পবিত্র ইঞ্জিল শরিফ ২১ নম্বর ছিপারা
পয়লা পিতর
পরিচিতি
আল্লা পাকর হুকুমে হজরত ইছার সাহাবি হজরত পিতরে (রাঃ) অউ ছহিফা রোমান বাদশাইর রাজধানি রোম টাউন থাকি লেখছইন, অউ রোম টাউনরে মুমিন অকলে নাফরমান বাবিল টাউন কইয়া ডাকিতা। তাইন নানান দেশর মাজে ছিতরিয়া থাকা ইছায়ী ইমানদার অকলর গেছে চিঠির আকারে লেখছইন। হজরত ইছায় বেহেস্তো তশরিফ নেওয়ার অনুমান ২৮-৩০ বছর বাদে ইখান লেখা অইছে।
জুলুম আর দুখ-মছিবতর সময় ইমানদার অকলরে বুজ দেওয়ার লাগি তাইন ই ছহিফা লেখছইন। অউ সময় যেরা হজরত ইছার উপরে ইমান আনছলা, তারা সাধারন মানষর গেছে ঠাট্টা-মশকরার চিজ বনিগেছলা। এরলাগি হজরত পিতরে অউ ছহিফার মাজদি তারারে সাওস যুগাইছইন।
অউ ছিপারার ২ রুকু ৫ আয়াতো আছে, “তুমরা তান তরিকা কবুল করায়, তুমরারে জিন্দা পাথরর লাখান আল্লা পাক রইবার পবিত্র কাবা ঘর বানানি অর। এরলাগি আল্লাই ইমাম ছাব হিসাবে তুমরারে আলাদা করি রাখা অইছে, যাতে তুমরা অউলা রুহানি কুরবানি দেও, যেতা ইছা আল-মসীর খাতিরে আল্লায় কবুল করইন।”
এরমাজে আছে,
(ক) নাজাতর আশা আর পবিত্র অওয়ার দাওত ১:১—২:৩ আয়াত
(খ) আল্লার ঘরর জিন্দা পাথর বনিয়া জিন্দেগি কাটাও ২:৪-২৫
(গ) জামাই-বউর লাগি হুকুম ৩:১-৭
(ঘ) দুখ-কষ্টর বাদে মহা পুরুস্কার ৩:৮—৪:১৯
(ঙ) গুলামির বেশে খেজমত করো ৫ রুকু
11আল্লার পছন্দ করা যতো বন্দা অকল পন্ত, গালাতিয়া, কাপ্পাদকিয়া, আছিয়া আর বিথুনিয়া দেশো ছিতরিয়া ভিন-দেশি হিসাবে বসত কররা, তারার গেছে আমি আল-মসীর সাহাবি পিতরে অউ ছহিফা খান লেখরাম। 2গাইবি বাফ আল্লায় তান মুনশায় তুমরারে পছন্দ করছইন আর পাক রুহে পবিত্র করছইন। এর উদ্দেশ্য অইলো, তুমরা যাতে ইছা আল-মসীর বাইধ্য অও আর তান লউ ছিটাইয়া তুমরারে পাক-ছাফ করা অয়।
আল্লায় তুমরারে বেশ করি রহমত আর শান্তি দান করউক্কা।
ইমানদার অকলর নাজাতর আশা
3হউ আল্লা পাকর তারিফ অউক, যেইন আমরার মালিক ইছা আল-মসীর মাবুদ আর গাইবি বাফ। তাইন ইছা আল-মসীরে মরা থাকি জিন্দা করিয়া, তান মহা দয়ায় আমরারে নয়া জনম দান করছইন, এতে আমরা এক জিন্দা আশা পাইছি। 4মানি আমরা অলা এক ধনর আশা পাইছি, যে ধন কুনুদিন নষ্ট অইতো নায়, হারা জীবন নয়া থাকব, এর মাজে খারাপ কুন্তা থাকতো নায়। নাজাতর ই ধন তুমরার লাগি বেহেস্তো রাখা অইছে। 5তুমরা পুরাপুর নাজাত না পাওয়া পর্যন্ত, আল্লাই শক্তিয়ে ইমানর মাজদি তুমরারে হেফাজতে রাখা অইছে। অউ নাজাত ঠিক করা অইছে, আখেরাতর সময় জাইর অওয়ার লাগি। 6যুদিও কয় দিনর লাগি নানান জাত পরিক্ষার মাজদি তুমরা অখন দুখ-কষ্ট কররায়, তা-ও অউ নাজাতর আশায় তো তুমরার মন খুশিয়ে ভরা। 7অউ পরিক্ষা অকল চলের, তুমরা যেন ইমানে খাটি অখান পরমান করার লাগি। আর ইছা আল-মসীর জাইর অওয়ার সময়, তুমরা যানু তারিফ, গৌরব আর সম্মান পাও। যে সোনা ক্ষয় অইযায়, অউ সোনারেও আগুনিত পুড়িয়া যাচাই করা অয়। আর তুমরার ইমানর দাম তো অউ সোনার চাইতেও বউত বেশি, এরলাগি অউ পরিক্ষা চলের। 8যুদিও আল-মসীরে তুমরা দেখছো না, তেবউ তুমরা তানরে মহব্বত কররায়। আর অখনও তানরে চউখে না দেখলেও, খুশি অইয়া তানরে একিন কররায়, ই খুশি তো ভাষায় কওয়া যায় না, ইতা খালি বেহেস্তি খুশি। 9কারন তুমরার ইমানর আখেরি ফল পাইরায়, ইকটা অইলো তুমরার জানর পুরাপুর নাজাত।
10যে দোয়া তুমরার পাওয়ার কথা, ই বেয়াপারে বউত আগে নবী অকলে বাতাইছইন। তারা অউ নাজাতর বেয়াপার জানার লাগি বউত খুজ-খবর করছইন। 11তারার দিলো আল-মসীর রুহে আগেউ সাক্ষি দিয়া কইছইন, তানরে কষ্ট করতে অইবো আর বাদে তাইন মহিমা পাইবা। নবী অকলে জানতা চাইছলা, আল-মসীর অউ রুহে কুন সময়কুর আর কুন হালতর কথা তারারে জানাইরা। 12অইলে আল্লায় তারারে দেখাইয়া দিছইন, তারা যেতা বাতাইরা ইতা দিয়া তারার নিজর খেজমত না করিয়া, তুমরার খেজমত কররা। আছমান থাকি পাঠাইল পাক রুহ দিয়া, যেরা তুমরার গেছে আল-মসীর বেয়াপারে খুশ-খবরি তবলিগ করছইন, তারা তুমরারে নবী অকলর কথাউ জানাইছইন। ফিরিস্তা অকলেও ইতা বেয়াপার জানার লাগি খিয়ালি।
পাক-পবিত্র অওয়ার দাওত
13এরলাগি তুমরার মনরে হজাগ করো আর নিজরে সামলাইয়া রাখো। আল-মসী জাইর অওয়ার বাদে যে রহমত তুমরা পাইবায়, অউ রহমতি নাজাত পাওয়ার লাগি পুরাপুর আশা লইয়া তুমরা বার চাও। 14তুমরার আগর অবুজ হালতর খারাপ কাম-কাজ মাফিক জিন্দেগি কাটাইও না, বরং আল্লার হুকুম মানরা আওলাদ হিসাবে দিন কাটাও। 15যেইন তুমরারে দাওত দিছইন, তাইন যেলা পবিত্র, তুমরাও অউলা হকল চলা-ফিরাত পবিত্র অও। 16পাক কিতাবো আল্লায় কইছইন, “আমি পবিত্র, এরলাগি তুমরাও পবিত্র অও।”
17আল্লায় পরতেক মানষর আমল-নমা দেখিয়া বিচার করইন, কেউর মুখর বায় চাইয়া বিচার করইন না। এরলাগি তানরে যুদি তুমরা গাইবি বাফ ডাকো, তে যতদিন তুমরা অউ দুনিয়াত মুছাফির হালতে থাকবায়, অতদিন তুমরা তানরে ডরাইয়া জিন্দেগি কাটাও। 18তুমরা জানো, তুমরার বাফ-দাদা থাকি পাওয়া বেকামা চাল-চলনর পথ থাকি, ক্ষয় অওয়ার জুকা সোনা-রুপার লাখান কুনুতা দিয়া তুমরারে আজাদ করা অইছে না। 19বরং তুমরারে আজাদ করা অইছে, আল-মসীর মহা দামি লউ দিয়া, নিখুত-নিষ্কলংক মেড়ার বাইচ্চার লউ দিয়া। 20দুনিয়া পয়দা অওয়ার আগেউ আল্লায় তানরে ঠিক করি রাখছইন, অইলে অউ হেশ-মেশ সময় তাইন তুমরার লাগিউ জাইর অইছইন। 21আল্লায় এনরে মরা থাকি জিন্দা করি তুলিয়া মহিমা দান করছইন আর তান মাজদি তুমরা আল্লার উপরে ইমান আনছো। এরলাগিউ তুমরার ইমান আর আশা আল্লার উপরেউ আছে।
22অখন হক-হালালি মানিয়া, তুমরার দিলরে পাক-ছাফ করছো আর ইমানদার ভাই অকল যেবলা তুমরার গেছে মায়ার মানুষ অইছইন, তে আমি কইরাম, তুমরা একে-অইন্যরে দিলে-জানে মায়া করো। 23যে বিচ নষ্ট অইযায়, তুমরার জনম তো ইলা বিচর নায়। বরং যেতা নষ্ট অয় না, অতা থাকিউ তুমরার নয়া জনম অইছে। অউ বিচ অইলো আল্লার চিরকালিন জিন্দা কালাম। 24আল্লার কালামো লেখা আছে,
হকল মানুষউ ঘাসর লাখান,
ঘাস ফুলর লাখান তারা সুন্দর;
ঘাস হুকাই যায়, ফুলও জরি যায়,
25খালি আল্লার কালাম রয় চিরকাল।
আর অউ কালামউ অইলো খুশ-খবরি, যেতা তুমরার গেছে তবলিগ করা অইছে।
21এরলাগি অইন্য মানষর খেতি করার হকল জাত কু-মতলব, ছল-চতুরি, ভন্ডামি, ইংসা, আর হকল জাত নিন্দার মাত-কথা তুমরার দিল থাকি হরাই দেও। 2গেদা হুরুতাইন্তর দুধর পিয়াছর লাখান তুমরা খাটি রুহানি দুধর খিয়ালি অও, আর অউ দুধ খাইয়া খাইয়া যানু তুমরা বড় অইয়া নাজাত পাও। 3মালিক ইছার মেহেরবানির মজা তো তুমরা পাইছোউ।
আল্লার ঘরর জিন্দা পাথর
4তে তুমরা তান গেছে আও। তাইনউ অইলা আগর নবী অকলর কওয়া হউ “জিন্দা পাথর”, যে পাথররে মানষে দাম দিছে না, অইলে আল্লার গেছে ইকটা মহা দামি আর পছন্দর পাথর। 5আর তুমরা তান তরিকা কবুল করায়, তুমরারেও জিন্দা পাথরর লাখান আল্লা পাক রইবার পবিত্র কাবা ঘর বানানি অর। এরলাগি আল্লাই ইমাম ছাব হিসাবে তুমরারে আলাদা করি রাখা অইছে, যাতে তুমরা অউলা রুহানি কুরবানি দেও, যেতা ইছা আল-মসীর খাতিরে আল্লায় কবুল করইন। 6আল্লার কালামো আছে:
হুনো, আমি একটা মহা দামি পাথর পছন্দ করছি;
ইকটারে জেরুজালেমো ইয়ান খুটি হিসাবে গাড়িছি।
যে জনে তান উপরে ইমান আনে,
হে কুনুমন্তেউ শরমিন্দা অইতো নায়।
7আর তুমরা ইমান আনায়, তুমরার গেছে হউ পাথর মহা দামি অইগেছে। অইলে যেরা ইমান আনছে না, তারার বেলায় কিতাবর অউ কথাউ খাটে:
রাজ মেস্তইর অকলে যে পাথররে বেকামা কইয়া ফালাই দিছিল,
অকটা দিয়াউ ঘরর ইয়ান খুটি অইলো।
8আর,
ইকটা অউলা পাথর, যে পাথরো মানষে উষ্টা খাইব,
তারার আছাড় খাইয়া পড়ার কারন অইবো।
মানষে আল্লার কালাম মানে না, গতিকেউ উষ্টা খায়। ইতা তো তারার কপালি দশা।
9অইলে তুমরা তো ইলা নায়, তুমরা অইলায় আল্লার পছন্দ করা খান্দান, বাদশাই ইমামর দল, পবিত্র জাতি, তান আপন প্রজা। তাইন তুমরারে আন্দাইর থাকি নিজর নুরর ফরো দাওত করি আনছইন, তান গুনগান করার লাগি। 10আগে তো তুমরা আল্লার প্রজা আছলায় না, অইলে অখন অইছো। আগে তান মায়া-মহব্বতও পাইছো না, অখন পাইছো।
আল-মসীর নমুনায় জিন্দেগি কাটাও
11ভাই অকল, ই দুনিয়াত তুমরা মুছাফির হিসাবে আমি তুমরারে মিনত করি কইরাম, তুমরা শরিলর বদ খাইশ থাকি বাচিয়া রও, ইতায় তো তুমরার রুহর বিপক্ষে যুদ্ধ করে। 12যেরা আল্লারে চিনে না, তারার মাজে তুমরা হক পথে চলো। তেউ তারা তুমরারে দুষি কইয়া নিন্দা করলেও, তুমরার হকল ভালা কাম দেখিয়া কিয়ামতর দিন আল্লার গৌরব করবো।
13তুমরা মালিক ইছার খাতিরে মানষর বানাইল শাসন-বেবস্তা মানিও। দেশর রাজারে মানিও, এইন তো দেশর পরধান। 14তান মন্ত্রী আর হাকিমরে মানিও, অপরাধির সাজা আর ভালা জনরে পুরুস্কার দিবার লাগি তাইন এরারে রাখছইন। 15আল্লার মুনশা অইলো, তুমরা ভালা কাম করিয়া বুড়বক মানষর বেকামা মাত-কথা বন্দ করো। 16তুমরা নিচ্চয় স্বাধীন, তা-ও নাফরমানিরে গুরিয়া রাখার লাগি ই স্বাধীনতা বেবহার করিও না। বরং নিজরে আল্লার গুলাম মনো করো। 17হকল মানষরে ইজ্জত করো, তুমরার ইমানদার ভাই অকলরে মহব্বত করো, আল্লারে ডরাও আর দেশর রাজারে ইজ্জত দেও।
18আর বাড়ির গুলাম অকলরে কইরাম, তুমরা মুনিবরে ইজ্জত দেও আর তারার কথাত রও। যে মুনিব ভালা আর দয়ালু, খালি যেন তারার কথাত থাকতায়, ইলা কুন্তা নায়। অইলে যেরা কটু বেবহার করে, তারার কথাতও রও। 19অলা কেউ যুদি খামোখা দুখ-কষ্ট পায় আর আল্লারে মনো রাখিয়া ইতা সইয্য করিলায়, তে পুরুস্কার পাইব। 20অবইশ্য অপরাধর লাগি মাইর খাইয়া তুমরা যুদি সইয্য করো, তে তারিফ করার কুন্তা আছে নি? অইলে ভালা কামর লাগি তুমরা যুদি কষ্ট পাইয়াও সইয্য করিলাও, তে ইতা আল্লার দরবারো তারিফর লাখ, 21আল্লায় তুমরারে অতার লাগিউ দাওত দিছইন। আল-মসীয়েও কষ্ট সইয্য করিয়া নমুনা দেখাইছইন, তে তুমরাও তান পাওর তালে তালে চলো।
22তাইন কুনু গুনা করছইন না,
তান মুখো আছিল না কুনু ছল-চতুরি।
23মানষে তানরে গালি দিলেও, তাইন ফিরিয়া গালি দিছইন না। কষ্টর সময় এর বদলা লইবা কইয়া ডর-ভয়ও দেখাইছইন না, বরং যেইন হক বিচার করইন তান আতো নিজরে সপি দিছইন। 24তাইন নিজর শরিল দিয়া আমরার গুনার বোঝা বইছইন গাছর টুকরার সলিবো, যাতে গুনার বাবতে আমরা মরিয়া হারি, পাক-পরেজগারিয়ে জিন্দা রই। তান শরিলর কাটা-চিরায় তুমরার শিফা অইছে। 25আগে তো তুমরা বে-পথে যাওয়া মেড়ার লাখান আছলায়, অইলে যে রাখালে তুমরার দিলর দেখা-হুনা করইন, অখন তান গেছেউ ফিরিয়া আইছো।
3জামাই-বউর লাগি হুকুম
1অলাখান, জামাইর ঘরর হকল বউয়াইন্তরে কইরাম, তুমরা যারযির জামাইর কথায় চলো। যুদিও কুনু কুনু জামাইয়ে আল্লার কালামরে দাম দেয় না, তা-ও তুমরার চাল-চলনে যানু তারারে আল-মসীর বায় টানিয়া আনে। তেউ ই বেয়াপারে তুমরার একখান কথাও মাতা লাগতো নায়। 2তুমরার পবিত্র জিন্দেগির হালত দেখিয়া, আর আল্লার ডর-খফে চলা দেখিয়া তারা নিজেউ আইবো। 3নানান নমুনায় হাজি-পাড়ি চুলর খোপা বান্দিয়া, সোনা-রুপার গয়না লাগাইয়া, আর দামি দামি কাপড় ফিন্দিয়া নিজরে হাজানিত রইও না। 4বরং যে সুন্দর কুনুদিন নষ্ট অইতো নায়, হউ নমুনায় চলা-ফিরা আর শান্তির খাইছলত দিয়া নিজর দিলরে হাজাও। আল্লার নজরো অতাউ তো মহা দামি। 5ঠিক অলাখান আগর জমানার আল্লাওয়ালা বেটিন্তে, আল্লার উপরে ভরসা করিয়া জামাইর বাইধ্য রইয়া নিজরে হাজাইতা। 6হজরত ইব্রাহিমর বিবি ছায়রাও তান জামাইর বাইধ্য আছলা আর তানরে মুনিব কইয়া ডাকিতা। তুমরাও মানষরে না ডরাইয়া যুদি নেক কাম করো, তে অকটাউ পরমান অইবো, তুমরা বিবি ছায়রার যোইগ্য আওলাদ।
7আর জামাই অকলরেও কইরাম, তুমরা বিবেক-বুদ্ধি খাটাইয়া বউর লগে চলো। তারাও তো তুমরার লগর কমজুর মানুষ আর আল্লার রহমতর দান হিসাবে তারাও তুমরার লগে জিন্দেগি পাইব। এরলাগি তারারে ইজ্জত দেও, যাতে আল্লার দরবারো তুমরার মুনাজাত বেকামা না যায়।
নেক কামর লাগি দুখ-কষ্ট করো
8হেশে হকলরে কইরাম, তুমরা হকল এক-দিলা অও, একে-অইন্যর দুখে দুখি অও, ভাইয়াইন্তরে মায়া করো, দয়ালু আর নরম দিলর মানুষ অও। 9অইন্যায়র বদলা অইন্যায় করিও না, কেউ গালি দিলে ফিরিয়া গালি দিও না। বরং তারার লাগি দোয়া চাইও, অলা চলার লাগিউ আল্লায় তুমরারে দাওত দিছইন, ইলা করলে তুমরা রহমত পাইবায়। 10যেলা জবুর শরিফো আছে,
যে জনে সুখি জিন্দেগি কাটাইতো চায়
আর সুদিন দেখার আশা করে,
হে বাদ কথা থাকি তার জিফরারে,
ছল-চতুরি থাকি ঠোটরে সামলাউক।
11বাদ কাম থাকি ফিরিয়া ভালা কাম করউক,
শান্তির আশিক অইয়া এর খরে খরে রউক।
12পরেজগারর উপরে তো মাবুদর নজর,
তারার দোয়া হুনার লাগি তান কান খাড়া,
অইলে বাদ কাম কররার উপরে,
মালিক-মউলার বদ নজর।
13তুমরা যুদি ভালা ভালা কামর আশিক অও, তে কে তুমরার খেতি করব? 14পরেজগারির পথে চলার লাগি যুদিও তুমরার কষ্ট অয়, তা-ও তুমরা মুবারক। আর তুমরারে যেতায় ডর দেখাইন ইতারে ডরাইও না, অস্থির অইও না, 15বরং আল-মসীরে নিজর দিলো মালিক হিসাবে কবুল করো। তুমরার আশা-ভরসা যুদি কেউ জানতো চায়, তে তার জুয়াপ দিবার লাগি হামেশা জুইত রইও। 16অইলে ই জুয়াপ নরম সুরে দিও। তুমরার দিল ছাফ রাখিও, ইছায়ী উম্মত হিসাবে যেরা তুমরার ভালা চাল-চলনর নিন্দা করে, তারা যানু শরমিন্দা অয়। 17বদ কাম করিয়া কষ্ট পাওয়া থাকি তো, আল্লার মর্জি অইলে নেক কাম করিয়া কষ্ট পাওয়া বউত ভালা।
18মনো রাখিও, আমরার গুনার মাফির লাগি আল-মসীয়েও একবার কষ্ট করছইন, নাফরমানরে বাচানির লাগি হউ পরেজগার জনে জান দিছইন, আমরারে আল্লার দরবারো পৌছানির লাগি। শরিলে তানরে মারা অইছিল, অইলে রুহে জিন্দা করা অইছে। 19আর রুহে তাইন বন্দি রুহ অকলর গেছে গিয়া তবলিগ করছইন। 20অউ রুহ অকল তো নুহ নবীর জমানার অবাইধ্য মানষর রুহ। তান জাজ বানানির সময়, আল্লার লাম্বা ছবরগারির কালো এরা অবাইধ্য রইছইন, অউ জাজো উঠিয়া খালি আটজন মানষে গজবি পানি থাকি জান বাচাইছিল। 21ই পানি অইলো আল-মসীর নামে তরিকাবন্দির একটা নিশানা, যেতায় অখন তুমরার জান বাচে। তরিকাবন্দিয়ে তুমরার শরিলর ময়লা ছাফ অয় না, খালি আল্লার দরবারো ছাফ দিলর সায় দেয়। হজরত ইছা আল-মসী মরা থাকি জিন্দা অইয়া উঠায় তুমরার জান বাচে, 22তাইন বেহেস্তো গেছইন আর আল্লা পাকর ডাইন গালার তখতো বওয়াত আছইন। আছমানর ফিরিস্তা অকল, খেমতার মালিক অকল আর রাজা অকল তান অধীনে আছইন।
4আল্লাই ধনর খাজাঞ্চি অইয়া খেজমত করো
1আল-মসীয়ে নিজর শরিলো কষ্ট সইয্য করছইন করি, তুমরার দিলর ভাবরেও অলাখান করো। শরিলো যার কষ্ট অইছে, হে তো গুনার জালো বন্দি রইছে না। 2এরলাগি হে যতদিন দুনিয়াত আছে, অতদিন বদ খাইশে না চলিয়া খালি আল্লাই মুনশায় জিন্দেগি কাটায়। 3আল্লারে যেরা চিনে না, তারার লাখান তুমরাও আগে জিনা-বদমাইশি, মউজ-ফুর্তি, মাতলামি, হৈ-হুল্লা আর জঘইন্য মুর্তিপুজা করিয়া দিন কাটাইতায়। 4অইলে অখন তুমরা তারার লগে অইয়া অলাখান বেসামাল নাফরমানি কররায় না দেখিয়া, তারা তাইজ্জুব বনিয়া তুমরার নিন্দা গাইরা। 5তা-ও যেইন জিন্দা আর মুর্দা অকলর বিচারর লাগি জুইত আছইন, তারা তান গেছেউ হিসাব-নিকাশ দিতে অইবো। 6এরলাগিউ মুর্দা অকলর গেছেও খুশ-খবরি তবলিগ করা অইছিল, যাতে মানুষ হিসাবে তারার শরিলি বিচার অইলেও, রুহানি জগতো তারা আল্লার লাখান জিন্দা রইন।
7অখন তো হক্কলতার হেশ সময় আইচ্ছে। এরলাগি তুমরার মনরে ঠিক করো, নিজরে সামলাইয়া রাখো, যাতে মুনাজাতো কামিয়াব অও। 8আসল কথা অইলো, তুমরা একে-অইন্যরে দিল থাকি মহব্বত করো, কারন মায়া-মহব্বতে বউত গুনা গুরিয়া রাখে। 9কুনুজাত বিতিশনা না দেখাইয়া, তুমরা একে-অইন্যর মেহমানদারি করো।
10আল্লার গেছ থাকি যেইন যেলাখান নিয়ামত পাইছো, অউ ধনর খাটি খাজাঞ্চি হিসাবে ইতারে একে-অইন্যর খেজমতো লাগাও। 11কেউ যুদি তবলিগ করইন, তে অউ লাখান করউক্কা যাতে বুজা যায়, ইতা আল্লাই বুলি। আর যেইন খেজমত করইন, এইন আল্লার দেওয়া বল-শক্তিয়ে খেজমত করউক্কা, যাতে হক্কলতাতউ আল-মসীর উছিলায় আল্লার তারিফ অয়। তারিফ আর কুদরতি খেমতা হর-হামেশা তানউ। আমিন।
ইছায়ী ইমানদার হিসাবে কষ্টভোগ
12ভাই অকল, তুমরা অখন জীবন-মরন পরিক্ষাত পড়িয়া তাইজ্জুব অইও না, মনো করিও না ইতা আচানক কুন্তা ঘটের। 13বরং তুমরা আল-মসীর কষ্টর ভাগি অইরায় করি খুশি করো, যাতে তান মহিমা জাইর অওয়ার সময়ও তুমরা আমোদ-ফুর্তিয়ে খুশি-বাসি করতায় পারো। 14আল-মসীর নামর লাগি তুমরা যুদি বেইজ্জত অও, তে তুমরা নেক-কপালি। কারন আল্লার মহিমাআলা পাক রুহ তুমরার উপরে আছে। 15তুমরার মাজর কেউ যানু চুরি, খুন বা কুনুজাত অপরাধি হিসাবে, এমনকি পরর কামে নাক গলাইয়া কষ্ট না করউক। 16অইলে কেউ যুদি ইছায়ী ইমানদার হিসাবে দুখ-কষ্ট করে, তে হে শরমিন্দা না অউক, বরং ইছায়ী পরিচয়র লাগি আল্লার তারিফ করউক। 17বিচারর সময় আইচ্ছে, আর আল্লার পছন্দ করা বন্দা অকলরেদিউ বিচার শুরু অইবো। ইতা যুদি আমরার মাজ থাকিউ শুরু অয়, তে যেরা আল্লার খুশ-খবরি মানছে না, তারার দশা কিলান অইবো? 18আল্লার কালামো আছে,
আল্লারাইয়া মানষর জানর ছদমা অইলে,
গুনাগার আর বে-দীনে মুখ লুকাইবো কুয়াই?
19অইলে আল্লার মর্জিয়ে যেরা দুখ-কষ্ট করের, তারা নেক কাম করি করি নিজর জানরে হউ হক-হালাল পয়দা কররার আতো সপি দেউক।
5গুলামির বেশে খেজমত করো
1অখন জমাতর মুরব্বি অকলরে কইরাম, আমিও তো একজন মুরব্বি, আমি নিজর চউখে আল-মসীর দুখ-কষ্ট দেখছি, আর তান যে মহিমা জাইর অইবো, অউ মহিমাতও শরিক অইমু। আমি মিনত করি কইরাম, 2আল্লাই যে মেড়ার পাল তুমরার আওতায় আছইন, এরার রাখালি করো। তারার ইমামতি করো, করা লাগবো করি না করিয়া বা দুনিয়াবি লাভর আশায় না করিয়া, খুশ দিলে করো। আল্লায় তো অলা ইমামতিউ আশা করইন। 3তুমরার আওতায় যেরা আছে, এরার উপরে মুছদ্দরি করিও না, বরং পালর রাখালি করিয়া তারার গেছে নমুনা বনো। 4তেউ হউ পরধান রাখাল ইছায় যেবলা দুনিয়াত হিরবার তশরিফ আনবা, অউ সময় তুমরা পুরুস্কার হিসাবে অলা এক জয়র মালা পাইবায় যেতা কুনুদিন বিনাশ অইতো নায়। 5অউ লাখান জুয়ান অকলেও তুমরার মুরব্বিরে মানিয়া চলো। গুলামির বেশে হকলেউ একে-অইন্যর খেজমত করো, যেলা আল্লার কালামো আছে,
আল্লায় অহংকারির বিরুদ্ধে থাকইন,
নরম দিলর মানষরে রহম করইন।
6এরলাগি আল্লার খেমতার ছামনে তুমরা নতো অও, তেউ সময় মত আল্লায় তুমরারে উচা করবা। 7আল্লায় তো তুমরারে লইয়াউ চিন্তা করইন, এরলাগি হকল চিন্তা-ভাবনার ভার তান উপরে দিলাও।
8তুমরা নিজরে সামলাইয়া রাখো আর হুশিয়ার অও। কারন তুমরার দুশমন ইবলিছে গর্জন কররা বাঘর লাখান, তুমরারে খাইলিতো করি খাপ ধরিয়া ঘুরের। 9এরলাগি ইমানে মজবুত রইয়া তার মুকাবিলা করো। তুমরা তো জানো, দুনিয়ার হকল জাগাত তুমরার ইমানদার ভাইয়াইন্তে একই লাখান দুখ-কষ্ট করের।
10রহমানুর রহিম আল্লা পাকে তুমরারে দাওত দিছইন আল-মসীর লগে অইয়া তান চিরস্থায়ী মহিমার ভাগি অওয়ার লাগি। থুড়া কয়দিন দুখ-কষ্ট করিয়া হারলে, তাইন নিজেউ তুমরারে ঠিক-ঠাক করবা আর থির রাখবা, তুমরারে বলবান করিয়া মজবুত খুটির উপরে খাড়া করাইবা। 11তান রাজ-খেমতা হর-হামেশা জারি রউক। আমিন।
শেষ কথা
12অউ চিঠিখান আমি সিলাছ মহরির ছাবরেদি খুব কম কথায় তুমরার গেছে লেখাইছি, আমি তানরে হক-হালাল ভাই মনো করি। আমি চাইরাম আল্লার খাছ রহমতর অউ সাক্ষি হুনিয়া তুমরার সাওস বাড়উক, আর তুমরা অনো থির অইয়া রও।
13আল্লায় তুমরার লগে যেরারে পছন্দ করছইন, হউ বাবিল টাউনর মুমিন অকলে তুমরারে ছালাম জানাইরা, আর আমার ধর্মর পুয়া মার্কুছেও তুমরারে ছালাম জানাইরা। 14তুমরা একে-অইন্যে মহব্বতে গলাগলি করিও। তুমরা যেরা আল-মসীর আপন জন অইছো, তুমরার উপরে শান্তি নাজিল অউক। আমিন॥