পবিত্র ইঞ্জিল শরিফ ১৪ নম্বর ছিপারা
দুছরা থিষলনিকিয়া
পরিচিতি
আল্লা পাকর হুকুমে অউ ছিপারা লেখছইন হজরত ইছা আল-মসীর সাহাবি হজরত পাউলুছ (রাঃ)। হজরত ইছায় বেহেস্তো তশরিফ নেওয়ার অনুমান ১৮ বছর বাদে তাইন থিষলনিকি জমাতর গেছে চিঠির আকারে অউ দুছরা ছিপারা লেখছইন।
তারার উপরে যে জায়-জুলুম চলের, অউ জুলুমর মাজে সান্তনা দিবার লাগি তারার গেছে লেখরা। আর কইরা, যেতা উস্তাদে কইন হজরত ইছায় লুকাই লুকাই দুছরা বার তশরিফ আনিয়া দুনিয়া ছাড়ি গেছইনগি, অতার ভুল তালিম থাকি জমাতরে বাচাও। আরো পরামিশ দিরা, হজরত ইছায় দুছরা বার যেবলা তশরিফ আনবা, এর থুড়া আগে দুশমন খানে-দর্জালও আইবো। এরলাগি ভুল পথ থাকি বাচিয়া ইমানর মজবুতি জরুর।
এরমাজে আছে,
(ক) মুমিনর পুরুস্কার আর বে-দীনর সাজা ১ রুকু
(খ) খানে-দর্জাল থাকি হুশিয়ার ২:১-১২ আয়াত
(গ) নাজাত পাইয়া ইমানে মজবুত রও ২:১৩—৩:৫
(ঘ) অলস-কুড়িয়ারে হুশিয়ার করো ৩:৬-১৮
11আমরার গাইবি বাফ আল্লা পাক আর হজরত ইছা আল-মসীর লগে শরিক, থিষলনিকি টাউনর জমাতর গেছে আমি পাউলুছ, ভাই সিলাছ আর তিমথিয়ে অউ ছহিফা খান লেখরাম।
2গাইবি বাফ আল্লায় আর হজরত ইছা আল-মসীয়ে তুমরারে রহমত আর শান্তি দান করউক্কা।
মুমিনর পুরুস্কার আর বে-দীনর সাজা
3ভাই অকল, আমরা হামেশা তুমরার লাগি আল্লার শুকরিয়া আদায় করা জরুর। তুমরার ইমানি বল বউত বাড়ের আর একে-অইন্যে মায়া-মহব্বতও বাইয়া পড়ের, এরলাগি আমরা শুকরিয়া আদায় করা দরকার। 4আমরা তো আল্লার জমাত অকলর ছামনে তুমরারে লইয়া বড়াই করিয়ার, কারন অতো জুলুম-মছিবত আর দুখ-কষ্ট পাইয়াও তুমরা ছবর করছো আর ইমানে টিকিয়া রইছো।
5তুমরারে যাতে আল্লার বাদশাইর যোইগ্য কইয়া গনা অয়, অতার লাগিউ তুমরা অতো দুখ-মছিবত সইয্য কররায়, ইতা অইলো আল্লার হক-ইনছাফর পরমান, 6তান হক-ইনছাফ অইলো, যেতায় তুমরারে কষ্ট দেইন, তাইন ইতারে কষ্ট দিবা। 7-8আর তুমরা যেরা অখন কষ্ট পাইরায়, আল্লায় আমরার লগে তুমরারেও ই কষ্ট থাকি রেহাই দিবা। হজরত ইছায় যেবলা তান শক্তিশালি ফিরিস্তা অকল লইয়া, জালাইল আগুনির কুন্ডলিত অইয়া বেহেস্ত থাকি লামিয়া আইবা, অউ সময় অউলা অইবো। যেতা মানষে আল্লারে চিনে না আর হজরত ইছার খুশ-খবরির কথা মানে না, আল্লায় ইতারে তারার পাওনা সাজা দিবা। 9মালিক ইছায় যেবলা তশরিফ আনবা, অউ সময় তারারে অমন সাজা দেওয়া অইবো, যাতে তারা তান দিদারর আর মহা কুদরতির বারে পড়িয়া হর-হামেশা লান্নতি সাজা পাইবো। 10হউ দিন তান নিজর পাক বন্দা অকল, যেরা তান উপরে ইমান আনছে তারার মাজদি, তান গৌরব মহিমা জাইর অইবো। এরার মাজে তুমরাও আছো, কারন আমরার তবলিগ হুনিয়া তুমরা ইমান আনছো।
11এরলাগি আমরা হামেশা তুমরার লাগি দোয়া করি, আমরার আল্লায় যানু তুমরারে তান দাওতর জুকা মনো করইন, তান খেমতার বলে তুমরার হকল নেক কামর আশা পুরন করইন, আর ইমান আনিয়া হারি তুমরা যেতা কাম কররায়, ই কামও যানু তাইন পুরা করইন। 12তেউ আমরার আল্লা আর হজরত ইছা আল-মসীর রহমতর লাগি, তুমরার মাজদি আমরার মালিক ইছার গৌরব জাইর অইবো, আর তান মাজদি তুমরাও গৌরবর ভাগি অইবায়।
2খানে-দর্জাল থাকি হুশিয়ার
1ও ভাই অকল হুনো, আমরার মালিক ইছা আল-মসী তো হিরবার আইবা, আইয়া আমরা হকলরে একখানো দলা করিয়া তান গেছে নিবা। তে অউ বেয়াপারে তুমরারে মিনত করি কইরাম, 2কেউ যুদি আইয়া কয় মালিক ইছার দিন আইয়া হারছে, হে কুনু গাইবি দরশন দেখছে, বা ওহী নাজিল অইছে, বা আমরার লেখা চিঠি মনো করিয়াও তুমরা ডরাইয়া অস্থির অইও না। 3কেউ যানু কুনুমন্তেউ তুমরারে টগিয়া ইমান লুটিতো না পারে। কারন হউ দিন আওয়ার আগে বেশির ভাগ মানুষ আল্লা পাকর বিরুদ্ধে যাইবো, তারা আল্লার গেছ থাকি দুরই হরিযিবো, আর দোজখি জন, হউ নাফরমান খানে-দর্জাল বার অইবো। 4বার অইয়া “আল্লার নামে” যততা আছে, ইতা হক্কলতার বিপক্ষে আর এবাদতি করার জুকা হক্কলতার বিপক্ষে গিয়া, হে নিজরে বড় মনো করবো। হে অলাও করবো, আল্লার এবাদত খানাত বইয়া নিজরে আল্লা কইয়া দাবি করবো।
5তে আমি যেবলা তুমরার গেছে রইতাম, হউ সময় আমি ই বেয়াপারে মাততাম, ইতা তুমরার মনো অর না নি? 6হউ নাফরমান যাতে সময় পুরা অওয়ার আগে বার অইতো না পারে, এরলাগি কিতায় তারে আটকাইয়া রাখছে, ইখান তো তুমরা জানোউ। 7তুমরা এওখানও জানো, হউ নাফরমানর লুকাইল কাম-কাজ অখনও চলের। অইলে যেইন তারে আটকাইয়া রাখরা, তাইন হরিয়া যাওয়ার আগ পর্যন্ত তারে আটকানিত রইবা। 8তাইন হরি গেলে হউ নাফরমান খানে-দর্জাল বার অইবো। হজরত ইছায় মুখদি ফু দিয়া তারে বিনাশ করবা, আর তান কুদরতি মহিমায় আজির অইয়া তার বল-শক্তিরে খতম করবা। 9হি খানে-দর্জাল যেবলা আইবো, তার লগে রইবো শয়তানি খেমতা। অউ শয়তানি খেমতায় হে হকল মিছা কেরামতি আর মোজেজা কাম দেখাইবো। 10তার হকল নমুনার বেইমানি খাটাইয়া বেইমান মানষরে টগিবো। ইতা মানুষ বিনাশ অইযিবা, কারন জান বাচানির লাগি তারা আল্লাই হকরে পছন্দ করছে না, আর কবুলও করছে না। 11এরলাগি আল্লায় তারারে শক্তিশালি এক কু-ধান্দাত ফালাইবা, যাতে তারা মিছা বেয়াপাররে একিন করে। 12এতে আল্লাই হকর উপরে ইমান না আনিয়া যেতায় নাফরমানিরে পছন্দ করছইন, তারারে কিয়ামতর দিন দুষি সাইবস্তো করা অইবো।
নাজাত পাইয়া ইমানে মজবুত রও
13ও ভাই অকল, ও মালিক ইছার মায়ার জন অকল, তুমরার লাগি আমরা হামেশা আল্লার দরবারো শুকরিয়া আদায় করা দরকার, আল্লায় তো তুমরারে পয়লা থাকিউ বাছিয়া আলগ করছইন নাজাত পাওয়ার লাগি। পাক রুহ দিয়া তুমরারে পবিত্র করার মাজদি, আর আল্লাই খুশ-খবরির হকর উপরে ইমান আনিয়া তুমরা নাজাত পাইছো। 14আমরা যে খুশ-খবরি তবলিগ করছি, এর উছিলায় নাজাত পাওয়ার লাগি আল্লায় তুমরারে পছন্দ করছইন, যাতে তুমরা আমরার মালিক ইছা আল-মসীর মহিমাত শরিক অও। 15তে ও ভাই অকল, তুমরা ইমানে থির রও আর মুখে মুখে বা চিঠির মারফতে আমরা যে তালিম দিছি, ইতা ভালামন্তে মনো রাখিও।
16-17আমরার গাইবি বাফ আল্লা পাকে আর স্বয়ং ইছা আল-মসীয়ে তুমরার দিলো নেক উত্সাহ দান করউক্কা, হকল নমুনার নেক কাম আর মাত-কথার মাজে থির রাখউক্কা। তাইনউ আমরারে মহব্বত করছইন, তাইন রহম করিয়া চিরকালিন উত্সাহ আর খুশি-বাসির আশা দান করছইন।
31ও ভাই অকল, হেশ-মেশ কইরাম, আমরার লাগি দোয়া করিও, হজরত ইছার খুশ-খবরি তুমরার মাজে যেলা জলদি জলদি ছিতরিছিল, অউলা যানু দিন দিন ছিতরাত রয় আর গৌরব পাওয়াত রয়। 2আর অউ দোয়া খানও করিও, আমরা যানু বিবেক ছাড়া নাফরমান অকলর আত থাকি রেহাই পাই। সব মানুষ তো আর ইমানদার নায়। 3অইলে মালিক ইছা তো হক আর খাটি, তাইনউ তুমরারে ইমানে থির রাখবা আর শয়তানর আত থাকি হামেশা হেফাজত করবা। 4মালিকর উপরে ইমান আনছো করি তুমরার উপরে আমরার ই একিন আছে, আমরা যেলা হুকুম দিছি, তুমরা ঠিক অউ লাখান কাম কররায় আর করাত রইবায়ও। 5মালিক ইছায় যানু তুমরার দিলরে আল্লার মহব্বতর পথে আর আল-মসীর ছবরর পথে চালু রাখইন।
অলস-কুড়িয়ারে হুশিয়ার করো
6ভাই অকল, আমরার হজরত ইছা আল-মসীর নামে অউ হুকুম দিরাম, তুমরার জমাতর কুনু ইমানদার ভাইয়ে যুদি কুড়িয়ামি করে আর আমরা যেতা তালিম দিছি, ইতা না মানে, তে তার লগে চলা-ফিরা বাদ দিলাও। 7হুনো, আমরার লাখান কেমনে চলতায়, ইতা তো তুমরা জানোউ। আমরা যেবলা তুমরার লগে রইতাম, অউ সময় তো কুনুজাত কুড়িয়ামি করছি না, 8মাগনা কুনু খানি খাইছি না। আমরা দিনে-রাইতে মেনত করিয়া রুজি-রুজগার করছি, যাতে তুমরা কেউরর বোঝা না অই। 9অইলে আমরা যেন তুমরার গেছ থাকি সাইয্য নিবার অধিকার নাই, ইলা তো নায়, তা-ও আমরা অলা করিয়া দেখাইছি, যাতে তুমরাও আমরার লাখান চলো। 10তুমরার গেছে থাকার কালো তালিম দিছলাম, কুনু জনে যুদি কাম করতো না চায়, তে হে খানিও বাদ দিলাউক। 11আমরা অখনও হুনরাম, তুমরার মাজে কেউ কেউ কুড়িয়ামি করের আর কুনুজাত কাম-কাজ করের না, বরং হামেশা পরর কিচ্ছা গাইয়া দিন কাটায়। 12তে আমরার মালিক ইছা আল-মসীর অইয়া ইতা মানষরে নছিয়ত আর হুকুম দিয়ার, তারা যানু শান্তি অইয়া রুজি-রুজগার করিয়া খায়, আর নিজর খানি নিজে যুগায়।
13ভাইয়াইনরে, নেক কামো হেরান অইও না। 14অউ চিঠির ভাষায় লেখা আমরার পরামিশ যুদি কেউ না মানে, তে তারে চিনিয়া রাখো, তার লগে চলা-ফিরা বাদ দিলাও, তেউ হে শরমিন্দা অইবো। 15অইলে খিয়াল রাখিও, তারে দুশমন মনো করিও না, বরং ভাই হিসাবে হুশিয়ার করো।
বিদায়ি ছালাম
16শান্তি দেওরা মালিকে তুমরারে হামেশা হকল নমুনার শান্তি দান করউক্কা। মালিক ইছা তুমরা হকলর লগে লগে রউক্কা।
17হুনো, ই ছালামর কথা আমি পাউলুছে নিজর আতে লেখছি। অকটাউ আমার পরতেক চিঠির আলামত, আমি অউ নমুনায় চিঠি লেখি। 18তুমরা হকলর উপরে আমরার মালিক ইছা আল-মসীর রহমত জারি রউক। আমিন॥