লূক লিখিত সুসমাচার।
1আভাষ। যোহন বাপ্তাইজকের জন্ম-বিষয়ে আগাম-সংবাদ।
1প্রথম অবধি যাঁহারা স্বচক্ষে দেখিয়াছেন, এবং বাক্যের সেবা করিয়া আসিয়াছেন, তাঁহারা আমাদিগকে যেমন সমর্পণ করিয়াছেন, 2তদনুসারে অনেকেই আমাদের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে গৃহিত বিষয়াবলির বিবরণ লিপিবদ্ধ করিতে হস্তক্ষেপ করিয়াছেন, 3সেই জন্য আমিও প্রথম হইতে সকল বিষয় সবিশেষ অনুসন্ধান করিয়াছি বলিয়া, হে মহামহিম থিয়ফিল, আপনাকে অনূপূর্ব্বিক বিবরণ লেখা বিহিত বুঝিলাম;
4যেন, আপনি যে সকল বিষয় শিক্ষা পাইয়াছেন, সেই সকল বিষয়ের নিশ্চয়তা জ্ঞাত হইতে পারেন। 5যিহুদিয়ার রাজা হেরোদের সময়ে অবিয়ের পালার মধ্যে সখরিয় নামে এক জন যাজক ছিলেন; তাঁহার স্ত্রী হারোণবংশীয়া, তাঁহার নাম ইলীশাবেৎ। 6তাঁহারা দুই জন ঈশ্বরের সাক্ষাতে ধার্ম্মিক ছিলেন, প্রভুর সমস্ত আগ্জ্ঞা ও বিধি অনুসারে নির্দ্দোষরূপে চলিতেন। 7তাঁহাদের সন্তান ছিল না, কেননা ইলীশাবেৎ বন্ধ্যা ছিলেন, এবং দুই জনেরই অধিক বয়স হয়েছিল। 8একদা যখন সখরিয় নিজ পালার অনুক্রমে ঈশ্বরের সাক্ষাতে যাজকীয় কার্য্য করিতেছিলেন, 9তখন যাজকীয় কার্য্যের প্রথানুসারে গুলিবাঁট ক্রমে তাঁহাকে প্রভুর মন্দিরে প্রবেশ করিয়া ধুপ জ্বালাইতে হইল। 10সেই ধূপদাহের সময়ে সমস্ত লোক বাহিরে থাকিয়া প্রাথনা করিতেছিল। 11তখন প্রভুর এক দূত ধূপবেদির দক্ষিন পার্শ্বে দাঁড়াইয়া তাঁহাকে দর্শন দিলেন। 12দেখিয়া সখরিয় ত্রাসযুক্ত হইলেন, ভয় তাঁহাকে আক্রমন করিল। 13কিন্তু দূত তাঁহাকে বলিলেন, সখরিয়, ভয় করিও না, কেননা তোমার বিনতি গ্রাহ্য হইয়াছে, তোমার স্ত্রী ইলীশাবেৎ তোমার জন্য পুত্র প্রসব করিবেন, ও তুমি তাহার নাম যোহন রাখিবে। 14আর তোমার আনন্দ ও উল্লাস হইবে, এবং তাহার জন্মে অনেকে আনন্দিত হইবে। 15কারণ সে প্রভুর সম্মুখে মহান হইবে, এবং দ্রাক্ষারস কি সুরা কিছুই পান করিবে না; আর সে মাতার গর্ব্ভ হইতেই পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হইবে; 16এবং ইস্রায়েল সন্তানদের মধ্যে অনেককে তাহাদের ঈশ্বর প্রভুর প্রতি ফিরাইবে। 17সে তাঁহার সম্মুখে এলিয়ের আত্মায় ও পরাক্রমে গমন করিবে, যেন পিতৃগনের হৃদয় সন্তানদের প্রতি, ও অনাজ্ঞবহদিগকে ধার্ম্মিকদের বিজ্ঞতায় চলিবার জন্য ফিরাইতে পারে, প্রভুর নিমিত্ত সুসজ্জিত এক প্রজামন্ডলী প্রস্তুতু করিতে পারে। 18তখন সখরিয় দূতকে কহিলেন, কিসে ইহা জানিব? কেননা আমি বৃদ্ধ এবং আমার স্ত্রীও অধিক বয়স হইয়াছে। 19দূত উত্তর করিয়া তাহাকে কহিলেন, আমি গাব্রিয়েল, ঈশ্বরের সম্মুখে দাঁড়াইয়া থাকি, তোমার সহিত কথা কহিবার ও তোমাকে এই সকল বিষয়ের সুসমাচার দিবার জন্য প্রেরিত হইয়াছি। 20আর দেখ, এই সকল যে দিন ঘটিবে, সেই দিন পর্য্যন্ত তুমি নীরব থাকিবে, কথা কহিতে পারিবে না; যেহেতুক আমার এই যে সকল বাক্য যথাসময়ে সফল হইবে, ইহাতে তুমি বিশ্বাস করিলে না। 21আর লোক সকল সখরিয়ের অপেক্ষা করিতে ছিল, এবং মন্দিরের মধ্যে তাঁহার বিলম্ব হওয়াতে তাহারা আশ্চর্য্য গ্জ্ঞান করিতে লাগিল। 22পরে তিনি বাহিরে আসিয়া তাহাদের কাছে কথা কহিতে পারিলেন না; তখন তাহারা বুঝিল যে, মন্দিরের মধ্যে তিনি কোন দর্শন পাইয়াছেন; আর তিনি তাহাদের নিকটে নানা সঙ্কেত করিতে থাকিলেন, এবং বোবা হইয়া রহিলেন। 23পরে তাঁহার উপাসনার সময় পূর্ণ হইলে তিনি নিজ গৃহে চলিয়া গেলেন। 24এই সময়ের পরে তাঁহার স্ত্রী ইলীশাবেৎ গর্ব্ভবতী হইলেন; আর তিনি পাঁচ মাস আপনাকে গোপনে রাখিলেন, বলিলেন, 25লোকদের মধ্যে আমার অপযশ খন্ডাইবার নিমিত্ত এই সময়ে দৃষ্টিপাত করিয়া প্রভু আমার প্রতি এইরূপ ব্যবহার করিয়াছেন।
যীশু খ্রিস্টের জন্ম-বিষয়ে আগাম-সংবাদ।
26পরে ষষ্ঠ মাসে গাব্রিয়েল দূত ইশ্বরের নিকট হইতে গালীল দেশের নাসরৎ নামক নগরে একটি কুমারীর নিকটে প্রেরিত হইলেন, 27তিনি দায়ুদ-কুলের যোষেফ নামক পরুষের প্রতি বাগ্দত্তা হইয়া ছিলেন; সেই কুমারীর নাম মরিয়ম। 28দূত গৃহ মধ্যে তাঁহার কাছে আসিয়া কহিলেন, অয়ি মহানুগৃহীতে মঙ্গল হউক; প্রভু তোমার সহবর্ত্তী। 29কিন্তু তিনি সেই বাক্যে অতিশয় উদ্বিগ্ন হইলেন, আর মনে মনে আন্দোলন করিতে লাগিলেন, এ কেমন মঙ্গলবাদ? 30দূত তাঁহাকে কহিলেন, মরিয়ম, ভয় করিও না, কেননা তুমি ইশ্বরের নিকটে অনুগ্রহ পাইয়াছ। 31আর দেখ, তুমি গর্ব্ভবতী হইয়া পুত্র প্রসব করিবে, ও তাঁহার নাম যীশু রাখিবে। 32তিনি মহান হইবেন, আর তাঁহাকে পরাৎপরের পুত্র বলা যাইবে; আর প্রভু ঈশ্বর তাঁহার পিতা দায়ুদের সিংহাসন তাঁহাকে দিবেন; 33তিনি যাকোব-কুলের উপরে যুগে যুগে রাজত্ব করিবেন, ও তাঁহার রাজ্যের শেষ হইবে না। 34তাখন মরিয়ম দূতকে কহিলেন, ইহা কিরূপে হইবে? আমি ত পুরুষকে জানি না। 35দূত উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, পবিত্র আত্মা তোমার উপরে আসিবেন, এবং পরাৎপরের শক্তি তোমার উপরে ছায়া করিবে; এই কারণ যে পবিত্র সন্তান জন্মিবেন, তাঁহাকে ঈশ্বরর পুত্র বলা যাইবে। 36আর দেখ, তোমার জ্ঞাতি যে ইলীশাবেৎ , তিনিও বৃদ্ধ বয়সে পুত্র সন্তান গর্ব্ভে ধারণ করিয়াছেন; লোকে যাঁহাকে বন্ধ্যা বলিত, এই তাঁহার ষষ্ঠ মাস। 37কেননা ঈশ্বরের বাক্য শক্তিহীন হইবে না। 38তখন মরিয়ম কহিলেন, দেখুন, আমি প্রভুর দাসী; আপনার বাক্যানুসারে আমার প্রতি ঘটুক। পরে দূত তাহার নিকট হইতে প্রস্থান করিলেন। 39তৎকালে মরিয়ম উঠিয়া সত্বর পাহাড় অঞ্চলে যিহুদার এক নগরে গেলেন,
40এবং সখরিয়ের গৃহে প্রবেশ করিয়া ইলীশাবেৎকে মঙ্গলবাদ করিলেন।
41আর এইরূপ হইল, যখন ইলীশাবেৎ মরিয়মের মঙ্গলবাদ শুনিলেন, তখন তাঁহার জঠরে শিশুটি নাচিয়া উঠিল; আর ইলীশাবেৎ পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হইলেন,
42এবং উচ্চরবে মহাশব্দ করিয়া বলিলেন, নারীগণের মধ্যে তুমি ধন্য, এবং ধন্য তোমার জঠরের ফল।
43আর আমার প্রভুর মাতা আমার কাছে আসিবেন, আমার এমন সৌভাগ্য কোথা হইতে হইল?
44কেননা দেখ, তোমার মঙ্গলবাদের ধ্বনি আমার কর্নে প্রবেশ করিবামাত্র শিশুটি আমার জঠরে উল্লাসে নাচিয়া উঠিল।
45আর ধন্য যিনি বিশ্বাস করিলেন, কারণ প্রভু হইতে যাহা যাহা তাঁহাকে বলা গিয়াছে, সে সমস্ত সিদ্ধ হইবে।
46তখন মরিয়ম কহিলেন, আমার প্রাণ প্রভুর মহিমা কীর্ত্তন করতেছে,
47আমার আত্মা আমার ত্রাণকর্ত্তা ঈশ্বরে উল্লাসিত হইয়াছে।
48কারণ তিনি নিজ দাসীর নীচ অবস্থার প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়াছেন; কেননা দেখ, এই অবধি পুরষ-পরম্পরা সকলে আমাকে ধন্য বলিবে।
49কারণ যিনি পরাক্রমী, তিনি আমার জন্য মহৎ মহৎ কার্য্য করিয়াছেন; এবং তাঁহার নাম পবিত্র। 50আর যাহারা তাঁহাকে ভয় করে, তাঁহার দয়া তাহাদের পুরুষ পরম্পরায় বর্ত্তে। 51তিনি আপন বাহু বিক্রম-কার্য্য করিয়াছেন; যাহারা আপনাদের হৃদয়ের কল্পনায় অহঙ্কারী, তাহাদিগকে ছিন্নভিন্ন করিয়াছেন। 52তিনি বিক্রমদিগকে সিংহাসন হইতে নামাইয়া দিয়াছেন, ও নীচদিগকে উন্নত করিয়াছেন; 53তিনি ক্ষুধার্ত্তদিগকে উত্তম উত্তম দ্রব্যে পূর্ণ করিয়াছেন, এবং ধনবানদিগকে রিক্তহস্তে বিদায় করিয়াছেন। 54তিনি আপন দাস ইস্রায়েলের উপকার করিয়াছেন, যেন, আমাদের পিতৃগনের প্রতি উক্ত আপন বাক্যানুসারে 55অব্রাহাম ও তাঁহার বংশের প্রতি চিরতরে করুনা স্মরণ করেন। 56আর মরিয়ম মাস তিনেক ইলীশাবেতের নিকটে রহিলেন, পরে নিজ গৃহে ফিরিয়া গেলেন।
যোহনের জন্ম।
57পরে ইলীশাবেতের প্রসবকাল সম্পূর্ণ হইলে তিনি পুত্র প্রসব করিলেন। 58তখন, তাঁহার প্রতিবাসী ও আত্মীয়গণ শুনিতে পাইল যে, প্রভু তাঁহার প্রতি মহা দয়া করিয়াছেন, আর তাহারা তাঁহার সহিত আনন্দ করিল। 59পরে তাহারা অষ্টম দিনে বালকটির ত্বকছেদ করিতে আসিল, আর তাহার পিতার নামানুসারে তাহার নাম সখরিয় রাখিতে চাহিল। 60কিন্তু তাহার মাতা উত্তর করিয়া কহিলেন, তাহা নয়, ইহার নাম যোহন রাখা যাইবে। 61তাহারা তাঁহাকে কহিল, আপনার গোষ্ঠীর মধ্যে এ নাম ত কাহাকেও ডাকা হয় না। 62পরে তাহারা তাহার পিতাকে সঙ্কেতে জিজ্ঞাসা করিল, আপনার ইচ্ছা কি? ইহার কি নাম রাখা যাইবে? 63তিনি একখান লিপিফলক চাহিয়া লইয়া লিখিলেন, ইহার নাম যোহন। তাহাতে সকলে আশ্চর্য্য গ্জ্ঞান করিল। 64আর তখনই তাঁহার মুখ ও তাঁহার জিহ্বা খুলিয়া গেল, আর তিনি কথা কহিলেন, ইশ্বরের ধন্যবাদ করিতে লাগিলেন। 65ইহাতে চারিদিকের প্রতিবাসীরা সকলে ভয়গ্রস্থ হইল, আর যিহুদিয়ার পাহাড় অঞ্চলের সর্ব্বত্র লোকে এই সমস্ত কথা বলাবলি করিতে লাগিল। 66আর যত লোক শুনিল, সকলে তাহা হৃদয়ে স্থান দিয়া বলিতে লাগিল, এ বালকটি তবে কি হইবে? কারণ প্রভুর হস্থও তাহার সহবর্ত্তী ছিল। 67তখন তাহার পিতা সখরিয় পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হইলেন, এবং ভাববাণী বলিলেন; তিনি কহিলেন, 68ধন্য প্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর; কেননা তিনি তত্বাবধান করিয়াছেন, আপন প্রজাদের জন্য মুক্তি সাধন করিয়াছেন, 69আর আমাদের জন্য আপন দাস দায়ুদের কুলে পরিত্রানের এক শৃঙ্গ উঠাইয়াছেন, 70যেমন তিনি পুরাকাল অবধি তাঁহার সেই পবিত্র ভাববাদীগনের মুখ দ্বারা বলিয়া আসিয়াছেন- 71আমাদের শত্রুগণ হইতে ও যাহারা আমাদিগকে দ্বেষ করে, তাহাদের সকলের হস্ত হইতে পরিত্রান করিয়াছেন। 72আমাদের পিতৃপুরুষদের প্রতি কৃপা করিবার জন্য, আপন পবিত্র নিয়ম স্মরণ করিবার জন্য। 73এ সেই দিব্য, যাহা তিনি আমাদের পিতৃপুরুষ অব্রাহামের কাছে শপথ করিয়াছিলেন, 74আমাদিগিকে এই বর দিবার জন্য, যে আমরা শত্রুগনের হস্ত হইতে নিস্তার পাইয়া, নির্ভয়ে সাধুতায় ও ধার্ম্মিকতায় তাঁহার আরাধনা করিতে পারিব, 75তাঁহার সাক্ষাতে যাবজ্জীবন করিতে পারিব। 76আর, হে বালক, তুমি পরাৎপরের ভাববাদী বলিয়া আখ্যাত হইবে, কারণ তুমি প্রভুর সম্মুখে চলিবে, তাঁহার পথ প্রস্তুত করিবার জন্য; 77তাঁহার প্রজাদের পাপ মোচন তাহাদিগকে পরিত্রানের গ্জ্ঞান দিবার জন্য। 78ইহা আমাদের ইশ্বরের সেই কৃপাযুক্ত স্নেহহেতু হইবে, যদ্দারা উর্দ্ধ হইতে উষা আমাদের তত্বাবধান করিবে, 79যাহারা অন্ধকারে ও মৃত্যুচ্ছায়ায় বসিয়া আছে, তাহদের উপরে দীপ্তি দিবার জন্য, আমাদের চরণ শান্তিপথে চালাইবার জন্য। 80পরে বালকটি বাড়িয়া উঠিতে এবং আত্মায় বলবান হইতে লাগিল; আর সে যত দিন ইস্রায়েলের নিকটে প্রকাশিত না হইল, তত দিন প্রান্তরে ছিল।
2যীশু খ্রিষ্টের জন্ম ও বাল্যকাল ।
1সেই সময়ে আগস্ত কৈসরের এই আদেশ বাহির হইল যে, সমুদয় পৃথিবীর লোক নাম লিখিয়া দিবে। 2সুরিয়ার শাসনকর্ত্তা কুরীনিয়ের সময়ে এই প্রথম নাম লেখান হয়। 3সকলে নাম লিখিয়া দিবার নিমিত্তে আপন আপন নগরে গমন করিল।
4আর যোষেফও গালীলের নাসরৎ নগর হইতে যিহুদিয়ায় বৈৎলেহম নামক দায়ুদের নগরে গেলেন, কারণ তিনি দায়ুদের কুল ও গোষ্ঠীজাত ছিলেন; 5তিনি আপনার বাগ্দত্তা স্ত্রী মরিয়মের সহিত নাম লিখিয়া দিবার জন্য গেলেন; তখন ইনি গর্ব্ভবতী ছিলেন। 6তাঁহারা সেই স্থানে আছেন, এমন সময়ে মরিয়মের প্রসবকাল সম্পূর্ন হইল। 7আর তিনি আপনার প্রথজাত পুত্র প্রসব করিলেন, এবং তাঁহাকে কাপড়ে জড়াইয়া যাবপাত্রে শোয়াইয়া রাখিলেন, কারণ পান্থশালায় তাঁহাদের জন্য স্থান ছিল না। 8ঐ অঞ্চলে মেষপালকেরা মাঠে অবস্থিতি করিতেছিল, এবং রাত্রিকালে আপন আপন পাল চৌকি দিতেছিল। 9আর প্রভুর এক দূত তাহাদের নিকটে আসিয়া দাঁড়াইলেন এবং প্রভুর প্রতাপ তাহাদের চারিদিকে দেদীপ্যমান হইল; তাহাতে তাহারা অতিশয় ভীত হইল। 10তখন দূত তাহাদিগকে কহিলেন, ভয় করিও না, কেননা দেখ, আমি তোমাদিগকে মহানন্দের সুসমাচার জানাইতেছি; সেই আনন্দ সমুদয় লোকেরই হইবে; 11কারণ অদ্য দায়ুদের নগরে তোমাদের জন্য ত্রাণকর্ত্তা জন্মিয়াছেন; তিনি খ্রীষ্ট প্রভু। 12আর তোমদের জন্য ইহাই চিহ্ন, তোমরা দেখিতে পাবে, একটি শিশু কাপড়ে জড়ান ও যাবপাত্রে শয়ান রহিয়াছে। 13পরে হঠাৎ স্বর্গীয় বাহীনির এক বৃহৎ দল ঐ দুতের সঙ্গী হইয়া ঈশ্বরের স্তবগান করিতে করিতে কহিতে লাগিলেন, 14উর্দ্ধলোকে ঈশ্বরের মহিমা, পৃথীবিতে [তাঁহার] প্রীতিপাত্র মনুষ্যদের মধ্যে শান্তি। 15দূতগণ তাহাদের নিকট হইতে স্বর্গে চলিয়া গেলে পর মেষপালকেরা পরস্পর কহিল, চল, আমরা একবার বৈৎলেহম পর্য্যন্ত যাই, এবং এই যে ব্যাপারে প্রভু আমাদিগকে জানাইলেন, তাহা গিয়া দেখি। 16পরে তাহারা শীঘ্র গমন করিয়া মরিয়ম ও যোষেফ এবং সেই যাবপাত্রে শয়ান শিশুটিকে দেখিতে পাইল। 17দেখিয়া বলকটীর বিষয়ে যে কথা তাহাদিগকে বলা হইয়াছিল, তাহা জানাইল। 18তাহাতে যত লোক মেষপালকগনের মুখে ঐ সব কথা শুনিল, সকলে এই সকল বিষয়ে আশ্চর্য্য গ্জ্ঞান করিল। 19কিন্তু মরিয়ম সেই সকল কথা হৃদয় মধ্যে আন্দোলন করিতে করিতে মনে সঞ্চয় করিয়া রাখিলেন। 20আর মেষপালকদিগকে যেরূপ বলা হইয়াছিল, তাহারা তদ্রুপ সকলই দেখিয়া শুনিয়া ঈশ্বরের প্রশংসা ও স্তবগান করিতে করিতে ফিরিয়া আসিল। 21আর যখন বালকটির ত্বকছেদনের জন্য আট দিন পূর্ণ হইল, তখন তাঁহার নাম যীশু রাখা গেল; এই নাম তাঁহার গর্ব্ভস্থ হইবার পূর্ব্বে দুতের দ্বারা রাখা হইয়াছিল।
শিশু যীশুর বিষয়ে শিমিয়োনের ও হান্নার কথা।
22পরে যখন মোশির ব্যবস্থা অনুসারে তাঁহাদের শুচী হইবার কাল সম্পূর্ণ হইল, তখন তাঁহারা তাঁহাকে যিরুশালেমে লইয়া গেলেন, যেন তাঁহাকে প্রভুর নিকটে উপস্থিত করেন, 23যেমন প্রভুর ব্যবস্থায় লেখা আছে, ‘গর্ব্ভ উন্মোচক প্রত্যেক পুরুষ সন্তান প্রভুর উদ্দেশ্যে পবিত্র বলিয়া আখ্যাত হইবে’; 24আর যেন বলি উৎসর্গ করেন, যেমন প্রভুর ব্যবস্থায় উক্ত হইয়াছে, ‘এক ষোড়া ঘুঘু কিম্বা দুই কপোতশাবক।’ 25আর দেখ, শিমিয়োন নামে এক ব্যক্তি যিরুশালেমে ছিলেন, তিনি ধার্ম্মিক ও ভক্ত, ইস্রায়েলর সান্ত্বনার অপেক্ষাতে থাকিতেন, এবং পবিত্র আত্মা তাহার উপরে ছিলেন। 26আর পবিত্র আত্মা দ্বারা তাঁহার কাছে প্রকাশিত হইয়াছিল যে, তিনি প্রভুর খ্রীষ্টকে দেখিতে না পাইলে মৃত্যু দেখিবেন না। 27তিনি সেই আত্মার আবেশে ধার্ম্মধামে আসিলেন, এবং শিশু যীশুর পিতামাতা যখন তাঁহার বিষয়ে ব্যবস্থার রীতি অনুযায়ী কার্য্য করিবার জন্য তাঁহাকে ভিতরে আনিলেন, 28তখন তিনি তাঁহাকে কোলে লইলেন, আর ঈশ্বরের ধন্যবাদ করিলেন, ও কহিলেন, 29হে স্বামিন, এখন তুমি তোমার বাক্যানুসারে তোমার দাসকে বিদায় করিতেছ, 30কেননা আমার নয়নযুগল তোমার পরিত্রান দেখিতে পাইল, 31যাহা তুমি সকল জাতির সম্মুখে প্রস্তুত করিয়াছ, 32পরজাতিগনের প্রতি প্রকাশিত হইবার জ্যোতি, ও তোমার প্রজা ইস্রায়েলের গৌরব। 33তাঁহার বিষয়ে কথিত এই সকল কথায় তাঁহার পিতামাতা আশ্চর্য্য গ্জ্ঞান করিতে লাগিলেন। 34আর শিমিয়োন তাঁহাদিগকে আশীর্বাদ করিলেন, এবং তাঁহার মাতা মরিয়মকে কহিলেন, দেখ, ইনি ইস্রায়েলের মধ্যে অনেকের পতন ও উত্থানের নিমিত্ত, এবং যাহার বিরুদ্ধে কথা বলা যাইবে, এমন চিহ্ন হইবার নিমিত্ত স্থাপিত, 35আর তোমার নিজের প্রাণও খড়েগ বিদ্ধ হইবে,- যেন অনেকে হৃদয়ের চিন্তা প্রকাশিত হয়। 36আর হান্না নাম্নী এক ভাববাদীনি ছিলেন, তিনি পনুয়েলের কন্যা, আশের-বংশজাত; তাঁহার অনেক বয়স হয়েছিল, তিনি কুমারী অবস্থার পর সাত বৎসর স্বামীর সহিত বসবাস করেন, 37আর চৌরাশী বৎসর পর্য্যন্ত বিধবা হইয়া থাকেন, তিনি ধার্ম্মধাম হইতে প্রস্থান না করিয়া উপবাস ও প্রার্থনা সহকারে রাত দিন উপাসনা করিতেন। 38তিনি সেই দন্ডে উপস্থিত হইয়া ইশ্বরের ধন্যবাদ করিলেন, এবং যত লোক যিরুশালেমের মুক্তির অপেক্ষো করিতেছিল, তাহাদিগকে যীশুর কথা বলিতে লাগিলেন। 39আর প্রভুর ব্যবস্থানুরূপ সমস্ত কার্য্য সাধন করিবার পর তাঁহারা গালীলে নিজ নগর নাসরতে, ফিরিয়া গেলেন।
বালক যীশুর যিরুশালেমে যাত্রা।
40পরে বালকটি বাড়িয়া উঠিতে ও বলবান হইতে লাগিলেন, জ্ঞানে পূর্ণ হইতে থাকিলেন; আর ঈশ্বরের অনুগ্রহ তাঁহার উপরে ছিল।
41তাঁহার পিতামাতা প্রতি বৎসর নিস্তারপর্ব্বের সময়ে যিরুশালেমে যাইতেন।
42তাঁহার বারো বৎসর বয়স হইলে, তাহারা পর্ব্বের রীতি অনুসারে যিরুশালেমে গেলেন;
43এবং পর্ব্বের সময় সমাপ্ত করিয়া যখন ফিরিয়া আসিতেছিলেন, তখন বালক যীশু যিরুশালেমে রহিলেন; আর তাহার পিতামাতা তাহা জানিতেন না,
44কিন্তু তিনি সহযাত্রীদের সঙ্গে আছেন, মনে করিয়া তাঁহারা এক দিনের পথ গেলেন; পরে জ্ঞাতি ও পরিচিত লোকদের মধ্যে তাঁহার অন্বেষণ করিতে লাগিলেন;
45আর তাঁহাকে না পাইয়া তাঁহার অন্বেষণ করিতে করিতে যিরুশালেমে ফিরিয়া গেলেন।
46তিন দিনের পর তাঁহারা তাঁহাকে ধর্ম্মধামে পাইলেন; তিনি গুরুদিগের মধ্যে বসিয়া তাঁহাদের কথা শুনিতে ছিলেন ও তাঁহাদিগকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিতেছিলেন;
47আর যাহারা তাঁহার কথা শুনিতেছিল, তাঁহারা সকলে তাহার বুদ্ধি ও উত্তরে অতিশয় আশ্চর্য্য জ্ঞান করিল।
48তাঁহাকে দেখিয়া তাঁহারা চমৎকৃত হইলেন, এবং তাঁহার মাতা তাঁহাকে কহিলেন, বৎস, আমাদের প্রতি এরূপ ব্যবহার কেন করিলে? দেখ, তোমার পিতা এবং আমি কাতর হইয়া তোমার অন্বেষণ করিতেছিলাম।
49টিই তাঁহাদিগকে কহিলেন, কেন আমার অন্বেষণ করিলে? আমার পিতার গৃহে আমাকে থাকিতে হইবে, ইহা কি জানিতে না? 50কিন্তু তিনি তাঁহাদিগকে যে কথা বলিলেন, তাহা তাঁহারা বুঝিতে পারিলেন না। 51পরে তিনি তাঁহাদের সঙ্গে নামিয়া নাসরতে চলিয়া গেলেন, ও তাঁহাদের বশীভূত থাকিলেন। আর তাঁহার মাতা সমস্ত কথা আপন হৃদয়ে রাখিলেন। 52পরে যীশু জ্ঞানে ও বয়সে এবং ঈশ্বরের ও মনুষ্যের নিকটে অনুগ্রহে বৃদ্ধি পাইতে থাকিলেন।
যোহন বাপ্তাইজকের কর্ম্ম।
3যীশুর বাপ্তিস্ম।
1তিনবারকৈসরের রাজত্বেরপঞ্চদশ বৎসরে যখন পন্তীয় পীলাত যিহুদিয়ার অধ্যক্ষ, হেরোদ গালীলের রাজা, তাঁহার ভ্রাতা ফিলিপ যিতূরিয়া ও ত্রাখোনীতিয়া প্রদেশের রাজা, এবং লূষানিয় অবিলীনির রাজা, 2তাখনহানন ও কায়াফার মহাযাজকত্ব কালে ঈশ্বরের এই বানী প্রান্তরে সখরিয়ের পুত্র যোহনের নিকট উপস্থিত হইল। 3তাহাতে তিনি যর্দ্দনের নিকটবর্ত্তী সমস্ত দেশে আসিয়া পাপমোচনের জন্য মনপরিবর্ত্তনের বাপ্তিস্ম প্রচার করিতে লাগিলেন;
4যেমন যিশাইয় ভাববাদী বাক্য-গ্রন্থে লিখিত আছে, “প্রান্তরে একজনের রব, সে ঘোষনা করিতেছে, তোমরা প্রভুর পথ প্রস্তুত কর, তাঁহার রাজপথ সকল সরল কর। 5প্রত্যেক উপত্যকা পরিপূরিত হইবে, প্রত্যেক পর্ব্বত ও উপপর্ব্বত নিম্ন করা যাইবে, যাহা যাহা বক্র, সে সকলকে সরল করা যাইবে, যাহা যাহা অসমান, সে সকল সমান করা যাইবে, 6এবং মর্ত্ত্য ঈশ্বরের পরিত্রান দেখিবে।” 7অতএব যে সকল লোক তাঁহার দ্বারা বাপ্তাইজিত হইতে বাহির হইয়া আসিল, তিনি তাহাদিগকে কহিলেন, হে সর্পের বংশেরা, আগামী কপ হইতে পলায়ন করিতে তোমাদিগকে কে চেতনা দিল? 8অতএব মন পরিবর্ত্তনের উপযুক্ত ফলে ফলবান হও, এবং মনে মনে বলিতে আরম্ভ করিও না যে, অব্রাহাম আমাদের পিতা; কেননা আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, ঈশ্বর এই সকল পাথর হইতে অব্রাহামের জন্য সন্তান উৎপন্ন করিতে পারেন। 9আর এখন বৃক্ষ সকলের মূলে কুঠার লাগান আছে; অতএব যেকোন গাছে উত্তম ফল ধরে না, তাহা কাটিয়া অগ্নিতে ফেলিয়া দেওয়া যায়। 10তখন লোকেরা তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিল, তবে আমাদের কি করিতে হইবে? 11তিনি উত্তর করিয়া তাহাদিগকে কহিলেন, যাহার দুইটি আঙরাখা আছে, সে, যাহার নাই, তাহাকে একটি দিউক; আর যাহার কাছে খাদ্য দ্রব্য আছে, সেও তদ্রুপ করুক। 12আর করগ্রাহীরাও বাপ্তাইজিত হইতে আসিল, এবং তাঁহাকে কহিল,গুরো আমাদের কি করিতে হইবে? 13তিনি তাহাদিগকে কহিলেন, তোমাদের জন্য যাহা নিরুপিত, তাহার অধিক আদায় করিও না। 14আর সৈনিকেরাও তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিল, আমাদেরই বা কি করিতে হইবে? তিনি তাহাদিগকে বলিলেন, কাহারও প্রতি দৌরাত্ম্য করিও না, অন্যায়পূর্ব্বক কিছু আদায়ও করিও না, এবং তোমাদের বেতনে সন্তুষ্ট থাকিও। 15আর লোকেরা যখন অপেক্ষায় ছিল, এবং যোহনের বিষয়ে সকলে মনে মনে এই তর্ক বিতর্ক করিতেছিল, কি জানি, ইনিই বা সেই খীষ্ট, 16তখন যোহন উত্তর করিয়া সকলকে কহিলেন, আমি তোমাদিগকে জলে বাপ্তাইজিত করিতেছি বটে, কিন্তু এমন একজন আসিতেছেন, যিনি আমা অপেক্ষা শক্তিমান, যাঁহার পাদুকার বন্ধন খুলিবার যোগ্য আমি নই; তিনি তোমাদিগকে পবিত্র আত্মা ও অগ্নিতে বাপ্তাইজিত করিবেন। 17তাঁহার কুলা তাঁহার হস্তে আছে; তিনি আপন খামার সুপরিস্কৃত করিবেন, ও গোম আপন গলাতে সংগ্রহ করিবেন, কিন্তু তূষ অনির্ব্বান অগ্নিতে পোড়াইয়া দিবেন।
18আরও অনেক উপদেশ দিয়া যোহন লোকদের নিকটে সুসমাচার প্রচার করিতেন। 19কিন্তু হেরোদ রাজা আপন ভ্রাতার স্ত্রী হেরোদিয়ার বিষয়ে তাঁহা কর্ত্তৃক দোষীকৃত হইলে, নিজ দুষ্কার্য্য সকলের উপরে এইটিও যোগ করিলেন, 20যোহনকে কারাগারে বদ্ধ করিলেন। 21আর যখন সমস্ত লোক বাপ্তাইজিত হয়, তখন যীশুও বাপ্তাইজিত হইয়া প্রার্থনা করিতেছেন, এমন সময়ে স্বর্গ খুলিয়া গেল, 22এবং পবিত্র আত্মা দৈহিক আকারে, কপোতের ন্যায়, তাঁহার উপরে নামিয়া আসিলেন, আর স্বর্গ হইতে এই বাণী হইল, “তুমি আমার প্রিয় পুত্র, তোমাতেই আমি প্রীত।”
যীশু খীস্টের বংশাবলি-পত্র।
23আর যীশু নিজে, যখন তিনি কার্য্য আরম্ভ করেন, কমবেশ ত্রিশ বৎসর বয়স্ক ছিলেন; তিনি, যেমন ধরা হইত, যোষেফের পুত্র-ইনি এলিয়র পুত্র, 24ইনি মত্ততের পুত্র, ইনি লেবির পুত্র, ইনি মল্কির পুত্র, ইনি যান্নায়ের পুত্র, ইনি যোষেফের পুত্র, 25ইনি মত্তথিয়ের পুত্র, ইনি আমোসের পুত্র, ইনি নহুমের পুত্র, ইনি ইষলির পুত্র, 26ইনি নগির পুতর, ইনি মাটের পুত্র, ইনি মত্তথিয়ের পুত্র, ইনি শিমিয়ির পুত্র, ইনি যোষেখের পুত্র, 27ইনি যূদার পুত্র, ইনি যোহানার পুত্র, ইনি রীষার পুত্র, ইনি সারুব্বাবিলের পুত্র, ইনি শল্টীয়েলের পুত্র, 28ইনি নেরির পুত্র, ইনি মল্কির পুত্র, ইনি অদ্দীর পুত্র, ইনি কোষমের পুত্র, ইনি ইলমাদমের পুত্র, 29ইনি এরের পুত্র, ইনি যীশুর পুত্র, ইনি ইলীয়েষরের পুত্র, ইনি যোরীমের পুত্র, ইনি মত্ততের পুত্র, 30ইনি লেবির পুত্র, ইনি শিমিয়োনের পুত্র, ইনি যূদার পুত্র, ইনি যোষেফের পুত্র, ইনি যোনমের পুত্র, 31ইনি ইলিয়াকীমের পুত্র, ইনি মিলেয়ার পুত্র, ইনি মিন্নার পুত্র, ইনি মত্তথের পুত্র, ইনি নাথনের পুত্র, 32ইনি দায়ুদের পুত্র, ইনি যিশয়ের পুত্র, ইনি ওবেদের পুত্র, ইনি বোয়সের পুত্র, ইনি সলমোনের পুত্র, 33ইনি নহশোনের পুত্র, ইনি অম্মীনাদবের পুত্র, ইনি অদমানের পুত্র, ইনি অর্নির পুত্র, ইনি হিস্রোনের পুত্র, ইনি পেরসের পুত্র, ইনি যিহুদার পুত্র, 34ইনি যাকোবের পুত্র, ইনি ইসহাকের পুত্র, ইনি অব্রাহামের পুত্র, ইনি তেরুহের পুত্র, 35ইনি নাহোরের পুত্র, ইনি সরুগের পুত্র, ইনি রিয়ুর পুত্র, ইনি পেলগের পুত্র, ইনি এবরের পুত্র, ইনি শেলহের পুত্র, 36ইনি কৈননের পুত্র, ইনি অর্ফকষদের পুত্র, ইনি শেমের পুত্র, ইনি নোহের পুত্র, ইনি লেমকের পুত্র, 37ইনি মথূশেলহের পুত্র, ইনি হনোকের পুত্র, ইনি যেরদের পুত্র, ইনি মহললেলের পুত্র, ইনি কৈননের পুত্র, 38ইনি ইনোশের পুত্র, ইনি শেথের পুত্র, ইনি আদমের পুত্র, ইনি ঈশ্বরের পুত্র।
4যীশুর পরীক্ষা।
1যীশু পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হইয়া, যর্দ্দন হইতে ফিরিয়া আসিলেন, এবং চল্লিশ দিন পর্য্যন্ত সেই আত্মার আবেশে প্রান্তর মধ্যে চালিত হইলেন, 2আর দিয়াবল দ্বারা পরিক্ষীত হইলেন, সেই সকল দিন তিনি কিছুই আহার করেন নাই; পরে সেই সকল দিন শেষ হইলে ক্ষুধিত হইলেন। 3তখন দিয়াবল তাঁহাকে কহিল, তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, তবে এই পাথরখনিকে বল, যেন ইহা রুটী হইয়া যায়।
4যীশু তাহাকে উত্তর করিলেন, লেখা আছে, “মনুষ্য কেবল রুটীতে বাঁচিবে না।” 5পরে সে তাঁহাকে উপরে লইয়া গিয়া মুহুর্ত্তকাল মধ্যে জগতের সমস্ত রাজ্য দেখাইল। 6আর দিয়াবল তাঁহাকে বলিল, তোমাকেই আমি এই সমস্ত কর্ত্তৃত্ব ও এই সকলের প্রতাপ দিব; কেননা ইহা আমার কাছে সমর্পিত হইয়াছে, আর আমার যাহাকে ইচ্ছা তাহাকে দান করি; 7অতএব তুমি যদি আমার সম্মুখে পড়িয়া প্রনাম কর, তবে এ সকলই তোমার হইবে। 8যীশু উত্তর করিয়া তাহাকে কহিলেন, লেখা আছে, “তোমার ঈশ্বর প্রাভুকেই প্রনাম করিবে, কেবল তাঁহারই আরাধনা করিবে।” 9আর সে তাঁহাকে যিরুশালেমে লইয়া গেল, ও ধর্ম্মধামের চূড়ার উপরে দাঁড় করাইল, এবং তাঁহাকে কহিল, তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, তবে এই স্থান হইতে নীচে পড়; 10কেননা লেখা আছে,
‘তিনি আপন দূত্গনকে তোমার বিষয়ে আগ্জ্ঞা দিবেন, যেন তাঁহারা তোমাকে রক্ষা করেন;’
11আর
‘তোমাকে হস্তে করিয়া তুলিয়া লইবেন, পাছে তোমার চরণে প্রস্তরের আঘাত লাগে।’
12যীশু উত্তর করিয়া কহিলেন, উক্ত আছে, “তুমি ঈশ্বর প্রভুর পরীক্ষা করিও না।” 13আর সমস্ত পরীক্ষা সমাপন করিয়া দিয়াবল কিয়ৎকালের জন্য তাঁহার নিকট হইতে চলিয়া গেল।
নাসরতে যীশুর উপদেশ।
14তখন যীশু আত্মার পরাক্রমে গালীলে ফিরিয়া গেলেন, এবং তাঁহার কীর্ত্তি চারিদিকে সমুদয় অঞ্চলে ব্যাপিল। 15আর তিনি তাহাদের সমাজ-গৃহে উপদেশ দিয়া সকলের দ্বারা গৌরবান্বিত হইতে লাগিলেন। 16আর তিনি যেখানে পালিত হইয়াছিলেন, সেই নাসরতে উপস্থিত হইলেন, এবং তিনি আপন রীতি অনুসারে বিশ্রামবারে সমাজ-গৃহে প্রবেশ করিলেন, ও পাঠ করিতে দাড়াঁইলেন। 17তখন যিশাইয় ভাববাদীর পুস্তক তাঁহার হস্তে সমর্পিত হইল, আর তিনি পুস্তকখানি খুলিয়া সেই স্থান পাইলেন, যেখানে লেখা আছে, 18“প্রভুর আত্মা আমাতে অধিষ্ঠান করেন, কারণ তিনি আমাকে অভিষিক্ত করিয়াছেন, দরিদ্রের কাছে সুসমাচার প্রচার করিবার জন্য; তিনি আমাকে প্রেরণ করিয়াছেন, বন্দিগনের কাছে মুক্তি প্রচার করিবার জন্য, অন্ধদের কাছে চক্ষুর্দ্দান প্রচার করিবার জন্য, উপদ্রুতদিগকে নিস্তার করিয়া বিদায় করিবার জন্য, 19প্রভুর প্রসন্নতার বৎসর ঘোষনা করিবার জন্য”। 20পরে তিনি পুস্তকখানি বন্ধ করিয়া ভৃত্যের হস্তে দিয়া বসিলেন। তাহাতে সমাজ-গৃহে সকলের চক্ষু তাঁহার প্রতি স্থির হইয়া রহিল। 21আর তিনি তাহাদিগকে বলিতে লাগিলেন, অদ্যই এই শাস্ত্রীয় বচন তোমাদের কর্নগোচরে পূর্ণ হইল। 22তাহাতে সকলে তাঁহার বিষয়ে সাক্ষ্য দিল, ও তাহাঁর মুখনির্গত মধুর বাক্যে আশ্চর্য্য বোধ করিল, আর কহিল, এ কি যোষেফের পুত্র নহে? 23তিনি তাহাদিগকে কহিলেন, তোমরা আমাকে অবশ্য এই প্রবাদবাক্য বলিবে, চিকিৎসক, আপনাকেই সুস্থ কর; কফরনাহূমে যাহা যাহা করা হইয়াছে শুনিয়াছি, এখানে এই দেশেও কর। 24তিনি আরও কহিলেন, আমি তোমাদিগকে সত্য কহিতেছি, কোন ভাববাদী স্বদেশে গ্রাহ্য হয় না। 25আর আমি তোমাদিগকে সত্য কহিতেছি, এলিয়ের সময় যখন তিন বৎসর ছয় মাস পর্য্যন্ত আকাশ রুদ্ধ ছিল, ও সমুদয় দেশে মহা-দুর্ভিক্ষ উপস্থিত হইয়াছিল, তখন ইস্রায়েলের মধ্যে অনেক বিধবা ছিল; 26কিন্তু এলিয় কাহারও নিকটে প্রেরিত হন নাই, কেবল সীদোন দেশের সারিফতে এক বিধবা স্ত্রীলোকের নিকটে প্রেরিত হইয়াছিলেন। 27আর ইলীশায় ভাববাদীর সময়ে ইস্রায়েলের মধ্যে অনেকে কুষ্ঠী ছিল, কিন্তু তাহাদের কেহই শুচীকৃত হয় নাই, কেবল সুরীয় নামান হইয়া ছিল। 28এই কথা শুনিয়া সমাজ-গৃহে উপস্থিত লোকেরা সকলে ক্রোধে পূর্ণ হইল; 29আর তাহারা উঠিয়া তাঁহাকে নগরের বাহিরে ঠেলিয়া লইয়া চলিল. এবং যে পর্ব্বতে তাহাদের নগর নির্ম্মিত হইয়াছিল, তাহার অগ্রভাগ পর্য্যন্ত লইয়া গেল, যেন তাঁহাকে নীচে ফেলিয়া দিতে পারে।
30কিন্তু তিনি তাহাদের মধ্য দিয়া হাঁটিয়া চলিয়া গেলেন।
যীশুর নানা অলৌকিক –কার্য্য
যীশু অনেক পীড়িত ও ভূতগ্রস্ত লোককে সুস্থ করেন।
31পরে তিনি গালীলের কফরনাহূম নগরে নামিয়া আসিলেন। আর তিনি বিশ্রামবারে লোকদিগকে উপদেশ দিতে লাগিলেন; 32এবং লোকেরা তাঁহার উপদেশে চমৎকৃত হইল; কারণ তাঁহার বাক্য ক্ষমতা যুক্ত ছিল। 33তখন ঐ সমাজ-গৃহে এক ব্যক্তি ছিল, তাহাকে অশুচী ভূতের আত্মায় পাইয়াছিল; 34সে উচ্চরবে চেঁচাইয়া কহিল, আহা, হে নাসরতীয় যীশু, আপনার সহিত আমাদের সম্পর্ক কি? আপনি কি আমাদিগকে বিনাশ করিতে আসিলেন? আমি জানি, আপনি কে, ঈশ্বরের সেই পবিত্র ব্যক্তি। 35তখন যীশু তাহাকে ধমকাইয়া কহিলেন, চুপ কর, এবং উহা হইতে বাহির হও, তখন সেই ভূত তাহাকে মাঝখানে ফেলিয়া দিয়া তাহা হইতে বাহির হইয়া গেল, তাহার কোন হানি করিল না। 36তখন সকলে চমৎকৃত হইল, এবং পরস্পর বলাবলি করিতে লাগিল, এ কেমন কথা? ইনি ক্ষমতায় ও পরাক্রমে অশুচী আত্মাদিগকে আগ্জ্ঞা করেন, আর তাহারা বাহির হইয়া যায়। 37পরে চারিদিকের অঞ্চলে সর্ব্বত্র তাঁহার কীর্ত্তি ব্যাপিল। 38পরে তিনি সমাজ-গৃহ হইতে উঠিয়া শিমোনের বাটীতে প্রবেশ করিলেন; তখন শিমোনের শাশুড়ী ভারী জ্বরে পীড়িতা ছিলেন, তাই তাঁহারা তাঁহার নিমিত্তে তাঁহাকে বিনতি করিলেন। 39তখন তিনি তাঁহার নিকটে দাঁড়াইয়া জ্বরকে ধমক দিলেন, তাহাতে তাঁহার জ্বর ছাড়িয়া গেল; আর তিনি তৎক্ষনাত উঠিয়া তাহদের পরিচর্য্যা করিতে লাগিলে।
40পরে সূর্য্য অস্ত যাইবার সময়ে, নানা রোগে রুগী যাহাদের ছিল, তাহারা সকলে তাহাদিগকে তাঁহার নিকটে অনিল; আর তিনি প্রত্যেক জনের উপরে হস্তার্পণ করিয়া তাহাদিগকে সুস্থ করিলেন।
41আর অনেক লোক হইতে ভূতও বাহির হইল, তাহারা চীৎকার করিয়া কহিল, আপনি ঈশ্বরের পুত্র; কিন্তু তিনি তাহাদিগকে ধমক দিয়া কথা কহিতে দিলেন না, কারণ তাহারা জনিত যে তিনিই সেই খীষ্ট।
42পরে প্রভাত হইলে তিনি বাহির হইয়া কোন নির্জ্জন স্থানে গমন করিলেন; আর লোকেরা তাহার অন্বেষণ করিল, এবং তাঁহার নিকটে আসিয়া তাঁহাকে নিবারণ করিতে চাহিল, যেন তিনি তাহাদের নিকট হইতে চলিয়া না যান।
43কিন্তু তিনি তাহাদিগকে কহিলেন, অন্য অন্য নগরেও আমাকে ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করিতে হইবে; কেননা সেই জন্যই আমি প্রেরিত হইয়াছি।
44পরে তিনি যিহুদিযার নানা সমাজ-গৃহে প্রচার করিতে লাগিলেন।
জালে বিস্তর মাছ উঠে।
51একদা যখন লোকসমূহ তাঁহার উপরে চাপাচাপি করিয়া পড়িয়া ঈশ্বরের বাক্য শুনিতেছিল, তখন তিনি গিনেষরৎ হ্রদের কূলে দাঁড়াইয়াছিলেন, 2আর তিনি দেখিলেন, হ্রদের ধারে দুইখান নৌকা রহিয়াছে, কিন্তু ধীবরেরা নৌকা হইতে নামিয়া গিয়া জাল ধুইতে ছিল। 3তাহাতে তিনি ঐ দুইয়ের মধ্যে একখানিতে, শিমোনের নৌকাতে, উঠিয়া স্থল হইতে একটু দুরে যাইতে তাঁহাকে বিনতি করিলেন; আর তিনি নৌকায় বসিয়া লোকসমূহকে উপদেশ দিতে লাগিলেন।
4পরে কথা শেষ করিয়া তিনি শিমোনকে কহিলেন, তুমি গভীর জলে নৌকা লইয়া চল, আর তোমার মাছ ধরিবার জন্য তোমাদের জাল ফেল। 5শিমোন উত্তর করিলেন, হে নাথ, আমরা সমস্ত রাত্রি পরিশ্রম করিয়া কিছুমাত্র পাই নাই, কিন্তু আপনার কথায় আমি জাল ফেলিব। 6তাঁহারা সেইরূপ করিলে মাছের বড় ঝাঁক ধরা পড়িল, ও তাঁহাদের জাল ছিঁড়িতে লাগিল; তাহাতে তাহাঁদের যে অংশীদারেরা অন্য নৌকায় ছিলেন, তাঁহাদিগকে তাঁহারা সংকেত করিলেন, যেন তাঁহারা আসিয়া তাঁহাদের সাহায্য করেন। 7তাঁহারা আসিয়া দুইখান নৌকা এমন পূর্ণ করিলেন যে, নৌকা দুখানি ডুবিতে লাগিল। 8তাহা দেখিয়া শিমোন পিতর যীশুর জানুর উপরে পড়িয়া কহিলেন, আমার নিকট হইতে প্রস্থান করুন, কেননা, হে প্রভু, আমি পাপী। 9কারণ জালে এত মাছ ধরা পড়িয়াছিল বলিয়া তিনি, ও যাঁহারা তাঁহার সঙ্গে ছিলেন, সকলে চমৎকৃত হইয়াছিলেন; 10আর সিবদিয়ের পুত্র যাকোব ও যোহন, যাঁহারা শিমোনের অংশীদার ছিলেন, তাঁহারাও সেইরূপ চমৎকৃত হইয়াছিলেন। তখন যীশু শিমোনকে কহিলেন, ভয় করিও না, এখন অবধি তুমি জীবনার্থে মানুষ ধরিবে। 11পরে তাঁহারা নৌকা কূলে আনিয়া সকলই পরিত্যাগ করিয়া তাঁহার পশ্চাদগামী হইলেন।
যীশু এক জন কুষ্ঠী ও এক জন পক্ষাঘাতীকে সুস্থ করেন।
12একদা তিনি কোন নগরে আছেন, এমন সময়ে দেখ, এক জন সর্ব্বাঙ্গকুষ্ঠ; সে যীশুকে দেখিয়া উবুড় হইয়া পড়িয়া বিনতিপূর্ব্বক বলিল, প্রভু, যদি আপনার ইচ্ছা হয়, তবে আমাকে শুচী করিতে আরেন। 13তখন তিনি হাত বাড়াইয়া তাহাকে স্পর্শ করিলেন, কহিলেন, আমার ইচ্ছা, তুমি শুচীকৃত হও; আর তখনই তাহার কুষ্ঠ চলিয়া গেল। 14পরে তিনি তাহাকে আগ্জ্ঞা দিলেন, এই কথা কাহাকেও বলিও না, কিন্তু যাজকের নিকটে গিয়া আপনাকে দেখাও, এবং লোকদের কাছে সাক্ষ্য দিবার জন্য তোমার শুচীকরণ সম্বন্ধে মোশির অগ্জ্ঞানুসারে নৈবেদ্য উৎসর্গ কর। 15কিন্তু তাঁহার বিষয়ে জনরব আরও অধিক ব্যাপিতে লাগিল; আর কথা শুনিবার জন্য এবং আপন আপন রোগ হইতে সুস্থ হইবার জন্য বিস্তর লোক সমাগত হইতে লাগিল। 16কিন্তু তিনি কোন না কোন নির্জ্জন স্থানে গিয়া প্রার্থনা করিতেন। 17আর এক দিবস তিনি উপদেশ দিতেছিলেন, এবং ফরীশীরা ও ব্যবস্থা গুরুরা নিকটে বসিয়া ছিল; তাহারা গালীল ও যিহুদিয়ার সমস্ত গ্রাম এবং যিরুশালেম হইতে আসিয়াছিল; আর প্রভুর শক্তি উপস্থিত ছিল, যেন তিনি সুস্থ করেন। 18আর দেখ, কএকটি লোক এক জনকে খাটে করিয়া অনিল, সে পক্ষাঘাতী; তাহারা তাহাকে ভিতরে আনিয়া তাঁহার সম্মুখে রাখিতে চেষ্ঠা করিল। 19কিন্তু ভিড় প্রযুক্ত ভিতরে অনিবার পথ না পাওয়াতে ঘরের ছাদে উঠিল, এবং টালি সমূহের মধ্য দিয়া শয্যাশুদ্ধ তাহাকে মাঝখানে যীশুর সম্মুখে নামাইয়া দিল। 20তাহাদের বিশ্বাস দেখিয়া তিনি কহিলেন, হে মনুষ্য, তোমার পাপ সকল ক্ষমা হইল। 21তখন অধ্যাপকগণ ও ফরীশীরা এই তর্ক করিতে লাগিল, এ কে যে ঈশ্বরনিন্দা করিতেছে? কেবলমাত্র ঈশ্বর ব্যতিরেকে আর কে পাপ ক্ষমা করিতে পারে? 22যীশু তাহাদের তর্ক জানিয়া উত্তর করিয়া তাহাদিগিকে কহিলেন, তোমরা মনে মনে কেন তর্ক করিতেচেও? 23কোনটা সহজ, ‘তোমার পাপ ক্ষমা হইল’ বলা, না ‘তুমি উঠিয়া বেড়াও’ বলা? 24কিন্তু পৃথীবিতে পাপ ক্ষমা করিতে মনুষ্য পুত্রের ক্ষমতা আছে, ইহা যেন তোমরা জানিতে পার, এই জন্য- তিনি সেই পক্ষাঘাতীকে বলিলেন,-তোমাকে বলিতেছি, উঠ, তোমার শয্যা তুলিয়া লইয়া তোমার ঘরে যাও। 25তাহাতে সে তখনই তাহাদের সাক্ষাতে উঠিল, এবং আপন শয্যা তুলিয়া লইয়া ঈশ্বরের গৌরব করিতে করিতে আপন গৃহে চলিয়া গেল। 26তখন সকলে অতিশয় আশ্চর্য্যান্বিত হইল, আর সকলে ঈশ্বরের গৌরব করিতে লাগিল, এবং ভয় পরিপূর্ণ হইয়া বলিতে লাগিল, আজ আমরা আলৌকিক ব্যাপার দেখিলাম।
যীশুর নানাবিধ শিক্ষা।
লেবির আহ্ববান। তৎসমন্ধে যীশুর আগ্জ্ঞা।
27তৎপরে তিনি বাহিরে গেলেন, আর দেখিলেন, লেবি নামে এক জন করগ্রাহী করগ্রহণ-স্থানে বসিয়া আছেন; তিনি তাঁহাকে কহিলেন, আমার পশ্চাৎ আইস। 28তাহাতে তিনি সকলই পরিত্যাগ করিয়া উঠিয়া তাঁহার পশ্চাৎ গমন করিলেন। 29পরে লেবি আপন বাটীতে তাঁহার নিমিত্ত বড় এক ভোজ প্রস্তুত করিলেন, এবং অনেক করগ্রাহী ও অন্য অন্য লোক তাঁহাদের সঙ্গে ভোজনে বসিয়াছিল। 30তখন ফরীশীরা ও অধ্যাপকেরা তাঁহার শিষ্যদের বিরুদ্ধে বচসা করিয়া কহিতে লাগিল, তোমরা কি কারণ করগ্রাহী ও পাপীদের সঙ্গে ভোজন পান করিতেছ? 31যীশু উত্তর করিয়া তাহাদিগকে কহিলেন, সুস্থ লোকদের চিকিৎসার প্রয়োজন নাই, কিন্তু পীড়িত লোকদেরই প্রয়োজন আছে। 32আমি ধার্ম্মিকদিগকে নয়, কিন্তু পাপীদিগকেই ডাকিতে আসিয়াছি, যেন তাহারা মন ফিরায়। 33পরে তাহারা তাঁহাকে কহিল, যোহনের শিষ্যগণ বার বার উপবাস করে ও প্রার্থনা করে, ফরীশীদের শিষ্যেরাও সেইরূপ করে; কিন্তু তোমার শিষ্যেরা ভোজন পান করিয়া থাকে। 34যীশু তাহাদিগকে কহিলেন, বর সঙ্গে থাকিতে তোমারা কি বাসর-ঘরের লোকদিগকে উপবাস করাইতে পার? 35কিন্তু সময় আসিবে; আর যখন বর তাহাদের নিকট হইতে নীত হইবেন, তখন তাহারা উপবাস করিবে। 36আরও তিনি তাহাদিগকে একটি দৃষ্টান্ত কহিলেন, তাহা এই, কেহ নূতন কাপড় হইতে টুকরা ছিঁড়িয়া পুরাতন কাপড়ে লাগায় না; তাহা করিলে নূতনটাও ছিঁড়িতে হয়, এবং পুরাতন কাপড়েও সেই নূতনের তালী মিলিবে না। 37আর পুরাতন কুপায় কেহ টাটকা দ্রাক্ষারস রাখে না; রাখিলে টাটকা দ্রাক্ষারসে কুপাগুলি ফাটিয়া যাইবে, তাহাতে দ্রাক্ষারসও পড়িয়া যাইবে, কুপা গুলিও নষ্ট হইবে। 38কিন্তু টাটকা দ্রাক্ষারস নূতন কুপাতেই রাখিতে হয়। 39আর পুরাতন দ্রাক্ষারস পান করিয়া কেহ টাটকা চায় না, কেননা সে বলে, পুরাতনই ভাল।
6বিশ্রামবার- বিষয়ক কথা।
1এক দিন বিশ্রামবারে শস্যক্ষেত্র দিয়া যাইতেছিলেন, এমন সময়ে তাঁহার শিষ্যরা শীষ ছিঁড়িয়া ছিঁড়িয়া হাতে মাড়িয়া খাইতে লাগিলেন। 2তাহাতে কএক জন ফরীশী কহিল, বিশ্রামবারে যাহা করা বিধেয় নয়, তোমরা কেন তাহা করিতেছ? 3যীশু উত্তর করিয়া তাহাদিগকে কহিলেন, দায়ুদ ও তাঁহার সঙ্গীরা ক্ষুধিত হইলে তিনি কি করিয়াছিলেন. তাহাও কি তোমরা পাঠ কর নাই?
4তিনি ত ঈশ্বরের গৃহে প্রবেশ করিয়া, যে দর্শন-রুটী কেবল যাজকবর্গ ব্যতিরেকে আর কাহারও ভোজন করা বিধেয় নয়, তাহা লইয়া আপনি ভোজন করিয়াছিলেন, এবং সঙ্গিগনকেও দিয়াছিলেন। 5পরে তিনি তাহাদিগকে কহিলেন, মনুষ্যপুত্র বিশ্রামবারের কর্ত্তা। 6আর এক বিশ্রামবারে তিনি সমাজ-গৃহে প্রবেশ করিয়া উপদেশ দিলেন; সেই স্থানে একটি লোক ছিল, তাহার দক্ষিন হস্ত শুকাইয়া গিয়াছিল। 7আর অধ্যাপকেরা ও ফরীশীরা, তিনি বিশ্রামবারে সুস্থ করেন কি না, দেখিবার জন্য তাঁহার প্রতি দৃষ্টি রাখিল, যেন তাঁহার নামে দোষারোপ করিবার সূত্র পায়। 8কিন্তু তিনি তাহাদের চিন্তা জ্ঞাত ছিলেন, আর সেই শুস্কহস্ত ব্যক্তিকে কহিলেন, উঠ, মাঝখানে দাঁড়াও। তাহাতে সে উঠিয়া দাঁড়াইল। 9পরে যীশু তাহাদিগকে কহিলেন, তোমাদিগকে জিজ্ঞাসা করি, বিশ্রামবারে কি করা বিধেয়? ভাল করা না মন্দ করা? প্রাণ রক্ষা করা না নাশ করা? 10পরে তিনি চারিদিকে তাহাদের সকলের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া সেই লোকটিকে বলিলেন, তোমার হাত বাড়াইয়া দেও। সে তাহা করিল, আর তাহার হাত সুস্থ হইল। 11কিন্তু তাহারা উন্মত্তায় পূর্ণ হইল, আর যীশুর প্রতি কি করিবে, তাহাই পরস্পর বলাবলি করিতে লাগিল।
প্রেরিতগনকে নিযুক্ত করণ। যীশুর উপদেশ।
12সেই সময়ে তিনি একদা প্রার্থনা করণার্থে বাহির হইয়া পর্ব্বতে গেলেন, আর ঈশ্বরের নিকটে প্রার্থনা করিতে করিতে সমস্ত রাত্রি যাপন করিলেন। 13পরে যখন দিবস হইল, তিনি আপন শিষ্যগনকে ডাকিলেন, এবং তাঁহাদের মধ্য হইতে বারো জনকে মনোনীত করিলেন, আর তাঁহাদিগকে ‘প্রেরিত’ নাম দিলেন;- 14শিমোন, যাঁহাকে তিনি পিতর নামও দিলেন, ও তাঁহার ভ্রাতা আন্দ্রিয়, এবং যাকোব ও যোহন, এবং ফিলিপ ও বর্থলময়, 15এবং মথি ও থোমা, এবং আলফেয়ের [পুত্র] যাকোব ও উদযোগী আখ্যাত শিমোন, যাকোবের [পুত্র] যিহুদা। 16এবং ঈস্করিয়োতীয় যিহুদা, যে তাঁহাকে [শত্রু হস্তে] সমর্পণ করে। 17পরে তিনি তাঁহাদের সহিত নামিয়া এক সমান ভূমির উপরে গিয়া দাঁড়াইলেন; আর তাঁহার অনেক শিষ্য এবং সমস্ত যিহুদিয়া ও যিরুশালেম এবং সোর ও সীদোনের সমুদ্র উপকূল হইতে বিস্তর লোক উপস্থিত হইল; তাহারা তাঁহার বাক্য শুনিবার ও আপন আপন রোগ হইতে সুস্থ হইবার নিমিত্ত তাঁহার নিকটে আসিয়াছিল, 18এবং যাহারা অশুচী আত্মা দ্বারা উৎপীড়িত হইতেছিল, তাহারা সুস্থ হইল। 19আর, সমস্ত লোক তাঁহাকে স্পর্শ করিতে চেষ্ঠা করিল, কেননা তাহা হইতে শক্তি নির্গত হইয়া সকলকে সুস্থ করিতেছিল। 20পরে তিনি আপন শিষ্যগনের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া কহিলেন, ধন্য দীনহীনেরা, কারণ ঈশ্বেরে রাজ্য তোমাদেরই। 21ধন্য তোমরা, যাহারা এক্ষণে ক্ষুধিত, কারণ তোমরা পরিতৃপ্ত হইবে। ধন্য তোমরা, যাহারা এক্ষণে রোদন কর, কারণ তোমরা হাসিবে। 22ধন্য তোমরা, যখন লোকে মনুষ্যপুত্রের নিমিত্ত তোমাদিগকে দ্বেষ করে, আর যখন তোমাদিগকে পৃথক করিয়া দেয়, ও নিন্দা করে, এবং তোমাদের নাম মন্দ বলিয়া দূর করিয়া দেয়। 23সেই দিন আনন্দ করিও ও নৃত্য করিও, কেননা দেখ, স্বর্গে তোমাদের পুরস্কার প্রচুর;কেননা তাহাদের পিতৃপুরুষেরা ভাববাদিগনের প্রতি তাহাই করিত। 24কিন্তু
ধিক তোমাদিগকে, হা ধনবানেরা, কারণ তোমারা আপনাদের সান্ত্বনা পাইয়াছ।
25ধিক তোমাদিগকে, যাহারা এক্ষণে পরিতৃপ্ত, কারণ তোমারা ক্ষুধিত হইবে; ধিক তোমাদিগকে, যাহারা এক্ষণে হাস্য কর, কারণ তোমারা বিলাপ ও রোদন করিবে। 26ধিক তোমাদিগকে, যখন সকল লোকে তোমাদের সুখ্যাতি করে, কারণ তোমাদের পিতৃপুরুষেরা ভক্ত ভাববাদীদের প্রতি তাহাই করিত। 27কিন্তু তোমরা যে শুনিতেছ, আমি তোমাদিগকে বলি, তোমরা আপন আপন শত্রুদিগকে প্রেম করিও, যাহারা তোমাকে দ্বেষ করে, তাহাদের মঙ্গল করিও; 28যাহারা তোমাদিগকে শাপ দেয়, তাহাদিগকে আশীর্বাদ করিও; যাহারা তোমাদিগকে নিন্দা করে, তাহাদের নিমিত্ত প্রার্থনা করিও,। 29যে তোমার এক গালে চর মারে, তাহার দিকে অন্য এক গালও পাতিয়া দিও; এবং যে তোমার চোগা তুলিয়া লয়, তাহাকে আঙরাখাটীও লইতে বারণ করিও না। 30যে কেহ তোমার কাছে যাচ্না করে, তাহাকে দিও; এবং যে তোমার দ্রব্য তুলিয়া লয়, তাহার কাছে তাহা আর চাহিও না। 31আর তোমরা যেরূপ ইচ্ছা কর যে, লোকে তোমাদের প্রতি করে তোমরাও তাহাদের প্রতি সেইরূপ করিও। 32আর যাহারা তোমাদিগকে প্রেম করে, তাহাদিগকেই প্রেম করিলে তোমরা কিরূপ সাধুবাদ পাইতে পার? কেননা পাপীরাও, যাহারা তাহাদিগকে প্রেম করে, তাহাদিগকে প্রেম কর। 33আর যাহারা তোমাদের উপকার করে, যদি তাহাদের উপকার কর, তবে তোমরা কিরূপ সাধুবাদ পাইতে পার? পাপীরাও তাহাই করে। 34আর যাহাদের কাছে পাবার আশা থাকে, যদি তাহাদিগকেই ধার দেও, তবে তোমরা কিরূপ সাধুবাদ পাইতে পার? পাপীরাও পাপীদিগকে ধার দেয়, যেন সেই পরিমানে পুনরায় পায়। 35কিন্তু তোমরা আপন আপন শত্রুদিগকে প্রেম করিও, তাহাদের ভাল করিও, এবং কখনও নিরাশ না হইয়া ধার দিও, তাহা করিলে তোমাদের মহাপুরস্কার হইবে, এবং তোমরা পরাৎপরের সন্তান হইবে, কেননা তিনি অকৃতজ্ঞদের ও দুস্টদের প্রতিও কৃপাবান। 36তোমার পিতা যেমন দয়ালু, তোমরাও তেমনি দয়ালু হও। 37আর তোমরা বিচার করিও না, তাহাতে বিচারিত হইবে না। আর দোষী করিও না, তাহাতে দোষীকৃত হইবে না। তোমরা ছাড়িয়া দিও, তাহাতে তোমাদেরও ছাড়িয়া দেওয়া যাইবে। 38দেও, তাহাতে তোমাদিগকেও দেওয়া যাইবে; লোকে বিলক্ষণ পরিমানে চাপিয়া ঝাঁকরিয়া উপচিয়া তোমাদের কলে দিবে; কারণ তোমরা যে পরিমানে পরিমান কর, সেই পরিমানে তোমাদেরও নিমিত্তে পরিমান করা যাইবে। 39আর তিনি তাহাদিগকে একটি দৃষ্টান্তও কহিলেন, অন্ধ কি অন্ধকে পথ দেখাইতে পারে? উভয়েই কি গর্ত্তে পড়িবে না?
40শিষ্য গুরু হইতে বড় নয়, কিন্তু যে কেহ পরিপক্ক হয়,
41সে আপন গুরুর তুল্য হইবে। আর তোমার ভ্রাতার চক্ষে যে কুটা আছে, তাহাই কেন দেখিতেছ, কিন্তু তোমার নিজের চক্ষে যে কড়িকাঠ আছে, তাহা কেন ভাবিয়া দেখিতেছ না?
42তোমার চক্ষে যে কড়িকাঠ আছে, তাহা যখন দেখিতেছ না, তখন তুমি কেমন করিয়া আপন ভ্রাতাকে বলিতে পার, ভাই, এস, আমি তোমার চক্ষু হইতে কুটাগাছটা বাহির করিয়া দিই? তোমার নিজের চক্ষে যে কড়িকাঠ আছে, তাহা ত তুমি দেখিতেছ না! হে কপটি, আগে আপনার চক্ষু হইতে কড়িকাঠ বাহির করিয়া ফেল, তার পর তোমার ভ্রাতার চক্ষে যে কুটা আছে, তাহা বাহির করিবার নিমিত্ত স্পষ্ট দেখিতে পাবে।
43কারণ এমন ভালো গাছ নাই, যাহাতে মন্দ ফল ধরে, এবং এমন মন্দ গাছও নাই, যাহাতে ভালো ফল ধরে।
44স্ব স্ব ফল দ্বারাই প্রত্যেক গাছ চানা যায়; লোকে ত কাঁটাবন হইতে ডুমুর সংগ্রহ করে না, এবং শ্যাকুলের ঝোপ হইতে দ্রাক্ষাফল সংগ্রহ করে না।
45ভাল মানুষ আপন হৃদয়ের ভাল ভান্ডার হইতে ভালই বাহির করে; এবং মন্দ মানুষ মন্দ ভান্ডার হইতে মন্দই বাহির করে; যেহেতুক হৃদয়ের উপচয় হইতে তাহার মুখ কথা কহে।
46আর তোমরা কেন আমাকে হে প্রভু, হে প্রভু বলিয়া ডাক, অথচ আমি যাহা যাহা বলি, তাহা কর না?
47যে কেহ আমার নিকটে আসিয়া আমার বাক্য শুনিয়া পালন করে, সে কাহার তুল্য তাহা আমি তোমাদিগকে জানাইতেছি।
48সে এমন এক ব্যক্তির তুল্য, যে গৃহ নির্ম্মান করিতে গিয়া খনন করিল, খুঁড়িয়া গভীর করিল, ও পাষানের উপরে ভিত্তিমূল স্থাপন করিল; পরে বন্যা আসিলে সেই গৃহে জলস্রোত বেগে বহিল, কিন্তু তাহা হেলাইতে পারিল না, কারণ তাহা উত্তমরূপে নির্ম্মিত হইয়াছিল।
49কিন্তু যে শুনিয়া পালন না করে, সে এমন এক ব্যক্তির তুল্য, যে মৃত্তিকার উপরে, বিনা ভিত্তিমূলে, গৃহ নির্ম্মান করিল; পরে জলস্রোত বেগে বহিয়া সেই গৃহে লাগিল, আর অমনি তাহা পড়িয়া গেল, এবং সেই গৃহের ভঙ্গ ঘোরতর হইল।
7যীশু পীড়িতকে সুস্থ করেন ও মৃতকে জীবন দেন।
1লোকদের কর্ণগোচরে আপননার সকল কথা সমাপ্ত করিয়া তিনি কফরনাহূমে প্রবেশ করিলেন। 2তখন এক জন শতপতির একটি দাস পীড়িত হইয়া মৃতপ্রায় হইয়াছিল, সে তাঁহার প্রিয়পাত্র ছিল। 3তিনি যীশুর সংবাদ শুনিয়া যিহুদীদের কএক জন প্রাচীনকে দিয়া তাঁহার কাছে নিবেদন করিয়া পাঠাইলেন, যেন তিনি আসিয়া তাঁহার দাসকে বাঁচান।
4তাঁহারা যীশুর কাছে আসিয়া আগ্রহ পূর্ব্বক বিনতি করিয়া বলিতে লাগিলেন, আপনি যে তাঁহার জন্য এই কার্য্য করেন, 5তিনি তাহার যোগ্য; কেননা তিনি আমাদের জাতিকে প্রেম করেন, আর আমাদের সমাজ-গৃহ তিনি নির্ম্মান করিয়া দিয়াছেন। 6যীশু তাঁহাদের সঙ্গে গমন করিলেন, আর তিনি বাটীর অনতিদূরে থাকিতেই শতপতি কএক জন বন্ধু দ্বারা তাঁহাকে বলিয়া পাঠাইলেন, প্রভু, আপনাকে কষ্ট দিবেন না; কেননা আমি এমন যোগ্য নই যে, আপনি আমার ছাদের নীচে আইসেন; 7সেই জন্য আমাকেও আপনার নিকটে আসিবার যোগ্য বুঝিলাম না;আপনি বাক্যে বলুন, তাহাতেই আমার দাস সুস্থ হইবে। 8কারণ আমিও কর্ত্তৃর্ত্বের অধীনে নিযুক্ত লোক, আবার সেনাগণ আমার অধীনে; আর আমি তাহাদের এক জনকে, ‘যাও’ বলিলে সে যায়, এবং অন্যকে ‘আইস’ বলিলে সে আইসে, আর আমার দাসকে ‘এই কর্ম্মকর’ বলিলে সে তাহা করে। 9এই সকল কথা শুনিয়া যীশু তাঁহার বিষয়ে আশ্চর্য্য জ্ঞান করিলেন, এবং যে লোকসমুহ তাহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ আসিতেছিল, তিনি তাহাদিগকে ফিরিয়া কহিলেন, আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, ইস্রায়েলের মধ্যেও এত বড় বিশ্বাস দেখিতে পাই নাই। 10পরে যাঁহাদিগকে পাঠান হইয়াছিল, তাঁহারা গৃহে ফিরিয়া গিয়া সেই দাসকে সুস্থ দেখিতে পাইলেন। 11কিছু কাল পরে তিনি নয়িন নামক নগরে যাত্রা করিলেন, এবং তাঁহার শিষ্যেরা ও বিস্তর লোক তাঁহার সঙ্গে যাইতেছিল। 12যখন তিনি নগর-দ্বারের নিকটবর্ত্তী হইলেন, দেখ, লোকেরা একটি মরা মানুষকে বহন করিয়া বাহিরে লইয়া যাইতেছিল; সে আপন মাতার একমাত্র পুত্র, এবং সেই মাতা বিধবা; আর নগরের অনেক লোক তাহার সঙ্গে ছিল। 13তাহাকে দেখিয়া প্রভু করুনাবিষ্ট হইলেন, এবং তাহাকে কহিলেন, কাঁদিও না। 14পরে নিকটে গিয়া খাট স্পর্শ করিলেন; আর বাহকেরা দাঁড়াইল। তিনি কহিলেন, হে যুবক, তোমাকে বলিতাচি উঠ। 15তাহাতে সেই মরা মানুষটি উঠিয়া বসিল, এবং কথা কহিতে লাগিল; পরে তিনি তাহাকে তাহার মাতার হস্তে সমর্পণ করিলেন। 16তখন সকলে ভয়গ্রস্থ হইল, এবং ঈশ্বরের গৌরব করিয়া বলিতে লাগিল, ‘আমাদের মধ্যে এক জন মহান ভাববাদীর উদয় হইয়াছে,’ আর ‘ঈশ্বর আপন প্রজাদের তত্বাবধান করিয়াছেন’। 17পরে সমুদয় যিহুদিয়াতে এবং চারিদিকে সমস্ত অঞ্চলে তাঁহার বিষয়ে এই কথা ব্যাপিয়া গেল।
যোহনের প্রশ্ন ও যীশুর উত্তর।
18আর যোহনের শিষ্যগণ তাঁহাকে এই সকল বিষয়ে সংবাদ দিল। 19তাহাতে যোহন আপনার দুই জন শিষ্যকে ডাকিয়া তাহাদের দ্বারা প্রভুর নিকটে জিজ্ঞাসা করিয়া পাঠাইলেন, ‘যাঁহার আগমন হইবে, সেই ব্যক্তি কি আপনি? না, আমরা অন্যের অপেক্ষায় থাকিব?’ 20পরে সেই দুই ব্যক্তি তাঁহার কাছে আসিয়া বলিল. যোহন বাপ্তাইজক আমাদের দ্বারা আপনার কাছে এই কথা বলিয়া পাঠাইয়াছেন, যাঁহার আগমন হইবে, সেই ব্যক্তি কি আপনি? না, আমরা অন্যের অপেক্ষায় থাকিব? 21সেই দন্ডে তিনি অনেক লোককে রোগ, ব্যাধি ও দুষ্ট আত্মা হইতে সুস্থ করিলেন, এবং অনেক অন্ধকে চক্ষু দিলেন। 22পরে তিনি সেই দুই জনকে এই উত্তর দিলেন, তোমরা যাও, যাহা দেখিলে ও শুনিলে, তাহাদের সংবাদ যোহনকে দেও; অন্ধের দেখিতে পাইতেছে, খঞ্জেরা চলিতেছে, কুষ্ঠীরা শুচীকৃত হইতেছে, বধিরেরা শুনিতেছে, মৃতেরা উত্থাপিত হইতেছে, দরিদ্রদের নিকটে সুসমাচার প্রচারিত হইতেছে; 23আর ধন্য সেই ব্যক্তি, যে আমাতে বিঘ্নের কারণ না পায়। 24যোহনের দূতেরা প্রস্থান করিলে পর তিনি লোকদিগকে যোহনের বিষয়ে বলিতে লাগিলেন, তোমরা প্রান্তরে কি দেখিতে গিয়াছিলে? 25কি বায়ুকম্পিত নল? তবে কি দেখিতে গিয়াছিলে? কি কোমল বস্ত্র পরিহিত কোন ব্যক্তিকে? দেখ, যাহারা জাঁকাল পোষাক পরে এবং ভোগসুখে কাল যাপন করে, তাহারা রাজবাটীতে থাকে। 26তবে কি দেখিতে গিয়াছিলে? কি এক জন ভাববাদীকে? হাঁ, আমি তোমাদিগকে বলিতেছি ভাববাদী হইতেও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে। 27ইনি সেই ব্যক্তি, যাঁহার বিষয়ে লেখা আছে, “দেখ আমি আপন দূতকে তোমার অগ্রে প্রেরণ করি, সে তোমার অগ্রে তোমার পথ প্রস্তুত করিবে।” 28আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, স্ত্রীলোকদের গর্ব্ভজাত সকলের মধ্যে যোহন হইতে মহান কেহই নাই; তথাপি ঈশ্বরের রাজ্যে অতি ক্ষুদ্র যে ব্যক্তি, সে তাঁহা হইতেও মহান। 29আর সমস্ত লোক ও করগ্রাহীরা কথা শুনিয়া যোহনের বাপ্তিস্মে বাপ্তাইজিত হওয়াতে ঈশ্বরকে ধর্ম্মময় বলিয়া স্বীকার করিল; 30কিন্তু ফরীশী ও ব্যবস্থাবেত্তারা তাঁহার দ্বারা বাপ্তাইজিত না হওয়াতে আপনাদের বিষয়ে ঈশ্বরের মন্ত্রণা বিফল করিল। 31অতএব আমি কাহার সহিত এই কালের লোকদের তুলনা দিব? তাহারা কিসে তুল্য? 32তাহারা এমন বালকদের তুল্য, যাহারা বাজারে বসিয়া এক জন আর এক জনকে ডাকিয়া বলে, ‘আমরা তোমার নিকটে বাঁশী বাজাইলাম, তোমরা নাচিলে না; আমরা বিলাপ করিলাম, তোমরা কাঁদিলে না;’ 33কারণ যোহন বাপ্তাইজক আসিয়া রুটী খান না, দ্রাক্ষারসও পান করেন না, আর তোমরা বল, সে ভূতগ্রস্থ। 34মনুষ্যপুত্র আসিয়া ভোজন পান করেন, আর তোমরা বল, ঐ দেখ, এক জন পেটুক ও মদ্যপায়ী, করগ্রাহীদের ও পাপীদের বন্ধু। 35কিন্তু প্রজ্ঞা আপনার সকল সন্তান দ্বারা নির্দ্দোষ বলিয়া গণিত হইলেন।
অনুতাপিনী স্ত্রীর প্রতি যীশুর দয়া।
36আর ফরীশীদের মধ্যে এক জন তাঁহাকে আপনার সঙ্গে ভোজন করিতে নিমন্ত্রণ করিল। তাহাতে তিনি সেই ফরীশীর বাটীতে প্রবেশ করিয়া ভোজনে বসিলেন। 37আর দেখ, সেই নগরে এক পাপিষ্ঠা স্ত্রীলোক ছিল; সে যখন জানিতে পাইল, তিনি সেই ফরীশীর বাটীতে ভোজনে বসিয়াছেন, তখন একটি শ্বেত প্রস্তরের পাত্রে সুগন্ধি তৈল লইয়া আসিল, 38এবং পশ্চাৎ দিকে তাঁহার চরণের নিকটে দাঁড়াইয়া রোদন করিতে করিতে চক্ষের জলে তাঁহার চরণ ভিজাইতে লাগিল, এবং আপনার মাথার চুল দিয়া তাহা মুছাইয়া দিল, আর তাঁহার চরণ চুম্বন করিতে করিতে সেই সুগন্ধি তৈল মাখাইতে লাগিল। 39তাহা দেখিয়া, যে ফরীশী তাঁহাকে নিমন্ত্রণ করিয়াছিল, সে মনে মনে কহিল, এ যদি ভাববাদী হইত, তবে জানিতে পারিত, ইহাকে যে স্পর্শ করিতেছে, সে কে এবং কি প্রকার স্ত্রীলোক, কারণ সে পাপিষ্ঠা।
40তখন যীশু উত্তর করিয়া তাহাকে কহিলেন, শিমোন, তোমাকে আমার কিছু বলিবার আছে। সে কহিল, গুরু বলুন।
41এক মহাজনের দুই ঋণী ছিল; এক জন ধরিত পাঁচ শত সিকি, আর এক জন পঞ্চাশ।
42তাহাদের পরিশোধ করিবার সংগতি না থাকাতে তিনি উভয়কেই ক্ষমা করিলেন। ভাল, তাহাদের মধ্যে কে তাঁহাকে অধিক প্রেম করিবে?
43শিমোন উত্তর করিল, আমার বোধ হয়, যাহার অধিক ঋণ ক্ষমা করিল, সেই। তিনি কহিলেন, যথার্থ বিচার করিলে।
44আর তিনি সেই স্ত্রীলোকদের দিকে ফিরিয়া শিমোনকে কহিলেন, এই স্ত্রীলোকটিকে দেখিতেছ? আমি তোমার বাটীতে প্রবেশ করিলাম, তুমি আমার পা ধুইবার জল দিলে না, কিন্তু এই স্ত্রীলোকটি চক্ষের জলে আমার চরণ ভিজাইয়াছে ও নিজের চুল দিয়া তাহা মুছাইয়া দিয়াছে।
45তুমি আমাকে চুম্বন করিলে না, কিন্তু যে অবধি আমি ভিতরে আসিয়াছি, এ আমার চরণ চুম্বন করিতেছে, ক্ষান্ত হয় নাই।
46তুমি তৈল দিয়া আমার মস্তক অভিষিক্ত করিলে না, কিন্তু এ সুগন্ধি দ্রব্যে আমার চরণ অভিষিক্ত করিয়াছে।
47এই জন্য, তোমাকে কহিতেছি, ইহার যে বহু পাপ, তাহার ক্ষমা হইয়াছে; কেননা এ অধিক প্রেম করিল; কিন্তু যাহাকে অল্প ক্ষমা করা যায়, সে অল্প প্রেম করে।
48পরে তিনি সেই স্ত্রীলোককে কহিলেন, তোমার পাপ সকল ক্ষমা হইয়াছে।
49তখন যাহারা তাঁহার সঙ্গে ভোজনে বসিয়াছিল, তাহারা মনে মনে বলিতে লাগিল, এ কে যে পাপ ক্ষমাও করে? 50কিন্তু তিনি সেই স্ত্রীলোককে কহিলেন, তোমার বিশ্বাস তোমাকে পরিত্রান করিয়াছে; শান্তিতে প্রস্থান কর।
81ইহার পরেই তিনি ঘোষনা করিতে করিতে এবং ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করিতে করিতে নগরে নগরে ও গ্রামে গ্রামে ভ্রমন করিলেন, আর তাঁহার সঙ্গে সেই বারো জন, 2এবং যাঁহারা দুষ্ট আত্মা কিম্বা রোগ হইতে মুক্তা হইয়াছিলেন, এমন কএকটি স্ত্রীলোক ছিলেন, মগ্দলীনি নাম্নী মরিয়ম, যাঁহা হইতে সাত ভূত বাহির হইয়াছিল, 3যোহানা, যিনি হেরোদের বিষয়াধ্যক্ষ কুষের স্ত্রী, এবং শোশন্না ও অন্য অনেকগুলি স্ত্রীলোক ছিলেন; তাঁহারা আপন আপন সম্পত্তি হইতে তাঁহাদের পরিচর্য্যা করিতেন।
বীজবাপকের দৃষ্টান্ত-কথা।
4আর যখন বিস্তর লোক সমাগত হইতেছিল, এবং ভিন্ন ভিন্ন নগর হইতে লোকেরা তাঁহার নিকট আসিতেছিল, তখন তিনি দৃষ্টান্ত দ্বারা কহিলেন, 5বীজবাপক আপন বীজ বপন করিতে গেল। বপনের সময়ে কতক বীজ পথের পার্শ্বে পড়িল, তাহাতে তাহা পদতলে দলিত হইল, ও আকাশের পক্ষিগণ তাহা খাইয়া ফেলিল। 6আর কতক পাষানের উপর পড়িল, তাহাতে তাহা অঙ্কুরিত হইলে রস না পাওয়াতে শুকাইয়া গেল। 7আর কতক কাঁটাবনের মধ্যে পড়িল, তাহাতে কাঁটা সকল সঙ্গে সঙ্গে অঙ্কুরিত হইয়া তাহা চাপিয়া গেল। 8আর কতক বীজ উত্তম ভূমিতে পড়িল, তাহাতে তাহা অঙ্কুরিত হইয়া শত গুন ফল উৎপন্ন করিল। এই কথা বলিয়া তিনি উচ্চ রবে কহেলেন, যাহার শুনিতে কান থাকে সে শুনুক। 9পরে তাঁহার শিষ্যগণ তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, ঐ দৃষ্টান্তের ভাব কি? 10তিনি কহিলেন, ঈশ্বরের রাজ্যের নিগূড় তত্ত্ব সকল তোমাদিগকে জানিতে দেওয়া হইয়াছে; কিন্তু আর সকলের নিকটে দৃষ্টান্ত দ্বারা বলা গিয়াছে; যেন তাহারা দেখিয়াও না দেখে, এবং শুনিয়াও না বুঝে। 11দৃষ্টান্তটি এই; সেই বীজ ঈশ্বের বাক্য। 12আর তাহারাই পথের পার্শ্বের লোক, যাহারা শুনিয়াছে, পরে দিয়াবল আসিয়া তাহাদের হৃদয় হইতে সেই বাক্য হরণ করিয়া লয়, যেন তাহারা বিশ্বাস করিয়া পরিত্রান না পায়। 13আর তাহারাই পাষানের উপরের লোক, যাহারা শুনিয়া আনন্দপূর্ব্বক সেই বাক্য গ্রহণ করে, কিন্তু তাহাদের মূল নাই, তাহারা অল্প কাল মাত্র বিশ্বাস করে, আর পরীক্ষার সময় সরিয়া পড়ে। 14আর যাহা কাঁটাবনের মধ্যে পড়িল, তাহা এমন লোক, যাহারা শুনিয়াছে, কিন্তু চলিতে চলিতে জীবনের চিন্তা ও ধন ও সুখভোগের দ্বারা চাপা পরে, এবং পক্ক ফল উৎপন্ন করে না। 15আর যাহা উত্তম ভূমিতে পড়িল, তাহা এমন লোক, যাহারা সৎ ও উত্তম হৃদয়ে বাক্য শুনিয়া ধরিয়া রাখে, এবং ধৈর্য্য সহকারে ফল উৎপন্ন করে। 16আর দ্বীপ জ্বালিয়া কেহ পাত্র দিয়া ঢাকে না, কিম্বা খাতের নীচে রাখে না, কিন্তু দ্বিপাধারের উপরেই রাখে, যেন যাহারা ভিতরে যায়, তাহারা আলো দেখিতে পায়। 17কারণ এমন গুপ্ত কিছুই নাই, যাহা প্রকাশিত হইবে না; এবং এমন লুক্কায়িত কিছুই নাই, যাহা জানা যাইবে না ও প্রকাশ পাইবে না। 18অতএব দেখিও, তোমরা কিরূপে শুন; কেননা যাহার আছে, তাহাকে দেওয়া যাইবে, আর যাহার নাই, তাহার বোধে যাহা আছে, তাহাও তাহার নিকট হইতে লওয়া যাইবে। 19আর তাঁহার মাতা ও ভ্রাতৃগণ তাঁহার নিকটে আসিলেন, কিন্তু জনতা প্রযুক্ত তাঁহার সহিত সাক্ষাৎ করিতে পারিলেন না। 20পরে তাঁহাকে জানান হইল, আপনার মাতা ও আপনার ভ্রাতারা আপনাকে দেখিবার বাসনায় বাহিরে দাঁড়াইয়া আছেন। 21তিনি উত্তর করিয়া তাহাদিগকে কহিলেন, এই যে ব্যক্তিরা ঈশ্বরের বাক্য শুনে ও পালন করে, ইহারাই আমার মাতা ও ভ্রাতৃগণ।
যীশুর নানাবিধ অলৌকিক কার্য্য।
যীশু ঝড় থামান।
22এক দিন তিনি স্বয়ং ও তাঁহার শিষ্যগণ একখানি নৌকায় উঠিলেন; আর তিনি তাঁহাদিগকে বলিলেন, আইস আমরা হ্রদের ওপারে যাই; তাহাতে তাঁহারা গুলিয়া দিলেন। 23কিন্তু তাঁহারা নৌকা ছাড়িয়া দিলে তিনি নিদ্রা গেলেন, আর হ্রদে ঝড় আসিয়া পড়িল, তাহাতে নৌকা জলে পূর্ণ হইতে লাগিল, ও তাঁহারা সঙ্কটে পড়িলেন। 24পরে তাঁহারা নিকটে গিয়া তাঁহাকে জাগাইয়া কহিলেন, নাথ, নাথ, আমরা মারা পড়িলাম। তখন তিনি জাগিয়া উঠিয়া বায়ুকে ও জলের তরঙ্গকে ধমক দিলেন, আর উভয়ইয় থামিয়া গেল, ও শান্তি হইল। 25পরে তিনি তাঁহাদিগকে কহিলেন, তোমাদের বিশ্বাস কোথায়? তখন তাঁহারা ভীত হইয়া আশ্চর্য্য জ্ঞান করিলেন, পরস্পর কহিলেন, ইনি তবে কে যে বায়ুকে ও জলকে আজ্ঞা দেন, আর তাহারা ইহার আজ্ঞা মানে?
যীশু এক জন ভূতগ্রস্থকে সুস্থ করেন।
26পরে তাঁহারা গালীলের পরপারস্থ গেরাসেনীদের অঞ্চলে পঁহুছিলেন। 27আর তিনি স্থলে নামিলে ঐ নগরের একটা ভূতগ্রস্থ লোক সম্মুখে উপস্থিত হইল; সে অনেক দিন হইতে কাপড় পড়িত না, ও গৃহে বাস করিত না, কিন্তু কবরে থাকিত। 28যীশুকে দেখিবামাত্র সে চিৎকার করিয়া উঠিল, এবং তাঁহার সম্মুখে পড়িয়া উচ্চ রবে কহিল, হে যীশু, পরাৎপর ঈশ্বরের পুত্র, আপনার সহিত আমার সম্পর্ক কি? আপনাকে বিনতি করি আমাকে যাতনা দিবেন না। 29কারণ তিনি সেই অশুচী আত্মাকে লোকটি হইতে বাহির হইয়া যাইতে আজ্ঞা করিলেন; কেননা ঐ আত্মা দীর্ঘকাল অবধি তাহাকে ধরিয়াছিল, আর শৃঙ্খলে ও বেড়ী দ্বারা বদ্ধ হইয়া রক্ষিত হইলেও সে বন্ধন ছিঁড়িয়া ভুতের বশে নির্জ্জন স্থানে চালিত হইত। 30যীশু তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন তোমার নাম কি? সে কহিল, বাহিনী; কেননা অনেক ভূত তাহার মধ্যে প্রবেশ করিয়াছিল। 31পরে তাহারা তাঁহাকে বিনতি করিতে লাগিল, যেন তিনি তাহাদিগকে রসাতলে চলিয়া যাইতে আজ্ঞা না দেন। 32সেই স্থানে পর্ব্বতের উপরে বৃহৎ এক শূকরপাল চরিতেছিল; তাহাতে ভূত্গন তাঁহাকে বিনতি করিল, যেন তিনি তাহাদিগকে শূকরদের মধ্যে প্রবেশ করিতে অনুমতি দেন; তিনি তাহাদিগকে অনুমতি দিলেন। 33তখন ভূত্গন সেই লোকটি হইতে বাহির হইয়া শূকরদিগের মধ্যে প্রবেশ করিল, তাহাতে সেই পাল বেগে ঢালু পাহাড় দিয়া দৌড়িয়া গিয়া হ্রদে পড়িয়া ডুবিয়া মরিল। 34এই ঘটনা দেখিয়া, যাহারা সেগুলিকে চরাইতেছিল,তাহারা পলায়ন করিল, এবং নগরে ও পল্লীতে সংবাদ দিল। 35তখন কি ঘটিয়াছে, দেখিবার জন্য লোকেরা বাহির হইল, এবং যীশুর নিকটে আসিয়া দেখিল, যে লোকটি হইতে ভূত্গন বাহির হইয়াছে, সে কাপড় পরিয়া ও সুবোধ হইয়া যীশুর চরনতলে বসিয়া আছে; তাহাতে তাহারা ভয় পাইল। 36আর যাহারা দেখিয়াছিল, তাহারা সেই ভূতগ্রস্থ কিরূপে সুস্থ হইয়াছিল, তাহা তাহাদিগকে বলিল। 37তাহাতে গেরাসেনীদের প্রদেশের চারিদিকে সমস্ত লোক তাঁহাকে বিনতি করিল, যেন তিনি তাহাদের নিকট হইতে চলিয়া যান; কেননা তাহারা মহাভয়ে আক্রান্ত হইয়াছিল, তখন তিনি নৌকায় উঠিয়া ফিরিয়া আসিলেন। 38আর যাহা হইতে ভূতগণ বাহির হইয়াছিল, সেই লোকটি প্রার্থনা করিল, যেন তাঁহার সঙ্গে থাকিতে পারে; 39কিন্তু তিনি তাহাকে বিদায় করিয়া কহিলেন, তুমি তোমার গৃহে ফিরিয়া যাও, এবং তোমার নিমিত্ত ঈশ্বর যে যে মহৎ কার্য্য করিয়াছেন, তাহার বৃত্তান্ত বল। তাহাতে সে চলিয়া গিয়া, যীশু তাহার জন্য যে যে মহৎ কার্য্য করিয়াছেন, তাহা নগরের সর্ব্বত্র প্রচার করিতে লাগিল।
যীশু একটি রুগ্ন স্ত্রীলোককে সুস্থ করেন ও একটি মৃত বালিকাকে জীবন দেন।
40যীশু ফিরিয়া আসিলে লোকেরা তাঁহাকে সাদরে গ্রহণ করিল; কারণ সকলে তাঁহার অপেক্ষা করিতেছিল।
41আর দেখ, যায়ীর নামে এক ব্যক্তি আসিলেন; তিনি সমাজ-গৃহের এক জন অধ্যক্ষ। তিনি যীশুর চরণে পড়িয়া তাহার গৃহে আসিতে তাঁহাকে বিনতি করিতে লাগিলেন;
42কারণ তাহার একটি মাত্র কন্যা ছিল, বয়স কমবেশ বারো বৎসর, আর সে মৃতপ্রায় হইয়াছিল। যীশু যখন যাইতেছিলেন, লোকেরা তাঁহার উপরে চাপাচাপি করিয়া পড়িতে লাগিল।
43আর, একটি স্ত্রীলোক, যে বারো বৎসর অবধি প্রদর রোগগ্রস্থ হইয়াছিল, যে চিকিৎসকদের পিছনে সর্ব্বস্ব ব্যয় করিয়াও কাহার দ্বারা সুস্থ হইতে পারেন নাই,
44সে পশ্চাৎ দিকে আসিয়া তাঁহার বস্ত্রের থোপ স্পর্শ করিল; আর তৎক্ষনাৎ তাহার রক্তস্রাব বন্ধ হইল।
45তখন যীশু কহিলেন, কে আমাকে স্পর্শ করিল? সকলে অস্বীকার করিলে পিতর ও তাঁহার সঙ্গীরা বলিলেন, নাথ, লোকসমূহ চাপাচাপি করিয়া আপনার উপরে পড়িতেছে।
46কিন্তু যীশু কহিলেন, আমাকে কেহ স্পর্শ করিয়াছে, কেননা আমি টের পাইয়াছি আমা হইতে শক্তি বাহির হইল।
47স্ত্রীলোকটি যখন দেখিল, সে গুপ্ত নহে, তখন কাঁপিতে কাঁপিতে আসিল, এবং তাঁহার সম্মুখে প্রণিপাত করিয়া, কি নিমিত্ত তাঁহাকে স্পর্শ করিয়াছিল এবং কি প্রকারে তৎক্ষনাৎ সুস্থ হইয়াছিল, তাহা সকল লোকের সাক্ষাতে বর্ণনা করিল।
48তিনি তাহাকে কহিলেন, বৎসে! তোমার বিশ্বাস তোমাকে সুস্থ করিল; শান্তিতে চলিয়া যাও।
49তিনি কথা কহিতেছেন, এমন সময়ে সমাজাধ্যক্ষের বাটী হইতে এক জন আসিয়া কহিল, আপনার কন্যার মৃত্যু হইয়াছে, গুরুকে আর কষ্ট দিবেন না। 50তাহা শুনিয়া যীশু তাঁহাকে উত্তর করিলেন, ভয় করিও না, কেবল বিশ্বাস কর, তাহাতে সে সুস্থ হইবে। 51পরে তিনি সেই বাটীতে উপস্থিত হইলে, পিতর, যাকোব ও যোহন এবং বালিকাটির পিতা ও মাতা ছাড়া আর কাহাকেও প্রবেশ করিতে দিলেন না। 52তখন সকলে তাহার জন্য কাঁদিতেছিল, ও বিলাপ করিতেছিল। তিনি কহিলেন, কাঁদিও না; সে মরে নাই,ঘুমিয়া রহিয়াছে। 53তখন তাহারা তাঁহাকে উপহাস করিল, কেননা তাহারা জানিত, সে মরিয়া গিয়াছে। 54কিন্তু তিনি তাহার হাত ধরিয়া ডাকিয়া কহিলেন, বালিকে, উঠ। 55তাহাতে তাহার আত্মা ফিরিয়া আসিল, ও সে তৎক্ষনাৎ উঠিল; আর তিনি তাহাকে কিছু আহার দিতে আগ্জ্ঞা দিলেন। 56ইহাতে তাহার পিতামাতা চমৎকৃত হইল, কিন্তু তিনি তাহদিগকে আগ্জ্ঞা করিলেন, এ ঘটনার কথা কাহাকেও বলিও না।
যীশুর আদেশ, শিক্ষা ও কার্য্য
9যীশু বারো জন শিষ্যকে প্রচার করতে পাঠান।
1পরে তিনি সেই বারো জনকে একত্র ডাকিয়া তাঁহাদিগকে সমস্ত ভুতের উপরে, এবং রোগ ভালো করিবার জন্য, শক্তি ও কর্ত্তৃত্ব দিলেন; 2ঈশ্বরের রাজ্য প্রচার করিতে এবং আরোগ্য করিতে তাঁহাদিগকে প্রেরণ করিলেন। 3আর তিনি তাঁহাদিগকে কহিলেন, পথের জন্য কিছুই লইও না, যষ্টিও না, ঝুলিও না, খাদ্যও না, টাকাও না; দুইটা আঙরাখাও লইও না।
4আর তোমরা যে কোন বাটীতে প্রবেশ কর, তথায় থাকিও, এবং তথা হইতে প্রস্থান করিও। 5আর যে সকল লোক তোমাদিগকে গ্রহন না করে, সেই নগর হইতে প্রস্থান করিবার সময়ে তাহাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যের জন্য তোমাদের পায়ের ধুলা ঝাড়িয়া ফেলিও। 6পরে তাঁহারা প্রস্থান করিয়া চারিদিকে গ্রামে গ্রামে যাইতে লাগিলেন, সর্ব্বত্র সুসমাচার প্রচার এবং আরোগ্য দান করিতে লাগিলেন। 7আর, যাহা, যাহা হইতেছিল, হেরোদ রাজা সমস্তই শুনিতে পাইলেন; এবং তিনি বড় অস্থির হইলেন, কারণ কেহ কেহ বলিত, যোহন মৃতদের মধ্য হইতে উঠিয়াছেন; 8আর কেহ কেহ বলিত, এলিয় দর্শন দিয়াছেন; এবং আর কেহ কেহ বলিত, পূর্ব্বকালীন ভাববাদীগনের এক জন উঠিয়াছেন। 9আর হেরোদ কহিলেন, যোহনের ত আমিই মস্তক ছেদন করিয়াছি; কিন্তু ইনি কে, যাঁহার বিষয়ে এরূপ কথা শুনিতে পাইতেছি? আর তিনি তাঁহাকে দেখিবার চেষ্টা করিতে লাগিলেন।
যীশু পাঁচ হাজার লোককে আহার দেন।
10পরে প্রেরিতেরা যাহা যাহা করিয়াছিলেন, ফিরিয়া আসিয়া তাহার বৃত্তান্ত যীশুকে কহিলেন। আর তিনি তাহাদিগকে সঙ্গে লইয়া বিরলে বৈৎসৈদা নামক নগরে গেলেন। 11কিন্তু লোকেরা তাহা জানিতে পারিয়া তাঁহার পশ্চাৎ গমন করিল, আর তিনি তাহাদিগকে সদয় ভাবে গ্রহণ করিয়া তাহাদের কাছে ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয় কথা কহিলেন, এবং যাহাদের সুস্থ হইবার প্রয়োজন ছিল, তাহাদিগকে সুস্থ করিলেন। 12পরে দিবা অবসান হইতে লাগিল, আর সেই বারো জন নিকটে আসিয়া তাঁহাকে কহিলেন, আপনি এই লোকসমূহকে বিদায় করুন, যেন ইহারা চারিদিকে গ্রামে ও পল্লীতে গিয়া রাত্রিবাস করে ও খাদ্য দ্রব্য দেখিয়া লয়, কেননা এখানে আমরা নির্জ্জন স্থানে আছি। 13কিন্তু তিনি তাঁহাদিগকে কহিলেন, তোমরাই ইহাদিগকে আহার দেও। তাঁহারা বলিলেন, পাঁচখানা রুটী ও দুইটি মাছের অধিক আমাদের কাছে নাই; তবে কি আমরা গিয়া এই সমস্ত লোকের জন্য খাদ্য কিনিয়া আনিতে পারিব? 14কারণ তাহারা অনুমান পাঁচ সহস্র পুরুষ ছিল।তখন তিনি আপন শিষ্যদিগকে কহিলেন, পঞ্চাশ পঞ্চাশ জন করিয়া উহাদিগকে সারি সারি বসাইয়া দেও। 15তাঁহারা সেরূপ করিলেন, সকলকে বসিয়া দিলেন। 16পরে তিনি সেই পাঁচখানা রুটী ও দুইটী মাছ লইয়া স্বর্গের দিকে উর্দ্ধদৃষ্টি করিয়া সেইগুলিকে আশীর্বাদ করিলেন, ও ভাঙ্গিলেন; আর লোকদের সম্মুখে রাখিবার জন্য শিষ্যগনকে দিতে লাগিলেন। 17তাহাতে সকলে আহার করিয়া তৃপ্ত হইল, এবং তাহারা যাহা অবশিষ্ট রাখিল, সেই সকল গুঁড়াগাঁড়া কুড়াইলে পর বারো ডালা হইল।
যীশু আপন মৃত্যু ও পুনরুত্থান বিষয়ে কথা বলেন।
18একদা তিনি বিজনে প্রার্থনা করিতেছিলেন, শিষ্যগণ তাঁহার সঙ্গে ছিলেন; আর তিনি তাঁহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিলেন, আমি কে, এ বিষয়ে লোকসমূহ কি বলে? 19তাঁহারা উত্তর করিয়া কহিলেন, যোহন বাপ্তাইজক; কিন্তু কেহ কেহ বলে, আপনি এলিয়; আর কেহ কেহ বলে, পুর্ব্বকালীন ভাববাদীগনের এক জন উঠিয়াছেন। 20তখন তিনি তাঁহাদিগকে কহিলেন, কিন্তু তোমরা কি বল, আমি কে? পিতর উত্তর করিয়া কহিলেন, ঈশ্বরের সেই খ্রীষ্ট। 21তখন তিনি তাঁহাদিগকে দৃঢ়রূপে বলিয়া দিলেন ও আজ্ঞা করিলেন, এ কথা কাহাকেও বলিও না; 22তিনি কহিলেন, মনুষ্যপুত্রকে অনেক দুঃখ ভোগ করিতে হইবে, প্রাচীনবর্গ, প্রধান যাজকগণ ও অধ্যাপকগণ কর্ত্তৃত্ব অগ্রাহ্য হইতে হইবে, এবং হত হইতে হইবে; আর তৃতীয় দিবসে উঠিতে হইবে। 23আর তিনি সকলকে বলিলেন, কেহ যদি আমার পশ্চাৎ আসিতে ইচ্ছা করে, তবে সে আপনাকে অস্বীকার করুক, প্রতিদিন আপন ক্রুশ তুলিয়া লউক, এবং আমার পশ্চাদগামী হউক। 24কেননা যে কেহ আপন প্রাণ রক্ষা করিতে ইচ্ছা করে, সে তাহা হারাইবে; কিন্তু যে কেহ আমার নিমিত্ত আপন প্রাণ হারায়, সেই তাহা রক্ষা করিবে। 25কারণ মনুষ্য যদি সমুদয় জগৎ লাভ করিয়া আপনাকে নষ্ট করে কিম্বা হারায়, তবে তাহার লাভ কি হইল? 26কেননা যে কেহ আমাকে ও আমার বাক্যকে লজ্জার বিষয় জ্ঞান করে, মনুষ্যপুত্র যখন আপনার প্রতাপে এবং পিতার ও পবিত্র দুতগনের প্রতাপে আসিবেন, তখন তিনি তাহাকে লজ্জার বিষয় জ্ঞান করিবেন। 27কিন্তু আমি তোমাদিগকে সত্য কহিতেছি, যাহারা এখানে দাঁড়াইয়া রহিয়াছে, তাহাদের মধ্যে এমন কএক জন আছে, যাহারা, যে পর্য্যন্ত ঈশ্বরের রাজ্য না দেখিবে, সেই পর্য্যন্ত কোন মতে মৃত্যুর আস্বাদ পাইবে না।
যীশুর রূপান্তর।
28এই সকল কথা বলিবার পরে, অনুমান আট দিন গত হইলে তিনি পিতর, যোহন ও যাকোবকে সঙ্গে লইয়া প্রার্থনা করিবার জন্য পর্ব্বতে উঠিলেন। 29আর তিনি প্রার্থনা করিতেছেন, এমন সময়ে তাঁহার মুখের দৃশ্য অন্যরূপ হইল, এবং তাঁহার বস্ত্র শুভ্র ও চাকচক্যময় হইল। 30আর দেখ, দুই জন পুরুষ তাঁহার সহিত কথোপকথন করিতে লাগিলেন; 31তাঁহারা মোশি ও এলিয়; তাঁহারা সপ্রতাপে দেখা দিয়া, তাহার সেই যাত্রার বিষয় কথা কহিতে লাগিলেন, যাহা তিনি যিরুশালেমে সমাপন করিতে উদ্যত ছিলেন। 32তখন পিতর ও তাঁহার সঙ্গীরা নিদ্রায় ভারাক্রান্ত ছিলেন, কিন্তু জাগিয়া উঠিয়া তাঁহার প্রতাপ এবং ঐ দুই ব্যক্তিকে দেখিলেন, যাঁহারা তাঁহার সহিত দাঁড়াইয়া ছিলেন। 33পরে তাঁহারা তাঁহার স্থান হইতে প্রস্থান করিতেছেন, এমন সময়ে পিতর যীশুকে কহিলেন, নাথ, এখানে আমাদের থাকা ভালো; আমরা তিনটি কুটির নির্ম্মান করি; একটি আপনার জন্য, একটি মোশির জন্য, আর একটি এলিয়ের জন্য; কিন্তু তিনি কি বলিলেন, তাহা বুঝিলেন না। 34তিনি এই কথা বলিতেছেন, এমন সময়ে একখানি মেঘ আসিয়া তাঁহাদিগকে ছায়া করিল; তাহাতে তাঁহারা সেই মেঘে প্রবেশ করিলে, ইহাঁরা ভীত হইলেন। 35আর সেই মেঘ হইতে এই বাণী হইল, ইনিই আমার পুত্র, আমার মনোনীত, ইহাঁর কথা শুন। 36এই বাণী হইবামাত্র একা যীশুকে দেখা গেল। আর তাঁহারা নীরব রহিলেন, যাহা যাহা দেখিয়াছিলেন, তাহার কিছুই সেই সময়ে কাহাকেও জ্ঞাত করিলেন না।
যীশু একটী বালককে সুস্থ করেন, ও শিক্ষা দেন।
37পরদিন তাহারা সেই পর্ব্বতে নামিয়া আসিলে বিস্তর লোক তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিল। 38আর দেখ, ভিড়ের মধ্য হইতে এক ব্যক্তি উচ্চঃস্বরে কহিল, হে গুরু, বিনয় করি, আমার পুত্রের প্রতি দৃষ্টিপাত করুন, কেননা এটী আমার একমাত্র সন্তান। 39আর দেখুন, একটা আত্মা ইহাকে আক্রমন করে, আর এ হঠাৎ চেঁচাইয়া উঠে; এবং সে ইহাকে মুচড়াইয়া ধরে, তাহাতে এ ফেনা বাহির করে, আর সে ইহাকে ক্ষত-বিক্ষত করিয়া কষ্টে ছাড়িয়া যায়।
40আর আমি আপনার শিষ্যদিগকে নিবেদন করিয়াছিলাম, যেন তাঁহারা এটাকে ছাড়ান, কিন্তু তাঁহারা পারিলেন না।
41তখন যীশু উত্তর করিয়া কহিলেন, হে অবিশ্বাসী ও বিপথগামী বংশ, কত কাল আমি তোমাদের নিকটে থাকিব ও তোমাদের প্রতি সহিষ্ণুতা করিব?
42তোমার পুত্রকে এখানে আন। সে আসিতেছে, এমন সময়ে ঐ ভূত তাহাকে ফেলিয়া দিল, ও ভয়ানক মুচড়াইয়া ধরিল। কিন্তু যীশু সেই অশুচী আত্মাকে ধমক দিলেন, বালকটকে সুস্থ করিলেন, ও তাহার পিতার কাছে তাহাকে সমর্পণ করিলেন।
43তখন সকলে ঈশ্বরের মহিমায় চমৎকৃত হইল।
44আর তিনি যে সমস্ত কার্য্য করিতেছিলেন, তাহাতে সকল লোক আশ্চর্য্য জ্ঞান করিলে তিনি আপন শিষ্যদিগকে কহিলেন, তোমরা এই সকল বাক্য কর্নে স্থান দান কর; কেননা সম্প্রতি মনুষ্যপুত্র মনুষ্যদের হস্তে সমর্পিত হইবেন।
45কিন্তু তাঁহারা এই কথা বুঝিলেন না, এবং ইহা তাঁহাদের হইতে গুপ্ত থাকিল, যাহাতে তাঁহারা বুঝিয়া উঠিতে না পারেন, এবং তাঁহার নিকটে এ কথার বিষয় জিজ্ঞাসা করিতে তাঁহাদের ভয় হয়।
46আর তাঁহাদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ, এই তর্ক তাঁহাদের মধ্যে উপস্থিত হইল।
47তখন যীশু তাঁহাদের হৃদয়ের তর্ক জানিয়া একটি শিশুকে লইয়া আপনার পার্শ্বে দাঁড় করাইলেন,
48এবং তাঁহাদিগকে কহিলেন, যে কেহ আমার নামে এই শিশুটিকে গ্রহণ করে, সে আমাকেই গ্রহণ করে; এবং যে কেহ আমাকে গ্রহণ করে সে তাঁহাকেই গ্রহণ করে, যিনি আমাকে প্রেরণ করিয়াছেন; কারণ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সর্ব্বাপেক্ষা ক্ষুদ্র সেই মহান।
49পরে যোহন কহিলেন, নাথ, আমরা এক ব্যক্তিকে আপনার নামে ভূত ছাড়াইতে দেখিয়াছিলাম, আর তাহাকে বারণ করিতেছিলাম, কারণ সে আমাদের সহানুগামী নয়। 50কিন্তু যীশু তাঁহাকে বলিলেন, বারণ করিও না, কেননা যে তোমাদের বিপক্ষ নয়, সে তোমাদের সপক্ষ।
যীশু শেষবার যিরুশালেমে যাত্রা করেন।
51আর যখন তাঁহার উর্দ্ধে নীত হইবার সময় পূর্ণ হইয়া আসিতেছিল, তখন তিনি একান্ত মনে যিরুশালেমে যাইতে উন্মুখ হইলেন, এবং আপনার অগ্রে দূতগণ প্রেরণ করিলেন। 52আর তাঁহারা গিয়া শমরীয়দের কোন গ্রামে প্রবেশ করিলেন, যাহাতে তাঁহার জন্য আয়োজন করিতে পারেন। 53কিন্তু লোকেরা তাঁহাকে গ্রহণ করিল না, কেননা তিনি যিরুশালেম যাইতে উন্মুখ ছিলেন। 54তাহা দেখিয়া তাঁহার শিষ্য যাকোব ও যোহন বলিলেন, প্রভু, আপনি কি ইচ্ছা করেন যে, এলিয় যেমন করিয়াছিলেন, তেমনি আমরা বলি, আকাশ হইতে অগ্নি নামিয়া আসিয়া ইহাদিগকে ভস্ম করিয়া ফেলুক? 55কিন্তু তিনি মুখ ফিরাইয়া তাঁহাদিগকে ধমক দিলেন, আর কহিলেন, তোমরা কি প্রকার আত্মার লোক, তাহা জান না। 56কারণ মনুষ্যপুত্র মনুষ্যদের প্রাণনাশ করিতে আইসেন নাই, কিন্তু রক্ষা করিতে আসিয়াছেন। পরে তাঁহারা অন্য গ্রামে চলিয়া গেলেন। 57তাঁহারা পথে যাইতেছেন, এমন সময়ে এক ব্যক্তি তাঁহাকে কহিল, আপনি যে কোন স্থানে যাইবেন, আমি আপনার পশ্চাৎ যাইব। 58যীশু তাহাকে কহিলেন, শৃগালদের গর্ত্ত আছে, এবং আকাশের পক্ষিগনের বাসা আছে, কিন্তু মনুষ্যপুত্রের মস্তক রাখিবার কোন স্থান নাই। 59আর এক জনকে তিনি বলিলেন, আমার পশ্চাৎ আইস। কিন্তু সে কহিল, প্রভু, অগ্রে আমার পিতার কবর দিয়া আসিতে অনুমতি করুন। 60তিনি তাহাকে বলিলেন, মৃতেরাই আপন আপন মৃতের কবর দিউক; কিন্তু তুমি গিয়া ঈশ্বরের রাজ্য ঘোষণা কর। 61আর এক জন কহিল, প্রভু, আমি আপনার পশ্চৎ যাইব, কিন্তু অগ্রে নিজ বাটীর লোকদের নিকটে বিদায় লইয়া আসিতে অনুমতি করুন। 62কিন্তু যীশু তাহাকে কহিলেন, যে কোন ব্যক্তি লাঙ্গলে হাত দিয়া পিছনে ফিরিয়া চায়, সে ঈশ্বরের রাজ্যের উপযোগী নয়।
10যীশু সত্তর জনকে পাঠান ও বিবিধ শিক্ষা দেন।
1তৎপরে প্রভু আরও সত্তর জনকে নিযুক্ত করিলেন, আর আপনি যেখানে যেখানে যাইতে উদ্যত ছিলেন, সেই সমস্ত নগরে ও স্থানে আপনার অগ্রে দুই দুই জন করিয়া তাহাদিগকে প্রেরণ করিলেন। 2তিনি তাহাদিগকে বলিলেন, শস্য প্রচুর বটে, কিন্তু কার্য্যকরী লোক অল্প; অতএব শস্যক্ষেত্রের স্বামীর নিকটে প্রার্থনা কর, যেন তিনি নিজ শস্যক্ষেত্রে কার্য্যকরী লোক পাঠাইয়া দেন। 3তোমরা যাও, দেখ, কেন্দুয়াদের মধ্যে যেমন মেষশাবক, তদ্রুপ তোমাদিগকে প্রেরণ করিতেছি।
4তোমরা থলী কি ঝুলী কি পাদুকা সঙ্গে লইয়া যাইও না এবং পথের মধ্যে কাহাকেও মঙ্গলবাদ করিও না। 5আর যে কোন বাটীতে প্রবেশ করিবে, প্রথমে বলিও, এই গৃহে শান্তি বর্ত্তুক। 6আর তথায় যদি শান্তির সন্তান থাকে, তবে তোমাদের শান্তি তাহার উপরে অবস্থিতি করিবে, নতুবা তোমাদের প্রতি ফিরিয়া আসিবে। 7আর সেই বাটীতেই থাকিও, এবং তাহারা যাহা দেয়, তাহাই ভোজন পান করিও; কেননা কার্য্যকারী লোক আপন বেতনের যোগ্য! এক বাটী হইতে অন্য বাটীতে যাইও না। 8আর তোমরা যে কোন নগরে প্রবেশ কর, লোকেরা যদি তোমাদিগকে গ্রহণ করে, তবে যাহা তোমাদের সম্মুখে রাখা হইবে, তাহাই ভোজন করিও। 9আর সেখানকার পীড়িত দিগকে সুস্থ করিও, এবং তাহা দিগকে বলিও, ঈশ্বরের রাজ্য তোমাদের সন্নিকট হইল। 10কিন্তু তোমরা যে কোন নগরে প্রবেশ কর, লোকে যদি তোমাদিগকে গ্রহন না করে, তবে বাহির হইয়া সেই নগরের পথে পথে গিয়া এই কথা বলিও, 11তোমাদের নগরের যে ধুলা আমাদের পায়ে লাগিয়াছে, তাহাও তোমাদের বিরুদ্ধে ঝাড়িয়া দিই; তথাপি ইহা জানিও যে, ঈশ্বরের রাজ্য সন্নিকট হইল। 12আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, সেই দিন সেই নগরের দশা হইতে বরং সাদোমের দশা সহনীয় হইবে। 13কোরাসীন, ধিক তোমাকে! বৈৎসৈদা, ধিক তোমাকে! কেননা তোমাদের মধ্যে যে সকল পরাক্রম-কার্য্য করা গিয়াছে, সে সকল যদি সোর ও সীদোনে করা যাইত, তবে অনেক দিন পূর্ব্বে তাহারা চট পরিয়া ভস্মে বসিয়া মন ফিরাইত। 14কিন্তু বিচারে তোমাদের দশা হইতে বরং সোর ও সীদোনের দশা সহনীয় হইবে। 15আর হে কফরনাহূম, তুমি নাকি স্বর্গ পর্য্যন্ত উচ্চীকৃত হইবে? তুমি পাতাল পর্য্যন্ত নামিয়া যাইবে। 16যে তোমাদিগকে মানে, সে আমাকেই মানে; এবং যে তোমাদিগকে অগ্রাহ্য করে, সে আমাকেই অগগ্রাহ্য করে; আর যে আমাকে অগ্রাহ্য করে, সে তাঁহাকেই অগ্রাহ্য করে, যিনি আমাকেই প্রেরণ করিয়াছেন। 17পরে সেই সত্তর জন আনন্দে ফিরিয়া আসিয়া কহিল, প্রভু, আপনার নামে ভূতগণও আমাদের বশীভূত হয়। 18তিনি তাহাদিগকে কহিলেন, আমি শয়তানকে বিদ্যুতের ন্যায় স্বর্গ হইতে পতিত দেখিতেছিলাম। 19দেখ, আমি তোমাদিগকে সর্প ও বৃশ্চিক পদতলে দলিত করিবার, এবং শত্রুর সমস্ত শক্তির উপরে কর্ত্তৃত করিবার ক্ষমতা দিয়াছি। কিছুতেই কোন মতে তোমাদের হানি করিবে না; 20তথাপি আত্মারা যে তোমাদের বশীভূত হয়, ইহাতে আনন্দ করিও না; কিন্তু তোমাদের নাম যে স্বর্গে লিখিত আছে, ইহাতেই আনন্দ কর। 21সেই দন্ডে তিনি পবিত্র আত্মায় উল্লাসিত হইলেন ও কহিলেন, হে পিতঃ, স্বর্গের ও পৃথীবির প্রভু, আমি তোমার ধন্যবাদ করিতেছি, কেননা তুমি বিজ্ঞ ও বুদ্ধিমানের হইতে এই সকল বিষয় গুপ্ত রাখিয়া শিশুদের নিকটে এই সকল প্রকাশ করিয়াছ। হা, পিতঃ, কেননা ইহা তোমার দৃষ্টিতে প্রীতিজনক হইল। 22সকলই আমার পিতা কর্ত্তৃক আমাকে সমর্পিত হইয়াছে; এবং পুত্র কে, তাহা কেহ জানে না, কেবল পিতা জানেন; আর পিতা কে, তাহা কেহ জানেন না, কেবল পুত্র জানেন, আর পুত্র যাহার নিকটে তাঁহাকে প্রকাশ করিতে মানস করে, সে জানে। 23পরে তিনি শিষ্যগণের প্রতি ফিরিয়া বিরলে কহিলেন, ধন্য সেই সকল চক্ষু, তোমরা যাহা যাহা দেখিতেছ, যাহারা তাহা দেখে। 24কেননা আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, তোমরা যাহা যাহা দেখিতেছ, তাহা অনেক ভাববাদী ও রাজা দেখিতে বান্চ্ছা করিয়াও দেখিতে পান নাই; এবং তোমরা যাহা যাহা শুনিতেছ, তাহা তাঁহারা শুনিতে বান্চ্ছা করিয়াও শুনিতে পান নাই।
সর্ব্বপ্রধান আজ্ঞা কি, এ বিষয়ে শিক্ষা।
25আর দেখ, এক জন ব্যবস্থাবেত্তা উঠিয়া তাঁহার পরীক্ষা করিয়া কহিল, হে গুরু কি করিলে আমি অনন্ত জীবনের অধিকারী হইব? 26তিনি তাহাকে কহিলেন, ব্যবস্থায় কি লেখা আছে? কিরূপ পাঠ করিতেছ? 27সে উত্তর করিয়া কহিল, “তুমি তোমার সমস্ত অন্তঃকরণ, তোমার সমস্ত প্রাণ, তোমার সমস্ত শক্তি ও তোমার সমস্ত চিত্ত দিয়া তোমার ঈশ্বর প্রভুকে প্রেম করিবে, এবং তোমার প্রতিবাসীকে আপনার মত প্রেম করিবে।” 28তিনি তাহাকে কহিলেন, যথার্থ উত্তর করিলে; তাহাই কর, তাহাতে জীবন পাইবে। 29কিন্তু সে আপনাকে নির্দ্দোষ দেখাইবার ইচ্ছায় যীশুকে বলিল, ভাল, আমার প্রতিবাসী কে? 30এই কথা লইয়া যীশু বলিলেন, এক ব্যক্তি যিরুশালেম হইতে যিরীহোতে নামিয়া যাইতেছিল, এমন সময়ে দস্যুদলের হস্তে পড়িল; তাহারা তাহার বস্ত্র খুলিয়া লইল, এবং তাহাকে আঘাত করিয়া আধমরা ফেলিয়া চলিয়া গেল। 31ঘটনাক্রমে এক জন যাজক সেই পথ দিয়া নামিয়া যাইতেছিল; সে তাহাকে দেখিয়া এক পার্শ্ব দিয়া চলিয়া গেল। 32পরে সেইরূপে এক জন লেবীয়ও সেই স্থানে আসিয়া দেখিয়া এক পার্শ্ব দিয়া চলিয়া গেল। 33কিন্তু এক জন শমরীয় সেই পথ দিয়া যাইতে যাইতে তাহার নিকটে আসিল; আর তাহাকে দেখিয়া করুনাবিষ্ট হইল, 34এবং নিকটে আসিয়া তৈল ও দ্রাক্ষারস ঢালিয়া দিয়া তাহার ক্ষত সকল বন্ধন করিল; পরে আপন পশুর উপরে তাহাকে বসাইয়া এক পান্থশালায় লইয়া গিয়া তাহার প্রতি যত্ন করিল। 35পরদিবসে দুইটি সিকি বাহির করিয়া পান্থশালার কর্ত্তাকে দিয়া বলিল, এই ব্যক্তির প্রতি যত্ন করিও, অধিক যাহা কিছু ব্যয় হয়, আমি যখন ফিরিয়া আইসি, তখন পরিশোধ করিব। 36তোমার কেমন বধ হয়, এই তিন জনের মধ্যে কে ঐ দস্যুদের হস্তে পতিত ব্যক্তির প্রতিবাসী হইয়া উঠিল? 37সে কহিল, যে ব্যক্তি তাহার প্রতি দয়া করিল, সেই। তখন যীশু তাহাকে কহিলেন, যাও, তুমিও সেইরূপ কর। 38আর যখন তাঁহারা যাইতেছিলেন, তিনি কোন গ্রামে প্রবেশ করিলেন, আর মার্থা নামে একটি স্ত্রীলোক আপন গৃহে তাঁহার আতিথ্য করিলেন। 39মরিয়ম নামে তাঁহার একটি ভগিনী ছিলেন, তিনি প্রভুর চরণের নিকটে বসিয়া তাঁহার বাক্য শুনিতে লাগিলেন।
40কিন্তু মার্থা পরিচর্য্যা বিষয়ে অধিক ব্যতী-ব্যস্ত ছিলেন; আর তিনি নিকটে আসিয়া কহিলেন, প্রভু, আপনি কিছু মনে করিতেছেন না যে, আমার ভগিনী পরিচর্য্যার ভার একা আমার উপরে ফেলিয়া রাখিয়াছে? অতএব উহাকে বলিয়া দিউন, যেন আমার সাহায্য করে।
41কিন্তু প্রভু উত্তর করিয়া তাহাকে কহিলেন, মার্থা, মার্থা, তুমি অনেক বিষয়ে চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন আছ;
42কিন্তু অল্প কএকটী বিষয়, বরং একটী মাত্র বিষয় আবশ্যক; বাস্তবিক মরিয়ম সেই উত্তম অংশটি মনোনীত করিয়াছে, যাহা তাহার নিকট হইতে লওয়া যাইবে না।
11নানা বিষয়ে যীশু উপদেশ।
1এক সময়ে তিনি কোন স্থানে প্রার্থনা করিতেছিলেন; যখন শেষ করিলেন, তাঁহার শিষ্যদের মধ্যে এক জন তাঁহাকে কহিলেন, প্রভু, আমাদিগকে প্রার্থনা করিতে শিক্ষা দিউন, যেমন যোহনও আপন শিষ্যদিগকে শিক্ষা দিয়াছিলেন।
2তিনি তাঁহাদিগকে কহিলেন, তোমরা যখন প্রার্থনা কর, তখন বলিও, পিতঃ তোমার নাম পবিত্র বলিয়া মান্য হউক। তোমার রাজ্য আইসুক। 3আমাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য প্রতিদিন আমাদিগকে দেও।
4আর আমাদের পাপ সকল ক্ষমা কর; কেননা আমরাও আপনাদের প্রত্যেক অপরাধীকে ক্ষমা করি। আর আমাদিগকে পরীক্ষাতে অনিও না। 5আর তিনি তাঁহাদিগকে কহিলেন, তোমাদের মধ্যে কাহারও যদি বন্ধু থাকে, আর সে যদি মধ্যরাত্রে তাহার নিকটে গিয়া বলে, ‘বন্ধু, আমাকে তিনখানা রুটী ধার দেও, 6কেননা আমার এক বন্ধু পথে যাইতে যাইতে আমার কাছে আসিয়াছেন, তাঁহার সম্মুখে রাখিবার আমার কিছুই নাই;’ 7তাহা হইলে সেই ব্যক্তি ভিতরে থাকিয়া কি এমন উত্তর দিবে, ‘আমাকে কষ্ট দিও না, এখন দ্বার বদ্ধ, এবং আমার সন্তানেরা আমার কাছে শুইয়া আছে, আমি উঠিয়া তোমাকে দিতে পারি না’? 8আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, সে যদ্যপি বন্ধু বলিয়া উঠিয়া তাহা না দেয়, তথাপি উহার যত প্রয়োজন, তাহা দিবে। 9আর আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, যাচ্ঞা কর, তোমাদিগকে দেওয়া যাইবে; অন্বেষণ কর, পাবে; দ্বারে আঘাত কর, তোমাদের জন্য খুলিয়া দেওয়া যাইবে। 10কেননা যে কেহ যাচ্ঞা করে, সে গ্রহন করে, এবং যে অন্বেষণ করে, সে পায়; আর যে দ্বারে আঘাত করে, তাহার জন্য খুলিয়া দেওয়া যাইবে। 11তোমাদের মধ্যে এমন পিতা কে, যাহার পুত্র রুটী চাহিলে তাহাকে পাথর দিবে। কিম্বা মাছের পরিবর্ত্তে সাপ দিবে? 12কিম্বা ডিম চাহিলে তাহাকে বৃশ্চিক দিবে? 13অতএব তোমারা মন্দ হইয়াও যদি তোমাদের সন্তানদিগকে উত্তম উত্তম দ্রব্য দান করিতে জান, তবে ইহা কত অধিক নিশ্চয় যে, স্বর্গস্থ পিতা, যাহারা তাঁহার কাছে যাচ্ঞা করে, তাহাদিগকে পবিত্র আত্মা দান করিবেন।
ভূতদের বিষয়ে শিক্ষা।
14আর তিনি একটা ভূত ছাড়াইয়া ছিলেন, সে গোঁগা। ভূত বাহির হইলে সেই গোঁগা কথা কহিতে লাগিল; তাহাতে লোকেরা আশ্চর্য্য জ্ঞান করিল। 15কিন্তু তাহাদের মধ্যে কেহ কেহ বলিল, এ ব্যক্তি ভূতগনের অধিপতি বেলসবূলের দ্বারা ভূত ছাড়ায়। 16আর কেহ কেহ পরীক্ষা ভাবে তাঁহার কাছে আকাশ হইতে কোন চিহ্ন চাহিল। 17কিন্তু তিনি তাহাদের মনের ভাব জানিয়া তাহাদিগকে কহিলেন, যে কোন রাজ্য আপনার বিপক্ষে ভিন্ন হয়, তাহা উচ্ছিন্ন হয়, এবং গৃহ গৃহের বিপক্ষ হইলে তাহা পতিত হয়। 18আর শয়তানও যদি আপনার বিপক্ষে ভিন্ন হয়, তবে তাহার রাজ্য কি প্রকারে স্থির থাকিবে? কেননা তোমরা বলিতেছ, আমি বেলসবূলের দ্বারা ভূত ছাড়াই। 19আর আমি যদি বেলসবূলের দ্বারা ভূত ছাড়াই, তবে তোমাদের সন্তানেরা কাহার দ্বারা ছাড়ায়? এই জন্য তাহারই তোমাদের বিচারকর্ত্তা হইবে। 20কিন্তু আমি যদি ঈশ্বরের অঙ্গুলি দ্বারা ভূত ছাড়াই, তবে সুতরাং ঈশ্বরের রাজ্য তোমাদের কাছে আসিয়া পড়িয়াছে। 21সেই বলবান ব্যক্তি যখন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত থাকিয়া আপন বাটী রক্ষা করে, তখন তাহার সম্পত্তি নিরাপদে থাকে। 22কিন্তু যিনি তাহা হইতে অধিক বলবান, তিনি আসিয়া যখন তাহাকে পরাজয় করেন, তখন তাহার সর্ব্বাঙ্গরক্ষক যে সজ্জায় তাহার ভরসা ছিল, তাহা হরণ করিয়া লন, ও তাহার লুটদ্রব্য বিতরণ করেন। 23যে আমার সপক্ষ নয়, সে আমার বিপক্ষ, এবং যে আমার সহিত কুড়ায় না, সে ছড়াইয়া ফেলে। 24যখন অশুচী আত্মা মনুষ্য হইতে বাহির হইয়া যায়, তখন জলবিহীন নানা স্থান দিয়া ভ্রমন করতঃ বিশ্রামের অন্বেষণ করে; কিন্তু না পাইয়া বলে, আমি যেখান হইতে বাহির হইয়া আসিয়াছি, আমার সেই গৃহে ফিরিয়া যাই। 25পরে আসিয়া তাহা মার্জ্জিত ও শোভিত দেখে। 26তখন সে গিয়া আপনা হইতে দুষ্ট অপর সাতটা আত্মাকে সঙ্গে লইয়া আইসে, এবং তাহারা সেই স্থানে প্রবেশ করিয়া বাস করে; তাহাতে সেই মনুষ্যের প্রথম দশা হইতে শেষ দশা আরও মন্দ হয়। 27তিনি এই সকল কথা কহিতেছেন,এমন সময়ে ভিড়ের মধ্য হইতে কোন একটি স্ত্রীলোক উচ্চৈঃস্বরে তাঁহাকে বলিল, ধন্য সেই গর্ব্ভ, যাহা আপনাকে ধারণ করিয়াছিল, আর সেই স্তন, যাহার দুগ্ধ আপনি পান করিয়াছিলেন। 28তিনি কহিলেন, সত্য, কিন্তু বরং ধন্য তাহারই, যাহারা ঈশ্বের বাক্য শুনিয়া পালন করে।
সরল হইবার বিষয়ে শিক্ষা।
29পরে তাঁহার নিকটে উত্তর উত্তর অনেক লোকের সমাগম হইলে তিনি বলিতে লাগিলেন, এই কালের লোকেরা দুষ্ট, ইহারা চিন্হের অন্বেষণ করে, কিন্তু যোনার চিহ্ন ছাড়া আর কোন চিহ্ন তাহাদিগকে দেওয়া যাইবে না। 30কারণ যোনা যেমন নীনবীয়দের কাছে চিহ্নস্বরূপ হইয়াছিলেন, তেমনি মনুষ্যপুত্রও এই কালের লোকদের নিকটে হইবেন। 31দক্ষিন দেশের রানী বিচারে এই কালের লোকদের সহিত উঠিয়া ইহাদিগকে দোষী করিবেন। কেননা শলোমনের জ্ঞানের কথা শুনিবার জন্য তিনি পৃথিবীর প্রান্ত হইতে আসিয়াছিলেন; আর দেখ, শলোমন হইতেও মহান এক ব্যক্তি এখানে আছেন। 32নীনবীয় লোকেরা বিচারে এই কালের লোকদের সহিত দাঁড়াইয়া ইহাদিগকে দোষী করিবে; কেননা তাহারা যোনার প্রচারে মন ফিরাইয়াছিল, আর দেখ, যোনা হইতে মহান এক ব্যক্তি এখানে আছেন। 33প্রদীপ জ্বালিয়া কেহ গুপ্ত কুঠরীতে কিম্বা কাঠার নীচে রাখে না, কিন্তু দীপাধারের উপরেই রাখে, যেন, যাহারা ভিতরে যায়, তাহারা আলো দেখিতে পায়। 34তোমার চক্ষুই শরীরের প্রদীপ; তোমার চক্ষু যদি সরল হয়, তখন তোমার সমুদয় শরীরও দীপ্তিময় হয়, কিন্তু চক্ষু মন্দ হইলে তোমার শরীরও অন্ধকারময় হয়। 35অতএব দেখিও, তোমার অন্তরে যে দীপ্তি আছে, তাহা অন্ধকার কিনা। 36বাস্তবিক তোমার সমুদয় শরীর যদি দীপ্তিময় হয়, কোনও অংশ অন্ধকারময় না থাকে, তবে প্রদীপ যেমন নিজ তেজে তোমাকে দীপ্তি দান করে, তেমনি তোমার শরীর সম্পূর্ণরূপে দীপ্তিময় হইবে।
আন্তরিক শুচিতা আবশ্যক, এই বিষয়ে শিক্ষা।
37তিনি কথা কহিতেছেন, এমন সময়ে এক জন ফরীশী তাঁহাকে ভোজনের নিমন্ত্রণ করিল; আর তিনি ভিতরে গিয়া ভোজনে বসিলেন। 38ফরীশী দেখিয়া আশ্চর্য্য জ্ঞান করিল যে, ভোজনের অগ্রে তিনি স্নান করেন নাই। 39কিন্তু প্রভু তাহাকে কহিলেন, তোমরা ফরীশীরা ত পানপাত্র ও ভোজনপাত্র বাহিরে পরিস্কার করিয়া থাক, কিন্তু তোমাদের ভিতরে দৌরাত্ম্য ও দুষ্টতা ভরা।
40নির্ব্বোধের, যিনি বাহিরের ভাগ নির্ম্মান করিয়াছেন, তিনি কি ভিতরের ভাগও নির্ম্মান করেন নাই?
41বরং ভিতরে যাহা যাহা আছে, তাহা দান কর, আর দেখ, তোমদের পক্ষে সকলই শুচী।
42কিন্তু হা ফরীশীরা, ধিক তোমাদিগকে, কেননা তোমরা পোদিনা, আরুদ ও সকল প্রকার শাকের দশমাংশ দান করিয়া থাক, আর ন্যায়বিচার ও ঈশ্বর-প্রেম উপেক্ষা করিয়া থাক; কিন্তু এ সকল পালন করা, এবং ঐ সকল পরিত্যাগ না করা, তোমাদের উচিত ছিল।
43হা ফরীশীরা, ধিক তোমাদিগকে, কেননা তোমরা সমাজ-গৃহে প্রধান আসন, ও হাট বাজারে লোকদের মঙ্গলবাদ ভালবাস।
44ধি তোমাদিগকে, কারণ তোমরা এমন গুপ্ত কবরের তুল্য, যাহার উপর দিয়া লোকে না জানিয়া যাতায়াত করে।
45তখন ব্যবস্থাবেত্তাদের এক জন উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিল, হে গুরু, এ কথা বলিয়া আপনি আমাদেরও অপমান করিতেছেন।
46তিনি কহিলেন, হা ব্যবস্থাবেত্তারা, ধিক তোমাদিগকেও, কেননা তোমারা মনুষ্যদের উপরে দুর্ব্বহ বোঝা চাপাইয়া দিয়া থাক, কিন্তু আপনারা একটি অঙ্গুলি দিয়া সেই সকল বোঝা স্পর্শ কর না।
47ধিক তোমাদিগকে, কেননা তোমরা ভাববাদীদের কবর গাঁথিয়া থাক, আর তোমাদের পিতৃপুরুষেরা তাঁহাদিগকে বধ করিয়াছিল।
48সুতরাং তোমরা সাক্ষী হইতেছ, এবং তোমাদের পিতৃপুরুষদের কর্ম্মের অনুমোদন করিতেছ; কেননা তাহারা তাঁহাদিগকে বধ করিয়াছিল, আর তোমরা তাঁহাদের কবর গাঁথিয়া থাক।
49এই কারণ ঈশ্বরের প্রজ্ঞাও কহিলেন, আমি তাহাদের নিকটে ভাববাদী ও প্রেরিতদিগকে প্রেরণ করিব, আর তাহাদিগের মধ্যে তাহারা কাহাকে কাহাকেও বধ করিবে, ও তাড়না করিবে, 50যেন জগতের পত্তনাবধি যত ভাববাদীর রক্তপাত হইয়াছে, তাহার প্রতিশোধ এই কালের লোকদের কাছে লওয়া যায়- 51হেবলের রক্ত অবধি সেই সখরিয়ের রক্ত পর্য্যন্ত, যিনি যজ্ঞবেদী ও মন্দিরের মধ্যস্থানে নিহত হইয়াছিলেন-হাঁ, আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, এই কালের লোকদের কাছে তাহার প্রতিশোধ লওয়া যাইবে। 52হা ব্যবস্থাবেত্তারা, ধিক তোমাদিগকে, কেননা তোমরা জ্ঞানের চাবি হরণ করিয়া লইয়াছ; আপনারা প্রবেশ করিলে না, এবং যাহারা প্রবেশ করিতেছিল, তাহাদিগকেও বাধা দিলে। 53তিনি সেখান হইতে বাহির হইয়া আসিলে অধ্যাপক ও ফরীশীগণ তাঁহাকে অত্যন্ত পীড়াপীড়ি করিতে, ও নানা বিষয়ে কথা বলিবার জন্য উত্তেজনা করিতে লাগিল, 54তাঁহার মুখের কথা ধরিবার জন্য ফাঁদ পাতিয়া রহিল।
12কপটতা ও লোভাদির বিষয়ে যীশুর উপদেশ।
1ইতিমধ্যে সহস্র সহস্র লোকে সমগত হইয়া এক জন অন্যের উপর পড়িতে লাগিল, তখন তিনি আপন শিষ্যদিগকে বলিতে লাগিলেন, তোমরা ফরীশীদের তাড়ী হইতে সাবধান থাক, তাহা কপটতা। 2কিন্তু এমন ঢাকা কিছুই নাই, যাহা প্রকাশ পাবে না, এবং এমন গুপ্ত কিছুই নাই, যাহা জানা যাইবে না। 3অতএব তোমরা অন্ধকারে যাহা কিছু বলিয়াছ, তাহা আলোতে শুনা যাইবে; এবং অন্তরাগারে কানে কানে যাহা বলিয়াছ, তাহা ছাদের উপরে প্রচারিত হইবে।
4আর, হে আমার বন্ধুরা, আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, যাহারা শরীর বধ করিয়া পশ্চাৎ আর কিছুই করিতে পারে না, তাহাদিগকে ভয় করিও না। 5তবে কাহাকে ভয় করিবে, তাহা বলিয়া দিই; বধ করিয়া পশ্চাৎ নরকে নিক্ষেপ করিতে যাঁহার ক্ষমতা আছে, তাহাকেই ভয় কর। 6পাঁচটী চড়াই পাখী কি দুই পয়সায় বিক্রয় হয় না? আর তাহাদের মধ্যে একটীও ঈশ্বরের দৃষ্টিগোচরে গুপ্ত নয়। 7এমন কি, তোমাদের মস্তকের কেশগুলিও সমস্ত গণিত আছে। ভয় করিও না, তোমরা অনেক চড়াই পাখী হইতেও শ্রেষ্ঠ। 8আর আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, যে কেহ মনুষ্যদের সাক্ষাতে আমাকে স্বীকার করে, মনুষ্যপুত্রও ঈশ্বরের দূতগনের সাক্ষাতে তাহাকে স্বীকার করিবেন; 9কিন্তু যে কেহ মনুষ্যদের সাক্ষাতে আমাকে অস্বীকার করে, ঈশ্বরের দূতগনের সাক্ষাতে তাহাকে অস্বীকার করা যাইবে। 10আর যে কেহ মনুষ্যপুত্রের বিরুদ্ধে কোন কথা কহে, সে ক্ষমা পাইবে; কিন্তু যে কেহ পবিত্র আত্মার নিন্দা করে, সে ক্ষমা পাইবে না। 11আর লোকে যখন তোমাদিগকে সমাজ-গৃহে এবং শাসনকর্ত্তাদের ও কর্ত্তৃপক্ষদের সম্মুখে লইয়া যাইবে, তাখন কিরূপে কি উত্তর দিবে, অথবা কি বলিবে, সে বিষয়ে ভাবিত হইও না; 12কেননা কি বলা উচিৎ, তাহা পবিত্র আত্মা সেই দন্ডে তোমাদিগকে শিক্ষা দিবেন। 13পরে লোকসমূহের মধ্য হইতে এক ব্যক্তি তাঁহাকে বলিল, হে গুরু, আমার ভ্রাতাকে বলুন, যেন আমার সহিত পৈতৃক ধন বিভাগ করে। 14কিন্তু তিনি তাহাকে কহিলেন, মনুষ্য, তোমাদের উপরে বিচারকর্ত্তা বা বিভাগকর্ত্তা করিয়া আমাকে কে নিযুক্ত করিয়াছে? 15পরে তিনি তাহাদিগকে বলিলেন, সাবধান, সর্ব্বপ্রকার লোভ হইতে আপনাদিগকে রক্ষা করিও, কেনানা উপচিয়া পড়িলেও মনুষ্যের সম্পত্তিতে তাহার জীবন হয় না। 16আর তিনি তাহাদিগকে এই দৃষ্টান্ত কহিলেন, এক জন ধনবানের ভূমিতে প্রচুর শস্য উৎপন্ন হইয়াছিল। 17তাহাতে সে, মনে মনে বিবেচনা করিতে লাগিল, কি করি? আমার শস্য রাখিবার ত স্থান নাই। 18পরে কহিল, এইরূপ করিব, আমার গোলাঘর সকল ভাঙ্গিয়া বড় বড় গোলাঘর নির্ম্মান করিব, এবং তাহার মধ্যে আমার সমস্ত শস্য ও আমার দ্রব্য রাখিব। 19আর আপন প্রাণকে বলিব, প্রাণ, বহুবৎসরের নিমিত্ত তোমার জন্য অনেক দ্রব্য সঞ্চিত আছে; বিশ্রাম কর, ভোজন পান কর, আমোদ প্রমোদ কর। 20কিন্তু ঈশ্বর তাহাকে কহিলেন, হে নির্ব্বোধ, অদ্য রাত্রিতেই তোমার প্রাণ তোমা হইতে দাবি করিয়া লওয়া যাইবে, তবে তুমি এই যে আয়োজন করিলে, এ সকল কাহার হইবে? 21যে কেহ আপনার জন্য ধন সঞ্চয় করে, এবং ঈশ্বরের উদ্দেশে ধনবান নয়, সে এইরূপ। 22পরে তিনি আপন শিষ্যগনকে কহিলেন, এই কারণ আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, ‘কি ভোজন করিব’ বলিয়া প্রানের বিষয়ে, কিম্বা ‘কি পরিব’ বলিয়া শরীরের বিষয়ে ভাবিত হইও না। 23কেননা ভক্ষ হইতে প্রাণ ও বস্ত্র হইতে শরীর বড় বিষয়। 24কাকদের বিষয় আলোচনা কর; তাহারা বুনেও না, কাটেও না; তাহাদের ভান্ডারও নাই, গোলাঘরও নাই; আর ঈশ্বর তাহদিগকে আহার দিয়া থাকেন; 25পক্ষিগণ হইতে তোমরা কত অধিক শ্রেষ্ঠ! আর তোমাদের মধ্যে কে ভাবিত হইয়া আপন বয়স এক হস্ত মাত্র বৃদ্ধি করিতে পারে? 26অতএব তোমরা অতি ক্ষুদ্র কর্ম্মও যদি করিতে না পার, তবে অন্য অন্য বিষয়ে কেন ভাবিত হও? 27কানুর-পুষ্পের বিষয়ে বিবেচনা কর, সেগুলি কেমন বাড়ে; সে সকল কোন শ্রম করে না, সুতাও কাটে না, তথাপি আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, শলোমনও আপনার সমস্ত প্রতাপে ইহার একটীর ন্যায় সুসজ্জিত ছিলেন না। 28ভাল, ক্ষেত্রের যে তৃণ আজ আছে ও কাল চুলায় ফেলিয়া দেওয়া যাইবে, তাহা যদি ঈশ্বর এইরূপ বিভূষিত করেন, তবে হে অল্পবিশ্বাসীরা, তোমাদিগকে কত অধিক নিশ্চয় বিভূষিত করিবেন! 29আর, কি ভোজন করিবে, কি পান করিবে, এ বিষয়ে তোমরা সচেষ্ট হইও না, এবং সন্দিগ্ধচিত্ত হইও না; 30কেননা জগতের জাতিগণ এই সকল বিষয়ে সচেষ্ট; কিন্তু তোমাদের পিতা জানেন যে, এই সকল দ্রব্যে তোমাদের প্রয়োজন আছে। 31তোমরা বরং তাহার রাজ্যর বিষয়ে সচেষ্ট হও, তাহা হইলে এই সকলও তোমাদিগকে দেওয়া যাইবে। 32হে ক্ষুদ্র মেষপাল, বয় করিও না, কেননা তোমাদিগকে সেই রাজ্য দিতে তোমাদের পিতার হিত্সঙ্কল্প হইয়াছে। 33তোমাদের যাহা আছে, বিক্রয় করিয়া দান কর। আপনাদের জন্য এমন থলী প্রস্তুত কর, যাহা জীর্ণ হয় না, স্বর্গে অক্ষয় ধন সঞ্চয় কর, যেখানে চর নিকটে আইসে না, 34কীটেও ক্ষয় করে না; কেননা যেখানে তোমাদের ধন, সেইখানে তোমাদের মনও থাকিবে। 35তোমাদের কটি বাঁধিয়া রাখ ও প্রদীপ জ্বালিয়া রাখ; 36এবং তোমরা এমন লোকের তুল্য হও, যাহারা আপনাদের প্রভুর অপেক্ষায় থাকে যে, তিনি বিবাহ-ভোজ হইতে কখন ফিরিয়া আসিবেন, যেন তিনি আসিয়া দ্বারে আঘাত করিলে তাহারা তখনই তাঁহার নিমিত্ত দ্বার খুলিয়া দিতে পারে। 37ধন্য সেই দাসেরা, যাহাদিগকে প্রভু আসিয়া জাগিয়া থাকিতে দেখিবেন। আমি তোমাদিগকে সত্য বলিতেছি, তিনি কটি বাঁধিয়া তাহাদিগকে ভোজনে বসাইবেন, এবং নিকটে আসিয়া তাহাদের পরিচর্য্যা করিবেন। 38যদি দ্বিতীয় প্রহরে কিম্বা যদি তৃতীয় প্রহরে আসিয়া তিনি সেইরূপ দেখেন, তবে তাহারা ধন্য! 39কিন্তু ইহা জানিও চর কোন দন্ডে আসিবে, তাহা যদি গৃহ্কর্ত্তা জানিত, তবে জাগিয়া থাকিত, নিজ গৃহে সিঁধ কাটিতে দিত না।
40তোমরাও প্রস্তুত থাক; কেননা যে দন্ড মনে করিবে না; সেই দন্ডে মনুষ্যপুত্র আসিবেন।
41তখন পিতর বলিলেন, প্রভু, আপনি কি আমাদিগকে, না সকলকেই এই দৃষ্টান্ত বলিতেছেন?
42প্রভু কহিলেন, সেই বিশ্বস্ত, সেই বুদ্ধিমান গৃহাধ্যক্ষ কে, যাহাকে তাহার প্রভু নিজ পরিজনদের উপরে নিযুক্ত করিবেন, যেন সে তাহাদিগকে উপযুক্ত সময়ে খাদ্যের নিরুপিত অংশ দেয়?
43ধন্য সেই দাস, যাহাকে তাহার প্রভু আসিয়া সেরূপ করিতে দেখিবেন।
44আমি তোমাদিগকে সত্য বলিতেছি, তিনি তাহাকে আপন সর্ব্বেস্বর অধ্যক্ষ করিয়া নিযুক্ত করিবেন।
45কিন্তু সেই দাস যদি মনে মনে বলে, আমার প্রভুর আসিবার বিলম্ব আছে, এবং সে দাসদাসীদিগকে প্রহার করিতে, ভোজন পান করিতে ও মত্ত হইতে আরম্ভ করে,
46তবে যে দিন সে অপেক্ষা না করিবে, ও যে দন্ড সে না জানিবে, সেই দিন সেই দন্ডে সেই দাসের প্রভু আসিবেন, এবং তাহাকে দ্বিখন্ড করিয়া অবিশ্বস্তদের মধ্যে তাহার অংশ নিরুপন করিবেন।
47আর সেই দাস, যে নিজ প্রভুর ইচ্ছা জানিয়াও প্রস্তুত হয় নাই, ও তাহার ইচ্ছানুযায়ী কর্ম্ম করে নাই, সে অনেক প্রহারে প্রহারিত হইবে।
48কিন্তু যে না জানিয়া প্রহারের যোগ্য কর্ম্ম করিয়াছে, সে অল্প প্রহারে প্রহারিত হইবে। আর যে কোন ব্যক্তিকে অধিক দত্ত হইয়াছে, তাহার নিকটে অধিক দাবি করা যাইবে; এবং লোকে যাহার কাছে অধিক রাখিয়াছে, তাহার নিকটে অধিক চাহিবে।
49আমি পৃথীবিতে অগ্নি নিক্ষেপ করিতে আসিয়াছি; আর এখন যদি তাহা প্রজ্বলিত হইয়া থাকে, তবে আর কি চাই? 50কিন্তু আমাকে এক বাপ্তিস্মে বাপ্তাইজিত হইতে হইবে, আর তাহা যাবৎ সিদ্ধ না হয়, তাবৎ আমি কত না সঙ্কুচিত হইতেছি। 51তোমরা কি মনে করিতেছ, আমি পৃথীবিতে শান্তি দিতে আসিয়াছি? তোমাদিগকে বলিতেছি, তাহা নয়, বরং বিভেদ। 52কারণ এখন অবধি এক বাটীতে পাঁচ জন ভিন্ন হইবে, তিন জন দুই জনের বিপক্ষে, ও দুই জন তিন জনের বিপক্ষে; 53পিতা পুত্রের বিপক্ষে, এবং পুত্র পিতার বিপক্ষে; মাতা কন্যার বিপক্ষে, এবং কন্যা মাতার বিপক্ষে; শাশুড়ি বধুর বিপক্ষে, এবং বধু শাশুড়ির বিপক্ষে ভিন্ন হইবে। 54আর তিনি লোকসমূহকে কহিলেন, তোমরা যখন পশ্চিমে মেঘ উঠিতে দেখ, তখন অমনি বলিয়া থাক, বৃষ্টি আসিতেছে; আর সেইরুপই ঘটে। 55আর যখন দক্ষিন বাতাস বহিতে দেখ, তখন বলিয়া থাক, বড় রৌদ্র হইবে; এবং তাহাই ঘটে। 56কপটীরা, তোমরা পৃথিবীর ও আকাশের ভাব বুঝিতে পার, কিন্তু এই সময় বুঝিতে পার না, এ কেমন? 57আর নায্য কি, তাহা আপনারাই কেন বিচার কর না? 58ফলতঃ যখন বিপক্ষের সঙ্গে শাসনকর্ত্তার নিকটে যাইবে, পথের মধ্যে তাহা হইতে মুক্তি পাইতে যত্ন করিও; পাছে সে তোমাকে বিচারকর্ত্তার সম্মুখে টানিয়া লইয়া যায়, আর বিচারকর্ত্তা তোমাকে পদাতিকের হস্তে সমর্পণ করে, এবং পদাতিক তোমাকে কারাগারে নিক্ষেপ করে। 59আমি তোমাকে বলিতেছি, যাবৎ শেষ কড়িটী পর্য্যন্ত পরিশোধ না করিবে, তাবৎ তুমি কোন মতে তথা হইতে বাহিরে আসিতে পাইবে না।
যীশুর নানাবিধ শিক্ষা ও কার্য্য।
13মন ফিরান আবশ্যক, এই বিষয়ে শিক্ষা।
1সে সময়ে উপস্থিত কএক জন তাঁহাকে সেই গালীলিয়দের বিষয়ে সংবাদ দিল, যাহাদের রক্ত পীলাত তাহাদের বলির সহিত মিশ্রিত করিয়াছিলেন। 2তিনি উত্তর করিয়া তাহাদিগকে কহিলেন, তোমরা কি মনে করিতেছ, সেই গালীলিয়দের এইরূপ দুর্গতি হইয়াছে বলিয়া তাহারা অন্য সকল গালীলিয় লোক অপেক্ষা অধিক পাপী ছিল? 3আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, তাহা নয়; বরং যদি মন না ফিরাও, তোমরা সকলেই তদ্রুপ বিনষ্ট হইবে।
4অথবা সেই আঠারো জন, যাহাদের উপরে শীলোহে স্থিত উচ্চগৃহ পড়িয়া গিয়া তাহাদিগকে মারিয়া ফেলিল, তোমরা কি তাহাদের বিষয় মনে করিতেছ যে, তাহারা যিরুশালেম নিবাসী অন্য সকল লোক অপেক্ষা অধিক অপরাধী ছিল? 5আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, তাহা নয়; বরং যদি মন না ফিরাও, তোমরা সকলেই তদ্রুপ নষ্ট হইবে। 6আর তিনি এই দৃষ্টান্তটি কহিলেন; কোন ব্যক্তির দ্রাক্ষাক্ষেত্রে তাঁহার একটা ডুমুর গাছ রোপিত ছিল; আর তিনি আসিয়া সেই গাছে ফল অন্বেষণ করিলেন, কিন্তু পাইলেন না। 7তাহাতে তিনি দ্রাক্ষাপালককে কহিলেন, দেখ, আজ তিন বৎসর আসিয়া এই ডুমুর গাছে ফল অন্বেষণ করিতেছি, কিন্তু কিছুই পাইতেছি না; ইহা কাটিয়া ফেল; এটা কেন ভূমিও নষ্ট করে। 8সে উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিল, প্রভু, এই বৎসরও ওটা থাকিতে দিউন, আমি উহার মূলের চারিদিকে খুঁরিয়া সার দিব, 9তাহার পরে উহাতে ফল ধরে ত ভালই, নয় ত ওটা কাটিয়া ফেলিবেন।
বিশ্রামবার পালন বিষয়ে শিক্ষা।
10তিনি বিশ্রামবারে কোন সমাজ-গৃহে শিক্ষা দিতেছিলেন। 11আর দেখ, একটি স্ত্রীলোক, যাহাকে আঠারো বৎসর ধরিয়া দুর্ব্বলতার আত্মায় পাইয়াছিল, সে কুজা, কোন মতে সোজা হইতে পারিত না। 12তাহাকে দেখিয়া যীশু কাছে ডাকিলেন, আর কহিলেন, হে নারি, তোমার দুর্ব্বলতা হইতে মুক্ত হইলে। 13পরে তিনি তাহার উপরে হস্তার্পণ করিলেন; তাহাতে সে তখনই সে সোজা হয়ে দাঁড়াইল, আর ঈশ্বরের গৌরব করিতে লাগিল। 14কিন্তু বিশ্রামবারে যীশু সুস্থ করিয়াছিলেন বলিয়া, সমাজাধ্যক্ষ ক্রুদ্ধ হইল, সে উত্তর করিয়া লোকদিগকে বলিল, ছয় দিন আছে, সেই সকল দিনে কর্ম্ম করা উচিত; অতএব ঐ সকল দিনে আসিয়া সুস্থ হইও, বিশ্রামবারে নয়। 15কিন্তু প্রভু তাহাকে উত্তর করিয়া কহিলেন, কপটীরা, তোমাদের প্রত্যেক জন কি বিশ্রামবারে আপন আপন বলদ কিম্বা গর্দ্দভ যাবপাত্র হইতে খুলিয়া জল খাওয়াইতে লইয়া যায় না? 16তবে এই স্ত্রীলোক, অব্রাহামের কন্যা, যাহাকে শয়তান, দেখ, আজ আঠারো বৎসর ধরিয়া বাঁধিয়া রাখিয়াছিল, ইহার এই বন্ধন হইতে বিশ্রামবারে মুক্তি পাওয়া কি উচিত নয়? 17তিনি এই সকল কথা বলিলে, তাঁহার বিপক্ষেরা সকলে লজ্জিত হইল; কিন্তু তাঁহার দ্বারা যে সমস্ত মহিমার কার্য্য হইতেছিল, তাহাতে সমস্ত সাধারণ লোক আনন্দিত হইল।
সরিষা দানা ও সম্বন্ধিয় দৃষ্টান্ত।
18তখন তিনি কহিলেন, ঈশ্বরের রাজ্য কিসের তুল্য? আমি কিসের সহিত তাহার তুলনা দিব? 19তাহা সরিষা-দানার তুল্য, যাহা কোন ব্যক্তি লইয়া আপন উদ্যানে বপন করিল; পরে তাহা বাড়িয়া গাছ হইয়া উঠিল, এবং আকাশের পক্ষিগণ আসিয়া তাহার শাখাতে বাস করিল। 20আবার তিনি কহিলেন, আমি কিসের সহিত ঈশ্বরের রাজ্যের তুলনা দিব? 21তাহা এমন তাড়ীর তুল্য, যাহা কোন স্ত্রীলোক লইয়া তিন মাণ ময়দার মধ্যে ঢাকিয়া রাখিল, শেষে সমস্তই তাড়ীময় হইয়া উঠিল।
পরিত্রানার্থে প্রানপন করিবার বিষয়ে শিক্ষা।
22আর তিনি নগরে নগরে ও গ্রামে গ্রামে ভ্রমন করিয়া উপদেশ দিতে দিতে যিরুশালেমের দিকে গমন করিতেছিলেন। 23তখন এক ব্যক্তি তাঁহাকে বলিল, প্রভু, যাহারা পরিত্রান পাইতেছে, তাহাদের সংখ্যা কি অল্প? 24তিনি তাহাদিগকে বলিলেন, সংকীর্ণ দ্বার দিয়া প্রবেশ করিতে প্রানপন কর; কেননা আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, অনেকে প্রবেশ করিতে চেষ্টা করিবে, কিন্তু পারিবে না। 25গৃহকর্ত্তা উঠিয়া দ্বার রুদ্ধ করিলে পর তোমরা বাহির দাঁড়াইয়া দ্বারে আঘাত করিতে আরম্ভ করিবে, বলিবে, প্রভু, আমাদিগকে দ্বার খুলিয়া দিউন; আর তিনি উত্তর করিয়া তোমাদিগকে বলিবেন, আমি জানি না, তোমরা কোথাকার লোক; 26তখন তোমরা বলিতে আরম্ভ করিবে, আমরা আপনার সাক্ষাতে ভোজন পান করিয়াছি, এবং আমাদের পথে পথে আপনি উপদেশ দিয়াছেন। 27কিন্তু তিনি বলিবেন, তোমাদিগকে বলিতেছি, আমি জানি না, তোমরা কোথাকার লোক; হে অধর্ম্মচারী সকলে, আমার নিকট হইতে দূর হও। 28সেই স্থানে রোদন ও দন্তঘর্ষণ হইবে; তখন তোমরা দেখিবে, অব্রাহাম, ইসহাক ও যাকোব এবং ভাববাদী সকলেই ঈশ্বরের রাজ্যে রহিয়াছেন, আর তোমাদিগকে বাহিরে ফেলিয়া দেওয়া হইতেছে। 29আর পূর্ব্ব ও পশ্চিম হইতে এবং উত্তর ও দক্ষিন হইতে লোকেরা আসিয়া ঈশ্বরের রাজ্যে বসিবে। 30আর দেখ, যাহারা শেষের, এমন কোন কোন লোক প্রথম হইবে, এবং যাহারা প্রথম, এমন কোন কোন লোক শেষে পড়িবে। 31সেই দন্ডে কএক জন ফরীশী নিকটে আসিয়া তাঁহাকে বলিল, বাহির হও, এ স্থান হইতে চলিয়া যাও; কেননা হেরোদ তোমাকে বধ করিতে চাহিতেছেন। 32তিনি তাহাদিগকে কহিলেন, তোমরা গিয়া শৃগালকে বল, দেখ, অদ্য ও কল্য আমি ভূত ছাড়াইতেছি, ও আরোগ্য সাধন করিতেছি, এবং তৃতীয় দিবসে সিদ্ধকর্ম্মা হইব। 33যাহা হউক, অদ্য, কল্য ও পরশ্ব আমাকে গমন করিতে হইবে; কারণ এমন হইতে পারে না যে, যিরুশালেমের বাহিরে কোন ভাববাদী বিনষ্ট হয়। 34যিরুশালেম, যিরুশালেম, তুমি ভাববাদীগনকে বধ করিয়া থাক, ও তোমার নিকটে যাহারা প্রেরিত হয়, তাহাদিগকে পাথর মারিয়া থাক! কুক্কুটি যেমন আপন শাবকদিগকে পক্ষের নীচে একত্র করে, আমি কত বার তেমনি তোমার সন্তানদিগকে একত্র করিতে ইচ্ছা করিয়াছি, কিন্তু তোমরা সম্মত হইলে না। 35দেখ, তোমাদের সেই গৃহ তোমাদের নিমিত্ত উৎসন্ন পড়িয়া রহিল। আর আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, যে সময় পর্য্যন্ত তোমরা না বলিবে, “ধন্য তিনি, যিনি প্রভুর নামে আসিতেছেন,” সেই সময় পর্য্যন্ত তোমরা আমাকে আর দেখিতে পাইবে না।
14ভোজনের সময় দত্ত শিক্ষা।
1তিনি এক বিশ্রামবারে প্রধান ফরীশীদের এক জন অধ্যকক্ষের বাটীতে আহার করিতে গেলেন, আর তাহারা তাঁহার উপরে দৃষ্টি রাখিল। 2আর দেখ, এক জন জালোদরী তাঁহার সম্মুখে ছিল। 3যীশু উত্তর করিয়া ব্যবস্থাবেত্তাদিগকে ও ফারীশীগনকে কহিলেন, বিশ্রামবারে আরোগ্য করা বিধেয় কি না? কিন্তু তাহারা চুপ করিয়া রহিল।
4তখন তিনি তাহাকে ধরিয়া সুস্থ করিলেন, পরে বিদায় দিলেন। 5আর তিনি তাহাদিগকে কহিলেন, তোমাদের মধ্যে কে আছে, যাহার সন্তান কিম্বা বলদ কূপে পড়িলে সে বিশ্রামবারে তৎক্ষনাৎ তাহাকে তুলিবে না? 6তাহারা এই সকল কথার উত্তর দিতে পারিল না। 7আর নিমন্ত্রিত লোকেরা কিরূপে প্রধান প্রধান আসন মনোনীত করিতেছে, তাহা লক্ষ্য করিয়া তিনি তাহাদিগকে একটি দৃষ্টান্ত কহিলেন; 8তিনি তাহাদিগকে বলিলেন, যখন কেন তোমাদিগকে বিবাহভোজে নিমন্ত্রণ করে, তখন প্রধান আসনে বসিও না; কি জানি, তোমা হইতে অধিক সম্মানিত আর কোন লোক তাহার দ্বারা নিমন্ত্রিত হইয়াছে, 9আর যে ব্যক্তি তোমাকে ও তাহাকে নিমন্ত্রণ করিয়াছে, সে আসিয়া তোমাকে বলিবে, ইঁহাকে স্থান দেও; আর তখন তুমি লজ্জিত হইয়া নিম্নতম স্থান গ্রহণ করিতে যাইবে। 10কিন্তু তুমি যখন নিমন্ত্রিত হও তখন নিম্নতম স্থানে গিয়া বসিও; তাহাতে যে ব্যক্তি তোমাকে নিমন্ত্রণ করিয়াছে, সে যখন আসিবে, তোমাকে বলিবে, বন্ধু, উচ্চতর স্থানে গিয়া বস; তখন যাহারা তোমার সহিত বসিয়া আছে, সেই সকলের সাক্ষাতে তোমার গৌরব হইবে। 11কেননা যে কেহ আপনাকে উচ্চ করে, তাহাকে নত করা যাইবে, আর যে কেহ আপনাকে নত করে, তাহাকে উচ্চ কা যাইবে। 12আবার সে ব্যক্তি তাঁহাকে নিমন্ত্রণ করিয়াছিল, তাহাকেও তিনি বলিলেন, তুমি যখন মধ্যাহ্ন-ভোজ কিম্বা রাত্রি-ভোজ প্রস্তুত কর, তখন তোমার বান্ধুগণকে, বা তোমার ভ্রাতাদিগকে, বা তোমার জ্ঞাতিদিগকে কিম্বা ধনী প্রতিবাসিগনকে ডাকিও না; কি জানি তাহারাও তোমাকে পালটা নিমন্ত্রণ করিবে, আর তুমি প্রতিদান পাইবে। 13কিন্তু যখন ভোজ প্রস্তুত কর, তখন দরিদ্র, নুলা, খঞ্জ ও অন্ধদিগকে নিমন্ত্রণ করিও; 14তাহাতে ধন্য হইবে, কেননা তোমার প্রতিদান করিতে তাহাদের কিছুই নাই, তাই ধার্ম্মিকগনের পুনরুত্থান সময়ে তুমি প্রতিদান পাবে। 15এই সকল কথা শুনিয়া, যাহারা বসিয়াছিল, তাহাদের মধ্যে এক ব্যক্তি তাঁহাকে কহিল, ধন্য সেই ব্যক্তি, যে ঈশ্বরের রাজ্যে ভোজন করিবে। 16তিনি তাহাকে কহিলেন, কোন এক ব্যক্তি বড় ভোজ প্রস্তুত করিয়া অনেককে নিমন্ত্রণ করিলেন। 17পরে ভোজন সময়ে আপন দাস দ্বারা নিমন্ত্রিতদিগকে বলিয়া পাঠাইলেন, আইস, এখন সকলই প্রস্তুত। 18তখন তাহারা সকলেই একমত হইয়া ক্ষমা ভিক্ষা করিতে লাগিল। প্রথম জন তাহাকে কহিল, আমি একখানি ক্ষেত্র ক্রয় করিলাম, তাহা দেখিতে না গেলে নয়; বিনতি করি, আমাকে ছাড়িয়া দিতে হইবে। 19আর এক জন কহিল, আমি পাঁচ জোড়া বলদ কিনিলাম, তাহাদের পরীক্ষা করিতে যাইতেছি; বিনতি করি, আমাকে ছাড়িয়া দিতে হইবে। 20আর এক জন কহিল, আমি বিবাহ করিলাম, এই জন্য যাইতে পারিতেছি না। 21পরে সে দাস আসিয়া তাহার প্রভুকে এই সমস্ত বৃত্তান্ত জানাইল। তখন সেই গৃহকর্ত্তা ক্রুদ্ধ হইয়া আপন দাসকে কহিলেন, শীঘ্র বাহির হইয়া নগরের পথে পথে ও ও গলিতে গলিতে যাও, দরিদ্র, নুলা, খঞ্জ ও অন্ধদিগকে এখানে আন। 22পরে সে দাস কহিল, প্রভু, আপনি যাহা আজ্ঞা করিয়াছিলেন, তাহা করা গেল, আর এখনও স্থান আছে। 23তখন প্রভু দাসকে কহিলেন, বাহির হইয়া রাজপথে রাজপথে ও বেড়ায় বেড়ায় যাও, এবং আসিবার জন্য লোকদিগকে পীড়াপীড়ি কর, যেন আমার গৃহ পরিপূর্ণ হয়। 24কেননা আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, ঐ নিমন্ত্রিত ব্যক্তিদের মধ্যে এক জনও আমার ভোজনের আস্বাদ পাইবে না। 25একদা বিস্তর লোক তাঁহার সঙ্গে যাইতেছিল; তখন তিনি মুখ ফিরাইয়া তাহাদিগকে কহিলেন, 26যদি কেহ আমার নিকটে আইসে, আর আপন পিতা, মাতা, স্ত্রী, সন্তানসন্ততি, ভ্রাতৃগণ, ও ভগিনীগনকে এমন কি, নিজ প্রাণকেও অপ্রিয় জ্ঞান না করে, তবে সে আমার শিষ্য হইতে পারে না। 27যে কেহ নিজের ক্রুশ বহন না করে ও আমার পশ্চাৎ পশ্চাৎ না আইসে, সে আমার শিষ্য হইতে পারে না। 28বাস্তবিক দুর্গ নির্ম্মান করিতে ইচ্ছা হইলে, তোমাদের মধ্য কে অগ্রে বসিয়া ব্যয় হিসাব করিয়া না দেখিবে, সমাপ্ত করিবার সঙ্গতি তাহার আছে কি না? 29কি জানি ভিত্তিমূল বসিলে পর যদি সে সমাপ্ত করিতে না পারে, তবে যত লোক তাহা দেখিবে, সকলে তাহাকে বিদ্রুপ করিতে আরম্ভ করিবে, বলিবে, 30এ ব্যক্তি নির্ম্মান করিতে আরম্ভ করিয়াছিল, কিন্তু সমাপ্ত করিতে পারিল না। 31অথবা কোন রাজা অন্য রাজার সহিত যুদ্ধে সমাঘাত করিতে যাইবার সময়ে অগ্রে বসিয়া বিবেচনা করিবেন না, যিনি বিংশতি সহস্র সৈন্য লইয়া কি তাঁহার সম্মুখবর্ত্তী হইতে পারি? 32যদি না পারেন, তবে শত্রু দুরে থাকিতে তিনি দূত প্রেরণ করিয়া সন্ধির নিয়ম জিজ্ঞাসা করিবেন। 33ভাল, তদ্রুপ তোমাদের মধ্যে যে কেহ আপনার স্বর্ব্বস্ব ত্যাগ না করে, সে আমার শিষ্য হইতে পারে না। 34লবন ত উত্তম; কিন্তু সেই লবনেরও যদি স্বাদ গিয়া থাকে, তবে তাহা কিসে আস্বাদযুক্ত করা যাইবে? 35তাহা না ভূমির, না সারঢিবির উপযোগী; লোকে তাহা বাহিরে ফেলিয়া দেয়। যাহার শুনিতে কান থাকে সে শুনুক।
15হারান মেষ, হারান সিকি ও হারান পুত্র, এই তিনটি দৃষ্টান্ত-কথা।
1আর করগ্রাহী ও পাপীরা সকলে তাঁহার বাক্য শুনিবার জন্য তাঁহার নিকটে আসিতেছিল। 2তাহাতে ফরীশী ও অধ্যাপকেরা বচসা করিয়া বলিতে লাগিল, এ ব্যক্তি পাপীদিগকে গ্রহণ করে, ও তাহাদের সহিত আহার ব্যবহার করে। 3তখন তিনি তাহাদিগকে এই দৃষ্টান্ত কহিলেন।
4তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি- যাহার এক শত মেষ আছে, ও সেই সকলের মধ্যে একটী হারাইয়া যায়- নিরানব্বাইটা প্রান্তরে ছাড়িয়া যায় না, আর যে পর্য্যন্ত সেই হারানটি না পায়, সে পর্য্যন্ত তাহার অন্বেষণ করিতে যায় না? 5আর পাইলে সে আনন্দপূর্ব্বক কাঁধে তুলিয়া লয়। 6পরে ঘরে আসিয়া বন্ধু বান্ধব ও প্রতিবাসীদিগকে ডাকিয়া বলে, আমার সঙ্গে আনন্দ কর, কারণ আমার যে মেষটি হারাইয়া গিয়াছিল, তাহা পাইয়াছি। 7আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, তদ্রুপ এক জন পাপী মন ফিরাইলে স্বর্গে আনন্দ হইবে; যাহাদের মন ফিরান অনাবশ্যক, এমন নিরানব্বই জন ধার্ম্মিকের বিষয়ে তত আনন্দ হইবে না। 8অথব কোন স্ত্রীলোক, যাহার দশটি সিকি আছে, সে যদি একটী হারাইয়া ফেলে, তবে প্রদীপ জ্বালিয়া ঘর ঝাঁটি দিয়া যে পর্য্যন্ত তাহা না পায়, ভালো করিয়া খুঁজিয়া দেখে না? 9আর পাইলে পর সে বন্ধু বান্ধব ও প্রতিবাসিনীগনকে ডাকিয়া বলে, আমার সঙ্গে আনন্দ কর, কারণ আমি যে সিকিটি হারাইয়া ফেলিয়াছিলাম, তাহা পাইয়াছি। 10তদ্রুপ, আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, এক জন পাপী মন ফিরাইলে ঈশ্বরের দুত্গনের সাক্ষাতে আনন্দ হয়। 11আর তিনি কহিলেন, এক ব্যক্তির দুই পুত্র ছিল; 12তাহাদের মধ্যে কনিষ্ঠ আপন পিতাকে কহিল, পিতঃ, সম্পত্তির যে অংশ আমার ভাগে পড়ে, তাহা আমাকে দেও। তাহাতে তিনি তাহাদের মধ্যে ধন বিভাগ করিয়া দিলেন। 13অল্প দিন পরে সেই কনিষ্ঠ পুত্র সমস্ত একত্র করিয়া লইয়া দূরদেশে চলিয়া গেল, আর তথায় সে অনাচারে নিজ সম্পত্তি উড়াইয়া দিল। 14সে সমস্ত ব্যয় করিয়া ফেলিলে পর সেই দেশে ভারী আকাল হইল, তাহাতে সে কষ্টে পড়িতে লাগিল। 15তখন সে গিয়া সেই দেশের এক জন গৃহস্থের আশ্রয় লইল; আর সে তাহাকে শূকর চরাইবার জন্য আপনার মাঠে পাঠাইয়া দিল; 16তখন, শূকরে যে শুঁটী খাইত, তাহা দিয়া সে উদর পূর্ণ করিতে বাঞ্চা করিত, আর কেহই তাহাকে দিত না। 17কিন্তু চেতনা পাইলে সে বলিল, আমার পিতার কত মজুর বেশী বেশী খাদ্য পাইতেছে, কিন্তু আমি এখানে ক্ষুধায় মরিতেছি। 18আমি উঠিয়া আমার পিতার নিকটে যাইব, তাঁহাকে বলিব, পিতঃ, স্বর্গের বিরুদ্ধে এবং তোমার সাক্ষাতে আমি পাপ করিয়াছি; 19আমি আর তোমার পুত্র নামের যোগ্য নই; তোমার এক জন মজুরের মত আমাকে রাখ। 20পরে সে উঠিয়া আপন পিতার নিকটে আসিল। সে দূরে থাকিতেই তাহার পিতা তাহকে দেখিতে পাইলেন, ও করুনাবিষ্ট হইলেন, আর দৌড়িয়া গিয়া তাহার গলা ধরিয়া তাহাকে চুম্বন করিতে থাকিলেন। 21তখন পুত্র তাঁহাকে কহিল, পিতঃ, স্বর্গের বিরুদ্ধে ও তোমার সাক্ষাতে আমি পাপ করিয়াছি, আমি আর তোমার পুত্র নামের যোগ্য নই। 22কিন্তু পিতা আপন দাসদিগকে বলিলেন, শীঘ্র করিয়া সবচেয়ে ভাল কাপড় খানি আন, আর ইহাকে পরাইয়া দেও, এবং ইহার হাতে অঙ্গুরী দেও ও পায়ে জুতা দেও; 23আর হৃষ্টপুষ্ট বাছুরটি আনিয়া মার; আমরা ভোজন করিয়া আমোদ প্রমোদ করি; 24কারণ আমার এই পুত্র মরিয়া গিয়াছিল, এখন বাঁচিল; হারাইয়া গিয়াছিল, এখন পাওয়া গেল। তাহাতে তাহারা আমোদ প্রমোদ করিতে লাগিল। 25তখন তাঁহার জ্যেষ্ঠ পুত্র ক্ষেত্রে ছিল; পরে সে আসিতে আসিতে যখন বাটীর নিকটে পঁহুছিল, তখন বাদ্য ও নৃত্যের শব্দ শুনিতে পাইল। 26আর সে এক জন দাসকে কাছে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিল, এ সকল কি? 27সে তাহাকে বলিল, তোমার ভাই আসিয়াছে, এবং তোমার পিতা হৃষ্টপুষ্ট বাছুরটি মারিয়াছেন, কেননা তিনি তাহাকে সুস্থ পাইয়াছেন। 28তাহাতে সে ক্রুদ্ধ হইয়া উঠিল, ভিতরে যাইতে চাহিল না; তখন তাহার পিতা বাহিরে আসিয়া সাধ্যসাধনা করিতে লাগিলেন। 29কিন্তু সে উত্তর করিয়া পিতাকে কহিল, দেখ, এত বৎসর আমি তোমার সেবা করিয়া আসিতেছি, কখনও তোমার আজ্ঞা লঙ্ঘন করি নাই, তথাপি আমাকে কখনও একটী ছাগবৎস দেও নাই, যেন আমি নিজ মিত্রগনের সহিত আমোদ প্রমোদ করিতে পারি; 30কিন্তু তোমার এই যে পুত্র বেশ্যাদের সঙ্গে তোমার ধন খাইয়া ফেলিয়াছে, সে যখন আসিল, তাহারই জন্য হৃষ্টপুষ্ট বাছুরটি মারিলে। 31তিনি তাহাকে বলিলেন, বৎস, তুমি সর্ব্বদাই আমার সঙ্গে আছ, আর যাহা যাহা আমার, সকলই তোমার। 32কিন্তু আমাদের আমোদ প্রমোদ ও আনন্দ করা উচিত হইয়াছে, কারণ তোমার এই ভাই মরিয়া গিয়াছিল, এখন বাঁচিল; হারাইয়া গিয়াছিল, এখন পাওয়া গেল।
16ধনাদি সম্বন্ধে যীশুর উপদেশ।
1আর তিনি শিষ্যদিগকেও কহিলেন, এক জন ধনবান লোক ছিল, তাহার এক দেওয়ান ছিল; সে স্বামীর ধন অপচয় করিত বলিয়া তাহার নিকটে অপবাদিত হইল। 2পরে সে তাহাকে ডাকিয়া কহিল, তোমার বিষয়ে এ কি কথা শুনিতেছি? তোমার দেওয়ানী-পদের হিসাব দেও, কেননা তুমি আর দেওয়ান থাকিতে পারিবে না। 3তখন সেই দেওয়ান মনে মনে কহিল, কি করিব? আমার প্রভু ত আমার নিকট হইতে দেওয়ানি-পদ লইতেছেন; মাটি কাটিবার বল আমার নাই, ভিক্ষা করিতে আমার লজ্জা হয়।
4আমার দেওয়ানি-পদ গেলে লোকে যেন আমাকে আপন আপন গৃহে গ্রহণ করে, এজন্য যাহা করিব, তাহা বুঝিলাম। 5পরে সে আপন প্রভুর প্রত্যেক ঋণীকে ডাকিয়া প্রথম জন কে কহিল, তুমি আমার প্রভুর কত ধার? 6সে বলিল, একশত মণ তৈল। তখন সে তাহাকে কহিল, তোমার ঋণপত্র লও, এবং শীঘ্র বসিয়া পঞ্চাশ লেখ। 7পরে সে আর এক জনকে বলিল, তুমি কত ধার? সে বলিল, একশত বিশি গোম। তখন সে কহিল, তোমার ঋণপত্র লইয়া আশী লেখ। 8তাহাতে সেই প্রভু সেই অধার্ম্মিক দেওয়ানের প্রশংসা করিল, কারণ সে বুদ্ধিমানের কর্ম্ম করিয়াছিল। বাস্তবিক এই যুগের সন্তানেরা নিজ জাতির সম্বন্ধে দীপ্তির সন্তানগণ অপেক্ষা বুদ্ধিমান। 9আর আমিই তোমাদিগকে বলিতেছি, আপনাদের জন্যে অধার্ম্মিকতার ধন দ্বারা মিত্র লাভ কর, যেন উহা শেষ হইলে তাহারা তোমাদিগকে সেই অনন্ত আবাসে গ্রহণ করে। 10যে ক্ষুদ্রতম বিষয়ে বিশ্বস্ত, সে বিষয়ে প্রচুর বিষয়ে অধার্ম্মিক, সে প্রচুর বিষয়েও অধার্ম্মিক। 11অতএব তোমরা যদি অধার্ম্মিকতার ধনে বিশ্বস্থ না হইয়া থাক, তবে কে বিশ্বাস করিয়া তোমাদের কাছে সত্য ধন রাখিবে? 12আর যদি পরের বিষয়ে বিশ্বস্ত না হইয়া থাক, তবে কে তোমাদের নিজ বিষয় তোমাদিগকে দিবে? 13কোন ভৃত্য দুই কর্ত্তার দাসত্ব করিতে পারে না, কেননা সে হয় এক জনকে ঘৃনা করিবে, অন্য কে প্রেম করিবে, নয় ত এক জনে অনুরুক্ত হইবে, অন্যকে তুচ্ছ করিবে। তোমরা ঈশ্বর এবং ধন উভয়ের দাসত্ব করিতে পর না। 14তখন ফরীশীরা, যাহারা টাকা ভালবাসিত, এ সকল কথা শুনিতেছিল, আর তাহারা তাঁহাকে উপহাস করিতে লাগিল। 15তিনি তাহাদিগকে কহিলেন, তোমরাই ত মনুষ্যদের সাক্ষাতে আপনাদিগকে ধার্ম্মিক দেখাইয়া থাক, কিন্তু ঈশ্বর তোমাদের অন্তঃকরণ জানেন; কেননা মনুষ্যদের মধ্যে যাহা উচ্চ, তাহা ঈশ্বরের সাক্ষাতে ঘৃণিত। 16ব্যবস্থা ও ভাববাদীগণ যোহন পর্য্যন্ত; সেই অবধি ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচার হইতেছে, এবং প্রত্যেক জন সবলে সেই রাজ্যে প্রবেশ করিতেছে। 17কিন্তু ব্যবস্থার এক বিন্দু পড়িয়া যাওয়া অপেক্ষা বরং আকাশের ও পৃথিবীর লোপ হওয়া সহজ। 18যে কেহ আপনার স্ত্রীকে পরিত্যাগ করিয়া আর এক জনকে বিবাহ করে, সে ব্যবিচার করে; এবং যে কেহ স্বামীত্যক্তা স্ত্রীকে বিবাহ করে, সে ব্যবিচার করে। 19এক জন ধনবান লোক ছিল, সে বেগুনে কাপড় ও সুক্ষ বস্ত্র পরিধান করিত, এবং প্রতিদিন জাঁকজমকের সহিত আমোদ প্রমোদ করিত। 20তাহার ফটক-দ্বারে লাসার নামে এক জন কাঙ্গালকে রাখা হইয়াছিল, সে ঘায়ে ভরা ছিল,
21এবং সেই ধনবানের মেজ হইতে পতিত গুঁড়া-গাঁড়া খাইতে বাঞ্ছা করিত; আবার কুকুরেরাও আসিয়া তাহার ঘা চাটিত। 22কালক্রমে ঐ কাঙ্গাল মরিয়া গেল, আর স্বর্গদূতগণ তাহাকে লইয়া অব্রাহামের কোলে বসাইলেন,। পরে সেই ধনবানও মরিল, এবং কবর প্রাপ্ত হইল। 23আর পাতালে, যাতনার মধ্যে, সে চক্ষু তুলিয়া দূর হইতে অব্রাহামকে ও তার কলে লাসারকে দেখিতে পাইল। 24তাহাতে সে উচ্চঃস্বরে কহিল, পিতঃ অব্রাহাম, আমার প্রতি দয়া করুন, লাসারকে পাঠাইয়া দিউন, যেন সে অঙ্গুলির অগ্রভাগ জলে ডুবাইয়া আমার জিহবা শীতল করে, কেননা এই অগ্নিশিখায় আমি যন্ত্রনা পাইতেছি। 25কিন্তু অব্রাহাম কহিলেন, বৎস, স্মরণ কর; তোমার সুখ তুমি জীবনকালে পাইয়াছ, আর লাসার তদ্রুপ দুঃখ পাইয়াছে; এখন সে এই স্থানে সান্ত্বনা পাইতেছে, আর তুমি যন্ত্রণা পাইতেছ। 26আর এসকল ছাড়া আমাদের ও তোমাদের মধ্যে এক শুন্যস্থলী স্থির রহিয়াছে, যেন এখান হইতে যাহারা তোমাদের কাছে যাইতে চাহে, তাহারা না পারে, আবার ওখান হইতে আমাদের কাছে কেহ পার হইয়া আসিতে না পারে। 27তখন সে কহিল, তবে আমি আপনাকে বিনয় করি, পিতঃ আমার পিতার বাটিতে উহাকে পাঠাইয়া দিউন; 28কেননা আমার পাঁচটি ভাই আছে; সে গিয়া তাহাদের নিকটে সাক্ষ্য দিউক, যেন তাহারাও যাতনা স্থানে না আইসে। 29কিন্তু অব্রাহাম কহিলেন, তাহাদের নিকটে মোশি ও ভাববাদীগণ আছেন; তাঁহাদেরই কথা তাহারা শুনুক। 30তখন সে বলিল, তাহা নয়, পিতঃ অব্রাহাম, বরং মৃতদের মধ্য হইতে যদি কেহ তাহাদের নিকটে যায়, তাহা হইলে তাহারা মন ফিরাইবে। 31কিন্তু তিনি কহিলেন, তাহারা যদি মোশির ও ভাববাদীগনের কথা না শুনে, তবে মৃতগনের মধ্য হইতে কেহ উঠিলেও তাহারা মনিবে না।
17ক্ষমা ও প্রভৃতি বিষয়ক উপদেশ।
1যীশু আপন শিষ্যদিগকে আরও কহিলেন, বিঘ্ন উপস্থিত না হইবে, এমন হইতে পারে না; কিন্তু ধিক তাহাকে, যাহার দ্বারা উপস্থিত হইবে! 2সে যে এই ক্ষুদ্রগনের মধ্যে এক জনের বিঘ্ন জন্মায়, ইহা অপেক্ষা বরং তাহার গলায় যাঁতা বাঁধিয়া তাহাকে সমুদ্রে ফেলিয়া দিলে তাহার পক্ষে ভাল। 3তোমরা আপনাদের বিষয়ে সাবধান থাক। তোমার ভ্রাতা যদি পাপ করে, তাহাকে অনুযোগ করিও; আর সে যদি অনুতাপ করে, তাহাকে ক্ষমা করিও।
4আর যদি সে এক দিনের মধ্যে সাত বার তোমার বিরুদ্ধে পাপ করে, আর সাত বার তোমার কাছে ফিরিয়া আসিয়া বলে, অনুতাপ করিলাম, তবে তাহাকে ক্ষমা করিও। 5আর প্রেরিতেরা প্রভুকে কহিলেন, আমাদের বিশ্বাসের বৃদ্ধি করুন। 6প্রভু কহিলেন, একটি সরিষাদানার মত বিশ্বাস যদি তোমাদের তাহকে, তবে, ‘তুমি সমূলে উপড়িয়া গিয়া সমুদ্রে রোপিত হও’ এই কথা সুকামিন গাছটিকে বলিলে এ তোমাদের কথা মনিবে। 7আর তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যাহার দাস হাল বহিয়া কিম্বা মেষ চরাইয়া ক্ষেত্র হইতে ভিতরে আসিলে সে তাহাকে বলিবে, ‘তুমি এখনই আসিয়া খাইতে বস’? 8বরং তাহাকে কি বলিবে না, ‘আমি কি খাইব, তাহার আয়োজন কর, এবং আমি যতক্ষণ ভোজন পান করি, ততক্ষন কোমর বাঁধিয়া আমার সেবা কর, তাহার পর তুমি ভোজন পান করিবে’? 9সেই দাস আজ্ঞা পোল করিল বলিয়া সে কি তাহার ধন্যবাদ করে? 10সেই প্রকারে সমস্ত আজ্ঞা পালন করিলে পর তোমারও বলিও আমার অনুপযোগী দাস, যাহা করিতে বাধ্য ছিলাম, তাহাই করিলাম।
যীশু দশ জন কুষ্ঠিকে শুচি করেন।
11যিরুশালেমে যাইবার সময়ে তিনি শমরিয়া ও গালীল দেশের মধ্য দিয়া গমন করিলেন। 12তিনি কোন গ্রামে প্রবেশ করিতেছেন, এমন সময়ে দশ জন কুষ্ঠী তাঁহার সম্মুখে পড়িল, তাহারা দুরে দাঁড়াইল, আর তাহারা উচ্চঃস্বরে বলিতে লাগিল, 13যীশু, নাথ, আমাদিগকে দয়া করুন! 14তাহাদিগকে দেখিয়া তিনি কহিলেন, যাও, যাজকগনের নিকটে গিয়া আপনাদিগকে দেখাও। যাইতে যাইতে তাহারা শুচীকৃত হইল। 15তখন তাহাদের এক জন আপনাকে সুস্থ দেখিয়া উচ্চ রবে ঈশ্বরের গৌরব করিতে করিতে ফিরিয়া আসিল, 16এবং যীশুর চরণে উবুর হইয়া পড়িয়া তাঁহার ধন্যবাদ করিতে লাগিল; সেই ব্যক্তি শমরীয়। 17যীশু উত্তর করিয়া কহিলেন, দশ জন কি শুচীকৃত হয় নাই? তবে সেই নয় জন কোথায়? 18ঈশ্বরের গৌরব করিবার জন্য ফিরিয়া আসিয়াছে, এই অন্যজাতীয় লোকটী ভিন্ন এমন কাহাকেও কি পাওয়া গেল না? 19পরে তিনি তাহাকে বলিলেন, উঠিয়া চলিয়া যাও, তোমার বিশ্বাস তোমাকে সুস্থ করিয়াছে।
যীশুর নানাবিধ শিক্ষা
ঈশ্বরের রাজ্য আসিবার বিষয়ে শিক্ষা।
20ফরীশীরা তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিল, ঈশ্বরের রাজ্য কখন আসিবে? তিনি উত্তর করিয়া তাহাদিগকে কহিলেন, ঈশ্বরের রাজ্য জাঁকজমকের সহিত আইসে না; 21আর লোকে বলিবে না, দেখ, এই স্থানে! ঐ স্থানে! কারণ দেখ, ঈশ্বরের রাজ্য তোমাদের মধ্যেই আছে। 22আর তিনি শিষ্যদিগকে কহিলেন, এমন সময় আসিবে, যখন তোমরা মনুষ্যপুত্রের সময়ের এক দিন দেখিতে ইচ্ছা করিবে, কিন্তু দেখিতে পাইবে না। 23তখন লোকেরা তোমাদিগকে বলিবে, দেখ, ঐ স্থানে! দেখ, এই স্থানে! যাইও না, পশ্চাদগমন করিও না। 24কেননা বিদ্যুৎ যেমন আকাশের নীচে এক দিক হইতে চমকাইলে, আকাশের নীচে অন্য দিক পর্য্যন্ত আলোকিত হয়, মনুষ্যপুত্র আপনার দিনে সেইরূপ হইবেন। 25কিন্তু প্রথমে তাঁহাকে অনেক দুঃখ ভোগ করিতে এবং এই কালের লোকদের কাছে অগ্রাহ্য হইতে হইবে। 26আর নোহের শুয়ে যেরূপ হইয়াছিল, মনুষ্যপুত্রের সময়েও তদ্রুপ হইবে। 27লোকে ভোজন পান করিত, বিবাহ করিত, বিবাহিত হইত, যে পর্য্যন্ত না নোহ জাহাজে প্রবেশ করিলেন, আর জলপ্লাবন আসিয়া সকলকে বিনষ্ট করিল। 28সেইরূপে লোটের সময়ে যেমন হইয়াছিল-লোকে ভোজন পান, ক্রয় বিক্রয়, বৃক্ষ রোপন ও গৃহ নির্ম্মান করিত; 29কিন্তু যে দিন লোত সদোম হইতে বাহির হইলেন, শি দিন আকাশ হইতে অগ্নি ও গন্ধক বর্ষিয়া সকলকে বিনষ্ট করিল- 30মনুষ্যপুত্র যে দিন প্রকাশিত হইবেন, সে দিনেও সেইরূপ হইবে। 31সেই দিন যে কেহ চাদের উপরে থাকিবে, আর তাহার জিনিসপত্র ঘরে থাকিবে, সে তাহা লইবার জন্য নীচে না নামুক; আর তদ্রুপ যে কেহ ক্ষেত্রে থাকিবে, সেও পশ্চাতে ফিরিয়া না আইসুক। 32লোটের স্ত্রীকে স্মরণ করিও। 33যে কেহ আপন প্রাণ লাভ করিতে চেষ্টা করে, সে তাহা হারাইবে; আর যে কেহ প্রাণ হারায়, সে তাহা বাঁচাইবে। 34আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, সেই রাত্রিতে দুই জন এক বিছানায় থাকিবে, তাহাদের এক জনকে লওয়া যাইবে, এবং অন্য জনকে ছাড়িয়া যাওয়া হইবে। 35দুইটি স্ত্রীলোক একত্র যাঁতা পিষিবে; তাহাদের এক জনকে লওয়া যাইবে, এবং অন্য জনকে ছাড়িয়া যাওয়া হইবে। 36তখন তাঁহারা উত্তর করিয়া তাঁহাকে বলিলেন, 37হে প্রভু, কোথায়? তিনি তাঁহাদিগকে কহিলেন, যেখানে শব, সেখানেই শকুন যুটিবে।
18প্রার্থনার বিষয়ে শিক্ষা।
1আর তিনি তাঁহাদিগকে এই ভাবের একটি দৃষ্টান্ত কহিলেন যে, তাহাদের সর্বদাই প্রার্থনা করা উচিত, নিরুৎসাহ হওয়া উচিত নয়। 2তিনি বলিলেন, কোন নগরে এক বিচারকর্ত্তা ছিল, সে ঈশ্বর কে ভয় করিত না, মনুষ্যকেও মানিত না। 3আর সেই নগরে এক বিধবা ছিল, সে তাহার নিকটে আসিয়া বলিত, অন্যায়ের প্রতীকার করিয়া আমার বিপক্ষ হইতে আমাকে উদ্ধার করুন!
4বিচারকর্ত্তা কিছুকাল পর্য্যন্ত সম্মত হইল না; কিন্তু পরে মনে মনে কহিল, যদিও আমি ঈশ্বরকে ভয় করি না, মনুষ্যকেও মানি না, 5তথাপি এই বিধবা আমাকে ক্লেশ দিতেছে, এই জন্য অন্যায় হইতে ইহাকে উদ্ধার করিব, পাছে এ সর্ব্বদা আসিয়া আমাকে জ্বালাতন করিয়া তুলে। 6পরে প্রভু কহিলেন, শুন, ঐ অধার্ম্মিক বিচারকর্ত্তা কি বলে। 7তবে ঈশ্বর কি আপনার সেই মনোনীতদের পক্ষে অন্যায়ের প্রতীকার করিবেন না, যাহারা দিবারাত্র তাঁহার কাছে রোদন করে, যদিও তিনি তাহাদের বিষয়ে দীর্ঘসহিষ্ণু? 8আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, তিনি শীঘ্রই তাহাদের পক্ষে অন্যায়ের প্রতীকার করিবেন। কিন্তু মনুষ্যপুত্র যখন আসিবেন, তখন কি পৃথীবিতে বিশ্বাস পাইবেন?
পাপক্ষমার বিষয়ে শিক্ষা।
9যাহারা আপনাদের উপরে বিশ্বাস রাখিত, মনে করিত যে, তাহারাই ধার্ম্মিক, এবং অন্য সকলকে হেয়জ্ঞান করিত, এমন কএক জনকে তিনি এই দৃষ্টান্ত কহিলেন। 10দুই ব্যক্ত প্রার্থনা করিবার জন্য ধর্ম্মধামে গেল; এক জন ফরীশী, আর এক জন করগ্রাহী। 11ফরীশী দাঁড়াইয়া আপনা আপনি এইরূপ প্রার্থনা করিল, হে ঈশ্বর, আমি তোমার ধন্যবাদ করি যে, আমি অন্য সকল লোকের- উপদ্রবী, অন্যায়ী ও ব্যবিচারীদের –মত কিম্বা ঐ করগ্রাহীর মত নহি; 12আমি সপ্তাহের মধ্যে দুইবার উপবাস করি, সমস্ত আয়ের দশমাংশ দান করি। 13কিন্তু করগ্রাহী দুরে দাঁড়াইয়া স্বর্গের দিকে চক্ষু তুলিতেও সাহস পাইল না, বরং সে বক্ষে করাঘাত করিতে করিতে কহিল, হে ঈশ্বর, আমার প্রতি, এই পাপীর প্রতি দয়া কর। 14আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, এই ব্যক্তি ধার্ম্মিক গণিত হইয়া নিজ গৃহে নামিয়া গেল, ঐ ব্যক্তি নয়; কেননা যে কেহ আপনাকে উচ্চ করে, তাহাকে নত করা যাইবে; কিন্তু যে আপনাকে নত করে, তাহাকে উচ্চ করা যাইবে।
শিশুদের বিষয়ে শিক্ষা।
15আর লোকেরা আপনাদের ছোট শিশুদিগকেও তাহার নিকটে আনিল, যেন তিনি তাহাদিগকে স্পর্শ করেন। শিষ্যেরা তাহা দেখিয়া তাহাদিগকে ভৎর্সনা করিতে লাগিলেন। 16কিন্তু তাহাদিগকে নিকটে ডাকিলেন, বলিলেন, শিশুগনকে আমার নিকটে আসিতে দেও, উহাদিগকে বারণ করিও না, কেননা ঈশ্বরের রাজ্য এই মত লোকদেরই। 17আমি তোমাদিগকে সত্য বলিতেছি, যে কেহ শিশুবৎ হইয়া ঈশ্বরের রাজ্য গ্রহণ না করে, সে কোন মতে তাহাতে প্রবেশ করিতে পাইবে না।
ধনাসক্তির বিষয়ে শিক্ষা।
18এক জন অধ্যক্ষ তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিল, হে সদগুরু, কি করিলে আমি অনন্ত জীবনের অধিকারী হইব? 19যীশু তাহাকে কহিলেন, আমাকে সৎ কেন বলিতেছ? এক জন ব্যতিরেকে সৎ আর কেহ নাই, তিনি ঈশ্বর। 20তুমি আজ্ঞা সকল জান, “ব্যবিচার করিও না, নরহত্যা করিও না, চুরি করিও না, মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না, তোমার পিতামাতা কে সমাদর করিও।” 21সে কহিল, বাল্যকাল অবধি এই সকল পালন করিয়া আসিতেছি। 22এ কথা শুনিয়া যীশু তাহাকে কহিলেন, এখনও এক বিষয়ে তোমার ত্রুটি আছে; তোমার যাহা কিছু আছে, সমস্ত বিক্রয় কর, আর দরিদ্রগনকে বিতরণ কর, তাহাতে স্বর্গে ধন পাইবে; আর আইস, আমার পশ্চাদগামী হও। 23কিন্তু এ কথা শুনিয়া সে অতিশয় দুঃখিত হইল, কারণ সে অতিশয় ধনবান ছিল। 24তখন তাহার প্রতি দৃষ্টি করিয়া যীশু কহিলেন, যাহাদের ধন আছে, তাহাদের পক্ষে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করা কেমন দুস্কর! 25বাস্তবিক ঈশ্বরের রাজ্যে ধনবানের প্রবেশ করা অপেক্ষা বরং সুচীর ছিদ্র দিয়া উস্ট্রের প্রবেশ করা সহজ। 26যাহারা শুনিল, তাহারা বলিল, তবে কাহার পরিত্রান হইতে পারে? 27তিনি কহিলেন, যাহা মানুষের অসাধ্য তাহা ঈশ্বরের সাধ্য। 28তখন পিতর কহিলেন, দেখুন, আমার যাহা যাহা নিজের, সে সকল পরিত্যাগ করিয়া আপনার পশ্চাদগামী হইয়াছি। 29তিনি তাঁ
হাদিগকে কহিলেন, আমি তোমাদিগকে সত্য বলিতেছি, এমন কেহ নাই, যে ঈশ্বরের রাজ্যের নিমিত্ত বাটী কি স্ত্রী কি ভ্রাতৃগণ কি পিতামাতা কি সন্তানসন্ততি ত্যাগ করিলে,
30ইহকালে তাহার বহুগুন এবং আগামী যুগে অনন্ত জীবন না পাইবে।
আপন মৃত্যু ও পুনরুত্থান বিষয়ে যীশুর কথা।
31পরে তিনি সেই বারো জনকে কাছে লইয়া তাঁহাদিগকে কহিলেন, দেখ, আমরা যিরুশালেমে যাইতেছি; আর ভাববাদীগণ দ্বারা যাহা যাহা লিখিত হইয়াছে, সে সমস্ত মনুষ্যপুত্রে সিদ্ধ হইবে। 32কারণ তিনি পরজাতীয়দের হস্তে সমর্পিত হইবেন, এবং লোকেরা তাঁহাকে বিদ্রুপ করিবে, তাঁহার অপমান করিবে, তাঁহার গায়ে থুথু দিবে; 33এবং কোড়া প্রহার করিয়া তাঁহাকে বধ করিবে; পরে তৃতীয় দিবসে তিনি পুনরায় উঠিবেন। 34এই সকলের কিছুই তাঁহারা বুঝিলেন না, এই কথা তাঁহাদের হইতে গুপ্ত রহিল, এবং কি কি বলা যাইতেছে, তাহা তাঁহারা বুঝিয়া উঠিতে পারিলেন না।
যিরুশালেমে যীশুর শেষ যাত্রা।
এক জন অন্ধকে চক্খুর্দ্দান।
35আর যখন তিনি যিরীহোর নিকটবর্ত্তী হইলেন, এক জন অন্ধ পথের পার্শ্বে বসিয়া ভিক্ষা করিতেছিল; 36সে লোকদের গমনের শব্দ শুনিয়া জিজ্ঞাসা করিল, ইহার কারণ কি? 37লোকে তাহাকে বলিল, নাসরতীয় যীশু সেখান দিয়া যাইতেছেন। 38তখন সে উচ্চঃস্বরে কহিল, হে যীশু, দায়ুদ-সন্তান, আমার প্রতি দয়া করুন। 39যাহারা আগে আগে যাইতেছিল, তাহারা চুপ চুপ বলিয়া তাহাকে ধমক দিল, কিন্তু সে আরও অধিক চেঁচাইয়া বলিতে লাগিল, হে দায়ুদ-সন্তান, আমার প্রতি দয়া করুন।
40তখন যীশু থামিয়া তাহাকে তাঁহার নিকটে আনিতে আজ্ঞা করিলেন; পরে সে নিকটে আসিলে তিনি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কি চাও?
41আমি তোমার নিমিত্ত কি করিব? সে কহিল, প্রভু, যেন দেখিতে পাই।
42যীশু তাহাকে কহিলেন, দেখিতে পাও; তোমার বিশ্বাস তোমাকে সুস্থ করিল।
43তাহাতে সে তৎক্ষনাৎ দেখিতে পাইল, এবং ঈশ্বরের গৌরব করিতে করিতে তাঁহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ গমন করিল। তাহা দেখিয়া সকল লোক ঈশ্বরের স্তব করিল।
19সক্কেয়ের মন্পরিবর্ত্তন।
1পরে তিনি যিরীহোতে প্রবেশ করিয়া নগরের মধ্য দিয়া যাইতেছিলেন। 2আর দেখ, সক্কেয় নামে এক ব্যক্তি; সে এক জন প্রধান করগ্রাহী, এবং সে ধনবান ছিল। 3আর কে যীশু, সে দেখিতে চেষ্টা করিতেছিল, কিন্তু ভিড় প্রযুক্ত পারিল না, কেননা সে খর্ব্বকায় ছিল।
4তাই সে আগে দৌড়িয়া গিয়া তাঁহাকে দেখিবার জন্য একটী সুকমোর গাছে উঠিল, কারণ তিনি সেই পথে যাইতেছিলেন। 5পরে যীশু যখন সেই স্থানে উপস্থিত হইলেন, তখন উপরের দিকে চাহিয়া তাহাকে কহিলেন, সক্কেয়, শীঘ্র নামিয়া আইস, কেননা আজ তোমার গৃহে আমাকে থাকিতে হইবে। 6তাহাতে সে শীঘ্র নামিয়া আসিল, এবং আনন্দের সহিত তাঁহার আতিথ্য করিল। 7তাহা দেখিয়া সকলে বচসা করিয়া বলিতে লাগিল, ইনি এক জন পাপীর ঘরে রাত্রী যাপন করিতে গেলেন। 8তখন সক্কেয় দাঁড়াইয়া প্রভুকে কহিল, প্রভু, দেখুন, আমার সম্পত্তির অর্দ্ধেক আমি দরিদ্রদিগকে দান করি; আর যদি অন্যায়পূর্ব্বক কাহারও কিছু হরণ করিয়া থাকি, তাহার চতুর্গুণ ফিরাইয়া দিই। 9তখন যীশু তাহাকে কহিলেন, আজ এই গৃহে পরিত্রান উপস্থিত হইল; যেহেতুক এ ব্যক্তিও অব্রাহামের সন্তান। 10কারণ যাহা হারিয়া গিয়াছিল, তাহার অন্বেষণ ও পরিত্রান করিতে মনুষ্যপুত্র আসিয়াছেন।
দশটি মুদ্রার দৃষ্টান্ত
11যখন তাহারা এই সকল কথা শুনিতেছিল, তখন তিনি একটী দৃষ্টান্তও কহিলেন, কারণ তিনি যিরুশালেমের নিকটে উপস্থিত হইয়াছিলেন; আর তাহারা অনুমান করিতেছিল যে, ঈশ্বরের রাজ্যের প্রকাশ তখনই হইবে। 12অতএব তিনি কহিলেন, ভদ্রবংশীয় এক ব্যক্তি দুরদেশে গেলেন, অভিপ্রায় এই যে, আপনার জন্য রাজপদ লইয়া ফিরিয়া আসিবেন। 13আর তিনি আপনার দশ জন দাসকে ডাকিয়া দশটি মুদ্রা দিয়া কহিলেন, আমি যে পর্য্যন্ত না আসি, ব্যবসায় কর। 14কিন্তু তাঁহার প্রজাগণ তাহাকে দ্বেষ করিত, তাহারা তাঁহার পশ্চাৎ দূত পাঠাইয়া দিল, কহিল, আমাদের ইচ্ছা নয় যে, এ ব্যক্তি আমাদের উপরে রাজত্ত্ব করে। 15পরে তিনি রাজপদ প্রাপ্ত হইয়া যখন ফিরিয়া আসিলেন, তখন, যাহাদিগকে টাকা দিয়াছিলেন, সেই দাসদিগকে তাঁহার কাছে ডাকিয়া আনিতে বলিলেন, যেন তিনি জানিতে পারেন, তাহারা ব্যবসায়ে কে কত লাভ করিয়াছে। 16তখন প্রথম ব্যক্তি নিকটে আসিয়া কহিল, প্রভু, আপনার মুদ্রায় আর দশ মুদ্রা হইয়াছে। 17তিনি তাহাকে কহিলেন, ধন্য! উত্তম দাস, তুমি অতি অল্প বিষয়ে বিশ্বস্ত হইলে; এজন্য দশ নগরের উপরে কর্ত্তৃত্ব কর। 18দ্বিতিয় ব্যক্তি আসিয়া কহিল, প্রভু, আপনার মুদ্রায় আর পাঁচ মুদ্রা হইয়াছে। 19তিনি তাহাকেও কহিলেন, তুমিও পাঁচ নগরের কর্ত্তা হও। 20পরে আর এক জন আসিয়া কহিল, প্রভু, দেখুন, এই আপনার মুদ্রা; আমি ইহা রুমালে বাঁধিয়া রাখিয়াছিলাম; 21কারণ আমি আপনা হইতে ভীত ছিলাম, কেননা আপনি কঠিন লোক, যাহা রাখেন নাই, তাহা তুলিয়া লন, এবং যাহা বুনেন নাই, তাহা কাটেন। 22তিনি তাহাকে কহিলেন, দুষ্ট দাস, আমি তোমার নিজ মুখের প্রমানে তোমার বিচার করিব। তুমি না জানিতে, আমি কঠিন লোক, যাহা রাখি নাই তাহাই তুলিয়া লই, এবং যাহা বুনি নাই তাহাই কাটি? 23তবে আমার টাকা পোদ্দারদের কাছে কেন রাখ নাই? তাহা করিলে আমি আসিয়া সুদের সহিত তাহা আদায় করিতাম। 24আর যাহারা নিকটে দাঁড়াইয়াছিল, তিনি তাহাদিগকে বলিলেন, ইহার নিকট হইতে ঐ মুদ্রা লও, এবং যাহার দশ মুদ্রা আছে, তাহাকে দেও। 25তাহারা তাঁহাকে কহিল, প্রভু, উহার যে দশ মুদ্রা আছে।- 26আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, যে কাহার আছে, তাহাকে দেওয়া যাইবে; কিন্তু যাহার নাই, তাহার যাহা আছে, তাহাও তাহার নিকট হইতে লওয়া যাইবে। 27পরন্তু আমার এই যে শত্রুগণ ইচ্ছা করে নাই যে, আমি তাহাদের উপরে রাজত্ব করি, তাহাদিগকে এই স্থানে আন, আর আমার সাক্ষাতে বধ কর।
যিরুশালেমে যীশুর প্রবেশ।
28এই সকল কথা বলিয়া তিনি তাঁহাদের অগ্রে অগ্রে চলিলেন, যিরুশালেমের দিকে উঠিতে লাগিলেন। 29পরে যখন জৈতুন নামক পর্ব্বতের পার্শ্বস্থ বৈৎফগী ও বৈথনিয়ার নিকটবর্ত্তি হইলেন, তখন তিনি দুই জন শিষ্য কে পাঠাইয়া দিলেন, বলিলেন, 30ঐ সম্মুখস্থ গ্রামে যাও, তথায় প্রবেশ করিবামাত্র একটী গর্দ্দভশাবক বাঁধা দেখিতে পাইবে, যাহাতে কোন মানুষ কখনও বসে নাই; সেটি খুলিয়া আন। 31আর যদি কেহ তোমাদিগকে জিজ্ঞাসা করে, এটি কেন খুলিতেছ? তবে এইরূপ বলিবে, ইহাতে প্রভুর প্রয়োজন আছে। 32তখন যাঁহাদিগকে পাঠান হইল, তাঁহারা গিয়া, তিনি যেরূপ বলিয়াছিলেন, সেইরূপই দেখিতে পাইলেন। 33যখন তাঁহারা গর্দ্দভশাবকটি খুলিতেছিলেন, তখন মালিকেরা তাঁহাদিগকে বলিল, গর্দ্দভশাবকটী খুলিতেছ কেন? 34তাঁহার কহিলেন, ইহাতে প্রভুর প্রয়োজন আছে। 35পরে তাঁহারা সেটিকে যীশুর কাছে লইয়া আসিলেন, এবং আহার পৃষ্ঠে আপনাদের বস্ত্র পাতিয়া তাহার উপরে যীশুকে বসাইলেন। 36পরে যখন তিনি যাইতে লাগিলেন, লোকেরা আপন আপন বস্ত্র পথে পাতিয়া দিতে লাগিল। 37আর তিনি নিকটবর্ত্তি হইতেছেন, জৈতুন পর্ব্বত হইতে নামিবার স্থানে উপস্থিত হইয়াছেন, এমন সময়ে, সমুদয় শিষ্যদল যে সকল পরাক্রম-কার্য্য দেখিয়াছিল, সেই সমস্তের জন্য আনন্দপূর্ব্বক উচ্চ রবে ঈশ্বরের প্রশংসা করিয়া বলিতে লাগিল, 38“ধন্য সেই রাজা, যিনি প্রভুর নামে আসিতেছেন; স্বর্গে শান্তি এবং উর্দ্ধলোকে মহিমা।” 39তখন লোকসমূহের মধ্য হইতে কএক জন ফরীশী তাঁহাকে কহিল, গুরো, আপনার শিষ্যদিগকে ধমক দিউন।
40তিনি উত্তর করিলেন, আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, ইহারা যদি চুপ করিয়া থাকে, প্রস্তর সকল চেঁচাইয়া উঠিবে।
41পরে যখন তিনি নিকটে আসিলেন, তখন নগরটি দেখিয়া তাহার জন্য রোদন করিলেন,
42কহিলেন, তুমি, তুমিই যদি আজিকার দিনে, যাহা যাহা শান্তিজনক, তাহা বুঝিতে! কিন্তু এখন সে সকল তোমার দৃষ্টি হইতে গুপ্ত রহিল।
43কারণ তোমার উপরে এমন সময় উপস্থিত হইবে, যে সময়ে তোমার শত্রুগণ তোমার চারিদিকে জাঙ্গাল বাঁধিবে, তোমাকে বেষ্টন করিবে, তোমাকে সর্ব্বদিকে অবরোধ করিবে,
44এবং তোমাকে ও তোমার মধ্যবর্ত্তী তোমার বৎসগণকে ভূমিসাৎ করিবে, তোমার মধ্যে প্রস্তরের উপরে প্রস্তর থাকিতে দিবে না; কারণ তোমার তত্ত্বাবধানের সময় তুমি বুঝ নাই।
45পরে তিনি ধর্ম্মধামে প্রবেশ করিলেন, এবং বিক্রেতাদিগকে বাহির করিতে আরম্ভ করিলেন,
46তাহাদিগকে কহিলেন, লেখা আছে, “আমার গৃহ প্রার্থনা-গৃহ হইবে,” কিন্তু তোমরা ইহা “দস্যুগনের গহ্বর” করিয়া তুলিয়াছ।
47আর তিনি প্রতিদিন ধর্ম্মধামে উপদেশ দিতেন। আর প্রধান যাজকেরা ও অধ্যাপকগণ এবং লোকদের প্রধানেরাও তাঁহাকে বিনষ্ট করিতে চেষ্টা করিতে লাগিল;
48কিন্তু কি করিতে পারে, তাহা দেখিতে পাইল না, কেননা লোকেরা সকলে একাগ্র মনে তাঁহার কথা শুনিত।