যাত্রা

1

ইস্রায়েলীয়দের বৃদ্ধি ‍দৌরাত্ম্যভোগ ।

1ইস্রায়েলের পুত্রগণ, যাঁহারা মিসর দেশে গিয়াছিলেন, সপরিবারে যাকোবের সহিত গিয়েছিলেন, তাঁহাদের নাম এই এই; 2রূবেন, শিমিয়োন, লেবি ও যিহূদা, 3ইষাখর, সবূলূন ও বিন্যামীন,

4দান ও নপ্তালি, গাদ ও আশের । 5যাকোবের কটি হইতে উৎপন্ন প্রাণী সর্ব্বশুদ্ধ সত্তর জন ছিল; আর যোষেফ মিসরেই ছিলেন । 6পরে যোষেফ, তাঁহার ভ্রাতৃগণ ও তাৎকালিক সমস্ত লোক মরিয়া গেলেন। 7আর ইস্রায়েল-সন্তানেরা ফলবন্ত, অতি বর্দ্ধিষ্ণু ও বহুবংশ হইয়া উঠিল, ও অতিশয় প্রবল হইল, এবং তাহাদের দ্বারা দেশ পরিপূর্ণ হইল। 8পরে মিসরের উপরে এক নূতন রাজা উঠিলেন, তিনি যোষেফকে জানিতেন না। 9তিনি আপন প্রজাদিগকে কহিলেন, দেখ, আমাদের অপেক্ষা ইস্রায়েল-সন্তানদের জাতি বহুসংখ্যক ও বলবান্‌; 10আইস, আমরা তাহাদের সহিত বিবেচনাপূর্ব্বক ব্যবহার করি, পাছে তাহারা পাড়িয়া উঠে, এবং যুদ্ধ উপস্থিত হইলে তাহারাও শত্রুপক্ষে যোগ দিয়া আমাদের সহিত যুদ্ধ করে, এবং এ দেশ হইতে প্রস্থান করে। 11অতএব তাহাটা ভার বহন দ্বারা উহাদিগকে দুঃখ দিবার জন্য উহাদের উপরে কার্য্যশাসকদিগকে নিযুক্ত করিল। আর উহারা ফরৌণের নিমিত্ত ভাণ্ডারের নগর, পিথোম ও রামিষেষ গাঁথিল । 12কিন্তু উহারা তাহাদের দ্বারা যত দুঃখ পাইল, ততই বৃদ্ধি পাইতে ও ব্যাপ্ত হইতে লাগিল; তাই ইস্রায়েল-সন্তানদের বিষয়ে তাহারা অতিশয় উদ্বিগ্ন হইল । 13আর মিশ্রীয়েরা নির্দ্দয়তাপূর্ব্বক ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে দাস্যকর্ম্ম করাইল ; 14তাহারা কর্দ্দম, ইষ্টক ও ক্ষেত্রের সমস্ত কার্য্যে কঠিন দাস্যকর্ম্ম দ্বারা উহাদের প্রান তিক্ত করিতে লাগিল। তাহারা উহাদের দ্বারা যে যে দাস্যকর্ম্ম করাইত, সে সমস্ত নির্দ্দয়তাপূর্ব্বক করাইত । 15পরে মিসরের রাজা শিফ্রা নামে ও পূয়া নামে দুই ইব্রীয়া ধাত্রীকে এই কথা কহিলেন, 16যে সময়ে তোমরা ইব্রীয় স্ত্রী-লোকদের ধাত্রী কার্য্য করিবে, ও তাহাদিগকে প্রসব-আধারে দেখিবে, যদি পুত্রসন্তান হয়, তাহাকে বধ করিবে; আর যদি কন্যা হয়, তাহাকে জীবিত রাখিবে। 17কিন্তু ঐ ধাত্রীরা ঈশ্বরকে ভয় করিত, সুতরাং মিসর-রাজের আজ্ঞানুসারে না করিয়া পুত্রসন্তানদিগকে জীবিত রাখিত। 18তাই মিসর-রাজ সেই ধাত্রীদিগকে ডাকাইয়া কহিলেন, এ কর্ম্ম কেন করিয়াছ? পুত্রসন্তানগণকে কেন জীবিত রাখিয়াছও? 19ধাত্রীরা ফরৌণকে উত্তর করিল, ইব্রীয় স্ত্রীলোকেরা মিস্রীয় স্ত্রীলোকদের ন্যায় নহে; তাহারা বলবতী, তাহাদের কাছে ধাত্রী যাইবার পূর্ব্বেই তাহারা প্রসব হয়। 20অতএব ঈশ্বর ঐ ধাত্রীদের মঙ্গল করিলেন; এবং লোকেরা বৃদ্ধি পাইয়া অতিশয় বলবান্‌ হইল। 21সেই ধাত্রীরা ঈশ্বরকে ভয় করিত বলিয়া তিনি তাহাদের বংশবৃদ্ধি করিলেন। 22পরে ফরৌণ আপনার সকল প্রজাকে এই আজ্ঞা দিলেন, তোমরা [ইব্রীয়দের] নবজাত প্রত্যেক পুত্রসন্তানকে নদীতে নিক্ষেপ করবে, কিন্তু প্রত্যেক কন্যাকে জীবিত রাখিবে।

2

মোশির বিবরণ।

1আর লেবির কুলের এক পুরুষ গিয়া এক লেবীয় কন্যাকে বিবাহ করিলেন। 2আর সেই স্ত্রী গর্ভ ধারণ করিয়া পুত্র প্রসব করিলেন, ও শিশুটিকে সুশ্রী দেখিয়া তিন মাস গোপনে রাখিলেন। 3পরে আর গোপন করিতে না পারাতে তিনি এক নলের পেটরা লইয়া মেটিয়া তৈল ও আলকাটারা লেপন করিয়া তাহার মধ্যে বালকটিকে রাখিলেন, ও ন্দীতীরস্থ নলবনে তাহা স্থাপন করিলেন।

4আর তাহার কি দশা ঘটে, তাহা দেখিবার জন্য তাহার ভগিনী দূরে দাঁড়াইয়া রহিল। 5পরে ফরৌণের কন্যা স্নানার্থে নদীতে আসিলেন, এবং তাঁহার সহচরীগণ নদীতীরে বেড়াইতেছিল; আর তিনি নল বনের মধ্যে ঐ পেটরা দেখিয়া আপন দাসীকে তাহা আনিতে পাঠাইলেন। 6পরে পেটরা খুলিয়া শিশুটীকে দেখিলেন; আর দেখ, ছেলেটি কাঁদিতেছে; তিনি তাহার প্রতি সদয় হইয়া বলিলেন, এটা ইব্রীয়দের ছেলে। 7তখন তাহার ভগিনী ফরৌণের কন্যাকে কহিল, আমি গিয়া কি আপনার নিমিত্ত এই ছেলেকে দুদ দিবার জন্য স্তন্যদাত্রী একটি ইব্রীয় স্ত্রীলোককে আপনার নিকটে ডাকিয়া আনিব? ফরৌণের কন্যা কহিলেন, যাও। 8তখন সেই মেয়েটী গিয়া ছেলের মাকে ডাকিয়া আনিল। 9ফরৌণের কন্যা তাহাঁকে কহিলেন, তুমি এই ছেলেটীকে লইয়া আমার নিমিত্ত দুগ্ধ পান করাও; আমি তোমাকে বেতন দিব। তাহাতে সেই স্ত্রী ছেলেটীকে লইয়া দুগ্ধ পান করাইতে লাগিলেন। 10পরে ছেলেটি বড় হইলে তিনি তাহাকে লইয়া ফরৌণের কন্যাকে দিলেন; তাহাতে সে তাঁহারই পুত্র হইল; আর তিনি তাহার নাম মোশি [টানিয়া তোলা] রাখিলেন, কেননা তিনি কহিলেন, আমি তাহাকে জল হইতে টানিয়া তুলিয়াছি। 11সেকালে এই ঘটনা হইল; মোশি বড় হইলে পর এক দিন আপন ভ্রাতৃগণের নিকটে গিয়া তাহাদিগের ভার বহন দেখিতে লাগিলেন; আর সেখিলেন, এক জন মিস্রীয় এক জন ইব্রীয়কে, তাঁহার ভ্রাতৃগণের মধ্যে এক জনকে মারিতেছে। 12তখন তিনি এদিক্‌ ওদিক্‌ চাহিয়া কাহাকেও দেখিতে না পাওয়াতে ঐ

মিস্রীয়কে বধ করিয়া বালির মধ্যে পুতিয়া রাখিলেন।

13পরে দ্বিতীয় দিন তিনি বাহিরে গেলেন, আর দেখ, দুই জন ইব্রীয় পরস্পর বিবাদ করিতেছে; তিনি দোষী ব্যক্তিকে কহিলেন, তোমার ভাইকে কেন মারিতেছ? 14সে কহিল, তোমাকে অধ্যক্ষ ও বিচারকর্ত্তা করিয়া আমাদের উপরে কে নিযুক্ত করিয়াছে? তুমি যেমন সেই মিস্ররীয়কে বধ করিয়াছ, তদ্রূপ কি আমাকেও বধ করিতে চাহ? তখন মোশি ভীত হইয়া কহিলেন, কথাটা অবশ্যই প্রকাশ হইয়া পড়িয়াছে। 15পরে ফরৌণ এই কথা শুনিয়া মোশিকে বধ করিতে চেষ্টা করিলেন। কিন্তু মোশি ফরৌণের সম্মুখ হইতে পলায়ন করিলেন, এবং মিদিয়ন দেশে বাস করিতে গিয়া এক কূপের নিকটে বসিলেন। 16মিদিয়নীয় যাজকের সাতটি কন্যা ছিল; তাহারা সেই স্থানে আসিয়া পিতার মেষপালকে জলপান করাইবার জন্য জল তুলিয়া নিপানগুলি পরিপূর্ণ করিল। 17তখন মেষপালকেরা আসিয়া তাহাদিগকে তাড়াইয়া দিল, কিন্তু মোশি উঠিয়া তাহাদের সাহায্য করিলেন, ও তাহাদের মেষপালকে জল পান করাইলেন। 18পরে তাহারা আপনাদের পিতা রূয়েলের কাছে গেলে তিনি তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিলেন, অদ্য তোমরা কি প্রকারে এত শীঘ্র আসিলে? 19তাহারা কহিল, এক জন মিস্রীয় আমাদিগকে মেষপালকদের হস্ত হইতে উদ্ধার করিলেন, আরও তিনি আমাদের নিমিত্তে যথেষ্ট জল তুলিয়া মেষপালকে জল পান করাইলেন। 20তখন তিনি আপন কন্যাদিগকে কহিলেন, সে লোকটা কোথায়? তোমরা তাহাঁকে কেন ছাড়িয়া আসিলে? তাহাঁকে ডাক; তিনি আহার করুন। 21পরে মোশি ঐ ব্যক্তির সঙ্গে বাস করিতে সম্মত হইলেন, আর তিনি মোশির সহিত আপন কন্যা সিপ্পোরার বিবাহ দিলেন। 22পরে ঐ স্ত্রী পুত্র প্রসব করিলেন, আর মোশি তাহার নাম গের্শোম [তত্রপ্রবাসী] রাখিলেন, কেননা তিনি কহিলেন, আমি বিদেশে প্রবাসী হইয়াছি।

3

মোশির কাছে ঈশ্বরের প্রকাশ

1মোশি আপন শ্বশুর যিথ্রো নামক মিদিয়নীয় যাজকের মেষপাল চরাইতেন। একদা তিনি প্রান্তরের পশ্চাদ্ভাগে মেষপাল লইয়া গিয়া হোরেবে, ঈশ্বরের পর্ব্বতে উপস্থিত হইলেন। 2আর ঝোপের মধ্য হইতে অগ্নিশিখাতে সদাপ্রভুর দূত তাহাঁকে দর্শন দিলেন; তখন তিনি দৃষ্টিপাত করিলেন, আর দেখ, ঝোপ অগ্নিতে জ্বলিতেছে, তথাপি ঝোপ বিনষ্ট হইতেছে না। 3তাই মোশি কহিলেন আমি এক পার্শ্বে গিয়া এই মহাশ্চার্য্য দৃশ্য দেখি, ঝোপ দগ্ধ হয় না, ইহার কারণ কি?

4কিন্তু সদাপ্রভু যখন দেখিলেন যে, তিনি দেখিবার জন্য এক পার্শ্বে যাইতেছেন, তখন ঝোপের মধ্য হইতে ঈশ্বর তাহাঁকে ডাকিয়া কহিলেন, মোশি, মোশি। তিনি কহিলেন, দেখুন, এই আমি। 5তখন তিনি কহিলেন, এ স্থানের নিকটবর্ত্তী হইও না, তোমার পদ হইতে জুতা খুলিয়া ফেলো; কেননা যে স্থানে তুমি দাঁড়াইয়া আছ,উহা প্রবিত্র ভূমি। 6তিনি আরও কহিলেন, আমি তোমার পিতা ঈশ্বর, অব্রাহামের ঈশ্বর, ইস্‌হাকের ঈশ্বর ও যাকোবের ঈশ্বর। তখন মোশি আপন মুখ আচ্ছাদন করিলেন, কেননা তিনি ঈশ্বরের প্রতি দৃষ্টি করিতে ভীত হইয়াছিলেন। 7পরে সদাপ্রভু কহিলেন, সত্যিই আমি মিসরস্থ আপন প্রজাদের কষ্ট দেখিয়াছি, এবং কার্য্যশাসকদের সমক্ষে তাহাদের ক্রন্দনও শুনিয়াছি; ফলতঃ আমি তাহাদের দুঃখ জানি। 8আর মিস্রীয়দের হস্ত হইতে তাহাদিগকে উদ্ধার করিবার জন্য, এবং সেই দেশ হইতে উঠাইয়া লইয়া উত্তম ও প্রশস্ত এক দেশে, অর্থাৎ কনানীয়, হিত্তীয়, ইমোরীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয় লোকেরা যে স্থানে থাকে, সেই দুগ্ধমধুপ্রবাহী দেশে তাহাদিগকে আনিবার জন্য নামিয়া আসিয়াছি। 9এখন দেখ, ইস্রায়েল-সন্তানগণের ক্রন্দন আমার নিকতে উপস্থিত হইয়াছে, এবং মিস্রীয়েরা তাহাদের প্রতি যে দৌরাত্ম্য করে, তাহা আমি দেখিয়াছে। 10অতএব এখন আইস, আমি তোমাকে ফরৌণের নিকটে প্রেরণ করি, তুমি মিসর হইতে আমার প্রজা ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে বাহির করিও। 11মোশি ঈশ্বরকে কহিলেন, আমি কে, যে ফরৌণের নিকটে যাই, ও মিসর হইতে ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে বাহির করি? 12তিনি কহিলেন, নিশ্চয় আমি তোমার সহবর্ত্তী হইব; এবং আমি যে তোমাকে প্রেরণ করিলাম, তোমার পক্ষে তাহার এই চিহ্ন হইবে; তুমি মিসর হইতে লোকসমূহকে বাহির করিয়া আনিলে পর তোমরা এই পর্ব্বতে ঈশ্বরের সেবা করিবে। 13পরে মোশি ঈশ্বরকে কহিলেন, দেখ, আমি যখন ইস্রায়েল-সন্তানদের নিকটে গিয়া বলিব, তোমাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর তোমাদের নিকটে আমাকে প্রেরণ করিয়াছেন, তখন যদি তাহারা জিজ্ঞাসা করে, তাঁহার নাম কি? তবে তাহাদিগকে কি বলিব? 14ঈশ্বর মোশিকে কহিলেন, “আমি যে আছি সেই আছি”;* আরও কহিলেন, ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে এইরূপ বলিও, “আছি” তোমাদের নিকটে আমাকে প্রেরণ করিয়াছেন। 15ঈশ্বর মোশিকে আরও কহিলেন, তুমি ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে এই কথা বলিও, যিহোবাঃ [সদাপ্রভু], তোমাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর, অব্রাহামের ঈশ্বর, ইস্‌হাকের ঈশ্বর ও যাকোবের ঈশ্বর তোমাদের নিকটে আমাকে পাঠাইয়াছেন; আমার এই নাম অনন্তকালস্থায়ী, এবং এতদ্দ্বারা আমি পুরুষে পুরুষে স্মরণীয়। 16তুমি যাও, ইস্রায়েলের প্রাচীনগণকে একত্র কর, তাহাদিগকে এই কথা বলও, সদাপ্রভু, তোমাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর, অব্রাহামের, ইস্‌হাকের ও যাকোবের ঈশ্বর আমাকে দর্শন দিয়া কহিলেন, সত্যই আমি তোমাদিগের তত্ত্ব লইয়াছি, মিসরে তোমাদের প্রতি যাহা হইতেছে, তাহা দেখিয়াছি। 17আর আমি বলিয়াছি, আমি মিসরের কষ্ট হইতে তোমাদিগকে উদ্ধার করিয়া কনানীয়দের, হিত্তীয়দের, ইমোরীয়দের, পরিষীয়দের, হিব্বীয়দের ও যিবূষীয়দের দেশে, দুগ্ধমধুপ্রবাহী দেশে, লইয়া যাইব। 18তাহারা তোমার রবে মনোযোগ করিবে; তখন তুমি ও ইস্রায়েলের প্রাচীনবর্গ মিসরের রাজার নিকটে যাইবে, তাহাকে বলিবে, সদাপ্রভু, ইব্রীয়দের ঈশ্বর আমাদিগকে দেখা দিয়াছেন; অতএব বিনয় করি, আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে যজ্ঞ করণার্থে আমাদিগকে তিন দিনের পথ প্রান্তরে যাইবার অনুমতি দিউন। 19কিন্তু আমি জানি, মিসরের রাজা তোমাদিগকে যাইতে দিবে না, পরাক্রান্ত হস্ত দেখাইলেও দিবে না। 20পরন্তু আমি হস্ত বিস্তার করিব, এবং দেশের মধ্যে যে সমস্ত আশ্চার্য্য কার্য্য করিব, তদ্দ্বারা মিসরকে আঘাত করিব, তৎপরে সে তোমাদিগকে যাইতে দিবে। 21পরে আমি মিস্রীয়দের দৃষ্টিতে এই লোকদিগকে অনুগ্রহের পাত্র করিব; তাহাতে তোমরা যাত্রাকালে রিক্ত হস্তে যাইবে না; 22কিন্তু প্রত্যেক স্ত্রী আপন আপন প্রতিবাসিনী কিম্বা গৃহে প্রবাসিনী স্ত্রীর কাছে রৌপ্যালঙ্কার, স্বর্ণালঙ্কার অ বস্ত্র চাহিবে; এবং তোমরা তাহা আপন আপন পুত্রদের ও কন্যাদের গাত্রে পরাইবে; এইরূপে তোমরা মিস্রীয়দের দ্রব্য হরণ করিবে।

4

*(বা) আমি আছি, কারণ আছি। (বা) আমি যে হইব, সেই হইব।

1মোশি উত্তর করিলেন, কিন্তু দেখুন, তাহারা আমাকে বিশ্বাস করিবে না, ও আমার রবে মনোযোগ করিবে না, কেননা তাহারা বলিবে, সদাপ্রভু তোমাকে দর্শন দেন নাই। 2তখন সদাপ্রভু তাঁহাকে কহিলেন, তোমার হস্তে ওখানি কি? তিনি বলিলেন, যষ্টি। তখন তিনি কহিলেন, উহা ভূমিতে ফেল। 3পরে তিনি ভূমিতে ফেলিলে তাহা সর্প হইল; আর মোশি তাহার সম্মুখ হইতে পলায়ন করিলেন।

4তখন সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, ‘হস্ত বিস্তার করিয়া উহার লেজ ধর’,- তাহাতে তিনি হস্ত বিস্তার করিয়া ধরিলে উহা তাঁহার হস্তে যষ্টি হইল, 5-‘যেন তাহারা বিশ্বাস করে যে, সদাপ্রভু, তাহাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর, অব্রাহামের ঈশ্বর, ইস্‌হাকের ঈশ্বর যাকোবের ঈশ্বর তোমাকে দর্শন দিয়াছেন।’ 6পরে সদাপ্রভু তাঁহাকে আরও কহিলেন, তুমি তোমার হস্ত বক্ষঃস্থলে দেও; তিনি বক্ষঃস্থলে হস্ত দিলেন; পরে তাহা বাহির করিলে দেখ, তাঁহার হস্ত হিমের ন্যায় কুস্থযুক্ত হইয়াছে। 7পরে তিনি কহিলেন, ‘তোমার হস্ত আবার বক্ষঃস্থলে দেও’। তিনি আবার বক্ষঃস্থলে হস্ত দিলেন, পরে বক্ষঃস্থল হইতে হস্ত বাহির করিলে দেখ, তাহা পুনরায় তাঁহার মাংসের ন্যায় হইলো। 8‘তাহারা যদি তোমাকে বিশ্বাস না করে, এবং ঐ প্রথম চিহ্নেও যদি মনোযোগ না করে, তবে দ্বিতীয় চিহ্নে বিশ্বাস করিব। 9আর এই দুই চিহ্নে যদি বিশ্বাস না করে, ও তোমার রবে যদি মনোযোগ না করে, তবে তুমি নদীর কিছু জল লইয়া শুষ্ক ভূমিতে ঢালিয়া দিও; তাহাতে তুমি নদী হইতে যে জল তুলিবে, তাহা শুষ্ক ভূমিতে রক্ত হইয়া যাইবে।’ 10পরে মোশি সদাপ্রভুকে কহিলেন, হায় প্রভু! আমি বাকপটু নহি, ইহার পূব্বেও ছিলাম না, বা এই দাসের সহিত তোমার আলাপ করিবার পরেও নহি; কারণ আমি জড়মুখ ও জড়জিহব। 11সদাপ্রভু তাঁহাকে কহিলেন, মনুষ্যের মুখ কে নির্মাণ করিয়াছে? আর বোবা, বধি, মুক্তচক্ষু বা অন্ধকে কে নির্মাণ করে? 12আমি সদাপ্রভুই কি করি না? এখন তুমি যাও; আমি তোমার মুখের সহবর্ত্তী হইব, ও কি বলিতে হইবে, তোমাকে জানিইব। 13তিনি কহিলেন, হে আমার প্রভু, বিনয় করি, যাহার হাতে পাঠাইতে চাও, পাঠাও। 14তখন মোশির প্রতি সদাপ্রভুর ক্রোধ প্রজ্বলিত হইল; তিনি কহিলেন, তোমার ভ্রাতা লেবীয় হারোণ কি নাই? আমি জানি সে সুবক্তা; আরও দেখ, সে তোমার সহিত সাক্ষাৎ করিতে আসিতেছে; তোমাকে দেখিয়া হৃষ্টচিত্ত হইবে। 15তুমি তাহাকে বলিবে, ও তাঁহার মুখে বাক্য দিবে; এবং আমি তোমার মুখের ও তাহার মুখের সহবর্ত্তী হইব, ও কি করিতে হইব, তোমাদিগকে জানাইব। 16তোমার পরিবর্ত্তে সে লোকদের কাছে বক্তা হইবে; ফলতঃ সে তোমার মুখস্বরূপ হইবে, এবং তুমি তাহার ঈশ্বর স্বরূপ হইবে। 17আর তুমি এই যষ্টি হস্তে করিবে, ইহা দ্বারাই তোমাকে সে সকল চিহ্ন-কার্য্য করিতে হইবে।

মোশি মিসর দেশে ফিরিয়া গিয়া ফরৌণকে ঈশ্বরের কথা জানান।

18পরে মোশি আপন শ্বশুর যিথ্রোর নিকটে ফিরিয়া আসিয়া কহিলেন, বিনয় করি, মিসরে স্থিত আমার ভ্রাতৃগণের নিকটে ফিরিয়া যাইতে, এবং রাহারা এখনও জীবিত আছে কি না, তাহা দেখিতে আমাকে বিদায় দিউন।যিথ্রো মোশিকে কহিলেন, কুশলে যাও। 19আর সদাপ্রভু মিদিয়নে মোশিকে বলিলেন, তুমি মিসরে ফিরিয়া যাও; কেননা যে লোকেরা তোমার প্রাণনাশের চেষ্টায় ছিল, তাহারা সকলে মরিয়া গিয়াছে। 20তখন মোশি আপন স্ত্রী ও পুত্রদিগকে গর্দ্দভে চড়াইয়া মিসর দেশে ফিরিয়া গেলেন, এবং মোশি আপন হস্তে ঈশ্বরের সেই যষ্টি লইলেন। 21আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি যখন মিসরে ফিরিয়া যাইবে, দেখিও, আমি তোমার হস্তে যে সকল অদ্ভুদ কর্ম্মের ভার দিয়াছি, ফরৌণের সাক্ষাতে সে সকল করিও; কিন্তু আমি তাহার হৃদয় কঠিন করিব, সে লোকদিগকে ছাড়িয়া দিবে না। 22আর তুমি ফরৌণকে কহিবে, সদাপ্রভু এই কথা কহেন, ইস্রায়েল আমার পুত্র, আমার প্রথমজাত। 23আর আমি তোমাকে বলিয়াছি, আমার সেবা করণার্থে আমার পুত্রকে ছাড়িয়া দেও; কিন্তু তুমি তাঁহাকে ছাড়িয়া দিতে অসম্মত হইলে; দেখ, আমি তোমার পুত্রকে, তোমার প্রথমজাতকে, বধ করিব। 24পরে পথে পান্থশালায়সদাপ্রভু তাঁহার কাছে গিয়া তাঁহাকে বধ করিতে চেষ্টা করিলেন। 25তখন সিপ্রা একখানি পাথরের ছুরি লইয়া আপন পুত্রের ত্বক্‌ ছেদন করিলেন ও তাঁহার চরণের নিকটে তাহা ফেলিয়া দিয়া কহিলেন, আমার পক্ষে তুমি রক্তের বর। 26আর ঈশ্বর তাঁহাকে ছাড়িয়া দিলেন; তখন সিপ্পোরা কহিলেন, ত্বক্‌ছেদ সম্বন্ধে তুমি রক্তের বর। 27আর সদাপ্রভু হারোণকে বলিলেন, তুমি মোশির সহিত সাক্ষাৎ করিতে প্রান্তরে যাও। তাহাতে তিনি গিয়া ঈশ্বরের পর্ব্বতে তাঁহার দেখা পাইলেন, ও তাঁহাকে চুম্বন করিলেন। 28তখন মোশি প্রেরণকর্ত্তা সদাপ্রভুর সমস্ত বাক্য ও তাঁহার আজ্ঞাপিত সমস্ত চিহ্নের বিষয় হারোণকে জ্ঞাত করিলেন। 29পরে মোশি ও হারোণ গিয়া ইস্রায়েল-সন্তানদের সমস্ত প্রাচীনকে একত্র করিলেন। 30আর হারোণ মোশির প্রতি সদাপ্রভুর কথিত সমস্ত বাক্য তাহাদিগকে জ্ঞাত করিলেন, এবং তিনি লোকদের দৃষ্টিতে সেই সকল চিহ্ন-কার্য্য করিলেন। 31তাহাতে লোকের বিশ্বাস করিল; এবং ঈশ্বর সদাপ্রভু ইস্রায়েল-সন্তানদিগের তত্ত্বাবধান করিয়াছেন, ও তাহাদের দুঃখ দেখিয়াছেন, ইহা শুনিয়া তাহারা মস্তক নমনপূর্ব্বক প্রণিপাত করিল।

5

1পরে মোশি ও হারোণ গিয়া ফরৌণকে কহিলেন, সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথা কহেন, প্রান্তরে আমার উদ্দেশে উৎসব করণার্থে আমার প্রজাদিগকে ছাড়িয়া দেও। 2ফরৌণ কহিলেন, সদাপ্রভু কে, যে আমি তাহার কথা শুনিয়া ইস্রায়েলকে ছাড়িয়া দিব? আমি সদাপ্রভু কে জানি না, ইস্রায়েলকেও ছাড়িয়া দিব না। 3তাঁহারা কহিলেন, ইব্রীয়দের ঈশ্বর আমাদিগকে দর্শন দিয়াছেন; আমরা বিনয় করি, আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে যজ্ঞ করণার্থে আমাদিগকে তিন দিনের পথ প্রান্তরে যাইতে দিউন, পাছে তিনি মহামারী কি খড়গ দ্বারা আমাদিগকে আক্রমণ করেন।

4মিসর-রাজ তাঁহাদিগকে কহিলেন, ওহে মোশি ও হারোণ, তোমরা লোকদিগকে কেন তাহাদের কার্য্য হইতে নিবৃত্ত? যাও, তোমাদের ভার বহন কর গিয়া। 5ফরৌণ আরও কহিলেন, দেখ, দেশে লোক এখন অনেক, আর তোমরা তাহাদিগকে ভার বহন হইতে নিবৃত্ত করিতেছ। 6আর ফরৌণ সেই দিন লোকদের কার্য্যশাসক ও অধ্যক্ষগণকে এই আজ্ঞা দিলেন, 7তোমরা ইষ্টক নির্ম্মাণার্থে পূর্ব্বের মত এই লোকদিগকে আর পলাল দিও না; তাঁহারা গিয়া আপনারাই আপনাদের পলাল সংগ্রহ করুক। 8কিন্তু পূর্ব্বে তাহাদের যত ইষ্টক নির্ম্মাণের ভার ছিল, এখনও সেই ভার দেও; তাহার কিছুই কম করিও না; কেননা তাহারা অলস, এই জন্য ক্রন্দন করিয়া বলিতেছে, আমরা আপনাদের ঈশ্বরের উদ্দেশে যজ্ঞ করিতে যাই। 9সেই লোকদের উপরে আর কঠিন কার্য্য চাপান হউক, তাহারা তাহাতেই ব্যস্ত থাকুক, এবং মিথ্যা কথায় অবধান না করুক। 10আর লোকদের কার্য্যশাসকেরা ও অধ্যক্ষেরা বাহিরে গিয়া তাহাদিগকে কহিল, ফরৌণ এই কথা কহেন, আমি তোমাদিগকে পলাল দিব না। 11আপনারা যেখানে পাও, সেইখানে গিয়া পলাল সংগ্রহ কর; কিন্তু তোমাদের কার্য্য কিছুই কম হইবে না। 12তাহাতে লোকেরা পলালের চেষ্টায় নাড়া সংগ্রহ করিতে সমস্ত মিসর দেশে ছড়াইয়া পড়িল। 13আর কার্য্যশাসকেরা ত্বরা করাইয়া কহিল, পলাল পাইলে যেমন করিতে, তদ্রূপ এখনও তোমাদের কার্য্য, নিরূপিত দৈবসিক কর্ম্ম , প্রতিদিন সম্পূর্ণ কর। 14আর ফরৌণের কার্য্যশাসকেরা ইস্রায়েল-সন্তানদের যে অধ্যক্ষদিগকে তাহাদের উপরে রাখিয়াছিল, তাহারাও প্রহারিত হইল, আর বলিয়া দেওয়া হইল, তোমরা পূব্বের ন্যায় ইষ্টক গঠন বিষয়ে নিরূপিত কর্ম্ম আজকাল কে সম্পূর্ণ কর না? 15তাহাতে ইস্রায়েল-সন্তানদের অধ্যক্ষেরা আসিয়া ফরৌণের নিকটে ক্রন্দন করিয়া কহিল, আপনকার দাসদের সহিত আপনি এমন ব্যবহার কেন করিতেছেন? 16লোকেরা আপনকার দাসদিগকে পলাল দেয় না, তথাপি আমাদিগকে বলে ইষ্টক নির্ম্মাণ কর; আর দেখুন আপনকার এই দাসেরা প্রহারিত হয়, কিন্তু আপনকারই লোকদের দোষ। 17ফরৌণ কহিলেন, তোমরা অলস, তোমরা অলস, তাই বলিতেছ, আমরা সদাপ্রভুর উদ্দেশে যজ্ঞ করিতে যাই। 18এখন যাও, কর্ম্ম কর, তোমাদিগকে পলাল দেওয়া যাইবে না, তথাপি ইষ্টকের পূর্ণ সংখ্যা দিতে হইবে। 19তখন ইস্রায়েল-সন্তানদের অধ্যক্ষেরা দেখিল, তাহারা বিপাকে পড়িয়াছে, কারণ বলা হইয়াছিল, তোমরা প্রত্যেক দিনের কার্য্যের, নিরূপিত ইষ্টকের, কিছু কম করিতে পাইবে না। 20পরে ফরৌণের নিকট হইতে বাহির হইয়া আসিবার সময়ে তাহারা মোশির ও হারোণের সাক্ষাৎ পাইল, তাঁহারা পথে দাঁড়াইয়াছিলেন। 21তাহারা তাঁহাদিগকে কহিল, সদাপ্রভু তোমাদের প্রতি দৃষ্টি করিয়া বিচার করুন, কেননা তোমরা ফরৌণের দৃষ্টিতে ও তাঁহার দাসগণের দৃষ্টিতে আমাদিগকে দুর্গন্ধস্বরূপ করিয়া আমাদের প্রাণনাশার্থে তাহাদের হস্তে খড়গ দিয়াছ। 22পরে মোশি সদাপ্রভুর কাছে ফিরিয়া গিয়া তাঁহাকে কহিলেন, হে প্রভু, তুমি এই লোকদিগের অমঙ্গল কেন করিলে? আমাকে কেন পাঠাইলে? 23যে অবধি তোমার নামে কথা কহিতে ফরৌণের কাছে উপস্থিত হইয়াছি, সেই অবধি তিনি এই লোকদের অমঙ্গল করিতেছেন, আর তুমি আপন প্রজাদের উদ্ধার কিছুই কর নাই।

6

1তখন সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, আমি ফরৌণের প্রতি যাহা করিব, তাহা তুমি এখন দেখিবে; কেননা পরাক্রান্ত হস্ত দেখান হইলে সে লোকদিগকে ছাড়িয়া দিবে, এবং পরাক্রান্ত হস্ত দেখান হইলে আপন দেশ হইতে তাহাদিগকে দূর করিয়া দিবে। 2ঈশ্বর মোশির সহিত আলাপ করিয়া আরও কহিলেন, আমি যিহোবা [সদাপ্রভু]; 3আমি অব্রাহামকে, ইস্‌হাককে ও যাকোবকে ‘সর্ব্বশক্তিমান্‌ ঈশ্বর’ বলিয়া দর্শন দিতাম, কিন্তু আমার যিহোবা [সদাপ্রভু] নাম লইয়া তাহাদিগকে আমার পরিচয় দিতাম না।

4আর আমি তাহাদের সহিত এই নিয়ম স্থির করিয়াছি, আমি তাহদিগকে কনান দেশ দিব, যে দেশে তাহারা প্রবাস করিত, তাহাদের সেই প্রবাস-দেশ দিব। 5অধিকন্তু মিস্রীয়দের দ্বারা দাসত্বে নিযুক্ত ইস্রায়েল-সন্তানদের কাতরোক্তি শুনিয়া আমার সেই নিয়ম স্মরণ করিলাম। 6অতএব ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে বল, আমি যিহোবা, আমি তোমাদিগকে মুক্ত করিব। 7আর আমি তোমাদিগকে আপন প্রজা রূপে গ্রাহ্য করিব, ও তোমাদের ঈশ্বর হইব; তাহাতে তোমরা জানিতে পারিবে যে, আমি যিহোবা, তোমাদের ঈশ্বর, যিনি তোমাদিগকে মিস্রীয়দের ভারের নীচে হইতে বাহির কর্যা আনিতেছেন। 8আর আমি অব্রাহামকে, ইস্হাককে ও যাকোবকে দিবার জন্যে দেশের বিষয়ে হস্ত উঠাইয়াছ, সেই দেশে তোমাদিগকে লইয়া যাইব, ও তোমাদের অধিকারার্থে তাহা দিব; আমিই সদাপ্রভু। 9পরে মোশি ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে তদনুসারে কহিলেন, কিন্তু তাহারা মনের অধৈর্য্য ও কঠিন দাস্যকর্ম হেতু মোশির বাক্যে মনোযোগ করিল না। 10পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি যাও, 11মিসর-রাজ ফরৌণকে বল, যেন সে আপন দেশ হইতে ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে ছাড়িয়া দেয়। 12তখন মোশি সদাপ্রভুর সাক্ষাতে কহিলেন, দেখ, ইস্রায়েল-সন্তানেরা আমার বাক্যে মনোযোগ করিল না; তবে ফরৌণ কি প্রকারে শুনিবেন? আমি ত অচ্ছিন্নত্বক-ওষ্ঠ। 13আর সদাপ্রভু মোশির ও হারোণের সহিত আলাপ করিলেন, এবং ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে মিসর দেশ হইতে বাহির করিয়া আনিবার জন্য ইস্রায়েল-সন্তানদিগের নিকটে এবং মিসর-রাজ ফরৌণের নিকটে যাহা বক্তব্য, তাঁহাদিগকে আদেশ করিলেন।

মোশির পিতৃকুল

14এই সকল লোক আপন আপন পিতৃকুলের পতি। ইসরায়েলের জ্যৈষ্ঠ পুত্র রূবেণের সন্তান হ্নোক, পল্লু, হিষ্রোণ ও কর্ম্মি; ইহারা রূবেণের গোষ্ঠী। 15শিমিয়োনের পুত্র যিমূয়েল, যামীন, সোহর ও কনানীয় স্ত্রীর পুত্র শৌল; ইহারা শিমিয়োনের গোষ্ঠী। 16বংশাবলি অনুসারে লেবির পুত্রদের নাম গের্শোন, কহাৎ ও মরারি; লেবির বয়স একশত সাঁইত্রিশ বৎসর হইয়াছিল। 17আর আপন আপন গোষ্ঠী অনুসারে গের্শোনের সন্তান লিব্নি ও শিমিয়ি। 18কহাতের সন্তান অম্রম, যিষ্হর, হিব্রোণ ও উষীয়েল; কহাতের বয়স একশত তেত্রিশ বৎসর হইয়াছিল। 19মরারির সন্তান মহলি ও মুশি; ইহারা বংশাবলি অনুসারে লেবির গোষ্ঠী। 20আর অম্রম আপন পিসী যোকেবদকে বিবাহ করিলেন, আর ইনি তাঁহার জন্য হারোণকে ও মোশিকে প্রসব করিলেন। অম্রমের বয়স একশত সাঁইত্রিশ বৎসর হইয়াছিল। 21যিষ্হরের সন্তান কোরহ, নেফগ ও সিখ্রি। 22আর উষীয়েলের সন্তান মীশায়েল, ইল্সাফন ও সিখ্রি। 23আর হারোণ অম্মীনাদবের কন্যা নহোশনের ভগিনী ইলীশেবাকে বিবাহ করিলেন, আর ইনি তাঁহার জন্য নাদব, অবীহূ, ইলিয়াসর ও ঈখামরকে প্রসব করিলেন। 24আর কোরহের সন্তান অসীর, ইল্কানা ও অবীয়াসফ; ইহারা কোরহীয়দের গোষ্ঠী। 25আর হারোণের পুত্র ইলিয়াসর পূটীয়েলের এক কন্যাকে বিবাহ করিলে তিনি তাঁহার জন্য পীনহসকে প্রসব করিলেন; ইহারা লেবীয়দের গোষ্ঠী অনুসারে তাহাদের পিতৃকুলপতি ছিলেন। 26এই যে হারোণ ও মোশি, ইহাদিগকেই সদাপ্রভু কহিলেন, তোমরা ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে সৈন্যশ্রেণীক্রমে মিসর দেশ হইতে বাহির কর। 27ইহারাই ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে মিসর হইতে বাহির করিয়া আনিবার জন্য মিসর-রাজ ফরৌণের সহিত আলাপ করিলেন। ইহারা সেই মোশি ও হারোণ।

মিসরের উপরে প্রথম আঘাত।

28আর মিসর দেশে যে দিন সদাপ্রভু মোশির সহিত আলাপ করেন, 29সেই দিন সদাপ্রভু মোশিকে বলিলেন, আমিই সদাপ্রভু, আমি তোমাকে যাহা যাহা বলি, সে সকলই তুমি মিসর-রাজ ফরৌণকে বলিও। 30আর মোশি সদাপ্রভুর সাক্ষাতে বলিলেন, দেখ, আমি অচ্ছিন্নত্বক-ওষ্ঠ, ফরৌণ কি প্রকারে আমার কথা শুনিবেন?

7

1তখন সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, দেখ, আমি ফরৌণের কাছে তোমাকে ঈশ্বরসরূপ করিয়া নিযুক্ত করিলাম, আর তোমার ভ্রাতা হারোণ তোমার ভাববাদী হইবে। 2আমি তোমাকে যাহা যাহা আদেশ করি, সে সকলই তুমি বলিবে; এবং তোমার ভ্রাতা হারোণ ফরৌণকে তাহা বলিবে, জেন সে ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে আপন দেশ হইতে ছড়িয়া দেয়। 3কিন্তু আমি ফরৌণের হৃদয় কঠিন করিব, এবং মিসর দেশে আমি বহুসংখ্যক চিহ্ন ও অদ্ভুত লক্ষণ দেখাইব।

4তথাপি ফরৌণ তোমাদের কথায় মনোযোগ করিবে না; আর আমি মিসরে হস্তার্পণ করিয়া মহাশাস্ন দ্বারা মিসর দেশ হইতে আপন সৈন্যসামন্তকে, আপন প্রজা ইস্রায়েল-সন্তানগণকে, বাহির করিব। 5আমি মিসরের উপরে আপ্নহস্ত বিস্তার করিয়া মিস্রীয়দের মধ্য হইতে ইস্রায়েল-সন্তানগণকে বাহির করিয়া আনিলে, উহারা জানিবে, আমিই সদাপ্রভু। 6পরে মোশি ও হারোণ সেইরূপ করিলেন; সদাপ্রভুর আজ্ঞানুসারে কর্ম্ম করিলেন। 7ফরৌণের সহিত আলাপ করিবার সময়ে মোশির আশী ও হারোণের তিরাশী বৎসর বয়স হইয়াছিল। 8পরে সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে কহিলেন, ফরৌণ যখন তোমাদিগকে বলে, 9তোমরা আপনাদের পক্ষে কোন অদ্ভুত লক্ষণ দেখাও, তখন তুমি হারোণকে বলিও, তোমার যষ্টি লইয়া ফরৌণের সম্মুখে নিক্ষেপ কর; তাহাতে তাহা সর্প হইব। 10তখন মোশি ও হারোণ ফরৌণের নিকটে গিয়া সদাপ্রভুর আজ্ঞানুসারে কর্ম্ম করিলেন; হারোণ ফরৌণের ও তাঁহার দাসগণের সম্মুখে আপন যষ্টি নিক্ষেপ করিলেন, তাহাতে তাহা সর্প হইল। 11তখন ফরৌণও বিদ্বানদিগকে ও গুণীগণকে ডাকিলেন; তাহাতে তাহারা অর্থাৎ মিস্রীয় মন্ত্রবেত্তারাও আপনাদের মায়াবলে সেইরূপ করিল। 12ফলতঃ তাহারা প্রত্যেক আপন আপন যষ্টি নিক্ষেপ করিলে সে সকল সর্প হইল, কিন্তু হারোণের যষ্টি তাহাদের সকল যষ্টিকে গ্রাস করিল। 13আর ফরৌণের হৃদয় কঠিন হইল, তিনি তাঁহাদের কথায় মনোযোগ করিলেন না; যেমন সদাপ্রভু বলিয়াছিলেন। 14আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, ফরৌণের হৃদয় ভারী হইয়াছে; সে লোকদিগকে ছড়িয়া দিতে অস্বীকার করে। 15তুমি প্রাতঃকালে ফরৌণের নিকটে যাও; দেখ, সে জলের দিকে যাইবে; তুমি তাহার সঙ্গে দেখা করিতে নদীতীরে দাঁড়াইও; এবং যে যষ্টি সর্প হইয়া গিয়াছিল, তাহাও হস্তে গ্রহণ করিও। 16আর তাহাকে বলিও, সদাপ্রভু, ইব্রীয়দের ঈশ্বর আমাকে দিয়া, আপনাকে বলিয়া পাঠাইয়াছেন, তুমি আমার প্রজাদিগকে প্রান্তরে আমার সেবা করণার্থে ছড়িয়া দেও; কিন্তু দেখ, তুমি এ পর্য্যন্ত মনোযোগ কর নাই। 17সদাপ্রভু এই কথা কহেন, আমি যে সদাপ্রভু, তাহা তুমি ইহাতে জ্ঞাত হইবে; দেখ, আমি আপন হস্তস্থিত যষ্টি দ্বারা নদীর জলে প্রহার করিব, তাহাতে তাহা রক্ত হইয়া যাইবে; 18আর নদীতে যে সকল মৎস্য আছে, তাহারা মরিয়া যাইবে, এবং নদীতে দুর্গন্ধ হইবে; আর নদীর জল পান করিতে মিস্রীয়দের ঘৃণা জন্মিবে। 19পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, হারোণকে এই কথা বল, তুমি আপন যষ্টি লইয়া মিসরের জলের উপরে, দেশের নদী, খাল, বিল ও সমস্ত জলাশয়ের উপরে তোমার জস্ত বিস্তার কর; তাহাতে সে সকল জল রক্ত হইবে, এবং মিসর দেশের সর্ব্বত্র কাষ্ঠময় ও প্রস্তরময় পাত্রেও রক্ত হইবে। 20তখন মোশি ও হারোণ সদাপ্রভুর আজ্ঞানুসারে সেইরূপ করিলেন, তিনি যষ্টি তুলিয়া ফরৌণের ও তাঁহার দাসগণের সম্মুখে নদীর জলে প্রহার করিলেন; তাহাতে নদীর সমস্ত জল রক্ত হইল। 21আর নদীর মৎস্য সকল মরিল, ও নদীতে দুর্গন্ধ হইল; তাহাতে মিস্রীয়েরা নদীর জল পান করিতে পারিল না, এবং মিসর দেশের সর্ব্বত্র রক্ত হইল। 22আর মিস্রীয় মন্ত্রবেত্তারাও আপনাদের মায়াবলে সেইরূপ করিল; তাহাতে ফরৌণের হৃদয় কঠিন হইল, এবউং তিনি তাঁহাদের কথায় মনোযোগ করিলেন না; যেমন সদাপ্রভু বলিয়াছিলেন। 23পরে ফরৌণ আপন গৃহে ফিরিয়া গেলেন, ইহাতেও মনোযোগ করিলেন না। 24আর মিস্রীয়েরা সকলে নদীর জল পান করিতে না পারাতে জলের চেষ্টায় নদীর আশে পাশে চারিদিকে খনন করিল।

8

দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ আঘাত।

1নদীতে সদাপ্রভুর আঘাত করিবার প্র সাত দিন গত হইল। পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি ফরৌণের নিকটে যাও, তাহাকে বল, সদাপ্রভু এই কথা কহেন, আমার সেবা করণার্থে আমার প্রজাদিগকে ছাড়িয়া দেও। 2যদি ছাড়িয়া দিতে অসম্মত হও, তবে দেখ, আমি ভেক দ্বারা তোমার সমস্ত প্রদেশকে আঘাত করিব। 3নদী ভেকে পরিপূর্ণ হইবে; সে সকল ভেক উঠিয়া তোমার গৃহে, শয়নাগারে ও শয্যায়, এবং রমার দাসগণের গৃহে, তোমার প্রজাদের মধ্যে, তোমার তুন্দুরে ও তোমার আটা ছানিবার কাঠুয়াতে প্রবেশ করিবে;

4আর তোমার, তোমার প্রজাদের ও দাসগণের অঙ্গে ভেক উঠিবে। 5পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, হারোণকে বল, তুমি নদী, খাল ও বিল সকলের উপরে ভেক আনাও। 6তাহাতে হারোণ মিসরের সকল জলের উপরে আপন হস্ত বিস্তার করিলে ভেকেরা উঠিয়া মিসর দেশ ব্যাপিল। 7আর মন্ত্রবেত্তারাও মায়াবলে সেইরূপ করিয়া মিসর দেশের উপরে ভেক আনিল। 8পরে ফরৌণ মোশি ও হারোণকে ডাকাইয়া কহিলেন, সদাপ্রভুর কাছে বিনতি কর, জেন তিনি আমা হইতে ও আমার প্রজাদিগের হইতে এই সকল ভেক দূর করিয়া দেন, তাহাতে আমি লোকদিগকে ছাড়িয়া দিব, যে তাহারা সদাপ্রভুর উদ্দেশে যজ্ঞ করিতে পারে। 9তখন মোশি ফরৌণকে করিলেন, আমার উপরে দর্প করিয়া বলুন; ভেক সকল যেন আপনা হইতে ও আপনার গৃহ সকল হইতে উচ্ছিন্ন হয়, কেবল নদীতে থাকে, আপনার ও আপনার দাসগণের ও প্রজা সকলের নিমিত্তে কোন সময়ের জন্য এমন বিনতি করিব? তিনি কহিলেন, কল্যকার জন্য। 10তখন মোশি কহিলেন, আপনার বাক্যানুসারেই হউক, যেন আপনি জানিতে পারেন যে, আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর তুল্য কেহ নাই; 11ভেকেরা আপনা হইতে ও আপনার গৃহ, দাস ও প্রজা সকল হইতে দূর হইয়া কেবল নদীতেই থাকিবে। 12পরে মোশি ও হারোণ ফরৌণের নিকট হইতে বাহিরে গেলেন, এবং মোশি ফরৌণের বিরুদ্ধে যে সকল ভেক আনিয়াছিলেন, সেই সকলের বিষয়ে সদাপ্রভুর কাছে ক্রন্দন করিলেন। 13আর সদাপ্রভু মোশির বাক্যানুসারে করিলেন, তাহাতে গৃহে, প্রাঙ্গণে ও ক্ষেত্রে সকল ভেক মরিল। 14তখন লোকেরা সে সকল একত্র করিয়া ঢিবি করিলে দেশে দুর্গন্ধ হইল। 15কিন্তু ফরৌণ যখন দেখিলেন, নিবৃত্তি হইল, তখন আপন হৃদয় ভারী করিলেন, তাঁহাদের বাক্যে মনোযোগ করিলেন না; যেমন সদাপ্রভু বলিয়াছিলেন। 16পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, হারোণকে বল, তুমি আপন যষ্টি বিস্তার করিয়া ভূমির ধূলিতে প্রহার কর, তাহাতে সমুদয় মিসর দেশে পিশু হইবে। 17তখন তাঁহারা সেইরূপ করিলেন; হারোণ আপন যষ্টিসহ হস্ত বিস্তার করিয়া ভূমির ধূলিতে প্রহার করিলেন, তাহাতে মনুষ্যে ও পশুতে পিশু হইল, মিসর দেশের সর্ব্বত্র ভূমির সকল ধূলি পিশু হইয়া গেল। 18তখন মন্ত্রবেত্তারা আপনাদের মায়াবলে পিশু উৎপন্ন করিবার জন্য সেইরূপ করিল বটে, কিন্তু পারিল না, আর মনুষ্যে ও পশুতে পিশু হইল। 19তখন মন্ত্রবেত্তারা ফরৌণকে কহিল, এ ঈশ্বরের অঙ্গুলি। তথাপি ফরৌণের হৃদয় কঠিন হইল, তিনি তাঁহাদের কথায় মনোযোগ করিলেন না; যেমন সদাপ্রভু বলিয়াছিলেন। 20আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি প্রত্যূষে ইথিয়া গিয়া ফরৌণের সম্মুখে দাঁড়াও; দেখ, সে জলের কাছে আসিবে; তুমি তাহাকে এই কথা বল, সদাপ্রভু এই কথা কহেন, আমার সেবা করণার্থে আমার প্রজাদিগকে ছাড়িয়া দেও। 21যদি আমার প্রজাদিগকে ছাড়িয়া না দেও, তবে দেখ, আমি তোমাতে, তোমার দাসগণে, প্রজাদিগেতে ও গৃহ সকলে দংশকের ঝাঁক প্রেরণ করিব; মিস্রীয়দের গৃহ সকল, এমন কি, তাঁহাদের বাসভূমিও দংশকে পরিপূর্ণ হইবে। 22কিন্তু আমি সেই দিন আমার প্রজাদের নিবাসস্থান গোশন প্রদেশ ভিন্ন করিব; সে স্থানে সংশক হইবে না; যেন তুমি জানিতে পার যে, পৃথিবীর মধ্যে আমিই সদাপ্রভু। 23আমি আমার প্রজাদের মধ্যে প্রভেদ করিব; কল্য এই চিহ্ন হইব। 24পরে সদাপ্রভু সেইরূপ করিলেন, ফরৌণের ও তাঁহার দাসগণের গৃহে দংশকের বৃহৎ ঝাঁক উপস্থিত হইল; তাহাতে সমস্ত মিসর দেশে দংশকের ঝাঁক হেতু দেশ উৎসন্ন হইল। 25তখন ফরৌণ মোশি ও হারোণকে ডাকাইয়া কহিলেন, তোমারা যাও, দেশের মধ্যে তোমাদের ঈশ্বরের উদ্দেশে যজ্ঞ কর। 26মোশি কহিলেন, তাহা করা উপযুক্ত নয়, কেননা আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে মিস্রীয়দের ঘৃণাজনক বলিদান করিতে হইবে; দেখুন, মিস্রীয়দের সাক্ষাতে তাঁহাদের ঘৃণাজনক বলিদান করিলে তাহারা কি আমাদিগকে প্রস্তরাঘাতে বধ করিবে না? 27আমরা তিন দিনের পথ প্রান্তরে গিয়া, আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যে আজ্ঞা দিবেন, তদনুসারে তাঁহার উদ্দেশে যজ্ঞ করিব। 28ফরৌণ কহিলেন, আমি তোমাদিগকে ছাড়িয়া দিতেছি, তোমরা প্রান্তরে গিয়া আপন ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে যজ্ঞ কর; কিন্তু বহুদূর যাইও না; তোমরা আমার জন্য বিনতি কর। 29তখন মোশি কহিলেন,দেখুন, আমি আপনকার নিকট হইতে গিয়া সদাপ্রভুর কাছে বিনতি করিব,তাহাতে ফরৌণের, তাঁহার দাসগণের ও তাঁহার প্রজাদের নিকট হইতে কল্য দংশকের ঝাঁক সকল দূরে যাইবে; কিন্তু সদাপ্রভুর উদ্দেশে যজ্ঞ করণার্থে লোকদিগকে ছাড়িয়া দিবার বিষয়ে ফরৌণ পুনর্ব্বর প্রবঞ্চনা না করুন। 30পরে মোশি ফরৌণের নিকট হইতে বাহির গিয়া সদাপ্রভুর কাছে বিনতি করিলেন। 31আর সদাপ্রভু মোশির বাক্যানুসারে করিলেন; ফরৌণ, তাঁহার দাসগণ ও প্রজা সকল হইতে দংশকের সমস্ত ঝাঁক দূর করিলেন; একটিও অবশিষ্ট রহিল না। 32আর এবারও ফরৌণ আপন হৃদয় ভারী করিলেন, লোকদিগকে ছড়িয়া দিলেন না।

9

পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম আঘাত।

1পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি ফরৌণের নিকটে গিয়া তাহাকে বল, সদাপ্রভু, ইব্রীয়দের ঈশ্বর, এই কথা কহেন, আমার সেবা করণার্থে আমার প্রজাদিগকে ছাড়িয়া দেও। 2যদি তাহাদিগকে ছাড়িয়া দিতে অসম্মত হও, এখনও বাধা দেও, 3তবে দেখ, ক্ষেত্রস্থ তোমার পশুধনের উপর, অশ্বদের, গর্দ্দভদের, উষ্ট্রদের, গোপালের ও মেষপালের উপর সদাপ্রভুর হস্ত রহিয়াছে; ভারী মহামারী হইবে।

4কিন্তু সদাপ্রভু ইস্রায়েলের পশুতে ও মিসরের পশুতে প্রভেদ করবেন; তাহাতে ইস্রায়েল-সন্তানদের কোন পশু মরিবে না। 5আর সদাপ্রভু সময় নিরূপণ করিয়া কহিলেন, কল্য সদাপ্রভু দেশে ওই কর্ম্ম করিবেন। 6পরদিন সদাপ্রভু তাহাই করিলেন, তাহাতে মিসরের সকল পশু মরিল, কিন্তু ইস্রায়েল-সন্তানদের পশুদের মধ্যে একটিও মরিল না। 7তখন ফরৌণ লোক পাঠাইলেন, আর দেখ, ইস্রায়েলের একটি পশুও মরে নাই; তথাপি ফরৌণের হৃদয় ভারী হইল, এবং তিনি লোকদিগকে ছাড়িয়া দিলেন না। 8পরে সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে কহিলেন, রোমরা মুষ্টি পূর্ণ করিয়া ভাটীর ভস্ম লওও, পরে মোশি ফরৌণের সাক্ষাতে তাহা আকাশের দিকে ছড়াইয়া দিউক। 9তাহা সমস্ত মিসর দেশব্যাপী সূক্ষ্ম ধূলি হইয়া মিসর দেশের সর্ব্বত্র মনুষ্য ও পশুদের গাত্রে ক্ষতযুক্ত স্ফোটক জন্মাইবে। 10তখন তাঁহারা ভাটীর ভস্ম লইয়া ফরৌণের সম্মুখে দাঁড়াইলেন, এবং মোশি আকাশের দিকে তাহা ছড়াইয়া দিলেন, তাহাতে মনুষ্যদের ও পশুদের গাত্রে ক্ষতযুক্ত স্ফোটক হইল। 11সেই স্ফোটক প্রযুক্ত মন্ত্রবেত্তাদের ও সমস্ত মিস্রীয়ের গাত্রে স্ফোটক জন্মিল। 12আর সদাপ্রভু ফরৌণের হৃদয় কঠিন করিলেন; তিনি তাঁহাদের কথায় মনোযোগ করিলেন না, যেমন সদাপ্রভু মোশিকে বলিয়াছিলেন। 13পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি প্রত্যুষে উঠিয়া ফরৌণের সম্মুখে দাঁড়াইয়া তাহাকে এই কথা বলিও, সদাপ্রভু, ইব্রীয়দের ঈশ্বর, এই কথা কহেন, আমার সেবা করণার্থে আমার প্রজাদিগকে ছাড়িয়া দেও; 14নতুবা এই বার আমি রমার হৃদয়ের বিরুদ্ধে এবং তোমার দাসগণের ও প্রজাদের মধ্যে আমার সর্ব্বপ্রকার আঘাত প্রেরণ করিব; যেন তুমি জানিতে পার, সমস্ত পৃথিবীতে আমার তুল্য কেহই নাই। 15কেননা এতদিন আমি আপন হস্ত ভইসটার করিয়া মহামারী দ্বারা তোমাকে ও তোমার প্রজাদিগকে আঘাত করিতে পারতাম; তাহা করিলে তুমি পৃথিবী হইতে উচ্ছিন্ন হইতে। 16কিন্তু বাস্তবিক আমি এই জন্যই তোমাকে স্থাপন করিয়াছি, যেন আমার প্রভাব তোমাকে দেখাই ও সমস্ত পৃথিবীতে আমার নাম কীর্ত্তিত হয়। 17এখনও তুমি আমার প্রজাগণের উপর দর্প করিয়া তাহাদিগকে ছাড়িয়া দিতে চাহিতেছ না। 18দেখ, মিসরের পত্তনাবধি অদ্য পর্য্যন্ত যাদৃশ কখন হয় নাই, এমন অতিশয় ভারী শিলাবৃষ্টি আমি কল্য এই সময়ে বর্ষাইব। 19অতএব তুমি এমন লোক পাঠাইয়া ক্ষেত্রে তোমার পশু ও আর যাহা কিছু আছে, সে সকল ত্বরায় আনাও; যে মনুষ্য ও পশু গৃহমধ্যে আনীত না হইয়া ক্ষেত্রে থাকিবে, তাঁহাদের উপরে শিলাবৃষ্টি হইবে, আর তাহারা মরিবে। 20তখন ফরৌণ দাসগণের মধ্যে যে কেহ সদাপ্রভুর বাক্যে ভীত হইল, সে শীঘ্র আপন দাস ও পশুদিগকে গৃহমধ্যে আনিল; 21আর যে কেহ সদাপ্রভুর বাক্যে মনোযোগ করিল না, সে আপন দাস ও পশুদিগকে ক্ষেত্রে থাকিতে দিল। 22পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি আকাশের দিকে আপন হস্ত বিস্তার কর, তাহাতে মিসর দেশের সর্ব্বত্র শিলাবৃষ্টি হইবে, মিসর দেশের মনুষ্য, পশু ও ক্ষেতস্থ সমস্ত ওষধির উপরে তাহা হইবে। 23পরে মোশি আপন যষ্টি আকাশের দিকে বিস্তার করিলে সদাপ্রভু মেঘগর্জ্জন করাইলেন, ও শিলাবৃষ্টি বর্ষাইলেন, এবং অগ্নি ভূমির উপরে বেগে আসিয়া পড়িল; এইরূপে সদাপ্রভু মিসর দেশে শিলাবৃষ্টি বর্ষাইলেন। 24তাহাতে শিলা এবং শিলার সহিত মিশ্রিত অগ্নিবৃষ্টিও হওয়াতে তাহা অতি দুঃসহ হইল; এরূপ শিলাবৃষ্টি মিসর দেশে রাজ্য স্থাপনাবধি কখনও হয় নাই। 25তাহাতে সমস্ত মিসর দেশের ক্ষেত্রস্থ মনুষ্য ও পশু সকলই শিলা দ্বারা আহত হইল, ও ক্ষেত্রের সমস্ত ওষধি শিলাবৃষ্টি দ্বারা আহত হইল, আর ক্ষেত্রের সমস্ত বৃক্ষ ভগ্ন হইল। 26কেবল ইস্রায়েল-সন্তানদের বাসস্থান গোশন প্রদেশে শিলাবৃষ্টি হইল না। 27পরে ফরৌণ লোক পাঠাইয়া মোশি ও হারোণকে ডাকাইয়া কহিলেন, এইবার আমি পাপ করিয়াছি; সদাপ্রভু ধর্ম্মময়, কিন্তু আমি ও আমার প্রজারা দোষী। 28তোমরা সদাপ্রভুর কাছে বিনতি কর; দেবগর্জ্জন ও শিলাবৃষ্টি যথেষ্ট হইয়াছে? আমি তোমাদিগকে ছাড়িয়া দিব, তোমাদের আর বিলম্ব হইবে না। 29তখন মোশি তাঁহাকে কহিলেন, আমি নগর হইতে বাহিরে গিয়াই সদাপ্রভুর দিকে অঞ্জলি বিস্তার করিব, তাহাতে মেঘগর্জ্জন নিবৃত্ত হইবে ও শিলাবৃষ্টি আর হইবে না, যেন আপনি জানিতে পারেন যে, পৃথিবী সদাপ্রভুরই। 30কিন্তু আমি জানি, আপনি ও আপনার দাসগণ, আপনারা এখনও সদাপ্রভু ঈশ্বর হইতে ভীত হইবেন না। 31তৎকালে মসিনা ও যব সকলই আহত হইল, কেননা যব শীষযুক্ত ও মসিনা পুষ্পিত হইয়াছিল। 32কিন্তু গোম ও জনার বড় না হওয়াতে আহত হইল না। 33পরে মোশি ফরৌণের নিকট হইতে নগরের বাহিরে গিয়া সদাপ্রভুর দিকে অঞ্জলি বিস্তার করিলেন, তাহাতে মেঘগর্জ্জন ও শিলাপতন নিবৃত্ত হইল, এবং ভূমিতে আর জলধারা বর্ষিল না। 34তখন বৃষ্টি, শিলাপাত ও মেঘগর্জ্জন নিবৃত্ত দেখিয়া ফরৌণ আরও পাপ করিলেন, তিনি ও তাঁহার দাসগণ আপন আপন হৃদয় ভারী করিলেন। 35আর ফরৌণের হৃদয় কঠিন হওয়াতে তিনি ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে যাইতে দিলেন না; যেমন সদাপ্রভু মোশি দ্বারা বলিয়াছিলেন।

10

অষ্টম ও নবম আঘাত

1পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি ফরৌণের নিকটে যাও; কেননা আমি তাহার ও তাহার দাসগণের হৃদয় ভারী করিলাম, যেন আমি তাহাদের মধ্যে আমার এই সকল চিহ্ন প্রদর্শন করি, 2এবং আমি মিস্রীয়দের প্রতি যাহা যাহা করিয়াছি, ও তাঁহাদের মধ্যে আমার যে যে চিহ্ন-কার্য্য করিয়াছি, তাহার বৃত্তান্ত যেন তুমি আপন পুত্রের ও পৌত্রের কর্ণগোচরে বল, এবং আমি সদাপ্রভু, ইহা তোমরা জ্ঞাত হও। 3তখন মোশি ও হারোণ ফরৌণের নিকটে গিয়া কহিলেন, সদাপ্রভু, ইব্রীয়দের ঈশ্বর, এই কথা কহেন, তুমি আমার সম্মুখে নম্র হইতে কত কাল অসম্মত থাকিবে? আমার সেবা করণার্থে আমার প্রজাদিগকে ছাড়িয়া দেও।

4কিন্তু যদি আমার প্রজাদিগকে ছড়িয়া দিতে অসম্মত হওঁ, তবে দেখ, আমি কল্য তোমার সীমাতে পঙ্গপাল আনিব। 5তাহারা ভূতল এমন আচ্ছন্ন করিবে যে, কেহ ভূমি দেখিতে পাইবে না; এবং শিলাবৃষ্টি হইতে রক্ষিত ও অবশিষ্ট তোমাদের যাহা কিছু আছে, তাহা তাহারা খাইয়া ফেলিবে, এবং ক্ষেত্রোৎপন্ন তোমাদের বৃক্ষ সকলও খাইবে। 6আর তোমার গৃহ ও তোমার দাসের গৃহ ও সমস্ত মিস্রীয় লোকের গৃহ সকল পরিপূর্ণ হইবে; পৃথিবীতে তোমার পিতৃপুরুষদের ও তাঁহাদের পিতৃপুরুষদের জন্মাবধি অদ্য পর্য্যন্ত তদ্রূপ দেখা যায় নাই। তখন তিনি মুখ ফিরাইয়া ফরৌণের নিকট হইতে বাহিরে গেলেন। 7আর ফরৌণের দাসগণ তাঁহাকে কহিল, এ ব্যেক্তি কত কাল আমাদের ফাঁদ হইয়া থাকিবে? এই লোকদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর করণার্থে ইহাদিগকে ছাড়িয়া দিউন; আপনি কি এখনও বুঝিতেছেন না যে, মিসর দেশ ছারখার হইল? 8তখন মোশি ও হারোণ ফরৌণের নিকটে পুনর্ব্বার আনীত হইলেন; আর তিনি তাহাদিগকে কহিলেন, যাও, তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সেবা কর গিয়া; কিন্তু কে কে যাইবে? 9মোশি কহিলেন, আমরা আমাদের শিশু ও বৃদ্ধদিগকে, আমাদের পুত্রকন্যাগণকে এবং গোমেষাদি পালও সঙ্গে লইয়া যাইব, কেননা সদাপ্রভুর উদ্দেশে আমাদের উৎসব করিতে হইবে। 10তখন ফরৌণ তাহাদিগকে কহিলেন, সদাপ্রভু তোমাদের সেইরূপ সহবর্ত্তী হউন, যেরূপে আমি তোমাদিগকে ও তোমাদের শিশুগণকে ছাড়িয়া দিব; দেখ, অনিষ্ট তোমাদের সম্মুখে। 11তাহা হইবে না; তোমাদের পুরুষেরা গিয়া সদাপ্রভুর সেবা করুক; কারণ তোমরা ত ইহাই চাহিতেছ। পরে তাঁহারা ফরৌণের সম্মুখ হইতে দূরীকৃত হইলেন। 12পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি মসর দেশের উপরে পঙ্গপালের জন্য হস্ত বিস্তার কর, তাহাতে তাহারা মিসর দেশে আদিয়া ভূমির সমস্ত ওষধি খাইবে, শিলাবৃষ্টি যাহা কিছু রাখিয়া গিয়াছে, সকলই খাইবে। 13তখন মোশি মিসর দেশের উপরে আপন যষ্টি বিস্তার করিলেন, তাহাতে সদাপ্রভু সমস্ত দিন ও সমস্ত রাত্রি দেশে পূর্ব্বীয় বায়ূ বহাইলেন; আর প্রাতঃকাল হইলে পূর্ব্বীয় বায়ূ পঙ্গপাল উঠাইয়া আনিল। 14তাহাতে সমুদয় মিসর দেশের উপরে পঙ্গপাল ব্যাপ্ত হইল; ও মিসরের সমস্ত সীমাতে পঙ্গপাল পড়িল। তাহা অত্যন্ত ভায়ানক হইল; তদ্রূপ পঙ্গপাল পূর্ব্বে কখনও হয় নাই, এবং পরেও কখনও হইবে না। 15তাহারা সমস্ত ভূমিতল আচ্ছন্ন করিল, তাহাতে দেশ অন্ধকার হইল, এবং ভূমির যে ওষধি ও বৃক্ষাদির যে ফল শিলাবৃষ্টি হইতে রক্ষা পাইয়াছিল, সে সমস্ত তাহারা খাইয়া ফেলিল; সমস্ত মিসর দেশে বৃক্ষ বা ক্ষেত্রের ওষধি, হরিদ্বর্ণ কিছুই রহিল না। 16তখন ফরৌণ সত্বর মোশি ও হারোণকে ডাকাইয়া কহিলেন, আমি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে ও তোমাদের বিরুদ্ধে পাপ করিয়াছি। 17বিনয় করি, কেবল এই বার আমার পাপ ক্ষমা কর, এবং আমা হইতে এই কালসরুপকে দূর করিবার জন্য তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে বিনতি কর। 18তখন তিনি ফরৌণের নিকট হইতে বাহিরে গিয়া সদাপ্রভুর কাছে বিনতি করিলেন; 19আর সদাপ্রভু অতি প্রবল পশ্চিম বায়ূ আনিলেন; তাহা পঙ্গপালদিগকে উঠাইয়া লইয়া সূফসাগরে তাড়াইয়া দিল, তাহাতে মিসরের সমস্ত সীমাতে একটাও পঙ্গপাল থাকিল না। 20কিন্তু সদাপ্রভু ফরৌণের হৃদয় কঠিন করিলেন, আর তিনি ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে ছাড়িয়া দিলেন না। 21পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি আকাশের দিকে হস্ত বিস্তার কর; তাহাতে মিসর দেশে অন্ধকার হইবে, ও সেই অন্ধকার স্পর্শনীয় হইবে। 22পরে মোশি আকাশের দিকে হস্ত বিস্তার করিলে তিন দিন পর্য্যন্ত সমস্ত মিসর দেশে গাঢ় অন্ধকার হইল। 23তিন দিন পর্য্যন্ত কেহ কাহাকেও দেখিতে পাইল না, এবং কেহ আপন স্থান হইতে উঠিল না; কিন্তু ইস্রায়েল-সন্তান সকলের নিমিত্তে তাহাদের বাসস্থানে আলো ছিল। 24তখন ফরৌণ মোশিকে ডাকাইয়া কহিলেন, যাও, সদাপ্রভুর সেবা কর গিয়া; কেবল তোমাদের মেষপাল ও গোপাল থাকুক; তোমাদের শিশুগণও তোমাদের সঙ্গে যাউক। 25মোশি কহিলেন, আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসর্গ করণার্থে আমাদের হস্তে বলি ও হোমদ্রব্য সমর্পণ করা আপনার কর্ত্তব্য। 26আমাদের সহিত আমাদের পশুগণও যাইবে, একটী খুরও অবশিষ্ট থাকিবে না; কেননা আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সেবার্থে তাঁহাদের মধ্য হইতে বলি লইতে হইবে এবং কি কি দিয়া সদাপ্রভুর সেবা করিব, তাহা সে স্থানে উপস্থিত না হইলে আমরা জানিতে পারি না। 27কিন্তু সদাপ্রভু ফরৌণের হৃদয় কঠিন করিলেন, আর তিনি তাহাদিগকে ছাড়িয়া দিতে সম্মত হইলেন না। 28তখন ফরৌণ তাঁহাকে কহিলেন, আমার সম্মুখ হইতে দূর হও; সাবধান, আমার মুখ আর কখনও দেখিও না; কেননা যে দিন আমার মুখ দেখিবে, সেই দিন মরিবে। 29মোশি কহিলেন, ভালই বলিয়াছেন, আমি আপনার মুখ আর কখনও দেখিব না।

11

1আর সদাপ্রভু মোশিকে বলিলেন, আমি ফরৌণের ও মিসরের উপরে আর এক উৎপাত আনিব, তৎপরে সে তোমাদিগকে এ স্থান হইতে ছাড়িয়া দিবে, এবং ছাড়িয়া দিবার সময়ে তোমাদিগকে নিশ্চয়ই এখান জইতে একেবারে তাড়াইয়া দিবে। 2তুমি লোকদের কর্ণগোচরে বল, আর প্রত্যেক পুরুষ আপন আপন প্রতিবাসী হইতে, ও প্রত্যেক স্ত্রী আপন আপন প্রতিবাসিনী হইতে রৌপ্যালঙ্কার ও স্বর্ণালঙ্কার চাহিয়া লউক। 3আর সদাপ্রভু মিস্রীয়দের দৃষ্টিতে লোকদিগকে অনুগ্রহের পাত্র করিলেন। আবার মিসর দেশে মোশি ফরৌণের দাসদের ও প্রজাদের দৃষ্টিতে অতি মহান্ ব্যক্তি হইয়া উঠিলেন।

4মোশি আরও কহিলেন, সদাপ্রভু এই কথা কহেন, আমি অর্দ্ধরাত্রে মিসরের মধ্য দিয়া গমন করিব। 5তাহাতে সিংহাসনে উপবিষ্ট ফরৌণের প্রথমজাত অবধি যাঁতা পেষণকারিণী দাসীর প্রথমজাত পর্য্যন্ত মিসর দেশস্থিত সকল প্রথমজাত মরিবে। 6আর যাদৃশ কখনও হয় নাই ও হইবে না, সমস্ত মিসর দেশে এমন মহাক্রন্দন হইবে। 7কিন্তু সমস্ত ইস্রায়েল-সন্তানের মধ্যে মনুষ্যের কি পশুর বিরুদ্ধে একটা কুকুরও জিহ্বা দোলাইবে না, যেন আপনারা জানিতে পারেন যে, সদাপ্রভু মিস্রীয়দিগেতে ও ইস্রায়েলে প্রভেদ করেন। 8আর আপনারা এই দাসেরা সকলে আমার নিকটে নামিয়া আসিবে, ও প্রণিপাত করিয়া আমকে বলিবে, তুমি ও তোমার অনুগামী সকল প্রজা বাহির হও; তাহার পর আমি বাহির হইব। তখন তিনি মহা ক্রোধভরে ফরৌণের নিকট হইতে বাহিরে গেলেন। 9আর সদাপ্রভু মোশিকে বলিয়াছিলেন, ফরৌণ তোমাদের কথায় মনোযোগ করিবে না, যেন মিসর দেশে আমার অদ্ভুত লক্ষণ বহুসংখ্যক হয়। 10ফলে মোশি ও হারোণ ফরৌণের সাক্ষাতে এই সকল অদ্ভুত কর্ম্ম করিয়াছিলেন; আর সদাপ্রভু ফরৌণের হৃদয় কঠিন করিলেন, আর তিনি আপন দেশ হইতে ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে ছাড়িয়া দিলেন না।

12

নিস্তারপর্ব্ব স্থাপন। ঈশ্বরীয় দশম আঘাত।

1আর মিসর দেশে সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে কহিলেন, 2এই মাস তোমাদের আদি মাস হইবে; বৎসরের সকল মাসের মধ্যে প্রথম হইবে। 3সমস্ত ইস্রায়েল-মন্ডলীকে এই কথা বল, তোমরা এই মাসের দশম দিনে তোমাদের পিতৃকুলানুসারে প্রত্যেক গৃহস্থ এক এক বাটীর জন্য এক একটি মেষশাবক লইবে।

4আর মেষশাবক ভোজন করিতে যদি কাহারও পরিজন অল্প হয়, তবে সে ও তাহার গৃহের নিকটবর্ত্তী প্রতিবাসী প্রানিগনের সংখ্যানুসারে একটি মেষশাবক লইবে। তোমরা এক এক জনের ভোজনশক্তি অনুসারে মেষশাবকের জন্য গণনা করিবে। 5তোমাদের সেই শাবকটি নির্দ্দোষ ও প্রথম বৎসরের পুংশাবক হইবে; তোমরা মেষপালের কিম্বা ছাগপালের মধ্য হইতে তাহা লইবে; 6আর এই মাসের চতুর্দ্দশ দিন পর্য্যন্ত রাখিবে; পরে ইস্রায়েল-মন্ডলীর সমস্ত সমাজ সন্ধ্যাকালে সেই শাবকটি হনন করিবে। 7আর তাহারা তাহার কিঞ্চিৎ রক্ত লইবে, এবং যে যে গৃহমধ্যে মেষশাবক ভোজন করিবে, সেই সেই গৃহের দ্বারের দুই বাজুতে ও কপালীতে তাহা লেপিয়া দিবে। 8পরে সেই রাত্রিতে তাহার মাংস ভোজন করিবে; অগ্নিতে দগ্ধ করিয়া তাড়ীশূন্য রুটি ও তিক্ত শাকের সহিত তাহা ভোজন করিবে। 9রোমরা তাহার মাংস কাঁচা কিম্বা জলে সিদ্ধ ক্রিয়া খাইও না, কিন্তু অগ্নিতে দগ্ধ করিও; তাহার মুণ্ডু, জন্ঘা ও অন্তরস্থ ভাগ। 10আর প্রাতঃকাল পর্য্যন্ত তাহার কিছুই রাখিও না; কিন্তু প্রাতঃকাল পর্য্যন্ত যাহা অবশিষ্ট থাকে, তাহা অগ্নিতে পোড়াইয়া ফেলিও। 11আর তোমরা এইরূপে তাহা ভোজন করিবে; কটিবন্ধন করিবে, চরণে পাদুকা দিবে, জোসতে যষ্টি লইবে ও ত্বরানিত হইয়া তাহা ভোজন করিবে; ইহা সদাপ্রভুর নিস্তারপর্ব্ব। 12কেননা সেই রাত্রিতে আমি মিসর দেশের মধ্য দিয়া যাইব, এবং মিসর দেশস্থ মনুষ্যের ও পশুর যাবতীয় প্রথমজাতকে আঘাত করিব, এবং মিসরের যাবতীয় দেবের বিচার ক্রিয়া দণ্ড দিব; আমিই সদাপ্রভু। 13অতএব তোমরা যে যে গৃহে থাক, তোমাদের পক্ষে ঐ রক্ত চিহ্নসরূপে সেই সেই গৃহের উপরে থাকিবে; তাহাতে আমি যখন মিসর দেশকে আঘাত করিব, তখন সেই তক্ত দেখিলে তোমাদিগকে ছাড়িয়া অগ্রে যাইব, সংহারের আঘাত রমাদের উপরে পড়িবে না। 14আর এই দিন তোমাদের স্মরণীয় হইবে, এবং তোমরা এই দিনকে সদাপ্রভুর উৎসব বলিয়া পালন করিবে; পুরুষানুক্রমে চিরস্থায়ী বিধিমতে এই উৎসব পালন করিবে। 15রোমরা সাত দিন তাড়ীশূন্য রুটি খাইবে; প্রথম দিনেই আপন আপন গৃহ হইতে তাড়ী দূর করবে, কেননা যে কেহ প্রথম দিন হইতে সপ্তম দিন পর্য্যন্ত তাড়ীযুক্ত ভক্ষ্য খাইবে, সেই প্রাণী ইস্রায়েল হইতে উচ্ছিন্ন হইবে। 16আর প্রথম দিনে তোমাদের প্রবিত্র সভা হইবে, এবং সপ্তম দিনেও তোমাদের প্রবিত্র সভা হইবে; সেই দুই দিন প্রত্যেক প্রাণীর খাদ্য আয়োজন ব্যতিরেকে অন্য কোন কর্ম্ম করিবে না, কেবল সেই কর্ম্ম করিতে পারিবে। 17এইরূপে তোমরা তাড়ীশূন্য রুটীর পর্ব্ব পালন করিবে, কেননা এই দিনে আমি তোমাদের বাহিনীদিগকে মিসর দেশ হইতে বাহির করিয়া আনিলাম; অতএব রোমরা পুরুষানুক্রমে চিরস্থায়ী বিধিমতে এই দিন পালন করিবে। 18তোমরা প্রথম মাসের চতুর্দ্দশ দিনের সন্ধ্যাকাল হইতে একবিংশ দিনের সন্ধ্যাকাল পর্য্যন্ত তাড়ীশূন্য রুটী ভোজন করিও। 19সাত দিন তোমাদের গৃহে যেন তাড়ীর লেশ না থাকে; কেননা কি প্রবাসী কি দেশজাত, যে কোন প্রাণী তাড়ীমিশ্রিত দ্রব্য খাইবে, সে ইস্রায়েল-মন্ডলী হইতে উচ্ছিন্ন হইবে। 20তোমরা তাড়ীযুক্ত কোন দ্রব্য খাইও না; রোমরা আপনাদের সমস্ত বাসস্থানে তাড়ীশূন্য রুটী খাইও। 21তখন মোশি ইস্রায়েলের সমস্ত প্রাচীনবর্গকে ডাকাইয়া কহিলেন, তোমরা আপন আপন গোষ্ঠী অনুসারে এই একটি মেষশাবক বাহির করিয়া লও, নিস্তারপর্ব্বীয় বলি হনন কর। 22আর একটি এসোব লইয়া ডাবরে স্থিত রক্তে ডুবাইয়া দ্বারের কপালীতে ও দুই বাজুতে ডাবরে স্থিত রক্তের কিঞ্চিৎ লাগাইয়া দিবে, এবং প্রভাত পর্য্যন্ত তোমরা কেহই গৃহদ্বারের বাহিরে যাইবে না। 23কেননা সদাপ্রভু মিস্রীয়দিগকে আঘাত করিবার জন্য তোমাদের নিকট দিয়া গমন করিবেন, তাহাতে দ্বারের কপালীতেও দুই বাজুতে সেই রক্ত দেখিলে সদাপ্রভু সেই দবার ছাড়িয়া অগ্রে যাইবেন, তোমাদের গৃহে সংহারকর্ত্তাকে প্রবেশ করিয়া আঘাত করিতে দিবেন না। 24আর তোমরা ও যুগানুক্রমে তোমাদের সন্তানেরা বিধি বলিয়া এই রীতি পালন করিবে। 25আর সদাপ্রভু আপন প্রতিজ্ঞানুসারে তোমাদিগকে যে দেশ দিবেন, সেই দেশে যখন প্রবিষ্ট হইবে, তখনও এই সেবার অনুষ্ঠান করিবে। 26আর তোমাদের সন্তানগণ যখন তোমাদিগকে বলিবে, তোমাদের এই সেবার তাৎপর্য্য কি? 27তোমরা কহিবে, ইহা সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিস্তারপর্ব্বীয় যজ্ঞ, মিস্রীয়দিগকে আঘাত করিবার সময়ে তিনি মিসরে ইস্রায়েল-সন্তানদের গৃহ সকল ছড়িয়া অগ্রে গিয়াছিলেন, আমাদের গৃহ রক্ষা করিয়াছিলেন। তখন লোকেরা মস্তক নমনপূর্ব্বক প্রণিপাত করিল। 28পরে ইস্রায়েল-সন্তানেরা গিয়া, সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে যেরূপ আজ্ঞা করিয়াছিলেন, সেইরূপ করিল। 29পরে অর্দ্ধরাত্রে এই ঘটনা হইল, সদাপ্রভু সিংহাসনে উপবিষ্ট ফরৌণের প্রথমজাত সন্তান অবধি কারাকূপস্থ বন্দির প্রথমজাত সন্তান পর্য্যন্ত মিসর দেশস্থ সমস্ত প্রথমজাত সন্তানকে ও পশুদের প্রথমজাত শাবকগণকে নিহনন করিলেন। 30তাহাতে ফরৌণ ও তাঁহার দাসগণ এবং সমস্ত মিস্রীয় লোক রাত্রিতে উঠিল, এবং মিসরে মহাক্রন্দন হইল; কেননা যে ঘরে কেহ মরে নাই, এমন ঘরই ছিল না। 31তখন রাত্রিকালেই ফরৌণ মোশি ও হারোণকে ডাকাইয়া কহিলেন, তোমরা উঠ, ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে লইয়া আমার প্রজাদের মধ্য হইতে বাহির হও, তোমরা যাও, তোমাদের কথানুসারে সদাপ্রভুর সেবা কর গিয়া। 32তোমাদের কথানুসারে মেষপাল ও গোপাল সকল সঙ্গে লইয়া চলিয়া যাও, এবং আমাকেও আশীর্ব্বাদ কর। 33তখন লোকদিগকে শীঘ্র দেশ হইতে বিদায় করণার্থে মিস্রীয়েরা ব্যগ্র হইল; কেননা তাহারা কহিল, আমরা সকলে মারা পড়িলাম। 34তাহাতে ময়দার তালে তাড়ী মিশাইবার পূর্ব্বে লোকেরা তাহা লইয়া কাঠুয়া সকল আপন আপন বস্ত্রে বাঁধিয়া স্কন্ধে করিল 35আর ইস্রায়েল- সন্তানেরা মোশির বাক্যানুসারে কার্য্য করিল; ফলে তাহারা মিস্রীয়দের কাছে রৌপ্যালঙ্কার, স্বর্ণালঙ্কার ও বস্ত্র চাহিল; 36আর সদাপ্রভু মিস্রীয়দের দৃষ্টিতে তাহাদিগকে অনুগ্রহপাত্র করিলেন, তাই তাহারা যাহা চাহিল, মিস্রীয়েরা তাহাদিগকে তাহাই দিল। এইরূপে তাহারা মিস্রীয়দের ধন হরণ করিল।

মিসর হইতে ইস্রায়েলীয়দের যাত্রা ।

37তখন ইস্রায়েল-সন্তানেরা বালক ছাড়া কমবেশ ছয় লক্ষ পদাতিক পুরুষ রামিষেষ হইতে সুক্কোতে যাত্রা করিল। 38আর তাঁহাদের সহিত মিশ্রিত লোকদের মহাজনতা এবং মেষ ও গো, অতি বিস্তর পশু প্রস্থান করিল। 39পরে তাহারা মিসর হইতে আনীত ছানা ময়দার তাল দিয়া তাড়ীশূন্য পিষ্টক প্রস্তুত করিল, কেননা তাহাতে তাড়ী মিশান হয় নাই, কারণ তাহারা মিসর হইতে বহিষ্কৃত হইয়াছিল, সুতরাং বিলম্ব করিতে না পারাতে আপনাদের জন্য খাদ্য দ্রব্য প্রস্তুত করে নাই।

40ইস্রায়েল-সন্তানেরা চারি শত ত্রিশ বৎসর কাল মিসরে প্রবাস করিয়াছিল।

41সেই চারি শত ত্রিশ বৎসরের শেষে, ঐ দিনে, সদাপ্রভুর সমস্ত বাহিনী মিসর দেশ হইতে বাহির হইল।

42মিসর দেশ হইতে তাহাদিগকে বাহির করিয়া আনা হেতু এ সদাপ্রভুর উদ্দেশে অতীব পালনীয় রাত্রি। সমস্ত ইস্রায়েল-সন্তানের পুরুষানুক্রমে এই রাত্রি সদাপ্রভুর উদ্দেশে অতীব পালনীয়।

43আর সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে কহিলেন, নিস্তারপর্ব্বীয় বলির বিধি এই; অন্য জাতীয় কোন লোক তাহা ভোজন করিবে না।

44কিন্তু কোন ব্যক্তির যে দাস রৌপ্য দ্বারা ক্রীত হইয়াছে, সে যদি ছিন্নত্বক হয়, তবে খাইতে পাইবে।

45প্রবাসী কিম্বা বেতনজীবী তাহা খাইতে পাইবে না।

46তোমরা এক গৃহমধ্যে তাহা ভোজন করিও; সেই মাংসের কইছি গৃহের বাহিরে লইয়া যাইও না; এবং তাহার এক অস্থিও ভগ্ন করিও না।

47সমস্ত ইস্রায়েল-মন্ডলী ইহা পালন করিবে।

48আর তোমার সহিত প্রবাসী কোন বিদেশী লোক যদি সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিস্তারপর্ব্ব পালন করিতে চাহে, তবে সে নিজ পুরুষ পরিবারের সহিত ছিন্নত্বক হইয়া ইহা পালনার্থে আগমন করুক, সে দেশজাত লোকের তুল্য হইবে; কিন্তু অচ্ছিন্নত্বক কোন লোক তাহা ভোজন করিবে না।

49দেশজাত লোকের নিমিত্তে ও তোমাদের মধ্যে প্রবাসকারী বিদেশী লোকের নিমিত্তে একই বিধি হইবে। 50সমস্ত ইস্রায়েল-সন্তান সেইরূপ করিল, সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে যাহা আজ্ঞা করিয়াছিলেন, তদনুদারেই করিল। 51এইরূপে সদাপ্রভু সেই দিন বাহিনীক্রমে ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে মিসর দেশ হইতে বাহির করিয়া আনিলেন।

13

1পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, 2ইস্রায়েল-সন্তানদের মধ্যে মনুষ্য হউক কিম্বা পশু হুক, গর্ভ উন্মোচক সমস্ত প্রথমজাত ফল আমার উদ্দেশে পবিত্র কর; তাহা আমারই। 3আর মোশি তাহাদিগকে কহিলেন, এই দিন স্মরণে রাখিও, যে দিনে তোমরা মিসর হইতে , দাসগৃহ হইতে, বহির্গত হইলে, কারণ সদাপ্রভু পরাক্রান্ত হস্ত দ্বারা তথা হইতে তোমাদিগকে বাহির করিয়া আনিলেন; কোন তাড়ীযুক্ত ভক্ষ্য খাওয়া হইবে না।

4আবীব মাসের এই দিনে তোমরা বাহির হইলে। 5আর কনানীয়, হিত্তীয়, ইমোরীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়ের যে দেশ তোমাকে দিতে সদাপ্রভু তোমার পিতৃপুরুষদের কাছে দিব্য করিয়াছেন, সেই দুগ্ধমধুপ্রবাহী দেশে জখন তিনি তোমাকে আনিবেন, তখন তুমি এই মাসে এই সেবার অনুষ্ঠান করিবে। 6সাত দিন তাড়ীশূন্য রুটি খাইও, ও সপ্তম দিনে সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসব করিও। 7সেই সাত দিন তাড়ীশূন্য রুটি খাইতে হইবে, তোমার নিকটে তাড়ীযুক্ত ভক্ষ্য দৃষ্ট না হউক, তোমার সমস্ত সীমার মধ্যে তাড়ী দৃষ্ট না হউক। 8সেই দিনে তুমি আপন পুত্রকে ইহা জ্ঞাত করিও, মিসর হইতে আমার বাহির হইবার সময়ে সদাপ্রভু আমার প্রতি যাহা করিলেন, ইহা সেই জন্য। 9আর ইহা চিহ্নের জন্য তোমার হস্তে ও স্মরণের জন্য তোমার দুই চক্ষুর মধ্যস্থানে থাকিবে; যেন সদাপ্রভুর ব্যবস্থা তোমার মুখে থাকে, কেননা সদাপ্রভু পরাক্রান্ত হস্ত দ্বারা মিসর হইতে তোমাকে বাহির করিয়াছেন। 10অতএব তুমি বৎসর বৎসর যথাসময়ে এই বিধি পালন করিবে। 11সদাপ্রভু তোমার কাছে ও তোমার পিতৃপুরুষদের কাছে যে দিব্য করিয়াছেন, তদনুসারে জখন কনানীয়দের দেশে প্রবেশ করাইয়া তোমাকে সে দেশ দিবেন, 12তখন তুমি গর্ভ উন্মোচক সমস্ত প্রথম ফল সদাপ্রভুর নিকটে উপস্থিত করিবে; এবং তোমার পশুগণেরও সকল প্রথম গর্ভ ফলের মধ্যে পুংসন্তান সদাপ্রভুর হইবে। 13আর গর্দ্দভের প্রত্যেক প্রথম ফলের মুক্তির জন্য তাহার পরিবর্ত্তে মেষশাবক দিবে; যদি মুক্ত না কর, তবে তাহার গলা ভাঙ্গিবে; তোমার পুত্রগণের মধ্যে মনুষ্যের প্রথমজাত সকলকে মুক্ত করিতে হইবে। 14আর তোমার পুত্র ভাবিকালে যখন তোমাকে জিজ্ঞাসা করিবে, এ কি? তুমি বলিবে, সদাপ্রভু পরাক্রান্ত হস্ত দ্বারা আমাদিগকে মিসর হইতে, দাস-গৃহ হইতে, বাহির করিলেন। 15তৎকালে ফরৌণ আমাদিগকে ছাড়িয়া দিবার বিষয়ে নিষ্ঠুর হইলে সদাপ্রভু মিসর দেশে সমস্ত প্রথমজাত ফলকে, মনুষ্যের প্রথমজাত ও পশুর প্রথমজাত ফল সকলকে বধ করিলেন, এই নিমিত্তে আমি গর্ভ উন্মোচক পুংসন্তান সকলকে সদাপ্রভুর উদ্দেশে বলিদান করি, কিন্তু আমার প্রথমজাত পুত্র সকলকে মুক্ত করি। 16ইহা চিহ্ন স্বরূপ তোমার হস্তে ও ভূষণস্বরূপ তোমার দুই চক্ষুর মধ্যস্থানে থাকিবে, কেননা সদাপ্রভু পরাক্রান্ত হস্ত দ্বারা আমাদিগকে মিসর দেশ হইতে বাহির করিয়া আনিলেন। 17আর ফরৌণ লোকদিগকে ছাড়িয়া দিলে, পলেস্টীয়দের দেশ দিয়া সোজা পথ থাকিলেও ঈশ্বর সেই পথে তাহাদিগকে চালাইলেন না, কেননা ঈশ্বর কহিলেন, যুদ্ধ দেখিলে পাছে লোকেরা অনুতাপ করিয়া মিসরে ফিরিয়া যায়। 18অতএব ঈশ্বর লোকদিগকে সূফসাগরের প্রান্তরময় পথ দিয়া গমন কারাইলেন; আর ইস্রায়েল-সন্তানের সসজ্জ হইয়া মিসর দেশ হইতেজাত্রা করিল। 19আর মোশি যোষেফের অস্থি আপনার সঙ্গে লইলেন, কেননা তিনি ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে দৃঢ় দিব্য করাইয়া বলিয়াছিলেন, ঈশ্বর অবশ্য তোমাদের তত্ত্বাবধান করিবেন, আর তোমরা আপনাদের সঙ্গে আমার অস্থি এ স্থান হইতে লইয়া যাইবে। 20পরে তাহারা সুক্কোৎ হইতে যাত্রা করিয়া প্রান্তরের প্রান্তে স্থিত এথমে শিবির স্থাপন করিল। 21আর সদাপ্রভু দিবাতে পথ দেখিবার জন্য মেঘস্তম্ভে থাকিয়া, এবং রাত্রিতে দীপ্তি দিবার জন্য অগ্নিস্তম্ভে থাকিয়া তাঁহাদের অগ্রে অগ্রে গমন করিতেন, যেন তাহারা দিবারাত্র গমন করিতে পারে। 22লোকদের সম্মুখ হইতে দিবাতে মেঘস্তম্ভ ও রাত্রিতে অগ্নিস্তম্ভ স্থানান্তর হইত না।

14

1আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে বল, 2তোমরা ফির, পী-হহীরোতের অগ্রে মিগ্‌দোলের ও সমুদ্রের মধ্যস্থলে বাল্‌সফোনের অগ্রে শিবির স্থাপন কর। 3তাহাতে ফরৌণ ইস্রায়েল-সন্তানদের বিষয়ে কহিবে, তাহারা দেশের মধ্যে অবরুদ্ধ হইল, প্রান্তরে তাঁহাদের পথ রুদ্ধ করিল।

4আর আমি ফরৌণের হৃদয় কঠিন করিব, আর সে তোমাদের পশ্চাৎ পশ্চাৎ ধাবমান হইবে, এবং আমি ফরৌণ ও তাহার সমস্ত সৈন্য দ্বারা গৌরবান্বিত হইব; আর মিস্রীয়েরা জানিতে পারিবে যে, আমিই সদাপ্রভু। তখন তাহারা সেইরূপ করিল।

ফরৌণের সৈন্যসামন্তের বিনাশ।

5পরে লোকেরা পলাইয়াছে, মিসর-রাজকে এই সংবাদ দেওয়া হইলে লোকদের বিষয়ে ফরৌণ ও তাহার দাসগণের অন্তঃকরণ বিকারপ্রাপ্ত হইল; তাঁহারা কহিলেন, আমরা এ কি করিলাম? আমাদের দাসত্ব হইতে ইস্রায়েলকে কেন ছাড়িয়া দিলাম? 6তখন তিনি আপন রথ প্রস্তুত করাইলেন, ও আপন লোকদিগকে সঙ্গে লইলেন। 7আর মনোনীত ছয় শত রথ, এবং মিসরের সমস্ত রথ ও তৎসমুদয়ের উপরে নিযুক্ত সেনানীদিগকে লইলেন। 8আর সদাপ্রভু মিসর-রাজ ফরৌণের হৃদয় কঠিন করিলেন, তাহাতে তিনি ইস্রায়েল-সন্তানদের পশ্চাৎ পশ্চাৎ ধাবমান হইলেন; তখন ইস্রায়েল-সন্তানেরা ঊর্দ্ধহস্তে বহির্গমন করিতেছিল। 9আর মিস্রীয়েরা, ফরৌণের সকল অশ্ব ও রথ, এবং তাহার অশ্বারুঢ়গণ ও সৈন্যগণ তাহাদের পশ্চাৎ পশ্চাৎ ধাবমান হইল; আর উহারা বাল্‌-সফোনের সম্মুখে পী-হহীরোতের নিকটে সমুদ্রতীরে শিবির স্থাপন করিলে তাহাদের নিকটে উপস্থিত হইল। 10ফরৌণ যখন নিকটবর্ত্তী হইলেন, তখন ইস্রায়েল-সন্তানেরা চক্ষু তুলিয়া চাহিল, আর দেখ, তাহাদের পশ্চাৎ পশ্চাৎ মিস্রীয়েরা আসিতেছে; তাই তাঁহারা অতিশয় ভীত হইল, আর ইস্রায়েল-সন্তানেরা সদাপ্রভুর উদ্দেশে ক্রন্দন করিল। 11আর তাঁহারা মোশিকে কহিল, মিসরে কবর নাই বলিয়া তুমি কি আমাদিগকে লইয়া আসিলে, যেন আমরা প্রান্তরে মরিয়া যাই? তুমি আমাদের সহিত এ কেমন ব্যবহার করিলে? কেন আমাদিগকে মিসর হইতে বাহির করিলে? 12আমরা কি মিসর দেশে তোমাকে এই কথা কহি নাই, আমাদিগকে থাকিতে দেও, আমরা মিস্রীয়দের দাস্যকর্ম্ম করি? কেননা প্রান্তরে মরণাপেক্ষা মিস্রীয়দের দাস্যকর্ম্ম করা আমাদের মঙ্গল। 13তখন মোশি তাহাদিগকে কহিলেন, ভয় করিও না, সকলে স্থির হইয়া দাঁড়াও। সদাপ্রভু অদ্য তোমাদের যে নিস্তার করন, তাহা দেখ; কেননা এই যে মিস্রীয়দিগকে অদ্য দেখিতেছ, ইহাদিগকে আর কখনই দেখিবে না। 14সদাপ্রভু তোমাদের পক্ষ হইয়া যুদ্ধ করিবেন, তোমরা নীরব থাকিবে। 15পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি কেন আমার কাছে ক্রন্দন করিতেছও? ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে অগ্রসর হতে বল। 16আর তুমি আপন যষ্টি তুলিয়া সমুদ্রের উপরে হস্ত বিস্তার কর, সমুদ্রকে দুই ভাগ কর; তাহাতে ইস্রায়েল-সন্তানেরা শুষ্ক পথ সমুদ্রমধ্যে প্রবেশ করিবে। 17আর দেখ, আমিই মিস্রীয়দের হৃদয় কঠিন করিব, তাহাতে তাহারা ইহাদের পশ্চাৎ প্রবেশ করিবে, এবং আমি ফরৌণের, তাহার সকল সৈন্যের, তাহার রথ সকলের ও তাহার অশ্বারুঢ়গণের দ্বারা গৌরবান্বিত হইব। 18আর ফরৌণ ও তার রথ সকল ও তাহার অশ্বারুঢ়গণ দ্বারা আমার গৌরবলাভ হইলে মিস্রীয়েরা জানিতে পারিবে যে, আমিই সদাপ্রভু। 19তখন ইস্রায়েলীয় সৈন্যের অগ্রগামী ঈশ্বরের দূত সরিয়া গিয়া তাহাদের পশ্চাৎ গমন করিলেন, এবং মেঘস্তম্ভ তাহাদের অগ্র হইতে সরিয়া গিয়া তাহাদের পশ্চাৎ দাঁড়াইল; 20তাহা মিসরের শিবির ও ইস্রায়েলের শিবির, এই উভয়ের মধ্যে আসিল; আর সেই মেঘ ও অন্ধকার থাকিল, তথাপি উহা রাত্রিতে আলোক প্রদান করিল; এবং সমস্ত রাত্রি এক দল অন্য দলের নিকটে আসিল না। 21মোশি সমুদ্রের উপরে আপন হস্ত বিস্তার করিলেন, তাহাতে সদাপ্রভু সেই সমস্ত রাত্রি প্রবল পূর্ব্বীয় বায়ূ দ্বারা সমুদ্রকে সরাইয়া দিলেন, ও তাহা শুষ্ক ভূমি করিলেন, তাহাতে জল দুই ভাগ হইল। 22আর ইস্রায়েল-সন্তানেরা শুষ্ক পথে সমুদ্রমধ্যে প্রবেশ করিল, এবং তাহাদের দক্ষিণে ও বামে জল প্রাচীর স্বরূপ হইল। 23পরে মিস্রীয়েরা, ফরৌণের সকল অশ্ব ও রথ এবং অশ্বারুঢ়গণ ধাবমান হইয়া তাহাদের পশ্চাৎ পশ্চাৎ সমুদ্রের মধ্যে প্রবেশ করিল। 24কিন্তু রাত্রির শেষ প্রহরে সদাপ্রভু অগ্নি ও মেঘস্তম্ভে থাকিয়া মিস্রীয়দের সৈন্যের উপরে দৃষ্টিপাত করিলেন, ও মিস্রীয়দের সৈন্যকে উদ্বিগ্ন করিলেন। 25আর তিনি তাহাদের রথের চক্র সরাইলেন, তাহাতে তাহারা অতি কষ্টে রথ চালাইল; তখন মিস্রীয়েরা কহিল, চল, আমরা ইস্রায়েলের সম্মুখ হইতে পলায়ন করি, কেননা সদাপ্রভু তাহাদের পক্ষে মিস্রীয়দের বিপক্ষে যুদ্ধ করিতেছেন। 26পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি সমুদ্রের উপরে হস্ত বিস্তার কর; তাহাতে জল ফিরিয়া মিস্রীয়দের উপরে ও তাহাদের রথের উপরে ও অশ্বারুঢ়দের উপরে আসিবে। 27তখন মোশি সমুদ্রের উপরে হস্ত বিস্তার করিলেন, আর প্রাতঃকাল হইতে না হইতে সমুদ্র পুনরায় সম্মান হইয়া গেল; তাহাতে মিস্রীয়েরা তাহার দিকে পলায়ন করিল; আর সদাপ্রভু সমুদ্রের মধ্যে মিস্রীয়দিগকে ঠেলিয়া দিলেন। 28জল ফিরিয়া আসিল, ও তাহাদের রথ ও অশ্বারুঢ়দিগকে আচ্ছাদন করিল, তাহাতে ফরৌণের যে সকল সৈন্য তাহাদের পশ্চাৎ সমুদ্রে প্রবিষ্ট হইয়াছিল, তাহাদের এক জনও অবশিষ্ট রহিল না। 29কিন্তু ইস্রায়েল-সন্তানেরা শুষ্ক পথে সমুদ্রের মধ্য দিয়া চলিল, এবং তাহাদের দক্ষিণে ও বামে জল প্রাচীরস্বরূপ হইল। 30এই রূপে সেই দিন সদাপ্রভু মিস্রীয়দের হস্ত হইতে ইস্রায়েলকে নিস্তার করিলেন ও ইস্রায়েল মিস্রীয়দিগকে সমুদ্রের ধারে মৃত দেখিল। 31আর ইস্রায়েল মিস্রীয়দের প্রতি কৃত সদাপ্রভুর মহৎ কর্ম্ম দেখিল; তাহাতে লোকেরা সদাপ্রভুকে ভয় করিল, এবং সদাপ্রভুতে ও তাঁহার দাস মোশিতে বিশ্বাস করিল।

15

ইস্রায়েলের বিজয়-সঙ্গীত ।

1তখন মোশি ও ইস্রায়েল-সন্তানেরা সদাপ্রভুর উদ্দেশে এই গীত গান করিলেন; তাঁহারা বলিলেন, আমি সদাপ্রভুর উদ্দেশে গান করিব; কেননা তিনি মহামহিমান্বিত হইলেন, তিনি অশ্ব ও তদারোহীকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করিলেন। 2সদাপ্রভু আমার বল ও গান, তিনি আমার পরিত্রাণ হইলেন; এই আমার ঈশ্বর, আমি তাঁহার প্রশংসা করিব; আমার পৈতৃক ঈশ্বর, আমি তাঁহার প্রতিষ্ঠা করিব। 3সদাপ্রভু যুদ্ধবীর; সদাপ্রভু তাঁহার নাম।

4তিনি ফরৌণের রথসমূহ ও সৈন্যদলকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করিলেন; তাঁহার মনোনীত সেনানিগণ সুফসাগরে নিমগ্ন হইল। 5জলরাশি তাহাদিগকে আচ্ছাদন করিল; তাহারা অগাধ জলে প্রস্তরবৎ তলাইয়া গেল। 6হে সদাপ্রভু, তোমার দক্ষিণ হস্ত বলে গৌরবান্বিত; যে সদাপ্রভু, তোমার দক্ষিণ হস্ত শত্রুচূর্নকারী। 7তুমি নিজ মহিমার মহত্ত্বে, যাঁহারা তোমার বিরুদ্ধে উঠে, তাহাদিগকে নিপাত করিয়া থাক; তোমার প্রেরিত কোপাগ্নি নাড়ার ন্যায় তাহাদিগকে ভক্ষণ করে। 8তোমার নাসিকার নিশ্বাসে জল রাশীকৃত হইল; স্রোত সকল স্তূপের ন্যায় দণ্ডায়মান হইল; সমুদ্র-গর্ভে জলরাশি ঘনীভূত হইল। 9শত্রু বলিয়াছিল, আমি পশ্চাৎ ধাবিত হইব, উহাদের সঙ্গ ধরিব, লুট বিভাগ করিয়া লইব; উহাদিগেতে আমার অভিলাষ পূর্ণ হইবে; আমি খড়গ নিষ্কোষ করিব, আমার হস্ত উহাদিগকে বিনাশ করিবে। 10তুমি নিজ বায়ূ দ্বারা ফুঁ দিলে, সমুদ্র তাহাদিগকে আচ্ছাদন করিল; তাহারা প্রবল জলে সীসাবৎ তলাইয়া গেল। 11হে সদাপ্রভু, দেবগণের মধ্যে কে তোমার তুল্য? কে তোমার ন্যায় পবিত্রতায় আদরণীয়, প্রশংসায় ভয়ার্হ আশ্চার্য্য ক্রিয়াকারী? 12তুমি আপন দক্ষিণ হস্ত বিস্তার করিলে, পৃথিবী উহাদিগকে গ্রাস করিল। 13তুমি যে লোকদিগকে মুক্ত করিয়াছ, তাহাদিগকে নিজ দয়াতে চালাইতেছ, তুমি নিজ পরাক্রমে তাহাদিগকে তোমার পবিত্র নিবাসে লইয়া যাইতেছ । 14জাতি সকল ইহা শুনিল, কম্পান্বিত হইল, পলেস্টিয়া-বাসিগণ ব্যথাগ্রস্ত হইয়া পড়িল। 15তখন ইদোমের দলপতগণ বিহ্বল হইল; মোয়াবের মেড়ারা কম্পগ্রস্ত হইল; কনান-নিবাসী সকলে গলিয়া গেল। 16ত্রাস ও আশঙ্ক তাঁহাদের উপরে পরিতেছে; তোমার বাহুবলে তাহারা প্রস্তরবৎ স্তব্ধ হইয়া আছে; যাবৎ, হে সদাপ্রভু, তোমার প্রজাগণ উত্তীর্ন না হয়। 17তুমি তাহাদিগকে লইয়া যাইবে, আপন অধিকার-পর্ব্বতে রোপণ করিবে; হে সদাপ্রভু, তথায় তুমি আপন নিবাসার্থ স্থান প্রস্তত করিয়াছ; হে প্রভু, তথায় তোমার হস্ত ধর্ম্মধাম স্থাপন করিয়াছ। 18সদাপ্রভু যুগে যুগে অনন্তকাল রাজত্ব করবেন। 19কেননা ফরৌণের অশ্বগণ তাঁহার রথ সকল ও অশ্বারোহীগণসহ সমুদ্রের মধ্যে প্রবেশ করিল, আর সদাপ্রভু সমুদ্রের জল তাঁহাদের উপরে ফিরাইয়া আনিলেন; কিন্তু ইস্রায়েল-সন্তানেরা শুষ্ক পথে সমুদ্রের মধ্য দিয়া গমন করিল। 20পরে হারোণের ভগিনী মরিয়ম ভাববাদিনী হস্তে মৃদঙ্গ লইলেন, এবং তাঁহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ অন্য স্ত্রীলোকেরা সকলে মৃদঙ্গ লইয়া নৃত্য করিতে করিতে বাহির হইল। 21তখন মরিয়ম লোকদের কাছে এই ধুয়া গাইলেন,- তোমরা সদাপ্রভুর উদ্দেশে গান কর; কেননা তিনি মহামহিমান্বিত হইলেন, তিনি অশ্ব ও তদারোহীকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করিলেন।

ঈশ্বর প্রান্তরে খাদ্য ও পেয় যোগান ।

22আর মোশি ইসরায়েলকে সুফসাগর হইতে অগ্রে চালাইলেন, তাহাতে তাহারা শূর প্রান্তরে গমন করিল; আর তিন দিন প্রান্তরে যাইতে যাইতে জল পাইল না। 23পরে তাহারা মারাতে উপস্থিত হইল, কিন্তু মারার জল পান করিতে পারিল না, কারণ সেই জল তিক্ত; এই জন্য তাঁহার নাম মারা [তিক্ততা] রাখা হইল। 24তখন লোকেরা মোশির বিরুদ্ধে বচসা করিয়া কহিল, আমরা কি পান করিব? 25তাহাতে তিনি সদাপ্রভুর উদ্দেশে ক্রন্দন করিলেন, আর সদাপ্রভু তাঁহাকে একটা গাছ দেখাইলেন; তিনি তাহা লইয়া জলে নিক্ষেপ করিলে জল মিষ্ট হইল। সেই স্থানে সদাপ্রভু ইস্রায়েলের নিমিত্ত বিধি ও শাসন নিরূপণ করিলেন, এবং তাহার পরীক্ষা লইলেন, 26আর কহিলেন, তুমি যদি আপন ঈশ্বর সদাপ্রভুর রবে মনোযোগ কর, তাঁহার দৃষ্টিতে যাহা ন্যায্য তাহাই কর, তাঁহার আজ্ঞাতে কর্ণ দেও, ও তাহর বিধি সকল পালন কর, তবে আমি মিস্রীয়দিগকে যে সকল রোগে আক্রান্ত করিলাম, সেই সকলেতে তোমাকে আক্রমণ করিতে দিব না; কেননা আমি সদাপ্রভু তোমার আরোগ্যকারী। 27পরে তাহারা এলীমে উপস্থিত হইল। সেই স্থানে জলের বারটি উনুই ও সত্তরটি খর্জ্জূরবৃক্ষ ছিল; তাহারা সেই স্থানে জলের নিকটে শিবির স্থাপন করিল।

16

1পরে তাহারা এলীম হইতে যাত্রা করিল। আর মিসর দেশ হইতে প্রস্থান করিবার পর দ্বিতীয় মাসের পঞ্চদশ দিনে ইস্রায়েল-সন্তানগণের সমস্ত মণ্ডলী সীন প্রান্তরে উপস্থিত হইল, তাহা এলীমের ও সীনয়ের মধ্যবর্ত্তী। 2তখন ইস্রায়েল-সন্তানদের সমস্ত মণ্ডলী মোশির ও হারোণের বিরুদ্ধে প্রান্তরে বচসা করিল; 3আর ইস্রায়েল-সন্তানেরা তাঁহাদিগকে কহিল, হায়, হায় আমরা মিসর দেশে সদাপ্রভুর হস্তে কেন মরি নাই? তখন মাংসের হাঁড়ীর কাছে বসিতাম, তৃপ্তি পর্য্যন্ত রুটি ভোজন করিতাম, তোমরা ত এই সমস্ত সমাজকে ক্ষুধায় মারিয়া ফেলিতে আমাদিগকে বাহির করিয়া এই প্রান্তরে আনিয়াছ।

4তখন সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, দেখ, আমি তোমাদের নিমিত্ত স্বর্গ হইতে খাদ্য দ্রব্য বর্ষণ করিব; লোকেরা বাহিরে গিয়া প্রতিদিন দিনের খাদ্য কুড়াইবে; যেন আমি তাঁহাদের এই পরীক্ষা লই যে, তাহারা আমার ব্যবস্থাতে চলিবে কি না। 5ষষ্ঠ দিনে তাহারা যাহা আনিবে, তাহা প্রস্তুত করিলে প্রতিদিন যাহা কুড়ায়, তাঁহার দ্বিগুণ হইবে। 6পরে মোশি ও হারোণ সমস্ত ইস্রায়েল-সন্তানকে কহিলেন, সায়ংকাল হইলে তোমরা জানিবে যে, সদাপ্রভু তোমাদিগকে মিসর দেশ হইতে বাহির করিয়া আনিয়াছেন। 7আর প্রাতঃকাল হইলে তোমরা সদাপ্রভুর প্রতাপ দেখিতে পাইবে, কেননা সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে যে বচসা, তাহা তিনি শুনিয়াছেন। আমরা কে যে, তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে বচসা কর? 8পরে মোশি কহিলেন, সদাপ্রভু সায়ংকালে ভোজনার্থে তোমাদিগকে মাংস দিবেন, ও প্রাতঃকালে তৃপ্তি পর্য্যন্ত অন্ন দিবেন; সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে তোমরা যে বচসা করিতেছ, তাহা তিনি শুনিতেছেন; আমরা কে ? তোমরা যে বচসা করিতেছ, উহা আমাদের বিরুদ্ধে নয়, সদাপ্রভুরি বিরুদ্ধে করা হইতেছে। 9পরে মোশি হারোণকে কহিলেন, তুমি ইস্রায়েল-সন্তানদের সমস্ত মণ্ডলীকে বল, তোমরা সদাপ্রভুর সম্মুখে উপস্থিত হও; কেননা তিনি তোমাদের বচসা শুনিয়াছেন। 10পরে হারোণ যখন ইস্রায়েল-সন্তানদের সমস্ত মণ্ডলীকে ইহা কহিতেছিলেন, তখন তাহারা প্রান্তরের দিকে মুখ ফিরাইল; আর দেখ, মেঘস্তম্ভের মধ্যে সদাপ্রভুর প্রতাপ দৃষ্ট হইল। 11আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, 12আমি ইস্রায়েল-সন্তানদের বচসা শুনিয়াছি; তুমি তাঁহাদিগকে বল, সায়ংকালে তোমরা মাংস ভোজন করিবে, ও প্রাতঃকালে অন্নে তৃপ্ত হইবে; তখন জানিতে পারিবে যে, আমি সদাপ্রভু, তোমাদের ঈশ্বর। 13পরে সন্ধ্যাকালে ভারুই পক্ষী উড়িয়া আসিয়া শিবিরস্থান আচ্ছাদন করিল, এবং প্রাতঃকালে শিবিরের চারিদিকে শিশির পড়িল। 14পরে পতিত শিশির ঊর্দ্ধগত হইলে, দেখ, ভূমিস্থিত নীহারের ন্যায় সরু বীজাকার সূক্ষ্ম বস্তুবিশেষ প্রান্তরের উপরে পড়িয়া রহিল। 15আর তাহা দেখিয়া ইস্রায়েল-সন্তানগণ পরস্পর কহিল, উহা কি? কেননা তাহা কি, তাহারা জানিল না। তখন মোশি কহিলেন, উহা সেই অন্ন, যাহা সদাপ্রভু তোমাদিগকে আহারার্থে দিয়াছেন। 16উহারই বিষয়ে সদাপ্রভু এই আজ্ঞা দিয়াছেন, তোমরা প্রত্যেক জন আপন আপন ভোজনশক্তি অনুসারে তাহা কুড়াও; তোমরা প্রত্যেকে আপন আপন তাম্বুতে স্থিত লোকদের সংখ্যানুসারে এক এক জনের নিমিত্তে এক এক ওমর পরমাণে উহা কুড়াও। 17তাহাতে ইস্রায়েল-সন্তানেরা সেইরূপ করিল; কেহ অধিক, কেহ অল্প কুড়াইল। 18পরে ওমরে তাহা পরিমাণ করিলে, যে অধিক সংগ্রহ করিয়াছিল, তাঁহার অভাব হইল না; তাহারা প্রত্যেকে আপন আপন ভোজনশক্তি অনুসারে কুড়াইয়াছিল। 19আর মোশি কহিলেন, তোমরা কেহ প্রাতঃকালের জন্য ইহার কিছু রাখিও না। 20তথাপি কেহ কেহ মোশির কথা না মানিয়া প্রাতঃকালের নিমিত্তে কিছু কিছু রাখিল, তখন তাহাতে কীট জন্মিল ও দুর্গন্ধ হইল; আর মোশি তাঁহাদের উপরে ক্রোধ করিলেন। 21আর প্রতিদিন প্রাতঃকালে তাহারা আপন আপন ভোজনশক্তি আনুসারে কুড়াইত, কিন্তু প্রখর রৌদ্র হলে তাহা গলিয়া যাইত। 22পরে ষষ্ঠ দিনে তাহারা দ্বিগুণ খাদ্য, প্রতি জনের নিমিত্তে দুই দুই ওমর, কুড়াইল, আর মণ্ডলীর অধ্যক্ষেরা সকলে আসিয়া মোশিকে জ্ঞাত করিলেন। 23তখন তিনি তাঁহাদিগকে কহিলেন, সদাপ্রভু তাহাই বলিয়াছেন; কল্য বিশ্রামপর্ব্ব, সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র বিশ্রামবার; তোমাদের যাহা ভাজিবার ভাজ, ও যাহা পাক করিবার পাক কর; এবং যাহা অতিরিক্তও, তাহা প্রাতঃকালের জন্য তুলিয়া রাখ। 24তাহাতে তাহারা মোশির আজ্ঞানুসারে প্রাতঃকাল পর্য্যন্ত তাহা রাখিল, তখন তাহাতে দুর্গন্ধ হইল না, কীটও জন্মিল না। 25পরে মোশি কহিলেন, অদ্য তোমরা ইহা ভোজন কর, কেননা অদ্য সদাপ্রভুর বিশ্রামবার; অদ্য মাঠে ইহা পাইবে না। 26তোমরা ছয় দিন তাহা কুড়াইবে; কিন্তু সপ্তম দিন বিশ্রামবার, সে দিন তাহা মিলিবে না। 27তথাচ সপ্তম দিনেও লোকদের মধ্যে কেহ কেহ তাহা কুড়াইবার জন্য বাহির হইল; কিন্তু কিছুই পাইল না। 28তখন সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তোমরা আমার আজ্ঞা ও ব্যবস্থা পালন করিতে কতকাল অসম্মত থাকিবে? 29দেখ, সদাপ্রভুই তোমাদিগকে বিশ্রামবার দিয়াছেন, তাই তিনি ষষ্ঠ দিনে দুই দিনের খাদ্য তোমাদিগকে দিয়া থাকেন; তোমরা প্রতি জন স্ব স্ব স্থানে থাক; সপ্তম দিনে কেহ নিজ স্থান হইতে বাহিরে না যাউক। 30তাহাতে লোকেরা সপ্তম দিনে বিশ্রাম করিল। 31আর ইস্রায়েল-কুল ঐ খাদ্যের নাম মান্না রাখিল; তাহা ধনিয়া বীজের মত, শুল্কবর্ণ, এবং তাঁহার আস্বাদ মধুমিশ্রিত পিষ্টকের ন্যায় ছিল। 32পরে মোশি কহিলেন, সদাপ্রভু এই আজ্ঞা করিয়াছেন, তোমরা পুরুষপরম্পরার জন্য উহার এক ওমর পরিমাণ তুলিয়া রাখিও, যেন আমি তোমাদিগকে মিসর দেশ হইতে আনয়নকালে প্রান্তরের মধ্যে যে অন্ন ভোজন করাইতাম, তাহারা তাহা দেখিতে পায়। 33তখন মোশি হারোণকে কহিলেন, তুমি একটা পাত্র লইয়া পূর্ণ এক ওমর পরিমাণ মান্না সদাপ্রভুর সম্মুখে রাখ; তাহা তোমাদের পুরুষপরম্পরার নিমিত্ত রাখা যাইবে। 34তখন, সদাপ্রভু মোশিকে যেরূপ আজ্ঞা করিয়াছিলেন, তদনুসারে হারোণ সাখজ-সিন্দুকের নিকটে থাকিবার জন্য তাহা তুলিয়া রাখলেন। 35ইস্রায়েল-সন্তানেরা চল্লিশ বৎসর, যাবৎ নিবাস-দেশে উপস্থিত না হইল, তাবৎ সেই মান্না ভোজন করিল; কনান দেশের সীমাতে উপস্থিত না হওয়া পর্য্যন্ত তাহারা মান্না খাইত। 36এক ওমর ঐফার দশমাংশ।

17

1পরে ইস্রায়েল-সন্তানদের সমস্ত মণ্ডলী সীন প্রান্তর হিতে যাত্রা করিয়া সদাপ্রভু আজ্ঞানুসারে নিরূপিত সকল উত্তরণস্থান দিয়া রফীদীমে গিয়া শিবির স্থাপন করিল; আর সে স্থানে লোকদের পানার্থ জল ছিল না। 2এই জন্য লোকেরা মোশির সহিত বিবাদ করিয়া কহিল, আমাদিগকে জল দেও, আমরা পান করিব। মোশি তাঁহাদিগকে কহিলেন, কেন আমার সহিত বিবাদ করিতেছ? কেন সদাপ্রভুর পরীক্ষা করিতেছ? 3তখন লোকেরা সেই স্থানে জলপিপাসায় ব্যাকুল হইল, আর মোশির বিরুদ্ধে বচসা করিয়া কহিল, তুমি আমদিগকে এবং আমাদের সন্তানগণকে ও পশুগণকে তৃষ্ণা দ্বারা বধ করিতে মিসর হইতে কেন আনিলে?

4আর মোশি সদাপ্রভুর কাছে কাঁদিয়া কহিলেন, আমি এই লোকদের নিমিত্ত কি করিব? ক্ষণকালের মধ্যে ইহারা আমাকে প্রস্ত্রঘাতে বধ করিবে। 5তখন সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি লোকদের অগ্রে যাও, ইস্রায়েলের জন কতক প্রাচীনকে সঙ্গে লইয়া, আর যাহা দিয়া নদীতে আঘাত করিয়াছিলে, সেই যষ্টি হস্তে লইয়া যাও। 6দেখ, আমি হোরেবে সেই শৈলের উপরে তোমার সম্মুখে দেখাইব; তুমি শৈলে আঘাত করিবে, তাহাতে তাহা হইতে জল নির্গত হইবে, আর লোকেরা পান করিবে। তখন মোশি ইস্রায়েলের প্রাচীনবর্গের দৃষ্টিতে সেইরূপ করিলেন। 7তিনি সেই স্থানের নাম মঃসা ও মরীবা [পরীক্ষা ও বিবাদ]রাখিলেন, কেননা ইস্রায়েল-সন্তানগণ বিবাদ করিয়াছিল এবং সদাপ্রভুর পরীক্ষা করিয়াছিল, বলিয়াছিল, ‘সদাপ্রভু আমাদের মধ্যে আছেন কি না?’

অমালেকের সহিত যুদ্ধ।

8ঐ সময়ে অমালেক আসিয়া রফীদীমে ইস্রায়েলের সহিত যুদ্ধ করিতে লাগিল। 9তাহাতে মোশি যিহোশূয়কে কহিলেন, তুমি আমাদের জন্য লোক মনোনীত করিয়া লও, যাও, অমালেকের সহিত যুদ্ধ কর; কল্য আমি ঈশ্বরের যষ্টি হস্তে লইয়া পর্ব্বতে শিখরে দাঁড়াইব। 10পরে যিহোশূয় মোশির আজ্ঞানুসারে কর্ম্ম করিলেন; অমালেকের সহিত যুদ্ধ করিলেন; এবং মোশি, হারোণ ও হূর পর্ব্বতের শৃঙ্গে উঠিলেন। 11আর এইরূপ হইল, মোশি যখন আপন হস্ত তুলিয়া ধরেন, তখন ইস্রায়েল জয়ী হয়, কিন্তু মোশি আপন হস্ত নামাইলে অমালেক জয়ী হয়। 12আর মোশির হস্ত ভারী হইতে লাগিল, তখন উহারা একখানি প্রস্তর আনিয়া তাঁহার নিচে রাখিলেন, আর তিনি তাঁহার উপরে বসিলেন; এবং হারোণ ও হূর এক জন এক দিকে ও অন্য জন অন্য দিকে তাঁহার হস্ত ধরিয়া রাখিলেন, তাহাতে সূর্য্য অস্তগত না হওয়া পর্য্যন্ত তাঁহার হস্ত স্থির থাকিল। 13আর যিহোশূয় অমালেককে ও তাঁহার লোকদিগকে খড়গধারে পরাজয় করিলেন। 14পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, এই কথা স্মরণার্থে পুস্তকে লিখ, এবং যিহোশূয়ের কর্ণগোচরে শুনাইয়া দেও; কেননা আমি আকাশের নীচে হইতে অমালেকের নাম নিঃশেষে লোপ করিব। 15পরে মোশি এক বেদি নির্ম্মাণ করিয়া তাঁহার নাম যিহোবা-নিঃষি [সদাপ্রভু আমার পতাকা] রাখিলেন। 16আর তিনি কহিলেন, সদাপ্রভুর সিংহাসনের উপরে হস্ত [উত্তলিত হইয়াছে]; পুরুষানুক্রমে অমালেকের সহিত সদাপ্রভুর যুদ্ধ হইবে।

18

মোশির শ্বশুর যিথ্রোর পরামর্শ ।

1আর ঈশ্বর মোশির পক্ষে ও আপন প্রজা ইস্রায়েলের পক্ষে যে সকল কর্ম্ম করিয়াছেন, সদাপ্রভু ইস্রায়েলকে মিসর হইতে বাহির করিয়া আনিয়াছেন, এই সকল কথা মোশির শ্বশুর মিদিয়নীয় যাজক যিথ্রো শুনিতে পাইলেন। 2তখন মোশির শ্বশুর যিথ্রো মোশির স্ত্রীকে, পিত্রালয়ে প্রেরিতা সিপ্‌পোরাকে, ও তাঁহার দুই পুত্রকে সঙ্গে লইলেন। 3ঐ দুই পুত্রের মধ্যে এক জনের নাম গের্শোম [তত্রপ্রবাসী], কেননা তিনি বলিয়াছিলেন, আমি পরদেশে প্রবাসী হইয়াছি।

4আর এক জনের নাম ইলীয়েষর [ঈশ্বর-সহকারী], কেননা তিনি বলিয়াছিলেন, আমার পিতার ঈশ্বর আমার সহকারী হইয়া ফরৌণের খড়গ হইতে আমাকে উদ্ধার করিয়াছেন। 5মোশির শ্বশুর যিথ্রো তাঁহার দুই পুত্র ও তার স্ত্রীকে সঙ্গে লইয়া প্রান্তরে মোশির নিকটে, ঈশ্বরের পর্ব্বতে যে স্থানে তিনি শিবির স্থাপন করিয়াছিলেন, সেই স্থানে আসিলেন। 6আর তিনি মোশিকে কহিলেন, তোমার শ্বশুর যিথ্রো আমি, এবং তোমার স্ত্রী ও তাঁহার সহিত তাঁহার দুই পুত্র, আমরা তোমার নিকটে আসিয়াছি। 7তখন মোশি আপন শ্বশুরের সঙ্গে দেখা করিতে বাহিরে গেলেন, ও প্রণিপাতপূর্ব্বক তাঁহাকে চুম্বন করিলেন, এবং পরস্পর মঙ্গল জিজ্ঞাসা করিলেন, পরে তাহারা তাম্বুতে প্রবেশ করিলেন। 8আর সদাপ্রভু ইস্রায়েলের জন্য ফরৌণের প্রতি ও মিস্রীয়দের প্রতি যাহা যাহা করিয়াছিলেন, এবং পথে তাঁহাদের যে যে ক্লেশ ঘটিয়াছিল, ও সদাপ্রভু যে প্রকারে তাঁহাদিগকে উদ্ধার করিয়াছিলেন, সেই সকল বৃত্তান্ত মোশি আপন শ্বশুরকে কহিলেন। 9তাহাতে সদাপ্রভু মিস্রীয়দের হস্ত হইতে ইস্রায়েলকে উদ্ধার করিয়া তাঁহাদের যে সকল মঙ্গল করিয়াছিলেন, তন্নিমিত্ত যিথ্রো আহলাদিত হইলেন। 10আর যিথ্রো কহিলেন, ধন্য সদাপ্রভু, যিনি মিস্রীয়দের হস্ত হইতে ও ফরৌণের হস্ত হইতে তোমাদিগকে উদ্ধার করিয়াছেন, যিনি মিস্রীয়দের হস্তের অধীনতা হইতে এই লোকদিগকে উদ্ধার করিয়াছেন। 11এখন আমি জানি, সকল দেব হইতে সদাপ্রভু মহান্‌; সেই বিষয়ে মহান্‌, যে বিষয়ে উহারা ইহাদের বিপক্ষে গর্ব্ব করিত। 12পরে মসির শ্বশুর যিথ্রো ঈশ্বরের উদ্দেশে হোমদ্রব্য ও বলি উপস্থিত করিলেন, এবং হারোণ ও ইস্রায়েলের সমস্ত প্রাচীনবর্গ আসিয়া ঈশ্বরের সম্মুখে মোশির শ্বশুরের সহিত আহার করিলেন। 13পরদিন মোশি লোকদের বিচার করিতে বসিলেন, আর প্রাতঃকাল অবধি সন্ধ্যা পর্য্যন্ত লোকেরা মোশির কাছে দাঁড়াইয়া রহিল। 14তখন লোকদের প্রতি মোশি যাহা যাহা করিতেছেন, তাঁহার শ্বশুর তাহা দেখিয়া কহিলেন, তুমি লোকদের প্রতি এ কেমন ব্যবহার করিতেছ? কেন তুমি একাকী বসিয়া থাক, আর সমস্ত লোক প্রাতঃকাল অবধি সন্ধ্যা পর্য্যন্ত তোমার কাছে দাঁড়াইয়া থাকে? 15মোশি আপন শ্বশুরকে কহিলেন, লোকেরা ঈশ্বরীয় বিচার জিজ্ঞাসা করিতে আমার কাছে আইসে; 16তাঁহাদের কোন বিবাদ হইলে তাহা আমার কাছে উপস্থিত হয়; আমি বাদী প্রতিবাদীর বিচার করি, এবং ঈশ্বরের বিধি ও ব্যবস্থা সকল তাঁহাদিগকে জ্ঞাত করি। 17তখন মোশির শ্বশুর কহিলেন, তোমার এই কর্ম্ম ভাল নয়। 18ইহাতে তুমি এবং তোমার সঙ্গী এই লোকেরাও ক্ষীণবল হইবে, কেননা এ কার্য্য তোমার ক্ষমতা হইতে গুরুতর; ইহা একাকী সম্পন্ন করা তোমার অসাধ্য। 19এখন আমার কথায় মনোযোগ কর; আমি তোমাকে পরামর্শ দিই, আর ঈশ্বর তোমার সহবর্ত্তী হউন; তুমি ঈশ্বরের সম্মুখে লোকদের পক্ষে হও, এবং তাঁহাদের বিচার ঈশ্বরের কাছে উপস্থিত কর, 20আর তাঁহাদিগকে বিধি ও ব্যবস্থার উপদেশ দেও, এবং তাঁহাদের গন্থব্য পথ ও কর্তব্য কর্ম্ম জ্ঞাত কর। 21অধিকন্তু তুমি এই লোক সমূহের মধ্য হইতে কার্য্যদক্ষ পুরুসদিগকে, ঈশ্বরভীত, সত্যবাদী ও অন্যায়-লাভ-ঘৃণাকারী ব্যক্তিদিগকে মনোনীত করিয়া লোকদের উপরে সহস্রপতি, শতপতি, পঞ্চশৎপতি ও দশপতি করিয়া নিযুক্ত কর । 22তাহারা সকল সময়ে লোকদের বিচার করিবেন; বড় বড় বিচার সকল তোমার নিকটে আনিবেন, কিন্তু ক্ষুদ্র বিচার সকল তাঁহারাই করিবেন; তাহাতে তোমার কর্ম্ম লঘু হইবে, আর তাঁহারা তোমরা সহিত ভার বহিবেন। 23তুমি যদি এরূপ কর, ঈশ্বর তোমাকে এরূপ আজ্ঞা দেন, তবে তুমি সহিতে পারিবে, এবং এই সকল লোকও কুশলে আপনাদের স্থানে গমন করিবে। 24তাহাতে মোশি আপন শ্বশুরের কথায় মনোযোগ করিয়া, তিনি যাহা কছু বলিলেন, তদনুসারে কর্ম্ম করিলেন। 25ফলতঃ মোশি সমস্ত ইস্রায়েল হইতে কার্য্যদক্ষ পুরুষদিগকে মনোনীত করিয়া লোকদের উপরে প্রধান, অর্থাৎ সহস্রপতি, শতপতি, পঞ্চাশৎপতি ও দশপতি করিয়া নিযুক্ত করিলেন। 26তাহারা সকল সময়ে লোকদের বিচার করিতেন; কঠিন বিচার সকল মোশির কাছে আনিতেন, কিন্তু খুদ্র কথা সকলের বিচার আপনারাই করিতেন। 27পরে মোশি আপন শ্বশুরকে বিদায় করিলে তিনি স্বদেশে প্রস্থান করিলেন।

19

সীনয় পর্ব্বতের তলে ইস্রায়েলের আগমন।

1মিসর দেশ হইতে ইস্রায়েল-সন্তানদের বাহির হইবার পর তৃতীয় মাসে, [প্রথম] দিনেই তাহারা সীনয় প্রান্তরে উপস্থিত হইল। 2তাঁহারা রফীদীম হইতে যাত্রা করিয়া সীনয় প্রান্তরে উপস্থিত হইলে সেই প্রান্তরে শিবির স্থাপন করিল। 3পরে মোশি ঈশ্বরের নিকটে উঠিয়া গেলেন, আর সদাপ্রভু পর্ব্বত হইতে তাঁহাকে ডাকিয়া কহিলেন, তুমি যাকোবের কুলকে এই কথা কহ, ও ইস্রায়েল-সন্তানগণকে ইহা জ্ঞাত কর।

4আমি মিস্রীয়দের প্রতি যাহা করিয়াছি, এবং যেমন ঈগল পক্ষী পক্ষ দ্বারা, তেমনি তোমাদিগকে বহিয়া আপনার নিকটে আনিয়াছি, তাহা তোমরা দেখিয়াছ। 5এখন যদি তোমরা আমার রবে অবধান কর ও আমার নিয়ম পালন কর, তোমরা সকল জাতি অপেক্ষা আমার নিজস্ব অধিকার হইবে, কেননা সমস্ত পৃথিবী আমার; 6আর আমার নিমিত্তে তোমরাই যাজকদের এক রাজ্য ও পবিত্র এক জাতি হইবে। এই সকল কথা তুমি ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে বল। 7তখন মোশি আসিয়া লোকদের প্রাচীনবর্গকে ডাকাইলেন ও সদাপ্রভু তাঁহাকে যাহা যাহা আজ্ঞা করিয়াছিলেন, সেই সকল কথা তাঁহাদের সম্মুখে প্রস্তাব করিলেন। 8তাহাতে লোকেরা সকলেই এক সঙ্গে উত্তর ক্রিয়া কহিল, সদাপ্রভু যাহা কিছু বলিয়াছেন, আমরা সমস্তই করিব। তখন মোশি সদাপ্রভুর কাছে লোকদের কথা নিবেদন করিলেন। 9আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, দেখ, আমি নিবিড় মেঘে তোমার নিকটে আসিব, যেন লোকেরা তোমার সহিত আমার আলাপ শুনিতে পায়, এবং তোমাতেও চিরকাল বিশ্বাস করে। পরে মোশি লোকদের কথা সদাপ্রভুকে বলিলেন। 10তখন সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি লোকদের নিকটে গিয়া অদ্য ও কল্য তাঁহাদিগকে পবিত্র কর, এবং তাঁহারা আপন আপন বস্ত্র ধৌত করুক, 11আর তৃতীয় দিনের জন্য সকলে প্রস্তুত হউক; কেননা তৃতীয় দিনে সদাপ্রভু সকল লোকের সাক্ষাতে সীনয় পর্ব্বতের উপরে নামিয়া আসিবেন। 12আর তুমি লোকদের চারিদিকে সীমা নিরূপণ করিয়া এই কথা বলিও, তোমরা সাবধান, পর্ব্বতে আরোহণ কিম্বা তাঁহার সীমা স্পর্শ করিও না; যে কেহ পর্ব্ব স্পর্শ করিবে, তাঁহার প্রাণদণ্ড অবশ্য হইবে। 13কোন হস্ত তাহাকে স্পর্শ করিবে না, কিন্তু সে অবশ্য প্রস্তরাঘাতে হত, কিম্বা বাণ দ্বারা বিদ্ধ হইবে; পশু হউক কি মনুষ্য হউক, সে বাঁচিবে না। অধিকক্ষণ তূরীবাদ্য হইলে তাঁহারা পর্ব্বতে উঠিবে। 14পরে মোশি পর্ব্বত হইতে নামিয়া লোকদের নিকটে আসিয়া লোকদিগকে পবিত্র করিলেন, এবং তাঁহারা আপন আপন বস্ত্র ধৌত করিল। 15পরে তিনি লোকদিগকে কহিলেন, তোমরা তৃতীয় দিনের জন্য প্রস্তুত হও; কোন স্ত্রী লোকের কাছে যাইও না। 16পরে তৃতীয় দিনে প্রভাত হইলে মেঘগর্জ্জন ও বিদ্যুৎ এবং পর্ব্বতের উপরে নিবিড় মেঘ হইল, আর অতিশয় উচ্চরবে তূরীধ্বনি হইতে লাগিল; তাহাতে শিবিরস্থ সমস্ত লোক কাঁপিতে লাগিল। 17পরে মোশি ঈশ্বরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিবার জন্য লোকদিগকে শিবির হইতে বাহির করিলেন, আর তাঁহারা পর্ব্বতের তলে দান্দায়মান হইল। 18কেননা সদাপ্রভু অগ্নিসহ তাঁহার উপরে নামিয়া আসিলেন, আর ভাটীর ধূমের ন্যায় তাহা হইতে ধূম উঠিতে লাগিল, এবং সমস্ত পর্ব্বত অতিশয় কাঁপিতে লাগিল। 19আর তূরীর শব্দ ক্রমশঃ অতিশয় বৃদ্ধি পাইতে লাগিল; তখন মোশি কথা কহিলেন, এবং ঈশ্বর বাণী দ্বারা তাহাকে উত্তর দিলেন। 20আর সদাপ্রভু সীনয় পর্ব্বতে, পর্ব্বতের শিখরে, নামিয়া আসিলেন, এবং সদাপ্রভু মোশিকে সেই পর্ব্ব-শিখরে ডাকিলেন; তাহাতে মোশি উঠিয়া গেলেন। 21তখন সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি নামিয়া গিয়া লোকদিগকে দৃঢ় আদেশ কর, পাছে তাঁহারা দেখিবার জন্য সীমা লঙ্ঘন করিয়া সদাপ্রভুর দিকে যায়, ও তাঁহাদের অনেকে পতিত হয়। 22আর যাজকগণ, যাঁহারা সদাপ্রভুর নিকটবর্ত্তী হইয়া থাকে, তাহারাও আপনাদিগকে পবিত্র করুক, পাছে সদাপ্রভু তাহাদিগকে আক্রমণ করেন। 23তখন মোশি সদাপ্রভুকে কহিলেন, লোকেরা সীনয় পর্ব্বতে উঠিয়া আসিতে পারে না, , কেননা তুমি দৃঢ় আজ্ঞা দিয়া আমাদিগকে বলিয়াছ, পর্ব্বতের সীমা নিরূপণ কর, ও তাহা পবিত্র কর। 24আর সদাপ্রভু তাঁহাকে কহিলেন, যাও, নাম গিয়া; পরে হারোণকে সঙ্গে করিয়া তুমি উঠিয়া আসিও, কিন্তু যাজকগণ ও লোকেরা সদাপ্রভুর নিকটে উঠিয়া আসিবার জন্য সীমা লঙ্ঘন আ করুক,পাছে তিনি তাহাদিগকে আক্রমণ করেন। 25তখন মোশি লোকেদের কাছে নামিয়া গিয়া তাহাদিগকে এই সকল কথা বলিলেন।

20

দশ আজ্ঞা প্রদান।

1আর ঈশ্বর এই সকল কথা কহিলেন, আমি তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু, 2যিনি মিসর দেশ হইতে, দাস-গৃহ হইতে্‌ তোমাকে বাহির করিয়া আনিলেন। 3আমার সাক্ষাতে* তোমার অন্য দেবতা না থাকুক।

4তুমি আমার নিমিত্তে খোদিত প্রতিমা নির্ম্মাণ করিও না; উপরিস্থ স্বর্গে, নীচস্থ, পৃথিবীতে ও পৃথিবীর নীচস্থ জলমধ্যে যাহা যাহা আছে, তাঁহাদের কোন মুর্ত্তি নির্ম্মাণ করিও না, 5তুমি তাহাদের কাছে প্রণিপাত করিও না, এবং তাহাদের সেবা করিও না; কেননা তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু আমি সবগৌরব রক্ষণে উদ্‌যোগী ঈশ্বর; আমি পিতৃগণের অপরাধের প্রতিফল সন্তানদিগের উপরে বর্ত্তাই, যাহারা আমাকে দ্বেষ করে, তাহাদের তৃতীয় চতুর্থ পুরুষ পর্য্যন্ত বর্ত্তাই; 6কিন্তু যাহারা আমাকে প্রেম করে ও আমার আজ্ঞা সকল পালন করে, আমি তাহাদের সহস্র [পুরুষ] পর্য্যন্ত দয়া করি। 7তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর নাম অনর্থক লইও না, কেননা যে কেহ তাঁহার নাম অনর্থক লয়, সদাপ্রভু তাঁহাকে নির্দ্দোষ করিবেন না। 8তুমি বিশ্রাম দিন স্মরণ করিয়া পবিত্র করিও। 9ছয় দিন শ্রম করিও, আপনার সমস্ত কার্য্য করিও; 10কিন্তু সপ্তম দিন তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে বিশ্রামদিন; সে দিন তুমি কি তোমার পুত্র কি কন্যা, কি তোমার দাস কি দাসী, কি তোমার পশু, কি তোমার পুরদ্বারের মধ্যবর্ত্তী বিদেশী, কেহ কোন কার্য্য করিও না; 11কেননা সদাপ্রভু আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী, সমুদ্র ও সেই সকলের মধ্যবর্ত্তী সমস্ত বস্তু ছয় দিনে নির্ম্মাণ করিয়া সপ্তম দিনে বিশ্রাম করিলেন; এইজন্য সদাপ্রভু বিশ্রামদিনকে আশীব্বাদ করিলেন, ও পবিত্র করিলেন। 12তোমার পিতাকে ও তোমার মাতাকে সমাদর করিও, যেন তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাকে যে দেশ দিবেন , সেই দেশে তোমার দীর্ঘ পরমায়ু হয়। 13নরহত্যা করিও না। 14ব্যভিচার করিও না। 15চুরি করিও না। 16তোমার প্রতিবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না। 17তোমার প্রতিবাসীর গৃহে লোভ করিও না; প্রতিবাসীর স্ত্রীতে, কিম্বা তাহার দাসে কি দাসীতে, কিম্বা তাঁহার গোরুতে কি গর্দ্দভে, প্রতিবাসীর কোন বস্তুতেই লোভ করিও না। 18তখন সমস্ত লোক মেঘগর্জ্জন, বিদ্যুৎ, তূরীধবনি ও ধূমময় পর্ব্বত দেখিল; দেখিয়া লোকেরা ত্রাসযুক্ত হইল, এবং দূরে দাঁড়াইয়া রহিল। 19আর তাহারা মোশিকে কহিল, তুমিই আমাদের সহিত কথা বল, আমরা শুনিব; কিন্তু ঈশ্বর আমাদের সহিত কথা না বলুন, পাছে আমরা মারা পড়ি। 20মোশি লোকদিগকে কহিলেন, ভয় করিও না; কেননা তোমাদের পরীক্ষা করনার্থে, এবং তোমরা যেন পাপ না কর, এই নিমিত্তে আপন ভয়ানকতা তোমাদের চক্ষুগোচর করনার্থে ঈশ্বর আসিয়াছেন। 21তখন লোকেরা দূরে দাঁড়াইয়া রহিল; আর মোশি ঘোর অন্ধকারের নিকটে গমন করিলেন, যেখানে ঈশ্বর ছিলেন। *বা ব্যতিরেকে। নানাবিধ আজ্ঞা। 22পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি ইস্রায়েল-সন্তানগণকে এই কথা কহ, তোমরা আপনারাই দেখিলে, আমি আকাশ হইতে তোমাদের সহিত কহিলাম। 23তোমরা আমার প্রতিযোগী কিছু নির্ম্মাণ করিও না; আপনাদের নিমিত্তে রৌপ্যময় দেবতা কি স্বর্ণময় দেবতা নির্ম্মাণ করিও না। 24তুমি আমার নিমিত্তে মৃত্তিকার এক বেদি নির্ম্মাণ করিবে, এবং তাহার উপরে তোমার হোমবলি ও মঙ্গলার্থক বলি, তোমার মেষ ও তোমার গোরু উৎসর্গ করিবে। আমি যে যে স্থানে তোমার নিকটে আসিয়া তোমাকে আশীব্বাদ করিব। 25তুমি যহি আমার নিমিত্তে প্রস্তরের বেদি নির্ম্মাণ কর, তবে খোদিত প্রস্তরে তাহা নির্ম্মাণ করিও না, কেননা তাহার উপরে অস্ত্র তুলিলে তুমি তাহা অপবিত্র করিবে। 26আর আমার বেদির উপরে সোপান দিয়া উঠিও না, পাছে তাহার উপরে তোমার উলঙ্গতা অনাবৃত হয়।

21

1আর তুমি এই সকল শাসন তাহাদের সম্মুখে রাখিবে। 2তুমি ইব্রীয় দাস ক্রয় করিলে সে ছয় বৎসর দাসত্ব করিবে, প্রে সপ্তম বৎসরে বিনামূল্যে মুক্ত হইয়া চলিয়া যাইবে। 3সে যদি একাকী আইসে, তবে একাকী যাইবে; আর যদি সস্ত্রীক আইসে, তবে তাহার স্ত্রীও তাহার সহিত যাইবে।

4যদি তাহার প্রভু তাহর বিবাহ দেয়, এবং সেই স্ত্রী তাহার জন্য পুত্র কি কন্যা প্রসব করে, তবে সেই স্ত্রীতে ও তাহার সন্তানগণে তাহার প্রভুর স্বত্ব থাকিবে, সে একাকী চলিয়া যাইবে। 5কিন্তু ঐ দাস যদি স্পষ্টরূপে বলে, আমি আপন প্রভুকে এবং আপন স্ত্রী ও সন্তানগণকে ভালবাসি, মুক্ত হইয়া চলিয়া যাইব না, 6তাহা হইলে তাহার প্রভু তাহাকে ঈশ্বরের নিকটে লইয়া যাইবে, এবং সে তাহাকে কপাটের কিম্বা বাজুর নিকটে উপস্থিত করিবে, তথায় তাহার প্রভু গুঁজি দ্বারা তাহার কর্ণ বিদ্ধ করিবে; তাহাতে সে চিরকাল সেই প্রভুর দাস থাকিবে। 7আর কেহ যদি আপন কন্যাকে দাসীরূপে বিক্রয় করে, তবে দাসেরা যেমন যায়, সে তদ্রূপ যাইবে না। 8তাহার প্রভু তাহাকে আপনার জন্য নিরূপণ করিলেও যদি তাহার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়, তবে সে তাহাকে মুক্ত হইতে দিবে; তাহার সঙ্গে প্রবঞ্চনা করাতে অন্য জাতির কাছে তাহাকে বিক্রয় করিবার অধিকার তাহার হইবে না। 9আর যদি সে আপন পুত্রের জন্য তাহাকে নিরূপণ করে, তবে সে তাহার প্রতি কন্যাগণ সম্বন্ধীয় নিয়মানুযায়ী ব্যবহার করিবে। 10যদি সে অন্য স্ত্রীর সহিত তাহার বিবাহ দেয়, তবে উহার অন্নের ও বস্ত্রের এবং সহবাসের বিষয়ে ক্রুটি করিতে পারিবে না। 11আর যদি সে তাহার প্রতি এই তিনটি কর্ত্তব্য না করে, তবে সে স্ত্রী অমনি মুক্ত হইয়া চলিয়া যাইবে; রৌপ্য লাগিবে না। 12কে যদি কোন মনুষ্যকে এমন আঘাত করে যে, তাহার মৃত্যু হয়, তবে অবশ্য প্রাণদণ্ড হইবে। 13আর যদি কোন ব্যক্তি অন্যকে বধ করিতে চেষ্টা না পায়, কিন্তু ঈশ্বর তাহাকে তাহার হস্তে সমর্পণ করেন, তবে যে স্থানে সে পলাইতে পারে, এমন স্থান তোমার নিমিত্তে আমি নিরূপণ করিব। 14কিন্তু যদি কেহ দুঃসাহস করিয়া ছলে আপন প্রতিবাসীকে বধ করণার্থ তাহার উপর চড়াউ হয়, তবে সে ব্যক্তির প্রাণদণ্ড করণার্থে তাহাকে আমার বেদির নিকট হইতেও লইয়া যাইবে। 15আর যে কেহ আপন পিতাকে কি আপন মাতাকে প্রহার করে, তাহার প্রাণদণ্ড অবশ্য হইবে। 16আর কেহ যদি মনুষ্যকে চুরি করিয়া বিক্রয় করে, কিম্বা তাহার হস্তে যদি তাহাকে পাওয়া যায়, তবে তাহার প্রাণদণ্ড অবশ্য হইবে। 17আর কেহ যদি আপন পিতাকে কি আপন মাতাকে শাপ দেয়, তাহার প্রাণদণ্ড অবশ্য হইবে। 18আর মনুষ্যেরা বিবাদ করিয়া এক জন অন্যকে প্রস্তরাঘাত কিম্বা মুষ্ট্যাঘাত করিলে সে যদি না মরিয়া শয্যাগত হয়, 19পশ্চাৎ উঠিয়া যষ্টি অবলম্বন করিয়া বাহিরে বেড়ায়, তবে সে প্রহারক দণ্ড পাইবে না। কেবল তাহার কম্মক্ষতির ও চিকিৎসার ব্যয় তাহাকে দিতে হইবে। 20আর কেহ আপন দাসকে কিম্বা দাসীকে যষ্টি দ্বারা প্রহার করিলে সে যদি তাহার হস্তে মরে, তবে সে অবশ্য দণ্ডীয় হইবে। 21কিন্তু সে যদি দুই এক দিন বাঁচে, তবে তাহার প্রভু দণ্ডার্হ হইবে না, কেননা সে তাহার রৌপ্যসরূপ। 22আর পুরুষেরা বিবাদ করিয়া কোন গর্ভবতী স্ত্রীকে প্রহার করিলে যদি তাহার গর্ভপাত হয়, কিন্তু পরে কোন আপদ না ঘটে, তবে ঐ স্ত্রীর স্বামীর দাবী অনুসারে তাহার অর্থদণ্ড অবশ্য হইবে, ও সে বিচারকর্ত্তাদের বিচার মতে টাকা দিবে। 23কিন্তু যদি কোন আপদ ঘটে, তবে তোমাকে এই প্রতিশোধ দিতে হইবে; 24প্রাণের পরিশোধে প্রাণ, চক্ষুর পরিশোধে চক্ষু, দন্তের পরিশোধে দন্ত, হস্তের পরিশোধে হস্ত, চরণের পরিশোধে চরণ, 25দাহের পরিশোধে দাহ, ক্ষতের পরিশোধে ক্ষত, কালশিরার পরিশোধে কালশিরা। 26আর কেহ আপন দাস কি দাসীর চক্ষুতে আঘাত করিলে যদি তাহা নষ্ট হয়, তবে তাহার চক্ষুনাশের জন্য সে তাহাকে মুক্ত করিবে। 27আর আঘাত দ্বারা আপন দাস কিম্বা দাসীর দন্ত ভাঙ্গিয়া ফেলিলে ঐ দন্তের জন্য সে তাহাকে মুক্ত করিবে। 28আর গোরু কোন পুরুষ কি স্ত্রীকে শৃঙ্গাঘাত করিলে সে যদি মরে, তবে ঐ গোরু অবশ্য প্রস্তরঘাতে বধ হইবে, এবং তাহার মাংস অখাদ্য হইবে; কিন্তু গোরুর স্বামী দণ্ড পাইবে না। 29পরন্তু ঐ গোরু পূর্ব্বে শৃঙ্গাঘাত করিত, ইহার প্রমাণ পাইলেও তাহার স্বামী তাহাকে সাবধানে না রাখাতে যদি সে কোন পুরুষকে কিম্বা স্ত্রীকে বধ করে, তবে সে গোরু প্রস্তরঘাতে বধ্য হইবে; এবং তাহার স্বামীরও প্রাণদণ্ড হইবে। 30যদি তাহার নিমিত্তে প্রায়শ্চিত্ত নিরূপিত হয়, তবে সে প্রাণমুক্তির নিমিত্তের নিরূপিত সমস্ত মূল্য দিবে। 31তাহার গোরু যদি কাহারও পুত্রকে কি কন্যাকে শৃঙ্গাঘাত করে, তবে ঐ বিচারনুসারে তাহার প্রতি করা যাইবে। 32আর তাহার গোরু যদি কাহারও দাস কিম্বা দাসীকে শৃঙ্গাঘাত করে, তবে সে তাহার প্রভুকে ত্রিশ শেকল রৌপ্য দিবে; এবং গোরু প্রস্তরঘাতে বধ্য হইবে। 33আর কেহ যদি কোন কূপ অনাবৃত করে, কিম্বা কূপ খনন করিয়া তাহা আবৃত না করে, 34তবে তাহার মধ্যে কোন গোরু কিম্বা গর্দ্দভ পড়িলে সেই কূপের স্বামী ক্ষতিপূরণ করিবে, সে পশুর স্বামীকে রৌপ্যমূল্য দিবে, কিন্তু ঐ মৃত পশু তাহারই হইবে। 35আর এক জনের গোরু অন্য জনের গোরুকে শৃঙ্গাঘাত করিলে সেঁতা যদি মরে, তবে তাহারা জীবিত গোরু বিক্রয় করিয়া তাহার মূল্য দুই অংশ করিবে, এবং ঐ মৃত গোরুও দুই অংশ করিয়া লইবে। 36কিন্তু যদি জানা যায়, সেই গোরু পূর্ব্বে শৃঙ্গাঘাত করিত, ও তাহার স্বামী তাহাকে সাবধানে রাখে নাই, তবে সে তাহার পরিবর্ত্তে অন্য গোরু দিবে, কিন্ত মৃত গোরু তাহারই হইবে।

22

1যে কেহ গোরু কিম্বা মেষ চুরি ক্রিয়া বধ করে, কিম্বা বিক্রয় করে, সে এক গোরুর পরিশোধে পাঁচ গোরু, ও এক মেষের পরিশোধে চারি মেষ দিবে। 2আর চোর যদি সিঁধ কাটিবার সময়ে ধরা পড়িয়া যদি আহত হয়, ও মারা পড়ে, তবে তাহার জন্য রক্তপাতের দোষ হইবে না। 3যদি তাহা উপরে সূর্য্য উদিত হয়, তবে রক্তপাতের দোষ হইবে; ক্ষতিপূরণ করা চোরের কর্ত্তব্য; যদি তাহার কিছু না থাকে, তবে চৌর্য্য হেতুক সে বিক্রীত হইবে।

4গোরু, গর্দ্দভ বা মেষ, চুরির কোন বস্তু যদি চোরের হস্তে জীবৎ পাওয়া যায়, তবে সে তাহার দ্বিগুণ দিবে। 5কেহ যদি শস্যক্ষেত্রে কিম্বা দ্রাক্ষাক্ষেত্রে পশু চরায়, আর আপন পশু ছাড়িয়া দিলে যদি তাহা অন্যের ক্ষেত্রে চরে, তবে সে ব্যক্তি আপন ক্ষেত্রের উত্তম শস্য কিম্বা আপন দ্রাক্ষাক্ষেত্রের উত্তম ফল দিয়া ক্ষতিপূরণ করিবে। 6অগ্নি ধরিয়া উঠিয়া কন্টকবনে লাগিলে যদি কাহারও শস্যরাশি কিম্বা শস্যের ঝাড় কিম্বা ক্ষেত্র দগ্ধ হয়, তবে সেই দাহকারী অবশ্য ক্ষতিপূরণ করিবে। 7কেহ মিদ্রা কিম্বা জিনিসপত্র আপন প্রতিবাসীর কাছে গচ্ছিত রাখিলে যদি তাহার গৃহ হইতে কেহ তাহা চুরি করে, এবং সেই চোর ধরা পড়ে, তবে সে তাহার দ্বিগুণ দিবে। 8যদি চোর ধরা না পড়ে, তবে সে গৃহস্বামী প্রতিবাসীর দ্রব্যে হাত দিয়াছে কি না, তাহা জানিবার জন্য সে ঈশ্বরের সাক্ষাতে আনীত হইবে। 9সব্বপ্রকার অপরাধের বিষয়ে, অর্থাৎ গোরু কিম্বা গর্দ্দভ কিম্বা মেষ কিম্বা বস্ত্র, বা কোন হারাণ বস্তুর বিষয়ে যদি কেহ বলে , এ সেই দ্রব্য, তবে উভয়ের কথা ঈশ্বরের নিকটে উপস্থিত হইবে; ঈশ্বর যাহাকে দোষী করিবেন, সে আপন প্রতিবাসীকে তাহার দ্বিগুণ দিবে। 10কেহ যদি আপন গর্দ্দভ কিম্বা গোরু কিম্বা মেষ কিম্বা কোন পশু প্রতিবাসীর কাছে পালনার্থে রাখে, এবং লোকের অগোচরে সে পশু মরিয়া যায়, বা ভগ্নাঙ্গ হয়, কিম্বা তাড়িত হয়, 11তবে ‘আমি প্রতিবাসীর দ্রব্যে হস্তার্পণ করি নাই’, ইহা বলিয়া এক জন অন্য জনের কাছে সদাপ্রভুর নামে দিব্য করিবে; আর পশুর স্বামী সেই দ্রব্য গ্রাহ্য করিবে ঐ ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ করিবে না। 12কিন্তু যদি তাহার নিকট হইতে উহা চুরি যায়, তবে সে তাহার স্বামীর কাছে ক্ষতিপূরণ করিবে। 13যদি সেটী বিদীর্ণ হয়, তবে সে প্রমাণার্থে তাহা উপস্থিত করুক; সেই বিদীর্ণ পশুর জন্য সে ক্ষতিপূরণ করিবে না। 14আর কেহ যদি আপন প্রতিবাসীর পশু চাহিয়া লয়, ও তাহার স্বামী তাহার সহিত না থাকিবার সময়ে সে ভগ্নাঙ্গ হয় কিম্বা মরিয়া যায়, তবে সে অবশ্য ক্ষতিপূরণ করিবে। 15যদি তাহার স্বামী তাহার কাছে থাকে , তবে সে ক্ষতিপূরণ করিবে না; তাহা যদি ভাড়া করা পশু হয়, তবে তাহার ভাড়াতে শোধ হইল। 16আর কেহ যদি অবাগদত্তা কুমারীকে ভুলাইয়া তাহার সহিত শয়ন করে, তবে সে অবশ্য কন্যাপণ দিয়া তাহাকে বিবাহ করিবে। 17যদি সেই ব্যক্তির সহিত আপন কন্যার বিবাহ দিতে পিতা নিতান্ত অসম্মত হয়, তবে কন্যাপণের ব্যবস্থানুসারে তাহাকে রৌপ্য দিতে হইবে। 18তুমি মায়াবিনীকে জীবিত রাখিও না। 19পশুর সহিত শৃঙ্গারকারী ব্যক্তির প্রাণদণ্ড অবশ্য হইবে। 20যে ব্যক্তি সদাপ্রভু ব্যতিরেখে কন দেবতার কাছে বলিদান করে, সে সম্পূর্ণরুপে বিনষ্ট হইবে। 21তুমি বিদেশীর প্রতি অন্যায় করিও না, তাহার প্রতি উপদ্রব করিও না, কেননা মিসর দেশে তোমরা বিদেশী ছিলে। 22তোমরা কোন বিধবাকে পিতৃহীনকে দুঃখ দিও না। 23তাহাদিগকে কোন মতে দুঃখ দিলে যদি তাহারা আমার নিকটে ক্রন্দন করে, তবে আমি অবশ্য তাহাদের ক্রন্দন শুনিব; 24আর আমার ক্রোধ প্রজ্বলিত হইবে, এবং আমি তোমাদিগকে খড়গ দ্বারা বধ করিব, তাহাতে তোমাদের স্ত্রীরা বিধবা ও তোমাদের সন্তানগ্ণ পিতৃহীন হইবে। 25তুমি যদি আমার প্রজাদের মধ্যে তোমার স্বজাতীয় কোন দীন দুঃখীকে টাকা ধার দেও, তবে তাহার কাছে সুদগ্রাহীর ন্যায় হইও না; তোমরা তাহার উপরে সুদ চাপাইবে না। 26যদি তুমি আপন প্রতিবাসীর বস্ত্র বন্ধক রাখ, তবে সুর্য্যাস্তের পূর্ব্বে তাহা ফিরাইয়া দিও; কেননা তাহা তাহার একমাত্র আচ্ছাদন, 27তাহার গাত্রের বস্ত্র; সে কিসে শয়ন করিবে? আর যদি সে আমার কাছে ক্রন্দন করে, তবে আমি তাহা শুনিব, কেননা আমি কৃপাবান। 28তুমি ঈশ্বরকে ধিক্কার দিও না, এবং স্বজাতীয় লোকদের অধ্যক্ষকে শাপ দিও না। 29তোমার পক্ক শস্য ও দ্রাক্ষারস নিবেদন করিতে বিলম্ব করিও না। তোমার প্রথমজাত পুত্রগ্ণ আমাকে দিও। 30তোমার গো ও মেষ সম্নদ্ধেও তদ্রুপ করিও; তাহা সাত দিন আপন মাতা সহিত থাকিবে, অস্টম দিনে তুমি তাহা আমাকে দিও। 31আর তোমারা আমার উদ্দেশে পবিত্র লোক হইবে; ক্ষেত্রে বিদীর্ণ কোন মাংস খাইবে না; তাহা কুকুরদের কাছে ফেলিয়া দিবে।

23

1তুমি মিথ্যা জনরব উত্থাপন করিও না; অন্যায় সাক্ষী হইয়া দুর্জনের সহায়তা করিও না। 2তুমি দুস্কর্ম্ম করিতে বহু লোকের পশ্চাদবর্ত্তী হইও না, এবং বিচারে অন্যায় করণার্থে বহু লোকের পক্ষ হইয়া প্রতিবাদ করিও না। 3দরিদ্রের বিচারে তাহার পক্ষপাত করিও না

4তোমার শ্ত্রুর গোরু কিম্বা গর্দ্দভকে পথহারা দেখিলে তুমি অবশ্য তাহার নিকটে তাহাকে লইয়া যাইবে। 5তুমি আপন শ্ত্রুর গর্দ্দভকে ভারের নীচে পতিত দেখিলে যদ্যপি তাহাকে ভার মুক্ত করিতে অনিচ্ছুক হও, তথাপি অবশ্য উহার সঙ্গে তাহাকে ভারমুক্ত করিবে। 6দরিদ্র প্রতিবাসীর বিচারে তাহার প্রতি অন্যায় করিও না। 7মিথ্যা বিষয় হইতে দূরে থাকিও, এবং নির্দ্দোষের কি ধার্ম্মিকের প্রাণ নষ্ট করিও না, কেননা আমি দুষ্টকে নির্দ্দোষ করিব না। 8আর তুমি উৎকোচ গ্রহণ করিও না, কেননা উৎকোচ মুক্তচক্ষুদিগকে অন্ধ করে, এবং ধার্ম্মিকদের কথা সকল উলটায়। 9আর তুমি বিদেশীর প্রতি উপদ্রব করিও না; তোমরা ত বিদেশীর হৃদয় জান, কেননা তোমারা মিসর দেশে বিদেশী ছিলে। 10তুমি আপন ভূমিতে ছয় বৎসর যাবৎ বীজ বপন করিও, ও উৎপন্ন শস্য সংগ্রহ করিও। 11কিন্তু সপ্তম বৎসরে তাহাকে বিশ্রাম দিও, ফেলিয়া রাখিও; তাহাতে তোমার স্বজাতীয় দরিদ্রগণ খাইতে পাইবে, আর তাহারা যাহা অবশিষ্ট রাখে, তাহা বনপশুতে খাইবে; এবং তোমার দ্রাক্ষাক্ষেত্রের ও জিতবৃক্ষ বিষয়েও সেইরূপ করিও। 12তুমি ছয় দিন আপন কর্ম্ম করিও, কিন্তু সপ্তম দিনে বিশ্রাম করিও; যেন তোমার গোরু ও গর্দ্দভ বিশ্রাম পায়, এবং তোমার দাসীপুত্র ও বিদেশী লোক প্রাণ জুড়ায়। 13আমি তোমাদিগকে যাহা যাহা কহিলাম, সকল বিষয়ে সাবধান থাকিও; ইতর দেবগণের নাম উল্লেখ করিও না, তোমাদের মুখে যেন তাহা শুনা না যায়। 14তুমি বৎসরের মধ্যে তিন বার আমার উদ্দেশে উৎসব করিও। 15তাড়ীশূন্য রুটীর উৎসব পালন করিও; আমার আজ্ঞানুসারে, নিরুপিত সময়ে, আবীব মাসে, সাত দিন তাড়ীশূন্য রুটী ভোজন করিও, কেননা এই মাসে তুমি মিসর দেশ হইতে বাহির হইয়া আসিয়াছ। আর কেহ রিক্তহস্তে আমার নিকটে উপস্থিত না হউক। 16আর তুমি শস্যচ্ছেদনের উৎসব, অর্থাৎ ক্ষেত্রে যাহা যাহা বুনিয়াছ, তাহার আশুপক্ক ফলের উৎসব পালন করিও। আর বৎসরের শেষে ক্ষেত্র হইতে ফল সংগ্রহ করণ কালে ফলসঞ্চয়ের উৎসব পালন করিও। 17বৎসরের মধ্যে তিন বার তোমার সমস্ত পুংজাতি প্রভু সদাপ্রভু সাক্ষাতে উপস্থিত হইবে। 18তুমি আমার বলির রক্ত তাড়ীযুক্ত দ্রব্যের সহিত নিবেদন করিও না; আর আমার উৎসব সম্পকীয় মেদ প্রাতঃকাল পয্যন্ত সমস্ত রাত্রি না থাকুক। 19তোমার ভূমির আশুপক্ক ফলের অগ্রিমাংশ তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর গৃহে আনিও। ছাগবৎসকে তাহার মাতার দুগ্ধে পাক করিও না।

ঈশ্বরীয় প্রতিজ্ঞা ও নিয়ম স্থাপন।

20দেখ, আমি পথে তোমাকে রক্ষা করিতে, এবং আমি যে স্থান প্রস্তুত করিয়াছি, সেই স্থানে তোমাকে লইয়া যাইতে তোমার অগ্রে অগ্রে এক দূত প্রেরণ করিতেছি। 21তাঁহা হইতে সাবধান থাকিও, এবং তাঁহার রবে অবধান করিও, তাঁহার অসন্তোষ জন্মাইও না ; কেননা তিনি তোমাদের অধর্ম্ম ক্ষমা করিবেন না; কারণ তাঁহার অন্তরে আমার নাম রহিয়াছে। 22কিন্তু তুমি যদি নিশ্চয় তাঁহার রবে অবধান কর, এবং আমি যাহা যাহা বলি, সে সমস্ত কর, তবে আমি তোমার বিপক্ষদের বিপক্ষ হইব। 23কেননা আমার দূত তোমার অগ্রে অগ্রে যাইবেন, এবং ইমোরীয়, হিত্তীয়, পরিষীয়, কনানীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়ের দেশে তোমাকে প্রবেশ করাইবেন; আর আমি তাহাদিগকে উচ্ছিন্ন করিব। 24তুমি তাহাদের দেবগণের কাছে প্রণিপাত করিও না, ও তাহাদের ক্রিয়ার ন্যায় ক্রিয়া করিও না; কিন্তু তাহাদিগকে সমূলে উতপাটন করিও এবং তাহাদের স্তম্ভ সকল ভাঙ্গিয়া ফেলিও। 25তোমরা আপনাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সেবা করিও; তাহাতে তিনি তোমার অন্নজলে আশীব্বাদ করিবেন, এবং আমি তোমার মধ্য হইতে রোগ দূর করিব। 26তোমার দেশ কাহারও গর্ভপাত হইবে না, এবং কেহ বন্ধ্যা হইবে না; আমি তোমার আয়ূর পরিমাণ পূর্ণ করব। 27আমি তোমার অগ্রে অগ্রে আমাবিষয়ক ত্রাস প্রেরণ করিব; এবং তুমি যে সকল জাতির নিকটে উপস্থিত হইবে, তাহাদিগকে ব্যাকুল করিব, ও তোমার শ্ত্রুগণকে তোমা হইতে ফিরাইয়া দিব। 28আর আমি তোমার অগ্রে অগ্রে ভিমরুল পাঠাইব; থারা হিব্বীয়, কনানীয় ও হিত্তীয়কে তোমার সম্মুখ হইতে খেদাইয়া দিবে। 29কিন্তু দেশ যেন ধ্বংসস্থান না হয়, ও তোমার বিরুদ্ধে বন্য পশুর সংখ্যা যেন বৃদ্ধি না পায়, এই জন্য আমি এক বৎসরেই তোমার সম্মুখ হইতে তাহাদিগকে খেদাইয়া দিব না। 30তুমি যে পর্য্যন্ত বর্দ্ধিত হইয়া দেশ অধিকার না করে, তাবৎ তোমার সম্মুখ হইতে তাহাদিগকে ক্রমে ক্রমে খেদাইয়া দিব। 31আর সূফসাগ্র অবধি [ফরাৎ] নদী পর্য্যন্ত তোমার সীমা নিরূপণ করিব; কেননা আমি সেই দেশনিবাসীদিগকে তোমার হস্তে সমর্পণ করিব, এবং তুমি তোমার সম্মুখ হইতে তাহাদিগকে খেদাইয়া দিবে। 32তাহাদের সহিত কিম্বা তাহাদের দেবগণের সহিত কোন নিয়ম স্থির করিবে না। 33তাহারা তোমার দেশে বাস করিবে না, পাছে তাহারা আমার বিরুদ্ধে তোমাকে পাপ করায়; কেননা তুমি যদি তাহাদের দেবগণের সেবা কর, তবে তাহা অবশ্য তোমার ফাঁদ সরূপ হইবে।

24

1আর তিনি মোশিকে কহিলেন, তুমি ও হারোণ, নাদব ও অবীহূ এবং ইস্রায়েলের প্রাচীনবর্গের সত্তর জন, তোমরা সদাপ্রভুর নিকটে উঠিয়া আইস, আর দূরে থাকিয়া প্রণিপাত কর। 2কেবল মোশি সদাপ্রভুর নিকটে আসিবে, কিন্তু উহারা নিকটে আসিবে না; আর লোকেরা তাহার সহিত উপরে উঠিবে না। 3তখন মোশি আসিয়া লোকদিগকে সদাপ্রভুর সকল বাক্য ও সকল শাসন কহিলেন, তাহাতে সমস্ত লোক একস্বরে উত্তর করিল, সদাপ্রভু যে যে কথা কহিলেন, আমরা সমস্তই পালন করিব।

4পরে মোশি সদাপ্রভুর সমস্ত বাক্য লিখিলেন, এবং প্রত্যূষে উঠিয়া পর্ব্বতের তলে এক যজ্ঞবেদি ও ইস্রায়েলের দ্বাদশ বংশানুসারে দ্বাদশ স্তম্ভ নির্ম্মাণ করিলেন। 5আর তিনি ইস্রায়েল-সন্তানগণের যুবকদিগকে পাঠাইলেন তাহারা সদাপ্রভুর উদ্দেশে হোমার্থক ও মঙ্গলার্থক বলিরূপে বৃষদিগকে বলিদান করিল। 6তখন মোশি তাহার অর্দ্ধেক রক্ত লইয়া থালে রাখিলেন, এবং অর্দ্ধেক রক্ত বেদির উপরে প্রক্ষেপ করিলেন। 7আর তিনি নিয়ম পুস্তকখানি লইয়া লোকদের কর্ণগোচরে পাঠ করিলেন; তাহাতে তারা কহিল, সদাপ্রভু যাহা যাহা কহিলেন, আমরা সমস্তই পালন করিব ও আজ্ঞাবহ হইব। 8পরে মোশি সেই রক্ত লইয়া লোকদের উপরে প্রক্ষেপ করিয়া কহিলেন, দেখ, এ সেই নিয়মের রক্ত, যাহা সদাপ্রভু তোমাদের সহিত এই সকল বাক্য সম্বন্ধে স্থির করিয়াছেন। 9তখন মোশি ও হারোণ, নাদব, ও অবীহূ, এবং ইস্রায়েলের প্রাচীনবর্গের মধ্যে সত্তর জন উঠিয়া গেলেন; 10আর তাহারা ইস্রায়েলের ঈশ্বরকে দর্শন করিলেন; তাঁহার চরণতলের স্থান নীলকান্তমণি-নির্ম্মিত শিলাস্তরের কার্য্যবৎ, এবং নির্ম্মলতায় সাক্ষাৎ আকাশের তুল্য ছিল। 11আর তিনি ইস্রায়েল সন্তানদের অধ্যক্ষগণের উপরে হস্তার্পণ করিলেন না, বরং তাহারা ঈশ্বরকে দর্শন করিয়া ভোজন পান করিলেন। 12আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি পর্ব্বতে আমার নিকটে উঠিয়া আসিয়া এই স্থানে থাক, তাহাতে আমি দুইখান প্রস্তরফলক, এবং আমার লিখিত ব্যবস্থা ও আজ্ঞা তোমাকে দিব, যেন তুমি লোকদিগকে শিক্ষা দিতে পার। 13পরে মোশি ও তাঁহার পরিচারক যিহোশূয় উঠিলেন, এবং মোশি ঈশ্বরের পর্ব্বতে উঠিলেন। 14আর তিনি প্রাচীনবর্গকে কহিলেন, আমরা যাবৎ তোমাদের নিকটে ফিরিয়া না আসি, তাবৎ তোমরা আমাদের অপেক্ষায় এই স্থানে থাক; আর দেখ, হারোণ ও হূর তোমাদের কাছে রহিলেন; কাহারও কোন বিবাদের কথা উপস্থিত হইলে সে তাহাদের কাছে যাউক। 15মোশি যখন পর্ব্বতে উঠিলেন, তখন মেঘে পর্ব্বত আচ্ছন্ন ছিল। 16আর সীনয় পর্ব্বতের উপরে সদাপ্রভুর প্রতাপ অবস্থিতি করিতেছিল; উহা ছয় দিন মেঘাচ্ছন্ন রহিল; পরে সপ্তম দিনে তিনি মেঘের মধ্য হইতে মোশিকে ডাকিলেন। 17আর ইস্রায়েল-সন্তানগণের দৃষ্টিতে সদাপ্রভুর প্রতাপ পর্ব্বতশৃঙ্গে গ্রাসকারী অগ্নির ন্যায় প্রকাশিত হইল। 18আর মোশি মেঘের মধ্যে প্রবেশ করিয়া পর্ব্বতে উঠিলেন। মোশি চল্লিশ দিবারাত্র সেই পর্ব্বতে অবস্থিতি করিলেন।

25

ঈশ্বরীয় তাম্বু পাত্রাদি নির্ম্মাণ বিষয়ক আদেশ ।

1পরে সদাপ্রভু মোশি কহিলেন, তুমি ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে আমার নিমিত্তে উপহার সংগ্রহ করিতে বল; 2হৃদয়ের ইচ্ছায় যে নিবেদন করে, তাহা হইতে তোমরা আমার সে উপহার গ্রহণ করিও। 3এই সকল উপহার তাহাদের হইতে গ্রহণ করিবে;

4স্বর্ণ, রৌপ্য, পিত্তল; এবং নীল, বেগুনে ও লাল, এবং সাদা মসীনা সূত্র ও ছাগলোম; 5ও রক্তীকৃত মেষচর্ম্ম, তহশ চর্ম্ম, ও শিটীম কাষ্ঠ; 6দীপাথ তৈল, এবং অভিষেকার্থ তৈলের ও সুগন্ধি ধূপের নিমিত্তে গন্ধদ্রব্য; 7এবং এফোদের ও বুকপাটার জন্য গোমেদক মণি প্রভৃতি খচনীয় প্রস্তর। 8আর তাহারা আমার নিমিত্তে এক ধর্ম্মধাম নির্ম্মাণ করুক, তাহাতে আমি তাহাদের মধ্যে বাস করিব। 9আবাসের ও তাহার সকল দ্রব্যের যে আদর্শ আমি তোমাকে দেখাই, তদনুসারে তোমরা সকলই করিবে।

সাক্ষ্য-সিন্দুক পাপাবরণ।

10তাহারা শিটীম কাষ্ঠের এক সিন্দুক নির্ম্মাণ করিবে; তাহা আড়াই হস্ত দীর্ঘ, দেড় হস্ত প্রস্থ ও দেড় হস্ত উচ্চ হইবে। 11পরে তুমি নির্ম্মল সুবর্ণে তাহা মুড়িবে; তাহার ভিতর ও বাহির মুড়িবে, এবং তাহার উপরে চারিদিকে স্বর্ণের নিকাল গড়িয়া দিবে। 12আর তাহার জন্য সুবর্ণের চারি কড়া ছাঁচে ঢালিয়া তাহার চারি পায়াতে দিবে; তাহার এক পার্শ্বে দুই কড়া থাকিবে। 13আর তুমি শিটীম কাষ্ঠের দুইটী বহন-দণ্ড করিয়া স্বর্ণে মুড়িবে। 14আর সিন্দুক বহণার্থে ঐ বহন-দণ্ড সিন্দুকের দুই পার্শ্বস্থ কড়াতে দিবে। 15সেই বহন-দণ্ড সিন্দুকের কড়াতে থাকিবে, তাহা হইতে বহিষ্কৃত হইবে না। 16আর আমি তোমাকে যে সাক্ষ্যপত্র দিব, তাহা ঐ সিন্দুকে রাখিবে। 17পরে তুমি নির্ম্মল স্বর্ণে আড়াই হস্ত দীর্ঘ ও দেড় হস্ত প্রস্থ পাপাবরণ প্রস্তুত করিবে। 18আর তুমি স্বর্ণের দুই করূব নির্ম্মাণ করিবে; পাপাবরণের দুই মুড়াতে পিটান কার্য্য দ্বারা তাহাদিগকে নির্ম্মাণ করিবে। 19এক মুড়াতে এক করূব ও অন্য মুড়াতে অন্য করূব, পাপাবরণের দুই মুড়াতে তৎসহিত অখণ্ড দুই করূব করিবে। 20আর সেই দুই করূব উর্দ্ধে পক্ষ বিস্তার করিয়া ঐ পক্ষ দ্বারা পাপাবরণকে আচ্ছাদন করিবে, এবং তাহাদের মুখ পরস্পরের দিকে থাকিবে, করূবদের দৃষ্টি পাপাবরণের দিকে থাকিবে। 21তুমি এই পাপাবরণ সেই সিন্দুকের উপরে রাখিবে, এবং আমি তোমাকে যে সাক্ষ্যপত্র দিব, তাহা ঐ সিন্দুকের মধ্যে রাখিবে। 22আর আমি সেই স্থানে তোমার সহিত সাক্ষাৎ করিব, এবং পাপাবরণের উপরিভাগ হইতে, সাক্ষ্য-সিন্দুকের উপরিস্থ দুই করূবের মধ্য হইতে তোমার সঙ্গে আলাপ করিয়া ইস্রায়েল-সন্তানগণের প্রতি আমার সমস্ত আজ্ঞা তোমাকে জ্ঞাত করিব।

মেজ ।

23আর তুমি শিটীম কাষ্ঠের এক মেজ নির্ম্মাণ করিবে; তাহা দুই হস্ত দীর্ঘ, এক হস্ত প্রস্থ ও দেড় হস্ত উচ্চ হইবে। 24আর নির্ম্মল স্বর্ণে তাহা মুড়িবে, এবং তাহার চারিদিকে স্বর্ণের নিকাল গড়িয়া দিবে। 25আর তাহার চারিদিকে চারি অঙ্গুলি পরিমিত এক পার্শ্বকাষ্ঠ করিবে, এবং পার্শ্বকাষ্ঠের চারিদিকে স্বর্ণের নিকাল গড়িয়া দিবে। 26আর স্বর্ণের চারিটী কড়া করিয়া চারি পায়ার চারি কোণে রাখিবে। 27মেজ বহণার্থে বহন-দণ্ডের ঘর হইবার নিমিত্তে ঐ কড়া পার্শ্বকাষ্ঠের নিকটে থাকিবে। 28আর ঐ মেজ বহণার্থে শিটীম কাষ্ঠের দুই বহন-দণ্ড করিয়া তাহা স্বর্ণে মুড়িবে। 29আর মেজের থাল, চমস, শ্রুব ও ঢালিবার জন্য সেকপাত্র গড়িবে; এই সকল নির্ম্মল স্বর্ণ দ্বারা গড়িবে। 30আর তুমি সেই মেজের উপরে আমার সম্মুখে নিয়ত দর্শন রুটী রাখিবে।

দীপবৃক্ষ

31আর তুমি নির্ম্মল স্বর্ণের এক দীপবৃক্ষ প্রস্তুত করিবে; পিটান কার্য্যে সেই দীপবৃক্ষ প্রস্তুত হইবে; তাহার কাণ্ড, শাখা, গোলাধার, কলিকা ও পুষ্প তৎসহিত অখণ্ড হইবে। 32দীপবৃক্ষের এক পার্শ্ব হইতে তিন শাখা ও দীপবৃক্ষের অন্য পার্শ্ব হইতে তিন শাখা, এই ছয় শাখা তাহার পার্শ্ব হইতে নির্গত হইবে। 33এক শাখায় বাদামপুষ্পের ন্যায় তিন গোলাধার, এক কলিকা ও এক পুষ্প থাকিবে; এবং অন্য শাখায় বাদামপুষ্পের ন্যায় তিন গোলাধার, এক কলিকা ও এক পুষ্প থাকিবে; দীপবৃক্ষ হইতে নির্গত ছয় শাখায় এইরূপ হইবে। 34দীপবৃক্ষে বাদামপুষ্পের ন্যায় চারি গোলাধার, ও তাহাদের কলিকা ও পুষ্প থাকিবে। 35আর দীপবৃক্ষের যে ছয়টি শাখা নির্গত হইবে, তাহাদের এক শাখাদ্বয়ের নীচে তৎসহ অখণ্ড এক কলিকা ও অপর শাখাদ্বয়ের নীচে তৎসহ অখণ্ড এক কলিকা থাকিবে। 36কলিকা ও শাখা তৎসহ অখণ্ড হইবে; সমস্তই পিটান নির্ম্মল স্বর্ণের একই বস্তু হইবে। 37আর তুমি তাহার সাতটী প্রদীপ নির্ম্মাণ করিবে; এবং লোকেরা সেই সকল প্রদীপ জ্বালাইলে তাহার সম্মুখে আলো হইবে। 38আর তাহার চিমটা ও গুলতরাশ সকল নির্ম্মল স্বর্ণ দ্বারা নির্ম্মাণ করিতে হইবে। 39এই দীপবৃক্ষ এবং ঐ সমস্ত সামগ্রী এক তালন্ত পরিমিত নির্ম্মল স্বর্ণ দ্বারা নির্ম্মিত হইবে।

40দেখিও, পর্ব্বতে তোমাকে এই সকলের যেরূপ আদর্শ দেখান গেল, সেইরূপ সকলই করিও।

26

যবনিকা সমূহ ।

1আর তুমি দশ যবনিকা দ্বারা এক আবাস প্রস্তুত করিবে; সেগুলি পাকান সাদা মসীনা এবং নীল, বেগুনে ও লাল সূত্রে নির্ম্মাণ করিবে; সেই যবনিকা সমূহে শিল্পিত করূবগণের আকৃতি থাকিবে। 2প্রত্যেক যবনিকা দীর্ঘে আটাইশ হস্ত ও প্রত্যেক যবনিকা প্রস্থে চারি হস্ত হইবে; সমস্ত যবনিকার এক পরিমান হইবে। 3আর একত্র পাঁচ যবনিকার পরস্পর যোগ থাকিবে এবং অন্য পাঁচ যবনিকার পরস্পর যোগ থাকিবে।

4আর যোড়স্থানে প্রথম অন্ত্য যবনিকার মুড়াতে নীলসূত্রের ঘুন্টিঘরা করিয়া দিবে, এবং যোড়স্থানে দ্বিতীয় অন্ত্য যবনিকার মুড়াতেও তদ্রুপ করিবে। 5প্রথম যবনিকাকে পঞ্চাশ ঘুন্টিঘরা করিয়া দিবে; এবং যোড়স্থানের দ্বিতীয় যবনিকার মুড়াতেও পঞ্চাশ ঘুন্টিঘরা করিয়া দিবে; সেই দুই ঘুন্টিঘরাশ্রেণী পরস্পর সম্মুখীন হইবে। 6আর পঞ্চাশ স্বর্ণঘুন্টি গড়িয়া ঘুন্টিতে যবনিকা সকল পরস্পর বদ্ধ করিবে; তাহাতে তাহা একই আবাস হইবে। 7আর তুমি আবাসের উপরে আচ্ছাদনার্থ তাম্বুর নিমিত্তে ছাগলোমজাত যবনিকা সকল প্রস্তুত করিবে, একাদশ যবনিকা প্রস্তুত করিবে। 8প্রত্যেক যবনিকা দীর্ঘে ত্রিশ হস্ত ও প্রত্যেক যবনিকা প্রস্থে চারি হস্ত হইবে; এই একাদশ যবনিকার একই পরিমাণ হইবে। 9পরে পাঁচ যবনিকা পরস্পর যোড়া দিয়া পৃথক্‌ রাখিবে, অন্য ছয় যবনিকাও পৃথক্‌ রাখিবে, এবং ইহাদের ষষ্ট যবনিকা দোহারা করিয়া তাম্বুর সম্মুখে রাখিবে। 10আর যোড়স্থানে প্রথম অন্ত্য যবনিকার মুড়াতে পঞ্চাশ ঘুণ্টিঘরা করিয়া দিবে, এবং সংযুক্তব্য দ্বিতীয় যবনিকার মুড়াতেও পঞ্চাশ ঘুন্তিঘরা করিয়া দিবে। 11পরে পিত্তলের পঞ্চাশ ঘুণ্টি গড়িয়া সেই ঘুণ্টিঘরাতে তাহা প্রবেশ করাইয়া তাম্বু সংযুক্ত করিবে; তাহাতে তাহা একই তাম্বু হইবে; 12তাম্বুর যবনিকার অতিরিক্ত অংশ, অর্থাৎ যে অর্দ্ধযবনিকা অতিরিক্ত থাকিবে, তাহা আবাসের পশ্চাৎপার্শ্বে ঝুলিয়া থাকিবে। 13আর তাম্বুর যবনিকার দীর্ঘতার যে অংশ এপার্শ্বে এক হস্ত, ওপার্শ্বে এক হস্ত অতিরিক্ত থাকিবে, তাহা আচ্ছাদন জন্য আবাসের উপরে এপার্শ্বে ওপার্শ্বে ঝুলিয়া থাকিবে। 14পরে তুমি তাম্বুর জন্য রক্তীকৃত মেষচর্ম্মের এক ছাদ প্রস্তুত করিবে।

তক্তা ও অর্গল সমূহ।

15পরে তুমি আবাসের জন্য শিটীম কাষ্ঠের দাঁড় করান তক্তা প্রস্তুত করিবে। 16প্রত্যেক তক্তা দীর্ঘে দশ হস্ত ও প্রস্থে দেড় হস্ত হইবে। 17প্রত্যেক তক্তার পরস্পর সংযুক্ত দুই দুই পায়া থাকিবে; এইরূপে আবাসের সকল তক্তা প্রস্তুত করিবে। 18আবাসের নিমিত্তে তক্তা প্রস্তুত করিবে, দক্ষিণদিকের দক্ষিণ পার্শ্বের নিমিত্তে বিংশতি তক্তা। 19আর সেই বিংশতি তক্তার নীচে চল্লিশ রৌপ্যের চুঙ্গি গড়িয়া দিবে; এক তক্তার নীচে তাহার দুই পায়ার নিমিত্তের দুই চুঙ্গি, এবং অন্য অন্য তক্তার নীচেও তাহাদের দুই দুই পায়ার নিমিত্তে দুই দুই চুঙ্গি হইবে। 20আবার আবাসের দ্বিতীয় পার্শ্বের নিমিত্তে উত্তরদিকে বিংশতি তক্তা; 21আর সেইগুলির জন্য রৌপ্যের চল্লিশ চুঙ্গি; এক তক্তার নীচে দুই চুঙ্গি ও অন্য অন্য তক্তার নীচেও দুই দুই চুঙ্গি; 22আর আবাসের পশ্চিমদিকের পশ্চাদ্ভাগের নিমিত্তে ছয়খানি তক্তা করিবে। 23আর আবাসের সেই পশ্চাদ্ভাগের দুই কোণের জন্য দুইখানি তক্তা করিবে। 24সেই দুই তক্তার নীচে যোড় হইবে, এবং সেইরূপ মাথাতেও প্রথম কড়ার নিকটে যোড় হইবে; এইরূপ উভয়েতেই হইবে; তাহা দুই কোণের নিমিত্ত হইবে। 25তক্তা আটখান হইবে, ও সেইগুলির রৌপ্যের চুঙ্গি ষোলটী হইবে; এক তক্তার নীচে দুই চুঙ্গি, ও অন্য তক্তার নীচে দুই চুঙ্গি থাকিবে। 26আর তুমি শিটীম কাষ্ঠের অর্গল প্রস্তুত করিবে, 27আবাসের এক পার্শ্বের তক্তাতে পাঁচ অর্গল, ও আবাসের অন্য পার্শ্বের তক্তাতে পাঁচ অর্গল, এবং আবাসের পশ্চিমদিকের পশ্চাদ্ভাগের তক্তাতে পাঁচ অর্গল দিবে। 28এবং মধ্যবর্ত্তী অর্গল তক্তাগুলির মধ্যস্থান দিয়া এক প্রান্ত অবধি অন্য প্রান্ত পর্য্যন্ত যাইবে। 29আর ঐ তক্তাগুলি স্বর্ণে মুড়িবে, এবং অর্গলের ঘর হইবার জন্য স্বর্ণকড়া গড়িবে, এবং অর্গল সকল স্বর্ণ দিয়া মুড়িবে। 30আবাসের যে আদর্শ পর্ব্বতে তোমাকে দেখান গেল, তদনুসারে তাহা স্থাপন করিবে।

তিরস্করিণী ও পর্দ্দা।

31আর তুমি নীল, বেগুনে ও লাল এবং পাকান সাদা মসীনা সূত্র দ্বারা এক তিরস্করিণী প্রস্তুত করিবে; তাহা শিল্পকারের কর্ম্ম হইবে, তাহাতে করুবগণের আকৃতি থাকিবে। 32তুমি তাহা স্বর্ণে মুড়ান শিটীম কাষ্ঠের চারি স্তম্ভের উপরে খাটাইবে; সেইগুলির আঁকড়া স্বর্ণময় হইবে, এবং সেইগুলি রৌপ্যের চারি চুঙ্গির উপরে বসিবে। 33আর ঘুণ্টি সকলের নীচে তিরস্করিণী খাটাইয়া দিবে।, এবং তথায় তিরস্করিণীর ভিতরে সাক্ষ্য-সিন্দুক আনিবে; এবং সেই তিরস্করিণী পবিত্র স্থানের ও অতি পবিত্র স্থানের মধ্যে তোমাদের জন্য প্রভেদ রাখিবে। 34আর অতি পবিত্র স্থানে সাক্ষ্য-সিন্দুকের উপরে পাপাবরণ রাখিবে। 35আর তিরস্করিণীর বাহিরে মেজ রাখিবে, ও মেজের সম্মুখে আবাসের পার্শ্বে, দক্ষিণদিকে দীপবৃক্ষ রাখিবে; এবং উত্তরদিকে মেজ রাখিবে। 36আর তাম্বুর দ্বারের নিমিত্তে নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রনির্ম্মিত শিল্পকারের কৃত এক পর্দ্দা প্রস্তুত করিবে। 37আর সেই পর্দ্দার নিমিত্তে শিটীম কাষ্ঠের পাঁচটী স্তম্ভ নির্ম্মাণ করিয়া স্বর্ণে মুড়িবে, ও স্বর্ণ দ্বারা তাহার আঁকড়া প্রস্তুত করিবে, এবং তাহার নিমিত্তে পিত্তলের পাঁচ চুঙ্গি ঢালিবে।

27

হোমার্থক বেদি।

1আর তুমি শিটীম কাষ্ঠ দ্বারা পাঁচ হস্ত দীর্ঘ, পাঁচ হস্ত প্রস্থ বেদি নির্ম্মাণ করিবে। সেই বেদি চতুষ্কোণ এবং তিন হস্ত উচ্চ হইবে। 2আর তাহার চারি কোণের উপরে শৃঙ্গ করিবে, সেই বেদির শৃঙ্গে সকল তৎসহ অখণ্ড হইবে, এবং তুমি তাহা পিত্তলে মুড়িবে। 3আর তাহার ভস্ম লইবার নিমিত্তে হাঁড়ী প্রস্তুত করিবে, এবং তাহার হাতা, বাটি, ত্রিশূল ও অঙ্গারধানী গড়িবে; তাহার সমস্ত পাত্র পিত্তল দিয়া গড়িবে।

4আর জালের ন্যায় পিত্তলের এক ঝাঁঝরী গড়িবে, এবং সে ঝাঁঝরীর উপরে চারি কোণে পিত্তলের চারি কড়া প্রস্তুত করিবে। 5এই ঝাঁঝরী নিম্নভাগে বেদির বেড়ের নীচে রাখিবে, এবং ঝাঁঝরী বেদির মধ্য পর্য্যন্ত থাকিবে। 6আর বেদির নিমিত্তে শিটীম কাষ্ঠের বহন-দণ্ড করিবে, ও তাহা পিত্তলে মুড়িবে। 7আর কড়ার মধ্যে ঐ বহন-দণ্ড দিবে; বেদি বহনকালে তাহার দুই পার্শ্বে সেই বহন-দণ্ড থাকিবে। 8তুমি ফাঁপা করিয়া তক্তা দিয়া তাহা গড়িবে; পর্ব্বতে তোমাকে যেরূপ দেখান গেল, লোকেরা সেইরূপে তাহা করিবে।

প্রাঙ্গণ

9আর তুমি আবাসের প্রাঙ্গণ নির্ম্মাণ করিবে; দক্ষিণ পার্শ্বে, দক্ষিণদিকে পাকান সাদা মসীনা সূত্রনির্ম্মিত যবনিকা থাকিবে; তাহার এক পার্শ্বের দীর্ঘতা এক শত হস্ত হইবে। 10তাহার বিংশতি স্তম্ভ ও বিংশতি চুঙ্গি পিত্তলের হইবে, এবং স্তম্ভের আঁকড়া ও শলাকা সকল রৌপ্যের হইবে। 11তদ্রুপ উত্তর পার্শ্বে এক শত হস্ত দীর্ঘ যবনিকা হইবে, আর তাহার বিংশতি স্তম্ভ ও বিংশতি চুঙ্গি পিত্তলের হইবে; এবং স্তম্ভের আঁকড়া ও শলাকা সকল রৌপ্যের হইবে। 12আর প্রাঙ্গণের প্রস্থের নিমিত্তে পশ্চিমদিকে পঞ্চাশ হস্ত যবনিকা ও তাহার দশ স্তম্ভ ও দশ চুঙ্গি হইবে। 13আর প্রাঙ্গণের প্রস্থ পূর্ব্ব পার্শ্বে পূর্ব্বদিকে পঞ্চাশ হস্ত হইবে। 14[দ্বারের] এক পার্শ্বের জন্য পনের হস্ত যবনিকা, তিন স্তম্ভ ও তিন চুঙ্গি হইবে। 15আর অন্য পার্শ্বের জন্যও পনের হস্ত যবনিকা, তিন স্তম্ভ ও তিন চুঙ্গি হইবে। 16আর প্রাঙ্গণের দ্বারের নিমিত্তে নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রে শিল্পকারের কৃত বিংশতি হস্ত এক পর্দ্দা ও তাহার চারি স্তম্ভ ও চারি চুঙ্গি হইবে। 17প্রাঙ্গণের চারিদিকের স্তম্ভ সকল রৌপ্য-শলাকাতে বদ্ধ হইবে, ও সেগুলির আঁকড়া রৌপ্যময়, ও চুঙ্গি পিত্তলের হইবে। 18প্রাঙ্গণের দীর্ঘতা এক শত হস্ত, প্রস্থ সর্ব্বত্র পঞ্চাশ হস্ত, এবং উচ্চতা পাঁচ হস্ত হইবে, সকলই পাকান সাদা মসীনা সূত্রে করা যাইবে, ও তাহার পিত্তলের চুঙ্গি হইবে। 19আবাসের যাবতীয় কার্য্য সম্বন্ধীয় সমস্ত দ্রব্য ও গোঁজ এবং প্রাঙ্গণের সকল গোঁজ পিত্তলের হইবে। 20আর তুমি ইস্রায়েল-সন্তানগণকে এই আদেশ করিবে, যেন তাহারা আলোর জন্য উখলিতে প্রস্তুত জিততৈল তোমার নিকটে আনে, জাহাতে নিয়ত প্রদীপ জ্বালান থাকে। 21আর সমাগম-তাম্বুতে সাক্ষ্য-সিন্দুকের সম্মুখে স্থিত তিরস্করিণীর বাহিরে হারোণ ও তাহার পুত্রগণ সন্ধ্যা অবধি প্রাতঃকাল পর্য্যন্ত সদাপ্রভুর সম্মুখে তাহা প্রস্তুত রাখিবে; ইহা ইস্রায়েল-সন্তানদের পুরুষানুক্রমে পালনীয় চিরস্থায়ী বিধি।

28

যাজকীয় বস্ত্র।

1আর তুমি আমার যাজনার্থে ইস্রায়েল-সন্তানগণের মধ্যে হইতে তোমার ভ্রাতা হারোণকে ও তাহার সঙ্গে তাহার পুত্রগণকে আপনার নিকটে উপস্থিত করিবে; হারোণ এবং হারোণের পুত্র নাদব, অবীহূ, ইলীয়াসর ও ঈথামরকে উপস্থিত করিবে। 2আর তোমার ভ্রাতা হারোণের জন্য, গৌরব ও শোভার নিমিত্তে তুমি পবিত্র বস্ত্র প্রস্তুত করিবে। 3আর আমি যাহাদিগকে বিজ্ঞতার আত্মায় পূর্ণ করিয়াছি, সেই সকল বিজ্ঞমনা লোকদিগকে বল, যেন আমার যাজনার্থে হারোণকে পবিত্র করিতে তাহারা তাহার বস্ত্র প্রস্তুত করে।

4এই সকল বস্ত্র তাহারা প্রস্তুত করিবে; বুকপাটা, এফোদ, পরিচ্ছদ, চিত্রিত অঙ্গরক্ষক বস্ত্র, উষ্ণীষ ও কটিবন্ধন; তাহারা আমার যাজনার্থে তোমার ভ্রাতা হারোণের ও তাহার পুত্রগণের নিমিত্তে পবিত্র বস্ত্র প্রস্তুত করিবে। 5তাহারা স্বর্ণ এবং নীল, বেগুনে ও লাল এবং সাদা মসীনা সূত্র লইবে। 6আর তাহারা স্বর্ণ এবং নীল, বেগুনে ও লাল এবং পাকান সাদা মসীনা সূত্রে শিল্পকারের কর্ম্ম দ্বারা এফোদ প্রস্তুত করিবে। 7তাহার দুই মুড়াতে পরস্পর সংযুক্ত দুই স্কন্ধপটি থাকিবে; এইরূপে তাহা যুক্ত হইবে; 8এবং তাহা বদ্ধ করিবার জন্য বুনানি করা যে পটুকা তাহার উপরে থাকিবে, তাহা তৎসহিত অখণ্ড এবং সেই বস্ত্রের তুল্য হইবে; অর্থাৎ স্বর্ণে এবং নীল,বেগুনে ও লাল এবং পাকান সাদা মসীনা সূত্রে হইবে। 9পরে তুমি দুই গোমেদক মণি লইয়া তাহার উপরে ইস্রায়েলের পুত্রদের নাম খুদিবে। 10তাহাদের জন্মক্রম নাম অনুসারে ছয় নাম এক মণির উপরে, ও অবশিষ্ট ছয় নাম অন্য মণির উপরে খুদিবে। 11শিল্পকর্ম্ম ও মুদ্রা খুদনের ন্যায় সেই দুই মণির উপরে ইস্রায়েলের পুত্রদের নাম খুদিবে, এবং তাহা দুই স্বর্ণস্থালীতে বদ্ধ করিবে। 12আর ইস্রায়েল-সন্তানদের স্মরণার্থক মণিসরূপে তুমি সেই দুই মণি এফোদের দুই স্কন্ধপটিতে দিবে; তাহাতে হারোণ স্মরণ করাইবার নিমিত্তে সদাপ্রভুর সম্মুখে আপনার দুই স্কন্ধে তাহাদের নাম বহিবে। 13আর তুমি দুই স্বর্ণস্থালী করিবে, 14এবং নির্ম্মল স্বর্ণ দ্বারা পাকান দুই মাল্যবৎ শৃঙ্খল করিয়া সেই পাকান শৃঙ্খল সেই দুই স্থালীতে বদ্ধ করিবে। 15আর শিল্পকারের কর্ম্মে বিচারাথক বুকপাটা করিবে; এফোদের কর্ম্মানুসারে করিবে; স্বর্ণ এবং নীল,বেগুনে ও লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রের দ্বারা তাহা প্রস্তুত করিবে। 16তাহা চতুষ্কোণ ও দোহারা হইবে; তাহার দীর্ঘতা এক বিঘত ও প্রস্থ এক বিঘত হইবে। 17আর তাহা চারি পংক্তি মণিতে খচিত করিবে; তাহার প্রথম পংক্তিতে চুণী, পীতমণি ও মরকত; 18দ্বিতীয় পংক্তিতে পদ্মরাগ, নীলকান্ত ও হীরক; 19তৃতীয় পংক্তিতে পংক্তিতে পেরোজ, যিস্ম ও কটাহেলা; 20এবং চতুর্থ পংক্তিতে বৈদূর্ষ্য, গোমেদক ও সূর্য্যকান্ত; এই সকল স্ব স্ব পংক্তিতে স্বর্ণে আঁটা হইবে। 21এই মণি ইস্রায়েলের পুত্রদের নামানুযায়ী হইবে, তাহাদের নামানুসারে দ্বাদশটী হইবে; মুদ্রার ন্যায় খোদিত প্রত্যেক মণিতে ঐ দ্বাদশ বংশের জন্য এক এক পুত্রের নাম থাকিবে। 22আর তুমি নির্ম্মল স্বর্ণ দিয়া বুকপাটার উপরে মাল্যবৎ পাকান দুই শৃঙ্গল নির্ম্মাণ করিয়া দিবে। 23আর বুকপাটার উপরে স্বর্ণের দুই কড়া গড়িয়া দিবে, এবং বুকপাটার দুই প্রান্তে ঐ দুই কড়া বাঁধিবে। 24আর বুকপাটার দুই প্রান্তস্থিত দুই কড়ার মধ্যে পাকান স্বর্ণের ঐ দুই শৃঙ্গল রাখিবে। 25আর পাকান শৃঙ্গলের দুই মুড়া সেই দুই স্থালীতে বদ্ধ করিয়া এফোদের সম্মুখে দুই স্কন্ধপটির উপরে রাখিবে। 26তুমি স্বর্ণের দুই কড়া গড়িয়া বুকপাটার দুই প্রান্তে এফোদের স্মমুখস্থ ভিতরভাগে রাখিবে। 27আরও দুই স্বর্ণকড়া গড়িয়া এফোদের দুই স্কন্ধপটির নীচে তাহার সম্মুখভাগে যোড়স্থানে এফোদের বুনানি করা পটুকার উপরে তাহা রাখিবে। 28তাহাতে বুকপাটা যেন এফোদের বুনানি করা পটুকার উপরে থাকে, এফোদ হইতে খসিয়া না পড়ে, এই জন্য তাহারা কড়াতে নীলসূত্র দিয়া এফোদের কড়ার সহিত বুকপাটা বদ্ধ করিয়া রাখিবে। 29যে সময়ে হারোণ পবিত্র স্থানে প্রবেশ করিবে তৎকালে সদাপ্রভুর সম্মুখে নিয়ত স্মরণ করাইবার জন্য সে বিচারার্থক বুকপাটাতে ইস্রায়েলের পুত্রদের নাম আপন হৃদয়ের উপরে বহন করিবে। 30আর সেই বিচারার্থক বুকপাটায় তুমি ঊরীম ও তুম্মীম [দীপ্তি ও সিদ্ধতা] দিবে; তাহাতে হারোণ যে সময়ে সদাপ্রভুর সম্মুখে প্রবেশ করিবে, তৎকালে হারোণের হৃদয়ের উপরে তাহা থাকিবে, এবং হারোণ সদাপ্রভুর সম্মুখে ইস্রায়েল-সন্তানদের বিচার নিয়ত আপন হৃদয়ের উপরে বহিবে। 31আর তুমি এফোদের সমুদয় পরিচ্ছদ নীলবর্ণ করিবে। 32তাহার মধ্যস্থলে শিরঃপ্রবেশার্থে এক ছিদ্র থাকিবে; বর্ম্মের গলার ন্যায় সেই ছিদ্রের চারিদিকে তন্তুবায়ের কৃত ধারি থাকিবে, তাহাতে তাহা ছিঁড়িবে না। 33আর তুমি তাহার আঁচলায় চারিদিকে নীল, বেগুনে ও লাল দাড়িম করিবে, এবং চারিদিকে তাহার মধ্যে মধ্যে স্বর্ণের কিঙ্কিণী থাকিবে। 34ঐ পরিচ্ছদের আঁচলায় চারিদিকে এক স্বর্ণকিঙ্কিণী ও এক দাড়িম এবং এক স্বর্ণকিঙ্কিণী ও এক দাড়িম থাকিবে। 35আর হারোণ পরিচর্য্যা করবার নিমিত্তে তাহা পরিধান করিবে; তাহাতে সে যখন সদাপ্রভুর সম্মুখে পবিত্র স্থানে প্রবেশ করিবে, ও সেখান হইতে যখন বাহির হইবে, তখন কিঙ্কিণীর শব্দ শুনা যাইবে; তাহাতে সে মরিবে না। 36আর তুমি নির্ম্মল স্বর্ণের এক পাত প্রস্তুত করিয়া মুদ্রার ন্যায় তাহার উপরে “সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র” এই কথা খুদিবে। 37তুমি তাহা নীলসূত্রে বদ্ধ করিয়া রাখিবে; তাহা উষ্ণীষের উপরে থাকিবে, উষ্ণীষের সম্মুখভাগেই থাকিবে। 38আর তাহা হারোণের কপালের উপরে থাকিবে, তাহাতে ইস্রায়েল-সন্তানেরা আপনাদের সমস্ত পবিত্র দানে যে সকল দ্রব্য পবিত্র করিবে, হারোণ সেই সকল পবিত্র দ্রব্যের অপরাধ বহন করিবে, এবং তাহারা যেন সদাপ্রভুর কাছে গ্রাহ্য হয়, এইজন্য উহা নিয়ত তাহার কপালের উপরে থাকিবে। 39আর তুমি চিত্রিত সাদা মসীনা সূত্র দ্বারা অঙ্গরক্ষিণী বুনিবে, এবং সাদা মসীনা সূত্র দ্বারা উষ্ণীষ প্রস্তুত করিবে; এবং কটিবন্ধন সূচী দ্বারা শিল্পিত করিবে।

40আর হারোণের পুত্রগণের জন্য অঙ্গরক্ষক বস্ত্র ও কটিবন্ধন প্রস্তুত করিবে, এবং গৌরব ও শোভার জন্য শিরোভূষণ করিয়া দিবে।

41আর তোমার ভ্রাতা হারোণের ও তাহার পুত্রগণের গাত্রে সেই সকল পরাইবে, এবং তাহাদের অভিষেক ও হস্তপূরণ করিয়া তাহাদিগকে পবিত্র করিবে, তাহাতে তাহারা আমার যাজনকর্ম্ম করিবে।

42তুমি তাহাদের উলঙ্গতার আচ্ছাদনার্থে কটি অবধি জঙ্ঘা পর্য্যন্ত শুল্ক জাঙ্ঘিয়া প্রস্তুত করিবে।

43আর যখন হারোণ ও তাহার পুত্রগণ সমাগম-তাম্বুতে প্রবেশ করিবে, কিম্বা প্রবিত্র স্থানে পরিচর্য্যা করণার্থ বেদির নিকটবর্ত্তী হইবে, তৎকালে যেন অপরাধ বহিয়া না মরে, এই জন্য তাহারা এই বস্ত্র পরিধান করিবে; ইহা হারোণ ও তাহার ভাবী বংশের পালনীয় চিরস্থায়ী বিধি।

29

যাজকদের নিয়োগ বিষয়ক আদেশ।

1আর আমার যাজন কর্ম্ম করণার্থে তাহাদিগকে পবিত্র করিবার জন্য তুমি তাহাদের প্রতি এই সকল কর্ম্ম করিবে; নির্দ্দোষ একটী পুংগোবৎস ও দুইটী মেষ লইবে; 2আর তাড়ীশূন্য রুটি তৈলমিশ্রিত তাড়ীশূন্য পিষ্টক ও তৈলাক্ত তাড়ীশূন্য সরুচাকলী গোমের ময়দা দ্বারা প্রস্তুত করিবে; 3এবং সেইগুলি এক ডালিতে রাখিবে, আর সেই ডালিতে করিয়া আনিবে, এবং গোবৎস ও দুই মেষ আনিবে।

4আর হারোণকে ও তাহার পুত্রগণকে সমাগম-তাম্বুর দ্বার-সমীপে আনিয়া জলে স্নান করাইবে। 5আর সেই সকল বস্ত্র লইয়া হারোণকে অঙ্গরক্ষিণী, এফোদের পরিচ্ছদ, এফোদ ও বুকপাটা পরাইবে, এবং এফোদের বুনানি করা পটুকা তাহাতে আবদ্ধ করিবে। 6আর তাহার মস্তকে উষ্ণীষ দিবে, ও উষ্ণীষের উপরে পবিত্র মুকুট দিবে। 7পরে অভিষেকার্থ তৈল লইয়া তাহার মস্তিস্কের উপরে ঢালিয়া তাহাকে অভিষিক্ত করিবে। 8আর তুমি তাহার পুত্রগণকে আনিয়া অঙ্গরক্ষক বস্ত্র পরাইবে। 9আর হারোণকে ও তাহার পুত্রগণকে কটিবন্ধন পরাইবে, ও থাদের মস্তকে শিরোভূষণ বাঁধিয়া দিবে; তাহাতে যাজকত্বপদে তাহাদের চিরস্থায়ী অধিকার থাকিবে। আর তুমি হারোণের ও তাহার পুত্রগণের হস্তপূরণ করিবে। 10পরে তুমি সমাগম-তাম্বুর সম্মুখে সেই গোবৎসকে আনাইবে, এবং হারোণ ও তাহার পুত্রগণ গোবৎসটীর মস্তকে হস্তার্পণ করিবে। 11তখন তুমি সমাগম-তাম্বুর দ্বারসমীপে সদাপ্রভুর সম্মুখে ঐ গোবৎস হনন করিবে। 12পরে গোবৎসের কিঞ্চিৎ রক্ত লইয়া অঙ্গুলি দ্বারা বেদির শৃঙ্গের উপরে দিবে, এবং বেদির মূলে সমস্ত রক্ত ঢালিয়া দিবে। 13আর তাহার অন্ত্রের উপরিস্থিত সমস্ত মেদ ও যকৃতের উপরিস্থ অন্ত্রাপ্লাবক ও দুই মেটিয়া ও তদুপরিস্থ মেদ লইয়া বেদিতে দগ্ধ করিবে। 14কিন্তু গোবৎসটির মাংস ও তাহার চর্ম্ম ও গোময় শিবিরের বাহিরে অগ্নিতে পোড়াইয়া দিবে; তাহা পাপার্থক বলি। 15পরে তুমি প্রথম মেষটী আনিবে, এবং হারোণ ও তাহার পুত্রগণ সেই মেষের মস্তকে হস্তার্পণ করিবে। 16পরে তুমি সেই মেষ হনন করিয়া তাহার রক্ত লইয়া বেদির উপরে চারিদিকে ছিটাইয়া দিবে। 17পরে তুমি মেষটী খণ্ড খণ্ড করিবে, তাহার অন্ত্র ও পদ ধৌত করিবে, আর ঐ খণ্ড সকলের ও মস্তকের উপরে রাখিবে। 18পরে সমস্ত মেষটী বেদিতে দগ্ধ করিবে; তাহা সদাপ্রভুর উদ্দেশে হোমবলি, সদাপ্রভুর উদ্দেশে সৌরভার্থক অগ্নিকৃত উপহার। 19পরে তুমি দ্বিতীয় মেষটী লইবে, এবং হারোণ ও তাহার পুত্রগণ ঐ মেষের মস্তকে হস্তার্পণ করিবে। 20পরে তুমি সেই মেষ হনন করিয়া তাহার কিঞ্চিৎ রক্ত লইয়া হারোণের দক্ষিণ কর্ণের প্রান্তে ও তাহার পুত্রগণের দক্ষিণ কর্ণের প্রান্তে ও তাহাদের দক্ষিণ হস্তের অঙ্গুষ্ঠের উপরে দিবে, এবং বেদির উপরে চারিদিকে রক্ত ছিটাইয়া দিবে। 21পরে বেদির উপরিস্থিত রক্তের ও অভিষেকার্থ তৈলের কিঞ্চিৎ লইয়া হারোণের উপরে ও তাহার বস্ত্রের উপরে এবং তাহার সহিত তাহার পুত্রদের উপরে ও তাহাদের বস্ত্রের উপরে ছিটাইয়া দিবে; তাহাতে সে ও তাহার বস্ত্র এবং তাহার সহিত তাহার পুত্রগণ ও তাহাদের বস্ত্র পবিত্র হইবে। 22পরে তুমি সেই মেষের মেদ, লাঙ্গুল ও অন্ত্রের উপরিস্থ অন্ত্রাপ্লাবক অ দুই মেটিয়া ও তদুপরিস্থ মেদ ও দক্ষিণ জঙ্ঘা লইবে, কেননা সে হস্তপূরণার্থ মেষ। 23পরে তুমি সদাপ্রভুর সম্মুখস্থিত তাড়ীশূন্য রুটীর ডালি হইতে এক রুটী ও তৈলমিশ্রিত এক পিষ্টক ও এক সরুচাকলী লইবে; 24এবং হারোণের হস্তে ও তাহার পুত্রগণের হস্তে তৎসমুদয় দিয়া দোলনীয় উপহারার্থে সদাপ্রভুর সম্মুখে তাহা দোলাইবে। 25পরে তুমি তাহাদের হস্ত হইতে তাহা লইয়া সদাপ্রভুর সম্মুখে সৌরভার্থে বেদিতে হোমার্থক বলির উপরে দগ্ধ করিবে; তাহা সদাপ্রভুর উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার। 26পরে তুমি হারোণের হস্তপূরণার্থক মেষের বক্ষঃস্থল লইয়া দোলনীয় উপহারার্থে সদাপ্রভুর সম্মুখে দোলাইবে; তাহা তোমার অংশ হইবে। 27পরে হারোণের ও তাহার পুত্রগণের হস্তপূরণার্থক মেষের যে দোলনীয় উপহার বক্ষঃস্থল দোলায়িত ও যে উত্তোলনীয় উপহার জঙ্ঘা উত্তোলিত হইল, তাহা তুমি পবিত্র করিবে। 28তাহাতে ইস্রায়েল-সন্তানগণ হইতে তাহা হারোণের ও তাহার সন্তানগণের চিরস্থায়ী অধিকার হইবে, কেননা তাহাই উত্তোলনীয় উপহার তাহাদের মঙ্গলার্থক বলি হইতে দেয়; ইহা সদাপ্রভুর উদ্দেশে তাহাদের উত্তোলনীয় উপহার। 29আর হারোণের পরে তাহার পবিত্র বস্ত্র সকল তাহার পুত্রগণের হইবে; অভিষেক ও হস্তপূরণ সময়ে তাহারা তাহা পরিধান করিবে। 30তাহার পুত্রদের মধ্যে যে তাহার পদে যাজক হইয়া পবিত্র স্থানে পরিচর্য্যা করিতে সমাগম তাম্বুতে প্রবেশ করিবে, সে সেই বস্ত্র সাত দিন পরিবে। 31পরে তুমি সেই হস্তপূরণার্থক মেষের মাংস লইয়া কোন পবিত্র স্থানে পাক করিবে, 32এবং হারোণ ও তাহার পুত্রগণ সমাগম-তাম্বুর দ্বারে সেই মেষমাংস ও ডালিতে স্থিত সেই রুটী ভোজন করিবে। 33আর হস্তপূরণ দ্বারা তাহাদিগকে পবিত্র করণার্থে যাহা দিয়া প্রায়শ্চিত্ত করা হইল, তাহা তাহারা ভোজন করিবে; কিন্তু অপর কোন লোক তাহা ভোজন করিবে না, কারণ সে সকল পবিত্র বস্তু। 34আর ঐ হস্তপূরণার্থক মাংস ও রুটী হইতে যদি প্রাতঃকাল পর্য্যন্ত কিছু অবশিষ্ট থাকে, তবে সেই অবশিষ্ট অংশ অগ্নিতে পোড়াইয়া দিবে; কেহ তাহা ভোজন করিবে না, কারণ তাহা পবিত্র বস্তু। 35আমি তোমাকে এই যে সকল আজ্ঞা করিলাম, তদনুসারে হারোণের প্রতি ও তাহার পুত্রগণের প্রতি করিবে; সাত দিন তাহাদের হস্তপূরণ করিবে। 36আর তুমি প্রায়শ্চিত্তের কারণ প্রতিদিন পাপার্থক বলিরূপে এক একটী পুংগোবৎস উৎসর্গ করিবে, এবং প্রায়শ্চিত্ত করিয়া বেদিকে মুক্ত পাপ করিবে; আর তাহা পবিত্র করণার্থে অভিষেক করিবে।

দৈনিক উপহার।

37তুমি বেদির নিমিত্তে সাত দিন প্রায়শ্চিত্ত করিয়া তাহা পবিত্র করিবে; তাহাতে বেদি অতি পবিত্র হইবে; যে কেহ বেদি স্পর্শ করে, তাহার পবিত্র হওয়া চাই। 38সেই বেদির উপরে তুমি এই বলি উৎসর্গ করিবে; নিয়ত প্রতিদিন একবর্ষীয় দুইটী মেষশাবক; 39একটী মেষশাবক প্রাতঃকালে উৎসর্গ করিবে, ও অন্যটী সন্ধ্যাকালে উৎসর্গ করিবে।

40আর প্রথম মেষশাবকের সহিত উখলিতে প্রস্তুত হিন পাত্রের চতুর্থাংশ তৈলে মিশ্রিত [ঐফা] পাত্রের দশমাংশ ময়দা, এবং পেয় নৈবেদ্যের কারণ হিনের চতুর্থাংশ দ্রাক্ষারস দিবে।

41পরে দ্বিতীয় মেষশাবকটী সন্ধ্যাকালে উৎসর্গ করিবে, এবং প্রাতঃকালের মতানুসারে ভক্ষ্য ও পেয় নৈবেদ্যের সহিত তাহাও সদাপ্রভুর উদ্দেশে সৌরভার্থক অগ্নিকৃত উপহার বলিয়া উৎসর্গ করিবে।

42ইহা তোমাদের পুরুষানুক্রমে নিয়ত [কর্ত্তব্য] হোম; সমাগম-তাম্বুর দ্বারসমীপে সদাপ্রভুর সম্মুখে, যে স্থানে আমি তোমার সহিত আলাপ করিতে তোমাদের কাছে দেখা দিব, সেই স্থানে [ইহা কর্ত্তব্য] ।

43সেখানে আমি ইস্রায়েল-সন্তানগণের কাছে দেখা দিব, এবং আমার প্রতাপে তাম্বু পবিত্রীকৃত হইবে।

44আর আমি সমাগম-তাম্বু ও বেদি পবিত্র করিব, এবং আমার যাজনকর্ম্ম করণার্থে হারোণকে ও তাহার পুত্রগণকে পবিত্র করিব।

45আর আমি ইস্রায়েল-সন্তানগণের মধ্যে বাস করিব, ও তাহাদের ঈশ্বর হইব।

46তাহাতে তাহারা জানিবে যে, আমি সদাপ্রভু, তাহাদের ঈশ্বর, আমি তাহাদের মধ্যে বাস করণার্থে মিসর দেশ হইতে তাহাদিগকে বাহির করিয়া আনিয়াছি; আমিই সদাপ্রভু, তাহাদের ঈশ্বর।

তাম্বু সম্বন্ধীয় পাত্রাদির বিষয়।

30

ধূপবেদি।

1আর তুমি ধূপদাহ করিবার জন্য এক বেদি নির্ম্মাণ করিবে; শিটীম কাষ্ঠ দিয়া তাহা নির্ম্মাণ করিবে। 2তাহা এক হস্ত দীর্ঘ ও এক হস্ত প্রস্থ চতুষ্কোণ হইবে, এবং দুই হস্ত উচ্চ হইবে, তাহার শৃঙ্গ সকল তাহার সহিত অখণ্ড হইবে। 3আর তুমি সেই বেদি, তাহার পৃষ্ঠ ও চারি পার্শ্ব ও শৃঙ্গ নির্ম্মল স্বর্ণে মুড়িবে, এবং তাহার চারিদিকে স্বর্ণের নিকাল গড়িয়া দিবে।

4আর তাহার নিকালের নীচে দুই কোণের নিকটে স্বর্ণের দুই দুই কড়া গড়িয়া দিবে, দুই পার্শ্বে গড়িয়া দিবে; তাহা বেদি বহনার্থ বহন-দণ্ডের ঘর হইবে। 5আর ঐ বহন-দণ্ড শিটীম কাষ্ঠ দ্বারা প্রস্তুত করিয়া স্বর্ণ দিয়া মুড়িবে। 6আর সাক্ষ্য-সিন্দুকের নিকটস্থ তিরস্করিণীর অগ্রদিকে, সাক্ষ্য-সিন্দুকের উপরিস্থ পাপাবরণের সম্মুখে তাহা রাখিবে, সেই স্থানে আমি তোমার কাছে দেখা দিব। 7আর হারোণ তাহার উপরে সুগন্ধি ধূপ জ্বালাইবে; প্রতি প্রভাতে প্রদীপ পরিস্কার করিবার সময়ে সে ঐ ধূপ জ্বালাইবে। 8আর সন্ধাকালে প্রদোপ জ্বালাইবার সময়ে হারোণ ধূপ জ্বালাইবে, তাহাতে তোমাদের পুরুষানুক্রমে সদাপ্রভুর সম্মুখে নিয়ত ধূপদাহ হইবে। 9তোমরা তাহার উপরে ইতর ধূপ কিম্বা হোমবলি কিম্বা ভক্ষ্য নৈবেদ্য উৎসর্গ করিও না, ও তাহার উপরে পেয় নৈবেদ্য ঢালিও না। 10আর বৎসরের মধ্যে এক বার হারোণ তাহার শৃঙ্গের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করিবে; তোমাদের পুরুষানুক্রমে বৎসরের মধ্যে এক বার প্রায়শ্চিত্তার্থক পাপবলির রক্ত দিয়া তাহার জন্য প্রায়শ্চিত্ত করিবে; এই বেদি সদাপ্রভুর উদ্দেশে অতি পবিত্র।

প্রাণের প্রায়শ্চিত্ত ।

11পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, 12তুমি যখন ইস্রায়েল-সন্তানদের সংখ্যা গ্রহণ কর, তখন যাহাদিগকে গণনা করা যায়, তাহারা প্রতেকে গণনাকালে সদাপ্রভুর কাছে আপন আপন প্রাণের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করিবে, যেন তাহাদের মধ্যে গণনাকালে আঘাত না হয়। 13তাহাদের দেয় এই ; যে কেহ গণিত লোকদের মধ্যে আসিবে, সে পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে অর্দ্ধশেকল দিবে; বিংশতি গেরাতে এক শেকল হয়; সেই অর্দ্ধশেকল সদাপ্রভুর উদ্দেশে উপহার হইবে। 14বিংশতি বৎসর বয়স্ক কিম্বা তাহার অধিক বয়স্ক যে কেহ গণিত লোকদের মধ্যে আসিবে, সে সদাপ্রভুকে ঐ উপহার দিবে। 15তোমাদের প্রাণের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করণার্থে সদাপ্রভুকে সেই উপহার দিবার সময়ে ধনবান্ অর্দ্ধ শেকলের অধিক দিবে না, এবং দরিদ্র তাহার কম দিবে না। 16আর তুমি ইস্রায়েল-সন্তানগণ হইতে সেই প্রায়শ্চিত্তের রৌপ্য লইয়া সমাগম-তাম্বুর কার্য্যের জন্য দিবে; তোমাদের প্রাণের প্রায়শ্চিত্তের নিমিত্তে তাহা ইস্রায়েল-সন্তানদের স্মরণার্থে সদাপ্রভুর সম্মুখে থাকিবে।

প্রক্ষালন – পাত্র।

17আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি প্রক্ষালন কার্য্যের জন্য পিত্তলময় এক প্রক্ষালন-পাত্র ও তাহার পিত্তলময় খুরা প্রস্তুত করিবে; 18এবং সমাগম-তাম্বুর ও বেদির মধ্যস্থানে রাখিবে, ও তাহার মধ্যে জল দিবে। 19হারোণ ও তাহার পুত্রগণ তাহাতে আপন আপন হস্ত ও পদ ধৌত করিবে। 20তাহারা যেন না মরে, এই জন্য সমাগম-তাম্বুতে প্রবেশ কালে জলে আপনাদিগকে ধৌত করিবে; কিম্বা পরিচর্য্যা করণার্থে, সদাপ্রভুর উদ্দেশে অগ্নিকৃত উপহার দগ্ধ করণার্থে বেদির নিকটে আগমন কালে আপন আপন হস্ত ও পদ ধৌত করিবে, 21তাহারা যেন না মরে, এই জন্য করিবে; ইহা তাহাদের পক্ষে চিরস্থায়ী বিধি, পুরুষানুক্রমে হারোণ ও তাহার বংশের নিমিত্ত।

পবিত্র তৈল ও ধূপ।

22আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি আপনার নিকটে উত্তম উত্তম সুগন্ধি দ্রব্য, 23অর্থাৎ পবিত্র স্থনের শেকল অনুসারে পাঁচ শত শেকল নির্ম্মল গন্ধরস, তাহার অর্দ্ধ অর্থাৎ আড়াই শত শেকল সুগন্ধি দারুচিনি, 24আড়াই শত শেকল সুগন্ধি বচ, পাঁচ শত শেকল সূক্ষ্ম দারুচিনি ও এক হিন জিততৈল লইবে। 25এই সকলের দ্বারা তুমি অভিষেকার্থ পবিত্র তৈল, গন্ধবণিকেরা প্রক্রিয়া মতে কৃত তৈল প্রস্তুত করিবে, তাহা অভিষেকার্থ পবিত্র তৈল হইবে। 26আর তদদ্বারা তুমি সমাগম-তাম্বু, সাক্ষ্য-সিন্দুক, 27মেজ ও তাহার সকল পাত্র, দীপবৃক্ষ ও তাহার সকল পাত্র, 28ধূপবেদি, হোমবেদি ও তাহার সকল পাত্র , এবং প্রক্ষালনপাত্র ও তাহার খুরা অভিষেক করিবে। 29আর এই সকল বস্তু পবিত্র করিবে, তাহাতে তাহা অতি পবিত্র হইবে; যে কেহ তাহা স্পর্শ করে, তাহার পবিত্র হওয়া চাই। 30আর তুমি হারোণকে ও তাহার পুত্রগণকে আমার যাজনকর্ম্ম করণার্থে আভিষেক করিয়া পবিত্র করিবে। 31আর ইস্রায়েল-সন্তানগণকে বলিবে, তোমাদের পুরুষানুক্রমে আমার নিমিত্তে তাহা পবিত্র অভিষেকার্থ তৈল হইবে। 32মনুষ্যের গাত্রে তাহা ঢালা যাইবে না; এবং তোমরা তাহার দ্রব্যের পরিমাণানুসারে তৎসদৃশ আর কোন তৈল প্রস্তুত করিবে না; তাহা পবিত্র, তোমাদের পক্ষে পবিত্র হইবে। 33যে কেহ তাহার মত তৈল প্রস্তুত করে, ও যে কেহ পরের গাত্রে তাহার কিঞ্চিৎ দেয়, সে আপন লোকদের মধ্য হইতে উচ্ছিন্ন হইবে। 34আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি আপনার নিকটে সুগন্ধি দ্রব্য লইবে,- গুগ্গুলু, নখী, কুন্দুরু; এই সকল সুগন্ধি দ্রব্যের ও নির্ম্মল লবানের প্রত্যেকটী সম্ভাগ করিয়া লইবে। 35আর উহা দ্বারা গন্ধবণিকের প্রক্রিয়া মতে কৃত ও লবনমিশ্রিত এক নির্ম্মল পবিত্র সুগন্ধি ধূপ প্রস্তুত করিবে। 36তাহার কিঞ্চিৎ চূর্ণ করিয়া, যে সমাগম-তাম্বুতে আমি তোমার সহিত সাক্ষাৎ করিব, তাহার মধ্যে সাক্ষ্য-সিন্দুকের সম্মুখে তাহা রাখিবে; তাহা তোমাদের জ্ঞানে অতি পবিত্র হইবে। 37এবং তুমি যে সুগন্ধি ধূপ প্রস্তুত করিবে, তাহার দ্রব্যের পরিমাণানুসারে তোমরা আপনাদের জন্য তাহা করিও না, তাহা তোমার জ্ঞানে সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র হইবে। 38যে কেহ আঘ্রাণ জন্য তাহার সদৃশ ধূপ প্রস্তুত করিবে, সে আপন লোকদের মধ্য হইতে উচ্ছিন্ন হইবে।

31

দুই জন প্রধান শিল্পকার।

1আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, দেখ, 2আমি যিহূদা-বংশীয় হূরের পৌত্র ঊরির পুত্র বৎসলেলের নাম ধরিয়া ডাকিলাম। 3আর আমি তাহাকে ঈশ্বরের আত্মায়—জ্ঞানে, বুদ্ধিতে, বিদ্যায় ও সর্ব্বপ্রকার শিল্প-কৌশলে—পরিপূর্ণ করিলাম;

4যাহাতে সে কৌশলের কার্য্য কল্পনা করিতে পারে, স্বর্ণ, রৌপ্য ও পিত্তলের কার্য্য করিতে পারে, 5খচনার্থক মণি কাটিতে, কাষ্ঠ খুদিতে ও সর্ব্বপ্রকার শিল্পকার্য্য করিতে পারে। 6আর দেখ, আমি দান-বংশজাত অহীষামকের পুত্র অহলীয়াবকে তাহার সহকারী করিয়া দিলাম, এবং সকল বিজ্ঞমনা লোকের হৃদয়ে বিজ্ঞতা দিলাম; অতএব আমি তোমাকে যাহা যাহা আজ্ঞা করিয়াছি, সে সমস্ত তাহারা নির্ম্মাণ করিবে; 7সমাগম-তাম্বু, সাক্ষ্য-সিন্দুক, তাহার উপরিস্থ পাপাবরণ, এবং তাম্বুর সমস্ত পাত্র; 8আর মেজ ও তাহার পাত্র সকল, নির্ম্মল দীপবৃক্ষ ও তাহার পাত্র সকল, এবং ধূপবেদি; 9আর হোমবেদি ও তাহার পাত্র সকল, এবং প্রক্ষালনপাত্র ও তাহার খুরা; 10এবং সূক্ষ্মশিল্পিত বস্ত্র, যাজনকর্ম্ম করণার্থে হারোণ যাজকের পবিত্র বস্ত্র, ও তাহার পুত্রদের বস্ত্র; 11এবং অভিষেকার্থ তৈল, ও পবিত্র স্থানের জন্য সুগন্ধি ধূপ; আমি তোমাকে যেমন আজ্ঞা করিয়াছি, তদনুসারে তাহারা সমস্তই করবে।

বিশ্রামদিন।

12আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি ইস্রায়েল-সন্তানগণকে আরও এই কথা বল, 13তোমরা অবশ্য আমার বিশ্রামদিন পালন করিবে; কেননা তোমাদের পুরুষানুক্রমে আমার ও তোমাদের মধ্যে ইহা এক চিহ্ন রহিল, যেন তোমরা জানিতে পার যে, আমিই তোমাদের পবিত্রকারী সদাপ্রভু। 14অতএব তোমরা বিশ্রামদিন পালন করিবে, কেননা তোমাদের নিমিত্তে সেই দিন পবিত্র; যে কেহ সেই দিন অপবিত্র করিবে, তাহার প্রাণদণ্ড অবশ্য হইবে; কারণ যে কেহ ঐ দিনে কার্য্য করিবে, সে আপন লোকদের মধ্য হইতে উচ্ছিন্ন হইবে। 15ছয় দিন কার্য্য করা হইবে, কিন্তু সপ্তম দিন সদাপ্রভুর উদ্দেশে বিশ্রামার্থক পবিত্র বিশ্রামদিন, সেই বিশ্রামদিনে যে কেহ কার্য্য করিবে, তাহার প্রাণদণ্ড অবশ্যই হইবে। 16ইস্রায়েল-সন্তানগণ চিরস্থায়ী নিয়ম বলিয়া পুরুষানুক্রমে বিশ্রামদিন মান্য করিবার জন্য বিশ্রামদিন পালন করিবে। 17আমার ও ইস্রায়েল-সন্তানগণের মধ্যে ইহা চিরস্থায়ী চিহ্ন; কেননা সদাপ্রভু ছয় দিনে আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী নির্ম্মাণ করিয়াছিলেন, আর সপ্তম দিনে বিশ্রাম করিয়া আপ্যায়িত হইয়াছিলেন। 18পরে তিনি সীনয় পর্ব্বতে মোশির সহিত কথা সাঙ্গ করিয়া সাক্ষ্যের দুই ফলক, ঈশ্বরের অঙ্গুলি দ্বারা লিখিত দুই প্রস্তরফলক, তাঁহাকে দিলেন।

32

ইস্রায়েলের প্রতিমাপূজা ও মোশির ক্রোধ।

1পর্ব্বত হইতে নামিতে মোশির বিলম্ব হইতেছে দেখিয়া লোকেরা হারোণের নিকটে একত্র হইয়া তাঁহাকে কহিল, উঠুন, আমাদের অগ্রগামী হইবার জন্য আমাদের নিমিত্ত দেবতা নির্ম্মাণ করুন, কেননা যে মোশি মিসর দেশ হইতে আমাদিগকে বাহির করিয়া আনিয়াছেন, সেই ব্যক্তির কি হইল, তাহা আমরা জানি না। 2তখন হারোণ তাহাদিগকে কহিলেন, তোমরা আপন আপন স্ত্রী ও পুত্রকন্যাগণের কর্ণের সুবর্ণ কুণ্ডল খুলিয়া আমার কাছে আন। 3তাহাতে সমস্ত লোক তাহাদের কর্ণ হইতে সুবর্ণ খুলিয়া হারোণের নিকটে আনিল।

4তখন তিনি তাহাদের হস্ত হইতে তাহা গ্রহণ করিয়া শিল্পাস্ত্রে গঠন করিলেন, এবং একটি ঢালা গোবৎস নির্ম্মান করিলেন; তখন লোকেরা বলিতে লাগিল, হে ইস্রায়েল, এই তোমার দেবতা, যিনি মিসর দেশ হইতে তোমাকে বাহির করিয়া আনিয়াছেন। 5আর হারোণ তাহা দেখিয়া তাহার সম্মুখে এক বেদি নির্ম্মাণ করিলেন, এবং হারোণ ঘোষণা করিয়া দিলেন, বলিলেন, কল্য সদাপ্রভুর উদ্দেশে উৎসব হইবে। 6আর লোকেরা পরদিন প্রতূষ্যে উঠিয়া হোমবলি উৎসর্গ করিল, এবং মঙ্গলার্থক নৈবেদ্র আনিল; আর লোকেরা ভোজন পান করিতে বসিল, পরে ক্রীড়া করিতে উঠিল। 7তখন সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি নামিয়া যাও, কেননা তোমার যে লোকদিগকে তুমি মিসর হইতে বাহির করিয়া আনিয়াছ, তাহারা ভ্রষ্ট হইয়াছে। 8আমি তাহাদিগকে যে পথে চলিবার আজ্ঞা দিয়াছি তাহারা শীঘ্রই সেই পথ হইতে ফিরিয়াছে; তাহারা আপনাদের নিমিত্তে এক ছাঁচে ঢালা গোবৎস নির্ম্মাণ করিয়া তাহার কাছে প্রণিপাত করিয়াছে, এবং তাহার উদ্দেশে বলিদান করিয়াছে ও বলিয়াছে, হে ইস্রায়েল, এই তোমার দেবতা, যিনি মিসর দেশ হইতে তোমাকে বাহির করিয়া আনিয়াছেন। 9সদাপ্রভু মোশিকে আরও কহিলেন, আমি সেই লোকদিগকে দেখিলাম; দেখ, তাহারা শক্তগ্রীব জাতি। 10এখন তুমি ক্ষান্ত হও, তাহাদের বিরুদ্ধে আমার ক্রোধ প্রজ্বলিত হউক, আমি তাহাদিগকে সংহার করি, আর তোমা হইতে এক বড় জাতি উৎপন্ন করি। 11তখন মোশি আপন ঈশ্বর সদাপ্রভুকে বিনয় করিয়া কহিলেন, যে সদাপ্রভু, তোমার যে প্রজাদিগকে তুমি মহাপরাক্রম ও বলবান্‌ হস্ত দ্বারা মিসর দেশ হইতে বাহির করিয়াছ, তাহাদের বিরুদ্ধে তোমার ক্রোধ কেন প্রজ্বলিত হইবে? 12মিস্রীয়েরা কেন বলিবে, অনিষ্ঠের নিমিত্তে, পর্ব্বতময় অঞ্চলে তাহাদিগকে নষ্ট করিতে ও ভূতল হইতে লোপ করিতে, তিনি তাহাদিগকে বাহির করিয়া আনিয়াছেন? তুমি নিজ প্রচণ্ড ক্রোধ সংবরণ কর, ও আপন প্রজাদের অনিষ্টকরণ বিষয়ে ক্ষান্ত হও। 13তুমি নিজ দাস অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবকে স্মরণ কর, যাহাদের কাছে তুমি নিজ নামের দিব্য করিয়া বলিয়াছিলে, আমি আকাশের তাঁরাগণের ন্যায় তোমাদের বংশবৃদ্ধি করিব, এবং এই যে সমস্ত দেশের কথা কহিলাম ইহা তোমাদের বংশকে দিব, তাহারা চিরকালের জন্য ইহা অধিকার করিবে। 14তখন সদাপ্রভু আপন প্রজাদের যে অনিষ্ট করিবার কথা বলিয়াছিলেন, তাহা হইতে ক্ষান্ত হইলেন। 15পরে মোশি মুখ ফিরাইলেন, সাক্ষ্যের সেই দুই প্রস্তরফলক হস্তে লইয়া পর্ব্বত হইতে নামিলেন; সেই প্রস্তরফলকের এপৃষ্ঠে ওপৃষ্ঠে দুই পৃষ্ঠেই লেখা ছিল। 16সেই প্রস্তরফলক ঈশ্বরের নির্ম্মিত, এবং সেই লেখা ঈশ্বরের লেখা, ফলকে খোদিত। 17পরে যিহোশূয় কোলাহলকারী লোকদের রব শুনিয়া মোশিকে কহিলেন, শিবিরে যুদ্ধের শব্দ হইতেছে। 18তিনি কহিলেন, উহা ত জয়ধ্বনির শব্দ নয়, পরাজয়ধ্বনিরও শব্দ নয়; আমি গানের শব্দ শুনিতে পাইতেছি। 19পরে তিনি শিবিরের নিকটবর্ত্তী হইলে ঐ গোবৎস এবং নৃত্য দেখিলেন; তাহাতে মোশি ক্রোধে প্রজ্বলিত হইয়া পর্ব্বতের তলে আপন হস্ত হইতে সে দুইখান প্রস্তরফলক নিক্ষেপ করিয়া ভাঙ্গিয়া ফেলিলেন। 20আর তাহাদের নির্ম্মিত গোবৎস লইয়া আগুনে পোড়াইয়া দিলেন, এবং তাহা ধূলিবৎ পিষিয়া জলের উপরে ছড়াইয়া ইস্রায়েল-সন্তানগণকে পান করাইলেন। 21পরে মোশি হারোণকে কহিলেন, ঐ লোকেরা তোমার কি করিয়াছিল যে, তুমি উহাদের উপরে এমন মহাপাপ বর্ত্তাইলে? 22হারোণ কহিলেন, আমার প্রভুর ক্রোধ প্রজ্বলিত না হউক। আপনি লোকদিগকে জানেন না যে, তাহারা দুষ্টটায় আসক্ত। 23তাহারা আমাকে কহিল, আমাদের অগ্রগামী হইবার জন্য আমাদের নিমিত্তে দেবতা নির্ম্মাণ করুন, কেননা যে মোশি মিসর দেশ হইতে আমাদিগকে বাহির করিয়া আনিয়াছেন, সে ব্যক্তির কি হইল, তাহা আমরা জানি না। 24তখন আমি কহিলাম, তোমাদের মধ্যে যাহার যে স্বর্ণ থাকে, সে তাহা খুলিয়া দিউক; তাহারা আমাকে দিল; পরে আমি তাহা অগ্নিতে নিক্ষেপ করিলে ঐ বৎসটী নির্গত হইল। 25পরে মোশি দেখিলেন, লোকেরা স্বেচ্ছাচারী হইয়াছে, কেননা হারোণ শত্রুদের মধ্যে বিদ্রূপের জন্য তাহাদিগকে স্বেচ্ছাচারী হইতে দিয়াছিলেন। 26তখন মোশি শিবিরের দ্বারে দাঁড়াইয়া কহিলেন, সদাপ্রভুর পক্ষ কে? সে আমার নিকটে আইসুক। তাহাতে লেবির সন্তানেরা সকলে তাহার নিকটে একত্র হইল। 27তিনি তাহাদিগকে কহিলেন, সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, এই কথা কহেন, তোমরা প্রত্যেক জন আপন আপন ঊরুতে খড়্গ বাঁধ, শিবিরের মধ্য দিয়া এক দ্বার অবধি অন্য দ্বার পর্য্যন্ত যাতায়াত কর, এবং প্রতিজন আপন আপন ভ্রাতা, মিত্র ও প্রতিবাসীকে বধ কর। 28তাহাতে লেবির সন্তানেরা মোশির বাক্যানুসারে তদ্রূপ করিল, আর সেই দিন লোকদের মধ্যে ন্যূনাধিক তিন সহস্র মারা পড়িল। 29কেননা মোশি বলিয়াছিলেন, অদ্য তোমরা প্রত্যেক জন আপন আপন পুত্র ও ভ্রাতার বিপক্ষ হইয়া সদাপ্রভুর উদ্দেশে আপনাদের হস্তপূরণ কর, তাহাতে তিনি এই দিনে তোমাদিগকে আশীর্ব্বাদ করিবেন।

ইস্রায়েলের জন্য মোশির সাধ্যসাধনা ।

30পরদিন মোশি লোকদিগকে কহিলেন, তোমরা মহাপাপকরিলে, এখন আমি সদাপ্রভুর নিকটে উঠিয়া যাইতেছি; যদি সম্ভব হয়, তোমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করিব। 31পরে মোশি সদাপ্রভু নিকটে ফিরিয়া গিয়া কহিলেন, হায় হায়, এই লোকেরা মহাপাপ করিয়াছে, আপনাদের জন্য স্বর্ণ-দেবতা নির্ম্মাণ করিয়াছে। 32আহা। এখন যদি ইহাদের পাপ ক্ষমা কর--; আর যদি না কর, তবে আমি বিনয় করিতেছি, তোমার লিখিত পুস্তক হইতে আমার নাম কাটিয়া ফেল। 33তখন সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, যে ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে পাপ করিয়াছে, তাহারই নাম আমি আপন পুস্তক হইতে কাটিয়া ফেলিব। 34এখন যাও, আমি যে দেশের বিষয়ে তোমাকে বলিয়াছি, সেই দেশে লোকদিগকে লইয়া যাও; দেখ, আমার দূত তোমার অগ্রে অগ্রে যাইবেন, কিন্তু আমি প্রতিফলের দিনে তাহাদের পাপের প্রতিফল দিব। 35সদাপ্রভু লোকদিগকে আঘাত করিলেন, কেননা লোকেরা হারোণের কৃত সেই গোবৎস নির্ম্মাণ করাইয়াছিল।

33

1আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, আমি অব্রাহামের, ইস্হাকের ও যাকোবের কাছে দিব্য করিয়া যে দেশ তাহাদের বংশকে দিতে প্রতিজ্ঞা করিয়াছিলাম, সেই দেশে যাও, তুমি মিসর হইতে যে লোকদিগকে বাহির করিয়া আনিয়াছ, তাহাদের সহিত এখান হইতে প্রস্থান কর। 2আমি তোমার অগ্রে এক দূত পাঠাইয়া দিব, এবং কনানীয়, ইমোরীয়, হিত্তীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়কে দূর করিয়া দিব। 3দুগ্ধমধুপ্রবাহী দেশে যাও; কিন্তু আমি তোমার মধ্যবর্ত্তী হইয়া যাইব না, কেননা তুমি শক্তগ্রীব জাতি; পাছে পথের মধ্যে তোমাকে সংহার করি।

4এই অশুভ বাক্য শুনিয়া লোকেরা শোক করিল, কেহ গাত্রে আভরণ পরধান করিল না। 5সদাপ্রভু মোশিকে বলিয়াছিলেন, তুমি ইস্রায়েল-সন্তানগণকে এই কথা বল, তোমরা শক্তগ্রীব জাতি, এক নিমিষের জন্য তোমাদের মধ্যে গেলে আমি তোমাদিগকে সংহার করিতে পারি; তোমরা এখন আপন আপন গাত্র হইতে আভরণ দূর কর, তাহাতে জানিতে পারিব, তোমাদের বিষয়ে আমার কি করা কর্ত্তব্য। 6তখন ইস্রায়েল-সন্তানগণ হোরেব পর্ব্বত অবধি যাত্রাপথে আপন আপন সমস্ত আভরণ দূর করিল। 7আর মোশি তাম্বু লইয়া শিবিরের বাহিরে ও শিবির হইতে দূরে স্থাপন করিলেন, এবং সেই তাম্বুর নাম সমাগম-তাম্বু রাখিলেন; আর সদাপ্রভুর অন্বেষণকারী প্রত্যেক জন শিবিরের বাহিরে স্থিত সে সমাগম-তাম্বুর নিকটে গমন করিত। 8আর মোশি যখন বাহির হইয়া সেই তাম্বুর নিকটে যাইতেন, তখন সমস্ত লোক উঠিয়া প্রতেকে আপন আপন তাম্বুর দ্বারে দাঁড়াইত, এবং যাবৎ মোশি ঐ তাম্বুতে প্রবেশ না করিতেন, তাবৎ তাহার পশ্চাৎ দৃষ্টি করিতে থাকিত। 9আর মোশি তাম্বুতে প্রবেশ করিলে প্র মেঘস্তম্ভ নামিয়া তাম্বুর দ্বারে অবস্থিতি করিত, এবং [সদাপ্রভু] মোশির সহিত আলাপ করিতেন। 10সমস্ত লোক তাম্বুর দ্বারে অবস্থিত মেঘস্তম্ভ দেখিত; ও সমস্ত লোক উঠিয়া প্রতেকে আপন আপন তাম্বুর দ্বারে থাকিয়া প্রণিপাত করিত। 11আর মনুষ্য যেমন মিত্রের সহিত আলাপ করে, তদ্রূপ সদাপ্রভু মোশির সহিত সম্মুখাসম্মুখি হইয়া আলাপ করিতেন। পরে মোশি শিবিরে ফিরিয়া আসিতেন, কিন্তু নূনের পুত্র যিহোশূয় নামে তাঁহার যুব পরিচারক তাম্বুর মধ্য হইতে বাহিরে যাইতেন না। 12আর মোশি সদাপ্রভুকে কহিলেন, দেখ, তুমি আমাকে বলিতেছ, এই লোকদিগকে লইয়া যাও, কিন্তু আমার সঙ্গী করিয়া যাহাকে প্রেরণ করিবে, তাঁহার পরিচয় আমাকে দেও নাই; তথাপি বলিতেছ, আমি নাম দ্বারা তোমাকে জানি, এবং তুমি আমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ প্রাপ্ত হইয়াছ। 13ভাল, আমি যদি তোমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ প্রাপ্ত হইয়া থাকি, তবে বিনয় করি, আমি যেন তোমাকে জানিয়া তোমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পাই, এই জন্য আমাকে তোমার পথ সকল জ্ঞাত কর; এবং এই জাতি যে তোমার প্রজা, ইহা বিবেচনা কর। 14তখন তিনি তাঁহাকে কহিলেন, আমার শ্রীমুখ তোমার সহিত গমন করিবেন, এবং আমি তোমাকে বিশ্রাম দিব। 15তাহাতে তিনি তাঁহাকে কহিলেন, তোমার শ্রীমুখ যদি সঙ্গে না যান, তবে এখান হইতে আমাদিগকে লইয়া যাইও না। 16কেননা আমি ও তোমার এই প্রজাগণ যে তোমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ প্রাপ্ত হইয়াছি, ইহা কিসে জানা যাইবে? আমাদের সহিত তোমার গমন দ্বারা কি নয়? তদ্দ্বারাই আমি ও তোমার প্রজাগণ ভূমণ্ডলস্থ যাবতীয় জাতি হইতে বিশিষ্ট। 17পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, এই যে কথা তুমি বলিলে, তাহাও আমি করিব, কেননা তুমি আমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ প্রাপ্ত হইয়াছ, এবং আমি নাম দ্বারা তোমাকে জানি। 18তখন তিনি কহিলেন, বিনয় করি, তুমি আমাকে তোমার প্রতাপ দেখিতে দেও। 19ঈশ্বর কহিলেন, আমি তোমার সম্মুখ দিয়া আপনার সমস্ত উত্তমতা গমন করাইব, ও তোমার সম্মুখে সদাপ্রভুর নাম ঘোষণা করিব; আর আমি যাহাকে দয়া করি,তাহাকে দয়া করিব; ও যাহার প্রতি করুণা করি, তাহার প্রতি করুণা করিব। 20আরও কহিলেন, তুমি আমার মুখ দেখিতে পাইবে না, কেননা মনুষ্য আমাকে দেখিলে বাঁচিতে পারে না। 21সদাপ্রভু কহিলেন, দেখ, আমার নিকটে এক স্থান আছে; তুমি ঐ শৈলের উপরে দাঁড়াইবে। 22তাহাতে তোমার নিকট দিয়া আমার প্রতাপের গমন সময়ে আমি তোমাকে শৈলের এক ফাটালে রাখিব, ও আমার গ্মের শেষ পর্য্যন্ত করতল দিয়া তোমাকে আচ্ছন্ন করিব; 23পরে আমি করতল উঠাইলে তুমি আমার পশ্চাদ্ভাগ দেখিতে পাইবে, কিন্তু আমার মুখের দর্শন পাওয়া যাইবে না।

34

ঈশ্বরীয় নিয়মের পুনঃস্থাপন।

1পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি পূর্ব্বের ন্যায় দুই প্রস্তরফলক খুদ; প্রথম যে দুই ফলক তুমি ভাঙ্গিয়া ফেলিয়াছ, তাহাতে যাহা যাহা লিখিত ছিল, সেই সকল কথা আমি এই দুই ফলকে লিখিব। 2আর তুমি প্রাতঃকালে প্রস্তুত হইও, প্রাতঃকালে সীনয় পর্ব্বতে উঠিয়া আসিও, ও তথায় পর্ব্বতশৃঙ্গে আমার নিকটে উপস্থিত হইও। 3কিন্তু তোমার সহিত কোন মনুষ্য উপরে না আইসুক, এবং এই পর্ব্বতে কোথাও কোন মনুষ্য দৃষ্টি না হউক, আর গোমেষাদি পালও এই পর্ব্বতের সম্মুখে না চরুক।

4পরে মোশি প্রথম প্রস্তরের ন্যায় দুই প্রস্তরফলক খুদিলেন, এবং সদাপ্রভুর আজ্ঞানুসারে প্রাতঃকালে উঠিয়া সীনয় পর্ব্বতের উপরে গেলেন, ও সেই দুই প্রস্তরফলক হস্তে করিয়া লইলেন। 5তখন সদাপ্রভু মেঘে নামিয়া সে স্থানে তাঁহার সহিত দণ্ডায়মান হইয়া সদাপ্রভুর নাম ঘোষণা করিলেন। 6ফলতঃ সদাপ্রভু তাঁহার সম্মুখ দিয়া গমন করতঃ এই ঘোষণা করিলেন,

“সদাপ্রভু, সদাপ্রভু,

স্নেহশীল ও কৃপাময় ঈশ্বর,

ক্রোধে ধীর এবং দয়াতে ও সত্যে মহান;

7সহস্র সহস্র [পুরুষ] পর্য্যন্ত দয়ারক্ষক,

অপরাধের, অধর্ম্মের ও পাপের ক্ষমাকারী;

তথাপি তিনি অবশ্য [পাপের] দণ্ড দেন;

পুত্র পৌত্রদের উপরে, তৃতীয় ও চতুর্থ পুরুষ পর্য্যন্ত,

তিনি পিতৃগণের অপরাধের প্রতিফল বর্ত্তান।”

8তখন মোশি ত্বরা করিলেন, ভূমিতে নতমস্তক হইয়া প্রণিপাত করিলেন, 9আর কহিলেন, যে প্রভু, আমি যদি তোমার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পাইয়া থাকি, তবে বিনয় করি, প্রভু, আমাদের মধ্যবর্ত্তী হইয়া গমন করুন, কারণ ইহারা শক্তগ্রীব জাতি; আপনি আমাদের অপরাধ ও পাপ মোচন করিয়া আমাদিগকে আপন অধিকারার্থে গ্রহণ করুন। 10তখন তিনি কহিলেন দেখ, আমি এক নিয়ম করি; সমস্ত পৃথিবীতে ও যাবতীয় জাতির মধ্যে যাদৃশ কখনও করা হয় নাই, এমন আশ্চর্য্য আশ্চর্য্য কার্য্য আমি তোমার সমস্ত লোকের সাক্ষাতে করিব; তাহাতে যে সকল লোকের মধ্যে তুমি আছ, তাহারা সদাপ্রভুর কার্য্য দেখিবে, কেননা তোমার নিকটে যাহা করিব, তাহা ভয়ঙ্কর। 11অদ্য আমি তোমাকে যাহা আজ্ঞা করি, তাহাতে মনোযোগ কর; দেখ, আমি ইমোরীয়, কনানীয়, হিত্তীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়কে তোমার সম্মুখ হইতে খেদাইয়া দিব। 12সাবধান, যে দেশে তুমি যাইতেছ, সেই দেশনিবাসীদের সহিত নিয়ম স্থির করিও না, পাছে তাহা তোমার মধ্যবর্ত্তী ফাঁদসরূপ হয়। 13কিন্তু তোমরা তাহাদের বেদি সকল ভাঙ্গিয়া ফেলিবে, তাহাদের স্তম্ভ সকল খণ্ড খণ্ড করিবে, ও তথাকার আশেরা-মূর্ত্তি সকল কাটিয়া ফেলিবে। 14তুমি অন্য দেবতার কাছে প্রণিপাত করিও না, কেননা সদাপ্রভু স্বগৌরব রক্ষণে উদ্যোগী নাম ধারন করেন; তিনি স্বগৌরব রক্ষণে উদ্যোগী ঈশ্বর। 15কি জানি, তুমি তদ্দেশনিবাসী লোকদের সহিত নিয়ম করিবে; করিলে যে সময়ে তাহারা নিজ দেব-গণের অনুগমনে ব্যভিচার করে, ও নিজ দেবগণের কাছে বলিদান করে, সে সময়ে কেহ তোমাকে ডাকিলে তুমি তাঁহার বলিদ্রব্য খাইবে; 16কিম্বা তুমি আপন পুত্রদের জন্য তাহাদের কন্যাগণকে গ্রহণ করিলে তাহাদের কন্যারা নিজ দেবতাদের অনুগমনে ব্যভিচার করিয়া তোমার পুত্রদিগকে আপনাদের দেবগণের অনুগামী করিয়া ব্যভিচার করাইবে। 17তুমি আপনার নিমিত্তে ছাঁচে ঢালা কোন দেবতা নির্ম্মাণ করিও না। 18তুমি তাড়ীশূন্য রুটীর উৎসব পালন করিবে। আবীব মাসের যে নিরুপিত সময়ে যেরূপ করিতে আজ্ঞা করিয়াছি, সেইরূপে তুমি সেই সাত দিন তাড়ীশূন্য রুটী খাইবে, কেননা সেই আবীব মাসে তুমি মিসর দেশ হইতে বাহির হইয়া আসিয়াছিলে। 19গর্ভ উন্মোচক সকলে এবং গোমেষাদি পালের মধ্যে প্রথমজাত পুংপশু সকল আমার। 20প্রথমজাত গর্দ্দভের পরিবর্ত্তে তুমি মেষের বৎস দিয়া তাহাকে মুক্ত করিবে; যদি মুক্ত না কর, তবে তাঁহার গলা ভাঙ্গিবে। তোমার প্রথমজাত পুত্র সকলকে তুমি মুক্ত করিবে। আর কেহ রিক্তহস্তে আমার সম্মুখে উপস্থিত হইবে না। 21তুমি ছয়দিন পরিশ্রম করিবে, কিন্তু সপ্তম দিনে বিশ্রাম করিবে; চাসের ও ফসল কাটিবার সময়েও বিশ্রাম করিবে। 22তুমি সাত সপ্তাহের উৎসব, অর্থাৎ কাটা গোমের আশুপক্ক ফলের উৎসব, এবং বৎসরের শেষভাগে ফলসংগ্রহের উৎসব পালন করিবে। 23বৎসরের মধ্যে তিন বার তোমাদের সমস্ত পুরুষলোক ইস্রায়েলের ঈশ্বর প্রভু সদাপ্রভুর সাক্ষাতে উপস্থিত হইবে। 24কেননা আমি তোমার সম্মুখে হইতে জাতিগণকে দূর করিয়া দিব, ও তোমার সীমা বিস্তার করিব, এবং তুমি বৎসরের মধ্যে তিন বার আপন ঈশ্বর সদাপ্রভুর সম্মুখে উপস্থিত হইবার জন্য গমন করিলে তোমার ভূমিতে কেহ লোভ করবে না। 25তুমি আমার বলির রক্ত তাড়ীযুক্ত ভক্ষ্যের সহিত উৎসর্গ করিবে না, ও নিস্তারপর্ব্বীয় উৎসবের বলিদ্রব্য প্রাতঃকাল পর্য্যন্ত রাখা যাইবে না। 26তুমি নিজ ভূমির আশুপক্ক ফলের অগ্রিমাংশ আপন ঈশ্বর সদাপ্রভুর গৃহে আনিবে। তুমি ছাগবৎসকে তাহার মাতার দুগ্ধে সিদ্ধ করিবে না। 27আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি এই সকল বাক্য লিপিবদ্ধ কর, কেননা আমি এই সকল বাক্যানুসারে তোমার ও ইস্রায়েলের সহিত নিয়ম স্থির করিলাম। 28সেই সময়ে মোশি চল্লিশ দিবারাত্র সেখানে সদাপ্রভুর সহিত অবস্থিতি করিলেন, অন্ন ভোজন ও জল পান করিলেন না। আর তিনি সেই দুই প্রস্তরে নিয়মের বাক্যাবলি অর্থাৎ দশ আজ্ঞা লিখিলেন। 29পরে মোশি দুই সাক্ষ্যপ্রস্তর হস্তে লইয়া সীনয় পর্ব্বত হইতে নামিলেন; যখন পর্ব্বত হইতে নামিলেন, তখন, সদাপ্রভুর সহিত আলাপে তাহার মুখের চর্ম্ম যে উজ্জ্বল হইয়াছিল, তাহা মোশি জানিতে পারিলেন না। 30পরে যখন হারোণ ও সমস্ত ইস্রায়েল-সন্তান মোশিকে দেখিতে পাইল, তখন দেখ, তাহার মুখের চর্ম্ম উজ্জ্বল, আর তাহারা তাঁহার নিকটে আসিতে ভীত হইল। 31কিন্তু মোশি তাহাদিগকে ডাকিলে হারোণ ও মণ্ডলীর অধ্যক্ষ সকল তাঁহার নিকটে ফিরিয়া আসিলেন, আর মোশি তাহাদের সহিত আলাপ করিলেন। 32তৎপরে ইস্রায়েল-সন্তানগণ সকলে তাঁহার নিকটে আসিল; তাহাতে তিনি সীনয় পর্ব্বতে কথিত সদাপ্রভুর আজ্ঞা সকল তাহাদিগকে জানাইলেন। 33পরে তাহাদের সহিত কথোপকথন সমাপ্ত হইলে মোশি আপন মুখে আবরণ দিলেন। 34কিন্তু মোশি যখন সদাপ্রভুর সহিত কথা কহিতে ভিতরে তাঁহার সম্মুখে যাইতেন, তখন, যাবৎ বাহিরে আসিতেন, তাবৎ সেই আবরণ খুলিয়া রাখিতেন; পরে যে সকল আজ্ঞা পাইতেন, বাহির হইয়া ইস্রায়েল-সন্তানগণকে তাহা বলিতেন। 35মোশির মুখের চর্ম্ম উজ্জ্বল, ইহা ইস্রায়েল-সন্তানগণ তাঁহার মুখের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া দেখিত; পরে মোশি সদাপ্রভুর সহিত কথা কহিতে যে পর্য্যন্ত না যাইতেন, তাবৎ আপন মুখে পুনর্ব্বার আবরণ দিয়া রাখিতেন।

35

তাম্বুর জন্য ইস্রায়েলের স্বেচ্ছাদত্ত উপহার।

1পরে মোশি ইস্রায়েল-সন্তানগণের সমস্ত মণ্ডলীকে একত্র করিয়া তাহাদিগকে কহিলেন, সদাপ্রভু তোমাদিগকে এই সকল বাক্য পালন করিতে আজ্ঞা দিয়াছেন, 2ছয় দিন কার্য্য করা যাইবে, কিন্তু সপ্তম দিন তোমাদের পক্ষে পবিত্র দিন হইবে; তাহা সদাপ্রভুর উদ্দেশে বিশ্রামার্থক বিশ্রামদিন হইবে; যে কেহ সেই দিনে কার্য্য করিবে, তাহার প্রাণদণ্ড হইবে। 3তোমরা বিশ্রামদিনে আপনাদের কোন বাসস্থানে অগ্নি জ্বালিও না।

4আর মোশি ইস্রায়েল-সন্তানগণের সমস্ত মণ্ডলীকে কহিলেন, 5সদাপ্রভু এই আজ্ঞা দিয়াছেন;--তোমরা সদাপ্রভুর নিমিত্তে আপনাদের নিকট হইতে উপহার লও; যে কেহ মনে ইচ্ছুক, সে সদাপ্রভুর উপহারসরূপ এই সকল দ্রব্য আনিবে; 6স্বর্ণ, রৌপ্য ও পিত্তল, এবং নীল, বেগুনে, লাল ও সাদা মসীনা সূত্র ও ছাগের লোম, 7এবং রক্তীকৃত মেষচর্ম্ম ও তহশচর্ম্ম, শিটীম কাষ্ঠ, 8এবং দীপার্থ তৈল, আর অভিষেকার্থ তৈলের ও সুগন্ধি ধূপের নিমিত্তে গন্ধদ্রব্য, 9এবং এফোদের ও বুকপাটার জন্য গোমেদকাদি খচনার্থক মণি। 10আর তোমাদের প্রত্যেক বিজ্ঞমনা লোক আসিয়া সদাপ্রভুর আজ্ঞাপিত সকল বস্তু নির্ম্মাণ করুক;-- 11আবাস, আবাসের তাম্বু, ছাদ, ঘুন্টী, তক্তা, অর্গল, স্তম্ভ ও চুঙ্গি, 12আর সিন্দুক ও তাহার বহন-দণ্ড, পাপাবরণ ও ব্যবধানের তিরস্করিণী, মেজ, 13তাহার বহন-দণ্ড ও সমস্ত পাত্র, দর্শন রুটী, 14এবং দীপ্তির জন্য দীপবৃক্ষ ও তাহার পাত্র সকল, প্রদীপ ও দীপার্থ তৈল, 15এবং ধূপের বেদি ও তাহার বহন-দণ্ড, এবং অভিষেকার্থ তৈল ও সুগন্ধি ধূপ, 16আবাসের প্রবেশদ্বারের পর্দ্দা, হোমবেদি , তাহার পিত্তলের জাল, বহন-দণ্ড ও সমস্ত পাত্র, এবং প্রক্ষালন-পাত্র ও তাহার খুরা, 17প্রাঙ্গণের যবনিকা, তাহার স্তম্ভ ও চুঙ্গি এবং প্রাঙ্গণের দ্বারের পর্দ্দা, 18এবং আবাসের গোঁজ, প্রাঙ্গণের গোঁজ ও উভয়ের রজ্জু, 19এবং পবিত্র স্থানে পরিচর্য্যা করিবার নিমিত্তে সূক্ষ্মশিল্পিত বস্ত্র, অর্থাৎ হারোণ যাজকের জন্য পবিত্র বস্ত্র ও যাজনকর্ম্ম করণার্থে তাহার পুত্রদের বস্ত্র। 20পরে ইস্রায়েল-সন্তানগণের সমস্ত মণ্ডলী মোশির সম্মুখ হইতে প্রস্থান করিল। 21আর যাহাদের হৃদয়ে প্রবৃত্তি ও মনে ইচ্ছা হইল, তাহারা সকলে সমাগম-তাম্বু নির্ম্মাণ জন্য এবং তৎসম্বন্ধীয় সমস্ত কার্য্যের ও পবিত্র বস্ত্রের জন্য সদাপ্রভুর উদ্দেশে উপহার আনিল। 22পুরুষ ও স্ত্রী যত লোক মনে ইচ্ছুক হইল, তাহারা সকলে আসিয়া বলয়, কুণ্ডল, অঙ্গুরীয়ক ও হার, স্বর্ণময় সর্ব্বপ্রকার অলঙ্কার আনিল। যে কেহ সদাপ্রভুর উদ্দেশে স্বর্ণের উপহার আনিতে চাহিল, সে আনিল। 23আর যাহাদের নিকটে নীল,বেগুনে, লাল ও সাদা মসীনা সূত্র, ছাগলোম, রক্তীকৃত মেষচর্ম্ম ও তহশচর্ম্ম ছিল, তাহারা প্রতেকে তাহা আনিল। 24যে কেহ রৌপ্য ও পিত্তলের উপহার উপস্থিত করিল, সে সদাপ্রভুর উদ্দেশে সেই উপহার আনিল; এবং যাহার নিকটে কোন কার্য্যে প্রয়োগের নিমিত্তে শিটীম কাষ্ঠ ছিল, সে তাহা আনিল। 25আর বিজ্ঞমনা স্ত্রীলোকেরা আপন আপন হস্তে সূতা কাটিয়া, তাহাদের কাটা নীল, বেগুনে, লাল ও সাদা মসীনা সূত্র আনিল। 26আর বিজ্ঞানে প্রবৃত্তমনা স্ত্রীলোকেরা সকলে ছাগলোমের সূতা কাটিল। 27আর অধ্যক্ষগণ এফোদের ও বুকপাটার জন্য গোমেদকাদি খচনার্থক মণি, 28এবং দীপের, অভিষেকার্থ তৈলের ও সুগন্ধি ধূপের নিমিত্ত গন্ধদ্রব্য ও তৈল আনিলেন। 29ইস্রায়েল-সন্তানগণ ইচ্ছাপূর্ব্বক সদাপ্রভুর উদ্দেশে উপহার আনিল, সদাপ্রভু মোশি দ্বারা যাহা যাহা করিতে আজ্ঞা করিয়াছিলেন, তাহার কোন প্রকার কর্ম্ম করণার্থে যে পুরুষ ও স্ত্রীলোকদিগের হৃদয়ের ইচ্ছা হইল, তাহারা প্রত্যেকে উপহার আনিল। 30পরে মোশি ইস্রায়েল-সন্তানগণকে কহিলেন, দেখ, সদাপ্রভু যিহূদা বংশীয় হূরের পৌত্র ঊরির পুত্র বৎসলেলের নাম ধরিয়া ডাকিলেন; 31আর তিনি তাহাকে ঈশ্বরের আত্মায় – জ্ঞানে, বুদ্ধিতে, বিদ্যায়, ও সর্ব্বপ্রকার শিল্প-কৌশলে—পরিপূর্ণ করিলেন, 32যাহাতে তিনি কৌশলের কার্য্য কল্পনা করিতে, স্বর্ণ, রৌপ্য ও পিত্তলের কার্য্য করিতে, 33খচনার্থক মণি কাটিতে, কাষ্ঠ খুদিতে ও সর্ব্বপ্রকার কৌশলযুক্ত শিল্পকর্ম্ম করিতে পারেন। 34আর এই সকলের শিক্ষা দিতে তাহার ও দান-বংশীয় অহীষামকের পুত্র অহলীয়াবের হ্রদয়ে প্রবৃত্তি দিলেন। 35তিনি খুদিতে ও শিল্পকর্ম্ম করিতে এবং নীল, বেগুনে, লাল ও সাদা মসীনা সূত্রে সূচিকর্ম্ম করিতে ও তাঁতির কর্ম্ম করিতে, অর্থাৎ যাবতীয় শিল্পকর্ম্ম ও চিত্রকর্ম্ম করিতে তাঁহাদের হ্রদয় বিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ করিলেন।

36

1অতএব সদাপ্রভুর সমস্ত আজ্ঞানুসারে পবিত্র স্থানের কার্য্য সকল কিরূপ করিতে হইবে, তাহা জানিতে সদাপ্রভু বৎসলেল ও অহলীয়াব এবং আর যাহাদিগকে বিজ্ঞতা ও বুদ্ধি দিয়াছেন, সেই সকল বিজ্ঞমনা লোক কর্ম্ম করিবেন।

তাম্বু ও তৎসংক্রান্ত পাত্রাদি নির্ম্মাণ।

2পরে মোশি বৎসলেল ও অহলীয়াবকে এবং সদাপ্রভু যাঁহাদের হৃদয়ে বিজ্ঞতা দিয়াছিলেন, সেই অন্য সকল বিজ্ঞমনা লোকে ডাকিলেন, অর্থাৎ সেই কর্ম্ম করিবার নিমিত্তে উপস্থিত হইতে যাহাদের মনে প্রবৃত্তি জন্মিল, তাঁহাদিগকে ডাকিলেন। 3তাহাতে তাঁহারা পবিত্র স্থানের কার্য্যের উপাদান সম্পন্ন করণার্থে ইস্রায়েল-সন্তানগণের আনীত সমস্ত উপহার মোশির নিকট হইতে গ্রহণ করিলেন। আর লোকেরা তখনও প্রতিপ্রভাতে তাঁহার নিকটে ইচ্ছাপূর্ব্বক আরও দ্রব্য আনিতেছিল।

4তখন প্রবিত্র স্থানের সমস্ত কার্য্যে ব্যাপৃত বিজ্ঞ লোক সকল আপন আপন কর্ম্ম হইতে আসিয়া মোশিকে কহিলেন, 5সদাপ্রভু যাহা যাহা রচনাকার্য্যের জন্য অতিরিক্ত অধিক বস্তু আনিতেছে। 6তাহাতে মোশি আজ্ঞা দিয়া শিবিরের সর্ব্বত্র এই ঘোষণা করিয়া দিলেন যে, পুরুষ কিম্বা স্ত্রীলোক প্রবিত্র স্থানের জন্য আর উপহার প্রস্তুত না করুক। 7কেননা সকল কর্ম্ম করণার্থে তাহাদের যথেষ্ট, এমন কি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত দ্রব্য প্রস্তুত ছিল। 8পরে কর্ম্মকারী বিজ্ঞমনা লোক সকল পাকান সাদা মসীনা সূত্র, নীল, বেগুনে ও লাল সূত্রনির্ম্মিত দশ যবনিকা দ্বারা আবাস প্রস্তুত করিলেন; এবং সেই যবনিকা সমূহে শিল্পকারের কৃত করূবগণের আকৃতি ছিল। 9প্রত্যেক যবনিকা আটাইশ হস্ত দীর্ঘ ও প্রত্যেক যবনিকা চারি হস্ত প্রস্থ, সমস্ত যবনিকার একই পরিমান ছিল। 10পরে তিনি তাহার পাঁচ যবনিকা একত্র যোগ করিলেন, এবং অন্য পাঁচ যবনিকাও একত্র যোগ করিলেন। 11আর যোড়স্থানে প্রথম অন্ত্য যবনিকার মুড়াতে নীলবর্ণ ঘুণ্টীঘরা করিলেন, এবং যোড়স্থানের দ্বিতীয় অন্ত্য যবনিকার মুড়াতেও তদ্রূপ করিলেন। 12প্রথম যবনিকাতে পঞ্চাশ ঘুণ্টীঘরা করিলেন, এবং যোড়স্থানের দ্বিতীয় যবনিকার মুড়াতেও পঞ্চাশ ঘুণ্টীঘরা করিলেন; সেই দুই ঘুণ্টীঘরাশ্রেণী পরস্পর সম্মুখীন হইল। 13পরে তিনি স্বর্ণের পঞ্চাশটী ঘুণ্টী গড়িয়া সেই ঘুন্টীতে যবনিকা সকল পরস্পর যোড়া দিলেন; তাহাতে একই আবাস হইল। 14পরে তিনি আবাসের উপরে আচ্ছাদনার্থক তাম্বুর নিমিত্তে ছাগলোমজাত যবনিকা সকল প্রস্তুত করিলেন; একাদশ যবনিকা প্রস্তুত করিলেন। 15তাহার প্রত্যেক যবনিকা ত্রিশ হস্ত দীর্ঘ, ও প্রত্যেক যবনিকা চারি হস্ত প্রস্থ; একাদশ যবনিকার একই পরিমান ছিল। 16পরে তিনি পাঁচ যবনিকা পৃথক যোড়া দিলেন, ও ছয় যবনিকা পৃথক যোড়া দিলেন। 17আর যোড়স্থানের অন্ত্য যবনিকার মুড়াতে পঞ্চাশ ঘুন্টীঘরা করিলেন, এবং দ্বিতীয় যোড়স্থানের অন্ত্য যবনিকার মুড়াতেও পঞ্চাশ ঘুন্টীঘরা করিলেন। 18আর যোড় দিয়া একই তাম্বু করনার্থে পিত্তলের পঞ্চাশ ঘুন্টী গড়িলেন। 19পরে রক্তীকৃত মেষচর্ম্মে তাম্বুর এক ছাদ, আবার তাহার উপরে তহশচর্ম্মের এক ছাদ, প্রস্তুত করিলেন । 20পরে তিনি আবাসের জন্য শিটীম কাষ্ঠের দাঁড় করান তক্তা সকল নির্ম্মাণ করিলেন। 21এক এক তক্তা দীর্ঘে দশ হস্ত ও প্রত্যেক তক্তা প্রস্থে দেড় হস্ত। 22প্রত্যেক তক্তাতে পরস্পর সংযুক্ত দুই দুই পায়া ছিল; এইরূপে তিনি আবাসের সকল তক্তা প্রস্তুত করিলেন। 23তিনি আবাসের নিমিত্তে তক্তা প্রস্তুত করিলেন।দক্ষিণদিকে দক্ষিণ পার্শ্বের নিমিত্তে বিংশতি তক্তা; 24আর সেই বিংশতি তক্তার নীচে রৌপ্যের চল্লিশ চুঙ্গি গড়িলেন, এক তক্তার নীচে তাহার দুই পায়ার নিমিত্তে দুই চুঙ্গি, এবং অন্য অন্য তক্তার নীচেও তাহাদের দুই দুই পায়ার নিমিত্তে দুই দুই চুঙ্গি গড়িলেন। 25আর আবাসের দ্বিতীয় পার্শ্বের নিমিত্তে উত্তরদিকে বিংশতি তক্তা করিলেন, 26ও সেইগুলির জন্য চল্লিশটী রৌপ্যের চুঙ্গি গড়িয়া দিলেন; এক তক্তার নীচে দুই দুই চুঙ্গি, ও অন্য অন্য তক্তার নীচেও দুই দুই চুঙ্গি হইল। 27আর পশ্চিমদিকে আবাসের পশ্চাৎ পার্শ্বের নিমিত্তে ছয় খানি তক্তা করিলেন। 28আর আবাসের সেই পশ্চাৎ ভাগে দুই কোণে দুই খানি তক্তা রাখিলেন। 29সেই দুই তক্তা নীচে দোহারা ছিল, এবং সেইরূপে মাথাতেও প্রথম কড়ার নিকটে অখণ্ড ছিল; এইরূপে তিনি দুই কোণের তক্তা বদ্ধ করিলেন। 30তাহাতে আটখানি তক্তা, এবং সে গুলির রৌপ্যের ষোলটি চুঙ্গি হইল, এক এক তক্তার নীচে দুই দুই চুঙ্গি হইল। 31পরে তিনি শিটীম কাষ্ঠ দ্বারা অর্গল প্রস্তুত করিলেন; 32আবাসের এক পার্শ্বের তক্তার জন্য পাঁচ অর্গল, আবাসের অন্য পার্শ্বের তক্তার জন্য পাঁচ অর্গল এবং পশ্চিমদিকে আবাসের পশ্চাৎ পার্শ্বের তক্তার জন্য পাঁচ অর্গল। 33আর মধ্যবর্ত্তী অর্গলটীকে তক্তাগুলির মধ্যস্থান দিয়া এক প্রান্ত অবধি অন্য প্রান্ত পর্য্যন্ত বিস্তার করিলেন। 34পরে তিনি তক্তাগুলি স্বর্ণে মুড়িলেন, এবং অর্গলের ঘর হইবার জন্য স্বর্ণের কড়া গড়িয়া অর্গলও স্বর্ণে মুড়িলেন। 35আর তিনি নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্র দিয়া তিরস্করিণী প্রস্তুত করিলেন, তাহাতে করূবাকৃতি করিলেন, তাহা শিল্পকারের কর্ম্ম। 36আর তাহার নিমিত্তে শিটীম কাষ্ঠের চারি স্তম্ভ নির্ম্মাণ করিয়া স্বর্ণে মুড়িলেন, এবং তাহাদের আঁকড়াও স্বর্ণের করিলেন, এবং তাহার জন্য রৌপ্যের চারি চুঙ্গি ঢালিলেন। 37পরে তিনি তাম্বুর দ্বারের নিমিত্তে নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্র দ্বারা সূচি-ক্রিয়াবিশিষ্ট এক পর্দ্দা নির্ম্মাণ করিলেন। 38আর তাহার পাঁচ স্তম্ভ ও সেগুলির আঁকড়া করিলেন এবং ঐ সকলের মাথলা ও শলাকা স্বর্ণে মুড়িলেন, কিন্তু সেগুলির পাঁচ চুঙ্গি পিত্তল দিয়া গড়িলেন।

37

1আর বৎসলেল শিটীম কাষ্ঠ দ্বারা সিন্দুক নির্ম্মাণ করিলেন; তাহা আড়াই হস্ত দীর্ঘ, দেড় হস্ত প্রস্থ ও দেড় হস্ত উচ্চ করা হইল; 2আর ভিতর ও বাহির নির্ম্মল স্বর্ণে মুড়িলেন, এবং তাহার চারিদিকে স্বর্ণের নিকাল গড়িয়া দিলেন। 3আর তাহার চারি কড়া ঢালিলেন; তাহার এক পার্শ্বে দুই কড়া ও অন্য পার্শ্বে দুই কড়া দিলেন।

4আর তিনি শিটীম কাষ্ঠের দুইটী বহন-দণ্ড করিয়া স্বর্ণে মুড়িলেন, 5এবং সিন্দুক বহনার্থে ঐ বহন-দণ্ড সিন্দুকের দুই পার্শ্বস্থ কড়াতে প্রবেশ করাইলেন। 6পরে তিনি নির্ম্মল স্বর্ণ দ্বারা পাপাবরণ প্রস্তুত করিলেন; তাহা আড়াই হস্ত দীর্ঘ ও দেড় হস্ত প্রস্থ করা হইল। 7আর পিটান স্বর্ণ দ্বারা দুই করূব নির্ম্মাণ করিয়া পাপাবরণের দুই মুড়াতে দিলেন। 8তাহার এক মুড়াতে এক করূব ও অন্য মুড়াতে অন্য করূব, পাপাবরণের দুই মুড়াতে তৎসহিত অখণ্ড দুই করূব দিলেন। 9তাহাতে সেই দুই করূব উর্দ্ধে পক্ষ বিস্তার করিয়া ঐ পক্ষ দ্বারা পাপাবরণ আচ্ছাদন করিল, এবং তাহাদের মুখ পরস্পরের দিকে রহিল; করূবদের দৃষ্টি পাপাবরণের দিকে রহিল। 10পরে তিনি শিটীম কাষ্ঠ দ্বারা মেজ নির্ম্মাণ করিলেন; তাহা দুই হস্ত দীর্ঘ, এক হস্ত প্রস্থ ও দেড় হস্ত উচ্চ করা হইল। 11আর তাহা নির্ম্মল স্বর্ণে মুড়িলেন, ও তাহার চারি দিকে স্বর্ণের নিকাল গড়িয়া দিলেন। 12আর তিনি তাহার নিমিত্তে চারিদিকে চারি অঙ্গুলি পরিমিত এক পার্শ্ব-কাষ্ঠ করিলেন, ও পার্শ্বকাষ্ঠের চারিদিকে স্বর্ণের নিকাল গড়িয়া দিলেন। 13আর তাহার জন্য স্বর্ণের চারি কড়া ঢালিয়া তাহার চারি পায়ার চারি কোণের রাখিলেন। 14সেই কড়া পার্শ্বকাষ্ঠের নিকটে ছিল, এবং মেজ বহনার্থ বহন-দণ্ডের ঘর হইল। 15পরে তিনি মেজ বহনার্থ শিটীম কাস্থদবারা দুই বহন-দণ্ড করিয়া স্বর্ণে মুড়িলেন। 16আর মেজের উপরিস্থিত পাত্র সকল নির্ম্মাণ করিলেন, অর্থাৎ তাহার থাল,চমস, ঢালিবার জন্য সেকপাত্র ও শ্রুব সকল নির্ম্মল স্বর্ণ দিয়া নির্ম্মাণ করিলেন। 17পরে তিনি নির্ম্মল পিটান স্বর্ণ দ্বারা দীপবৃক্ষ নির্ম্মাণ করিলেন; তাহার কাণ্ড, শাখা, গোলাধার, কলিকা ও পুষ্প তৎসহিত অখণ্ড ছিল। 18সেই দীপবৃক্ষের এক পার্শ্ব হইতে তিন শাখা, ও দীপবৃক্ষের অন্য পার্শ্ব হইতে তিন শাখা, এই ছয় শাখা তাহার পার্শ্ব হইতে নির্গত হইল। 19এক শাখায় বাদাম পুষ্পের ন্যায় তিন গোলাধার, এক কলিকা ও এক পুষ্প, এবং অন্য শাখায় বাদাম পুষ্পের ন্যায় তিন গোলাধার, এক কলিকা ও এক পুষ্প, দীপবৃক্ষ হইতে নির্গত ছয় শাখায় এইরূপ হইল। 20আর দীপবৃক্ষের বাদাম পুষ্পের ন্যায় চারি গোলাধার ও তাহাদের কলিকা ও পুষ্প ছিল। 21আর দীপবৃক্ষের যে ছয়টী শাখা নির্গত হইল, সেগুলির এক শাখাদ্বয়ের নীচে তৎসহ অখণ্ড এক কলিকা, অন্য শাখাদ্বয়ের নীচে তৎসহ অখণ্ড এক কলিকা, ও অপর শাখাদ্বয়ের নীচে তৎসহ অখণ্ড এক কলিকা ছিল। 22এই কলিকা ও শাখা তৎস হত অখণ্ড ছিল, এবং সমস্তই পিটান নির্ম্মল সুবর্ণের একই বস্তু ছিল। 23আর তিনি তাহার সাতটী প্রদীপ এবং তাহার চিমটা ও শীষধানী নির্ম্মল স্বর্ণ দিয়া নির্ম্মাণ করিলেন। 24তিনি ঐ দীপবৃক্ষ এবং ঐ সমস্ত সামগ্রী এক তালন্ত পরিমিত নির্ম্মল স্বর্ণ দ্বারা নির্ম্মাণ করিলেন। 25পরে তিনি শিটীম কাষ্ঠ দ্বারা ধূপবেদি নির্ম্মাণ করিলেন; তাহা এক হস্ত দীর্ঘ, এক হস্ত প্রস্থ ও দুই হস্ত উচ্চ চতুষ্কোণ; তাহার শৃঙ্গ সকল তাহার সহিত অখণ্ড ছিল। 26পরে সেই বেদি, তাহার পৃষ্ঠ, তাহার চারি পার্শ্ব ও তাহার শৃঙ্গ সকল নির্ম্মল স্বর্ণে মুড়িলেন, এবং তাহার চারিদিকে স্বর্ণের নিকাল গড়িয়া দিলেন। 27আর তাহা বহিবার জন্য বহন দণ্ডের ঘর করিয়া দিতে তাহার নিকালের নীচে দুই পার্শ্বের দুই কোণের নিকটে স্বর্ণের দুই দুই কড়া গড়িয়া দিলেন। 28আর শিটীম কাষ্ঠ দ্বারা বহন-দণ্ড প্রস্তুত করিলেন ও তাহা স্বর্ণে মুড়িলেন। 29পরে তিনি গন্ধবণিকের প্রক্রিয়ানুসারে অভিষেকার্থ পবিত্র তৈল ও সুগন্ধি দ্রব্যের নির্ম্মল ধূপ প্রস্তুত করিলেন।

38

1আর শিটীম কাষ্ঠ দ্বারা হোমবেদি নির্ম্মাণ করিলেন; তাহা পাঁচ হস্ত দীর্ঘ, পাঁচ হস্ত প্রস্থ ও তিন হস্ত উচ্চ চতুস্কোণ করা হইল। 2আর তাহার চারি কোণের উপরে শৃঙ্গ নির্ম্মাণ করিলেন; সেই শৃঙ্গ সকল তাহার সহিত অখণ্ড ছিল; তিনি তাহা পিত্তলে মুড়িলেন। 3পরে তিনি বেদির সমস্ত পাত্র, অর্থাৎ হাঁড়ী, হাতা, বাটি, ত্রিশূল ও অঙ্গারধানী, এই সকল পাত্র পিত্তল দিয়া গড়িলেন।

4আর বেদির জন্য বেড়ের নীচে অধঃ অবধি মধ্য পর্য্যন্ত জালবৎ কাজ করা পিত্তলের ঝাঁঝরী প্রস্তুত করিলেন। 5তিনি বহন-দণ্ডের ঘর করিয়া দিতে সেই পিত্তলময় ঝাঁঝরীর চারি কোণে চারি কড়া ঢালিলেন। 6পরে তিনি শিটীম কাষ্ঠ দ্বারা বহন-দণ্ড নির্ম্মাণ করিয়া পিত্তলে মুড়িলেন। 7আর বেদি বহনার্থে তাহার পার্শ্বস্থ কড়াতে ঐ বহন-দণ্ড পরাইলেন; তিনি ফাঁপা রাখিয়া তাহা দিয়া বেদি নির্ম্মাণ করিলেন। 8আর যাহারা সমাগম-তাম্বুর দ্বারসমীপে সেবার্থে শ্রেণীভূত হইত, সে শ্রেণীভূত স্ত্রীলোকদের পিত্তলনির্ম্মিত দর্পণ দ্বারা তিনি প্রক্ষালন-পাত্র ও তাহার খুরা নির্ম্মাণ করিলেন। 9আর তিনি প্রাঙ্গণ প্রস্তুত করিলেন; দক্ষিণদিকে প্রাঙ্গণের দক্ষিণ পার্শ্বে পাকান সাদা মসীনা সূত্রে এক শত হস্ত পরিমিত যবনিকা ছিল। 10তাহার বিংশতি স্তম্ভ ও বিংশতি চুঙ্গি পিত্তলের, এবং সেই স্তম্ভের আঁকড়া ও শলাকা সকল রৌপ্যের ছিল। 11আর উত্তর দিকের যবনিকা এক শত হস্ত, ও তাহার বিংশতি স্তম্ভ ও বিংশতি চুঙ্গি পিত্তলের, এবং স্তম্ভের আঁকড়া ও শলাকা সকল রৌপ্যের ছিল। 12আর পশ্চিম পার্শ্বের যবনিকা পঞ্চাশ হস্ত, ও তাহার দশ স্তম্ভ ও দশ চুঙ্গি, এবং স্তম্ভের আঁকড়া ও শলাকা সকল রৌপ্যের ছিল। 13আর পূর্ব্বদিকে পূর্ব্ব পার্শ্বের দীর্ঘতা পঞ্চাশ হস্ত ছিল। 14প্রাঙ্গণের দ্বারের এক পার্শ্বের নিমিত্তে পনের হস্ত যবনিকা, তাহার তিন স্তম্ভ ও তিন চুঙ্গি, 15এবং অন্য পার্শ্বের জন্যও সেইরূপ; প্রাঙ্গণের দ্বারের এদিক্ ওদিক্ পনের হস্ত যবনিকা ও তাহার তিন স্তম্ভ ও তিন চুঙ্গি ছিল। 16প্রাঙ্গণের চারিদিকের সকল যবনিকা পাকান সাদা মসীনা সূত্রে নির্ম্মিত। 17আর স্তম্ভের চুঙ্গি সকল পিত্তলময়, স্তম্ভের আঁকড়া ও শলাকা সকল রৌপ্যময়, ও তাহার মাথলা রৌপ্যমণ্ডিত, এবং প্রাঙ্গণের সকল স্তম্ভ রৌপ্যের শলাকায় সংযুক্ত ছিল। 18আর প্রাঙ্গণের দ্বারের পর্দ্দা নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রের সূচিকর্ম্মে প্রস্তুত, এবং তাহার দীর্ঘতা বিংশতি হস্ত, আর প্রাঙ্গণের যবনিকার ন্যায় উচ্চতা প্রস্থপরিমাণে পঞ্চ হস্ত। 19আর তাহার চারি স্তম্ভ ও চারি চুঙ্গি পিত্তলের ও আঁকড়া রৌপ্যের, এবং তাহার মাথলা রৌপ্যমণ্ডিত ও শলাকা রৌপ্যময় ছিল। 20আর আবাসের প্রাঙ্গণের চারিদিকের গোঁজ সকল পিত্তলময় ছিল। 21আবাসের, সাক্ষ্যের আবাসের, দ্রব্য-সংখার বিবরণ এই। মোশির আজ্ঞানুসারে সেই সমস্ত গণনা করা হইল; লেবীয়দের কার্য্য বলিয়া তাহা হারোণ যাজকদের পুত্র ঈথামরের দ্বারা করা হইল। 22আর সদাপ্রভু মোশিকে যে আজ্ঞা দিয়াছিলেন, তদনুসারে যিহূদাবংশজাত হূরের পৌত্র ঊরির পুত্র বৎসলেল সকলই নির্ম্মাণ করিয়াছিলেন। 23আর দান-বংশজাত অহীষামকের পুত্র অহলীয়াব তাঁহার সহকারী ছিলেন; তিনি খোদক ও শিল্পকুশল, এবং নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রের শিল্পকার ছিলেন। 24পবিত্র আবাস নির্ম্মাণের সমস্ত কর্ম্মে এই সকল স্বর্ণ লাগিল, উপহারের সমস্ত স্বর্ণ পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে ঊনত্রিশ তালন্ত সাত শত ত্রিশ শেকল ছিল। 25আর মণ্ডলীর গণিত লোকদের রৌপ্য পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে এক শত তালন্ত এক সহস্র সাত শত পঁচাত্তর শেকল ছিল। 26গণিত প্রত্যেক লোকের জন্য, অর্থাৎ যাহারা বিংশতি বৎসর বয়স্ক কিম্বা তদপেক্ষা অধিক বয়স্ক ছিল, সেই ছয় লক্ষ তিন সহস্র সাড়ে পাঁচ শত লোকের মধ্যে প্রত্যেক জনের জন্য এক এক বেকা, অর্থাৎ পবিত্র স্থানের শেকল অনুসারে অর্দ্ধ অর্দ্ধ শেকল দিতে হইয়াছিল। 27সেই এক শত তালন্ত রৌপ্যে পবিত্র স্থানের চুঙ্গি ও তিরস্করিণ্ণির চুঙ্গি ঢালা গিয়াছিল; এক শত চুঙ্গির কারণ এক শত তালন্ত, এক এক চুঙ্গির কারণ এক এক তালন্ত ব্যয় হইয়াছিল। 28আর ঐ এক সহস্র সাত শত পঁচাত্তর শেকলে তিনি স্তম্ভ সকলের জন্য আঁকড়া নির্ম্মাণ করিয়াছেন, ও তাহাদের মাখলা মণ্ডিত ও শলাকায় সংযুক্ত করিয়াছিলেন। 29আর উপহারের পিত্তল সত্তর তালন্ত দুই সহস্র চারি শত শেকল ছিল। 30তাহা দ্বারা ত্নি সমাগম-তাম্বুর দ্বারের চুঙ্গি, পিত্তলময় বেদি ও তাহার পিত্তলময় ঝাঁঝরী ও বেদির সকল পাত্র, 31এবং প্রাঙ্গণের চারিদিকের চুঙ্গি ও প্রাঙ্গণের দ্বারের চুঙ্গি ও আবাসের সকল গোঁজ ও প্রাঙ্গণের চারিদিকের গোঁজ নির্ম্মাণ করিয়াছিলেন।

39

1পরে শিল্পীরা নীল, বেগুনে, লাল সূত্র দ্বারা পবিত্র স্থানে পরিচর্য্যা করণার্থ সূক্ষ্মশিল্পিত বস্ত্র প্রস্তুত করিলেন, বিশেষতঃ হারোণের জন্য পবিত্র বস্ত্র প্রস্তুত করিলেন; যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আজ্ঞা দিয়াছিলেন। 2তিনি স্বর্ণ দ্বারা এবং নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্র দ্বারা এফোন নির্ম্মাণ করিলেন। 3ফলতঃ তাঁহারা স্বর্ণ পিটাইয়া পাত করিয়া শিল্পকর্ম্মের নীল, বেগুনে, লাল ও সাদা মসীনা সূত্রের মধ্যে বুনিবার জন্য তাহা কাটিয়া তার প্রস্তুত করিলেন।

4আর তাঁহারা যোড়া দিবার জন্য তাহার দুই স্কন্ধপটি প্রস্তুত করিলেন; দুই মুড়াতে পরস্পর যোড়া দেওয়া গেল; 5আর তাহা বন্ধ করিবার জন্য শিল্পকর্ম্মে বোনা যে পটুকা তাহার উপরে ছিল, তাহা তৎসহিত অখণ্ড, এবং সেই বস্ত্রের তুল্য ছিল, তাহা স্বর্ণ দ্বারা এবং নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্র দ্বারা প্রস্তুত হইল; যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আজ্ঞা দিয়াছিলেন। 6পরে তাঁহারা ক্ষোদিত মুদ্রার ন্যায় ইস্রায়েলের পুত্রদের নামে ক্ষোদিত স্বর্ণময় স্থালীতে খচিত দুই গোমেদক মণি খুদিলেন। 7আর এফোদের দুই স্কন্ধপটির উপরে ইস্রায়েলের পুত্রদের স্বরণার্থক মণিসরূপে তাহা বসাইলেন; যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আজ্ঞা দিয়াছিলেন। 8পরে এফোদের কর্ম্মের ন্যায় তিনি স্বর্ণ দ্বারা এবং নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্র দ্বারা শিল্পকর্ম্মের বুকপাটা প্রস্তুত করিলেন। 9তাহা চতুস্কোণ; তাঁহারা সেই বুকপাটা দোহারা করিলেন; তাহা এক বিঘত দীর্ঘ ও এক বিঘত প্রস্থ ও দোহারা করিলেন। 10আর তাহা চারি পঙ্ত্তি মণিতে খচিত করিলেন; তাহার প্রথম পঙ্ত্তিতে চুণী, পীতমণি ও মরকত, 11দ্বিতীয় পঙ্ত্তিতে পদ্মরাগ, নীলকান্ত ও হীরক, 12তৃতীয় পঙ্ত্তিতে পেরোজ, যিস্ম ও কাটাহেলা, 13এবং চতুর্থ পঙ্ত্তিতে বৈদূর্য্য, গোমেদক ও সূর্য্যকান্ত ছিল; স্বর্ণস্থালী এই সকল মণিতে খচিত হইল। 14এই সকল মণি ইস্রায়েলের পুত্রদের নামানুসারে হইল, তাহাদের নামানুসারে দ্বাদশটি হইল; মুদ্রার ন্যায় ক্ষোদিত প্রত্যেক মণিতে দ্বাদশ বংশের জন্য এক এক পুত্রের নাম হইল। 15পরে তাঁহারা বুকপাটায় নির্ম্মল স্বর্ণ দ্বারা মালাবৎ পাকান দুই শৃঙ্খল গড়িলেন। 16আর স্বর্ণের দুই স্থালী ও বর্ণের দুই কড়া নির্ম্মাণ করিয়া বুকপাটার দুই প্রান্তে সেই দুই কড়া বদ্ধ করিলেন, 17আর বুকপাটার প্রান্তস্থিত দুই কড়ার মধ্যে পাকান স্বর্ণের সেই দুই শৃঙ্খল রাখিলেন। 18এবং পাকান শৃঙ্খলের দুই মুড়া দুই স্থালীতে বদ্ধ করিয়া এফোদের সম্মুখে দুই স্কন্ধপটির উপরে রাখলেন। 19আর স্বর্ণের দুইটী কড়া গড়িয়া বুকপাটার দুই প্রান্তে ভিতরভাগে এফোদের সম্মুখস্থ মুড়াতে রাখিলেন। 20এবং স্বর্ণের দুইটী কড়া গড়িয়া এফোদের দুই স্কন্ধপটির নীচে তাহার সম্মুখভাগে তাহার যোড়ের স্থানে এফোদের বুনানি করা পটুকার উপরে রাখিলেন। 21আর বুকপাটা যেন এফোদের শিল্পিত পটুকার উপরে থাকে, এফোদ হইতে খসিয়া না যায়, এই জন্য তাঁহারা কড়াতে নীল সূত্র দিয়া এফোদের কড়ার সহিত বুকপাটা বদ্ধ করিয়া রাখিলেন; যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আজ্ঞা দিয়াছিলেন। 22পরে তিনি এফোদের পরিচ্ছদ বুনিলেন; তাহা তন্তুবায়ের কৃত ও সমুদয় নীলবর্ণ। 23আর সেই পরিচ্ছদের গলা তাহার মধ্যস্থানে ছিল; তাহা বর্ম্মের গলার সদৃশ; তাহা যেন ছিঁড়িয়া না যায়, এই জন্য সেই গলার চারিদিকে ধারি ছিল। 24আর তাঁহারা ঐ পরিচ্ছদের আঁচলে নীল, বেগুনে, ও লাল পাকান সূত্রে দাড়িম নির্ম্মাণ করিলেন। 25পরে তাঁহারা নির্ম্মল স্বর্ণের কিঙ্কিণী গড়িলেন ও সেই কিঙ্কিণীগুলি দাড়িমের মধ্যে মধ্যে পরিচ্ছদের আঁচলের চারিদিকে দাড়িমের মধ্যে মধ্যে দিলেন। 26পরিচর্য্যার্থক পরিচ্ছদের আঁচলে চারি দিকে এক কিঙ্কিণী ও এক দাড়িম,এক কিঙ্কিণী ও এক দাড়িম, এইরূপ করিলেন; যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আজ্ঞা দিয়াছিলেন । 27পরে তাঁহারা হারোণের ও তাঁহার পুত্রগণের জন্য সাদা মসীনা সুত্র দ্বারা তন্তুবায়ের নির্ম্মিত অঙ্গরক্ষিণী, 28ও সাদা মসীনা সুত্রনির্ম্মিত উষ্ণীত ও সাদা মসীনা সুত্রনির্ম্মিত শিরোভূষন ও পাকান সাদা মসীনা সুত্রনির্ম্মিত শুল্ক জাঙ্ঘিয়া প্রস্তুত করিলেন। 29আর পাকান সাদা মসীনা সুত্রে, এবং নীল, বেগুনে, ও লাল সূত্রে সূচিকর্ম্ম দ্বারা এক কটিবন্ধন প্রস্তুত করিলেন; যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আজ্ঞা দিয়াছিলেন। 30পরে তাঁহারা নির্ম্মল স্বর্ণ দ্বারা পবিত্র মুকুটের পাত প্রস্তুত করিলেন, এবং ক্ষোদিত মুদ্রার ন্যায় তাহার উপরে লিখিলেন, “ সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র” । 31পরে ঊর্দ্ধে উষ্ণীষের উপরে রাখিবার জন্য তাহা নীল সূত্র দিয়া বাঁধিলেন; যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আজ্ঞা দিয়াছিলেন। 32এই প্রকারে সমাগম-তাম্বুরূপ আবাসের সমস্ত কার্য্য সমাপ্ত হইল; মোশির প্রতি সদাপ্রভুর আজ্ঞানুসারে ইস্রায়েল-সন্তানগণ সমস্ত কর্ম্ম করিল। 33পরে তাহারা মোশির নিকটে ঐ আবাস আনিল, তাম্বু, তৎসংক্রান্ত সমস্ত দ্রব্য, এবং ঘুন্টী, তক্তা, অর্গল, স্তম্ভ ও চুঙ্গি, 34রক্তীকৃত মেষ-চর্ম্মনির্ম্মিত ছাদ, তহশ-চর্ম্মনির্ম্মিত ছাদ ও ব্যবধানের তিরস্করিণী, 35এবং সাক্ষ্য-সিন্দুক ও তাহার বহন-দণ্ড, 36পাপাবরণ এবং মেজ, তাহার সমস্ত পাত্র ও দর্শন-রুটী, 37নির্ম্মল দীপবৃক্ষ, তাহার প্রদীপ সকল অর্থাৎ প্রদীপাবলি, তাহার সমস্ত পাত্র ও দীপার্থ তৈল, এবং স্বর্ণময় বেদি, 38অভিষেকার্থ তৈল, ধূপার্থ সুগন্ধি দ্রব্য ও তাম্বু-দ্বারের পর্দ্দা, 39পিত্তলময় বেদি, তাহার পিত্তলময় ঝাঁঝরী, তাহার বহন-দণ্ড ও সমস্ত পাত্র,

40প্রক্ষালন-পাত্র ও তাহার খুরা, এবং প্রাঙ্গণের যবনিকা, তাহার স্তম্ভ ও চুঙ্গি এবং প্রাঙ্গণ-দ্বারের পর্দ্দা, ও তাহার রজ্জু, গোঁজ ও সমাগম-তাম্বুর জন্য আবাসের কার্য্যের সমস্ত পাত্র,

41পবিত্র স্থানে পরিচর্য্যা করণার্থ সূক্ষ্মশিল্পিত বস্ত্র, হারোণ যাজকের পবিত্র বস্ত্র ও তাঁহার পুত্রদের যাজনকর্ম্ম সম্বন্ধীয় বস্ত্র।

42সদাপ্রভু মোশিকে যেমন আজ্ঞা করিয়াছিলেন, তদনুসারে ইস্রায়েল-সন্তানগণ সমস্তই সম্পন্ন করিল।

43পরে মোশি ঐ সকল কার্য্যের প্রতি দৃষ্টি করিলেন, আর দেখ, তাহারা করিয়াছে; সদাপ্রভুর আজ্ঞানুসারেই করিয়াছে; আর মোশি তাহাদিগকে আশীর্ব্বাদ করলেন।

40

তাম্বুর স্থাপন ও প্রতিষ্ঠা ।

1পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, 2তুমি প্রথম মাসের প্রথম দিনে সমাগম-তাম্বুরূপ আবাস স্থাপন করিবে। 3আর তাহার মধ্যে সাক্ষ্য-সিন্দুক রাখিয়া তিরস্করিণী টাঙ্গাইয়া সেই সিন্দুক আড়াল করিবে।

4পরে মেজ ভিতরে আনিয়া তাহার উপরে সাজাইবার দ্রব্য সাজাইয়া রাখিবে, এবং দীপবৃক্ষ ভিতরে আনিয়া তাহার প্রদীপ সকল জ্বালিয়া দিবে। 5আর স্বর্ণময় ধূপবেদি সাক্ষ্য-সিন্দুকের সম্মুখে রাখিবে, এবং আবাস-দ্বারের পর্দ্দা টাঙ্গাইবে। 6আর সমাগম-তাম্বুরূপ আবাসের দ্বারের সম্মুখে হোমবেদি রাখিবে। 7আর সমাগম-তাম্বু ও বেদির মধ্যে প্রক্ষালন-পাত্র রাখিয়া তাহার মধ্যে জল দিবে। 8আর চারিদিকে প্রাঙ্গণ প্রস্তুত করিবে ও প্রাঙ্গণের দ্বারে পর্দ্দা টাঙ্গাইবে। 9পরে অভিষেকার্থ তৈল লইয়া আবাস ও তাহার মধ্যবর্ত্তী সমস্ত বস্তু অভিষেক করিয়া তাহা ও তৎসংক্রান্ত সকল দ্রব্য পবিত্র করিবে; তাহাতে তাহা পবিত্র হইবে। 10আর তুমি হোমবেদি ও তৎসংক্রান্ত সমস্ত পাত্র অভিষেক করিয়া, হোমবেদি পবিত্র করিবে; তাহাতে সেই বেদি অতি পবিত্র হইবে। 11আর তুমি প্রক্ষালন-পাত্র ও তাহার খুরা অভিষেক করিয়া পবিত্র করিবে। 12পরে তুমি হারোণকে ও তাহার পুত্রগণকে সমাগম-তাম্বুর দ্বারসমীপে আনিয়া জলে স্নান করাইবে। 13আর হারোণকে পবিত্র বস্ত্র সকল পরাইবে এবং অভিষেক করিয়া পবিত্র করিবে, তাহাতে তাহারা আমার যাজনকর্ম্ম করিবে। 14আর তাহার পুত্রগণকে আনিয়া অঙ্গরক্ষিণী পরাইবে। 15আর তাহাদের পিতাকে যেমন অভিষেক করিয়াছ, তদ্রূপ তাহাদিগকেও অভিষেক করিবে; তাহাতে তাহারা আমার যাজনকর্ম্ম করিবে; তাহাদের সেই অভিষেক পুরুসানুক্রমে চিরস্থায়ী যাজকত্বের জন্য হইবে। 16মোশি এইরূপ করিলেন; তিনি সদাপ্রভুর সমস্ত আজ্ঞানুসারে কার্য্য করিলেন। 17পরে দ্বিতীয় বৎসরের প্রথম মাসের প্রথম দিনে আবাস স্থাপিত হইল। 18মোশি আবাস স্থাপন করিলেন, তাহার চুঙ্গি দিলেন, তক্তা বসাইলেন, অর্গল ভিতরে দিলেন ও তাহার স্তম্ভ সকল তুলিলেন। 19পরে ঐ আবাসের উপরে তাম্বু বিস্তার করিলেন, এবং তাম্বুর উপরে ছাদ দিলেন; যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আজ্ঞা দিয়াছিলেন। 20পরে তিনি সাক্ষ্যলিপি লইয়া সিন্দুকের মধ্যে রাখিলেন, সিন্দুকে বহন-দণ্ড দিলেন, এবং সিন্দুকের উপরে পাপাবরণ রাখিলেন, 21আর আবাসের মধ্যে সিন্দুক আনিলেন এবং ব্যবধানের তিরস্করিণী টাঙ্গাইয়া সাক্ষ্য-সিন্দুক আড়াল করিলেন; যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আজ্ঞা দিয়াছিলেন। 22পরে তিনি আবাসের উত্তর পার্শ্বে তিরস্করিণীর বাহিরে সমাগম-তাম্বুতে মেজ রাখিলেন, 23এবং তাহার উপরে সদাপ্রভুর সম্মুখে রুটী সাজাইয়া রাখিলেন; যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আজ্ঞা দিয়াছিলেন। 24পরে তিনি সমাগম-তাম্বুতে মেজের সম্মুখে আবাসের পার্শ্বে দক্ষিণদিকে দীপবৃক্ষ রাখিলেন, 25এবং সদাপ্রভুর সম্মুখে প্রদীপ জ্বালিলেন; যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আজ্ঞা দিয়াছিলেন। 26পরে তিনি সমাগম-তাম্বুতে তিরস্করিণীর সম্মুখে স্বর্ণবেদি রাখিলেন, 27এবং তাহার উপরে সুগন্ধি ধূপ জ্বালাইলেন; যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আজ্ঞা দিয়াছিলেন। 28পরে তিনি আবাসের দ্বারে পর্দ্দা টাঙ্গাইলেন। 29আর তিনি সমাগম-তাম্বুরূপ আবাসের দ্বারসমীপে হোমবেদি রাখিয়া তাহার উপরে হোমবলি ও ভক্ষ্য নৈবেদ্য উৎসর্গ করিলেন; যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আজ্ঞা দিয়াছিলেন। 30পরে তিনি সমাগম-তাম্বু ও বেদির মধ্যস্থানে প্রক্ষালন-পাত্র রাখিয়া তাহার মধ্যে প্রক্ষালনার্থ জল দিলেন। 31তাহা হইতে মোশি, হারোণ ও তাহার পুত্রগণ আপন আপন হস্ত পদ ধৌত করিতেন; 32যখন তাঁহারা সমাগ্ম-তাম্বুতে প্রবেশ করিতেন, কিম্বা বেদির নিকটবর্ত্তী হইতেন, তৎকালে ধৌত করিতেন; যেমন সদাপ্রভু মোশিকে আজ্ঞা দিয়াছিলেন। 33পরে তিনি আবাসের ও বেদির চারদিকে পাঙ্গণ প্রস্তুত করিলেন, এবং প্রাঙ্গণের দ্বারের পর্দ্দা টাঙ্গাইলেন। এইরূপে মোশি কার্য্য সমাপ্ত করিলেন। 34তখন মেঘ সমাগম-তাম্বু আচ্ছাদন করিল, এবং সদাপ্রভুর প্রতাপ আবাস পরিপূর্ণ করিল। 35তাহাতে মোশি সমাগম-তাম্বুতে প্রবেশ করিতে পারিলেন না, কারণ মেঘ তাহার উপরে অবস্থিতি করিতেছিল, এবং সদাপ্রভুর প্রতাপ আবাস পরিপূর্ণ করিয়াছিল। 36আর আবাসে উপর হইতে মেঘ নীত হইলে, ইস্রায়েল-সন্তানগণ আপনাদের প্রত্যেক যাত্রায় অগ্রসর হইত। 37কিন্তু মেঘ যদি ঊর্দ্ধে নীত না হইত, সে দিন পর্য্যন্ত তাহারা যাত্রা করিত না। 38কেননা সমস্ত ইস্রায়েল-কুলের দৃষ্টিগোচরে তাহাদের সমস্ত যাত্রাতে দিবাতে সদাপ্রভুর মেঘ এবং রাত্রিতে অগ্নি আবাসের উপরে অবস্থিতি করিত।