ইয়োবের বিবরণ

1

ইয়োব সেই সৎ‌ লোকটি

1ঊষ দেশে ইয়োব নামে একজন লোক বাস করতেন। ইয়োব একজন সৎ‌ ও অনিন্দনীয় মানুষ ছিলেন। ইয়োব ঈশ্বরের উপাসনা করতেন এবং মন্দ কাজ করা থেকে বিরত থাকতেন। 2ইয়োবের সাতটি ছেলে এবং তিনটি মেয়ে ছিল। 3ইয়োবের 7000টি মেষ, 3000টি উট, 500 জোড়া বলদ, 500 স্ত্রী গাধা এবং অনেক দাসদাসী ছিল। ইয়োব ছিলেন পূর্বদেশের সব চেয়ে ধনী লোক।

4তাদের বাড়ীতে তাঁর পুত্ররা পালা করে ভোজ সভার আয়োজন করত। এবং তারা তাদের বোনদের নিমন্ত্রণ করতো। 5তাঁর পুত্রদের ভোজসভা শেষ হয়ে গেলে ইয়োব প্রত্যূষে ঘুম থেকে উঠতেন এবং তাঁর সন্তানদের প্রত্যেকের জন্য একটি করে হোমবলি উৎসর্গ করতেন। তিনি ভেবেছিলেন, “হয়তো আমার সন্তানরা মনে মনে ঈশ্বরকে অভিশাপ দিয়ে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে কোন পাপ করেছে।” ইয়োব বরাবরই এই কাজ করেছেন যাতে তাঁর সন্তানদের পাপ ক্ষমা করা হয়।

6তারপর সেই দিনটি এল যেদিন দেবদূতরা+ 1:6 দেবদূতরা আক্ষরিক অর্থে, “ঈশ্বরের পুত্রগণ।” প্রভুর সঙ্গে দেখা করতে এলেন। শয়তানও দেবদূতদের সঙ্গে এসেছিল। 7প্রভু তখন শয়তানকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কোথায় ছিলে?”

শয়তান প্রভুকে উত্তর দিল, “আমি পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম।”

8তারপর প্রভু শয়তানকে বললেন, “তুমি কি আমার দাস ইয়োবকে দেখেছো? পৃথিবীতে ইয়োবের মতো আর কোন লোকই নেই। ইয়োব একজন সৎ‌ এবং অনিন্দনীয় মানুষ। সে ঈশ্বরের উপাসনা করে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে।”

9শয়তান উত্তর দিল, “নিশ্চয়! কিন্তু ইয়োব যে ঈশ্বরের উপাসনা করে তার যথেষ্ট কারণ রয়েছে! 10আপনি তাকে, তার পরিবারকে এবং তার যা কিছু আছে সব কিছুকে সর্বদাই রক্ষা করেন। সে যা কিছু করে সব কিছুতেই আপনি তাকে সফলতা দেন। তার গবাদি পশুর দল ও মেষের পাল দেশে এমশঃ বেড়েই চলেছে। 11কিন্তু তার যা কিছু রয়েছে তা যদি আপনি ধ্বংস করে দেন আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, সে আপনার মুখের ওপরে আপনাকে অভিশাপ দেবে।”

12প্রভু শয়তানকে বললেন, “ঠিক আছে, ইয়োবের যা কিছু আছে তা নিয়ে তুমি যা খুশী তাই কর। কিন্তু তার দেহে কোন আঘাত করো না।”

তারপর শয়তান প্রভুর কাছ থেকে চলে গেল।

ইয়োব তাঁর সব কিছু হারালেন

13এক দিন ইয়োবের ছেলেমেয়েরা তাদের সব থেকে বড় দাদার বাড়ীতে দ্রাক্ষারস পান ও নৈশ ভোজ আহার করছিল। 14তখন একজন বার্তাবাহক এসে ইয়োবকে সংবাদ দিল, “বলদগুলো জমিতে হাল দিচ্ছিল এবং স্ত্রী গাধাগুলো কাছাকাছি চরে ঘাস খাচ্ছিল, তখন 15শিবায়ীয়েরা আমাদের আক্রমণ করে পশুদের ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং অন্য ভৃত্যদের তরবারি দিয়ে হত্যা করে। একমাত্র আমিই পালাতে পেরেছি। তাই আমি আপনাকে সংবাদটা দিতে এসেছি!”

16যখন সেই বার্তাবাহক কথা বলছিল তখনই আরও একজন বার্তাবাহক ইয়োবের কাছে এলো। দ্বিতীয় বার্তাবাহক ইয়োবকে বলল, “আকাশ থেকে বাজ পড়ে আপনার মেষ এবং ভৃত্যরা সব পুড়ে গিয়েছে। একমাত্র আমিই রক্ষা পেয়েছি। তাই আমি আপনাকে সংবাদটা দিতে এসেছি!”

17যখন সেই বার্তাবাহক কথা বলছিল তখন আরো একজন বার্তাবাহক এলো। তৃতীয় বার্তাবাহক বলল, “কল‌্দীয়রা তিন দল সৈন্যে ভাগ হয়েছিল। ওরা আমাদের আক্রমণ করে উটগুলিকে নিয়ে গিয়েছে! ওরা ভৃত্যদের তরবারি দিয়ে হত্যা করেছে। একমাত্র আমিই রক্ষা পেয়েছি। তাই আমি আপনাকে সংবাদটা দিতে এসেছি!”

18যখন তৃতীয় বার্তাবাহক কথা বলছিল তখন আরও একজন বার্তাবাহক এলো। চতুর্থ বার্তাবাহক বলল, “আপনার ছেলেমেয়েরা তাদের বড় দাদার বাড়ীতে আহার করছিল ও দ্রাক্ষারস পান করছিল। 19তখন মরুভূমি থেকে হঠাৎ‌‌ই একটা ঝড় এসে বাড়ীটাকে ভেঙে দেয়। বাড়ীটা অল্পবয়সী লোকদের ওপরে ভেঙে পড়ে এবং তারা মারা যায়। একমাত্র আমিই রক্ষা পেয়েছি। তাই আমি আপনাকে সংবাদটা দিতে এসেছি!”

20যখন ইয়োব এইসব শুনলেন, তখন তিনি তাঁর বস্ত্র ছিঁড়ে ফেললেন এবং মাথা কামিয়ে ফেললেন। এভাবেই তিনি তাঁর শোক প্রকাশ করলেন। তারপর ইয়োব মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন এবং ঈশ্বরের সামনে নত হলেন। 21তিনি বললেন:

“যখন আমি জন্মেছিলাম

আমি নগ্ন ছিলাম,

যখন আমি মারা যাবো

তখনও আমি নগ্ন থাকব।

প্রভু দেন

এবং প্রভুই নিয়ে নেন।

প্রভুর নামের প্রশংসা করো!”

22এ সব কিছুই ঘটলো, কিন্তু ইয়োব কোন পাপ করেননি। ইয়োব একথা বলেননি যে ঈশ্বর কোন ভুল করেছেন।

2

শয়তান ইয়োবকে আবার বিরক্ত করলো

1আর একদিন দেবদূতরা প্রভুর সঙ্গে দেখা করতে এলেন। শয়তানও তাদের সঙ্গে প্রভুর কাছে দেখা করতে এলো। 2প্রভু শয়তানকে বললেন, “তুমি কোথায় ছিলে?”

শয়তান প্রভুকে উত্তর দিলো, “আমি পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম এবং এদিক-ওদিক যাচ্ছিলাম।”

3তখন প্রভু শয়তানকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি আমার দাস ইয়োবকে দেখেছো? পৃথিবীতে ইয়োবের মতো আর কোন লোক নেই। ইয়োব একজন সৎ‌ এবং অনিন্দনীয় মানুষ। সে এখনও তার সততাকে ধরে আছে যদিও তুমি সম্পূর্ণ বিনা কারণে তাকে ধ্বংস করতে আমাকে প্ররোচিত করেছিলে।”

4তখন শয়তান উত্তর দিল, “নিজেকে রক্ষা করার জন্য যে কেউই যা কিছু করতে পারে।+ 2:4 নিজেকে … পারে আক্ষরিক অর্থে, “চামড়ার বদলে চামড়া।” নিজের জীবন রক্ষা করার জন্য একজন তার সর্বস্ব দিয়ে দেবে। 5আপনি যদি তার দেহে আঘাত করার জন্য আপনার শক্তিকে ব্যবহার করেন, তাহলে আমি জোর দিয়ে বলতে পারি যে সে মুখের ওপরই আপনাকে অভিশাপ দেবে।”

6তখন প্রভু শয়তানকে বললেন, “ঠিক আছে, ইয়োব এখন তোমার ক্ষমতার মধ্যে। কিন্তু তুমি তাকে মেরে ফেলতে পারবে না।”

7তখন শয়তান প্রভুর কাছ থেকে চলে গেল। শয়তান যন্ত্রণাদায়ক ফোঁড়ায় ইয়োবের পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভরিয়ে দিল। 8তখন ইয়োব ছাইয়ের গাদার মধ্যে বসলেন। একটা ভাঙা খোলামকুচি (সরা বা হাঁড়ির ভাঙা টুকরো) দিয়ে তিনি তাঁর ক্ষত চাঁছতে লাগলেন। 9ইয়োবের স্ত্রী তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি এখনো ঈশ্বরের প্রতি সততায় অবিচল আছ? কেন তুমি ঈশ্বরকে অভিশাপ+ 2:9 অভিশাপ এখানে আক্ষরিক অর্থে, “আশীর্বাদ।” দিচ্ছো না এবং মরছো না!”

10ইয়োব তাঁর স্ত্রীকে উত্তর দিলেন, “তুমি একজন নির্বোধ স্ত্রীলোকের মত কথা বলছো! ঈশ্বর আমাদের ভালো জিনিস দেন এবং আমরা তা গ্রহণ করি। সেই ভাবে আমাদের, তাঁর প্রদত্ত দুঃখ কষ্টও গ্রহণ করা উচিৎ‌।” এইসব ঘটনা ঘটলো, কিন্তু ইয়োব ঈশ্বরের বিরুদ্ধে কোন কথা বলে কোন পাপ করলেন না।

ইয়োবের তিন বন্ধু তাঁকে দেখতে এলেন

11ইয়োবের তিনজন বন্ধু হলেন তৈমনীয় ইলীফস, শূহীয় বিল‌্দদ ও নামাথীয় সোফর। ইয়োবের প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা তিন বন্ধুই শুনলেন। তাঁরা তিন জনে বাড়ী থেকে বেরিয়ে এক জায়গায় মিলিত হলেন। তাঁরা ইয়োবের কাছে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানাতে ও সান্ত্বনা জানাতে রাজী হলেন। 12কিন্তু তিন বন্ধু ইয়োবকে অনেক দূর থেকে দেখলেন। তাঁরা তাঁকে চিনতেই পারছিলেন না। তাঁরা উচ্চস্বরে কাঁদতে শুরু করলেন। তাঁরা নিজের কাপড় ছিঁড়ে ফেললেন এবং নিজেদের মাথার ওপরে শূন্যে ধূলো ছুঁড়লেন। 13তারপর সেই তিন বন্ধু ইয়োবের সঙ্গে সাতদিন+ 2:13 সাতদিন সাতদিন ছিল মৃতদের জন্য শোক বা দুঃখ করার সাধারণ মেয়াদ। সাত রাত বসে রইলেন। কেউই ইয়োবের সঙ্গে কোন কথা বলেন নি কারণ তাঁরা দেখেছিলেন ইয়োব অতিরিক্ত কষ্ট পাচ্ছিলেন।

3

যেদিন ইয়োব জন্মেছিলেন সেই দিনকে তিনি অভিশাপ দিলেন

1তারপর ইয়োব মুখ খুললেন এবং যে দিন তিনি জন্মেছিলেন সেই দিনটিকে নিন্দা করলেন। 2তিনি বললেন:

3“যে দিনে আমি জন্মেছিলাম সেদিন চিরদিনের জন্য নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক।

যে রাত্রি বলে উঠেছিলো, ‘একটি ছেলে গর্ভে এসেছে!’ সে রাত্রি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক।

4সে দিন যেন অন্ধকারে ঢেকে যায়।

সেই দিনের কথা ওপরে ঈশ্বর যেন ভুলে যান।

সেই দিনে যেন আলো প্রকাশ না হয়।

5বিষাদ এবং মৃত্যুর অন্ধকার যেন সেই দিনকে নিজেদের বলে দাবী করে।

মেঘ যেন সেই দিনকে ঢেকে লুকিয়ে রাখে। তিক্ত বিষাদ যেন সেই দিনটিকে গ্রাস করে।

6অন্ধকার যেন সেই রাত্রিকে নিয়ে যায়।

সেই দিনটিকে পঞ্জিকা থেকে বাদ দিয়ে দাও।

সেই রাত্রিকে কোন মাসের মধ্যে গণনা করো না।

7সেই রাত্রি যেন কোন কিছু উৎপন্ন না করে।

সেই রাতে যেন কোন খুশীর শব্দ শোনা না যায়।

8যারা দিনকে অভিশাপ দেয়+ 3:8 দিনকে … দেয় অথবা “সমুদ্রকে অভিশাপ দেয়।” এবং যারা লিবিয়াথনকে জাগিয়ে তুলতে পারদর্শী,

তারা যেন সেই রাতটিকে অভিশাপ দেয়।

9সেই দিনের প্রভাতী নক্ষত্র যেন অন্ধকার হয়ে যায়।

সেই রাত্রি যেন প্রভাতের আলোর জন্য অপেক্ষা করে কিন্তু সেই সকাল যেন কোন দিন না আসে।

সেই দিন যেন সূর্যের প্রথম রশ্মি কোনদিন না দেখে।

10কেন? কারণ সেই রাত্রি আমাকে জন্মাতে বাধা দেয় নি।

সেই রাত্রি এইসব সমস্যা দেখা থেকে আমাকে বিরত করে নি।

11যখন আমি জন্মেছিলাম, তখনই আমি মরে গেলাম না কেন?

কেন আমি আমার মাতৃজঠর থেকে বেরিয়ে এসেই মারা গেলাম না?

12কেন আমার মা আমাকে নির্বিঘ্নে জন্ম দিয়েছিলেন?

আমার মায়ের স্তন কেন আমায় দুধ পান করিয়েছিলো?

13এই ঘটনাগুলি যদি না ঘটত তাহলে আমি এখন শায়িত থাকতে পারতাম।

আমি শান্তিতে থাকতাম।

আমি ঘুমিয়ে থাকতে পারতাম এবং বিশ্রাম পেতাম।

14এই পৃথিবীর যে সব রাজা ও মন্ত্রীরা ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরীগুলি নিজেদের জন্য পুনর্নির্মাণ করেছেন+ 3:14 এই … করেছেন অথবা যারা শহর নির্মাণ করেছিল যেগুলো এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত।

আমি তাঁদের সঙ্গে থাকতে পারতাম।

15অথবা আমি সেই রাজপুত্রদের সঙ্গে থাকতে পারতাম যাদের কাছে সোনা ছিল

এবং যারা তাদের বাড়ীগুলি রূপায় ভর্ত্তি করে রাখত।

16আমি কেন সেই শিশুর মত হলাম না যে জন্মের সময়ই মারা যায়

এবং যাকে মাটিতে কবর দেওয়া হয়?

যে শিশু দিনের আলো দেখেনি

আমি যদি সেই শিশুর মত হতাম!

17দুষ্ট লোকরা যখন কবরে থাকে তখন তারা কোন অশান্তি অনুভব করে না।

যারা পরিশ্রান্ত, তারা কবরে বিশ্রাম খুঁজে পায়।

18এমনকি ক্রীতদাসরাও কবরের মধ্যে সকলে মিলে স্বচ্ছন্দে থাকে।

ক্রীতদাস তাড়কদের চিৎকার তারা শুনতে পায় না।

19কবরে সব রকমের লোকই রয়েছে—গুরুত্বপূর্ণ লোক এবং যারা গুরুত্বপূর্ণ নয় তারাও রয়েছে।

এমনকি একজন দাসও তার প্রভুর কবল থেকে মুক্ত।

20“যে মানুষ ভুগছে তাকে আলো দেখান কিজন্য?

যার জীবন তিক্ত কেন তাকে আয়ু দেওয়া হয়?

21যে লোক মরতে চায়, কিন্তু মৃত্যু আসে না,

সেই দুঃখী লোক গুপ্ত সম্পদের চেয়েও বেশি করে মৃত্যুকে খোঁজে।

22ঐ লোকরা ওদের কবর খুঁজে পেলে অত্যন্ত খুশী হবে

এবং আনন্দে গান গাইবে।

23যারা তাদের জীবনের পথ দেখতে পায় না তাদের কেন জীবন দেওয়া হয়?

ঈশ্বর কেন তাদের মরণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন?

24আমার দীর্ঘশ্বাসই আমার খাদ্য।

আমার গুমরানি জলের মত গড়িয়ে পড়ে।

25আমি যার ভয়ে ভীত ছিলাম আমার ঠিক তাই ঘটেছে।

যা আমার আতঙ্ক ছিল, আমার বিরুদ্ধে তাই ঘটেছে।

26আমি শান্তি খুঁজে পাইনি। আমি স্বস্তি খুঁজে পাইনি।

আমি শুধু মাত্র অশান্তি খুঁজে পেয়েছি। আমি কষ্টে পড়েছি!”

4

ইলীফস কথা বললেন

1তৈমনীয় ইলীফস উত্তর দিলো:

2“যদি কেউ তোমার সঙ্গে কথা বলতে চায়, তুমি কি অধৈর্য্য হবে?

কিন্তু তোমার সঙ্গে কথা বলা থেকে কে আমাকে থামাতে পারে?

3ইয়োব, তুমি অনেক লোককে শিক্ষা দিয়েছো।

দুর্বলকে তুমি শক্তি দিয়েছো।

4যারা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল তুমি তাদের উৎসাহিত করেছ।

যাদের হাঁটু ভেঙে আসছিল তুমি তাদের সবল করেছ।

5কিন্তু এখন তুমি সমস্যায় পড়েছ

এবং তুমি নিরুৎসাহ হয়েছো।

সমস্যা তোমায় আঘাত করেছে

এবং তুমি বিচলিত।

6ঈশ্বরের প্রতি তোমার শ্রদ্ধা কি

তোমাকে এই পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাস যোগায় না?

তোমার সরল ও সৎ‌ জীবন কি

তোমাকে এই পরিস্থিতিতে আশা দেয় না?

7ইয়োব, অন্তত একজন নির্দোষ লোকের নাম কর যে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।

আমাকে ভালো লোকদের দেখাও যারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল।

8আমি কিছু সমস্যা সৃষ্টিকারী মানুষ দেখেছি যারা অন্যের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।

কিন্তু তারা সর্বদা শাস্তি পেয়েছে।

9ঈশ্বরের শাস্তি ঐ লোকদের হত্যা করেছে।

ঈশ্বরের ক্রোধ তাদের ধ্বংস করেছে।

10মন্দ লোকরা সিংহের মত গর্জন ও গর্গর্ করে।

কিন্তু ঈশ্বর ঐ মন্দ লোকদের চুপ করিয়ে দেন এবং ঈশ্বর তাদের দাঁত ভেঙে দেন।

11হ্যাঁ, ঐ মন্দ লোকরা, সেই সিংহের মত যারা হত্যা করার জন্য কোন প্রাণী পায় না।

তারা মারা যায় এবং তাদের পুত্ররা যত্রতত্র ঘুরে বেড়ায়।

12“গোপনে আমার কাছে এক বার্তা এসেছে।

আমি তা নিজের কানে শুনেছি।

13সে ছিল একটি দুঃস্বপ্নেব মত

যেটা লোকরা গভীরভাবে ঘুমিয়ে পড়লে আসে।

14আমি ভয়ে কেঁপে উঠেছিলাম।

আমার হাড়গোড় পর্যন্ত কেঁপে উঠেছিল।

15আমার মুখের সামনে দিয়ে একটা আত্মা চলে গেল।

আমার সমস্ত শরীর রোমাঞ্চিত হল।

16সেই আত্মা আমার সামনে থেমে গেল।

কিন্তু আমি দেখতে পাইনি তা কি ছিল।

আমার চোখের সামনে কিছু একটা অবয়ব ছিল মাত্র

এবং চারদিক নিস্তদ্ধ ছিল।

তারপর আমি একটি কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম:

17‘কোন লোক ঈশ্বরের চেয়ে বেশী সঠিক হতে পারে না।

কোন ব্যক্তি তার স্রষ্টার চেয়ে বেশী শুদ্ধ হতে পারে না।

18দেখ, ঈশ্বর তাঁর স্বর্গের দাসদের প্রতিও নির্ভর করতে পারেন না।

ঈশ্বর তাঁর দূতদের মধ্যেও ভুল ত্রুটি দেখেন।

19তাই সত্যিই মানুষ নশ্বর।

ধূলার ভিতযুক্ত মাটির বাড়িতে যারা বাস করে তাদের ঈশ্বর কত কম বিশ্বাস করেন!

ঈশ্বর পতঙ্গের মত তাদের পিষে ফেলেন।

মানুষ মাটির ঘরে বাস করে (মানুষের দেহ মাটির তৈরী)।

সেই মাটির ঘরের ভিত ধূলায় বা পাঁকের মধ্যে থাকে।

একটা পতঙ্গের থেকেও সহজে তাদের দেহ নষ্ট করে ফেলা যায়!

20সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মানুষ টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙেই চলেছে।

যেহেতু তারা শুধুই মাটির তৈরী সেহেতু তারা চিরতরে বিনষ্ট হয়।

21তাদের তাঁবুর দড়ি খুলে নেওয়া হয়

এবং প্রজ্ঞাবিহীন অবস্থায় তারা মারা যায়।’

5

1“ইয়োব, তুমি যদি চাও তো চিৎকার কর, কিন্তু কেউ তোমার ডাকে সাড়া দেবে না!

তুমি কোন্ পবিত্র সত্তার দিকে ফিরবে?

2একজন বোকা লোকের ক্রোধই তাকে হত্যা করবে।

একজন বোকা লোকের প্রচণ্ড আবেগই তাকে হত্যা করবে।

3আমি একজন বোকা লোককে দেখেছিলাম যে ভেবেছিল সে নিরাপদে আছে।

কিন্তু সে হঠাৎ‌‌ মারা গেল।

4তার ছেলেদের সাহায্য করার জন্য কেউই ছিল না।

নগরদ্বারে+ 5:4 নগরদ্বার সেই স্থান যেখানে আদালত বসে এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেউ তাদের লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা করে নি।

5ক্ষুধিত লোকরা তার সব শস্য খেয়ে নিয়েছিল।

কাঁটাঝোপের মধ্যে যে শস্য গজিয়ে উঠেছিলো, এই ক্ষুধিত লোকরা তাও খেয়ে নিয়েছিল।

তাদের যা কিছু ছিল, লোভী লোকরা সবই নিয়ে গিয়েছিল।

6শুধুমাত্র ধূলো থেকে খারাপ সময় উঠে আসে না।

সমস্যা হঠাৎ‌‌ করে ভূমি ফুঁড়ে জন্মায় না।

7কিন্তু মানুষ সমস্যার সম্মুখীন হতে বাধ্য।+ 5:7 মানুষ … বাধ্য অথবা “মানুষ সমস্যাকে জন্ম দেয়।”

ঠিক যেমন আগুন থেকে স্ফুলিঙ্গ ওড়ে।

8কিন্তু ইয়োব, আমি যদি তুমি হতাম, আমি ঈশ্বরকে খুঁজতাম

এবং ঈশ্বরকে সম্বোধন করে আমার কথা বলতাম।

9ঈশ্বর মহান কাজগুলি করেন যা কেউ পুরোপুরি বুঝতে পারে না।

তিনি এত বিস্ময়কর কাজ করেন যে তাদের গোনা যায় না।

10ঈশ্বর পৃথিবীতে বৃষ্টি পাঠান।

তিনি জমির জন্য জল পাঠান।

11ঈশ্বর একজন বিনয়ী লোককে উন্নীত করেন।

অতএব যারা বিলাপরত তারা বিজয়প্রাপ্ত+ 5:11 বিজয়প্রাপ্ত অথবা “পরিত্রাণ।” হয়।

12ঈশ্বর চালাক ও মন্দ লোকদের ফন্দি বানচাল করে দেন

যাতে তাদের পরিকল্পনা সফল না হয়।

13ঈশ্বর, চালাক লোকদেরও তাদের নিজেদের ফাঁদেই ধরেন।

তাই, সেই সব চালাকিও সফল হয় না।

14ওরা দিনের বেলায় রাতের সম্মুখীন হয়

এবং দিনের বেলাতেই এমন করে হাতড়ে বেড়ায়, যেন রাত হয়ে গেছে।

15ঈশ্বর দরিদ্র লোকদের মৃত্যু থেকে রক্ষা করেন।

দুর্জন লোকদের শক্তি থেকে তিনি দরিদ্র লোকদের রক্ষা করেন।

16তাই দরিদ্র লোকদের আশা আছে।

অধর্ম তার মুখ বন্ধ করে।

17“যার দোষ ঈশ্বর সংশোধন করে দেন সে তো ঈশ্বরের আশীর্বাদপূত!

তাই সর্বশক্তিমান ঈশ্বর যখন তোমায় শাস্তি দেন তখন কোন অভিযোগ করো না।

18ঈশ্বর যে আঘাত দেন,

তিনি নিজেই সে আঘাতের শুশ্রূষা করেন।

হয়তো তিনি কাউকে আঘাত করেন

কিন্তু তাঁর হাত আরোগ্যও দান করে।

19ঈশ্বর তোমাকে সব সময়ই উদ্ধার করবেন,

যতবারই সংকট আসুক না কেন, সেটা তোমাকে আঘাত করবে না।+ 5:19 আক্ষরিক অর্থে, “তিনি ছয় রকমের সমস্যা থেকে তোমাকে রক্ষা করবেন এবং সপ্তম সমস্যায় মন্দ কিছু তোমাকে স্পর্শ করতে পারবে না।”

20যখন দুর্ভিক্ষ হবে তখন ঈশ্বর তোমায় মৃত্যু থেকে রক্ষা করবেন।

যখন যুদ্ধ হবে তখন ঈশ্বর তোমায় মৃত্যু থেকে রক্ষা করবেন।

21ঈশ্বর তোমাকে অপবাদ থেকে রক্ষা করবেন।

বিপর্যয় এলে তুমি ভয় পাবে না।

যখন মন্দ কিছু ঘটবে তখন তোমার ভয়ের কোন কারণ নেই।

22দুর্ভিক্ষ ও ধ্বংসের দিনগুলোকে তুমি উপহাস করবে।

তুমি বন্য জন্তুদের ভয় পাবে না।

23মনে হচ্ছে যেন বন্য জন্তু ও মাঠের পাথরের সঙ্গে তোমার একটি শান্তি চুক্তি রয়েছে।

এমনকি বন্য পশুরাও তোমার সঙ্গে শান্তিতে থাকবে।

24তুমি জানবে যে তোমার বাড়ি শান্তিতে আছে।

তোমার সম্পত্তির হিসাব করে দেখবে কোন কিছুই খোয়া যায় নি।

25তুমি জানবে যে তোমার প্রচুর সন্তানাদি হবে।

পৃথিবীতে যত ঘাস আছে তোমার উত্তরপুরুষদের সংখ্যাও ততগুলোই হবে।

26তুমি সেই গমের মত হবে যে গম ফসল কাটা পর্যন্ত বাড়তে থাকে।

হ্যাঁ, বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত তুমি পূর্ণ শক্তিতে বেঁচে থাকবে।

27“ইয়োব, এই বিষয়গুলো আমরা অনুধাবন করেছি এবং আমরা জানি সেগুলি সত্যি।

তাই ইয়োব, আমাদের কথা শোন, এবং তোমার নিজের জন্য সেগুলো শেখো।”

6

ইয়োব ইলীফসকে উত্তর দিলেন

1 তখন ইয়োব উত্তর দিলেন:

“আমি যদি আমার ক্রোধকে দাঁড়িপাল্লার এক দিকে এবং দুঃখকে অন্য দিকে রাখতে পারতাম

তাহলে তাদের ওজন একই হত।

3তাদের ওজন সমুদ্রের সব কটি বালুকণার চেয়েও বেশী।

এই কারণেই আমার বাক্য এত কর্কশ।

4সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের তীর আমার দেহে বিদ্ধ হয়েছে।

আমার জীবন ঐ সব তীরের বিষ পান করছে!

ঈশ্বরের ভয়ঙ্কর অস্ত্রসমূহ আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সারি দিয়ে রাখা আছে।

5যখন কোন রকম মন্দ কিছু না ঘটে তখন তোমার কথাগুলো বলা সহজ।

এমনকি বুনো গাধা যখন খাওয়ার ঘাস পায়, সে কোন অভিযোগ করে না।

এমনকি, যখন খাদ্য থাকে, তখন কোন গরুও অভিযোগ করে না।

6স্বাদহীন কোন বস্তু কি লবণ ছাড়া খাওয়া যায়?

ডিমের সাদা অংশের কি কোন স্বাদ আছে? না!

7আমি এরকম খাবার স্পর্শ করতে অস্বীকার করি,

ঐ ধরণের খাদ্য আমার কাছে পচা খাবারের মত।

এবং তোমার কথাগুলো আমার কাছে সেই রকমই স্বাদহীন বলে মনে হচ্ছে।

8“যা চেয়েছি তা যদি পেতাম!

আমি যা সত্যিই চাই তা যদি ঈশ্বর দিতেন!

9আমি চেয়েছিলাম, ঈশ্বর আমায় ধ্বংস করুন।

এগিয়ে এসে আমায় হত্যা করুন।

10যদি তিনি আমায় হত্যা করেন, আমি স্বস্তি পাবো, আমি সুখী হব: এত যন্ত্রণা সত্ত্বেও আমি সেই পবিত্রতমের আদেশ পালন করা থেকে বিরত হই নি।

11“আমার সব শক্তি চলে গেছে, তাই আমার বেঁচে থাকার কোন আশা নেই।

আমি জানি না আমার কি হবে, তাই আমার ধৈর্য্য ধরার কোন কারণ নেই।

12আমি পাথরের মত শক্ত নই।

আমার দেহ পিতল দিয়ে তৈরী নয়।

13আত্মনির্ভর হবার মত আমার কোন শক্তি নেই।

কেন? কারণ আমার কাছ থেকে সাফল্য কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

14“যদি কেউ সমস্যায় পড়ে, তার প্রতি তার বন্ধুর সদয় হওয়া উচিৎ‌।

যদি কেউ সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের দিক থেকেও মুখ ফেরায়, তবুও তার প্রতি তার বন্ধুর বিশ্বস্ত থাকা উচিৎ‌।

15কিন্তু তুমি, আমার ভাই, তুমি বিশ্বস্ত ছিলে না, আমি তোমার প্রতি নির্ভর করতে পারিনি।

তুমি সেই ঝর্ণার মত যা কখনও প্রবাহিত হয় আবার কখনও প্রবাহিত হয় না। তুমি সেই ঝর্ণার মত

16যা বরফে জমে গেলে বা বরফ গলা জলে ভরে গেলে উপচে পড়ে।

17এবং যখন আবহাওয়া শুষ্ক ও গরম থাকে

তখন তার জল প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।

তার ধারাগুলো লুপ্ত হয়।

18বণিকের দল তাদের রাস্তা থেকে সরে যায়

এবং তারা মরুভূমিতে বিলুপ্ত হয়।

19টেমার বণিকরা জলের অন্বেষণ করলো।

শিবার পর্যটকরা আশা নিয়ে অপেক্ষা করলো।

20তারা নিশ্চিত ছিল যে তারা জল পাবেই

কিন্তু তারাও হতাশ হল।

21এখন, তুমি সেই সব ঝর্ণার মত।

আমার দুর্দশা দেখে তুমি ভীত হয়েছো।

22আমি কি তোমার সাহায্য চেয়েছি?

না চাই নি! কিন্তু তুমি সহজেই তোমার উপদেশ দিলে!

23আমি কি তোমাকে বলেছি, ‘আমাকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা কর!’

অথবা ‘নৃশংস লোকের হাত থেকে আমায় রক্ষা কর!’

24“তাই, এখন আমায় শিক্ষা দাও, আমি চুপ করে থাকবো।

দেখিয়ে দাও আমি কি ভুল করেছি।

25সৎ‌-বাক্যই শক্তিশালী।

কিন্তু তোমার যুক্তি কোন কিছুই প্রমাণ করে না।

26তুমি কি আমার সমালোচনা করার পরিকল্পনা করেছ?

তুমি কি আরও ক্লান্তিকর কথা বলবে?

27তুমি একজন পিতৃ-মাতৃহীনের সম্পত্তি নিয়ে

জুয়া খেলতে পারো।

তুমি তোমার প্রতিবেশীকেও বিক্রি করে দিতে পারো।

28কিন্তু এখন, আমার মুখ দেখে বোঝার চেষ্টা কর।

আমি তোমার কাছে মিথ্যা বলবো না।

29তোমার সিদ্ধান্তগুলি পুনর্বিবেচনা কর।

অন্যায় বিচার করো না।

পুনরায় বিবেচনা কর কারণ এ ব্যাপারে আমি নির্দোষ।

আমি কোন ভুল করিনি।

30আমি মিথ্যা বলছি না।

আমি কি পচা জিনিসের স্বাদ বুঝি না?”

7

1ইয়োব বললেন, “পৃথিবীতে মানুষকে কঠিন সংগ্রাম করতে হয়।

তাদের জীবন একজন কঠোর পরিশ্রমী শ্রমিকের জীবনের মত।

2মানুষ সেই ক্রীতদাসের মত, যে প্রচণ্ড গরমের দিনে সারাদিন পরিশ্রমের পর একটু শীতল ছায়া চায়।

মানুষ একজন ভাড়াটে শ্রমিকের মত যে বেতনের দিনের জন্য অপেক্ষা করে।

3তাই, ঠিক একটি ক্রীতদাস ও শ্রমিকের মত আমাকে মাসের পর মাস নৈরাশ্য দেওয়া হয়েছে।

আমাকে দুঃখভরা রাতগুলি গুনে দেওয়া হয়েছে।

4যখন আমি শুই, আমি ভাবি,

‘আবার কতক্ষণ পরে জেগে উঠবো?’

রাত্রি প্রলম্বিত হয়।

সূর্য ওঠা পর্যন্ত আমি ছটফট করি।

5আমার দেহ কৃমিকীট ও আবর্জনার মণ্ড দিয়ে আবৃত।

আমার চামড়া ফেটে যায় ও রস গড়ায়।

6“আমার জীবন, তাঁতির মাকুর থেকেও দ্রুত অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে।

এবং আশাহীন ভাবে আমার জীবন শেষ হচ্ছে।

7স্মরণে রেখো, আমার জীবন একটি নিশ্বাস মাত্র।

আর কখনও আমি ভালো কিছু দেখবো না।

8এবং যদিও তুমি এখন আমায় দেখছ তুমি আমাকে দেখবে না,

তুমি আমাকে খুঁজতে থাকবে কিন্তু আমি থাকবো না।

9মেঘ চলে যায় এবং বিলুপ্ত হয়। একই ভাবে, একজন লোক কবরে চলে যায়।

সে আর ফিরে আসে না।

10তার পুরোনো বাড়ীতে সে আর কখনই ফিরে আসবে না।

তার বাড়ী তাকে আর চিনতে পারবে না।

11“তাই আমি চুপ করে থাকবো না!

আমি কথা বলবো, আমার আত্মা কষ্ট পাচ্ছে!

আমি অভিযোগ করবো কারণ আমার আত্মা বীতশ্রদ্ধ হয়ে গেছে।

12ঈশ্বর, কেন আপনি আমায় পাহারা দিচ্ছেন?

আমি কি সমুদ্র বা সমুদ্র দানব?

13যখন আমি বলি আমার বিছানা আমাকে আরাম দেবে,

আমার চৌকি আমাকে বিশ্রাম ও শান্তি দেবে

14তখন স্বপ্ন দেখিয়ে আপনি আমায় ভয় পাওয়ান।

ভয়াবহ স্বপ্ন দর্শন করিয়ে আপনি আমায় ভীত করেন।

15তাই ফাঁসি যাওয়াটাই আমি এখন শ্রেয় বলে মনে করি।

এমন ভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে আমার মরে যাওয়াই ভাল।

16আমি আমার জীবনকে বাতিল করে দিয়েছিলাম।

আমি চিরদিন বেঁচে থাকতে চাই না।

আমাকে একা থাকতে দিন।

আমার জীবন শুধুই একটি বয়ে যাওয়া নিঃশ্বাস।

17ঈশ্বর, কেন মানুষ আপনার কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ?

কেন আপনি তাকে এত লক্ষ্য করেন?

18কেন প্রতিদিন সকালে আপনি মানুষ পরীক্ষা করেন?

কেন প্রতি মূহুর্তে লোকদের যাচাই করেন?

19ঈশ্বর, আপনি কি আমার উপর থেকে আপনার দৃষ্টি সরিয়ে নেবেন না?

আপনি কি এক পলকের জন্যও আমাকে একা ছাড়বেন না?

20ঈশ্বর, আপনি মানুষের ওপর নজর রাখেন।

আমি অন্যায় করেছি, ভাল।

আমি আপনার প্রতি কি করতে পারি?

কেন আমি আপনার বোঝা হয়ে উঠেছি?

21অপরাধ করার জন্য কেন আপনি আমায় ক্ষমা করছেন না?

আমার পাপের জন্য কেন আপনি আমায় ক্ষমা করছেন না?

আমি খুব তাড়াতাড়ি মরে গিয়ে কবরে যাবো।

তখন আপনি আমায় খুঁজবেন, কিন্তু আমি তখন চলে যাবো।”

8

বিল‌্দদ ইয়োবের সঙ্গে কথা বললেন

1তখন শূহীর বিল‌্দদ উত্তর দিলেন,

2“আর কতক্ষণ তুমি ঐ ভাবে কথা বলবে?

তোমার কথা ঝোড়ো বাতাসের মতই বয়ে চলেছে।

3ঈশ্বর সর্বদাই সৎ‌ পথে থাকেন।

যা সঠিক, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তা কখনই পরিবর্তিত করেন না।

4যদি তোমার সন্তানরা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করে থাকে,

তাহলে ঈশ্বর তাদের পাপের জন্য শাস্তি দিয়েছেন।

5কিন্তু এখন ইয়োব, তুমি যদি ঈশ্বরের

এবং সর্বশক্তিমানের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর,

6যদি তুমি সৎ‌ ও শুচি থাকো, তিনি শীঘ্রই এসে তোমাকে সাহায্য করবেন।

তোমার যেমন গৃহটি প্রাপ্য তেমনটিই তিনি তোমাকে ফিরিয়ে দেবেন।

7তোমার যে বিপুল উন্নতি হবে, তার কাছে,

আগে তোমার যা ছিল, তা সামান্য মনে হবে।

8“বয়স্ক লোকদের জিজ্ঞাসা করে দেখ।

খুঁজে দেখ তাদের পূর্বপুরুষরা কি শিক্ষা পেয়েছে?

9মনে হচ্ছে যেন আমরা গতকাল জন্মেছি।

জানার পক্ষে আমরা একেবারেই অপক্ক।

এই পৃথিবীতে আমাদের জীবন ছায়ার মতোই ক্ষণস্থায়ী।”

10হয়তো বয়স্ক লোকরা তোমায় শিক্ষা দিতে পারেন।

হয়তো বা, তাঁরা যা শিখেছেন তা তোমাকে শেখাতে পারেন।

11বিল‌্দদ বললেন, “শুকনো জমিতে কি ভূর্জগাছ বড় হতে পারে?

জল ছাড়া কি এরস গাছ বাড়তে পারে?

12না, যদি জল শুকিয়ে যায়, তাহলে তারাও শুকিয়ে যাবে।

তারা এত ছোট হয়ে যাবে যে তাদের কেটে ব্যবহার করাই মুস্কিল হবে।

13যারা ঈশ্বরকে ভুলে যায় তারাও ঐ নল-খাগড়ার মতোই।

ঈশ্বরহীন মানুষের আশা বিনষ্ট হয়।

14ওই লোকের নির্ভর করার কোন জায়গা নেই।

তার নিরাপত্তা মাকড়সার জালের মতোই দুর্বল।

15যদি কোন লোক মাকড়সার জালের ওপর নির্ভর করে

তাহলে তা ভেঙে যায়।

সে মাকড়সার জাল ধরে,

কিন্তু সেই জাল তাকে আশ্রয় দেয় না।

16সেই লোকটি সূর্যালোকের মধ্যে একটি ভেজা গাছের মত।

তার ডালপালা সারা বাগানে ছড়িয়ে পড়ে।

17পাথরের চাঁইয়ের মধ্যে সে তার শিকড় ছড়িয়ে রাখে,

পাথরের মধ্যেই সে তার শিকড় গজায়।

18কিন্তু যদি গাছটি তার জায়গা থেকে সরে যায়, গাছটি মরে যাবে

এবং কেউ জানবে না যে গাছটি কোন দিন ঐখানে ছিলো।

19কিন্তু গাছটি যতদিন বেঁচে ছিল ততদিন জীবন উপভোগ করছিল

এবং অন্যান্য গাছগুলো এর জায়গায় জন্মাবে।

20ভালো লোকদের ঈশ্বর কখনই পরিত্যাগ করেন না।

তিনি দুষ্ট লোকদের সাহায্য করেন না।

21ঈশ্বর তোমার মুখ হাসিতে ভরিয়ে দেবেন

এবং তোমার ঠোঁট আনন্দ ধ্বনিতে পূর্ণ করবেন।

22কিন্তু তোমার শত্রুদের মুখ লজ্জায় আচ্ছন্ন হয়ে যাবে।

এবং দুষ্ট লোকদের ঘরবাড়ী ধ্বংস হয়ে যাবে।”

9

বিল‌্দদকে ইয়োবের উত্তর

1তখন ইয়োব উত্তর দিলেন:

2“হ্যাঁ, আমি জানি তুমি যা বলছো তা সৎয।

কিন্তু একজন মানুষ ঈশ্বরের সঙ্গে যুক্তি-তর্কে কিভাবে জিততে পারে?

3একজন মানুষ ঈশ্বরের সঙ্গে তর্ক করতে পারে না!

ঈশ্বর 1000টা প্রশ্ন করতে পারেন কিন্তু কোন মানুষ তার একটা প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারে না!

4ঈশ্বর প্রচণ্ড জ্ঞানী এবং তাঁর বিপুল ক্ষমতা।

কেউই ঈশ্বরের সঙ্গে অক্ষত হয়ে লড়াই করতে পারে না।

5ঈশ্বর যখন ক্রোধান্বিত হন তখন পর্বতগুলো কি হচ্ছে বোঝবার আগেই তিনি পর্বতদের সরিয়ে দেন।

6পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দেবার জন্য ঈশ্বর ভূমিকম্প পাঠান।

ঈশ্বর পৃথিবীর ভিত পর্যন্ত কাঁপিয়ে দেন।

7ঈশ্বর সূর্যের সঙ্গে কথা বলতে পারেন এবং সূর্যোদয় নাও হতে দিতে পারেন।

তিনি তারাদের বন্দী করে ফেলতে পারেন যাতে তারারা আর না জ্বলে।

8ঈশ্বর নিজেই আকাশ সৃষ্টি করেছেন।

তিনি সমুদ্রের ঢেউয়ের ওপর দিয়ে হেঁটে যান।

9“ঈশ্বরই বৃহৎ‌‌ ভাল্লুকমণ্ডলী, সপ্তর্ষিমণ্ডল, কালপুরুষ এবং কৃত্তিকা সৃষ্টি করেছেন।

তিনিই গ্রহরাজি সৃষ্টি করেছেন যা দক্ষিণের আকাশ পরিক্রমা করে।

10ঈশ্বর মহান সব কাজ করেন যা মানুষ বুঝে উঠতে পারে না।

ঈশ্বর যে সব আশ্চর্য কাজ করেন তা অগণ্য।

11দেখ, ঈশ্বর আমার পাশ দিয়ে চলে যান কিন্তু আমি তাঁকে দেখতে পাই না।

তিনি পাশ দিয়ে চলে যান কিন্তু আমি তা উপলদ্ধি করতে পারি না।

12যদি ঈশ্বর কিছু নিয়ে যান

কেউই তাঁকে রোধ করতে পারে না।

কেউই তাঁকে বলতে পারে না,

‘আপনি কি করছেন?’

13ঈশ্বর তাঁর রাগ দমন করবেন না।

এমন কি রাহাবের+ 9:13 রাহাব একটি ড্রাগন অথবা সামুদ্রিক রাক্ষস। লোকে মনে করত সমুদ্র ছিল রাহাবের নিয়ন্ত্রণে। সাধারণতঃ রাহাব ঈশ্বরের শত্রু অথবা খারাপ কোন কিছুর প্রতীক। অনুচররাও ঈশ্বরের সামনে নত হয়!

14তাই আমি ঈশ্বরের সঙ্গে তর্ক করতে পারি না।

আমি জানি না তাঁকে কি বলতে হবে।

15আমি নির্দোষ, কিন্তু আমি তাঁকে কোন উত্তর দিতে পারি না।

আমি শুধু আমার বিচারকের কাছে প্রার্থনা করতে পারি।

16আমি যদি ঈশ্বরকে ডাকি এবং তিনি যদি উত্তর দেন,

তবু আমি বিশ্বাস করবো না যে উনি আমার কথা শুনবেন।

17অকারণে তিনি আমার দেহে প্রচুর ক্ষত দেবেন।

আমাকে আঘাত করার জন্য ঈশ্বর ঝড় পাঠাবেন।

18ঈশ্বর পুনর্বার আমায় নিঃশ্বাস নিতে দেবেন না।

তার বদলে তিনি আমায় ভয়ঙ্কর কষ্টে ভরিয়ে দেবেন।

19এটা যদি শক্তির ব্যাপার হয়, নিশ্চয়ই তিনি অনেক বেশী শক্তিশালী।

এটা যদি সুবিচারের ব্যাপার হয়, ঈশ্বরকে কে আদালতে আসার জন্য বাধ্য করতে পারে?

20আমি নিরপরাধ, কিন্তু আমার নিজের কথাই আমাকে অপরাধী করে তোলে।

আমি নির্দোষ, কিন্তু তিনি আমায় তাঁর বিচারে অপরাধী করবেন।

তাঁর বিচারে আমি অপরাধী হব।

21আমি নির্দোষ, কিন্তু আমি জানি না কি ভাবতে হবে।

আমি আমার নিজের জীবনকে ঘৃণা করি।

22আমি নিজেকে বলি, ‘একই ঘটনা সবার ক্ষেত্রেই ঘটে।

নির্দোষ লোক অপরাধীর মতোই মারা যায়।

ঈশ্বর তাদের সবার জীবন শেষ করে দেন।’

23যখন ভয়ঙ্কর কিছু একটা ঘটে এবং একজন নির্দোষ লোক মারা যায়, ঈশ্বর কি তার প্রতি বিদ্রূপের হাসি হাসেন?

24যখন একজন দুষ্ট লোক রাজ্য শাসন করে, তখন কি ঘটছে, তা দেখা থেকে ঈশ্বর কি নেতাদের বিরত রাখেন?

যদি তাই সত্য হয়, তাহলে ঈশ্বর কে?+ 9:24 যখন … কে ঈশ্বর পৃথিবীকে দুষ্ট লোকের ক্ষমতাধীন করেছেন। তিনি বিচারকদের সত্যকে দেখার চোখ অন্ধ করে দেন। যিনি এ কাজ করেছেন তিনি যদি ঈশ্বর না হন তবে তিনি কে?

25“আমার দিন একজন দৌড়বাজের থেকেও দ্রুত চলে যাচ্ছে।

আমার দিনগুলি উড়ে চলে যাচ্ছে এবং তাদের মধ্যে কোন আনন্দ নেই।

26আমার দিনগুলি নৌকার মত দ্রুত চলে যাচ্ছে

ঠিক যেমন ঈগল দ্রুত গতিতে শিকারের ওপর ছোঁ মারে।

27“যদি আমি বলি, ‘আমি অভিযোগ করবো না, আমি আমার যন্ত্রণা ভুলে যাবো।

আমি আমার মুখে হাসি ফোটাতে পারবো।’

28প্রকৃতপক্ষে এটা কোন কিছুকেই পরিবর্তিত করবে না।

যন্ত্রণা এখনও আমাকে ভীত করে!

29আমি ইতিপূর্বেই অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছি।

তাই কেন আমি অকারণে চেষ্টা করবো?

আমি বলি, ‘ভুলে যাও!’

30যদি আমি নিজেকে তুষার দিয়ে ধুয়ে ফেলি

এবং সাবান দিয়ে আমার হাত পরিষ্কার করি,

31তবুও ঈশ্বর আমাকে কবরে শাস্তি দেবেন এবং তোমরা আমাকে আবর্জনার মধ্যে ফেলে দেবে।

তখন আমার বস্ত্রও আমায় ঘৃণা করবে।

32ঈশ্বর তো আমার মতো একজন মানুষ নন।

সেই জন্য আমি তাঁকে উত্তর দিতে পারি না।

আমরা আদালতে মিলিত হতে পারি না।

33আমি মনে করি দুপক্ষের কথা শোনার জন্য একজন মধ্যপক্ষ মানুষের দরকার।

আমি মনে করি, আমাদের উভয়েরই বিচার করার জন্য যদি কেউ একজন থাকতো!

34আমি মনে করি, ঈশ্বরের শাস্তিদানের দণ্ড কেড়ে নেওয়ার জন্য যদি কেউ থাকতো!

তাহলে ঈশ্বর আমায় আর ভয় দেখাতে পারতেন না।

35তাহলে, ঈশ্বরকে ভয় না করে, আমি যা বলতে চাই, তা বলতে পারতাম।

কিন্তু এখন আমি তা করতে পারি না।

10

1“আমি আমার নিজের জীবনকে ঘৃণা করি।

আমি নিঃসঙ্কোচে অভিযোগ করবো।

আমার আত্মা বীতশ্রদ্ধ হয়ে আছে তাই এখন আমি একথা বলবো।

2আমি ঈশ্বরকে বলবো: ‘আমায় দোষ দেবেন না!

আমায় বলুন, আমি কি ভুল করেছি?

আমার বিরুদ্ধে আপনার কি কোন অভিযোগ আছে?

3ঈশ্বর, আমাকে আঘাত করে আপনি কি সুখী হন?

মনে হচ্ছে, আপনি যা সৃষ্টি করেছেন তার প্রতি আমার কোন ভ্রূক্ষেপই নেই।

কিংবা, মন্দ লোকরা যে ফন্দি আঁটে সেই ফন্দিতে আপনিও কি আনন্দিত হন?

4ঈশ্বর, আপনার কি মানুষের চোখ আছে?

মানুষ যে ভাবে দেখে আপনিও কি সেই ভাবে দেখেন?

5আপনার জীবন কি আমাদের মতই ক্ষুদ্র?

আপনার জীবন কি মানুষের জীবনের মতই ছোট?

না, তাহলে আপনি কি করে বুঝবেন এটা কেমন?

6আপনি আমার দোষ দেখেন

এবং আমার পাপ অন্বেষণ করেন।

7আপনি জানেন আমি নির্দোষ

কিন্তু কেউই আমাকে আপনার ক্ষমতা থেকে বাঁচাতে পারবে না!

8ঈশ্বর, আপনার হাতই আমায় তৈরী করেছে

এবং আমার দেহকে রূপদান করেছে।

কিন্তু এখন আপনি চারদিক থেকে ঘিরে

আমায় গিলে ফেলতে বসেছেন।

9ঈশ্বর, স্মরণ করুন, আপনি আমাকে কাদা দিয়ে বানিয়ে ছিলেন।

আপনি কি আবার আমাকে ধূলিতে পরিণত করবেন?

10আপনি আমাকে দুধের মত ঢেলে দিয়েছিলেন

এবং আমাকে, ঘন করে ছানার মত আকার দিয়েছেন।

11আপনি আমার হাড় ও পেশী একত্রিত করেছেন।

তারপর আপনিই চামড়া ও মাংস দিয়ে তা আবৃত করেছেন।

12আপনিই আমাকে জীবন দিয়েছেন এবং আমার প্রতি সদয় ছিলেন।

আপনি আমার যত্ন নিয়েছেন এবং আমার আত্মার প্রতি যত্ন নিয়েছেন।

13কিন্তু, এ সবই আপনি মনে মনে করেছেন, আমি জানি, এইসব পরিকল্পনাই আপনি গোপনে করেছেন।

হ্যাঁ, আমি জানি, আপনার মনে এই ছিলো।

14যদি আমি পাপ করি, আপনি তা লক্ষ্য করবেন

এবং ভুল করার জন্য আপনি আমায় শাস্তি দেবেন।

15যদি আমি পাপ করি,

আমি যেন দুঃখ পাই!

কিন্তু যদিও আমি নির্দোষ তবু আমি আমার মাথা তুলতে পারি না।

আমি এতই লজ্জিত ও আহত।

16যদি আমার কোন সফলতা থাকতো ও আমি গর্ব করতে পারতাম

তাহলে যেমন করে একজন শিকারী সিংহ শিকার করে, তেমনি করে আপনি আমায় শিকার করতেন।

আমার বিরুদ্ধে আবার আপনি আপনার ক্ষমতা প্রদর্শন করতেন।

17আমি যে ভুল করেছি, এটা প্রমাণের জন্য

আপনি নতুন সাক্ষী নিয়ে আসেন।

বার বার নানাভাবে আপনি আমার প্রতি রাগ প্রদর্শন করবেন,

আমার বিরুদ্ধে একের পর এক সৈন্যদল পাঠাবেন।

18তাই, ঈশ্বর, কেন আমায় জন্মাতে দিয়েছিলেন?

কেউ আমাকে দেখার আগেই আমি কেন মরলাম না!

19তাহলে আমাকে কখনো বাঁচতে হত না।

মাতৃগর্ভ থেকে আমাকে সরাসরি কবরে নিয়ে যাওয়া হত।

20আমার জীবন প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

তাই আমায় একা থাকতে দিন।

আমার যেটুকু অল্প সময় বাকী আছে, তা উপভোগ করতে দিন।

21যেখান থেকে আমি আর ফিরব না সেই অন্ধকার ও মৃত্যুর জগতে প্রবেশ করার আগে

আমার অল্প সময় আমাকে উপভোগ করতে দিন।

22যে স্থানে গেলে কেউ দেখতে পায় না সেই অন্ধকার, ছায়াচ্ছন্ন ও বিশৃঙ্খলার জগতে যাওয়ার আগে,

আমার যেটুকু অল্প সময় বাকী রয়েছে তা আমায় উপভোগ করতে দিন।

এমনকি সেই স্থানের আলোও অন্ধকারের মত তমসাময়।’”

11

সোফর ইয়োবের সঙ্গে কথা বললেন

1তখন নামাথীয় সোফর ইয়োবকে উত্তর দিলেন এবং বললেন:

2“এই কথার বন্যার উত্তর দেওয়া দরকার!

এতো কথা কি ইয়োবকে সঠিক বলে প্রমাণ করে না!

3ইয়োব, তুমি কি ভেবেছ তোমার জন্য আমাদের কাছে কোন উত্তর নেই?

তুমি কি ভেবেছো যখন তুমি ঈশ্বরকে বিদ্রূপ করবে, তখন কেউ তোমাকে সাবধান করবে না?

4ইয়োব, তুমি ঈশ্বরকে বলেছো,

‘আমার যুক্তিগুলি সত্য

এবং আপনি দেখে নিন আমি শুচিশুদ্ধ।’

5ইয়োব, আহা যদি ঈশ্বর তোমায় উত্তর দিতেন!

আশা করি তিনি তোমার সঙ্গে কথা বলবেন।

6ঈশ্বর তোমাকে প্রজ্ঞার গূঢ়তত্ত্ব বলতে পারতেন।

প্রকৃত প্রজ্ঞার দুটি দিক থাকে।

অনুভব করো ঈশ্বর তোমার কিছু পাপ ভুলে গেছেন।

তোমাকে তাঁর যতটা শাস্তি দেওয়া উচিৎ‌ ছিল ততটা তিনি অবশ্যই তোমাকে দিচ্ছেন না।

7“ইয়োব, তুমি কি মনে কর যে তুমি প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরকে বুঝেছ?

তুমি কি মনে কর তুমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের সীমা আবিষ্কার করে ফেলেছ?

8স্বর্গে যা কিছু আছে সে বিষয়ে তুমি কিছুই করতে পারো না।

মৃত্যুর স্থান সম্পর্কেও তুমি কিছুই জানো না।

9ঈশ্বর পৃথিবীর থেকে বৃহৎ‌‌

এবং সমুদ্রের থেকেও বড়।

10“যদি ঈশ্বর তোমায় আটক করেন এবং তোমায় আদালতে নিয়ে যান,

কেউই তাঁকে ঠেকাতে পারবে না।

11প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরই জানেন যে কে অপদার্থ।

যখন ঈশ্বর কোন মন্দ কাজ দেখেন তিনি তা মনে রাখেন।

12একটা বুনো গাধা কখনও একটা মানুষের জন্ম দিতে পারে না।

এবং একজন নির্বোধ লোক কখনও জ্ঞানী ব্যক্তি হয়ে উঠতে পারে না।

13কিন্তু ইয়োব, তুমি তোমার হৃদয়কে ঈশ্বরমুখী করো

এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা রত তোমার হাত দুটি তুলে ধরো।

14তোমার পাপকে তোমার কাছ থেকে অনেক দূরে রাখ।

তোমার তাঁবুতে কোন মন্দ লোককে বাস করতে দিও না।

15তাহলে তুমি লজ্জা না পেয়ে মুখ তুলতে পারবে।

ভীত না হয়ে তুমি শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারবে।

16তাহলে তুমি তোমার দুর্ভোগ ভুলতে পারবে।

তুমি তোমার সমস্যাগুলিকে বয়ে যাওয়া জলের চেয়ে বেশী মনে রাখবে না।

17তাহলে তোমার জীবন দুপুরের সূর্য প্রভার থেকেও অধিকতর উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

জীবনের অন্ধকারতম সময়গুলো সকালের সূর্যের মত জ্বলজ্বল করবে।

18তখন তুমি নিজেকে নিরাপদ মনে করবে।

কারণ তখন আশা থাকবে।

ঈশ্বর তোমার প্রতি যত্ন নেবেন এবং তিনি তোমায় বিশ্রাম দেবেন।

19তুমি শুয়ে পড়তে পারবে এবং কেউ তোমাকে ভয় দেখাবে না।

এবং অনেক লোক সাহায্যের জন্য তোমার কাছে আসবে।

20দুষ্ট লোকরা সাহায্যের প্রত্যাশা করতে পারে

কিন্তু তারা তাদের সমস্যা থেকে রক্ষা পাবে না।

তাদের আশার একমাত্র পরিণাম হবে মৃত্যু।”

12

সোফরকে ইয়োবের উত্তর

1তখন ইয়োব তাদের উত্তর দিলেন:

2“আমি নিশ্চিত যে তুমি ভেবেছো,

তুমিই একমাত্র জ্ঞানী লোক।

তুমি ভেবেছো যখন তুমি মারা যাবে

তখন প্রজ্ঞা তোমার সঙ্গে চলে যাবে।

3কিন্তু তোমারই মতো

আমারও একটি মন আছে।

আমি তোমার চেয়ে নিকৃষ্ট নই।

সকলে ইতিমধ্যেই জানে তুমি কি বলছিলে।

4“এই মাত্র আমার বন্ধুরা আমায় উপহাস করলো।

তারা বলল, ‘সে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিল এবং সে তার উত্তর পেয়ে গেছে, এই কারণেই তার ক্ষেত্রে এমন সব মন্দ ঘটনা ঘটলো।’

আমি একজন সৎ‌ লোক, আমি নির্দোষ।

কিন্তু তবুও তারা আমায় উপহাস করে।

5যাদের কোন সমস্যা নেই, সেই সব লোক যাদের সমস্যা থাকে তাদের উপহাস করে।

এইসব লোকরা নিমজ্জমান লোককে আঘাত করে।

6কিন্তু ছিনতাইবাজদের তাঁবু নির্বিঘ্নে থাকে।

যারা ঈশ্বরকে উত্যক্ত করে তারা শান্তিতেই থাকে।

তাদের নিজস্ব শক্তিই তাদের একমাত্র ঈশ্বর।

7“কিন্তু পশুদের জিজ্ঞাসা কর,

তারা তোমায় শিক্ষা দেবে।

কিংবা, আকাশের পাখীদের জিজ্ঞাসা কর,

তারা তোমায় বলে দেবে।

8অথবা পৃথিবীর সঙ্গে কথা বল

সে তোমায় শিক্ষা দেবে।

কিংবা সমুদ্রের মাছদের,

তোমার সঙ্গে কথা বলতে দাও।

9এইসব প্রাণীর প্রত্যেকেই জানে যে ঈশ্বর তাদের সৃষ্টি করেছেন।

10প্রত্যেকটি প্রাণী যারা বেঁচে রয়েছে, প্রত্যেকটি মানুষ যারা নিঃশ্বাস নিচ্ছে

তারা ঈশ্বরের শক্তির অধীনে রয়েছে।

11জিভ কি খাদ্যের স্বাদ গ্রহণ করে না?

কান কি তার শোনা শব্দের অর্থ গ্রহণ করে না?

12কিছু লোক বলে, ‘বয়স্ক লোকদের মধ্যে প্রজ্ঞা খুঁজে পাওয়া যায়।

দীর্ঘ আয়ু জীবন সম্পর্কে বোধ আনে।’

13কিন্তু প্রজ্ঞা এবং ক্ষমতা ঈশ্বরেরই আছে।

সদুপদেশ ও বোধ দুইই তাঁর।

14ঈশ্বর যদি কোন কিছুকে ভেঙে দেন, লোকে তা আর গড়তে পারে না।

যদি ঈশ্বর কোন লোককে হাজতে রাখেন কোন লোকই তাকে কারামুক্ত করতে পারে না।

15ঈশ্বর যদি বৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণ করেন তাহলে এই পৃথিবী শুকিয়ে যাবে।

ঈশ্বর যদি বৃষ্টিকে অঝোরে ঝরতে দেন পৃথিবীতে বন্যা বয়ে যাবে।

16ঈশ্বর শক্তিশালী এবং তাঁর গভীর প্রজ্ঞা আছে।

যে প্রতারিত হয় সে এবং প্রতারক দুজনেই ঈশ্বরের।

17ঈশ্বর তাঁর সার্বভৌমত্ব প্রদর্শনের জন্য

জ্ঞানী ও দক্ষ ব্যক্তিদের বোকা প্রতিপন্ন করেন।

18একজন রাজা হয়তো লোকদের জেলে বন্দী করতে পারে।

কিন্তু ঈশ্বর তাদের কারামুক্ত করেন এবং তাদের শক্তিশালী করেন।

19ঈশ্বর যাজকদের পদচ্যুত করেন এবং যারা মনে করে তারা যথাযথভাবে শিকড় গেড়েছে তাদের উল্টে ফেলে দেন।

20ঈশ্বর নির্ভর যোগ্য পরামর্শদাতাকেও নীরব করিয়ে দেন।

বয়স্ক মানুষের প্রজ্ঞাও তিনি হরণ করেন।

21ঈশ্বর নেতাদের গুরুত্ব হ্রাস করান।

তিনি শাসকের ক্ষমতা কেড়ে নেন।

22ঈশ্বর গোপনতম গোপন কথাটি প্রকাশ করেন।

অন্ধকার এবং মৃত্যুময স্থানেও তিনি আলো পাঠান।

23ঈশ্বর জাতিদের বৃহৎ‌‌ এবং শক্তিশালী করেন,

এবং তিনিই ঐ জাতিদের ধ্বংস করেন।

তিনি একটি জাতিকে বিরাট বড় হতে দেন

এবং তিনিই জাতির লোকদের ছড়িয়ে দেন।

24ঈশ্বরই নেতাদের বোকা বানান।

তিনি তাদের উদ্দেশ্যবিহীনভাবে মরুভূমিতে পরিভ্রমণ করান।

25সে সব নেতাদের অবস্থা হয় অন্ধকারে পথ হাতড়ে বেড়ানো লোকদের মত।

ঈশ্বর ওদের সেই নেশাগ্রস্ত লোকের মত করে তোলেন যে জানে না সে কোথায় যাচ্ছে।”

13

1ইয়োব বললেন, “আগেও আমি এসব দেখেছি।

তুমি যা বলছো, আমি তার সবই আগে শুনেছি।

আমি ঐ সব কিছুই বুঝেছি।

2তুমি যা জানো আমিও তাই জানি।

আমিও তোমার মতই জানি।

3কিন্তু আমি তোমার সঙ্গে তর্ক করতে চাই না।

আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলতে চাই।

আমি আমার সমস্যার বিষয়ে ঈশ্বরের সঙ্গে তর্ক করতে চাই।

4কিন্তু তোমরা তিন জন মিথ্যা দিয়ে তোমাদের অজ্ঞতাকে ঢাকতে চাইছো।

তোমরা সেই অপদার্থ ডাক্তারের মত যারা কারো রোগই সারাতে পারে না।

5তোমরা যদি একটু চুপ করে থাকতে পারতে!

সেটাই হত বিজ্ঞের মতো কাজ যা তোমরা করতে পারতে।

6“এখন আমার যুক্তিগুলো শোন।

আমার যা বলার আছে তা শোন।

7তোমরা কি ঈশ্বরের জন্য মিথ্যা কথা বলবে?

তোমরা কি ঈশ্বরের জন্য কপটভাবে কথা বলবে?

8তোমরা কি ঈশ্বরের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখাবে?

তোমরা কি তাঁর পক্ষ নিয়ে

অন্যায় ভাবে তর্ক করবে?

9যদি ঈশ্বর পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তোমাদের বিচার করেন

তিনি কি তোমাদেরও সঠিক দেখবেন?

তোমরা কি মনে কর, যে ভাবে তোমরা মানুষকে বোকা বানাও,

সেই ভাবে তোমরা ঈশ্বরকে বোকা বানাতে পারবে?

10তোমরা তো জানো, যে তোমরা যদি গোপনে পক্ষপাতিত্ব দেখাও,

ঈশ্বর তোমাদের তিরস্কার করবেন।

11ঈশ্বরের মহিমা তোমাদের ভীত করে।

তোমরা তাঁকে ভয় পাও।

12তোমাদের পরমপরাগত জ্ঞান ছাইয়ের মতই অকেজো।

তোমাদের উত্তরগুলিও কাদামাটির মতো নিরর্থক।

13“চুপ করে থাক এবং আমাকে কথা বলতে দাও!

তাহলে আমার প্রতি যা কিছুই হোক্ আমি তা গ্রহণ করব।

14আমি নিজেকে বিপদের মধ্যে নিয়ে যাবো

এবং নিজের জীবন নিজের হাতেই তুলে নেব।

15ঈশ্বর যদি আমাকে মেরেও ফেলেন আমি ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে যাবো।

কিন্তু আমি ঈশ্বরের সামনে প্রমাণ করে দেবো যে আমার পথও প্রকৃত ন্যায্য পথ ছিল।

16নিশ্চিত ভাবে, এটা হবে আমার জয়।

কোন দুষ্ট লোকই ঈশ্বরের মুখোমুখি হতে চায় না।

17আমি যা বলছি তা মন দিয়ে শোন।

আমাকে বুঝিয়ে বলতে দাও।

18এখন আমি আমার যুক্তিগুলো উপস্থাপিত করতে প্রস্তুত।

আমি খুব সতর্কভাবে আমার যুক্তি উত্থাপন করবো।

আমি জানি আমিই সঠিক বলে চিহ্নিত হবো।

19যদি কেউ প্রমাণ করে দেয় যে আমি ঠিক নই,

আমি চুপ করে থাকব এবং মরে যাব।

20“ঈশ্বর, আমাকে মাত্র দুটি জিনিস দিন,

তাহলে আমি আপনার কাছ থেকে লুকাবো না।

21আমার শাস্তি রদ করে দিন

এবং আপনার ভয়ঙ্কর রূপ দিয়ে আমায় সন্ত্রস্ত করা বন্ধ করে দিন।

22তারপর আপনি আমায় ডাকবেন, আমি আপনাকে উত্তর দেবো।

অথবা আমায় বলতে দিন এবং আপনি উত্তর দিন।

23আমি কতগুলি পাপ করেছি?

আমি কি ভুল করেছি?

আমাকে আমার পাপ ও অন্যায়গুলি দেখিয়ে দিন।

24ঈশ্বর, কেন আপনি আমায় এড়িয়ে যাচ্ছেন

এবং আমাকে আপনার শত্রু বলে বিবেচনা করছেন?

25আপনি কি আমায় ভয় দেখাতে চাইছেন?

আমি বাতাসে ওড়া একটা শুকনো পাতা মাত্র।

আপনি একটা ক্ষুদ্র খড়-কুটোকে আক্রমণ করছেন!

26ঈশ্বর, আমার সম্পর্কে আপনি মন্দ কথা বলেন।

যখন আমি অল্প বয়স্ক ছিলাম তখনকার পাপের জন্য আপনি আমায় শাস্তি দিচ্ছেন।

27আপনি আমার পায়ে শিকল পরিয়েছেন।

আমার প্রতিটি পদক্ষেপ আপনি লক্ষ্য করেন।

আমার সকল গতিবিধিই আপনি নজর করেন।

28তাই, পচনশীল কাঠের মত,

পোকা খাওয়া কাপড়ের মত

আমি দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে যাচ্ছি।”

14

1ইয়োব বললেন, “আমরা প্রত্যেকেই মানুষ।

আমাদের জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং সমস্যায় পূর্ণ।

2মানুষের জীবন ফুলের মত।

সে তাড়াতাড়ি বড় হয় এবং তারপর মারা যায়।

মানুষের জীবন একটা ছায়ার মত যা অল্পক্ষণের জন্য এখানে থাকে এবং তারপর আবার চলে যায়।

3কিন্তু যদিও আমি নেহাতই একটি মানুষ মাত্র,

আপনি আমার ওপর মনোযোগ দেন এবং আমাকে আদালতে নিয়ে যান।

4“কিন্তু অশুচি কিছু থেকে কেই বা শুচি কিছু তৈরী করতে পারে? কেউই নয়!

5মানুষের জীবন সীমিত। ঈশ্বর, আপনিই স্থির করেছেন মানুষ কতদিন বাঁচবে।

আপনিই মানুষের জন্য সেই সীমা নির্ধারণ করেন

এবং কোন কিছুই আর তাকে পরিবর্তন করতে পারে না।

6তাই ঈশ্বর, আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখা বন্ধ করুন, আমাদের একা ছেড়ে দিন।

আমাদের সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত আমাদের কঠিন জীবন আমাদের উপভোগ করতে দিন।

7“এমনকি একটা গাছেরও আশা আছে।

যদি না তাকে কেটে ফেলা হয় তা আবার বড় হতে পারে।

তা আবার নতুন অঙ্কুর ছড়িয়ে দিতে পারে।

8এর শিকড় মাটির নীচে বুড়ো হয়ে যেতে পারে,

এর কাণ্ড ধূলায় মরে যেতে পারে,

9কিন্তু যদি সামান্য একটুও জল পায় আবার তা বাড়তে শুরু করে।

নতুন গাছের মতই তা আবার বড় হতে থাকে।

10কিন্তু যখন একজন শক্তসমর্থ মানুষ মরে, সে শেষ হয়ে যায়।

যখন মানুষ মরে যায়, সে চলে যায় ঠিক

11দীঘি যেমন শুকিয়ে যায়

অথবা নদী যেমন শুকিয়ে যায়, তার মতন।

12যখন একজন মানুষ মরে যায়,

সে শুয়ে পড়ে এবং সে আর ওঠে না।

একজন মৃত লোক উঠে দাঁড়াবার আগে

এই আকাশমণ্ডল অদৃশ্য হয়ে যাবে। না।

সেই নিদ্রা থেকে মানুষ আর জাগবে না।

13“আমার ইচ্ছা আপনি আমাকে আমার কবরে লুকিয়ে রাখুন।

আমার ইচ্ছা, আপনার ক্রোধ প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত আপনি আমায় সেই খানে লুকিয়ে রাখুন।

তারপর না হয় আমাকে স্মরণ করার জন্য আপনি একটা সময় বার করবেন।

14যদি কোন লোক মারা যায়, সে কি আবার বাঁচবে?

যদি তাই সম্ভব হয় আমি আমার মুক্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।

15ঈশ্বর, আপনি আমায় ডাকবেন

এবং আমি আপনার ডাকে সাড়া দেবো।

তাহলে আমি, যাকে আপনি তৈরী করেছেন,

সেই আমি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠব।

16আমার প্রত্যেকটি পদক্ষেপে আপনি আমায় লক্ষ্য করুন,

কিন্তু আমার পাপ মনে রাখবেন না।

17আমার সমস্ত পাপ আপনি একটা থলেতে ভরে,

তার মুখ বন্ধ করে, তাকে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দেবেন।

18“পর্বতও ভেঙে যায় এবং ধূলায় পরিণত হয়; বড় পাথরও আলগা হয়ে ভেঙে পড়ে।

19তাদের ওপর দিয়ে জলরাশি প্রবাহিত হয়ে তাদের ধুয়ে নিয়ে যায়।

বন্যা ভূমির মাটিকে ধুয়ে নিয়ে যায়।

সেই ভাবেই হে ঈশ্বর, আপনি একজন মানুষের আশা এবং ইচ্ছা ধ্বংস করেন।

20আপনি তাকে সম্পূর্ণ পরাজিত করেন

এবং সে চলে যায়।

আপনি তাকে দুঃখী করেন

এবং চিরদিনের জন্য তাকে মৃত্যুলোকে পাঠিয়ে দেন।

21তার ছেলেরা হয়ত সম্মান পেতে পারে, অথবা তারা হয়ত গুরুত্বপূর্ণ না হতে পারে,

কিন্তু সে কখনও জানতে পারবে না।

22সেই লোকটি তার শরীরে কেবল যন্ত্রণা ভোগ করে

এবং সে উচ্চস্বরে কেবল নিজের জন্যই কাঁদে।”

15

ইয়োবকে ইলীফসের উত্তর

1তখন তেমনের ইলীফস ইয়োবকে উত্তর দিলেন:

2“ইয়োব, যদি তুমি সত্যই জ্ঞানী হতে

তুমি তোমার অর্থহীন ব্যক্তিগত মতামত দিয়ে উত্তর দিতে না!

একজন জ্ঞানী ব্যক্তি পূর্বের গরম বাতাসে নিজেকে পূর্ণ করে না।

3তুমি কি মনে কর একজন জ্ঞানী মানুষ অর্থহীন কথা দিয়ে তর্ক করবে

এবং এমন কথা বলবে যাতে কোন লাভ নেই?

4ইয়োব, যদি তোমার নিজেরই পথ থাকতো

তাহলে কেউ আর ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা করে তাঁর কাছে প্রার্থনা করতো না।

5যে সব বিষয় তুমি বলেছো তাতে তোমার পাপ স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে।

ইয়োব, বাক‌্চাতুরীর সাহায্যে তুমি তোমার পাপকে ঢাকতে চাইছো।

6তুমি যে ভুল করেছো, এ কথা আমার প্রমাণ করার দরকার নেই।

কেন? নিজের মুখে তুমি যা যা বললে তাই প্রমাণ করে যে তুমি ভুল করেছো।

তোমার নিজের ওষ্ঠদ্বয় তোমার বিরুদ্ধে কথা বলছে।

7“ইয়োব, তুমি কি মনে কর যে তুমিই প্রথম জন্মেছো?

তুমি কি এই পাহাড়গুলির জন্মের আগে জন্মেছ?

8তুমি কি ঈশ্বরের গোপন পরিকল্পনা শুনেছিলে?

তুমি কি নিজেকেই একমাত্র জ্ঞানী ভাবো?

9ইয়োব, তুমি যা জান আমরা ঠিক ততটাই জানি!

তুমি যতটা বোঝ আমরাও ঠিক ততটাই বুঝি।

10যাদের মাথায় পাকা চুল তারা এবং বয়স্ক লোক আমাদের সঙ্গে একমত হয়।

হ্যাঁ, এমন কি তোমার পিতার চেয়েও যাঁরা বয়স্ক তাঁরাও আমাদেরই পক্ষে।

11ঈশ্বর তোমাকে স্বস্তি দিতে চেষ্টা করেন

এবং আমরা খুব শান্ত ভাবে তোমার সঙ্গে কথা বলি।

কিন্তু তোমার পক্ষে তা যথেষ্ট নয়।

12ইয়োব, তুমি কেন এত আবেগপ্রবণ?

কেন তোমার চোখ লাল হয়ে যায়?

13যখন তুমি এইসব ক্রোধের কথা বল

তখন তুমি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে চলে যাও।

14“একজন মানুষ প্রকৃতই শুদ্ধ হতে পারে না।

একজন মানুষ কখনও ঈশ্বরের চেয়ে বেশী সঠিক হতে পারে না!

15ঈশ্বর তাঁর বার্তাবাহকদেরও+ 15:15 বার্তাবাহক আক্ষরিক অর্থে, “পবিত্র লোকেরা।” বিশ্বাস করেন না।

এমনকি ঈশ্বরের তুলনায় স্বর্গও শুদ্ধ নয়।

16মানুষও অপদার্থ।

মানুষ নোংরা এবং নষ্ট।

সে জলের মতই পাপ গলাধঃকরণ করে।

17“আমার কথা শোন ইয়োব, আমি তোমাকে বুঝিয়ে বলবো।

আমি যা জানি, তোমায় তা বলবো।

18জ্ঞানী লোকরা আমাকে যা বলেছেন সেই সব কথা আমি তোমায় বলবো।

জ্ঞানী লোকের পূর্বপুরুষরা এই কথাগুলো তাঁদের বলে গিয়েছিলেন।

তাঁরা আমার কাছে কোন গোপন কথা লুকিয়ে রাখেননি।

19তাঁরা একাই তাঁদের দেশে বাস করেছেন।

সেখান থেকে কোন বিদেশীই যায় নি।

তাই কোন লোকই তাদের কোন অদ্ভুত আদর্শের কথা বলে নি।

20এইসব জ্ঞানী লোক বলেছেন, একজন দুষ্ট লোক সারা জীবন কষ্ট পায়।

একজন নিষ্ঠুর লোক জীবনের সারা বছর কষ্ট পায়।

21প্রত্যেকটি শব্দ তাকে ভীত করে।

সে যখন মনে করে যে সে নিরাপদে আছে, তখন শত্রু তাকে আক্রমণ করবে।

22একজন দুষ্ট লোক প্রচণ্ড হতাশাগ্রস্ত এবং অন্ধকারকে এড়াবার তার কোন পথই নেই।

কোন একটা জায়গায় একটা তরবারী আছে যা তাকে হত্যা করার জন্য অপেক্ষা করছে।

23সে এখানে ওখানে খাবারের খোঁজে ঘুরে বেড়ায়।

সে জানে যে কঠিন সময় আসন্ন।

24দুঃখ এবং যন্ত্রণা তাকে ভীত করে।

এগুলো যেন তাকে ধ্বংসের জন্য রাজার মতো আক্রমণ করে।

25কেন? কারণ দুষ্ট লোকরা ঈশ্বরের বাধ্য হতে চায় না—তারা ঈশ্বরকে ঘুষি দেখায়,

এবং সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে পরাজিত করতে চায়।

26দুষ্ট লোকরা ভীষণ একগুঁয়ে।

তারা একটা মোটা শক্ত ঢাল নিয়ে ঈশ্বরকে আক্রমণ করে।

27একজন লোক ধনী এবং মোটা হতে পারে,

28কিন্তু সে ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহরে,

যেখানে কেউ থাকে না অথবা যে সমস্ত বাড়ীগুলো ধ্বংস হবার জন্য ঠিক হয়েছে

সেগুলোতে বাস করবে।

29দুষ্ট লোকরা দীর্ঘদিন ধরে ধনী থাকবে না।

তাদের সম্পদ স্থায়ী হবে না।

তাদের ফসল বাড়বে না।

30দুষ্ট লোক অন্ধকারকে এড়াতে পারবে না।

সে সেই গাছের মতো হবে যার পাতা রোগে শুকিয়ে যায়

এবং বাতাস তাদের সবাইকে উড়িয়ে নিয়ে যায়।

31দুষ্ট লোকরা অর্থহীন বিষয়ের ওপর কখনো নির্ভর করে না যা তাদের বিপথে নিয়ে যাবে।

কেন? কারণ তারা কিছুই পাবে না।

32দুষ্ট লোকে তাদের পূর্ণ ব্যাপ্তির জীবনযাপন করতে পারবে না।

তারা হবে একটি গাছের মত যার ডালপালা শুকিয়ে ঝরে গেছে এবং মরে গেছে।

33দুষ্ট লোকে সেই দ্রাক্ষা গাছের মতো হবে যার দ্রাক্ষা ফল পাকার আগেই শুকিয়ে পড়ে যায়।

ঐ লোকটি সেই জলপাই গাছের মতো হবে যার মুকুল ঝরে যায়।

34কেন? কারণ এক দল ঈশ্বরবিহীন মানুষ ভাল ফল ফলাতে পারে না।

যারা ঘুস নেয়, আগুন তাদের বাড়ী ধ্বংস করে দেয়।

35মন্দ লোকরা সমস্যাকে ধারণ করে

এবং মন্দকে জন্ম দেয়। তাদের গর্ভে জন্ম নেয় মিথ্যা।”

16

ইলীফসকে ইয়োবের উত্তর

1তখন ইয়োব উত্তর দিলেন,

2“আমি এইসব কথা আগেই শুনেছি।

তোমরা তিন জন আমাকে কষ্টই দিলে, স্বস্তি নয়।

3তোমাদের দীর্ঘ ভাষণ আর শেষ হয় না!

কিসে তোমাদের এত বিচলিত করেছে যে তোমরা কথা বলেই চলেছ?

4যদি তোমরা আমার সমস্যায় পড়তে,

তোমরা যে কথাগুলি আমায় বললে, আমিও তোমাদের সেই কথাগুলি বলতে পারতাম।

আমিও তোমাদের প্রতি জ্ঞানগর্ভ কথা বলতে পারতাম

এবং তোমাদের প্রতি মাথা নাড়াতে পারতাম।

5কিন্তু আমি তোমাদের উৎসাহ দিতাম এবং যে কথাগুলো বলছি, সেগুলো বলে তোমাদের আমি আশা দিতাম।

6“কথা বললেও আমার যন্ত্রণা চলে যায় না,

নীরব থাকলেও আমার ব্যথা আমাকে ছেড়ে যায় না।

7কিন্তু, হে ঈশ্বর, আপনি আমার শক্তি কেড়ে নিয়েছেন।

আপনি আমার সারা পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছেন।

8আপনি আমায় শীর্ণ ও দুর্বল করে দিয়েছেন,

এর অর্থ, লোকে মনে করে যে আমি অপরাধী।

9“ক্রোধে ঈশ্বর আমাকে আক্রমণ করেছেন

এবং আমার দেহকে ছিন্ন-ভিন্ন করেছেন।

ঈশ্বর আমার বিরুদ্ধে তাঁর দাঁত ঘর্ষন করেছেন।

আমার শত্রু ঘৃণাভরে আমার দিকে তাকায়।

10আমার চার দিকে লোক জন জড়ো হয়েছে।

তারা আমাকে নিয়ে মজা করে এবং আমার গালে চড় মারে।

11ঈশ্বর আমাকে মন্দ লোকদের হাতে তুলে দিয়েছেন।

তিনি দুষ্ট লোকের হাতে আমাকে তুলে দিয়েছেন।

12আমার সব কিছুই সুন্দর ছিলো

কিন্তু ঈশ্বর আমায় ধ্বংস করেছেন!

হ্যাঁ, তিনিই আমার ঘাড় ধরে

আমায় খণ্ড-বিখণ্ড করেছেন।

ঈশ্বর আমাকে লক্ষ্যভেদের বস্তুতে পরিণত করেছেন।

13ঈশ্বরের তীরন্দাজ সৈন্যরা আমার চারদিকে ঘুরছে।

তিনি আমার বৃক্কে তীর ছুঁড়ছেন।

তিনি আমাকে কোন দয়া দেখান না।

তিনি আমার পিত্তকে মাটিতে ফেলে দেন।

14বার বার ঈশ্বর আমায় আক্রমণ করেন।

যুদ্ধের সৈন্যরা যেমন তেড়ে আসে তেমন করে তিনি আমার দিকে ছুটে আসেন।

15“আমি নিদারুণ ভাবে দুঃখী,

তাই আমি এই দুঃখের বস্ত্র পরেছি।

আমি এই ধূলো ও ছাইয়ের ওপর বসে অনুভব করি

যে আমি পরাজিত।

16কেঁদে কেঁদে আমার মুখ লাল হয়ে গেছে।

আমার চোখে ঘন অন্ধকার নেমে এসেছে।

17আমি কারো প্রতিই নৃশংস ছিলাম না।

কিন্তু এই মন্দ ঘটনাগুলি আমার ক্ষেত্রে ঘটেছে। আমার প্রার্থনা যথাযথ ও পবিত্র।

18“আমার প্রতি যে অন্যায় ঘটেছে, হে পৃথিবী, তুমি তা গোপন করো না।

ন্যায়ের জন্য আমার আর্তিকে স্তব্ধ হতে দিও না।

19এখনও পর্যন্ত স্বর্গে কেউ আছে যে আমার পক্ষে কথা বলবে।

এখনও পর্যন্ত ওপরে কেউ আছে যে আমার পক্ষে সাক্ষী দেবে।

20আমার চোখ যখন ঈশ্বরের জন্য অশ্রু বিসর্জন করে,

আমার বন্ধুরা আমার হয়ে কথা বলে।

21একজন যে ভাবে বন্ধুর জন্য তর্ক করে,

সেইভাবেই সে আমার জন্য ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলে।

22“আর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই আমি সেখানে যাবো যেখান থেকে ফেরা যায় না।

17

1আমার হৃদয় ভগ্ন হয়েছে,

আমি প্রাণ ত্যাগের জন্য প্রস্তুত।

আমার জীবন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।

কবর আমার জন্য অপেক্ষা করছে।

2লোকে আমার চারপাশে দাঁড়িয়ে আমার প্রতি বিদ্রূপের হাসি হাসছে।

আমি দেখছি ওরা যেন আমায় টিটকিরি করছে ও অপমান করছে।

3“ঈশ্বর, আমাকে মুক্ত করার মূল্য দিন।

আর কেউ আমায় সাহায্য করতে পারবে না।

4আপনি আমার বন্ধুদের বোধশক্তি হরণ করেছেন

তাই তারা কিছুই বুঝতে পারছে না।

ওদের জয়ী হতে দেবেন না।

5আপনি জানেন লোকে কি বলছে,

‘বন্ধুকে সাহায্য করার জন্য একজন লোক তার নিজের সন্তানদের উপেক্ষা করছে।’

কিন্তু আমার বন্ধু আমার বিরুদ্ধে গেছে।

6আমার নামকে ঈশ্বর প্রত্যেকের কাছে একটা মন্দ শব্দে পরিণত করেছেন।

লোকে আমার মুখের ওপর থুতু দেয়।

7আমার চোখ প্রায় অন্ধ হয়ে গেছে কারণ আমি প্রচণ্ড দুঃখ ও যন্ত্রণার মধ্যে আছি।

আমার সারা দেহ প্রচণ্ড শীর্ণ হয়ে ছায়ার মতো হয়ে গেছে।

8এর ফলে ভালো লোকরা যথার্থই বিহবল হয়ে পড়েছে।

যারা ঈশ্বরকে মানে না তাদের বিরুদ্ধে, নির্দোষ লোকদের উত্তেজিত করা হচ্ছে।

9কিন্তু ভাল লোকরা ভাল জীবনযাপন করবে।

নিস্পাপ লোকরা আরও শক্তিশালী হবে।

10“কিন্তু এগিয়ে এসো, তোমরা সবাই এসো এবং আমাকে বুঝিয়ে দাও যে সবই আমার দোষ।

তোমাদের কেউই জ্ঞানী নও।

11আমার জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে।

আমার পরিকল্পনা ধ্বংস হয়ে গেছে; আমার আশা চলে গেছে।

12কিন্তু আমার বন্ধুরা সব গুলিয়ে ফেলেছে।

তারা ভাবে রাতটাই দিন। তারা ভাবে অন্ধকারই আলোকে দূর করে।

13“কবরকেই আমি আমার নতুন ঘর বলে হয়তো আশা করতে পারি।

হয়তো অন্ধকার কবরে আমি আমার শয্যা পাতার আশা করব।

14আমি কবরকে বলতে পারি, ‘তুমিই আমার পিতা,’

এবং কৃমিকীটদের বলতে পারি, ‘আমার মা’ ও ‘আমার বোন।’

15কিন্তু তা যদি আমার একমাত্র আশা হয় তাহলে আমার আর কোন আশাই নেই।

তাই যদি আমার একমাত্র আশা হয় তাহলে লোকে আমার জন্য আর কোন আশাই দেখবে না।

16আমার আশাও কি কবরে যাবে?

আমরা কি এক সঙ্গে ধূলায় মিশে যাবো?”

18

বিল‌্দদ ইয়োবকে উত্তর দিলেন

1তখন শূহীয় বিল‌্দদ উত্তর দিলেন:

2“ইয়োব, কখন তুমি কথা বলা বন্ধ করবে?

শান্ত হও এবং শোন। আমাদের কিছু বলতে দাও।

3কেন তুমি আমাদের বোবা গরুর মতো নির্বোধ ভাবছো?

4ইয়োব, তোমার ক্রোধ শুধু মাত্র তোমাকেই আহত করছে।

লোকে কি শুধু তোমার জন্য পৃথিবী ত্যাগ করবে?

তুমি কি মনে কর, যে শুধু তোমাকে খুশী করতে ঈশ্বর পর্বতকে সরাবেন?

5“হ্যাঁ, মন্দ লোকের আলো চলে যাবে।

তার আগুন দগ্ধ করা বন্ধ করে দেবে।

6তার ঘরের আলো অন্ধকারে পরিণত হবে।

তার নিকটের আলোও নিভে যাবে।

7তার পদক্ষেপগুলো আর দৃঢ় ও দ্রুত হবে না।

কিন্তু সে আস্তে আস্তে দুর্বলের মত হাঁটবে।

তার নিজের মন্দ বুদ্ধিই ওর পতন ঘটাবে।

8তার নিজের পা-ই তাকে ফাঁদের দিকে নিয়ে যাবে।

সে ফাঁদের ওপর দিয়েই হাঁটবে এবং ধরা পড়বে।

9একটা ফাঁদ নিশ্চয়ই ওর পা ধরবেই।

একটা ফাঁদ তাকে আঁকড়ে ধরবেই।

10মাটির কোন একটা দড়ি তাকে ফাঁদে ফেলবেই।

তার ফাঁদ রাস্তায় ওর জন্য অপেক্ষা করছে।

11তার চার দিকেই ভয়ঙ্করতা প্রতীক্ষা করছে।

প্রত্যেকটি পদক্ষেপেই ভয় ওকে অনুসরণ করবে।

12মন্দ সমস্যাসমূহ ওর জন্য ক্ষুধার্তের মত অপেক্ষা করছে।

ওর পতন হলেই ধ্বংস ও দুর্বিপাক ওর জন্য ওত পেতে আছে।

13ভয়ঙ্কর অসুখ তার গায়ের চামড়া খেয়ে ফেলবে।

ঐ অসুখ ওর হাত, পা পচিয়ে দেবে।

14দুষ্ট লোককে তার ঘরের নিরাপত্তা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

যে ভয়ঙ্করের রাজা তার সঙ্গে দেখা করার জন্য ওকে নিয়ে যাওয়া হবে।

15তার ঘরে কিছুই পড়ে থাকবে না।

কেন? জ্বলন্ত গন্ধক ওর বাড়ীর চারপাশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

16ওর নিম্নস্থ শিকড় শুকিয়ে যাবে,

ওর উর্ধস্থ ডালপালাও শুকিয়ে যাবে।

17পৃথিবীর মানুষ ওকে স্মরণে রাখবে না।

কোন লোকই আর ওর নাম উল্লেখ করবে না।

18লোকে তাকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে।

তারা ওকে ওর জগৎ‌‌ থেকে তাড়িয়ে দেবে।

19ওর কোন পুত্র বা পৌত্র থাকবে না।

ওর বাড়ীর কেউই বেঁচে থাকবে না।

20তার প্রতি কি হয়েছিল দেখে পশ্চিমের লোকরা চমকে উঠবে।

পূর্বের লোকরাও ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে যাবে।

21দুষ্ট লোকদের বাড়িতে সেটা প্রকৃতই ঘটবে।

যারা ঈশ্বর সম্পর্কে কোন কিছু গ্রাহ্য করে না তাদের ঠিক এই রকমই ঘটবে!”

19

ইয়োব উত্তর দিলেন

1তখন ইয়োব উত্তর দিলেন:

2“আর কতক্ষণ তোমরা আমায় আঘাত করবে

এবং বাক্য বাণে আমায় জর্জরিত করবে?

3এখন তোমরা আমাকে দশবার অপমান করেছো।

আমায় আক্রমণের সময় তোমরা লজ্জার লেশমাত্র দেখাও নি!

4এমনকি যদি আমি অপরাধ করে থাকি,

তা আমার সমস্যা।

5তোমরা শুধুমাত্র নিজেকে আমার চেয়ে ভালো বলে দেখাতে চাইছো।

তোমরা বলছো যে আমার সমস্যাগুলি আমারই ত্রুটির ফল।

6কিন্তু আমি চাই তোমরা জান যে ঈশ্বর আমার প্রতি ভুল করেছেন।

আমাকে ধরার জন্য তিনি ফাঁদ পেতেছেন।

7আমি চিৎকার করি, ‘ও আমায় আঘাত করেছে!’ কিন্তু আমি কোন উত্তর পাই না।

এমনকি যদি আমি সাহায্যের জন্য উচ্চস্বরে ডাক দিই, সুবিচার হয় না।

8ঈশ্বর আমার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন তাই আমি এগিয়ে যেতে পারি না।

তিনি আমার পথকে অন্ধকারে আচ্ছন্ন করে দিয়েছেন।

9ঈশ্বর আমার সম্মান হরণ করে নিয়েছেন।

আমার মাথা থেকে তিনি মুকুট কেড়ে নিয়েছেন।

10আমি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঈশ্বর চারদিক থেকে আমার দেওয়ালে আঘাত করবেন।

শিকড় সমেত উপড়ে দেওয়া গাছের মত

তিনি আমার সব আশা উৎ‌পাটিত করেছেন।

11আমার বিরুদ্ধে ঈশ্বরের ক্রোধ জ্বলছে।

তিনি আমাকে তাঁর শত্রু বলে অভিহিত করেন।

12আমাকে আক্রমণ করার জন্য ঈশ্বর তাঁর সৈন্যদের পাঠিয়েছেন।

আমার বিরুদ্ধে তারা আক্রমণের মঞ্চ গড়েছে।

আমার তাঁবুর চারদিকে ওরা আস্তানা গেড়েছে।

13“ঈশ্বর আমার আত্মীয়দের আমার থেকে দূরে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এমনকি আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা আমার প্রতি অচেনা লোকের মত ব্যবহার করে।

14আমার আত্মীয়রা আমায় ছেড়ে চলে গেছে।

বন্ধুরাও আমায় ভুলে গেছে।

15আমার বাড়ীর দর্শনার্থী এবং দাসীরা এমন ভাবে আমার দিকে তাকায়

যেন আমি আগন্তুক এবং বিদেশী।

16আমি আমার ভৃত্যকে ডাকি কিন্তু সে সাড়া দেয় না।

এখন আমাকে আমার ভৃত্যের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করতে হবে।

17আমার স্ত্রী আমার শ্বাসের ঘ্রাণকে ঘৃণা করে।

আমার নিজের ভাইরা আমাকে ঘৃণা করে।

18এমনকি ছোট ছোট শিশুরা আমায় নিয়ে মজা করে।

আমি যখন ওদের কাছে আসি ওরা আমায় বাজে কথা বলে।

19আমার সব ঘনিষ্ঠ বন্ধু আমায় ঘৃণা করে।

এমনকি যাদের আমি ভালোবাসি তারাও আমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।

20“আমি এতই শীর্ণ হয়েছি যে আমার হাড়ে আমার চামড়া ঝুলছে।

খুবই সামান্য জীবন আমাতে অবশিষ্ট আছে।

21“দয়া কর, বন্ধুরা আমার, আমায় দয়া কর!

কেন? কারণ ঈশ্বর আমার বিরুদ্ধে রয়েছেন।

22যেমন করে ঈশ্বর আমায় তাড়া করেছেন তোমরাও কেন তেমনি করছো?

তোমরা কি আমায় যথেষ্ট আক্রমণ করনি?

23“আমার বড় ইচ্ছে করে যে আমার কথাগুলো লেখা থাকবে।

আমার খুব ইচ্ছে করে সেগুলি গোটানো কাগজে লেখা থাকবে।

24আমার কথাগুলি যেন সীসা ও লৌহশলাকা দিয়ে

পাথরে খোদাই করা থাকে যাতে কথাগুলো চিরদিন থাকে।

25আমি জানি একজন আমার স্বপক্ষে আছে।

আমি জানি সে বেঁচে আছে।

এবং শেষ কালে সে এই মাটিতে দাঁড়াবে এবং আমায় প্রতিরক্ষা করবে।

26আমি আমার দেহ ত্যাগ করে চলে যাবার পরে

এবং আমার দেহের চামড়া নষ্ট হওয়ার পরেও আমি ঈশ্বরকে দেখবো, আমি তা জানি।

27আমি নিজের চোখে ঈশ্বরকে দেখবো।

অন্য কেউ নয়, আমি নিজে ঈশ্বরকে দেখবো, এবং তা আমাকে কতখানি অভিভূত করবে তা আমি বলতে পারবো না!

আমার শক্তি সম্পূর্ণভাবে চলে গেছে।

28“তোমরা হয়তো বলবে, ‘আমরা এ বিষয়ে চিন্তা করবো

এবং আমরা তাকে দোষ দেওয়ার কারণ খুঁজে বার করবো!’

29কিন্তু একটি তরবারীকে তোমাদের প্রত্যেকেরই নিজের থেকে ভয় পাওয়া উচিৎ‌!

কেন? কারণ তরবারিই তোমাদের ক্রোধের প্রাপ্য।

তখন তোমরা বুঝবে, বিচারের সময় বলে কিছু আছে।”

20

সোফরের উত্তর

1তখন নামাথার সোফর উত্তর দিলো:

2“ইয়োব, তুমি আমার চিন্তাকে তাড়িত করেছো, তাই আমার ভেতরের এই অনুভূতিগুলির জন্য আমি অবশ্যই তোমাকে উত্তর দেবো।

আমি কি ভাবছি, তা আমি খুব তাড়াতাড়ি বলবো।

3তোমার উত্তর দিয়ে তুমি আমাকে অপমানিত করেছো।

কিন্তু আমি বুদ্ধিমান, আমি জানি কি করে তোমাকে উত্তর দিতে হয়।

4 “তুমি জানো যে একজন বদ লোকের আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

তুমি নিশ্চয়ই জান যে যখন থেকে আদমকে এই পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল, তখন থেকেই এটা সত্য।

যে লোক ঈশ্বরকে গ্রাহ্য করে না, সে খুব অল্প সময়ের জন্য সুখী হয় মাত্র।

6এমনকি যদি বদ লোকের অহঙ্কার আকাশকে স্পর্শ করে

এবং তার মাথা মেঘকে স্পর্শ করে

7তবু তার মলের মতো সেও চির দিনের জন্য নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

যে লোকরা তাকে চিনতো তারা বলবে, ‘কোথায় সে?’

8সে স্বপ্নের মতোই উড়ে যাবে এবং কেউ তাকে আর খুঁজে পাবে না।

একটা দুঃস্বপ্নের মতো তাকে জোর করে তাড়ানো হবে এবং লোকে তাকে ভুলে যাবে।

9যারা তাকে দেখতো তারা তাকে আর দেখতে পাবে না।

ওর পরিবার ওর দিকে আর তাকাবে না।

10বদ লোকদের সন্তানরা দরিদ্র লোকদের কাছে সাহায্য চাইবে।

মন্দ লোকটি অবশ্যই নিজের হাতে তার সম্পত্তি ফিরিয়ে দেবে।

11যখন ও যুবক ছিল তখন হয়ত তার হাড়গুলো শক্ত, মজবুত এবং তারুণ্যে ভরা ছিল,

কিন্তু ওর সঙ্গে ওগুলোও ধূলোয় শুয়ে থাকবে।

12“মন্দ লোকদের মুখে খারাপটাই মিষ্টি লাগে।

তাকে সে জিভের তলায় রাখে।

13মন্দ লোক খারাপটাকেই উপভোগ করে।

সুমিষ্ট মিছরীর মতই সে সেটাকে মুখে ধরে রাখে।

14কিন্তু সেই মন্দটাই ওর পেটের ভেতর গিয়ে বিষ হয়ে উঠবে।

এটা ওর শরীরের ভেতরে গিয়ে, সাপের বিষের মতোই বিষাক্ত হয়ে উঠবে।

15মন্দ লোকরা সম্পত্তি গলাধঃকরণ করে, কিন্তু ওরা তা উগরে দেবে।

ঈশ্বরই ওই লোকদের দিয়ে তা বমি করাবেন।

16মন্দ লোকরা সাপের বিষ চুষে নেয়।

সাপের বিষদাঁতই ওদের হত্যা করবে।

দুষ্ট লোকদের বিষাক্ত সাপ দংশন করবে এবং বিষ তাদের মেরে ফেলবে।

17যে নদী দুধ এবং মধু সহ প্রবাহিত হয়

মন্দ লোকরা তা দেখার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে।

18মন্দ লোকরা তাদের লাভের অংশ ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হবে।

তারা যার জন্য পরিশ্রম করেছে, তাদের তা উপভোগ করতে দেওয়া হবে না।

19কেন? কারণ মন্দলোক গরীব লোকদের আঘাত করে এবং তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে।

সে তাদের গ্রাহ্য করে না এবং তাদের জিনিস কেড়ে নেয়।

অন্যের তৈরী বাড়ী সে জবরদখল করে।

20“দুষ্ট লোকরা কখনও সুখী হয় না।

তাদের সম্পত্তি তাদের বাঁচাতে পারবে না।

21যখন তারা খায়, কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।

সুতরাং তাদের সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

22যখন দুষ্ট লোকের হাতে প্রচুর সম্পদ থাকবে তখনই সে সমস্যার দ্বারা ন্যুব্জ হয়ে যাবে।

ঐ লোকের নিজের সঙ্গেই ওর সমস্যা নেমে আসবে!

23মন্দ লোকরা তাদের আকাঙ্খার সব কিছু আহার করার পর,

ঈশ্বর ওদের ওপর তাঁর জ্বলন্ত ক্রোধ বর্ষণ করবেন,

ঈশ্বর তাদের খাবার হিসেবে শাস্তি বর্ষণ করবেন।

24দুষ্ট লোকরা হয়তো লৌহ তরবারী থেকে পালিয়ে যেতে পারে,

কিন্তু পিতল ধনু অতর্কিতে আক্রমণ করবে।

25তাম্র শর ওদের শরীর ভেদ করে যাবে এবং ওদের পিঠ ফুঁড়ে বের হবে।

তীরের তীক্ষ্ণ ফলা ওদের প্লীহা ভেদ করে যাবে

এবং ওরা ভয়ে শিউরে উঠবে।

26ওদের সমস্ত সম্পদ ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।

একটি আগুন ওদের ধ্বংস করবে—একটি আগুন যা কোন মানুষ শুরু করে নি।

সেই আগুন বাড়ীর সব কিছুকে ধ্বংস করবে।

27আকাশ দুষ্ট ব্যক্তির অপরাধ প্রকাশ করে দেবে।

তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে আকাশ উঠে দাঁড়াবে।

28ঈশ্বরের ক্রোধর বন্যায়

ওর বাড়ী ধুয়ে মুছে চলে যাবে।

29মন্দ লোকদের প্রতি ঈশ্বর এমনটাই করবেন।

ওদের দেওয়ার জন্য এটাই ঈশ্বরের পরিকল্পনা।”

21

ইয়োবের উত্তর

1তখন ইয়োব উত্তর দিলেন:

2“আমি যা বলি অনুগ্রহ করে শোন,

আমাকে সান্ত্বনা দিতে এটাই হোক্ তোমার পথ।

3আমার সম্পর্কে ধৈর্য্য ধর এবং আমাকে কথা বলতে দাও।

আমার বলা শেষ হলে, তোমরা আমায় নিয়ে মজা করতে পারো।

4“আমি লোকের নামে অভিযোগ করছি না।

আমার অসহিষ্ণুতার যথেষ্ট কারণ আছে।

5আমার দিকে দেখ এবং আতঙ্কিত হও।

তোমার হাত তোমার মুখের ওপরে রাখ এবং বিস্ময়ের সঙ্গে তাকিয়ে দেখ।

6আমি যখন ভাবি আমার প্রতি কি ঘটেছে,

আমি তখন ভয় পাই, আমার শরীর কাঁপতে থাকে!

7কেন দুষ্ট লোকরা দীর্ঘ জীবন বাঁচে?

কেন তারা বৃদ্ধ হয় ও সফল হয়?

8দুষ্ট লোকরা তাদের সন্তানদের দেখে, তাদের সঙ্গে বড় হতে দেখে।

দুষ্ট লোকরা তাদের নাতিদের দেখার জন্যও বেঁচে থাকে।

9ওদের ঘরবাড়ী নিরাপদে থাকে এবং ওরাও নিঃশঙ্ক থাকে।

ওদের শাস্তি দেওয়ার জন্য ঈশ্বর একটি লাঠিও ব্যবহার করেন না।

10তাদের বলদগুলো সঙ্গম করতে কখনো অপারগ নয়।

তাদের গাভীগুলোর বাছুর হয় এবং জন্মের সময়ে বাছুরগুলো মরে যায় না।

11দুষ্ট লোকরা তাদের সন্তানদের, মেষশাবকের মত খেলা করতে পাঠায়।

তাদের সন্তানরা নাচ করতে থাকে।

12তারা খঞ্জর, বীণা এবং বাঁশির সঙ্গে নাচ করে।

13মন্দ লোকরা জীবৎকালেই তাদের সাফল্য ভোগ করে।

তারপর তারা মারা যায় এবং দুর্ভোগ না ভুগে কবরে চলে যায়।

14কিন্তু মন্দ লোকরা ঈশ্বরকে বলে, ‘আমাদের একা ছেড়ে দাও!

তুমি আমাদের দিয়ে কি করাতে চাও, সে বিষয়ে আমরা পরোয়া করি না!’

15মন্দ লোকরা আরও বলে, ‘কে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর?

আমাদের তাকে সেবা করার দরকার নেই!

তার কাছে প্রার্থনা করেই বা কি লাভ?’

16“একথা সত্য যে দুষ্ট লোকরা তাদের ভবিষ্যৎ স্থির করতে পারে না।

আমি ওদের মতামত গ্রহণ করি না।

17কিন্তু কতবার মন্দ লোকদের আলো নিভে যায়?

কতবার মন্দ লোকদের ওপর দুর্গতি ঘনিয়ে আসে?

কতবার ঈশ্বর ক্রুদ্ধ হয়ে ওদের শাস্তি দেবেন?

18কত বার তারা খড়কুটোর মতো উড়ে যায়

কিংবা ঝোড়ো বাতাসের মুখে তুষের মত উড়ে যায়?

19কিন্তু তুমি বলছো, ‘পিতার পাপের জন্য ঈশ্বর তার সন্তানকে শাস্তি দেন।’

না! ঈশ্বরের উচিৎ‌ পাপীদের শাস্তি দেওয়া।

তখনই মন্দ লোক বুঝতে পারবে তার নিজের পাপের জন্যই তাকে শাস্তি দেওয়া হল!

20পাপীকে তার নিজের পতন দেখতে দাও।

তাকে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের ক্রোধ অনুভব করতে দাও।

21একজন মন্দ লোকের জীবন যখন শেষ হয়ে যায়,

এবং সে যখন মারা যায়, তখন সে ফেলে যাওয়া সংসারের কথা চিন্তাও করে না।

22“কেউই ঈশ্বরকে জ্ঞানের শিক্ষা দিতে পারে না।

ঈশ্বর গুরুত্বপূর্ণ লোকদেরও বিচার করেন।

23একজন লোক পরিপূর্ণ এবং সফল জীবন অতিবাহিত করে মারা যায়।

সে সম্পূর্ণ আরাম ও নিরাপত্তার জীবন কাটিয়ে ছিল।

24তার দেহ সুপুষ্ট ছিলো

এবং তার হাড়গুলো তখনও শক্ত ছিলো।

25কিন্তু অন্য একজনও কঠোর জীবন সংগ্রামের পর দুঃখী হৃদয় নিয়ে মারা গেল।

সে কোন দিনই ভালো কিছু উপভোগ করতে পারে নি।

26শেষ কালে, ওই দুই জন লোকই এক সঙ্গে ধূলিতে শুয়ে থাকবে,

উভয়ের দেহই পোকাতে ছেয়ে যাবে।

27“কিন্তু আমি জানি তুমি কি চিন্তা করছো,

এবং আমি জানি তুমি আমাকে আঘাত করতে চাইছো।

28তুমি হয়তো বলতে পারো: ‘আমাকে রাজপুত্রের সুন্দর ঘড়বাড়ী দেখাও।

এখন দেখাও, কোথায় দুষ্ট লোকরা বাস করে।’

29“সত্যই তুমি ভ্রমণকারীর সঙ্গে কথা বলেছো।

নিশ্চিত ভাবে তুমি তাদের গল্পকেই গ্রহণ করবে।

30দুর্গতি যখন আসে, তখন মন্দ লোকরা বিপদ থেকে বেঁচে যায়।

ঈশ্বর যখন তাঁর ক্রোধ প্রদর্শন করেন, তারা তখন বেঁচে যায়।

31মন্দ লোকের মন্দ কাজের জন্য কেউই তার মুখের ওপর সমালোচনা করে না।

তার মন্দ কাজের জন্য কেউই তাকে শাস্তি দেয় না।

32যখন দুষ্ট ব্যক্তিকে কবরে বয়ে নিয়ে যাওয়া হয়,

তার কবরের কাছে একজন রক্ষী দাঁড়িয়ে থাকে।

33সেই মন্দ লোকের জন্য কবরের মাটিও রমনীয় হয়ে ওঠে।

এবং তার শবযাত্রায় হাজার হাজার লোক অংশ নেয়।

34“তাই, তোমার শূন্যগর্ভ কথা দিয়ে তুমি আমাকে সান্ত্বনা দিতে পারবে না।

তোমার উত্তর কোন কাজেই আসবে না!”

22

ইলীফসের উত্তর

1তখন তৈমনীয় ইলীফস উত্তর দিল:

2“ঈশ্বরের কি তোমার সাহায্যের প্রয়োজন আছে?

না! এমনকি একজন খুব জ্ঞানী লোকও ঈশ্বরের কাছে প্রয়োজনীয় নয়।

3তুমি যদি ন্যায়পরায়ণ হও তাহলে ঈশ্বরের কি কোন সাহায্য হয়?

না! অথবা তুমি যদি অনিন্দনীয় হও তাহলে তা কি ঈশ্বরের পক্ষে লাভজনক হয়? না!

4ইয়োব, তোমার সমীহর কারণেই কি ঈশ্বর তোমাকে সংশোধন করেন?

এই কারণেই কি তিনি বিচারে তোমার বিরুদ্ধে আসেন?

5না, এর কারণ তুমি অনেক পাপ করেছো।

ইয়োব, তুমি পাপ করা বন্ধ কর নি।

6হতে পারে তোমার কোন ভাইকে টাকা ধার দিয়েছিলে, এবং সে যে তোমাকে তা ফেরৎ‌ দেবে তা প্রমাণ করার জন্য তোমাকে কিছু দেওয়ার জন্য তুমি তাকে বাধ্য করেছিলে।

তুমি হয়তো ঋণের বন্ধক হিসেবে কোন দরিদ্র মানুষের বস্ত্র নিয়েছিলে। হয়তো অকারণেই তুমি এসব করেছিলে।

7তুমি হয়তো বা ক্ষুধার্ত ও শ্রান্ত মানুষকে

খাবার ও জল দাও নি।

8ইয়োব তোমার প্রচুর খামারবাড়ি আছে।

লোকেও তোমায় সম্মান করে।

9কিন্তু এমন হতে পারে যে তুমি বিধবাদের কিছু না দিয়েই ফিরিয়ে দিয়েছো।

হয়তো বা তুমি অনাথদের প্রতারিত করেছো।

10সেই জন্য তোমার চারদিকে ফাঁদ পাতা রয়েছে

এবং আকস্মিক সমস্যা তোমায় ভীত করে।

11সেই কারণেই এটা এত অন্ধকার যে তুমি দেখতে পাও না,

এবং বন্যার মত জলরাশি তোমায় ডুবিয়ে দেয়।

12“ঈশ্বর স্বর্গের উচ্চতম স্থানে বাস করেন।

দেখ তারাগুলো কত উঁচুতে রয়েছে।

কিন্তু ঈশ্বর এতই উচ্চে রয়েছেন

যে ঈশ্বর তারাগুলোকে নীচের দিকে চেয়ে দেখেন।

13কিন্তু ইয়োব তুমি বলেছিলে, ‘ঈশ্বর কি জানেন?

ঈশ্বর কি কালো মেঘের ভেতর দিয়ে দেখতে পান এবং আমাদের বিচার করতে পারেন?

14ঘন মেঘ আমাদের থেকে তাঁকে আড়াল করে,

যেহেতু তিনি আকাশ সীমার ওপর বহির্দেশে বিচরণ করেন তাই তিনি আমাদের দেখতে পান না।’

15“ইয়োব তুমি সেই পুরানো পথেই চলছো

যে পথে অতীতের মন্দ লোকরা চলেছিল।

16সেই মন্দ লোকরা তাদের সময়ের আগেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গেছে।

বন্যায় তাদের ভিত ভেসে গেছে।

17ঐ লোকগুলো ঈশ্বরকে বলেছিলো: ‘আমাদের একা ছেড়ে দিন!’

এবং এও বলেছিল, ‘সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের জন্য কিছুই করতে পারবেন না!’

18এবং ঈশ্বরই নানাবিধ ভালো জিনিস দিয়ে ওদের ঘর ভরিয়ে দিয়েছিলেন!

না, আমি মন্দ লোকের উপদেশ মানতে পারব না।

19ন্যায়পরায়ণ লোকরা ওদের ধ্বংস হতে দেখবে এবং ঐ সব সৎ‌‌ লোকই সুখী হবে।

নির্দোষ লোকরা মন্দ লোকদের উপহাস করবে।

20‘সত্যই তোমার শত্রুরা বিনষ্ট হয়েছে!

অগ্নি ওদের সব সম্পদ জ্বালিয়ে দেবে!’

21“এখন ইয়োব, নিজেকে ঈশ্বরের কাছে সঁপে দাও এবং তাঁর সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্থাপন কর।

এটা কর, তুমি অনেক ভালো জিনিস পাবে।

22এই শিক্ষা গ্রহণ কর।

তিনি যা বলেন, তাতে মনোযোগ দাও।

23ইয়োব, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে ফিরে এসো, তুমি উদ্ধার হয়ে যাবে।

কিন্তু তুমি অবশ্যই তোমার তাঁবুগুলি থেকে অহিতকারী মন্দকে দূর করবে।

24নিজের জমানো সোনাকে আবর্জনার বেশী কিছু ভেবো না,

তোমার শ্রেষ্ঠ সোনাকেও+ 22:24 শ্রেষ্ঠ সোনা আক্ষরিক অর্থে, “ওফিরের সোনা।” নদীর নুড়ি-পাথরের মত তুচ্ছ জ্ঞান কর।

25এবং সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে তোমার সোনা করে নাও।

ঈশ্বরকে তোমার রূপোর স্তূপ হতে দাও।

26তারপর তুমি ঈশ্বরকে উপভোগ করতে পারবে।

তারপর তুমি ঈশ্বরের সামনে দাঁড়াতে পারবে।

27তুমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করবে এবং তিনি তোমার প্রার্থনা শুনবেন।

তবেই তুমি তোমার প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবে।

28যদি তুমি কিছু করবে বলে মনস্থির করে থাকো তাহলে তা ফলপ্রসূ হবে।

এবং তোমার ভবিষ্যৎ অবশ্যই উজ্জ্বল হবে!

29ঈশ্বর অহঙ্কারী লোকদের লজ্জায় ফেলেন।

কিন্তু তিনি বিনয়ী লোকদের সাহায্য করেন।

30তখন তুমি যারা ভুল করে তাদের সাহায্য করতে পারবে।

তুমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করবে এবং তিনি তাদের ক্ষমা করে দেবেন।

কেন? কারণ তুমি শুচি-শুদ্ধ হয়ে যাবে।”

23

ইয়োবের উত্তর

1তখন ইয়োব উত্তর দিলেন:

2“আমি আজ পর্যন্ত অভিযোগ করে যাচ্ছি।

কেন? কারণ আমি এখনও ভুগছি।

3আমার ইচ্ছা হয়, ঈশ্বরকে কোথায় খুঁজে পাওয়া যায় তা যদি জানতাম,

তাহলে আমি সেই জায়গায় যেতাম।

4আমি আমার কথা ঈশ্বরের কাছে বলতাম,

আমি যে নির্দোষ এটা প্রমাণ করার জন্য আমি আমার যুক্তিগুলো সাজাতাম।

5কেমন করে ঈশ্বর আমার প্রশ্নের জবাব দেবেন সেটাই আমি জানতে চাই।

আমি ঈশ্বরের উত্তরকে বুঝতে চাই।

6ঈশ্বর কি আমার বিরুদ্ধে তাঁর শক্তিকে ব্যবহার করবেন?

না, তিনি আমার কথা শুনবেন!

7সেখানে একটি ন্যায়পরায়ণ লোক ঈশ্বরের সঙ্গে তর্ক করতে পারে।

তখন আমার বিচারক আমাকে মুক্তি দিতে পারেন।

8“কিন্তু আমি যদি পূর্ব দিকে যাই সেখানে ঈশ্বর নেই।

আমি যদি পশ্চিমে যাই, তখনও আমি ঈশ্বরকে দেখতে পাই না।

9যখন ঈশ্বর উত্তরে কর্মরত থাকেন আমি তাঁকে দেখি না।

যখন ঈশ্বর দক্ষিণে আসেন, তখনও তাঁকে দেখতে পাই না।

10কিন্তু ঈশ্বর জানেন আমি কেমন লোক।

তিনি আমাকে পরীক্ষা করছেন এবং তিনি দেখবেন যে আমি সোনার মতোই পবিত্র।

11আমি সর্বদাই ঈশ্বরের চাওয়া পথে জীবনধারণ করেছি।

আমি কখনও ঈশ্বরকে অনুসরণ করা থেকে বিরত হইনি।

12আমি সর্বদাই ঈশ্বরের নির্দেশ মেনে এসেছি।

আমি আমার খাবারকে যত না ভালোবাসি, তার থেকে বেশী ভালোবাসি ঈশ্বরের মুখ নিঃসৃত বাণী।

13“কিন্তু ঈশ্বর কখনও পরিবর্তিত হন না।

ঈশ্বরের বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়াতে পারে না।

ঈশ্বর যা চান তাই করতে পারেন।

14আমার প্রতি ঈশ্বরের যা পরিকল্পনা আছে তিনি তাই করবেন।

এবং আমার সম্পর্কে তাঁর অনেক পরিকল্পনা আছে।

15সেই কারণেই আমি ঈশ্বরের দ্বারা আতঙ্কিত।

আমি এই জিনিসগুলো বুঝতে পারি।

সেই কারণেই আমি ঈশ্বরের সম্পর্কে ভীত।

16ঈশ্বর আমার হৃদয়কে দুর্বল করে দেন এবং আমি সাহস হারিয়ে ফেলি।

সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাকে ভীত করেন।

17যে মন্দ ঘটনাগুলো আমার ক্ষেত্রে ঘটেছে তা আমার মুখে কালো মেঘের মত ছেয়ে আছে।

সেই অন্ধকার আমাকে চুপ করে থাকতে দেবে না।”

24

1“এমন কেন হয় যে মানুষের জীবনে যখন মন্দ ঘটনা ঘটতে চলেছে তা সর্বশক্তিমান ঈশ্বর জানেন,

কিন্তু তাঁর অনুগামীরা এমনকি অনুমানও করতে পারে না যে কখন তিনি সে বিষয়ে কিছু করতে চলেছেন?”

2“লোকে তাদের জমির সীমারেখা সরিয়ে দেয় আরও জমি দখল করার জন্য।

লোকে মেষের পাল চুরি করে তাদের অন্য চারণক্ষেত্রে নিয়ে চলে যায়।

3তারা অনাথদের গাধা চুরি করে।

তারা বিধবাদের বলদগুলো বন্ধক রাখে।

4তারা দরিদ্র লোকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়।

সব গরীব লোকই এই মন্দ লোকগুলোর কাছ থেকে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হয়।

5“দরিদ্র লোকগুলো খাবারের সন্ধানে বুনো গাধার মত মরুভূমিতে ঘুরে বেড়ায়।

খাদ্যের সন্ধানে তারা খুব সকালে উঠে পড়ে।

তাদের ছেলেমেয়েদের খাদ্যের জন্য তারা জনহীন স্থানে খাবার খুঁজে বেড়ায়।

6দরিদ্র লোকরা মন্দ লোকেদের মাঠে গবাদি পশুর জাব কাটে।

মন্দ লোকেদের দ্রাক্ষা ক্ষেত থেকে তারা পড়ে থাকা দ্রাক্ষা নিজেদের জন্য জোগাড় করে।

7দরিদ্র লোককে সারা রাত্রি বিনা বস্ত্রে শুতে হয়।

শীত থেকে নিজেদের রক্ষা করার মত কোন আবরণ তাদের নেই।

8তারা পাহাড়ের বৃষ্টিতে ভিজে যায়।

তাদের কোন আশ্রয় নেই, তাই তারা বড়বড় পাথরগুলোর কাছে গা ঘেঁসাঘেঁসি করে দাঁড়িয়ে থাকে।

9মন্দ লোকরা কচি কচি বাচ্চাগুলোকে তাদের মায়ের বুক থেকে টেনে নিয়ে যায়।

দুষ্ট লোকরা ধারশোধের টাকা হিসেবে গরীবদের কাছ থেকে তাদের শিশুদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

10দরিদ্র লোকদের কোন কাপড়-চোপড় নেই। তারা উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়ায়।

তারা শস্যের বোঝা বয়ে নিয়ে যায়।

11দরিদ্র লোকরা জলপাই পিষে তার তেল বার করে।

যেখানে আঙ্গুর পেষা হয় সেখানে তারা দ্রাক্ষা মর্দন করে।

কিন্তু তারা কিছু পান করতে পায় না।

12এই শহরে যারা মারা যাচ্ছে এমন লোকদের দুঃখের বিষাদময় কান্না তুমি শুনতে পাবে।

ওই আহত লোকরা সাহায্যের জন্য কাতর হয়ে কাঁদে।

কিন্তু ঈশ্বর তাতে মনোযোগ দেন না।

13“কিছু লোক আলোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।

তারা জানে না ঈশ্বর কি চান।

ঈশ্বর যে পথে চান, তারা সে পথে জীবন ধারণ করে না।

14একজন হত্যাকারী খুব সকালে ওঠে এবং সে দরিদ্র অসহায় লোকদের হত্যা করে।

রাত্রিবেলা সে একজন চোর হয়ে যায়।

15যে লোক যৌন অপরাধ করে সে রাত্রির প্রতীক্ষায় থাকে।

সে মনে করে, ‘কোন লোকই আমাকে দেখতে পাবে না।’

কিন্তু তখনও সে তার মুখ আবৃত করে রাখে।

16রাতে যখন অন্ধকার নামে, মন্দ লোকরা বাইরে আসে এবং অন্য লোকের ঘর ভেঙে প্রবেশ করে।

কিন্তু দিনের আলোয়, তারা নিজেদের ঘরে নিজেদের বন্দী করে রাখে এবং আলোকে এড়াতে চায়।

17মন্দ লোকদের কাছে অন্ধকারতম রাত্রিই সকালের মত মনে হয়।

হ্যাঁ, তারা ঐ সাংঘাতিক অন্ধকারের ভয়ঙ্করতাকে খুব ভালো করে জানে!

18“তুমি দাবী কর যে মন্দ লোকরা শুধু জলে ভাসমান খড়ের মত।

তারা যে জমি অর্জন করে তা অভিশপ্ত, তাই তারা তাদের জমি থেকে দ্রাক্ষা সংগ্রহ করতে পারে না।

19শীতের তুষার থেকে খরা এবং তাপ জল শুষে নেয়।

একই রকম ভাবে, পাতাল পাপীদের হরণ করে নেয়।

20তার নিজের মা পর্যন্ত তাকে ভুলে যাবে।

পোকাদের কাছে ওর দেহটা মিষ্টি লাগবে।

লোকে তাকে মনে রাখবে না।

অতএব মন্দত্ব একটা লাঠির মত ভেঙে যাবে।

21মন্দ লোকরা সন্তানহীন নারীদের আঘাত করে।

তারা বিধবা নারীদের সাহায্য করতে অস্বীকার করে।

22মহানুভব লোকদের ধ্বংস করার জন্য মন্দ লোকরা তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে।

মন্দ লোকরা শক্তিশালী হতে পারে কিন্তু ওদের নিজের জীবন সম্পর্কে ওরা নিশ্চিত হতে পারবে না।

23মন্দ লোকরা খুব অল্প সময়ের জন্য নিরাপদ ও সুনিশ্চিত হতে পারে।

ওরা ক্ষমতাসম্পন্ন হতে চাইতে পারে।

24মন্দ লোকরা অল্প সময়ের জন্য সফল হতে পারে, কিন্তু তারাও চলে যাবে।

আর লোকদের মত তাদেরও ফসলের মত কেটে ফেলা হবে।

25“কিন্তু আমি বলি

কে আমাকে ভুল বলে প্রমাণ করতে পারে?

এবং আমার কথাগুলো কে ঈশ্বরের কাছে বহন করে নিয়ে যাবে?”

25

ইয়োবকে বিল‌্দদের উত্তর

1তখন শূহীয় বিল‌্দদ উত্তর দিলেন:

2“ঈশ্বরই শাসক।

প্রতিটি লোককে তাঁর সামনে সভয়ে দাঁড়াতে হবে।

তাঁর ঊর্দ্ধলোকের রাজ্যে তিনি শান্তি বজায় রাখেন।

3কোন লোকই তাঁর ঐশ্বরীয় সৈন্যবাহিনীকে গুণতে পারে না।

ঈশ্বরের আলো সবার ওপর প্রতিভাত হয়।

4ঈশ্বরের তুলনায় কেই বা অধিকতর পবিত্র?

কোন মানুষই প্রকৃত অর্থে পবিত্র হতে পারে না।

5ঈশ্বরের চোখে চাঁদ পর্যন্ত উজ্জ্বল নয়,

তারারাও খাঁটি নয়।

6মানুষ ঈশ্বরের তুলনায় কম খাঁটি।

তুলনায়, মানুষ উল্লু এবং কৃমিকীটের মত!”

26

বিল‌্দদের প্রতি ইয়োবের প্রত্যুত্তর

1তখন ইয়োব উত্তর দিলেন:

2“বিল‌্দদ, সোফর এবং ইলীফস, এই ক্লান্ত ও শ্রান্ত মানুষটির জন্য তোমরা সত্যিই খুব বড় সহায় হয়েছিলে।

সত্যিই তোমরা আমার মস্তবড় উৎসাহদাতা, আমার দুর্বল বাহুকে তোমরা সত্যিই আবার শক্ত করে তুলেছো!

3সত্যিই, যে লোকের কোন প্রজ্ঞা নেই, তাকে তোমরা চমৎ‌‌কার উপদেশ দিয়েছো!

তোমরা যে কত জ্ঞানী, তোমরা তা প্রদর্শন করেছো।+ 26:2-3 ইয়োব এখানে যা বলছে তা সে সত্যিই মনে করে না। ইয়োব বিদ্রূপ করছে—সে এই কথাগুলি এমনভাবে বলছে যাতে বোঝা যাচ্ছে সে সত্যি মনে করে কথাগুলি বলছে না।

4কে তোমাদের এসব বলতে সাহায্য করেছে?

কার আত্মা তোমাদের উৎসাহিত করেছে?

5“মৃত লোকদের আত্মা,

মাটির তলায় জলের ভেতরে ভয়ে কাঁপতে থাকে।

6কিন্তু ঈশ্বর মৃত্যুর স্থান পরিষ্কার দেখতে পান।

মৃত্যু ঈশ্বরের কাছ থেকে লুকিয়ে থাকতে পারে না।

7ঈশ্বর উত্তর আকাশকে শূন্য লোকে প্রসারিত করে দিয়েছেন।

ঈশ্বর পৃথিবীকে শূন্যতায় ঝুলিয়ে দিয়েছেন।

8ঘন মেঘকে ঈশ্বর জলে পরিপূর্ণ করেছেন।

কিন্তু সেই বিপুল ভার নিয়ে ঈশ্বর, মেঘকে ভেঙে পড়তে দেন না।

9ঈশ্বর, পূর্ণিমার চাঁদের মুখ ঢেকে দেন।

তিনি চাঁদের ওপর মেঘকে আবৃত করে তাকে লুকিয়ে ফেলেন।

10ঈশ্বর সমুদ্রের ওপর একটি দিগন্ত-রেখা এঁকে দিয়েছেন।

সেই দিগন্ত রেখায় দিনরাত্রি মিলিত হয়।

11ভূগর্ভস্থ থামগুলি আকাশকে ধারণ করে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ঈশ্বর যখন তাদের তিরস্কার করেন তখন তারা ভয়ে চমকে যায় এবং কাঁপতে থাকে।

12ঈশ্বরের পরাক্রম সমুদ্রকে শান্ত করে দেয়।

ঈশ্বর তাঁর প্রজ্ঞা দিয়ে রাহাবকে ধ্বংস করেছেন।

13ঈশ্বর তাঁর নিঃশ্বাস দিয়ে আকাশকে পরিষ্কার করেছেন।

ঈশ্বরের হাত পলায়মান সর্পকে বিদ্ধ করেছে।

14ঈশ্বর যা করেন, এগুলি তার দু’একটি বিস্ময়কর উদাহরণ মাত্র।

আমরা ঈশ্বরের থেকে কেবলমাত্র ফিসফিস শব্দটুকু বজ্রের মত শুনি।

ঈশ্বর যে কত শক্তিশালী এবং মহৎ‌‌ তা কেউই বুঝতে পারে না।”

27

1তারপর ইয়োব তাঁর কথা অব্যাহত রাখলেন। ইয়োব বললেন,

2“একথা সত্যি যে ঈশ্বর আছেন এবং তিনি আছেন এটা যতখানি সত্য,

তিনি আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে এসেছেন—এটাও ততখানি সত্য।

ঈশ্বর সর্বশক্তিমান আমার জীবনকে তিক্ত করে তুলেছেন।

3কিন্তু যতক্ষণ আমার মধ্যে জীবন আছে

এবং আমার নাকে ঈশ্বরের জীবনের শ্বাস-প্রশ্বাস বইছে,

4ততক্ষণ আমার ঠোঁট কোন মন্দ কথা উচ্চারণ করবে না

এবং আমার জিভ একটিও মিথ্যা কথা বলবে না।

5আমি কখনও স্বীকার করব না যে তোমরা সঠিক।

আমার মৃত্যু পর্যন্ত আমি বলে যাবো যে আমি নির্দোষ।

6যে সঠিক কাজ আমি করেছি, তা আমি দৃঢ়ভাবে ধরে থাকবো।

আমি সৎ‌ পথে বাঁচা থেকে বিরত হব না।

যত দিন পর্যন্ত আমি বাঁচবো, তত দিন পর্যন্ত আমি যা যা করেছি সে সম্বন্ধে আমার কোন অপরাধ বোধ থাকবে না।

7আমার শত্রু যেন একজন মন্দ ব্যক্তির মত ব্যবহার পায়।

যে ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে মাথা তুলবে সে যেন একজন মন্দ ব্যক্তির মত ব্যবহার পায়।

8যদি কোন লোক ঈশ্বরের তোয়াক্কা না করে, তবে মৃত্যুর সময়ে সেই লোকের জন্য কোন আশাই নেই।

ঈশ্বর যখন তার জীবন হরণ করবেন তখন সেই লোকের জন্য কোন আশাই থাকবে না।

9ঐ মন্দ লোকটি সংকটে পড়বে।

সে সাহায্যের জন্য ঈশ্বরের কাছে কেঁদে পড়বে।

কিন্তু ঈশ্বর তার কথা শুনবেন না।

সে কি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে আনন্দ লাভ করবে?

সে কি সব সময় ঈশ্বরকে ডাকবে? না!

10কিন্তু ঐ লোকের সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলার আনন্দ উপভোগ করা উচিৎ‌ ছিল।

ঐ লোকের সর্বক্ষণ ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা উচিৎ‌ ছিল।

11“আমি তোমাকে ঈশ্বরের ক্ষমতা সম্পর্কে বলবো,

আমি তোমার কাছে ঈশ্বর সর্বশক্তিমানের পরিকল্পনা গোপন করবো না।

12তুমি নিজের চোখেই ঈশ্বরের ক্ষমতা দেখেছো।

তাহলে তুমি কেন অর্থহীন কথাবার্তা বলছো?

13“মন্দ লোকরা ঈশ্বরের কাছ থেকে শুধু এইটুকুই পাবে।

নিষ্ঠুর লোকরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছ থেকে এই সবই পাবে।

14একজন মন্দ লোকের অনেক সন্তানাদি থাকতে পারে।

কিন্তু তার সন্তানরা যুদ্ধে নিহত হবে।

একজন মন্দ লোকের সন্তানরা যথেষ্ট খাদ্য পাবে না।

15তার সন্তানরা, যারা বেঁচে যাবে

তারা রোগ দ্বারা কবরস্থ হবে।

16একজন মন্দ লোকের প্রচুর রূপো থাকতে পারে কিন্তু তার কাছে সেটি আবর্জনার মতই হবে।

তার কাছে প্রচুর বস্ত্র থাকতে পারে তাও তার কাছে কাদার স্তূপের মতো হবে।

17কিন্তু একজন সৎ‌ লোক তার বস্ত্রাদি পাবে।

নির্দোষ লোক তাদের রূপো পাবে।

18একজন মন্দ লোক পাখীর বাসার মত একটা বাড়ী বানাতে পারে।

একজন রক্ষী যেমন মাঠে ঘাসের কুটীর বানায় সে হয়ত তার বাড়ীটা ঐরকমই বানাবে।

19একজন মন্দ লোক যখন বিছানায় শুতে যায়, তখন সে ধনী থাকতে পারে,

কিন্তু যখন সে তার চোখ খুলবে তখন তার সব সম্পদ চলে যাবে।

20বন্যার মতো ভয়ঙ্কর জিনিস ধুয়ে নিয়ে যাবে।

একটা ঝড় তার সব কিছু মুছে নিয়ে যাবে।

21পূবের বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে এবং সে চলে যাবে।

একটা ঝড় তাকে তার জায়গা থেকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে।

22মন্দ লোকরা হয়তো ঝড়ের শক্তি থেকে পালিয়ে যেতে চেষ্টা করবে।

কিন্তু ঝড় তাকে ক্ষমাহীন ভাবে আঘাত করবে।

23মন্দ লোকগুলো যখন ছুটে পালাবে, তখন লোকরা হাততালি দেবে।

মন্দ লোকরা যখন তাদের বাড়ী থেকে দৌড় দেবে তখন লোকেরা শিস্ দেবে।”

28

1“এমন জায়গা আছে যেখানে মানুষ রূপো পায়,

এমন জায়গা আছে যেখানে মানুষ সোনা গলিয়ে খাঁটি করে।

2মানুষ মাটি খুঁড়ে লোহা তোলে।

পাথর গলিয়ে তামা নিষ্কাসন করে।

3কর্মীরা গুহার মধ্যে আলো নিয়ে যায়।

ওরা গুহার গভীরে অন্বেষণ করে।

গভীর অন্ধকারে ওরা পাথর খোঁজে।

4খনি-দণ্ডের ওপর কাজ করবার সময় খনির কর্মীরা গভীর পর্যন্ত মাটি খোঁড়ে।

মানুষ যেখানে বাস করে তারা তার চেয়েও অনেক গভীর পর্যন্ত খোঁড়ে, এমন গভীরে যেখানে লোক আগে কখনও যায় নি।

তারা দড়িতে অনেক অনেক গভীর পর্যন্ত ঝুলতে থাকে।

5মাটির ওপরে ফসল ফলে,

কিন্তু মাটির তলা সম্পূর্ণ অন্যরকম,

সব কিছুই যেন আগুনের দ্বারা গলিত হয়ে রয়েছে।

6মাটির নীচে নীলকান্ত মণি

এবং খাঁটি সোনা রয়েছে।

7বুনো পাখিরা মাটির নীচের পথ সম্পর্কে কিছুই জানে না।

কোন শকুন সেই অন্ধকার পথ দেখে নি।

8বন্য পশুরাও কোন দিন সে পথে হাঁটে নি।

সিংহও কোন দিন সেই পথে হাঁটে নি।

9শ্রমিকরা দৃঢ়তম পাথরকেও ভেঙে ফেলে।

ঐ শ্রমিকরা সমস্ত পর্বত খুঁড়ে খনি উন্মুক্ত করে।

10শ্রমিকরা পাথর কেটে সুড়ঙ্গ তৈরী করে।

তারা সব রকমের দামী পাথর দেখতে পায়।

11শ্রমিকরা জলকে বাঁধবার জন্য বাঁধ তৈরী করে।

তারা লুকানো সম্পদকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে।

12“কিন্তু প্রজ্ঞা কোথায় খুঁজে পাওয়া যাবে?

আমরা কোথায় বোধশক্তি খুঁজতে যাবো?

13আমরা জানি না প্রজ্ঞা কি মূল্যবান জিনিস।

পৃথিবীর লোক মাটি খুঁড়ে প্রজ্ঞা পেতে পারে না।

14গভীর মহাসমুদ্র বলে, ‘আমার কাছে প্রজ্ঞা নেই।’

সমুদ্র বলে, ‘আমার কাছে প্রজ্ঞা নেই।’

15সব চেয়ে খাঁটি সোনার বিনিময়েও তুমি প্রজ্ঞা কিনতে পারবে না।

পৃথিবীতে প্রজ্ঞা কেনার মতো যথেষ্ট রূপো নেই।

16ওফীরের সোনা বা অকীক মণি

বা নীলকান্ত মণি দিয়েও প্রজ্ঞা কেনা যায় না।

17প্রজ্ঞা সোনা ও স্ফটিকের থেকেও মূল্যবান।

এমনকি মূল্যবান রত্নখচিত সোনাও প্রজ্ঞা কিনতে পারে না।

18প্রবাল বা মণির চেয়েও প্রজ্ঞা মূল্যবান।

মুক্তোর থেকেও প্রজ্ঞা মূল্যবান।

19কূশদেশীয় পোখরাজ মণিও প্রজ্ঞার মতো সমমূল্যের নয়।

তুমি খাঁটি সোনা দিয়েও প্রজ্ঞা কিনতে পারবে না।

20“তাহলে প্রজ্ঞা কোথা থেকে আসে?

বোধশক্তি খুঁজতে আমরা কোথায় যাবো?

21পৃথিবীর প্রত্যেকটি জীবন্ত বিষয়ের থেকেই প্রজ্ঞা নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে।

আকাশের পাখিরা পর্যন্ত প্রজ্ঞাকে দেখতে পায় না।

22মৃত্যু ও ধ্বংস বলে,

‘আমরা প্রজ্ঞাকে খুঁজে পাই নি।

আমরা শুধু তার সম্পর্কে গুঞ্জন শুনেছি।’

23“একমাত্র ঈশ্বরই প্রজ্ঞার পথ জানেন।

একমাত্র ঈশ্বরই জানেন প্রজ্ঞা কোথায় থাকে।

24ঈশ্বর পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত দেখতে পান।

আকাশের নীচে সব কিছুই ঈশ্বর দেখতে পান।

25ঈশ্বর বায়ুর গুরুত্ব নিরূপণ করেছেন।

তিনিই বৃষ্টির নিয়ম

26এবং সেখানে কতটা জল থাকবে

এবং মেঘ গর্জনের পথ স্থির করেছেন।

27সেই সময় ঈশ্বর প্রজ্ঞাকে দেখেছিলেন এবং এসম্পর্কে ভেবেছিলেন।

ঈশ্বর দেখিয়েছিলেন প্রজ্ঞা কত মূল্যবান এবং ঈশ্বরই প্রজ্ঞার প্রতীক।

28ঈশ্বর মানুষকে বললেন,

‘প্রভুকে শ্রদ্ধা করো ও ভয় কর, সেটাই প্রজ্ঞা।

কোন মন্দ কাজ করো না, এটাই সর্বোত্তম উপলদ্ধি।’”

29

ইয়োব তাঁর কথা অব্যাহত রাখলেন

1ইয়োব তাঁর কথোপকথন চালিয়ে গেলেন। ইয়োব বললেন:

2“কয়েক মাস আগে আমার জীবন যেমন ছিলো, আমার জীবন তেমন হোক্ এই আশা করি।

সেই সময় ঈশ্বর আমার ওপর নজর রাখতেন, আমার বিষয়ে তিনি যত্ন নিতেন।

3সেই সময় ঈশ্বর আমার ওপর জ্যোতি প্রদান করতেন।

তাই আমি অন্ধকারেও পথ হাঁটতে পারতাম। ঈশ্বর আমাকে বাঁচার প্রকৃত পথ দেখাতেন।

4যে দিনগুলিতে আমি সফলকাম হয়েছিলাম, এবং ঈশ্বর আমার সঙ্গে ছিলেন, আমি সেই দিনগুলির আশায় থাকি।

সেই দিনগুলিতে ঈশ্বর আমার গৃহকে আশীর্বাদ করেছিলেন।

5যখন ঈশ্বর, সর্বশক্তিমান আমার সঙ্গে ছিলেন এবং আমার সন্তান-সন্ততি আমার চারপাশে ছিল,

আমি সেই দিনগুলি আকাঙ্খা করি।

6তখন জীবনটা খুব সুন্দর ছিল।

তখন আমি ননী দিয়ে আমার পা ধুয়েছি, তখন আমার কাছে প্রচুর পরিমাণে উত্তম মানের জলপাই তেল ছিল।

7“তখন এমনি দিন ছিল যখন শহরের প্রবেশদ্বারে সর্বসাধারণের সভায়

আমি বয়স্ক লোকদের সঙ্গে বসতাম।

8সেখানে প্রত্যেকে আমায় শ্রদ্ধা করতো।

যুবকরা যখন আমাকে দেখতে পেতো তখন তারা সরে দাঁড়াতো।

এমনকি বৃদ্ধরাও উঠে দাঁড়াত।

আমার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবার জন্য ওরা উঠে দাড়াত।

9জন নেতারা কথা বলা বন্ধ করে দিত

এবং ঠোঁটের ওপর হাত দিয়ে অন্যান্য লোকদের চুপ করতে ইঙ্গিত করতো।

10এমনকি গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও মৃদু স্বরে কথা বলতেন।

হ্যাঁ, মনে হতো, তাঁদের জিভ যেন তালুতে আটকে গেছে।

11আমি যা বলতাম লোকে তা শুনতো এবং আমার সম্পর্কে তারা ভালো কথা বলতো। আমি কি করতাম লোকে দেখতো এবং তারা আমার প্রশংসা করতো।

12কেন? কারণ যখন দরিদ্র লোক সাহায্য চেয়েছে, আমি সাহায্য করেছি।

এবং যে অনাথদের দেখাশোনা করার কেউ নেই, তাদের আমি সাহায্য করেছি।

13মৃতপ্রায় মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করেছে।

সমস্যা-জর্জর বিধবাকে আমি সাহায্য করেছি।

14সঠিক পথে জীবনযাপনই আমার বস্ত্র ছিল।

আমার শিরস্ত্রাণ ছিল আমার ন্যায়।

15আমি অন্ধের কাছে চোখের মত ছিলাম।

তারা যেখানে যেতে চাইতো আমি নিয়ে যেতাম।

আমি খঞ্জলোকের কাছে তাদের পায়ের মত ছিলাম।

তারা যেখানে যেতে চাইত আমি বয়ে নিয়ে যেতাম।

16আমি দরিদ্র লোকদের পিতার মত ছিলাম।

যাদের আমি একটুও চিনতাম না তাদেরও আমি সাহায্য করেছি, আদালতে তাদের মামলা জিতিয়েছি।

17আমি দুষ্ট ব্যক্তির ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করেছি

এবং তাদের হাত থেকে নির্দোষ লোকদের বাঁচিয়েছি।

18“আমি সর্বদাই আমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভেবেছি,

আমি দীর্ঘ জীবন বেঁচে থেকে বৃদ্ধ হব।

19আমি ভেবেছি আমি সেই বৃক্ষের মত স্বাস্থ্যবান ও প্রাণবন্ত হব

যে গাছের শিকড়ে প্রচুর জল আছে এবং যার শাখাপ্রশাখা শিশিরে সিক্ত হয়ে থাকে।

20আমি ভেবেছি প্রত্যেকটি নতুন দিন উজ্জ্বলতর হবে

এবং নতুন সম্ভাবনায় ভরে উঠবে।

21“অতীতে লোকরা আমার কথা শুনতো।

আমার উপদেশের অপেক্ষায় তারা চুপ করে থাকতো।

22যারা আমার কথা শুনত, আমার বলা শেষ হওয়ার পর তাদের আর কিছুই বলার থাকতো না।

আমার কথা সুন্দর ভাবে তাদের কানে প্রবেশ করতো।

23যেমন করে লোক বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করে, তেমনি তারা আমার বলার অপেক্ষায় থাকতো।

তারা যেন বসন্তের বৃষ্টির মত আমার বাক্য-ধারা পান করতো।

24আমি যখনই ওদের সঙ্গে হেসে কথা বলেছি ওরা এত অবাক হয়ে যেত যে, আমি যে ওদের সঙ্গে কথা বলছি ওরা এটা বিশ্বাসই করতে পারত না।

আমার হাসিতে ওরা ভাল বোধ করেছে।

25যদিও আমি তাদের নেতা ছিলাম তবু আমি তাদের সঙ্গে থাকাই পছন্দ করতাম।

আমি সভাসদসহ একজন রাজার মত, দুর্দশাগ্রস্ত লোকদের দুঃখের মধ্যে তাদের শান্তি দিতাম।

30

1“কিন্তু এখন, যারা আমার চেয়েও বয়সে ছোট তারা আমাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করে।

এবং তাদের পিতারা এতোই অপদার্থ ছিল যে, আমার মেষগুলোকে যে কুকুর পাহারা দেয়—আমি ওদের সেই কুকুরের সঙ্গেও রাখতে চাইনি।

2ঐসব যুবকের পিতারা এতোই দুর্বল যে ওরা আমার সাহায্যে আসবে না।

তারা এখন বৃদ্ধ ও ক্লান্ত হয়েছে, তাদের পেশীগুলো এখন আর শক্ত ও মজবুত নেই।

3তারা মৃত মানুষের মতো অনাহারে শুকিয়ে রয়েছে।

তাই তারা মরুভূমির শুকনো ধূলো খায়।

4তারা মরুভূমির নোনা মাটির গাছ উপড়ে নেয়।

তারা মরুভূমির এক রকম গাছের শিকড় খায়।

5তারা তাদের দল থেকে বিতাড়িত হয়েছে।

লোকে এমন ভাবে ওদের দিকে চিৎকার করে যেন ওরা চোর।

6তারা নদীর শুকনো উপত্যকায়, পাহাড়ের গুহায়

অথবা মাটির গর্তে বাস করতে বাধ্য হয়।

7তারা মরুভূমির ঝোপঝাড়ে গাধার মত ডাক ছাড়ে

এবং কাঁটাঝোপের নীচে গাদাগাদি করে জমা হয়।

8তারা নামহীন একদল অপদার্থ লোক

যারা নিজেদের দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে!

9“এখন ঐসব লোকদের পুত্ররা আমায় নিয়ে গান বেঁধে আমায় উপহাস করে।

আমার নামটাই এখন ওদের কাছে একটা বাজে শব্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

10এখন ঐ যুবকরা আমায় ঘৃণা করে এবং আমার থেকে দূরে দাঁড়ায়।

তারা নিজেদের আমার থেকে ভালো মনে করে।

তারা, এমনকি আমার মুখে থুতুও দেয়!

11ঈশ্বর আমার ধনুক থেকে গুণ (ছিলা) কেড়ে নিয়ে আমায় দুর্বল করে দিয়েছেন।

ঐ মন্দ লোকরা ওদের সমস্ত ক্রোধ নিয়ে আমার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।

12তারা আমার ডানদিক থেকে আক্রমণ করে।

তারা আমাকে লাথি মেরে ফেলে দিয়েছে।

আমার মনে হয় যেন একটা শহরকে আক্রমণ করা হল: আমাকে আক্রমণ করে ধ্বংস করার জন্য তারা আমার প্রাচীরে একটা রাস্তা তৈরী করেছে।

13তারা আমার রাস্তা ছিন্ন-ভিন্ন করে দিয়েছে।

তারা আমাকে ধ্বংস করতে সফল হয়েছে। তাদের থামাবার কেউ নেই।

14তারা একটা সৈন্যদলের মত যারা দেওয়াল ভেঙে একটা বড় গর্ত করেছে

এবং পাথর কুচির ওপর দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে আমার ঘাড়ে পড়েছে।

15সন্ত্রাস আমাকে গ্রাস করেছে।

আমার সম্মান বাতাসের মত মুছে গেছে।

আমার নিরাপত্তা মেঘের মতোই অদৃশ্য হয়ে গেছে।

16“আমার জীবন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে এবং আমি খুব শীঘ্রই মারা যাবো।

দুর্ভোগের দিন আমাকে আঁকড়ে ধরেছে।

17রাতে আমার হাড়ে ব্যথা করে।

আমার যন্ত্রণা বন্ধ হয় না।

18ঈশ্বর আমার বস্ত্র কেড়ে নিয়েছেন,

এবং আমার বস্ত্র মুচড়ে বিকৃত আকার করে দিয়েছেন।

19ঈশ্বর আমায় কাদায় ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন

এবং আমি ধূলা ও ছাই এর মত হয়ে গিয়েছি।

20“ঈশ্বর, আপনার সাহায্যের জন্য আমি আপনার কাছে কাঁদি কিন্তু আপনি শোনেন না।

আমি দাঁড়িয়ে পড়ে প্রার্থনা করি, কিন্তু আমার দিকে আপনি কোন মনোযোগ দেন না।

21ঈশ্বর, আপনি আমার প্রতি নীচ ব্যবহার করেছেন।

আমাকে আঘাত করবার জন্য আপনি আপনার ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন।

22ঈশ্বর, আপনি শক্তিশালী বাতাসকে আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যেতে দিয়েছেন।

আপনি আমাকে ঝড়ের মধ্যে ফেলেছেন।

23আমি জানি আপনি আমায় মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাবেন।

প্রত্যেকটি জীবন্ত ব্যক্তি অবশ্যই মারা যাবে।

24“কিন্তু, যে ইতিমধ্যেই বিধ্বস্ত ও সাহায্যের জন্য কাতর আর্জি জানাচ্ছে,

তাকে নিশ্চয়ই কোন লোক আঘাত করবে না।

25ঈশ্বর, আপনি জানেন যে, যে লোকরা সংকটে পড়েছিলো আমি তাদের জন্য কেঁদেছিলাম।

আপনি জানেন যে দরিদ্র লোকেদের জন্য আমার অন্তর কতখানি কাতর ছিলো।

26কিন্তু যখন আমি ভালো জিনিস চাইলাম, তখন বিনিময়ে খারাপ জিনিস পেলাম।

যখন আমি আলো চাইলাম, অন্ধকার এলো।

27আমি ভেতরে ভেতরে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছি।

আমার দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে না।

আমি দিনের পর দিন ভুগে চলেছি।

28আমি সব সময়ই দুঃখী এবং বিমর্ষ।

আমি মণ্ডলীর মধ্যে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে সাহায্য চাই।

29মরুভূমির বুনো কুকুর এবং উটপাখীর মত

আমি বরাবরই নিঃসঙ্গ।

30আমার চামড়া পুড়ে খোসা হয়ে উঠে যাচ্ছে।

জ্বরে আমার দেহ উত্তপ্ত হয়ে আছে।

31আমার বীণা দুঃখের গান গাইতে শুরু করেছে।

আমার বাঁশিও দুঃখের কান্নায় ভরে উঠেছে।

31

1“আমি আমার চোখের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছি।

এমন দৃষ্টি দিয়ে আমি কোন মেয়েকে দেখবো না যে দৃষ্টি আমার কামলালসাকে চরিতার্থ করবার জন্য ঐ মেয়েকে পেতে আমায় বাধ্য করবে।

2উচেচর ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, মানুষের জন্য কি করেন?

উচেচর ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, মানুষকে কি দেন?

3মন্দ লোকদের জন্য ঈশ্বর সমস্যা ও ধ্বংস প্রেরণ করেন

এবং যারা মন্দ কাজ করে তাদের জন্য পাঠান বিপর্যয়।

4আমি যা করি ঈশ্বর সবই জানেন

এবং তিনি আমার প্রতিটি পদক্ষেপ লক্ষ্য করেন।

5“আমি মানুষকে মিথ্যা বলিনি

ও তাদের প্রতারিত করতে চাইনি!

6ঈশ্বর যদি যথাযথ মানদণ্ডও ব্যবহার করেন,

তিনি দেখবেন আমি নির্দোষ।

7যদি আমার পদক্ষেপ যথার্থ পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়ে থাকে,

যদি আমার চোখ আমায় মন্দ কাজ করতে পরিচালিত করে থাকে,

যদি আমার হস্তদ্বয় পাপে কলঙ্কিত হয়ে থাকে,

8তাহলে, আমার চাষের ফসল যেন অন্যরা খায়

এবং আমার চাষের ফসল যেন তারা তোলে।

9“যদি আমি কখনো অন্য কোন নারীকে কামনা করে থাকি

বা আমার প্রতিবেশীর দরজায় তার স্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করে থাকি,

10তাহলে আমার স্ত্রী যেন অন্য পুরুষের জন্য রান্না করে

এবং অন্য পুরুষরা যেন তার সঙ্গে শয়ন করে।

11কেন? কারণ যৌনপাপ হল লজ্জাকর।

এটা শাস্তিযোগ্য পাপ।

12যৌনপাপ হল এমন এক আগুন যা সবকিছু ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত জ্বলতে থাকে।

আমি সারা জীবন যা করেছি এটা তা ধ্বংস করে দিতে পারে।

13“যখন আমার বিরুদ্ধে আমার ক্রীতদাসরা অভিযোগ করেছিল

তখন আমি যদি তাদের প্রতি ন্যায়বিচার না করে থাকি,

14তাহলে ঈশ্বরের মুখোমুখি হয়ে আমি কি করবো?

যখন ঈশ্বর জিজ্ঞাসা করবেন আমি কি করেছি, তখন আমি কি বলবো?

15প্রত্যেকে তার মায়ের গর্ভে জন্মায়।

আমি আমার মায়ের গর্ভে জন্মেছি, আমার ক্রীতদাসরা তাদের মায়ের গর্ভে।

অতএব সেই দিক থেকে আমাতে আর আমার ক্রীতদাসদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

16“দরিদ্র লোকদের সাহায্য করতে আমি কখনও বিমুখ ছিলাম না।

আমি বিধবাদের সাহায্য করতে কখনো অস্বীকার করিনি।

17খাদ্যের বিষয়ে আমি কখনও স্বার্থপর হইনি।

আমি সর্বদাই অনাথদের খাবার দিয়েছি।

18আমার সারা জীবন ধরে আমি পিতৃহীন সন্তানদের পিতার মত ছিলাম।

আমার সারা জীবন ধরে আমি বিধবাদের সাহায্য করেছি।

19আমি যখনই বস্ত্রহীন মানুষকে,

দরিদ্র মানুষকে, জামার অভাবে কষ্ট পেতে দেখেছি,

20আমি সর্বদাই তাদের বস্ত্র দিয়েছি।

ওদের উষ্ণ রাখার জন্য আমার নিজের ভেড়া থেকে আমি পশম দিয়েছি।

এবং ওরা ওদের সমস্ত হৃদয় দিয়ে আমায় আশীর্বাদ করেছে।

21যদিও আমি জানতাম যে আমি আদালতের সমর্থন পাবো,

তবু আমি কখনো অনাথদের ভয় দেখাই নি।

22আমি যদি কখনও তা করে থাকি,

তাহলে আমার বাহু কাঁধ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যাবে।

23আমি ঈশ্বরের শাস্তিকে ভয় পাই।

তিনি যখন উঠে দাঁড়ান

আমি তাঁর সামনে দাঁড়াতে পারি না।

24“আমি আমার সম্পদের ওপর কখনই ভরসা করি নি।

ঈশ্বর আমায় সাহায্য করবেন এটাই আমার বড় ভরসা।

খাঁটি সোনাকেও আমি কখনও বলি নি, ‘তুমিই আমার ভরসা।’

25আমি বিত্তবান ছিলাম।

কিন্তু তা আমাকে অহঙ্কারী করে নি।

আমি অনেক ধনসম্পদ উপার্জন করেছি।

কিন্তু অর্থ আমাকে সুখী করে নি।

26আমি কখনও উজ্জ্বল সূর্য

বা সুন্দর চাঁদের পূজো করি নি।

27চাঁদ ও সূর্যকে পূজো করার মতো

অতখানি বোকা আমি ছিলাম না।

28ওটাও শাস্তিযোগ্য পাপ।

যদি আমি ওইগুলোর পূজো করতাম তাহলে আমি উচ্চে অবস্থিত ঈশ্বর সর্বশক্তিমানের প্রতি অবিশ্বস্ততার কাজ করতাম।

29“আমার শত্রুরা যখন ধ্বংসপ্রাপ্ত হল

আমি কখনই সুখী হই নি।

যখন আমার শত্রুদের জীবনে অঘটন ঘটেছে,

তখন আমি তাদের প্রতি কখনও উপহাস করিনি।

30আমার শত্রুদের অভিশাপ দিয়ে বা তাদের মৃত্যু কামনা করে

আমি কখনও নিজের মুখকে পাপ করতে দিই নি।

31আমার তাঁবুর প্রত্যেকেই জানে যে

আমি সর্বদাই আমার অতিথিদের যথেষ্ট খাদ্য দিয়েছি।

32আমি সর্বদাই ভবঘুরেদের আমার ঘরে ডেকে এনেছি

যাতে ওদের রাস্তায় ঘুমাতে না হয়।

33অন্য লোকরা তাদের পাপ গোপন করার চেষ্টা করে।

কিন্তু আমি আমার অপরাধ গোপন করি নি।

34লোকে কি বলতে পারে সে নিয়ে আমি কোন দিনই ভীত হই নি।

সেই ভয় কোন দিন আমাকে চুপ করাতে পারে নি।

আমি কোন দিনই বাইরে যেতে দ্বিধাবোধ করি নি।

আমি লোকের ঘৃণায কোন দিন বিচলিত হইনি।

35“এই যে, আমি চাই কেউ আমার কথা শুনুক!

এই রইল আমার স্বাক্ষর আমার অভিযোগের ওপর।

এখন ঈশ্বর সর্বশক্তিমান যেন আমায় একটা আধিকারিকী উত্তর দেন।

আমি চাই, তাঁর মতে আমি যা ভুল করেছি, তা তিনি লিখে ফেলুন।

36তারপর আমি সেটা কাঁধে পরে নেব।

মাথার মুকুটের মত আমি তা ধারণ করবো।

37যদি ঈশ্বর তা করতেন, তাহলে আমিও আমার সব কাজের ব্যাখ্যা দিতে পারতাম।

আমি একজন রাজপুত্রের মত তাঁর কাছে যেতে পারতাম।

38“আমার জমি আমি কারও কাছ থেকে চুরি করি নি।

কেউ আমার সম্পর্কে চুরির অভিযোগ তুলতে পারবে না।

39জমি থেকে যে খাদ্য আমি পেয়েছিলাম তার জন্য

আমি আমার কৃষককে মূল্য দিয়েছিলাম।

আমি কখনো জমির ভাড়াটেদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করিনি।

40যদি আমি কখনও এইসব মন্দ কাজ করে থাকি,

তাহলে আমার জমিতে গম এবং বার্লির বদলে যেন কাঁটা-ঝোপ ও দুর্গন্ধ লতাপাতা জন্মায়!”

ইয়োবের কথা শেষ হল।

32

ইলীহূ তর্কে যোগ দিল

1তখন ইয়োবের তিনজন বন্ধু তাকে উত্তর দেওয়া থেকে বিরত হলেন। তাঁরা বিরত হলেন কারণ তাঁরা দেখালেন যে ইয়োব যে নির্দোষ সে বিষয়ে তাঁরা একেবারে দৃঢ় প্রত্যয় ছিলেন। 2কিন্তু বারখেলের পুত্র ইলীহূ সেখানে উপস্থিত ছিল। বারখেল ছিল বূষীয় বংশধর। (বূষ ছিল রাম পরিবারের একজন।) ইলীহূ ইয়োবের ওপর ভীষণ রেগে গেল। কারণ ইয়োব ভেবেছিল যে সে ঈশ্বরের চেয়েও ধার্মিক। 3ইলীহূ ইয়োবের তিনজন বন্ধুর ওপরেও রেগে ছিল। কেন? কারণ ইয়োবের তিনজন বন্ধু ইয়োবের প্রশ্নর উত্তর দিতে পারছিল না। তবু তারা ইয়োবকে দোষী বলে অভিযুক্ত করেছিল। 4ইলীহূই সেখানে সব থেকে কনিষ্ঠ ছিল, তাই সবার কথা শেষ হওয়া পর্যন্ত সে অপেক্ষা করছিল। তখন তার মনে হল সে কথা বলা শুরু করতে পারে। 5কিন্তু সেই সময় সে দেখলো, ইয়োবের তিন বন্ধুর আর কিছুই বলার নেই। তাই সে রেগে গেল। 6তখন ইলীহূ (বূষ পরিবার উদ্ভূত বারখেলের পুত্র) কথা বলতে শুরু করলো। সে বলল:

“আমি একজন যুবক, আপনারা বয়স্ক ব্যক্তি।

সেই জন্য আমি যা ভাবছি তা বলতে আমি ভয় পাচ্ছি।

7আমি নিজের মনে ভেবেছি, ‘বয়স্ক লোকরা আগে কথা বলবে।

বয়স্ক লোকরা বহুদিন জীবিত আছেন, তাই তাঁরা বহু বিষয়ে শিক্ষা লাভ করেছেন।’

8কিন্তু ঈশ্বরের আত্মাই একজনকে জ্ঞানী করে।

ঈশ্বর সর্বশক্তিমানের সেই নিঃশ্বাস মানুষের বোধশক্তিকে সব কিছু বুঝতে সাহায্য করে।

9শুধুমাত্র বৃদ্ধ লোকরাই জ্ঞানী মানুষ নয়।

কোনটা প্রকৃত ঠিক তা শুধুমাত্র বৃদ্ধ লোকরাই বোঝে এমনও নয়।

10“তাই, আমার কথা শুনুন!

আমি কি ভাবছি তা আপনাদের বলবো।

11আপনারা যখন কথা বলছিলেন আমি তখন অপেক্ষা করছিলাম।

আমি আপনাদের যুক্তিসমূহ শুনেছি এবং যথাযোগ্য উত্তর দেবার জন্য আপনাদের প্রচেষ্টা দেখেছি।

ইয়োবকে আপনারা যে উত্তর দিয়েছেন তা আমি শুনেছি।

12আপনারা যা বলেছেন আমি তা যত্ন করে শুনেছি।

আপনাদের মধ্যে কেউই ইয়োবকে তিরস্কার করেননি।

আপনাদের মধ্যে কেউই ওঁর যুক্তির উত্তর দেননি।

13আপনাদের প্রজ্ঞা আছে এ কথা আপনাদের তিন জনের বলা উচিৎ‌ হয়নি।

মনুষ্য জাতি নয়, শুধুমাত্র ঈশ্বর যেন তাঁকে তর্কযুদ্ধে পরাজিত করেন।

আপনারা অবশ্যই যুক্তির উত্তর দেবেন, সাধারণকে নয়।

14ইয়োব তাঁর যুক্তিগুলো আমার কাছে বলেন নি।

তাই, আপনারা তিন জন যে যুক্তিগুলি উত্থাপন করেছিলেন, আমি তা বলবো না।

15“ইয়োব, এই তিন জন যুক্তি হারিয়ে ফেলেছে।

ওঁদের আর বেশী কিছু বলার নেই।

ওঁদের আর বেশী কিছু উত্তরও নেই।

16ইয়োব, এই তিন ব্যক্তি আপনাকে উত্তর দেবে—আমি এমন আশায় প্রতীক্ষা করছিলাম।

কিন্তু ওঁরা চুপ করে গেলেন।

ওঁরা আপনার সঙ্গে তর্ক বন্ধ করে দিলেন।

17তাই, এখন আমি আপনাকে আমার উত্তর দেবো।

হ্যাঁ, আমি যা জানি তা আপনাকে বলব।

18আমার এত কিছু বলার আছে যে

আমার প্রায় বিস্তারিত হওয়ার উপক্রম।

19আমি একটি দ্রাক্ষারসের থলির মত যা এখনও খোলা হয় নি।

আমি একটি নতুন দ্রাক্ষারসের আধারের মতো যেটি প্রায় ফেটে গিয়ে খোলবার উপক্রম হয়েছে।

20আমাকে কথা বলতেই হবে এবং আমার ভেতরের বাষ্প বার করে দিতে হবে।

আমাকে অবশ্যই ইয়োবের যুক্তির উত্তর দিতে হবে।

21আমি কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখাব না।

আমি কারো স্তাবকতা করব না।

22আমি একজনের সঙ্গে অন্য একজন লোকের চেয়ে ভালো আচরণ করতে পারি না।

আমি যদি তা করি আমার সৃষ্টিকর্তা আমায় শাস্তি দেবেন।

33

1“ইয়োব, এখন আমার কথা শুনুন।

আমি যা বলি তা মন দিয়ে শুনুন।

2আমি বলবার জন্য প্রস্তুত।

3আমার অন্তর সৎ‌ তাই আমি সৎ‌ বাক্যই বলবো।

আমি যা জানি সে বিষয়ে আমি সত্যই বলবো।

4ঈশ্বরের আত্মা আমায় সৃষ্টি করেছে।

ঈশ্বর সর্বশক্তিমানের নিঃশ্বাস আমাকে জীবন দিয়েছে।

5ইয়োব, আমার কথা শুনুন এবং যদি পারেন আমার প্রশ্নর উত্তর দিন।

আপনার উত্তর তৈরী করে রাখুন যাতে আপনি তর্ক করতে পারেন।

6ঈশ্বরের সামনে আপনি এবং আমি উভয়েই সমান।

আমাদের দুজনকে ঈশ্বর মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।

7ইয়োব, আমাকে ভয় পাবেন না।

আমি আপনার প্রতি কঠোর হব না।

8“কিন্তু ইয়োব, আমি শুনেছি,

আপনি কি বলেছেন,

9আপনি বলেছেন: ‘আমি শুচিশুদ্ধ; আমি নিষ্পাপ।

আমি কোন ভুল করি নি; আমি অপরাধী নই!

10আমি কোন ভুল করি নি, কিন্তু ঈশ্বর আমার বিরুদ্ধে।

ঈশ্বর আমার সঙ্গে শত্রুর মত ব্যবহার করেছেন।

11ঈশ্বর আমার পায়ে শিকল পরিয়েছেন।

আমার সব পথগুলি ঈশ্বর লক্ষ্য করেন।’

12“কিন্তু ইয়োব, এ ক্ষেত্রে আপনি ভুল করেছেন।

আমি প্রমাণ করবো যে আপনি ভুল করেছেন।

কেন? কারণ, যে কোন লোকের চেয়ে ঈশ্বর মহান।

13আপনি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ আনেন?

কেন আপনি দাবী করেন, ঈশ্বর কোন লোকের অভিযোগের উত্তর দেন না?

আপনি ভেবেছেন ঈশ্বর সবকিছুই আপনার কাছে ব্যাখ্যা করে দেবেন?

14হতে পারে ঈশ্বর যা করেন তিনি তার ব্যাখ্যা দেন।

কিন্তু ঈশ্বর যে ভাবে কথা বলেন লোকে তা বোঝে না।

15রাত্রে যখন লোকরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন

ঈশ্বর হয়তো তখন স্বপ্নে কথা বলেন।

16তখন তারা ভীষণ ভয় পায়।

তখন তারা ঈশ্বরের সাবধান বাণী শোনে।

17ভুল কাজ করার থেকে বিরত হতে ঈশ্বর তাদের সতর্ক করে দেন

এবং তাদের অহঙ্কারী হওয়া থেকে বিরত রাখেন।

18মৃত্যুলোক থেকে উদ্ধার করবার জন্য ঈশ্বর মানুষকে সতর্ক করে দেন।

ধ্বংসোন্মুখ লোকদের পরিত্রাণ করার জন্য ঈশ্বর তা করেন।

19“ঈশ্বর হয়ত একজন ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দিয়ে শুধরে দেন,

তাদের হাড়েও ক্রমাগত ব্যথা হতে পারে।

20তখন সে লোকটি খেতে পারে না,

সেই লোকটির এত যন্ত্রণা থাকে যে সে সব চেয়ে ভালো খাবারকেও ঘৃণা করে।

21ঐ লোকটির গায়ের মাংস আর দেখা যায় না।

ঐ লোকটির হাড়গুলো বেরিয়ে পড়ে।

22ঐ লোকটি ‘গহবর’ এর কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

ওর জীবনও মৃত্যুর কাছাকাছি চলে আসে।

23ঈশ্বরের হাজার হাজার দেবদূত আছে; হয়তো তাদের একজন দূত ঐ লোকের ওপর নজর রাখছে।

সেই দূত হয়তো ঐ লোকটার জন্যই বলে এবং সে যা ভালো কাজ করেছে সে সম্পর্কেই বলে।

24হয়তো ঐ দূত ঐ লোকটির প্রতি সদয় হয়ে ঈশ্বরকে বলবে:

‘এই লোকটাকে গহবর থেকে উদ্ধার করে দিন!

আমি ওর জীবনের জন্য একটি মুক্তিপন পেয়েছি।’

25তখন ঐ লোকটির দেহ আবার তারুণ্যে ভরে উঠবে।

যুবকাবস্থায় তার দেহ যেমন ছিল, ঠিক সে রকম হয়ে যাবে।

26ঐ লোকটি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করবে এবং ঈশ্বর ওর প্রার্থনার উত্তর দেবেন।

ঐ লোকটি আনন্দে চিৎকার করবে এবং ঈশ্বরের পূজো করবে।

তার সৎজীবনের জন্য ঈশ্বর তাকে পুরস্কৃত করবেন ও আবার সুন্দর ভাবে জীবনযাপন করবে।

27ঐ ব্যক্তিটি লোকদের কাছে তার দোষ স্বীকার করবে।

সে বলবে, ‘আমি পাপ করেছিলাম।

আমি ভালোকে মন্দে পরিণত করেছিলাম।

কিন্তু আমার যে শাস্তি প্রাপ্য ছিল, সে কঠিন শাস্তি ঈশ্বর আমাকে দেন নি!

28আমার আত্মাকে ঈশ্বর পাতালের মধ্যে পতন থেকে রক্ষা করেছেন।

আমি এখন আবার জীবনকে উপভোগ করতে পারি।’

29“ঐ লোকটার জন্য ঈশ্বর বার বার এইসব করেছেন।

30কেন? ঐ লোকটিকে গহবর থেকে উদ্ধার করবার জন্য,

যাতে ঐ লোকটি আবার তার জীবনকে উপভোগ করতে পারে।

31“ইয়োব, আমার দিকে মনোযোগ দিন; আমার কথা শুনুন।

চুপ করুন এবং আমাকে কথা বলতে দিন।

32কিন্তু ইয়োব, আপনি যদি আমার সঙ্গে একমত না হন তাহলে আপনি কথা বলে যান।

আমাকে আপনার যুক্তিগুলি বলুন

কারণ আমি দেখাতে উদ্‌গ্রীব যে আপনি নির্দোষ।

33কিন্তু ইয়োব, যদি আপনার কিছু বলবার না থাকে, তাহলে আমার কথা শুনুন।

চুপ করে থাকুন, আমি আপনাকে প্রজ্ঞা বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে দেবো।”

34

1তখন ইলীহূ কথা বলে যেতে লাগলো। সে বলল:

2“হে প্রাজ্ঞ ব্যক্তি, আমি যা বলি তা শুনুন।

হে বুদ্ধিমান ব্যক্তিগন, আমার প্রতি মনোযোগ দিন।

3কারণ জিভ যেমন খাদ্যের স্বাদ গ্রহণ করে

তেমনি কান কথাকে পরীক্ষা করে।

4অতএব, আমাদেরই ঠিক করতে দিন কোনটা সঠিক।

আসুন, আমরা সবাই মিলে স্থির করি কোনটা সত্যিই ভালো।

5ইয়োব বললেন, ‘আমি নিষ্পাপ।

ঈশ্বর আমার প্রতি সুবিচার করেন নি।

6আমি নিষ্পাপ, কিন্তু আমার বিরুদ্ধে গৃহীত বিচার বলছে আমি একজন মিথ্যাবাদী।

আমি নিষ্পাপ, কিন্তু আমি খুব বিশ্রী ভাবে আহত হয়েছি।’

7“ইয়োবের মত আর কোন লোক আছে কি?

ঈশ্বরকে অভিযুক্ত করা তাঁর কাছে জলের মত সোজা।

8এমনকি শত্রুদের সঙ্গেও ইয়োব বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করেন।

ইয়োব মন্দ লোকদের সঙ্গে থাকতে ভালোবাসেন।

9কেন আমি একথা বলছি? কেন না ইয়োব বলেন,

‘যদি কেউ ঈশ্বরকে খুশী করতে চায় সে লোক কিছুই পাবে না।’

10“আপনারা বুঝতে পারেন; তাই আমার কথা শুনুন।

ঈশ্বর কখনই মন্দ কাজ করবেন না।

ঈশ্বর সর্বশক্তিমান কখনও ভুল করবেন না।

11যে যা করে তার জন্য ঈশ্বর তাকে পুরস্কৃত করেন।

ঈশ্বর মানুষকে তার প্রাপ্য মিটিয়ে দেন।

12এটা সম্পূর্ণরূপে সত্য: ঈশ্বর মন্দ কাজ করেন না।

যা সঠিক তাকে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর কখনো মুচড়ে বিকৃত করবেন না।

13কোন মানুষ ঈশ্বরকে পৃথিবীর দায়িত্ব দিয়ে নির্বাচন করেনি।

কেউই ঈশ্বরকে পৃথিবীর দায়িত্ব দেয় নি।

তিনিই সব কিছুর সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন।

14ঈশ্বর যদি মনস্থ করেন যে তিনি তাঁর আত্মাকে

এবং তাঁর নিঃশ্বাসকে পৃথিবী থেকে নিয়ে নেবেন,

15তাহলে পৃথিবীর প্রত্যেকটি প্রাণী মারা পড়বে

এবং মনুষ্য জাতি পরিণত হবে ধূলায়।

16“আপনারা যদি জ্ঞানবান হন

তাহলে আমি যা বলি তা শুনুন।

17ঈশ্বর কি করে ন্যায় ও নিয়মকে ঘৃণা করতে পারেন?

তাহলে আপনি কি করে ধার্মিক ও শক্তিশালী ঈশ্বরকে

ভুল বলে অভিযুক্ত করতে পারেন?

18ঈশ্বরই একমাত্র সত্তা যিনি রাজাকে বলেন, ‘তুমি অপদার্থ!’

ঈশ্বর নেতৃতৃর্গকে বলেন, ‘তোমরা মন্দ লোক!’

19ঈশ্বর অন্যান্য লোকদের চেয়ে নেতাদের বেশী ভালোবাসেন না।

ঈশ্বর দরিদ্র লোকদের চেয়ে ধনীদের বেশী ভালোবাসেন না। কেন?

কারণ ঈশ্বর প্রত্যেক মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।

20মধ্যরাত্রে লোকে হঠাৎ‌‌ মারা যেতে পারে।

অসুস্থ হয়ে লোকে মারা যেতে পারে।

বিনা কোন আয়াসে ঈশ্বর ক্ষমতাবান লোককে সরিয়ে দেন।

21“লোকরা কি করে ঈশ্বর তা লক্ষ্য করেন।

ঈশ্বর একজন লোকের প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পর্কে জানেন।

22ঈশ্বরের কাছ থেকে লুকিয়ে থাকবার জন্য

মন্দ লোকদের কাছে কোন অন্ধকার স্থান নেই।

23একজন লোককে পরীক্ষা করবার জন্য ঈশ্বরের কোন সময় স্থির করবার প্রয়োজন হয় না।

একটা লোককে বিচার করবার জন্য লোকটিকে ঈশ্বরের সামনে আনবার দরকার হয় না।

24কোন বিচার ছাড়াই ঈশ্বর শক্তিশালী লোকদের ধ্বংস করেন

এবং অন্যান্য লোকদের নেতা হিসেবে মনোনীত করেন।

25তাই ঈশ্বর জানেন মানুষ কি করে।

সেই জন্য মন্দ লোকদের ঈশ্বর এক রাতের মধ্যেই পরাজিত করে ধ্বংস করেন।

26মন্দ লোকরা যে খারাপ কাজ করেছে তার জন্য ঈশ্বর ওদের শাস্তি দেবেন।

ওই লোকগুলোকে ঈশ্বর এমন ভাবে শাস্তি দেবেন যাতে অন্য লোকে তা ঘটতে দেখতে পায়।

27কেন? কারণ মন্দ লোকরা ঈশ্বরকে মান্য করা বন্ধ করে দিয়েছে।

এবং ঈশ্বর যা চান, ওই মন্দ লোকরা তা করার ব্যাপারে কোন তোয়াক্কাই করে না।

28ঐ মন্দ লোকরা দরিদ্রদের আঘাত করে ঈশ্বরের কাছে সাহায্য চাইতে বাধ্য করে।

ঈশ্বর সেই সাহায্য চাইবার আর্তি শোনেন।

29কিন্তু ঈশ্বর যদি মনস্থ করেন ওদের সাহায্য করবেন না,

তাহলে কেউই ঈশ্বরকে দোষী বলতে পারে না।

ঈশ্বর যদি নিজেকে মানুষের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখেন

কোন লোকই তাঁকে খুঁজে পাবে না।

30একজন মন্দ ব্যক্তিকে লোকদের ওপর শাসন করবার থেকে ও লোকদের ধ্বংসের পথে এগিয়ে দেবার থেকে দূরে রাখবার জন্য

ঈশ্বর মানুষ এবং দেশের ওপর শাসন করেন।

31“ইয়োব, আপনার ঈশ্বরকে বলা উচিৎ‌, ‘আমি অপরাধী।

আমি আর কোন পাপ করবো না।

32আমি যা দেখতে পাই না তা আমাকে শেখান।

যদি আমি ভুল করে থাকি সে ভুল আমি আর করবো না।’

33ইয়োব, আপনি চান ঈশ্বর আপনাকে পুরস্কার দিন,

কিন্তু আপনি নিজেকে পরিবর্তিত করতে চান নি।

ইয়োব, এটা আপনার সিদ্ধান্ত, আমার নয়।

আপনি কি ভাবছেন তা আমায় বলুন।

34একজন জ্ঞানী লোক আমার কথা শুনবে।

একজন জ্ঞানী লোক বলবে,

35‘ইয়োব জানে না সে কি বিষয়ে কথা বলছে।

ইয়োব যা বলছে তা অর্থহীন!’

36আমি আশা করি ইয়োবকে সম্পূর্ণরূপে পরীক্ষা করা হবে। কেন?

কারণ ইয়োব আমাদের সেই ভাবেই উত্তর দিয়েছেন, যে ভাবে একজন মন্দ লোক উত্তর দেয়।

37ইয়োব তাঁর অন্যান্য পাপের সঙ্গে বিদ্রোহ যুক্ত করেছেন।

ইয়োব আমাদের অপমান করেন এবং ঈশ্বরের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ বাড়ান।”

35

1ইলীহূ কথা বলে চলল। সে বলল:

2“ইয়োব, আপনার পক্ষে একথা বলা ঠিক নয় যে,

‘ঈশ্বর অপেক্ষা আমিই অধিকতর সঠিক।’

3এবং ইয়োব, আপনি ঈশ্বরকে জিজ্ঞাসা করেছেন,

‘কেউ যদি ঈশ্বরকে খুশী করতে চায় তাহলে সে কি পাবে?

যদি আমি পাপ না করি তাহলেই বা আমার কি ভাল হবে?’

4“ইয়োব, আমি আপনাকে এবং আপনার সঙ্গে আপনার যে বন্ধুরা রয়েছে তাঁদের উত্তর দিতে চাই।

5ইয়োব, আকাশের দিকে দেখুন, সেই মেঘের দিকে দেখুন

যা আপনার থেকে অনেক অনেক উচে্চ।

6ইয়োব, যদি আপনি পাপ করেন, তা ঈশ্বরকে স্পর্শমাত্র করে না।

যদি আপনার অনেক পাপও থাকে তাতেও ঈশ্বরের কিছু এসে যায় না।

7এবং ইয়োব, যদি আপনি ভালো হন তাতেও ঈশ্বরের কিছু এসে যায় না।

ঈশ্বর আপনার কাছ থেকে কিছুই পান না।

8ইয়োব, যে ভাল বা মন্দ কাজ আপনি করেন তা আপনারই মত অন্য লোকদের প্রভাবিত করে মাত্র।

তা ঈশ্বরকে সাহায্যও করে না, আঘাতও করে না।

9“যদি মন্দ লোকরা আহত হয় তারা সাহায্যের জন্য চিৎকার করে।

তারা শক্তিশালী লোকের কাছে যায় এবং তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে।

10তারা বলবে না, ‘ঈশ্বর কোথায় যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন?

সেই ঈশ্বর কোথায় যিনি রাত্রে আমাকে সঙ্গীত দেন?

11ঈশ্বর আমাদের পশুপাখীদের চেয়ে বুদ্ধিমান করেছেন।

তাই, কোথায় তিনি?’

12“বা যদি ঐ মন্দ লোকরা সাহায্যের জন্য ঈশ্বরকে ডাকে, ঈশ্বর ওদের কোন উত্তর দেবেন না।

কেন? কারণ ঐ লোকগুলো অহঙ্কারী।

ওরা এখনও ভাবে ওরাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ লোক।

13একথা সত্য যে ঈশ্বর ওদের অর্থহীন চাওয়ায় কোন কান দেবেন না।

ঈশ্বর সর্বশক্তিমান ওদের দিকে মনোযোগই দেবেন না।

14তাই ইয়োব, আপনি যখন বলেছেন আপনি ঈশ্বরকে দেখেন না,

তখন তিনি আপনার কথা শুনবেন না।

আপনি বলেছেন যে আপনি নিজেকে নিষ্পাপ প্রমাণ করার জন্য,

ঈশ্বরের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন।

15“ইয়োব ভাবেন যে ঈশ্বর মন্দ লোকদের শাস্তি দেন না,

তিনি মনে করেন ঈশ্বর পাপের দিকে কোন দৃষ্টি দেন না।

16তাই ইয়োব অর্থহীন কথাবার্তা বলেন।

তিনি অনেক কথা বলেন কিন্তু কিছু জানেন না।”

36

1ইলীহূ বলে চলল। সে বলল:

2“আরো কিছুক্ষণ ধৈর্য্য ধরুন এবং আমি আপনাকে শিক্ষা দেব।

ঈশ্বরের স্বপক্ষে বলবার মত আরো অনেক জিনিষ রয়েছে।

3আমার জ্ঞান আমি সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবো।

ঈশ্বর আমায় সৃষ্টি করেছেন এবং আমি প্রমাণ করব ঈশ্বর ন্যায়পরায়ণ।

4ইয়োব, আমি সত্যি কথা বলছি।

আমি জানি আমি কি বলছি।

5“ঈশ্বর প্রচণ্ড শক্তিমান,

কিন্তু তিনি মানুষকে ঘৃণা করেন না।

ঈশ্বর প্রচণ্ড শক্তিমান

কিন্তু তিনি ভীষণ রকমের জ্ঞানীও বটে।

6ঈশ্বর মন্দ লোকদের বাঁচতে দেবেন না।

ঈশ্বর গরীব লোকদের সঙ্গে সর্বদাই ভালো ব্যবহার করেন।

7যারা সৎ‌পথে জীবনযাপন করে ঈশ্বর তাদের ওপর নজর রাখেন।

তিনি সৎ ‌লোকদেরই শাসক হতে দেন। সৎ ‌লোকদেরই ঈশ্বর চির দিনের জন্য সম্মান দেন।

8তাই যদি মানুষকে শাস্তি দেওয়া হয়ে থাকে

এবং যদি তাদের শিকল ও দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়ে থাকে, তাহলে তারা নিশ্চয় কিছু ভুল কাজ করেছে।

9তারা কি করেছিলো তা ঈশ্বর ওদের বলবেন।

ওরা কি পাপ করেছিলো তা ঈশ্বর ওদের বলবেন।

ঈশ্বর ওদের বলবেন যে ওরা ভীষণ অহঙ্কারী ছিলো।

10ঈশ্বর ওই লোকগুলিকে তাঁর সতর্কবাণী শুনতে বাধ্য করবেন।

তিনি ওদের পাপ বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দেবেন।

11যদি তারা ঈশ্বরের কথা শোনে এবং তাঁকে মান্য করে,

তাহলে তারা তাদের জীবনের বাকী দিনগুলো সুখে ও সমৃদ্ধিতে যাপন করবে।

12কিন্তু এই লোকগুলো যদি ঈশ্বরকে মানতে অস্বীকার করে তাহলে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে।

তাদের নির্বোধের মত মৃত্যু হবে।

13“যে লোকরা ঈশ্বরের তোয়াক্কা করে না তারা সর্বদাই তিক্ত স্বভাবের হয়।

এমনকি ঈশ্বর যখন ওদের শাস্তি দেন তখনও ওরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে চায় না।

14ঐ লোকগুলো পুরুষ দেহ-জীবীর মত

অল্প বয়সেই মারা যাবে।

15কিন্তু বিনীত লোকদের ঈশ্বর সংকট থেকে উদ্ধার করবেন।

মানুষ জেগে উঠবে এবং ঈশ্বরের কথা শুনবে বলে ঈশ্বর মানুষকে সমস্যা দেন।

16“ইয়োব, ঈশ্বর আপনাকে সাহায্য করতে চান।

ঈশ্বর আপনাকে সমস্যা থেকে মুক্ত করতে চান।

আপনার জীবনকে ঈশ্বর আরও সাবলীল করতে চান।

ঈশ্বর আপনার সামনে প্রচুর খাদ্য দিতে চান।

17কিন্তু ইয়োব, আপনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।

তাই একজন মন্দ লোকের মত আপনি শাস্তি পেয়েছিলেন।

18ইয়োব, সম্পদের দ্বারা আপনি নির্বোধ হয়ে যাবেন না।

অর্থ যেন আপনার মনের পরিবর্তন না করে।

19আপনার অর্থ এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারবে না।

এবং শক্তিশালী লোকরাও এখন কোন ভাবে সাহায্য করতে পারবে না!

20রাত্রির আগমনের প্রত্যাশা করবেন না।

লোকে অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে যেতে চায়।

তারা ভাবে তারা ঈশ্বরের কাছ থেকে লুকিয়ে থাকবে।

21ইয়োব, আপনি প্রচুর কষ্টভোগ করেছেন, কিন্তু মন্দকে পছন্দ করবেন না।

ভুল করবেন না, সতর্ক থাকবেন।

22“দেখুন, ঈশ্বরের শক্তি তাঁকে মহান করেছে।

ঈশ্বর প্রত্যেকেরই মহানতম শিক্ষক।

23কি করতে হবে তা কোন লোকই ঈশ্বরকে বলতে পারে না।

কোন লোকই ঈশ্বরকে বলতে পারে না, ‘আপনি ভুল করেছেন।’

24ঈশ্বর যা করেছেন তার জন্য তাঁকে প্রশংসা করার কথা মনে রাখবেন।

ঈশ্বরের প্রশংসা করে লোকে অনেক গান লিখেছে।

25ঈশ্বর কি করেছেন তা প্রত্যেকেই দেখতে পায়।

কিন্তু লোকরা ঈশ্বরের কাজ শুধু মাত্র দূর থেকে দেখে।

26হ্যাঁ, আমাদের কল্পনার চেয়েও ঈশ্বর মহান।

ঈশ্বর কতদিন ধরে বেঁচে আছেন, আমরা জানি না।

27“ঈশ্বর পৃথিবী থেকে জল নিয়ে

তাকে বৃষ্টিতে পরিণত করেন।

28তাই মেঘ জল দেয়

এবং বহু লোকের ওপর বৃষ্টি পড়ে।

29কেমন করে ঈশ্বর মেঘকে ছড়িয়ে দেন,

কেমন করে আকাশে বজ্র খেলে যায় তা কেউই জানে না, বুঝতে পারে না।

30দেখুন, ঈশ্বর তাঁর বিদ্যুৎকে আকাশে পাঠিয়েছেন

এবং সমুদ্রের গভীরতম অংশকে আবৃত করে দিয়েছেন।

31জাতিগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য

এবং তাদের প্রচুর খাবার দেওয়ার জন্য ঈশ্বর ওগুলিকে ব্যবহার করেন।

32ঈশ্বর তাঁর হাতে বিদ্যুৎকে ধরে থাকেন

এবং যেখানে তিনি চান, সেখানেই বিদ্যুৎকে আছড়ে ফেলেন।

33বজ্রপাত মানুষকে সতর্ক করে দেয় যে ঝড় আসছে।

তাই গবাদি পশুরাও জানতে পারে ঝড় আসছে।

37

1“ওই বজ্রপাত এবং বিদ্যুৎ আমাকে ভীত করে,

বুকের ভেতর আমার হৃত্‌পিণ্ড ধুকপুক করতে থাকে।

2প্রত্যেকে শুনুন! ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর বজ্রের মত শোনায়।

ঈশ্বরের মুখ থেকে যে বজ্রময় ধ্বনি নির্গত হয়, তা শুনুন।

3আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ঝলকে ওঠার জন্য ঈশ্বর বিদ্যুৎ প্রেরণ করেন।

সারা পৃথিবী জুড়ে তা চমক দিয়ে ওঠে।

4বিদ্যুৎ ঝলকের ঠিক পরেই ঈশ্বরের বজ্র নির্ঘোষ কণ্ঠস্বর শোনা যায়।

ঈশ্বরের মহত্ব ও মহিমাপূর্ণ স্বর বজ্রের গুরুগুরু শব্দে প্রকাশ পায়।

যখন বিদ্যুৎ ঝলকে ওঠে তখনই বজ্রের ভেতর ঈশ্বরের কণ্ঠ শোনা যায়।

5ঈশ্বরের বজ্রময় কণ্ঠ অসম্ভব সুন্দর।

তাঁর মহৎ‌‌ কার্যকলাপ আমরা বুঝতে পারি না।

6ঈশ্বর তুষারকে বলেন,

‘পৃথিবীতে পতিত হও।’

ঈশ্বর বৃষ্টিকে বলেন,

‘পৃথিবীতে ঝরে পড়।’

7ঈশ্বর তা করেন যাতে প্রত্যেকটি লোক যাদের তিনি সৃষ্টি করেছেন তারা জানতে পারে যে,

তিনি (ঈশ্বর) কি করতে পারেন। এটাই তার প্রমাণ।

8পশুরা তাদের গুহাতে ছুটে চলে যায় এবং সেখানে থাকে।

9দক্ষিণ থেকে ঝোড়ো বাতাস ছুটে আসে।

উত্তরদিক থেকে ঠাণ্ডা বাতাস আসে।

10ঈশ্বরের নিঃশ্বাস থেকে বরফ সৃষ্টি হয়

এবং জলের বিশাল আধার জমে যায়।

11ঈশ্বর মেঘকে জলে পূর্ণ করেন

এবং মেঘের ভেতর থেকে বিদ্যুৎ পাঠান।

12মেঘগুলো ঘুরে যায় এবং ঈশ্বরের আদেশ মত নড়াচড়া করে।

মেঘগুলোও ঈশ্বর যা আদেশ দেন সেই মত করে।

13ঈশ্বর মেঘকে নিয়ে আসেন বন্যা এনে মানুষকে শাস্তি দেওয়ার জন্য

অথবা, জল এনে তাঁর প্রেম প্রদর্শনের জন্য।

14“ইয়োব, এটা শুনুন।

ঈশ্বর যে সব বিস্ময়কর কাজ করেন সে বিষয়ে চিন্তা করুন।

15ইয়োব, আপনি কি জানেন কেমন করে ঈশ্বর মেঘকে নিয়ন্ত্রণ করেন?

আপনি কি জানেন কেমন করে ঈশ্বর তাঁর বিদ্যুৎ ঝলক সৃষ্টি করেন?

16আপনি কি জানেন কেমন করে মেঘ আকাশে ভেসে থাকে?

আপনি কি সেই “একজনের” বিস্ময়কর কাজগুলো জানেন যাঁর জ্ঞান নিখুঁত?

17কিন্তু ইয়োব, আপনি এসবের কিছু জানেন না।

আপনি যা জানেন তা হল এই, যে আপনি ঘামেন, আপনার জামাকাপড় আপনার গায়ে জড়িয়ে থাকে

এবং যখন দক্ষিণ থেকে উষ্ণ বাতাস আসে তখন সব কিছু স্থির ও শান্ত থাকে।

18ইয়োব, আপনি কি মেঘকে প্রসারিত করে ঈশ্বরকে সাহায্য করতে পারেন?

মেঘকে উজ্জ্বল পিতলের মত ঝকঝকে তৈরী করেন?

19“ইয়োব, বলুন আমরা ঈশ্বরকে কি বলবো?

আমাদের অজ্ঞতাবশতঃ সেটা চিন্তা করতে পারি না, কি বলতে হবে।

20আমি ঈশ্বরকে বলবো না যে আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম।

তা ধ্বংসকে আবাহন করার সামিল হবে।

21একজন লোক সূর্যের দিকে তাকাতে পারে না।

বাতাস মেঘকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার পর সূর্য আকাশে অত্যন্ত উজ্জ্বল ও কিরণময় হয়ে ওঠে।

22ঈশ্বরও সেই রকম! পবিত্র পর্বত+ 37:22 পবিত্র পর্বত “সেফন” অথবা “উত্তর দিক।” থেকে ঈশ্বরের স্বণার্ভ মহিমা বিকীর্ণ হয়।

ঈশ্বরের চারদিকে উজ্জ্বল আলো আছে।

23ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, অত্যন্ত মহান।

আমরা ঈশ্বরকে বুঝতে পারি না।

ঈশ্বর অত্যন্ত শক্তিমান, সেই সঙ্গে তিনি আমাদের প্রতি সদয় ও নিষ্ঠাবান।

ঈশ্বর আমাদের আঘাত করতে চান না।

24সেই জন্যই লোকে ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা করে।

কিন্তু যারা নিজেদের জ্ঞানী মনে করে ঈশ্বর সেই অহঙ্কারীদের প্রতি মনোযোগ দেন না।”

38

ঈশ্বর ইয়োবের সঙ্গে কথা বললেন

1তখন প্রভু ঝোড়ো বাতাসের মধ্যে থেকে কথা বলে উঠলেন। প্রভু বললেন:

2“কে এই অজ্ঞ লোক

যে বোকার মত কথা বলছে?

3ইয়োব, নিজেকে প্রস্তুত করে নাও, সৈনিকের মত অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নাও।

এবং আমি যে প্রশ্ন করবো তার উত্তর দেবার জন্য তৈরী হও।

4“ইয়োব, আমি যখন পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলাম তখন তুমি কোথায় ছিলে?

যদি তুমি প্রকৃতই জ্ঞানী হও তাহলে আমাকে উত্তর দাও।

5যদি তুমি এতই জ্ঞানী হও তো বল এই পৃথিবীটা কত বড় হবে তা কে স্থির করেছিল?

পরিমাপক রেখা দিয়ে কে পৃথিবীটার পরিমাপ করেছে?

6পৃথিবীর ভিত্তি স্তম্ভগুলি কিসের ওপর বসে রয়েছে?

তার জায়গায় কে প্রথম নির্মান-প্রস্তর রেখেছে?

7যখন তা সৃষ্টি করা হয়েছিল তখন প্রভাতের তারাসমূহ এক সঙ্গে গান গেয়েছিল।

দেবদূতরা আনন্দে হর্ষধ্বনি করেছিল।

8“ইয়োব, পৃথিবীর গভীর থেকে যখন সমুদ্র প্রবাহিত হতে শুরু করেছিল

তখন কে তা বন্ধ করার জন্য দ্বার রুদ্ধ করেছিল?

9সেই সময়, নবজাতককে পোশাক পরাবার মত আমি একটি পোশাকের মত মেঘগুলোকে চারদিকে জড়িয়ে দিয়েছিলাম

এবং তাকে, একটি শিশুকে যেমন শক্ত করে কাপড় দিয়ে জড়িয়ে দেওয়া হয় সেই ভাবে অন্ধকার দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলাম।

10আমি সমুদ্রের সীমা নির্ধারণ করেছিলাম,

এবং তাকে বাঁধের অন্যদিকে রেখেছিলাম।

11আমি সমুদ্রকে বলেছিলাম, ‘তুমি এই পর্যন্ত আসতে পার, এর বেশী নয়।

এই খানেই তোমার উদ্ধত ঢেউ যেন থেমে যায়।’

12“ইয়োব, তোমার জীবনে তুমি কি কখনও সকাল বা দিনকে

শুরু হবার আদেশ দিয়েছ?

13ইয়োব, তুমি কি সকালের আলোকে কখনও বলেছো:

পৃথিবীকে ধারণ কর এবং মন্দ লোকদের তাদের গোপন ড়েবা থেকে তাড়িত কর?

14প্রভাতের আলো, পাহাড় এবং উপত্যকা

সহজেই দেখতে সহায়তা করে।

যখন দিনের আলো পৃথিবীতে এসে পড়ে,

তখন জামার ভাঁজের মত সেই স্থানের রূপ সহজেই বোঝা যায়।

সেই স্থান, শীলমোহর দিয়ে ছাপ মারা নরম কাদার মতই

(সমতল) আকৃতি ধারণ করে।

15মন্দ লোকরা দিনের আলো পছন্দ করে না।

দিনের আলো যখন উজ্জ্বল হয়ে ওঠে তখন তা তাদের মন্দ কাজ করা থেকে বিরত করে।

16“ইয়োব, যেখানে সমুদ্র শুরু হয়, সেই গভীরতম সমুদ্রে তুমি কি কখনও গিয়েছো?

তুমি কি কখনও সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে হেঁটেছো?

17ইয়োব, তুমি কি কখনও মৃত্যুলোকের দ্বার

এবং গভীর অন্ধকার দেখেছ?

18ইয়োব, এই পৃথিবীটা যে কত বড় তা কি তুমি সত্যি সত্যিই বোঝ?

যদি তুমি এসব বুঝে থাকো, আমায় বল।

19“ইয়োব, কোথা থেকে আলো আসে?

কোথা থেকে অন্ধকার আসে?

20ইয়োব, যেখান থেকে আলো ও অন্ধকার আসে, তুমি কি তাদের সেখানে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারবে?

তুমি কি জানো সেই জায়গায় কি করে যেতে হয়?

21এইগুলো তুমি নিশ্চয় জানো, ইয়োব, কারণ তুমি বয়ঃবৃদ্ধ এবং জ্ঞানী।

যখন আমি এসব সৃষ্টি করেছিলাম তখন তুমি জীবিত ছিলে, তাই না?+ 38:19-21 ঈশ্বর এর অর্থ এভাবে বোঝান না। এই রকম কথাবার্তাকে বলে ব্যাঙ্গোক্তি। প্রত্যেকে যেভাবে জানে এটি সত্য নয় একে সেভাবে কিছু বলা হয়।

22“ইয়োব, যে ভাণ্ডারে আমি তুষার এবং শিলাবৃষ্টি সঞ্চয় করে রাখি

তুমি কি কখনও সেখানে গিয়েছিলে?

23সঙ্কট কালের জন্য এবং যুদ্ধবিগ্রহের জন্য

আমি শিলাবৃষ্টি ও তুষার সঞ্চয় করে রাখি।

24তুমি কি কখনও সেই জায়গায় গিয়েছো যেখান থেকে সূর্য উদিত হয়,

যেখান থেকে সারা পৃথিবীতে পূবের বাতাস প্রবাহিত হয়?

25প্রচণ্ড বৃষ্টির জন্য কে আকাশে খাদ খনন করেছে?

কে ঝড় এবং বিদ্যুতের জন্য পথ প্রস্তুত করেছে?

26যেখানে কোন লোকই বসবাস করে না সেখানেও কে বৃষ্টি নিয়ে যায়?

27সেই বৃষ্টি, শূন্য ভূমিতে প্রচুর জল দেয়

এবং ঘাস গজিয়ে ওঠে।

28এই বৃষ্টির কি কোন জনক আছে?

শিশির বিন্দুর পিতা কে?

29বরফের কি কোন জননী আছে?

তুষারকে কে জন্ম দেয়?

30জল পাথরের মত শক্ত হয়ে জমে যায়।

এমনকি সমুদ্রও জমে যায়!

31“ইয়োব, তুমি কি কৃত্তিকা নক্ষত্রমালাকে এক সঙ্গে বাঁধতে পারো?

তুমি কি কালপুরুষের বন্ধনকে মুক্ত করতে পারো?

32তুমি কি ঠিক সময়ে নক্ষত্রমণ্ডলীকে বার করতে পারো?

তুমি কি বিরাট ভালুকটিকে তার শাবকসহ পরিচালিত করতে পারো?

33যে বিধির দ্বারা আকাশ শাসিত হয়, তা কি তুমি জানো?

তুমি কি পৃথিবীর ওপর ক্রমানুসারে তাদের সাজাতে পারো?

34“ইয়োব, তুমি কি বৃষ্টির দিকে চেয়ে,

তাদের নির্দেশ দিতে পারো, তোমাকে বৃষ্টিতে ঢেকে দিতে?

35তুমি কি বিদ্যুৎকে আদেশ করতে পারো?

তারা কি তোমার কাছে এসে বলবে, ‘আপনি কোথায়?

আপনি কি চান প্রভু?’ তুমি যেখানে চাও, তারা কি সেখানে যাবে?

36“ইয়োব, কে মানুষকে জ্ঞানী করে?

কে তাদের অন্তরে প্রজ্ঞা দান করে?

37এমন জ্ঞানী কে আছে যে মেঘ গণনা করতে পারে?

কে তাদের বৃষ্টি ঝরানোর নির্দেশ দেয়?

38ধূলো পরিণত হয় কাদায়

এবং এক সঙ্গে দলা পাকিয়ে থাকে।

39“ইয়োব, তুমি কি সিংহের জন্য খাদ্য খুঁজে দাও?

তুমি কি ওদের ক্ষুধার্ত শিশুদের খেতে দাও?

40এই সিংহরা তাদের গুহায় লুকিয়ে থাকে।

শিকার ধরবার জন্য তারা লম্বা ঘাসের মধ্যে লুকিয়ে ঘাপটি মেরে বসে থাকে।

41যখন দাঁড় কাকের ছানারা ঈশ্বরের কাছে সাহায্যের জন্য চিৎকার করে এবং নিরন্ন হয়ে ঘুরতে থাকে,

তখন কে দাঁড় কাকদের খেতে দেয়?

39

1“ইয়োব, তুমি কি জানো কখন পাহাড়ী ছাগলের জন্ম হয়?

কখন হরিণ তার শাবককে জন্ম দেয় তা কি তুমি দেখতে পাও?

2পাহাড়ী ছাগল ও হরিণ কতদিন ধরে তাদের বাচ্চাকে ধারণ করে তা কি তুমি জানো?

কোনটাই বা তাদের জন্মানোর ঠিক সময় তা কি তুমি জানো?

3ঐ পশুগুলো শুয়ে পড়ে, প্রসব যন্ত্রণা অনুভব করে

এবং ওদের শাবকরা জন্ম নেয়।

4ঐ শাবকরা মাঠেই বড় হয়।

ওরা ওদের মাকে ছেড়ে চলে যায়, আর ফিরে আসে না।

5“ইয়োব, বুনো গাধাদের কে মুক্তভাবে বিচরণ করতে দিয়েছে?

কে ওদের বাঁধন খুলে ওদের মুক্ত করে দিয়েছে?

6তাদের ঘর হিসেবে আমি তাদের মরুভূমি দিয়েছি,

বসবাসের জন্য আমি ওদের নোনা জমি দিয়েছি।

7শহরের কোলাহলে ওরা বিদ্রূপ করে হাসে।

কেউই ওদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

8বুনো গাধারা পাহাড়ে বাস করে।

ওটাই ওদের চারণভূমি।

ঐখানেই ওরা ওদের খাদ্য খোঁজে।

9“ইয়োব, একটি বুনো বলদ কি তোমার কাজ করবে?

সে কি রাত্রি বেলা তোমার শস্যাগারে থাকবে?

10তুমি জমি চাষ করবে বলে একটি বুনো বলদ কি

তোমাকে তার গলায় দড়ি পরাতে দেবে?

11একটি বন্য বলদ খুবই শক্তিশালী!

কিন্তু সে তোমার কাজ করে দেবে এমন বিশ্বাস কি করতে পারো?

12তুমি কি তার ওপর এমন নির্ভর করতে পারো যে

সে শস্য মাড়বার খামারে তোমার জন্য শস্য এনে জড়ো করবে?

13“একটি উটপাখী উত্তেজিত হয়ে ডানা ঝাপটায় কিন্তু উটপাখী উড়তে পারে না।

এর ডানা ও পালক বকের ডানা ও পালকের মত নয়।

14উটপাখী তার ডিম মাটিতে পরিত্যাগ করে যায়

এবং সেটা বালিতে উষ্ণ হয়ে ওঠে।

15উটপাখী ভুলে যায় যে কেউ তার ডিম মাড়িয়ে দিতে পারে,

অথবা কোন পশু তার ডিম ভেঙে দিতে পারে।

16উটপাখী তার ছোটছোট বাচ্চাগুলিকে ছেড়ে চলে যায়।

উটপাখী এমন আচরণ করে যেন বাচ্চাগুলি তার নয়।

সে এটা ভাবে না যে বাচ্চাগুলি যদি মারা যায়, তার সমস্ত পরিশ্রমই অর্থহীন হয়ে যাবে।

17কেন? কারণ আমি (ঈশ্বর) উটপাখীকে কোন প্রজ্ঞা দান করি নি।

উটপাখী নির্বোধ, আমি তাকে ওভাবেই সৃষ্টি করেছি।

18কিন্তু উটপাখী যখন দৌড়ানোর জন্য ওঠে তখন সে ঘোড়া ও সওয়ারীকেও লজ্জা দেয়

কারণ যে কোন ঘোড়ার থেকে সে দ্রুত ছুটতে পারে।

19“ইয়োব, তুমি কি ঘোড়াকে তার শক্তি দিয়েছো?

তুমি কি ঘোড়ার ঘাড়ের কেশর সৃষ্টি করেছো?

20তুমি কি ঘোড়াকে পঙ্গপালের মত দীর্ঘ লাফ দেওয়ার যোগ্য করে তুলেছো?

ঘোড়া জোরে হ্রেষাধ্বনি করে এবং লোকদের সতর্ক করে দেয়।

21ঘোড়া খুবই খুশী কারণ সে শক্তিশালী।

সে তার খুর দিয়ে মাটি আঁচড়ায় এবং দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে ছুটে যায়।

22ঘোড়া ভয়কে উপহাস করে; সে ভীত হতে জানে না!

সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যায় না।

23ঘোড়ার ওপর সৈনিকের তূণ (যাতে তীর রাখা হয়),

তরবারি, বল্লম এবং বর্শা ঝোলে।

24ঘোড়া খুব উত্তেজিত হয় এবং সে অত্যন্ত দ্রুত ছোটে।

ঘোড়া যখন শিঙার বাজনা শোনে তখন সে আর স্থির হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

25যখন শিঙার শব্দ হয় তখন ঘোড়া বলে ‘তাড়াতাড়ি কর!’

বহু দূর থেকে সে লড়াই এর গন্ধ পায়।

সে সেনাপতিদের চিৎকার এবং শিঙার রণ ভেরী শুনতে পায়।

26“ইয়োব, তুমি কি বাজপাখীকে ডানা মেলে দক্ষিণে উড়ে যেতে শিখিয়েছ?

27তুমি কি সেই জন যে ঈগলপাখীকে উঁচু আকাশে উড়তে বলেছো?

তুমিই কি ঈগলপাখীকে উঁচু পাহাড়ে বাসা বাঁধতে বলেছো?

28ঈগলপাখী উঁচু পাহাড়ে বাস করে।

উঁচু দূরারোহ পাহাড়ের ধার হল ঈগলপাখীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

29পাহাড়ের সেই উঁচু স্থান থেকে সে খাদ্যের সন্ধান করে।

বহুদূর থেকে সে তার খাদ্য দেখতে পায়।

30যেখানে মৃতদেহ জমা করা হয় তারা সেখানে জড় হয়।

তাদের ছানারা রক্ত পান করে।”

40

1প্রভু ইয়োবকে উত্তর দিলেন এবং বললেন:

2“ইয়োব, তুমি ঈশ্বর, সর্বশক্তিমানের সঙ্গে তর্ক করেছো।

তুমি কি আমাকে সংশোধন করবে?

যে ব্যক্তি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে তর্ক করে সে তাঁর কাছে উত্তর দেবে!”

3তখন ইয়োব প্রভুকে উত্তর দিয়ে বললেন:

4“আমি কথা বলার যোগ্য নই;

আমি আপনাকে কি বা বলতে পারি?

আমার মুখ হাত দিয়ে চাপা দিলাম।

5আমার যা বলা উচিৎ‌ ছিল আমি ইতিমধ্যেই তার চেয়ে অনেক বেশী বলে ফেলেছি।

আমি আর কিছু বলব না।”

6তখন ঝড়ের ভেতর থেকে প্রভু আবার কথা বললেন। তিনি বললেন:

7“ইয়োব, নিজেকে প্রস্তুত কর এবং আমি যে প্রশ্ন করবো তার উত্তর দেওয়ার জন্য তৈরী হও।

8“ইয়োব, তুমি কি এখনও আমার সিদ্ধান্ত নাকচ করবার চেষ্টা করবে?

তুমি নিজের সততা প্রতিপালন করবার জন্য আমাকে মন্দ কাজের দরুণ দোষী বলে ঘোষণা করেছ।

9তোমার বাহু কি ঈশ্বরের বাহুর মতো শক্তিশালী?

তোমার কি ঈশ্বরের মত বজ্রগম্ভীর কণ্ঠস্বর আছে?

10যদি তুমি ঈশ্বরের মত হও তুমি গর্ব করতে পারো।

যদি তুমি ঈশ্বরের মত হও তবে মহিমা এবং সম্মান তোমাকে বস্ত্রের মত জড়িয়ে থাকবে।

11যদি তুমি ঈশ্বরের মত হও তুমি ক্রোধ প্রদর্শন করে অহঙ্কারী লোকেদের শাস্তি দিতে পারো।

ওই অহঙ্কারীদের নম্র করে তুলতে পারো।

12হ্যাঁ, ইয়োব, ওই অহঙ্কারী লোকদের দেখ এবং ওদের নম্র করে তোলো।

মন্দ লোকরা যেখানে দাঁড়ায়়, ওদের গুঁড়িয়ে দাও।

13সব অহঙ্কারী লোকদের কবর দাও।

ওদের দেহ আবৃত করে ওদের কবরে পাঠিয়ে দাও।

14ইয়োব, যদি তুমি এইসব করতে পারো, তাহলে আমিও তোমার প্রশংসা করবো।

এই আমি স্বীকার করবো যে তোমার নিজের শক্তিতেই তুমি নিজেকে রক্ষা করতে পারবে।

15“ইয়োব, বহেমোতের+ 40:15 বহেমোৎ এটি কি জন্তু সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। হয়তো এটি জলহস্তী অথবা হাতি। অথবা সম্ভবতঃ কুমীর। দিকে দেখ।

আমি বহেমোৎ এবং তোমাকে সৃষ্টি করেছি।

বহেমোৎ গরুর মত ঘাস খায়।

16বহেমোতের গায়ে প্রচুর শক্তি আছে।

ওর পাকস্থলীর পেশীগুলি প্রচণ্ড শক্তিশালী।

17বহেমোতের লেজ এরস গাছের মতই শক্ত।

ওর পায়ের পেশীগুলিও খুব শক্ত।

18ওর হাড়গুলো কাঁসার মতই শক্ত।

ওর হাত পাগুলো লোহার দণ্ডের মত।

19বিস্ময় সৃষ্টিকারী প্রাণীদের মধ্যে আমি বহেমোতকে সৃষ্টি করেছি।

কিন্তু আমি তাকে পরাজিতও করতে পারি।

20পাহাড়ে যেখানে বন্য পশুরা খেলা করে,

সেখানে যে ঘাস জন্মায়, বহেমোৎ তা খায়।

21সে পদ্ম বনের নীচে ঘুমিয়ে থাকে।

জলাভূমির নলখাগড়ার ভিতর সে নিজেকে লুকিয়ে রাখে।

22ঘন পাতা যুক্ত গাছ তার ছায়াতে বহেমোতকে লুকিয়ে ফেলে।

নদীর ধারে উইলো গাছের নীচে সে থাকে।

23নদীতে বন্যা এলেও বহেমোৎ পালিয়ে যায় না।

যদি যর্দ্দন নদীর জলোচ্ছাস ওর মুখে ভেঙ্গে পড়ে, তবু বহেমোৎ তাতে ভয় পায় না।

24ওর চোখকে কেউ অন্ধ করতে পারে না

বা ফাঁদ পেতে ওকে ধরতেও পারে না।

41

1“ইয়োব, তুমি কি দানবাকৃতি সামুদ্রিক প্রাণী লিবিয়াথনকে মাছ ধরার বঁড়শি দিয়ে ধরতে পারো?

একটা দড়ি দিয়ে ওর জিভকে কি বাঁধতে পারো?

2তুমি কি ওর নাকে দড়ি দিতে পারো

অথবা ওর চোয়ালে বঁড়শি বিঁধিয়ে দিতে পারো?

3লিবিয়াথন কি তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য তোমার কাছে আকুতি জানাবে?

সে কি ভদ্র ভাষায় তোমার সঙ্গে কথা বলবে?

4চিরদিন তোমার সেবা করার জন্য

লিবিয়াথন কি তোমার সঙ্গে কোন চুক্তি করবে?

5যেমন করে তুমি একটি পাখির সঙ্গে খেলা কর, তেমন করে কি তুমি লিবিয়াথনের সঙ্গে খেলা করবে?

তুমি কি তাকে দড়িতে বাঁধতে পারবে যাতে তোমার ছোট মেয়েরা ওর সঙ্গে খেলা করতে পারে?

6ব্যবসাদাররা কি তোমার কাছ থেকে লিবিয়াথনকে কেনার চেষ্টা করবে?

ওরা কি তাকে টুকরো টুকরো করে কেটে সওদাগরের কাছে বিক্রি করতে পারবে?

7তুমি কি লিবিয়াথনের চামড়ায বা মাথায় মাছ ধরবার বর্শা বা হারপূন বেঁধাতে পারো?

8“ইয়োব, যদি তুমি একবার লিবিয়াথনের গায়ে হাত দাও তুমি আর কখনো সে কাজ করবে না!

সেই ভয়ঙ্কর যুদ্ধের কথাটা একবার ভাবো তো!

9তুমি কি মনে কর তুমি লিবিয়াথনকে পরাজিত করতে পারবে?

সে কথা ভুলে যাও! তার কোন আশাই নেই।

ওর দিকে তাকালেই তুমি ভয়ে শিউরে উঠবে!

10তাকে জাগিয়ে দিয়ে

রাগিয়ে দেবার সাহস কারো নেই।

“তাই, কে আমার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস করবে?

11আমাকে কারো কাছ থেকে কিছুই কিনতে হয়নি।

ওগুলো সব আমারই অধিকারভুক্ত।

12“ইয়োব, আমি তোমাকে লিবিয়াথনের পা,

তার শক্তি এবং তার চেহারার কথা বলবো।

13কেউই তার চামড়ার দাম দিতে পারে না।

ওর চামড়া বর্মের মত শক্ত।

14কোন লোকই জোর করে লিবিয়াথনের মুখ খোলাতে পারে না।

ওর মুখের দাঁত দেখলে লোকে ভয় পায়।

15ওর পিঠের পেশী সারিবদ্ধ ভাবে

দৃঢ়সংবদ্ধ হয়ে আছে।

16বর্মগুলি এত কাছাকাছি বসানো

যে ওগুলোর মধ্যে বাতাসও বইতে পারে না।

17বর্মগুলি একে অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত।

বর্মগুলি এতই ঘন, সংবদ্ধ যে ওদের টেনে আলাদা করা যায় না।

18লিবিয়াথন যখন হাঁচি দেয় তখন আলো ঝলক দিয়ে ওঠে।

ওর চোখ প্রত্যুষের আলোর মত জ্বলতে থাকে।

19ওর মুখ থেকে লেলিহান অগ্নি বেরিয়ে আসে।

আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছিটকে আসে।

20ফুটন্ত কেটলির তলা দিয়ে যেমন জ্বলন্ত ঘাসের ধোঁয়া বার হয়,

লিবিয়াথনের নাক দিয়েও তেমনি ধোঁয়া বার হয়।

21লিবিয়াথনের নিঃশ্বাসে কয়লা জ্বলে যায়,

ওর মুখ থেকে আগুনের শিখা বার হয়।

22লিবিয়াথনের গলা ভীষণ শক্তিশালী,

লোকে তাকে ভয় পায় ও ছুটে পালিয়ে যায়।

23ওর চামড়ায় কোন কোমল স্থান নেই।

তা যেন লোহার মত শক্ত।

24লিবিয়াথনের হৃদয় পাথরের মত।

তা যেন যাঁতা কলের পাথরের মত শক্ত।

25যখন লিবিয়াথন জেগে ওঠে, দেবতারাও তখন ভয় পান।

লিবিয়াথন যখন তার লেজ ঝাপটা দেয়, তখন তাঁরা সন্ত্রস্ত হন।

26তরবারি, বল্লম বা বর্শা যা দিয়েই লিবিয়াথনকে আঘাত করা হোক্ না কেন তা প্রতিহত হয়ে ফিরে আসে।

ওই সব অস্ত্র তাকে একদম আঘাত করতে পারে না।

27লোহাকে লিবিয়াথন খড়কুটোর মত গুঁড়িয়ে দিতে পারে।

পচা কাঠের মত সে কাঁসাকে ভেঙে দেয়।

28তীরের ভয়ে লিবিয়াথন পালিয়ে যায় না।

ওর গা থেকে পাথর খড়কুটোর মতো ছিটকে চলে আসে।

29যদি মুগুর দিয়ে লিবিয়াথনকে আঘাত করা হয়, তা যেন খড়ের টুকরোর মতো তার গায়ে লাগে।

লোকে যখন তার দিকে বল্লম ছোঁড়ে তখন সে হাসে।

30লিবিয়াথনের পেটের চামড়া ধারালো খোলামকুচির মতো।

সে কাদার ওপর দাগ করে দিয়ে যায়, যেমন তক্তা দিয়ে ফসল মাড়াই করলে দাগ পড়ে—তেমন দাগ।

31ফুটন্ত জলের মতো লিবিয়াথন জলকে নাড়া দেয়।

সে জলের ওপর ফুটন্ত তেলের বুদবুদের মতো বুদবুদ সৃষ্টি করে।

32যখন লিবিয়াথন সাঁতার দেয় তখন সে তার পেছনে একটি চকচকে পথরেখা রেখে যায়।

সে জলকে ঝাঁকিয়ে দিয়ে যায় এবং জলকে ফেনায়িত করে।

33পৃথিবীর কোন প্রাণীই লিবিয়াথনের মতো নয়।

সে ভয়শূন্য প্রাণী।

34যে প্রাণী সব থেকে বেশী গর্ব করে, লিবিয়াথন তাকেও নীচু নজরে দেখে।

সে সমস্ত বুনো পশুদের রাজা এবং আমি (ঈশ্বর) লিবিয়াথন সৃষ্টি করেছি।”

42

প্রভুর প্রতি ইয়োবের উত্তর

1তখন ইয়োব প্রভুকে উত্তর দিলেন। ইয়োব বললেন,

2“প্রভু, আমি জানি আপনি সব কিছু করতে পারেন।

আপনি পরিকল্পনা করেন, কোন কিছুই আপনার পরিকল্পনাকে পরিবর্তিত করতে বা রোধ করতে পারে না।

3প্রভু, আপনি এই প্রশ্ন করেছেন: ‘কে সেই অজ্ঞ লোক যে এমন বোকা বোকা কথা বলছে?’

প্রভু, আমি যা বুঝি নি আমি তা বলেছি।

আমি সেই সব বিষয়ের কথা বলেছি যেগুলো বুঝতে গেলে আমি বিস্ময়-বিহবল হয়ে যাই।

4“প্রভু, আপনি আমায় বলেছেন, ‘শোন ইয়োব, এখন আমি বলবো।

আমি তোমাকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবো এবং তুমি আমাকে তার উত্তর দেবে।’

5প্রভু, অতীতে আমি আপনার সম্বন্ধে শুনেছিলাম,

কিন্তু এখন আমার নিজের চোখে আমি আপনাকে দেখলাম।

6তাই, আমার জন্য আমি লজ্জিত।

আমি ছাই ও ধূলার মধ্যে দুঃখের সঙ্গে

আমার অপরাধ স্বীকার করছি।”

প্রভু ইয়োবকে তার সম্পদ ফিরিয়ে দিলেন

7ইয়োবের সঙ্গে কথা শেষ করার পর, প্রভু তৈমন থেকে আসা ইলীফসের সঙ্গে কথা বললেন। প্রভু ইলীফসকে বললেন, “আমি তোমার প্রতি ও তোমার দুই বন্ধুর প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছি। কেন? কারণ তোমরা আমার সম্পর্কে সঠিক কথা বলো নি। কিন্তু ইয়োব আমার সেবক এবং ইয়োব আমার সম্পর্কে সঠিক কথা বলেছে। 8তাই ইলীফস, এখন তুমি সাতটা বলদ ও সাতটা ভেড়া নাও। আমার সেবক ইয়োবের কাছে তা নিয়ে যাও। ওদের হত্যা কর এবং তোমাদের জন্য হোমবলি হিসেবে উৎসর্গ কর। আমার সেবক ইয়োব তোমাদের জন্য প্রার্থনা করবে এবং আমি তার প্রার্থনার উত্তর দেবো। তাহলে তোমাদের যা শাস্তি প্রাপ্য তা আমি দেব না। তোমাদের শাস্তি পাওয়া উচিৎ‌ কারণ তোমরা ভীষণ নির্বোধ। তোমরা আমার সম্পর্কে সঠিক কথা বলনি। কিন্তু আমার সেবক ইয়োব আমার সম্পর্কে সঠিক কথা বলেছে।”

9তখন তৈমনীয় ইলীফস, শূহীয় বিল‌্দদ এবং নামাথীয় সোফর প্রভুর আদেশ পালন করলেন এবং তারপর ইয়োব তাঁদের জন্য যে প্রার্থনা করেছিলেন, প্রভু তার উত্তর দিলেন।

10ইয়োব তাঁর বন্ধুদের জন্য প্রার্থনা করলেন। প্রভু ইয়োবকে আবার সাফল্য দিলেন। ইয়োবের যা ছিলো, ঈশ্বর তাকে তার দ্বিগুণ দিলেন। 11তখন ইয়োবের সব ভাইবোন এবং অন্য সবাই যারা ইয়োবকে জানতো, তারা তাঁর বাড়ীতে এলো। তারা ইয়োবকে সান্ত্বনা দিলো, প্রভু যে ইয়োবকে এত কষ্ট দিয়েছেন তার জন্য তারা দুঃখিত হল। প্রত্যেকে ইয়োবকে এক টুকরো করে রূপো+ 42:11 এক … রূপো আক্ষরিক অর্থে, “এক কসীতা।” পট্রিয়কের সময়ে এই পরিমাপ ব্যবহার করা হোত। ও একটি করে সোনার আংটি দিল।

12শুরুতে ইয়োবের যা ছিলো, তার থেকে অনেক বেশী সম্পদ দিয়ে প্রভু ইয়োবকে আশীর্বাদ করলেন। ইয়োব 14,000 মেষ, 6000 উট, 2000 গাভী এবং 1000 স্ত্রী গাধা পেলেন। 13ইয়োব সাত পুত্র এবং তিন কন্যাও পেলেন। 14ইয়োব প্রথম কন্যার নাম রাখলেন যিমীমা। দ্বিতীয় কন্যার নাম রাখলেন কৎসীয়া এবং তৃতীয় কন্যার নাম রাখলেন কেরণহপপূক। 15ইয়োবের কন্যারা সারা দেশের মধ্যে সব চেয়ে সুন্দরী নারী ছিল। ইয়োব তাঁর সম্পত্তির একটি অংশ তাঁর কন্যাদের দিলেন—ওরা ওদের ভাইদের মতোই সম্পত্তির অংশ পেল।

16ইয়োব আরও 140 বছর বেশী বেঁচেছিলেন। তিনি তাঁর সন্তানদের চারটি প্রজন্ম দেখবার জন্য বেঁচে ছিলেন। 17ইয়োব খুব বৃদ্ধ বয়সে মারা গেলেন।