গালাতীয়দের

প্রতি পত্র

1

1প্রেরিত পৌলের কাছ থেকে শুভেচ্ছা; প্রেরিতহবার জন্য কোন মানুষ বা মানুষের মাধ্যমে আমাকে মনোনীত করা হয় নি, বরং যীশু খ্রীষ্ট ও পিতা ঈশ্বর, যিনি যীশুকে মৃতদের মধ্য থেকে উত্থিত করেছেন, তাঁর মাধ্যমেই আমি প্রেরিত পদে মনোনীত হয়েছি। 2আমি পৌল এবং অন্য ভাইরা যাঁরা আমার সাথে আছেন, আমরা গালাতীয়ার+ 1:2 গালাতীয়া গালাতীয়া সেই জায়গা যেখান থেকে পৌল প্রথম ধর্মযাত্রার সময় উপদেশ দিয়েছিলেন ও মণ্ডলী স্থাপন করেছিলেন। পড়ুন প্রেরিত 13 এবং 14 অধ্যায়। মণ্ডলীদের উদ্দেশ্যে এই চিঠি লিখছি।

3আমাদের পিতা ঈশ্বর ও প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ, দয়া ও শান্তি তোমাদের ওপর বর্তাক। 4যীশু আমাদের পাপের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন, যাতে, যে মন্দ জগতে আমরা বাস করি তার থেকে যেন তিনি আমাদের রক্ষা করতে পারেন। আমাদের পিতা ঈশ্বর তাই চেয়েছিলেন। 5যুগে যুগে ঈশ্বরের মহিমা হোক্। আমেন।

কেবলমাত্র একটিই সত্য সুসমাচার

6আমি তোমাদের দেখে আশ্চর্য হচ্ছি যে, যিনি খ্রীষ্টের অনুগ্রহের মাধ্যমে তোমাদের আহ্বান করেছিলেন তোমরা সেই ঈশ্বরের কাছ থেকে কত শীঘ্র সরে গিয়ে এক ভিন্ন সুসমাচারে বিশ্বাস করছ। 7এটা সুসমাচারের কোন ভাষান্তর নয় কিন্তু কিছু লোক তোমাদের বিভ্রান্ত করছে। তারা খ্রীষ্টের সুসমাচারকে বিকৃত করতে চাইছে। 8আমরা তোমাদের কাছে যে সত্য সুসমাচার প্রচার করেছি তার থেকে ভিন্ন কোন সুসমাচার যদি আমাদের কেউ বা কোন স্বর্গদূত এসেও প্রচার করে, তবে সে অভিশপ্ত হোক্। 9এর আগেও আমরা একথা বলেছি; সেই একই কথা আবার বলছি; তোমরা যে সুসমাচার গ্রহণ করেছিলে তাছাড়া অন্য কোন সুসমাচার যদি কেউ তোমাদের কাছে প্রচার করে তবে এমন ব্যক্তি অভিশপ্ত হোক্।

10তোমাদের কি মনে হয় আমাকে গ্রহণ করার জন্য আমি লোকদের কাছে চেষ্টা চালাচ্ছি? তা নয়, বরং একমাত্র ঈশ্বরকেই আমি সন্তুষ্ট করতে চাইছি। আমি কি মানুষকে খুশী করতে চাইছি? আমি যদি মানুষকে খুশী করতে চাইতাম তাহলে খ্রীষ্টের দাস হতাম না।

পৌলের কর্ত্তৃত্ব ঈশ্বর হতে পাওয়া

11ভাইরা, আমি চাই তোমরা জান যে, যে সুসমাচার আমি তোমাদের কাছে প্রচার করেছি তা কোন মানুষের মতানুযায়ী নয়। 12কারণ সেই বার্তা আমি কোন মানুষের কাছ থেকে পাই নি; কোন মানুষ আমাকে তা শেখায় নি, বরং যীশু খ্রীষ্টই আমার কাছে তা প্রকাশ করেছেন।

13তোমরা তো শুনেছ আমি আগে কেমন জীবনযাপন করতাম। আমি ইহুদী ধর্মমতাবলম্বী ছিলাম। আমি নির্মমভাবে ঈশ্বরের মণ্ডলীকে নির্যাতন করে তা ধ্বংস করতে চেষ্টা করেছিলাম। 14ইহুদী ধর্মচর্চায় সমসাময়িক ও আমার সমবয়সী অন্যান্য ইহুদীদের থেকে আমি অনেক এগিয়েছিলাম, কারণ পূর্বপুরুষদের পরম্পরাগত রীতিনীতি পালনে আমার যথেষ্ট উদ্যোগ ছিল।

15আমার জন্মাবার আগে থেকেই ঈশ্বর আমাকে বেছে নেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাঁর সেবা করার জন্য আমাকে ডাকেন। 16আমি যেন অইহুদীদের কাছে তাঁর পুত্রের বিষয় সুসমাচার প্রচার করি সেইজন্য ঈশ্বর তাঁর পুত্রের বিষয়ে আমার কাছে প্রকাশ করতে মনস্থ করলেন। ঈশ্বর যখন আমাকে ডাকলেন তখন আমি কোন মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করি নি, 17এমন কি আমার আগে যাঁরা প্রেরিত হয়েছিলেন তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে আমি জেরুশালেমে যাই নি; কিন্তু কাল বিলম্ব না করে আমি আরব দেশে চলে গেলাম। পরে দম্মেশক শহরে ফিরে গেলাম।

18তারপর তিন বছর বাদে পিতরের সঙ্গে পরিচিত হতে জেরুশালেমে যাই ও পিতরের সঙ্গে আমি পনেরো দিন থাকি। 19সেখানে আমি প্রভুর ভাই যাকোব ছাড়া আর কোন প্রেরিতকে দেখি নি। 20ঈশ্বর জানেন যে যেসব কথা আমি লিখছি সেগুলি মিথ্যা নয়। 21তারপর আমি সুরিয়ার ও কিলিকিয়ার অঞ্চলগুলিতে চলে যাই।

22এর পূর্বে যিহূদার কোন খ্রীষ্ট মণ্ডলী আমায় ব্যক্তিগতভাবে চিনত না। 23তারা শুধু আমার সম্বন্ধে শুনেছিল, “যে লোকটি আগে আমাদের নির্যাতন করত, সে এখন সেই বিশ্বাসের বাণী প্রচার করছে, যা সে পূর্বে ধ্বংস করতে চেয়েছিল।” 24আর তারা আমার কারণে ঈশ্বরের প্রশংসা করতে লাগল।

2

অন্য প্রেরিতরা পৌলকে গ্রহণ করলেন

1তারপর চৌদ্দ বছর পর আমি আবার জেরুশালেমে গেলাম। আমি বার্ণবার সঙ্গে গেলাম আর তীতকেও সঙ্গে নিলাম। 2ঈশ্বরের কাছ থেকে প্রাপ্ত আদেশ অনুসারে আমি সেখানে গেলাম। সেখানকার বিশ্বাসীদের নেতৃবর্গের কাছে এক গোপন সভায় অইহুদীদের কাছে যে সুসমাচার প্রচার করে থাকি তার ব্যাখ্যা করলাম। আমি চেয়েছিলাম যে তারা যেন বুঝতে পারে আমি কি কাজ করছি, যেন অতীতে যে কাজ করেছিলাম ও বর্তমানে আমি যা করছি তা বৃথা না হয়ে থাকে।

3এর ফলস্বরূপ তীত, যিনি আমার সঙ্গে ছিলেন, তিনি একজন গ্রীক হওয়া সত্ত্বেও এই নেতৃবর্গ তীতকে সুন্নত করার জন্য জোর করলেন না। 4এইসব সমস্যা নিয়ে কথা বলার দরকার ছিল, কারণ কিছু ভণ্ড বিশ্বাসী গোপনে গুপ্তচরের মতো আমাদের দলে ঢুকে পড়েছিল এবং খ্রীষ্ট যীশুতে আমাদের কতটা স্বাধীনতা আছে তা জানবার চেষ্টা করছিল, যাতে আমাদের তাদের দাস করতে পারে। 5সেই ভণ্ড বিশ্বাসী ভাইরা যা চেয়েছিল তার কোন কিছুতেই আমরা মত দিই নি, যাতে সুসমাচার দ্বারা যে সত্য প্রকাশিত হয়েছিল তা তোমাদের সাথে থাকে।

6মণ্ডলীতে যাদের খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছিল তাদের কাছ থেকেও আমি নতুন কোন কিছু জানতে পারি নি। তাঁরা যেই হোন না কেন তাতে আমার কিছু এসে যায় না। ঈশ্বরের কাছে সবাই সমান আর তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন। 7কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ নেতারা দেখলেন যে ঈশ্বর আমাকে একটি বিশেষ কাজের ভার দিয়েছিলেন, যেমনটি পিতরকে দিয়েছিলেন। ঈশ্বর পিতরকে ইহুদীদের কাছে সুসমাচার প্রচারের ভার দিয়েছিলেন। কিন্তু ঈশ্বর আমাকে অ-ইহুদীদের কাছে সুসমাচার প্রচার করার ভার দিয়েছিলেন। 8ইহুদীদের জন্য প্রেরিতের কাজ করতে ঈশ্বর পিতরকে ক্ষমতা দিয়েছিলেন, তিনিই আবার আমাকেও প্রেরিতের কাজ করবার ক্ষমতা দিয়েছিলেন, কিন্তু যারা ইহুদী নয় তাদের জন্য। 9যাকোব, পিতর এবং যোহন আপাতদৃষ্টিতে নেতা ছিলেন এবং তাঁরা যখন দেখলেন যে ঈশ্বর আমাকে প্রচারের একটি বিশেষ অনুগ্রহ দান করেছেন, তখন তাঁরা বার্ণবা এবং আমাকে তাদের সহভাগী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁরা আমাদের বললেন, “আমরা এই ব্যবস্থায় সম্মত যে, আমরা, অর্থাৎ পৌল এবং বার্ণবা অ-ইহুদীদের কাছে প্রচারে যাব; আর তাঁরা অর্থাৎ যাকোব, পিতর ও যোহন ইহুদীদের কাছে যাবেন।” 10তাঁরা কেবলমাত্র একটি বিষয়ে আমাদের অনুরোধ করলেন, যেন যারা দরিদ্র তাদের মনে রাখি। এ কাজটি করতে আমিও খুব উদগ্রীব ছিলাম।

পৌল পিতরের ভুল দেখিয়ে দেন

11কিন্তু যখন পিতর আন্তিয়খিয়ায় এলেন, আমি সরাসরি তাঁর বিরোধিতা করলাম, কারণ তিনি স্পষ্টতই ভুল দিকে ছিলেন। 12আন্তিয়খিয়ায় আসার পর প্রথমে তিনি অইহুদীদের সঙ্গে পানাহার ও মেলামেশা করতেন কিন্তু যাকোবের কাছে থেকে কিছু ইহুদী সেখানে এলে পিতর অইহুদীদের সঙ্গে পানাহার বন্ধ করে দিলেন। তিনি অইহুদীদের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করে নিজেকে পৃথক রাখলেন। তিনি সেই সমস্ত ইহুদীদের কথা মনে করে ভয় পাচ্ছিলেন, যারা মনে করত সব অইহুদী লোকদের সুন্নত হওয়া দরকার। 13এরপর অন্যান্য অইহুদীরা পিতরের সঙ্গে এই ভণ্ডামিতে এমন মাত্রায় যোগ দিলেন যে বার্ণবাও এদের ভণ্ডামির দ্বারা প্রভাবিত হলেন। 14আমি যখন দেখলাম যে তাঁরা সুসমাচারের সত্য অনুসারে সোজা পথে চলছেন না, তখন আমি পিতরকে সম্বোধন করে সবার সামনে বললাম: “আপনি একজন ইহুদী হয়ে যদি ইহুদীদের রীতিনীতি পালন না করেন, তবে যারা অইহুদী তাদের ইহুদীদের মতো সব কিছু পালন করতে জোর করছেন কেন?”

15আমরা জন্মসূত্রে ইহুদী, অইহুদী পাপী নই। 16তবু আমরা জানি যে মানুষ ঈশ্বরের সামনে বিধি-ব্যবস্থা পালনের দ্বারা নয় বরং যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস দ্বারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে নির্দোষ গণিত হয়, তাই আমরা যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস করেছি, যাতে আমরা ঈশ্বরের সামনে বিধি-ব্যবস্থা পালনের দ্বারা নয় বরং খ্রীষ্টে বিশ্বাসী বলেই নির্দোষ গণিত হই। কারণ কেউই বিধি-ব্যবস্থা পালনের দ্বারা ঈশ্বরের সামনে নির্দোষ বলে বিবেচিত হয় না।

17কিন্তু আমরা ইহুদীরা খ্রীষ্টে নির্দোষ বিবেচিত হতে গিয়ে যদি অইহুদীদের মত নিজেদের পাপী দেখাই, তবে তার অর্থ কি এই যে খ্রীষ্ট পাপকে উৎসাহিত করেন? কখনই না। 18কারণ যা আমি ভেঙে ফেলেছি তা যদি আবার গঠন করি, তাহলে আমি নিজেকে নিয়ম ভঙ্গকারী হিসাবে প্রমাণ করি। 19বিধি-ব্যবস্থার দিক থেকে আমি মৃত এবং বিধি-ব্যবস্থা হল আমার মৃত্যুর কারণ। এটা হয়েছে যাতে আমি ঈশ্বরের জন্য বাঁচি। আমি খ্রীষ্টের সঙ্গে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছি। 20সুতরাং আমি আর জীবিত নই, কিন্তু খ্রীষ্টই আমার মধ্যে জীবিত আছেন; আমার দেহের মধ্যে যে জীবন আমি এখন যাপন করি, এ কেবল ঈশ্বরের পুত্রের ওপর বিশ্বাসের দ্বারাই করি, যিনি আমাকে ভালবেসেছেন এবং আমার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। 21ঈশ্বরের অনুগ্রহ আমি প্রত্যাখান করি না, কারণ যদি বিধি-ব্যবস্থার দ্বারা ঈশ্বরের সামনে নির্দোষ গণিত হওয়া যায়, তবে খ্রীষ্ট মিথ্যাই প্রাণ দিয়েছিলেন।

3

বিশ্বাসের মাধ্যমে ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ

1ওহে অবুঝ গালাতীয়ের লোকেরা! তোমাদের কে যাদু করেছে? ক্রুশের ওপর যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যুর কথা তোমাদের তো স্পষ্ট করেই বোঝানো হয়েছিল। 2কেবল আমার এই কথাটির জবাব দাও যে তোমরা কিভাবে পবিত্র আত্মা পেয়েছিলে? বিধি-ব্যবস্থা পালনের দ্বারা কি পেয়েছিলে? না সুসমাচার শুনে ও তাতে বিশ্বাস করাতেই পবিত্র আত্মা পেয়েছিলে? 3তোমরা কি এতই অবোধ যে, পবিত্র আত্মায় খ্রীষ্টীয় জীবন শুরু করে এখন তা স্থুল দৈহিক শক্তির ওপর নির্ভর করে শেষ করতে চাও? 4তোমরা কি বৃথাই এত রকম অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গেছ? আমি আশা করি তা বৃথা হবে না। 5তোমরা বিধি-ব্যবস্থা পালন করেছিলে বলেই কি ঈশ্বর তোমাদের পবিত্র আত্মা দিয়েছিলেন এবং তোমাদের মধ্যে অলৌকিক কাজ করেছিলেন, না তোমরা সুসমাচার শুনে বিশ্বাস করেছিলে বলে?

6অব্রাহামের সম্পর্কে শাস্ত্র যেমন বলে: “অব্রাহাম ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস করেছিলেন এবং ঈশ্বর তাঁর বিশ্বাসকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন, তার ফলে ঈশ্বরের সাক্ষাতে অব্রাহাম ধার্মিক প্রতিপন্ন হয়েছিলেন।”+ 3:6 আদি 15:6 হইতে উদ্ধৃত।7তোমাদের জানা ভাল, যে যারা বিশ্বাসের পথে চলে তারাই অব্রাহামের প্রকৃত সন্তান। 8পবিত্র শাস্ত্রে এবিষয়ে আগেই লেখা ছিল যে, অইহুদী লোকদের ঈশ্বর তাদের বিশ্বাসের দ্বারা ধার্মিক প্রতিপন্ন করবেন। আগে থেকেই এই সুসমাচার অব্রাহামকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, “অব্রাহাম, সমস্ত জাতি তোমার মাধ্যমে আশীর্বাদ পাবে।”+ 3:8 আদি 12:3 হইতে উদ্ধৃত।9অব্রাহাম বিশ্বাস করে যেমন আশীর্বাদ পেয়েছেন তেমনি যে সমস্ত লোক এখন বিশ্বাস করছে তারাও সেই আশীর্বাদ লাভ করছে।

10যারা ঈশ্বরের সামনে ধার্মিক প্রতিপন্ন হতে বিধি-ব্যবস্থা পালনের ওপর নির্ভর করে, তাদের ওপর অভিশাপ থাকে। কারণ শাস্ত্র বলে: “বিধি-ব্যবস্থায় যে সকল লেখা আছে তার সব কটি যে পালন না করে সে শাপগ্রস্ত!”+ 3:10 দ্বি. বি. 27:26 হইতে উদ্ধৃত।11এখন এটা পরিষ্কার যে বিধি-ব্যবস্থার দ্বারা ঈশ্বরের কাছে ধার্মিক প্রতিপন্ন হওয়া যায় না। কারণ শাস্ত্র বলে: “ধার্মিক ব্যক্তি বিশ্বাসের জন্যই বাঁচবে।”+ 3:11 হবককূক 2:4 হইতে উদ্ধৃত।

12কিন্তু বিধি-ব্যবস্থার সঙ্গে বিশ্বাসের কোন সম্পর্ক নেই, বরং শাস্ত্র বলে, “যে বিধি-ব্যবস্থা পালন করে, সে তার মধ্য দিয়েই জীবন পাবে।”+ 3:12 যে … পাবে লেবীয় 18:5.13বিধি-ব্যবস্থা আমাদের ওপর যে অভিশাপ চাপিয়ে দিয়েছে তার থেকে খ্রীষ্ট আমাদের উদ্ধার করেছেন। খ্রীষ্ট আমাদের স্থানে দাঁড়িয়ে নিজের ওপর সেই অভিশাপ গ্রহণ করলেন। কারণ শাস্ত্র বলছে: “যার দেহ গাছে টাঙ্গানো হয় সে শাপগ্রস্ত।”+ 3:13 দ্বি. বি. 21:23 হইতে উদ্ধৃত।14খ্রীষ্ট এই কাজ সম্পন্ন করলেন যাতে যে আশীর্বাদ অব্রাহাম লাভ করেছিলেন তা খ্রীষ্টের মাধ্যমে অইহুদীরাও লাভ করে, এবং যেন বিশ্বাসের দ্বারা আমরা সেই প্রতিশ্রুত আত্মাকে পাই।

বিধি-ব্যবস্থা ও প্রতিশ্রুতি

15আমার ভাই ও বোনেরা, আমি তোমাদের কাছে সাধারণ একটি উদাহরণ দিচ্ছি: দুজনের মধ্যে একটা চুক্তির কথা চিন্তা কর। সেই চুক্তি একবার বৈধ হয়ে গেলে কেউ তা বাতিল করতে পারে না বা তাতে কোন কিছু যোগ করতে পারে না। 16ঈশ্বর, অব্রাহাম ও তাঁর বংশধরকে আশীর্বাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। লক্ষ্য কর যে এখানে “বংশধর” বলা হয়েছে, “বংশধরদের” নয়, যেন অনেককে নয় বরং একজনকে অর্থাৎ খ্রীষ্টকে নির্দেশ করা হয়। 17আমি এটাই বলতে চাই যে ঈশ্বর অব্রাহামের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন, আর তার চারশো তিরিশ বছর পরে বিধি-ব্যবস্থা এসেছিল। তাই বিধি-ব্যবস্থা এসে পূর্বেই যে চুক্তি ঈশ্বরের সাথে অব্রাহামের হয়েছিল তা বাতিল করতে পারে না।

18যদি উত্তরাধিকার বিধি-ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করত তাহলে তা আর প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভরশীল হত না; কিন্তু ঈশ্বর মুক্ত হস্তে এই উত্তরাধিকার অব্রাহামকে তাঁর প্রতিশ্রুতির মধ্যে দিয়েছিলেন।

19তাহলে বিধি-ব্যবস্থা কিসের জন্য? অপরাধ কি, এটা বোঝাবার জন্য বিধি-ব্যবস্থা সেই বংশধরের (অব্রাহামের) আসা পর্যন্ত যোগ করা হল, যাকে সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। মানুষের কাছে সেই বিধি-ব্যবস্থা পৌঁছে দিতে স্বর্গদূতরা মোশিকে মধ্যস্তরূপে ব্যবহার করেছিলেন। 20কিন্তু কেবলমাত্র একজন থাকলে কোন মধ্যস্থের দরকার হয় না; আর ঈশ্বর এক।

মোশির বিধি-ব্যবস্থার উদ্দেশ্য

21তাহলে কি বিধি-ব্যবস্থা ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে? নিশ্চয়ই নয়! যদি এমন বিধি-ব্যবস্থা থাকত যা মানুষকে জীবন দান করতে পারে, তবে বিধি-ব্যবস্থা পালন করেই আমরা ধার্মিক হতে পারতাম। 22কিন্তু এ সত্য নয়, কারণ শাস্ত্র দেখাচ্ছে যে সকলে পাপের কাছে বন্দী এবং লোকেরা বিশ্বাসের মাধ্যমেই সেই প্রতিশ্রুত আশীর্বাদ পেতে পারে। যারা যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস করবে, তাদের উদ্দেশ্যেই এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া রয়েছে।

23এই বিশ্বাস আসার আগে আমরা বিধি-ব্যবস্থার অধীনে বন্দী ছিলাম। আমাদের কোন স্বাধীনতা ছিল না, যে পর্যন্ত না ঈশ্বর আমাদের কাছে সেই বিশ্বাসের কথা জানালেন। 24খ্রীষ্টের কাছে আসার জন্য বিধি-ব্যবস্থাই ছিল আমাদের কঠোর অভিভাবক, যেন বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের সাক্ষাতে ধার্মিক বলে গণিত হই। 25এখন যখন বিশ্বাস আমাদের মধ্যে এসেছে, তখন আমরা আর বিধি-ব্যবস্থার অধীন নই।

26 কারণ তোমাদের মধ্যে যাদের খ্রীষ্টে বাপ্তিস্ম হয়েছে, তাদের সবাই খ্রীষ্টকে পরিধান করেছে। খ্রীষ্ট যীশুর মাধ্যমে বিশ্বাস দ্বারা তোমরা সকলেই ঈশ্বরের সন্তান। 28এখন খ্রীষ্ট যীশুতে যারা আছে তাদের মধ্যে পুরুষ বা স্ত্রীতে কোন ভেদাভেদ নেই, ইহুদী কি গ্রীক, স্বাধীন অথবা দাসের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কারণ খ্রীষ্ট যীশুতে তোমরা এক। 29তোমরা খ্রীষ্টের, তাই তোমরা অব্রাহামের বংশধর; সুতরাং অব্রাহামের কাছে ঈশ্বর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তোমরাও তার উত্তরাধিকারী হবে।

4

1আমি তোমাদের একথা বলতে চাইছি—উত্তরাধিকারী যতদিন শিশু থাকে ততদিন তার সঙ্গে একজন দাসের কোন তফাত্ থাকে না; যদিও সেই শিশু সব কিছুর মালিক। 2কারণ সে যত দিন শিশু অবস্থায় থাকে তাকে অভিভাবক এবং সংসার পরিচালকের কথা অনুযায়ী চলতে হয়। সাবালক হবার জন্য যে বয়স তার পিতা নির্ধারণ করে দেন, সেই বয়সে পৌঁছলে সে স্বাধীন হয়। 3একথা আমাদের পক্ষে একইভাবে প্রযোজ্য। আমরা যখন শিশুদের পর্যায়ে ছিলাম, তখন আমরা এই জগতের কতকগুলি প্রাথমিক নিয়ম কানুনের অধীন ছিলাম, 4কিন্তু নিরুপিত সময়ে ঈশ্বর তাঁর পুত্রকে পাঠালেন। ঈশ্বরের পুত্র একজন স্ত্রীলোকের গর্ভজাত হলেন এবং বিধি-ব্যবস্থার অধীনে জীবন কাটালেন, 5যাতে তিনি বিধি-ব্যবস্থার অধীন সমস্ত লোকদের স্বাধীন করতে পারেন এবং যেন আমরা সকলে তাঁর পুত্ররূপে স্বীকৃতি পেতে পারি।

6তোমরা সকলেই ঈশ্বরের সন্তান, সেইজন্যই তাঁর পুত্রের আত্মাকে তিনি তোমাদের অন্তরে পাঠিয়েছেন। সেই আত্মা ডেকে ওঠে, “ আব্বা , পিতা” বলে। 7তাই তোমরা আগের মতো আর দাস নও কিন্তু ঈশ্বরের পুত্র। আর যেহেতু তোমরা পুত্র তাই ঈশ্বর তাঁর প্রতিশ্রুত বিষয়গুলি তোমাদের দেবেন।

গালাতীয় খ্রীষ্টানদের জন্য পৌলের ভালবাসা

8অতীতে যখন তোমরা ঈশ্বরকে জানতে না, তখন তোমরা যে সমস্ত দেবতার সেবা করতে, তারা ঈশ্বর নয়। 9কিন্তু তোমরা এখন সত্য ঈশ্বরকে জেনেছ অথবা এটা বলা ভাল যে ঈশ্বরই তোমাদের জেনেছেন। তাই পূর্বে যে সব নিরর্থক ও দুর্বল নিয়ম-কানুন ছিল সেদিকে আবার কেন ফিরছ? তোমরা কি আবার ঐ সকলের দাস হতে চাও? 10তোমরা কেবল বিশেষ বিশেষ দিন, মাস, ঋতু ও বছর পালন করছ। 11তোমাদের দেখে আমার ভয় হয় যে, তোমাদের মধ্যে হয়তো আমি বৃথাই পরিশ্রম করছি।

12আমার ভাই ও বোনেরা, আমি তোমাদের মতো ছিলাম, তাই মিনতি করি তোমরা আমার মতো হও। তোমরা আমার সঙ্গে কোন খারাপ ব্যবহার কর নি। 13তোমরা তো জান, আমি অসুস্থ ছিলাম বলে প্রথমেই তোমাদের কাছে সুসমাচার প্রচার করি। 14যদিও আমার অসুস্থতা তোমাদের সবার কাছে এক পরীক্ষাস্বরূপ হয়েছিল, তবু তোমরা এমনভাবে আমাকে গ্রহণ করেছিলে যেন আমি ঈশ্বর হতে আগত স্বর্গদূত, যেন স্বয়ং যীশু খ্রীষ্ট। 15এখন তোমাদের সেই আনন্দ কোথায়? আমি তোমাদের সম্বন্ধে এই সাক্ষ্য দিতে পারি যে তখন সম্ভব হলে তোমরা আমার জন্য নিজের নিজের চোখ উপড়ে আমাকে দিতে দ্বিধা করতে না। 16এখন তোমাদের কাছে সত্য বলছি বলে কি আমি তোমাদের শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছি?

17সেই লোকরা তোমাদের প্রতি আগ্রহী হয়েছে, কিন্তু তা কোন ভাল উদ্দেশ্যে নয়। তারা তোমাদের কাছ থেকে আমাদের আলাদা করতে চায়, যাতে তোমরা তাদের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ কর। 18অবশ্য আগ্রহ দেখানো ভাল কেবল যদি সৎ‌ উদ্দেশ্যে তা করা হয়। আমি যখন তোমাদের মধ্যে উপস্থিত থাকি কেবল তখনই নয় বরং সবসময়েই তা থাকা ভাল। 19হে আমার প্রিয় সন্তানরা, তোমাদের জন্য আমি আর একবার প্রসব যন্ত্রণা ভোগ করছি। তোমাদের নিয়ে আমাকে এই যন্ত্রণা ভোগ করতেই হবে যতদিন পর্যন্ত না তোমরা খ্রীষ্টের মতো হয়ে ওঠো। 20এখন তোমাদের কাছে যেতে আমার খুব ইচ্ছা করছে, তাহলে ভিন্নভাবে এসব নিয়ে আলোচনা করতে পারতাম। আমি জানি না তোমাদের নিয়ে আমি কি করব।

হাগার এবং সারার উদাহরণ

21আমাকে বলতো, তোমাদের মধ্যে কে মোশির বিধি-ব্যবস্থার অধীন থাকতে চাও? তোমরা কি জান না বিধি-ব্যবস্থা কি বলে? 22শাস্ত্র বলছে যে অব্রাহামের দুটি পুত্র ছিল, একটি পুত্রের মা ছিল দাসী স্ত্রী, অপর পুত্রের মা ছিল স্বাধীন স্ত্রী। 23দাসী স্ত্রীর গর্ভে অব্রাহামের যে সন্তান জন্মেছিল তার জন্ম স্বাভাবিকভাবেই হয়েছিল, কিন্তু স্বাধীন স্ত্রীর গর্ভে অব্রাহামের যে সন্তান জন্মেছিল, সে অব্রাহামের কাছে ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতির ফলেই জন্মেছিল।

24এই বিষয়গুলি রূপকের মতো ব্যাখ্যা করা যায়। এই দুই মহিলা দুটি চুক্তির প্রতিনিধিত্ব করে, একটি চুক্তি যেটা সীনয় পর্বত থেকে এসেছিল, সেটা একদল লোকের জন্ম দিয়েছিল দাসত্বের জন্যে। যে মাতার নাম হাগার, সে এই চুক্তির সঙ্গে তুলনীয়। 25হাগার হলেন আরবের সীনয় পর্বতের মতো। তিনি বর্তমান ইহুদীদের জেরুশালেমের প্রতিরূপ, কারণ সেই জেরুশালেম তার লোকদের সাথে দাসত্বের বন্ধনে বদ্ধ। 26কিন্তু স্বর্গীয় জেরুশালেম স্বাধীন মহিলা স্বরূপ। সেই জেরুশালেম আমাদের মাতৃসম। 27কারণ শাস্ত্রে লেখা আছে:

“হে বন্ধ্যা নারী, তোমরা যারা সন্তানের জন্ম দাও নি,

তোমরা আনন্দ কর, উল্লসিত হও!

তোমরা যারা কখনই প্রসব যন্ত্রণা ভোগ কর নি;

তোমরা উল্লাস কর,

কারণ স্বামীর সঙ্গে বসবাসকারী স্ত্রীর চাইতে

নিঃসঙ্গ স্ত্রীর অনেক বেশী সন্তান হবে।”+ 4:27 উদ্ধৃতি যিশাইয় 54:1.

28আমার ভাই ও বোনেরা, তোমরাও সেই ইস‌্হাকের মতো প্রতিশ্রুতির সন্তান। 29কিন্তু ঠিক এখনকার মতোই তখনও যে পুত্র স্বাভাবিকভাবে জন্মেছিল, সে অন্য পুত্রকে অর্থাৎ পবিত্র আত্মার শক্তিতে যার জন্ম হয়েছিল তাকে নির্যাতন করত। 30কিন্তু শাস্ত্র কি বলে? “দাসী স্ত্রী ও তার পুত্রকে তাড়িয়ে দাও! কারণ দাসীর পুত্র স্বাধীন স্ত্রীর পুত্রের সাথে কিছুরই উত্তরাধিকারী হবে না।”+ 4:30 আদি 21:10 হইতে উদ্ধৃত।31তাই বলি আমার ভাই ও বোনেরা, আমরা সেই দাসীর সন্তান নই, আমরা স্বাধীন স্ত্রীর সন্তান।

5

স্বাধীন হয়ে থেকো

1খ্রীষ্ট আমাদের স্বাধীন করেছেন, যেন আমরা স্বাধীনভাবে থাকতে পারি; তাই শক্ত হয়ে দাঁড়াও, দাসত্বে ফিরে যেও না। 2শোন! আমি পৌল বলছি। যদি তোমরা সুন্নতের মাধ্যমে আবার বিধি-ব্যবস্থায় ফিরে যাও, তবে তোমরা খ্রীষ্টেতে লাভবান হবে না। 3আবার আমি প্রত্যেক মানুষকে সতর্ক করে দিচ্ছি। তোমরা যদি সুন্নত করাতে চাও, তবে বিধি-ব্যবস্থার সবটাই তোমাদের পালন করতে হবে। 4তোমরা যারা বিধি-ব্যবস্থার দ্বারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে নির্দোষ গণিত হতে চেষ্টা করছ, তারা খ্রীষ্টের কাছ থেকে নিজেদের আলাদা করেছ এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়েছ। 5কিন্তু আমরা বিশ্বাসের দ্বারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে নির্দোষ বলে গণিত হবার জন্য অধীর আগ্রহে আত্মায় অপেক্ষা করছি। 6কারণ খ্রীষ্ট যীশুতে যুক্ত থাকলে সুন্নত হওয়া বা না হওয়া এ প্রশ্ন মূল্যহীন; কিন্তু দরকারি বিষয় হল বিশ্বাস, যে বিশ্বাস ভালবাসার মধ্য দিয়ে কাজ করে।

7তোমরা বেশ ভালই দৌড়োচ্ছিলে, তাহলে সত্যের বাধ্য হয়ে চলতে কে তোমাদের বাধা দিল? 8যিনি তোমাদের আহ্বান করেছেন, সেই ঈশ্বরের কাছ থেকে এই ধরণের প্ররোচনা আসে নি। 9সাবধান হও! “সামান্য একটু খামির গোটা ময়দার তালকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তোলে!” 10তোমাদের জন্য প্রভুতে আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে যে তোমরা আমার শিক্ষা ছাড়া ভিন্ন কোন শিক্ষার দিকে ফিরবে না; কিন্তু যে লোক তোমাদের বিরক্ত করছে, সে যেই হোক্ না কেন, শাস্তি সে পাবেই।

11আমার ভাই ও বোনেরা, যদি আমি এখনও সুন্নতের প্রয়োজন সম্বন্ধে শিক্ষা নিই, তবে আমি এখনও এতো নির্যাতন ভোগ করছি কেন? এবং আমি সুন্নতের প্রয়োজন সম্বন্ধে যদি এখনও বলি তাহলে ক্রুশের কথা বলতে কোন সমস্যাই হত না। 12যাঁরা তোমাদের অস্থির করে তুলছে, আমি চাই তারা যেন নিজেদের ছিন্নাঙ্গও করে।

13আমার ভাই ও বোনেরা, স্বাধীন মানুষ হবার জন্যই ঈশ্বর তোমাদের আহ্বান করেছেন, কেবল দেখ তোমাদের পাপ প্রবৃত্তিকে তৃপ্তি দিয়ে সেই স্বাধীনতার সুযোগ নিও না, বরং প্রেমে একে অপরের দাস হও। 14যেহেতু সমস্ত বিধি-ব্যবস্থাকে এক করলে এটাই দাঁড়ায়: “তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত করে ভালবাস।”+ 5:14 লেবীয় 19:18 হইতে উদ্ধৃত।15কিন্তু তোমরা যদি নিজেদের মধ্যে কামড়া-কামড়ি, ছেঁড়াছেড়ি কর, তবে সাবধান! যেন তোমরা একে অপরের দ্বারা ধ্বংস না হও।

মানব প্রকৃতি এবং আত্মা

16তাই আমি বলি যে, তোমরা সেই আত্মার পরিচালনায় চল, তাহলে তোমরা আর তোমাদের পাপ প্রকৃতির ইচ্ছা পূর্ণ করবে না। 17কারণ আমাদের পাপ প্রকৃতি যা চায়, তা আত্মার বিরুদ্ধে এবং আত্মা যা চায় তা পাপ প্রকৃতির ইচ্ছার বিরুদ্ধে। এরা পরস্পরের বিরোধী, ফলে তোমরা যা চাও তা করতে পার না। 18কিন্তু তোমরা যদি আত্মা দ্বারা পরিচালিত হও তবে তোমরা বিধি-ব্যবস্থার অধীনে নও।

19পাপ প্রবৃত্তির কাজগুলি স্পষ্ট: সেগুলি হল ব্যভিচার, অশুচিতা, স্বেচ্ছাচারিতা, 20প্রতিমা পূজা, ডাইনি বিদ্যা, ঘৃণা, স্বার্থপরতা, হিংসা, ক্রোধ, নিজেদের মধ্যে বিতর্ক, মতভেদ, দলাদলি, ঈর্ষা, 21মাতলামি, লাম্পট্য আর একই ধরণের অন্য অপরাধ। এর বিরুদ্ধে তোমাদের সাবধান করে দিচ্ছি যেমন এর আগেও করেছি। যারা এইসব কুকাজ করবে তাদের ঈশ্বরের রাজ্যে জায়গা হবে না। 22কিন্তু আত্মার ফল হল ভালবাসা, আনন্দ, শান্তি, ধৈর্য্য, দয়া, মঙ্গলভাব, বিশ্বস্ততা, মৃদুতা ও আত্মসংযম। 23এই সবের বিরুদ্ধে কোন বিধি-ব্যবস্থা নেই। 24যারা যীশু খ্রীষ্টে রয়েছে, তারা তাদের পাপ প্রকৃতিকে কামনা বাসনা সমেত ক্রুশে বিদ্ধ করেছে, অর্থাৎ তাদের পুরানো জীবনের সব মন্দ লালসা ও প্রবৃত্তি ত্যাগ করেছে। 25সুতরাং আত্মাই যখন আমাদের নতুন জীবনের উৎস তখন এস আমরা আত্মার অধীনে চলি। 26এস আমরা যেন অযথা অহঙ্কার না করি, পরস্পরকে জ্বালাতন ও হিংসা না করি।

6

একে অপরকে সাহায্য করো

1আমার ভাই ও বোনেরা, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি হঠাৎ‌ পাপে পড়ে তবে তোমরা যাঁরা আত্মিক ভাবাপন্ন তারা অবশ্যই তাকে ঠিক পথে আনতে সাহায্য করবে। একাজ অত্যন্ত নম্রভাবে করতে হবে; কিন্তু তোমরা নিজেরাও সাবধানে থেকো, পাছে তোমরাও পরীক্ষায় পড়। 2তোমরা একে অপরের ভার বহন কর, এই রকম করলে বাস্তবে খ্রীষ্টের বিধি-ব্যবস্থাই পালন করবে। 3কোন ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে ভাল না হয়েও নিজেকে অন্যদের থেকে ভাল মনে করে তাহলে সে নিজেকে প্রতারণা করছে। 4অপর লোকের সঙ্গে নিজের তুলনা না করে প্রত্যেকের উচিত নিজের কাজ যাচাই করে দেখা, তবে সে যা করছে তাই নিয়ে গর্ব করতে পারবে। 5কারণ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার নিজের দায়িত্ব নিতে হবে।

যেমন বুনবে তেমন কাটবে

6যে ব্যক্তি শিক্ষকের কাছ থেকে ঈশ্বরের বার্তার বিষয়ে শিক্ষা লাভ করে, তার উচিত সেই শিক্ষককে তার সমস্ত উত্তম বিষয়ের সহভাগী করে প্রতিদান দেওয়া।কারণ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার নিজের দায়িত্ব নিতে হবে।

7তোমরা নিজেদের বোকা বানিও না। ঈশ্বরকে ঠকানো যায় না। যেমন বুনবে, তেমন কাটবে। 8যে নিজ পাপ প্রকৃতির বীজ রোপন করে সে তার থেকে সংগ্রহ করবে। কিন্তু যে পবিত্র আত্মার বীজ বুনবে সে পবিত্র আত্মার কাছ থেকে অনন্ত জীবন পাবে। 9ভাল কাজ করতে করতে আমরা যেন ক্লান্ত না হয়ে পড়ি, কারণ নিরুপিত সময়ে আমরা ফসল রূপে অনন্ত জীবন পাব। হাল ছাড়লে চলবে না। 10সুযোগ পেলে আমাদের সব লোকের প্রতি ভাল কাজ করা উচিত, বিশেষ করে বিশ্বাসীর গৃহের পরিজনদের প্রতি।

পৌলের চিঠির শেষ কথা

11দেখ কত বড় বড় অক্ষরে নিজের হাতে আমি এই চূড়ান্ত কথাগুলি লিখছি। 12যারা তোমাদের সুন্নত করার চেষ্টায় আছে তাদের উদ্দেশ্য অন্যদের কাছে নাম কেনার। তারা এটা করে যাতে খ্রীষ্টের ক্রুশের জন্য তারা অত্যাচারিত না হয়। 13যারা সুন্নত করেছে তারা নিজেরাও বিধি-ব্যবস্থা ঠিক মতো পালন করে না অথচ তারাই তোমাদের সুন্নত করাতে চাইছে; উদ্দেশ্য, তোমাদের সুন্নত করানোর মাধ্যমে বশ করতে পারলে এই কাজ নিয়ে তারা গর্ব করার সুযোগ পাবে।

14শুধু আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের ক্রুশ ছাড়া আমার গর্ব করার মতো কিছুই নেই। যীশুর ক্রুশীয় মৃত্যুর দ্বারা আমি জগতের কাছে ক্রুশবিদ্ধ আর জগত আমার কাছে ক্রুশবিদ্ধ। 15কারো সুন্নত করা হল কি হল না সেটা বড় বিষয় নয় কিন্তু এটা জরুরী যে এক নতুন সৃষ্টি হোক্। 16ঈশ্বরের লোকেরা যারাই এই নিয়ম মানে তাদের ওপর শান্তি ও দয়া বর্ষিত হোক্।

17চিঠি লেখা শেষ করার আগে আমার অনুরোধ, যেন কেউ আর আমাকে কষ্ট না দেয়, কারণ ইতিমধ্যেই আমি আমার দেহে খ্রীষ্টের ক্ষত চিহ্ন বহন করছি।

18আমার ভাই ও বোনেরা, আমি প্রার্থনা করি যে প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ তোমাদের আত্মার মধ্যে বিরাজ করুক। আমেন।