হিতোপদেশ

1

ভূমিকা

1এই নীতি কথাগুলি দায়ূদের পুত্র শলোমনের জ্ঞানগর্ভ শিক্ষামালা। শলোমন ছিলেন ইস্রায়েলের রাজা। 2মানুষকে জ্ঞানী করে তোলা এবং তাদের সঠিক পথের সন্ধান দেওয়াই এই কথাগুলির উদ্দেশ্য। এই কথাগুলির মাধ্যমে লোকে জ্ঞানগর্ভ শিক্ষামালা অনুধাবন করতে পারবে। 3এই কথাগুলি লোকদের সঠিক পথ বুঝতে সাহায্য করে। মানুষ সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও ধার্মিকতার পথ শিখবে। 4যাঁরা জ্ঞান অর্জন করতে চান সেই লোকদের এই কথাগুলি শিক্ষা প্রদান করবে। এই জ্ঞান কি করে প্রয়োগ করতে হবে এই শিক্ষামালা যুবসম্প্রদায়কে তাও শিখিয়ে দেবে। 5এমনকি জ্ঞানী ব্যক্তিদেরও এই নীতি কথাগুলি শোনা উচিৎ‌। এই শিক্ষামালার মাধ্যমে তাঁদের জ্ঞানের ব্যপ্তি বৃদ্ধি পাবে, তাঁরা আরো পণ্ডিত হয়ে উঠবেন। যে সব লোক বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে দক্ষ তাঁরা আরও বেশী বোধ লাভ করবেন। 6তখন ঐসব লোকরা জ্ঞানপূর্ণ রচনাবলী এবং কাহিনীসমূহ যাদের মধ্যে রূপক অর্থ রয়েছে সেগুলো বুঝতে পারবেন। তাঁরা জ্ঞানবানদের কথাগুলি অনুধাবন করতে সফল হবেন।

7প্রভুকে মান্য করা এবং শ্রদ্ধা করাই হল মানুষের সর্বপ্রথম কর্তব্য। এটা তাদের প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করতে সাহায্য করে। কিন্তু শয়তান বোকারা অনুশাসন এবং যথার্থ জ্ঞানকে ঘৃণা করে।

পুত্রের উদ্দেশ্যে শলোমনের উপদেশ

8আমার পুত্র,+ 1:8 আমার পুত্র হিতোপদেশ পুস্তকটি সম্ভবত: লেখা হয়েছিল একটি কিশোর ছেলের উদ্দেশ্যে যে এক যুবক হয়ে উঠছিল। এই পুস্তক তাকে শেখায় কেমন করে এক দায়িত্বশীল যুবক হয়ে ওঠা যায় যে ঈশ্বরকে ভালবাসে এবং শ্রদ্ধা করে। তোমার পিতা যখন তোমাকে সংশোধন করেন তখন তাঁর উপদেশ শোন। তোমার মায়ের পরামর্শও অবহেলা কোরো না। 9তোমার পিতামাতার দেওয়া শিক্ষাসমূহ তোমার মাথার ওপর একটি সুন্দর মালার মত অথবা একটি কন্ঠহারের মতো যেটা তোমাকে দেখতে আকর্ষক করে তোলে।

10পুত্র আমার, পাপীরা তোমাকেও পাপের পথে টানতে চেষ্টা করবে। ঐ পাপীদের কথায় কর্ণপাত কোরো না। 11ঐসব পাপী লোকরা হয়তো তোমাকে বলবে, “আমাদের দলে এসো! আমরা একটি লোককে হঠাৎ‌‌ আক্রমণ ও হত্যা করতে যাচ্ছি। আমরা একজন নিরীহ লোককে আক্রমণ করব। 12আমরা তাকে হত্যা করব। আমরা ঐ লোকটিকে মৃত্যুস্থলে পাঠিয়ে দেব। আমরা তাকে কবরে পাঠাব। 13আমরা সর্বপ্রকার বহুমূল্য সামগ্রী চুরি করব। আমরা সেই চুরি করা ধনসম্পত্তি দিয়ে আমাদের গৃহ পরিপূর্ণ করব। 14তাই আমাদের সঙ্গে চলে এসো, আমাদের সাহায্য কর। ঐ লুন্ঠিত ধন আমরা সবাই ভাগাভাগি করে নেব!”

15পুত্র, ঐ পাপীদের অনুসরণ কোরো না। তাদের পাপের পথে এক পাও অগ্রসর হয়ো না। 16ঐসব খারাপ লোকরা পাপ কাজ করতে সর্বদাই প্রস্তুত। তারা সর্বদা লোকদের হত্যা করতে চায়।

17লোকরা পাখী ধরতে জাল পাতে। কিন্তু জাল যখন পাতা হচ্ছে তখন যদি পাখীরা দেখে ফেলে তাহলে কোন লাভ হবে না। 18তাই পাপীরা কাউকে হত্যা করার আগে তার জন্য লুকিয়ে প্রতীক্ষা করে। কিন্তু ওরা নিজেদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েই ধ্বংস হবে! 19লোভী লোকরা তাদের নিজেদের কুকর্মের জন্য তাদের জীবন হারায়।

প্রজ্ঞা—এক গুণবতী রমণী

20শোন! প্রজ্ঞা মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সে (প্রজ্ঞা) পথেঘাটে এবং জনবহুল বাজারে চিৎকার করছে। 21সে জনবহুল রাস্তার বাঁকগুলিতে চিৎকার করছে। সে শহরের ফটকগুলির কাছে লোকদের উদ্দেশ্য করে চেঁচাচ্ছে। প্রজ্ঞা বলছে:

22“ওহে বোকা লোকরা, আর কতদিন ধরে তোমরা তোমাদের নির্বোধের মত জীবনযাপন করাকে ভালবেসে চলবে? আরও কতকাল প্রজ্ঞাকে+ 1:22 প্রজ্ঞা শলোমন প্রজ্ঞা এবং অজ্ঞতাকে দুজন স্ত্রীলোকের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই দুজন স্ত্রীলোকই যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। একজন সজ্জন স্ত্রীলোক হিসেবে প্রজ্ঞা। যুবকদের জ্ঞানী হতে এবং ঈশ্বরকে মেনে চলার কথা বলছেন। আর একজন খারাপ স্ত্রীলোক হিসেবে অজ্ঞতা। যুবকদের অজ্ঞ হবার এবং নানা পাপ কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। উপহাস করা উপভোগ করবে? হীনবুদ্ধিরা কতদিন জ্ঞানকে ঘৃণা করবে? 23আমার শিক্ষামালার প্রতি তোমাদের যথাযোগ্য মনোযোগ দেওয়া উচিৎ‌ ছিল। আমি তোমাদের আমার জ্ঞান দিয়ে দিতাম। আমি আমার ভাবনাগূলোকে তোমাদের জ্ঞাত করতাম।

24“কিন্তু তোমরা আমার কথা শুনতে অস্বীকার করেছিলে। আমি তোমাদের সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। আমি তোমাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম—কিন্তু তোমরা আমার সাহায্য গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলে। 25তোমরা আমার তিরস্কার গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলে। তোমরা আমার সঙ্গে এক মত হতে সম্মত হলে না। 26অতএব, তোমরা যখন সংকটে পড়বে তখন আমি তোমাদের নিয়ে পরিহাস করব। তোমাদের কাছে যখন সন্ত্রাস আসবে তখন আমি তোমাদের উপহাস করব। 27সন্ত্রাস ভয়ঙ্কর ঝড়ের মত তোমাদের অতর্কিতে গ্রাস করবে। সংকটসমূহ প্রবল বাতাসের মত তোমাদের ওপর আঘাত হানবে। তোমরা নিদারুণ যন্ত্রণা ও দুঃখে পড়বে।

28“যখনই এই ধরণের বিপর্যয় ঘটবে তোমরা আমার সাহায্য চাইবে। কিন্তু আমি তোমাদের সাহায্য করব না। তোমরা আমাকে খুঁজবে কিন্তু পাবে না। 29আমি তোমাদের সাহায্য করব না। কারণ তোমরা জ্ঞানকে অস্বীকার করেছো। তোমরা প্রভুকে ভয় ও ভক্তি করতে রাজি হও নি। 30তোমরা আমার উপদেশে কর্ণপাত কর নি। আমি যখন তোমাদের সঠিক পথের সন্ধান দিতে চেয়েছি, তোমরা রাজি হও নি। 31তোমরা তোমাদের ইচ্ছে মত বাঁচতে চেয়েছ। তোমরা নিজেদের মতই অনুসরণ করেছ। তাই তোমাদের কৃতকর্মের ফল তোমরাই ভোগ করবে।

32“নির্বোধরা ধ্বংস হয় কারণ তারা জ্ঞানের পথ অনুসরণ করতে অস্বীকার করে। তারা বিপথে চালিত হয় এবং নিজেদের পতন ডেকে আনে। 33কিন্তু যে ব্যক্তি আমাকে মেনে চলে সে নিরাপদে বাস করবে। সে সর্বদা স্বাচ্ছন্দে থাকবে, সে কখনও কোন মন্দকে ভয় করবে না।”

2

প্রজ্ঞার কথা শোন

1পুত্র আমার, আমি যা বলি তা গ্রহণ কর। আমার আদেশগুলি মনে রেখো। 2প্রজ্ঞার কথা শোন এবং সর্বতোভাবে বোঝার চেষ্টা কর। 3জ্ঞানকে ডাকো। বোধকে চিৎকার করে ডাকো। 4রূপোর মত প্রজ্ঞার অন্বেষণ কর। গুপ্তধনের মত তাঁকে খুঁজে বেড়াও। 5তুমি যদি এগুলি কর, তাহলে তুমি প্রভুকে শ্রদ্ধা করতে শিখবে। তুমি ঈশ্বরের জ্ঞান খুঁজে পাবে।

6প্রভু আমাদের প্রজ্ঞা দান করেন। জ্ঞান এবং বোধশক্তি তাঁরই মুখ থেকে নিঃসৃত হয়। 7তিনি সৎ‌ ও ধার্মিক ব্যক্তিদের রক্ষা করেন। 8যারা অন্যদের প্রতি ভদ্র আচরণ করে তাদেরও তিনি রক্ষা করেন। জ্ঞান ও বোধ তাঁর মুখ থেকে নিঃসৃত হয়।

9তাই, প্রভু তোমাকে তাঁর জ্ঞান প্রদান করবেন। তখন তুমি ভালো, ন্যায় ও সঠিক বলতে কি বোঝায় তা বুঝতে সক্ষম হবে। 10প্রজ্ঞা তোমার হৃদয়ে প্রবেশ করবে এবং তোমার আত্মা জ্ঞানের মহিমায় সুখী হবে।

11প্রজ্ঞা তোমাকে রক্ষা করবে এবং বিবেচনাশক্তি তোমাকে পাহারা দেবে। 12প্রজ্ঞা এবং বোধ তোমাকে পাপী লোকদের মত ভুল পথে চলার হাত থেকে নিবৃত্ত করবে। যারা এমন কথা বলে যা ধ্বংসের কারণ তাদের কাছ থেকে জ্ঞান তোমাকে রক্ষা করবে। 13এই পাপী লোকরা সততার পথ ত্যাগ করেছে এবং এখন অন্ধকারের (পাপ) পথ অনুসরণ করছে। 14তারা পাপ কাজ করতেই ভালোবাসে এবং কুপথকে উপভোগ করে। 15ঐ পাপীদের বিশ্বাস করা যায় না। তারা মিথ্যা কথা বলে এবং লোকদের প্রতারণা করে। কিন্তু তোমার জ্ঞান ও বোধ তোমাকে সব সময় এইসব জিনিসগুলি থেকে দূরে রাখবে।

16প্রজ্ঞা তোমাকে ঐ অপরিচিতা রমণী থেকে দূরে রাখবে। সেই বিজাতীয়া, যে চাটুকারিতার সাহায্যে তোমাকে পাপের পথে প্রলুদ্ধ করে, তার হাত থেকে তোমাকে রক্ষা করবে প্রজ্ঞা। 17যৌবনে সে বিয়ে করেছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে সে স্বামীকে পরিত্যাগ করেছে। ঈশ্বরকে সাক্ষী রেখে বিবাহের শপথকে সে ভুলে গিয়েছে। 18এখন, তুমি যদি তার ঘরে ঢোক তাহলে সেটা তোমাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাবে! তুমি যদি মেয়ে-মানুষটাকে অনুসরণ কর সে তোমাকে কবরের দিকে পরিচালিত করবে! 19সে নিজেই কবরের মত। যে সব পুরুষরা তার বাড়ীতে ঢুকবে তারা তাদের জীবন হারাবে এবং আর কখনও ফিরে আসবে না।

20প্রজ্ঞা তোমাকে ধার্মিকদের পথ অনুসরণ করতে সাহায্য করবে। প্রজ্ঞা তোমাকে সৎ‌ভাবে জীবনযাপনে সাহায্য করবে। 21সৎ‌ এবং ধার্মিক লোকরা তাদের নিজেদের দেশে বসবাস করতে পারবে। সৎ‌, নির্দোষ লোকরা তাদের দেশে বাস করতে পারবে। 22কিন্তু শয়তান লোকদের বাসভূমি তাদের হাতছাড়া হবে। যারা মিথ্যা কথা বলে এবং প্রতারণা করে তারা নিজেদের দেশ থেকে বিতাড়িত হবে।

3

সৎ‌ভাবে জীবনযাপন তোমার আয়ু বৃদ্ধি করবে

1পুত্র আমার, আমার শিক্ষা ভুলো না। আমি তোমাকে যা করতে বলি তা সযত্নে মনে রেখো। 2আমার কথাগুলি তোমাকে দীর্ঘ এবং সমৃদ্ধিপূর্ণ জীবন প্রদান করবে।

3ভালোবাসাকে কখনও পরিত্যাগ করো না। সর্বদা সৎ‌ এবং বিশ্বস্ত থাকবে। এই জিনিসগুলিকে তোমার নিজের অঙ্গীভূত করে নাও। এইগুলি তোমার কন্ঠে জড়িয়ে রাখো, তোমার হৃদয়ে লিখে রাখো। 4তাহলেই তুমি ঈশ্বর এবং মানুষের কাছে বিচক্ষণ এবং পুণ্যবান সাব্যস্ত হবে।

5ঈশ্বরকে পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস কর। নিজের জ্ঞানের ওপর নির্ভর কোরো না। 6তুমি যা কিছু করবে তাতে সর্বদা ঈশ্বরকে এবং তাঁর ইচ্ছাকে স্মরণ করবে। তাহলেই তিনি তোমাকে সাহায্য করবেন। 7নিজের বুদ্ধি বিবেচনার ওপর নির্ভর কোরো না। ঈশ্বরকে ভক্তি কর এবং পাপ থেকে দূরে থাকো। 8যদি তুমি এই কথাগুলি পালন কর তাহলে তুমি উপকৃত হবে ঠিক যেমন ওষুধ শরীরকে নিরাময করে অথবা যেমন একমাত্র া তরল পানীয় তোমাকে শক্তি দেয়।

9তোমার যথাসর্বস্ব সমর্পণ করে প্রভুকে ধন্য কর। তোমার শস্যের উৎকৃষ্টতম ফসলগুলি প্রভুর সামনে উৎসর্গ কর। 10তাহলে তোমার যাবতীয় প্রয়োজন প্রভুই মিটিয়ে দেবেন। তোমার গোলা শস্যে ভরে যাবে এবং তোমার ভাণ্ডারে দ্রাক্ষারস উপচে পড়বে।

11আমার পুত্র, কখনও কখনও তোমার ভুলত্রুটি তোমাকে দেখিয়ে দেবার জন্য প্রভু তোমাকে শাসন করবেন। এই শাস্তির জন্য রাগ কোরো না। ঐ শাস্তি থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা কোরো। 12কেন? কারণ ঈশ্বর কেবল তাঁর স্নেহাস্পদদেরই সংশোধন করেন। হ্যাঁ, ঈশ্বর আমাদের পিতার মত, তিনি তাঁর প্রিয়তম সন্তানকেই শোধরানোর চেষ্টা করেন।

13যে ব্যক্তি প্রজ্ঞা লাভ করেছে, সে সুখী হবে। যখন সে বোধশক্তিপ্রাপ্ত হবে, তখন সে আশীর্বাদধন্য হবে। 14প্রজ্ঞা থেকে যে লাভ আসে তা রূপোর চেয়েও ভালো। প্রজ্ঞা থেকে যে লাভ হয় তা সূক্ষ্ম সোনার চেয়েও ভালো! 15প্রজ্ঞার মূল্য মণি-মাণিক্যের চেয়েও বেশী। তোমার অভীষ্ট কোন বস্তুই প্রজ্ঞার মত অমূল্য নয়।

16প্রজ্ঞা তোমাকে ধনসম্পদ, সম্মান এবং দীর্ঘজীবন এনে দেবে। 17জ্ঞানী লোকরা শান্তিপূর্ণ, সুখী জীবনযাপন করে। 18প্রজ্ঞা হল জীবন বৃক্ষের মত। প্রজ্ঞাকে যারা গ্রহণ করবে, তারা সুখী ও মনোরম জীবনযাপন করবে। জ্ঞানী ব্যক্তিরাই যথার্থ সুখী হবে!

19প্রজ্ঞা এবং বোধকে প্রভু আকাশ এবং পৃথিবী সৃষ্টি করবার জন্য ব্যবহার করেছেন। 20মহাসমুদ্র এবং মেঘরাশি যা বৃষ্টি দেয় তা প্রভুর জ্ঞানের দ্বারাই সৃষ্ট।

21পুত্র আমার, প্রজ্ঞাকে তোমার দৃষ্টির অগোচর হতে দিও না! তোমার চিন্তা এবং পরিকল্পনা করবার ক্ষমতাকে বুদ্ধিমানের মত রক্ষা কর। 22প্রজ্ঞা এবং বোধ তোমাকে জীবন দান করবে এবং তোমার জীবনকে আরও সুন্দর করে তুলবে। 23তাহলে তুমি নিরাপদে জীবনযাপন করবে এবং কখনও পতিত হবে না। 24বিছানায় শুতে যাবার সময় তুমি ভয় পাবে না। তুমি শান্তিতে বিশ্রাম নিতে পারবে। 25দুষ্ট লোকদের দ্বারা সৃষ্ট আশাতীত বিপদের কথা ভেবে ভয় পেও না। 26প্রভু তোমার সঙ্গে থাকবেন এবং তোমাকে ফাঁদে পড়া থেকে আটকে দেবেন।

27যখনই সম্ভব হবে, যাদের তোমার সাহায্যের দরকার, তাদের ভালো করো। 28তোমার প্রতিবেশী যদি তোমার কাছে কিছু চায় এবং তা যদি তোমার কাছে থাকে, তাহলে সেটা তখনই তাকে দিয়ে দিও। প্রতিবেশীকে সেটা পরের দিন নিতে আসতে বোলো না।

29তোমার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে দুষ্ট পরিকল্পনা কোরো না। সে তোমার কাছাকাছি থাকে এবং সে তোমাকে বিশ্বাস করে!

30কোন উপযুক্ত কারণ ছাড়া কাউকে আদালতে তুলো না। সে যদি তোমার কোন অনিষ্ট না করে এটা কোরো না।

31হিংসাত্মক লোকদের হিংসা কোরো না এবং তাদের পথ অনুসরণ করবার সিদ্ধান্ত নিও না। 32কেন? কারণ প্রভু দুষ্ট, অসাধু লোকদের ঘৃণা করেন এবং সৎ‌ ও ভালো লোকদের ভালবাসেন।

33দুষ্ট লোকদের পরিবারগুলির ওপর প্রভুর অভিশাপ রয়েছে। কিন্তু ধার্মিক লোকদের গৃহগুলিকে তিনি আশীর্বাদ করেন।

34যারা অপরকে নিয়ে পরিহাস করে সেই দাম্ভিক ব্যক্তিদের প্রভু শাস্তি দেন। প্রভু বিনয়ী ব্যক্তিদের প্রতি দয়াশীল।

35জ্ঞানী লোকরা এমন জীবনযাপন করে যা সম্মান আনে। কিন্তু নির্বোধরা এমন জীবনযাপন করে যার পরিণতি লজ্জা।

4

জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা

1পুত্রগণ, তোমাদের পিতার শিক্ষাসমূহ মনোযোগ সহকারে শোন। মনোযোগ দিলে তবেই এই হিতোপদেশগুলি বুঝতে পারবে! 2কেন? কারণ আমার এই উপদেশগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই শিক্ষামালা কখনও ভুলে যেও না।

3এক সময় আমিও তোমাদের মত যুবক ছিলাম! আমি আমার পিতার ছোট পুত্র এবং আমার মাতার একমাত্র সন্তান ছিলাম। 4এবং আমার পিতা আমাকে এই জিনিসগুলি শিখিয়েছিলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, “আমি যা বলি তা মনে রেখো। আমার আদেশ পালন কর, তাহলে বাঁচতে পারবে! 5বিবেচনাশক্তি এবং জ্ঞান লাভ করো! কখনও আমার কথা ভুলো না। সর্বদা আমার উপদেশ মেনে চলবে। 6জ্ঞান থেকে দূরে সরে থেকো না। তাহলে জ্ঞান তোমাকে রক্ষা করবে। জ্ঞানকে ভালোবাসো এবং জ্ঞান তোমাকে নিরাপদে রাখবে।

7“তুমি যে মূহুর্ত থেকে জ্ঞান অর্জন করার সংকল্প করেছ তখন থেকেই জ্ঞানের পর্ব শুরু হয়েছে। অতএব তোমার সমস্ত প্রয়াস ব্যবহার করে, এমনকি তোমার সমস্ত বিষয় সম্পত্তির বিনিময়েও জ্ঞান অর্জন করবার চেষ্টা করো! তাহলে তুমি ক্রমশঃ বুদ্ধিমান হয়ে উঠবে। 8জ্ঞানকে ভালোবাস, জ্ঞানই তোমাকে মহান করে তুলবে। জ্ঞানকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলো এবং জ্ঞান তোমাকে সম্মান এনে দেবে। 9জ্ঞানই সর্বশ্রেষ্ঠ বস্তু যা তোমার জীবনে ঘটতে পারে।”

10পুত্র, আমার কথা শোন। আমার আদেশ মেনে চললে তোমার আয়ু বাড়বে। 11আমি তোমাকে প্রজ্ঞা বা জ্ঞান সম্পর্কে বোঝাচ্ছি। আমি তোমাকে সৎ‌ পথে নিয়ে যাচ্ছি। 12এই পথকে অনুসরণ করো। তাহলে তুমি কখনও ফাঁদে পড়বে না। তুমি দৌড়বে কিন্তু কখনও হোঁচট খাবে না। তুমি যাই কর না কেন, তুমি নিরাপদ থাকবে। 13এই শিক্ষাগুলি সর্বদা মনে রেখো। এগুলি ভুলে যেও না। ওগুলি তোমার জীবন!

14দুষ্ট লোকরা যে পথে হাঁটে, সে পথে হেঁটো না। অসৎ‌ভাবে জীবনযাপন কোরো না। পাপীদের অনুকরণ কোরো না। 15পাপ থেকে দূরে থেকো। তার কাছে যেও না। ওটা ছাড়িয়ে সোজা হয়ে হেঁটো। 16কোনও দুষ্কর্ম না করা পর্যন্ত পাপীদের চোখে ঘুম আসে না। অপরের ক্ষতি না করে তারা বিশ্রাম নিতে পারে না। 17পাপ এবং অন্যের ক্ষতি না করে তারা বাঁচতে পারে না।

18ধার্মিক ব্যক্তিদের জীবনযাপনের পথ সূর্যোদয়ের আলোর মত। দুপুরে সে তার পূর্ণদীপ্তি পাওয়া পর্যন্ত উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়। 19পাপী লোকরা অন্ধকার রাতের মত। তারা আঁধারে হারিয়ে যায় এবং কি কারণে তাদের পতন হয় তা তারা দেখতেও পায় না।

20পুত্র, আমার, আমি যা বলছি তা মন দিয়ে শোন। আমার উপদেশের প্রতি মনোনিবেশ কর। 21আমার কথাগুলি যেন তোমাকে ত্যাগ না করে। আমি যা সব বলি তা মনে রেখো। সেগুলি তোমার হৃদয়ে সম্পদ করে রেখো। 22যারা আমার শিক্ষামালা শোনে তারা জীবন লাভ করে। আমার কথাগুলি তাদের শরীরে সুস্বাস্থ্য নিয়ে আসে। 23সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তুমি যা ভাবছ সে সম্পর্কে সজাগ থেকো। তোমার ভাবনাই তোমার ভাগ্য নিয়ন্তা।

24কখনও মিথ্যা কথা বলো না। সত্যকে কলুষিত করো না। 25তোমার সামনে যে সব ভালো এবং জ্ঞানগর্ভ আদর্শ রয়েছে তা থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিও না। 26যা করছ তার সম্বন্ধে সতর্ক থাকবে। সৎ‌ জীবনযাপন কর। 27সোজা পথ যা ভাল এবং সঠিক তা ত্যাগ কোরো না। কিন্তু সর্বদা পাপ থেকে দূরে থেকো।

5

ব্যভিচার এড়ানোর প্রজ্ঞা বা জ্ঞান

1পুত্র আমার, আমার জ্ঞানগর্ভ শিক্ষামালা শোন। আমার সুবিবেচনামূলক কথাবার্তার প্রতি মনোযোগ দাও। 2তাহলেই তুমি বিবেচকের মত বাঁচতে শিখবে। ভেবেচিন্তে কথা বলতে পারবে। 3অন্য একজন লোকের স্ত্রী হয়তো অসামান্য সুন্দরী হতে পারে; তার কথাবার্তা মধুর এবং প্রলোভনসূচক হতে পারে। 4কিন্তু পরিশেষে সে শুধু তিক্ততা এবং যন্ত্রনাই বয়ে আনবে। সে তিক্ত বিষ কিংবা ধারালো তরবারির মত। 5সে মৃত্যুর পথে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সে তোমাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। 6তাকে অনুসরণ কোরো না! সে পথভ্রষ্ট হয়েছে। সাবধান! জীবনের পথ বেছে নাও।

7আমার পুত্রগণ, এখন আমার কথা শোন। আমি যা বলছি ভুলে যেও না। 8ব্যাভিচারিণী থেকে দূরে থেকো। তার বাড়ির ছায়াও মাড়িও না। 9যদি যাও তোমার প্রাপ্য সম্মান অন্যরা কেড়ে নেবে। কোনও অপরিচিত ব্যক্তি তোমার পরিশ্রমের ফল ভোগ করবে। 10তুমি যাদের চেনো না তারাই তোমার ধনসম্পদ কেড়ে নেবে। তারা তোমার শ্রমের সুফল ভোগ করবে। 11পরিশেষে, তুমি দুঃখিত হবে কারণ তুমি তোমার স্বাস্থ্য নষ্ট করেছ এবং তোমার যা কিছু ছিল সব হারিয়েছ। 12 তখন তুমি বলবে, “আমি আমার অভিভাবকদের কথায় কেন কর্ণপাত করিনি! কেন আমার শিক্ষকদের কথা কানে তুলি নি! আমি শৃঙ্খলা মানতে রাজি হই নি। আমি তিরস্কার গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছি। 14তাই আমি এখন প্রায় সবরকম সংকট ভোগ করছি আর তা সবাই জানে!”

15তোমার নিজের কুয়ো থেকে যে জল পাও, তাই পান কর। 16তোমার জলকে রাস্তার ওপর বয়ে যেতে দিও না। কেবল মাত্র নিজের স্ত্রীর সঙ্গেই শুধু তোমার যৌন সম্পর্ক থাকা উচিৎ‌। তোমার নিজের পরিবারের বাইরে কোন ছেলেমেয়ের পিতা হয়ো না। 17তোমার সন্তানরা যেন কেবল তোমারই হয়। তোমার পরিবারের বাইরে অন্য লোকদের সঙ্গে তোমার সন্তানদের ভাগ করে নেবার দরকার নেই। 18তাই নিজের স্ত্রীকে নিয়েই সন্তুষ্ট থাকো। যৌবনে যে নারীকে বিয়ে করেছিলে তাকেই ভালোবাস এবং তার প্রেমেই তৃপ্ত হও। 19সে একটি অপরূপা হরিণীর মতো। তার ভালোবাসায় সম্পূর্ণ তৃপ্ত হও। তার প্রেম তোমাকে সদা প্রমত্ত রাখুক। 20আমার পুত্র, অন্য রমনীর দ্বারা প্রমত্ত হয়ো না। অন্য স্ত্রীলোকের বক্ষ আলিঙ্গন করো না!

21তুমি যাই কর না কেন কিছুই প্রভুর অগোচর নয়। তুমি কোথায় যাও তাও প্রভু জানেন। 22পাপী তার নিজের ফাঁদেই জড়িয়ে পড়বে। তার পাপসমূহ হবে দড়ির মত যা তাকে বেঁধে রেখেছে। 23সেই পাপীর মৃত্যু অনিবার্য। কারণ সে অনুশাসিত হতে অস্বীকার করেছে। সে তার নিজের কামনার নাগপাশেই বদ্ধ হবে।

6

অপরকে একটি ঋণ পেতে সাহায্য করবার বিপদসমূহ

1পুত্র, অপরের ঋণের জন্য কখনও দায়ী থেকো না। অন্য কোন ব্যক্তি তার ঋণ শোধ করতে না পারলে তুমি কি তাকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছ? 2তাহলে তুমি ফেঁসে গিয়েছ। তুমি নিজের প্রতিশ্রুতি জালেই জড়িয়ে পড়েছ। 3তুমি নিজেকে ঐ ব্যক্তিটির ক্ষমতার অধীনে রেখেছ। শীঘ্র তার কাছে গিয়ে নিজেকে মুক্ত কর। তার ঋণের বোঝা থেকে তোমাকে মুক্ত করবার জন্য তার কাছে অনুরোধ জানাও। 4বিশ্রাম করো না এবং ঘুমিয়ো না। 5হরিণের মত শিকারীর ফাঁদ থেকে পালিয়ে এসো। জাল কেটে পালিয়ে যাওয়া পাখির মতো নিজেকে মুক্ত কর।

অলস হওয়ার বিপদ

6অলস মানুষ, তোমাদের পিঁপড়েদের মতো হওয়া উচিৎ‌। দেখো, পিঁপড়েরা কি করে। পিঁপড়েদের কাছ থেকে শেখো এবং জ্ঞানী হও। 7পিঁপড়েদের কোনও মালিক নেই, শাসক নেই, নেতা নেই। 8কিন্তু গ্রীষ্মকালে পিঁপড়েরা তাদের যাবতীয় খাবার সংগ্রহ করে। ঐ খাদ্য তারা বাঁচিয়ে রাখে এবং শীতের সময়ও তাদের কাছে পর্যাপ্ত খাবার থাকে।

9অলস মানুষ, আর কতক্ষণ তুমি ঘুমিয়ে থাকবে? তোমার শয্যায় বিশ্রাম নেওয়ার থেকে কখন তুমি উঠবে? 10একজন অলস ব্যক্তি বলে, “আমাকে কিছুক্ষণের জন্য ঘুমোতে দাও এবং একটু বিশ্রাম নিতে দাও।” 11তার অলসতার ফলস্বরূপ, একজন চোর যেমন সব কিছু চুরি করে নেয় সে রকম ভাবে তার ওপর দারিদ্র্য আসবে! অচিরেই সে কপর্দকহীন হয়ে পড়বে!

পাপী লোকরা

12একজন পাপী এবং অকর্মণ্য ব্যক্তি মিথ্যে কথা বলে এবং খারাপ কাজ করে। 13সে চোখ টিপে এবং হাত ও পায়ের সাহায্যে নানা ধরণের ইঙ্গিত করে লোকদের ঠকায়। 14ঐ ব্যক্তিটি দুষ্ট। সে সর্বদাই অপরের বিরুদ্ধে দুষ্ট পরিকল্পনা করে। সে সদাসর্বদা অশান্তি সৃষ্টি করে। 15কিন্তু সে শাস্তি পাবে। আকস্মিক বিপর্যয় তার ওপর আসবে। অকস্মাৎ সে ধ্বংস হবে! এবং তাকে সাহায্য করবার কেউ থাকবে না!

সাতটি জিনিষ যা প্রভু ঘৃণা করেন

16প্রভু, সাতটি নয়, ছয়টি জিনিসকে ঘৃণা করেন:

17যে চোখগুলো একজন লোকের গর্ব দেখায়,

যে জিহ্বা মিথ্যে কথা বলে,

হাতগুলো যেগুলো নির্দোষ লোকদের হত্যা করে,

18হৃদয়সমূহ, যারা অন্যদের বিরুদ্ধে অনিষ্ট পরিকল্পনা করে,

পা, যেগুলো কু-কাজ করতে ছোটে,

19যে ব্যক্তি আদালতে মিথ্যা সাক্ষী দেয় এবং যা সত্যি নয় তাই বলে,

যে ব্যক্তি ভাইদের মধ্যে তর্কাতর্কির কারণ ঘটায়।

20পুত্র আমার, তোমার পিতার আদেশসমূহ শোন। তোমার মাতার শিক্ষাগুলি ভুলো না। 21সদা তাঁদের কথা স্মরণ কোরো। তোমার অভিভাবকদের আদেশ তোমার কন্ঠে জড়িয়ে রাখো। তোমার হৃদয়ে লিখে রাখো। 22যেখানেই যাও তাঁদের শিক্ষামালা তোমাকে পথ দেখাবে। এমনকি তুমি যখন শুয়ে থাকবে তখনও ঐ উপদেশগুলি তোমার ওপর নজর রাখবে। জেগে ওঠার পর তোমার সঙ্গে সেগুলো কথা বলবে এবং তোমাকে সঠিক পথে চালিত করবে।

23তোমার অভিভাবকদের আদেশ এবং শিক্ষা আলোর মত তোমাকে পথ দেখাবে। সেগুলি তোমাকে সংশোধন করবে এবং সঠিক পথ চেনার ক্ষমতা প্রদান করবে। 24তাঁদের শিক্ষাসমূহ তোমাকে একজন নষ্ট স্ত্রীলোকের কাছে যাওয়া থেকে নিবৃত্ত করবে। ঐ শিক্ষাগুলি তোমাকে, যে নারী তার স্বামীকে পরিত্যাগ করেছে, তার মধুর বচন থেকে নিরাপদে রাখবে। 25সেই পরস্ত্রী অসাধারণ রূপসী হতে পারে। কিন্তু তার সৌন্দর্য্যের জন্য তোমার হৃদয়ে কাম-লালসা রেখো না। তার নয়নবান যেন তোমাকে ফাঁদে না ফেলতে পারে। 26একজন বারবণিতার জন্য হয়তো তোমাকে একটি রুটির মূল্য দিতে হবে। কিন্তু অন্য লোকের স্ত্রী তোমার প্রাণসংহারিণী হয়ে উঠতে পারে! 27যে ব্যক্তি আগুনের খুব কাছে যায় সে তার জামাকাপড় ঐ আগুনে পোড়ায়। 28জ্বলন্ত কয়লায় পা দিলে পা নিশ্চিত পুড়বে। 29যে ব্যক্তি পরস্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে লিপ্ত হয় তার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ঐ ব্যক্তি শাস্তি ভোগ করবে।

30 ক্ষুধার্ত ব্যক্তি খাদ্য চুরি করতে পারে। চুরি করার সময় ধরা পড়লে, সে যা চুরি করেছে তার সাতগুণ মূল্য তাকে দিতে হবে! ঐ মূল্য দিতে গিয়ে হয়তো সে সর্বস্বান্ত হবে! কিন্তু যারা তার প্রকৃত অবস্থা বোঝে তারা তার প্রতি শ্রদ্ধা হারাবে না। 32কিন্তু যে ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হয় সে নির্বোধ। সে তার নিজের পতন ডেকে আনছে এবং নিজেকেই ধ্বংস করছে! 33মানুষ তার সম্পর্কে শ্রদ্ধা হারাবে। সে নিজে ওই লজ্জা থেকে কোন দিন পরিত্রাণ পাবে না। 34ওই ব্যভিচারিণীর স্বামী হিংসা ও ক্রোধে উন্মত্ত হবে। সে যখন তার স্ত্রীর প্রেমিকের প্রতি প্রতিশোধ নেবে তখন সে করুণা দেখাবে না। 35যত অর্থ, যত ধনসম্পদই তাকে দেওয়া হোক্ না কেন তার ক্রোধ প্রশমিত হবে না!

7

প্রজ্ঞা তোমাকে ব্যভিচার থেকে রক্ষা করবে

1পুত্র আমার, আমার কথাগুলো মনে রেখো। আমার আদেশ ভুলো না। 2তুমি যদি আমার আদেশ পালন কর তুমি বাঁচবে। আমার এই শিক্ষামালা যেন তোমার জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। 3আমার শিক্ষা এবং আদেশ সর্বদা মনে রেখো। আমার শিক্ষামালা তোমার আঙুলের চারপাশে বেঁধে রাখো। তোমার হৃদয়ে খচিত করে রাখো। 4প্রজ্ঞাকে তোমার প্রেমিক+ 7:4 প্রেমিক অথবা “বোন।” হিসেবে বিবেচনা করো এবং বোধকে তোমার সব চেয়ে ভাল বন্ধু বলে বিবেচনা করবে। 5তাহলে প্রজ্ঞা এবং বোধ তোমাকে “পরস্ত্রী” থেকে রক্ষা করবে। প্রজ্ঞা তোমাকে সেই ব্যভিচারিণীর হাত থেকেও রক্ষা করবে যে মধুর বাক্য বলে।

6এক দিন আমি আমার জানালার বাইরে বহু নির্বোধ যুবককে দেখতে পেলাম। 7ঐ যুবকদের মধ্যে এক বুদ্ধিহীন যুবকও আমার নজরে পড়লো। 8সে এক কু-রমণীর বাড়িতে গেল। সে ঐ রমণীর বাড়ির সামনে দিয়ে হাঁটতে লাগল। 9তখন সূর্য অস্ত যাচ্ছে। অন্ধকার নেমে আসছে। রাত শুরু হচ্ছিল। 10ঐ রমণী যুবকের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ির বাইরে এল। তার সাজসজ্জা বারবণিতার মতো। সে ঐ যুবকের সঙ্গে সারা রাত কাটানোর পরিকল্পনা করেছিল। 11সে ছিল একজন বিদ্রোহীসুলভ, অমার্জিত নারী। সে কখনও ঘরে থাকতে ভালবাসত না! 12সে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে লাগল। সে রাস্তার প্রতিটি বাঁকে অপেক্ষা করছিল। 13সে ঐ যুবককে জড়িয়ে ধরে চুম্বন করল। সেই লজ্জাহীন ঐ যুবকের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, 14“আমাকে আজ মঙ্গলার্থক বিসর্জন দিতে হয়েছে। আমি আমার মানত পূর্ণ করেছি। 15বাড়ীতে আমার কাছে এখনও অমাবস্যার নৈবেদ্যর খাবার প্রচুর পরিমাণে পড়ে রয়েছে। তাই তোমাকে সেখানে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। অনেক খোঁজাখুঁজি এবং প্রতীক্ষার পর অবশেষে তোমাকে পেলাম! 16আমি আমার শয্যায় নতুন চাদর পেতেছি। মিশরীয় সেই সূতীর বিছানার চাদরগুলি খুব সুন্দর। 17আমি আমার শয্যার ওপর মস্তকি, ঘৃতকুমারী ও দারুচিনির সুগন্ধি ছড়িয়েছি! 18এস, আমরা সারারাত ধরে যৌনক্রীড়ায় মত্ত হই। আমরা সকাল পর্যন্ত প্রণয়জ্ঞাপন করব। 19আমার স্বামী ঘরে নেই। তিনি বাণিজ্য করতে দূরে যাত্রা করেছেন। 20তিনি প্রচুর অর্থ সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন। বহুদিন ঘরে ফিরবেন না। আগামী পূর্ণিমার আগে তাঁর ফেরার সম্ভাবনা নেই।”

21ঐ ব্যভিচারিণী যুবকটিকে প্রলুদ্ধ করবার চেষ্টা করছিল। তার মনোরম মধুর বচনে যুবকটি বিপথগামী হল। 22এবং নির্বোধ যুবকটি ঐ ব্যাভিচারিণীর ফাঁদে পা দিল। গরু যে ভাবে কসাইখানার দিকে পা বাড়ায়, হরিণ যেমন ব্যাধের পেতে রাখা ফাঁদের দিকে এগিয়ে যায়, সেই ভাবে সে ঐ পরস্ত্রীর দিকে এগিয়ে গেল। 23ঐ যুবকটি ছিল একজন শিকারীর তীরবিদ্ধ হরিণের মত। সে ছিল জালের দিকে উড়ে যাওয়া একটি পাখীর মত। তার পরিণাম যে তার জীবনহানি ঘটাবে এ কথা ঐ যুবকটি ভাবতেও পারে নি।

24প্রিয় পুত্রগণ, আমার কথা শোন। আমার কথাগুলো মন দিয়ে শোন। 25কোন পাপীয়সী রমণীর মোহজালে আবদ্ধ হয়ো না। তার পথ অনুসরণ কোরো না। 26সে অগুনতি মানুষের পতন ঘটিয়েছে। সে অসংখ্য মানুষকে ধ্বংস করেছে। 27তার গৃহ সাক্ষাৎ মৃত্যুপুরী। তার জীবনযাপনের পদ্ধতি মানুষকে সরাসরি মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।

8

প্রজ্ঞা, এক ধার্মিক রমণী

1শোন! প্রজ্ঞা কি তোমাকে ডাকছে?

হ্যাঁ, বোধ তোমাকে ডাকছে।

2মহিলাটি (প্রজ্ঞা) পাহাড়ের চূড়ায়,

সড়কের ধারে, সকল পথের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে।

3সে নগরের প্রধান ফটকগুলির সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

সেখান থেকেই সে উচ্চস্বরে ডাক দিচ্ছে।

4প্রজ্ঞা বলছে, “হে মানবগণ, আমি তোমাদের ডাকছি।

চিৎকার করে সমস্ত লোককে ডাকছি।

5যদি তোমরা অবোধ হও, বুদ্ধিমান হওয়ার চেষ্টা কর।

নির্বোধরা বোঝার চেষ্টা কর।

6শোন! আমি যেসব জিনিসের শিক্ষা দিই তা গুরুত্বপূর্ণ।

আমি যা বলি তা সঠিক।

7আমার কথাগুলি সত্য।

আমি ক্ষতিকারক মিথ্যাকে ঘৃণা করি।

8আমি যা বলি তা সঠিক, আমি মিথ্যা কথা বলি না।

আমার কথাগুলোয় কোন মিথ্যা বা ভুল নেই।

9আমার কথাগুলি, যাদের বোধশক্তি আছে

সেই সব লোকের কাছে পরিষ্কার।

জ্ঞানবানরা আমার উপদেশ বুঝতে সক্ষম।

10আমার অনুশাসন গ্রহণ কর। তার মূল্য রূপার চেয়েও বেশী।

সেটি উৎকৃষ্টতম সোনার চেয়েও মূল্যবান।

11জ্ঞান, দূর্মূল্য মুক্তার চেয়েও দামী।

মানুষের অভীষ্ট কোন বস্তুই তার সমকক্ষ নয়।

প্রজ্ঞা যা করে

12“আমি প্রজ্ঞা।

আমি সুবিচারের সঙ্গে বাস করি।

আমি সুপরিকল্পনা এবং জ্ঞান খুঁজে পেয়েছি।

13প্রভুকে শ্রদ্ধা জানানোর অর্থ হল পাপকে ঘৃণা করা।

সেইসব মানুষ যারা নিজেকে অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে আমি তাদের ঘৃণা করি।

আমি পাপের পথ এবং মিথ্যাভাষীকে ঘৃণা করি।

14আমি মানুষকে সুবুদ্ধি এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করি।

আমিই সুবিবেচনা এবং ক্ষমতার আধার!

15রাজারা শাসনকার্যে আমাকে ব্যবহার করেন।

ন্যায্য আইন বানাতে শাসকরা আমাকে ব্যবহার করেন।

16পৃথিবীর সমস্ত ভাল শাসক

তাঁদের অধীনস্থ সমস্ত লোককে শাসন করতে আমাকে ব্যবহার করেন।

17যে সব লোক আমাকে ভালোবাসে আমিও তাদের ভালোবাসি।

যারা সযত্নে আমার অন্বেষণ করে তারা আমাকে খুঁজে পাবে।

18আমার দেবার মত ধনসম্পদ ও সম্মান রয়েছে।

আমি সত্যিকারের সম্পদ এবং সাফল্য প্রদান করি।

19আমি যে সব জিনিস দিই তা খাঁটি সোনার চেয়েও ভালো

এবং আমার উপহারসমূহ খাঁটি রূপোর চেয়েও ভালো।

20আমি ধর্মের পথে চলি।

আমি ন্যায় বিচারের পথ ধরে চলি।

21যারা আমাকে ভালোবাসে আমি তাদের সম্পদ দিই।

হ্যাঁ, আমি তাদের ঘরবাড়ি ধনসম্পদে পরিপূর্ণ করে তুলি।

22“বহুকাল আগে, শুরুতে প্রভু অন্য আর কিছু সৃষ্টি করবার আগে

আমাকে সৃষ্টি করেছিলেন।

23আমিই আদি। আমাকে সবার আগে সৃষ্টি করা হয়েছিল।

পৃথিবীর আগে আমাকে সর্বপ্রথম সৃষ্টি করা হয়েছিল।

24মহাসাগরের আগে আমাকে গঠন করা হয়েছিল।

সেখানে জল সৃষ্টির আগে আমাকে সৃষ্টি করা হয়েছিল।

25আমি পর্বতসমূহের আগে জন্মেছিলাম। আমি পাহাড়সমূহের আগে জন্মেছিলাম।

26প্রভুর পৃথিবী সৃষ্টির আগে আমি জন্মেছিলাম, ভূমি তৈরীর আগে আমি জন্মেছিলাম।

ঈশ্বরের পৃথিবীতে প্রথম ধূলিকনা সৃষ্টি করার আগে আমি জন্মেছিলাম।

27প্রভু যখন আকাশ তৈরী করেন

সেই সময় আমি ছিলাম।

প্রভু যখন ভূমির চারদিকে একটি বৃত্ত এঁকেছিলেন এবং সাগরের সীমারেখা স্থির করেছিলেন তখন আমি ছিলাম।

28মেঘ সৃষ্টির আগে আমি রূপ পেয়েছিলাম।

ঈশ্বর যখন সাগরে জল ঢালছিলেন, আমি সেখানে ছিলাম।

29প্রভু যখন সমুদ্রসমূহে জলের সীমা নির্ধারণ করেছিলেন

সে সময়ে আমি সেখানে ছিলাম।

সমুদ্রের তরঙ্গদল কখনই প্রভুর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে না।

প্রভু যখন পৃথিবীর ভিত্তিস্থাপন করেন, তখন আমি ছিলাম।

30আমি একজন দক্ষ কর্মীর মত প্রভুর পাশে ছিলাম।

আমার জন্যই প্রভু প্রতি দিন আনন্দবোধ করেছেন।

আমি তাঁর সঙ্গে সব সময় হাসি মুখে থেকেছি।

31তাঁর জগৎ‌‌ আমাকে খুশি করে।

আমি মানবজাতির সঙ্গ সুখ অনুভব করি।

32“আমার পুত্রগণ, এখন আমার কথাগুলি শোন!

এবং তোমরাও আমার আশীর্বাদ পাবে!

33আমার শিক্ষামালা শোন এবং জ্ঞানী হয়ে ওঠো।

ওগুলোকে অগ্রাহ্য কোরো না।

34যে আমার কথা মেনে চলবে সে ধন্য হবে।

এমন একজন লোক প্রতি দিন আমার দরজার দিকে লক্ষ্য করে।

সে আমার দরজার পথে প্রতীক্ষা করে।

35যে আমাকে খুঁজে পায় সে জীবন লাভ করে।

সে প্রভুর কাছ থেকে ভালো জিনিস পাবে!

36কিন্তু যে ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে পাপ করে সে নিজেকে আঘাত করে।

যে সব লোক আমাকে ঘৃণা করে

তারা মৃত্যুকে ভালোবাসে!”

9

জ্ঞান এবং মূঢ়তা

1জ্ঞান তার বাড়ি তৈরী করল। সে তার বাড়িতে সাতটি স্তম্ভ স্থাপন করল। 2সে (জ্ঞান) মাংস রান্না করল এবং দ্রাক্ষারস তৈরী করল। সে খাওয়ার টেবিলটি সাজিয়ে রেখেছে। 3তারপর সে তার ভৃত্যদের নগরে পাঠাল নগরবাসীদের পর্বতের চূড়ায় তার সঙ্গে ভোজসভায় যোগদান করার আমন্ত্রণ জানাতে। সে বলল, 4“যাদের শেখার প্রয়োজন আছে তারা আসুক।” সে নির্বোধ লোকদেরও আমন্ত্রণ করল। সে বলল, 5“এস, আমার জ্ঞানের খাবার খাও এবং আমি যে দ্রাক্ষারস তৈরী করেছি তা পান কর। 6তোমাদের নির্বোধের পথ ত্যাগ কর, শুধুমাত্র তাহলেই তোমরা জীবন পাবে। বোধের পথকে অনুসরণ কর।”

7তুমি যদি কোন দাম্ভিক ব্যক্তিকে তার ভুলত্রুটি সম্পর্কে সচেতন করতে যাও, তাহলে সে উল্টে তোমার সমালোচনা করবে। ঐ ব্যক্তি ঈশ্বরপ্রদত্ত জ্ঞানের অবমাননা করে। যদি কোন দুষ্ট লোককে তার অন্যায় বোঝাতে যাও, তাহলে সে তোমাকেই বিদ্রূপ করবে। 8তাই যদি কোন ব্যক্তি নিজেকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে, তাকে তার ভুল বোঝাতে যেও না। সে তোমাকে তার জন্য ঘৃণা করবে। কিন্তু তুমি যদি কোন জ্ঞানী ব্যক্তিকে সংশোধন করতে চেষ্টা কর সে তোমাকে ভালবাসবে ও তোমাকে শ্রদ্ধা জানাবে। 9বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে শিক্ষা দিলে সে আরও বুদ্ধিমান হবে। ধার্মিক ব্যক্তিকে উপদেশ দিলে তাতে তার উপকার হবে।

10প্রভুর প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভক্তিই জ্ঞান অর্জন করার প্রথম ধাপ। প্রভু সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করাই বোধশক্তি অর্জনের প্রথম ধাপ। 11তুমি যদি জ্ঞানী হও, তাহলে তুমি দীর্ঘজীবি হবে। 12যদি তুমি জ্ঞানী হয়ে ওঠো তাহলে তাতে তুমি উপকৃত হবে। কিন্তু তুমি যদি দাম্ভিক হও এবং অপরকে উপহাস কর, তাহলে নিজেই তার জন্য যন্ত্রণা পাবে।

13মূঢ়তা একটি প্রবল অমার্জিত স্ত্রীলোক। তার কোনও জ্ঞান নেই। 14সে নিজের ঘরের দরজায় বসে থাকে। সে শহরের উচ্চতম স্থলে নিজের আসনের ওপর বসে থাকে। 15এবং যখন লোকরা ঐ পথ দিয়ে যায় সে তাদের চিৎকার করে ডাকে। ঐসব লোকরা তার প্রতি উদাসীন থাকলেও সে বলে, 16“যাদের শেখার প্রয়োজন আছে তারা আমার কাছে এস।” সে নির্বোধদেরও আহ্বান করে। 17কিন্তু সে (নির্বুদ্ধিতা) বলে, “চুরি করা জল, নিজের বাড়ির জলের চেয়ে সুস্বাদু। চোরাই রুটি তোমার নিজের হাতে তৈরী করা রুটির চেয়ে উপাদেয়।” 18বোকাগুলো বুঝতে পারেনি যে সেখানে ভূত থাকে। কারণ মেয়েমানুষটা তাদের মৃত্যুর জগতের গভীরতম স্থানে নিমন্ত্রণ করেছিল।

10

শলোমনের হিতোপদেশ

1এগুলি ছিল শলোমনের হিতোপদেশ:

একজন জ্ঞানী পুত্র তার পিতাকে সুখী করে। কিন্তু একজন নির্বোধ পুত্র তার মাকে খুবই দুঃখী করে।

2যদি কোন লোক খারাপ কাজ করে টাকা লাভ করে তাহলে সেই টাকা কোন কাজেই আসে না। কিন্তু ভাল কাজ তোমাকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করতে পারে।

3প্রভু ভালো লোকদের প্রতি যত্নশীল হন। তিনি তাদের পর্যাপ্ত খাবার যোগান। কিন্তু প্রভু পাপীদের অভীষ্ট বস্তু কেড়ে নেন।

4একজন অলস ব্যক্তি দরিদ্র হবে। কিন্তু একজন পরিশ্রমী মানুষ ধনী হবে।

5একজন জ্ঞানী পুত্র সঠিক ঋতুতে শস্য কাটবে। কিন্তু কোন লোক যদি শস্য সংগ্রহের সময় ঘুমিয়ে থাকে, তাহলে সে লজ্জিত হবে।

6সজ্জন ব্যক্তিদের আশীর্বাদ করার জন্য লোকরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানায। পাপীরাও ভালো ভালো কথা বলে কিন্তু তা শুধু নিজেদের যাবতীয় দুষ্ট ইচ্ছা লোকচক্ষু থেকে আড়ালে রাখার জন্য।

7ধার্মিক লোকরা চিরকাল সকলের কাছে স্মরণীয হয়ে থাকে। কিন্তু দুষ্ট লোকদের নাম সকলে অচিরেই ভুলে যায়।

8একজন জ্ঞানী লোক তার অগ্রজদের আদেশ পালন করে। কিন্তু একজন নির্বোধ তর্কবিতর্ক করে নিজের বিপদ ডেকে আনে।

9একজন ভাল, সৎ‌ লোক সর্বদা নিরাপদে থাকে। কিন্তু যে কুটিল ব্যক্তি অপরকে প্রতারিত করে সে অচিরেই ধরা পড়ে।

10যে ব্যক্তি সত্যকে আড়াল করে, সে অশান্তির কারণ হয়। কিন্তু একজন সৎ‌ লোক, যে খোলাখুলিভাবে কথা বলে সে শান্তি স্থাপন করে।+ 10:10 একজন … করে এটি প্রাচীন গ্রীক অনুবাদ থেকে নেওয়া। পদ 8 এর দ্বিতীয় ভাগ হিব্রুতে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।

11একজন জ্ঞানী ব্যক্তির কথাবার্তা একটি ঝর্ণার মত যা জীবন দেয়। কিন্তু দুষ্ট লোকের কথাবার্তা কেবল তাদের পাপী মনেরই পরিচয় দেয়।

12ঘৃণা বিবাদের সৃষ্টি করে। কিন্তু ভালোবাসা সমস্ত ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করে দেয়।

13বুদ্ধিমান লোকদের বক্তৃতা থেকে লোকরা জ্ঞান আহরণ করতে পারে। কিন্তু যে লোকরা বোকার মত কথা বলে তারা তাদের শাস্তি দেয়।

14জ্ঞানী ব্যক্তিরা জ্ঞান সঞ্চয় করে এবং তাকে একটি নিরাপদ জায়গায় সংরক্ষিত করে। কিন্তু মুর্খ লোকরা তাদের ধ্বংসকে হাতের কাছে রাখে।

15সম্পদ ধনীকে রক্ষা করে কিন্তু দারিদ্র্য গরীব মানুষকে ধ্বংস করে।

16যে ব্যক্তি সৎ‌ কাজ করে সেই পুরস্কৃত হয়। সে দীর্ঘ জীবন পায়। পাপ কেবল শাস্তিই বয়ে আনে।

17যে ব্যক্তি তার শাস্তি থেকে শিক্ষা নেয় সে অন্যদের বাঁচতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু যে ব্যক্তি নিজের শাস্তি থেকে অন্য কোনো শিক্ষা নেয় না সে অন্যদের ভুল পথে পরিচালিত করে।

18যে ব্যক্তি তার ঘৃণা লুকিয়ে রাখে সে হয়ত একজন মিথ্যেবাদী। কিন্তু যারা মিথ্যে অপবাদ রটায তারা বোকা।

19যে ব্যক্তি খুব বেশী কথা বলে সেই মুস্কিলে পড়ে। কিন্তু একজন জ্ঞানী মানুষ তার কথা সংযত রাখতে শেখে।

20একজন সজ্জন ব্যক্তির কথাবার্তা খাঁটি রূপোর মত। কিন্তু পাপীদের চিন্তাভাবনার কোন মূল্য নেই।

21একজন ধার্মিক ব্যক্তির উপদেশ অনেক লোককে সাহায্য করবে। কিন্তু নির্বোধের বোকামি তার মৃত্যু ডেকে আনবে।

22প্রভুর আশীর্বাদই তোমাকে ধনবান করবে। তিনি তার সঙ্গে সংকট আনবেন না।

23নির্বোধ লোকরা কু-কাজ করতে ভালোবাসে। কিন্তু বিচক্ষণ ব্যক্তি প্রজ্ঞাতেই সন্তুষ্ট থাকেন।

24দুষ্ট ব্যক্তি যা ভয় করে তার ভাগ্যে তাই ঘটবে। কিন্তু ধার্মিকদের বাসনা সফল হবে।

25যখন সংকট আসবে দুষ্ট লোকরা ধ্বংস হবে। কিন্তু ধার্মিক লোকরা চিরকাল অটল থাকে।

26কোন অলস ব্যক্তিকে তোমার জন্য কোন কিছু করতে পাঠিও না। মুখের মধ্যে অম্লরস কিংবা চোখের মধ্যে ধোঁয়া যেমন বিরক্তিকর—সেও ঠিক সে ভাবেই তোমার বিরক্তির কারণ হবে।

27প্রভুকে সম্মান করলে তুমি দীর্ঘজীবি হবে। কিন্তু পাপীলোকদের আয়ু হ্রাস পাবে।

28ধার্মিকদের প্রত্যাশা জীবনে আনন্দ বয়ে আনে। কিন্তু পাপীদের বাসনা কেবল ধ্বংসই ডেকে আনে।

29প্রভু ধার্মিক লোকদের রক্ষা করেন। কিন্তু প্রভু অন্যায়কারীদের ধ্বংস করেন।

30ধার্মিক লোকরা সব সময় নিরাপদে থাকবে। কিন্তু পাপীরা দেশ থেকে উৎ‌খাত হবে।

31ভালো লোকদের কথাগুলো জ্ঞানগর্ভ। কিন্তু যে ব্যক্তির উপদেশ বিপদ ডেকে আনে তার কথা কেউ শুনবে না।

32ভালো লোকরা ঠিক জিনিসটি বলতে জানে। কিন্তু দুষ্ট লোকদের কথা অশান্তি ডেকে আনে।

11

1কিছু মানুষ অপরকে প্রতারিত করতে ভুযো দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করে। তাদের দাঁড়িপাল্লা সঠিক ওজন দেখায় না। প্রভু ঐ ভুযো দাঁড়িপাল্লাকে ঘৃণা করেন। যথাযথ বাটখারা প্রভুকে তুষ্ট করে।

2যারা অহঙ্কারী তাদের লজ্জায় ফেলা হবে। কিন্তু বিনয়ীরা জ্ঞান অর্জন করবে।

3ভালো লোকরা সততা দ্বারা চালিত হয়। কিন্তু অপরকে প্রতারিত করতে গিয়ে পাপীরা নিজেদের ধ্বংস করে।

4ঈশ্বর যে দিন লোকদের শাস্তি দেবেন, ধনসম্পদ কোন কাজে লাগবে না। কিন্তু ধার্মিকতা মানুষকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করবে।

5একজন সৎ‌ ব্যক্তির সততাই তার জীবনকে মসৃণ করবে। কিন্তু পাপীরা তাদের দুষ্ট কর্মের জন্য ধ্বংস হবে।

6ধার্মিকতা সৎ লোকদের রক্ষা করে। কিন্তু দুষ্ট লোকরা তাদের কামনার জালেই আবদ্ধ হয়।

7একজন দুষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার আর কোনও আশা নেই। ধনসম্পত্তির জন্য তার সমস্ত আশাও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

8একজন ভালো ব্যক্তিকে সংকট থেকে মুক্ত করা হবে এবং ঐ সংকট আসবে একজন দুষ্ট লোকের কাছে।

9দুষ্ট ব্যক্তি তার কথার দ্বারা অন্য লোকের ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু ভালো লোকরা তাদের জ্ঞান দ্বারা সুরক্ষিত হয়।

10ধার্মিকদের সাফল্যে সমগ্র নগর আনন্দে মেতে ওঠে। কিন্তু পাপীদের মৃত্যুতেও মানুষ উল্লসিত হয়।

11ভালো লোকদের আশীর্বাদে একটি শহর মহান হয়ে ওঠে। কিন্তু দুষ্ট লোকদের কথা একটি শহরকে ধ্বংস করতে পারে।

12সুবিবেচনাহীন লোকরা তাদের প্রতিবেশীদের সম্বন্ধে বিরাগ দেখায়। কখন নীরব থাকা উচিৎ‌ বিচক্ষণ ব্যক্তি তা জানে।

13যে ব্যক্তি অন্য লোকের গোপন কথা ফাঁস করে দেয় তাকে বিশ্বাস করা যায় না। যে ব্যক্তি গুজব ছড়ায়় না তাকে বিশ্বাস করা যায়।

14যদি একটি জাতির নেতাদের বিজ্ঞ দিশাজ্ঞানের অভাব থাকে তাহলে সেই জাতির পতন অনিবার্য। কিন্তু অনেক সু-উপদেষ্টারা একটি জাতিকে নিরাপদ রাখতে পারে।

15যে একজন অপরিচিত লোকের ঋণ শোধ করবার প্রতিশ্রুতি দেয় তাকে দুঃখ পেতে হবেই। অন্যের জামিনদার হতে যে অস্বীকার করে, সে নিরাপদ।

16একজন রমণী তার সৌন্দর্য্যের জন্য অন্যদের শ্রদ্ধা অর্জন করে। দুরন্ত, দুঃসাহসী মানুষ কেবল টাকা লাভ করতে পারে।

17দয়ালু ব্যক্তিরা সর্বদা লাভবান হবে। কিন্তু নিষ্ঠুর লোকরা তাদের নিজেদের অশান্তির কারণ হয়।

18দুষ্ট লোক অপরকে প্রতারিত করে তাদের সম্পত্তি কেড়ে নেয়। কিন্তু যে সব লোকরা ধর্মসঙ্গত কাজকর্ম করে তারা অবশ্যই পুরস্কার লাভ করবে।

19ধার্মিকতা জীবন নিয়ে আসে। দুষ্ট লোকরা পাপের পিছনে ছোটে এবং নিজেদের মৃত্যু ডেকে আনে।

20যারা পাপ কাজ করতে ভালোবাসে প্রভু তাদের ঘৃণা করেন। কিন্তু যে সব লোক সৎ‌ জীবনযাপন করে প্রভু তাদের ওপর সন্তুষ্ট।

21একথা সত্যি যে দুষ্ট লোকরা উপযুক্ত শাস্তি পাবেই। কিন্তু ভালো লোকরা ও তাদের উত্তরপুরুষ শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে।

22একজন সুন্দরী কিন্তু মূঢ় নারী যেন শুয়োরের নাকে সোনার নথের মত।

23যখন ভালো লোকদের ইচ্ছাপূর্ণ হয় তখন ভালোই হয়। কিন্তু দুষ্ট লোকদের কামনা সফল হলে তা শুধু শাস্তি নিয়ে আসে।

24যে ব্যক্তি মুক্ত হস্তে দান করে সে আরও বেশী পাবে। যে ব্যক্তি বিতরণ করতে অস্বীকার করে সে অচিরেই গরীব হয়ে যাবে।

25যে ব্যক্তি দরাজ ভাবে দান করে সে-ই উপকৃত হবে। যে অন্যদের সাহায্য করে সে সাহায্য পাবে।

26যে ব্যক্তি তার শস্য বিক্রী করতে অস্বীকার করে, লোকে তাকে অভিশাপ দেয়। অন্য লোকের খিদে মেটাতে যে তার শস্য বিতরণ করে তাকে সকলেই ভালোবাসে।

27যে অন্যদের ভালো চায়, ভালোত্ব তাকে অনুসরণ করে। কিন্তু যারা মন্দের পেছনে ছোটে তারা মন্দই পায়।

28নিজের ধনসম্পত্তির ওপর যে আস্থা রাখে সে শুকনো পাতার মতই ঝরে যাবে। কিন্তু ভালো লোকরা সবুজ পাতার মত উন্নতি করবে।

29যে ব্যক্তি নিজের পরিবারকে বিপন্ন করে সে কোন কিছুই লাভ করতে পারে না এবং পরিশেষে নির্বোধরা বুদ্ধিমানদের দাসত্ব করতে বাধ্য হয়।

30ধার্মিকের কর্মফল জীবনবৃক্ষের মত। জ্ঞানবান ব্যক্তিগন অপরকে জীবনদান করে।

31ভালো লোকরা যেমন তাদের পুরস্কার এই জীবনে পায়, তেমনি মন্দ লোকরাও তাদের যা প্রাপ্য তা পাবে।

12

1যে ব্যক্তি জ্ঞানলাভ করতে উদগ্রীব, সে তার নিজের সমালোচনা শুনলে ক্রুদ্ধ হবে না। যে ব্যক্তি নিজের ত্রুটি বিচ্যুতি সম্পর্কে অন্যের অনুযোগ শুনতে অপছন্দ করে সে নির্বোধ।

2প্রভু ধার্মিকদের ওপর সন্তুষ্ট। কিন্তু যারা কু-পরিকল্পনা করে প্রভু তাদের দোষী হিসেবে বিচার করেন।

3পাপীরা কখনই নিরাপদ নয়। কিন্তু ধার্মিকরা সর্বদা সুরক্ষিত ও নিরাপদ।

4গুণবতী স্ত্রী তার স্বামীর আনন্দ এবং অহঙ্কারের উৎস। কিন্তু যে স্ত্রী তার স্বামীকে লজ্জিত করে সে তার স্বামীর অস্থিতে একটি অসুখের মতই অসহ্য।

5ধার্মিকরা যা পরিকল্পনা করে তা সর্বদাই সৎ‌ এবং সঠিক। কিন্তু লোকদের কু-পরিকল্পনা প্রতারণাপূর্ণ।

6পাপী লোকরা তাদের কথাবার্তার মাধ্যমে অন্যদের আঘাত করে। কিন্তু ধার্মিক লোকদের কথাবার্তা মানুষকে বিপদ থেকে রক্ষা করে।

7পাপী লোকরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। কিন্তু কোনও ধার্মিক ব্যক্তির মৃত্যুর পরও মানুষ তাকে দীর্ঘকাল মনে রাখে।

8লোকরা জ্ঞানী মানুষের প্রশংসা করে। কিন্তু লোক কোনও নির্বোধ ব্যক্তিকে সম্মান করে না।

9খাবার সংস্থান নেই অথচ ধনী হবার ভান করবার চেয়ে বরং একজন ভৃত্যের মালিক হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হওয়া ভালো।

10ভালো লোকরা তাদের পালিত পশুদের যত্ন নেয়। কিন্তু দুষ্টদের হৃদয়ে সহানুভূতি থাকে না।

11যে কৃষক তার জমিতে পরিশ্রম করে তার পর্যাপ্ত খাদ্য থাকবে। কিন্তু যে ব্যক্তি অসার চিন্তা ভাবনায় সময় নষ্ট করে সে নির্বোধ।

12পাপী লোকরা যা আকাঙ্খা করে দুষ্ট লোকরা তাই চায়, কিন্তু সেটা ভালো লোকদের দেওয়া হবে।

13দুষ্ট লোকরা নির্বোধের মত কথা বলে এবং প্রায়শঃই নিজেদের কথার ফাঁদে জড়িয়ে পড়ে। ধার্মিকরা এধরণের বিপদের সম্মুখীন হয় না।

14লোকরা তাদের মুখ নিঃসৃত কথার জন্য এবং হাতের কাজের জন্যও পুরস্কৃত হয়।

15নির্বোধরা ভাবে তাদের পথই শ্রেষ্ঠ পথ। কিন্তু বিবেচকরা অন্যের পরামর্শ খোলামনে গ্রহণ করে।

16নির্বোধরা সহজেই হতাশ হয়ে পড়ে। বুদ্ধিমান লোকরা অপমানকে অগ্রাহ্য করে।

17সত্যভাষীরা সর্বদাই বিশ্বাসযোগ্য। কিন্তু মিথ্যাবাদীরা অপরকে বিপদের দিকে ঠেলে দেয়।

18যে ব্যক্তি চিন্তাভাবনা না করে কথাবার্তা বলে তার বাক্য তরবারির মত আঘাত করতে পারে। কিন্তু বিচক্ষণ ব্যক্তি কথা বলার সময় সজাগ থাকে। তাঁর বাক্য ঐ আঘাতের যন্ত্রণা মুছে দেয়।

19যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলে তার বাক্য ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু সত্য চিরকালই অমর।

20যারা অপরের বিরুদ্ধে কু-পরিকল্পনা করে তারা নিজেদেরই ঠকায়। যারা শান্তির জন্য কাজ করে তারা সুখী।

21ঈশ্বর ধার্মিকদের সর্বদা রক্ষা করবেন। কিন্তু পাপীরা অসংখ্য সমস্যায় পড়বে।

22প্রভু মিথ্যাবাদীদের ঘৃণা করেন। তিনি সত্যবাদীদের প্রতি সন্তুষ্ট।

23বুদ্ধিমান লোকরা যা জানে কখনও তার সবটা বলে না। কিন্তু একজন নির্বোধ ব্যক্তি, সে যা জানে সবই বলে দিয়ে নিজেকে মূর্খ প্রতিপন্ন করে।

24কঠোর পরিশ্রমীদের অন্যান্য শ্রমিকদের দায়িত্বে রাখা হবে। কিন্তু যে অলস তাকে চিরকাল অন্যের দাসত্ব করে যেতে হবে।

25চিন্তা মানুষের সুখ ও আনন্দ কেড়ে নেয়। কিন্তু একটি দয়া বৎসল শব্দ মানুষকে আনন্দিত করে।

26বন্ধু নির্বাচনে একজন ধার্মিক মানুষ বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়। কিন্তু একজন দুষ্ট ব্যক্তি সর্বদা ভুল বন্ধু নির্বাচন করে।

27একজন অলস ব্যক্তি কখনও তার যে জিনিস প্রয়োজন তার পেছনে ছোটে না। ধন আসে কঠিন পরিশ্রমীদের কাছে।

28তুমি যদি সঠিক পথে জীবনযাপন কর তাহলে তুমি সত্য জীবন পাবে। ন্যায়পরায়ণতার পথ জীবনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

13

1একজন জ্ঞানী পুত্র পিতার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে। কিন্তু একজন অহঙ্কারী ব্যক্তি কারো কথা শোনে না। যে লোকরা তাকে সংশোধন করবার চেষ্টা করে সে তাদের কথা শোনে না।

2ভালো লোকরা তাদের ভালো কথাবার্তার জন্য পুরস্কৃত হয়। কিন্তু দুষ্ট লোকরা সব সময় ভুল কাজ করতে চায়।

3যে নিজের কথাগুলো সযত্নে রক্ষা করে সে তার জীবন রক্ষা করে। যে না ভেবে-চিন্তে কথা বলে সে তার নিজের ধ্বংস নিয়ে আসে।

4অলস ব্যক্তিরা সর্বদা পাবার আকাঙ্খা করে কিন্তু তাদের আকাঙ্খা পূর্ণ হবে না। অথচ পরিশ্রমী ব্যক্তিরা যা চাইবে তাই তারা পেতে সক্ষম হবে।

5সৎ‌ লোকরা মিথ্যাকে ঘৃণা করে। দুর্জনরা লজ্জিত হবে।

6ধার্মিকতা ভাল এবং সৎ‌ মানুষকে রক্ষা করবে। কিন্তু যে সব লোক পাপ করতে ভালবাসে পাপ তাদের সর্বনাশ করে।

7যাদের কিছু নেই তারা ধনী হওয়ার ভান করে। কিন্তু যারা সত্যিকারের ধনী তারা নিজেদের দরিদ্র বলে পরিচয় দেয়।

8জীবন রক্ষার জন্য একজন ধনীকে হয়ত অনেক মূল্য দিতে হবে। কিন্তু গরীব লোকরা কখনও সেরকম হুমকি পায় না।

9একজন ভালো লোকের আলো হাসিকে উজ্জ্বল করে। দুষ্ট লোকের প্রদীপ বিষাদে পরিণত হয়।

10যারা নিজেদের অন্যদের থেকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে তারাই সংকটের কারণ হয়। কিন্তু যারা অন্যদের উপদেশ গ্রহণ করে তারা জ্ঞানী।

11যারা পয়সার জন্য ঠকায়, তারা শীঘ্রই সব পয়সা হারাবে। কিন্তু পরিশ্রমের বিনিময়ে যারা অর্থ রোজগার করে তাদের অর্থ ক্রমশঃ বৃদ্ধি পায়।

12আশা যদি ক্রমাগত দূরে সরে যেতে থাকে তাহলে হৃদয় দুঃখিত হয়। আকাঙ্খিত বস্তু পাওয়া জীবন বৃক্ষের মত।

13যে ব্যক্তি আদেশকে অবজ্ঞা করে সে ধ্বংস হয়। যে ব্যক্তি আদেশকে শ্রদ্ধা করবে সে পুরস্কৃত হবে।

14জ্ঞানী ব্যক্তিদের শিক্ষামালা জীবনের সন্ধান দেয়। ঐ কথাগুলি তোমাকে মৃত্যু ফাঁদ এড়িয়ে যেতে সাহায্য করবে।

15সৎ‌ উদ্দেশ্যসমূহ গৌরব আনে। প্রতারণা নিয়ে আসে তার নিজস্ব পুরস্কার।

16একজন জ্ঞানী ব্যক্তি কোন কাজ করার আগে চিন্তাভাবনা করে। কিন্তু একজন নির্বোধ তার কাজকর্মের মাধ্যমে নিজের বোকামির পরিচয় দেয়।

17বিশ্বাস করা যায় না এমন দূত অনেক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু একজন বিশ্বাসী দূত আরোগ্য নিয়ে আসে।

18যে নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নেয় না সে অচিরেই গরীব হয় ও লজ্জিত বোধ করে। কিন্তু যে সংশোধন গ্রহণ করে সে লাভবান হবে।

19যদি কেউ কিছু চেয়ে তা পেয়ে যায় তাহলে সে খুব আনন্দিত হয়। কিন্তু নির্বোধ লোকরা তাদের অসৎ‌ পথ থেকে সরে আসতে ঘৃণা বোধ করে।

20জ্ঞানীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো তাহলে তুমিও জ্ঞানী হয়ে উঠবে। কিন্তু যদি তুমি নির্বোধদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো তাহলে সমস্যায় পড়বে।

21দুঃখ দুর্দশা পাপীদের তাড়া করে বেড়ায়, কিন্তু ভালো লোকদের জীবনে ভাল ঘটনাই ঘটে।

22একজন সজ্জন ব্যক্তির যা সম্পদ থাকবে তা সে তার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের দিয়ে যেতে পারবে। এবং পরিশেষে দুর্জনদের সব সম্পদও এক দিন সজ্জন ব্যক্তিদের আওতায় চলে আসবে।

23একজন দরিদ্রের উর্বর জমি থাকতে পারে যা প্রচুর ফসল দেয়। কিন্তু ভুল সিদ্ধান্তের ফলে সে ক্ষুধার্ত থাকে।

24যে নিজের সন্তানদের সত্যিকারের ভালোবাসে সে সন্তানদের ভুল ত্রুটিগুলো শুধরে দেয়। যদি তুমি তোমার পুত্রকে ভালবাসো তাহলে তাকে সঠিক পথে চলার শিক্ষা দাও।

25ভালো লোকরা সব সময় প্রচুর পরিমাণে খেতে পাবে। কিন্তু দুর্জনরা ক্ষুধার্ত থেকে যাবে।

14

1একজন জ্ঞানী মহিলা তার জ্ঞান দিয়েই নিজের সংসার তৈরী করে।

2যে প্রভুকে সম্মান করে সে-ই সঠিক পথে জীবনযাপন করে। কিন্তু একজন অসৎ‌ লোক প্রভুকে ঘৃণা করে।

3একজন বোকা লোকের কথাবার্তা তার নিজের সমস্যার কারণ হয়ে ওঠে। কিন্তু একজন জ্ঞানী লোকের কথাবার্তা তাঁকে রক্ষা করে।

4চাষের কাজে বলদের অভাব দেখা দিলে শস্যভাণ্ডার খালি থাকবে। বৃহৎ‌‌ ফলনের জন্য মানুষ বলদের শক্তিকে ব্যবহার করতে পারে।

5একজন সত্যবাদী কখনও মিথ্যে বলে না এবং সে একজন সাক্ষী হতে পারে। কিন্তু একজন অবিশ্বাসী লোক কখনও সত্যি বলে না এবং সে ভাল সাক্ষী হতে পারে না।

6উদ্ধত লোকরা জ্ঞানের অন্বেষণ করতে পারে কিন্তু তারা কখনও তা খুঁজে পাবে না। কিন্তু যে সব লোকদের বোধ শক্তি আছে তারা তাড়াতাড়ি শিখতে পারে।

7বোকাদের কাছ থেকে কিছুই শেখার নেই তাই বোকাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব কোরো না।

8একজন বিচক্ষণ ও দক্ষ লোকের জীবনযাত্রা নিরীক্ষণ কর। কিন্তু একজন বোকা লোকের আঁকা-বাঁকা জীবন পথ প্রতারণাপূর্বক।

9বোকা লোকরা তাদের বোকামির মাশুল দিতে গিয়ে হাসাহাসি করে। কিন্তু সৎ‌ লোকরা শীঘ্রই ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়।

10একজন দুঃখী লোক শুধুই তার নিজের দুঃখ অনুভব করতে পারে। ঠিক তেমনি, কেউই অন্য লোকের হৃদয়ের অন্তঃস্থলের আনন্দে ভাগ বসাতে পারে না।

11দুর্জনদের গৃহগুলির বিনাশ হবেই। কিন্তু সৎ‌ লোকদের বাড়ীগুলি উন্নতি করবে।

12একটি সহজ রাস্তাকে+ 14:12 সহজ রাস্তা আক্ষরিক অর্থে, “সোজা রাস্তা।” সঠিক রাস্তা বলে মনে হতে পারে কিন্তু সেটি মৃত্যুর দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

13বিষাদে পূর্ণ একটি লোক হাসতে পারে, কিন্তু হাসি থামবার পরে দুঃখ আবার ফিরে আসে।

14মন্দ কাজের জন্য পাপীদের পুরোদস্তুর শাস্তি ভোগ করতে হবে এবং ভালো কাজের জন্য সজ্জনরা পুরস্কৃত হবেই।

15একজন মূর্খ যা শোনে তাই বিশ্বাস করে। কিন্তু একজন জ্ঞানী ব্যক্তি যা কিছু শোনে তা তার বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করে।

16একজন জ্ঞানী ব্যক্তি মন্দকে ভয় পায় এবং তাকে এড়িয়ে চলে। কিন্তু একজন বোকা লোক দৃঢ়তার সঙ্গে কুকর্মের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

17যে সব লোক খুব সহজেই রেগে যায় তারা নির্বোধের মত আচরণ করে। কিন্তু জ্ঞানীরা হয় ধৈর্য্যশীল।

18নির্বোধরা তাদের বোকামির জন্য শাস্তি পায়। কিন্তু জ্ঞানীরা তাঁদের জ্ঞানের জন্য পুরস্কৃত হয়।

19দুর্জনদের বিরুদ্ধে সজ্জনদের জয় হবেই। দুর্জনরা সজ্জনদের কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হবেই।

20দরিদ্রদের কোন বন্ধু ও প্রতিবেশী জোটে না কিন্তু ধনীরা বন্ধু-বান্ধব দ্বারা পরিবৃত হয়ে থাকে।

21তোমার প্রতিবেশীদের ঘৃণা করো না। যদি সুখী হতে চাও তাহলে দরিদ্রদের প্রতি সদয় থাকো।

22যদি কেউ খারাপ কাজ করার ফন্দি আঁটে তাহলে সে ভুল করবে। কিন্তু যে ভালো কাজ করার চেষ্টা করবে সে বন্ধু পাবে, সবাই তাকে ভালোবাসবে ও বিশ্বাস করবে।

23কঠিন পরিশ্রম সব সময় কিছু লাভ আনবে। কিন্তু তুমি যদি কোন কাজ না করে শুধু কথা বল তাহলে তুমি দরিদ্র হয়ে যাবে।

24জ্ঞানীরা সম্পদ দ্বারা পুরস্কৃত হয়। কিন্তু মুর্খরা পুরস্কৃত হয় বোকামির দ্বারা।

25যে সত্য বলে সে মানুষকে সাহায্য করে আর যে মিথ্যে বলে সে অন্যদের আঘাত করে।

26যে প্রভুকে সম্মান করে সে সুরক্ষা পায় এবং তার সন্তানরাও নিরাপদ থাকে।

27প্রভুর প্রতি সম্মান প্রদর্শন সত্য জীবন নিয়ে আসে। এতে একটি ব্যক্তির জীবন মৃত্যুর ফাঁদ থেকে রক্ষা পায়। 28যদি কোন রাজা অনেক মানুষকে শাসন করে তাহলে সে মহান। কিন্তু রাজার রাজ্যে যদি কোন মানুষ না থাকে তাহলে সেই রাজার কোন মূল্যই থাকে না।

29ধৈর্য্যশীল একজন মানুষ ভীষণ সপ্রতিভ হয়। আর যে সহজে রেগে যায় সে তার মূর্খামির প্রমাণ দেয়।

30মানসিক শান্তি দৈহিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। কিন্তু অন্যের প্রতি হিংসা শরীরকে রোগগ্রস্ত করে তোলে।

31ঈশ্বরই প্রত্যেক মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তাই যারা গরীবদের জন্য সংকটের সমস্যা সৃষ্টি করে তারা দরিদ্রদের সৃষ্টিকর্তাকে অপমান করে। যারা গরীবদের দয়া দেখায় তারা ঈশ্বরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।

32একজন দুষ্ট লোক তার কু-কর্মের দ্বারা পরাজিত হয়। কিন্তু একজন ভালো লোক তার মৃত্যুর সময়ও জিতে যায়।

33জ্ঞানীরা সব সময় জ্ঞানসম্মত ভাবে চিন্তা-ভাবনা করে। কিন্তু মূর্খরা জ্ঞানের+ 14:33 জ্ঞান অথবা একজন জ্ঞানী ব্যক্তির মনের মধ্যেই জ্ঞান অবস্থান করে। ঐ জিনিসটি বোকা লোকের মনের মধ্যে খুঁজতে গেলে গভীরভাবে খুঁজতে হবে কারণ তা ওখানে দুস্প্রাপ্য। কিছুই জানে না।

34ভালোত্ব একটি দেশকে মহান করে তোলে। কিন্তু পাপ যে কোন মানুষকে লজ্জিত করে।

35জ্ঞানী আধিকারিক পেলে রাজা সুখী হন। কিন্তু মূর্খ নেতাদের প্রতি রাজা ক্রুদ্ধ হন।

15

1একটি শান্ত উত্তর ক্রোধকে প্রশমিত করে। কিন্তু কর্কশ উত্তর সেই ক্রোধকে আরও বাড়ায়।

2যখন কোন জ্ঞানী ব্যক্তি কিছু বলে তখন অন্যরা তার কথা শুনতে চায়। কিন্তু একজন মূর্খ শুধু বোকা বোকা কথাই বলে।

3প্রভু কোথায় কি ঘটছে সব দেখতে পান। তিনি ভালো ও মন্দ প্রত্যেকের ওপর সমানভাবে নজর রাখেন।

4দয়ার বচন হল জীবনবৃক্ষের মত। কিন্তু মিথ্যে কথা মানুষের আত্মাকে তছনছ করে দিতে পারে।

5মূর্খ ব্যক্তি পিতার উপদেশ শুনতে অগ্রাহ্য করে। কিন্তু একজন জ্ঞানী ব্যক্তি মন দিয়ে অন্যদের সব কথা শোনে।

6ভালো লোকদের বাড়ীতে অনেক ধন থাকে, কিন্তু দুষ্ট লোকদের আয় সংকট আনে।

7জ্ঞানীরা তোমাকে নতুন তথ্যের সন্ধান দেবে। কিন্তু মূর্খের কথা শুনে কোন লাভ হবে না।

8দুর্জনদের নৈবেদ্যকে প্রভু ঘৃণা করেন। কিন্তু সজ্জনদের প্রার্থনা শুনে প্রভু খুশী হন।

9দুর্জনদের জীবনধারাকে প্রভু ঘৃণা করেন। যারা অন্যের ভাল করতে চায় তাদের প্রভু ভালবাসেন।

10যে জ্ঞানের পথ পরিত্যাগ করবে তার শাস্তি হবে। যে নিজেকে অপরের দ্বারা শোধরাতে অস্বীকার করে তার বিনাশ হবে।

11প্রভু সব জানেন। এমনকি মৃত্যুর সময়ও কি ঘটে তাও তিনি জানেন। সুতরাং একথা সত্যি যে প্রভু মানুষের মনের এবং হৃদয়ের কথাও জানতে পারেন।

12উদ্ধত লোকরা জ্ঞানী লোকদের দ্বারা সংশোধিত হতে ঘৃণা করে। তারা জ্ঞানী লোকদের সঙ্গে মিলিত হয় না।

13সুখী ব্যক্তির মুখে আনন্দের চিহ্ন লেগে থাকে। কিন্তু যদি কেউ হৃদয়ে দুঃখী হয় তাহলে আত্মাও দুঃখকেই প্রকাশ করে।

14জ্ঞানীরা আরও বেশী জ্ঞান আহরণ করতে চায়। কিন্তু মূর্খরা আরও মূর্খ হতে চায়।

15কিছু গরীব মানুষ সবসময় দুঃখী থাকে। কিন্তু যাদের হৃদয় রয়েছে আনন্দ তাদের জীবন হচ্ছে একটি অব্যাহত উৎসবের মত।

16ধনী হয়ে নানান যন্ত্রণায় জর্জরিত হওয়ার চেয়ে দরিদ্র হওয়া এবং প্রভুকে সম্মান করা শ্রেয়।

17ঘৃণার সংসারে প্রচুর খাদ্য খাওয়ার থেকে ভালোবাসার সংসারে অল্প খেয়ে থাকা ভালো।

18রগচটা মানুষ সমস্যা সৃষ্টি করে কিন্তু ধৈর্য্যশীল মানুষ শান্তি ফিরিয়ে আনে।

19অলসদের সর্বত্র সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু সৎ‌ ব্যক্তিদের জীবন খুবই সহজ হয়।

20জ্ঞানী পুত্র তার পিতাকে সুখ এনে দেয়। কিন্তু মূর্খ পুত্র তার মাকে শুধু লজ্জা এনে দেয়।

21মূর্খরা মূর্খামিতে আনন্দ পায়। কিন্তু জ্ঞানীরা বিবেচনা করে সঠিক কাজ করে।

22যদি কেউ পর্যাপ্ত উপদেশ না পায় তাহলে তার পরিকল্পনা খাটে না। কিন্তু কেউ যদি জ্ঞানীদের কথা শুনে চলে তাহলে তার পরিকল্পনা সাফল্য লাভ করবে।

23একজন লোক তার ভাল উত্তরে খুশী হয়। সঠিক সময় সঠিক উত্তর দেওয়াটা খুব ভালো।

24একজন জ্ঞানী ব্যক্তি যা কিছু করে তা তাকে জীবনের পথে এগিয়ে দেয় এবং তাকে মৃত্যুর স্থলের দিকে নীচে নামা থেকে বিরত করে।

25অহঙ্কারীর সব কিছু প্রভু ধ্বংস করে দেবেন। কিন্তু একজন বিধবা মহিলার সব কিছু প্রভু রক্ষা করবেন।

26অসৎ‌ চিন্তাকে প্রভু ঘৃণা করেন। কিন্তু দয়ালু কথা প্রভু ভালোবাসেন।

27যে অন্যদের ঠকায় তার পরিবার অচিরেই সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়বে। কিন্তু যদি কেউ সৎ‌ থাকে তাহলে তার জীবনে কোন সমস্যা আসবে না।

28সজ্জন ব্যক্তিরা উত্তর দেবার আগে চিন্তা করে উত্তর দেয়। কিন্তু দুর্জনরা কোন কিছু না ভেবেই উত্তর দেয় যা তাদের সমস্যার কারণ হয়ে ওঠে।

29মন্দ লোকদের থেকে প্রভু অনেক দূরে থাকেন কিন্তু ভালো মানুষদের প্রার্থনা প্রভু শোনেন।

30একটি আনন্দময় মুখ অন্য লোকদের খুশী করে এবং শুভ সংবাদ মানুষকে ভালো বোধ করায়।

31কেউ ভুল শুধরে দিতে চাইলে তা যদি কেউ মন দিয়ে শোনে তাহলে সেই হচ্ছে আসল জ্ঞানী।

32যদি একজন ব্যক্তি অনুশাসন অস্বীকার করে, সে নিজেরই ক্ষতি করছে। কিন্তু সে যদি অপরের দ্বারা সংশোধিত হওয়াকে গ্রহণ করে তাহলে সে বোধশক্তি লাভ করে।

33প্রভুকে সম্মান প্রদর্শন জ্ঞানের পথ নির্দেশক। শ্রদ্ধা পাবার আগে একজনকে বিনয়ী হতে হবে।

16

1মানুষ তার চিন্তা-ভাবনাকে ঠিকমত সাজিয়ে একটি পরিকল্পনা করতে পারে, কিন্তু প্রভুর হাতে জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করবার ক্ষমতা আছে।

2লোকরা মনে করে তারা যা করে সেটাই ঠিক, কিন্তু প্রভু তাদের আত্মা পরীক্ষা করেন।

3সব সময় প্রভুর সাহায্য নেবে তাহলেই তুমি সফল হবে।

4সমস্ত বিষয়েই প্রভুর পরিকল্পনা আছে এবং সেই পরিকল্পনা অনুসারে মন্দ লোকের বিনাশ হবে।

5যে সমস্ত লোক ভাবে তারা অন্য লোকের তুলনায় শ্রেয় প্রভু তাদের ঘৃণা করেন। প্রভু নিশ্চয়ই সেই সমস্ত অহঙ্কারী মানুষকে শাস্তি দেবেন।

6সত্যিকারের ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততা তোমাকে খাঁটি করে তুলবে। ঈশ্বরের প্রকৃত প্রেম এবং বিশ্বস্ততার দরুণ অপরাধ মুছে ফেলা যায় কিন্তু প্রভুর প্রতি শ্রদ্ধার মাধ্যমে আমরা মন্দকে এড়িয়ে চলি।

7যদি কোন ব্যক্তি ভালো ভাবে জীবনযাপন করে সে প্রভুর কাছে মনোরম হয় এবং তার শত্রুরাও তার সঙ্গে শান্তি রক্ষা করে চলে।

8ঠকিয়ে প্রচুর লাভ করা অপেক্ষা সঠিক পথে সামান্য লাভ করাও শ্রেয়।

9একজন ব্যক্তি কি করতে চায় তা নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারে কিন্তু বাস্তবে কি ঘটবে তা নির্ধারণ করবেন প্রভু।

10একজন রাজা যা বলেন সেটাই হয় আইন। তাই তার সিদ্ধান্ত সর্বদা সঠিক হওয়া উচিৎ‌।

11প্রভু চান সমস্ত মাপকাঠি এবং মাত্রা সঠিক হোক্ এবং ব্যবসায়িক চুক্তিগুলি নিয়মানুযায়ী হোক্।

12যারা মন্দ কাজ করে রাজা তাদের ঘৃণা করেন। ধার্মিকতা তাঁর রাজ্যকে প্রতিষ্ঠা করবে।

13রাজা সত্য ভাষণ শুনতে চান। যারা মিথ্যা বলে না রাজা তাদের পছন্দ করেন।

14একজন রাজা রেগে গেলে যে কোন লোককে হত্যা করতে পারেন। যে জ্ঞানী সে রাজাকে খুশী রাখার চেষ্টা করবে।

15যদি রাজা খুশী থাকেন তবে সবার জীবনই সুখের হবে। যদি রাজা তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হন তাহলে তা হবে বসন্তকালে বৃষ্টি হওয়ার মতো।

16জ্ঞানের মূল্য সোনার চেয়েও বেশী। বিচক্ষণতার মূল্য রূপোর চেয়েও বেশী।

17ভালো লোকরা সারা জীবন খারাপ জিনিস থেকে দূরত্ব রেখে চলে। যে ব্যক্তি সাবধানী সে তার আত্মাকে রক্ষা করে চলে।

18অহংকার ধ্বংসকে এগিয়ে আনে এবং ঔদ্ধত্য পরাজয় আনে।

19উদ্ধত লোকদের সঙ্গে ধনসম্পদ ভাগ করে নেওয়ার চেয়ে বিনয়ী হওয়া এবং দরিদ্রদের মধ্যে থাকা শ্রেয়।

20যে ব্যক্তি অপরের কাছ থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে সে লাভবান হবে। যে প্রভুর ওপর বিশ্বাস রেখে চলে সে প্রভুর আশীর্বাদ পাবে।

21জ্ঞানী লোকদের মানুষ চিনে নেবে। যে বিচক্ষণ ভাবে কথা বলে তার কথায় অনেক বেশী ফল হয়।

22একজন জ্ঞানী মানুষ সব সময় চিন্তা করে কথা বলে। এবং সে যা বলে তা শোনার যোগ্য।

23একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি সব সময়ই চিন্তাপূর্ণ কথা বলে এবং সে যা কিছু বলে তা শোনার পক্ষে ভাল ও মূল্যবান।

24দয়ালু কথাবার্তা সব সময়ই মধুর মত মিষ্টি। দয়ালু কথাবার্তা গ্রহণযোগ্য ও স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো।

25এমন পথ আছে যা লোকের কাছে সঠিক বলে মনে হলেও তা শুধু মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।

26একজন শ্রমিকের ক্ষুধাই তাকে কাজ করায় যাতে সে খেতে পায়।

27একজন অপদার্থ দুষ্ট লোক অন্যায় কাজের পরিকল্পনা করে। তার উপদেশ আগুনের মতই ধ্বংসকারী। 28একজন সমস্যা সৃষ্টিকারী সব সময় সমস্যার সৃষ্টি করবে। সে গুজব ছড়িয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে অশান্তির কারণ ঘটাবে।

29একজন হিংসাত্মক ব্যক্তি তার বন্ধুদের প্রতারণা করে। সে তাদের বিপথে চালিত করবে। 30সে যখনই কোন ধ্বংসকারী পরিকল্পনা করে তখন তার চোখ মিটমিট করে। সে তার প্রতিবেশীকে আঘাত করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হাসিমুখে থাকে।

31যারা সৎ‌ জীবনযাপন করে সাদা চুল তাদের মহিমার মুকুট হয়।

32একজন বলিষ্ঠ যোদ্ধা হওয়ার থেকে ধৈর্য্যশীল হওয়া ভাল। একটি সম্পূর্ণ শহরের দখল নেওয়ার চেয়ে নিজের রাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা শ্রেয়।

33মানুষ পাশার দান চেলে তাদের সিদ্ধান্ত স্থির করে। কিন্তু সিদ্ধান্ত সব সময় ঈশ্বরের কাছ থেকেই আসে।

17

1অশান্তির মধ্যে ঘরভর্ত্তি খাবারের চেয়ে শান্তির মধ্যে একটুকরো শুকনো রুটি খাওয়া অনেক ভাল।

2একজন বুদ্ধিমান ভৃত্য তার প্রভুর বোকা ছেলের ওপর শাসন চালাবে। এইভাবে সে তার প্রভুর সম্পত্তির কিছুটা ভাগ প্রভুর অন্য পুত্রদের সঙ্গে পাবে।

3সোনা ও রূপোকে খাঁটি করার জন্য আগুনে পোড়ানো হয়। কিন্তু ঈশ্বরই সেই ব্যক্তি যিনি মানুষের হৃদয়কে শুদ্ধ করেন।

4একজন দুষ্ট লোক মন্দ কথাটাই শোনে। মিথ্যেবাদীরা মিথ্যে কথাগুলোই শোনে।

5কিছু মানুষ আছে যারা গরীব মানুষদের দুর্দশা উপভোগ করে। বিপদে পড়া মানুষদের সমস্যা নিয়ে তারা হাসাহাসি করে। এতে এই বোঝা যায় যে এই দুষ্ট লোকরা ঈশ্বরকে সম্মান করে না যিনি দরিদ্রদের সৃষ্টিকর্তা। তারা শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।

6পৌত্র-পৌত্রীরা তাদের প্রপিতামহ এবং প্রপিতামহীদের কাছে একটি মুকুট এবং সন্তানদের কাছে তাদের পিতা-মাতা একটি গৌরব।

7বোকাদের বেশী কথা বলা অনুচিত, ঠিক তেমনি কোন শাসকেরও মিথ্যাচার করা উচিৎ‌ নয়।

8কিছু লোক উৎ‌কোচকে সৌভাগ্য বলে বিবেচনা করে। তারা ভাবে যে সব ক্ষেত্রেই সেটা তাদের সাফল্য আনবে।

9যদি কারোর অন্যায়কে তুমি ক্ষমা করতে পারো তাহলে সে তোমার বন্ধু হতে পারে। কিন্তু যদি তুমি তার অন্যায়কে বারবার মনে কর তাহলে বন্ধুত্বের ক্ষতি হবে।

10একজন বুদ্ধিমান মানুষ তার ভুল থেকে শিক্ষা নেয় কিন্তু একজন নির্বোধ তার ভুল থেকে শিক্ষালাভ করে না। এমন কি 100 ঘা চাবুক খাবার পরেও নয়।

11একজন দুষ্ট ব্যক্তি সব সময় ভুল কাজ করতে চেষ্টা করে। শেষে, তাকে শাস্তি দেবার জন্য ঈশ্বর একজন নিষ্ঠুর দূত পাঠাবেন।

12শাবক চুরি হয়ে যাওয়া ক্রুদ্ধ মা ভালুকের সম্মুখীন হওয়া সর্বদা বিপজ্জনক। কিন্তু তবু, একজন নির্বোধের নির্বুদ্ধিতার সম্মুখীন হওয়ার থেকে তা শ্রেয়।

13তোমার প্রতি কৃত কোন ভালো কাজের জন্য অসৎ‌ভাবে তার প্রতিদান দিও না। যদি তুমি এরকম কর তাহলে তুমি সারা জীবন সংকটের মধ্যে থাকবে।

14বিবাদ হল বাঁধের গর্তের মতো। সেই গর্ত ক্রমশঃ বড় হওয়ার আগেই বিবাদ ত্যাগ করো।

15প্রভু দুটো বিষয়কে ঘৃণা করেন। একজন নির্দোষ ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া এবং দোষী ব্যক্তিকে ক্ষমা করা।

16একজন নির্বোধ ব্যক্তির কাছে অর্থ থাকার কোন মূল্য নেই। কারণ, তার যখন কোন বোধই নেই, সে কখনও জ্ঞান কিনতে পারবে না।

17একজন বন্ধু সব সময় ভালোবাসবে। একজন সত্যিকারের ভাই সর্বদা তোমাকে সমর্থন করবে এমকি তোমার বিপদের সময়েও।

18একমাত্র বোকারাই অন্য লোকের বিবাদের দায়িত্ব নেয়।

19যে বিবাদে আনন্দ পায় সে পাপেও আনন্দ লাভ করে। যদি তুমি নিজেই নিজের বড়াই কর তাহলে তুমি সমস্যাকেই আহ্বান জানাবে।

20দুর্জন ব্যক্তি কখনও লাভবান হয় না। মিথ্যাবাদীরা সমস্যায় জর্জরিত হবে।

21একজন পিতা নির্বোধ সন্তানের জন্য বিমর্ষ থাকে। একটি দুষ্ট সন্তানের পিতা অসুখী হয়।

22আনন্দ হল একটি ভালো ওষুধের মত। কিন্তু দুঃখ হল অসুস্থতার মত।

23দুর্জন ব্যক্তি অন্যদের ঠকানোর জন্য ঘুষ নেয়।

24জ্ঞানী ব্যক্তি সব সময় ভাল কাজ করার চিন্তা করেন। কিন্তু নির্বোধ ব্যক্তি সব সময় বহু দূরের স্বপ্ন দেখে।

25একজন নির্বোধ পুত্র তার পিতার জন্য দুঃখ বয়ে আনে। সে তার মায়ের তিক্ততার কারণ।

26ঠিক যেমন একজন নির্দোষ ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া অন্যায়, তেমনি একজন সত্যবাদী অথচ আধিকারিককে শাস্তি দেওয়াও অন্যায়।

27একজন জ্ঞানী ব্যক্তি খুব বেশী কথা বলে না। সে কখনও সহজে ক্রুদ্ধ হয় না।

28একজন মূঢ় ব্যক্তি যদি চুপ করে থাকে তাহলে লোকে তাকে জ্ঞানী বলে বিবেচনা করবে। সে যদি কিছু না বলে তাকে বুদ্ধিমান মনে হবে।

18

1যে লোকরা অন্য কারো সঙ্গে মিলে-মিশে থাকতে পারে না, তারা তাদের নিজেদের ইচ্ছেমত জিনিস চায়। তারা অন্য যে কোন উপদেশ বা পরামর্শে বিচলিত হয়।

2একজন নির্বোধ অন্যদের কাছ থেকে কিছু শিখতে চায় না। সে শুধু নিজের মনের কথাই প্রকাশ করতে সচেষ্ট থাকে।

3মানুষ এই ধরণের দুর্জনকে পছন্দ করে না। তারা বোকাদের নিয়ে উপহাস করে।

4জ্ঞানী ব্যক্তির উচ্চারিত শব্দ হল গভীর কুয়ো থেকে উঠে আসা স্রোতবাহী জলের মতো যে কুয়ো হল জ্ঞানের আধার।

5তোমাকে মানুষের সঠিক বিচার করতে হবে। যদি তুমি দোষী ব্যক্তিদের ছেড়ে দাও তাহলে তুমি সজ্জন ব্যক্তিদের সঙ্গে ন্যায় করলে না।

6একজন নির্বোধ ব্যক্তি নিজের কথার দ্বারাই নিজের সংকট বাধিয়ে বসে। তার মুখের কথায় ঝগড়া শুরু হতে পারে।

7তার মুখই তার ধ্বংসের কারণ হয়ে ওঠে। সে নিজেই নিজের কথার জালে জড়িয়ে পড়ে।

8মানুষ সব সময় কেচ্ছা শুনতে ভালোবাসে। কেচ্ছাকাহিনীকে সুখাদ্যের মতো গিলতে থাকে।

9কুকর্মে যে লিপ্ত থাকে তার সঙ্গে বিনাশকারীর কোন পার্থক্য নেই।

10প্রভুর নাম হল একটি শক্তিশালী মিনারের মত। ভালো লোকরা প্রভুর কাছে আশ্রয়ের জন্য ছুটে যেতে পারে।

11ধনীরা ভাবে তাদের অর্থই তাদের রক্ষা করবে। তারা ভাবে তাদের অর্থ হল দুর্ভেদ্য দুর্গের মতো অটুট।

12অহঙ্কারী ব্যক্তির বিনাশ হবে কিন্তু বিনয়ী ব্যক্তি সম্মানিত হবে।

13অন্যদের কথা শেষ করতে দেওয়ার পর তুমি উত্তর দিতে শুরু করবে। যদি তুমি এরকম কর তাহলে তুমি অপ্রস্তুত হবে না অথবা তোমাকে বোকার মত দেখতে লাগবে না।

14অসুস্থতার সময়ে একজন মানুষের মস্তিষ্ক তাকে জীবিত রাখবে। কিন্তু সে যদি গভীর ভাবে উদাস হয়ে যায়, তার কোন আশা থাকে না।

15জ্ঞানী ব্যক্তি আরো বেশী জানার ইচ্ছে প্রকাশ করে।

16তুমি যদি গুরুত্বপূর্ণ লোকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবার আগে তাদের উপহার দাও, তাহলে তাদের সঙ্গে দেখা করবার ব্যবস্থা সহজ হয়।

17প্রথম ব্যক্তির মামলা ততক্ষণ পর্যন্ত ঠিক থাকে যতক্ষণ না তাকে দ্বিতীয় ব্যক্তি পাল্টা প্রশ্ন করে।

18শক্তিশালী বিরোধী দলগুলির বিবাদ পাশার দান ফেলে মেটানো যায়।

19তুমি যদি তোমার বন্ধুকে অপমান কর তাহলে পুনরায় তার মন জয় করা দুর্ভেদ্য প্রাচীর ঘেরা শহর জয় করার থেকেও কঠিন হবে। প্রাসাদের ফটকগুলির ওপর আড়াআড়ি ভাবে রাখা শক্তিশালী খিলগুলির মত তর্ক মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে।

20তুমি যা বলবে তাই তোমার জীবনের ওপর প্রভাব ফেলবে। তুমি যদি ভাল কথা বল তাহলে তোমার জীবনে ভালো ঘটনা ঘটবে। আর যদি তুমি খারাপ কথা বলো তাহলে তোমার জীবনে খারাপ ঘটনা ঘটবে।

21জিহ্বা এমন কথা বলতে পারে যা জীবন অথবা মৃত্যু আনে। যারা কথা বলতে ভালোবাসে তাদের কথার দরুন যা পরিনাম হতে পারে সে সম্বন্ধে তাদের অবশ্যই প্রস্তুত থাকতে হবে।

22যদি তুমি তোমার জীবনসঙ্গিনী খুঁজে পাও তাহলে মনে করবে তুমি কোন ভাল জিনিসই পেয়েছো। তোমার স্ত্রী তোমাকে দেখাবে যে প্রভু তোমাকে নিয়ে সুখী।

23একজন গরীব ব্যক্তি সাহায্য ভিক্ষা করবে কিন্তু একজন ধনী ব্যক্তি খারাপ ভাবে তাকে উত্তর দেবে।

24কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গ আনন্দদায়ক। কিন্তু একজন সত্যিকারের বন্ধু ভাইয়ের চেয়েও বিশ্বস্ত হতে পারে।

19

1বোকা, মিথ্যেবাদী এবং ঠগ হওয়ার চেয়ে গরীব এবং সৎ‌ হওয়া শ্রেয়।

2জ্ঞান ব্যতিরেকে উদ্যম কোন কাজের নয়। যে ব্যক্তি তাড়াহুড়ো করে কাজ করে, সে ভুল করে।

3একজন ব্যক্তির নিবুর্দ্ধিতা তার ধ্বংসের কারণ। কিন্তু সে তার দুরবস্থার জন্য প্রভুকে দোষী করে।

4ধনী ব্যক্তির ধন-সম্পদই অসংখ্য বন্ধু জোগাড় করে দেয় কিন্তু দরিদ্রকে সবাই ছেড়ে চলে যায়।

5অন্য লোকের বিরুদ্ধে যে মিথ্যাচার করে তার শাস্তি হওয়া উচিৎ‌। তার রক্ষা পাওয়া উচিৎ‌ নয়।

6উদার ব্যক্তির বন্ধু সবাই হতে চায়। যে উপহার প্রদান করে তার বন্ধুত্ব লাভে সবাই আগ্রহী।

7যদি কেউ গরীব হয় তাহলে তার পরিবারের লোকরাও তার বিরোধিতা করে এবং সমস্ত বন্ধুরাও তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। সে সাহায্য ভিক্ষা করলে সাহায্য প্রদানের জন্য কেউ তার দিকে এগিয়ে যাবে না।

8কোন ব্যক্তি যদি তার স্বাচ্ছন্দের জন্য আগ্রহী হয়, সে জ্ঞানী হয়ে ওঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম করবে। যে বোধকে রক্ষা করে, সে সাফল্য হাতে পায়।

9মিথ্যেসাক্ষীর শাস্তি হবেই! মিথ্যেবাদীর বিনাশ হবে।

10একজন নির্বোধ ব্যক্তির পক্ষে বিলাসিতার মধ্যে জীবনযাপন করা ঠিক নয়। তাহলে তা হবে ক্রীতদাস কর্ত্তৃক রাজপুত্রদের শাসন করা।

11যদি একজন ব্যক্তি জ্ঞানী হয়, সেই জ্ঞানই তাকে ধৈর্য্যের অধিকারী করে। সে যদি তার বিরুদ্ধে যারা অন্যায় করে সেই সব লোকদের ক্ষমা করে সেটা তার মহত্ত্ব।

12রাজার ক্রোধ হবে সিংহের মতো। কিন্তু তাঁর দয়া হল ঘাসের ওপর বৃষ্টির ফোঁটার মত।

13একজন নির্বোধ তার পিতার জন্য বয়ে আনে সমস্যার বন্যা। একজন খুঁতখুঁতে বউ হল সমানে চুঁইয়ে পড়া জলের মত।

14লোকে তাদের মাতা-পিতার কাছ থেকে অর্থ এবং ঘরবাড়ি পায়। কিন্তু একজন ভালো স্ত্রী হল প্রভুর দান।

15একজন কুঁড়ে, অলস ব্যক্তি হয়ত দীর্ঘক্ষণ ঘুমোতে পারে কিন্তু সে অত্যন্ত ক্ষুধার্ত বোধ করবে।

16কেউ যদি আইনকে মান্য করে তাহলে সে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে। যে নিজের আচরণ সম্পর্কে অসতর্ক সে মারা যাবে।

17দরিদ্রকে টাকা দেওয়া মানে তা প্রভুকে ঋণ দেওয়া। তোমার এই দয়ালু মনের জন্য প্রভু তোমাকে তা ফিরিয়ে দেবেন।

18তোমার পুত্র বদলাবে এ আশা যতক্ষণ আছে, তাকে শাসন কর। তাকে শাসন না করে তার মৃত্যু এনো না। সে নিজেই তার ধ্বংসের কারণ হবে এবং তুমিই তাতে ইন্ধন যোগাবে।

19রগচটা লোক তার ক্রোধের মূল্য দেবে। তুমি যদি তাকে সংকট থেকে বার করেও আনো, সে একই কাজ করা অব্যাহত রাখবে।

20উপদেশ শোন এবং শৃঙ্খলা পরায়ণ হও। তাহলে জ্ঞানী হয়ে উঠবে।

21মানুষ অসংখ্য পরিকল্পনা করে কিন্তু একমাত্র প্রভুর পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হয়।

22লোক একটি বিশ্বাসী লোক চায়। একজন লোক যার কথা কেউ বিশ্বাস করে না সেই ধরণের একজন মানুষ হওয়ার চেয়ে বরং গরীব হওয়া শ্রেয়।

23যে ব্যক্তি প্রভুকে সম্মান করে তার জীবন ভালো হয়। সে ক্ষয়ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকে। সে তার নিজের জীবনে তৃপ্তি খুঁজে পায়।

24কিছু মানুষ এতো অলস হয় যে তারা নিজেদের দিকে প্রায় নজরই দেয় না। তারা এতই অলস যে তারা তাদের থালা থেকে খাবারটুকু পর্যন্ত তুলে মুখে দেবে না।

25একজন অলস ব্যক্তিকে শাস্তি দাও এবং সেই বোকাটা কৌশলী হয়ে উঠবে। কিন্তু একজন জ্ঞানী ব্যক্তিকে তিরস্কার কর, সে আরো বিচক্ষণ হয়ে উঠবে।

26যে ব্যক্তি তার পিতার পকেট থেকে চুরি করে এবং তার মাকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়, সে একজন জঘন্য কুলাঙ্গার।

27যদি তুমি নির্দেশ মেনে চলা বন্ধ করো তাহলে তুমি তোমার বোকামিগুলো চালিয়ে যাবে। চির দিন ভুলগুলো করে যাবে।

28যে মিথ্যে সাক্ষী দেয় সে ন্যায়কে উপহাস করে। দুষ্ট লোকদের কথাবার্তা আরো বেশী পাপ আনে।

29উদ্ধত লোকদের জন্য চাবুকই যথেষ্ট, কিন্তু বোকাদের জন্য প্রহার যথার্থ।

20

1দ্রাক্ষারস খেলে মানুষ তার নিয়ন্ত্রণ হারায়। মাতালরা চিৎকার করে এবং ঘ্যান ঘ্যান করতে শুরু করে। মদনোন্মত্ত অবস্থায় তারা মূর্খের মত আচরণ করে।

2সিংহের গর্জনের মত রাজার ক্রোধ। তুমি যদি রাজাকে ক্রুদ্ধ করো তাহলে তোমার জীবন সংশয় হতে পারে।

3মূঢ়রা তর্ক শুরু করবার ব্যাপারে খুব তত্‌পর। সুতরাং তোমাকে এমন একজনকে সম্মান করতে হবে যে তর্ককে এড়িয়ে চলতে পারে।

4একজন অলস ব্যক্তি কর্ষনের সময় বীজ বপন করে না। সুতরাং ফসল ঘরে তোলার উৎসবের সময় যখন সে খাবারের জন্য চারিদিকে তাকায় তখন সে কিছুই খুঁজে পায় না।

5ভাল উপদেশ হল গভীর কুয়ো থেকে তুলে আনা স্বচ্ছ জলের মত। একজন জ্ঞানী ব্যক্তি অন্য আর একজনের কাছ থেকে শেখবার জন্য কঠিন পরিশ্রম করে।

6অনেকেই বলে তারা বিশ্বস্ত এবং অনুগত। কিন্তু প্রকৃত বিশ্বস্ত লোক খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন।

7একজন সজ্জন ব্যক্তি সৎ‌পথে জীবন কাটায়। এবং তার সন্তানরা আশীর্বাদ ধন্য হবে।

8রাজা যখন বিচারে বসে তখন সে নিজের চোখে দুর্জন ব্যক্তিদের চিনতে পারে।

9কেউ কি একথা বলতে পারে যে তার একটি স্বচ্ছ বিবেক আছে? এবং সে কোন পাপ করেনি? না!

10অন্যায় ভাবে যারা ব্যবসায় ওজন নিয়ে কারচুপি করে লোক ঠকায়, প্রভু তাদের ঘৃণা করেন।

11এমনকি একটি শিশুর কাজকর্মেও বোঝা যায় যে সে ভাল না মন্দ। তুমি যদি একটি শিশুর আচরণ লক্ষ্য কর, সে সৎ‌ ও ভাল কিনা তা তুমি বুঝতে পারবে।

12আমাদের শরীরের চোখ এবং কান এই ইন্দ্রিয় দুটি প্রভুই আমাদের দিয়েছেন যাতে আমরা দেখতে ও শুনতে পাই।

13তুমি যদি ঘুমোনোর পিছনে সময় ব্যয় কর তাহলে তুমি দারিদ্রে কষ্ট পাবে। কিন্তু যদি তুমি তোমার সময় কঠোর পরিশ্রমে ব্যয় কর তাহলে তোমার খাদ্যের অভাব হবে না।

14তোমার কাছ থেকে কেউ যখন কিছু কিনতে যায় তখন সে বলে: “দাম বড্ড বেশী! এ জিনিস ভাল নয়।” তারপর সে অন্যদের কাছে গিয়ে নিজের বাজার করার কথা বড়াই করে বলে।

15সোনা এবং অলঙ্কার একজন মানুষকে ধনী করে তুলতে পারে। কিন্তু একজন জ্ঞানী ব্যক্তি যা উচ্চারণ করেন তা অনেক বেশী দামী।

16অন্য লোকের বিবাদে জড়িয়ে পড়লে তুমি তোমার জামা হারাতে পারো।

17প্রতারণা করে জিনিস পাওয়া হয়তো ভালো মনে হতে পারে কিন্তু অবশেষে দেখবে যে তার কোন দাম নেই।

18পরিকল্পনা করার আগে সৎ‌ উপদেশ গ্রহণ করো। যদি তুমি যুদ্ধে যাওয়া স্থির কর, তাহলে তোমাকে চালনা করার জন্য যুদ্ধে দক্ষ এমন লোক খুঁজে বার কর।

19যে অন্যের সম্বন্ধে গুজব রটায় সে বিশ্বাসযোগ্য নয়। সুতরাং, বেশী কথা বলে এমন কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব কোরো না।

20যে নিজের পিতামাতার বিরুদ্ধে কথা বলে সে হল সেই ধরণের আলো যা শীঘ্রই অন্ধকারে পরিণত হবে।

21সহজে অর্জিত ধন অবশেষে তার মূল্য হারাবে।

22কেউ যদি তোমার বিরুদ্ধে কিছু করে থাকে তাহলে তুমি তাকে শাস্তি দিতে যেও না। বরং ধৈর্য্য ধরো, প্রভু শেষে তোমাকেই জয়ী করবেন।

23কিছু ব্যবসায়ী ওজনের দাঁড়িপাল্লায় কিছু কৌশল করে লোক ঠকায়। প্রভু সেটা ঘৃণা করেন। যে সব দাঁড়িপাল্লা নিখুঁত নয় সেগুলো ব্যবহার করা অন্যায়।

24প্রতিটি লোকের কি হবে তা প্রভু ঠিক করেন। তাহলে কোন ব্যক্তি কি করে বুঝবে তার জীবনে কি কি ঘটবে?

25ঈশ্বরকে কিছু দেবার প্রতিজ্ঞা করার আগে চিন্তা করে দেখো। নাহলে পরে হয়তো তুমি ভাবতে পারো যে এমন প্রতিজ্ঞা না করলেই হত।

26জ্ঞানী রাজাই ঠিক করবেন কারা দুর্জন ব্যক্তি। সেই রাজাই তাদের শাস্তি প্রদান করবেন।

27মানুষের আত্মা হল প্রভুর কাছে থাকা প্রদীপ। প্রভু হলেন অন্তর্যামী। কার মনে কি আছে তিনি সব জানেন।

28যদি একজন রাজা সৎ‌ ও সত্যবাদী হয় তাহলে সে তার ক্ষমতায় থাকতে পারবে। বিশ্বস্ততা তার রাজ্যকে শক্তিশালী করে তুলবে।

29একজন যুবকের শক্তির শোভাকে আমরা পছন্দ করি। কিন্তু একজন বৃদ্ধের পাকা চুলকে আমরা সম্মান জানাই। কারণ তার মাথা ভর্ত্তি পাকা চুল প্রমাণ করে যে সে একটি পূর্ণ জীবন পেয়েছে।

30যদি আমরা শাস্তি পাই তাহলে আমরা অন্যায় কাজ করা বন্ধ করব। যন্ত্রণা মানুষকে বদলে দিতে পারে।

21

1জমিতে চাষের জলের জন্য চাষীরা পরিখা খনন করে। সেচ ব্যবস্থার জন্য তারা পরিখা দিয়ে বয়ে যাওয়া জলের গতিপথ পরিবর্তন করে। তেমনি করে প্রভুও রাজার মনের নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রভু রাজাকে তাঁর ইচ্ছেমতো পরিচালনা করেন।

2মানুষ ভাবে সে যা করে তাই সঠিক। কিন্তু প্রভুই মানুষের কাজের সঠিক কারণের বিচার করেন।

3সঠিক কাজ করবে ও ন্যায়ের পথে চলবে। বলিদানের চেয়ে প্রভু সেগুলিকেই বেশী ভালোভাবে গ্রহণ করেন।

4অহঙ্কার হল একটি পাপপূর্ণ জিনিস। এতে মানুষের অসততা বোঝায়।

5বুদ্ধিপূর্ণ পরিকল্পনা লাভের দিকে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু তুমি যদি সতর্ক না হও এবং কাজের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করো তাহলে তুমি গরীব হয়ে যাবে।

6লোক ঠকিয়ে বড়লোক হলে শীঘ্রই তোমার সমস্ত ধনসম্পদ নষ্ট হবে এবং তোমার অসততা তোমার মৃত্যুর কারণ হবে।

7দুষ্ট লোকরা যে কুকর্ম করে তা তাদের ধ্বংস করবে। তারা ঠিক কাজ করতে অস্বীকার করে।

8দুষ্ট ব্যক্তিরা সব সময় অন্যদের ঠকাতে চেষ্টা করে। কিন্তু ভালো লোকরা সর্বদা সৎ‌ ও ন্যায়সঙ্গত কাজ করে।

9ঝগড়াটে বউয়ের সাথে ঘর করার চেয়ে ছাদের ওপর একলা থাকা শ্রেয়।

10অসৎ‌ ব্যক্তি মন্দ কাজ করতে ইচ্ছা করে এবং তারা কারো প্রতি দয়া প্রদর্শন করে না।

11ঈশ্বরকে নিয়ে যারা মজা করে তারা শাস্তি পাওয়ার যোগ্য এবং বোকারা তার থেকে শিক্ষা পাবে। তারা জ্ঞানী হয়ে উঠবে এবং তারা আরো বেশী জ্ঞান প্রাপ্ত হবে।

12ঈশ্বর মঙ্গলময়। ঈশ্বর জানেন দুর্জনরা কি করে বেড়াচ্ছে। তিনিই তাদের শাস্তি দেবেন।

13যদি কেউ দরিদ্রকে সাহায্য করতে অস্বীকার করে তাহলে তার প্রয়োজনের সময়ও কেউ তার সাহায্যে এগিয়ে আসবে না।

14কেউ যদি তোমার ওপর রেগে থাকে তাহলে তাকে গোপন একটা উপহার পাঠাও। গোপনে দেওয়া উপহার প্রকট ক্রোধকে প্রশমিত করে।

15ন্যায়-বিচার সজ্জন ব্যক্তিদের সুখী করে তোলে। কিন্তু দুর্জন ব্যক্তিদের ভীত করে।

16জ্ঞানের পথ কেউ ত্যাগ করলে বুঝতে হবে সে ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে।

17যদি কোন ব্যক্তি সুখ সম্পত্তি ভালোবাসে, সে দরিদ্রে পরিণত হবে। একজন ব্যক্তি যদি শুধুমাত্র দ্রাক্ষারস পান করতে এবং খুব মশলাদার রান্না খেতে চায় তাহলে সে কোনদিনই ধনী হতে পারবে না।

18ভালো লোকদের প্রতি দুষ্ট লোকরা যে সব খারাপ কাজগুলি করে তার জন্য তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। সৎ‌ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অসৎ‌ ব্যক্তিরা যা সব করে তার জন্য দুষ্ট লোকদের দাম দিতেই হবে।

19রগচটা ও বিবাদী স্ত্রীর সঙ্গে ঘর করার চেয়ে মরুভূমিতে বাস করা ভাল।

20একজন জ্ঞানী ব্যক্তি ভবিষ্যতে তার কাজে লাগবে এমন জিনিসপত্র সঞ্চয় করে রাখে। কিন্তু একজন নির্বোধ যা কিছু অর্জন করে তার সবটাই তাড়াতাড়ি খরচ করে ফেলে।

21যে ব্যক্তি সর্বদা দয়া ও ভালবাসা প্রদর্শন করে সে সুস্থ জীবন লাভ করে। সে অর্থ ও সম্মান পায়।

22একজন জ্ঞানী ব্যক্তি যা চায় তাই করতে পারে। এমন কি, সে শক্তিশালী লোকদের দ্বারা প্রতিরক্ষা করা শহরকেও আক্রমণ করতে পারে। বাঁচবার জন্য যে প্রাচীরের ওপর তাদের আস্থা ছিল, সেই প্রাচীরও সে ধ্বংস করতে পারে।

23সে কি বলছে এই বিষয়ে যদি কোন ব্যক্তি সতর্ক থাকে তাহলে সে সংকট থেকে দূরে থাকতে পারবে।

24একজন অহঙ্কারী মানুষ নিজেকে অন্যদের থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করে। সে তার কাজের ধারা দিয়েই দেখিয়ে দেয় সে কতখানি দুষ্ট।

25একজন অলস ব্যক্তির অতিরিক্ত দাবী তার ধ্বংসের কারণ হয়। তার যা করা দরকার তা করতে অস্বীকার করায় অলস ব্যক্তি নিজেকে ধ্বংস করে।

26কিন্তু একজন ভালো লোক অনেক কিছু দিয়ে দেয় কারণ তার প্রচুর আছে।

27দুর্জনরা প্রভুকে কিছু উৎসর্গ করলে প্রভু খুশী হন না। বিশেষ করে তারা যখন তাদের উৎসর্গের পরিবর্তে তাঁর কাছ থেকে কিছু পেতে চেষ্টা করে তখন।

28মিথ্যেবাদীর বিনাশ হবে। যারা মিথ্যেবাদীদের কথা শুনে চলবে তাদেরও বিনাশ হবে।

29একজন সজ্জন ব্যক্তি জানে যে সে সঠিক। কিন্তু একজন দুষ্ট লোককে ভান করতে হয়।

30কোন ব্যক্তিই একটি পরিকল্পনাকে সফল করতে যথেষ্ট জ্ঞানী নয় যদি ঈশ্বর তার বিরুদ্ধে থাকেন।

31মানুষ যতই যুদ্ধ জয়ের প্রস্তুতি নিক প্রভু না চাইলে কিছুতেই তারা যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারবে না।

22

1ধনী হওয়ার চেয়ে সম্মানিত হওয়া শ্রেয়। সোনা ও রূপোর চেয়ে সুনাম অর্জন করা বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

2গরীব এবং ধনীর মধ্যে কোন বিভেদ নেই। সবাই সমান, প্রভুই তাদের তৈরী করেছেন।

3জ্ঞানী ব্যক্তিরা আগে থেকে সংকটের আভাষ পায় এবং সে পথ থেকে দূরে থাকে। কিন্তু মূর্খরা সমস্যার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে দুর্ভোগ পোহায়।

4বিনয়ী হও এবং প্রভুকে সম্মান জানাও। তাহলেই তুমি ধন-সম্পদ, সম্মান এবং জীবন লাভ করবে।

5দুর্জনরা সমস্যার ফাঁদে আটকে পড়ে। কিন্তু যে ব্যক্তি তার আত্মাকে যত্ন করে সে সমস্যা থেকে দূরে থাকে।

6শৈশব কাল থেকে একটি শিশুকে ঠিক পথে বাঁচতে শেখাও। শিশুটি তার বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত ঠিক পথে বাঁচা অব্যাহত রাখবে।

7দরিদ্ররা চিরকালই ধনীদের দাসত্ব করে। একজন ব্যক্তি যে ধার করে, সে যার কাছ থেকে ধার করে তার কাছে ক্রীতদাস হয়ে যায়।

8যে সমস্যার বীজ বোনে সে সমস্যারই ফসল তোলে। এবং পরিশেষে অন্যদের সমস্যায় ফেলার জন্য তার নিজেরই বিনাশ হয়।

9যে মুক্তহস্তে দান করে তার কপালে আশীর্বাদ জোটে। সে আশীর্বাদ-ধন্য হবে কারণ সে তার নিজের খাবার গরীবদের সঙ্গে ভাগ করে খেয়েছিল।

10যারা অশান্তি সৃষ্টি করে তাদের তাড়িয়ে দাও, সংঘাত আপনিই দূর হবে। তখন ন্যায় ও অপমানজনক আচরণ বিশ্রাম পাবে।

11যদি তুমি একটি খাঁটি হৃদয় ভালবাস, যদি তোমার বাণী হয় মার্জিত, তাহলে রাজাও তোমার বন্ধু হবে।

12যারা প্রভুকে জানে তাদের প্রভু রক্ষা করেন। শ্রদ্ধাশূন্য অবিশ্বাসী লোকদের কথা প্রভু বিনাশ করেন।

13অলস ব্যক্তি বলে, “এখন আমি কাজে যেতে পারব না। বাইরে একটি সিংহ রয়েছে। বাইরে গেলেই সে আমাকে মেরে ফেলবে।”

14ব্যভিচারের পাপ হল একটি ফাঁদের মতো। সেই ফাঁদে যে পা দেয় তার ওপর প্রভু ভয়ঙ্কর ক্রুদ্ধ হন।

15শিশুরা মূর্খামি করে। কিন্তু তুমি যদি তাদের শাস্তি দাও তাহলে ওরা আর ঐ কাজ করবে না।

16এই দুটো জিনিস তোমাকে দরিদ্রে পরিণত করবে—নিজে ধনী হতে গিয়ে দরিদ্রকে আঘাত করা এবং ধনীকে উপহার দেওয়া।

তিরিশটি নীতিকথা

17আমি যা বলছি তা মন দিয়ে শোন। জ্ঞানী ব্যক্তিরা যা বলে গিয়েছেন আমি তা তোমাকে শিখিয়ে দেব। এই শিক্ষামালাগুলি থেকে শিক্ষা নাও। 18এগুলি যদি মনে রাখতে পারো তাহলে তোমার মঙ্গল হবে। তুমি যদি এগুলি বলতে পারো তাহলে এটা তোমাকে সাহায্য করবে। 19আমি তোমাকে এখন এগুলি শেখাব। আমি চাই তুমি প্রভুর প্রতি বিশ্বাস রাখো। 20আমি তোমার জন্য 30টি নীতিকথা লিখেছি। এগুলি হল উপদেশ ও নানাবিধ জ্ঞানের কথা। 21এগুলি তোমাকে সত্য এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখাবে। তাহলে তোমাকে যারা পাঠিয়েছিল তাদের কাছে তুমি সঠিক উত্তর দিতে পারবে।

— 1 —

22দরিদ্রের কাছ থেকে জিনিস চুরি করা সহজ। কিন্তু তা করো না এবং আদালতে দীনহীনের কাছ থেকে কোন সুবিধা উপভোগ করো না। 23প্রভু গরীবদের পক্ষে রয়েছেন। প্রভু তাদের সমর্থন করেন। সুতরাং কেউ গরীবদের কিছু নিলে প্রভু তা আবার ছিনিয়ে নেন।

— 2 —

24রগচটা লোকের সাথে বন্ধুত্ব কোরো না। যে লোক খুব তাড়াতাড়ি রেগে যায় তার খুব কাছে যেও না। 25যদি তুমি তা কর তাহলে তুমি হয়ত তার মত আচরণ করতে শিখবে এবং সংকটে পড়বে।

— 3 —

26অন্যের ঋণ শোধের অঙ্গীকার করো না। 27যদি তুমি জামিনদার হিসেবে সেই ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে না পারো তাহলে তুমি সব হারাবে। কেন শুধু শুধু নিজের শয্যাটুকু খোয়াতে যাবে?

— 4 —

28সম্পত্তি সীমার পুরাতন চিহ্ন, যা তোমার পিতৃপুরুষগণ স্থাপন করে গিয়েছিলেন তা বদলে দিও না।

— 5 —

29যদি কেউ নিজের কাজে অত্যন্ত দক্ষ হয় তাহলে সে রাজাকে সেবা করার যোগ্য। তাকে আর সাধারণ লোকের জন্য কাজ করতে হবে না।

23

— 6 —

1যখন তুমি কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বসে খাওয়া-দাওয়া করছো তখন মনে রেখো তুমি কার সঙ্গে বসে আছো। 2কখনও বেশী খেও না, এমনকি ক্ষুধার্ত থাকলেও নয়। 3সে যদি সুখাদ্যের আয়োজন করে তাহলেও বেশী খেও না কারণ এটা একটা চালাকিও হতে পারে।

— 7 —

4ধনী হতে গিয়ে স্বাস্থ্য ক্ষয়় কোরো না। যদি তুমি জ্ঞানী হও তাহলে তুমি খুব ধৈর্য্যশীল হবে। 5ডানা মেলে পাখীর উড়ে যাওয়ার মতো টাকাকড়িও দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যায়।

— 8 —

6স্বার্থপর লোকের সঙ্গে ভোজনে বোসো না। তার পছন্দের খাবার থেকে দূরে থেকো। 7কারণ যে খাদ্যটি সে কিনেছে সে শুধু সেটার দামের কথাই ভাবে। সে তোমাকে বলতে পারে, “খাও এবং পান কর।” কিন্তু এটা তার হৃদয়ের অভ্যন্তরের কথা নয়। 8তুমি যদি তার খাবার খাও তাহলে তুমি অসুস্থ হয়ে পড়বে এবং তোমার প্রশংসাবাক্য হবে একটি বাজে খরচ।

— 9 —

9মূর্খকে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা কোরো না। সে তোমার জ্ঞানের কথা নিয়ে উপহাস করবে।

— 10 —

10পুরানো সম্পত্তির সীমার স্থানান্তর কোরো না। অনাথদের জমিজমা গ্রাস করার চেষ্টা কোরো না। 11প্রভু অনাথদের একজন শক্তিশালী প্রতিরক্ষক সুতরাং তিনি তোমার বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন।

— 11 —

12শিক্ষকের কথা শোন এবং যতটা পার তাঁর কাছ থেকে শিখে নাও।

— 12 —

13প্রয়োজন হলে তোমার শিশুকে শাস্তি দাও। তাকে মারধোর করলেও তার ক্ষতি হবে না। 14যদি তাকে চড় চাপড় মারো তাহলে তুমি তার জীবন রক্ষা করতে পারবে।

— 13 —

15পুত্র আমার, যদি তুমি জ্ঞানী হয়ে ওঠো তাহলে আমি খুশী হব। 16আমার হৃদয় খুশী হবে যদি তুমি সঠিক কথাগুলো বলতে পারো।

— 14 —

17দুর্জনের প্রতি ঈর্ষা কোরো না। কিন্তু সর্বদা চেষ্টা করো যাতে প্রভুকে সম্মান জানানো যায়। 18সর্বদা আশার আলো আছে এবং তোমার আশা কখনও হারিয়ে যাবে না।

— 15 —

19সুতরাং, পুত্র আমার, শোন, জ্ঞানী হও। সঠিক জীবনযাপনে সর্বদা সতর্ক থেকো। 20পেটুক এবং মদ্যপ ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব কোরো না। 21যে অতিরিক্ত খাবার খায় এবং দ্রাক্ষারস পান করে সে দরিদ্রে পরিণত হবে। তারা খায়-দায় আর ঘুমোয় এবং শীঘ্রই তাদের যাবতীয় সব কিছু খোয়া যায়।

— 16 —

22পিতা যা বলে তা শুনে চলো। পিতা ছাড়া তোমার জন্ম হতো না। এবং মাকে সম্মান জানাও। এমনকি সে বৃদ্ধা হলেও তাকে সম্মান জানাবে। 23সত্য, জ্ঞান, শিক্ষা এবং বোধ খুব মূল্যবান। এগুলিকে তোমার কেনা উচিৎ‌, বিক্রি করা নয়। 24সজ্জন ব্যক্তির পিতা অত্যন্ত সুখী হয়। যদি কারো শিশুপুত্র জ্ঞানী হয় তাহলে সেই শিশু আনন্দ বয়ে আনে। 25সুতরাং তোমার পিতামাতাকে সুখী হতে দাও। তোমার মা, যিনি তোমাকে জন্ম দিয়েছেন তাঁকে আনন্দ করতে দাও।

— 17 —

26পুত্র আমার কাছে এসো এবং আমি যা বলছি তা শোন। আমার জীবনকে তোমার জন্য উদাহরণস্বরূপ বিবেচনা কর। 27বেশ্যা এবং দুশ্চরিত্রা মহিলা হল ফাঁদ। তারা হল গভীর কুয়ো যার ভেতর থেকে তুমি আর কোনদিন বেরিয়ে আসতে পারবে না। 28একজন খারাপ মেয়ে তোমার জন্য চোরের মতো অপেক্ষা করবে। এবং সে অনেক পুরুষকে পাপের পথে টেনে নামায়।

— 18 —

29 যারা অতিরিক্ত দ্রাক্ষারস পান করে এবং জোরালো পানীয় গ্রহণ করে তাদের পক্ষে খুব খারাপ হবে। তারা যখন তখন মারদাঙ্গা এবং বিবাদে জড়িয়ে পড়ে; তাদের চোখ লাল হয়ে ওঠে, যেখানে সেখানে হোঁচট খায় এবং নিজেদের আঘাত করে। তারা এই সমস্যাগুলোকে এড়াতে পারে না!

31সুতরাং দ্রাক্ষারসের ব্যাপারে সতর্ক থেকো। লাল দ্রাক্ষারস হয়ত দেখতে প্রলুদ্ধকর; সেটা পেয়ালার মধ্যে ঝকমক করে। তুমি যখন সেটা পান কর তখন তা সুন্দর ভাবে গলা দিয়ে নীচে নামে। 32কিন্তু শেষে তা সাপের মতো ছোবল মারে।

33দ্রাক্ষারস পান করলে তুমি চোখে অদ্ভুত সব জিনিস দেখবে। তোমার মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে। 34যখন তুমি শুয়ে পড়বে তখন তোমার মনে হবে যেন তুমি উত্তাল সমুদ্রের ওপর শুয়ে আছো। মনে হবে জাহাজের ওপর শুয়ে রয়েছো। 35তুমি বলবে, “তারা আমাকে আঘাত করেছে কিন্তু আমি অনুভব করি নি। তারা আমাকে মেরেছে কিন্তু আমি তা মনে রাখি নি। এখন আর আমি জেগে উঠতে পারব না। আমি আরো একটি পানীয় চাই।”

24

— 19 —

1দুর্জন ব্যক্তিদের হিংসা কোরো না। তাদের কাছাকাছি থাকবার ইচ্ছেও করো না। 2তারা সব সময় অন্যের ক্ষতির পরিকল্পনা করে। তারা প্রত্যেকে সমস্যা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করে বেড়ায়।

— 20 —

3প্রজ্ঞা এবং বোধ দিয়ে গড়া একটি বাড়ী দৃঢ় হয়। 4জ্ঞান দুর্লভ এবং সুন্দর সম্পদ দিয়ে ঘরগুলিকে ভরে দেয়।

— 21 —

5প্রজ্ঞা মানুষকে বলবান করে তোলে। জ্ঞান মানুষকে আরো শক্তি দেয়। 6যুদ্ধের আগে তোমাকে খুব সতর্কভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। যদি তুমি যুদ্ধ জিততে চাও তাহলে তোমার অনেক উপদেষ্টার প্রয়োজন।

— 22 —

7মূর্খরা কোনদিন জ্ঞানের মর্ম বুঝবে না। যখন মানুষ কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে তখন মূর্খরা কিছুই বলতে পারে না।

— 23 —

8যদি তুমি সব সময় সমস্যা সৃষ্টির পরিকল্পনা কর তাহলে অন্যরা তোমাকে জানবে একজন সমস্যা সৃষ্টির নায়ক হিসেবে এবং তারা আর তোমার কথা শুনবে না।

9মূর্খ ব্যক্তি শুধু পাপের পরিকল্পনা করে। লোকরা ঘৃণাপূর্ণ লোকদের ঘৃণাই করে।

— 24 —

10সঙ্কটের সময় তুমি যদি দুর্বল হয়ে পড়ো তাহলে তুমি সত্যি সত্যিই একজন দুর্বল লোক।

— 25 —

11যদি লোকরা একজন ব্যক্তিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে তাহলে তুমি সেই ব্যক্তিকে রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা করবে।

12তুমি বলতে পারো না, “এটা আমার কাজ নয়।” প্রভু সব জানেন। তিনি এও জানেন তুমি কি কর এবং কেন কর। প্রভু তোমাকে লক্ষ্য করছেন। তোমার কাজ অনুযায়ী পুরস্কার দেবেন।

— 26 —

13হে পুত্র আমার মধু খাও। মধু বড় উত্তম বস্তু। চাক ভাঙা মধু ভীষণ মিষ্টি। 14একই রকম ভাবে, প্রজ্ঞা তোমার আত্মার জন্য ভাল। যদি তোমার জ্ঞান থাকে, তাহলে তোমার আশা থাকবে। সেই আশার কোন শেষ নেই।

— 27 —

15একজন ভালো লোকের বাড়ীতে চোরের মত লুকিয়ে থেকে অপেক্ষা করো না। তার বাড়ী থেকে চুরি করো না। 16যদি একজন সজ্জন ব্যক্তি সাত বারও পড়ে যায় তাহলেও সে আবার উঠে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। কিন্তু দুষ্ট ব্যক্তিরা সব সময় সংকটের দ্বারা পরাজিত হবে।

— 28 —

17শত্রুর বিপদে আনন্দিত হয়ো না। তোমার শত্রু পড়ে গেলে উল্লাস দেখিও না। 18যদি তুমি তা করো তাহলে প্রভু তা দেখতে পাবেন এবং প্রভু তোমার প্রতি তুষ্ট হবেন না। তখন হয়তো প্রভু তোমার শত্রুকেই সাহায্য করতে এগিয়ে আসবেন।

— 29 —

19দুর্জন ব্যক্তিদের তোমার চিন্তার কারণ হতে দিও না এবং দুর্জনদের প্রতি ঈর্ষা করো না। 20ঐ দুর্জনদের কোন আশার প্রদীপ নেই। তাদের আলো অন্ধকারে পরিণত হবে।

— 30 —

21পুত্র, রাজা এবং প্রভুকে সম্মান কোরো। যারা রাজা ও প্রভুর বিরুদ্ধে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ো না। 22কেন? কারণ ঐ লোকগুলো শীঘ্রই ধ্বংস হয়ে যাবে। তুমি তো জানো না, যারা তাদের বিরুদ্ধে ঈশ্বর এবং রাজা তাদের জন্য কতখানি সমস্যা নিয়ে আসতে পারেন। তাদের ওপর হঠাৎ‌‌ বিপর্যয় নেমে আসবে।

আরও নীতিকথা

23এগুলি হল জ্ঞানবানদের উক্তি:

একজন বিচারককে নিরপেক্ষ হতেই হবে। চেনা লোক বলে তাকে সমর্থন করা বিচারকের উচিৎ‌ নয়। 24একজন দুষ্ট ব্যক্তিকে যদি বিচারক নির্দোষ বলে সাব্যস্ত করেন তাহলে লোকরা সেই বিচারককে অভিশাপ দেবে। এমনকি অন্য দেশের লোকরাও ঐ বিচারকের বিরুদ্ধে কথা বলবে। 25কিন্তু কোন বিচারক যদি দোষী ব্যক্তিকে যোগ্য শাস্তি দান করেন তাহলে সবাই তার প্রশংসা করবে।

26যথার্থ সৎ‌ উত্তর মানুষকে খুশী করে। ঠিক যেন ওষ্ঠাধর চুম্বনের মতো।

27তোমার জমিতে চারা রোপন করবার আগে ঘরবাড়ি তৈরী কোরো না। বসতি স্থাপন করবার আগে তোমার চাষবাসের সমস্ত ব্যবস্থা করে নেবে।

28প্রকৃত কারণ না থাকলে কোন লোকের বিরুদ্ধে কথা বলো না। আর কখনও মিথ্যা কথা বোলো না।

29বোলো না, “ও আমাকে আঘাত করেছে বলে আমিও ওকে আঘাত করব। আমার ক্ষতি করেছে বলে আমিও ওকে শাস্তি দেব।”

30আমি একজন অলস লোকের জমির পাশ দিয়ে গেলাম। আমি একজন মূর্খের দ্রাক্ষা ক্ষেতের পাশ দিয়ে গেলাম। 31সেই সব জমিগুলোতে কাঁটাঝোপ গজিয়ে উঠছিল। ঐ জমিগুলো আগাছা এবং কাঁটায় ভরে গিয়েছিল। এবং ভগ্ন স্তূপের মতো জমির চারপাশের প্রাচীর ভেঙে পড়েছিল। 32আমি এইগুলির দিকে তাকালাম এবং তাদের সম্বন্ধে ভাবলাম। আমি এগুলি থেকে একটি শিক্ষা পেলাম। 33আর একটু ঘুম, সামান্য বিশ্রাম, হাত জড়সড় করে তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় কাটানো। 34এগুলি তোমাকে দ্রুত দরিদ্রে পরিণত করবে। তোমার আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, যেন চোর এসে তোমার সব কিছু চুরি করে নিয়ে গিয়েছে। এইভাবে কানাকড়িহীন অবস্থায় তোমায় জীবন কাটাতে হবে।

25

শলোমনের আরো কিছু হিতোপদেশ

1এইগুলি শলোমনের আরো কয়েকটি উক্তি। যিহূদার রাজা হিষ্কিয়ের ভৃত্যরা এই কথাগুলি লিখে নেয়।

2ঈশ্বরের মাহাত্ব্যের জন্য তিনি আমাদের যা জানাতে চান না তা লুকিয়ে রাখেন। একজন রাজা যা কিছু প্রকাশ করেন তার জন্য তাঁকে সম্মান দেওয়া হয়ে থাকে।

3আমাদের মাথার অনেক ওপরে রয়েছে আকাশ এবং আমাদের পায়ের তলায় আছে গভীর মাটি। রাজাদের মনও সে রকমই। আমরা তাঁদের বুঝতে পারি না।

4যদি রূপার থেকে খাত বের করে ফেলে তাকে শুদ্ধ করা যায়, তাহলে স্বর্ণকার তা থেকে সুন্দর কিছু বানাতে পারে। 5ঠিক সেভাবেই যদি রাজার কাছ থেকে কুপরামর্শদাতাদের সরিয়ে ফেলা যায় তাহলে ন্যায় তার রাজ্যের ভিত্তি আরো মজবুত করবে।

6রাজার সামনে কখনও নিজের সম্বন্ধে হামবড়াই করো না। একজন বিখ্যাত ব্যক্তি হবার ভান করো না। 7নিজে থেকে রাজার কাছে গিয়ে অন্য লোকের সামনে অপমানিত হওয়ার থেকে রাজার আমন্ত্রণ পেয়ে তার কাছে যাওয়া অনেক ভাল।

8তুমি যা কিছু দেখেছ সে সম্বন্ধে বিচারকের কাছে বলবার জন্য তাড়াহুড়ো করো না। যদি কেউ প্রমাণ করে যে তুমি যা দেখেছ তা ভুল, তাহলে তুমি অপ্রস্তুতে পড়বে।

9যদি কারো সঙ্গে তোমার কোন বিষয় দ্বিমত হয় তবে সে বিবাদ নিজেরাই মিটিয়ে ফেল। পরের কোন গোপন কথা কখনও প্রকাশ করে দিও না। 10তুমি যদি তা কর তুমি লজ্জায় পড়ে যাবে এবং বদনাম তোমাকে কখনও ছেড়ে যাবে না।

11ঠিক সময় ঠিক কথাটি বলা হল একটি রূপোর ফ্রেমে সোনার আপেলের মতো। 12জ্ঞানী লোকের সতর্কবাণী হল সব থেকে ভালো সোনার তৈরী আংটি বা গহনার থেকেও দামী।

13গরমের দিনে শস্য কাটার সময় শীতল জলের মতোই একজন বিশ্বস্ত দূত তার প্রেরকের কাছে মূল্যবান।

14যে সব লোকরা উপহার দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু তা পালন করে না তারা হল সেই সব মেঘ বা হাওয়ার মতো যা বৃষ্টি আনে না।

15তুমি যদি কাউকে ধৈর্য্য সহকারে কোন ব্যাপারে বোঝাতে পারো তাহলে রাজারও মত পরিবর্তন করানো যায়। শান্তভাবে কথা বলার ক্ষমতা খুব শক্তিশালী।

16মধু সুমিষ্ট কিন্তু তা বেশী মাত্রায় খেলে অসুখ হয়। 17ঠিক তেমনই, যদি তুমি প্রায়ই তোমার প্রতিবেশীর বাড়ি যাও, সে তোমাকে ঘৃণা করতে শুরু করবে।

18যে ব্যক্তি আদালতে মিথ্যে কথা বলে সে খুব বিপজ্জনক। সে হল একটি তরোয়াল, একটি মুগুর বা একটি তীক্ষ্ণ বাণের মতো। 19বিপদের সময় কখনও মিথ্যাবাদীর ওপর নির্ভর কোরো না। সে হল একটা নড়বড়ে দাঁত বা একটি টলমলে পায়ের মতো।

20একজন শোকার্ত মানুষকে আনন্দের গান শোনানো হল একটি শীতের দিনে লোকদের গা থেকে বস্ত্র কেড়ে নেওয়ার মতো, যারা শীতে জমে যাচ্ছে। এ হলো যেন সোডার সাথে অম্ল রস মেশানো।

21যদি তোমার শত্রু ক্ষুধার্ত হয় তাকে খাবার দাও, যদি সে তৃষ্ণার্ত হয় তবে তাকে জল দাও। 22তুমি এরকম করলে সে লজ্জা পাবে। সেটা হবে যেন তার মাথায় জ্বলন্ত কয়লা রাখার মত এবং প্রভু তোমাকে শত্রুর সঙ্গে ভাল ব্যবহার করার জন্য পুরস্কৃত করবেন।

23উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হাওয়ায় বৃষ্টি হয়। ঠিক এমন করেই গুজব থেকে ক্রোধ জন্ম নেয়।

24একজন মুখরা স্ত্রীর সঙ্গে এক বাড়িতে থাকার চেয়ে ছাদে থাকা ভাল।

25দূরের কোন স্থান থেকে আসা সুসংবাদ হল উত্তপ্ত ও তৃষ্ণার্ত অবস্থায় পাওয়া শীতল জলের মতো।

26যদি কোন ভালো মানুষ দুর্বল হয়ে পড়ে কোন মন্দ লোককে অনুসরণ করে তা হবে পরিষ্কার জল দূষিত হয়ে যাওয়ার মতো ব্যাপার।

27খুব বেশী মধু খাওয়া ভালো নয়, ঠিক তেমনই নিজের জন্য সম্মান আদায়ের চেষ্টাও সম্মানের নয়।

28যে মানুষ নিজেকে সামলাতে পারে না সে হল সেই শহরের মতো যার প্রাচীর ভেঙে গেছে।

26

মূর্খদের বিষয়ে কিছু নীতিকথা

1গরমের দিনে যেমন তুষারপাত হওয়া উচিৎ‌ নয়, শস্য কাটার সময় যেমন বৃষ্টি হওয়া উচিৎ‌ নয় ঠিক তেমনি মূর্খদের সম্মান করা মানুষের উচিৎ‌ নয়।

2কেউ যদি তোমার মন্দ কামনা করে তা নিয়ে চিন্তা করো না। তুমি যদি খারাপ কিছু না করো তোমার কোন ক্ষতি হবে না। সেই ব্যক্তির কথাগুলি হবে উড়ে চলে যাওয়া পাখির মতো যারা তোমার পাশে থামবে না।

3ঘোড়াকে চাবুক মারতে হবে, গাধার পিঠে বলগা বাঁধতে হবে আর মূর্খদের মারতে হবে।

4 এ হল এক কঠিন পরিস্থিতি। যদি কোন মূর্খ তোমাকে বোকার মত কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে তাহলে তুমি বোকার মতো উত্তর দিও না কারণ, তাহলে তোমাকে মূর্খ বলে মনে হবে। কিন্তু যদি কোন মূর্খ তোমাকে বোকার মত প্রশ্ন করে তাহলে তুমি বোকার মত উত্তর দিও নয়তো সে নিজেকে খুব বুদ্ধিমান ভাববে।

6কখনও কোন মূর্খকে তোমার বার্তা বহন করতে দিও না। যদি তা কর তাহলে তা হবে নিজের পায়ে নিজে কুড়ুল মেরে সমস্যা সৃষ্টি করার মতো ব্যাপার।

7যখন কোন মূর্খ কোন জ্ঞানী লোকের মত কথা বলতে চেষ্টা করে, তা হয় প্রায় একজন মাতালের তার হাত থেকে কাঁটা তুলে ফেলার প্রচেষ্টার মত। পঙ্গু মানুষের হাঁটার প্রচেষ্টার সামিল।

8মূর্খকে সম্মান দেখানো হল গুলতিতে পাথর বাঁধার মতোই খারাপ ব্যাপার।

9একজন মাতালকে তার হাত থেকে কাঠের চোঁছ বার করবার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা আর একজন মূর্খের মুখ থেকে জ্ঞানগর্ভ উক্তির প্রকাশ সমান হাস্যকর।

10একজন মূর্খকে বা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া একজন মাতালকে ভাড়া করা বিপজ্জনক। তুমি জানো না কে আঘাত পেয়ে যাবে।

11কুকুর খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে বমি করে। তারপর কুকুরটি তার বমি খেয়ে ফেলে। মূর্খও ঠিক তেমনি ভাবে একই ভুল বার বার করে চলে।

12যে ব্যক্তি নিজেকে জ্ঞানী মনে করে সে যদি তা না হয় তাহলে সে মূর্খেরও অধম।

13যে অলস সে বলে, “আমি আমার বাড়ি ছেড়ে বেরোব না। রাস্তায় সিংহ আছে।”

14একজন অলস ব্যক্তি হল দরজার মতো। দরজা যেমন ঠিক কব্জার সাথে ঘুরে যায়, যে অলস সেও ঠিক তেমনি ভাবে বিছানায় পাশ ফিরে যায়। সে আর অন্য কোথাও যায় না।

15যে অলস তার থালা থেকে মুখে খাবার তুলতেও আলস্য।

16একজন অলস লোক নিজেকে সাতজন চতুর লোক যারা তাদের ভাবনার জন্য যুক্তি দেখাতে পারে, তাদের চেয়ে বেশী জ্ঞানী বলে বিবেচনা করে।

17দুজন মানুষের ঝগড়ার মাঝখানে নাক গলাতে যাওয়া বিপজ্জনক। ওটি পাশ দিয়ে চলে যাওয়া একটি কুকুরের কান ধরে টানার মতো ব্যাপার।

18 কেউ যদি একটি লোককে ঠকানোর পর বলে যে সে মজা করছিল তা হবে একজন পাগলের উদ্দেশ্যহীনভাবে জ্বলন্ত তীর ছুঁড়ে দুর্ঘটনাবশতঃ কাউকে মেরে ফেলার মতো ব্যাপার।

20জ্বালানি কাঠের অভাবে আগুন নিভে যায়। একই রকম ভাবে, অপবাদ শূন্য তর্কও থেমে যাবে।

21কাঠকয়লা যেমন কয়লাকে জ্বলতে সাহায্য করে, কাঠ যেমন আগুনকে জিইয়ে রাখে ঠিক তেমনই যারা সমস্যা সৃষ্টি করে তারা তর্ককে বাঁচিয়ে রাখে।

22ভালো খাবার খেতে যেমন মানুষ ভালোবাসে, ঠিক তেমনই তারা গুজবও ভালবাসে।

23যে সব বন্ধুত্বপূর্ণ কথাবার্তা একটি দুরভিসন্ধি ঢেকে দেয় তা হল মাটির পাত্রের ওপর রূপালি রঙের মতো। 24যে মন্দ সে ভাল কথা দিয়ে তার কুপরিকল্পনা ঢেকে রাখে। কিন্তু তার দুরভিসন্ধি থাকে তার হৃদয়ে। 25সে হয়তো তোমার সঙ্গে সদয় হয়ে কথা বলবে, কিন্তু তাকে বিশ্বাস কোরো না। তার মন দুর্বুদ্ধিতে ভরা। 26সে তার মধুর কথা দিয়ে কু-পরিকল্পনাগুলি ঢেকে রাখে। কিন্তু সে নীচ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লোকরা তার কু-কর্মের কথা ঠিকই জানতে পারবে।

27যে মানুষ অন্য মানুষকে ফাঁদে ফেলতে চায় সে নিজেই নিজের ফাঁদে পড়ে। যে ব্যক্তি অন্য লোকের ওপর পাথর গড়িয়ে ফেলতে চায় সে নিজেই সেই পাথরের তলায় পিষে যায়।

28মিথ্যাবাদীরা তাদের দ্বারা নিপীড়িত লোকদের ঘৃণা করে। যারা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে তারা ধ্বংস আনে।

27

1তোমার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মিথ্যে অহঙ্কার করো না। কারণ কাল কি হবে তা তোমার অজানা।

2কখনও নিজের প্রশংসা নিজে করো না, অন্যকে তা করতে দাও।

3একখণ্ড ভারী পাথর বা বালি বয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন। কিন্তু একজন মূর্খের ক্রোধের ফলস্বরূপ যে সংকটগুলি সৃষ্টি হয় তা সহ্য করা আরো কঠিন।

4ক্রোধ নিষ্ঠুর ও নীচ এবং ধ্বংসের কারণ। কিন্তু ঈর্ষা এর থেকেও খারাপ।

5গুপ্ত প্রেম অপেক্ষা খোলাখুলি সমালোচনা ভাল।

6একজন বন্ধু তোমাকে তিরস্কার করে হয়তো আঘাত করতে পারে, কিন্তু সেটা তোমার নিজেরই ভালোর জন্য। কিন্তু একজন শত্রু যখন তোমাকে আঘাত করতে চায় তখন সে সদয় হয়ে মধুর ব্যবহার করে।

7যদি তোমার খিদে না থাকে তবে তুমি মধুও খাবে না। কিন্তু যদি তোমার খিদে পায় তবে তুমি যে কোন খাবার, খারাপ খেতে হলেও খাবে।

8বাড়ী থেকে দূরে থাকা একজন ব্যক্তি হল নীড় থেকে দূরে থাকা একটি পাখীর মত।

9একটি সুগন্ধি সৌরভ একজনকে খুশী করতে পারে। কিন্তু একজন ভালো বন্ধু জীবনত্রাণ কারক উপদেশের চেয়েও মিষ্টি।

10তোমার নিজের পিতার ও তোমার পিতার বন্ধুদের কথা কখনও ভুলো না। যদি তুমি সমস্যায় পড়ো তাহলে ঘর থেকে অনেক দূরে ভাইয়ের বাড়িতে সাহায্য চাইতে না গিয়ে তোমার প্রতিবেশীর কাছে সাহায্য চাও।

11হে পুত্র, তুমি জ্ঞানী হয়ে আমাকে সুখী করো। তাহলেই আমি আমার সমালোচকদের সমালোচনার জবাব দিতে পারব।

12যে জ্ঞানী সে বিপদের সম্ভাবনা দেখলে দূরে সরে যায় কিন্তু মূর্খ যোদ্ধা গিয়ে বিপদে ঝাঁপ দেয় এবং দুর্ভোগ পোহায়।

13তুমি যদি অপরের ঋণের দায়িত্ব নাও তাহলে তুমি তোমার নিজের বস্ত্র হারাবে।

14ভোর বেলা চিৎকার করে, “সুপ্রভাত” বলে সম্ভাষণ জানিয়ে তোমার প্রতিবেশীদের জাগিয়ে তুলো না! সে এটাকে আশীর্বাদ না ভেবে অভিশাপ ভাববে।

15একজন ঝগড়াটে স্ত্রী হল বর্ষার দিনে অবিরাম ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়ার মতো। 16ঐ ধরণের স্ত্রীলোককে থামাতে যাওয়া হাওয়ার গতি রোধ করবার চেষ্টা করবার মতো। এ হল অনেকটা হাত দিয়ে তেল মুঠো করে ধরার চেষ্টা করবার মতো।

17একটি লোহা আর এক টুকরো লোহার ওপর রেখে ছুরিতে ধার দেওয়া হয়। একই রকম ভাবে, বন্ধুরা পরস্পরকে সংশোধন করতে গিয়ে নিজেদের বিচক্ষণ করে তোলে।

18যে মানুষ ডুমুর গাছের যত্ন নেয় সে তার ফলও ভোগ করে। এইভাবেই, যে ব্যক্তি তার প্রভুর সেবা করে, সে তার জন্য পুরস্কৃত হবে। তার মনিব তার দেখাশোনার ভার নেন।

19ঠিক যে ভাবে জলের দিকে তাকালে একজন মানুষ নিজের চেহারা দেখতে পায় ঠিক সে ভাবেই একজন মানুষের মনের দিকে তাকালে তার স্বরূপ চেনা যায়।

20মানুষের বাসনা কখনও পরিতৃপ্ত হয় না, একই রকম ভাবে, মৃত্যু ও ধ্বংসের স্থল তাদের কাছে ইতিমধ্যেই যা আছে তার থেকে সব সময় বেশী চায়।

21মানুষ যেমন আগুনের দ্বারা সোনা ও রূপো পরিশুদ্ধ করে ঠিক সে ভাবেই মানুষের প্রশংসার দ্বারা একজন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করা হয়।

22তুমি একজন মূর্খকে পিষে গুঁড়ো করে ফেললেও কখনও তার বোকামি ঘোচাতে পারবে না।

23তোমার মেষ ও ছাগলের পালের ওপর সতর্ক প্রহরার নজর রাখো। তাদের সমস্ত প্রয়োজনের প্রতি যত্ন নিও। 24শুধু সম্পদই নয়, কোন দেশও চিরস্থায়ী নয়। 25খড় কেটে ফেল আবার নতুন ঘাস গজাবে। পাহাড়ের গায়ে গজানো ঘাস কেটে ফেল। 26তোমার মেষদের গা থেকে পশম নিয়ে পোশাক তৈরী করো। তুমি তোমার কিছু ছাগল বিক্রি করে দিয়ে কিছুটা জমি কেনো। 27তোমার ও তোমার পরিবারের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে ছাগলের দুধ থাকবে। এতে তোমার স্ত্রী, ভৃত্যরা স্বাস্থ্যবতী হবে।

28

1মন্দ লোকরা সব কিছুকেই ভয় পায়। কিন্তু ভাল লোকরা হয় সিংহের মত সাহসী।

2একটি বিদ্রোহী দেশে অনেক অযোগ্য নেতা থাকে যারা খুব অল্পদিনের জন্য শাসন করে। কিন্তু যদি একজন বিচক্ষণ ও জ্ঞানী মানুষ নেতা হয় তাহলে স্থায়ীত্ব বজায় থাকে।

3যে শাসক দরিদ্র প্রজাদের ওপর অত্যাচার করে সে হল সেই ভারী বৃষ্টির মতো যা শস্য নষ্ট করে।

4তুমি যদি আইন না মানো তাহলে তুমি মন্দ লোকদের পক্ষ নাও। কিন্তু যদি তুমি আইন মানো তাহলে তুমি মন্দ লোকদের বিপক্ষে যাবে।

5মন্দ লোক ন্যায় বোঝে না। যে সব মানুষ প্রভুকে ভালোবাসে তারাই শুধু এর অর্থ বোঝে।

6ধনী ও অসৎ‌ হওয়া অপেক্ষা দরিদ্র ও সৎ‌ হওয়া ভাল।

7যে আইন মেনে চলে সে বুদ্ধিমান। কিন্তু যে ব্যক্তি অপদার্থ লোকদের বন্ধু হয় সে তার পিতার লজ্জার কারণ হয়।

8তুমি যদি দরিদ্রদের ঠকিয়ে চড়া হারে তাদের থেকে সুদ নিয়ে ধনী হও তাহলে তোমার ঐশ্বর্য অন্য আর এক জন এসে অধিকার করে নেবে, যে দরিদ্রদের প্রতি দয়ালু।

9যে ব্যক্তি ঈশ্বরের শিক্ষামালায় কান দেয় না, তার প্রার্থনা ঈশ্বর দ্বারা গ্রাহ্য হবে না।

10একজন মন্দ লোক একজন ভাল লোককে সংকটে ফেলবার পরিকল্পনা করতে পারে, কিন্তু সে তার নিজের ফাঁদে নিজেই পড়বে। ভাল লোকের ভালই হবে।

11ধনী লোকরা সব সময় নিজেদের জ্ঞানী মনে করে। কিন্তু একজন দরিদ্র ব্যক্তি যে জ্ঞানী সে ঐ গর্বিত ধনী লোকটির সম্বন্ধে সত্যটি বুঝতে পারে।

12ভালো লোক নেতা হলে সকলেই সুখী হয় কিন্তু মন্দ লোককে নেতা নির্বাচন করলে সব লোক লুকিয়ে পড়ে।

13যে ব্যক্তি পাপ গোপন করে সে কখনও সফল হয় না। কিন্তু যে ব্যক্তি তার অন্যায় স্বীকার করে তা থেকে বিরত হয় সে ঈশ্বরের করুণা পায়।

14যে ব্যক্তি প্রভুকে শ্রদ্ধা করে সে তার আশীর্বাদ পায়। কিন্তু যে ব্যক্তি প্রভুকে ভক্তি করবে না বলে জেদ ধরে থাকে তাকে সমস্যায় পড়তে হয়।

15যখন একজন দুষ্ট শাসক অসহায় লোকদের ওপর শাসন করে তখন সে হয়ে ওঠে একটি হিংস্র ভালুক বা একটি সিংহের মত যে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত।

16যে শাসক জ্ঞানী নয় তিনি তাঁর অধীনস্থ মানুষদের আঘাত করবেন। কিন্তু যে শাসক সৎ‌ এবং ঠকানোকে ঘৃণা করেন তিনি দীর্ঘদিন রাজত্ব করবেন.

17যে ব্যক্তি খুনের দায়ে অপরাধী সে কখনও শান্তি পাবে না। তাকে কখনও সমর্থন করো না।

18যদি একজন মানুষ সঠিক পথে থাকে তবে সে নিরাপদে থাকবে। কিন্তু যে মন্দ হবে সে তার ক্ষমতা হারাবে।

19যে মানুষ কঠোর পরিশ্রম করে সে প্রচুর খেতে পাবে। কিন্তু যে ব্যক্তি সময় নষ্ট করে সে সর্বদা দরিদ্রই থেকে যাবে।

20যে ব্যক্তি ঈশ্বরকে অনুসরণ করে ঈশ্বর তাকে আশীর্বাদ করবেন। কিন্তু যে শুধুই ঐশ্বর্যের পিছনে ছোটে তাকে শাস্তি পেতে হয়।

21একজন বিচারকের ন্যায়পরায়ণ হওয়া উচিৎ‌। তাঁর কখনও পক্ষপাতিত্ব দেখানো উচিৎ‌ নয়। কিন্তু কিছু বিচারক অল্প টাকার জন্য তাঁদের বিচার পাল্টে ফেলেন।

22একজন স্বার্থপর মানুষ শুধুই ধনলাভ করতে চায়। সে বুঝতে পারে না যে তার লোভ তাকে দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর করে ফেলবে।

23তুমি যদি কাউকে তার ভুল ধরিয়ে দিয়ে সাহায্য কর তাহলে সে তোমার ওপর খুশী হবে। মিথ্যে স্তোক বাক্য বলার চেয়ে এটা করা বরং শ্রেয়।

24কিছু মানুষ তাদের পিতামাতার কাছ থেকে চুরি করে। তারা নিজেদের এই বলে প্রতিরক্ষা করে: “এটা অন্যায় নয়।” কিন্তু এরা সবচেয়ে বেশী হিংসাত্মক অপরাধীর মতই খারাপ লোক।

25একজন স্বার্থপর মানুষ সমস্যার সৃষ্টি করে। কিন্তু যে প্রভুর ওপর বিশ্বাস রাখে সে পুরস্কৃত হয়।

26যে মানুষ নিজের ওপর বিশ্বাস রাখে সে মূর্খ। কিন্তু যদি কোন মানুষ জ্ঞানী হয়, তবে সে বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়ে যাবে।

27যদি কোন ব্যক্তি দরিদ্রদের দান করে তবে তার যা প্রয়োজন তাই সে পাবে। কিন্তু যে দরিদ্রদের সাহায্য করতে অস্বীকার করবে সে নানা সমস্যায় পড়বে।

28যদি একজন মন্দ লোককে শাসক হিসেবে নির্বাচন করা হয় তাহলে সবাই লুকিয়ে পড়ে। কিন্তু সেই মন্দ লোক পরাজিত হলে আবার ভাল লোকের কর্ত্তৃত্ব ফিরে আসে।

29

1যে ব্যক্তি প্রায়ই তিরস্কৃত হয় কিন্তু জেদ ধরে থাকে তাকে হঠাৎ‌‌ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয় এবং সে তার থেকে রক্ষা পাবে না।

2যখন শাসক ভালো হয় তখন সবাই সুখে থাকে। কিন্তু মন্দ লোক কর্ত্তৃত্ব করলেই সকলে অভিযোগ জানায়।

3যে ব্যক্তি জ্ঞানলাভে আগ্রহী সে তার পিতার সুখের কারণ হয়। কিন্তু যে ব্যক্তি বেশ্যালয়ে গিয়ে অর্থ ব্যয় করে সে অচিরেই তার ঐশ্বর্য হারাবে।

4যদি রাজা ন্যায়পরায়ণ হন তবে সে দেশ শক্তিশালী হয়ে উঠবে। কিন্তু রাজা যদি জোর করে খুব ভারী কর প্রজার ওপর চাপান, তাহলে সেই দেশ দুর্বল হয়ে পড়বে।

5যে মানুষ অন্য লোকদের তোষামোদ করে নিজের কার্য সিদ্ধ করতে চায় সে নিজের ফাঁদ নিজেই পাতে।

6মন্দ লোকরা তাদের নিজেদের কুকর্মের ফাঁদে পড়ে। কিন্তু একজন ভাল মানুষ মনের সুখে গান গাইতে পারে।

7ভালো লোক দরিদ্র মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে চায়, কিন্তু মন্দ লোক তাদের নিয়ে মাথাই ঘামায় না।

8উদ্ধত লোকরা একটি শহরে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে, কিন্তু জ্ঞানী লোকরা জ্বলন্ত ক্রোধকে নির্বাপিত করে।

9যদি একজন জ্ঞানী একজন মূর্খের সঙ্গে আলোচনা করে কোন সমস্যা মেটাতে চায় তাহলে সেই মূর্খ বোকার মতো তর্ক করতে থাকবে এবং তারা কখনোই এক মত হতে পারবে না।

10খুনীরা সর্বদাই সৎ‌ লোকদের ঘৃণা করে। মন্দ লোকরা সর্বদা ভাল লোকদের মেরে ফেলতে চেষ্টা করে।

11একজন বোকা লোক সহজেই রেগে যায় কিন্তু জ্ঞানী মানুষ ধৈর্য্য ধরে নিজেকে সামলে রাখে।

12একজন শাসক যদি মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেয় তবে তার কর্মচারীরা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে উঠবে।

13একদিক থেকে দেখলে একজন দরিদ্র ব্যক্তি, আর একজন যে দরিদ্রদের কাছ থেকে চুরি করে, তারা একই; তারা দুজনেই প্রভুর সৃষ্টি।

14যে রাজা দরিদ্রদের প্রতি ন্যায়পরায়ণ সে দীর্ঘকাল রাজত্ব করবে।

15শাস্তি ও অনুশাসন দুইই শিশুদের পক্ষে ভাল। যদি কোন শিশুর অভিভাবক তাকে যা খুশী তাই করতে দেয় তবে সে তার মায়ের লজ্জার কারণ হয়।

16যদি মন্দ লোকরা কর্ত্তৃত্ব করে তাহলে চতুর্দিকে পাপ কাজ হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভালো মানুষদের জয় হবেই।

17তোমার পুত্র অন্যায় করলে তাকে শাস্তি দিও। তাহলে তাকে নিয়ে তুমি গর্ব করতে পারবে এবং সে তোমাকে কখনও লজ্জায় ফেলবে না।

18যে দেশ ঈশ্বর দ্বারা পরিচালিত নয়, সেখানে কখনও শান্তি আসবে না। যে দেশ ঈশ্বরের বিধি মেনে চলে সেখানে সুখ বিরাজ করে।

19তুমি শুধু কথা বলে তোমার ভৃত্যকে কিছু শেখাতে পারবে না। সে তোমাকে বুঝলেও অবজ্ঞা করতে পারে।

20যে ব্যক্তি চিন্তা-ভাবনা না করে কথা বলে তার কোন আশা নেই। ঐ ব্যক্তির চেয়ে বরং একজন মূর্খের কিছু আশা থাকে।

21তুমি যদি সব সময় তোমার ভৃত্য যা চায় তাই দিয়ে দাও, সে শেষ পর্যন্ত একজন ভালো ভৃত্য থাকবে না।

22একজন রাগী মানুষ সমস্যার সৃষ্টি করে। যে খুব সহজেই রেগে যায় সে নানা অপরাধে দায়ী হয়।

23যদি একজন ব্যক্তি নিজেকে অন্যদের তুলনায় অনেক ভালো মনে করে তাহলে সে নিজের পতনের কারণ হয়। কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি বিনয়ী হয় তাহলে লোকে তাকে শ্রদ্ধা করে।

24দুজন চোর এক সঙ্গে কাজ করলেও একে অপরের শত্রু হয়। একজন চোর আরেক জনকে শাসাবে যাতে যদি সে আদালতের চাপে সত্যি কথা বলতেও চায় তবুও ভয়েই বলতে পারে না।

25ভয় হল ফাঁদের মতো। কিন্তু যদি তুমি প্রভুর ওপর বিশ্বাস রাখো তাহলে তুমি নিরাপদে থাকবে।

26অনেক মানুষই রাজার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চায়। কিন্তু প্রভু সব সময় মানুষকে ন্যায্য বিচার দেন।

27ভালো মানুষরা অসৎ‌ মানুষকে ঘৃণা করে এবং মন্দ লোকরা সৎ‌ মানুষদের ঘৃণা করে।

30

যাকির পুত্র আগূরের হিতোপদেশ

1এগুলি হল ঈথীয়েল ও উকলের প্রতি যাকির পুত্র আগূরের হিতোপদেশ।

2আমি একজন বোকা লোক। আমি অন্যদের চেয়েও বেশী বোকা। আমার যে ভাবে বোঝা উচিৎ‌ আমি সে ভাবে বুঝতে পারি না। 3আমি জ্ঞান লাভ করি নি এবং আমি ঈশ্বর বিষয়েও কিছু জানি না। 4কোন মানুষই কখনও স্বর্গের কাছ থেকে শেখে নি। কোন মানুষই কখনও হাত দিয়ে হাওয়া ধরতে পারে নি। কেউই কখনও এক টুকরো কাপড় দিয়ে জল ধরে রাখতে পারে নি। কোন মানুষ পৃথিবীর সীমানা নির্ধারণ করে দেয় নি। যদি কোন ব্যক্তি এসব করে থাকে, তবে তার নাম কি? এবং তার পুত্রের নাম কি?

5ঈশ্বর যা বলেন তা সত্য বলে প্রমাণিত হয়। যারা ঈশ্বরের কাছে যায় তারা নিরাপদে থাকে। 6তাই ঈশ্বর যা বলেন তা পাল্টাবার চেষ্টা কোরো না। তুমি যদি তা কর তাহলে ঈশ্বর তোমাকে শাস্তি দেবেন এবং প্রমাণ করে দেবেন যে তুমি মিথ্যাবাদী।

7প্রভু, তোমাকে আমি মৃত্যুর আগে আমার জন্য দুটি কাজ করতে বলব। 8আমাকে মিথ্যা না বলতে সাহায্য কর। আর আমাকে খুব বেশী ধনী বা দরিদ্র কোরো না। আমাকে শুধু আমার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো দিযো। 9যদি আমার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস থাকে তাহলে আমি ভাবব যে তোমাকে আমার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমি যদি দরিদ্র হই, তাহলে আমি হয়ত চুরি করতে পারি এবং তা ঈশ্বরের নামকে লজ্জিত করবে।

10কখনও মনিবের কাছে তার ভৃত্যের দুর্নাম কোরো না। যদি তুমি তা কর, তাহলে মনিবটি তোমাকে অবিশ্বাস করবে এবং তোমাকেই দোষী সাব্যস্ত করবে।

11কিছু মানুষ তাদের পিতার বিরুদ্ধে কথা বলে এবং মাকে সম্মান দেয় না।

12কিছু মানুষ মনে করে তারা ভাল, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা মন্দ।

13কিছু মানুষ নিজেদের অপরের তুলনায় অনেক ভাল মনে করে।

14কিছু মানুষের দাঁত তরবারির মতো এবং তাদের চোয়াল ছুরির মতো। এরা দরিদ্রদের থেকে চুরি করবার জন্য তাদের সময়ের সদ্ব্যবহার করে।

15কিছু মানুষ আছে যারা যত পায় তত চায়। তারা কেবল, “আমাকে দাও,” “আমাকে দাও” বলে চিৎকার করে। তিনটি জিনিস আছে বা প্রকৃত পক্ষে চারটি বস্তু আছে যাদের কখনও চাহিদা পূরণ হয় না: 16এরা হল মৃত্যুর স্থান, বন্ধ্যা স্ত্রীলোক, বৃষ্টির অভাবে শুষ্ক জমি এবং উত্তপ্ত আগুন যা থামানো যায় না।

17যে ব্যক্তি তার পিতাকে বিদ্রূপ করে বা তার মাকে মান্য করতে চায় না সে শাস্তি পাবে। তার চোখগুলি যেগুলি ভর্তসনাপূর্ণ দৃষ্টিতে তার অভিভাবকদের দিকে দেখেছে সেগুলো উপড়ে নেওয়া হবে এবং শকুন ও দাঁড় কাকদের খাওয়ানো হবে।

18তিনটি জিনিস আছে যা আমার পক্ষে বোঝা শক্ত; প্রকৃতপক্ষে চারটি জিনিস আছে যা আমার বোধগম্য হয় না: 19যেমন আকাশে বিচরণকারী ঈগলপাখী, পাথরের ওপর সাপের আঁকাবাঁকা গতিবিধি, সমুদ্রে পারাপার করা জাহাজ এবং পুরুষ ও নারীর প্রেম হল সেই চারটি বস্তু।

20একজন অবিশ্বাসী স্ত্রী এমন ভাব দেখায় যেন সে কোন অন্যায় করে না। সে স্নান করে, খায় এবং বলে সে কোন ভুল কাজ করে নি।

21তিনটি জিনিস আছে যার জন্য পৃথিবীতে সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং প্রকৃতপক্ষে চারটি জিনিস আছে যা পৃথিবী সহ্য করতে পারে না, 22এরা হল: একজন ভৃত্যের রাজা হওয়া, একজন মূর্খের কাছে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস থাকা, 23স্ত্রীলোকের মন ঘৃণায় পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তার একজন স্বামী পাওয়া এবং একজন স্ত্রী ভৃত্যর তার মনিব ঠাকরুণের ওপর কর্তৃত্ব পাওয়া।

24পৃথিবীতে চারটি এমন বস্তু আছে যা ক্ষুদ্র হলেও জ্ঞানী।

25পিঁপড়েরা ক্ষুদ্র এবং দুর্বল কিন্তু তারা গ্রীষ্মকালে তাদের খাবার সংগ্রহ করে এবং সঞ্চয় করে রাখে।

26এক জাতীয় বেঁজি আছে যারা ক্ষুদ্র হলেও পাথরে ঘর বাঁধে।

27পঙ্গপালদের কোন রাজাই নেই কিন্তু তবুও তারা একত্রে কাজ করে।

28টিকটিকি এতই ছোট যে হাতের মুঠোয় ধরা যায় কিন্তু তাদের রাজপ্রাসাদেও বাস করতে দেখা যায়।

29হাঁটা অবস্থায় তিনটি জিনিস আকর্ষক। প্রকৃতপক্ষে, চারটি জিনিস।

30সেগুলি হল: একটি সিংহ (পশুদের রাজ্যের যোদ্ধা, যে কোন কিছু থেকে দৌড়ে পালায় না।)

31গর্বিতভাবে হেঁটে যাওয়া মোরগ;

ছাগল

এবং প্রজাদের মাঝখানে রাজা।

32তুমি যদি বোকার মতো গর্বিত হয়ে ওঠো এবং অন্যদের বিরুদ্ধে কু-মতলব আঁটো, তোমাকে থামতে হবে এবং চিন্তা করতে হবে তুমি কি করছ।

33যদি কোন ব্যক্তি দুধ মন্থন করে সে মাখন পায়। যদি সে অপরের নাকে আঘাত করে তা থেকে রক্তক্ষরণ হয়। ঠিক এভাবেই যদি তুমি একজন রাগী মানুষের সঙ্গে বিরোধ কর তাহলে তা লড়াইতে পরিণত হবে।

31

লমূয়েল রাজার হিতোপদেশ

1এগুলি হল লমূয়েল রাজার হিতোপদেশ যা তাঁকে তাঁর মা শিখিয়েছিলেন।

2তুমি আমার প্রিয় পুত্র, যার জন্য আমি প্রার্থনা করেছিলাম। 3স্ত্রীলোকের পিছনে শক্তিক্ষয় কোরো না কারণ তারা অনেক রাজার ধ্বংসের কারণ। 4লমূয়েল, রাজাদের পক্ষে দ্রাক্ষারস পান করা বিজ্ঞজনোচিত নয়, শাসকের পক্ষে সুরা পান করা বিজ্ঞজনোচিত নয়। 5তারা দ্রাক্ষারস পান করে সমস্ত আইন ভুলে গিয়ে দরিদ্রদের ওপর অত্যাচার করতে পারে, তাদের অধিকার কেড়ে নিতে পারে। 6 যারা দরিদ্র, যারা সমস্যায় জর্জরিত তাদের দ্রাক্ষারস পান করতে দাও যাতে তারা তাদের দুঃখকষ্ট ভুলে যেতে পারে।

8যে ব্যক্তি নিজেকে সাহায্য করতে পারে না তাকে সাহায্য করা উচিৎ‌। যে কথা বলতে পারে না এমন কারো হয়ে কথা বলো। দুর্বল লোকদের অধিকার রক্ষা কর। 9যা তুমি সঠিক বলে মনে কর তার পক্ষ নিয়ে দাঁড়াও। সব মানুষের প্রতি ন্যায় বিচার কর। দরিদ্রদের এবং সাহায্য প্রার্থীদের অধিকার রক্ষা কর।

একজন যথার্থ স্ত্রী

10একজন যথার্থ স্ত্রী+ 31:10 যথার্থ স্ত্রী অথবা “এক সম্ভ্রান্ত স্ত্রী।” সত্যিই দুর্লভ।

কিন্তু সে অলঙ্কারের চেয়েও মূল্যবান।

11তার স্বামীর তার ওপর পূর্ণ আস্থা আছে।

সে কখনও দরিদ্র হবে না।

12এই ধরণের স্ত্রী তার স্বামীর কাছে সমস্ত জীবনের একটি পুরস্কার স্বরূপ,

বোঝা নয়।

13সে পশম ও মসীনা সংগ্রহ করে

এবং খুশী মনে তার নিজের হাতে বিভিন্ন জিনিস বানায়।

14দূর দেশ থেকে আসা এক জাহাজের মতো

সে বাড়ির জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে।

15সে প্রত্যেক দিন ভোরবেলা উঠে

তার পরিবারের জন্য রান্না করে এবং ভৃত্যদের ভাগ তাদের দিয়ে দেয়।

16সে একটি জমি পর্যবেক্ষণ করে এবং তারপর সেটা ক্রয় করে।

সে তার অর্জিত অর্থ ব্যয় করে এবং দ্রাক্ষাক্ষেত বপন করে।

17সে হয় কঠোর পরিশ্রমী

এবং সমস্ত রকম কাজে সক্ষম।

18সে যখনই তার নিজের তৈরী জিনিসের ব্যবসা করে

তখনই লাভ করে।

19সে সুতো কাটে

এবং নিজের কাপড় বোনে।

20সে সব সময় দরিদ্র

ও সাহায্য প্রার্থীদের দান করে।

21শীতে যখন বরফ পড়ে তখন সে পরিবারের জন্য দুশ্চিন্তা করে না।

সে তাদের সবাইকে ভাল গরম কাপড় দেয়।

22সে বিছানায় পাতার জন্য চাদর তৈরী করে

এবং সে দামী মসলিনের বস্ত্র পরে।

23তার স্বামী হয় দেশের নেতাদের একজন

যাকে সকলেই শ্রদ্ধা করে।

24তার ব্যবসায়িক দক্ষতা থাকে

এবং সে বস্ত্র ও বন্ধনী তৈরী করে ব্যবসায়িকদের কাছে বিক্রি করে।

25সে প্রশংসিত হয়+ 31:25 সে প্রশংসিত হয় অথবা “সে শক্তিশালী।” এবং মানুষ তাকে সম্মান করে।

সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়।

26সে বিশাল জ্ঞান নিয়ে কথা বলে

এবং মানুষকে স্নেহময় ও দয়ালু হতে শেখায়।

27সে কখনও আলস্য দেখায় না

এবং তার গৃহের সমস্ত জিনিসের দেখাশোনা করে।

28তার সন্তানরা তার প্রশংসা করে,

তার স্বামী তাকে নিয়ে গর্ব করে বলে,

29“আরো অনেক ভালো স্ত্রীলোক আছে,

কিন্তু তুমি তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।”

30রূপলাবণ্য তোমাকে লোকদের সামনে ঠকাতে পারে।

কিন্তু যে স্ত্রীলোক প্রভুকে শ্রদ্ধা করে তাকে অবশ্যই প্রশংসা করা উচিৎ‌।

31তাকে তার যোগ্য পুরস্কার দাও।

তার কাজের জন্য সর্বসমক্ষে তার গুণগান কর।