যিহোশূয়ের পুস্তক
1ইস্রায়েল জাতিকে নেতৃত্ব দিতে ঈশ্বর যিহোশূয়কে মনোনয়ন করলেন
1মোশি ছিলেন প্রভুর দাস। তাঁর সহকারী ছিলেন নূনের পুত্র যিহোশূয়। মোশির মৃত্যুর পর প্রভু যিহোশূয়কে বললেন, 2“আমার দাস মোশি মারা গেছে। এখন তুমি এইসব লোকদের নিয়ে যর্দন নদী পেরিয়ে যাও। তোমাদের সেই দেশে যেতে হবে যেটা আমি তোমাদের ইস্রায়েলবাসীদের দিচ্ছি। 3আমি মোশিকে যেমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই রকম ভাবেই সেখানে তোমরা পদার্পণ করবে। সেই সব জায়গা আমি তোমাদের দেব। 4হিত্তীয়দের সমস্ত জমি, মরুভূমি এবং লিবানোন থেকে শুরু করে মহানদী (ফরাৎ নদী) পর্যন্ত তোমাদের হবে। এখান থেকে পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর, (যেখানে সূর্য অস্তাচলে নামে) সমস্ত ভূখণ্ডই জেনো তোমাদের হবে। 5মোশির সঙ্গে আমি যেমন ছিলাম তোমার সঙ্গেও আমি ঠিক তেমনি থাকব। কেউ তোমাকে কোন দিন রুখতে পারবে না। আমি তোমাকে ছেড়ে কখনই যাব না। আমি তোমাকে কখনই ত্যাগ করব না।
6“যিহোশূয়, শক্তিমান হও, সাহসী হও। তুমি এই লোকদের এমন ভাবে নেতৃত্ব দেবে, যাতে তারা নিজেদের দেশ অধিকার করতে পারে। আমি তাদের পিতৃপুরুষদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে এ দেশ তাদের হাতে তুলে দিয়ে যাব! 7কিন্তু আর একটি বিষয়েও তোমাকে শক্ত ও সাহসী হতে হবে। আমার দাস মোশি যে নির্দেশগুলি দিয়ে গেছে, সেগুলি অবশ্যই তোমাকে মেনে চলতে হবে। তুমি যদি তার নীতি হুবহু মেনে চলো, তবে সব কাজেই তোমার সাফল্য নিশ্চিত। 8বিধি পুস্তকে যা-যা লেখা আছে সর্বদাই সে সব মনে রেখো। ঐ পুস্তক দিন রাত পাঠ করো। তাহলে লিখিত নির্দেশগুলি তুমি নিশ্চয়ই পালন করতে পারবে। যদি এই কাজ সম্পূর্ণভাবে করতে পার তাহলে তুমি বুদ্ধিমানের মত চলবে ও তুমি যা কিছু করবে তাতেই কৃতকার্য হবে। 9মনে রেখো, আমি তোমাকে শক্তিমান ও সাহসী হতে বলেছি। তাই বলছি ভয় পেও না। তুমি যেখানেই যাও, প্রভু, তোমার ঈশ্বর, তোমার সঙ্গে রয়েছেন।”
যিহোশূয় কর্ত্তৃত্ব নিলেন
10তখন যিহোশূয় দলপতিদের আদেশ দিলেন। তিনি তাদের বললেন, 11“পুরো শিবিরটা ঘুরে এসো এবং লোকদের প্রস্তুত হতে বলো। তাদের বলো, ‘খাদ্য যেন মজুত থাকে। বলো আর তিনদিন পর আমরা যর্দন নদী অতিক্রম করব। নদী পেরিয়ে আমরা সে দেশেই যাব যে দেশ স্বয়ং প্রভু, তোমার ঈশ্বর, তোমাদের দান করেছেন।’”
12তারপর যিহোশূয় রূবেণ ও গাদ পরিবারগোষ্ঠীর সঙ্গে এবং মনঃশিদের অর্ধেক পরিবারগোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বললেন। তিনি বললেন, 13 “মনে রেখো প্রভুর দাস মোশি তোমাদের কি বলেছেন। তিনি বলেছিলেন, প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের থাকার জন্য জায়গা দেবেন। প্রভুই তোমাদের সেই দেশ দান করবেন। বস্তুত, যর্দন নদীর পূর্ব তীরের দেশটি ইতিমধ্যেই মোশি তোমাদের সম্প্রদান করেছেন। তোমাদের স্ত্রী-পুত্ররা, তোমাদের পশুরা সেখানে থাকবে। কিন্তু তোমাদের সৈন্যরা যেন অবশ্যই তোমাদের ভাইদের নিয়ে যর্দন নদী পেরিয়ে যায়। যুদ্ধের জন্য সকলেই তৈরী থেকো। সে দেশের দখল নিতে তাদের সর্বপ্রকার সাহায্য কোরো। 15প্রভু তোমাদের বিশ্রামের জন্য স্থান করে দিয়েছেন। তিনি তোমাদের ভাইদের জন্যও সেই একই ব্যবস্থা করবেন। যতদিন না তারা তাদের ঈশ্বর প্রদত্ত সেই দেশ পাচ্ছে তোমরা তাদের সাহায্য কোরো। তারপর তোমরা নিজেদের বাসভূমিতে অর্থাৎ যর্দন নদীর পূর্ব তীরের সেই দেশে ফিরে এসো। প্রভুর দাস মোশি তোমাদের এই দেশ দিয়েছিলেন।”
16যিহোশূয়র কথার উত্তরে লোকরা বলল, “আপনি যা আদেশ করবেন, আমরা সবই পালন করব। যেখানে যেতে বলবেন যাব! 17যা বলবেন মেনে চলব, যেমন ভাবে মোশির আদেশ আমরা মেনে চলতাম। আমরা শুধু প্রভুর কাছে একটা জিনিসই চাইব। আমরা চাই প্রভু আপনার ঈশ্বর যেন আপনার সঙ্গে সর্বদাই বিরাজ করেন, যেমন মোশির সঙ্গে তিনি সর্বদাই থাকতেন। 18যদি কেউ আপনার আদেশ অমান্য করে কিংবা আপনার বিরুদ্ধাচরণ করে তাকে আমরা হত্যা করবই। আপনি কেবল বলবান ও সাহসী হোন।”
2যিরীহোর গুপ্তচরবাহিনী
1নূনের পুত্র যিহোশূয় এবং অন্য সকলে শিটীম শহরে শিবির স্থাপন করলেন। তারপর যিহোশূয় সকলের অজ্ঞাতে দুজন গুপ্তচরকে পাঠালেন। তিনি তাদের বললেন, “দেশটা ভাল করে ঘুরে দেখে এসো, বিশেষ করে যিরীহো শহরটার দিকে নজর রেখো।”
তারা যিরীহোর দিকে রওনা হল। সেখানে তারা এক গণিকাগৃহে উঠল। তার নাম রাহব।
2কোন একজন গিয়ে যিরীহোর রাজার কাছে বলল, “কাল রাত্রে ইস্রায়েল থেকে কিছু লোক আমাদের দেশের কোথায় কি দুর্বলতা আছে দেখবার জন্যই এসেছে।”
3তখন যিরীহোর রাজা রাহবের কাছে বার্তা পাঠালেন, “যারা তোমার বাড়ীতে রয়েছে তাদের লুকিয়ে রেখো না। তাদের বার করে দাও। তারা তোমাদের দেশে গুপ্তচর বৃত্তি করতে এসেছে।”
4রাহব দুজনকে লুকিয়েই রেখেছিল। সে বলল, “এরা এসেছিল ঠিকই, কিন্তু কোথা থেকে এসেছিল তা জানি না। 5সন্ধ্যাবেলা নগরের ফটক বন্ধ হবার সময় তারা দুজন চলে গেল। কোথায় গেল তাও জানি না। তাড়াতাড়ি তাদের পেছনে পেছনে যাও, হয়তো তুমি তাদের ধরে ফেলতেও পারো।” 6(আসলে রাহব ওদের কাছে যাই বলুক, ঐ দুজনকে সে ছাদের উপরে মসিনার ডাঁটার মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল।)
7রাজার লোকরা নগরের বাইরে বেরিয়ে গেল। নগরের সমস্ত ফটক বন্ধ করে দেওয়া হল। তারা ইস্রায়েল থেকে আসা ঐ দুজনের খোঁজে বেরিয়ে যর্দন নদীর ধারে এসে পৌঁছাল আর নদীর যেখানে যেখানে লোক পারাপার করে সেসব জায়গায় খোঁজ করতে লাগল।
8এদিকে ওরা দুজন যখন শুয়ে পড়ার আয়োজন করছে রাহব ছাদে উঠে এলো। 9সে তাদের বলল, “আমি জানি প্রভু তোমাদের লোকদের এই দেশ দিয়েছেন। তোমরা আমাদের ভয় পাইয়ে দিয়েছ। এ দেশের সমস্ত মানুষ তোমাদের ভয় করে। 10আমরা ভয় পেয়েছি কারণ আমরা শুনেছি যে কিভাবে প্রভু তোমাদের সহায় হয়েছিলেন। আমরা শুনেছি মিশর থেকে আসার সময় তিনি লোহিত সাগরের জল শুকিয়ে দিয়েছিলেন। আমরা এও শুনেছি সীহোন আর ওগ নামের দুজন ইমোরীয় রাজাকে তোমরা কি করেছিলে। আমরা জানি যর্দ্দনের পূর্বতীরে ঐ রাজাদের তোমরা কিভাবে ধ্বংস করেছিলে। 11এইসব বৃত্তান্ত শুনে আমরা আতঙ্কিত হয়ে আছি। আমাদের মধ্যে এমন বীর কেউ নেই যে তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে। এর কারণ তোমাদের প্রভু ঈশ্বর ওপরে স্বর্গ আর নীচে এই বিশ্বলোকের শাসনকর্তা। 12আমি তো তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সাহায্য করেছি, তাই তোমাদের কাছে আমি একটা কথা দিতে অনুরোধ করছি। প্রভুর সামনে শপথ করে বলো তোমরা আমার পরিবারের প্রতি দয়া করবে। বলো করবে তো? 13কথা দাও আমার পরিবারের সকলকে বাঁচিয়ে রাখবে। আমার মাতা, পিতা, ভাই-বোন আর তাদের সংসারের সকলকে বাঁচিয়ে রেখো। প্রতিশ্রুতি দাও মৃত্যুর হাত থেকে তোমরা আমাদের রক্ষা করবে।”
14ওরা দুজন সম্মত হল। তারা বলল, “জীবন দিয়ে আমরা তোমাদের রক্ষা করব। কিন্তু কাউকে বলবে না আমরা কি করছি। প্রভু যখন আমাদের নিজস্ব দেশ আমাদের দেবেন তখন তোমাদের তো কৃপা করবই। তোমরা আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারো।”
15স্ত্রীলোকটির বাড়ী নগর প্রাচীরের গায়ে তৈরী করা হয়েছিল। এটা প্রাচীরেরই এক অংশ ছিল। সে জানালা দিয়ে একটা মোটা দড়ি ঝুলিয়ে দিল যাতে সেটা বেয়ে বেয়ে ওরা বেরিয়ে যেতে পারে। 16স্ত্রীলোকটি বলল, “পশ্চিমে পাহাড়ের দিকে তোমরা চলে যাও। তাহলে হঠাৎ করে রাজার সৈন্যরা তোমাদের খুঁজে পাবে না। ওখানে তিনদিন তোমরা আত্মগোপন করে থাকো। সৈন্যরা ফিরে এলে তোমরা তোমাদের পথে ফিরে যেও।”
17তারা বলল, “আমরা তোমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি কিন্তু তোমাকে যে একটা কাজ করতে হবে, নইলে কথা রাখতে না পারলে আমরা দায়ী হব না। 18আমাদের পালানোর জন্য তুমি এই লাল দড়িটা কাজে লাগিয়েছ। আমরা তো অবশ্যই এখানে ফিরে আসছি। তখন কিন্তু এই দড়িটা আবার জানালায় ঝুলিয়ে রাখবে। তুমি অবশ্যই তোমার বাড়ীতে মাতা, পিতা, ভাই-বোনদের এবং তোমার সমস্ত পরিবারবর্গকে নিয়ে আসবে। 19এই বাড়ীতে যারাই থাকবে তাদের প্রত্যেককে আমরা রক্ষা করব। কেউ যদি আহত হয় তার জন্য আমরা দায়ী থাকব। কিন্তু কেউ যদি বাড়ীর বাইরে থাকে তাহলে সে হত হতে পারে, সে ক্ষেত্রে আমরা দায়ী হব না। সে ক্ষেত্রে দোষ তার নিজের। 20তোমার সঙ্গে এই আমাদের চুক্তি হয়ে রইল। কিন্তু তুমি যদি কাউকে এসব ফাঁস করে দাও তাহলে এই চুক্তি আর চুক্তি থাকবে না।”
21স্ত্রীলোকটি বলল, “তোমরা যা যা বলেছ সব আমি করব।” সে তাদের বিদায় জানাল। তারা তার বাড়ী থেকে বেরিয়ে গেল। লাল দড়িটা সে জানালায় বেঁধে দিল।
22তারা বাড়ী থেকে বেরিয়ে পাহাড়ের দিকে যাত্রা করল। তারা সেখানে তিনদিন রইল। রাজপ্রহরীরা সমস্ত রাস্তায় নজরদারি করতে লাগল। তিনদিন এভাবে কেটে যাবার পর তারা আশা ছেড়ে দিয়ে নগরে ফিরে এলো। 23তারপর লোক দুটি পাহাড় পেরিয়ে, নদী পেরিয়ে নূনের পুত্র যিহোশূয়র কাছে ফিরে এলো। তারা যা যা দেখেছে সব তাকে জানাল। 24যিহোশূয়কে তারা বলল, “প্রভু যথার্থই সমস্ত দেশটা আমাদের দিয়ে গেছেন। ওদেশের সমস্ত লোক আমাদের ভয়ে ভীত হয়ে আছে।”
3যর্দন নদীতে অলৌকিক ঘটনা
1পরদিন খুব সকালে যিহোশূয় আর ইস্রায়েলের সমস্ত লোক উঠে শিটীম ছেড়ে চলে গেল। তারা যর্দ্দনের পারে গিয়ে পৌঁছল। নদী পেরোনোর আগে সেখানেই তাঁবু খাটাল। 2তিন দিন পর, দলপতিরা শিবিরের সর্বত্র ঘুরে দেখলেন। 3তারপর তাঁরা সকলকে বললেন, “তোমরা যখন যাজকদের এবং লেবীয়দের প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের সাক্ষ্যসিন্দুক বহন করতে দেখবে তখন তোমরা অবশ্যই তাদের অনুসরণ করবে। 4কিন্তু দেখো যেন খুব কাছে থেকে অনুসরণ কোরো না। প্রায় 1000 গজ তফাতে থাকবে। তোমরা এখানে আগে আসোনি, তাই যদি তাদের অনুসরণ করো, জানতে পারবে কোথায় তোমাদের গন্তব্য।”
5তারপর যিহোশূয় তাদের বললেন, “নিজেদের পবিত্র করো। আগামীকাল প্রভু তোমাদের উপস্থিতিতে কিছু আশ্চর্য কাজ করবেন।”
6যিহোশূয় যাজকদের বললেন, “সাক্ষ্যসিন্দুক নিয়ে সকলের সামনে দিয়েই নদী পেরিয়ে যাও।” তারা তাই করল।
7প্রভু যিহোশূয়কে বললেন, “আজ আমি তোমাকে মহাপুরুষ করে গড়ে তোলবার কাজে প্রবৃত্ত হব। ইস্রায়েলের সমস্ত লোক তোমার দিকে তাকিয়ে থাকবে। তারা জানবে যে আমি তোমার সঙ্গে আছি, যেমন মোশির সঙ্গে ছিলাম। 8যাজকরা সাক্ষ্যসিন্দুক বহন করবে। একথা তাদের বোলো, ‘আপনারা যর্দন নদীর তীর পর্যন্ত হেঁটে যাবেন এবং নদীতে পা রাখার ঠিক আগেই থেমে যাবেন।’”
9তারপর ইস্রায়েলের লোকদের উদ্দেশ্যে যিহোশূয় বললেন, “তোমরা সকলে এখানে এসো এবং তোমাদের প্রভু, ঈশ্বরের বার্তা শ্রবণ করো। 10প্রমাণ আছে জীবন্ত ঈশ্বর যথার্থই তোমাদের সঙ্গে আছেন। প্রমাণ আছে, তিনি সত্যই তোমাদের শত্রুকে পরাজিত করবেন। তিনি কনানীয়, হিত্তীয়, হিব্বীয়, পরিষীয়, গির্গাশীয়, ইমোরীয় এবং যিবুষীয়দের পরাজিত করবেন। ঐ ভুখণ্ড থেকে তিনি তাদের চলে যেতে বাধ্য করবেন। 11এই হল প্রমাণ। তোমরা যখন যর্দন নদী পেরোবে, তখন প্রভু, যিনি সমস্ত ভূমণ্ডলের অধিকারী, তাঁর সাক্ষ্যসিন্দুক তোমাদের আগে আগে যাবে। 12এখন তোমাদের মধ্যে থেকে বারোজনকে তোমরা বেছে নাও। 13যাজকরা প্রভুর সাক্ষ্যসিন্দুক বহন করবেন। প্রভুই সমস্ত ভূমণ্ডলের রাজাধিরাজ। যাজকরা তোমাদের সামনে দিয়ে সাক্ষ্যসিন্দুক বহন করে যর্দন নদীতে নামবেন। তাঁরা নদীতে পদার্পণ করা মাত্রই নদীর জলস্রোত স্তব্ধ হয়ে যাবে। সেই স্তব্ধীভূত জল নদীর পিছনে পূর্ণ হয়ে বাঁধের আকারে পড়ে থাকবে।”
14যাজকরা সাক্ষ্যসিন্দুক বহন করলেন। লোকরা যেখানে তাঁবু গেড়েছিল সেখান থেকে বেরিয়ে যর্দন নদী পেরোনোর জন্যে রওনা হল। 15(ফসল তোলার সময় যর্দ্দনের দুই কুলই প্লাবিত হয়ে যায়। তাই নদী তখন কানায়-কানায় পূর্ণ ছিল।) যাজকরা সাক্ষ্যসিন্দুক বহন করে নদীর ধারে এসে পৌঁছলেন এবং নদীতে পা রাখলেন। 16সঙ্গে সঙ্গে জলস্রোত থেমে গেল। সব জল নদীর পেছনে বাঁধের মতো জমা হয়ে রইল। সেই জলরাশি নদীর ধার দিয়ে সোজা আদম পর্যন্ত (সর্ত্তনের নিকবর্তী এক শহরে) জমে রইল। যিরীহোর কাছাকাছি গিয়ে লোকরা নদী পেরোল। 17সে জায়গার মাটি শুকিয়ে গিয়েছিল। যাজকরা প্রভুর সাক্ষ্যসিন্দুক মাঝ নদী পর্যন্ত বহন করার পর থামলেন। তাঁরা অপেক্ষা করলেন। যর্দ্দনের শুষ্ক ভূমির ওপর দিয়ে ইস্রায়েলের সমস্ত মানুষ হাঁটতে লাগল।
4লোকদের স্মরণের জন্য শিলাখণ্ডসমূহ
1সকলে যর্দন নদী পেরিয়ে এলে প্রভু যিহোশূয়কে বললেন, 2“বারো জনকে এবার বেছে নাও। প্রত্যেক পরিবারগোষ্ঠী থেকে একজন করে নেবে। 3নদীর যেখানে যাজকরা দাঁড়িয়ে আছেন সেদিকে তাদের তাকাতে বলো। সেখানে বারোটি শিলা তাদের খুঁজে নিতে নির্দেশ দাও। ঐ বারোটি শিলা বহন করো। আজ রাত্রে যেখানে থাকবে সেখানে ঐগুলো রেখে দেবে।”
4সেই মত যিহোশূয় প্রতি পরিবারগোষ্ঠী থেকে একজন করে লোক বেছে নিলেন। তিনি সেই বারো জনকে এক সঙ্গে ডাকলেন। 5যিহোশূয় তাদের বললেন, “নদীর যেখানে তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক রয়েছে সেখানে যাও। তোমরা প্রত্যেকে একটি করে পাথর খুঁজে নেবে। ইস্রায়েলের বারোটি পরিবারগোষ্ঠীর প্রত্যেক জনের জন্য একটি করে পাথর। ঐ পাথর কাঁধে তুলে নাও। 6এইসব পাথর তোমাদের কাছে এক একটা প্রতীকের মতো। ভবিষ্যতে তোমাদের সন্তান-সন্ততিরা জিজ্ঞাসা করবে, ‘এইসব পাথরের অর্থ কি?’ 7তোমরা তাদের বলবে যে প্রভু যর্দন নদীর স্রোত বন্ধ করে দিয়েছিলেন। যখন সাক্ষ্যসিন্দুকটিকে যর্দন নদী পার করানো হচ্ছিল তখন জল তার প্রবাহ বন্ধ রেখেছিল। পাথরগুলো ইস্রায়েলের লোকদের কাছে এইসব ঘটনার চিরকালের স্মারক হয়ে থাকবে।”
8ইস্রায়েলবাসীরা সেই মত যিহোশূয়র আদেশ পালন করল। তারা যর্দন নদীর মাঝখান থেকে বারো খানা পাথর তুলে নিল। বারোটি পরিবারবর্গের প্রত্যেকের জন্য একটি করে পাথর ছিল। যেমন ভাবে প্রভু যিহোশূয়কে বলেছিলেন ঠিক তেমনি ভাবেই লোকরা পাথর বয়ে নিয়ে চলল। তারপর যেখানে তারা তাঁবু গেড়েছিল সেখানে ঐগুলো রাখল। 9(যিহোশূয় যর্দন নদীর মাঝখানেও বারোটি পাথর রেখেছিলেন, ঠিক সেই জায়গাতেই যেখানে যাজকরা পবিত্র সিন্দুক কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। আজও ঐ জায়গায় পাথরগুলো দেখা যায়।)
10প্রভু যিহোশূয়কে লোকদের কি করতে হবে তা জানাতে আদেশ দিলেন। সেগুলো মোশি যিহোশূয়কে পালন করার জন্য বলেছিলেন। তাই পবিত্র সিন্দুক বহনকারী যাজকরা মাঝনদীতে দাঁড়িয়ে রইলেন যতক্ষণ না যিহোশূয় লোকদের নির্দেশ দেওয়া শেষ করলেন। লোকরা দ্রুত নদী পেরোতে লাগল। 11তারা নদী পেরোনোর পালা শেষ করল। তারপর যাজকরা তাদের সামনে দিয়ে প্রভুর সিন্দুক বহন করে চললেন।
12রূবেণের লোকরা, গাদ পরিবারগোষ্ঠী এবং মনঃশির পরিবারগোষ্ঠীর অর্ধেক লোকরা মোশির নির্দেশ পালন করল। এরা অন্যান্য লোকদের চোখের সামনে নদী পেরোল। এরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল। ইস্রায়েলের বাকী লোকদের তারা সাহায্য করতে যাচ্ছিল যাতে তারা ঈশ্বরের প্রতিশ্রুত ভূখণ্ডের দখল নিতে পারে। 13প্রায় 40,000 সৈন্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে প্রভুর সামনে দিয়ে চলে গেল। যিরীহোর সমতলভূমির দিকে তারা অভিযান করেছিল।
14সেদিন থেকে প্রভু সমস্ত ইস্রায়েলবাসীদের জন্য যিহোশূয়কে একজন মহাপুরুষে পরিণত করলেন। সেদিন থেকে লোকরা তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করতে শুরু করল। যেমন ভাবে তারা মোশিকে শ্রদ্ধা করত, সে ভাবেই তারা যিহোশূয়কে শ্রদ্ধা করতে লাগল।
15সিন্দুকবাহী যাজকরা নদীতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। প্রভু যিহোশূয়কে বললেন, 16“যাজকদের নদী থেকে চলে আসতে বলো।”
17যিহোশূয় সেই মতো যাজকদের আদেশ দিলেন। তিনি বললেন, “যর্দন নদী থেকে আপনারা বেরিয়ে আসুন।”
18যাজকরা যিহোশূয়র আদেশ পালন করলেন। সিন্দুক বহন করে তাঁরা নদী থেকে উঠে এলেন। নদীর এপারে যখন তাঁরা পা রাখলেন তখন আবার নদী বইতে শুরু করল। আবার নদী আগের মতোই কুলপ্লাবী হয়ে উঠল।
19প্রথম মাসের দশম দিনে তাঁরা যর্দন নদী অতিক্রম করলেন। তাঁরা যিরীহোর পূর্ব দিকে গিল্গল নামক একটি জায়গায় তাঁবু খাটালেন। 20তাঁরা যর্দন নদী থেকে পাওয়া বারোটি পাথর বয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। গিল্গলে যিহোশূয় সেইসব পাথর স্থাপন করলেন। 21যিহোশূয় তাঁদের বললেন, “ভবিষ্যতে তোমাদের সন্তানরা তাদের মাতা-পিতার কাছে জিজ্ঞাসা করবে, ‘এসব পাথরের অর্থ কি?’ 22তোমরা তাদের বলবে, ‘এসব পাথর আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কিভাবে শুকনো জমির ওপর দিয়ে ইস্রায়েলের লোকরা যর্দন নদী পেরিয়ে গিয়েছিল। 23প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, যর্দন নদীর প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছিলেন যাতে তোমরা ঐ শুকনো জমির ওপর দিয়ে পেরিয়ে যেতে পারো; ঠিক যেমনটি হয়েছিল, যখন প্রভু লোহিত সাগরের জলপ্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছিলেন যাতে আমরা ঐ অংশটি শুকনো জমির ওপর দিয়ে পেরিয়ে যেতে পারি।’ 24প্রভু এই কাজ করেছিলেন যাতে এই দেশের সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ জানতে পারে তিনি কতটা শক্তিমান। তাহলে এই দেশের সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের মহাশক্তিকে চিরকাল ভয় করে চলবে।”
51তাই প্রভু যর্দন নদী শুকিয়ে দিলেন যতক্ষণ না সমস্ত লোক তা পেরিয়ে যায়। যর্দ্দনের পশ্চিমে বসবাসকারী ইমোরীয় এবং ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী কনানীয়দের রাজারা এসব শুনে বেশ ভয় পেয়ে গেল। ইস্রায়েলের লোকদের সঙ্গে লড়াই করার মতো সাহস তাদের রইল না।
ইস্রায়েলীয়দের সুন্নৎকরণ
2তখন যিহোশূয়কে প্রভু বললেন, “চক্মকি পাথর থেকে ক্ষুর বানিয়ে নাও, আর সেই ক্ষুর দিয়ে ইস্রায়েলের পুরুষদের সুন্নৎ করো।”
3সেই মতো যিহোশূয় চকমকি পাথর থেকে ক্ষুর বানিয়ে নিয়ে জিবিথ হারালোথে ইস্রায়েলীয়দের সুন্নৎ করলেন।
4 ইস্রায়েলীয়দের সুন্নৎ করার পেছনে যিহোশূয়র একটা কারণ ছিল। ইস্রায়েলের লোকরা মিশর ছেড়ে চলে গেলে যারা সৈন্যবাহিনীতে ছিল তাদের সবাইকে সুন্নৎ করা হয়েছিল। মরুভূমিতে থাকার সময় অনেক যোদ্ধাই প্রভুর কথা শোনেনি। তখন প্রভু তাদের প্রতিশ্রুতি দিলেন যে তারা ঐ দেশটি সুজলা-সুফলা রূপে দেখতে পাবে না। তিনি তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে সেই দেশই দিয়ে যাবেন বলে প্রতিশ্রুতি করেছিলেন, কিন্তু যারা তাঁর বাণী অগ্রাহ্য করেছিল তাদের ঈশ্বর 40 বছর মরুভূমিতে ঘুরিয়েছিলেন যে পর্যন্ত না ঐ সমস্ত যোদ্ধারা শেষ হয়। তারা মারা গেলে তাদের সন্তানরা তাদের স্থান নিল। মিশর থেকে চলে আসার পর তাদের সন্তানদের মরুভূমিতে জন্ম হয়েছিল। এদের কাউকে সুন্নৎ করা হয় নি। তাই যিহোশূয় তাদের সুন্নৎ করেছিলেন।
8যিহোশূয় সকলের সুন্নৎকরণ শেষ করলেন। তারা সেখানেই তাঁবু খাটিয়ে থেকে গেল। যতদিন পর্যন্ত সবাই সেরে না উঠল ততদিন তারা তাঁবুতে বিশ্রাম নিল।
কনানে প্রথম নিস্তারপর্ব উৎসব
9সেই সময় প্রভু যিহোশূয়কে বললেন, “মিশরে তোমরা সবাই ছিলে ক্রীতদাস। এই দাসত্ব তোমাদের লজ্জিত করে রেখেছিল। আজ তোমাদের সব লজ্জা সংকোচ আমি হরণ করলাম।” যিহোশূয় সেই জায়গাটির নাম দিলেন গিল্গল। আজও সে জায়গার নাম গিল্গল থেকে গেছে।
10ইস্রায়েলের লোকরা নিস্তারপর্ব উৎসব পালন করল। যিরীহোর সমতলভূমিতে গিল্গলে যেখানে তাঁবু খাটিয়েছিল সেখানেই তারা উৎসব করল। সেই মাসের 14তম দিনে সন্ধ্যাবেলা সেই উৎসব হল। 11নিস্তারপর্ব উৎসবের পরের দিন তারা সে দেশের উৎপন্ন খাদ্য দ্রব্যই খেয়েছিল। তারা খেয়েছিল খামিরবিহীন রুটি আর ভাজা দানাশস্য। 12পরদিন সকালে আকাশ থেকে আর বিশেষ ধরণের খাদ্য বর্ষণ হল না। যেদিন থেকে ইস্রায়েলের লোকরা কনানে উৎপন্ন খাদ্য খেতে শুরু করল, সেদিন থেকে স্বর্গ থেকে খাদ্য আসা বন্ধ হল।
প্রভুর সৈন্যবাহিনীর সেনাধ্যক্ষ
13যখন যিহোশূয় যিরীহোর কাছাকাছি গেলেন, তিনি তাকিয়ে দেখলেন একজন মানুষ তরবারি হাতে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। যিহোশূয় তাঁর কাছে গিয়ে বললেন, “কে আপনি? আমাদের শত্রু না মিত্র?”
14মানুষটি বললেন, “না, আমি শত্রু নই। আমি প্রভুর সৈন্যবাহিনীর সেনাধ্যক্ষ। আমি এইমাত্র তোমার কাছে এসেছি।”
তখন যিহোশূয় তাঁকে সম্মান জানাতে মাথা নীচু করে বললেন, “আমি আপনার ভৃত্য। প্রভু কি আমার জন্য কোন আদেশ দিয়েছেন?”
15প্রভুর সেনাধ্যক্ষ বললেন, “জুতো খোলো। যেখানে তুমি দাঁড়িয়ে তা এখন পবিত্র স্থান।” তাই যিহোশূয় তাঁর আদেশ পালন করলেন।
61যিরীহো শহরের সমস্ত প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। শহরের লোকেরা ভয় পেয়ে গিয়েছিল কারণ ইস্রায়েলের লোকেরা কাছেই ছিল। শহর থেকে কেউ বেরোত না, শহরে কেউ আসতও না।
2তখন প্রভু যিহোশূয়কে বললেন, “শোনো, আমি তোমাদের যিরীহো দখল করতে দিচ্ছি। তোমরা রাজা আর শহরের সমস্ত যোদ্ধাকে পরাজিত করবে। 3দিনে একবার করে সমস্ত শহরের চারিদিকে সৈন্যদের টহল দেওয়াবে। এরকম ছয় দিন করবে। 4পবিত্র সিন্দুকটি যাজকদের বহন করতে বলবে। সাতজন যাজককে মেষের তৈরী শিঙা নিতে বলবে। সেই সিন্দুকটির সামনে দিয়ে যাজকদের যেতে বলবে। সপ্তম দিনে শহরটিকে সাতবার প্রদক্ষিণ করবে। ঐ দিন যাজকদের যাবার সময় শিঙা বাজাতে বলবে। 5তারা একবার খুব জোরে শিঙা বাজাবে। সেই শিঙার শব্দ শুনতে পেলেই লোকদের চিৎকার করতে বলবে। তোমরা এই কাজ করলে শহরের প্রাচীরগুলো ভেঙ্গে পড়বে, আর তোমার লোকরাও সোজা শহরে ঢুকে পড়তে পারবে।”
যিরীহো অধিকৃত
6নূনের পুত্র যিহোশূয় সেই মত যাজকদের সকলকে একত্র ডেকে বললেন, “প্রভুর পবিত্র সিন্দুক আপনারা বহন করুন। আপনাদের মধ্যে সাত জনকে শিঙা নিয়ে সিন্দুকের সামনে দিয়ে এগিয়ে যেতে বলুন।”
7তারপর যিহোশূয় লোকদের আদেশ দিলেন, “এবার যাও। শহরকে প্রদক্ষিণ করো। সশস্ত্র সৈন্যরা প্রভুর পবিত্র সিন্দুকের সামনে থেকে অভিযান করবে।”
8যিহোশূয়র কথা শেষ হলে সাত জন যাজক প্রভুর সমক্ষে যাত্রা শুরু করলেন। তাঁরা সাতটি শিঙা বহন করলেন এবং চলতে চলতে বাজাতে লাগলেন। যাজকরা তাঁদের পিছনে পিছনে প্রভুর পবিত্র সিন্দুক বয়ে নিয়ে চললেন। 9যে সমস্ত যাজকরা শিঙা বাজাচ্ছিলেন সশস্ত্র সৈন্যরা তাঁদের সামনে চলে গেল। বাকী লোকরা পবিত্র সিন্দুকের পিছনে হাঁটছিল। তারা শিঙা বাজাতে বাজাতে শহর পরিক্রমা করল। 10যিহোশূয় তাদের যুদ্ধধ্বনি দিতে বারণ করলেন। তিনি বললেন, “এখন চিৎকার কোরো না। আমি তোমাদের না বলা পর্যন্ত একটা কথাও বলবে না। যেদিন বলব সেদিন চেঁচিয়ো।”
11যিহোশূয়র কথা মত যাজকরা প্রভুর পবিত্র সিন্দুক নিয়ে একবার শহর প্রদক্ষিণ করলেন। তারপর তাঁরা তাঁবুতে ফিরে গিয়ে রাত্রি কাটালেন।
12পরদিন খুব ভোরে যিহোশূয় ঘুম থেকে উঠলেন। যাজকরা আবার প্রভুর সিন্দুক কাঁধে তুলে নিলেন। 13সাত জন যাজক সাতটি শিঙা নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। তাঁরা প্রভুর পবিত্র সিন্দুকের সামনে শিঙা বাজাতে বাজাতে এগিয়ে চললেন। তাঁদের আগে আগে চলেছে সশস্ত্র সৈন্যরা। বাকী লোকরা প্রভুর পবিত্র সিন্দুকের পেছনে পেছনে চলছিল এবং প্রতিবার প্রদক্ষিণের পর তাদের শিঙা বাজাচ্ছিল। 14দ্বিতীয় দিন তারা সকলে একবার শহর পরিক্রমা করল। তারপর শিবিরে ফিরে এলো। দুদিন ধরে তারা প্রতিদিন এইভাবেই কাটাল।
15সপ্তম দিনে উষাকালে তারা উঠে পড়ল। তারা সাতবার শহর প্রদক্ষিণ করল। এর আগে এভাবেই তারা শহর প্রদক্ষিণ করেছিল, কিন্তু সেদিন তারা সাতবার শহর প্রদক্ষিণ করল। 16সপ্তম বার তারা শহর পরিক্রমা করলে যাজক শিঙা বাজালেন। তখন যিহোশূয় আদেশ দিলেন, “এবার চিৎকার করো। প্রভু তোমাদের এই শহর দান করেছেন। 17এই শহর এবং শহরের সবকিছু প্রভুর। শুধু গণিকা রাহব এবং তার বাড়ীর লোকরা বেঁচে থাকবে। এদের তোমরা হত্যা কোরো না, কারণ সে আমাদের দুজন গুপ্তচরকে সাহায্য করেছিল। 18আর একথাও মনে রেখো, আর যা সব আছে আমরা ধ্বংস তো করবই, কিন্তু তোমরা কোন কিছুই নিয়ে যেতে পারবে না। যদি তোমরা ঐসব জিনিস সঙ্গে নিয়ে আমাদের শিবিরে আসো, তবে তোমরাও ধ্বংস হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে তোমরা ইস্রায়েলের লোকদেরও বিপদ ডেকে আনবে। 19যত সোনা, রূপা, আর পিতল ও লোহার তৈরী জিনিসপত্র আছে সবই প্রভুর সম্পদ। সেই সব সম্পদ প্রভুর কোষাগারেই থাকবে।”
20যাজকরা শিঙা বাজালেন। লোকরা শিঙার শব্দ শুনে চিৎকার করে উঠল। প্রাচীরগুলো ভেঙ্গে পড়ল। তারা সকলে দৌড়ে শহরের মধ্যে ঢুকে পড়ল। এইভাবে ইস্রায়েলের লোকরা শহর দখল করে নিল। 21শহরে যা কিছু ছিল সব তারা ধ্বংস করে ফেলল। জীবিত সব কিছুকেই তারা মেরে ফেলল। যুবক যুবতী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা কাউকেই বাদ দিল না। গরু, মেষ, গাধা সকলকে তারা মেরে ফেলল।
22যিহোশূয় গুপ্তচর দুজনের সঙ্গে কথা বললেন। তিনি বললেন, “সেই গণিকার গৃহে তোমরা যাও। তাকে এবং তার সঙ্গে যারা আছে তাদের বার করে নিয়ে এসো। তোমরা তাকে যেমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে, সেই প্রতিশ্রুত কথা অনুসারে কাজ করো।”
23সেই মত দুজন বাড়ীতে ঢুকে রাহবকে বার করে আনল। তারা তার মাতা, পিতা, ভাই পরিবারের সকলকেই বার করে আনল। তাছাড়া আর যারা রাহবের সঙ্গে ছিল তাদেরও উদ্ধার করল। এদের সবাইকে তারা ইস্রায়েলের শিবিরের বাইরে একটা নিরাপদ জায়গায় রেখে দিল।
24তারপর ইস্রায়েলবাসীরা সমস্ত শহর জ্বালিয়ে দিল। সোনা, রূপো, পিতল আর লোহার তৈরী জিনিস ছাড়া আর সব কিছুই তারা জ্বালিয়ে দিল। তারা ঐ জিনিসগুলি প্রভুর কোষাগারে রাখল। 25গণিকা রাহব, তার পরিবারের সকলকে এবং তার সঙ্গে আর যারা ছিল যিহোশূয় তাদের সবাইকে রক্ষা করেছিলেন। তিনি তাদের বাঁচিয়েছিলেন, কারণ রাহব যিহোশূয়র পাঠানো গুপ্তচরদের, যারা যিরীহোতে এসেছিল তাদের সাহায্য করেছিল। আজও ইস্রায়েলবাসীদের মধ্যে রাহব বাস করছে।
26সেই সময় যিহোশূয় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন:
“যে গড়িবে পুনরায় যিরীহো নগর,
প্রভুর রোষানল পড়িবে তাহার উপর।
নগরের ভিত্তি যে করিবে স্থাপন,
জ্যেষ্ঠতম সন্তান সে খোয়াবে আপন;
যে জন নির্মাণ করে নগরের দ্বার,
কনিষ্ঠ সন্তান তার হইবে সংহার।”
27প্রভু যিহোশূয়র সঙ্গে রইলেন। আর যিহোশূয় সারা দেশে বিখ্যাত হয়ে গেলেন।
7আখনের পাপ
1কিন্তু ইস্রায়েলের লোকরা ঈশ্বরের আদেশ পালন করে নি। যিহূদা পরিবারগোষ্ঠীর একজনের নাম ছিল আখন। তার পিতার নাম কর্ম্মি, পিতামহের নাম জিমরি। আখন কিছু জিনিস রেখেছিল, যেগুলো নষ্ট করে দেওয়া উচিৎ ছিল। সেই জন্য প্রভু ইস্রায়েলের লোকদের উপর ক্রুদ্ধ হলেন।
2তারা যিরীহো দখল করার পর যিহোশূয় কয়েকজন লোককে অয়তে পাঠালেন। অয় বৈথেলের পূর্বদিকে বৈৎ-আবনের কাছে অবস্থিত। যিহোশূয় তাদের বললেন, “তোমরা অয়তে যাও। সেই জায়গায় কি কি দুর্বল দিক আছে দেখে এসো।” সে কথা শুনে লোকরা সেই দেশে গুপ্তচরবৃত্তি করতে গেল।
3কিছুদিন পর তারা যিহোশূয়র কাছে ফিরে এলো। তারা বলল, “অয় বেশ দুর্বল জায়গা। দখল করার জন্য আমাদের সকলের যাবার দরকার নেই। 2000 অথবা 3000 লোক পাঠালেই চলবে। গোটা সৈন্যবাহিনী কাজে লাগাবার দরকার নেই। খুব কম লোকই সেখানে আছে যারা আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করবে।”
4 প্রায় 3000 লোক অয়তে গেল। অয়ের লোকরা প্রায় 36 জন ইস্রায়েলের লোককে হত্যা করেছিল এবং ইস্রায়েলীয়রা ভয় পেয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। অয়ের লোকরা শহরের ফটক থেকেই তাদের তাড়া করছিল। তারা পালিয়ে গিয়েছিল যেখানে নিরেট শিলাখণ্ড থেকে পাথর কাটা হয়। অয়ের লোকরা তাদের হারিয়ে দিয়েছিল।
এইসব দেখে ইস্রায়েলের লোকরা খুব ভয় পেয়ে গেল, তারা সাহস হারিয়ে ফেলল। 6যিহোশূয় যখন এই সংবাদ পেলন তখন মনের দুঃখে তিনি তাঁর পোশাক ছিঁড়ে ফেললেন। পবিত্র সিন্দুকের সামনে তিনি মাটিতে মাথা নুইয়ে দিলেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত এভাবেই তিনি কাটালেন। ইস্রায়েলের নেতারাও এভাবে মাথা হেঁট করে বসে রইল। দুঃখ বেদনা প্রকাশ করতে তারাও নিজেদের মাথায় ধুলো ছুঁড়লো।
7যিহোশূয় বললেন, “হে প্রভু, আমার স্বামী! তুমি আমাদের সকলকে যর্দন নদী পার করিয়ে এখানে এনেছ। কেন তুমি এতদুর টেনে নিয়ে এসে তারপর ইমোরীয় লোকদের দিয়ে আমাদের এই সর্বনাশ করলে? আমরা যর্দ্দনের ওপারেই তো সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারতাম। 8হে প্রভু! আমি প্রাণের শপথ করে বলছি, এখন আর আমার বলার মতো কিছুই নেই। ইস্রায়েল তার শত্রুর কাছে হেরে গেছে। 9কনানীয়রা ও অন্যান্য অধিবাসীরা সকলেই জানতে পারবে কি ঘটেছে। এরপর তারা আমাদের আক্রমণ করবে, আমাদের মেরে ফেলবে, তখন তোমার মহানাম রক্ষা করতে তুমি কি করবে?”
10প্রভু যিহোশূয়কে বললেন, “কেন তোমরা মাটিতে মাথা নুইয়ে বসে আছ? উঠে দাঁড়াও! 11ইস্রায়েলের লোকরা আমার বিরুদ্ধে পাপ করেছে। যে চুক্তি পালন করতে তাদের আদেশ দিয়েছিলাম তারা তা ভঙ্গ করেছে। যে সব জিনিস তাদের ধ্বংস করতে আদেশ করেছিলাম, তার মধ্যে থেকে কিছু জিনিস তারা নিয়েছে। আর আমার সম্পত্তি চুরি করেছে। তারা মিথ্যাবাদী। তারা সেসব নিজেদের ব্যবহারের জন্য নিয়ে গিয়েছে। 12সেই জন্য ইস্রায়েলীয় সৈন্য যুদ্ধ ছেড়ে পালিয়ে এসেছে। কারণ তারা অন্যায় করেছিল। তাদের শেষ করে দেওয়াই উচিৎ। আমি তোমাদের আর সাহায্য করব না। যদি তোমরা আমার নির্দেশমত প্রত্যেকটি জিনিস নষ্ট না কর, তাহলে আমি তোমাদের সঙ্গে থাকব না।
13“যাও! তাদের পবিত্র করো। তাদের বলো, ‘তোমরা নিজেদের শুচি করো। আগামীকালের জন্য তৈরী হও। ইস্রায়েলের প্রভু ঈশ্বর স্বয়ং বলেছেন যে কিছু লোক তাঁর নির্দেশ মতো জিনিসগুলো নষ্ট না করে সেগুলো রেখে দিয়েছে। সেগুলো ফেলে না দিলে কিছুতেই তোমরা শত্রুদের হারাতে পারবে না।
14“‘কাল সকালে তোমরা সবাই প্রভুর সামনে অবশ্যই দাঁড়াবে। সমস্ত পরিবারগোষ্ঠী প্রভুর সামনে দাঁড়াবে। এরপর তিনি একটি পরিবারগোষ্ঠী বেছে নেবেন। তারপর সেই পরিবারগোষ্ঠীটি প্রভুর সামনে দাঁড়াবে। এরপর প্রভু সেই পরিবারগোষ্ঠীর প্রতিটি বংশ খুঁটিয়ে দেখবেন এবং একটি বংশ বেছে নেবেন। তারপর তিনি সেই বংশের প্রতিটি সদস্যকে বেছে নেবেন। 15যে ব্যক্তি ঐ সমস্ত জিনিস রেখে দিয়েছে, যা আমাদের নষ্ট করে দেওয়া উচিৎ ছিল, সে ধরা পড়বে। তারপর তাকে পুড়িয়ে মারা হবে এবং তার সঙ্গে তার যাবতীয় জিনিসপত্র পুড়িয়ে ফেলা হবে। ব্যক্তিটি প্রভুর সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছিল তা ভঙ্গ করেছে। ইস্রায়েলের লোকদের প্রতি সে খুব অন্যায় করেছে।’”
16পরদিন খুব ভোরে যিহোশূয় ইস্রায়েলের লোকদের প্রভুর কাছে নিয়ে গেলেন। সমস্ত পরিবারগোষ্ঠী প্রভুর সামনে দাঁড়াল এবং প্রভু যিহূদার পুরো পরিবারগোষ্ঠীকে মনোনীত করলেন। 17সুতরাং যিহূদার সমস্ত পরিবারগোষ্ঠী প্রভুর সামনে দাঁড়াল। তিনি সেরহীয় বংশকে মনোনীত করলেন এবং সেই বংশের প্রতিটি পরিবার প্রভুর সামনে দাঁড়াল। সেই পরিবারগুলোর মধ্য থেকে জিমরি পরিবারকে বেছে নেওয়া হল। 18তারপর যিহোশূয় ঐ পরিবারভুক্ত সমস্ত লোককে প্রভুর সামনে দাঁড়াতে বললেন। প্রভু কর্ম্মির পুত্র আখনকে বেছে নিলেন। (কর্ম্মি হচ্ছে জিমরির পুত্র আর জিমরি হচ্ছে জেরার পুত্র।)
19তারপর যিহোশূয় আখনকে বললেন, “বাছা, ইস্রায়েলের প্রভু ঈশ্বরকে সম্মান করো। তাঁর কাছে তুমি তোমার পাপ স্বীকার করো। যা করেছ আমার কাছে বলো। আমার কাছে কোন কিছু লুকোতে যেও না।”
20আখন উত্তর দিল, “এটা সত্যি ইস্রায়েলের প্রভু ঈশ্বরের কাছে আমি পাপ করেছি। আমি যা করেছি তা এই: 21আমরা যিরীহো শহর এবং সেই শহরের সব কিছুই দখল করেছিলাম। আমি বাবিলের একটা সুন্দর শাল, প্রায় 5 পাউণ্ড রূপো আর প্রায় এক পাউণ্ড সোনাও দেখেছিলাম। আমি সেগুলো আমার নিজের জন্য রেখে দিতে চেয়েছিলাম। তাই আমি তুলে নিয়েছিলাম। সেগুলো আমার তাঁবুর নীচে মাটির তলায় লুকিয়ে রেখেছি। ওখানেই সেগুলো আপনি পাবেন। আর রূপো আছে শালের নীচে।”
22সুতরাং যিহোশূয় কিছু লোককে তাঁবুতে পাঠালেন। তারা ছুটে তাঁবুতে গিয়ে ঐসব লুকানো জিনিস খুঁজে পেল। রূপো ছিল শালের তলায়। 23তারা তাঁবুর ভেতর থেকে সমস্ত জিনিস বার করে আনল। তারা সেগুলো যিহোশূয় এবং ইস্রায়েলের সমস্ত লোকদের কাছে নিয়ে গেল। প্রভুর সামনে তারা সেগুলো মাটিতে ফেলে দিল।
24তারপর যিহোশূয় এবং সমস্ত লোক সেরহের পুত্র আখনকে আখোর উপত্যকার দিকে নিয়ে গেল। তারা সোনা, রূপো, শাল, আখনের সব ছেলেমেয়ে, তার গরু, মেষ, গাধা, তাঁবু আর তার যথাসর্বস্ব হস্তগত করল। তারা এই সমস্ত জিনিস এবং আখনকে আখোর উপত্যকায় নিয়ে গেল। 25পরে দলপতি যিহোশূয় বললেন, “তুমি আমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছ। এখন প্রভু তোমাকে কষ্ট দেবেন।” তারপর সকলে আখন এবং তার পরিবারের সকলকে পাথর ছুঁড়ে ছুঁড়ে মেরে ফেলল। তাদের তারা পুড়িয়ে ফেলল। তার সঙ্গে যা কিছু ছিল সেগুলোও পুড়িয়ে ফেলল আখনকে পুড়িয়ে মারার পর তারা তার মৃত দেহের ওপর 26অনেক পাথর চাপিয়ে দিল। সেই সব পাথর আজও সেখানে দেখা যাবে। এভাবেই ঈশ্বর আখনের বিনাশ ঘটালেন। এই কারণে ঐ জায়গাটিকে বলা হয় আখোর উপত্যকা। এর পর ইস্রায়েলের ওপর প্রভুর ক্রোধ প্রশমিত হয়।
8অয়ের বিনাশ প্রাপ্তি
1প্রভু যিহোশূয়কে বললেন, “ভয় পেও না। আশা ছেড়ো না। তোমার সমস্ত যোদ্ধাকে নিয়ে অয়ে চলে যাও। অয়ের রাজাকে পরাজিত করার জন্য আমি তোমাদের সাহায্য করব। আমি তোমাদের কাছে রাজা, রাজার লোকদের, তার শহর এবং তার দেশ সবকিছু দিচ্ছি। 2তোমরা যিরীহো আর সে দেশের রাজার প্রতি যা করেছিলে ঠিক সেই রকমই তোমরা অয় এবং সেই শহরের রাজার প্রতি করবে। শুধু এইবার তোমরা সব ধনসম্পদ এবং পশুসমূহ নিয়ে যাবে এবং ওগুলো তোমাদের জন্যই রাখবে। এখন তোমাদের কয়েকজন সৈন্যকে শহরের পিছনে লুকিয়ে থাকতে বলো।”
3তাই যিহোশূয় সমস্ত সৈন্যবাহিনীকে অয়ের দিকে নিয়ে গেলেন। তিনি তাঁর সেরা 30,000 যোদ্ধাকে বেছে নিলেন। রাত্রে তিনি তাদের পাঠালেন। 4যিহোশূয় তাদের এই আদেশ দিলেন: “তোমাদের যা বলছি তা মন দিয়ে শোন। শহরের পেছন দিকে তোমরা লুকিয়ে থাকবে। আক্রমণের জন্য অপেক্ষা করবে। শহর থেকে বেশী দূরে যাবে না। সবসময় লক্ষ্য রাখবে আর তৈরী থাকবে। 5আমি সকলকে নিয়ে শহরের দিকে যাত্রা করব। শহরের লোকরা আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে বেরিয়ে আসবে। ঠিক আগের মতো আমরা ছুটে পালিয়ে আসব। 6তারা আমাদের শহর থেকে তাড়িয়ে দেবে। তারা ভাববে যে আমরা ঠিক আগের মতোই ওদের কাছ থেকে পালিয়ে যাচ্ছি। সেই ভাবে আমরা পালিয়ে যাব। 7তারপর তোমরা গুপ্তস্থান থেকে বেরিয়ে আসবে আর শহর অধিকার করবে। প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর স্বয়ং তোমাদের জয় করার শক্তি দান করবেন।
8“প্রভু যা যা বলেন সেই অনুসারে কাজ করবে। আমার দিকে লক্ষ্য রেখো। আমি তোমাদের শহর দখলের আদেশ দেব। শহরের দখল নিয়ে শহরকে তোমরা জ্বালিয়ে দেবে।”
9তারপর যিহোশূয় তাদের লুকানোর জায়গায় পাঠিয়ে দিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলেন। তারা বৈথেল এবং অয়ের মধ্যবর্তী একটি জায়গায় গেল। জায়গাটি অয়ের পশ্চিম দিকে। যিহোশূয় তাঁর লোকদের সঙ্গে রাত কাটালেন।
10পরদিন খুব সকালে যিহোশূয় সব লোকদের এক সঙ্গে জড়ো করলেন। তারপর যিহোশূয় এবং ইস্রায়েলের দলপতিরা তাদের অয়ের দিকে নিয়ে গেলেন। 11যিহোশূয়ের সঙ্গে যে সব সৈন্য ছিল, তারা অয় অভিযান করল। শহরের সামনে এসে তারা দাঁড়াল। সৈন্যরা শহরের উত্তরে তাঁবু খাটাল। অয় এবং সৈন্যবাহিনীর মধ্যে ছিল একটি উপত্যকা।
12তারপর যিহোশূয় প্রায় 5000 সৈন্য বেছে নিলেন। তিনি তাদের শহরের পশ্চিমে বৈথেল এবং অয়ের মাঝখানে লুকিয়ে থাকার জন্য পাঠিয়ে দিলেন। 13এইভাবে যিহোশূয় যুদ্ধের জন্য তাদের প্রস্তুত করলেন। শহরের উত্তরে তাদের প্রধান ঘাঁটি। অন্যান্যরা লুকোল পশ্চিম দিকে। সেই রাত্রে যিহোশূয় উপত্যকায় গেলেন।
14পরে অয়ের রাজা ইস্রায়েলীয় সৈন্যবাহিনীকে দেখতে পেলেন। ইস্রায়েলীয় সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে রাজা এবং তাঁর লোকরা বেরিয়ে পড়ল। অয়ের রাজা যর্দন উপত্যকার কাছে শহরের পূর্বদিকে গেলেন। তাই তিনি শহরের পেছন দিকে লুকিয়ে থাকা ইস্রায়েলীয় সৈন্যদের দেখতে পেলেন না।
15অয়ের সৈন্যবাহিনী যিহোশূয় এবং ইস্রায়েলের সমস্ত মানুষকে তাড়িয়ে দিল। তারা যেখানে মরুভূমি সেই পূর্বদিকে ছুট লাগাল। 16শহরের সকলে হৈ-হৈ করে যিহোশূয় ও তাঁর সৈন্যবাহিনীকে তাড়া করতে লাগল। সব লোক শহর ছেড়ে চলে গেল। 17অয় এবং বৈথেলের সব লোক ইস্রায়েলীয় সৈন্যবাহিনীকে তাড়িয়ে দিল। শহর ফাঁকা পড়ে রইল। শহর রক্ষা করার জন্য কেউ রইল না।
18তারপর প্রভু যিহোশূয়কে বললেন, “অয় শহরের দিকে বর্শা উঁচিয়ে ধরো। এই শহর আমি তোমাদের হাতে তুলে দেব।” তাঁর কথা মতো যিহোশূয় অয় শহরের দিকে বর্শা উঁচিয়ে ধরলেন। 19ইস্রায়েলের যে সব লোকরা লুকিয়েছিল তারা তা দেখল। তারা তাদের লুকোবার জায়গা থেকে দ্রুত বেরিয়ে শহরের দিকে ছুটে গেল, শহরে ঢুকে পড়ল আর শহরটা দখল করে নিল। তারপর সৈন্যরা শহর পুড়িয়ে দেবার জন্য আগুন লাগিয়ে দিল।
20অয়ের লোকরা পেছনে তাকিয়ে দেখল তাদের শহর জ্বলছে। তারা দেখল শহর থেকে আকাশের দিকে ধোঁয়া উঠছে। এই দেখে তারা দুর্বল হয়ে পড়ল, সাহস হারিয়ে ফেলল। তারা ইস্রায়েলীয়দের তাড়াবার প্রচেষ্টা ছেড়ে দিল। ইস্রায়েলীয়রাও আর ছোটাছুটি না করে ফিরে দাঁড়াল আর অয়ের লোকদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে লাগল। অয়ের লোকদের পালাবার মতো কোন নিরাপদ জায়গা ছিল না। 21যিহোশূয় এবং তাঁর লোকরা দেখল যে ঐ সৈন্যরা শহর দখল করে নিয়েছে। তারা দেখল শহর থেকে ধোঁয়া ওপরে উঠছে। এই সময় তারা পালিয়ে না গিয়ে ঘুরে দাঁড়াল, অয়ের লোকদের দিকে ছুটে গিয়ে যুদ্ধ করল। 22তারপর যারা লুকিয়েছিল তারাও ফিরে এসে যুদ্ধে সাহায্য করল। অয়ের লোকদের সামনে পিছনে সব দিকেই ইস্রায়েলীয় সৈন্যবাহিনী। তারা ফাঁদে আটকা পড়ল। ইস্রায়েলীয়রা তাদের পরাজিত করল। অয়ের সমস্ত লোক নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা যুদ্ধ করতে লাগল। শত্রু পক্ষের একটা লোকও পালাতে পারল না। 23কিন্তু অয়ের রাজাকে বাঁচিয়ে রাখা হল। যিহোশূয়ের লোকরা তাকে যিহোশূয়ের কাছে নিয়ে এল।
যুদ্ধের সমীক্ষা
24যুদ্ধের সময় ইস্রায়েলীয় সৈন্যবাহিনী অয়ের লোকদের মাঠে-ঘাটে মরুভূমির মধ্যে তাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তারপর তারা সেই সব জায়গায় তাদের হত্যা করেছিল। তারপর তারা অয়ে ফিরে গিয়ে সেখানে যেসব লোক তখনও বেঁচে ছিল তাদের হত্যা করল। 25সেদিন অয়ের সমস্ত লোক মারা গেল। 12,000 পুরুষ ও স্ত্রীলোক মারা গিয়েছিল। 26যিহোশূয় তাঁর লোকদের শহর ধ্বংস করার সংকেত দিতেই অয় শহরের দিকে বল্লম উঁচু করে ধরেছিলেন। শহরের সমস্ত লোক বিনষ্ট না হওয়া পর্যন্ত যিহোশূয় এভাবেই দাঁড়িয়েছিলেন। 27ইস্রায়েলের লোকরা শহরের সমস্ত জীবজন্তু এবং অন্যান্য জিনিসপত্র নিজেদের ব্যবহারের জন্য রেখে দিয়েছিল। প্রভু যিহোশূয়কে নির্দেশ দেবার সময় তাদের এইসব রেখে দিতেই বলেছিলেন।
28যিহোশূয় অয় শহরকে জ্বালিয়ে দিলেন। শহরটা কতকগুলি পাথরের স্তূপে পরিণত হল। আর কিছুই সেখানে ছিল না। আজও শহরটা সেই রকমই পড়ে আছে। 29যিহোশূয় অয়ের রাজাকে একটা গাছে ফাঁসি দিলেন। সন্ধ্যে পর্যন্ত তাকে ঝুলিয়ে রাখলেন। সূর্য অস্ত গেলে যিহোশূয় তাদের গাছ থেকে দেহটাকে নামাতে বললেন। শহরের ফটকের কাছে তারা দেহটাকে ছুঁড়ে দিল। তারপর প্রচুর পাথর দিয়ে তারা দেহটাকে চাপা দিল। সেই পাথরের স্তূপ আজও দেখা যাবে।
আশীর্বাদ আর অভিশাপ পঠন
30তারপর যিহোশূয় ইস্রায়েলের প্রভু, ঈশ্বরের স্মরণে একটি বেদী নির্মাণ করলেন। এবল পর্বতের চূড়ায় তিনি এই বেদী তৈরী করেছিলেন। 31প্রভুর দাস মোশি ইস্রায়েলের লোকদের জানিয়েছিলেন কিভাবে বেদী তৈরী করতে হবে। মোশির বিধিপুস্তকে পরিষ্কার করে লেখা ছিল বেদীর প্রস্তুত প্রণালী। সেই ভাবেই যিহোশূয় বেদী তৈরী করলেন। কাটা হয়নি এমন পাথর দিয়েই বেদী তৈরী হয়েছিল। ঐ পাথরগুলির ওপর কোন লৌহস্তম্ভ কখনও ব্যবহার করা হয় নি। সেই বেদীতে তারা প্রভুর উদ্দেশ্যে হোমবলি উৎসর্গ করল। তারা মঙ্গল নৈবেদ্য উৎসর্গ করল।
32ঐখানে যিহোশূয় পাথরগুলোর ওপরে মোশির বিধিগুলো লিখে দিলেন। ইস্রায়েলের সমস্ত লোক যাতে সেগুলো পড়ে সেই জন্যই তিনি লিখে দিয়েছিলেন। 33প্রবীণরা, উচ্চপদস্থ কর্মীরা, বিচারকরা এবং সমস্ত মানুষ পবিত্র সিন্দুকটিকে ঘিরে দাঁড়াল। প্রভুর পবিত্র সাক্ষ্যসিন্দুক বহনকারী লেবীয় যাজকদের সামনে তারা দাঁড়িয়েছিল। অর্ধেক লোক দাঁড়িয়েছিল এবল পর্বতের চূড়ার সামনে আর বাকী অর্ধেক দাঁড়িয়েছিল গরিষীম পর্বতের চূড়ার সামনে। প্রভুর দাস মোশি তাদের এভাবেই দাঁড়াতে বলেছিলেন। তারা যাতে প্রভুর আশীর্বাদ পায় সেই জন্য তিনি তাদের এই নির্দেশ দিয়েছিলেন।
34তারপর যিহোশূয় বিধির প্রতিটি কথা পড়ে শোনালেন। তিনি সমস্ত আশীর্বাদ আর সমস্ত অভিশাপ বিধিপুস্তকে যে ভাবে লেখা আছে সেই ভাবেই পড়ে শোনালেন। 35ইস্রায়েলের সমস্ত লোক সেখানে জড়ো হয়েছিল। সমস্ত স্ত্রীলোক, শিশু আর তাদের সঙ্গে বাস করত যেসব বিদেশী মানুষ তারাও সেখানে ছিল। মোশির প্রতিটি নির্দেশ যিহোশূয় পড়ে শোনালেন।
9গিবিয়োনের লোকরা যিহোশূয়র সঙ্গে চালাকি করল
1যর্দন নদীর পশ্চিম তীরের যত রাজ্য ছিল তাদের রাজারা সমস্ত ঘটনা শুনেছিল। এইসব রাজাই হিত্তীয়, ইমোরীয়, কনানীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় এবং যিবূষীয় দেশের লোকদের রাজা। তারা পাহাড়ী জায়গায় এবং সমতল ভূমিতে থাকত। তারা ভূমধ্যসাগরের ধার ঘেঁষে লিবানোন পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা অঞ্চলেও বাস করত। 2সমস্ত রাজা এক হল। তারা যিহোশূয় এবং ইস্রায়েলীয়দের বিরুদ্ধে লড়াই করার পরিকল্পনা করল।
3যিহোশূয় কিভাবে যিরীহো এবং অয় জয় করেছিলেন, সে সব গিবিয়োন শহরের লোকরা শুনেছিল। 4তাই তারা ইস্রায়েলীয়দের কিভাবে বোকা বানানো যায় সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করল। তাদের ছকটা ছিল এরকম; ফাটা, ভাঙ্গা যত চামড়ার বোতল ছিল তারা জড়ো করবে। এইসব দ্রাক্ষারসের চামড়ার খোল পশুদের পিঠে চাপিয়ে দেবে। তারা পুরানো থলেগুলোও পশুদের পিঠে চাপাবে যাতে মনে হয় যে তারা অনেক দূর থেকে ভ্রমণ করে এসেছে। 5লোকরা পায়ে পুরানো জুতো পরল। তাদের পুরানো কাপড়চোপড় পরল। তারা কয়েকটি শুকনো এবং ছাতাপড়া রুটি জোগাড় করল। তাই লোকগুলিকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন তারা অনেক দূর থেকে এসেছে। 6তারপর এই লোকরা ইস্রায়েলবাসীদের তাঁবুর দিকে এগিয়ে গেল। এই শিবিরটি ছিল গিল্গলের কাছে।
লোকগুলি যিহোশূয়ের কাছে গেল এবং তাঁকে বলল, “আমরা অনেক দূরের একটি দেশ থেকে এসেছি। আমরা আপনাদের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি স্থাপন করতে চাই।”
7ইস্রায়েলের লোকরা এই হিব্বীয়দের বলল, “হতেও তো পারে যে, আপনারা আমাদের বোকা বানাতে চাইছেন। আপনারা হয়তো আমাদের দেশের কাছেই থাকেন। কিন্তু আমরা আপনাদের সঙ্গে কোন শান্তির চুক্তি করতে পারি না, যতক্ষণ না জানতে পারছি, আপনারা কোথা থেকে আসছেন।”
8হিব্বীয়রা যিহোশূয়কে বলল, “আমরা আপনার ভৃত্য।”
কিন্তু যিহোশূয় জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কারা? তোমরা কোথা থেকে আসছ?”
9তারা বলল, “আমরা আপনার ভৃত্য। আমরা অনেক দূরের একটি দেশ থেকে আসছি। আমরা এখানে এসেছি কারণ আমরা প্রভু, আপনাদের ঈশ্বরের, মহাশক্তি সম্বন্ধে শুনেছি। আমরা তাঁর সমস্ত কার্যকলাপ জানতে পেরেছি। মিশরে তিনি কি কি করেছিলেন আমরা শুনেছি। 10আমরা আরো শুনেছি তিনি যর্দন নদীর পূর্বতীরে ইমোরীয় জাতির দুজন রাজাকে পরাজিত করেছিলেন। একজন হিষ্বোনের রাজা সীহোন, অন্যজন বাশনের রাজা ওগ। হিষ্বোন এবং বাশন অষ্টারোৎ দেশে অবস্থিত। 11তাই আমাদের প্রবীণরা ও অন্য সকলে বলেছিলেন, ‘ভ্রমণের জন্য যথেষ্ট খাদ্য নিয়ে যেও। ইস্রায়েলের লোকদের সঙ্গে দেখা করো।’ তাদের বোলো, ‘আমরা তোমাদের ভৃত্য। আমাদের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করো।’
12“এই দেখুন, আমাদের রুটি কি রকম শুকনো হয়ে গেছে। যখন আমরা বেরিয়েছিলাম সে সব ছিল গরম আর টাটকা। কিন্তু এখন সব শুকিয়ে বাসি হয়ে গেছে। 13এই দেখুন, আমাদের চামড়ার দ্রাক্ষারসের পাত্রগুলো। যখন বেরিয়েছিলাম তখন এগুলো ছিল নতুন দ্রাক্ষারসে ভর্ত্তি। কিন্তু আজ দেখুন সব ফেটে গেছে, বাসি হয়ে গেছে। আমাদের পোশাক-আশাক, চটি-জুতো সব কেমন হয়ে গেছে দেখছেন তো। দেখুন, এই লম্বা সফরে আমাদের পরনের কাপড়-চোপড়ের দশা, প্রায় জরাজীর্ণ।”
14লোকগুলো সত্যি কথা বলছে কিনা ইস্রায়েলের লোকরা যাচাই করতে চাইল। তাই তারা রুটিটি চেখে দেখল, কিন্তু তাদের প্রভুকে জিজ্ঞাসা করল না যে ওরকম ক্ষেত্রে তাদের কি করা উচিৎ। 15যিহোশূয় তাদের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করতে রাজী হলেন। তিনি তাদের থাকতে দিতে রাজী হলেন। ইস্রায়েলের দলপতিরা যিহোশূয়ের প্রতিশ্রুতি রাখবার শপথ নিল।
16তিন দিন পর ইস্রায়েলের লোকরা জানতে পারল যে ওরা তাদের শিবিরের খুব কাছাকাছিই বাস করত। 17তাই ইস্রায়েলীয়রা ওদের বসবাসের জায়গা দেখতে গেল। তৃতীয় দিনে তারা গিবিয়োন, কফীরা, বেরোত্ আর কিরিয়ৎ-যিয়ারীম এইসব শহরে এল। 18কিন্তু ইস্রায়েলীয় সৈন্যবাহিনী ঐসব শহরে গিয়ে যুদ্ধ করতে চাইল না। তারা ওদের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করেছিল। ইস্রায়েলের দলপতিরা প্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বরের সামনে গিবিয়োনদের কাছে প্রতিশ্রুতি করেছিল।
লোকরা অবশ্য দলপতিদের চুক্তির বিরুদ্ধে নালিশ করেছিল। 19কিন্তু দলপতিরা বলল, “আমরা গিবিয়োনদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। ইস্রায়েলের প্রভু ও ঈশ্বরের সামনে আমরা কথা দিয়েছি। আমরা এখন তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করব না। 20আমাদের এইভাবে চলতে হবে। তাদের জীবিত থাকতে দিতেই হবে। আমরা তাদের আঘাত করতে পারি না; করলে, ঈশ্বর প্রতিশ্রুতি ভাঙার জন্য আমাদের ওপর ক্রুদ্ধ হবেন। 21তারা বেঁচে থাকুক। কিন্তু তারা আমাদের ভৃত্য হয়ে বেঁচে থাকবে। তারা আমাদের কাঠ কেটে দেবে, আমাদের সকলের জন্য জল বয়ে দেবে।” তাই দলপতিরা ওদের সঙ্গে শান্তি চুক্তি ভাঙ্গল না।
22যিহোশূয় গিবিয়োনদের ডাকলেন। তিনি বললেন, “কেন তোমরা আমাদের কাছে মিথ্যা কথা বললে? আমাদের শিবিরের কাছেই তো তোমাদের দেশ। কিন্তু তোমরা বলেছিলে যে তোমরা দূর দেশ থেকে এসেছ। 23এখন তোমাদের অনেক দুর্গতি আছে। তোমরা সবাই আমাদের ক্রীতদাস হবে। তোমাদের লোকরা আমাদের কাঠ কেটে দেবে। ঈশ্বরের গৃহের+ 9:23 ঈশ্বরের গৃহ এর অর্থ সম্ভবতঃ “ঈশ্বরের পরিবার” (ইস্রায়েল) অথবা হয়তো পবিত্র তাঁবু অথবা মন্দির। জন্য জল বয়ে আনবে।”
24গিবিয়োনের লোকরা বলল, “আমরা মিথ্যা কথা বলেছিলাম কারণ আমাদের ভয় ছিল আপনারা আমাদের মেরে ফেলবেন। আমরা শুনেছি ঈশ্বর তাঁর দাস মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন এই দেশ আপনাদের হাতে তুলে দিতে। ঈশ্বর আপনাকে এদেশের সমস্ত লোককে হত্যা করতে বলেছিলেন। তাই আমরা মিথ্যা কথা বলেছিলাম। 25এখন আমরা আপনার দাস। যা ভালো বুঝবেন তাই করবেন।”
26তাই গিবিয়োনের লোকরা ক্রীতদাস হয়ে গেল। যিহোশূয় তাদের বাঁচতে দিলেন। ইস্রায়েলীয়দের তিনি মেরে ফেলতে দিলেন না। 27যিহোশূয় গিবিয়োনদের ইস্রায়েলীয়দের ক্রীতদাস করে দিয়েছিলেন। তারা কাঠ কেটে আনত, ইস্রায়েলীয়দের জন্য জল বয়ে আনত। তারাও প্রভুর বেদীর জন্য কাঠ কেটে আনত এবং জল বয়ে আনত। প্রভু যেখানেই বেদী স্থাপনের জায়গা পছন্দ করতেন সেখানেই তাদের জল বয়ে আনতে হত। ঐসব লোক আজও ক্রীতদাস হয়ে রয়েছে।
10যেদিন সূর্য স্থির হয়ে দাঁড়াল
1সেই সময় জেরুশালেমের রাজা ছিল অদোনীষেদক। রাজা জানতে পেরেছিল যে, যিহোশূয় অয় শহরকে পরাস্ত করেছিলেন এবং ধ্বংস করে দিয়েছেন। সে জানতে পারল যিরীহো আর সে দেশের রাজারও একই হাল করেছিলেন যিহোশূয়। সে এটাও জেনেছিল, গিবিয়োনের লোকরা ইস্রায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করেছে। তারা জেরুশালেমের খুব কাছাকাছিই রয়েছে। 2এসব জেনে অদোনীষেদক এবং তার প্রজারা বেশ ভয় পেয়ে গেল। অয়ের মতো গিবিয়োন তো ছোটখাট শহর নয়। গিবিয়োন খুব বড় শহর, একে মহানগরী বলা যায়। সেই নগরের সকলেই ছিল বেশ ভালো যোদ্ধা। সেই নগরেরও এরকম অবস্থা শুনে রাজা তো বেশ ঘাবড়ে গেল। 3জেরুশালেমের রাজা অদোনীষেদক হিব্রোণের রাজা হোহমের সঙ্গে কথা বলল। তাছাড়া যর্মূতের রাজা পিরাম, লাখীশের রাজা যাফিয় এবং ইগ্লোনের রাজা দবীর এদের সঙ্গেও সে কথা বলল। জেরুশালেমের রাজা এদের কাছে অনুনয় করে বলল, 4“তোমরা আমার সঙ্গে চলো। গিবিয়োনদের আক্রমণ করতে তোমরা আমাকে সাহায্য করো। গিবিয়োনের লোকরা যিহোশূয় ও ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করেছে।”
5সেই জন্য পাঁচজন ইমোরীয় রাজার সৈন্যবাহিনী এক হলো। (এই পাঁচজন হলো জেরুশালেম, হিব্রোণ, যর্মূত, লাখীশ এবং ইগ্লোনের রাজা।) সৈন্যদল গিবিয়োনের দিকে যাত্রা করল। তারা শহর ঘিরে ফেলল এবং যুদ্ধ শুরু করল।
6গিবিয়োনবাসীরা যিহোশূয়র কাছে খবর পাঠাল। সেই সময় যিহোশূয় গিল্গলে তাঁর শিবিরে ছিলেন। খবরটা এই: “আমরা আপনার ভৃত্য। আপনি আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন না। আমাদের বাঁচান। তাড়াতাড়ি আসুন। পাহাড়ী দেশ থেকে সমস্ত ইমোরীয় জাতির রাজা সৈন্যসামন্ত নিয়ে আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে আসছে।”
7খবর পেয়ে যিহোশূয় সসৈন্যে গিল্গল থেকে বেরিয়ে পড়লেন। তাঁর সঙ্গে ছিল সেরা সৈনিকের দল। 8প্রভু যিহোশূয়কে বললেন, “ওদের সৈন্যসামন্ত দেখে ভয় পেও না। আমি তোমাদের জিতিয়ে দেব। ওরা কেউ তোমাদের পরাজিত করতে পারবে না।”
9সৈন্যদল নিয়ে যিহোশূয় সারারাত গিবিয়োনে অভিযান চালালেন। শত্রুরা জানতে পারল না, যিহোশূয় আসছেন। তাই যিহোশূয় এবং তাঁর সৈন্যরা হঠাৎ তাদের আক্রমণ করল।
10যখন ইস্রায়েল আক্রমণ করল তখন প্রভু সেই সৈন্যদের হতবাক করে দিলেন। তারা পরাজিত হল। ইস্রায়েলীয়দের কাছে এটা একটা মস্ত বড় জয়। তারা শত্রুদের গিবিয়োন থেকে বৈৎ-হোরোণের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে গেল। ইস্রায়েলীয় সৈন্যরা অসেকা এবং মক্কেদা পর্যন্ত যাবার পথে যত লোকজন ছিল সবাইকে হত্যা করল। 11তারপর তারা বৈৎ-হোরোণ থেকে অসেকা পর্যন্ত লম্বা রাস্তাটি বরাবর শত্রুদের পেছনে পেছনে ধাওয়া করতে করতে গেল। তাদের এভাবে তাড়া করার সময় প্রভু আকাশ থেকে শিলাবৃষ্টি ঝরালেন। বড় বড় শিলার ঘায়ে অনেক শত্রুই মারা গেল। ইস্রায়েলীয় সৈন্যদের তরবারির ঘায়ে যত না মারা পড়ল, তার চেয়ে ঢের বেশী মারা পড়ল শিলা বৃষ্টিতেই।
12সেই দিন প্রভু ইস্রায়েলের কাছে ইমোরীয়দের পরাজয় ঘটালেন। সেই দিন যিহোশূয় প্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন এবং তারপর সমস্ত ইস্রায়েলবাসীদের সামনে আদেশ করলেন:
“হে সূর্য, তুমি গিবিয়োনের উপরে থামো।
আর হে চন্দ্র, তুমি অয়ালোন উপত্যকায় স্থির হয়ে থাকো।”
13তাই সূর্য সরল না। চন্দ্রও নড়ল না যতক্ষণ না লোকরা শত্রুদের হারায়। এই কাহিনী যাশের গ্রন্থে লেখা আছে। সূর্য মধ্যগগনে স্থির হয়ে গিয়েছিল, গোটা দিনটা সে আর ঘুরল না। 14এরকম আগে কখনও হয় নি। পরেও কখনও হয় নি। সেদিন প্রভু একটি লোকের বাধ্য হয়েছিলেন। সত্যিই, প্রভু সেদিন ইস্রায়েলের পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন।
15এরপর যিহোশূয় সৈন্যদের নিয়ে গিল্গলের শিবিরে ফিরে এলেন। 16কিন্তু যুদ্ধের সময় ঐ পাঁচ জন রাজা পালিয়ে গিয়েছিল। মক্কেদার কাছে একটা গুহার মধ্যে তারা লুকিয়েছিল। 17তবে একজন তাদের গুহায় লুকোতে দেখতে পেয়ে গিয়েছিল। যিহোশূয় সব জানতে পারলেন। 18যিহোশূয় বললেন, “বড় বড় পাথর দিয়ে গুহামুখ বন্ধ করে দাও। কিছু লোককে গুহা পাহারায় রেখে দাও। 19কিন্তু তোমরা সেখানেই যেন থেমে থেকো না। শত্রুদের তাড়া করতেই থাকো। পেছন থেকে তাদের আক্রমণ করতেই থাকো। তোমরা শত্রুদের কিছুতেই তাদের শহরে ফিরে যেতে দেবে না। প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর তাদের উপর তোমাদের জয়ী হতে দিয়েছেন।”
20তারপর যিহোশূয় আর ইস্রায়েলবাসীরা শত্রুদের হত্যা করলেন। কিন্তু কয়েকজন শত্রু উঁচু প্রাচীর ঘেরা কয়েকটি শহরে গেল এবং সেই খানেই নিজেদের লুকিয়ে রাখল। তাদের আর হত্যা করা গেল না। 21যুদ্ধের পর যিহোশূয়ের লোকরা তাঁর কাছে মক্কেদায় ফিরে এল। সেই দেশের কোন লোকই ইস্রায়েলীয়দের বিরুদ্ধে একটা কথাও বলতে সাহস করে নি।
22যিহোশূয় বললেন, “গুহামুখ থেকে পাথরগুলো সরিয়ে দাও। ঐ পাঁচ জন রাজাকে আমার কাছে আনো।” 23তাই যিহোশূয়ের লোকরা পাঁচজন রাজাকে গুহার ভেতর থেকে বার করে আনল। তারা ছিল জেরুশালেম, হিব্রোণ, যর্মূত, লাখীশ এবং ইগ্লোনের রাজা। 24তারা পাঁচজন রাজাকে যিহোশূয়ের সামনে হাজির করল। যিহোশূয় তাঁর লোকদের সেখানে আসতে বললেন। সৈন্য দলের প্রধানদের তিনি বললেন, “তোমরা এদিকে এসো। এই রাজাদের গলায় তোমাদের পা দাও।” তাই সৈন্যদলের প্রধানরা কাছে সরে এলো এবং তাদের পা এইসব রাজাদের গলায় রাখল।
25তারপর যিহোশূয় তাঁর লোকদের বললেন, “তোমরা শত্রু হও, সাহসী হও। ভয় পেও না। ভবিষ্যতে শত্রুদের সঙ্গে যখন তোমরা যুদ্ধ করবে তখন তাদের প্রতি প্রভু কি করবেন তা আমি তোমাদের দেখাচ্ছি।”
26তারপর যিহোশূয় পাঁচ জন রাজাকে হত্যা করলেন। পাঁচটা গাছে পাঁচ জনকে ঝুলিয়ে দিলেন। সন্ধ্যে পর্যন্ত এইভাবেই তিনি তাদের রেখে দিলেন। 27সূর্যাস্তের সময় যিহোশূয় তাঁর লোকদের গাছ থেকে দেহগুলোকে নামাতে বললেন। তাই তারা সেইগুলো ঐ গুহার ভেতরেই ছুঁড়ে দিল। যে গুহাতে রাজারা লুকিয়েছিল তার মুখটা বড় বড় পাথরে ঢেকে দিল। সেই দেহগুলো আজ পর্যন্ত গুহার ভেতরে আছে।
28সেদিন যিহোশূয় মক্কেদা শহর জয় করলেন। শহরের রাজা ও লোকদের যিহোশূয় বধ করলেন। একজনও বেঁচে রইল না। যিহোশূয় যিরীহোর রাজার যে দশা করেছিলেন, মক্কেদার রাজারও সে রকম দশা করলেন।
দক্ষিণের শহরগুলি দখল হল
29তারপর লোকদের নিয়ে যিহোশূয় মক্কেদা থেকে বেরিয়ে পড়লেন। তারা লিব্নাতে গিয়ে সেই শহর আক্রমণ করল। 30প্রভু ইস্রায়েলীয়দের সেই শহর ও শহরের রাজাকে পরাজিত করতে দিলেন। সেই শহরের প্রত্যেকটা লোককে ইস্রায়েলীয়রা হত্যা করেছিল। কোন লোকই বেঁচে রইল না। আর লোকরা যিরীহোর রাজার যে দশা করেছিল, সেই শহরের রাজারও সেই দশা করল।
31তারপর ইস্রায়েলের লোকদের নিয়ে যিহোশূয় লিব্না ছেড়ে লাখীশের দিকে গেলেন। লিব্নার কাছে তাঁবু খাটিয়ে তারা শহর আক্রমণ করল। 32প্রভু তাদের লাখীশ জয় করতে দিলেন। দ্বিতীয় দিনে তারা শহর অধিকার করল। ইস্রায়েলের লোকরা শহরের প্রত্যেকটা লোককে হত্যা করল। লিব্নার মতো এখানেও তারা একই কাজ করেছিল। 33গেষরের রাজা হোরম লাখীশকে রক্ষার জন্য এসেছিল। কিন্তু যিহোশূয় তাকেও সৈন্যসামন্ত সমেত হারিয়ে দিলেন। তাদের একজনও বেঁচে রইল না।
34তারপর যিহোশূয় ইস্রায়েলবাসীদের নিয়ে লাখীশ থেকে ইগ্লোনের দিকে যাত্রা করলেন। ইগ্লোনের কাছে তাঁবু গেড়ে তারা ইগ্লোন আক্রমণ করল। 35সেদিন তারা শহর দখল করে সেখানকার সব লোককে মেরে ফেলল। ঠিক লাখীশের মতো এখানেও সেই একই ঘটনা ঘটল।
36তারপর যিহোশূয় ইস্রায়েলবাসীদের নিয়ে ইগ্লোন থেকে হিব্রোণের দিকে চললেন। সকলে হিব্রোণ আক্রমণ করল। 37এই শহরটা ছাড়াও হিব্রোণের লাগোয়া কয়েকটা ছোটখাটো শহরও তারা অধিকার করল। শহরের প্রত্যেকটা লোককে তারা হত্যা করল। কেউ সেখানে বেঁচে রইল না। ইগ্লোনের মতো এখানেও সেই একই ঘটনা ঘটল। তারা শহর ধ্বংস করে সেখানকার সব লোককে হত্যা করেছিল।
38তারপর যিহোশূয় ও ইস্রায়েলবাসীরা দবীরে ফিরে এসে সেই শহরটি আক্রমণ করল। 39তারা সেই শহর, শহরের রাজা আর দবীরের লাগোয়া সমস্ত ছোটখাটো শহর সব কিছু দখল করে নিল। শহরের সব লোককে তারা হত্যা করল। কেউ বেঁচে রইল না। হিব্রোণ আর তার রাজাকে নিয়ে তারা যা করেছিল দবীর ও তার রাজাকে নিয়েও তারা সেই একই কাণ্ড করল। লিব্না ও সে শহরের রাজার ব্যাপারেও তারা একই কাজ করেছিল।
40এইভাবে যিহোশূয় পাহাড়ী দেশ নেগেভের এবং পশ্চিম ও পূর্ব পাহাড়তলীর সমস্ত শহরের সব রাজাদের পরাজিত করলেন। ইস্রায়েলের প্রভু ঈশ্বর যিহোশূয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন সমস্ত লোককে হত্যা করার জন্য। তাই যিহোশূয় ঐ সব অঞ্চলের কোনো লোককেই বাঁচতে দেন নি।
41যিহোশূয় কাদেশ-বর্ণেয় থেকে ঘসা পর্যন্ত সমস্ত শহর অধিকার করেছিলেন। মিশরের গোশন থেকে গিবিয়োন পর্যন্ত সমস্ত শহর তিনি অধিকার করেছিলেন। 42একবারের অভিযানেই যিহোশূয় ঐসব শহর ও তাদের রাজাদের অধিকার করতে পেরেছিলেন। যিহোশূয় এমনটি করতে পেরেছিলেন কারণ ইস্রায়েলের প্রভু ঈশ্বর স্বয়ং ইস্রায়েলের পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন। 43এরপর যিহোশূয় ইস্রায়েলবাসীদের নিয়ে গিল্গলে তাদের শিবিরে ফিরে এলেন।
11উত্তরের শহরগুলির পরাজয়
1হাৎসোরের রাজা যাবীন এইসব ঘটনা শুনল। সে কয়েকজন রাজার সৈন্যসামন্তদের একসঙ্গে জড়ো করার কথা চিন্তা করল। মাদোনের রাজা যোবব, অক্ষফের রাজা শিম্রোণের রাজার কাছে এবং 2উত্তরাঞ্চলের সমস্ত রাজা, পাহাড় ও মরু অঞ্চলের সমস্ত রাজাকে যাবীন খবর পাঠাল। যাবীন কিন্নেরত, নেগেভ, পশ্চিম পাহাড়, পশ্চিমের নাপথ দোরের রাজাদের কাছে খবর পাঠাল। 3যাবীন পূর্ব আর পশ্চিমের কনান সম্প্রদায়ের রাজাদের কাছে খবর পাঠাল। সে ইমোরীয়, হিত্তীয়, পরিষীয় এবং পাহাড়ী দেশের যিবুষীয়দের কাছেও খবর পাঠাল। সে মিস্পার কাছে হর্মোণ পর্বতের নীচে যে হিব্বীয়রা থাকে তাদের কাছেও খবর পাঠাল। 4এইসব রাজার সৈন্যরা জড়ো হল। অসংখ্য যোদ্ধা, অসংখ্য ঘোড়া আর অসংখ্য রথ মিলে তৈরী হল এক বিশাল বাহিনী। এত লোক সেখানে জড়ো হয়েছিল যে মনে হল তারা যেন সমুদ্রের ধারের বালির দানার মতো অগনিত।
5মেরোমের ছোট নদীর ধারে এই সমস্ত রাজা জড়ো হল। তারা তাদের সৈন্যবাহিনীকে একই শিবিরের মধ্যে সমবেত করল। আর কিভাবে ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যায় তার পরিকল্পনা করল।
6তখন প্রভু যিহোশূয়কে বললেন, “এত সৈন্য দেখে ভয় পেও না। আমি তোমাদের জিতিয়ে দেব। আগামীকাল এই সময়ের মধ্যে তোমরা তাদের সকলকে মেরে ফেলবে। সমস্ত ঘোড়ার পায়ের শিরা কেটে ফেলবে, তাদের সমস্ত রথ পুড়িয়ে দেবে।”
7যিহোশূয় এবং তার সমস্ত সৈন্য হঠাৎ শত্রুদের আক্রমণ করল। মেরোম নদীর কাছে তারা শত্রুদের আক্রমণ করল। 8প্রভু ইস্রায়েলীয়দের জিতিয়ে দিলেন। ইস্রায়েল সৈন্যবাহিনী তাদের পরাজিত করে তাড়িয়ে নিয়ে গেল বৃহত্তর সীদোন, মিষ্রফোৎ-ময়িম আর পূর্বের মিস্পীর উপত্যকার দিকে। সবকটি শত্রুকে মেরে না ফেলা পর্যন্ত ইস্রায়েলীয় সৈন্যরা থামল না। 9প্রভু যা বলেছিলেন যিহোশূয় তাই করলেন। ঘোড়াগুলোর পায়ের শিরা কেটে ফেললেন এবং রথগুলো পুড়িয়ে দিলেন।
10তারপর যিহোশূয় ফিরে গিয়ে হাৎসোর শহর দখল করলেন। এবং হাৎসোরের রাজাকে হত্যা করলেন। (ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যেসব রাজ্যগুলি ছিল তাদের মধ্যে হাৎসোরই ছিল সর্বপ্রধান।) 11ইস্রায়েলীয় সৈন্যবাহিনী সেই শহরের প্রত্যেককে হত্যা করল। তারা সমস্ত লোককে একেবারে শেষ করে দিল। একজন লোকও বেঁচে রইল না। তারপর তারা শহরটা জ্বালিয়ে দিল।
12যিহোশূয় এইসব শহরের সবকটি দখল করেছিলেন। তিনি শহরের সমস্ত রাজাকে হত্যা করেছিলেন। শহরের সমস্ত কিছুকে তিনি ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। প্রভুর দাস মোশি যেমন আজ্ঞা করেছিলেন সেই মতো তিনি এই কাজ করেছিলেন। 13কিন্তু ইস্রায়েলীয় সেনাবাহিনী পাহাড়ের ওপরে স্থাপিত কোন শহর জ্বালিয়ে দেয় নি। হাৎসোরই ছিল একমাত্র শহর যেটি পাহাড়ের ওপরে নির্মিত ছিল এবং যিহোশূয়ের আদেশে যেটি তারা পুড়িয়ে দিয়েছিল। 14শহরগুলো থেকে পাওয়া সমস্ত জিনিসপত্র ইস্রায়েলবাসীরা নিজেদের জন্য রেখে দিয়েছিল। শহরের সমস্ত জীবজন্তুকে তারা রেখে দিয়েছিল, যদিও সেখানকার সমস্ত লোককেই তারা মেরে ফেলেছিল। কোন লোককেই তারা বাঁচতে দেয় নি। 15বহুকাল আগে প্রভু তাঁর দাস মোশিকে এই কাজ করবার জন্য আজ্ঞা করেছিলেন। তারপর মোশি এই কাজ করার জন্য যিহোশূয়কে আজ্ঞা করেছিলেন, যিহোশূয় ঈশ্বরের আদেশ পালন করেছিলেন। প্রভু মোশিকে যা আজ্ঞা করেছিলেন যিহোশূয় তার সমস্তই পালন করেছিলেন।
16এইভাবে যিহোশূয় সমগ্র দেশের সমস্ত লোককে পরাজিত করেছিলেন। পাহাড়ি দেশ নেগেভ, সমগ্র গোশন অঞ্চল, পশ্চিমদিকের পাহাড়তলি, যর্দন উপত্যকা, ইস্রায়েলের সমস্ত পাহাড় পর্বত এবং সেগুলোর কাছাকাছি সমস্ত পাহাড় এই সবই তাঁর অধীনে এলো। 17হালক পর্বতশৃঙ্গ থেকে সেয়ীরের কাছে লিবানোন উপত্যকার বাল্গাদ পর্যন্ত সমস্ত অঞ্চল যিহোশূয়র দখলে এল। লিবানোন উপত্যকাটি হার্মোণ পর্বতশৃঙ্গের নীচে অবস্থিত। সে দেশের সমস্ত রাজাকে তিনি পরাজিত ও নিহত করলেন। 18বহু বছর ধরে এইসব রাজার বিরুদ্ধে যিহোশূয় যুদ্ধ করেছিলেন। 19একমাত্র একটি শহরই ইস্রায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করেছিল। সেটা হচ্ছে গিবিয়োন শহর, যেখানে হিব্বীয় জাতির লোকরা বাস করে। অন্য সমস্ত শহর পরাজিত হয়েছিল। 20প্রভু চেয়েছিলেন যেন এসব দেশের লোকরা নিজেদের শক্তিশালী ভাবে। তাহলে তারা ইস্রায়েলীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। এইভাবেই যেন তিনি তাদের প্রতি দয়া না করে বিনাশ করেন। যে ভাবে প্রভু মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন, সেই ভাবেই যেন তিনি তাদের বিনাশ করেন।
21অনাক বংশীয় লোকরা হিব্রোণ, দবীর, অনাব এবং যিহূদা অঞ্চলের পাহাড়ি জায়গায় বাস করত। যিহোশূয় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের এবং তাদের শহরগুলোকে শেষ করে দিলেন। 22ইস্রায়েল ভূখণ্ডে কোন অনাক বংশীয় লোক বেঁচে রইল না। তারা শুধু বেঁচে রইল ঘসা, গাত এবং অস্দোদ অঞ্চলে। 23যিহোশূয় সমগ্র ইস্রায়েল ভূখণ্ড নিজের আয়ত্ত্বাধীনে আনলেন, ঠিক যে ভাবে প্রভু বহুকাল আগে মোশিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রভু সেই দেশ তাঁর প্রতিশ্রুতি মত ইস্রায়েলীয়দের দান করেছিলেন। এই দেশ যিহোশূয় ইস্রায়েলের বিভিন্ন পরিবারগোষ্ঠীর মধ্যে ভাগ করে দিয়েছিলেন। অবশেষে যুদ্ধ শেষ হল এবং দেশে শান্তি ফিরে এলো।
12ইস্রায়েলের কাছে পরাজিত রাজগণ
1ইস্রায়েলবাসীরা যর্দন নদীর পূর্বদিকের সব দেশগুলি জয় করেছিল। অর্ণোন উপত্যকা থেকে হর্মোণ শৃঙ্গ পর্যন্ত সমস্ত ভূখণ্ড এবং যর্দন উপত্যকার পূর্ব দিকের সমস্ত ভূখণ্ড তারা জয় করেছিল। ইস্রায়েলবাসীরা যে সব রাজাদের পরাজিত করেছিল তার তালিকা এখানে দেওয়া হচ্ছে:
2তারা ইমোরীয়দের রাজা সীহোনকে পরাজিত করেছিল যে হিষ্বোন শহরে থাকত। সীহোনের রাজ্য ছিল অর্ণোন উপত্যকার অরোয়ের থেকে যব্বোক নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। ঐ উপত্যকার মাঝখান থেকে তার রাজ্যের শুরু। সেটা ছিল অম্মোনীয় লোকেদের এলাকার সীমান্ত। গিলিয়দ দেশের অর্ধেকেরও বেশী অংশে সীহোন রাজত্ব করেছিল। 3যর্দন উপত্যকার পূর্বতীরে গালীলী হ্রদ থেকে মৃত সাগর (লবণসাগর) পর্যন্ত বিস্তৃত রাজ্য সে শাসন করত। এই রাজ্যটি বাদে সে বৈৎ-যিশীমোত থেকে দক্ষিণ পিস্গা পাহাড় পর্যন্ত দেশগুলিও শাসন করত।
4তারা বাশনের রাজা ওগকে পরাজিত করেছিল। ওগ ছিল রফায় বংশের রাজা। সে রাজত্ব করত অষ্টারোৎ এবং ইদ্রিয়ী দেশে। 5হর্মোণ পর্বতশৃঙ্গ, সল্খা এবং বাশনের সমস্ত অঞ্চল ওগ শাসন করত। যেখানে গশূর এবং মাখাত জাতির লোকরা বসবাস করত। সেটাই ছিল তার রাজ্যের সীমা। ওগ গিলিয়দ দেশের অর্ধেক অংশেও রাজত্ব করত। এই জায়গাটা শেষ হয়েছে হিষ্বোনের রাজা সীহোনের দেশে।
6প্রভু ভৃত্য মোশি এবং ইস্রায়েলের এইসব রাজাকে পরাজিত করেছিলেন। মোশি রূবেণ পরিবারগোষ্ঠী, গাদ পরিবারগোষ্ঠী এবং মনঃশি পরিবারগোষ্ঠীর অর্ধেককে এই ভূখণ্ড দান করেছিলেন। মোশি এই দেশ তাদের স্বদেশ হিসাবেই দান করেছিলেন।
7ইস্রায়েলের লোকরা যর্দন নদীর পশ্চিম কূলের দেশের রাজাদেরও জয় করেছিল। যিহোশূয় এই দেশের লোকদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি এটি জয় করেছিলেন এবং পরে এই ভুখণ্ডটি বারোটি পরিবারগোষ্ঠীর মধ্যে ভাগ করে দিয়েছিলেন। ঈশ্বর তাদের এই দেশ দান করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এই দেশ ছিল লিবানোনের বাল্গাদ উপত্যকা এবং সেয়ীরের কাছে হালক পর্বতশৃঙ্গের মাঝখানে। 8পাহাড়ি অঞ্চল, পশ্চিমের পাহাড়তলি অঞ্চল, যর্দন উপত্যকা, পূর্বদিকের পাহাড়গুলি, মরুভূমি এবং নেগেভ অঞ্চলগুলি এর অন্তর্ভুক্ত। এখানে হিত্তীয়, ইমোরীয়, কনানীয়, পরীষীয়, হিব্বীয় এবং যিবুষ বংশীয় লোকরা বাস করত। ইস্রায়েলীয়দের দ্বারা পরাজিত রাজাদের তালিকাটি এইরকম:
9যিরীহোর রাজা
বৈথেলের কাছে অয়ের রাজা
10জেরুশালেমের রাজা
হিব্রোণের রাজা
11যর্মুতের রাজা
লাখীশের রাজা
12ইগ্লোনের রাজা
গেসরের রাজা
13দবীরের রাজা
গেদরের রাজা
14হর্মার রাজা
অরাদের রাজা
15লিবনার রাজা
অদুল্লমের রাজা
16মক্কেদার রাজা
বৈথেলের রাজা
17তপূহের রাজা
হেফরের রাজা
18অফেকের রাজা
লশারোণের রাজা
19মাদোনের রাজা
হাৎসোরের রাজা
20শিম্রোণ-মরোণের রাজা
অক্ষফের রাজা
21তানকের রাজা
মগিদ্দোর রাজা
22কেদশের রাজা
কর্ম্মিলস্থ যক্লিয়ামের রাজা
23দোর পর্বতশৃঙ্গের দোরের রাজা
গিল্গলের গোয়ীমের রাজা
24তির্সার রাজা
মোট রাজার সংখ্যা 31
13অনধিকৃত দেশ
1যিহোশূয় যখন বেশ বৃদ্ধ হয়ে গেছেন তখন প্রভু তাঁকে বললেন, “যিহোশূয় যদিও তোমার বেশ বয়স হয়েছে, কিন্তু এখনও অধিকার করার জন্য অনেক দেশ রয়েছে। 2তুমি এখনও গশূর রাজ্য অথবা পলেষ্টীয়দের রাজ্য জয় করো নি। 3মিশরের সীহোর নদী থেকে উত্তরে ইক্রোণ সীমান্ত পর্যন্ত অঞ্চল তুমি এখনও অধিকার করো নি। জায়গাটা এখন কনানীয়দেরই থেকে গেছে। তোমাকে এখনও ঘসা, অস্দোদ, অস্কিলোন, গাত এবং ইক্রোণের পাঁচজন পলেষ্টীয় নেতাকে পরাজিত করতে হবে। 4এখনও তোমাকে কনানদের দেশের দক্ষিণে অব্বীয়র লোকদের পরাজিত করতে হবে। তোমাকে মিয়ারা পরাজিত করতে হবে, যেটা অফেক পর্যন্ত সীদোনীয়দের অধিকৃত, যেটি ইমোরীয়দের সীমানা। 5তুমি গিব্লী সম্প্রদায়ের দেশটাও এখনও দখল করতে পারো নি। তাছাড়াও বাল্গাদের পূর্বদিকে লিবানোন। জায়গাটা হর্মোণ পর্বতশৃঙ্গ পাদদেশ থেকে লেবো হমাথ পর্যন্ত বিস্তৃত।
6“সীদোনের লোকরা লিবানোন থেকে মিষ্রফোৎ-ময়িম পর্যন্ত বিস্তৃত পাহাড়ি দেশে বাস করে। কিন্তু ইস্রায়েলের লোকদের স্বার্থে ঐসব দেশের সমস্ত লোককে আমি বার করে দেব। এই দেশের কথা অবশ্যই মনে রাখবে ইস্রায়েলীয়দের কাছে দেশ ভাগ করে দেবার সময় যা বললাম সে রকম করবে। 7নটি পরিবারগোষ্ঠী এবং মনঃশির পরিবারগোষ্ঠীর অর্ধেকের মধ্যে দেশটা ভাগ করবে।”
দেশভাগ
8ইতিমধ্যেই রূবেণ, গাদ, বাকী অর্ধেক মনঃশির পরিবারগোষ্ঠীর লোক তাদের জমি-জায়গা দখল করেছে। প্রভুর দাস মোশি যর্দন নদীর পূর্ব দিকের দেশ তাদের দিয়ে গেছেন। 9অর্ণোন উপত্যকার ধারে অরোয়ের থেকে শুরু হয়েছে তাদের দেশ আর তা উপত্যকার মাঝখানের শহর পর্যন্ত বিস্তৃত। তাছাড়া এই দেশের মধ্যে আছে মেদবা থেকে দীবোন পর্যন্ত সমস্ত সমতল ভূমিও। 10ইমোরীয় রাজা সীহোন যেসব শহরের শাসনকর্তা সেসব শহর ঐ দেশেরই মধ্যে রয়েছে। সীহোন শাসন করত হিষ্বোন শহর। সেই ভূখণ্ডটি যেখানে ইমোরীয়রা বাস করত সেই এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। 11গিলিয়দ শহরটা সে দেশের মধ্যে পড়ে। তাছাড়া গশূর এবং মাখাথ অঞ্চলের লোকরা যেখানে থাকত সেটাও এই দেশের অন্তর্গত। এবং পুরো হর্মোণ পর্বতশৃঙ্গ ও সল্খা পর্যন্ত বিস্তৃত পূরো বাশন ঐ দেশের অন্তর্গত ছিল। 12রাজা ওগের সমস্ত রাজ্যই সে দেশের অন্তর্গত। ওগ শাসন করত বাশন। একসময় সে শাসন করত অষ্টারোৎ এবং ইদ্রিয়ী। সে ছিল রফায় সম্প্রদায়ের লোক। অতীতে মোশি ঐ সম্প্রদায়ের লোকদের হারিয়ে তাদের দেশ দখল করেছিলেন। 13ইস্রায়েলীয়রা গশূর এবং মাখাথ অঞ্চলের লোকদের তাড়িয়ে দেয় নি। তারা আজও ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে বসবাস করছে।
14একমাত্র লেবি পরিবারগোষ্ঠীই কোনো জমি জায়গা পায় নি। তার বদলে তারা প্রভু, ইস্রায়েলীয়দের ঈশ্বরের কাছে যে সমস্ত পশু আগুনে দেওয়া হয়েছিল সেগুলি পেত। প্রভু তাদের কাছে এই রকম প্রতিশ্রুতিই করেছিলেন।
15মোশি রূবেণ বংশের প্রত্যেক পরিবারগোষ্ঠীকে কিছু জমি জায়গা দিয়েছিলেন। তারা এইসব জায়গা পেয়েছিল; 16অর্ণোন উপত্যকার কাছে অরোয়ের থেকে মেদবা শহর পর্যন্ত। এর মধ্যে আছে সমস্ত সমতলভূমি ও উপত্যকার মাঝখানের শহর। 17হিষ্বোন পর্যন্ত বিস্তৃত এই দেশে রয়েছে সমতলের সমস্ত শহর। শহরগুলি হচ্ছে দীবোন, বামোৎ-বাল, বৈৎ-বাল্-মিয়োন, 18যহস, কদেমোৎ, মেফাত্, 19কিরিয়াথয়িম, সিব্মা, সেরত্ শহর পাহাড়ের উপরিস্থিত উপত্যকায়। 20বৈৎ-পিয়োর, পিস্গা পাহাড় এবং বৈৎ-যিশীমোৎ, 21ইমোরীয়দের রাজা সীহোন এই সমস্ত অঞ্চলগুলিতে এবং সমতল ভূমির শহরগুলিতে রাজত্ব করত। সীহোন হিষ্বোন শহর শাসন করত। কিন্তু মোশি তাকে এবং মিদিয়নীয়দের নেতাদের পরাজিত করেছিলেন। নেতাদের নামগুলো হচ্ছে ইবি, রেকম, সুর, হূর এবং রেবা। (এরা সকলেই সীহোনের সঙ্গে যোগ দিয়ে যুদ্ধ করেছিল।) ঐসব অঞ্চলেই এরা থাকত। 22ইস্রায়েলীয়রা বিয়োরের পুত্র বিলিয়মকেও পরাজিত করেছিল। (বিলিয়ম যাদুবিদ্যায় ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারত।) ইস্রায়েলীয়রা যুদ্ধের সময় বহুলোককে হত্যা করেছিল। 23রূবেণকে যে জায়গা দেওয়া হয়েছিল তার শেষ হয়েছে যর্দন নদীর তীরে। রূবেণ পরিবারগোষ্ঠীর সকলকে যে জায়গা দেওয়া হয়েছিল সেগুলো হচ্ছে তালিকাভুক্ত এইসব শহর আর মাঠঘাট।
24এই সেই জায়গা যেটি মোশি দিয়েছিলেন গাদ পরিবারগোষ্ঠীকে। তিনি প্রতি পরিবারগোষ্ঠীকে এই জমি-জায়গা দিয়েছিলেন:
25যাসের এবং গিলিয়দের সমস্ত শহর। মোশি তাদের অম্মোনীয় মানুষদের অর্ধেক জমিও দিয়ে দিয়েছিলেন, যে অঞ্চলটি এইসব রব্বার কাছে অরোয়ের পর্যন্ত বিস্তৃত। 26এই অঞ্চলের মধ্যে আছে হিষ্বোন থেকে রামৎ-মিস্পী এবং বটোনীম, মহনয়িম থেকে দবীর এবং 27বৈৎ-হারম, বৈৎ-নিম্রা, সুক্কোৎ ও সাফোন। হিষ্বোনের রাজা সীহোন অন্য যেসব অঞ্চল শাসন করতেন সেগুলি এদেশের মধ্যে। এই রাজ্যের সীমানা গালীল হ্রদের শেষ পর্যন্ত ছিল। 28এইসব জমিজায়গা মোশি দিয়ে গিয়েছিলেন গাদ পরিবারগোষ্ঠীকে। তালিকভুক্ত সমস্ত শহর এই দেশের মধ্যে আছে। মোশি প্রত্যেকটি পরিবারগোষ্ঠীকে এই দেশ দান করেছিলেন।
29মনঃশির অর্ধেক পরিবারগোষ্ঠীকে মোসি এই দেশ দিয়ে গিয়েছেন। মনঃশির অর্ধেক পরিবার এই দেশ পেয়েছিল। সে দেশের পরিচয় এইরকম:
30দেশ শুরু হয়েছে মহনয়িম থেকে। এর মধ্যে আছে সমস্ত বাশন যার শাসনকর্তা রাজা ওগ। বাশনের অন্তর্গত যায়ীরের সমস্ত শহর। (মোট 60 টি শহর) 31এ দেশের মধ্যে আছে গিলিয়দের অর্ধেকটা, অষ্টারোৎ এবং ইদ্রিয়ী। (গিলিয়দ, অষ্টারোৎ আর ইদ্রিয়ী শহরে রাজা ওগ বাস করত।) এইসব জায়গা দেওয়া হয়েছিল মনঃশির পুত্র মাখীরের পরিবারকে। সেই পরিবারের অর্ধেক লোক এই জায়গা পেয়েছিল।
32এই সমস্ত পরিবারগোষ্ঠীকে মোশি এই জমি দিয়েছিলেন। যখন মোয়াব সমতলে লোকরা তাঁবু গেড়েছিল তখন মোশি এই জমিটি দান করেছিলেন। জায়গাটা হচ্ছে যিরীহোর পূর্বে যর্দন নদীর পারে। 33লেবি পরিবারগোষ্ঠীকে মোশি কোন জমি জায়গা দেন নি। ইস্রায়েলের প্রভু ঈশ্বর কথা দিয়েছিলেন লেবি পরিবারগোষ্ঠীর জন্য তিনি নিজেই হবেন তাদের অধিকার।
141যাজক ইলীয়াসর, নূনের পুত্র যিহোশূয় এবং ইস্রায়েলের পরিবারগোষ্ঠীর প্রধানরা লোকদের মধ্যে জমিটি ভাগ করে দিল। 2বহুকাল আগে প্রভু মোশিকে কিভাবে তাঁর ইচ্ছেমতো লোকরা নিজেদের জমি জায়গা বেছে নেবে সে বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সাড়ে নটি পরিবারগোষ্ঠীর লোক ঘুঁটি চেলে+ 14:2 ঘুঁটি চেলে আক্ষরিক অর্থে, লাঠি, পাথর, হাড়ের টুকরো ইত্যাদি পাশার মতো ছুঁড়ে ভাগ্য নির্ধারণ করা। জমি পেয়েছিল। 3মোশি ইতিমধ্যেই আড়াইটি পরিবারগোষ্ঠীকে যর্দন নদীর পূর্বতীরের জমি দান করেছিলেন। কিন্তু অন্যান্যদের মতো লেবি পরিবারগোষ্ঠী কোনো জমি জায়গা পায় নি। 4বারোটি পরিবারগোষ্ঠীকে জমিজায়গা দেওয়া হয়েছিল। যোষেফের পুত্ররা মনঃশি ও ইফ্রয়িম এই দুটি পরিবারগোষ্ঠীতে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। প্রত্যেক পরিবারগোষ্ঠীই কিছু জমি জায়গা পেয়েছিল। কিন্তু লেবি পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা কোন জমিজায়গা পায়নি। তারা বসবাসের জন্য মাত্র কয়েকটি শহর পেয়েছিল। প্রত্যেক পরিবারগোষ্ঠীর জমি-জায়গার মধ্যেই এইসব শহরগুলি ছিল। পশুদের জন্য তারা মাঠও পেয়েছিল। 5ইস্রায়েলীয় পরিবারগোষ্ঠীর মধ্যে কি করে জমি ভাগ বাঁটোয়ারা করে দিতে হবে প্রভু মোশিকে তা বলে দিয়েছিলেন। প্রভু যেমন নির্দেশ দিয়েছিলেন সেই ভাবেই ইস্রায়েলবাসীরা জমি ভাগ করে নিয়েছিল।
কালেব তার জমি পেল
6একদিন যিহূদার পরিবারগোষ্ঠীর কয়েকজন লোক গিল্গলে গিয়েছিল যিহোশূয়ের সঙ্গে দেখা করতে। এদের মধ্যে একজনের নাম কালেব। সে হচ্ছে কনিসীয় যিফুন্নির পুত্র। কালেব যিহোশূয়কে বলল, “আপনার মনে আছে প্রভু কাদেশ বর্ণেয়তে কি কি বলেছিলেন? প্রভু তাঁর দাস মোশিকে আমার এবং আপনার সম্বন্ধে বলেছিলেন। 7প্রভুর দাস মোশি আমরা যে দেশে যাচ্ছিলাম সেটা দেখবার জন্য আমাকে পাঠিয়েছিলেন। তখন আমার বয়স ছিল চল্লিশ। ফিরে এসে জায়গাটা সম্বন্ধে আমার মনোভাব আমি মোশিকে বলেছিলাম। 8আমার সঙ্গীরা লোকদের এমন সব কথা বলল যে তারা ভয় পেয়ে গেল। কিন্তু আমি সত্যিই বিশ্বাস করতাম যে প্রভু আমাদের সেই দেশ নেবার অনুমতি দেবেন। 9তাই মোশি আমার কাছে সেদিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মোশি বললেন, ‘যে দেশে তোমরা গুপ্তচরবৃত্তি করতে গিয়েছিলে সে দেশ তোমাদেরই হবে। তোমার উত্তরপুরুষরা চিরকাল সে দেশ ভোগ করবে। আমি তোমাদের সে দেশ দেব, কারণ তুমি সত্যিই আমার প্রভু ঈশ্বরকে বিশ্বাস করেছিলে।’
10“এখন প্রভু তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুসারে আমাকে 45 বছর বাঁচিয়ে রেখেছেন। এতদিন আমরা সকলে মরুভূমিতে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। এখন আমার বয়স 85 বছর। 11আজও আমি সেদিনের মতোই শক্ত সমর্থ যেদিন মোশি আমাকে বাইরে পাঠিয়েছিলেন। সেই দিনের মতো আজও আমি যুদ্ধের জন্য তৈরী আছি। 12তাই বলছি বহুকাল আগে প্রভু যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেই অনুসারে পাহাড়ী দেশটা আমাকে দিন। আপনি জানতেন তখন সেখানে শক্তিশালী অনাক বংশীয় লোকরা বসবাস করত। শহরগুলো ছিল বেশ বড় আর সুরক্ষিত। কিন্তু এখন প্রভু আমার সহায় এবং প্রভুর কথামতো সেই দেশের ভার আমি নেব।”
13যিফুন্নির পুত্র কালেবকে যিহোশূয় আশীর্বাদ করলেন। তিনি তাকে দিলেন হিব্রোণ শহর। 14সেই শহরে আজও কনিস বংশীয় যিফূন্নির পুত্র কালেবের পরিবারের লোকরা বাস করছে। সেই শহর আজও তার বংশধরদের জন্য থেকে গেছে, কারণ সে ইস্রায়েলের প্রভু ঈশ্বরকে বিশ্বাস করত। 15আগে সেই শহরটার নাম ছিল কিরিয়ৎ-অর্ব। অনাক বংশীয় লোকেদের মধ্যে দানবীয় চেহারার বৃহত্তম মানুষ অর্বর নামেই সেই শহরের নাম রাখা হয়েছিল।
এরপর সে দেশে শান্তি বিরাজ করল।
15যিহূদার জন্য জমিজমা
1যিহূদাকে যে দেশ দেওয়া হয়েছিল তা তার পরিবারগোষ্ঠীর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হল। দেশটি বিস্তৃত ছিল একদিকে ইদোমের সীমানা পর্যন্ত এবং অন্যদিকে দক্ষিণে তিম্নার ধার দিয়ে সিন মরুভূমি পর্যন্ত। 2যিহূদা দেশের দক্ষিণের সীমা লবণ সাগরের দক্ষিণ দিক থেকে শুরু। 3সেই সীমা দক্ষিণে অক্রব্বীম গিরিপথ হয়ে সিন পর্যন্ত গেছে। তারপর আবার দক্ষিণে কাদেশ-বর্ণেয় পর্যন্ত। এই সীমা হিষ্রোণ থেকে অদ্দর পর্যন্ত দেশ ছাড়িয়ে ঘুরে গিয়ে কর্ক্কা পর্যন্ত গেছে। 4মিশরের নদী অসমোন এবং ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত এই সীমা প্রসারিত। ঐ সমস্ত ভূমি তাদের দক্ষিণ সীমানার ওপর ছিল।
5তাদের পূর্বদিকে সীমানা ছিল লবণ নদীর তীর থেকে সেখান পর্যন্ত যেখানে যর্দন নদী সাগরে মিশেছে।
উত্তরের সীমানা শুরু হয়েছে যেখানে যর্দন নদী মৃত সাগরে মিশেছে। 6তারপর উত্তরের সীমা বৈৎ-হগ্লা হয়ে বৈৎ-অরাবা পর্যন্ত গেছে। সীমা আরও গেছে বোহনের পাথরের দিকে। (বোহন হচ্ছে রূবেণের পুত্র।) 7উত্তরের সীমা আখোর উপত্যকা হয়ে দবীর পর্যন্ত গেছে। তারপর উত্তরে বাঁক নিয়ে গিল্গল পর্যন্ত গেছে। গিল্গল হচ্ছে সেই রাস্তার ওপারে যে রাস্তাটি অদুম্মীম পর্বতের মাঝখান দিয়ে গেছে। সেটা নদীর দক্ষিণে। ঐন্-শেমশ নদী পর্যন্ত সীমানা প্রসারিত। সীমার শেষ হচ্ছে ঐন্-রোগেলে। 8তারপর সেই সীমানা আরো এগিয়ে গেছে যিবুষদের শহরের দক্ষিণ ঘেঁষে বেন হিন্নোম উপত্যকা পর্যন্ত। (ঐ শহরটি জেরুশালেম নামে পরিচিত ছিল।) সেখানে সীমানা গেছে হিন্নোম উপত্যকার পশ্চিমে পাহাড়ের চূড়া পর্যন্ত। সেটা রফায়ীম উপত্যকার উত্তর দিকে। 9সেখান থেকে সীমানা আবার গেছে নিপ্তোহের ঝর্ণা পর্যন্ত। তারপর ইফ্রোণ পাহাড় চূড়ার কাছাকাছি শহরগুলো পর্যন্ত। সেখান থেকে ওটা বাঁক নিয়েছে এবং বালায় গেছে। (বালার অপর নাম কিরিয়ৎ যিয়ারীম) 10বালা থেকে সীমা পশ্চিমে বাঁক নিয়ে পাহাড়ী দেশ সেয়ীর পর্যন্ত গেছে। তারপর যিয়ারীম পাহাড় চূড়ার উত্তর দিক ঘেঁষে নীচে বৈৎ-শেমশে পর্যন্ত। সেখান থেকে সেটি তিম্নার পাশ দিয়ে গেছে। 11তারপর ইক্রোণের উত্তর দিকের পাহাড়। পাহাড় থেকে শিক্করোণ আর বালা পর্বতের পাশ দিয়ে যব্নিয়েল হয়ে ভূমধ্যসাগরে শেষ হয়েছে। 12ভূমধ্যসাগর যিহূদার দেশের পশ্চিম দিকে এই চৌহদ্দির মধ্যেই যিহূদার দেশ। যিহূদার পরিবারগোষ্ঠী এই অঞ্চলে বসবাস করত।
13প্রভু যিহোশূয়কে বলেছিলেন, যিফুন্নির পুত্র কালেবকে যিহূদার দেশের একটা অংশ যেন তিনি দিয়ে দেন। তাই যিহোশূয় ঈশ্বরের আদেশমত তাকে সেই জায়গা দিয়ে দিলেন। যিহোশূয় তাকে কিরিয়ৎ-অর্ব (হিব্রোণ) শহর দান করলেন। (অর্ব হচ্ছে অনাকের পিতা।) 14হিব্রোণে বসবাসকারী তিনটি অনাক পরিবারকে কালেব তাড়িয়ে দিলেন। ঐ তিনটি পরিবার হচ্ছে শেশয়, অহীমান আর তল্ময়। এরা সবাই অনাকীয় লোক। 15তারপর কালেব দবীরে বসবাসকারী লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল। (আগে দবীরকে কিরিয়ৎ-সেফরও বলা হত।) 16কালেব বলল, “আমি কিরিয়ৎ-সেফর আক্রমণ করতে চাই। আমি আমার কন্যা অক্ষার বিয়ে তারই সঙ্গে দেব যে যুদ্ধে জয়লাভ করে আসবে।”
17কালেবের ভাই কনষের পুত্র অৎনীয়েল শহর জয় করল। কালেব অৎনীয়েলের সঙ্গে কন্যা অক্ষার বিয়ে দিলেন। 18অক্ষা অৎনীয়েলের সঙ্গে ঘর করতে লাগল। অৎনীয়েল অক্ষাকে বলল তার পিতা কালেবের কাছ থেকে আরও কিছু জায়গা চাইতে। অক্ষা পিতার কাছে গেল। গাধার পিঠ থেকে নেমে সে পিতার কাছে গেলে কালেব জিজ্ঞাসা করল, “তোমার কি চাই?”
19অক্ষা বলল, “আমাকে আশীর্বাদ করো। তুমি আমাকে নেগেভের শুকনো মরুভূমি দিয়েছ। দয়া করে এমন কিছু জায়গা দাও যেখানে জল পাওয়া যায়।” সেই মতো কালেব সেরকম জায়গাই অর্থাৎ সেই দেশের উপর ও নীচের দিকের জলাভূমিগুলি মেয়েকে দিল।
20প্রভু যেমন কথা দিয়েছিলেন সেই মতো যিহূদার পরিবারগোষ্ঠী জমি-জায়গা পেয়েছিল।
21এই শহরগুলি হচ্ছে যিহূদার সেই অংশে যেখানে যিহূদার দক্ষিণের সীমা বরাবর এদোমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে:
কব্সেল, এদর, যাগুর, 22কীনা, দীমোনা, অদাদা, 23কেদশ, হাৎসোর, যিত্নন, 24সীফ, টেলম, বালোত্, 25হাৎসোর, হদত্তা, কিরিয়োৎ হিষ্রোণ (হাৎসোর), 26অমাম, শমা, মোলদা, 27হৎসর-গদ্দা, হিষ্মোন, বৈৎ-পেলট, 28হৎসয়-শূয়াল, বের্-শেবা, বিষিয়োথিয়া, 29বালা, ইয়ীম, এৎসম, 30ইল্তোলদ, কসীল, হর্মা, 31সিক্লগ, মদ্মন্ন, সন্সন্না, 32লবায়োৎ, শিল্হীম, ঐন এবং রিম্মোণ। মোট 29টি শহর এবং সেখানকার সব মাঠঘাট।
33যিহূদার পরিবারগোষ্ঠীরা পশ্চিমের পাহাড়ী অঞ্চলের শহরগুলি পেয়েছিল।
ইষ্টায়োল, সরা, অশ্না, 34সানোহ, ঐন্-গন্নীম, তপূহ, ঐনম, 35যর্মুৎ, অদুল্লম, সোখো, অসেকা, 36শারয়িম, অদীথয়িম এবং গদেরা (গদেরোথয়িম)। মোট 14টি শহর এবং সেখানকার সব মাঠঘাট।
37যিহূদার পরিবারগোষ্ঠী আবার এইসব শহরও পেয়েছিল:
সনান, হদাশা, মিগ্দল-গাদ, 38দিলিয়ন, মিস্পী, যক্তেল, 39লাখীশ, বস্কৎ, ইগ্লোন, 40কব্বোন, লহমম, কিত্লীশ, 41গদেরোৎ, বৈৎ-দাগোন, নয়মা এবং মক্কেদা। মোট 16টি শহর আর তার চারপাশের মাঠঘাট।
42যিহূদার লোকরা এইসব শহরও পেয়েছিল:
লিব্না, এথর, আশন, 43যিপ্তহ, অশ্না, নৎসীব, 44কিয়িলা, অক্ষীব এবং মারেশা। মোট 9টি শহর এবং তাদের চারপাশের মাঠঘাট।
45যিহূদার লোকরা ইক্রোণ এবং অন্যান্য ছোটখাট শহর এবং তাদের চারপাশের মাঠঘাটও পেয়েছিল। 46তারা ইক্রোণের পশ্চিমদিকের জায়গা এবং অস্দোদের কাছাকাছি শহর আর মাঠঘাটও পেয়েছিল। 47অস্দোদের চারদিকের সমস্ত জায়গা এবং ছোটখাট শহরগুলো যিহূদার অন্তর্গত ছিল। যিহূদার অধিবাসীরা ঘসার চারপাশের জায়গা, মাঠ ও কাছাকাছি সমস্ত শহরও পেয়েছিল। তাদের দেশ মিশরের নদী এবং ভূমধ্যসাগরের উপকূল পর্যন্ত ছড়ানো।
48পাহাড়ি দেশের শহরগুলোও যিহূদার অধিবাসীরা পেয়েছিল, শহরগুলো হচ্ছে:
শামীর, যত্তীর সোখো, 49দন্না, কিরিয়ৎ-সন্না (দবীর), 50অনাব, ইষ্টিমোয়, আনীম, 51গোশন, হোলোন এবং গীলো। মোট 11টি শহর ও তাদের চারিদিকের মাঠঘাট।
52যিহূদার বাসিন্দারা এইসব শহরও পেয়েছিল:
অরাব, দূমা, ইশিয়ন, 53যানীম, বৈৎ-তপূহ, অফেকা 54হুমটা, কিরিয়ৎ-অর্ব (হিব্রোণ) এবং সীয়োর। 9টি শহর এবং চারপাশের মাঠসমূহ।
55যিহূদার লোকরা এইসব শহরও পেয়েছিল:
মায়োন, কর্মিল, সীফ, যুটা 56যিষ্রিয়েল, যক্দিযাম, সানোহ্, 57কয়িন, গিবিয়া এবং তিম্না। মোট 10টি শহর এবং তাদের চারিদিকের মাঠগুলি।
58যিহূদার অধিবাসীরা এই শহরগুলোও পেয়েছিল:
হলহূল, বৈৎ-সূর, গদোর, 59মারৎ, বৈৎ-অনোত্ এবং ইল্তকোন, মোট 6টি শহর এবং তাদের চারিদিকের মাঠগুলো।
60যিহূদার লোকদের রব্বা এবং কিরিয়ৎ-বাল (কিরিয়ৎ-যিয়ারীম) এই শহর দুটি দেওয়া হয়েছিল।
61মরুভূমির শহরগুলোও যিহূদার বাসিন্দারা পেয়েছিল। সেগুলো হচ্ছে:
বৈৎ-অরাবা, মিদ্দীন, সকাখা, 62নিব্শন, লবন শহর এবং ঐন্-গদী। মোট 6টি শহর এবং তাদের চারপাশের মাঠগুলো।
63যিহূদার সৈন্যবাহিনী জেরুশালেমে বসবাসকারী যিবূষ লোকদের তাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয় নি। তাই আজ জেরুশালেমে যিহূদাবাসীদের সঙ্গে যিবূষরাও বাস করছে।
16ইফ্রয়িম এবং মনঃশির জন্য জমি-জায়গা
1যোষেফ পরিবার যে দেশ পেয়েছিল তা শুরু হয়েছে যিরীহোর কাছে যর্দন নদী থেকে আর যিরীহোর পূর্ব দিকের নদী পর্যন্ত চলে গেছে। যিরীহো থেকে বৈথেলের পাহাড়ী দেশ পর্যন্ত এদেশের সীমানা প্রসারিত। 2তারপর সীমানা গেছে বৈথেল (লূস) থেকে অটারোতে অর্কীয়দের সীমা পর্যন্ত। 3তারপর সীমানা গেছে পশ্চিমে যফ্লেট বংশীয় লোকদের সীমা পর্যন্ত। তারপর নিম্ন বৈৎ-হোরোণ, গেষর হয়ে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত।
4মনঃশি এবং ইফ্রয়িমের লোকরা জমি-জায়গা পেয়েছিল। (মনঃশি আর ইফ্রয়িম হল যোষেফের পুত্র।)
5সেই দেশের পূর্ব সীমা যেটা ইফ্রয়িমের উত্তরপুরুষদের দেওয়া হয়েছিল সেটির শুরু অটারোত্-অদ্দর থেকে যেটি ছিল উচ্চ বৈৎ-হোরোণের কাছে পশ্চিম সীমানার শুরু মিক্মথাথ থেকে। 6এই সীমানা পূর্বদিকে বাঁক নিয়েছে তানোৎ-শীলোর দিকে এবং আরো পূর্ব দিকে এগিয়ে গেছে যানোহ পর্যন্ত। 7তারপর নেমে গিয়ে যানোহ থেকে অটারোত্ এবং নারঃ পর্যন্ত। এইভাবেই যিরীহো পর্যন্ত সীমানা প্রসারিত হয়ে যর্দন নদীতে এসে থেমেছে। 8সীমানাটি তপূহ থেকে পশ্চিমদিকে কানা নদীর দিকে গেছে এবং শেষ হয়েছে ভূমধ্যসাগরে। এই সমস্ত জায়গা ইফ্রয়িমের বংশধরদের দেওয়া হয়েছিল। সেই পরিবারগোষ্ঠীর প্রত্যেক পরিবার একটা করে অংশ পেয়েছিল। 9ইফ্রয়িমের অধিকাংশ সীমান্ত শহরই আসলে মনঃশির সীমানায়, কিন্তু ইফ্রয়িমের বংশধররা এইসব শহর এবং মাঠঘাট পেয়েছিল। 10ইফ্রয়িম পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা গেষর শহর থেকে কনান বংশীয় লোকদের তাড়িয়ে দিতে পারে নি। তাই ইফ্রয়িম বংশীয় লোকদের সঙ্গেই তারা আজও বসবাস করছে। কিন্তু কনান বংশীয়রা ইফ্রয়িমের ক্রীতদাস হয়েই থেকে গিয়েছিল।
171তারপর মনঃশির পরিবারগোষ্ঠীকে জমি-জায়গা দেওয়া হল। মনঃশি ছিলেন যোষেফের প্রথম পুত্র। মনঃশির জ্যেষ্ঠ পুত্র মাখীর গিলিয়দের পিতা। মাখীর ছিলেন মস্ত বড় যোদ্ধা, তাই গিলিয়দ এবং বাশনের সমস্ত জায়গা মাখীর পরিবারকে দেওয়া হল। 2মনঃশি পরিবারগোষ্ঠীর অন্যান্য পরিবারকেও জমি দান করা হয়েছিল। এইসব পরিবারের কর্তা হচ্ছে অবীয়েষর, হেলক, অস্রীয়েল, শেখম, হেফর এবং শমীদা। এরা সব মনঃশির অন্যান্য পুত্র আর মনঃশি হলেন যোষেফের পুত্র। এদের পরিবারগুলি জমির ভাগ পেয়েছিল।
3সল্ফাদ হচ্ছে হেফরের পুত্র। হেফরের পিতা গিলিয়দ। গিলিয়দের পিতা মাখীর আর মাখীরের পিতা হচ্ছে মনঃশি। সল্ফাদের কোন পুত্র ছিল না বটে, কিন্তু পাঁচটি কন্যা ছিল। তাদের নাম মহলা, নোয়া, হগ্লা, মিল্কা আর তির্সা। 4মেয়েরা সব গেল যাজক ইলিয়াসর, নূনের পুত্র যিহোশূয় এবং অন্যান্য দলপতির কাছে। তারা বলল, “প্রভু মোশিকে বলেছিলেন, ভাইদের যে জমি দেওয়া হবে, মেয়েদেরও যেন সে রকম জমি দেওয়া হয়।” সুতরাং ইলিয়াসর প্রভুর নির্দেশ পালন করলেন। তিনি মেয়েদেরও কিছু জমি-জায়গা দিলেন। তুলনায় মেয়েরাও তাদের কাকাদের মতোই জমি-জায়গা পেল।
5অতএব মনঃশির পরিবারগোষ্ঠী যর্দন নদীর পশ্চিমে দশটা জমি এবং যর্দন নদীর পূর্ব পারের আরো দুটো জায়গা গিলিয়দ এবং বাশন পেল। 6সেইজন্য মনঃশি পরিবারগোষ্ঠীর মেয়েরা ছেলেদের সমান জায়গা পেল। মনঃশি গোষ্ঠীর বাদবাকীদের দেওয়া হল গিলিয়দ।
7মনঃশির জমি জায়গা আশের এবং মিক্মথাথ এর মাঝখানে। সেটা শিখিমের কাছেই। সীমানা সোজা চলে গেছে দক্ষিণে ঐন্-তপূহ অঞ্চলের দিক বরাবর। 8তপূহকে ঘিরে সব জমি ছিল মনঃশির। কিন্তু খোদ তপূহ শহরটা তার নিজের ছিল না। তপূহ শহরটা মনঃশি এলাকার ধার ঘেঁষে। শহরটা ছিল ইফ্রয়িমের। 9মনঃশির সীমানা দক্ষিণে কান্না নদী পর্যন্ত গেছে। এই জায়গাটা মনঃশি পরিবারগোষ্ঠীর হলেও শহরগুলো কিন্তু ইফ্রয়িমের দখলে নদীর উত্তরদিকে ছিল মনঃশির সীমানা যা পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত প্রসারিত। 10দক্ষিণ দিকের জমি জায়গা ছিল ইফ্রয়িমের। উত্তরদিকটা ছিল মনঃশির দখলে, পশ্চিম সীমা ভূমধ্যসাগর। এই সীমানা উত্তর দিকে আশেরদের দেশ পর্যন্ত এবং পূর্বদিকে ইষাখরের দেশ।
11ইষাখর এবং আশের অঞ্চলেরও কয়েকটি শহর ছিল মনঃশির পরিবারগোষ্ঠীর আয়ত্ত্বাধীন। তারা বৈৎ-শান, যিব্লিয়ম এবং আশে-পাশের কয়েকটি ছোট শহরেও বাস করত। তারা দোর, ঐন্-দোর, তানক, মগিদ্দো এবং আশেপাশের ছোটখাট শহরগুলোয় থাকত। নাফোতের তিনটি শহরেও ছিল ওদের বসবাস। 12মনঃশির লোকরা ঐসব শহর দখল করতে পারে নি। সেই জন্য কনানীয় লোকরা এসব অঞ্চলে বসবাস করত। 13কিন্তু ইস্রায়েলবাসীরা বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠল। তারা জোর করে কনানদের তাদের সব কাজকর্ম করে দিতে বললো। তবে তাদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে জোর করে নি।
14যোষেফের পরিবারগোষ্ঠী যিহোশূয়কে বলল, “আপনি আমাদের শুধু একটা জায়গাই দিয়েছেন। কিন্তু আমরা এত জন। প্রভুর দেওয়া এতখানি জায়গা থেকে আপনি কেন আমাদের মাত্র এক ভাগ দিলেন?”
15যিহোশূয় বললেন, “বেশ তোমরা যদি প্রচুর লোকজন হও তাহলে ওপরের অরণ্যে ঢাকা পাহাড়ী দেশে চলে যাও, সেখানকার বন কেটে পরিষ্কার করে ব্যবহারযোগ্য কর। সে জায়গায় এখন পরিষীয় আর রফায়ীয়রা থাকে। কিন্তু যদি পাহাড়ী দেশ ইফ্রয়িম তোমাদের জন্য যথেষ্ট না হয় তাহলে তোমরা আরো উচ্চ পাহাড়ী দেশে যাও এবং সেখানকার সব জায়গা দখল করো।”
16যোষেফের লোকেরা বলল, “এটা সত্যিই যে পাহাড়ী দেশ ইফ্রয়িম বেশ ছোট জায়গা। কিন্তু সেখানে বসবাসকারী কনানীয়দের কাছে আছে বেশ শক্তিশালী অস্ত্রশস্ত্র। তাদের আবার লোহার রথও আছে। কনানরা যিষ্রিয়েল উপত্যকা বৈৎ-শান আর সেখানকার সব ছোটখাট শহর দখল করে রয়েছে।”
17তখন যিহোশূয় যোষেফ, ইফ্রয়িম এবং মনঃশির লোকদের বললেন, “কিন্তু তোমরাও সংখ্যায় প্রচুর। আর তোমরাও যথেষ্ট শক্তিশালী। তোমাদের জমির এক অংশের বেশী ভাগ পাওয়া দরকার। 18তোমরা পাহাড়ী দেশটা নিয়ে নাও। এটা বনজঙ্গল হলেও গাছগুলো কেটে বসবাসের উপযুক্ত করে নিও। সমস্ত জায়গা তোমরাই নিও। সেখান থেকে কনানীয়দের তাড়িয়ে দিও। তারা যদি শক্তিশালী হয় এবং তাদের কাছে যদি বেশী অস্ত্রশস্ত্রও থাকে তবু তোমরা তাদের নিশ্চয়ই পরাজিত করবে।”
18বাকী জমি-জায়গার বিভাজন
1সমস্ত ইস্রায়েলবাসী শীলোতে জড়ো হল। সেখানে তারা একটা সমাগম তাঁবু প্রতিষ্ঠা করল। ইস্রায়েলীয়রাই সেই দেশটা চালাত। সে দেশে সমস্ত শত্রুকে তারা হারিয়েছিল। 2কিন্তু সেই সময় সাতটা ইস্রায়েলীয় পরিবারগোষ্ঠী তখনও ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি মতো জমিজায়গা পায় নি।
3তাই যিহোশূয় তাদের বললেন, “জমির জন্য তোমরা এতদিন অপেক্ষা করে বসে আছ কেন? তোমাদের প্রভু তোমাদের পিতৃপুরুষের ঈশ্বর তোমাদের তা দিয়েই দিয়েছেন। 4তাই বলছি প্রত্যেক পরিবারগোষ্ঠী থেকে তিনজন করে লোক বেছে নাও। আমি তাদের জায়গাটা ভালো করে দেখার জন্য পাঠাব। তারা সেখানকার বর্ণনা লিখে নিয়ে আমার কাছে ফিরে আসবে। 5তারা জায়গাটা সাত ভাগে ভাগ করবে। যিহূদার লোকরা পাবে দক্ষিনাংশ, যোষেফের লোকরা পাবে উত্তর অংশ। 6তোমরা অবশ্যই জায়গাটার বর্ণনা করে সেটাকে সাত ভাগে ভাগ করবে। মানচিত্রটা আমার কাছে আনবে। তারপর আমরা প্রভু, আমাদের ঈশ্বরকেই তা ঠিক করতে বলব কে কোন জমি পাবে।+ 18:6 আমরা … জমি পাবে আক্ষরিক অর্থে, “আমি এখানে প্রভু আমাদের ঈশ্বরের সামনে ঘুঁটি চালব।”7লেবীয় যাজকরা জমির কোন অংশ পাবে না। যাজক হিসাবে তাদের কাজ হচ্ছে প্রভুর সেবা করা। এই তাদের অংশ। গাদ, রূবেণ এবং মনঃশির অর্ধেক পরিবারগোষ্ঠী ইতিমধ্যেই প্রতিশ্রুত জমিজায়গা পেয়ে গিয়েছে। তারা বাস করে যর্দন নদীর পূর্বদিকে। প্রভুর দাস মোশি ইতিমধ্যেই তাদের জমিজায়গা দিয়ে দিয়েছেন।”
8জায়গা দেখার জন্য মনোনীত লোকরা বার হয়ে গেল যাতে তারা জমির বর্ণনা দিতে পারে। যিহোশূয় তাদের বললেন, “তোমরা সেই জায়গায় যাও, ভালো করে দেখ আর সেখানকার একটা বর্ণনা লিখে নিয়ে এসো। তারপর শীলোতে আমার সঙ্গে দেখা করো। আমি তখন ঘুঁটি চালার ব্যবস্থা করব। যেন প্রভুই তোমাদের মধ্যে জমি ভাগ করে দেন।”
9তাই লোকরা সেই দেশে গেল, জায়গাটা ঘুরে ফিরে তারা দেখল এবং যিহোশূয়র জন্য একটা বর্ণনা তারা লিখল। তারা ঐ সমস্ত শহরগুলির একটি তালিকা প্রস্তুত করল এবং তারপর ভূখণ্ডটিকে সাত ভাগে ভাগ করল। মানচিত্র এঁকে নিয়ে তারা শীলোতে যিহোশূয়র কাছে ফিরে গেল। 10যিহোশূয় সেখানে শীলোতে প্রভুর সামনে তাদের জন্য ঘুঁটি চাললেন। এইভাবেই তিনি জমি ভাগাভাগি করে প্রত্যেক পরিবারগোষ্ঠীকে তাদের অংশ দিলেন।
বিন্যামীনের জন্য জমিজায়গা
11বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছিল যিহূদা এবং যোষেফের জায়গার মাঝখানের জমি। বিন্যামীনের প্রত্যেকটি পরিবারগোষ্ঠীই নিজের নিজের জায়গা পেয়ে গিয়েছিল। বিন্যামীনের জন্য মনোনীত জায়গাগুলো হল: 12যর্দন নদী থেকে শুরু করে উত্তরের সীমানা, যা যিরীহোর উত্তর দিক ঘেঁষে গিয়ে পশ্চিমে পাহাড়ী অঞ্চলের দিকে চলে গেছে। সীমানাটি বৈৎ-আবনের ঠিক পূর্বদিক পর্যন্ত এগিয়ে গেছে। 13দক্ষিণে লূস (বৈথেল) পর্যন্ত সীমানা গেছে। তারপর সীমা গেছে অষ্টারোৎ-অদ্দরের দিকে। অষ্টারোৎ-অদ্দর হচ্ছে নিম্ন বৈৎ-হোরোণের দক্ষিণে পাহাড়ী জায়গায়। 14বৈৎ-হোরোণের দক্ষিণে পাহাড়ে এসে সীমানা দক্ষিণে বাঁক নিয়ে পাহাড়ের পশ্চিমদিকে চলে গেছে। সীমানা গিয়েছে কিরিয়ৎ-বালে (কিরিয়ৎ যিয়ারীম)। এই শহরটা যিহূদার লোকদের এটা পশ্চিম সীমা।
15কিরিয়ৎ-যিয়ারীম থেকে শুরু হয়েছে দক্ষিণ সীমা, গেছে নিপ্তোহ নদীর দিকে। 16তারপর রফায়ীম উপত্যকার উত্তরে বেন-হিন্নোম উপত্যকার কাছে পাহাড়ের নীচে চলে গেছে এই সীমা। সীমানাটি যিবুষীয়দের শহরের ঠিক দক্ষিণদিকে হিন্নোম উপত্যকা পর্যন্তও বিস্তৃত হয়েছে। তারপর সেটি গেছে ঐন্-রোগেল পর্যন্ত। 17সেখান থেকে সীমা ঘুরে উত্তরদিকে গেছে ঐন্-শেমশে, গলীলোত (অদুম্মীম গিরিজর্থের কাছে) পর্যন্ত। সেখান থেকে মহাশিলার দিকে; রূবেণের পুত্র বোহনের জন্যই এর নাম রাখা হয়েছে। 18এই সীমা বৈৎ-অরাবার উত্তরদিকে খাড়ি পর্যন্ত এসে যর্দন উপত্যকায় নেমে গেছে। 19তারপর বৈৎ-হগ্লার উত্তরে আর শেষ হয়েছে মৃত সাগরের উত্তর উপকূলে। এখানেই যর্দন নদী সাগরে পড়েছে। আর এটাই হচ্ছে দক্ষিণ সীমা।
20যর্দন নদী হচ্ছে পূর্ব সীমা। সুতরাং এটাই হচ্ছে বিন্যামীনের পরিবারগোষ্ঠীর জন্য বিলি করা জমিজায়গা। এইসব হচ্ছে এদের জমি-জায়গার সব দিকের সীমানা।
21প্রত্যেক পরিবারই জমি-জায়গা পেয়েছিল। এইসব হচ্ছে তাদের শহর:
যিরীহো, বৈৎ-হগ্লা, এমক-কশিশ, 22বৈৎ-অরাবা, সমারয়িম, বৈথেল, 23অব্বীম, পারা, অফ্রা, 24কফর-আম্মোনী, অফ্নি এবং গেবা। সেখানে 12 টি শহর এবং তাদের ঘিরে সব মাঠঘাট ছিল।
25বিন্যামীনের পরিবারগোষ্ঠী এ ছাড়াও পেয়েছিল
গিবিয়োন, রামা, বেরোত্, 26মিস্পী, কফীরা, মোৎসা, 27রেকম, যির্পেল, তরলা, 28সেলা, এলফ, যিবুষদের শহর (জেরুশালেম) গিবিয়াৎ এবং কিরিয়াৎ। মাঠঘাট নিয়ে 14টি শহর।
বিন্যামীনের পরিবারগোষ্ঠী এই সমস্ত জায়গা পেল।
19শিমিয়োনের জন্য জমি-জায়গা
1তারপর যিহোশূয় শিমিয়োনের পরিবারগোষ্ঠীর প্রত্যেক পরিবারকে জমি-জায়গা দিলেন। সে সব জমি ছিল যিহূদার এলাকার ভেতরে। 2তারা পেয়েছিল বের্-শেবা (শেবাও বলা যেতে পারে), মোলাদা, 3হৎসর-শূয়াল, বালা, এৎসম, 4ইল্তোলদ, বথূল, হর্মা, 5সিক্লগ, বৈৎ-মর্কাবোৎ, হৎসর-সূষা, 6বৈৎ-লবায়োৎ এবং শারূহণ। চারপাশের মাঠঘাট নিয়ে 13টি শহর।
7তারা আরও যে সব শহর পেয়েছিল সেগুলো হচ্ছে: ঐন, রিম্মোণ, এখর এবং আশন। চারপাশের মাঠঘাট নিয়ে চারটে শহর। এছাড়া তারা বালৎ-বের (নেগেভের রামো) পর্যন্ত সমস্ত শহরের চারপাশের মাঠ-ঘাট পেল। 8তাছাড়াও বালৎ-বের পর্যন্ত সমস্ত শহরের চতুর্দিকের মাঠ। তাহলে এই হচ্ছে শিমিয়োনের পরিবারগোষ্ঠীর এলাকা। প্রত্যেক পরিবারই জমি-জায়গা পেয়েছিল। 9শিমিয়োনের জমির অংশ যিহূদার এলাকার মধ্যেই ছিল। যিহূদার লোকরা দরকারের চেয়ে অনেক বেশী জমি পেয়েছিল। তাই তাদের জমির কিছু অংশ শিমিয়োনের লোকরা পেয়েছিল।
সবূলূনের জন্য জমি-জায়গা
10এরপর জমি-জায়গা পেয়েছিল সবূলূন পরিবারগোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীর প্রত্যেক পরিবারই পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো জমি-জায়গা পেয়েছিল। সবূলূনের সীমানা ছিল সুদূর সারীদ অবধি। 11তারপর সীমানাটি পশ্চিম মুখে মারালার দিকে গেছে এবং দব্বেশৎ ছুঁয়েছে। তারপর সীমা চলে গেছে যক্লিয়ামের উপত্যকা বরাবর। 12তারপর সীমানা গেছে পূর্বদিকে বেঁকে সারীদ থেকে কিশ্লোৎ-তাবোর পর্যন্ত, সেখান থেকে দাবরৎ আর যাফিয়ে। 13আরও পূর্বদিকে গাৎ-হেফর এবং এৎ-কাৎসীনে, শেষ হয়েছে রিম্মোণে। তারপর সীমানা ঘুরে গেছে নেয়ের দিকে। 14নেয়ে থেকে আবার বেঁকে গিয়ে উত্তরে হন্নাখোন হয়ে যিপ্তেল উপত্যকার দিকে চলে গেছে। 15এই চৌহদ্দির মধ্যে যেসব শহর রয়েছে সেগুলো হচ্ছে কটত্, নহলাল, শিম্রোণ, য়িদালা এবং বৈৎলেহম। মাঠঘাট নিয়ে মোট 12 টি শহর।
16এই হল সবূলূনের শহরসমূহ আর মাঠঘাট। এই পরিবারের প্রত্যেকেই এইসব জায়গার ভাগ পেয়েছিল।
ইষাখরের জন্য জমি-জায়গা
17দেশের চতুর্থ অংশ দেওয়া হয়েছিল ইষাখর পরিবারগোষ্ঠীকে। প্রত্যেক পরিবারই জমির ভাগ পেয়েছিল। 18এদের দেওয়া হয়েছিল যিষ্রিয়েল, কসুল্লোৎ, শূনেম, 19হফারয়িম, শীয়োন, অনহরৎ, 20রব্বীৎ, কিশিয়োন, এবস, 21রেমৎ, ঐন্-গন্নীম, ঐন্-হদ্দা এবং বৈৎ-পৎসেস।
22জমির সীমানা হচ্ছে তাবর, শহৎসূমা এবং বৈৎ-শেমশ। শেষ হয়েছে যর্দন নদীতে। মোট 16টি শহর আর তাদের চারপাশের মাঠঘাট। 23এইসব শহর ইষাখরের পরিবারগোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যেক পরিবারই জমির ভাগ পেয়েছিল।
আশেরদের জন্য জমিজায়গা
24দেশের পঞ্চম ভাগ আশের পরিবারগোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছিল। সকলেই জমির অংশ পেয়েছিল। 25তাদের দেওয়া হয়েছিল হিল্কত্, হলী, বেটন, অক্ষক, 26অলম্মেলক, অমাদ আর মিশাল।
পশ্চিম সীমা গেছে কর্মিল পর্বত এবং শীহোর-লিব্নত্ পর্যন্ত। 27তারপর সীমানা মোড় নিয়েছে পূর্ব মুখে। এটি গেছে বৈৎ-দাগোন পর্যন্ত। এটি সবূলূন এবং যিপ্তেল উপত্যকা ছুঁয়েছে। তারপর এটি বৈৎ-এমক এবং নীয়েলের উত্তরদিকে চলে গেছে। সীমানাটি কাবুলের উত্তরদিকে বিস্তৃত হয়েছে। 28সীমানা গেছে এব্রোণ, রহোব, হম্মোন এবং কান্না পর্যন্ত। এইভাবে বৃহত্তর সীদোন অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। 29এরপর সীমানা রামার দক্ষিণদিকে ফিরে গেছে। সীমানাটি এগিয়ে গেছে শক্তিশালী সোর শহর পর্যন্ত। তারপর ঘুরে গেছে পশ্চিম দিকে হোষায়, শেষ হয়েছে অকষীবের কাছে সমুদ্রে। 30তাছাড়া উম্মা, অফেক এবং রহোব এইসব অঞ্চল।
মোট 22টি শহর আর তাদের চারপাশের মাঠঘাট। 31এইসব শহর আর মাঠঘাট ছিল আশের পরিবারগোষ্ঠীর জন্য। প্রত্যেক পরিবারগোষ্ঠীই জমির অংশ পেয়েছিল।
নপ্তালির জন্য জমিজায়গা
32দেশের ষষ্ঠ অংশ পেল নপ্তালি পরিবারগোষ্ঠী। প্রত্যেক পরিবারই জমির অংশ পেয়েছিল। 33তাদের জায়গার সীমানা শুরু হয়েছে সানন্নীমের কাছে একটা বিরাট গাছ থেকে। গাছটা হেলফের কাছে অদামী-নেকব এবং যবনিয়েলের ভেতর দিয়ে সীমানা লক্কুম হয়ে যর্দন নদীতে শেষ হয়েছে। 34সীমাটি অসনোৎ-তাবোরে এসে আবার পশ্চিমদিকে ফেরৎ গেছে। এটি হুক্কোকের কাছে উপত্যকা থেকে বেরিয়ে এসেছে। সবূলূন ছিল সীমাটির উত্তর দিকে, আশন ছিল পশ্চিমে। যিহূদাতে যর্দন নদী ছিল সীমাটির পূর্ব সীমা। 35এইসব সীমানার মধ্যে কয়েকটা শক্তিশালী শহর রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে: সিদ্দীম, সের, হম্মৎ, রক্কৎ, কিন্নেরৎ, 36অদামা, রামা, হাৎসোর, 37কেদশ, ইদ্রিয়ী, ঐন্-হাৎসোর, 38যিরোণ, মিগ্দল-এল, হোরেম, বৈৎ-অনাৎ এবং বৈৎ-শেমশ—মোট 19টি শহর এবং চারপাশের মাঠঘাট।
39এইসব শহর আর মাঠঘাট নপ্তালি পরিবারগোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যেক পরিবারগোষ্ঠীই জমির ভাগ পেয়েছিল।
দানের জন্য জমিজায়গা
40এরপর জমি-জায়গা দেওয়া হল দান পরিবারগোষ্ঠীকে। প্রত্যেক পরিবারগোষ্ঠীই জমি পেয়েছিল। 41তাদের দেওয়া হয়েছিল এইসব জায়গা: সরা, ইষ্টায়োল, ঈর্-শেমশ, 42শালবীন, অয়ালোন, যিৎলা, 43এলোন, তিম্না, ইক্রোণ, 44ইল্তকী, গিব্বথোন, বালৎ, 45যিহূদ, বনে-বরক, গাৎ-রিম্মোণ, 46মেযর্কোণ, রক্কোন এবং যাফোর নিকটবর্তী জায়গাগুলো।
47কিন্তু দানের লোকদের জায়গা পেতে ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল। শত্রুরা ছিল শক্তিশালী। তাদের তারা সহজে হারাতে পারে নি। সেই জন্য দানের লোকরা লেশমের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল। লেশম জয় করে তারা সেখানকার লোকদের হত্যা করে। এইভাবে তারা লেশম শহরে বাস করেছিল। জায়গাটার নাম পাল্টে রাখলো দান। কারণ তাদের পরিবারগোষ্ঠীর পিতৃপুরুষের নাম ছিল দান। 48এইসব শহর ও মাঠঘাট দান পরিবারগোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যেক পরিবারই জমি-জায়গার ভাগ পেয়েছিল।
যিহোশূয়র জন্য জমি-জায়গা
49এইভাবে দলপতিরা জমি-জায়গা ভাগ বাঁটোয়ারা করে বিভিন্ন পরিবারগোষ্ঠীকে দিয়েছিল। ভাগাভাগির কাজ শেষ হলে সমস্ত ইস্রায়েলবাসী নূনের পুত্র যিহোশূয়কে কিছু জমি দেবে বলে ঠিক করলো। 50প্রভু আদেশ দিয়েছিলেন তিনি যেন এই জমি-জায়গা পান। তাই ইস্রায়েলবাসীরা যিহোশূয়কে দিল পাহাড়ী দেশ ইফ্রয়িমের তিম্নৎ-সেরহ নামক শহর। এই শহরটা ছিল যিহোশূয়র পছন্দ। তাই শহরটাকে বেশ ভালো করে মজবুত করে তৈরী করে, তিনি সেখানে বাস করতে থাকলেন।
51এইভাবে ইস্রায়েলের সমস্ত পরিবারগোষ্ঠীকে এইসব জায়গা ভাগাভাগি করে দেওয়া হল। যাজক ইলিয়াসর নূনের পুত্র যিহোশূয় এবং প্রত্যেক পরিবারগোষ্ঠীর প্রধানরা জমি-জায়গা ভাগাভাগি করার জন্য শীলোতে একত্র হয়েছিলেন। সমাগম তাঁবুর দরজায় প্রভুর সামনে তাঁরা সকলে সমবেত হয়েছিলেন। এইভাবে তাঁরা জমি-জায়গা ভাগাভাগির কাজ শেষ করেছিলেন।
20নিরাপত্তার শহরসমূহ
1তারপর প্রভু যিহোশূয়কে বললেন, 2“আমি তোমাকে আদেশ দেবার জন্য মোশিকে ব্যবহার করেছিলাম। মোশি তোমাকে কয়েকটি শহর বাছতে বলেছিলেন যেগুলো আশ্রয় দেবার জন্য বিশেষ শহর হিসেবে অভিহিত হবে। 3যদি কোন ব্যক্তি অন্য কাউকে অকস্মাত্ অনিচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে তাহলে সে ঐ নিরাপদ শহরগুলির একটিতে গিয়ে লুকিয়ে থাকতে পারবে, যেন প্রতিশোধ দাতা খুঁজে না পায়।
4“লোকটিকে যা করতে হবে তা এই: যখন সে ঐ ধরণের কোন শহরে ছুটে পালিয়ে যাবে তখন সেই শহরের প্রবেশ দ্বারে তাকে থামতে হবে। থেমে সেখানকার দলপতিদের কাছে জানাতে হবে ঘটনাটা কি হয়েছিল। সেই সব শুনে তারা তাকে শহরে ঢুকতে দিতে পারে। সেখানে থাকার জন্য তারা তাকে জায়গা দেবে। 5কিন্তু যে ঐ ব্যক্তিটির পেছনে ধাওয়া করবে সে হয়তো শহরে এসে তার পিছু নিতে পারে। এরকম ঘটলে নেতারা যেন তাকে তাড়া করা ব্যক্তিটির হাতে ধরিয়ে না দেয়। তারা আশ্রয় প্রার্থীকে নিশ্চয়ই রক্ষা করবে। তারা এই কারণেই তাকে রক্ষা করবে যে, সে ইচ্ছা করে কাউকে হত্যা করে নি। সেটা নিছকই একটা দুর্ঘটনা। সে রেগে গিয়ে কাউকে হত্যা করবে বলে হত্যা করে নি। এটা হঠাৎই ঘটে গেছে। 6যতদিন না শহরের বিচার সভায় তার বিচার হয় ততদিন সেই ব্যক্তি সেখানে থাকবে। মহাযাজক যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন সে সেখানে থাকতে পারবে। তারপর সে তার নিজের শহরে অর্থাৎ যেখান থেকে সে পালিয়ে গিয়েছিল সেখানে নিজের বাড়ীতে ফিরে যাবে।”
7তাই ইস্রায়েলবাসীরা কয়েকটা শহর ঠিক করে নিয়েছিল। তারা এগুলোর নাম দিল, “নিরাপত্তার শহর।” শহরগুলো হচ্ছে:
নপ্তালি পার্বত্য অঞ্চলের গালীলের অন্তর্গত কেদশ; ইফ্রয়িমের পার্বত্য অঞ্চলের শিখিম; যিহূদা পার্বত্য অঞ্চলের কিরিয়ৎ-অর্ব (হিব্রোণ);
8রূবেণের মরু অঞ্চলের অন্তর্গত যিরীহোর কাছে যর্দন নদীর পূর্বদিকে বেৎসর; গাদ দেশে গিলিয়দের অন্তর্গত রামোৎ; মনঃশির দেখে বাশনের অন্তর্গত গোলন।
9যে কোন ইস্রায়েলবাসী বা তাদের সঙ্গে বসবাসকারী যে কোন বিদেশী হঠাৎ যদি কাউকে হত্যা করে, ঐসব শহরে নিরাপত্তার জন্য পালিয়ে যেতে পারবে। সেখানে সে নিরাপদে থাকতে পারবে। যে তাকে ধরবার জন্য ছুটে আসছে সে তাকে হত্যা করতে পারবে না। আশ্রয়প্রার্থীর বিচার হবে সেই শহরের বিচারসভায়।
21যাজক ও লেবীয়দের জন্য নগরসমূহ
1লেবীয় পরিবারগোষ্ঠীর প্রধানরা যাজক ইলিয়াসর নূনের পুত্র যিহোশূয় এবং ইস্রায়েলের অন্যান্য পরিবারগোষ্ঠীর প্রধানদের কাছে কথা বলতে গেল। 2কনান দেশের শীলো শহরে এই আলোচনা বৈঠক হল। লেবীয় শাসকরা তাদের বলল, “প্রভু মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন যে তিনি যেন আমাদের থাকার জন্যে কিছু শহরের ব্যবস্থা করেন। প্রভু তাকে আরও বলেছিলেন আমাদের পশুরা যাতে চরে খেতে পারে সে রকম কিছু মাঠও যেন তিনি আমাদের দেন।” 3সুতরাং ইস্রায়েলবাসীরা প্রভুর এই নির্দেশ পালন করলো। তারা লেবীয়দের এইসব শহর ও পশুদের জন্য মাঠঘাট দিল।
4লেবি পরিবারগোষ্ঠীর যাজক হারোণের উত্তরপুরুষরা হল এই কহাৎ পরিবার। কহাৎ পরিবারের একটা অংশকে দেওয়া হল 13টি শহর। সেই 13টি শহর ছিল যিহূদা, শিমিয়োন আর বিন্যামীনদের।
5বাকী কহাত পরিবারের দশটি শহর দেওয়া হল, সেই অঞ্চলে যেখানে ইফ্রয়িম, দান এবং মনঃশি পরিবারগোষ্ঠীর অর্ধেকের অধীনে ছিল।
6গের্শোন পরিবারের লোকদের দেওয়া হল 13টি শহর। এই শহরগুলি ছিল সেই অঞ্চল, যেগুলি বাশনে বসবাসকারী ইষাখর, আশের, নপ্তালি এবং অর্ধেক মনঃশি পরিবারগোষ্ঠীর অধীনে ছিল।
7মরারি পরিবারের লোকরা পেল 12টি শহর। রূবেণ, গাদ এবং সবূলূনদের অঞ্চলে ছিল এইসব শহর।
8ইস্রায়েলের অধিবাসীরা তাদের চারপাশের এইসব শহর ও মাঠঘাট লেবীয়দের দিয়েছিল। প্রভু যে ভাবে মোশিকে আদেশ দিয়েছিলেন, তা পালন করতেই তারা তাদের এইসব মাঠঘাট ও শহর দিয়েছিল।
9যিহূদা এবং শিমিয়োনের অঞ্চলে যে সব শহর ছিল এই হল সেগুলোর নাম। 10কহাত পরিবারভুক্ত লেবীয়দের প্রথম শ্রেনীর শহরগুলি দেওয়া হল। 11তারা ওদের দিয়েছিল কিরিয়ৎ-অর্ব (এটা হচ্ছে হিব্রোণ। অনাকের পিতা অর্বের নামেই এর নামকরণ হয়েছিল।) পশুদের জন্য তারা শহরের কাছাকাছি কিছু মাঠও দিয়েছিল। 12কিন্তু কিরিয়ৎ-অর্বর চারপাশের ছোটছোট শহর আর মাঠগুলো ছিল যিফূন্নির পুত্র কালেবের। 13সেই জন্য তারা হারোণের উত্তরপুরুষদের হিব্রোণ শহরটা দিয়ে দিয়েছিল। (হিব্রোণ ছিল নিরাপদে বাস করার শহর।) এছাড়াও তারা হারোণের উত্তরপুরুষদের দিয়েছিল লিব্নার অন্তর্গত শহরগুলো, 14য়ত্তীর, ইষ্টমোয, 15হোলোন, দবীর, 16ঐন, যুটা এবং বৈৎ-শেমশ। তারা তাদের পশুদের জন্য এইসব শহরগুলোর আশেপাশের কিছু মাঠও দিয়েছিল। এই দুটি সম্প্রদায়ের জন্য 9টি শহর দিয়েছিল।
17বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর শহরগুলোও তারা হারোণের উত্তরপুরুষদের দিয়েছিল। শহরগুলি হচ্ছে: গিবিয়োন, গেবা, 18অনাথোৎ এবং অল্মোন। তারা তাদের এই চারটি শহর এবং তাদের পশুদের জন্য শহরের আশপাশের মাঠঘাট দিল। 19মোট 13টি শহর তারা যাজকদের দান করেছিল। (যাজকরা সকলেই হারোণের উত্তরপুরুষ।) তারা পশুদের জন্যে প্রত্যেক শহরের লাগোয়া মাঠও দিয়েছিল।
20কহাৎ গোষ্ঠীর অন্যান্যদের দেওয়া হয়েছিল ইফ্রয়িম পরিবারগোষ্ঠীর এলাকার শহরগুলো। তারা পেয়েছিল এইসব শহর: 21পাহাড়ী দেশ ইফ্রয়িমের শিখিম শহর (একটি আশ্রয় দেবার শহর)। তারা গেষরও পেল। 22কিবসয়িম এবং বৈৎ-হোরোণও পেল। ইফ্রয়িমরা তাদের দিয়েছিল চারটে শহর এবং পশুদের জন্য চারপাশের কিছু মাঠ।
23দান পরিবারগোষ্ঠী দিয়েছিল ইল্তকী, গিব্বথোন, 24অয়ালোন এবং গাৎ-রিম্মোণ। মোট চারটে শহর এবং শহরের লাগোয়া মাঠ দানগোষ্ঠী তাদের দিয়েছিল।
25অর্ধেক মনঃশি পরিবারগোষ্ঠী তাদের দিয়েছিল তানক এবং গাৎ-রিম্মোণ। এই অর্ধেক মনঃশি পরিবারগোষ্ঠী তাদের মোট দুটি শহর এবং পশুদের জন্য শহরের চারপাশের মাঠঘাট দিয়েছিল।
26তারপর কহাত পরিবারের বাকী লোকরা পেয়েছিল মোট দশটি শহর এবং পশুদের জন্য শহরের লাগোয়া মাঠগুলো।
27গের্শোন পরিবারও লেবি পরিবারগোষ্ঠী থেকে এসেছে। তারা পেয়েছিল এইসব শহর:
অর্ধেক মনঃশি পরিবারগোষ্ঠী থেকে বাশনের অন্তর্গত গোলন। (গোলন ছিল নিরাপত্তার শহর) তারা তাদের বীষ্টরা শহরও দিয়েছিল। সব মিলিয়ে মনঃশির এই অর্ধেক পরিবারগোষ্ঠী তাদের মোট দুটি শহর এবং পশুদের জন্য কিছু মাঠ দিয়েছিল।
28ইষাখর পরিবারগোষ্ঠী দিয়েছিল কিশিয়োন, দাবরত্, 29যর্মুৎ এবং ঐন্-গন্নীম। মোট চারটি শহর এবং পশুদের জন্য মাঠ।
30আশের পরিবারগোষ্ঠী থেকে পেয়েছিল মিশাল, আব্দোন, হিল্কত্ এবং 31রহোব। মোট চারটি শহর এবং পশুদের জন্য শহরের লাগোয়া মাঠ।
32নপ্তালি পরিবারগোষ্ঠী থেকে পেয়েছিল গালীলের অন্তর্গত কেদশ। (কেদশ ছিল নিরাপত্তার শহর।) তাছাড়া হম্মেৎ-দোর, কর্ত্তন, মোট তিনটি শহর এবং পশুদের জন্য মাঠ।
33গের্শোন পরিবার পেয়েছিল মোট 13টি শহর এবং পশুদের জন্য শহরগুলোর লাগোয়া মাঠগুলো।
34 লেবীয় গোষ্ঠীর অন্য শাখা হচ্ছে মরারি পরিবার। তারা পেয়েছিল এইসব শহর:
সবূলূন পরিবারগোষ্ঠী থেকে পেয়েছিল যক্লিয়াম, কার্ত্তা, দিম্না এবং নহলোল। সবূলূন মোট চারটি শহর এবং পশুদের জন্য মাঠ দিয়েছিল। রূবেণ পরিবারগোষ্ঠী থেকে পেয়েছিল বেৎসর, যহস, কদেমোৎ, মেফাৎ। রূবেণ মোট চারটি শহর এবং পশুদের জন্য মাঠ দিয়েছিল। গাদ পরিবারগোষ্ঠীর কাছ থেকে পাওয়া গেল গিলিয়দের অন্তর্গত রামোৎ। (রামোৎ ছিল নিরাপত্তার শহর।) তাছাড়া মহনয়িম, হিষ্বোণ এবং যাসের। গাদ মোট চারটি শহর আর পশুদের জন্য শহরের লাগোয়া মাঠ দিয়েছিল।
40লেবীয়দের শেষ পরিবার, মরারি পরিবার মোট 12 টি শহর পেয়েছিল।
41সুতরাং লেবীয় গোষ্ঠী পেয়েছিল মোট 48 টি শহর এবং প্রতিটি শহরের লাগোয়া পশুদের জন্য মাঠ। এইসব ছিল অন্যান্য পরিবারগোষ্ঠীর। 42প্রত্যেক শহরেই পশুদের জন্য কিছু মাঠ ছিল।
43ইস্রায়েলবাসীদের কাছে প্রভু যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা তিনি পালন করলেন। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি মতোই সব জমি জায়গা দিয়েছিলেন এবং লোকরা সেসব জায়গায় বসবাস করতে লাগল। 44প্রভু তাদের আশেপাশের সমস্ত দেশগুলিতে তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুসারে শান্তি বজায় রাখলেন। কোন শত্রুই তাদের পরাজিত করতে পারে নি। প্রত্যেক শত্রুকে হারাবার মতো ক্ষমতা প্রভু তাদের দিয়েছিলেন। 45ইস্রায়েলবাসীদের কাছে প্রভু যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার সবই তিনি রেখেছিলেন। কোনো প্রতিশ্রুতিই ব্যর্থ হয় নি। প্রত্যেক প্রতিশ্রুতিই বাস্তবে পরিণত হয়েছিল।
22তিনটি পরিবারগোষ্ঠী ঘরে ফিরে গেল
1তারপর যিহোশূয় রূবেণ, গাদ এবং মনঃশি পরিবারগোষ্ঠীর অর্ধেক লোকদের একটা সভা ডাকলেন। 2যিহোশূয় তাদের বললেন, “মোশি ছিলেন প্রভুর দাস। মোশি তোমাদের যা বলেছেন তোমরা তার সবই পালন করেছ। তাছাড়া তোমরা আমার নির্দেশও সব পালন করেছ। 3তোমরা সব সময় ইস্রায়েলের অন্য লোকদের সাহায্য করেছ। তোমাদের প্রভু ঈশ্বর যা যা আদেশ দিয়েছিলেন তোমরা তার সবই অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছ। 4তোমাদের প্রভু, ঈশ্বর, ইস্রায়েলবাসীদের শাস্তি দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আর প্রভু প্রতিশ্রুতি রেখেছেন। সুতরাং এখন তোমরা বাড়ী যেতে পার। প্রভুর দাস মোশি তোমাদের যর্দন নদীর পূর্বতীরের জমি-জায়গা দিয়েছেন। তোমরা এখন সে দেশে অর্থাৎ তোমাদের বাড়ী যাও। 5কিন্তু মোশি তোমাদের যেসব বিধি পালন করতে বলেছেন সেসব পালন করে চলতে ভুলো না। তোমরা প্রভু ঈশ্বরকে ভালোবাসবে। তাঁর আদেশ পালন করবে। তোমরা সবসময় তাঁকে মেনে চলবে। তোমাদের যতদূর সাধ্য সেই ভাবে তোমরা তাঁর অনুসরণ করবে ও তাঁর সেবা করবে।”
6তারপর যিহোশূয় তাদের বিদায় সম্ভাষণ জানালেন। তারা বাড়ী চলে গেল। 7মোশি মনঃশির অর্ধেক পরিবারগোষ্ঠীকে বাশনের জমি-জায়গা দিয়েছিলেন। বাকী মনঃশির অর্ধেক পরিবারগোষ্ঠীকে তিনি দিয়েছিলেন যর্দন নদীর পশ্চিম তীর। যিহোশূয় তাদের আশীর্বাদ করে নিজের জায়গায় পাঠিয়ে দিলেন। 8তিনি বললেন, “তোমরা এখন বেশ ধনী হয়েছ। তোমাদের অনেক পশু আছে। তোমাদের আছে অনেক সোনা, রূপো এবং দামী দামী গয়নাগাটি। তোমাদের আছে সুন্দর সুন্দর পোশাক। শত্রুদের কাছ থেকে অনেক কিছুই তোমরা পেয়েছ। এইসব জিনিস তোমাদের ভাইদের সঙ্গে, যারা যর্দন নদীর পূর্বদিকে রয়ে গেছে, তাদের সঙ্গে ভাগ করে নিও।”
9সুতরাং রূবেণ, গাদ ও মনঃশি পরিবারগোষ্ঠীর অর্ধেক ইস্রায়েলের অন্য লোকদের রেখে চলে গেল। তারা কনানের শীলোতে ছিল। সে জায়গা ছেড়ে দিয়ে তারা গিলিয়দে ফিরে গেল। তারা ফিরে গেল মোশির দেওয়া জায়গায়। প্রভু মোশিকে তাদের এই জায়গা দেবার জন্যই আদেশ দিয়েছিলেন।
10রূবেণ, গাদ ও মনঃশির পরিবারগোষ্ঠীর অর্ধেক লোকরা গিলিয়দ নামে একটি জায়গায় গেল। জায়গাটা কনানের অন্তর্গত যর্দন নদীর কাছেই। সেখানে তারা একটা চমৎকার বেদী বানালো। 11ইস্রায়েলের অন্যান্য লোকরা যারা তখনও শীলোতে ছিল, শুনতে পেল যে এই তিন পরিবারগোষ্ঠী এরকম একটা বেদী তৈরী করেছে। তারা এও শুনল যে বেদীটা হয়েছে কনানের সীমান্তে গিলিয়দ নামক একটি জায়গায়। সেটা ইস্রায়েলের দিকের যর্দন নদীর কাছেই। 12এসব শুনে ইস্রায়েলের সব লোক এই তিনটি পরিবারগোষ্ঠীর ওপর বেশ রেগে গেল। তারা একসঙ্গে মিলিত হয়ে এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে বলে ঠিক করল।
13সেই জন্য ইস্রায়েলের লোকরা কয়েক জনকে পাঠালো রূবেণ, গাদ এবং মনঃশির লোকদের সঙ্গে কথা বলতে। এইসব ইস্রায়েলীয়দের নেতা ছিল পীনহস। পীনহস হচ্ছে যাজক ইলিয়াসরের পুত্র। 14ইস্রায়েলবাসীরা এছাড়াও তাদের পরিবারগোষ্ঠীর দশজন নেতাকে সেখানে পাঠিয়েছিল। প্রতিটি গোষ্ঠী থেকে একজন করে নেতা পাঠানো হয়েছিল। এরা থাকত শীলোতে।
15সেই জন্য এই এগার জন লোক গিলিয়দে গেল। তারা রূবেণ, গাদ ও মনঃশির লোকদের বলল, 16“ইস্রায়েলের সব লোক তোমাদের কাছে জানতে চায় কেন ইস্রায়েলের ঈশ্বরের বিরুদ্ধে তোমরা এই কাজ করলে? কেন তোমরা প্রভুর বিরুদ্ধাচরণ করেছ? কেন তোমরা নিজেদের জন্য বেদী তৈরী করলে? তোমরা তো জান এটা ঈশ্বরের শিক্ষার বিরুদ্ধাচরণ। 17পিয়োরে কি হয়েছিল মনে পড়ে? সেই পাপের ফল আজও আমরা ভোগ করছি। সেই মহাপাপের জন্য ঈশ্বর বহু ইস্রায়েলবাসীকে প্রবল অসুখে আক্রান্ত করেছিলেন। সেই অসুস্থতার ফল আজও আমরা ভোগ করছি। 18আর এখন তোমরা সেই একই কাজ করছো? তোমরা প্রভুর ইচ্ছের বিরুদ্ধে কাজ করছ। তোমরা কি প্রভুর অনুসরণ অগ্রাহ্য করবে? যদি এখনও না ক্ষান্ত হও, তাহলে ইস্রায়েলের প্রতিটি মানুষের উপরই তিনি ক্রুদ্ধ হবেন।
19“যদি তোমাদের দেশকে অবমাননা করা হয় তাহলে আমাদের দেশে চলে এসো। প্রভুর পবিত্র তাঁবু আমাদের দেশে রয়েছে। তোমরা আমাদের এখানে কিছু জমি-জায়গা পেতে পার। সেখানে তোমরা বসবাস করতে পার কিন্তু কখনও প্রভুর বিরুদ্ধে যেও না। আর কোন বেদী তৈরী করো না। আমরা তো ইতিমধ্যেই সমাগম তাঁবুতে আমাদের প্রভু ও ঈশ্বরের একটা বেদী পেয়েছি।
20“সেরহের পুত্র আখনের কথা একবার মনে করে দেখ। সে বর্জিত বস্তু সম্বন্ধে ঈশ্বরের আজ্ঞা মানেনি। সেই লোকটি ঈশ্বরের বিধি ভেঙ্গে ছিল, কিন্তু তার জন্য ইস্রায়েলের সমস্ত লোককে শাস্তিভোগ করতে হয়েছিল। আখন তার পাপের জন্য মারা গিয়েছিল, কিন্তু একই কারণে আরো অনেক লোক মারা গিয়েছিল।”
21তখন রূবেণ, গাদ ও মনঃশির লোকরা ঐ এগারো জনকে বলল, 22“প্রভু হলেন আমাদের ঈশ্বর! আবার বলছি প্রভুই হচ্ছেন আমাদের ঈশ্বর! কেন আমরা বেদী করেছি তা তিনি জানেন। এবার তোমরাও তা জেনে রাখো। আমরা কি করেছি তা তোমরা বিচার করে দেখ। যদি তোমাদের মনে হয় আমরা কিছু অন্যায় করেছি তাহলে আমাদের তোমরা মেরে ফেল। 23যদি আমরা ঈশ্বরের বিধি ভঙ্গ করে থাকি তাহলে তাঁকে বল তিনি যেন নিজে আমাদের শাস্তি দেন। 24তোমরা কি মনে কর যে আমরা এই বেদী বানিয়েছি হোমবলি, শস্য নৈবেদ্য ও মঙ্গল নৈবেদ্য উৎসর্গ করার জন্য? না মোটেই তা নয়। কেন বেদী বানিয়েছি জানো? আমাদের ভয় ছিল ভবিষ্যতে তোমাদের লোকরা আমাদের মেনে নেবে না যে আমরাও তোমাদেরই লোক। আমরা তোমাদেরই জাতি। সেদিন তোমাদের লোকরাই বলবে, ‘ইস্রায়েলের প্রভু ঈশ্বরকে উপাসনা করার অধিকার আমাদের নেই। 25ঈশ্বর আমাদের যর্দন নদীর অন্য পারে থাকতে দিয়েছেন। এর অর্থ নদীই আমাদের আলাদা করে দিয়েছে। আমাদের ভয় ছিল তোমাদের সন্তানরা বড় হয়ে যখন দেশ শাসন করবে তখন তারা মনেও করবে না যে আমরা তোমাদেরই লোক। তখন তারা বলবে, তোমরা রূবেন আর গাদের লোক, তোমরা কেউ ইস্রায়েলের নও।’ তখন তোমাদের সন্তানরা আমাদের সন্তান-সন্ততিদের প্রভুর উপাসনা করতে দেবে না।
26“তাই আমরা এই বেদী তৈরী করার সংকল্প করেছিলাম। আমরা হোমবলি আর অন্যান্য কিছু উৎসর্গ করার জন্য বেদী বানাই নি। 27আসল কথা হচ্ছে বেদী তৈরীর উদ্দেশ্য তোমাদের জানানো যে আমরা সেই একই ঈশ্বরের উপাসনা করছি যে ঈশ্বর তোমাদের। এই বেদীই তোমাদের কাছে আমাদের কাছে আর আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের কাছে প্রমাণ করবে যে আমরাও প্রভুর উপাসনা করি। আমরা আমাদের নৈবেদ্য, শস্য নৈবেদ্য এবং মঙ্গল নৈবেদ্য প্রভুকে উৎসর্গ করি। আমরা চাই যে তোমাদের সন্তানরা বড় হয়ে জানুক যে, আমরাও তোমাদের মতোই ইস্রায়েলবাসী। 28ভবিষ্যতে যদি তোমাদের বংশধররা বলে আমরা কেউ ইস্রায়েলীয় নই তখন আমাদের বংশধররা বলবে, ‘ঐ দেখো আমাদের পিতারা এই বৈদী তৈরী করে দিয়েছেন। এই বেদী পবিত্র তাঁবুতে প্রভুর যে বেদী আছে হুবহু তারই মতো। এই বেদী আমরা কোন কিছু উৎসর্গ করার জন্য করি নি, আমরা যে ইস্রায়েলবাসী তারই প্রমাণ হিসাবে আমরা এটি নির্মাণ করেছি।’
29“সত্যি বলছি আমরা প্রভুর বিরুদ্ধাচরণ করতে চাই নি। আমরা তাঁকে মানতে চাই। আমরা জানি পবিত্র তাঁবুর সামনে যে বেদী রয়েছে সেটাই একমাত্র সত্যিকারের বেদী। সেই বেদীই আমাদের প্রভু ঈশ্বরের বেদী।”
30যাজক পীনহস আর তাঁর সঙ্গী সাথী নেতারা রূবেণ, গাদ এবং মনঃশির লোকদের কাছ থেকে এইসব শুনলেন। তাঁরা এদের কথা শুনে খুশী হলেন, বুঝতে পারলেন যে এরা সত্যি কথাই বলেছে। 31তাই পীনহস বললেন, “আজ আমরা জানি যে প্রভু আমাদের সঙ্গেই আছেন এবং আমরা এও জানি যে আমরা তাঁর বিরুদ্ধে নই। এবং আমরা জানি যে ইস্রায়েলের লোকদের প্রভু শাস্তি দেবেন না।”
32তারপর নেতাদের সঙ্গে নিয়ে পীনহস সেখান থেকে নিজেদের দেশে ফিরে গেলেন। রূবেণ এবং গাদের দেশ গিলিয়দ থেকে তাঁরা কনানে ফিরে গিয়ে ইস্রায়েলবাসীদের সব কিছু জানালেন। 33শুনে তারাও খুশী হল। তারা খুশী হয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাল। রূবেণ, গাদ ও মনঃশির দেশ তারা ধ্বংস করবে না বলে স্থির করল।
34রূবেণ এবং গাদের লোকরা বেদীটার একটা নাম দিল। যার অর্থ হল: “এই বেদী হচ্ছে আমাদের প্রভু ঈশ্বরের বিশ্বাসের প্রতীক।”
23জনগণকে যিহোশূয়ের উৎসাহ দান
1প্রভু ইস্রায়েলকে তাদের চারপাশের শত্রুদের থেকে বিশ্রাম দিলেন। সে দেশকে নিরাপদ করলেন। তারপর বহু বছর কেটে গেল। যিহোশূয় বেশ বৃদ্ধ হলেন। 2তারপর একদিন তিনি সমস্ত প্রবীণ নেতাদের, পরিবারগোষ্ঠীর প্রধানদের, ইস্রায়েলের উচ্চ পদস্থ কর্মচারীদের এবং বিচারকদের একটি সভা ডাকলেন। তিনি বললেন, “আমার বয়স হয়েছে। 3তোমরা দেখেছ প্রভু আমাদের শত্রুদের কি অবস্থা করেছেন। আমাদের উপকার করার জন্যেই তিনি এমন কাজ করেছেন। প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের হয়েই কাজ করেছেন। 4মনে আছে আমি তোমাদের বলেছিলাম, যর্দন নদী আর ভূমধ্যসাগরের মধ্যে হবে তোমাদের দেশ? সেই দেশ আমি তোমাদের দেব বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু তোমরা এখনও তা অধিকার করো নি। 5কিন্তু প্রভু তোমাদের ঈশ্বর সেখানকার লোকদের সেই জায়গা ছেড়ে দিতে বাধ্য করবেন। তোমরা সেই জায়গা অধিকার করবে। প্রভু তাদের সেখান থেকে বলপূর্বক বিদায় করবেন। প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের জন্যে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
6“প্রভু তোমাদের যা যা আদেশ দিয়েছেন সেসব তোমরা অবশ্যই পালন করবে। মোশির বিধি পুস্তকে যে সব লেখা আছে সেই সব পালন করবে। ঐ বিধি থেকে বিচ্যুত হয়ো না। 7আমাদের মধ্যে এখনও কিছু লোক আছে যারা ইস্রায়েলের কেউ নয়। তারা তাদের নিজেদের দেবতার পূজা করে। তোমরা তাদের দেবতাদের সেবা অথবা পূজা করবে না। প্রতিশ্রুতি নেবার সময় তাদের দেবতাদের নাম তোমাদের নেওয়া উচিৎ হবে না। 8তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের অনুসরণ করে চলবে। আগেও তোমরা তাই করেছিলে, সর্বদাই তোমরা তাই করবে।
9“অনেক বড় বড় শক্তিশালী জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে প্রভু তোমাদের সাহায্য করেছিলেন। প্রভু তাদের জোরপূর্বক তাড়িয়ে দিয়েছেন। কোন জাতিই তোমাদের পরাজিত করতে পারবে না। 10প্রভুর দয়ায় ইস্রায়েলের একজন লোকই শত্রু পক্ষের 1000 সৈন্যকে পরাজিত করতে পারবে। এর কারণ কি? কারণ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধ করেন। 11তাই বলছি সব সময় প্রভু তোমাদের ঈশ্বরকে প্রেম নিবেদন করবে।
12“প্রভুকে অনুসরণ করা বন্ধ করো না। যারা ইস্রায়েলের কেউ নয় তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে না। তাদের কারোর সঙ্গে বিবাহ সম্বন্ধ করো না। 13যদি তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো তাহলে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের শত্রু দমনের কাজে সাহায্য করবেন না। এইসব লোকই হচ্ছে তোমাদের মরণ ফাঁদ। চোখে ধূলো বা ধোঁয়া ঢোকার মতো এরা তোমাদের যন্ত্রণা দেবে। এই উত্তম দেশ থেকে সরে যেতে তখন তোমরা বাধ্য হবে। প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের এই দেশ দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর আদেশ না মানলে এই দেশ তোমরা হারাবে।
14“আমার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে। তোমরা জান এবং সত্যই বিশ্বাস করো যে প্রভু তোমাদের মধ্যে কতো মহান কাজ করেছেন। তোমরা জানো তাঁর দেওয়া কোন প্রতিশ্রুতি বিফল হয় নি। আমাদের কাছে তিনি যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার সবই তিনি রেখেছেন। 15তোমাদের প্রভু ঈশ্বর যে কটি ভালো প্রতিশ্রুতি করেছিলেন আমাদের কাছে তার প্রত্যেকটি আজ সত্যে পরিণত হয়েছে। একই ভাবে তিনি তাঁর অন্যান্য প্রতিশ্রুতিও সফল করে তুলবেন। তিনি বলেছিলেন যদি তোমরা অন্যায় করো তাহলে তোমাদের অমঙ্গল হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি করে বলেছিলেন, অন্যায় করলে তিনি তোমাদের জোর করে এই সুন্দর দেশ থেকে বিতাড়িত করবেন। 16তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের সঙ্গে যে চুক্তি করেছ তা ভঙ্গ করলে এই দশাই হবে। যদি তোমরা অন্যান্য দেবতার সেবা কর তাহলে এই দেশ তোমাদের হারাতে হবে। অন্য দেবতাদের তোমরা কিছুতেই আরাধনা করবে না। যদি করো প্রভু তোমাদের উপর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হবেন আর এর ফলে তাঁর দেওয়া দেশ থেকে অচিরেই তোমাদের চলে যেতে বাধ্য করা হবে।”
24যিহোশূয় বিদায় জানালেন
1ইস্রায়েলের সমস্ত পরিবারগোষ্ঠীকে যিহোশূয় এক সঙ্গে শিখিমে জড়ো করলেন। প্রবীণ নেতাদের, পরিবারের কর্তাদের, বিচারকদের এবং পদস্থ কর্মচারীদের তিনি ডাকলেন। তারা সকলেই ঈশ্বরের সামনে দাঁড়ালো।
2তারপর যিহোশূয় সকলকে বললেন, “প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর তোমাদের যা যা বলছেন আমি সেসব বলছি। ‘বহুকাল আগে তোমাদের পূর্বপুরুষরা থাকতেন ফরাৎ নদীর ওপারে। আমি অব্রাহামের পিতা, নাহোরের পিতা এবং তেরহ এঁদের মতো লোকদের কথাই বলছি। তখন তাঁরা অন্যান্য দেবতাদের আরাধনা করতেন। 3কিন্তু আমি প্রভু স্বয়ং তোমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহামকে ফরাৎ নদীর ওপারের দেশ থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলাম এবং তাঁকে কনানের ভেতর দিয়ে নিয়ে এসেছিলাম এবং তাঁর বংশবৃদ্ধি করেছিলাম। তারপর তাঁকে দিলাম অসংখ্য সন্তান। অব্রাহামকে আমি একটি সন্তান দিলাম। তার নাম ইস্হাক। 4ইস্হাককে আমি যাকোব এবং এষৌ নামে দুটি সন্তান দিলাম। এষৌকে দিলাম সেয়ীর পর্বতের চারিদিকের জমি। সেখানে যাকোব আর তার পুত্ররা থাকত না। তারা চলে গিয়েছিল মিশরে।
5“‘তারপর আমি মোশি আর হারোণকে মিশরে পাঠালাম। পাঠানোর উদ্দেশ্য মিশর থেকে আমার লোকদের বার করে আনা। আমি মিশরের লোকদের ভয়ঙ্কর কষ্টের মুখে ফেলেছিলাম। আর এইভাবেই আমি তোমাদের লোকদের মিশর থেকে বার করে আনলাম। 6এভাবেই তোমাদের পূর্বপুরুষদের আমি মিশর থেকে নিয়ে এসেছিলাম। লোহিত সাগরের দিকে তারা চলে এসেছিল আর তাদের পিছু নিয়েছিল মিশরীয়রা। তাদের ছিল কত রথ, কত ঘোড়া আর কত লোক। 7তাই লোকরা আমার কাছে অর্থাৎ প্রভুর কাছে সাহায্য ভিক্ষা করল। আমি মিশরের লোকদের ঘোর কষ্টের মধ্যে ফেললাম। আমি প্রভু সমুদ্র দিয়ে তাদের আড়াল করলাম। তোমরা তো নিজেরাই দেখেছিলে মিশরের সৈন্যবাহিনীর কি অবস্থা আমি করেছিলাম।
“‘তারপর তোমরা বহুদিন মরুভূমিতে কাটিয়েছিলে। 8এরপর আমি তোমাদের নিয়ে এসেছিলাম ইমোরীয়দের দেশে। দেশটা ছিল যর্দনের পূর্বতীরে। ওরা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল বটে, কিন্তু আমি তাদের হারাবার জন্য তোমাদের শক্তি দিয়েছিলাম। তাদের বিনাশ করার মতো ক্ষমতা আমি তোমাদের দিয়েছিলাম। তারপর তোমরা সেই দেশের দখল নিলে।
9“‘তারপর মোয়াবের রাজা বালাক সিপ্পোরের পুত্র ইস্রায়েলবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য তোড়জোড় করতে লাগল। সে ডেকে পাঠাল বালামকে। বালাম হচ্ছে বিয়োরের পুত্র। সে বালামকে তোমাদের অভিশাপ দিতে বলল। 10কিন্তু আমি প্রভু, বালামের অভিশাপ শুনতে সম্মত হলাম না। অভিশাপের বদলে সে তোমাদের করল আশীর্বাদ। একবার নয়, বারবার। এভাবেই আমি তোমাদের বাঁচিয়েছিলাম। আমি তোমাদের বিপদ থেকে রক্ষা করেছিলাম।
11“‘তারপর তোমরা যর্দন নদী পেরিয়ে যিরীহোয এলে। যিরীহোর লোকরা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করল। তাছাড়া ইমোরীয়, পরিষীয়, কনানীয়, হিত্তীয়, গির্গাশীয়, হিব্বীয় আর যিবূষীয় লোকরাও তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। কিন্তু সমস্ত যুদ্ধেই আমি তোমাদের জিতিয়ে দিলাম। 12তোমাদের সৈন্যরা যখন এগিয়ে যাচ্ছিল তখন আমি তাদের আগে আগে ভীমরুল পাঠালাম। ভীমরুলের ভয়েই লোকরা পালিয়ে গেল। তাই তরবারি, তীরধনুক ছাড়া তোমরা সেই দেশ জয় করে নিলে।
13“‘আমি প্রভু তোমাদের সেই জমি-জায়গা দিয়েছিলাম। তোমরা ঐসব শহর তৈরী কর নি, আমিই সেসব তোমাদের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। আজ তোমরা সেই সব জায়গায় আর শহরে বসবাস করছ। দ্রাক্ষার বাগান, জলপাইগাছ সবই তোমাদের আছে। কিন্তু একটা গাছের চারাও তোমাদের পুঁতে দিতে হয় নি।’”
14তখন যিহোশূয় লোকদের বললেন, “এখন শুনলে তো প্রভুর বাণী। তাই বলছি তোমরা অবশ্যই প্রভুকে শ্রদ্ধাভক্তি করবে এবং আন্তরিকভাবে তাঁর সেবা করবে। তোমাদের পূর্বপুরুষরা যে সব মূর্ত্তির পূজা করেছিল, তাদের তোমরা ছুঁড়ে ফেলে দাও। বহুকাল আগে এইসব ঘটনা ঘটেছিল ফরাৎ নদীর ওপারে আর মিশরে। এখন থেকে তোমরা শুধু প্রভুরই সেবা করবে।
15“কিন্তু এমনও তো হতে পারে যে, তোমরা চাও না এই প্রভুর সেবা করতে। তাহলে আজই তোমরা নিজেরাই ঠিক করো কাকে তোমরা সেবা করবে। ফরাৎ নদীর অন্য পারে তোমাদের পূর্বপুরুষরা যেসব দেবতাদের পূজা করত তোমরা কি তাদের সেবা করবে, নাকি এদেশের ইমোরীয়রা যে সব দেবতাদের উপাসনা করত তাদের সেবা করবে? নিজেরাই সেটা ঠিক করো। কিন্তু আমি আর আমার পরিবার সম্পর্কে বলতে পারি, আমরা প্রভুরই সেবা করব।”
16তখন লোকরা উত্তর দিল, “আমরা প্রভুর সেবা থেকে কখনই বিরত হবো না। আমরা কখনই অন্য দেবতাদের পূজা করবো না। 17আমরা জানি প্রভু আমাদের ঈশ্বরই মিশর থেকে আমাদের বার করে এনেছিলেন। সে দেশে আমরা ছিলাম ক্রীতদাস। কিন্তু প্রভু সেখানে আমাদের জন্য মহাকার্য সাধন করেছিলেন। সে দেশ থেকে তিনিই আমাদের উদ্ধার করেছিলেন। অন্যান্য দেশে যাবার সময় তিনিই আমাদের রক্ষা করেছিলেন। 18সেই সব দেশে বসবাসকারী লোকদের পরাজিত করতে প্রভুই আমাদের সাহায্য করেছিলেন। আমরা আজ যেখানে রয়েছি সেখানে ইমোরীয়দের পরাজিত করতে তিনিই আমাদের সাহায্য করেছিলেন। তাই আমরা তাঁর সেবা করতে থাকব। কেন? কারণ তিনিই আমাদের ঈশ্বর।”
19যিহোশূয় বললেন, “মিথ্যা কথা। তোমরা প্রভুর সেবা চিরকাল করতে পারবে না। প্রভু ঈশ্বর পরম পবিত্র। প্রভুর লোকরা যদি অন্য দেবতার পূজা করে ঈশ্বর তাদের ঘৃণা করেন। এইভাবে তোমরা যদি ঈশ্বরের ইচ্ছের বিরুদ্ধে যাও তাহলে তিনি তোমাদের ক্ষমা করবেন না। 20কিন্তু তোমরা তো প্রভুকে ছেড়ে অন্যান্য দেবতাদেরই আরাধনা করবে। তাহলে প্রভু তোমাদের সাংঘাতিক দুর্ভোগ দেবেন এবং তিনি তোমাদের বিনাশ করবেন। প্রভু তোমাদের মঙ্গল সাধন করেছেন, কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করলে তিনি তোমাদের ধ্বংস করবেন।”
21লোকরা যিহোশূয়কে বলল, “না! আমরা তাঁর বিরুদ্ধে যাব না। আমরা প্রভুরই সেবা করব।”
22যিহোশূয় বললেন, “তোমরা নিজেদের দিকে তাকাও। এখানে যারা এসেছে তাদের দিকে তাকাও। তোমরা কি সব জেনে শুনে সম্মত আছে যে তোমরা প্রভুর সেবা করবে? তোমরা সকলে এই ঘোষণার সাক্ষী আছ তো?”
তারা বলল, “হ্যাঁ, আমরা সাক্ষী হলাম। আমরা প্রভুর সেবা করব বলে যে কথা দিলাম, তা যাতে পালন করতে পারি সে বিষয়ে আমরা লক্ষ্য রাখব।”
23তখন যিহোশূয় বললেন, “সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মূর্ত্তিগুলো আছে তা তোমরা ছুঁড়ে ফেলে দাও। ইস্রায়েলের প্রভু ঈশ্বরকে তোমাদের সমস্ত অন্তঃকরণ দিয়ে ভালোবাসো।”
24তারা যিহোশূয়কে বলল, “আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সেবা করব। আমরা তাঁর আদেশ পালন করব।”
25তাই সেদিন যিহোশূয় শিখিম শহরে তাদের সঙ্গে এক চুক্তি করলেন। শিখিম শহরে এই চুক্তি হল তাদের কাছে নিয়মের মতো, যে নিয়ম তারা পালন করবে। 26যিহোশূয় সে সব ঈশ্বরের বিধির পুস্তকে লিখে রাখলেন। তারপর যিহোশূয় একটা বিরাট পাথর দেখতে পেলেন। সেই পাথরটাই হচ্ছে চুক্তির সাক্ষ্য প্রমাণ। প্রভুর পবিত্র তাঁবুর কাছে ওক গাছের নীচে সেই পাথরটিকে তিনি স্থাপন করলেন।
27তখন যিহোশূয় সমস্ত লোকদের বললেন, “আজ আমরা তোমাদের যা বললাম এই পাথর সে সব তোমাদের মনে করিয়ে দেবে। এই পাথরটি হবে সেই বস্তু যা তোমাদের মনে করিয়ে দেবে আজ কি হল এবং এটি তোমাদের কাছে তোমাদের প্রভু, ঈশ্বরের বিরুদ্ধাচরণ করতে বিরত করবার জন্য একটি সাক্ষী হয়ে থাকবে।”
28তারপর যিহোশূয় সকলকে বাড়ী চলে যেতে বললেন। সকলে যে যার জায়গায় ফিরে গেল।
যিহোশূয়র মৃত্যু
29তারপর নূনের পুত্র যিহোশূয় মারা গেলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল 110 বছর। 30তাঁর নিজের জায়গা তিন্নত্-সেরহে তাঁকে কবর দেওয়া হয়েছিল। গাশ পর্বতের উত্তরে পাহাড়ী শহর ইফ্রয়িমে এই তিন্নত্ সেরহ অবস্থিত।
31যিহোশূয় যতদিন বেঁচে ছিলেন ইস্রায়েলবাসীরা প্রভুর সেবা করেছিল। এমনকি যিহোশূয়র মৃত্যুর পরও তারা প্রভুর সেবা চালিয়ে গেল। যতদিন তাদের নেতারা বেঁচেছিলেন লোকরা প্রভুর সেবা করেছিল। এই নেতারা ইস্রায়েলের জন্য প্রভুর সমস্ত কর্মকাণ্ড সচক্ষে দেখেছিলেন।
যোষেফের গৃহে প্রত্যাবর্তন
32মিশর ছেড়ে চলে আসার সময় ইস্রায়েলবাসীরা সঙ্গে করে এনেছিল যোষেফের অস্থি। তারা শিখিমে তাঁর অস্থিগুলি সমাহিত করল। তারা সেই জায়গায় কবর দিল যে জায়গাটি যাকোব 100টি খাঁটি রূপোর মুদ্রা দিয়ে শিখিমের পিতা হমোরের কাছ থেকে কিনেছিলেন। এই জায়গাটিতে যোষেফের সন্তান সন্ততিরা বাস করছে।
33হারোণের পুত্র ইলিয়াসর মারা গেলে গিবিয়ায় তাঁকে কবর দেওয়া হয়েছিল। গিবিয়া ইফ্রয়িমের পাহাড়ী অঞ্চলে অবস্থিত। ইলিয়াসরের পুত্র পীনহসকে গিবিয়া দান করা হয়েছিল।