নহিমিয়র পুস্তক

1

নহিমিয়র প্রার্থনা

1এগুলি হখলিয়ের পুত্র, নহিমিয়ের গল্প: রাজা অর্তক্ষস্তর রাজত্বের 20 বছরের মাথায়, কিশ্লেব মাসে আমি শূশনের রাজধানীতে ছিলাম। 2এসময়ে হনানি নামে আমার এক ভাই ও আরো কিছু ব্যক্তি যিহূদা থেকে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। আমি তখন তাদের জেরুশালেম শহরটি সম্পর্কে ও যে সব ইহুদীরা বন্দীদশা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছিল এবং তখনও যিহূদায় ছিল, তাদের সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম।

3হনানি ও তার সঙ্গে যে লোকরা ছিল তারা আমাকে বলল, “যে সমস্ত ইহুদী বন্দীদশা এড়াতে পেরেছিল এবং যিহূদায় বাস করছে, তারা সংকট ও লজ্জার মধ্যে দিয়ে বাস করছে। কেন? কারণ জেরুশালেমের প্রাচীর ভেঙে পড়েছে এবং দরজাগুলি আগুনে পুড়ে গেছে।”

4জেরুশালেম ও সেখানকার বাসিন্দাদের সম্পর্কে একথা শোনার পর আমার খুবই মন খারাপ হয় এবং আমি বসে পড়ে কাঁদতে শুরু করি। ভারাক্রান্ত মনে, আমি কিছুদিন ধরে উপবাস করতে ও স্বর্গের ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে শুরু করলাম। 5এই বলে আমি প্রার্থনা করেছিলাম:

“হে প্রভু, স্বর্গের ঈশ্বর, আপনি মহান ও ক্ষমতাবান। যারা আপনাকে ভালবাসে ও বিশ্বস্তভাবে আপনার আজ্ঞা পালন করে তাদের সঙ্গে আপনি আপনার ভালবাসার চুক্তি সবসময়ে বজায় রাখেন। হে প্রভু অনুগ্রহ করে আপনার ভক্তের প্রার্থনা শ্রবণ করন।

6“আমি আপনার সামনে আপনার দাস, ইস্রায়েলের লোকদের জন্য প্রার্থনা করছি। আমরা, ইস্রায়েলের লোকরা, আপনার বিরুদ্ধে যে পাপসমূহ করেছি আমি তা স্বীকার করছি। আমি ও আমার পিতৃপুরুষরা যে পাপ করেছি তাও স্বীকার করছি। 7আমরা, ইস্রায়েলীয়রা আপনার সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেছি। আপনি আপনার দাস মোশিকে যে সকল আজ্ঞা, শিক্ষামালা ও বিধি দিয়েছিলেন তা আমরা পালন করি নি।

8“হে প্রভু, আপনার দাস মোশিকে আপনি যে নির্দেশগুলি দিয়েছিলেন দয়া করে তা স্মরণ করুন। আপনি বলেছিলেন, ‘তোমরা, ইস্রায়েলের লোকরা যদি আমার প্রতি অবিশ্বস্ত হও তাহলে আমি তোমাদের বিভিন্ন জাতি সমূহের মধ্যে ছড়িয়ে দেব। 9কিন্তু তোমরা যদি আমার কাছে ফিরে আস এবং আমার আদেশগুলি মেনে চলো, তাহলে তোমাদের মধ্যে যারা পৃথিবীর প্রান্ত দেশে নির্বাসিত হয়ে রয়েছে তাদের আমি জড়ো করব এবং যে জায়গাটি আমি আমার নাম স্থাপন করার জন্য মনোনীত করেছি সেই জায়গায় তাদের ফিরিয়ে আনব।’

10“ইস্রায়েলীয়রা আপনার দাস ও আপনার লোক। আপনি আপনার মহান ক্ষমতা প্রয়োগ করে এদের রক্ষা করেছেন। 11হে প্রভু, আপনাকে আমার বিনীত অনুরোধ আপনি আমার, আপনার দাসের এবং যেসব দাসরা আপনার নামের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চায়, তাদের প্রার্থনা শুনুন।”

হে প্রভু, আপনি জানেন, আমি রাজার পানপাত্রবাহক।+ 1:11 পানপাত্রবাহক পানপাত্রবাহক সবসময় রাজার খুবই ঘনিষ্ট হত কারণ তার কাজ ছিল রাজার দ্রাক্ষারস প্রথমে চেখে দেখা, যাতে কেউ রাজাকে বিষ পান করাতে না পারে। আজ আমি যখন কৃপাপ্রার্থী হিসেবে রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাব আপনি আমার সহায় থাকবেন, যাতে রাজা আমাকে অনুগ্রহ করেন।

2

রাজা অর্তক্ষস্ত নহিমিয়কে জেরুশালেমে পাঠালেন

1রাজা অর্তক্ষস্তের রাজত্বের 20তম বছরের নীসন মাসে, যখন রাজাকে দ্রাক্ষারস নিবেদন করা হল, আমি দ্রাক্ষারসটি নিলাম এবং রাজাকে দিলাম। এর আগে তার সঙ্গে থাকাকালীন রাজা কখনও আমাকে বিষাদগ্রস্ত দেখেন নি, কিন্তু সেদিন আমি সত্যিই বিষাদগ্রস্ত হয়েছিলাম। 2রাজা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার কি শরীর খারাপ? তোমাকে এতো বিষাদগ্রস্ত লাগছে কেন? মনে হচ্ছে, তোমার হৃদয় বিষাদে পরিপূর্ণ।”

তখন আমি খুব ভয় পেলেও রাজাকে বললাম, 3“মহারাজ দীর্ঘজীবি হোন! আমার মন ভারাক্রান্ত কারণ যে শহরে আমার পূর্বপুরুষরা সমাধিস্থ, সেই শহর আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং সেই শহরের ফটকগুলি আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়েছে।”

4তখন রাজা আমাকে রশ্ন করলেন, “তুমি আমাকে দিয়ে কি করাতে চাও?”

আমি আমার ঈশ্বরকে প্রার্থনা করে 5রাজাকে বললাম, “রাজা যদি আমাকে নিয়ে সত্যিই খুশী থাকেন এবং তাঁর যদি ইচ্ছে হয়, তবে দয়া করে আমাকে যিহূদায় জেরুশালেমে পাঠান যে শহরে আমার পূর্বপুরুষরা সমাধিস্থ হয়েছিলেন যাতে আমি শহরটি আবার গড়ে তুলতে পারি।”

6মহারাজের পাশেই রাণী বসেছিলেন। তাঁরা দুজন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার এই সফরের জন্য কত সময় লাগবে? কবে আবার তুমি এখানে এসে পৌঁছতে পারবে?”

রাজা যেহেতু আমায় খুশি মনে বিদায় দিলেন, আমি তাঁকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিলাম। 7আমি রাজাকে এও জিজ্ঞাসা করলাম, “রাজা যদি সন্তুষ্ট থাকেন, দয়া করে আমাকে কয়েকটি চিঠি দিন যাতে যিহূদা যাওয়ার পথে ফরাৎ নদীর পশ্চিম পারের অঞ্চল পার হবার সময় আমি রাজ্যপালদের দেখাতে পারি। 8এছাড়াও আপনার বনবিভাগের আধিকারিক আসফকে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি চিঠিও আমার দরকার, যাতে সে আমাকে শহরের ফটকগুলি, শহরের প্রাচীরসমূহ, মন্দিরের দেওয়ালসমূহ ও আমার নিজের বাসস্থান নির্মাণের জন্য আমাকে কাঠ দেয়।”

রাজা আমাকে সব কিছু প্রয়োজনীয় চিঠি দিয়ে অনুগৃহীত করলেন। ঈশ্বর আমার প্রতি সদয় ছিলেন বলেই রাজা আমার জন্য এসব করেছিলেন।

9তারপর আমি যখন ফরাৎ নদীর পশ্চিমাঞ্চলে এলাম, সেখানকার রাজ্যপালদের আমি পত্রগুলি দেখালাম। রাজা আমার সঙ্গে কয়েক জন সামরিক পদস্থ ব্যক্তি ও অশ্বারোহী সৈন্যও পাঠিয়েছিলেন। 10আধিকারিকগণ, হোরোণের সন্‌বল্লট ও অম্মোনের ক্রীতদাস টোবিয় যখন আমার আসার খবর পেল এবং শুনল যে ইস্রায়েলীয়দের আমি সাহায্য করতে এসেছি তখন তারা বিরক্ত ও ক্রুদ্ধ হল।

নহিমিয় জেরুশালেমের প্রাচীর পর্য্যবেক্ষণ করলেন

11 জেরুশালেমে তিন দিন থাকার পর আমি এক রাতে কয়েক জনকে সঙ্গে নিয়ে বেরোলাম। জেরুশালেমের জন্য কি করার কথা ঈশ্বর আমার হৃদয়ে রেখেছিলেন সে কথা আমি কারো কাছেই প্রকাশ করিনি। যে ঘোড়াটিতে আমি চড়েছিলাম, সেটি ছাড়া আমার কাছে আর কোন ঘোড়া ছিল না। 13যখন রাত হল, আমি উপত্যকার ফটকের ভেতর দিয়ে বেরিয়ে এসে নাগকূপ ও ছাইগাদার ফটকের দিকে গেলাম। আমি নগরীর ভেঙে যাওয়া প্রাচীর এবং আগুনে ভস্মীভূত প্রাচীরের দরজাগুলি পরিদর্শন করছিলাম। 14এরপর আমি ঝর্ণার ফটক ও রাজ পুষ্করিণীতে এসে পৌঁছলাম। সেখানে আমার ঘোড়ার যাবার কোন রাস্তা ছিল না। 15তাই আমি রাতে দেওয়ালগুলো পর্যবেক্ষণ করতে করতে উপত্যকার ওপর দিক পর্যন্ত গেলাম এবং দেওয়ালটি বরাবর এগিয়ে গেলাম যতক্ষণ না উপত্যকার ফটকে এসে পৌঁছলাম। তারপর শহরে ফিরে গেলাম। 16আমি কোথায় কোথায় গিয়েছিলাম সেকথা আধিকারিকরা বা ইস্রায়েলের গন্যমাণ্য ব্যক্তিরা জানতেন না। আমি তখনও পর্যন্ত ইহুদীদের, যাজকদের, রাজপরিবারদের, আধিকারিকদের বা অন্যদের কাছে যারা কাজটি করবে, আমি কি করতে যাচ্ছি সে সম্পর্কে কিছুই প্রকাশ করিনি।

17পরে আমি তাদের বললাম, “তোমরা সকলেই দেখতে পাচ্ছ আমরা কি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। জেরুশালেম শহর আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং এর ফটকগুলি আগুনে পুড়ে গেছে। এসো, আমরা আবার জেরুশালেমের দেওয়াল গেঁথে ফেলি তাহলে আর আমাদের লজ্জার কোন কারণ থাকবে না।”

18আমি তাদের এও বললাম যে ঈশ্বর আমার মঙ্গল করেছিলেন। রাজা আমায় কি বলেছেন, সে কথাও তাদের জানালাম। তখন লোকরা বলে উঠল, “চলো আমরা পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করি!” তাই তারা এই ভাল কাজের প্রস্তুতিতে নিজেদের উৎসাহ দিল। 19কিন্তু হোরোণের সন্‌বল্লট, অম্মোনের ক্রীতদাস টোবিয় ও আরবীয় গেশম আমাদের বিদ্রূপ করে জিজ্ঞেস করল, “তোমরা কি করছো? তোমরা কি রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছো?”

20তখন আমি তাদের বললাম: “আমরা, ঈশ্বরের সেবকরা, এই শহর আবার গড়ে তুলবো। একাজে সফল হতে স্বর্গের ঈশ্বর আমাদের সাহায্য করবেন। তোমাদের পরিবারের কেউ জেরুশালেমে বাস করেনি। তোমরা কেউ আমাদের একাজে সাহায্য করতে পারবে না। এ ভূখণ্ডের সামান্যতম অংশও তোমাদের নয়। এখানে থাকার তোমাদের কোন অধিকার নেই।”

3

প্রাচীর নির্মাতাগণ

1মহাযাজক ইলীয়াশীব ও তাঁর যাজক ভাইরা কাজ শুরু করলেন এবং মেষ-দ্বারটি নির্মাণ করলেন। তারপর তাঁরা ঈশ্বরের কাছে সেটি পবিত্র বস্তু হিসেবে উৎসর্গীকৃত করলেন এবং তাঁরা দরজাগুলি দেওয়ালের গায়ে যথাস্থানে স্থাপন করলেন। তাঁরা একশো স্তম্ভ এবং হননেলের স্তম্ভ পর্যন্ত জেরুশালেমের প্রাচীর নির্মাণ করলেন এবং তাঁদের কাজ ঈশ্বরকে উৎসর্গ করলেন।

2যাজকের পাশের দেওয়ালটি বানালেন যিরীহোর বাসিন্দারা। আর তার পাশেরটি বানালেন ইম্রির পুত্র সক্কূর।

3হস্সনায়ার পুত্রগণ মৎ‌স্য-দ্বারটি আবার বানাল। তারা বর্গাগুলি যথাস্থানে বসালো, ইমারতটিতে দরজা বসালো এবং তাতে ছিটকিনি ও তালাচাবি লাগালো।

4দেওয়ালের পরের অংশটি হক্কোসের পৌত্র, ঊরিয়ের পুত্র মরেমোৎ পুনর্নির্মাণ করল।

তারপর মশুল্লম, বেরিখিয়ের পুত্র মশেষবেলের পৌত্র, পরেরটি মেরামৎ‌ করল এবং তারপর দেওয়ালের পরের অংশটি বানার পুত্র সাদোক মেরামৎ‌ করল।

5দেওয়ালের পরের অংশটি যদিও তকোয়ার ব্যক্তিরা মেরামৎ‌ করল কিন্তু তাদের নেতৃবর্গ তাদের রাজ্যপাল নহিমিয়র জন্য কোন কায়িক পরিশ্রম করতে অস্বীকার করল।

6পুরোনো ফটকটি পাসেহের পুত্র যিহোয়াদা ও বসোদিয়ার পুত্র মশুল্লম মেরামত করল। তারা যথাস্থানে কড়ি-বর্গা বসিয়ে দরজায় কব্জা লাগিয়ে তাতে তালা এবং ছিটকিনি সংযোগ করল।

7গিবিয়োনীয় মলাটিয় ও মেরোণোথীয় যাদোন এবং গিবিয়োন ও মিস্পার অন্য লোকরা দেওয়ালের পরের অংশটি মেরামৎ‌ করল। গিবিয়োন ও মেরোণোথ পশ্চিম ফরাৎ জেলার রাজ্যপালের দ্বারা শাসিত হত।

8এরপরের অংশটি হর্হয়ের পুত্র উষীয়েল মেরামৎ‌ করল। উষীয়েল ছিল একজন স্বর্ণকার। হনানিয় সুগন্ধ বানাত এবং সে পরের অংশটি মেরামৎ‌ করল। ঐসব লোকরা দেওয়ালটিকে প্রশস্ত প্রাচীর অবধি গাঁথল।

9পরের অংশটি মেরামৎ‌ করল হূরের পুত্র রফায়। রফায় জেরুশালেমের অর্ধেকের রাজ্যপাল ছিলেন।

10এরপর হরূমফের পুত্র যিদায় একেবারে নিজের বাড়ির উলেটাদিক পর্যন্ত দেওয়ালটি বানালো। পরের অংশটি বানালো হশব্‌নিয়ের পুত্র হটুশ। 11হারীমের পুত্র মল্কিয় ও পহৎ—মোয়াবের পুত্র হশূব পরের অংশটি এবং চুল্লী-গম্বুজও মেরামৎ‌ করল।

12হলোহেশের পুত্র শল্লুম তার কন্যাদের সাহায্যে দেওয়ালের পরের অংশটি তৈরী করল। শল্লুম জেরুশালেমের অপর অর্ধেকের রাজ্যপাল ছিলেন।

13হানূন নামে এক ব্যক্তি এবং সানোহের লোকরা উপত্যকার ফটকটি মেরামৎ‌ করল। তারা দরজাটি কব্জার ওপর বসিয়ে তাতে তালা-চাবি দিল এবং ছাইগাদা-ফটক পর্যন্ত 500 গজ দেওয়াল মেরামৎ‌ করল।

14মল্কিয় ছিল রেখবের পুত্র এবং বৈৎ‌হক্কেরমের রাজ্যপাল। সে ছাইগাদার ফটকটি মেরামৎ‌ করল এবং ছিটকিনি ও তালাসহ দরজাটি কব্জার ওপর বসাল।

15কল্হোষির পুত্র শল্লুম ঝর্ণা-ফটকটি মেরামৎ‌ করল। শল্লুম ছিলেন মিস্পা জেলার রাজ্যপাল। তিনি ফটকটি মেরামৎ‌ করলেন এবং তার মাথায় একটি ছাদ বানালেন। তিনি এর দরজাগুলি তালা ও ছিটকিনিসহ বসালেন। এছাড়া, শল্লুম রাজবাগিচার পাশে শীলোহ পুকুরের দেওয়ালও মেরামৎ‌ করলেন। দেওয়ালটি দায়ূদ নগরের যেখান থেকে যে সিঁড়ি নেমে এসেছে সেখান পর্যন্ত তিনি মেরামৎ‌ করলেন।

16দেওয়ালের পরের অংশটি অস্বূকের পুত্র নহিমিয় মেরামৎ‌ করল। নহিমিয় বৈৎ‌সূর জেলার অর্ধেকের রাজ্যপাল ছিলেন। তিনি দায়ূদের পরিবারের সমাধিগুলোর উলেটাদিক পর্যন্ত এবং মানুষের দ্বারা তৈরী পুকুর এবং বীর-গৃহ পর্যন্ত কাজ করলেন।

17দেওয়ালের পরের অংশ বানির পুত্র রহূমের নির্দেশে লেবীয় পরিবারগোষ্ঠীরা বানাল। হশবিয় দেওয়ালের পরের অংশটি মেরামৎ‌ করল। তিনি কিয়ীলা প্রদেশের অর্ধেকের রাজ্যপাল ছিলেন। তিনি তার নিজের জেলাতেও মেরামৎ‌ করলেন।

18দেওয়ালের পরের অংশ তাঁদের ভাইরা মেরামৎ‌ করেছিল। তারা হেনাদদের পুত্র বিন্নুই এর অধীনে কাজ করেছিল। বিন্নুই কিয়ীলার অপর অর্ধেকের রাজ্যপাল ছিলেন।

19এর পরের অংশ যেশূয়ের পুত্র এসর মেরামৎ‌ করলেন। এসর মিস্পার রাজ্যপাল ছিলেন। তিনি অস্ত্রাগার থেকে প্রাচীরের একটি কোণ পর্যন্ত দেওয়াল মেরামৎ‌ করেছিলেন। 20সব্বয়ের পুত্র বারূক এক কোণ থেকে মহাযাজক ইলিয়াশীবের বাড়ির দরজা পর্যন্ত দেওয়ালের অংশটি মেরামৎ‌ করেছিল। 21ইলিয়াশীবের বাড়ির প্রবেশপথ থেকে বাড়ির অন্য প্রান্ত পর্যন্ত দেওয়ালের অংশটি হক্কোসের পৌত্র, ঊরিয়ের পুত্র মরেমোৎ মেরামৎ‌ করল। 22পরের কিছুটা অংশ ওই অঞ্চলে বসবাসকারী যাজকরা মেরামৎ‌ করলেন।

23বিন্যামীন ও হশূব যে যার নিজের বাড়ির সামনের দেওয়ালটুকু ঠিক করার পর অননিয়ের পৌত্র ও মাসেয়ের পুত্র অসরিয়ও নিজের বাড়ির সামনের দেওয়ালটুকু মেরামৎ‌ করল।

24হেনাদদের পুত্র বিন্নূয়ী অসরিয়ের বাড়ি থেকে শুরু করে দেওয়ালের বাঁক হয়ে কোণ পর্যন্ত অংশটি তুলে ফেলল।

25উষযের পুত্র পালল দেওয়ালের বাঁকে স্তম্ভের কাছে যেটি উচ্চ প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে এসেছে, যেটি আবার রাজার প্রহরীর উঠোনের কাছে অবস্থিত সেই খানে দেওয়াল তুলল। পরোশের পুত্র পদায় পাললের পরে কাজ করল।

26মন্দিরের দাসরা ওফল পাহাড়ের ওপর বাস করছিল। তারা স্তম্ভের কাছে জলদ্বারের পূর্বাংশ পর্যন্ত মেরামতের কাজগুলি করল।

27তকোয়ীর লোকরা বড় স্তম্ভটি থেকে শুরু করে ওফলের দেওয়াল পর্যন্ত দেওয়ালের বাদবাকি অংশটি মেরামৎ‌ করল।

28যাজকরা অশ্ব-দ্বারের ওপরের অংশ বানিয়ে ফেলল। প্রত্যেক যাজক যে যার নিজের বাড়ির দেওয়াল গাঁথল। 29এরপর ইম্মেরের পুত্র সাদোক নিজের বাড়ির সামনের দেওয়াল ও শখনিয়ের পুত্র শময়িয় দেওয়ালের তারপরের অংশটুকু মেরামৎ‌ করে নিল। সে ছিল পূর্ব দ্বারের জনৈক প্রহরী।

30শেলিমিয়ের পুত্র হনানিয় ও সালফের পুত্র হানূন (হানূন ছিল সালফের ষষ্ঠ পুত্র) দেওয়ালের পরের অংশ মেরামৎ‌ করল।

বেরিখিয়ের পুত্র মশুল্লম তার নিজের বাড়ির সামনে দেওয়ালের অংশ মেরামৎ‌ করল। 31মল্কিয় নামে এক স্বর্ণকার পর্যবেক্ষণ দ্বারের বিপরীতে মন্দির দাস ও ব্যবসায়ীদের বাড়ি পর্যন্ত অংশের দেওয়াল মেরামৎ‌ করল। 32বাকী অংশ অর্থাৎ‌ কোণের দিকে ওপরের ঘর থেকে মেষদ্বার পর্যন্ত অংশ স্বর্ণকাররা ও ব্যবসায়ীরা মেরামৎ‌ করল।

4

সন্‌বল্লট ও টোবিয়

1আমরা দেওয়াল পুনর্নির্মাণ করছি, একথা জানতে পেরে সন্‌বল্লট খুবই ক্রুদ্ধ হল। সে তখন ইহুদীদের নিয়ে হাসা-হাসি করল। 2সন্‌বল্লট তার বন্ধুদের ও শমরীয় সেনাদলের সামনেই কথা বলছিল, “এই দুর্বল ইহুদীগুলো কি করছে? ওরা কি ভাবছে যে আমরা ওদের ছেড়ে দেব? ওরা কি বেদীতে বলি চড়াবে? ওরা কি মনে করে যে এক দিনেই ওরা নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারবে? ওরা কি আবর্জনা আর ধূলোর গাদা থেকে এই পোড়া পাথরগুলিকে আবার জীবন্ত করে তুলতে পারবে?”

3সেই সময়, অম্মোনীয়র টোবিয় সন্‌বল্লটের সঙ্গে ছিল। সে বলল, “যে দেওয়ালটা ওরা বানাচ্ছে ওটার ওপর একটা ছোট শেয়ালও যদি ওঠে ওটা ভেঙে পড়বে!”

4নহিমিয় তখন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলেন, “হে ঈশ্বর তুমি দয়া করে আমাদের ডাকে সাড়া দাও। এই সমস্ত ব্যক্তিরা আমাদের ঘৃণা করে। সন্‌বল্লট ও টোবিয় আমাদের অপমান করছে। তুমি তাদের এর যথাযোগ্য শাস্তি দাও। ওদের বন্দী করার ব্যবস্থা করো, যাতে ওরা লজ্জিত হয়। 5তোমার চোখের সামনে ওরা যে অপরাধ করেছে তা তুমি ক্ষমা করো না। ওরা দেওয়াল নির্মাতাদের অপমান করেছে ও তাদের নিরুৎসাহ করেছে।”

6যদিও আমরা জেরুশালেমের চারপাশের দেওয়াল বানালাম কিন্তু দেওয়ালের উচ্চতা যা হওয়া উচিৎ‌ ছিল মোটে তার অর্ধেক হল। লোকরা উদ্যম আর ইচ্ছা নিয়ে কাজ করেছে।

7সন্‌বল্লট, টোবিয়, আরবীয়, অম্মোনীয় ও অস্‌দোদীয়রা খুব রেগে গেল কারণ ওরা শুনেছিল যে জেরুশালেমের দেওয়ালের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে এবং গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। 8তারপর তারা জেরুশালেমের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করার পরিকল্পনা করল। তারা সবাই পরিকল্পনা করল যে তারা আসবে ও জেরুশালেমের বিরুদ্ধে লড়াই করবে এবং তার বিরুদ্ধে গোলমাল করবে। 9কিন্তু আমরা আমাদের ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে দিবারাত্র দেওয়ালের চারপাশে কড়া পাহারার ব্যবস্থা করলাম যাতে আমরা এইসব বহিঃশত্রুদের প্রয়োজনে বাধা দিতে পারি।

10সে সময় যিহূদার লোকেরা বলল, “কর্মীরা সকলে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং ওখানে সরাবার মতো এত নোংরা আছে যে আমরা দেওয়াল নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারব না। 11আর আমাদের শত্রুরা বলছে, ‘ইহুদীরা এ সম্বন্ধে অবগত হবার আগে অথবা আমাদের দেখতে পাবার আগে, আমরা তাদের মধ্যে গিয়ে তাদের হত্যা করব, এবং এইভাবেই তাদের কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।’”

12তারপর যে সব ইহুদী আমাদের শত্রুদের মধ্যে থাকত তারা এলো এবং আমাদের দশ বার বলল, “আমাদের শত্রুরা আমাদের চারদিকে রয়েছে। আমরা যে দিকেই ফিরি না কেন সে দিকেই শত্রুরা রয়েছে।”

13আমি তখন কিছু ব্যক্তিকে প্রাচীরের নিম্নতম অংশে রাখার ব্যবস্থা করলাম। আমি পরিবারগুলিকে তলোয়ার, বল্লম ও তীর-ধনুক সহ দেওয়ালের গর্তের কাছে এক সঙ্গে দাঁড় করিয়ে দিলাম। 14তারপর সমস্ত ব্যবস্থা ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবার পর, আমি গুরুত্বপূর্ণ পরিবারগুলিকে, আধিকারিকদের এবং সমস্ত বাকি লোকদের উৎসাহ দিয়ে বললাম, “আমাদের শত্রুদের ভয় পেয়ো না। মনে রেখো আমাদের প্রভু মহান এবং ভয়ঙ্কর!”

15আমাদের শত্রুপক্ষ খবর পেল যে আমরা তাদের চক্রান্তের কথা জেনে ফেলেছি। ঈশ্বর তাদের সমস্ত মতলব বানচাল করে দিয়েছেন। আবার আমাদের লোকরা তাদের নিজেদের জায়গায় ফিরে গিয়ে দেওয়ালের কাজ শুরু করল। 16তখন থেকে আমাদের লোকদের অর্ধেক সংখ্যক দেওয়াল নির্মাণের কাজে নিযুক্ত রইল আর বাকি অর্ধেক বল্লম, বর্ম, তীর এবং বর্ম নিয়ে প্রহরায় নিযুক্ত হল। সেনাধ্যক্ষরা যিহূদার লোকদের পেছনে এসে দাঁড়ালেন যেহেতু তারা দেওয়াল নির্মাণ করছিল। 17মিস্ত্রি ও তাদের যোগানদাররা এক হাতে তাদের যন্ত্রপাতি এবং অন্য হাতে অস্ত্রও ধরেছিল। 18কাজ করার সময়ও প্রত্যেকটি নির্মাণকারী কোমরবন্ধে তরবারি ঝুলিয়ে রাখতো। লোকদের সতর্ক করে দেবার জন্য যার শিঙা বাজানোর কথা সে আমার পাশে পাশে থাকত। 19আমি তখন আধিকারিকবর্গ, গুরুত্বপূর্ণ পরিবার ও বাকি লোকদের সঙ্গে কথা বললাম। আমি বললাম, “এই দেওয়াল জুড়ে এখনও অনেক কাজ করা বাকি আছে আর আমরা একে অন্যের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছি। 20কিন্তু একে অপরের থেকে কাজের সময় যত দূরেই থাকো না কেন, শিঙার আওয়াজ শুনলেই সকলে দ্রুত এক জায়গায় জড়ো হবে। ঈশ্বর স্বয়ং আমাদের যুদ্ধে সাহায্য করবেন।”

21অতএব আমরা সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত জেরুশালেমের দেওয়াল বানানোর জন্য কঠিন পরিশ্রম করছিলাম যখন কর্মীদের মধ্যে অর্ধেকরা হাতে বল্লম ধরেছিল।

22আমি নির্মাতাদের এও বলেছিলাম, “প্রত্যেক নির্মাতা এবং তার সাহায্যকারী রাত্রে জেরুশালেমের ভেতরে থাকবে যাতে তারা রাত্রে পাহারাদার এবং দিনের বেলা কর্মী হতে পারে।” 23অতএব আমি বা আমার ভাইরা, আমার লোকরা এবং প্রহরীরা কেউই স্নান করার জন্য বা কাপড় কাচার জন্য পোষাক খুলতে পারতাম না কারণ আমরা যখন জলের জন্য বেরোতাম তখনও আমাদের হাতে অস্ত্র থাকত।

5

নহিমিয় গরীব দুঃখীদের সাহায্য করলেন

1অনেক দরিদ্র ইহুদী তাদের আত্মীয়দের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে শুরু করলো। 2তাদের মধ্যে কয়েকজন অভিযোগ করল, “আমাদের এতগুলি ছেলেমেয়ে; সুতরাং খেয়েপরে বাঁচার জন্য আমাদের খাদ্য শস্যের প্রয়োজন!”

3অন্য লোকরা বলল, “দুর্ভিক্ষের সময় শস্য পাবার জন্য আমরা আমাদের জমিজমা, দ্রাক্ষাক্ষেত এবং বাড়ি বন্ধক রেখেছিলাম।”

4আবার আরেক দল বলতে শুরু করল, “আমাদের জোত জমি ও দ্রাক্ষাক্ষেতের ওপর ধার্য্য রাজকর দেবার জন্য আমাদের অর্থ ধার করতে হয়েছিল। 5আর এদিকে ঐসব ধনী লোকদের দেখো! আমরাও তো ওদেরই মতো মানুষ, আমাদের ছেলেমেয়েরাই বা ওদের থেকে কম কিসে? কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের ছেলেমেয়েদের দাসদাসী হিসেবে বিক্রি করে দিতে হবে! ইতিমধ্যেই অনেকে তা করতে শুরু করেছে, অথচ আমরা কিছুই করতে পারছি না। আমাদের ভূমি ও দ্রাক্ষাক্ষেত এখন অন্য লোকদের অধীনে!”

6আমি যখন ওদের অভিযোগগুলো শুনলাম তখন মহাক্রুদ্ধ হলাম। 7তারপর আমি নিজেকে শান্ত করে বিত্তবান পরিবার ও আধিকারিকবর্গের কাছে গিয়ে বললাম, “তোমরা তোমাদের নিজেদের লোকদের টাকা ধার দাও এবং তাদের কাছ থেকে সুদ আদায় কর। তোমাদের অতি অবশ্য এ কাজ বন্ধ করতে হবে।” এরপর আমি সমস্ত ব্যক্তিদের এক জায়গায় জড়ো করে বললাম, 8“লোকরা আমাদের ইহুদী ভাইদের ক্রীতদাস হিসেবে অন্য দেশসমূহে বিক্রি করে দিয়েছিল। বহু কষ্টে আমরা তাদের স্বাধীন করে দেশে ফিরিয়ে এনেছি আর এখন তোমরা নিজেরাই আবার তাদের ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করছো!”

ধনী লোকরা ও আধিকারিকরা এই অভিযোগ শুনে কিছু বলতে পারল না, চুপ করে থাকল। 9তখন আমি তাদের বললাম, “তোমরা যা করছ, সেটা সঠিক কাজ নয়। তোমাদের ঈশ্বরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভয় থাকা প্রয়োজন। অন্যান্য জাতিরা যে সব লজ্জাজনক কাজ করছে সেসব তোমাদের করা উচিৎ‌ নয়। 10আমার লোকরা, আমার ভাইরা, এমন কি আমিও, দরিদ্রদের টাকাপয়সা ও খাদ্যশস্য ধার দিচ্ছি। এসো আমরা তাদের যে টাকা ধার দিই তার থেকে সুদ নেওয়া বন্ধ করি। 11তোমরা অতি অবশ্য দরিদ্র ব্যক্তিদের জমি-জমা, দ্রাক্ষাক্ষেত, বাড়ি ফেরত দিয়ে দেবে। এছাড়াও তোমরা, এদের টাকা-পয়সা, শস্য, দ্রাক্ষারস এবং তেল ধার দিয়ে তার ওপর এক শতাংশ হারে যে সুদ নিয়েছো তাও ফিরিয়ে দেবে।”

12তখন ধনী ব্যক্তি সবাই আমাকে বলল, “নহিমিয় তুমি যা বললে তাই হবে। আমরা ওদের সব কিছু ফিরিয়ে দেব আর কখনও গরীব দুঃখীদের থেকে কিছু নেব না।”

তারপর যাজকদের ডেকে ঈশ্বরের সামনে ধনী ও আধিকারিকরা যা বলেছে তা শপথ করালাম। 13এরপর আমি আমার কাপড়ের ভাঁজ ঝাড়তে ঝাড়তে তাদের বললাম, “এই একই ভাবে তোমরা যারা এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে, তাদের প্রত্যেককে ঈশ্বর ধরে ঝাঁকাবেন। ঈশ্বর তাকে গৃহচ্যুত তো করবেনই উপরন্তু তার যা কিছু আছে সবই তাকে হারাতে হবে।”

আমি আমার বক্তব্য শেষ করার পর উপস্থিত সকলে “আমেন” বলল। তারপর তারা সকলে প্রভুর প্রশংসা করল এবং এরা সকলেই তাদের কথা রেখেছিল।

14রাজা অর্তক্ষস্তর রাজত্বের 20তম বছর থেকে 32তম বছর পর্যন্ত আমি যিহূদার রাজ্যপাল হিসেবে কাজ করছিলাম। সে সময় আমি বা আমার কোন ভাই রাজ্যপালের জন্য বরাদ্দ খাদ্য খাইনি। আমি কখনও দরিদ্র ব্যক্তিদের জোরজবর্দস্তি কর দিতে বাধ্য করে সে পয়সায় নিজের খাবার কিনিনি। আমি অর্তক্ষস্তের রাজত্বের কুড়ি বছর থেকে বত্রিশ বছর পর্যন্ত অর্থাৎ‌ মোট বারো বছর যিহূদার শাসক হিসেবে কাজ করেছিলাম। 15যে সব রাজ্যপালরা আমার আগে শাসন করেছিলেন তাঁরা লোকদের জীবন দুর্বিসহ করে তুলেছিলেন। এঁরা সকলেই প্রত্যেক ব্যক্তির কাছ থেকে এক পাউণ্ড রূপোসহ খাবার ও দ্রাক্ষারস দাবী করতেন। নেতৃবর্গ, যারা ঐ সব রাজ্যপালদের অধীন ছিল তারাও লোকদের শোষণ করত। কিন্তু যেহেতু আমার ঈশ্বরে ভয়-ভীতি আছে, আমি এই ধরণের কাজ করিনি। 16আমি জেরুশালেমের দেওয়াল তোলবার জন্য কঠিন পরিশ্রম করেছিলাম। আমার সমস্ত লোকরাও এই কাজের জন্য একত্রে এসেছিল। আমরা কারো কাছ থেকে কোন জমি-জমা কেড়ে নিই নি।

17উপরন্তু আমি নিয়মিত ভাবে আমার টেবিলে 150 জন ইহুদী আধিকারিকদের খাওয়ার যোগান দিয়েছিলাম। আর আমাদের আশেপাশের দেশ থেকে যে সব লোকরা আমার টেবিলের কাছে এসেছিল আমি তাদেরও খাবার সরবরাহ করতাম। 18প্রতি দিন লোকদের খাওয়াবার জন্য আমি একটি গরু, ছয়টি মোটা মেষ এবং নানান ধরণের পাখি রান্না করার জন্য দিতাম। প্রতি দশদিন অন্তর আমি প্রভূত পরিমাণে সব রকমের দ্রাক্ষারস দিতাম। কিন্তু আমি কখনই শাসকের জন্য বরাদ্দ দামী খাবার-দাবার দাবি করিনি বা আমার খাবার কেনার জন্য প্রজাদের ওই সমস্ত কর দিতে বাধ্য করিনি। আমি জানতাম, দেওয়াল বানানোর জন্য সকলে কঠিন পরিশ্রম করছে। 19হে ঈশ্বর, আমি এইসব লোকদের জন্য যা করেছি, তা মনে রেখো এবং আমাকে আশীর্বাদ করো।

6

আরো সংকটসমূহ

1তারপর সন্‌বল্লট, টোবিয় ও গেশম নামে আরব ও আমাদের অন্যান্য শত্রুরা জানতে পারল যে আমি জেরুশালেমের দেওয়াল নির্মাণ করছিলাম। দেওয়ালের গায়ের গর্তগুলি ভরাট করা হলেও তখনও অবশ্য আমাদের দরজার পাল্লা বসানো বাকি ছিল। 2অতএব সন্‌বল্লট ও গেশম তখন আমাকে একটি খবর পাঠাল: “চলো নহিমিয়: ওনো সমভূমির কেফিরিন শহরে আমরা সাক্ষাৎ করি।” কিন্তু ওরা আমার ক্ষতি করার পরিকল্পনা করেছিল।

3কিন্তু আমি ওদের এই কথা বলে ফেরত পাঠালাম: “আমি খুব জরুরী কাজে ব্যস্ত আছি, তাই তোমাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি কাজ বন্ধ করতে পারব না।”

4সন্‌বল্লট ও গেশম আমাকে চারবার একই খবর পাঠিয়েছিল, কিন্তু আমি তাদের একই উত্তর দিয়েছিলাম। 5তারপর পঞ্চমবার সন্‌বল্লট ওর নিজের এক সাহায্যকারীর মাধ্যমে আমাকে একই আমন্ত্রণ পাঠালো। 6চিঠিটিতে লেখা ছিল:

“চতুর্দিকে একটি গুজব ছড়াচ্ছে এবং এমনকি গেশমও বলেছে যে, তুমি ও ইহুদীরা নাকি রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার পরিকল্পনা করছ। যে কারণে নাকি তোমরা জেরুশালেম শহরের চারপাশে দেওয়াল তুলছ। জনসাধারণ বলছে, বিদ্রোহের পর তুমিই নাকি হবে ইহুদীদের নতুন রাজা। 7গুজবে একথাও বলা হচ্ছে যে তোমার সম্বন্ধে এই কথা জেরুশালেমে ঘোষণা করতে তুমি ভাববাদীদের নিযুক্ত করেছ: ‘যিহূদায় এক রাজা আছেন!’

“দেখো নহিমিয়, আমি তোমাকে সাবধান করে দিতে চাই যে রাজা শীঘ্রই এসব খবর পেয়ে যাবেন। তাই বলছি, এসো আমরা এক সঙ্গে বসে এ বিষয়ে কথাবার্তা বলি।”

8আমি তখন সন্‌বল্লটকে বলে পাঠালাম, “তুমি যা অভিযোগ করেছ তার কোনটাই সত্যি নয়। তুমি তোমার নিজের মাথা থেকেই এই গল্পটা বানাচ্ছো।”

9আসলে আমাদের শত্রুরা আমাদের ভয় দেখাতে চেষ্টা করছিল। ওরা ভাবছিল, “এসব করলে ইহুদীরা ভয় পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেবে আর দেওয়ালের কাজও শেষ হবে না।”

কিন্তু আমি প্রার্থনা করেছিলাম, “হে ঈশ্বর, আমাকে শক্তি দাও।”

10এক দিন আমি শময়িয়র সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়িতে গেলাম। শময়িয় ছিল দলায়ের পুত্র। দলায় ছিল মহেটবেলের পুত্র। শময়িয় তার বাড়িতে ছিল। সে আমাকে বলল, “নহিমিয়, চল আমরা ঈশ্বরের মন্দিরে দেখা করি। চল আমরা পবিত্র স্থানের ভিতরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিই, কারণ শত্রুরা আজ রাতে তোমাকে হত্যা করতে আসছে।”

11আমি শময়িয়কে উত্তরে বললাম, “আমার মতো কোন ব্যক্তির কি পালিয়ে যাওয়া উচিৎ‌? আমার মতো একজন ব্যক্তির কি নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য পবিত্র স্থানের ভেতরে যাওয়া উচিৎ‌? আমি যাব না!”

12আমি জানতাম যে আমাকে সাবধান করতে ঈশ্বর শময়িয়কে পাঠান নি। আমি বুঝতে পারলাম যে সে আমার বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল কারণ টোবিয় ও সন্‌বল্লট তাকে তা করার জন্য টাকা দিয়েছিল। 13আমাকে ভয় দেখানোর জন্য ও মন্দিরের ভেতরে যেতে প্ররোচিত করবার জন্য শময়িয়কে টাকা দেওয়া হয়েছিল যাতে এই কাজ করে আমি পাপ আচরণ করি তাহলে ওরা আমাকে অপদস্থ করবার জন্য বদনাম দিতে পারে।

14হে ঈশ্বর, সন্‌বল্লট ও টোবিয়কে এবং তারা যে মন্দ কাজগুলি করেছে তা অনুগ্রহ করে মনে রেখ। এমন কি ভাববাদিণী নোয়দিয়ার কথা এবং অন্যান্য যে সমস্ত ভাববাদীরা আমাকে ভয় দেখাতে চেষ্টা করছে তাদের কথাও তুমি স্মরণে রেখো।

দেওয়াল নির্মাণের কাজ সমাপ্ত

15ইলূল মাসের 25 দিনের মাথায় জেরুশালেমের দেওয়াল গাঁথার কাজ শেষ হল। দেওয়াল নির্মাণ শেষ করতে 52 দিন লেগেছিল। 16তখন আমাদের সমস্ত শত্রু ও আশেপাশের সব জাতিগুলি জানতে পারল যে দেওয়াল নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। তাই তারা তাদের সাহস হারিয়ে ফেলল। কেন? কারণ ওরা বুঝতে পেরেছিল, যে আমাদের ঈশ্বরের সহায়তাতেই একাজ শেষ হয়েছে।

17এছাড়াও, সে সময়ে দেওয়াল নির্মাণের কাজ শেষ হবার পর, যিহূদার ধনী ব্যক্তিরা টোবিয়কে চিঠি লিখত এবং টোবিয় সেসব চিঠির জবাব দিত। 18তারা ঐসব চিঠি লিখেছিল কারণ যিহূদাতে বহু লোক তার প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কারণ টোবিয়, আরহের পুত্র শখনিয়ের জামাতা ছিল। উপরন্তু টোবিয়ের পুত্র যিহোহানন বেরিখিয়ের পুত্র মশুল্লমের কন্যাকে বিয়ে করেছিল। 19অতীতে তারা টোবিয়র কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাই এরা আমার কাছে বলেছিল টোবিয় কত ভাল ছিল। আমার কার্যকলাপ সম্পর্কে তারা টোবিয়কে যাবতীয় খবরাখবর দিত। টোবিয় আমাকে ভয় দেখানোর জন্য চিঠি পাঠানো অব্যাহত রেখেছিল।

7

1আমাদের দেওয়াল বানানোর কাজ শেষ হল। তারপর আমরা দরজায় পাল্লা বসালাম ও কারা সেই সব দরজায় পাহারা দেবে তার জন্য লোক ঠিক করলাম। আমরা গায়কদের এবং লেবীয়দেরও নিযুক্ত করলাম। 2এরপর আমি আমার ভাই হনানি ও হনানিয় নামে আরেক ব্যক্তিকে যথাক্রমে জেরুশালেম শহরের দায়িত্ব ও দুর্গের সেনাপতির দায়িত্ব দিলাম। আমি আমার ভাই হনানিকে বেছে নিয়েছিলাম কারণ অন্যান্যদের থেকে সে খুবই সৎ‌ ও তার ঈশ্বরে বেশী ভয় ছিল। 3আমি তখন তাদের নির্দেশ দিলাম, “প্রতিদিন সূর্যোদয়ের কয়েক ঘন্টা পরে জেরুশালেমের ফটকগুলি খুলবে। আর সূর্যাস্তের পূর্বেই তোমরা ফটক বন্ধ করে তালা লাগাবে। এছাড়াও, রক্ষী হিসেবে যাদের নিয়োগ করবে তারা যেন এ শহরেরই বাসিন্দা হয়। এই সমস্ত রক্ষীদের কয়েক জনকে শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পাহারা দিতে পাঠাবে আর বাদবাকিরা যেন তাদের বাড়ির কাছাকাছি অঞ্চলেই পাহারা দেয়।”

ফিরে আসা বন্দীদের তালিকা

4জেরুশালেম শহরটি খুবই বড়। শহরে অনেক জায়গা থাকলেও, তুলনায় বাসিন্দার সংখ্যা কম। বাড়ি-ঘরও তখন সমস্ত বানানো হয়নি। 5এমতাবস্থায ঈশ্বর আমার হৃদয়ে সমস্ত বাসিন্দাদের একত্রিত করার বাসনা প্রবেশ করালেন। আমি তখন সমস্ত গন্যমাণ্য ব্যক্তি, আধিকারিকবর্গ ও সাধারণ লোকদের একসঙ্গে ডেকে পাঠালাম। বসবাসকারী সমস্ত ব্যক্তিদের একটি তালিকা বানানোই আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল। ইতিমধ্যে বন্দীদশা থেকে যারা প্রথম এ শহরে ফিরে এসেছিল তার একটি তালিকা আমি পেয়েছিলাম। তাতে লেখা ছিল:

6এই ইহুদীরা বন্দীদশা থেকে জেরুশালেম এবং যিহূদায় ফিরে এসেছিল। রাজা নবূখদ্‌নিৎ‌সর এদের বন্দী করে বাবিলে নিয়ে গিয়েছিলেন। এরা হল: যেশূয়, নহিমিয়, অসরিয়, রয়মিয়া, নহমানি, 7মর্দখয়, বিল‌্শন, মিস্পরৎ, বিগ্‌বয়, নহূম ও বানা। তারা সরুব্বাবিলের সঙ্গে ফিরে এসেছিল। ইস্রায়েলের যে সমস্ত লোক ফিরে এসেছিল তাদের নাম ও সংখ্যা নিম্নে দেওয়া হল:

8পরোশের উত্তরপুরুষ 2172

9শফটিয়ের উত্তরপুরুষ 372

10আরহের উত্তরপুরুষ 652

11যেশূয় ও যোয়াবের পরিবারগোষ্ঠীর পহৎ-মোয়াবের উত্তরপুরুষ 2818

12এলমের উত্তরপুরুষ 1254

13সত্তূর উত্তরপুরুষ 845

14সক্কয়ের উত্তরপুরুষ 760

15বিন্নূয়ির উত্তরপুরুষ 648

16বেবয়ের উত্তরপুরুষ 628

17আস‌্গদের উত্তরপুরুষ 2322

18অদোনীকামের উত্তরপুরুষ 667

19বিগ্‌বয়ের উত্তরপুরুষ 2067

20আদীনের উত্তরপুরুষ 655

21যিহিষ্কিয়ের বংশজাত আটেরের উত্তরপুরুষ 98

22হশুমের উত্তরপুরুষ 328

23বেৎ‌সয়ের উত্তরপুরুষ 324

24হারীফের উত্তরপুরুষ 112

25গিবিয়োনের উত্তরপুরুষ 95

26বৈৎ‌লেহম ও নটোফা শহরের লোক 188

27অনাথোত শহরের 128

28বৈৎ‌-অস্মাবৎ শহরের 42

29কিরিয়ৎ-যিয়ারীম, কফীরা ও বেরোত শহরের 743

30রামা ও গেবা শহরের 621

31মিক্‌মস শহরের 122

32বৈথেল ও অয় শহরের 123

33নবো শহরের 52

34এলম শহরের 1254

35হারীম শহরের 320

36যিরীহো শহরের 345

37লোদ, হাদীদ ও ওনো শহরের 721

38সনায়া শহরের 3930

39যাজকগণ হল:

যেশূয়ের বংশজাত যিদয়িয়র উত্তরপুরুষ 973

40ইম্মেরের উত্তরপুরুষ 1052

41পশ‌্হূরের উত্তরপুরুষ 1247

42হারীমের উত্তরপুরুষ 1017

43এরা হল লেবীয় পরিবারগোষ্ঠীর লোক:

হোদবিয়র বংশজাত যেশূয় ও কদ‌্মীয়েলের উত্তরপুরুষ 74

44এরা হল গায়ক বৃন্দ:

আসফের উত্তরপুরুষ 148

45এরা হল দ্বার-রক্ষকগণ:

শল্লুম, আটের, টল্‌মোন, অক্কুব, হটীটা ও শোবয়ের উত্তরপুরুষ 138

46এরা হল মন্দিরের বিশেষ দাস:

সীহ, হসূফা ও টব্বায়োতের উত্তরপুরুষরা,

47কেরোস, সীয় ও পাদোনের বংশধরবর্গ,

48লবানা, হগাব ও শল্ময়ের বংশধরবর্গ,

49হানন, গিদ্দেল ও গহরের বংশধরবর্গ,

50রায়া, রৎসীন ও নকোদের বংশধরবর্গ,

51গসম, ঊষ ও পাসেহের বংশধরবর্গ,

52বেষয়, মিয়ূনীম ও নফুষয়ীমের বংশধরবর্গ,

53বকবূক, হকূফা ও হর্হূরের বংশধরবর্গ,

54বসলীত, মহীদা ও হর্শার বংশধরবর্গ,

55বর্কোস, সীষরা ও তেমহের বংশধরবর্গ,

56নৎসীহ ও হটীফার বংশধরবর্গ।

57শলোমনের উত্তরপুরুষ দাসদের মধ্যে:

সোটয়, সোফেরৎ‌ ও পরীদার বংশধরবর্গ,

58যালা, দর্কোন ও গিদ্দেলের বংশধরবর্গ,

59শফটিয়ের, হটীল ও পোখেরৎ-হৎসবায়ীম ও আমোন;

60মন্দিরের দাস ও শলোমনের দাসদের উত্তরপুরুষ 392

61কয়েকজন লোক তেল্‌মেলহ, তেল‌্হর্শা, করূব, অদ্দন ও ইম্মের শহর থেকে জেরুশালেমে এসেছিল। তাদের পরিবারগুলি ইস্রায়েল থেকে উদ্ভূত কিনা তা তারা প্রমাণ করতে পারেনি।

62দলায়, টোবিয় ও নকোদের উত্তরপুরুষ 642 জন

63এরা ছিল যাজক পরিবারের উত্তরপুরুষ:

হবায়, হক্কোস ও বর্সিল্লয়। গিলিয়দের বর্সিল্লয় পরিবারের কন্যাকে যদি একজন পুরুষ বিয়ে করত ওই পুরুষকে বর্সিল্লয়দের উত্তরপুরুষ হিসাবে গণ্য করা হতো।

64যেহেতু তারা তাদের বংশতালিকা বা তাদের পূর্বপুরুষরা যাজক ছিলেন কিনা তা প্রমাণ করতে পারল না, সেহেতু যাজকদের তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হল না। 65রাজ্যপাল ওই সমস্ত ব্যক্তিদের, পবিত্র খাবার খেতে বারণ করলেন যতক্ষণ পর্যন্ত না প্রধান যাজক ঊরীম ও তুম্মীম ব্যবহার করে ঈশ্বরের কাছে জেনে নেন কি করতে হবে।

66 7337 জন দাসদাসীকে বাদ দিলে, যারা ফিরে এসেছিল তাদের মধ্যে সব মিলিয়ে ছিল 42,360 জন। এছাড়াও, এদের সঙ্গে ছিল 245 জন গায়ক-গায়িকা, 68 তাদের 736 টি ঘোড়া, 245 টি খচ্চর, 435 টি উট ও 6720 টি গাধা ছিল।

70বেশ কিছু পরিবার প্রধান কাজ চালিয়ে যাবার জন্য অর্থ দান করেন। রাজ্যপাল স্বয়ং কোষাগারে 19 পাউণ্ড স্বর্ণমুদ্রা দিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি 50টি পাত্র ও যাজকদের পোশাকের জন্য 530 পোশাক দান করেন। 71বিভিন্ন পরিবারের প্রধানরা কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য 375 পাউণ্ড স্বর্ণমুদ্রা এবং 1 1/3 টন পরিমাণ রূপো দান করেছিলেন। 72সব মিলিয়ে অন্যান্য ব্যক্তিরা 375 পাউণ্ড স্বর্ণমুদ্রা, 1 1/3 টন রূপা এবং যাজকদের জন্য 67 টি বস্ত্রখণ্ড দিয়েছিলেন।

73যাজকগণ, লেবীয়রা, দ্বাররক্ষীরা, গায়করা ও মন্দিরের সেবাদাসরা ও অন্যান্য সমস্ত ইস্রায়েলীয়রা যে যার নিজের শহরে বাস করতে লাগল। ওই বছরের সপ্তম মাসের মধ্যেই দেখা গেল ইস্রায়েলের সমস্ত বাসিন্দারা তাদের নিজেদের বাসভূমিতে বসবাস শুরু করেছে।

8

বিধি পাঠ করলেন ইষ্রা

1শেষ পর্যন্ত বছরের সপ্তম মাসে ইস্রায়েলের সমস্ত বাসিন্দা এক জায়গায় জড়ো হল। এরা সকলে একই উদ্দেশ্য নিয়ে একত্রে এসেছিল যেন জলদ্বারের সামনে খোলা চত্বরে তারা ছিল একটি মানুষ। এরা সকলে মিলে শিক্ষক ইষ্রাকে মোশির বিধিপুস্তকটি আনতে অনুরোধ করল। উল্লেখ্য প্রভু ইস্রায়েলের বাসিন্দাদের জন্য যে বিধিনির্দেশগুলি দেন তা এই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ ছিল। 2সকলের অনুরোধে ইষ্রা জনসমক্ষে বিধিপুস্তকটি বার করলেন। এটি ছিল সপ্তম মাসের প্রথম দিন; ঐ জনসমাগমে ছিল পুরুষ, মহিলা এবং ঈশ্বরের বিধি শোনা ও বোঝার মত বয়স হয়েছে এমন ব্যক্তিরা। 3ইষ্রা তখন জলদ্বারের সামনের খোলা চত্বরের দিকে মুখ করে জোর গলায় ভোর থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত বিধিপুস্তকটি পাঠ করে শোনালেন। উপস্থিত সকলেই পূর্ণ মনোযোগ সহকারে তা শুনল।

4ইষ্রা একটি উঁচু কাঠের মঞ্চের ওপর দাঁড়িয়ে এগুলি পাঠ করছিলেন। পাটাতনটি এই উপলক্ষেই বিশেষভাবে বানানো হয়েছিল। ইষ্রার ডানদিকে দাঁড়িয়ে ছিলেন মত্তিথিয়, শেমা, অনায়, ঊরিয়, হিল্কিয় ও মাসেয় এবং তাঁর বাঁদিকে ছিলেন পদায়, মীশায়েল, মল্কিয়, হশুম, হশবদ্দানা, সখরিয় ও মশুল্লম।

5যেহেতু ইষ্রা উঁচু পাটাতনের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন সকলেই তাঁকে দেখতে পাচ্ছিল। তিনি বিধিপুস্তকটি খোলার সঙ্গে সঙ্গে সমবেত সকলে উঠে দাঁড়াল। 6প্রথমে ইষ্রা প্রভু, মহান ঈশ্বরের প্রশংসা করলেন। তখন উপস্থিত সবাই হাত তুলে বলল, “আমেন, আমেন।” তারপর মাথা নীচু করে হাঁটু মুড়ে বসে প্রভুর প্রশংসা করল।

7 ঐসব লেবীয়রা ছিলেন যেশূয়, বানি, শেরেবিয়, যামীন, অক্কুব, শব্বথয়, হোদিয়, মাসেয়, কলীট, অসরীয়, যোষাবদ, হানন এবং পলায়। তাঁরা বিধিপুস্তকটি থেকে পাঠ করলেন এবং সহজ ভাষায় সেটি লোকদের বুঝিয়ে দিলেন যাতে যা পড়া হল তারা তার অর্থ বুঝতে পারে।

9এরপর শাসক নহিমিয়, যাজক ও শিক্ষক ইষ্রা এবং যে সব লেবীয়রা শিক্ষাদান করছিলেন তাঁরা সকলে বক্তব্য রাখলেন। তাঁরা বললেন, “আজকের দিনটি তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের পক্ষে একটি বিশেষ দিন।+ 8:9 বিশেষ দিন প্রতি মাসের প্রথম এবং দ্বিতীয় দিন ছিল উপাসনার বিশেষ দিন। লোকরা একত্রে মিলিত হয়ে একটি মঙ্গল নৈবেদ্য ভাগ করে খেত। আজ যেন কেউ মন খারাপ না করে বা চোখের জল না ফেলে।” তাঁদের একথা বলার কারণ হল যে: যখন তাঁরা ঈশ্বরের বিধিপুস্তকটি পড়ে শোনাচ্ছিলেন তখন অনেকেই কাঁদছিল।

10নহিমিয় বললেন, “যাও তোমরা সকলে মশলাদার ভারী খাদ্য ও সুমিষ্ট পানীয়গুলি উপভোগ করো। আজকের দিনটি প্রভুর কাছে একটি বিশেষ দিন বলে যারা রান্না করেনি তাদেরও খাবার দিও। মন খারাপ করো না কারণ প্রভুর আনন্দ তোমাদের মনকে শক্তিশালী করবে।”

11লেবীয়বর্গরা লোকদের শান্ত হতে সাহায্য করল। তারা বলল, “চুপ কর এবং শান্ত হও। আজ একটি বিশেষ দিন। মন খারাপ করো না।”

12তখন উপস্থিত সবাই মিলে বিশেষ ভোজসভায় যোগ দিয়ে খাবার ও পানীয় ভাগ করে খেল। প্রত্যেকেই খুব খুশী ছিল এবং সকলে মিলে এই বিশেষ দিনটি উদ্‌যাপন করল। শেষ পর্যন্ত শিক্ষকরা তাদের সকলকে প্রভুর যে সমস্ত বিধিগুলি বোঝানোর চেষ্টা করছিল তা বুঝতে পারল।

13তারপর ঐ একই মাসের দ্বিতীয় দিনে প্রত্যেকটি পরিবার প্রধান ইষ্রা, যাজকবর্গ ও লেবীয়দের সঙ্গে দেখা করতে গেল। সকলেই বিধিগুলি সম্পর্কে পড়াশোনা করার জন্য ইষ্রাকে ঘিরে ধরল।

14 বিধিগুলি পড়াশোনা করার পর তারা, মোশির মাধ্যমে প্রভু ইস্রায়েলের লোকদের, বছরের সপ্তম মাসে কুটির থেকে যে একটি উৎসব পালন করবার আজ্ঞা দিয়েছিলেন, তা জানতে পারল। জেরুশালেমে ফেরবার পথে, তারা বিভিন্ন শহরের মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে, লোকদের বলবে: “পর্বত থেকে জলপাই, গুলমেঁদি ও খর্জুর এবং ছায়া শাখাগুলি কাট। বিধিটিতে যেমন বলা আছে ঐ শাখাগুলি ব্যবহার করে পর্ব পালন করবার জন্য অস্থায়ী কুটির তৈরী কর। বিধিতে যেমন বলা আছে তেমনভাবে কর।”

16একথা শোনার পর লোকরা গিয়ে এইসব গাছের শাখা সংগ্রহ করে নিজেরা নিজেদের জন্য অস্থায়ী কুটির বানালো। তারা তাদের বাড়ির ছাদে, উঠোনে, মন্দির প্রাঙ্গনে, জলদ্বারের কাছে ও ইফ্রয়িম-দ্বারের কাছে উন্মুক্ত স্থানে কুটিরগুলি বানালো। 17বন্দীদশা থেকে ইস্রায়েলে ফিরে আসা সমস্ত ব্যক্তিরাই এই কুটিরগুলি বানিয়ে তাতে বাস করল। নূনের পুত্র যিহোশূয়ের সময় থেকে সেই দিন পর্যন্ত ইস্রায়েলীয়রা এরকম ভাবে ও এত আনন্দ করে কুটির পর্ব পালন করে নি!

18পর্বের প্রত্যেকদিন, প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্য্যন্ত রোজ ইষ্রা এদের কাছে বিধিপুস্তক পাঠ করে শোনালেন। বিধি অনুসারে ইস্রায়েলের বাসিন্দারা সাতদিন ধরে পর্ব পালন করার পর, অষ্টম দিনের দিন একটি বিশেষ সভার জন্য মিলিত হল।

9

ইস্রায়েলীয়দের পাপ স্বীকার

1ঐ মাসেরই 24 দিনের মাথায় ইস্রায়েলীয়রা উপবাসের জন্য জড়ো হল। সে সময় সকলে দুঃখ প্রকাশের জন্য চটের পোশাক পরা ছাড়াও মাথায় ছাই লাগিয়েছিল। 2ইস্রায়েলের আদি বাসিন্দারা বিদেশীদের থেকে নিজেদের আলাদা রেখেছিল। তারা সকলে মন্দিরে দাঁড়িয়ে তাদের ও তাদের পূর্বপুরুষদের পাপ স্বীকার করল। 3তারা সেখানে তিন ঘন্টা দাঁড়িয়ে প্রভু, তাদের ঈশ্বরের বিধিপুস্তক পাঠ করল। তারপর আরো তিন ঘন্টা প্রভু তাদের ঈশ্বরকে প্রার্থনা করবার জন্য এবং পাপ স্বীকার করবার জন্য মাথা নীচু করে রইল।

4তারপর এইসব লেবীয়রা সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে রইল: যেশূয়, বানি, কদ‌্মীয়েল, শবনিয়, বুন্নি, শেরেবিয়, বানি, কনানী। তারা উচ্চস্বরে তাদের প্রভু, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে লাগল। 5এরপর যেশূয়, বানি, কদ‌্মীয়েল, বুন্নি, হশব্‌নির, শেরেবিয়, হোদিয়, শবনিয়, পথাহিয় প্রমুখ লেবীয়রা বলল, “উঠে দাঁড়াও এবং তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের প্রশংসা কর! ঈশ্বর সর্বদা ছিলেন এবং তিনি চির দিন থাকবেনও।

“মানবজাতি তোমার মহান নামের প্রশংসা করুক!

তোমার নাম সব কিছুর ঊর্দ্ধে উঠুক এবং বন্দিত হোক্!

6হে প্রভু,

একমাত্র তুমিই ঈশ্বর!

তুমিই সেই জন, যে আকাশ তৈরী করেছে!

তুমিই মহান স্বর্গ আর মর্ত্যে যা কিছু আছে সে সব,

পৃথিবী আর অভ্যন্তরস্থ সব কিছু

আর সমুদ্র মধ্যস্থিত সব কিছু সৃষ্টি করেছ।

সবেতে তুমিই দিয়েছো জীবনের ছোঁয়া

এবং সমস্ত স্বর্গীয় দেবদূতরা নত হয়ে তোমার উপাসনা করে!

7হে প্রভু, তুমিই আমাদের ঈশ্বর।

তুমিই সেই জন যে অব্রামকে মনোনীত করে

বাবিলের ঊর থেকে নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে গিয়েছিলে

এবং তার নাম বদলে অব্রাহাম রেখেছিলে।

8তুমিই তার আনুগত্য এবং সততা লক্ষ্য করেছ।

তুমিই সেই জন যে তার সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিলে

এবং তাকে ও তার উত্তরপুরুষদের

কনানীয়, হিত্তীয়, ইমোরীয়, পরিষীয়, যিবূষীয় এবং গির্গাশীয়দের জমিগুলি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে।

তুমি তোমার প্রতিশ্রুতি রেখেছো

কারণ তুমি ভাল।

9তুমি মিশরে আমাদের পূর্বপুরুষদের দুর্গতি দেখেছিলে

ও লোহিত সাগর থেকে তাদের এন্দন শুনেছিলে।

10তুমি ফরৌণে তার আধিকারিকদের

ও তার লোকদের কাছে নানা চিহ্ন ও অদ্ভুত কার্য দেখিয়েছিলে।

তুমি জানতে যে, মিশরীয়রা নিজেদের

আমাদের পূর্বপুরুষদের থেকে শ্রেষ্ঠতর ভাবত।

কিন্তু তুমি প্রমাণ করলে, তুমি কত মহান!

আজ পর্যন্ত তারা তা স্মরণ করে।

11তুমি তাদের চোখের সামনে লোহিত সাগরকে দ্বিখণ্ডিত করলে

আর শুকনো জমির ওপর দিয়ে হেঁটে গেলে

কিন্তু তুমি তাড়া করে আসা শত্রুদের সমুদ্র ফেলে দিলে।

তারা পাথরের মতো সমুদ্রে ডুবে গেল।

12একটি উঁচু মেঘ দিয়ে দিনের বেলা তুমি তাদের পথ দেখালে।

রাতের বেলা, একটি আলোকস্তম্ভ দিয়ে তুমি তাদের পথ দেখালে।

তুমি তাদের দেখালে কোথায় যেতে হবে।

13এরপর সীনয় পর্বতে স্বর্গের চূড়া থেকে

তুমি স্বয়ং কথা বলে

তাদের দিলে প্রকৃত শিক্ষা, যা ভালো;

তুমি তাদের বিধিসমূহ ও আজ্ঞা দিলে যেগুলি ভালো।

14তুমি তোমার দাস, মোশির মাধ্যমে তোমার পবিত্র বিশ্রামের দিনের কথা তাদের জানালে।

তুমি তাদের আজ্ঞা, বিধিসমূহ এবং শিক্ষামালা দিলে।

15ওরা সকলে ক্ষুধার্ত ছিল,

তাই তুমি স্বর্গ থেকে সবাইকে খাবার দিলে।

ওরা সকলে তৃষ্ণার্ত ছিল,

তাই তুমি পাথর থেকে সবাইকে জল দিলে।

তারপর তুমি ওদের যেতে বললে

ও প্রতিশ্রুত ভূমি দখল করতে বললে।

তোমার ক্ষমতা দিয়ে তুমি সেই ভূখণ্ড

অন্যদের কাছ থেকে নিয়েছিলে।

16কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষরা গর্বোদ্ধত ও জেদী হল

এবং তোমার আজ্ঞা লঙ্ঘন করল।

17তারা শুনতে অস্বীকার করল।

তুমি যে আশ্চর্য জিনিষগুলি তাদের জন্য করেছিলে তা তারা ভুলে গেল।

তাদের জেদের কারণে

তারা আবার ক্রীতদাস হয়ে মিশরে ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নিল।

“কিন্তু তুমি দয়ালু ঈশ্বর!

ক্ষমা, করুণা, ধৈর্য্য

ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ তোমার হৃদয়।

তাই তুমি তাদের পরিত্যাগ করনি।

18এমনকি যখন তারা সোনার বাছুরের মূর্ত্তি বানিয়ে বলেছে, ‘এই মূর্ত্তিগুলোই আমাদের মিশর থেকে বাইরে এনেছে,’

তখনও তুমি তাদের বাতিল কর নি।

19কিন্তু তোমার মহান করুণার জন্য

তুমি ওদের মরুভূমিতে পরিত্যাগ করনি।

তুমি দিনের বেলা উঁচু মেঘটিকে সরিয়ে নাওনি,

রাতেও আগুনের স্তম্ভটি সরিয়ে নাওনি।

তুমি তোমার পবিত্র আলো দিয়ে

তাদের পথ আলোকিত করা

এবং তাদের পথ দেখিয়ে চলা অব্যাহত রেখেছ।

20তুমি তাদের বিচক্ষণ করে তোলার জন্য তোমারই ভাল আত্মা দিয়েছ।

খাদ্য হিসেবে তুমি ওদের মান্না দিয়েছ

এবং জল দিয়েছ তাদের তৃষ্ণা মেটাতে।

21তুমি 40 বছর ধরে এদের প্রতিপালন করেছো।

তুমি মরুভূমিতে যা কিছু প্রয়োজন ছিল তা দিয়েছো।

ওদের পোশাকগুলি ছিঁড়ে যায়নি।

ওদের পা ফুলে যায়নি।

22হে প্রভু, তুমি ওদের রাজত্ব, জাতি

এবং বহু দূরের জায়গাগুলি যেখানে অল্প কিছু লোক বাস করত, তা দিয়েছ।

তুমি ওদের সীহোনের ভূখণ্ড, হিষ্বোণের রাজা,

ওগের ভূখণ্ড এবং বাশনের রাজা দিয়েছিলে।

23তুমি আকাশের নক্ষত্রের মতো

ওদের উত্তরপুরুষদের সংখ্যায় বাড়িয়েছো।

তুমি তাদের সেই ভুখণ্ডে বাস করতে নিয়ে গিয়েছ

যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে প্রতিশ্রুত ছিল।

24তারা এই ভূখণ্ডে প্রবেশ করল

এবং কনানীয়দের পরাজিত করে সেটি অধিকার করল।

তুমি তাদের দিয়ে ঐসব লোকদের পরাজিত করিয়েছিলে।

ঐসব জাতি, তাদের রাজা এবং ঐসব লোকের প্রতি

তারা যা করতে চেয়েছিল,

তুমিই তাদের দিয়ে তাই করিয়েছিলে।

25তারা শক্তিশালী নগরগুলি

এবং উর্বর জমি দখল করল।

তারা ভালো ভালো জিনিষে পরিপূর্ণ বাড়ীগুলি অধিকার করল।

ইতিমধ্যেই যে সব কূপগুলি খনন হয়েছিল সেগুলি, দ্রাক্ষাক্ষেত,

জলপাই গাছ এবং অনেক ফলের গাছসমূহ তারা পেয়েছিল।

তারা খেলো এবং তৃপ্ত হল।

তুমি তাদের যে ভাল জিনিসগুলি দিয়েছিলে সেগুলি তারা উপভোগ করেছিল।

26তারা তোমার বিরুদ্ধে গেল

এবং তোমার শিক্ষামালা ছুঁড়ে ফেলে দিল।

তারা তোমার ভাববাদীদেরও হত্যা করল,

যারা তাদের সতর্ক করে

তোমার কাছে ফেরাতে চেয়েছিল।

কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষরা তোমার বিরুদ্ধে বীভৎ‌স সব কাজ করলো।

27তাই তুমি তাদের শত্রুদের হাতে ওদের পরাজিত হতে দিলে।

শত্রুরা তাদের নানান সংকটের মধ্যে ফেললো।

তাই বিপদের সময়ে তারা তোমার সাহায্যের জন্য কেঁদে পড়ল।

স্বর্গে বসে তুমি তাদের আর্ত চিৎকার শুনলে।

তুমি করুণাময়,

তাই লোক পাঠালে তাদের পরিত্রাণের জন্য।

তারা এসে শত্রুদের হাত থেকে ওদের উদ্ধার করলো।

28কিন্তু যে মূহুর্তে আমাদের পূর্বপুরুষরা তাদের শত্রুদের হাত থেকে মুক্তি পেল,

তারা পাপ কার্য শুরু করলো।

তাই তুমি তাদের শত্রুদের পরাজিত করতে এবং তাদের ওপর নিষ্ঠুরভাবে শাসন করতে দিলে।

তারা তোমার সাহায্যের জন্য কান্নাকাটি করল।

স্বর্গে তুমি তাদের কান্না শুনলে

এবং তোমার করুণাবশতঃ আবার তাদের উদ্ধার করলে।

এ ঘটনা বহুবার ঘটেছে।

29তুমি তাদের সতর্ক করেছিলে,

যাতে তারা তোমার শিক্ষামালার শরণ নেয়,

কিন্তু ওরা উদ্ধত ছিল

এবং তোমার আজ্ঞাসমূহ মানতে অস্বীকার করেছিল।

তারা তোমার বিধিসমূহ, যে সেগুলো পালন করে

তাকে সত্য জীবন দেয়, তা ভেঙেছিল।

কিন্তু তারা তাদের জেদবশতঃ তোমার বিধিসমূহ ভেঙেছিল।

তারা তোমার দিকে পেছন ফিরে ছিল

এবং শুনতে অস্বীকার করেছিল।

30“তুমি আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি

বহু বছর ধরে খুব ধৈর্য্যশীল ছিলে,

তোমার আত্মায় পূর্ণ তোমার ভাববাদীদের মাধ্যমে

তুমি তাদের সতর্ক করেছিলে।

কিন্তু তারা শুনতে অস্বীকার করেছিল,

তাই তুমি তাদের বিজাতীয়দের হাতে তুলে দিয়েছিলে।

31“কত দরদী এবং করুণাময় ঈশ্বর তুমি।

তবুও তুমি তাদের ধ্বংস করোনি,

ছেড়েও যাওনি।

তুমি দয়াময়, করুণাধর ঈশ্বর!

32হে আমাদের ঈশ্বর, তুমি মহান!

ভয়ঙ্কর এবং ক্ষমতাশালী ঈশ্বর!

তুমি দয়ালু ও বিশ্বস্ত।

তুমি সবসময় তোমার চুক্তি বজায় রাখো!

আমাদের অনেক সমস্যা ছিল।

সে সবই তোমার কাছে জরুরী!

আমাদের লোকদের নানান সঙ্কটে পড়তে হয়েছিল।

আমাদের যাজকগণ ও ভাববাদীগণ সংকটে ছিল।

অশূরের রাজাদের রাজত্বের সময় থেকে

আজ পর্যন্ত বহু ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে গেছে।

33কিন্তু হে আমাদের প্রভু,

আমাদের প্রতি যা কিছু ঘটেছে তাতে তুমি ছিলে ন্যায়সঙ্গত। হ্যাঁ, আমরাই ভুল করেছি!

34আমাদের রাজারা, নেতারা, যাজকরা ও পূর্বপুরুষরা

তোমার আদেশগুলি মানেনি।

তারা তোমার সাবধানবাণী অবজ্ঞা করে নির্দেশ অমান্য করেছে।

35আমাদের পূর্বপুরুষরা, তুমি তাদের যে বিশাল উর্বর জমি দিয়েছিলে তা উপভোগ করেছিল।

কিন্তু তারা তোমার সেবা করেনি

বা তাদের পাপ আচরণ থেকে সরে আসেনি।

36এখন আমরা এই ভূখণ্ডে ক্রীতদাস।

যে ভূখণ্ড তুমি আমাদের পূর্বপুরুষদের দিয়েছিলে,

যাতে তারা সেখানকার ফলমূল

ও যা কিছু সুন্দর জিনিস ভোগ করতে পারে,

সেখানেই আমরা ক্রীতদাস।

37এই জমিতে বহু ফসল ফলত,

কিন্তু সমস্ত ফলন যায় রাজার কাছে। এই জমির মহতী ফসল যায় রাজাদের কাছে যাদের তুমি আমাদের পাপ আচরণের জন্য আমাদের ওপর শাসন করতে নিযুক্ত করেছ।

ঐসব রাজারা আমাদের শাসন করে, আমাদের গবাদি পশু তারা নিয়ন্ত্রণ করে

এবং তারা তাদের যা ইচ্ছে তাই করে।

সত্যিই, আমাদের পক্ষে তা একটা দুর্ভোগ।

38“এসব কারণেই, আমাদের নেতারা, লেবীয়রা এবং যাজকগণ তোমার সঙ্গে চুক্তিটি করেছিল যেটা বদলানো যায় না। আমরা যা প্রতিজ্ঞা করছি লিখে তাতে স্বাক্ষর করছে আমাদের নেতারা, লেবীয়রা ও যাজকরা আর সেই চুক্তিপত্র শীলমোহর করে রাখছি।”

10

1চুক্তিটি যারা শীলমোহর করেছিলেন তাঁরা হলেন:

হখলিয়ের পুত্র রাজ্যপাল নহিমিয়, 2আর যাজকদের মধ্যে সিদিকিয়, 3সরায়, অসরিয়, যিরমিয়, পশ‌্হূর, অমরিয়, মল্কিয়, 4হটূশ, শবনিয়, মল্লূক, 5হারীম, মরেমোৎ, ওবদিয়, 6দানিয়েল, গিন্নথোন, বারূক, 7মশুল্লম, অবিয়, মিয়ামীন, 8মাসিয়, বিল্‌গয় এবং শময়িয়। এঁরাই হলেন সেই যাজকগণ যাঁরা চুক্তিটি সই করেছিলেন।

9নিম্নলিখিত লেবীয়রা চুক্তিটি শীলমোহর করেছিলেন:

অসনিয়ের পুত্র যেশূয়, হেনাদদ পরিবারের বিন্নুয়ী, কদ‌্মীয়েল 10এবং তাঁর ভাইদের মধ্যে শবনিয়, হোদিয়, কলীট, পলায়, হানন, 11মীখা, রহোব, হশবিয়, 12সক্কূর, শেরেবিয়, শবনিয়, 13হোদীয়, বানি এবং বনীনু।

14নেতারা যাঁরা সই করেছিলেন তাঁরা হলেন:

পরোশ, পহৎ-মোয়াব, এলম, সত্তূ, বানি, 15বুন্নি, অস‌্গদ, বেবয়, 16অদোনিয়, বিগ্‌বয়, আদীন, 17আটের, হিষ্কিয়, অসূর, 18হোদিয়, হশুম, বেৎ‌সয়, 19হারীফ, অনাথোৎ, নবয়, 20মগ্‌পীয়শ, মশুল্লম, হেষীর, 21মশেষবেল, সাদোক, যদ্দুয়, 22পলটিয়, হানন, অনায়, 23হোশেয়, হনানিয়, হশূব, 24হলোহেশ, পিল‌্হ, শোবেক, 25রহূম, হশব‌্না, মাসেয়, 26অহিয়, হানন, অনান, 27মল্লূক, হারীম ও বানা।

28 এছাড়াও অবশিষ্ট সমস্ত বাসিন্দা, যাজকগণ, লেবীয়বর্গ, দ্বাররক্ষীরা ও গায়করা সকলে, যারা অন্যান্য ভিন দেশী জাতিদের থেকে নিজেদের আলাদা রেখেছিল এবং তাদের স্ত্রী-ছেলেমেয়ে, যেখানে যত জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন লোক আছে তারা সকলে মিলে একসঙ্গে প্রতিশ্রুতি করল যে মোশির মাধ্যমে প্রভু, আমাদের ঈশ্বর তাদের জন্য যে বিধি পাঠিয়েছেন—সেই সমস্ত শিক্ষা ও নির্দেশ তারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে এবং তারা ঈশ্বরের বিধিসমূহ পালন না করলে তারা সেই অভিশাপটি গ্রহণ করবে যার থেকে তাদের অমঙ্গল হবে।

30“আমরা প্রতিশ্রুতি করছি, আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের আশেপাশের সমগোত্রীয়দের সঙ্গে বিয়ে হতে দেব না।

31“আমরা প্রতিশ্রুতি করছি যে বিশ্রামের দিন আমরা কোন কাজ করব না। সেই বিশ্রামের দিনে যদি আমাদের আশেপাশের কেউ আমাদের কাছে কিছু বিক্রি করতে আসে, আমরা তাদের কাছ থেকে কোন জিনিস কিনবো না। এছাড়া প্রতি সপ্তম বছরে আমরা জমিতে কোন কাজ করব না, নিস্ফলা রাখব এবং আমাদের কাছে যার যা ধার্য্য কর আছে তা আর আদায়় করব না।

32“এছাড়াও, আমরা মন্দিরের দেখাশোনা করব এবং আমাদের ঈশ্বরকে সম্মানিত করবার জন্য, মন্দিরের সেবা কাজে সাহায্যের জন্য প্রতি বছর 1/3 শেকেল রৌপ্য আমরা দেব। 33এই অর্থ মন্দিরে টেবিলের ওপর যাজকরা যে বিশেষ রুটি রাখেন তার জন্য, প্রতিদিনের শস্য নৈবেদ্য ও হোমবলির জন্য, বিশ্রামের দিনের নৈবেদ্যর জন্য, অমাবস্যার উৎসবগুলির জন্য, অন্যান্য বিশেষ সভাসমূহের জন্য, পবিত্র নৈবেদ্যগুলির জন্য, পাপস্খালনের নৈবেদ্যর জন্য যা ইস্রায়েলীয়দের শুদ্ধ করে এবং আমাদের ঈশ্বরের মন্দিরের অন্য যে কোন খরচের জন্য ব্যবহৃত হবে।

34“বিধিপুস্তকের লেখা অনুসারে আমরা যাজকগণ, লেবীয়রা এবং লোকরা ঘুঁটি চেলে ঠিক করেছি বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোন পরিবার আমাদের প্রভু ঈশ্বরের মন্দিরের বেদীর ওপর পোড়ানোর জন্য জ্বালানী কাঠ দান করবে।

35“এছাড়াও আমরা প্রতি বছর প্রতিটি ক্ষেত থেকে নবান্নের প্রথম ফসল ও গাছের প্রথম ফলটি প্রভুর মন্দিরে আনার দায়িত্ব গ্রহণ করলাম।

36“বিধিতে যেমন লেখা আছে, আমরা আমাদের প্রথম জাত পুত্র, আমাদের প্রথম জাত গরু-মেষ এবং ছাগলগুলি ঈশ্বরের মন্দিরে আনব এবং সেখানে সেবায় নিযুক্ত যাজকদের সেগুলি দেব।

37“আমরা এই জিনিষগুলিও প্রভুর মন্দিরের ভাঁড়ার ঘরে আনব এবং সেগুলি যাজকদের দেব: আমাদের প্রথম ময়দার তাল, আমাদের প্রথম শস্য নৈবেদ্য, আমাদের প্রথম গাছগুলি, নতুন দ্রাক্ষারস এবং তেল। এবং আমরা যেখানে কাজ করি সেই শহরে লেবীয়রা যখন সংগ্রহ করতে আসে তখন আমরা তাদের জন্য আমাদের ফসলের এক দশমাংশ নিয়ে আসব। 38যখন তারা এই ফসল গ্রহণ করবে তখন হারোণ পরিবারের একজন যাজক লেবীয়দের সঙ্গে থাকবে। লেবীয়রা এইসমস্ত ফসল আমাদের ঈশ্বরের মন্দিরে এনে মন্দিরের গোলাঘরের মধ্যে রেখে দেবে। 39তারা তাদের শস্য, দ্রাক্ষারস, তেল প্রভৃতি উপহার সামগ্রী মন্দিরের ভাঁড়ার ঘরে যেখানে যাজকরা কাজের জন্য থাকেন সেখানে অবশ্যই আনবে। এছাড়াও গায়কবর্গ ও দ্বাররক্ষীরা সেখানে থাকবে।

“আমরা সকলে প্রতিজ্ঞা করলাম আমাদের ঈশ্বরের মন্দির রক্ষণাবেক্ষণ করব!”

11

জেরুশালেমে নতুন বাসিন্দাদের প্রবেশ

1অতঃপর ইস্রায়েলের বাসিন্দাদের নেতারা জেরুশালেম শহরে চলে এলেন। ইস্রায়েলের বাসিন্দাদের এবার ভাবতে হবে আর কারা কারা এ শহরে থাকবে। তাই তারা ঘুঁটি চেলে ঠিক করল প্রতি দশজনে একজন করে ব্যক্তিকে এই পবিত্র শহরে থাকতেই হবে। অপর ন’জন ইচ্ছে করলে তাদের নিজেদের শহরে থাকতে পারে। 2কিছু ব্যক্তি স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসে জেরুশালেমে থাকতে রাজী হল। অন্য লোকরা তাদের ধন্যবাদ জানালো এবং আশীর্বাদ করল।

3প্রাদেশিক শাসনকর্তারা জেরুশালেমে থাকলেন। ইস্রায়েলের কিছু লোক, যাজকগণ, লেবীয়রা ও শলোমনের ভৃত্যদের বংশধররা যিহূদাতে থাকলেন। এরা প্রত্যেকেই বিভিন্ন শহরে নিজস্ব জমিতে বাস করতে লাগলেন। 4যিহূদার অন্যান্য ব্যক্তিরা ও বিন্যামীনের পরিবারের লোকজনরা জেরুশালেম শহরেই বসতি স্থাপন করল।

যিহূদার উত্তরপুরুষদের মধ্যে যাঁরা জেরুশালেমে এলেন তাঁরা হলেন:

উষিয়ের পুত্র অথায় (উষিয় ছিলেন সখরিয়র পুত্র; সখরিয় ছিলেন অমরিয়ের পুত্র; অমরিয় ছিলেন শফটিয়ের পুত্র; শফটিয় ছিলেন মহললেলের পুত্র; মহললেল ছিলেন পেরসের উত্তরপুরুষ।) 5এবং বারূকের পুত্র মাসেয়। (বারূক ছিলেন কল্হোষির পুত্র; কল্হোষি ছিলেন হসায়ের পুত্র; হসায় ছিলেন অদায়ার পুত্র; অদায়া ছিলেন যোয়ারীবের পুত্র; যোয়ারীব ছিলেন সখরিয়ের পুত্র; সখরিয় ছিলেন শেলার উত্তরপুরুষ।) 6সব মিলিয়ে জেরুশালেমে পেরস বংশের 468 জন সাহসী উত্তরপুরুষ বাস করতেন।

7বিন্যামীনের উত্তরপুরুষদের মধ্যে যাঁরা জেরুশালেমে এলেন তাঁরা হলেন:

মশুল্লমের পুত্র সল্লূ। (মশুল্লম ছিলেন যোয়েদের পুত্র; যোয়েদ ছিলেন পদায়ের পুত্র; পদায় ছিলেন কোলায়ার পুত্র; কোলায়া ছিলেন মাসেয়ের পুত্র; মাসেয় ছিলেন ঈথীয়েলের পুত্র; ঈথীয়েল ছিলেন যিশায়াহের পুত্র।) 8এবং যিশায়াহকে যারা অনুসরণ করেছিলেন তাঁরা হলেন গব্বয় এবং সল্লয়। সব মিলিয়ে সেখানে 928 জন পুরুষ ছিল। 9এরা শিখ্রির পুত্র যোয়েলের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। আর হস‌্সনূয়ার পুত্র যিহূদা, জেরুশালেমের দ্বিতীয় জেলার দায়িত্বে ছিলেন।

10যাজকদের মধ্যে জেরুশালেমে গেলেন:

যোয়ারীবের পুত্র যিদয়িয়, যাখীন, 11হিল্কিয়ের পুত্র সরায়। (হিল্কিয় ছিলেন মশুল্লমের পুত্র ও সাদোকের পৌত্র, সাদোক আবার ঈশ্বরের মন্দিরের তত্ত্বাবধায়কের পুত্র অহীটুবের সন্তান মরায়োতের নিজের পুত্র।) 12এবং তাদের ভাইদের 822 জন যারা মন্দিরের জন্য কাজ করেছিল, ভাইরা ও যিরোহমের পুত্র অদায়া। (যিরোহম ছিলেন পললিয়ের পুত্র; পললিয় ছিলেন অম্সির পুত্র; অম্সি ছিলেন সখরিয়ের পুত্র। সখরিয় ছিলেন পশ‌্হূরের পুত্র; পশ‌্হূর ছিলেন মল্কিয়ের পুত্র।) 13এবং 242 জন পুরুষ যারা মল্কিয়ের ভাইরা। (এই পুরুষেরা ছিলেন তাঁদের পরিবারের নেতৃগণ। এঁরা ছিলেন: অসরেলের পুত্র অমশয়; অসরেল ছিলেন অহসয়ের পুত্র; অহসয় ছিলেন মশিল্লেমোতের পুত্র; মশিল্লেমোৎ ছিলেন ইম্মেরের পুত্র।) 14এঁদের সঙ্গে গেলেন ইম্মেরের আরো 128 জন ভাই। (যারা সকলেই একেক জন সাহসী সৈনিক। এই দলটির পরিচালনার কর্তৃত্ব ছিল হগ্গদোলীমের পুত্র সব্দীয়েল।)

15লেবীয়দের মধ্যে যাঁরা জেরুশালেমে গেলেন তাঁরা হলেন:

হশূবের পুত্র শিময়িয়। (হশূব ছিলেন অস্রীকামের পুত্র; অস্রীকাম ছিলেন হশবিয়র পুত্র; হশবিয় ছিলেন বুন্নির পুত্র।) 16লেবীয়দের দুই নেতা শব্বথয় ও যোষাবাদ; বর্হিবিভাগের উঠোনের কাজের জন্য ভারপ্রাপ্ত ছিলেন; 17মীখার পুত্র মত্তনিয়, (মীখা ছিলেন সব্দির পুত্র, সব্দি ছিলেন প্রশস্তি ও প্রার্থনা সঙ্গীত দলের পরিচালক আসফের পুত্র।) এবং বক্বুকিয় যে ছিল তার ভাইদের ভারপ্রাপ্তদের মধ্যে দ্বিতীয় এবং শম্মুয়ের পুত্র অব্দ; শম্মুয় ছিলেন গাললের পুত্র। গালল ছিলেন যিদূথূনের পুত্র। 18সব মিলিয়ে মোট 284 জন লেবীয় পবিত্র শহর জেরুশালেমে গেলেন।

19দ্বাররক্ষীদের মধ্যে অক্কুব, টল্‌মোন ও তাদের 172 জন ভাই জেরুশালেমে যান। এঁরা শহরের দরজাগুলির দিকে খেয়াল রাখতেন ও পাহারা দিতেন।

20ইস্রায়েলের অন্য বাসিন্দারা, যাজক ও লেবীয়রা যিহূদাতে, তাঁদের পূর্বপুরুষদের জমিতেই বাস করতেন। 21সীহ এবং গীষ্প ছিল মন্দিরের দাসদের নেতা যারা ওফল পাহাড়ের ওপর থাকত।

22আর উষি ছিলেন জেরুশালেমের লেবীয়দের আধিকারিক। (উষি ছিলেন বানির পুত্র। বানি ছিলেন হশবিয়ের পুত্র; হশবিয় ছিলেন মত্তনীয়র পুত্র; মত্তনীয় ছিলেন মীখার পুত্র।) উষি ছিলেন আসফের একজন উত্তরপুরুষ। আসফের উত্তরপুরুষরা ছিলেন ঈশ্বরের মন্দিরের সেবায়েৎ গায়কবর্গ। 23রাজা দায়ূদ গায়কদের কাজকর্মের আদেশ ও নির্দেশ দিয়েছিলেন। 24মশেষবেলের পুত্র পথাহিয় লোকদের কাছে রাজার কাছ থেকে খবর নিয়ে আসত। (পথাহিয় ছিল সেরহের একজন উত্তরপুরুষ। সেরহ ছিল যিহূদার পুত্র।)

25 যিহূদার লোকরা কিরিয়ৎ-অর্ব্ব এবং তার চারপাশের ছোট শহরগুলিতে, দীবোন এবং তার চারপাশের যেশূয়, মোলাদাত, বৈৎ‌পেলটে, হৎসর-শুয়ালে, বের্-শেবা এবং সিক্লগের ছোট শহরগুলিতে, যিকব্‌সেল ও তার চারপাশের ছোট শহরগুলিতে, এবং মকোনা এবং ঐন্-রিম্মোণে, সরায়, যম্মু এবং সানোহ, অদুল্লম, লাখীশ, অসেকা এবং তার চারপাশের সমস্ত ছোট শহরগুলিতে থাকত। সুতরাং যিহূদার লোকরা বের্-শেবা থেকে হিন্নোম উপত্যকা পর্য্যন্ত সমস্ত পথ জুড়ে বাস করত।

31গেবা থেকে বিন্যামীন পরিবারের উত্তরপুরুষরা মিক্‌মস, অয়াত, বৈথেল এবং তার চারপাশের ছোট শহরগুলিতে থাকতেন। 32অনাথোত, নোবে, অননিয়া, 33হাৎ‌সার, রামা, গিত্তয়িম, 34হাদীদ, সবোয়িম, নবল্লাট, 35লোদ, ওনো এবং কারিগরদের উপত্যকায় বাস করত। 36যিহূদায় বসবাসকারী লেবীয় পরিবারের কিছু গোষ্ঠী বিন্যামীনের জমিতে উঠে এসেছিল।

12

যাজক ও লেবীয়রা

1 সরায়, যিরমিয়, ইষ্রা, অমরিয়, মল্লুক, হটুশ, শখনিয়, রহূম, মরেমোৎ, ইদ্দো, গিন্নথোয়, অরিয়, মিয়ামীন, মোয়াদিয়, বিল্গা, শময়িয়, যোয়ারীব, যিদয়িয়, সল্লূ, আমোক, হিল্কিয়, যিদয়িয় প্রমুখ যাজকেরা শল্টীয়েল ও যেশূয়ের পুত্র সরুব্বাবিলের সঙ্গে যিহূদায় ফিরে এসেছিলেন। এঁরা সকলেই যেশূয়র সময় যাজকদের নেতা ছিলেন বা নেতাদের আত্মীয় ছিলেন।

8লেবীয়রা হলেন: যেশূয়, বিন্নূয়ী, কদ‌্মীয়েল, শেরেবিয়, যিহূদা ও মত্তনিয়। এই পুরুষরা এবং মত্তনিয়র আত্মীয়রা ঈশ্বরের প্রশংসা গীতের ভারপ্রাপ্ত ছিলেন। 9লেবীয়দের দুই আত্মীয় বক্‌বুকিয় ও উন্নো কর্তব্যে থাকার সময় একে অপরের বিপরীত মুখে দাঁড়াতেন। 10যেশূয় ছিলেন যোয়াকীমের পিতা, যোয়াকীম ইলিয়াশীবের, ইলিয়াশীব যোয়াদার, 11যোয়াদা যোনাথনের ও যোনাথন যদ্দূয়ের পিতা ছিলেন।

12যোয়াকীমের সময় যাজক পরিবারের নেতা ছিলেন নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা:

সরায় পরিবারের নেতা ছিলেন মরায়।

যিরমিয় পরিবারের নেতা ছিলেন হনানিয়।

13ইষ্রা পরিবারের প্রধান ছিলেন মশুল্লম,

অমরিয় পরিবারের নেতা ছিলেন যিহোহানন।

14মল্লূকীর পরিবারে নেতা ছিলেন যোনাথন।

শবনিয়ের পরিবারে নেতা ছিলেন যোষেফ।

15হারীমের পরিবারের নেতা ছিলেন অদ্ন।

মরায়োতের পরিবারের নেতা ছিলেন হিল্কয়।

16ইদ্দোর পরিবারের নেতা ছিলেন সখরিয়।

গিন্নথোনের পরিবারের নেতা ছিলেন মশুল্লম।

17অবিয়ের পরিবারের নেতা ছিলেন সিখ্রি।

মিনিয়ামীনের ও মোয়দিয়ের পরিবারগুলির নেতা ছিলেন পিলটয়।

18বিল‌্গার পরিবারের নেতা ছিলেন সম্মুয়।

শময়িয়ের পরিবারের নেতা ছিলেন যিহোনাথন।

19যোয়ারীবের পরিবারের নেতা ছিলেন মত্তনয়।

যিদয়িয়ের পরিবারের নেতা ছিলেন উষি।

20সল্লয়ের পরিবারের নেতা ছিলেন কল্লয়।

আমোকোর পরিবারের নেতা ছিলেন এবর।

21হিল্কিয়ের পরিবারের নেতা ছিলেন হশবিয়।

নথনেল ছিলেন যিদয়িয় পরিবারের নেতা।

22ইলিয়াশীব, যোয়াদার, যোহানন ও যদ্দূয়ের সময়ের লেবীয় ও যাজকদের পরিবারের নেতাদের নাম পারস্যরাজ দারিয়াবসের রাজত্বকালে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। 23ইলিয়াশীবের পুত্র যোহাননের সময় পর্যন্ত লেবীয় উত্তরপুরুষদের পরিবার প্রধানের নাম ইতিহাস বইয়ে লেখা আছে। 24এঁরা হলেন হশবিয়, শেরেবিয়, কদ‌্মীয়েলের পুত্র যেশূয় এবং তার ভাইরা। এরা সকলে প্রশংসা গীত গাইত এবং ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিত। এক দল অন্য দলের বিপরীত মুখে দাঁড়াত এবং অন্য দলের প্রশ্নের উত্তর দিত রাজা দায়ূদ দ্বারা যেভাবে ওটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেই অনুযায়ী।

25মত্তনিয়, বক্‌বুকিয়, ওবদিয়, মশুল্লম, টল্‌মোন ও অক্কুব দরজার পাশের ভাঁড়ার ঘরগুলি পাহারা দিত। 26যেশূয়র পুত্র ও যোসাদকের পৌত্র যোয়াকীমের সময় এই সমস্ত দ্বাররক্ষীরা কাজ করেছে। নহিমিয়ের শাসনকালে এবং যাজক শিক্ষক ইষ্রার সময়ে এরা কাজে বহাল ছিল।

জেরুশালেমের প্রাচীর উৎসর্গীকরণ

27অতঃপর লোকরা জেরুশালেমের দেওয়ালটি উৎসর্গ করল। লেবীয়রা যেখানে থাকতেন সেখান থেকে দেওয়াল উৎসর্গ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জেরুশালেমে এলেন। তাঁরা ঈশ্বরের প্রশংসাগান করতে ও তাঁকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে এসেছিলেন। তাঁরা এসে খোল, করতাল এবং বীণা প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র বাজালেন।

28 গায়করাও সকলে জেরুশালেমের আশেপাশের শহরগুলি থেকে উৎসবে যোগ দিতে এসেছিলেন। তাঁরা নিজেদের বসবাসের জন্য জেরুশালেমের আশেপাশে ছোট শহর বানিয়ে ছিলেন। তাঁরা নটোফাত, বৈৎ‌-গিল‌্গল, গেবা এবং অস্মাবৎ থেকে এসেছিলেন।

30যাজকগণ ও লেবীয়রা প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের শুদ্ধ করলেন, তারপর লোকরা, ফটকসমূহ ও জেরুশালেমের প্রাচীরটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুদ্ধ করলেন।

31আমি যিহূদার নেতাদের দেওয়ালের ওপরে উঠে দাঁড়াতে বললাম। এছাড়াও, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের জন্য বড় দু’টি গানের দলকে বেছে নিলাম। একটি দল ছিল দেওয়ালের ওপরে ডানদিকে ছাইগাদার ফটকের দিকে। 32হোশয়িয় ও যিহূদার অর্ধেক নেতারা সেই গায়কদের অনুসরণ করলেন। 33এছাড়াও তাঁদের সঙ্গে গেলেন অসরিয়, ইষ্রা, মশুল্লম, 34যিহূদা, বিন্যামীন, শময়িয় ও যিরমিয়। 35শিঙা নিয়ে কয়েক জন যাজকও তাদের সঙ্গে গেলেন। আর গেলেন সখরিয়। (সখরিয় ছিলেন যোনাথনের পুত্র। এই যোনাথন আবার শময়িয়র পুত্র, যে কিনা মত্তনিয়ের পুত্র। আর মত্তনিয় হলেন, মীখার পুত্র, সক্কুরের পৌত্র ও আসফের পৌত্র।) 36এদের মধ্যে ছিলেন আসফের ভাই শময়িয়, অসরেল, মিললয়, গিললয়, মায়য়, নথনেল, যিহূদা এবং হনানি। তাঁদের সঙ্গে ছিল ঈশ্বরের দূত দায়ূদ নির্মিত সব বাদ্যযন্ত্র। শিক্ষক ইষ্রা দেওয়াল উৎসর্গীকরণ উৎসবে যাঁরা জড়ো হয়েছিলেন তাঁদের নেতৃত্ব দিলেন। 37তাঁরা যখন ঝর্ণা ফটকের কাছে এলেন, তাঁরা সোজা হাঁটলেন এবং দায়ূদ নগরী পর্যন্ত সিঁড়ি দিয়ে উঠে গেলেন এবং তারপর তাঁরা জলদ্বারের দিকে গেলেন।

38এদিকে গায়কদের অন্য দলটি বাঁদিকে রওনা হল। আমি ও বাকি অর্ধেক লোক তাদের পেছন পেছন গিয়ে দেওয়ালের চূড়োয় পৌঁছলাম। তারা তুন্দুরের দুর্গ ছাড়িয়ে চওড়া দেওয়ালের দিকে গেল। 39তারপর তারা এই ফটকগুলি দিয়ে গেল: ইফ্রয়িমের দ্বার, পুরানো দ্বার, মৎস্যদ্বার, হননেলের দুর্গ ও হম্মেয়ার একশতর দুর্গ। তারপর তারা মেষ দ্বারের কাছে পৌঁছোল। তারা রক্ষীদের দ্বারের কাছে গিয়ে থামল। 40তারপর এই দুই গায়কের দল ঈশ্বরের মন্দিরে তাদের জন্য নির্ধারিত জায়গায় গিয়ে দাঁড়ালো, আমিও নিজের জায়গায় এসে দাঁড়ালাম। তারপর আধিকারিকদের অর্ধেক তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে দাঁড়াল। 41ইলীয়াকীম, মাসেয়, মিনিয়ামীন, মীখায়, ইলিয়ৈনয়, সখরিয় এবং হনানিয় ছিলেন যাজকদের নেতা এবং তাঁরা তাঁদের শিঙা নিয়ে যে যার জায়গায় উঠে দাঁড়ালেন। 42এরপর এইসব যাজকগণও তাঁদের নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়ালেন: মাসেয়, শময়িয়, ইলিয়াসর, উষি, যিহোনাথন, মল্কিয়, এলম ও এষর।

অতঃপর যিষ্রহিয়র পরিচালনায় এর দুটি দল গান শুরু করল। 43ওই বিশেষ দিনটিকে উপলক্ষ করে যাজকরা বহু বলি উৎসর্গ করলেন। সকলেই খুশী ছিল কারণ ঈশ্বর সকলকে খুব খুশী করেছিলেন। এমন কি মেয়েদের ও তাদের বাচ্চাদেরও খুবই উত্তেজিত ও আনন্দিত দেখাচ্ছিল। বহু দূরের লোকরাও জেরুশালেম থেকে ভেসে আসা আনন্দের স্বর শুনতে পাচ্ছিল।

44ভাঁড়ার ঘরের তত্ত্বাবধানের জন্য লোক ঠিক করার পর প্রতিশ্রুতি মতো লোকরা গাছের প্রথম ফল ও উৎপন্ন শস্যের দশ ভাগের এক ভাগ জমা করল। তত্ত্বাবধায়ক সেসব ফল ও ফসল ভাঁড়ারে তুলে রাখল। ইহুদীরা সকলেই দায়িত্বাধীন যাজক ও লেবীয়দের কাজে খুবই সন্তুষ্ট হয়েছিল। তাই তারা মুক্তহস্তে ভাঁড়ারের জন্য উপহার বয়ে আনছিল। 45যাজকগণ ও লেবীয়রা তাঁদের ঈশ্বরের সেবা করছিলেন। তাঁরা লোকদের শুচি করার জন্য অনুষ্ঠান সম্পাদন করলেন। গায়ক ও দ্বাররক্ষীরাও দায়ূদ ও শলোমনের নির্দেশ পালন করেছিল। 46(বহুকাল আগে, দায়ূদ এবং সঙ্গীত দলের পরিচালক আসফের সময় ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে অনেক প্রশস্তি এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপনের গান রচনা করেছিলেন।)

47সরুব্বাবিল ও নহিমিয়ের রাজত্বের সময়ে, ইস্রায়েলের লোকরা দ্বাররক্ষী ও গায়কদের দৈনিক ব্যয়ের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতেন। ইস্রায়েলীয়রা লেবীয়দের জন্য অর্থ সরিয়ে রাখতেন। লেবীয়রা হারোণের উত্তরপুরুষ যাজকদের জন্য সেই অর্থ রেখে দিয়েছিল।

13

নহিমিয়র শেষ নির্দেশাবলী

1সেদিন সবাই যাতে শুনতে পায়, সে ভাবে মোশির বিধি পুস্তকটি উচ্চস্বরে পাঠ করা হয়েছিল। প্রত্যেকে জানতে পারল যে, পুস্তকে অম্মোনীয় ও মোয়াবীয় ব্যক্তিদের ঈশ্বরের লোকদের মণ্ডলীতে যোগ দেবার অনুমতি ছিল না। 2এই নিষেধাজ্ঞার কারণ এই সমস্ত লোকরা ইস্রায়েলের লোকদের প্রয়োজনে খাদ্য বা জল তো দেয়ই নি, উপরন্তু ইস্রায়েলীয়দের অভিশাপ দেবার জন্য তারা বিলিয়মকে টাকা দিয়েছিল। কিন্তু আমাদের ঈশ্বর সেই অভিশাপকে আশীর্বাদে পরিণত করলেন। 3ইস্রায়েলীয়রা যখন বিধি সম্বন্ধে জানতে পারল, তারা সমস্ত বিদেশীদের থেকে নিজেদের আলাদা করে নিল।

4 কিন্তু এ ঘটনা ঘটার আগে ইলিয়াশীব মন্দিরের একটি ঘর টোবিয়কে দিয়েছিলেন। ইলিয়াশীব ছিলেন মন্দিরের ভাঁড়ার ঘরগুলির ভারপ্রাপ্ত যাজক আর টোবিয় ছিলেন তাঁরই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। যে ঘরটি তিনি দিয়েছিলেন সেই ঘরটিতে দান হিসেবে পাওয়া শস্য, ধুপকাঠি সুগন্ধী বস্তু ও ঈশ্বরের মন্দিরের বাসন-কোসন ছাড়াও দ্রাক্ষারস, লেবীয় গায়কদের ও দ্বাররক্ষীদের ব্যবহারের তেল ও যাজকদের পাওয়া উপহার সামগ্রীগুলি থাকত। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইলিয়াশীব ওই ঘরটি তাঁর বন্ধুকে দিয়েছিলেন।

6এ ঘটনা যখন ঘটে, আমি তখন জেরুশালেমে ছিলাম না। সে সময় অর্থাৎ‌ রাজা অর্তক্ষস্তের রাজত্বের 32 বছরের মাথায়, আমি আবার বাবিলে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাই ও তাঁর সম্মতি নিয়ে আবার জেরুশালেমে ফিরে আসি। 7ফিরে আসার পর আমি ইলিয়াশীবের এই দুঃখজনক কাজের কথা জানতে পেরে খুবই রেগে যাই। 8ইলিয়াশীবের মতো একজন ব্যক্তি কিনা স্বয়ং ঈশ্বরের মন্দিরের একটি ঘর টোবিয়কে দিয়ে দিয়েছে! 9আমি ঐ ঘরগুলিকে পরিষ্কার ও শুচি করার আদেশ দিই। তারপর আমি মন্দিরের থালাগুলি, শস্য নৈবেদ্য এবং ধুপধূনো ঐ ঘরগুলোতে রেখে দিই।

10আমি একবার জানতে পারি, যে লোকেরা তাদের প্রতিশ্রুতি মতো লেবীয় ও গায়কদের শস্য ও খরচাপাতি না দেওয়ায় তারা নিজেদের ক্ষেতে কাজ করতে যেতে বাধ্য হয়েছে। 11আমি দায়িত্বাধীন ব্যক্তিদের ডেকে জিজ্ঞেস করলাম, “তোমরা কেন ঈশ্বরের মন্দিরের ঠিকমতো দেখাশোনা করো নি?” এরপর আমি সব লেবীয়দের একত্র করলাম এবং তাদের নিজেদের জায়গায় ও মন্দিরের কাজে ফিরে যেতে আদেশ দিলাম। 12তখন যিহূদার সকলে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিজেদের শস্য, দ্রাক্ষারস ও তেলের এক দশমাংশ মন্দিরে নিয়ে এলো এবং সেগুলি ভাঁড়ার ঘরে জড়ো করল।

13আমি শেলিমিয় নামে এক যাজককে, সাদোক নামে একজন শিক্ষককে ও পদায় নামে এক লেবীয়কে ভাঁড়ার ঘরের দায়িত্ব দিলাম। মত্তনয়ের পৌত্র ও সক্কুরের পুত্র হাননকে তাদের সহকারী হিসেবে নিযুক্ত করলাম। আমি জানতাম, আমি এদের ওপর ভরসা করতে পারি। এদের কাজ ছিল ভাঁড়ার ঘরের জিনিসপত্র তাদের আত্মীয়দের মধ্যে বিলিবন্টন করা।

14হে ঈশ্বর, এই সমস্ত কাজের জন্য তুমি আমাকে মনে রেখো। আমার ঈশ্বরের মন্দির ও তাঁর কাজ পরিচালনার জন্য আমি ভক্তিভরে যা করেছি তা যেন তুমি ভুলে যেও না।

15সেই সময়, আমি দেখলাম যে, বিশ্রামের দিনও যিহূদায় লোকে দ্রাক্ষারস বানানোর জন্য দ্রাক্ষা নিংড়ানোর কাজ করছে। আমি দেখলাম যে লোকে শস্য বয়ে এনে গাধার পিঠে তা বোঝাই করছে, তারা দ্রাক্ষা এবং অন্যান্য জিনিষপত্রও বিশ্রামের দিনে জেরুশালেমে নিয়ে আসছে। আমি তখন এইসব লোকদের সতর্ক করে দিয়ে বলি যে বিশ্রামের দিন কোন রকম খাবারদাবার বিক্রি করা তাদের উচিৎ‌ নয়।

16জেরুশালেমে সোর শহরের কিছু লোক বাস করতো। তারা মাছ ও অন্যান্য অনেক জিনিসপত্র বিশ্রামের দিন জেরুশালেমে নিয়ে এসে বিক্রি করত, আর ইহুদীরাও সেই সব জিনিসপত্র কিনত। 17আমি যিহূদার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে ডেকে বললাম, তারা ঠিক মতো কাজ করছে না। “তোমরা অত্যন্ত খারাপ কাজ করছো। বিশ্রামের দিনটিকেও তোমরা অন্যান্য যে কোন সাধারণ দিনের পর্যাযে নিয়ে যাচ্ছো। 18তোমরা অবগত আছো যে, আমাদের পূর্বপুরুষরাও ঠিক একই ভুল করেছিল, এবং তার জন্য ঈশ্বর আমাদের ও এই শহরকে দুর্যোগ ও বিপত্তির মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন। এখন, তোমরা বিশ্রামের দিনটাকে সাধারণ দিনের মতো ব্যবহার করে ইস্রায়েলের ওপর আরও বিপদ নিয়ে আসছ।”

19আমি তখন দ্বাররক্ষীদের প্রতি শুক্রবার, ঠিক অন্ধকার নামার আগে জেরুশালেমের দরজাগুলি বন্ধ করে তালা দেবার নির্দেশ দিয়ে বলি শনিবারের পবিত্র দিনটি না কাটা পর্যন্ত যেন দরজা কোনো মতেই খোলা না হয়। আমি আমার নিজের বিশ্বস্ত লোককে ফটকের কাছে রেখে দিলাম ও তাদের ফটকগুলোর ওপর লক্ষ্য রাখতে নির্দেশ দিই যাতে বিশ্রামের দিন জেরুশালেমে কোন বোঝা না বহন করে আনা হয়।

20একবার কি দুবার বনিকরা জেরুশালেমের ফটকের বাইরে রাত্রিবাস করেছিল। 21আমি তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলাম যে, তারা যদি জেরুশালেমের দেওয়ালের বাইরে রাত্রিবাস করে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। তারপর থেকে তারা আর কখনও বিশ্রামের দিনে তাদের জিনিসপত্র বিক্রি করতে আসেনি।

22এরপর আমি লেবীয়দের নিজেদের শুচি হতে আদেশ দিলাম। তারপর, তাদের ফটকগুলিতে মোতায়েন করা হল, যাতে কেউ বিশ্রামের দিনের পবিত্রতা নষ্ট না করতে পারে।

হে ঈশ্বর, দয়া করে এসব কাজগুলি স্মরণে রেখো এবং আমার প্রতি তোমার মহতী করুণা দেখিও।

23সে সময়ে আমি লক্ষ্য করি, কিছু যিহূদা ব্যক্তি অস্‌দোদ, অম্মোন ও মোয়াবের মেয়েদের বিয়ে করেছে। 24এইসব বিবাহগুলির দরুণ, ছেলেমেয়েদের অর্ধেক ইহুদীদের ভাষায় কথা বলতে পারে না। এইসব শিশুরা অস্‌দোদ, অম্মোন ও মোয়াবের ভাষায় কথা বলতো। 25আমি এইসব লোকদের তিরস্কার করে বললাম, তারা ভুল করেছে। আমি তাদের কয়েক জনকে আঘাত করে তাদের চুলের মুঠি ধরলাম। আমি তাদের ঈশ্বরের সামনে প্রতিজ্ঞা করতে বাধ্য করলাম। আমি তাদের বললাম, “তোমরা এইসব বিদেশী লোকদের মেয়েদের বিয়ে করবে না। আর তোমাদের ছেলেদেরও এইসব বিদেশীদের মেয়েকে বিয়ে করতে দেবে না। 26তোমরা তো জানো, এই ধরণের বিয়ের জন্য শলোমনের কি শাস্তি হয়েছিল। আর কোন দেশে শলোমনের মতো মহান রাজা ছিল না। ঈশ্বর শলোমনকে ভালোবাসতেন। তিনি তাঁকে সমগ্র ইস্রায়েলের রাজা করেছিলেন। কিন্তু তার বিদেশী স্ত্রীদের প্রভাবের জন্য শলোমনও পাপ আচরণ করেছিল। 27আর এখন আমরা দেখছি, তোমরাও এই ভয়ানক পাপ আচরণ করছো। তোমরা ঈশ্বরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছো না। তোমরা বিদেশী নারীদের বিবাহ করছো।”

28ইলিয়াশীবের পুত্র যিহোয়াদা ছিলেন মহাযাজক। যিহোয়াদার এক পুত্র হোরোণের সন্‌বল্লটের জামাতা ছিল। আমি তাকে এই জায়গা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করি।

29হে ঈশ্বর, তুমি এইসব লোকদের শাস্তি দাও। এরা যাজকবৃত্তিকে কলুষিত করেছে। তারা তাদের যাজক বৃত্তিকে অপবিত্র করেছিল। তুমি যাজক ও লেবীয়দের সঙ্গে যে চুক্তি করেছিলে, এরা তা পালন করেনি। 30আমি তাই যাজক ও লেবীয়দের পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করেছিলাম। আমি সমস্ত বিদেশীদের সরিয়ে দিয়েছিলাম, এবং আমি লেবীয়দের ও যাজকদের তাদের কর্তব্য ও দায়িত্ব অর্পন করেছিলাম। 31লোকরা যাতে উপহারস্বরূপ তাদের প্রথম ফল, ফসল এবং কাঠ নির্দ্দেশিত সময় নিয়ে আসে আমি তার ব্যবস্থা করেছিলাম।

হে আমার ঈশ্বর, এইসব ভাল কাজ করার জন্য আমাকে তুমি মনে রেখো।