরফে কালাভাই, কুরিনি শহরর লুকিয়াছ, রাজা হেরোদর খাতিরর মানুষ মনহেম, আর শৌল। 2এরা যেবলা রোজা রাখিয়া মাবুদর এবাদত করাত আছলা, অউ সময় পাক রুহে এরারে কইলা, “বার্নাবাছ আর শৌলরে আমি যে কামর লাগি পছন্দ করছি, অউ কামর লাগি তারারে আলগ করি দেও।” 3তেউ এরা রোজা রাখিয়া, হউ দুইওজনর উপরে আত থইয়া দোয়া করিয়া বিদায় দিলা।
4অউ লাখান করি পাক রুহে বার্নাবাছ আর শৌলরে সিলুকিয়াত পাঠাই দিলা, আর হিকান থাকি জাজো করিয়া তারা সাইপ্রাস দ্বীপো গেলা। 5আর ছালামিছ গিয়া হারলে তারা ইহুদি অকলর মছিদাইন্তো হামাইয়া আল্লার কালাম তবলিগ করলা। তারার কাম করার লাগি হান্নান উরফে মার্কুছ তারার লগে আছলা। 6তারা আস্তা দ্বীপ ঘুরিয়া হারলে পাফোছ টাউনো আইলা, আর হিনো বর-যীশু নামর এক ইহুদি যাদুগিরর লগে দেখা অইলো, হে আছিল ভন্ড নবী। 7-8তার আরক নাম আছিল ইলুমা, মানি যাদুগির। হে অইলো হি দেশর হাকিম সের্গিয় পাউলুছর দুস্ত, অইলে হি হাকিম আছলা একজন আখলদার মানুষ, তাইন আল্লার কালাম হুনার লাগি বার্নাবাছ আর শৌলরে খবরদি আনাইলা। ইলুমায় হাকিমরে ইমান আনতে দিতো না করি বার্নাবাছ আর শৌলরে বাধা দিলো। 9আর শৌল, যেনরে পাউলুছ কইয়াও ডাকইন, তাইন পাক রুহে কামিল অইয়া ইলুমার বায় ধিয়ান ধরি চাইয়া কইলা, 10“ও ইবলিছর বাইচ্চা, হকল মুমিনি কামর দুশমন, তোর ভিতরে হকল লাখান ছল-চতুরি আর নাফরমানিয়ে ভরা, তুই মাবুদর ছহি পথরে তেড়া করার ফিকির বাদ দিতে নায় নি? 11হুন, মাবুদর আত তোর বিরুদ্ধে লাগছে। তুই আন্দা অইযিবে, আর কয়দিন সুরুজ দেখতে নায়।” লগে লগেউ খুয়া আর আন্দাইরে তারে গুরিলিলো, আর হে আত বাড়াইয়া ডাইনে-বাউয়ে কেউররে তুকাইলো, তারে আতো ধরিয়া নেওয়ার লাগি। 12ইতা দেখিয়া হি হাকিমে মালিকর বিষয়ে যে তালিম পাইলা, এতে তাইন তাইজ্জুব অইয়া ইমান আনলা।
পিষিদিয়া দেশো তবলিগ
13বাদে হজরত পাউলুছ আর তান লগর হকলে পাফোছ ছাড়িয়া জাজো করি পামফুলিয়া দেশর পর্গা শহরো পৌছলা। আর হান্নান উরফে মার্কুছে তারারে থইয়া জেরুজালেমো ফিরত গেলাগি। 14বাদে তারা পর্গা থাকি আগুয়াইয়া পিষিদিয়া দেশর আন্তিয়খিয়া শহরো পৌছলা আর জুম্মাবারে ইহুদির মছিদো হামাইয়া বইলা। 15মুছার শরিয়ত আর নবী অকলর কিতাব থাকি তিলাওত করা শেষ অইলে, মজলিছর নেতা অকলে তারারে কইলা, “ও ভাইছাব অকল, মানষরে নছিয়তর লাগি কুন্তা বয়ান করার খিয়াল অইলে, করউক্কা।” 16অউ পাউলুছে উবাইয়া আতদি ইশারা করি কইলা,
“ও বনি ইছরাইল অকল, আর আল্লারে ডরাওরা অ-ইহুদি অকল আপনারা হুনউক্কা। 17অউ ইছরাইল জাতির আল্লায় আমরার বাফ-দাদা অকলরে পছন্দ করছলা, যেবলা তারা মিসর দেশো মুছাফিরিত আছলা, অউ সময় তারারে মহান করছিলা, আর তান মহা কুদরতে তারারে হিকান থাকি বার করি আনছিলা। 18অনুমান চাল্লিশ বরছ ধরি তাইন মরুভুমির মাজে হুরুতার মা-বাফর লাখান তারার বেয়াদবি ছবর করছলা। 19বাদে তাইন কেনান দেশর সাতটা জাতিরে বিনাশ করিয়া, তান নিজর বন্দা অকলরে হউ দেশাইন্তর মালিকানা দান করলা। অউ লাখান অনুমান চাইরশো পইঞ্চাশ বরছ গুজরি গেল। 20হেশে শামুয়েল নবীর আমল পর্যন্ত আল্লায় কয়জন আমির বেজিছলা। 21অইলে মানষে একজন বাদশা চাইলো। তেউ আল্লায় চাল্লিশ বছরর লাগি বিন-ইয়ামিন বংশর কীশর পুয়া তালুতরে বাদশা বানাইলা। 22বাদে আল্লায় তালুতরে হরাইয়া হজরত দাউদরে তারার বাদশা বানাইলা। তাইন দাউদর বেয়াপারে কইলা, ‘আমি ইয়াছর পুয়া দাউদরে পাইছি, হে আমার মনর মত মানুষ। আমার হকল মর্জি আমল করব।’ 23আল্লায় তান ওয়াদা মাফিক অউ মানষর ওয়ারিশ থাকি একজন তরানেআলা, মানি হজরত ইছারে বনি ইছরাইল অকলর গেছে আজির করছিলা; 24অউ ইছা আওয়ার আগে হক্কল বনি ইছরাইলর গেছে হজরত এহিয়ায় তবলিগ করছিলা, ‘গুনা থাকি দিল ফিরাইয়া হারি মানষে তৌবার গোছল করা দরকার।’ 25আর এহিয়ায় তান তবলিগ কামর আখের কালো কইলা, ‘তুমরা কিতা মনো করো, আমি কে? আমি তো হি ওয়াদা করা আল-মসী নায়; তাইন আমার বাদে তশরিফ আনরা। তান পাওর জুতার ফিতা খুলার লাখও আমি নায়।’
26“তে ও ভাইয়াইন, ইব্রাহিমর ওয়ারিশ অকল, আর আল্লারে ডরাওরা অ-ইহুদি অকল, আমরা হক্কলর গেছেউ নাজাতর ই কালাম নাজিল অইছে। 27জেরুজালেমর মানষে আর তারার নেতা অকলে ইছারে না চিনায়, আর পরতেক জুম্মাবারে নবী অকলর যে বয়ান তিলাওত অয় এওতা না বুজায়, তারা ইছারে দুষি সাইবস্তো করিয়া হউ কথা অকল পুরা করলা। 28আর জানে মারার লাখ কুনু দুষ না পাইলেও তারা হাকিম পিলাতর গেছে দাবি জানাইলা, তানরে জানে মারার লাগি। 29তান বিষয়ে আছমানি কিতাব অকলো যেতা লেখা আছিল, ইতা হকলতা পুরা অওয়ার বাদে তারা তানরে গাছো লটকাইল হালত থাকি, মানি সলিব থাকি লামাইয়া দাফন করলো। 30অইলে আল্লায় তানরে মুর্দা থাকি জিন্দা করি তুললা। 31আর গালিল থাকি যেরা তান লগে জেরুজালেমো আইছলা, তারার গেছে তাইন বউত দিন ধরি দেখা দিলা; এরাউ অখন আমরার গেছে তান বেয়াপারে সাক্ষি দিরা। 32আর আমরার বাফ-দাদা অকলর গেছে আল্লায় যেতা ওয়াদা করছিলা, আমরা আপনাইন্তর গেছে হউ খুশ-খবরি জানাইরাম, 33আল্লায় ইছারে মুর্দা থাকি জিন্দা করিয়া তারার ওয়ারিশ অকল, মানি আমরার গেছে তান ওয়াদা পুরা করছইন, আর ই বেয়াপারে জবুর কিতাবর দুছরা রুকুত অউলা লেখা আছে:
তুমি আমার পুত,
আইজ থাকি আমি অইলাম
তুমার গাইবি বাফ।
34আল্লায় যেন তানরে মুর্দা থাকি জিন্দা করছইন, আর তাইন যেন কুনু দিনও ক্ষয় অইতা নায়, ই বেয়াপারে আল্লায় কইছইন:
আমি দাউদর গেছে যে পাক ওয়াদা অকল করছি,
ইতা আমি তুমরারে দান করমু।
35তাইন জবুর শরিফর আরক আয়াতো কইছইন:
তুমি নিজর পাক বন্দারে ক্ষয় অইতে দিতায় নায়।
36দাউদ তো হি আমলর মানষর মাজে আল্লার খিয়াল-খুশি পুরা করার বাদে ইন্তেকাল করলা, আর তান ময়-মুরব্বি অকলর গেছে তানরে দাফন করার বাদে ক্ষয় অইগেলা, 37অইলে আল্লায় যেনরে মুর্দা থাকি জিন্দা করছইন, এইন তো ক্ষয় অইছইন না। 38এরলাগি আমার ভাই অকল, আপনারাও জানিয়া রাখউক্কা, অউ ইছার মাজদিয়াউ গুনা থাকি মাফি পাওয়ার কথা আপনাইন্তর গেছে তবলিগ করা অর। 39আপনারা মুছার শরিয়তর উছিলায় গুনার সাজা থাকি রেহাই পাইছইন না, অইলে যেকুনু জনে ইছার উপরে ইমান আনলে, তান উছিলায় হে গুনার সাজা থাকি রেহাই পায়। 40এরলাগি আপনারাও হুশিয়ার অউক্কা, যাতে নবী অকলর কিতাবো যেতা বয়ান করা অইছে, ইতা যানু আপনাইন্তর উপরে না ঘটে:
41তুমরা যেরা আল্লারে লইয়া ঠাট্টা করো,
তুমরা খিয়াল করো,
তুমরা চমকাইয়া উঠো আর বিনাশ অও;
কারন তুমরার আমলোউ আমি অউলা এক কাম করমু,
যে কামর কথা কেউ তুমরার গেছে কইলেও,
তুমরা কুনুমন্তেউ বিশ্বাস করতায় নায়।”
42পাউলুছ আর বার্নাবাছ মছিদ থাকি যাওয়ার বালা মানষে তারারে মিনত করি কইলা, বাদর জুম্মাবারেও তারা ই বেয়াপারে আরো বয়ান করার লাগি। 43মছিদ থাকি মানুষ অকল বার অইয়া যাওয়ার বাদে, বউত ইহুদি আর ইহুদি ধর্ম মানরা পরেজগার অকলে পাউলুছ আর বার্নাবাছর খরে খরে গেলা। এরা পাউলুছ আর বার্নাবাছর লগে বাতচিত করলা, তারা এরারে উত্সাহ দিলা, এরা আল্লার রহমতর উপরে কাইম রইতা করি।
44বাদর জুম্মাবারে টাউনর মানুষ দলে দলে আল্লার কালাম হুনার লাগি আইলা। 45অইলে অতো মানষর ভিড় দেখিয়া ইহুদি অকলে ইংসায় ভরি গেলা, আর পাউলুছে যেতা বয়ান করলা তারা এর নিন্দা গাইয়া তান বিরুধিতা করলা। 46তেউ পাউলুছ আর বার্নাবাছে সাওস করিয়া জুয়াপ দিলা, “আল্লার কালাম পয়লা আপনাইন্তর গেছে তবলিগ করা দরকার আছিল; অইলে আপনারা যেবলা ইতা ঠেলিয়া হরাই দিরা, আর আখেরি জিন্দেগি কামাই করা দরকার মনো কররা না, তে আমরাও অ-ইহুদি অকলর বায় নজর ফিরাইল্লাম। 47কারন মাবুদে আমরারে অউলা হুকুম করছইন,
আমি তুমারে অ-ইহুদি অকলর গেছে
নুর হিসাবে বেজিছি,
যাতে তুমি দুনিয়ার হেশ সীমানা পর্যন্ত
নাজাতর উছিলা অও।”
48অ-ইহুদি অকলে ইতা হুনিয়া খুশি অইলা আর মালিকর কালামর তারিফ করলা; আর যতো মানষরে আল্লায় আখেরি জিন্দেগি হাছিলর লাগি পছন্দ করি রাখছিলা, তারা ইমান আনলা। 49মালিকর কালাম হি দেশর হকল জাগাত পৌছি গেল। 50অইলে ইহুদি অকলে তারার পরেজগার খান্দানি বেটিন্তরে আর টাউনর বড় বড় মুরব্বি অকলরে উছকাইয়া দিলো তারা পাউলুছ আর বার্নাবাছর উপরে জুলুম করাইয়া, তারার সীমানা থাকি খেদাইয়া বার করি দিলো। 51তেউ পাউলুছ আর বার্নাবাছে হি মানষর বিরুদ্ধে তারার পাওর ধুইল ঝাড়িয়া ফালাইয়া ইকনিয়া টাউনো গেলাগি। 52আর হিনর উম্মত অকল খুশিয়ে আর পাক রুহে পুরাপুর কামিল অইলা।
14ইকনিয়া টাউনো তবলিগ
1ইকনিয়া টাউনো আইয়াও অউ লাখান পাউলুছ আর বার্নাবাছ ইহুদির মছিদো গিয়া হামাইলা, হামাইয়া তারা অমন লাখান তবলিগ করলা, ইতা হুনিয়া বউত ইহুদি আর অ-ইহুদি অকলে ইমান আনলা। 2অইলে যেতা ইহুদিয়ে ইমান আনলা না, তারা অ-ইহুদি অকলরে উছকাই দিয়া, মুমিন অকলর বায় বিগড়াইলা। 3পাউলুছ আর বার্নাবাছ হি টাউনো বউত দিন রইলা, তারা সাওস করিয়া মালিকর বেয়াপারে তবলিগ করলা। আর মালিকেও তান রহমতর কালামর পক্ষে পাউলুছ আর বার্নাবাছর মাজদি, বউত মোজেজা আর কেরামতি অকল জাইর করাইলা। 4বাদে আস্তা টাউনর মানুষ দুই দল অইগেল, এক দল ইহুদি অকলর পক্ষে, আরক দল সাহাবি অকলর পক্ষে। 5অইলে ইহুদি আর অ-ইহুদি কিছু মানষে তারার নেতা অকলর লগে মিলিয়া, বার্নাবাছ আর পাউলুছরে মাইর-ধইর আর পাথর মারার ফন্দি করলা। 6পাউলুছ আর বার্নাবাছে ইতা টের পাইয়া লুকায়নিয়া দেশর লুশ্রা আর দর্বী শহরো, আর এর কান্দা-কাছাত বাগিয়া রইলা; 7তারা হনো ইঞ্জিলর খুশ-খবরি তবলিগ করলা।
8লুশ্রা টাউনো একজন মানুষ বওয়াত থাকতো, তার পাওত কুনু বল আছিল না, হে মাʼর পেট থাকিউ লেংড়া, কুনু দিনও আটতো পারছে না। 9হে পাউলুছর বয়ান হুনাত আছিল; পাউলুছে তার বায় ধিয়ান করি চাইলা, আর ভালা অওয়ার লাগি তার ইমান আছে বুজিয়া, 10তারে জুরে ডাকদি কইলা, “তুমার পাওত ভরদি সিদা অইয়া উবাও!” তেউ লগে লগেউ মানুষগু ফালদি উঠিয়া আটতো লাগল। 11পাউলুছর ই কেরামতি দেখিয়া মানষে লুকায়নিয়া ভাষায় চিল্লাইয়া কইলো, “দেবতা অকলে মানষর ছুরত ধরিয়া আমরার গেছে লামিয়া আইছইন!” 12আর মানষে বার্নাবাছর নাম দিলো “জিউছ দেব” আর পাউলুছ বড় বয়ান কররা গতিকে, তান নাম দিলো “হার্মিছ দেব”। 13শহরর বাইরা মুল গেইটর কান্দাত জিউছ দেবতার মন্দিরর বাবন ঠাকুরে বিছাল আর মালা লইয়া আইলো, কারন হি ঠাকুরে আর হক্কল মানষে পাউলুছ আর বার্নাবাছর নিয়তে পশু বলি দিতো চাইলো। 14অইলে সাহাবি বার্নাবাছ আর পাউলুছে ইতা হুনিয়া বে-করার বনিয়া যারযির ফিন্নর কাপড় ছিড়িয়া দৌড়িয়া মানষর গেছে গেলা, আর জুরে চিল্লাইয়া কইলা, 15“ও ছাব অকল, আপনারা কেনে ইতা কররা? আমরা তো খালি আপনাইন্তর লাখানউ দুখি-সুখি মানুষ, আমরা আপনাইন্তর গেছে অউ খুশ-খবরি তবলিগ কররাম, যাতে ই অসার হকলতা বাদ দিয়া জিন্দা আল্লার বায় ফিরইন, যেইন আছমান-জমিন, দরিয়া আর এরমাজে যততা আছে হক্কলতা পয়দা করছইন। 16আগর আমলর হকল জাতিরে তাইন যারযির ইচ্ছামতো পথে চলতে দিছইন; 17তা-ও তাইন হামেশা নিজরে জাইর করছইন, তাইন আছমান থাকি মেঘ দিয়া, সময় মত ফসল দান করিয়া তান মেহেরবানি দেখাইছইন, আপনাইন্তর পেট ভরা খানি আর দিলর আরাম যুগাইছইন।” 18ই মাত অকল মাতার বাদেও বউত কষ্ট করিয়া এরার পশু বলি দেওয়া বন্দ করাইলা।
নানান টাউনো তবলিগ
19বাদে আন্তিয়খিয়া আর ইকনিয়া থাকি কয়জন ইহুদি আইয়া, পাউলুছর বিরুদ্ধে মানষরে উছকাইয়া দিয়া তানরে পাথর মারলো, আর তাইন মরি গেছইন মনে করিয়া, টাউনর বারে ছেছরাইয়া লইয়া গেলো। 20অইলে মুমিন অকল তান চাইরোবায় একলগে দলা অওয়ার বাদে, তাইন উঠিয়া টাউনো ফিরিয়া গেলা। বাদর দিন তাইন বার্নাবাছর লগে অইয়া দর্বী শহরো গেলাগি। 21দর্বীত গিয়া হারলে হনো খুশ-খবরি তবলিগ করিয়া পাউলুছ আর বার্নাবাছে বউত মানষরে ইমানদার বানাইলা, বাদে তারা লুশ্রা, ইকনিয়া আর আন্তিয়খিয়াত ফিরত গেলা; 22হনো গিয়া তারা মুমিন অকলর ইমানি বল বাড়াইয়া তারারে ইমানে মজবুত রওয়ার লাগি তাগিদ দিলা, তারা কইলা, বউত দুখ-তকলিফর পথ পার অইয়া আমরা আল্লার বাদশাইত হামানি লাগবো। 23তারা জমাতরে চালানির লাগি পরতেক জমাতর মুরব্বি-কমিটি বানাইলা। আর যে মালিকর উপরে তারা ইমান আনছইন, এন নামে রোজা রাখিয়া দোয়া করিয়া অউ ইছার আতো এরারে সপিয়া দিলা। 24বাদে পাউলুছ আর বার্নাবাছে পিষিদিয়া দেশর ভিতরেদি পামফুলিয়া দেশো গেলা। 25তারা পর্গা শহরো আল্লার কালাম তবলিগ করিয়া আন্তোলিয়া জাজ ঘাটো গেলা; 26আন্তোলিয়া থাকি জাজো উঠিয়া আন্তিয়খিয়াত ফিরত আইলা। তারা ই ছফরো যেতা কাম অকল ইঞ্জাম করছিলা, ই কামর লাগি তারারে অউ আন্তিয়খিয়া থাকিউ আল্লার রহমতর হেফাজতো সপি দেওয়া অইছিল। 27আন্তিয়খিয়াত পৌছিয়া জমাতর হকলরে একখানো দলা করলা, আর আল্লায় তারার ই টাউনো তারার লগে রইয়া যেতা যেতা কাম অকল করছইন, আর তাইন কিলা অ-ইহুদি অকলর মাজে ইমান আনার দুয়ার খুলিয়া দিছইন, ই হক্কলতা জানাইলা। 28হেশে তারা মুমিন অকলর লগে হিকানো বউত দিন রইলা।
15জেরুজালেম বৈঠকর ফয়ছালা
1এহুদিয়া থাকি কয়জন মানুষ আন্তিয়খিয়াত আইলা আর ইমানদার অকলরে অউ তালিম হিকানিত লাগলা, “মুছার শরিয়ত মাফিক তুমরার মছলমানি করাইল না অইলে, কুনুমন্তেউ গুনা থাকি নাজাত পাইতায় নায়।” 2ইতা লইয়া হজরত পাউলুছ আর বার্নাবাছর লগে অউ মানুষ অকলর খুব কথা কাটাকাটি অইলো। বাদে ঠিক অইলো, পাউলুছ আর বার্নাবাছ আন্তিয়খিয়ার কয়জন ইমানদাররে লগে লইয়া জেরুজালেমো যাইবা, গিয়া তারা সাহাবি আর জমাতর মুরব্বি অকলর লগে ই বিষয়ে বাতচিত করবা। 3আন্তিয়খিয়ার জমাতে তারার যাওয়ার বন্দোবস্ত করি দিলা, ফৈনিকিয়া আর শমরিয়া এলাকার ভিতরেদি যাইতে যাইতে পাউলুছ আর বার্নাবাছে মানষরে জানাইলা অ-ইহুদি অকল কিলা আল্লার বায় ফিরের, ইতা হুনিয়া তারা খুব খুশি অইলা। 4পাউলুছ আর বার্নাবাছ জেরুজালেমো আইয়া পৌছার বাদে জমাতর মানষে, সাহাবি আর মুরব্বি অকলেও তারারে মায়ার নজরে কবুল করলা। আর তারার উছিলায় আল্লায় যেতা কাম করছইন, ইতা হকলর গেছে জানাইলা। 5অউ সময় ফরিশি দলর কয়জন ইমানদারে উবাইয়া কইলা, “অ-ইহুদি অকলর মছলমানি করানি জরুর, আর তারা যানু হজরত মুছার শরিয়তও আমল করে, এরলাগি তারারে হুকুম দেওয়া অউক।”
6তেউ ই বিষয়র ফয়ছালা করার লাগি সাহাবি অকল আর জমাতর মুরব্বি অকল এক জাগাত দলা অইলা। 7বউত বাতচিতর বাদে হজরত পিতরে উবাইয়া কইলা, “ভাইয়াইন অকল, আপনারা তো জানইন, বউত দিন আগে আপনাইন্তর মাজ থাকিউ আল্লায় আমারে পছন্দ করি নিছইন, যাতে অ-ইহুদি অকলেও আমার মুখ থাকি খুশ-খবরি হুনিয়া ইমান আনইন। 8আল্লায় তো হকলর দিলর খবর জানইন, তে তাইন আমরারে যেলাখান পাক রুহ দান করছইন, অ-ইহুদি অকলরেও অউলা পাক রুহ দান করিয়া দেখাইছইন, তারাও নাজাত হাছিল করছে। 9তাইন আমরার আর তারার মাজে আলাদা কুন্তা রাখছইন না, কারন তারা ইমান আনছইন করি, তারার দিলও ছাফ করিলিছইন। 10তে আমরার বাফ-দাদা অকলে বা আমরাও যে ভার বইতাম পারছি না, হি ভার অ-ইহুদি উম্মত অকলর কান্দো তুলিয়া দিয়া, কেনে আপনারা আল্লা পাকরে পরিক্ষা কররা? 11আমরা তো মনো করি, হজরত ইছার মেহেরবানিয়ে আমরা যেলা গুনা থাকি মাফি পাইছি, তারাও অউলা মাফি পাইছইন।”
12তেউ হক্কল নিরাই অইগেলা; পাউলুছ আর বার্নাবাছর জরিয়ায় আল্লায় অ-ইহুদির মাজে যেতা মোজেজা আর কেরামতি কাম অকল করাইছইন, তারার মুখ থাকি অতা হুনলা। 13তারার বয়ান শেষ অওয়ার বাদে ইয়াকুবে কইলা, “ভাইছাব অকল, হুনউক্কা, 14আল্লায় তান নিজর বন্দা অওয়ার লাগি অ-ইহুদি অকল থাকি একদল মানষরে পছন্দ করি নিয়া দেখাইছইন, অ-ইহুদি অকলর বায়ও তান খিয়াল আছে, আর অউ কথাউ সাইমন-পিতরে অখন বয়ান করছইন। 15ই বয়ানর লগে নবী অকলর কালামরও মিল আছে; যেলা লেখা আছে,
16এরবাদে আমি আইয়া দাউদর পড়ি যাওয়া ঘর
হিরবার তিয়ার করমু,
যেতা বিনাশ অইগেছে ইতা হিরবার গাথিমু,
হিরবার নয়া করিয়া বানাইমু,
17যাতে বাকি হকল মানষে মাবুদর তালাশ করইন,
আর যতো অ-ইহুদির নাম
আমার বন্দার খাতাত লেখা আছে,
তারাও তালাশ করইন।
মাবুদেউ অউ কালাম কইরা,
18ইতা বউত দিন আগ থাকিউ
তান মালুম আছিল।”
19ইয়াকুবে আরো কইলা, “তে আমার ফয়ছালা অইলো, অ-ইহুদি থাকি যেরা আল্লার পথি অর, তারারে আমরা কুনু দুখ দিতাম নায়। 20তারার গেছে খালি অউ হুকুমখান লেখিয়া জানাই দেই, তারা যানু দেবতার নামর হক্কল কাম থাকি, জিনার কাম থাকি, আর গলা টিপিয়া মারা জানদারর গোস্ত খাওয়া আর লউ খাওয়া থাকি দুরই রইন। 21ই হুকুম অকল তারারে জানানিখান ভালা, কারন মুছায় যেতা তালিম দিছইন, ইতা বউত জমানা থাকি পরতেক টাউনো মানষে তবলিগ কররা, আর তাইন যেতা লেখিয়া থইয়া গেছইন, ইতা তো পরতেক জুম্মাবারে মছিদাইন্তো তিলাওত করা অর।”
22তেউ সাহাবি অকল, জমাতর মুরব্বি অকল, আর জমাতর হকল আম মানষে একমত অইলা, তারার নিজর মাজ থাকি কয়জনরে পছন্দ করিয়া পাউলুছ আর বার্নাবাছর লগে আন্তিয়খিয়াত পাঠাই দিবা। অউ তারা সিলাছ আর এহুদা উরফে বার্শাব্বা নামর অউ দুই মুরব্বিরে পছন্দ করলা। 23তারার আতো অউ চিঠি লেখিয়া পাঠাইলা: “আন্তিয়খিয়া, সিরিয়া আর কিলিকিয়ার অ-ইহুদি মুমিন ভাইয়াইন্তর গেছে, সাহাবি অকলে, জমাতর মুরব্বি অকলে, আর মুমিন অকলে ই ছালাম জানাইরাম। 24আমরা হুনলাম যেন, আমরার মাজ থাকি কয়জন মানুষ গিয়া তারার জবানদি আপনারারে অস্থির বানাইয়া পেরেশানি করার; অইলে আমরা তো তারারে ইলা কামর কুনু হুকুম দিছি না। 25এরলাগি আমরা হকলে একমত অইয়া কয়জনরে পছন্দ করিয়া, আমরার মায়ার মানুষ বার্নাবাছ আর পাউলুছর লগে করি তারারে আপনাইন্তর গেছে পাঠাইলাম, 26বার্নাবাছ আর পাউলুছ তো আমরার হজরত ইছা আল-মসীর নামর লাগি মরার জুকা অইগেছলা। 27আমরা এহুদা আর সিলাছরেও পাঠাইলাম, তারা ইতা মুখে মুখেও জানাইবা। 28পাক রুহ আর আমরা মিলিয়া অটাউ ভালা মনো করলাম যেন, অউ জরুরি তালিম অকল ছাড়া আর কুনু ভার আপনাইন্তর উপরে না গছাই। 29তে আপনারা দেবতার নামর মানা কুনু খানি, লউ, আর গলা টিপিয়া মারা জানদারর গোস্ত খাইবা না, আর জিনার কাম থাকি দুরই রইবা; ইতা থাকি হেফাজত রইলে আপনাইন্তর ভালাই অইবো। ইতি, আছছালামু আলাইকুম।”
30বাদে তারা বিদায় লইয়া আন্তিয়খিয়াত আইলা, হিনো তারা জমাতর মানষরে একখানো দলা করি চিঠিখান সমজাই দিলা। 31মানষে চিঠিখান পড়িয়া ই শান্তির নছিয়ত হুনিয়া খুশি অইলা। 32এহুদা আর সিলাছ, এরা দুইওজন নবী আছলা, এরা হিনর মুমিন অকলরে বউত লাখান ওয়াজ-নছিয়ত করিয়া উত্সাহ দিলা আর তারার ইমানি বল মজবুত করলা। 33-34হনো বাক্কা কয়দিন রওয়ার বাদে, যেরা তারারে পাঠাইছলা এরার গেছে হিরবার ফিরত আইতা করি, আন্তিয়খিয়ার মুমিন অকলরে ছালাম জানাইয়া বিদায় লইলা। 35অইলে পাউলুছ আর বার্নাবাছ আন্তিয়খিয়াত রইগেলা, তারা হিনো আরো বউতর লগে মালিকর কালামর তালিম আর খুশ-খবরি তবলিগ করাত রইলা।
হজরত পাউলুছর দুয়ারা তবলিগি ছফর (১৫:৩৬-১৮:২৩)
পাউলুছ আর বার্নাবাছর অমিল
36কয়দিন বাদে পাউলুছে বার্নাবাছরে কইলা, “আমরা যেতা জাগাইন্তো আগে মালিকর কালাম তবলিগ করছলাম, আও, হউ জাগাইন্তো হিরবার গিয়া দেখা করি। দেখিয়া আই ভাইয়াইন্তর হাল-হকিকত কিতা।” 37তেউ বার্নাবাছর খিয়াল অইলো, হান্নান উরফে মার্কুছরে লগে লইয়া যাইতা; 38অইলে পাউলুছে এনরে লগে নেওয়া ভালা মনো করলা না, কারন মার্কুছে আগে পামফুলিয়াত তারারে ফালাইয়া গেছলাগি, তারার লগে কাম করা বাদ দিলাইছলা। 39এরলাগি পাউলুছ আর বার্নাবাছর মাজে মতর অমিল অইগেল এরদায় তারা যারযির পথে আলগ অইগেলা। বার্নাবাছে মার্কুছরে লইয়া জাজো করি সাইপ্রাস দ্বীপো গেলা; 40আর পাউলুছে সিলাছরে পছন্দ করিয়া, আন্তিয়খিয়ার মুমিন অকলর জরিয়ায় মাবুদর রহমতর আতো সপা অইয়া রওয়ানা দিলা। 41তাইন সিরিয়া আর কিলিকিয়ার মাজেদি রওয়ানা করিয়া পথে পথে জমাত অকলরে আরো মজবুত করলা।
16দর্বী আর লুশ্রা টাউনো হজরত পাউলুছ
1হজরত পাউলুছ পয়লা দর্বী আর বাদে লুশ্রা টাউনো গিয়া আজিলা। লুশ্রাত তিমথি নামে একজন উম্মত আছলা, তান মা ইমানদার, মা তো ইহুদি জাতর, অইলে বাফ ইউনানি জাতর। 2লুশ্রা আর ইকনিয়া টাউনর হকল ইমানদারে তিমথির বউত তারিফ করতা। 3পাউলুছে তিমথিরে লগে নিতা করি খিয়াল করলা; তাইন তিমথিরে মছলমানি করাইলা, কারন হি জাগাইন্তর ইহুদি অকলে জানতা তিমথির বাফ অইলা ইউনানি জাতর মানুষ। 4জেরুজালেম জমাতর সাহাবি আর মুরব্বি অকলে যেতা হুকুম দিছলা, তারা টাউনে টাউনে ছফর করি করি ইতা মুমিন অকলর আতো সমজাইলা আর মানার তাগিদ দিলা। 5অউলা জমাতর মুমিন অকলর ইমান মজবুত অইলো, আর দিনে দিনে তারার পরিমান আরো বাড়িলো।
মাকিদনিয়াত হজরত পাউলুছ
6পাক রুহে হজরত পাউলুছ আর তান লগর হকলরে আছিয়া দেশো কালাম তবলিগ করতে মানা করলা, তেউ তারা ফরুগিয়া আর গালাতিয়া দেশর ভিতরেদি পার অইয়া গেলা। 7গিয়া মুশিয়ার সীমানাত আইয়া হারলে বিথুনিয়া দেশো যাইতা চাইলা, অইলে ইছার রুহে তারারে হিকানো যাইতে দিলা না, 8এরদায় তারা মুশিয়া দেশ ফালাইয়া তরোয়াছ টাউনো গেলাগি। 9রাইতর বালা পাউলুছে গাইবি এক দরশন পাইলা; তাইন দেখলা, মাকিদনিয়া দেশর এক বেটায় উবাইয়া তানরে মিনত করি কইরা, “মাকিদনিয়াত পার অইয়া আইয়া আমরারে সাইয্য করউক্কা।” 10তাইন ই আলামত দেখার বাদেউ আমরা মাকিদনিয়াত যাওয়ার লাগি তিয়ার অইলাম, আমরা বুজলাম, মাকিদনিয়ার মানষর গেছে খুশ-খবরি তবলিগ করার লাগি আল্লায় আমরারে পাঠাইরা।
11অউ আমরা তরোয়াছ ছাড়িয়া জাজো করি সুজা সামথ্রাকী দ্বীপো গেলাম, হিন থাকি বাদর দিন নিয়াপলি টাউনো গিয়া আজিলাম। 12নিয়াপলি থাকি আমরা ফিলিপি টাউনো গেলাম। ইটা অইলো মাকিদনিয়ার হকল থাকি বড় টাউন, ইনো রোমান রাজার মানুষ বসত করতা। আমরা কয়দিন অনো রইলাম। 13এক জুম্মাবারে আমরা টাউনর বাইরা গাংগর পারো গেলাম, মনো করলাম, হিকানো ইহুদি ধর্মর দোয়া করার কুনু জাগা আছে। হিনো গিয়া আমরা বেটিন্তর এক দল দেখিয়া তারার লগে মাতো বইলাম। 14আর এরার মাজে থুয়াতিরা টাউনর লুদিয়া নামর অ-ইহুদি আল্লারাইয়া এক বেটি মানুষ আছলা, এইন বাইংগনি রংগর খান্দানি কাপড়র কারবার করতা। তাইন আমরার বয়ান হুনাত আছলা, আর মাবুদে তান দিলর দুয়ার খুলিয়া দিলাইলা, যাতে তাইন পাউলুছর বয়ান দিল দিয়া হুনইন। 15তাইন আর তান ঘরর হকলে তৌবার গোছল করিয়া হারলে তাইন মিনত করি কইলা, “আপনারা যুদি আমারে মালিকর উপরে ইমানদার মনো করইন, তে আমার বাড়ি খানো আইয়া রউক্কা।” কইয়া তাইন জুরে জাতিয়া আমরারে তান বাড়িত নিলাগি।
জেল খানাত আটক আর গাইবি খালাছ পাওয়া
16একদিন আমরা যেবলা হউ দোয়া করার জাগাত যাওয়াত আছলাম, অউ সময় জিন্নাত সাধকি এক বান্দি বেটি আখতাউ আমরার ছামনে আইলো। তাই ভাইগ্য গনিয়া তাইর গিরস্ত অকলরে বউত লাভ করাইতো। 17তাই আমরার খরে খরে আইয়া চিল্লাইয়া কইলো, “ই মানুষ গুইন উপরআলার সেবক, এরা তুমরারে তরানির পথ দেখাই দিরা।” 18তাই বউত দিন ধরি ইতা করছিল, একদিন পাউলুছে বিরক্ত অইয়া তাইর বায় মুখ ফিরাইয়া হউ জিনরে কইলা, “আমি ইছা আল-মসীর নামে তুমারে ই হুকুম দিরাম, তুমি ই বেটির গেছ থাকি বার অইয়া যাওগি!” আর লগে লগেউ হি জিন বার অইয়া গেলগি।
19অইলে তাইর মুনিব অকলে তারার লাভ ফুড়াইগেল দেখিয়া, পাউলুছ আর সিলাছরে ধরিয়া টানিয়া সদরো লইয়া গেলা। 20বাদে হাকিম অকলর গেছে সমজাই দিয়া কইলা, “ই মানুষ গুইন্তে আমরার টাউনো আইয়া বেথায়া গন্ডগোল বাড়াই দিছে। এরা তো ইহুদি আর আমরা অইলাম রোমান মানুষ। 21এরা অউ জাতর কায়দা-কানুনর কথা মানষরে হিকাইরা, যেতা করা আমরার লাগি বে-আইনি।” 22আর হিনর আরো মানুষ একলগে দল বান্দিয়া পাউলুছ আর সিলাছর বিরুধিতা করলো, তেউ হাকিম অকলে এরার কাপড়-চুপড় খুলিয়া ছিংলাদি মারার হুকুম দিলা। 23আর খুব ভালাটিকে ছিংলাদি মারিয়া তারারে জেলো হারাই থইয়া, জেলর অফিসাররে হুকুম দিলা কড়াকড়ি পাহারা দেওয়ার লাগি। 24জেলর অফিসারে ই হুকুম পাইয়া হারি তারারে জেলর ভিতরর কুঠাত হারাই থইলা, আর তারার পাওত ডান্ডা-বেড়ি লাগাইলা।
25আধা রাইতকুর বালা পাউলুছ আর সিলাছে আল্লার হামদ-গজল গাইতে গাইতে দোয়া করাত আছলা, জেলর কয়দি অকলে কান পাতিয়া তারার গজল হুনলা। 26অউ সময় আখতাউ বড় এক ভৈছাল অইলো, আস্তা জেলখানার ভীত কাপিয়া উঠলো। জেলর হকল দুয়ার আর কয়দি অকলর শিকল খুলিগেল। 27তেউ জেলর অফিসারর ঘুম ভাংলো আর জেলর হকল দুয়ার খুলা দেখিয়া তান তলোয়ার বার করিয়া নিজে নিজে খুন অইযিতা চাইলা, তাইন মনো করলা, হকল কয়দি বাগিয়া গেছইনগি। 28অউ পাউলুছে দেখিয়া চিল্লাইয়া কইলা, “দম লও, দম লও, নিজর খেতি করিও না, আমরা হকলউ ইখানো রইছি।” 29তেউ অফিসারে একজনরে বাত্তি আনার হুকুম দিয়া, তাইন দৌড়াইয়া গিয়া ভিতরে হামাইলা, আর ডরর চুটে কাপি কাপি পাউলুছ আর সিলাছর পাওত পড়লা; 30বাদে পাউলুছ আর সিলাছরে বারে আনিয়া জিকাইলা, “ছাব অকল, আমি কিতা করলে জানে বাচতাম পারমু?” 31তারা জুয়াপ দিলা, “হজরত ইছার উপরে ইমান আনউক্কা, তেউ আপনে আর আপনার বাড়ির হকল জানে বাচবা।” 32পাউলুছ আর সিলাছে জেলর অফিসার আর তান বাড়ির হকলরে মালিকর কালাম হুনাইলা। 33আর হউ রাইতউ তাইন পাউলুছ আর সিলাছরে লইয়া গিয়া তারার শরিলর কাটা-চিরা ধইয়া দিলা, বাদে তাইন আর তান বাড়ির হকলে লগে লগে তৌবার গোছল করলা। 34আর তারারে তান নিজর ঘরো নিয়া খানা খাইতে দিলা। বাড়ির হকলে মিলি আল্লার উপরে ইমান আনিয়া বউত খুশি অইলা।
35বাদর দিন বিয়ানে হাকিম অকলে পুলিশ পাঠাইয়া জানাইলা, ই কয়দি অকলরে ছাড়ি দেও। 36তেউ জেলর অফিসার ছাবে পাউলুছরে জানাইলা, “হাকিম অকলে হুকুম দিছইন আপনারারে ছাড়ি দিবার লাগি, তে আপনারা বার অইয়া আউক্কা আর ছহি-ছালামতে তশরিফ নেউক্কা।” 37পাউলুছে তারারে কইলা, “আমরা রোমান মানুষ, আমরার কুনু বিচার না করিয়া হকলর ছামনে ছিংলাদি মারছইন আর জেলো হারাইছইন। অখন হাকিম অকলে আমরারে লুকাইয়া ছাড়ি দিতা চাইরা? ইতা অইতো নায়, তারা নিজে আইয়া আমরারে বার করি নেউক্কা।” 38পুলিশে গিয়া হাকিম অকলরে অউ কথা জানাইলা, হাকিম অকলে পাউলুছ আর সিলাছরে রোমান মানুষ হুনিয়া ডরাইগেলা। 39তারা পাউলুছ আর সিলাছর গেছে আইয়া মাফ চাইলা, আর তারারে বারে নিয়া টাউন থাকি হরি যাওয়ার লাগি মিনত করলা। 40তেউ তারা জেলখানা থাকি বার অইয়া আইয়া বিবি লুদিয়ার বাড়িত হামাইলা। হিকানো মুমিন অকলর লগে দেখা-সাক্ষাত করিয়া তারারে উত্সাহ দিলা, বাদে হন থাকি রওয়ানা অইলা।
17থিষলনিকি আর বিরয়া টাউনো ছফর
1হজরত পাউলুছ আর সিলাছ আমফিপুলি আর আপল্লোনিয়া টাউনর মাজেদি গিয়া থিষলনিকিত আইলা। হিনো ইহুদি অকলর একখান মছিদ আছিল; 2পাউলুছ তান নিয়ম মতোউ হি মছিদো গেলা, আর লাগা লাগা তিন জুম্মাবারে মানষরে পাক কালাম থাকি বুজাইলা। 3তাইন বুজাইলা আর পরমানও দেখাইলা, তকলিফ সইয্য করা আর মুর্দা থাকি জিন্দা অইয়া উঠা আল-মসীর লাগি জরুর আছিল। তাইন কইলা, অউ যে ইছার কথা আমি আপনারারে বুজাইরাম, এইনউ আল-মসী। 4ইতা হুনিয়া এরার মাজ থাকি কয়জনে ইমান আনিয়া পাউলুছ আর সিলাছর লগে শরিক অইলা। বউত আল্লারাইয়া ইউনানি বেটাইন আর খান্দানি বেটিনও তারার লগে শরিক অইলা। 5অইলে ইহুদি অকলে ইংসা করিয়া বাজারি গুন্ডাইন আনিয়া দল বানাইলো আর টাউনর মাজে গোলমাল লাগাই দিলো। তারা জাছুনর বাড়িত হামলা করিয়া পাউলুছ আর সিলাছরে তুকাইয়া মানষর ছামনে আনতো চাইলো। 6অইলে এরারে না পাইয়া তারা জাছুন আর আরো কয়জন মুমিনরে টানিয়া ছেছরাইয়া টাউনর সর্দার অকলর গেছে লইয়া গেল, আর চিল্লাই চিল্লাই কইলো, “অউ বেটাইন্তে আস্তা দুনিয়ারে লন্ডভন্ড করিয়া অখন অনোও আইছে। 7আর অউ জাছুনে তার নিজর বাড়িত এরারে মেহমানদারি করছে; এরা হকলে আমরার বাদশা কৈছরর হুকুম না মানিয়া কইরা, তাইন ছাড়া ইছা নামে আরক জন বাদশা আছইন।” 8অউ লাখান মাত মাতিয়া তারা সর্দার অকলরে আর আম মানষরেও উছলাইয়া দিলো। 9সর্দার অকলে জাছুন আর তান লগর হক্কলর জামানত লইয়া জামিনে ছাড়ি দিলা।
10রাইত অওয়ার বাদে মুমিন অকলে জলদি করি পাউলুছ আর সিলাছরে বিরয়াত পাঠাই দিলা। হিকানো গিয়া হারলে তারা ইহুদির মছিদো আইলা। 11থিষলনিকির ইহুদি অকল থাকি বিরয়া টাউনর ইহুদি অকল বউত খুলা-মেলা আছলা। তারা আল্লার কালাম হুনিয়া খুব গরজি অইয়া কবুল করলা, আর পাউলুছে যেতা তালিম দিরা ইতা হাছা কি না দেখার লাগি তারা পরতেক দিন আছমানি কিতাব খুলিয়া মিলাইতা। 12তারার মাজ থাকি বউত ইহুদিয়ে, আর ইউনানি থাকিও বউত খান্দানি বেটাইন-বেটিন্তে ইছার উপরে ইমান আনলা। 13অইলে থিষলনিকির ইহুদি অকলে যেবলা হুনলো, পাউলুছে বিরয়াত আইয়াও তবলিগ কররা, অউ তারাও বিরয়াত আইয়া হিনর মানষরে উছলাইয়া গোলমাল লাগাইলো। 14ইতা হুনিয়াউ মুমিন অকলে পাউলুছরে দরিয়ার পারো পাঠাই দিলা, অইলে সিলাছ আর তিমথি বিরয়াতউ রইলা। 15পাউলুছরে লইয়া যেরা রওয়ানা অইছিল, তারা তানরে লইয়া আথিনিয়াত গেলা। গিয়া হারলে পাউলুছে তারারে কইলা, সিলাছ আর তিমথিরে খুব জলদি করি তান গেছে পাঠানির লাগি, কইয়া তারারে বিদায় দিলাইলা।
আথিনিয়া টাউনো তবলিগ
16আথিনিয়াত আইয়া হজরত পাউলুছে যেবলা সিলাছ আর তিমথির লাগি বার চাইরা, অউ সময় তাইন দেখলা হি টাউনর মাজে মুর্তিয়ে ভরা, দেখিয়া তান মনর মাজে খুব কষ্ট পাইলা। 17অউ তাইন ইহুদি মছিদো গিয়া ইহুদি আর আল্লারাইয়া ইউনানি অকলরে, আর পরতিদিন বাজারো গিয়াও যেরার লগে দেখা অইতো, তারার লগেও হজরত ইছার বেয়াপারে বাতচিত করতা। 18তেউ ইফিকুরী আর স্তোয়িকী মতবাদর কয়জন পন্ডিতে তান লগে তর্ক লাগাইলা, তারা কয়জনে কইলা, “ই বক-বক কররায় কিতা হিকাইতো চায়?” আর কেউ কেউ কইলো, “মনে কয় হে কুনু বিদেশি দেবতাইন্তর কথা জানাইতো চার।” কারন পাউলুছে হজরত ইছা আর মুর্দা থাকি জিন্দা অওয়ার খুশ-খবরির কথা তবলিগ করছিলা। 19বাদে তারা পাউলুছরে আনিয়া আরেয়-পাগর মজলিছো নিয়া আজির করলা, আর তানরে জিকাইলা, “অউ যেতা নয়া শিক্ষা আপনে কইরা, ইতা কিতা আমরারেও হুনাইবা নি? 20আপনে তো কিছু আজগুবি মাত মাতিরা, তে আমরা জানতাম চাইরাম এর আসল মানিখান কিতা।” 21আথিনিয়া টাউনর মানষে আর হিনো রওরা মুছাফির অকলেও খালি নয়া নয়া বেয়াপারর মাত মাতিয়া বা হুনিয়া তারার দিন কাটাইতা।
22তেউ হজরত পাউলুছে আরেয়-পাগর মজলিছর মাজখানো উবাইয়া কইলা, “ও আথিনিয়ার মানুষ অকল, আমি দেখরাম, আপনারা হকল কামোউ খুব দেবতা ভজইন। 23আমি যেবলা পাখানিত গেছলাম, অউ সময় আপনাইন্তর পুজার হকলতা ঘুরিয়া দেখলাম, আমি দেখলাম এক পাথরর মাজে লেখা আছে, ‘অচিনা দেবতার নামে।’ তে হুনউক্কা, আপনারা না-চিনিয়া যেন পুজা কররা, আমি তান কথাউ আপনাইন্তর গেছে তবলিগ কররাম। 24আল্লা পাক, যেইন ই দুনিয়া আর এর মাজর হকলতা পয়দা করছইন, তাইন বেহেস্ত আর দুনিয়ার মালিক, তাইন তো মানষর বানাইল কুনু মন্দিরো বসত করইন না। 25তান কুনু অভাব নাই গতিকে মানষর গেছ থাকি কুনুতা নেয়ারও গরজ নাই, তাইনউ তো হক্কল মানষর জান, দম, আর হকলতা দান করইন। 26তাইন একজন মানুষ থাকি হক্কল জাতর মানুষ পয়দা করছইন, আস্তা দুনিয়াই জুড়ি বসত করার লাগি। তারা কুন আমলো কুনানো বসত করবা ইটাও তাইন ফয়ছালা করি দিছইন। 27আল্লায় ই কাম করছইন যাতে মানষে তানরে তালাশ করইন, আর তুকাই তুকাই তান দিদার পাইন। অথচ তাইন আমরা কেউরর গেছ থাকি দুরই নায়। 28আপনাইন্তর কয়জন কবিয়েও কইছইন, ‘তান কুদরতেউ আমরার জিন্দেগি, গতি আর ঠাই।’ আর, ‘আমরাও তান ওয়ারিশ।’
29“আর আমরা যেবলা আল্লার ওয়ারিশ, তে আল্লার ছুরতরে মানষর খিয়াল-মর্জিয়ে বানাইল সোনা-রুপা বা পাথরর মুর্তি মনো করা আমরার লাগি উচিত নায়। 30আগর জমানার মানষে ইতা জানতা না গতিকে আল্লায় ইতারে কছুর মনো করছইন না, অইলে অখন তাইন হকল জাগার হক্কল মানষরে মন বদলাইয়া তৌবা করার লাগি হুকুম দিরা। 31তাইন তো অউলা এক দিনও ঠিক করছইন, যেদিন তান পছন্দর হক্কানি মানষর আতানে দীন-দুনিয়ার হক বিচার করাইবা। ইটারে একিন করার লাগি তাইন হউ মানষরে মুর্দা থাকি জিন্দা করিয়া এর পরমানও দেখাইছইন।”
32মুর্দা অকল হিরবার জিন্দা অইয়া উঠবা ইখান হুনিয়া কেউ কেউ আসা-আসি করলো, আর কেউ কেউ কইলো, “আপনার ই বেয়াপার খান আমরা আরকবার হুনমু।” 33অউ লাখান করি পাউলুছে হি মজলিছ থাকি উঠিয়া গেলাগি। 34অইলে কেউ কেউ তান লগে একমত অইলা আর ইমানও আনলা। এরার মাজে দিয়নুসিয় নামে আরেয়-পাগর একজন মেম্বার, দামারিস নামর একজন বেটি মানুষ আর আরো কয়জনে ইমান আনলা।
18করিন্থ টাউনো হজরত পাউলুছ
1বাদে হজরত পাউলুছ আথিনিয়া ছাড়িয়া করিন্থ টাউনো আইলা। 2হিনো আইয়া হারলে আকিল নামর একজন ইহুদির লগে তান দেখা অইলো। এন বাড়ি পন্ত দেশো, রোমান বাদশা কেলাদুছে ইহুদি অকলরে রোম থাকি হরি যাওয়ার হুকুম দিছলা গতিকে, আকিলে তান বউ ফিছকিলারে লগে লইয়া থুড়া কয়দিন আগে ইতালি থাকি করিন্থত আইছলা। পাউলুছ তারার কান্দাত গেলা। 3তাইনও তারার লাখান তাম্বু বানানির কাম করতা গতিকে তাইন তারার লগে রইয়া অউ কামো লাগলা। 4পরতেক জুম্মাবারে পাউলুছ ইহুদি মছিদো গিয়া ইছার বেয়াপারে বাতচিত করতা, তাইন ইউনানি আর ইহুদি অকলরে ইমান আনার লাগি তাগিদ দিতা।
5হজরত সিলাছ আর তিমথি মাকিদনিয়া থাকি আইয়া হারলে, পাউলুছে খালি আল্লার কালামর তবলিগ করতা। তাইন ইহুদি অকলরে বুজাইতা, হজরত ইছাউ অইলা আল-মসী মানি আল্লার খাছ পছন্দ করা জন। 6অইলে ইহুদি অকলে যেবলা পাউলুছর বিরুধিতা আর বদনাম গাওয়াত লাগলা, ই সময় তাইন নিজর লেবাছর ধুইল ঝাড়িয়া ফালাইয়া কইলা, “আপনাইন্তর লউর দায় আপনাইন্তর মাথাতউ রউক। আমি আমার দায়িত্ব থাকি খালাছ পাইলাম। অখন থাকি অ-ইহুদি অকলর মুখা পথ ধরলাম।” 7কইয়া হারি হন থাকি তিতিয়-ইউছতুছ নামর একজন আল্লারাইয়া মানষর বাড়িত গেলা। এন বাড়ি আছিল মছিদর লগে। 8মছিদর মুতল্লি কিরিস্পো ছাব আর তান বাড়ির হকলে মালিকর উপরে ইমান আনলা। আর পাউলুছর বয়ান হুনিয়া করিন্থিয় অকলর মাজে বউতে ইমান আনিয়া তৌবার গোছল করলা। 9রাইতর বালা মাবুদে পাউলুছরে দরশন দিয়া কইলা, “ডরাইও না, তবলিগ চালাইয়া যাও, মুখ বন্দ করিও না। 10আমি তুমার লগে লগে আছি, কেউ তুমারে হামলা করিয়া তুমার খেতি করতো নায়। কারন ই টাউনো আমার বউত প্রজা আছইন।” 11অউ পাউলুছ দেড় বরছ ধরি হনো রইয়া মানষরে আল্লার কালাম তালিম দিলা।
12বাদে গালিওন যেবলা গ্রীস দেশর হাকিম আছলা, অউ সময় ইহুদি অকল একলগে মিলিয়া পাউলুছরে ধরিয়া বিচার করানির লাগি রাজ দরবারো নিয়া কইলা, 13“অউ বেটায় আমরার শরিয়তর হুকুমর উল্টা তালিম দিয়া কর, আমরাও অউলা আল্লার এবাদত করতাম।” 14অইলে পাউলুছে যেবলা জবানবন্দি দিতা চাইলা, অউ সময় গালিওনে ইহুদি অকলরে কইলা, “ও ইহুদি অকল, ইটা যুদি কুনু অইন্যায় বা দুষর কাম অইতো তে তুমরার নালিশ আমি হুনলাম অনে। 15অইলে ইটা যেবলা কুনু খাছ বুলি বা নাম বা তুমরার শরিয়তর ফিরকা, তে ইতা বিষয়-আসয় তুমরাউ ফয়ছালা করিলাও, ইতা মাতর লাগি আমি বিচার করতাম চাই না।” 16কইয়া হারি তাইন আদালত থাকি ইতারে বার করি দিলাইলা। 17তেউ মানষে ইহুদি মছিদর খাদিম সোছিনরে ধরিয়া আদালতর ছামনে মাইর-ধইর করলা। অইলে গালিওনে ইমুখা ফিরিয়াউ চাইলা না।
তবলিগি ছফর হেশে হিরবার আন্তিয়খিয়াত
18পাউলুছ আরো বউত দিন করিন্থত রওয়ার বাদে, মুমিন অকলর গেছ থাকি বিদায় লইয়া সিরিয়া দেশো যাইতা করি কিংক্রিয়া নামর জাজ ঘাটো আইলা, আকিল আর ফিছকিলাও তান লগে আইলা। পাউলুছর এক মান্নত আছিল করি অনো আইয়া তান মাথার চুল কামাইয়া জাজো উঠলা। 19বাদে ইফিছ টাউনো আইয়া পাউলুছে হি দুইও জনরে অনো থইয়া, তাইন মছিদো হামাইয়া ইহুদি অকলর লগে হজরত ইছার বেয়াপারে বাতচিত করলা। 20ইহুদি অকলে তানরে কয়দিন তারার গেছে রওয়ার লাগি মিনত করলেও, তাইন রাজি অইলা না। 21তাইন এরার গেছ থাকি বিদায় লইয়া কইলা, “ইনশাল্লা, আমি হিরবার আইমু।” কইয়া তাইন ইফিছ থাকি জাজো করি রওয়ানা অইগেলা।
22আর কৈছরিয়াত আইয়া হারলে জাজ থাকি লামিয়া জেরুজালেমো গেলা, গিয়া জমাতর মানষর লগে মুলাকাত করিয়া হন থাকি আন্তিয়খিয়াত আইলা। 23আন্তিয়খিয়াত কয়দিন কাটানির বাদে হিকান থাকি রওয়ানা দিয়া, গালাতিয়া আর ফরুগিয়া দেশর জাগায় জাগায় ঘুরিয়া মুমিন অকলর ইমানি বল মজবুত করলা।
হজরত আপল্লছর তবলিগ কাম
24এর মাজে আপল্লছ নামর একজন ইহুদি ইফিছ টাউনো আইলা। তান বাড়ি আলেকজান্দ্রিয়া টাউনো, তাইন সুন্দর করি ওয়াজ করইন, আর আছমানি কিতাবও খুব ভালা বুজইন। 25মালিকর তরিকার ইলিমও তান আছিল, তাইন রুহে গরম অইয়া হজরত ইছার বেয়াপারে ছহি-শুদ্ধ ওয়াজ-নছিয়ত করতা আর তালিম দিতা। অইলে তাইন খালি হজরত এহিয়ার তরিকার তৌবার গোছল ছাড়া আর কুনু তৌবার গোছলর কথা জানতা না। 26তাইন খুব হিম্মত করিয়া মছিদো গিয়া ওয়াজ করতা। ফিছকিলা আর আকিলে তান ওয়াজ হুনিয়া তানরে তারার বাড়িত দাওত দিলা, আর আল্লার রাস্তা আরো ভালা করি বুজাইয়া দিলা। 27বাদে আপল্লছ যেবলা গ্রীস দেশো যাইতা চাইলা, ই সময় ইমানদার অকলে তানরে উত্সাহ দিলা, আর তানরে কবুল করতা করি উম্মত অকলর গেছে চিঠিও দিলা। তেউ তাইন গিয়া গ্রীসো আজির অইলা, আর আল্লার রহমতে যেরা ইমান আনছিলা তারার বউত ফায়দা অইলো। 28আর হজরত ইছাউ যেন আল-মসী, অউ কথা তো তাইন পাক কিতাব থাকি পরমান দেখাইয়া, মানষর ছামনে হিম্মত করি ইহুদি অকলরে এক্কেরে লা-জুয়াপ বানাইলা।
19হজরত পাউলুছর তিন নম্বর ছফর (১৯:১-২১:১৪)
ইফিছ টাউনো হজরত পাউলুছ
1আপল্লছ যেবলা করিন্থত আছলা, অউ সময় হজরত পাউলুছ আছিয়া দেশর মাজেদি ইফিছ টাউনো আইলা। হিকানো কয়জন উম্মতর লগে দেখা অওয়ায়, 2তাইন এরারে জিকাইলা, “আপনারা ইমান আনার সময় কিতা পাক রুহ হাছিল করছলা নি?” তারা জুয়াপ দিলা, “পাক রুহ আরকতা কিতা, ইতা তো আমরা হুনছিউ না।” 3পাউলুছে তারারে কইলা, “তে আপনারা কুন তরিকায় তৌবার গোছল করছলা?” তারা কইলা, “এহিয়া নবীর তরিকায়।” 4অউ তাইন কইলা, “গুনা থাকি মন বদলাইলে যে গোছল করাইল অয়, অটাউ অইলো হজরত এহিয়ার তরিকার গোছল, অইলে এহিয়ায় তো তালিম দিছলা, তান বাদে যেইন তশরিফ আনরা, মানি হজরত ইছার উপরেও ইমান আনা লাগবো।” 5ই নছিয়ত হুনার বাদে তারা হজরত ইছার নামে তৌবার গোছল করলা। 6বাদে পাউলুছে তারার উপরে আত রাখলে তারা পাক রুহ পাইলা, তেউ এরা নানান গাইবি ভাষায় মাতিলা আর পীরাকি মাত মাতা ধরলা। 7এরা হকলে মিলিয়া অনুমান বারো জন আছলা।
8বাদে তাইন ইহুদির মছিদো গিয়া একলাগারে তিন মাস হিম্মত করিয়া তবলিগ করলা, আল্লার বাদশাইর বেয়াপারে যুক্তি-তর্ক দেখাইয়া তারারে বুজাইলা। 9এরার মাজে কয়জনর দিল না-হুমার অওয়ায় তারা ইমান আনলা না, তারা হকলর গেছে ইছার তরিকার গিবত গাইতা। তেউ পাউলুছে এরার গেছ থাকি হরিয়া উম্মত অকলরে আলগাইয়া তান লগে রাখলা, আর পরতেক দিন তুরান্ন নামর এক উস্তাদর টংগিত গিয়া তারারে তালিম দিলা। 10অউলা দুই বছর গুজরার বাদে আছিয়া দেশর ইহুদি আর ইউনানি, হক্কলর কানোউ মাবুদর কালাম পৌছি গেল।
11আল্লায় হজরত পাউলুছর আতানে আচানক কেরামতি কাম জাইর করাইলা। 12হেশে অউলাও অইলো যেন, তান গতরর কাপড় বা গামছা খানও কুনু বেমারি মানষর কাছাত নিলেউ বেমার ভালা অইযিতো, আর জিন-ভুতেও বেমারি ছাড়িয়া বাগিতা। 13এরমাজে কয়জন ঘুরিয়া পাখাইয়া খাওরা ইহুদি তাবজাতি মোল্লায়ও হজরত ইছার নাম লইয়া জিন-ভুত ছাড়াইতো চাইলো, তারা অউলা কইতো, “পাউলুছে যেন নামে তবলিগ করইন, হউ ইছার দোয়াই দিয়া, আমি তুমরারে বার অইয়া যাওয়ার হুকুম দিরাম।” 14এরার মাজে স্কিবা নামর একজন ইহুদি পরধান ইমামর সাত পুয়ায়ও অউলা করতো। 15তেউ একদিন ভুতে তারারে জুয়াপ দিলো, “আমি ইছারেও চিনি, পাউলুছরেও চিনি, অইলে তুমরা কে?” 16কইয়াউ যে বেটারে ভুতে ধরছিল হি বেটায় তারার উপরে ফাল দিয়া পড়িয়া মাইর-ধইর করিয়া তারা সাতো জনরে আরাইলো। মাইরে তারার শরিল ছিড়িয়া-বিড়িয়া জখম অইগেল, তারা লেমটা অইয়া ই বাড়ি থাকি বাগিলা। 17ই খবর যেবলা ইফিছর ইহুদি আর ইউনানি অকলে জানলা, তে তারা হক্কলে ডরাইগেলা, আর চাইরোবায় হজরত ইছার নামর মহিমা জাইর অইলো। 18যেরা হজরত ইছার উপরে ইমান আনছিল, এরা বউতে আইয়া হারি খুলা-মেলা করি তারার বাদ কামর কথা স্বীকার আর জাইর করলা। 19আর যেরা যাদু-টুনার কাম করতো, তারার মাজেও বউতে তারার যাদু-টুনার বইয়াইন আনিয়া দলা করি হকলর ছামনে জালাইলিলা। ই বইয়াইন্তর দাম হিসাব করিয়া দেখা গেল পইঞ্চাশ আজার রুপার দিনার। 20অউ লাখান করি মালিকর কালাম বউত বাড়িলো আর মানষর মাজে খুব কাম করলো।
21ইতা ঘটার বাদে পাউলুছে মনে মনে নিয়ত করলা, তাইন মাকিদনিয়া আর গ্রীস অইয়া জেরুজালেমো যাইতাগি, তাইন কইলা, “জেরুজালেম যাওয়ার বাদে আমি রোম টাউনোও যাওয়া জরুর।” 22বাদে তাইন তিমথি আর ইরাস্তাছ নামর তান দুইও খাদিমরে মাকিদনিয়াত পাঠাইয়া, নিজে আরো কয়দিন আছিয়া দেশো রইলা।
23অউ সময় ইছার তরিকার বিষয় লইয়া বউত গন্ডগোল লাগল। 24কারন দিমিত্রি নামে একজন বানিয়ায় আর্তেমিছ দেবীর মন্দিরর নমুনায় রুপাদি হুরু হুরু মন্দির বানাইতো, আরো বউত বানিয়ায়ও অউ কাম করিয়া বউত লাভ করতো। 25হে অউ বানিয়া অকলরে আর তারার লগি অকলরেও একখানো দলা করিয়া কইলো, “ভাই অকল, তুমরা তো জানরায়, ই কারবার থাকি আমরা ভালা লাভ পাইরাম। 26অইলে তুমরা দেখরায় আর হুনরায়ও, পাউলুছ নামর অউ বেটায় খালি আমরার ইফিছোউ নায়, কইতে গেলে আস্তা আছিয়া জুড়ি বউত মানষরে কইছে আর একিন করাইছে, আতর বানাইল দেব-দেবী অকল বুলে কুনু দেবতাউ নায়। 27এরলাগি অখন ডর করের, খালি আমরার কারবাররউ বদনাম অইবো ইলা নায়, অইলে মহাদেবী আর্তেমিছর মন্দিরও বেকামা অইযিবো, আর আছিয়া দেশর হক্কল মানষে আর হারা দুনিয়াইয়ে মিলিয়া যেন পুজা করে, তাইনও নিজর ইজ্জত আরাইবা।”
28ইতা হুনিয়া তারা গুছায় আগুইন অইয়া জুরে জুরে চিল্লাইয়া কইলা, “ইফিছিয়ার আর্তেমিছ দেবী, জিন্দাবাদ!” 29লগে লগে আস্তা টাউনো গন্ডগোল লাগিগেল; মানষে মাকিদনিয়ার গউছ আর আরিস্তাকুছ নামর পাউলুছর লগর দুইজনরে ধরিয়া, একলগে পাল বান্দিয়া দৌড়াইয়া ষ্টেডিয়ামো লইয়া গেলা। 30হজরত পাউলুছ অউ ভিড়র ছামনে যাইতা চাইলা, অইলে মুমিন অকলে তানরে আটকাইল্লা। 31আছিয়া দেশর সরকারি অফিসারর মাজে কয়জন আছলা পাউলুছর দুস্ত, এরা খবরিয়াদি তানরে জানাইলা, তাইন হি ভিড়র ছামনে গিয়া নিজর মছিবত ডাকিয়া আনতা না। 32ভিড়র মাজে মানষে খুব চিল্লা-চিল্লি আর গেইনজাম লাগাইলা। বেশির ভাগ মানষে জানতাউ না ইনো কিতা অইছে, তারা একজনে এক লাখান, আরক জনে আরক লাখান মাতিলা। 33তেউ কয়জন ইহুদিয়ে ছিকন্দর নামর একজনরে ছামনে ঠেলিয়া দিলো ভাষন দিবার লাগি। তাইন আতদি ইশারা দিলা, যাতে মানুষ নিরাই অইয়া তান বখতিতা হুনইন। 34অইলে মানষে যেবলা বুজলা, এইনও ইহুদি, তেউ তারা আরো জুরে জুরে অনুমান দুই ঘন্টা ধরি চিল্লাইয়া কইলা, “ইফিছিয়ার আর্তেমিছ দেবী, জিন্দাবাদ!” 35হেশে টাউনর চেয়ারম্যানে মানষরে নিরাই করাইয়া কইলা, “ও ইফিছিয়া অকল, কউক্কা ছাইন, কুন মানুষগুয়ে না জানে যেন, ই ইফিছ টাউন অইলো মহান আর্তেমিছ দেবীর মন্দির আর আছমান থাকি তান যেতা মুর্তি লামাত পড়ছে এর রইক্ষা করনেআলা? 36আর ই হাছা কথা কেউ যেবলা খন্ডাইতো পারতো নায়, তে বেবুতার লাখান কুনু কাম না করিয়া তুমরা নিরাই অও। 37অউ মানষে তো আমরার মন্দিরো চুরিও করছে না, আমরার দেবীর কুনু বদনামও করের না, তা-ও তুমরা এরারে ধরিয়া আনছো। 38তে হুনো, দিমিত্রি আর তার লগর বানিয়া অকলর যুদি কুনু নালিশ থাকে, তে আদালত তো খুলা আছে, হাকিম অকলও আছইন, তারা হনো গিয়া যারযির মামলা-মকদ্দমা করউক। 39অইলে তুমরার আর কুনু দাবি-দাওয়া থাকলে ইতা নিয়ম মাফিক মজলিছো বইয়া মিট-মাট করা অইবো। 40আসলে আইজকুর ই গেইনজাম লাগানির লাগি আমরার উপরেউ দুষ পড়তো পারে, ই গন্ডগোল লাগানির কুনু কারন দেখাইতাম পারতাম নায়।” 41অখান কইয়া তাইন মজলিছ ভাংগি দিলা।
20মাকিদনিয়া আর গ্রীস দেশো দুয়ারা ছফর
1গেইনজাম শেষ অওয়ার বাদে হজরত পাউলুছে মুমিন অকলরে খবরদি আনাইলা, তারা আইয়া হারলে তাইন তারারে উত্সাহ দিয়া, ছহি-ছালামতে বিদায় লইয়া মাকিদনিয়াত যাইতা করি রওয়ানা অইলা। 2মাকিদনিয়ার মাজেদি যাইতে যাইতে মুমিন অকলরে বউত উত্সাহ দিয়া, গ্রীস দেশো আইয়া আজিলা। 3অনো আইয়া তিন মাস রওয়ার বাদে যেবলা জাজো করি সিরিয়া দেশো যাইতা চাইলা, অউ সময় ইহুদি অকলে তান বিপক্ষে কু-মতলব করের হুনিয়া, তাইন মাকিদনিয়ার মাজেদি যাইতা করি নিয়ত করলা। 4আর বিরয়া টাউনর পুরছর পুয়া ছুপাতছ, থিষলনিকির আরিস্তাকুছ আর সিকুন্দছ, দর্বী শহরর গউছ, তিমথি, আর আছিয়া দেশর তুখিক আর তফিম, এরা হক্কল পাউলুছর লগে গেলা। 5এরা আগে অইয়া তরোয়াছ টাউনো গিয়া আমরার লাগি বার চাওয়াত আছলা। 6বাদে খামির ছাড়া রুটির ইদ শেষ অইগেলে আমরা জাজো করি ফিলিপি থাকি রওয়ানা দিয়া, পাচ দিন বাদে তরোয়াছ আইয়া তারার লগে মিললাম, অনো সাতদিন রইলাম।
হজরত পাউলুছে এক মুর্দারে জিন্দা করা
7হাপ্তার পয়লা দিন ইছার মেজবানি খাওয়ার লাগি আমরা একখানো দলা অইলে, পাউলুছ বাদর দিন যাইতাগি করি মাজ রাইত পর্যন্ত মুমিন অকলর গেছে ওয়াজ করলা। 8আমরা উপরর তালার যে ঘরো বইছলাম হিকানো বউত বাত্তি আছিল। 9আর উতুখ নামর এক জুয়ান পুয়া খিড়কির উপরে বওয়াত আছিল, পাউলুছে বউত সময় ধরি ওয়াজ করায় হে হুনি হুনি ঘুমাই গেছিল, আখতাউ হে তিন তালা থাকি লামাত পড়িগেল। তেউ মানষে তারে মরা হালতে তুললা। 10পাউলুছ লামাত লামিয়া পুয়ার উপরে কাইত অইয়া আইঞ্জা করি ধরিয়া কইলা, “তুমরা উলইস্তল করিও না, তার ভিতরে তো জান আছে।” 11বাদে তাইন হিরবার উপরর তালাত গিয়া মেজবানি খাইলা, খাইয়া হারলে ফজর পর্যন্ত বাতচিত করিয়া বিদায় লইলা। 12এর মাজে অউ পুয়ারে মানষে জিতা হালতে বাড়িত নিয়া যার পর নাই খুশি অইলা।
13আমরা আগে গিয়া জাজো করি আসোস ঘাটর বায় রওয়ানা অইলাম, মনো করলাম পাউলুছরে হন থাকি তুলমু। কারন তাইন খিয়াল করছলা আটিয়া হিকানো গিয়া উঠতা। 14আসোস আইয়া তাইন আমরার লগে মিলার বাদে, আমরা তানরে জাজো তুলিয়া মিতুলীনীত আইলাম। 15বাদর দিন আমরা জাজ খুলিয়া হিকান থাকি রওয়ানা অইয়া খিওস দ্বীপর কান্দাত আইলাম; এর বাদর দিন আমরা সামোস দ্বীপো রইলাম, তার বাদর দিন গিয়া আমরা মিলীতা ঘাটো ভিড়িলাম। 16আছিয়া দেশো পাউলুছে দেরি করার খিয়াল না অওয়ায় তাইন মনে মনে ঠিক করছলা, ইফিছো না হামাইয়া এর গালাবায় যাইবাগি, তাইন জলদি করি জেরুজালেমো গিয়া হারি পঞ্চাইশা ইদ হনো আদায় করতা চাইলা।
ইফিছ জমাতো আখেরি বয়ান
17মিলীতা থাকি পাউলুছে খবরিয়া পাঠাইয়া ইফিছর জমাতর মুরব্বি অকলরে আনাইলা। 18তারা আইয়া পৌছার বাদে পাউলুছে কইলা, “আপনারা তো জানইন, আছিয়া দেশো আইয়া হারলে আমি পয়লা দিন থাকিউ কিলা আপনাইন্তর লগে সময় কাটাইছি। 19ইহুদি অকলর বউত জাতর কু-পরামিশ থাকি, তারার পাতাইল ফন্দির মাজেও আমি পুরাপুর নরম দিলে, চউখর পানি ফালাইয়া মাবুদর গুলামি করছি। 20আপনারার ফায়দা অইবো ইলা কুনু তালিমউ না লুকাইয়া পুরাপুর জানাইছি, খুলা-মেলা মজলিছো আর ঘরো ঘরো গিয়া তালিম দিতেও না করছি না। 21ইহুদি আর ইউনানির গেছে তবলিগ করিয়া বুজাইছি, তারার গুনার মন বদলাইয়া আল্লার পথি অইতা, আর আমরার মালিক হজরত ইছার উপরে ইমান আনতা। 22আর অখন পাক রুহর হুকুমবন্দি অইয়া আমি জেরুজালেমো যাইরাম, হিকানো আমার কুন দশা অইবো, জানি না। 23খালি অউ খবরখান জানি, পাক রুহে হক্কল টাউনো আমারে অউ কথা জানাইরা, তকলিফ আর জেল খাটা আমার লাগি বার চার। 24অইলেও আমার নিজর জানর পরোয়া করি না, আমার জানরে অতো মুল্যবান মনো করি না। আমি ইরাদা করা পথর হেশ ঠিকানা পর্যন্ত দৌড়াইতাম চাইরাম। আল্লার রহমতর খুশ-খবরির তবলিগ আর খেজমতর অউ যে ভার হজরত ইছার গেছ থাকি পাইছি, এর ইঞ্জাম দিতাম চাইরাম। 25অখন আমি এওখানও জানি, আপনারা যেরার মাজে আমি আল্লার বাদশাইর কথা তবলিগ কররাম, অউ আপনাইন্তর লগেও আর কুনু দিন দেখা অইতো নায়। 26এরলাগি আমি আইজ আপনাইন্তর গেছে অউ জবানবন্দি দিরাম, হক্কলর লউর দায় থাকি আমি খালাছ। 27আমি আল্লা পাকর হকল লাখান মর্জির কথা আপনাইন্তর গেছে বয়ান করতে খরেদি গেছি না। 28আপনারা যারযির বেয়াপারে হুশিয়ার অউক্কা। পাক রুহে আপনারারে যেরার চালকদার বানাইছইন, তারার বেয়াপারে হুশিয়ার অউক্কা। আল্লায় তান নিজর জনরেদি যেরারে খরিদ করছইন, হি জমাতরে পুরাপুর দেখা-হুনা করউক্কা, যেলা রাখালে তার মেড়ার পালর দেখা-হুনা করে, ইমাম অইয়া আপনারাও অউলা করউক্কা। 29আমি জানি, আমি যাওয়ার বাদে তুমরার মাজে পাগলা বাঘর ছুরতর মানুষ আইয়া হামাইবা, তারা নির্দয় অইয়া পালর বউত খেতি করবা। 30আর আপনাইন্তর নিজর মাজ থাকিও কেউ কেউ মুমিন অকলরে তার খরে নেওয়ার লাগি, হাছা তালিমরে মিছা কইয়া নয়া তালিম বার করবো। 31এরলাগি আপনারা হজাগ রউক্কা, আর মনো রাখবা, আমি তিন বরছ ধরিয়া রাইত দিন চউখর পানি ফালাইয়া আপনারারে হুশিয়ার করতে দম লইছি না। 32অখন আল্লা আর তান রহমতর কালামর জিম্মায় আমি আপনারারে সপিলাম। আল্লার ই কালামে আপনারারে গড়িয়া তুলব আর তান পাক বন্দা অকলর লাগি ওয়াদা করা বেহেস্তি মঞ্জিলো পৌছাই দিবো। 33আমি তো কেউরর সোনা-রুপা বা কাপড়-চুপড়র বায় লালছ করছি না। 34আপনারা নিজেউ তো জানইন, আমার আর আমার লগি অকলর অভাব মিটানির লাগি আমি দুইও আতে কাম করছি। 35আমি হকল লাখান কামর মাজে নমুনা দেখাইছি, অউ লাখান কাম করিয়া দুর্বল অকলরে সাইয্য করা জরুর। হজরত ইছার তালিমরে মনো রাখো, তাইন নিজে বাতাইছইন, নেওয়ার চাইতে দেওয়া ধইন্য।”
36অখান কইয়া হারলে, পাউলুছে আটু গাড়িয়া হকলর লগে দোয়া করলা। 37বাদে জমাতর হকলে মিলিয়া খুব কান্দন কান্দিলা, আর পাউলুছরে আইঞ্জা করি ধরিয়া হুংগা দিলা। 38খাছ করি পাউলুছর অউ কথার লাগি বেশি কান্দিলা, তাইন কইছলা, তান মুখ তারা আর দেখতা নায়। বাদে তারা তান লগে অইয়া গিয়া জাজো তুলিয়া দিলা।
21জেরুজালেমো আখেরি ছফর
1ইফিছর জমাতর মুরব্বি অকলর গেছ থাকি বিদায় লইয়া, জাজ খুলিয়া হারি আমরা সুজা পথে কোস নামর দ্বীপো আইলাম, বাদর দিন আমরা রোদস দ্বীপো আইলাম, হন থাকি পাতারা নামর টাউনো গেলাম। 2হনো গিয়া হারলে ফৈনিকিয়াত যাওরা একখান জাজ পাইলাম, আমরা হউ জাজে রওয়ানা দিলাম। 3আর যেবলা সাইপ্রাস দ্বীপ দেখলাম, অউ সময় দ্বীপর ডাইন গালাবায় গিয়া আমরা সিরিয়া দেশর সোর টাউনো আইয়া লামলাম। হিকানো জাজর মাল-ছামানা লামাই দিলো। 4হনর মুমিন অকলরে তুকাইয়া হারি আমরা সাত দিন তারার গেছে রইলাম; তারা পাক রুহর মারফতে পাউলুছরে মিনত করলা, তাইন যানু জেরুজালেমো না যাইন। 5ইনো কয়দিন কাটানির বাদে আমরা হিরবার রওয়ানা অইলাম, তেউ তারা হক্কলে বউ-বাইচ্চা লইয়া টাউনর বারে আইয়া আমরারে আগুয়াই দিলা। বাদে দরিয়ার পারো আমরা আটু গাড়িয়া দোয়া করলাম। 6দোয়া বাদে যারযির পথে বিদায় লইয়া আমরা জাজো উঠলাম, আর তারা নিজর বাড়িত গেলাগি।
7সোর থাকি রওয়ানা অইয়া আমরা জাজর ছফর শেষ করিয়া তলিমায়িত আজিলাম, হনর মুমিন অকলরে ভালা-বুরা জিকানির বাদে আমরা তারার লগে একদিন রইলাম। 8বাদর দিন আমরা বিদায় লইয়া কৈছরিয়াত আইলাম, আর তবলিগ কামর বুজুর্গ ফিলিফর বাড়িত গেলাম। এইন তো জেরুজালেমর হউ সাত খাদিমদারর একজন। 9তান চাইরজন আবিয়াতি পুড়িন আছলা, এরা নবীর লাখান ওহী কইতা। 10বাক্কা কয়দিন হনো রওয়ার বাদে আগাবুছ নামর একজন নবীয়ে এহুদিয়া থাকি তশরিফ আনলা। 11তাইন আইয়া হারি পাউলুছর কমরর তাগা খুলিলিলা, আর ইটাদি নিজর আত-পাও বান্দিয়া কইলা, “পাক রুহে অউলা কইরা, জেরুজালেমর ইহুদি অকলে অউ কমরর তাগা আলারে অউলা বানবা, আর অ-ইহুদি অকলর আতো সপিয়া দিবা।” 12ইতা হুনিয়া হিনর মানষে আর আমরাও পাউলুছরে বউত মিনত করলাম, তাইন যানু জেরুজালেমো যাওয়া বাদ দিলাইন। 13পাউলুছে কইলা, “তুমরা ইতা কিতা লাগাইলায়? কান্দিয়া আমার মন ভাংগি দিরায় কেনে? হজরত ইছার লাগি আমি জেরুজালেমো খালি বন্দি অওয়াউ নায়, মরতেও তিয়ার আছি।” 14তানরে কথা হুনাইতাম না পারিয়া আমরা নিরাই অইগেলাম, আর কইলাম, “মাবুদর মর্জি কাইম অউক।”
বন্দি হালতে হজরত পাউলুছ (২১:১৫-২৮:৩১)
হজরত পাউলুছ জেরুজালেমো আটক
15বাদে আমরা মাল-ছামানা গাইট বান্দিয়া জেরুজালেমো রওয়ানা দিলাম। 16কৈছরিয়া টাউনর কয়জন মুমিনও আমরার লগে আইলা, আর সাইপ্রাস দ্বীপর মেনাসন নামর একজন পুরানা ইমানদারর বাড়িত আমরারে লইয়া গেলা। এন বাড়িতউ আমরা রওয়ার কথা আছিল।
17জেরুজালেমো আওয়ার বাদে মুমিন অকলে খুশি অইয়া আমরারে কবুল করলা। 18বাদর দিন পাউলুছে আমরারে লইয়া হজরত ইছার ভাই ইয়াকুবর লগে মুলাকাত করলা। হিকানো জমাতর মুরব্বি অকলও আইলা। 19পাউলুছে এরারে ভালা-বুরা জিকাইয়া হারলে, তান তবলিগর মাজদি আল্লায় কিলান অ-ইহুদি অকলর মাজে দীনি কাম হাছিল করছইন, ইতা হকলতা এক এক করি তারার গেছে বয়ান করলা। 20ইতা হুনিয়া মুরব্বি অকলে আল্লার তারিফ করলা আর তানরে কইলা, “ভাই, তুমি তো দেখরায়, আজার আজার ইহুদিয়ে হজরত ইছার উপরে ইমান আনছইন, আর তারা হকলেউ হজরত মুছার শরিয়তরে আমল করার খিয়াল আছে। 21অইলে তারা অউ খবরও পাইছইন, অ-ইহুদি অকলর লগে যেতা ইহুদি অকল থাকইন, তারারে তুমি তালিম দিছো মুছার শরিয়ত বাদ দিলাইতা করি, তারা যানু হুরুতাইন্তর মছলমানি করানি বাদ দিলাইন আর ইহুদি অকলর রেওয়াজও না মানইন। 22তে কিতা করা যায়? তারা তো নিচয় হুনবা তুমি আইছো। 23অখন আমরা তুমারে যেলা কই, তুমি অউলা করিলাও। আমরার মাজে চাইরজন বেটাইন আছইন, তারা একখান মান্নত করছইন; 24তুমি তারারে লগে লইয়া যাও, তারার লগে গিয়া তুমি আর তারার পাক-ছাফ অওয়ার খরচ আর মাথার চুল কামানির পয়সাও দিলাও। তেউ হকলে জানবা, তুমার নামে তারা যেতা খবর পাইছইন, ইতা কুন্তাউ নায়, আসলে তুমি নিজেও মুছার শরিয়ত আর রেওয়াজ মানরায়। 25অইলে যেতা অ-ইহুদি অকলে ইমান আনছইন, তারারে আমরার অউ ফয়ছালা লেখিয়া জানাই দিছি, দেবতার নামে নিয়ত করা খানি খাইতা না, লউ খাইতা না আর গলা টিপিয়া মারা কুনু জানদারর গোস্ত খাইতা না, কুনু জাতর জিনার কামো যাইতা না।” 26তেউ পাউলুছে হউ মানুষ অকলরে লগে লইয়া গিয়া, তারার লগে নিজরেও পাক-ছাফ করলা। বাদর দিন বায়তুল-মুকাদ্দছো হামাইলা, আর তারার পাক-ছাফ অওয়ার লাগি পশু কুরবানি কুনদিন দেওয়া অইবো, এও তারিখ জানাই দিলা।
27পাক-ছাফ অওয়ার নিয়মর হি সাত দিন শেষ না অইতেউ, আছিয়া দেশর কয়জন ইহুদিয়ে পাউলুছরে বায়তুল-মুকাদ্দছো দেখিয়া, মানষরে উছকাই দিয়া তানে ধরলা। 28তারা চিল্লাইয়া কইলা, “ও বনি ইছরাইল অকল, আগুয়াও! আস্তা দুনিয়ার মানষর গেছে যেগুয়ে আমরার জাতির, আমরার শরিয়তর আর বায়তুল-মুকাদ্দছর বিপক্ষে তালিম দিয়া ঘুরে, অগু হউ বেটা! হে ইউনানি অকলরে অনো হারাইয়া ই পাক জাগাখানরেও নাপাক বানাইছে।” 29এর আগে তো ইফিছর তফিমরে পাউলুছর লগে টাউনো চক্করো দেখিয়া তারা মনে মনে সন্দয় করছইন, পাউলুছে তানরে বায়তুল-মুকাদ্দছোও হারাইছইন। 30তেউ আস্তা টাউনর মানুষ গরম অইগেলা, আর একলগে দৌড়িয়া আইয়া পাউলুছরে ধরিয়া বায়তুল-মুকাদ্দছ থাকি টানিয়া বারে আনলা, আর লগে লগেউ এর দুয়ার অকল বন্দ করিল্লা। 31তারা পাউলুছরে মারিলিতা চাইলা, অইলে অউ সময় রোমান সিপাই অকলর পরধানর গেছে খবর গেল, আস্তা জেরুজালেমর মাজে উলইস্তল লাগিগেছে। 32লগে লগেউ তাইন ছুবেদার অকল আর সিপাই দল লইয়া দৌড়িয়া তারার গেছে আইলা। মানষে সিপাই আর সিপাইর পরধানরে দেখিয়া পাউলুছরে মাইর-ধইর করা বন্দ করলা। 33তেউ হি অফিসারে আইয়া পাউলুছরে আটক করিয়া দুইগেছা শিকলদি বান্দার হুকুম দিলা, বাদে জিকাইলা, “ই মানুষগু কে, হে কিতা দুষ করছে?” 34গন্ডগোলর মাজে চিল্লাইয়া কেউ এক লাখান, কেউ কেউ আরক লাখান কইলো। অইলে তাইন ভালামন্তে কুন্তা সমজিতা না পারিয়া পাউলুছরে নিয়া কেন্টনমেন্টো হারাইয়া থওয়ার হুকুম দিলা। 35পাউলুছ ছিড়ির মুখো যাইতেউ মানষর আত থাকি বাচানির লাগি, সিপাই অকলে তানরে উচা করিয়া বইয়া নিলাগি। 36মানষে খরে অইয়া মিছিল দিতা লাগলা, “অগুরে মারিলাও!”
37সিপাই অকলে তানরে কেন্টনমেন্টো হারাই দিতা চাইরা, অউ সময় তাইন পরধান অফিসাররে ইউনানি ভাষায় ছওয়াল করলা, “আমি আপনার গেছে কুন্তা মাততাম পারমু নি?” অফিসারে কইলা, “তুমি কিতা ইউনানি ভাষা জানো নি? 38তে তুমি কিতা হউ মিসরী বেটা নি, যেগুয়ে কয়দিন আগে লাড়াই করিয়া, চাইর আজার সন্ত্রাসীরে লগে লইয়া মরুভুমিত গেছিল?” 39পাউলুছে জুয়াপ দিলা, “ছাব, আমি একজন ইহুদি, কিলিকিয়ার তার্ষ শহরর মানুষ, আমি যেতা মনেকয় ইতা টাউনর মানুষ নায়। আমি আপনারে মিনত কররাম, দয়া করি মানষর গেছে আমারে মাতার সুযোগ খান দেউক্কা।” 40তাইন সুযোগ দেওয়ার বাদে পাউলুছে ছিড়ির উপরে উবাইয়া, মানষরে নিরাই অওয়ার লাগি আতদি ইশারা দিলা, তারা নিরাই অইয়া হারলে তাইন ইবরানি ভাষায় কওয়াত লাগলা।
22জেরুজালেমো হজরত পাউলুছর জবানবন্দি
1পাউলুছে কইলা, “ও বাবা অকল, ভাই অকল, আমি অখন আমার নিজর জবানবন্দি দিরাম, আপনারা হুনউক্কা।” 2তাইন ইবরানি ভাষায় মাতরা দেখিয়া মানুষ এক্কেরে নিরাই অইগেলা। অউ তাইন কইলা,
3“আমি একজন ইহুদি। কিলিকিয়ার তার্ষ শহরো আমার জনম অইছে; অইলে অউ জেরুজালেম টাউনো আইয়া আমি মানুষ অইছি, আল্লামা গমলীয়েলর পাওর কান্দাত বইয়া আমি আমরার ময়-মুরব্বি অকলর শরিয়ত আর কায়দা-কানুনর ষোলআনা তালিম পাইছি। আর আইজ আপনারা যেলা আল্লাওয়ালাগিরি দেখাইরা, আমি নিজেও আগে অউলা আল্লাওয়ালা আছলাম। 4আমি ইছার পথি অকলরে জান-পরান সপিয়া জুলুম আর কাতল করতাম, বেটাইন-বেটিনরে বান্দিয়া নিয়া জেল খানাত হারাইতাম। 5ইতা তো পরধান ইমাম ছাব আর দেশর ফতোয়া কমিটির হক্কল ময়-মুরব্বি অকলেও ভালা করি জানইন। আমি তারার গেছ থাকি চিঠি লইয়া, দামেস্ক শহরর আমরার ভাইয়াইনরে দিবার লাগি রওয়ানা অইছলাম। হনো যেরা ইছার তরিকাত আইছলা, তারারে বন্দি করিয়া জেরুজালেমো আনিয়া সাজা দেওয়ার লাগি হনো যাওয়াত আছলাম। 6যাইতে যাইতে দামেস্কর কান্দাত গিয়া হারলে বেইল দুইফর অইগেল, আখতাউ আমার চাইরো গালাবায় আছমানি ফর চমকাইয়া উঠলো। 7আমি মাটিত পড়ি গেলাম আর হুনলাম, আমারে কেউ ডাকিয়া কইরা, শৌল, শৌল, তুমি আমারে কেনে তকলিফ দিরায়? 8আমি জিকাইলাম, হুজুর আপনে কে? তাইন কইলা, আমি নাছারতর ইছা, যেনরে তুমি তকলিফ দিরায়। 9যেরা আমার লগে আছিল তারা হকলেউ ই ফর অইছে করি দেখলা, অইলে যেইন আমার লগে বাতচিত করছিলা, তান বুলি তারা হুনলা না। 10বাদে আমি কইলাম, মালিক, তে আমি কিতা করতাম? তাইন কইলা, উঠো, দামেস্কো রওয়ানা দেও, তুমার যেতা যেতা করার গরজ আছে, ইতা তুমারে হনো জানাইল অইবো। 11আর হি চমকানিয়ে আমার চউখ আন্দা অইগেছিল গতিকে, আমার লগি অকলে আমার আতো ধরিয়া দামেস্কর বায় লইয়া রওয়ানা দিলা।
12“হনো অননিয় নামর একজন মানুষ আছলা, তাইন হজরত মুছার শরিয়ত মাফিক খুব পরেজগার মানুষ। হিকানর হকল ইহুদির গেছে তাইন খুব ইজ্জতি জন। 13তাইন আইয়া আমার কাছাত উবাইয়া কইলা, ভাই শৌল, তুমার দেখার তাক্কত ফিরত আউক। আর লগে লগেউ আমি তানরে দেখলাম। 14অউ তাইন কইলা, আমরার বাফ-দাদা অকলর আল্লায় তুমারে পছন্দ করছইন, তুমি যানু তান মর্জি জানতায় পারো, আর হউ মাছুম বন্দা হজরত ইছারেও দেখতায় পারো, আর তান জবানর বুলিও হুনতায় পারো। 15তুমি তান সাক্ষি অইবায়, যেতা যেতা দেখছো আর হুনছো ইতা হক্কলতা তামাম দুনিয়ারে জানাইবায়। 16অখন আর দেরি কররায় কেনে? উঠো, তানে ডাকো, আর তৌবার গোছল করিয়া তুমার হকল গুনা ধইয়া ফালাও।
17“বাদে আমি জেরুজালেমো ফিরত আইয়া হারলে একদিন বায়তুল-মুকাদ্দছর ভিতরে দোয়া করাত আছলাম, অউ সময় উংগানির হালতো আখতাউ তান দরশন পাইলাম। 18আমি দেখলাম, তাইন আমারে কইরা, জলদি করি উঠো, অখনউ জেরুজালেম ছাড়িয়া বারও, কারন আমার বেয়াপারে তুমার মুখর কুনু সাক্ষি ইনর মানষে হুনতো নায়। 19আমি কইলাম, মালিক, ই হকল মানষেউ তো জানইন, যেরা তুমার উপরে ইমান আনতা, এরারে জেলো হারানি আর মাইর-ধইর করার লাগি, আমি হক্কল মছিদাইন্তো যাইতাম; 20তুমার সাক্ষি স্তিফানরে যেবলা মারা অইছিল, হি সময় আমি নিজে হিকানো উবাইয়া সায় দেওয়াত আছলাম, আর যেরা তানরে মারছিল, আমি তারার কাপড়-চুপড় পারা দিছলাম। 21তেউ মালিকে আমারে কইলা, তুমি রওয়ানা দেও, আমি দুরইর ভিন জাতি অকলর গেছে তুমারে বেজিমু।”
22মানষে অতো সময় ধরি পাউলুছর বয়ান হুনাত আছলা, বাদে অ-ইহুদির নাম হুনিয়াউ তারা চিল্লাইয়া কইলা, “অগুরে দুনিয়া থাকি হরাই দেও, ইগু বাচিয়া রওয়ার জুকা নায়!” 23মানষে যেবলা চিল্লানি ধরলা আর কাপড়-চুপড় ফালাইয়া, আছমানো ধুইল উড়ানিত লাগলা, 24অউ সময় পরধান অফিসারে পাউলুছরে কেন্টনমেন্টো লইয়া যাওয়ার হুকুম দিলা, আর কইলা, “এরে চাবুক মারিয়া জেরা করো, কেনে মানষে তার বিরুদ্ধে ইলা চিল্লা-চিল্লি করের।” 25পাউলুছরে যেবলা চাবুক মারার লাগি বান্দিলা, ই সময় শ-সিপাইর এক ছুবেদার হিকানো উবাত আছলা, তেউ পাউলুছে তানরে কইলা, “অখনও যারে দুষি সাইবস্তো করা অইছে না, ইলা একজন রোমান মানষরে চাবুক মারা আপনাইন্তর লাগি ঠিক অর নি?” 26ইখান হুনিয়া হি ছুবেদারে পরধান অফিসাররে গিয়া কইলা, “স্যার, আপনে ইতা কিতা করাত লাগছইন? ই বেটা তো রোমান মানুষ।” 27তেউ তাইন পাউলুছর ধারো গিয়া জিকাইলা, “কওছাইন, তুমি রোমান নি?” পাউলুছে কইলা, “জিঅয়।” 28অফিসারে কইলা, “আমি বউত টেকা-পয়সা খরচ করিয়া রোমান সিটিজেন অওয়ার সুযোগ লইছি।” পাউলুছে কইলা, “আমি জনম সুত্রেউ রোমান।” 29ইখান হুনিয়াউ যে সিপাইয়ে তানরে জেরা করাত যাওয়াত আছলা, লগে লগেউ তারা হন থনে হরিয়া গেলাগি। আর তাইন রোমান মানুষ অইলেও তানরে বান্দিছলা করি পরধান অফিসারেও ডরাইগেলা।
30অইলে বাদর দিন হিরবার পাউলুছরে জিকাইতা চাইলা, কিতার লাগি ইহুদি অকলে তানরে দুষ দিরা, তেউ পরধান অফিসারে পাউলুছর বান্দ খুলি দিলা, বড় ইমাম অকল আর ফতোয়া কমিটির হকলরে একখানো দলা অওয়ার হুকুম দিলা। বাদে পাউলুছরে লামাইয়া তারার ছামনে আজির করলা।
231পাউলুছে ফতোয়া কমিটির মানষর বায় ধিয়ান ধরি চাইয়া কইলা, “ও ভাইছাব অকল, আমি তো অখন পর্যন্ত আমার বিবেক পরিস্কার রাখিয়া, আল্লার বন্দা হিসাবে দায়িত্ব আদায় কররাম।” 2ইখান হুনিয়া পরধান ইমাম অননিয়য়, পাউলুছর গালাত যেরা উবাত আছিল, তারারে কইলা, “অগুর মুখো চড় মারো।” 3তেউ পাউলুছে তানরে কইলা, “ও ভন্ড, আল্লায় তুমারেও চড় মারবা। তুমি শরিয়তর আইনে আমার বিচার করাত বইয়া, শরিয়তর বরখেলাফ করিয়া আমারে চড় মারার হুকুম দিরায়?” 4যেরা পাউলুছর কান্দাত উবাইছিল, তারা তানরে কইলো, “তুমি আল্লার ঘরর পরধান ইমাম ছাবরে বেইজ্জত কররায় নি?” 5পাউলুছে কইলা, “ভাই অকল, আমি তো জানি না এইন পরধান ইমাম করি। আরনায় ইলা কইলাম না অনে, আল্লার কালামো তো লেখা আছে, তুমার নিজর জাতির মুরব্বিরে কুনু গালি দিও না।”
6পাউলুছে যেবলা বুজলা হি মজলিছর কিছু মানুষ সিদ্দেকিয়া মজহবর আর কিছু অইলা ফরিশি মজহবর, অউ তাইন মজলিছর মাজে জুরে জুরে কইলা, “ও ভাই অকল, আমি একজন ফরিশি আর ফরিশির আওলাদ। মুর্দা অকল হিরবার জিন্দা অইয়া উঠবা, অউ মাতর লাগি অখন আমার বিচার করা অর।” 7তাইন ইখান কওয়ার লগে লগেউ ফরিশি আর সিদ্দেকিয়া অকলর মাজে কাইজ্জা লাগি গেল, মজলিছর মাজে দুই দল অইগেলা। 8কারন সিদ্দেকিয়া অকলর একিন অইলো, মুর্দা অকল আর জিন্দা অইতা নায়, ফিরিস্তা বা রুহ ইতা কুনুতা নাই। অইলে ফরিশি অকলে একিন করইন ইতা হকলতাউ আছইন। 9ই গন্ডগোল বউত বড় অইগেল, তেউ ফরিশি দলর কয়জন মৌলানায় উবাইয়া তর্কা-তর্কি করি কইলা, “আমরা তো ই মানষর কুনু দুষ দেখরাম না। কুনু রুহ বা ফিরিস্তায় তো তার লগে ইলা বাতচিত করতা পারইন।” 10অউ লাখান করি বেথায়া গন্ডগোল লাগলো, এরদায় পরধান অফিসারে ডরাইগেলা, মানষে পাউলুছরে টুকরা টুকরা করি ছিড়িলাইবা, অউ তাইন সিপাই অকলরে হুকুম দিলা, তারা লামিয়া গিয়া পাউলুছরে মানষর গেছ থাকি হরাইয়া নিয়া কেন্টনমেন্টো হারাইলা।
11বাদে রাইতর বালা মালিক ইছায় পাউলুছর গেছে উবাইয়া কইলা, “হিম্মত করো, আমার নামে জেরুজালেমো যেলা সাক্ষি দিছো, রোম টাউনোও অউলা সাক্ষি দিতে অইবো।”
হজরত পাউলুছরে মারার ষড়যন্ত্র
12বাদর দিন ফজরর অখতো ইহুদি অকলে এক দাগাবাজি করলা, তারা কছম খাইয়া কইলা, পাউলুছরে মারার আগ পর্যন্ত তারা দানা-পানি কুন্তা মুখো দিতা নায়। 13চাল্লিশ জনরও বেশি মানুষ একখানো অইয়া ই দাগাবাজির কছম খাইলা। 14তারা বড় ইমাম আর মুরব্বি অকলর গেছে গিয়া কইলা, “আমরা কড়াকড়ি কছম খাইছি, পাউলুছরে না মারা পর্যন্ত দানা-পানি কুন্তা মুখো দিতাম নায়। 15অখন আপনারা আর ফতোয়া কমিটির হকলে পরধান অফিসারর গেছে অউ আবদার করউক্কা যেন, আপনারা আরো ভালাটিকে ই বিচারর তদন্ত করতা চাইরা, অউ উছিলায় হে আপনাইন্তর গেছে আওয়ার আগেউ, পথর মাজে আমরা তারে মারিলিমু।”
16অইলে পাউলুছর ভাগনায় তারার ই দাগাবাজির খবর হুনিয়া, কেন্টনমেন্টো গিয়া পাউলুছরে ইতা জানাইলা। 17তেউ পাউলুছে শ-সিপাইর একজন ছুবেদাররে আনাইয়া কইলা, “অউ পুয়াগুরে পরধান অফিসার ছাবর গেছে লইয়া যাউক্কা, হে তানরে কিতা কইতো আইছে।” 18অউ হি ছুবেদারে তারে লইয়া পরধান অফিসারর গেছে গিয়া কইলা, “বন্দি পাউলুছে আমারে আনাইয়া কইলা, অউ পুয়াগুরে আপনার গেছে লইয়া আইতাম, হে আপনার গেছে কিতা কইতো চার।” 19পরধান অফিসারে তার আতো ধরিয়া এক গালাবায় লইয়া গিয়া কইলা, “তুমি আমারে কিতা কইতায় চাইরায়?” 20হে কইলো, “ইহুদি অকলে নিয়ত করছইন, তারা আপনার গেছে অউ আবদার করবা, পাউলুছর বিচার আরো ভালাটিকে তদন্ত করার লাগি আপনে যানু ছামনর কাইল তানরে দেশর ফতোয়া কমিটির ছামনে আজির করাইন। 21আপনে তারার কথায় রাজি অইন না যানু, এরা চাল্লিশ জনরও বেশি মানষে লুকাইয়া পাউলুছর লাগি বার চাইরা, তারা কছম খাইছে, তানরে না মারা পর্যন্ত দানা-পানি কুন্তা মুখো দিতো নায়। তারা অখন তিয়ার অইয়া পথো বইছে, খালি আপনার রাজি অওয়ার বার চাইরা।” 22পরধান অফিসারে তারে অউ হুকুম দিয়া বিদায় দিলা, “তুমি আমার গেছে ই খবর কইছো করি কেউররে হুনাইও না।”
হজরত পাউলুছরে কৈছরিয়াত পাঠানি
23বাদে তাইন শ-সিপাইর দুইজন ছুবেদাররে আনাইয়া কইলা, “দুইশো জন সিপাই, সত্তইর জন ঘোড়াআলা সিপাই, আর দুইশো জন ছুলফি আলা সিপাই আইজ রাইত নয়টাত কৈছরিয়াত যাওয়ার লাগি তিয়ার করো। 24আর পাউলুছর লাগিও ঘোড়ার বন্দোবস্ত করো, তারে যানু নিরাপদে দেশর পরধান হাকিম ফিলিক্সর গেছে পৌছাইল অয়।” 25কইয়া, তাইন অউ চিঠি লেখলা,
26“মাননীয় পরধান হাকিম ছাব, আমি কেলাদুছ লুছিয়াছ, আপনারে ছালাম জানাইরাম। 27ইহুদি অকলে অউ মানুষগুরে ধরিয়া জানে মারিলিতা চাইছলা, আমি হুনলাম হে একজন রোমান মানুষ, হুনিয়া আমার সিপাই অকল লইয়া গিয়া তারে বাচাইলাম। 28বাদে আমি হুনতাম চাইলাম মানষে তার কিতা দুষ পাইছইন, এরদায় তারে নিয়া তারার মজলিছো আজির করলাম। 29তেউ আমি বুজলাম, তারার শরিয়তর কুনু ফতোয়ার লাগি এর উপরে দুষ দিরা, অইলে জেলো হারানি বা জানে মারার জুকা কুনু নালিশ পাইছি না। 30আর আমি হুনলাম, তার বিরুদ্ধে দাগাবাজি করা অর, তেউ জলদি করি তারে আপনার গেছে পাঠাই দিলাম। তার বিরুদ্ধে যেরা নালিশ দিছে, তারারেও কইছি, তারার কুনু নালিশ থাকলে আপনার গেছে গিয়া হুনাইতা।”
31সিপাই অকলে পরধান অফিসারর হুকুম মাফিক পাউলুছরে লইয়া রাইতর বালা আন্তিপাত্রি টাউনো গেলা। 32বাদর দিন ঘোড়াআলা সিপাই অকলর লগে পাউলুছরে বিদায় দিয়া বাকি সিপাই অকল কেন্টনমেন্টো ঘুরিয়া আইলা। 33ঘোড়াআলা সিপাই অকলে চিঠি আর পাউলুছরে লইয়া কৈছরিয়াত পৌছিয়া হারলে দেশর পরধান হাকিমর আতো সমজাই দিলা। 34তাইন ই চিঠি পড়িয়া পাউলুছরে জিকাইলা, “তুমি কুন দেশর মানুষ?” পাউলুছ কিলিকিয়ার মানুষ ইখান হুনিয়া তাইন কইলা, 35“তুমারে যেরা দুষের তারা ইখানো আইয়া হারলে, আমি তুমার জবানবন্দি হুনমু।” বাদে তাইন হুকুম দিলা, পাউলুছরে নিয়া রাজা হেরোদর বাড়ির জেলো হারানির লাগি।
24আদালতো হজরত পাউলুছ
1পাচ দিন বাদে পরধান ইমাম অননিয়য় কয়জন ইহুদি মুরব্বি আর তর্তুল্ল নামর একজন উকিলরে লইয়া কৈছরিয়াত গেলা, গিয়া পরধান হাকিমর আদালতো হজরত পাউলুছর বিরুদ্ধে নালিশ দাখিল করলা। 2পাউলুছরে আনিয়া আদালতো আজির করা অইলো। বাদে উকিল তর্তুল্লয় অউ নালিশ গাইলা,
“মাননীয় হাকিম ছাব, আপনার শাসনো রইয়া আমরা বউত দিন থাকি বড় শান্তিয়ে আছি। আপনে আপনার আখল-হেকমত দিয়া ই জাতির বউত ভালাই কররা। 3এরলাগি আমরা হামেশা হকল জাগাত আপনার গুনগান গাই। 4আমরা আপনার মুল্যবান সময় নষ্ট করতাম চাইরাম না, মেহেরবানি করিয়া হুনলে, আমরার নালিশ খান দুই-চাইর কথায় কইলিমু। 5ছাব, আমরা দেখছি, অউ মানুষগু বড় এক আপদ অইয়া আজিছে। হে নাছারা নামর এক বিধর্মী দলর উস্তাদ। হামেশা খালি হাংগামা লাগায়, দুনিয়ার হকল ইহুদির মাজে দলাদলি লাগানিউ তার কাম। 6-7হে আমরার বায়তুল-মুকাদ্দছরেও নাপাক বানাইতো চাইছিল, এরদায় আমরা তারে আটক করছি। 8আর অউ যেতা নালিশ দিলাম, আপনে নিজে তারে জেরা করলেউ ইতা হকলতা বার অইযিবো।” 9উকিলর লগে অইয়া ইহুদি অকলেও ইতা হক্কলতা হাছা কইয়া সায় দিলা।
10তেউ পরধান হাকিম ছাবে পাউলুছরে ইশারা দিলা, পাউলুছে কইলা, “ছাব, আপনে বউত বরছ ধরি ই ইহুদি জাতির বিচার করিয়া আইরা, ইটা হুনিয়া আমি খুব খুশি অইয়া আমার জবানবন্দি দিরাম। 11আপনে তালাশ করলেউ জানিলিবা, অখনও বারো দিন অইছে না, আমি এবাদত করার লাগি জেরুজালেমো গেছলাম। 12অউ যেরা আমার বেয়াপারে নালিশ দিরা, তারা কেউ আমারে বায়তুল-মুকাদ্দছো কুনু মানষর লগে হাংগামা করাত দেখছইন না। টাউনর কুনুখানো বা কুনু মছিদোও মানষরে উছকাইয়া দেওয়াত আমারে পাইছইন না। 13অখন তারা আমার যেতা দুষ দেখাইরা, ইতার কুনু পরমানও তারা দিতা পারতা নায়। 14অইলে আমি আপনার গেছে স্বীকার কররাম, এরা যেকটারে বিধর্মী দল কইরা, হউ ইছা আল-মসীর তরিকায় আমি আমার ময়-মুরব্বি অকলর আল্লার এবাদত করি। তৌরাত কিতাবর বাতাইল হকল হুকুম-আহকাম আর তামাম নবী অকলর কিতাবরে আমি একিন করি। 15আর এরা যেলান একিন করইন, আমিও অউলা আল্লার উপরে একিন করি, পরেজগার বা গুনাগার হকলরেউ মরার বাদে হিরবার জিন্দা করা অইবো। 16এরদায় আমি আল্লার গেছে আর মানষর গেছেও হামেশা আমার বিবেক পরিস্কার রাখতাম চাই। 17বউত বরছ বাদে আমি জেরুজালেমো গেছলাম, কুরবানি দিতাম আর আমার নিজর জাতির গরিব অকলরে দান-খয়রাত বিলাইতাম করি। 18তে আমি পাক-ছাফ অইয়া যেবলা বায়তুল-মুকাদ্দছো হামাইলাম, অউ সময় তারা আমারে দেখছইন। আমার গেছে কুনু ভিড়ও অইছে না, বা কুনু গন্ডগোলও অইছে না। 19খালি আছিয়া দেশর কয়জন ইহুদি হনো আছলা। আমার উপরে কুনু নালিশ থাকলে হউ ইহুদি অকলে আপনার গেছে আইয়া নালিশ দিতা আছিল। 20আরনায় অনো যেরা আইছইন এরাউ কউক্কা, আমি যেবলা ফতোয়া কমিটির ছামনে উবাইছলাম, অউ সময় তারা আমার কিতা দুষ পাইছলা? 21কুন্তাউ না, খালি একখান মাত আমি জুরে জুরে মাতিছলাম যেন, মুর্দা অকল হিরবার জিন্দা অইয়া উঠার মুছলা লইয়া আইজ আপনাইন্তর ছামনে আমার বিচার করা অর।”
22হাকিম ফিলিক্সে হজরত ইছার তরিকার বেয়াপারে খুব ভালা করি জানতা, এরদায় তাইন বিচার বন্দ করিয়া কইলা, “সিপাইর পরধান অফিসার লুছিয়াছ আইয়া হারলে আমি তুমরার বিচারর ফয়ছালা করমু।” 23তাইন শ-সিপাইর ছুবেদাররে হুকুম দিলা, “পাউলুছরে আটক রাখো, অইলে তারে মায়ার নজরে রাখিও, তার খেশ-কুটুমে তার খেজমত করাত আইলে বাধা দিও না।”
24কয়দিন বাদে ফিলিক্সে তান ইহুদি বউ দ্রুষিল্লারে লগে লইয়া আইয়া পাউলুছরে খবরদি আনাইলা, আর পাউলুছর মুখ থাকি ইছা আল-মসীর উপরে ইমান আনার বয়ানি হুনলা। 25পাউলুছে যেবলা হক পথে চলা, নিজরে দমাইয়া রাখা, আর হাশরর বিচারর কথা বয়ান করলা, ফিলিক্সে ইতা হুনিয়া ডরাইগেলা। ডরাইয়া কইলা, “তুমি অখন যাওগি, সময় সুযোগ অইলে আমি তুমারে খবরদি আনাইমু।” 26তান মনে মনে আছিল, পাউলুছে তানরে কিছু ঘুষ দিবা, এরলাগি তাইন বারে বারে পাউলুছরে আনাইয়া গফ করতা। 27দুই বরছ পারনির বাদে পর্কিয় ফিস্তছ আইয়া ফিলিক্সর গদিত বইলা। ফিলিক্সে ইহুদি অকলরে খুশি করতা করি পাউলুছরে জেলো থইয়া গেলাগি।
25আদালতো হজরত পাউলুছর আপিল
1ই দেশো আওয়ার তিন দিন বাদে ফিস্তছ কৈছরিয়া থাকি জেরুজালেমো গেলা। 2অউ সময় বড় ইমাম আর ইহুদি নেতা অকলে তান গেছে আইয়া পাউলুছর বেয়াপারে নালিশ দিলা। তারা ফিস্তছর গেছে খুব মিনত-কাজ্জি করি কইলা, 3তাইন যানু মেহেরবানি করি পাউলুছরে জেরুজালেমো আনাইন। তারার মতলব আছিল, পাউলুছরে আনার সময় পথর মাজে লুকাইয়া রইয়া মারিলিতা। 4হাকিম ফিস্তছে তারারে কইলা, “পাউলুছরে তো কৈছরিয়াত আটক রাখা অইছে, আর আমিও খুব তাগদা করি হিকানো যাইরাম। 5তে তুমরার মাজ থাকি বুজদার কয়জন আমার লগে আইও, হে কুনু দুষ করলে এর নালিশ দিবায়।”
6ফিস্তছ তারার লগে আট-দশ দিন রইয়া হারলে কৈছরিয়াত গেলাগি। গিয়া বাদর দিন তাইন আদালতো বইয়া, পাউলুছরে তান ছামনে আজির করার হুকুম দিলা। 7যেতা ইহুদি অকল জেরুজালেম থাকি আইছলা, পাউলুছ হিনো আজির অওয়ার বাদে তারা তানরে চাইরোবায় বেরিয়া উবাইয়া খুব দুষা-দুষি করলা, অইলে ইতার কুনু পরমান দিতা পারলা না। 8অউ পাউলুছে নিজর জবানবন্দি দিলা, “আমি তো ইহুদি অকলর শরিয়ত, বায়তুল-মুকাদ্দছ, বা রোমান বাদশা কৈছরর বিরুদ্ধে কুনু দুষ করছি না।” 9অইলে ফিস্তছে ইহুদি অকলরে খুশি করার খিয়াল অওয়ায় তাইন পাউলুছরে জিকাইলা, “অউ মামলার বিচার আমি জেরুজালেমো করতাম চাইরাম, তুমি হিকানো যাইতে রাজি আছো নি?” 10পাউলুছে জুয়াপ দিলা, “আমি তো রোমান আদালতর ছামনে আজির অইছি, আর অউ আদালতোউ আমার বিচার অওয়াখান জরুর। আপনে নিজেও ভালা করি জানইন, আমি ইহুদি অকলর লগে কুনু অইন্যায় করছি না। 11তা-ও আমার কুনু কছুর অইলে, মউতর সাজা পাওয়ার জুকা কুনু দুষ পাইলে, আমি মরতে রাজি আছি। অইলে এরা আমার বিরুদ্ধে যেতা দুষ দিরা, ইতা যুদি হাছা না অয়, তে আমারে তারার আতো ছাড়ি দেওয়ার এখতিয়ার কেউরর নাই। এরদায় আমি বাদশা কৈছরর গেছে আপিল কররাম।” 12ইখান হুনিয়া ফিস্তছে তান উজির-নাজিরর লগে পরামিশ করি কইলা, “তুমি যেবলা বাদশার গেছে আপিল করলায়, তে বাদশার গেছেউ যাইবায়।”
রাজা আগ্রিপ্পর গেছে হজরত পাউলুছর জবানবন্দি
13কয়দিন বাদে ইহুদি অকলর রাজা আগ্রিপ্প আর তান বইন রানী বর্ণীকীয়ে, নয়া হাকিম ফিস্তছরে ছালাম জানানির লাগি কৈছরিয়াত আইলা। 14তারা ইখানো কয়দিন রইবা গতিকে, ফিস্তছে পাউলুছর মামলার কথা রাজারে জানাইলা। তাইন কইলা, “ফিলিক্সে একজন মানষরে জেলো থইয়া গেছইন। 15আমি যেবলা জেরুজালেমো গেছলাম, অউ সময় হনর বড় ইমাম আর ইহুদি মুরব্বি অকলে অউ বেটার বিরুদ্ধে নালিশ দিয়া তার সাজা চাইছইন। 16আমি তারারে কইছলাম, যার বিরুদ্ধে নালিশ দেওয়া অয়, আর যেরা ই নালিশ দেইন, হি বাদি-বিবাদির মুখামুখি জবানবন্দি আর জেরা না অইলে, আসামিরে কুনু সাজা দেওয়ার এখতিয়ার রোমান আইনো নাই। 17তেউ তারা হকল অনো আইয়া হারলে, আমি বাদর দিনউ আদালতো বইয়া হউ আসামিরে ছামনে আনার হুকুম দিলাম। 18যেরা তার বিরুদ্ধে নালিশ দিছলা তারার জবানবন্দি হুনলাম, অইলে আমি যেলা অনুমান করছলাম, ইলা কুনু নালিশ তারা দিছইন না। 19খালি তারার নিজর ধর্মর কথা, আর ইছা নামর কুনু একজন মরা মানষর কথা, পাউলুছে এনরে জিন্দা কইয়া দাবি করের, অতা লইয়া তারা আদালতো নালিশ দিছে। 20আর ইতা কিলা তালাশ করতাম, ইখান মালুম না অওয়ায় আমি তারে জিকাইলাম, হে জেরুজালেমো গিয়া ই মামলার ফয়ছালা করতে রাজি আছে নি। 21হে রাজি না অইয়া, আপিল করিয়া বাদশার রায়র লাগি বার চাওয়ায়, আমি তারে বাদশা কৈছরর গেছে পাঠানির আগ পর্যন্ত আটক রাখার হুকুম দিছি।” 22অউ রাজা আগ্রিপ্পে ফিস্তছরে কইলা, “আমি নিজে তার জবানবন্দি হুনতাম চাই।” ফিস্তছে জুয়াপ দিলা, “তে কাইল হুনবানে।”
23বাদর দিন রাজা আগ্রিপ্প আর রানী বর্ণীকী বউত ধুমধাম করি আইলা, তাইন সিপাইর পরধান অফিসার অকল, টাউনর গইন্য-মাইন্য মানষরে লইয়া আদালতো হামাইলা। ফিস্তছে হুকুম দিয়া পাউলুছরেও অনো আনাইলা। 24বাদে ফিস্তছে কইলা, “মহান রাজা আগ্রিপ্প, আর আদালতো আজির গইন্য-মাইন্য ছাব অকল, আপনারা হকলে অউ বেচাড়ারে দেখরা। হকল ইহুদিয়ে মিলিয়া জেরুজালেম আর কৈছরিয়াত আমার গেছে তার বিচার চাইয়া মিছিল দিয়া কইছইন, তারে খতম করো। 25অইলে আমি দেখলাম, মউতর সাজা দেওয়ার জুকা কুনু দুষ তার নাই। তা-ও হে নিজে বাদশার গেছে আপিল করায়, আমি তারে তান গেছে পাঠানির খিয়াল করছি। 26অইলে মহান বাদশার গেছে লেখতাম, ইলা কুনু দুষ পাইরাম না গতিকে, আমি শ্রদ্ধেয় রাজা আগ্রিপ্প আর আপনারা হকলর ছামনে তারে আজির করছি। আপনারা জেরা করলে লেখার জুকা কুন্তা পাইমু করি মনো কররাম। 27কারন আমি মনো করি, কুনু বন্দিরে চালান দেওয়ার বালা তার দুষ অকল জানানিখান জরুর।”
26রাজার ছামনে হজরত পাউলুছর জবানবন্দি
1ইখান হুনিয়া রাজা আগ্রিপ্পে পাউলুছরে কইলা, “তুমার জবানবন্দি কওয়ার লাগি অনুমতি দিলাম।” তেউ পাউলুছে আত জুড় করিয়া নিজর জবানবন্দি কইলা, 2“মাননীয় রাজা নামদার, ইহুদি অকলে আমার বিরুদ্ধে যেতা নালিশ দিছইন, ইতা বেয়াপারে আইজ আপনার গেছে আমার জবানবন্দি হুনানির সুযোগ পাইয়া, আমি নিজরে ভাইগ্যমান মনো কররাম। 3খাছ করি, ইহুদি অকলর হকল লাখান চাল-চলন আর তারার ফিতনা অকল আপনার জানা আছে। এরদায় আরজ কররাম, মেহেরবানি করি আপনে আমার মাত খানাইন হুনবা।
4“হুরুমান থনেউ নিজর এলাকাত আমার চাল-চলন কিলা আছিল, বাদে জেরুজালেমো আইয়া কিলাখান চলছি, ইতা তো তামাম ইহুদি অকলে জানইন। 5তারা তো বউত দিন ধরি আমারে চিনইন গতিকে, তারা খিয়াল করলে ই সাক্ষি দিতা পারবা, আমরার ধর্মর মাজে ফরিশি নামর যে মৌলবাদি দল আছে, আমি অউ ফরিশি তরিকায় জিন্দেগি কাটাইতাম। 6আল্লায় আমরার ময়-মুরব্বি অকলর গেছে যেতা ওয়াদা করছিলা, হউ ওয়াদায় আমি ভরসা করি, এরলাগি আইজ আমার বিচার অর। 7আমরার বারো খান্দানর মানষে রাইত দিন দিলে-জানে এবাদতি করিয়া, হউ ওয়াদার ফল দেখার আশাত আছইন। রাজা নামদার, হউ আশার লাগিউ ইহুদি অকলে আমারে দুষিরা। 8আল্লায় মুর্দারে জিন্দা করিয়া তুলইন, ইখান কেনে আপনারা বিশ্বাস করতা পারইন না?
9“আমি তো মনো করতাম, নাছারতর ইছা নামর বিরুদ্ধে, হকল নমুনার কাম করা আমার লাগি ফরজ। 10আর জেরুজালেমো আমি অলা করছিও। বড় ইমাম অকলর অনুমতি লইয়া ইছার উম্মত অকলরে আমি জেলো হারাইতাম। তারারে কাতল করার বালা আমি তারার বিরুদ্ধে ভোট দিতাম। 11আমি হকল মছিদাইন্তো গিয়া বারে বারে তারারে সাজা দিতাম। ইছার তরিকা থাকি তারারে ফিরাইয়া, ইছার নামে লান্নত দিতা করি তারার উপরে জুর-জুলুম করতাম। এরার উপরে আমার অতো গুছা আছিল যেন, এরারে জুলুম করার লাগি আমি বারা দেশর টাউনোও যাইতাম।
12“অউলা একবার বড় ইমাম অকলর গেছ থাকি খেমতা আর হুকুমজারি লইয়া আমি দামেস্কো যাওয়াত আছলাম। 13আর রাজা নামদার, অউ সময় বেইল দুইফর অইগেছে। আখতাউ দেখলাম, আমার আর আমার লগর হকলর চাইরোবায় সুরুজ থাকি আরো বেশি ফরআলা এক রুশনি, আছমান থনে জলি উঠলো। 14অউ আমরা হকল মাটিত পড়ি গেলাম আর আমি হুনলাম, ইবরানি ভাষায় কেউ আমারে কইরা, শৌল, শৌল, তুমি কেনে আমার উপরে জুলুম কররায়? চুকা ফাইজনো লাথ মারিয়া নিজর খেতি কররায় না নি? 15তেউ আমি জিকাইলাম, মুনিব, আপনে কে? মুনিবে জুয়াপ দিলা, আমি ইছা, যেনরে তুমি জুলুম কররায়। 16অখন উঠো, পাওত ভরদি উবাও। তুমি অখন যেতা দেখছো আর যেতা তুমারে দেখাইমু, ইতা হকলতার সাক্ষি আর খেজমতগার বানানির খিয়ালে, আমি নিজে তুমারে দেখা দিলাম। 17আমি তুমারে অ-ইহুদি অকলর গেছে পাঠাইয়ার, তারার আর তুমার নিজর জাতির আত থাকি আমি তুমারে বাচাইমু। 18তুমি তারার চউখ খুলিয়া দিবায়, তারা যানু আন্দাইর থাকি নুরর বায়, শয়তানর দখল থাকি আল্লার বায় ফিরিয়া আইন, আমার উপরে ইমান আনিয়া গুনার মাফি পাইয়া, পরেজগার বন্দা অকলর মাজে তারাও দাখিল অইন।
19“মাননীয় রাজা নামদার, বেহেস্তি ই দরশনরে আমি ফালাইতাম পারলাম না। 20এরদায় পয়লা দামেস্কর মানষর গেছে, বাদে জেরুজালেমো, এহুদিয়া জিলার হকল জাগাত আর অ-ইহুদি অকলর গেছেও তবলিগ করলাম। তারারে কইলাম, তৌবা করিয়া আল্লার বায় ফিরো, আর অউ লাখান আমল করো, যেতা দেখিয়া পরমান মিলে তুমরা হাছারর তৌবা করছো। 21অউ কারনে ইহুদি অকলে বায়তুল-মুকাদ্দছো ধরিয়া আমারে মারিলিতা চাইছইন। 22অইলে আল্লার সাইয্যয় আমি অখন পর্যন্ত টিকিয়া আছি, আর হুরু-বড় হকলর ছামনে উবাইয়া সাক্ষিও দিরাম। হজরত মুছায় আর তামাম নবী অকলে যেতা ঘটিবো করি বাতাইয়া গেছইন, ইতার বারা আমি কুন্তাউ কইরাম না। 23এরা কইছইন, আল-মসীয়ে তকলিফ সইয্য করবা, তাইনউ পয়লা মুর্দা থাকি জিন্দা অইয়া উঠিয়া হারি তান নিজর জাতি, আর অ-ইহুদি অকলর গেছেও নুরর তরিকার কথা তবলিগ করবা।”
24পাউলুছে যেবলা অউ লাখান জবানবন্দি দিরা, আখতাউ ফিস্তছে তানরে জুরে ধামকি মারি কইলা, “পাউলুছ, তুমি তো পাগল অইগেছো। তুমি বউত লেখা-পড়া করছো, অউ লেখা-পড়ায় তুমারে পাগল বানাইলিছে।”
25পাউলুছে জুয়াপ দিলা, “জি-না, হাকিম ছাব, আমি পাগল নায়। আমি তো হক আর যুক্তির মাত মাতরাম। 26রাজা নামদারে তো ইতা হক্কলতাউ জানইন, আর আমি হিম্মত করিয়া তান ছামনে খুলা-মেলা মাতিরাম। আমি পুরাপুর জানি, ইতা হক্কলতাউ রাজা নামদারর মালুম আছে, ইতা তো কুনু আন্দারির মাজে লুকাইয়া ঘটছে না।
27“তে মাননীয় রাজা নামদার, আপনে কিতা নবী অকলরে একিন করইন নি? আমি তো জানি, আপনেও করইন।” 28অউ আগ্রিপ্পে কইলা, “তুমি কিতা অতো জলদি আমারেও আল-মসীর তরিকাত নিতায়গি চাইরায় নি?”
29পাউলুছে কইলা, “আমি আল্লার গেছে অউ দোয়া কররাম, জলদি অউক বা দেরিয়ে অউক, খালি আপনে নায়, যতো মানষে আমার আইজকুর ই জবানবন্দি হুনরা, এরা হক্কলউ আমার লাখান বনিযাউক্কা। খালি অউ শিকল বাদ দিয়া।”
30তেউ রাজা, দেশর পরধান হাকিম, রানী বর্ণীকী আর তারার লগে আদালতর হকল মানুষ উবাই গেলা। 31বাদে তারা বারনির পথে একে-অইন্যয় কইলা, “ই বেচাড়ায় তো মউতর সাজা বা জেল খাটার জুকা কুন্তাউ করছে না।” 32রাজা আগ্রিপ্পে ফিস্তছরে কইলা, “হে যুদি বাদশার গেছে আপিল না করতো, তে তারে অখন খালাছ দেওয়া গেলো অনে।”
27হজরত পাউলুছ রোম টাউনর মুখা রওয়ানা
1হাকিমর ফয়ছালা মাফিক জাজো করিয়া আমরারে ইতালি দেশো পাঠানির সময় আইলে, পাউলুছ আর আরো কয়জন কয়দিরে যুলিয় নামর একজন শ-সিপাইর ছুবেদারর আতো সমজাই দিলা। যুলিয় আছলা বাদশা কৈছরর আপন সিপাই দলর একজন ছুবেদার। 2বাদে আমরা আদ্রামুত্তীয় ঘাটর অউলা এক জাজো অইয়া রওয়ানা দিলাম, যেখান আছিয়া দেশর বউত জাজ ঘাটো যাওয়ার লাগি জুইত করা অইছে। আর মাকিদনিয়া দেশর থিষলনিকি টাউনর আরিস্তাকুছ আমরার লগে আছলা। 3বাদর দিন আমরার জাজ গিয়া সিদনো ভিড়লো। ছুবেদার যুলিয়য় পাউলুছর লগে খুব ভালা বেবহার করলা। তাইন তান দুস্ত অকলর গেছে গিয়া, নিজর জরুরি গরজ কুলানির ইজাজত দিলা। 4বাদে হি জাগা থাকি হিরবার জাজ ছাড়লো, আর আমরার উল্টামুখা বাতাস দেওয়ায়, আমরা সাইপ্রাস দ্বীপর যেবায় বাতাস আছিল না হবায়দি গেলাম। 5গিয়া কিলিকিয়া আর পামফুলিয়ার ছামনর সাগর পার অইয়া লুকিয়া দেশর মুরা টাউনো আইয়া আজিলাম। 6ছুবেদারে হিকানো ইতালি দেশো যাওরা, আলেকজান্দ্রিয়ার একখান জাজ পাইয়া, হউ জাজো করি আমরারে লইয়া রওয়ানা দিলা। 7আমরার জাজখান খুব আস্তে আস্তে চলিয়া বউত দিন বাদে কষ্ট করি ক্লীদ টাউনর কান্দাত আইয়া আজিলো, অইলে বাতাসর লাগি আমরা আর সহজে আগুয়াইতাম পারলাম না। তেউ আমরা কম বাতাসেদি ছালমুনার কান্দাবায় গিয়া ক্রীতি দ্বীপর আওড়েদি যাওয়াত লাগলাম। 8আর দরিয়ার পারর কান্দাবায় কষ্ট করিয়া যাইতে যাইতে, “সুন্দর লংগরখানা” নামর এক হুরু জাজ ঘাটো আইলাম, এর কান্দাত আছিল লাসেয়া টাউন।
9অউ লাখান বউত দিন গুজরি গেল, রোজার ইদর দিন শেষ অইয়া থুড়া থুড়া শীত আইছে। ই সময় জাজে ছফর করা খুব বিপদ। তেউ পাউলুছে জাজর মানষরে পরামিশ দিলা। 10তাইন কইলা, “ছাব অকল, আমি দেখরাম, ই ছফরো আমরার বউত মছিবত আর খেতি অইবো। ইতা খালি জাজ বা মাল-ছামানার নায়, আমরার জানরও খেতি অইবো।” 11অইলে ছুবেদারে পাউলুছর কথা না মানিয়া, জাজর মালিক আর কেপটিনর কথা হুনলা। 12আর ই লংগরখানাত শীতর দিনো রইতে সুবিধা অইতো নায় গতিকে, বেশির ভাগ মানষে হিন থাকি যাওয়ার লাগি পরামিশ দিলা। তারা চাইলা কুনুমন্তে ফিনিক্স ঘাটো পৌছিয়া শীতর দিন কাটাইতা। ই ঘাট আছিল ক্রীতি দ্বীপো, এর উত্তর-পচ্চিম আর দক্ষিন-পচ্চিম দিক খুলা আছিল।
দরিয়ার তুফানে বেদিশা জাজ
13বাদে যেবলা আস্তে আস্তে দউকনর বাতাস চালু অইলো, অউ তারা মনো করলা, তারা যেলা আশা করছলা অলাউ অইছে। এরদায় তারা জাজর লংগর খুলিয়া ক্রীতি দ্বীপর গালাবায় রওয়ানা দিলো। 14অইলে থুড়া বাদেউ হি পারো থাকি ইয়ান-কুনি নামর খুব বেজুইতা এক তুফান আইলো। 15আমরার জাজ তুফানর মাজে পড়লো, তুফানর ঠেলা মুকাবিলা করতাম না পারিয়া, জাজরে বাতাসর তালে তালে ভাটিয়ল দিলাম। 16বাদে কৌদা নামর এক হুরু দ্বীপর আওড়েদি গিয়া, জাজর লগর বারকি নাওখানরে আমরা বউত কষ্ট করি ভাংগা থাকি বাচাইলাম। 17মানষে নাওরে টানিয়া নিয়া জাজর উপরে তুললা, আর জাজর তক্তাইনরে দড়ি দিয়া দড়ো করি বান্দিলা, যাতে তুফানে না ভাংগে। বাদে ছুর্তি নামর সাগরর চরো জাজ লাগিযিবার ডরে, পাল লামাইয়া জাজরে এমনে বাতাস ভাটিয়লে ছাড়ি দিলাম। 18তুফানে জাজরে অমন লাখান গড়া-গড়ি শুরু করলো, এরদায় তারা বাদর দিন জাজর মাল-ছামানা পানিত ফালাই দিলা। 19তিন দিনর দিন তারা নিজর আতে জাজর সাজ-সরঞ্জামও পানিত ফালাই দিলা। 20বউত দিন থাকি চান্দ-সুরুজ কুন জিনিস ইতা না দেখায়, আর তুফানর জুর খুব বেশি অওয়ায়, আমরা জানে বাচার আশা ছাড়ি দিলাম।
21জাজর মানুষ বউত দিন ধরি উপাস রওয়ায় পাউলুছে উবাইয়া তারারে কইলা, “ও ভাইছাব অকল, আমার কথা হুনিয়া ক্রীতি দ্বীপ থাকি জাজখানরে না ছাড়লে, ই মছিবত আর খেতি থাকি আপনারা বাচলা অনে। 22অইলে অখন আমি আপনারারে অউ পরামিশ দিরাম, আপনারা মনর মাজে বল রাখউক্কা, আমরা কেউ জানে মরতাম নায়, খালি জাজখান বিনাশ অইযিবো। 23আমি যে আল্লার এবাদত-বন্দেগি করি, হউ আল্লার এক ফিরিস্তায় গত রাইত আমার কান্দাত উবাইয়া কইছইন, 24পাউলুছ, ডরাইও না, বাদশা কৈছরর ছামনে তুমার উবানি লাগবো। আর ই জাজো করি যেরা তুমার লগে অইয়া যাইরা, আল্লায় তুমার খাতিরে মেহেরবানি করিয়া এরা হক্কলর জান বাচাইছইন। 25তে ছাব অকল, আপনারা মনর মাজে বল রাখউক্কা। আমি একিন করি, আল্লায় আমারে যেলা কইছইন, অলাউ অইবো। 26অইলে আমরা কুনু দ্বীপর উপরে গিয়া পড়মু।”
জাজ বুড়ি গেল
27অউ লাখান করি আমরা আদ্রিয়া সাগরর উপরেদি যাওয়াত রইলাম, বাদে তুফানর চৌদ্দ দিনর দিন আধা রাইতকুর বালা নাইয়া অকলে আন্দাজ করলা, তারা পারর কান্দাত আইছইন। 28তারা পানি মাপিয়া দেখলা খালি আশি আত গইন আছে, থুড়া বাদে হিরবার মাপিয়া দেখলা, ষাইট আত আছে। 29এরদায় চরর পাথরর মাজে গিয়া জাজ ধাক্কা লাগার ডরে, তারা জাজর খরেদি চাইরগেছা লংগর ফালাইয়া, সুরুজর ফর দেখার লাগি দোয়া করাত বইলা। 30নাইয়া অকলে জাজ থাকি বাগিয়া যাওয়ার মতলব করি, ছামনর গলইর থুড়া আগে লংগর ফালানির কথা কইয়া, জাজর বারকি নাওরে দরিয়াত লামাইলা। 31তেউ পাউলুছে ছুবেদাররে আর সিপাই অকলরে কইলা, “নাইয়া অকল জাজ থাকি বাগি গেলে আপনারা হকল মারা যাইবা।” 32ইখান হুনিয়া সিপাই অকলে নাওর দড়ি কাটি দিলা, তেউ নাও পানিত ভাসিয়া গেলগি।
33পতাবালা পাউলুছে হকলরে মিনত করলা কুন্তা খাওয়ার লাগি, তাইন কইলা, “আইজ চৌদ্দদিন ধরি কিতা অইবো না অইবো অউ চিন্তায় আপনারা কুন্তা খাইছইন না। 34আমি আপনারারে মিনত কররাম, কুন্তা খাউক্কা। জান বাচাইতে অইলে তো আপনারা খাইতে অইবো। দেখবানে, আপনাইন্তর মাথার একছা চুলরও খেতি অইতো নায়।” 35ইখান কইয়া হারি পাউলুছে তারা হকলর ছামনে রুটি আনিয়া আল্লার শুকরিয়া জানাইয়া, রুটি ছিড়িয়া খাওয়াত লাগলা। 36তেউ হকলে মনর মাজে বল পাইয়া খানি খাইলা। 37ই জাজর মাজে আমরা হকলে মিলিয়া দুইশো ছিয়ত্তইর জন আছলাম। 38হকলে পেট ভরিয়া খাওয়ার বাদে জাজর ভার কমানির লাগি হক্কল গম দরিয়াত ফালাই দিলা।
39বিয়ান অইয়া হারলে তারা চিনলা না, ই জাগা আসলে কুন জাগা। অইলে অউলা এক বাখ দেখা গেল, ই বাখর চর বালুয়ে ভরা। দেখিয়া তারা পরামিশ করলা, পারলে জাজরে নিয়া হউ চরো তুলিলিতা। 40তেউ তারা লংগরাইন কাটিয়া দরিয়াত ফালাই দিলা, আর কান্ডারির বৈঠার দড়িনও কাটি দিলা। বাদে বাতাস ভাটিয়লে ছামনর পাল টাংগাইয়া হউ বালুর চরর মুখা গেলাম। 41অইলে জাজ তলে লুকাইল কুন্তাত আটকি গেল। আর ছামন গালা আটকি যাওয়ায়, খরর গলইত ঢেউর বাড়ি লাগিয়া ভাংগা ধরলো। 42তেউ সিপাই অকলে পরামিশ করলা বন্দি অকলরে মারিলিতা, আরনায় কেউ কেউ হাতরাইয়া বাগিযিতো পারে। 43অইলে শ-সিপাইর ছুবেদারে পাউলুছরে বাচানির খিয়ালে সিপাই অকলর ই পরামিশ মানলা না। তাইন হুকুম দিলা, যেরা হাতার জানে, তারা আগে জাজ থাকি ফালাইয়া পড়িয়া হুকনাত উঠউক। 44আর হাতার না জানরা অকলে জাজর তক্তা বা আরো কুন্তাত ধরিয়া হুকনাত পারউক। অউ লাখান হকলে হুকনাত উঠিয়া জান বাচাইলা।
28মাল্টা দ্বীপো হাফর কামড়
1আমরা হেফাজতে পারো উঠিয়া হারলে জানলাম, ই দ্বীপর নাম অইলো মাল্টা। 2হিনর মানষে আমরার লগে খুব ভালা-মানষি করলা, মেঘ আর শীত আছিল করি তারা আগুইন জালাইয়া আমরারে ডাকিয়া নিয়া খাতির-যতন করলা। 3এরমাজে পাউলুছে এক আটা হুকনা লাকড়ি তুকাইয়া দলা করি আনিয়া আগুনির মাজে দেওয়ার বাদে, আগুনির তেজে এক কালনাগ বার অইয়া হারি পাউলুছর আতো কামড় মারি ধরলো। 4কালনাগে পাউলুছর আতো কামড়দি লটকি রইছে দেখিয়া, হিনর মানষে মাতা-মাতি লাগাইলা, “ই মানুষগু নিচয় কুনু খুনি, দরিয়ার আত থাকি হে বাচিগেলেও ন্যায়-দেবতায় তারে বাচতে দিলা না।” 5অইলে পাউলুছে আত ঝাড়াদিয়া কালনাগরে আগুইনো ফালাই দিলা, আর তান কুনু খেতি অইলো না। 6মানষে মনে মনে বার চাওয়াত আছিল, পাউলুছর গতর ফুলিযিবো, বা তাইন আখতাউ মাটিত পড়িয়া মরিযিবা। বউত সময় বার চাইয়া হারলে তান কুনু বিপদ অইছে না দেখিয়া, তারার মত বদলাইয়া কইলা, “এইন তো কুনু দেবতা।”
7ই জাগার কান্দাত হউ দ্বীপর ফুবলিয় নামর এক খান্দানি মানষর জমিদারি আছিল। তাইন আমরারে তান বাড়িত দাওত দিলা আর তিনদিন ধরি আমরারে খুব খাতির-যতন করলা। 8অউ সময় ফুবলিয়র বাফ তাপ আর কামড়ি বেমারে বিছনাত ফালাইল আছলা। পাউলুছে ভিতরে হামাইয়া তান কান্দাত বইয়া দোয়া করলা, তান গতরো আতাই দিয়া বেমার শিফা করলা। 9ইতা দেখিয়া হারি হি দ্বীপর যতো বেমারি আছলা, তারাও আইয়া ভালা অইলা। 10তারা আমরারে বউত লাখান ইজ্জত করলা, বিদায় বালা জাজ ছাড়ার আগে আমরার দরকারি হকল চিজ যুগাইয়া জাজো আনিয়া ভরিয়া দিলা।
রাজধানি রোম টাউনো হজরত পাউলুছ
11তিন মাস বাদে আমরা আলেকজান্দ্রিয়ার এক জাজো করি রওয়ানা দিলাম। ই জাজখান অউ দ্বীপো রইয়া শীতর দিন কাটাইছিল, এর ছামনর গলই খুদিয়া জোড় দেবতার মুর্তি লাগাইল আছিল। 12বাদে আমরা সুরাকুষো আইয়া তিন দিন রইলাম। 13হিকান থাকি রওয়ানা দিয়া ঘুরি ঘুরি ইতালির রিজিয়ত আইলাম। বাদর দিন দউকনর বাতাস ছাড়লো, তেউ দুছরা দিন আমরা পুতিয়লি জাজ ঘাটো আইলাম। 14হিনো কয়জন মুমিনর লগে মুলাকাত অইলো, তারা মিনত-কাজ্জি করায় তারার লগে এক হাপ্তা রইলাম। অতা করি করি আমরা রোম টাউনো আইয়া আজিলাম। 15রোমর মুমিন অকলে আমরা আওয়ার খবর হুনছলা, তারা আমরার লগে মুলাকাত করতা করি কুনু কুনু জনে আপ্পিয়র বাজার, কেউ কেউ তিন-সরাইখানার গাউ পর্যন্ত আগুয়াই আইলা। এরারে দেখিয়া পাউলুছে আল্লার শুকরিয়া আদায় করলা, আর দিলর মাজে বউত বল পাইলা।
16আমরা রোমো আওয়ার বাদে পাউলুছে তান নিজর পছন্দ মাফিক রইবার অনুমতি পাইলা। খালি একজন সিপাইয়ে তানে পারা দিতো।
বন্দি হালতে রোম টাউনো তবলিগ
17তিনদিন বাদে পাউলুছে ইহুদি অকলর বড় বড় মুরব্বিরে দলা করিয়া একখানো করাইলা। তারা দলা অইয়া হারলে তাইন কইলা, “ও ভাইছাব অকল, যুদিও আমি নিজর জাতর বা ময়-মুরব্বির বাতাইল নিয়ম-কানুনর উল্টা কুন্তাউ করছি না, তা-ও জেরুজালেম থাকি আমারে আটক করিয়া, রোমান অকলর আতো সমজাইল অইছে। 18রোমান অকলে আমারে জেরা করিয়া মউতর সাজা দেওয়ার জুকা কুনু দুষ না পাওয়ায়, আমারে খালাছ দিলাইতা চাইছলা। 19অইলে ইহুদি অকলে বাধা দেওয়ায় নিরুপায় অইয়া আমি বাদশার গেছে আপিল করছি। তা-ও আমি আমার নিজর জাতর উপরে কুনু লাখান দুষ দিতাম চাইছি না। 20তে ছাব অকল, তামাম বনি ইছরাইলর দিলর মাজে যে আশা আছে, হউ আশার লাগিউ আমারে ই শিকল ফিন্দাইল অইছে, এরলাগিউ আমি আপনাইন্তর লগে মুলাকাত আর বাতচিত করতাম চাইরাম।” 21তারা কইলা, “আমরা তো আপনার বেয়াপারে এহুদিয়া থাকি কুনু চিঠি পাইছি না। আর যেতা ইহুদি ভাইয়াইন হন থাকি আইছইন, তারাও আপনার নামে কুনু নালিশ দিছইন না, বা বুরা কুন্তা কইছইনও না। 22অইলে আমরা আপনার মুখ থাকি মতামত হুনতাম চাইরাম। কারন আমরা জানি, হকল জাগার মানষেউ ই তরিকার বিপক্ষে মাতইন।”
23পাউলুছর লগে হিরবার মুলাকাত করার লাগি এক তারিখ ঠিক করলা। হউ দিন তারার লগে আরো বউত মানুষ পাউলুছর ঘরো আইলা। পাউলুছে ফজর থাকি হাইঞ্জা পর্যন্ত হারাদিন আল্লার বাদশাইর কথা তারার গেছে ভাংগিয়া বয়ান করলা। হজরত মুছার তৌরাত কিতাব আর নবী অকলর কিতাবর আয়াত দেখাইয়া, ইছার বেয়াপারে তারার দিলো একিন জন্মাইতা চাইলা। 24তান বয়ান হুনিয়া কুনু কুনু জনে ইমান আনলা, আর কুনু কুনু জনে ইতা একিন করলা না। 25বয়ান হুনার বাদে তারার মাজে মতর অমিল অইগেল, তারা হিকান থাকি বিদায় অইতা চাইলা। যাওয়ার আগে পাউলুছে তারারে খালি অউ নছিয়তখান করলা, “পাক রুহে হজরত ইশায়া নবীর জরিয়ায় আপনাইন্তর বাফ-দাদা অকলরে অউ কথাখান ঠিকউ কইছলা,
26অউ মানুষ অকলর কাছাত গিয়া কও,
তুমরা কানে হুনলেও কুন্তা বুজতায় নায়,
চউখে দেখলেও কুন্তা চিনতায় নায়।
27কারন ইতা মানষর দিল অসাড় অইগেছে,
তারার কানো তালা লাগিগেছে,
তারা যারযির চউখ মুজি বইরইছে।
যাতে চউখে না দেখে,
কানে না হুনে,
দিল দিয়া না বুজে,
কিযানু তারা তৌবা করিয়া,
আমার বায় ফিরিযাইন,
আর আমি তারার শিফা করিলাই।
28-29এরলাগি আপনারাও জানিয়া রাখউক্কা, অখন থাকি আল্লাই নাজাতর খুশ-খবরি অ-ইহুদি অকলর গেছে জানাইল অইবো, তারা ইতা খুশ অইয়া হুনবা।”
30হজরত পাউলুছ পুরা দুই বরছ ধরি তান নিজর ভাড়া করা বাসাত রইলা। আর যতো মানুষ তান গেছে আইতা তারারে কবুল করিয়া, 31পুরাপুর হিম্মত করি আল্লার বাদশাইর কথা তবলিগ করতা। আর মালিক ইছা আল-মসীর বেয়াপারে বিনা বাধায় খুলা-মেলা তালিম দিতা॥