বিচারকর্ত্তৃগণের বিবরণ
1যিহূদা কনানীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করল
1যিহোশূয় মারা গেলেন। ইস্রায়েলবাসীরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে জিজ্ঞাসা করল, “আমাদের পরিবার গোষ্ঠীদের মধ্যে সবচেয়ে আগে কে কনানীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করতে যাবে?”
2প্রভু তাদের বললেন, “সবচেয়ে আগে যাবে যিহূদা গোষ্ঠী। আমি তাদেরই এই দেশ জয় করতে দেবো।”
3যিহূদার পুরুষরা তাদের শিমিয়োন পরিবারগোষ্ঠীর ভাইদের কাছ থেকে সাহায্য চাইল। যিহূদার লোকরা বলল, “ভাইসব, প্রভু আমাদের প্রত্যেককে কিছু জমিজায়গা দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদি তোমরা যুদ্ধের জন্য আমাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসো তাহলে আমরাও কনানীয়দের বিরুদ্ধে তোমাদের জমির লড়াইয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে আসব।” শিমিয়োনের লোকরা যিহূদার ভাইদের যুদ্ধে সাহায্য করতে রাজী হল।
4প্রভুর সাহায্যে যিহূদার লোকরা কনানীয় ও পরিষীয়দের পরাজিত করল। তারা বেষক শহরের 10,000 লোককে হত্যা করেছিল। 5বেষক শহরে যিহূদার লোকরা সেখানকার রাজাকে পেয়ে তার সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল। যিহূদার লোকরা কনানীয় এবং পরিষীয়দের পরাজিত করেছিল।
6বেষকের শাসক পালাবার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু যিহূদার লোকরা তার পিছু নিয়ে তাকে ধরে ফেলেছিল। তারা রাজার হাত ও পায়ের বুড়ো আঙ্গুল কেটে ফেলেছিল। 7তখন বেষকের শাসক বলল, “আমি নিজে 70 জন রাজার হাত ও পায়ের বুড়ো আঙ্গুল কেটে দিয়েছিলাম। আমার টেবিল থেকে যেসব খাবারের টুকরো পড়ে যেত তাই তাদের খেতে হত। আজ ঈশ্বর আমার সেই অধর্মের প্রতিফল দিলেন।” যিহূদার লোকরা বেষকের শাসককে জেরুশালেমে নিয়ে গেল। সেখানেই তার মৃত্যু হল।
8যিহূদার লোকরা জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তা অধিকার করল। জেরুশালেমের লোকদের তারা তরবারি দিয়ে হত্যা করেছিল এবং হত্যার পর জেরুশালেম জ্বালিয়ে দিয়েছিল। 9তারপর তারা আরও কিছু কনানীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করতে নেমে গিয়েছিল। এরা নেগেভের পাহাড়ি অঞ্চলে আর পশ্চিম পাহাড়তলিতে বাস করত।
10হিব্রোণে যে সব কনানীয়রা বাস করত তাদের সঙ্গেও যিহূদা যুদ্ধ করেছিল। (হিব্রোণকে বলা হত কিরিয়ৎ অর্ব।) তারা শেশয়, অহীমান ও তলময় নামে তিন জনকে পরাজিত করেছিল।
কালেব এবং তাঁর কন্যা
11যিহূদার লোকরা সেখান থেকে চলে গেল। তারা দবীর শহরের লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেল, যে শহরকে আগে বলা হত কিরিয়ৎ-সেফর। 12যুদ্ধের আগে কালেব যিহূদার লোকদের কাছে প্রতিশ্রুতি করে বলেছিল, “আমি কিরিয়ৎ সেফর আক্রমণ করতে চাই। যে এই শহরটি জিততে পারবে তার সঙ্গে আমি আমার কন্যা অক্ষারের বিবাহ দেব।”
13কালেবের ছোট ভাইয়ের নাম ছিল কনস। কনসের পুত্র অৎনিয়েল কিরিয়ৎ সেফর দখল করল। সুতরাং কালেব অৎনিয়েলের সঙ্গে অক্ষার বিবাহ দিল।
14অকষা অৎনিয়েলের ঘর করতে চলে গেল। অৎনিয়েল অক্ষাকে তার পিতার কাছ থেকে কিছু জমিজায়গা চাইবার জন্য বলেছিল। অক্ষা পিতার কাছে গেল। গাধার পিঠ থেকে যেই সে নেমেছে, অমনি কালেব জিজ্ঞাসা করল, “কি হয়েছে?”
15অক্ষা বলল, “আমায় একটি উপহার দাও। তুমি আমাকে নেগেভের শুকনো মরুভূমিটা দিয়েছিলে। এবার আমাকে এমন কিছু জায়গা দাও যেখানে জল পাওয়া যায়।” কন্যার কথামত কালেব তাকে সেই দেশ দিল যার ওপরে ও নীচে জলের ঝর্ণা আছে।
16কেনীয় সম্প্রদায়ের লোকরা খেজুর গাছের শহর যেরিকো ছেড়ে যিহূদার লোকদের সঙ্গে যিহূদা মরু অঞ্চলের দিকে চলে গেল। তারা অরাদ শহরের কাছে নেগেভের স্থায়ী বাসিন্দা হল। (কনানীয়রা মোশির শ্বশুরকুল থেকে এসেছিল।)
17কিছু কনানীয়রা সফাৎ শহরে বাস করত। তাই সেখানেও যিহূদা আর শিমিয়োন পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা কনানীয়দের আক্রমণ করল। তারা শহরটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে ফেলল এবং তার নাম রাখল হর্মা।
18যিহূদার লোকরা ঘসা এবং ঘসার চারদিকের ছোটখাটো শহরগুলোও দখল করল। তারা অস্কিলোন, ইক্রোণ আর কাছাকাছি সব শহর দখল করল।
19প্রভু যিহূদার যোদ্ধাদের সহায় ছিলেন। পাহাড়ি দেশের জমিগুলো তারা নিয়ে নিল। কিন্তু উপত্যকা অঞ্চলের জমি তারা নিতে পারল না, কারণ সেখানকার অধিবাসীদের লোহার রথ ছিল।
20মোশি কালেবকে হিব্রোণের কাছাকাছি জমি দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই মত তার পরিবারকে সেই জমি দেওয়া হয়েছিল। কালেবের লোকরা অনাকের তিন পুত্রকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল।
21বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠী যিবূষীয়দের জেরুশালেম ছেড়ে যেতে জোর করে নি। তাই আজও জেরুশালেমে যিবূষীয়রা বিন্যামীনের লোকদের সঙ্গে বসবাস করছে।
যোষেফের লোকরা বৈথেল দখল করল
22যোষেফের পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা বৈথেল শহর আক্রমণ করতে গেল। প্রভু যোষেফের পরিবারগোষ্ঠীর লোকদের সহায় ছিলেন। 23তারা যোষেফের পরিবারের কয়েকজন গুপ্তচরকে বৈথেল (আগে বৈথেলের নাম ছিল লূস।) শহরটা কিভাবে দখল করা যেতে পারে তা দেখবার জন্য পাঠালো। 24গুপ্তচররা যখন বৈথেল শহরটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিল তখন তারা সেখান থেকে একটি লোককে বেরিয়ে আসতে দেখল। তারা লোকটিকে বলল, “শহরে ঢোকার গুপ্ত পথটা আমাদের দেখাও। আমরা শহর আক্রমণ করব, কিন্তু তুমি আমাদের সাহায্য করলে তোমাকে আমরা কিছু করব না।”
25লোকটি শহরে প্রবেশের গুপ্তপথ দেখিয়ে দিল। যোষেফের লোকরা তরবারি দিয়ে বৈথেলবাসীদের হত্যা করল। কিন্তু সাহায্যকারী ঐ লোকটিকে তারা কিছু করল না। লোকটির পরিবারকেও কিছু করল না। তাদের ছেড়ে দিল যাতে তারা যেখানে খুশি সেখানে যেতে পারে। 26লোকটি তখন হিত্তীয়দের দেশে চলে গেল এবং সেখানে একটি শহর তৈরী করল। শহরের নাম দিল লূস। আজও সেই শহরটি আছে।
অন্যান্য পরিবারগোষ্ঠীর সঙ্গে কনানীয়দের যুদ্ধ
27কনানীয়রা বৈৎশান, তানক, দোর, যিব্লিয়ম, মগিদ্দো এবং এদের চারপাশের ছোটছোট শহরগুলোতে বাস করত। মনঃশির পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা কনানীয়দের এসব জায়গা থেকে সরিয়ে দিতে পারেনি বলেই তারা সেখানে থাকতে পেরেছিল। তারা সেখান থেকে চলে যেতে চায়নি। 28পরবর্তীকালে ইস্রায়েলীয়রা শক্তিশালী হয়ে উঠলে তারা কনানীয়দের ক্রীতদাস করে রাখে। তারা সমস্ত কনানীয়দের দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য করতে পারল না।
29ইফ্রয়িম পরিবারগোষ্ঠীকে নিয়েও একই ব্যাপার ঘটেছিল। গেষরে থাকত কনানীয়রা। ইফ্রয়িম গোষ্ঠীর লোকরা কনানীয়দের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়নি। তাই তারা গেষরে ইফ্রয়িমদের সঙ্গে বসবাস করতে থাকল।
30সবূলূন সম্পর্কেও সেই একই কথা। কিটরোণ আর নহলোল শহরে কিছু কনানীয় বাস করত। সবূলূন তাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়নি। তারা সবূলূনের সঙ্গেই থাকত। তবে তারা এদের ক্রীতদাস হয়েই থাকত।
31আশের পরিবারগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। তারা অন্যান্য জাতির লোকদের অক্কো, সীদোন, অহলব, অকষীব, হেল্বা, অফীক এবং রহোব শহর থেকে তাড়িয়ে দেয় নি। 32আশেরের লোকরা সেই জায়গায় কনানীয়দের তাড়িয়ে দেয় নি। সুতরাং তারা কনানীয়দের মধ্যে বাস করত।
33নপ্তালি পরিবারগোষ্ঠীও বৈৎ-শেমশ এবং বৈৎ-অনাতের থেকে লোকদের সরিয়ে দেয় নি। তাই নপ্তালির লোকরা এসব শহরে লোকদের সঙ্গে বসবাস করতে লাগল। কনানীয়রা নপ্তালির লোকদের ক্রীতদাস হিসেবে থেকে গেল।
34ইমোরীয় লোকরা দান পরিবারগোষ্ঠীর লোকদের পাহাড়ী দেশে বাস করতে বাধ্য করল। দান পরিবারগোষ্ঠীর এইসব লোকরা পাহাড়ী জায়গায় বসবাস করতে বাধ্য হল, কারণ ইমোরীয়রা তাদের উপত্যকায় নেমে এসে বাস করতে দিল না। 35ইমোরীয়রা ঠিক করল যে তারা হেরস পর্বতশৃঙ্গে, অয়ালোনে এবং শাল্বীমে থাকবে। পরবর্তীকালে যোষেফের পরিবারগোষ্ঠী শক্তিশালী হয়ে উঠল। তখন তারা ইমোরীয়দের ক্রীতদাস করে রাখল। 36ইমোরীয়দের দেশ অক্রব্বাম গিরিপথ থেকে সেলা পর্যন্ত এবং ওপরে সেলাকে ছাড়িয়ে পাহাড়ি দেশ আছে।
2বোখীমে প্রভুর দূত
1প্রভুর দূত গিল্গল শহর থেকে বোখীম শহরে গিয়েছিলেন। ইস্রায়েলবাসীদের কাছে দূত প্রভুর একটি বার্তা শুনিয়েছিলেন। বার্তাটি ছিল এরকম: “আমি তোমাদের মিশর থেকে নিয়ে এসেছি। আমি তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে যে জমিজায়গার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সেইখানে আমি তোমাদের নিয়ে এসেছি। আমি বলেছিলাম, আমি কখনই তোমাদের সঙ্গে চুক্তিভঙ্গ করব না। 2কিন্তু তাই বলে তোমরা অবশ্যই সে দেশের লোকদের সঙ্গে কখনও কোন চুক্তি করবে না। তাদের তৈরী সমস্ত বেদী তোমাদের ভেঙে ফেলতে হবে। একথা আমি তোমাদের আগেই বলেছি। কিন্তু তোমরা আমার কথা শোন নি। তোমরা করেছ কি?
3“এখন আমি তোমাদের বলছি, ‘আমি এই জায়গা থেকে অন্যান্য লোকদের আর তাড়িয়ে দেব না। এরা তোমাদের কাছে সমস্যার সৃষ্টি করবে। এরা তোমাদের কাছে একটা ফাঁদের মতো হবে। তাদের ঐসব ভ্রান্ত দেবতারাই তোমাদের কাছে ফাঁদ হয়ে দাঁড়াবে।’”
4ইস্রায়েলবাসীদের কাছে প্রভুর দূত এই বার্তা ঘোষণা করার পর তারা সকলে উচ্চস্বরে কাঁদল। 5যে জায়গায় তারা কাঁদছিল সেই জায়গার নাম দিল বোখীম। বোখীমে তারা প্রভুর উদ্দেশ্যে অনেক কিছু বলি উৎসর্গ করল।
আদেশ অমান্য ও পরাজয়
6যিহোশূয় তাদের যে যার নিজের জায়গায় চলে যেতে বলেছিলেন। সেই মত প্রত্যেক পরিবার নিজের নিজের জমির সীমার মধ্যে বসবাস করতে গেল। 7যিহোশূয় যতদিন বেঁচেছিলেন ততদিন ইস্রায়েলবাসীরা প্রভুর সেবা করেছিল। যিহোশূয়ের মৃত্যুর পর যে প্রবীণরা বেঁচেছিলেন তাঁদের জীবনকালে তারা সমানে প্রভুর সেবা করেছিল। ইস্রায়েলের লোকদের জন্য প্রভু যা কিছু মহৎ কাজ করেছিলেন, এইসব প্রবীণরা তা দেখেছিলেন। 8নূনের পুত্র প্রভুর সেবক যিহোশূয় 110 বছর বয়সে মারা গেলেন। 9ইস্রায়েলবাসীরা যিহোশূয়কে তাঁর নিজের জমি গাশ পর্বতের উত্তরে ইফ্রয়িমের পাহাড়ী অঞ্চলে তিন্নৎ-হেরসে কবর দিল।
10ঐ সম্পূর্ণ প্রজন্মটি মারা যাবার পর পরবর্তী প্রজন্ম বেড়ে উঠল। তারা প্রভুকে জানত না। প্রভু ইস্রায়েলবাসীদের জন্য কি করেছেন তারা সেসব জানত না। 11তাই তারা মন্দ কাজ করতে শুরু করল এবং বালের মূর্ত্তির পূজা করতে লাগল। তারা সেই সব কাজ করেছিল যেগুলো প্রভুর দ্বারা মন্দ হিসেবে বিবেচিত ছিল। 12প্রভু ইস্রায়েলবাসীদের মিশর দেশ থেকে বার করে এনেছিলেন। এদের পূর্বপুরুষরা প্রভুর সেবা করত। কিন্তু এখন তারা প্রভুকে ত্যাগ করল। তাদের চারিধারে বসবাসকারী লোকরা মূর্ত্তির পূজা করতে শুরু করল। এই কারণে প্রভু ক্রুদ্ধ হলেন। 13ইস্রায়েলের লোকরা প্রভুকে ত্যাগ করে বাল ও অষ্টারোতকে পূজা করতে লাগল।
14প্রভু ইস্রায়েলবাসীদের উপর ক্রুদ্ধ ছিলেন তাই তিনি ইস্রায়েলবাসীদের শত্রুদের দ্বারা আক্রান্ত হতে দিলেন। শত্রুরা ইস্রায়েলবাসীদের আক্রমণ করল এবং তাদের অধিকারের সব কিছু নিয়ে নিল। প্রভু তাদের ইস্রায়েলবাসীদের পরাস্ত করতে দিলেন যারা নিজেদের রক্ষা করতে অসমর্থ ছিল। 15যখনই ইস্রায়েলীয়রা যুদ্ধ করত তারা হেরে যেত। কারণ প্রভু তাদের দিকে ছিলেন না। তিনি তো তাদের নিষেধ করে বলেছিলেন যে তাদের ঘিরে যে সব মানুষ রয়েছে তাদের দেবতাদের পূজা করলে তারা হেরে যাবে। এর ফলে ইস্রায়েলীয়দের চরম দুর্দশা হল।
16তখন প্রভু কয়েকজন নেতা ঠিক করলেন। এদের বলা হত বিচারক। শত্রুরা যারা ইস্রায়েলবাসীদের আক্রমণ এবং লুট করতো তাদের হাত থেকে এরা তাদের রক্ষা করতো। 17কিন্তু তারা এই বিচারকদের কথা কানে নিত না। তারা প্রভুর প্রতি বিশ্বস্ত ছিল না এবং অন্যান্য দেবতাদের পূজা করতো। যদিও তাদের পূর্বপুরুষরা প্রভুর আজ্ঞা এবং নির্দেশ পালন করত, কিন্তু এখন তারা অচিরেই বিমুখ হয়ে গেল। তারা প্রভুকে মানতে চাইল না।
18বারবার ইস্রায়েলের শত্রুরা তাদের ক্ষতি সাধন করত। আর তাই ইস্রায়েলীয়রা সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করত। প্রত্যেকবারই প্রভু তাদের দুর্দশায় কষ্ট পেয়ে তাদের বাঁচানোর জন্যে একজন করে বিচারক পাঠিয়েছিলেন। তিনি সবসময়েই এইসব বিচারকের সহায় ছিলেন। প্রত্যেকবার এদের সাহায্যেই ইস্রায়েলীয়রা রক্ষা পেত। 19কিন্তু বিচারক মারা গেলেই তারা আবার তাদের পুরানো পথে ফিরে গিয়ে পাপ করত এবং মূর্ত্তি পূজায় মেতে উঠত। তারা ভীষণ একরোখা ছিল এবং তারা পাপের পথ ত্যাগ করতে অস্বীকার করল। তারা তাদের পূর্বপুরুষদের থেকেও খারাপ আচরণ করত।
20তাই প্রভু ইস্রায়েলীয়দের ওপর ক্রুদ্ধ হলেন। তিনি বললেন, “এই দেশের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে আমি যে চুক্তি করেছিলাম এরা তা ভেঙেছে। তারা আমার কথা শোনে নি। 21তাই আমি আর অন্যান্য জাতিকে হারিয়ে ইস্রায়েলীয়দের পথ পরিষ্কার করব না। এইসব বিদেশী জাতি যিহোশূয়র মৃত্যুর সময়েও এই দেশে বসবাস করত। আমি তাদের এদেশেই থাকতে দেব। 22ইস্রায়েলীয়দের পরীক্ষা করার জন্য আমি ঐ জাতিদের কাজে লাগাব। আমি দেখব ইস্রায়েলের লোকরা তাদের পূর্বপুরুষদের মতো প্রভুর আজ্ঞা মানে কি না।” 23সেই কথামত প্রভু ইস্রায়েলে অন্যান্য জাতির লোকদের থাকতে দিলেন। তিনি তাদের এদেশ থেকে সঙ্গে সঙ্গে চলে যেতে বাধ্য করলেন না। তিনি যিহোশূয়র সৈন্যবাহিনীকে শত্রু দমন করতে সাহায্য করলেন না।
31 প্রভু ইস্রায়েল থেকে অন্যান্য জাতির সমস্ত লোকদের সরিয়ে দিলেন না। তিনি ইস্রায়েলীয়দের পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন। এই সময়, কোন ইস্রায়েলবাসী কনান দেশ দখল করতে কোন যুদ্ধ করে নি। প্রভু এদেশে অন্যান্য বিদেশীদের থাকতে অনুমতি দিয়েছিলেন। (যারা কনান দখলের যুদ্ধগুলিতে ভাগ নেয়নি সেই ইস্রায়েলবাসীদের, তিনি কেমন করে যুদ্ধ করতে হয় সে শিক্ষা দেবার জন্যই এরকম ব্যবস্থা করেছিলেন।) এদেশে তিনি যেসব জাতিকে থাকতে দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে ছিল: 3পলেষ্টীয় সম্প্রদায়ের পাঁচ জন শাসক, সমস্ত কনান জাতি, সীদোনীয় লোকরা এবং হিব্বীয় লোকরা থাকত বাল্-হর্ম্মোণ পর্বত থেকে লেবো-হমাত পর্যন্ত ছড়ানো লিবানোনের পর্বতগুলিতে। 4ইস্রায়েলবাসীদের পরীক্ষা করার জন্য প্রভু তাদের থাকতে দিয়েছিলেন। তারা তাঁর আদেশ পালন করে কি না তিনি তা দেখতে চেয়েছিলেন। মোশির মাধ্যমে প্রভু সেইসব আজ্ঞা তাদের পূর্বপুরুষদের দিয়েছিলেন।
5ইস্রায়েলের লোকরা কনানীয়, হিত্তীয়, পরিষীয়, হিব্বীয়, যিবূষীয় এবং ইমোরীয়দের সঙ্গে পাশাপাশি বাস করত। 6তারা এইসব সম্প্রদায়ের মেয়েদের বিয়ে করত। তাদের মেয়েরা তাদের ছেলেদের বিয়ে করতে শুরু করল। ইস্রায়েলীয়রা ঐ সমস্ত লোকদের দেবতাদের পূজা করতে শুরু করল।
প্রথম বিচারক, অৎনীয়েল
7প্রভুর দৃষ্টিতে ইস্রায়েলের লোকরা মন্দ কাজ করেছিল। তারা প্রভু, তাদের ঈশ্বরকে ভুলে গিয়ে বাল এবং আশেরার মূর্ত্তির পূজা করেছিল। 8প্রভু তাদের ওপর ক্রুদ্ধ হলেন। তিনি অরাম নহরয়িমের রাজা কূশন-রিশিয়াথয়িমকে ইস্রায়েলীয়দের হারিয়ে তাদের শাসন করবার জন্য পাঠিয়ে ছিলেন। ইস্রায়েলীয়রা আট বছর সেই রাজার অধীনে ছিল। 9কিন্তু ইস্রায়েলীয়রা প্রভুর কাছে সাহায্যের জন্য কাঁদল। তখন প্রভু কালেবের কনিষ্ট ভ্রাতা কনসের পুত্র অৎনীয়েলকে তাদের রক্ষার জন্য পাঠালেন। অৎনীয়েল ইস্রায়েলীয়দের রক্ষা করলেন। 10প্রভুর আত্মা অৎনীয়েলের ওপর এল। তিনি ইস্রায়েলীয়দের বিচারক হলেন। যুদ্ধে তাদের নেতৃত্ব দিলেন। প্রভুর সাহায্যে অৎনীয়েল অরামের রাজা কুশন-রিশিয়াথয়িমকে পরাজিত করলেন। 11এরপর 40 বছর ধরে দেশে শান্তি বজায় ছিল। এই অবস্থা ছিল কনসের পুত্র অৎনীয়েলের মৃত্যু পর্যন্ত।
বিচারক এহূদ
12আবার ইস্রায়েলের লোকরা সেসব কাজ করল যা প্রভুর বিবেচনায় মন্দ। সেইজন্য তিনি মোয়াবের রাজা ইগ্লোনকে ইস্রায়েলীয়দের পরাজিত করবার জন্য শক্তি দিলেন। 13ইগ্লোন অম্মোন এবং অমালেক সম্প্রদায়ের লোকদের কাছ থেকে সাহায্য পেল। তাদের নিয়ে ইগ্লোন ইস্রায়েলীয়দের আক্রমণ করল। ইগ্লোন তাদের হারিয়ে খেজুর গাছের শহর বা জেরিকো থেকে তাড়িয়ে দিল। 14মোয়াবের রাজা ইগ্লোন 18 বছর ধরে ইস্রায়েলীয়দের শাসন করেছিল।
15ইস্রায়েলীয়রা প্রভুর কাছে কেঁদে পড়ল। তিনি তখন তাদের বাঁচানোর জন্য এহূদ নামে একজন লোককে পাঠালেন। এহূদ ছিল বাঁহাতি। তার পিতার নাম ছিল গেরা, বিন্যামীন বংশীয় লোক। ইস্রায়েলবাসীরা মোয়াবের রাজা ইগ্লোনকে উপহার দেবার জন্য এহূদকে পাঠালেন। 16এহূদ নিজের জন্য একটি তরবারি তৈরী করল। তরবারিটির দুদিকেই ধার ছিল আর সেটা ছিল প্রায় 18 ইঞ্চি লম্বা। এহূদ তরবারিটি ডানদিকের উরুতে বেঁধে তার পোশাকের নীচে লুকিয়ে রাখল।
17তারপর সে মোয়াবের রাজা ইগ্লোনের কাছে এসে উপহার দিল। ইগ্লোন ছিল মোটাসোটা লোক। 18উপহার দেবার পর এহূদ সঙ্গের লোকদের বাড়ী পাঠিয়ে দিল। এরা উপহার বয়ে নিয়ে তার সঙ্গে এসেছিল। 19তারা রাজার প্রাসাদ ছেড়ে চলে গেল। এহূদ গিল্গল শহরে শিলা মূর্ত্তিগুলোর কাছ থেকে ফিরে এসে ইগ্লোনকে বলল, “রাজা তোমার জন্য একটা গোপন খবর আছে।”
রাজা বলল “চুপ।” তারপর সে ঘর থেকে ভৃত্যদের সরিয়ে দিল। 20এহূদ রাজা ইগ্লোনের কাছে এসেছিল। ইগ্লোন তখন গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদের উঁচুতলার একটা ঘরে একেবারে একা।
তারপর এহূদ রাজাকে বলল, “তোমার জন্য ঈশ্বরের একটা বার্তা আছে।” শুনেই রাজা সিংহাসন থেকে উঠে এহূদের কাছ ঘেঁষে দাঁড়াল। 21আর ঠিক এই সময় এহূদ বাঁ হাত দিয়ে ডান উরু থেকে তরবারি বার করে রাজার পেটে বিঁধিয়ে দিল। 22রাজার পেটের ভেতর তরবারির বাঁট শুদ্ধ ঢুকে গেল। রাজার চর্বিতে সেটা পুরোপুরি ঢুকে গেল। এহূদ রাজার পেটেই তরবারিটা রেখে দিল। তরবারি বিদ্ধ হয়ে রাজা ইগ্লোন মলত্যাগের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল এবং মল নির্গত হলো।
23এহূদ ঘর থেকে বেরিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। 24এহূদ চলে যাবার পর ভৃত্যরা ফিরে এলো। তারা দেখল ঘরের দরজা বন্ধ। তাই তারা নিজেরা বলাবলি করল, “রাজা নিশ্চয়ই ঘরের মধ্যে মলমূত্র ত্যাগ করছেন।” 25তারা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করল। কিন্তু রাজা উপরের ঘরের দরজা খুললেন না। এবং শেষ পর্যন্ত তারা ভয় পেয়ে গেল। চাবি নিয়ে তারা দরজা খুলে দেখল রাজা মেঝের উপর মরে পড়ে রয়েছেন।
26ভৃত্যরা যখন রাজার জন্য অপেক্ষা করছিল, তখন এহূদ পালিয়ে যাবার যথেষ্ট সময় পেয়েছিল। সে মূর্ত্তিগুলোর পাশ দিয়ে যেতে যেতে সিয়ীরার দিকে পালিয়ে গেল। 27সে সিয়ীরায় পৌঁছে ইফ্রয়িমের পাহাড়ী অঞ্চলে গিয়ে শিঙা বাজাল। ইস্রায়েলবাসীরা শিঙার শব্দ শুনে পাহাড় থেকে নেমে এল। এহূদ তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিল। 28এহূদ বলল, “আমাকে অনুসরণ কর। প্রভু আমাদের শত্রু মোয়াবের লোকদের পরাজিত করতে শক্তি দিয়েছেন।”
তাই ইস্রায়েলবাসীরা এহূদকে অনুসরণ করল। তারা সেইসব জায়গা দখল করল যেখান থেকে সহজেই যর্দন নদী পেরনো যায়। সেই সব জায়গা মোয়াবের দিকে গিয়েছে। তারা কাউকে যর্দন নদী পেরোতে দিল না। 29তারা মোয়াবের 10,000 সাহসী ও শক্তিশালী লোককে হত্যা করল। তাদের কেউ পালাতে পারে নি। 30সেদিন থেকে ইস্রায়েলীয়রা মোয়াবের লোকদের শাসন করতে লাগল। সে দেশে 80 বছর শান্তি ছিল।
বিচারক শম্গর
31এহূদের পর আরও একজন লোক ইস্রায়েলবাসীদের বাঁচিয়েছিল। তার নাম অনাতের পুত্র শম্গর। শম্গর একটা গরু তাড়ানোর লাঠি দিয়ে 600 জল পলেষ্টীয়কে হত্যা করেছিল।
4মহিলা বিচারক দবোরা
1এহূদের মৃত্যুর পর, লোকরা আবার যে সব কাজ প্রভুর বিবেচনায় মন্দ তাই করলো। 2তাই প্রভু কনানের রাজা যাবীনের কাছে ইস্রায়েলীয়দের পরাজিত হতে দিলেন। যাবীন হরোশৎ শহরে রাজত্ব করত। তার সৈন্যবাহিনীর প্রধান ছিল সীষরা। সীষরা হরোশৎ হাগোয়িম শহরে বাস করত। 3সীষরার 900 লোহার রথ ছিল। সীষরা 20 বছর ইস্রায়েলবাসীদের ওপর অত্যন্ত নিষ্ঠুর ছিল এবং সে তাদের উৎপীড়ন করেছিল। এর ফলে তারা সাহায্যের জন্য প্রভুর কাছে প্রার্থনা করল।
4দবোরা নামের একজন ভাববাদিনী ছিলেন। তাঁর স্বামীর নাম ছিল লপ্পীদোত। সেই দবোরা ইস্রায়েলের বিচার করতেন। 5একদিন দবোরা খেজুর গাছের নীচে বসে ছিলেন। এই খেজুর গাছের নাম দবোরার খেজুর গাছ। ইস্রায়েলের লোকরা তাঁর কাছে এল। সীষরাকে নিয়ে কি করা যায় সে বিষয়ে তারা তাঁর পরামর্শ চাইল। দবোবার খেজুর গাছটি ছিল ইফ্রয়িমের পাহাড়ি অঞ্চলে রামা আর বৈথেল শহরের মাঝখানে। 6দবোরা বারক নামের একজন লোককে খবর পাঠালেন। তিনি তাকে দেখা করতে বললেন। বারক, অবীনোয়মের পুত্র থাকত নপ্তালির কেদশ শহরে। বারক দেখা করতে এলে দবোরা তাকে বললেন, “ইস্রায়েলের প্রভু ঈশ্বর তোমাকে আজ্ঞা দিচ্ছেন; ‘নপ্তালি এবং সবূলুন পরিবারগোষ্ঠীর 10,000 লোক জোগাড় কর এবং তাদের তাবোর পর্বতে নিয়ে যাও। 7রাজা যাবীনের সেনাপতি সীষরা যাতে তোমার কাছে আসে আমি তার ব্যবস্থা করব। আমি তাকে তার রথ আর সৈন্যদল নিয়ে কীশোন নদীর ধারে পাঠিয়ে দেব। তারপর তোমাদের কাছে সে হেরে যাবে। এ ব্যাপারে আমি হব তোমাদের সহায়।’”
8বারক দবোরাকে বলল, “আপনি আমার সঙ্গে গেলে যাব, যা বলবেন করব। কিন্তু আপনি না গেলে আমিও যাবো না।”
9দবোরা বললেন, “আমি নিশ্চয়ই যাব। কিন্তু তোমার মনোভাবের জন্য সীষরাকে পরাজিত করবার সম্মান তোমার হবে না। প্রভু একজন মহিলাকেই সীষরাকে পরাজিত করবার জন্য পাঠাবেন।”
দবোরা বারকের সঙ্গে কেদশ শহরে গেলেন। 10কেদশে বারক সবূলূন এবং নপ্তালি পরিবারগোষ্ঠীকে ডেকে 10,000 লোককে জড়ো করে তাঁর পেছন পেছন যেতে বললেন। দবোরাও বারকের সঙ্গে গেলেন।
11এখন, হেবর নামে কেনীয় সম্প্রদায়ের একটি লোক ছিল। সে অন্য কেনীয়দের ত্যাগ করেছিল। কেনীয়রা ছিল মোশির শ্বশুর হোবরের উত্তরপুরুষ। হেবর ওক গাছের পাশে সানন্নীম নামে একটি জায়গায় বাস করত। সানন্নীম কেদশ শহরের খুব কাছেই অবস্থিত।
12সীষরাকে একজন খবর দিল, অবীনোয়মের পুত্র বারক তাবোর পর্বতে রয়েছে। 13খবর শুনে সীষরা 900 লোহার রথ আর সমস্ত লোকদের নিয়ে হরোশত্ হাগোয়িম শহর থেকে কীশোন নদীর দিকে রওনা হল।
14দবোরা তখন বারককে বললেন, “আজ সীষরাকে পরাজিত করবার জন্য প্রভু তোমার সহায় হবেন। প্রভু যে ইতিমধ্যেই তোমার জন্য রাস্তা ফাঁকা করে দিয়েছেন তা তুমি নিশ্চয়ই জানো।” তাই বারক 10,000 লোক নিয়ে তাবোর পর্বত থেকে নেমে এল। 15লোকজন নিয়ে বারক এবার সীষরাকে আক্রমণ করল। যুদ্ধের সময় প্রভু সীষরা আর তার রথ, লোকজন সবকিছুর মধ্যে একটা তালগোল পাকিয়ে দিলেন। লোকজন সব কি যে করবে বুঝতে পারছিল না। এই সুযোগে বারক ও তার সৈন্যবাহিনী সীষরার বাহিনীকে হারিয়ে দিল। কিন্তু সীষরা রথ ফেলে দিয়ে পায়ে হেঁটে পালিয়ে গেল। 16বারক যুদ্ধ চালিয়ে গেল। সে আর তার সৈন্যরা রথ আর বাহিনীকে হরোশৎ হাগোয়িম পর্যন্ত তাড়িয়ে নিয়ে গেল। তারা সব লোককে তরবারি দিয়ে কেটে ফেলল। একজনও বেঁচে রইল না।
17কিন্তু সীষরা পালিয়ে গেল। সে একটা তাঁবুতে এলো। সেই তাঁবুতে যায়েল নামে একজন স্ত্রীলোক বাস করত। তার স্বামীর নাম ছির হেবর। হেবর ছিল কেনীয় সম্প্রদায়ের লোক। তার পরিবার হাৎসোরের রাজা যাবীনের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করত। সীষরা যায়েলের তাঁবুর দিকে ছুটে যাচ্ছিল। 18সীষরাকে ছুটে আসতে দেখে যায়েল তার তাঁবু থেকে বেরিয়ে তার সঙ্গে দেখা করলো। যায়েল সীষরাকে বলল, “আমার তাঁবুতে আসুন। কোন ভয় নেই।” সীষরা যায়েলের তাঁবুতে ঢুকলো। যায়েল একটা কম্বল দিয়ে তাকে ঢেকে দিলো।
19সীষরা বলল, “আমি তৃষ্ণার্ত। দয়া করে আমায় এক গ্লাস জল দিন।” একটা চামড়ার বোতলে যায়েল দুধ রাখত। সীষরাকে দুধ খাইয়ে যায়েল আবার তাকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দিল।
20সীষরা যায়েলকে বলল, “তাঁবুর দরজার পাশে আপনি দাঁড়িয়ে থাকবেন। যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে, ভেতরে কেউ আছে কি না, বলবেন ‘না কেউ নেই।’”
21কিন্তু যায়েল তাঁবু খাটানোর একটা গোঁজ আর একটা হাতুড়ি পেয়ে গেল। তারপর চুপিচুপি সীষরার কাছে গেল। সীষরা খুবই ক্লান্ত ছিল, তাই সে ঘুমাচ্ছিল। যায়েল গোঁজটা সীষরার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে ঠুকে দিল। গোঁজটা তার মাথার মধ্যে ঢুকে বেরিয়ে এসে মাটিতে ঢুকে গেল। সীষরা মারা গেল।
22আর ঠিক তখনই বারক সীষরার খোঁজে যায়েলের তাঁবুর কাছে এলো। যায়েল তাঁবুর বাইরে বেরিয়ে বারককে বলল, “ভেতরে আসুন। যাকে খুঁজছেন তাকে দেখাচ্ছি।” বারক যায়েলের সঙ্গে ভেতরে এল। দেখল সীষরা মরে মাটিতে পড়ে আছে। তার মাথার ভেতর গোঁজ ঢুকে আছে।
23সেদিন ঈশ্বর ইস্রায়েলের লোকদের হয়ে কনানদের রাজা যাবীনকে পরাজিত করলেন। 24ইস্রায়েলবাসীরা ক্রমে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠলো, যে পর্যন্ত না তারা কনানদের রাজা যাবীনকে পরাজিত করল। শেষে তারা যাবীনকে বিনষ্ট করল।
5দবোরার গান
1যেদিন ইস্রায়েলবাসীরা সীষরাকে পরাজিত করলো, সে দিন দবোরা আর অবীনোযমের পুত্র বারক এই গানটি গেয়েছিল:
2“ইস্রায়েলের লোকরা যুদ্ধের প্রস্তুতি করল।
তারা স্বেচ্ছায় যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে চাইল।
প্রভুর নাম ধন্য হোক্।
3“রাজারা সকলে শোন,
শাসকরা মন দিয়ে শোন।
আমি, আমিই প্রভুর উদ্দেশ্যে গান গাইব,
ইস্রায়েলের ঈশ্বর ও প্রভুর উদ্দেশ্যে গানটি গাইব।
4“হে প্রভু, তুমি সেয়ীর থেকে এসেছিলে।
তোমার অভিযান ইদোম দেশ থেকে শুরু হয়েছিল।
তোমার পদপাতে কেঁপে উঠেছিল পৃথিবী।
আকাশ থেকে অঝোরে বৃষ্টি পড়ছিল।
মেঘরা ঝরিয়ে ছিল জল।
5প্রভু, সীনয় পর্বতের ঈশ্বরের সামনে,
প্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বরের সামনে পর্বতমালা কেঁপে উঠেছিল।
6“অনাতের পুত্র শম্গর
এবং যায়েলের সময়ে সমস্ত রাজপথ জনমানবহীন।
বণিকরা এবং পথিকরা অন্য পথ দিয়ে যাতায়াত করত।
7“সেখানে কোন সৈন্য ছিল না।
দবোরা যতদিন তুমি ইস্রায়েলের মা হয়ে আসোনি
ততদিন ইস্রায়েলে কোন সৈন্য ছিল না।
8“ঈশ্বর নতুন নেতাদের নির্বাচন করেছিলেন।
তারা নগরের প্রবেশদ্বারে যুদ্ধে রত ছিল।
ইস্রায়েলে 40,000 সৈন্য ছিল।
তাদের মধ্যে কেউ একটাও ঢাল অথবা বর্শা খুঁজে পায় নি।
9“আমার হৃদয় ইস্রায়েলের সেই সেনাপতিদের সঙ্গে রয়েছে,
যারা স্বেচ্ছায় যুদ্ধে গিয়েছিল।
প্রভুর নাম ধন্য হোক্।
10“তোমরা যারা সাদা গর্দভের পিঠে চড়ে
কম্বলের জিনে বসে আছো
এবং যারা রাস্তায় হাঁটো,
তারা এ সম্বন্ধে গান কর।
11পশুরা যেখানে জল পান করে
সেই চৌবাচ্চায় শুনি রণদামামার মহাসঙ্গীত ধ্বনি।
লোকরা গায় প্রভুর বিজয়গীতি,
ইস্রায়েলে তাঁর সৈন্যের জয় গৌরব গীতি
যখন তাঁরই বাহিনী নগরদ্বারে করেছে যুদ্ধ আর তাদেরই কেবল শোন জয় জয়কার।
12“জাগো হে মা দবোরা,
জেগে ওঠো, গাও গান!
বারক তুমিও জাগো।
হে অবীনোয়মের পুত্র তোমার শত্রুদিগকে বন্দী করো।
13“তারপর তিনি ইস্রায়েলে যারা বেঁচে আছে তাদের শক্তিমান লোকদের বিজয়ী করলেন।
প্রভু আমায় যোদ্ধাদের ওপর শাসন করতে দিলেন।
14“অমালেকদের পাহাড়ী দেশ হতে
ইফ্রয়িমের লোকরা এসেছিল।
হে বিন্যামীন, তারা তোমায়
ও তোমার লোকদের
এবং মাখীর পরিবার থেকে আসা অধ্যক্ষগণকে অনুসরণ করেছিল।
হে সবূলূন তোমার নেতারা
সেনাপতির দণ্ড নিয়ে এসেছিল।
15ইষাখরের নেতারা দবোরার সঙ্গে ছিল।
ইষাখরের লোকরা বারকের প্রতি বিশ্বস্ত ছিল।
দেখ, ঐ লোকরা কুচকাওয়াজ করে উপত্যকায় নামছে।
“রূবেণ, তোমার সেনাদলে প্রচুর সাহসী সৈন্য আছে।
16তবে কেন তোমাদের মেষপালের আশেপাশে বসে রয়েছ?
রূবেণ তোমার সাহসী সেনারা যুদ্ধ সম্পর্কে এত চিন্তা করেছিল।
তবু কেন তারা বাড়ীতে বসে মেষপালকের বাঁশীর বাজনা শোনে?
17যর্দন নদীর ওপারে গিলিয়দবাসী তাঁবুতেই বসে ছিল।
এবং তোমার দান এর লোকরা,
কেন জাহাজের আশেপাশে বসেছিল?
আশের গোষ্ঠী সাগরের তীরে নিরাপদ বন্দরে
মনের মতন করে তাঁবু গেড়েছিল।
18“কিন্তু সমস্ত সবূলূনবাসী, নপ্তালি অধিবাসী পাহাড়ের গায়ে জীবনের বাজী রেখে প্রত্যেকে মহাসংগ্রামে মেতেছিল।
19কনানের রাজারা যুদ্ধে এলেন,
তানক শহরে মগিদ্দোর জলের ধারে যুদ্ধ চলল,
তবু কোন সম্পদ না নিয়ে তাঁরা ঘরে ফিরলেন।
20আকাশের যত তারা, নিজ নিজ পথ হতে
মেতেছিল যুদ্ধে সেদিন সীষরার বিরুদ্ধে।
21প্রাচীন কালের কীশন নদী
সীষরার সৈন্যবাহিনীকে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
হে আমার আত্মা, শক্তির সঙ্গে বেরিয়ে এস।
22অশ্ব ক্ষুরের আঘাতে মাটি কেঁপে ওঠে।
সীষরার পরাক্রমী অশ্বরা সব ছুটে যাও, ছুটে যাও।
23“প্রভুর দূত বলল,
মেরোস শহরকে অভিশাপ দাও।
তার শহরবাসীদের অভিশাপ দাও।
কারণ তারা সৈন্যবাহিনী নিয়ে
প্রভুকে সাহায্য করতে আসে নি।”
24কেনীয় হেবরের পত্নী—যায়েল তার নাম।
সর্বোত্তমা মহীয়সী নারী, প্রণাম তারে প্রণাম।
25সীষরা চাইল জল;
জল নয়, যায়েল তাকে দুধের পাত্র এগিয়ে দিল।
রাজারই পক্ষে মানায় তেমন পাত্র।
তাতে ক্ষীর ননী সাজিয়ে দিল যায়েল।
26যায়েল তার হাত বাড়ালো, তাঁবু খাটানোর গোঁজ হাতে পেলো।
ডান হাত বাড়ালে কর্মকারের হাতুড়ি উঠে এলো।
তারপর সে সীষরার মস্তকে আঘাত হানল।
সে হাতুড়ির আঘাতে তার কপালের দুই পাশের মধ্য দিয়ে একটা ছিদ্র করল।
27যায়েলের পায়ে মাথা গুঁজে দিয়ে
পড়ে গেল সীষরা।
ভূতলশায়িত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল
এক চরম বিপর্যয়।
28“সীষরার মা জানালা থেকে উঁকি দেয়।
সীষরার মা পর্দা সরিয়ে তাকায় আর কাঁদে,
‘সীষরার রথ ফিরতে দেরী করে কেন?
কেন আমি এখন অবধি তার মালগাড়ীর শব্দ শুনছি না?’
29“তার প্রজ্ঞাবতী দাসী উত্তর দিল,
ব্যাকুলা মায়ের দেখ এই দুর্গতি।
30দাসীটি বলল, ‘আমি নিশ্চিত তারা যুদ্ধে জিতেছে,
এবং এখন তারা তাদের লুটের প্রচুর দ্রব্যসামগ্রী
নিজেদের মধ্যে ভাগ করছে।
প্রত্যেক সৈন্য নেবে দু একটি করে রমণী
এবং বিজয়ী সীষরা হয়তো পরবার জন্য
দু-একটি রঙীন সুতোর কাজ করা পোশাক পাবে।’
31“ওগো প্রভু, যেন এভাবেই মরে তোমার শত্রুরা।
যারা তোমায় ভালবাসে তারা যেন প্রভাত সূর্যসম শক্তি অর্জন করে।”
এইভাবেই 40 বছর সে দেশে শান্তি বিরাজ করছিল।
6মিদিয়নীয়দের সঙ্গে ইস্রায়েলীয়দের যুদ্ধ
1আবার ইস্রায়েলবাসীরা পাপ কর্মে মেতে উঠল। তাই সাত বছর ধরে প্রভু মিদিয়নদের সহায় হয়ে রইলেন যাতে তারা ইস্রায়েলীয়দের দমিয়ে রাখতে পারে।
2মিদিয়ন সম্প্রদায়ের লোকরা ছিল ভীষণ শক্তিশালী। ইস্রায়েলবাসীদের ওপর তারা বেশ অত্যাচার করত। তাই ইস্রায়েলীয়রা পর্বতের নানা গোপন জায়গায় লুকিয়ে থাকত। সেখানেই খাবার দাবার লুকিয়ে রাখত। সেসব জায়গা খুঁজে পাওয়া খুব শক্ত ছিল। 3তারা যে এরকম সাবধান হয়ে গিয়েছিল তার কারণ মিদিয়নীয় এবং অমালেকীয় সম্প্রদায়ের লোকরা পূর্বদেশ থেকে সবসময় আক্রমণ করতো এবং তাদের ফসল নষ্ট করতো। 4আক্রমণকারীরা ইস্রায়েলীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শিবির গেড়েছিল। তারা অনেক দূরে ঘসা শহর পর্যন্ত ইস্রায়েলীয়দের সমস্ত শস্য নষ্ট করে দিয়েছিল। তারা ইস্রায়েলীয়দের খাবার মতো কিছুই অবশিষ্ট রাখল না। তারা তাদের মেষ, গরু, গাধা এসবও কেড়ে নিয়ে গিয়েছিল। 5মিদিয়নী়রা ওদের দেশে তাঁবু গেড়েছিল এবং সঙ্গে এনেছিল পরিবারের লোকজন, জীবজন্তু। পঙ্গপালের ঝাঁকের মতো অগুনতি মানুষ তারা এবং তাদের আনা উটের সংখ্যা গোণা অসম্ভব ছিল। দেশটাকে ওরা একেবারে ছারখার করে দিল। 6মিদিয়নী়দের অত্যাচারে ইস্রায়েলীয়রা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেল। তাই তারা প্রভুর দয়া পাবার জন্যে কেঁদে আকুল হয়ে উঠল।
7মিদিয়নের লোকরা অত্যাচারে মেতে উঠেছিল। সেই জন্য ইস্রায়েলীয়রা প্রভুর কৃপার জন্য কেঁদে আকুল হয়ে উঠল। 8তাই প্রভু তাদের কাছে একজন ভাববাদীকে পাঠালেন। ভাববাদী ইস্রায়েলবাসীদের বললেন, “প্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর কি বলেন তা শোন। তিনি বলেছেন, ‘মিশরে তোমরা ক্রীতদাস ছিলে। আমি তোমাদের মুক্ত করে সেই দেশ থেকে নিয়ে এসেছি। 9আমি তোমাদের মিশরের এবং যারা তোমাদের নির্যাতন করেছে, তাদের সকলের হাত থেকে রক্ষা করেছি। আমি আবার সেই লোকদের তাড়িয়ে বার করে দিয়েছি এবং তাদের দেশ তোমাদের দিয়েছি।’ 10তারপর আমি তোমাদের বলেছিলাম, ‘আমি তোমাদের প্রভু ঈশ্বর। তোমরা ইমোরীয়দের দেশে বসবাস করবে বটে, কিন্তু কখনই তোমরা তাদের মূর্ত্তির পূজা করবে না।’ কিন্তু তোমরা আমার কথা শোনো নি।”
প্রভুর দূত গিদিয়োন দর্শন করলেন
11 সেই সময়, প্রভুর দূত একজন লোকের কাছে এলেন। তার নাম ছিল গিদিয়োন। প্রভুর দূত অফ্রা নামক একটি জায়গায় একটি ওক গাছের নীচে বসলেন। ওক গাছটা ছিল যোয়াশ নামে একজন লোকের। যোয়াশ, গিদিয়োনের পিতা, অবীয়েষ্রীয় বংশের লোক ছিলেন। গিদিয়োন একটি দ্রাক্ষা মাড়াবার জায়গায় কিছু গম মাড়াই করছিলেন। প্রভুর দূত গিদিয়োনের কাছে বসলেন। গিদিয়োন লুকিয়েছিলেন যাতে মিদিয়নরা তাঁকে দেখতে না পায়। প্রভুর দূত গিদিয়োনের সামনে দেখা দিয়ে তাকে বললেন, “হে মহাসৈনিক, প্রভু তোমার সহায়!”
13গিদিয়োন বললেন, “মহাশয় আপনাকে একটা কথা বলব। প্রভু যদি সত্যিই আমাদের সহায়, তাহলে এত দুঃখ কষ্ট কেন? আমি শুনেছি আমাদের পূর্বপুরুষদের জন্য তিনি অনেক আশ্চর্য কাজ করেছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন যে প্রভু তাঁদের মিশর থেকে সরিয়ে এনেছিলেন। কিন্তু তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। কেবলমাত্র প্রভুর জন্যই মিদিয়নরা আমাদের পরাজিত করতে পেরেছে।”
14প্রভু গিদিয়োনের দিকে ফিরে বললেন, “তোমার নিজের শক্তিকে কাজে লাগাও। যাও, মিদিয়নের হাত থেকে ইস্রায়েলবাসীদের রক্ষা করো। এ কাজে আমি তোমাকেই পাঠাচ্ছি।”
15গিদিয়োন বলল, “ক্ষমা করবেন। কি করে আমি ইস্রায়েলকে রক্ষা করব? মনঃশি পরিবারগোষ্ঠীর মধ্যে আমার পরিবারই হচ্ছে সবচেয়ে দুর্বল। তাছাড়া এই পরিবারে আমিই সবচেয়ে ছোট।”
16প্রভু বললেন, “আমি তোমার সঙ্গে আছি। সুতরাং মিদিয়নদের তুমি সহজেই পরাজিত করতে পারবে। এতই সহজ যে, মনে হবে তুমি যেন শুধু একজনের সঙ্গেই যুদ্ধ করছ।”
17তখন গিদিয়োন প্রভুকে বলল, “যদি আপনি সত্যিই আমার ওপর প্রসন্ন হন তাহলে আপনি যে স্বয়ং প্রভু তার একটা প্রমাণ দিন। 18দয়া করে একটু অপেক্ষা করুন। আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত যেন চলে যাবেন না। আমি আপনার জন্য নৈবেদ্য আনতে যাচ্ছি। সেই নৈবেদ্য আপনার কাছে নিবেদন করব। আপনি দয়া করে অনুমতি দিন।”
প্রভু বললেন, “আমি তোমার ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।”
19গিদিয়োন ভেতরে গিয়ে একটি কচি পাঁঠা গরম জলে ফোটালো। তাছাড়া সে প্রায় 20 পাউণ্ড ময়দা দিয়ে খামিরবিহীন রুটি তৈরী করালো। তারপর মাংসটা সে একটা ঝুড়িতে আর ঝোলটা একটা পাত্রে রাখলো। সে মাংস, ঝোল আর রুটি নিয়ে ওক গাছের নীচে প্রভুকে পরিবেশন করল।
20প্রভুর দূত গিদিয়োনকে বললেন, “মাংস, রুটি ঐখানে পাথরের ওপর রাখো। ঝোলটা ঢেলে দাও।” গিদিয়োন তাই করলো।
21প্রভুর দূতের হাতে একটি ছড়ি ছিল। মাংস আর রুটির ওপর ছড়িটার ডগা ছোঁয়াতেই পাথর থেকে আগুন ছিটকে বেরল। মাংস রুটি একেবারে পুড়ে গেল। তারপর প্রভুর দূত কোথায় মিলিয়ে গেলেন।
22তখন গিদিয়োন বুঝতে পারলেন যে তিনি এতক্ষণ প্রভুর দূতের সঙ্গেই কথা বলছিলেন। গিদিয়োন চেঁচিয়ে উঠল, “সর্বশক্তিমান প্রভু! আমি প্রভুর দূতকে মুখোমুখি দেখেছি।”
23প্রভু বললেন, “শান্ত হও! এর জন্য ভয় পেও না, তুমি মরবে না!”
24অতঃপর গিদিয়োন সেই জায়গায় প্রভুর উপাসনার জন্য একটি বেদী তৈরী করলেন। সে বেদীর নাম দিলেন, “প্রভুই শান্তি।” অফ্রা শহরে সেই বেদী আজও রয়েছে। এখানেই অবীয়েষ্রীয়দের বংশের লোকরা বসবাস করে।
গিদিয়োন বালের বেদী ভেঙ্গে ফেললেন
25সেই রাত্রেই প্রভু গিদিয়োনকে বললেন, “তোমার পিতার একটা সাত বছরের বেশ শক্তসমর্থ ষাঁড় আছে, তাকে সঙ্গে নাও। বালের মূর্ত্তি পূজার জন্য একটি বেদী আছে যেটা তোমার পিতা তৈরী করেছিলেন। বেদীর পাশে একটা কাঠের খুঁটি রয়েছে। খুঁটিটা আশেরার মূর্ত্তিকে পূজা করার জন্য। এবার ঐ ষাঁড়টিকে কাজে লাগাও, যাতে সে ঐ বালের বেদী, আশেরার খুঁটি ভেঙ্গে ফেলতে পারে। 26ভাঙ্গার পর তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের জন্য উপযুক্ত বেদী তৈরী করো। এই উঁচু জায়গাতেই সেটা তৈরি করো। তারপর এই বেদীতেই ঐ ষাঁড়টিকে বলি দিয়ে পুড়িয়ে দাও। জ্বালানোর জন্য আশেরার খুঁটিটাকে ব্যবহার করো।”
27গিদিয়োন প্রভুর কথামতো দশ জন ভৃত্য নিয়ে কাজটি করলেন। কিন্তু তাঁর মনে ভয় হল যে, বাড়ির লোকরা আর শহরের সবাই তাঁর কাণ্ড দেখে ফেলবে। অথচ প্রভুর নির্দেশ তাঁকে পালন করতেই হবে। কাজটা তিনি দিনের বেলায় নয়, রাত্রিতেই করলেন।
28পরদিন সকালে শহরের লোকরা ঘুম থেকে উঠে দেখল, বালের বেদীটা শেষ হয়ে গেছে। তারা এটাও দেখল যে আশেরার খুঁটিও কেটে ফেলা হয়েছে। বালের বেদীর পাশেই ছিল সেই খুঁটি। সেই সঙ্গে তারা দেখলো গিদিয়োনের তৈরি সেই বেদীটা। বেদীর উপর বলি দেওয়া ষাঁড়টিও তাদের চোখে পড়লো।
29লোকরা এ ওর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল, “কে আমাদের বেদীটা ভেঙ্গেছে? কে আশেরার খুঁটি কেটেছে? কে এই নতুন বেদীটায ষাঁড় বলি দিয়েছে?” এই রকম নানা প্রশ্ন তারা নিজেদের মধ্যে করতে থাকল।
একজন বলল, “যোয়াশের পুত্র গিদিয়োন এসব করেছে।”
30তারা যোয়াশের কাছে এল। তারা তাঁকে বলল, “তোমার পুত্রকে নিয়ে এসো। সে বালের বেদী ভেঙ্গেছে। সেই বেদীর পাশে আশেরার খুঁটি সে কেটে ফেলেছে। তার মরণ কেউ ঠেকাতে পারবে না। তাকে মরতে হবেই।”
31ঘিরে থাকা লোকদের সামনে যোয়াশ বলল, “তোমরা কি বালের পক্ষ নিতে যাচ্ছ? তোমরা কি বালকে রক্ষা করতে যাচ্ছ? যদি কেউ তার পক্ষ নাও তাহলে কাল সকালের মধ্যেই তাকে মরতে হবে। বাল যদি সত্যিই দেবতা হয় তাহলে যে তার বেদী ভেঙেছে তার বিরুদ্ধে সে নিজেকে রক্ষা করুক।” 32যোয়াশ বলল, “যদি গিদিয়োন বালের বেদী ভেঙে থাকে তবে বাল তার সঙ্গে বিবাদ করুক।” সেদিন থেকে যোয়াশ গিদিয়োনের একটা নতুন নাম দিলেন। যিরুব্বাল হচ্ছে সেই নতুন নাম।
গিদিয়োনের হাতে মিদিয়নীয়দের পরাজয়
33মিদিয়নীয়, অমালেকীয় এবং পুর্বদেশের অন্যান্য লোকরা একসঙ্গে মিলে ইস্রায়েলীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেল। যর্দন নদী পেরিয়ে তারা যিষ্রিয়েল উপত্যকায় শিবির গাড়ল। 34প্রভুর আত্মা গিদিয়োনের ওপর ভর করলেন। তিনি তাকে প্রচণ্ড শক্তি দিলেন। গিদিয়োন অবীয়েষ্রীয় পরিবারকে আহ্বান করার জন্য শিঙা বাজাল। 35মনঃশি পরিবারগোষ্ঠী সকলের কাছে সে বার্তাবাহক পাঠাল। বার্তাবাহকরা তাদের অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যুদ্ধের জন্য তৈরি হতে বলল। তাছাড়া গিদিয়োন আশের, সবুলূন আর নপ্তালি পরিবারগোষ্ঠীর কাছেও বার্তাবাহক পাঠালেন। এই কথা বার্তাবাহকরা তাদের বললে তারাও গিদিয়োন ও তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে দেখা করলো।
36তখন গিদিয়োন ঈশ্বরকে বললেন, “আপনি আমাকে সাহায্য করবেন বলেছিলেন যাতে ইস্রায়েলবাসীরা রক্ষা পায়। এ কথা যে সত্যি তা প্রমাণ করুন। 37যে জায়গায় শস্য ঝাড়াই হয় সেখানে আমি একটা মেষের ছাল রেখে দেব। যদি দেখি সব জায়গাই শুকনো অথচ সেই মেষের ছালে শিশির পড়েছে তাহলে বুঝব আপনি আমাকে দিয়ে ইস্রায়েল রক্ষা করবেন। এরকম কথাই তো আপনি বলেছিলেন।”
38ঠিক সে রকমই ঘটল। পরদিন খুব ভোরে গিদিয়োন ঘুম থেকে উঠে মেষের ছাল নিংড়ে নিলে ছাল থেকে এক বাটি ভর্ত্তি জল বার হল।
39গিদিয়োন ঈশ্বরকে বলল, “হে প্রভু আমার প্রতি ক্রুদ্ধ হবেন না। আমি আপনার কাছে শুধু আর একটি জিনিস চাইব। মেষের ছাল নিয়ে আর একবার আপনাকে পরীক্ষা করতে দিন। এবারে ছালটা যেন শুকিয়ে যায় আর চারিদিকের মাটি যেন শিশিরে ভিজে থাকে।”
40সেদিন রাত্রে ঈশ্বর সে রকমই করলেন। মেষের ছালটাই শুধু শুকিয়ে গেলো আর চারপাশের সমস্ত মাটি শিশিরে শিশিরে ভেজা ভেজা হয়ে রইল।
71ভোরবেলা যিরুব্বাল (গিদিয়োন) তার লোকজন নিয়ে হারোদ ঝর্ণার কাছে শিবির স্থাপন করল। মিদিয়োনের লোকরা মোরি পর্বতের নীচে উপত্যকায় তাঁবু খাটাল। জায়গাটা ছিল গিদিয়োনদের শিবিরের উত্তর দিকে।
2তখন প্রভু গিদিয়োনকে বললেন, “মিদিয়নের লোকদের হারাবার জন্য আমি তোমার লোকদের সাহায্য করতে যাচ্ছি। কিন্তু এই কাজের পক্ষে তোমার লোকজন অনেক বেশী। ইস্রায়েলীয়রাও আমাকে ভুলে থাকুক, আর বড়াই করে বলুক যে, তারা নিজেরাই নিজেদের বাঁচিয়েছে—তা আমি চাই না। 3সেই জন্য এখন তাদের কাছে জানিয়ে দাও, ‘যে ভীতু সে গিলিয়দ পর্বত থেকে চলে যেতে পারে। সে বাড়ি ফিরে যেতে পারে।’”
তখন 22,000 লোক গিদিয়োনকে ফেলে রেখে ঘরে ফিরে গিয়েছিল। 10,000 লোক অবশ্য তখনও থেকে গেল।
4তারপর প্রভু গিদিয়োনকে বললেন, “তবুও তোমার সঙ্গে অনেক বেশী লোক রয়েছে। তাদের জলের দিকে নিয়ে যাও, তোমার হয়ে আমি সেখানে তাদের পরীক্ষা করব। আমি যখন বলব, ‘এই লোকটা তোমার সঙ্গে যাবে,’ তখন সে যাবে। আবার যখন বলব, ‘ঐ লোকটা যাবে না,’ তখন সে যাবে না।”
5সেই মতো গিদিয়োন লোকগুলোকে জলের দিকে নিয়ে গেলেন। সেই জলের কাছে প্রভু গিদিয়োনকে বললেন, “এইভাবে লোকগুলোকে আলাদা আলাদা করো: যারা কুকুরের মতো জিভ দিয়ে চুকচুক্ করে জল পান করবে তারা হবে এক গোষ্ঠী, আর যারা মাথা নীচু করে জল পান করবে তারা হবে অন্য একটি গোষ্ঠী।”
6তিনশো জন লোক হাত দিয়ে মুখের কাছে জল নিয়ে কুকুরের মত চুকচুক্ করে জল পান করল। অন্যান্যরা পান করল মাথা হেঁট করে। 7প্রভু গিদিয়োনকে বললেন, “মিদিয়নীয়দের পরাজিত করতে আমি ঐ 300 জন লোককে কাজে লাগাবো। যারা কুকুরের মত চুক্চুক্ করে জল পান করেছিল আমি তাদের দ্বারাই ইস্রায়েলকে রক্ষা করব। বাকি লোকরা বাড়ি চলে যাক।”
8সেই মতো গিদিয়োন 300 জন লোককে নিজের কাছে রেখে বাদ বাকি ইস্রায়েলীয়দের বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। সেই 300 জন লোক যারা বাড়ি ফিরে যাচ্ছিল সেই সব লোকদের সরবরাহকৃত জিনিসপত্র এবং শিঙাগুলো রেখে দিল।
মিদিয়নের লোকরা গিদিয়োনের তাঁবুর নীচে উপত্যকায় তাঁবু গেড়েছিল। 9রাত্রে প্রভু গিদিয়োনের সঙ্গে কথা বললেন। তিনি বললেন, “ওঠো! আমি তোমাকে মিদিয়ন সৈন্যবাহিনীকে পরাজিত করতে দেবো। তাদের তাঁবুর দিকে নেমে যাও। 10যদি একা যেতে ভয় পাও তাহলে তোমার ভৃত্য ফুরাকে সঙ্গে নাও। 11মিদিয়নদের শিবিরের লোকরা কি সব বলছে তোমরা তা শুনবে। এসব শোনার পর তোমরা আক্রমণ করতে আর ভয় পাবে না।”
তাই গিদিয়োন আর তার ভৃত্য ফুরা শত্রুপক্ষের শিবিরের একেবারে সীমানার দিকে চলে গেল। 12মিদিয়ন, অমালেক আর পূর্ব দেশের লোকরা সেই উপত্যকায় তাঁবু ফেলল। এত লোকজন যে দেখে মনে হত পঙ্গপালের ঝাঁক। আর তাদের এত উট যে মনে হত তারা যেন সমুদ্রের ধারের অসংখ্য বালির কণা।
13গিদিয়োন শত্রু শিবিরে এলেন। তিনি শুনতে পেলেন একজন ব্যক্তি তার বন্ধুকে একটা স্বপ্নের কথা বলছে। লোকটা বলছে, “আমি স্বপ্ন দেখলাম একটা গোল রুটি মিদিয়নদের তাঁবুর ওপর নেমে এসে এত জোরে ধাক্কা দিল যে তাঁবু উল্টে গিয়ে ধুলোয লুটিয়ে গেল।”
14বন্ধুটি স্বপ্নের অর্থ বুঝতে পারল। সে বলল, “তোমার স্বপ্নের একটিই অর্থ হয়। স্বপ্নটি হচ্ছে ইস্রায়েলের সেই পুরুষটিকে নিয়ে। তার নাম যোয়াশের পুত্র গিদিয়োন। অর্থাৎ মিদিয়নের সৈন্যবাহিনীকে পরাজিত করার জন্য ঈশ্বর গিদিয়োনকে পাঠিয়েছেন।”
15গিদিয়োন তাদের স্বপ্ন নিয়ে কথাবার্তা শুনলে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে মাথা নুইয়ে প্রণাম জানালেন। তারপর ইস্রায়েলীয়দের তাঁবুতে ফিরে গিয়ে তাদের বললেন, “ওঠ! মিদিয়নদের পরাজিত করতে প্রভু আমাদের সাহায্য করবেন।” 16গিদিয়োন 300 জন লোককে তিনটি দলে ভাগ করে দিলেন। প্রত্যেককে একটি করে শিঙা আর খালি ঘট দিলেন। ঘটের মধ্যে ছিল একটা করে জ্বলন্ত মশাল। 17তারপর গিদিয়োন বললেন, “তোমরা আমাকে লক্ষ্য করবে। আমি যা করি তোমরা তাই করবে। তোমরা আমার পেছনে পেছনে শত্রু শিবিরের সীমানার কাছে চলে আসবে। ওখানে গিয়ে আমি যা করব তোমরাও ঠিক তাই করবে। 18শত্রু শিবিরগুলো তোমরা ঘিরে ফেলবে। আমার সঙ্গে যারা আছে তাদের নিয়ে আমরা শিঙা বাজাব। তখন তোমরাও শিঙা বাজাবে। তারপর চিৎকার করে বলে উঠবে: ‘জয় প্রভুর জন্য ও গিদিয়োনের জন্য!’”
19গিদিয়োন 100 জন লোক নিয়ে শত্রু শিবিরের সীমানায় পৌঁছলেন। ওখানে প্রহরীদের পালা শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গেই তারা এসে পড়ল। রাত্রির মাঝামাঝি পাহারাদারির সময় তারা হানা দিল। গিদিয়োন ও তাঁর লোকরা শিঙা বাজাবার পর ঘটগুলো ভেঙ্গে ফেলল। 20তারপর গিদিয়োনের তিনটি বাহিনীর সকলেই শিঙা বাজিয়ে দিয়ে ঘটগুলি ভেঙে দিলো। লোকরা বাঁ হাতে মশালগুলো আর ডান হাতে শিঙা ধরেছিল। শিঙা বাজাতে বাজাতে তারা ধ্বনি দিল: “প্রভুর তরবারি, গিদিয়োনের তরবারি!”
21গিদিয়োনের লোকরা যেখানে ছিল, সেখানেই রইল। কিন্তু তাঁবুর ভেতরে মিদিয়নের লোকরা চিৎকার করতে করতে পালাতে লাগল। 22যখন 300 জন লোক শিঙা বাজাল, প্রভু মিদিয়নের লোকদের পরস্পরকে তরবারি দিয়ে হত্যা করালেন। শত্রু সৈন্যরা বৈৎ-শিট্ট নগরের দিকে পালাতে লাগল। বৈৎ-শিট্টা সরোরা নগরের কাছাকাছি ছিল। লোকগুলো দৌড়াতে দৌড়াতে একেবারে টব্বতের শহরের কাছে আবেল-মহোলা শহরের সীমানা পর্যন্ত চলে এল।
23তারপর নপ্তালি, আশের এবং মনঃশির পরিবারগোষ্ঠীর সবাইকে বলা হল মিদিয়নদের হঠিয়ে দেবার জন্যে। 24ইফ্রয়িমের পাহাড়ে দেশগুলোয় গিদিয়োন দূত পাঠিয়ে দিলেন। দূতরা বলল, “তোমরা নেমে এসো। মিদিয়নদের আক্রমণ করো। বৈৎ-বারা আর যর্দন নদী পর্যন্ত যে নদী চলে গেছে তোমরা তার দখল নাও। মিদিয়নরা সেখানে যাবার আগেই এই কাজটা তোমরা করে নাও।”
এইভাবে ইফ্রয়িম পরিবারগোষ্ঠীর সবাইকে দূতরা আহ্বান করল। যে নদী বৈৎ-বারা পর্যন্ত বয়ে গেছে সেই নদী তারা অধিকার করল। 25ইফ্রয়িমের লোকরা দুজন মিদিয়ন নেতাকে ধরল। এদের নাম ওরেব আর সেব। তারা ওরেবকে “ওরেবের শিলা” নামে এক জায়গাতে হত্যা করল। সেবকে হত্যা করল সেবের দ্রাক্ষা মাড়াই ক্ষেত্রে। ইফ্রয়িমের লোকরা মিদিয়নদের তাড়িয়ে দেবার কাজ চালিয়ে গেল। প্রথমে তারা ওরেব আর সেবের মস্তক কেটে নিয়ে গিদিয়োনের কাছে গেল। যেখান থেকে লোকরা যর্দন নদী পার হয় গিদিয়োন সেখানেই ছিলেন।
81ইফ্রয়িমের লোকরা গিদিয়োনের উপর রেগে গেল। গিদিয়োনকে দেখতে পেয়ে তারা জিজ্ঞাসা করল, “আমাদের সঙ্গে কেন তুমি এমন ব্যবহার করলে? মিদিয়নদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে যাবার সময় কেন তুমি আমাদের ডাকো নি?”
2গিদিয়োন বললেন, “দেখো তোমরা যা করেছ আমি তা করতে পারি নি। আমার অবীয়েষরের গোষ্ঠী যত ফসল তুলেছে, তোমরা ইফ্রয়িমরা তার চেয়ে অনেক বেশী ফসল তুলেছ। ফসল তোলার সময় ক্ষেতে তোমরা যত দ্রাক্ষা ফেলে রেখে যাও, আমার লোকরা তার চেয়ে কম কুড়ায়। ঠিক কি না? 3একইভাবে তোমাদের ফসল এখন দারুণ ভালো হয়েছে। ঈশ্বরই তোমাদের হাতে মিদিয়ন নেতা ওরেব আর সেবকে পরাজিত করতে দিয়েছেন। তোমাদের কর্ম সাফল্যের সঙ্গে আমার সাফল্যের কি কোনো তুলনা চলে?” গিদিয়োনের উত্তর শুনে ইফ্রয়িমের লোকদের রাগ পডে গেল।
গিদিয়োন মিদিয়নের দুই রাজাকে ধরলেন
4গিদিয়োন 300 জন লোক নিয়ে যর্দন নদীর ওপারে গেলেন। ওরা খুবই ক্লান্ত আর ক্ষুধার্ত ছিল। 5গিদিয়োন সুক্কোৎ শহরের অধিবাসীদের বললেন, “আমার সৈন্যদের তোমরা কিছু খেতে দাও। ওরা খুব পরিশ্রান্ত। আমরা এখনও মিদিয়নদের রাজা সেরহ আর সলমুন্নকে ধরতে পারি নি।”
6সুক্কোতের নেতারা বলল, “কেন আমরা তোমার সৈন্যদের খাওয়াব? তোমরা তো এখনও সেবহ আর সলমুন্নকে ধরতে পারো নি।”
7তখন গিদিয়োন বললেন, “তোমরা আমাদের খাবার দিও না। সেবহ আর সলমুন্নকে ধরবার জন্য প্রভু স্বয়ং আমাদের সাহায্য করবেন। তারপর আমরা ফিরে এসে মরুভূমির কাঁটাঝোপ দিয়ে তোমাদের ছাল ছাড়াব।”
8সুক্কোৎ শহর থেকে বেরিয়ে গিদিয়োন চলে গেল পনুয়েল শহরে। সুক্কোতবাসীদের কাছে সে যেমন খাদ্য চেয়েছিল তেমনি পনূয়েলবাসীদের কাছেও খাদ্য চাইল। তারাও সুক্কোতের লোকদের মতো একই কথা বলল। 9পনূয়েলের লোকদের গিদিয়োন বললেন, “যুদ্ধে জিতে আমাকে ফিরে আসতে দাও। তারপর তোমাদের এই মিনার আমি ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেব।”
10সেবহ আর সলমুন্না আর তাদের সৈন্যদের শিবির ছিল কর্কোর শহরে। তাদের সৈন্যরা সংখ্যায় ছিল 15,000 জন। পূর্বদেশের সৈন্যদের মধ্যে এরাই শুধু বেঁচে ছিল। 120,000 সৈন্য ইতিমধ্যেই হত হয়েছিল। 11গিদিয়োন সদলবলে তাঁবুবাসীদের রাস্তা ধরলেন। রাস্তাটা নোবহ আর যগবিহ শহরের পূর্বদিকে। কর্কোর শহরে এসে গিদিয়োন শত্রুদের আক্রমণ করলেন। শত্রুরা এই ধরণের আক্রমণের কথা ভাবতেই পারে নি। 12মিদিয়নদের দুই রাজা সেবহ আর সল্মুন্ন পালিয়ে গেল। কিন্তু গিদিয়োন ঠিক তাদের ধরে ফেললেন। তাঁর সৈন্যরা শত্রু সৈন্যদের পরাজিত করল।
13তারপর যোয়াশের পুত্র গিদিয়োন ফিরে এলেন। তিনি এবং তাঁর লোকরা হেরসের গিরিপথ দিয়ে ফিরে এসেছিল। 14সুক্কোৎ শহর থেকে একটি যুবককে গিদিয়োন ধরে এনেছিলেন। যুবকটিকে সে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করতে যুবকটি সুক্কোৎ শহরের দলপতি আর প্রবীণ লোকদের মিলিয়ে মোট 77 জনের নাম লিখে দিল।
15অতঃপর গিদিয়োন সুক্কোৎ শহরে ফিরে এলেন। সেখানকার অধিবাসীদের কাছে এসে বললেন, “এই দেখো সেবহ আর সল্মুন্ন। তোমরা আমায় নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করে বলেছিলে, ‘কেন আমরা তোমার সৈন্যদের খেতে দেব? তোমরা তো সেবহ আর সল্মুন্নকে ধরতে পার নি।’” 16এই বলে, গিদিয়োন সুক্কোৎ শহরের প্রবীণদের নিলেন। তারপর মরুভূমির কাঁটাঝোপ দিয়ে তিনি তাদের উচিৎ শিক্ষা দিলেন। 17গিদিয়োন পনূয়েল শহরের মিনার ভেঙ্গে ফেললেন। তারপর তিনি সেই শহরের নাগরিকদের হত্যা করলেন।
18সেবহ ও সল্মুন্নকে গিদিয়োন বললেন, “তাবোর পর্বতে কয়েকজনকে তোমরা হত্যা করেছিলে। তাদের কেমন দেখতে?”
তারা বলল, “তোমার মতই দেখতে। প্রত্যেকের চেহারাই ছিল রাজপুরুষের মতো।”
19গিদিয়োন বললেন, “ওরা আমার ভাই ছিল, আমার সহোদর ভাই। তাদের তোমরা মেরে না ফেললে আমি আজ তোমাদের হত্যা করতে চাইতাম না।”
20গিদিয়োন তাঁর জ্যোষ্ঠ পুত্র যেথরের দিকে ফিরে বললেন, “এই রাজাদের হত্যা করো।” কিন্তু যেথর একটি ছোট ছেলে ছিল বলে ভয় পেয়ে গেল। সে তরবারি তুলল না।
21তারপর সেবহ ও সল্মুন্ন গিদিয়োনকে বলল, “তুমি নিজেই আমাদের হত্যা করো। এই কাজের পক্ষে তোমার যথেষ্ট শক্তি আছে।” গিদিয়োন তাদের মেরে ফেললেন। তিনি ওদের উটের ঘাড় থেকে চাঁদের আকারের সাজসজ্জাগুলি নিয়ে নিলেন।
গিদিয়োন এফোদ তৈরী করলেন
22ইস্রায়েলবাসীরা গিদিয়োনকে বলল, “মিদিয়নদের হাত থেকে তুমি আমাদের রক্ষা করেছ। এখন আমাদের শাসন করো। আমরা তোমাকে চাই, তোমার ছেলে, তোমার নাতি—সবাইকে চাই। তোমরা সবাই আমাদের রাজা হও।”
23কিন্তু গিদিয়োন বললেন, “স্বয়ং প্রভুই তোমাদের রাজা। আমি বা আমার পুত্র তোমাদের শাসন করব না।”
24ইস্রায়েলীয়রা যাদের পরাজিত করেছিল, তাদের মধ্যে কিছু লোক ছিল ইশ্মায়েল বংশীয়। এরা সোনার দুল পরত। গিদিয়োন ইস্রায়েলীয়দের বললেন, “আমার জন্য তোমরা একটা কাজ করো। যুদ্ধের সময় তোমরা তো অনেক জিনিসই পেয়েছিলে। তার থেকে তোমরা প্রত্যেকেই আমাকে একটি করে কানের দুল দিয়ে দাও।”
25ইস্রায়েলবাসীরা বলল, “তুমি যা চাইছ আমরা তা খুশি হয়েই দেব।” এই বলে তারা মাটির ওপর একটা কাপড় পেতে দিল। প্রত্যেকে সেই কাপড়ের ওপর একটি করে দুল ফেলে দিল। 26সেই সব দুল জড়ো করা হলে তাদের ওজন হল প্রায় 43 পাউণ্ড। এছাড়াও গিদিয়োনকে ইস্রায়েলীয়রা অন্যান্য উপহার দিয়েছিল। চাঁদের মতো, অশ্রুবিন্দুর মতো দেখতে জড়োয়া গয়নাও তারা তাকে দিয়েছিল। আর দিয়েছিল বেগুনী রঙের পোশাক। মিদিয়নরা এইসব জিনিস ব্যবহার করত। মিদিয়ন রাজাদের উটের শেকলও তারা তাকে দিয়েছিল।
27গিদিয়োন সেই সোনা দিয়ে একটা এফোদ তৈরী করলেন। তাঁর নিজের শহর অফ্রাতে সেই এফোদকে তিনি স্থাপন করলেন। সমস্ত ইস্রায়েলীয়রা এফোদটিকে পূজা করেছিল। এইভাবে তারা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকল না, কারণ তারা এফোদের পূজা করেছিল। এটা গিদিয়োন এবং তার পরিবারের কাছে একটা ফাঁদের মত হল এবং তাদের দিয়ে পাপ কাজ করালো।
গিদিয়োনের মৃত্যু
28মিদিয়নদের বাধ্য হয়েই ইস্রায়েলীয়দের প্রভুত্ব মেনে নিতে হল। ওরা আর কোন অশান্তি করল না। 40 বছর ধরে দেশে শান্তি ছিল। যতদিন গিদিয়োন বেঁচেছিলেন ততদিন পর্যন্ত শান্তি ছিল।
29যোয়াশের পুত্র যিরুব্বাল অতঃপর গিদিয়োন দেশে গেলেন। 30তাঁর ছিল 70টি সন্তান। অনেকগুলি বিয়ে করেছিলেন বলেই তাঁর এতগুলো সন্তান। 31শিখিমে গিদিয়োনের একজন উপপত্নী থাকত। তার গর্ভে গিদিয়োনের একটি পুত্র হল। গিদিয়োন তার নাম রাখলেন অবীমেলক।
32যোয়াশের পুত্র গিদিয়োন বৃদ্ধ বয়সে মারা গেলেন। যোয়াশের সমাধিস্থলেই তাঁকে কবর দেওয়া হল। সেই সমাধিটি অফ্রা শহরে অবস্থিত যেখানে অবীয়েষর পরিবার বাস করে। 33গিদিয়োনের মৃত্যুর পর ইস্রায়েলীয়রা আবার ঈশ্বরকে ভুলে গেল। তারা বালের ভক্ত হয়ে গেল। তারা বাল বরীৎকে তাদের দেবতা মেনে নিল। 34তারা তাদের প্রভু ঈশ্বরকে ভুলে গেল। অথচ তিনিই তাদের চারিদিকের শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। 35যিরুব্বাল (গিদিয়োন) পরিবারের অনুগত হয়ে তারা আর রইল না। তিনি তাদের যথেষ্ট উপকার করলেও তাঁরা তাকে মনে রাখল না।
9অবীমেলক রাজা হলেন
1অবীমেলক হলেন যিরুব্বালের পুত্র। শিখিম শহরে তাঁর কাকা জ্যাঠারা বাস করতেন। সেখানে অবীমেলক চলে গেলেন। তাঁদের এবং মামার বাড়ির সকলের কাছে তিনি বললেন, 2“এ কথাটা তোমরা শিখিম শহরে নেতাদের জিজ্ঞাসা কর: ‘যিরুব্বালের 70 জন পুত্রের শাসন ভাল না একজন লোকের শাসন ভাল? মনে রেখো আমি তোমাদের আত্মীয়।’”
3অবীমেলকের কাকা শিখিমের নেতাদের এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলেন। নেতারা অবীমেলককে অনুসরণ করা স্থির করল। নেতারা বলল, “যতই হোক্, অবীমেলক আমাদের ভাই।” 4তারা তাকে 70 খানা রূপোর খণ্ড দান করল। তারা বাল-বরীতের মন্দির থেকে এইসব রূপো এনেছিল। সেই রূপো দিয়ে অবীমেলক কিছু লোক ভাড়া করলেন। এই লোকগুলো ছিল অপদার্থ, বেপরোয়া ধরণের। অবীমেলক যেখানেই যেতেন তারাও তার সঙ্গে সঙ্গে যেত।
5অবীমেলক অফ্রায় তাঁর পিতার বাড়ীতে গিয়ে ভাইদের হত্যা করলেন। গিদিয়োনের 70 জন পুত্রকে তিনি একসঙ্গে হত্যা করলেন। কিন্তু যিরুব্বালের ছোট ছেলেটি লুকিয়ে ছিল। সে পালিয়ে গেল। তার নাম যোথম।
6তারপর শিখিমের নেতারা আর মিল্লোর লোকরা সব একত্র হয়ে শিখিমে একটি বিরাট গাছের নীচে অবীমেলককে রাজা হিসাবে মেনে নিল।
যোথমের কাহিনী
7যোথম শুনতে পেল যে শিখিমের নেতারা অবীমেলককে রাজা করেছে। তারপর সে গরিষীম পর্বতের মাথায় উঠে গিয়ে চিৎকার করে এই গল্পটি বলতে লাগল:
“শোনো, শিখিমের যত নেতারা শোনো। শোনার পরেই তোমাদের কথা ঈশ্বর শুনবেন।
8“একদা বনের সমস্ত গাছপালা ভাবল জলপাই গাছ হোক্ না তাদের রাজা। সেই মতো তারা জলপাই গাছকে বলল, ‘তুমি আমাদের ওপর রাজত্ব কর।’
9“জলপাই গাছ বলল, ‘দেখো, মানুষ, দেবতা সবাই আমার তেলের জন্য আমাকে প্রশংসা করে। তোমরা কি চাও আমি তেলের প্রস্তুতি বন্ধ করে দিই এবং অন্য গাছদের শাসন করি?’
10“গাছরা তখন ডুমুর গাছকে বলল, ‘হও না তুমি আমাদের রাজা।’
11“ডুমুর গাছটি বলল, ‘আমি কি ডুমুর ও মিষ্ট ফল ফলান বন্ধ করে শুধুই অন্য গাছদের ওপর শাসন করব?’
12“তারপর তারা দ্রাক্ষালতার কাছে গিয়ে বলল, ‘দ্রাক্ষালতা, আমাদের রাজা হও।’
13“দ্রাক্ষালতা বলল, ‘সকলেই আমার রসের গুনে খুশি। সে মানুষই হোক্ অথবা ঈশ্বর। তোমরা কি চাও আমি রসের জোগান বন্ধ করে অন্য গাছদের শাসন করি?’
14“অবশেষে তারা কাঁটা ঝোপঝাড়ে গিয়ে বলল, ‘আমরা তোমাকে রাজা করব।’
15“তখন কাঁটাগাছ তাদের বলল, ‘সত্যিই যদি তোমরা আমাকে তোমাদের রাজা কর, তবে চলে এসো আমার ছায়ায়, আশ্রয় নাও এখানে। তোমরা যদি তা না করো কাঁটাঝোপ থেকে দাউদাউ করে আগুন বেরোবে। এটা লিবানোনের এরস গাছগুলিকে পুড়িয়ে দেবে।’
16“এখন সত্যিই যদি তোমরা মনে প্রাণে অবীমেলককে রাজা করো, তাহলে তাকে নিয়ে সুখে থাকো। আর যদি তোমরা যিরুব্বাল ও তার পরিবারের প্রতি সুবিচার করেছ বলে মনে কর সে তো ভালই। 17কিন্তু একবার ভেবে দেখো, আমার পিতা তোমাদের জন্য কি করেছিলেন। তিনি তোমাদের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। মিদিয়নের হাত থেকে তোমাদের বাঁচানোর জন্য তিনি নিজের জীবন বিপন্ন করেছিলেন। 18কিন্তু আজ তোমরা আমার পিতার পরিবারের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছ। তোমরা তাঁর 70 জন পুত্রকে একসঙ্গে হত্যা করেছ। তোমরা অবীমেলককে তোমাদের রাজা করেছ। তোমরা তাকে রাজা করেছ কারণ সে তোমাদের আত্মীয়। কিন্তু সে আমার পিতার ক্রীতদাসীর পুত্র, এছাড়া আর কিছু নয়। 19তাই বলছি যিরুব্বাল ও তাঁর পরিবারের প্রতি সত্যিই যদি তোমরা যথার্থ ব্যবহার করে থাকো, তাহলে অবীমেলককে রাজা হিসেবে পেয়ে তোমরা সুখী হও। সেও তোমাদের নিয়ে সুখী হোক্। 20কিন্তু যদি তোমরা তার সঙ্গে যথার্থ ব্যবহার না করে থাকো তাহলে হে শিখিমের নেতারা, মিল্লোর লোকরা তোমাদের ধ্বংস করবে। সেই সঙ্গে অবীমেলক নিজেও ধ্বংস হবে।”
21এই বলে যোথম বের নগরে পালিয়ে গেল। সেখানে সে থাকতে লাগল, কারণ সে তার ভাই অবীমেলককে ভয় করত।
শিখিমের সঙ্গে অবীমেলকের যুদ্ধ
22অবীমেলক তিন বছর ইস্রায়েলীয়দের শাসন করেছিলেন। 23 অবীমেলক যিরুব্বালের 70 জন পুত্রকে হত্যা করেছিলেন। তারা সকলেই ছিল অবীমেলকের নিজের ভাই। শিখিমের নেতারা তার এই অন্যায় কাজ সমর্থণ করেছিল। সেইজন্য ঈশ্বর অবীমেলক ও শিখিমের নেতাদের মধ্যে বিবাদ বাধিয়ে দিলেন। শিখিমের নেতারা কিভাবে অবীমেলককে জখম করা যায় তার মতলব করছিল। 25তারা আর অবীমেলককে চাইছিল না। পাহাড়ের মাথায় তারা লোকদের দাঁড় করিয়ে দিল। যারা ঐ পথ দিয়ে যেত তাদের ওপর চড়াও হয়ে ঐসব লোক সব কিছু কেড়ে নিত। অবীমেলক ব্যাপারটি বুঝতে পারলেন।
26এরদের পুত্র গাল তার ভাইদের সঙ্গে নিয়ে শিখিম শহরে উঠে গেলো। সেখানকার নেতারা ঠিক করলো, তারা গালকেই বিশ্বাস করবে এবং মেনে নেবে।
27একদিন শিখিমের লোকরা ক্ষেত থেকে দ্রাক্ষা তুলতে গেল। দ্রাক্ষা নিংড়ে তারা দ্রাক্ষারস তৈরি করল। তারপর তারা তাদের দেবতার মন্দিরে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করল। সেখানে তারা দ্রাক্ষারস পান করে অবীমেলককে খুব গালমন্দ করতে লাগল।
28এবদের পুত্র গাল বলল, “আমরা সবাই শিখিমের লোক। আমরা কেন অবীমেলককে মানব? নিজেকে সে কি মনে করে? অবীমেলক যিরুব্বালের পুত্রদের মধ্যে একজন? আর সে সবূলকে করেছে তার মন্ত্রী, ঠিক কিনা? আমরা অবীমেলককে মানছি না, মানব না। আমরা আমাদের নিজেদের লোককেই মানবো। আমরা শিখিমের পিতা হমোরের লোকদের মানব। কারণ তারা আমাদের নিজের লোক। 29তোমরা যদি আমাকে সেনাপতি বলে স্বীকার করো তাহলে আমি অবীমেলককে পরাজিত করব। আমি ওকে বলব, ‘সৈন্য সাজাও এসো, যুদ্ধ করো।’”
30শিখিমের শাসনকর্তা হল সবূল। এবদের পুত্র গালের কথা সবূল সব শুনল। শুনে সে খুব রেগে গেলো। 31সে অরুমা শহরে অবীমেলকের কাছে বার্তাবাহক পাঠাল। বার্তাটি ছিল এরকম:
“এবদের পুত্র গাল তার ভাইদের নিয়ে শিখিম শহরে চলে এসেছে। তারা আপনার সঙ্গে একটা ঝগড়া বাধাতে চায়। গাল সারা শহরকে আপনার বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলেছে। 32তাই আজ রাত্রেই আপনি অবশ্যই আপনার লোকদের নিয়ে শহরের বাইরে মাঠের মধ্যে লুকিয়ে থাকবেন। 33তারপর সকালে রোদ উঠলেই শহর আক্রমণ করবেন। গাল তার দলবল নিয়ে আপনার সঙ্গে লড়াই করতে এলে যা করবার করবেন।”
34একথা শোনার পর অবীমেলক তাঁর সৈন্যদলসহ রাত্রে উঠে শহরের দিকে রওনা হলেন। সৈন্যরা চারটে দলে ভাগ হয়ে গেল। তারা শিখিম শহরের কাছাকাছি একটি জায়গায় লুকিয়ে থাকল। 35এবদের পুত্র গাল বেরিয়ে গিয়ে শিখিম শহরের ফটকের মুখে দাঁড়িয়ে রইল। গাল যখন সেখানে দাঁড়িয়ে তখন অবীমেলক ও তাঁর সৈন্যদল লুকোনোর জায়গা থেকে বেরিয়ে এল।
36গাল ওদের দেখল। সে সবুলকে বলল, “তাকিয়ে দেখ, লোকরা পর্বত থেকে নেমে আসছে।”
কিন্তু সবূল বলল, “তুমি শুধু পর্বতের ছায়াই দেখছ। ছায়াগুলোকে ঠিক মানুষের মত দেখতে।”
37কিন্তু গাল আবার বলল, “তাকিয়ে দেখ, কিছু লোক ওখানে থেকে নাভেল দেশে নেমে আসছে। আমি যাদুকর বৃক্ষের ওপরে কার যেন মাথা দেখলাম।” 38সবূল গালকে বলল, “তুমি কেন আগের মত হামবড়াই করছ না? তুমি বলেছিলে, ‘অবীমেলক কে? কেন আমরা তাকে মানব?’ তুমি এই মানুষগুলিকে উপহাস করেছিলে। এখন যাও, ওদের সঙ্গে লড়াই করো।”
39গাল শিখিমের নেতাদের নিয়ে অবীমেলকের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গেল। 40অবীমেলক তাঁর লোকজন নিয়ে গাল ও তার সেনাবাহিনীকে তাড়া করলেন। গালের লোকরা শিখিম শহরের ফটকের দিকে পালিয়ে গেল। পালিয়ে যাবার সময় তাদের মধ্যে অনেকে নিহত হল।
41তারপর অবীমেলক অরূমা শহরে ফিরে এলেন। গাল ও তার ভাইদের সবূল শিখিম শহর থেকে তাড়িয়ে দিলেন।
42পরদিন শিখিমের লোকরা মাঠে কাজ করতে গেল। অবীমেলক তা দেখলেন। 43তিনি তাঁর লোকদের তিনটি দলে ভাগ করলেন। শিখিমের অধিবাসীদের তিনি হঠাৎ আক্রমণ করতে চেয়েছিলেন। সেই জন্য তিনি তাঁর লোকজনকে মাঠে লুকিয়ে রাখলেন। যখন তিনি দেখলেন লোকরা শহর থেকে বেরিয়ে পড়ছে, তিনি তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। 44অবীমেলক সদলবলে দৌড়ে গিয়ে শিখিমের ফটকের কাছে একটা জায়গায় দাঁড়ালেন। অন্য দু-দলের লোকরা মাঠের দিকে ছুটে গিয়ে লোকদের মেরে ফেলল। 45সারাদিন ধরে অবীমেলক শিখিমের সঙ্গে লড়াই করলেন। অবীমেলক শিখিম দখল করলেন আর সেখানকার লোকদের হত্যা করলেন। তারপর তিনি শহরটিকে তছনছ করে তার ওপর লবণ ছিটিয়ে দিলেন।
46শিখিমের দুর্গে কিছু লোক বাস করত। যখন তারা শিখিমের ঘটনা শুনল তখন তারা এল-বরীত্ দেবতার মন্দিরের মধ্যে একটি মিনারে মিলিত হল।
47অবীমেলক শিখিম দুর্গের নেতাদের জড়ো হবার খবর জানতে পারলেন। 48তাই তিনি তাঁর লোকদের নিয়ে সলমোন পর্বতে উঠে এলেন। একটা কুড়ুল দিয়ে অবীমেলক গাছ থেকে কয়েকটা ডাল কেটে নিলেন। ডালগুলো কাঁধে নিয়ে সঙ্গের লোকদের অবীমেলক বললেন, “আমি যা করলাম তোমরা তা চট্পট্ করে ফেল।” 49এই কথা শুনে তাঁর দেখাদেখি তারাও ডালগুলো কেটে ফেলল। তারপর এল্-বরীৎ মন্দিরের সবচেয়ে নিরাপদ ঘরের গায়ে সেগুলো তারা জড়ো করল। আগুন লাগিয়ে দিল ডালগুলোয়। সেখানে যারা ছিল তাদের পুড়িয়ে মারল। এইভাবে শিখিম দুর্গের কাছে বসবাসকারী প্রায় 1000 নর-নারী মারা গেল।
অবীমেলক মারা গেলেন
50তারপর সদলবলে অবীমেলক তেবস শহরে গেলেন। তারা শহরটি দখল করল। 51শহরের মধ্যে একটা বেশ মজবুত মিনার ছিল। শহরের লোকরা আর নেতারা পালিয়ে গিয়ে সেখানে আশ্রয় নিল। মিনারের দরজায় তালাচাবি দিয়ে তারা ছাদে উঠে গেল। 52অবীমেলক দুর্গ আক্রমণ করলেন এবং দুর্গটা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেবার জন্য দুর্গের দরজার কাছে গেলেন। 53কিন্তু তিনি যখন দরজার গোড়ায় দাঁড়িয়ে, সেই সময় দুর্গের ছাদ থেকে একজন নারী তাঁর মাথা লক্ষ্য করে একটা পেষাই করবার পাথরের চাঁই ফেলে দিল। অবীমেলকের মাথার খুলি সেই পাথরের ঘায়ে গুঁড়িয়ে গেল। 54সেই মূহুর্তে অবীমেলক তাঁর ভৃত্যকে বললেন, “তরবারিটা বার করে আমাকে মেরে ফেল। তোমাকেই এ কাজটা করতে হবে। লোক যেন না বলে, ‘একটা স্ত্রীলোক আমাকে মেরে ফেলেছে।’” তাই হল। ভৃত্যটি তাঁকে তরবারির কোপে মেরে ফেলল। অবীমেলক মারা গেলন। 55অবীমেলক মারা গেছে দেখে ইস্রায়েলের লোকরা সকলে দেশে ফিরে গেল।
56অবীমেলক তাঁর অসৎ কর্মের জন্য ঈশ্বর এভাবেই শাস্তি দিলেন। তাঁর 70 জন ভাইকে হত্যা করে অবীমেলক তাঁর পিতার বিরুদ্ধে পাপ করেছিলেন। 57ঈশ্বর শিখিম শহরের লোকদেরও অন্যায় কর্মের জন্য শাস্তি দিয়েছিলেন। এভাবেই যোথমের কথা ফলে গিয়েছিল। (যোথম যিরুব্বালের কনিষ্ঠ পুত্র। আর যিরুব্বালই ছিল গিদিয়োন।)
10বিচারক তোলয়
1অবীমেলকের মৃত্যুর পর ইস্রায়েলীয়দের বাঁচানোর জন্য ঈশ্বর আর একজন বিচারককে পাঠালেন। তার নাম তোলয়। তার পিতার নাম পূয়া। পূয়ার পিতার নাম দোদয়। তোলয় ইষাখর পরিবারগোষ্ঠী থেকে এসেছিল। থাকত শামীর শহরে। শহরটা ইফ্রয়িমের পাহাড়ের দেশে অবস্থিত। 2তোলয় 23 বছর ধরে ইস্রায়েলবাসীদের বিচারক ছিল। মৃত্যুর পর তাকে শামীর শহরে কবর দেওয়া হয়েছিল।
বিচারক যায়ীর
3তোলয়ের মৃত্যুর পর ঈশ্বর যায়ীরকে বিচারক করে পাঠালেন। যায়ীর গিলিয়দে থাকতো। 22 বছর যায়ীর ইস্রায়েলীয়দের বিচারক ছিল। 4তার 30 জন পুত্র ছিল। তারা 30টি গাধায় চড়ে বেড়াত। তারা গিলিয়দের 30টি শহরের দেখাশোনা করত। এমনকি আজও সবাই এই শহরগুলোকে যায়ীরের শহর বলেই জানে। 5যায়ীর মারা গেলে তাকে কামোন শহরে কবর দেওয়া হল।
অম্মোনীয়রা ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল
6প্রভুর দৃষ্টিতে যা মন্দ সেই পাপকর্মে আবার ইস্রায়েলবাসীরা রত হল। তারা বাল আর অষ্টারোতের মূর্ত্তির পূজা করতে লাগল। সেই সঙ্গে তারা অরাম, সীদোন, মোয়াব, অম্মোন এবং পলেষ্টীয় দেবতাদের পূজা করত। ইস্রায়েল তাদের প্রকৃত প্রভুকে ত্যাগ করল আর তাঁর সেবা বন্ধ করল।
7তাই প্রভু ইস্রায়েলীয়দের ওপর ক্রুদ্ধ হলেন। তিনি পলেষ্টীয় ও অম্মোনদের ইস্রায়েলবাসীদের পরাজিত করবার জন্য অনুমতি দিলেন। 8ঐ বছরেই যর্দন নদীর পূর্বদিকে গিলিয়দ অঞ্চলে যেসব ইস্রায়েলীয় থাকত তাদের ওরা হারিয়ে দিল। এই অঞ্চলেই ছিল ইমোরীয়দের বাস। এইসব ইস্রায়েলবাসীরা 18 বছর দুঃখ কষ্ট ভোগ করেছিল। 9অম্মোনরা তারপর যর্দন পেরিয়ে যিহূদা, বিন্যামীন আর ইফ্রয়িমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেল। অম্মোনদের উৎপীড়নের কারণে ইস্রায়েলীয়দের প্রভূত দুঃখ কষ্ট ভোগ করতে হয়েছিল।
10এখন ইস্রায়েলীয়রা সাহায্যের জন্য প্রভুকে ডাকতে লাগল। তারা বলল, “হে ঈশ্বর, আমরা আপনার বিরুদ্ধে পাপ করেছি। আমরা আমাদের প্রভুকে ত্যাগ করে বালের মূর্ত্তি পূজা করেছি।”
11প্রভু তাদের বললেন, “যখন মিশরীয়, ইমোরীয়, অম্মোনীয় এবং পলেষ্টীয় লোকরা তোমাদের মেরে ফেলছিল, তোমরা আমার কাছে এসে কেঁদেছিলে। আর আমি তোমাদের তাদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলাম। 12তারপর সীদোনীয়, অমালেকীয় আর মায়োনীয়রা যখন তোমাদের আক্রমণ করল, তখনও তোমাদের আমি বাঁচিয়েছি। 13কিন্তু তারপর তোমরা আমাকে ছেড়ে অন্য দেবতাদের পূজায় মেতেছিলে। তাই এবার আর তোমাদের কথা শুনব না। 14যাও তাদের কাছেই গিয়ে সাহায্য চাও। তোমাদের বিপদে ঐসব দেবতাই এবার তোমাদের রক্ষা করুক।”
15কিন্তু ইস্রায়েলবাসীরা প্রভুকে বলল, “আমরা পাপ করেছি। আপনি আমাদের প্রতি যা ইচ্ছা হয় করুন। কিন্তু প্রভু দয়া করুন, শুধুমাত্র আজকের জন্য আমাদের রক্ষা করুন।” 16এই বলে তারা সমস্ত মূর্ত্তি ছুঁড়ে ফেলে দিল। আবার তারা প্রভু ঈশ্বরের উপাসনা করতে শুরু করল। অগত্যা প্রভু তাদের কষ্ট দেখলেন ও বেদনাবোধ করলেন।
যিপ্তহ নেতা মনোনীত হল
17অম্মোনরা যুদ্ধের জন্য তৈরী হল। তাদের শিবির ছিল গিলিয়দে। ইস্রায়েলবাসীরাও সব এক জায়গায় জড়ো হল। তাদের শিবির হল মিস্পা শহরে। 18গিলিয়দের নেতারা বলল, “অম্মোনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যে আমাদের নেতৃত্ব দেবে সেই হবে গিলিয়দবাসীদের প্রধান নেতা।”
111গিলিয়দ পরিবারগোষ্ঠীর একজন হচ্ছে যিপ্তহ। সে খুব শক্তিশালী যোদ্ধা। কিন্তু সে গণিকার পুত্র। তার পিতার নাম ছিল গিলিয়দ। 2গিলিয়দের নিজের স্ত্রীর অনেকগুলো পুত্র। পুত্ররা বড় হয়ে যিপ্তহকে দেখতে পারত না। তারা তাকে শহর ছাড়া করল। তারা যিপ্তহকে বলল, “তুমি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির এক কানাকড়িও পাবে না, কারণ তুমি আমাদের মায়ের পেটের ভাই নও। তুমি অন্য নারীর সন্তান।” 3ভাইদের কথায় যিপ্তহ শহর ছেড়ে চলে গেল। সে টোব দেশে বাস করত। টোবে কিছু শক্তিশালী লোক যিপ্তহকে অনুসরণ করতে লাগল।
4কিছুদিন পরে অম্মোনরা ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ চালাতে লাগল। 5গিলিয়দের নেতারা যিপ্তহের কাছে গেল তাকে ফিরে আসার জন্য অনুনয় করতে। তারা যিপ্তহকে টোব ছেড়ে গিলিয়দে ফিরে আসতে বলল।
6নেতারা যিপ্তহকে বলল, “তুমি আমাদের কাছে এসে আমাদের নেতা হও। তোমার নেতৃত্বে আমরা অম্মোনদের সঙ্গে লড়াই করবো।”
7যিপ্তহ তাদের বলল, “তোমরাই তো আমাকে ভিটেছাড়া করেছিলে। তোমরা তো আমায় ঘৃণা কর। তাহলে এখন কেন আবার বিপদে পড়েছো বলে আমার কাছে এসেছ?”
8তারা বলল, “এই কারণেই আমরা তোমার কাছে এসেছি। দয়া করো। আমাদের মধ্যে তুমি এসো, অম্মোনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাও। তুমিই গিলিয়দের অধিবাসীদের সেনাপতি হবে।”
9যিপ্তহ বলল, “বেশ, যদি তোমরা চাও যে আমি গিলিয়দে ফিরে আসি এবং অম্মোনীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করি ভালো কথা। প্রভুর সহায়তায় যদি আমি জিতি তাহলে আমিই হবো তোমাদের নতুন নেতা।”
10গিলিয়দের নেতারা বলল, “আমরা যে সব কথা বলেছি প্রভু সবই শুনছেন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, তুমি যা করতে বলবে আমরা তাই করব।”
11অগত্যা যিপ্তহ তাদের সঙ্গে চলে গেল। তারা যিপ্তহকে তাদের নেতা ও সেনাপতি করে দিলে মিস্পা শহরে প্রভুর সামনে যিপ্তহ আর একবার তার কথাগুলো শুনিয়ে দিল।
অম্মোনের রাজার কাছে যিপ্তহর বার্তা
12অম্মোনদের রাজার কাছে যিপ্তহ কয়েকজন বার্তাবাহক পাঠাল। বার্তাবাহকরা রাজার কাছে এই বার্তা শোনাল, “অম্মোনবাসী আর ইস্রায়েলীয়দের মধ্যে সমস্যাটা কি? কেন তোমরা আমাদের দেশে যুদ্ধ করতে এসেছ?”
13রাজা তাদের বলল, “ইস্রায়েলের সঙ্গে আমাদের লড়াই জারি রয়েছে কারণ ওরা মিশর থেকে চলে আসার সময় আমাদের সমস্ত জমিজায়গা কেড়ে নিয়েছে। অর্ণোন নদী থেকে যব্বোক নদী এবং যর্দন নদী পর্যন্ত আমাদের যত জমি আছে, সব ওরা নিয়ে নিয়েছে। এখন যাও ইস্রায়েলীয়দের গিয়ে বলো, আমাদের জায়গাগুলো যেন কোনো ঝামেলা না করে ফিরিয়ে দেয়।”
14দূতরা যিপ্তহর কাছে এই কথা শোনাল। তারপর যিপ্তহ আবার তাদের অম্মোনদের রাজার কাছে পাঠাল। 15তারা যে বার্তা নিয়ে গেল তা এরকম:
“যিপ্তহ এই কথা বলেন: ইস্রায়েল মোয়াব বা অম্মোনদের কোন জায়গা নেয়নি। 16ইস্রায়েলীয়রা যখন মিশর থেকে চলে আসে তখন তারা মরুভূমিতে ছিল। সেখান থেকে গেল লোহিত সাগরে। তারপর কাদেশে। 17ইস্রায়েলীয়রা ইদোমের রাজার কাছে দূত পাঠাল। দূতরা সাহায্য চাইল। তারা বলল, ‘ইস্রায়েলীয়দের তোমাদের দেশের ওপর দিয়ে যেতে দাও।’ কিন্তু ইদোমের রাজা আমাদের যেতে দিল না। মোয়াবের রাজার কাছেও আমরা একই রকম বার্তা পাঠালাম। সেও তার দেশের ওপর দিয়ে আমাদের যেতে দিল না। অগত্যা ইস্রায়েলীয়রা কাদেশেই থেকে গেল।
18“তারপর ইস্রায়েলীয়রা মরুভূমি দিয়ে আর ইদোম ও মোয়াব দেশের পাশ দিয়ে যেতে লাগল। তারা মোয়াবের পূর্বদিকে গিয়ে অর্ণোন নদীর ওপারে তাঁবু গাড়ল। মোয়াবের সীমানা তারা পেরোল না। মোয়াবের ধারেই অর্ণোন নদী।
19“তারপর ইমোরীয় রাজা সীহোনের কাছে ইস্রায়েলীয়রা দূত পাঠাল। সীহোন ছিল হিষ্বোনের রাজা। দূতেরা সীহোনকে বলল, ‘তোমাদের দেশের মধ্যে দিয়ে ইস্রায়েলীয়দের যেতে দাও। আমরা আমাদের দেশে যেতে চাই।’ 20কিন্তু ইমোরীয়দের রাজা সীহোন ইস্রায়েলীয়দের ঢুকতে দিল না। সীহোন লোকদের নিয়ে যহসে তাঁবু খাটাল। তারপর তারা ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করল। 21কিন্তু প্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর ইস্রায়েলীয়দের সহায় ছিলেন, তাই সীহোন ও তার সৈন্যরা পরাজিত হল। তাই ইমোরীয়দের দেশ হল ইস্রায়েলীয়দের সম্পত্তি। 22তারা ইমোরীয়দের সব জমিজায়গা পেয়ে গেল। দেশটি অর্ণোন নদী থেকে বিস্তৃত হল। তাছাড়া মরুভূমি থেকে যর্দন নদী পর্যন্ত দেশটা বড় হয়ে গেছে।
23“প্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর নিজে ইমোরীয়দের তাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। সেই দেশ তিনি ইস্রায়েলীয়দের হাতে তুলে দিলেন। তোমরা কি মনে করো ইস্রায়েলীয়দের তোমরা দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে পারবে? 24অবশ্যই তোমাদের দেবতা কমোশ তোমাদের জন্যে যে দেশ দিয়েছেন সেখানে তোমরা থাকতে পারো। এবং আমরাও আমাদের প্রভু ঈশ্বরের দেওয়া ভূখণ্ডে থাকব। 25তুমি কি সিপ্পোরের পুত্র বালাকের চেয়ে উৎকৃষ্ট? বালাক ছিল মোয়াবের রাজা। সে কি ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে তর্ক করেছিল? সে কি বস্তুত তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল? 26ইস্রায়েলীয়রা 300 বছর ধরে হিষ্বনে আর সেই শহরের লাগোয়া কয়েকটি জায়গায় বাস করেছে। অরোয়েরে এবং তার পাশের শহরেও 300 বছর ধরে বাস করেছে। 300 বছর ধরে তারা বাস করেছে অর্ণোন নদীর ধারে সমস্ত শহরে। এতদিন তোমরা কেন এইসব শহর দখল করো নি? 27ইস্রায়েলীয়রা তোমাদের কাছে কোনো অপরাধ করে নি। অথচ তোমরা তাদের ওপর ঘোর অন্যায় করেছ। প্রভুই পরম বিচারক। স্বয়ং তিনিই বিচার করুন, ইস্রায়েল আর অম্মোনদের মধ্যে কারা ঠিক কাজ করেছে।”
28অম্মোনের রাজা যিপ্তহর এইসব কথা শুনতে চাইল না।
যিপ্তহের প্রতিশ্রুতি
29তখন যিপ্তহর ওপর প্রভুর আত্মা ভর করলেন। গিলিয়দ এবং মনঃশি প্রদেশের ভেতর দিয়ে যিপ্তহ হেঁটে গেল। সে গিলিয়দের মিস্পা শহরে পৌঁছাল। সেখান থেকে সে অম্মোনদের দেশে গেল।
30প্রভুর কাছে যিপ্তহ একটি প্রতিশ্রুতি করেছিল। সে বলেছিল, “যদি অম্মোনদের হারিয়ে দেবার কাজে তুমি আমাদের সহায় হও, 31তবে যখন আমি বিজয়ী হয়ে বাড়ী ফিরব তখন আমাকে অভিনন্দন জানাতে যে আমার বাড়ি থেকে প্রথমে বেরিয়ে আসবে, প্রভুকে আমি তা হোমবলি রূপে উৎসর্গ করব।”
32যিপ্তহ অম্মোনদের দেশে গেল। তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করল; প্রভুর কৃপায় সে জয়লাভ করল। 33অরোয়ের শহর থেকে মিন্নীত শহর পর্যন্ত যত অম্মোন ছিল যিপ্তহ সকলকে পরাজিত করল। সে 20টি শহর জয় করল। তারপর সে আবেল ও করামীম শহরের অম্মোনদের পরাজিত করল। এভাবে ইস্রায়েলীয়রা অম্মোনদের পরাজিত করল। অম্মোনদের মস্ত বড় পরাজয় হল।
34যিপ্তহ মিস্পায় ফিরে এলো। বাড়ি পৌঁছতেই তাকে দেখবার জন্য তার মেয়ে বেরিয়ে এল। মেয়েটি তবলা বাজিয়ে নাচছিল। সে ছিল তার একমাত্র মেয়ে। যিপ্তহ তাকে খুব ভালবাসত। যিপ্তহের আর কোন ছেলেমেয়ে ছিল না। 35যিপ্তহ যখন দেখল তার মেয়েই বাড়ি থেকে সবচেয়ে আগে বেরিয়ে এসেছে তখন সে শোকে নিজের কাপড় ছিঁড়ে ফেলল। সে বলল, “হায়, ওরে আমার মেয়ে। তুই আমার একি সর্বনাশ করলি! তুই আমায় কি দুঃখ দিলি জানিস না। আমি যে প্রভুর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সে তো ফেলতে পারব না!”
36মেয়েটি যিপ্তহকে বলল, “পিতা, প্রভুর কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছ তা তোমায় রাখতেই হবে। যা বলেছ তাই করো। সবচেয়ে বড় কথা প্রভুর কৃপায় তুমি শত্রু অম্মোনদের পরাজিত করেছ।”
37তারপর যিপ্তহের মেয়ে তার পিতাকে বলল, “কিন্তু তার আগে আমার জন্য একটা কাজ করো। দু-মাস আমায় একলা থাকতে দাও। আমি পাহাড়ে পর্বতে যাব। আমি বিয়ে করব না, ছেলেমেয়েও হবে না। অনুমতি দাও আমি সঙ্গীদের নিয়ে যাই। সকলে মিলে আমরা কাঁদব।”
38যিপ্তহ বলল, “বেশ তাই হোক্।” যিপ্তহ মেয়েকে দু-মাসের জন্য পাঠিয়ে দিল। সঙ্গীদের নিয়ে মেয়ে পাহাড় পর্বতে কাটাল। সে বিয়ে করবে না আর ছেলেমেয়ে হবে না এই দুঃখে সঙ্গীরা কেঁদে ভাসাল।
39দু মাস কেটে গেলে মেয়ে পিতার কাছে ফিরে এল। যিপ্তহ প্রভুর কাছে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করল। তার মেয়ে কারও সঙ্গে কখনই কোন দৈহিক সম্পর্ক রাখে নি। আর এই ঘটনা থেকেই ইস্রায়েলীয়দের একটা রীতি চালু হল। 40প্রতি বছর ইস্রায়েলীয়দের মেয়েরা যিপ্তহর মেয়েটিকে স্মরণ করে চারদিন ধরে কাঁদত।
12যিপ্তহ ও ইফ্রয়িম
1ইফ্রয়িম পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা সৈন্যদের ডাক দিল। তারপর নদী পেরিয়ে তারা সকলে সাফোন শহরে গেল। তারা যিপ্তহকে বলল, “কেন তুমি অম্মোনদের সঙ্গে লড়াইয়ে আমাদের সাহায্য চাও নি? আমরা তোমায় পুড়িয়ে মারব। তোমার বাড়িও জ্বালিয়ে দেব।”
2যিপ্তহ জবাব দিল, “অম্মোনরা আমাদের নানা সমস্যায় ফেলেছিল। তাই আমরা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি। আমি তো তোমাদের সাহায্য চেয়েছিলাম। কিন্তু কেউই আমায় সাহায্য করতে এগিয়ে আসে নি। 3যখন দেখলাম তোমরা কেউ কোন সাহায্য করবে না, তখন আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পেরিয়ে অম্মোনদের সঙ্গে যুদ্ধে নেমে পড়লাম। ওদের হারাতে প্রভু আমায় সাহায্য করলেন। তাহলে আজ কেন তোমরা আমার সঙ্গে যুদ্ধ করতে এসেছ?”
4তারপর যিপ্তহ গিলিয়দের সব লোকদের ডাকল। তারা ইফ্রয়িম পরিবারগোষ্ঠীর লোকদের সঙ্গে যুদ্ধ করল। কারণ ইফ্রয়িমরা গিলিয়দের লোকদের অপমান করেছিল। তারা বলেছিল, “তোমরা গিলিয়দের লোকরা শুধুমাত্র ইফ্রয়িম গোষ্ঠীর থেকে বেঁচে যাওয়া লোক, এছাড়া তোমাদের কোনো পরিচয় নেই। তোমাদের থাকার মতো কোন জমিজায়গা নেই। তোমরা কিছুটা ইফ্রয়িমের, কিছুটা মনঃশির।” গিলিয়দের লোকরা ইফ্রয়িমের লোকদের হারিয়ে দিল।
5যে যে জায়গা দিয়ে লোকরা যর্দন নদী অতিক্রম করত গিলিয়দের লোকরা সেইসব জায়গা দখল করে নিল। এসব জায়গা দিয়ে ইফ্রয়িমের দেশে যাওয়া যেত। যখনই ইফ্রয়িমের কোন বেঁচে থাকা লোক বলত, “আমায় নদী পার হতে দাও,” গিলিয়দের লোক জিজ্ঞাসা করত, “তুমি কি একজন ইফ্রয়িম?” যদি সে বলত, “না,” 6তাহলে তারা বলত, “আচ্ছা, তবে বলো তো ‘শিব্বোলেৎ।’” ইফ্রয়িমের লোকরা শব্দটা ঠিকমত উচ্চারণ করতে পারত না। তারা উচ্চারণ করত “সিব্বোলেৎ।” তাই তাদের মধ্যে কোন লোক যদি বলত, “সিব্বোলেৎ” তাহলে গিলিয়দের লোকরা বুঝতে পারতো সে একজন ইফ্রয়িম। সঙ্গে সঙ্গে তারা তাকে ঘাট পারাপারের জায়গায় মেরে ফেলতো। এইভাবে তারা 42,000 ইফ্রয়িমের লোককে হত্যা করেছিল।
7ছ’বছর যিপ্তহ ইস্রায়েলীয়দের বিচারক ছিল। তারপর সে মারা গেল। গিলিয়দে তার শহরে তাকে ওরা কবর দিল।
বিচারক ইবসন
8যিপ্তহর মৃত্যুর পর ইস্রায়েলবাসীদের বিচারক হল ইব্সন। তার বাড়ি বৈৎলেহেম শহরে। 9তার 30 জন পুত্র আর 30 জন কন্যা ছিল। 30জন কন্যাকে ইব্সন বলল যারা আত্মীয় নয় এমন পুরুষদেরই বিয়ে করতে। তার 30জন পুত্রও বিয়ে করল অনাত্মীয় 30জন কন্যাকে। ইব্সন সাত বছর ধরে ইস্রায়েলের বিচারক ছিল। 10ইবসন মারা গেলে তাকে বৈৎলেহমে কবর দেওয়া হল।
বিচারক এলোন
11ইব্সনের পর বিচারক হল এলোন। সবূলূন পরিবারগোষ্ঠীর লোক। সে দশ বছর ইস্রায়েলীয়দের বিচারক ছিল। 12তারপর তার মৃত্যু হল। তাকে সবূলূন দেশের অয়ালোন শহরে কবর দেওয়া হয়েছিল।
বিচারক অব্দোন
13এলোনের পর, হিল্লেলের পুত্র অব্দোন ইস্রায়েলীয়দের বিচারক হল। অব্দোন পিরিয়াথোন শহর থেকে এসেছিল। 14অব্দোনের 40 জন পুত্র আর 30 জন পৌত্র ছিল। তারা 70টা গাধার ওপর চড়ে বেড়াত। অব্দোন আট বছর বিচারক ছিল। 15তারপর সে মারা গেল। তাকে পিরিয়াথোন শহরে কবর দেওয়া হল। শহরটি ইফ্রয়িমদের দেশে অবস্থিত। অমালেকীয়রা এই পাহাড়ী দেশে বাস করত।
13শিম্শোনের জন্ম
1আবার ইস্রায়েলীয়রা পাপ কাজে মেতে উঠল। প্রভু তাদের লক্ষ্য করলেন। তাই প্রভু পলেষ্টীয়দের উপর 40 বছর ধরে ইস্রায়েলীয়দের শাসন করার ভার দিলেন।
2সরা শহরে মানোহ নামে একজন লোক ছিল। সে ছিল দান পরিবারগোষ্ঠীর লোক। মানোহর স্ত্রী ছিল নিঃসন্তান। 3একদিন প্রভুর এক দূত তার স্ত্রীর কাছে দেখা দিয়ে বলল, “তুমি বন্ধ্যা হয়ে রয়েছ। কিন্তু তুমি গর্ভবতী হবে, তোমার সন্তান হবে। 4দ্রাক্ষারস বা কোন কড়া পানীয় পান করো না। অশুচি কোন খাদ্য খাবে না। 5কারণ তুমি গর্ভবতী হবে এবং একটি পুত্রের জন্ম দেবে। সেই পুত্রকে ঈশ্বরের কাছে একটা বিশেষ উপায়ে উৎসর্গ করা হবে। উপায়টা হচ্ছে, সে হবে নাসরতীয়। তাই কখনও তার চুল কাটবে না। সে জন্মাবার আগে থেকেই ঈশ্বরের একজন বিশেষ ব্যক্তি হবে। সে-ই পলেষ্টীয়দের হাত থেকে ইস্রায়েলীয়দের রক্ষা করবে।”
6তখন সেই স্ত্রী তার স্বামীর কাছে গিয়ে সব কিছু বলল। সে বলল, “ঈশ্বরের কাছ থেকে একজন আমার কাছে এসেছিল। তাকে দেখতে ঈশ্বরের এক দূতের মতো। আমি বেশ ভয় পেয়েছিলাম। এমনকি আমি তাকে জিজ্ঞাসাও করি নি সে কোথা থেকে এসেছে। সে তার নাম কিছুই বলল না। 7সে শুধু এটুকুই বলল, ‘তুমি গর্ভবতী হবে। তোমার পুত্র হবে। দ্রাক্ষারস বা কোন ঝাঁজাল কড়া পানীয় পান করবে না। কোন অশুদ্ধ খাবার খাবে না। কারণ তোমার সেই সন্তানকে ঈশ্বরের কাছে কোন বিশেষ পদ্ধতিতে উৎসর্গ করা হবে। সে জন্মাবার আগে থেকেই ঈশ্বরের একজন বিশেষ ব্যক্তি হবে এবং আমৃত্যু সে তাই থাকবে।’”
8তাই শুনে মানোহ প্রভুর কাছে প্রার্থনা করল। সে বলল, “হে প্রভু, দয়া করে আপনি ঈশ্বরের সেই ব্যক্তিকে আবার আমাদের কাছে পাঠান। যে শিশু অচিরেই জন্মাবে, তাকে আমরা কিভাবে গড়ে তুলব বলে দিন।”
9ঈশ্বর মানোহর প্রার্থনা শুনলেন। ঈশ্বরের দূত আবার তার স্ত্রীকে দেখা দিলেন। সে তখন মাঠের মধ্যে একা বসেছিল। মানোহ তার সঙ্গে ছিল না। 10সে ছুটে স্বামীর কাছে গিয়ে বলল, “সেই ব্যক্তিটি যে আগে একবার আমার কাছে এসেছিল, আবার এসেছে!”
11মানোহ স্ত্রীর সঙ্গে তার কাছে এল। সে জিজ্ঞাসা করল, “আপনিই কি সেই, যিনি এর আগে আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন?”
প্রভুর সে দূত বললেন, “হ্যাঁ, আমিই।”
12মানোহ বলল, “আশা করি যা বলেছেন তাই হবে। এবার বলুন ছেলেটি কেমনভাবে জীবন কাটাবে? সে কি করবে?”
13প্রভুর দূত মানোহকে বলল, “আমি যা-যা করতে বলেছি তোমার স্ত্রীকে সে সব অবশ্যই করতে হবে। 14যে সব জিনিস দ্রাক্ষালতায় জন্মায়, সে সব যেন সে না খায়। কোন দ্রাক্ষারস বা চড়া ধরণের কোন পানীয় যেন সে কিছুতেই না পান করে। কোন অশুচি খাবার সে কোন মতেই খাবে না। ঠিক যা যা আদেশ দিয়েছি সেই রকমই কাজ যেন সে করে।”
15তখন মানোহ প্রভুর দূতকে বলল, “দয়া করে আপনি একটু বসুন। আমরা আপনাকে কচি পাঁঠার মাংস রান্না করে খাওয়াব।”
16প্রভুর দূত বলল, “তোমরা আমাকে যেতে না দিলেও আমি তোমাদের সঙ্গে খাবো না। তবে একান্তই যদি কিছু করতে চাও তাহলে প্রভুর উদ্দেশ্যে হোমবলি উৎসর্গ করো।” (মানোহ বুঝতে পারে নি যে লোকটি সত্যিই প্রভুর দূত।)
17মানোহ প্রভুর দূতকে জিজ্ঞাসা করল, “আমি কি আপনার নাম জানতে পারি? কারণ আপনার কথামত সব কিছু হলে আমরা আপনাকে সম্মান জানাব।”
18প্রভুর দূত বললেন, “কেন তুমি আমার নাম জানতে চাইছ? এটা তো আশ্চর্য ব্যাপার!”
19তারপর মানোহ একটা পাথরে একটা কচি পাঁঠাকে বলি দিল। সেই সঙ্গে একটি শস্য নৈবেদ্যও প্রভুর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করল এবং সে একটি আশ্চর্য কাজ করল। 20মানোহ আর তার স্ত্রী যা ঘটেছিল তার সব দেখল। বেদী থেকে আগুনের শিখা যখন আকাশের দিকে উঠে যাচ্ছিল তখন প্রভুর দূত আগুনের মধ্য দিয়ে স্বর্গে চলে গেল।
এই দৃশ্য দেখার পর তারা দুজন ভূমিতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করল। 21প্রভুর সেই দূত আর কখনও মানোহ এবং তার স্ত্রীর কাছে আবির্ভূত হয় নি। অবশেষে মানোহ বুঝতে পারল যে লোকটি সত্যিই প্রভুর দূত। 22মানোহ তার স্ত্রীকে বলল, “আমরা ঈশ্বর দর্শন করেছি! এখন আমরা নিশ্চিত মারা যাব!”
23কিন্তু তার স্ত্রী বলল, “প্রভু আমাদের মারতে চান না। তা যদি হত তাহলে তিনি আমাদের হোমবলি ও শস্যের নৈবেদ্য গ্রহণ করতেন না। তিনি আমাদের এইসব দৃশ্য দেখাতেন না। তা যদি হত তাহলে তিনি আমাদের এইসব কথা বলতেন না।”
24তারপর তার একটি সন্তান হল। সে তার নাম দিল শিম্শোন। শিম্শোন বড় হয়ে উঠল। প্রভু তাকে আশীর্বাদ করলেন। 25শিম্শোন যখন মহনেদান শহরে ছিল তখন তার উপর প্রভুর আত্মা ভর করল। শহরটি সরা আর ইষ্টায়োল শহরের মাঝখানে অবস্থিত।
14শিম্শোনের বিবাহ
1শিম্শোন তিম্না শহরের দিকে নেমে এল। সেখানে সে একজন পলেষ্টীয় নারীকে দেখতে পেল। 2বাড়ি ফিরে শিম্শোন তার পিতামাতাকে বলল, “আমি তিম্নায় একজন পলেষ্টীয় নারী দেখেছি। তোমরা তাকে আমার কাছে এনে দাও। আমি তাকে বিয়ে করতে চাই।”
3তার পিতামাতা বলল, “তুমি তো ইস্রায়েলের একজন মেয়েকে বিয়ে করতে পারো। পলেষ্টীয়দের মেয়েকে বিয়ে করতে তোমার এত ইচ্ছে কেন? এসব লোকদের এমনকি সুন্নৎ পর্যন্ত হয় নি।” শিম্শোন এসব কথা শুনল না।
সে বলল, “ঐ মেয়েটিকেই আমার জন্য এনে দাও। তাকেই শুধু আমি চাই।” 4(শিম্শোনের পিতামাতা তো জানত না, এটাই ছিল প্রভুর অভিপ্রায়। তিনি কিভাবে পলেষ্টীয়দের শায়েস্তা করা যায় সেই রাস্তাই খুঁজছিলেন। সে সময় ইস্রায়েলে ওদেরই রাজত্ব ছিল।)
5পিতামাতাকে নিয়ে শিম্শোন তিম্না শহরে নেমে এল। শহরের কাছাকাছি দ্রাক্ষার ক্ষেত পর্যন্ত তারা চলে এল। সেখানে হঠাৎ একটা য়ুব সিংহ গর্জে উঠে শিম্শোনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। 6প্রভুর আত্মা মহাশক্তিতে শিম্শোনের উপর নেমে এল। খালি হাতেই শিম্শোন সিংহটাকে ছিঁড়ে দু-টুকরো করে ফেলল। অনায়াসেই সে এটা করে ফেলল। একটা কচি পাঁঠাকে চিরে ফেলার মতই কাজটা যেন সহজ হয়ে গেল শিম্শোনের কাছে। কিন্তু শিম্শোন ঘটনাটি পিতামাতার কাছে বলল না।
7শিম্শোন শহরে গিয়ে পলেষ্টীয় মেয়েটির সঙ্গে কথাবার্তা বলল। মেয়েটি তাকে খুশি করেছিল। 8কয়েকদিন পর শিম্শোন ফিরে এসে ঐ পলেষ্টীয় মেয়েকে বিয়ে করতে এলে পথে মৃত সিংহটিকে সে দেখল। মৃত সিংহটির গায়ে মৌমাছিরা ঝাঁকে ঝাঁকে বসে। কিছু মধুও হয়েছে। 9শিম্শোন হাতে কিছুটা মধু তুলে নিল। মধু খেতে খেতে সে হাঁটতে লাগল। পিতামাতার কাছে এসে সে তাদেরও একটু মধু দিল। তারা সেই মধু খেল। কিন্তু শিম্শোন বলল না, সেই মধু মরা সিংহের গা থেকে পাওয়া।
10শিম্শোনের পিতা পলেষ্টীয় মেয়েটিকে দেখতে গেল। এটাই ছিল প্রথা যে বর সে একটা ভোজসভা করবে। সেই অনুযায়ী শিম্শোন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে গেল। 11পলেষ্টীয় যখন দেখল শিম্শোন এরকম একটা ভোজের ব্যবস্থা করছে তখন তারা ওর কাছে 30 জন পলেষ্টীয়কে পাঠাল।
12ঐ 30 জনকে শিম্শোন বলল, “আমি তোমাদের একটা ধাঁধা বলতে চাই। এই আনন্দ অনুষ্ঠান সাতদিন ধরে চলবে। এর মধ্যে তোমাদের এই ধাঁধার উত্তর দিতে হবে। উত্তর দিতে পারলে আমি তোমাদের 30টি জামা আর 30টি কাপড় দেবো। 13কিন্তু উত্তর না দিতে পারলে তোমরা আমাকে 30টি জামা আর 30টি কাপড় দেবে।” ওরা বলল, “বল কি তোমার ধাঁধা, আমরা শুনব।”
14শিম্শোন তখন এই ধাঁধাটা বলল:
“খাদকের মধ্য থেকে খাদ্য কিছু জোটে,
বলবান হতে মিষ্টি কিছু ওঠে।”
30 জন লোক তিনদিন ধরে মাথা ঘামাল, কিন্তু উত্তর দিতে পারল না।
15চতুর্থ দিনে তারা শিম্শোনের স্ত্রীর কাছে এসে বলল, “তোমরা কি আমাদের নিঃস্ব করার জন্য নেমন্তন্ন করেছ? তোমার স্বামীর কাছ থেকে কায়দা করে ধাঁধার উত্তরটা জেনে নাও। যদি উত্তর না জানতে পার তাহলে আমরা তোমাকে আর তোমার বাপের বাড়ির সবাইকে পুড়িয়ে মেরে ফেলবো।”
16আর কোন উপায় না পেয়ে সে শিম্শোনের কাছে গিয়ে কাঁদতে শুরু করলো। সে বলল, “তুমি তো আমায় শুধু ঘৃণাই করো! তুমি আমায় একটুও ভালবাস না! তুমি আমার দেশের লোকদের কাছে ধাঁধা বলেছ, কিন্তু কই আমাকে তো তুমি সেই ধাঁধার উত্তরটা বলো নি।” শিম্শোন উত্তর দিল, “আমার মাতাপিতাকেও যখন উত্তরটা বলি নি, তোমাকে বলতে যাব কেন?”
17অনুষ্ঠানের বাকি দিনগুলোয় শিম্শোনের স্ত্রী কেঁদেই চলল। শেষ পর্যন্ত সপ্তম দিনে শিম্শোন ধাঁধার উত্তরটি স্ত্রীকে বলেই ফেলল কারণ তার স্ত্রী এই নিয়ে তাকে বিরক্ত করছিল। তারপর তার স্ত্রী দেশের লোকদের কাছে সেই উত্তরটি বলে দিল।
18সুতরাং সাত দিনের দিন সূর্যাস্তের আগে পলেষ্টীয়রা উত্তরটা পেয়ে গেল। শিম্শোনকে গিয়ে তারা বলল:
“মধুর চেয়ে মিষ্ট কি আছে?
সিংহের চেয়ে বেশী শক্তিশালী কে?”
তখন শিম্শোন বলল:
“যদি তোমরা আমার গরু সঙ্গে নিয়ে না চাষ করতে
তোমরা আমার ধাঁধার সমাধান করতেই পারতে না।”
19শিম্শোন খুব রেগে গিয়েছিল। প্রভুর আত্মা প্রবল শক্তির সাথে তার ওপর নেমে এল। সে অস্কিলোন শহরে চলে গেল। সেখানে সে 30 জন পলেষ্টীয়কে হত্যা করল। তাদের মৃতদেহ থেকে সে সমস্ত পোশাক তুলে নিল, ধন দৌলত সরিয়ে নিল। তারপর যারা তার ধাঁধার উত্তর দিয়েছিল, তাদের সে সব বিলিয়ে দিল। এরপর সে পিতার বাড়িতে চলে গেল। 20স্ত্রীকে সে নিল না। বিয়ের জন্য একজন সেরা পাত্র তাকে ঘরে তুলেছিল।
15শিম্শোন পলেষ্টীয়দের অসুবিধায় ফেলল
1যখন গম তোলার সময় হল শিম্শোন তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেল। স্ত্রীকে দেবার জন্যে একটা কচি পাঁঠা নিয়ে গেল। শ্বশুরকে গিয়ে বলল, “আমি স্ত্রীর ঘরে ঢুকছি।”
কিন্তু মেয়ের পিতা শিম্শোনকে ঢুকতে দিল না। 2তার পিতা শিম্শোনকে বলল, “আমি ভেবেছিলাম তুমি তাকে ঘৃণা কর। তাই তার বিয়ে দিয়েছি একটি সেরা পাত্রের সঙ্গে। আমার ছোট মেয়ে আরও সুন্দরী। তুমি তাকেই নাও।”
3শিম্শোন বলল, “এখন তোমাদের, মানে পলেষ্টীয়দের ওপর আঘাত হানলে কেউ আর আমাকে দোষ দিতে পারবে না।”
4এই বলে শিম্শোন বেরিয়ে গেল। সে 300টি শেয়াল ধরল। সে দুটো করে শেয়াল ধরে তাদের লেজ দুটো বেঁধে জোড়া তৈরি করল। প্রত্যেক জোড়া শেয়ালের লেজে সে একটি করে মশাল বেঁধে দিল। 5তারপর মশালগুলো জ্বেলে দিল। পলেষ্টীয়দের শস্যক্ষেত্রে সে ঐ শেয়ালগুলোকে ছুটিয়ে দিল। এইভাবে নতুন গজানো সমস্ত গাছ আর শস্যের গাদা সে জ্বালিয়ে দিল। দ্রাক্ষার ক্ষেত আর সমস্ত জলপাই গাছ জ্বালিয়ে দিল।
6পলেষ্টীয়রা জিজ্ঞাসা করল, “কে এসব কাজ করেছে?”
কেউ একজন বলল, “শিমশোন করেছে। তিম্নার কোন একজনের জামাতা হচ্ছে এই শিম্শোন। তার এই কাজের কারণ তার শ্বশুর শিম্শোনের স্ত্রীকে অন্য এক সেরা পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে।” তাই পলেষ্টীয়রা শিম্শোনের স্ত্রী আর শ্বশুরকে পুড়িয়ে মেরে ফেলল।
7শিম্শোন পলেষ্টীয়দের বলল, “তোমরা আমার ক্ষতি করেছ; এবার আমিও তোমাদের ক্ষতি করব। তারপর আমার তোমাদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়া বন্ধ হবে।”
8তারপর শিম্শোন পলেষ্টীয়দের আক্রমণ করল। অনেক লোককে সে হত্যা করল। তারপর সে একটা গুহায় আশ্রয় নিল। গুহাটি ছিল ঐটম শিলা নামে একটি জায়গায়।
9পলেষ্টীয়রা যিহূদায় চলে গেল। লিহী নামের একটি জায়গায় তারা বিশ্রাম নিল। তাদের সৈন্যরা সেখানে তাঁবু গাড়ল। তারা যুদ্ধের জন্য তৈরি হল। 10যিহূদা পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা তাদের জিজ্ঞাসা করল, “তোমরা পলেষ্টীয়রা কেন এখানে আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে এসেছ?”
তারা বলল, “আমরা শিম্শোনকে ধরতে এসেছি। আমরা তাকে বন্দী করতে চাই। সে আমাদের প্রতি যা অন্যায় করেছে তার জন্য তাকে শাস্তি দিতে চাই।”
11যিহূদা পরিবারগোষ্ঠীর 3000 লোক তখন শিম্শোনের কাছে গেল। ঐটম শিলার গুহায় গিয়ে তারা তাকে বলল, “তুমি আমাদের এ কি করলে? তুমি কি জানো না যে পলেষ্টীয়রা আমাদের শাসন করছে?”
শিম্শোন বলল, “তারা আমার ওপর যে অন্যায় কাজ করেছে শুধুমাত্র তার জন্যেই আমি তাদের শাস্তি দিয়েছি।”
12ওরা তখন বলল, “আমরা তোমাকে বেঁধে নিয়ে যাবার জন্য এসেছি। তোমাকে পলেষ্টীয়দের হাতে তুলে দেব।”
শিম্শোন বলল, “প্রতিশ্রুতি দাও তোমরা আমাকে মারবে না।”
13ওরা বলল, “ঠিক আছে। আমরা শুধু তোমাকে বেঁধে পলেষ্টীয়দের কাছে ধরিয়ে দেব। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমরা তোমায় হত্যা করব না।” এই বলে ওরা দুটো নতুন দড়ি দিয়ে শিম্শোনকে বেঁধে ফেলল। গুহা থেকে তাকে বার করে নিয়ে চলল।
14শিম্শোন যখন লিহীতে এল, পলেষ্টীয়রা তাকে দেখতে এল। তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল। তখন প্রভুর আত্মা সবলে শিম্শোনের ওপর এল। দড়িগুলো পোড়া সূতোর মতো পলকা মনে হল এবং তার হাত থেকে খসে পড়ল। যেন সব গলে পড়েছে। 15শিম্শোন একটা মরা গাধার চোয়ালের হাড় দেখতে পেল। হাড়টা নিয়ে তাই দিয়ে সে 1000 জন পলেষ্টীয়কে হত্যা করল।
16তখন শিম্শোন বলল:
“গাধার একটি চোয়ালের হাড় দিয়েই
আমি 1000 লোক হত্যা করেছি।
একটি গাধার চোয়ালের হাড় দিয়ে
আমি তাদের মৃতদেহগুলি জড়ো করেছি।”
17এই কথা বলে চোয়ালের হাড়টা শিম্শোন ছুঁড়ে ফেলে দিল। সেই জায়গার নাম রামৎ লিহী।
18শিম্শোনের খুব পিপাসা পেয়েছিল। প্রভুর কাছে সে প্রার্থনা করল। সে বলল, “হে প্রভু আমি তোমার দাস। এই যে আমার বিরাট জয় হল, সে তো তোমারই দয়ায়। পিপাসায় যেন আমি মারা না যাই। তাই এখন দয়া করো তুমি। দয়া করো, যেন ওরা আমায় ধরে না ফেলে, যাদের এখনও সুন্নৎ পর্যন্ত হয় নি।”
19লিহীর মাঠে একটা গর্ত আছে। ঈশ্বর সেই গর্ত ফাটিয়ে ঝর্ণা তৈরী করলেন। সেই জল পান করে শিম্শোন তাজা হয়ে উঠল। সে আবার শক্তি অনুভব করল। সে সেই ঝর্ণার নাম দিল এন-হক্কোরী। লিহী শহরে এই ঝর্ণা আজও আছে।
20শিম্শোন 20 বছর ইস্রায়েলীয়দের বিচারক ছিল। সেটা ছিল পলেষ্টীয়দের রাজত্ব কাল।
16শিম্শোনের ঘসা যাত্রা
1একদিন শিম্শোন ঘসা শহরে গেল। সেখানে সে একজন গণিকাকে দেখতে পেল। তার কাছে এক রাত্রি সে থাকতে গেল। 2কেউ একজন ঘসার বাসিন্দাদের বলল, “শিম্শোন এখানে এসেছে।” তারা শিম্শোনকে হত্যা করতে চেয়েছিল। তাই তারা শহরটা ঘিরে ফেলল। ওরা শিমশোনের জন্য লুকিয়ে থেকে অপেক্ষা করতে লাগল। সারারাত তারা শহরের ফটকের পাশে চুপচাপ জেগে রইল। তারা বলাবলি করতে লাগল, “সকাল হলেই আমরা শিম্শোনকে বধ করব।”
3কিন্তু শিম্শোন গণিকার সঙ্গে মাঝরাত পর্যন্ত থাকল। মাঝরাতে সে উঠে পড়ল। শহরের ফটকের দরজা চেপে ধরে সে দেওয়াল থেকে টেনে দরজা আলগা করে দিল। তারপর সে খুলে নিল দরজা, দুটো খুঁটি, দরজা বন্ধ করার খিল। এগুলো সে কাঁধে নিয়ে হিব্রোণ শহরের কাছে পাহাড়ের মাথায় উঠে গেল।
শিম্শোন এবং দলীলা
4পরে শিম্শোন দলীলা নামে এক নারীর প্রেমে পড়ল। দলীলা থাকত সোরেক উপত্যকায়।
5পলেষ্টীয় শাসকরা দলীলার কাছে গিয়ে বলল, “শিম্শোন কিসে এত শক্তিশালী হয় আমরা জানতে চাই। তুমি কায়দা করে তার এই গোপন রহস্যটা জেনে নিতে চেষ্টা কর। তাহলে তাকে কি করে ধরে বেঁধে ফেলা যায় তা আমরা জানব। তাহলেই তাকে আমরা ইচ্ছামত চালাতে পারব। যদি এটা করতে পার তাহলে আমরা প্রত্যেকে তোমাকে 28 পাউণ্ড করে রূপো পুরস্কার দেব।”
6সেই মতো দলীলা শিম্শোনকে বলল, “আচ্ছা বলো তো, তুমি কি করে এত শক্তি পেলে? কিভাবে তোমাকে বেঁধে ফেলে বেকায়দায় ফেলা যায়?”
7শিম্শোন বলল, “নতুন সাতটা ধনুক বাঁধা দড়ি যে দড়িগুলো শুকনো নয়, তাই দিয়ে আমায় বেঁধে ফেলতে হবে। যদি কেউ তা পারে তাহলেই আমি আর পাঁচজনের মতো দুর্বল হতে পারব।”
8পলেষ্টীয়রা একথা শুনে সাতটা নতুন ধনুক বাঁধা দড়ি দলীলাকে এনে দিল। সেই ধনুক বাঁধা দড়ি তখনও শুকিয়ে যায় নি। দলীলা সেই দড়ি দিয়ে শিম্শোনকে বেঁধে ফেলল। 9কিছু লোক পাশের ঘরে লুকিয়ে ছিল। দলীলা শিম্শোনকে বলল, “শিম্শোন, পলেষ্টীয়রা তোমাকে ধরে ফেলতে যাচ্ছে।” কিন্তু শিম্শোন সহজেই দড়িগুলো খুলে ফেলল। আগুনের শিখার খুব কাছে এলে একটা সূতো যেমন হয় তেমনি করে দড়িগুলো খসে পড়ল। সুতরাং পলেষ্টীয়রা শিম্শোনের শক্তির রহস্য ভেদ করতে পারল না।
10দলীলা শিম্শোনকে বলল, “তুমি আমাকে মিথ্যে কথা বলেছ। তুমি আমাকে বোকা বানিয়েছ। এখন বলো তো, কি করে লোক তোমাকে বেঁধে ফেলতে পারে?”
11শিম্শোন বলল, “আমাকে নতুন দড়ি দিয়ে বাঁধতে হবে। সেই দড়ি যেন আগে কেউ ব্যবহার না করে। এরকম দড়ি দিয়ে কেউ আমাকে বাঁধলে আমি আর পাঁচজনের মতো দুর্বল হয়ে যাবো।”
12দলীলা কয়েকটা নতুন দড়ি দিয়ে শিম্শোনকে বেঁধে ফেলল। পাশের ঘরে কিছু লোক লুকিয়ে ছিল। দলীলা শিম্শোনকে বলল, “শিম্শোন পলেষ্টীয়রা তোমাকে ধরতে আসছে।” শিম্শোন সহজেই দড়ি খুলে ফেলল। সেগুলো সে সুতোর মতো ছিঁড়ে ফেলল।
13দলীলা শিম্শোনকে বলল, “তুমি আবার মিথ্যে কথা বলেছ। তুমি আমাকে বোকা বানিয়েছ। এবার বলো তো কি করে তোমাকে বেঁধে ফেলা যায়?”
শিম্শোন বলল, “যদি তুমি তাঁত দিয়ে আমার মাথায় চুলের সাতটি বিনুনী বেঁধে একটি পিন দিয়ে আটকে দাও তাহলে আমি আর পাঁচটা সাধারণ লোকের মতো দুর্বল হয়ে যাব।”
14পরে শিম্শোন ঘুমোতে গেল। দলীলা তার মাথার চুলের সাতটি গোছা নিয়ে তাঁতে বুনল। তারপর তাঁবুর খুঁটির সঙ্গে সেই বোনা চুলগুলিকে বেঁধে মাটিতে গেঁথে ফেলল। আবার সে শিম্শোনকে ডাকল, “পলেষ্টীয়রা তোমাকে ধরতে আসছে।” শিম্শোন তাঁত আর মাকু সব খুলে ফেলল।
15দলীলা শিম্শোনকে বলল, “তুমি তো আমায় বিশ্বাসই করো না? তুমি কি করে বলো যে, আমি তোমায় ভালবাসি? গোপন ব্যাপারটা তুমি আমাকে বললে না। এই নিয়ে তিনবার তুমি আমাকে বোকা বানালে। তোমার শক্তির গোপন কথা তুমি আমাকে বললে না।” 16দিনের পর দিন দলীলা শিম্শোনকে রাগিয়ে তুলতে লাগল। তার ঘ্যানঘ্যানানি শুনতে শুনতে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। ক্লান্তিতে সে যেন মরমর অবস্থায় পৌঁছাল। 17সে এটা আর সহ্য করতে পারল না। শেষ পর্যন্ত সে দলীলাকে সব কিছুই বলে দিল। সে বলল, “আমি কখনও চুল কাটি না। আমার জন্মের আগে থেকেই আমাকে ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গ করে দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ আমার চুল কেটে নেয়, তাহলে আমি অন্য পাঁচজন সাধারণ লোকের মতো দুর্বল হয়ে পড়ব।”
18দলীলা বুঝতে পারল শিম্শোন তার গোপন কথাটা এবার সত্যই বলেছে। পলেষ্টীয় শাসকদের কাছে সে একটা খবর পাঠাল। সে বলে পাঠাল, “আর একবার ফিরে এসো, শিম্শোন আমায় সব বলে দিয়েছে।” এই খবর পেয়ে তারা আবার দলীলার কাছে চলে এল। প্রতিশ্রুতি মত দলীলাকে দেবার মত টাকা নিয়ে এল।
19দলীলার কোলে মাথা দিয়ে শিম্শোন যখন শুয়ে ছিল, সেই সময় দলীলা তাকে ঘুম পাড়িয়ে দিল। তারপর সে একজন লোককে শিম্শোনের চুলের গোছা কেটে নেবার জন্য ডাকল। এইভাবে দলীলা শিম্শোনকে শক্তিহীন করে দিল। শিম্শোনের শক্তি চলে গেল। 20দলীলা শিম্শোনকে ডেকে বলল, “শিম্শোন, পলেষ্টীয়রা তোমাকে ধরবার জন্য আসছে!” শিম্শোন জেগে উঠে ভাবলো, “আমি আগের মতোই নিজেকে বাঁচিয়ে নিতে পারব।” কিন্তু সে বুঝতে পারে নি যে প্রভু তাকে ছেড়ে চলে গেছেন।
21পলেষ্টীয়রা শিম্শোনকে ধরে ফেলল। তারা তার চোখ খুবলে নিয়ে তাকে ঘসা শহরে নিয়ে গেল এবং যাতে সে পালিয়ে না যায় সেজন্য চেন দিয়ে বাঁধল। তারপর কারাগারে তাকে ঢুকিয়ে যাঁতায় শস্য পিষতে বাধ্য করল। 22কিন্তু আবার শিম্শোনের চুল গজাতে লাগলো।
23পলেষ্টীয়দের শাসকরা সবাই উৎসব করতে জড়ো হল। তারা তাদের দেবতা দাগোনের কাছে একটা মস্ত বড় নৈবেদ্য দেবার ব্যবস্থা করছিল। তারা বলল, “আমাদের দেবতাই আমাদের শিম্শোনকে হারিয়ে দিতে সাহায্য করেছে।” 24পলেষ্টীয়রা শিম্শোনের দিকে তাকাল এবং তাদের দেবতার প্রশংসা করতে শুরু করল। তারা বলল:
“এই লোকটা আমাদের লোককে হত্যা করেছে
এবং আমাদের দেশ ধ্বংস করেছে।
আমাদের দেবতা আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে জয়ী করেছে।”
25লোকরা উৎসবে বেশ মেতে উঠলো। তারা বলল, “শিম্শোনকে বার করে আনো। আমরা তাকে নিয়ে মজা করব।” কারাগার থেকে শিম্শোনকে নিয়ে এসে তারা ওকে নিয়ে মজা করতে লাগল। দাগোনের মন্দিরের থামের মাঝখানে তারা শিম্শোনকে দাঁড় করাল। 26একজন ভৃত্য শিম্শোনের হাত ধরে ছিল। শিম্শোন তাকে বলল, “যে দুই থামের উপর মন্দিরের উপরের অংশের ভার রয়েছে তা আমাকে ছুঁতে দাও। আমি সেখানে হেলান দিয়ে দাঁড়াতে চাই।”
27মন্দিরে ঠাসা ভীড়। পলেষ্টীয়দের শাসকরা সেখানে সব এসেছে। মন্দিরের ছাদে প্রায় 3000 নর-নারী। তারা শিম্শোনকে নিয়ে হাসাহাসি করছে, মজা করছে। 28শিম্শোন প্রভুর কাছে এই প্রার্থনা করল, “হে সর্বশক্তিমান প্রভু তুমি দয়া করে আমায় স্মরণ করো। ঈশ্বর, আর একবার তুমি আমায় শক্তি দাও। এই একটা কাজ আমায় করতে দাও, আমি যেন এই পলেষ্টীয়দের আমার দুই চোখ উপড়ে নেওয়ার জন্য শাস্তি দিতে পারি!” 29তারপর শিম্শোন মন্দিরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দুটো থামকে ধরল। থাম দুটো সমস্ত মন্দিরটাকে ধরে রেখেছিল। দুটো থামের ভেতর সে নিজেকে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করল। একটি থাম তার ডানদিকে, আরেকটা বাঁদিকে। 30শিম্শোন বলল, “এই পলেষ্টীয়দের সঙ্গে আমার প্রাণ যাক্!” তারপর যত জোরে পারল থামদুটোকে ধাক্কা দিল। আর সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত শাসকদের ও লোকজনের ওপর মন্দিরটা ভেঙ্গে পড়ে গেল। এইভাবে শিম্শোন বেঁচে থাকা অবস্থায় যত পলেষ্টীয় হত্যা করেছিল, মরে গিয়ে তার চেয়ে ঢের বেশী পলেষ্টীয় হত্যা করল।
31শিম্শোনের ভাই আর পরিবারের লোকরা সবাই তার শবদেহ নিতে এলো। তাকে নিয়ে তারা তার পিতার সমাধিতে কবর দিল। সমাধিটা রয়েছে সরা আর ইষ্টায়োল শহরের মাঝখানে। 20 বছর ধরে শিম্শোন ইস্রায়েলীয়দের বিচারক ছিলেন।
17মীখার মূর্ত্তিসমূহ
1পাহাড়ের দেশ ইফ্রয়িমে মীখা নামে একজন লোক ছিল। 2মীখা তার মাকে বলল, “মা তোমার কি মনে পড়ে কেউ একজন তোমার 28 পাউণ্ড রূপো চুরি করেছিল? আমি শুনলাম তুমি এই নিয়ে অভিশাপ দিয়েছিলে। দেখ, আমার কাছেই সেই রূপো আছে। আমিই তো চুরি করেছিলাম।”
তার মা বলল, “বৎস, প্রভু তোমার মঙ্গল করুন।”
3মায়ের কাছে মীখা 28 পাউণ্ড রূপো ফেরত দিয়ে দিল। মা বলল, “প্রভুর কাছে আমার এই রূপো হবে বিশেষ একটা উপহার। আমার পুত্রকে এটা দেব। সে একটা মূর্ত্তি গড়ে সেটা রূপো দিয়ে মুড়ে দেবে। তাই বলছি বাছা, এখন এই রূপো তোমার হাতেই ফিরিয়ে দিচ্ছি।”
4কিন্তু মীখা সেটা মায়ের কাছে দিয়ে দিল। মা তখন তা থেকে প্রায় 5 পাউণ্ড রূপো নিয়ে একজন স্বর্ণকারকে দিল। স্বর্ণকার সেই রূপো দিয়ে একটা মূর্ত্তি গড়ল। মূর্ত্তিটা রাখা হল মীখার বাড়িতে। 5মীখার একটা মন্দির ছিল। সেখানে বিভিন্ন মূর্ত্তির পূজা হত। মীখা একটা এফোদ তৈরী করেছিল। সে আরও কয়েকটা পারিবারিক মূর্ত্তি তৈরী করেছিল। তারপর মীখা তার একজন পুত্রকে তার যাজক হিসেবে নির্বাচন করল। 6(সেই সময় ইস্রায়েলীয়দের কোন রাজা ছিল না। তাই প্রত্যেকেই খেয়াল খুশি মতো যা ভাল মনে করত তাই করত।)
7যিহূদার বৈৎলেহম শহরে একজন লেবীয় ছিল। সে যিহূদার পরিবারগোষ্ঠীতে থাকত। 8সে বৈৎলেহম ছেড়ে অন্য একটি জায়গায় থাকবে বলে চলে গেল। যেতে যেতে সে এসে পড়ল মীখার বাড়িতে। ওর বাড়ি পাহাড়ি দেশ ইফ্রয়িমে। 9মীখা তাকে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি কোথা থেকে আসছ?”
যুবকটি বলল, “আমি একজন লেবীয়, বৈৎলেহম যিহূদা থেকে আসছি। বসবাসের জন্য জায়গা খুঁজছি।”
10মীখা বলল, “তুমি আমার কাছেই থাকো। তুমি আমার পিতা হয়ে, যাজক হয়ে এখানে থাকো। প্রতি বছর আমি তোমাকে 4 পাউণ্ড রূপো দেবো। তাছাড়া খাওয়া-পরা তো দেবই।”
লেবীয় যুবকটি মীখার কথামত কাজ করল। 11সে মীখার সঙ্গে থাকতে রাজি হল। মীখার নিজের পুত্রদের মতই সে থেকে গেল। 12সে হল মীখার যাজক। সে মীখার বাড়ীতেই থেকে গেল। 13মীখা বলল, “আজ বুঝলাম প্রভু আমার ওপর প্রসন্ন হয়েছেন; কারণ আমরা যাজক হিসেবে এমন একজনকে পেয়েছি যে লেবী পরিবারগোষ্ঠী থেকে এসেছে।”
18দানরা লয়িশ শহর দখল করল
1সেই সময় ইস্রায়েলের কোন রাজা ছিল না। তখনও দান পরিবারগোষ্ঠী বসবাসের জায়গা খুঁজে পায় নি। তখনও তাদের নিজস্ব কোন জমি-জমা ছিল না। ইস্রায়েলের অন্যান্য পরিবারগোষ্ঠী ইতিমধ্যেই জায়গা পেয়ে গিয়েছিল। দানরা পায় নি।
2তাই দান পরিবারগোষ্ঠী দেশে গুপ্তচরবৃত্তির জন্য পাঁচজন সৈন্যকে পাঠিয়ে দিল। ঐ পাঁচজন সরা আর ইষ্টায়োল শহরের লোক। এদের বেছে নেবার কারণ এরা দানদের সব পরিবার থেকেই এসেছে। তাদের দেশের উপর গুপ্তচরবৃত্তির জন্য বলা হল।
পাঁচ জন পাহাড়ী দেশ ইফ্রয়িমে পৌঁছল। তারা মীখার বাড়ীতে এল এবং সেই রাতটা সেখানে কাটাল। 3তারা যখন মীখার বাড়ির বেশ কাছাকাছি এসেছে, তখন সেই লেবীয় যুবকের স্বর শুনতে পেল। তার স্বর শুনে তারা চিনতে পেরেছিল। এবার দাঁড়িয়ে গেল মীখার বাড়ির দোরগোড়ায়। যুবকটিকে ওরা জিজ্ঞাসা করল, “তোমাকে এখানে কে ডেকে এনেছে? এখানে তুমি কি করছ? এখানে তোমার কাজ কি?”
4যুবকটি মীখা তার জন্য কি কি করেছে বলল। যুবকটি বলল, “মীখা আমাকে কাজে রেখেছে। আমি তার যাজক।”
5তখন তারা বলল, “তাহলে ঈশ্বরের কাছে আমাদের জন্য কিছু চাও। আমরা জানতে চাই আমাদের জমি পাব কি না।”
6যাজক ঐ পাঁচ জনকে বলল, “হ্যাঁ, জমি তোমরা পাবে। তোমরা নিশ্চিন্তে যেতে পারো। প্রভু তোমাদের পথ চেনাবেন।”
7তাই ঐ পাঁচ জন চলে গেল। এবার এল লয়িশ শহরে। তারা দেখল শহরের লোকরা বেশ নিরাপদে রয়েছে। সীদোনের লোকরা তাদের শাসন করছে। দেশে শান্তি রয়েছে, তাদের কোন কিছুর অভাব নেই। কাছাকাছি কোথাও শত্রু নেই যে তাদের আক্রমণ করবে। তাছাড়া সীদোন শহর থেকে তারা অনেক দূরে রয়েছে, আর অরামের লোকদের সঙ্গেও তাদের কোন চুক্তি নেই।
8ঐ পাঁচ জন সরা ও ইষ্টায়োল শহরে ফিরে এল। আত্মীয়স্বজনরা তাদের জিজ্ঞাসা করল, “বলো কি দেখে এলে?”
9ঐ পাঁচ জন বলল, “আমরা একটা জায়গা দেখেছি। বেশ ভাল। এবার আমাদের যুদ্ধ করতে হবে। বসে থাকলে চলবে না। চলো জমি দখল করি। 10তোমরা সেখানে গেলেই দেখবে জমির ছড়াছড়ি। জিনিসপত্র অঢেল। তাছাড়া, তুমি আর একটা ব্যাপারও দেখবে যে, সেখানে লোকরা কোনরকম আক্রমণের জন্য তৈরী নয়। নিশ্চিত ঈশ্বর আমাদের ঐ জমিটি দিয়েছেন।”
11তাই সরা আর ইষ্টায়োল শহর থেকে দান পরিবারগোষ্ঠীর 600 জন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে রওনা হল। 12লয়িশ শহরে যাবার পথে তারা কিরিয়ৎ-যিয়ারীম শহরের কাছাকাছি থামল। জায়গাটা যিহূদার। সেখানে তারা তাঁবু গাড়ল। সেই জন্য আজও কিরিয়ৎ-যিয়ারীমের পশ্চিম অঞ্চলটার নাম মহনে-দান। অর্থাৎ দানদের শিবির। 13সেখান থেকে 600 জন লোক পাহাড়ি দেশ ইফ্রয়িমের দিকে যাত্রা শুরু করল। তারা এল মীখার বাড়িতে।
14লয়িশ জায়গাটি যে পাঁচ জন আবিষ্কার করেছিল, তারা নিজেদের লোকদের বলল, “এখানকার একটি বাড়িতে একটা এফোদ আছে। তা ছাড়া বাড়িতে পূজা করার মতো অনেক দেবতা, খোদাই করা মূর্ত্তি আর একটা রূপোর প্রতিমা আছে। বুঝতেই পারছি কি করতে হবে। এসব নিয়ে নিতে হবে। যাও, ওসব নিয়ে এসো।” 15তারপর তারা মীখার বাড়িতে এসে পৌঁছল। লেবীয় যুবকটি সেখানে থাকত। তারা তাকে কেমন আছে জিজ্ঞাসা করল। 16দান পরিবারগোষ্ঠীর 600 জন লোক ফটকের কাছে দাঁড়িয়ে আছে। তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যুদ্ধের জন্য তৈরী। 17 পাঁচ জন গুপ্তচর বাড়ির ভেতর গেল। সদর দরজার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে রইল যাজক। তার পাশে যুদ্ধের জন্য 600 জন লোক। লোকগুলি ঘরে ঢুকে খোদাই মূর্ত্তি, এফোদ, অন্যান্য মূর্ত্তি, রূপোর মূর্ত্তি সব নিয়ে নিলো। লেবীয় যাজকটি তাদের জিজ্ঞাসা করল, “এ তোমরা কি করছ?”
19পাঁচ জন লোক বলল, “চুপ করো! একটি কথাও বলবে না। আমাদের সঙ্গে এস। তুমি আমাদের পিতা ও যাজক হও। এখন স্থির কর তুমি কি করবে। ভেবে দেখ, একজনের যাজক হওয়া ভাল, না সমগ্র ইস্রায়েলীয় পরিবারগোষ্ঠীর যাজক হওয়া ভাল।”
20কথা শুনে লেবীয় যুবকটি খুশী হল। খোদাই মূর্ত্তি, অন্যান্য মূর্ত্তি, এফোদ এইসব নিয়ে সে দানদের সঙ্গে চলে গেল।
21তারপর দান পরিবারগোষ্ঠীর 600 জন লোক লেবীয় যাজককে নিয়ে মীখার বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ল। তাদের সামনে ছোট ছেলেমেয়ে, জীবজন্তু আর অন্যান্য জিনিসপত্র রইল।
22সেখান থেকে তারা অনেক দূরে এগিয়ে গেল। কিন্তু মীখার বাড়ির কাছাকাছি লোকরা সব একজায়গায় জড়ো হল। তারপর তারা দানদের পিছু নিয়ে ওদের ধরে ফেলল। 23মীখার সঙ্গের লোকরা দানদের দিকে চেয়ে চেঁচিয়ে উঠল। দানরা ঘুরে দাঁড়িয়ে মীখাকে বলল, “ব্যাপারটা কি? তোমরা চেঁচাচ্ছ কেন?”
24মীখা তাদের বলল, “তোমরা দানরা আমার মূর্ত্তিগুলো নিয়ে গেছ। আমি নিজের জন্য ঐগুলো তৈরী করেছি। তোমরা আমার যাজককে নিয়ে গেছ। আমার আর কি-ই বা আছে? তোমরা কোন মুখে আমাকে বলছ, ‘কি হয়েছে?’”
25দান পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা বলল, “তর্ক করো না, চুপ করো। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ বেশ রগচটা। চেঁচালেই এরা তোমায় আক্রমণ করতে পারে। তোমাকে এবং তোমার পরিবারকে হত্যা করতেও পারে।”
26এই কথা বলে তারা মুখ ফিরিয়ে চলতে শুরু করল। মীখা জানত তাদের শক্তি অনেক বেশী। তাই সে বাড়ি চলে এল।
27মীখার তৈরী মূর্ত্তিগুলো দানরা নিয়ে নিলো। মীখার কাছ থেকে যাজককেও তারা নিয়ে গেল। তারপর তারা লয়িশে এল। তারা সেখানকার লোকদের আক্রমণ করল। সেই লোকরা ছিল শান্তিপ্রিয়। তারা কোন আক্রমণ আশা করতে পারে নি। দানরা তরবারি দিয়ে তাদের হত্যা করল এবং শহরটিতে আগুন লাগিয়ে দিল। 28লয়িশের লোকরা এমন কাউকে পেল না যে তাদের রক্ষা করতে পারবে। তারা সীদোন শহর থেকে অনেক দূরে ছিল, সুতরাং সিদোনীয়রা তাদের রক্ষা করতে ছুটে আসতে পারে নি। অরাম শহরের লোকদের সঙ্গে তাদের কোন ভাল সম্পর্ক ছিল না তাই সেখান থেকেও তারা কোন সাহায্য পেল না। লয়িশ শহরটা ছিল বৈৎ-রহোব শহরের কাছে একটা উপত্যকায়। দানের লোকরা সেখানে একটা নতুন বসতি স্থাপন করে সেই জায়গাটাকেই তারা নিজেদের দেশ বলে গড়ে তুলল। 29তারা সেই শহরটার একটা নতুন নাম দিল। লয়িশের নাম হল দান। তাদের পূর্বপুরুষ, ইস্রায়েলের পুত্রদের একজন, দানের নামানুসারেই তারা এই নাম রাখল।
30দান পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা দান শহরে মূর্ত্তিগুলো প্রতিষ্ঠা করল। গের্শোমের পুত্র যোনাথনকে তারা যাজক করল। গের্শোম হচ্ছে মোশির পুত্র। যোনাথন ও তার পুত্ররাই ছিল দানদের যাজক। যতদিন না ইস্রায়েলীয়দের বন্দী করে বাবিলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ততদিন পর্যন্ত তারা যাজক ছিল। 31মীখার তৈরী মূর্ত্তিগুলো দানরা পূজা করতো। যতদিন শীলোতে ঈশ্বরের গৃহ ছিল ততদিন সর্বক্ষণই তারা ঐসব মূর্ত্তি পূজো করত।
19একজন লেবীয় পুরুষ ও তার দাসী
1সেই সময়, ইস্রায়েলীয়দের কোন রাজা ছিল না।
পাহাড়ী দেশ ইফ্রয়িমের সীমান্তে একজন লেবীয় থাকত। সেই লোকটার একজন দাসী ছিল, তাকে একরকম তার স্ত্রীও বলা যায়। সে ছিল যিহূদার বৈৎলেহম শহরের। 2কিন্তু সে (দাসীটি) তার প্রতি অবিশ্বস্ত ছিল। সে বৈৎলেহমে যিহূদায় তার পিতার বাড়ি চলে গেল। সে সেখানে চার মাস কাটালো। 3তারপর তার স্বামী তার কাছে গেলো। সে তার সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই কথাবার্তা বলবে ঠিক করেছিল, এই আশায় যদি স্ত্রী তার কাছে ফিরে আসে। একজন ভৃত্য ও দুটো গাধা নিয়ে সে মেয়েটির পিতার বাড়ী গেল। তাকে দেখতে পেয়ে মেয়েটির পিতা বেরিয়ে এসে তাকে আদর করে ডাকল। পিতা তো বেশ খুশী হল। 4মেয়ের পিতা লেবীয়টিকে তার বাড়িতে নিয়ে এল। তাকে সেখানে থাকবার জন্য বলল। লেবীয় সেখানে তিনদিন থেকে গেল। শ্বশুরবাড়িতে সে খাওয়া-দাওয়া, পান ভোজন করে আর ঘুমিয়ে দিন কাটাল।
5চতুর্থ দিনে তারা খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠল। লেবীয় লোকটি চলে যাবার জন্য প্রস্তুত হল। কিন্তু শ্বশুরমশাই জামাতাকে বলল, “আগে কিছু খেয়েদেয়ে নাও, তারপর যেও।” 6তাই লেবীয় লোকটি ও শ্বশুরমশাই একসঙ্গে খেতে বসল। খাওয়া হয়ে যাবার পর শ্বশুর বলল, “আজকের রাতটা থেকে যাও। আরাম করো, আনন্দ করো। তারপর বিকেল হলে চলে যেও।” সুতরাং তারা দুজন একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া করল। 7লেবীয় তারপর যাবার উদ্যোগ করলে শ্বশুর তাকে আর একরাত্রি থাকতে অনুরোধ করল।
8পঞ্চম দিনে ভোরবেলা লেবীয় ঘুম থেকে উঠে রওনা দেবার উদ্যোগ করল। কিন্তু শ্বশুর আবার জামাতাকে বলল, “আগে তো কিছু খাও। আজ বিকাল পর্যন্ত বিশ্রাম কর।” অতএব তারা দুজন একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করল।
9তারপর লেবীয় লোকটি তার দাসী আর ভৃত্যের যাবার উদ্যোগ করলে শ্বশুর বলল, “এখন অন্ধকার হয়ে গেছে। দিন তো একরকম শেষ হয়ে গেছে। তাই বলছি কি, আজকের রাতটা থেকেই যাও। ভালভাবে রাতটা কাটাও। কাল সকাল সকাল উঠে চলে যেও।”
10এবারে লেবীয় লোকটি আর রাত কাটাতে চাইল না। গাধা দুটো আর দাসীটিকে সঙ্গে নিয়ে সে দূরে যিবূষ শহরের দিকে চলে গেল। (যিবূষ জেরুশালেমের আর একটি নাম।) 11দিন প্রায় শেষ হয়ে গেল। তারা যিবূষ শহরের কাছাকাছি পৌঁছাল। তখন ভৃত্যটি তার মনিব লেবীয় লোকটিকে বলল, “এই যিবূষ শহরে আজ রাত কাটানো যাক।”
12কিন্তু তার মনিব লেবীয় লোকটি বলল, “না, আমরা অপরিচিত শহরের ভেতরে যাব না। ওরা তো ইস্রায়েলের লোক নয়। আমরা গিবিয়া শহরে চলে যাব।” 13সে আরও বলল, “চলো গিবিয়া কি রামা—এই দুটো শহরের যে কোন একটায় আমরা গিয়ে সেখানে রাত কাটিয়ে দিতে পারি।”
14তাই লেবীয় লোকটি তার সঙ্গীকে নিয়ে এগিয়ে চলল। গিবিয়ায় পৌঁছবার সঙ্গে সঙ্গে সূর্য অস্ত গেল। গিবিয়া হল বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর দখলে। 15তারা গিবিয়ায় থামল। সেই শহরেই তারা রাত কাটাবে ঠিক করল। শহরের একটা খোলা জায়গায় তারা বসে পড়ল। কিন্তু কেউই তাদের বাড়িতে ডেকে এনে রাত কাটাবার জন্য বলল না।
16সেদিন সন্ধ্যায় ক্ষেত থেকে একজন বৃদ্ধ লোক শহরে এল। তার বাড়ী ইফ্রয়িমের পাহাড়ী অঞ্চলে হলেও গিবিয়াতেই সে বসবাস করে। (গিবিয়ার লোকরা সকলেই বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর।) 17বৃদ্ধ লোকটি শহরের কেন্দ্রস্থলে ঐ পথিক লেবীয়কে দেখতে পেল। সে জিজ্ঞাসা করল, “তোমরা কোথায় যাবে? তোমরা কোথা থেকে আসছ?”
18লেবীয় লোকটি বলল, “আমরা যিহূদার বৈৎলেহম শহর থেকে আসছি। আমরা ইফ্রয়িমের পাহাড়ী দেশের সীমানায় বাড়ি যাচ্ছি। আমি যিহূদার বৈৎলেহমে এবং প্রভুর গৃহে গিয়েছিলাম। এখন আমি বাড়ী ফিরে যাচ্ছি। কিন্তু আজ রাত্রে কেউই আমাকে তার বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে নি। 19গাধাগুলোর জন্য খড় আর খাদ্য আমাদের সঙ্গে আছে। ভৃত্য, যুবতী স্ত্রী আর আমার জন্য রুটি আর দ্রাক্ষারসও রয়েছে। আমাদের কোন কিছুর অভাব নেই।”
20বৃদ্ধ লোকটি বলল, “তোমরা আমার বাড়িতে স্বচ্ছন্দে থাকতে পারো। তোমাদের যা দরকার সব দেবো। শুধু একটাই কথা, রাত্রে ঐ খোলা মাঠে যেন তোমরা থেকো না।” 21এরপর বৃদ্ধলোকটা লেবীয় ও তার সঙ্গীসাথীদের তার বাড়ি নিয়ে গেল। সে তাদের গাধাগুলোকে খাওয়াল। তারা পা ধুয়ে পানাহার সেরে নিল।
22এদিকে, সঙ্গীদের নিয়ে লেবীয় লোকটি যখন আমোদ-ফূর্তি করছিল, তখন শহরের কিছু বদলোক বাড়িটা ঘিরে ফেলল। তারা দরজায় ধাক্কা মারতে লাগল। তারা বাড়ির মালিক ঐ বৃদ্ধ লোকটার নাম ধরে চিৎকার করতে লাগল। তারা বলল, “তোমার বাড়ি থেকে ঐ লোকটাকে বার করে দাও। আমরা ওর সঙ্গে যৌন কার্য করবো।”
23বৃদ্ধলোকটি বেরিয়ে এসে বদলোকগুলোকে বলল, “শোন বন্ধুরা, অমন মন্দ কাজ কোরো না। লোকটি আমার অতিথি। এরকম জঘন্য পাপ কাজ করো না। 24এদিকে দেখ, এ হচ্ছে আমার মেয়ে। একটি কুমারী। একে আমি তোমাদের জন্য বার করে আনব। তোমরা যেভাবে খুশী একে ব্যবহার করো, আমি তার উপপত্নীকেও তোমাদের জন্য বার করে আনব। তার সঙ্গে এবং আমার মেয়ের সঙ্গে যা খুশী করো আপত্তি করব না। কিন্তু আমার অতিথির বিরুদ্ধে তোমরা এমন জঘন্য পাপ কাজ করো না।”
25কিন্তু বদ লোকগুলো সেসব কথায় কান দিল না। শেষ পর্যন্ত লেবীয় লোকটি তার দাসী বা উপপত্নীকে বাড়ি থেকে বার করে তাদের কাছে এনে দিল। তারা তাকে আঘাত করল এবং সারারাত ধরে ধর্ষণ করল। ভোর বেলায় তাকে ছেড়ে দিল। 26রাত পোয়ালে মেয়েটি বাড়িতে ফিরে এল। যেখানে তার স্বামী ছিল। তার দোরগোড়ায় সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল। দিনের বেলা পর্যন্ত সে সেখানে এইভাবে পড়ে রইল।
27পরদিন খুব সকালে লেবীয় লোকটি ঘুম থেকে উঠল। বাড়ি যেতে হবে এবার। বেরবে বলে দরজা খুলল, আর সেখানে চৌকাঠের উপর একটা হাত এসে পড়ল। পড়ে রয়েছে তার দাসী। দরজার গোড়ায় সে পড়ে আছে। 28লেবীয় লোকটি তাকে বলল, “ওঠো আমাদের যেতে হবে।” কিন্তু কোনো সাড়া মিলল না। সে মারা গিয়েছিল।
গাধার পিঠে তাকে শুইয়ে লেবীয় লোকটি বাড়ি চলে গেল। 29বাড়ি ফিরে সে একটি ছুরি দিয়ে দাসীটির দেহকে কেটে 12টি টুকরো করল। তারপর ইস্রায়েলীয়রা যে সব জায়গায় বাস করত সে সব জায়গায় ঐ 12টি টুকরো পাঠিয়ে দিল। 30যারা দেখল তারা প্রত্যেকেই বলল, “এরকম কাণ্ড ইস্রায়েলে আগে কখনও ঘটে নি। যেদিন আমরা মিশর থেকে চলে আসি সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত এরকম কাজ কখনও হয় নি এবং দেখাও যায় নি। এ বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। ঠিক করতে হবে আমাদের কি করা উচিৎ।”
20ইস্রায়েলের সঙ্গে বিন্যামীনের যুদ্ধ
1সুতরাং ইস্রায়েলের সমস্ত লোকরা একত্র হল। তাদের উদ্দেশ্য হল মিস্পা শহরে প্রভুর সামনে দাঁড়ানো। তারা দান থেকে বের-শেবা পর্যন্ত ইস্রায়েলের সব জায়গা থেকেই এসেছিল। এমনকি ইস্রায়েলীয়রা গিলিয়দ শহর থেকেও এসেছিল। 2ইস্রায়েল পরিবারগোষ্ঠীর সমস্ত প্রধানরা উপস্থিত ছিল। ঈশ্বরের ভক্তদের প্রকাশ্য জনসভায় তারা উপস্থিত ছিল। সেখানে 400,000 সৈন্য তরবারি হাতে সামিল হয়েছিল। 3বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা জানতে পারল ইস্রায়েলীয়রা মিস্পায় সব জড়ো হয়েছে। ইস্রায়েলীয়রা বলল, “কি করে এমন জঘন্য ঘটনা ঘটল আমাদের সব বল।”
4নিহত মেয়েটির স্বামী কি হয়েছিল সব বলল। সে বলল, “আমার দাসীকে নিয়ে আমি বিন্যামীনদের গিবিয়া শহরে এসেছিলাম। সেখানে আমরা রাত কাটিয়েছিলাম। 5রাতের বেলা গিবিয়া শহরের প্রধানরা আমি যে বাড়িতে ছিলাম সেখানে এল। তারা বাড়িটাকে ঘিরে ফেলে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। তারা আমার দাসীকে ধর্ষণ করেছিল। তাতে সে মারা গেল। 6তারপর আমি আমার দাসীর দেহটাকে টুকরো টুকরো করলাম এবং ইস্রায়েল পরিবারগোষ্ঠীর প্রত্যেককে একটা করে টুকরো পাঠিয়ে দিলাম। যে সমস্ত প্রদেশ আমরা পেয়েছিলাম সেই সব জায়গাতেই আমার দাসীর 12টি দেহ খণ্ড পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। পাঠিয়েছিলাম এই জন্যই, যে দেখাতে চেয়েছিলাম বিন্যামীনদের লোকরা ইস্রায়েলে এরকম কদর্য কাজ করেছে। 7এখন তোমরা ইস্রায়েলীয়রা বলো আমাদের কি করা উচিৎ। এ বিষয়ে তোমাদের মতামত কি বলো।”
8তখন সকলে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে উঠে বলল, “আমরা কেউ বাড়ি যাব না। না, আমাদের মধ্যে একজনও বাড়ি ফিরে যাবে না। 9এখন আমরা গিবিয়া শহরের প্রতি কি করব তা বলছি। আমরা ঘুঁটি চেলে জেনে নেব ঈশ্বর ঐ লোকদের জন্য আমাদের দিয়ে কি করাতে চান। 10আমরা ইস্রায়েলের সমস্ত পরিবারগোষ্ঠী থেকে প্রতি 100 জনের মধ্যে 10 জন করে লোক বেছে নেব। এইভাবে প্রতি 1000 জনে 100 জন আর 10,000 জনে 1000 জন লোক বেছে নেব। এই বাছাই করা লোকরা সৈন্যদের যা যা দরকার সব পাবে। তারপরে তারা বিন্যামীন এলাকার গিবিয়া শহরে পৌঁছাবে। সেখানে যারা ইস্রায়েলীয়দের মধ্যে জঘন্য কাজ করেছিল ওরা তাদের শাস্তি দেবে।”
11ইস্রায়েলের সমস্ত লোক গিবিয়া শহরে জড়ো হল। কি কি করবে সে বিষয়ে তারা সকলেই আগে একমত হয়ে ঠিক করে নিয়েছিল। 12ইস্রায়েল পরিবারগোষ্ঠীর সমস্ত লোকরা বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর কাছে দূতের মাধ্যমে খবর পাঠিয়েছিল। খবরটা হচ্ছে: “তোমাদের মধ্যে কিছু লোক যে কদর্য কাজ করেছে সে বিষয়ে তোমাদের বক্তব্য কি? 13তোমরা ঐ গিবিয়ার মন্দ লোকদের আমাদের কাছে পাঠিয়ে দাও। আমরা তাদের ধ্বংস করব। ইস্রায়েলীয়দের মধ্যে যত মন্দ আছে সব আমরা দূর করব।”
কিন্তু বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা দূতদের কথায় কান দিল না। বার্তাবাহকেরা ছিল সম্পর্কে তাদেরই আত্মীয়। তারাও ছিল ইস্রায়েলীয়। 14বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা তাদের শহরগুলি ছেড়ে গিবিয়ায় চলে গেল। তারা ইস্রায়েলের অন্য পরিবারগোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধ করবে বলে গিবিয়ায় গেল। 15বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা মোট 26,000 জন সৈন্য পেল। যুদ্ধের জন্য বেশ দক্ষ সৈন্য তারা। তাছাড়া গিবিয়া থেকে পেল আরো 700 জন দক্ষ সৈন্য। 16এছাড়াও তারা আরো 700 জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সৈন্য পেয়েছিল। তারা ছিল সব বাঁ-হাতি সৈন্য। এমনকি তারা একটা চুল লক্ষ্য করে অব্যর্থভাবে পাথর ছুঁড়তে পারত এবং লক্ষ্যভ্রষ্ট হত না।
17ইস্রায়েলের সমস্ত পরিবারগোষ্ঠী বিন্যামীনদের বাদ দিয়ে সংগ্রহ করল মোট 400,000 যোদ্ধা। তাদের সকলের হাতে তরবারি। সকলেই যুদ্ধ বিদ্যায় সুশিক্ষিত। 18ইস্রায়েলীয়রা বৈথেল শহরে গিয়ে ঈশ্বরকে জিজ্ঞাসা করল, “কোন পরিবারগোষ্ঠী সবচেয়ে আগে বিন্যামীনদের আক্রমণ করবে?”
প্রভু বললেন, “যিহূদার পরিবারগোষ্ঠী প্রথমে যাবে।”
19পরদিন সকালে ইস্রায়েলবাসীরা ঘুম থেকে উঠল। গিবিয়ার কাছে তারা তাঁবু গাড়ল। 20তারপর ইস্রায়েলের সৈন্যবাহিনী বিন্যামীন সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য বেরিয়ে পড়লো। গিবিয়াতে ইস্রায়েল সেনাবাহিনী বিন্যামীন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল। 21গিবিয়া থেকে বিন্যামীনবাহিনী বার হয়ে এলো। সেদিন তারা ইস্রায়েলবাহিনীর 22,000 সৈন্যকে হত্যা করল।
22 ইস্রায়েলবাসীরা প্রভুর কাছে গেল। সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা ক্রন্দন করল। প্রভুকে তারা জিজ্ঞাসা করল, “আমরা কি আবার বিন্যামীনদের সঙ্গে যুদ্ধ করব? ওরা তো আমাদের আত্মীয়স্বজন।”
প্রভু উত্তর দিলেন, “যাও, তাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর।” ইস্রায়েলের লোকরা এ ওকে উৎসাহ দিতে লাগল। তারপর প্রথম দিনের মতো এবারও তারা যুদ্ধ করতে বেরিয়ে পড়ল।
24এবার ইস্রায়েল বাহিনী বিন্যামীন বাহিনীর কাছাকাছি এসে পড়ল। এটা ছিল যুদ্ধের দ্বিতীয় দিন। 25বিন্যামীন বাহিনী গিবিয়া থেকে বেরিয়ে এসে দ্বিতীয় দিনে ইস্রায়েল বাহিনীকে আক্রমণ করল। এবারে বিন্যামীন সৈন্যরা আরও 18,000 ইস্রায়েল সৈন্যকে হত্যা করল। এইসব ইস্রায়েলীয় সৈন্য ছিল প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত।
26তখন সমস্ত ইস্রায়েলবাসীরা বৈথেল শহরে গেল। সেখানে তারা সবাই বসে পড়ে প্রভুর সামনে কাঁদতে লাগল। সারাদিন তারা কিছু খেল না। এইভাবে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেটে গেল। তারা প্রভুকে হোমবলি ও মঙ্গল নৈবেদ্য উৎসর্গ করল। 27ইস্রায়েলের লোকরা প্রভুকে একটা প্রশ্ন করল। (সেকালে ঈশ্বরের সাক্ষ্যসিন্দুক ছিল বৈথেলে। 28পীনহস নামে একজন যাজক সেখানে ঈশ্বরের সেবা করত। পীনহস ইলিয়াসরের পুত্র। ইলিয়াসর হারোণের পুত্র।) ইস্রায়েলবাসীরা জিজ্ঞাসা করল, “বিন্যামীনের লোকরা আমাদের আত্মীয়। আমরা কি আবার তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করব? নাকি যুদ্ধ থামিয়ে দেব?”
প্রভু বললেন, “যাও। আগামীকাল তাদের পরাজিত করতে আমি তোমাদের সাহায্য করব।”
29তারপর ইস্রায়েলবাহিনী গিবিয়ার সবদিকে কিছু লোককে লুকিয়ে রাখলো। 30ইস্রায়েল সৈন্যদল তৃতীয় দিন গিবিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেল। আগের মতো এবারেও তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। 31বিন্যামীন সৈন্যবাহিনী গিবিয়া থেকে বেরিয়ে এল ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করতে। ইস্রায়েলবাহিনী তাদের বাধা না দিয়ে সুযোগ দিতে থাকল যেন তারা ওদের পিছু পিছু তাড়া করে। এইভাবে তারা কৌশল করে বিন্যামীনদের শহর থেকে অনেক খানি দূরে বার করে আনল।
বিন্যামীন সৈন্যরা আগের মত এবারও কিছু ইস্রায়েল সৈন্য হত্যা করতে শুরু করল। তারা প্রায় 30 জন ইস্রায়েলীয়কে হত্যা করল। কয়েকজনকে হত্যা করল মাঠে আর কয়েকজনকে হত্যা করল রাস্তায়। একটা রাস্তা গেছে বৈথেলের দিকে। আর একটা গিবিয়ার দিকে। 32বিন্যামীন সৈন্যরা বলে উঠল, “আগের মত এবারও আমরা জিতছি!”
ইস্রায়েলের লোকরা পালাচ্ছিল, কিন্তু এটা তাদের একটা চালাকি। তারা আসলে ওদের শহর থেকে বার করে রাস্তায় আনতে চাইছিল। 33সেইমত সকলেই দৌড়াচ্ছিল। তারা বাল্তামর নামে একটা জায়গায় থামল। ইস্রায়েলের কয়েকজন লোক গিবিয়ার পশ্চিম দিকে লুকিয়ে ছিল। এবার তারা বেরিয়ে এসে গিবিয়া আক্রমণ করল। 34সুশিক্ষিত 10,000 ইস্রায়েলীয় সৈন্য গিবিয়া আক্রমণ করল। জোর লড়াই হল কিন্তু বিন্যামীন সৈন্যরা বুঝতে পারল না তাদের কি হতে চলেছে।
35প্রভু ইস্রায়েল সৈন্যবাহিনীকে ব্যবহার করে বিন্যামীন সৈন্যদের পরাজিত করলেন। সেদিন ইস্রায়েলের সৈন্যরা 25,100 জন বিন্যামীন সৈন্য হত্যা করেছিল। এই সৈন্যরা সকলেই যুদ্ধবিদ্যায় শিক্ষিত ছিল। 36এইবার বিন্যামীনরা বুঝতে পারল যে তারা হেরে গেছে।
ইস্রায়েলীয় সৈন্যরা এবার পিছু হটলো। পিছু হটার কারণ হচ্ছে তারা এবার হঠাৎ আক্রমণ করার কৌশল নিয়েছে। গিবিয়ার কাছাকাছি একটা জায়গায় তারা লুকিয়ে রইল। 37তারপর, যারা লুকিয়ে ছিল তারা গিবিয়া শহরে ঝাঁপিয়ে পড়লো। সেখানে তারা সবদিকে ছড়িয়ে গেল আর শহরে প্রত্যেককে তাদের তরবারি দিয়ে হত্যা করল। 38আত্মগোপনকারীদের সঙ্গে ইস্রায়েলীয়রা একটা মতলব এঁটেছিল। লুকিয়ে থাকা লোকরা একটি বিশেষ ধরণের সংকেত পাঠাবে। তারা তৈরী করবে ধোঁয়ার মেঘ।
39 বিন্যামীন সৈন্যরা কমবেশী 30জন ইস্রায়েল সেনা হত্যা করেছিল। এতেই তারা বলতে লাগল, “আমরা আগের বারের মতো এবারও জিতছি।” কিন্তু তখনই শহর থেকে ধোঁয়ার মেঘ উঠতে লাগলো। বিন্যামীনের লোকরা সেদিকে ঘাড় ফিরিয়ে দেখলো সমস্ত শহরে আগুন লেগেছে। এবার ইস্রায়েলীয়রা আর পেছন ফিরল না, তারা ঘুরে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করতে লাগল। বিন্যামীনের লোকরা ভয় পেয়ে গেল। এবার তারা বুঝতে পারলো, কি তাদের অবস্থা।
42বিন্যামীনের সৈন্যবাহিনী এবার পালাতে লাগলো। মরুভূমির দিকে তারা ছুটলো, কিন্তু তারা যুদ্ধ এড়াতে পারল না। ইস্রায়েলীয়রা শহর থেকে বেরিয়ে এসে তাদের হত্যা করল। 43ইস্রায়েলীয়রা বিন্যামীনের লোকদের ঘেরাও করে তাদের তাড়িয়ে নিয়ে গেল। তারা তাদের বিশ্রাম নিতে দিল না। গিবিয়ার পূর্ব দিকে ইস্রায়েলীয়রা তাদের হারিয়ে দিল। 44এই যুদ্ধে 18,000 সাহসী ও শক্তিশালী বিন্যামীন সৈন্য নিহত হল।
45অবশিষ্ট সৈন্যরা মরুভূমির দিকে ছুটতে লাগলো এবং তারা পৌঁছোল রিম্মোণ শিলা নামক জায়গায়। কিন্তু তাদের মধ্যে 5000 জন বিন্যামীন সৈন্য ইস্রায়েলীয়দের হাতে রাস্তাতেই মারা গেল। তারা ওদের গিদোম পর্যন্ত তাড়া করেছিল। সেখানে ইস্রায়েল সৈন্যবাহিনী আরও 2000 বিন্যামীনের লোকদের হত্যা করল।
46সেদিন 25,000 বিন্যামীন সৈন্য নিহত হল। তারা সকলেই তরবারি নিয়ে বীরের মতো লড়াই করেছিল। 47অপরদিকে, 600 জন বিন্যামীনের লোক মরুভূমির দিকে গেল। রিম্মোণ শিলাতে গিয়ে তারা সেখানে চার মাস থেকে গেল। 48ইস্রায়েলীয়রা বিন্যামীনদের দেশে ফিরে এল। প্রত্যেক শহরে গিয়ে তারা লোকদের হত্যা করল। জন্তু জানোয়ারদেরও তারা রেহাই দিল না। সামনে যা খুঁজে পেল সব তারা ভেঙ্গে চুরে দিল। যত শহর পেল তার সমস্তই তারা জ্বালিয়ে দিল।
21বিন্যামীনদের পত্নী সংগ্রহের প্রস্তুতি
1মিস্পায় ইস্রায়েলীয়রা প্রতিজ্ঞা করল: “বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর ঘরে আমরা কেউ আমাদের মেয়েদের বিবাহ দেব না।”
2ইস্রায়েলীয়রা বৈথেল শহরে গেল। সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা ঈশ্বরের কাছে বসে রইল। আকুল হয়ে কেঁদে কেঁদে তারা বলল, “হে প্রভু, ইস্রায়েলবাসীদের তুমিই ঈশ্বর। 3তাহলে এমন বিপদ হল কেন? কেন ইস্রায়েলীয়দের একটা পরিবারগোষ্ঠীকে পাওয়া যাচ্ছে না?”
4পরদিন ভোরে ইস্রায়েলীয়রা একটা বেদী তৈরী করল। সেই বেদীতে তারা ঈশ্বরের কাছে হোমবলি ও মঙ্গল নৈবেদ্য উৎসর্গ করল। 5তারপর ইস্রায়েলীয় লোকরা বলল, “ইস্রায়েলীয়দের মধ্যে এমন কোন পরিবার কি আছে যারা প্রভুর সামনে আমাদের এই প্রার্থনায় আসে নি?” এরকম জিজ্ঞাসার কারণ হচ্ছে তারা বেশ সাংঘাতিক ধরণের একটা প্রতিজ্ঞা করেছিল। তাদের প্রতিজ্ঞা ছিল অন্যান্য পরিবারগোষ্ঠীর সঙ্গে যদি কেউ মিস্পা শহরে যোগ না দেয় তবে তাকে হত্যা করা হবে।
6ইস্রায়েলীয়রা তাদের আত্মীয় বিন্যামীনদের জন্য দুঃখ বোধ করল। তারা বলল, “আজ ইস্রায়েল থেকে একটি পরিবারগোষ্ঠী পৃথক করা হয়েছে। 7আমরা প্রভুর কাছে একটি শপথ করেছি, কোন বিন্যামীন পুরুষের সঙ্গে আমরা আমাদের মেয়েদের বিবাহ দেব না। কি করে আমরা নিশ্চিত জানব যে বিন্যামীনদের বিয়ে হচ্ছে?”
8ইস্রায়েলীয়রা জানতে চাইল, “ইস্রায়েলীয়দের কোন পরিবারগোষ্ঠী এখানে এই মিস্পায় আসে নি? আমরা এখানে প্রভুর সামনে সমবেত হয়েছি। নিশ্চয়ই একটা পরিবার এখানে আসে নি।” তারা দেখল, যাবেশ-গিলিয়দ থেকে কেউই সেখানে আসে নি। 9ইস্রায়েলীয়রা গুনে দেখল কে কে এসেছে আর কে কে আসে নি। দেখল যাবেশ গিলিয়দ থেকে কেউই সেখানে আসে নি। 10তারা যাবেশ গিলিয়দে 12,000 সৈন্য পাঠাল। সৈন্যদের তারা বলে দিল, “যাবেশ গিলিয়দে গিয়ে সেখানকার প্রতিটি লোককে তরবারি দিয়ে হত্যা করবে। মেয়েদের আর বাচ্চাদের তোমরা ছেড়ে দেবে না। 11এ কাজ তোমাদের করতেই হবে। যাবেশ গিলিয়দের প্রত্যেককে তোমরা হত্যা করবে, তাছাড়া যে সব মেয়েদের কারো না কারো সাথে যৌন সম্পর্ক আছে তাদেরও হত্যা করবে। তবে যে সব মেয়ের কোন পুরুষের সঙ্গে এমন সম্পর্ক হয় নি তাদের হত্যা করবে না।” সৈন্যরা তাই করল। 12ঐ 12,000 সৈন্য যাবেশ গিলিয়দে 400 জন এমন মেয়ের দেখা পেল যারা কোন পুরুষের সঙ্গে এরকম সম্পর্ক স্থাপন করে নি। সৈন্যরা তাদের শীলোর শিবিরে নিয়ে এলো। শীলো কনানদের দেশে অবস্থিত।
13তারপর ইস্রায়েলীয়রা বিন্যামীন লোকদের কাছে খবর পাঠাল। তারা বিন্যামীনের লোকদের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করতে চাইল। বিন্যামীনের লোকরা ছিল রিম্মোণ শিলায়। 14বিন্যামীনরা তাই শুনে ইস্রায়েলে ফিলে এল। ইস্রায়েলীয়রা তাদের কাছে যাবেশ গিলিয়দের সেই সব মেয়ে দিল যাদের তারা মারে নি। কিন্তু বিন্যামীনদের সংখ্যার তুলনায় মেয়েদের সংখ্যা বেশ কম ছিল।
15ইস্রায়েলীয়রা বিন্যামীনদের জন্য দুঃখ করল। তাদের দুঃখের কারণ ঈশ্বর বিন্যামীনদের অন্যান্য ইস্রায়েল পরিবারগোষ্ঠী থেকে আলাদা করে দিয়েছেন। 16ইস্রায়েলীয়দের প্রবীণরা বলল, “বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর মেয়েদের সব হত্যা করা হয়েছে। সুতরাং যে সব বিন্যামীন সন্তান বেঁচে আছে তাদের জন্য কিভাবে পত্নীর ব্যবস্থা করা যায়? 17যেসব বিন্যামীন সন্তান এখনও বেঁচে রয়েছে তাদের বংশ রক্ষা করার জন্য সন্তান-সন্ততির অবশ্য প্রয়োজন। এটা করতেই হবে, নাহলে ইস্রায়েলীয়দের একটা পরিবারগোষ্ঠী তো একেবারে লোপ পেয়ে যাবে। 18কিন্তু আমাদের মেয়েদের সঙ্গে তো বিন্যামীন সন্তানদের বিয়ে হতে পারে না। আমরা এই নিয়ে প্রতিশ্রুতি নিয়েছি। আমরা প্রতিশ্রুতি নিয়েছি যে, ‘বিন্যামীনদের ঘরে যে মেয়ে দেবে সে শাপগ্রস্ত হবে।’ 19তাই আমরা একটা পরিকল্পনা করেছি। শীলো শহরে প্রভুর জন্য এই সময় একটা উৎসব হয়। প্রতি বছরই সেখানে উৎসব পালিত হয়।” (শীলো হচ্ছে বৈথেলের উত্তরে, আর বৈথেল থেকে শিখিমের দিকে যে রাস্তা চলে গেছে তার পূর্বদিকে। তাছাড়া লবোনা শহরের দক্ষিণেও শীলো শহরটা পড়বে।)
20প্রবীণরা তাদের পরিকল্পনাটি বিন্যামীন সন্তানদের বলল। তারা বলল, “যাও, দ্রাক্ষাক্ষেতে গিয়ে লুকিয়ে পড়। 21উৎসবের সময় শীলোর যুবতীরা কখন নাচতে আসবে সেদিকে খেয়াল করবে। তারপর যখনই তারা আসবে তখন দ্রাক্ষা ক্ষেতের লুকানো জায়গা থেকে তোমরা বেরিয়ে আসবে। প্রত্যেকেই একটি করে যুবতী ধরে নেবে। তারপর ওদের নিয়ে বিন্যামীনদের দেশে গিয়ে বিয়ে করবে। 22এবং যদি মেয়েদের পিতা কিংবা ভাইরা আমাদের কাছে নালিশ জানায়, তখন আমরা বলব, ‘বিন্যামীনদের ওপর তোমরা সদয় হও। তারা ঐ মেয়েদের বিয়ে করুক। তারা তোমাদের মেয়েদের নিয়েছে, তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে নি। তারা মেয়েদের গ্রহণ করেছে। সুতরাং ঈশ্বরের কাছে তোমরা যে প্রতিশ্রুতি করেছিলে তা ভঙ্গ করো নি। তোমরা প্রতিশ্রুতি করেছিলে যে ঐ মেয়েদের সঙ্গে ছেলেদের বিয়ে দেবে না। বিন্যামীনদের তোমরা মেয়ে দাও নি। বরং তারাই তোমাদের কাছ থেকে মেয়েদের নিয়ে গেছে। সুতরাং তোমরা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ কর নি।’”
23এইভাবেই বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীরা কাজ করল। যুবতীরা যখন নাচছিল, প্রত্যেক পুরুষ তাদের একজন করে নিয়ে নিল। তাদের তুলে নিয়ে তারা বিয়ে করল। নিজেদের দেশে তারা ফিরে গেল। বিন্যামীনরা আবার সেই দেশে শহরগুলি গড়ল এবং সেই শহরগুলিতে বসবাস করতে লাগল। 24তারপর ইস্রায়েলীয়রা ঘরে ফিরে গেল। তারা প্রত্যেকে নিজের নিজের দেশে ও পরিবারগোষ্ঠীর কাছে ফিরে গেল।
25সেই সময় ইস্রায়েলীয়দের কোন রাজা ছিল না। তাই যে যা ঠিক মনে করত তাই করত।