আদিপুস্তক
1জগৎ সৃষ্টির শুরু
1শুরুতে, ঈশ্বর আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন। প্রথমে পৃথিবী একেবারে শূন্য ছিল; পৃথিবীতে কিছুই ছিল না। 2অন্ধকারে আবৃত ছিল জলরাশি আর ঈশ্বরের আত্মা সেই জলরাশির উপর দিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছিল।
প্রথম দিন—আলো
3তারপর ঈশ্বর বললেন, “আলো ফুটুক!” তখনই আলো ফুটতে শুরু করল। 4আলো দেখে ঈশ্বর বুঝলেন, আলো ভাল। তখন ঈশ্বর অন্ধকার থেকে আলোকে পৃথক করলেন। 5ঈশ্বর আলোর নাম দিলেন, “দিন” এবং অন্ধকারের নাম দিলেন “রাত্রি।”
সন্ধ্যা হল এবং সেখানে সকাল হল। এই হল প্রথম দিন।
দ্বিতীয় দিন—আকাশ
6তারপর ঈশ্বর বললেন, “জলকে দুভাগ করবার জন্য আকাশমণ্ডলের ব্যবস্থা হোক্।” 7তাই ঈশ্বর আকাশমণ্ডলের সৃষ্টি করে জলকে পৃথক করলেন। এক ভাগ জল আকাশমণ্ডলের উপরে আর অন্য ভাগ জল আকাশমণ্ডলের নীচে থাকল। 8ঈশ্বর আকাশমণ্ডলের নাম দিলেন “আকাশ।” সন্ধ্যা হল আর তারপর সকাল হল। এটা হল দ্বিতীয় দিন।
তৃতীয় দিন—শুকনো জমি ও গাছপালা
9তারপর ঈশ্বর বললেন, “আকাশের নীচের জল এক জায়গায় জমা হোক্ যাতে শুকনো ডাঙা দেখা যায়।” এবং তা-ই হল। 10ঈশ্বর শুকনো জমির নাম দিলেন, “পৃথিবী” এবং এক জায়গায় জমা জলের নাম দিলেন, “মহাসাগর।” ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে।
11তখন ঈশ্বর বললেন, “পৃথিবীতে ঘাস হোক্, শস্যদায়ী গাছ ও ফলের গাছপালা হোক্। ফলের গাছগুলিতে ফল আর ফলের ভেতরে বীজ হোক্। প্রত্যেক উদ্ভিদ আপন আপন জাতের বীজ সৃষ্টি করুক। এইসব গাছপালা পৃথিবীতে বেড়ে উঠুক।” আর তাই-ই হল। 12পৃথিবীতে ঘাস আর শস্যদায়ী উদ্ভিদ উৎপন্ন হল। আবার ফলদায়ী গাছপালাও হল, ফলের ভেতরে বীজ হল। প্রত্যেক উদ্ভিদ আপন আপন জাতের বীজ সৃষ্টি করল এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে।
13সন্ধ্যা হল এবং সকাল হল। এভাবে হল তৃতীয় দিন।
চতুর্থ দিন—সূর্য্য, চাঁদ ও তারা
14তারপর ঈশ্বর বললেন, “আকাশে আলো ফুটুক। এই আলো দিন থেকে রাত্রিকে পৃথক করবে। এই আলোগুলি বিশেষ সভা+ 1:14 বিশেষ সভা কবে মাস এবং বছর শুরু হবে তা নির্ধারণ করার জন্য ইস্রায়েলীরা সূর্য এবং চন্দ্রের ব্যবহার করত এবং বহু ইহুদীয় ছুটির দিন এবং বিশেষ সভাসমুহ পূর্ণিমা এবং অমাবস্যায় শুরু হত। শুরু করার বিশেষ বিশেষ সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হবে। আর দিন ও বছর বোঝাবার জন্য এই আলোগুলি ব্যবহৃত হবে। 15পৃথিবীতে আলো দেওয়ার জন্য এই আলোগুলি আকাশে থাকবে।” এবং তা-ই হল।
16তখন ঈশ্বর দুটি মহাজ্যোতি বানালেন। ঈশ্বর বড়টি বানালেন দিনের বেলা রাজত্ব করার জন্য আর ছোটটি বানালেন রাত্রিবেলা রাজত্ব করার জন্য। ঈশ্বর তারকারাজিও সৃষ্টি করলেন। 17পৃথিবীকে আলো দেওয়ার জন্য ঈশ্বর এই আলোগুলিকে আকাশে স্থাপন করলেন। 18দিন ও রাত্রিকে কর্তৃত্ত্ব দেবার জন্য ঈশ্বর এই আলোগুলিকে আকাশে সাজালেন। এই আলোগুলি আলো আর অন্ধকারকে পৃথক করে দিল এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে।
19সন্ধ্যা হল এবং সকাল হল। এভাবে চতুর্থ দিন হল।
পঞ্চম দিন—মাছ ও পাখী
20তারপর ঈশ্বর বললেন, “বহু প্রকার জীবন্ত প্রাণীতে জল পূর্ণ হোক্ আর পৃথিবীর ওপরে আকাশে ওড়বার জন্য বহু পাখী হোক্।” 21সুতরাং ঈশ্বর বড় বড় জলজন্তু এবং জলে বিচরণ করবে এমন সমস্ত প্রাণী সৃষ্টি করলেন। অনেক প্রকার সামুদ্রিক জীব রয়েছে এবং সে সবই ঈশ্বরের সৃষ্টি। যত রকম পাখী আকাশে ওড়ে সেইসবও ঈশ্বর বানালেন। এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটি ভাল হয়েছে।
22ঈশ্বর এই সমস্ত প্রাণীদের আশীর্বাদ করলেন। ঈশ্বর সামুদ্রিক প্রাণীদের সংখ্যাবৃদ্ধি করে সমুদ্র ভরিয়ে তুলতে বললেন। ঈশ্বর পৃথিবীতে পাখীদের সংখ্যাবৃদ্ধি করতে বললেন।
23সন্ধ্যা হয়ে গেল এবং তারপর সকাল হল। এভাবে পঞ্চম দিন কেটে গেল।
ষষ্ঠ দিন—ডাঙার জন্তু জানোয়ার ও মানুষ
24তারপর ঈশ্বর বললেন, “নানারকম প্রাণী পৃথিবীতে উৎপন্ন হোক্। নানারকম বড় আকারের জন্তু জানোয়ার আর বুকে হেঁটে চলার নানারকম ছোট প্রাণী হোক্ এবং প্রচুর সংখ্যায় তাদের সংখ্যাবৃদ্ধি হোক্।” তখন যেমন তিনি বললেন সব কিছু সম্পন্ন হল।
25সুতরাং ঈশ্বর সব রকম জন্তু জানোয়ার তেমনভাবে তৈরী করলেন। বন্য জন্তু, পোষ্য জন্তু আর বুকে হাঁটার সবরকমের ছোট ছোট প্রাণী ঈশ্বর বানালেন এবং ঈশ্বর দেখলেন প্রতিটি জিনিসই বেশ ভালো হয়েছে।
26তখন ঈশ্বর বললেন, “এখন এস, আমরা মানুষ সৃষ্টি করি। আমাদের আদলে আমরা মানুষ সৃষ্টি করব। মানুষ হবে ঠিক আমাদের মত। তারা সমুদ্রের সমস্ত মাছের ওপরে আর আকাশের সমস্ত পাখীর ওপরে কর্তৃত্ত্ব করবে। তারা পৃথিবীর সমস্ত বড় জানোয়ার আর বুকে হাঁটা সমস্ত ছোট প্রাণীর উপরে কর্তৃত্ত্ব করবে।”
27তাই ঈশ্বর নিজের মতোই মানুষ সৃষ্টি করলেন। মানুষ হল তাঁর ছাঁচে গড়া জীব। ঈশ্বর তাদের পুরুষ ও স্ত্রীরূপে সৃষ্টি করলেন। 28ঈশ্বর তাদের আশীর্বাদ করে বললেন, “তোমাদের বহু সন্তান-সন্ততি হোক্। মানুষে মানুষে পৃথিবী পরিপূর্ণ করো এবং তোমরা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণের ভার নাও, সমুদ্রে মাছেদের এবং বাতাসে পাখিদের শাসন করো। মাটির ওপর যা কিছু নড়েচড়ে, যাবতীয় প্রাণীকে তোমরা শাসন করো।”
29ঈশ্বর বললেন, “আমি তোমাদের শস্যদায়ী সমস্ত গাছ ও সমস্ত ফলদায়ী গাছপালা দিচ্ছি। ঐসব গাছ বীজযুক্ত ফল উৎপাদন করে। এই সমস্ত শস্য ও ফল হবে তোমাদের খাদ্য। 30এবং জানোয়ারদের সমস্ত সবুজ গাছপালা দিচ্ছি। তাদের খাদ্য হবে সবুজ গাছপালা। পৃথিবীর সমস্ত জন্তু জানোয়ার, আকাশের সমস্ত পাখি এবং মাটির উপরে বুকে হাঁটে যেসব কীট সবাই ঐ খাদ্য খাবে।” এবং এইসব কিছুই সম্পন্ন হল।
31ঈশ্বর যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সেসব কিছু দেখলেন এবং ঈশ্বর দেখলেন সমস্ত সৃষ্টিই খুব ভাল হয়েছে।
সন্ধ্যা হল, তারপর সকাল হল। এভাবে ষষ্ঠ দিন হল।
2সপ্তম দিন—বিশ্রাম
1এইভাবে পৃথিবী, আকাশ এবং তাদের আভ্যন্তরীণ যাবতীয় জিনিস সম্পূর্ণ হল। 2যে কাজ ঈশ্বর শুরু করেছিলেন তা শেষ করে সপ্তম দিনে তিনি বিশ্রাম নিলেন। 3সপ্তম দিনটিকে আশীর্বাদ করে ঈশ্বর সেটিকে পবিত্র দিনে পরিণত করলেন। দিনটিকে ঈশ্বর এক বিশেষ দিনে পরিণত করলেন কারণ ঐ দিনটিতে পৃথিবী সৃষ্টির সমস্ত কাজ থেকে তিনি বিশ্রাম নিলেন।
মানব জাতির শুরু
4এই হল আকাশ ও পৃথিবীর ইতিহাস। ঈশ্বর যখন পৃথিবী ও আকাশ সৃষ্টি করেছিলেন, তখন যা কিছু ঘটেছিল এটা তারই গল্প। 5পৃথিবীতে তখন কোন গাছপালা ছিল না। মাঠে তখন কিছুই জন্মাতো না। কারণ প্রভু তখনও পৃথিবীতে বৃষ্টি পাঠান নি এবং ক্ষেতে চাষবাস করার জন্য তখন কেউ ছিল না।
6পৃথিবী থেকে জল+ 2:6 জল অথবা “এক মিহি কুয়াশা।” উঠে চারপাশের জমিতে ছড়িয়ে পড়ল। 7তখন প্রভু ঈশ্বর মাটি থেকে ধুলো তুলে নিয়ে একজন মানুষ তৈরী করলেন এবং সেই মানুষের নাকে ফুঁ দিয়ে প্রাণবায়ু প্রবেশ করালেন এবং মানুষটি জীবন্ত হয়ে উঠল। 8তখন প্রভু ঈশ্বর পূর্বদিকে একটি বাগান বানালেন আর সেই বাগানটির নাম দিলেন এদন এবং প্রভু ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টি করা মানুষটিকে সেই বাগানে রাখলেন। 9এবং সেই বাগানে প্রভু ঈশ্বর সবরকমের সুন্দর বৃক্ষ এবং খাদ্যোপযোগী ফল দেয় এমন প্রতিটি বৃক্ষ রোপণ করলেন। বাগানের মাঝখানটিতে প্রভু ঈশ্বর রোপণ করলেন জীবন বৃক্ষটি যা ভাল এবং মন্দ বিষয়ে জ্ঞান দেয়।
10এদন হতে এক নদী প্রবাহিত হয়ে সেই বাগান জলসিক্ত করল। তারপর সেই নদী বিভক্ত হয়ে চারটি ছোট ছোট ধারায় পরিণত হল। 11প্রথম ধারাটির নাম পীশোন। এই নদী ধারা পুরো হবীলা দেশটিকে ঘিরে প্রবাহিত। 12(সে দেশে সোনা রয়েছে আর তা উঁচু মানের। এছাড়া এই দেশে গন্ধদ্রব্য, গুগ্গুল আর মূল্যবান গোমেদকমণি পাওয়া যায়।) 13দ্বিতীয় নদীর নাম গীহোন, এই নদীটি সমস্ত কুশ দেশটিকে ঘিরে প্রবাহিত। 14তৃতীয় নদীটির নাম হিদ্দেকল। এই নদী অশূরিয়া দেশের পূর্ব দিকে প্রবাহিত। চতুর্থ নদীটির নাম ফরাৎ।
15কৃষিকাজ আর বাগানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রভু ঈশ্বর মানুষটিকে এদন বাগানে রাখলেন। 16প্রভু ঈশ্বর মানুষটিকে এই আদেশ দিলেন, “বাগানের যে কোনও বৃক্ষের ফল তুমি খেতে পারো। 17কিন্তু যে বৃক্ষ ভালো আর মন্দ বিষয়ে জ্ঞান দেয় সেই বৃক্ষের ফল কখনও খেও না। যদি তুমি সেই বৃক্ষের ফল খাও, তোমার মৃত্যু হবে!”
প্রথম নারী
18তারপরে প্রভু ঈশ্বর বললেন, “মানুষের নিঃসঙ্গ থাকা ভালো নয়। আমি ওকে সাহায্য করার জন্যে ওর মত আর একটি মানুষ তৈরী করব।”
19প্রভু ঈশ্বর পৃথিবীর ওপরে সমস্ত পশু আর আকাশের সমস্ত পাখী তৈরী করবার জন্য মৃত্তিকার ধূলি ব্যবহার করেছিলেন। প্রভু ঈশ্বর ঐ সমস্ত পশুপাখীকে মানুষটির কাছে নিয়ে এলেন আর মানুষটি তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা নাম দিল। 20মানুষটি সমস্ত গৃহপালিত পশু, আকাশের সমস্ত পাখীর এবং অরণ্যের সমস্ত বন্য প্রাণীর নামকরণ করল। মানুষটি অসংখ্য পশু পাখী দেখল কিন্তু সে তার যোগ্য সাহায্যকারী কাউকে দেখতে পেল না। 21তখন প্রভু ঈশ্বর সেই মানুষটিকে খুব গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন করলেন। মানুষটি যখন ঘুমোচ্ছিল তখন প্রভু ঈশ্বর তার পাঁজরের একটা হাড় বার করে নিলেন। তারপর প্রভু ঈশ্বর যেখান থেকে হাড়টি বার করেছিলেন সেখানটা চামড়া দিয়ে ঢেকে দিলেন। 22প্রভু ঈশ্বর মানুষটির পাঁজরের সেই হাড় দিয়ে তৈরি করলেন একজন স্ত্রী। তখন সেই স্ত্রীকে প্রভু ঈশ্বর মানুষটির সামনে নিয়ে এলেন। 23এবং সেই মানুষটি বলল,
“অবশেষে আমার সদৃশ একজন হল।
আমার পাঁজরা থেকে তার হাড়,
আর আমার শরীর থেকে তার দেহ তৈরী হয়েছে।
যেহেতু নর থেকে তার সৃষ্টি হয়েছে,
সেহেতু ‘নারী’ বলে এর পরিচয় হবে।”
24এইজন্য পুরুষ পিতামাতাকে ত্যাগ করে স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয় এবং এইভাবে দুজনে এক হয়ে যায়।
25তখন নর-নারী উলঙ্গ ছিল, কিন্তু সেজন্যে তাদের কোন লজ্জাবোধ ছিল না।
3পাপের শুরু
1প্রভু ঈশ্বর যত রকম বন্য প্রাণী সৃষ্টি করেছিলেন সে সবগুলোর মধ্যে সাপ সবচেয়ে চালাক ছিল। সাপ সেই নারীর সঙ্গে একটা চালাকি করতে চাইল। একদিন সাপটা সেই নারীকে জিজ্ঞেস করল, “নারী, ঈশ্বর কি বাগানের কোনও গাছের ফল না খেতে সত্যিই আদেশ দিয়েছেন?”
2তখন নারী সাপটাকে বলল, “না! ঈশ্বর তা বলেন নি! বাগানের সব গাছগুলো থেকে আমরা ফল খেতে পারি। 3শুধু একটি গাছ আছে যার ফল কিছুতেই খেতে পারি না। ঈশ্বর আমাদের বলেছিলেন, ‘বাগানের মাঝখানে যে গাছটা আছে, তার ফল কোনমতেই খাবে না। এমন কি ঐ গাছটা ছোঁবেও না—ছুঁলেই মরবে।’”
4কিন্তু সাপটা নারীকে বলল, “না, মরবে না। 5ঈশ্বর জানেন, যদি তোমরা ঐ গাছের ফল খাও তাহলে তোমাদের ভালো আর মন্দের জ্ঞান হবে। আর তোমরা তখন ঈশ্বরের মত হয়ে যাবে!”
6সেই নারী দেখল গাছটা সুন্দর এবং এর ফল সুস্বাদু, আর এই ভেবে সে উত্তেজিত হল যে ঐ গাছ তাকে জ্ঞান দেবে। তাই নারী গাছটার থেকে ফল নিয়ে খেল। তার স্বামী সেখানেই ছিল, তাই সে স্বামীকেও ফলের একটা টুকরো দিল আর তার স্বামীও সেটা খেল।
7তখন সেই নারী ও পুরুষ দুজনের মধ্যেই একটা পরিবর্তন ঘটল। যেন তাদের চোখ খুলে গেল আর তারা সব কিছু অন্যভাবে দেখতে শুরু করল। তারা দেখল তাদের কোনও জামাকাপড় নেই। তারা উলঙ্গ। তাই তারা কয়েকটা ডুমুরের পাতা জোগাড় করে সেগুলোকে জুড়ে জুড়ে সেলাই করল এবং সেগুলোকে পোশাক হিসেবে পরল।
8প্রভু ঈশ্বর বিকেল বেলা বাগানে বেড়াচ্ছিলেন। তাঁর পায়ের শব্দ শুনে সেই পুরুষ ও নারী বাগানে গাছগুলির মাঝখানে গিয়ে লুকালো। 9কিন্তু প্রভু ঈশ্বর পুরুষটিকে ডাকলেন, “তুমি কোথায়?”
10পুরুষটি বলল, “আপনার পায়ের শব্দ শুনে ভয় পেলাম। আমি যে উলঙ্গ। তাই আমি লুকিয়ে আছি।”
11প্রভু ঈশ্বর মানুষটিকে বললেন, “কে বলল যে তুমি উলঙ্গ? তোমার লজ্জা করছে কেন? যে গাছটার ফল খেতে আমি বারণ করেছিলাম তুমি কি সেই বিশেষ গাছের ফল খেয়েছ?”
12সেই পুরুষ বলল, “আমার জন্য যে নারী আপনি তৈরী করেছিলেন সেই নারী গাছটা থেকে আমায় ফল দিয়েছিল, তাই আমি সেটা খেয়েছি।”
13তখন প্রভু ঈশ্বর সেই নারীকে বললেন, “তুমি এ কি করেছ?”
সেই নারী বলল, “সাপটা আমার সঙ্গে চালাকি করেছে। সাপটা আমায় ভুলিযে দিল আর আমিও ফলটা খেয়ে ফেললাম।”
14সুতরাং প্রভু ঈশ্বর সাপটাকে বললেন,
“তুমি ভীষণ খারাপ কাজ করেছ;
তার ফলে তোমার খারাপ হবে।
অন্যান্য পশুর চেয়ে
তোমার পক্ষে বেশী খারাপ হবে।
সমস্ত জীবন তুমি বুকে হেঁটে চলবে
আর মাটির ধুলো খাবে।
15তোমার এবং নারীর মধ্যে
আমি শত্রুতা সৃষ্টি করব
এবং তার সন্তান-সন্ততি এবং তোমার সন্তান সন্ততির মধ্যে
এই শত্রুতা বয়ে চলবে।
তুমি কামড় দেবে তার সন্তানের পায়ে
কিন্তু সে তোমার মাথা চূর্ণ করবে।”
16তারপর প্রভু ঈশ্বর নারীকে বললেন,
“তুমি যখন গর্ভবতী হবে,
আমি সেই দশাটাকে দুঃসহ করে তুলব,
তুমি অসহ্য ব্যথায়
সন্তানের জন্ম দেবে।
তুমি তোমার স্বামীকে আকুলভাবে কামনা করবে
কিন্তু সে তোমার উপরে কর্তৃত্ত্ব করবে।”
17তারপর প্রভু ঈশ্বর পুরুষকে বললেন,
“আমি তোমায় ঐ গাছের ফল খেতে বারণ করেছিলাম।
তবু তুমি নারীর কথা শুনে নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়েছ।
তাই তোমার কারণে আমি এই ভূমিকে শাপ দেব।
ভূমি তোমাদের যে খাদ্য দেবে তার জন্যে এখন থেকে সারাজীবন তোমায় অতি কঠিন পরিশ্রম করতে হবে।
18ভূমি তোমার জন্য কাঁটাঝোপ জন্ম দেবে
এবং তোমাকে বুনো গাছপালা খেতে হবে।+ 3:18 দ্রষ্টব্য আদি 1:18-29.
19তোমার খাদ্যের জন্যে তুমি কঠোর পরিশ্রম করবে
যে পর্যন্ত না মুখ ঘামে ভরে যায়।
তুমি মরণ পর্যন্ত পরিশ্রম করবে,
তারপর পুনরায় ধূলি হয়ে যাবে।
আমি ধুলি থেকে তোমায় সৃষ্টি করেছি
এবং যখন তোমার মৃত্যু হবে পুনরায় তুমি ধূলিতে পরিণত হবে।”
20আদম তার স্ত্রীর নাম রাখল হবা, কারণ সে সমস্ত জীবিত মানুষের জননী হল।
21প্রভু ঈশ্বর পশুর চামড়া দিয়ে আদম ও হবার জন্য পোশাক বানিয়ে তাদের পরিয়ে দিলেন।
22প্রভু ঈশ্বর বললেন, “দেখ, ওরা এখন ভালো আর মন্দ বিষয়ে জেনে আমাদের মত হয়ে গেছে। এখন মানুষটা জীবনবৃক্ষের ফল পেড়েও খেতে পারে। আর তা যদি খায় তাহলে ওরা চিরজীবি হবে।”
23সুতরাং প্রভু ঈশ্বর মানুষকে এদন উদ্যান ত্যাগ করতে বাধ্য করলেন। যে ভুমি থেকে আদমকে তৈরী করা হয়েছিল, বাধ্য হয়ে সে সেই ভুমিতেই কাজ করতে থাকল। 24প্রভু ঈশ্বর মানুষকে ঐ উদ্যান থেকে তাড়িয়ে দিলেন। প্রভু করূব দূতদের উদ্যানের প্রবেশ পথে পাহারায় রাখলেন এবং তিনি আগুনের একটা তরবারিকেও সেখানে রাখলেন। জীবনবৃক্ষের কাছে যাবার পথটি পাহারা দেবার জন্য ঐ তরবারিটি চারদিকে জ্বলজ্বল করছিল।
4প্রথম পরিবার
1আদম ও তার স্ত্রী হবার মধ্যে যৌন সম্পর্ক হল। হবা একটি শিশুর জন্ম দিল। শিশুটির নাম রাখা হল কয়িন। হবা বলল, “প্রভুর সহায়তায় আমি একটি মানুষের রূপ দিয়েছি।”
2পরে সে আর একটি শিশু প্রসব করল। এই শিশুটি হল কয়িনের ভাই হেবল। হেবল হল মেষপালক আর কয়িন হল কৃষক।
প্রথম খুন
3 ফসল কাটার সময় প্রভুর জন্যে কয়িন কিছু উপহার নিয়ে এল। কয়িন ক্ষেতে যা ফলিয়েছিল তার থেকে কিছু ফসল নিয়ে এল। আর হেবল প্রভুর জন্য তার মেষপাল থেকে বাছাই করা সেরা মেষগুলোর সেরা অংশ নিয়ে এল।+ 4:3-4 হেবল … এল আক্ষরিক অর্থে, “হেবল তার প্রথমজাত মেষদের মধ্যে থেকে কয়েকটি এনেছিল, বিশেষ করে তাদের চর্বি।”
প্রভু হেবল ও তার উপহার গ্রহণ করলেন, 5কিন্তু প্রভু কয়িন ও তার উপহার প্রত্যাখ্যান করলেন। এতে কয়িনের ভীষণ দুঃখ আর রাগ হল। 6প্রভু কয়িনকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি রাগ করছ কেন? তোমার মুখ বিষন্ন কেন? 7তুমি যদি ভাল কাজ কর, তখন আমি তোমায় গ্রহণ করব। কিন্তু যদি অন্যায় কাজ করো সে পাপ থাকবে তোমার জীবনে। তোমার পাপ তোমাকে আয়ত্তে রাখতে চায়, কিন্তু তোমাকেই সেই পাপকে আয়ত্তে রাখতে হবে।”+ 4:7 কিন্তু … হবে অথবা “তুমি যদি উচিত কাজ না কর তবে পাপ তোমার দোরগড়ায়় ঘাপটি মেরে থাকে। সে তোমাকে চায়, কিন্তু তোমাকেই তাকে শাসন করতে হবে।”
8কয়িন তার ভাই হেবলকে বলল, “চলো, মাঠে যাওয়া যাক।” তখন কয়িন আর হেবল বাইরে মাঠে গেল। তখন কয়িন তার ভাই হেবলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে হত্যা করল।
9পরে প্রভু কয়িনকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার ভাই হেবল কোথায়?”
কয়িন বলল, “আমি জানি না। ভাইয়ের উপর নজরদারি করা কি আমার কাজ?”
10 তখন প্রভু বললেন, “তুমি কি করেছ? তোমার ভাইকে তুমি হত্যা করেছ? তার রক্ত মাটির নীচে থেকে আমার উদ্দেশ্যে চিৎকার করছে। তুমি তোমার ভাইকে হত্যা করেছ এবং তোমার হাত থেকে তার রক্ত নেওয়ার জন্যে পৃথিবী বিদীর্ণ হয়েছে। তাই এখন, আমি এই ভূমিকে অভিশাপ দেব। 12অতীতে, তুমি গাছপালা লাগিয়েছ এবং তোমার গাছপালার ভালই বাড়বৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু এখন তুমি গাছপালা লাগাবে এবং মাটি তোমার গাছপালা বাড়তে আর সাহায্য করবে না। এই পৃথিবীতে তোমার কোনও বাড়ী থাকবে না, তুমি এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় ঘুরে ঘুরে বেড়াবে।”
13তখন কয়িন বলল, “এই শাস্তি আমার পক্ষে খুব বেশী! 14দেখ, তুমি আমায় নির্বাসনে যেতে বাধ্য করছ। আমি তোমার কাছেও আসতে পারব না, তোমার সঙ্গে আর আমার দেখাও হবে না। আমার কোনও ঘরবাড়ী থাকবে না। আমি পৃথিবী জুড়ে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় ঘুরে বেড়াতে বাধ্য হব এবং আমায় যে দেখবে সেই হত্যা করবে।”
15তখন প্রভু কয়িনকে বললেন, “না, আমি তা ঘটতে দেব না। তোমায় যদি কেউ হত্যা করে তাহলে তাকে আরও বেশী শাস্তি দেব।” তখন প্রভু কয়িনের গায়ে একটা চিহ্ন দিলেন যাতে কেউ তাকে হত্যা না করে।
কয়িনের পরিবার
16কয়িন প্রভুর কাছ থেকে চলে এল এবং এদনের পূর্বদিকে নোদ নামক এক দেশে বাস করতে লাগল।
17কয়িনের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ফলে তার স্ত্রী একটি পুত্রের জন্ম দিল। তার নাম রাখা হল হনোক। কয়িন একটি নগর পত্তন করে তার নামও পুত্রের নামে রাখল হনোক।
18হনোকের ইরদ নামে একটি পুত্র হল। ইরদের পুত্রের নাম মহূয়ায়েল। আর তার পুত্রের নাম মথুশায়েল। আর তার পুত্রের নাম লেমক।
19লেমকের দুজন স্ত্রী ছিল। একজনের নাম আদা, আর একজনের নাম সিল্লা। 20আদার গর্ভে জন্ম হল যাবলের। যারা তাঁবুতে বাস করে এবং পশুপালন করে সেই জাতির জনক হল যুবল। 21আদার অন্য পুত্রের নাম যুবল। তার সন্তান-সন্ততি থেকে যে জাতির সৃষ্টি হল তারা বীণা ও বাঁশি বাজায়। 22লেমকের অন্য স্ত্রী সিল্লা এক পুত্রের ও এক কন্যার জন্ম দিল। পুত্রের নাম তুবল কয়িন আর কন্যার নাম নয়মা। তুবল কয়িনের সন্তান-সন্ততি পিতল ও লোহার কাজে দক্ষ।
23লেমক তার দুই স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলল,
“আদা আর সিল্লা, এদিকে কান দাও।
লেমকের স্ত্রীরা, আমার কথা শোনো!
একটা লোক আমায় মেরেছিল, তাই তাকে আমি হত্যা করেছি।
একজন তরুণ আমায় আঘাত করেছিল, তার বদলে আমি তাকে হত্যা করেছি।
24কয়িনকে হত্যার শাস্তি ছিল সাত গুণ,
লেমককে হত্যার শাস্তি সাতাত্তর গুণ বেশী!”
আদম ও হবার নতুন পুত্র লাভ
25আদমের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ফলে হবা আর একটি পুত্রের জন্ম দিল। তারা তার নাম রাখল শেথ। হবা বলল, “ঈশ্বর আমায় আর একটি পুত্র দিয়েছেন। কয়িন হেবলকে মেরে ফেলল, কিন্তু আমার এখন শেথ আছে।” 26শেথেরও একটি পুত্র হল। সে তার নাম রাখল ইনোশ। সেই সময় লোকেরা প্রভুর কাছে প্রার্থনা করতে শুরু করল।+ 4:26 লোকেরা … করল আক্ষরিক অর্থে, “লোকেরা যিহোবা নাম নিতে শুরু করেছিল।”
5আদম পরিবারের ইতিহাস
1এই বই হল আদম পরিবারের বিষয় নিয়ে। ঈশ্বর নিজের ছাঁচে মানুষকে সৃষ্টি করেছিলেন। 2ঈশ্বর মানুষকে পুরুষ ও স্ত্রীরূপে সৃষ্টি করেছিলেন। এবং সেই সৃষ্টির দিনে ঈশ্বর আশীর্বাদ করে তাদের নাম দিলেন “আদম।”
3আদমের যখন 130 বছর বয়স তখন তার আর একটি পুত্র হল। পুত্রটিকে দেখতে হুবহু আদমের মতো। আদম তার নাম রাখলেন শেথ। 4শেথের জন্মের পর 800 বছর আদম বেঁচেছিলেন। এই সময়ের মধ্যে আদমের আরও পুত্রকন্যা হল। 5সুতরাং আদম মোট 930 বছর বেঁচেছিলেন। তারপর তাঁর মৃত্যু হল।
6শেথের যখন 105 বছর বয়স তখন তাঁর একটি পুত্র হয়। তার নাম রাখা হয় ইনোশ। 7ইনোশের জন্মের পরে শেথ 807 বছর বেঁচেছিলেন। ইতিমধ্যে শেথের আরও পুত্রকন্যা হয়। 8সুতরাং শেথ বেঁচেছিলেন মোট 912 বছর। তারপর তাঁর মৃত্যু হয়।
9ইনোশের যখন 90 বছর বয়স তখন তাঁর কৈনন নামে একটি পুত্র হয়। 10কৈননের জন্মের পর ইনোশ 815 বছর বেঁচেছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়। 11সুতরাং ইনোশ মোট 905 বছর বেঁচেছিলেন। তারপর তাঁর মৃত্যু হয়।
12কৈননের 70 বছর বয়সে তাঁর মহললেল নামে একটি পুত্র হয়। 13মহললেলের জন্মের পর কৈনন 840 বছর বেঁচেছিলেন। ইতিমধ্যে কৈননের আরও পুত্রকন্যা হয়। 14সুতরাং কৈনন মোট 910 বছর বেঁচেছিলেন। তারপর তাঁর মৃত্যু হয়।
15মহললেলের যখন 65 বছর তখন তাঁর যেরদ নামে একটি পুত্র হয়। 16যেরদের জন্মের পর মহললেল 830 বছর বেঁচেছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়। 17সুতরাং মহললেল মোট 895 বছর বেঁচেছিলেন। তারপর তাঁর মৃত্যু হয়।
18যেরদের যখন 162 বছর বয়স তখন তাঁর হনোক নামে একটি পুত্র হয়। 19হনোকের জন্মের পর যেরদ 800 বছর বেঁচেছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়. 20সুতরাং যেরদ মোট 962 বছর বেঁচেছিলেন। তারপর তাঁর মৃত্যু হয়।
21হনোকের যখন 65 বছর বয়স তখন মথূশেলহ নামে তাঁর একটি পুত্র হয়। 22মথূশেলহর জন্মের পর হনোক আরও 300 বছর ঈশ্বরের সঙ্গে পদচারণা করেন। ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়। 23সুতরাং হনোক মোট 365 বছর বেঁচেছিলেন। 24একদিন হনোক ঈশ্বরের সঙ্গে পদচারণা করতে করতে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। ঈশ্বর তাঁকে নিয়ে নিলেন।
25মথূশেলহর যখন 187 বছর বয়স তখন তাঁর লেমক নামে একটি পুত্র হয়। 26লেমকের জন্মের পর মথূশেলহ 782 বছর বেঁচেছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়। 27সুতরাং মথূশেলহ মোট 969 বছর বেঁচেছিলেন। তারপর তাঁর মৃত্যু হয়।
28লেমকের যখন 182 বছর বয়স তখন তাঁর একটি পুত্র হল। 29লেমক পুত্রের নাম রাখলেন নোহ। তিনি বললেন, “ঈশ্বর ভূমিকে অভিশাপ দিয়েছেন বলে কৃষকরূপে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু নোহ আমাদের বিশ্রাম দেবে।”
30নোহের জন্মের পর লেমক 595 বছর বেঁচেছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়। 31সুতরাং লেমক মোট 777 বছর বেঁচেছিলেন। তারপর তাঁর মৃত্যু হয়।
32নোহর 500 বছর বয়সে শেম, হাম এবং যেফৎ নামে তিনটি পুত্র হয়।
6লোকেরা মন্দ হলো
1 পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা ক্রমশঃ বেড়ে চলল। অনেকের অনেক কন্যা হল। ঈশ্বরের পুত্ররা দেখল যে তারা সুন্দরী। সুতরাং ঈশ্বরের পুত্ররা যার যাকে পছন্দ সে তাকে বিয়ে করল। এই নারীরা সন্তানের জন্ম দিল।
তখন প্রভু বললেন, “মানুষ নেহাতই রক্তমাংসের জীব মাত্র। ওদের দ্বারা আমি আমার আত্মাকে চিরকাল পীড়িত হতে দেব না। আমি ওদের 120 বছর করে আয়ু দেব।”
সেই সময় এবং পরবর্তীকালে পৃথিবীতে নেফিলিম জাতীয় মানুষরা বাস করত। প্রাচীনকাল থেকেই নেফিলিমরা মহাবীররূপে বিখ্যাত ছিল।
5প্রভু দেখলেন যে পৃথিবীতে লোকে শুধু মন্দ কাজই করছে। তিনি দেখলেন যে লোক সারাক্ষণ মন্দ জিনিসের কথাই চিন্তা করছে। 6পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি করার জন্যে প্রভুর অনুশোচনা হল এবং তাঁর হৃদয় বেদনায় পূর্ণ হল। 7তাই তিনি বললেন, “পৃথিবীতে যত মানুষ সৃষ্টি করেছি সবাইকে আমি ধ্বংস করব। প্রত্যেক মানুষ, প্রত্যেক জানোয়ার এবং পৃথিবীর উপরে যা কিছু চলে ফিরে বেড়ায় সব কিছুকে আমি ধ্বংস করব। বাতাসে যত পাখী ওড়ে সেগুলোকেও আমি ধ্বংস করব। কেন? কারণ এই সবকিছু সৃষ্টি করেছি বলে আমি দুঃখিত।”
8পৃথিবীতে শুধু একজন মানুষের প্রতি প্রভু সন্তুষ্ট ছিলেন, সে হল নোহ।
নোহ ও জলপ্লাবন
9এই হল নোহের পরিবারের বৃত্তান্ত। নোহ তাঁর প্রজন্মের একজন ভাল ও সৎ মানুষ ছিলেন এবং তিনি সর্বদা ঈশ্বরকে অনুসরণ করতেন। 10নোহের তিন পুত্র ছিল: শেম, হাম আর যেফৎ।
11 ঈশ্বর নীচে পৃথিবীর দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং দেখলেন যে মানুষ তা ধ্বংস করেছে। সর্বত্র হিংসাত্মক ক্রিয়াকলাপ। মানুষ দুষ্ট এবং নিষ্ঠুর হয়ে গেছে এবং নিজেদের জীবন নষ্ট করেছে।
13তাই ঈশ্বর নোহকে বললেন, “সমস্ত লোক ক্রোধ আর হিংসা দিয়ে পৃথিবী পরিপূর্ণ করেছে। তাই আমি সমস্ত জীবন্ত প্রাণীদের ধ্বংস করব। পৃথিবী থেকে সব কিছু মুছে ফেলব। 14গোফর কাঠ দিয়ে একটা নৌকা বানাও। নৌকোর ভেতরে অনেকগুলি কক্ষ তৈরী করবে এবং কাঠ সংরক্ষণের জন্য বাইরে আলকাতরা লাগাবে।
15“নৌকোটা 300 হাত লম্বা, 50 হাত চওড়া আর 30 হাত উঁচু করে তৈরী করবে। 16ছাদের থেকে প্রায় 18 ইঞ্চি নীচে একটা জানালা তৈরী করবে। নৌকোর পাশের দিকে একটা দরজা তৈরী করবে। উপরের তলা, মাঝের তলা আর নীচের তলা—এইভাবে নৌকোর তিনটে তলা থাকবে।
17“এবার যা বলছি, মন দিয়ে শোন। পৃথিবীতে আমি এক মহাপ্লাবন ঘটাবো। আকাশের নীচের যত জীবন্ত প্রাণী আছে, সব ধ্বংস করবো। পৃথিবীর সমস্ত কিছুর মৃত্যু হবে। 18কিন্তু তোমার সঙ্গে আমার একটা বিশেষ চুক্তি হবে। তুমি, তোমার স্ত্রী, তোমার পুত্ররা, তোমার পুত্রবধূরা—তোমরা সবাই ঐ নৌকোতে উঠবে। 19আর পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীর থেকে তুমি একটি করে পুরুষ আর একটি করে স্ত্রী বেছে নেবে। তুমি অবশ্যই তাদের নৌকোতে তুলে নেবে এবং তোমাদের সঙ্গে তাদেরও বাঁচিয়ে রাখবে। 20সমস্ত রকম পাখীর এক জোড়া, সমস্ত রকম পশুর এক জোড়া এবং মাটিতে বুকে হেঁটে চলে সেরকম সব প্রাণীর এক-এক জোড়া খুঁজে বার করো। পৃথিবীতে যত রকম জীবজন্তু আছে সে সব গুলোর এক জোড়া স্ত্রী পুরুষ জোগাড় করে তোমার নৌকোতে তাদের বাঁচিয়ে রাখবে। 21তোমাদের জন্য আর অন্যান্য পশুপাখীর জন্য সমস্ত রকম খাবারও অবশ্যই জোগাড় করে রাখবে।”
22এই সমস্ত কিছুই নোহ করলেন। ঈশ্বর যেমন আজ্ঞা দিয়েছিলেন, নোহ সবকিছু ঠিক সেইভাবেই পালন করলেন।
7বন্যার শুরু
1তখন প্রভু নোহকে বললেন, “তুমি যে একজন সৎ মানুষ তা আমি লক্ষ্য করেছি। এমনকি এই যুগের দুষ্ট লোকদের মধ্যেও তুমি নিজেকে সৎ রেখেছ। সুতরাং তোমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে তুমি গিয়ে নৌকোতে ওঠো। 2পৃথিবীর সমস্ত শুচি পশুপাখীর+ 7:2 শুচি পশুপাখীর পাখীরা এবং পশুরা যারা বলির জন্য ব্যবহৃত হতে পারে বলে ঈশ্বর বলেছিলেন। সাত সাত জোড়া এবং অন্যান্য প্রত্যেক পশুর এক এক জোড়া নাও। এই সমস্ত পশুপাখীদের তুমি ঐ নৌকোতে তোমার সঙ্গে নেবে। 3সমস্ত রকম পাখীর সাতটি করে জোড়া নেবে। এর ফলে পৃথিবীর অন্যান্য সমস্ত পশুপাখী আমি ধ্বংস করে ফেলার পরেও এইসব পশুপাখী সম্পূর্ণভাবে বংশলোপের হাত থেকে রক্ষা পাবে। 4এখন থেকে ঠিক সাতদিন পরে আমি পৃথিবীতে প্রবল বর্ষণ ঘটাবো। 40 দিন 40 রাত ধরে বৃষ্টি হবে। আমি পৃথিবীর সমস্ত জীবন্ত প্রাণী ধ্বংস করে দেব। যা কিছু আমি সৃষ্টি করেছি, সব নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।” 5প্রভু যা যা করতে বললেন, নোহ সে সমস্তই করলেন।
6যখন সেই বর্ষন শুরু হল তখন নোহের বয়স 600 বছর। 7নোহ এবং তাঁর পরিবার মহাপ্লাবন থেকে পরিত্রাণের জন্যে নৌকোতে প্রবেশ করলেন। নোহের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী, তাঁর পুত্ররা ও পুত্রবধূরা সবাই নৌকোতে ছিলেন। 8সমস্ত শুচি ও অশুচি পশুপাখী এবং মাটিতে যারা বুকে হেঁটে চলে সেইসব প্রাণী 9নোহের সঙ্গে নৌকোতে গিয়ে উঠল। ঈশ্বর যেমনটি আদেশ করেছিলেন ঠিক তেমনভাবে স্ত্রী ও পুরুষে জুটি বেঁধে সমস্ত পশুপাখী নৌকোতে চড়লে, 10সাত দিন পরে শুরু হল প্লাবন। পৃথিবীতে শুরু হলো বর্ষা।
11 নোহর 600তম বছরের দ্বিতীয় মাসের 17তম দিনে সমস্ত ভূগর্ভস্থ প্রস্রবণ ফেটে বেরিয়ে এল, মাটি থেকে জল বইতে শুরু করল। ঐদিন মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হল, বাঁধ ভেঙে গেল এবং সমস্ত পৃথিবী জলপ্লাবিত হলো। সেই একই দিনে প্রচণ্ড বেগে বৃষ্টিপাত শুরু হল যেন আকাশের সমস্ত জানালা খুলে গেল। 40 দিন 40 রাত ধরে সমানে বৃষ্টি হলো। সেই দিনটিতেই নোহ ও তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের তিন পুত্র শেম, হাম, যেফৎ আর তাদের তিন স্ত্রী সকলেই নৌকোয় প্রবেশ করল। 14ঐ সব মানুষ আর পৃথিবীর যাবতীয় পশুপাখী নৌকোর মধ্যে আশ্রয় নিলো। সব রকমের গৃহপালিত জন্তু এবং পৃথিবীতে যতরকমের পশুপাখী চলে ফিরে আর উড়ে বেড়ায় সবাই নৌকোর ভেতরে নিরাপদে থাকলো। 15সমস্ত জন্তু জানোয়ার, পাখী ইত্যাদি নোহর সঙ্গে নৌকোতে উঠলো। প্রাণবায়ু বিশিষ্ট সমস্ত পশুপাখী নৌকাতে জোড়ায়় জোড়ায়় থাকল। 16ঈশ্বর যেমন আদেশ দিয়েছিলেন, নোহ সেই অনুসারে পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণীর এক এক জোড়া নৌকোতে তুললে, প্রভু বাইরে থেকে নৌকোর দরজা বন্ধ করে দিলেন।
17পৃথিবীতে 40 দিন ধরে বন্যা চলল। জলের মাত্রা ক্রমশঃ উঁচু হতে লাগল আর সেই নৌকো মাটি ছেড়ে জলের উপরে ভাসতে থাকলো। 18জল বাড়তেই থাকল আর নৌকো মাটি ছেড়ে অনেক উঁচুতে ভাসতে লাগল। 19জল এত বাড়লো যে সবচেয়ে উঁচু পর্বতগুলো পর্যন্ত ডুবে গেল। 20পর্বতগুলোর মাথা ছাপিয়ে জল বাড়তে লাগল। সবচেয়ে উঁচু পর্বতের উপরেও 20 ফুটের বেশী জল দাঁড়াল।
21 পৃথিবীর সমস্ত জীব মারা গেল। প্রতিটি পুরুষ ও স্ত্রী এবং পৃথিবীর সমস্ত জন্তু জানোয়ার মারা পড়ল। সমস্ত বন্য প্রাণী, সরীসৃপ ধ্বংস হয়ে গেল। স্থলচর যত প্রাণী শ্বাস প্রশ্বাস নেয় তারাও মারা গেল। 23এইভাবে ঈশ্বর পৃথিবীকে একেবারে পরিষ্কার করে ফেললেন। পৃথিবীর সমস্ত জীবন্ত অস্তিত্ব ধ্বংস করে ফেললেন। সমস্ত মানুষ, সমস্ত জন্তু জানোয়ার, বুকে হাঁটা সমস্ত প্রাণী এবং সমস্ত পাখী এইসব কিছুই পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। নোহ আর নোহের পরিবার পরিজন এবং নৌকোতে আশ্রয় পাওয়া পশুপাখী—কেবলমাত্র এইসব প্রাণের অবশেষ পৃথিবীতে বেঁচে থাকলো। 24একটানা 150 দিন পৃথিবী বিপুল জলরাশিতে ডুবে থাকলো।
8বন্যার শেষ
1কিন্তু ঈশ্বর নোহর কথা ভুলে যান নি। নোহ এবং নোহের নৌকোয় আশ্রয় পাওয়া সব জীবজন্তুর কথাই ঈশ্বরের মনে ছিল। পৃথিবীর উপর দিয়ে তিনি এক বাতাস বইয়ে দিলেন। এবং সমস্ত জল সরে যেতে শুরু করল।
2আকাশ থেকে অবিশ্রান্ত বর্ষন বন্ধ হল। ভূগর্ভস্ত প্রস্রবণগুলি থেকে জল নির্গত হওয়া বন্ধ হল। 3 পৃথিবীর উপর থেকে জলরাশি ক্রমশঃ নেমে যেতে লাগল। 150 দিন পরে জল এতটাই নেমে গেল যে নৌকোটা আবার মাটি স্পর্শ করলো। নৌকা গিয়ে ঠেকল অরারটের একটা পর্বতে। সেটা ছিল সপ্তম মাসের 17 তম দিন। 5জল ক্রমাগত নেমে যেতে লাগলো এবং দশম মাসের প্রথম দিনে পর্বতের মাথাগুলো জলের উপরে জেগে উঠলো।
6আরও 40 দিন পরে নোহ নিজের তৈরী নৌকোর জানালাটা খুললেন। 7তারপর তিনি নৌকো থেকে একটা দাঁড়কাক উড়িয়ে দিলেন। এবং যতদিন না জল নেমে গিয়ে শুকনো ডাঙা দেখা দিল ততদিন সেই দাঁড়কাকটা নৌকো থেকে উড়ে গিয়ে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় উড়ে বেড়াতে লাগল। 8নোহ একটা পায়রাও উড়িয়ে দিলেন। পায়রাটা শুকনো ডাঙা খুঁজে পায় কিনা তা নোহ জানতে চাইছিলেন। তিনি জানতে চাইছিলেন যে পৃথিবী এখনও জলে ডুবে আছে কি না।
9পৃথিবী তখনও জলে ঢাকা, তাই পায়রাটা বসার জায়গা না পেয়ে ফিরে এল নৌকোতে। নোহ হাত বাড়িয়ে পায়রাটাকে ধরে নৌকোর ভিতরে টেনে নিলেন।
10সাত দিন পরে নোহ আবার পায়রাটা উড়িয়ে দিলেন। 11এবং সেদিন বিকেলে পায়রাটা জলপাইয়ের একটা কচি পাতা ঠোঁটে নিয়ে ফিরে এল। পৃথিবীতে যে আবার ডাঙা জেগে উঠতে শুরু করেছে ঐ কচি পাতাটি তারই চিহ্ন। 12সাত দিন পরে নোহ আবার পায়রাটা উড়িয়ে দিলেন। কিন্তু এবার পায়রাটা আর ফিরে এল না।
13তারপর নোহ নৌকোর দরজাটা খুললেন। নোহ তাকিয়ে শুকনো ডাঙা দেখতে পেলেন। সেটা ছিল বছরের প্রথম মাসের প্রথম দিন। নোহর বয়স তখন 601 বছর। 14দ্বিতীয় মাসের 27তম দিনের মধ্যে ডাঙা সম্পূর্ণ শুকনো হয়ে গেল।
15ঈশ্বর তখন নোহকে বললেন, 16“নৌকো থেকে নেমে এস। তুমি, তোমার স্ত্রী, তোমার পুত্ররা আর তাদের বধূরা নৌকো থেকে এবার বাইরে যাও। 17তোমাদের সঙ্গে নৌকোর সমস্ত পশুপাখী নিয়ে বাইরে যাও। সমস্ত পাখী, সমস্ত জন্তু জানোয়ার এবং বুকে হেঁটে চলে এরকম সমস্ত প্রাণী নিয়ে বাইরে এসো। ঐসব পশুপাখী আরও অনেক পশুপাখীর জন্ম দেবে আর সে সবে আবার পৃথিবী ভরে যাবে।”
18অতএব নোহ, তাঁর স্ত্রী, পুত্র ও পুত্রবধূদের নিয়ে নৌকো থেকে মাটিতে নামলেন। 19সমস্ত জন্তু জানোয়ার, সমস্ত প্রাণী যা বুকে হাঁটে এবং সমস্ত পাখী নৌকো ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এল। নৌকো ছেড়ে এল জোড়ায় জোড়ায় সমস্ত পশুপাখী।
20তখন নোহ প্রভুর জন্যে একটা বেদী তৈরী করলেন। নোহ কয়েকটি শুচি পশু ও কয়েকটি শুচি পাখী ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে নিবেদন করে সেই বেদীতে হোম করলেন।
21প্রভু হোমের গন্ধ আঘ্রাণ করে প্রীত হলেন। আপন মনে প্রভু বললেন, “মানুষকে শাস্তি দেওয়ার জন্যে আমি আর কখনও মৃত্তিকাকে অভিশাপ দেব না। কারণ বাল্যকাল থেকে মানুষের স্বভাব মন্দ। সুতরাং এইমাত্র আমি যেমনটি করেছিলাম আর কখনও সেভাবে পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীদের ধ্বংস করব না। 22যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন শস্যের চারা রোপণের আর ফসল কাটার নির্দিষ্ট সময় থাকবে। ততদিন ঠাণ্ডা, গরম, শীতকাল আর গ্রীষ্মকাল এবং দিন, রাত হয়ে চলবে।”
9নতুন করে শুরু
1ঈশ্বর নোহ আর তাঁর পুত্রদের আশীর্বাদ করলেন। ঈশ্বর তাদের বললেন, “তোমাদের বহু সন্তান হোক্। তোমাদের উত্তরপুরুষরা পৃথিবী পরিপূর্ণ করুক। 2পৃথিবীর সমস্ত জন্তু জানোয়ার, আকাশের সমস্ত পাখী, যতরকমের সরীসৃপ জাতীয় জীব যারা মাটির উপরে বুকে হেঁটে চলে এবং জলের সমস্ত মাছ প্রত্যেকে তোমাদের ভয় করবে। সমস্ত প্রাণীগণই তোমাদের শাসনে থাকবে। 3অতীতে তোমাদের খাদ্য হিসেবে আমি শুধু সবুজ উদ্ভিদ তোমাদের দিয়েছিলাম। এখন থেকে সমস্ত জানোয়ারই তোমাদের খাদ্য হবে। পৃথিবীর সমস্ত কিছুই আমি তোমাদের দিচ্ছি। সব কিছুই তোমাদের। 4যে মাংসের মধ্যে সেই প্রাণীর প্রাণ (রক্ত) আছে সেই মাংস কখনও খাবে না। 5আমি তোমাদের জীবনের জন্য তোমাদের রক্ত দাবি করব। অর্থাৎ যদি কোনও জানোয়ার কোনও মানুষকে হত্যা করে তাহলে আমি তার প্রাণ দাবী করব এবং যদি কোন মানুষ অন্য কোনও মানুষের প্রাণ নেয় আমি তারও প্রাণ দাবী করব।
6“ঈশ্বর মানুষকে আপন ছাঁচে তৈরী করেছেন।
তাই যে মানুষ অপর মানুষকে হত্যা করে তার অবশ্যই মানুষের হাতে মৃত্যু হবে।
7“নোহ, তুমি ও তোমার পুত্রদের অনেক সন্তান-সন্ততি হোক্। আপন পরিজনদের দিয়ে পৃথিবী পরিপূর্ণ করো।”
8তারপর ঈশ্বর নোহ ও তাঁর পুত্রদের বললেন, 9“আমি এখন তোমাকে এবং তোমার লোকদের, যারা তোমার পরে বর্ত্তমান থাকবে তাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। 10নৌকোর মধ্যে থেকে তোমার সঙ্গে যেসব পাখী, যেসব গৃহপালিত জন্তু এবং অন্যান্য যেসব জানোয়ার নেমেছে তাদের সবাইকে আমার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীর কাছে আমার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। 11তোমাদের কাছে আমার প্রতিশ্রুতি হল এই: পৃথিবীর সমস্ত প্রাণ বন্যা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল। কিন্তু এমন ঘটনা আর কখনও হবে না। কোনও বন্যা আর কখনও পৃথিবী থেকে সমস্ত প্রাণ নিশ্চিহ্ন করবে না।”
12ঈশ্বর আরও বললেন, “আর আমি যে এই প্রতিশ্রুতি দিলাম এর প্রমাণস্বরূপ আমি তোমাদের একটা জিনিস দেব। এই প্রমাণ থেকে সকলে জানবে যে আমি তোমাদের সঙ্গে এবং পৃথিবীর সমস্ত জীবন্ত জিনিসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। এই চুক্তি চিরকালীন। 13প্রমাণটা এই যে, আকাশে আমি মেঘে মেঘে সাতরঙের এক রঙধনু বানিয়েছি। ঐ রঙধনুই হল আমার আর পৃথিবীর মধ্যে চুক্তির চিহ্ন। 14আমি যখন পৃথিবীর উপরে মেঘমালা ছড়িয়ে দেব, তখন তোমরা মেঘে ঐ রঙধনু দেখতে পাবে। 15আর আমি যখন ঐ রঙধনু দেখতে পাবো, আমার তখন তোমাদের ও পৃথিবীর যাবতীয় জীবন্ত জিনিসের সঙ্গে চুক্তির কথা মনে পড়বে। এই চুক্তির মর্ম হল যে পৃথিবীতে আর কখনও সর্ব বিধ্বংসী এমন বন্যা হবে না। 16আমি যখন মেঘের মধ্যে ঐ রঙধনু দেখবো তখন চিরকালের জন্য সম্পন্ন ঐ চুক্তির কথা আমার মনে পড়ে যাবে। আমার আর পৃথিবীর প্রত্যেক প্রাণীর মধ্যে ঐ চুক্তির কথা আমি মনে রাখব।”
17তারপর প্রভু নোহকে বললেন, “পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীর সঙ্গে আমি যে একটা চুক্তি করেছি ঐ রঙধনুই তার প্রমাণ।”
পুনরায় সমস্যার শুরু
18নোহর সঙ্গে তাঁর পুত্ররাও নৌকো থেকে বেরিয়ে এলো। তাদের নাম শেম, হাম আর যেফৎ। (হামই কনানের পিতা।) 19ঐ তিনজন হল নোহর পুত্র। ঐ তিন পুত্র হতেই পৃথিবীর সমস্ত মানুষ এসেছে।
20মাটিতে নেমে নোহ কৃষিকাজ শুরু করলেন। একটা জমিতে তিনি দ্রাক্ষা চাষ করলেন। 21সেই দ্রাক্ষা থেকে নোহ দ্রাক্ষারস বানালেন, তারপর সেই দ্রাক্ষারস পান করে নেশায় চুর হয়ে তাঁবুর ভিতরে শুয়ে পড়লেন। নোহর গায়ে আবরণ থাকল না। 22কনানের পিতা হাম সেই উলঙ্গ অবস্থায় নিজের পিতাকে দেখে ফেললো। তাঁবুর বাইরে গিয়ে সে কথা ভাইদের বলল। 23তখন শেম আর যেফৎ এক খণ্ড বস্ত্র নিয়ে নিজেদের পিঠের উপর ছড়িয়ে নিলো। তারপর পিছন দিকে হেঁটে হেঁটে তাঁবুর ভিতরে ঢুকে ঐ বস্ত্রখণ্ড দিয়ে পিতাকে ঢেকে দিল। এইভাবে, তাদের মুখ বিপরীত দিকে ছিল বলে তাদের পিতার নগ্নতা তারা দেখেনি।
24দ্রাক্ষারসের প্রভাবে নোহ ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তিনি যখন ঘুম থেকে উঠলেন তখন জানতে পারলেন তাঁর তরুণ পুত্র হাম তাঁর প্রতি কি করেছে। 25তখন নোহ বললেন,
“অভিশাপ কনানের উপরে পড়ুক।
তাকে চিরকাল তার ভাইদের দাস হয়ে থাকতে হবে।”
26নোহ আরও বললেন,
“শেমের প্রভু ঈশ্বরের প্রশংসা কর!
কনান যেন শেমের দাস হয়।
27ঈশ্বর যেফৎকে আরও জমি দিন,
ঈশ্বর শেমের তাঁবুতে অবস্থান করুন
এবং কনান তাদের দাস হউক।”
28বন্যার পরে নোহ 350 বছর বেঁচেছিলেন। 29নোহ বেঁচেছিলেন মোট 950 বছর; তারপর তাঁর মৃত্যু হয়।
10বিভিন্ন জাতির বৃদ্ধি ও বিস্তার
1শেম, হাম ও যেফৎ এই তিনজন ছিল নোহর পুত্র। বন্যার পরে এই তিনজনের আরও বহু সন্তান সন্ততির জন্ম হল। শেম, হাম ও যেফতের উত্তরপুরুষরা:
যেফতের উত্তরপুরুষ
2যেফতের পুত্রগণ হল: গোমর, মাগোগ, মাদয়, যবন, তূবল, মেশক এবং তীরস।
3গোমরের পুত্রগণ হল: অস্কিনস, রীফৎ এবং তোগর্ম।
4যবনের পুত্রগণ হল: ইলীশা, তর্শীশ, কিত্তীম এবং দোদানীম।
5ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে যে সকল মানুষের বাস তারা সকলেই যেফতের সন্তান-সন্ততি। প্রত্যেক পুত্রের নিজস্ব ভূমি ছিল। সমস্ত পরিবারই বৃদ্ধি পেতে পেতে একটি জাতিতে পরিণত হয়। প্রত্যেক জাতির নিজস্ব ভাষা ছিল।
হামের উত্তরপুরুষ
6হামের পুত্রগণ হল: কূশ, মিশর, পূট এবং কনান।
7কূশের পুত্রগণ হল: সবা, হবীলা, সপ্তা, রয়মা এবং সপ্তক।
রয়মার পুত্রগণ হল: শিবা এবং দদান।
8নিম্রোদ নামেও কুশের এক পুত্র ছিল। কালক্রমে নিম্রোদ দারুন শক্তিমান পুরুষে পরিণত হয়। 9প্রভুর সম্মুখে নিম্রোদ একজন বড় শিকারী হয়ে উঠল। সেজন্য তার সঙ্গে অন্যান্য লোকদের তুলনা করে সকলে বলতো, “ঐ মানুষটি নিম্রোদের মত, এমন কি প্রভুর সামনেও দারুণ শিকারী।”
10নিম্রোদের রাজত্ব বাবিল থেকে শিনিয়র দেশে এরক অক্কদ এবং কল্নী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। 11নিম্রোদ অশূরেও গিয়েছিল। নিম্রোদ অশূর দেশে নীনবী, রহোবোৎ-পুরী, কেলহ এবং 12রেষণ (নীনবী এবং কেলহের মধ্যবর্তী ভুভাগে রেষণ মহানগরের পত্তন হয়।)
13মিশর ছিল লূদীয়, অনামীয়, লহাবীয়, নপ্তুহীয়, 14পথ্রোষীয়, কস্লূহীয় আর কপ্তোরীয় অঞ্চলগুলির অধিবাসীদের জনক। (পলেষ্টীয়রা কস্লূহীয় দেশ থেকে এসেছিল।)
15কনান ছিল সীদোনের পিতা। সীদোন কনানের প্রথম সন্তান। কনান হিত্তীয়দের পূর্বপুরুষ হেতেরও পিতা ছিলেন। হেৎ থেকে হিত্তীয়দের উদ্ভব। 16কনান ছিলেন যিবুষীয়, ইমোরীয় জনগোষ্ঠী, গির্গাশীয়দের পিতা। 17হিব্বীয় জনগোষ্ঠী, অর্কীয় জনগোষ্ঠী, সীনীয় জনগোষ্ঠী, 18অর্বদীয় জনগোষ্ঠী, সমারীয় জনগোষ্ঠী এবং হমাতীয় জনগোষ্ঠী কনান থেকে উদ্ভুত হয়।
পরে কনানীয় গোষ্ঠীগুলি পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ল।
19কনানীয়দের দেশ উত্তরে সীদোন থেকে দক্ষিণে গরার পর্যন্ত, পশ্চিমে ঘসা থেকে পূর্বে সদোম ও ঘমোরা পর্যন্ত এবং অদ্মা ও সবোয়ীর থেকে লাশা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
20এই সমস্ত মানুষই ছিল হামের উত্তরপুরুষ। এইসব পরিবারগুলির নিজস্ব ভাষা ও নিজস্ব দেশ ছিল। তারা ক্রমে ক্রমে পৃথক পৃথক জাতি হয়ে উঠল।
শেমের উত্তরপুরুষ
21যেফতের বড় ভাই ছিল শেম। শেমের একজন উত্তরপুরুষ হল এবর এবং এবর সমস্ত হিব্রু জনগোষ্ঠীর জনক রূপে পরিচিত।+ 10:21 শেমের … পরিচিত আক্ষরিক অর্থে, “এবরের পুত্রদের পিতা শেমের পুত্র হয়ে জন্মেছিল।”
22শেমের পুত্ররা হল: এলম, অশূর, অর্ফক্ষদ, লূদ এবং অরাম।
23অরামের পুত্রেরা হল: উষ, হূল, গোখর এবং মশ।
24অর্ফক্ষদের পুত্র শেলহ,
শেলহের পুত্র এবর।
25এবরের দুই পুত্র। এক পুত্রের নাম পেলগ। তার আমলে পৃথিবী বিভক্ত হয় বলে তার ঐ নাম হয়। অন্য পুত্রের নাম যক্তন।
26যক্তনের পুত্ররা হল: অল্মোদদ, শেলফ, হৎসর্মাবৎ, যেরহ, 27হদোরাম, উবল, দিক্ল, 28ওবল, অবীমায়েল, শিবা, 29ওফীর, হবীলা এবং যোবব। এরা সবাই ছিল যক্তনের পুত্র। 30পূর্ব দিকে+ 10:30 পূর্ব দিকে অর্থাৎ টাইগ্রিস ও ফরাৎ নদীর মধ্যবর্তী ভুভাগ থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল। মেষা এবং পার্বত্য দেশের মধ্যবর্তী ভুভাগে তারা বাস করত। মেষা ছিল সফার দেশের দিকে।
31এরা সবাই ছিল শেমের পরিবারের অন্তর্গত। পরিবার, ভাষা, দেশ ও জাতি অনুসারেই তাদের সাজানো হয়েছে।
32এই সবগুলোই নোহের পুত্রদের পরিবার। পরিবারগুলির তালিকা তাদের জাতি অনুসারে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্লাবনের পরে এই পরিবারগুলি থেকেই সারা পৃথিবীতে মনুষ্য সমাজের বিস্তার হয়েছে।
11পৃথিবীর বিভাজন
1প্লাবনের পরে সমস্ত পৃথিবী এক ভাষাতে কথা বলত। সমস্ত মানুষ একই শব্দগুলি ব্যবহার করত। 2সেই লোকরা পূর্ব দিক থেকে ঘুরতে ঘুরতে শিনিয়র দেশে এসে সমতল ভূমি পেল। তারা সেখানে বসবাস শুরু করল। 3তারা বলল, “আমরা মাটি দিয়ে ইঁট তৈরী করব, তারপর আরও শক্ত করার জন্যে ইঁটগুলো পোড়াব।” তখন মানুষ পাথরের বদলে ইঁট দিয়ে বাড়ী তৈরী করল। আর গাঁথনি শক্ত করার জন্যে সিমেন্টের বদলে আলকাতরা ব্যবহার করল।
4তারা বলল, “এস আমরা আমাদের জন্য এক বড় শহর বানাই। আর এমন একটি উঁচু স্তম্ভ বানাই যা আকাশ স্পর্শ করবে। তাহলে আমরা বিখ্যাত হব এবং এটা আমাদের এক সঙ্গে ধরে রাখবে। সারা পৃথিবীতে আমরা ছড়িয়ে থাকব না।”
5সেই শহর আর সেই আকাশস্পর্শী স্তম্ভ দেখতে প্রভু পৃথিবীতে নেমে এলেন। মানুষ কি কি তৈরী করেছে সেসব প্রভু দেখলেন। 6প্রভু বললেন, “সব মানুষ একই ভাষাতে কথা বলছে। আর দেখতে পাচ্ছি যে এসব কাজ করার জন্যে তারা ঐক্যবদ্ধ। তারা কি করতে পারে এ তো সবে তার শুরু। শীঘ্রই তারা যা চায় তাই করতে পারবে। 7তাহলে এস আমরা নীচে গিয়ে ওদের এক ভাষাকে নানারকম ভাষা করে দিই। তাহলে তারা পরস্পরকে বুঝতে পারবে না।”
8সুতরাং প্রভু সমস্ত লোকেদের সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিলেন। ফলে মানুষ আর সেই শহর তৈরির কাজ শেষ করতে পারল না। 9এই সেই স্থান যেখানে প্রভু সমস্ত পৃথিবীর এক ভাষাকে অনেক ভাষাতে বিভ্রান্ত করলেন। তাই এই স্থানটির নাম হলো বাবিল। এইভাবে প্রভু তাঁদের সেই স্থান থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিলেন।
শেমের পরিবারের কাহিনী
10এটা হল শেমের পরিবারের কাহিনী। প্লাবনের দু বছর পরে, যখন শেমের বয়স 100 বছর তখন তাঁর অর্ফক্ষদ নামে পুত্রটির জন্ম হয়। 11তারপরে শেম 500 বছর বেঁচেছিলেন। তাঁর আরও পুত্রকন্যা ছিল।
12অর্ফক্ষদের 35 বছর বয়সে তাঁর পুত্র শেলহের জন্ম হয়। 13শেলহের জন্মের পরে অর্ফক্ষদ 403 বছর বেঁচেছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়।
14যখন শেলহের বয়স 30 বছর তখন এবর নামে তাঁর এক পুত্র হয়। 15এবরের জন্মের পরে শেলহ 403 বছর বেঁচেছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়।
16এবরের যখন 34 বছর বয়স তখন পেলগ নামে তাঁর এক পুত্র হয়। 17পেলগের জন্মের পর এবর 430 বছর বেঁচেছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়।
18পেলগের যখন 30 বছর বয়স তখন রিয়ু নামে তাঁর এক পুত্র হয়। 19রিয়ুর জন্মের পরে পেলগ আরও 209 বছর বেঁচেছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়েছিল।
20রিয়ুর যখন 32 বছর বয়স তখন সরূগ নামে তাঁর এক পুত্র হয়। 21সরূগের জন্মের পরে রিয়ু 207 বছর বেঁচেছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়েছিল।
22সরূগের যখন 30 বছর বয়স তখন নাহোর নামে তাঁর এক পুত্র হয়। 23নাহোরের জন্মের পরে সরূগ 200 বছর বেঁচেছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়েছিল।
24নাহোরের যখন 29 বছর বয়স তখন তেরহ নামে তাঁর এক পুত্র হয়। 25তেরহের জন্মের পরে নাহোর আরও 119 বছর বেঁচেছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়েছিল।
26তেরহ 70 বছর বয়সে যথাক্রমে অব্রাম, নাহোর ও হারণ নামে পুত্রদের জন্ম দিলেন।
তেরহের পরিবারের কাহিনী
27এটা হল তেরহের পরিবারের কাহিনী। তেরহ হল অব্রাম, নাহোর ও হারণের জনক। হারণ ছিল লোটের জনক। 28কিন্তু তেরহের জীবদ্দশাতেই আপন জন্মস্থান কলদীয়় দেশের উরে হারণের মৃত্যু হয়। 29অব্রাম ও নাহোর দুজনেই বিবাহ করেন। অব্রামের স্ত্রীর নাম সারী আর নাহোরের স্ত্রীর নাম মিল্কা। মিল্কা ছিল হারণের কন্যা। হারণ ছিলেন মিল্কা ও য়িষ্কার জনক। 30সারী বন্ধ্যা ছিল তাই তাঁর কোনও সন্তান হয় নি।
31তেরহ তাঁর পরিবার নিয়ে কলদীয়় দেশের উর পরিত্যাগ করলেন। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল কনান দেশে যাওয়ার। তেরহ তাঁর পুত্র অব্রাম, তাঁর পৌত্র লোট এবং পুত্রবধূ সারীকে সঙ্গে নিলেন। তাঁরা হারণ নামে একটা শহরে পৌঁছে সেখানেই বাস করার সিদ্ধান্ত নিলেন। 32তেরহ 205 বছর বেঁচেছিলেন এবং হারণেই তাঁর মৃত্যু হয়।
12ঈশ্বর অব্রামকে ডাক দেন
1প্রভু অব্রামকে বললেন,
“তুমি এই দেশ, নিজের জাতিকুটুম্ব
এবং পিতার পরিবার ত্যাগ করে,
আমি যে দেশের পথ দেখাব সেই দেশে চল।
2তোমা হতে আমি এক মহাজাতি উৎপন্ন করব।
তোমাকে আশীষ দেব
এবং তুমি বিখ্যাত হবে।
অন্যকে আশীর্বাদ জানাতে
লোকে তোমার নাম নেবে।
3যারা তোমাকে আশীর্বাদ করবে, সেই লোকদের আমি আশীর্বাদ করব
এবং যারা তোমাকে অভিশাপ দেবে, সেই লোকদের আমি অভিশাপ দেব।
তোমার মাধ্যমে আমি
পৃথিবীর সব লোকদের আশীর্বাদ করব।”
অব্রামের কনান যাত্রা
4অতঃপর অব্রাম প্রভুর আজ্ঞা পালন করলেন। তিনি হারণ ত্যাগ করলেন এবং লোট তাঁর সঙ্গে গেলেন। অব্রামের বয়স তখন 75 বছর। 5অব্রাম সঙ্গে নিলেন স্ত্রী সারী, ভ্রাতুষ্পুত্র লোট এবং হারণে তাঁদের যা কিছু ছিল সে সবই নিয়ে গেলেন। হারণে অব্রামের যেসব দাসদাসী ছিল তাদেরও তিনি সঙ্গে নিলেন। দলবল সমেত হারণ ত্যাগ করে অব্রাম কনান দেশে যাত্রা করলেন। 6অব্রাম কনান দেশের মধ্য দিয়ে শিখিম শহরে গেলেন এবং তারপরে মোরিতে এক বিশাল গাছের কাছে গেলেন। সেই সময় কনানীয়রা সেখানে বাস করতো।
7প্রভু অব্রামের সকাশে আত্মপ্রকাশ করলেন। প্রভু বললেন, “তোমার উত্তরপুরুষদের আমি এই দেশ দেব।”
প্রভু যেখানে অব্রামকে দর্শন দিয়েছিলেন সেখানে অব্রাম প্রভুর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ সম্পাদনের জন্য পাথরের একটা বেদী নির্মাণ করলেন। 8তারপর অব্রাম সেই স্থান ত্যাগ করে গেলেন বৈথেলের পূর্বদিকে অবস্থিত পর্বতে এবং সেখানে তাঁর শিবির স্থাপন করলেন। বৈথেল নগর ছিল পশ্চিম দিকে আর অয় ছিল পূর্ব দিকে। সেখানে অব্রাম আর একটি বেদী নির্মাণ করলেন এবং প্রভুর উপাসনা করলেন। 9অতঃপর তিনি পুনরায় তাঁর যাত্রা শুরু করলেন। তিনি নেগেভের দিকে অগ্রসর হলেন।
মিশরে অব্রাম
10তখন দেশটা ছিল খুব শুষ্ক। অনাবৃষ্টির জন্য কোনও শস্য উৎপাদন সম্ভব ছিল না। তাই অব্রাম বসবাসের জন্য আরও দক্ষিণে মিশরে গেলেন। 11তিনি খেয়াল করলেন যে তাঁর স্ত্রী সারী কত সুন্দরী। তাই মিশরে প্রবেশের ঠিক আগে সারীকে বললেন, “আমি জানি তুমি সুন্দরী। 12মিশরীয় পুরুষরা তোমায় দেখবে। তারা বলবে, ‘এই মহিলা ঐ লোকটার স্ত্রী।’ তারা তখন তোমাকে পাওয়ার জন্য আমায় মেরে ফেলবে। 13তাই সবাইকে বলবে যে তুমি আমার বোন। তাহলে তারা আর আমায় হত্যা করবে না। তারা আমায় তোমার ভাই ভাববে, আমার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করবে। এইভাবে তুমি আমার প্রাণ বাঁচাবে।”
14তখন অব্রাম মিশরে গেলেন। মিশরীয় পুরুষরা দেখল যে সারী কত সুন্দরী। 15মিশরের নেতারা কেউ কেউ তাঁকে দেখলেন। সারী যে কত সুন্দরী সে কথা তাঁরা স্বয়ং ফরৌণের কানে তুললেন। তাঁরা সারীকে ফরৌণের প্রাসাদে নিয়ে গেলেন। 16অব্রামকে সারীর ভাই মনে করে ফরৌণ অব্রামের প্রতি সদয় ব্যবহার করলেন। অব্রামকে ফরৌণ মেষ, গবাদি পশু এবং বোঝা বইবার জন্য গাধা দিলেন। সেই সঙ্গে দাসদাসী এবং উটও পেলেন অব্রাম।
17আর ফরৌণ অব্রামের স্ত্রীকে নিলেন। এই কারণে ফরৌণ এবং তাঁর প্রাসাদের সব লোকদের প্রভু ভয়ঙ্কর অসুখ দিলেন। 18তখন ফরৌণ অব্রামকে ডেকে বললেন, “তুমি আমার প্রতি খুব অন্যায় করেছ! সারী যে তোমার স্ত্রী সে কথা আমায় বলো নি কেন? 19তুমি কেন বলেছিলে যে সারী তোমার বোন? তোমার বোন মনে করে আমি ওকে আমার স্ত্রী করব বলে এনেছিলাম। কিন্তু এখন তোমায় তোমার স্ত্রী ফেরত দিচ্ছি। ওকে নিয়ে তুমি চলে যাও!” 20তারপর ফরৌণ তাঁর লোকজনদের আদেশ করলেন, “অব্রামকে মিশরের বাইরে নিয়ে যাও।” সুতরাং অব্রাম ও তার স্ত্রী সেই দেশ ত্যাগ করলেন এবং সঙ্গে তাঁদের সমস্ত জিনিসপত্রও নিয়ে গেলেন।
13অব্রামের কনানে প্রত্যাবর্তন
1অতঃপর অব্রাম মিশর ত্যাগ করলেন। তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে অব্রাম নেগেভের মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হলেন। তাঁর সঙ্গে তখন লোটও ছিল। 2এই সময় অব্রাম খুবই ধনী। তাঁর প্রচুর পশু এবং প্রচুর সোনা ও রূপা ছিল।
3অব্রাম তাঁর যাত্রা অব্যাহত রাখলেন। নেগেভ ত্যাগ করে তিনি বৈথেলে ফিরে গেলেন। সেখান থেকে বৈথেল নগর আর অয় নগরের মধ্যবর্তী স্থানে গেলেন। এখানেই অব্রাম ও তাঁর পরিবার আগে একবার শিবির স্থাপন করেছিলেন। 4এই স্থানটিতেই একটি বেদী নির্মাণ করেছিলেন। তাই অব্রাম এই স্থানটিতেই প্রভুর উপাসনা করলেন।
অব্রাম আর লোটের মধ্যে ছাড়াছাড়ি
5এই পর্যটনের সময় অব্রামের সঙ্গে লোটও ছিল। লোটের অনেক পশু ও তাঁবু ছিল। 6অব্রাম আর লোটের এত পশু ছিল যে তাদের উভয়কে খাদ্য যোগাবার জন্য সেই দেশ অসমর্থ ছিল। 7এই সময় কনানীয় এবং পরিষীয় জাতিরাও সে দেশে বাস করত। অব্রামের পশুপালকদের সঙ্গে লোটের পশুপালকদের বিবাদ হতে লাগল।
8তখন অব্রাম লোটকে বলল, “তোমার আমার মধ্যে কোনও বিবাদ থাকতে পারে না। তোমার লোকদের সঙ্গে আমার লোকদের কোন বিবাদ হওয়া উচিত নয়। আমরা সবাই পরস্পরের আপনজন। 9আমাদের পৃথক হয়ে যাওয়া উচিত। তোমার যে জায়গা পছন্দ সেই জায়গাতেই যাও। তুমি বাঁ দিকে গেলে আমি ডান দিকে যাব। যদি তুমি ডান দিকে যাও, আমি বাঁ দিকে যাব।”
10লোট চোখ তুলে দেখল, সামনে বিস্তৃত যর্দন উপত্যকা। লোট দেখল জায়গাটা পর্যাপ্ত জলে সরস। (এটা প্রভু কর্ত্তৃক সদোম ও ঘমোরা ধ্বংস করার আগের ঘটনা। তখন সোয়র পর্যন্ত যর্দন উপত্যকা ছিল প্রভুর উদ্যানের মত। এখানকার মাটি ছিল মিশরের মাটির মত ভাল জাতের মাটি।) 11তাই লোট যর্দন উপত্যকাতে বাস করবে বলে ঠিক করল। দুজনে পৃথক হয়ে গেল এবং লোট পূর্ব দিকে এগিয়ে চলল। 12অব্রাম কনানেই থেকে গেলেন এবং লোট উপত্যকার জনপদগুলিতে বাস করতে লাগলেন। লোট উপত্যকার সূদুর দক্ষিণে সদোমে চলে গেলেন এবং সেখানেই তাঁবু পাতলেন। 13প্রভু জানতেন যে সদোমের অধিবাসীরা মহাপাপী।
14লোট চলে গেলে প্রভু অব্রামকে বললেন, “তোমার চারদিকে তাকিয়ে দেখ। উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম চারদিকে তাকাও। 15যত জমিজায়গা দেখতে পাচ্ছ, সব আমি তোমায় এবং তোমার বংশধরদের দেব। এ দেশ চিরকালের জন্যে তোমার হবে। 16পৃথিবীর ধূলোর মত আমি তোমার উত্তরপুরুষদের সংখ্যাবৃদ্ধি করব। যদি লোকে পৃথিবীর সব ধূলো গুনতে পারে তাহলে তোমার লোকদের গোনা যাবে। 17অতএব এগিয়ে যাও, তোমার নিজের দেশে তুমি হেঁটে বেড়াও। এই দেশ আমি তোমায় দিলাম।”
18তখন অব্রাম তাঁর তাঁবু উঠিয়ে নিলেন। তিনি মম্রির উচ্চ বৃক্ষগুলির কাছে বাস করতে গেলেন। স্থানটি ছিল হিব্রোণ নগরের কাছে। সেখানে অব্রাম প্রভুর উদ্দেশ্যে উপাসনা করার জন্যে একটি বেদী নির্মাণ করলেন।
14লোট বন্দী হল
1শিমিয়রের রাজা ছিলেন অম্রাফল। অরিয়োক ছিলেন ইল্লাসরের রাজা। এলমের রাজা ছিলেন কদলায়োমর এবং গোয়ীমের রাজা তিদিয়ল। 2এইসব রাজা, সদোমের রাজা বিরা, ঘমোরার রাজা বির্শা, অদ্মার রাজা শিনাব, সবোয়িমের রাজা শিমেবর এবং বিলার (বিলা সোয়র নামেও পরিচিত ছিল) রাজার সঙ্গে যুদ্ধ করলেন।
3এই সমস্ত রাজাদের সৈন্যবাহিনী সিদ্দীম উপত্যকায় মিলিত হল। (সিদ্দীম উপত্যকা বর্তমানে লবণ সমুদ্র।) 4এই রাজারা বারো বছর ধরে কদর্লায়োমরের অনুগত ছিল। কিন্তু 13তম বছরে তারা সবাই কদর্লায়োমরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল। 5সুতরাং 14তম বছরে রাজা কদর্লায়োমর ও তাঁর মিত্র রাজাদের সঙ্গে বিদ্রোহী রাজাদের যুদ্ধ হল। কদর্লায়োমর ও তাঁর মিত্র রাজারা অন্তরোৎ কর্ণয়িমের অধিবাসী রফায়ীয় নামক জাতিকে পরাস্ত করলেন। তাঁরা হমের সুষীয়দেরও পরাস্ত করলেন এবং শাবি-কিরিয়াথয়িমের অধিবাসী এমীয়দের পরাস্ত করলেন। 6তারপর তাঁরা হোরীয়দের পরাস্ত করলেন। হোরীয়রা সেয়ীর থেকে এল-পারণ (এল-পারণ মরুভূমির কাছে অবস্থিত) পর্যন্ত পার্বত্য দেশে বাস করত। 7তারপর রাজা কদর্লায়োমের উত্তর দিকে গেলেন এবং ঐনমিস্পটে অর্থাৎ কাদেশে গিয়ে সমস্ত অমালেকীয়দের পরাস্ত করলেন। তিনি হৎসসোন তামরের অধিবাসী ইমোরীয়দেরও পরাস্ত করলেন।
8সেই সময় সদোমের রাজা, ঘমোরার রাজা, অদ্মার রাজা, সবোয়িমের রাজা এবং বিলার রাজা তাঁদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সিদ্দীম উপত্যকায় যুদ্ধ করতে গেলেন। 9এই যুদ্ধে অপর পক্ষে ছিলেন এলমের রাজা কদর্লায়োমর, গোয়ীমের রাজা তিদিয়ল, শিনিয়রের রাজা অম্রাফল এবং ইলাসরের রাজা অরিয়োক। অর্থাৎ যুদ্ধটা ছিল পাঁচজন রাজার বিরুদ্ধে চারজন রাজার।
10সিদ্দীম উপত্যকায় আলকাতরায় পূর্ণ অনেক গর্ত ছিল। সদোম এবং ঘমোরার রাজা এবং তাদের সৈন্যরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গেল। অনেক সৈন্য ঐসব খাতে পড়ল। কিন্তু অধিকাংশই পাহাড়ে পর্বতে পালিয়ে গেল।
11সুতরাং সদোম এবং ঘমোরার সমস্ত সরঞ্জাম, তাদের সমস্ত খাদ্যসম্ভার, বস্ত্রাদি এবং অন্যান্য সব জিনিসপত্র প্রতিপক্ষরা নিয়ে চলে গেল। 12অব্রামের ভ্রাতুষ্পুত্র লোট তখন সদোমে বাস করছিল এবং সদোমের শত্রুরা লোটকে বন্দী করল, লোটের যা কিছু ছিল সব অধিকার করল। 13লোটের একটি লোককে তারা বন্দী করতে পারে নি। সে পালিয়ে গিয়ে যা যা ঘটেছে সমস্ত অব্রামকে জানাল। অব্রাম তখন ইমোরীয়দের মম্রির গাছগুলির কাছে শিবিরে বাস করছিলেন। মম্রি, ইষ্কোল এবং আনেরের মধ্যে পরস্পরকে সাহায্য করার এক চুক্তি ছিল। তারা অব্রামকে সাহায্য করার একটা চুক্তিও করেছিল।
অব্রাম লোটকে উদ্ধার করলেন
14লোট বন্দী হয়েছে জানতে পেরে অব্রাম পরিবারের সবাইকে ডেকে পাঠালেন। তাদের মধ্যে 318 জন শিক্ষিত সৈন্য ছিল। অব্রাম তাঁর লোকদের পরিচালনা করে শত্রুদের দূরে দান নগর অবধি তাড়িয়ে নিয়ে গেলেন। 15সেই রাত্রে তিনি ও তাঁর সৈন্যরা অতর্কিতে শত্রুদের আক্রমণ করলেন। তাঁরা শত্রুদের পরাভূত করে দম্মেশকের উত্তরে হোবা পর্যন্ত বিতাড়িত করলেন। 16তারপর শত্রুরা যা যা অধিকার করেছিল, সেই সমস্ত পুনরুদ্ধার করলেন। লোট, লোটের সমস্ত নারী ও ভৃত্যদের পর্যন্ত অব্রাম ফিরিয়ে আনলেন।
17তারপর অব্রাম কদর্লায়োমর ও তাঁর সঙ্গে যোগদানকারী রাজাদের পরাস্ত করে তাঁর আগের জায়গায় ফিরে এলেন। তিনি ফিরে এলে সদোমের রাজা তাঁর সঙ্গে শাবী উপত্যকায় (এখন এই স্থান রাজার উপত্যকা নামে পরিচিত) দেখা করতে গেলেন।
মল্কীষেদক
18শালেমের রাজা মল্কীষেদকও অব্রামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন। মল্কীষেদক ছিলেন পরাৎপর ঈশ্বরের একজন যাজক। মল্কীষেদক নিয়ে এলেন রুটি ও দ্রাক্ষারস। 19অব্রামকে আশীর্বাদ করে মল্কীষেদক বললেন,
“হে অব্রাম, পরাৎপর তোমাকে আশীর্বাদ করুন।
ঈশ্বর স্বর্গ ও মর্ত্য সৃষ্টি করেছেন।
20আমরা পরাৎপর ঈশ্বরের প্রশংসা করি।
তিনি শত্রুদের পরাস্ত করতে তোমাকে সাহায্য করেছেন।”
অব্রাম যুদ্ধের সময় যা যা পেয়েছিলেন তার থেকে এক দশমাংশ মল্কীষেদককে দিলেন। 21সদোমের রাজা বললেন, “আপনি নিজের জন্যে সব রেখে দিন। শত্রুরা যে লোকদের নিয়ে গেছে শুধু আমার সেই লোকদের আমাকে দিন।”
22কিন্তু সদোমের রাজাকে অব্রাম বললেন, “পরাৎপর ঈশ্বর, যিনি স্বর্গ মর্ত্য সৃষ্টি করেছেন সেই প্রভুর কাছে আমি শপথ করছি। 23যা কিছু আপনার তার কিছুই আমি রাখব না। আমি প্রতিশ্রুতি করছি যে আমি কিছুই রাখব না। এমনকি একটা সুতো অথবা জুতোর ফিতেও না। আমি চাই না যে আপনি বলবেন, ‘অব্রামকে আমি বড় লোক বানিয়েছি।’ 24আমি শুধু সেটুকুই নেব যা আমার যোদ্ধারা খেয়েছে। কিন্তু অন্যদের আপনি তাদের ভাগ দিন। যুদ্ধে যা জিতেছি তা আপনি নিয়ে যান, কিন্তু কিছু আনের, ইষ্কোল এবং মম্রিকে দিয়ে যান। এরা যুদ্ধে আমায় সাহায্য করেছে।”
15অব্রামের সঙ্গে ঈশ্বরের চুক্তি
1এইসব ঘটনাবলির পরে অব্রাম দর্শনের মধ্যে প্রভুর কথা শুনতে পেলেন। ঈশ্বর বললেন, “অব্রাম চিন্তা কোরো না। আমি তোমায় রক্ষা করব। আমি তোমায় এক মহাপুরস্কার দেব।”
2কিন্তু অব্রাম বললেন, “প্রভু ঈশ্বর, আমায় খুশী করার মত আপনি কিছুই দিতে পারবেন না। কেন? কারণ আমার কোনও পুত্র নেই। তাই আমার মৃত্যুর পরে আমার দম্মেশকীয দাস ইলীয়েষর আমার সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে।” 3অব্রাম বললেন, “আপনি আমায় পুত্র দেননি। তাই যে দাস আমার ঘরে জন্ম লাভ করেছে সে-ই পাবে আমার সমস্ত ধনসম্পত্তি।”
4তখন প্রভু অব্রামের সঙ্গে কথা বললেন। ঈশ্বর বললেন, “ঐ দাস তোমার নিজের পুত্র হবে. এবং তোমার ঔরসজাত পুত্রই তোমার সমস্ত কিছুর উত্তরাধিকার পাবে।”
5তখন ঈশ্বর অব্রামকে বাইরে ডেকে নিয়ে গেলেন। ঈশ্বর বললেন, “আকাশের দিকে তাকাও। দেখ, সেখানে কত তারা। এত তারা যে তুমি গুণতেই পারবে না। ভবিষ্যতে তোমার বংশধররাও ঐরকম অগুনতি হবে।”
6অব্রাম ঈশ্বরকে বিশ্বাস করলেন এবং ঈশ্বর অব্রামের বিশ্বাসকে তার ধার্মিকতা হিসেবে বিবেচনা করলেন। 7এবং ঈশ্বর অব্রামকে বললেন, “আমিই সেই প্রভু, যিনি তোমায় বাবিলের উর থেকে নিয়ে এসেছিলেন, যাতে এই দেশটা আমি তোমায় দিতে পারি। এই দেশ তুমি পাবে।”
8কিন্তু অব্রাম বললেন, “প্রভু আমার গুরু, এই দেশ যে আমি পাব তার নিশ্চয়তা কি?”
9ঈশ্বর অব্রামকে বললেন, “আমরা একটা চুক্তি করব। আমায় একটা তিন বছরের বাছুর, তিন বছরের ছাগল আর তিন বছরের মেষ এনে দাও। একটা বাচ্চা পায়রা আর একটা ঘুঘুপাখীও এনে দাও।”
10অব্রাম এই সমস্ত ঈশ্বরের কাছে এনে দিলেন। অব্রাম প্রাণীগুলি হত্যা করে এবং প্রতিটির দুটি করে খণ্ড করে ঐ খণ্ডগুলি থাক-থাক করে সাজিয়ে রাখলেন। কিন্তু পাখীগুলিকে অব্রাম দুখণ্ড করেন নি। 11পরে ঐসব প্রাণীর মাংসখণ্ডের জন্য বড় বড় পাখী ছোঁ মেরে এলো। কিন্তু অব্রাম সেগুলি তাড়িয়ে দিলেন।
12বেলা বাড়তে থাকল, ঢলে পড়তে লাগল সূর্য। অব্রামের ভীষণ ঘুম পেল এবং শেষ পর্যন্ত তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। তখন নেমে এল এক ভীষণ অন্ধকার। 13তখন প্রভু অব্রামকে বললেন, “তোমার কয়েকটা কথা জেনে রাখা উচিৎ। তোমার উত্তরপুরুষরা যে দেশে বাস করবে সেই দেশ তাদের নয়, সেখানে তারা বিদেশী বলে গণ্য হবে। এবং সেই দেশের অধিবাসীরা 400 বছর ধরে তোমার উত্তরপুরুষদের দাস করে রাখবে এবং তাদের উপর নানা উৎপীড়ন করবে। 14কিন্তু তারপর যে জাতি তোমার উত্তরপুরুষদের দাস করে রেখেছিল তাদের আমি শাস্তি দেব। তোমার উত্তরপুরুষরা সেই জাতি ত্যাগ করবে এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে যাবে বহু ভাল জিনিস।
15“তুমি নিজে বহুকাল জীবিত থাকবে। শান্তিতে তুমি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবে। তোমার সমাধি হবে তোমার পরিবারের মধ্যে। 16চার প্রজন্ম পরে তোমার আত্মীয়স্বজনরা আবার এই দেশে আসবে। তখন তারা এখানকার অধিবাসী ইমোরীয়দের পরাস্ত করবে। তোমার আত্মীয়স্বজনদের মাধ্যমে আমি ইমোরীয়দের শাস্তি দেব। এটা ভবিষ্যতে ঘটবে। কারণ ইমোরীয়রা এখনও আমার কাছে শাস্তি পাওয়ার মত খারাপ হয় নি।”
17সূর্য অস্ত গেলে গাঢ় অন্ধকার ঘনাল। দুখণ্ড করা মৃত পশুগুলি তখনও মাটির উপরে পড়ে আছে। সেই সময় আগুন ও ধোঁয়ার স্তম্ভ মৃত পশুগুলির অর্ধেক খণ্ডগুলির মধ্য দিয়ে চলে গেল।+ 15:17 মৃত … গেল এর থেকে বোঝা যায় যে ঈশ্বর অব্রাহামের সঙ্গে করা চুক্তিতে “সই করলেন” অথবা “সীল” করলেন। তখনকার দিনে যাঁরা অন্যের সঙ্গে চুক্তি করতেন তাঁরা মৃত প্রাণীদের দেহের অর্ধেক খণ্ডাংশের মধ্যে দিয়ে হেঁটে গিয়ে বোঝাতেন যে তাঁরা নিষ্ঠাবান এবং বলতেন, “যদি আমি চুক্তি ভঙ্গ করি তবে আমারও যেন একই পরিণতি হয়।”
18সুতরাং ঐদিন প্রভু অব্রামকে একটা প্রতিশ্রুতি দিলেন এবং সেই অনুসারে অব্রামের সঙ্গে একটা চুক্তি করলেন। প্রভু বললেন, “এই দেশ আমি তোমার উত্তরপুরুষদের দেব। মিশর নদ এবং ফরাৎ নদের মধ্যবর্তী বিশাল ভূভাগ আমি তাদের দেব। 19এটা হল কেনীয়, কনিষীয়, কদ্মোনীয়, 20হিত্তীয়, পরিষীয়, রফায়ীয়, 21ইমোরীয়, কনানীয়, গির্গাশীয় এবং যিবুষীয় বংশগুলির দেশ।”
16দাসী কন্যা হাগার
1সারী ছিল অব্রামের স্ত্রী। তার ও অব্রামের কোনও সন্তানাদি ছিল না। সারী মিশর থেকে একজন দাসী এনেছিল। তার নাম হাগার। 2সারী অব্রামকে বললেন, “প্রভু আমায় সন্তান ধারণের ক্ষমতা দেন নি। তাই তুমি আমার দাসী হাগারের কাছে যাও। আমাকে একটি সন্তান দাও এবং আমি সেই সন্তানকে নিজের বলে গ্রহণ করবো।” অব্রাম সারীর নির্দেশ অনুসরণ করলেন।
3অব্রাম কনানে দশ বছর বাস করার পরে এই ঘটনা ঘটে। সারী হাগারকে তাঁর স্বামী অব্রামের কাছে পাঠালো। (হাগার ছিল তাঁর মিশরীয় দাসী।) 4অব্রামের দ্বারা হাগার গর্ভবতী হলো। যখন সে একথা জানতে পারল সে খুব গর্বিতা হয়ে উঠল এবং ভাবল সে তার প্রভু-পত্নী সারীর চেয়ে ভাল। 5কিন্তু সারী অব্রামকে বলল, “আমার দাসী এখন আমাকেই তিরস্কার করে এবং এর জন্যে তুমি দায়ী। আমিই তাকে তোমার কাছে পাঠিয়েছিলাম। সে গর্ভবতী হল। এখন সে নিজেকে আমার চেয়ে ভাল মনে করে। প্রভু বিচার করুন যে কোনটা ঠিক।”
6কিন্তু অব্রাম সারীকে বলল, “তুমিই হাগারের গৃহকর্ত্রী। তোমার যে রকম ইচ্ছে সে রকমভাবেই তুমি হাগারের ব্যবস্থা করবে।” ফলে সারী তাঁর দাসী হাগারকে দুঃখ দিলেন এবং হাগার সেখান থেকে পালিয়ে গেল।
হাগারের পুত্র ইশ্মায়েল
7মরুভূমির মধ্যে এক জলপূর্ণ কূপের পাশে প্রভুর দূত হাগারকে দেখতে পেল। জলাশয়টি ছিল শূর যাওয়ার পথে। 8সেই দূত বলল, “হাগার তুমি তো সারীর পরিচারিকা। তুমি এখানে কেন? তুমি কোথায় যাচ্ছো?”
হাগার বলল, “আমি সারীর কাছ থেকে পালাচ্ছি।”
9প্রভুর দূত হাগারকে বলল, “সারী তোমার গৃহকর্ত্রী। তার কাছে ফিরে যাও। তার বাধ্য হও।” 10হাগারকে প্রভুর দূত আরও বলল, “তোমার থেকে বিশাল জনসংখ্যার সৃষ্টি হবে। এত বিশাল জনসংখ্যা হবে যে তাদের গুনে শেষ করা যাবে না।”
11প্রভুর দূত আরও বলল,
“হাগার, এখন তুমি গর্ভবতী,
তুমি হবে এক পুত্রের জননী।
পুত্রের নাম দেবে ইশ্মায়েল,
কারণ প্রভু শুনেছেন তোমার উপর দুর্ব্যবহার হয়েছে, তিনি তোমাকে সাহায্য করবেন।
12ইশ্মায়েল স্বাধীন এবং উদ্দাম হবে
যেমন উদ্দাম হয় বন্য গাধা।
সে সবার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে
এবং সবাই হবে তার প্রতিপক্ষ।
সে স্থান থেকে স্থানান্তরে ঘুরে বেড়াবে
এবং ভাইদের বসতির কাছে তাঁবু গাড়বে।”
13প্রভু হাগারের সঙ্গে কথা বললেন। হাগার ঈশ্বরের এক নতুন নাম দিল। সে তাঁকে বলল, “আপনি হলেন ঈশ্বর যিনি আমায় দেখেন।” সে এই কথা বলল কারণ সে ভাবল, “এরকম জায়গাতেও ঈশ্বর আমায় দেখতে পাচ্ছেন, আমার ভালমন্দের কথা চিন্তা করছেন।” 14সুতরাং ঐ কূপের নাম হল বের-লহয়-রোয়ী। কাদেশ এবং বেরদ অঞ্চলের মধ্যে ঐ কূপের অবস্থান।
15হাগার অব্রামের পুত্রের জন্ম দিল। সে অব্রাম পুত্রের নাম দিল ইশ্মায়েল। 16যখন হাগারের গর্ভে ইশ্মায়েলের জন্ম হয় তখন অব্রামের বয়স 86 বছর।
17সুন্নতের চুক্তির প্রমাণ
1অব্রামের 99 বছর বয়স হলে প্রভু তাঁর সামনে আবির্ভূত হলেন। প্রভু বললেন, “আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বর। আমার জন্য এই কাজগুলি করো: আমার কথামত চলো এবং সৎ পথে জীবনযাপন করো। 2এটা যদি করো তাহলে আমাদের মধ্যে একটা চুক্তির ব্যবস্থা করব। আমি প্রতিশ্রুতি করছি যে তোমার বংশধরদের আমি এক মহান জাতিতে পরিণত করব।”
3তখন অব্রাম ঈশ্বরের সামনে প্রণামে নত হলেন। ঈশ্বর তাঁকে বললেন, 4“আমাদের চুক্তিতে এটি আমার অংশ। আমি তোমাকে বহু জাতির পিতা করব। 5আমি তোমার নাম পরিবর্তন করব। তোমার নাম অব্রামের পরিবর্তে অব্রাহাম হবে। আমি তোমায় এই নাম দিচ্ছি কারণ আমি তোমায় বহু জাতির পিতা করছি। 6আমি তোমার বংশ অতিশয় বৃদ্ধি করব। তোমার থেকে নতুন নতুন জাতির এবং রাজার জন্ম হবে। 7এবং তোমার ও আমার মধ্যে এক চুক্তি সম্পন্ন হবে। তোমার সমস্ত উত্তরপুরুষগণের জন্যও এই একই চুক্তি প্রযোজ্য হবে। এই চুক্তি চিরকাল বহাল থাকবে। আমি তোমার ও তোমার উত্তরপুরুষগণের জন্য ঈশ্বর থাকব। 8আমি তোমাকে এবং তোমার সব উত্তরপুরুষদের এই কনান দেশ দেব যার মধ্য দিয়ে তোমরা যাত্রা করছ। আমি তোমাকে এই দেশ চিরকালের জন্য দেব। আমি হব তোমার ঈশ্বর।”
9এবং ঈশ্বর অব্রাহামকে বললেন, “এখন তোমার দিক থেকে এই চুক্তি হবে এই রকম। তুমি এবং তোমার উত্তরপুরুষগণ আমার চুক্তি মান্য করবে। 10এটাই চুক্তি যা তুমি মেনে চলবে। তোমার ও আমার মধ্যে এটাই হল চুক্তি। তোমার উত্তরপুরুষগণের জন্যেও এটাই চুক্তি। যত পুত্র সন্তান হবে প্রত্যেককে সুন্নত করতে হবে। 11তোমার আর আমার মধ্যে চুক্তি যে তুমি মেনে চলবে, এই সুন্নত হবে তার প্রমাণস্বরূপ। 12শিশু পুত্রের বয়স আট দিন হলে এই সুন্নত সম্পন্ন করবে। তোমার পরিবারে যত ছেলের এবং তোমার দাসদের মধ্যে যত ছেলের জন্ম হবে, তোমার বংশধর নয় এমন বিদেশীদের কাছ থেকে তোমার অর্থ দিয়ে তুমি যে দাসদের কিনেছিলে তাদের যে ছেলেরা জন্মাবে, সকলের অবশ্যই সুন্নত করতে হবে। 13সুতরাং তোমার জাতির প্রত্যেক শিশু পুত্রকে সুন্নত করা হবে। তোমার পরিবারের অথবা ক্রীতদাসের সব পুত্রদের এভাবে সুন্নত করা হবে। 14অব্রাহাম, তোমার ও আমার মধ্যে এটাই চুক্তি; সুন্নত করা হয়নি এমন কোন পুরুষ থাকলে সে হবে তার নিজের লোকদের স্বজাতির থেকে বিচ্ছিন্ন। কারণ সে ব্যক্তি আমার চুক্তি ভঙ্গকারী।”
প্রতিশ্রুত পুত্র ইস্হাক
15ঈশ্বর অব্রাহামকে বললেন, “তোমার স্ত্রী সারীকে আমি এক নতুন নাম দেব। তার নতুন নাম হবে সারা অর্থাৎ রানী। 16আমি তাকে আশীর্বাদ করব। আমি তাকে একটি পুত্র দেব এবং তুমি হবে সেই পুত্রের পিতা। সারা হবে বহু নতুন জাতির মাতা। সারা থেকে আসবে বহু জাতির বহু রাজা।”
17ঈশ্বরকে যে তিনি মান্য করেন এই কথা বোঝাবার জন্যে অব্রাহাম আভূমি মাথা নত করলেন। কিন্তু তিনি নিজের মনে হেসে বললেন, “আমার 100 বছর বয়স। আমার আর সন্তান হতে পারে না এবং সারার 90 বছর বয়স। সে সন্তানের জন্ম দিতে পারবে না।”
18তখন অব্রাহাম ঈশ্বরকে বলল, “আশা করি ইশ্মায়েল বেঁচে থেকে আপনার সেবা করবে।”
19ঈশ্বর বললেন, “না! আমি বলেছি যে তোমার স্ত্রী সারার একটি পুত্র হবে। তুমি তার নাম দেবে ইস্হাক। তার সঙ্গে আমি আমার চুক্তি সম্পাদন করব। তার সঙ্গে ঐ চুক্তি এমন হবে যা তার উত্তরপুরুষগণের সঙ্গেও চিরকাল বজায় থাকবে।
20“তুমি ইশ্মায়েলের কথা বলেছ এবং আমি সে কথা শুনেছি। আমি তাকে আশীর্বাদ করব। তার বহু সন্তান-সন্ততি হবে। সে বারোজন মহান নেতার পিতা হবে। তার পরিবার থেকে সৃষ্টি হবে এক মহান জাতির। 21কিন্তু আমি ইস্হাকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হব। সারার যে পুত্র হবে সে-ই হবে ইস্হাক। পরের বছর ঠিক এই সময় সেই পুত্রের জন্ম হবে।”
22অব্রাহামের সঙ্গে কথা শেষ করে ঈশ্বর উপরে স্বর্গে চলে গেলেন। 23ঈশ্বর অব্রাহামকে তাঁর পরিবারের সমস্ত পুরুষ ও বালকের সুন্নতের কথা বলেছিলেন। সুতরাং অব্রাহাম ইশ্মায়েল এবং তাঁর গৃহে জন্ম হয়েছে এমন সমস্ত দাসদের একত্রে সমবেত করলেন। যাদের অর্থ দিয়ে ক্রয় করা হয়েছিল, সেই ক্রীতদাসদেরও তিনি সমবেত করলেন। অব্রাহামের বাড়ীর প্রত্যেক পুরুষ ও বালককে একত্র করা হল। এবং প্রত্যেককে সুন্নত করা হল। তাদের সকলকে একই দিনে সুন্নত করা হল।
24অব্রাহামকে যখন সুন্নত করা হল তখন তাঁর বয়স 99 বছর। 25এবং তাঁর পুত্র ইশ্মায়েলের সুন্নতের সময় 13 বছর বয়স ছিল। 26অব্রাহাম ও তাঁর পুত্রের একই দিনে সুন্নত করা হয়। 27সেই একই দিনে অব্রাহামের বাড়ীর সমস্ত পুরুষরাও সুন্নত হয়। যেসব দাসদের অর্থ দিয়ে ক্রয় করা হয়েছিল এবং যেসব দাসদের তাঁর গৃহেই জন্ম হয়েছিল সকলেরই সুন্নত করা হল।
18তিনজন অতিথি
1পরে প্রভু পুনরায় অব্রাহামের সামনে আবির্ভূত হলেন। মম্রির ওক বৃক্ষগুলির কাছে অব্রাহাম বাস করছিলেন। একদিন অব্রাহাম নিজের তাঁবুর প্রবেশ পথে বসেছিলেন। তখন দিনের সবচেয়ে চড়া গরমের সময়। 2অব্রাহাম চোখ তুলে দেখলেন যে তাঁর সামনে তিনজন আগন্তুক দাঁড়িয়ে। তাঁদের দেখে অব্রাহাম তাঁদের কাছে গিয়ে অভিবাদন জানালেন। 3অব্রাহাম বললেন, “মহাশয়গণ, আমি আপনাদের সেবক, আমার এখানে আপনারা কিছুক্ষণ অবস্থান করুন। 4আপনাদের পা ধোয়ার জন্য আমি জল এনে দিচ্ছি। আপনারা গাছের ছায়ায় বিশ্রাম করুন। 5আমি আপনাদের খাবারের ব্যবস্থা করছি এবং আপনারা ইচ্ছামত আহার করে আবার আপনাদের গন্তব্যস্থল অভিমুখে যাত্রা করতে পারেন।”
ঐ তিনজন বললেন, “বেশ কথা! যেমন বললেন, আমরা তেমনই করব।”
6অব্রাহাম তাড়াতাড়ি তাঁবুর ভেতরে গেলেন। অব্রাহাম সারাকে বললেন, “চট করে তিনজনের মত রুটির ব্যবস্থা করো।” 7তারপর অব্রাহাম তাঁর গোয়ালে দৌড়ে গেলেন। সবচেয়ে ভাল বাছুরটা বেছে নিলেন। অব্রাহাম তখনই এক ভৃত্যকে ওটাকে মেরে রান্না করার জন্যে বললেন। 8তারপর অব্রাহাম সেই মাংস আর খানিকটা দুধ ও পনীর এনে অতিথি তিনজনের সামনে রাখলেন। পরিবেশন করার জন্য অব্রাহাম সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেন এবং তাঁরা গাছের ছায়ায় বসে ভোজন করলেন।
9তারপর তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার স্ত্রী সারা কোথায়?”
অব্রাহাম বললেন, “ওখানে ঐ তাঁবুর মধ্যে।”
10তখন প্রভু বললেন, “আমি আবার বসন্তকালে আসব। তখন তোমার স্ত্রী সারার একটি পুত্র হবে।”
তাঁবুর ভেতর থেকে সারা সমস্ত কথাবার্তা শুনছিলেন। 11অব্রাহাম ও সারা তখন রীতিমত বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। সন্তান জন্ম দেওয়ার বয়স সারা অনেকদিন আগে পার হয়ে এসেছেন। 12স্বভাবতই সারা যা শুনলেন তা বিশ্বাস করলেন না। নিজের মনে মনে সারা হেসে বললেন, “আমি বৃদ্ধা হয়েছি আর আমার স্বামীও বৃদ্ধ। সন্তান প্রসবের পক্ষে আমার অনেক বেশী বয়স হয়েছে।”
13তখন প্রভু অব্রাহামকে বললেন, “সারা হাসছে। সারা ভাবছে যে সন্তানের জন্ম দেওয়ার পক্ষে তার অনেক বেশী বয়স হয়েছে। 14কিন্তু প্রভুর পক্ষে কি কোনও কাজ খুব কঠিন? না! আমি যেমন বলেছি, আবার বসন্তকালে, তেমনই আসব এবং তোমার স্ত্রী সারার তখন সন্তান হবে।”
15কিন্তু সারা বললেন, “আমি হাসি নি!” (একথা বললেন কারণ তিনি ভয় পেয়েছিলেন।)
কিন্তু প্রভু বললেন, “না! আমি জানি, তা সত্যি নয়! তুমি হেসেছিলে!”
16তারপর সেই তিনজন আগন্তুক যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। সদোমের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন এবং সদোম অভিমুখে চলতে শুরু করলেন। তাঁদের এগিয়ে দেওয়ার জন্য অব্রাহামও তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে হাঁটতে শুরু করলেন।
ঈশ্বরের সঙ্গে অব্রাহামের দরাদরি
17প্রভু আপন মনে বললেন, “এখন আমি কি করব তা কি অব্রাহামকে বলব? 18অব্রাহাম থেকে জন্মলাভ করবে এক মহান ও শক্তিশালী জাতি এবং অব্রাহামের জন্যেই পৃথিবীর সমস্ত মানুষ আশীর্বাদ প্রাপ্ত হবে। 19আমি অব্রাহামের সাথে এক বিশেষ চুক্তি করেছি। প্রভুর ইচ্ছা অনুসারে জীবনযাপনের জন্য যাতে অব্রাহামের সন্তান-সন্ততি ও উত্তরপুরুষগণ অব্রাহামের আজ্ঞা পালন করে তাই এই ব্যবস্থা করেছি। এটা করেছি যাতে তারা ন্যায়পরায়ণ হয় ও সৎ জীবনযাপন করে। তাহলে আমি প্রভু, প্রতিশ্রুত জিনিসগুলি দিতে পারব।”
20তারপরে প্রভু বললেন, “যে নিদারুণ পাপ সেখানে সংঘটিত হচ্ছে, তার জন্য আমি সদোম এবং ঘমোরার বিরুদ্ধে তীব্র আর্তনাদ শুনেছি। 21যত খারাপ বলে শুনেছি তা সত্যিই তত খারাপ কিনা তা আমি নিজে গিয়ে দেখব। তাহলে আমি নিশ্চিতভাবে সব জানব।”
22তখন তাঁরা তিনজন সদোম অভিমুখে হাঁটতে শুরু করলেন। কিন্তু অব্রাহাম প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে রইলেন। 23অব্রাহাম প্রভুর কাছে এলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, “প্রভু, আপনি কি ভাল লোকেদেরও ধ্বংস করবেন যেমন আপনি মন্দ লোকেদের ধ্বংস করেন? 24সদোম নগরে যদি 50 জনও ভাল লোক থাকে তাহলে আপনি কি করবেন? তাহলেও কি আপনি নগরটা ধ্বংস করবেন? নিশ্চয়ই আপনি ঐ নগরবাসী 50 জন ভাল লোকের জন্য নগরটা রক্ষা করবেন? 25তাহলে আপনি নিশ্চয়ই ঐ নগরটা বা ঐ খারাপ লোকদের ধ্বংস করতে গিয়ে ঐ 50 জন ভাল লোকদেরও ধ্বংস করবেন না? যদি তা করেন তাহলে ভাল এবং মন্দ লোকেদের একই পরিণতি হবে। তার অর্থ, ভাল এবং মন্দ জাতীয় উভয় লোকদেরই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। আপনি সমস্ত পৃথিবীর বিচারক। আমি জানি আপনি ঠিক বিচারই করবেন।”
26তখন প্রভু বললেন, “আমি যদি সদোম নগরে 50 জন ভাল লোক পাই তাহলে আমি সমগ্র নগরটাকেই রক্ষা করব।”
27তখন অব্রাহাম বললেন, “আপনার তুলনায় আমি নেহাতই ধুলো আর ছাই। কিন্তু একটা প্রশ্ন করে আবার আপনাকে বিরক্ত করছি। 28যদি ভাল লোকদের থেকে 5 জনকে খুঁজে না পাওয়া যায় তখন কি করবেন? নগরে যদি মাত্র 45 জন ভাল লোক থাকে? মাত্র 5 জনকে পাওয়া গেল না বলে কি আপনি গোটা নগর ধ্বংস করে ফেলবেন?”
তখন প্রভু বললেন, “যদি আমি 45 জন ভাল লোককেও পাই তাহলে ঐ নগর ধ্বংস করব না।”
29অব্রাহাম আবার বললেন, “সেখানে গিয়ে আপনি যদি মাত্র 40 জন ভাল লোককে পান তাহলে কি আপনি পুরো নগর ধ্বংস করবেন?”
প্রভু বললেন, “আমি যদি 40 জন ভাল লোককেও পাই তাহলে আমি নগরটা ধ্বংস করব না।”
30অব্রাহাম বললেন, “প্রভু দয়া করে আমার ওপর রাগ করবেন না। একটা প্রশ্ন করি! যদি নগরে মাত্র 30 জন ভাল লোককে পান তাহলেও কি আপনি ঐ নগর ধ্বংস করবেন?”
তখন প্রভু বললেন, “আমি যদি 30 জন ভাল লোক পাই তাহলে নগরটা ধ্বংস করব না।”
31তখন অব্রাহাম বললেন, “আপনাকে কি আর একবার বিরক্ত করতে পারি? যদি সেখানে মাত্র 20 জন ভাল লোক পান তাহলে কি করবেন?”
প্রভু বললেন, “আমি যদি 20 জন ভাল লোক পাই তাহলে আমি নগরটা ধ্বংস করবো না।”
32তখন অব্রাহাম বললেন, “প্রভু দয়া করে রাগ করবেন না, কিন্তু শেষবারের মতো আর একটি প্রশ্ন দিয়ে আপনাকে বিরক্ত করি। আপনি যদি সেখানে মাত্র 10 জন ভাল লোক পান তাহলে আপনি কি করবেন?”
প্রভু বললেন, “ঐ নগরে 10 জন ভাল লোক পেলেও আমি তা ধ্বংস করব না।”
33প্রভুর অব্রাহামকে যা বলার ছিল, সব বলা হয়ে গেল। এবার প্রভু তাঁর পথে চলে গেলেন এবং অব্রাহাম নিজের বাসস্থানে ফিরে গেলেন।
19লোটের অতিথিগণ
1 সেদিন সন্ধ্যায় সদোম নগরে দুজন দূত এলেন। তখন লোট নগরের প্রবেশ পথে বসেছিলেন। তিনি দূতদের আসতে দেখলেন। লোট ভাবলেন যে তারা সাধারণ পথিক, নগরের মধ্য দিয়ে কোথাও যাচ্ছে।লোট উঠে গিয়ে তাঁদের অভিবাদন করে বললেন, “মহাশয়গণ, অনুগ্রহ করে একবার আমার বাড়ীতে আসুন এবং আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন। সেখানে আপনারা হাত-পা ধুয়ে রাত্রিবাস করতে পারেন। তাহলে কাল সকালে আবার আপনাদের গন্তব্যস্থল অভিমুখে যাত্রা করতে পারবেন।”
দূত দুজন বললেন, “না, আমরা চকেই রাত্রিবাস করব।”
3কিন্তু লোট নিজের বাড়ীতে তাঁদের নিয়ে যাওয়ার জন্যে পীড়াপীড়ি করতে লাগলেন। তাই দূতরা শেষ পর্যন্ত লোটের বাড়ীতে থেকে যেতে রাজী হলেন। তাঁরা লোটের বাড়ীতে গেলেন। লোট তাঁদের কিছু পানীয় দিলেন।লোট তাঁদের রুটি বানিয়ে দিলেন এবং তাঁরা সেই রুটি খেলেন।
4সেদিন সন্ধ্যায় ঘুমোতে যাওয়ার ঠিক আগে, নগরের নানা প্রান্ত থেকে নানা বয়সের বহু লোক লোটের বাড়িতে এল। সদোমের সেইসব লোকেরা লোটের বাড়ী ঘিরে ফেলল এবং লোটকে চিৎকার করে ডাকতে লাগল। 5তারা বলল, “আজ সন্ধ্যায় যারা এসেছে, কোথায় তারা? তাদের বাইরে নিয়ে এস—আমরা তাদের সাথে যৌন সহবাস করতে চাই।”
6লোট বাইরে বেরিয়ে এসে দরজা বন্ধ করে দিলেন। 7সেই জনতার উদ্দেশ্যে লোট বললেন, “না! বন্ধুরা, আমি মিনতি করছি, এমন খারাপ কাজ কোরো না। 8দেখ, আমার দুটি মেয়ে আছে—কোনও পুরুষ তাদের স্পর্শ করে নি। তোমাদের জন্য আমি নিজের কন্যাদের দেব। তোমরা তাদের নিয়ে যা খুশী করতে পারো। কিন্তু দয়া করে এই অতিথি দুজনের প্রতি কিছু কোরো না। এই দুজন আমার ঘরে এসেছে এবং আমার অবশ্যই এদের রক্ষা করা উচিৎ।”
9যেসব লোকেরা লোটের বাড়ী ঘিরে রেখেছিল তারা উত্তর দিল, “আমাদের পথ থেকে সরে যাও।” তারপর তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করল, “এই লোকটা একদিন অতিথি হিসেবে আমাদের নগরে বাস করতে এসেছিল। এখন জ্ঞান দিচ্ছে, আমরা কি করব না করব!” তখন সেই লোকেরা লোটকে বলল, “এখন তোমার প্রতি ওদের চেয়ে আরও বেশী খারাপ ব্যবহার করব।” অতএব সেই জনতা লোটের দিকে এগিয়ে যেতে থাকল। ক্রমে দরজা ভেঙ্গে ফেলার উপক্রম।
10কিন্তু যে দুজন পুরুষ লোটের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাঁরা হঠাৎ দরজা খুলে বেরিয়ে এসে লোটকে ভেতরে টেনে নিয়ে গেলেন এবং ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিলেন। 11তারপর তাঁরা বাইরের মারমুখো জনতার জন্য কিছু একটা করলেন। ফলে যুবক, বৃদ্ধ, সব বদমাশ লোকেরা অন্ধ হয়ে গেল। এর ফলে যারা বাড়ির ভেতর জোর করে ঢোকার চেষ্টা করছিল তারা ভেতরে ঢোকার দরজাই খুঁজে পেল না।
সদোম হতে পলায়ন
12অতিথি দুজন লোটকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার পরিবারের আর কেউ কি এই শহরে বাস করে? তোমার জামাই, ছেলে, মেয়ে কিংবা পরিবারের আর কেউ কি এখানে আছে? যদি থাকে তাহলে তাদের এখনই এই জায়গা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বলো। 13আমরা এই নগর ধ্বংস করে দেব। এই নগর যে কত খারাপ তা প্রভু শুনেছেন। তাই এই নগর ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য তিনি আমাদের পাঠিয়েছেন।”
14তখন লোট বেরিয়ে গিয়ে তাঁর অন্যান্য মেয়েদের যারা বিয়ে করেছে সেই মেয়েদের স্বামীদের অর্থাৎ জামাইদের সঙ্গে কথা বললেন। লোট বলল, “তাড়াতাড়ি করো! এক্ষুনি এই জায়গা ছেড়ে চলে যাও! প্রভু এখনই এই জায়গা ধ্বংস করবেন।” কিন্তু তারা ভাবল, লোট বোধহয় তামাশা করছেন।
15পরদিন ভোরে সেই দূতরা লোটকে তাড়া দিলেন। তাঁরা বললেন, “এই নগরবাসীদের শাস্তি দেওয়া হবে। সুতরাং তুমি, তোমার স্ত্রী এবং যে দুজন মেয়ে তোমার কাছে থাকে তাদের নিয়ে শীঘ্রই এই জায়গা ছেড়ে চলে যাও। তাহলে এই নগরের সঙ্গে তোমরা আর ধ্বংস হবে না।”
16কিন্তু লোটের সব গুলিয়ে গেল এবং তিনি নগর ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে তাড়া করলেন না। সুতরাং ঐ দুজন লোট এবং তাঁর স্ত্রীর এবং দুই মেয়ের হাত চেপে ধরলেন। ঐ দুজন লোট এবং তাঁর পরিবারকে নিরাপদে নগরের বাইরে নিয়ে গেলেন। লোট এবং তাঁর পরিবারের প্রতি প্রভু দয়ালু ছিলেন। 17তাই ঐ দুজন লোট এবং তাঁর পরিবারকে নগরের বাইরে নিয়ে এলেন। তাঁরা নগরের বাইরে চলে এলে সেই দুজন দুতের একজন বললেন, “এবার প্রাণ বাঁচাবার জন্য তোমরা দৌড় দাও! আর পেছনের দিকে তাকাবে না। উপত্যকার কোনও জায়গাতে দাঁড়াবে না। যতক্ষণ না ঐ পর্বতে পৌঁছবে ততক্ষণ শুধুই দৌড়বে। থামলে, নগরের সঙ্গে তোমরাও ধ্বংস হয়ে যাবে!”
18কিন্তু লৌট এই দুজনকে বললেন, “মহাশয়গণ, দয়া করে আমায় অত দূরে দৌড়ে যেতে বলবেন না! 19আমি আপনাদের সেবকমাত্র, তবু আমার প্রতি আপনাদের অসীম দয়া। দয়া করে আমার জীবন রক্ষা করেছেন। কিন্তু ঐ পর্বত পর্যন্ত সমস্ত পথ দৌড়োবার ক্ষমতা আমার নেই। যদি আমি খুব ধীরে যাই তবে বিপদ ঘটবে এবং আমি নিহত হব! 20দেখুন, এখানে কাছেই একটা খুব ছোট শহর আছে। আমি সেই শহর পর্যন্ত দৌড়ে বেঁচে যেতে পারি।”
21দূত লোটকে বললেন, “ভালো কথা আমি তোমার অনুরোধ স্বীকার করেছি। আমি তোমাকে সেটা করতে দেব। আমি ঐ শহর ধ্বংস করব না। 22কিন্তু সেখানে শীঘ্রই দৌড়ে যাও। যতক্ষণ না নিরাপদে ঐ শহরে তুমি পৌঁছোচ্ছ ততক্ষণ সদোম ধ্বংস করতে পারব না।” (ঐ শহরের নাম সোয়র কারণ শহরটি খুব ছোট।)
সদোম ও ঘমোরা ধ্বংস হল
23সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে লোট সোয়রে পৌঁছলেন। 24একই সময়ে প্রভু সদোম ও ঘমোরা ধ্বংস করা শুরু করলেন। প্রভু আকাশ থেকে আগুন আর জ্বলন্ত গন্ধক বর্ষণ শুরু করলেন। 25অর্থাৎ প্রভু ঐ নগরগুলি ধ্বংস করলেন। সমস্ত গাছপালা, সমস্ত লোকজন, সমগ্র উপত্যকাটাই প্রভু ধ্বংস করলেন।
26লোট যখন স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছিলেন তখন লোটের স্ত্রী নিষেধ ভুলে একবার পেছনে নগরের দিকে তাকালেন এবং তখনই লবণের মূর্ত্তি হয়ে গেলেন।
27খুব সকালে অব্রাহাম আগে যেখানটাতে প্রভুর সামনে দাঁড়িয়েছিলেন সেই স্থানটিতে তিনি আবার গিয়ে দাঁড়ালেন। 28অব্রাহাম সদোম এবং ঘমোরার দিকে তাকিয়ে দেখলেন। সমগ্র উপত্যকার ওপর দৃষ্টিপাত করে অব্রাহাম দেখলেন যে সমস্ত উপত্যকা থেকে ধোঁয়া উঠছে। দেখে মনে হল বিশাল অগ্নিকাণ্ডের ফলস্বরূপ ঐ ধোঁয়া।
29ঈশ্বর উপত্যকার সমস্ত নগর ধ্বংস করলেন। কিন্তু ঈশ্বর ঐ নগরগুলি ধ্বংস করার সময় অব্রাহামের কথা মনে রেখেছিলেন এবং তিনি অব্রাহামের ভ্রাতুষ্পুত্রকে ধ্বংস করেন নি। লোট ঐ উপত্যকার নগরগুলির মধ্যে বাস করছিলেন। কিন্তু নগরগুলি ধ্বংস করার আগে ঈশ্বর লোটকে অন্যত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
লোট এবং তাঁর দুই মেয়ে
30সোয়রে বাস করতে লোটের ভয় করছিল। তাই তিনি ও তাঁর দুই মেয়ে পর্বতে বাস করতে চলে গেলেন। সেখানে তাঁরা একটা গুহার মধ্যে বাস করতে লাগলেন। 31দুজনের মধ্যে যে মেয়ে বড় সে একদিন ছোট বোনকে বলল, “পৃথিবীতে সর্বত্র স্ত্রী ও পুরুষ বিয়ে করে এবং তাদের সন্তানাদি হয়। কিন্তু আমাদের পিতা বৃদ্ধ হয়েছেন এবং আমাদের সন্তানাদি দিতে পারে এমন অন্য পুরুষ এখানে নেই। 32তাই আমরা পিতাকে প্রচুর দ্রাক্ষারস পান করিয়ে বেহুঁশ করিয়ে দেব। তারপর তাঁর সঙ্গে আমরা যৌনসঙ্গম করব। আমাদের পরিবার রক্ষা করার জন্য আমরা এইভাবে আমাদের পিতার সাহায্য নেব!”
33সেই রাত্রে দু মেয়ে তাদের পিতার কাছে গেল এবং তাঁকে প্রচুর দ্রাক্ষারস পান করতে দিল। তারপর বড় মেয়ে পিতার বিছানায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে যৌন সঙ্গম করল। লোট এমন নেশাগ্রস্ত ছিলেন যে তাঁর বিছানায় কে কখন এল এবং কে কখন গেল কিছুই বুঝতে পারলেন না।
34পরদিন ছোট বোনকে বড় বোন বলল, “গত রাত্রে আমি পিতার সঙ্গে এক বিছানায় শুয়েছি। আজ রাতে আবার তাঁকে দ্রাক্ষারস পান করিয়ে বেহুঁশ করে দেব। তাহলে তুমি তাঁর সঙ্গে যৌন সঙ্গম করতে পারবে। এভাবে আমরা সন্তানাদি পেতে আমাদের পিতার সাহায্য নেব। এতে আমাদের বংশধারা অব্যাহত থাকবে।” 35সুতরাং সেই রাত্রে দু মেয়ে আবার পিতাকে নেশাতে বেহুঁশ করে দিল। তারপর ছোট মেয়ে পিতার বিছানায় গিয়ে পিতার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করল। এবারেও লোট এমন নেশাগ্রস্ত ছিলেন যে জানতে পারলেন না কে তার বিছানায় এল, কে গেল।
36লোটের দু মেয়েই গর্ভবতী হল। তাদের পিতাই তাদের সন্তানাদির পিতা। 37বড় মেয়ের হল এক পুত্র সন্তান। তার নাম হল মোয়াব। বর্তমানে যে মোয়াবীয় জাতি আছে তাদের আদিপুরুষ হলেন মোয়াব। 38ছোট মেয়েও এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিল। তার নাম বিন্-অম্মি। বর্তমানে যে অম্মোন জাতি আছে তাদের আদিপুরুষ হলেন বিন্-অম্মি।
20অব্রাহামের গরার যাত্রা
1অব্রাহাম পূর্বের বাসস্থান ত্যাগ করে নেগেভে গেলেন। তিনি কাদেশ এবং শূরের মধ্যবর্তী গরার নগরে বাস করা শুরু করলেন। 2গরারে বাস করার সময় অব্রাহাম সবাইকে বললেন যে সারা তাঁর বোন। গরারের রাজা অবীমেলক সে কথা শুনলেন। অবীমেলক সারাকে কামনা করলেন, তাই সারাকে নিয়ে আসার জন্য কয়েকজন ভৃত্যকে পাঠালেন। 3কিন্তু রাত্রে ঈশ্বর স্বপ্নে অবীমেলকের কাছে এলেন। ঈশ্বর বললেন, “তোমার মরণ ঘনিয়ে এসেছে। যে নারীকে তুমি এনেছ সে বিবাহিতা।”
4কিন্তু অবীমেলক তখন পর্যন্ত সারাকে শয্যার সঙ্গিনী করেন নি। তাই অবীমেলক বললেন, “প্রভু, আমি তো অপরাধ করিনি। আপনি কি একজন নিরপরাধকে হত্যা করবেন? 5অব্রাহাম নিজে আমায় বলেছে যে, এই নারী তার বোন। আর ঐ নারীও বলেছে যে, ঐ পুরুষ তার ভাই। আমি তো কোন অপরাধ করিনি। আমি তো জানতামই না যে আমি কি করছি।”
6তখন ঈশ্বর স্বপ্নের মধ্যে অবীমেলককে বললেন, “হ্যাঁ, আমি জানি তুমি নির্দোষ এবং এটাও জানি যে তুমি কি করছ তা তুমি জানতে না। তোমায় আমি বাঁচিয়ে দিয়েছি। আমি তোমাকে আমার বিরুদ্ধে পাপ করতে দিই নি। আমিই তোমায় ঐ নারীকে শয্যায় নিয়ে যেতে দিই নি। 7সুতরাং তুমি অব্রাহাম ও তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে দাও। অব্রাহাম একজন ভাববাদী। সে তোমার জন্য প্রার্থনা করবে এবং তুমি তাতে জীবন লাভ করবে। কিন্তু তুমি যদি অব্রাহাম ও তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দাও তাহলে আমি নিশ্চিত যে তোমার মৃত্যু আসন্ন এবং তোমার সমস্ত পরিবারেরও মৃত্যু হবে।”
8সুতরাং পরদিন খুব সকালে অবীমেলক তাঁর ভৃত্যদের ডেকে তাঁর স্বপ্নের কথা বললেন। তাঁর স্বপ্নের কথা শুনে ভৃত্যরা খুব ভীত হয়ে পড়ল। 9তখন অবীমেলক অব্রাহামকে ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “কেন আপনি আমাদের প্রতি এরকম ব্যবহার করলেন? আমি আপনার প্রতি কি অন্যায় করেছি? কেন মিথ্যে বললেন যে ঐ নারীটি আপনার বোন? আমার রাজত্বে আপনি অনেক বিপর্যয় ডেকে এনেছেন। আমার প্রতি এসব করা আপনার উচিৎ হয় নি। 10আপনি কিসের ভয় পাচ্ছিলেন? কেন আপনি আমার সঙ্গে এরকম ব্যবহার করলেন?”
11তখন অব্রাহাম বললেন, “আমি ভয় পেয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, এখানে কেউ বোধহয় ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা করে না। তাই ভেবেছিলাম, সারাকে পাওয়ার জন্যে আমাকে কেউ হত্যা করতেও পারে। 12সারা আমার স্ত্রী, আবার আমার বোনও বটে। সারা আমার পিতার কন্যা বটে, কিন্তু আমার মাতার কন্যা নয়। 13ঈশ্বর আমাকে পিতৃগৃহ থেকে দূরে কোথাও নিয়ে যাচ্ছেন। ঈশ্বর আমাকে অনেক দেশে নিয়ে গেছেন। যখন এরকম হল তখন আমি সারাকে বললাম, ‘আমার জন্য কিছু করো; যেখানেই আমরা যাব, সবাইকে বলবে যে তুমি আমার বোন।’”
14তখন অবীমেলক আসল ব্যাপারটা বুঝলেন। তাই অবীমেলক অব্রাহামের হাতে সারাকে ফিরিয়ে দিলেন। সেই সঙ্গে অবীমেলক অব্রাহামকে কিছু দাস, মেষ ও গবাদি পশুও দিলেন। 15এবং অবীমেলক বললেন, “চারদিকে তাকিয়ে দেখুন। এসবই আমার জমি। আপনার যেখানে খুশী সেখানে থাকতে পারেন।”
16আর অবীমেলক সারাকে বললেন, “তোমার ভাই অব্রাহামকে আমি 1200 রৌপ্যমুদ্রা দিয়েছি। যা কিছু ঘটেছে সেসবের জন্যে আমি দুঃখিত এটা বোঝাতেই এই রৌপ্যমুদ্রা। সবাই জানুক যে আমি ন্যায় মেনে কাজ করেছি।”
17 অবীমেলকের পরিবারের সমস্ত নারীর গর্ভধারণের ক্ষমতা প্রভু হরণ করেছিলেন। অবীমেলক সারাকে অধিকার করেছিলেন বলে প্রভু এই কাজ করেছিলেন। কিন্তু অব্রাহাম ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলেন এবং ঈশ্বর অবীমেলক, অবীমেলকের স্ত্রী ও দাসীদের সন্তানের জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলেন।
21অবশেষে সারার সন্তান লাভ
1প্রভু সারার জন্য যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা রক্ষা করলেন। প্রভু সারার জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতি সম্পন্ন করলেন। 2সারা গর্ভবতী হলেন এবং এই বেশী বয়সে অব্রাহামের জন্য একটি পুত্র সন্তান প্রসব করলেন। ঈশ্বর যেভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেভাবেই সব সম্পন্ন হল। 3সারা একটি পুত্রের জন্ম দিলেন এবং অব্রাহাম তার নাম রাখলেন ইস্হাক। 4ইস্হাকের আট দিন বয়স হলে, যেমনটি ঈশ্বর বলেছিলেন ঠিক সেইভাবে অব্রাহাম তাঁকে সুন্নত করলেন।
5ইস্হাকের জন্মের সময় অব্রাহামের বয়স ছিল 100 বছর। 6এবং সারা বললেন, “ঈশ্বর আমাকে আনন্দিত করেছেন। যে শুনবে সেই আমার সুখে সুখী হবে। 7কেউ ভাবে নি যে আমি অব্রাহামের পুত্রের জন্ম দেব। কিন্তু এই বৃদ্ধ বয়সেও আমি অব্রাহামকে পুত্র দিতে পেরেছি।”
ঘরের মধ্যে অশান্তি
8ইস্হাক ক্রমশঃ বড় হতে লাগল। শীঘ্রই সে শক্ত খাবার খাওয়ার মত বড় হল। তখন অব্রাহাম একটা মস্ত ভোজ দিলেন। 9অব্রাহামের প্রথম সন্তানের জন্ম দিয়েছিল হাগার নামে মিশরীয় দাসী। সারা দেখলেন হাগারের সেই পুত্র ইস্হাককে নিয়ে মজা করছে। তাই সারা বিচলিত হলেন। 10সারা অব্রাহামকে বললেন, “ঐ দাসী আর তার পুত্রের হাত থেকে আমাদের বাঁচাও। ওদের বিদায় করে দাও! যখন আমাদের মৃত্যু হবে তখন আমাদের যা কিছু ধন-সম্পদ ইস্হাকই পাবে। আমি চাই না যে আমার পুত্র ইস্হাকের সঙ্গে আমার দাসীর পুত্রও সবকিছুর ভাগ পাক!”
11এতে অব্রাহাম খুব বিচলিত হলেন। তিনি তাঁর পুত্র ইশ্মায়েলের জন্যে উদ্বিগ্ন হলেন। 12কিন্তু অব্রাহামকে ঈশ্বর বললেন, “ঐ পুত্র আর দাসীর জন্যে চিন্তা কোরো না। সারা যা চায় তা-ই করো। তোমার একমাত্র উত্তরাধিকারী হবে ইস্হাক। 13কিন্তু তোমার দাসী পুত্রকেও আমি আশীর্বাদ করব। সে তোমার পুত্র সুতরাং তার পরিবার থেকেও আমি এক মহান জাতি সৃষ্টি করব।”
14পরদিন খুব ভোরে অব্রাহাম কিছু খাদ্য ও পানীয় জল এনে হাগারকে দিলেন। তাই সম্বল করে হাগার পুত্রকে নিয়ে চলে গেল। হাগার সেই স্থান ত্যাগ করে বের্-শেবা মরুভূমির মধ্যে ঘুরে বেড়াতে লাগল।
15কিছুক্ষণ পরে সব জল ফুরিয়ে গেল। পিপাসা মেটাবার জন্যে আর কিছু থাকল না। তখন হাগার তার পুত্রকে একটা ঝোপের নীচে রাখল। 16হাগার খানিকটা দূরে হেঁটে গেল। তারপর সেখানেই বসে পড়ল। হাগারের ভয় হল, জলের অভাবে তার পুত্র বোধ হয় মারা যাবে। পুত্রের মৃত্যু সে দেখতে পারবে না। তাই সেখানে বসে বসে সে কাঁদতে লাগল।
17ঈশ্বর সেই পুত্রের কান্না শুনতে পেলেন এবং স্বর্গ থেকে ঈশ্বরের দূত হাগারকে বলল, “কি হয়েছে? ভয় পেও না! প্রভু তোমার পুত্রের কান্না শুনতে পেয়েছেন। 18যাও, পুত্রকে গিয়ে দেখ। ওর হাত ধরে এগিয়ে চলো। আমি তাকে এক বৃহৎ জাতির পিতা করব।”
19তখন হাগার ঈশ্বরের কৃপায় একটা কূপ দেখতে পেল। তারপর হাগার সেই কূপের জলে নিজের জলপাত্র পূর্ণ করল। তারপর সেই জল নিয়ে গিয়ে পুত্রকে পান করাল।
20সেই পুত্র বড় হতে লাগল আর ঈশ্বর সারাক্ষণ তার সঙ্গে থাকলেন। ইশ্মায়েল সেই মরুভূমির মধ্যেই বড় হতে লাগল। ক্রমে ক্রমে সে হল একজন শিকারী। তীরধনুকে সে হয়ে উঠল খুব দক্ষ। 21তার মা এক মিশরীয় কন্যার সঙ্গে তার বিয়ে দিল। তারা সেই পারণ নামের মরুভূমিতেই বাস করতে লাগল।
অবীমেলকের সঙ্গে অব্রাহামের দরাদরি
22তারপর অবীমেলক ও ফীখোল অব্রাহামের সঙ্গে কথা বললেন। ফীখোল ছিলেন অবীমেলকের সৈন্যবাহিনীর প্রধান। তাঁরা অব্রাহামকে বললেন, “তোমার সব কাজেতেই ঈশ্বর তোমার সঙ্গে আছেন। 23সুতরাং ঈশ্বরের সাক্ষাতে তুমি আমায় একটা প্রতিশ্রুতি দাও। প্রতিজ্ঞা করো যে তুমি আমার ও আমার সন্তান-সন্ততির প্রতি ন্যায়পরায়ণ থাকবে। প্রতিশ্রুতি দাও যে তুমি আমার প্রতি এবং যে দেশে বাস করছ সেই দেশের প্রতি ন্যায়পরায়ণ হবে। প্রতিশ্রুতি দাও যে আমি তোমার প্রতি যেরকম ন্যায়পরায়ণ, তুমিও আমার প্রতি সেরকম ন্যায়পরায়ণ হবে।”
24এবং অব্রাহাম বললেন, “আমি প্রতিজ্ঞা করছি যে আপনি আমার প্রতি যেরকম আচরণ করেছেন আমিও আপনার প্রতি সেরকম আচরণ করব।” 25তারপর অব্রাহাম অবীমেলকের কাছে একটা অভিযোগ করলেন। অব্রাহাম অবীমেলকের কাছে অভিযোগ করলেন যে তাঁর দাসরা একটা পানীয় জলের কূপ অধিকার করে রেখেছে। সেই কূপটি অব্রাহামের দাসরা খনন করেছিল।
26কিন্তু অবীমেলক বললেন, “কে এরকম করেছে আমি জানি না। আপনি তো এর আগে এ ব্যাপারে কখনও কিছু বলেন নি!”
27সুতরাং অব্রাহাম আর অবীমেলক দুজনে চুক্তিবদ্ধ হলেন। অবীমেলক চুক্তির প্রমাণ হিসেবে অব্রাহামকে কয়েকটা মেষ আর গবাদি পশু দিলেন। 28অব্রাহাম অবীমেলকের সামনে সাতটা মেষ পৃথক করে রাখলেন।
29অবীমেলক অব্রাহামকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমার সামনে এই সাতটা মেষ পৃথক করে রাখলেন কেন?”
30অব্রাহাম উত্তর দিলেন, “আপনি যখন এই সাতটা মেষ আমার কাছ থেকে নেবেন তখন প্রমাণিত হবে যে আমি এই কূপ খনন করেছিলাম।”
31তারপর থেকে ঐ কূপের নাম হল বের্-শেবা। কারণ ঐ স্থানে দুজনে পরস্পরের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
32অতএব বের্-শেবাতে অব্রাহাম ও অবীমেলক দুজনে একটা চুক্তি সম্পাদন করলেন। তারপর অবীমেলক তাঁর সৈন্যাধক্ষ্যদের নিয়ে পলেষ্টীয়দের দেশে ফিরে গেলেন।
33বের্-শেবাতে অব্রাহাম একটা চিরহরিৎ ঝাউগাছ রোপণ করলেন। সেখানে তিনি প্রভু শাশ্বত ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলেন। 34অব্রাহাম পলেষ্টীয়দের দেশে বহুকাল বাস করলেন।
22অব্রাহাম, তোমার পুত্রকে বলি দাও!
1এই সমস্ত কিছুর পরে ঈশ্বর ঠিক করলেন যে তিনি অব্রাহামের বিশ্বাস পরীক্ষা করবেন। তাই ঈশ্বর ডাকলেন, “অব্রাহাম!”
এবং অব্রাহাম সাড়া দিলেন, “বলুন!”
2তখন ঈশ্বর বললেন, “তোমার একমাত্র পুত্র যাকে তুমি ভালবাস সেই ইস্হাককে মোরিয়া দেশে নিয়ে যাও। সেখানে পর্বতগুলির মধ্যে একটির ওপরে তাকে আমার উদ্দেশ্যে বলি দাও। আমি তোমাকে বলব কোন পর্বতের ওপর তুমি তাকে বলি দেবে।”
3পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে অব্রাহাম যাত্রার জন্যে গাধার পিঠে জিন সাজালেন। সঙ্গে ইস্হাককে নিলেন, আর নিলেন দুজন ভৃত্যকে। অব্রাহাম হোমের জন্য কাঠ কাটলেন। তারপর ঈশ্বর যেখানে যেতে বলেছিলেন সেই স্থানের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। 4তিনদিন চলার পর অব্রাহাম দূরে দৃষ্টিপাত করলেন আর গন্তব্যস্থল দেখতে পেলেন। 5তখন ভৃত্য দুজনের উদ্দেশ্যে অব্রাহাম বললেন, “গাধাটা নিয়ে তোমরা এখানে অপেক্ষা করো, আমি ছেলেকে নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানটিতে যাব এবং উপাসনা করব। পরে তোমাদের কাছে ফিরে আসব।”
6অব্রাহাম হোমের জন্যে কেটে আনা কাঠ ছেলের কাঁধে দিলেন। এবং সঙ্গে নিলেন খাঁড়া ও আগুন। তারপর অব্রাহাম ও তাঁর ছেলে দুজনেই উপাসনা সম্পাদন করার জন্য নির্দিষ্ট স্থানটিতে গেলেন।
7ইস্হাক পিতা অব্রাহামকে বলল, “পিতা!”
অব্রাহাম উত্তর দিলেন, “বলো, পুত্র!”
ইস্হাক বলল, “পিতা! হোমের জন্যে সব আয়োজন দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু হোমের আগে বলি দেওয়ার জন্যে মেষশাবক কোথায়?”
8অব্রাহাম বললেন, “আমার পুত্র, স্বয়ং ঈশ্বর বলির জন্য মেষশাবকের ব্যবস্থা করবেন।”
সুতরাং অব্রাহাম আর ইস্হাক দুজনে মিলে নির্দিষ্ট স্থানটিতে গেলেন। 9তাঁরা সেই স্থানটিতে পৌঁছলেন যেখানে ঈশ্বর যেতে বলেছিলেন। সেখানে অব্রাহাম একটি বেদী তৈরী করলেন। বেদীর উপরে অব্রাহাম কাঠগুলো সাজালেন। তারপর অব্রাহাম তাঁর পুত্র ইস্হাককে বাঁধলেন এবং বেদীর উপরে সাজানো কাঠগুলোর উপর তাকে শোয়ালেন। 10এবার অব্রাহাম খাঁড়া বার করে ইস্হাককে বলি দেওয়ার জন্যে তৈরী হলেন।
11কিন্তু তখন প্রভুর দূত অব্রাহামকে বাধা দিলেন। সেই দূত স্বর্গ থেকে “অব্রাহাম, অব্রাহাম” বলে ডাকলেন।
অব্রাহাম থেমে গিয়ে সাড়া দিলেন, “বলুন।”
12দূত বললেন, “তোমার পুত্রকে হত্যা কোরো না, তাকে কোন রকম আঘাত দিও না। এখন আমি দেখতে পাচ্ছি, তুমি ঈশ্বরকে ভক্তি করো এবং তাঁর আজ্ঞা পালন করো। প্রভুর জন্য তুমি তোমার একমাত্র পুত্রকে পর্যন্ত বলি দিতে প্রস্তুত।”
13তখন অব্রাহাম একটা মেষ দেখতে পেলেন। একটা ঝোপে তার শিং আটকে গেছে। সুতরাং অব্রাহাম সেই মেষটা ধরে এনে বলি দিলেন। ঐ মেষটাই হল ঈশ্বরের জন্য অব্রাহামের বলি। আর রক্ষা পেল অব্রাহামের পুত্র ইস্হাক। 14সুতরাং অব্রাহাম ঐ স্থানটির একটা নাম দিলেন, “যিহোবা-যিরি।”+ 22:14 যিহোবা-যিরি এর অর্থ “প্রভু দেবেন” অথবা “প্রভু দেন।” এমন কি আজও লোকেরা বলে, “এই পর্বতে প্রভুকে দেখা যায়।”
15স্বর্গ থেকে প্রভুর দূত দ্বিতীয়বার অব্রাহামকে ডেকে বললেন, 16“আমার জন্য তুমি তোমার একমাত্র পুত্রকেও বলি দিতে প্রস্তুত ছিলে। আমার জন্য তুমি এত বড় কাজ করেছ বলে আমি তোমার কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আমি প্রভু, নিজেরই দিব্য করে প্রতিশ্রুতি করছি যে, 17আমি তোমাকে অবশ্য আশীর্বাদ করব। আকাশে যত তারা, আমি তোমার উত্তরপুরুষদেরও সংখ্যাও তত করব। সমুদ্রতীরে যত বালি, তোমার উত্তরপুরুষরাও তত হবে। এবং তোমার বংশ তাদের সমস্ত শত্রুদের পরাস্ত করবে। 18পৃথিবীর প্রত্যেক জাতি তোমার উত্তরপুরুষদের মাধ্যমে আশীর্বাদ পাবে। তুমি আমার আজ্ঞা পালন করেছ বলে তোমার উত্তরপুরুষদের জন্য আমি একাজ করব।”
19তখন অব্রাহাম তাঁর ভৃত্যদের কাছে ফিরে গেলেন। তাঁরা সকলে বের্-শেবাতে ফিরে এলেন এবং অব্রাহাম বের্-শেবাতেই থেকে গেলেন।
20এইসব ঘটনার পরে অব্রাহামের কাছে এই খবর এল, “শোনো, তোমার ভাই নাহোর এবং তার স্ত্রী মিল্কারও এখন সন্তানাদি হয়েছে; 21প্রথম পুত্রের নাম উষ, দ্বিতীয় পুত্রের নাম বূষ, তৃতীয় পুত্র কমূয়েল হল অরামের পিতা। 22তারপরে আছে কেষদ, হসো, পিল্দশ, ষিদ্লক এবং বথুযেল।” 23বথুয়েল হল রিবিকার পিতা। এই আট পুত্রের মাতা হল মিল্কা এবং পিতা হল নাহোর। আর নাহোর হচ্ছে অব্রাহামের ভাই। 24তাছাড়া দাসী রূমার থেকেও নাহোরের আরও চারজন পুত্র ছিল। এই চার পুত্রের নাম টেবহ, গহম, তহশ এবং মাখা।
23সারার মৃত্যু
1সারা 127 বছর বেঁচেছিলেন। 2কনান দেশের কিরিয়থ অর্ব অর্থাৎ হিব্রোণ নগরে তাঁর মৃত্যু হল। অব্রাহাম ভীষণ দুঃখ পেলেন, সারার জন্যে অনেক কাঁদলেন। 3তারপর স্ত্রীর মৃতদেহ রেখে হেতের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলতে গেলেন। 4তিনি বললেন, “দেশ পর্যটন করতে করতে আপনাদের দেশে এসে আমি পরবাসী হিসেবে বাস করছি। ফলে আমার মৃত স্ত্রীকে কবর দেওয়ার মত আমার কোনও জায়গা নেই। আমি যাতে স্ত্রীকে কবর দিতে পারি তার জন্য দয়া করে আমায় খানিকটা জায়গা দিন।”
5হেতেরা উত্তরে বলল, 6“মহাশয়, আমাদের মধ্যে আপনি ঈশ্বরের মহান নেতাদের একজন। আমাদের শ্রেষ্ঠ জমিতে আপনি আপনার মৃত স্ত্রীকে সমাধিস্থ করতে পারেন। আপনার স্ত্রীকে আপনি আপনার পছন্দমত জায়গাতে সমাধিস্থ করলে কেউ আপনাকে বাধা দেবে না।”
7অব্রাহাম উঠে দাঁড়িয়ে তাঁদের নমস্কার করলেন। 8অব্রাহাম তাঁদের বললেন, “আপনারা সত্যিই যদি আমার মৃত স্ত্রীকে কবর দেওয়ার ব্যাপারে সাহায্য করতে চান তাহলে আমার হয়ে সোহরের পুত্র ইফ্রোণের সঙ্গে কথা বলুন। 9ইফ্রোণের ক্ষেতের শেষে যে মক্পেলার গুহাটা আছে সেটা আমি কিনতে চাই। ইফ্রোণ ঐ গুহার মালিক। যা দাম হয়, সবটাই আমি দেব। আমি চাই যে আমার স্ত্রীর কবরের জন্য যে ঐ জায়গা কিনছি আপনারা সবাই তার সাক্ষী থাকুন।”
10যাদের সঙ্গে অব্রাহাম কথা বলছিলেন তাঁদের মধ্যে ইফ্রোণ উপবিষ্ট ছিলেন। এখন ইফ্রোণ অব্রাহামকে বললেন, 11“না, মহাশয়, এখানেই ঐ ক্ষেত এবং গুহাটিও আমি আমার লোকেদের সামনে আপনাকে দেব। আপনি যাতে আপনার ইচ্ছা মত আপনার স্ত্রীকে সমাধিস্থ করতে পারেন সেজন্যে ঐ জমি, গুহা আমি আপনাকে দেব।”
12তখন অব্রাহাম সমবেত হেতের লোকদের সবিনয় নমস্কার করলেন। 13সকলের উপস্থিতিতে তিনি ইফ্রোণকে বললেন, “কিন্তু আমি ঐ জমির পুরো দাম আপনাকে দিতে চাই। আমার দেওয়া দাম আপনি দয়া করে গ্রহণ করুন, আমি নির্দ্ধিধায় আমার স্ত্রীকে কবর দিই।”
14উত্তরে ইফ্রোণ অব্রাহামকে বললেন, 15“মহাশয়, আমার কথা শুনুন। আপনার ও আমার কাছে 10 পাউণ্ড ওজনের রূপোর তো কোন দাম নেই। সুতরাং আপনি জমিটা নিন এবং সেখানে নিশ্চিন্তে আপনার স্ত্রীকে সমাধিস্থ করুন।”
16অব্রাহাম বুঝতে পারলেন যে ইফ্রোণের কথার মধ্যেই জমিটার মূল্য উল্লিখিত রয়েছে। সুতরাং অব্রাহাম ঐ মূল্যই ইফ্রোণকে দিলেন। ইফ্রোণের জন্যে অব্রাহাম 10 পাউণ্ড রূপো ওজন করলেন এবং সেই রূপো বণিককে দিলেন।
17 সুতরাং ইফ্রোণের জমির স্বত্ত্বাধিকারীর পরিবর্তন হল। মম্রির পূর্বদিকে মক্পেলায় ঐ জমি অবস্থিত। এখন ঐ জমির স্বত্ত্বাধিকারী হলেন অব্রাহাম। তিনি ঐ জমির অন্তর্গত গুহা এবং সমস্ত বৃক্ষাদির স্বত্ত্বাধিকারী হলেন। সমস্ত নগরবাসী ইফ্রোণ ও অব্রাহামের মধ্যে ঐ চুক্তি সম্পাদন প্রত্যক্ষ করলেন। 19তারপর অব্রাহাম মম্রির (হিব্রোণে) নিকটস্থ জমিতে অর্থাৎ কনান দেশের এক গুহার মধ্যে তাঁর স্ত্রী সারাকে সমাধিস্থ করলেন। 20অব্রাহাম হেতের জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে ঐ জমি ও জমির মধ্যেকার গুহা কিনলেন। এখন ঐ জমি গুহা হল অব্রাহামের সম্পত্তি এবং ঐ জায়গা তিনি সমাধিস্থল হিসেবে ব্যবহার করতে লাগলেন।
24ইস্হাকের স্ত্রী
1অব্রাহাম অত্যন্ত বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। অব্রাহামের ওপর ও তাঁর কৃত সমস্ত কর্মে প্রভুর আশীর্বাদ ছিল। 2অব্রাহামের সমস্ত সম্পত্তি দেখাশোনার জন্যে একজন পুরানো ভৃত্য ছিল। অব্রাহাম সেই ভৃত্যকে একদিন ডেকে বললেন, “আমার উরুর নীচে হাত দাও। 3এখন আমার কাছে তুমি একটা প্রতিজ্ঞা করো। স্বর্গ ও মর্ত্যের ঈশ্বর প্রভুর সাক্ষাতে আমায় কথা দাও যে কনানের কোন কন্যাকে আমার পুত্র বিয়ে করবে, এরকমটা তুমি কখনও হতে দেবে না। আমরা কনানীয়দের মধ্যে বাস করি বটে, কিন্তু আমার পুত্রের সঙ্গে কোনও কনানীয় কন্যার বিয়ে হতে দেবে না। 4আমার দেশে আমার স্বজাতির কাছে ফিরে যাও। সেখানে আমার পুত্র ইস্হাকের জন্যে পাত্রী খুঁজে বার করে তাকে এখানে নিয়ে এস।”
5ভৃত্যটি তাঁকে বলল, “এমন তো হতে পারে যে কোনও পাত্রী আমার সঙ্গে এদেশে আসতে রাজী হল না। তাহলে কি আমি আপনার পুত্রকে আমার সঙ্গে নিয়ে আপনার জন্মভূমিতে যাব?”
6অব্রাহাম তাকে বলল, “না! আমার পুত্রকে ঐ দেশে নিয়ে যেও না। 7স্বর্গের প্রভু স্বয়ং ঈশ্বর আমার স্বদেশ থেকে সপরিবারে আমায় এখানে নিয়ে এসেছেন। ঐ দেশ আমার পিতার ও পরিবারের স্বদেশ ছিল। কিন্তু প্রভু কথা দিয়েছেন যে এই নতুন দেশ হবে আমার পরিবারের স্বদেশ। প্রভু তোমার আগে তাঁর দূত পাঠাবেন যাতে তুমি আমার পুত্রের জন্য একটি পাত্রী পছন্দ করে তাকে এখানে আনতে পার। 8কিন্তু যদি সেই পাত্রী তোমার সঙ্গে এই দেশে আসতে না চায় তাহলে তুমি তোমার শপথ থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু তুমি কখনও আমার পুত্রকে সেই দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে না।”
9সুতরাং ভৃত্যটি তার মনিবের উরুর নীচে হাত দিয়ে সেই রকমই শপথ করল।
সন্ধানের শুরু
10পরিচারকটি অব্রাহামের দশটি উট নিয়ে সেই স্থান ত্যাগ করল। সঙ্গে নিয়ে গেল নানা ধরণের সুন্দর সুন্দর উপহার। সে গেল নাহোরের নগর মেসোপটেমিযাতে। 11নগরের বাইরে সেই ভৃত্য জলের কূপের দিকে গেল। সন্ধ্যার সময় নগরের মেয়েরা সেই কূপে জল নিতে বেরিয়ে এল। ভৃত্যটি উটগুলোকে সেখানে হাঁটু গেড়ে বসাল।
12ভৃত্যটি বলল, “প্রভু, আপনি আমার মনিব অব্রাহামের ঈশ্বর। আজ আমার মনিবের পুত্রের জন্য একটি যোগ্য পাত্রী নির্বাচনে আপনি আমায় সাহায্য করুন। অনুগ্রহ করে আমার প্রভু অব্রাহামকে এই দয়া করুন। 13এখানে কূপের ধারে আমি দাঁড়িয়ে আছি। নগরের তরুণী রমনীরা এই কূপের জল নিতে আসছে। 14ইস্হাকের জন্যে কোন্ পাত্রীটি উপযুক্ত তা জানার একটা বিশেষ ইঙ্গিত দেখতে পাব বলে এখানে আমি অপেক্ষা করছি। সেই বিশেষ ইঙ্গিতটি হল এই: আমি মেয়েটিকে বলব, ‘তোমার কলসী থেকে আমায় একটু জল দাও।’ সেই মেয়েটিই যে উপযুক্ত তা আমি বুঝতে পারব যদি সে বলে, ‘নিন, এই জলে তেষ্টা মেটান। আপনার উটগুলোকেও আমি জল দিচ্ছি।’ এরকমটা যদি ঘটে তাহলে আমি বুঝব আপনার কাছ হতে আসা সেটাই প্রমাণ যে ঐ মেয়েই ইস্হাকের জন্যে সঠিক পাত্রী এবং আমি জানব যে আপনি আমার মনিবকে দয়া করেছেন।”
একটি পত্নী পাওয়া গেল
15ভৃত্য প্রার্থনা শেষ করার আগেই রিবিকা নামে একটি তরুনী কূপের কাছে এল। রিবিকা বথুযেলের কন্যা। বথুযেল ছিল অব্রাহামের ভাই নাহোর ও তার স্ত্রী মিল্কার পুত্র। জল নেওয়ার কলসী কাঁধে নিয়ে রিবিকা কূপের কাছে এল। 16রিবিকা অসাধারণ সুন্দরী। সে কখনও কোন পুরুষের সঙ্গে ঘুমায় নি। সে ছিল কুমারী। কূপের ধারে গিয়ে সে কলসী ভরে জল নিল। 17তখন সেই ভৃত্য তাড়াতাড়ি তার কাছে গিয়ে বলল, “দারুণ তৃষ্ণা, দয়া করে তোমার কলসী থেকে একটু জল দাও।”
18রিবিকা সঙ্গে সঙ্গে কাঁধ থেকে কলসী নামিয়ে তার আঁজলায জল ঢেলে দিয়ে বলল, “এই নিন, তৃষ্ণা মেটান।” 19তাকে জল খেতে দেওয়ার পরে রিবিকা বলল, “আপনার উটগুলোকেও আমি জল দিচ্ছি।” 20তখন রিবিকা কলসী খালি করে সবটা জল ঢেলে দিল উটেদের পানপাত্রে। তারপর আবার কূপ থেকে আরও জল আনতে গেল। এভাবে সে সবগুলো উটকেই জল পান করতে দিল।
21সেই ভৃত্য নীরবে রিবিকার সমস্ত কাজ লক্ষ্য করতে লাগল। সে নিশ্চিত হতে চাইছিল যে প্রভু তার প্রার্থনা শুনেছেন কিনা এবং ইস্হাকের জন্যে কন্যা সন্ধান সফল হয়েছে কিনা। 22উটগুলোর জলপান শেষ হলে সে রিবিকাকে একটা 1/4 আউন্স ওজনের সোনার আংটি দিল। তাছাড়া সে এক-একটি 5 আউন্স ওজনের দুখানা সোনার বালাও রিবিকাকে দিল। 23ভৃত্যটি রিবিকাকে জিজ্ঞেস করল, “তোমার পিতা কে? তোমার পিতার গৃহে কি আমার লোকদের রাতে থাকার কোনও ব্যবস্থা হতে পারে?”
24রিবিকা উত্তর দিল, “বথুযেল আমার পিতা। তিনি মিল্কা ও নাহোরের পুত্র।” 25তারপর সে বলল, “উটগুলোকে খেতে দেওয়ার মত খড় আর আপনাদের ঘুমোতে দেওয়ার মত জায়গা দুটোই আমাদের আছে।”
26ভৃত্যটি সাষ্টাঙ্গে প্রণিপাত করে প্রভুর উপাসনা করল। 27সে বলল, “ধন্য প্রভু, আমার মনিব অব্রাহামের ঈশ্বর। আমার মনিবের প্রতি প্রভু দয়া ও বিশ্বস্ততার আচরণ করেছেন। প্রভু আমাকে আমার মনিবের আত্মীয়দের বাড়ীতে নিয়ে এসেছেন আমার মনিবের পুত্রের জন্য যোগ্য পাত্রী খুঁজে বার করার জন্য।”
28তখন রিবিকা ছুটে গিয়ে যা যা ঘটেছে সেসব তার পরিবারের সবাইকে বলল। 29 রিবিকার এক ভাই ছিল। তার নাম লাবন। সেই আগন্তুক যা কিছু বলেছে, সেইসব রিবিকা যখন বলছিল তখন লাবন মন দিয়ে সব শুনছিল এবং লাবন যখন তার দিদির আঙুলে আংটি আর হাতে বালা দেখল তখন ছুটে বেরিয়ে গিয়ে সেই কূপের ধারে এল। সেই লোকটি তখন কূপের ধারে উটগুলো নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। 31লাবন বলল, “মহাশয়, আপনাকে আমাদের আলয়ে স্বাগত জানাই। আপনার এখানে দাঁড়িয়ে থাকার দরকার নেই। আপনাদের বিশ্রামের জন্য আমি সমস্ত বন্দোবস্ত করছি এবং আপনাদের উটগুলোর জন্যে আমাদের বাড়ীতে জায়গা আছে।”
32তাই অব্রাহামের ভৃত্য তাদের বাড়ীর ভেতরে গেল। উটগুলোর থেকে বোঝা নামাতে লাবন তাদের সাহায্য করল এবং উটগুলোকে খাবারের জন্য খড়ও দিল। লাবন তারপর সেই ভৃত্য ও তার লোকদের পা ধোওয়ার জন্য জল দিল। 33তারপর লাবন তাদের খাওয়ার জন্য খাবার দিল। কিন্তু ভৃত্যটি খেতে রাজী হল না। সে বলল, “আমি কেন এসেছি তা না বলে আমি খাব না।”
তখন লাবন বলল, “তাহলে আমাদের বলুন।”
রিবিকার জন্যে দরাদরি
34তখন সেই ভৃত্য বলল, “আমি অব্রাহামের পরিচারক। 35কিন্তু সমস্ত বিষয়েই আমার মনিবকে আশীর্বাদ করেছেন। আমার মনিব এখন এক মহান ব্যক্তি। অব্রাহামকে প্রভু অনেক মেষের পাল এবং প্রচুর গবাদি পশু দিয়েছেন। অব্রাহামের এখন অনেক সোনা, রূপা, অনেক দাসদাসী। অব্রাহামের অনেক উট ও গাধা আছে। 36আমার মনিবের স্ত্রী ছিলেন সারা। অনেক বয়সে তিনি একটি পুত্রের জন্ম দিলেন এবং আমার মনিব তাঁর সমস্ত ধন-সম্পদ তাঁর এই পুত্রকে দিয়েছেন। 37আমার মনিব আমায় একটা শপথ নিতে বাধ্য করেছেন। আমার মনিব আমায় বললেন, ‘আমার পুত্রকে তুমি কনানের কোনও কন্যাকে বিয়ে করতে দেবে না। আমরা কনানের লোকদের মধ্যে বাস করি বটে, কিন্তু আমি চাই না যে সে কনানের কোনও কন্যাকে বিয়ে করে। 38সুতরাং তুমি শপথ করো যে তুমি আমার পিতার দেশে যাবে। আমার আত্মীয়স্বজনদের কাছে যাও এবং আমার পুত্রের জন্যে একজন পাত্রী নির্বাচন করো।’ 39তখন আমি আমার মনিবকে বললাম, ‘সেই পাত্রী আমার সঙ্গে এই দেশে আসতে না চাইতেও পারে।’ 40কিন্তু আমার মনিব বললেন, ‘আমি প্রভুর সেবা করেছি এবং সেই একই প্রভু তাঁর দূত পাঠাবেন তোমার সঙ্গে তোমার সাহায্যের জন্য। আমার আত্মীয়স্বজনদের মধ্যেই তুমি আমার পুত্রের জন্যে পাত্রী খুঁজে পাবে। 41কিন্তু তুমি যদি আমার পিতার দেশে যাও আর তাঁরা যদি আমার পুত্রের জন্য মেয়ে দিতে অস্বীকার করেন, তাহলে তুমি এই শপথের দায় থেকে মুক্ত হবে।’
42“আজ আমি এই কূপের পাড়ে এসে প্রার্থনা করলাম, ‘প্রভু, আপনি আমার মনিব অব্রাহামের ঈশ্বর, দয়া করে আমার এই যাত্রাকে সফল করুন। 43আমি এই কূপের পাশে দাঁড়িয়ে জল নেওয়ার জন্য আসা একটি মেয়ের জন্যে অপেক্ষা করব। সে জল নিতে এলে আমি বলব, “দয়া করে তোমার কলসী থেকে আমায় একটু জল পান করতে দাও।” 44এতে উপযুক্ত পাত্রী একটা বিশেষভাবে উত্তর দেবে। সে বলবে, “এই জল আপনি পান করুন আর আপনার উটগুলোকেও আমি জল পান করতে দেব।” যে মেয়ে এইভাবে উত্তর দেবে, আমি জানব, সে-ই আমার মনিবের পুত্রের জন্য উপযুক্ত পাত্রী হবে যাকে প্রভু নির্বাচন করেছেন।’
45“আমার প্রার্থনা শেষ করার আগেই রিবিকা জল নেওয়ার জন্যে কূয়ো তলায় এল। জলের কলসীটা তার কাঁধে ছিল। আমি তার কাছে তৃষ্ণা নিবারণের জন্য জল চাইলাম। 46তখনই সে কাঁধ থেকে কলসী নামিয়ে আমার আঁজলায় খানিকটা জল ঢেলে দিল। তারপর সে বলল, ‘এই জল আপনি পান করুন আর আপনার উটগুলোর জন্য আমি আরও জল দিচ্ছি।’ তখন আমি সেই জল পান করলাম এবং মেয়েটি উটগুলোকেও জল পান করতে দিল। 47তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমার পিতা কে?’ সে বলল, ‘বথুযেল আমার পিতা। তিনি মিল্কা ও নাহোরের পুত্র।’ তখন আমি তাকে আংটি আর বালা জোড়া দিলাম। 48আমি প্রণিপাত করে প্রভুকে ধন্যবাদ জানালাম। আমি প্রভুর, আমার মনিব অব্রাহামের ঈশ্বরের প্রশংসা করলাম। আমায় সোজা আমার মনিবের ভাইয়ের নাতনির কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যে প্রভুকে ধন্যবাদ জানাই। 49এখন আমায় বলুন, আপনি কি আমার মনিবের প্রতি সদয় এবং বিশ্বস্ত হয়ে তাঁকে আপনার কন্যাটিকে দেবেন? অথবা আপনি গররাজী হবেন? আপনি খুলে বলুন যাতে আমি কি করব, না করব ঠিক করতে পারি।”
50তখন লাবন এবং বথুয়েল উত্তর দিলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি, সবই প্রভুর ইচ্ছা অনুসারে হচ্ছে। সুতরাং তোমাকে আমরা এটি বদলাবার জন্য কিছুই বলতে পারি না। 51তাই রিবিকাকে দিলাম। ওকে নিয়ে যাও। ওর সঙ্গে তোমার মনিবের পুত্রের বিয়ে দাও। প্রভুর এটাই ইচ্ছা।”
52যখন অব্রাহামের ভৃত্য একথা শুনল সে প্রভুর সামনে ভূমিতে প্রণিপাত করল। 53তখন সে যেসব উপহার সামগ্রী এনেছিল সেসব রিবিকাকে দিল। সে তাকে খুব সুন্দর সুন্দর জামা কাপড় এবং সোনা ও রূপার নানা অলঙ্কার দিল। তার ভাই এবং মাকেও দিল বহু রকম মূল্যবান সামগ্রী। 54তারপর তারা খাওয়াদাওয়া সেরে সেখানে রাত্রিযাপন করল। পরদিন খুব সকালে উঠে তারা বলল, “এখন আমার মনিবের কাছে আমাদের ফিরে যেতে হবে।”
55তখন রিবিকার মা ও ভাই বলল, “রিবিকা আরও কিছুদিন আমাদের কাছে থাকুক। আর দশ দিন আমাদের কাছে থাক। তারপর সে যেতে পারে।”
56কিন্তু ভৃত্য তাদের বলল, “আমায় দেরী করিয়ে দেবেন না। প্রভু আমার যাত্রা সফল করেছেন। এবার আমার প্রভুর কাছে তাড়াতাড়ি ফিরে যাওয়া দরকার।”
57রিবিকার মা ও ভাই বলল, “রিবিকাকে ডেকে আনি—ও কি বলে শোনা যাক্।” 58তাঁরা রিবিকাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি এঁর সঙ্গে এখনই যেতে চাও?”
রিবিকা বলল, “হ্যাঁ, আমি যাব।”
59সুতরাং তাঁরা অব্রাহামের ভৃত্য ও তার লোকজনের সঙ্গে রিবিকাকে যেতে দিলেন। রিবিকাকে ছোটবেলা থেকে যে দাসী মানুষ করেছে সে-ও তাদের সঙ্গে চলল। 60যখন রিবিকা যাত্রা শুরু করল তাঁরা তাকে বললেন,
“আমাদের বোন, তুমি হও লক্ষ লক্ষ জনের জননী।
তোমার উত্তরপুরুষগণ শত্রুদের পরাজিত করে দখল করুক তাদের নগরগুলি।”
61তারপর রিবিকা ও তার দাসী উটের পিঠে চড়ে অব্রাহামের ভৃত্য ও তার লোকজনদের অনুগমন করল। সুতরাং সেই ভৃত্য রিবিকাকে নিয়ে মনিবের গৃহের পথে যাত্রা করল।
62ইস্হাক তখন বের্-লহয়্-রোয়ী ত্যাগ করে নেগেভে বাস করছিলেন। 63একদিন সন্ধ্যায় একান্তে ধ্যান করার জন্যে ইস্হাক নির্জন প্রান্তরে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ইস্হাক চোখ তুলে দেখলেন যে দূর থেকে উটের সারি আসছে।
64রিবিকাও ইস্হাককে দেখতে পেলেন। তখন সে উটের পিঠ থেকে লাফিয়ে নেমে পড়ল। 65ভৃত্যকে জিজ্ঞেস করল, “কে ঐ তরুণ মাঠের মধ্যে দিয়ে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে?”
ভৃত্য উত্তর দিল, “ঐ আমার মনিবের পুত্র।” শুনে রিবিকা ওড়না দিয়ে তার মুখ ঢাকল।
66সেই ভৃত্য যা-যা ঘটেছে সব ইস্হাককে বলল। 67তখন ইস্হাক মেয়েটিকে তাঁর মায়ের তাঁবুতে নিয়ে গেলেন। সেদিন থেকে রিবিকা হল ইস্হাকের স্ত্রী। ইস্হাক তাকে খুব ভালবাসলেন। তাকে ভালবেসে ইস্হাক মায়ের মৃত্যুর শোকে সান্ত্বনা পেলেন।
25অব্রাহামের পরিবার
1অব্রাহাম আবার বিবাহ করলেন। তাঁর নতুন স্ত্রীর নাম কটুরা। 2অব্রাহামের ঔরসে কটুরা সিম্রণ, যকষণ, মদান, মিদিয়ন, যিশবক এবং শূহরের জন্ম দেন। 3যকষণ ছিলেন শিবা ও দদানের জনক। অশূরীয়, লিয়ুশ্মীয় আর লটুশীয় অধিবাসীরা ছিল দদানের উত্তরপুরুষ। 4ঐফা, এফর, হনোক, অবীদ এবং ইল্দায়া ছিল মিদিয়নের সন্তান-সন্ততি। অব্রাহাম ও কটুরার বিবাহের ফলে এইসব পুত্রদের জন্ম হয়। 5 মৃত্যুর আগে অব্রাহাম তাঁর রক্ষিত দাসীদের গর্ভজাত পুত্রদের নানা রকম উপহার দিয়ে তাদের পূর্ব দেশে পাঠান। তিনি তাদের ইস্হাকের কাছ থেকে দূরে পাঠিয়ে দিয়ে তাঁর যা কিছু ছিল সব ইস্হাককে দেন।
7অব্রাহাম 175 বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। 8তারপর অব্রাহাম ক্রমশঃ দুর্বল হয়ে অবশেষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। সুদীর্ঘ ও সুখী জীবন ছিল তাঁর। তিনি মারা গেলেন এবং তাঁকে তাঁর আপনজনের কাছে নিয়ে যাওয়া হল। 9তাঁর দুই পুত্র ইস্হাক আর ইশ্মায়েল মিলে তাঁর মৃতদেহ মক্পেলার গুহাতে কবর দিল। সোহরের পুত্র ইফ্রোণের জমিতে ঐ গুহা। জায়গাটা ছিল মম্রির পূর্ব দিকে। 10এই সেই গুহা যেটা অব্রাহাম হেতের সন্তানদের কাছ থেকে কিনেছিলেন। সেখানে স্ত্রী সারার কবরের পাশে অব্রাহামকে কবর দেওয়া হল। 11অব্রাহামের মৃত্যুর পরে ঈশ্বর ইস্হাককে আশীর্বাদ করলেন। ইস্হাক বের্-লহয়-রোয়ীতে বসবাস করতে থাকলেন।
12ইশ্মায়েলের বংশ বৃত্তান্ত এই: অব্রাহাম ও হাগারের পুত্র ছিলেন ইশ্মায়েল। (হাগার ছিলেন সারার মিশরীয় দাসী।) 13ইশ্মায়েলের পুত্রদের নামগুলো হল: প্রথম পুত্র ছিল নবায়োত্, তারপর জন্মায় কেদর, তারপরে যথাক্রমে অদ্বেল, মিবসম্, 14মিশ্ম, দুমা, মসা, 15হদদ, তেমা, যিটুর, নাফীশ এবং কেদমা। 16এইগুলি হল ইশ্মায়েলের পুত্রদের নাম। প্রত্যেকের এক-একটা ছোট বসতি ছিল এবং প্রত্যেকটি বসতি আস্তে আস্তে শহরে পরিণত হয়। বারোটি পুত্র যেন বারো জন রাজপুত্র এবং প্রত্যেকের নিজস্ব জনবল। 17ইশ্মায়েল 137 বছর বেঁচেছিলেন। তারপর তাঁর মৃত্যু হয় এবং তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। 18ইশ্মায়েলের উত্তরপুরুষরা সমগ্র মরুভূমি অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে। এই অঞ্চলটি ছিল মিশরের কাছে হুবীলা থেকে শূর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এখান থেকে তা বিস্তৃত ছিল অশূরিয়া পর্যন্ত। ইশ্মায়েলের উত্তরপুরুষরা প্রায়ই তার ভাইএর লোকেদের আক্রমণ করত।
ইস্হাকের পরিবার
19এবার ইস্হাকের কাহিনী। ইস্হাক নামে অব্রাহামের এক পুত্র ছিল। 20যখন ইস্হাকের বয়স 40 হল তখন তিনি রিবিকাকে বিয়ে করলেন। রিবিকা ছিলেন পদ্দন্ অরাম অঞ্চলের মেয়ে। তাঁর পিতা বথুযেল এবং অরামীয় লাবন ছিলেন তাঁর ভাই। 21ইস্হাকের স্ত্রীর সন্তানাদি হচ্ছিল না। তাই তিনি প্রভুর কাছে তাঁর স্ত্রীর জন্যে প্রার্থনা করলেন এবং প্রভু তাঁর প্রার্থনা শুনলে রিবিকা গর্ভবতী হলেন।
22গর্ভবতী অবস্থায় রিবিকা যন্ত্রণা ভোগ করছিলেন কারণ তাঁর গর্ভে দুটি শিশু একে অপরকে জোরে ঠেলাঠেলি করছিল। গর্ভস্থ শিশুর জন্যে রিবিকা অনেক কষ্ট পেতে থাকেন। তিনি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করে জানতে চাইলেন, “আমার কেন এমন হচ্ছে?” 23প্রভু উত্তরে বললেন,
“তোমার গর্ভের মধ্যে
দুটি জাতি আছে।
তুমি দুই মহান বংশের শাসকদের জন্ম দেবে।
তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটবে।
এক পুত্রের অপেক্ষা অন্য পুত্র শক্তিশালী হবে।
ছোট পুত্রের সেবা করবে বড় পুত্র।”
24যথাসময়ে রিবিকা দুটি যমজ সন্তানের জন্ম দিলেন। 25প্রথম সন্তানের গায়ের রং ছিল লাল। গায়ের ত্বক ছিল লোমশ বস্ত্রের মত। তাই তার নাম রাখা হল এষৌ। 26তারপরে যখন দ্বিতীয় সন্তানটির জন্ম হল তখন তার শক্ত মুঠোর মধ্যে এষৌর পায়ের গোড়ালি ধরা ছিল। তাই তার নাম রাখা হল যাকোব। এষৌ এবং যাকোবের জন্মের সময় ইস্হাকের বয়স ছিল 60 বছর।
27ছেলে দুটি বড় হতে লাগল। এষৌ হল একজন দক্ষ শিকারী। সে জঙ্গলে প্রান্তরে ঘুরে বেড়াতে ভালবাসত। কিন্তু যাকোব ছিল শান্ত প্রকৃতির। সে তাঁবুতেই থাকত। 28ইস্হাক এষৌকে ভালবাসতেন। এষৌর শিকার করা পশুর মাংস খেতে তিনি ভালবাসতেন। কিন্তু রিবিকা যাকোবকে ভালবাসতেন।
29একবার এষৌ শিকার থেকে ফিরে এল। ক্ষুধায় সে ছিল ক্লান্ত ও দুর্বল। তখন যাকোব এক হাঁড়ি শিম সেদ্ধ করছিল। 30এষৌ যাকোবকে বলল, “ক্ষিধের জ্বালায় আমি ক্লান্ত। আমায় এই লাল বীন কিছু খেতে দাও।” (সেজন্য সবাই তাকে ইদোম বলে।)
31কিন্তু যাকোব বলল, “তাহলে তুমি আজ বড় পুত্রের অধিকার আমায় বিক্রি করো।”
32এষৌ বলল, “ক্ষিধের চোটে আমি এমনিতেই আধমরা হয়ে গেছি। মরেই যদি যাই তাহলে পিতার সব সম্পত্তি আমার কোন কাজে লাগবে? তাই আমার ভাগ আমি তোমায় দেব।”
33কিন্তু যাকোব বলল, “আগে প্রতিজ্ঞা করো যে তোমার ভাগ আমায় দেবে।” অতএব যাকোবের কাছে এষৌ প্রতিজ্ঞা করল। এষৌ পিতার সম্পত্তি থেকে নিজের ভাগ যাকোবকে বিক্রি করল। 34তখন যাকোব এষৌকে রুটি ও খাবার দিল। এষৌ খেয়েদেয়ে পরিতৃপ্ত হয়ে চলে গেল। সুতরাং এষৌ প্রমাণ করল যে বড় পুত্রের অধিকার নিয়ে তার কোনও মাথাব্যথা নেই।
26অবীমেলকের কাছে ইস্হাকের মিথ্যাভাষণ
1একবার দুর্ভিক্ষ হল। অব্রাহামের সময় যেমন হয়েছিল এই দুর্ভিক্ষটা তেমনই ছিল। তখন ইস্হাক পলেষ্টীয়দের অবীমেলকের সঙ্গে দেখা করার জন্য গরারে গেলেন। 2প্রভু ইস্হাককে দর্শন দিলেন এবং বললেন, “মিশরে যেও না। আমি তোমায় যে দেশে বাস করার পরামর্শ দিচ্ছি সেই দেশে বাস করো। 3সেই দেশে থাকো এবং আমি তোমার সঙ্গে থাকব। আমি তোমায় আশীর্বাদ করব। এই যত জমিজমা দেখছ সব আমি তোমায় ও তোমার পরিবারকে দেব। তোমার পিতা অব্রাহামকে আমি যা-যা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম সে সব কথা আমি রাখব। 4আকাশের তারার মত তোমার উত্তরপুরুষরা হবে অসংখ্য এবং তোমার পরিবার এই সমস্ত জমির মালিক হবে। তোমার উত্তরপুরুষদের মাধ্যমে পৃথিবীর সমস্ত জাতি আমার আশীর্বাদ পাবে। 5তোমার পিতা অব্রাহাম আমার কথা, আমার আদেশ, আমার বিধি, আমার নিয়ম সব কিছু পালন করেছিল এবং আমি তাকে যা যা করতে বলেছিলাম সব করেছিল বলে আমি এটা করব।”
6সুতরাং ইস্হাক গরারে থেকে গেলেন এবং সেখানেই বাস করতে লাগলেন। 7ইস্হাকের স্ত্রী রিবিকা ছিল অপূর্ব সুন্দরী। গরারের বাসিন্দারা রিবিকার সম্পর্কে ইস্হাককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগল। ইস্হাক বললেন, “ও আমার বোন।” রিবিকাকে তার স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতে ইস্হাক ভয় পেলেন। ইস্হাকের ভয় হল যে রিবিকাকে পাওয়ার জন্য তারা তাঁকে হত্যা করতে পারে।
8তারপর ইস্হাক সেখানে বহুদিন থেকেছিলেন। একদিন অবীমেলক জানালা দিয়ে ইস্হাক ও তার স্ত্রী রিবিকাকে খেলা করতে দেখলেন। 9তখন অবীমেলক ইস্হাককে ডেকে পাঠালেন। অবীমেলক বললেন, “এই নারী আসলে তোমার স্ত্রী। আমায় কেন মিথ্যে করে বলেছিলে যে এ তোমার বোন?”
ইস্হাক বললেন, “আমি ভয় পেয়েছিলাম যে একে স্ত্রী বলে পরিচয় দিলে ওকে পাওয়ার জন্য আপনি আমায় হত্যা করবেন।”
10অবীমেলক বললেন, “আমাদের প্রতি অত্যন্ত অন্যায় অবিচার করেছ। আমাদের মধ্যে কেউ যদি তোমার স্ত্রীকে শয্যাসঙ্গিনী করতো তাহলে সে মহাপাপের ভাগী হত।”
11সুতরাং অবীমেলক তাঁর সমস্ত প্রজাদের সাবধান করে দিলেন। তিনি বললেন, “কেউ এই লোকটির বা এর স্ত্রীর কোন ক্ষতি করবে না। যদি কেউ এদের কোনও ক্ষতি করে তাহলে তার শাস্তি হবে মৃত্যু।”
ইস্হাক ধনী হলেন
12ইস্হাক তাঁর ক্ষেতে চাষ করলেন। এবং সে বছর খুব ভাল ফসল হল। প্রভু তাঁকে খুব আশীর্বাদ করলেন। 13ইস্হাক ধনী হলেন। তিনি আরও অনেক ধন উপার্জন করলেন। এভাবে তিনি একজন অত্যন্ত ধনবান ব্যক্তি হলেন। 14তিনি প্রচুর মেষপাল ও গো-পালের মালিক হলেন। তাঁর বিশাল ধন ও অনেক দাস-দাসী ছিল। সমস্ত পলেষ্টীয় মানুষরা তাঁকে ঈর্ষা করতে লাগল। 15ফলে অনেক কাল আগে অব্রাহাম ও তাঁর লোকজন যেসব কূপ খনন করেছিলেন সেগুলো পলেষ্টীয়রা বুজিয়ে ফেলল। 16এমনকি অবীমেলক পর্যন্ত ইস্হাককে বললেন, “আমাদের দেশ ছেড়ে চলে যাও। তুমি আমাদের অপেক্ষা অনেক বেশী শক্তিশালী হয়ে গেছ।”
17সুতরাং ইস্হাক সেই স্থান ত্যাগ করে সঙ্কীর্ণ গরার নদীর ধারে এসে শিবির স্থাপন করলেন। ইস্হাক সেখানে অবস্থান করে সেখানেই বসবাস করতে লাগলেন। 18এর বহুকাল আগে অব্রাহাম প্রচুর কূপ বা জলাশয় খনন করেছিলেন। অব্রাহাম মারা গেলে পলেষ্টীয়রা সেইসব কূপ মাটি দিয়ে বুজিয়ে ফেলেছিল। 19তখন ইস্হাক ফিরে গিয়ে আবার সেই কূপগুলি খনন করলেন। ইস্হাকের ভৃত্যরাও ছোট নদীটির কাছে একটা কূপ খনন করল এবং তারা সেই কূপের মধ্যে একটি জলের ঝর্ণা দেখতে পেল। 20গরার উপত্যকায় যারা মেষ চরাত তাদের সঙ্গে ইস্হাকের লোকজনদের বিবাদ বাধল। তারা বলল, “এই জল আমাদের।” তাই ইস্হাক ঐ কূপটির নাম দিলেন এষক। তিনি কূপটির ঐ নাম দিলেন, কারণ ঐখানেই তর্কাতর্কিটা হয়েছিল।
21ইস্হাকের লোকরা আর একটি কূপ খনন করল। সেই কূপ নিয়ে ইস্হাকের লোকদের সঙ্গে স্থানীয় লোকদের আবার বিবাদ বাধল। তাই ইস্হাক ঐ কূপটির নাম দিলেন সিটনা।
22সেখান থেকে সরে গিয়ে ইস্হাক আবার একটি কূপ খনন করলেন। এবার ঐ কূপ নিয়ে কেউ বিবাদ করতে এল না। তাই ইস্হাক ঐ কূপটির নাম দিলেন রহোবোত্। ইস্হাক বললেন, “এবার প্রভু আমাদের জন্য একটা জায়গা পেয়েছেন। এখানেই আমরা বহুগুণ হব ও সফল হব।”
23সেখান থেকে ইস্হাক গেলেন বের্-শেবাতে। 24সেই রাত্রে প্রভু ইস্হাকের সঙ্গে কথা বললেন। প্রভু বললেন, “আমি তোমার পিতা অব্রাহামের ঈশ্বর। ভয় পেও না। আমি তোমার সঙ্গে আছি এবং তোমায় আশীর্বাদ করছি। তোমার পরিবারকে আমি এক মহান পরিবারে পরিণত করব। আমার বিশ্বস্ত সেবক অব্রাহামের জন্য আমি একাজ করব।” 25সুতরাং ইস্হাক এক বেদী নির্মাণ করে সেখানে প্রভুর উপাসনা করলেন। ইস্হাক সেই জায়গায় তাঁবু স্থাপন করলেন আর তাঁর পরিচারকরা সেখানে কূপ খনন করলো।
26গরার থেকে অবীমেলক এলেন ইস্হাকের সঙ্গে দেখা করতে। অবীমেলকের সঙ্গে তাঁর উপদেষ্টা অহূষত্ এবং তাঁর সৈন্যাধ্যক্ষ ফীকোলও এলেন।
27ইস্হাক জিজ্ঞাসা করলেন, “আমার কাছে এসেছেন কেন? আগে আপনি আমার সঙ্গে বন্ধুর মত ব্যবহার করেন নি। এমনকি আপনার রাজ্য থেকে আপনি আমায় তাড়িয়ে দিয়েছিলেন।”
28উত্তরে তাঁরা বললেন, “এখন আমরা জেনেছি যে প্রভু আপনার সঙ্গে আছেন। আমরা মনে করি যে আমাদের মধ্যে একটা চুক্তি হওয়া উচিৎ। আমরা চাই আপনি আমাদের কাছে শপথ নিন। 29আমরা আপনাকে কখনও আঘাত করি নি। আপনিও দিব্য করুন যে আমাদের কখনও আঘাত করবেন না। আমরা আপনাকে বহিষ্কার করেছিলাম। এখন এটা পরিষ্কার যে প্রভু আপনাকে আশীর্বাদ করেছেন।”
30সুতরাং ইস্হাক অভ্যাগতদের জন্য এক ভোজসভার আয়োজন করলেন। সবাই পরিতৃপ্তির সঙ্গে পানভোজন করলেন। 31পরদিন খুব সকালে তাঁরা একে অপরের কাছে একটি প্রতিজ্ঞা করলেন। তারপর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বিদায় নিলেন।
32সেইদিন ইস্হাকের ভৃত্যরা এসে তারা যে কূপ খনন করেছিল তার কথা জানাল। তারা বলল, “ঐ কূপের মধ্যে জল পাওয়া গেছে।” 33তাই ইস্হাক ঐ কূপের নাম দিলেন শিবিয়া এবং এখনও ঐ নগরী বের্-শেবা নামে পরিচিত।
এষৌর পত্নীগণ
34এষৌর যখন 40 বছর বয়স হল তখন সে দুজন হিত্তীয় রমণীকে বিবাহ করল। একজন ছিল বেরির কন্যা যিহূদীত্। অন্যজন ছিল এলনের কন্যা বাসমৎ। 35এই বিবাহ দুটিতে ইস্হাক এবং রিবিকা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছিলেন।
27ইস্হাকের সঙ্গে যাকোবের চালাকি
1ইস্হাক ক্রমশঃ বৃদ্ধ হলেন, ক্ষীণ হল তাঁর দৃষ্টিশক্তি—আর কিছু ভাল দেখতে পান না। একদিন তিনি বড় পুত্রকে ডাকলেন, “এষৌ!”
এষৌ উত্তর দিল, “আমি এখানে।”
2ইস্হাক বললেন, “আমি বৃদ্ধ হয়েছি। শীঘ্রই মারাও যেতে পারি। 3তাই তোমার তীরধনুক নিয়ে শিকারে যাও। আমার খাওয়ার জন্যে একটা কিছু শিকার করে আনো। 4আমি ভালবাসি এমন কোনও খাবার তৈরী কর। আমায় খাবার এনে দাও, আমি খাই। মৃত্যুর আগে তোমায় আশীর্বাদ করে যাই।” 5তখন এষৌ শিকার করতে বেরিয়ে গেল।
এসব কথা ইস্হাক যখন এষৌকে বলছিলেন তখন রিবিকা সব শুনছিলেন। 6রিবিকা তাঁর প্রিয় পুত্র যাকোবকে বললেন, “শোন, তোমার পিতা তোমার ভাই এষৌকে কি বলছিলেন সব শুনেছি। 7তোমার পিতা বললেন, ‘আমার খাওয়ার জন্যে একটা জানোয়ার শিকার করে আনো। আমায় রেঁধে দাও, আমি খাই। তাহলে আমি মৃত্যুর আগে তোমায় আশীর্বাদ করব।’ 8এখন শোন বাবা, আমি যা বলি তা করো। 9আমাদের ছাগলের খোঁয়াড়ে যাও, দুটো ছাগল ছানা নিয়ে এস। তোমার পিতা যেমন মাংস খেতে ভালবাসে তেমন করে আমি রেঁধে দেব। 10তারপর সেই খাবার নিয়ে পিতার কাছে যাবে। মৃত্যুর আগে তিনি তোমায় আশীর্বাদ করবেন।”
11কিন্তু যাকোব মা রিবিকাকে বলল, “আমার ভায়ের গা ভর্ত্তি লোম। কিন্তু আমার শরীরের ত্বক মসৃণ। 12পিতা আমায় ছুঁলেই টের পাবেন যে আমি এষৌ নই। তাহলে পিতা আমায় আশীর্বাদ দেবেন না। বরং অভিশাপ দেবেন। কেন? কেননা আমি তাঁর সঙ্গে চালাকি করতে গিয়েছিলাম।”
13সুতরাং রিবিকা তাকে বললেন, “যদি তিনি অভিশাপ দেন তবে তা আমার ওপর আসুক। আমি যেমন বলছি তেমনটি করো। যাও, আমার জন্য ছাগল নিয়ে এস।”
14তখন যাকোব দুটো ছাগল নিয়ে এসে তার মাকে সেগুলি দিল। তার মা ঠিক যেভাবে ইস্হাক খেতে ভালবাসেন সেই বিশেষ ভাবে ছাগল দুটো রান্না করলেন। 15তারপর রিবিকা বড় পুত্র এষৌর প্রিয় জামাকাপড় নিলেন। সেই জামাকাপড় পরিয়ে দিলেন ছোট পুত্র যাকোবকে। 16আর যাকোবের হাতে ও গলায় লাগিয়ে দিলেন ছাগলের চামড়া। 17তারপর রিবিকা সেই রান্না করা মাংস নিয়ে এসে যাকোবকে দিলেন।
18যাকোব পিতার কাছে গিয়ে ডাকল, “পিতা।”
তার পিতা সাড়া দিলেন, “তুমি কে বাবা?”
19যাকোব বলল, “আমি তোমার বড় পুত্র এষৌ। তুমি যেমন বলেছিলে আমি সব তেমনভাবে করে এনেছি। এখন উঠে বসো, তোমার জন্যে যা শিকার করেছি, খাও আগে। আমায় পরে আশীর্বাদ কোরো।”
20কিন্তু ইস্হাক তাঁর পুত্রকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি করে এত তাড়াতাড়ি জানোয়ার শিকার করলে?”
যাকোব উত্তর দিল, “কারণ প্রভু, তোমার ঈশ্বর আমাকে জানোয়ারগুলি তাড়াতাড়ি খুঁজে পেতে সাহায্য করেছেন।”
21তখন ইস্হাক যাকোবকে বললেন, “কাছে এস বাবা, আমি তোমায় ছুঁয়ে দেখি, তুমি সত্যিই আমার পুত্র এষৌ কিনা।”
22সুতরাং যাকোব তার পিতা ইস্হাকের কাছে গেল। ইস্হাক তার গায়ে হাত বুলিয়ে বললেন, “তোমার গলার স্বর যাকোবের মত শোনাচ্ছে, কিন্তু তোমার হাত এষৌর মত লোমশ।” 23ইস্হাক বুঝতে পারলেন না যে এ আসলে যাকোব। কারণ তার হাত এষৌর হাতের মতোই লোমশ। সুতরাং ইস্হাক যাকোবকে আশীর্বাদ করলেন।
24ইস্হাক নিঃসন্দেহ হবার জন্যে আবার জিজ্ঞেস করল, “তুমি সত্যিই আমার পুত্র এষৌ তো?”
যাকোব উত্তর দিল, “হ্যাঁ, পিতা, আমিই এষৌ।”
যাকোবকে আশীর্বাদ
25তখন ইস্হাক বললেন, “আমাকে আমার পুত্রের শিকার করা পশুগুলির থেকে খাবার এনে দাও। আমি সেটা খেয়ে তোমায় আশীর্বাদ করবো।” তখন যাকোব খাবারটা দিল এবং ইস্হাক তা খেলেন। তারপর যাকোব কিছু দ্রাক্ষারস দিলে ইস্হাক তা পান করলেন।
26তারপর ইস্হাক তাকে বললেন, “কাছে এস, আমায় চুমু দাও।” 27সুতরাং যাকোব তার পিতার কাছে গিয়ে তাঁকে চুম্বন করল। তখন ইস্হাক যাকোবের জামা কাপড়ে এষৌর জামা কাপড়ের গন্ধ পেলেন এবং তাকে আশীর্বাদ করলেন। ইস্হাক বললেন,
“যে প্রান্তর প্রভুর আশীর্বাদ ধন্য, আমার সন্তান সেই প্রান্তরের গন্ধ বহে।
28তোমাকে প্রভু প্রচুর বৃষ্টি দিন যাতে প্রচুর ফসল আর দ্রাক্ষারস হয়।
29বহু জাতি তোমায় সেবা করবে
এবং তোমার প্রতি নত থাকবে।
ভাই জ্ঞাতিদের ওপরে তোমার প্রভুত্ব বহাল হবে।
তোমার মাতার পুত্রগণ তোমার অধীন হবে এবং তারা তোমার আদেশে চলবে।
তোমাকে যারা শাপ দেবে তারা হবে অভিশপ্ত,
যারা তোমাকে আশীর্বাদ করবে তারা আশীর্বাদ পাবে।”
এষৌর জন্য “আশীর্বাদ”
30ইস্হাক যাকোবকে আশীর্বাদ করা শেষ করলেন। তারপর যেই যাকোব পিতার কাছ থেকে আশীর্বাদ নিয়ে চলে গেল অমনি এষৌ ফিরে এল শিকার থেকে। 31পিতা ঠিক যেমন খেতে ভালবাসে ঠিক সেভাবে এষৌ মাংস রাঁধল। তারপর খাবারটা নিয়ে এল পিতার কাছে। পিতাকে সে বলল, “পিতা, আমি তোমার পুত্র। ওঠো, তোমার জন্য শিকার করে আমি মাংস রেঁধে নিয়ে এসেছি, খাও, তারপরে আমায় আশীর্বাদ করো।”
32কিন্তু ইস্হাক জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কে?”
সে উত্তর দিল, “আমি তোমার পুত্র—তোমার বড় পুত্র এষৌ।”
33তখন ইস্হাক মহা উদ্বিগ্ন হলেন। জিজ্ঞেস করলেন, “তাহলে তুমি আসার আগে কে মাংস রান্না করে এনে দিল আমায়? আমি সমস্ত মাংস খেয়ে তাকে আশীর্বাদ করলাম। এখন সেই আশীর্বাদ ফিরিয়ে নেওয়ার পক্ষেও ঢের দেরী হয়ে গেছে।”
34এষৌ তার পিতার কথা শুনল। সে খুব ক্রুদ্ধ ও বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠল। সে চিৎকার করে কেঁদে উঠল। পিতাকে বলল, “তাহলে আমাকেও আশীর্বাদ করো, পিতা!”
35ইস্হাক বললেন, “তোমার ভাই আমার সঙ্গে চালাকি করেছে! সে এসে তোমার আশীর্বাদ নিয়ে গেছে!”
36এষৌ বলল, “তার নাম যাকোব। ওর জন্যে ঐ নামই ঠিক। আমার সঙ্গে ভাই দুবার চালাকি করল। প্রথমবার কৌশলে সে প্রথম সন্তান হিসেবে আমার যা অধিকার ছিল তার থেকে বঞ্চিত করেছে এবং এবার আমার প্রাপ্য আশীর্বাদ থেকে আমাকে বঞ্চিত করল।” তারপর এষৌ জিজ্ঞেস করল, “আমার জন্য কি তোমার আর কোন আশীর্বাদ অবশিষ্ট নেই?”
37ইস্হাক উত্তর দিলেন, “না, তার জন্য বড় দেরী হয়ে গেছে। আমি তোমায় শাসন করার অধিকারও যাকোবকে দিয়ে ফেলেছি। আমার আশীর্বাদে সে পাবে তার সমস্ত ভাইদের সেবা। আর আমি তাকে প্রচুর শস্য আর দ্রাক্ষারসের জন্য আশীর্বাদ দিয়েছি। তোমায় আশীর্বাদ করার জন্য আর কিছু বাকি নেই।”
38কিন্তু এষৌ আশীর্বাদের জন্যে পিতাকে পীড়াপীড়ি করে বলল, “পিতা তোমার কাছে কি শুধুমাত্র একটিই আশীর্বাদ আছে?” এষৌ কাঁদতে শুরু করল।
39তখন ইস্হাক বললেন,
“তুমি কখনও উর্বর জমি পাবে না,
তুমি কখনও পর্যাপ্ত বর্ষা পাবে না।
40তোমাকে লড়তে হবে জীবনের জন্য
এবং ভ্রাতার ভৃত্য হবে তুমি।
কিন্তু লড়ে তুমি হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন।
মুক্তি পাবে তোমার ভ্রাতার শাসন থেকে।”
যাকোব দেশ ত্যাগ করল
41তারপর এই আশীর্বাদের জন্য এষৌ যাকোবকে ঘৃণা করতে শুরু করল। মনে মনে এষৌ ভাবল, “আমার পিতা শীঘ্রই মারা যাবেন। তার জন্য শোক করার সময় শেষ হবার পরে আমি যাকোবকে হত্যা করব।”
42রিবিকা জানলেন যে এষৌ যাকোবকে হত্যা করার কথা ভাবছে। তিনি যাকোবকে ডেকে পাঠালেন। যাকোবকে তিনি বললেন, “শোন, তোমার ভাই এষৌ তোমায় হত্যা করার কথা ভাবছে। 43তাই আমি যা বলি তা-ই করো। আমার ভাই লাবন বাস করে হারণে। তার কাছে গিয়ে তুমি লুকিয়ে থাকো। 44তার কাছে তুমি কিছুদিন থাকো যতদিন না তোমার ভাইয়ের রাগ পড়ে। 45কিছুদিন পরে তোমার ভাই, তুমি তার প্রতি কি করেছ না করেছ সব ভুলে যাবে। তখন আমি তোমায় ফিরিয়ে আনার জন্যে একটি ভৃত্য পাঠাব। আমি একই দিনে আমার দু পুত্রকে হারাতে চাই না।”
46তারপর রিবিকা ইস্হাককে বললেন, “তোমার পুত্র এষৌ হিত্তীয়দের কন্যাকে বিয়ে করেছে। এ আমার মোটে ভাল লাগে নি। কেননা তারা আমাদের আপনজন নয়। যাকোবও যদি ঐ মেয়েদের কাউকে বিয়ে করে তাহলে আমি নির্ঘাত মারা যাব।”
281ইস্হাক যাকোবকে ডেকে পাঠালেন এবং তাকে আশীর্বাদ করলেন। তারপর ইস্হাক যাকোবকে একটি আজ্ঞা করলেন। তিনি বললেন, “তুমি কখনও কনানের মেয়ে বিয়ে করবে না। 2তাই এই জায়গা ছেড়ে পদ্দন্-অরামে চলে যাও। তোমার দাদামশায় বথূয়েলের কাছে যাও। তোমার মামা লাবনের কন্যাদের কোন একজনকে বিয়ে করো। 3প্রার্থনা করি যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তোমায় আশীর্বাদ করবেন এবং তোমায় বহু সন্তান-সন্ততি দেবেন। তুমি যাতে এক মহান জাতির জনক হও তার জন্য আমি প্রার্থনা করি। 4যেভাবে ঈশ্বর অব্রাহামকে আশীর্বাদ করেছিলেন সেভাবে তিনি যেন তোমায় ও তোমার সন্তান-সন্ততিকে আশীর্বাদ করেন-এই প্রার্থনা করি এবং আমি প্রার্থনা করি যে যে দেশে তুমি বাস করবে সেই দেশ তোমার হবে। ঈশ্বর এই দেশ অব্রাহামকে দিয়েছিলেন।”
5তখন ইস্হাক যাকোবকে পদ্দন্-অরাম নামক স্থানে পাঠালেন। যাকোব গেল রিবিকার ভাই লাবনের কাছে। বথুয়েল লাবন ও রিবিকার জনক এবং যাকোব ও এষৌর মা হলেন রিবিকা।
6এষৌ জানতে পারল যে তার পিতা ইস্হাক যাকোবকে আশীর্বাদ করেছেন। এষৌ জানল যে ইস্হাক যাকোবকে পদ্দন-অরামে পাঠিয়েছেন সেখানে বিয়ে করার জন্যে। ইস্হাক যে যাকোবকে কনানের মেয়ে বিয়ে না করার আদেশ দিয়েছেন সে কথাও এষৌ জানল। 7এষৌ জানল যে যাকোব পিতামাতাকে মেনে চলেছে এবং পদ্দন্-অরামে গেছে। 8এসবের থেকে এষৌ বুঝল যে তাদের পিতা ইস্হাক চাইতেন না যে পুত্ররা কেউ কনানের মেয়েদের বিয়ে করে। 9এষৌর তখনই দুজন স্ত্রী ছিল। কিন্তু সে ইশ্মায়েলের কাছে গিয়ে আরও একটি বিয়ে করল। এবার সে ইশ্মায়েলের কন্যা মহলত্কে বিয়ে করল। অব্রাহামের আর এক পুত্র ইশ্মায়েল। মহলত্ নবায়োতের বোন।
ঈশ্বরের গৃহ বৈথেল
10যাকোব বের্-শেবা ছেড়ে হারণে গেল। 11হারণে যাওয়ার পথে সূর্যাস্ত হল। তখন যাকোব রাত কাটাবার জন্য একটা জায়গায় গেল। সেখানে একটা পাথর দেখতে পেয়ে সে তার ওপরে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ল। 12ঘুমের মধ্যে যাকোব একটা স্বপ্ন দেখল। সে দেখল, মাটি থেকে একটা সিঁড়ি গেছে স্বর্গে। যাকোব দেখল যে ঈশ্বরের দূতরা ঐ সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করছে। আর যাকোব দেখল যে প্রভু সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আছেন। 13প্রভু বললেন, “আমিই প্রভু, তোমার পিতামহ অব্রাহামের ঈশ্বর। আমি ইস্হাকের ঈশ্বর। যে জমিতে তুমি এখন শুয়ে আছ তা আমি তোমাকে দেব। এই জমি আমি তোমাকে এবং তোমার বংশকে দেব। 14তোমার বহু সংখ্যক উত্তরপুরুষ হবে। তারা পৃথিবীর ধূলোর মতো অসংখ্য হবে। তারা পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণে ছড়িয়ে পড়বে। পৃথিবীর সব জাতিরা তোমার এবং তোমার উত্তরপুরুষদের মাধ্যমে আশীর্বাদ পাবে।
15“আমি তোমার সঙ্গে আছি। তুমি যে কোন জায়গায় যাও না কেন আমি তোমাকে রক্ষা করব এবং এই দেশে আবার ফিরিয়ে আনব। আমি তোমার কাছে যা প্রতিজ্ঞা করেছি তা পূর্ণ না করা পর্যন্ত আমি তোমায় ত্যাগ করব না।”
16যাকোব ঘুম থেকে উঠে বলল, “আমি জানি প্রভু এই জায়গায় রয়েছেন। কিন্তু আমি না ঘুমানো পর্যন্ত জানতাম না যে তিনি এখানে রয়েছেন।”
17যাকোব ভয় পেল। সে বলল, “এ এক মহান জায়গা। এই হল ঈশ্বরের গৃহ। এই হল স্বর্গের দ্বার।”
18যাকোব খুব ভোরে উঠে পড়ল। যে পাথরে মাথা রেখে শুয়েছিল তা দাঁড় করিয়ে স্থাপন করল। তারপর সে সেই পাথরের উপর তেল ঢালল। এইভাবে সে সেই পাথরকে ঈশ্বরের স্মরনার্থে স্মৃতি চিহ্নস্বরূপ করল। 19সেই জায়গার নাম ছিল লুস কিন্তু যাকোব তার নাম বৈথেল রাখল।
20এরপর যাকোব এক প্রতিজ্ঞা করে বলল, “যদি ঈশ্বর আমার সহায় থাকেন, যদি তিনি আমাকে এ যাত্রায় রক্ষা করেন, যদি তিনি আমার খাদ্য ও পরণের কাপড় যোগান, 21আর যদি আমি শান্তিতে আমার পিতার গৃহে ফিরতে পারি, যদি ঈশ্বর এই সমস্ত কিছুই সাধন করেন তাহলে প্রভুই আমার ঈশ্বর হবেন। 22এই পাথর আমি স্মৃতিস্তম্ভ রূপে স্থাপন করছি। এটা প্রমাণ করবে যে এ জায়গা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে এক পবিত্র জায়গা এবং ঈশ্বর আমাকে যা কিছু দেবেন তার দশ ভাগের এক ভাগ অংশ আমি ঈশ্বরকে দেব।”
29যাকোবের সঙ্গে রাহেলের সাক্ষাৎ
1তারপর যাকোব আবার তার যাত্রা পথে চলল। সে পূর্বদিকের দেশে গেল। 2যাকোব তাকিয়ে দেখল মাঠে একটা কূপ রয়েছে। কূপের ধারে ছিল তিন পাল মেষ। মেষরা এই কূপের জলই পান করত। একটা বড় পাথর দিয়ে কূপের মুখটা ঢাকা ছিল। 3পালের সব মেষ জড়ো হলে মেষপালকরা কূপের মুখ থেকে পাথরটা গড়িয়ে দিতো। তখন সব মেষরা জল পান করত। মেষদের জল পান শেষ হলে মেষপালকরা সেই পাথরটা আবার যথাস্থানে গড়িয়ে দিত।
4সেখানকার মেষপালকদের যাকোব বলল, “ভাইরা, তোমরা কোথা থেকে এসেছ?”
তারা উত্তরে বলল, “আমরা হারোণ থেকে এসেছি।”
5তখন যাকোব বলল, “তোমরা কি নাহোরের পুত্র লাবনকে চেন?”
মেষপালকরা উত্তরে বলল, “আমরা তাঁকে চিনি।”
6তখন যাকোব বলল, “তিনি কেমন আছেন?”
তারা বলল, “তিনি ভাল আছেন। সব কিছু ঠিকঠাক রয়েছে। দেখুন, তাঁর কন্যা রাহেল এখন মেষপাল নিয়ে আসছেন।”
7যাকোব বলল, “দেখ, এখনও দিনের আলো রয়েছে এবং সূর্য ডুবতে এখনও দেরী। মেষ জড়ো করার সময় তো এখন নয়। তাই তাদের জল পান করিয়ে মাঠে আবার চরতে দাও।”
8কিন্তু মেষপালকরা বলল, “সব মেষপাল এক জায়গায় জড়ো না হওয়া পর্যন্ত আমরা তা করতে পারি না। তারপর আমরা কূপের মুখ থেকে পাথর সরিয়ে দেব আর সব মেষ জল পান করতে পারবে।”
9যে সময় যাকোব মেষপালকদের সঙ্গে কথা বলছিল, সে সময় রাহেল তার পিতার মেষপাল নিয়ে এল। (রাহেলের কাজ ছিল মেষদের যত্ন নেওয়া।)
10রাহেল ছিল লাবনের কন্যা। লাবন ছিলেন যাকোবের মাতার অর্থাৎ রিবিকার ভাই। যাকোব রাহেলকে দেখে এগিয়ে গিয়ে পাথর সরিয়ে তার মামার মেষদের জল দিল। 11পরে যাকোব রাহেলকে চুমু খেয়ে উঁচু গলায় কাঁদতে লাগল। 12যাকোব রাহেলকে বলল যে সে তার পিতার পরিবারের দিক দিয়ে আত্মীয়—রিবিকার পুত্র। তাই রাহেল দৌড়ে বাড়ী গিয়ে তার পিতাকে তা জানাল।
13লাবন তাঁর বোনের পুত্র যাকোবের কথা শুনলেন। এবার তাই লাবন দৌড়ে তার সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। লাবন তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলেন এবং নিজের বাড়ীতে নিয়ে এলেন। যা ঘটেছিল তার সব কিছু যাকোব লাবনকে বলল।
14তখন লাবন বললেন, “তুমি যে আমার পরিবারের একজন এ বড়ই আনন্দের!” তাই লাবন যাকোবের সঙ্গে এক মাস কাটালেন।
যাকোবের সঙ্গে লাবনের চালাকি
15একদিন লাবন যাকোবকে বললেন, “পারিশ্রমিক বিনা আমার জন্য তোমার এই পরিশ্রম করাটা ঠিক হচ্ছে না। তুমি আমার আত্মীয়, দাস নও। আমি তোমায় কি পারিশ্রমিক দেব?”
16লাবনের দুটি কন্যা ছিল। বড়টির নাম লেয়া এবং ছোটটির নাম রাহেল।
17রাহেল সুন্দরী ছিল। লেয়ার চোখ দুটি শান্ত ছিল।+ 29:17 লেয়ার … ছিল এটি বিনম্রভাবে বলার একটি উপায় যে লেয়া দেখতে খুব সুন্দরী ছিল না।18যাকোব রাহেলকে ভালোবাসল। যাকোব লাবনকে বলল, “আমি সাত বছর কাজ করব যদি আপনি আমাকে আপনার কনিষ্ঠা কন্যা রাহেলকে বিয়ে করতে দেন।”
19লাবন বললেন, “অন্য কারও সঙ্গে বিয়ে হওয়ার থেকে তোমার সঙ্গে বিয়ে হওয়াটা ওর পক্ষে মঙ্গল হবে। তাই আমাদের সঙ্গে থেকে যাও।”
20তাই যাকোব থেকে গেল এবং লাবনের জন্য সাত বছর কাজ করল। কিন্তু রাহেলকে সে ভালবাসত বলে এই সাত বছর সময় তার কাছে অল্প বলে মনে হল।
21সাত বছর পর যাকোব লাবনকে বলল, “রাহেলকে আমায় দিন, আমি তাকে বিয়ে করব। আপনার কাছে পরিশ্রম করার মেয়াদ শেষ হয়েছে।”
22তাই লাবন সেখানকার সমস্ত লোককে ভোজে নিমন্ত্রিত করলেন। 23সেই রাত্রে লাবন তাঁর কন্যা লেয়াকে যাকোবের কাছে নিয়ে এলেন। যাকোব ও লেয়া যৌন সহবাস করলেন। 24(লাবন তার দাসী সিল্পাকে তার কন্যার দাসী হবার জন্যও দিলেন।) 25সকাল বেলা যাকোব দেখলেন তিনি লেয়ার সাথে রাত কাটিয়েছেন। যাকোব লাবনকে বলল, “আপনি আমার সঙ্গে চালাকি করেছেন। রাহেলকে বিয়ে করার জন্য আপনার জন্য কত কঠোর পরিশ্রম করেছি, তবে কেন আপনি আমার সঙ্গে এই চালাকি করলেন?”
26লাবন বললেন, “আমাদের দেশের প্রথা অনুযায়ী বড় কন্যার আগে ছোট কন্যার বিয়ে আমরা দিই না। 27কিন্তু বিবাহ উৎসবের পুরো সপ্তাহটা কাটাও আর আমি রাহেলের সঙ্গে তোমার বিয়ে দেব। কিন্তু তুমি আরও সাতবছর আমার সেবা করবে।”
28সুতরাং যাকোব তাই করল এবং বিবাহ অনুষ্ঠানের সপ্তাহটি শেষ করল। তখন লাবন তাঁর কন্যা রাহেলকে যাকোবের স্ত্রী হতে দিলেন। 29(লাবন তার দাসী বিল্হাকে রাহেলের দাসী হিসেবে দিলেন।) 30সুতরাং যাকোব রাহেলের সঙ্গেও যৌন সহবাস করল। আর যাকোব রাহেলকে লেয়ার থেকেও বেশী ভালবাসত। যাকোব লাবনের জন্য আরও সাত বছর পরিশ্রম করল।
যাকোবের পরিবার বৃদ্ধি পেল
31প্রভু দেখলেন যে যাকোব লেয়ার থেকে রাহেলকে বেশী ভালবাসে। তাই প্রভু লেয়াকে সন্তান প্রসবের জন্য সক্ষম করলেন। কিন্তু রাহেলের সন্তান হল না।
32লেয়া এক পুত্রের জন্ম দিলেন। তিনি তার নাম রাখলেন রূবেণ। লেয়া তার এই নাম দিলেন কারণ তিনি বললেন, “প্রভু আমার কষ্ট সকল দেখেছেন। আমার স্বামী আমায় ভালবাসেন না। তাই এবার আমার স্বামী আমায় ভালবাসতেও পারেন।”
33লেয়া আবার গর্ভবতী হলেন এবং তাঁর আর একটি পুত্র হল। তিনি তার নাম রাখলেন শিমিয়োন। লেয়া বললেন, “আমি যে ভালবাসা থেকে বঞ্চিত তা প্রভু শুনেছেন তাই তিনি আমাকে এই পুত্র দিয়েছেন।”
34লেয়া আবার গর্ভবতী হলেন এবং তাঁর আর একটি পুত্র হল। তিনি এই পুত্রের নাম লেবি রাখলেন। লেয়া বললেন, “এবার অবশ্যই আমার স্বামী আমায় ভালবাসবেন। আমি তাঁকে তিনটি পুত্র দিয়েছি।”
35এরপর লেয়া আর একটি পুত্রের জন্ম দিলেন। তিনি এই পুত্রের নাম রাখলেন যিহূদা। লেয়া তার এই নাম রাখলেন কারণ তিনি বললেন, “এখন আমি প্রভুর প্রশংসা করব।” এবার লেয়ার আর সন্তান হল না।
301রাহেল দেখল যে সে যাকোবকে কোন সন্তান দিতে পারে নি। রাহেল তাই তার বোন লেয়ার প্রতি ঈর্ষান্বিত হল। তাই রাহেল যাকোবকে বলল, “আমায় সন্তান দিন নতুবা আমি মারা যাব!”
2যাকোব রাহেলের প্রতি ক্রুদ্ধ হল। সে বলল, “আমি ঈশ্বর নই। ঈশ্বরই তোমার গর্ভ রুদ্ধ করে রেখেছেন।”
3তারপর রাহেল বলল, “আপনি আমার দাসী বিল্হাকে নিন। তার সাথে শয়ন করুন এবং সে আমার জন্য সন্তান প্রসব করবে। তাহলে আমি তার মাধ্যমে মাতা হতে পারব।”
4তাই রাহেল বিল্হাকে যাকোবের কাছে পাঠাল। যাকোব বিল্হার সঙ্গে যৌন সহবাস করল। 5বিল্হা গর্ভবতী হয়ে যাকোবের জন্য এক পুত্রের জন্ম দিল।
6রাহেল বলল, “ঈশ্বর আমার প্রার্থনা শুনেছেন। তিনি তাই আমায় এক পুত্র দিতে মনস্থ করলেন।” তাই রাহেল এই সন্তানের নাম দান রাখল।
7বিল্হা আবার গর্ভবতী হয়ে দ্বিতীয় পুত্রের জন্ম দিল। 8রাহেল বলল, “আমি আমার বোনের সঙ্গে ভারী প্রতিদ্বন্দিতা করেছি এবং আমি জিতেছি।” তাই সে সেই পুত্রের নাম দিল নপ্তালি।
9লেয়া দেখলেন যে তাঁর আর সন্তান হবার সম্ভাবনা নেই। তাই তিনি তাঁর দাসী সিল্পাকে যাকোবকে দিলেন। 10এবার সিল্পার এক পুত্র হল। 11লেয়া বললেন, “আমি খুবই সৌভাগ্যবতী।” তাই তিনি এই পুত্রের নাম গাদ রাখলেন। 12সিল্পা আর একটি পুত্রের জন্ম দিল। 13লেয়া বললেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দিত! এখন হতে স্ত্রী লোকরা আমায় ধন্যা বলবে।” তাই তিনি তার নাম আশের রাখলেন।
14গম কাটার সময় রূবেণ ক্ষেতে গিয়ে একটি বিশেষ ধরণের ফুল+ 30:14 বিশেষ ধরণের ফুল অথবা “বিষাক্ত উদ্ভিদ।” এই হিব্রু শব্দটির অর্থ “প্রেম উদ্ভিদ।” লোকে মনে করত এই উদ্ভিদগুলি স্ত্রীলোকের সন্তান লাভে সাহায্য করে। দেখতে পেল। রূবেণ সেই ফুলগুলি তার মা লেয়ার কাছে নিয়ে এল। কিন্তু রাহেল লেয়াকে বলল, “তোমার পুত্রের আনা ঐ ফুলের কিছু আমাকে দাও।”
15লেয়া উত্তরে বললেন, “তুমি এর মধ্যেই আমার স্বামীকে নিয়ে নিয়েছ। এখন তুমি আমার পুত্রের ফুলগুলিও নিতে চাইছ?”
কিন্তু রাহেল বলল, “তুমি তোমার পুত্রের আনা ফুল আমায় দিলে আজ রাত্রে আমার স্বামীর সঙ্গে সহবাস করতে পাবে।”
16ক্ষেত থেকে রাতে যাকোব বাড়ী ফিরল। লেয়া তাকে দেখে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বাইরে এলেন। তিনি বললেন, “আজ রাতে তুমি আমার সঙ্গে শোবে। আমি তোমার জন্য মূল্য হিসাবে আমার পুত্রের ফুল দিয়ে দিয়েছি।” তাই সেই রাত্রে যাকোব লেয়ার সঙ্গে শয়ন করল।
17এরপর ঈশ্বরের দয়ায় লেয়া আবার গর্ভবতী হলেন। তিনি পঞ্চম পুত্রের জন্ম দিলেন। 18লেয়া বললেন, “আমি আমার দাসীকে আমার স্বামীর কাছে পাঠানোর বেতন হিসাবে ঈশ্বর আমাকে এই সন্তান দিলেন।” তিনি সেই পুত্রের নাম ইষাখর রাখলেন।
19লেয়া আবার গর্ভবতী হয়ে ষষ্ঠ পুত্রের জন্ম দিলেন। 20লেয়া বললেন, “ঈশ্বর আমাকে অপূর্ব উপহার দিলেন। এখন নিশ্চয়ই যাকোব আমাকে গ্রহণ করবেন কারণ আমি তাঁকে দুটি পুত্র দিয়েছি।” তাই লেয়া সেই পুত্রের নাম সবূলূন রাখলেন।
21পরে লেয়া একটি কন্যার জন্ম দিলেন। তিনি তার নাম রাখলেন দীণা।
22এবার ঈশ্বর রাহেলের প্রার্থনা শুনলেন। ঈশ্বর রাহেলের গর্ভ মুক্ত করলেন। 23 রাহেল গর্ভবতী হয়ে এক পুত্রের জন্ম দিল। রাহেল বলল, “ঈশ্বর আমার লজ্জা দূর করেছেন” এবং এক পুত্র দিয়েছেন। তাই রাহেল ঈশ্বর আমাকে আর একটি পুত্র দিন, একথা বলে তার নাম রাখল যোষেফ।
লাবনের সঙ্গে যাকোবের চালাকি
25যোষেফের জন্মের পর যাকোব লাবনকে বলল, “এবার আমাকে আমার বাড়ী ফিরতে দিন। 26আমাকে আমার স্ত্রী ও পুত্রদের নিয়ে যেতে দিন। আমি 14 বছর পরিশ্রম করে তাদের আপনার কাছ থেকে লাভ করেছি। আপনি জানেন আমি ভালভাবেই আপনার সেবা করেছি।”
27লাবন তাকে বললেন, “এখন আমায় কিছু বলতে দাও! আমি জানি তোমার জন্যই প্রভু আমায় মনোনীত করেছেন। 28আমায় বল তোমার পারিশ্রমিক হিসাবে কি দিতে হবে আর আমি তোমায় তা দেব।”
29যাকোব উত্তরে বলল, “আপনি জানেন যে আমি আপনার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমার তত্ত্বাবধানে আপনার পশুবল ভালই রয়েছে এবং বৃদ্ধি পেয়েছে। 30যখন আমি এসেছিলাম তখন আপনার অল্পই ছিল। কিন্তু এখন আপনার প্রচুর হয়েছে। প্রতিবার আমি আপনার জন্য কিছু কাজ করলে প্রভু আপনাকে আশীর্বাদ করেছেন। এখন সময় এসেছে আমার নিজের জন্য কাজ করার। সময় এসেছে আমার নিজের গৃহ তৈরীর।”
31লাবন জিজ্ঞাসা করলেন, “তাহলে আমি তোমায় কি দেব?”
যাকোব উত্তরে বলল, “আমি আপনার কাছ থেকে কিছু চাই না। কেবল চাই আপনি আমার শ্রমের বেতন দিন। কেবল এই একটি কাজ করুন; আমি ফিরে গিয়ে আপনার মেষপালের যত্ন নেব। 32কিন্তু আজকে আমাকে আপনার সমস্ত পশুপালের মধ্যে দিয়ে যেতে দিন এবং যে সমস্ত মেষের গায়ে গোল গোল দাগ এবং ডোরা কাটা দাগ রয়েছে তাদের প্রত্যেককে নিতে দিন। আর সমস্ত কালো ছাগ শিশুও আমাকে নিতে দিন। এবং গোল গোল দাগ ও ডোরা কাটা দাগ রয়েছে এমন সমস্ত স্ত্রী ছাগ শিশুও আমার হোক্। সেই হবে আমার বেতন। 33তাহলে আমি আপনার প্রতি বিশ্বস্ত কিনা তা সহজেই বুঝতে পারবেন। আপনি এসে আমার পশুপাল দেখতে পারেন। যদি কোন ছাগ চিত্র বিচিত্র না হয় এবং মেষ কালো রঙের না হয় তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন যে আমি চুরি করেছি।”
34লাবন বললেন, “এতে আমার সম্মতি রয়েছে। তুমি যা চাইলে আমরা সেই মত করব।” 35কিন্তু সেই দিন লাবন সমস্ত চিত্র বিচিত্র পুং ছাগল এবং চিতল স্ত্রী ছাগলগুলিকে লুকিয়ে ফেললেন এবং কালো মেষগুলিকে লুকিয়ে ফেললেন। লাবন তাঁর পুত্রদের সেই সমস্ত পাহারা দিতে বললেন। 36তাই তাঁর পুত্ররা চিত্র-বিচিত্র সেই সকল পশু নিয়ে তাদের অন্য এক জায়গায় চরিয়ে নিয়ে তিন দিন পথের দূরত্ব বজায় রাখলেন। বাকী পশু যা পড়ে রইল যাকোব তার যত্ন নিল। কিন্তু সেই পালে চিত্র বিচিত্র অথবা রঙীন কোন পশুই ছিল না।
37তাই যাকোব ঝাউ ও বাদাম গাছের কচি ডালপালা কাটল এবং ডালের ছাল কিছুটা করে ছাড়াল যাতে ডোরা কাটা দেখায়। 38যাকোব সেই ডালগুলি পশুদের জল খাওয়ার জায়গার সামনে রাখল। পশুরা সেইস্থানে জল পান করতে এলে 39সঙ্গমও করল। এরপর সেই ডালের সামনে সঙ্গম করা পশুদের চিত্র বিচিত্র, ডোরাকাটা অথবা কালো শাবক জন্মাল।
40পশুপালের জন্য সমস্ত পশুর মধ্যে থেকে যাকোব চিত্র বিচিত্র ও কালো পশুদের পৃথক করল। যাকোব তার পশুদের লাবনের পশুদের থেকে আলাদা করে রাখল। 41যে কোন সময় বলবান পশুরা সঙ্গম করলে যাকোব সেই ডালগুলি তাদের সামনে রাখত। বলবান পশুরা সেই ডালপালার সামনে সঙ্গম করত। 42কিন্তু দুর্বল পশুরা সঙ্গম করলে যাকোব সেখানে ডালগুলি রাখত না। তাই দুর্বল পশুদের শাবকগুলি লাবনের হল। আর বলবান পশুদের শাবকগুলি হল যাকোবের। 43এইভাবে যাকোব বেশ ধনী হয়ে উঠল। তার অনেক পশু, ভৃত্য, উট এবং গাধা হল।
31প্রস্থানের সময় যাকোবের পলায়ন
1একদিন যাকোব শুনল যে লাবনের পুত্ররা কথাবার্তা বলছে। তারা বলল, “আমাদের পিতার সবকিছুই যাকোব নিয়ে নিয়েছে। যাকোব খুবই ধনী হয়েছে। ওর এই ধনের সবটাই সে আমাদের পিতার কাছ থেকে নিয়েছে।” 2যাকোব লক্ষ্য করল যে লাবন অতীতের মত আর বন্ধুমনোভাবাপন্ন নয়। 3প্রভু যাকোবকে বললেন, “তোমার পূর্বপুরুষেরা যে দেশে বাস করতেন, তোমার সেই নিজের দেশে ফিরে যাও। আমি তোমার সঙ্গে সঙ্গে থাকব।”
4তাই যাকোব রাহেল ও লেয়াকে সেই মাঠে দেখা করতে বলল যেখানে সে তার মেষপাল ও ছাগপাল রেখেছিল। 5যাকোব রাহেল ও লেয়াকে বলল, “আমি দেখছি যে তোমাদের পিতা আমার ওপর রেগে গেছেন। অতীতে সব সময় তিনি আমার সঙ্গে বন্ধুত্বের মনোভাব পোষণ করতেন কিন্তু তিনি আর সেরকম নন। কিন্তু আমার পিতা ঈশ্বর আমার সঙ্গে রয়েছেন। 6তোমরা উভয়েই জান আমি তোমাদের পিতার জন্য আমার সাধ্যমত কঠোর পরিশ্রম করেছি। 7কিন্তু তোমাদের পিতা আমাকে ঠকিয়েছেন। এই নিয়ে দশবার তিনি আমার বেতন বদলেছেন। কিন্তু এই সকল সময় ঈশ্বর লাবনের সমস্ত চালাকি হতে আমাকে রক্ষা করেছেন।
8“একবার লাবন বললেন, ‘বিন্দু চিহ্নিত সমস্ত ছাগল তুমি রাখতে পার। তাই হবে তোমার বেতন।’ তিনি এই কথা বলার পর সমস্ত পশুর বিন্দু চিহ্নিত শাবক জন্মাল। তাই সেসব আমারই হল। কিন্তু তখন লাবন বললেন, ‘সব বিন্দু চিহ্নিত ছাগল আমার। তুমি ডোরা কাটা ছাগগুলি রাখতে পার। সেই হবে তোমার বেতন।’ তিনি একথা বলার পর সমস্ত পশু ডোরাকাটা শাবকের জন্ম দিল। 9সুতরাং ঈশ্বরই পশুগুলিকে তোমার পিতার কাছ থেকে নিয়ে আমায় দিয়েছেন।
10“একটি স্বপ্নে আমি দেখলাম, দলের সঙ্গে সঙ্গম করছে যে পুরুষ ছাগলরা, তাদেরই গায়ে ডোরাকাটা এবং ছোপমারা। 11ঈশ্বরের দূত সেই স্বপ্নে আমার সঙ্গে কথা বললেন, ‘যাকোব!’
“আমি উত্তর দিলাম, ‘আজ্ঞে!’
12“দূত আমাকে উত্তর দিলেন, ‘দেখ, কেবল ডোরাকাটা ও বিন্দু চিহ্নিত ছাগলরাই সঙ্গম করছে। আমিই তা ঘটাচ্ছি। লাবন তোমার প্রতি যে সমস্ত অন্যায় করেছেন তার সমস্তই আমি দেখেছি। আমি এমনটা করছি যাতে সমস্ত ছাগ শাবক তোমারই হয়। 13আমি সেই ঈশ্বর যিনি বৈথেলে তোমার কাছে এসেছিলাম। সেই স্থানে তুমি এক বেদী স্থাপন করেছিলে। তুমি সেই বেদীতে ওলিভ তেল ঢেলেছিলে এবং আমার কাছে এক প্রতিজ্ঞা করেছিলে। এখন আমি চাই যে তুমি যে দেশে জন্মেছিলে সেই দেশে ফিরে যাবার জন্য প্রস্তুত হও।’”
14রাহেল ও লেয়া যাকোবকে উত্তরে বললেন, “আমাদের পিতা তাঁর মৃত্যুর সময় আমাদের জন্য কিছু রেখে যাবেন না। 15তিনি আমাদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করেন যেন আমরা বিদেশী। তিনি আমাদের তোমার কাছে বিক্রি করেছেন এবং তারপর যে অর্থ আমাদের পাবার কথা তা তিনি খরচ করে ফেলেছেন। 16ঈশ্বর এই সমস্ত ধন আমাদের পিতার কাছ থেকে নিয়েছেন যার মালিক এখন আমরা এবং আমাদের সন্তানরা। সেইজন্য ঈশ্বর যেমনটি বলেছেন সেই মতোই আপনার কাজ করা উচিৎ।”
17সেইজন্য যাকোব যাত্রার জন্য প্রস্তুত হল। সে তার সব পুত্রদের ও স্ত্রীদের উটের পিঠে ওঠাল। 18তারপর তারা কনান দেশে ফিরে গেল যেখানে যাকোবের পিতা বাস করতেন। যাকোবের সমস্ত পশুপাল তার সামনে সামনে হেঁটে চলল। পদ্দন্-অরামে থাকাকালীন সে যে সমস্ত কিছু অর্জন করেছিল তার সব কিছু নিয়ে চলল।
19সেই সময় লাবন মেষদের লোম ছাঁটতে গেলেন। তিনি সেই কাজে যাওয়ার পরে রাহেল তার ঘরে ঢুকে তার পিতার ঠাকুরগুলোকে চুরি করল।
20যাকোব অরামীয় লাবনের সঙ্গে চালাকি করল কারণ তার চলে যাবার বিষয়ে সে তাঁকে জানাল না। 21যাকোব তার পরিবার ও সমস্ত সম্পত্তি নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়ল। তারা ফরাৎ নদী পার হয়ে পর্বতময় প্রদেশ গিলিয়দের দিকে রওনা দিলেন।
22তিন দিন পরে লাবন জানতে পারলেন যে যাকোব পালিয়ে গেছে। 23তাই লাবন তাঁর লোকজন জড়ো করে যাকোবের পেছনে ধাওয়া করে চললেন। সাত দিন পর লাবন যাকোবকে পার্বত্য গিলিয়দ দেশের কাছে দেখতে পেলেন। 24সেই রাতে ঈশ্বর স্বপ্নে লাবনের কাছে গেলেন। ঈশ্বর বললেন, “সাবধান! যাকোবের সঙ্গে ভেবে চিন্তে কথা বোলো!”
চুরি যাওয়া ঈশ্বরের খোঁজ
25পরের দিন সকাল বেলা লাবন যাকোবকে দেখতে পেলেন। যাকোব পর্বতের উপরে তার তাঁবু খাটিয়েছিল। তাই লাবন ও তাঁর লোকজন পর্বতময় প্রদেশ গিলিয়দে তাঁদের তাঁবু খাটালেন।
26লাবন যাকোবকে বললেন, “তুমি কেন আমার সঙ্গে চালাকি করলে? কেন তুমি আমার কন্যাদের যুদ্ধ বন্দীদের মত ধরে নিয়ে গেলে? 27তুমি আমাকে না জানিয়ে কেন পালালে? যদি আমায় বলতে তবে আমি একটা ভোজের আয়োজন করতাম। বাজনার সাথে নাচ গানের ব্যবস্থাও করতাম। 28তুমি আমার নাতি নাতনিদের চুমু খেতে ও কন্যাদের বিদায় জানাবারও সুযোগ দিলে না। এইভাবে তুমি খুব অজ্ঞের মত কাজ করেছ। 29তোমাকে আঘাত করার ক্ষমতা আমার রয়েছে। কিন্তু গত রাতে তোমার পিতার ঈশ্বর আমার স্বপ্নে আমার কাছে এলেন। তিনি আমাকে সাবধান করে দিলেন যাতে তোমার কোন ক্ষতি না করি। 30আমি জানি তুমি তোমার বাড়ী ফিরে যেতে চাও আর সেইজন্যই তুমি চলে এসেছ। কিন্তু কেন তুমি আমার ঘর থেকে ঠাকুরগুলোকে চুরি করলে?”
31যাকোব উত্তরে বলল, “আমি ভয় পেয়েছিলাম তাই আপনাকে না বলে চলে এসেছি! আমি ভেবেছিলাম আপনি হয়তো আমার কাছ থেকে আপনার কন্যাদের ছিনিয়ে নেবেন। 32কিন্তু আমি আপনার ঠাকুরগুলো চুরি করি নি। যদি এখানে আমার সঙ্গের কোন ব্যক্তি ঐ ঠাকুরগুলোকে নিয়ে থাকে তবে তাকে হত্যা করতে হবে। আপনার লোকরাই এই বিষয়ে আমার সাক্ষী হবে। আপনার যা কিছু তা আপনি খুঁজে দেখতে পারেন। যা আপনার তা নিয়ে নিন।” (যাকোব জানতেন না যে রাহেল লাবনের ঠাকুরগুলো চুরি করেছে।)
33তাই লাবন গিয়ে যাকোবের তাঁবু এবং তারপর লেয়ার তাঁবু খুঁজে দেখলেন। তারপর সেই দুই দাসীর তাঁবুও খুঁজে দেখলেন। কিন্তু সেই ঠাকুরগুলোকে তাদের ঘরে খুঁজে পেলেন না। তারপর লাবন রাহেলের তাঁবুর দিকে গেলেন। 34রাহেল ঠাকুরগুলোকে উটের গদির তলায় লুকিয়ে তার ওপরে বসে ছিলেন। লাবন সমস্ত তাঁবু তন্ন তন্ন করে খুঁজেও ঠাকুরগুলোকে খুঁজে পেলেন না।
35রাহেল তার পিতাকে বলল, “পিতা আমার উপর রাগ করবেন না। আমি আপনার সামনে উঠে দাঁড়াতে পারছি না কারণ আমার মাসিক চলছে।” তাই লাবন তাঁবুর ভিতরে দেখলেন কিন্তু তাঁর ঠাকুরগুলো খুঁজে পেলেন না।
36তখন যাকোব খুব রেগে গিয়ে বলল, “আমি কি দোষ করেছি? কোন আইন ভেঙ্গেছি? কি অধিকারে আপনি আমাকে তাড়া করে থামাতে এসেছেন? 37আমার যা কিছু রয়েছে তার সবকিছুই আপনি খুঁজে দেখেছেন। কিন্তু আপনার কিছুই খুঁজে পান নি আর যদি পেয়ে থাকেন তবে তা দেখান। সেটা এখানেই রাখুন যাতে আমাদের লোকরা তা দেখতে পায়। আমাদের লোকেরাই বিচার করুক আমাদের মধ্যে কারা ঠিক। 38আমি 20 বছর আপনার জন্য কাজ করেছি। এই সময় আপনার কোন মেষশাবক বা ছাগশিশু জন্মাবার সময় মারা যায় নি। আর আমি আপনার পালের কোন মেষ মেরে খাই নি। 39কোন সময় বন্য পশুর দ্বারা কোন মেষ মারা গেলে আমি সবসময় নিজে আপনার কাছে এসে বলি নি যে আমার দোষে এটা হয় নি। কিন্তু দিন রাত আমি ক্ষতি স্বীকার করেছি। 40দিনের বেলা সূর্য্য যেন আমার শক্তি নিঙড়ে নিত এবং রাতে শীতে ঘুম আমার চোখ থেকে উধাও হয়ে যেত। 41আমি 20 বছর ধরে আপনার কাছে দাসের মত কাজ করেছি। প্রথম 14 বছর আমি আপনার দুই কন্যা লাভ করার জন্য খেটেছি। শেষ 6 বছর আমি আপনার পশু লাভ করার জন্য খেটেছি। এবং এই সময় আপনি দশ বার আমার বেতন বদলেছেন। 42কিন্তু আমার পূর্বপুরুষের ঈশ্বর, অব্রাহামের ঈশ্বর এবং ইস্হাকের ভয়।+ 31:42 ইস্হাকের ভয় ঈশ্বরের একটি নাম। আমার সঙ্গে ছিলেন। ঈশ্বর আমার সঙ্গে না থাকলে আপনি আমাকে খালি হাতে বিদায় দিতেন। কিন্তু ঈশ্বর আমার কষ্ট সকল ও আমার পরিশ্রম দেখলেন। এই জন্যই গত রাতে ঈশ্বর প্রমাণ করেছেন যে আমি ঠিক।”
যাকোব ও লাবনের চুক্তি
43লাবন যাকোবকে বললেন, “এই মহিলারা আমারই কন্যা। এই সন্তানরা ও এই পশুরাও আমারই। যা কিছু দেখছ এ সবই তো আমারই, কিন্তু আমার কন্যাদের ও নাতি নাতনিদের আমার কাছে রাখার জন্য কিছুই করতে পারি না। 44সেইজন্য এস তোমার সঙ্গে এক চুক্তি করি। আমাদের এই চুক্তির প্রমাণ স্বরূপ আমরা এক পাথরের থাম স্থাপন করব।”
45চুক্তির প্রমাণ হিসাবে যাকোব একটা বড় পাথর খুঁজে এনে সেটা স্থাপন করল। 46সে তার নিজের লোকদেরও পাথর এনে রাশি করে রাখতে বলল। তারপর সেই পাথরের রাশির ধারে বসে খাওয়া দাওয়া করল। 47লাবন সেই স্থানের নাম রাখলেন যিগর্ সাহদুথা। কিন্তু যাকোব সেই স্থানের নাম দিল গল্-এদ।
48তখন লাবন বললেন, “পাথরের এই রাশি আমাদের চুক্তি স্মরণ করতে সাহায্য করবে।” এই কারণে যাকোব সেই স্থানের নাম গল্-এদ রাখল।
49তারপর লাবন বললেন, “আমরা পরস্পরের থেকে দূরে চলে গেলে প্রভু যেন আমাদের পাহারা দেন।” সেইজন্যে সেই স্থানের নাম মিস্পা রাখা হল।
50তারপর লাবন বললেন, “মনে রেখো তুমি যদি আমার কন্যাদের আঘাত কর তবে ঈশ্বর তোমাকে শাস্তি দেবেন। তুমি যদি অন্য আর কোন স্ত্রী লোককে বিয়ে কর তবে মনে রেখো ঈশ্বর লক্ষ্য রাখছেন। 51আমাদের মধ্যে স্থাপিত স্তম্ভ ও এই রাশি করা পাথরগুলো স্মরণ করিয়ে দেবে আমাদের চুক্তির কথা। 52আমি কখনই এই পাথরগুলো পার হয়ে তোমার সাথে লড়াই করতে যাবো না এবং তুমিও অবশ্যই পার হয়ে আমার সঙ্গে লড়াই করতে আসবে না। 53আমরা যদি এই চুক্তি লঙ্ঘন করি তবে অব্রাহামের ঈশ্বর, নাহোরের ঈশ্বর এবং তাদের পূর্বপুরুষের ঈশ্বর আমাদের বিচারে দোষী করুন।”
যাকোবের পিতা ইস্হাক ঈশ্বরকে “ভয়” বলে ডাকতেন। তাই যাকোব সেই নাম ব্যবহার করে প্রতিজ্ঞা করল। 54তারপর যাকোব সেই পর্বতে একটা পশু বলিদান রূপে উৎসর্গ করল। আর তার আপনজনদের ভোজে নিমন্ত্রণ করল। খাওয়া-দাওয়া শেষ হলে তারা সেই রাতটা পাহাড়েই কাটাল। 55পরের দিন ভোরে লাবন তাঁর নাতি নাতনিদের ও কন্যাদের চুমু খেয়ে বিদায় জানালেন। তিনি তাদের আশীর্বাদ করে ঘরে ফিরে গেলেন।
32এষৌর সাথে পুনর্মিলন
1যাকোবও সেই স্থান হতে উঠে চলল। পথে সে ঈশ্বরের দূতগণের দেখা পেল। 2তাদের দেখে যাকোব বলল, “এ ঈশ্বরের শিবির!” সেই জন্য সে সেই স্থানের নাম মহনয়িম রাখল।
3যাকোবের ভাই এষৌ থাকত সেয়ীরে। এই জায়গাটা ছিল পাহাড়ী দেশ ইদোমে। যাকোব এষৌর কাছে বার্তাবাহকদের এই বলে পাঠাল, 4“এইসব কথা আমার মনিব এষৌকে গিয়ে বলো। আপনার দাস যাকোব বলে: আমি এতগুলি বছর লাবনের কাছে কাটিয়েছি। 5আমার অনেক গরু, গাধা, মেষপাল, লোকজন ও দাসী রয়েছে। মহাশয় আমি এই বার্তা পাঠিয়ে অনুরোধ করছি, আপনি আমাদের গ্রহণ করুন।”
6বার্তাবাহকরা যাকোবের কাছে ফিরে এসে বলল, “আমরা আপনার ভাই এষৌয়ের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি আপনার সাথে দেখা করতে আসছেন। তাঁর সাথে 400 জন লোক রয়েছে।”
7এই বার্তায় যাকোব ভীত হল। সে তার লোকজনদের দুই দলে ভাগ করল। সে তার মেষপাল, পশুপাল ও উটের পালকে দুই ভাগে ভাগ করল। 8যাকোব বলল, “যদি এষৌ এসে এক দলকে ধ্বংস করে তবে অপর দল নিশ্চয় পালিয়ে রক্ষা পাবে।”
9যাকোব বলল, “হে আমার পিতা অব্রাহামের ঈশ্বর, আমার পিতা ইস্হাকের ঈশ্বর! প্রভু তুমিই আমাকে আমার দেশে আমার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে বলেছিলে। তুমি বলেছিলে আমার মঙ্গল করবে। 10তুমি আমার প্রতি কত করুণা করেছ। আমার কত মঙ্গল করেছ। প্রথমবার যখন আমি যর্দ্দন পার হচ্ছিলাম তখন কেবল পথ চলার লাঠি ছাড়া আমার কাছে কিছুই ছিল না। কিন্তু এখন আমার সব কিছু প্রচুর বলে দুটো দল হয়েছে। 11দয়া করে আমায় আমার ভাইয়ের হাত থেকে, এষৌর হাত থেকে রক্ষা কর। আমার ভয় হয় যে সে আমাদের, এমনকি সন্তানদের সঙ্গে মায়েদেরও হত্যা করবে। 12প্রভু তুমি আমায় বলেছিলে, ‘আমি তোমার মঙ্গল করব। আমি তোমার বংশধরদের সংখ্যায় সমুদ্রের বালির মত করব যা গুনে শেষ করা যায় না।’”
13সেই স্থানে যাকোব রাত কাটাল। এষৌকে উপহার হিসাবে দেবার জন্য জিনিস গোছাল। 14যাকোব 200টি ছাগী, 20টি ছাগ, 200টি মেষী ও 20টি মেষ নিল। 15আরও নিল 30টি উট এবং তাদের বাচ্চা, 40টি গরু, 10টি ষাঁড়, 20টি গর্দ্দভী ও 10টি গর্দ্দভ। 16যাকোব প্রতিটি পশুপাল তার দাসদের হাতে দিল। তারপর যাকোব তার দাসদের বলল, “প্রতিটি পশুর পাল পৃথক কর। আমার আগে আগে যাও আর প্রতিটি পালের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব রেখো।” 17যাকোব তার দাসদের আজ্ঞা দিল। প্রথম দলের পশু যে দাসের হাতে তাকে সে বলল, “যখন আমার ভাই এষৌ এসে তোমাকে জিজ্ঞেস করবে, ‘এ সব পশু কার? তুমি কোথায় যাচ্ছ? তুমি কার দাস?’ 18তখন তুমি বলবে, ‘এইসব পশু আপনার দাস যাকোবের। যাকোবই এইসব উপহার হিসাবে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন. আর যাকোব নিজেও পেছন পেছন আসছেন।’”
19যাকোব দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং অন্য সব দাসদের ঐ একই কাজ করতে বলল। সে বলল, “এষৌর সঙ্গে দেখা হলে তোমরাও সবাই ঐ একই কাজ করবে। 20তোমরা বলবে, ‘এই উপহার আপনার জন্যে আর আপনার দাস যাকোব আমাদের পেছনেই আসছেন।’”
যাকোব বলল, “যদি আমি এই লোকদের উপহার সমেত আমার আগে পাঠাই তবে হয়তো এষৌ আমায় ক্ষমা করে গ্রহণ করবেন।” 21তাই যাকোব এষৌকে উপহারগুলি পাঠাল। কিন্তু সেই রাতে যাকোব তাঁবুতে রইল।
22পরে সেই রাতে উঠে যাকোব সেখান থেকে চলে গেল। সে তার সাথে তার দুই স্ত্রী, দুই দাসী ও তার এগারোটি সন্তানকে নিয়ে যব্বোক নদী পার হল। 23যাকোবের পরিবার নদী পার হয়ে গেলে সে তার সমস্ত জিনিসপত্রও পার হবার জন্য পাঠাল।
ঈশ্বরের সাথে যুদ্ধ
24অবশেষে যাকোব নদী পার হবার জন্য রইল। কিন্তু সে একা পার হবার আগে একজন পুরুষ এসে তার সঙ্গে মল্লযুদ্ধ করলেন। সূর্য্য ওঠার আগে পর্যন্ত সেই পুরুষটি তার সঙ্গে যুদ্ধ করলেন। 25পুরুষটি যখন দেখলেন তিনি যাকোবকে পরাজিত করতে পারছেন না তখন যাকোবের পায়ে আঘাত করলেন; তাতে যাকোবের পায়ের হাড় সরে গেল।
26তারপর সেই পুরুষটি যাকোবকে বললেন, “আমায় যেতে দাও, সূর্য্য উঠছে।”
কিন্তু যাকোব বলল, “আপনি আমাকে আশীর্বাদ না করলে আমি আপনাকে যেতে দেব না।”
27সেই পুরুষটি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার নাম কি?”
যাকোব উত্তর দিল, “আমার নাম যাকোব।”
28তখন সেই পুরুষটি বললেন, “তোমার নাম যাকোবের পরিবর্তে ইস্রায়েল হবে। আমি তোমার এই নাম রাখলাম কারণ তুমি ঈশ্বরের সঙ্গে ও মানুষের সঙ্গে যুদ্ধ করেছ কিন্তু পরাজিত হও নি।”
29তখন যাকোব তাকে জিজ্ঞেস করল, “দয়া করে বলুন আপনার নাম কি?”
কিন্তু সেই পুরুষটি বললেন, “কি জন্য আমার নাম জিজ্ঞেস করছ?” সেই সময়ই পুরুষটি যাকোবকে আশীর্বাদ করলেন।
30তাই যাকোব সেই জায়গার নাম পনূয়েল রাখল। যাকোব বলল, “এই স্থানেই আমি ঈশ্বরকে মুখোমুখি দেখলাম কিন্তু তাও প্রাণে বাঁচলাম।” 31সে পনূয়েল পার হলে সূর্য্য উঠল। যাকোব পায়ের জন্য খোঁড়াতে খোঁড়াতে চলল। 32সেইজন্য আজও ইস্রায়েলীয়রা উরুসন্ধির পেশী ভোজন করে না, কারণ যাকোবের সেই পেশীই আহত হয়েছিল।
33যাকোব সাহসের পরিচয় দিলেন
1যাকোব তাকিয়ে দেখল এষৌ আসছেন। এষৌ তাঁর সঙ্গে 400 জন লোক নিয়ে আসছিলেন। যাকোব তার পরিবারকে চারটি দলে ভাগ করল। লেয়া এবং তার সন্তানরা একটি দলে, রাহেল ও যোষেফ আর একটি দলে এবং দুই দাসী ও তাদের সন্তানরা আরও দুটি দলে ছিল। 2যাকোব তার দাসীদের সন্তানদের সামনে রাখল। লেয়া এবং তার সন্তানদের সে তাদের পেছনে রাখল। যাকোব রাহেল ও যোষেফকে সবশেষে রাখল।
3যাকোব নিজে এষৌর দিকে এগিয়ে গেল। এর ফলে এষৌর সাথেই প্রথমে তার সাক্ষাৎ হল। যাকোব তার ভাইয়ের দিকে হেঁটে যাবার সময় সাতবার আভূমি প্রণত হল।
4এষৌ যাকোবকে দেখতে পেয়ে তার সাথে দেখা করার জন্য দৌড়ে গেলেন। এষৌ যাকোবের গলা জড়িয়ে ধরে চুমু খেলেন। তারপর তাঁরা দুজনেই কাঁদলেন। 5এষৌ তাকিয়ে সেই স্ত্রীলোক ও শিশুদের দেখতে পেয়ে বললেন, “তোমার সাথে ঐ লোকজনরা কারা?”
যাকোব উত্তরে বললেন, “ঈশ্বর অনুগ্রহ করে আমাকে এইসব সন্তান-সন্ততিদের দিয়েছেন।”
6তারপর সন্তানদের নিয়ে দুই দাসী এষৌর সঙ্গে দেখা করতে গেল। তারা তাঁর সামনে সশ্রদ্ধ প্রণিপাত করল। 7এরপর লেয়া ও তার সন্তানরা এষৌর সঙ্গে দেখা করে তাঁর সামনে সশ্রদ্ধভাবে উপুড় হয়ে তাঁকে প্রণাম করল। শেষে রাহেল ও যোষেফ এষৌর সঙ্গে দেখা করে উপুড় হয়ে প্রণাম করল।
8এষৌ বললেন, “আমি এখানে আসার সময় যে জনসমারোহ দেখতে পেলাম তা এবং এইসব পশুই বা কিসের জন্য?”
যাকোব বলল, “ঐ সব আপনার জন্য আমার উপহার। যেন আপনি আমাকে গ্রহণ করেন।”
9কিন্তু এষৌ বললেন, “তোমাকে উপহার দিতে হবে না ভাই আমার যথেষ্ট রয়েছে।”
10যাকোব বলল, “তা না, আমার মিনতি এই যদি সত্যিসত্যি আপনি আমাকে গ্রহণ করে থাকেন তবে আমি যে উপহার আপনাকে দিই তা গ্রহণ করুন। আমি আবার আপনার মুখ দেখতে পেয়ে আনন্দিত। যেন ঈশ্বরেরই মুখ দর্শন করলাম। আপনি যে আমাকে গ্রহণ করলেন এতেই আমি খুব খুশী। 11সেইজন্য বিনয় করি আমি যে যে উপহার আপনার জন্য এনেছি তা গ্রহণ করুন। ঈশ্বর আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন তাই আমার প্রয়োজনের অতিরিক্তই রয়েছে।” এইভাবে যাকোব তার উপহারগুলি স্বীকার করার জন্য এষৌর কাছে বিনতি করল। সেইজন্য এষৌ উপহারগুলি স্বীকার করলেন।
12তারপর এষৌ বললেন, “এবার তুমি তোমার যাত্রা পথে চলতে পার। আমি তোমার সঙ্গে যাব।”
13কিন্তু যাকোব তাকে বলল, “আপনি জানেন যে আমার শিশুরা দুর্বল এবং আমাকে আমার পশুপাল সম্পর্কে সাবধান হতে হবে। যদি আমি তাদের একদিনে এতদূর যেতে বাধ্য করি, তবে সব পশুই মারা পড়বে। 14সেইজন্য আপনি আগে আগে যান। গবাদিপশু এবং অন্যান্য পশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সন্তানরা যাতে খুব ক্লান্ত না হয়ে পড়ে সেই দিক দেখে আমি খুব ধীর গতিতে যাব। আমি সেয়ীরে আপনার সঙ্গে দেখা করব।”
15তাই এষৌ বললেন, “তবে তোমাকে সাহায্য করার জন্য আমার কিছু লোক তোমার কাছে রেখে যাই।”
কিন্তু যাকোব বলল, “আপনি বড়ই দয়ালু কিন্তু সেটারই বা প্রয়োজন কি?” 16সেদিন এষৌ সেয়ীরের পথে যাত্রা শুরু করলেন। 17কিন্তু যাকোব সুক্কোতে গেল। সেই জায়গায় সে নিজের জন্য একটা গৃহ তৈরী করল আর তার পশুপালের জন্য ছাউনি তৈরী করল। এইজন্য সেই জায়গার নাম রাখা হল সুক্কোৎ।
18যাকোব নিরাপদে পদ্দম্-অরাম হতে যাত্রা করে কনান দেশের শিখিম নগরে এসে উপস্থিত হল। সেই শহরের কাছে এক মাঠের মধ্যে সে শিবির স্থাপন করল। 19শিখিমের পিতা হামোরের কাছ থেকে যাকোব ঐ মাঠটি 100 রৌপ্য খণ্ড দিয়ে কিনেছিল। 20যাকোব সেই জায়গায় ঈশ্বরের উপাসনা করার জন্য এক বেদী তৈরী করে তার নাম রাখল, “এল্ ইলোহে, ইস্রায়েলের ঈশ্বর।”
34দীণার ওপর বলাৎকার
1দীণা ছিল যাকোব এবং লেয়ার কন্যা। একদিন দীণা সেই জায়গার মেয়েদের সঙ্গে দেখা করতে গেল। 2হমোর ছিলেন সেই দেশের রাজা, তাঁর পুত্র শিখিম দীণাকে দেখতে পেলেন। শিখিম দীণাকে ধরে নিয়ে গিয়ে বলাৎকার করলেন। 3শিখিম দীণার প্রেমে পড়ে তাকে বিয়ে করার জন্য অনুনয় করতে লাগলেন। 4শিখিম তাঁর পিতাকে বললেন, “দয়া করে ওকে আমার জন্য এনে দাও যেন আমি বিয়ে করতে পারি।”
5যাকোব জানতে পারল যে ছেলেটি তার কন্যার সাথে ঐ মারাত্মক খারাপ কাজটি করেছে। কিন্তু যেহেতু তার সব কটি পুত্রই মাঠে পশু চরাতে গিয়েছিল, সেই জন্য তারা ঘরে ফিরে না আসা পর্যন্ত তিনি কিছুই করলেন না। 6সেই সময় শিখিমের পিতা হমোর যাকোবের সঙ্গে কথা বলতে এলেন।
7যাকোবের পুত্ররা মাঠেই জানতে পারল কি ঘটেছে। ঘটনা শুনে তারা খুবই রেগে গেল কারণ শিখিম যাকোবের কন্যাকে বলাৎকার করে ইস্রায়েলকে লজ্জায় ফেলেছিলেন। শিখিমের করা এই ভয়ঙ্কর ঘটনা শুনতে পেয়েই ভাইরা ক্ষেত থেকে ফিরে এল।
8কিন্তু হমোর ভাইদের বললেন, “আমার পুত্র শিখিম দীণাকে খুবই চায়। অনুগ্রহ করে ওকে বিয়ে করতে দাও। 9এই বিবাহ বোঝাবে যে তোমাদের সঙ্গে আমাদের এক বিশেষ চুক্তি হয়েছে। তখন আমাদের পুত্ররা তোমাদের কন্যাদের এবং তোমাদের পুত্ররা আমাদের কন্যাদের বিয়ে করতে পারবে। 10তোমরা আমাদের সঙ্গে এই একই দেশে থাকতে পারবে। তোমরা এখানকার জমির মালিক হবে ও ব্যবসা করতে পারবে।”
11শিখিম নিজেও যাকোব ও ভাইদের সঙ্গে কথা বললেন। শিখিম বললেন, “দয়া করে আমায় গ্রহণ কর। তোমরা আমাকে যা করতে বলবে তাই-ই করব। 12যদি তোমরা আমায় কেবল দীণাকে বিয়ে করতে দাও, তবে তোমাদের চাওয়া যে কোন উপহার আমি তোমাদের দেব। তোমরা যা চাইবে তাই-ই দেব, কেবল দীণাকে বিয়ে করতে দাও।”
13যাকোবের পুত্ররা শিখিম ও তার পিতাকে মিথ্যা বলবে বলে ঠিক করল। ভাইরা তাদের রাগ সামলাতে পারছিল না কারণ শিখিম তাদের বোন দীণার প্রতি এই জঘন্য কাজ করেছিলেন। 14তাই ভাইরা তাঁকে বলল, “আপনি সুন্নত নন বলে আপনার সঙ্গে আমাদের বোনের বিয়ে দিতে পারি না। যদি আমরা আমাদের বোনকে আপনাকে বিয়ে করতে দিই তা হবে আমাদের পক্ষে এক অপমান। 15কিন্তু আপনি এই একটি কাজ করলে আমরা তার সঙ্গে আপনার বিয়ে দিতে পারি। আপনার শহরের প্রত্যেকটি পুরুষকে আমাদের মত সুন্নত হতে হবে। 16তাহলে আপনাদের পুত্ররা আমাদের কন্যাদের এবং আমাদের কন্যারা আপনাদের পুত্রদের বিয়ে করতে পারবে। তাহলে আমরা এক জাতি হব। 17যদি আপনি সুন্নত হতে অস্বীকার করেন তবে আমরা দীণাকে নিয়ে যাব।”
18এই চুক্তি হমোর এবং শিখিমকে খুব আনন্দিত করল। 19দীণার ভাইরা যা করতে বলল তাতে শিখিম খুশী হয়ে রাজী হলেন।
শিখিম ছিলেন তাঁর পরিবারে সবচেয়ে সম্মানীয় ব্যক্তি। 20হমোর ও শিখিম তাঁদের শহরের সমাগম স্থানে গেলেন। তাঁরা শহরের পুরুষদের সঙ্গে কথা বললেন। 21তাঁরা বললেন, “ইস্রায়েলের এই লোকরা আমাদের বন্ধু হতে চায়। তারা আমাদের দেশে বাস করুক ও আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করুক। আমাদের সকলের জন্য যথেষ্ট জায়গা আমাদের রয়েছে। তাদের সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক বিবাহও হতে পারে। আমাদের ছেলেরা তাদের মেয়েদের বিয়ে করতে পারে এবং তাদের মেয়েরা আমাদের ছেলেদের বিয়ে করতে পারে। 22কিন্তু একটি বিষয় আমাদের সবাইকে মেনে নিতে হবে। আমাদের সব পুরুষকে সুন্নত হতে হবে, যেমনটি ইস্রায়েলের লোকরা হয়ে রয়েছে। 23একাজ করলে আমরা তাদের গো-মেষাদির পাল ও পশুর দ্বারা এবং সম্পত্তির দ্বারা ধনী হব। সুতরাং তাদের সঙ্গে আমাদের এই চুক্তি করা উচিৎ, তাহলে তারা এখানে আমাদের সঙ্গে থাকবে।” 24সমবেত সমস্ত লোক হমোর ও শিখিমের কথা শুনে সম্মতি জানাল। আর সব পুরুষরা সেই সময় সুন্নত হল।
25তিন দিন পরেও সুন্নত হওয়া লোকরা তখনও পীড়িত ছিল। যাকোবের দুই পুত্র শিমিয়োন ও লেবি জানত যে ঐ লোকরা এই সময়ে দুর্বল থাকবে। তাই তারা শহরে ঢুকে সেখানকার সমস্ত লোককে হত্যা করল। 26দীণার ভাই শিমিয়োন ও লেবি এই দুজনে মিলে হমোর ও তার পুত্র শিখিমকে হত্যা করল। তারা শিখিমের বাড়ী থেকে দীণাকে বার করে নিয়ে এল। 27যাকোবের পুত্ররা শহরের সব কিছু লুঠ করল। শিখিম তাদের বোনের সঙ্গে ভ্রষ্টাচার করার জন্য তারা তখনও রেগে ছিল। 28তাই ভাইরা সমস্ত পশু, গাধা এবং শহরে ও ক্ষেতে যা কিছু ছিল তার সবই নিয়ে নিল। 29সেই লোকেদের সর্বস্ব এমনকি তাদের স্ত্রী ও শিশুদের অধিকার করল।
30কিন্তু যাকোব শিমিয়োন ও লেবিকে বলল, “তোমরা আমায় অনেক বিপদে ফেলেছ। এই অঞ্চলের সমস্ত লোক এখন আমায় ঘৃণা করবে। কনানীয় ও পরিষীয় সমস্ত লোকরা আমার বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়াবে। আমরা এখানে অল্প কয়েকজন রয়েছি। যদি এই জায়গার লোকরা একত্রে আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে আসে, তবে আমি তো ধ্বংস হবোই, এমনকি আমার সমস্ত লোকও আমার সঙ্গে ধ্বংস হবে।”
31কিন্তু ভাইরা বলল, “ঐ লোকরা আমাদের বোনের সঙ্গে বেশ্যার মত যে ব্যবহার করেছে সেটাও কি উচিৎ ছিল? না, ঐ লোকেরা আমাদের বোনের প্রতি অন্যায় করেছে।”
35যাকোব বৈথেলে
1ঈশ্বর যাকোবকে বললেন, “বৈথেল শহরে যাও। সেখানে বাস কর আর উপাসনার জন্য একটা বেদী তৈরী কর। স্মরণ কর এলকে। তুমি যখন তোমার ভাই এষৌর কাছ থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলে তখন সেখানে এই ঈশ্বরই তোমায় দর্শন দিয়েছিলেন।” সেখানে তোমার ঈশ্বরের উপাসনার জন্য বেদী তৈরী কর।
2তাই যাকোব তার পরিবার ও তার সমস্ত দাসকে বলল, “তোমাদের কাছে কাঠ ও ধাতুর যে সমস্ত পুতুল ঠাকুর রয়েছে তার সমস্তই ধ্বংস কর। নিজেদের পবিত্র কর এবং পরিষ্কার কাপড় পর। 3আমরা এই জায়গা ছেড়ে বৈথেলে যাব। সেখানেই আমি আমার ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে একটি বেদী তৈরী করব, এই ঈশ্বরই সঙ্কটের সময় আমায় সাহায্য করেছিলেন। আমি যেখানেই গিয়েছি সেখানেই এই ঈশ্বর আমার সঙ্গে গিয়েছেন।”
4সেইজন্য লোকরা বিদেশের সমস্ত ঠাকুরগুলোকে যাকোবের কাছে এনে দিল। তারা যাকোবকে তাদের কানের দুলগুলি এনে দিল। যাকোব এসব কিছু শিখিম শহরের কাছে একটা এলা গাছের তলায় পুঁতে রাখল।
5যাকোব আর তার পুত্ররা সেই জায়গা পরিত্যাগ করল। সেই স্থানের লোকরা তাদের তাড়া করে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা ভীষণ ভয় পেয়ে যাকোবকে আর অনুসরণ করল না। 6এরপর যাকোব আর তার লোকরা লুসে গেল। লুসের বর্তমান নাম বৈথেল। এটি কনান দেশে অবস্থিত। 7যাকোব সেই জায়গায় একটি বেদী তৈরী করে তার নাম রাখল “এল্ বৈথেল।” যাকোব এই নাম বেছে নিল কারণ ভাইয়ের কাছ থেকে পালিয়ে যাবার সময় এইখানে ঈশ্বর তাঁর সামনে আবির্ভূত হয়েছিলেন।
8রিবিকার দাই দবোরার সেখানেই মৃত্যু হল। তারা তাকে বৈথেলে একটা অলোন গাছের নীচে কবর দিল এবং সেই জায়গার নাম রাখল অলোন্ বাখুৎ।
যাকোবের নতুন নাম
9পদ্দন্-অরাম থেকে যাকোব যখন ফিরে এল ঈশ্বর তাঁকে আবার দর্শন দিলেন এবং তাকে আশীর্বাদ করলেন। 10ঈশ্বর যাকোবকে বললেন, “তোমার নাম যাকোব কিন্তু আমি তোমার অন্য নাম রাখব। এখন থেকে তোমাকে যাকোব বলে ডাকা হবে না, তোমার নাম হবে ইস্রায়েল।” তাই ঈশ্বর তার নাম রাখলেন ইস্রায়েল।
11ঈশ্বর তাকে বললেন, “আমিই সর্বশক্তিমান ঈশ্বর এবং আমি তোমায় এই আশীর্বাদ করছি। তোমার অনেক সন্তান-সন্ততি হোক্, এক মহাজাতি হয়ে বেড়ে ওঠো। তোমার থেকেই অন্য অনেক জাতি এবং রাজারা উৎপন্ন হবে। 12আমি অব্রাহাম ও ইস্হাককে যে দেশ দিয়েছিলাম সেই দেশই এখন তোমায় দিচ্ছি। তোমার পরে তোমার বংশধরদের আমি সেই দেশ দেব।” 13এরপর ঈশ্বর সেই জায়গা থেকে চলে গেলেন। 14 এই স্থানে যাকোব একটি স্মরণস্তম্ভ স্থাপন করল। সেই পাথরের উপরে দ্রাক্ষারস ও তেল ঢেলে যাকোব সেটা পবিত্র করল। এটা ছিল এক বিশেষ জায়গা কারণ এখানেই ঈশ্বর যাকোবের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এবং যাকোব এই জায়গার নাম রাখল বৈথেল।
রাহেল প্রসবের পর মারা গেলেন
16যাকোব এবং তার দল বৈথেল ত্যাগ করল। তারা ইফ্রাতে পৌঁছাবার আগেই রাহেলের প্রসবের সময় এল। 17কিন্তু এইবার প্রসবকালে রাহেলের ভীষণ কষ্ট হল, প্রসব বেদনা তীব্র হয়ে উঠল। রাহেলের ধাত্রী এই দেখে বললেন, “ভয় পেও না রাহেল! তুমি আরেকটি পুত্রের জন্ম দিতে চলেছ।”
18রাহেল পুত্রটি প্রসব করার সময়ই মারা গেল। মারা যাবার আগে রাহেল পুত্রটির নাম রাখল বিনোনী। কিন্তু যাকোব তার নাম রাখল বিন্যামীন।
19রাহেলকে ইফ্রাথ যাবার পথেই কবর দেওয়া হল। (ইফ্রাথই বৈৎলেহম।) 20রাহেলকে সম্মান জানাতে যাকোব তার কবরে একটি স্তম্ভ স্থাপন করল। সেই বিশেষ স্তম্ভটি আজও সেখানে রয়েছে। 21এরপর ইস্রায়েল আবার তাঁর যাত্রা পথে চললেন। তিনি মিগ্দল এদর দক্ষিণে তাঁর তাঁবু খাটালেন।
22ইস্রায়েল এই স্থানে অল্পকাল রইলেন। এই স্থানেই রূবেণ তার পিতার দাসী বিল্হার কাছে গেল এবং তার সাথে শয়ন করল। ইস্রায়েল এই খবর জানতে পেরে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন।
ইস্রায়েল পরিবার
যাকোবের 12টি পুত্র ছিল।
23যাকোব এবং লেয়ার পুত্ররা হল: যাকোবের প্রথম জাত পুত্র রূবেণ, শিমিয়োন, লেবি, যিহূদা, ইষাখর ও সবূলূন।
24যাকোব এবং রাহেলের পুত্ররা হল যোষেফ ও বিন্যামীন।
25বিল্হা ছিলেন রাহেলের দাসী। যাকোব ও বিল্হার পুত্ররা হল দান এবং নপ্তালি।
26সিল্পা ছিলেন লেয়ার দাসী। যাকোব এবং সিল্পার পুত্ররা হল গাদ ও আশের।
পদ্দন্-অরামে যাকোবের এই কটি পুত্রের জন্ম হয়।
27যাকোব কিরিযথ অর্ব্বয় স্থিত মম্রি নামক স্থানে তার পিতা ইস্হাকের কাছে গেল। এই জায়গাতেই অব্রাহাম ও ইস্হাক বাস করতেন। 28ইস্হাক 180 বৎসর বেঁচে ছিলেন। 29এরপর ইস্হাক বৃদ্ধ ও পূর্ণায়ু হয়ে মারা গেলেন। তাঁর দুই পুত্র এষৌ ও যাকোব তাঁর পিতাকে যে স্থানে কবর দেওয়া হয়েছিল সেইখানেই তাঁকে কবর দিল।
36এষৌর পরিবার
1এষৌর (ইদোম) বংশ বৃত্তান্ত এই। 2এষৌ কনান দেশের এক স্ত্রীলোককে বিয়ে করেন। এষৌর স্ত্রীরা ছিলেন: হিত্তীয়, এলোনের কন্যা আদা, অনার কন্যা অহলীবামা, অনা ছিলেন হিব্বীয় সিবিয়়োনের পৌত্রী। 3এবং ইশ্মায়েলের কন্যা বাসমৎ, বাসমতের বোনের নাম নবায়োত। 4এষৌ এবং আদার পুত্রের নাম ইলীফস। বাসমতের পুত্রের নাম ছিল রূয়েল। 5অহলীবামার তিনটি পুত্রের নাম যিয়ূশ, যালম ও কোরহ। এষৌর এই পুত্ররা কনান দেশে জন্মেছিলেন।
6 এষৌ এবং যাকোবের প্রচুর সম্পত্তি এবং বহু লোকজন হয়ে যাবার জন্য তাদের পক্ষে একসঙ্গে থাকা অসম্ভব হয়ে উঠল। তাদের প্রচুর পশুপাল ছিল বলে সেই জমিটি, যেখানে তারা থাকত, তাদের প্রয়োজন মেটাতে পারত না। তাই এষৌ তার ভাই যাকোবের কাছ থেকে চলে গেলেন। এষৌ তার স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, সমস্ত দাস-দাসী, গরু এবং অন্যান্য পশু এবং কনান দেশে তার আর যা কিছু ছিল সব নিয়ে পর্বতময় প্রদেশ সেয়ীরে চলে গেলেন। (এষৌ ইদোম নামেও পরিচিত এবং ইদোম সেয়ীর দেশের অপর নাম।)
9এষৌ হলেন ইদোমীয়দের পূর্বপুরুষ। পার্বত্য সেয়ীর (ইদোম) প্রদেশে বসবাসকারী এষৌর পরিবারগোষ্ঠীর নামগুলি:
10এষৌ এবং আদার পুত্র ইলীফস। এষৌ এবং বাসমতের পুত্র রূয়েল।
11ইলীফসের পাঁচটি পুত্র ছিল: তৈমন, ওমার, সফো, গয়িতম ও কনস।
12তিম্না নামে এষৌর একজন দাসীও ছিল। তিম্না ও ইলীফসের পুত্রের নাম অমালেক।
13রূয়েলের চার পুত্রের নাম নহৎ, সেরহ, শল্ম ও মিসা।
এরা ছিল এষৌর স্ত্রী বাসমতের নাতি।
14এষৌর তৃতীয় স্ত্রীর নাম ছিল অহলীবামা, ইনি ছিলেন অনার কন্যা। (অনা ছিলেন সিবিয়়োনের পুত্র।) এষৌ এবং অহলীবামার সন্তানরা হল: যিয়ূশ, বালম ও কোরহ।
15এষৌ হতে উৎপন্ন পরিবারগোষ্ঠীগুলি হল নিম্নরূপ:
এষৌর প্রথম পুত্র ইলীফস থেকে উৎপন্ন তৈমন, ওমার, সফো, কনস, 16কোরহ, গয়িতম ও অমালেক।
এই সমস্ত পরিবারগোষ্ঠী এষৌর স্ত্রী আদা থেকে উৎপন্ন।
17এষৌর পুত্র রূয়েল ছিলেন নহৎ, সেরহ শল্ম ও মিসার পিতা।
এই সমস্ত পরিবারের মা ছিলেন এষৌর স্ত্রী বাসমৎ।
18এষৌর স্ত্রী অহলীবামা, অনার কন্যা, যিয়ূশ, যালম ও কোরহের জন্ম দিলেন। ঐ তিনজন ছিলেন তাঁদের পরিবারের পিতা।
19এষৌ হতে উৎপন্ন ঐ পুরুষরা প্রত্যেকে ছিলেন তাঁদের নিজ পরিবারগোষ্ঠীর নেতা।
20হোরীয়় সেয়ীরের এই পুত্ররা সেই দেশে বাস করত।
এরা হল লোটন, শোবল, শিবিয়োন, অনা, 21দিশোন, এৎসর, ও দীশন। এই পুত্ররা ছিল ইদোম দেশে সেয়ীর হতে আসা হোরীয়় পরিবারের গোষ্ঠীর নেতাসকল।
22লোটন ছিলেন হোরি এবং হেমনের পিতা। (তিম্না ছিলেন লোটনের বোন।)
23শোবল ছিলেন অল্বন, মানহৎ, এবল, শফো ও ওনমের পিতা।
24সিবিয়়োনের দুই পুত্র ছিল অয়া ও অনা। (অনাই সেই জন যিনি তাঁর পিতার গাধাদের চরাবার সময় মরুভূমিতে উষ্ণ প্রস্রবণ খুঁজে পেয়েছিলেন।)
25অনা ছিলেন দিশোন ও অহলীবামার পিতা।
26দিশোনের চার পুত্র ছিল। তাদের নাম: হিম্দন, ইশ্বন, যিত্রণ ও করাণ।
27এৎসরের তিন পুত্র ছিল। তাদের নাম বিল্হন, সাবন ও আকন।
28দীশনের দুই পুত্র ছিল। তাদের নাম উষ ও অরাণ।
29হোরীয় পরিবারগুলির দলপতিদের নামগুলি এইরকম: লোটন, শোবল, সিবিয়োন, 30অনা, দিশোন, এৎসর ও দীশোন। সেয়ীর দেশে যে পরিবারগুলি বাস করত, এই লোকরা ছিল তাদের দলপতিগণ।
31সেই সময় ইদোমে রাজারা রাজত্ব করতেন। ইস্রায়েলে রাজ শাসন চালু হবার বহু পূর্বেই ইদোমে রাজারা রাজত্ব করতেন।
32যিয়োরের পুত্র বেলা ইদোম দেশে রাজত্ব করেন, তার রাজধানীর নাম দিন্হাবা।
33বেলার মৃত্যুর পর যোবব রাজা হলেন। যোবব ছিলেন বস্রা নিবাসী সেরহের পুত্র।
34যোববের মৃত্যুর পর হূশম রাজত্ব করলেন। হূশম ছিলেন তৈমন দেশীয়।
35হূশমের মৃত্যুর পর বেদদের পুত্র হদদ সেই নগর শাসন করলেন। (হদদই মোয়াব দেশে মিদিয়নদের পরাজিত করেছিলেন।) হদদ এসেছিলেন অবীৎ শহর থেকে।
36হদদের মৃত্যুর পর সম্ল সেই দেশ শাসন করতে থাকেন। সম্ল এসেছিলেন মস্রেকা থেকে।
37সম্লের মৃত্যুর পর শৌল সেই দেশ শাসন করতে থাকেন। শৌল এসেছিলেন ফরাৎ নদীর ধারে স্থির রহোবোৎ থেকে।
38শৌলের মৃত্যুর পর বাল্হানন সেই দেশে রাজত্ব করেন। বাল্হানন ছিলেন অক্বোরের পুত্র।
39বাল্হাননের মৃত্যুর পর হদর সেই দেশে রাজত্ব করেন। হদর ছিলেন পায়ু শহরের লোক। হদরের স্ত্রীর নাম মহেটবেল; ইনি ছিলেন মট্টেদের কন্যা। (মট্টেদের পিতার নাম মেষাহবের।)
40 এষৌ ছিলেন ইদোম পরিবারগুলির পিতা। ইদোম পরিবারগুলি হল:
তিম্ন, অল্বা, যিথেত্, অহলীবামা, এলা, পীনোন, কনস, তৈমন, মিব্মস, মগদীয়েল ও ঈরম। এই পরিবারগুলির নাম অনুসারেই তাদের বসতি স্থানের নাম হল।
37স্বপ্নদর্শক যোষেফ
1যাকোব কনান দেশেই বাস করতে লাগল। এই সেই দেশ যেখানে পূর্বে তার পিতা বাস করতেন। 2যাকোবের পরিবারের বৃত্তান্ত এইরকম।
যোষেফ তখন 17 বছর বয়স্ক যুবক। তাঁর কাজ ছিল মেষ ও ছাগলের তত্ত্বাবধান করা। যোষেফ এই কাজ করতেন তাঁর ভাইদের সঙ্গে অর্থাৎ বিল্হা ও সিল্পার সন্তানদের সঙ্গে। (বিল্হা ও সিল্পা তাঁর সৎ মা ছিলেন।) ভাইরা মন্দ কাজ করলে যোষেফ তা তাঁর পিতাকে এসে জানাতেন। 3যোষেফ ছিলেন ইস্রায়েলের বৃদ্ধাবস্থার সন্তান। এই জন্য ইস্রায়েল তাঁর অন্যান্য পুত্রদের চেয়ে যোষেফকেই বেশী ভালবাসতেন। যাকোব তাকে একটা বিশেষ জামা উপহার দিয়েছিল। জামাটি ছিল লম্বা এবং বেশ সুন্দর। 4যোষেফের ভাইরা দেখল যে তাদের পিতা তাদের চাইতে যোষেফকেই বেশী ভালবাসেন। এইজন্য তারা তাকে ঘৃণা করতে লাগল। তারা যোষেফের সাথে বন্ধুভাবে কথা বলতেও চাইল না।
5একদিন যোষেফ একটা স্বপ্ন দেখলেন। পরে তিনি তাঁর ভাইদের সেই স্বপ্নটা বললেন। এরপর তাঁর ভাইরা তাঁকে আরও ঘৃণা করতে থাকল।
6যোষেফ বললেন, “আমি একটা স্বপ্ন দেখেছি। 7দেখলাম আমরা সকলে ক্ষেতে কাজ করছি। আমরা সকলে গমের আঁটি বাঁধছিলাম, এমন সময় আমার আঁটিটা উঠে দাঁড়াল। আর আমার আঁটির চারপাশে গোল করে ঘিরে থাকা তোমাদের আঁটিগুলো একে একে আমারটিকে প্রণাম জানাল।”
8তাঁর ভাইরা বলল, “তুমি কি মনে কর এর অর্থ তুমি আমাদের রাজা হয়ে আমাদের উপর রাজত্ব করবে?” তাঁর ভাইরা তাদের সম্বন্ধে দেখা এই স্বপ্নের জন্য তাঁকে আরও ঘৃণা করতে লাগল।
9এরপর যোষেফ আরেকটি স্বপ্ন দেখে সেই স্বপ্ন সম্বন্ধে তাঁর ভাইদের বললেন, “আমি আরেকটি স্বপ্ন দেখেছি। দেখলাম সূর্য্য, চাঁদ এবং এগারোটি তারা আমাকে প্রণাম করছে।”
10যোষেফ তাঁর পিতাকেও এই স্বপ্নটি সম্বন্ধে বললেন। কিন্তু তাঁর পিতা এর সমালোচনা করে বললেন, “এ কি ধরণের স্বপ্ন? তুমি কি বিশ্বাস কর যে তোমার মা, তোমার ভাইরা, এমনকি আমিও তোমায় প্রণাম করব?” 11যোষেফের ভাইরা তাঁকে ঈর্ষা করত। কিন্তু যোষেফের পিতা সেসব মনে রাখলেন আর ভেবে অবাক হলেন যে এর অর্থ কি হতে পারে।
12একদিন যোষেফের ভাইরা শিখিমে গেল তাদের পিতার মেষ চরাতে। 13যাকোব যোষেফকে বলল, “শিখিমে যাও। সেখানে তোমার ভাইরা আমার মেষ চরাচ্ছে।”
যোষেফ উত্তর করলেন, “আমি যাবো।”
14যোষেফের পিতা বললেন, “যাও গিয়ে দেখ তোমার ভাইরা নিরাপদে আছে কিনা। তারপর ফিরে এসে আমাদের জানিও মেষদের অবস্থা কেমন।” এইভাবে যোষেফের পিতা তাকে হিব্রোণ উপত্যকা থেকে শিখিমে পাঠালেন। 15শিখিমে যোষেফ পথ হারালে একজন লোক তাঁকে মাঠে ঘুরে বেড়াতে দেখল। সেই লোকটি বলল, “তুমি কি খুঁজে বেড়াচ্ছ?”
16যোষেফ উত্তর দিলেন, “আমি আমার ভাইদের খোঁজ করছি। বলতে পারেন তারা তাদের মেষ নিয়ে কোথায় গেছে?”
17সেই লোকটি বলল, “তারা তো চলে গেছে। আমি তাদের দোথনে যাবার কথা বলতে শুনেছিলাম।” তাই যোষেফ তাঁর ভাইদের খুঁজতে গেলেন এবং দোথনে তাদের খুঁজে পেলেন।
যোষেফ দাস হিসাবে বিক্রীত হলেন
18যোষেফের ভাইরা তাকে দূর থেকে আসতে দেখে তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করল। 19ভাইরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করল, “ঐ দেখ স্বপ্নদর্শক যোষেফ আসছে। তাকে মেরে ফেলার 20এই তো সুযোগ। তাকে আমরা যে কোন একটা খালি কূপের মধ্যে ফেলে দিয়ে পিতাকে গিয়ে বলতে পারি যে এক বুনো জন্তু তাকে মেরে ফেলেছে। এইভাবে আমরা ওকে দেখাব যে তার স্বপ্নগুলো অসার।”
21কিন্তু রূবেণ যোষেফের প্রাণ বাঁচাতে চাইল। 22সে বলল, “আমরা তাকে হত্যা করব না। এস, আমরা তাকে হত্যা না করে বরং বিনা আঘাতে ঐ শুকনো কূপের মধ্যে ফেলে দিই।” রূবেণের পরিকল্পনা ছিল যোষেফকে এইভাবে উদ্ধার করে তার পিতার কাছে ফেরত পাঠানোর। 23যোষেফ তার ভাইদের কাছে এলে তারা তাঁকে আক্রমণ করে তাঁর সুন্দর লম্বা জামাটা ছিঁড়ে ফেলল। 24এরপর তারা তাঁকে ধরে ছুঁড়ে দিল এক শুকনো কূপের মধ্যে।
25যোষেফ যখন কূপের মধ্যে, সেই সময় তাঁর ভাইরা খেতে বসল। এইসময় তারা একদল বণিককে দেখতে পেল যারা গিলিয়দ থেকে মিশরে যাত্রা করছিল। তাদের উটগুলো বহন করছিল বহু রকম মশলা ও ধন দৌলত। 26তাই যিহূদা তার ভাইদের বলল, “আমাদের ভাইকে হত্যা করে আর তার মৃত্যুর সংবাদ গোপন করে আমাদের কি লাভ হবে? 27এর থেকে লাভ হবে যদি আমরা তাকে এই বণিকদের কাছে বিক্রী করে দিই। এভাবে আমরা আমাদের নিজের ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য দোষীও হব না।” অন্য ভাইরাও সম্মতি জানাল। 28মিদিয়নীয় বণিকরা কাছে আসতেই ভাইরা যোষেফকে কূপ থেকে তুলে আনলো। তারা তাকে 20টি রৌপ্যমুদ্রার বিনিময়ে বিক্রী করে দিল। বণিকরা এবার তাকে মিশরে নিয়ে চলল।
29এই সময় রূবেণ সেখানে তার ভাইদের সঙ্গে ছিল না। সে জানতোও না যে তারা যোষেফকে বিক্রী করে দিয়েছে। রূবেণ কূপের ধারে ফিরে এসে দেখল যোষেফ সেখানে নেই। তখন সে দুঃখ প্রকাশ করার জন্য নিজের কাপড় ছিঁড়ে ফেলল। 30ভাইদের কাছে ফিরে গিয়ে রূবেণ বলল, “ছেলেটা সেখানে নেই, এখন আমি কি করব?” 31ভাইরা তখন একটা ছাগল মেরে তার রক্তে যোষেফের সুন্দর শালটা রাঙিয়ে দিল। 32এরপর তারা সেই শালটা তাদের পিতাকে দেখাল। ভাইরা বলল, “আমরা এই শালটা পেয়েছি, দেখুন তো এটা যোষেফের কিনা?”
33তাদের পিতা শালটা দেখে চিনতে পারল যে সেটা যোষেফেরই। পিতা বলল, “হ্যাঁ, এটা তো তারই! হয়তো কোনো বন্য জন্তু তাকে মেরে ফেলেছে। আমার পুত্র যোষেফকে এক হিংস্র পশু খেয়ে ফেলেছে!” 34পুত্র শোকে যাকোব তার কাপড় ছিঁড়ে ফেলল, তারপর চট বস্ত্র পরে দীর্ঘ সময় তার পুত্রের জন্য শোক করল। 35যাকোবের পুত্র কন্যারা তাকে সান্ত্বনা দিতে চাইল। কিন্তু যাকোবকে সান্ত্বনা দেওয়া গেল না। সে বলল, “আমার মৃত্যু-দিন পর্যন্ত আমি আমার পুত্রের জন্য দুঃখ করে যাব।”+ 37:35 আমার … যাব আক্ষরিক অর্থে, “আমি দুঃখে পাতালে আমার পুত্রের কাছে যাব।” তাই যাকোব যোষেফের জন্য দুঃখিত হয়ে রইল।
36মিদিয়নীয় বণিকরা পরে যোষেফকে মিশরে নিয়ে গিয়ে ফরৌণের রক্ষক সেনাপতি পোটীফরের কাছে বিক্রি করে দিল।
38যিহূদা ও তামর
1সেই সময় যিহূদা তার ভাইদের ছেড়ে হীরা নামে একটি লোকের সঙ্গে বাস করতে গেল। হীরা ছিলেন অদুল্লমীয় শহরের লোক। 2সেখানে যিহূদা এক কনানীয় স্ত্রীলোককে দেখতে পেয়ে তাকে বিয়ে করল। মেয়েটির পিতার নাম ছিল শূয়। 3কনানীয় মেয়েটি একটি পুত্রের জন্ম দিয়ে তার নাম রাখল এর। 4পরে সে আরেকটি পুত্রের জন্ম দিয়ে তার নাম রাখল ওনন। 5পরে তার শেলা নামে আরেকটি পুত্র হল। তৃতীয় পুত্রের জন্মের সময় যিহূদা কষীবে বাস করছিল।
6যিহূদা তামর নামে এক কন্যাকে এনে তার সঙ্গে প্রথম পুত্র এরের বিয়ে দিল। 7কিন্তু এর অনেক মন্দ কাজ করায় প্রভু তার প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন এবং তাকে হত্যা করলেন। 8তখন যিহূদা এরের ভাই ওননকে বলল, “যাও তোমার মৃত ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে শয়ন কর। তার স্বামী হও। নিজের ভাই এরের জন্য বংশ উৎপন্ন কর।”
9ওনন বুঝল মিলনের ফলে সন্তান-সন্ততি হলে তা তার হবে না। ওনন তাই যৌন সঙ্গম করল। সে তার শরীরের অভ্যন্তরে বীর্য্য ত্যাগ করল না। 10এই কাজে প্রভু ক্রুদ্ধ হলেন এবং ওননকেও মেরে ফেললেন। 11তখন যিহূদা তার বৌমা তামরকে বলল, “যাও, তোমার পিতার বাড়ী ফিরে যাও। যে পর্যন্ত না আমার ছোট পুত্র শেলা বড় হয় সে পর্যন্ত বিয়ে না করে সেখানেই থাক।” যিহূদা আসলে ভয় পেয়েছিলেন, ভেবেছিলেন অন্য ভাইদের মতো হয়তো শেলাও মারা যাবে। তামর তার পিতার বাড়ী ফিরে গেল।
12পরে যিহূদার স্ত্রী, শূয়ের কন্যার মৃত্যু হল। শোকের সময় গেলে যিহূদা তার অদুল্লমীয় বন্ধু হীরার সাথে মেষদের লোম ছাঁটতে তিম্নায় গেল। 13তামর জানতে পারল যে তার শ্বশুর তিম্নায় তাঁর মেষদের লোম ছাঁটতে যাচ্ছেন। 14তামর বিধবা বলে যে কাপড় পরত তা খুলে ফেলে অন্য কাপড় পরল ও তার মুখ ওড়না দিয়ে ঢাকল। তারপর সে তিম্নার কাছে অবস্থিত ঐনয়িম শহরের দিকে যে রাস্তা চলে গেছে তার ধারে বসল। তামর জানত যে যিহূদার ছোট পুত্র শেলা এখন বড় হয়েছে কিন্তু তবু শেলার সাথে তার বিয়ে দেবার কোন পরিকল্পনাই যিহূদা করে নি।
15যিহূদা সেই পথে যেতে যেতে তাকে দেখে ভাবল বোধ হয় বেশ্যা। (বেশ্যার মত তার মুখ ওড়না দিয়ে ঢাকা ছিল।) 16যিহূদা তার কাছে গিয়ে বলল, “এস আমার সাথে শোও।” (যিহূদা জানত না যে এই ছিল তামর, তার পুত্রবধূ।)
সে বলল, “আমায় কত দেবেন?”
17যিহূদা উত্তর করল, “আমার পশুপাল থেকে তোমার জন্য একটা বাচ্চা ছাগল পাঠিয়ে দেব।”
সে বলল, “ঠিক আছে। কিন্তু ছাগলটা পৌঁছাবার আগে আমার কাছে কিছু বন্ধক রাখুন।”
18যিহূদা জিজ্ঞেস করল, “তোমাকে যে ছাগল পাঠাব তার প্রমাণ হিসাবে তুমি আমার কাছে কি চাও?”
তামর বলল, “চিঠিতে মারবার তোমার ঐ মোহর, ও তার সুতো এবং হাঁটার ছড়িটাও আমায় দাও।” যিহূদা তাকে ঐ জিনিসগুলো দিল। তারপর যিহূদা ও তামর সহবাস করলে তামর গর্ভবতী হল। 19তামর ঘরে ফিরে মুখের ওড়নাটা খুলে ফেলে বিধবার সাজে সাজল।
20পরে যিহূদা তার বন্ধু হীরাকে ঐনয়িমে পাঠাল সেই বেশ্যাকে ছাগলটা দিতে। যিহূদা হীরাকে আরও বলল যেন সে তার কাছ থেকে সেই মোহর ও ছড়িটা নিয়ে আসে। কিন্তু হীরা তাকে খুঁজে পেল না। 21হীরা ঐনয়িম শহরের লোকদের জিজ্ঞাসা করল, “রাস্তার ধারে বসে থাকা বেশ্যাটা কোথায়?”
লোকে উত্তর দিল, “এখানে কখনই কোন বেশ্যা ছিল না তো।”
22তাই যিহূদার বন্ধু ফিরে এসে বলল, “সেই স্ত্রীলোককে খুঁজে পেলাম না। সেখানকার লোকজন বলল সেখানে কোন বেশ্যা কখনই ছিল না।”
23তাই যিহূদা বলল, “সেইসব জিনিস তার কাছেই থাকুক। আমি চাই না যে লোক আমাদের নিয়ে হাসে। আমি ছাগলটা তাকে দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু খুঁজে পেলাম না। এটাই যথেষ্ট।”
তামর গর্ভবতী হল
24তিন মাস পরে কেউ একজন যিহূদাকে বলল, “তোমার পুত্রবধু তামর বেশ্যার কাজ করেছে আর এখন সে গর্ভবতী হয়েছে।”
তখন যিহূদা বলল, “তাকে বাইরে নিয়ে এসে পুড়িয়ে দাও।”
25সেই লোকটি তামরকে হত্যা করতে এলে সে তার শ্বশুরকে এক খবর পাঠাল। তামর বলল, “যে লোকটি আমায় গর্ভবতী করেছে এই জিনিসগুলি তার। এই জিনিসগুলির দিকে দেখ। এগুলো কার? এই মোহর ও সুতো কার? এই ছড়িটা কার?”
26যিহূদা সেই জিনিসগুলো চিনতে পেরে বলল, “সেই ঠিক। আমারই ভুল হয়েছে। আমি আমার পুত্র শেলাকে দেব বলে প্রতিজ্ঞা করেও তাকে দিই নি।” এরপর যিহূদা কিন্তু তার সাথে আর সহবাস করল না।
27তামরের প্রসবের সময় উপস্থিত হলে তারা দেখল তার যমজ সন্তান হতে চলেছে। 28প্রসবের সময় একটা বাচ্চা তার হাত বার করলে ধাইমা তার হাতে একটা লাল সুতো বাঁধল আর বলল, “এই বাচ্চাটা আগে জন্মাবে।” 29কিন্তু বাচ্চাটা তার হাত গুটিয়ে নিলে অন্য বাচ্চাটা প্রথমে জন্মাল। তাই সেই ধাইমা বলল, “তুমি প্রথমে ঠেলে বেরিয়ে আসতে পেরেছ!” তাই তারা তার নাম পেরস রাখল। 30এরপর অন্য শিশুটির জন্ম হল, যার হাতে লাল সুতো বাঁধা ছিল। তারা এর নাম রাখল সেরহ।
39যোষেফকে মিশরে পোটীফরের কাছে বিক্রী করা হল
1বণিকরা যারা যোষেফকে কিনেছিল, তারা তাকে মিশরে নিয়ে গেল এবং ফরৌণের রক্ষকদের সেনাপতি পোটীফরের কাছে বিক্রি করে দিল। 2কিন্তু প্রভু যোষেফকে সাহায্য করলেন। যোষেফ সফলকর্মা হলেন। যোষেফ সেই মিশরীয় পোটীফরের অর্থাৎ তার মনিবের বাড়ীতেই বাস করতেন।
3পোটীফর দেখলেন যে প্রভু যোষেফের সাথে রয়েছেন এবং যোষেফ যা কিছু করেন তাতেই তিনি তাকে সফল হতে দেন। 4সেইজন্য পোটীফর খুশী হয়ে যোষেফকে তাঁর নিজের বাড়ীর অধ্যক্ষ করে তারই হাতে সব কিছুর ভার দিলেন। 5যোষেফকে সেই বাড়ীর অধ্যক্ষ করা হলে প্রভু পোটীফরের বাড়ী এবং তাঁর সব কিছুকে আশীর্বাদ করলেন। যোষেফের জন্যই প্রভু একাজ করলেন। আর তিনি পোটীফরের ক্ষেতে যা জন্মাত তাকেও আশীর্বাদযুক্ত করলেন। 6তাই পোটীফর তাঁর বাড়ীর সব কিছুর ভারই যোষেফের হাতে দিয়ে দিলেন, কেবল নিজের খাবারটা ছাড়া আর কিছুরই জন্য তিনি চিন্তিত ছিলেন না।
যোষেফ পোটীফরের স্ত্রীকে প্রত্যাখ্যান করলেন
যোষেফ ছিলেন অত্যন্ত রূপবান ও সুদর্শন পুরুষ। 7কিছু সময় পরে যোষেফের মনিবের স্ত্রীও তাঁকে পছন্দ করতে শুরু করল। একদিন সে তাকে বলল, “আমার সঙ্গে শোও।”
8কিন্তু যোষেফ প্রত্যাখ্যান করে বললেন, “আমার মনিব জানেন তাঁর বাড়ীর প্রতিটি বিষয়ের প্রতি আমি বিশ্বস্ত। তিনি এখানকার সব কিছুরই দায়-দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন। 9আমার মনিব আমাকে এই বাড়ীতে প্রায় তাঁর সমান স্থানেই রেখেছেন। আমি কখনই তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে শুতে পারি না। এটা মারাত্মক ভুল কাজ! ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ কাজ।”
10স্ত্রীলোকটি রোজই যোষেফকে এ কথা বলত, কিন্তু যোষেফ রাজী হতেন না। 11একদিন যোষেফ নিজের কাজ করতে বাড়ীর ভেতরে গেলেন। সেই সময় সেই বাড়ীতে কেবল একা তিনিই ছিলেন। 12তাঁর মনিবের স্ত্রী সেই সময় তাঁর কাপড় টেনে ধরে বলল, “আমার সঙ্গে বিছানায় এস।” কিন্তু যোষেফ সেই বাড়ী থেকে এত দ্রুত দৌড়ে পালাল যে জামাটা স্ত্রীলোকটির হাতেই রয়ে গেল।
13স্ত্রীলোকটি দেখল যে যোষেফ তার হাতেই জামাটা ফেলে বাড়ীর বাইরে দৌড়ে বেরিয়ে গেছে। তাই সে চিন্তা করে ঠিক করল যা ঘটেছে সে সম্বন্ধে মিথ্যা কথা বলবে। 14সে তার বাড়ীর ভৃত্যদের ডেকে বলল, “দেখ! এই ইব্রীয় ক্রীতদাসকে কি আমাদের নিয়ে ঠাট্টা করার জন্য এখানে আনা হয়েছে? সে ভিতরে এসে আমাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমি চেঁচিয়ে উঠলাম। 15আমার চিৎকারে সে ভয় পেয়ে পালাল। কিন্তু সে তার জামাটা ফেলে গেছে।” 16তারপর তার স্বামী অর্থাৎ যোষেফের মনিব আসা পর্যন্ত সে সেই জামাটা তার কাছে রেখে দিল। 17স্বামীকেও সে ঐ একই ঘটনা বলল। সে বলল, “যে ইব্রীয় দাসটিকে তুমি এখানে এনেছ, সে আমাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিল। 18কিন্তু সে আমার কাছে আসতেই আমি চিৎকার করে উঠলাম। সে দৌড়ে পালাল বটে কিন্তু তার জামাটা ফেলে গেল।”
19যোষেফের মনিব তাঁর স্ত্রীর সব কথা শুনে ক্রুদ্ধ হলেন। 20তাই রাজার শত্রুদের যে কারাগারে রাখা হত, পোটীফর যোষেফকে সেইখানে রাখলেন। যোষেফ সেখানে রইলেন।
যোষেফ কারাগারে
21কিন্তু প্রভু যোষেফের সঙ্গে ছিলেন। প্রভু যোষেফের প্রতি দয়া করে চললেন। কিছুদিন পরে সেই কারাগারের রক্ষকদের প্রধানের কাছে তিনি প্রিয় হলেন। 22সেই কারাগারের সমস্ত বন্দীদের ভার যোষেফের হাতে দিলেন। সেই পদে অধিষ্ঠিত যে কোন পদাধিকারী স্বাভাবিকভাবে যা করেন, যোষেফ তাই করতেন। 23সুতরাং যোষেফের অধীনের কোন কাজই কারাধিকারীকে তত্ত্বাবধান করতে হত না। এটা হয়েছিল কারণ প্রভু তাঁর সঙ্গে ছিলেন এবং তাঁকে সব কাজে সফল করেছিলেন।
40যোষেফ দুটি স্বপ্নের ব্যাখ্যা করলেন
1পরে ফরৌণের দুই ভৃত্য ফরৌণের প্রতি কিছু অন্যায় কাজ করল। এই ভৃত্যরা ছিল তাঁর রুটিওয়ালা ও দ্রাক্ষারস পরিবেশনকারী। 2ফরৌণ প্রধান রুটিওয়ালা ও দ্রাক্ষারস পরিবেশনকারীর উপর ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। 3তাই ফরৌণ তাদের যোষেফের সাথে একই কারাগারে রাখলেন। পোটীফর, ফরৌণের কারারক্ষকদের প্রধান সেই কারাগারের দায়িত্বে ছিলেন। 4প্রধান কারারক্ষক সেই দুই বন্দীকে যোষেফের পরিচর্যার অধীনে রাখলেন। সেই দুইজন লোকই কিছু সময় সেই কারাগারে রইল। 5একদিন রাত্রে দুই বন্দীই স্বপ্ন দেখল। (এই দুই বন্দী ছিল মিশরের রাজার রুটিওয়ালা ও দ্রাক্ষারস পরিবেশনকারী।) প্রত্যেক বন্দীই ভিন্ন ভিন্ন স্বপ্ন দেখল এবং প্রতিটি স্বপ্নের নিজস্ব অর্থ ছিল। 6পরের দিন সকালে যোষেফ তাদের কাছে গিয়ে দেখলেন যে তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ। 7যোষেফ জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমাদের এত বিষন্ন দেখাচ্ছে কেন?”
8লোক দুটি উত্তর করল, “গত রাতে আমরা স্বপ্ন দেখেছি কিন্তু স্বপ্নের অর্থ বুঝছি না। সেই স্বপ্নের অর্থ বলার বা তা বুঝিয়ে দেবার কেউ নেই।”
যোষেফ তাদের বললেন, “ঈশ্বরই একজন যিনি বোঝেন ও স্বপ্নের অর্থ বলতে পারেন। তাই আমার অনুরোধ, তোমাদের স্বপ্নগুলো বল।”
দ্রাক্ষারস পরিবেশকের স্বপ্ন
9সুতরাং দ্রাক্ষারস পরিবেশক যোষেফকে তার স্বপ্ন বলল, “আমি স্বপ্নে একটা দ্রাক্ষালতা দেখলাম। 10সেই লতায় তিনটে শাখা ছিল। আমি দেখলাম শাখাগুলিতে ফুল হল এবং দ্রাক্ষা ফলল। 11আমি ফরৌণের পানপাত্র ধরেছিলাম, তাই সেই দ্রাক্ষাগুলোকে সেই কাপে নিঙড়ে নিলাম। তারপর সেই পানপাত্র ফরৌণকে দিলাম।”
12তখন যোষেফ বললেন, “সেই স্বপ্নের অর্থ আমি তোমায় বলছি। তিনটি শাখার অর্থ তিন দিন। 13তিন দিন শেষ হবার আগেই ফরৌণ তোমায় ক্ষমা করে আবার তোমাক কাজে বহাল করবেন। তুমি ফরৌণের জন্য আগে যে কাজ করতে তাই-ই করবে। 14কিন্তু তুমি ছাড়া পেলে আমায় স্মরণ করো। আমার প্রতি দয়া করো। ফরৌণকে আমার সম্বন্ধে বলো যাতে আমি কারাগার থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। 15আমাকে জোর করে আমার নিজের জায়গা, ইব্রীয়দের দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কারাগারে থাকার মত কোন অন্যায়ই আমি করি নি।”
রুটিওয়ালার স্বপ্ন
16রুটিওয়ালা দেখল অন্য ভৃত্যের স্বপ্নটা ভাল। তখন সে যোষেফকে বলল, “আমিও একটা স্বপ্ন দেখেছি। দেখলাম আমার মাথায় রুটির তিনটে ঝুড়ি রয়েছে। 17উপরের ঝুড়িতে সব রকমের সেঁকা খাবার ছিল। সেই খাবার রাজার জন্য ছিল কিন্তু পাখীরা ঐ খাবার খেতে লাগল।”
18যোষেফ বললেন, “আমি তোমাকে স্বপ্নের অর্থ বলছি। তিনটে ঝুড়ির অর্থ তিন দিন। 19তিন দিনের মধ্যে রাজা তোমাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেবেন। তিনি তোমার শিরশ্ছেদ করে একটা বাঁশের মাথায় ঝুলিয়ে দেবেন। আর পাখীরা তোমার দেহের মাংস খাবে।”
যোষেফের কথা মনে রইল না
20তৃতীয় দিনটা ছিল ফরৌণের জন্ম দিন। ফরৌণ তাঁর সব দাসদের জন্য ভোজের আয়োজন করলেন। সেই সময়ে ফরৌণ রুটিওয়ালা ও দ্রাক্ষারস পরিবেশককে কারাগার থেকে মুক্তি দিলেন। 21ফরৌণ পানপাত্র বাহককে মুক্তি দিয়ে পুনরায় তাকে তার কাজে নিয়েগ করলেন। আর সেই পানপাত্র বাহক আবার ফরৌণের হাতে পানপাত্র দিতে লাগল। 22কিন্তু ফরৌণ রুটিওয়ালাকে ফাঁসি দিলেন। যোষেফ যেমনটি বলেছিলেন সেরকম ভাবেই সব ঘটনা ঘটল। 23কিন্তু সেই পানপাত্র বাহকদের যোষেফকে সাহায্য করার কথা মনে রইল না। সে যোষেফের বিষয় ফরৌণকে কিছুই বলল না, যোষেফের কথা ভুলে গেল।
41ফরৌণের স্বপ্ন
1দু বছর পর ফরৌণ একটা স্বপ্ন দেখলেন। দেখলেন তিনি নীল নদীর ধারে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। 2স্বপ্নে নদী থেকে সাতটা গরু উঠে এসে ঘাস খেতে লাগল। গরুগুলো ছিল হৃষ্টপুষ্ট, দেখতেও ভালো। 3এরপর নদী থেকে আরও সাতটা গরু উঠে এসে পাড়ের হৃষ্টপুষ্ট গরুগুলোর গা ঘেঁসে দাঁড়াল। কিন্তু ঐ গরুগুলো রোগা ছিল, দেখতেও অসুস্থ। 4সেই সাতটা অসুস্থ গরু সাতটা হৃষ্টপুষ্ট গরুগুলোকে খেয়ে ফেলল। তখনই ফরৌণের ঘুম ভেঙ্গে গেল।
5ফরৌণ আবার শুতে গেলেন; আবার স্বপ্ন দেখলেন। এইবার দেখলেন একটা গাছে সাতটা শীষ বেড়ে উঠছে। শীষগুলো পুষ্ট এবং শস্যে ভরা। 6তারপর দেখলেন আরও সাতটা শীষ উঠছে। কিন্তু শীষগুলো অপুষ্ট আর পূবের বাতাসে ঝলসে গেছে। 7এরপর ঐ রোগা রোগা সাতটা শীষ পুষ্ট সাতটা শীষকে খেয়ে ফেলল। ফরৌণের ঘুম আবার ভেঙ্গে গেল। তিনি বুঝলেন যে তিনি স্বপ্ন দেখছিলেন। 8পরের দিন সকালে রাতে দেখা স্বপ্নগুলোর জন্য ফরৌণের মন অস্থির হয়ে উঠল। তাই তিনি মিশরের সমস্ত যাদুকর ও জ্ঞানী লোকদের ডেকে পাঠালেন। ফরৌণ তাঁর স্বপ্ন তাদের বললেন কিন্তু কেউ তার অর্থ বলতে পারল না।
ভৃত্যটি যোষেফের কথা বলল
9তখন পানপাত্রবাহকের যোষেফের কথা মনে পড়ল। ভৃত্যটি ফরৌণকে বলল, “আমার সাথে যা ঘটেছিল তা মনে পড়ছে। 10আপনি আমার ও রুটিওয়ালার উপর রেগে গিয়েছিলেন এবং আমাদের বন্দী করেছিলেন। 11তারপর এক রাতে সে ও আমি স্বপ্ন দেখলাম। প্রত্যেকটি স্বপ্নের আলাদা অর্থ ছিল। 12আমাদের সাথে কারাগারে এক ইব্রীয় যুবক ছিল। সে ছিল রক্ষীদের অধিকারী ভৃত্য। আমরা তাকে আমাদের স্বপ্ন বললে সে তার মানে বলে দিল। 13আর সে যা বলল বাস্তবে তাই-ই ঘটল। সে বলেছিল যে আমি মুক্তি পেয়ে আবার পুরানো কাজ ফিরে পাব—ঘটলও তাই। রুটিওয়ালা সম্বন্ধে বলেছিল যে সে মারা যাবে—ঘটলও তাই।”
স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে যোষেফের ডাক পড়ল
14তাই ফরৌণ যোষেফকে ডেকে পাঠালে দুজন রক্ষী দ্রুত তাকে কারাগার থেকে বার করে আনল। যোষেফ দাড়ি কামালেন, পরিষ্কার জামা পরলেন। তারপর ফরৌণের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। 15ফরৌণ যোষেফকে বললেন, “আমি একটা স্বপ্ন দেখেছি কিন্তু কেউ তার ব্যাখ্যা করতে পারছে না। আমি শুনেছি যে তুমি স্বপ্ন শুনলে তার ব্যাখ্যা করতে পার।”
16উত্তরে যোষেফ বললেন, “আমি পারি না! কিন্তু হয়তো ফরৌণের জন্য ঈশ্বর তার অর্থ বলে দেবেন।”
17তখন ফরৌণ যোষেফকে বলতে লাগলেন, “আমার দেখা স্বপ্নে আমি নীল নদীর ধারে দাঁড়িয়েছিলাম। 18তখন নদী থেকে সাতটা গরু উঠে এসে ঘাস খেতে শুরু করল। গরুগুলো ছিল হৃষ্টপুষ্ট, দেখতেও সুন্দর। 19তারপর আমি নদী থেকে আরও সাতটি গরু উঠে আসতে দেখলাম। কিন্তু এই গরুগুলো রোগা রোগা, দেখতেও অসুস্থ। ঐরকম বিশ্রী গরু আমি মিশরে কখনও দেখি নি। 20তারপর রোগা অসুস্থ গরুগুলো প্রথমে আসা হৃষ্টপুষ্ট গরুগুলোকে খেয়ে ফেলল। 21কিন্তু তাও তাদের চেহারা রোগা আর অসুস্থই রইল। দেখে মনেই হবে না যে তারা সেই মোটা মোটা গরুগুলো খেয়েছে। তারপর আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল।
22“আমার পরের স্বপ্নে আমি দেখলাম একটা গাছে সাতটা শীষ বেড়ে উঠছে। শীষগুলো পুষ্ট শস্যের দানায় ভরা। 23তারপর সেগুলোর পরে সাতটা আরও শীষ উঠে এলো। কিন্তু এগুলো রোগা আর পূবের বাতাসে ঝলসানো ছিল। 24এরপর সেই অপুষ্ট শীষগুলো পুষ্ট শীষগুলোকে খেয়ে ফেলল।
“আমার যাদুকরদের আমি এই স্বপ্নগুলো বললাম বটে কিন্তু তারা তার অর্থ বলতে পারল না। স্বপ্নগুলোর অর্থ কি?”
যোষেফ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করলেন
25তখন যোষেফ ফরৌণকে বললেন, “এই দুই স্বপ্নের বিষয়টা এক। ঈশ্বর শীঘ্রই যা করতে চলেছেন তা আপনার কাছে প্রকাশ করেছেন। 26উভয় স্বপ্নের প্রকৃত অর্থ এক। সাতটা ভাল গরু এবং সাতটা ভাল শীষ সাতটা ভাল বছরকে বোঝাচ্ছে। 27আর সাতটা রোগা গরু, সাতটা অপুষ্ট শীষ বোঝায় সাতটা দুর্ভিক্ষের বছর। সাতটা ভাল বছরের পর দুর্ভিক্ষের সাত বছর আসবে। 28শীঘ্র যা ঘটতে চলেছে ঈশ্বর তাই-ই আপনাকে দেখিয়েছেন। যে ভাবে আমি বললাম ঈশ্বর সেইভাবেই এসব ঘটাবেন। 29সাত বছর মিশরে প্রচুর শস্য উৎপন্ন হবে। 30কিন্তু তারপর আসবে দুর্ভিক্ষের সাতটা বছর। মিশরের লোকরা ভুলে যাবে অতীতে কত শস্যই না হত। এই দুর্ভিক্ষে দেশ নষ্ট হবে। 31লোকরা ভুলে যাবে শস্যের প্রাচুর্য্য বলতে কি বোঝায়।
32“ফরৌণ, আপনি একটি বিষয় নিয়ে দুটি স্বপ্ন দেখেছন। কারণ ঈশ্বর যে সত্যিই তা ঘটাতে চলেছেন তা আপনাকে দেখাতে চাইলেন। আর তিনি শীঘ্রই তা ঘটাবেন। 33তাই ফরৌণ, আপনার উচিৎ একজন সুবুদ্ধি ও জ্ঞানবান লোক খুঁজে তাকে মিশর দেশের জন্য নিযুক্ত করা। 34তারপর আপনি অন্য লোকদের নিয়োগ করুন যেন তারা খাদ্য সংগ্রহ করে। সাতটি ভাল বছরের প্রত্যেকটি লোক তাদের উৎপন্ন শস্যের এক পঞ্চমাংশ সেই লোকদের দিক। 35এইভাবে ঐ লোকরা ঐ সাতটি ভাল বছরে প্রচুর খাদ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজন না পড়া পর্যন্ত শহরে শহরে সংগ্রহ করে রাখবে। এইভাবে ফরৌণ, আপনার অধীনে ঐ খাদ্য আসবে। 36তারপর দুর্ভিক্ষের সাত বছরে মিশর দেশের জন্য খাদ্য থাকবে। আর দুর্ভিক্ষে মিশর ধ্বংস হয়ে যাবে না।”
37এই পরিকল্পনা ফরৌণের মনপুতঃ হল আর তাঁর আধিকারিকরাও মেনে নিল। 38তারপর ফরৌণ তাদের বললেন, “ঐ কাজ করার জন্যে মনে হয় না আমরা যোষেফের থেকে আর ভাল কাউকে পাব! ঈশ্বরের আত্মা তার সঙ্গে রয়েছে আর সেই জন্যই সে জ্ঞানবান!”
39তাই ফরৌণ যোষেফকে বললেন, “ঈশ্বর তোমাকে এই সমস্ত যখন জানিয়েছেন তখন তোমার মত জ্ঞানী আর কে হতে পারে? 40আমি তোমাকে আমার নিয়ন্ত্রণের জন্য নিযুক্ত করলাম, সমস্ত লোক তোমার আদেশ পালন করবে। ক্ষমতার দিক থেকে কেবল আমি তোমার চেয়ে বড় থাকব।”
41ফরৌণ যোষেফকে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্যপাল করলেন। ফরৌণ যোষেফকে বললেন, “আমি তোমাকে সমগ্র মিশরের রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত করলাম।”
42তারপর ফরৌণ তাঁর আংটি খুলে যোষেফের হাতে পরিয়ে দিলেন। সেই আংটিতে রাজকীয় ছাপ ছিল। ফরৌণ তাকে মিহি কার্পাসের পোশাক দিলেন এবং তার গলায় সোনার হার পরিয়ে দিলেন। 43ফরৌণ যোষেফকে দ্বিতীয় রথে চড়তে দিলেন। রক্ষকরা যোষেফের রথের আগে আগে যেতে যেতে লোকদের বলতে থাকল, “যোষেফের সামনে হাঁটু গাড়ো।”
এইভাবে যোষেফ সমগ্র মিশরের রাজ্যপাল হলেন। 44ফরৌণ তাকে বললেন, “আমি রাজা ফরৌণ, সুতরাং আমি যা চাই তাই করব কিন্তু মিশরের আর কেউ তোমার আজ্ঞা ছাড়া হাত অথবা পা তুলতে পারবে না।”
45ফরৌণ যোষেফের আর এক নাম সাফনত্-পানেহ রাখলেন। ফরৌণ যোষেফকে আসনৎ নামে এক কন্যার সঙ্গে বিয়েও দিলেন। সে ছিল ওন নামক শহরে যাজক পোটীফরের কন্যা। এইভাবে যোষেফ সমস্ত মিশর দেশের রাজ্যপাল হলেন।
46যোষেফের 30 বছর বয়সে তিনি মিশর দেশের রাজার সেবা করতে শুরু করলেন। তিনি সমস্ত মিশর দেশ ঘুরলেন। 47সাত বছর মিশরে খুব ভাল শস্য উৎপন্ন হল। 48আর ঐ সাত বছর ধরে যোষেফ মিশরে খাবার সঞ্চয় করলেন। প্রত্যেক শহরে শহরে যোষেফ সেই শহরের আশেপাশের ক্ষেতে যা জন্মাত তার থেকে সংগ্রহ করতেন। 49যোষেফ সমুদ্রের বালির মত এত শস্য সংগ্রহ করলেন যে তা মাপা গেল না কারণ তা মাপা সম্ভব ছিল না। 50যোষেফের স্ত্রী আসনৎ ছিলেন ওন শহরের যাজকের কন্যা। দুর্ভিক্ষের প্রথম বছর আসার আগেই যোষেফ এবং আসনতের দুটি পুত্র হল। 51প্রথম পুত্রের নাম রাখা হল মনঃশি। যোষেফ এই নাম দিলেন কারণ তিনি বললেন, “ঈশ্বর আমার সমস্ত কষ্ট ও আমার বাড়ীর সমস্ত চিন্তা ভুলে যেতে দিলেন।” 52যোষেফ দ্বিতীয় পুত্রের নাম রাখলেন ইফ্রয়িম। যোষেফ এই নাম রাখলেন কারণ তিনি বললেন, “আমার মহাকষ্টের মধ্যেও ঈশ্বর আমাকে ফলবান করেছেন।”
দুর্ভিক্ষের সময় এল
53সাত বছর লোকরা খাদ্যের জন্য প্রচুর শস্য পেল। তারপর সেই বছরগুলো শেষ হল। 54এবার দুর্ভিক্ষের সাতটা বছর শুরু হল ঠিক যেমনটি যোষেফ বলেছিলেন। সেই অঞ্চলের কোন দেশে কোথাও কোন খাদ্য শস্য জন্মালো না। কিন্তু মিশরের লোকদের জন্য যথেষ্ট খাদ্য ছিল. কারণ যোষেফ শস্য জমা করে রেখেছিলেন। 55দুর্ভিক্ষের সময় শুরু হলে লোকরা খাদ্যের জন্য ফরৌণের কাছে এসে কান্নাকাটি করল। ফরৌণ মিশরীয়দের বললেন, “যাও যোষেফকে গিয়ে জিজ্ঞেস কর কি করতে হবে।”
56সব জায়গায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে যোষেফ গুদাম থেকে লোকদের শস্য বিক্রি করতে শুরু করলেন। দুর্ভিক্ষ মিশরেও ভয়াবহ রূপ নিল। 57সর্বত্রই সেই দুর্ভিক্ষ প্রবল হল, ফলে মিশরের আশেপাশের দেশ থেকেও লোকরা শস্য কিনতে এলো।
42স্বপ্ন সত্যি হলো
1কনান দেশেও প্রবলভাবে দুর্ভিক্ষ হলো। যাকোব জানতে পারল যে মিশর দেশে শস্য রয়েছে। তাই যাকোব তার পুত্রদের বলল, “আমরা কিছু না করে কেন এখানে বসে রয়েছি? 2শুনলাম মিশর দেশে শস্য বিক্রি হচ্ছে। চল সেখানে গিয়ে আমরা শস্য কিনি। তাহলে আমরা বাঁচব। মরব না!”
3তাই যোষেফের দশ ভাই মিশরে শস্য কিনতে গেলেন। 4যাকোব কিন্তু বিন্যামীনকে পাঠালেন না। (কেবল বিন্যামীনই যোষেফের সহোদর ভাই ছিলেন।) যাকোব ভয় পেলেন পাছে বিন্যামীনের খারাপ কিছু ঘটে।
5কনানেও দুর্ভিক্ষ ভয়াবহ রূপ নিল ফলে কনান দেশের বহু লোক মিশরে শস্য কিনতে গেল। তাদের মধ্যে ইস্রায়েলের সন্তানরাও ছিলেন।
6সেই সময় যোষেফ মিশর দেশের রাজ্যপাল ছিলেন। আর যে সব লোক মিশরে শস্য কিনতে আসত তাদের উপর যোষেফ নজর রাখতেন। তাই যোষেফের ভাইরাও তার কাছে এসে হেঁট হয়ে প্রণাম করল। 7যোষেফ তাঁর ভাইদের দেখে চিনতে পারলেন, কিন্তু এমন ভান করলেন যেন তাদের চেনেনই না। তিনি তাদের সঙ্গে কর্কশভাবে কথা বললেন। তিনি বললেন, “তোমরা কোথা থেকে এসেছ?”
ভাইরা উত্তর দিল, “আমরা কনান দেশ থেকে এখানে খাদ্য কিনতে এসেছি।”
8যোষেফ জানতেন যে এই লোকরাই তার ভাই কিন্তু তারা যোষেফকে চিনল না। 9আর ভাইদের নিয়ে যোষেফ যে স্বপ্নগুলি দেখেছিলেন তা তাঁর মনে পড়ে গেল।
যোষেফ তাঁর ভাইদের বললেন, “তোমরা এখানে শস্য কিনতে আস নি! তোমরা গুপ্তচর। তোমরা আমাদের দুর্বল জায়গাগুলো জানতে এসেছ।”
10কিন্তু তাঁর ভাইরা বলল, “তা নয় মহাশয়! আমরা আপনার দাস, কেবল খাদ্য কিনতে এসেছি। 11আমরা ভাইরা এক পিতার সন্তান। আমরা সৎ লোক, আমরা কেবল খাদ্য কিনতে এসেছি।”
12তখন যোষেফ তাদের বললেন, “তা নয়, কিন্তু তোমরা আমাদের কোথায় দুর্বলতা তাই দেখতে এসেছ।”
13আর ভাইরা বলল, “না! আমরা সবাই ভাই ভাই! আমাদের পরিবারে আমরা বারো ভাই। আমাদের সকলের পিতা একজনই। ছোট ভাই এখনও আমাদের পিতার কাছে রয়েছে। অন্য ভাইটি বহু বছর আগে মারা গেছে। আমরা আপনার দাস, কনান দেশ থেকে এসেছি।”
14কিন্তু যোষেফ তাদের বললেন, “না! আমি দেখছি আমার কথাই ঠিক। তোমরা গুপ্তচরই বটে। 15কিন্তু তোমরা যে সত্য বলছ তা আমি তোমাদের প্রমাণ করতে দেব। ফরৌণের নামে দিব্যি দিয়ে বলছি, যে পর্যন্ত না তোমাদের ছোট ভাই এখানে আসে আমি তোমাদের যেতে দেব না। 16আমি তোমাদের একজনকে যেতে দেব যে ছোট ভাইকে আমার কাছে নিয়ে আসবে, সেই সময়ে তোমরা কারাগারে থাকবে। আমরা দেখব যে তোমাদের কথা সত্যি কিনা, যদিও আমার বিশ্বাস যে তোমরা গুপ্তচর।” 17তারপর যোষেফ তাদের তিনদিনের জন্য কারাগারে রাখলেন।
শিমিয়োনকে বন্ধকরূপে রাখা হল
18তিন দিন পরে যোষেফ তাদের বললেন, “আমি ঈশ্বরকে ভয় করি! এই কাজ করলে তোমরা বাঁচবে। 19তোমরা যদি সত্যিই সৎ লোক হও তবে তোমাদের এক ভাই এখানে এই কারাগারে থাকুক। অন্যরা শস্য বহন করে আপনজনের কাছে নিয়ে যেতে পারে। 20কিন্তু তোমরা অবশ্যই ছোট ভাইকে এখানে আমার কাছে নিয়ে আসবে। তাহলে আমি জানব যে তোমরা সত্য বলছ এবং তোমরা প্রাণে বাঁচবে।”
ভাইরা এতে সম্মতি জানাল। 21তারা একে অপরকে বলল, “আমরা যোষেফের প্রতি যে অন্যায় কাজ করেছিলাম তার জন্য এই শাস্তি পাচ্ছি। আমরা তাঁর কষ্ট দেখেও তাঁর প্রাণের জন্য মিনতি শুনতে অস্বীকার করেছিলাম, আর এখন তাই আমরা এই সমস্যায় পড়েছি।”
22তখন রূবেণ তাদের বলল, “আমি তোমাদের বলেছিলাম ঐ ছেলেটার প্রতি কোন অন্যায় করো না। কিন্তু তোমরা আমার কথা শুনতে চাও নি। তাই এখন তার মৃত্যুর জন্য আমরা শাস্তি পাচ্ছি।”
23যোষেফ ভাইদের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুবাদক ব্যবহার করছিলেন। তাই ভাইরা বুঝল না যে যোষেফ তাদের ভাষা বুঝতে পারছেন। কিন্তু যোষেফ যা শুনছিলেন তার সব কিছুই বুঝলেন। তাদের কথাবার্তা যোষেফকে দুঃখিত করল। 24তাই যোষেফ তাদের থেকে দূরে গিয়ে কাঁদলেন। কিছুক্ষণ পরে যোষেফ আবার তাদের কাছে ফিরে এলেন। তিনি শিমিয়োনকে ধরে তাদের সামনেই বাঁধলেন। 25যোষেফ তাঁর ভৃত্যদের বললেন যেন তাদের বস্তাগুলো শস্যে ভরে দেয়। ভাইরা শস্যের জন্য যোষেফকে টাকা দিল। কিন্তু যোষেফ সে টাকা না নিয়ে তাদের বস্তাতেই ফেরত রাখলেন। তারপর তিনি তাদের পথ যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলিও দিলেন।
26তাই ভাইরা গাধার পিঠে শস্য চাপিয়ে রওনা হল। 27সেই রাত্রে ভাইরা রাত কাটানোর জন্য এক জায়গায় এসে থামল। এক ভাই গাধার খাবার শস্য বার করার জন্য বস্তা খুলতেই বস্তায় তার টাকা দেখতে পেল। 28সে অন্য ভাইদের বলল, “দেখ, শস্য কিনতে যে টাকা দিয়েছিলাম তা ফেরত এসেছে।” কেউ বস্তায় টাকা ফেরত রেখেছে। এতে ভাইরা খুব ভয় পেয়ে গেল। তারা একে অন্যকে বলল, “ঈশ্বর আমাদের প্রতি এ কি করেছেন?”
ভাইরা যাকোবকে ঘটনার বিবরণ দিল
29ভাইরা তাদের কনান দেশে পিতা যাকোবের কাছে ফিরে গেল। যা ঘটেছে তার সব কিছু তারা যাকোবকে বলল। 30তারা বলল, “সেই দেশের রাজ্যপাল আমাদের সঙ্গে কর্কশভাবে কথা বললেন। তিনি ভাবলেন আমরা গুপ্তচর! 31কিন্তু আমরা তাঁকে বললাম যে আমরা গুপ্তচর নই, আমরা সৎ লোক। 32আমরা তাঁকে আমাদের পিতার কথা এবং ছোট ভাই কনান দেশে পিতার সঙ্গে বাড়ীতে রয়েছে তার কথা এবং এক ভাই যে মারা গেছে তার কথাও বললাম।”
33“তখন সেই দেশের রাজ্যপাল আমাদের এই কথা বললেন, ‘তোমরা যে সৎ লোক তার প্রমাণ দেবার একটা পথ রয়েছে। আমার এখানে তোমাদের এক ভাইকে রেখে যাও। তোমাদের শস্য তোমাদের পরিবারের কাছে নিয়ে যাও। 34তারপর তোমাদের ছোট ভাইকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তাহলে আমি বুঝব তোমরা সৎ লোক, অথবা তোমরা গুপ্তচর হয়ে আমাদের ধ্বংস করতে এসেছ কিনা। তোমরা যদি সত্যি বলছ প্রমাণ হয় তবে আমি তোমাদের ভাইকে ফেরত দেব আর তোমরা আবার স্বচ্ছন্দে এই দেশ থেকে শস্য কিনতে পারবে।’”
35তারপর ভাইরা তাদের বস্তা থেকে শস্য বার করতে শুরু করলো। আর প্রত্যেক ভাই নিজের নিজের বস্তায় নিজের নিজের টাকা খুঁজে পেলো। ভাইরা ও তাদের পিতা সেই টাকা দেখে ভীত হল।
36যাকোব তাদের বললেন, “তোমরা কি চাও আমি আমার সব সন্তানদের হারাই? যোষেফ চলে গেছে। শিমিয়োনও নেই। আর এখন তোমরা বিন্যামীনকেও নিয়ে যেতে এসেছ।”
37কিন্তু রূবেন তার পিতাকে বলল, “পিতা, যদি আমি বিন্যামীনকে তোমার কাছে ফিরিয়ে না আনি তবে তুমি আমার দুই সন্তানকে হত্যা করো।”
38কিন্তু যাকোব বললেন, “আমি বিন্যামীনকে তোমাদের সঙ্গে যেতে দেব না। তার ভাই মৃত আর আমার স্ত্রী রাহেলের পুত্রদের মধ্যে সেই অবশিষ্ট। মিশরে যাবার পথে তার যদি কিছু হয় তবে তা আমাকে মেরেই ফেলবে। তাহলে এই দুঃখে তোমরা আমাকে, এই বৃদ্ধ মানুষকে মেরে ফেলবে।”
43বিন্যামীনের মিশরে যাওয়ার জন্য যাকোবের সম্মতি
1দুর্ভিক্ষের সময়টা সেই দেশের পক্ষে খারাপ হল। 2মিশর থেকে আনা সব শস্যই লোকরা খেয়ে শেষ করে ফেলল। যখন সেইসব শস্য শেষ হল, যাকোব তার দুটি পুত্রকে বলল, “মিশরে গিয়ে খাবার জন্য আরও শস্য কিনে আনো।”
3কিন্তু যিহূদা যাকোবকে বলল, “কিন্তু সেই দেশের রাজ্যপাল আমাদের সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের ভাইকে নিয়ে না এলে আমি তোমাদের সঙ্গে কথা বলব না।’ 4আপনি বিন্যামীনকে আমাদের সঙ্গে পাঠালে আমরা আবার শস্য কিনতে যেতে পারি। 5কিন্তু বিন্যামীনকে না পাঠালে আমরা যাব না। সেই রাজ্যপাল আমাদের সাবধান করে দিয়ে বলেছেন তাকে না নিয়ে আসা চলবে না।”
6ইস্রায়েল বললেন, “কেন তোমরা তাঁকে বললে যে তোমাদের আরেক ভাই রয়েছে? কেন তোমরা আমায় এই রকম বিপদে ফেললে?”
7ভাইরা উত্তরে বলল, “লোকটি অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছিলেন। তিনি আমাদের ও আমাদের পরিবার সম্বন্ধে সব কিছু জানতে চাইছিলেন। তিনি এও জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমাদের পিতা কি এখনও জীবিত আছেন? তোমাদের বাড়ীতে কি আর কোন ভাই রয়েছে?’ আমরা কেবল তাঁর প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। আমরা জানতাম না যে তিনি ছোট ভাইকে নিয়ে আসতে বলবেন।”
8তখন যিহূদা তার পিতা ইস্রায়েলকে বলল, “বিন্যামীনকে আমার সঙ্গে যেতে দিন। আমি তার যত্ন নেব। আমাদের মিশরে যেতেই হবে, না গেলে আমরা সবাই মারা যাব, এমনকি আমাদের সন্তানরাও মরবে। 9আমি নিশ্চিতভাবে তার নিরাপত্তার দিকে নজর রাখব। আমিই তার দায়িত্ব নেব। আমি যদি তাকে ফেরত না আনি তবে চিরকাল তোমার কাছে অপরাধী থাকব। 10আমাদের যদি আগে যেতে দিতে তবে আমরা দ্বিতীয়বার খাবার নিয়ে আসতে পারতাম।” 11তখন তাদের পিতা ইস্রায়েল বললেন, “এই যদি সত্যি হয় তবে বিন্যামীনকে তোমাদের সঙ্গে নাও। কিন্তু রাজ্যপালের জন্য কিছু উপহার নিয়ে যেও। সেই সমস্ত জিনিস যা আমরা আমাদের দেশে সংগ্রহ করেছি তা নিয়ে যাও। তার জন্য মধু, পেস্তা, বাদাম, ধূনো, আঠা এবং সুগন্ধদ্রব্য এইসব নিয়ে যাও। 12এইবার তোমাদের সঙ্গে দ্বিগুন টাকা নিও। গতবার দাম মেটাবার পর যে টাকা তোমাদের কাছে ফেরৎ এসেছিল তা সঙ্গে নাও। হতে পারে রাজ্যপালের ভুল হয়েছিল। 13বিন্যামীনকে নিয়েই তার কাছে যাও। 14আমার প্রার্থনা তোমরা যখন রাজ্যপালের সামনে দাঁড়াবে তখন যেন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তোমাদের সাহায্য করেন। প্রার্থনা করি সে যেন বিন্যামীন ও শিমিয়োনকে নিরাপদে ফিরে আসতে দেয়। যদি তা না হয় তবে আমি পুত্র হারানোর শোকে আবার মুষড়ে পড়ব।”
15তাই ভাইরা রাজ্যপালকে দেবার জন্য উপহারগুলো নিল আর সঙ্গে আগে যা নিয়েছিল তার দ্বিগুন টাকা নিল। এইবার বিন্যামীনও তার ভাইদের সাথে মিশরে গেল।
ভাইদের যোষেফের বাড়ীতে নিমন্ত্রণ জানানো হল
16মিশরে যোষেফ বিন্যামীনকে তার ভাইদের সঙ্গে দেখতে পেয়ে ভৃত্যদের বললেন, “ঐ লোকদের আমার বাড়ী নিয়ে এস। পশু মেরে রান্না কর। এই লোকরা আজ দুপুরে আমার সঙ্গে খাবে।” 17ভৃত্যটি কথা মত কাজ করল। সে ঐ লোকদের যোষেফের বাড়ীর ভিতর নিয়ে এল।
18যোষেফের বাড়ী যাবার সময় ভাইরা ভয় পেয়ে গেল। তারা বলল, “গতবার যে টাকা আমাদের বস্তায় ফেরৎ দেওয়া হয়েছিল তার জন্যই বোধহয় আমাদের এখানে আনা হচ্ছে। ঐ বিষয়টিকেই আমাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করে তারা আমাদের গাধা কেড়ে নিয়ে আমাদের দাস করে রাখবে।”
19তাই ভাইরা যোষেফের বাড়ীর প্রধান ভৃত্যের কাছে গেল। 20তারা বলল, “সত্যি বলছি গতবার আমরা শস্য কিনতে এসেছিলাম। 21 বাড়ী ফেরার পথে আমরা বস্তা খুলে প্রত্যেক বস্তায় আমাদের টাকা খুঁজে পেলাম। আমরা জানি না টাকা সেখানে কি করে এলো। কিন্তু আমরা সেই টাকা ফেরৎ দেবার জন্য নিয়ে এসেছি। আর এবারের শস্য কেনার জন্যও টাকা এনেছি।”
23কিন্তু সেই ভৃত্য বলল, “ভয় পেও না, আমায় বিশ্বাস কর। তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের পিতার ঈশ্বর নিশ্চয়ই উপহার হিসাবে সেই টাকা তোমাদের বস্তায় ফেরৎ দিয়েছেন। আমার মনে আছে তোমরা গতবার শস্যের জন্য দাম দিয়েছিলে।”
তারপর সেই ভৃত্যটি শিমিয়োনকে কারাগার থেকে বাইরে আনল। 24ভৃত্যটি তাদের যোষেফের বাড়ী নিয়ে গেল। সে তাদের জল দিলে তারা পা ধুয়ে নিল। তারপর সে তাদের গাধাদের খাবার খেতে দিল।
25ভাইরা শুনতে পেল যে তারা যোষেফের সঙ্গে খাবে। তাই তারা দুপুর পর্যন্ত তাদের উপহার সাজাল। 26যোষেফ বাড়ী ফিরলে ভাইরা তাদের সঙ্গে করে আনা উপহার তাঁকে দিল। তারপর তারা হাঁটু গেড়ে তাকে প্রণাম করল।
27যোষেফ তারা কেমন আছে জিজ্ঞেস করলেন। তারপর বললেন, “তোমাদের বৃদ্ধ পিতা যাঁর সম্বন্ধে আমাকে বলেছিলে তিনি কেমন আছেন? তিনি কি এখনও জীবিত আছেন?”
28ভাইরা উত্তর দিল, “হ্যাঁ, মহাশয়, আমাদের পিতা এখনও জীবিত আছেন।” তারপর তারা আবার যোষেফের সামনে হাঁটু গেড়ে তাঁকে প্রণাম করল।
29তখন যোষেফ বিন্যামীনকে দেখতে পেলেন। (বিন্যামীন ও যোষেফ ছিলেন এক মায়ের সন্তান।) যোষেফ বললেন, “এই কি তোমাদের ছোট ভাই যার সম্বন্ধে তোমরা আমায় বলেছিলে?” তারপর যোষেফ বিন্যামীনকে বললেন, “বৎস, ঈশ্বর তোমায় আশীর্বাদ করুন।”
30সেই সময় যোষেফ ঘর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে গেলেন। যোষেফ তাঁর ভাই বিন্যামীনকে যে ভালবাসেন তা প্রকাশ করতে চাইলেন। তাঁর কান্না পেল, কিন্তু তিনি চাইলেন না যে তাঁর ভাইরা তাঁকে কাঁদতে দেখুক। তাই যোষেফ দৌড়ে তাঁর ঘরে গিয়ে কাঁদতে লাগলেন। 31তারপর যোষেফ তাঁর মুখ ধুয়ে বাইরে বেরিয়ে এলেন। নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বললেন, “এখন খাবার সময় হয়েছে।”
32ভৃত্যরা যোষেফের জন্য একটা টেবিলে ব্যবস্থা করল। অন্য টেবিলে তাঁর ভাইদের বসার ব্যবস্থা হল, এছাড়া মিশরীয়দের জন্য আলাদা আরেকটা টেবিলে ব্যবস্থা করা হল। মিশরীয়রা মনে মনে বিশ্বাস করত যে ইব্রীয়দের সঙ্গে বসে তাদের খাওয়াটা উচিত কাজ নয়। 33যোষেফের ভাইরা তাঁর সামনের টেবিলেই বসল। ভাইরা ছোট থেকে বড়জন পরপর বসেছিল। কি ঘটছিল তাই ভেবে ভাইরা বিস্ময়ে একে অপরের দিকে চাইল। 34ভৃত্যরা যোষেফের টেবিল থেকে খাবার এনে তাদের দিচ্ছিল। তবে ভৃত্যরা বিন্যামীনকে অন্যদের চাইতে পাঁচগুণ বেশী খাবার দিল। ভাইরা যোষেফের সঙ্গে খেল, পান করল যে পর্যন্ত না তারা প্রায় মত্ত হয়ে গেল।
44যোষেফ ফাঁদ পাতলেন
1তারপর যোষেফ তাঁর ভৃত্যদের এক আদেশ দিয়ে বললেন, “ওদের প্রত্যেকের বস্তা বইবার ক্ষমতা অনুসারে শস্য ভর্ত্তি করে দাও। আর প্রত্যেকের টাকাও তাদের শস্যের সঙ্গে রেখে দাও। 2আমার ছোট ভাইয়ের বস্তায় তার টাকাটা রেখো এবং তার সঙ্গে আমার বিশেষ রূপোর পেয়ালাটাও রেখো।” ভৃত্যরা যোষেফের কথা মত কাজ করল।
3পরের দিন ভোরবেলা ভাইদের গাধায় করে দেশে ফেরার জন্য বিদেয় করা হল। 4তারা শহর ছেড়ে বেরোলে যোষেফ তাঁর ভৃত্যকে বললেন, “যাও, ওদের পিছু নাও। ওদের থামিয়ে বল, ‘আমরা তোমাদের প্রতি কি ভাল ব্যবহার করি নি? তবে তোমরা কেন আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে? কেন তোমরা আমার মনিবের রূপোর পেয়ালা চুরি করলে? 5আমার মনিব সেই পেয়ালা থেকে পান করেন এবং গণনার জন্যও ব্যবহার করেন। তোমরা যা করেছ তা অন্যায় কাজ।’”
6ভৃত্যটি সেই মত কাজ করল। সে সেখানে পৌঁছে ভাইদের থামালো। যোষেফ যা বলতে বলেছিলেন, ভৃত্যটি সেই মত কথা বলল।
7কিন্তু ভাইরা ভৃত্যটিকে বলল, “রাজ্যপাল কেন এইরকম কথা বলছেন? আমরা সেইরকম কোন কাজ করতেই পারি না। 8আমরা আমাদের বস্তায় যে টাকা আগের বার পেয়েছিলাম তা ফিরিয়ে এনেছিলাম। তাহলে নিশ্চয়ই আমরা তোমার মনিবের বাড়ী থেকে সোনা কি রূপা কিছুই চুরি করতে পারি না। 9তুমি যদি সেই রূপোর পেয়ালা আমাদের কারও বস্তায় খুঁজে পাও তবে তার মৃত্যু হোক্। তুমি তাকে তাহলে হত্যা করতে পারো এবং সেক্ষেত্রে আমরাও তোমার দাস হব।”
10ভৃত্যটি বলল, “আমরা তোমাদের কথা মতই কাজ করব। কিন্তু আমি সেই জনকে হত্যা করব না। আমি রূপোর পেয়ালা খুঁজে পেলে সেই জন আমার দাস হবে, অন্যরা যেতে পারে।”
বিন্যামীন ফাঁদে ধরা পড়ল
11তখন প্রত্যেক ভাই তাড়াতাড়ি মাটিতে নিজেদের বস্তা খুলে ফেলল। 12ভৃত্যটি বস্তাগুলি দেখতে লাগল। জ্যেষ্ঠ থেকে শুরু করে কনিষ্ঠের বস্তা খুঁজে দেখলে বিন্যামীনের বস্তায় সেই পেয়ালা খুঁজে পাওয়া গেল। 13ভাইরা এতে অত্যন্ত দুঃখিত হল। তারা তাদের শোক প্রকাশ করতে জামা ছিঁড়ে ফেলল। নিজেদের বস্তা আবার গাধায় চাপিয়ে শহরে ফিরে চলল।
14যিহূদা তার ভাইদের নিয়ে যোষেফের বাড়ী গেল। যোষেফ তখনও বাড়ীতে ছিলেন। ভাইরা তার সামনে মাটিতে পড়ে তাঁকে প্রণাম করল। 15যোষেফ তাদের বললেন, “তোমরা কেন এ কাজ করেছ। তোমরা কি জানতে না যে আমি গণনা করতে পারি? এ কাজে আমার থেকে ভালো কেউ নেই।”
16যিহূদা বলল, “মহাশয়, আমাদের বলবার কিছুই নেই। ব্যাখ্যা করারও পথ নেই। আমরা যে নির্দোষ তা প্রমাণ করারও পথ নেই। অন্য কোন অন্যায় কাজের জন্য ঈশ্বর আমাদের বিচারে দোষী করেছেন। সেইজন্য আমরা সবাই এমনকি, বিন্যামীনও, আপনার দাস হব।”
17কিন্তু যোষেফ বললেন, “আমি তোমাদের সবাইকে দাস করব না। কেবল যে পেয়ালা চুরি করেছে সেই আমার দাস হবে। বাকী তোমরা তোমাদের পিতার কাছে শান্তিতে ফিরে যাও।”
যিহূদা বিন্যামীনের জন্য মিনতি করলেন
18তখন যিহূদা যোষেফের কাছে গিয়ে বললেন, “মহাশয়, দয়া করে আমাকে সব কথা পরিস্কার করে আপনাকে বলতে দিন। দয়া করে আমার প্রতি রাগ করবেন না। আমি জানি আপনি ফরৌণের সমান। 19আমরা আগে যখন এখানে এসেছিলাম তখন আপনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তোমাদের একজন পিতা আর ভাই আছে কি?’ 20আমরা আপনাকে উত্তর দিয়েছিলাম, ‘আমাদের এক পিতা আছেন, তিনি বৃদ্ধ। আমাদের এক ছোট ভাই রয়েছে। আমাদের পিতা তাকে ভালবাসেন কারণ সে তাঁর বৃদ্ধ বয়সের সন্তান। আর সেই ছোট ভাইয়ের নিজের এক ভাই মারা গেছে। তাই তার মায়ের পুত্রদের মধ্যে একমাত্র সেই বেঁচে আছে এবং তার পিতা তাকে খুব ভালবাসেন।’ 21তারপর আপনি বললেন, ‘তবে সেই ভাইকেই আমার কাছে নিয়ে এস। আমি তাকে দেখতে চাই।’ 22আর আমরা আপনাকে বললাম, ‘সেই ছোট ভাই পিতাকে ছেড়ে আসতে পারে না। আর পিতা তাকে হারালে শোকেতে মারাই যাবেন।’ 23কিন্তু আপনি আমাদের বললেন, ‘তোমাদের অবশ্যই সেই ভাইকে আনতে হবে নতুবা আমি শস্য বিক্রি করব না।’ 24তাই আমরা ফিরে গিয়ে আপনি যা বলেছিলেন তা আমাদের পিতাকে জানালাম।
25“পরে আমাদের পিতা বললেন, ‘যাও, গিয়ে আরও কিছু শস্য কিনে আনো।’ 26আর আমরা পিতাকে বললাম, ‘আমরা ছোট ভাইকে না নিয়ে যেতে পারি না। রাজ্যপাল বলেছেন ছোট ভাইকে না দেখলে তিনি আমাদের কাছে শস্য বিক্রি করবেন না।’ 27তখন আমাদের পিতা বললেন, ‘তোমরা জান আমার স্ত্রী রাহেলের দুটি সন্তান হয়। 28তাদের একজনকে আমি যেতে দিলে বন্য জন্তু তাকে মেরে ফেলল। সেই থেকে আর কখনও তাকে দেখিনি। 29তোমরা যদি অন্য জনকেও আমার কাছে থেকে নিয়ে যাও আর তার যদি কিছু ঘটে তাহলে আমি শোকে মারা যাব।’ 30এখন ভেবে দেখুন ছোট ভাইকে নিয়ে বাড়ী না ফিরলে কি ঘটবে—এই ছোট ভাই পিতার প্রাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ! 31ছোট ভাইকে আমাদের সঙ্গে না দেখলে আমাদের পিতা মারাই যাবেন আর দোষটা হবে আমাদেরই। তাহলে আমরা আমাদের বৃদ্ধ পিতাকে এই দুঃখের কারণে মেরে ফেলব।
32“এই ছোট ভাইয়ের দায়িত্ব আমিই নিয়েছিলাম। আমি পিতাকে বলেছিলাম, ‘আমি যদি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে না আনি তবে সারাজীবন আমি অপরাধী হয়ে থাকব।’ 33তাই এখন আমার এই ভিক্ষা, দয়া করে ছোট ভাইকে তার ভাইদের সঙ্গে ফিরতে দিন। আর আমি এখানে আপনার দাস হয়ে থাকি। 34ঐ ছোট ভাই না ফিরলে আমি পিতাকে মুখ দেখাতে পারবো না। ভেবে ভয় পাচ্ছি আমার পিতার কি হবে।”
45যোষেফ নিজের পরিচয় দিলেন
1যোষেফ আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলেন না। তিনি সেখানে উপস্থিত সমস্ত লোকের সামনে কেঁদে উঠলেন এবং বললেন, “সবাইকে চলে যেতে বলো।” তাই সব লোক চলে গেল। কেবল যোষেফের ভাইরা সঙ্গে রইল। তখন যোষেফ নিজের পরিচয় দিলেন। 2যোষেফ খুব উচ্চস্বরে কাঁদছিলেন, আর ফরৌণের বাড়ীর সমস্ত মিশরীয়রা তা শুনতে পেল। 3যোষেফ তাঁর ভাইদের বললেন, “আমি তোমাদের ভাই যোষেফ। আমার পিতা ভাল আছেন তো?” কিন্তু ভাইরা উত্তর দিল না কারণ তারা হতবুদ্ধি হল, ভয় পেল।
4তাই যোষেফ আবার তাঁর ভাইদের বললেন, “এখানে আমার কাছে এস। দয়া করে এখানে এস।” তাই ভাইরা যোষেফের কাছে গেল। যোষেফ তাদের বললেন, “আমি তোমাদের ভাই যোষেফ। আমিই সেই, যাকে তোমরা দাস হিসাবে মিশরের জন্য বেচে দিয়েছিলে। 5এখন চিন্তা করো না। তোমরা যা করেছিলে তার জন্য রাগও করো না। ঈশ্বরের পরিকল্পনা অনুসারেই আমি এখানে এসেছি। আমি তোমাদের প্রাণ বাঁচাতেই এখানে এসেছি। 6দুর্ভিক্ষের কেবল দুটো বছরই কেটেছে। এখনও আরও পাঁচ বছর কোন চাষ হবে না, ফসলও ফলবে না। 7সুতরাং ঈশ্বর আমাকে তোমাদের আগেই এখানে পাঠিয়েছেন যাতে আমি তোমাদের লোকজনদের এই দেশে এনে বাঁচাতে পারি। 8আমাকে যে এখানে পাঠানো হয়েছে তাতে তোমাদের দোষ নেই। এ ছিল ঈশ্বরের পরিকল্পনা। ঈশ্বরই আমাকে ফরৌণের পিতার স্থানে বসিয়েছেন। আমি তার সমস্ত বাড়ীর সমস্ত মিশর দেশের রাজ্যপাল হয়েছি।”
ইস্রায়েল মিশরে আমন্ত্রিত হলেন
9যোষেফ বলল, “তোমরা তাড়াতাড়ি আমার পিতার কাছে যাও। তাঁকে বল তাঁর পুত্র যোষেফ এই বার্তা পাঠিয়েছে: ‘ঈশ্বর আমাকে মিশরের রাজ্যপাল করেছেন। তাই এখানে আমার কাছে চলে আসুন। দেরী করবেন না। এখনই চলে আসুন। 10আপনি আমার কাছাকাছি গোশন প্রদেশে থাকতে পারেন। আপনি, আপনার সন্তানরা, আপনার নাতি-নাতনিরা এবং আপনার সমস্ত পশুদেরও নিয়ে আসুন। 11দুর্ভিক্ষের পরের পাঁচ বছর আমি আপনার যত্ন নেব। ফরে আপনি এবং আপনার পরিবারের যা আছে তার কিছুই হারিয়ে যাবে না।’”
12যোষেফ তাঁর ভাইদের বললেন, “আমি যে সত্যি সত্যিই যোষেফ তা তোমরা চোখেই দেখছ। এখন আমার ভাই বিন্যামীনও জানে যে আমি তোমাদের ভাই, তোমাদের সঙ্গে কথা বলছি। 13আমি মিশর দেশে যে সম্মান অর্জন করেছি সে সম্বন্ধে পিতাকে বলো। এখানে তোমরা যা যা দেখছ সে সম্বন্ধে তাঁকে বলো। এবার ওঠ, যত তাড়াতাড়ি পার আমার পিতাকে এখানে নিয়ে এস।” 14এরপর যোষেফ বিন্যামীনকে বুকে জড়িয়ে ধরে দুজনেই কাঁদতে লাগলেন। 15যোষেফ অন্যান্য ভাইদেরও চুমু খেয়ে কাঁদলেন। এরপর ভাইরা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করল।
16ফরৌণও জানতে পারলেন যে যোষেফের ভাইরা তাঁর কাছে এসেছে। এই খবর ফরৌণের সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়লে ফরৌণ ও তাঁর দাসরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট হলেন। 17ফরৌণ যোষেফকে বললেন, “তোমার ভাইদের বল তাদের যে পরিমাণ শস্যের প্রয়োজন তা নিয়ে যেন কনান দেশে যায়। 18আরও বল যেন তারা তাদের পিতা এবং তাদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে আমার কাছে এইখানে ফিরে আসে। আমি তোমাদের বাস করার জন্য মিশরে সব চাইতে ভাল জমি দেব। আর তোমার পরিবার এখানকার সব চেয়ে ভাল খাবার খেতে পাবে।”
19তারপর ফরৌণ বললেন, “আমাদের মালবাহী গাড়ীগুলোর মধ্যে যেগুলো ভালো তার কিছু তোমার ভাইদের দাও। তাদের বলো যেন, তারা কনান দেশে গিয়ে তাদের পিতা এবং নিজের নিজের স্ত্রী ও পুত্র কন্যা নিয়ে গাড়ী করে ফিরে আসে। 20সেখান থেকে তাদের সমস্ত সম্পত্তি নিয়ে আসার ব্যাপারে তারা যেন চিন্তা না করে, কারণ মিশরের সমস্ত উত্তম জিনিস তাদের।”
21ইস্রায়েলের সন্তানরা তাই করলেন। ফরৌণ যেমন আদেশ করেছিলেন সেই মতন যোষেফ তাদের ভালো কিছু মালবাহী গাড়ী দিলেন আর যাত্রার জন্য যথেষ্ট খাবারও দিলেন। 22যোষেফ তাঁর প্রত্যেক ভাইকে সুন্দর জামা জোড়াও দিলেন। কিন্তু যোষেফ বিন্যামীনকে দিলেন পাঁচ জোড়া জামা আর 300 রৌপ্য মুদ্রা। 23যোষেফ তাঁর পিতার জন্যও উপহার পাঠালেন। তিনি দশটা গাধার পিঠে বস্তা ভরে মিশরের বহু উত্তম জিনিস পাঠালেন। আর তার পিতার ফেরবার পথে যাত্রার জন্য আরও দশটি স্ত্রী গাধার পিঠে করে শস্য, রুটি এবং অন্যান্য খাবার পাঠালেন। 24তারপর যোষেফ তাঁর ভাইদের বিদায় দিলেন। আর তারা যখন পথে যাচ্ছে যোষেফ তাদের বললেন, “সোজা বাড়ী যাও। পথে ঝগড়া করো না।”
25তাই তারা মিশর দেশ ছেড়ে তাদের পিতার কাছে কনান দেশে গিয়ে পৌঁছাল। 26ভাইরা বলল, “পিতা যোষেফ এখনও জীবিত! আর তিনিই সমস্ত মিশরের নিযুক্ত রাজ্যপাল।” তাদের পিতা এই শুনে হতবুদ্ধি হয়ে রইলেন; প্রথমে তো তাঁর বিশ্বাসই হল না। 27কিন্তু তারপর তারা যোষেফ যা বলেছিলেন তা বলল। আর যোষেফ তাঁকে মিশর দেশে নিয়ে যাবার জন্য মালবাহী গাড়ীগুলো পাঠিয়ে ছিলেন তা যখন যাকোব দেখলেন, তখন তিনি আনন্দে উত্তেজিত হয়ে উঠলেন। 28ইস্রায়েল বললেন, “এবার আমি তোমাদের কথা বিশ্বাস করছি। আমার পুত্র যোষেফ এখনও বেঁচে আছে! আহা, মৃত্যুর আগে আমি তাকে দেখতে পাব!”
46ঈশ্বর ইস্রায়েলকে আশ্বাস দিলেন
1ইস্রায়েল মিশর দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলেন। প্রথমে তিনি বের্-শেবাতে গেলেন। সেখানে ইস্রায়েল তাঁর পিতা ইস্হাকের ঈশ্বরের উপাসনা করলেন এবং বলি দিলেন। 2রাত্রে ঈশ্বর স্বপ্নে যাকোবের সঙ্গে কথা বললেন। ঈশ্বর বললেন, “যাকোব, যাকোব।”
ইস্রায়েল উত্তর দিলেন, “এই যে আমি।”
3তখন ঈশ্বর বললেন, “আমি ঈশ্বর, তোমার পিতার ঈশ্বর! মিশরে যেতে ভয় করো না। মিশরে আমি তোমাকে এক মহাজাতিতে পরিণত করব। 4আমি তোমার সঙ্গে মিশরে যাব আর তোমাকে সেখান থেকে ফিরিয়ে আনব। তুমি মিশরে মারা যাবে কিন্তু যোষেফ তোমার সঙ্গে থাকবে। তুমি মারা গেলে যোষেফই তার নিজের হাত দিয়ে তোমার চোখ বুজিয়ে দেবে।”
ইস্রায়েল মিশরে গেলেন
5তারপর যাকোব বের্-শেবা ছেড়ে মিশরের দিকে যাত্রা করলেন। ইস্রায়েলের পুত্ররা নিজেদের পিতা যাকোবকে এবং প্রত্যেকে নিজের পুত্র কন্যা ও স্ত্রীদের নিয়ে মিশরে চললেন। ফরৌণ যে মালবাহী গাড়ীগুলো পাঠিয়েছিলেন সেইগুলো করেই তাঁরা গেলেন। 6তাঁরা তাঁদের পশুপাল এবং কনান দেশে তাঁদের যা যা ছিল সব নিয়ে চললেন। সুতরাং ইস্রায়েল মিশরে তাঁর সমস্ত সন্তান এবং তাদের পরিবার নিয়েই গেলেন। 7তাঁর সঙ্গে ছিল তাঁর পুত্ররা এবং নাতিরা, তাঁর কন্যারা এবং নাতনিরা। সুতরাং তাঁর সমস্ত পরিবার তাঁর সাথে মিশরে গেলেন।
যাকোবের পরিবার
8ইস্রায়েলের পুত্ররা এবং তাঁর বংশধররা যাঁরা তাঁর সঙ্গে মিশরে গিয়েছিলেন তাঁদের নামগুলি এই:
রূবেণ ছিলেন জ্যেষ্ঠ পুত্র। 9রূবেণের পুত্ররা ছিলেন হনোক, পল্লু, হিষ্রোণ ও কর্মি।
10শিমিয়োনের পুত্ররা ছিলেন যিমূয়েল, যামীন, ওহদ, যাখীন, সোহর আর এছাড়া শৌল। (শৌলের মা ছিলেন একজন কনানীয় স্ত্রীলোক।)
11লেবীর পুত্ররা ছিলেন গের্শোন, কহাৎ ও মরারি।
12যিহূদার পুত্ররা হলেন এর, ওনন, শেলা, পেরস ও সেরহ। (এর ও ওনন কনান দেশেই মারা গিয়েছিল।) পেরসের পুত্ররা হলেন হিষ্রোণ ও হামূল।
13ইষাখরের পুত্ররা হলেন তোলয়, পুয, যোব ও শিম্রোণ। 14সবূলূনের পুত্ররা হলেন সেরদ, এলোন ও যহলোল।
15রূবেণ, শিমিয়োন, লেবি, যিহূদা, ইষাখর ও সবূলূন ছিলেন যাকোব ও লেয়ার সন্তানগণ। পদ্দম্-অরামে লেয়ার এই সন্তানরা জন্মেছিল। তার দীনা নামে একটি কন্যাও ছিল। তার পরিবারে মোট সদস্য সংখ্যা ছিল 33 জন।
16গাদের পুত্ররা ছিলেন সিফিয়োন, হগি, শূনী, ইষ্বোন, এরি, অরোদী ও অরেলী।
17আশেরের পুত্ররা ছিলেন যিন্না, যিশ্বা, যিশবি, বরিয় এবং তাদের বোন সেরহ। বরিয়ের পুত্ররা অর্থাৎ হেবর ও মল্কীয়েলও ছিলেন।
18যাকোবের এই পুত্ররা ছিলেন তাঁর স্ত্রী দাসী সিল্পার। (সিল্পাই সেই দাসী যাকে লাবন তাঁর কন্যা লেয়ার সাথে দিয়েছিলেন।) তাঁর পরিবারের মোট সদস্য ছিলেন 16 জন।
19বিন্যামীনও যাকোবের সঙ্গে ছিলেন। বিন্যামীন ছিলেন যাকোব ও রাহেলের পুত্র। (যোষেফও রাহেলের পুত্র। কিন্তু যোষেফ ইতিমধ্যে মিশরে ছিলেন।)
20মিশরে যোষেফের দুই পুত্র হয়। তাদের নাম মনঃশি ও ইফ্রয়িম। (যোষেফের স্ত্রীর নাম ছিল আসনৎ। তিনি ছিলেন ওন শহরের যাজক পোটীফরের কন্যা।)
21বিন্যামীনের পুত্ররা হল বেলা, বেখর, অস্বেল, গেরা, নামন, এহী, রোশ, মুপ্পীম, হুপ্পীম ও অর্দ।
22এঁরা ছিলেন যাকোব ও তার স্ত্রী রাহেলের সন্তান। পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা 14 জন।
23দানের পুত্র ছিলেন হূশীম।
24নপ্তালির পুত্র ছিলেন যহসিয়েল, গূনি, বেৎসর ও শিল্লেম।
25এঁরা ছিলেন যাকোব ও বিল্হার সন্তান। (বিল্হা-ই সেই দাসী যাকে লাবন তাঁর কন্যা রাহেলের সাথে পাঠিয়েছিলেন।) এই পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল সাত।
26সরাসরি যাকোব হতে উৎপন্ন উত্তরপুরুষদের মোট 66 জন তাঁর সঙ্গে মিশরে গিয়েছিলেন। (এই সংখ্যার মধ্যে যাকোবের পুত্রদের স্ত্রীদের গণনা করা হয় নি।) 27আবার যোষেফেরও দুই সন্তান ছিলেন যাঁরা মিশরে জন্মেছিলেন। সুতরাং মিশরে যাকোবের পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা হল 70 জন।
ইস্রায়েল মিশরে পৌঁছালেন
28যোষেফের সঙ্গে কথা বলার জন্য যাকোব যিহূদাকে তাঁর আগে পাঠালেন। এর পরে যাকোব এবং তাঁর পুত্ররা গোশন প্রদেশে পৌঁছোলেন। যিহূদা গোশন প্রদেশে যোষেফের সঙ্গে কথা বলতে গেলেন। যাকোব এবং তাঁর পরিবারের লোকজন এরপর সেই প্রদেশে পৌঁছালেন। 29যোষেফ যখন শুনলেন যে তাঁর পিতা আসছেন তখন তিনি রথ প্রস্তুত করে গোশন প্রদেশে তাঁর পিতা ইস্রায়েলের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। যোষেফ তাঁর পিতাকে দেখে গলা জড়িয়ে ধরে বহুক্ষণ কাঁদলেন।
30তখন ইস্রায়েল যোষেফকে বললেন, “এখন আমি শান্তিতে মরতে পারব। আমি তোমার মুখ দেখলাম এবং জানলাম যে তুমি এখনও জীবিত।”
31যোষেফ তাঁর ভাইদের এবং পিতার পরিবারের বাকীদের বললেন, “আমি ফরৌণকে বলতে যাচ্ছি যে তোমরা এখানে এসেছ। আমি ফরৌণকে বলব, ‘আমার ভাইরা এবং পিতার পরিবারের বাকী সবাই কনান দেশ ছেড়ে এখানে আমার কাছে এসেছেন। 32পরিবারের সবাই মেষপালক। তারা সবসময়ই মেষপাল ও গো-পাল রেখে থাকে। তারা তাদের পশু ও আর যা কিছু তাদের ছিল সবই তাদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন।’ 33ফরৌণ তোমাদের ডাকলে জিজ্ঞেস করবে, ‘তোমরা কি কাজ কর?’ 34তোমরা তাকে বলবে, ‘আমরা মেষপালক। সারাজীবন ধরেই আমরা মেষ পালন করে আসছি। আমাদের আগে আমাদের পূর্বপুরুষরা মেষপালক ছিলেন।’ ফরৌণ তোমাদের গোশন প্রদেশে থাকতে দেবেন। মিশরীয়রা মেষপালকদের পছন্দ করেন না, সেইজন্য তোমাদের গোশন প্রদেশে থাকাটাই ভাল হবে।”
47ইস্রায়েল গোশনে বাস করতে লাগলেন
1যোষেফ ফরৌণের কাছে গিয়ে বললেন, “আমার পিতা, আমার ভাইরা এবং তাঁদের পরিবারের সবাই এখানে এসেছেন। তাঁরা তাঁদের পশু ও সর্বস্ব নিয়ে কনান দেশ থেকে চলে এসেছেন। তাঁরা এখন গোশন প্রদেশে রয়েছেন।” 2ফরৌণের সামনে যাবার জন্য ভাইদের মধ্যে পাঁচজনকে মনোনীত করলেন।
3ফরৌণ ভাইদের জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা কি কাজ কর?”
ভাইরা ফরৌণকে বলল, “মহাশয় আমরা মেষপালক। আর আমাদের আগে আমাদের পূর্বপুরুষরাও মেষপালক ছিলেন।”
4তারা ফরৌণকে বলল, “কনান দেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছে। তাই পশুদের খাবার ঘাসের অভাব হয়েছে। তাই আমরা এই দেশে বাস করব বলে এখানে এসেছি। দয়া করে আমাদের গোশন প্রদেশে থাকতে দিন।”
5তখন ফরৌণ যোষেফকে বললেন, “তোমার পিতা ও তোমার ভাইরা তোমার কাছে এসেছেন। 6তাদের থাকবার জন্য তুমি মিশরে যে কোন জায়গা বেছে নিতে পারো। তোমার পিতা এবং তোমার ভাইদের সব চাইতে ভাল জমিটা দিও। তাদের গোশন প্রদেশে বাস করতে দাও। আর তারা যদি দক্ষ মেষপালক হয় তবে তারা আমার পশুপালেরও যত্ন নিতে পারে।”
7তখন যোষেফ তাঁর পিতাকে ফরৌণের সঙ্গে দেখা করবার জন্য ডেকে আনলেন। যাকোব ফরৌণকে আশীর্বাদ করলেন। 8ফরৌণ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনার বয়স কত?”
9যাকোব ফরৌণকে বললেন, “আমার আয়ুর এই অল্প বয়সে আমাকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমি কেবল 130 বছর বয়স্ক। আমার পিতা এবং আমার পূর্বপুরুষরা আমার চাইতেও বেশী বয়স বেঁচেছিলেন।” 10যাকোব ফরৌণকে আশীর্বাদ করলেন এবং তাঁর সামনে থেকে বিদায় নিলেন।
11ফরৌণের কথামত যোষেফ তাঁর পিতা ও ভাইদের মিশরে জমিজমা দিলেন। রামিষেষ শহরের কাছে স্থিত সেই জমি মিশরের সব জমির চেয়ে সেরা ছিল। 12আর যোষেফ তাঁর পিতা, তাঁর ভাইদের এবং তাঁর সমস্ত পরিজনদের তাঁদের প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করলেন।
যোষেফ ফরৌণের জন্য জমি কিনলেন
13দুর্ভিক্ষ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠল, ফলে দেশে কোথাও কোন খাদ্য রইল না। এই দারুণ দুর্ভিক্ষের জন্যে মিশর এবং কনান দেশ দরিদ্র হয়ে পড়ল। 14দেশের লোকরা আরও শস্য কিনতে থাকল আর যোষেফ সেই অর্থ জমিয়ে ফরৌণের কাছে নিয়ে আসতেন। 15কিছু পরে মিশরীয় এবং কনানীয়দের সব অর্থ শেষ হয়ে গেল। কারণ তারা সমস্ত অর্থই শস্য কিনতে ব্যয করেছিল। তাই মিশরীয়রা যোষেফের কাছে গিয়ে বলল, “আমাদের খাদ্য দিন। আমাদের অর্থ শেষ হয়ে গেছে। আমরা খেতে না পেলে আপনার চোখের সামনে মারা যাব।”
16কিন্তু যোষেফ উত্তর দিলেন, “তোমাদের গো-পাল দাও, আমি তোমাদের খাবার দেব।” 17এইভাবে খাদ্য কেনার জন্য লোকরা তাদের গো-পাল, ঘোড়া এবং অন্যান্য পশুর ব্যবহার করলেন। সেই বছরে যোষেফ পশুর বদলে তাদের খাদ্য দিলেন। 18কিন্তু পরের বছরে লোকদের খাবার কেনার জন্য পশু এবং অন্য কিছু ছিল না। তাই লোকরা যোষেফের কাছে গিয়ে বলল, “আপনি জানেন আমাদের কাছে আর কোন অর্থ নেই। আর আমাদের সব পশুও এখন আপনারই। সুতরাং আপনি যা দেখছেন আমাদের সেই দেহ ও আমাদের জমি ছাড়া আমাদের কাছে আর কিছুই নেই। 19সত্যিই আমরা আপনার চোখের সামনে মারা যাব। কিন্তু আপনি আমাদের খাদ্য দিলে আমরা ফরৌণকে আমাদের জমি দেব এবং আমরা তাঁর দাস হব। আমাদের বপন করার বীজ দিন। তাহলে আমরা মরব না। আর জমিতে আবার আমাদের জন্য শস্য হবে।”
20তাই যোষেফ মিশরের সমস্ত জমি ফরৌণের জন্য কিনে নিলেন। লোকরা ক্ষুধার জন্য মিশরের সমস্ত জমি ফরৌণের কাছে বিক্রি করে দিল। 21আর মিশরের সর্বত্র লোকরা ফরৌণের দাস হল। 22যোষেফ কেবল যাজকদের জমি কিনলেন না। যাজকদের জমি বিক্রি করারও প্রয়োজন ছিল না। কারণ ফরৌণ তাদের কাজের জন্য পারিশ্রমিক দিতেন আর তারা সেই অর্থ দিয়ে খাদ্য কিনত। 23যোষেফ লোকদের বললেন, “এখন আমি তোমাদের এবং তোমাদের জমি ফরৌণের জন্য কিনে নিয়েছি। তাই আমি এরপর তোমাদের জমিতে বপন করার বীজ দেব। আর তোমরা তা বপন করতে পার। 24শস্য ছেদনের সময় তোমরা অবশ্যই উৎপন্ন শস্যের পাঁচ ভাগের এক ভাগ ফরৌণকে দেবে। বাকী পাঁচ ভাগের চার ভাগ শস্য তোমাদের হবে। তোমরা তোমাদের খাদ্যের জন্য সেই রাখা শস্যের বীজ পরের বছর বপন করার জন্য ব্যবহার করতে পারবে। আর তাতে তোমাদের পরিবার ও সন্তানদের জন্যও খাদ্য থাকবে।”
25লোকরা বলল, “আপনি আমাদের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। আমরা ফরৌণের দাস হয়ে খুশী।”
26তাই যোষেফ সেই সময় জমির ব্যাপারে আইন তৈরী করলেন। আর সেই আইন আজও বলবৎ রয়েছে। সেই আইন অনুযায়ী জমিতে উৎপন্ন সবকিছুর পাঁচ ভাগের এক ভাগ ফরৌণের। যাজকদের জমি ছাড়া সমস্ত জমি ফরৌণের।
“মিশরে কবর নয়”
27ইস্রায়েল মিশরের গোশন প্রদেশেই স্থায়ী হলেন। তাঁর পরিবার সংখ্যায় বৃদ্ধি পেল এবং বিশাল হয়ে উঠল। মিশর দেশে তাঁরা কিছু জমি পেলেন এবং সফল হলেন।
28যাকোব মিশরে 17 বছর বেঁচে ছিলেন সুতরাং তাঁর বয়স হল 147 বছর। 29সময় হল যখন ইস্রায়েল বুঝলেন যে তিনি শীঘ্রই মারা যাবেন। তাই তিনি তাঁর পুত্র যোষেফকে নিজের কাছে ডাকলেন। তিনি বললেন, “যদি তুমি আমায় ভালবাস তবে আমার উরুর নীচে হাত রাখ এবং প্রতিজ্ঞা কর যে তুমি তোমার কথায় বিশ্বস্ত হবে। আমি মারা গেলে আমায় মিশরে কবর দিও না। 30যে জায়গায় আমার পূর্বপুরুষদের কবর দেওয়া হয়েছে সেখানেই আমায় কবর দিও। আমাকে মিশর থেকে বয়ে নিয়ে গিয়ে আমাদের পারিবারিক কবরে কবর দিও।”
যোষেফ উত্তর দিলেন, “আমি প্রতিজ্ঞা করছি আপনার কথা মতোই কাজ করব।”
31তারপর যাকোব বললেন, “আমার কাছে দিব্য কর।” তখন ইস্রায়েল বিছানায় তাঁর মাথা নামিয়ে ঈশ্বরের উপাসনা করলেন।+ 47:31 তখন … করলেন অথবা “তখন ইস্রায়েল তাঁর লাঠির মাথায় পূজা করলেন।” “লাঠির” হিব্রু প্রতিশব্দটি “শয্যা” ও বোঝায়। এবং “পূজার” হিব্রু প্রতিশব্দটি “নত হওয়া” অথবা “হেলান দেওয়া” এরকমও বোঝায়।
48মনঃশি ও ইফ্রয়িমের জন্য আশীর্বাদ
1কিছু সময় পরে যোষেফ জানতে পারলেন যে তাঁর পিতা খুব অসুস্থ। তাই যোষেফ তাঁর দুই পুত্র মনঃশি ও ইফ্রয়িমকে নিয়ে তাঁর পিতার কাছে গেলেন। 2যোষেফ সেখানে পৌঁছালে ইস্রায়েলকে কেউ খবর দিলেন, “আপনার পুত্র যোষেফ আপনাকে দেখতে এসেছেন।” ইস্রায়েল খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু তিনি খুব চেষ্টা করে কোন মতে বিছানায় উঠে বসলেন।
3তখন ইস্রায়েল যোষেফকে বললেন, “কনান দেশের লূস নামক জায়গায় সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমার সামনে আবির্ভূত হয়েছিলেন। সেখানে ঈশ্বর আমায় আশীর্বাদ করেছিলেন। 4ঈশ্বর আমায় বলেছিলেন, ‘আমি তোমাকে বহু বংশ করব। তোমার অনেক সন্তান-সন্ততি হবে এবং তারা মহান হবে। এই দেশ তোমার বংশধররা চিরকালের জন্য তাদের অধিকারে রাখবে।’ 5আর এখন তোমার দুই পুত্র, আমার আসার আগেই মিশর দেশে এদের জন্ম হয়েছিল। তোমার দুই পুত্র মনঃশি ও ইফ্রয়িম আমার কাছে নিজের পুত্রের মতই হোক্। তারা আমার কাছে রূবেণ ও শিমিয়োনের মত হোক্। 6সুতরাং ঐ দুই জন পুত্র আমারই হোক্। তারা আমার সব কিছুর অংশীদার হবে। কিন্তু এছাড়া তোমার যদি আর অন্য পুত্র থাকে তবে তা তোমারই হোক্। আর তারা ইফ্রয়িম ও মনঃশির কাছে সন্তানের মতই হোক্ অর্থাৎ ভবিষ্যতে তারা ইফ্রয়িম ও মনঃশির অধিকারভুক্ত সব কিছুরই অংশীদার হবে। 7পদ্দম্-অরাম থেকে আসার সময় রাহেল মারা গেলেন। এই ঘটনায় আমি অত্যন্ত দুঃখ পেলাম। আমরা যখন ইফ্রাথের দিকে যাচ্ছিলাম তখন কনান দেশে তিনি মারা গেলেন। আমি তাকে সেখানে ইফ্রাথ যাবার পথের ধারে কবর দিলাম।” (ইফ্রাথ বৈৎলেহেমের অপর নাম।)
8তখন ইস্রায়েল যোষেফের পুত্রদের দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, “এই বালকরা কারা?”
9যোষেফ তাঁর পিতাকে বললেন, “এরা আমার পুত্ররা, ঈশ্বরই এদের আমায় দিয়েছেন।”
ইস্রায়েল বললেন, “তোমার ছেলেদের আমার কাছে নিয়ে এস। আমি তাদের আশীর্বাদ করব।”
10ইস্রায়েল বৃদ্ধ হয়েছিলেন এবং চোখেও ভালো দেখতে পেতেন না। তাই যোষেফ দুই পুত্রকে পিতার খুব কাছে নিয়ে এলেন। ইস্রায়েল তাদের গলা জড়িয়ে চুমু খেলেন। 11তারপর ইস্রায়েল যোষেফকে বললেন, “আমি ভাবতেই পারি নি যে কখনও তোমার মুখ দেখতে পাব। কিন্তু দেখ ঈশ্বর আমাকে, তোমায় এমনকি তোমার পুত্রদেরও দেখতে দিলেন।”
12তারপর যোষেফ ইস্রায়েলের কোল থেকে তাঁর পুত্রদের নিলেন এবং তারা ইস্রায়েলের সামনে মাথা নত করল। 13যোষেফ ইফ্রয়িমকে তাঁর ডানদিকে এবং মনঃশিকে তার বাঁ দিকে রাখলেন। (সুতরাং ইফ্রয়িম ইস্রায়েলের বাম দিকে ও মনঃশি তার ডান দিকে রইল।) 14কিন্তু ইস্রায়েল তাঁর হাত আড়াআড়ি ভাবে রেখে তাঁর ডান হাত ছোট পুত্র ইফ্রয়িমের মাথায় রাখলেন। ইস্রায়েল তাঁর বাম হাত বড় পুত্র মনঃশির মাথায় রাখলেন। মনঃশি প্রথমজাত হলেও তিনি বাম হাত তার উপরে রাখলেন। 15ইস্রায়েল যোষেফকে আশীর্বাদ করে বললেন,
“আমার পূর্বপুরুষ অব্রাহাম ও ইস্হাক আমাদের ঈশ্বরের উপাসনা করতেন।
আর সেই ঈশ্বরই সারা জীবন আমায় বহন করেছেন।
16তিনিই সেই দেবদূত যিনি আমায় সব সমস্যা থেকে রক্ষা করেছেন।
আমার প্রার্থনা, তিনিই এই পুত্রদের আশীর্বাদ করবেন।
এখন এই পুত্ররা আমার এবং আমার পূর্বপুরুষ অব্রাহাম ও ইস্হাকের নামে আখ্যাত হোক্।
আমার প্রার্থনা তারা যেন পৃথিবীতে বৃদ্ধি পযে বহু বংশ ও বহু জাতি হয়।”
17যোষেফ যখন দেখলেন তাঁর পিতা ডান হাত ইফ্রয়িমের মাথায় রেখেছেন, তখন তিনি খুশী হলেন না। যোষেফ পিতার হাত ইফ্রয়িমের মাথা থেকে তুলে ধরে মনঃশির মাথায় রাখতে চাইলেন। 18যোষেফ তাঁর পিতাকে বললেন, “আপনি আপনার ডান হাত ভুল জনের মাথার উপর রেখেছেন। মনঃশিই প্রথমজাত। তার উপরেই ডান হাত রাখুন।”
19কিন্তু তাঁর পিতা তর্ক করে বললেন, “আমি জানি বৎস, আমি জানি। মনঃশি প্রথমজাত, সে মহান হবে, বহুলোকের পিতা হবে কিন্তু ছোট জন বড় জনের চেয়েও মহান হবে আর তার বংশ আরও অনেক হবে।”
20তাই ইস্রায়েল সেই দিন এই বলে আশীর্বাদ করলেন,
“ইস্রায়েল কাউকে আশীর্বাদ করতে
তোমাদেরই নাম ব্যবহার করবে।
তারা বলবে, ‘ঈশ্বর তোমাকে যেন
মনঃশি ও ইফ্রয়িমের মতো করেন।’”
এইভাবে ইস্রায়েল মনঃশির চাইতে ইফ্রয়িমকে বড় করলেন।
21তারপর ইস্রায়েল যোষেফকে বললেন, “দেখ আমার মৃত্যুর সময় কাছে এসে গেছে। কিন্তু ঈশ্বর তোমার সঙ্গে থাকবেন। তিনিই তোমাকে আবার তোমার পূর্বপুরুষদের দেশে নিয়ে যাবেন। 22আমি তোমাকে যা দিলাম তা তোমার ভাইদের দিই নি। ইমোরীয়দের হাত থেকে যে পাহাড় আমি জয় করে নিয়েছিলাম তা তোমায় দিচ্ছি। আমি সেই পাহাড় জয় করতে আমার তরবারি ও ধনুক ব্যবহার করেছিলাম এবং আমি জয়ী হয়েছিলাম।”
49যাকোব তাঁর পুত্রদের আশীর্বাদ করলেন
1এরপর যাকোব তাঁর পুত্রদের তাঁর কাছে ডাকলেন এবং বললেন, “আমার বাছারা এখানে আমার কাছে এস। ভবিষ্যতে কি ঘটবে তা আমি তোমাদের বলছি।
2“যাকোবের পুত্ররা এস, একসাথে এসে শোন
তোমাদের পিতা ইস্রায়েল কি বলছেন।
রূবেণ
3“রূবেণ আমার প্রথম জাত, তুমিই তো আমার প্রথম সন্তান,
পুরুষ হিসাবে আমার শক্তির প্রথম প্রমাণ।
তুমি আমার সন্তানদের মধ্যে
সবচেয়ে সম্মানিত এবং শক্তিমান।
4কিন্তু বন্যার মত তোমার কামেচ্ছা,
তুমি তা দমন করো নি।
সেইজন্য তুমি সম্মানিত সন্তান হিসাবে
তোমার প্রাধান্য হারাবে।
তুমি তোমার পিতার শয্যায় উঠেছিলে
আর তার এক স্ত্রীর সাথে শুয়েছিলে।
তুমি সেই শয্যায় ঘুমিয়েছ
এবং সেই শয্যাকে অপবিত্র করেছ।
শিমিয়োন ও লেবি
5“শিমিয়োন ও লেবি ভাই ভাই।
তারা যোদ্ধা এবং তারা তাদের তরবারি নিয়ে যুদ্ধ করতে ভালবাসে।
6আমি তাদের গোপন সভায় অংশ নেব না।
আমি তাদের মন্দ পরিকল্পনায় অংশ নেব না।
তারা রাগে মানুষ হত্যা করল।
এবং কেবল ঠাট্টা করতে পশুদের আঘাত করল।
7তাদের রাগ এক অভিশাপ, কারণ তা প্রচণ্ড।
উন্মত্ত হয়ে উঠলে তারা নিষ্ঠুরতায় পূর্ণ হয়।
তারা যাকোবের দেশে তাদের অংশ পাবে না।
তারা সমস্ত ইস্রায়েলে ছড়িয়ে পড়বে।
যিহূদা
8“যিহূদা তোমার ভাইরা তোমার প্রশংসা করবে।
তুমি তোমার শত্রুদের পরাজিত করবে।
তোমার ভাইরা তোমার কাছে জানু পাতবে।
9আমার বাছা, তুমি শিকারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সিংহের মতো।
সে বিশ্রাম করলে তাকে বিরক্ত করার সাহস কার আছে?
10যিহূদার বংশ থেকেই রাজারা উঠবে।
তার বংশ যে শাসন করবে
এই চিহ্ন প্রকৃত রাজা না আসা পর্যন্ত রইবে।
পরে বহু লোক বাধ্য হয়ে তার সেবা করবে।
11সে তার গাধার শাবককে উত্তম দ্রাক্ষালতা দিয়ে বাঁধবে।
সে উত্তম দ্রাক্ষারসে নিজের বস্ত্র ধৌত করবে।
12তার চোখ দ্রাক্ষারস পান করে লাল,
তার দাঁত দুধ পান করে সাদা।
সবূলূন
13“সবূলূন সমুদ্রের কাছে বাস করবে।
তার সমুদ্রোপকুল জাহাজের পক্ষে হবে নিরাপদ।
সীদোন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে তার দেশ।
ইষাখর
14“ইষাখর খচ্চরের মত কঠিন পরিশ্রম করেছে।
ভারী বোঝা বহন করার পর সে বিশ্রাম করবে।
15সে দেখবে তার বিশ্রাম স্থান উত্তম।
তার দেশ হবে মনোহর।
তখন সে ভারী বোঝা বইতে সম্মত হবে।
দান হিসাবে কাজ করতে সম্মতি জানাবে।
দান
16“দান ইস্রায়েলের অন্য বংশের মতোই
নিজের প্রজাদের বিচার করবে।
17দান হবে পথের ধারের সাপের মতো।
সে পথে শুয়ে থাকা বিষধর সাপের মতই হবে।
সেই সাপ, যে ঘোড়ার পায়ে দংশন করে
চালককে মাটিতে ফেলে দেয়।
18“হে প্রভু, আমি তোমার পরিত্রাণের অপেক্ষা করছি।
গাদ
19“এক দল দস্যু গাদকে আক্রমণ করবে।
কিন্তু গাদ তাদের পিছনে তাড়া করবে।
আশের
20“আশেরের দেশে উত্তম খাদ্য উৎপন্ন হবে।
রাজার উপযুক্ত খাদ্যই সে যোগাবে!
নপ্তালি
21“নপ্তালি মুক্ত হরিণীর মতো,
আর তার বাক্য তাদের সুন্দর শিশুর মতো।
যোষেফ
22“যোষেফ বন্য গাধার মতো,
সে ফলে ঢাকা লতার মতো, বসন্তে বেড়ে ওঠা শাখার মতো,
বেড়ার গায়ে বেড়ে ওঠা লতার মতো।
23অনেক লোক তার বিরোধিতা করেছে এবং তার সঙ্গে যুদ্ধ করেছে।
ধনুকধারীরা তার শত্রু হয়েছে।
24কিন্তু সে তার পরাক্রমী ধনু ও দক্ষ বাহুর সাহায্যে যুদ্ধ জয় করেছে।
সে ক্ষমতা পায় যাকোবের এক বীরের কাছ থেকে,
এক মেষপালকের কাছ থেকে, ইস্রায়েলের শৈলের কাছে থেকে।
25তোমার পিতার ঈশ্বরের কাছ থেকে ঈশ্বর তোমায় আশীর্বাদ করুন।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তোমায় আশীর্বাদ করুন,
উপরের আকাশ হতে আশীর্বাদ বর্ষান,
আর গভীর জল থেকেও আশীর্বাদ করুন।
তিনি তোমাকে স্তন ও গর্ভ হতেও আশীর্বাদ করুন।
26আমার পূর্বপুরুষরা অনেক আশীর্বাদ ভোগ করেছেন।
কিন্তু তোমার পিতা আমি আরও বেশী আশীর্বাদ পেয়েছি।
তোমার ভাইরা তোমায় সব কিছু থেকে বঞ্চিত করল;
কিন্তু এখন আমি পর্বতের সমান উঁচু আশীর্বাদ
তোমার মাথায় রাশিকৃত করলাম।
বিন্যামীন
27“বিন্যামীন ক্ষুধার্ত নেকড়ে।
সকালে সে শিকার করে খেতে বসে।
বিকালে যা পড়ে থাকে তা ভাগ করে নেয়।”
28এই হল ইস্রায়েলের বারো বংশ। আর এই কথাগুলো তাদের পিতা তাদের বলেছিলেন। তিনি প্রত্যেকটি সন্তানকে তাদের উপযুক্ত আশীর্বাদে আশীর্বাদ করলেন। 29তারপর ইস্রায়েল তাদের এই নির্দেশ দিয়ে বললেন, “মৃত্যুর পর আমি চাই আমার লোকদের সঙ্গে পুনর্মিলিত হতে, সুতরাং হেতীয় ইফ্রোণের ক্ষেতে যে গুহা আছে সেখানে আমার পিতৃপুরুষদের সেই গুহায় আমায় কবর দিও। 30সেই কবর কনান দেশে মম্রির কাছে মক্পেলা ক্ষেতে রয়েছে। সেই ক্ষেত অব্রাহাম ইফ্রোনের কাছ থেকে কিনেছিলেন যেন কবর দিতে পারেন। 31অব্রাহাম ও তার স্ত্রী সারাও সেই কবরে সমাহিত হয়েছিলেন। ইস্হাক ও তার স্ত্রী রিবিকাকেও সেই কবরে সমাহিত করা হয়েছিল। আমি আমার স্ত্রী লেয়াকেও সেখানে সমাহিত করেছি। 32সেই গুহা হেতীয়দের কাছ থেকে কেনা সেই ক্ষেতের মধ্যে রয়েছে।” 33যাকোব তাঁর পুত্রদের সঙ্গে কথা বলা শেষ করে শুয়ে পড়লেন। বিছানায় পা উঠিয়ে রাখলেন, তারপর মারা গেলেন।
50যাকোবের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া
1ইস্রায়েল মারা গেলে যোষেফ অত্যন্ত দুঃখিত হলেন। তিনি কাঁদলেন এবং তাঁর পিতাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলেন। 2যোষেফ তাঁর ভৃত্যদের পিতার দেহ প্রস্তুত করতে বললেন। (এই ভৃত্যরা চিকিৎসক ছিল।) চিকিৎসকেরা মিশরীয়রা যে বিশেষভাবে দেহ প্রস্তুত করে সেইভাবে যাকোবের দেহ কবর দেবার জন্য প্রস্তুত করল। 3দেহ বিশেষভাবে প্রস্তুত করার সময় কবর দেবার আগে তারা 40 দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করল। তারপর 70 দিন ধরে মিশরীয়রা যাকোবের জন্য শোক পালন করল। 4শোকের 70 দিন শেষ হলে যোষেফ ফরৌণের আধিকারিকদের বললেন, “ফরৌণকে দয়া করে এই কথা বলুন: 5‘আমার পিতা যখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন তখন আমি তাঁর কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে তাঁকে কনান দেশে এক গুহায় সমাহিত করব। এই গুহা তিনি নিজের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। তাই দয়া করে আমার পিতাকে কবর দিতে দিন। তারপর আমি আবার আপনার কাছে আসব।’”
6ফরৌণ বললেন, “তোমার প্রতিজ্ঞা পালন কর। যাও তোমার পিতাকে কবর দাও।”
7তাই যোষেফ তাঁর পিতাকে সমাহিত করতে চললেন। ফরৌণের সমস্ত আধিকারিক, ফরৌণের নেতারা এবং মিশরের প্রবীণরা যোষেফের সাথে গেলেন। 8যোষেফের পরিবারের সবাই, তাঁর ভাইরা ও তাঁর পিতার পরিবারের সবাই, তাঁর সঙ্গে গেলেন। গোশন প্রদেশে কেবল তাঁদের সন্তান-সন্ততি ও পশুরা থেকে গেল। 9সেই এক বিরাট দল হল। এমনকি এক দল সৈনিকও রথে ও ঘোড়ায় চড়ে চলল। 10তারা যর্দন নদীর পূর্বদিকে গোরেন আটদের+ 50:10 গোরেন আটদের এর অর্থ “আটদের শস্য মাড়াই করার খামার।” খামারে এলো। এই স্থানে তারা ইস্রায়েলের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে শোক সভা করল। সেই শোক সভা সাত দিন ধরে চলল। 11কনান দেশের লোকরা গোরেন আটদের সেই অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া দেখে বললেন, “মিশরীয়দের এ দারুণ বিষাদময় শোকের অনুষ্ঠান!” সেইজন্য যর্দ্দন নদীর পারের সেই জায়গার নাম হল আবেল্-মিস্রয়ীম। 12সুতরাং যাকোবের পুত্ররা তাঁদের পিতার কথানুসারে কাজ করলেন। 13তাঁরা তাঁর দেহ কনান দেশে বহন করে এনে মক্পেলার গুহাতে কবর দিলেন। অব্রাহাম হেতীয় ইক্রোণের কাছ থেকে মম্রির কাছে যে ক্ষেত কিনেছিলেন এই কবর সেখানেই ছিল। অব্রাহাম কবর দেবার জন্যই এটা কিনেছিলেন। 14যোষেফ তাঁর পিতাকে কবর দেবার পর তাঁর দলের সবাই মিশরে ফিরে গেলেন।
ভাইরা তবুও যোষেফকে ভয় করে চলল
15যাকোব মারা গেলে যোষেফের ভাইরা দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হল। তারা এই ভেবে ভীত হল যে বহু বছর আগে তারা যোষেফের প্রতি যা করেছিল, যোষেফ হয়তো তার প্রতিফল দেবেন। তারা বলল, “হয়তো যোষেফ এখনও আমরা যা করেছিলাম তার জন্য আমাদের ঘৃণা করেন।” 16এইজন্য ভাইরা যোষেফকে এই বলে পাঠাল:
“পিতা মারা যাবার আগে আপনাকে এই বার্তা দিতে বলেছিলেন। 17তিনি বললেন, ‘যোষেফকে আমার এই অনুরোধ, সে যেন দয়া করে তার ভাইদের অন্যায় কাজ ক্ষমা করে দেয়।’ সেই জন্য আমরা এখন আমাদের আপনার প্রতি করা সেই অন্যায় কাজের ক্ষমা চাই। আমরা সেই ঈশ্বরের দাস যিনি আপনার পিতারও ঈশ্বর।”
এই খবরে যোষেফ খুব দুঃখ পেলেন এবং কাঁদলেন। 18তাঁর ভাইরা তাঁর সামনে গিয়ে প্রণাম করলেন এবং বললেন, “আমরা আপনার দাস হব।”
19তখন যোষেফ তাদের বললেন, “ভয় করো না, আমি ঈশ্বর নই! শাস্তি দেবার অধিকার আমার নেই। 20এটা সত্যি যে তোমরা আমার অনিষ্ট করার পরিকল্পনা করেছিলে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরই আমার জন্য ভাল কিছু পরিকল্পনা করছিলেন। আমার মাধ্যমে ঈশ্বরের অনেকের প্রাণ বাঁচানোর পরিকল্পনা ছিল। 21আর ঘটলও তা-ই। তাই ভয় পেও না। আমি তোমাদের এবং তোমাদের সন্তানদের সহায় হব।” এইভাবে যোষেফ ভাইদের ভালো ভালো কথা বললে তারা ভালো বোধ করল।
22যোষেফ তাঁর পিতার পরিবারের সঙ্গে মিশরে রইলেন। যোষেফ 110 বছর বয়সে মারা গেলেন। 23যোষেফের জীবনকালেই যোষেফ এও দেখলেন যে তাঁর পুত্র মনঃশির মাখীর নামে একটি পুত্র হল। যোষেফের জীবনকালেই মাখীরের পুত্ররা জন্মাল এবং যোষেফ তাও দেখে যেতে পারলেন।
যোষেফের মৃত্যু
24অন্তিম শয্যায় যোষেফ তাঁর ভাইদের বললেন, “আমার মৃত্যুর সময় নিকট, কিন্তু আমি জানি ঈশ্বর তোমাদের যত্ন নেবেন এবং এই দেশ থেকে বাইরে নিয়ে যাবেন সেই দেশে, যে দেশ তিনি অব্রাহাম ইস্হাক ও যাকোবকে দেবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।”
25তারপর যোষেফ তাঁর লোকদের একটি শপথ নিতে বললেন যে ঈশ্বর তাদের যখন নতুন দেশে নিয়ে যাবেন, তখন তারা যেন তাঁর অস্থি বহন করে নিয়ে যায়।
26যোষেফ 110 বছর বয়সে মিশরে মারা যান। চিকিৎসকরা তাঁর দেহে ঔষধ দিয়ে মিশরে এক কফিনের মধ্যে রাখলেন।