পবিত্র ইঞ্জিল শরিফ ২২ নম্বর ছিপারা

দুছরা পিতর

পরিচিতি

আল্লা পাকর হুকুমে হকল ইছায়ী ইমানদার অকলর গেছে, হজরত ইছা আল-মসীর সাহাবি হজরত পিতরে (রাঃ) খুব মছিবতর হালতে তান শহিদ অওয়ার থুড়া আগে ই ছহিফা চিঠির আকারে লেখছইন। হজরত ইছায় বেহেস্তো তশরিফ নেওয়ার অনুমান ৩২ বছর বাদে ইখান লেখা অইছে।

ই ছহিফা লেখার মুল উদ্দেশ্য অইলো, ভন্ড উস্তাদ অকলর ভুল তালিমর মাজদি যে কু-কাম শুরু অইছিল, এর বিরুধিতা করা। তাইন ই ছহিফার মাজে বাতাইছইন, আল্লা পাক আর হজরত ইছা আল-মসীরে পুরাপুর চিনলে, ইতা থাকি বাচা যায়। অউ ভন্ড উস্তাদ অকলে কইতা, হজরত ইছা দুছরা বার দুনিয়াত আওয়ার কুনু নিচ্চয়তা নাই। অইলে লেখকে কইরা, হজরত ইছায় তশরিফ আনতে দেরি করা তো আল্লার ছবরগারির নিশানা, আসলে তাইন আইবাউ আইবা, আইয়া হকলতার বিচার করবা আর অখনকুর হকলতা বিনাশ অইবো। তে অউ উস্তাদ অকলর তালিম থাকি হুশিয়ার রইয়া, পরেজগার হিসাবে জিন্দেগি কাটানির লাগি পরামিশ দিছইন।

এরমাজে আছে,

(ক) ছালাম জানানি ১:১-২ আয়াত

(খ) মুমিন অকলরে দাওত আর পছন্দ করা ১:৩-১৫

(গ) আল-মসীর গৌরব আর নবী অকলর বুলি ১:১৬-২১

(ঘ) ভন্ড উস্তাদ ২ রুকু

(ঙ) হজরত ইছার ফিরিয়া আওয়ার বেয়াপারে ৩ রুকু

1

ছালাম জানানি

1আমি সাইমন-পিতর, হজরত ইছা আল-মসীর একজন গুলাম আর সাহাবি। তুমরা যেরা আমরার লাখান, আমরার আল্লা আর তরানেআলা ইছা আল-মসীর পাক-পরেজগারিয়ে একই লাখান মহা দামি ইমান হাছিল করছো, আমি তুমরার গেছে লেখরাম। 2আল্লা পাক আর আমরার মালিক হজরত ইছারে পুরাপুর চিনার মাজদি, তুমরার উপরে বেশ করি রহমত আর শান্তি নাজিল অউক।

মুমিন অকলরে দাওত আর পছন্দ করা

3যেইন তান নিজর মহিমা আর গুনে আমরারে দাওত দিছইন, তানরে পুরাপুর চিনার মাজদি তান কুদরতে আমরা অলা নিয়ামত পাইছি, যাতে আমরা পরেজগার বনিয়া জিন্দেগি কাটাই। 4তান মহিমা আর গুনে আমরার লগে মহা দামি আর বউত বড় বড় ওয়াদা করছইন, যাতে তুমরা দুনিয়াবি হকল বদ খাইশ থাকি বাচিয়া আল্লাই গুনর ভাগি অও।

5এরদায় তুমরা খুব খিয়ালি অইয়া, ইমানর লগে নেক খাইছলত, নেক খাইছলতর লগে আল-মসীরে চিনার আখল, 6ই আখলর লগে নিজরে সামলানি, সামলানির লগে ধৈর্য আর ধৈর্যর লগে পরেজগারি, 7পরেজগারির লগে একে-অইন্যে মায়া, আর একে-অইন্যে মায়ার লগে আল্লাই মহব্বতে বাড়ো। 8তুমরার মাজে যুদি ইতা গুনাগুন থাকে, আর ইতা ভরিয়া পড়াত রয়, তে আমরার মালিক ইছা আল-মসীরে পুরাপুর চিনা খান তুমরার বেকামা-বেহুদা যাইতো নায়। 9অইলে যে জনর মাজে ইতা গুনাগুন নাই, হে তো আন্দা, হে কুন্তাউ বুজে না। কারন আগর যে গুনা থাকি তারে পাক-ছাফ করা অইছে, ইখান হে ফাউরিলিছে।

10এরলাগি ভাই অকল হুনো, আল্লায় যেন হাছাউ তুমরারে দাওত দিছইন আর পছন্দ করছইন, ইতা নিচ্চিত করার লাগি আরো বেশি খিয়ালি অও। ইলা করলে তুমরা কুনু সময় উষ্টা খাইতায় নায়। 11আর আমরার মালিক তরানেআলা ইছা আল-মসীর হামেশাকুর বাদশাইত তুমরারে আদর করি হারাইল অইবো।

12এরলাগি, আমি হামেশা তুমরারে অতা বেয়াপারে মনো করাই দিরাম, যুদিও ইতা তুমরার জানা আছে আর তুমরার গেছে যে হকিকত আইছে, ইতাত থিরও আছো। 13আসলে আমি মনো কররাম, আমি যতদিন তাম্বুর লাখান অউ শরিলে বাচিয়া রইমু, অতদিন তুমরারে অতা মনো করাই দিয়া হজাগ রাখা উচিত। 14কারন আমি তো আর বেশি দিন অউ শরিলে রইতাম নায়, আমরার মালিক ইছা আল-মসীয়ে ইখান আমারে পরিস্কার জানাই দিছইন। 15তে আমার মউতর বাদেও হামেশা যাতে অতা মনো রাখতায় পারো, আমি অউ মেনতও করমু।

আল-মসীর গৌরব আর নবী অকলর বুলি

16আমরার মালিক ইছা আল-মসীর কুদরতি শক্তি আর তান হিরবার তশরিফ আনার কথা জানানিত গিয়া, আমরা কুনু বানাইল কিচ্ছা কইছি না। আমরা তো নিজর চউখে তান মহিমা দেখছি। 17আছমান থাকি জালাল আর শানর যে আওয়াজ আইলো, “এইনউ আমার খাছ মায়ার জন ইবনুল্লা, এন উপরে আমি খুব খুশি,” অউ আওয়াজর মাজদি আল-মসীয়ে তান গাইবি বাফ আল্লার গেছ থাকি ইজ্জত আর গৌরব পাইছইন। 18আমরা যেবলা তান লগে হউ পবিত্র পাড়ো আছলাম, অউ সময় নিজর কানে বেহেস্তর অউ গাইবি আওয়াজ হুনছি।

19আর আমরার লাগি আরো বড় পরমান অইলো, পাক কিতাবো নবী অকলে যততা বাতাই গেছইন। আন্দারির মাজে তুমরার চউখ যেলাখান রুশনির বায় থাকে, ঠিক অলাখান যতো সময় বিয়ান অইছে না আর তুমরার দিলো ফজরর শুক-তেরা উঠছে না, অতো সময় তুমরা নবী অকলর কথায় খিয়ালি অও, তেউ তুমরার ভালা অইবো। 20আর খাছ করি মনো রাখিও, কিতাবর মাজর কুনু কথা নবী অকলর মনগড়া নায়। 21কারন নবী অকলে তারার ইচ্ছামতো কুনু কথা কইছইন না, খালি পাক রুহর বলে আল্লার দেওয়া বুলি বাতাইছইন।

2

ভন্ড উস্তাদ

1মনো রাখিও, বনি ইছরাইলর মাজে যেলা ভন্ড নবী অকল আছলা, তুমরার মাজেও অউলা ভন্ড উস্তাদ অকল থাকবা। তারা লুকাই-লুকাই অমন ভুল তালিম দিবো, যে তালিমে মানষরে বিনাশ করে আর যে মালিকে তারারে আজাদ করার লাগি খরিদ করছইন, অউ মালিকরে পর্যন্ত তারা অস্বীকার করব। অলাখান খুব জলদি তারা নিজর উপরে বিনাশ ডাকিয়া আনবো। 2তারার দেখা-দেখি বউত মানুষ খবিছি পথে যাইবো, তারার লাগিউ ইছায়ী হক তরিকার বদনাম অইবো। 3লোভ-লালছ করিয়া ছল-চতুরির মাত মাতিয়া, নিজর লাভর আশায় তারা তুমরারে কামো লাগাইব। তারার পাওনা সাজা তো বউত দিন থাকি বার চার, তারার বিনাশও বেশি দেরি নায়।

4এমনকি আগর ফিরিস্তা অকলে যেবলা গুনা করছলা, অউ সময় আল্লায় তারারে রেহাই দিছইন না, বরং দোজখর আন্দাইরর গাতো ফালাইয়া তারার বিচার করার লাগি রাখছইন। 5আর তাইন হউ আগর দুনিয়ারেও রেহাই দিছইন না, বরং অউ বে-দীন অকলরে বইন্যার পানিদি মারছইন। অইলে নুহ নবী আর অইন্য সাত জনরে তাইন বাচাইছইন। কারন নুহ নবীয়ে পরেজগারির কথা তবলিগ করতা। 6আর আল্লায় ছাদুম আর আমুরা টাউনরে আগুইন দিয়া জালাইয়া ছালি করিয়া, অনর মানষরে সাজা দিছলা। অউ নমুনায় তাইন দেখাইছলা, বে-দীন অকলর দশা কিলাখান অয়। 7তা-ও লুত নবীরে তাইন বাচাইছইন। এইন তো পরেজগার মানুষ আছলা, হিনর নাফরমান অকলর বেসামাল ভাব দেখিয়া তাইন খুব কষ্ট পাইতা। 8দিন দিন তারার আকাম-কুকাম আর কথাবার্তা হুনতা। শরিয়তর বিপক্ষে তারার নাফরমানি দেখিয়া, অউ পরেজগার জনর মনো খুব দুখ লাগতো। 9-10অতা থাকি দেখা যার, আল্লায় তো পরেজগার মানষরে পরিক্ষার মাজ থাকিও বাচাইতা পারইন। অইলে যেরা বে-দীনি কাম করে, খাছ করি যেরা খবিছি করে, কুনু শাসন মানে না, তারারে সাজা দেওয়াটা কিয়ামত পর্যন্ত রাখতাও পারইন।

ই ভন্ড উস্তাদ অকল খুব বদ-সাওসি। তারা নিজর ইচ্ছামতো চলে আর বাতুনি সর্দার অকলর বদনাম গাইতে ডরায় না। 11ফিরিস্তা অকল শক্তি আর খেমতায় এরা থাকি বউত বড় অইলেও, অউ বাতুনি সর্দারর বিপক্ষে মাবুদর দরবারো বদনাম গাইয়া কুনু নালিশ দেইন না। 12বেআখল জংলি জানুয়ার অকলে না বুজিয়া যেলা নিজর খুশিয়ে চলে আর ধরা খাইয়া মরে, অউ ভন্ড উস্তাদ অকলও অতার লাখান। তারা যেতা বুজে না, অতারও বদনাম গায়। এরলাগি অউ জংলি জানুয়ারর লাখান তারার বিনাশ আছে, 13খারাপির বদলা বাবত তারার লাগিও খারাপি আছে। দিনর বেলায়ও মউজ-ফুর্তি করিয়া মদ খাইতে তারার ভালা লাগে। তারা তো তুমরার খানির থালর থু আর গু। তারা যেবলা তুমরার লগে বইয়া মেজবানি খায়, অউ সময় তারা ভন্ডামি করতে খুব আরাম পায়। 14তারার চউখ জিনায় ভরা, গুনার কাম কুনু সময় বন্দ করে না। অস্থির মানষরে বে-পথে টানিয়া নেয়। তারার মন লোভ-লালছর উস্তাদ। ইগুইন তো লান্নতি! 15তারা বালাম বিন বাউরর লাখান ছহি পথ ছাড়িয়া বে-পথে গেছেগি। অউ ভন্ড পীর বালাম তো হারাম কামাই-রুজগারর পাগল আছিল, 16অইলে অলা বদ কামর লাগি হে বোবা গাধার ধমক খাইছে। অউ গাধায় মানুষ বুলিয়ে মাতিয়া তার পাগলামিত বাধা দিছে।

17ইতা মানুষ তো পানির হুকনা কুয়ার লাখান আর বাতাসর কুড়ুল্লার লাখান। তারার লাগি গইন আন্দাইর জমা রাখা আছে। 18তারা বড় বড় বেকামা মাত মাতে। আর যেরা থুড়া আগে কু-পথ ছাড়িয়া জান বাচানির লাগি বাগিছইন, অতা মানষরে শরিলর খাইশে চলিয়া বদমাইশি করার ইন্ধন দেয়। 19হউ ভন্ড উস্তাদ অকলে কছম খাইয়া কয় মানষরে আজাদ করতো, অইলে তারা নিজেউ নফরতি কামর গুলাম। জানো তো, কেউ যুদি কুন্তার গেছে আরিযায়, তে হে ইতার গুলাম। 20তে আমরার মালিক আর তরানেআলা ইছা আল-মসীরে চিনিয়া হারি জগতর খারাপি থাকি হরিয়া আইয়াও, কেউ যুদি হিরবার গিয়া অউ খারাপির জালো আটকায়, তে তারার পয়লা দশা থাকি হেশ দশা আরো মন্দ। 21পরেজগারির পথ চিনার বাদেও তারার গেছে সমজাইল অউ পবিত্র হুকুমর উল্টা গেছে, এর থাকি আরো ভালা আছিল ই পথ না চিনা। 22তারার বেয়াপারে অউ ছিল্লেখউ সঠিক, “কুকরে নিজর বমি ফিরিয়া খায়,” আর “শুয়ররে নাওয়াইলেও ফেকো পড়িয়া গড়িয়ায়।”

3

হজরত ইছার ফিরিয়া আওয়ার বেয়াপারে

1মায়ার ভাই অকল, ইখান অইলো তুমরার গেছে লেখা আমার দুই নম্বর চিঠি, ই দুইও চিঠিতউ আমি তুমরারে খিয়াল করাই দিরাম আর তুমরার দিলরে হজাগ কররাম। 2আমি চাইরাম, পবিত্র নবী অকলে আগে যততা বাতাইছইন, আর আমরার তরানেআলা মালিকে তুমরার গেছর সাহাবি অকলর মাজদি যে হুকুম দিছইন, অতা মনো রাখো।

3খুব খিয়াল করি বুজিও, আখেরি জমানাত রং-তামশা কররা অকলে রং-তামশা লইয়া আজিবা, তারা যারযির খাইশে চলবা। 4তারা কইবা, “কিতাবা, হেইন আইবার লাগি যে ওয়াদা আছিল, ইতার কিতা অইলো? দুনিয়ার শুরু থাকি যেলাখান চলছিল, আমরার বাফ-দাদার মরনর বাদ থাকি অখনও তো অলাখানউ চলের।” 5আসলে ইতায় তো ইচ্ছা করিউ ফাউরিলায়, বউত দিন আগে আল্লার কালামর বলে আছমান পয়দা অইছে আর পানিরে হরাই দিয়া জমিন বার করা অইছিল, পানিরে জমিনর চাইরো গালাবায় দলা করা অইছিল। 6বাদে হউ পানিয়ে বইন্যা অইয়া হি জমানার দুনিয়ারে বিনাশ করছিল। 7আর হউ কালামর বলে, অখনকুর আছমান-জমিনরে আগুইনদি জালাইবার লাগি রাখা অর। আখেরি বিচার দিন পর্যন্ত ইতারে অলা রক্ষা করা অর, হউ দিন বে-দীন অকলর সর্বনাশ অইবো।

8তা-ও ভাই অকল, তুমরা ইখান ফাউরিও না, মালিকর গেছে এক দিন এক আজার বছরর হমান আর এক আজার বছর এক দিনর হমান। 9কুনু কুনু মানষে মনো করইন, মালিকে তান ওয়াদা পুরন করতে দেরি কররা, ইখান ঠিক নায়। আসলে তাইন তুমরার বায় ছবর করিয়া রইছইন, তাইন চাইরা না কেউ বিনাশ অউক, বরং হকলরে তৌবা করার সুযোগ দিরা।

10অইলে মালিক ইছা আইবার দিন তো চুরর লাখান আখতাউ আইবো। হউ দিন আছমানে হু হু আওয়াজ করিয়া বিনাশ অইবো আর পয়দা করা হকলতা আগুইনে গলিয়া মিলাই যিবো। দুনিয়া আর এর মাজে যততা করা অইছে, হক্কলতা জাইর অইবো।

11অলাখান হক্কলতা বিনাশ অইবো জানিয়া, তুমরা কিলাখান রওয়া জরুর? তুমরা পাক-পবিত্র রইয়া পরেজগার জিন্দেগি কাটাইয়া, 12আল্লার ঠিক করা দিনর লাগি আশিক অইয়া বার চাও। হউ দিন তো আছমান জলি জলি বিনাশ অইবো আর পয়দা করা হকলতা আগুইনে গলিযিব। 13অইলে আমরা আল্লা পাকর ওয়াদা করা নয়া আছমান, নয়া জমিনর বার চাইরাম, যেখানো খালি পরেজগারির ঠিকানা।

14এরলাগি ভাই অকল, তুমরা যেবলা অউ দিনর লাগি বার চাওয়াত আছো, তে খুব খিয়াল করো, অউ দিন তাইন যানু তুমরারে নিখুত-নিষ্কলংক হালতে শান্তির মাজে দেখইন। 15আর আমরার মালিকর লাম্বা ছবরগারিরে মানষর জান বাচানির সুযোগ মনো করিও। অউ একই কথা আল্লার দেওয়া আখলে আমরার মায়ার ভাই পাউলুছেও তুমরার গেছে লেখছইন। 16তান হক্কল চিঠিতউ অউ বেয়াপারে লেখইন। এর মাজে কিছু বেয়াপার আছে যেতা বুজা কঠিন, খালি বেআখল আর বেদিশা জনে অইন্যান্য কিতাবর লাখান ইতার মানিও বদলাইয়া, নিজর সর্বনাশ ডাকিয়া আনে।

17ভাই অকল, অউ কথা অকল তুমরা আগেউ জানছো, এরলাগি হুশিয়ার অও যাতে অউ নাফরমান মানষর ভুলে তুমরারে ভুল পথে না নেয়, আর ইমানি ভীত থাকি না হরায়। 18তুমরা আমরার মালিক আর তরানেআলা ইছা আল-মসীর রহমতে আর তানরে চিনার তাক্কতে বাড়িয়া উঠো। অখন আর হর-হামেশা তান মহিমা জারি রউক। আমিন॥