উপদেশক

1

1এগুলি হল, উপদেশকের কথা যিনি ছিলেন দায়ূদের পুত্র এবং জেরুশালেমের রাজা।

2সবই এত অর্থহীন! তাই উপদেশকের মতে সবই অসার, সবই সময়ের অপচয়! 3মানুষ সূর্যের নীচে যে কঠিন পরিশ্রম করে সে কি তার কোন ফল পায়? না!

কোন কিছুই বদলায় না

4বংশপরম্পরা পর্যায়ক্রমে আসে এবং যায়। কিন্তু পৃথিবী চিরন্তণ। 5সূর্য ওঠে আবার অস্ত যায়। তারপর দ্রুত ফিরে যায় সেই একই জায়গায় যেখান থেকে আবার সূর্য ওঠে।

6বাতাস দক্ষিণে বয় এবং উত্তরেও বয়। বাতাস চারিদিক ঘুরে ঘুরে আবার তার নিজের জায়গায় ফিরে যায়।

7সব নদী বার বার একই দিকে বয়ে চলে। সমস্ত নদীই সমুদ্রে গিয়ে মেশে কিন্তু সমুদ্র কখনও পূর্ণ হয় না।

8সব কথাই ক্লান্তিকর। কিন্তু তবুও লোকে কথা বলে। আমরা সব সময়ই কথা শুনি কিন্তু তাতে আমরা সন্তুষ্ট হই না। আবার সব সময় আমরা যে সব জিনিস দেখি তাতেও আমাদের মন ভরে না।

কোন কিছুই নতুন নয়

9সব জিনিসই সৃষ্টির সময় যেমন ছিল সে রকমই থেকে যায়। যা আগে করা হয়েছে তাই আবার পরেও করা হবে। সূর্যের নীচে কোন কিছুই নতুন নয়।

10এমন কোন কিছু নেই যাকে কোন ব্যক্তি নতুন বলতে পারে! যে জিনিসকে মানুষ নতুন বলবে তা আমাদের জন্মের আগে থেকেই বর্তমান।

11যা অনেক আগে ঘটে গেছে সে ঘটনা লোকে মনে রাখে না। এখন যা ঘটছে ভবিষ্যতে তা লোকে ভুলে যাবে। পরবর্তী প্রজন্ম মনেও রাখবে না আগেকার লোক তাদের জন্য কি করে গেছে।

প্রজ্ঞা কি সুখের উৎস?

12আমি উপদেশক, আমি ছিলাম জেরুশালেমের অন্তর্গত ইস্রায়েলের রাজা। 13সূর্যের নীচে যা কিছু ঘটে তাকে আমি প্রজ্ঞা দ্বারা জানতে চেয়েছিলাম। আমি জানতে পেরেছিলাম যে ঈশ্বর লোকদের যা করতে দেন তা খুবই কঠিন ও কষ্টকর। 14আমি দেখেছিলাম সূর্যের নীচে যা কিছু করা হয় তা সবই অসার, সময়ের অপচয় মাত্র। এ যেন অনেকটা হাওয়ার পেছনে ছোটা। 15যা কিছু বাঁকা তাকে পাল্টে সোজা করা সম্ভব নয়। যা নেই তাকে সরবরাহ করা যায় না।

16আমি নিজেকে বলেছিলাম, “জেরুশালেমে আমার পূর্বে যেসব ব্যক্তি ছিলেন, তাঁদের সকলের চেয়েও আমি বেশী প্রজ্ঞাবিশিষ্ট হয়েছি। আমি সত্যিই জানি প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের অর্থ কি!”

17আমি জানতে চেয়েছিলাম জ্ঞান ও বিদ্যা কিভাবে অজ্ঞানতার চেয়ে ভালো। কিন্তু আমি জেনেছিলাম যে জ্ঞানলাভের চেষ্টা করা মানে শুধুই হাওয়ার পিছনে ছোটা। 18জ্ঞানের সঙ্গে আসে হতাশা। যে মানুষ যত বেশী জ্ঞান লাভ করে সে তত বেশী দুঃখ পায়।

2

“লঘু আনন্দে” কি সুখ পাওয়া যায়?

1আমি নিজেকে বলেছিলাম, “আমি যতটা সম্ভব সব কিছুকে উপভোগ করব।” কিন্তু আমি জানতে পেরেছিলাম যে এসবই অসার। 2হাসি জিনিষটা বোকামি; আনন্দ কোন উদ্দেশ্য সিদ্ধ করে না।

3তাই আমি ঠিক করেছিলাম দ্রাক্ষারস পান করে শরীরকে ও জ্ঞানলাভ করে মনকে ভাল রাখব। আমি এরকম বোকামি করেছিলাম কারণ আমি সুখের সন্ধান পেতে চেয়েছিলাম। আমি বুঝতে চেয়েছিলাম এই অল্প দিনের জীবনে মানুষের কি করা উচিৎ‌।

কঠিন পরিশ্রম কি সুখের উৎস?

4তারপর আমি নানা মহৎ‌‌ কাজ করতে শুরু করেছিলাম। আমি নিজের জন্য নানা জায়গায় বাড়ি তৈরী করেছিলাম। দ্রাক্ষার ক্ষেত তৈরী করেছিলাম। 5আমি বাগান করেছিলাম। উপবন করেছিলাম, আমি সব রকম ফলের গাছ লাগিয়েছিলাম। 6আমি নিজের জন্য পুকুর কাটিয়ে ছিলাম। আমি সেই পুকুরের জল আমার বাগানের গাছে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করতাম। 7আমি পুরুষ ও স্ত্রী ক্রীতদাস কিনেছিলাম এবং আমি যখন তাদের মালিকানা পেলাম তখন তাদের ছেলেমেয়ে ছিল। আমার অনেক ঐশ্বর্য ছিল। আমার অনেক গরু ও মেষের পাল ছিল। আমি এত ধনী ছিলাম যে সে রকম ধনী জেরুশালেমে কেউ ইতিপূর্বে ছিল না।

8আমি আমার নিজের জন্য সোনা ও রূপা সংগ্রহ করেছিলাম। আমি বিভিন্ন দেশের রাজাদের কাছ থেকে ধন সংগ্রহ করেছিলাম। আমাকে খুশী করার জন্য অনেক গায়ক ও গায়িকা ছিল। আমার কাছে সবই ছিল যা সকলের কাছে প্রয়োজনীয়। আমার কাছে সমস্ত রকমের বাদ্যযন্ত্র ছিল।

9আমি বিরাট ঐশ্বর্য ও খ্যাতি লাভ করেছিলাম। জেরুশালেমে আমার আগে যে সমস্ত লোক ছিল আমি ছিলাম তাদের সবার চেয়ে মহৎ‌‌। আমার জ্ঞান ছিল সব সময় আমার সহায়। 10আমার চোখে যা ভাল লাগত এবং আমাকে যা খুশী করত, আমি তা সবই পেতাম। আমি কঠিন পরিশ্রম করে যা কিছু করেছিলাম তা নিয়ে আনন্দিত ছিলাম এবং আমার এইসব জিনিস প্রাপ্য ছিল, কারণ আমি এর জন্য কাজ করেছিলাম।

11কিন্তু আমি যখন আমার সমস্ত কাজের কথা, পরিশ্রমের কথা চিন্তা করলাম তখন দেখলাম সবই সময়ের অপচয়! এসবই ছিল হাওয়ার পিছনে ছোটা। সূর্যের নীচে আমরা যা করি তাতে কোন লাভ নেই।

হতে পারে জ্ঞানই এর একমাত্র উত্তর

12একজন পুরাতন রাজা ইতিমধ্যেই যা করেছে, একজন নতুন রাজা তার চেয়ে বেশী কিছু করতে পারে না। তাই আমি আমার বিজ্ঞতার, ভুলভ্রান্তির ও পাগলামির কথা আবার ভাবতে শুরু করলাম। 13অন্ধকারের থেকে আলো যেমন ভালো জ্ঞানও ঠিক তেমনি অজ্ঞানতার চেয়ে ভালো। 14একজন জ্ঞানী মানুষ তার পথ দেখবার জন্য তার চোখ ব্যবহার করে। কিন্তু যে মূর্খ সে শুধুই অন্ধকারে ঘুরে বেড়ায়।

কিন্তু আমি লক্ষ্য করলাম যে একজন জ্ঞানী ও মূর্খ উভয়ের পরিসমাপ্তি একই। অবশেষে তারা উভয়েই মারা যায়। 15আমি নিজে ভেবেছিলাম, “একজন মূর্খের যে পরিণতি হয় আমারও তাই হবে। তবে আমি কেন জ্ঞান লাভের জন্য এত কঠিন পরিশ্রম করব?” আমি নিজেকে বললাম, “জ্ঞানী হওয়াও অর্থহীন।” 16জ্ঞানী ও মূর্খ উভয়েরই পরিণতি মৃত্যু এবং মানুষ জ্ঞানী বা মূর্খ কাউকেই চিরকাল মনে রাখবে না। তারা যা কিছু করেছিল ভবিষ্যতে তা মানুষ ভুলে যাবে। তাই জ্ঞানী ও মূর্খ প্রকৃত অর্থে একই।

জীবনে কি প্রকৃত সুখ বলে কিছু আছে?

17এতে আমার জীবনের প্রতি ঘৃণা এসে গেল। আমার মনে হল যে পৃথিবীতে আমার কাছে যা কিছু আছে তা সবই অর্থহীন। সবই হাওয়াকে ধরবার চেষ্টা করবার মত।

18সূর্যের নীচে আমার সমস্ত কঠিন পরিশ্রমের কাজে আমার ঘৃণা জন্মেছিল। যার জন্য আমি কঠিন পরিশ্রম করে গিয়েছি তা আমার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যাব। আমার কঠিন পরিশ্রমের ফল আমি আমার সঙ্গে রাখতে পারব না। 19আমি যা কিছু শিখেছি এবং যা কিছু কাজ করেছি তা অন্য কোন লোক নিয়ন্ত্রণ করবে। এমনকি আমি এটাও জানতে পারব না যে সে জ্ঞানী হবে কি মূর্খ। এটাও অসার।

20আমি সূর্যের নীচে যা কিছু কাজ করেছি তার জন্য আমি দুঃখিত। 21একজন ব্যক্তি তার সমস্ত প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও পারদর্শীতা দিয়ে কঠিন পরিশ্রম করতে পারে। কিন্তু তার পরিশ্রমের ফল তার মৃত্যুর পর অন্য লোক ভোগ করবে। সেই লোকরা বিনা আয়াসে সব কিছু পেয়ে যাবে। এটাও অসার এবং এ একটা ভীষণ পাপ।

22একজন ব্যক্তি সূর্যের নীচে তার জীবনভর সংগ্রামের পর কতটুকু পায়? 23সে সারা জীবন পায় শুধু যন্ত্রণা, হতাশা আর কঠিন পরিশ্রম। এমনকি রাতেও সে বিশ্রাম পায় না। এটাও অসার।

24 আমার থেকে বেশী আর কে জীবনকে উপভোগ করার চেষ্টা করেছে? এবং সব শেষে আমি এই শিক্ষাই পেয়েছিলাম। মানুষের পক্ষে সব চেয়ে ভালো কাজ হল খাওয়া-দাওয়া করা ও তার কাজকে উপভোগ করা। আমি দেখেছিলাম ঈশ্বরকে বাদ দিয়ে জীবন উপভোগ করা সম্ভব নয়। 26একজন মানুষ যদি ভাল কাজ করে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে পারে, তাহলে ঈশ্বর তাকে জ্ঞান, বিদ্যা ও আনন্দ দেন। কিন্তু যে পাপী সে শুধুই সংগ্রহ আর বহনের কাজ পাবে। মন্দ লোকের কাছ থেকে নিয়ে ঈশ্বর ভালো লোককে পুরস্কার দেন। কিন্তু সমস্ত কাজই অর্থহীন। সবই হাওয়ার পিছনে ছোটা।

3

একটি সময় আছে

1সব কিছুরই একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। এবং সূর্যের নীচে একটা নির্দিষ্ট সময় সব কিছুই ঘটবে।

2জন্মেরও যেমন একটি সময় আছে,

মৃত্যুরও তেমনি সময় আছে।

রোপণের সময় আছে

এবং তুলে ফেলারও সময় আছে।

3হত্যার এবং সারিয়ে তোলার

একটা নির্দিষ্ট সময় আছে।

ধ্বংসেরও যেমন নির্দিষ্ট সময় আছে

তেমনি তৈরী করারও নির্দিষ্ট সময় আছে।

4কান্নারও সময় আছে,

হাসারও সময় আছে।

দুঃখ পাবার যেমন সময় আছে,

তেমনি আনন্দে নাচ করারও সময় আছে।

5অস্ত্র নামিয়ে রাখার,

আবার তা তুলে নেবারও নির্দিষ্ট সময় আছে।+ 3:5 অস্ত্র … আছে আক্ষরিক অর্থে, “পাথর ছুঁড়ে ফেলার এবং পাথর জড়ো করার সময় আছে।”

কাউকে আলিঙ্গন করার যেমন সময় আছে

আবার আলিঙ্গন না করে তাকে এড়িয়ে যাবারও সময় আছে।

6কাউকে খোঁজার যেমন সময় আছে

আবার তা ফেলে দেবারও সময় আছে।

কাউকে রেখে দেওয়া

বা কাউকে ছুঁড়ে দেওয়ারও নির্দিষ্ট সময় আছে।

7জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেলার যেমন সময় আছে

তেমনি তা সেলাই করারও সময় আছে।

নীরব থাকারও যেমন সময় আছে

তেমনি সরব হওয়ারও সময় আছে।

8ভালোবাসা

এবং ঘৃণা করারও সময় আছে।

যুদ্ধেরও একটি নির্দিষ্ট সময় আছে

আবার শান্তি রক্ষা করারও সঠিক সময় আছে।

ঈশ্বর তাঁর পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করেন

9একজন মানুষ কি তার কঠোর পরিশ্রমের কোন মূল্য পায় না? না! 10আমি দেখেছি ঈশ্বর আমাদের সমস্ত কঠিন পরিশ্রমের কাজ করতে দেন। 11ঈশ্বর আমাদের তাঁর পৃথিবী নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার ক্ষমতা দিয়েছেন। কিন্তু আমরা ঈশ্বরের কাজের গতি প্রকৃতি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত হতে পারি না এবং এখন ঈশ্বর সব কিছু সঠিক সময়ই করেন।

12আমি জানি যে মানুষ সারা জীবন সুখে ও আনন্দে বেঁচে থাকতে পারবে—এটাই সবচেয়ে মহৎ‌‌ কাজ। 13ঈশ্বর চান প্রত্যেকে পানীয়, খাদ্য এবং তাদের কাজের মধ্যে আনন্দ খুঁজে পাক। এই হল ঈশ্বরের উপহার।

14আমি জানি ঈশ্বর যা করেন তা চিরস্থায়ী হয়। মানুষ ঈশ্বরের কর্মকাণ্ডকে বাড়াতেও পারে না এবং কমাতেও পারে না। আর ঈশ্বর তা করেছেন কারণ যাতে মানুষ তাঁকে সম্মান জানায়। 15অতীতে যে ঘটনাগুলি ঘটেছিল সেগুলিকে আমরা বদলাতে পারব না। ভবিষ্যতে যা ঘটার তা ঘটবে এবং আমরা তাকেও বদলাতে পারব না। কিন্তু ঈশ্বর দেখেন কি সাফল্যমণ্ডিত হয়েছে।+ 3:15 অথবা “এখন যা ঘটছে তা অতীতেও ঘটেছিল। ভবিষ্যতে যা ঘটবে তা অতীতেও ঘটেছে। ঈশ্বর ঘটনাগুলি বার বার ঘটান।”

16আমি সূর্যের নীচে এই ঘটনাগুলির সাক্ষী। আদালতে সাধুতা ও নিষ্কলঙ্ক থাকা উচিৎ‌। কিন্তু আমি সেখানেও দুষ্টতা দেখেছি। 17তাই আমি নিজেকে বলেছিলাম, “সব কিছুর পেছনেই ঈশ্বরের একটি সময়ানুযায়ী পরিকল্পনা আছে এবং ঈশ্বর নির্দিষ্ট সময়েই মানুষের কাজের বিচার করবেন। ঈশ্বর ভাল এবং খারাপ মানুষদের বিচার করবেন।”

মানুষ কি ঠিক পশুদেরই মতো?

18মানুষ একে অন্যের সঙ্গে যা যা করে সেই বিষয়ে আমি ভেবেছিলাম এবং আমি নিজেকে বলেছিলাম, “ঈশ্বর মানুষকে পশুর মতোই দেখতে চান।” 19মানুষ কি পশুদের চেয়ে শ্রেয়? না! কেন? কারণ সব কিছুই অর্থহীন। পশু এবং মানুষদের ক্ষেত্রে একই ব্যাপার ঘটে—উভয়েরই মৃত্যু আসে। মানুষ এবং পশুরা একই “নিঃশ্বাস” নেয়। একটি মৃত মানুষ ও মৃত পশুর মধ্যে কি কোনও পার্থক্য আছে? 20মানুষ এবং পশুদের দেহ একই ভাবে বিলীন হয়। তারা মাটি থেকেই আসে এবং মাটিতেই ফিরে যায়। 21কে জানে মানুষের আত্মার কি হয়? কে বলতে পারে পশুর কোন আত্মা যখন মাটির নীচে প্রবেশ করছে তখন হয়তো কোন মানুষের আত্মা ঈশ্বরের কাছে যাচ্ছে?

22তাই আমি দেখে ছিলাম সব থেকে ভাল উপায় হল একজন মানুষ তার যা আছে এবং সে যা করেছে তাই নিয়ে আনন্দে মেতে থাকা। এবং একজন মানুষের তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হওয়া উচিৎ‌ নয়। কেন? কারণ কেউ সেই ব্যক্তিকে তার ভবিষ্যতে কি ঘটবে তা দর্শন করাতে পারবে না।

4

তবে কি মৃত্যুই শ্রেয়?

1আমি দেখেছিলাম সূর্যের নীচে কিভাবে লোকের ওপর উৎপীড়ন করা হয়ে থাকে। আমি তাদের কান্না শুনেছিলাম। আমি এও দেখেছিলাম যে তাদের এই দুর্দশায় সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কেউই নেই। আমি দেখে ছিলাম কিভাবে নিষ্ঠুর লোকরা সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে বসে আছে। তারা যাদের আঘাত করছে তাদের সাহায্যের জন্য কেউ পাশে নেই। 2আমি ভেবে দেখলাম যে যারা বেঁচে আছে তাদের চেয়ে মৃত মানুষদের অবস্থা অনেক ভাল। 3যে সমস্ত লোকরা জন্মের অব্যবহিত পরে মারা গেছে অথবা যারা এখনও জন্মায় নি, তাদের মধ্যে কোন একদল ভালো অবস্থায় আছে! কেন? কেননা এই সূর্যের নীচে যে সমস্ত মন্দ কাজ হয়ে থাকে তারা তা কখনই দেখেনি।

কঠিন শ্রম কেন করবে?

4তারপর আমি ভেবেছিলাম, “লোকে কেন এত কঠিন পরিশ্রম করে?” আমি লক্ষ্য করেছিলাম যে লোকে সব সময় সফল হতে ও অন্য লোকদের থেকে ভালো হতে চেষ্টা করে। কেন? কারণ তারা ঈর্ষাপরায়ণ। তারা চায় না তার চেয়ে বেশী অন্য লোকে কিছু ভোগ করুক। এসবই অসার, হাওয়ার পেছনে ছোটা মাত্র।

5কিছু লোক বলে, “হাত গুটিয়ে কিছু না করে বসে থাকাটা বোকামো। কাজ না করলে না খেতে পেয়ে মরতে হবে।” 6এটা হয়তো সত্যি। কিন্তু সব সময় বেশী জিনিস পাওয়ার জন্য হাওয়ার পেছনে ছোটার থেকে অল্পে সন্তুষ্ট থাকা ভাল।

7আমি সূর্যের নীচে আরো কিছু অর্থহীন জিনিস দেখলাম। 8একজন ব্যক্তির পরিবার না থাকতে পারে। তার ভাই বা সন্তান না থাকতে পারে। কিন্তু তবুও সে কঠিন পরিশ্রম করে যাবে। তার যা আছে তা নিয়ে সে কখনও সন্তুষ্ট থাকবে না। সে ভাবতে পারে, “তবে কেন আমি আমার জীবন উপভোগ না করে কঠিন পরিশ্রম করব?” এটাও খুব খারাপ ও অর্থহীন।

বন্ধু ও পরিবার শক্তি জোগায়

9একজনের চেয়ে দুজন লোক ভাল। দুজন লোক এক সঙ্গে কাজ করলে তার ফল ভাল হয়।

10যদি কোন ব্যক্তি পড়ে যায়, অপর ব্যক্তি তাকে উঠতে সাহায্য করে। কিন্তু যে একা কাজ করে, সে যদি পড়ে তবে তাকে উঠতে সাহায্য করার মতো কেউই থাকে না।

11যদি দুজন লোক এক সঙ্গে ঘুমোয় তারা উত্তাপ পাবে। কিন্তু যে একা শোয় সে উত্তাপ থেকে বঞ্চিত হবে।

12যে একা তাকে সহজেই শত্রুরা হারিয়ে দেবে কিন্তু দুজন লোক এক সঙ্গে থাকলে তাদের হারানো সম্ভব নয়। তিন জন মানুষ একত্র হলে তাদের শক্তি আরো বেশী হবে। তারা হল এক সঙ্গে জড়ানো দড়ির তিনটি অংশের মতো। তাদের শক্তিকে ভাঙ্গা খুবই কঠিন।

মানুষ, রাজনীতি ও জনপ্রিয়তা

13একজন দরিদ্র তরুণ নেতা যদি জ্ঞানী হয় তবে সে একজন বৃদ্ধ বোকা রাজা অপেক্ষা শ্রেয়। সেই বৃদ্ধ রাজা সতর্কবাণীতে কান দেন না। 14সেই তরুণ শাসক রাজ্যের একজন গরীব নাগরিক হয়ে জন্মাতে পারেন। তিনি দেশের শাসন ভার নিতে কারাগার থেকে উঠে আসতে পারেন। 15কিন্তু এ জীবনে আমি মানুষকে দেখে জেনেছি যে মানুষ সেই তরুণ নেতাকে অনুসরণ করবে। সেই হবে নতুন রাজা। 16অনেক মানুষ এই তরুণকে অনুসরণ করবে। কিন্তু পরে এরাই আবার তাঁকে সহ্য করতে পারবে না। এটাও অর্থহীন, হাওয়ার পিছনে ছোটা।

5

প্রতিশ্রুতি সম্বন্ধে সাবধান থেকো

1যখন ঈশ্বরের উপাসনা করবে তখন সতর্ক থাকবে। ঈশ্বরকে বোকার মত নৈবেদ্য দেওয়ার থেকে তার কথা শোনা অনেক ভালো। যে মূর্খ সে নিজের অজ্ঞাতেই অন্যায় কাজ করে ফেলে। 2ঈশ্বরকে প্রতিশ্রুতি দিলে সে সম্বন্ধে সতর্ক থেকো। ঈশ্বরকে কিছু বললে সাবধানে বলো। আবেগ চালিত হয়ে হঠাৎ‌‌ কোন কথা দিয়ে ফেলো না। ঈশ্বর বাস করেন স্বর্গে আর তুমি পৃথিবীতে। তাই ঈশ্বরকে তোমার সামান্য কিছু কথাই বলা উচিৎ‌। এই প্রবাদটি সত্য যে:

3দুঃস্বপ্ন যেমন অনেক দুঃশ্চিন্তা সঙ্গে নিয়ে আসে,

মূর্খ তেমনই একরাশ শব্দ নিয়ে আসে।

4তুমি ঈশ্বরকে কোন প্রতিশ্রুতি দিলে তা অবশ্যই রক্ষা করবে। তোমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে দেরী কোরো না। ঈশ্বর মূর্খদের প্রতি প্রসন্ন নন। তুমি ঈশ্বরকে যা দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছ তা দাও। 5প্রতিশ্রুতি দিয়ে পালন না করতে পারার থেকে প্রতিশ্রুতি না দেওয়া ভাল। 6তাই তোমার কথা যেন তোমার পাপের কারণ না হয়। যাজককে এটা বলো না, “আমি যা বলেছি তার অর্থ এই নয়!” তুমি যদি এরকম কর তাহলে ঈশ্বর ক্রুদ্ধ হয়ে তুমি যার জন্য কাজ করেছ তা ধ্বংস করে ফেলবেন। 7তোমার অর্থহীন স্বপ্ন ও অহঙ্কার যেন তোমার বিপদ না ডেকে আনে। তুমি অবশ্যই ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা করবে।

প্রতিটি শাসকের ওপর একজন শাসক আছেন

8কিছু দেশে দেখা যায় যে দরিদ্র মানুষ বাধ্য হয়ে কঠিন পরিশ্রম করছে। এটা দরিদ্র মানুষদের প্রতি সুবিচার নয়। এটা তাদের স্বার্থবিরোধী। কিন্তু বিস্মিত হয়ো না। যে শাসক এই মানুষদের ওপর জোর খাটাচ্ছে, তার ওপরে জোর খাটানোর জন্য রয়েছে আরো একজন শাসক। 9রাজাও তার লাভের ভাগ পায়। দেশের ধনসম্পদ তাদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়।+ 5:9 দেশের … হয় একজন শাসক আরেক জন উচ্চতম শাসক দ্বারা প্রতারিত হয় এবং তারা একজন মহান শাসক দ্বারা প্রতারিত হয়।

ঐশ্বর্য দিয়ে সুখ কেনা যায় না

10যে ব্যক্তি টাকা ভালোবাসে সে কখনও তার কাছে যা টাকা আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারবে না। যে ঐশ্বর্য ভালোবাসে সে যতই পাক না কেন সন্তুষ্ট হতে পারবে না। এসবই অর্থহীন।

11যে ব্যক্তির যত সম্পদ আছে, সেই সম্পদ ব্যয়ের জন্য তত “বন্ধুও” আছে। তাই ধনী ব্যক্তির প্রকৃত অর্থে কোন লাভই হয় না। সে শুধুই তার সম্পদের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে।

12যে ব্যক্তি সারাদিন কঠিন পরিশ্রম করে সে ঘরে ফিরে শান্তিতে ঘুমোয়। সে সামান্য কিছু খেলো বা না খেয়ে থাকল সেটা বিষয় নয়। কিন্তু যে ধনী ব্যক্তি সে সম্পদ রক্ষার দুশ্চিন্তায় রাতে ভাল করে ঘুমোতে পারে না।

13আমি সূর্যের নীচে এক দুঃখজনক ঘটনা লক্ষ্য করেছি। একজন ব্যক্তি ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সঞ্চয় করে। কিন্তু এর পরিণাম হয় সমস্যামূলক। 14এরপর কোন এক অঘটনে সে সব কিছু হারায়, এর ফলে সন্তানকে দেওয়ার মতো তার আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।

15একজন মানুষ খালি হাতে মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম নেয়। আর সে যখন মারা যায়, সে একই ভাবে রিক্ত অবস্থায় বিদায় নেয়। সে ফল লাভের জন্য কঠিন পরিশ্রম করে কিন্তু মারা গেলে কোন কিছুই সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে না। 16এটা দুঃখজনক যে একজন মানুষ যে ভাবে পৃথিবীতে আসে সে ভাবেই সে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। এভাবে “হাওয়ার পেছনে ছুটে” সে কি পায়? 17সে কেবল মাত্র যন্ত্রণা এবং দুঃখ পায়। শেষ পর্যন্ত সে হয়ে পড়ে হতাশ, বিরক্ত ও ক্ষিপ্ত!

তোমার কাজের মধ্যে আনন্দ খুঁজে নাও

18একজন ব্যক্তির পক্ষে সব চেয়ে ভাল সূর্যের নীচে খাদ্য, পানীয় ও তার কাজের মধ্যে আনন্দ পাওয়া। ঈশ্বর তাকে জীবন দিয়েছেন এবং এটাই তার সর্বস্ব।

19যদি ঈশ্বর একজন ব্যক্তিকে ধনসম্পদ ও সেটা ভোগ করার ক্ষমতা দেন তবে তার তা অবশ্যই ভোগ করা উচিৎ‌, কারণ তা হল ঈশ্বরের উপহার। সেই ব্যক্তি অবশ্যই তার প্রাপ্ত জিনিসগুলি স্বীকার করবে এবং তার কাজ উপভোগ করবে, এ হল ঈশ্বরের উপহার। 20একজন ব্যক্তি বেশী বছর বাঁচে না। তাই তাকে সারা জীবন এগুলি মনে রাখতে হবে। ঈশ্বর যা করতে চাইবেন তাই তিনি করবেন।

6

ঐশ্বর্য সুখ বয়ে আনে না

1আমি সূর্যের নীচে আরো কিছু দেখেছি যা ন্যায্য নয়। এটা লোকদের পক্ষে খুবই খারাপ। 2ঈশ্বর কাউকে প্রচুর ধনসম্পদ, মানসম্মান দেন। সেই ব্যক্তির যা প্রয়োজন বা চাহিদা হতে পারে সে সবই তার আছে। কিন্তু ঈশ্বর তাকে সে সব ভোগ করতে দেন না। কোন এক অপরিচিত এসে তার সমস্ত কিছু অধিকার করে নেয়। এটা খুবই খারাপ ও অর্থহীন।

3একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন বাঁচতে পারে। তার 100টি সন্তান থাকতে পারে। কিন্তু সে যদি এসব নিয়ে সন্তুষ্ট না থাকে ও তার মৃত্যুর পর যদি তাকে কেউ মনে না রাখে, তবে আমার মনে হয় যে শিশু জন্ম মাত্র মারা গিয়েছে সেও এই ব্যক্তির চেয়ে ভাল। 4একটা মৃত শিশুর জন্ম প্রকৃতপক্ষে অর্থহীন। সেই শিশুটিকে কোন নাম দেওয়ার আগেই তাকে এক অন্ধকার কবরে সমাধিস্থ করা হয়। 5সেই শিশুটি কখনও কিছুই জানতে পারে না। সে কখনও সূর্যেরও মুখ দেখে না। কিন্তু সেই শিশুটিও অনেক বেশী বিশ্রাম পায় সেই ব্যক্তির চেয়ে যে ঈশ্বরের দেওয়া উপহার ভোগ করতে পারে না। 6সেই ব্যক্তি 2000 বছর বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু যদি সে জীবনকে উপভোগ করতে না পারে তবে যে শিশুটির জন্মমাত্র মৃত্যু হয়েছে সে আর এই ব্যক্তি কি একই স্থানে যাবে?

7একজন লোক কাজ করে চলে। কেন? নিজের অন্ন সংস্থানের জন্য। কিন্তু সে কখনই সন্তুষ্ট থাকে না। 8এই বিষয়ে একজন জ্ঞানী ও মূর্খের মধ্যে কোন তফাৎ‌‌ নেই। এর চেয়ে একজন গরীব মানুষ হওয়াও ভাল যে জানে কিভাবে জীবনকে মেনে নিতে হয়। 9লাভ করবার চেয়ে নিজের যা আছে তা নিয়ে খুশী থাকা ভাল। বেশী লাভের প্রত্যাশা করা হাওয়ার পিছনে ছোটার মতোই অর্থহীন।

10 যা ঘটেছে তা বহু পূর্বেই স্থির হয়ে ছিল। লোকরা কে বেশী শক্তিশালী এই নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিতর্কের কোন অর্থ হয় না। দীর্ঘ বিতর্ক কোন কাজে লাগে না এবং এটা কি ভালো কাজ করে?

12একজন ব্যক্তির অযোগ্য জীবনের ব্যাপ্তিতে তার পক্ষে সবচেয়ে ভালো কি তা কে জানে? তার জীবন এক ছায়ার মতো অতিবাহিত হয়। কেউ বলতে পারে না এই পৃথিবীতে পর মূহুর্ত্তে কি হবে।

7

সুশিক্ষামালা সংকলন

1ভাল সুগন্ধের চেয়ে সুনাম শ্রেয়।

একজন মানুষের যে দিন জন্ম হয় সেই দিনের থেকে তার মৃত্যুদিন ভাল।

2উৎসবের গৃহে যাওয়ার চেয়ে শোকের গৃহে যাওয়া ভাল। কেন?

কারণ শোকের গৃহে লোকরা সত্যিই জানবে যে

সব মানুষই মরণশীল।

3আনন্দের চেয়ে দুঃখ শ্রেয়।

কারণ যখন আমরা দুঃখ পাই তখন আমাদের হৃদয় শুদ্ধ হয়।

4যে জ্ঞানী সে মৃত্যুর কথাও ভাবে

কিন্তু মূর্খ শুধুই আমোদ-প্রমোদের কথা চিন্তা করে।

5একজন মূর্খের দ্বারা প্রশংসিত হওয়ার চেয়ে

জ্ঞানী ব্যক্তির দ্বারা সমালোচিত হওয়াও শ্রেয়।

6মূর্খের অট্টহাসি হল পাত্রের নীচে জ্বলন্ত কাঁটার মতো

যা এতই তাড়াতাড়ি পুড়ে যায় যে পাত্রটি উত্তপ্ত পর্যন্ত হয় না। এটাও অসার।

7একজন জ্ঞানী যদি কারো কাছ থেকে যথেষ্ট অর্থ পায়

তবে সে তার জ্ঞানও ভুলে যায়।

অর্থ তার বোধশক্তি নষ্ট করে দেয়।

8কোন কিছু নতুন করে আরম্ভ করবার চেয়ে

তাকে শেষ করা ভাল।

অধৈর্য্য ও অহঙ্কারী হওয়ার চেয়ে

শান্ত ও ধৈর্য্যশীল হওয়া ভাল।

9হঠাৎ‌‌ রেগে ওঠা উচিৎ‌ নয়।

কারণ রাগ করা মূর্খামি।

10একথা বলা উচিৎ‌ নয়, “এখনকার থেকে আগের সময় কেন বেশী ভাল ছিল।”

কারণ জ্ঞান আমাদের এই প্রশ্নের দিকে চালিত করে না।

11সম্পত্তি থাকার চেয়ে জ্ঞান থাকা ভাল। যথেষ্ট সম্পদ ছাড়াও জ্ঞানী ব্যক্তিরা প্রকৃতপক্ষে বেশী লাভবান হন। 12প্রজ্ঞা ও সম্পদ উভয়েই তোমাকে রক্ষা করতে পারে। কিন্তু যে জ্ঞান প্রজ্ঞার মাধ্যমে লাভ করা যায় তা তোমার জীবনকে দীর্ঘ করতে পারে!

13ঈশ্বর যা করেছেন সে দিকে তাকিয়ে দেখ। যদি কোন কিছু তোমার ভুলও মনে হয় তবুও তুমি তা পাল্টাতে পারবে না! 14জীবন সুন্দর, তাকে উপভোগ কর। কিন্তু জীবন যখন কষ্টকর হবে তখন মনে রেখো ঈশ্বর আমাদের সুসময় ও দুঃসময় দুইই দেন এবং কেউই জানে না ভবিষ্যতে কি হতে পারে।

মানুষ সত্যিকারের ভাল হতে পারে না

15আমার এই অযোগ্য জীবনে আমি অনেক কিছু দেখেছি এবং আমি আরো দেখেছি কিভাবে দুষ্ট লোক দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। অথচ ধার্মিক লোক অল্প বয়সে মারা যায়। 16 কেন আত্মহনন করবে? কখনও খুব ভালও হবে না বা খুব খারাপও হবে না। বেশী জ্ঞানী বা বেশী মূর্খ কোনটাই হবে না। কেন তুমি তোমার অন্তিম সময়ের আগে মারা যাবে?

18তুমি এদিক ওদিক দুদিকে থাকার চেষ্টা কর। এমনকি ঈশ্বরের অনুসরণকারীরাও কিছু ভাল ও কিছু মন্দ কাজ করে থাকে। 19প্রজ্ঞা মানুষকে শক্তি জোগায়়। একজন জ্ঞানী ব্যক্তি শহরের দশ জন শাসকের চেয়ে বেশী শক্তিশালী। 20নিশ্চিতভাবে, এই ভূমণ্ডলে এমন একজনও ধার্মিক ব্যক্তি নেই যে কোন অন্যায় করে নি।

21মানুষের সব কথায় কান দিও না। তুমি হয়তো শুনবে তোমার ভৃত্য তোমার নিন্দা করছে। 22এবং তুমি জান যে তুমি নিজেও অনেক সময় অন্যদের বদনাম করেছ।

23আমি আমার জ্ঞান দিয়ে এই সমস্ত কিছু ভেবে দেখেছি। আমি সত্যিকারের জ্ঞানলাভ করতে চেয়েছি। কিন্তু তা অসম্ভব। 24আমি সমস্ত জিনিসের অস্তিত্বের ধরণ বুঝতে পারি না। এটা কারো পক্ষে বুঝে ওঠা খুবই কঠিন। 25আমি অধ্যয়ন করেছি ও অনেক চেষ্টা করেছি সত্যিকারের জ্ঞান খুঁজে পেতে। আমি সব কিছুর ভেতরকার ব্যাখ্যা খুঁজে পেতে চেয়েছি। আমি কি শিখলাম?

আমি জানলাম অসৎ‌ হওয়া বোকামো, মূর্খের মতো কাজ করা পাগলামো। 26আমি আরো দেখেছিলাম যে কিছু নারী হল ভয়ঙ্কর এক ফাঁদের মতো, তাদের হৃদয় জালের মতো ও বাহু শিকলের মতো। এই রকম নারীর ফাঁদে পড়ার চেয়ে মৃত্যুও শ্রেয়। যে ঈশ্বরকে অনুসরণ করে সে এদের থেকে দূরে থাকবে। কিন্তু একজন পাপী এদের হাতে ধরা পড়বে।

27 উপদেশক বলল, “আমি এই সমস্ত কিছু যোগ করে দেখতে চেয়েছিলাম কোন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। আমি এখনও উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছি। আমি কেবল মাত্র একটি জিনিষ খুঁজে পেলাম। হাজার জনের মধ্যে একজন ভাল মানুষ আছে। কিন্তু আমি একজনও ভাল মহিলাকে খুঁজে পাই নি।

29“আমি আরো একটা জিনিস শিখেছিলাম: ঈশ্বরই সব ভালো মানুষ তৈরী করেন। কিন্তু মানুষ খারাপ পথে চালিত হয়।”

8

জ্ঞান ও শক্তি

1কেউই একজন জ্ঞানী ব্যক্তির মতো করে কোন জিনিসকে বুঝতে বা ব্যাখ্যা করতে পারবে না। তার জ্ঞানই তাকে সুখী করবে। একমাত্র জ্ঞানই দুঃখকে সুখে পরিণত করতে পারে।

2আমি সর্বদা রাজার আদেশ মান্য করি। আমি এটা করি কারণ আমি ঈশ্বরের কাছে একটি প্রতিশ্রুতি করেছি। 3রাজাকে তোমার পরামর্শ জানাতে ভয় পেয়ো না। এবং কখনও অন্যায়কে সমর্থন কোরো না। কিন্তু মনে রেখো যে রাজা তাঁর ইচ্ছানুযায়ী আদেশ দেন। 4রাজার আদেশ দেওয়ার অধিকার আছে এবং কেউই তাঁকে বলে দিতে পারে না তাঁর কি করা উচিৎ‌। 5যে ব্যক্তি রাজার আদেশ মেনে চলে সরকারের সঙ্গে তার কোন সমস্যা হবে না। এবং একজন জ্ঞানী লোক জানে ঠিক কোন সময় এবং কিভাবে রাজার কাছে যেতে হবে।

6এমনকি লোকের বিভিন্ন সমস্যা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যেকটি কাজের একটা সঠিক সময় ও সঠিক পদ্ধতি আছে। 7আর সে নিশ্চিত ভাবে জানে না কি হতে পারে। কেন? কারণ কেউই তাকে বলতে পারবে না ভবিষ্যতে কি হবে।

8কোন মানুষেরই তার আত্মাকে ধরে রাখার ক্ষমতা নেই। কেউই মৃত্যুকে আটকাতে পারবে না। যুদ্ধের সময় কোন সৈন্যেরই যেখানে খুশী যাওয়ার স্বাধীনতা নেই। একই ভাবে যদি কোন ব্যক্তি অন্যায় করে তবে সেই অন্যায় তাকে মুক্তি দেয় না।

9আমি প্রত্যেকটি জিনিষ পর্যবেক্ষণ করেছি আর ভেবেছি কেন সূর্যের নীচে এরকম হয়। আমি এও দেখেছি যে একজন ব্যক্তি কিভাবে আর একজন ব্যক্তির ওপর আধিপত্যের জন্য ক্ষমতার পেছনে ছোটে। এটা তার পক্ষে খারাপ।

10আমি দেখেছি কিভাবে মন্দ লোকদের অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ঐসব মন্দ লোক যথেচ্ছভাবে পবিত্র স্থানে যেত এবং তারা শহরে প্রকৃতপক্ষে কি করেছিল তা লোকে ভুলে যায়।

বিচার, পুরস্কার ও শাস্তি

11কখনও কখনও মন্দ লোকরা তাদের খারাপ কাজের জন্য সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি পায় না। এজন্য তারা আরো খারাপ কাজে নিজেদের লিপ্ত করে।

12একজন পাপী একশোটি খারাপ কাজ করতে পারে। সে দীর্ঘদিন বেঁচেও থাকতে পারে। কিন্তু আমি এও জানি যে ঈশ্বরকে মান্য করা ও শ্রদ্ধা করা অনেক ভাল। 13মন্দ লোকরা ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা করে না, তাই তারা কখনও ভাল কিছু পায় না। তারা দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে না। তাদের জীবন সেই ছায়ার মত হয় না যা সূর্যাস্তের পর দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়।

14আরো অনেক কিছু এই পৃথিবীতেই ঘটে থাকে যা অর্থহীন। কত সময়ে ভালো লোকের খারাপ হয় আবার খারাপ লোকের ভালো হয়। এর কোন মানে হয় না। 15তাই আমি স্থির করেছিলাম যে জীবনকে উপভোগ করব। কেন? কারণ মানুষের পক্ষে সূর্যের নীচে প্রেয় হল খাদ্য, পানীয় ও আনন্দের মধ্যে জীবন উপভোগ করা। যাতে তারা প্রতিদিন কাজ করে জীবনকে উপভোগ করতে পারে, যা ঈশ্বর তাদের সূর্যের নীচে দিয়েছেন।

ঈশ্বর যা কিছু করেন তা আমরা বুঝতে পারি না

16আমি নিজেকে প্রজ্ঞাপূর্ণ করার দায়িত্ব নিলাম। লোকরা এই জীবনে যা করে থাকে তা আমি ভাল করে লক্ষ্য করেছিলাম। আমি দেখেছিলাম অনেক লোক ব্যস্ত। তারা দিন রাত কাজ করে এবং প্রায় ঘুমোয় না বললেই চলে। 17আমি আরো অনেক কিছু দেখে ছিলাম যা ঈশ্বর করেন। আমি এও দেখে ছিলাম সূর্যের নীচে ঈশ্বর যা করেন লোকরা তা অবশ্যই বোঝে। একজন ব্যক্তি চেষ্টা করতে পারে কিন্তু সে সফল হবে না। একজন জ্ঞানী ব্যক্তি বলতে পারেন যে তিনি ঈশ্বর যা করেন তা বোঝেন, কিন্তু আসলে তা সত্যি নয়।

9

মৃত্যু কি ন্যায্য?

1আমি এ সব কিছু গভীর ভাবে চিন্তা করেছিলাম। আমি দেখে ছিলাম ধার্মিক ও জ্ঞানী লোকরা যা করেন বা তাদের যা হয় সে সবই ঈশ্বরই নিয়ন্ত্রণ করেন। লোকরা জানে না তাদের ঘৃণা করা হবে, না ভালোবাসা হবে। লোকরা এও জানে না ভবিষ্যতে কি হবে।

2কিন্তু সবার ক্ষেত্রে একই জিনিস ঘটে। ভাল ও মন্দ উভয় ধরণের লোকরাই মারা যান। শুচি ও অশুচি দুধরণের লোকের কাছেই মৃত্যু আসে। যারা ঈশ্বরকে নৈবেদ্য দেয় না তাদের মতো যারা ঈশ্বরকে নৈবেদ্য দেয় তারাও মারা যায়। একজন ভাল লোকও একজন পাপীর মত মারা যায়। যে ব্যক্তি ঈশ্বরের কাছে বিশেষ প্রতিশ্রুতি দেয় সেও সেই ব্যক্তির মতো মারা যায়, যে ঈশ্বরের কাছে প্রতিশ্রুতি দিতে ভয় পায়।

3সূর্যের নীচে যা কিছু খারাপ ঘটনা ঘটে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একই পরিণতি হয়। এটাও খুবই খারাপ যে লোকেরা সবসময় মন্দ ও মূর্খের মতো চিন্তা করবে এবং সেই চিন্তা তাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাবে। 4যে এখনও বেঁচে আছে সে যেই হোক্ না কেন তার জন্য আশা আছে। এই প্রবাদটি সত্যি যে:

জীবিত কুকুর মৃত সিংহের চেয়ে শ্রেয়।

5জীবিত মানুষ জানে যে সে মারা যাবে। কিন্তু মৃত মানুষ কিছু জানে না। মৃত মানুষের আর কোন কিছু পাওয়ার নেই। মানুষ খুব তাড়াতাড়ি তাকে ভুলে যাবে। 6একজন ব্যক্তির মৃত্যুর পর ভালবাসা, ঘৃণা, ঈর্ষা কোন কিছু অবশিষ্ট থাকে না। একজন মৃত ব্যক্তি সূর্যের নীচে যা কিছু হবে তাতে আর ভাগ নেবে না।

যতক্ষণ পারো জীবনকে উপভোগ কর

7তুমি তোমার খাদ্য ও পানীয়কে উপভোগ কর। যদি তুমি এসব করো ঈশ্বর আনন্দিত হবেন। 8তোমার পোশাক পরিচ্ছদ পরিষ্কার রাখো এবং মাথায় তেল ব্যবহার করো। 9সূর্যের নীচে তোমার অযোগ্য জীবন যতদিন থাকে ততদিন তোমার স্ত্রী, যাকে তুমি ভালবাস তার সঙ্গে তুমি জীবন উপভোগ কর এবং তোমার কাছে যা কিছু আছে তা হল এই। তোমার জীবনে যে সব কাজ তোমায় করতে হবে তা উপভোগ করো। 10তোমাকে যে কাজই দেওয়া হোক্ না কেন সব সময় সেটা উদ্যমসহ সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে। মৃত্যুর পর আমরা সবাই একই জায়গায় যাব। সেখানে কোন কাজ, কোন চিন্তা, কোন জ্ঞান বা কোন প্রজ্ঞা থাকে না।

সৌভাগ্য? দুর্ভাগ্য? আমরা কি করতে পারি?

11আমি পৃথিবীতে আরো কিছু জিনিস লক্ষ্য করলাম। যে জোরে দৌড়ায় সে সবসময় প্রতিযোগীতায় জেতে না; একটি শক্তিশালী সৈন্যদল সব সময় যুদ্ধে জেতে না। জ্ঞানী ব্যক্তি সব সময় তার কষ্টোপার্জিত আহার পায় না, যে চালাক সে সব সময় সম্পদ পায় না। একজন বিদ্বান ব্যক্তি সব সময় তার প্রাপ্য যশ পায় না। এমন সময় আসে যখন প্রত্যেকের কাছে আশাতীত প্রতিকুলতা ঘটে।

12একজন মানুষ হল সেই জালে পড়া মাছের মত যে জানে না তা পরবর্তীকালে কি হবে, সেই ফাঁদে পড়া পাখির মতো যে তার ভবিষ্যত জানে না। কিন্তু আমি জানি একজন মানুষ হঠাৎ‌‌ই দুর্ভাগ্যের ফাঁদে পড়ে যায়।

জ্ঞানের শক্তি

13যখনই আমি কোন মানুষকে প্রজ্ঞার মতো কাজ করতে দেখেছি তা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। 14একটি ছোট শহরে খুব অল্প সংখ্যক লোক বাস করত। একজন রাজা শহরটি জয় করতে এলেন এবং তার সেনাবাহিনী দিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ফেললেন এবং শহরের চারপাশে অবরোধ গঠন করলেন। 15কিন্তু সেই শহরে একজন জ্ঞানী মানুষ বাস করতেন যিনি দরিদ্র ছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁর জ্ঞান ব্যবহার করে সেই শহরকে রক্ষা করেন। সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পর মানুষ সেই দরিদ্র লোকটির কথা ভুলে যায়। 16কিন্তু আমি এখনও বলব যে দৈহিক শক্তির চেয়ে জ্ঞান শ্রেয়। সেই লোকরা দরিদ্র লোকটির জ্ঞানের কথা ভুলে যায়, তার কথা শুনতে ভুলে যায়। কিন্তু তবুও আমি জ্ঞানকে শ্রেয় বলে মনে করি।

17একজন জ্ঞানী ব্যক্তির শান্ত, সৌম্য কথা বলা

মূর্খদের মধ্যে একজন শাসকের গর্জনের চেয়ে ঢের ভাল।

18যুদ্ধে ব্যবহৃত তরবারি ও তীরের চেয়ে জ্ঞান শ্রেয়।

কিন্তু একজন পাপী ভাল জিনিসকে নষ্ট করে ফেলতে পারে।

10

1দু-একটি মরা মাছিও সব থেকে ভাল সুগন্ধকে দুর্গন্ধে পরিণত করতে পারে। ঠিক একই ভাবে অনেক জ্ঞান ও সম্মান সামান্য বোকামিতে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

2একজন জ্ঞানী মানুষের চিন্তা তাকে সঠিক পথ দেখায়, কিন্তু মূর্খের চিন্তা তাকে বিপথে নিয়ে যায়। 3একজন মূর্খ রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময়ও তার বোকামি প্রদর্শন করে থাকে। তাই সবাই তাকে একজন মূর্খ হিসেবে জানতে পারে।

4তোমার মনিব তোমার ওপর রাগ করলেই চাকরি ছেড়ে দিও না। তুমি শান্ত ভাবে সহায়তা করে অনেক বড় ভুল শুধরে নিতে পারবে।

5আমি সূর্যের নীচে আরো কিছু খারাপ জিনিস লক্ষ্য করেছি। এগুলো সেই ধরণের ভুল যা শাসকরা সাধারণতঃ করে থাকে। 6মূর্খদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়। অন্য দিকে ধনী ব্যক্তিরা গুরুত্বহীন কাজ পায়। 7আমি দেখেছি যাদের ভৃত্য হওয়া উচিৎ‌ তারা ঘোড়ায় করে যাচ্ছে অথচ যাদের শাসক হওয়ার কথা তারা ভৃত্যের মত এদের পাশে হেঁটে যাচ্ছে।

প্রত্যেক কাজেই বিপদ আছে

8যে ব্যক্তি গর্ত খোঁড়ে সে নিজেই গর্তে পড়ে যেতে পারে। যে ব্যক্তি তার শক্তি দিয়ে একটি দেওয়াল ভেঙে ফেলতে পারে সে দেওয়ালের অপর দিকে লুকিয়ে থাকা সাপের কামড়ে মারা যেতে পারে। 9যে ব্যক্তি বিশাল পাথর সরায় সে পাথরের আঘাতে আহত হতে পারে। যে ব্যক্তি গাছ কাটে সেই গাছগুলি তার ওপরেই পড়তে পারে।

10জ্ঞান যে কোন কাজকে সহজ করে দেয়। ভোঁতা ছুরি দিয়ে কোন কিছু কাটা শক্ত কিন্তু সেই ছুরিটাতেই যদি শান দেওয়া যায় তবে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়। জ্ঞানও সেই রকমই।

11একজন মানুষ সাপকে বশ করতে জানতে পারে। কিন্তু সেই গুণ অর্থহীন হয়ে পড়ে যখন তার অনুপস্থিতিতে কাউকে সাপে কামড়ায়। জ্ঞানও সেই রকমই।

12জ্ঞানী মানুষের কথায় খ্যাতি আসে।

কিন্তু মূর্খের কথা ধ্বংস ডেকে আনে।

13একজন মূর্খ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রলাপ বকে। 14একজন মূর্খ, সে কি করবে সে ব্যাপারে বহু কথা বলে। কিন্তু ভবিষ্যতে কি হবে তা কেউই জানে না।

15একজন মূর্খের ঘরে ফেরার পথ খুঁজে নেওয়ার মতো বুদ্ধি থাকে না।

তাই সে সারা জীবন খেটে মরে।

শ্রমের মূল্য

16একজন রাজা যদি শিশুসুলভ হয় তা যে কোন দেশের পক্ষেই খারাপ। আবার কোন দেশের শাসক যদি ভোজন বিলাসে মত্ত থাকে সব সময় সেটা দেশের পক্ষে ভালো নয়। 17কিন্তু যদি কোন রাজা সদ্-বংশজাত হয় তা দেশের পক্ষে মঙ্গলকর। যদি কোন দেশের শাসকগণ, আনন্দের জন্য নয় কিন্তু শক্তির জন্য যথাসময়ে খায় তাহলে তা দেশের পক্ষে মঙ্গলজনক কারণ তারা পরিমিত জীবনযাপন করেন।

18যে মানুষ অলস হয়

তার ছাদ ফুটো হয়ে ক্রমে বাড়ি ভেঙে পড়ে।

19খাদ্য ও দ্রাক্ষারস মানুষের জীবনকে উপভোগ্য করে তোলে। অর্থ অনেক সমস্যার সমাধান করে দেয়।

পরনিন্দা

20রাজার সম্বন্ধে খারাপ কথা বলো না। তার সম্বন্ধে খারাপ কিছু ভেবো না। তুমি যদি ঘরে একাও থাক তাহলেও কোন ধনী ব্যক্তির সম্পর্কে খারাপ কিছু বোলো না। কেন? কারণ একটা ছোট পাখিও উড়ে গিয়ে সবাইকে সে কথা বলে দিতে পারে।

11

সাহসের সঙ্গে ভবিষ্যতের মোকাবিলা কর

1বিভিন্ন রকমের কাজ করার চেষ্টা করো। কিছু সময় পরে তোমার ভাল কাজের ফল তুমি পেয়ে যাবে।

2তোমার যা আছে তা তুমি বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ কর। তুমি জান না পৃথিবীতে কত কিছু খারাপ ঘটতে পারে।

3কিছু জিনিস আছে যার সম্বন্ধে তুমি নিশ্চিত হতে পারো। যদি মেঘ জলকণায় পূর্ণ থাকে তা থেকে বৃষ্টি হবেই। উত্তরে বা দক্ষিণে কোন দিকেই হোক্, কোন গাছ যদি পড়ে যায় তা সেখানেই থাকবে।

4যদি কোন ব্যক্তি নিখুঁত আবহাওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকে তবে সে কোন দিনই বীজ বপন করতে পারবে না। যদি কোন ব্যক্তি বৃষ্টিকে ভয় পায় তবে সে কখনই ফসল কাটতে পারবে না।

5তোমরা জানো না বাতাস কোথায় বয়। তোমরা জান না কিভাবে শিশুর মাতৃগর্ভে নিঃশ্বাস আসে। সেই রকমই ঈশ্বর কি করবেন আমাদের জানা নেই। তিনি সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন।

6তাই, সকাল থেকেই রোপণ করতে শুরু কর ও সন্ধ্যের সময় অন্য কাজ করো। কেন? কারণ তুমি জান না কিসে তুমি ধনী হবে। অথবা উভয়ই সমান ভাবে ভালো।

7আলো সুন্দর। সূর্যের আলো দেখাও ভাল। 8তোমার জীবনের প্রতিটি দিন উপভোগ করো। কিন্তু যখন কঠিন সময় আসবে তখন ভালো সময়ের কথা স্মরণে রেখো। কারণ নানা অনর্থক ব্যাপার ঘটবে।

যৌবনে ঈশ্বরের সেবা কর

9যতক্ষণ তোমার যৌবন আছে ততক্ষণ তা উপভোগ কর। সুখে থাকো, তোমার প্রাণ যা চায় তাই কর। কিন্তু মনে রেখো ঈশ্বর তোমার সব কাজের বিচার করবেন। 10ক্রোধ দ্বারা পরিচালিত হয়ো না। তোমার দেহকে কোন মন্দ কাজ করতে দিও না, কারণ যৌবন এবং ইচ্ছা কোন কাজে লাগে না।

12

বৃদ্ধ বয়সের সমস্যা

1বৃদ্ধ বয়সে যে সময়ে তোমার জীবনকে ব্যর্থ মনে হবে সেই সময় আসার আগে তোমার যৌবনেই তুমি সৃষ্টিকর্তার কথা স্মরণ করো।

2চন্দ্র, সূর্য এবং তারা তোমার কাছে অন্ধকার হয়ে আসার আগেই যৌবনকালে তুমি তোমার সৃষ্টিকর্তার কথা ভাবো। একটার পর একটা ঝড়ের মতোই সমস্যা আসে।

3সেই সময় তোমার বাহুতে শক্তি থাকবে না। তোমার পা দুর্বল হয়ে বেঁকে যাবে। তোমার দাঁত পড়ে যাবে আর খাওয়ার বা চিবিয়ে খাওয়ার ক্ষমতা থাকবে না। তোমার দৃষ্টিশক্তি কমে যাবে। 4তোমার শ্রবণ ক্ষমতা কমে যাবে। তুমি রাস্তার শব্দ শুনতে পাবে না। এমনকি পাথর দিয়ে শস্যদানা ভাঙার শব্দও তুমি শুনতে পাবে না। তুমি কোন নারী কণ্ঠের গান শুনতে পাবে না। কিন্তু ভোর বেলায় কোন একটি পাখির গানও তোমাকে জাগিয়ে দেবে কারণ তুমি ঘুমোতে পারবে না।

5তুমি উঁচু জায়গায় চড়তে ভয় পাবে, তুমি তোমার পথের ওপর পড়ে থাকা প্রত্যেকটি ক্ষুদ্র জিনিসের ওপর পা দিতে ভয় পাবে। তোমার চুল বাদাম গাছের ফুলের মতো সাদা হয়ে যাবে। তুমি হাঁটার সময়ে ফড়িংএর মতো নিজেকে বয়ে বেড়াবে। তুমি বাঁচার শক্তি হারিয়ে ফেলবে। আর এরপর তুমি তোমার সমাধিতে স্থান পাবে। বিলাপকারীরা তোমার শোকযাত্রায় সমবেত হবে।

মৃত্যু

6যৌবনে রূপোর তার ছিঁড়ে যাওয়ার আগে,

সোনার পাত্র ভেঙে যাওয়ার আগে

তুমি তোমার সৃষ্টিকর্তার কথা স্মরণ কর।

ভাঙ্গা পাত্রের মতো তোমার জীবন অর্থহীন হওয়ার আগে,

কুয়োতে ভেঙে পড়ে যাওয়া পাথরের চাকার মতো তোমার জীবন নষ্ট হওয়ার আগে

তুমি সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ কর।

7তোমার শরীর মাটি থেকে এসেছে

এবং তোমার মৃত্যুর পর তোমার শরীর আবার মাটিতেই মিশে যাবে,

কিন্তু তোমার আত্মা এসেছে ঈশ্বরের কাছ থেকে,

তোমার মৃত্যুর পর তা আবার ঈশ্বরের কাছেই ফিরে যাবে।

8সব কিছুই অর্থহীন, উপদেশক বলেছেন সবই সময়ের অপচয়।

উপসংহার

9উপদেশক তাঁর প্রজ্ঞা অন্য লোকদের শিক্ষার কাজে লাগাতেন। উপদেশক অত্যন্ত যত্নসহকারে অনেক জ্ঞানের বাণী অধ্যয়ন করেছিলেন ও সেগুলিকে একত্র করে সংগ্রহ করেছিলেন। 10উপদেশক সঠিক শব্দ খুঁজে পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন এবং তিনি সত্য ও নির্ভরযোগ্য নীতিকথা লিখে গিয়েছিলেন।

11জ্ঞানী ব্যক্তির কথা হল সেই তীক্ষ্ণ লাঠির মত যা মানুষ পশুদের সঠিক রাস্তায় নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহার করে। সেই উপদেশ হল শক্ত পেয়ালার মতো যা ভাঙে না। সেই শিক্ষামালা তোমাকে সঠিক রাস্তা দেখাবে। ঐসব নীতির বাণীই এসেছিল একই মেষপালকের (ঈশ্বরের) কাছ থেকে। 12তাই ঐ বাণীগুলি পড় কিন্তু পুত্র ও অন্য বই সম্বন্ধে সাবধান থেকো। মানুষ সর্বদাই বই লিখছে এবং অতিরিক্ত অধ্যয়ন তোমাকে ক্লান্ত করে দেবে।

13 এই বইতে যা লেখা তার থেকে কি শিক্ষা আমরা নেবো? মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা করা ও তার আদেশ মান্য করা। কেন? কারণ মানুষ যা কিছু করে ঈশ্বর তা জানেন, সেটা গুপ্ত কিছু হলেও ঈশ্বর তা জানেন। তিনি ভাল ও মন্দ সব বিষয়ই জানেন। মানুষ যা কিছু করবে ঈশ্বর তার বিচার করবেন।