লেবীয় পুস্তক
1হোমবলি ও নৈবেদ্যসমূহ
1প্রভু ঈশ্বর মোশিকে ডাকলেন এবং সমাগম তাঁবু থেকে তার সঙ্গে কথা বললেন, 2“ইস্রায়েলের লোকদের বল: যখন প্রভুর কাছে তোমরা কোন নৈবেদ্য নিয়ে আসবে, সেই নৈবেদ্য যেন তোমাদেরই কোন একটি গৃহপালিত প্রাণী হয়, তা একটি গরু, মেষ বা ছাগলও হতে পারে।
3“যখন কোন ব্যক্তি তার গো-পাল থেকে হোমবলি দেয়, তখন সেটা যেন ষাঁড় হয়, যার মধ্যে কোন দোষ নেই। সমাগম তাঁবুতে ঢোকার মুখে সে প্রাণীটিকে আনবে। তারপর প্রভু সেই নৈবেদ্য গ্রহণ করবেন। 4প্রাণীটিকে হত্যা করার সময় সে অবশ্যই প্রাণীটির মাথায় তার হাত রাখবে। প্রভু সেই ব্যক্তিকে পাপ থেকে মুক্ত করার জন্যই প্রায়শ্চিত্তরূপে হোমবলি গ্রহণ করবেন।
5“প্রভুর সামনেই সে সেই এঁড়ে বাছুরটিকে হনন করবে। তারপর হারোণের পুত্ররা, অর্থাৎ যাজকরা সমাগম তাঁবুতে ঢোকার মুখে অবস্থিত বেদীর কাছে অবশ্যই সেই রক্ত আনবে এবং বেদীর ওপরে ও চারপাশে তা ছিটিয়ে দেবে। 6যাজকরা অবশ্যই প্রাণীটির দেহ থেকে চামড়া ছাড়াবে এবং তারপর প্রাণীটিকে কেটে টুকরো টুকরো করবে। 7হারোণের পুত্ররা অর্থাৎ যাজকরা অবশ্যই বেদীতে আগুন জ্বালবে এবং তারপর আগুনের ওপর কাঠ চাপাবে। 8তারপর তারা বেদীর ওপরের আগুনে জড়ো করা কাঠের ওপর অবশ্যই টুকরোগুলো (মাথা আর চর্বিযুক্ত মাংস) রাখবে। 9যাজকরা জল দিয়ে অবশ্যই জন্তুটির পাগুলি আর দেহের ভিতরের অংশগুলি ধুয়ে নেবে। তারপর তারা বেদীর ওপরকার জন্তুটির সমস্ত অংশ পুড়িয়ে নেবে। এ হল হোমবলি, আগুনে প্রস্তুত একটি নৈবেদ্য। এই নৈবেদ্যর সুগন্ধ প্রভুকে খুশী করবে।
10“যখন কেউ হোমবলি হিসেবে একটা মেষ বা একটা ছাগল উপহার দেয়, তখন সেই প্রাণীটিকে অবশ্যই পুরুষ প্রাণী হতে হবে, যার মধ্যে কোন দোষ বা খুঁত নেই। 11প্রভুর সামনে বেদীর উত্তর দিকে সে প্রাণীটিকে হত্যা করবে। তারপর হারোণের পুত্ররা অর্থাৎ যাজকরা প্রাণীটির রক্ত বেদীর ওপরে এবং চারপাশে ছিটিয়ে দেবে। 12তারপর যাজকরা প্রাণীটিকে টুকরো টুকরো করে কাটবে। তারপর তারা টুকরোগুলো (মাথা ও চর্বিযুক্ত মাংস) বেদীর আগুনে রাখা কাঠের ওপর রাখবে। 13যাজকরা জল দিয়ে প্রাণীটির পাগুলি আর দেহের ভিতরের অংশগুলি ধুয়ে নেবে। যাজকদের অবশ্যই পশুটির সমস্ত অংশই উৎসর্গ করতে হবে। তারা বেদীর ওপর প্রাণীটিকে পুড়িয়ে নেবে। এ হল হোমবলি, আগুনে প্রস্তুত নৈবেদ্য। এই সুগন্ধ প্রভুকে খুশী করে।
14“যখন কোন লোক প্রভুকে হোমবলি হিসেবে একটি পাখী উপহার দেয়, তখন সেই পাখীটি যেন একটি ঘুঘু কিংবা একটি কচি পায়রা হয়। 15যাজক অবশ্যই নৈবেদ্যটিকে বেদীর কাছে আনবে। তারপর সে পাখীর মাথাটি টেনে ছিঁড়ে নেবে এবং বেদীর ওপর পাখীটিকে পোড়াবে। পাখীটির রক্ত বেদীর পাশে ফেলে দেবে। 16যাজক অবশ্যই পাখীটির গলার থলিটা টেনে নেবে, পালকগুলিও সরাবে এবং সেগুলিকে বেদীর পূর্ব দিকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে। বেদী থেকে ছাই সরিয়ে রাখার এটাই হল জায়গা। 17যাজক পাখীটির ডানার জায়গাটা ছিঁড়ে ফেলবে কিন্তু পাখীটিকে দুভাগ করবে না। তারপর পাখীটিকে বেদীর উপর কাঠের ওপরকার আগুনে পোড়াবে। এটা হল হোমবলি, আগুনে প্রস্তুত নৈবেদ্য। এর সুগন্ধ প্রভুকে খুশী করে।
2শস্য নৈবেদ্যসমূহ
1“যদি কেউ প্রভু ঈশ্বরকে শস্য নৈবেদ্য দান করে, তবে তার নৈবেদ্য যেন গুঁড়ো ময়দা থেকে তৈরী হয়। এই ময়দার ওপর লোকটি অবশ্যই তেল ঢালবে এবং তার ওপর কুন্দুরু রাখবে। 2তারপর সে সেটা হারোণের পুত্রদের কাছে অর্থাৎ যাজকদের কাছে আনবে। সে তেল আর সুগন্ধি মেশানো এক মুঠো ময়দার গুঁড়ো নেবে। যাজক তখন বেদীর ওপরে এই স্মারক নৈবেদ্য পোড়াবে। এই নৈবেদ্য আগুনে প্রস্তুত। এর সুগন্ধ প্রভুকে খুশী করে। 3হারোণ এবং তার পুত্রদের জন্য থাকবে বাকি পড়ে থাকা শস্য নৈবেদ্য। প্রভুকে দেওয়া আগুনে তৈরী এই নৈবেদ্য অত্যন্ত পবিত্র।
সেঁকা শস্য নৈবেদ্যসমূহ
4“যখন কোন লোক উনুনে সেঁকা রুটি নৈবেদ্য উপহার দেয় তখন তা যেন অবশ্যই খামিরবিহীন রুটি হয় মিহি ময়দা ও তেল দিয়ে তৈরী, অথবা যেন তেল মেশানো সরুচাকলী হয়। 5যদি তুমি সেঁকাপাত্রে সেঁকা শস্য নৈবেদ্য আনো, তা হলে তা যেন অবশ্যই তেল মেশানো খামিরবিহীন গুঁড়ো ময়দার তৈরী হয়। 6তুমি অবশ্যই সেটা টুকরো টুকরো করবে এবং তার ওপর তেল ঢালবে। এটি হল শস্য নৈবেদ্য। 7যদি তুমি কড়ায় ভাজা শস্য নৈবেদ্য নিয়ে আসো, তখন যেন তা তেল মেশানো গুঁড়ো ময়দা দিয়ে তৈরী হয়।
8“তুমি অবশ্যই এইসব জিনিস থেকে তৈরী শস্য নৈবেদ্যগুলি প্রভুর কাছে আনবে। যাজকের কাছে সেগুলি নিয়ে যাবে এবং সে সেগুলিকে বেদীর ওপর রাখবে। 9তারপর যাজক শস্য নৈবেদ্যর কিছু অংশ নেবে এবং এই স্মারক নৈবেদ্য, বেদীর ওপর পোড়াবে। এই নৈবেদ্য আগুনে তৈরী। এর সুগন্ধ প্রভুকে খুশী করে। 10পড়ে থাকা শস্য নৈবেদ্য হারোণ ও তার পুত্রদের জন্য। প্রভুকে দেওয়া এই আগুনে তৈরী নৈবেদ্য অত্যন্ত পবিত্র।
11“তোমরা অবশ্যই খামির মেশানো কোন শস্য নৈবেদ্য প্রভুকে দেবে না। তোমরা খামির বা মধু আগুনে ঝলসে প্রভুকে নৈবেদ্য হিসেবে দেবে না। 12প্রথম ফসল থেকে আনা নৈবেদ্য হিসেবে তোমরা খামির ও মধু প্রভুর কাছে আনতে পারো, কিন্তু খামির ও মধু সুগন্ধ হয়ে উবে যাওয়ার জন্য বেদীর ওপর যেন পোড়ানো না হয়। 13তোমাদের আনা প্রতিটি শস্য নৈবেদ্যে তোমরা অবশ্যই লবণ দেবে। ঈশ্বরের নিয়মের লবণ যেন তোমাদের শস্য নৈবেদ্য থেকে বাদ না পড়ে। তোমাদের সমস্ত নৈবেদ্যর সঙ্গে অবশ্যই লবণ আনবে।
প্রথম ফসল থেকে শস্য নৈবেদ্যসমূহ
14“যখন তোমরা প্রথম ফসল থেকে শস্য নৈবেদ্য প্রভুর কাছে আনবে, তখন অবশ্যই আগুনে ঝলসানো শস্যের মাথা আনবে। এইগুলি অবশ্যই টাটকা শস্যের চূর্ণ করা মাথা হবে। এই হবে তোমাদের প্রথম ফসল থেকে আনা শস্য নৈবেদ্য। 15তোমরা অবশ্যই তেল আর সুগন্ধি তার ওপর ঢালবে। এই হল শস্য নৈবেদ্য। 16যাজক অবশ্যই গুঁড়ো শস্যের কিছু অংশ, তেল এবং সমস্ত ধূনা প্রভুর কাছে স্মারক নৈবেদ্য হিসেবে পোড়াবে।
3মঙ্গল নৈবেদ্যসমূহ
1“মঙ্গল নৈবেদ্য হিসেবে যখন কেউ ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গ দেয় তখন প্রাণীটি একটি পুরুষ বা স্ত্রী গরু হতে পারে। কিন্তু প্রাণীটির অবশ্যই যেন কোন দোষ না থাকে। 2লোকটি প্রাণীটির মাথায় হাত রাখবে এবং সমাগম তাঁবুতে ঢোকার মুখে প্রাণীটিকে হত্যা করবে, তারপর বেদীর ওপরে আর তার চারপাশে হারোণের পুত্ররা অর্থাৎ যাজকরা রক্ত ছিটিয়ে দেবে। 3মঙ্গল নৈবেদ্য হল প্রভুর প্রতি আগুনে প্রস্তুত এক নৈবেদ্য। প্রাণীটির দেহের ভিতরে ও বাইরে যে চর্বি আছে, যাজকরা তা অবশ্যই উৎসর্গ করবে। 4তারা দুটি বৃক্ক এবং যে চর্বি নিতম্বের নীচে তাদের ঢেকে রেখেছে সেগুলো উৎসর্গ করবে। যে চর্বি যকৃৎকে ঢেকে রেখেছে তারা সেটিও উৎসর্গ করবে এবং বৃক্কের সঙ্গে এটিকে সরিয়ে রাখবে। 5তারপর হারোণের পুত্ররা বেদীর ওপর চর্বি পোড়াবে। আগুনের ওপরকার কাঠে রাখা জ্বলন্ত নৈবেদ্যর ওপর তা তারা রাখবে। এটা হল আগুনে প্রস্তুত নৈবেদ্য। এর সুগন্ধ প্রভুকে খুশী করে। 6“যখন কোন লোক প্রভুর প্রতি মঙ্গল নৈবেদ্য হিসেবে একটি মেষ বা একটি ছাগল দান করে, তখন প্রাণীটি পুরুষ অথবা স্ত্রী জাতীয় হতে পারে; কিন্তু তাতে যেন অবশ্যই কোন দোষ না থাকে। 7যদি সে তার নৈবেদ্য হিসেবে একটি মেষশাবক আনে তবে সে তা প্রভুর সামনে আনবে। 8সে অবশ্যই তার হাত প্রাণীটির মাথার ওপর রাখবে আর সমাগম তাঁবুর সামনে প্রাণীটিকে হত্যা করবে। তারপর হারোণের পুত্ররা বেদীর চারপাশে প্রাণীটির রক্ত ছিটিয়ে দেবে। 9আগুনে প্রস্তুত নৈবেদ্যর মত করে তারা মঙ্গল নৈবেদ্যর একটা অংশ প্রভুর প্রতি উৎসর্গ করবে। তারা অবশ্যই চর্বি, সমগ্র চর্বিযুক্ত লেজ এবং যে চর্বি প্রাণীটির ভিতরের অংশের সমস্ত অঙ্গগুলোকে ঢেকে রাখে তা উৎসর্গ করবে। (পিছনের হাড়ের একেবারে লাগোয়া অংশ থেকে লেজটা সে কেটে দেবে।) 10কটির কাছের দুটি বৃক্ক ও তাদের ঢেকে রাখা চর্বিকে তারা যেন দান করে। তারা অবশ্যই যকৃতের চর্বি অংশটুকুও দান করবে। তারা অবশ্যই বৃক্ক সমেত সেটিকে সরিয়ে নেবে। 11তারপর বেদীর ওপর যাজকরা সেগুলিকে পোড়াবে। প্রভুর প্রতি আগুনের নৈবেদ্যই হল মঙ্গল নৈবেদ্য কিন্তু এটা সাধারণ মানুষ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে।
12“যদি নৈবেদ্যটি একটি ছাগল হয় তা হলে লোকটি তাকে প্রভুর সামনে আনবে। 13লোকটি ছাগলটির মাথায় তার হাত রাখবে এবং তাকে সমাগম তাঁবুর সামনে হত্যা করবে। তারপর হারোণের পুত্ররা বেদীর চারপাশে ছাগলের সেই রক্ত ছিটিয়ে দেবে। 14প্রভুর প্রতি আগুনের নৈবেদ্য হিসেবে যাজকরা মঙ্গল নৈবেদ্যর কিছু অংশ অবশ্যই দান করবে। প্রাণীটির ভিতরের অংশগুলির ওপরের ও চারপাশের চর্বি তারা অবশ্যই উৎসর্গ করবে। 15তারা নীচের পিছনের দিকের মাংসপেশীর কাছাকছি দুটি বৃক্ক ও তাদের চর্বির আচ্ছাদন অবশ্যই উৎসর্গ করবে। তারা যকৃতের চর্বির অংশও দেবে। তারা অবশ্যই এটাকে বৃক্কসহ সরিয়ে দেবে। 16এরপর যাজকরা অবশ্যই এগুলি বেদীর ওপর পোড়াবে। মঙ্গল নৈবেদ্য হল আগুনে প্রস্তুত এক নৈবেদ্য। এর সুগন্ধ প্রভুকে খুশী করে। এটিও সাধারণ মানুষ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারে; কিন্তু শ্রেষ্ঠ অংশগুলি অর্থাৎ চর্বি, প্রভুর জন্য নির্দিষ্ট। 17বংশপরম্পরায় এই নিয়ম চিরকালের জন্য তোমাদের মধ্যে চলতে থাকবে। যেখানেই তোমরা থাক তোমরা অবশ্যই কখনও চর্বি বা রক্ত খাবে না।”
4অজান্তে ঘটে যাওয়া পাপকর্মের জন্য নৈবেদ্যসমূহ
1প্রভু মোশিকে বললেন, 2“ইস্রায়েলের লোকদের বলো: যদি কোন মানুষ অজান্তে পাপ করে ফেলে এবং প্রভু যা করতে বারণ করেছেন তেমন কোন কাজ করে, তখন মানুষটি অবশ্যই এই কাজগুলি করবে:
3“যদি অভিষিক্ত যাজক এমন একটা ভুল করে বসে যাতে মানুষ তার পাপে দোষী হয়ে যায়, তখন যাজক তার পাপের জন্য অবশ্যই প্রভুর কাছে একটি নৈবেদ্য দান করবে। যাজক অবশ্যই কোন দোষ নেই এমন একটি এঁড়ে বাছুর উৎসর্গ করবে। পাপ নৈবেদ্য হিসেবে সে এঁড়ে বাছুরটি প্রভুকে উৎসর্গ করবে। 4অভিষিক্ত যাজক এঁড়ে বাছুরটিকে সমাগম তাঁবুর প্রবেশ পথে আনবে। তারপর তার হাত ষাঁড়ের মাথায় রাখবে এবং প্রভুর সামনে ষাঁড়টাকে হত্যা করবে। 5সেই যাজক বাছুরটি থেকে কিছুটা রক্ত নিয়ে তা সমাগম তাঁবুর ভেতরে নিয়ে আসবে। 6পরে তার আঙুল রক্তের মধ্যে ডোবাবে এবং পবিত্রতম জায়গার আচ্ছাদনের সামনে প্রভুর সামনে সাতবার সেই রক্ত ছেটাবে। 7যাজক কিছুটা রক্ত সুগন্ধী বেদীর কোণে লাগাবে। (এই বেদীটি সমাগম তাঁবুতে প্রভুর সামনে রয়েছে।) ষাঁড়ের সব রক্তটাই তাকে হোম বেদীর নীচে ঢেলে দিতে হবে। (এই বেদীটি সমাগম তাঁবুতে ঢোকার মুখের বেদী।) 8পাপের জন্য নৈবেদ্যর বাছুরটির সমস্ত চর্বি সে বার করে নেবে। ভেতরের অংশগুলির ওপরকার ও চারপাশের চর্বিও সে নিয়ে নেবে। 9সে অবশ্যই বৃক্ক এবং কটির নীচে যে চর্বি তাদের ঢেকে রাখে তা নেবে। সে যকৃতের চর্বিও অবশ্যই নেবে। সে এটা বৃক্কের সাথেই বার করে নেবে। 10মঙ্গল নৈবেদ্যর ষাঁড়টির উৎসর্গীকরণের মতই যাজক অবশ্যই এই সমস্ত অংশগুলো উৎসর্গ করবে। হোম নৈবেদ্যর জন্য যে বেদী, তার ওপর যাজক অবশ্যই প্রাণীটির অংশগুলো পোড়াবে। 11 কিন্তু যাজক অবশ্যই ষাঁড়টির চামড়া, ভেতরের অংশগুলো এবং শরীরের বর্জ্য পদার্থ এবং মাথা ও পায়ের সমস্ত মাংস সরিয়ে রাখবে। যাজক সেই সব অংশ তাঁবুর বাইরে বিশেষ জায়গায়-যেখানে ছাইগুলো ঢেলে রাখা হয়, সেখানে বয়ে নিয়ে আসবে। সেখানে অবশ্যই সে কাঠের ওপর সেই সব অংশ রেখে পোড়াবে। যেখানে ছাইগুলো ঢালা আছে সেখানেই ষাঁড়টিকে পোড়াতে হবে।
13“এমনও হতে পারে যে সমগ্র ইস্রায়েল জাতি না জেনে পাপ করেছে। তারা হয়তো এমন অনেক কাজ করে বসেছে যেগুলি প্রভু তাদের না করতেই আজ্ঞা দিয়েছেন। যদি তাই ঘটে তারা দোষী হবে। 14যদি তারা সেই পাপ সম্বন্ধে বুঝতে পারে, তবে তারা সমগ্র জাতির জন্য পাপের নৈবেদ্য হিসেবে একটা এঁড়ে বাছুর উৎসর্গ করবে। তারা অবশ্যই এঁড়ে বাছুরটিকে সমাগম তাঁবুতে নিয়ে আসবে। 15লোকদের মধ্যে যারা প্রবীণ তারা প্রভুর সামনে ষাঁড়টির মাথায় হাত রাখবে এবং তখন একজন প্রভুর সামনে এঁড়ে বাছুরটিকে হত্যা করবে। 16অভিষিক্ত যাজক যে তখন কর্তব্যরত ছিল, সে কিছুটা রক্ত সমাগম তাঁবুতে নিয়ে আসবে। 17যাজকটি তার আঙুল রক্তের মধ্যে ডোবাবে এবং তা সাতবার প্রভুর সামনে পর্দার সম্মুখভাগে ছিটিয়ে দেবে। 18তারপর যাজক কিছুটা রক্ত বেদীর কোণগুলোয় ফেলবে। (এই বেদী সমাগম তাঁবুর মধ্যে প্রভুর সামনে রয়েছে।) যাজক সমস্ত রক্ত জ্বলন্ত নৈবেদ্যর বেদীর মেঝেতে ঢালবে। (এই বেদী সমাগম তাঁবুর মধ্যে ঢোকার মুখে রয়েছে।) 19এরপর যাজক প্রাণীটির সমস্ত চর্বি নেবে এবং তা বেদীর ওপর পোড়াবে। 20যাজক পাপ নৈবেদ্য যেমনভাবে ষাঁড়টিকে উৎসর্গ করেছিল সেইভাবেই এই সমস্ত অংশগুলো উৎসর্গ করবে। এইভাবে যাজক লোকদের শুচি করে তুলবে+ 4:20 লোকেদের … তুলবে অথবা “প্রায়শ্চিত্তকরণ।” হিব্রু শব্দটির অর্থ “ঢাকা দেওয়া,” “লুকানো” অথবা “পাপ মুছে দেওয়া।” এবং ঈশ্বর ইস্রায়েলের লোকদের ক্ষমা করবেন। 21যাজক অবশ্যই এই ষাঁড়টিকে শিবিরের বাইরে আনবে এবং তা পোড়াবে, যেমনভাবে সে প্রথম ষাঁড়কে পুড়িয়েছিল। সমগ্র সম্প্রদায়ের পক্ষে এটাই হল পাপ মোচনের নৈবেদ্য।
22“একজন শাসক অজান্তে পাপ করতে পারে এবং তার প্রভু ঈশ্বর যা যা করতে অবশ্যই নিষেধ করেছিলেন, তার মধ্যে কোন একটা সে করে ফেলতে পারে। এই ভুল করার জন্য শাসক দোষী হবে। 23যদি শাসক তার পাপ সম্বন্ধে বুঝতে পারে, তা হলে সে অবশ্যই কোন দোষ নেই এমন একটি পুরুষ ছাগল আনবে। সেটাই হবে তার নৈবেদ্য। 24শাসকটি অবশ্যই তার হাত ছাগলটির মাথায় রাখবে আর প্রভুর সামনে যেখানে হোমবলি হত্যা করা হয় সেখানেই তাকে হনন করবে। ছাগলটি হল দোষমোচনের বলি। 25পাপ নৈবেদ্যর কিছুটা রক্ত যাজক অবশ্যই তার আঙুলে নেবে এবং জ্বলন্ত নৈবেদ্যর বেদীর কোণগুলোয় তা লাগাবে। বাকি রক্তটুকু যাজক অবশ্যই বেদীর মেঝেতে ঢেলে ফেলবে। 26আর ছাগলটির সমস্ত মেদ যাজক অবশ্যই বেদীর ওপর পোড়াবে; মঙ্গল নৈবেদ্য দানের মেদ যেমনভাবে সে পোড়ায় সেইভাবে যাজক অবশ্যই তা পোড়াবে। এইভাবে যাজক সেই শাসককে তার পাপ থেকে শোষণ করবে এবং ঈশ্বর তাকে ক্ষমা করবেন।
27“সাধারণ মানুষের কেউ যদি অজান্তে পাপ করে এবং প্রভু যা নিষিদ্ধ করেছেন এমন কিছু যদি করে তাহলে সে তার অপরাধের জন্য আইনের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। 28যদি সেই ব্যক্তিটি নিজের পাপ সম্বন্ধে অবগত হয় তবে সে নিশ্চয়ই দোষ নেই এমন একটি স্ত্রী ছাগল আনবে। এইটিই হবে লোকটির পাপের জন্য নৈবেদ্য। পাপ করেছে বলে সে অবশ্যই এই ছাগলটি আনবে। 29সে তার হাত প্রাণীটির মাথায় রাখবে এবং হোমবলির জায়গায় তাকে হত্যা করবে। 30তারপর যাজক ছাগলটির কিছুটা রক্ত তার আঙুলে নেবে এবং হোমবলির বেদীর কোণগুলোতে সেই রক্ত ছিটিয়ে দেবে। এরপর যাজক ছাগের বাকি রক্তটুকু অবশ্যই বেদীর মেঝেতে ঢেলে দেবে। 31যেমনভাবে মঙ্গল নৈবেদ্য থেকে মেদ দেওয়া হয়, সেইভাবে যাজক অবশ্যই ছাগলটির সমস্ত মেদ উৎসর্গ করবে। যাজক অবশ্যই প্রভুর উদ্দেশ্যে সুগন্ধি হিসেবে বেদীর ওপর তা পোড়াবে। এইভাবে যাজক সেই মানুষটিকে তার পাপ মোচনের প্রায়শ্চিত্ত করাবে। এবং ঈশ্বর সেই ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন।
32“পাপের নৈবেদ্য হিসেবে যদি সেই লোকটি একটি মেষশাবক আনে তাহলে তাকে অবশ্যই কোন দোষ নেই এমন একটি স্ত্রী শাবক আনতে হবে। 33লোকটি অবশ্যই তার হাত প্রাণীটির মাথায় রাখবে এবং যেখানে তারা হোমবলি হত্যা করে সেখানেই দোষ মোচনের নৈবেদ্যকে হত্যা করবে। 34যাজক তার আঙুলে অবশ্যই সেই পাপমোচনের নৈবেদ্য থেকে কিছুটা রক্ত নেবে এবং হোমবলির বেদীর কোণগুলিতে তা লাগাবে। এরপর যাজক মেষশাবকটার বাকী সব রক্ত বেদীর মেঝেয় ঢালবে। 35যেমনভাবে মঙ্গল নৈবেদ্যগুলির মধ্যে মেষশাবকের মেদ মাংস উৎসর্গ করা হয়, যাজক সেইভাবে মেষশাবকটির সমস্ত মেদ উৎসর্গ করবে। সেটাকে যাজক যেমনভাবে কোন হোমবলি প্রভুকে দেওয়া হয়, সেইভাবে বেদীর ওপর তাকে পোড়াবে। এইভাবে যাজক সেই ব্যক্তিটিকে তার কৃত পাপ কর্মের প্রায়শ্চিত্ত করাবে এবং ঈশ্বর সেই লোকটিকে ক্ষমা করবেন।
5বিভিন্ন ধরণের আকস্মিক পাপ
1“কোন মানুষ একটি সতর্কবাণী শুনেছে অথবা একজন মানুষ এমন কিছু শুনে বা দেখে থাকতে পারে যা অন্য লোকদের বলা উচিৎ। যদি সেই লোকটি যা দেখেছে বা শুনেছে তা লোকদের না বলে, তা হলে সে এই পাপের জন্য দোষী হবে। 2অথবা লোকটি হয়ত অশুচি কোন কিছু স্পর্শ করেছে, যেমন গৃহপালিত কোন প্রাণীর মৃতদেহ অথবা কোন অশুচি প্রাণীর মৃতদেহ। ঐ লোকটি নাও জানতে পারে যে সে ঐসব জিনিস স্পর্শ করেছে; কিন্তু তবু সে ভুল করার কারণে দোষী হবে। 3এমন অনেক বিষয় আছে যা মানুষের কাছ থেকে আসে এবং মানুষকে অশুচি করে। একজন মানুষ না জেনেই অন্য একজনের কাছ থেকে এসবের যে কোন একটা স্পর্শ করতে পারে। যখন সেই মানুষ জানতে পারে যে সে অশুচি জিনিস স্পর্শ করেছে, তখন সে দোষী হবে। 4একজন মানুষ ভাল অথবা মন্দ কিছু চিন্তা না করেই হঠকারী প্রতিজ্ঞা করে ফেলতে পারে এবং এসম্পর্কে ভুলে যেতে পারে কিন্তু যখন তার প্রতিজ্ঞার কথাটা মনে পড়বে তখনই সে হবে দোষী কারণ সে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। 5সুতরাং যদি কোন মানুষ এগুলির মধ্যে কোন একটি বিষয়ে দোষী হয় তাহলে সে যে কাজটা ভুল করে করেছে তা অবশ্যই স্বীকার করবে। 6সে অবশ্যই তার কৃত দোষের জন্য প্রভুর কাছে আসবে। সে অবশ্যই একটা স্ত্রী মেষশাবক বা স্ত্রী ছাগল পাপমোচনের নৈবেদ্য হিসেবে আনবে। তারপর যাজক সেই মানুষটির কৃত পাপকর্ম থেকে তাকে মুক্ত করার জন্য যা কিছু করার করবে।
7“যদি লোকটি মেষশাবক দিতে সমর্থ না হয় তবে সে অবশ্যই দুটি ঘুঘু পাখী বা দুটি পায়রা ঈশ্বরের কাছে আনবে। এগুলো হল তার কৃত পাপের জন্য নৈবেদ্য। একটি পাখী হবে অবশ্যই তার পাপের নৈবেদ্য এবং অপরটি হবে হোমের নৈবেদ্য। 8লোকটি অবশ্যই সেগুলি যাজকের কাছে আনবে। প্রথমে যাজক পাপ নৈবেদ্য হিসেবে একটি পাখীকে উৎসর্গ করবে। যাজক পাখীর ঘাড় থেকে মাথাটা আলাদা করে নেবে, কিন্তু পাখীটিকে দুভাগে ভাগ করবে না। 9যাজক অবশ্যই বেদীর পাশে পাপের জন্য উৎসর্গীকৃত এই নৈবেদ্যর রক্তকে ছিটিয়ে দেবে। তারপর বাকি রক্ত বেদীর তলদেশে ঢেলে দেবে। এই হল কৃত পাপের জন্য নৈবেদ্য। 10এরপর যাজক দ্বিতীয় পাখীটিকে অবশ্যই হোমবলির নিয়মানুযায়ী উৎসর্গ করবে। এইভাবে যাজক সেই মানুষটিকে তার কৃত পাপ থেকে মোচনের প্রায়শ্চিত্ত করাবে এবং ঈশ্বর সেই মানুষটিকে ক্ষমা করবেন।
11“যদি মানুষটি দুটি ঘুঘু পাখী বা দুটি পায়রা দিতে সমর্থ না হয় তাহলে সে অবশ্যই 8 কাপ গুঁড়ো ময়দা আনবে। এটাই হবে তার পাপের জন্য নৈবেদ্য। লোকটি কোনক্রমেই ময়দায় কোন তেল দেবে না। তা পাপ মোচনের নৈবেদ্য বলে সে এতে কুন্দুরু দেবে না। 12লোকটি অবশ্যই ময়দার গুঁড়ো যাজকের কাছে আনবে। যাজক তা থেকে এক মুঠো ময়দা নেবে। এ হবে এক স্মরনার্থক নৈবেদ্য। বেদীর ওপর যাজক গুঁড়ো ময়দা পোড়াবে। এ হল ঈশ্বরের প্রতি আগুনে পোড়ানো এক নৈবেদ্য। এ নৈবেদ্য পাপের জন্য উৎসর্গ নৈবেদ্য। 13এইভাবে যাজক মানুষটিকে শোধন করবে এবং ঈশ্বর সেই মানুষটিকে ক্ষমা করবেন। যেটুকু শস্য নৈবেদ্য পড়ে থাকবে, তা সাধারণ শস্য নৈবেদ্যর মতই যাজকের জন্য হবে।”
14প্রভু মোশিকে বললেন, 15“কোন মানুষ আকস্মিকভাবে প্রভুর পবিত্র জিনিস অপবিত্র করতে পারে। সেক্ষেত্রে সেই লোকটি তখন কোন খুঁত নেই এমন একটি পুরুষ মেষ অবশ্যই আনবে। এটাই হবে প্রভুর প্রতি দোষের জন্য দেওয়া নৈবেদ্য। তুমি অবশ্যই পবিত্র স্থানের মাপ কাঠি ব্যবহার করবে এবং পুরুষ মেষটির একটি মূল্য ঠিক করবে। 16পবিত্র জিনিসের সঙ্গে সে যে পাপ করেছে তার জন্য লোকটি অবশ্যই তার জরিমানা দেবে। সে যা দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা দেবে ও তার সঙ্গে মূল্যের এক পঞ্চমাংশ যোগ করবে এবং সেই মূল্য যাজককে দেবে। এইভাবে পাপমোচনের নৈবেদ্যর মেষটি উৎসর্গ করে যাজক সেই লোকটিকে শুচি করবে এবং ঈশ্বর ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন।
17“যদি কোন ব্যক্তি পাপ করে এবং প্রভুর আজ্ঞাগুলির কোন একটি লঙ্ঘন করে, এমনকি যদি সে তা না জেনে করে থাকে, সে দোষী সাব্যস্ত হবে এবং তার পাপের জন্য দায়ী হবে। 18সেই লোকটিকে যাজকের কাছে কোন খুঁত নেই এমন একটি পুরুষ মেষ আনতে হবে। সেই পুরুষ মেষ হবে দোষ মোচনের নৈবেদ্য। এইভাবে অজান্তে লোকটি যে পাপ করেছিল তা থেকে যাজক তাকে মুক্ত করবে এবং ঈশ্বর সেই মানুষটিকে ক্ষমা করবেন। 19এমন কি, সে যে পাপ করেছে এটা না জানলেও লোকটি দোষী সুতরাং সে প্রভুকে অবশ্যই তার দোষার্থক নৈবেদ্য দান করবে।”
6অন্যান্য পাপের জন্য দোষার্থক নৈবেদ্যসমূহ
1প্রভু মোশিকে বললেন, 2“একজন মানুষ হয়তো এইসব পাপের মধ্যে কোন একটা করে প্রভুর বিরুদ্ধাচরণ করতে পারে। কারোর কোন বিষয় দেখাশোনা করার সময় সে ব্যাপারে কি ঘটেছে সে সম্বন্ধে মিথ্যা কথা বলতে পারে, সে কিছু চুরি করতে পারে অথবা কাউকে ঠকাতে পারে। 3অন্যের হারিয়ে যাওয়া জিনিস পেয়ে মিথ্যে বলতে পারে, অথবা তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ নাও করতে পারে। অথবা কোন মানুষ অন্য কোন রকমের অন্যায় করতে পারে। 4কিন্তু সে এই ধরণের কোন কাজ করলে পাপের দোষে দোষী হবে, সুতরাং সে যা কিছু চুরি করেছিল, সে অন্যকে ঠকিয়ে যা কিছু নিয়েছিল তা সে অবশ্যই ফিরিয়ে দেবে। অথবা অন্য লোকরা তাকে যা কিছু তত্ত্বাবধান করার জন্য দিয়েছিল অথবা যেসব জিনিস সে পেয়েও মিথ্যে বলেছিল, সব কিছু সে অবশ্যই ফিরিয়ে দেবে। 5সে যা কিছু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার পুরো দাম দেবে এবং তারপর সে অতিরিক্ত জিনিসটির এক পঞ্চমাংশের মত দামও অবশ্যই ফেরৎ দেবে। সে প্রকৃত অধিকারীর কাছেই সেই অর্থ দেবে। যেদিন সে তার দোষার্থক বলি নিয়ে আসবে সেদিন সে এই কাজটি করবে। 6ঐ মানুষটি অবশ্যই যাজকের কাছে দোষার্থক বলি নিয়ে আসবে। তা অবশ্যই হবে মেষের দল থেকে আনা একটা পুরুষ মেষ। সেই পুরুষ মেষের মধ্যে যেন কোন খুঁত না থাকে। যাজক যা বলবে এর দাম হবে তাই। এটা হবে প্রভুর কাছে প্রদত্ত এক দোষার্থক বলি। 7এরপর যাজক প্রভুর কাছে যাবে এবং লোকটির পাপ মোচনের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ করবে এবং প্রভু লোকটির সমস্ত কাজ ক্ষমা করে দেবেন যেগুলির জন্য সে দায়ী ছিল।”
হোমবলি
8প্রভু মোশিকে বললেন, 9“হারোণ এবং তার পুত্রদের এই নির্দেশ দাও: এটা হল হোমবলির নিয়ম। বেদীর অগ্নিকুণ্ডের ওপর সকাল না হওয়া পর্যন্ত হোমবলি সারা রাত ধরে থাকবে। বেদীর আগুন অবশ্যই একটানা বেদীটির ওপরে জ্বলতে থাকবে। 10যাজক অবশ্যই মসীনার অন্তর্বাস পরবে এবং তার উপর পরবে মসীনা বস্ত্রের পোশাক। বেদীর ওপর আগুনে দগ্ধ যে নৈবেদ্যসমূহ ছাই হয়ে যাবে যাজক সেই পরিত্যক্ত ছাই তুলে নিয়ে সেই সমস্ত ছাই বেদীর পাশে রাখবে। 11এরপর যাজক এই পোশাক ছেড়ে অন্য পোশাক পরবে, তারপর সে তাঁবুর বাইরে অন্য এক বিশেষ জায়গায় ছাইগুলিকে নিয়ে যাবে। 12কিন্তু বেদীর আগুন অবশ্যই বেদীর ওপর জ্বলতে থাকবে। তাকে কোন মতেই নিভিয়ে দেওয়া চলবে না। যাজক প্রতিদিন সকালে বেদীর ওপরে কাঠ দিয়ে জ্বালাবে। সে বেদীর ওপরে কাঠ সাজিয়ে মঙ্গল নৈবেদ্য সমূহের চর্বি অবশ্যই পোড়াবে। 13বেদীর ওপর আগুন অবিরাম জ্বলতে থাকবে, তা যেন কোন মতেই না নিভে যায়।
শস্য নৈবেদ্যসমূহ
14“এটা হল শস্য নৈবেদ্য দানের নিয়ম: বেদীর সামনে প্রভুর কাছে হারোণের পুত্ররা এই নৈবেদ্য অবশ্যই আনবে। 15শস্য নৈবেদ্য সমূহের মধ্য থেকে যাজক এক মুঠো ভর্ত্তি গুঁড়ো ময়দা নেবে। সেই শস্য নৈবেদ্যর সাথে যেন তেল এবং সুগন্ধী নিশ্চিতভাবে থাকে। যাজক বেদীর ওপর শস্য নৈবেদ্যকে পোড়াবে। এটা হবে প্রভুর প্রতি এক স্মরনার্থক নৈবেদ্য, এর গন্ধ প্রভুকে খুশী করবে।
16“শস্য নৈবেদ্যর অবশিষ্ট যা পড়ে থাকবে হারোণ এবং তার পুত্ররা অবশ্যই তা খাবে। খামির না দিয়ে তৈরী এক ধরণের রুটিই হল শস্য নৈবেদ্য। কোনো পবিত্র স্থানে যাজকরা অবশ্যই এই রুটি খাবে; সমাগম তাঁবুর প্রাঙ্গণের মধ্যেই এটা খাবে। 17শস্য নৈবেদ্যটি যেন কখনই খামির দিয়ে তৈরী করা না হয়। আগুন দিয়ে তৈরী আমাকে দেওয়া নৈবেদ্যসমূহ আমি যাজকদের অংশ হিসেবে দিয়েছি। এটা অত্যন্ত পবিত্র, দান করা পাপ নৈবেদ্য এবং দোষ নৈবেদ্যর মত। 18হারোণের সমস্ত সন্তানদের মধ্যে প্রত্যেকটি পুরুষ সন্তান আগুনে প্রস্তুত প্রভুর প্রতি নিবেদিত নৈবেদ্যসমূহ খেতে পারে। এটা তোমাদের বংশপরম্পরাভাবে চিরকালের নিয়ম। এই সমস্ত নৈবেদ্য স্পর্শের দ্বারাই সেই সব মানুষদের পবিত্রতা আনে।”
যাজকদের শস্য নৈবেদ্য
19প্রভু মোশিকে বললেন, 20“হারোণ আর তার পুত্রদের আমার কাছে এইসব নৈবেদ্য আনতে হবে। যেদিন তারা হারোণকে প্রধান যাজক বলে অভিষিক্ত করবে, সেদিনই তারা এটা করবে। শস্য নৈবেদ্যর জন্য তারা অবশ্যই 8 কাপ গুঁড়ো ময়দা আনবে। (প্রতিদিনের নৈবেদ্য দানের সময়েই এটা দেওয়া হবে।) তারা এর অর্ধেক আনবে সকালে, বাকি অর্ধেক আনবে সন্ধ্যার সময়। 21গুঁড়ো ময়দার সঙ্গে তেল মেশানো হবে এবং সেঁকার পাত্রে তাকে সেঁকা হবে। তৈরী হয়ে গেলে তুমি অবশ্যই তা ভেতরে আনবে। তুমি নৈবেদ্যটিকে টুকরো টুকরো করে ভাঙ্গবে। এর গন্ধ প্রভুকে খুশী করবে।
22“হারোণের স্থানে বসার জন্য হারোণের উত্তরপুরুষদের থেকে অভিষিক্ত যাজক এই শস্য নৈবেদ্য অবশ্যই প্রভুর কাছে আনবে। এ নিয়ম চিরকাল ধরে চলবে। প্রভুর জন্য শস্য নৈবেদ্য অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে অগ্নিদগ্ধ করতে হবে। 23যাজকের প্রত্যেকটি শস্য নৈবেদ্য অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে পোড়াতে হবে। তা কোন মতেই আহার করা চলবে না।”
পাপবলির নিয়ম
24প্রভু মোশিকে বললেন, 25“হারোণ ও তার পুত্রদের বলো: এই হল পাপ নৈবেদ্য দানের নিয়ম। যেখানে প্রভুর সামনে হোমবলির বলি হত্যা করা হয়েছিল, সেখানেই পাপ নৈবেদ্যর বলিকেও হত্যা করতে হবে। এটা অত্যন্ত পবিত্র। 26যে যাজক পাপ নৈবেদ্য উৎসর্গ করছে সে অবশ্যই সেটা খাবে; কিন্তু সে এটা একটা পবিত্র জায়গায় খাবে-জায়গাটা যেন সমাগম তাঁবুর চারপাশের উঠানের মধ্যে হয়। 27পাপ নৈবেদ্যর মাংস স্পর্শেই একজন মানুষ বা কোন বিষয় পবিত্র হয়ে ওঠে।
“যদি ছিটানো রক্তের একটুও কোন মানুষের কাপড়ের ওপর পড়ে তখন অবশ্যই কোন পবিত্র স্থানে যেন সেই কাপড় কাচা হয়। 28মাটির পাত্রে যদি পাপ নৈবেদ্যকে সিদ্ধ করা হয়, তাহলে পাত্রটাকে অবশ্যই ভেঙ্গে ফেলতে হবে। যদি পাপ নৈবেদ্যকে পিতলের তৈরী পাত্রে ফোটানো হয়, তাহলে পাত্রটিকে অবশ্যই মাজতে হবে এবং পরে জলে ধুয়ে নিতে হবে।
29“যাজক পরিবারের যে কোন পুরুষ পাপ মোচনের নৈবেদ্য খেতে পারবে; এটা খুবই পবিত্র। 30কিন্তু যদি পাপ মোচনের নৈবেদ্যর রক্ত সমাগম তাঁবুর মধ্যে আনা হয় এবং সেই পবিত্র স্থানে লোকদের শুচি করার জন্য ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেই পাপ মোচনের নৈবেদ্য আগুনে পুড়িয়ে নিতে হবে। যাজকরা সেই পাপ নৈবেদ্য অবশ্যই খাবে না।
7দোষার্থক বলি
1“দোষ মোচনের বলি উৎসর্গের এগুলি হল নিয়ম: এ অত্যন্ত পবিত্র। 2একজন যাজক দোষ মোচনের বলি অবশ্যই সেই জায়গায় হত্যা করবে যেখানে হোমের বলি হত্যা করা হয়, তারপর দোষ মোচনের বলির রক্ত বেদীর সবদিকে ছিটিয়ে দেবে।
3“যাজক দোষ মোচনের বলির সমস্ত মেদ অবশ্যই উৎসর্গ করবে, মেদসহ লেজ এবং ভিতর অংশের ওপর ছড়িয়ে থাকা মেদ উৎসর্গ করবে। 4যাজক নৈবেদ্যর দুটি বৃক্ক এবং যে চর্বি কটিদেশের নীচে তাদের ঢেকে রাখে তা উৎসর্গ করবে, যকৃতের মেদ অংশও নৈবেদ্য হিসাবে দেবে। মুত্রগ্রন্থিগুলির সঙ্গে সে তা ছাড়িয়ে আনবে। 5ঐ সমস্ত জিনিস যাজক বেদীর ওপর পোড়াবে। এ হবে প্রভুর প্রতি আগুনে প্রস্তুত এক নৈবেদ্য। এটা হল এক দোষ মোচনের নৈবেদ্য।
6“যাজকের পরিবারের যে কোন পুরুষ দোষ মোচনের বলি ভক্ষণ করতে পারে। এ নৈবেদ্য খুবই পবিত্র, তাই এটা অবশ্যই কোন পবিত্র স্থানে খেতে হবে। 7দোষ মোচনের নৈবেদ্য পাপ মোচনের নৈবেদ্যরই মতো। এই দুই নৈবেদ্যর জন্য এক নিয়ম। যে যাজক বলির ব্যবস্থা করবে সে খাদ্য হিসেবে মাংস পাবে। 8যে যাজক বলির ব্যবস্থা করবে সে দগ্ধ নৈবেদ্য থেকে চামড়াও পাবে। 9প্রদত্ত প্রত্যেক শস্য নৈবেদ্য সেই যাজকের অধিকারে আসবে, যে যাজক তা উৎসর্গ করবার ভার নেবে। যাজক পাবে শস্য নৈবেদ্যসমূহ যা উনুনে সেঁকা বা ভাজবার পাত্রে অথবা সেঁকার থালায় রান্না করা। 10হারোণের পুত্রদের অধিকারে থাকবে শস্য নৈবেদ্যসমূহ, সেগুলি শুকনো বা তেল মেশানো হতে পারে। হারোণের পুত্ররা সকলে এই খাদ্যের অংশ নেবে।
মঙ্গল নৈবেদ্যসমূহ
11“প্রভুর কাছে মঙ্গল নৈবেদ্যসমূহ দানের নিয়ম: 12কোন ব্যক্তি কৃতজ্ঞতা জানাতে মঙ্গল নৈবেদ্য আনতে পারে। যদি সে কৃতজ্ঞতা জানাতে নৈবেদ্য আনে তবে তার খামিরবিহীন তেল মাখানো রুটি, ওপরে তেল দেওয়া পাতলা কিছু রুটি এবং তেল মেশানো গুঁড়ো ময়দার কিছু গোটা পাঁউরুটি আনা উচিত। 13মঙ্গল নৈবেদ্যসমূহ হল সেই নৈবেদ্য যা কোন ব্যক্তি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতেই আনে। সেই নৈবেদ্যর সঙ্গে ব্যক্তিটি খামির দিয়ে তৈরী করা গোটা পাঁউরুটিগুলিও অন্য নৈবেদ্য হিসেবে আনবে। 14এই সমস্ত রুটির একটি সেই যাজকের, যে মঙ্গল নৈবেদ্যর রক্ত ছিটিয়ে দেবে। 15মঙ্গল নৈবেদ্যর মাংস যেদিন উৎসর্গ করা হবে, সেই দিনেই তা খেতে হবে। একজন মানুষ এই উপহার ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই দেয়; কিন্তু পরের দিন সকালের জন্য মাংসের একটুও যেন পড়ে না থাকে।
16“কোন মানুষ মঙ্গল নৈবেদ্য আনতে পারে কারণ সে হয়ত ঈশ্বরকে উপহার দিতে চায় অথবা সে হয়ত ঈশ্বরের কাছে বিশেষ মানত করেছিল। যদি এটা সত্য হয় তাহলে যেদিন সে নৈবেদ্য দেয়, সেই দিনেই প্রদত্ত নৈবেদ্য খেয়ে নিতে হবে। যদি কিছু পড়ে থাকে তা পরের দিন অবশ্যই খেতে হবে। 17কিন্তু যদি এই নৈবেদ্যর কোন মাংস তৃতীয় দিনেও পড়ে থাকে তা আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। 18যদি কোন ব্যক্তি তৃতীয় দিন তার মঙ্গল নৈবেদ্যর কোন মাংস ভক্ষণ করে তাহলে প্রভু সেই ব্যক্তির প্রতি সন্তুষ্ট হবেন না। তার নৈবেদ্য প্রভু গ্রহণ করবেন না; সেই নৈবেদ্য হবে অশুচি। আর যদি কোন ব্যক্তি সেই মাংসের কিছু ভক্ষণ করে তা হলে সেই ব্যক্তি নিজে তার দোষের জন্য দায়ী হবে।
19“অশুচি এমন কোন বস্তুর ছোঁয়া লাগা মাংস অবশ্যই যেন কেউ না খায়; আগুনে এই মাংস পোড়াবে। প্রত্যেকটি শুচি মানুষ মঙ্গল নৈবেদ্য থেকে মাংস খেতে পারে। 20কিন্তু যদি কোন অশুচি ব্যক্তি প্রভুর জন্য নির্দিষ্ট মঙ্গল নৈবেদ্যর মাংস খায়, তা হলে সেই ব্যক্তিকে অবশ্যই তার লোকদের থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে।
21“যদি কোন ব্যক্তি কোন অশুচি জিনিস, যা মানুষের শরীরের দ্বারা অশুচি হয়েছে বা কোন অশুচি জন্তু বা প্রভু নিষেধ করেছেন এমন কোন জিনিস স্পর্শ করে, তাহলে সেই ব্যক্তি অশুচি হবে। এবং যদি সে মঙ্গল নৈবেদ্যর মাংস খায়, তাহলে তাকে অবশ্যই তার লোকদের থেকে আলাদা করতে হবে।”
22প্রভু মোশিকে বললেন, 23“ইস্রায়েলের লোকদের বলো: তোমরা গরু, মেষ বা ছাগলের কোনো চর্বি অবশ্যই খাবে না। 24যে জন্তু স্বাভাবিক ভাবে মারা গেছে অথবা অন্য জন্তুদের দ্বারা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, তোমরা সে জন্তুর চর্বি ব্যবহার করতে পার; কিন্তু তোমরা কখনোই তা খাবে না। 25আগুনে পোড়া জন্তু প্রভুর প্রতি প্রদত্ত যদি কোন ব্যক্তি তার চর্বি খায়, তাহলে সেই ব্যক্তিকে তার সংশ্লিষ্ট লোকদের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হবে।
26“তোমরা যেখানেই বাস করো না কেন কখনও কোন পাখির বা কোন জন্তুর রক্ত পান করবে না। 27যদি কোন ব্যক্তি রক্ত খায়, তাহলে সেই লোকটিকে অবশ্যই তার লোকদের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হবে।”
দোলনীয় নৈবেদ্যর নিয়মাবলী
28প্রভু মোশিকে বললেন, 29“ইস্রায়েলের লোকদের বলো: যদি কোন ব্যক্তি প্রভুর কাছে মঙ্গল নৈবেদ্য নিয়ে আসে, তাহলে সেই ব্যক্তি ঐ নৈবেদ্যর অংশ অবশ্যই প্রভুকে দেবে। 30উপহারের সেই অংশ আগুনে পোড়ানো হবে। সে নিজের হাতে সেই উপহারের অংশ বহন করবে। সেই জন্তুটির চর্বি এবং বক্ষদেশ যাজকের কাছে আনবে। প্রভুর সামনে জন্তুটির বক্ষদেশটি তুলে ধরবে। এটাই হবে দোলনীয় নৈবেদ্য। 31তারপর যাজক বেদীর ওপর চর্বি পোড়াবে; কিন্তু জন্তুর বক্ষদেশ হারোণ এবং তার পুত্রদের অধিকারে থাকবে। 32তোমরা মঙ্গল নৈবেদ্যর ডান দিকের উরুটিও যাজককে দেবে। 33মঙ্গল নৈবেদ্যর ডান দিকের উরুটি থাকবে সেই যাজকের (হারোণের পুত্রদের) দখলে, যে মঙ্গল নৈবেদ্যর রক্ত আর চর্বি উৎসর্গ করবে। 34আমি ইস্রায়েলের লোকদের কাছ থেকে দোলনীয় নৈবেদ্যর বক্ষদেশ এবং মঙ্গল নৈবেদ্যর ডান উরু নিচ্ছি এবং সেই বস্তুগুলি আমি হারোণ ও তার পুত্রদের দিয়ে দিচ্ছি। ইস্রায়েলের লোকরা অবশ্যই এই নিয়ম চিরকালের জন্য মেনে চলবে।”
35ঐগুলি হল প্রভুকে প্রদত্ত আগুনের তৈরী নৈবেদ্যর অংশ যা হারোণ ও তার পুত্রদের অধিকার। যখনই হারোণ এবং তার পুত্ররা প্রভুর যাজক হয়ে সেবা করবে তারা উৎসর্গগুলির অংশও পাবে। 36যাজকদের মনোনীত করার সময় থেকেই প্রভু ঐ সব অংশ যাজকদের দেওয়ার জন্য ইস্রায়েলের লোকদের নির্দেশ দেন। লোকরা অবশ্যই যেন সেই অংশ চিরকালের জন্য যাজকদের দেয়।
37ঐগুলি হল হোমবলি, শস্য নৈবেদ্য, পাপমোচনের নৈবেদ্য, দোষমোচনের বলি, মঙ্গল নৈবেদ্য এবং যাজক নির্বাচন সম্পর্কে নিয়মাবলী। 38সীনয় পর্বতের ওপর প্রভু মোশিকে এই আজ্ঞাগুলি দেন। যেদিন প্রভু ইস্রায়েলের লোকদের সীনয় মরুভুমির মধ্যে প্রভুর কাছে তাদের নৈবেদ্যসমূহ আনতে আদেশ দিয়েছিলেন, সেদিনই তিনি ঐ বিধিগুলি জানিয়ে দেন।
8মোশি যাজকদের নিযুক্ত করলেন
1প্রভু মোশিকে বললেন, 2“হারোণ ও তার পুত্রদের সঙ্গে নাও। সেই সঙ্গে নাও পোশাক-পরিচ্ছদ, অভিষেকের জন্য তেল, পাপমোচনের নৈবেদ্যর ষাঁড়, দুটি পুরুষ মেষ এবং খামিরবিহীন রুটির ঝুড়ি। 3তারপর লোকদের একসঙ্গে সমাগম তাঁবুর প্রবেশ মুখে নিয়ে এসো।”
4প্রভুর আদেশ মতই মোশি সব কাজ করল। লোকরা সমাগম তাঁবুর প্রবেশ মুখে একসঙ্গে দেখা করল। 5তখন মোশি লোকদের বলল, “প্রভু যা আদেশ করেছেন এ হল তাই এবং তা অবশ্য কর্তব্য।”
6তারপর মোশি হারোণ ও তার পুত্রদের নিয়ে এল। জল দিয়ে সে তাদের ধৌত করল। 7এরপর মোশি হারোণকে বোনা অঙ্গরক্ষিণী পরালো এবং তার কোমরের চারপাশে কটিবন্ধ জড়াল। তারপর মোশি হারোণের গায়ে পোশাক পরিয়ে গায়ে এফোদ জড়াল এবং বোনা পটুকাতে গা বেষ্টন করে তা বাঁধল। এইভাবে মোশি হারোণের গায়ে এফোদ পরাল। 8মোশি হারোণের বুকে বক্ষাবরণ পরিয়ে দিল। তারপর সে বক্ষাবরণের ভেতরে উরীম ও তূম্মীম রাখল। 9মোশি হারোণের মাথা লম্বা কাপড় জড়ানো পাগড়ি দিয়ে ঢেকে দিল। এক টুকরো সোনা পাগড়ির সামনেটায় বসিয়ে দিল। এই সোনার টুকরোটা হল পবিত্র মুকুট। প্রভুর আজ্ঞা মতই মোশি এটা করেছিল।
10এরপর মোশি অভিষেকের তেল নিল এবং পবিত্র তাঁবুর ওপর ও তার ভেতরের সমস্ত জিনিসের ওপর তা ছিটিয়ে দিল। এইভাবে মোশি তাদের পবিত্র করল। 11মোশি বেদীর ওপর ঐ তেলের কিছুটা সাতবার ছিটিয়ে দিল। মোশি বেদীর ওপর এবং তৎসংলগ্ন থালায়, গামলায় এবং তার তলদেশে তেল ছিটিয়ে সব কিছুকে পবিত্র করল। 12তারপর কিছুটা অভিষেকের তেল নিয়ে সে হারোণের মাথায় ঢালল, এইভাবে মোশি হারোণকে পবিত্র করল। 13মোশি এরপর হারোণের পুত্রদের নিয়ে এসে তাদের বোনা অঙ্গরক্ষিণী পরাল। পরে তাদের গায়ে কটিবন্ধ জড়িয়ে দিল। তারপর তাদের মাথায় ফেট্টি বাঁধল। প্রভুর আজ্ঞামতই মোশি এসব করল।
14এরপর মোশি পাপ মোচন নৈবেদ্যর ষাঁড়টিকে নিয়ে এল। পাপ মোচন নৈবেদ্যর ষাঁড়ের মাথার ওপর হারোণ ও তার পুত্ররা হাত রাখল। 15তারপর মোশি ষাঁড়টিকে হত্যা করে তার রক্ত সংগ্রহ করল। মোশি তার আঙুল দিয়ে কিছু রক্ত বেদীর সব কোণে লাগাল। এইভাবে মোশি বেদীটিকে বলির উপযোগী করে তৈরী করল। তারপর সে বেদীর মেঝেয় রক্ত ঢেলে দিল। লোকদের পাপ মুক্ত করার জন্য এইভাবে মোশি বেদীটিকে বলির জন্য তৈরী রাখল। 16সে যকৃৎ থেকে সব চর্বি বার করে নিল এবং সেই সঙ্গে দুটি বৃক্ক ও তাদের ওপরকার সব চর্বিটুকু নিয়ে সেই বেদীর ওপর তাদের পোড়াল। 17কিন্তু মোশি ষাঁড়ের চামড়া, তার মাংস এবং শরীরের বর্জ্য পদার্থকে তাঁবুর বাইরে নিয়ে এল। তাঁবুর বাইরে আগুনে মোশি সেগুলিকে পোড়াল। প্রভুর আজ্ঞামতই মোশি এসব করল।
18এরপর মোশি হোমবলির জন্য পুরুষ মেষকে নিয়ে এল। হারোণ এবং তার পুত্ররা সেই পুরুষ মেষের মাথায় তাদের হাত রাখল। 19মোশি তারপর পুরুষ মেষটিকে হত্যা করল। সে বেদীর চারপাশে ও বেদীর ওপরে পুরুষ মেষটির রক্ত ছিটিয়ে দিল। 20 মোশি পুরুষ মেষটিকে টুকরো টুকরো করে কাটল। সে ভিতরের অংশগুলি ও পা জল দিয়ে ধুয়ে দিল, তারপর বেদীর ওপর গোটা পুরুষ মেষটিকে পোড়াল। মোশি মাথা ও শরীরের টুকরোগুলো এবং চর্বি পোড়াল। এ হল আগুনের তৈরী হোমবলি। এর গন্ধ প্রভুকে খুশী করে। প্রভুর আজ্ঞামত মোশি ঐগুলি করল।
22তারপর মোশি অন্য পুরুষ মেষটিকে নিয়ে এল। হারোণ আর তার পুত্রদের যাজক হিসাবে নির্দিষ্ট করার জন্যই এই পুরুষ মেষটি ব্যবহার করা হয়েছিল। তারা এই পুরুষ মেষটির মাথায় তাদের হাত রেখেছিল। 23এরপর মোশি পুরুষ মেষটিকে হত্যা করল। এর কিছুটা রক্ত সে হারোণের কানের লতিতে, তার ডান হাতের বুড়ো আঙুলে এবং হারোণের ডান পায়ের বুড়ো আঙুলের মাথায় ছোঁয়াল। 24তারপর সে হারোণের পুত্রদের বেদীর কাছাকাছি নিয়ে এল। রক্তের কিছুটা তাদের ডান কানের লতিতে, ডান হাতের বুড়ো আঙুলে এবং ডান পায়ের বুড়ো আঙুলের মাথায় লাগিয়ে দিল। এরপর সে বেদীর চারপাশে রক্ত ছিটিয়ে দিল। 25এরপর মোশি চর্বি, লেজ, ভিতরের সমস্ত অংশগুলোর চর্বি, যকৃৎ ঢাকা চর্বি, বৃক্ক দুটি এবং তাদের চর্বি এবং ডান দিকের উরু নিল। 26প্রত্যেকদিন প্রভুর সামনে এক ঝুড়ি ভর্ত্তি খামিরবিহীন রুটি রাখা হত। মোশি এই রুটিগুলির একটি, তেল মাখানো রুটির একটি ও একটি খামিরবিহীন পাতলা রুটি নিল। সেই সব রুটির টুকরোগুলো মোশি চর্বির ওপর এবং পুরুষ মেষের ডান উরুর ওপর রাখল। 27তারপর মোশি সেই সমস্ত কিছু হারোণ ও তার পুত্রদের হাতে দিয়ে দিল। টুকরোগুলোকে মোশি দোলনীয় নৈবেদ্যরূপে প্রভুর সামনে দোলালো। 28তারপর হারোণ ও তার পুত্রদের হাত থেকে সেগুলিকে নিয়ে মোশি বেদীর হোমবলির ওপর পোড়াল। হারোণ ও তার পুত্রদের যাজক হিসাবে নিয়োগ করার জন্যই এই নৈবেদ্য। এ নৈবেদ্য আগুনের দ্বারা তৈরী নৈবেদ্য। এর গন্ধ প্রভুকে খুশী করে। 29মোশি বক্ষদেশটা নিয়ে প্রভুর সামনে তা দোলনীয় নৈবেদ্য হিসেবে দোলাল। যাজকদের নিয়োগ করার ব্যাপারে পুরুষ মেষের এই অংশ হল মোশির অংশ। মোশি প্রভুর আজ্ঞামতই এসব কাজ করল।
30মোশি বেদীর ওপর পড়ে থাকা অভিষেকের তেলের কিছুটা ও কিছুটা রক্ত নিয়ে হারোণের ওপর এবং হারোণের পোশাকের ওপর ছিটিয়ে দিল। হারোণের সঙ্গে সেবারত ছেলেদের এবং তাদের পোশাকের ওপরেও কিছুটা ছিটিয়ে দিল। এইভাবে মোশি হারোণ, তার কাপড়-চোপড়, তার ছেলেদের এবং ছেলেদের কাপড়-চোপড় শুচিশুদ্ধ করল।
31তারপর মোশি হারোণ ও তার পুত্রদের জিজ্ঞাসা করল, “আমার আদেশ তোমাদের মনে পড়ে তো? আমি বলেছিলাম, ‘হারোণ এবং তার পুত্ররা এই সমস্ত জিনিস অবশ্যই আহার করবে।’ সুতরাং যাজক নির্বাচনের অনুষ্ঠান থেকে রুটির ঝুড়ি আর মাংস নিয়ে নিও। সমাগম তাঁবুর প্রবেশ মুখে মাংসটাকে সিদ্ধ করো। সেই খানেই মাংস আর রুটি খেও। আমি যা বলছি সেইমতো এটা করো। 32যদি মাংস বা রুটির কোন কিছু পড়ে থাকে তবে তা পুড়িয়ে ফেল। 33যাজক নির্বাচনের অনুষ্ঠান চলবে সাতদিন ধরে। সেই অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তোমরা অবশ্যই সমাগম তাঁবুর প্রবেশ পথ ছাড়বে না। 34আজ যা করা হল, প্রভু সেইসব করতেই আজ্ঞা দিয়েছেন। তোমাদের শুচি করতেই তিনি এইসব আজ্ঞা দিয়েছেন। 35তোমরা অবশ্যই সমাগম তাঁবুর প্রবেশ মুখে সাতদিন ধরে দিনরাত থাকবে। যদি তোমরা প্রভুর আজ্ঞা না মানো তাহলে তোমরা মারা যাবে। প্রভু আমাকে এইসব আজ্ঞা দিয়েছেন।”
36তাই হারোণ ও তার পুত্ররা প্রভু মোশিকে যা যা করতে আজ্ঞা দিয়েছিলেন সেসবই করল।
9ঈশ্বর যাজকদের গ্রহণ করলেন
1আট দিনের দিন মোশি হারোণ ও তার পুত্রদের এবং সেই সাথে ইস্রায়েলের প্রবীণদেরও ডাকল। 2মোশি হারোণকে বলল, “একটা ষাঁড় এবং একটা পুরুষ মেষ নিয়ে এসো। এই জন্তুদের মধ্যে অবশ্যই যেন কোন খুঁত না থাকে। ষাঁড়টা হবে পাপ মোচনের নৈবেদ্য আর মেষটা হবে হোমবলির নৈবেদ্য। ঐসব জন্তুদের প্রভুর কাছে নিবেদন করো। 3ইস্রায়েলের লোকদের বলো, ‘পাপ মোচনের নৈবেদ্যর জন্য একটি পুরুষ ছাগল নাও এবং হোমবলির জন্য একটি বাছুর ও একটি মেষশাবক নাও। বাছুর ও ছাগ শিশু প্রত্যেকটির বয়স যেন এক বছর হয়। ঐ সমস্ত জন্তুদের মধ্যে অবশ্যই যেন কোন খুঁত না থাকে। 4একটা ষাঁড় ও একটা পুরুষ মেষ মঙ্গল নৈবেদ্যর জন্য নাও। ঐসব জন্তু ছাড়াও তেল মেশানো শস্য নৈবেদ্য নেবে এবং এসব প্রভুর কাছে নিবেদন করবে, কারণ আজ প্রভু তোমাদের কাছে আবির্ভূত হবেন।’”
5সুতরাং সমস্ত মানুষ সমাগম তাঁবুর কাছে এলো। মোশি যেমন আদেশ দিয়েছিল তারা সকলে সেই মত জিনিস আনলো। সমস্ত লোক প্রভুর সামনে দাঁড়াল। 6মোশি বলল, “প্রভুর আজ্ঞা মতই তোমরা এগুলি করবে আর তখন প্রভুর মহিমা তোমাদের কাছে প্রকাশিত হবে।”
7তারপর মোশি হারোণকে বলল, “যাও প্রভুর আজ্ঞা মতো কাজগুলি করো। বেদীর কাছে যাও এবং পাপ মোচনের নৈবেদ্য ও হোমবলির নৈবেদ্যগুলি নিবেদন করো, যাতে তুমি এবং তোমার লোকরা শুচি হও। লোকদের নৈবেদ্যগুলিও নাও এবং সেইসব পর্বগুলি পালন কর যেগুলি তাদের শুচি করে।”
8সেইজন্য হারোণ বেদীর সামনে এসে পাপমোচনের নৈবেদ্যর জন্য ষাঁড়টাকে হত্যা করলো। এই পাপমোচনের নৈবেদ্য তার নিজেরই জন্য। 9তারপর হারোণের পুত্ররা হারোণের কাছে রক্ত আনলো। হারোণ তার আঙুল রক্তে ডুবিয়ে তার বেদীর কোণগুলোয় ছড়িয়ে দিল, তারপর বেদীর মেঝেতে রক্ত ঢেলে দিল। 10পাপমোচনের নৈবেদ্য থেকে হারোণ নিল চর্বি, বৃক্কগুলো এবং যকৃতের চর্বি অংশটা। প্রভু যেমন যেমন মোশিকে আজ্ঞা করেছিলেন সেইভাবে সে ঐ জিনিসগুলো বেদীর ওপর পোড়ালো। 11হারোণ এরপর শিবিরের বাইরে আগুনে মাংস আর চামড়া পোড়াল। 12পরে হোমবলির জন্য হারোণ জন্তুটিকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে কাটল। হারোণের পুত্ররা হারোণের কাছে রক্ত নিয়ে এলে হারোণ সেই রক্ত বেদীর চারপাশে ছিটিয়ে দিল। 13হারোণের পুত্ররা হারোণকে হোমবলির টুকরোগুলো আর মাথাটা দিলে সে সেগুলো বেদীর ওপর পোড়াল। 14হোমবলির ভিতরের অংশগুলো আর পাগুলিও ধুয়ে ফেলে সেইসব বেদীর ওপর পোড়াল।
15তারপর হারোণ লোকদের নৈবেদ্যগুলি আনল। সে লোকদের পাপের জন্য নৈবেদ্য হিসেবে ছাগলটিকে হত্যা করে প্রথমটার মতই এটিকে নিবেদন করল। 16প্রভুর নির্দেশমত সে দগ্ধ নৈবেদ্যটিকে নিয়ে এসে নিবেদন করল। 17বেদীর কাছে শস্য নৈবেদ্য নিয়ে এসে সে এক মুঠো শস্য নিল এবং তা রোজ সকালে বেদীর ওপর যে বলি দেওয়া হত তার সাথে সাথে নিবেদন করল।
18সে ষাঁড় এবং পুরুষ মেষটিকেও হত্যা করল। এসব হল লোকদের মঙ্গল নৈবেদ্য। হারোণের পুত্ররা হারোণের কাছে রক্ত আনলে সে এই রক্ত বেদীর চারপাশে ছড়িয়ে দিল। 19তারা ষাঁড় আর মেষের চর্বি, লেজের চর্বি, ভিতরের অংশে ঢাকা দেওয়া চর্বি, বৃক্কগুলি এবং যকৃতের চর্বি অংশ আনল। 20এইসব চর্বিগুলো ষাঁড় আর পুরুষ মেষের বুকের ওপর রাখা হলে হারোণ চর্বি অংশগুলো বেদীর ওপর পোড়াল। 21হারোণ মোশির আজ্ঞামতো বক্ষদেশগুলি এবং ডান উরু প্রভুর সামনে দোলনীয় নৈবেদ্য হিসাবে দোলাল।
22তারপর লোকদের উদ্দেশ্যে তার হাত ওপরে তুলে তাদের আশীর্বাদ করল। পাপ মোচনের নৈবেদ্য, হোমবলি এবং মঙ্গল নৈবেদ্য শেষ করার পর হারোণ বেদী থেকে নেমে এল।
23মোশি এবং হারোণ সমাগম তাঁবুর ভিতরে এল। পরে তারা বাইরে এসে লোকদের আশীর্বাদ করল। তারপর প্রভুর মহিমা সমস্ত লোকের সামনে আবির্ভুত হল। 24প্রভুর কাছ থেকে অগ্নি নির্গত হয়ে বেদীর ওপরকার হোমবলি ও চর্বি দগ্ধ করল। তখন সমস্ত মানুষ সেই নৈবেদ্য দহন দেখে চিৎকার করে উঠলো এবং মাটির দিকে মুখ নীচু করলো।
10ঈশ্বর নাদব ও অবীহূকে ধ্বংস করলেন
1তারপর হারোণের পুত্ররা, নাদব ও অবীহূ ধূপ জ্বালাবার ধূপদানী নিলো। এবং ভিন্ন আগুন ব্যবহার করে সেই সুগন্ধী প্রজ্বলিত করলো। মোশি তাদের যে আগুন ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছিল সেই আগুন তারা ব্যবহার করেনি। 2তাই প্রভুর কাছ থেকে আগুন নেমে এসে নাদব ও অবীহূকে ধ্বংস করল। প্রভুর সামনেই তারা মৃত্যু বরণ করলো।
3তখন মোশি হারোণকে বলল, “প্রভু বলেন, ‘যে সমস্ত যাজক আমার নিকটে আসে, তারা অবশ্যই আমাকে শ্রদ্ধা করবে। আমি অবশ্যই তাদের কাছে পবিত্র হিসেবে মান্য হবো এবং সমস্ত মানুষের কাছে অবশ্যই মহিমান্বিত হবো।’” তাই তার পুত্রদের মৃত্যু নিয়ে হারোণ নীরব রইল।
4হারোণের কাকা উষীয়েলের দুটি পুত্র ছিল। তারা হল মীশায়েল ও ইলীষাফণ। মোশি সেই দুই পুত্রকে বলল, “পবিত্র স্থানটির সামনে গিয়ে তোমাদের জ্যাঠতুতো ভাইদের দেহ শিবিরের বাইরে নিয়ে যাও।”
5তখন মীশায়েল ও ইলীষাফণ মোশিকে মান্য করলো। তারা নাদব ও অবীহূর দেহ শিবিরের বাইরে বয়ে নিয়ে গেলো। নাদব ও অবীহূ তখনও বিশেষ ধরণের সুতোর জামা পরে ছিল।
6তখন মোশি হারোণের অন্য পুত্র ইলীয়াসর ও ঈথামরকে বলল, “কোনো বিষন্নতা দেখিও না! তোমাদের পোশাক ছিঁড়ো না অথবা মাথার চুল এলোমেলো করো না। বিষন্নতা না দেখালে তোমরা নিহত হবে না। এবং প্রভু বাকী সকলের ওপর ক্রুদ্ধ হবেন না। ইস্রায়েলের সমস্ত মানুষ তোমাদের আত্মীয়। প্রভু নাদব ও অবীহূকে দগ্ধ করেছেন—এ নিয়ে তারা শোক করতে পারে। 7কিন্তু তোমরা অবশ্যই সমাগম তাঁবু, এমনকি, তার প্রবেশ পথ ত্যাগ করবে না। ত্যাগ করলে তোমরা মারা যাবে। কারণ প্রভুর অভিষেকের তেল তোমাদের ওপর ঢালা হয়েছে।” তখন হারোণ, ইলীয়াসর এবং ঈথামর মোশিকে মান্য করল।
8তারপর প্রভু হারোণকে বললেন, 9“যখন তোমরা সমাগম তাঁবুর মধ্যে আসবে তখন তুমি আর তোমার পুত্ররা অবশ্যই দ্রাক্ষারস পান করবে না। যদি তোমরা ঐসব জিনিস পান কর, তাহলে তোমরা মারা যাবে। এই বিধি তোমাদের বংশপরম্পরায় চিরকালের জন্য চলতে থাকবে। 10তোমাদের অবশ্যই পবিত্র ও অপবিত্র এবং শুচি ও অশুচি বিষয়ের মধ্যে পরিষ্কারভাবে পার্থক্য করে নিতে হবে। 11প্রভু মোশির মাধ্যমে লোকদের সেইসব বিধি জানিয়ে দিলেন, তুমি লোকদের ঐসব বিধি সম্পর্কে অবশ্যই অবহিত করবে।”
12হারোণের দুই পুত্র ইলীয়াসর ও ঈথামর তখনও জীবিত ছিল। মোশি হারোণ ও তার দুই পুত্রকে বলল, “আগুনে পোড়ানো উপহারগুলির মধ্যে কিছু শস্য নৈবেদ্য পড়ে আছে। তোমরা শস্য নৈবেদ্যর সেই অংশ আহার করবে, কিন্তু অবশ্যই তাতে খামির যোগ করবে না। বেদীর কাছেই সেটা খাও, কারণ সেই নৈবেদ্য অত্যন্ত পবিত্র। 13নৈবেদ্যর এই অংশ প্রভুর উদ্দেশ্যে আগুনে পোড়ানো হয়েছিল, এবং যে বিধি আমি তোমাদের জানিয়েছি তা শেখায় যে এই অংশ তোমার ও তোমার পুত্রদের জন্যই; কিন্তু অবশ্যই তোমরা একটা পবিত্র স্থানে তা আহার করবে।
14“তাছাড়া তুমি, তোমার ছেলেরা এবং মেয়েরা দোলনীয় নৈবেদ্যসমূহের বক্ষদেশ এবং উরুর অংশ আহার করতে পারবে। এসব তোমাদের পবিত্র জায়গায় খেতে হবে না। কিন্তু তা অবশ্যই পরিচ্ছন্ন জায়গায় খেতে হবে। কারণ সেগুলি আসে মঙ্গল নৈবেদ্যসমূহ থেকে। ইস্রায়েলের লোকরা ঈশ্বরকে যে উপহার দেয় তা থেকে এই অংশ তোমার ও তোমার সন্তানদের প্রাপ্য বলে ধরা হয়েছে। 15লোকরা অবশ্যই আগুনে পোড়ানো বলির অংশ হিসেবে জন্তুদের চর্বি, মঙ্গল নৈবেদ্যর উরু এবং দোলনীয় নৈবেদ্যর বক্ষদেশ নিয়ে আসবে। প্রভুর সামনে দোলানো হলে নৈবেদ্যর সেই অংশ প্রভুর আজ্ঞা অনুসারে চিরকাল তোমার ও তোমার সন্তান-সন্ততিদের অধিকারে যাবে।”
16মোশি পাপার্থক নৈবেদ্য ছাগলের খোঁজ করল, কিন্তু তা ইতিমধ্যে পোড়ানো হয়ে গিয়েছিল। এতে মোশি হারোণের পুত্র ইলীয়াসর ও ঈথামরের ওপর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হল। মোশি বলল, 17“সেই ছাগলটিকে পবিত্র স্থানে খাওয়া তোমাদের উচিৎ ছিল। এটা অত্যন্ত পবিত্র। কেন তোমরা প্রভুর সামনে তা খেলে না? প্রভু তোমাদের তা দিয়েছিলেন লোকদের দোষের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য, লোকদের পবিত্র করার জন্য। 18সেই ছাগলের রক্ত পবিত্র জায়গায় (তাঁবুর মধ্যেকার পবিত্র ঘরে) আনা হয় নি। তাই তোমাদের উচিৎ ছিল আমি যেমন আদেশ দিয়েছিলাম, সেইভাবে পবিত্র জায়গায় মাংস আহার করা।”
19কিন্তু হারোণ মোশিকে বলল, “দেখুন আজ তারা পাপ মোচনের নৈবেদ্য ও হোমবলির নৈবেদ্য প্রভুর কাছে এনেছিল। আর আপনি জানেন আজ আমার ভাগ্যে কি ঘটেছে। আপনি কি মনে করেন আমি আজ পাপ মোচনের নৈবেদ্য খেলে তা প্রভুকে খুশী করতো? না!” 20মোশি তা শুনল এবং মেনে নিল।
11মাংস খাওয়ার নিয়মাবলী
1প্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন, 2“ইস্রায়েলের লোকদের বলো: এই সমস্ত জন্তু তোমরা আহার করতে পারো: 3যে সব জন্তুর পায়ের খুর দুভাগে ভাগ করা, সেইসব জন্তু যদি জাবর কাটে তা হলে তোমরা সেই জন্তুর মাংস খেতে পারো।
4 “কিছু জন্তু আবার জাবর কাটে কিন্তু তাদের পায়ের খুর দু’ভাগ করা নয়, তোমরা সে সব জন্তু খাবে না। উট, পাহাড়ের শাফন এবং খরগোশ হল সেই রকম। তাই তারা তোমাদের পক্ষে অশুচি। 7অন্য কিছু জন্তুদের পায়ের খুর দু’ভাগ করা, কিন্তু তারা জাবর কাটে না, ঐসব জন্তু খাবে না। শূকর সেই ধরণের, সুতরাং তারা তোমাদের পক্ষে অশুচি। 8ঐসব প্রাণীর মাংস খাবে না। এমনকি তাদের মৃত দেহও স্পর্শ করবে না, তা তোমাদের পক্ষে অশুচি।
সামুদ্রিক খাদ্য বিষয়ে নিয়মাবলী
9“যদি কোন প্রাণী সমুদ্রে বা নদীতে বাস করে এবং যদি প্রাণীটির পাখনা ও আঁশ থাকে, তাহলে তোমরা সেই প্রাণী খেতে পারো। 10 কিন্তু সমুদ্রে বা নদীতে বাস করে এমন কোন প্রাণীর যদি ডানা ও আঁশ না থাকে তাহলে সেই প্রাণী তোমরা অবশ্যই খাবে না। এই ধরণের প্রাণী আহারের পক্ষে অনুপযুক্ত। সেই প্রাণীর মাংস তোমরা খাবে না, এমন কি তার মৃত শরীরও স্পর্শ করবে না। 12জলচর যে কোন প্রাণী যার পাখনা এবং আঁশ নেই, তাকে প্রভু আহারের জন্য অনুপযুক্ত বলেছেন বলেই মনে করেন।
অখাদ্য পক্ষীসমুহ
13“ঈশ্বর যে সব পাখী খাওয়ার পক্ষে অনুপযুক্ত বলেছেন, তোমরা অবশ্যই সেইসব পাখীদের অখাদ্য বলে গণ্য করবে। এই পাখীগুলি তোমরা খাবে না: ঈগল, শকুনি, শিকারী পাখী, 14চিল এবং সব ধরণের বাজ পাখী। 15সমস্ত জাতের কালো পাখী, 16উট পাখী, রাতের বাজ পাখী, শঙ্খচিল, সব জাতের শ্যেন পাখী, 17পেঁচা, লিপ্তপদ সামুদ্রিক পাখী, বড় পেঁচা, 18হংসী, জলচর প্যানিভেলা, শবভূক শকুনি, 19সারস, সমস্ত জাতের সারস, ঝুঁটিওয়ালা পাখী এবং বাদুড়।
পতঙ্গাদি ভক্ষণ সম্পর্কে নিয়মাবলী
20“বুকে হাঁটা ক্ষুদ্র কোন প্রাণীর যদি ডানা থাকে, তাহলে সেগুলিকে তোমরা খাবে না কারণ প্রভু তা নিষেধ করেছেন। ঐ সমস্ত পোকামাকড় খেও না। 21কিন্তু তোমরা সেইসব পোকামাকড় খেতে পার যারা সন্ধিপদ এবং লাফাতে পারে। 22সমস্ত রকম পঙ্গপাল, সমস্ত রকমের ডানাওযালা পঙ্গপাল, সমস্ত রকমের ঝিঁঝি পোকা আর সব জাতের গঙ্গা ফড়িং তোমরা খেতে পারো।
23“কিন্তু অন্য আর সব ক্ষুদ্র প্রাণী যাদের ডানা আছে কিন্তু বুকে হেঁটে চলে, তোমরা অবশ্যই সেসব খাবে না, কারণ প্রভু তা নিষিদ্ধ করেছেন। 24সেই সমস্ত ক্ষুদ্র প্রাণীরা তোমাদের অশুচি করবে। যে তাদের মৃত দেহ স্পর্শ করবে, সন্ধ্যা না হওয়া পর্যন্ত সে অশুচি থাকবে। 25যদি কোন ব্যক্তি সেই মৃত পোকামাকড়দের স্পর্শ করে, তাহলে সে অবশ্যই তার কাপড়-চোপড় ধুয়ে ফেলবে। সন্ধ্যা না হওয়া পর্যন্ত সে অশুচি হয়ে থাকবে।
প্রাণীদের সম্পর্কে আরও নিয়মাবলী
26 “কিছু প্রাণীর পায়ের খুর দুভাগে ভাগ করা কিন্তু খুরগুলি সত্যিকারের দুটি অংশ নয়। আবার তারা জাবর কাটে না, এসব প্রাণী তোমাদের পক্ষে অশুচি। যে কোন ব্যক্তি তাদের স্পর্শ করলে অশুচি হবে। সন্ধ্যা না হওয়া পর্যন্ত সেই ব্যক্তিটি অশুচি থাকবে। 28যদি কোন ব্যক্তি তাদের মৃত দেহ সরায়, সে অবশ্যই তার পোশাক-পরিচ্ছদ ধুয়ে নেবে। সেই মানুষটি সন্ধ্যা না হওয়া পর্যন্ত অশুচি থাকবে। ঐ সমস্ত প্রাণী তোমাদের কাছে অশুচি।
বুকে হাঁটা প্রাণীদের সম্পর্কে নিয়মাবলী
29“এই সমস্ত বুকে হাঁটা প্রাণীরা তোমাদের কাছে অশুচি: ছুঁচো, ইঁদুর সমস্ত জাতের বড় টিকটিকি। 30গোসাপ, কুমির, টিকটিকি, বালির সরীসৃপ এবং গিরগিটি। 31ঐ সমস্ত বুকে হাঁটা প্রাণীরা তোমাদের কাছে অশুচি। কোন মানুষ তাদের মৃতদেহ স্পর্শ করলে সন্ধ্যা না হওয়া পর্যন্ত সে অশুচি থাকবে।
অশুচি প্রাণীদের সম্পর্কে নিয়মাবলী
32“যদি ঐ সমস্ত অশুচি প্রাণীদের কোন একটা মরে কোন কিছুর ওপর পড়ে, তাহলে সেই জিনিসটিও অশুচি হবে। সেই জিনিসটি কাঠের তৈরী কোন পাত্র, কাপড়, চামড়া, শোকের পোশাক দিয়ে তৈরী কাজের কোন হাতিয়ার হতে পারে। এটা যাইহোক্ তা অবশ্যই জলে ধুতে হবে। সন্ধ্যা না হওয়া পর্যন্ত তা অশুচি থাকবে। তারপর তা আবার শুচি হবে। 33যদি ঐ সমস্ত অশুচি প্রাণীদের কোন একটা মারা যায় এবং মাটির তৈরী পাত্রের ওপর পড়ে, তাহলে পাত্রের ভেতরের যে কোনো জিনিস অশুচি হয়ে যাবে এবং তোমরা অবশ্যই পাত্রটাকে ভেঙ্গে ফেলবে। 34যদি অশুচি মাটির পাত্রের জল কোন খাদ্যের ওপর পড়ে, তাহলে সেই খাবার অশুচি হবে। অশুচি পাত্রের যে কোন পানীয় অশুচি। 35যদি মৃত অশুচি প্রাণীর কোন অঙ্গ কোন কিছুর ওপর পড়ে, তাহলে সেই জিনিসটা অশুচি হবে। এটা মাটির উনুন অথবা রুটি সেঁকার মাটির পাত্র হলে তা অবশ্যই ভেঙ্গে টুকরো করে ফেলতে হবে। সেই সমস্ত জিনিস আর শুচি করা যাবে না। সেগুলি তোমাদের কাছে সবসময়েই অশুচি।
36“কোন ঝর্ণা বা জল জমে এমন কোন কূপ শুচি থাকলেও যে মানুষ কোন অশুচি প্রাণীর দেহ স্পর্শ করে সে অশুচি হয়ে যাবে। 37যদি মৃত অশুদ্ধ প্রাণীদের কোনো অংশ বপন করার কোন বীজের ওপর পড়ে, তাহলে সেই বীজ তখনও শুচিই থাকবে। 38কিন্তু তোমরা যদি বীজের ওপর জল ঢালো এবং তারপর যদি অশুচি প্রাণীদের কোন অঙ্গ ঐসব বীজের ওপর পড়ে তা হলে তোমাদের পক্ষে ঐ সমস্ত বীজ অশুচি। 39তাছাড়া তুমি খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করো এমন কোন প্রাণী যদি মারা যায়, তাহলে যে তার মৃত শরীর স্পর্শ করবে, সন্ধ্যা না হওয়া পর্যন্ত সে অশুচি রইবে। 40এবং যে এই প্রাণীদেহ থেকে মাংস খাবে তাকে অবশ্যই তার কাপড় চোপড় ধুতে হবে। সন্ধ্যা না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যক্তিটি অশুচি থেকে যাবে। যে ব্যক্তি প্রাণীটির মৃতদেহ তোলে তাকে অবশ্যই তার পোশাক-পরিচ্ছদ ধুতে হবে এবং সেই লোকটি সন্ধ্যা না হওয়া পর্যন্ত অশুচি থাকবে।
41“যে সব প্রাণী মাটির ওপর বুকে হেঁটে যায়, সেইসব প্রাণীদের তোমরা আহার করবে না। তোমরা সে প্রাণী অবশ্যই খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করবে না। 42পেটের ওপর ভর দিয়ে হাঁটা অথবা চার পা দিয়ে হাঁটা সরীসৃপ বা যে সমস্ত প্রাণীর অনেকগুলো পা তাদের অবশ্যই আহার করবে না। 43ঐ সমস্ত প্রাণী তোমাদের যেন নোংরা না করে। তোমরা অশুচি হয়ো না, 44কারণ আমিই তোমাদের প্রভু ঈশ্বর! আমি পবিত্র, তাই তোমরাও তোমাদের নিজেদের পবিত্র রেখো। ঐ সমস্ত বুকে হাঁটা প্রাণীদের সংস্পর্শে নিজেদের অশুচি করো না। 45আমি তোমাদের মিশর থেকে এনেছি যাতে তোমরা আমার বিশিষ্ট লোকজন হতে পারো এবং আমি তোমাদের ঈশ্বর হতে পারি। আমি পবিত্র তাই তোমরাও অবশ্যই পবিত্র হবে।”
46এই সমস্ত নিয়মাবলী পশু, পাখী, সমুদ্রের সমস্ত প্রাণী এবং মাটির ওপর বুকে হাঁটা সমস্ত প্রাণীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 47ঐ সমস্ত উপদেশ সাধারণ মানুষকে শুচি প্রাণীদের থেকে অশুচি প্রাণীদের আলাদা করতে সাহায্য করবে যেন তারা জানতে পারে কোন প্রাণীদের আহার করা এবং কোন প্রাণীদের আহার না করা উচিৎ।
12নতুন মায়েদের জন্য নিয়মাবলী
1প্রভু মোশিকে বললেন, 2“ইস্রায়েলের লোকদের বলো: যদি একজন স্ত্রীলোক একটি শিশু পুত্রের জন্ম দেয়, তাহলে সেই স্ত্রীলোকটি সাতদিন ধরে অশুচি থাকবে। তার মাসিকের রক্ত পাতের অশুচি সময়ের মতই হবে এই অশুচিতা। 3অষ্টম দিনে অবশ্যই শিশু পুত্রটিকে সুন্নত করতে হবে। 4তারপর তার রক্তক্ষয় থেকে সে শুচি হবে 33 দিন পর। যা কিছু পবিত্র অবশ্যই তার কোনো কিছুই সে স্পর্শ করতে পারবে না। যতক্ষণ না তার শুচিকরণ শেষ হচ্ছে, সে অবশ্যই কোন পবিত্র স্থানে ঢুকতে পাবে না। 5কিন্তু যদি স্ত্রীলোকটি এক শিশুকন্যার জন্ম দেয়, তাহলে তার মাসিক সময়ের রক্তপাতের মতই দু সপ্তাহ ধরে সে অশুচি থাকবে। তার রক্তক্ষয় থেকে 66 দিন পর্যন্ত কাটিয়ে সে শুচি হবে।
6“শুচিকরণের সময় শেষ হলে একটি শিশু কন্যা বা পুত্রের নতুন প্রসূতি, সমাগম তাঁবুতে অবশ্যই বিশেষ ধরণের উৎসর্গ আনবে। সে সমাগম তাঁবুর প্রবেশ পথে যাজককে অবশ্যই ঐসব উৎসর্গ বস্তুগুলি দেবে। দগ্ধ নৈবেদ্যর জন্য আনতে হবে এক বছর বয়সী মেষশাবক এবং একটি ঘুঘু পাখী বা বাচ্চা পায়রা আনবে পাপ মোচনের নৈবেদ্যর জন্য। 7 যদি স্ত্রীলোকটি একটি মেষ দিতে অক্ষম হয় তবে সে দুটি ঘুঘু বা দুটি বাচ্চা পায়রা আনতে পারে। একটি পাখী হবে হোমবলির জন্য নির্দিষ্ট আর একটি পাপ মোচনের নৈবেদ্যর জন্য। যাজক ঐ সমস্ত নৈবেদ্য প্রভুর কাছে নিবেদন করে তাকে পাপমুক্ত করবে। এবং সে তার রক্তক্ষয়ের থেকে শুচি হবে। এগুলি হল একজন নারীর জন্য নির্দিষ্ট নিয়মাবলী, যে নারী একটি শিশু পুত্র বা এক শিশু কন্যার জন্ম দেবে।”
13চর্মরোগ সংক্রান্ত নিয়মাবলী
1প্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন, 2“কোন লোকের চামড়া যদি ফুলে থাকে বা তাতে খোস পাঁচড়া অথবা চকচকে দাগের মতো কিছু থাকে, যদি ক্ষত অংশটা কুষ্ঠ রোগের ঘায়ের মতো দেখতে হয়, তাকে অবশ্যই যাজক হারোণ বা তার যাজক পুত্রদের কাছে আনতে হবে। 3চামড়ার ক্ষত স্থানটিকে যাজক অবশ্যই দেখবে। যদি ক্ষতের মধ্যেকার লোম সাদা হয়ে ওঠে এবং যদি চামড়ার ওপর থেকে ক্ষতস্থানটিকে গর্তের মতো মনে হয়, তবে তা কুষ্ঠরোগ। যাজক লোকটিকে দেখা শেষ করে তাকে অশুচি বলে ঘোষণা করবে।
4“কিন্তু চামড়ায় সাদা দাগ যদি গভীর না হয় এবং ক্ষতস্থানের লোম যদি সাদা না হয় তাহলে সাত দিনের জন্যে যাজক সেই মানুষটিকে অন্য সব লোকদের থেকে আলাদা করবে। 5সাত দিনের দিন যাজক অবশ্যই লোকটাকে দেখবে। যাজক যদি দেখে বোঝে যে ক্ষতস্থানের কোনো পরিবর্তন হয় নি এবং তা চামড়ার ওপর ছড়িয়ে পড়েনি, তাহলে আরও সাত দিনের জন্য লোকটাকে আলাদা করে রাখবে। 6সাত দিন পর যাজক লোকটিকে আবার দেখবে। যদি ক্ষতস্থানটি শুকিয়ে যায় এবং চামড়ার ওপর না ছড়ায়, তখন যাজক সেই লোকটিকে শুচি বলে ঘোষণা করবে। এক্ষেত্রে ক্ষতস্থানটি শুধু হল খোস-পাঁচড়ার, সুতরাং লোকটি অবশ্যই তার কাপড়-চোপড় পরিষ্কার করে শুচি হবে।
7“কিন্তু যদি লোকটি যাজকের কাছে নিজেকে শুচি দেখানোর পরে ক্ষতস্থানটি চামড়ায় আরও ছড়িয়ে পড়তে দেখে তা হলে লোকটি অবশ্যই যাজকের কাছে আবার আসবে। 8যাজক আবার দেখবে যে ক্ষতস্থানটি চামড়ার ওপর ছড়িয়ে গেছে কিনা, আর তাহলে যাজক তাকে অশুচি বলে ঘোষণা করবে। সেটা তাহলে কুষ্ঠরোগ।
9“যদি কোনো ব্যক্তির কুষ্ঠরোগ থাকে তাহলে তাকে অবশ্যই যাজকের কাছে আনতে হবে। 10যাজক অবশ্যই লোকটিকে দেখবে যে চামড়ার ওপর কোন সাদা ফোলা অংশ আছে কিনা এবং লোমটাও সাদা হয়ে গেছে কিনা। যদি চামড়ার লোম সাদা হয়ে যায় এবং চামড়ার ফোলা জায়গা কাঁচা থাকে, 11তাহলে তা কুষ্ঠরোগ। দীর্ঘ দিন ধরে যা লোকটির চামড়ায় থেকে গেছে, যাজক অবশ্যই তাকে অশুচি বলে ঘোষণা করবে। তাকে অন্য লোকদের থেকে অল্প সময়ের জন্য আলাদা করার প্রয়োজন নেই, কারণ লোকটি অশুচি।
12“কখনও কখনও মাথা থেকে পা পর্যন্ত সারা শরীরে চর্মরোগ ছড়াতে পারে। সুতরাং যাজক অবশ্যই লোকটির সারা শরীর দেখবে। 13যদি যাজক দেখে যে চর্মরোগ সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে গেছে এবং লোকটার চামড়া সাদা হয়ে গিযেছে, তাহলে যাজক অবশ্যই তাকে শুচি বলে ঘোষণা করবে। 14কিন্তু যদি লোকটির চামড়া কাঁচা হয় তাহলে সে শুচি নয়। 15যখন যাজক কোনো মানুষের চামড়া কাঁচা দেখে, সে অবশ্যই লোকটিকে অশুচি ঘোষণা করবে। কাঁচা চামড়া শুচি নয়। এটা হল কুষ্ঠরোগ।
16“যদি কাঁচা চামড়া বদলায় এবং সাদা হয়ে যায়, তাহলে লোকটিকে যাজকের কাছে আসতে হবে। 17যাজক লোকটিকে অবশ্যই দেখবে। যদি সংক্রামিত জায়গা সাদা হয়, তাহলে যাজক লোকটিকে অবশ্যই শুচি বলে ঘোষণা করবে। ঐ লোকটি শুচি।
18“কোন ব্যক্তির চামড়ার ওপর ফোঁড়া হতে পারে এবং সে ফোঁড়া সেরে যেতে পারে। 19পরে সেই ফোঁড়ার স্থানে সাদা রঙের ফোলা বা দগদগে লাল ডোরা টানা সাদা দাগ হতে পারে। লোকটি ঐ দাগ তখন যাজককে অবশ্যই দেখাবে। 20যাজক অবশ্যই তা দেখবে। যদি ফোঁড়াটা চামড়া থেকে গর্তের মতো হয় এবং এর ওপরকার লোম সাদা হয়, তাহলে যাজক লোকটিকে অবশ্যই অশুচি ঘোষণা করবে। চিহ্নিত জায়গাটায় কুষ্ঠের ঘা শুরু হয়েছে। চামড়ায় এই ফোঁড়াটার ভেতর থেকে কুষ্ঠ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। 21কিন্তু যদি যাজক জায়গাটায় কোন সাদা লোম না দেখে আর জায়গাটা চামড়ার মধ্যে গর্ত না করে থাকে, বরং যদি দেখা যায় শুকিয়ে যাচ্ছে, তাহলে যাজক লোকটাকে সাত দিনের জন্যে আলাদা করে রাখবে। 22যদি চামড়ার আরও অংশে দাগ ছড়ায় তা হলে যাজক সেই লোকটিকে অবশ্যই অশুচি ঘোষণা করবে। এটা হল ঘা। 23কিন্তু যদি চকচকে দাগটি এক জায়গাতেই থাকে এবং না ছড়ায় তা হলে বুঝতে হবে তা পুরানো ফোঁড়ারই ক্ষতচিহ্ন। যাজক অবশ্যই তাকে শুচি ঘোষণা করবে।
24 “কোন ব্যক্তির চামড়া আগুনে পুড়ে যেতে পারে। যদি চামড়ার কাঁচা অংশটি সাদা অথবা লাল ডোরাকাটা সাদা অংশ হয়, যাজক অবশ্যই তা দেখবে। যদি সাদা অংশটা চামড়ায় গর্তের মতো হয় এবং ঐ জায়গাটার লোম সাদা হয়ে যায় তাহলে তা কুষ্ঠরোগ। পোড়া অংশে কুষ্ঠ ছড়িয়ে পড়েছে। যাজক অবশ্যই ঐ লোকটিকে অশুচি ঘোষণা করবে। এটা হল কুষ্ঠরোগ। 26কিন্তু যদি সেই চকচকে জায়গায় কোনো সাদা লোম না থাকে এবং ক্ষতস্থানটা চামড়ায় গর্ত সৃষ্টি না করে মিলিয়ে যায়, তাহলে যাজক অবশ্যই সাত দিনের জন্য লোকটাকে আলাদা করবে। 27সাত দিনের দিন যাজক লোকটাকে আবার দেখবে। যদি ক্ষতস্থানটা চামড়ার ওপর ছড়িয়ে যায়, তাহলে যাজক ঘোষণা করবে যে লোকটা অশুচি। এটা কুষ্ঠরোগ। 28কিন্তু যদি চকচকে দাগটি চামড়ায় না ছড়ায় এবং মিলিয়ে যায় তাহলে পোড়ার জন্যেই ফুলেছে বুঝতে হবে। এটা কেবলমাত্র পোড়ার ক্ষতচিহ্ন। যাজক অবশ্যই সেই ব্যক্তিকে শুচি বলে ঘোষণা করবে।
29“কোন ব্যক্তির মাথার চামড়ায় বা দাড়িতে ঘা হলে, 30যাজক চামড়ার এই সংক্রমণ অবশ্যই দেখবে। যদি চামড়া থেকে সংক্রমণের জায়গাটা গর্তের মতো হয় এবং যদি তার চারপাশের লোম হয় পাতলা ও হলদে, তাহলে যাজক সেই মানুষটিকে অবশ্যই অশুচি ঘোষণা করবে। এটা দাদ, খারাপ চর্মরোগ। 31যদি রোগটা চামড়ার থেকে গর্ত হওয়ার মতো মনে না হয়, কিন্তু সেখানে কোনো কালো লোম না থাকে, তখন যাজক অবশ্যই লোকটিকে সাত দিনের জন্যে আলাদা করে দেবে। 32সাতদিনের মাথায় যাজক সংক্রামিত জায়গাটা দেখবে। যদি রোগটা না ছড়ায় এবং সেখানে কোন হলদে লোম না জন্মায় এবং রোগটা চামড়া থেকে গর্তের মতো না হয়, 33তাহলে লোকটা নিশ্চয়ই নিজেকে কামিয়ে নেবে; কিন্তু সে রোগের জায়গাটা কখনও কামাবে না। যাজক অবশ্যই লোকটিকে আরও সাত দিন আলাদা করে রাখবে। 34সাত দিনের মাথায় যাজক অবশ্যই রোগটাকে দেখবে। যদি গোটা চামড়ায় রোগটা না ছড়ায় এবং যদি চামড়া থেকে সেটাকে গর্তের মত মনে না হয়, তাহলে যাজক লোকটিকে শুচি বলে ঘোষণা করবে। লোকটি অবশ্যই তার কাপড়-চোপড় ধৌত করবে এবং শুচি হবে। 35কিন্তু শুচি হওয়ার পর লোকটির রোগ যদি চামড়ায় ছড়ায়, 36তখন যাজক লোকটিকে আবার দেখবে। যদি রোগটা চামড়ায় ছড়িয়ে যায় যাজক হলুদ রঙের লোম দেখার প্রয়োজন বোধ করবে না। লোকটা অশুচি। 37কিন্তু যদি যাজক মনে করে যে রোগটা সেরে গেছে এবং তার মধ্যে কালো লোম গজাতে শুরু করেছে, তাহলে রোগটা সেরে গেছে। লোকটা শুচি। যাজক অবশ্যই ঘোষণা করবে যে লোকটা শুচি।
38“যদি কোন লোমের চামড়ায় সাদা সাদা দাগ থাকে, 39তাহলে যাজক অবশ্যই ঐ সব দাগের জায়গাগুলো দেখবে। যদি লোকটার চামড়ায় ওপরকার দাগগুলো কেবলমাত্র অনুজ্জ্বল সাদাটে হয় তাহলে তা শুধুমাত্র ফুসকুড়ি বা ক্ষতিকারক নয়। ঐ ধরণের লোক শুচি।
40“কোন মানুষের মাথার চুল পড়ে যেতে পারে; সে শুচি, এটা শুধু টাক পড়া। 41কোন মানুষের মাথার দুপাশ থেকে চুল উঠে যেতে পারে; সে শুচি। এটা শুধুমাত্র আর এক ধরণের টাক পড়া। 42কিন্তু যদি তার মাথার টাক পড়া চামড়ায় কোন লাল এবং সাদা দাগ থাকে, তাহলে তা চামড়ারই কোন রোগ বুঝতে হবে। 43একজন যাজক অবশ্যই তাকে দেখবে। যদি সংক্রামিত ফোঁড়াটা লাল এবং সাদা হয়, আর যদি শরীরের অন্য সব অংশে কুষ্ঠ রোগের মতো দেখায় 44তাহলে বুঝতে হবে লোকটির মাথার খুলিতে কুষ্ঠ হয়েছে, লোকটা অশুচি। যাজক অবশ্যই লোকটিকে অশুচি ঘোষণা করবে।
45“যদি এক ব্যক্তির কুষ্ঠ রোগ থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তি অন্য লোকদের সাবধান করে দেবে। সেই লোকটি চেঁচিয়ে বলবে, ‘অশুচি, অশুচি।’ লোকটির কাপড়ের দুই ধারের জোড়া অবশ্যই ছিঁড়ে ফেলা হবে। সে তার চুল অবিন্যস্ত করবে এবং মুখ ঢাকবে। 46যতক্ষণ তার সংক্রামক ব্যাধি থাকবে ততক্ষণ লোকটি হবে অশুচি। সে অবশ্যই একা থাকবে। তার বাড়ী অবশ্যই শিবিরের বাইরে থাকবে।
47 “কিছু পোশাকের ওপর ছাতা পড়তে পারে। কাপড়টা মসীনা সুতোর অথবা উলে তৈরী, তাঁতে বোনা বা হাতে বোনা হতে পারে। এক টুকরো চামড়ার ওপর বা চামড়া থেকে তৈরী কোন জিনিসের ওপরেও ছাতা পড়তে পারে। 49যদি ঐ ছত্রাকের রঙ সবুজ বা লাল হয় তাহলে এটা অবশ্যই একজন যাজককে দেখাতে হবে। 50যাজক অবশ্যই ছাতা পড়া অংশটা দেখবে এবং সেই জিনিসটাকে আলাদা জায়গায় সাতদিন ধরে ফেলে রাখবে। 51 সাত দিনের মাথায় যাজক অবশ্যই ছাতা পড়া অংশটি দেখবে। ছাতা পড়া অংশটা চামড়ার বা কাপড়ের ওপর হোক্ তাতে তেমন কিছু যায় আসে না। যদি পোশাক তাঁতে বোনা বা হাতে বোনা হয় তাতেও কিছু যায় আসে না বা চামড়া কিসে ব্যবহৃত হচ্ছে সেটাও কোন ব্যাপার নয়। যদি ছাতা পড়া অংশটা ছড়ায় তাহলে সেই কাপড় বা চামড়া অশুচি। সংক্রমনটি অশুচি। যাজক অবশ্যই সেই কাপড় ও চামড়া পুড়িয়ে ফেলবে।
53“যদি যাজক দেখে যে ছাতা পড়া অংশটি ছড়িয়ে পড়েনি, তখন কাপড় বা চামড়া অবশ্যই ধুতে হবে। চামড়া বা কাপড় যাই হোক্ না কেন, কোন ব্যাপার নয়। অথবা যদি কাপড় হাতে বোনা বা তাঁতে বোনা হয় তাতেও কিছু আসে যায় না। 54যাজক লোকেদের অবশ্যই আদেশ দেবে সেই চামড়া বা কাপড়ের টুকরো ধুয়ে ফেলতে। তারপর যাজক আরো সাত দিনের জন্য কাপড় চোপড় আলাদা করে রাখবে। 55এরপর যাজক অবশ্যই আবার দেখবে। যদি সেই অংশটি তখনও ছত্রাক দ্বারা সংক্রমিত হয়ে আছে বলে মনে হয়, তখন ছড়িয়ে না থাকা সত্ত্বেও তা অশুচি হবে এবং তোমাকে তা আগুনে পোড়াতে হবে।
56“কিন্তু যদি ছাতা পড়া অংশটি ম্লান হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে যাজক অবশ্যই চামড়া বা কাপড়ের টুকরো থেকে সংক্রমিত অংশটি ছিঁড়ে বাদ দেবে। তাঁতে বা হাতে বোনা কাপড় হলেও কিছু আসে যায় না। 57কিন্তু সেই চামড়ার বা কাপড়ের টুকরোয় ছাতা পড়া অংশ আবার দেখা দিতে পারে। যদি তাই ঘটে তখন বুঝতে হবে ছাতা পড়া অংশটা ছড়িয়ে পড়ছে। সেক্ষেত্রে তোমাকে সেই ছাতা পড়া জিনিস পুড়িয়ে ফেলতে হবে। 58কিন্তু ধোয়ার পরে যদি ছাতা পড়া অংশ না দেখা দেয় তাহলে সেই চামড়ার বা কাপড়ের টুকরো শুচি। সে কাপড় তাঁতে বোনাই হোক্ অথবা হাতে বোনা সেটা কোন ব্যাপারই নয়। সেই কাপড় শুচি।”
59ঐগুলি হল চামড়ার বা কাপড়ের টুকরোগুলির ওপরে ছাতা পড়ার ব্যাপারে নিয়মাবলী। কাপড় তাঁতে বা হাতে বোনা হতে পারে; কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না।
14কুষ্ঠরোগী শুচিকরণ নিয়মাবলী
1প্রভু মোশিকে বললেন, 2“এখন যে নিয়মাবলীসমূহ বলব সেগুলো আগে চর্মরোগ ছিল কিন্তু সুস্থ হয়েছে, এমন ব্যক্তিকে শুচি করার নিয়মাবলী।
“যে মানুষটির কুষ্ঠ ছিল তাকে একজন যাজক অবশ্যই দেখবে। 3যাজক অবশ্যই শিবিরের বাইরে গিয়ে সেই ব্যক্তির চর্মরোগ সেরে গেছে কিনা তা দেখবে। 4লোকটি সুস্থ হয়ে থাকলে যাজক তাকে দুটি জীবন্ত শুচি পাখী, এক খণ্ড এরস বৃক্ষের কাঠ, এক টুকরো লাল কাপড় এবং একটি এসোব গাছ আনতে আদেশ করবে। 5তারপর যাজক অবশ্যই আদেশ দেবে মাটির পাত্রে জলের ঢেউয়ে একটি পাখীকে হত্যা করার জন্য। 6এবার অন্য যে পাখীটি বেঁচে আছে যাজক সেটার সাথে এরস বৃক্ষের কাঠের খণ্ড, লাল কাপড়ের টুকরো এবং এসোব গাছ নেবে। এরপর জলের ঢেউযে যে পাখীটিকে মারা হয়েছে, তার রক্তের মধ্যে সে জীবন্ত পাখীটাকে এবং অন্য জিনিসগুলোকে ডোবাবে। 7যে মানুষটির কুষ্ঠ রোগ হয়েছিল তার গায়ে সাতবার রক্তটা ছিটিয়ে দেবে। তারপর যাজক লোকটাকে শুচি বলে ঘোষণা করবে এবং পরে খোলা মাঠে গিয়ে পাখীটাকে ছেড়ে দেবে।
8“তারপর লোকটি তার পোশাক পরিচ্ছদ ধুয়ে ফেলবে, তার মাথার সমস্ত চুল কামিয়ে ফেলবে এবং স্নান করে শুচি হবে। লোকটি এবার শিবিরের মধ্যে যেতে পারবে; কিন্তু সে অবশ্যই সাতদিন তার তাঁবুর বাইরে কাটাবে। 9সাতদিনের দিন সে তার মাথা, দাড়ি এবং ভুরু অর্থাৎ তার সমস্ত চুল কামাবে। তারপর সে তার কাপড়-চোপড় ধোবে এবং জলে স্নান করে শুচি হবে।
10“অষ্টম দিনে, যে লোকটার চর্ম রোগ ছিল সে নিখুঁত দুটি মেষশাবক এবং একটি এক বছর বয়সী স্ত্রী মেষশাবকও আনবে। সে অবশ্যই শস্য নৈবেদ্যর জন্য 24 কাপ তেল মেশানো গুঁড়ো ময়দা আনবে। এছাড়াও লোকটি যেন এক লোগ অলিভ তেল নিয়ে আসে। 11শুচিকারী যাজক অবশ্যই যে লোকটি শুচি হচ্ছে তাকে এবং তার নৈবেদ্যগুলি সমাগম তাঁবুর প্রবেশ মুখে প্রভুর সামনে আনবে। 12যাজক পুরুষ মেষশাবকগুলির মধ্যে একটিকে দোষার্থক নৈবেদ্যরূপে উপহার দেবে। তারপর সেই মেষটি ও এক লোগ তেল দোলনীয় নৈবেদ্য হিসাবে প্রভুর সামনে দোলাবে। 13তারপর যে পবিত্র স্থানে তারা পাপ মোচনের নৈবেদ্য ও হোমবলির নৈবেদ্য বলি দেয়, সেই স্থানেই যাজক পুরুষ মেষশাবকটিকে বলি দেবে। দোষ মোচনের নৈবেদ্য হল পাপ মোচনের নৈবেদ্যর মতো। এটা যাজকের কাছে থাকবে। এটা অত্যন্ত পবিত্র।
14“দোষ মোচনের নৈবেদ্যর রক্ত নিয়ে যাজক এই রক্তের কিছুটা রক্ত যে লোকটিকে শুচি করা হচ্ছে তার ডান কানের লতিতে, কিছুটা রক্ত তার ডান হাতের বুড়ো আঙুলে এবং কিছুা রক্ত সেই লোকের ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে লাগিয়ে দেবে। 15যাজক সেই এক লোগ তেলের কিছুটা নিয়ে তা বাঁ হাতের তালুতে ঢালবে। 16তারপর যাজক ডান হাতের আঙুল বাঁ হাতে রাখা তেলের মধ্যে ডুবিয়ে প্রভুর সামনে সাতবার তেলের কিছুটা ছিটিয়ে দেবে। 17আর হাতের তালুর কিছুটা তেল যে মানুষটিকে শুচি করা হচ্ছে তার ওপর ঢেলে দেবে। দোষ মোচনের নৈবেদ্যর রক্ত যেখানে যেখানে লাগানো হয়েছিল, সেই একই জায়গাতেই যাজক তেল লাগিয়ে দেবে অর্থাৎ লোকটির ডান কানের লতিতে, ডান হাতের বুড়ো আঙুলে এবং কিছুটা তেল লোকটির ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে দেবে। 18লোকটিকে শুচি করার জন্য যাজক হাতের তালুতে পড়ে থাকা বাকি তেলটুকু লোকটির মাথায় দেবে। এইভাবে যাজক প্রভুর সামনে লোকটিকে পবিত্র করবে।
19“তারপর যাজক লোকটিকে শুচি করার জন্য প্রায়শ্চিত্ত হিসাবে পাপ মোচনের নৈবেদ্যটিকে উৎসর্গ করবে। এরপর হোমবলির নৈবেদ্যর জন্য যাজক প্রাণীটিকে হত্যা করবে। 20তারপর যাজক বেদীর ওপর হোমবলির নৈবেদ্য এবং শস্য নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে। এইভাবে যাজক ঐ লোকটির জন্য প্রায়শ্চিত্ত করলে লোকটি শুচি হবে।
21“কিন্তু যদি লোকটি গরীব হয় এবং ঐ সমস্ত নৈবেদ্য দানে অক্ষম হয় তাহলে সে দোষার্থক নৈবেদ্যর জন্য একটি পুরুষ মেষশাবক আনবে। এটা হবে দোলনীয় নৈবেদ্য যাতে যাজক সেই লোকটিকে পবিত্র করতে পারে। এছাড়া শস্য নৈবেদ্যর জন্য তেল মেশানো 8 কাপ গুঁড়ো ময়দা ও এক লোগ অলিভ তেল লোকটিকে আনতে হবে। 22এবং সঙ্গতি অনুসারে আনবে দুটো ঘুঘু বা দুটি বাচ্চা পায়রা, যার একটি হবে পাপ মোচনের নৈবেদ্য এবং অন্যটি হবে হোমবলির নৈবেদ্য।
23“আট দিনের দিন লোকটি শুচি হবার জন্য সমাগম তাঁবুর প্রবেশ মুখে প্রভুর সামনে যাজকের কাছে ঐ জিনিসগুলি আনবে। 24দোষার্থক নৈবেদ্যর মেষশাবক এবং তেল নিয়ে যাজক তা প্রভুর সামনে দোলনীয় নৈবেদ্য হিসেবে উৎসর্গ করবে। 25তারপর লোকটিকে শুচি করার জন্য দোষার্থক নৈবেদ্যর মেষশাবকটিকে হত্যা করে যাজক এই রক্তের কিছুটা লোকটির ডান কানের লতিতে দেবে, কিছুটা তার ডান হাতের বুড়ো আঙুলে এবং কিছুটা রক্ত তার ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে লেপে দেবে। 26যাজক সেই তেলের কিছুটা তার বাঁ হাতের তালুতে ঢালবে। 27তার বাঁ হাতে যে তেল রয়েছে, তার ওপর যাজক তার ডান হাতের আঙুল দিয়ে প্রভুর সামনে সাতবার এই তেল ছিটিয়ে দেবে। 28তারপর যাজক তার হাতের কিছুটা তেল পাপমোচনের বলির রক্ত যেখানে লাগিয়েছিল সেইসব জায়গায় লাগিয়ে দেবে অর্থাৎ যে মানুষটি শুচি হচ্ছে তার ডান কানের লতিতে, ডান হাতের বুড়ো আঙুলে এবং ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে দেবে। বাকি তেলের কিছুটা লোকটির মাথায় দেবে। 29এইভাবে যাজক প্রভুর সামনে লোকটিকে পবিত্র করবে।
30“তারপর যাজক নৈবেদ্য হিসাবে দেওয়া ঘুঘুগুলোর একটি বা বাচ্চা পায়রাগুলোর একটি উৎসর্গ করবে। (সে অবশ্যই ব্যক্তির সঙ্গতি অনুসারে উৎসর্গ করবে।) 31অর্থাৎ সঙ্গতি অনুসারে সে শস্য নৈবেদ্যর সাথে পাখিগুলোর মধ্যে একটাকে উৎসর্গ করবে পাপমোচনের বলি হিসেবে, আর একটিকে উৎসর্গ করবে হোমবলির নৈবেদ্য হিসেবে। এইভাবে প্রভুর সামনে যাজক লোকটিকে শুচি করার জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবে।”
32শুদ্ধ হওয়ার জন্য যে সমস্ত মানুষ নিয়মিত নৈবেদ্য সম্প্রদানে অপারগ, চর্মরোগ থেকে সেরে ওঠার পর শুচি হবার জন্য ঐ নিয়মাবলী তাদের জন্যই নির্দিষ্ট।
ছাতা পড়া গৃহ বিষয়ে নিয়মাবলী
33প্রভু মোশি এবং হারোণকে আরও বললেন, 34“আমি তোমাদের অধিকার করার জন্য যে কনান দেশ দিয়ে দিয়েছি সেই দেশে তোমরা প্রবেশ করলে আমি কোন লোকের বাড়ীতে ছত্রাক উৎপন্ন করতে পারি। 35এরকম হলে সেই বাড়ীটির মালিক অবশ্যই যাজকের কাছে আসবে এবং বলবে, ‘আমার বাড়ীতে আমি ছত্রাকের মত কিছু দেখছি।’
36“যাজক বাড়ীতে ঢুকে ছত্রাক পরীক্ষা করার আগে বাড়ী থেকে সবকিছু বাইরে বার করার জন্য আদেশ দেবে। যাজক ছত্রাক দেখতে যাওয়ার আগে লোকরা একাজ করলে ঘরের সমস্ত কিছু অশুচি হবে না। এরপর যাজক ভাল করে পরীক্ষা করার জন্য বাড়ীর মধ্যে ঢুকবে। 37যাজক পরীক্ষা করে যদি দেখে যে বাড়ির দেওয়ালগুলির ওপরকার ছত্রাক সবুজ অথবা লাল রঙের এবং তা দেওয়ালের গায়ে গর্ত করেছে, 38তাহলে যাজক অবশ্যই বাড়ীর বাইরে আসবে এবং সাত দিনের জন্য বাড়ীটিতে তালা লাগাবে।
39“সপ্তম দিনে যাজক ফিরে এসে বাড়ীটিকে পরীক্ষা করবে। যদি বাড়ীর দেওয়ালগুলিতে ছত্রাক ছড়িয়ে পড়ে, 40তাহলে যাজক ছত্রাক জড়ানো পাথরের টুকরোগুলোকে টেনে বার করার এবং লোকদের সেগুলিকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার আদেশ দেবে। শহরের বাইরের কোন বিশেষ ধরণের অশুচি জায়গায় তারা অবশ্যই ঐ সব পাথরগুলো রাখবে। 41তারপর যাজক গোটা বাড়ীটির ভেতরটা চেঁছে ফেলার আদেশ দেবে। লোকরা চেঁছে তোলা প্রলেপ শহরের বাইরের কোন অশুচি জায়গায় জমা করবে। 42তারপর সেই লোকটি দেওয়ালগুলোর ওপর নতুন পাথর বসাবে এবং নতুন প্রলেপ দিয়ে দেওয়ালগুলো ঢেকে দেবে।
43“যদি পুরানো প্রলেপ চেঁছে ফেলে নতুন পাথর ও প্রলেপ লাগানোর পর ঐ বাড়ীটিতে আবার ছত্রাক দেখা দেয়, 44তখন যাজক আবার আসবে এবং বাড়ীটিকে পরীক্ষা করবে। যদি সংক্রমণ বাড়ির মধ্যে ছড়িয়ে যায়, তাহলে এটা একটা রোগ যা তাড়াতাড়ি অন্য জায়গায় ছড়িয়ে যায়। সুতরাং বাড়ীটি অশুচি। 45সেই ব্যক্তি অবশ্যই বাড়ীটিকে ভেঙ্গে ফেলবে। শহরের বাইরে নির্দিষ্ট অশুচি জায়গায় পাথরগুলি, প্রলেপ ও কাঠের টুকরোগুলি নিয়ে গিয়ে ফেলবে। 46বাড়ীটি যখন তালাবন্ধ, সেই সময় যদি কোনো ব্যক্তি ঐ বাড়ীর মধ্যে যায়, তবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে। 47যদি কোনো ব্যক্তি সেই বাড়ীর মধ্যে খাওয়া-দাওয়া করে অথবা সেখানে শোয়, তাহলে সেই ব্যক্তি অবশ্যই তার কাপড়-চোপড় ধোবে।
48“বাড়ীতে নতুন পাথর এবং প্রলেপ লাগানোর পর যাজক অবশ্যই বাড়ীটিকে পরীক্ষা করবে। যদি ছত্রাক বাড়ীটায় ছড়িয়ে না পড়ে, তাহলে যাজক ঘোষণা করবে যে বাড়ীটি শুচি। কারণ ছত্রাক মরে গেছে।
49“তখন বাড়ীটিকে শুচি করার জন্য যাজক অবশ্যই দুটি পাখি, এক খণ্ড এরস কাঠ, এক টুকরো লাল কাপড় এবং একটি এসোব গাছ নেবে। 50মাটির বড় পাত্রে জলের স্রোতের মধ্যে যাজক একটি পাখীকে হত্যা করবে। 51তারপর যাজক এরস কাঠ, এসোব গাছ, লাল কাপড়ের খণ্ড ও জীবন্ত পাখীটিকে নেবে এবং জলের স্রোতে হত্যা করা পাখীর রক্তে যাজক ঐসব জিনিস ডোবাবে। এরপর যাজক সাতবার সেই রক্ত বাড়ীটির ওপর ছিটিয়ে দেবে। 52যাজক ঐ সব জিনিস ব্যবহার করে বাড়ীটিকে এইভাবে শুচি করবে। 53যাজক শহরের বাইরে একটি ফাঁকা জায়গায় যাবে এবং জীবন্ত পাখীটিকে ছেড়ে দেবে। এইভাবে যাজক বাড়ীটির জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবে এবং বাড়ীটি শুচি হবে।”
54এ সমস্তই হল যে কোন সংক্রামক কুষ্ঠ রোগের 55কাপড়-চোপড় অথবা বাড়ীর মধ্যেকার অংশে লাগা ছত্রাকের নিয়মাবলী। 56এগুলো চামড়ার ওপরকার ফোঁড়া, খোস-পাঁচড়া বা দগদগে দাগের নিয়মকানুন। 57এই সমস্ত নিয়ম ব্যাখ্যা করে কোন্ জিনিসগুলি শুচি এবং কোন্ জিনিসগুলি অশুচি। এগুলি ঐসব রোগের নিয়মাবলী।
15শরীর থেকে নির্গত বিষয়গুলির নিয়মাবলী
1প্রভু মোশি আর হারোণকে আরও বললেন, 2“ইস্রায়েলের লোকদের এটা বলো: যখন কোন পুরুষ তার শরীর থেকে তরল পদার্থ নির্গত করে তখন সেই ব্যক্তি অশুচি। 3তার শরীর থেকে সেটা সাবলীলভাবে বেরিয়ে আসুক বা প্রবাহ বন্ধ হোক্ তাতে কিছু আসে যায় না।
4“নির্গমণ হয়েছে এমন ব্যক্তি যদি কোন বিছানায় শোয় তবে তা অশুচি হয়ে পড়বে আর সে যা কিছুর ওপর বসবে তাও অশুচি হয়ে পড়ে। 5যদি কোন ব্যক্তি, যার নির্গমণ হয়েছে তার বিছানা স্পর্শ করে, তাহলে সে অবশ্যই তার জামাকাপড় ধোবে এবং জলে স্নান করবে, তবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে। 6যদি কোন ব্যক্তি যার নির্গমণ হয়েছে তার জায়গায় বসে, তাহলে সে অবশ্যই তার জামাকাপড় ধোবে এবং জলে স্নান করবে। সেও সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে। 7আরও যদি কোন ব্যক্তি নির্গমণ হয়েছে এমন কাউকে ছুঁয়ে ফেলে, তাহলে সে অবশ্যই তার জামা কাপড় ধোবে এবং জলে স্নান করবে আর সে সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে।
8“যার নির্গমণ হয়েছে সে যদি কোনো শুচি ব্যক্তির ওপর থুতু ফেলে তাহলে শুচি ব্যক্তিটি অবশ্যই তার জামা কাপড় ধোবে এবং জলে স্নান করবে। এই ব্যক্তিটি সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে। 9যার নির্গমণ হয়েছে সেই ব্যক্তি যদি কোন জিনের ওপর বসে তাহলে সেটিও অশুচি হবে। 10সুতরাং যদি কেউ নির্গমণ হয়েছে এমন কোন ব্যক্তির নীচে থাকা কোন কিছু স্পর্শ করে বা এই জিনিসগুলি বহন করে, তাহলে সে অবশ্যই তার জামাকাপড় ধোবে এবং জলে স্নান করবে। সে সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে।
11“যদি এমন হয়, যে কোন ব্যক্তি, যার নির্গমণ হয়েছে সে তার হাত ধোয়নি কিন্তু অন্য একজনকে স্পর্শ করেছে, তাহলে সেই অপর ব্যক্তি অবশ্যই তার জামাকাপড় ধোবে এবং জলে স্নান করবে। সে সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে।
12“নির্গমণ হয়েছে এমন কোন ব্যক্তি যদি মাটির গামলা ছোঁয়, তাহলে সেই গামলাটি অবশ্যই ভাঙতে হবে। আর সে কোন কাঠের গামলা ছুঁয়ে ফেললে সেই গামলা অবশ্যই জল দিয়ে ধুতে হবে।
13“যখন নির্গমণ হয়েছে এমন ব্যক্তি সেরে ওঠে, তখন তাকে তার শুদ্ধিকরণ সম্পূর্ণ হবার জন্য সাত দিন অপেক্ষা করতে হবে। তারপর সে তার জামা কাপড় ধোবে এবং স্রোতের জলে শরীরকে স্নান করাবে। তা হলে সে শুচি হবে। 14আট দিনের দিন সেই ব্যক্তিটি তার নিজের জন্য দুটি ঘুঘু বা দুটি বাচ্চা পায়রা আনবে। সমাগম তাঁবুর ঢোকার মুখে প্রভুর সামনে এনে সে সেই পাখী দুটি যাজককে দেবে। 15যাজক পাখীগুলির একটিকে পাপ মোচনের নৈবেদ্য হিসেবে এবং আর একটিকে হোমবলির নৈবেদ্য হিসেবে উৎসর্গ করবে। এইভাবে যাজক প্রভুর সামনে লোকটিকে পবিত্র করবে।
16“যদি কোন পুরুষ মানুষের বীর্যপাত ঘটে, সে তার সারা শরীর স্নানের জলে ধোবে, কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অশুচি থাকবে। 17যদি কাপড় বা কোন চামড়ার ওপর বীর্য পড়ে থাকে, তা হলে সে কাপড় বা চামড়া অবশ্যই জল দিয়ে ধুয়ে ফেলবে। এটা সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে। 18যদি কোন পুরুষ কোন মহিলার সঙ্গে এক বিছানায় শোয় এবং বীর্যপাত ঘটে, তাহলে পুরুষ ও মহিলা দুজনেই জলে স্নান করবে। তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে।
19“মাসিক রক্তপাতের সময় কোন স্ত্রীলোক সাত দিন অশুচি থাকবে। যদি কোন ব্যক্তি তাকে স্পর্শ করে, সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই ব্যক্তি অশুচি থাকবে। 20মাসিক রক্তপাতের সময় সেই স্ত্রীলোক যা কিছুর ওপর শোবে, প্রত্যেকটি হবে অশুচি এবং সে যা কিছুর ওপর বসবে সেটাও হবে অশুচি। 21যদি কোন ব্যক্তি স্ত্রীলোকটির বিছানা ছোঁয়, সেই ব্যক্তি অবশ্যই তার জামা কাপড় ধোবে এবং জলে স্নান করবে। সেও সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে। 22মহিলাটি যা কিছুর ওপর বসেছে, সেগুলি যদি কোন লোক ছোঁয়, সেই লোকটি অবশ্যই জামা কাপড় ধোবে ও জলে স্নান করবে কিন্তু সে সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে। 23লোকটি স্ত্রীলোকের বিছানা ছুঁলে বা স্ত্রীলোকটি যাতে বসেছে তার কোন কিছু স্পর্শ করলে, সেই লোকটি সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে।
24“যদি কোন ব্যক্তি কোন মহিলার সাথে মাসিক রক্তপাতের মধ্যেই যৌন সম্পর্ক করে, তাহলে স্ত্রীলোকটির অশুচিতা তার মধ্যে প্রবেশ করবে এবং লোকটি সাত দিন ধরে অশুচি থাকবে। লোকটি শুয়েছে এমন প্রত্যেকটি বিছানা অশুচি হবে।
25“যদি কোন মহিলার অনেক দিন ধরে রক্তক্ষরণ হয়, এটি যদি তার মাসিক রক্তস্রাবের সময়ে না হয়, অথবা যদি তার মাসিক রক্তপাতের পরে রক্তক্ষরণ হয়, তাহলে সে মাসিক রক্তস্রাবের মতই অশুচি হবে। যতদিন তার রক্তস্রাব থাকবে, ততদিন সে অশুচি থাকবে। 26যে কোন রক্তস্রাবের সময় যে কোন বিছানায় মহিলাটি শোবে, তা হবে তার মাসিক রক্তস্রাবের সময়কার বিছানায় মতই। যা কিছুর ওপর মেয়েটি বসবে তা অশুচি হবে। ঠিক যেমন তার মাসিক রক্তস্রাবের সময় সে অশুচি হয় সেরকমই। 27যদি কোন ব্যক্তি সেইসব জিনিস ছোঁয়, সেই ব্যক্তি হবে অশুচি। লোকটি তার পোশাক-পরিচ্ছদ ধোবে এবং জলে স্নান করবে, কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অশুচি থাকবে। 28স্ত্রীলোকটি রক্তস্রাব বন্ধ হওয়ার পর অবশ্যই সাত দিন অপেক্ষা করবে; তারপর সে শুচি হবে। 29আট দিনের দিন স্ত্রীলোকটি দুটি ঘুঘু অথবা দুটি বাচ্চা পায়রা আনবে। সমাগম তাঁবুর প্রবেশ মুখে যাজকের কাছে সেগুলি আনবে। 30তখন যাজক একটি পাখীকে পাপ মোচনের নৈবেদ্য হিসেবে এবং অন্যটিকে হোমবলির নৈবেদ্য হিসেবে উপহার দেবে। এইভাবে যাজক প্রভুর সামনে তাকে শুচি করবে।
31“সুতরাং অশুচি হওয়া বিষয়ে অবশ্যই তোমরা ইস্রায়েলের লোকদের সাবধান করবে। তাহলে তারা আমার পবিত্র তাঁবুকে অশুচি করে তাদের অশুচিতায় মারা পড়বে না।”
32এই সমস্ত নিয়ম যাদের নির্গমণ হয়েছে এমন লোকদের জন্য। ঐ সব নিয়ম হল বীর্য্য পতনের ফলে অশুদ্ধ মানুষদের জন্য। 33এবং ঐগুলি হল যে সমস্ত স্ত্রীলোক তাদের মাসিক রক্তস্রাবের সময় অশুচি হয় তাদের জন্য। উপরন্তু ঐ সমস্ত নিয়মাবলী সেই ব্যক্তির জন্য যে অপর এক অশুচি স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সংসর্গ করে।
16প্রায়শ্চিত্তের দিন
1হারোণের দুই পুত্র প্রভুর কাছে উপস্থিত হয়ে মারা যাবার পর প্রভু মোশিকে বললেন, 2“তোমার ভাই হারোণের সঙ্গে কথা বলো, তাকে বলো যে সে তার ইচ্ছা মত যে কোন সময়ে পর্দার পিছনে পবিত্রতম জায়গায় যেতে পারে না। চুক্তির পবিত্র সিন্দুকটি ঐ পর্দার পিছনের ঘরে আছে। ঐ পবিত্র সিন্দুকটির মাথায় আছে বিশেষ ধরণের আচ্ছাদন। আমি ঐ বিশেষ আচ্ছাদনের ওপর মেঘের মধ্যে আবির্ভূত হই। যদি হারোণ ঐ ঘরে ঢোকে সে মারা যেতে পারে।
3“পাপের প্রায়শ্চিত্তের দিন হারোণ অবশ্যই পাপমোচনের নৈবেদ্যর জন্য একটি ষাঁড় এবং হোমবলির জন্য একটি পুরুষ মেষ উৎসর্গ করবে। পবিত্রতম জায়গায় প্রবেশ করার আগেই হারোণ এটা করবে। 4হারোণ অবশ্যই তার দেহ জলে ধৌত করবে। তারপর সে এই সমস্ত পোশাক পরবে; হারোণকে অতি অবশ্যই পবিত্র লিনেন জামা পরতে হবে। লিনেনের অন্তর্বাসসমূহ তার দেহে থাকবে। সে তার চারপাশে লিনেনের বেল্ট ব্যবহার করবে এবং লিনেনের পাগড়ী পরবে। ঐগুলি হল পবিত্র পোশাক।
5“ইস্রায়েলের লোকদের কাছ থেকে হারোণ দুটি পুরুষ ছাগল পাপমোচনের নৈবেদ্যর জন্য এবং একটি পুরুষ মেষ হোমবলির জন্য নেবে। 6তারপর হারোণ ষাঁড়টিকে পাপ মোচনের নৈবেদ্য হিসেবে উপহার দেবে। পাপ মোচনের নৈবেদ্যটি তার নিজের জন্য। নিজেকে এবং তার পরিবারকে পবিত্র করার জন্য হারোণ অবশ্যই এটা করবে।
7“তারপর হারোণ ছাগল দুটি নেবে এবং তা সমাগম তাঁবুর ঢোকার দরজার মুখে প্রভুর সামনে আনবে। 8হারোণ ছাগল দুটির জন্য ঘুঁটি চাললে একটা হবে প্রভুর জন্য, অপরটি হবে অজাজেলের জন্য।
9“তারপর ঘুঁটি চেলে যে ছাগলটি প্রভুর জন্য নির্বাচিত হয় হারোণ অবশ্যই সেটিকে পাপ মোচনের নৈবেদ্য হিসাবে উৎসর্গ করবে। 10অজাজেলের জন্য ঘুঁটি চেলে যে ছাগলটাকে বেছে নেওয়া হয়েছে তাকে অবশ্যই জীবন্ত অবস্থায় প্রভুর কাছে আনবে। তারপর এই ছাগলটিকে অজাজেলের জন্য মরুভূমিতে পাঠাতে হবে। এটা লোকদের পবিত্র করার জন্যই দরকার।
11“তারপর তার নিজের জন্য পাপ মোচনের নৈবেদ্য হিসেবে হারোণ একটি ষাঁড় দেবে এবং এইভাবে নিজেকে ও তার পরিবারকে পবিত্র করবে। হারোণ তার নিজের জন্য পাপ মোচনের নৈবেদ্য রূপে ষাঁড়টিকে হত্যা করবে। 12তারপর সে অবশ্যই প্রভুর কাছে বেদী থেকে তুলে আনা জ্বলন্ত কয়লা ভর্ত্তি পাত্রটি আনবে। সুগন্ধী ধূপের মিহি করা গুঁড়ো দুহাত ভর্ত্তি করে নেবে হারোণ। হারোণ পর্দার পিছনের ঘরে সেই মিষ্টি গন্ধের গুঁড়ো আনবে। 13হারোণ অবশ্যই প্রভুর সামনের আগুনে সেই মিষ্টি গন্ধের ধূপের গুঁড়ো রাখবে। তারপর সুগন্ধ গুঁড়োর মেঘ চুক্তির সিন্দুকের বিশেষ আচ্ছাদনকে ঢেকে দেবে, ফলে হারোণ মারা যাবে না। 14হারোণ অবশ্যই ষাঁড়টি থেকে কিছুটা রক্ত নিয়ে তার আঙুল দিয়ে তা পূর্বদিকে বিশেষ আচ্ছাদন পর্যন্ত ছিটিয়ে দেবে। সে রক্তটা সেই বিশেষ আচ্ছাদনের সামনে তাকে আঙুল দিয়ে সাত বার ছিটিয়ে দিতে হবে।
15“তারপর হারোণ লোকদের জন্য পাপ মোচনের নৈবেদ্যর ছাগলটিকে হত্যা করে সেই রক্ত পর্দার আড়ালের ঘরটিতে আনবে। ষাঁড়ের রক্ত নিয়ে যেমন করেছিল, ছাগলটির রক্ত নিয়ে হারোণ ঠিক তাই করবে। হারোণ অবশ্যই ছাগলের রক্ত বিশেষ আচ্ছাদনের ওপর এবং আচ্ছাদনের সামনে ছিটিয়ে দেবে। 16এইভাবে সে ঐ পবিত্রতম জায়গাটিকে ইস্রায়েলের লোকদের তাদের অশুচিতা, বিরুদ্ধাচরণ এবং তাদের কৃত সমস্ত পাপ থেকে শুচি করবে। হারোণকে সমাগম তাঁবুর জন্য এই সমস্ত কিছু করতে হবে, কারণ এটা অশুচি লোকদের মাঝখানে আছে।
17“যখন হারোণ পবিত্রতম জায়গাটিকে এবং লোকদের শুদ্ধ করার জন্য যায়, তখন সে সেখান থেকে বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত সমাগম তাঁবুতে কোন লোক থাকবে না। সুতরাং হারোণ নিজেকে এবং তার পরিবারকে এবং ইস্রায়েলের সমস্ত লোকদের শুচি করবে। 18তারপর হারোণ বেরিয়ে এসে প্রভুর সামনে বেদীর কাছে যাবে এবং বেদীটাকে শুচি করবে। হারোণ কিছুটা ষাঁড়ের রক্ত ও কিছুটা ছাগলের রক্ত নেবে এবং তা বেদীর সব দিকের কোণগুলিতে ফেলবে। 19অতঃপর হারোণ সাতবার তার আঙুল দিয়ে কিছুটা রক্ত বেদীর ওপর ছিটিয়ে দেবে। এইভাবে হারোণ বেদীটিকে ইস্রায়েলের লোকদের অশুচিতা থেকে শুচি করে পবিত্র করবে।
20“পবিত্রতম স্থান, সমাগম তাঁবু এবং বেদীকে পবিত্র করার পর হারোণ জীবন্ত ছাগলটি প্রভুর কাছে আনবে। 21হারোণ তার হাত দুটি জীবন্ত ছাগলের মাথায় রাখবে এবং তার ওপর ইস্রায়েলের লোকদের পাপ ও অপরাধগুলি স্বীকার করবে। এইভাবে হারোণ লোকদের পাপসমূহকে ছাগলের মাথায় চাপাবে। তারপর সে ছাগলটাকে মরুভূমিতে পাঠাবে। একজন মানুষ নিযুক্ত করা হবে এবং সে ছাগলটিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরী থাকবে। 22সুতরাং ছাগলটা নিজের ওপর সমস্ত মানুষের পাপ বয়ে নিয়ে খোলা মরুভূমিতে চলে যাবে। যে মানুষটি ছাগলটিকে নিয়ে যাবে সে তাকে মরুভূমিতে ছেড়ে দিয়ে আসবে।
23“তারপর হারোণ সমাগম তাঁবুতে ঢুকবে। পবিত্র স্থানে আসার সময় সে যে লিনেনের কাপড়-চোপড় পরেছিল সেগুলি সে খুলে ফেলবে। কাপড়গুলি সে অবশ্যই সেখানে ছেড়ে রাখবে। 24একটি পবিত্র জায়গায় সে তার সারা শরীর জল দিয়ে ধুয়ে নেবে। তারপর সে তার অন্যান্য বিশেষ পোশাক পরবে। সে বাইরে আসবে এবং তার নিজের হোমবলি ও লোকদের হোমবলি উৎসর্গ করবে। সে নিজেকে এবং লোকদের শুচি করবে। 25তারপর সে বেদীর ওপর পাপ মোচনের নৈবেদ্যর চর্বি পোড়াবে।
26“যে লোকটি ছাগলটিকে অজাজেলের জন্য নিয়ে গিয়েছিল, সে তার জামাকাপড় ধুয়ে নেবে এবং জলে স্নান করবে। তারপর সে তাঁবুর মধ্যে আসতে পারে।
27“পাপমোচনের নৈবেদ্যর ষাঁড় ও ছাগলটিকে শিবিরের বাইরে আনতে হবে। (ঐ সমস্ত প্রাণীর রক্ত পবিত্র জিনিসগুলিকে পবিত্র জায়গায় শুচি করার জন্য আনা হয়েছিল।) যাজকরা অবশ্যই ঐ সমস্ত প্রাণীর চামড়া, শরীর এবং শরীরের বর্জ্য অংশগুলি আগুনে পোড়াবে। 28তারপর যে ব্যক্তি তাদের পোড়াবে সে অবশ্যই তার পোশাক-পরিচ্ছদ ধুয়ে ফেলবে এবং তার সমস্ত শরীর জলে ধোবে। তারপর সে তাঁবুতে প্রবেশ করতে পারে।
29“তোমাদের ক্ষেত্রে এই আইন সর্বদাই চলবে: সপ্তম মাসের দশ দিনের দিন তোমাদের কোন খাদ্য গ্রহণ করা চলবে না এবং অবশ্যই তোমরা কোন কাজ করবে না। তোমাদের দেশে বাস করা কোন ভ্রমণকারী বা বিদেশী কোন কাজ করতে পারবে না। 30কারণ এই দিনে যাজক তোমাদের পবিত্র করার জন্য তোমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করাবে। তখন তোমরা প্রভুর কাছে শুচি হবে। 31তোমাদের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্রামের দিন। তোমরা অবশ্যই খাওয়া-দাওয়া করবে না।+ 16:31 খাওয়া … না আক্ষরিক অর্থে, “নিজেদের নত করবে।” এই আইন চিরকাল চলবে।
32“সুতরাং প্রধান যাজক হিসেবে মনোনীত ব্যক্তিটি জিনিসপত্র পবিত্র করার জন্য এই পর্বাদি পালন করবে। এই প্রধান যাজক, যাকে তার পিতারই স্থানে নিয়োগ করা হয়েছে, সে পবিত্র লিনেনের পোশাক পরিচ্ছদ পরবে। 33সে অবশ্যই পবিত্রতম স্থান সমাগম তাঁবু এবং বেদী শুচি করবে এবং সে অবশ্যই যাজকদের ও ইস্রায়েলের লোকদের শুচি করবে। 34ইস্রায়েলের লোকদের পবিত্র করার এই বিধি চিরকালের জন্য থাকবে। ইস্রায়েলের লোকদের তাদের পাপ থেকে শুচি করার জন্য তোমরা প্রত্যেক বছরে একবার এসব করবে।”
তাই মোশিকে দেওয়া প্রভুর আদেশ মতো তারা এইসব করেছিল।
17প্রাণী হত্যা ও প্রাণী ভোজন বিষয়ক নিয়মাবলী
1প্রভু মোশিকে বললেন, 2“হারোণ আর তার পুত্রদের এবং ইস্রায়েলের সমস্ত লোকদের বলো, প্রভু এই আদেশ করেছেন। 3যদি একজন ইস্রায়েলীয় একটি ষাঁড় অথবা একটি মেষ বা একটি ছাগল শিবিরের মধ্যে বা তাঁবুর বাইরে হত্যা করে, 4কিন্তু সেই প্রাণীটিকে সমাগম তাঁবুর প্রবেশ পথে না আনে এবং সেই প্রাণীর একটা অংশ উপহার হিসেবে প্রভুকে নিবেদন না করে, তবে সেই ব্যক্তি রক্তপাত ঘটিয়েছে বলে অবশ্যই দোষী গন্য হবে। সেই ব্যক্তিকে অন্য লোকদের থেকে অবশ্যই বিচ্ছিন্ন করতে হবে। 5এই নিয়ম এই জন্য যাতে ইস্রায়েলের লোকরা যে সব প্রাণীদের মাঠে হত্যা করবে তাদের সমাগম তাঁবুর প্রবেশ মুখে প্রভুর কাছে মঙ্গল নৈবেদ্য হিসাবে প্রভুর কাছে উৎসর্গ করে। 6তারপর যাজক ওইসব প্রাণীদের রক্ত সমাগম তাঁবুর প্রবেশ মুখে প্রভুর বেদীর ওপর নিক্ষেপ করবে এবং যাজক বেদীর ওপর ঐসব প্রাণীর মেদ দগ্ধ করবে। এর সুগন্ধ প্রভুকে খুশী করবে। 7তারা অবশ্যই আর কোন বলি তাদের ‘ছাগ দেবতার’ কাছে উৎসর্গ করবে না। তারা বেশ্যাদের মত অন্য দেবতার পিছনে ছুটেছে। এই সমস্ত নিয়ম চিরকাল ধরে চলবে।
8“লোকদের বলো ইস্রায়েলের কুলজাত কোন ব্যক্তি বা তাদের মধ্যে বসবাসকারী কোন বিদেশী যদি হোমবলি উপহার দেয়, 9কিন্তু তা সমাগম তাঁবুর প্রবেশ মুখে না আনে এবং প্রভুকে নিবেদন না করে তবে সেই ব্যক্তিকে তার লোকদের থেকে অবশ্যই বিচ্ছিন্ন হতে হবে।
10“কোন ব্যক্তি রক্ত পান করলে আমি তার বিরুদ্ধে। সেই ব্যক্তি ইস্রায়েলের নাগরিক হোক্ অথবা তোমাদের মধ্যে বাস করা কোন বিদেশী হোক্ না কেন তাতে কিছু আসে যায় না। আমি তাকে তার লোকদের থেকে বিচ্ছিন্ন করবো। 11কারণ দেহটির জীবন রক্তের মধ্যে রয়েছে। আমি সেই রক্ত বেদীর ওপর ঢেলে তোমাদের নিজেদের শুচি করার জন্য দিয়েছি। রক্তে প্রাণ আছে বলেই তা প্রায়শ্চিত্ত সাধন করে। 12তাই আমি ইস্রায়েলের লোকদের বলি: তোমাদের কোন ব্যক্তিই রক্ত খেতে পারো না। তোমাদের মধ্যে বাস করা কোন বিদেশীও রক্ত খেতে পারে না।
13“যদি কোন ব্যক্তি খাওয়া যেতে পারে এমন একটি বন্য প্রাণী বা একটি পাখী শিকার করে ধরে তাহলে সেই ব্যক্তি অবশ্যই শিকারের রক্ত মাটিতে ফেলবে এবং তা ধূলো দিয়ে ঢেকে দেবে, কারণ প্রতিটি প্রাণীর রক্তে তার জীবন রয়েছে। যদি সেই ব্যক্তি ইস্রায়েলীয় অথবা তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী একজন বিদেশী হয় তাতে কিছু আসে যায় না। 14প্রতিটি প্রাণীর রক্তেই তার জীবন রয়েছে। তাই আমি ইস্রায়েলের লোকদের এই আদেশ দিচ্ছি যে তারা যেন কোন প্রাণীর রক্ত না খায়! কোন ব্যক্তি যদি রক্ত খায় অবশ্যই সে তার লোকদের থেকে বিচ্ছিন্ন হবে।
15“এবং যদি কোন ব্যক্তি এমন প্রাণী ভক্ষণ করে যা নিজে নিজেই মরে গেছে, অথবা যদি অন্য কোন প্রাণীর দ্বারা নিহত প্রাণী ভক্ষণ করে, অবশ্যই তার কাপড়-চোপড় ধোবে এবং জল দিয়ে তার গোটা দেহ ধুয়ে ফেলবে। সেই ব্যক্তি সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে। তারপর শুচি হবে। সেই ব্যক্তিটি ইস্রায়েলের নাগরিক হোক্ বা ব্যক্তিটি তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী একজন বিদেশী হোক্ তাতে কিছু যায় আসে না। 16যদি সেই ব্যক্তি তার কাপড়-চোপড় ধৌত না করে অথবা শরীরকে স্নান না করায়, তাহলে সে তার নিজ অপরাধ বহন করবে।”
18যৌন সংসর্গ বিষয়ে নিয়মাবলী
1প্রভু মোশিকে বললেন, 2“ইস্রায়েলের লোকদের বলো: আমি তোমাদের প্রভু ও ঈশ্বর। 3অতীতে তোমরা মিশরে বাস করতে। সেই দেশে যা করা হত, তোমরা অবশ্যই সেগুলি করবে না। আমি তোমাদের কনান দেশে নিয়ে যাচ্ছি। ঐ দেশেও যা করা হয় তোমরা অবশ্যই সেগুলি করবে না! তাদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে না। 4তোমরা অবশ্যই আমার নিয়মাবলী মান্য করবে এবং আমার বিধি সকল অনুসরণ করবে। সেইসব নিয়মাবলী অনুসরণে নিশ্চিত হও! কারণ আমিই তোমাদের প্রভু ও ঈশ্বর। 5সুতরাং তোমরা অবশ্যই আমার বিধিসকল ও নিয়মাবলী মান্য করবে। যদি কোন ব্যক্তি আমার বিধিসকল ও নিয়মাবলী মান্য করে, সে জীবিত থাকবে! আমিই প্রভু!
6“তোমরা কখনও তোমাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের সঙ্গে যৌন সংসর্গ করবে না। আমি তোমাদের প্রভু।
7“তোমরা অবশ্যই তোমাদের পিতার অপমান করবে না। পিতা বা মাতার সঙ্গে যৌন সংসর্গ করবে না। সেই মহিলা তোমার মা, সুতরাং তার সঙ্গে তোমার অবশ্যই যৌন সংসর্গ থাকবে না। 8তোমাদের পিতার স্ত্রী, যদি সে তোমাদের মা নাও হয় তবু তার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে যাবে না। কেন? কারণ তাহলে তোমার পিতাকে অসম্মান করা হবে।
9“তোমরা অবশ্যই তোমাদের বোনের সঙ্গে যৌন সংসর্গ করবে না। যদি সে তোমাদের পিতার বা মাতার কন্যা হয়, তাতে কিছু যায় আসে না এবং যদি তোমাদের বোন তোমাদের বাড়ীতে বা অন্য জায়গায় বড় হয় তাতেও এই নিয়ম বলবৎ থাকবে।
10“তোমরা অবশ্যই তোমাদের নাতনীর সঙ্গে যৌন সংসর্গ করবে না। তারা তোমাদেরই একটা অংশ।
11“যদি তোমাদের পিতা এবং তার স্ত্রীর একটি কন্যা থাকে, তাতে সে হয় তোমার বোন। তোমরা অবশ্যই তার সঙ্গে যৌন সংসর্গ করবে না।
12“তোমরা অবশ্যই তোমাদের পিতার বোনের সঙ্গে যৌন সংসর্গ করবে না। সে হল তোমাদের পিতার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়া। 13তোমরা অবশ্যই তোমাদের মাতার বোনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করবে না। সে তোমাদের মাতার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়া। 14তোমরা অবশ্যই তোমাদের বাবার ভাইকে অপমান করবে না। তোমাদের কাকার স্ত্রীর কাছেও যৌন সংসর্গের জন্য যাবে না। সে তোমাদের কাকীমা।
15“তোমরা অবশ্যই তোমাদের পুত্রবধুর সঙ্গে যৌন সংসর্গ করবে না। সে তোমাদের ছেলের স্ত্রী। তোমাদের অবশ্যই তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক থাকবে না।
16“ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে অবশ্যই তোমাদের যৌন সম্পর্ক থাকবে না। তা তোমার ভাইকে অপমান করার মত হবে।
17“একজন মা এবং তার মেয়ের সঙ্গে তোমাদের যৌন সংসর্গ অবশ্যই থাকবে না। সেই মহিলার নাতনীর সঙ্গেও যৌন সম্পর্ক রেখো না। যদি এই নাতনী এই স্ত্রীলোকের পুত্রের বা কন্যার কন্যা হয় তাতেও কিছু যায় আসে না। তার নাতনীরা তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়জন। তাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক থাকা অন্যায়।
18“তোমার স্ত্রী জীবিত অবস্থায়, তুমি অবশ্যই তার বোনকে বিয়ে করবে না। এতে বোনরা পরস্পরের শত্রু হয়ে উঠবে। তোমরা অবশ্যই তোমাদের স্ত্রীর বোনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক রাখবে না।
19“মাসিক রক্তক্ষরণের সময় একজন মহিলার কাছে তোমরা অবশ্যই যৌন সংসর্গের জন্য যাবে না। এই সময়টায সে অশুচি।
20“এবং তোমাদের প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে তোমরা অবশ্যই যৌন সংসর্গ করবে না। এটা তোমাদের অপবিত্র করবে।
21“তোমরা অবশ্যই তোমাদের শিশুদের কোন একজনকে আগুনের মধ্য দিয়ে মোলক দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবে না। একাজ করে তোমরা অবশ্যই তোমাদের ঈশ্বরের নামকে অপবিত্র করবে না। আমি তোমাদের প্রভু!
22“একজন পুরুষের অন্য একজন পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীলোকের ন্যায় যৌন সম্পর্ক অবশ্যই থাকবে না। তা হলো ভয়ঙ্কর পাপ।
23“কোন ধরণের প্রাণীর সঙ্গে তোমাদের যৌন সম্পর্ক অবশ্যই থাকবে না। এটা তোমাদের কেবল নোংরা করবে। একজন স্ত্রীলোকেরও কোন প্রাণীর সঙ্গে অবশ্যই যৌন সম্পর্ক থাকবে না। এটা প্রকৃতি বিরুদ্ধ।
24“এইসব ভুল কাজ করে তোমরা নিজেদের অশুচি করো না। যে সব জাতিগণকে আমি তোমাদের সামনে তাদের দেশ থেকে দূর করে দেব তারা এই সমস্ত কর্ম দ্বারা নিজেদের অশুচি করেছে। 25তাই দেশ অপবিত্র হয়ে গেছে। তাই এর পাপের জন্য আমি শাস্তি দেব এবং সেই দেশ ওখানে বসবাসকারী সেই সব মানুষদের বমি করার মত বার করে দেবে।
26“সুতরাং তোমরা অবশ্যই আমার বিধি ও নিয়মাবলী মান্য করবে। তোমরা অবশ্যই ঐসব ভয়ঙ্কর পাপের কোন একটিও করবে না। সেই সব নিয়মাবলী ইস্রায়েলের নাগরিকদের জন্যই এবং সেগুলি তোমাদের মধ্যে বাসকারী লোকদের জন্যই। 27তোমাদের আগে ঐ সব দেশে যারা বসবাস করত তারা ঐ সমস্ত ভয়ঙ্কর পাপ করে দেশটাকে নোংরা করেছিল। 28যদি তোমরা এই ভয়ঙ্কর জিনিসগুলি করো, তাহলে তোমরা দেশকে কলুষিত করবে এবং তা তোমাদের দেশের বাইরে বার করে দেবে, যেমন করে তোমাদের সামনে জাতিগুলিকে বার করে দিয়েছিল। 29যদি কোন ব্যক্তি ঐ সমস্ত ভয়ঙ্কর পাপগুলির কোনো একটি করে, তাহলে সেই ব্যক্তিকে তার নিজের লোকদের কাছ থেকে অবশ্যই বিচ্ছিন্ন করা হবে। 30তোমরা অবশ্যই আমার বিধি মানবে! তোমরা অবশ্যই ঐসব ভয়ঙ্কর পাপসমূহের কোন একটিও করবে না ইস্রায়েলে তোমাদের পূর্বে সেখানে প্রচলিত ছিল। ওইসব ভয়ঙ্কর পাপ দিয়ে তোমরা নিজেদের অবশ্যই কলুষিত করবে না। আমি তোমাদের প্রভু ও ঈশ্বর।”
19ঈশ্বরের অধিকারে ইস্রায়েল
1প্রভু মোশিকে বললেন, 2“ইস্রায়েলের সমস্ত লোকদের বলো: আমি তোমাদের প্রভু ঈশ্বর। আমি পবিত্র সুতরাং তোমরা অবশ্যই পবিত্র হবে!”
3“তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকটি ব্যক্তি তার পিতা এবং মাতাকে সম্মান দেবে এবং আমার বিশ্রামের বিশেষ দিনগুলি+ 19:3 বিশ্রামের … দিনগুলি অথবা “সাবাথ।” এটি হয়ত শনিবার বোঝায় অথবা এটি সমস্ত বিশেষ দিনগুলি বোঝায় যেদিন লোকদের কাজ করার কথা নয়। পালন করবে। আমিই প্রভু তোমাদের ঈশ্বর।
4“মূর্ত্তি পূজো করবে না। তোমাদের নিজেদের জন্য গলিত ধাতু দিয়ে দেবতার মূর্ত্তি তৈরী করবে না। আমি প্রভু তোমাদের ঈশ্বর!
5“যখন তোমরা ঈশ্বরকে মঙ্গল নৈবেদ্য উপহার দাও, তোমরা অবশ্যই তা সঠিকভাবে দেবে যাতে তা গ্রাহ্য হয়। 6তোমরা যেদিন নৈবেদ্য দেবে সেদিন এবং পরের দিনও তা আহার করতে পারবে; কিন্তু যদি সেই নৈবেদ্যর কোন অংশ তৃতীয় দিনেও পড়ে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই আগুনে পুড়িয়ে ফেলবে। 7তোমরা সেই নৈবেদ্যর কোনো অংশই তৃতীয় দিনে আহার করবে না; সেটা হবে অশুচি, সেটা অগ্রাহ্য হবে। 8একজন ব্যক্তি যদি তা করে তবে সে সেই পাপের কারণে দোষী হবে। কারণ সে প্রভুর জিনিসগুলিকে শ্রদ্ধা করেনি। সেই লোকটি তার লোকদের থেকে অবশ্যই বিচ্ছিন্ন হবে।
9“যখন তোমরা শস্য কাটো, তখন তোমাদের ক্ষেত্রের কোণ পর্যন্ত শস্য কেটো না। শস্য যদি মাটিতে পড়ে যায়, তোমরা তা কুড়িয়ে নিও না। 10তোমাদের দ্রাক্ষা বাগানের সব দ্রাক্ষা তুলবে না এবং যেগুলি মাটিতে পড়ে থাকে সেগুলিও তুলে নেবে না। কেন? কারণ সেগুলি তোমরা গরীব এবং তোমাদের দেশের মধ্যে দিয়ে ভ্রাম্যমাণ মানুষদের জন্য ফেলে রাখবে। আমিই প্রভু তোমাদের ঈশ্বর!
11“তোমরা অবশ্যই চুরি করবে না। তোমরা অবশ্যই লোকদের ঠকাবে না এবং পরস্পরের কাছে মিথ্যে কথা বলবে না। 12মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিতে তোমরা অবশ্যই আমার নাম ব্যবহার করবে না। তা করলে ঈশ্বরের নামের অসম্মান করা হয়। আমিই তোমাদের প্রভু!
13“তোমাদের প্রতিবেশীর প্রতি তোমরা অবশ্যই মন্দ ব্যবহার করবে না। তোমরা অবশ্যই তাকে লুঠ করবে না। তোমরা সকাল না হওয়া পর্যন্ত সারা রাত ধরে অবশ্যই একজন ভাড়া করা শ্রমিকের বেতন আটকাবে না।
14“তোমরা অবশ্যই একজন বধির মানুষকে অভিশাপ দেবে না। অন্ধ মানুষের সামনে এমন কিছু রেখো না যাতে সে পড়ে যায়। তোমরা অবশ্যই ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা করবে। আমিই তোমাদের প্রভু!
15“বিচারের ব্যাপারে তোমরা অবশ্যই পক্ষপাতহীন হবে। তোমরা অবশ্যই দরিদ্র মানুষের প্রতি বিশেষ পক্ষপাতিত্ব দেখাবে না। এবং তোমরা অবশ্যই অতি গুরুত্বপূর্ণ লোকদেরও বিশেষ সম্মান দেখাবে না। তোমরা যখন প্রতিবেশীর বিচার করবে তখন অবশ্যই অন্যায় করবে না। 16অন্য লোকদের বিরুদ্ধে তোমরা অবশ্যই মিথ্যা গল্প রটিয়ে বেড়াবে না। এমন কিছু করবে না যাতে তোমাদের প্রতিবেশীর জীবন বিপন্ন হয়। আমিই তোমাদের প্রভু!
17“তোমরা তোমাদের ভাইকে অবশ্যই মনে মনে ঘৃণা করবে না। যদি তোমাদের প্রতিবেশী ভুল করে, তাহলে তার সাথে সে বিষয়ে কথা বল, কিন্তু তাকে ক্ষমা করো; তাহলে তুমি তার দোষের ভাগীদার হবে না। 18তোমার প্রতি লোকরা খারাপ যা কিছু করেছে, তা ভুলে যেও; প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করো না। তোমাদের প্রতিবেশীকে নিজেদের মত করে ভালোবেসো। আমিই তোমাদের প্রভু!
19“তোমরা অবশ্যই আমার বিধিসকল মান্য করবে। তোমরা অবশ্যই দু পৃথক ধরণের প্রাণীর মধ্যে সঙ্কর প্রজনন করবে না। তোমরা অবশ্যই তোমাদের ক্ষেতে দুটি আলাদা ধরণের বীজ বপন করবে না। দুই ধরণের সুতো দিয়ে তৈরী পোশাক তোমরা অবশ্যই পরবে না।
20“এমন ঘটতে পারে যে একজন ব্যক্তি, অন্যের কাছে দাসী এমন একজনের সঙ্গে যৌন সংসর্গ করেছে; কিন্তু এই দাসী মহিলাটি বিক্রিত হয়নি বা তাকে তার স্বাধীনতা দেওয়া হয় নি। যদি তা ঘটে, তাহলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই শাস্তি হবে; কিন্তু তাদের মৃত্যুদণ্ড হবে না, কারণ স্ত্রীলোকটি স্বাধীন নয়। 21লোকটি প্রভুর জন্য সমাগম তাঁবুর প্রবেশমুখে অবশ্যই তার দোষ মোচনের নৈবেদ্য হিসাবে একটি পুরুষ মেষশাবক আনবে। 22যাজক লোকটিকে শুচি করার জন্য পুরুষ মেষশাবকটিকে দোষার্থক নৈবেদ্য হিসেবে প্রভুর সামনে উৎসর্গ করে তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করাবে। তারপর লোকটিকে তার কৃত পাপসমুহের জন্য ক্ষমা করা হবে।
23“ভবিষ্যতে তোমরা তোমাদের দেশে প্রবেশ করে যখন খাদ্যের জন্য কোন জাতের গাছ লাগাবে, তখন ঐ গাছের ফল ব্যবহারের আগে অবশ্যই তিন বছর অপেক্ষা করবে। এই সময় সেই ফল অশুচি বলে গন্য করবে এবং তা খাবে না। 24চতুর্থ বছরে গাছের ফল হবে প্রভুর। প্রভুর প্রতি প্রশংসা হিসেবে এটা হবে পবিত্র নৈবেদ্য। 25তারপর পঞ্চম বছরে তোমরা সেই গাছ থেকে ফল পেতে পারো! এবং এইভাবে গাছটি তোমাদের জন্য আরো ফল দেবে। আমিই প্রভু তোমাদের ঈশ্বর!
26“রক্ত লেগে থাকা অবস্থায় কোন মাংস তোমরা অবশ্যই খাবে না।
“তোমরা অবশ্যই যাদুবিদ্যা এবং গণক বিদ্যার ব্যবহার করতে চেষ্টা করবে না।
27“তোমরা অবশ্যই তোমাদের মাথার পাশে গজানো কেশগুলি গোল করে গোটাবে না। তোমরা অবশ্যই তোমাদের দাড়ির কোণ কাটবে না। 28মৃত ব্যক্তিদের স্মরণে রাখার জন্য তোমরা অবশ্যই তোমাদের দেহে কাটা ছেঁড়া করবে না। তোমরা অবশ্যই নিজেদের ওপর কোন উল্কি রাখবে না। আমিই প্রভু!
29“তোমার কন্যাকে বেশ্যা হতে দিও না। তা করলে তাকে অপমান করা হয়। দেশের মানুষজনও তাহলে বেশ্যার মত অর্থাৎ ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বস্তের মত আচরণ করবে না এবং দেশে মন্দ জিনিসে পূর্ণ হবে না।
30“আমার বিশ্রামের বিশেষ দিনগুলিতে তোমরা অবশ্যই কাজ করবে না। তোমরা অবশ্যই আমার পবিত্রস্থানকে সম্মান দেবে। আমিই প্রভু!
31“ভুতুড়িয়াদের বা ডাইনীদের কাছে মন্ত্রণার জন্য যাবে না। তাদের কাছে যেও না, তারা শুধু তোমাকে অশুচি করবে। আমিই প্রভু তোমাদের ঈশ্বর!
32“বয়স্ক ব্যক্তিদের সম্মান দেখাবে; যখন তাঁরা ঘরে ঢোকেন উঠে দাঁড়াবে। তোমাদের ঈশ্বরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে। আমিই প্রভু!
33“তোমাদের দেশে বাস করা বিদেশীদের প্রতি খারাপ ব্যবহার করবে না। 34তোমাদের নিজেদের নাগরিকদের মতই বিদেশীদের প্রতি সমান ব্যবহার করবে। তোমাদের নিজেদের যেমন ভালোবাস, বিদেশীদের তেমনি ভালোবাসবে। কারণ একসময় তোমরা মিশরে বিদেশী ছিলে। আমিই প্রভু তোমাদের ঈশ্বর!
35“তোমরা বিচারে অন্যায় করবে না এবং জিনিসপত্র মাপার ও ওজন করার ব্যাপারে সৎ হবে। 36শস্য ওজন করার জন্য এবং তরল পদার্থ মাপার জন্য তোমাদের ওজন পাল্লা, বাটখারা, ঝুড়ি ও পাত্রগুলি সঠিক হওয়া উচিৎ। আমিই প্রভু তোমাদের ঈশ্বর! আমি তোমাদের মিশর দেশ থেকে বাইরে এনেছি।
37“তোমরা অবশ্যই আমার সমস্ত বিধি এবং নিয়মাবলী মনে রাখবে এবং সেগুলি মান্য করবে। আমিই প্রভু!”
20প্রতিমা পূজার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা
1প্রভু মোশিকে বললেন, 2“তুমি অবশ্যই ইস্রায়েলের লোকদের আরও এই বিষয়গুলি বলো: তোমাদের দেশের কোন মানুষ যদি মোলকের মূর্ত্তির সামনে তার শিশুদের মধ্যে একটিকে উৎসর্গ করে, তবে সেই মানুষটির অবশ্যই প্রাণদণ্ড হবে। যদি সেই ব্যক্তি ইস্রায়েলের নাগরিক হয় বা ইস্রায়েলে বাস করা একজন বিদেশী হয় তাতে কিছু যায় আসে না। তোমরা অবশ্যই সেই ব্যক্তিকে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করবে। 3আমি সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াব এবং তাকে তার লোকদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করব, কারণ সে তার শিশুকে মোলকের উদ্দেশ্যে দিয়েছে। সে আমার পবিত্র নামকে শ্রদ্ধা করেনি এবং আমার পবিত্র স্থানকে অশুচি করেছে। 4কিন্তু সাধারণ মানুষ সেই ব্যক্তিকে উপেক্ষা করে এবং যে তার শিশুদের মোলককে দিয়েছে তাকে হত্যা না করে, 5তাহলে আমি সেই ব্যক্তি এবং তার পরিবারের বিরোধিতা করব এবং তাকে তার লোকদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করব। যারা সেই ব্যক্তিকে অনুসরণ করে মোলকের পিছনে যায় আমি তাদেরও বিচ্ছিন্ন করব।
6“যদি কোন ব্যক্তি ভুতুড়িয়া এবং মায়াবীদের কাছে উপদেশের জন্য যায় আমি তার বিরোধী হবো। সেই ব্যক্তি আমার প্রতি অবিশ্বাসী, তাই আমি তাকে তার লোকদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করব।
7“তোমরা পৃথক হও! নিজেদের পবিত্র করো। কারন আমি পবিত্র! আমিই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর! 8আমার বিধিগুলি স্মরণে রাখো এবং মেনে চলো। আমি প্রভু এবং আমিই সেই, যিনি তোমাদের পবিত্র করেন।
9“যদি কোনো মানুষ তার পিতা কিম্বা মাতাকে অভিশাপ দেয়, তার প্রাণদণ্ড হবে। পিতামাতাকে অভিশাপ দিয়েছে বলে সে তার নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী!
যৌন পাপাদির জন্য শাস্তিসমুহ
10“যদি কোন পুরুষের তার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক থাকে, তাহলে সেই পুরুষ এবং মহিলা দুজনেই ব্যভিচারের দোষে দোষী হবে। সেই পুরুষ এবং মহিলা দুজনের অবশ্যই যেন প্রাণদণ্ড হয়। 11যদি কোন পুরুষের তার পিতার স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সংসর্গ থাকে, তাহলে পুরুষ এবং রমণী দুজনকে অবশ্যই যেন মেরে ফেলা হয়। তারা নিজেরা তাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী, কারণ এই কাজ দ্বারা সেই পুরুষটির পিতাকে অপমান করা হয়।
12“যদি একজন পুরুষের তার পুত্রবধূর সঙ্গে যৌন সংসর্গ থাকে, তাহলে দুজনকে অবশ্যই যেন মেরে ফেলা হয়। এ হল অনাচার, তারা তাদের নিজেদের মৃত্যুর জন্য দায়ী।
13“যদি কোন পুরুষের অন্য এক পুরুষের সঙ্গে একজন স্ত্রীলোকের মত যৌন সম্পর্ক থাকে তবে এই দুজন পুরুষ এক ভয়ঙ্কর পাপ কার্য্যে লিপ্ত। তাদের অবশ্যই যেন মেরে ফেলা হয়। তারা তাদের নিজেদের মৃত্যুর জন্য দায়ী।
14“কোন পুরুষের পক্ষে একই সাথে কোন স্ত্রীলোক এবং তার মাতাকে বিয়ে করা অত্যন্ত মন্দ কাজ। লোকেরা সেই মানুষটিকে অবশ্যই পোড়াবে এবং দুজন স্ত্রীলোককে আগুনে দেবে যেন এই ধরণের কুকর্ম আর কেউ না করে।
15“যদি একজন মানুষ কোন এক জন্তুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয় তবে সেই মানুষটি অবশ্যই প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তোমরা অবশ্যই প্রাণীটিকেও হত্যা করবে। 16যদি একজন স্ত্রীলোকের কোন এক জন্তুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক থাকে, তাহলে তোমরা অবশ্যই স্ত্রীলোক ও প্রাণীটিকে হত্যা করবে। তারা অবশ্যই প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত হবে। তারা তাদের নিজেদের মৃত্যুর জন্য দায়ী।
17“যদি কেউ তার বোন, তার সৎ মাতা বা সৎ পিতার মেয়েকে বিবাহ করে এবং একে অপরের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয় তবে এটা লজ্জাজনক বিষয়। তারা অবশ্যই প্রকাশ্যে শাস্তি পাবে। তারা অবশ্যই তাদের লোকদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হবে। যে মানুষ তার বোনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করে, সে অবশ্যই তার পাপের জন্য শাস্তি পাবে!
18“মাসিক রক্তস্রাবের সময় কোন রমণীর সঙ্গে যদি কোন পুরুষের যৌন সংসর্গ হয়, তাহলে পুরুষ এবং রমনী দুজনই তাদের লোকদের থেকে অবশ্যই বিচ্ছিন্ন হবে। তারা পাপ করেছে কারণ সেই পুরুষ রক্তের উৎসকে প্রকাশ করেছে এবং সেই স্ত্রী তার রক্তের উৎসকে অনাবৃত করেছে।
19“তোমাদের মাতার বোন বা তোমাদের পিতার বোনের সঙ্গে অবশ্যই যৌন সম্পর্ক করবে না। সেটা হল গর্হিত আচার। তোমাদের পাপসমূহের জন্য তোমরা অবশ্যই শাস্তি পাবে।
20“একজন পুরুষ অবশ্যই তার কাকার স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করবে না। এ কাজ তার কাকাকে অপমান করে। সেই পুরুষ এবং তার কাকার স্ত্রী তাদের পাপসমুহের জন্য শাস্তি পাবে। তারা সন্তান-সন্ততিহীন হবে এবং সেই অবস্থাতেই মারা যাবে।
21“একজন পুরুষের পক্ষে তার নিজের ভ্রাতৃবধুকে বিবাহ করা অন্যায়। এ কাজ তার ভাইকে অসম্মান করে। তাদের সন্তান-সন্ততি থাকবে না।
22“তোমরা অবশ্যই আমার সমস্ত বিধিসমুহ এবং নিয়মাবলি মনে রাখবে এবং সেগুলি মান্য করবে। আমি তোমাদের যে দেশে নিয়ে যাচ্ছি, সেই দেশে বসবাসকালে তোমরা আমার বিধিসমূহ এবং নিয়মাবলী মান্য করো, তাহলে সেই দেশ তোমাদের বিতাড়িত করবে না। 23তোমাদের সামনে যে সব জাতিকে আমি সেই দেশ থেকে দূর করে দিচ্ছি, তাদের মত জীবনযাপন করো না। তারা ঐ সমস্ত পাপ কাজ করত তাই আমি তাদের ঘৃণা করলাম। 24আমি তোমাদের বলেছি যে তোমরা তাদের জমি পাবে। আমি তা তোমাদের দেব। সেই দেশে খাদ্য ও পানীয়ের কোন অভাব হবে না। আমিই প্রভু তোমাদের ঈশ্বর!
“আমি তোমাদের জন্য জাতির থেকে পৃথক করে আমার বিশেষ লোকজন করে তুলেছি। 25সুতরাং তোমরা অবশ্যই অশুচি প্রাণীদের থেকে শুচি প্রাণীদের এবং অশুচি পাখীদের থেকে শুচি পাখীদের আলাদা করে নেবে। ঐ সব অশুচি পাখী, প্রাণী এবং যারা মাটিতে বুক দিয়ে হাঁটে, তা আহার করে নিজেদের অশুচি করো না। আমি ঐসব প্রানীগুলোকে অশুচি বলে নির্দিষ্ট করেছি। 26আমি তোমাদের অন্য জাতির থেকে আলাদা করে আমার নিজস্ব করে তুলেছি। তাই তোমরা অবশ্যই পবিত্র হবে! কেন? কারণ আমি প্রভু এবং আমি পবিত্র!
27“কোন পুরুষ অথবা স্ত্রীলোক যদি ভুতুড়িয়া বা মায়াবী হয় তাকে অবশ্যই প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। লোকরা তাদের পাথর দিয়ে হত্যা করবে। তারা নিজেরাই নিজেদের মৃত্যুর জন্য দায়ী হবে।”
21যাজকদের জন্য নিয়মাবলী
1প্রভু মোশিকে বললেন, “হারোণের পুত্রদের অর্থাৎ যাজকদের এই বিষয়গুলি বলো: একজন যাজক অবশ্যই কোন মৃত ব্যক্তিকে স্পর্শ করে নিজেকে অশুচি করবে না। 2কিন্তু যদি মৃত ব্যক্তিটি তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের একজন হয় তাহলে সে মৃতদেহ স্পর্শ করতে পারে। যদি মৃত ব্যক্তি তার মাতা কি পিতা, তার পুত্র বা কন্যা, তার ভাই বা 3তার অবিবাহিত বোন (এই বোন ঘনিষ্ঠ কারণ তার স্বামী নেই, সে মারা গেলে তার জন্য যাজক নিজেকে অশুচি করতে পারে।) হয়, তবে যাজক নিজেকে অশুচি করতে পারে। 4কিন্তু কেবল বৈবাহিক কারণে সম্পর্কযুক্ত মানুষের জন্য যাজক নিজেকে অশুচি করতে পারে না এবং নিজেকে অপবিত্র করতে পারে না।
5“যাজকরা তাদের মাথা এমনভাবে কামাবে না যাতে তাদের টাক্ দেখা যায় অথবা তাদের দাড়ি কামাবে না। যাজকরা তাদের শরীরে অবশ্যই কোন কাটা ছেঁড়া করবে না। 6যাজকদের তাদের ঈশ্বরের জন্য অবশ্যই পবিত্র হতে হবে। তারা অবশ্যই ঈশ্বরের নামকে শ্রদ্ধা জানাবে, কারণ তারাই রুটি এবং আগুনের দ্বারা তৈরী নৈবেদ্যসমূহ প্রভুর কাছে বয়ে নিয়ে যাবে; তাই তারা অবশ্যই পবিত্র হবে।
7“একজন যাজক অবশ্যই একজন বেশ্যা অথবা একজন ভ্রষ্টা রমণীকে বিবাহ করবে না। সে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে এমন একজন রমণীকে বিবাহ করবে না। কারণ সে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে পবিত্র। 8তোমরা অবশ্যই যাজককে সম্মান করবে কারণ সে ঈশ্বরের কাছে পবিত্র রুটি নিয়ে যায়। সে তোমাদের কাছে পবিত্র বলে গণ্য হবে, কারণ আমি পবিত্র! আমিই প্রভু এবং আমি তোমাদের পবিত্র করি!
9“কোন যাজকের মেয়ে বারবণিতা হয়ে নিজেকে অশুচি করলে, সে তার পিতার লজ্জার কারণ হয় সুতরাং তাকে অবশ্যই আগুনে দগ্ধ হতে হবে।
10“প্রধান যাজক, যাকে তার ভাইদের মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে, অভিষেকের তেল যার মাথায় ঢালা হয়েছে এবং বিশেষ পোশাক পরার জন্য যাকে বাছা হয়েছে সে প্রকাশ্যে তার বিষাদ বোঝাতে যেন তার মাথার চুল এলোমেলো না করে এবং তার কাপড়-চোপড় না ছেঁড়ে। 11মৃতদেহ স্পর্শ করে সে নিজেকে অশুচি করবে না এবং কোন মৃত দেহের কাছে যাবে না, এমনকি মৃতদেহ যদি তার নিজের পিতা বা মাতারও হয় তবুও না। 12প্রধান যাজক ঈশ্বরের পবিত্র স্থানের বাইরে অবশ্যই যাবে না। তাতে সে অশুচি হতে পারে এবং তখন সে ঈশ্বরের পবিত্র স্থানকে অশুচি করতে পারে। কারণ অভিষেকের তেল প্রধান যাজকের মাথায় ঢেলে তাকে বাকী লোকদের থেকে আলাদা করা হয়েছিল। আমিই প্রভু!
13“প্রধান যাজক অবশ্যই একজন রমনীকে বিবাহ করবে যে কুমারী। 14প্রধান যাজক এমন কোন রমণীকে অবশ্যই বিবাহ করবে না যার সঙ্গে অন্য পুরুষের যৌন সম্পর্ক ছিল। প্রধান যাজেক অবশ্যই একজন বারবনিতা, স্বামী পরিত্যক্তা রমণী অথবা একজন বিধবাকে বিবাহ করবে না। প্রধান যাজক অবশ্যই তার নিজের লোকদের মধ্যে থেকে একজন কুমারীকে বিয়ে করবে। 15এইভাবে লোকরা তাদের সন্তান-সন্ততিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে।+ 21:15 লোকেরা … জানাবে অথবা “তার সন্তানরা লোকদের থেকে অশুচি হয়ে যাবে না।” আমি প্রভু, প্রধান যাজককে তার বিশেষ কাজের জন্য পৃথক করেছি।”
16প্রভু মোশিকে বললেন, 17“হারোণকে বলো: পুরুষানুক্রমে তোমার বংশের মধ্যে কারও দৈহিক কোন দোষ থাকলে তারা অবশ্যই ঈশ্বরের কাছে বিশেষ রুটি বয়ে নিয়ে যাবে না। 18কোন ব্যক্তি যার মধ্যে কিছু শারীরিক ত্রুটি আছে, অবশ্যই যাজক হিসেবে সেবা করতে পারবে না এবং আমার কাছে নৈবেদ্যসমূহ আনতে পারবে না। 19অন্ধ কি খোঁড়া, কি মুখে খারাপ দাগ যুক্ত লোকরা বা লম্বা হাত পা সহ লোকরা, 20পিঠে কুঁজ থাকা লোকরা, কি বামনরা, যাদের চোখের দোষ আছে, ক্ষত আছে এমন লোকরা, খারাপ চর্মরোগযুক্ত লোকরা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অণ্ডকোষ আছে এমন লোকরা যাজক হিসাবে সেবা করতে পারবে না।
21“হারোণের উত্তরপুরুষদের মধ্যে কারোর যদি কিছু দোষ থাকে, তাহলে সে প্রভুর কাছে আগুনের নৈবেদ্যসমূহ দিতে পারবে না। এবং সেই ব্যক্তি ঈশ্বরের কাছে বিশেষ রুটি নিয়ে যেতে পারবে না। 22সেই ব্যক্তি যাজকদের পরিবারের, তাই সে পবিত্র রুটি আহার করতে পারে। সে অতি পবিত্র রুটিও খেতে পারে। 23কিন্তু সে পর্দার ভেতর দিয়ে পবিত্রতম স্থানে যেতে পারবে না এবং বেদীর কাছে যাবে না কারণ তার মধ্যে কিছু দোষ আছে। সে আমার পবিত্র স্থানগুলিকে অবশ্যই অশুচি করবে না। আমি ঈশ্বর সেই সমস্ত স্থানসমুহকে পবিত্র করি।”
24তারপর মোশি এই সমস্ত বিষয় হারোণ এবং হারোণের পুত্রদের এবং ইস্রায়েলের সমস্ত লোকদের বলল।
221প্রভু ঈশ্বর মোশিকে বললেন, 2“হারোণ এবং তার পুত্রদের বলো: ইস্রায়েলের লোকরা আমাকে যে উপহার দেয় তা পবিত্র। যাজকরা যেন সেই উপহারগুলিকে অসম্মান না করে, কারণ তা তারা আমার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছে। তা না হলে তোমরা যে আমার পবিত্র নামকে শ্রদ্ধা করো না সেটাই স্পষ্ট হবে। আমিই প্রভু। 3এখন থেকে যদি তোমাদের উত্তরপুরুষদের মধ্যে থেকে কোন ব্যক্তি অশুচি অবস্থায় সেই সমস্ত জিনিস স্পর্শ করে, তাহলে সেই ব্যক্তি অবশ্যই আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হবে। আমিই প্রভু!
4“যদি হারোণের উত্তরপুরুষদের কারো কোন খারাপ চর্মরোগ থাকে বা যার নির্গমণ হয়েছে, সে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত পবিত্র খাদ্য খেতে পারবে না। ঐ নিয়ম যে কোন যাজকের পক্ষে প্রযোজ্য যে অশুচি থাকে। 5মৃতদেহ দ্বারা অশুচি হয়েছে এমন কিছু যদি কেউ স্পর্শ করে অথবা যদি তার বীর্যপাত হয় অথবা সে যদি বুকে হাঁটা অশুচি কোন প্রাণীকে স্পর্শ করে বা অশুচি কোন ব্যক্তিকে স্পর্শ করে যদি সে অশুচি হয় তবে কি করে সেই ব্যক্তি অশুচি হয়েছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। 6যে ব্যক্তি ঐ সমস্ত কিছুর যে কোন একটা স্পর্শ করে, সে সন্ধ্যা না হওয়া পর্যন্ত অশুচি থাকবে। সেই ব্যক্তি পবিত্র খাদ্যের কোন কিছু অবশ্যই খাবে না। এমন কি সে যদি জলে ধৌত হয়, তবু সে পবিত্র খাদ্য খেতে পারবে না। 7কেবলমাত্র সূর্য ডোবার পর সে শুচি হবে। তখন সে পবিত্র খাদ্য আহার করতে পারবে। কারণ সূর্যাস্তের পর সে শুচি এবং সেই খাদ্য তারই জন্য।
8“যদি একজন যাজক দেখে যে একটি প্রাণী নিজে নিজেই মারা গেছে বা বন্য প্রাণীদের দ্বারা নিহত হয়েছে, সে অবশ্যই সেই মৃত প্রাণীটিকে ভক্ষণ করবে না। যদি সেই ব্যক্তি সেই প্রাণীটিকে ভক্ষণ করে সে অশুচি হবে। আমিই প্রভু!
9“আমাকে সেবা করার জন্য যাজকদের একটা বিশেষ সময় থাকবে। তারা অবশ্যই সেইসব সময় বিষয়ে সতর্ক থাকবে। তারা পবিত্র জিনিসগুলিকে অপবিত্র না করার বিষয়ে অবশ্যই সাবধান হবে। যদি তারা সাবধান হয় তাহলে তারা মারা যাবে না। আমি ঈশ্বর এই বিশেষ কাজের জন্য তাদের পৃথক করেছি। 10কেবলমাত্র যাজকদের পরিবারের লোকরাই পবিত্র খাদ্য আহার করতে পারে। যাজকের সঙ্গে বসবাসকারী একজন প্রবাসী অথবা একজন ভাড়াটে কর্মী অবশ্যই কোন পবিত্র খাদ্য খেতে পারে না। 11কিন্তু যদি যাজক তার নিজের অর্থে একজন লোককে ভৃত্য হিসেবে কেনে, সেই ব্যক্তি তখন পবিত্র জিনিসগুলির কিছুটা আহার করতে পারে। ভৃত্যরা, যারা যাজকের বাড়ীতে জন্মায় তারাও যাজকের খাদ্যের কিছুটা খেতে পারে। 12যাজকের কন্যা যাজক নয় এমন কাউকে বিয়ে করলে পবিত্র নৈবেদ্যসমূহের কোন কিছু খেতে পারবে না। 13যাজকের মেয়ে বিধবা হলে অথবা সে স্বামী পরিত্যক্তা হলে, যদি তাকে সাহায্য করার মত কোন সন্তান-সন্ততি না থাকে এবং সে যেখানে বাল্যকাল কাটিয়েছে সেই পিত্রালয়ে ফিরে আসে, তাহলে সে তার পিতার খাদ্য কিছুটা খেতেও পারে। তাছাড়া কেবলমাত্র যাজকের পরিবারের লোকরা এই খাদ্য খেতে পারবে।
14“একজন মানুষ ভুল করে পবিত্র খাদ্যের কিছুটা খেতে পারে। সেই ব্যক্তি অবশ্যই সেই পরিমাণ খাদ্যের দাম যাজককে দেবে এবং সে অবশ্যই খাদ্যের দামের ওপর আরো পঞ্চমাংশ দেবে।
15“ইস্রায়েলের লোকরা প্রভুকে যে সব উপহার দান করে তা হবে পবিত্র; সুতরাং যাজক অবশ্যই সেই পবিত্র জিনিসগুলিকে অপবিত্র করবে না। 16যদি যাজকরা সেই সমস্ত পবিত্র নৈবেদ্যগুলিকে অপবিত্র হিসেবে বিবেচনা করে এবং সেগুলি খায়, তাহলে তা পাপ হিসেবে ধরা হবে। আমি প্রভু তাদের পবিত্র করি।”
17প্রভু ঈশ্বর মোশিকে বললেন, 18“হারোণ এবং তার পুত্রদের এবং ইস্রায়েলের সমস্ত লোকদের বলো: ইস্রায়েলের একজন নাগরিক বা একজন বিদেশী নৈবেদ্য নিয়ে আসতে পারে। হতে পারে লোকটি যে বিশেষ প্রতিজ্ঞা করেছিল সেই উপহার তার জন্য, অথবা কোন বিশেষ নৈবেদ্য লোকটি আনতে চেয়েছিল। 19 ঐ উপহারগুলি লোকরা আনে কারণ তারা সত্যিই ঈশ্বরকে উপহার দিতে চায়। কিন্তু কোন নৈবেদ্য যাতে কোন দোষ আছে তা তোমরা অবশ্যই গ্রহণ করবে না। আমি সেই উপহারে খুশী হবো না। যদি সেই উপহার একটি ষাঁড় অথবা একটি মেষ বা একটি ছাগল হয় তাহলে সেই প্রাণী অবশ্যই পুরুষ হবে এবং সেটার মধ্যে যেন দোষ না থাকে।
21“মানত পূর্ণ করার জন্য অথবা স্বেচ্ছায় যখন কোন ব্যক্তি প্রভুর কাছে মঙ্গল নৈবেদ্য আনে সেই নৈবেদ্য একটি ষাঁড় বা মেষ হতে পারে; কিন্তু সেটা যেন স্বাস্থ্যবান হয়। সেই প্রাণীটির মধ্যে অবশ্যই যেন কোন দোষ না থাকে। 22তোমরা অবশ্যই প্রভুকে এমন কোন প্রাণী দেবে না যেটা কানা, যার হাড় ভাঙা বা পঙ্গু অথবা গলিত ঘা-যুক্ত বা খারাপ চর্মরোগ সমন্বিত। প্রভুর বেদীর ওপরকার আগুনের ওপর তোমরা অবশ্যই অসুস্থ প্রাণী দেবে না।
23“কখনও কখনও একটি ষাঁড় বা একটি মেষশাবকের একটা পা থাকে যা খুব লম্বা অথবা একটা পায়ের পাতা যা ঠিক মত গজায় নি। যদি কোন ব্যক্তি সেই প্রাণীকে প্রভুর কাছে বিশেষ উপহার হিসেবে দিতে চায়, তাতে এটা গৃহীত হবে, কিন্তু এটা লোকটির বিশেষ প্রতিশ্রুতির অর্পণ হিসেবে গৃহীত হবে না।
24“কোন প্রাণীর কালশিরে পড়া, চূর্ণ বা ছিন্ন বিচ্ছিন্ন অণ্ডকোষ থাকলে তা তোমরা প্রভুর প্রতি উৎসর্গ করবে না।
25“তোমরা বিদেশীদের কাছ থেকে প্রভুর প্রতি নৈবেদ্য হিসাবে অবশ্যই কোন প্রাণী গ্রহণ করবে না, কারণ প্রাণীগুলি কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাদের মধ্যে কোন দোষ থাকতে পারে; তারা গৃহীত হবে না।”
26প্রভু মোশিকে বললেন, 27“যখন একটি বাছুর বা একটি মেষ অথবা একটি ছাগল জন্মাবে, সে অবশ্যই তার মায়ের সঙ্গে সাত দিন থাকবে। তারপর আট দিনের দিন এবং পরে এই প্রাণী প্রভুর কাছে অগ্নি প্রদত্ত নৈবেদ্য হিসেবে গ্রহণ যোগ্য হবে। 28কিন্তু তোমরা অবশ্যই প্রাণীটিকে এবং এর মাকে একই দিনে হত্যা করবে না! এই নিয়ম গাভী এবং মেষ উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
29“যদি তোমরা কিছু বিশেষ ধরণের ধন্যবাদসূচক নৈবেদ্য প্রভুকে দিতে চাও, তাহলে তোমরা সেই উপহার দানের ব্যাপারে স্বাধীন। কিন্তু অবশ্যই তোমরা এটা এমনভাবে করবে যা ঈশ্বরকে খুশী করে। 30তোমরা সেদিন অবশ্যই গোটা প্রাণীটিকে ভক্ষণ করবে। পরের দিনের সকালের জন্য অবশ্যই কোন মাংস ফেলে রাখবে না। আমিই প্রভু!
31“আমার আদেশগুলি মনে রেখো এবং সেগুলি মান্য করো। আমিই প্রভু! 32আমার পবিত্র নামকে তোমরা শ্রদ্ধা দেখাবে। ইস্রায়েলের লোকরা অবশ্যই যেন আমাকে তাদের পবিত্র প্রভু হিসেবে মান্য করে। আমিই প্রভু যিনি তোমাদের পবিত্র করেন। 33আমি তোমাদের ঈশ্বর হবার জন্য মিশর থেকে এসেছি। আমিই প্রভু!”
23বিশেষ ছুটির দিনগুলি
1প্রভু মোশিকে বললেন, 2“ইস্রায়েলের লোকদের বলো: প্রভুর মনোনীত উৎসবগুলিকে তোমরা পবিত্র সভা বলে ঘোষণা কর। এইগুলি হল আমার নির্দিষ্ট ছুটির দিন:
বিশ্রামপর্ব
3“ছদিন ধরে কাজ কর, কিন্তু সপ্তম দিন কর্মবিরতির জন্য নির্দিষ্ট বিশ্রামপর্ব হবে বিশ্রামের বিশেষ দিন। তোমরা অবশ্যই কোন কাজ করবে না। এটা তোমাদের সকলের বাড়ীতেই প্রভুর জন্য বিশ্রামের দিন হবে।
নিস্তারপর্ব
4“এগুলি হল প্রভুর মনোনীত নিস্তারপর্ব। তোমরা এগুলির জন্য মনোনীত সময়ে পবিত্র সভার কথা ঘোষণা করবে। 5প্রভুর নিস্তারপর্বের দিন হল প্রথম মাসের 14 দিনের দিন সূর্যাস্তের সময়।
খামিরবিহীন রুটির পর্ব
6“খামিরবিহীন রুটির উৎসব হবে ঐ একই মাসের 15 দিনের দিন। তোমরা সাত দিন ধরে খামিরবিহীন রুটি খাবে। 7এই ছুটির প্রথম দিনে তোমাদের এক বিশেষ সভা হবে। তোমরা অবশ্যই ঐ দিনটিতে কোন কাজ করবে না। 8সাতদিন ধরে তোমরা প্রভুর কাছে অগ্নিপ্রদত্ত উৎসর্গগুলি আনবে। তারপর সপ্তমদিনে আর একটি পবিত্র সভা হবে। তোমরা অবশ্যই ঐ দিনে কোন কাজ করবে না।”
প্রথম শস্য ছেদনের পর্ব
9প্রভু মোশিকে বললেন, 10“ইস্রায়েলের লোকদের বলো: আমি তোমাদের যে দেশ দেবো তাতে তোমরা প্রবেশ করবে। তোমরা এর শস্য ছেদন করলে শস্যের প্রথম আঁটি যাজকের কাছে আনবে। 11যাজক প্রভুর সামনে সেই আঁটি দোলাবে যেন তোমাদের জন্য তা গ্রাহ্য হয়। যাজক রবিবার সকালে সেই শস্যের আঁটি দোলাবে।
12“যে দিন তোমরা শস্যের আঁটি দোলাবে, সেদিন তোমরা একটি এক বছর বয়সী পুরুষ মেষ উপহার দেবে। সেই মেষের মধ্যে যেন কোন দোষ না থাকে। ঐ মেষটি প্রভুর কাছে হোমবলির নৈবেদ্য হবে। 13এছাড়া তোমরা অবশ্যই অলিভ তেল মেশানো 16 কাপ মিহি ময়দা শস্য নৈবেদ্য হিসাবে দেবে। এর সাথে দেবে 1 কোয়ার্ট দ্রাক্ষারস। সেই নৈবেদ্যর গন্ধ প্রভুকে খুশী করবে। 14ঈশ্বরের কাছে তা নৈবেদ্য হিসাবে না আনা পর্যন্ত তোমরা অবশ্যই কোন নতুন শস্য অথবা ফল বা নতুন শস্য থেকে তৈরী রুটি খাবে না। তোমরা যেখানেই বাস কর না কেন এই বিধি তোমাদের বংশ পরম্পরায় চলবে।
ফসল কাটার পর্ব
15“সেই রবিবারের সকাল থেকে (অর্থাৎ দোলনীয় নৈবেদ্যর জন্য আনীত শস্যের আঁটি আনার দিন থেকে) সাত সপ্তাহ গুনে নাও। 16সপ্তম সপ্তাহ পরে রবিবারে (অর্থাৎ 50 দিন পরে) তোমরা প্রভুর কাছে একটি নতুন শস্য নৈবেদ্য আনবে। 17ঐ দিনে তোমাদের বাড়ী থেকে দুুকরো রুটি নিয়ে আসবে। ঐ রুটি দোলনীয় নৈবেদ্যর জন্য নির্দিষ্ট হবে। ঐ রুটি তৈরী করার জন্য খামির এবং 16 কাপ ময়দা ব্যবহার কর। এটাই হবে তোমাদের প্রথম শস্য থেকে প্রভুর কাছে দেওয়া উপহার।
18“লোকরা শস্য নৈবেদ্যর সঙ্গে একটি ষাঁড়, একটি মেষ এবং সাতটি এক বছর বয়স্ক পুরুষ মেষশাবক দেবে। ঐসব প্রাণীর মধ্যে অবশ্যই কোন দোষ থাকবে না। তারা প্রভুর কাছে হোমবলির নৈবেদ্য হবে। শস্য নৈবেদ্য ও পেয় নৈবেদ্যর সাথে হবে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে অগ্নির দ্বারা প্রদত্ত নৈবেদ্য। এর গন্ধ প্রভুকে খুশী করবে। 19এ ছাড়াও তোমরা পাপার্থক নৈবেদ্যর জন্য একটি পুরুষ ছাগল এবং মঙ্গল নৈবেদ্য হিসেবে দুটি এক বছর বয়সী পুরুষ মেষশাবক আনবে।
20“যাজক তাদের প্রথম শস্য থেকে তৈরী রুটি সহ দোলনীয় নৈবেদ্যর দুটি মেষশাবক প্রভুর সামনে দোলাবে। তারা প্রভুর কাছে পবিত্র। তারা থাকবে যাজকের অধিকারে। 21ঐ একই দিনে তোমরা এক পবিত্র সভা ডাকবে। তোমরা অবশ্যই কোন কাজ করবে না। তোমাদের সকলের বাড়ীতে এই বিধি চিরকালের জন্য চলবে।
22“উপরন্তু যখন তোমরা তোমাদের জমিতে শস্য বপন করবে, তখন তোমাদের ক্ষেতের কোণগুলির শস্য কাটবে না। মাটির ওপর পড়ে থাকা শস্য তোমরা তুলবে না। সেই জিনিসগুলি গরীবদের জন্য এবং তোমাদের দেশে ভ্রমণকারী বিদেশীদের জন্য রেখে দেবে। আমিই প্রভু তোমাদের ঈশ্বর!”
ভেরীসমূহের পর্ব
23প্রভু আবার মোশিকে বললেন, 24“ইস্রায়েলের লোকদের বল: সপ্তম মাসের প্রথম দিন তোমরা বিশ্রামের বিশেষ দিন হিসেবে পালন করবে। সেই পবিত্র সভা লোকদের স্মরণ করানোর জন্য ভেরী বাজাবে। 25সেদিন তোমরা অবশ্যই কোন কাজ করবে না এবং অগ্নি প্রদত্ত একটি নৈবেদ্য তোমরা প্রভুর কাছে আনবে।”
প্রায়শ্চিত্তের দিন
26প্রভু মোশিকে বললেন, 27“সপ্তম মাসের দশম দিনটি প্রায়শ্চিত্তের দিন, সেদিন এক পবিত্র সভা হবে। সেদিন তোমরা অবশ্যই কোন খাদ্য গ্রহণ করবে না এবং অগ্নিতে প্রদত্ত একটি নৈবেদ্য প্রভুর কাছে আনবে। 28তোমরা অবশ্যই ঐ দিন কোন কাজ করবে না, কারণ এটা হল প্রায়শ্চিত্তের দিন। ঐ দিন যাজকরা প্রভুর কাছে যাবে এবং যা তোমাদের শুচি করে সেই সব আচারানুষ্ঠান করবে।
29“এই দিন যদি কোন মানুষ উপবাস করতে অস্বীকার করে সে অবশ্যই তার লোকদের থেকে বিচ্ছিন্ন হবে। 30এই দিন যদি কোন ব্যক্তি কোন কাজ করে, আমি তার লোকদের মধ্যে সেই ব্যক্তিকে ধ্বংস করব। 31সেদিন তোমরা অবশ্যই আদৌ কোন কাজ করবে না। তোমরা যেখানেই বসবাস করো না কেন, তোমাদের জন্য এটা হল চিরকালের বিধি। 32এটা তোমাদের জন্য হবে বিশেষ বিশ্রামের দিন। তোমরা সেদিন অবশ্যই খাদ্য গ্রহণ করবে না। বিশ্রামের এই বিশেষ দিন তোমরা আরম্ভ করবে মাসের নবম দিনের সন্ধ্যায় এবং তা চলবে সেই সন্ধ্যা থেকে পরের দিনের সন্ধ্যা পর্যন্ত।”
কুটির পর্ব
33প্রভু আবার মোশিকে বললেন, 34“ইস্রায়েলের লোকদের বলো: সপ্তম মাসের 15 দিনের দিন হল কুটির পর্ব পালনের দিন। প্রভুর উদ্দেশ্যে এই পর্ব সাত দিন ধরে চলবে। 35প্রথম দিনে একটি পবিত্র সভা হবে। তোমরা অবশ্যই সেদিন কোন কাজ করবে না। 36সাতদিন ধরে তোমরা প্রভুর কাছে প্রতিদিন একটি করে অগ্নিতে প্রস্তুত নৈবেদ্য আনবে। আট দিনের দিন তোমাদের আর একটা পবিত্র সভা হবে। তোমরা প্রভুর কাছে অগ্নি দ্বারা প্রস্তুত একটি নৈবেদ্য আনবে। এটা হবে একটা পবিত্র সভা। তোমরা অবশ্যই সেদিন কোন কাজ করবে না।
37“ঐগুলি হল প্রভুর পর্ব। ঐ সমস্ত পর্বের দিনগুলিতে পবিত্র সভা অনুষ্ঠিত হবে। তোমরা প্রভুর কাছে হোমবলি, শস্য নৈবেদ্যসমুহ, বলিগুলি এবং পেয় নৈবেদ্যসমুহ আনবে। তোমরা ঠিক ঠিক দিনে ঐ সমস্ত উপহার আনবে। 38ঐ সমস্ত পর্বের দিনগুলির সঙ্গে প্রভুর বিশ্রামের দিনগুলি স্মরণ করে তোমরা পালন করবে। এই সমস্ত নৈবেদ্যগুলি তোমরা প্রভুর কাছে যে বিশেষ নৈবেদ্য দিতে চাও এবং বিশেষ প্রতিশ্রুতির জন্য যে উপহার দিতে চাও তার সঙ্গে যোগ হবে।
39“সপ্তম মাসের 15 দিনে, যখন তোমরা জমির শস্য সংগ্রহ করবে তখন তোমরা সাতদিন ধরে প্রভুর উৎসব পালন করবে। তোমরা প্রথম দিন ও সপ্তম দিনে বিশ্রাম করবে। 40প্রথম দিনটিতে তোমরা সুন্দর গাছগুলি থেকে ফল এবং নদীর তীরবর্তী তালগাছগুলির, ঝাউগাছগুলির এবং বাইসী গাছগুলির ডালগুলি নেবে। তোমরা সাতদিন ধরে তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের সামনে পর্ব করবে। 41প্রতি বছরে সাত দিন ধরে তোমরা এই পর্ব প্রভুর জন্য পালন করবে। এই বিধি চিরকাল চলবে। সপ্তম মাসে তোমরা এই পর্ব পালন করবে। 42তোমরা সাতদিন ধরে অস্থায়ী কুটিরে বসবাস করবে। ইস্রায়েলে জন্ম নেওয়া সমস্ত লোক ঐ সমস্ত আবাসে বাস করবে, 43যাতে তোমাদের সমস্ত উত্তরপুরুষ জানে যে তাদের মিশর থেকে বাইরে আনার সময় আমি ইস্রায়েলের লোকদের অস্থায়ী আবাসে বসবাসের ব্যবস্থা করেছিলাম। আমিই প্রভু তোমাদের ঈশ্বর!”
44সুতরাং মোশি ইস্রায়েলের লোকদের প্রভুর পর্বগুলির কথা বললেন।
24বাতিদান এবং পবিত্র রুটি
1প্রভু মোশিকে বললেন, 2“ইস্রায়েলের লোকদের আজ্ঞা দাও নিঙড়ানো অলিভ থেকে খাঁটি তেল তোমার কাছে আনতে। সেই তেল লাগবে বাতিগুলির জন্য। যেন সবসময় সেগুলি জ্বলে। 3হারোণ প্রভুর সামনে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত সমাগম তাঁবুর মধ্যে বাতি জ্বালিয়ে রাখবে। পর্দার বাইরে সাক্ষ্য সিন্দুকের সামনে সেই বাতিটি থাকবে। এই বিধি চিরকাল ধরে চলবে। 4প্রভুর সামনে খাঁটি সোনার বাতিস্তম্ভের ওপর রাখা বাতিগুলিকে হারোণ নিয়মিত জ্বালিয়ে রাখবে।
5“মিহি ময়দা নাও এবং তা দিয়ে বারোটি রুটি সেঁকে নাও। প্রতি রুটির জন্য 16 কাপ করে ময়দা ব্যবহার কর। 6প্রভুর সামনে সোনার টেবিলের ওপর সেগুলি দুটি সারিতে রাখো। প্রতি সারিতে থাকবে দুটি করে রুটি। 7প্রতি সারিতে কুন্দুরু ঢালবে। এটা প্রভুর কাছে দেওয়া দগ্ধ নৈবেদ্য দানের স্মৃতি রক্ষায় প্রভুকে সাহায্য করবে। 8প্রতিটি শনিবারে নিয়মিতভাবে হারোণ প্রভুর সামনে রুটি সাজিয়ে রাখবে। ইস্রায়েলের লোকদের সঙ্গে এই চুক্তি চিরকাল চলবে। 9ঐ রুটি হারোণ এবং তার ছেলেদের অধিকারে থাকবে। তারা কোন পবিত্র জায়গায় ঐ রুটি খাবে, কারণ সেই রুটি প্রভুর প্রতি অগ্নিকৃত নৈবেদ্যসমুহের একটি। সেই রুটি চিরকালের জন্য হারোণের অংশ।”
ঈশ্বরের প্রতি অভিশাপ দাতা মানুষ
10একজন ইস্রায়েলীয় মহিলার একটি ছেলে ছিল, যার পিতা ছিল একজন মিশরীয়। সেই ছেলে ইস্রায়েলের লোকদের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে গেল। এমন সময় তাঁবুর মধ্যে তার সাথে এক ইস্রায়েলের পুরুষের লড়াই শুরু হল। 11ইস্রায়েলীয় স্ত্রীলোকের সন্তানটি প্রভুর নামে নিন্দা করে অভিশাপ দিতে শুরু করলে লোকরা তাকে মোশির কাছে নিয়ে এল। (ছেলেটির মায়ের নাম ছিল শালোমীৎ, দিব্রির মেয়ে, দান এর পরিবারগোষ্ঠী থেকে আগত।) 12লোকরা ছেলেটিকে গ্রেফতার করে প্রভুর স্পষ্ট আদেশের জন্য অপেক্ষা করল।
13তখন প্রভু মোশিকে বললেন, 14“যে অভিশাপ দিয়েছিল তাকে তাঁবুর বাইরে নিয়ে এসো। যারা তাকে অভিশাপ দিতে শুনেছিল, তারা তাদের হাত ছেলেটির মাথায় রাখবে, এবং তখন সমস্ত মানুষ তার দিকে পাথর ছুঁড়বে এবং তাকে হত্যা করবে। 15ইস্রায়েলের লোকদের বলো: যদি কোন ব্যক্তি তার ঈশ্বরকে অভিশাপ দেয়, তাহলে সে অবশ্যই শাস্তি পাবে। 16যে কোন ব্যক্তি প্রভুর নামের বিরুদ্ধে কথা বললে সে অবশ্যই নিহত হবে। সমস্ত মানুষ তাকে পাথর মারবে। ইস্রায়েলে জন্মগ্রহণ করা মানুষের মত বিদেশীরাও যদি ঈশ্বরের নামকে অভিশাপ দেয়, তাহলে সে অবশ্যই মৃত্যুমুখে পতিত হবে।
17“যদি কোন ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে হত্যা করে তবে সে অবশ্যই মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে। 18কোন ব্যক্তি যদি কারো পশু হত্যা করে তবে সে তার জায়গায় আর একটি পশু দেবে।
19“কোন ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে আঘাত করলে ঠিক সেই ধরণের আঘাত দিয়ে লোকটিকে শাস্তি দিতে হবে। 20ভাঙ্গা হাড়ের বদলে ভাঙ্গা হাড়, চোখের বদলে চোখ এবং দাঁতের বদলে দাঁত। লোকে অন্যকে যে ধরণের আঘাত দেয়, ঠিক সেই ধরণের আঘাত দিয়ে তাকে শাস্তি দিতে হবে। 21সুতরাং যদি কোন ব্যক্তি এক প্রাণী হত্যা করে তাহলে ব্যক্তিকে অবশ্যই প্রাণীর জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে হত্যা করে, তাহলে সে অবশ্যই মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
22“বিদেশীদের জন্য এবং তোমাদের নিজের দেশের লোকদের জন্য একইরকম অনুশাসন হবে। কেন? কারণ আমিই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর!”
23তখন মোশি ইস্রায়েলের লোকদের বলল, যে লোকটা তাঁবুর বাইরের জায়গায় অভিশাপ দিচ্ছিল তাকে নিয়ে এসো। তারপর তারা লোকটাকে পাথর মেরে হত্যা করল। এইভাবে প্রভু মোশিকে যে আদেশ দিয়েছিলেন ইস্রায়েলের লোকরা সেই অনুসারেই কাজ করল।
25দেশের জন্য বিশ্রামের সময়
1সীনয় পর্বতে প্রভু মোশিকে বললেন, 2“ইস্রায়েলের লোকদের বলো: আমি যে দেশ তোমাদের দিচ্ছি, সেখানে প্রবেশ করলে তোমরা জমিটিকে বিশ্রামের সময় দেবে। প্রভুকে সম্মান দেওয়ার জন্য এই বিশ্রামের সময় বিশেষ সময়। 3তোমরা ছ’বছর ধরে তোমাদের জমিতে বীজ বপন করবে, তোমাদের দ্রাক্ষা ক্ষেতগুলিতে গাছগুলিকে ছ’বছর ছাঁটবে এবং ফল নিয়ে আসবে। 4কিন্তু সপ্তম বছরে প্রভুকে সম্মান জানানোর জন্য তোমরা জমিকে বিশ্রাম দেবে। এই সময় তোমরা তোমাদের ক্ষেতে বীজ বপন করবে না অথবা তোমাদের দ্রাক্ষা ক্ষেতে গাছগুলি ছাঁটবে না। 5ফসল কাটার পর যে সমস্ত শস্য নিজেরাই জন্মেছে, তোমরা অবশ্যই তাদের কাটবে না। যে সমস্ত দ্রাক্ষালতা ছাঁটা হয়নি সেখান থেকে তোমরা অবশ্যই দ্রাক্ষা সংগ্রহ করবে না। জমি এক বছর বিশ্রামে থাকবে।
6“কিন্তু জমি এক বছরের বিশ্রামে থাকাকালীন যা উৎপন্ন হবে তাতে তোমাদের জন্য, তোমাদের পুরুষ এবং মহিলা ভৃত্যদের খাবার জন্য প্রচুর খাদ্য থাকবে। তোমাদের জনখাটা ভাড়াটে শ্রমিকদের জন্য, তোমাদের দেশে বসবাস করা বিদেশীদের জন্য 7এবং তোমাদের পশুদের ও তোমার দেশের বন্য পশুদের খাবার মত প্রচুর খাদ্য থাকবে।
জুবিলী মুক্তির বছর
8“তোমরা সাত বছর সাত বার গণনা করবে। ঐ সময়ের মধ্যে জমির জন্য থাকবে সাত বছরের বিরতি। এটা হবে 49 বছর। 9তখন সপ্তম মাসের দশম দিনটিতে অর্থাৎ প্রায়শ্চিত্তের দিনে তোমরা অবশ্যই মেষের শিং বাজাবে, সারা দেশময় এই মেষের শিং বাজাবে। 10তোমরা 50তম বছরকে একটি বিশেষ বছর গণ্য করবে। তোমাদের রাজ্যে বাস করা সমস্ত মানুষের জন্য তোমরা মুক্তি ঘোষণা করবে। এই সময়টিকে বলা হবে ‘জুবিলী’। তোমাদের প্রত্যেকে যে যার নিজস্ব সম্পত্তি ফিরে পাবে এবং তোমরা প্রত্যেকেই যে যার নিজের পরিবারে ফিরে যাবে। 11তোমাদের পক্ষে 50তম বছরটি হবে জুবিলীর বছর। তোমরা বীজ বপন করবে না। যে সমস্ত শস্য নিজে নিজেই হবে, সেগুলি কাটবে না। যে সব দ্রাক্ষালতা ছাঁটা হয় না তাদের থেকে দ্রাক্ষা ফল সংগ্রহ করবে না। 12ঐ বছরটা হল জুবিলী বছর। এটা তোমাদের পক্ষে পবিত্র সময়। যে সমস্ত শস্য ক্ষেত থেকে আসে, তোমরা সেগুলি আহার করবে। 13জুবিলী বছরে প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের বিষয় আশয়ের মধ্যে ফিরে যাবে।”
14“যখন তোমরা প্রতিবেশীর কাছে তোমাদের জমি বিক্রি করবে বা তাদের কাছ থেকে তা কিনবে তখন পরস্পরকে ঠকিও না। 15যদি তোমরা তোমাদের প্রতিবেশীর জমি কিনতে চাও, তাহলে বিগত শেষ জুবিলী বছর থেকে বছরগুলো গুনে নাও এবং সঠিক মূল্য নির্ণয়ে সেই সংখ্যাটি ব্যবহার কর। কারণ সে তোমার কাছে কেবলমাত্র পরের জুবিলী বছর আসা পর্যন্ত শস্য কাটার অধিকার বিক্রয় করেছে। 16যদি পরের জুবিলী আসতে অনেক দেরী থাকে সেক্ষেত্রে দাম হবে অনেক বেশী। যদি বছরগুলি কম হয়, তাতে দাম কম হবে। কেন? কারণ তোমাদের প্রতিবেশী প্রকৃতপক্ষে, তোমার কাছে জুবিলীর যতগুলি বছর বাকি আছে ততগুলি ফসল বিক্রি করছে। পরবর্তী জুবিলী বছরে সেই জমি আবার তার পরিবারের অধিকারে যাবে। 17তোমরা পরস্পর পরস্পরকে কখনও ঠকিও না। কিন্তু ঈশ্বরকে ভয় করো। আমিই প্রভু তোমাদের ঈশ্বর!
18“আমার বিধিসমূহ এবং নিয়মাবলী মনে রেখো, সেগুলি মান্য করো, তাহলে তোমরা নির্ভয়ে তোমাদের দেশে বাস করবে। 19তোমাদের জন্য জমি ভাল শস্যের ফলন দেবে। তখন তোমাদের প্রচুর খাদ্য হবে এবং তোমরা দেশে নির্ভয়ে বাস করবে।
20“কিন্তু হয়তো তোমরা বলবে, ‘যদি আমরা বীজ বপন না করি অথবা আমাদের শস্যসমূহ সংগ্রহ না করি, তাহলে সপ্তম বছরে খাবার মত আমাদের কিছুই থাকবে না।’ 21শঙ্কিত হয়ো না। ষষ্ঠ বছরে আমি আমার আশীর্বাদ তোমাদের কাছে পাঠাবো। তিন বছর ধরে জমিতে শস্য জন্মাতে থাকবে। 22অষ্টম বছরে রোপন করার সময়ও তোমাদের পুরানো শস্য খেয়ে শেষ হবে না। অষ্টম বছরে চাষ করা শস্য আসার আগে নবম বছর পর্যন্ত তোমরা পুরানো শস্য খেতে পাবে।
সম্পত্তি বিষয়ক বিধিসমুহ
23“জমি আমার, তাই তোমরা স্থায়ীভাবে তা বিক্রি করতে পারো না। আমার জমিতে আমার সঙ্গে তোমরা কেবলমাত্র বিদেশী এবং ভ্রমণকারী হিসেবে বসবাস করছ। 24বিক্রি হলেও জমির পুরানো মালিক যেন তা আবার কিনে নিতে পারে। এই প্রথা যেন দেশে থাকে। 25তোমাদের দেশের কোন ব্যক্তি যদি খুব গরীব হয়ে যায়, সে এত বেশী গরীব যে সে তার সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছে। সুতরাং সেক্ষেত্রে তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় আসবে এবং তার আত্মীয়কে ফিরিয়ে দেবার জন্য সমস্ত সম্পত্তি কিনে নেবে। 26কোন ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ এমন আত্মীয় নাও থাকতে পারে, কিন্তু সে যদি নিজের জমি পুনরায় কিনে নেবার জন্য ধনবান হয়, 27তাহলে সে অবশ্যই জমি বিক্রির সময় থেকে বছরগুলো গণনা করবে। জমির জন্য কত দিতে হবে তাতে সিদ্ধান্ত নিতে সেই সংখ্যা কাজে লাগাবে। তারপর সে সেই জমি কিনে নিতে পারে। এরপর জমি আবার তার সম্পত্তি হবে। 28কিন্তু যদি এই ব্যক্তি তার নিজের জন্য জমি ফেরত পেতে প্রয়োজনীয় অর্থ না জোগাড় করতে পারে, তাহলে সে যা বিক্রি করেছে তা জুবিলী বছর না আসা পর্যন্ত যে কিনেছিল তার হাতেই থাকবে। তারপর সেই জুবিলী বছরে জমি ফেরত যাবে প্রথম স্বত্ত্বাধিকারীর কাছে। সুতরাং সম্পত্তি আবার সঠিক পরিবারের অধিকারে যাবে।
29“যদি কোন ব্যক্তি প্রাচীরে ঘেরা শহরের মধ্যে কোন বাড়ী বিক্রি করে, তাহলে তার বিক্রির পর একটি বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সেটা ফেরত পাওয়ার অধিকার তার আছে। এই অধিকার এক বছর পর্যন্ত থাকবে। 30কিন্তু এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগে যদি মালিক বাড়িটি কিনে ফেরত না দেয়, তাহলে প্রাচীরে ঘেরা শহরের বাড়িটি যে কিনেছিল, তা তার এবং তার উত্তরপুরুষদের অধিকারে থেকে যাবে। বাড়িটি জুবিলীর সময় প্রথম মালিকের কাছে ফেরত যাবে না। 31চারপাশে প্রাচীর না দেওয়া ছোট শহর বা গ্রামগুলিকে খোলা মাঠের মত ধরা হবে। সুতরাং সেইসব ছোট শহরগুলিতে নির্মিত বাড়িগুলি জুবিলীর সময় প্রথম মালিকদের কাছে ফেরত যাবে।
32“লেবীয়দের শহর সম্পর্কে; লেবীয় বংশধররা যে শহরগুলির অধিকারী, সেখানে তাদের বাড়ীগুলি যে কোন সময়ে তারা কিনে ফেরত পেতে পারে। 33কোন ব্যক্তি যদি একজন লেবী বংশধরের কাছ থেকে বাড়ী কেনে, তবে জুবিলী বছরে লেবীয়দের শহরের সেই বাড়ী আবার লেবীয় বংশধরদের কাছে ফিরে আসবে। কারণ ইস্রায়েলের মানুষের মধ্যে লেবীয়দের শহরের বাড়ীগুলি লেবীগোষ্ঠীর পরিবারের লোকদের অধিকারেই থাকে। 34লেবীয়দের শহরসমুহ, ঘিরে রাখা মাঠসমুহ ও প্রান্তরসমুহ বিক্রয় করা যাবে না। ঐ মাঠগুলি লেবীয় বংশধরদের চিরকালের অধিকার।
দাস মালিকদের নিয়মাবলী
35“তোমাদের নিজেদের দেশের কোন এক ব্যক্তি যদি আর্থিকভাবে নিজের ভারবহন করার ব্যাপারে খুবই অক্ষম হয়ে পড়ে, তবে তোমরা অবশ্যই তাকে তোমাদের সঙ্গে একজন বিদেশী ও প্রবাসীর মত বসবাস করতে দেবে। 36তাকে তোমরা ধার দিতে পারো এমন কোন অর্থের ওপর সুদ তার কাছ থেকে নিও না। তোমাদের ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা কর এবং তোমাদের ভাইকে তোমাদের সঙ্গে বাস করতে দাও। 37তাকে ধার দিয়েছ এমন অর্থের উপর কোন সুদ তার কাছ থেকে লাভ করার চেষ্টা করো না। 38আমিই প্রভু তোমাদের ঈশ্বর। কনান দেশ দেওয়ার জন্য এবং তোমাদের ঈশ্বর হওয়ার জন্য আমি তোমাদের মিশর দেশ থেকে এনেছিলাম।
39“তোমাদের নিজেদের দেশের কোন ব্যক্তি যদি এত গরীব হয়ে পড়ে যে সে নিজেকে দাস হিসেবে তোমাদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হয়, তখন তোমরা অবশ্যই তাকে ভৃত্যের মত কাজে লাগাবে না। 40জুবিলী বছর না আসা পর্যন্ত, সে তোমাদের কাছে জন খাটার কর্মী এবং একজন বিদেশীর মতো হবে। 41তারপর সে তোমাদের ছেড়ে তার সন্তান-সন্ততিদের নিয়ে নিজের পরিবারে এবং তার পূর্বপুরুষদের সম্পত্তিতে ফিরতে পারে। 42কারণ তারা আমার দাস। আমি মিশরের দাসত্ব থেকে তাদের নিয়ে এসেছি। তারা অবশ্যই আবার দাস হবে না। 43তোমরা এই ব্যক্তির একজন নির্দয় প্রভু অবশ্যই হতে পারো না। তোমরা অবশ্যই তোমাদের ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা করবে।
44“তোমাদের চারপাশের অন্যান্য জাতিদের থেকে পুরুষ এবং নারী ভৃত্যদের তোমরা পেতে পারো। 45তোমরা শিশুদেরও দাস হিসেবে নিতে পার যদি তারা তোমাদের দেশে বসবাসকারী বিদেশীদের পরিবারসমূহ থেকে আসে। সেইসব শিশু ভৃত্যরা তোমাদের অধিকারে থাকবে। 46তোমরা এমনকি তোমাদের মৃত্যুর আগে এই সমস্ত বিদেশী দাসদের তোমাদের ছেলেমেয়েদের হেফাজতে দিয়ে যেতে পারো, যাতে তারা তোমাদের ছেলেমেয়েদের অধিকারে থাকে। তারা চিরকালের জন্য তোমাদের দাস হবে। তোমরা এইসব বিদেশীদের দাস বানাতে পারো; কিন্তু তোমরা অবশ্যই তোমাদের নিজেদের ভাইদের, ইস্রায়েলের লোকদের নির্দয় মনিব হবে না।
47“তোমাদের মধ্যে থেকে কোন বিদেশী বা দর্শনার্থী ধনী হতে পারে। অন্যদিকে তোমাদের দেশের এক ব্যক্তি গরীব হয়ে যেতে পারে এবং নিজেকে দাস হিসেবে তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী বিদেশীর কাছে বা বিদেশীদের পরিবারের কোন সদস্যর কাছে নিজেকে বিক্রি করতে পারে। 48সেই লোকটির অধিকার আছে ক্রয়ের মধ্যে দিয়ে ফিরে আসার এবং স্বাধীন হওয়ার। তার ভাইদের কোন একজন তাকে কিনে ফেরত পেতে পারে। 49অথবা তার কাকা বা খুড়তুতো ভাই তাকে কিনে ফেরত পেতে পারে। অথবা তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের একজন তাকে কিনে ফেরত পেতে পারে। বা যদি লোকটি প্রচুর অর্থ পায়, সে নিজে অর্থ শোধ করে আবার স্বাধীন হতে পারে।
50“তোমরা কেমনভাবে মূল্য ইস্রায়েলেচাই করবে? বিদেশীর কাছে তার নিজেকে বিক্রি করার সময়ের বছরগুলি থেকে পরের জুবিলী বছর পর্যন্ত তোমরা অবশ্যই গণনা করবে। মূল্য ঠিক করতে তোমরা সংখ্যাটা ব্যবহার করবে। কারণ প্রকৃতপক্ষে লোকটি কয়েক বছরের জন্য তাকে ‘ভাড়া’ করেছিল। 51যদি কোন ক্ষেত্রে জুবিলী বছরের আগে আরও অনেক বছর থেকে যায়, তখন লোকটি মূল্যের মোটা অংশ অবশ্যই ফেরত দেবে। এটা নির্ভর করে বছরের সংখ্যাসমুহের ওপর। 52জুবিলী বছর আসার যদি কেবলমাত্র সামান্য কয়েক বছর থাকে, তাহলে লোকটি অবশ্যই মূল মূল্যের সামান্য অংশ ফেরৎ দেবে। 53কিন্তু সেই লোকটি প্রতি বছর বিদেশীর সঙ্গে ভাড়া করা লোকের মত বসবাস করবে। সেই লোকটির প্রতি বিদেশীকে নির্দয় প্রভু হতে দিও না।
54“সেই লোকটিকে মুক্ত করার জন্য যদি কেউই দাম দিতে না চায় তাহলেও জুবিলী বছরে সে স্বাধীন হবে। জুবিলী বছরে সে এবং তার সন্তান-সন্ততিরা স্বাধীন হবে। 55কারণ ইস্রায়েলের লোকরা আমার দাস। তারা আমার দাস যেহেতু আমি তাদের মিশরের দাসত্বের বাইরে নিয়ে এসেছি। আমিই প্রভু তোমাদের ঈশ্বর!
26ঈশ্বরকে মান্য করার পুরস্কার
1“তোমাদের নিজেদের জন্য প্রতিমূর্ত্তি গড়বে না। তাদের প্রণাম করবার জন্যে তোমাদের দেশে মূর্ত্তি বা স্মৃতিফলকসমূহ গড়বে না। কেন? কারণ আমিই প্রভু তোমাদের ঈশ্বর!
2“আমার বিশ্রামের বিশেষ দিনগুলি মনে রেখো এবং আমার পবিত্র স্থানকে সম্মান দিও। আমিই প্রভু!
3“আমার বিধিসমূহ ও আজ্ঞাসমূহ মনে রেখো এবং তাদের মান্য করো। 4যদি তোমরা আমার আজ্ঞাসমূহ মেনে চলো তাহলে যে সময়ে বৃষ্টি আসা উচিৎ, আমি সে সময়ে তোমাদের বৃষ্টি দেবো। জমিতে শস্য উৎপন্ন হবে এবং মাঠের বৃক্ষগুলিতে ফল ধরবে। 5দ্রাক্ষা ফলগুলি সংগ্রহ করার সময় না আসা পর্যন্ত তোমাদের শস্যাদি মাড়াই চলতে থাকবে এবং রোপণের সময় না আসা পর্যন্ত তোমাদের দ্রাক্ষা সংগ্রহ চলতে থাকবে। সুতরাং খাবার জন্য তোমাদের প্রচুর খাবার থাকবে এবং তোমরা নির্ভয়ে তোমাদের দেশে বাস করবে। 6আমি তোমাদের দেশে শান্তি বজায় রাখবো। তোমরা শান্তিতে থাকবে। কোন মানুষ তোমাদের ভীত সন্ত্রস্ত করবে না। বিপজ্জনক প্রাণীদের তোমাদের দেশের বাইরে রাখবো। আর তোমাদের দেশে শত্রু সৈন্যরা আসবে না।
7“তোমরা তোমাদের শত্রুদের তাড়া করে পরাজিত করবে এবং তরবারি দিয়ে তাদের হত্যা করবে। 8তোমাদের পাঁচ জন তাদের 100 জনকে ধাওয়া করবে এবং 100 জন ধাওয়া করবে 10,000 জনকে। তোমরা তোমাদের শত্রুদের পরাজিত করবে এবং তোমাদের অস্ত্র দিয়ে তাদের হত্যা করবে।
9“আর আমি তোমাদের প্রতি প্রসন্ন হব। আমি তোমাদের অনেক সন্তান-সন্ততি দিয়ে আশীর্বাদ করব এবং তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করব। আমি তোমাদের সঙ্গে আমার চুক্তি রক্ষা করবো। 10এক বছরের বেশী সময় ধরে তোমরা তোমাদের জমা করা শস্য খাবে। তোমরা নতুন শস্যাদি ছেদন করবে, তারপর নতুন শস্যগুলি রাখার মত জায়গার জন্য পুরানো শস্যগুলিকে ফেলে দেবে। 11এছাড়াও আমি তোমাদের মধ্যে আমার পবিত্র শিবির বসাবো। আমি তোমাদের থেকে সরে যাবো না। 12আমি তোমাদের সঙ্গে ওঠা বসা করব, তোমাদের ঈশ্বর হবো এবং তোমরা হবে আমার লোকজন। 13আমিই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর। তোমরা মিশরে দাস ছিলে, কিন্তু আমি তোমাদের মিশরের বাইরে এনেছি। দাস হয়ে তোমরা ভারী ওজনের জিনিস বইতে গিয়ে নুয়ে থাকতে, কিন্তু আমি তোমাদের কাঁধের যোয়ালীর কাঠ ভেঙ্গে দিয়েছি। আমি তোমাদের আবার সোজা হয়ে হাঁটবার সুযোগ দিয়েছি।
ঈশ্বরকে না মানার শাস্তি
14“কিন্তু যদি তোমরা আমাকে এবং আমার সমস্ত আজ্ঞাগুলি মান্য না করো, তাহলে এই সমস্ত খারাপ ঘটনাগুলো ঘটবে। 15যদি তোমরা আমার বিধিসমুহ এবং আজ্ঞাগুলি মানতে অস্বীকার কর, তার অর্থ তোমরা আমার চুক্তি ভঙ্গ করেছো। 16যদি তোমরা তা করো, সেক্ষেত্রে আমি ভয়ঙ্কর সব ঘটনা ঘটাবো, আমি তোমাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেব রোগ এবং জ্বর। সেগুলি তোমাদের চোখ নষ্ট করবে এবং তোমাদের প্রাণ নেবে। তোমরা বৃথাই বীজ বপন করবে, কারণ তোমাদের শত্রুরা তোমাদের শস্যসমুহ খেয়ে নেবে। 17আমি তোমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াব, তাই তোমাদের শত্রুরা তোমাদের পরাজিত করবে। সেইসব শত্রুরা তোমাদের ঘৃণা করবে এবং শাসন করবে। এমন কি তোমাদের কেউ তাড়া না করলেও তোমরা পালাতে থাকবে।
18“এই সমস্ত কিছুর পরও যদি তোমরা আমাকে মান্য না করো, তবে আমি তোমাদের পাপসমুহের জন্য সাতগুণ বেশী শাস্তি দেবো। 19এবং যা তোমাদের গর্বিত করে সেই শহরগুলিকেও আমি ধ্বংস করে দেবো। আকাশ বৃষ্টি দেবে না এবং মাটিতেও শস্য জন্মাবে না। 20তোমরা কঠিন পরিশ্রম করবে, কিন্তু তাতে তোমাদের কোন সাহায্য হবে না। তোমাদের জমি কোন শস্য দেবে না এবং তোমাদের গাছগুলিতে ফল ফলবে না।
21“যদি তা সত্ত্বেও তোমরা আমার বিরুদ্ধে থাকো এবং আমাকে মান্য করতে অস্বীকার করো, আমি তোমাদের সাতগুণ কঠিন আঘাত করব। তোমরা যত পাপ করবে, তত শাস্তি পাবে। 22আমি তোমাদের বিরুদ্ধে বুনো জন্তুদের পাঠাবো। তারা তোমাদের কাছ থেকে তোমাদের ছেলেমেয়েদের ছিনিয়ে নেবে, তোমাদের প্রাণীদের ধ্বংস করবে এবং তোমাদের অনেককে হত্যা করবে। লোকরা হাঁটাচলা করতে ভয় পাবে—রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাবে।
23“ঐ সমস্ত কিছুর পরও তোমরা যদি উচিৎ শিক্ষা না পাও এবং তারপরও যদি আমার বিরুদ্ধাচারী হও, 24তাহলে আমিও তোমাদের বিরুদ্ধে যাবো। আমি নিজে তোমাদের পাপসমুহের সাতগুণ শাস্তি দেব। 25চুক্তিভঙ্গ করার শাস্তি দিতে আমি তোমাদের বিরুদ্ধে সৈন্যদের পাঠাবো। তোমরা তোমাদের নিরাপত্তার জন্য শহরে যাবে; কিন্তু আমি তোমাদের মধ্যে মহামারী ছড়িয়ে দেব। এবং তোমাদের শত্রুরা তোমাদের পরাজিত করবে। 26আমি তোমাদের খাদ্য যোগানো বন্ধ করে দিলে একটি মাত্র উনুনে দশ জন মহিলা তাদের সমস্ত রুটি সেঁকতে পারবে। তারা তোমাদের মেপে খেতে দেবে তাই তোমরা আহার করবে কিন্তু তবু ক্ষুধার্ত থাকবে।
27“তা সত্ত্বেও তোমরা যদি আমার কথা শুনতে অস্বীকার করো এবং যদি তবু আমার বিরুদ্ধাচারণ করো, 28তাহলে আমি সত্যিই তোমাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হবো এবং তোমাদের পাপসমুহের জন্য সাতগুণ শাস্তি দেব। 29তোমরা এত বেশী ক্ষুধার্ত হবে যে তোমরা তোমাদের ছেলেদের এবং মেয়েদের ভক্ষণ করবে। 30আমি তোমাদের উচ্চ স্থানগুলিকে+ 26:30 উচ্চ স্থানগুলিকে ঈশ্বর অথবা মূর্ত্তির উপাসনার জায়গা। এগুলি সাধারণতঃ পাহাড় পর্বতের ওপর হত। এবং মূর্ত্তির স্থানগুলিকে ধ্বংস করব। আমি সুগন্ধী উৎসর্গ করার বেদীগুলি নষ্ট করে দেব। আমি তোমাদের মৃতদেহগুলিকে তোমাদের মূর্ত্তির ওপর ফেলে দেব। আমার কাছে তোমরা হবে নিদারুণ বিরক্তিকর। 31আমি তোমাদের শহরগুলি ধ্বংস করব, তোমাদের পবিত্র স্থানগুলিকে ফাঁকা করে দেব। আমি তোমাদের নৈবেদ্যসমুহের সুগন্ধের গন্ধ আর নেবো না। 32আমি তোমাদের দেশকে ফাঁকা করব এবং তোমাদের শত্রুরা যারা সেখানে বসবাস করতে আসবে তারা তাই দেখে চমকে উঠবে। 33আমি তোমাদের জাতিগুলির মধ্যে ছড়িয়ে দেব এবং আমি আমার তরোয়াল বার করে তোমাদের ধ্বংস করব। তোমাদের দেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে এবং শহরগুলি উচ্ছন্নে যাবে।
34“তোমরা তোমাদের শত্রুর দেশে আনীত হবে। তোমাদের দেশ হবে শূন্য, সুতরাং তোমাদের জমি নিয়ম অনুযায়ী তার বিশ্রাম পাবে। জমি তার বিশ্রাম সময়কে উপভোগ করবে। 35বিধি অনুযায়ী প্রতি সাত বছরে জমি এক বছর বিরাম পাবে। জমি শূন্য থাকার সময়ে বিরাম পাবে যা সেখানে তোমরা বাস করার সময় তাকে দাও নি। 36প্রাণে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা+ 26:36 প্রাণে … ব্যক্তিরা লোকরা যারা ধ্বংস থেকে রক্ষা পায়। এখানে এর অর্থ ইহুদী লোকরা তাদের জমি ধ্বংসের সময় রক্ষা পেয়েছিল এবং তাদের শত্রুদের দেশে বন্দী হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাদের শত্রুর দেশে নিজেদের সাহস হারাবে। তারা প্রত্যেক বিষয়ে আতঙ্কিত হবে। বাতাসে নড়া পাতার শব্দই তাদের ছুটে পালানোর পক্ষে যথেষ্ট হবে। তারা এমনভাবে দৌড়াতে থাকবে যেন কেউ তাদের তরবারি নিয়ে তাড়া করছে। এমন কি কেউ তাড়া না করলেও তারা উল্টে পড়বে। 37কেউ পিছনে তাড়া না করলেও তরবারির ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে তারা একে অপরের গায়ে উল্টে পড়বে।
“শত্রুদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো শক্তি তোমাদের হবে না। 38অন্য দেশগুলির মধ্যে তোমরা হারিয়ে যাবে। তোমাদের শত্রুদের দেশে তোমরা মুছে যাবে। 39প্রাণে বেঁচে যাওয়া অবশিষ্ট লোকরা শত্রুদের রাজ্যগুলিতে তাদের নিজেদের পাপে এবং পূর্বপুরুষদের পাপে ক্ষয়ে যাবে।
আশা ভরসার কথা
40“কিন্তু হতে পারে লোকরা তাদের পাপসমুহ স্বীকার করবে এবং হয়তো তারা তাদের পূর্বপুরুষদের পাপসমুহকে স্বীকার করবে। তারা হয়তো স্বীকার করবে যে তারা আমার প্রতি অবিশ্বস্ত হয়েছিল এবং আমার বিরুদ্ধাচারী হয়ে পাপ করেছিল। 41এবং তাই আমিও তাদের বিরুদ্ধে গিয়েছিলাম এবং শত্রুদের তাদের রাজ্যে এনেছিলাম। এরপর যদি তারা নম্র হয় এবং তাদের পাপের জন্য দেওয়া শাস্তিকে গ্রহণ করে, 42তাহলে ইস্রায়েলে যাকোবের সঙ্গে আমার করা সেই চুক্তিকে আমি স্মরণ করব। আমি ইস্হাকের সঙ্গে করা চুক্তিকে স্মরণ করব এবং অব্রাহামের সঙ্গে করা চুক্তিকে স্মরণ করব। আমি দেশকে স্মরণ করব।
43“দেশ শূন্য হয়ে যাবে এবং ধ্বংসস্থান তার বিশ্রামের সময় উপভোগ করবে। তখন অবশিষ্ট জীবিতরা তাদের পাপের শাস্তিকে মেনে নেবে। তারা বুঝবে যে তারা আমার বিধিসমুহকে ঘৃণা করেছিল এবং আমার নিয়মাবলীকে মানতে অস্বীকার করেছিল বলে শাস্তি পেয়েছিল। 44কিন্তু এর পরেও শত্রুদের দেশে থাকাকালীন তারা যদি আমার কাছে সাহায্যের জন্য ফিরে আসে আমি তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেব না। আমি তাদের কথা শুনবো। আমি তাদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করব না। আমি তাদের সঙ্গে আমার চুক্তি ভঙ্গ করব না কারণ আমিই প্রভু তাদের ঈশ্বর। 45তাদের ভালোর জন্যই আমি তাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে করা চুক্তি স্মরণ করব। আমি অন্য জাতিদের সামনেই মিশর দেশ থেকে তাদের পূর্বপুরুষদের এনেছিলাম, যাতে আমি তাদের ঈশ্বর হতে পারি। আমিই প্রভু।”
46ঐগুলি হল বিধি, নিয়ম এবং শিক্ষামালা ইস্রায়েলে প্রভু ইস্রায়েলের লোকদের দিয়েছিলেন। প্রভু সীনয় পর্বতে ঐ বিধিগুলিকে দিয়েছিলেন এবং মোশি সেগুলি লোকদের জানিয়েছিল।
27প্রতিশ্রুতিসমূহ গুরুত্বপূর্ণ
1প্রভু মোশিকে বললেন, 2“ইস্রায়েলের লোকদের বলো: এক ব্যক্তি প্রভুর কাছে বিশেষ মানত হিসাবে কোন ব্যক্তিকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। ঐ লোকটি তখন বিশেষ পদ্ধতিতে প্রভুর সেবা করবে। ঐ লোকটির জন্য যাজক অবশ্যই মূল্য ঠিক করবে। ঐ লোকটিকে ফেরত পেতে হলে এই দাম দিতে হবে। 3কুড়ি থেকে ষাট বছর বয়সের মধ্যেকার একজন পুরুষের দাম রূপোর 50 শেকেল। (তোমরা অবশ্যই পবিত্র স্থানের মাপ অনুসারে রূপোর মাপ ব্যবহার করবে।) 4একজন স্ত্রীলোকের মূল্য অর্থাৎ 20 থেকে 60 বছর বয়সীর দাম 30 শেকেল। 5পাঁচ থেকে কুড়ি বছর বয়সী একজন পুরুষের দাম 20 শেকেল। পাঁচ থেকে কুড়ি বছর বয়সী একজন স্ত্রীলোকের দাম 10 শেকেল। 6একমাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক ছোট ছেলের দাম 5 শেকেল। একটি ছোট মেয়ের দাম হল 3 শেকেল। 7ষাট বছরের বৃদ্ধ বা তার থেকে বেশী বয়সের মানুষের দাম হল 15 শেকেল। একজন স্ত্রীলোকের মূল্য 10 শেকেল।
8“যদি কোন মানুষ এত গরীব হয় যে দান দিতে অক্ষম, তাহলে সেই লোকটিকে যাজকের কাছে নিয়ে এসো। কত অর্থ লোকটিকে দিতে হবে, তা যাজক ঠিক করবে।
প্রভুর প্রতি উপহারসমূহ
9“যদি কোন ব্যক্তি তার পশুগুলির মধ্যে কোন একটিকে প্রভুর প্রতি উৎসর্গ হিসাবে নিয়ে আসে, তাহলে সেই ধরণের সব পশু হবে পবিত্র। 10লোকটি প্রভুকে যে প্রাণীটি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার জায়গায় অন্য প্রাণী যেন না রাখে, খারাপ পশুর জায়গায় একটা ভাল পশু দিয়ে বা ভাল পশুর জায়গায় একটা খারাপ পশু দিয়ে সে যেন বদলাবার চেষ্টা না করে। যদি এই ব্যক্তি প্রাণীসমূহ বদলের চেষ্টা করে, তাহলে দুটি প্রাণীই পবিত্র হবে। দুটি প্রাণী প্রভুর অধিকারে যাবে।
11“অশুচি বলে যে সব প্রাণী ঈশ্বরের প্রতি নৈবেদ্য হিসেবে প্রদত্ত হতে পারে না, যদি কোন ব্যক্তি সেইসব অশুচি প্রাণীদের একটি প্রভুর কাছে আনে, তাহলে সেই প্রাণীটিকে অবশ্যই যাজকের কাছে আনতে হবে। 12যাজক সেই প্রাণীটির জন্য একটি দাম নির্দিষ্ট করবে। প্রাণীটি ভাল বা মন্দ হোক্, তাতে কিছু আসে যায় না। যদি যাজক একটি মূল্য ঠিক করে তাতে সেটা হবে প্রাণীটির মূল্য। 13যদি লোকটি প্রাণীটিকে কিনে ফেরত নিতে চায়, তাহলে সে অবশ্যই দামের পাঁচভাগের এক ভাগ ঐ দামের সঙ্গে যোগ করবে।
বাড়ীর মূল্য
14“যদি কোন ব্যক্তি পবিত্র বিষয় হিসেবে তার বাড়ীটি প্রভুর প্রতি উৎসর্গ করে, তাহলে যাজক অবশ্যই তার দাম ঠিক করবে। বাড়ীটি ভালো বা খারাপ, তাতে কিছু যায় আসে না। যদি যাজক কোন দাম নির্দিষ্ট করে দেয় তাহলে তাই হবে বাড়ীটির দাম। 15কিন্তু দাতা যদি তা ফেরত পেতে চায়, তাহলে সে অবশ্যই ঐ দামের ওপর দামের পাঁচ ভাগের একভাগ যোগ করবে। তাতে বাড়ীটি লোকটির অধিকারে যাবে।
সম্পত্তির মূল্য
16“যদি এক ব্যক্তি প্রভুর কাছে তার জমির অংশ উৎসর্গ করতে চায়, তবে ঐ জমির মূল্য নির্ভর করবে তা চাষ করতে কি পরিমাণ বীজের প্রয়োজন হয় তার ওপর। প্রতি হোমার+ 27:16 হোমার এক হোমার প্রায় 18 কেজি। শুকনো জিনিসের ওজন যা প্রায় 6 বুশেলের সমান। এক ঝুড়ি যবের বীজের জন্য এর মূল্য হবে রূপোর 50 শেকেল। 17যদি ব্যক্তিটি জুবিলী বছরের মধ্যে তার জমি ঈশ্বরকে দেয়, তাহলে তার দাম যাজক যা ঠিক করবে তাই হবে। 18কিন্তু যদি লোকটি জুবিলীর পরে দেয়, তাহলে যাজক অবশ্যই তার প্রকৃত দাম গণনা করবে। পরবর্তী জুবিলী পর্যন্ত বছরের সংখ্যা গণনা করে দাম নির্ণয় করতে সেই সংখ্যা অবশ্যই ব্যবহার করবে। 19যদি লোকটি তা কিনে ফেরত পেতে চায়, তাহলে সে ঐ দামের ওপর পাঁচ ভাগের এক ভাগ যোগ করবে। তাহলে জমি আবার সেই ব্যক্তির অধিকারে যাবে। 20যদি ব্যক্তিটি জমি কিনে ফেরত না নেয় তবে তা যাজকদের দখলে থাকবে। যদি জমি অপর কাউকে বিক্রয় করা হয়, তাহলে প্রথম ব্যক্তি জমি কিনে ফেরত পেতে পারবে না। 21যদি ব্যক্তিটি জমি কিনে ফেরত না নিয়ে থাকে, তাহলে জুবিলী বছরে জমিটি প্রভুর কাছে পবিত্র হয়ে থাকবে। এটা যাজকের কাছে চিরকালের জন্য থেকে যাবে। এটা হবে প্রভুর কাছে সম্পূর্ণরূপে প্রদত্ত জমির মত।
22“যদি কোন ব্যক্তি তার কেনা জমি প্রভুকে উৎসর্গ করে এবং যদি তা তার পারিবারিক সম্পত্তির অংশ না হয়, 23তাহলে যাজক অবশ্যই জুবিলী বছর পর্যন্ত বছর গণনা করে জমির দাম ঠিক করবে। এই মূল্য সেই দিনই লোকটিকে দিতে হবে আর এই অর্থ প্রভুর উদ্দেশ্যে পবিত্র। 24জুবিলী বছরে যদি আদি মালিকের কাছে অর্থাৎ যে পরিবার জমির মালিক তার কাছে ফিরে যাবে।
25“তোমরা অবশ্যই সেই সব দাম মেটাতে পবিত্র স্থানের মাপ ব্যবহার করবে। সেই মাপে এক শেকেলের ওজন হল 20 গেরা।
প্রাণীদের মূল্য
26“প্রথমজাত প্রাণী, সে গোরু বা মেষ হোক্ তাকে প্রভুর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার প্রয়োজন নেই, কারণ তা তো প্রভুরই। 27কিন্তু সেই প্রথমজাত প্রাণী একটি অপবিত্র প্রাণী হলে লোকটি অবশ্যই ঐ প্রাণীকে কিনে ফেরত নেবে। যাজক প্রাণীর দাম নির্দ্ধারণ করবে এবং ব্যক্তিটি অবশ্যই সেই দামের সঙ্গে দামের পাঁচ ভাগের এক ভাগ যোগ করবে। যদি ব্যক্তিটি সেই প্রাণীটিকে কিনে ফেরত না দেয় তাহলে যাজক প্রাণীটির যে দাম নির্দিষ্ট করেছে সেই দামে অবশ্যই বিক্রয় করে দেবে।
বিশেষ উপহারসমুহ
28“এক বিশেষ ধরণের উপহার+ 27:28 বিশেষ … উপহার এটা সাধারণতঃ যুদ্ধে পাওয়া জিনিসপত্রকে বোঝায়। ঐ জিনিসগুলি (উপহারগুলি) শুধুমাত্র প্রভুরই, সুতরাং সেগুলি আর কোন কিছুর জন্যেই ব্যবহার করা যেত না। আছে যা লোকরা প্রভুকে দেয়। সেই উপহার একমাত্র প্রভুর অধিকারেই থাকে। সেই উপহারকে কিনে নেওয়া বা বিক্রয় করা যায় না। সেই উপহার থাকে প্রভুর অধিকারে। সেই ধরণের উপহারের মধ্যে পড়ে মানুষ, প্রাণী এবং পারিবারিক সম্পত্তি থেকে আগত জমি। 29প্রভুর প্রতি বিশেষ ধরণের উপহার যদি কোন ব্যক্তি হয় তা হলে তাকে মুক্ত করা যাবে না। সেই ব্যক্তিকে অবশ্যই নিহত হতে হবে।
30“সমস্ত শস্যের দশমাংশ প্রভুর অধিকারে থাকে। এর অর্থ হলো, জমি থেকে কেটে আনা শস্য এবং গাছ থেকে আনা ফল ফলাদি, এসবের দশমাংশ প্রভুর অধিকারভুক্ত। 31সুতরাং যদি একজন লোক তার দশমাংশ ফেরত পেতে চায়, তবে সে অবশ্যই এর দামের পাঁচ ভাগের একভাগ যোগ করবে এবং তারপর তা কিনে নেবে।
32“যাজকরা প্রত্যেক ব্যক্তির গোরু বা মেষদের মধ্যে থেকে প্রতি দশটির জন্য একটি করে প্রাণী নেবে এবং তা হবে প্রভুর উদ্দেশ্যে পবিত্র। 33পছন্দ করা প্রাণীটি ভাল না খারাপ এইসব পরীক্ষা চলবে না এবং একটির পরিবর্তে অন্য প্রাণী দেওয়া যাবে না। যদি সে অন্য প্রাণী দিয়ে তা বদলাতে মনস্থ করে, তাহলে দুটি প্রাণীই প্রভুর অধিকারে থাকবে। ঐ প্রাণীকে কিনে নিতে পারবে না।”
34এইগুলি ইস্রায়েলের লোকদের জন্য সীনয় পর্বত থেকে মোশিকে দেওয়া প্রভুর আদেশসমুহ।