দ্বিতীয় বিবরণ

1

মোশি ইস্রায়েলের লোকদের সঙ্গে কথা বললেন

1মোশি ইস্রায়েলের লোকদের এই বার্তা দিয়েছিলেন। এই সময় তারা যর্দন নদীর পূর্বদিকের মরুভূমিতে যর্দন উপত্যকায় ছিল। এটি ছিল সূফের অপর পারে, যার একদিকে পারণ মরুভূমি আর অন্যদিকে তোফল, লাবন, হৎ‌‌সেরোৎ‌‌ এবং দীষাহর শহরগুলো।

2সেয়ীর পর্বতমালার মধ্য দিয়ে হোরেব (সীনয়) পর্বত থেকে কাদেশ বর্ণেয় পর্যন্ত যেতে মাত্র এগারো দিন লাগে। 3কিন্তু ইস্রায়েলের লোকদের মিশর ত্যাগ করার পর থেকে তাদের এই স্থানে আসা পর্যন্ত 40 বৎসর অতিক্রান্ত হয়েছে। 40তম বৎসরের একাদশ মাসের প্রথম দিনে মোশি লোকদের সঙ্গে কথা বললেন। প্রভু যা আজ্ঞা করেছিলেন, মোশি তার সমস্তটাই তাদের বললেন। 4এ হল প্রভুর সীহোন এবং ওগকে পরাজিত করার পরের ঘটনা। (সীহোন ছিলেন ইমোরীয়দের রাজা, তিনি হিষ্বোনে বাস করতেন। ওগ ছিলেন বাশনের রাজা, তিনি অষ্টারোৎ‌‌ এবং ইদ্রিয়ীতে বাস করতেন।) 5ইস্রায়েলের লোকরা যর্দন নদীর পূর্বদিকে মোয়াবে থাকাকালীন মোশি ঈশ্বরের আদেশগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে শুরু করলেন। তিনি বললেন:

6“হোরেব পর্বতে প্রভু, আমাদের ঈশ্বর আদেশ করে বলেছিলেন, ‘তোমরা যথেষ্ট সময় এই পর্বতে বাস করেছো। 7ইমোরীয় লোকরা যেখানে বাস করে সেই পাহাড়ী দেশে যাও। সেখানে আশেপাশের সমস্ত জায়গাতেই যাও। যর্দন উপত্যকা, পাহাড়ী দেশ, পশ্চিমের ঢালু অঞ্চল, নেগেভ এবং সমুদ্রতীরে যাও। কনান এবং লিবানোনের মধ্য দিয়ে বৃহৎ‌‌ নদী ফরাৎ পর্যন্ত যাও। 8দেখো, আমি তোমাদের সেই দেশ দিচ্ছি। যাও এবং সেই দেশটি অধিকার কর। আমি শপথ করেছিলাম যে সেই জমি তোমাদের পূর্বপুরুষদের অব্রাহাম, ইস‌্হাক এবং যাকোবকে দেব। আমি শপথ করেছিলাম যে সেই জমি তাঁদের এবং তাঁদের উত্তরপুরুষদের দেবো।’”

মোশি নেতাদের বেছে নিলেন

9মোশি বললেন, “সেই সময় আমি বলেছিলাম যে আমার একার পক্ষে তোমাদের ভার নেওয়া সম্ভব নয়। 10প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, লোকসংখ্যা আরও বৃদ্ধি করেছেন, আর তাই আজ তোমাদের সংখ্যা আকাশের অগণিত তারার মতো। 11প্রভু, তোমাদের পূর্বপূরুষদের ঈশ্বর, তোমাদের সংখ্যা এখন যা রয়েছে তার থেকে 1000 গুণ বৃদ্ধি করুন। তিনি ঠিক যেমন শপথ করেছিলেন, সেভাবেই তোমাদের আশীর্বাদ করুন। 12কিন্তু আমি একা তোমাদের দায়িত্ব নিতে পারবো না এবং তোমাদের সকল সমস্যার সমাধান করতে পারবো না। 13সেই কারণে তোমরা প্রত্যেক পরিবারগোষ্ঠী থেকে কয়েকজন লোককে বেছে নাও, আমি তাদের তোমাদের নেতা হিসাবে মনোনীত করব। বিজ্ঞ লোকদের বেছে নাও যাদের বোধশক্তি এবং অভিজ্ঞতা আছে।”

14“তোমরা বলেছিলে, ‘আপনি যা বলেছেন সেটা করাই ভালো হবে।’

15“সুতরাং তোমাদের পরিবারগোষ্ঠী থেকে তোমাদের নির্বাচিত জ্ঞানী এবং সম্মানিত লোকদের নিয়ে আমি তাঁদের তোমাদের নেতা হবার জন্য নিযুক্ত করেছিলাম। এই প্রকারে, আমি তোমাদের 1000 জন লোকের জন্যে নেতা, 100 জন লোকের জন্য নেতা, 50 জন লোকের জন্য নেতা, 10 জন লোকের জন্য নেতার ব্যবস্থা করেছিলাম। এছাড়াও আমি তোমাদের প্রত্যেক পরিবারগোষ্ঠীর জন্য উচ্চপদাধিকারী ব্যক্তি নিয়োগ করেছিলাম।

16“সেই সময়, আমি ঐ সকল বিচারকদের বলেছিলাম, ‘নিজের লোকদের মধ্যে যে সব যুক্তিতর্কের আদান প্রদান হবে সেগুলো ভালো করে শুনো। প্রত্যেকটি ঘটনা বিচার করার সময় নিরপেক্ষ হবে। সমস্যাটি দুজন ইস্রায়েলীয় লোকের মধ্যেই হোক্ অথবা একজন ইস্রায়েলীয় এবং একজন বিদেশীর মধ্যেই হোক্, তাতে অবস্থার কোনো প্রভেদ হবে না। তোমরা অবশ্যই প্রত্যেকটি ঘটনা নিরপেক্ষভাবে বিচার করবে। 17বিচার করার সময় কখনই একজন ব্যক্তিকে অন্যের থেকে বেশী গুরুত্বপূর্ণ মনে করবে না। প্রত্যেক ব্যক্তির সমান বিচার করবে। কোনো ব্যক্তির সম্পর্কেই ভীত হবে না, কারণ তোমাদের সিদ্ধান্ত ঈশ্বরের কাছ থেকে আসা সিদ্ধান্ত। কিন্তু যদি কোনো ঘটনা বিচার করা তোমাদের পক্ষে খুবই কঠিন হয়, তাহলে সেটি আমার কাছে নিয়ে এসো; এবং আমি সেটির বিচার করবো।’ 18সেই একই সময়, আমি তোমাদের অবশ্য করণীয় অন্যান্য কর্তব্য সম্পর্কেও বলেছিলাম।

চররা কনানে গেল

19“তখন আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে মান্য করেছিলাম। আমরা হোরেব পর্বত ত্যাগ করেছিলাম এবং ইমোরীয় লোকদের পার্বত্যদেশ অভিমুখে যাত্রা করেছিলাম। তোমরা যে বড় এবং সাংঘাতিক একটি মরুভূমি দেখেছিলে, তার মধ্য দিয়েই আমরা কাদেশ-বর্ণেয়ে এসেছিলাম। 20তখন আমি তোমাদের বলেছিলাম, ‘তোমরা এখন ইমোরীয়দের পার্বত্য দেশে এসেছো। প্রভু, আমাদের ঈশ্বর, আমাদের এই দেশ প্রদান করবেন। 21দেখো, ওটি ওখানেই আছে। ওপরে যাও এবং নিজেদের জন্য তোমরা ঐ দেশটিকে অধিকার করো! প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর, তোমাদের এটি করতে বলেছিলেন; সুতরাং ভয় পেও না, কোনো কিছুর সম্পর্কেই উদ্বিগ্ন হয়ো না!’

22“কিন্তু তোমরা সকলে আমার কাছে এসে বলেছিলে, ‘প্রথমে দেশটিকে অনুসন্ধান করে দেখার জন্য কিছু লোককে আমরা পাঠাই। এরপর তারা ফিরে এসে আমাদের কোন্ পথে রওনা দিতে হবে এবং কোন্ কোন্ শহরে যেতে হবে তার সন্ধান দেবে।’

23“আমার এই প্রস্তাব ভাল লেগেছিল। সেই কারণে আমি তোমাদের প্রত্যেক পরিবারগোষ্ঠী থেকে একজন করে মোট বারোজন লোককে বেছে নিয়েছিলাম। 24এরপর তারা সেই জায়গা ত্যাগ করে পার্বত্য দেশের ওপরে উঠেছিল এবং তাঁরা ইষ্কোল উপত্যকায় এসে এটির অনুসন্ধান করেছিল। 25তারা সেই দেশ থেকে কিছু ফল সংগ্রহ করে সেগুলো নিয়ে আমাদের কাছে ফিরে এসে এই সংবাদ দিয়ে বলল, ‘প্রভু, আমাদের ঈশ্বর, যে দেশ দিচ্ছেন, সে উত্তম দেশ!’

26“কিন্তু তোমরা সেই দেশের অভ্যন্তরে যেতে অস্বীকার করেছিলে। তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের আজ্ঞার বিরুদ্ধাচরণ করেছিলে। 27তোমরা তোমাদের তাঁবুতে অভিযোগ করে বলেছিলে, ‘প্রভু আমাদের ঘৃণা করেন! তিনি আমাদের মিশর থেকে বার করে নিয়ে এসেছিলেন যাতে ইমোরীয়রা আমাদের ধ্বংস করতে পারে! 28আমরা এখন কোথায় যেতে পারি? আমাদের ভাইরা (বারোজন চর) তাদের তথ্যের দ্বারা আমাদের ভীত করেছে। তারা বলেছিল: সেখানকার অধিবাসীরা আমাদের তুলনায় অনেক বড় এবং লম্বা। শহরগুলো বড় এবং তাদের প্রাচীরগুলো আকাশের সমান উঁচু এবং আমরা সেখানে দৈত্যাকার লোকও দেখেছিলাম!’”

29“তখন আমি তোমাদের বলেছিলাম, ‘তোমরা মনঃক্ষুন্ন হয়ো না! ঐ সকল লোকদের সম্পর্কে ভীত হয়ো না! 30প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের আগে আগে যাবেন এবং তোমাদের হয়ে যুদ্ধ করবেন। মিশরে তোমাদের চোখের সামনে তিনি যা করেছিলেন, এখানেও তিনি সেই একই কাজ করবেন। 31তোমরা সেখানে এবং মরুভূমিতে তাঁকে তোমাদের সম্মুখে যেতে দেখেছিলে। তোমরা দেখেছিলে যেভাবে একজন পিতা তার পুত্রকে বহন করে নিয়ে যায়, ঠিক সেভাবে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের বহন করেছিলেন। এই স্থানে পৌঁছানো পর্যন্ত সমস্ত রাস্তাই প্রভু তোমাদের নিরাপদে নিয়ে এসেছিলেন।’

32“কিন্তু তা সত্ত্বেও তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের ওপরে আস্থা রাখতে পারো নি! 33অথচ তোমাদের ভ্রমণের সময় তোমাদের শিবির স্থাপনের উপযুক্ত জায়গা খুঁজে বার করার জন্য তিনিই তোমাদের আগে গিয়েছিলেন। যে রাস্তা দিয়ে তোমাদের যাওয়া উচিৎ‌ সেটি প্রদর্শনের জন্য তিনিই রাত্রে আগুনের মধ্য দিয়ে এবং দিনের বেলায় মেঘের মধ্য দিয়ে তোমাদের সামনে গিয়েছিলেন।

লোকরা কনানে প্রবেশের অনুমতি পেল না

34“তোমাদের অভিযোগ প্রভু শুনেছিলেন এবং তিনি এতে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তিনি এক কঠিন প্রতিজ্ঞা করে বলেছিলেন, 35‘তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আমি যে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, সেই উত্তম দেশে তোমরা মন্দ লোকরা যারা এখন বেঁচে আছো, তারা কেউই প্রবেশ করবে না। 36কেবলমাত্র যিফন্নির পুত্র কালেব সেই দেশ দেখতে পাবে। কালেব যে জায়গা দিয়ে হেঁটে গিয়েছিল সেই জায়গা আমি তাকে এবং তার উত্তরপুরুষদের দেবো। কারণ, আমার নির্দেশমতো কালেব সব কাজ করেছিলো।’

37“তোমাদের জন্য প্রভু আমার ওপরও ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘মোশি তুমিও এই দেশে প্রবেশ করতে পারবে না। 38কিন্তু তোমার সহায়ক, নূনের পুত্র যিহোশূয় ঐ দেশে প্রবেশ করতে পারবে। যিহোশূয়কে উৎসাহিত করো, কারণ দেশটিকে অধিকার করার জন্য সে ইস্রায়েলের লোকদের নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ 39এবং প্রভু আমাদের বলেছিলেন, ‘তোমরা বলেছিলে, তোমাদের সন্তানরা তোমাদের শত্রুদের দ্বারা অপহৃত হবে; কিন্তু ঐ সন্তানরা ঐ দেশে প্রবেশ করবে। তোমাদের ভুলের জন্য আমি তোমাদের সন্তানদের দোষারোপ করি না, কারণ কোনটা ঠিক এবং কোনটা ভুল সেটা বোঝার পক্ষে তারা এখনও অনেক শিশু। সেই কারণে আমি তাদের ঐ দেশ দেব এবং তারা তা অধিকার করবে। 40কিন্তু তোমরা সূফ সাগরে যাওয়ার রাস্তা ধরে মরুভূমিতে ফিরে যাও।’

41“তখন তোমরা বলেছিলে, ‘মোশি, আমরা প্রভুর বিরুদ্ধাচরণ করে পাপ করেছি; কিন্তু এখন আমরা যাব এবং যুদ্ধ করবো, ঠিক যেমনটি আমাদের প্রভু ঈশ্বর, আমাদের আগে আজ্ঞা করেছিলেন।’

“তখন তোমরা প্রত্যেকে তোমাদের অস্ত্র তুলে নিয়েছিলে। ভেবেছিলে যে সেই পার্বত্য দেশে গিয়ে সেটিকে অধিগ্রহণ করা খুবই সহজ কাজ হবে। 42কিন্তু প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘লোকদের ওপরে যেতে এবং সেখানে গিয়ে যুদ্ধ করতে বারণ করো, কারণ আমি তাদের সঙ্গে থাকবো না এবং তারা তাদের শত্রুদের কাছে পরাজিত হবে!’

43“আমি তোমাদের সেই কথা বললাম, কিন্তু তোমরা শোন নি। তোমরা প্রভুর আজ্ঞা পালন করতে অস্বীকার করেছিলে। তোমরা যোগ্য না হয়ে সেই কাজে হাত দিয়েছিলে এবং ওপরের পার্বত্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিলে। 44কিন্তু সেখানে বসবাসকারী ইমোরীয় লোকরা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বেরিয়ে এসেছিল। তারা তোমাদের পেছনে তাড়া করা এক ঝাঁক মৌমাছির মতো ছিল। সেয়ীর থেকে হর্মা পর্যন্ত সমস্ত রাস্তা তোমাদের তাড়া করেছিল। 45তখন তোমরা ফিরে এসেছিলে এবং প্রভুর কাছে সাহায্যের জন্য কেঁদেছিলে। কিন্তু প্রভু তোমাদের কান্নায় মন দিলেন না, তোমাদের কোনো কথা শুনলেন না। 46আর তোমরা কাদেশে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছিলে।

2

ইস্রায়েলের লোকরা মরুভূমিতে দীর্ঘদিন ধরে ঘুরেছিল

1“তারপর প্রভু আমাকে যা করতে বলেছিলেন, সেই অনুসারে আমরা সূফ সাগরে যাওয়ার রাস্তা দিয়ে মরুভূমিতে ফিরে গিয়েছিলাম। সেয়ীর পর্বতমালাকে চক্রাকারে বেষ্টন করে আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভ্রমণ করেছিলাম। 2তখন প্রভু আমাকে বলেছিলেন, 3‘এই পর্বতমালাকে ঘিরে তোমরা বহুদিন ধরে ভ্রমণ করেছ। উত্তর দিকে ঘুরে যাও। 4লোকদের এই কথাগুলো বল: তোমরা সেয়ীর দেশের মধ্য দিয়ে যাবে। এই দেশটি তোমাদের আত্মীয় এষৌ এর উত্তরপুরুষের। তারা তোমাদের ভয় পাবে। তাই তোমরা সাবধান হবে। 5তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো না। তাদের দেশের কোনো অংশই আমি তোমাদের দেবো না—এমন কি এর এক ফুট পরিমাণও নয়। কারণ আমি এষৌকে সেয়ীরের পার্বত্য প্রদেশটি তার নিজের দেশ হিসাবে দিয়েছি। 6তোমরা তাদের কাছ থেকে টাকা দিয়ে খাবার কিনে খাবে এবং জল কিনে পান করবে। 7মনে রাখবে যে তোমরা যা করেছো তার প্রত্যেকটি কাজে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের আশীর্বাদ করেছেন। এই বৃহৎ‌‌ মরুভূমির মধ্য দিয়ে তোমাদের হাঁটার খবর তিনি জানেন। এই 40 বছর ধরে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে আছেন। তাই তোমাদের কোন কিছুরই অভাব হয় নি।’

8“সেই কারণে আমরা সেয়ীরে বসবাসকারী এষৌ এর লোকদের অর্থাৎ‌ আমাদের আত্মীয়দের সামনে দিয়ে চলে গেলাম। যর্দন উপত্যকা থেকে এলৎ‌‌ এবং ইৎ‌‌সিয়োন গেবরের শহরে যাওয়ার রাস্তা ত্যাগ করে আমরা মোয়াবের মরুভূমিতে যাওয়ার রাস্তার দিকে ঘুরেছিলাম।

আর-এ ইস্রায়েল

9“প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘মোয়াবে লোকদের কষ্ট দিও না, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করো না, তাদের দেশের কোনো অংশই আমি তোমাদের দেবো না। তারা লোটের উত্তরপুরুষ এবং আমিই তাদের আর্ শহর দান করেছিলাম।’”

10(অতীতে, আর্-এ এমীয় লোকরা বাস করতো। তারা খুব শক্তিশালী ছিল এবং সেখানে তাদের সংখ্যাও ছিল প্রচুর। অনাকীয় লোকদের মতো তারা উচ্চতায় ছিল বেশ লম্বা। 11অনাকীয় ছিল রফায়ীয় লোকদেরই অংশ বিশেষ। লোকরা ভেবেছিল যে এমীয়রাও রফায়ীয়; কিন্তু মোয়াবে লোকরা তাদের এমীয় বলত। 12আগে সেয়ীরে হোরীয় লোকরাও থাকত, কিন্তু এষৌ এর লোকরা হোরীয়দের তাড়িয়ে দিয়েছিল এবং তাদের ধ্বংস করে দেশেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিল। ইস্রায়েলের লোকরাও ঠিক এই রকমটাই করেছিল। প্রভু তাদের যে দেশ দিয়েছিলেন সেই দেশের লোকদের প্রতি এই একই কাজ করেছিল।)

13“প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘এখন তোমরা সেরদ উপত্যকার অপর দিকে যাও।’ সেই কারণে আমরা সেরদ উপত্যকা পার করেছিলাম। 14কাদেশ বর্ণেয় ত্যাগের পর থেকে সেরদ উপত্যকা অতিক্রম করা পর্যন্ত মাঝখানে 38 বছরের ব্যবধান ছিল। এই সময়ের মধ্যে আমাদের শিবিরের সব পুরুষ যোদ্ধারাই মারা গিয়েছিল। প্রভু তেমনই শপথ করেছিলেন। 15শিবিরের মধ্যে তাদের সকলের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত প্রভু তাদের বিরুদ্ধে ছিলেন।

16“আমাদের সমস্ত যোদ্ধারা মারা যাওয়ার পর, 17প্রভু আমাকে এই কথা বলেছিলেন, 18আজ তোমরা অবশ্যই আর্-এ সীমান্ত পার করবে এবং মোয়াবে প্রবেশ করবে। 19তোমরা অম্মোনীয়দের কাছে উপস্থিত হয়ে তাদের বিরক্ত করবে না। তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো না, কারণ আমি তাদের দেশ তোমাদের দান করবো না। কারণ তারা লোটের উত্তরপুরুষ এবং আমিই তাদের ঐ দেশ দিয়েছি।”

20(সেই দেশ রফায়ীয়র দেশ বলেও পরিচিত। অতীতে রফায়ীয় লোকরা সেখানে বাস করতো। অম্মোনের লোকরা তাদের সম্সুম্মীয় বলে ডাকত। 21সেখানে বহু সম্সুম্মীয় ছিল এবং তারা ছিল যথেষ্ট শক্তিশালী। অনাকীয় লোকদের মতো তারা উচ্চতায় লম্বা ছিল। কিন্তু সম্সুম্মীয়দের ধ্বংস করতে প্রভু অম্মোন লোকদের সাহায্য করেছিলেন। অম্মোন লোকরা সেই দেশ অধিগ্রহণ করে সেখানেই বাস করছে। 22এষৌ এর লোকদের জন্য ঈশ্বর এই একই কাজ করেছিলেন। অতীতে হোরীয় লোকরা সেয়ীরে (ইদোম) বাস করত; কিন্তু এষৌ এর লোকরা হোরীয়দের ধ্বংস করে আজ পর্যন্ত এষৌর উত্তরপুরুষ সেখানেই বাস করছে। 23কপ্তোরীয়ের কিছু সংখ্যক লোকের জন্যও ঈশ্বর এই একই কাজ করেছিলেন। ঘসার চতুর্দিকের শহরে অব্বীয় লোকরা বাস করত। কিন্তু কিছু সংখ্যক লোক কপ্তোরীয় থেকে এসে অব্বীয়দের ধ্বংস করেছিল। ক্রিট্ থেক আগত ঐ সকল লোকরা সেই দেশ অধিগ্রহণ করে সেখানেই বাস করল।)

ইমোরীয় লোকদের সঙ্গে যুদ্ধ

24“প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘অর্ণোন উপত্যকা অতিক্রম করে যাওয়ার জন্য তৈরী হও। হিষ্বোনে ইমোরীয়দের রাজা সীহোনকে পরাজিত করতে আমি তোমাদের সাহায্য করবো। তার দেশ অধিগ্রহণ করতে আমি তোমাদের সাহায্য করবো। সুতরাং তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হও এবং তার দেশ অধিগ্রহণ করো। 25আজ আমি সমস্ত জায়গার সকল লোকের মধ্যে তোমাদের সম্পর্কে ভীতির সঞ্চার করবো। তারা তোমাদের খবর জেনে ভয়ে আতঙ্কিত এবং কম্পিত হবে।’

26“কদেমোৎ-এর মরুভূমিতে থাকাকালীন আমি হিষ্বোনের রাজা সীহোনের কাছে কয়েকজন দূত পাঠিয়েছিলাম। দূতেরা সীহোনকে শান্তির প্রস্তাব দিয়ে বলেছিল, 27‘আপনার দেশের মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে দিন। আমরা রাস্তাতেই থাকবো। আমরা রাস্তার ডানদিক অথবা বামদিক কোনো দিকেই ঘুরব না। 28আমরা আপনাদের কাছ থেকে খাবার ও জল রূপো দিয়ে কিনে খাব। আমরা শুধুমাত্র আপনার দেশের মধ্য দিয়ে পদব্রজে ভ্রমণ করতে চাই। 29প্রভু, আমাদের ঈশ্বর যে দেশ দিচ্ছেন, যর্দন নদী অতিক্রম করে সেই দেশে পৌঁছানো পর্যন্ত আমাদের আপনার দেশের মধ্য দিয়ে যেতে দিন। সেয়ীরে বসবাসকারী এষৌয় লোকরা এবং আর্-এ বসবাসকারী মোয়াবীয় লোকরা তাদের দেশের মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে দিয়েছেন।’

30“কিন্তু সীহোন, হিষ্বোনের রাজা, আমাদের তাঁর দেশের মধ্য দিয়ে যেতে দেননি। কারণ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর তাঁর মন কঠিন ও একগুঁয়ে করলেন যেন তিনি তাঁকে তোমাদের হাতে সমর্পণ করেন, যেমন তিনি আজ পর্যন্ত রয়েছেন!

31“প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি রাজা সীহোন এবং তার দেশ তোমাদের দিচ্ছি। এখন যাও তার দেশ অধিগ্রহণ করো!’

32“এরপর যহস নামক স্থানে রাজা সীহোন এবং তার সমস্ত লোকরা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য বেরিয়ে এসেছিল। 33কিন্তু প্রভু, আমাদের ঈশ্বর সীহোনকে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। আমরা রাজা সীহোন, তার পুত্রদের এবং তার সমস্ত লোকদের পরাজিত করেছিলাম। 34সেই সময় রাজা সীহোনের সব শহরগুলোই আমরা অধিকার করেছিলাম। প্রত্যেক শহরের সমস্ত লোকদের, সকল পুরুষদের, স্ত্রীলোকদের এবং ছোট ছোট শিশুদের আমরা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছিলাম। আমরা কাউকেই জীবিত ছেড়ে দিই নি! 35ঐ সমস্ত শহরগুলো থেকে আমরা কেবলমাত্র গবাদিপশু এবং মুল্যবান দ্রব্যসামগ্রী নিয়েছিলাম। 36অর্ণোন উপত্যকার ধারের অরোয়ের নামে একটি শহরকে এবং ঐ উপত্যকার মাঝখানের আরেকটি শহরকে আমরা পরাজিত করেছিলাম। অর্ণোন উপত্যকা এবং গিলিয়দের মাঝখানের সমস্ত শহরগুলোকে পরাজিত করতে প্রভু আমাদের সাহায্য করেছিলেন। আমাদের কাছে কোনো শহরই খুব শক্তিশালী ছিল না। 37কিন্তু অম্মোনের লোকদের অধিকারভুক্ত দেশের কাছে তোমরা যাও নি। যব্বোক নদীর উপকূলে অথবা পার্বত্য অঞ্চলের শহরগুলোর কাছেও তোমরা যাও নি। তোমরা সেই সমস্ত স্থানে যাও নি যেখানে যেতে প্রভু আমাদের নিষেধ করেছিলেন।

3

বাশনের লোকদের সঙ্গে যুদ্ধ

1“আমরা ফিরেছিলাম এবং বাশনের রাস্তা ধরে গিয়েছিলাম। ইদ্রিয়ীতে বাশনের রাজা ওগ এবং তার সমস্ত লোকরা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বেরিয়ে এসেছিল। 2প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘ওগ সম্পর্কে ভীত হয়ো না। আমি স্থির করেছি যে তাকে আমি তোমাদের কাছে সমর্পণ করব। তার সমস্ত লোকদের এবং তার দেশ আমি তোমাদের দেব। হিষ্বোনে যিনি শাসনকার্য চালাতেন সেই ইমোরীয় রাজা সীহোনকে তোমরা যেভাবে পরাজিত করেছিলে, ঠিক সেই ভাবেই তোমরা একেও পরাজিত করবে।’

3“সেই কারণে প্রভু, আমাদের ঈশ্বর বাশনের রাজা ওগকে পরাজিত করতে সাহায্য করেছিলেন। আমরা তাকে এবং তার সমস্ত লোকদের পরাজিত করেছিলাম। তাদের আর কেউই বাকী ছিল না। 4সেই সময় ওগের অধিকারে যে সমস্ত শহর ছিল তার সবগুলোই আমরা অধিকার করেছিলাম। ওগের লোকদের কাছ থেকে আমরা সব শহরগুলোই অধিকার করেছিলাম। এর মধ্যে ছিল বাশনের রাজা ওগের রাজ্য, অর্গোব নামক অঞ্চলের 60 টি শহর। 5এই সমস্ত শহরগুলো খুবই শক্তিশালী ছিল। তাদের দেওয়ালগুলি উঁচু, দরজা এবং দরজার ওপরে খিল ছিল খুব শক্ত। সেখানে আরও বহু এমন শহর ছিল যেগুলোর কোনো প্রাচীর ছিল না। 6হিষ্বোনের রাজা সীহোনের শহরগুলিকে আমরা যেভাবে ধ্বংস করেছিলাম, সেভাবেই এদেরও ধ্বংস করেছিলাম। প্রত্যেকটি শহরকে এবং সেখানে বসবাসকারী সমস্ত লোকদের, এমনকি সমস্ত স্ত্রীলোকদের এবং শিশুদের আমরা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছিলাম। 7কিন্তু ঐ সমস্ত শহরের সমস্ত গোরু এবং সমস্ত মুল্যবান দ্রব্যসামগ্রী আমরা নিজেদের জন্য রেখে দিয়েছিলাম।

8“সেই প্রকারে, আমরা দুজন ইমোরীয় রাজার কাছ থেকে তাদের দেশ অধিগ্রহণ করেছিলাম। যর্দন নদীর পূর্বদিকে অর্ণোন উপত্যকা থেকে মাউন্ট হর্মোণ পর্বত পর্যন্ত দেশ আমরা অধিগ্রহণ করেছিলাম। 9(সীদোনের লোকরা হর্মোণ পর্বতকে বলে সিরিয়োণ, কিন্তু ইমোরীয়রা এটিকে বলতো সনীর।) 10উঁচু সমতলভূমির সমস্ত শহরগুলোকে এবং গিলিয়দ অধিগ্রহণ করেছিলাম। বাশনের সমস্ত অঞ্চল, সল্খা এবং ইদ্রিয়ী পর্যন্ত সমস্ত আমরা অধিকার করেছিলাম। সল্খা এবং ইদ্রিয়ী বাশনের রাজা ওগ-এর রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল।”

11(অবশিষ্ট রফায়ীয়দের মধ্যে কেবলমাত্র বাশনের রাজা ওগ ছিলেন। ওগ-এর খাট ছিল লোহা দিয়ে তৈরী। এটি 13 ফুটেরও বেশী লম্বা এবং 6 ফুট চওড়া ছিল। খাটটি এখনও রব্বা শহরে আছে, যেখানে অম্মোন লোকরা বাস করে।)

যর্দন নদীর পূর্বদিকের দেশ

12“সেই কারণে আমরা সেই দেশ আমাদের জন্য অধিকার করেছিলাম। রূবেণ এবং গাদের পরিবারগোষ্ঠীদের আমি এই দেশের অংশ বিশেষ দান করেছিলাম। অর্ণোন উপত্যকার আরোয়ার নামক জায়গা থেকে গিলিয়দের পার্বত্য দেশ পর্যন্ত সমস্ত দেশ এবং এর অন্তর্গত সমস্ত শহর আমি তাদের প্রদান করেছিলাম। গিলিয়দের পার্বত্য দেশের অর্ধেক তারা পেয়েছিল। 13মনঃশির পরিবারগোষ্ঠীর অর্ধেকাংশকে আমি গিলিয়দের অপর অর্ধেক এবং বাশনের সম্পূর্ণ অঞ্চল প্রদান করেছিলাম।”

(বাশন ছিল ওগের রাজ্য। বাশনের কিছু অংশকে বলা হতো অর্গোব। এটিকে রফায়ীয় দেশও বলা হতো। 14মনঃশির পরিবারগোষ্ঠীর যায়ীর, অর্গোবের সমস্ত অঞ্চল অধিগ্রহণ করেছিলেন। গশূরীয় লোকদের এবং মাখাথীয় লোকদের সীমানা পর্যন্ত সেই অঞ্চল বিস্তৃত ছিল। সেই অঞ্চলটি যায়ীর নামে অভিহিত হয়েছিল। সেই কারণে আজও লোকরা বাশনকে যায়ীরের শহর বলে।)

15“আমি মাখীরকে গিলিয়দ প্রদান করেছিলাম। 16এবং রূবেণের পরিবারগোষ্ঠীকে এবং গাদ-এর পরিবারগোষ্ঠীকে আমি সেই দেশ প্রদান করেছিলাম, যেটি গিলিয়দে শুরু হয়েছে। এই দেশটি অর্ণোন উপত্যকা থেকে যব্বোক নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। উপত্যকাটির মধ্যাঞ্চল হল একটি সীমানা। যব্বোক নদীটি হল অম্মোনীয় লোকদের সীমানা। 17মরুভূমির কাছের যর্দন নদী ছিল তাদের পশ্চিম সীমানা। এই অঞ্চলের উত্তরে গালিল হ্রদ এবং দক্ষিণে রয়েছে মৃতের সমুদ্র (লবণ সমুদ্র)। এটি পূর্বদিকের পিস্গার পাহাড়গুলির নীচে অবস্থিত।

18“সেই সময়, আমি তোমাদের এই আদেশ দিয়েছিলাম; ‘প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের যর্দন নদীর পূর্বদিকের্ দেশ বাস করার জন্য দিয়েছেন। কিন্তু এখন তোমাদের যোদ্ধারা অবশ্যই তাদের অস্ত্র তুলে নেবে এবং অন্যান্য ইস্রায়েলীয় পরিবারগোষ্ঠীকে নদী অতিক্রম করার কাজে নেতৃত্ব দেবে। 19তোমাদের স্ত্রীরা, তোমাদের সন্তানরা এবং তোমাদের সমস্ত গবাদি পশু (আমি জানি তোমাদের অনেক গবাদিপশু আছে) অবশ্যই এই শহরগুলিতে থাকবে, যেটা আমি তোমাদের দিয়েছি। 20কিন্তু তোমরা অবশ্যই তোমাদের ইস্রায়েলীয় আত্মীয়বর্গকে সাহায্য করবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা যর্দন নদীর অপর পারে তাদের প্রভুর দেওয়া দেশ অধিগ্রহণ করে। প্রভু তাদের সেখানে শাস্তি দেওয়া পর্যন্ত তাদের সাহায্য করো, ঠিক যেমন তিনি এখানে তোমাদের জন্য করেছিলেন। এরপর আমি তোমাদের যে দেশ দিয়েছি সেখানে ফিরে আসতে পার।’

21“তখন আমি যিহোশূয়কে বলেছিলাম, ‘প্রভু তোমাদের ঈশ্বর এই দুজন রাজার কি দশা করেছেন সেটা তুমি স্বচক্ষে দেখেছ। তুমি যে রাজ্যেই প্রবেশ করবে, সেখানেই ঈশ্বর এই একই কাজ করবেন। 22এই সকল দেশের রাজাদের ভয় পেও না, কারণ প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের জন্য যুদ্ধ করবেন।’

মোশি কনানে প্রবেশের অনুমতি পেলেন না

23“এরপর আমার বিশেষ কিছু করার জন্য আমি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করেছিলাম। আমি বলেছিলাম, 24‘প্রভু আমার মনিব, আমি তোমার সেবক। আমি জানি যে তুমি তোমার চমৎ‌‌কারিত্বের এবং শক্তির সামান্য অংশই আমাকে দেখিয়েছ। তুমি যে মহৎ‌‌ এবং শক্তি সম্পন্ন কাজ করেছ, তেমন কাজ করতে পারে এমন কোনো ঈশ্বর স্বর্গে অথবা পৃথিবীতে নেই। 25কৃপা করে আমাকে যর্দন নদী পার হতে এবং সেই উত্তম দেশ প্রত্যক্ষ করতে দাও। আমাকে সুন্দর পার্বত্য দেশ এবং লিবানোন দর্শন করতে দাও।’

26“কিন্তু তোমাদের জন্য প্রভু আমার ওপরে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তিনি আমার কথা শুনতে অস্বীকার করেছিলেন। প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘এটাই যথেষ্ট! এই প্রসঙ্গে আর কোনো কথা বোলো না। 27পিস্গা পর্বতের সর্বোচ্চ শিখরে যাও। এর পশ্চিম দিক, উত্তর দিক, দক্ষিণ দিক এবং পূর্ব দিক প্রত্যক্ষ কর। তুমি এইসব চোখে দেখতে পাবে, কিন্তু কখনই যর্দন নদী অতিক্রম করতে পারবে না। 28তুমি অবশ্যই যিহোশূয়কে নির্দেশ দেবে। তুমি অবশ্যই তাকে উৎসাহিত করবে এবং তাকে সবল করবে। কারণ যর্দন নদী অতিক্রম করার কাজে যিহোশূয় লোকদের নেতৃত্ব দেবে। তুমি কেবল দেশটি দেখতে পাবে, কিন্তু যিহোশূয় তাদের ঐ দেশে নিয়ে যাবে। সে তাদের ঐ দেশটির অধিগ্রহণে এবং সেখানে বাস করতে সাহায্য করবে।’

29“সেই কারণে, বৈৎ‌-পিয়োরের অপর দিকের উপত্যকাতেই আমরা থেকেছিলাম।

4

মোশি লোকদের ঈশ্বরের বিধি মান্য করতে বললেন

1“হে ইস্রায়েলীয়রা, আমি তোমাদের যে বিধি এবং আদেশ শেখাব সেগুলো খুব মন দিয়ে শোন। সেগুলো মান্য করলে তোমরা ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। তাহলেই প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন, সেই দেশে তোমরা প্রবেশ করতে পারবে এবং সেই দেশ অধিকার করতে পারবে। 2আমি তোমাদের যে আদেশ দিয়েছি তার সঙ্গে তোমরা কোন কিছু যোগ করো না এবং তার থেকে কোনো কিছু বাদ দিও না। তোমরা অবশ্যই তোমাদের প্রভু, ঈশ্বরের আদেশ মান্য করবে, যা আমি তোমাদের দিয়েছি।

3“তোমরা দেখেছ, প্রভু বাল পিয়োরে কি করেছিলেন। সেই স্থানে তোমাদের যে সব লোকরা বালের মূর্ত্তির অনুগামী হয়েছিল, তাদের সকলকে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর ধ্বংস করেছিলেন। 4কিন্তু তোমরা সকলে যারা তোমাদের প্রভু, ঈশ্বরের অনুগামী হয়েই থেকেছিলে, তারা আজও বেঁচে আছ।

5“প্রভু, আমার ঈশ্বর আমাকে যে আজ্ঞা দিয়েছিলেন, সেই বিধি এবং শাসন সম্পর্কে আমি তোমাদের শিখিয়েছিলাম। এই বিধিগুলো আমি এই কারণে শিখিয়েছিলাম যাতে তোমরা যে দেশে প্রবেশ করতে যাচ্ছ এবং নিজেদের জন্য অধিগ্রহণ করছ, সেখানে এই গুলো মেনে চলতে পার। 6খুব সতর্কভাবে এই বিধিগুলোকে মেনে চলবে। এর থেকে অন্য গোষ্ঠীর লোকরা বুঝতে পারবে তোমরা কতটা জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমান। এই সকল বিধি সম্পর্কে জানতে পেরে তারা বলবে, ‘সত্যি এই জাতির (ইস্রায়েল) লোকরা জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমান।’

7“কারণ এমন কোন্ মহান জাতি রয়েছে যাদের ঈশ্বর নিকটেই থাকেন এবং আমাদের প্রভু ঈশ্বরের মত ডাকলেই কাছে আসেন? 8আজ আমি তোমাদের যে শিক্ষামালা দিচ্ছি, সেরকম ভাল ও ন্যায় বিধি ও নিয়মাবলী কোন জাতির আছে? 9কিন্তু সাবধান, নিজের বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রেখো পাছে তোমরা যা দেখেছ তার কোনো কিছুই ভুলে যাও এবং পাছে তা তোমাদের জীবনকালে মন থেকে মুছে যায়। তোমরা অবশ্যই তোমাদের সন্তানদের এবং নাতি-নাতনীদের ঐগুলো শিক্ষা দেবে। 10মনে করো সে দিনের কথা, যেদিন হোরেব পর্বতে তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের সম্মুখে দাঁড়িয়েছিলে। প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি যা বলি, সেগুলো শোনার জন্য সমস্ত লোকদের এক জায়গায় জড়ো করো। তখন তারা যতদিন এই পৃথিবীতে বাঁচবে ততদিন আমাকে সম্মান করতে শিখবে এবং তারা তাদের সন্তানদের এগুলো শেখাবে।’ 11তোমরা কাছে এসেছিলে এবং পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়েছিলে। পাহাড়টি আগুনে জ্বলছিল আর সেই আগুন আকাশ পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছিল। সেখানে ঘন কালো মেঘ এবং ঘন অন্ধকার ছিল। 12তখন প্রভু আগুনের মধ্যে থেকে তোমাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তোমরা কথা বলার রব শুনেছিলে, কিন্তু তোমরা কোনো প্রকার আকৃতি দেখতে পাও নি। কেবল গলার রব শোনা যাচ্ছিল। 13প্রভু তাঁর চুক্তির কথা তোমাদের বলেছিলেন এবং দশটি আজ্ঞা দিয়ে তোমাদের সেগুলো মেনে চলতে বলেছিলেন। সেই বিধিগুলো প্রভু দুটি পাথরের ফলকের ওপরে লিখেছিলেন। 14সেই সময় তোমরা যে দেশে প্রবেশ করতে এবং অধিগ্রহণ করতে যাচ্ছ, সেখানে মেনে চলার জন্য বিধি এবং নিয়ম সম্পর্কেও তোমাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রভু আমাকে আদেশ করেছিলেন।

15“হোরেব পর্বতে আগুনের মধ্য থেকে যেদিন প্রভু তোমাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, সেদিন তোমরা তাঁকে দেখতে পাও নি। সেখানে ঈশ্বরের কোনো আকৃতি ছিল না। 16সুতরাং খুব সাবধান! জীবিত কোনো কিছুর আকৃতিতে মূর্ত্তি অথবা খোদাই করা প্রতিমা তৈরী করে তোমরা পাপ করো না এবং নিজেদের ধ্বংস করো না। একজন পুরুষ অথবা একজন স্ত্রীলোকের মতো দেখতে কোনো প্রতিমূর্ত্তি তৈরী করো না। 17পৃথিবীর কোনো পশুর মতো অথবা আকাশে ওড়ে এমন কোনো পাখির মতো দেখতে কোনো প্রতিমূর্ত্তি তৈরী করো না। 18মাটির বুকে ভর দিয়ে চলে এমন কোনো কিছুর মতো অথবা সমুদ্রের কোনো মাছের মতো প্রতিমূর্ত্তি তৈরী করো না। 19তোমরা আকাশের দিকে তাকিয়ে সূর্য, চন্দ্র, তারা এবং আকাশের সমস্ত বাহিনী দেখতে পেলে সতর্ক থাকবে। খুব সাবধান, ঐ সকল দ্রব্যসামগ্রীর পূজা ও সেবা করার জন্য তোমরা যেন প্রলুব্ধ না হও। প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, পৃথিবীর অন্যান্য লোকদের এই জিনিসগুলি পূজা করতে দিয়েছেন। 20কিন্তু প্রভু তোমাদের লোহা গলানোর গরম চুল্লী সেই মিশর থেকে বার করে এনে তাঁর নিজের বিশেষ লোক হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। যেমন আজ তোমরা রয়েছ!

21“প্রভু তোমাদের কারণে আমার ওপরে ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন এবং প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে আমাকে যর্দন নদী অতিক্রম করে যেতে দেবেন না। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে আমি সেই উত্তম দেশে প্রবেশ করতে পারবো না যেটা প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের দিতে যাচ্ছেন। 22সুতরাং আমি এখানে এই দেশে অবশ্যই মারা যাব। আমি যর্দন নদী অতিক্রম করব না, কিন্তু তোমরা শীঘ্রই যর্দন নদীর অপর পারে যাবে এবং সেই উত্তম দেশ অধিগ্রহণ করে সেখানে বাস করবে। 23সেই নতুন দেশে, তোমরা খুবই সতর্ক থাকবে যে তোমাদের প্রভু ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে যে চুক্তি করেছিলেন সেটি তোমরা ভুলবে না। তোমরা অবশ্যই প্রভুর আজ্ঞা মান্য করবে। প্রভুর নিষেধ মত কোনো আকারের কোনো মূর্ত্তি তৈরী করবে না। 24কারণ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর গ্রাসকারী আগুনের মতো, তিনি নিজের গৌরব রক্ষা করতে উদ্যোগী!

25“তোমরা দীর্ঘ সময় দেশে বাস করবে। সেখানে যখন তোমাদের সন্তান এবং নাতি-নাতনী হবে এবং তোমরা সেখানে বৃদ্ধ হবে, তখন যাবতীয় প্রকারের মূর্ত্তি তৈরী করে তোমরা শুধু তোমাদের জীবনই নষ্ট করবে! 26সুতরাং আমি তোমাদের এখনই সাবধান করছি। স্বর্গ এবং পৃথিবী আমার সাক্ষী। যদি তোমরা ঐ সকল খারাপ কাজ করো, তাহলে তোমরা খুব শীঘ্রই ধ্বংস হবে। সেই দেশ অধিগ্রহণ করার জন্য তোমরা এখন যর্দন নদী অতিক্রম করছো। কিন্তু তোমরা যদি কোনো প্রকার প্রতিমূর্ত্তি তৈরী করো, তাহলে তোমরা সেখানে বেশী দিন বাঁচতে পারবে না। তোমরা সম্পূর্ণ ধ্বংস হবে। 27প্রভু তোমাদের বিভিন্ন জাতির মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন এবং প্রভু তোমাদের যেখানে পাঠাবেন সেই দেশগুলোতে যাওয়ার জন্য তোমাদের খুব অল্প সংখ্যকই জীবিত থাকবে। 28সেখানে তোমরা পুরুষদের তৈরী দেবতাদের সেবা করবে—কাঠের অথবা পাথরের তৈরী দ্রব্যসামগ্রী যা দেখতে, শুনতে, খেতে অথবা ঘ্রাণ নিতে পারে না! 29কিন্তু সেখানে ঐ অন্যান্য দেশগুলোতে তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের অনুসন্ধান করবে এবং তোমরা যদি সর্বান্তঃকরণে এবং সম্পূর্ণ আত্মা দিয়ে তাঁর অনুসন্ধান করো, তাহলে তাঁকে খুঁজে পাবে। 30যখন তোমরা সমস্যার মুখোমুখি হবে, যখন তোমরা বিপদে পড়বে, যখন ঐ সকল ঘটনা তোমাদের প্রতি ঘটবে—তখন তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসবে এবং তাঁর আদেশ পালন করবে। 31তোমাদের প্রভু ঈশ্বর হলেন ক্ষমাপরায়ণ ঈশ্বর। তিনি তোমাদের সেখানে পরিত্যাগ করবেন না। তিনি তোমাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করবেন না। তোমাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে তিনি যে নিয়ম করেছিলেন সেটি তিনি ভুলবেন না।

ঈশ্বরের মহান কাজগুলির কথা স্মরণ করো

32“এরকম মহৎ‌‌ কোনও কিছুর কথা কি কেউ কখনও শুনেছে? না! অতীতের দিকে ফিরে তাকাও। তোমাদের জন্মের আগে যা যা হয়েছিল সেগুলো সম্পর্কে ভাবো। ঈশ্বর যখন পৃথিবীতে মানুষের সৃষ্টি করেছিলেন সেই সময়ে ফিরে যাও। এই পৃথিবীতে যেখানে যা যা হয়েছে সেগুলোর দিকে ফিরে তাকাও। এর মতো মহৎ‌‌ কোনো কিছু সম্পর্কে কেউ কি কখনও শুনেছে? না! 33তোমরা ঈশ্বরকে আগুনের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গে কথা বলতে শুনেছিলে এবং তোমরা এখনও বেঁচে আছ। অন্য কোন দেশের সঙ্গে কি সেরকম কোনো কিছু কখনও হয়েছিলো? না! 34এবং অন্য কোনোও দেবতা কি কখনও আরেকটি জাতির ভেতর থেকে নিজের জন্য একটি জাতিকে নেবার চেষ্টা করেছে? না! কিন্তু তোমরা নিজেরা দেখেছ যে তোমাদের প্রভু ঈশ্বর এই সকল চমৎ‌‌কার কাজ করেছিলেন। তিনি তোমাদের ক্ষমতা এবং শক্তি দেখিয়েছিলেন। তোমরা অলৌকিক ও আশ্চর্য জিনিসগুলি দেখেছ। তোমরা যুদ্ধ এবং ভয়ঙ্কর ব্যাপারগুলি যা প্রভু মিশরের ওপর ঘটিয়েছেন তা দেখেছ। 35প্রভু তোমাদের ঐ সব দেখিয়েছিলেন যাতে তোমরা জানতে পার যে তিনি হলেন ঈশ্বর। তাঁর মতো কোনও দেবতা নেই! 36তিনি তোমাদের স্বর্গ থেকে তাঁর কন্ঠস্বর শোনালেন যাতে তোমাদের শিক্ষা দিতে পারেন। পৃথিবীতে তিনি তোমাদের তাঁর আগুন দেখিয়েছেন এবং তার মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।

37“প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের ভালোবাসতেন, তাই তোমাদের অর্থাৎ‌ তাদের উত্তরপুরুষদের মনোনীত করেছিলেন। এবং সেই কারণেই প্রভু তোমাদের সঙ্গে থেকে এবং তাঁর মহাপরাক্রমের সাহায্যে তিনি তোমাদের মিশর থেকে বার করে এনেছিলেন। 38যখন তোমরা আরও এগোচ্ছিলে সেই সময় প্রভু তোমাদের থেকে বৃহৎ‌‌ এবং আরও বেশী শক্তিশালী জাতিগুলিকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। প্রভু তোমাদের তাদের দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেখানে বাস করার জন্য তিনি তাদের দেশ তোমাদের দিয়েছিলেন এবং আজও তিনি সেই কাজই করে চলেছেন।

39“সুতরাং আজ তোমরা অবশ্যই মনে করবে এবং মেনে নেবে যে প্রভুই হলেন ঈশ্বর। তিনি ওপরে স্বর্গের এবং নীচে পৃথিবীর ঈশ্বর। সেখানে অন্য কোনো ঈশ্বর নেই! 40এবং আজ আমি তোমাদের তাঁর যে বিধি এবং আজ্ঞাসমূহ দিলাম সেগুলো তোমরা অবশ্যই মেনে চলবে। তাহলে সমস্ত কিছুই তোমাদের সঙ্গে এবং তোমাদের পরে তোমাদের যে সন্তানরা থাকবে তাদের সঙ্গে ভালোভাবে চলবে এবং প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন সেখানে তোমরা দীর্ঘদিন বাস করতে পারবে—এটি চিরদিনের জন্য তোমাদেরই হবে!”

মোশি সুরক্ষার শহর বেছে নিলেন

41এরপর মোশি যর্দন নদীর পূর্বদিকের তিনটি শহর বেছে নিলেন। 42যদি কোনো ব্যক্তি দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোনো এক ব্যক্তিকে হত্যা করে, তাহলে সে ঐ তিনটি শহরের যে কোনো একটিতে পালিয়ে যেতে পারে এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না। কিন্তু সে নিরাপদ হবে যদি সে অপর ব্যক্তিটিকে ঘৃণা না করে থাকে এবং যদি তার তাকে হত্যা করার অভিপ্রায় না থেকে থাকে। 43মোশি যে তিনটি শহর বেছেছিলেন সেগুলো ছিল: রূবেণের পরিবারগোষ্ঠীর জন্য উচ্চসমভূমিতে অবস্থিত বেৎ‌সর, গাদের পরিবারগোষ্ঠীর জন্য গিলিয়দে অবস্থিত রামোৎ, মনঃশির পরিবারগোষ্ঠীর জন্য বাশনে অবস্থিত গোলন।

মোশির বিধিব্যবস্থার ভূমিকা

44মোশি ইস্রায়েলের লোকদের ঈশ্বরের ব্যবস্থাগুলি দিয়েছিলেন। 45লোকরা মিশর থেকে বেরিয়ে আসার পরে মোশি প্রভুর এই শিক্ষামালা, নিয়মাবলী এবং আজ্ঞাগুলি তাদের দিয়েছিলেন। 46যখন তারা বৈৎ‌পিয়োরের অন্য পারে যর্দন নদীর পূর্বদিকের উপত্যকায় ছিলেন, সেই সময় মোশি তাদের এই বিধিগুলো দিয়েছিলেন। হিষ্বোনে বসবাসকারী ইমোরীয়দের রাজা সীহোনের দেশে তারা ছিলেন। মিশর থেকে বেরিয়ে আসার সময় (মোশি এবং ইস্রায়েলের লোকরা সীহোনকে পরাজিত করেছিলেন। 47তারা সীহোন অধিকার করেছিলেন। এছাড়াও তারা বাশনের রাজা ওগের দেশ নিয়েছিলেন। এই দুজন ইমোরীয় রাজা যর্দন নদীর পূর্বদিকে বাস করতেন। 48এই জমি অর্ণোন উপত্যকার সীমানায় অরোয়ার থেকে সীওন (হর্মোণ) পর্বত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। 49যর্দন নদীর পূর্বদিকের সমগ্র যর্দন উপত্যকা এই দেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল। দক্ষিণ দিকে এই দেশ মৃত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। পূর্ব দিকে এই দেশ পিস্গা পর্বতের পাদদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।)

5

দশটি আজ্ঞা

1মোশি ইস্রায়েলের সমস্ত লোককে আহ্বান করে তাদের বলেছিলেন, “ইস্রায়েলের লোকরা তোমরা অবশ্যই এই বিধিগুলি শিখবে এবং সেগুলি অনুসরণ করবে। এই বিধিসমুহ শোনো এবং সেগুলো মেনে চলার ব্যাপারে নিশ্চিত থেকো। 2প্রভু, আমাদের ঈশ্বর হোরেব পর্বতে আমাদের সঙ্গে একটা চুক্তি করেছিলেন। 3প্রভু এই চুক্তি আমাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে করেন নি, কিন্তু করেছিলেন আমাদের সঙ্গে। হ্যাঁ, আজ আমরা যারা জীবিত আছি, এই আমাদের সকলের সঙ্গেই করেছিলেন। 4সেই পর্বতে প্রভু তোমাদের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলেছিলেন। তিনি তোমাদের সঙ্গে আগুনের মধ্য থেকে কথা বলেছিলেন। 5কিন্তু তোমরা আগুন থেকে ভীত ছিলে এবং পর্বতের ওপরে যাওনি বলে প্রভু যা বলেছিলেন সেটি তোমাদের বলার জন্য আমি প্রভু ও তোমাদের মাঝখানে দাঁড়িয়েছিলাম। প্রভু বলেছিলেন,

6‘আমি প্রভু তোমাদের ঈশ্বর। তোমরা যেখানে ক্রীতদাস হয়েছিলে সেই মিশর থেকে আমি তোমাদের পথ দেখিয়ে বার করে নিয়ে এসেছিলাম। সুতরাং তোমরা অবশ্যই এই আজ্ঞাগুলো মানবে:

7‘তোমরা অবশ্যই আমাকে ছাড়া অন্য কোনোও দেবতার পূজা করবে না।

8‘তোমরা অবশ্যই কোনো প্রতিমা তৈরী করবে না। আকাশের ওপরের কোনো কিছুর অথবা পৃথিবীর ওপরের কোনো কিছুর অথবা জলের নীচের কোনো কিছুর মূর্ত্তি অথবা ছবি তোমরা তৈরী করবে না। 9তোমরা অন্য কোনোও প্রকার মূর্ত্তির পূজা অথবা সেবা করবে না। কেন? কারণ আমি প্রভু তোমাদের ঈশ্বর। আমার লোকদের অন্য কোনো দেবতার পূজা করাকে আমি ঘৃণা করি।+ 5:9 আমায় … করি অথবা “আমি এল্ কানাহ্—ঈর্ষাপরায়ণ ঈশ্বর।” আমার বিরুদ্ধে যে সব লোক পাপ কাজ করে তারা আমার শত্রুতে পরিণত হয় এবং আমি ঐ সমস্ত লোকদের শাস্তি দেব। আমি তাদের সন্তানদের, তাদের পৌত্র ও পৌত্রীদের এবং এমনকি তাদের প্রপৌত্র, প্রপৌত্রীদেরও শাস্তি দেব। 10কিন্তু যে সব লোকরা আমাকে ভালবাসে এবং আমার আজ্ঞাগুলো মেনে চলে, হাজার হাজার পুরুষ ধরে আমি তাদের পরিবারের প্রতি আমার বিশ্বস্ত ভালবাসা প্রদর্শন করব!

11‘তোমরা অবশ্যই ভুলভাবে তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের নাম ব্যবহার করবে না। যদি কোনো ব্যক্তি ভুলভাবে প্রভুর নাম ব্যবহার করে, তাহলে সেই ব্যক্তি দোষী এবং প্রভু তাকে নিরপরাধী বলে মনে করবেন না।

12‘প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর যে রকম আজ্ঞা করেছিলেন, সেই অনুসারে তোমরা অবশ্যই বিশ্রামের দিনটিকে একটি বিশেষ দিন হিসেবে পালন করবে। 13কর্মস্থানে তোমরা সপ্তাহে ছয়দিন কাজ করবে। 14কিন্তু প্রভু তোমাদের ঈশ্বরকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য সপ্তম দিনটি হল বিশ্রামের দিন, সুতরাং সেই দিনে কোনো ব্যক্তির কাজ করা উচিৎ‌ নয়। তোমরা, তোমাদের পুত্ররা এবং কন্যারা, তোমাদের শহরে বসবাসকারী বিদেশীরা অথবা তোমাদের পুরুষ অথবা স্ত্রী, ক্রীতদাসরা কেউই কাজ করবে না। এমন কি তোমাদের গরুদের, গাধাদের এবং অন্যান্য পশুদেরও কোনো কাজ করা উচিৎ‌ হবে না। ঠিক তোমাদের মতোই তোমাদের ক্রীতদাসরা বিশ্রাম করবে। 15ভুলো না যে মিশরে তোমরা ক্রীতদাস ছিলে। প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তাঁর মহাশক্তির দ্বারা তোমাদের মিশর থেকে বার করে এনেছিলেন। তিনি তোমাদের মুক্ত করেছিলেন। সেই কারণে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, বিশ্রামের দিনটিকে এক বিশেষ দিন হিসেবে পালন করার জন্য আদেশ করেছেন।

16‘ঈশ্বরের আজ্ঞা মত তোমরা অবশ্যই তোমাদের পিতামাতাকে সম্মান জানাবে। তোমরা এই আদেশ অনুসরণ করলে দীর্ঘজীবি হবে এবং প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের যে দেশ দিয়েছেন সেই দেশে তোমাদের মঙ্গল হবে।

17‘তোমরা নরহত্যা করো না।

18‘তোমরা ব্যভিচার করো না।

19‘তোমরা চুরি করো না।

20‘তোমরা প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না।

21‘তোমরা অবশ্যই অন্য কোনো ব্যক্তির স্ত্রীতে লোভ করবে না। তোমরা অবশ্যই তার বাড়ী, তার শস্যক্ষেত্র, তার পুরুষ দাস অথবা স্ত্রী দাসীকে, তার গরুদের বা গাধাদের অর্থাৎ‌ প্রতিবেশীর অধিকৃত কোনো দ্রব্যসামগ্রীতেই লোভ করবে না।’”

লোকরা ঈশ্বর সম্পর্কে ভীত ছিল

22মোশি বলেছিলেন, “যখন তোমরা সকলে পর্বতে একসঙ্গে এসেছিলে, সেই সময়ে প্রভু তোমাদের সকলকে এই আদেশগুলো দিয়েছিলেন। প্রভু মহারবে আগুনের মধ্য থেকে, মেঘের মধ্য থেকে এবং ঘোর অন্ধকারের মধ্য থেকে কথা বলেছিলেন। আমাদের এই আদেশগুলো দেওয়ার পরে তিনি আর কিছুই বলেন নি। তিনি তাঁর কথাগুলো দুটি পাথরের ফলকের ওপরে লিখেছিলেন এবং সেই গুলো আমাকে দিয়েছিলেন।

23“যখন পর্বতমালা আগুনে প্রজ্বলিত হচ্ছিল, সেই সময় তোমরা অন্ধকারের মধ্য থেকে গলার রব শুনতে পেয়েছিলে। সেই সময় প্রবীণরা এবং তোমাদের পরিবারগোষ্ঠীর অন্যান্য নেতারা আমার কাছে এসেছিল। 24তারা বলেছিল, ‘প্রভু আমাদের ঈশ্বর আমাদের তাঁর মহিমা এবং তাঁর মহত্ব দেখিয়েছেন! আমরা তাঁকে আগুনের মধ্য থেকে কথা বলতে শুনেছিলাম! ঈশ্বর মানুষের সাথে কথা বলার পরেও সে যে বেঁচে থাকতে পারে তা আজ আমরা দেখলাম। 25কিন্তু আমরা যদি আবার প্রভু, আমাদের ঈশ্বরকে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে শুনি, নিশ্চিত আমরা মারা যাবো! সেই ভয়ঙ্কর আগুন আমাদের ধ্বংস করবে। আমরা মরতে চাই না। 26কোনোও ব্যক্তি আগুনের মধ্য থেকে জীবন্ত ঈশ্বরের কন্ঠস্বর শোনে নি, যেমন আমরা শুনেছি এবং শুনে এখনও বেঁচে আছি! 27মোশি তুমি কাছে যাও এবং প্রভু আমাদের ঈশ্বর যা বলেন তার সমস্তটা শোনো। এরপর প্রভু আমাদের ঈশ্বর তোমকে যা কিছু বলেন আমাদের বলো। আমরা তোমার কথা শুনব এবং তোমার কথামতো সমস্ত কাজ করব।’

প্রভু মোশির সঙ্গে কথা বললেন

28“তোমরা যা বলেছিলে প্রভু সেগুলো শুনে আমায় বলেছিলেন, ‘লোকরা যা বলছে, সেগুলো আমি শুনেছি এবং তারা ভালই বলেছে। 29আমার ইচ্ছা তারা যেন হৃদয়ের মধ্য থেকে সর্বদাই আমাকে সম্মান করে এবং আমার সমস্ত আদেশগুলো মেনে চলে। তাহলে তাদের এবং তাদের উত্তরপুরুষদের পক্ষে সমস্ত কিছুই চিরকালের জন্য ভালো হবে।

30“‘যাও, লোকদের বলো তাদের তাঁবুতে ফিরে যেতে। 31কিন্তু তুমি, মোশি এখানে আমার কাছে দাঁড়িয়ে থাকো। আমি তোমাকে যে সমস্ত আজ্ঞা, বিধি এবং নিয়মসমূহ বলবো, সেগুলো তুমি অবশ্যই তাদের শিখিয়ে দেবে। আমি তাদের বাস করার জন্য যে দেশ দিচ্ছি সেই দেশে তারা অবশ্যই এই কাজগুলো করবে।’

32“সুতরাং প্রভু তোমাদের যেমন আজ্ঞা করেছিলেন, সেইগুলো যত্ন সহকারে পালন করবে, তার ডান দিকে কি বাম দিকে ফিরবে না! 33প্রভু তোমাদের ঈশ্বর যে ভাবে আজ্ঞা করেছিলেন, তোমরা অবশ্যই ঠিক সেভাবেই জীবনযাপন করবে। তাহলেই তোমরা দীর্ঘজীবি হবে এবং তোমাদের পক্ষে সব কিছুই ভালো হবে। যে দেশ তোমাদের হবে সেই দেশে তোমরা দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।

6

সর্বদা ঈশ্বরকে ভালোবেসো এবং আদেশ মেনে চলো!

1“প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর আমাকে তোমাদের এই আজ্ঞাসমুহ, বিধি এবং নিয়মসমূহ শেখাতে বলেছিলেন যেন যে দেশে তোমরা বসবাস করতে যাচ্ছ সেখানে এই বিধিগুলো মেনে চলতে পার। 2যেন তোমরা এবং তোমাদের উত্তরপুরুষরা যতদিন বাঁচবে ততদিন তোমাদের প্রভু ঈশ্বরকে সম্মান জানাতে পার। তোমরা নিশ্চয়ই তাঁর সমস্ত বিধি এবং আজ্ঞাসমুহ মেনে চলবে, যেগুলো আমি তোমাদের দিলাম। যদি তোমরা এটা করো, তাহলে সেই নতুন দেশে তোমাদের দীর্ঘ জীবন হবে। 3ইস্রায়েলের লোকরা, শোনো এবং এই বিধিগুলো যত্ন সহকারে মেনে চলো; তাহলে তোমাদের মঙ্গল হবে। তোমরা সংখ্যায় বৃদ্ধি পাবে এবং তোমরা সেই দেশটিকে প্রচুর ভালো জিনিসে পরিপূর্ণ অবস্থায় পাবে+ 6:3 প্রচুর … পাবে আক্ষরিক অর্থে “যে দেশে দুধ এবং মধু বয়ে যাচ্ছে।” ঠিক যেভাবে প্রভু, তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।

4“ইস্রায়েলের লোকরা শোনো! প্রভু, আমাদের ঈশ্বর হলেন একমাত্র প্রভু! 5তোমরা নিশ্চয়ই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে তোমাদের সমস্ত হৃদয়, সমস্ত প্রাণ এবং তোমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে ভালোবাসবে। 6আজ আমি তোমাদের যে আদেশগুলি দিলাম সেগুলো তোমরা সবসময় মনে রাখবে। 7তোমাদের সন্তানদেরও ঐগুলো শেখানোর ব্যাপারে নিশ্চিত থাকবে। যখন তোমরা বাড়ীতে বসে থাকো এবং যখন তোমরা রাস্তায় হাঁটো সেই সময় তোমরা এই সকল বিধিগুলো নিয়ে আলোচনা করবে। যখন তোমরা শুয়ে থাক এবং যখন তোমরা ঘুম থেকে ওঠো সেই সময় ঐগুলো নিয়ে আলোচনা করবে। 8এই আজ্ঞাগুলি মনে রাখার সুবিধার জন্য সেগুলিকে তোমাদের হাতে এবং কপালে বেঁধে রাখো। 9তোমাদের বাড়িগুলি দরজার খুঁটির ওপরে এবং তোমাদের ফটকগুলির ওপরে সেগুলোকে লিখে রাখো।

10“প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম, ইস‌্হাক, এবং যাকোবের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। তোমাদের এই দেশ দেওয়ার জন্য প্রভু প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। প্রভু সেই দেশ তোমাদের দেবেন এবং তোমরা যেগুলো তৈরী করো নি সেই বৃহৎ‌‌ এবং সম্পদশালী শহরগুলোও তিনি তোমাদের দেবেন। 11প্রভু তোমাদের এমন উত্তম দ্রব্যে পরিপূর্ণ বাড়ী দেবেন, যে দ্রব্য তোমরা সেখানে রাখো নি। প্রভু তোমাদের এমন অনেক কূপ দেবেন যা তোমরা খনন করো নি। খেয়ে দেয়ে তৃপ্ত হলে পর প্রভু তোমাদের প্রচুর দ্রাক্ষার ক্ষেত এবং জলপাইয়ের গাছ দেবেন যেগুলো তোমরা রোপণ করনি।

12“কিন্তু খুব সাবধান! প্রভুকে ভুলো না। মনে রেখো তোমরা মিশরে ক্রীতদাস ছিলে, কিন্তু প্রভু তোমাদের মিশর থেকে বাইরে নিয়ে এসেছিলেন। 13প্রভু তোমাদের ঈশ্বরকে সম্মান করো এবং কেবলমাত্র তাঁরই সেবা করো। শপথ করার সময় তোমরা কেবলমাত্র তাঁরই নাম ব্যবহার করবে, অন্য দেবতার নাম ব্যবহার করবে না। 14অন্য দেবতার অনুসরণ করবে না। তোমাদের চর্তুদিকে বসবাসকারী জাতিগণের দেবতাদের তোমরা অনুসরণ করবে না। 15প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, যিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন তিনি নিজের গৌরব রক্ষা করতে উদ্যোগ নেন, সুতরাং যদি তোমরা ঐ সকল অন্যান্য দেবতাদের পূজা করো, তাহলে প্রভু তোমাদের উপরে প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হবেন। তিনি তোমাদের এই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত করে দেবেন।

16“মঃসাতে তোমরা যেভাবে প্রভু তোমাদের ঈশ্বরকে পরীক্ষা করেছিলে, সেভাবে তোমরা তাঁকে পরীক্ষা করবে না। 17প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের আজ্ঞাগুলো মেনে চলার ব্যাপারে তোমরা নিশ্চিত থাকবে। তিনি তোমাদের যে শিক্ষা এবং বিধিসমূহ দিয়েছেন সেগুলো তোমরা অবশ্যই অনুসরণ করবে। 18যেগুলো ঠিক এবং ভালো, সেরকম কাজ তোমরা অবশ্যই করবে, যেগুলো প্রভুকে খুশী করে। তাহলে সব কিছুতেই তোমরা সফল হবে এবং তোমরা সেই সুন্দর দেশে প্রবেশ করে তা অধিগ্রহণ করবে যা প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। 19প্রভু যেভাবে বলেছিলেন সেভাবেই তোমরা তোমাদের সমস্ত শত্রুদের বিতাড়িত করবে।

ঈশ্বর যা করেছিলেন সেগুলো তোমাদের সন্তানদের শেখাও

20“ভবিষ্যতে, তোমাদের সন্তান জিজ্ঞেস করতে পারে, ‘প্রভু আমাদের ঈশ্বর তোমাদের যে শিক্ষা দিয়েছিলেন সেগুলোর অর্থ কি?’ 21তখন তোমরা তোমাদের সন্তানদের বলবে, ‘আমরা মিশরে ফরৌণের ক্রীতদাস ছিলাম, কিন্তু প্রভু তাঁর মহান শক্তির সাহায্যে আমাদের মিশর থেকে বার করে এনেছিলেন। 22আমাদের চোখের সামনে প্রভু চিহ্ন-কার্য্য এবং আশ্চর্যজনক কাজ করেছেন। আমরা তাঁকে মিশরের লোকদের প্রতি, ফরৌণের প্রতি এবং ফরৌণের বাড়ীর লোকদের বিরুদ্ধে এই কাজগুলো করতে দেখেছিলাম। 23এবং তিনি আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সেই অনুসারে সেই দেশ দিতে আমাদের মিশর থেকে নিয়ে এসেছিলেন। 24এই শিক্ষাগুলো মেনে চলার জন্য প্রভু আমাদের আজ্ঞা দিয়েছিলেন। আমরা নিশ্চয়ই আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা করবো। তাহলেই আজ আমরা যেমন আছি ঠিক সেভাবেই প্রভু আমাদের বাঁচিয়ে রাখবেন এবং আমাদের ভালো করবেন। 25প্রভু আমাদের ঈশ্বর, ঠিক যেভাবে আমাদের আদেশ দিয়েছিলেন আমরা যদি সতর্কভাবে সমস্ত বিধি মেনে চলি, তাহলে তা আমাদের ধার্মিকতা হবে।’

7

ইস্রায়েলে ঈশ্বরের বিশেষ লোকরা

1“প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, যখন তোমাদের নেতৃত্ব দিয়ে সেই দেশে নিয়ে যাবেন, যে দেশে তোমরা অধিগ্রহণের জন্য প্রবেশ করছো, তখন প্রভু তোমাদের সামনে অনেক জাতিকে দূর করে দেবেন—যেমন হিত্তীয়, গির্গাসীয়, ইমোরীয়, কনানীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় এবং যিবূষীয় তোমাদের থেকে অনেক বড় এবং অনেক শক্তিশালী সাতটি জাতি। 2প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, এই জাতিগুলোকে তোমাদের কাছে সমর্পণ করলে পরে তোমরা তাদের পরাজিত করবে এবং তাদের সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করবে। তাদের সঙ্গে কোনোরকম নিয়ম কোরো না। তাদের ক্ষমা প্রদর্শন করো না। 3তাদের মধ্যে কাউকে বিয়ে করো না এবং তোমাদের ছেলেমেয়েরাও যেন ঐসব অন্য জাতির কাউকে বিয়ে না করে। 4কারণ, ঐ সমস্ত লোকরা তোমাদের সন্তানদের আমাকে অনুসরণ করা থেকে অনেক দূরে নিয়ে যাবে। তখন তোমাদের সন্তানরা অন্য দেবতাদের পূজা করবে এবং প্রভু তোমাদের প্রতি প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হবেন। তিনি তোমাদের খুব তাড়াতাড়ি ধ্বংস করে দেবেন।

মূর্ত্তিদের ধ্বংস করো

5“ঐ জাতিগুলির প্রতি তোমরা অবশ্যই এগুলো করবে। তোমরা অবশ্যই তাদের পূজার বেদীগুলোকে ভেঙে দেবে এবং তাদের স্মরণ-স্তম্ভগুলোকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেবে। তোমরা তাদের আশেরার খুঁটিগুলি কেটে ফেলবে এবং তাদের মূর্ত্তিগুলোকেও আগুনে পুড়িয়ে দেবে! 6কারণ তোমরা প্রভুর নিজের লোক। পৃথিবীর ওপরের সমস্ত জাতির মধ্য থেকে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের তাঁর বিশেষ লোক হবার জন্য বেছে নিয়েছিলেন, সে লোকরা কেবলমাত্র তাঁরই হবে। 7তোমরা অন্য জাতির থেকে সংখ্যায় অধিক ছিলে বলে প্রভু তোমাদের ভালোবেসে বেছে নেন নি, কিন্তু তোমরা সমস্ত জাতির মধ্যে সংখ্যায় খুবই কম ছিলে। 8মহৎ‌‌ শক্তির সাহায্যে প্রভু তোমাদের মিশর থেকে বার করে নিয়ে এসেছিলেন। ক্রীতদাস অবস্থা থেকে এবং মিশরের রাজা ফরৌণের অধীনতা থেকে তিনি তোমাদের মুক্ত করেছিলেন কারণ প্রভু তোমাদের ভালোবাসেন এবং তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সেই প্রতিজ্ঞা রাখতে চান।

9“সুতরাং মনে রেখো, প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর হলেন একমাত্র ঈশ্বর এবং তোমরা তাঁর ওপরে আস্থা রাখতে পারো। তিনি তাঁর নিয়ম রক্ষা করেন। যারা তাঁকে ভালোবাসে এবং তাঁর আজ্ঞা মেনে চলে সেই সমস্ত লোকদের প্রতি তিনি তাঁর ভালোবাসা এবং দয়া প্রদর্শন করেন। পরবর্তী এক হাজার বংশের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর ভালোবাসা এবং দয়া প্রদর্শন করেন। 10কিন্তু তাঁকে যারা ঘৃণা করে, প্রভু সেই সমস্ত লোকদের শাস্তি দেন। তিনি তাদের ধ্বংস করে দেবেন। তাঁকে যারা ঘৃণা করে, সেই সমস্ত লোকদের শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে তিনি দেরী করবেন না। 11সুতরাং আমি আজ তোমাদের যেগুলো দিলাম, সেই সমস্ত আদেশ, বিধি এবং নিয়ম মেনে চলার ব্যাপারে তোমরা খুবই সতর্ক থাকবে।

12“তোমরা যদি এই সমস্ত বিধিগুলো মেনে চলো এবং সেগুলো পালন করার ব্যাপারে তোমরা যদি যত্ন নাও, তাহলে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে প্রেমের নিয়মে চলবেন, যা তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। 13তিনি তোমাদের ভালোবাসবেন, আশীর্বাদ করবেন এবং তোমাদের সংখ্যায় বৃদ্ধি করবেন। তিনি তোমাদের সন্তানদের আশীর্বাদ করবেন এবং তোমাদের জমিগুলোকে উৎকৃষ্ট ফসলের দ্বারা সমৃদ্ধ করবেন। তিনি তোমাদের শস্য, নতুন দ্রাক্ষারস এবং তেল দেবেন। তিনি তাঁর আশীর্বাদের সাহায্যে তোমাদের গরুগুলোকে বাছুরে সমৃদ্ধ এবং তোমাদের মেষগুলোকে মেষশাবকে সমৃদ্ধ করবেন। তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে যে দেশ দেওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সেই দেশে তোমরা এই সমস্ত আশীর্বাদ ভোগ করবে।

14“সমস্ত জাতির থেকে তোমরা বেশী আশীর্বাদ পাবে। প্রত্যেক স্বামী-স্ত্রীর সন্তান হবে। তোমাদের গরুগুলোরও বাছুর হবে 15এবং প্রভু তোমাদের থেকে সমস্ত অসুখ দূর করে দেবেন। প্রভু তোমাদের আর সেই সাংঘাতিক অসুখগুলো দ্বারা আক্রান্ত হতে দেবেন না, যেগুলো তোমাদের মিশরে হত। কিন্তু প্রভু তোমাদের শত্রুদের মধ্যে সেই অসুখের সংক্রমণ করাবেন। 16প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, যাদের পরাজিত করার জন্য তোমাদের সাহায্য করেন, তোমরা সেই সমস্ত লোকদের অবশ্যই ধ্বংস করবে। তাদের জন্য দুঃখিত হয়ো না এবং তাদের দেবতার পূজা করো না, কারণ তা তোমাদের পক্ষে ফাঁদে পড়ার মতো হবে।

প্রভু তাঁর লোকদের সাহায্য করার জন্য প্রতিশ্রুতি করলেন

17“তোমরা মনে মনে বোলো না, ‘এই সমস্ত দেশের লোকরা আমাদের থেকে শক্তিশালী। আমরা তাদের কি প্রকারে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করবো?’ 18তোমরা তাদের ভয় করো না। প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, ফরৌণ এবং মিশরের সমস্ত লোকদের প্রতি কি করেছিলেন সেগুলো তোমরা অবশ্যই মনে রাখবে। 19তাদের তিনি যে সাংঘাতিক সমস্যায় ফেলেছিলেন এবং যে সব আশ্চর্য কাজ করেছিলেন, সেগুলো তোমরা দেখেছিলে। তোমরা দেখেছিলে যে তোমাদের মিশর থেকে বার করে আনার জন্য প্রভু কিভাবে তাঁর মহান ক্ষমতা এবং শক্তি ব্যবহার করেছিলেন। তোমরা যাদের ভয় পাও সেই সমস্ত জাতির বিরুদ্ধেও প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, সেই একই কাজ করবেন।

20“যে সমস্ত লোকরা তোমাদের কাছ থেকে পালাবে এবং নিজেদের লুকিয়ে রাখবে, প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তাদের খুঁজে বার করার জন্য ভীমরুল পাঠাবেন যেন অবশিষ্টরাও ধ্বংস হয়। 21ঐ সমস্ত লোকদের সম্পর্কে ভীত হয়ো না। কারণ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের সঙ্গে আছেন। তিনিই একমাত্র মহান এবং ভয়ঙ্কর ঈশ্বর। 22প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, ঐ সমস্ত দেশের লোকদের ধীরে ধীরে তোমাদের দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করবেন। তোমরা তাদের সকলকে এক সময়ে ধ্বংস করতে পারবে না। যদি তোমরা তাই কর, তাহলে বন্য জন্তুর সংখ্যা এত বেশী পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে যা তোমাদের পক্ষে ক্ষতিকর হবে। 23কিন্তু প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, ঐ সমস্ত জাতিগুলিকে তোমাদের হাতে সমর্পণ করবেন এবং তারা যতক্ষণ পর্যন্ত না ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ চলাকালীন তাদের বিভ্রান্ত করবেন। 24তাদের রাজাদের পরাজিত করতে প্রভু তোমাদের সাহায্য করবেন। তোমরা তাদের হত্যা করবে এবং তারা যে কখনও জীবিত ছিল সে কথা পৃথিবীর লোক ভুলে যাবে। তাদের বিনষ্ট করা পর্যন্ত কেউ তোমাদের থামাতে সক্ষম হবে না।

25“তোমরা অবশ্যই তাদের প্রতিমাগুলি আগুনে পুড়িয়ে ফেলবে। ঐ প্রতিমার গায়ের রূপো অথবা সোনায় তোমরা লোভ করবে না এবং সেগুলি নিজেদের জন্য নেবে না। অন্যথায় এ তোমাদের কাছে ফাঁদের মতো হবে—তা তোমাদের জীবন ধ্বংস করে দেবে। কারণ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, প্রতিমা ঘৃণা করেন। 26তোমরা তোমাদের বাড়ীতে অবশ্যই ঐরকম কোন সাংঘাতিক মূর্ত্তি নিয়ে আসবে না। অন্যথায় তোমরাও ধ্বংসের জন্য ঐরকম অভিশপ্ত হবে। ঐ সমস্ত সাংঘাতিক জিনিসগুলোকে তোমরা অবশ্যই ঘৃণা করবে এবং ঐ সমস্ত মূর্ত্তিগুলোকে অবশ্যই ধ্বংস করবে।

8

প্রভুকে মনে রেখো

1“তোমরা অবশ্যই সমস্ত আজ্ঞাগুলো মেনে চলবে যেগুলো আজ আমি তোমাদের দিলাম। কারণ তাহলে তোমরা বেঁচে থাকবে, বৃদ্ধি পাবে এবং প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে যে দেশ দেবেন বলে শপথ করেছিলেন সেই দেশে প্রবেশ করবে। 2প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, 40 বছর ধরে মরুভূমিতে যে ভ্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেটার কথা তোমরা অবশ্যই মনে রাখবে। প্রভু তোমাদের পরীক্ষা করছিলেন। তিনি তোমাদের বিনয়ী করতে চেয়েছিলেন। তিনি তোমাদের মনের ভেতরের জিনিস জানতে চেয়েছিলেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন যে তোমরা তাঁর আদেশ মানবে কিনা। 3প্রভু তোমাদের নম্র করেছিলেন এবং তোমাদের ক্ষুধার্ত করেছিলেন। তিনি তোমাদের মান্না খাইয়েছিলেন—যা তোমরা আগে কখনও জানতে না, যা তোমাদের পূর্বপুরুষরা আগে কখনও দেখে নি। এই কাজগুলো প্রভু করেছিলেন যাতে তোমরা জানো যে কেবলমাত্র রুটিই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে না। মানুষের জীবন প্রভুর কথিত সমস্ত বাক্যের ওপর নির্ভর করে। 4এই গত 40 বছরে তোমাদের জামাকাপড় পুরানো হয় নি এবং তোমাদের পাও ফোলে নি, কারণ প্রভু তোমাদের রক্ষা করেছিলেন। 5তোমরা অবশ্যই মনে রাখবে যে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের শিক্ষা দিচ্ছিলেন ও সংশোধন করছিলেন যেমন একজন পিতা তার পুত্রকে শিক্ষা দেয় এবং সংশোধন করে।

6“তোমরা অবশ্যই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের আজ্ঞাগুলো মেনে চলে তাঁকে অনুসরণ এবং শ্রদ্ধা করবে। 7প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের এক উত্তম দেশে নিয়ে যেতে চলেছেন—যে দেশে অনেক নদী এবং জলপ্রবাহ আছে। সেখানে উপত্যকা এবং পাহাড়গুলোতে ভূমির ভেতর থেকে জল বেরিয়ে এসে প্রবাহিত হয়। 8সেই দেশে গম এবং বার্লি, দ্রাক্ষালতা, ডুমুর গাছ এবং ডালিম আছে। সেই দেশে জলপাই তেল এবং মধু আছে। 9সেখানে তোমাদের খাদ্যের অভাব হবে না এবং তোমাদের প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছুই তোমরা পাবে। সেই দেশের পাথরগুলো লোহা। সেখানকার পাহাড় খুঁড়লে তোমরা তামা পাবে। 10তোমরা যা খেতে চাও তা পেয়ে তৃপ্ত হবে এবং সেই সুন্দর দেশটি তোমাদের দেবার জন্য তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের প্রশংসা করবে।

প্রভু যা করেছিলেন সেগুলো ভুলো না

11“সতর্ক হও। তোমাদের প্রভু ঈশ্বরকে ভুলো না। আমি আজ তোমাদের যে আজ্ঞা, বিধি এবং নিয়মসমুহ দিলাম সেগুলো মেনে চলার ব্যাপারে সতর্ক হও। 12তাহলে তোমাদের খাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার থাকবে এবং তোমরা সুন্দর বাড়ী বানাবে এবং তাতে বাস করবে। 13তোমাদের গরু, মেষ এবং ছাগলগুলো সংখ্যায় বাড়বে। তোমরা প্রচুর সোনা এবং রূপো পাবে। সমস্ত কিছুই তোমরা প্রচুর পরিমাণে পাবে। 14যখন সেগুলো হয়, সেসময় যাতে তোমরা অহঙ্কারী না হও সে ব্যাপারে তোমরা অবশ্যই সতর্ক থাকবে। তোমরা অবশ্যই প্রভু তোমাদের ঈশ্বরকে ভুলবে না। তোমরা মিশরে ক্রীতদাস ছিলে; কিন্তু প্রভু তোমাদের মুক্ত করে সেই দেশ থেকে নিয়ে এসেছিলেন। 15সেই বিশাল এবং সাংঘাতিক মরুভূমির মধ্য দিয়ে প্রভু তোমাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেই মরুভূমিতে বহু বিষাক্ত সাপ এবং কাঁকড়াবিছে ছিল। জমি ছিল শুকনো এবং সেখানে কোথাও জল ছিল না। কিন্তু ঈশ্বর পাথরের ভেতর থেকে তোমাদের জল দিয়েছিলেন। 16মরুভূমিতে প্রভু তোমাদের মান্না খাইয়েছিলেন—যেটা তোমাদের পূর্বপুরুষরা কোনোদিন দেখে নি। প্রভু তোমাদের পরীক্ষা করেছিলেন, বিনয়ী করেছিলেন যাতে শেষে সমস্ত কিছু তোমাদের ভালো হয়। 17তোমরা মনে মনেও বোলো না, ‘আমি আমার নিজের শক্তি এবং সামর্থ্যের দ্বারা এই সমস্ত সম্পদ পেয়েছিলাম।’ 18প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে, স্মরণ করো কারণ তিনিই তোমাদের ঐ সম্পদ লাভ করার জন্য শক্তি দিয়েছিলেন, যেন তোমাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে তিনি যে চুক্তি করেছিলেন সেটিকে রক্ষা করতে পারেন, ঠিক যেমন তিনি আজও করছেন।

19“প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে কখনও ভুলো না। কখনও অন্য দেবতাদের অনুসরণ কোরো না! তাদের পূজা এবং সেবা কোরো না। যদি তোমরা সেটা করো, তাহলে আমি আজ তোমাদের সাবধান করলাম: তোমরা নিশ্চিত ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। 20প্রভু তোমাদের জন্য অন্যান্য জাতিগুলোকে ধ্বংস করছেন; কিন্তু তাঁর কথা না শুনলে তোমরাও ঠিক তাদের মতোই ধ্বংস হবে!

9

প্রভু ইস্রায়েলের সঙ্গে থাকবেন

1“ইস্রায়েলের লোকরা শোনো! তোমরা আজ যর্দন নদী অতিক্রম করে যাবে। তোমাদের থেকে বৃহত্তর এবং শক্তিশালী জাতিগোষ্ঠীর লোকদের জোর করে বার করে দেওয়ার জন্য তোমরা সেই দেশে যাবে। তাদের শহরগুলো বড় এবং আকাশের মতো উঁচু দেওয়ালে ঘেরা। 2সেখানকার লোকরা লম্বা এবং শক্তিশালী, তারা হল অনাকীয়। তোমরা ঐ লোকদের সম্পর্কে জানো। তোমরা আমাদের গুপ্তচরদের বলতেও শুনেছিলে, ‘অনাকীয়দের বিরুদ্ধে কেউ জিততে পারে না।’ 3কিন্তু তোমরা নিশ্চিত থাকতে পারো যে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের আগে নদী অতিক্রম করে যাবেন এবং প্রভু হলেন আগুনের মতো যা ধ্বংস করে ঈশ্বর ঐ সমস্ত জাতির লোকদের ধ্বংস করবেন। তিনি তাদের জয় করবেন। তোমরা ঐ সমস্ত জাতির লোকদের বেরিয়ে যেতে বাধ্য করবে। প্রভু তোমাদের কাছে শপথ করেছেন সেই অনুসারেই তোমরা তাদের তাড়াতাড়ি ধ্বংস করবে।

4“প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের জন্যই ঐ সমস্ত জাতির লোকদের বেরিয়ে যেতে বাধ্য করবেন। তখন তোমরা মনে মনেও কখনও বোলো না, ‘প্রভু আমাদের এই দেশে বাস করার জন্য নিয়ে এসেছেন কারণ আমরা ন্যায়পরায়ণ লোক!’ সেটা কিন্তু কারণ নয়। প্রভু ঐ সমস্ত জাতির লোকদের বার করে দিয়েছিলেন, তাদের দুর্নীতির জন্য, তোমাদের ধার্মিকতার জন্য নয়। 5তোমরা তাদের দেশ অধিগ্রহণ করার জন্য সেখানে যাচ্ছ, তার কারণ তোমরা ভালো এবং সঠিকভাবে জীবনযাপন কর বলে নয়; কিন্তু তাদের দুষ্টতার কারণেই প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, ঐ সমস্ত লোকদের বার করে দিয়েছিলেন, যাতে তোমরা ঐ দেশে প্রবেশ করতে পার। এছাড়া প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম, ইস‌্হাক এবং যাকোবের কাছে যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সেই প্রতিজ্ঞা রক্ষা করতে চান। 6প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের বাস করার জন্য সেই উত্তম দেশ তোমাদের দিচ্ছেন, তোমরা ভাল বলে নয়, তোমরা খুবই একগুঁয়ে লোক বলে!

প্রভুর ক্রোধের কথা মনে রেখো

7“ভুলো না যে মরুভূমিতে তোমরা, প্রভু তোমাদের ঈশ্বরকে, ক্রোধান্বিত করেছিলে! তোমরা যেদিন মিশর ত্যাগ করেছিলে সেই দিন থেকে এই স্থানে আসা পর্যন্ত তোমরা প্রভুকে মেনে চলতে অস্বীকার করেছ। 8হোরেব পর্বতে তোমরা প্রভুকে ক্রুদ্ধ করেছিলে। তোমাদের ধ্বংস করার জন্য প্রভু যথেষ্ট ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন! 9পাথরের ফলকগুলি পাওয়ার জন্য আমি পর্বতের ওপরে গিয়েছিলাম। প্রভু তোমাদের সঙ্গে যে চুক্তি করেছিলেন সেগুলো ঐ পাথরের ওপরে লেখা ছিল। 40 দিন এবং 40 রাত্রি আমি ঐ পর্বতের ওপরে ছিলাম। আমি কোনো খাবার খাই নি অথবা জলও পান করি নি। 10প্রভু আমাকে দুটি পাথরের ফলক দিয়েছিলেন। ঈশ্বর তাঁর নিজের আঙুলের সাহায্যে ঐ পাথরগুলোর ওপরে তাঁর আদেশগুলি লিখেছিলেন। তোমরা সকলে যখন পর্বতে একত্রিত হয়েছিলে সেই সময় তিনি আগুনের মধ্য থেকে তোমাদের যা বলেছিলেন সেই সমস্তই তিনি তাতে লিখেছিলেন।

11“40 দিন এবং 40 রাত্রির শেষে, প্রভু আমাকে পাথরের ফলক দুটি দিয়েছিলেন। 12তখন প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘ওঠো, তাড়াতাড়ি এখান থেকে নীচে যাও। তুমি যে লোকদের মিশর থেকে নিয়ে এসেছিলে, তারা নিজেদের ধ্বংস করেছে। তারা খুব তাড়াতাড়ি আমার আদেশ পালন করা বন্ধ করে দিয়ে সোনা গলিয়ে নিজেদের জন্য এক মূর্ত্তি তৈরী করেছে।’

13“প্রভু আমাকে আরও বলেছিলেন, ‘আমি এই সমস্ত লোকদের লক্ষ্য করেছি। তারা খুবই একগুঁয়ে! 14ঐ সমস্ত লোকদের আমি ধ্বংস করব, যাতে কেউই তাদের নাম পর্যন্ত না মনে রাখে। এরপর আমি তোমার থেকে আরেকটি জাতি তৈরী করব, যারা এই সমস্ত লোকদের থেকে শক্তিশালী এবং বৃহৎ‌‌ হবে।’

সোনার বাছুর

15“এরপর আমি রওনা হয়ে পর্বতের ওপর থেকে নেমে এসেছিলাম। পর্বতটি আগুনে পুড়েছিলো; এবং চুক্তির সেই ফলক দুটি আমার হাতে ছিল। 16আমি লক্ষ্য করে দেখেছিলাম যে তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করেছ। আমি সেই বাছুর দেখেছিলাম যেটা গলানো সোনা দিয়ে তৈরী করেছিলে। তোমরা খুব তাড়াতাড়ি প্রভুর আজ্ঞা মেনে চলতে অস্বীকার করেছিলে। 17সেই কারণে আমি পাথরের ফলক দুটিকে নিয়ে সেগুলোকে নীচে ছুঁড়ে ফেলেছিলাম। সেখানে তোমাদের চোখের সামনে আমি ফলক দুটিকে টুকরো টুকরো করে ভেঙ্গে ফেলেছিলাম। 18এর পর আমি আগে যেমন করেছিলাম ঠিক সেভাবে 40 দিন এবং 40 রাত্রি মাটির দিকে মুখ করে প্রভুর সামনে নত হয়েছিলাম। আমি কোনো প্রকার খাদ্য গ্রহণ করি নি অথবা কোনো জলও পান করি নি, কারণ তোমরা পাপ করেছিলে, তোমরা এমন কাজ করেছিলে যা প্রভুর কাছে মন্দ, এ কাজ করে তোমরা তাঁকে ক্রুদ্ধ করেছিলে। 19আমি প্রভুর ভয়ানক ক্রোধ সম্পর্কে ভীত ছিলাম। তিনি তোমাদের ধ্বংস করার পক্ষে যথেষ্ট ক্রোধান্বিত হয়েছিলেন; কিন্তু প্রভু এবারও আমার কথা শুনেছিলেন। 20হারোণের ওপরে ঈশ্বর প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন যা তাকে ধ্বংস করার পক্ষে যথেষ্ট ছিল। সেই কারণে আমি সেই সময় হারোণের জন্যও প্রার্থনা করেছিলাম। 21আমি সেই সাংঘাতিক জিনিসটিকে অর্থাৎ‌ তোমাদের তৈরী বাছুরটিকে নিয়ে আগুনে পুড়িয়েছিলাম। আমি এটিকে টুকরো টুকরো করে ভেঙ্গেছিলাম এবং ধূলোয় পরিণত না হওয়া পর্যন্ত সেই টুকরোগুলোকে পিষেছিলাম। এরপর পর্বত থেকে যে নদী নেমে এসেছে তার মধ্যে সেই ধূলো ছুঁড়ে ফেলেছিলাম।

ইস্রায়েলকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য মোশি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলেন

22“এছাড়াও তবিয়েরাতে, মঃসাতে এবং কিব্রোত্‌-হত্তাবাতে তোমরা প্রভুকে ক্রুদ্ধ করেছিলে। 23প্রভু যখন তোমাদের কাদেশ-বর্ণেয় ত্যাগ করতে বলেছিলেন সে সময় তোমরা তাঁর কথা মানো নি। তিনি বলেছিলেন, ‘ওপরে যাও, আমি তোমাদের যে দেশ দিচ্ছি সেই দেশ অধিগ্রহণ কর।’ কিন্তু তোমরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে, মেনে চলতে অস্বীকার করেছিলে। তোমরা তাঁর ওপরে আস্থা রাখো নি। তোমরা তাঁর আদেশ শোন নি। 24যখন থেকে আমি তোমাদের জানি তোমরা সব সময় প্রভুকে মেনে চলতে অস্বীকার করেছ।

25“সেই কারণে 40 দিন এবং 40 রাত্রি আমি প্রভুর সামনে নতজানু হয়েছিলাম কারণ ঈশ্বর বলেছিলেন তিনি তোমাদের ধ্বংস করবেন। 26আমি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করে বলেছিলাম: ‘প্রভু আমার গুরু, তোমার লোকদের ধ্বংস কোরো না। তারা তোমারই। তুমি তাদের মুক্ত করেছিলে এবং তোমার মহৎ‌‌ ক্ষমতা এবং শক্তির সাহায্যে তাদের মিশর থেকে বার করে নিয়ে এসেছিলে। 27তোমার সেবক অব্রাহাম, ইস‌্হাক এবং যাকোবের কাছে তোমার প্রতিজ্ঞার কথা মনে কর। এই লোকদের একগুঁয়েমি, তাদের মন্দ পথ এবং পাপের দিকে দেখো না। 28যদি তুমি তোমার লোকদের শাস্তি দাও, মিশরীয়রা বলতে পারে, “প্রভু তাদের কাছে যে দেশ দান করবার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সেই দেশে তাদের নিয়ে যেতে তিনি পারেন নি এবং তিনি তাদের ঘৃণা করতেন, সেই কারণে তিনি তাদের হত্যা করার জন্য তাদের মরুভূমিতে নিয়ে গিয়েছিলেন।” 29কিন্তু তারা তোমারই লোক। প্রভু, তারা তোমারই। তোমার মহান ক্ষমতা এবং শক্তির সাহায্যে তুমি তাদের মিশর থেকে বার করে নিয়ে এসেছিলে।’

10

নতুন পাথরের ফলকগুলো

1“সেই সময় প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘প্রথম বারের দুটি পাথরের ফলকের মতো তুমি আবার পাথর কেটে বার করবে। এরপর তুমি পর্বতের ওপরে আমার কাছে আসবে। এছাড়াও একটি কাঠের বাক্স তৈরী কর। 2আমি পাথরের ফলকগুলির ওপরে সেই একই কথা লিখব যেগুলো প্রথমটির ওপরে লেখা ছিল—যেগুলো তুমি ভেঙ্গেছিলে। এরপর তুমি অবশ্যই এই ফলকগুলিকে বাক্সের মধ্যে রাখবে।’

3“সেই কারণে আমি শিটীম কাঠ দিয়ে সিন্দুক তৈরী করেছিলাম। প্রথম দুটোর মতো আমি দুটো পাথরের ফলক কেটেছিলাম। এরপর ঐ দুটি ফলক হাতে নিয়ে আমি পর্বতের ওপরে উঠে গিয়েছিলাম। 4প্রভু পাথরগুলোর ওপরে ঐ একই কথা লিখেছিলেন যেগুলো তিনি আগে লিখেছিলেন—সেই দশ আজ্ঞা, যা তোমাদের সকলের সামনে পর্বতের ওপরে আগুনের মধ্য থেকে তিনি আদেশ করেছিলেন। এরপর প্রভু সেই ফলক দুটি আমাকে দিয়েছিলেন। 5আমি পর্বতের ওপর থেকে নীচে ফিরে এসে আমার তৈরী সিন্দুকের মধ্যে সেই পাথরগুলোকে রেখেছিলাম। প্রভু আমাকে আজ্ঞা করেছিলেন ওগুলোকে সেখানে রাখতে, ফলকগুলো এখনও সেই সিন্দুকেই আছে।”

6(ইস্রায়েলের লোকরা বেরোৎ‌‌-বেনেয়া-কন এর লোকদের কূপগুলি থেকে যাত্রা করে মোষেরো পর্যন্ত এসেছিল। সেখানে হারোণ মারা গিয়েছিলেন এবং তাঁকে কবর দেওয়া হয়েছিল। হারোণের জায়গায় হারোণের পুত্র ইলিয়াসর যাজক হয়েছিলেন। 7এরপর ইস্রায়েলের লোকরা মোষেরো থেকে গুধগোদায়ে গিয়েছিল এবং গুধগোদায় থেকে নদীবহুল দেশ ষট্বাথায় গিয়েছিল। 8সেই সময় প্রভু তাঁর বিশেষ কাজের জন্য অন্যান্য পরিবারগোষ্ঠী থেকে লেবি পরিবারগোষ্ঠীকে আলাদা করেছিলেন। প্রভুর সাক্ষ্যসিন্দুক বহন করাই ছিল তাদের কাজ। তারা প্রভুর সামনে যাজক হিসেবে সেবা করত এবং প্রভুর নাম করে লোকদের আশীর্বাদ করা ছিল তাদের কাজ। তারা আজও এই বিশেষ কাজটি করে। 9এই কারণে লেবীয় গোষ্ঠীভুক্ত লোকরা দেশের কোনো অংশ পায় নি, যেরকম অন্যান্য পরিবারগোষ্ঠীরা পেয়েছিল। লেবীয় গোষ্ঠীভুক্ত লোকরা তাদের অংশ বা অধিকার হিসাবে প্রভুকে পেয়েছে। প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তাদের কাছে এই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।)

10“প্রথম বারের মতোই আমি পর্বতের ওপরে 40 দিন এবং 40 রাত্রি অতিবাহিত করেছিলাম। সেই সময় প্রভু আবার আমার কথা শুনেছিলেন। প্রভু তোমাদের ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। 11প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘যাও এবং লোকদের তাদের যাত্রাপথে নেতৃত্ব দাও। যে দেশ আমি তাদের দেব বলে তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, তারা সেই দেশের অভ্যন্তরে যাবে এবং সেখানে বাস করবে।’

প্রভু প্রকৃতই কি চান

12“এখন হে ইস্রায়েলের লোকরা, শোনো! প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, প্রকৃতই তোমাদের কাছে থেকে কি আশা করেন? ঈশ্বর চান যে তোমরা তাঁকে শ্রদ্ধা করবে এবং তিনি যা বলেন সেটা করবে। ঈশ্বর চান যে তোমরা তাঁকে ভালোবাসবে এবং তোমাদের সমস্ত হৃদয় এবং সমস্ত আত্মা দিয়ে তাঁর সেবা করবে। 13সেই কারণে আমি আজ তোমাদের যেগুলো দিচ্ছি সেই বিধিসমূহ এবং আজ্ঞাসমূহ তোমরা মেনে চলো। তোমাদের ভালোর জন্যই এই নিয়মাবলী এবং আজ্ঞাসমুহ।

14“দেখ, সমস্ত কিছুই প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের। স্বর্গ এবং উচ্চতম স্বর্গ, পৃথিবী এবং তার ওপরের সমস্ত কিছুই প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের। 15প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের খুবই ভালোবাসতেন। তিনি তাদের এতই ভালোবাসতেন যে তিনি তোমাদের অর্থাৎ‌ তাদের উত্তরপুরুষদের বেছেছিলেন। অন্যান্য জাতির মধ্যে থেকে তিনি তোমাদের মনোনীত করেছেন আর তোমরা আজও তাঁর বিশেষ জন।

16“জেদী হয়ো না। তোমাদের হৃদয় সম্পূর্ণরূপে প্রভুকে দান কর। 17কারণ প্রভুই হলেন তোমাদের ঈশ্বর। তিনি হলেন সকল ঈশ্বরের ঈশ্বর এবং সকল প্রভুর প্রভু। তিনি হলেন মহান, বীর্য্যবান এবং ভয়ঙ্কর ঈশ্বর। প্রভুর কাছে প্রত্যেক ব্যক্তিই সমান। প্রভু তাঁর মন পরিবর্তনের জন্য উৎকোচ নেন না। 18অনাথ এবং বিধবারা যাতে ন্যায় বিচার পায় সে দিকে তিনি দৃষ্টি রাখেন আর তিনি বিদেশীদেরও ভালোবাসেন। তিনি তাদের খাদ্য এবং কাপড় দেন। 19সুতরাং তোমরা অবশ্যই ঐ সমস্ত বিদেশীদের ভালোবাসবে, কারণ মিশরে তোমরা নিজেরাই বিদেশী ছিলে।

20“তোমরা অবশ্যই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে, শ্রদ্ধা করবে এবং কেবলমাত্র তাঁরই উপাসনা করবে। তাঁকে কখনও ত্যাগ কোরো না। তোমরা যখন প্রতিজ্ঞা করবে, তখন অবশ্যই কেবলমাত্র তাঁরই নাম ব্যবহার করবে। 21তোমরা কেবল তাঁরই প্রশংসা করবে। তিনি হলেন তোমাদের ঈশ্বর। তিনি তোমাদের জন্য মহৎ‌‌ এবং আশ্চর্যজনক কাজ করেছেন। তোমরা নিজেদের চোখে সেগুলো দেখেছ। 22তোমাদের পূর্বপুরুষরা যখন মিশরে নেমে গিয়েছিল, তখন সেখানে কেবলমাত্র 70 জন লোক ছিল। এখন প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের লোকসংখ্যা আকাশের অসংখ্য তারার মতো প্রচুর করেছেন।

11

প্রভুকে মনে রেখো

1“সুতরাং তোমরা অবশ্যই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে, ভালবাসবে। তিনি তোমাদের যেগুলো করতে বলেন সেগুলো তোমরা অবশ্যই করবে। তোমরা নিশ্চয়ই তাঁর বিধি, নিয়ম এবং আজ্ঞাসকল সবসময়ে মেনে চলবে। 2তোমাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, যে সমস্ত মহৎ‌‌ কাজগুলো করেছেন আজ সেগুলো মনে করে দেখ। তোমাদের সন্তানরা নয়, তোমরাই ঐ সমস্ত জিনিসগুলো ঘটতে দেখেছিলে এবং তাঁর শাস্তি দেখেছিলে। তোমরা দেখেছিলে প্রভু কত মহৎ‌‌, কত শক্তিমান। 3মিশরে তিনি মিশরের রাজা ফরৌণ এবং তার সমস্ত দেশের প্রতি যে সব অলৌকিক কাজ করেছিলেন, সেগুলো তোমরা দেখেছিলে। 4মিশরের সৈন্যদের প্রতি—তাদের ঘোড়াগুলোর এবং রথগুলোর তিনি কি করেছিলেন সেগুলো তোমরা দেখেছিলে। তারা তোমাদের তাড়া করেছিল, কিন্তু প্রভু সূফ সাগরের জল তাদের ওপর দিয়ে বইয়ে দিলেন। তোমরা প্রভুকে তাদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে দেখেছিলে। 5এই স্থানে না আসা পর্যন্ত মরুভূমিতে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের জন্য কি করেছিলেন সেই সমস্ত জিনিস তোমরা দেখেছিলে। 6রূবেণের পরিবারগোষ্ঠীর ইলীয়াবের পুত্র দাথন এবং অবীরামের প্রতি প্রভু কি করেছিলেন সেটা তোমরা দেখেছিলে, যখন ভূমি মুখের মতো খুলে গিয়ে ঐ সমস্ত লোকদের গ্রাস করেছিল, সেই ঘটনা ইস্রায়েলের সমস্ত লোক দেখেছিল। এটি তাদের পরিবারবর্গের, তাদের তাঁবুগুলোকে এবং তাদের সমস্ত পরিচারকদের এবং পশুদের গ্রাস করেছিল। 7প্রভু যে সমস্ত মহৎ‌‌ কাজগুলো করেছিলেন সেগুলো তোমরাই দেখেছিলে, তোমাদের সন্তানরা নয়!

8“সুতরাং আমি আজ তোমাদের যে সমস্ত আজ্ঞাগুলো বললাম, সেগুলো তোমরা অবশ্যই মানবে। তাহলেই তোমরা শক্তিশালী হবে এবং তোমরা যর্দন নদী অতিক্রম করতে ও যে দেশে প্রবেশ করতে চলেছ সেই দেশ অধিগ্রহণ করতে সক্ষম হবে। 9তাহলেই তোমরা সেই দেশে অনেকদিন বেঁচে থাকবে। প্রভু সেই দেশ তোমাদের পূর্বপুরুষদের এবং তাদের সমস্ত উত্তরপুরুষদের দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। এই দেশটি অনেক ভালো জিনিসে পরিপূর্ণ। 10তোমরা যে দেশ অধিকার করতে চলেছ সেটি সেই মিশর দেশের মত নয় যে দেশ থেকে তোমরা বাইরে এসেছিলে। মিশরে তোমরা তোমাদের দানা শস্য রোপণ করতে এবং তারপরে জল দেওয়ার জন্য তোমরা পায়ের সাহায্যে কৃত্রিম খাল থেকে সেচ করে জল আনতে, যেভাবে তরকারির বাগানে জল দিতে সেইভাবে। 11কিন্তু তোমরা যে দেশ খুব শীঘ্রই অধিকার করবে তাতে অনেক পর্বত এবং উপত্যকা আছে এবং দেশটি তার প্রয়োজনীয় জল পায় আকাশের বৃষ্টি থেকে। 12প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, সেই দেশ সম্পর্কে যত্নবান। প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, বছরের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সেই দেশের উপর লক্ষ্য রাখেন।

13“প্রভু বলেন, ‘আমি আজ তোমাদের যে আজ্ঞাগুলো দিলাম সেগুলো তোমরা নিশ্চয়ই খুব সতর্কভাবে শুনবে। তোমরা অবশ্যই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে ভালোবাসবে এবং তোমাদের সমস্ত মন এবং সমস্ত প্রাণ দিয়ে তাঁর সেবা করবে। 14যদি তোমরা এটি করো তাহলে আমি ঠিক সময়ে তোমাদের দেশের জন্য বৃষ্টি পাঠাবো। আমি শরৎকালের বৃষ্টি এবং বসন্তকালের বৃষ্টি পাঠাবো। তাহলেই তোমরা তোমাদের দানা শস্য, নতুন দ্রাক্ষারস এবং তেল সংগ্রহ করতে পারবে। 15এবং আমি তোমাদের পশুদের জন্য তোমাদের মাঠগুলোতে ঘাস জন্মাব, তাতে তোমাদের যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্যের সংস্থান হবে।’

16“কিন্তু সাবধান! যেন তোমাদের হৃদয় ভ্রান্ত না হয় এবং তোমরা ঘুরে অন্যান্য দেবতাদের সেবা এবং পূজা না কর। 17তা করলে ঈশ্বর তোমাদের প্রতি ভীষণ ক্রুদ্ধ হবেন। তিনি আকাশ রুদ্ধ করে দেবেন এবং কোনো বৃষ্টি হবে না। জমিতে কোনো ফসল উৎপন্ন হবে না। এবং প্রভু তোমাদের যে উত্তম দেশ দিচ্ছেন সেই দেশে তোমরা খুব শীঘ্রই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

18“আমি তোমাদের যে আজ্ঞাগুলো দিলাম সেগুলো তোমরা মনে রাখবে। সেগুলো তোমরা তোমাদের হৃদয়ে গেঁথে রাখো। আজ্ঞাগুলোকে লেখ, সেগুলোকে হাতে বেঁধে রাখ এবং আমার বিধিগুলো মনে রাখার উপায় হিসেবে তা তোমাদের কপালে বেঁধে রাখ। 19এই বিধিগুলো তোমাদের সন্তানদেরও শেখাও। যখন তোমরা তোমাদের বাড়ীতে বসে থাকবে, যখন তোমরা রাস্তায় হাঁটবে, যখন তোমরা শুয়ে থাকবে এবং যখন তোমরা উঠবে তখন এগুলো সম্পর্কে আলোচনা করো। 20তোমাদের বাড়িগুলির দরজার খুঁটির ওপরে এবং ফটকগুলির ওপরে এই আজ্ঞাগুলোক লিখে রাখ। 21তাহলে প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে যে দেশের জন্য প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সেই দেশে তোমরা এবং তোমাদের সন্তানরা উভয়েই দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে। পৃথিবীর ওপরে আকাশ যতদিন থাকবে তোমরাও সেই দেশে ততদিন থাকবে।

22“আমি তোমাদের যে আজ্ঞাগুলো অনুসরণ করতে বলেছিলাম সেগুলো মেনে চলার ব্যাপারে তোমরা খুব সতর্ক হবে: প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে ভালোবাসো, তাঁর নির্দেশিত সব পথগুলো অনুসরণ কর এবং তাঁর প্রতি বিশ্বস্ত থাক। 23তাহলে তোমরা যখন সেই দেশের ভিতরে যাবে, প্রভু তখন অন্যান্য জাতির লোকদের সেই দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবেন। যে জাতিগুলি তোমাদের থেকে বৃহত্তর এবং শক্তিশালী তাদের কাছ থেকে তোমরা দেশটি নিয়ে নেবে। 24যেখান দিয়ে তোমরা হাঁটবে সেই সমস্ত স্থান তোমাদের হবে। তোমাদের দেশ দক্ষিণের মরুভূমি থেকে উত্তরে লিবানোন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এটি আবার পূর্বদিকে ফরাৎ নদী থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। 25কোনো ব্যক্তি তোমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সক্ষম হবে না। তোমরা সেই দেশে যেখানেই যাবে, প্রভু তোমাদের ঈশ্বর সেখানকার লোকদের তোমাদের সম্পর্কে ভীত করে দেবেন। এগুলোই প্রভু তোমাদের কাছে পূর্বে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।

ইস্রায়েলের পছন্দ: আশীর্বাদ অথবা অভিশাপ

26“আজ আমি তোমাদের আশীর্বাদ অথবা অভিশাপ এ দুটির মধ্যে যে কোনো একটি পছন্দ করতে দিচ্ছি। 27আজ আমি তোমাদের যা বলেছি, প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের সেই আজ্ঞাগুলো যদি তোমরা শোন এবং মান্য করো তাহলে তোমরা আশীর্বাদ পাবে। 28কিন্তু তোমরা যদি প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের, আজ্ঞা না শোন এবং না মানো এবং আমি আজ তোমাদের যে ভাবে আদেশ করলাম সেভাবে জীবনধারণ না করে অন্যান্য দেবতাদের অনুসরণ করো, তবে তোমরা অভিশাপগ্রস্ত হবে।

29“তোমরা যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ সেই দেশে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে গেলে তোমরা গরিষীম পর্বতের শিখরে যাবে এবং সেখান থেকে লোকদের উদ্দেশ্যে আশীর্বাদ বাণী পড়বে এবং তারপর তোমরা এবল পর্বতের শিখরে যাবে এবং সেখান থেকে লোকদের প্রতি অভিশাপসূচক বার্তা পড়বে। 30যর্দন উপত্যকায় বসবাসকারী কনানীয় লোকদের দেশে যর্দন নদীর অপর পারে এই পর্বতমালা অবস্থিত। এই পর্বতমালা পশ্চিমদিকে অবস্থিত, গিল‌্গল শহরের কাছে মোরির এলোন বনের থেকে খুব দূরে নয়। 31তোমরা যর্দন নদী অতিক্রম করে যাবে। প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন তোমরা সেই দেশ অধিগ্রহণ করবে। এই দেশ তোমাদের হবে। যখন তোমরা এই দেশে বসবাস করতে শুরু করবে তখন, 32আমি আজ তোমাদের যে সমস্ত বিধিসমুহ এবং নিয়মসমূহ দিলাম সেই সমস্ত তোমরা অবশ্যই খুব সতর্কভাবে মেনে চলবে।

12

ঈশ্বরের উপাসনার স্থান

1“প্রভু, তোমাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর, তোমাদের যে দেশ অধিকার করতে দিচ্ছেন সেই নতুন দেশে তোমরা এই সমস্ত বিধিসমুহ এবং নিয়মসমূহ অবশ্যই মেনে চলবে। তোমরা যতদিন এই দেশে বাস করবে ততদিন পর্যন্ত তোমরা অবশ্যই এই বিধিসমূহ যত্নসহকারে মেনে চলবে। 2এখন সেখানে যে জাতিরা বাস করছে তাদের কাছ থেকে যখন তোমরা দেশটি অধিগ্রহণ করবে, তখন ঐ সমস্ত জাতির লোকরা যেখানে তাদের দেবতাদের পূজা করে সেই জায়গাগুলো তোমরা অবশ্যই সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করবে। এই স্থানগুলো হল উঁচু পাহাড়ের ওপরে এবং সবুজ গাছপালার নীচে। 3তোমরা অবশ্যই তাদের আশেরার স্তম্ভগুলি পুড়িয়ে দেবে এবং তাদের দেবতাদের মূর্ত্তিগুলো ভেঙ্গে দেবে। এইভাবে তোমরা অবশ্যই সেই স্থান থেকে তাদের নাম লোপ করে দেবে।

4“ঐ সমস্ত লোকরা যেভাবে তাদের দেবতাদের পূজা করে, সেইভাবে তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের উপাসনা অবশ্যই করবে না। 5প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের পরিবারগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এক বিশেষ স্থান পছন্দ করবেন। প্রভু তাঁর নাম সেখানে রাখবেন। সেটিই হবে তাঁর নিবাস স্থান। তোমরা অবশ্যই তাঁর উপাসনার জন্য সেই স্থানে যাবে। 6সেখানে তোমরা অবশ্যই তোমাদের হোমবলির নৈবেদ্য, তোমাদের উৎসর্গের জিনিসপত্র, তোমাদের শস্যের এবং পশুর এক দশমাংশ, তোমাদের বিশেষ উপহারসমূহ, যে কোনোও উপহার সামগ্রী যেটা তোমরা প্রভুর কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলে, যে কোনোও বিশেষ উপহার যা তোমরা দিতে চাও, এবং তোমাদের পশুপালের মধ্যে প্রথমজাত পশুদের নিয়ে আসবে। 7সেই স্থানে তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের উপস্থিতির সামনে আহার করবে এবং যে সব উত্তম বিষয় পরিশ্রম করে লাভ করেছ তা তুমি এবং তোমার পরিবারগুলির সাথে ভাগ করে নেবে, কারণ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের আশীর্বাদ করেছেন এবং তোমাদের ঐ সমস্ত ভালো জিনিসগুলো দিয়েছেন।

8“আমরা যে ভাবে উপাসনা করে আসছিলাম সেইভাবে তোমরা অবশ্যই তোমাদের উপাসনা চালিয়ে যাবে না। এখন পর্যন্ত আমরা যা ভাল মনে করেছি সেইভাবেই ঈশ্বরের উপাসনা করে আসছিলাম। 9কারণ প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন সেই বিশ্রামস্থানে তোমরা এখনও প্রবেশ কর নি। 10কিন্তু তোমরা শীঘ্রই যর্দন নদী অতিক্রম করে যাবে এবং সেই দেশে বাস করবে। সেই দেশে প্রভু তোমাদের সমস্ত শত্রুদের কাছ থেকে তোমাদের বিশ্রাম দেবেন আর তোমরা বিপদমুক্ত হবে। 11এর পর প্রভু তাঁর বিশেষ স্থান পছন্দ করবেন, সেই স্থানে প্রভু তাঁর নাম স্থাপন করবেন এবং আমি তোমাদের যে আজ্ঞা করেছিলাম সেই সমস্ত জিনিসপত্র তোমরা অবশ্যই সেই স্থানে নিয়ে আসবে। তোমাদের হোমবলির নৈবেদ্য, উৎসর্গের জিনিসপত্র, বিশেষ উপহার সামগ্রী, যে কোনও উপহার যা তোমরা তোমাদের শস্যের এবং পশুর এক দশমাংশ প্রভুর কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলে এবং তোমাদের পশুশালার প্রথমজাত পশুদের নিয়ে এসো। 12তোমাদের সমস্ত লোকদের নিয়ে সেই স্থানে এস। তোমাদের সন্তানদের, তোমাদের পরিচারকদের এবং তোমাদের শহরে বসবাসকারী লেবীয়দের নিয়ে এসো। (কারণ তোমাদের মধ্যে এই সমস্ত লেবীয়দের নিজেদের জমির কোনো অংশ বা অধিকার নেই।) তোমরা সেখানে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, উপস্থিতির সামনে সবার সাথে আনন্দ উপভোগ করো। 13সাবধান, যে কোন স্থান দেখলেই সেখানে তোমাদের হোমবলির নৈবেদ্য উৎসর্গ করো না। 14তোমাদের পরিবারগোষ্ঠীর মধ্যে প্রভু তাঁর যে বিশেষ স্থান পছন্দ করবেন, কেবলমাত্র সেই স্থানেই তোমরা হোমবলির নৈবেদ্যসমুহ এবং অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী উৎসর্গ করো এবং আমি যা আদেশ করছি সেগুলোই পালন করো।

15“তোমরা যেখানেই থাকো, তোমরা যে কোনও পশুদের, যেমন কৃষ্ণসার এবং হরিণ হত্যা করতে পার এবং সেগুলো খেতে পারো। তোমরা যতটা চাও সেই পরিমাণ মাংস তোমরা আহার করতে পার, যে পরিমাণ প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের দেন। যে কোনোও ব্যক্তি এই মাংস খেতে পারে—লোকদের মধ্যে যারা শুচি এবং অশুচি। 16কিন্তু তোমরা অবশ্যই রক্ত খাবে না। ঠিক জলের মতোই রক্তটাকে তোমরা মাটিতে ঢেলে ফেলবে।

17“তোমরা যেখানে বাস করছ সেই স্থানে এই জিনিসগুলি অবশ্যই ভক্ষণ করবে না—যেমনঃ তোমাদের শস্যের এক দশমাংশ, তোমাদের নতুন দ্রাক্ষারস এবং তেল, তোমাদের পশুপালের অথবা গবাদিপশুর প্রথমজাত পশুদের, যে কোনোও উপহার যেটা তোমরা ঈশ্বরের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলে, যে কোনও বিশেষ উপহারসামগ্রী যা তোমরা ঈশ্বরের কাছে মানত করেছ অথবা ঈশ্বরের জন্য সরিয়ে রাখা অন্যান্য যে কোনোও উপহারসামগ্রী। 18তোমরা অবশ্যই ঐ সমস্ত নৈবেদ্য কেবলমাত্র সেই স্থানেই আহার করবে যেখানে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, উপস্থিতি থাকবে এবং সেই বিশেষ স্থানে, যেটি প্রভু তোমাদের ঈশ্বর পছন্দ করবেন। তোমরা অবশ্যই সেই স্থানে যাবে এবং তোমাদের পুত্রদের, তোমাদের কন্যাদের, তোমাদের সমস্ত পরিচারকদের এবং তোমাদের শহরে বসবাসকারী লেবীয়দের সঙ্গে একত্রে আহার করবে। সেখানে তোমরা নিজেরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, উপস্থিতির সামনে আনন্দ উপভোগ করবে। তোমরা যে জন্য কাজ করেছিলে, সেই জিনিসগুলোকে সেখানে উপভোগ করো। 19কিন্তু সাবধান, তোমরা সবসময়ই এই সমস্ত খাদ্যদ্রব্য লেবীয়দের সঙ্গে ভাগ করে নেবে। তোমরা যতদিন তোমাদের দেশে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত তোমরা এ কাজ করবে।

20 “প্রভু তোমাদের ঈশ্বর যখন তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুসারে দেশের সীমা বিস্তার করবেন সেই সময় তিনি তাঁর নাম স্থাপনার্থে যে স্থানটি নির্বাচিত করেছেন তা থেকে তোমরা হয়তো অনেক দূরে বসবাস করতে পার। যদি এটি অনেক দূরে হয় এবং তোমরা মাংসের জন্য ক্ষুধার্ত হও তবে প্রভু তোমাদের যা দিয়েছেন সেই পশুপাল থেকে তোমরা যে কোনো পশুকে হত্যা করতে পার। আমি তোমাদের যে আদেশ করেছি সেই ভাবেই এটি করো। তোমরা তোমাদের শহরে এই মাংস যত ইচ্ছা তত খেতে পার। 22তোমরা যেভাবে কৃষ্ণসার অথবা হরিণের মাংস খাও সেভাবেই তোমরা এই মাংস খেতে পার। শুচি বা অশুচি যে কোন ব্যক্তিই তা খেতে পারে। 23কিন্তু সাবধান, রক্ত খেও না, কারণ রক্তের মধ্যেই জীবনের অস্তিত্ব। তোমরা সেই মাংস কখনই খাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তার মধ্যে প্রাণের অস্তিত্ব আছে। 24রক্ত খেও না। জলের মতোই মাটির ওপরে রক্ত ঢেলে ফেলে দেবে। 25কাজেই রক্ত খেও না। প্রভুর দৃষ্টিতে যা ন্যায় সেই কাজগুলো করলে তোমাদের এবং তোমাদের উত্তরপুরুষদের মঙ্গল হবে।

26“তোমাদের পবিত্র উপহার এবং যদি তোমরা ঈশ্বরকে বিশেষ কিছু দেবে বলে মানত করে থাক, তাহলে তা নিয়ে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, মনোনীত স্থানে যাবে। 27সেই জায়গায় তোমরা অবশ্যই তোমাদের হোমবলি উৎসর্গ করবে। তোমরা অবশ্যই প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের বেদীর ওপরে তোমাদের হোমবলির মাংস এবং রক্ত উভয়ই উৎসর্গ করবে। তোমরা অবশ্যই তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের বেদীর ওপরে রক্ত ঢালবে। এরপর তোমরা মাংস খেতে পার। 28আমি তোমাদের যে আদেশগুলো দিলাম সেগুলো মেনে চলার ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকবে। প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের চোখে যা ভাল এবং ন্যায় সেই কাজগুলি করলে তোমাদের এবং তোমাদের উত্তরপুরুষদের চিরদিন মঙ্গল হবে।

29“তোমরা যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ সেই দেশের অধিবাসীদের প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, ধ্বংস করবেন, সুতরাং তোমরা ঐ সমস্ত অধিবাসীদের সেই দেশ থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করে সেখানে বাস করবে। 30তখন সাবধান, তোমাদের চোখের সামনে তাদের ধ্বংসের পর তাদের অনুকরণ করে ফাঁদে পড়ো না। সাবধান, সাহায্যের জন্য ঐ সমস্ত মূর্ত্তির অন্বেষণ করো না, কখনও খোঁজ নিও না, ‘ঐ সমস্ত লোকরা ঐ দেবতাদের কিভাবে পূজা করত, পাছে বল আমিও একইভাবে পূজা করব!’ 31সেইভাবে তোমরা তোমাদের প্রভু, ঈশ্বরের, উপাসনা করো না। কারণ প্রভু যেগুলো ঘৃণা করেন সেই সবরকম খারাপ কাজই ঐ সমস্ত লোকরা করে। কারণ তারা দেবতাদের কাছে বলি হিসেবে তাদের সন্তানদের পোড়ায়!

32“আমি তোমাদের যে আদেশগুলো করলাম সেগুলো পালন করার ব্যাপারে তোমরা খুব সতর্ক হবে। আমি তোমাদের যা বললাম সেগুলোর সঙ্গে কোনো কিছু যোগ করো না এবং সেগুলো থেকে কোনো কিছু বাদও দিও না।

13

মিথ্যে ভাববাদীর দল

1“কোন ভাববাদী বা স্বপ্নদর্শক, যে স্বপ্ন ব্যাখ্যা করে, তোমাদের কাছে এসে কোনো চিহ্ন বা অলৌকিক কিছু দেখাতে পারে। 2আর সে তোমাদের যে চিহ্ন বা অলৌকিক কিছুর কথা বলেছিল তা সফল হলে সে হয়তো তোমাদের বলতে পারে, ‘এস আমরা অন্যান্য দেবতাদের (যে সব দেবতাদের তোমরা জান না।) অনুসরণ করি এবং সেবা করি।’ 3সেই স্বপ্নদর্শকের কথা শুনো না। কেন? কারণ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের পরীক্ষা করছেন। প্রভু জানতে চাইছেন যে, তোমরা তাঁকে তোমাদের সমস্ত হৃদয় এবং তোমাদের সমস্ত প্রাণ দিয়ে ভালোবাস কিনা। 4তোমরা অবশ্যই তোমাদের প্রভু, ঈশ্বরকে, অনুসরণ করবে! তাঁকে শ্রদ্ধা করবে। প্রভুর আজ্ঞাগুলো মেনে চলবে এবং তিনি তোমাদের যা বলেন সেগুলো করবে। প্রভুর সেবা করো এবং তাঁকে কখনও পরিত্যাগ করো না। 5এছাড়াও তোমরা অবশ্যই সেই ভাববাদী অথবা স্বপ্নদর্শককে হত্যা করবে। কারণ সে তোমাদের সেই প্রভু ঈশ্বরের বিরুদ্ধাচারণ করতে বলেছিল যে প্রভু তোমাদের মিশর দেশ থেকে বার করে নিয়ে এসেছিলেন এবং দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের যেভাবে জীবনযাপন করার জন্য আজ্ঞা করেছিলেন সেই লোকটি তোমাদের সেই জীবন থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিল। সুতরাং তোমাদের লোকদের মধ্য থেকে সেই মন্দকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তোমরা অবশ্যই সেই ব্যক্তিকে হত্যা করবে।

6“তোমাদের ঘনিষ্ঠ কেউ অন্য দেবতাদের পূজা করার জন্য তোমাদের গোপনে পরামর্শ দিতে পারে। সে তোমাদের ভাই হতে পারে, তোমাদের পুত্র হতে পারে, তোমাদের কন্যা হতে পারে, যাকে ভালোবাসো সেই স্ত্রী হতে পারে অথবা তোমাদের ঘনিষ্ঠতম বন্ধুও হতে পারে। সেই লোকটি বলতে পারে, ‘এবার আমরা যাই এবং অন্যান্য দেবতাদের সেবা করি।’ (এরাই হল সেই দেবতা যাদের তোমরা জানতে না এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরাও কোন দিন জানত না। 7এরাই হল তোমাদের চারপাশের অন্যান্য দেশের বসবাসকারী লোকদের কারোর কাছের বা কারোর দূরের দেবতা।) 8তোমরা সেই ব্যক্তির সঙ্গে অবশ্যই একমত হবে না। তার কথা শুনবে না। তার জন্য দুঃখিত হবে না। তাকে ছেড়ে দিও না এবং তাকে রক্ষা করো না। 9 না! তোমরা অবশ্যই সেই ব্যক্তিকে হত্যা করবে। তোমরা অবশ্যই তাকে পাথর মেরে হত্যা করবে। তুমিই হবে প্রথম ব্যক্তি যে পাথর তুলবে এবং তার দিকে ছুঁড়ে মারবে। এরপর সমস্ত লোকরা তাকে হত্যা করার জন্য অবশ্যই পাথর ছুঁড়বে। কারণ সেই ব্যক্তি তোমাদের প্রভু, ঈশ্বরের, কাছ থেকে তোমাদের দূরে সরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিল; অথচ সেই মিশর দেশ থেকে প্রভুই তোমাদের দাসত্ব থেকে বার করে নিয়ে এসেছিলেন। 11তখন ইস্রায়েলের সমস্ত লোকরা শুনতে পাবে এবং ভয় পাবে এবং তারা আর কখনও ঐ সমস্ত খারাপ কাজ করবে না।

12“প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের বাস করার জন্য যে শহরগুলো দিয়েছেন, সেই শহরগুলোর মধ্যে কোনো একটির সম্পর্কে যদি এমন খবর পাও 13যে তোমাদের মধ্যে থেকে কিছু পাষণ্ড লোক শহরের অন্যান্য লোকদের এই বলে ঈশ্বরবিমুখ করার জন্য প্ররোচিত করছে যে, ‘এবার এস আমরা এমন দেবতাদের সেবা করি যাদের তোমরা আগে কখনও জানতে না,’ 14তখন এই ধরণের কোনো খবর সত্য কিনা তা জানার জন্য তোমরা অবশ্যই যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। যদি তোমরা জানতে পারো যে এটি সত্য, যদি তোমরা প্রমাণ করতে পার যে সে রকম সাংঘাতিক ঘটনা সত্যই ঘটেছিল 15তাহলে তোমরা অবশ্যই সেই শহরের লোকদের সকলকে তরবারি দ্বারা হত্যা করবে এবং তোমরা তাদের সমস্ত পশুদেরও হত্যা করবে। তোমরা অবশ্যই সেই শহরটিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করবে। 16এরপর তোমরা অবশ্যই সমস্ত মুল্যবান জিনিসপত্র এক জায়গায় জড়ো করবে এবং সেগুলোকে শহরের কেন্দ্রস্থলে নিয়ে যাবে। তারপর শহরটিকে ঐ সমস্ত জিনিসপত্র সমেত পুড়িয়ে ফেলবে। এটি হবে তোমাদের প্রভু, ঈশ্বরের, কাছে হোমবলির নৈবেদ্য। শহরটি যেন অবশ্যই চিরকালের মতো পাথরের স্তুপে পরিণত হয়। সেই শহরটিকে যেন অবশ্যই আবার তৈরী করা না হয়। 17সেই শহরের প্রতিটি জিনিস ধ্বংস করার জন্য ঈশ্বরকে দান করতে হবে, সুতরাং তোমরা ঐ জিনিসগুলোর কোনটিই নিজেদের জন্য রাখবে না। তোমরা যদি এই আদেশ মেনে চলো, তাহলে প্রভু তোমাদের প্রতি আর এতো ক্রুদ্ধ হবেন না। প্রভু তোমাদের প্রতি কৃপা ও করুণা করবেন। তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সেই অনুযায়ী তিনি তোমাদের জাতিকে বৃহত্তর করবেন। 18এই রকমটাই হবে যদি তোমরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, কথা শোনো, তাঁর সমস্ত আজ্ঞাগুলো, যেগুলো আজ আমি তোমাদের দিলাম, সেগুলো সব যদি মেনে চলো এবং প্রভুর দৃষ্টিতে যথার্থ আচরণ করো।

14

ইস্রায়েলে ঈশ্বরের বিশেষ লোকরা

1“তোমরা হলে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, সন্তান। যখন কেউ মারা যায় তখন তোমরা কোনোভাবেই তোমাদের নিজেদের কাটাছেঁড়া করবে না অথবা মাথা কামিয়ে তোমাদের দুঃখ প্রকাশ করবে না। 2কেন? কারণ তোমরা অন্যান্য লোকদের থেকে আলাদা। তোমরা হলে প্রভুর বিশেষ লোকজন। পৃথিবীর সমস্ত লোকের মধ্য থেকে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তাঁর বিশেষ লোক হিসেবে তোমাদেরই নির্বাচিত করেছিলেন।

যে খাবার খাওয়ার জন্য ইস্রায়েলীয়রা অনুমতি পেয়েছিল

3“প্রভু যেগুলো ঘৃণা করেন সেগুলো তোমরা খেও না। 4তোমরা এই সমস্ত পশুদের খেতে পার—গরু, মেষ, ছাগল, 5হরিণ, বারশিঙ্গা হরিণ, ছোট হরিণী, বুনো মেষ, বুনো ছাগল, কৃষ্ণসার হরিণ এবং পার্বত্য মেষ। 6যে কোনোও পশু যাদের পায়ে দুভাগে বিভক্ত খুর আছে এবং যারা জাবর কাটে তাদের তোমরা খেতে পারো। 7কিন্তু তোমরা উট, খরগোশ অথবা পাহাড়ী শ্বাফন পশুদের খেও না। এই সমস্ত পশুরা জাবর কাটে কিন্তু তাদের পায়ে বিভক্ত খুর নেই, সুতরাং ঐ সমস্ত পশুরা শুচি খাদ্য হিসেবে তোমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। 8তোমরা অবশ্যই শুয়োর খাবে না। তাদের পায়ের খুরগুলো বিভক্ত, কিন্তু তারা জাবর কাটে না। সুতরাং খাদ্য হিসেবে শুয়োরও তোমাদের গ্রহণযোগ্য নয়। শুয়োরের কোনো মাংস খাবে না। এমনকি শুয়োরের মৃত শরীর স্পর্শ করবে না।

9“পাখনা এবং আঁশ আছে এরকম যে কোনো রকম মাছ তোমরা খেতে পারো। 10কিন্তু জলে বসবাসকারী জীবন্ত কোনো কিছু, যাদের পাখনা অথবা আঁশ নেই সেগুলো তোমরা খেও না। এগুলো তোমাদের পক্ষে শুচি খাদ্য নয়।

11“তোমরা যে কোনোও প্রকারের শুচি পাখী খেতে পারো। 12কিন্তু এই পাখীগুলো খেও না: ঈগল, শকুন, বাজ, 13লাল চিল, বাজ পাখি এবং যে কোনো প্রকার চিল, 14যে কোন প্রকার কাক, 15শিংওয়ালা পেঁচা, লক্ষী পেঁচা, শঙ্খ চিল, যে কোনোও রকম বাজপাখি, 16ছোট পেঁচা, বড় পেঁচা, সাদা পেঁচা, 17মরুভূমি অঞ্চলের পেঁচা, সামুদ্রিক ঈগল, লিপ্তপাদ সামুদ্রিক পাখী, 18সারস, সারস জাতীয় অন্যান্য যে কোনোও পাখী, ঝুঁটিওয়ালা পাখী অথবা বাদুড়।

19“ডানাওয়ালা সমস্ত পোকারাই অশুচি, সুতরাং তাদের খেও না। 20কিন্তু তোমরা যে কোনও প্রকার শুচি পাখী খেতে পার।

21“নিজের থেকে মারা গেছে এমন কোনোও পশু তোমরা খেও না। তোমরা মৃত পশু খাবার জন্য তোমাদের শহরের কোনো বিদেশীকে দিতে পারো। অথবা তোমরা তা তার কাছে বিক্রি করতে পারো। কিন্তু তোমরা নিজেরা অবশ্যই কোনো মৃত পশু খাবে না, কারণ তোমরা প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের। তোমরা তাঁর বিশেষ লোক।

“একটি ছাগশিশুকে তারই মায়ের দুধে রান্না কোরো না।

দশভাগের এক ভাগ দেওয়া

22“তোমাদের জমিতে যে ফসল হয়, প্রতি বছর তার দশ ভাগের এক ভাগ আলাদা করে রাখবে। 23এরপর প্রভু যে জায়গাটিকে তাঁর বিশেষ বাসস্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, সেখানে তোমরা যাবে। সেই স্থানে তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের উপস্থিতিতে তোমাদের দানা শস্যের, তোমাদের নতুন দ্রাক্ষারসের, তোমাদের তেলের এবং তোমাদের পশুর দলের মধ্যে প্রথম জাত পশুদের এক দশমাংশ ভোজন করবে। এই প্রকারে তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের সম্মান দেখানোর কথা সব সময় মনে রাখবে। 24কিন্তু জায়গাটা যদি দূরে হয় তবে তোমাদের শস্যের দশ ভাগের এক ভাগ তোমাদের পক্ষে বহন করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। সুতরাং প্রভু যখন তোমাকে আশীর্বাদ করেন তখন ঈশ্বর নিজের নাম স্থাপনের জন্য যে স্থান মনোনীত করেছেন তা দূরে হলে 25তোমাদের শস্যের সেই অংশটুকু বিক্রি করে যে টাকা পাবে তা সঙ্গে নাও এবং ঈশ্বর যে জায়গা মনোনীত করেছেন সেই বিশেষ জায়গায় যাও। 26সেই টাকা দিয়ে তোমরা যা চাও তা কেনো—গরু, মেষ, দ্রাক্ষারস অথবা সুরা অথবা যে কোনো রকম খাদ্য। এর পর সেই জায়গায় প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের সঙ্গে তোমরা এবং তোমাদের পরিবারের লোকরা অবশ্যই খাবে এবং আনন্দ উপভোগ করবে। 27কিন্তু তোমাদের শহরে বসবাসকারী লেবীয়দের ভুলো না। তোমরা তাদের সঙ্গে তোমাদের খাদ্য ভাগ করে নেবে, কারণ তোমাদের মতো তাদের জমির কোনো অংশ নেই।

28“প্রতি তিন বছরের শেষে তোমরা অবশ্যই সেই বছরের সংগৃহীত ফসলের এক দশমাংশ সংগ্রহ করবে। তোমাদের শহরগুলোতে এই খাদ্য জমা করে রেখো। 29এই খাদ্য লেবীয় লোকদের জন্য কারণ তাদের নিজেদের কোনো জমি নেই। এই খাদ্য তোমাদের শহরে যাদের খাদ্যের প্রয়োজন তাদেরও জন্য। সেই খাদ্য বিদেশীদের, বিধবাদের এবং অনাথদের জন্য। যদি তোমরা এটি করো তাহলে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের সমস্ত কাজে আশীর্বাদ করবেন।

15

দেনা বাতিল করার বিশেষ বৎসর

1“প্রতি সাত বছরের শেষে তোমরা অবশ্যই ঋণ ক্ষমা করবে। 2তোমরা এই প্রকারে তা করবে: কোন লোক যে অপর ইস্রায়েলীয়কে টাকা ধার দিয়েছে, সে অবশ্যই সেই ঋণ ক্ষমা করবে। সে তার প্রতিবেশীকে ঋণ শোধ করতে বাধ্য করবে না, কারণ ঈশ্বরের সম্মানার্থে সেই বছরে দেনা বাতিল করার বছর হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। 3তোমরা কোন বিদেশীর কাছ থেকে ঋণ আদায় করতে পার। কিন্তু আরেকজন ইস্রায়েলীর তোমার কাছে যে দেনা আছে সেটা তোমরা অবশ্যই বাতিল করবে। 4তোমাদের দেশে কোনো গরীব লোক থাকা উচিৎ‌ নয়, কারণ প্রভু তোমাদের যে দেশ দিয়েছেন সেই দেশে তোমাদের মহৎ‌‌ভাবে আশীর্বাদ করবেন। 5কিন্তু এটা একমাত্র তখনই সম্ভব যদি তোমরা প্রভু তোমাদের ঈশ্বরকে মেনে চলো। আমি আজ তোমাদের যেগুলো বললাম সেই আজ্ঞাগুলো মেনে চলার ব্যাপারে তোমরা অবশ্যই সতর্ক থাকবে। 6তাহলে তিনি যেরকম প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সেই মতো তোমাদের আশীর্বাদ করবেন। তখন তোমরা অন্যান্য জাতিকে ঋণ দেবে। কিন্তু অন্যদের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন তোমাদের হবে না। তোমরা বহু জাতিকে শাসন করতে পারবে, কিন্তু ঐ সমস্ত জাতির কেউই তোমাদের শাসন করবে না।

7“প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের যে দেশ দিয়েছেন, সেখানকার কোন শহরে তোমার কেউ যদি দরিদ্র হয় তবে তুমি অবশ্যই স্বার্থপর হবে না, সেই দরিদ্র ব্যক্তিকে সাহায্য করবে, তাকে অবশ্যই সাহায্য করতে অস্বীকার করবে না। 8তার সাথে উদারভাবে ভাগ করে নিতে তোমরা অবশ্যই রাজি হবে এবং সেই লোকটির যা কিছু প্রয়োজন সব কিছু তোমরা তাকে ধার দেবে।

9“সপ্তম বছর, দেনা বাতিল করার বছর এগিয়ে এসেছে বলে, শুধু মাত্র এই কারণেই কাউকে সাহায্য করতে অস্বীকার কোরো না। এই ধরণের কোন খারাপ চিন্তা তোমাদের মনে প্রবেশ করতে দিও না। যে ব্যক্তির সাহায্যের প্রয়োজন, তার সম্বন্ধে তোমরা অবশ্যই কোনো খারাপ মনোভাব পোষণ করবে না। তোমরা অবশ্যই তাকে সাহায্য করতে অস্বীকার করবে না। তোমরা যদি সেই গরীব লোকটিকে সাহায্য না করো, তাহলে সে প্রভুর কাছে তোমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে এবং প্রভু তোমাদের এই পাপের জন্য অভিযুক্ত করবেন।

10“তোমরা তোমাদের যথাসাধ্য সেই গরীব লোকটিকে দেবে। তাকে দেওয়ার সময় মনে কোনো কুচিন্তা রেখো না। কেন? কারণ এই ভালো কাজ করার জন্য প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের আশীর্বাদ করবেন। তোমাদের সমস্ত কাজে এবং তোমরা যা করো তার প্রত্যেকটিতে তিনি তোমাদের আশীর্বাদ করবেন। 11তোমাদের দেশে সবসময়ই গরীব লোক থাকবে; সেই কারণে আমি তোমাদের আদেশ করছি তোমরা অবশ্যই তোমাদের ভাইদের এবং তোমাদের দেশে যে দরিদ্র লোকদের সাহায্যের প্রয়োজন তাদের মুক্ত হস্তে সাহায্য করবে।

ক্রীতদাসদের মুক্ত করে দেওয়া

12“ক্রীতদাস হিসেবে তোমাদের সেবা করার জন্য যদি কোনো হিব্রু পুরুষ অথবা স্ত্রীলোক তোমাদের কাছে নিজেকে বিক্রি করে তবে তোমরা তাকে ছ’বছর পর্যন্ত ক্রীতদাস হিসেবে রাখতে পার; কিন্তু সপ্তম বছরে তোমরা অবশ্যই তাকে ছেড়ে দেবে। 13কিন্তু যখন তোমরা তোমাদের ক্রীতদাসকে স্বাধীন করছ, তখন তাকে খালি হাতে পাঠিও না। 14তোমরা অবশ্যই সেই ব্যক্তিকে মুক্ত হস্তে তোমাদের পশু, দানাশস্য এবং দ্রাক্ষারস দেবে। প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের যেভাবে আশীর্বাদ করেছেন সেই ভাবেই তোমরা তোমাদের ক্রীতদাসকে দেবে। 15মনে রাখবে, তোমরা মিশরে ক্রীতদাস ছিলে এবং প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের মুক্ত করেছিলেন। সেই কারণেই আমি আজ তোমাদের এই আদেশ দিচ্ছি।

16“কিন্তু সেই ক্রীতদাস যদি বলে, ‘আমি তোমাদের ছেড়ে যাবো না।’ সে তোমাকে এবং তোমাদের পরিবারকে ভালোবাসে এবং তোমাদের সঙ্গে সে ভালোভাবে আছে বলে এটা বলতে পারে। 17এরকম হলে তোমরা সেই ক্রীতদাসকে তোমাদের দরজায় কান রাখতে বলো এবং একটি ধারালো যন্ত্রের সাহায্যে তার কানে ফুটো করো। এর থেকেই বোঝা যাবে যে সে চিরকালের জন্য তোমাদেরই ক্রীতদাস। যে ক্রীতদাসী তোমাদের সঙ্গে থাকতে চায় তার জন্যও এই ব্যবস্থা।

18“ক্রীতদাসদের মুক্ত করে দেওয়ার ব্যাপারে মন কঠিন কোরো না। মনে রাখবে, কোনো ভাড়া করা লোককে তোমাদের যে টাকা দিতে হত তার অর্ধেক টাকায় সে ছ’বছর তোমাদের সেবা করেছে। আর তাহলে তোমাদের প্রত্যেক কাজে প্রভু ঈশ্বর তোমাদের আশীর্বাদ করবেন।

প্রথমজাত পশুদের সম্বন্ধে নিয়ম

19“তোমাদের পশুপালের সমস্ত প্রথমজাত পুরুষ পশুদের তোমরা অবশ্যই প্রভুর উদ্দেশ্যে পৃথক করবে। তোমাদের কাজে ঐ পশুদের কাউকে ব্যবহার করবে না এবং ঐ সমস্ত মেষের থেকে কোনো পশম ছাঁটবে না। 20প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, যে স্থান পছন্দ করবেন প্রত্যেক বছর সেই জায়গায় তোমরা ঐ সমস্ত পশুদের নিয়ে আসবে। সেখানে প্রভুর উপস্থিতিতে তোমরা এবং তোমাদের পরিবারের লোকরা ঐ সমস্ত পশুদের খাবে।

21“কিন্তু যদি কোনো পশুর কোনো খুঁত থাকে—যদি খোঁড়া হয় অথবা অন্ধ অথবা অন্য যে কোনরকম খুঁত যদি থাকে, তাহলে তোমরা অবশ্যই সেই পশুটিকে তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গ করবে না। 22কিন্তু তোমরা বাড়ীতে সেই পশুর মাংস খেতে পারো। যে কোনোও লোকই এটি খেতে পারে—সে শুচিই হোক্ বা অশুচি হোক্। এই মাংস খাওয়ার নিয়ম কৃষ্ণসার এবং হরিণের মাংস খাওয়ার মতো। 23কিন্তু তোমরা পশুর রক্ত অবশ্যই খাবে না। তোমরা জলের মতোই সেই রক্ত মাটিতে ঢেলে দেবে।

16

নিস্তারপর্ব

1“তোমরা আবীব মাসকে মনে রাখবে। সেই সময় তোমরা অবশ্যই প্রভু তোমাদের ঈশ্বরকে সম্মান দেখানোর জন্যে নিস্তারপর্ব উদ্‌যাপন করবে, কারণ সেই মাসে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর মিশর থেকে তোমাদের রাত্রে বার করে নিয়ে এসেছিলেন। 2তাঁর নাম নিয়ে বাস করার জন্য যে জায়গা প্রভু পছন্দ করবেন তোমরা অবশ্যই সেই জায়গায় যাবে। সেখানে তোমাদের পশুপাল থেকে পশু নিয়ে তা তোমরা নিস্তারপর্বের বলি হিসাবে প্রভুকে উৎসর্গ করবে। 3এই বলির সঙ্গে খামিরযুক্ত কোন রুটি খাবে না। তোমরা সাতদিন খামিরবিহীন রুটি খাবে। এই রুটিকে বলা হয় ‘দুঃখাবস্থার রুটি।’ মিশরে তোমাদের যে সব সমস্যা ছিল সেগুলো মনে করতে এটি সাহায্য করবে। মনে করে দেখ কতো তাড়াতাড়ি তোমাদের দেশ ত্যাগ করতে হয়েছিল। মিশর থেকে যেদিন তোমরা বেরিয়ে এসেছিলে সে দিনের কথা তোমরা যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন মনে রাখবে। 4দেশের কোথাও কোনও বাড়িতে সাত দিন ধরে অবশ্যই খামির থাকবে না। এছাড়া প্রথম দিন সন্ধ্যাবেলায় তোমরা যত মাংস উৎসর্গ করবে সেগুলো অবশ্যই সকালের আগে খেয়ে নিতে হবে।

5“প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের যে শহরগুলো দিয়েছেন, সেখানে কোথাও তোমরা অবশ্যই নিস্তারপর্বের পশু উৎসর্গ করবে না। 6তোমরা কেবলমাত্র সেই স্থানেই নিস্তারপর্বের পশু উৎসর্গ করবে যেটিকে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তাঁর নামে বাস করার জন্য মনোনীত করবেন। যে সময় সূর্য অস্ত যায়, সেই সন্ধ্যাবেলায় তোমরা অবশ্যই নিস্তাপর্বের পশু উৎসর্গ করবে। ঈশ্বর যে ঋতুতে তোমাদের মিশর থেকে বার করে এনেছিলেন সেই ঋতুতেই এটা করবে। 7প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, যে জায়গা পছন্দ করবেন সেই জায়গায় তোমরা অবশ্যই নিস্তারপর্বের মাংস রান্না করবে এবং সেটি খাবে। এরপর সকালে তোমরা বাড়ীতে ফিরে যেতে পার। 8এই দিন তোমরা নিশ্চয়ই খামিরবিহীন রুটি খাবে। সপ্তম দিনে তোমরা অবশ্যই কোনো কাজ করবে না। এই দিন প্রভু তোমাদের ঈশ্বরকে সম্মান দেখানোর জন্য লোকরা এক বিশেষ সভায় এসে একত্রিত হবে।

সপ্তাহের উৎসব (ফসল কাটার)

9“যেদিন থেকে তোমরা শস্য কাটা শুরু করেছিলে সেই দিন থেকে তোমরা সাত সপ্তাহ গোনো। 10তারপর প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের জন্য সপ্তাহের উৎসব উদ্‌যাপন করো। তোমরা যা নিয়ে আসতে চাও সেইরকম কোনো বিশেষ উপহার নিয়ে এসে এটি করো। প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের কতখানি আশীর্বাদ করেছেন সেটা চিন্তা করে স্থির করবে তোমরা কতটা দেবে। 11প্রভু তাঁর বিশেষ বাড়ীর জন্য যে জায়গা পছন্দ করবেন সেখানে যাও। সেখানে তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের সঙ্গে তোমরা এবং তোমাদের লোকরা একত্রে আনন্দ উপভোগ করবে। তোমাদের সমস্ত লোককে তোমাদের সঙ্গে নাও—তোমাদের পুত্রদের, তোমাদের কন্যাদের এবং তোমাদের সমস্ত সেবকদের। এছাড়া তোমাদের শহরগুলোতে বসবাসকারী লেবীয়দের, বিদেশীদের, অনাথদের এবং বিধবাদেরও নিয়ে এসো। 12মনে রাখবে তোমরা মিশরে ক্রীতদাস ছিলে। সুতরাং এই বিধিগুলো মেনে চলার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।

কুটির উৎসব

13“শস্য মাড়ানোর জায়গা থেকে শস্য সংগ্রহ করার পর এবং দ্রাক্ষা মাড়ার জায়গা থেকে দ্রাক্ষারস সংগ্রহ করার সাতদিন পরে তোমরা অবশ্যই কুটির উৎসব উদ্‌যাপন করবে। 14এই উৎসবে তোমরা সকলে আনন্দ উপভোগ করো—তোমরা, তোমাদের ছেলেরা, তোমাদের মেয়েরা, তোমাদের সমস্ত সেবকরা এবং তোমাদের শহরে বসবাসকারী লেবীয়রা, বিদেশীরা, অনাথরা এবং বিধবারা। 15প্রভু যে স্থান পছন্দ করবেন সেই বিশেষ স্থানে তোমরা সাতদিন ধরে এই উৎসব উদ্‌যাপন করবে। তোমাদের প্রভু ঈশ্বরকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য তোমরা এটি করবে। শস্য সংগ্রহ এবং সমস্ত কাজে যেহেতু প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের আশীর্বাদ করবেন তাই তোমরা খুব আনন্দ করবে।

16“প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, যে স্থান পছন্দ করবেন সেই বিশেষ স্থানে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতে বছরে তিনবার তোমাদের পুরুষরা অবশ্যই আসবে। খামিরবিহীন রুটির তৈরীর উৎসব এবং কুটির উৎসবের জন্যও তারা আসবে। প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আসা প্রত্যেক ব্যক্তি অবশ্যই উপহার নিয়ে আসবে, খালি হাতে আসবে না। 17প্রত্যেক ব্যক্তি যতটা পারবে ততটা অবশ্যই দেবে। প্রভু তাকে কতটা দিয়েছেন সেই পরিপ্রেক্ষিতেই সে স্থির করবে সে ঈশ্বরকে কতটা দেবে।

লোকদের জন্য বিচারক এবং পদস্থ কর্মচারীগণ

18“প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, যে শহরগুলো তোমাদের দিতে চলেছেন তার প্রত্যেকটিতে তোমরা অবশ্যই বিচারকদের এবং উচ্চপদাধিকারী ব্যক্তিদের নিয়োগ করবে। প্রত্যেক পরিবারগোষ্ঠী অবশ্যই এটি করবে এবং লোকদের বিচারের সময় এরা অবশ্যই পক্ষপাতহীন হবে। 19তোমরা অবশ্যই অন্যায় বিচার করবে না এবং সব সময় পক্ষপাতহীন হবে। রায় দেওয়ার সময় মন পরিবর্তনের জন্য কারও কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করবে না। অর্থ অনেক জ্ঞানী লোককেও অন্ধ করে দেয় এবং একজন ভালো লোক যা বলবে তাও পরিবর্তন করে দেয়। 20সততা এবং পক্ষপাতহীনতা! সব সময় সৎ‌ এবং পক্ষপাতহীন থাকার জন্য তোমাদের অবশ্যই খুব কঠোর চেষ্টা করতে হবে! তাহলেই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন সেই দেশে তোমরা থাকতে পারবে এবং রাখতে পারবে।

ঈশ্বর মূর্ত্তি ঘৃণা করেন

21“তোমরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের জন্য নির্মিত বেদীর পাশে দেবী আশেরাকে সম্মান করার জন্য কোনোও কাঠের স্তম্ভ স্থাপন করবে না। 22এবং মূর্ত্তি পূজার জন্য তোমরা কোনোও বিশেষ পাথর স্থাপন করবে না। প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, ঐ জিনিসগুলোকে ঘৃণা করেন।

17

কেবলমাত্র উত্তম পশুগুলোকেই উৎসর্গের জন্য ব্যবহার কর

1“তোমরা তোমাদের প্রভু, ঈশ্বরের কাছে খুঁত আছে এমন কোনও গরু বা মেষ বলি দেবে না। কেন? কারণ তোমাদের প্রভু ঈশ্বর এটিকে ঘৃণা করেন!

মূর্ত্তি পূজার শাস্তি

2“প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন সেখানে তোমরা তোমাদের গোষ্ঠীর এমন কোন পুরুষ অথবা স্ত্রীলোককে পেতে পার যে প্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করেছে বা প্রভুর নিয়ম ভঙ্গ করেছে 3এবং অন্যান্য দেবতার পূজা করেছে। এও হতে পারে যে তারা সূর্য, চন্দ্র অথবা নক্ষত্রের পূজা করেছে। এগুলো প্রভুর আজ্ঞার বিরুদ্ধে যা আমি তোমাদের দিয়েছিলাম। 4যদি তোমরা এই ধরণের কোনো খবর শোনো, তাহলে তোমরা অবশ্যই যত্ন সহকারে খোঁজ খবর নেবে। এই রকম সাংঘাতিক ঘটনা ইস্রায়েলে যদি সত্যিই ঘটে এবং যদি তার সত্যতা সম্পর্কে তোমরা নিশ্চিত হও 5তাহলে যে ব্যক্তি সেই খারাপ কাজ করেছিল তাকে তোমরা অবশ্যই শাস্তি দেবে। শহরের দরজার কাছে কোনো প্রকাশ্য রাস্তায় সেই পুরুষ অথবা স্ত্রীলোককে তোমরা অবশ্যই নিয়ে যাবে এবং তাদের পাথর দিয়ে হত্যা করবে। 6কিন্তু যদি কেবল মাত্র একজন সাক্ষী বলে যে সেই ব্যক্তি খারাপ কাজ করেছে, তাহলে সেই ব্যক্তিকে কখনই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিৎ‌ নয়। কিন্তু যদি দুজন অথবা তিনজন সাক্ষী বলে যে এটি সত্যি, তাহলে সেই ব্যক্তিকে অবশ্যই হত্যা করা উচিৎ‌। 7সেই ব্যক্তিকে হত্যা করার জন্য সাক্ষীরা অবশ্যই প্রথমে পাথর ছুঁড়বে। এর পর হত্যার কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য অন্যান্য ব্যক্তিরা পাথর ছুঁড়বে। এইভাবে তোমরা সেই মন্দ লোকটিকে তোমাদের মধ্যে থেকে সরিয়ে দেবে।

আদালতের জটিল সিদ্ধান্ত

8“এমন কিছু সমস্যা থাকতে পারে যা তোমাদের আদালতের পক্ষে বিচার করা খুবই শক্ত। এটি কোন হত্যার ঘটনাও হতে পারে, অথবা দুজন ব্যক্তির মধ্যে কোন বিতর্কও হতে পারে। অথবা এটি কোন সংঘর্ষও হতে পারে, যাতে কোন একজন আহত হয়েছে। তোমাদের শহরে যখন এইসব ঘটনগুলো নিয়ে বিতর্ক হয়, তখন সেখানে কোনটা ঠিক সেটি তোমাদের বিচারকরা ঠিক করতে সক্ষম নাও হতে পারেন। এক্ষেত্রে তোমাদের প্রভু ঈশ্বর যে স্থান পছন্দ করবেন সেই স্থানে তোমরা যাবে। 9যাজকরা সবাই লেবি পরিবারগোষ্ঠীর। তোমরা অবশ্যই সেই যাজকদের কাছে যাবে যারা লেবীয় পরিবারগোষ্ঠীর এবং বিচারকদের কাছে যাবে যারা সেই সময় কর্তব্যরত। সেই সমস্যা নিয়ে কি করা যায় সেটা তাঁরাই ঠিক করবেন। 10সেখানে প্রভুর বিশেষ স্থানে তাঁরা তাদের সিদ্ধান্ত তোমাদের জানাবেন। তাঁরা যা কিছু বলবেন, তোমরা অবশ্যই সেটা করবে। তাঁরা তোমাদের যা যা করতে বলবেন, সেগুলো সমস্ত করার ব্যাপারে তোমরা নিশ্চিত থাকবে। 11তোমরা তাঁদের সিদ্ধান্ত স্বীকার করবে এবং ঠিক ঠিক ভাবে তাঁদের আদেশ অনুসরণ করবে। তাঁরা তোমাদের যা করতে বলবেন তোমরা সেগুলো ঠিক মতো করবে—তার কোন কিছুর পরিবর্তন করবে না।

12“কোন লোক যদি সেই সময় তোমাদের প্রভু, ঈশ্বরের সেবায় রত কোন বিচারক অথবা যাজকের কথা মেনে চলতে অস্বীকার করে, তাহলে সেই ব্যক্তিকে তোমরা অবশ্যই শাস্তি দেবে। সেই ব্যক্তিকে অবশ্যই মরতে হবে। ইস্রায়েল থেকে তোমরা সেই দুষ্ট লোককে অবশ্যই সরাবে। 13সমস্ত লোক এই শাস্তির কথা শুনবে এবং ভীত হবে এবং এরপর তারা আর জেদী হবে না।

কিভাবে রাজার নির্বাচন হবে

14“প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন তোমরা সেই দেশে প্রবেশ করবে। তোমরা সেই দেশ অধিগ্রহণ করে সেখানে বাস করার পর তোমরা বলতে পার, ‘আমাদের চারিদিকের অন্যান্য জাতির মতো আমাদের শাসন করার জন্যও একজন রাজা থাকা উচিৎ‌।’ 15যখন সেটা ঘটে তখন প্রভু যাকে পছন্দ করবেন নিশ্চিতভাবে তাঁকেই রাজা হিসেবে নির্বাচন করো। তোমাদের যে রাজা হবে সে অবশ্যই তোমাদের লোকদেরই একজন হবে। তোমরা অবশ্যই কোনো বিদেশীকে তোমাদের রাজা করবে না। 16রাজা তার নিজের জন্য কখনই প্রচুর ঘোড়া রাখবে না এবং আরও ঘোড়া পাওয়ার জন্য সে কখনই লোকদের মিশরে পাঠাবে না। কেন? কারণ প্রভু তোমাদের বলেছেন, ‘তোমরা সেই পথে কখনই ফিরে যাবে না।’ 17এছাড়া রাজা কখনও যেন অনেক স্ত্রী গ্রহণ না করে। কেন? কারণ তাহলে তা তাকে প্রভুর কাছ থেকে সরিয়ে দেবে; এবং রাজা কখনই যেন নিজেকে রূপো আর সোনায় ধনী করে না তোলে।

18“এবং রাজা যখন শাসন করতে শুরু করবে তখন একটা বইয়ে সে অবশ্যই বিধিগুলি লিখে রাখবে। যাজকরা এবং লেবীয় পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা যে বই রাখে, সেই বই থেকে সে এই প্রতিলিপি লিখবে। 19রাজা তার কাছে এই বইটি রাখবে এবং সারা জীবন অবশ্যই সেই বইটি পড়বে। কারণ প্রভু, তার ঈশ্বরকে, কিভাবে সম্মান জানাতে হয় তা রাজার শেখা উচিৎ‌ এবং বিধিগুলি পুরোপুরি মেনে চলাও রাজার অবশ্য কর্তব্য। 20যেন রাজা এমন না ভাবে যে সে তার নিজের লোকদের থেকে ভালো। এবং যেন সে বিধির পথ থেকে সরে না পড়ে, বরং সে এটিকে ঠিকভাবে অনুসরণ করবে। তাহলেই সেই রাজা এবং তার উত্তরপুরুষরা বহুদিন পর্যন্ত ইস্রায়েল রাজ্য শাসন করবে।

18

যাজকদের এবং লেবীয়দের সমর্থন করা

1“লেবি পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা ইস্রায়েল জমির কোনো অংশ পাবে না। ঐ লোকরা যাজক হিসেবে কাজ করবে। যে সকল উৎসর্গীকৃত উপহার আগুনে রান্না করা হয় এবং প্রভুকে নিবেদন করা হয়, সেগুলো খেয়ে তারা জীবনধারণ করবে। লেবি পরিবারগোষ্ঠীর লোকদের এটিই হলো অংশ। 2অন্যান্য পরিবারগোষ্ঠীর মতো লেবীয় পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা জমির কোনো অংশ পাবে না। প্রভু তাদের যেমন বলেছিলেন সেই অনুসারে লেবীয়দের অংশ হিসেবে প্রভু নিজেই আছেন।

3“যখন তোমরা বলি হিসাবে গোরু অথবা মেষ হত্যা করবে, তখন তোমরা যাজকদের এই অংশগুলো অবশ্যই দেবে: কাঁধ, দুই গাল এবং পাকস্থলী। 4তোমাদের সংগৃহীত ফসলের প্রথম অংশ তোমরা যাজকদের অবশ্যই দেবে। তোমাদের শস্যের, তোমাদের নতুন দ্রাক্ষারসের এবং তোমাদের তেলের প্রথম অংশ তোমরা তাদের অবশ্যই দেবে। তোমাদের মেষের থেকে সংগৃহীত পশমের প্রথম অংশ তোমরা লেবীয়দের অবশ্যই দেবে। 5কেন? কারণ তোমাদের প্রভু ঈশ্বর তোমাদের সমস্ত পরিবারগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করেছিলেন এবং চিরকাল যাজক হিসাবে তাঁর সেবা করার জন্য তিনি লেবি এবং তার উত্তরপুরুষদের মনোনীত করেছিলেন।

6“তোমাদের শহরে বাসকারী কোন লেবীয় যদি তার বাসস্থান ত্যাগ করে, প্রভু যে স্থান মনোনীত করেছেন এমন কোন স্থানে বাস করতে আসে, তখন সেখানে 7প্রভুর সামনে কর্তব্যরত অন্যান্য লেবীয় ভাইদের মতোই এই লেবীয়ও তার প্রভু ঈশ্বরের নামে সেবা করতে পারবে। 8পৈতৃক অধিকার বিক্রি করে সে যে মুল্য পেয়েছে সেটা ছাড়াও সে অন্যান্য লেবীয়দের সঙ্গে খাবারের সমান অংশ পাবে।

ইস্রায়েল অবশ্যই অন্যান্য জাতির মতো জীবনযাপন করবে না

9“প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন সেই দেশে তোমরা যখন আসবে, তখন সেখানে অন্যান্য জাতির লোকরা যে সকল সাংঘাতিক কাজ করে সেগুলো তোমরা শিখো না। 10তোমাদের বেদীর ওপরের আগুনে তোমরা তোমাদের পুত্রদের অথবা কন্যাদের উৎসর্গ করবে না। কোন ভাববাদীর সঙ্গে কথা বলে অথবা কোন যাদুকর, কোন ডাইনি অথবা কোন মায়াবীর কাছে গিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ‌‌ জানার চেষ্টা করবে না। 11কাউকে অন্যান্য লোকদের ওপরে যাদুমন্ত্রের প্রয়োগ করার চেষ্টা করতে দিও না। তোমাদের কোনো লোককে ভুতুড়িয়া অথবা যাদুকর হতে দিও না; এবং মৃত লোকের আত্মার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করো না। 12ঐ সমস্ত কাজ যারা করে, সেইসব লোকদের প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, ঘৃণা করেন। এই কারণেই প্রভু ঐ সমস্ত জাতির লোকদের তোমাদের সামনে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য করেছেন। 13তোমরা অবশ্যই প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের কাছে সম্পূর্ণরূপে বিশ্বস্ত থাকবে।

প্রভুর বিশেষ ভাববাদী

14“তোমরা যে ঐ সমস্ত জাতির লোকদের তোমাদের দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য করছ তারা তাদের কথা শোনে যারা যাদুবিদ্যা চর্চা করে এবং ভবিষ্যৎ বলে। কিন্তু প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের এই জিনিসগুলো করতে দেবেন না। 15প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের জন্য একজন ভাববাদী পাঠাবেন। তোমাদের নিজের লোকদের মধ্য থেকেই এই ভাববাদী আসবে। সে আমারই মতো হবে। তোমরা অবশ্যই এই ভাববাদীর কথা শুনবে। 16তোমরা ঈশ্বরের কাছে যা চেয়েছিলে সেই অনুযায়ী তিনি এই ভাববাদীকে তোমাদের কাছে পাঠাবেন। যখন তোমরা হোরেব পর্বতে সকলে একত্রিত হয়েছিলে, তখন তোমরা ঈশ্বরের রব শুনে এবং পর্বতমালার ওপরে সেই মহৎ‌‌ আগুন দেখে ভীত হয়েছিলে। সেজন্য তোমরা বলেছিলে, ‘আমাদের প্রভু ঈশ্বরের রব আমাদের পুনরায় আর শোনাবেন না! আমাদের আর সেই মহান আগুন দেখতে দেবেন না, দেখলে আমরা মারা যাব!’

17“প্রভু আমাকে বলেছিলেন, ‘তারা যা বলেছে তা যথার্থ। 18আমি তাদের কাছে তোমার মতোই একজন ভাববাদী পাঠাব। এই ভাববাদী তাদের লোকদের মধ্যেই একজন হবে। সে যে কথা অবশ্যই বলবে সেটা আমি তাকে বলে দেব। আমি যা আদেশ করি তার সমস্ত কিছু সে লোকদের বলবে। 19এই ভাববাদী আমার জন্যই বলবে এবং যখন সে কথা বলবে, যদি কোন ব্যক্তি আমার আদেশ না শোনে তাহলে আমি সেই ব্যক্তিকে শাস্তি দেব।’

কিভাবে মিথ্যে ভাববাদীকে চিনবে

20“কিন্তু একজন ভাববাদী এমন কিছু বলতে পারে যা আমি তাকে বলার জন্য বলি নি। এবং সে লোকদের এও বলতে পারে যে সে আমার হয়েই তা বলছে। যদি এরকম ঘটনা ঘটে তাহলে সেই ভাববাদীকে অবশ্যই হত্যা করা উচিৎ‌। এছাড়াও একজন ভাববাদী আসতে পারে যে অন্যান্য দেবতার হয়ে কথা বলে। সেই ভাববাদীকেও অবশ্যই হত্যা করা উচিৎ‌। 21তোমরা হয়তো ভাবতে পার, ‘আমরা কি করে জানতে পারবো যে ভাববাদী যা বলছে সেগুলো প্রভুর কথা নয়?’ 22যদি কোনো ভাববাদী বলে যে সে প্রভুর জন্য বলছে, কিন্তু যা বলছে তা না ঘটে, তাহলেই তোমরা জানবে যে প্রভু সেটি বলেন নি। তোমরা বুঝতে পারবে যে, এই ভাববাদী তার নিজের ধারণার কথাই বলছে। তোমরা তাকে ভয় পেও না।

19

নিরাপত্তার শহরগুলি

1“যে দেশে অন্য জাতির বাস, সেই দেশই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের দিচ্ছেন। প্রভু ঐ সমস্ত জাতির লোকদের ধ্বংস করবেন। ঐ সব লোকরা যেখানে বাস করত সেখানে তোমরা বাস করবে। তোমরা তাদের শহরগুলো এবং তাদের বাড়ীগুলো অধিগ্রহণ করবে। 2 সেই ভূমিকে অবশ্যই তিন ভাগে ভাগ করবে। এরপর প্রত্যেকটি অংশে একটি করে শহর পছন্দ কর এবং সেই শহরগুলোতে যাবার রাস্তা তৈরী কর। তাহলে কোন লোক যে অপর কোনও ব্যক্তিকে হত্যা করেছে, সে সেই শহরে নিরাপত্তার জন্য ছুটে যেতে পারবে।

4“যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করে ঐ তিনটি শহরের যে কোন একটিতে নিরাপত্তার জন্য ছুটে যায়, তার জন্য এটি হল নিয়ম: সে অবশ্যই এমন একজন ব্যক্তি হবে যে অপর ব্যক্তিকে দুর্ঘটনাবশতঃ হত্যা করেছে এবং হত ব্যক্তিকে ঘৃণা করত না। 5একটি উদাহরণ দেওয়া হল: একজন ব্যক্তি কাঠ কাটার জন্য আরেকজন ব্যক্তির সঙ্গে জঙ্গলে যায়। লোকটি একটি গাছ কাটার জন্য তার কুঠারটিকে দোলায়, কিন্তু কুঠারের মাথাটি হাতলের থেকে আলাদা হয়ে অপর ব্যক্তিকে আঘাত করে এবং তাকে হত্যা করে। যে ব্যক্তি কুঠারটিকে দুলিয়েছিল সে তখন ঐ তিনটি শহরের যে কোন একটিতে ছুটে যেতে পারে এবং নিজেকে নিরাপদ করতে পারে। 6কিন্তু যদি শহরটি খুব দূরে হয় তাহলে নিহত ব্যক্তির কোন নিকট আত্মীয় তাকে তাড়া করে শহরে পৌঁছানোর আগেই ধরে ফেলতে পারে। সেই নিকট আত্মীয় খুব ক্রুদ্ধ হতে পারে এবং সেই ব্যক্তিকে হত্যা করতে পারে। অথচ সেই ব্যক্তি হত্যার যোগ্য ছিল না। কারণ যে ব্যক্তিকে সে হত্যা করেছে তাকে সে ঘৃণা করত না। 7শহরগুলো অবশ্যই সকলের খুব কাছাকাছি হতে হবে। সেই কারণেই আমি তোমাদের তিনটি বিশেষ শহর পছন্দ করার জন্য আদেশ করছি।

8“প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে তিনি তোমাদের দেশকে বৃহত্তর করবেন। তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে যে দেশ দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সেই সমস্ত দেশই তিনি তোমাদের দেবেন। 9আমি আজ তোমাদের যে আজ্ঞাগুলি দিচ্ছি, তাঁর সেই সমস্ত আদেশগুলো যদি তোমরা সম্পূর্ণভাবে মেনে চল তাহলে তিনি এটি করবেন—যদি তোমরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে, ভালোবাসো এবং তিনি যা পছন্দ করেন সেই ভাবেই যদি তোমরা বাস করো। এরপর যখন প্রভু তোমাদের দেশকে বৃহত্তর করবেন সেই সময় তোমরা নিরাপত্তার শহর হিসেবে আরও তিনটি শহরকে বেছে নেবে। তাদের প্রথম তিনটি শহরের সঙ্গে যোগ করতে হবে। 10তাহলে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন সেখানে কোন নির্দোষ লোক নিহত হবে না এবং তোমরা কোনো নির্দোষের মৃত্যুর জন্য দোষী হবে না।

11“কিন্তু কেউ যদি অপর একজনকে ঘৃণা করে বলে লুকিয়ে তাকে হত্যা করার জন্য অপেক্ষা করে এবং সেই ব্যক্তিকে আক্রমণ করে হত্যা করার পর ঐ নিরাপত্তার শহরগুলোর যে কোনও একটিতে দৌড়ে পালিয়ে যায়, 12তাহলে সেই লোকটি যে শহরে বাস করত সেখানকার প্রবীণরা তাকে ধরার জন্য লোক পাঠাবে এবং তাকে নিরাপত্তার শহর থেকে নিয়ে আসবে। এরপর তারা হত্যাকারীকে নিহতের নিকট আত্মীয়ের হাতে তুলে দেবে। হত্যাকারীকে অবশ্যই মরতে হবে। 13তোমরা তার জন্য অবশ্যই দুঃখিত হবে না। সে একজন নিষ্পাপ ব্যক্তির হত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল। তোমরা অবশ্যই নিরপরাধের রক্তপাতের এই দোষকে ইস্রায়েল থেকে দূর করবে। তাহলে সমস্ত কিছুই তোমাদের জন্য ভালো চলবে।

সম্পত্তির সীমার চিহ্ন

14“যে পাথরগুলোর সাহায্যে তোমাদের প্রতিবেশীর জমির সীমা চিহ্নিত হয় সেগুলো তোমরা কখনই সরাবে না। অতীতে জমির সীমা চিহ্নিত করার জন্যই ঐ পাথরগুলো রাখা হয়ছিল। প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, অধিকার করার জন্য তোমাদের যে দেশ দিয়েছেন এই নিয়ম সেখানকার জন্য।

সাক্ষীগণ

15“বিধি বিরুদ্ধ কোনো কিছু করার জন্য যদি কোনো লোক অভিযুক্ত হয়, তাহলে সেই লোকটি দোষী একথা প্রমাণ করার জন্য একজন সাক্ষী যথেষ্ট নয়। সেই ব্যক্তি যে সত্যই ভুল কাজ করেছিল সেটি প্রমাণ করার জন্য সেখানে অবশ্যই দুজন অথবা তিনজন সাক্ষী থাকতে হবে।

16“মিথ্যে কথা বলে একজন মিথ্যা সাক্ষী অপর একজন লোককে আঘাত করার চেষ্টা করতে পারে। 17যদি সেরকম ঘটে তাহলে ঐ দুজন ব্যক্তি অবশ্যই প্রভুর বিশেষ বাড়ীতে যাবে এবং সেই সময় সেখানে কর্তব্যরত যাজকরা এবং বিচারকরা তাদের বিচার করবে। 18বিচারকরা অবশ্যই সযত্নে অনুসন্ধান করবে। আর যদি প্রমাণ হয় যে সাক্ষী সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যে কথা বলেছিল, 19তাহলে তোমরা তাকে অবশ্যই শাস্তি দেবে। সে অপর ব্যক্তির প্রতি যা যা করতে চেয়েছিল, তোমরা তার প্রতি তাই করবে। এই প্রকারে তোমরা তোমাদের জাতি থেকে দুষ্টাচার দূর করে দেবে। 20অন্যান্য লোকরা এই ঘটনা শুনে ভয় পাবে এবং তারা এই রকম খারাপ কাজ আর করবে না।

21“অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী শাস্তি হবে। যে ব্যক্তি খারাপ কাজ করেছে তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য দুঃখিত হয়ো না। যদি কোন ব্যক্তি কারও জীবন নেয়, তাহলে তাকে অবশ্যই নিজের জীবন দিয়ে শোধ করতে হবে। নিয়ম হল: একটি চোখের জন্য একটি চোখ, একটি দাঁতের জন্য একটি দাঁত, একটি হাতের জন্য একটি হাত, একটি পায়ের জন্য একটি পা।

20

যুদ্ধের নিয়মসমূহ

1“তোমরা শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে যদি দেখ যে তোমাদের থেকেও তাদের অনেক বেশী ঘোড়া, রথ এবং লোক রয়েছে, তবে ভয় পেও না। কেন? কারণ প্রভু যিনি তোমাদের মিশর থেকে বার করে এনেছিলেন, তিনি তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে আছেন।

2“যখন তোমরা যুদ্ধে যাও তখন যাজক অবশ্যই সৈন্যদের কাছে যাবে এবং তাদের সঙ্গে কথা বলবে। 3যাজক বলবে, ‘ইস্রায়েলের লোকরা আমার কথা শোন! আজ তোমরা তোমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাচ্ছ। তোমরা সাহস হারিও না! তোমরা চিন্তিত এবং ভীত হয়ো না! শত্রুদের সম্পর্কে ভীত হয়ো না! 4কেন? কারণ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের সঙ্গে যাচ্ছেন। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন এবং তোমাদের বিজয়ী করবেন!’

5“ঐ লেবীয় গোষ্ঠীভুক্ত পদাধিকারী সৈন্যদের বলবে, ‘তোমাদের মধ্যে কি এমন কোনও ব্যক্তি আছে যে নতুন বাড়ী তৈরী করেছে, কিন্তু সেটিকে এখনও নিবেদন করেনি? সেই ব্যক্তির অবশ্যই বাড়ী ফিরে যাওয়া উচিৎ‌। নয় তো সে যুদ্ধে নিহত হলে অন্য একজন ব্যক্তি তার বাড়ী নিবেদন করবে। 6এখানে কি এমন কোনও ব্যক্তি আছে যে ক্ষেতে দ্রাক্ষার চারা রোপণ করেছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন দ্রাক্ষা একত্রিত করেনি? সেই ব্যক্তির অবশ্যই বাড়ী ফিরে যাওয়া উচিৎ‌। কারণ যদি সেই ব্যক্তি যুদ্ধে মারা যায়, তাহলে অপর একজন ব্যক্তি তার ক্ষেতের ফল ভোগ করবে। 7এখানে কি এমন কোনও ব্যক্তি আছে যে বিবাহের জন্য বাগদত্ত? সেই ব্যক্তির অবশ্যই বাড়ী ফিরে যাওয়া উচিৎ‌। কারণ যদি সে যুদ্ধে মারা যায়, তাহলে সে যার বাগদত্ত ছিল সেই স্ত্রীলোককে অপর একজন ব্যক্তি বিবাহ করবে।’

8“সেই লেবীয় পদাধিকারীরা সৈন্যদের একথাও জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোমাদের মধ্যে কি এমন কোন ব্যক্তি আছে যে উৎসাহ হারিয়েছে এবং ভীত হয়েছে? সে অবশ্যই বাড়ী ফিরে যাবে। তাহলে সে অন্যান্য সৈন্যদেরও নিরুৎসাহ করতে পারবে না।’ 9পরে সৈন্যদের সঙ্গে পদাধিকারীরা যখন কথাবার্তা শেষ করবে তখন তারা অবশ্যই সেনাধ্যক্ষদের নির্বাচিত করবে। যারা সৈন্যদের নেতৃত্ব দেবে।

10“যখন তোমরা কোন শহর আক্রমণ করতে যাবে, তখন প্রথমে সেখানকার লোকদের শান্তির আবেদন জানাবে। 11যদি তারা তোমাদের প্রস্তাব স্বীকার করে এবং দরজা খুলে দেয়, তাহলে সেই শহরের সমস্ত লোকরা তোমাদের ক্রীতদাসে পরিণত হবে এবং তোমাদের জন্য কাজ করতে বাধ্য হবে। 12কিন্তু যদি শহরের লোকরা তোমাদের শান্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আসে তাহলে তোমরা অবশ্যই শহরটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলবে। 13এবং যখন শহরটিকে অধিগ্রহণ করতে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের সাহায্য করবেন, তখন তোমরা অবশ্যই সেখানকার সমস্ত পুরুষদের হত্যা করবে। 14কিন্তু তোমরা তোমাদের নিজেদের জন্য স্ত্রীলোকদের, শিশুদের, গোরু এবং শহরের যাবতীয় জিনিস নিতে পার। তোমরা এই সমস্ত জিনিসগুলো ব্যবহার করতে পার। প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের এই জিনিসগুলি দিয়েছেন। 15তোমাদের থেকে অনেক দূরের সমস্ত শহরগুলোর প্রতি তোমরা এই কাজ করবে—তোমরা যে দেশে বাস কর সেখানকার শহরগুলো বাদ দেবে।

16“কিন্তু প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন তোমরা যখন সেই দেশের শহরগুলো অধিগ্রহণ করবে, তখন সেখানে শ্বাস নেয় এমন কাউকে জীবিত রাখবে না। 17তোমরা অবশ্যই প্রভুর আদেশ অনুসারে হিত্তীয়, ইমোরীয়, কনানীয় পরিষীয়, হিব্বীয় এবং যিবুষীয়দের পুরোপুরি ধ্বংস করবে। 18কারণ তা না হলে তারা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করতে শেখাবে; তারা তাদের দেবতাদের পূজা করার সময় যে সাংঘাতিক কাজগুলি করে সেগুলো তোমাদের শেখাবে।

19“যখন তোমরা একটি শহরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, তোমরা দীর্ঘকাল ধরে সেই শহরটিকে ঘিরে রাখতে পার। সেই শহরের চারদিকের ফলের গাছগুলো তোমরা কখনই কাটবে না। তোমরা এই গাছগুলোর ফল খেতে পার কিন্তু তোমরা কখনই তাদের কাটবে না। এই গাছগুলো শত্রু নয়, সুতরাং তাদের নষ্ট করো না! 20কিন্তু তোমরা যে গাছগুলোকে ফলের গাছ নয় বলে জানো, সেগুলোকে কাটতে পারো। সেই শহরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য অস্ত্র তৈরীর জন্য এই গাছগুলো ব্যবহার করতে পারো। শহরটির পতন না হওয়া পর্যন্ত তোমরা ঐ জিনিসগুলি ব্যবহার করতে পারো।

21

যদি কোনো ব্যক্তিকে নিহত পাওয়া যায়

1“প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন, সেখানকার ক্ষেতে যদি তোমরা কোনো মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখ, কিন্তু কে হত্যা করেছে তা যদি জানা না যায়, 2তখন তোমাদের দলনেতারা এবং বিচারকরা সেখানে যাবে এবং নিহত ব্যক্তির চারদিকের শহরগুলোর দূরত্ব পরিমাপ করবে। 3যখন তোমরা জানতে পারবে কোন শহরটি নিহত ব্যক্তির সব থেকে কাছে, তখন সেই শহরের দলনেতারা তাদের পশুশালা থেকে এমন একটি গোবৎস নিয়ে আসবে যাকে কখনই কোন কাজে ব্যবহার করা হয় নি এবং যে যোয়ালি বহন করে নি। 4সেই শহরের দলনেতারা তখন গোবৎসটিকে এমন একটি উপত্যকায় নামিয়ে আনবে যেখানে সবসময় জলের স্রোত বয়। এটিকে অবশ্যই এমন একটি উপত্যকা হতে হবে যা কখনও চাষ করা হয়নি বা যেখানে কিছু রোপণ করা হয়নি। এরপর নেতারা সেই উপত্যকায় গোবৎসটির ঘাড় ভাঙ্গবে। 5যাজকরা, লেবীর উত্তরপুরুষরা অবশ্যই সেখানে যাবে। (প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তাঁর সেবার জন্য এবং তাঁর নামে লোকদের আশীর্বাদ করার জন্য এই যাজকদের নির্বাচিত করেছেন। এবং সমস্ত বিবাদ ও আঘাতের বিচার তাঁরাই করবেন।) 6নিহত ব্যক্তির সব থেকে কাছের শহরের সমস্ত নেতারা উপত্যকায় যে গোবৎসের ঘাড় ভাঙ্গা হয়েছিল তার ওপরে অবশ্যই তাদের হাত ধোবে। 7এই নেতারা বলবে, ‘আমরা এই ব্যক্তিকে হত্যা করিনি এবং আমরা এটি ঘটতেও দেখিনি। 8হে প্রভু, তুমি যে ইস্রায়েলকে রক্ষা করেছিলে তাদেরই শুদ্ধ করো। একজন নিরপরাধ লোককে হত্যা করার দোষ আমাদের ওপর চাপিও না।’ এইভাবে একজন নিরপরাধ লোককে হত্যা করার জন্য ঐ সমস্ত লোকদের দোষ ক্ষমা করা হবে। 9এইভাবে তোমরা প্রভুর চোখে যা যথার্থ তাই করবে এবং তোমাদের জাতি থেকে নিরপরাধের রক্তপাতের দোষ দূর করবে।

যুদ্ধে বন্দী স্ত্রীলোকরা

10“তোমরা তোমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেলে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তাদের পরাজিত করতে তোমাদের সাহায্য করতে পারেন এবং তোমরা তোমাদের শত্রুদের বন্দী করে আনতে পারো। 11বন্দীদের মধ্যে কোনো সুন্দরী স্ত্রীলোককে দেখে মুগ্ধ হয়ে তোমাদের স্ত্রী হিসেবে তোমরা চাইতে পারো। 12তখন তাকে তোমার বাড়ীতে নিয়ে আসবে। সে অবশ্যই তার মাথা কামাবে এবং নখ কাটবে। 13সে যে জামাকাপড়গুলি পরে আছে যার থেকে বোঝা যায় যে সে যুদ্ধে বন্দীনী ছিল, সেগুলি সে অবশ্যই খুলে ফেলবে। সে অবশ্যই পুরো এক মাস তোমার বাড়ীতে থাকবে এবং বাবা মাকে হারানোর জন্য বিলাপ করবে। এরপর তুমি তার কাছে যেতে পার এবং তার স্বামী হতে পার। সে তোমার স্ত্রী হবে। 14যদি তুমি তার সঙ্গে সুখী না হও, তাহলে তুমি তাকে ত্যাগ করবে এবং তাকে স্বাধীনভাবে চলে যেতে দেবে। তুমি তাকে বিক্রি করতে পারবে না। তুমি কখনই তার সঙ্গে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করবে না কারণ তার সঙ্গে তোমার যৌন সম্পর্ক ছিল।

জ্যেষ্ঠাধিকার

15“কোন ব্যক্তির দু’জন স্ত্রী থাকতে পারে এবং সে একজন স্ত্রীকে আরেকজনের থেকে বেশী ভালোবাসতে পারে। কিন্তু যদি দু’জন স্ত্রীই তার জন্য সন্তান প্রসব করে এবং প্রথম সন্তানটি সে যে স্ত্রীকে ভালোবাসে না তার হয়, 16তবে সেই ব্যক্তি তার সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তির ভাগ করে দেবার সময় তার প্রথমজাত সন্তানের অংশ কখনোই সে যে স্ত্রীকে ভালোবাসে তার পুত্রকে দিতে পারবে না। 17সেই ব্যক্তি যে স্ত্রীকে ভালোবাসে না তার থেকে জাত তার প্রথম পুত্রের সমস্ত অধিকারগুলি তাকে মেনে নিতে হবে এবং সে তার প্রথম পুত্রকে অবশ্যই তার সম্পত্তির দুই অংশ দেবে, কারণ সেই সন্তান তার প্রথম সন্তান। প্রথমজাত সন্তান হিসাবে সমস্ত অধিকার তার আছে।

অবাধ্য সন্তান

18“কোন ব্যক্তির এমন এক পুত্র থাকতে পারে যে জেদী ও বিরোধী এবং তার পিতামাতাকে মানে না। তারা সেই পুত্রকে শাস্তি দেয় কিন্তু সে তবুও তাদের কথা শুনতে অস্বীকার করে। 19তার পিতা এবং মাতা তখন তাকে শহরের সভাস্থলে শহরের নেতাদের কাছে নিয়ে আসবে। 20তারা শহরের নেতাদের বলবে: ‘আমাদের পুত্র অবাধ্য এবং কোন কিছু মেনে চলতে অস্বীকার করে। আমরা তাকে যা করতে বলি তার কোনও কিছুই সে করে না। সে মদ্যপায়ী এবং পেটুক।’ 21তখন শহরের লোকরা পাথরের আঘাতে সেই পুত্রকে হত্যা করবে। এইভাবে তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে এই দুষ্টকে সরিয়ে দেবে। ইস্রায়েলের সমস্ত লোকরা এই ঘটনা সম্বন্ধে জানবে এবং ভীত হবে।

অপরাধীদের হত্যা করা এবং গাছে ঝোলানো সম্পর্কে

22“মৃত্যুদণ্ডের উপযুক্ত পাপ করেছে যে ব্যক্তি তাকে হত্যা করে তার শরীরটিকে কোন গাছের ওপরে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। 23তোমরা সারা রাত ধরে সেই মৃতদেহকে গাছে ঝুলিয়ে রেখো ন। বরং নিশ্চিতভাবে সেই একই দিনে সেই ব্যক্তিকে কবর দিও। কেন? কারণ গাছে ঝোলানো সেই লোকটি ঈশ্বরের দ্বারা অভিশপ্ত। প্রভু তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন সেই দেশকে তোমরা কখনই অশুচি করবে না।

22

অন্যান্য বিধিগুলি

1“যদি দেখ যে তোমাদের প্রতিবেশীর বলদ বা মেষগুলি পথ হারিয়েছে, তবে তোমরা বিষয়টিকে উপেক্ষা করবে না। সেটিকে অবশ্যই তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে আনবে। 2যদি মালিক কাছাকাছি বাস না করে অথবা যদি তোমরা না জানো যে এটি কার, তাহলে তোমরা সেই পশুকে তোমাদের বাড়ী নিয়ে যেতে পারো এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না মালিক এটির খোঁজে আসে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা এটিকে রাখতে পার। পরে তাকে এটি ফিরিয়ে দেবে। 3তোমাদের প্রতিবেশী যদি তার গাধা, জামাকাপড় অথবা অন্য কোনো কিছু হারায় তাহলেও তোমরা ঐ একই কাজ করবে। তোমরা এই বিষয়টি এড়িয়ে যেও না।

4“যদি তোমাদের প্রতিবেশীর গাধা অথবা গরু রাস্তায় পড়ে যায়, তোমরা সেটিকে অবহেলা করবে না। তোমরা অবশ্যই সেটিকে পুনরায় দাঁড় করাতে সাহায্য করবে।

5“স্ত্রীলোক কখনই পুরুষদের পোশাক পরবে না এবং পুরুষ কখনই স্ত্রীলোকদের পোশাক পরবে না। যে কেউ এই কাজ করে সে প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের কাছে ঘৃণার পাত্র।

6“তোমরা যদি গাছের ওপরে অথবা মাঠে কোনো পাখীর বাসা দেখ যেখানে মা পাখী তার শাবকদের সঙ্গে অথবা ডিমের ওপরে বসে আছে, তাহলে তোমরা কখনই বাচ্চাদের সঙ্গে মা পাখীকে নেবে না। 7তোমরা তোমাদের নিজেদের জন্য বাচ্চাদের নিতে পারো। কিন্তু তোমরা মাকে অবশ্যই যেতে দেবে। যদি তোমরা এই বিধিগুলি মেনে চল, তাহলে তোমাদের মঙ্গল হবে এবং তোমরা বহুদিন বেঁচে থাকবে।

8“যখন তোমরা নতুন বাড়ী তৈরী কর, তোমরা ছাদের চারধারে অবশ্যই দেওয়াল তুলবে। তাহলে বাড়ী থেকে পড়ে গিয়ে কোন ব্যক্তির মৃত্যুর জন্য তোমরা অবশ্যই দায়ী হবে না।

যে জিনিসগুলো কখনই একসঙ্গে রাখা যাবে না

9“তোমরা দ্রাক্ষা ক্ষেত্রে দুই ধরণের শস্যের বীজ বপন করবে না। কেন? কারণ তাহলে তোমার রোপন করা সমস্ত শস্য এবং এমনকি দ্রাক্ষা-ক্ষেত্রের দ্রাক্ষা থেকেও তুমি বঞ্চিত হবে।

10“তোমরা একই সঙ্গে একটি গরু এবং একটি গাধার সাহায্যে চাষ করবে না।

11“পশম এবং মসীনার সাহায্যে বোনা কাপড় তোমরা কখনই পরবে না।

12“তোমরা যে আলগা পোশাক পরো তার চারকোণের সুতোর গোছা বেঁধে খোপ দিও।

বিবাহ বিষয়ক বিধি

13“একজন পুরুষ কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করে তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার পরে মনস্থ করতে পারে সে তাকে আর চায় না। 14সেই জন্য সে মিথ্যাভাবে বলতে পারে, ‘আমি এই স্ত্রীলোকটিকে বিবাহ করেছিলাম বটে কিন্তু যৌন সহবাসের সময় দেখলাম যে সে কুমারী নয়।’ এই বলে সে সেই স্ত্রীলোকটির উপর দুর্নাম আনতে পারে। 15এই রকম ঘটলে মেয়েটির পিতা-মাতা সেই মেয়েটির কুমারীত্বের প্রমাণ নিয়ে নগরের প্রবীণদের সাথে নগরের সভাস্থলে উপস্থিত হবে। 16মেয়েটির পিতা প্রবীণদের বলবেন, ‘আমি আমার মেয়েকে এই লোকটির হাতে তার স্ত্রী হিসাবে দিয়েছিলাম কিন্তু এখন সে তাকে পছন্দ করে না। 17এই লোকটি আমার মেয়ের নামে মিথ্যা বলেছে। সে বলেছে, “তোমার মেয়ে কুমারী ছিল না।” কিন্তু এই দেখুন আমার মেয়ে যে কুমারী তার প্রমাণ।’ এই বলে তারা কাপড়টি নগরের প্রবীণদের দেখাবে। 18তখন সেই নগরের প্রবীণরা অবশ্যই সেই লোকটিকে নিয়ে গিয়ে শাস্তি দেবে। 19তারা অবশ্যই লোকটির জন্য 40 আউন্স রৌপ্য জরিমানা করবে। সেই টাকা যেন মেয়েটির পিতাকে দেওয়া হয়, কারণ মেয়েটির স্বামী একজন ইস্রায়েলীয় কুমারীর উপর দুর্নাম এনেছে। আর সেই মেয়েটি সেই লোকটির স্ত্রী হয়েই থাকবে। সেই লোকটি তার জীবনকালে তাকে বিবাহ বিচ্ছেদ দিতে পারবে না।

20“কিন্তু এও হতে পারে যে মেয়েটির স্বামী তার সম্বন্ধে যা বলেছে তা সত্য। স্ত্রীলোকটির মাতা-পিতার কাছে তার কুমারীত্বের প্রমাণ নাও থাকতে পারে। 21যদি তাই ঘটে তবে নগরের প্রবীণরা সেই মেয়েটিকে নিয়ে তার পিতার বাড়ীর দরজায় আসবে। তারপর সেই নগরের লোকরা মেয়েটিকে পাথর মেরে হত্যা করবে। কারণ ইস্রায়েলের মধ্যে সে লজ্জাজনক কাজ করেছে। সে পিতার বাড়ীতে বেশ্যার মতো ব্যবহার করেছে। তুমি তোমার লোকদের মধ্যে থেকে এইভাবে দুষ্টাচার দূর করবে।

যৌন পাপসকল

22“যদি কোন পুরুষ অপরের স্ত্রীর সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত থাকাকালীন ধরা পড়ে তবে দুজনকেই অবশ্যই মরতে হবে—সেই স্ত্রীলোকটিকে এবং তার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত পুরুষটিকে হত্যা করে তোমরা অবশ্যই ইস্রায়েলের মধ্যে থেকে এই দুষ্টাচার দূর করবে।

23“কোন লোক অপরের বাগদত্তা কোন কুমারীকে নগরের মধ্যে দেখতে পেয়ে তার সাথে যৌন সহবাসে লিপ্ত হতে পারে। 24এই রকম ঘটলে তুমি অবশ্যই তাদের দুজনকে নগরের দ্বারে সকলের সামনে নিয়ে এসে পাথর মেরে হত্যা করবে। লোকটিকে হত্যা করার কারণ সে অপরের স্ত্রীর সাথে যৌন পাপ করেছে; এবং মেয়েটিকে হত্যা করার কারণ সে নগরের মধ্যে থাকলেও সাহায্যের জন্য চিৎকার করে নি। তোমরা অবশ্যই এইভাবে লোকদের মধ্য হতে এই দুষ্টাচার দূর করবে।

25“কিন্তু কোন লোক যদি বাগ্দত্তা স্ত্রীলোককে ক্ষেতের মধ্যে পেয়ে জোরপূর্বক তার সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয় তবে কেবল লোকটিকেই মরতে হবে। 26তোমরা অবশ্যই সেই মেয়েটির প্রতি কিছু করবে না। সে মৃত্যুর যোগ্য এমন কোন অপরাধ করে নি। এই ঘটনা প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে উঠে তাকে হত্যা করার মতো। 27লোকটি ক্ষেতে সেই বাগ্দত্তা মেয়েটিকে দেখে তাকে আক্রমণ করল। হয়তো মেয়েটি সাহায্যের জন্যও চিৎকার করেছিল কিন্তু সাহায্যের জন্য কেউ ছিল না। সুতরাং তাকে যেন শাস্তি দেওয়া না হয়।

28“একজন লোক হয়তো বাগ্দত্তা নয় এমন কোন কুমারীকে পেয়ে তার সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে পারে। যদি অন্য লোকরা তা ঘটতে দেখে, 29তাহলে সে মেয়েটির পিতাকে 20 আউন্স রূপো দেবে এবং সেই মেয়েটি লোকটির স্ত্রী হবে। যেহেতু সে যৌন পাপ করেছিল, তাই তার জীবনকালে সে তাকে ত্যাগ করতে পারবে না।

30“কোন লোক যেন তার পিতার স্ত্রী অর্থাৎ‌ সৎ‌ মায়ের সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে তার পিতাকে লজ্জায় না ফেলে।”

23

যে লোকরা উপাসনায় যোগ দিতে পারে

1“যে লোকের অণ্ডকোষ চূর্ণ অথবা জননাঙ্গ ছিন্ন হয়ে গেছে, সে ইস্রায়েলের লোকদের সাথে প্রভুর উপাসনায় যোগ দিতে পারবে না। 2যদি কোন লোকের মাতাপিতা বৈধ ভাবে বিয়ে না করে থাকে তবে সেই লোকটি ইস্রায়েলের লোকদের সাথে প্রভুর উপাসনায় যোগ দিতে পারবে না এবং তার উত্তরপুরুষদের দশ পুরুষ পর্যন্ত কেউ উপাসনাকারীদের দলে যোগ দিতে পারবে না।

3“অম্মোনীয় ও মোয়াবীয় কেউই ইস্রায়েলের লোকদের সাথে যোগ দিয়ে প্রভুর উপাসনা করতে পারবে না। তাদের উত্তরপুরুষরা দশ পুরুষ পর্যন্ত কেউই সেই দলে যোগ দিতে পারবে না। 4কারণ মিশর থেকে তোমাদের বার হয়ে আসার সময় যাত্রা পথে তারা রুটি ও জল নিয়ে তোমাদের সাথে দেখা করে নি। তারা তোমাদের অভিশাপ দেবার জন্য বিলিয়মকে ভাড়া করার চেষ্টা করেছিল। (বিয়োরের পুত্র বিলিয়ম ছিল অরাম, নহরয়িমাস্থ পথোর নগরের লোক।) 5কিন্তু প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর বিলিয়মের কথা গ্রাহ্য করেন নি। প্রভু তোমাদের জন্য সেই অভিশাপ আশীর্বাদে বদলে দিলেন। কারণ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের ভালবাসেন। 6তোমরা কখনই অম্মোনীয় ও মোয়াবীয় লোকদের সাথে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করবে না। তোমরা যত দিন বেঁচে থাকবে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে না।

ইস্রায়েলীয়রা যাদের গ্রহণ করবে

7“তোমরা অবশ্যই কোন ইদোমীয়কে ঘৃণা করবে না, কারণ সে তোমার আত্মীয়। তোমরা অবশ্যই কোন মিশরীয়কে ঘৃণা করবে না, কারণ তোমরা তাদের দেশে বিদেশী ও প্রবাসী ছিলে। 8ইদোমীয়দের তৃতীয় পুরুষের বংশধররা এবং মিশরীয়রা ইস্রায়েলের লোকদের সাথে প্রভুর উপাসনায় যোগ দিতে পারে।

সেনা শিবির শুচি রাখার বিধি

9“যখন তোমাদের সৈন্যরা শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করতে যায়, তখন সেই সব বিষয় থেকে দূরে থেকো যা তোমাদের অশুচি করে। 10যদি রাতের স্বপ্নে রেতপাতের ফলে কেউ অশুচি হয়, তবে সে শিবিরের বাইরে যাবে। সে শিবির থেকে দূরে থাকবে। 11পরে বিকেল হলে সেই ব্যক্তি জলে স্নান করবে এবং সূর্য অস্ত গেলে সে আবার শিবিরে ফিরে আসতে পারে।

12“পায়খানা করার জন্য শিবিরের বাইরে একটা জায়গা ঠিক করে রাখবে। 13তোমাদের অস্ত্রের সাথে একটা লাঠিও রেখ যার সাহায্যে গর্ত করে পায়খানা করার পর চাপা দেবে। 14কেন? কারণ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের পরিত্রাণ করতে এবং তোমাদের শত্রুদের পরাজিত করার জন্য তোমাদের শিবিরের মধ্যে গমনাগমণ করেন। সুতরাং শিবিরকে অবশ্যই পবিত্র রাখবে। তাহলে প্রভু বিরক্তিকর কিছু দেখে তোমাদের ছেড়ে যাবেন না।

অন্যান্য বিধিসকল

15“যদি কোন ক্রীতদাস তার মনিবের কাছ থেকে পালিয়ে তোমার কাছে আসে, তবে তুমি সেই ক্রীতদাসকে তার মনিবের কাছে ফেরত পাঠাবে না। 16এই ক্রীতদাস তোমার সাথে তার পছন্দমত যে কোন শহরে বাস করতে পারে। তুমি তাকে কষ্ট দিও না।

17“কোন ইস্রায়েলীয় পুরুষ বা নারী কখনও যেন মন্দিরের বেশ্যা না হয়। 18কোন পুরুষ বা নারী বেশ্যা বৃত্তির দ্বারা উপার্জিত অর্থ যেন তোমার প্রভু ঈশ্বরের বিশেষ গৃহে না আনে। সেই অর্থ দিয়ে কেউ যেন ঈশ্বরের কাছে করা মানত পূর্ণ না করে। কারণ যারা নিজের দেহকে যৌন পাপের জন্য বিক্রি করে দেয় প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তাদের ঘৃণা করেন।”

19“তুমি যখন কোন ইস্রায়েলীয়কে কিছু ধার দাও, তখন সুদ ধার্য্য কোরো না। টাকা, খাবার বা অন্য যা কিছুই সুদ আদায়ে সক্ষম তার উপরে তোমরা সুদ ধার্য্য করবে না। 20তোমরা কোন বিদেশীর কাছে সুদ নিতে পার, কিন্তু তোমরা কোন ইস্রায়েলীয়র কাছ থেকে সুদ নিও না। তোমরা এই বিধিগুলো মেনে চললে তোমাদের প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমরা যে দেশে বাস করতে যাচ্ছ সেখানে তোমরা যা কিছু করবে তাতেই আশীর্বাদ করবেন।

21“তুমি তোমার প্রভু ঈশ্বরের কাছে কিছু মানত করলে তা দিতে দেরী করো না কারণ তোমার প্রভু ঈশ্বর তা তোমার কাছ থেকে দাবী করবেন। তুমি যা দেবে বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলে তা না দিলে তোমার পাপ হবে। 22কিন্তু যদি মানত না কর তাহলে তোমার পাপ হবে না। 23কিন্তু যে প্রতিজ্ঞাগুলি করেছিলে সেগুলি অবশ্যই রাখবে। তুমি যদি ঈশ্বরের কাছে কোন বিশেষ প্রতিজ্ঞা করে থাক তাহলে তোমার অবশ্যই সেই প্রতিজ্ঞা রক্ষা করা উচিৎ‌। কারণ তুমিই সেই প্রতিজ্ঞাগুলি করেছিলে। প্রভু তোমাকে এটা করতে বাধ্য করেন নি।

24“তুমি কারও দ্রাক্ষা ক্ষেতে গেলে তোমার যত ইচ্ছা দ্রাক্ষা খেতে পার, কিন্তু তোমার ঝুড়িতে একটাও সংগ্রহ করবে না। 25যখন তুমি কোন লোকের ক্ষেতে যাও, তখন হাতে ছিঁড়ে যত শীষ খেতে পার খেও, কিন্তু কাস্তে ব্যবহার করে সেই শীষ কেটে নিয়ে যেতে পারো না।

24

1“বিয়ে করার পর যদি কোন পুরুষ তার স্ত্রীর মধ্যে এমন কিছু লজ্জাকর জিনিষ দেখে যার জন্য সে তার প্রতি সন্তুষ্ট না হয়, তবে সে ত্যাগ পত্র লিখে তাকে বাড়ী থেকে বিদায় করে দেবে। 2সেই ঘর ত্যাগ করার পর সেই স্ত্রী গিয়ে অন্য কোন পুরুষের স্ত্রী হতে পারে। 3 কিন্তু এমন হতে পারে যে সেই নতুন স্বামীও তাকে পছন্দ করল না এবং বাড়ী থেকে বিদায় করল। তারপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তাকে বিবাহ বিচ্ছেদ দেয়, অথবা যদি সে মারা যায় তবে প্রথম স্বামী আর তাকে তার স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করতে পারবে না। সে তার কাছে অশুচি, তাই সে যদি আবার বিয়ে করে তবে সে প্রভু যা ঘৃণা করেন তাই করবে। প্রভু, তোমার ঈশ্বর, অধিকারের জন্য যে দেশ দিচ্ছেন সেখানে তুমি অবশ্যই এভাবে পাপ করবে না।

5“সবে বিয়ে হয়েছে এমন লোকের সৈন্যবাহিনীতে অথবা অন্য এরকম কোন বিশেষ কাজে যোগ দেবার প্রয়োজন নেই। এক বছরের জন্য সে স্বাধীনভাবে বাড়ীতে থেকে তার স্ত্রীকে খুশী করতে পারে।

6“যখন তোমরা কাউকে ধার দাও, তখন বন্ধক হিসাবে যাঁতার কোন অংশ নিও না। কারণ তা করলে তা তার খাবার কেড়ে নেওয়ার সমান হয়।

7“ইস্রায়েলীয় কোন লোক যদি অপর কোন একজন ইস্রায়েলীয়কে চুরি করে তাকে দাস হিসাবে বিক্রি করে, তবে সেই চোরকে যেন হত্যা করা হয়। এইভাবে তোমরা তোমাদের মধ্যে থেকে দুষ্টাচার দূর করবে।

8“তোমার খারাপ ধরণের কোন চর্মরোগ হলে লেবীয় যাজকরা যা করতে বলে যত্ন সহকারে তার সব কথা পালন করো। আমি সেই যাজকদের যা আজ্ঞা করেছি তা যত্নের সাথে পালন করো। 9মনে রেখো, মিশর থেকে বাইরে আসার সময় প্রভু, তোমার ঈশ্বর মরিয়মের প্রতি কি করেছিলেন।

10“কোন লোককে কিছু ধার দেওয়ার সময় বন্ধক নেওয়ার জন্য তার বাড়ীতে ঢুকবে না। 11সে বন্ধক নিয়ে তার বাড়ী থেকে বেরিয়ে আসার সময় তুমি তার বাড়ীর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবে। 12যদি সেই লোকটি গরীব হয় তবে সে হয়তো বন্ধক হিসাবে তার গরম কাপড় দিতে পারে। এই ধরণের বন্ধক সূর্যাস্তের পর তোমার কাছে রাখবে না। 13তার এই বন্ধক রোজ বিকেলে তার কাছে ফিরিয়ে দিও। তাহলে সে শোবার জন্য কাপড় পাবে। সে তোমাকে আশীর্বাদ করবে, আর প্রভু, তোমার ঈশ্বর, এই কাজকে ধার্মিকতার কাজ হিসাবে গণ্য করবেন।

14“দরিদ্র এবং অভাবী শ্রমিককে তোমরা মজুরীর ব্যাপারে ঠকাবে না। সে তোমাদের কোন নগরে বাসকারী ইস্রায়েলীয় হোক্ বা বিদেশী হোক্ তাতে কিছু এসে যায় না। 15প্রতিদিন সূর্যাস্তের আগে তাকে তার বেতন মিটিয়ে দেবে, কারণ সে গরীব এবং ঐ অর্থের উপরেই সে নির্ভর করে। যদি তুমি তার বেতন মিটিয়ে না দাও, সে তোমার বিরুদ্ধে প্রভুর কাছে অভিযোগ করবে এবং তুমি সেই পাপে দোষী হবে।

16“সন্তান দোষ করলে পিতামাতার বা পিতামাতা দোষ করলে তার জন্য সন্তানের প্রাণদণ্ড দেওয়া যাবে না। কোন ব্যক্তিকে কেবল তার নিজের করা অন্যায়ের জন্যই প্রাণদণ্ড দেওয়া যাবে।

17“পরদেশী এবং অনাথদের বিচারে অন্যায় করো না। আর বন্ধক হিসাবে কখনও কোন বিধবার কাপড় নিও না। 18মনে রেখো, তোমরা মিশরে গরীব ও দাস ছিলে এবং প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের সেই অবস্থা থেকে মুক্ত করে আনলেন। সেই জন্যই গরীবদের প্রতি আমি তোমাদের এই কাজ করতে বলি।

19“ক্ষেতে শস্য কাটার সময় তুমি যদি ভুলে গিয়ে কিছু শস্য মাঠে ফেলে এসে থাকো, তাহলে সেগুলি সংগ্রহ করার জন্য আবার ফিরে যেও না, সেটা বিদেশী, অনাথ বা বিধবাদের জন্য থাকবে। তুমি তাদের জন্য কিছু শস্য রাখলে তোমরা যা কিছু কর প্রভু ঈশ্বর তাতেই তোমাদের আশীর্বাদ করবেন। 20তুমি যখন জলপাই গাছের ফল পাড়ার জন্য ঝাড় তখন আবার প্রতিটি শাখা খুঁজে খুঁজে দেখো না। যে জলপাই ফেলে রাখলে তা বিদেশী, পিতৃহীন ও বিধবাদের জন্য রইল। 21তুমি যখন দ্রাক্ষা ক্ষেতের দ্রাক্ষা সংগ্রহ কর তখন পড়ে থাকা দ্রাক্ষা আবার কুড়াবার জন্য যেও না। সেই দ্রাক্ষাগুলো বিদেশী, পিতৃহীন এবং বিধবাদের জন্য রাখ। 22মনে রেখো, তুমি মিশরে গরীব দাস ছিলে। সেই জন্য গরীবদের জন্য আমি তোমাকে এই কাজগুলো করতে বলি।

25

1“দুই ব্যক্তির মধ্যে বিবাদ হলে তারা যেন আদালতে যায়। বিচারকর্তাদের কাজ হল ঠিক করা কে দোষী আর কে নির্দোষ। 2যদি বিচারকর্তা ঠিক করেন যে কোন ব্যক্তিকে বেত মারা হবে, তবে তিনি যেন তাকে মাটির দিকে মুখ করে শোয়ান। বিচারকর্তার সামনে যেন দোষী ব্যক্তিকে বেত মারা হয়। অপরাধের গুরুত্ব অনুসারে যেন আঘাত করার সংখ্যা ঠিক করা হয়। 3যদি তুমি কোন ব্যক্তিকে 40 বারের বেশী প্রহার করে থাক তার অর্থ দোষী ব্যক্তিটির জীবন তোমার কাছে মুল্যবান নয়।

4“শস্য মাড়ার জন্য পশু ব্যবহার করলে পশুটিকে শস্য না খেতে দেওয়ার জন্য তার মুখ বেঁধে দেওয়া উচিৎ‌ নয়।

5“দুই ভাই একসাথে বাসকালীন যদি তাদের একজন কোন পুত্রের জন্ম না দিয়ে মারা যায় তবে সেই মৃত ভাইয়ের স্ত্রী যেন পরিবারের বাইরে কোন বিদেশীকে বিয়ে না করে। সেক্ষেত্রে তার স্বামীর ভাই-ই তাকে তার স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করে তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করবে। সেই দেবর তার প্রতি দেবরের কর্তব্য করবে। 6আর প্রথম পুত্রের জন্ম হলে সেই পুত্র সেই মৃত ভাইয়ের জায়গা নেবে। তাহলে সেই মৃত ভাইয়ের নাম ইস্রায়েল থেকে লোপ পাবে না। 7যদি সেই ব্যক্তি তার ভাইয়ের স্ত্রীকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তবে সেই স্ত্রী যেন অবশ্যই নগরের সভাস্থলে প্রাচীনদের কাছে যায় এবং তাদের এই কথা বলে, ‘আমার স্বামীর ভাই ইস্রায়েলে তার দাদার নাম জীবিত রাখতে অস্বীকার করছে। সে আমার প্রতি দেবরের কর্তব্য পালন করছে না।’ 8তখন সেই নগরের প্রাচীনরা সেই ব্যক্তিকে ডেকে তার সাথে কথা বলবে। যদি সেই ব্যক্তি একগুঁয়ে মনোভাব নিয়ে বলে, ‘আমি তাকে গ্রহণ করতে চাই না,’ 9তবে সেই স্ত্রী প্রাচীনদের উপস্থিতিতে তার সামনে আসবে। সেই স্ত্রী সেই ভাইয়ের পায়ের জুতো চটি খুলে নিয়ে তার মুখে থুতু দেবে এবং বলবে, ‘যে কেউ তার ভাইয়ের বংশ রক্ষা না করে, তার প্রতি এই রকম করা হবে।’ 10তখন ইস্রায়েলে সেই ভাইয়ের পরিবার ‘মুক্ত পাদুকের কুল’ বলে পরিচিত হবে।

11“দুই ব্যক্তির মধ্যে ঝগড়া হলে কোন এক ব্যক্তির স্ত্রী তাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে পারে, কিন্তু সে যেন কখনই অন্য ব্যক্তির যৌনাঙ্গ না ধরে। 12সেই কাজ করলে তার হাত কেটে ফেলবে, তার জন্য দুঃখ পেও না।

13“লোককে ঠকাবার জন্য দুই ধরণের বাটখারা অর্থাৎ‌ খুব ভারী ও খুব হাল্কা বাটখারা ব্যবহার করো না। 14তোমার বাড়ীতে খুব বড় বা খুব ছোট পরিমাণ পাত্র রেখো না। 15তুমি অবশ্যই সঠিক মাপের ওজন বাটখারা ও পরিমাণ পাত্র ব্যবহার করবে। তাহলে তোমার প্রভু ঈশ্বর তোমায় যে দেশ দিচ্ছেন, সেই দেশে তুমি দীর্ঘজীবি হবে। 16কারণ যারা এই ধরণের কাজ করে তারা অন্যায় করে এবং তোমার প্রভু ঈশ্বরের কাছে ঘৃণার পাত্র হয়।

অমালেকীয়দের ধ্বংস করা অবশ্য কর্তব্য

17“মনে করে দেখো তোমরা মিশর দেশ থেকে বার হয়ে আসার পর পথে অমালেকীয়রা তোমাদের প্রতি কি করেছিল। 18তোমরা যখন ক্লান্ত ও দুর্বল সেই সময় তারা তোমাদের আক্রমণ করল। তোমাদের মধ্যে যারা পিছিয়ে পড়ে আস্তে আস্তে হাঁটছিল তাদের সকলকে তারা হত্যা করেছিল। অমালেকীয়রা ঈশ্বরকে সম্মান করে নি। 19সেই জন্যই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন, সেই দেশের চারদিকের সমস্ত শত্রু হতে তিনি তোমাদের বিশ্রাম দিলে পর তোমরা পৃথিবী থেকে অমালেকীয়দের স্মৃতি লোপ করবে। একাজ করতে ভুলো না।

26

প্রথম ফসল

1“প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, যে দেশ দিচ্ছেন সেই দেশে তোমরা শীঘ্রই প্রবেশ করবে। সেই দেশ অধিগ্রহণ করার পর তোমরা সেখানে বাস করবে। 2প্রভুর দেওয়া সেই দেশে শস্য সংগ্রহ করার সময় তোমরা অবশ্যই প্রথম ফসল সংগ্রহ করে ঝুড়িতে রাখবে। তারপর ফসলের সেই প্রথম অংশ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, নিজের জন্য যে গৃহ মনোনীত করেন সেইখানে আনবে। 3সেই সময় যে যাজক সেখানে পরিচর্যায় রয়েছেন তাঁর কাছে গিয়ে বলবে, ‘প্রভু আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে একটি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে তিনি আমাদের এই দেশ দিতে চলেছেন। আজ আমি প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের কাছে এই বলার জন্য এসেছি যে আমি সেই দেশে এসেছি!’

4“তখন যাজক তোমার হাত থেকে সেই ঝুড়ি নিয়ে তা প্রভু, তোমার ঈশ্বরের বেদীর সামনে রাখবেন। 5তখন সেখানে তোমার প্রভু ও ঈশ্বরের সামনে তুমি বলবে: ‘আমার পিতৃপুরুষ একজন অরামীয় পর্যটক ছিলেন। তিনি মিশরে নেমে গিয়ে সেখানে থাকলেন। সেখানে যাবার সময় তাঁর পরিবারে অল্প লোক ছিল। কিন্তু মিশরে তিনি এক মহান জাতি হয়ে উঠলেন—বহু লোকের এক শক্তিশালী জাতি। 6মিশরীয়রা আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করল। তারা আমাদের দাস করে রাখল। তারা আমাদের আঘাত করে কঠিন পরিশ্রম করতে বাধ্য করল। 7তখন আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রভু ও ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানালাম এবং তাদের বিষয়ে অভিযোগ করলাম। প্রভু আমাদের কথা শুনলেন, আমাদের সমস্যা, কঠিন পরিশ্রম ও কষ্টের প্রতি তাঁর নজর পড়ল। 8তখন প্রভু তাঁর মহান ক্ষমতা ও শক্তি এবং নানা চিহ্ন ও অদ্ভূত লক্ষণ দ্বারা আমাদের মিশর থেকে বাইরে বার করে নিয়ে এলেন। তিনি বিস্ময়কর কাজ দেখালেন। 9এইভাবে তিনি আমাদের এই স্থানে বার করে আনলেন এবং উত্তম বিষয়ে পরিপূর্ণ এমন এই দেশ দিলেন। 10এখন হে প্রভু, তুমি যে দেশ দিয়েছ তার প্রথম ফসল আমি তোমার কাছে এনেছি।’

“তারপর তুমি অবশ্যই প্রভু, তোমার ঈশ্বরের সামনে সেই ফসল নামিয়ে রেখে নত হয়ে তাঁর উপাসনা করবে। 11তারপর তুমি এক সঙ্গে সেই সব উত্তম জিনিস নিয়ে খাওয়া-দাওয়া ও আনন্দ করবে যা প্রভু, তোমার ঈশ্বর তোমায় ও তোমার পরিবারকে দিয়েছেন। তুমি অবশ্যই সেই সব জিনিস লেবীয়দের সঙ্গে এবং তোমাদের মধ্যে বাসকারী বিদেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেবে।

12“প্রত্যেক তৃতীয় বছরে তুমি তোমার উৎপন্ন দ্রব্যের এক দশমাংশ ওজন করবে, তারপর সেই দশমাংশ লেবীয়দের, তোমার দেশে বাসকারী বিদেশীদের এবং বিধবা ও পিতৃহীনদের দেবে। তাহলে প্রত্যেক শহরে ঐ সব লোকদের যথেষ্ট খাবার থাকবে। সেই তৃতীয় বছরকে বলা হবে দশমাংশ দানের বছর। 13তুমি অবশ্যই প্রভু, তোমার ঈশ্বরকে বলবে, ‘আমি আমার বাড়ী থেকে উৎপন্ন দ্রব্যের পবিত্র অংশ নিয়ে এসে তা লেবীয়দের, বিদেশীদের, পিতৃহীন ও বিধবাদের দিয়েছি। আমি তোমার আজ্ঞার কোনটি পালন করতে অস্বীকার করি নি। আমি সে সব ভুলেও যাই নি। 14শোকের সময় আমি সেই খাদ্য ভোজন করি নি। সেই খাদ্য সংগ্রহ করার সময় আমি অশুচি ছিলাম না। আমি এই খাবার মৃত লোকদের উদ্দেশ্যে নিবেদন করি নি। হে প্রভু, আমার ঈশ্বর, আমি তোমার বাক্য পালন করেছি এবং তোমার সমস্ত আজ্ঞা পালন করেছি। 15তোমার পবিত্র আবাস স্বর্গ থেকে দেখ, তোমার প্রজা ইস্রায়েলকে আশীর্বাদ কর এবং তোমার দেওয়া এই দেশকে আশীর্বাদ কর—ঠিক যেমন দেশ আমাদের দেবে বলে তুমি আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে অর্থাৎ‌ অনেক উত্তম বিষয়ে পরিপূর্ণ এক দেশ।’

প্রভুর আজ্ঞা পালন কর

16“আজ এই সমস্ত বিধি ও নিয়ম পালন করার জন্য প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের আদেশ করছেন। তোমাদের সমস্ত মন ও প্রাণ দিয়ে সে সকল পালন করার ব্যাপারে যত্ন নিও। 17আজ তোমরা প্রভুকে তোমাদের ঈশ্বর বলে স্বীকার করেছ এবং তাঁর ইচ্ছানুসারে জীবনযাপন করার প্রতিজ্ঞা করেছ। তোমরা তাঁর শাসন মেনে চলার ও তাঁর বিধি, আজ্ঞা পালন করার প্রতিজ্ঞা করেছ। তিনি তোমাদের যা বলেন সেই অনুসারে কাজ করার কথাও বলেছ। 18আর আজ প্রভু ও এই অঙ্গীকার করছেন। তিনি যেমন প্রতিজ্ঞা করেছেন সেই মত তোমরা হবে তাঁর নিজস্ব প্রজা। তিনি আরও বলেছেন যে তাঁর সকল আজ্ঞাগুলির প্রতি তোমরা অবশ্যই বাধ্য থাকবে। 19এবং প্রভু তাঁর সৃষ্ট সমস্ত জাতির মধ্যে প্রশংসা, যশ ও সম্মানের দিক থেকে তোমাকে শ্রেষ্ঠ করবেন। আর প্রভু যেরকম বলেছেন সেই ভাবেই তুমি তাঁর পবিত্র প্রজা হবে।”

27

লোকদের জন্য পাথরের স্মৃতিফলক

1মোশি এবং ইস্রায়েলের প্রবীণরা লোকদের এই আজ্ঞা করে বললেন, “আজ আমি তোমাদের যে আজ্ঞা দিই তার সব পালন করবে। 2প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন, যে দিন যর্দন নদী পার হয়ে তোমরা সেই দেশে প্রবেশ করবে সেদিন অবশ্যই তোমরা বড় পাথরের চাঁই স্থাপন করে তাতে প্রলেপ দেবে। 3তারপর এই পাথরগুলির উপর এই সমস্ত আজ্ঞা অবশ্যই লিখবে। যর্দন নদী পার হলে তোমরা অবশ্যই এই কাজ করবে। তারপর প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন সেই দেশে প্রবেশ করবে। সেই দেশ অনেক উত্তম দ্রব্যে পরিপূর্ণ। প্রভু, তোমাদের পূর্বপুরুষের ঈশ্বর, এই দেশ দেবেন বলেই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।

4“এবল পর্বতে দাঁড়িয়ে আজ আমি পাথর স্থাপনের বিষয়ে তোমাদের যে আদেশ দিচ্ছি, যর্দন নদী পার হলে তোমরা অবশ্যই তা পালন করবে। সেই সব পাথরে তোমরা অবশ্যই চুন লেপবে। 5আর সেখানে তোমরা পাথর দিয়ে প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের জন্য এক বেদী নির্মাণ করবে। সেই পাথরগুলি কাটতে লোহার য়ন্ত্রপাতি ব্যবহার করবে না। 6প্রভু, তোমার ঈশ্বরের, উদ্দেশ্যে বেদী নির্মাণ করার সময় কেটে সাইজ করা পাথর ব্যবহার করবে না। সেই বেদীর উপরে প্রভু, তোমার ঈশ্বরের, উদ্দেশ্যে হোমবলি উৎসর্গ করবে। 7এবং সেই খানে তোমরা অবশ্যই বলি হিসেবে মঙ্গল নৈবেদ্য দান করবে এবং সেই খানেই তা খাবে। সেখানে প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের সামনে তুমি আনন্দ করবে। 8তোমরা যে পাথর স্থাপন করেছ তাতে অবশ্যই এই সমস্ত শিক্ষা লিখবে। সেগুলো স্পষ্ট ভাবে লিখো যাতে সহজে পড়া যায়।”

বিধি ব্যবস্থার অভিশাপে লোকদের সম্মতি

9মোশি এবং যাজকরা ইস্রায়েলের লোকদের সঙ্গে কথা বললেন, “হে ইস্রায়েল, শান্ত হয়ে শোন। আজ তোমরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের প্রজা হলে। 10সুতরাং প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, যা যা বলেন তার সমস্তই পালন করো। আমি আজ তাঁর যে সব আজ্ঞা ও বিধি আদেশ করছি তা অবশ্যই পালন করবে।”

11সেই একই দিনে মোশি লোকদের বললেন, 12“তোমরা যর্দন নদী পার হলে পরে শিমিয়োন, লেবি, যিহূদা, ইষাখর, যোষেফ ও বিন্যামীন এই পরিবারগোষ্ঠীগুলির লোকদের বিধিপুস্তক থেকে আশীর্বাদ পড়ার জন্য গরিষীম পাহাড়ে দাঁড়াবে। 13আর রূবেণ, গাদ, আশের, সবুলূন, দান ও নপ্তালি এই পরিবারগোষ্ঠীগুলি বিধিপুস্তক থেকে শাপ পড়ার জন্য এবল পর্বতে দাঁড়াবে।

14“আর লেবীয়রা সমস্ত ইস্রায়েলীয়কে জোরে চিৎকার করে বলবে:

15“‘যে কেউ মূর্ত্তি তৈরী করে এবং সেগুলি গোপন জায়গায় রাখে, সে অভিশপ্ত হয়। ঐ মূর্ত্তিগুলি শিল্পীর দ্বারা খোদিত বা ছাঁচে ঢালা মূর্ত্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রভু এগুলিকে ঘৃণা করেন।’

“তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’

16“লেবীয়রা বলবে, ‘পিতামাতাকে যে কেউ অসম্মান করে সে শাপগ্রস্ত!’

“তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’

17“লেবীয়রা বলবে, ‘যে ব্যক্তি প্রতিবেশীর জমির চিহ্ন স্থানান্তর করে সে শাপগ্রস্ত!’

“তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’

18“লেবীয়রা বলবে, ‘যে ব্যক্তি কোন অন্ধকে ভুল পথে চালায় সে শাপগ্রস্ত!’

“তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’

19“লেবীয়রা বলবে, ‘যে ব্যক্তি বিদেশী, অনাথ এবং বিধবার সুবিচার করে না সে শাপগ্রস্ত!’

“তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’

20“লেবীয়রা বলবে, ‘পিতার স্ত্রীর অর্থাৎ‌ সৎ‌ মায়ের সাথে যৌন সম্পর্ক করে এমন যে কোন ব্যক্তি শাপগ্রস্ত। কারণ এইভাবে সে তার পিতাকে অসম্মান করেছে!’

“তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’

21“লেবীয়রা বলবে, ‘যে কোন ধরণের পশুর সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত ব্যক্তি শাপগ্রস্ত!’

“তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’

22“লেবীয়রা বলবে, ‘যে ব্যক্তি তার বোনের সাথে অর্থাৎ‌ তার পিতা অথবা মাতার কন্যার সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয় সে শাপগ্রস্ত!’

“তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’

23“লেবীয়রা বলবে, ‘শাশুড়ীর সাথে যৌন সম্পর্ক রয়েছে এমন যে কোন ব্যক্তি শাপগ্রস্ত!’

“তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’

24“লেবীয়রা বলবে, ‘গোপনে প্রতিবেশীকে হত্যা করে এমন ব্যক্তি শাপগ্রস্ত!’

“তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’

25“লেবীয়রা বলবে, ‘নির্দোষ ব্যক্তিকে হত্যা করার জন্য টাকা নেয়, এমন যে কোন ব্যক্তি শাপগ্রস্ত!’

“তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’

26“লেবীয়রা বলবে, ‘কোন ব্যক্তি যে এই ব্যবস্থার কথা সমর্থন না করে এবং তা পালন করতে সম্মত না হয়, সে শাপগ্রস্ত!’

“তখন সমস্ত লোক উত্তরে বলবে, ‘আমেন!’

28

বিধি পালনের আশীর্বাদ

1“আমি আজ তোমাদের যে সকল আদেশ করছি, তোমরা যদি প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, সেই সব আজ্ঞা যত্নের সাথে পালন কর তবে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর পৃথিবীর সমস্ত জাতির উপরে তোমাদের উন্নত করবেন। 2যদি তোমরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, বাধ্য হও তবে এইসব আশীর্বাদ তোমরা পাবে:

3“প্রভু তোমাদের নগরে

এবং তোমাদের ক্ষেতে আশীর্বাদ করবেন।

4প্রভু তোমাদের গর্ভের ফল

আশীর্বাদযুক্ত করবেন।

তিনি তোমাদের জমিকে আশীর্বাদ করবেন

যাতে ভালো ফসল হয়।

তিনি তোমাদের পশুদের আশীর্বাদ করবেন

যাতে তাদের বহু শাবক জন্মায়।

তিনি তোমাদের গরু ও মেষদের আশীর্বাদ করবেন।

5প্রভু তোমাদের ঝুড়িগুলি ও পাত্রগুলিকে আশীর্বাদ করবেন

এবং সেগুলো খাদ্য দ্রব্যে ভরে দেবেন।

6তোমরা যা কিছু কর তাতেই সর্বসময়ে

প্রভু তোমাদের আশীর্বাদ করবেন।

7“তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছে এমন শত্রুকে পরাস্ত করতে প্রভু তোমাদের সাহায্য করবেন। তোমাদের শত্রুরা তোমাদের বিরুদ্ধে এক পথ দিয়ে আসবে কিন্তু পালাবার সময় সাত পথ দিয়ে পালাবে!

8“প্রভু তোমাদের আশীর্বাদ করবেন ও তোমাদের গোলাঘর পূর্ণ করবেন। তোমরা যা কিছু কর তাতে তিনি আশীর্বাদ করবেন। প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন, সেখানে তোমাদের আশীর্বাদ করবেন। 9তিনি যেমন প্রতিজ্ঞা করেছেন সেই অনুসারেই তিনি তোমাদের তাঁর নিজের বিশিষ্ট ব্যক্তি করে তুলবেন। তোমরা যদি প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের সমস্ত আজ্ঞা পালন কর তাহলেই তিনি তা করবেন। 10তাহলে পৃথিবীর সমস্ত জাতি জানবে যে তোমরা প্রভুর নামে অভিহিত এবং তারা তোমাদের ভয় করবে।

11“আর প্রভু তোমাদের অনেক উত্তম বিষয় দেবেন। তিনি তোমাদের বহু সন্তানের পিতা করবেন এবং তোমাদের পশুর সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়ে অনেক হবে। যে দেশ তোমাদের দেবেন বলে তোমাদের পূর্বপুরুষের কাছে প্রভু প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সেই দেশে তোমাদের ভাল ফসল দেবেন। 12প্রভু তাঁর মহান আশীর্বাদের ভাণ্ডার খুলে দেবেন। তিনি তোমাদের জমির জন্য উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি দেবেন। প্রভু তোমাদের সমস্ত কাজে আশীর্বাদ করবেন। অনেক জাতিকে তোমরা ধার দেবে কিন্তু তাদের কাছ থেকে তোমাদের ধার করার প্রয়োজন হবে না। 13প্রভু তোমাদের মস্তক স্বরূপ করবেন, পুচ্ছ স্বরূপ করবেন না। তোমরা অবনত না হয়ে উন্নত হবে। এই সমস্তই ঘটবে যদি প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের যে সব আদেশ আমি আজ বলছি তা তোমরা শোন এবং যত্ন সহকারে এইসব আদেশ পালন করো। 14আজ আমি তোমাদের যে সব আজ্ঞা দিচ্ছি তার থেকে দূরে সরে যেও না। তোমরা তার ডান দিকে বা বাম দিকে ফিরে যেও না। সেবা করার জন্য অন্য দেবতার অনুগামী হয়ো না।

বিধির অবাধ্যতা ও অভিশাপ

15“কিন্তু প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, কথা যদি না শোন, তিনি যা আদেশ করছেন, আমার আজকের বলা সেইসব আদেশ যত্ন সহকারে পালন না কর তবে এই সমস্ত অভিশাপ তোমার প্রতি বর্তাবে:

16“প্রভু তোমাদের নগরে

এবং ক্ষেতে শাপ দেবেন।

17প্রভু তোমাদের ঝুড়ি ও পাত্র শাপগ্রস্ত করবেন

এবং সেগুলোর মধ্যে কোন খাদ্য থাকবে না।

18প্রভু তোমাদের সন্তান-সন্ততিদের,

তোমাদের জমিকে,

তোমাদের পশুদের

এবং তোমাদের গাভীন গাই ও মেষদের শাপ দেবেন।

19তোমরা যা কিছু কর না কেন সব সময় প্রভু তাতে শাপ দেবেন।

20“তোমরা যা কিছু করবে তাতেই অভিশাপ, হতাশা এবং কষ্ট আসবে। তোমরা দ্রুত সম্পূর্ণরূপে বিনাশ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এসব করেই চলবেন। তিনি এসব করবেন কারণ তোমরা যা মন্দ তাই কর এবং তাঁকে পরিত্যাগ করেছ। 21যে দেশ অধিগ্রহণ করতে যাচ্ছ সেখানে ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত প্রভু তোমাদের ভয়ানক সব রোগে রোগগ্রস্ত করবেন। 22প্রভু রোগ, জ্বর এবং ফোলা দ্বারা তোমাদের শাস্তি দেবেন। প্রভু প্রচণ্ড উত্তাপ পাঠাবেন এবং কোন বৃষ্টি পড়বে না। উত্তাপে এবং রোগে তোমাদের ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। তোমরা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এই খারাপ ঘটনাগুলি ঘটতেই থাকবে! 23আকাশে কোন মেঘ দেখা যাবে না—আকাশ ঘসা পিতলের মতো এবং পায়ের নীচের জমি লোহার মত শক্ত হবে। 24প্রভু বৃষ্টির পরিবর্তে আকাশ থেকে কেবল ধূলো-বালি বর্ষণ করবেন। যে পর্যন্ত তোমাদের বিনাশ না হয় তিনি তা বর্ষণ করবেন।

25“প্রভু তোমাদের শত্রুদের দিয়ে তোমাদের হারাবেন। তোমরা এক পথ দিয়ে তোমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যাবে কিন্তু সাত পথ দিয়ে তাদের সামনে থেকে পালাবে। তোমাদের প্রতি যে সব খারাপ বিষয় ঘটবে তা দেখে পৃথিবীর লোক ভয় পাবে। 26তোমাদের মৃতদেহ বন্য পশুপাখীর খাদ্য হবে। মৃত দেহের উপর থেকে তাদের তাড়িয়ে দেবারও কেউ থাকবে না।

27“প্রভু মিশরীয়দের কাছে যেমন ফোঁড়া পাঠিয়েছিলেন সেই রকমটি দিয়েই তোমাদের শাস্তি দেবেন। তিনি আব, গলিত ঘা এবং সারে না এমন চুলকানি দিয়ে তোমাদের শাস্তি দেবেন। 28প্রভু উন্মাদনা দ্বারা তোমাদের শাস্তি দেবেন। তিনি তোমাদের অন্ধ এবং হতবুদ্ধি করবেন। 29দিনের আলোয় হাতড়ে হাতড়ে অন্ধ লোকের মত তোমাদের পথ চলতে হবে। তোমরা যা কিছু কর তাতে অসফল হবে। বার বার লোক তোমাদের আঘাত করবে এবং তোমাদের জিনিস চুরি করে নেবে। আর তোমাদের রক্ষা করার কেউ থাকবে না।

30“তোমাদের সাথে কোন স্ত্রীলোক বাগ্দত্তা হবে কিন্তু অপর কেউ তার সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হবে। তোমরা বাড়ী বানাবে কিন্তু তাতে বাস করতে পারবে না। তোমরা ক্ষেতে দ্রাক্ষা লাগাবে কিন্তু তার থেকে কোন কিছুই সংগ্রহ করতে পারবে না। 31লোক তোমাদের সামনেই তোমাদের গরুগুলো মেরে ফেলবে কিন্তু সেই মাংসের কোন অংশই তুমি খেতে পাবে না। লোক তোমাদের গাধাদের নিয়ে যাবে কিন্তু ফেরত দেবে না। তোমাদের মেষ তোমাদের শত্রুদের দেওয়া হবে। তোমাদের রক্ষা করার জন্য কেউ থাকবে না।

32“অন্য জাতির লোকরা তোমাদের ছেলে মেয়েদের তুলে নিয়ে যাবে। দিনের পর দিন তাদের অপেক্ষায় চেয়ে চেয়ে তোমরা ক্লান্ত হয়ে পড়বে কিন্তু কিছুই করতে পারবে না এবং ঈশ্বর তোমাদের সাহায্য করবেন না।

33“যে জাতিকে তোমরা চেনো না তারা তোমাদের সব শস্য এবং তোমাদের কঠোর পরিশ্রমের ফল খেয়ে ফেলবে। তোমরা কেবল সমস্ত জীবন ধরে পীড়ন ও লাঞ্ছনা ভোগ করবে। 34তোমাদের চোখ যা দেখবে তা তোমাদের উন্মত্ত করবে! 35প্রভু তোমাদের এমন কষ্টকর ফোঁড়া দ্বারা শাস্তি দেবেন যা সারে না। তোমাদের হাঁটুতে এবং পায়ে এইসব ফোঁড়া হবে। পায়ের তলা থেকে মাথার তালু পর্যন্ত দেহের সব জায়গাতেই এই ফোঁড়া বেরোবে।

36“প্রভু তোমাদের এবং তোমাদের রাজাকে এমন জাতির কাছে পাঠাবেন যাদের তোমরা জান না। তোমরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরাও কখনও তাদের দেখে নি। সেখানে তোমরা কাঠ ও পাথরের তৈরী মূর্ত্তির সেবা করবে। 37প্রভু তোমাদের যে দেশগুলিতে পাঠাবেন, সেখানকার লোক তোমাদের দুর্দশা দেখে অবাক হবে। তারা তোমাদের দেখে হাসবে এবং তোমাদের সম্বন্ধে মন্দ কথা বলবে।

ব্যর্থতার অভিশাপ

38“তোমাদের ক্ষেতে তোমরা বহু বীজ বুনবে কিন্তু অল্পই ফসল সংগ্রহ করবে, কারণ পঙ্গপাল ফসল খেয়ে ফেলবে। 39তোমরা দ্রাক্ষা ক্ষেতে কষ্ট করে দ্রাক্ষা চাষ করবে কিন্তু দ্রাক্ষা সংগ্রহ বা দ্রাক্ষারস পান করতে পাবে না, কারণ পোকায় তা খেয়ে ফেলবে। 40তোমাদের দেশের সর্বত্র জলপাইয়ের গাছ থাকবে কিন্তু তার থেকে উৎপন্ন কোন তেল তুমি ব্যবহার করতে পারবে না। কারণ জলপাই ফল মাটিতে ঝরে পড়ে পচে যাবে। 41তোমাদের ছেলেমেয়ে থাকলেও তাদের লালন পালন করতে পারবে না, কারণ তাদের বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হবে। 42পঙ্গপাল তোমাদের সমস্ত গাছ ও ক্ষেতের শস্য ধ্বংস করে দেবে। 43তোমাদের মধ্যে বসবাসকারী বিদেশীরা দিনে দিনে শক্তিশালী হয়ে উঠবে আর তোমাদের যা শক্তি ছিল তা তোমরা হারাবে। 44বিদেশীরা তোমাদের ধার দেবে, কিন্তু তাদের ধার দেবার মত টাকা তোমাদের কাছে থাকবে না। মাথা যেমন দেহকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, সেই রকম ভাবেই তারা মাথা হয়ে তোমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখবে আর তুমি হবে লেজ বিশেষ।

45“এই সমস্ত শাপ তোমাদের উপর আসবে। তারা তোমাদের ধাওয়া করে ধরবে যে পর্যন্ত না তুমি ধ্বংস হও, কারণ তোমরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, কথা শোন নি। তিনি তোমাদের যে সমস্ত আজ্ঞা ও বিধি দিয়েছিলেন তা পালন করো নি। 46এই শাপগুলি হবে লোকদের কাছে একটি চিহ্ন এবং তারা বুঝবে যে ঈশ্বর তোমাদের এবং তোমাদের উত্তরপুরুষদের বিচার করেছেন। তোমাদের ওপর যে ভয়ঙ্কর ঘটনাগুলি ঘটবে তা দেখে লোকে আশ্চর্য হয়ে যাবে।

47“প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের অনেক আশীর্বাদ করেছিলেন, কিন্তু তোমরা আনন্দের সাথে প্রফুল্ল মনে তাঁর সেবা করো নি। 48তাই প্রভু তোমাদের বিরুদ্ধে যে শত্রুদের পাঠাবেন তোমরা তাদেরই সেবা করবে। তোমরা ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত, উলঙ্গ এবং দরিদ্র হবে। প্রভু তোমাদের উপর এমন বোঝা চাপাবেন যা সরিয়ে ফেলা যাবে না। তোমাদের ধ্বংস না করা পর্যন্ত তোমরা সেই বোঝা বইবে।

শত্রু জাতির অভিশাপ

49“তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রভু বহু দূর থেকে এক জাতির আগমণ ঘটাবেন। তোমরা তাদের ভাষা বুঝবে না। ঈগল পাখী যেমন আকাশ থেকে নেমে আসে তেমনি দ্রুত তারা আসবে। 50সেই সব লোক নিষ্ঠুর হবে। তারা বৃদ্ধদের বিষয়ে কোন চিন্তা করবে না এবং শিশুদের প্রতিও দয়া করবে না। 51তারা তোমাদের পশু ও উৎপন্ন খাদ্য নিয়ে নেবে। তোমাদের ধ্বংস না করা পর্যন্ত তারা তোমাদের সর্বস্ব নিয়ে যাবে। তারা তোমাদের শস্য, দ্রাক্ষারস, তেল, গরু, মেষ ও ছাগলের কিছুই ছেড়ে যাবে না। তোমাদের ধ্বংস না করা পর্যন্ত তারা তোমাদের সর্বস্ব নিয়ে যাবে।

52“সেই জাতি তোমাদের নগরের চারিদিক ঘিরে তোমাদের আক্রমণ করবে। তোমরা কি মনে করছ নগরের চারিধারের শক্ত উঁচু প্রাচীর তোমাদের রক্ষা করবে? কিন্তু তারা ভেঙে পড়বে। প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের দেওয়া সেই দেশের সর্বত্র সমস্ত নগরগুলি শত্রুরা আক্রমণ করবে। 53শত্রুরা নগর অবরোধ করে তোমাদের কষ্ট দিলে তোমরা এতই ক্ষুধার্ত হবে যে নিজের ছেলে মেয়েদের খেতে শুরু করবে—প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর যে সন্তানদের দিয়েছিলেন তোমরা তাদের দেহ ভোজন করবে।

54“এমনকি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে দয়ালু এবং শান্ত লোকটিও নিষ্ঠুর হয়ে উঠবে। সে অন্যের প্রতি নিষ্ঠুর হবে। এমনকি, যে স্ত্রীকে সে অত্যন্ত ভালবাসে তার প্রতিও নিষ্ঠুর হবে এবং জীবিত শিশুদের প্রতিও সে নিষ্ঠুর হবে। 55খাবার কিছু পড়ে না থাকার দরুণ সে নিজের শিশুদের খাবে এবং সেই মাংস সে পরিবারের অন্য কারও সাথে ভাগ না করে নিজেই খাবে। তোমাদের শত্রু এসে তোমাদের নগর অবরোধ করলে এই সমস্ত মন্দ ঘটনাগুলি ঘটবে এবং তোমাদের কষ্ট দেবে।

56“এমনকি তোমাদের মধ্যে বাসকারী কোমল ও ভদ্র মহিলা, মাটিতে যার পা পড়ে না, সেও নিষ্ঠুর হয়ে উঠবে। তার প্রাণের প্রিয় স্বামীর প্রতি এবং নিজের ছেলেমেয়ের প্রতিও সে নিষ্ঠুর হয়ে উঠবে। 57সে লুকিয়ে শিশুর জন্ম দিয়ে সেই শিশুটিকে এবং তার সাথে জন্ম দেবার সময় তার দেহ থেকে যা কিছু বেরিয়ে আসে তাও খাবে। শত্রু এসে তোমাদের শহর অবরোধ করে তোমাদের সংকটে ফেললে এই সমস্ত মন্দ ঘটনা তোমাদের সঙ্গে ঘটবে।

58“এই বইতে লেখা সমস্ত আজ্ঞা ও শিক্ষা তোমরা অবশ্যই পালন করো এবং তোমরা অবশ্যই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, গৌরবান্বিত এবং ভয়াবহ নামকে সম্মান করো। 59যদি তোমরা তা পালন না কর তবে প্রভু তোমাদের এবং তোমাদের উত্তরপুরুষদের অনেক অসুবিধায় ফেলবেন। তোমাদের সংকট ও রোগগুলি হবে ভয়ানক! 60মিশরে তোমরা অনেক বিপত্তি ও রোগ দেখে ভীত হয়েছিলে। প্রভু ঐ সব মন্দ ঘটনাগুলি তোমাদের বিরুদ্ধে ফিরিয়ে আনবেন। 61 ব্যবস্থার পুস্তকে লেখা নেই এমন সব সংকট ও রোগও তিনি আনবেন। তোমরা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত তিনি তা করেই চলবেন। 62আকাশের তারার মত তোমাদের বংশধররা বহুসংখ্যক হতে পারে, কিন্তু কেবল অল্পসংখ্যকই অবশিষ্ট থাকবে, কারণ তোমরা প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের কথা শোন নি।

63“প্রভু তোমাদের মঙ্গল করে ও তোমাদের জাতির বৃদ্ধি সাধন করে যেমন আনন্দ পেতেন, সেই একই ভাবে তিনি তোমাদের সর্বনাশ ও ধ্বংস দেখে আনন্দ পাবেন। তোমরা যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ, লোক তোমাদের সেই দেশ থেকে বার করে দেবে। 64আর প্রভু পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত সমস্ত জাতির মধ্যে তোমাদের ছড়িয়ে দেবেন। সেখানে তোমরা কাঠ, পাথরের তৈরী এমন মূর্ত্তির পূজা করবে, যাদের পূজা তোমাদের পূর্বপুরুষরা কখনও করে নি।

65“এই সমস্ত জাতির মধ্যে তোমরা কোন শান্তি পাবে না এবং বিশ্রামের জায়গাও পাবে না। প্রভু তোমাদের মন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করবেন। তখন তোমাদের চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়বে এবং তোমরা বিচলিত হয়ে পড়বে। 66তোমরা বিপদের মধ্যে বাস করবে এবং দিনে কি রাতে সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকবে। জীবন সম্বন্ধে তোমাদের কোন নিশ্চয়তা বোধ থাকবে না। 67সকালে তুমি বলবে, ‘হায়! কখন সন্ধ্যা হবে!’ আর সন্ধ্যা হলে বলবে, ‘হায়! কখন সকাল হবে!’ হৃদয়ের শঙ্কা এবং ভয়ঙ্কর বিষয় যা তোমরা দেখবে, তার জন্যই এইরকম হবে। 68প্রভু জাহাজে করে তোমাদের মিশরে ফেরত পাঠাবেন। আমি বলেছিলাম যে তোমাদের আর সেখানে ফিরে যেতে হবে না; কিন্তু প্রভু তোমাদের সেখানে ফেরত পাঠাবেন। মিশরে তোমরা তোমাদের শত্রুদের কাছে নিজেদের দাসরূপে বিক্রি করতে চাইবে কিন্তু কেউ তোমাদের কিনবে না।”

29

মোয়াবে চুক্তি

1প্রভু হোরেব পর্বতে ইস্রায়েলের লোকদের সাথে চুক্তি করেছিলেন। সেই চুক্তি ছাড়াও প্রভু মোশিকে আরেকটি চুক্তি করার জন্য আজ্ঞা করলেন। এই চুক্তি মোয়াব পর্বতে করা হল:

2মোশি সমস্ত ইস্রায়েলের লোকদের এক জায়গায় একত্র করে বললেন, “মিশর দেশে প্রভু যা করেছিলেন তার সবই তোমরা দেখেছিলে। ফরৌণের প্রতি তাঁর কর্মচারী ও তাঁর সমস্ত দেশের প্রতি প্রভু যা করেছিলেন, তা তোমরা দেখেছ। 3তিনি তাদের যে মহাক্লেশ দিয়েছিলেন তা তোমরা দেখেছ। তোমরা সমস্ত অলৌকিক ও মহা আশ্চর্য কাজও দেখেছ যেগুলি তিনি করেছেন। 4তোমরা যা শুনেছ বা দেখেছ তা দেখার চোখ ও প্রকৃতভাবে বুঝে ওঠার মন আজও প্রভু তোমাদের দেননি। 5প্রভু এই 40 বছর তোমাদের মরুভূমির মধ্য দিয়ে নিয়ে গেছেন। এই সময়ের মধ্যে তোমাদের কাপড় জামা ও জুতো ছিঁড়ে যায় নি। 6তোমাদের কোন খাবার ছিল না। সুরা বা অন্য কোন পানীয় ছিল না। কিন্তু প্রভু তোমাদের যত্ন নিলেন যাতে তোমরা বুঝতে পার যে প্রভুই তোমাদের ঈশ্বর।

7“তোমরা এই স্থানে আসার পরে হিষ্বোনের রাজা সীহোন ও বাশনের রাজা ওগ আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য এলো। কিন্তু আমরা তাদের হারিয়ে দিলাম। 8তারপর আমরা তাদের দেশ অধিকার করে তা রূবেণ, গাদ ও মনঃশির অর্ধেক পরিবারগোষ্ঠীর লোকদের দিয়ে দিয়েছিলাম। 9এই চুক্তির সমস্ত আদেশগুলি যদি তোমরা পালন কর, তবে তোমরা যা কিছু কর, তাতেই কৃতকার্য হবে।

10“আজ তোমরা সবাই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছ। তোমাদের নেতারা, কর্মকর্তারা, প্রবীণরা এবং তোমাদের অন্যান্যরাও এখানেই রয়েছে। 11তোমাদের স্ত্রী ও শিশুরা, তোমাদের মধ্যে বাসকারী বিদেশীরা যারা তোমাদের জন্য কাঠ কেটে দেয় ও জল তুলে দেয় তারাও এখানে রয়েছে। 12তোমরা সকলে এখানে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের সাথে চুক্তিবদ্ধ হবার জন্য রয়েছ। প্রভু আজ তোমাদের সাথে এই আশীর্বাদ ও অভিশাপের চুক্তি করেছেন। 13এই চুক্তির সাথে সাথেই প্রভু তোমাদের তাঁর নিজস্ব বিশেষ লোক করবেন এবং তিনি তোমাদের ঈশ্বর হবেন। তিনি তোমাদের যা বললেন তার প্রতিজ্ঞা তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম, ইস‌্হাক ও যাকোবের কাছে করেছিলেন। 14প্রভু এই চুক্তি ও তাঁর প্রতিজ্ঞাসকল কেবল তোমাদের সাথেই করছেন না। 15এই চুক্তি তিনি আমরা যারা সকলে তাঁর সামনে আজ দাঁড়িয়ে আছি তাদের সঙ্গে এবং আমাদের উত্তরপুরুষরা যারা আজ এখানে নেই তাঁদের সাথেও করছেন। 16স্মরণ কর মিশর দেশে আমরা কেমন ভাবে বাস করেছি এবং পথে যে সব দেশ পড়েছে তার মধ্যে দিয়ে কিভাবে যাত্রা করেছি। 17তোমরা ঘৃণিত মূর্ত্তিগুলি দেখেছ—যে মূর্ত্তিগুলি কাঠ, পাথর, সোনা ও রূপা দিয়ে তৈরী। 18এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়ো যে তোমাদের মধ্যে পুরুষ, নারী, পরিবার ও পরিবারগোষ্ঠী যারাই আজ এখানে রয়েছে, তাদের কেউ যেন প্রভু আমাদের ঈশ্বরের কাছ থেকে দূরে সরে না যায়। কেউ যেন অন্য জাতির দেবতাদের পূজা না করে। যারা তা করে তারা সেই গাছের মত যা বিষাক্ত তেতো ফল উৎপন্ন করে।

19“কোন ব্যক্তি এই সমস্ত শাপের কথা শুনেও নিজের মনকে সন্তুষ্ট করতে বলতে পারে, ‘আমি যা চাই তাই করব। খারাপ কিছুই আমার প্রতি ঘটবে না।’ এই ধরণের লোক যে কেবল তার নিজের প্রতি অমঙ্গল ডেকে আনবে তা নয়, এমনকি ভাল লোকদের প্রতিও তা ডেকে আনবে। 20 প্রভু সেই ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন না। প্রভু সেই ব্যক্তির প্রতি ক্রুদ্ধ ও বিরক্ত হবেন এবং তাকে শাস্তি দেবেন। প্রভু সেই ব্যক্তিকে ইস্রায়েলের সমস্ত পরিবারগোষ্ঠী থেকে পৃথক করবেন। প্রভু তাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করবেন। এই পুস্তকে লেখা সমস্ত অমঙ্গল তার উপর আসবে। ব্যবস্থার পুস্তকে অভিশাপ সম্পর্কে লিখিত চুক্তি অনুসারেই আসবে।

22“ভবিষ্যতে তোমাদের উত্তরপুরুষরা ও দূর দেশের বিদেশীরা দেখবে কিভাবে এই দেশ ধ্বংস হয়েছে। প্রভু কিভাবে বিভিন্ন রোগ এনেছেন তাও তারা দেখবে। 23সমস্ত দেশ জ্বলন্ত গন্ধক ও লবনে ঢেকে যাওয়ায় আর ব্যবহারযোগ্য থাকবে না। দেশে কিছুই বোনা হবে না, কিছুই বেড়ে উঠবে না, এমন কি জংলী গাছও না। প্রভু ক্রুদ্ধ হয়ে যেভাবে সদোম, ঘমোরা, অদ্মা ও সবোয়িম শহরগুলি ধ্বংস করেছিলেন সেই ভাবেই এই দেশ ধ্বংস হবে।

24“অন্যান্য সব জাতির লোকরা জিজ্ঞেস করবে, ‘প্রভু এই দেশের প্রতি কেন এমনটি করলেন? কেন তিনি এত ক্রুদ্ধ হলেন?’ 25উত্তর এই হবে, ‘প্রভু ক্রুদ্ধ কারণ ইস্রায়েলের লোকরা তাদের প্রভুর অর্থাৎ‌ পূর্বপুরুষের ঈশ্বরের নিয়ম ত্যাগ করেছে। প্রভু তাদের মিশর দেশ থেকে বার করে আনার সময় যে চুক্তি করেছিলেন তা তারা আর পালন করে না। 26প্রভু যে সমস্ত দেবতার পূজা করতে নিষেধ করেছিলেন, যাদের পূজা তারা আগে কখনও করে নি, ইস্রায়েলের লোকরা সেই অন্যান্য দেবতার সেবা করেছে। 27সেই কারণেই প্রভু এই দেশের লোকদের প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন। আর তাই তিনি পুস্তকে লেখা সমস্ত অভিশাপ তাদের দিলেন। 28প্রভু তাদের প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ও বিরক্ত হলেন, তাই তিনি তাদের দেশ থেকে বার করে দিয়ে অন্য এক দেশে রাখলেন, সেখানেই আজ তারা রয়েছে।’

29“কিছু বিষয় রয়েছে যা প্রভু, আমাদের ঈশ্বর, গোপন রেখেছেন, কেবল তিনিই সে সব বিষয় জানেন। কিন্তু প্রভু কিছু বিষয় আমাদের কাছে প্রকাশ করেছেন এবং সেই শিক্ষাসকল আমাদের ও আমাদের উত্তরপুরুষদের জন্য চিরকাল থাকবে। সেই বিধির সব আজ্ঞাগুলির প্রতি আমরা অবশ্যই বাধ্য থাকব।

30

ইস্রায়েলীয়রা তাদের দেশে ফিরবে

1“আমি তোমাদের আশীর্বাদ ও অভিশাপ সম্বন্ধে যা যা বললাম সেই সব যখন তোমাদের ওপর ঘটবে এবং প্রভু তোমাদের যে সব বিভিন্ন জাতির মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন, সেখানে যদি এইসব বিষয়ে চিন্তা করে 2তোমরা ও তোমাদের সন্তানরা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের, কাছে ফিরে আসো অর্থাৎ‌ যদি তোমরা তাঁকে তোমাদের সমস্ত হৃদয় এবং সমস্ত আত্মা দিয়ে অনুসরণ কর এবং তাঁর সব আজ্ঞাগুলি—যা কিছু আমি আজ দিয়েছি, তোমরা সেগুলির প্রতি সম্পূর্ণভাবে বাধ্য থাক, 3তবে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের প্রতি করুণা করবেন। প্রভু আবার তোমাদের মুক্ত করবেন। তিনি তোমাদের যে সব জাতির মধ্যে পাঠিয়ে ছিলেন সেখান থেকে আবার ফিরিয়ে আনবেন। 4এমন কি তোমরা যদি পৃথিবীর দূরতম প্রান্তেও গিয়ে থাকো, প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, সেখান থেকে তোমাদের সংগ্রহ করবেন। 5তোমাদের পূর্বপুরুষদের যে দেশ ছিল, প্রভু সেই দেশে তোমাদের ফিরিয়ে আনবেন এবং সেই দেশ তোমাদের অধিকারে আসবে। প্রভু তোমাদের মঙ্গল করবেন এবং পূর্বপূরুষদের চাইতেও তোমাদের অধিক হবে। তোমাদের জাতির লোকসংখ্যা এমন বৃদ্ধি পাবে যা আগে কখনও হয় নি। 6প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের এবং তোমাদের উত্তরপুরুষদের হৃদয় বাধ্য করে তুলবেন। এইভাবে তোমাদের প্রভুকে সমস্ত হৃদয়ের সাথে প্রেম করে জীবন লাভ করবে।

7“আর তখন প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, শত্রুদের প্রতি সেই সমস্ত অমঙ্গল ঘটাবেন, কারণ এই সমস্ত লোকরা তোমাদের ঘৃণা করে ও কষ্ট দেয়। 8আর তোমরা আবার প্রভুর বাধ্য হবে। আমি আজ তাঁর যে সমস্ত আদেশ দিচ্ছি তা পালন করবে। 9তোমরা যে কাজে হাত দেবে তাতেই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের কৃতকার্য হতে দেবেন। তাঁর আশীর্বাদে তোমরা বহু সন্তান-সন্ততি লাভ করবে। তাঁর আশীর্বাদে তোমাদের পশুদেরও অনেক শাবক হবে। তিনি তোমাদের ক্ষেতকে আশীর্বাদ করবেন, ফলে অনেক ফসল উৎপন্ন হবে। প্রভু তোমাদের মঙ্গল করবেন। তোমাদের পূর্বপুরুষদের মঙ্গল সাধন করে তিনি যে রকম আনন্দ পেতেন, সেই রকম তোমাদের প্রতি মঙ্গল সাধন করে তিনি আনন্দ পাবেন। 10কিন্তু প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, আজ যা বলছেন তা অবশ্যই পালন করতে হবে। তোমরা অবশ্যই তাঁর আজ্ঞাসকল এবং ব্যবস্থাপুস্তকে লেখা বিধিগুলো পালন করবে। তোমরা অবশ্যই তোমাদের হৃদয় ও প্রাণের সাথে প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের বাধ্য হবে। তাহলে তোমাদের প্রতি এইসব মঙ্গল কার্য ঘটবে।

জীবন অথবা মৃত্যু

11“এই আজ্ঞা যা আজ আমি তোমাদের দিচ্ছি তা তোমাদের পক্ষে খুব কঠিন হবে না আর তা সাধ্যের বাইরেও নয়। 12এই আজ্ঞাগুলি স্বর্গে রেখে দেওয়া হয় নি যে তোমরা বলবে, ‘কে স্বর্গে গিয়ে তা আমাদের জন্য নিয়ে আসবে যাতে আমরা তা শুনতে পারি এবং মেনে চলি।’ 13এই আজ্ঞা সমুদ্রের অপর পারেও নেই যে তোমরা বলবে, ‘কে সমুদ্র পার হয়ে আমাদের জন্য তা নিয়ে আসবে যাতে আমরা তা শুনতে পাই ও সেই মত কাজ করতে পারি।’ 14না, সে বাক্য তোমাদের খুব কাছে, তোমাদের মুখে ও হৃদয়ে রয়েছে যাতে তা পালন করতে পার।

15“আজ জীবন ও মৃত্যু অথবা ভাল ও মন্দের মধ্যে তোমাদের একটিকে মনোনীত করতে দিয়েছি। 16প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে ভালবাসতে, তাঁকে অনুসরণ করতে এবং তাঁর সমস্ত আজ্ঞা, বিধি ও নিয়মসকল পালন করতে আজ আমি তোমাদের আজ্ঞা করছি। তাহলে তোমরা বাঁচবে এবং তোমাদের জাতি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং যে দেশ অধিকার করতে যাচ্ছ, প্রভু তোমাদের ঈশ্বর সেই দেশে তোমাদের আশীর্বাদ করবেন। 17কিন্তু যদি তোমরা প্রভুর দিক থেকে তোমাদের হৃদয় ফিরিয়ে নাও এবং তাঁর কথা শুনতে সম্মত না হও, যদি অন্য দেবতার পূজা ও সেবা করার জন্য মনস্থির করে থাক, 18তাহলে তোমরা ধ্বংস হবে। আমি তোমাদের সাবধান করে দিচ্ছি, যদি তোমরা প্রভুর দিক থেকে হৃদয় ফিরিয়ে নাও তবে যর্দন নদীর অপর পারের যে দেশে তোমরা প্রবেশ করার জন্য প্রস্তুত, সেখানে তোমরা দীর্ঘজীবি হবে না।

19“আজ এই দুই পথের মধ্যে যে কোন একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ তোমাদের হয়েছে আর আকাশ ও পৃথিবীকে আমি এই বিষয়ে সাক্ষী রাখছি। তোমরা জীবন বা মৃত্যু বেছে নিতে পারো। প্রথমটি মনোনীত করলে তোমরা আশীর্বাদ পাবে। যদি তোমরা অপরটি মনোনীত কর তাহলে আসবে অভিশাপ। সুতরাং জীবন মনোনীত কর, তাহলে তোমরা এবং তোমাদের সন্তানরা বাঁচবে। 20তোমরা অবশ্যই তোমাদের প্রভু, ঈশ্বরকে ভালবাসবে ও তাঁর বাধ্য হবে। তাঁকে পরিত্যাগ করো না, কারণ প্রভুই তোমাদের জীবন এবং প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম, ইস‌্হাক এবং যাকোবকে যে দেশ দিতে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সেই দেশে তিনি তোমাদের দীর্ঘজীবি করবেন।”

31

নতুন নেতা যিহোশূয়

1ইস্রায়েলের সমস্ত লোকদের এইসব কথা বলা শেষ হলে, 2মোশি বললেন, “আমার বয়স এখন 120 বছর। আমি আর তোমাদের পরিচালনা করতে পারব না। প্রভু আমায় বলেছেন: ‘তুমি যর্দন নদী পার হয়ে যাবে না।’ 3কিন্তু প্রভু তোমাদের লোকদের সেই দেশে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবেন। প্রভু তোমাদের জন্য এই সমস্ত জাতিকে ধ্বংস করবেন এবং তোমরা তাদের দেশ ছিনিয়ে নেবে। প্রভুর প্রতিজ্ঞা অনুসারে যিহোশূয় তোমাদের পথ দেখাবেন।

4“প্রভু সীহোন এবং ওগ এই ইমোরীয় রাজাদের ধ্বংস করে তাদের প্রতি এবং তাদের দেশের প্রতি যা করেছিলেন এদের প্রতিও তাই করবেন। 5এই সমস্ত জাতিকে হারাতে প্রভু তোমাদের সাহায্য করবেন। কিন্তু আমি তোমাদের যা যা করতে বলি তার সবই তোমরা তাদের প্রতি করো। 6দৃঢ় এবং সাহসী হও, ঐ সমস্ত লোকদের ভয় পেও না! কারণ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের সঙ্গে আছেন। তিনি তোমাদের ছেড়ে যাবেন না বা হতাশ করবেন না।”

7তখন মোশি সমস্ত ইস্রায়েলের সামনে যিহোশূয়কে ডেকে বললেন, “শক্ত হও, মনে সাহস আনো। যে দেশ প্রভু এদের পূর্বপুরুষদের দেবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তুমি তাদের সেখানে নিয়ে যাবে এবং সেই দেশ তাদের অধিকার করাবে। 8প্রভু তোমায় পথ দেখাবেন, তিনি নিজেই তোমার সঙ্গে আছেন। তিনি তোমাকে ছাড়বেন না বা ত্যাগ করবেন না। দুশ্চিন্তা করো না, ভয় পেও না।”

মোশি শিক্ষাগুলি লিপিবদ্ধ করলেন

9তারপর মোশি সেই শিক্ষাগুলি লিখে যাজকদের হাতে দিলেন। যাজকরা ছিল লেবি গোষ্ঠীর লোক, যাদের কাজ ছিল প্রভুর চুক্তির সেই সিন্দুক বহন করা। মোশি ইস্রায়েলের সমস্ত প্রবীণদের কাছেও শিক্ষাগুলি দিলেন। 10তারপর মোশি তাদের এই আজ্ঞা দিয়ে বললেন, “প্রত্যেক সাত বছরের শেষে, মুক্তির বছরে অর্থাৎ‌ কুটিরবাস উৎসবের সময়, 11যে সময় ইস্রায়েলের সমস্ত লোক প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের মনোনীত স্থানে প্রভুর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসবে, সেই সময় তুমি অবশ্যই এই শিক্ষাগুলি লোকদের কাছে পাঠ করবে যাতে তারা তা শুনতে পায়। 12সকল পুরুষ, স্ত্রীলোক, শিশুদের এবং তোমাদের মধ্যে বাসকারী বিদেশীদের অবশ্যই একসাথে জড়ো করবে। তারা এইসব শিক্ষা শুনবে ও তোমাদের প্রভু ঈশ্বরকে সম্মান করতে শিখবে। তখন তারা ব্যবস্থার পুস্তকে যে যে বিষয় আছে তার সবই পালন করতে পারবে। 13উত্তরপুরুষরা যদি শিক্ষাগুলি না জেনে থাকে তবে তারাও শুনবে এবং প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে, সম্মান করতে শিখবে। তারা যতদিন তোমার দেশে বাস করবে ততদিন প্রভুকে সম্মান করবে। শীঘ্রই তোমরা যর্দন নদী পার হয়ে সেই দেশ অধিকার করবে।”

প্রভু মোশি ও যিহোশূয়কে ডাকলেন

14প্রভু মোশিকে বললেন, “এখন তোমার মৃত্যুর সময় হয়ে এসেছে। যিহোশূয়কে নিয়ে সমাগম তাঁবুর কাছে এস। আমি বলব যিহোশূয়কে কি করতে হবে।” তাই মোশি ও যিহোশূয় সমাগম তাঁবুতে গেলেন।

15প্রভু সেই তাঁবুর কাছে মেঘস্তম্ভের দর্শন দিলেন। সেই মেঘস্তম্ভ তাঁবুর দরজায় দাঁড়িয়ে রইলো। 16প্রভু মোশিকে বললেন, “তুমি শীঘ্রই মারা যাবে এবং তুমি তোমার পূর্বপুরুষদের কাছে গেলে এই লোকরা আমার প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে না। আমি তাদের সাথে যে চুক্তি করেছি তা তারা ভেঙে ফেলবে। তারা আমায় পরিত্যাগ করে যে দেশে যাচ্ছে সেই দেশের মূর্ত্তিদের পূজা করবে। 17সেই সময় আমি তাদের উপর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হব এবং তাদের পরিত্যাগ করব। আমি তাদের সাহায্য করতে অস্বীকার করব আর তারা ধ্বংস হবে। তাদের প্রতি বহুবিধ ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটবে, তারা অনেক কষ্টেও পড়বে। তখন তারা বলবে, ‘আমাদের সঙ্গে এইসব অমঙ্গল ঘটছে কারণ আমাদের ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে নেই।’ 18সেই সময় আমি তাদের সাহায্য করব না কারণ তারা মন্দ কাজ করবে এবং অন্য দেবতাদের পূজা করবে।

19“তাই এই গানটা লিখে নাও এবং ইস্রায়েলের লোকদের তা শেখাও। তাদের এই গান গাইতে শেখাও, তাহলে এই গান ইস্রায়েলের লোকর বিরুদ্ধে আমার সাক্ষী হবে। 20আমি তাদের পূর্বপুরুষদের যে দেশ দেব বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমি তাদের সেই দেশে নিয়ে যাব। সেই দেশ উত্তম বিষয়ে পরিপূর্ণ আর তারা যা চায় তাই-ই খেতে পেলে তারা হৃষ্টপুষ্ট হবে কিন্তু তখন তারা ঘুরে বসবে এবং অন্য দেবতার সেবা করবে। তারা আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাবে এবং আমার নিয়ম ভেঙ্গে ফেলবে। 21তখন তাদের প্রতি বহু ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটবে। তারা অনেক কষ্টে পড়বে। সেই সময়ে তাদের লোকদের এই গান মনে পড়বে এবং তারা তাদের ভুল বুঝবে। আমি তাদের যে দেশ দেব বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম সেই দেশে এখনও নিয়ে যাই নি, কিন্তু আমি জানি সেখানে তারা কি করার পরিকল্পনা করছে।”

22তাই সেই দিনেই মোশি সেই গান লিখলেন এবং ইস্রায়েলের লোকদের তা শেখালেন।

23তখন প্রভু নূনের পুত্র যিহোশূয়কে বললেন, “শক্ত হও, সাহসী হও। আমি ইস্রায়েলীয়দের যে দেশ দেব বলে প্রতিজ্ঞা করেছি, সেই দেশে তুমি তাদের নিয়ে যাবে আর আমি তোমার সাথে থাকব।”

মোশি ইস্রায়েলীয়দের সতর্ক করে দিলেন

24এই সমস্ত শিক্ষা মোশি যত্ন সহকারে একটি বইয়ে লিখলেন। 25আর তা লেখা শেষ হলে, তিনি লেবীয়দের একটি আদেশ দিলেন। (এই লেবীয়রা প্রভুর চুক্তির সিন্দুক বয়ে নিয়ে যেত।) মোশি বললেন, 26 ব্যবস্থাপুস্তক বই নিয়ে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের চুক্তির সিন্দুকের পাশে রাখ। তাহলে তা তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হবে। 27আমি জানি তোমরা খুব একগুঁয়ে, তোমরা তোমাদের মত করে জীবন কাটাতে চাও। দেখ আমি তোমাদের সাথে থাকাকালীনই তোমরা প্রভুর বাধ্য হতে অস্বীকার করেছিলে। তাই আমি জানি যে আমার মৃত্যুর পরও তোমরা তাঁর বাধ্য হতে অস্বীকার করবে। 28তোমাদের পরিবারগোষ্ঠীর সমস্ত উচ্চপদস্থ কর্মচারী ও নেতাদের এক জায়গায় জড়ো করো। আমি তাদের এইসব বিষয় বলব এবং তাদের বিরুদ্ধে আকাশ ও পৃথিবীকে সাক্ষী করবো। 29আমি জানি আমার মৃত্যুর পর তোমরা মন্দ হয়ে পড়বে। আমি যে ভাবে আজ্ঞা করেছি তার থেকে তোমরা দূরে সরে যাবে। ভবিষ্যতে তোমাদের অমঙ্গল হবে। কারণ প্রভু যে কাজ মন্দ বলেন তোমরা সেই সবই করতে চাও এবং তোমাদের মন্দ কাজের দ্বারা তাঁকে অসন্তুষ্ট কর।”

মোশির গান

30ইস্রায়েলের সমস্ত লোক এক জায়গায় জড়ো হলে মোশি তাদের জন্য এই গানের সবটাই গাইলেন:

32

1“আকাশ, আমি যা বলি শোন।

পৃথিবী, আমার মুখের কথা শোন।

2আমার উপদেশ বৃষ্টির মত ঝরবে,

যেমন শিশির পড়ে মাটির উপরে,

বৃষ্টির ধারা ঘাসের উপর পড়ে,

যেমন সবুজ গাছপালার উপর বৃষ্টি নামে।

3কারণ আমি প্রভুর নাম প্রচার করব। তোমরা ঈশ্বরের প্রশংসা কর!

4“শৈল (প্রভু)

এবং তাঁর কাজও ত্রুটিহীন!

কারণ তাঁর পথসকল ন্যায্য!

ঈশ্বর সত্য এবং বিশ্বাসযোগ্য।

তিনি মঙ্গলময় ও সৎ‌।

5সত্যি তোমরা তাঁর সন্তান নও।

তোমাদের পাপসকল তাঁকে কলুষিত করে।

তোমরা বিপথগামী মিথ্যেবাদী।

6এইভাবে কি তোমরা প্রভু তোমাদের প্রতি যা যা করেছেন তা পরিশোধ কর?

তোমরা স্থূলবুদ্ধি, বোকা লোক।

প্রভুই তোমাদের পিতা এবং তিনি তোমাদের তৈরী করলেন।

তিনিই তোমাদের সৃষ্টিকর্তা এবং তিনিই তোমাদের ভার বহন করেন।

7“স্মরণ কর বহুপূর্বে কি ঘটেছিল।

বহু বছর আগে যে সব ঘটনা ঘটেছিল তা মনে করে দেখ।

তোমাদের পিতাকে জিজ্ঞাসা কর, তিনি তোমাদের বলবেন।

তোমাদের প্রবীণদের জিজ্ঞেস কর, তাঁরাও তোমাদের বলবেন।

8পরাৎ‌‌পর পৃথিবীতে লোকদের পৃথক করেছেন।

তিনি প্রত্যেক জাতিকে তাঁর নিজের দেশ দিয়েছেন।

সেই সব জাতির জন্য ঈশ্বরই সীমারেখা নির্দিষ্ট করেছেন,

ঈশ্বরের সন্তানদের সংখ্যা অনুসারেই রয়েছেন।

9প্রভুর লোকরাই তাঁর অধিকার!

যাকোব প্রভুরই।

10“প্রভু যাকোবকে মরুভূমিতে এক বাতাস তাড়িত দেশে পেলেন।

প্রভু যাকোবের তত্ত্বাবধানের জন্য তাকে বেষ্টন করলেন।

তাঁর নিজের চোখের তারার মত তাকে রক্ষা করলেন।

11ঈগল পাখী তার শাবকদের বাসা থেকে ঠেলে দেয় যাতে তারা উড়তে শেখে।

শাবকদের রক্ষা করতে সে তাদের সাথে আকাশে ওড়ে।

তাদের ধরতে সে তার পাখা বিস্তার করে,

তারা পড়ে গেলে সে তাদের ডানার উপর বহন করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।

প্রভু ঠিক সেই রকম হলেন।

12প্রভু একাই যাকোবকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেলেন।

কোন বিজাতীয় দেবতা তাকে সাহায্য করে নি।

13পার্বত্য দেশ অধিকার করতে তিনি যাকোবকে পরিচালনা করলেন।

যাকোব ক্ষেতের শস্য সংগ্রহ করলেন।

প্রভু তাকে পাথরের থেকে মধু

এবং শক্ত পাথরের থেকে জলপাইয়ের তেল দিলেন।

14প্রভু ইস্রায়েলকে দিলেন গো-পাল হতে উৎপন্ন মাখন এবং মেষপালের দুধ।

তিনি ইস্রায়েলকে দিলেন মোটা-সোটা মেষ ও ছাগল;

বাশনের সেরা মেষ এবং মিহি উৎকৃষ্ট গমের আটা।

তোমরা ইস্রায়েলের লোকরা দ্রাক্ষারস, লাল রঙের দ্রাক্ষারস পান করলে।

15“কিন্তু যিশুরূণ হৃষ্টপুষ্ট হলে ষাঁড়ের মত পদাঘাত করল।

(হ্যাঁ, তোমাদের পেট ভরে খাওয়ানো হয়েছিল! তোমরা পুষ্ট ও মেদযুক্ত হলে।)

তখন সে তার নির্মাতা, তার ঈশ্বরকে পরিত্যাগ করল।

যে শৈল তাকে পরিত্রাণ করেছিল তার থেকে পালাল।

16প্রভুর লোকরাই তাঁকে ঈর্ষান্বিত করল। তারা অন্য দেবতার পূজা করল!

সেই সব ভয়ঙ্কর দেবতার পূজা করে তারা ঈশ্বরকে ক্রুদ্ধ করল।

17তারা ভূতদের উদ্দেশ্যে বলিদান উৎসর্গ করল, যারা ঈশ্বর ছিল না।

ঐ দেবতারা ছিল নতুন, যাদের তারা জানত না।

ঐ সব নতুন দেবতাদের তাদের পূর্বপুরুষরাও জানত না।

18যে ঈশ্বর তোমার নির্মাতা তাঁকে তুমি পরিত্যাগ করলে,

যে ঈশ্বর তোমায় জীবন দান করলেন তাঁকে ভুলে গেলে।

19“প্রভু এসব দেখলেন এবং তাদের প্রতি প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হলেন।

তাঁর পুত্র কন্যারাই তাঁকে ক্রুদ্ধ করল!

20তাই প্রভু বললেন,

‘আমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেব,

তারপর দেখা যাবে কি ঘটে!

তারা বিরুদ্ধাচারী।

তারা বিশ্বাসঘাতক সন্তান।

21তারা অনীশ্বর দ্বারা আমাকে ঈর্ষান্বিত করল।

তারা ঐসব অর্থহীন মূর্ত্তি তৈরী করে আমাকে ক্রুদ্ধ করল।

তাই আমি তাদের মধ্যে ঈর্ষা জন্মাব এমন লোকদের দ্বারা যারা প্রকৃতপক্ষে জাতি নয়।

আমি তাদের একটি দুষ্ট জাতির দ্বারা ক্রুদ্ধ করব।

22আমার ক্রোধ আগুনের মত জ্বলবে,

তা কবরের+ 32:22 কবর অথবা “শিওল” মৃত্যুর স্থান। গভীরতম স্থানও জ্বালিয়ে দেবে,

তা পৃথিবী ও পৃথিবীতে উৎপন্ন সবকিছু জ্বালাবে,

তা পর্বতগুলির মূলে পৌঁছে সেটাও জ্বালাবে।

23“‘আমি ইস্রায়েলীয়দের সঙ্কটে ফেলব।

আমার সমস্ত বাণ তাদের দিকে ছুঁড়ব।

24তারা ক্ষুধায় রোগা হয়ে যাবে।

ভয়ঙ্কর সব রোগ তাদের ধ্বংস করে ফেলবে।

আমি তাদের বিরুদ্ধে বন্য জন্তু পাঠাব।

বিষাক্ত সাপ দ্বারা তারা দংশিত হবে।

25পথে সৈন্যরা তাদের হত্যা করবে।

বাড়ীর মধ্যেও মহাভয় বিনাশ করবে।

সৈন্যরা যুবক যুবতীদের হত্যা করবে।

তারা শিশু ও বৃদ্ধদেরও হত্যা করবে।

26“‘আমি ইস্রায়েলীয়দের ধ্বংস করার কথা ভেবেছিলাম,

যাতে লোক তাদের কথা একদম ভুলে যায়!

27কিন্তু আমি জানি তাদের শত্রুরা কি বলবে।

তাদের শত্রুরা বুঝবে না।

তারা বড়াই করে বলবে,

“প্রভু ইস্রায়েলকে ধ্বংস করেন নি,

আমরাই আমাদের শক্তিতে জয়ী হয়েছি!”’

28“ইস্রায়েলের লোকরা বোকা,

তারা বোঝে না।

29যদি শুধু তারা জ্ঞানবান হত

তবে বুঝত।

তারা বুঝত তাদের প্রতি কি ঘটতে পারে!

30একজন লোক কি কখনও 1000 লোককে তাড়িয়ে দিতে পারে?

দুজন কি কখনও 10,000 লোককে পালাতে বাধ্য করতে পারে?

এইসব তখনই ঘটে যখন প্রভু

তাদের শত্রুর হাতে সমর্পণ করেন!

এইসব তখনই ঘটে যদি শৈল+ 32:30 শৈল ঈশ্বরের আরেক নাম (এর অর্থ তিনি এক দুর্গ বা শক্তসমর্থ নিরাপদস্থান।)

তাদের দাসের মত বিক্রয় করে দেন!

31আমাদের শত্রুদের যে ‘শৈল’ তা আমাদের শৈলের মত বলবান নয়!

এমন কি আমাদের শত্রুরাও সেটা জানে!

32তাদের দ্রাক্ষালতা সদোমের দ্রাক্ষালতা হতে এবং ঘমোরার ক্ষেত হতে উৎপন্ন।

তাদের দ্রাক্ষা ফল প্রাণনাশক বিষের মত।

33তাদের দ্রাক্ষারস সাপের বিষের মত।

34“প্রভু বলেন,

‘আমি সেই শাস্তি সঞ্চয় করে রাখছি।

আমি তা আমার ভাণ্ডারে বন্ধ করে রেখেছি!

35তারা যে সব মন্দ কাজ করেছে তার জন্য আমি তাদের শাস্তি দেব।

কিন্তু আমি সেই দিনের জন্য শাস্তি সঞ্চয় করে রেখেছি যখন তাদের পা পিছলে যাবে।

তাদের কষ্টের সময় সন্নিকট।

শীঘ্রই তাদের শাস্তি নেমে আসবে।’

36“প্রভু তাঁর লোকদের বিচার করবেন।

তারা তাঁর দাস

এবং প্রভু যখন দেখবেন যে ক্রীতদাস এবং স্বাধীন লোকরা

শক্তিহীন এবং সহায়হীন হয়েছে

তখন তিনি তাদের উপর করুণা প্রদর্শন করবেন।

37তখন প্রভু বলবেন,

‘তাদের সেই দেবতারা কোথায়?

কোথায় সেই “শৈল” যার কাছে আশ্রয়ের জন্য তারা ছুটে গিয়েছিল?

38সেই দেবতারা তোমাদের বলির চর্বি ভোজন করত

এবং পেয় নৈবেদ্যর দ্রাক্ষারস পান করত।

ঐ সব দেবতারাই উঠে এসে তোমাদের সাহায্য করুক!

তারাই তোমাদের রক্ষা করুক!

39“‘এখন দেখ আমি, কেবল আমিই ঈশ্বর!

আর কোন ঈশ্বর নেই!

আমিই বধ করি,

আমিই জীবন দান করি,

আমিই আঘাত করি,

আমিই সুস্থ করি।

আমার হাত থেকে কেউ কাউকে উদ্ধার করতে পারে না!

40আমি আকাশের দিকে আমার হাত তুলে এই প্রতিজ্ঞা করি,

আমার অনন্তজীবন যেমন নিশ্চিত

সেই নিশ্চিতভাবেই এগুলি ঘটবে!

41আমি প্রতিজ্ঞা করছি,

আমি আমার প্রদীপ্ত তরবারি ধারালো করব।

আমি তাদের উচিৎ‌ শাস্তি দেব।

এবং যারা আমায় ঘৃণা করে তাদের প্রতিফল দেব।

42আমার শত্রুরা হত হবে এবং তাদের বন্দী হিসাবে নিয়ে যাওয়া হবে।

আমার তীর তাদের রক্তে রাঙাব।

আমার তরবারি তাদের সেনাদের মাথাগুলি কেটে নেবে।’

43“জাতিগণ, তোমরা ঈশ্বরের লোকদের জন্য আনন্দ কর! কারণ তিনি তাদের সাহায্য করেন।

তাঁর দাসদের হত্যাকারীকে তিনি শাস্তি দেন।

তিনি তাঁর শত্রুদের উচিৎ‌ শাস্তি দেন।

আর এইভাবে তিনি তাঁর দেশ ও প্রজাদের পবিত্র করেন।”

মোশি লোকদের তাঁর গান শেখালেন

44তারপর মোশি একে ইস্রায়েলের লোকদের শুনিয়ে শুনিয়ে এই গানের সমস্ত কথাগুলি বললেন। নূনের পুত্র যিহোশূয় মোশির সাথে ছিলেন। 45মোশি লোকদের এই বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া শেষ করে বললেন, 46“আমি আজ যে সব আদেশ দিলাম তার প্রতি তোমরা অবশ্যই মনোযোগ দেবে এবং সন্তানদেরও শিক্ষা দিও যেন তারা ব্যবস্থার সমস্ত আজ্ঞা পালন করে। 47ভেবো না এইসব শিক্ষা গুরুত্বহীন। তারা তোমার জীবন! এইসব শিক্ষা অনুসরণ করলে তোমরা যর্দন নদীর ওপারের দেশে দীর্ঘজীবি হবে—যে দেশ তোমরা অধিকার করবে।”

নবো পর্বতে মোশি

48সেই একই দিনে প্রভু মোশির সঙ্গে কথা বললেন। তিনি বললেন, 49“তুমি অবারীম পর্বতে যাও। যিরীহোর সামনে অবস্থিত মোয়াব দেশের নবো পর্বতে ওঠো। তাহলে ইস্রায়েলের লোকদের বসবাসের জন্য যে কনান দেশ আমি তাদের দিচ্ছি, তা তুমি দেখতে পাবে। 50তুমি সেই পর্বতে মারা যাবে। তোমার ভাই হারোণ, যে হোর পর্বতে মারা গিয়েছিল এবং তারপর তার নিজের লোকদের সঙ্গে মিলিত হবার জন্য চলে গিয়েছিল। তুমিও সেইভাবেই পূর্বপুরুষদের সাথে মিলিত হবে। 51কারণ তোমরা দুজনেই আমার বিরুদ্ধে পাপ করেছিলে। তোমরা কাদেশের কাছে মরীবার জলের ধারে ছিলে, যেটা সিন মরুভূমিতে রয়েছে, সেখানে ইস্রায়েলের লোকদের সামনে তোমরা আমাকে সম্মান কর নি এবং আমাকে পবিত্র বলে মান্য কর নি। 52তাই এখন তোমরা সেই দেশ দেখতে পার, যা আমি ইস্রায়েলের লোকদের দিচ্ছি, কিন্তু তোমরা সেই দেশে প্রবেশ করতে পারবে না।”

33

মোশি লোকদের আশীর্বাদ করলেন

1মৃত্যুর পূর্বে ঈশ্বরের লোক মোশি, ইস্রায়েলের লোকদের এইসব বলে আশীর্বাদ করলেন।

2“প্রভু সীনয় পর্বত হতে এলেন,

সেয়ীরের গোধূলি বেলায় যেন আলো উদিত হল।

পারণ পর্বত হতে যেন আলো জ্বলে উঠলো।

প্রভু তাঁর 10,000 পবিত্র জনকে তাঁর সঙ্গে নিয়ে এলেন।

ঈশ্বরের পরাক্রমী সৈন্যরা তাঁর পাশে ছিল।

3হ্যাঁ, প্রভু তাঁর লোকদের ভালবাসেন।

সমস্ত পবিত্র লোকরা তাঁর হাতে রয়েছে।

তারা তাঁর চরণতলে বসে তাঁর শিক্ষাসকল শেখে!

4মোশি আমাদের বিধি দিলেন।

সেই সব শিক্ষা যাকোবের লোকদের জন্য।

5সেই সময় ইস্রায়েলের লোকরা

ও তাদের নেতারা এক সাথে জড়ো হল,

আর প্রভু যিশুরূণের (ইস্রায়েলের) রাজা হলেন!

রূবেণের আশীর্বাদ

6“রূবেণ বেঁচে থাকুক, মারা না যাক। কিন্তু তার পরিবারগোষ্ঠীর লোকসংখ্যা অল্প হোক্!”

যিহূদার আশীর্বাদ

7যিহূদার বিষয়ে মোশি এই কথা বললেন:

“যিহূদার নেতা সাহায্যের জন্য প্রার্থনা জানালে প্রভু তার প্রার্থনা শুনুন।

তাঁর লোকদের কাছে তাকে নিয়ে আসুন।

তাকে শক্তিশালী করে তার শত্রুদের হারাতে সাহায্য করুন।”

লেবীর আশীর্বাদ

8লেবীর সম্বন্ধে মোশি এই কথাগুলি বললেন:

“লেবি তোমার প্রকৃত অনুসরণকারী,

উরীম ও তূম্মীম তার সাথে রয়েছে।

মঃসাতে তুমি লেবীর পরীক্ষা করেছিলে।

মরীবার জলের ধারে তুমি তাদের পরীক্ষা করে প্রমাণ করেছিলে যে তারা তোমার।

9তারা তোমার বিষয়েই বেশী যত্নশীল হে প্রভু, এমনকি নিজেদের পরিবারের থেকেও।

তারা তাদের মাতাপিতাকে উপেক্ষা করেছে,

নিজের ভাইদেরও স্বীকার করেনি।

এমন কি তারা তাদের শিশুদের বিষয়েও মনোযোগ করে নি।

কিন্তু তারা তোমার আদেশসকল পালন করেছে।

তারা তোমার বন্দোবস্ত অনুসরণ করেছে।

10তারা যাকোবকে তোমার শাসন শিক্ষা দেবে।

তোমার ব্যবস্থা ও আজ্ঞা ইস্রায়েলকে বিধি দেবে।

তারা তোমার সামনে ধূপ জ্বালাবে।

তোমার বেদীতে তারা হোমবলি উৎসর্গ করবে।

11“প্রভু, লেবীর শক্তিকে আশীর্বাদ কর।

তার হাতের কাজ গ্রহণ কর।

যারা তাদের আক্রমণ করে তাদের ধ্বংস কর।

তার শত্রুদের পরাজিত কর, যেন শত্রুরা আর কখনও ফিরে আক্রমণ করতে না পারে।”

বিন্যামীনের আশীর্বাদ

12বিন্যামীনের সম্বন্ধে মোশি বললেন:

“প্রভু বিন্যামীনকে ভালবাসেন।

বিন্যামীন নিরাপদেই তাঁর কাছে থাকবে।

প্রভু সবসময় তাকে রক্ষা করেন

এবং প্রভু তার দেশে বাস করবেন।”+ 33:12 প্রভু … করবেন আক্ষরিক অর্থে, “এবং এখন তিনি তাঁর দুই কাঁধের মধ্যে বাস করবেন।” এটি সম্ভবতঃ বোঝায় যে বিন্যামীন এবং যিহূদার ভূখণ্ডের মধ্যের সীমান্তে জেরুশালেমে প্রভুর মন্দির হবে।

যোষেফের আশীর্বাদ

13যোষেফের সম্বন্ধে মোশি বললেন:

“প্রভু যোষেফের দেশকে আশীর্বাদ করুন।

প্রভু তাদের মাথার উপরের আকাশ থেকে বৃষ্টি আনুন

আর পায়ের তলার মাটি থেকে জল দিন।

14সূর্য তাদের যেন ভাল ফল দেয়।

প্রত্যেক মাসেই যেন উত্তম ফল হয়।

15পুরাতন পর্বত সকল ও গিরিমালাগুলি যেন

উত্তম ফল দেয়।

16পৃথিবী যেন তার উৎকৃষ্ট বিষয়গুলি যোষেফকে দেয়।

যোষেফকে তার ভাইদের থেকে আলাদা করা হয়েছিল।

তাই জ্বলন্ত ঝোপের প্রভু তাঁর উৎকৃষ্ট বিষয় সকল যোষেফকে দিন।

17যোষেফ শক্তিশালী ষাঁড়ের মত।

তার দুই পুত্র ষাঁড়ের দুই শিঙের মত।

তারা অন্য জাতির লোকদের তাই দিয়ে আক্রমণ করবে

এবং তাদের পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ঠেলে নিয়ে যাবে।

হ্যাঁ, সেই শিং দুইটি ইফ্রয়িমের দশ হাজার লোক

এবং মনঃশির হাজার লোক।”

সবূলূনের ও ইষাখরের আশীর্বাদ

18সবূলূন সম্বন্ধে মোশি বললেন:

“সবূলূন, আনন্দিত হও, যখন তুমি বাইরে যাও।

ইষাখর, আনন্দিত হও, তোমার বাসের তাঁবুতে।

19তারা লোকদের পর্বতে ডেকে নিয়ে যাবে।

সেখানে তারা যথাযথ বলি উৎসর্গ করবে।

তারা সমুদ্র থেকে সম্পদ

এবং সমুদ্রতট থেকে গুপ্তধন আহরণ করবে।”

গাদের জন্য আশীর্বাদ

20গাদ সম্বন্ধে মোশি বললেন:

“ঈশ্বরের প্রশংসা হোক্ যিনি গাদকে এক বিশাল ভূখণ্ড দিলেন!

গাদ সিংহের মত, সে শুয়ে পড়ে অপেক্ষা করে।

তারপর আক্রমণ করে পশুদের ছিন্ন ভিন্ন করে।

21সে নিজের জন্য উত্তম অংশ মনোনীত করে

রাজার মত নিজের অংশ নেয়।

লোকদের নেতারা তার কাছে আসে।

প্রভু যা ভাল বলেন সে তাই করে।

সে ইস্রায়েলের লোকদের জন্য যা ন্যায্য তাই করে।”

দানের আশীর্বাদ

22দান সম্বন্ধে মোশি বললেন:

“দান সিংহ শাবক, সে বাশন থেকে লাফ দেয়।”

নপ্তালির আশীর্বাদ

23নপ্তালি সম্বন্ধে মোশি বললেন:

“নপ্তালি তুমি অনেক উত্তম বিষয় পাবে।

প্রভু সত্য সত্যই তোমায় আশীর্বাদ করবেন।

গালীল হ্রদের দেশ তুমিই পাবে।”

আশেরের আশীর্বাদ

24আশের সম্বন্ধে মোশি বললেন:

“পুত্রদের মধ্যে আশেরই সবচেয়ে আশীর্বাদপ্রাপ্ত।

সে তার ভাইদের মধ্যে প্রিয় হোক্, সে তার পা তেলে ধুয়ে নিক।

25তোমার দরজায় লোহার ও তামার তৈরী তালা ঝুলবে।

তোমার সমস্ত জীবনে তুমি হবে শক্তিমান।”

মোশি ঈশ্বরের প্রশংসা করলেন

26“হে যিশুরূণ, ঈশ্বরের মত আর কেউ নেই!

ঈশ্বর তোমাকে সাহায্য করতে

তাঁর গৌরবের মেঘে আরোহণ করে আকাশের মধ্য দিয়ে আসেন!

27ঈশ্বর চিরজীবি।

তিনিই তোমার নিরাপদ স্থান।

ঈশ্বরের পরাক্রম চিরকাল স্থায়ী!

তিনিই তোমাকে রক্ষা করেন।

ঈশ্বর তোমার শত্রুকে তোমার দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করবেন।

তিনি বললেন, ‘শত্রুকে ধ্বংস করো!’

28সুতরাং ইস্রায়েল নিরাপদে বাস করবে,

যাকোবের কূপ তাদেরই অধিকারে।

তারা শস্যের ও দ্রাক্ষারসের দেশ পাবে।

আর সেই দেশ পাবে প্রচুর বৃষ্টি।

29ইস্রায়েল, তুমি আশীর্বাদপ্রাপ্ত,

আর কোন জাতি তোমার মত নয়।

প্রভু তোমার পরিত্রাণ সাধন করলেন।

প্রভু ঢালের মত তোমাকে রক্ষা করেন।

প্রভু শক্তিশালী তরবারির মত।

তোমার শত্রুরা তোমায় ভয় পাবে

এবং তুমি তাদের পবিত্র স্থানগুলি দখল করবে!”

34

মোশি মারা গেলেন

1মোশি নবো পর্বতে উঠলেন। তিনি মোয়াবের যর্দন উপত্যকা থেকে পিস্গার চূড়ায় উঠলেন। এটা ছিল যর্দ্দনের ধারে যিরীহোর অপর পারে। প্রভু মোশিকে গিলিয়দ থেকে দান পর্যন্ত সমস্ত দেশ দেখালেন।

2প্রভু তাকে নপ্তালি, ইফ্রয়িম ও মনঃশির সমস্ত দেশ দেখালেন। তিনি ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত যিহূদার সমস্ত দেশ দেখালেন। 3প্রভু মোশিকে নেগেভ স্থানটি এবং সোর থেকে যে উপত্যকা খেজুর গাছের শহর যিরীহো চলে গেছে তাও দেখালেন। 4প্রভু মোশিকে বললেন, “এই সেই দেশ, যার বিষয়ে আমি অব্রাহাম, ইস‌্হাক ও যাকোবের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। আমি বলেছিলাম, ‘এই দেশ আমি তোমার উত্তরপুরুষদের দেব। আমি তোমায় সেই দেশ দেখতে দিয়েছি, কিন্তু তুমি সেখানে যেতে পারবে না।’”

5তারপর প্রভুর দাস মোশি মোয়াব দেশে মারা গেলেন। এই রকমই যে ঘটবে তা প্রভু মোশিকে জানিয়েছিলেন। 6প্রভু মোশিকে মোয়াব দেশে কবর দিলেন। এটি ছিল বৈৎ‌পিয়োরের সামনের উপত্যকা। কিন্তু আজও লোক জানে না মোশির কবরটা ঠিক কোথায় রয়েছে। 7মারা যাবার সময় মোশির বয়স হয়েছিল 120 বছর। তিনি আগেকার মতই শক্ত সমর্থ ছিলেন এবং তার চোখও ক্ষীণ হয়ে যায় নি। 8ইস্রায়েলের লোকরা 30 দিন ধরে মোশির জন্য শোক করেছিলেন। সেই শোকের সময় কেটে না যাওয়া পর্যন্ত তারা মোয়াব দেশের যর্দন উপত্যকায় কাটালেন।

যিহোশূয় নতুন নেতা হলেন

9মোশি যিহোশূয়োর উপরে তাঁর হাত রেখে তাকে নতুন নেতা হিসাবে মনোনীত করেছিলেন। আর তখন নূনের পুত্র যিহোশূয় প্রজ্ঞার আত্মায পূর্ণ হয়েছিলেন। তাই ইস্রায়েলের লোকরা যিহোশূয়োর কথার বাধ্য হতে লাগল। প্রভু মোশিকে যা আজ্ঞা করেছিলেন তারা সেই মত কাজ করতে থাকল।

10মোশির মত ইস্রায়েলে আর কোন ভাববাদী ছিল না। প্রভু মোশির সামনাসামনি আলাপ করতেন। 11প্রভু মোশিকে মিশর দেশে মহা পরাক্রমের অলৌকিক কাজ করতে পাঠিয়েছিলেন। ফরৌণ, তার উচ্চপদস্থ কর্মচারী ও মিশরের সমস্ত লোক সেই সব অলৌকিক কাজ দেখেছিল। 12আর কোন ভাববাদী মোশির মত এত পরাক্রমের ও আশ্চর্য কাজ করেন নি। ইস্রায়েলের সমস্ত লোক তাঁর মহান কাজগুলি দেখেছিল।