শমূয়েলের দ্বিতীয় পুস্তক
1দায়ূদ শৌলের মৃত্যু সম্পর্কে জানলেন
1দায়ূদ অমালেকীয়দের পরাজিত করে সিক্লগে ফিরে গেলেন। শৌলের মৃত্যুর ঠিক পরে দায়ূদ সিক্লগে দু’দিন থাকলেন। 2তৃতীয় দিন একজন তরুণ সৈনিক সিক্লগে এলো। লোকটির জামাকাপড় ছেঁড়া, মাথায় ধূলোবালি ভর্ত্তি।+ 1:2 লোকটির … ভর্ত্তি এতে বোঝায় লোকটি খুবই দুঃখী ছিল। সে দায়ূদের কাছে এসে মাথা নত করে তাঁকে প্রণাম করলো।
3দায়ূদ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কোথা থেকে আসছো?”
লোকটি দায়ূদকে উত্তর দিলো, “আমি এইমাত্র ইস্রায়েলীয় শিবির থেকে আসছি।”
4দায়ূদ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “যুদ্ধে কারা জিতেছে বল?”
লোকটি উত্তর দিলো, “আমাদের লোক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গেছে। অনেক লোক যুদ্ধে মারা গেছে। এমনকি শৌল এবং তার পুত্র যোনাথনও যুদ্ধে মারা গেছে।”
5দায়ূদ সৈনিককে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কেমন করে জানলে যে শৌল এবং তার পুত্র যোনাথন মারা গেছে?”
6সৈনিক উত্তর দিলো, “আমি তখন গিলবোয় পর্বতে ছিলাম। আমি শৌলকে তার বর্শার উপর ভর দিয়ে ঝুঁকে পড়তে দেখেছি। তখন পলেষ্টীয় রথ ও অশ্বারোহী সৈনিকরা ক্রমশঃ শৌলের কাছাকাছি এগিয়ে আসছিলো। 7শৌল পিছন ফিরে আমাকে দেখতে পেলেন, আমাকে ডাকলেন এবং আমি সাড়া দিলাম। 8শৌল জিজ্ঞাসা করেছিলেন আমি কে। আমি বলেছিলাম যে আমি একজন অমালেকীয়। 9তখন শৌল বলেছিলেন, ‘আমাকে মেরে ফেল। আমি প্রচণ্ডভাবে আহত এবং আমি প্রায় মরতে চলেছি।’ 10তিনি এমন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন যে আমি বুঝলাম তিনি আর বাঁচবেন না। সুতরাং আমি তাঁকে হত্যা করলাম। তারপর আমি তাঁর মাথা থেকে রাজমুকুট, বাহু থেকে বালা খুলে নিয়েছিলাম। হে আমার মনিব, সেগুলি নিয়ে এখন আমি আপনার কাছে এসেছি।”
11তখন দায়ূদ নিজের বস্ত্র ছিঁড়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন এবং দায়ূদের সঙ্গে যারা ছিল, তারাও সেই ভাবে দুঃখ প্রকাশ করল। 12তারা দুঃখে কাঁদতে লাগল ও সন্ধ্যা পর্যন্ত উপবাস করে রইল। তারা শৌল এবং তার পুত্র যোনাথনের মৃত্যুর জন্য শোক প্রকাশ করতে লাগল। দায়ূদ এবং তাঁর সঙ্গীরা, প্রভুর যে সমস্ত লোকরা নিহত হয়েছে তাদের জন্য এবং ইস্রায়েলের জন্য কাঁদলেন। কারণ শৌল এবং তাঁর পুত্র যোনাথন এবং বহু ইস্রায়েলীয় যুদ্ধে মারা গিয়েছিল।
দায়ূদ সেই অমালেকীয়কে হত্যার আদেশ দিলেন
13তখন দায়ূদ, যে সৈনিক তাকে শৌলের মৃত্যুর সংবাদ দিয়েছিল, তার সঙ্গে কথা বললেন। দায়ূদ জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কোথা থেকে আসছো?”
সৈনিক উত্তর দিল, “আমি এক বিদেশীর ছেলে। আমি একজন অমালেকীয়।”
14দায়ূদ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “প্রভুর অভিষিক্ত রাজাকে হত্যা করতে তুমি ভয় পেলে না কেন?”
15 তখন দায়ূদ সেই অমালেকীয়কে বললেন, “তুমিই তোমার মৃত্যুর জন্য দায়ী। তুমিই বলেছিলে যে তুমি প্রভুর অভিষিক্ত রাজাকে হত্যা করেছ। সুতরাং তোমার নিজের কথাই তোমার অপরাধের প্রমাণ দিচ্ছে।” এরপর দায়ূদ তাঁর এক তরুণ ভৃত্যকে ডেকে এই অমালেকীয়কে হত্যা করতে আদেশ দিলেন। তখন সেই ইস্রায়েলীয় যুবক সেই অমালেকীয়কে হত্যা করল।
শৌল এবং যোনাথনের সম্বন্ধে দায়ূদের শোক গীত
17শৌল ও যোনাথন সম্পর্কে দায়ূদ একটি শোক গীত গাইলেন। 18সেই গান যিহূদার অধিবাসীদের শিখিয়ে দেবার জন্য দায়ূদ তাঁর অনুগামীদের আদেশ দিলেন। এ গান “ধনু” নামে পরিচিত যা যাশের গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে।
19“হে ইস্রায়েল, তোমার পাহাড়ে তোমার সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়েছিল।
হায়! সেই বীরদের কেমন করে পতন হল!
20এ খবর গাতে জানিও না।
অস্কিলোনের পথে পথে এ খবর প্রচার করো না।
এতে পলেষ্টীয়রা উল্লাস করবে।
ঐ সব বিদেশীরা+ 1:20 বিদেশী আক্ষরিক অর্থে, “যাদের সুন্নত করা হয় নি।” এতে বোঝায় যে ইস্রায়েলের ঈশ্বরের সঙ্গে চুক্তিতে পলেষ্টীয়রা অংশ নেয় নি। আনন্দিত হবে।
21“গিল্বোয় পর্বতে উৎসর্গ ক্ষেত্রগুলির+ 1:21 উৎসর্গ ক্ষেত্রগুলির যুদ্ধক্ষেত্রে যেসব সৈন্য মারা গেছে। ওপরে
যেন কোন বৃষ্টি বা শিশির কণা না পড়ে।
সেখানে বীরপুরুষদের ঢালগুলিতে মরচে পড়েছে।
শৌলের ঢাল তেল দিয়ে ঘষা হয় নি।
22যোনাথনের ধনুক তার শত্রুদের হত্যা করেছে।
শৌলের তরবারিও শত্রুদের হত্যা করেছে।
যোনাথন ও শৌল পরাক্রান্ত শত্রু সৈন্যদের রক্তপাত ঘটিয়েছে।
তাঁরা শক্তিমান লোকদের মেদ মাংস ছিন্নভিন্ন করেছেন।
23“শৌল এবং যোনাথন একে অপরকে ভালোবাসতেন
এবং জীবনভর একে অপরের সঙ্গ উপভোগ করেছিলেন।
মৃত্যুও তাঁদের আলাদা করতে পারে নি।
তাঁদের গতি ঈগলের থেকেও তীব্র ছিলো।
তাঁরা সিংহের থেকেও বলবান ছিলেন।
24হে ইস্রায়েলের কন্যাগণ, শৌলের জন্য বিলাপ কর।
শৌল তোমাদের সুন্দর লাল পোষাক দিয়েছেন
এবং তা সোনার অলঙ্কারে ঢেকে দিয়েছেন।
25“বীরগণ যুদ্ধে ভূপতিত হলেন।
যোনাথন গিলবোয় পর্বতে মৃত্যুবরণ করলেন।
26যোনাথন, ভাই আমার, আমি তোমার জন্য শোকাভিভূত।
তুমি আমার সঙ্গে খুব ভাল ব্যবহার করেছ।
আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা
একজন নারীর ভালোবাসার থেকেও অনুপম ছিল।
27বীরগণ যুদ্ধে ভূপতিত হলেন।
যুদ্ধের সকল অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে হারিয়ে গিয়েছিল।”
2দায়ূদ ও তাঁর সঙ্গীরা হিব্রোণে গেলেন
1পরে দায়ূদ প্রভুর কাছ থেকে উপদেশ চাইলেন। দায়ূদ জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি কি যিহূদার শহরগুলির কোন একটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব?”
প্রভু দায়ূদকে বললেন, “হ্যাঁ।”
দায়ূদ জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি কোথায় যাব?”
প্রভু বললেন, “হিব্রোণে।”
2তখন দায়ূদ এবং তাঁর দুই স্ত্রী হিব্রোণে রওনা হলেন। (তাঁর স্ত্রীরা ছিলেন যিষ্রিয়েলের অহীনোয়ম এবং কর্ম্মিলের নাবলের বিধবা পত্নী অবীগল।) 3দায়ূদ তাঁর সঙ্গীগণ এবং তাদের পরিবারকেও সঙ্গে নিলেন। তারা প্রত্যেকে হিব্রোণ এবং নিকটবর্তী শহরগুলিতে বসবাস করতে লাগল।
4যিহূদার লোকরা হিব্রোণে এসে দায়ূদকে যিহূদার রাজারূপে অভিষিক্ত করল। তারপর তারা দায়ূদকে বলল, “যাবেশ গিলিয়দের লোকরা শৌলকে কবর দিয়েছে।”
5দায়ূদ যাবেশ গিলিয়দের লোকদের কাছে বার্তাবাহক পাঠালেন। বার্তাবাহকরা যাবেশের লোকদের বলল, “প্রভু তোমাদের আশীর্বাদ করুন কেননা তোমরা তোমাদের গুরু শৌলের ছাই+ 2:5 শৌলের ছাই শৌল এবং যোনাথন উভয়ের শরীর পুড়ে গিয়েছিল। কবর দিয়ে তাঁর প্রতি দয়া দেখিয়েছ। 6প্রভু তোমাদের প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণ করবেন এবং সদয় হবেন। আমিও তোমাদের প্রতি সদয় হব। 7এখন তোমরা শক্তিশালী ও সাহসী হও। তোমাদের মনিব শৌল নিহত হয়েছেন। কিন্তু যিহূদার পরিবারগোষ্ঠী আমাকে তাদের রাজারূপে অভিষিক্ত করেছে।”
ঈশ্ বোশত্ রাজা হলেন
8নেরের পুত্র অব্নের শৌলের সৈন্যবাহিনীর সেনাপতি ছিলেন। অব্নের শৌলের পুত্র ঈশ্ বোশত্কে মহনয়িমে নিয়ে গেলেন এবং 9তাকে গিলিয়দ, অশূরীয়, যিষিয়েল, ইফ্রয়িম, বিন্যামীন এবং সারা ইস্রায়েলের রাজা করে দিলেন।
10ঈশ্ বোশত্ শৌলের পুত্র ছিলেন। যখন তিনি ইস্রায়েলের শাসনভার নেন, তখন তাঁর বয়স 40 বছর। তিনি ইস্রায়েলে দুবছর রাজত্ব করেছিলেন। কিন্তু যিহূদার পরিবারগোষ্ঠী দায়ূদকে অনুসরণ করল। 11দায়ূদ ছিলেন হিব্রোণের রাজা। দায়ূদ যিহূদার পরিবারগোষ্ঠীর ওপর সাত বছর ছ’মাস শাসনকার্য চালিয়েছিলেন।
একটি মারাত্মক লড়াই
12নেরের পুত্র অব্নের এবং শৌলের পুত্র ইশ্বোশতের কিছু আধিকারিকগণ মহনয়িম থেকে গিবিয়োনে গেল। 13সরূয়ার পুত্র যোয়াব এবং দায়ূদের আধিকারিকরাও গিবিয়োনে গেল। গিবিয়োনের এক পুকুরের কাছে তাদের দেখা হল। পুকুরের একদিকে অব্নেরের দল এবং অন্যদিকে যোয়াবের দল বসল।
14অব্নের যোয়াবকে বলল, “আমাদের তরুণ যোদ্ধারা উঠে দাঁড়াক এবং তাদের মধ্যে একটা লড়াই হয়ে যাক।”
যোয়াব বলল, “নিশ্চয়ই, লড়াই হোক্।”
15তখন তরুণ যোদ্ধারা উঠে দাঁড়াল। দুই দেশই, লড়াইয়ের জন্য তাদের কত লোকজন আছে তা গুনে নিল। তারা বিন্যামীনের পরিবারগোষ্ঠী থেকে শৌলের পুত্র ঈশ্বোশতের পক্ষে লড়াইয়ের জন্য বারো জনকে বেছে নিলো। অন্যদিকে যোয়াবের দল দায়ূদের আধিকারিকদের মধ্যে থেকে বারো জনকে বেছে নিল। 16তাদের প্রত্যেকে প্রত্যেকের প্রতি পক্ষের মাথা আঁকড়ে ধরে তাদের তরবারি দিয়ে পাশে ঢুকিয়ে দিল, তাই তারা একসঙ্গে মাটিতে পড়ে গেল। এই জন্য এই জায়গাকে বলা হয় “ছুরিকা ভূমি।” এটা গিবিয়োনের একটা জায়গা।
17সেই লড়াই একটা ভয়ঙ্কর যুদ্ধের রূপ নিয়েছিল এবং দায়ূদের লোকজন সেদিন অব্নের এবং ইস্রায়েলীয়দের হারিয়ে দিয়েছিল।
অব্নের আসাহেলকে হত্যা করল
18সরূয়ার তিন পুত্র ছিল: যোয়াব, অবীশয় এবং অসাহেল। অসাহেল খুব দ্রুত দৌড়াতে পারত। সে বন্য হরিণের মতই দ্রুতগামী ছিল. 19অসাহেল সোজা অব্নেরের দিকে দৌড়ে গেল এবং তাকে তাড়া করল। 20অব্নের পিছনে তাকিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করল, “তুমিই কি অসাহেল?”
অসাহেল বললেন, “হ্যাঁ, আমিই অসাহেল।”
21অব্নের অসাহেলকে আঘাত করতে চায় নি। তাই, অব্নের অসাহেলকে বলল, “আমাকে তাড়া কর না। বরং একজন তরুণ সৈনিককে তাড়া কর। খুব সহজেই তুমি তার বর্মটি তোমার জন্য পেয়ে যেতে পারো।” কিন্তু অসাহেল অবনেরকে তাড়া করা থেকে ক্ষান্ত হল না।
22অব্নের আবার অসাহেলকে বলল, “দাঁড়াও, না হলে আমি তোমাকে হত্যা করতে বাধ্য হব। তাহলে কেমন করে আমি আবার তোমার ভাই যোয়াবের মুখের দিকে তাকাবো?”
23কিন্তু অসাহেল অব্নেরকে তাড়া করা থেকে ক্ষান্ত হল না। তখন অব্নের তার বর্শার গোড়ার দিকটা অসাহেলের পেটে ঢুকিয়ে দিল। বর্শা তার পেটে ঢুকে এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে গেল এবং সেখানেই অসাহেলের মৃত্যু হল।
যোয়াব এবং অবীশয় অব্নেরকে তাড়া করলো
অসাহেলের দেহ মাটিতে পড়ে রইলো। সেই রাস্তা দিয়ে যারা ছুটে যাচ্ছিল তারা সবাই অসাহেলকে দেখার জন্য দাঁড়িয়ে পড়লো। 24কিন্তু যোয়াব এবং অবীশয় অব্নেরকে তাড়া করতে লাগল। যখন তারা অম্মা পাহাড়ের কাছে এলো তখন সূর্য অস্ত যেতে বসেছে। (গিবিয়োন মরুভূমির দিকে যেতে গীহের সামনেই ছিল অম্মা পাহাড়।) 25পর্বতের চূড়ায়, বিন্যামীনের পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা অব্নেরের চারদিকে একত্রিত হল।
26অব্নের চিৎকার করে যোয়াবকে বলল, “আমরা কি চিরদিন লড়াই করে একে অপরকে হত্যা করে যাবো? তুমি খুব ভালো করেই জানো যে এর পরিণাম হবে শুধুই দুঃখ। এইসব লোকদের বল তারা যেন তাদের নিজের ভাইকে তাড়া না করে।”
27তখন যোয়াব বলল, “এ কথা বলে তুমি খুব ভালো করলে। যদি তুমি কিছু না বলতে, এইসব লোকরা সকাল পর্যন্ত তাদের ভাইকে তাড়া করতে থাকত। ঈশ্বর যেমন আছেন এ কথা যেমন সত্য তেমনি এটাও সত্য।” 28তখন যোয়াব একটি শিঙা বাজাল এবং তার লোকরা ইস্রায়েলীয়দের পেছনে তাড়া করা বন্ধ করল। তারা ইস্রায়েলীয়দের বিরুদ্ধে আর লড়াই করার চেষ্টাও করল না।
29অব্নের এবং তার অনুগামীরা সারারাত ধরে যর্দন উপত্যকায় হেঁটে যর্দন নদী পার হল এবং পরদিন সারা দিন হেঁটে মহানয়িমে উপস্থিত হল।
30যোয়াব অব্নেরকে তাড়া করা থেকে বিরত হল ও ফিরে গেল। যোয়াব তার লোকদের জড়ো করল এবং জানতে পারল যে অসাহেল সহ দায়ূদের 19 জন আধিকারিকরা নিখোঁজ। 31কিন্তু দায়ূদের আধিকারিকরা, অব্নেরের দল থেকে বিন্যামীনের পরিবারের 360 জনকে হত্যা করেছিল। 32দায়ূদের আধিকারিকরা অসাহেলকে নিয়ে গিয়ে বৈৎলেহেমে তার পিতার কবরে কবর দিলো।
যোয়াব এবং তার সঙ্গীরা সারারাত ধরে হেঁটে চলল। যখন তারা হিব্রোণে পৌঁছালো তখন সকালের সূর্য সবে উঠেছে।
3ইস্রায়েল ও যিহূদার মধ্যে যুদ্ধ হল
1শৌলের পরিবার ও দায়ূদের পরিবারের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে যুদ্ধ চলছিল। দায়ূদ ক্রমশঃই আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছিলেন এবং শৌলের পরিবার ক্রমশঃই দুর্বল হয়ে পড়ছিল।
হিব্রোণে দায়ূদের ছয় সন্তানের জন্ম হল
2দায়ূদের এইসব সন্তান হিব্রোণে জন্মগ্রহণ করেছিল।
প্রথম সন্তান ছিল অম্নোন। অম্নোনের মা ছিলেন যিষ্রিয়েলের অহীনোয়ম।
3দ্বিতীয় সন্তান ছিল কিলাব। কিলাবের মা অবীগল ছিলেন কর্ম্মিলীয় নাবলের বিধবা পত্নী।
তৃতীয় সন্তানের নাম অবশালোম। অবশালোমের মা ছিলেন গশূর রাজ্যের রাজা তল্ময়ের কন্যা মাখা।
4চতুর্থ সন্তান আদোনিয়। আদোনিয়র মা ছিলেন হগীত।
পঞ্চম সন্তান শফটিয়। শফটিয়ের মায়ের নাম অবীটল।
5ষষ্ঠ সন্তানের নাম যিত্রিয়ম। যিত্রিয়মের মা ছিলেন দায়ূদের স্ত্রী ইগ্লা।
দায়ূদের এই কটি সন্তান হিব্রোণে জন্মেছিলো।
অব্নের দায়ূদের সঙ্গে যোগ দেবার সিদ্ধান্ত নিল
6শৌল এবং দায়ূদের পরিবারের মধ্যে যখন যুদ্ধ চলছিল তখন শৌলের সৈন্যবাহিনীতে অব্নের ক্রমশঃই শক্তিশালী হয়ে উঠছিল। 7রিস্পা নামে শৌলের এক দাসী ছিল। রিস্পা ছিল অয়ার কন্যা। ঈশ্বোশ অব্নেরকে বলল, “আমার পিতার দাসীর সঙ্গে তুমি কেন যৌন সম্পর্ক করলে?”
8ঈশ্বোশতের কথায় অব্নের ভীষণভাবে রেগে গেল। অব্নের বলল, “আমি শৌল এবং তার পরিবারের প্রতি বরাবরই অনুগত। আমি তোমাকে দায়ূদের হাতে তুলে দিই নি। দায়ূদকে তোমার উপর জয়ী হতে দিই নি। যিহূদার অধিকারভুক্ত আমি বিশ্বাসঘাতক নই। কিন্তু এখন তুমি বলছো যে আমি এই অপকর্ম করেছি। 9 আমি প্রতিজ্ঞা করছি ঈশ্বর যা বলেছেন তা নিশ্চিতভাবে ঘটবে। প্রভু বলেছেন শৌলের পরিবার থেকে রাজ্য ছিনিয়ে নিয়ে তিনি দায়ূদকে দেবেন। প্রভু দায়ূদকেই যিহূদা এবং ইস্রায়েলের রাজা করবেন। তিনি দান থেকে বের্-শেবা পর্যন্ত+ 3:9 দান … পর্যন্ত এর অর্থ সমগ্র ইস্রায়েল জাতি, উত্তর ও দক্ষিণ। দান ছিল ইস্রায়েলের উত্তরাংশের একটি শহর ও বের-শেবা ছিল যিহূদার দক্ষিণ অংশে। শাসন করবেন। আমার মনে হয় তা ঘটাতে আমি যদি তৎপর না হই ঈশ্বর আমায় শাস্তি দেবেন।” 11ঈশ্বোশৎ অব্নেরকে আর কিছু বলতে পারলেন না। ঈশ্বোশৎ তাকে খুব ভয় পেতেন।
12অব্নের দায়ূদকে বার্তাবাহক পাঠাল। অব্নের বলল, “এই দেশ কার শাসন করা উচিৎ বলে আপনি মনে করেন? আপনি আমার সঙ্গে চুক্তি করুন। আমি আপনাকে ইস্রায়েলের সমস্ত লোকের শাসক হতে সাহায্য করবো।”
13দায়ূদ উত্তরে জানালেন, “বেশ! আমি আপনার সঙ্গে চুক্তি করব। কিন্তু আমি আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে চাই; যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি শৌলের কন্যা মীখলকে আমার কাছে আনতে না পারবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আমি আপনার সঙ্গে দেখা করব না।”
14দায়ূদ শৌলের পুত্র ইশ্বোশতের কাছে বার্তাবাহক পাঠালেন। দায়ূদ বললেন, “আমার স্ত্রী মীখলকে ফেরত দিন। সে আমার কাছে স্ত্রী হিসেবে প্রতিশ্রুত। তাকে পাবার জন্য আমি 100 পলেষ্টীয় শিশ্নের দাম দিয়েছি।”
15তখন ঈশ্বোশৎ সেই লোকটিকে লয়িশের পুত্র পল্টিয়েল নামক এক লোকের কাছ থেকে মীখলকে নিয়ে যেতে বললেন। 16মীখলের স্বামী পল্টিয়েল মীখলের সঙ্গে গেল। বহুরীমে যাবার সময় পল্টিয়েল মীখলের পিছু পিছু যাচ্ছিল এবং কাঁদছিল। কিন্তু অব্নের পল্টিয়েলকে বলল, “বাড়ী ফিরে যাও।” তখন পল্টিয়েল বাড়ী ফিরে গেল।
17অব্নের ইস্রায়েলের নেতাদের কাছে এই বার্তা দিল। সে বলল, “দীর্ঘদিন ধরে তোমরা দায়ূদকে তোমাদের রাজা হিসেবে চেয়ে আসছ। 18এখন তা সম্পাদন কর। প্রভু দায়ূদ সম্পর্কে বলার সময় বললেন, ‘আমি আমার ইস্রায়েলীয় লোকদের পলেষ্টীয় এবং অন্যান্য শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করব। আমি দায়ূদের মাধ্যমে এটা করাবো।’”
19এসব কথা অব্নের দায়ূদকে হিব্রোণে বলেছিল। এসব কথা সে বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর লোকদের কাছেও বলেছিল। অব্নের যা বলেছিল সেগুলো বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠী এবং ইস্রায়েলের সব লোকদের কাছে ভাল লেগেছিল।
20তখন অব্নের হিব্রোণে দায়ূদের কাছে চলে এল। অব্নের তার সঙ্গে 20 জন লোক এনেছিল। অব্নের এবং অব্নেরের সঙ্গে যারা এসেছিল তাদের জন্য দায়ূদ একটি ভোজ দিয়েছিলেন।
21অব্নের দায়ূদকে বলল, “হে আমার মনিব এবং রাজা, আমাকে যেতে দিন এবং সব ইস্রায়েলীয়কে আপনার কাছে আনতে দিন। তারা আপনার সঙ্গে চুক্তি করবে। যেমনটি আপনি চেয়েছিলেন যে আপনি সারা ইস্রায়েলের উপর রাজত্ব করবেন।”
তখন দায়ূদ অব্নেরকে যেতে দিলেন। অব্নের শান্তিতে চলে গেলেন।
অব্নেরের মৃত্যু
22যোয়াব এবং দায়ূদের আধিকারিকরা যুদ্ধ থেকে ফিরে এল। তারা শত্রুদের কাছ থেকে বহু মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে এনেছিল। দায়ূদ সবেমাত্র অব্নেরকে শান্তিতে পাঠিয়ে দিয়েছেন, তাই অব্নের দায়ূদের সঙ্গে হিব্রোণে ছিলেন না। 23যোয়াব তার সৈন্যসামন্ত সহ হিব্রোণে এসে পৌঁছল। সৈন্যরা যোয়াবকে বলল, “নেরের পুত্র অব্নের রাজা দায়ূদের কাছে এসেছিল। রাজা দায়ূদ অব্নেরকে শান্তিতে যেতে দিয়েছেন।”
24যোয়াব রাজাকে বলল, “এ আপনি কি করেছেন? অব্নের আপনার কাছে এলো আর আপনি তাকে আঘাত না করেই ছেড়ে দিলেন। কেন? 25আপনি কি জানেন অব্নের নেরের পুত্র? সে আপনার সঙ্গে চালাকি করতে এসেছিল এবং আপনি কি কি করছেন সেই সমস্ত বিষয়ে সে শিখতে এসেছিল।”
26যোয়াব দায়ূদের কাছ থেকে ফিরে গেল এবং সিরা কুয়োর কাছে অব্নেরের কাছে বার্তাবাহকদের পাঠালো। বার্তাবাহক অব্নেরকে ফিরিয়ে নিয়ে এল। দায়ূদ এসবের কিছুই জানতে পারলেন না। 27অব্নের যখন হিব্রোণে এল, তখন যোয়াব তার সঙ্গে কথা বলতে চায় এইভাবে তাকে প্রবেশ পথের মাঝখানে একধারে নিয়ে গেল। সেখানে অব্নেরের পেটে ছুরিকাঘাত করল এবং অব্নের মারা গেল। অব্নের যোয়াবের ভাই অসাহেলকে হত্যা করেছিল তাই যোয়াব অব্নেরকে হত্যা করল।
দায়ূদ অব্নেরের জন্য কাঁদলেন
28পরে দায়ূদ এই খবর শুনলেন। দায়ূদ বললেন, “নেরের পুত্র অব্নেরের মৃত্যুর ব্যাপারে আমি এবং আমার রাজ্য একেবারে নির্দোষ। প্রভু তা নিশ্চয়ই জানেন। 29যোয়াব এবং তার পরিবার এর জন্য দায়ী এবং এই পরিবারগুলিকেই দোষ দেওয়া হবে। তাদের পরিবারের ওপর বহু সঙ্কট নেমে আসুক। এই পরিবারের লোকরা কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হবে, পঙ্গু হবে, যুদ্ধে মারা যাবে এবং ওদের খাদ্যাভাব হবে।”
30যোয়াব এবং তার ভাই অবীশয় অব্নেরকে হত্যা করলো কারণ অব্নের তাদের ভাই অসাহেলকে গিবিয়োনের যুদ্ধে হত্যা করেছিল।
31 যোয়াব এবং তার লোকদের দায়ূদ বললেন, “তোমাদের জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেল এবং শোক প্রকাশ পায় এমন জামাকাপড় পর। অব্নেরের জন্য কাঁদ।” তারা অব্নেরকে হিব্রোণে কবর দিল। দায়ূদও অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়াতে গেলেন। রাজা দায়ূদ এবং অন্যান্য সব লোক অব্নেরের অন্ত্যেষ্টিতে কাঁদলেন।
33রাজা দায়ূদ অব্নেরের অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়াতে এই শোকগীত গাইলেন:
“অবনের কি কয়েকজন দুষ্ট অপরাধীদের মত মারা গেল?
34অব্নের, তোমার হাত বাঁধা ছিল না।
তোমার পায়ে কোন শিকল ছিল না।
না, অব্নের, মন্দ লোকরা তোমাকে হত্যা করেছে।”
প্রত্যেকে আবার অব্নেরের জন্য কাঁদল। 35সারাদিন ধরে লোকরা এসে দায়ূদকে কিছু খাবার জন্য উৎসাহ দিল। কিন্তু দায়ূদ একটা বিশেষ প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। তিনি বললেন, “হে আমার ঈশ্বর, যদি আমি সূর্য ডোবার আগে রুটি বা অন্য কিছু খাই তবে তুমি আমাকে শাস্তি দিও এবং বহু সমস্যার মধ্যে ফেলো।” 36এরপর কি ঘটলো তা সব লোকরা দেখল এবং রাজা দায়ূদ যা করেছিলেন তাতে সবাই খুব খুশী হল। 37যিহূদা এবং ইস্রায়েলের সমস্ত লোক বুঝতে পারলো যে রাজা দায়ূদ নেরের পুত্র অব্নেরকে হত্যার আদেশ দেন নি।
38রাজা দায়ূদ তাঁর আধিকারিকদের বললেন, “তোমরা কি জানো যে একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা আজ ইস্রায়েলে মারা গেছে? 39যে দিন আমি রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছি এ ঘটনা ঠিক সেই দিনই ঘটেছে। সরূয়ার এইসব সন্তান আমাকে বহু অসুবিধায় ফেলেছে। আমি আশা করি যে শাস্তি তাদের প্রাপ্য, প্রভু ওদের তা দেবেন।”
4শৌলের পরিবারে সমস্যা ঘনিয়ে এলো
1শৌলের পুত্র ঈশ্ বোশত্ শুনলেন যে হিব্রোণে অব্নের মারা গেছেন। ঈশ্বোশৎ এবং তাঁর লোকরা ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। 2দুজন লোক শৌলের পুত্র ঈশ্বোশতের সঙ্গে দেখা করতে গেল। ঐ দুজন লোক সৈন্যবাহিনীর প্রধান ছিল। তারা ছিল বেরোতীয় রিম্মোণের পুত্র রেখব এবং বানা। (এরা ছিল বিন্যামীনীয় যেহেতু বেরোত শহর বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর ছিল। 3কিন্তু বেরোতের সব লোক গিত্তয়িমে পালিয়ে গিয়েছিল এবং এখনও পর্যন্ত তারা সেখানেই বসবাস করছে।)
4শৌলের পুত্র যোনাথনের মফীবোশৎ নামে একটি পুত্র ছিল। শৌল এবং যোনাথন নিহত হয়েছেন এই খবর যখন যিষ্রিয়েল থেকে এল তখন মফীবোশতের বয়স পাঁচ বছর। মফীবোশৎকে যে মহিলা দেখাশোনা করতো এই সংবাদে সে অত্যন্ত ভীত হল এবং শত্রুরা আসছে এই ভেবে সে মফীবোশতকে নিয়ে পালিয়ে গেল। কিন্তু দৌড়ে পালাবার সময়, সে ছেলেটিকে ফেলে দিল, তাই তার দুটো পা-ই পঙ্গু।
5রিম্মোণের পুত্ররা রেখব ও বানা বিরোত থেকে দুপুর বেলায় ঈশ্বোশতের বাড়ী গিয়েছিল। প্রচণ্ড গরম ছিল বলে ঈশ্বোশৎ বিশ্রাম করছিলেন। 6 রেখব ও বানা এমন ভাবে বাড়ীতে এল যেন তারা কিছু গম নিতে এসেছে। ঈশ্বোশৎ শোয়ার ঘরে তাঁর বিছানায় শুয়েছিলেন। রেখব ও বানা ছুরি বিদ্ধ করে তাঁকে হত্যা করল। তারা তাঁর মাথা কেটে সঙ্গে নিয়ে নিল। এরপর সারারাত তারা যর্দন উপত্যকার মধ্য দিয়ে হাঁটল। 8তারা হিব্রোণে এলো এবং মাথাটি দায়ূদকে দিল।
রেখব এবং বানা রাজা দায়ূদকে বলল, “এই যে আপনার শত্রু শৌলের পুত্র ঈশ্বোশতের মাথা। সে আপনাকে হত্যার চেষ্টা করছিল। আপনার জন্য, শৌল এবং তার পরিবারকে প্রভু আজ শাস্তি দিলেন।”
9কিন্তু দায়ূদ রেখব এবং তার ভাই বানাকে বললেন, “এ কথা জীবিত প্রভুর মতই সত্য যে তিনি সব সমস্যা থেকে আমাকে রক্ষা করেছেন। 10এর আগে একবার এক ব্যক্তি ভেবেছিল সে আমার কাছে সুসংবাদ আনবে। সে বলেছিল, ‘দেখুন শৌল মারা গেছে।’ সে ভেবেছিল যে আমার কাছে এই খবর আনার জন্য আমি তাকে পুরস্কার দেব। কিন্তু আমি এই লোকটিকে ধরে ফেলেছিলাম এবং তাকে সিক্লগে হত্যা করি। 11সেই মত আমি তোমাদের হত্যা করে এই দেশ থেকে সরিয়ে দেব। কেন? কারণ একজন সৎ লোককে তার বাড়ীতে, তার বিছানায় ঘুমন্ত অবস্থায়, তোমরা মন্দ লোকরা হত্যা করেছ।”
12তখন দায়ূদ রেখব ও বানাকে হত্যা করার জন্য তরুণ সেনাদের আদেশ দিলেন। সেনারা রেখব ও বানার হাত পা কেটে নিল এবং হিব্রোণের একটি পুকুরের পাড়ে তাদের দেহ ঝুলিয়ে দিল। তারপর তারা ঈশ্বোশতের মাথাটি নিয়ে হিব্রোণে ঠিক সেখানেই কবর দিল যেখানে অব্নেরকে কবর দেওয়া হয়েছিল।
5ইস্রায়েলীয়রা দায়ূদকে রাজা মনোনীত করল
1তারপর ইস্রায়েলের সব কটি পরিবারগোষ্ঠী হিব্রোণে দায়ূদের কাছে এল এবং তারা তাঁকে বলল, “দেখুন, আমরা একই পরিবারভুক্ত।+ 5:1 একই পরিবারভুক্ত আক্ষরিক অর্থে, “তোমার মাংস এবং রক্ত।”2এমন কি শৌল যখন আমাদের রাজা ছিলেন, তখনও যুদ্ধে আপনি আমাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আপনিই ইস্রায়েলকে যুদ্ধ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন। এমনকি প্রভু স্বয়ং আপনাকে বলেছেন ‘তুমিই আমার প্রজা সকলের মেষপালক হবে। তুমিই ইস্রায়েলের শাসনকর্তা হবে।’”
3তাই ইস্রায়েলের নেতারা রাজা দায়ূদের সঙ্গে দেখা করতে হিব্রোণে এলেন। রাজা দায়ূদ প্রভুর সামনে, সেই নেতাদের সঙ্গে একটা চুক্তি করলেন। তারপর ঐ নেতারা দায়ূদকে ইস্রায়েলের রাজারূপে অভিষিক্ত করলেন।
4দায়ূদের যখন 30 বছর বয়স তখন তিনি শাসনকার্য শুরু করেন এবং 40 বছর ধরে তিনি রাজা হিসেবে বহাল ছিলেন। 5হিব্রোণে তিনি 7 বছর 6 মাস ধরে যিহূদা শাসন করেন এবং জেরুশালেমে থাকার সময় ইস্রায়েল ও যিহূদাকে 33 বছর শাসন করেন।
দায়ূদ জেরুশালেম শহর জয় করলেন
6রাজা দায়ূদ এবং তাঁর অনুচররা, জেরুশালেমে বসবাসকারী যিবূষীয়দের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলেন। যিবূষীয়রা দায়ূদকে বলল, “তুমি এই শহরে ঢুকতেই পারবে না।+ 5:6 তুমি … পারবে না জেরুশালেম শহরটি একটি পাহাড়ের উপরে নির্মিত ছিল এবং এই শহরের চারদিকে উঁচু পাঁচিল ছিল। সুতরাং এটি অধিকার করা খুব শক্ত ছিল। আমাদের অন্ধ ও পঙ্গু লোকরাই তোমাকে আটকে দেবে।” (তারা এই কথা বলেছিল কারণ তারা ভেবেছিল দায়ূদ তাদের শহরে ঢুকতে পারবেন না। 7কিন্তু দায়ূদ সিয়োন দুর্গ দখল করলেন। এই দুর্গটি দায়ূদের শহর হল।)
8সেইদিন দায়ূদ তাঁর সঙ্গীদের বললেন, “যদি তোমরা যিবুষীয়দের হারাতে চাও তবে জলের সুড়ঙ্গ+ 5:8 জলের সুড়ঙ্গ একটি জলভরা নালা ছিল যেটা প্রাচীন জেরুশালেম শহরে দেওয়ালের নীচে দিয়ে যেত এবং তারপর একটি সরু নালা সোজা শহর পর্যন্ত যেত। শহরের লোকরা এটিকে কুয়োর মত ব্যবহার করত। দায়ূদের একজন লোক সম্ভবতঃ এই নালা বেয়ে শহরের ভেতরে যাবার জন্য উঠেছিল। পথ দিয়ে সেই সব ‘পঙ্গু ও অন্ধ’ শত্রুদের কাছে পৌঁছে যাও।” এই জন্য লোকে বলে, “অন্ধ ও পঙ্গুরা মন্দিরে ঢুকতে পারে না।”
9দায়ূদ সেই দুর্গে বাস করতে লাগলেন এবং সেই শহরকে “দায়ূদের শহর” বললেন। দায়ূদ মিল্লো নামে একটি অঞ্চল নির্মাণ করলেন। তিনি শহরের মধ্যে আরও অনেক বাড়ী তৈরী করলেন। 10দায়ূদ ক্রমশঃই শক্তিশালী হয়ে উঠলেন কারণ সর্বশক্তিমান প্রভু তার সঙ্গে ছিলেন।
11সোরের রাজা হীরম দায়ূদের কাছে বার্তাবাহক পাঠালেন। হীরম এরস গাছসমূহ, ছুতোর মিস্ত্রীগণ এবং পাথর দিয়ে বাড়ী তৈরীর মিস্ত্রীও পাঠালেন। তারা দায়ূদের জন্য একটা বাড়ী তৈরী করল। 12তখন দায়ূদ বুঝতে পারলেন, যে প্রভু সত্যিসত্যিই তাঁকে ইস্রায়েলের রাজা করেছেন এবং তাঁর রাজ্যকে (দায়ূদের রাজ্যকে), তাঁর লোকদের, ইস্রায়েলীয়দের জন্য উন্নীত করেছেন।
13দায়ূদ হিব্রোণ থেকে জেরুশালেমে এলেন। জেরুশালেমে এসে দায়ূদ আরও স্ত্রী এবং দাসী পেলেন। জেরুশালেমে দায়ূদের আরও সন্তানাদি হল। 14জেরুশালেমে দায়ূদের যে সব পুত্র জন্মেছিল তাদের নাম: সম্মূয়, শোবব, নাথন, শলোমন, 15যিভর ইলীশূয়, নেফগ, যাফিয়, 16ইলিয়াদা, ইলীশামা এবং ইলীফেলট।
দায়ূদ পলেষ্টীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন
17পলেষ্টীয়রা শুনল যে ইস্রায়েলীয়রা দায়ূদকে তাদের রাজারূপে অভিষিক্ত করেছে। সেইজন্য পলেষ্টীয়রা দায়ূদকে হত্যা করবার জন্য খুঁজে বেড়াতে লাগল। দায়ূদ তা জানতে পেরে জেরুশালেমের দুর্গের মধ্যে চলে গেলেন। 18পলেষ্টীয়রা এসে রফায়ীম উপত্যকায় তাঁবু গাড়লো।
19দায়ূদ প্রভুকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি কি পলেষ্টীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যাব? পলেষ্টীয়দের হারাতে আপনি কি আমায় সাহায্য করবেন?”
প্রভু দায়ূদকে উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, পলেষ্টীয়দের হারাতে আমি নিশ্চয়ই তোমাকে সাহায্য করব।”
20তখন দায়ূদ বাল পরাসীমে গিয়ে সেই জায়গায় পলেষ্টীয়দের পরাজিত করলেন। দায়ূদ বললেন, “প্রভু আমার শত্রুদের ঠিক তেমনভাবেই ভেদ করলেন যেমন ভাবে বন্যার জল একটি বাঁধের মধ্যে দিয়ে সবলে পথ করে বেরিয়ে যায়।” এই কারণে দায়ূদ এই জায়গার নাম “বাল পরাসীম” রাখলেন। 21পলেষ্টীয়রা বাল্-পরাসীমে তাদের দেবতাদের মূর্ত্তি ফেলে গিয়েছিল। দায়ূদ এবং তাঁর লোকরা সেইসব মূর্ত্তি নিয়ে গেলেন।
22পলেষ্টীয়রা আবার এসে রফায়ীম উপত্যকায় তাঁবু গেড়ে বসল।
23দায়ূদ প্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন। এবারে প্রভু দায়ূদকে বললেন, “ওখানে যেও না। তুমি ওদের সৈন্যবাহিনীর পিছন দিকে যাও। তুমি বালসাম গাছের উল্টো দিক থেকে ওদের আক্রমণ কর। 24বালসাম গাছগুলোর ওপর থেকে তোমরা পলেষ্টীয়দের যুদ্ধ ক্ষেত্রে যাবার কুচকাওয়াজের শব্দ শুনতে পাবে। সেই সময় তোমরা তাড়াতাড়ি করবে, কারণ সেই সময় তোমাদের জন্য পলেষ্টীয়দের পরাজিত করতে প্রভু তোমাদের সামনে সামনে যাবেন।”
25প্রভু যা যা করার আদেশ দিলেন, দায়ূদ সেইমত করলেন এবং তিনি পলেষ্টীয়দের হারিয়ে দিলেন। তিনি গেবা থেকে গেষর পর্যন্ত পলেষ্টীয়দের তাড়া করতে করতে এবং হত্যা করতে করতে গেলেন।
6ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক জেরুশালেমে নিয়ে যাওয়া হল
1দায়ূদ তার মনোনীত সৈন্যদের আবার ইস্রায়েলে জড় করলেন। তাদের সংখ্যা ছিল 30,000। 2তারপর দায়ূদ এবং তাঁর সৈন্যরা যিহূদার বালাতে গেলেন। এরপর তারা ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুককে যিহূদার বালা থেকে জেরুশালেমে নিয়ে এলেন। লোকরা প্রভুর উপাসনার জন্য পবিত্র সিন্দুকের কাছে যেত। পবিত্র সিন্দুকটি প্রভুর সিংহাসনস্বরূপ। এর মাথায় করূবদূতদের মূর্ত্তিগুলি আছে। প্রভু এই দূতদের মাঝখানে রাজার মত বসেন। 3দায়ূদের লোকরা পবিত্র সিন্দুকটিকে পাহাড়ের উপরিস্থিত অবীনাদবের বাড়ী থেকে বার করে নিয়ে এল। ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুকটিকে তারা একটি নতুন শকটে রাখল। অবীনাদবের দুই পুত্র উষ এবং অহিয়ো সেই শকট চালিয়েছিল।
4এইভাবে তারা পবিত্র সিন্দুক পাহাড়ের ওপরে অবীনাদবের বাড়ী থেকে বার করে নিয়ে এসেছিল। উষ পবিত্র সিন্দুকের সঙ্গে সেই শকটে ছিল এবং অহিয়ো পবিত্র সিন্দুকের সামনে সামনে হাঁটছিল। 5দায়ূদ এবং সব ইস্রায়েলীয়, প্রভুর সামনে নাচছিল এবং নানা বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছিল। এদের মধ্যে বীণা, ঢাকঢোল, খঞ্জনী, ঝাঁঝ করতাল এবং দেবদারু কাঠের বাদ্যয়ন্ত্রাদি ছিল। 6দায়ূদের লোকরা যখন নাখোনের শস্য মাড়াইয়ের উঠানের কাছে এল, তখন গরুগুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ল এবং ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক শকট থেকে পড়ে যাবার উপক্রম হল। উষ পবিত্র সিন্দুকটি ধরে ফেলল। 7কিন্তু প্রভু উষের প্রতি ক্রুদ্ধ হলেন এবং তাকে হত্যা করলেন।+ 6:7 প্রভু … করলেন কেবলমাত্র লেবীয়রা ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক অথবা পবিত্র তাঁবুর অন্যান্য আসবাবপত্র বহন করতে পারত। উষ লেবীয় ছিল না। উষ যখন পবিত্র সিন্দুক ছুঁয়েছিলো তখন সে পবিত্র সিন্দুকের প্রতি যথোচিত সম্মান দেখায় নি। ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুকের পাশে উষ মারা গেল। 8প্রভু উষকে মেরে ফেলেছিলেন বলে দায়ূদ ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। দায়ূদ সেই জায়গার নাম রাখলেন “পেরস উষ।” সেই জায়গাকে আজও পেরস উষ বলা হয়।
9দায়ূদ সেইদিন প্রভুকে ভীষণ ভয় পেয়েছিলেন। দায়ূদ বললেন, “এখন আমি কি করে ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক এখানে নিয়ে আসব?” 10দায়ূদ পবিত্র সিন্দুকটিকে জেরুশালেমে নিয়ে গেলেন না। দায়ূদ পবিত্র সিন্দুকটিকে গাত থেকে ওবেদ ইদোমের বাড়ীতে রাখলেন। দায়ূদ পবিত্র সিন্দুককে গাতীয় ওবেদ ইদোমের বাড়ীতে নিয়ে এলেন। 11ওবেদ ইদোমের বাড়ীতে প্রভুর পবিত্র সিন্দুক তিন মাস ছিল। প্রভু ওবেদ ইদোম এবং তার পরিবারের সকলকে আশীর্বাদ করলেন।
12পরে লোকরা দায়ূদকে বলল, “প্রভু ওবেদ ইদোমের পরিবার এবং তার সব কিছুকেই আশীর্বাদ ধন্য করেছেন। কারণ পবিত্র সিন্দুকটি তার বাড়ীতে ছিল।” তখন দায়ূদ সেখানে গিয়ে ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক নিয়ে এলেন। সেই দিন দায়ূদ প্রচণ্ড আনন্দিত ও উত্তেজিত ছিলেন। 13যারা প্রভুর পবিত্র সিন্দুক বয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তারা ছ-পা এগিয়ে গিয়ে থেমে গেল, তখন দায়ূদ একটি ষাঁড় ও স্বাস্থ্যবান বাছুরকে বলি দিলেন। 14দায়ূদ প্রভুর সামনে তাঁর সর্বশক্তি দিয়ে নাচছিলেন। তিনি একটি রেশমের এফোদ পরেছিলেন।
15দায়ূদ এবং সব ইস্রায়েলীয় সেদিন আনন্দে উত্তেজিত ছিলেন। তারা চিৎকার করতে করতে এবং শিঙা বাজাতে বাজাতে প্রভুর পবিত্র সিন্দুক শহরে এনেছিল। 16শৌলের কন্যা মীখল জানালা দিয়ে তা দেখছিলেন। যখন প্রভুর পবিত্র সিন্দুক শহরে আনা হচ্ছিল তখন দায়ূদ প্রভুর সামনে লাফাচ্ছিলেন ও নাচছিলেন। তা দেখে মীখল দায়ূদের প্রতি বিরক্ত হলেন। তিনি ভাবলেন দায়ূদ বোকার মত আচরণ করছেন।
17পবিত্র সিন্দুকের জন্য দায়ূদ একটা তাঁবু ফেললেন। ইস্রায়েলীয়রা প্রভুর পবিত্র সিন্দুককে তাঁবুর মধ্যে রাখল। তারপর দায়ূদ প্রভুর সামনে হোমবলি এবং মঙ্গল নৈবেদ্য নিবেদন করলেন।
18হোমবলি এবং মঙ্গল নৈবেদ্য নিবেদন শেষ করে দায়ূদ সকলকে সর্বশক্তিমান প্রভুর নামে আশীর্বাদ করলেন। 19তারপর তিনি ইস্রায়েলের প্রত্যেক মহিলা এবং পুরুষকে একটা গোটা রুটি, কিস্মিসের পিঠে এবং খেজুর পিঠে বিতরণ করলেন। তারপর সকলে বাড়ী ফিরে গেল।
মীখল দায়ূদকে তিরস্কার করলেন
20এরপর দায়ূদ বাড়ীর সকলকে আশীর্বাদ করতে গেলেন। শৌলের কন্যা মীখল তাঁর সামনে বেরিয়ে এলেন। মীখল বললেন, “ইস্রায়েলের রাজা আজ নিজের প্রতি যথোচিত সম্মান দেখান নি। আপনি আপনার দাসীদের সামনেই নিজের পোশাক খুলে ফেলেছেন। আপনি সেই বোকাদের মত আচরণ করলেন যারা নির্লজ্জভাবে নিজের পোশাক খুলে ফেলে।”
21তখন দায়ূদ মীখলকে বললেন, “প্রভু স্বয়ং আমাকে মনোনীত করেছেন, তোমার পিতাকে বা তাঁর পরিবারের কোন ব্যক্তিকে নয়। প্রভু ইস্রায়েলের লোকদের জন্য আমাকে নেতারূপে মনোনীত করেছেন। তাই আমি তাঁর সামনে নাচ করব এবং উৎসব পালন করব। 22আমি এমন কাজও করব যা আরও বিড়ম্বনাদায়ক। হতে পারে তুমি আমায় সম্মান করবে না। কিন্তু যে মেয়েদের কথা তুমি বলছ, তারা আমার সম্পর্কে গর্বিত।”
23শৌলের কন্যা মীখলের কোন সন্তান ছিল না। তিনি নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেছেন।
7দায়ূদ একটি মন্দির নির্মাণ করতে চান
1রাজা দায়ূদ নতুন প্রাসাদে স্থানান্তরিত হবার পর, প্রভু তাঁকে তাঁর সব শত্রুর থেকে মুক্তি দিলেন। 2রাজা দায়ূদ ভাববাদী নাথনকে বললেন, “দেখুন, আমি কাঠের একটা সুদৃশ্য ঘরে বাস করি, আর ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক একটা তাঁবুর মধ্যে পড়ে রয়েছে। আমরা পবিত্র সিন্দুকটির জন্য একটা সুন্দর মন্দির নির্মাণ করব।”
3নাথন রাজা দায়ূদকে বললেন, “আপনার যেমন মনে হয় তেমন করুন। প্রভু সর্বদা আপনার সঙ্গে থাকবেন।”
4কিন্তু সেই রাতে, নাথন প্রভুর কাছ থেকে বার্তা পেলেন।
5প্রভু বললেন, “যাও। আমার দাস দায়ূদকে বল, ‘প্রভু বলেছেন; তুমি আমার থাকার জন্য মন্দির তৈরী করবার লোক নও। 6ইস্রায়েলীয়দের মিশর থেকে আনার সময় আমি মন্দিরে ছিলাম না। না, আমি তাঁবুতে ঘুরেছি। তাঁবুকেই আমি গৃহ হিসাবে ব্যবহার করেছি। 7আমি আমার থাকার জন্য, ইস্রায়েলের কোন পরিবারগোষ্ঠীকেই এরস কাঠের সুদৃশ্য ঘর তৈরী করতে বলি নি।’
8“তুমি অবশ্যই আমার দাস দায়ূদকে বলবে: ‘সর্বশক্তিমান প্রভু বলেন: যখন তুমি চারণভূমিতে মেষদের দেখাশুনা করছিলে তখন আমি তোমায় মনোনীত করেছি। সেখান থেকে তুলে এনে, আমি তোমাকে আমার সন্তান ইস্রায়েলীয়দের রাজা করেছি। 9যেখানে যেখানে তুমি গিয়েছিলে, আমি সবসময় তোমার সঙ্গে ছিলাম। তোমার জন্য আমি তোমার শত্রুদের পরাজিত করেছি। আমি তোমাকে পৃথিবীর বিখ্যাত লোকদের একজন তৈরী করব। 10 আমি আমার লোক ইস্রায়েলীয়দের জন্য একটা জায়গা বেছে নিয়েছি। আমি ইস্রায়েলীয়দের প্রতিষ্ঠিত করেছি-আমি তাদের থাকার জন্য একটি জায়গা দিয়েছি। আমি সেরকম করেছি যাতে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় তাদের ঘুরতে না হয়। অতীতে ইস্রায়েলীয়দের পথ দেখানোর জন্য আমি বিচারকদের পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু মন্দ লোকরা তাদের বেশ অসুবিধায় ফেলেছিল। এখন আর তা হবে না। আমি তোমার সব শত্রু থেকে তোমাকে শান্তি দিলাম। আমি শপথ করছি, তোমার পরিবারকে আমি রাজার পরিবারে পরিণত করব।
12“‘তোমার আয়ু শেষ হলে যখন তুমি মারা যাবে, তখন তোমার পূর্বপুরুষদের মধ্যে তোমাকে কবর দেওয়া হবে। তোমার একটি পুত্রকে আমি রাজারূপে নিযুক্ত করব এবং তার রাজ্য প্রতিষ্ঠিত করে দেব। 13সে আমার নামে একটা মন্দির তৈরী করবে এবং আমি তার রাজ্যকে চিরদিনের জন্য শক্তিশালী করব। 14সে আমার পুত্র এবং আমি তার পিতা হব।+ 7:14 আমি … হব ঈশ্বর দায়ূদের পরিবার থেকে রাজাকে “দত্তক” নিয়েছিলেন এবং তারা তার “পুত্র।” যখন সে পাপ করবে আমি অন্য লোকের মাধ্যমে তাকে শাস্তি দেব। তারা আমার চাবুক হবে। 15কিন্তু সে আমার ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হবে না। আমি তার প্রতি সর্বদা দয়াময় থাকব। শৌলের থেকে আমি আমার প্রেম ও দয়া তুলে নিয়েছি। যখন আমি তোমার দিকে ফিরলাম, তখন আমি শৌলকে দূরে সরিয়ে দিয়েছি। তোমার পরিবারের প্রতি আমি তা করবো না। 16তোমার রাজপরিবার চিরকাল থাকবে। তোমার জন্য তোমার রাজত্ব চিরস্থায়ী হবে। তোমার সিংহাসন চিরদিন অটুট থাকবে।’”
17নাথন দায়ূদকে এই দর্শনের কথা বললেন। ঈশ্বর যা যা বলেছেন দায়ূদকে তিনি সবই বললেন।
দায়ূদ ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলেন
18তখন দায়ূদ প্রভুর সামনে গিয়ে বসলেন এবং বললেন,
“প্রভু আমার মনিব, কেন আমি আপনার কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ? কেনই বা আমার পরিবার এত গুরুত্বপূর্ণ? কেন আপনি আমাকে এত গুরুত্বপূর্ণ করলেন? 19আমি আপনার দাস ছাড়া কিছুই নই। আপনি আমার প্রতি সদয় ছিলেন। কিন্তু আমার ভবিষ্যৎ পরিবারের সম্পর্কেও আপনি এই দয়ার কথাগুলি বলেছেন। প্রভু আমার প্রভু, এটাতো মানুষের বিধি নয়, তাই নয় কি? 20আমি কিভাবে আপনার সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাব? প্রভু আমার প্রভু আপনি জানেন আমি একজন দাস। 21এইসব বিস্ময়কর জিনিস আপনি করবেন কারণ আপনি বলেছেন আপনি তা করবেন, কারণ আপনি তা করতে চান। এবং আপনি স্থির করেছেন এইসব বিষয় আপনি আমাকে জানাবেন। 22প্রভু, আমার প্রভু এইসব কারণে আপনি এত মহান! আপনার মত আর কেউ নেই। আপনি ছাড়া আর কোন ঈশ্বর নেই। আমরা তা জানি কারণ যে সব কাজ আপনি করেছেন, তা আমরা নিজেরাই শুনেছি।
23“পৃথিবীতে আপনার লোক, ইস্রায়েলীয়দের মত অন্য কোন জাতি নেই। তারা বিশেষ লোক। তারা ক্রীতদাস ছিল। আপনি তাদের মিশর থেকে নিয়ে এসে মুক্ত করেছেন। আপনি তাদের আপনার সন্তান করে নিয়েছেন। আপনি ইস্রায়েলীয়দের জন্য অনেক বিস্ময়কর এবং মহৎ কাজ করেছেন। আপনার ভূখণ্ডের জন্য আপনি অনেক বিস্ময়কর কাজ করেছেন। 24ইস্রায়েলের লোকদের আপনি চিরদিনের জন্য আপনার খুব কাছের সন্তান করে নিয়েছেন। হে প্রভু আপনি তাদের ঈশ্বর হয়েছেন।
25“প্রভু ঈশ্বর, এখন আপনি আপনার দাস, আমার জন্য এবং আমার পরিবারের জন্য কিছু করার প্রতিজ্ঞা করেছেন। আপনি যা প্রতিজ্ঞা করেছেন এখন তা পালন করুন। আমার পরিবারকে চিরদিনের জন্য রাজপরিবার বানিয়ে দিন। 26তারপর আপনার নাম চিরদিনের জন্য সম্মানিত হবে। লোকরা বলবে, ‘সর্বশক্তিমান প্রভু ঈশ্বর ইস্রায়েল শাসন করেছেন। আপনার দাস দায়ূদের পরিবার আপনার সেবায় অব্যাহতভাবে শক্তিশালী থাকুক।’
27“হে সর্বশক্তিমান প্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, আপনি আমার কাছে অনেক কিছু প্রকাশ করেছেন। আপনি বলেছেন, ‘আমি তোমার পরিবারকে মহান করব।’ সেইজন্য আমি, আপনার দাস, আপনার কাছে এই প্রার্থনা জানাতে মনস্থির করেছি। 28প্রভু, আমার সদাপ্রভু, আপনিই ঈশ্বর। আপনি যা বলেন তা আমি বিশ্বাস করি। আপনি এও বলেছেন যে এইসব ভালো জিনিসগুলি আপনার এই দাসের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হবে। 29এখন আমার পরিবারকে আশীর্বাদ করুন, তাদের আপনার সামনে এসে দাঁড়াতে দিন এবং চিরদিন আপনার সেবা করার সুযোগ করে দিন। প্রভু আমার, আপনি নিজের মুখেই এসব কথা বলেছেন। আপনি আমার পরিবারকে অনন্তকালীন শুভেচ্ছা দিয়ে আশীর্বাদ করেছেন।”
8দায়ূদ বহু যুদ্ধে জয়ী হলেন
1পরে, দায়ূদ যুদ্ধে পলেষ্টীয়দের পরাজিত করলেন। পলেষ্টীয়দের রাজধানী শহরের অধীনে বহু জমি জায়গা ছিল। দায়ূদ সেইসব জমিজায়গা নিজের অধীনে আনলেন। 2দায়ূদ মোয়াবীয় লোকদেরও পরাজিত করলেন। সেই সময় তিনি তাদের মাটিতে শুয়ে পড়তে বাধ্য করেন। তারপর তিনি দড়ির সাহায্যে তাদের সারিবদ্ধভাবে আলাদা করেন। দুটি সারির লোকদের হত্যা করা হয়। কিন্তু তৃতীয় সারির লোকদের বাঁচতে দেওয়া হয়। এইভাবে মোয়াবীয়রা দায়ূদের দাসে পরিণত হল। তারা তাঁকে নৈবেদ্য দিল।
3সোবার রাজা রহোবের পুত্রের নাম ছিল হদদেষর। যখন দায়ূদ ফরাৎ নদীর নিকটবর্তী অঞ্চল দখল করতে গেলেন তখন তিনি হদদেষরকে পরাজিত করলেন। 4দায়ূদ হদদেষরের কাছ থেকে 1,700 অশ্বারোহী সৈন্য এবং 20,000 পদাতিক সৈন্য ছিনিয়ে নিলেন। দায়ূদ 100টি রথ ছাড়া, বাকী সমস্ত রথগুলি নষ্ট করে দিলেন।
5সোবার রাজা হদদেষরকে সাহায্য করার জন্য দম্মেশকের অরামীয়রা এল। কিন্তু দায়ূদ 22,000 অরামীয়কে পরাজিত করলেন। 6তারপর দায়ূদ দম্মেশকের অরামে কিছু সৈন্যকে রেখে দিলেন। অরামীয়রা দায়ূদের দাসে পরিণত হল এবং তার জন্য উপঢৌকন নিয়ে এল। দায়ূদ যে দিকে গেলেন, প্রভু সে দিকেই তাঁকে জয়ী করলেন।
7হদদেষরের দাসদের কাছে যে সব সোনার ঢাল ছিল, দায়ূদ সেগুলি নিয়ে নিলেন। সেই ঢালগুলি নিয়ে দায়ূদ জেরুশালেমে এলেন। 8এছাড়াও দায়ূদ, বেটহ ও বেরোথা শহর থেকে বহু তামার জিনিসপত্র এনেছিলেন। (বেটহ এবং বেরোথা ছিল হদদেষরের অধীনস্থ দুটি নগরী।)
9হমাতের রাজা তয়ি খবর পেলেন যে দায়ূদ হদদেষরের সৈন্যদলকে পরাজিত করেছেন। 10তখন তয়ি নিজের পুত্র যোরামকে দায়ূদের কাছে পাঠালেন। হদদেষরের বিরুদ্ধে দায়ূদ যুদ্ধ করেছেন এবং তাদের পরাজিত করেছেন বলে যোরাম দায়ূদকে অভিনন্দন জানালেন এবং আশীর্বাদ করলেন। এর আগে হদদেষর তয়ির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। যোরাম রূপো, সোনা এবং তামার তৈরী জিনিসপত্র সঙ্গে করে এনেছিলেন। 11দায়ূদ সেই সব জিনিসপত্র গ্রহণ করলেন এবং সেগুলি প্রভুর উদ্দেশ্যে নিবেদন করলেন। প্রভুকে উৎসর্গ করা অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে তিনি সেই জিনিসগুলি রেখে দিলেন। তিনি যে সব জাতিকে পরাজিত করেছিলেন, সেই সব জাতির কাছ থেকে তিনি ঐ সব জিনিসপত্র এনেছিলেন। 12অরাম, মোয়াব, অম্মোন, পলেষ্টীয় এবং অমালেক এইসব জাতিকে দায়ূদ পরাজিত করেছিলেন। এছাড়াও তিনি সোবার রাজা, রহোবের পুত্র হদদেষরকে পরাজিত করেছিলেন। 13দায়ূদ 18,000 অরামীয়কে লবণ উপত্যকায় পরাজিত করেন। যখন তিনি বাড়ী ফিরে এলেন তখন তিনি বিখ্যাত হয়ে গেলেন। 14দায়ূদ কয়েক দল সৈন্যকে ইদোমে রাখলেন। ইদোমের সব লোকরা দায়ূদের দাস হয়ে গেল। দায়ূদ যেখানে যেখানে গেলেন, সেখানেই প্রভু তাঁকে জয়ী হতে সাহায্য করলেন।
দায়ূদের শাসনকাল
15দায়ূদ সমগ্র ইস্রায়েলের ওপর শাসন করেছিলেন। তিনি তাঁর লোকদের জন্য ভাল এবং ন্যায্য সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। 16সরূয়ার পুত্র যোয়াব সেনাপ্রধান হয়েছিল। অহীলূদের পুত্র যিহোশাফট ছিলেন ঐতিহাসিক। 17অহীটুবের পুত্র সাদোক এবং অবীয়াথরের পুত্র অহীমেলক ছিলেন যাজকগণ। সরায় ছিলেন সচিব। 18যিহোয়াদার পুত্র বনায় করেথীয় এবং পলেথীয়দের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। আর দায়ূদের দুই পুত্র ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ নেতা।+ 8:18 গুরুত্বপূর্ণ নেতা আক্ষরিক অর্থে, “যাজক।”
9দায়ূদ শৌলের পরিবারের প্রতি সদয় হলেন
1দায়ূদ জিজ্ঞাসা করলেন, “শৌলের পরিবারের কোন লোক কি এখনও রয়ে গেছে? আমি তার প্রতি দয়া দেখাতে চাই। এটা আমি যোনাথনের জন্য করব।”
2সীবঃ নামে শৌলের পরিবারের এক দাস ছিল। দায়ূদের দাস সীবঃকে দায়ূদের কাছে নিয়ে এল। রাজা দায়ূদ জিজ্ঞাসা করল, “তুমি কি সীবঃ?”
সীবঃ উত্তর দিল, “হ্যাঁ, আমি আপনার দাস সীবঃ।”
3রাজা বললেন, “শৌলের পরিবারের কোন লোক কি বেঁচে আছে? আমি তার প্রতি ঈশ্বরের দয়া দেখাতে চাই।”
সীবঃ রাজা দায়ূদকে বললেন, “যোনাথনের একজন পুত্র এখনও বেঁচে আছে। তার দু পা-ই পঙ্গু।”
4রাজা সীবঃকে জিজ্ঞাসা করলেন, “সেই ছেলেটি কোথায় আছে?”
সীবঃ উত্তর দিল, “সে লো-দবারে, অম্মীয়েলের পুত্র মাখীরের বাড়ীতে আছে।”
5তখন রাজা দায়ূদ তাঁর কয়েকজন আধিকারিককে লো-দবারে অম্মীয়েলের পুত্র মাখীরের বাড়ীতে পাঠালেন, যোনাথনের পুত্রকে নিয়ে আসার জন্য। 6যোনাথনের পুত্র মফীবোশৎ দায়ূদের কাছে এলো এবং মাটিতে মাথা নত করে প্রণাম করল।
দায়ূদ জিজ্ঞাসা করল, “তুমি কি মফীবোশৎ?”
মফীবোশৎ উত্তর দিল, “হ্যাঁ, আমি আপনার দাস মফীবোশৎ।”
7দায়ূদ মফীবোশতকে বলল, “ভয় পেও না। আমি তোমার প্রতি সদয় হব। আমি তোমার পিতা যোনাথনের জন্যই এটা করব। আমি তোমার পিতামহ শৌলের সব জমি তোমাকে ফিরিয়ে দেব। তুমি সবসমযই আমার সঙ্গে একাসনে বসে আহার করতে পারবে।”
8মফীবোশৎ পুনরায় দায়ূদকে প্রণাম করল। মফীবোশৎ বলল, “একটা মরা কুকুরের থেকে আমি কোন অংশে ভাল নই, কিন্তু আপনি আমার প্রতি অত্যন্ত সদয় হয়েছেন।”
9তখন রাজা দায়ূদ শৌলের দাস সীবঃকে ডাকলেন। দায়ূদ সীবঃকে বললেন, “আমি তোমার মনিবের নাতি মফীবোশতকে শৌলের পরিবারের যা কিছু আমার কাছে ছিল সব ফিরিয়ে দিয়েছি। 10মফীবোশতের জন্য তুমি সেই জমি চাষ করবে। মফীবোশতের জন্য তুমি এবং তোমার পুত্ররা এটা করবে। তোমরা ফসল ফলাবে। তাহলে তোমার মনিবের নাতি মফীবোশতের অন্নের জন্য প্রচুর খাদ্যশস্য হবে। কিন্তু তোমার মনিবের নাতি মফীবোশৎ সবসময়েই আমার সঙ্গে একাসনে বসে আহার করতে পারবে।”
সীবঃ এর 15 জন ছেলে এবং 20 জন দাস ছিল। 11সীবঃ উত্তর দিল, “আমি আপনার দাস। আমার মনিব যা যা আদেশ করেন আমি তাই তাই করব।”
মফীবোশৎ দায়ূদের সঙ্গে একাসনে বসে, রাজার একজন ছেলের মতই আহার করল। 12মীখা নামে মফীবোশতের একটা কিশোর ছেলে ছিল। সীবঃর পরিবারের প্রত্যেকে মফীবোশতের দাস হয়ে গেল। 13মফীবোশতের দু পা-ই পঙ্গু ছিল। মফীবোশৎ জেরুশালেমে থাকত। প্রত্যেকদিন মফীবোশৎ রাজার সঙ্গে একাসনে আহার করত।
10হানূন দায়ূদের লোকদের অপমান করল
1পরে অম্মোনীয়দের রাজা নাহশ মারা গেলেন। তাঁর পুত্র হানূন, তারপরে নতুন রাজা হলেন। 2দায়ূদ বললেন, “নাহশ আমার প্রতি সদয় ছিলেন। আমিও তার পুত্র হানূনের প্রতি সদয় হব।” অতএব দায়ূদ হানূনের পিতার মৃত্যু সম্পর্কে সান্ত্বনা জানিয়ে তাঁর আধিকারিকদের পাঠালেন।
তাই দায়ূদের আধিকারিকরা অম্মোনীয়দের রাজ্যে চলে গেল। 3কিন্তু অম্মোনীয়দের নেতারা তাদের মনিব হানূনকে বলল, “আপনি কি মনে করেন কয়েকজন লোক পাঠিয়ে দায়ূদ আপনার পিতার প্রতি সম্মান দেখাতে ও আপনাকে সান্ত্বনা দিতে চান? না! দায়ূদ এই লোকগুলোকে পাঠিয়েছেন আপনার শহর সম্পর্কে গোপনে জেনে যেতে ও খোঁজ খবর নিতে। তারা আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফন্দি আঁটছে।”
4তখন হানূন দায়ূদের লোকদের ধরে তাদের অর্ধেক দাড়ি কামিয়ে দিল এবং তাদের জামাকাপড় পাছা পর্যন্ত কেটে দিল। তারপর তাদের পাঠিয়ে দিল।
5লোকরা যারা দায়ূদকে এই খবর দিল, তিনি সেই আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার জন্য বার্তাবাহক পাঠালেন। তিনি এটা করেছিলেন কারণ সেই লোকগুলি খুবই লজ্জিত হয়েছিল। রাজা দায়ূদ বললেন, “যতদিন না তোমাদের দাড়ি গজায়, ততদিন যিরীহোতে অপেক্ষা কর, তারপর জেরুশালেমে ফিরে এসো।”
অম্মোনীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
6অম্মোনীয়রা দেখল তারা দায়ূদের শত্রুতে পরিণত হয়েছে। তখন অম্মোনীয়রা বৈৎ-রহোব এবং সোবা থেকে অরামীয়দের ভাড়া করে নিয়ে এল। তাদের মধ্যে মোট 20,000 পদাতিক সৈন্য ছিল। এছাড়া অম্মোনীয়রা 1000 লোক সহ মাখার রাজা এবং টৌব থেকে 12,000 লোককে ভাড়া করেছিল।
7দায়ূদ এই সবই শুনলেন। তাই তিনি যোয়াব এবং শক্তিশালী লোকজন সহ গোটা সৈন্যবাহিনীকে পাঠালেন। 8অম্মোনীয়রা বেরিয়ে এল এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হল। তারা শহরের প্রবেশদ্বারের কাছে দাঁড়িয়েছিল। সোব ও রহোবের অরামীয় সৈন্যরা এবং টোব ও মাখার সৈন্যরা শহরের বাইরের মাঠে সমবেত হল।
9যোয়াব দেখলেন তাঁর সামনে পিছনে শত্রু। তখন যোয়াব শ্রেষ্ঠ ইস্রায়েলীয়দের বেছে নিয়ে, তাদের অরামীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে দিলেন। 10অম্মোনীয়দের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি তাঁর আর এক ভাই অবীশয়ের উপর দায়িত্ব দিলেন। 11যোয়াব অবীশয়কে বললেন, “যদি অরামীয়রা আমাদের থেকে বেশী শক্তিশালী বলে মনে হয়, তুমি আমাকে সাহায্য করবে। যদি অরামীয়রা তোমার কাছে বেশী শক্তিশালী হয়ে ওঠে—আমি এসে তোমাকে সাহায্য করব। 12এসো, আমরা শক্তিশালী হই এবং সাহসিকতার সঙ্গে আমাদের লোকদের জন্য এবং আমাদের ঈশ্বরের শহরগুলির জন্য লড়াই করি। প্রভু যা সঠিক বিবেচনা করেন, তাই করবেন।”
13তারপর যোয়াব এবং তাঁর লোকরা অরামীয়দের আক্রমণ করলেন। অরামীয়রা যোয়াব এবং তাঁর লোকদের কাছ থেকে পালিয়ে গেল। 14অম্মোনীয়রা দেখল অরামীয়রা দৌড়ে পালাচ্ছে, তখন তারাও অবীশয়ের থেকে দৌড়ে পালালো এবং তাদের শহরে ফিরে গেল।
তাই যোয়াব, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অম্মোনীয়দের সঙ্গে ফিরে এলেন এবং জেরুশালেমে ফিরে গেলেন।
অরামীয়রা আবার যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল
15অরামীয়রা দেখলো ইস্রায়েলীয়রা তাদের পরাজিত করেছে। তখন তারা একসঙ্গে জমায়েত হয়ে একটা সৈন্যবাহিনী গড়ে তুলল। 16ফরাৎ নদীর অপর পারে যে সব অরামীয় বাস করত, তাদের আনবার জন্য হদদেষর তার বার্তাবাহকদের পাঠাল। সেই অরামীয়রা হেলমে এলো। তাদের নেতা ছিল শোবক, হদদেষরের সৈন্যবাহিনীর সেনাপতি।
17দায়ূদ সব শুনলেন। তিনি সব ইস্রায়েলীয়দের জড় করলেন। তারা যর্দন নদী পেরিয়ে হেলমে গিয়ে হাজির হল।
তখন অরামীয়রা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল এবং আক্রমণ করল। 18কিন্তু যুদ্ধে অরামীয়রা পরাজিত হল এবং অরামীয়রা ইস্রায়েলীয়দের থেকে দূরে পালিয়ে গেল। দায়ূদ 700 রথচালক, 40,000 অশ্বারোহী সৈন্যকে হত্যা করলেন। দায়ূদ অরামীয় সেনাপতি শোবককেও হত্যা করলেন।
19হদদেষরের অধীনস্থ রাজারা যখন দেখল, ইস্রায়েলীয়রা তাদের পরাজিত করেছে তখন তারা ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করল এবং তাদের দাসে পরিণত হল। অরামীয়রা অম্মোনীয়দের আবার সাহায্য করতে ভয় পেল।
11দায়ূদ বৎশেবার সঙ্গে মিলিত হলেন
1বসন্তের সময়, যখন রাজারা যুদ্ধে যান, তখন দায়ূদ যোয়াব, তাঁর আধিকারিকদের এবং সমস্ত ইস্রায়েলীয় সৈন্যদের অম্মোনীয়দের ধ্বংস করতে পাঠালেন। যোয়াবের সৈন্যরা অম্মোনদের রাজধানী শহর রব্বাও আক্রমণ করল।
কিন্তু দায়ূদ জেরুশালেমেই রইলেন। 2সন্ধ্যায়, তিনি বিছানা ছেড়ে উঠলেন এবং রাজবাড়ীর ছাদে পায়চারি করতে লাগলেন। দায়ূদ যখন ছাদে পায়চারি করছিলেন, তখন তিনি এক মহিলাকে স্নান করতে দেখলেন। সেই মহিলা ছিল পরমা সুন্দরী। 3দায়ূদ তাঁর আধিকারিককে ঐ মহিলাটির সম্বন্ধে খোঁজ নিতে পাঠালেন। এক আধিকারিক উত্তর দিল, “মেয়েটি ইলিয়ামের কন্যা বৎশেবা। সে হিত্তীয় ঊরিয়ের স্ত্রী।”
4দায়ূদ লোক পাঠিয়ে বৎশেবাকে তাঁর কাছে আনলেন। যখন বৎশেবা দায়ূদের কাছে এল, দায়ূদ তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হলেন। বৎশেবা স্নান করে বাড়ী ফিরে গেল। 5বৎশেবা গর্ভবতী হল। সে দায়ূদকে জানালো, “আমি গর্ভবতী।”
দায়ূদ তাঁর পাপ লুকোতে চাইলেন
6দায়ূদ যোয়াবের কাছে খবর পাঠালেন, “হিত্তীয় ঊরিয়কে আমার কাছে পাঠিয়ে দাও।”
যোয়াব ঊরিয়কে দায়ূদের কাছে পাঠিয়ে দিল। 7ঊরিয় দায়ূদের কাছে এল। দায়ূদ ঊরিয়কে জিজ্ঞাসা করলেন, “যোয়াব কেমন আছে।” সৈনিকরা কেমন আছে এবং যুদ্ধ কেমন হল ইত্যাদি। 8তারপর দায়ূদ ঊরিয়কে বললেন, “বাড়ী গিয়ে বিশ্রাম কর।”
ঊরিয় রাজার বাড়ী থেকে চলে গেল। রাজা (দায়ূদ) ঊরিয়ের জন্য উপহার পাঠালেন। 9কিন্তু ঊরিয় বাড়ী গেল না। ঊরিয় রাজবাড়ীর দরজার সামনে ঘুমিয়ে পড়লো। রাজার ভৃত্যের মতই সে সেখানে ঘুমালো। 10এক দাস দায়ূদকে খবর দিল, “ঊরিয় বাড়ী যায় নি।”
দায়ূদ ঊরিয়কে বললেন, “তুমি দীর্ঘ সফর থেকে ফিরে এসেছ। কেন তুমি বাড়ীতে গেলে না?”
11ঊরিয় দায়ূদকে বলল, “পবিত্র সিন্দুকটি এবং ইস্রায়েল ও যিহূদার সৈন্যরা তাঁবুগুলিতে রয়েছে। আমার মনিব যোয়াব এবং আমার মনিবের (রাজা দায়ূদ) আধিকারিকরা শিবির গেড়ে মাঠে তাঁবু ফেলেছেন। সুতরাং আমার পক্ষে বাড়ী গিয়ে পান আহার করে স্ত্রীর সঙ্গে শয়ন করা ঠিক নয়।”
12দায়ূদ ঊরিয়কে বললেন, “আজকের দিনটা এখানে থেকে যাও। কাল আমি তোমাকে যুদ্ধে ফেরৎ পাঠাব।” সেই দিন ঊরিয় জেরুশালেমে থেকে গেল। পরদিন সকাল পর্যন্ত সে জেরুশালেমে থাকল। 13দায়ূদ ঊরিয়কে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য ডেকে পাঠালেন। ঊরিয় দায়ূদের সঙ্গে পানাহার করল। দায়ূদ ঊরিয়কে দ্রাক্ষারস পান করালেন। তবুও ঊরিয় বাড়ী গেল না। সেই সন্ধ্যায়, ঊরিয় রাজার ফটকের বাইরে রাজার অন্য ভৃত্যদের সঙ্গে ঘুমিয়েছিল।
দায়ূদ ঊরিয়ের মৃত্যুর পরিকল্পনা করলেন
14পরদিন সকালে দায়ূদ যোয়াবকে একখানা চিঠি লিখলেন। দায়ূদ চিঠিটাকে ঊরিয়কে দিয়ে পাঠাবার ব্যবস্থা করলেন। 15চিঠিতে দায়ূদ লিখেছিলেন, “ঊরিয়কে প্রথম সারির ঠিক সেইখানে দাঁড় করাবে যেখানে লড়াইটা কঠিনতম। তারপর ওকে একা ফেলে পালিয়ে আসবে এবং ওকে যুদ্ধ ক্ষেত্রেই মরতে দেবে।”
16পরদিন যোয়াব সারা শহর ঘুরে দেখলেন কোথায় সব থেকে সাহসী ও শক্তিশালী অম্মোনীয়রা রয়েছে। সেইখানে যাবার জন্য তিনি ঊরিয়কে নির্বাচন করলেন। 17রব্বা শহরের লোকরা যোয়াবের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এল। দায়ূদের কিছু লোক মারা গেল। হিত্তীয় ঊরিয় তাদেরই মধ্যে একজন।
18তারপর যোয়াব, যুদ্ধে কি হয়েছে সেই বিষয়ে দায়ূদকে সংবাদ দিলেন। 19যুদ্ধে যা যা ঘটেছে তা দায়ূদকে বলার জন্য যোয়াব এক বার্তাবাহককে আদেশ করলেন। 20“হয়তো বা রাজা ক্রুদ্ধ হবেন এবং জিজ্ঞাসা করবেন, ‘লড়াইয়ের জন্য যোয়াবের সেনারা শহরের অত কাছে কেন গেল? তিনি নিশ্চয়ই জানেন যে শহরের প্রাচীরের ওপরে ধনুর্ধররা আছে যারা তার লোকদের শরাঘাতে শুইয়ে দিতে পারে? 21তাঁর নিশ্চয়ই স্মরণে আছে যে এক মহিলা যিরূব্বেশতের পুত্র অবীমেলককে হত্যা করেছিল। ঘটনাটি তেবেষে ঘটেছিল। মহিলাটি নগরীর প্রাচীরের ওপর থেকে অবীমেলকের ওপর একটা চাকীর ওপরের পাথর ফেলে দিয়েছিল। তাই কেন তারা প্রাচীরের অত কাছে গেল?’ যদি রাজা দায়ূদ ওই ধরণের কিছু বলেন তুমি অবশ্যই তাঁকে এই খবর দেবে: ‘আপনার লোক হিত্তীয় ঊরিয় মারা গেছে।’”
22বার্তাবাহক দায়ূদের কাছে গেল এবং যোয়াব বার্তাবাহককে যা যা বলতে বলেছিলেন সে সব কিছুই দায়ূদকে বলল। 23বার্তাবাহক দায়ূদকে বলল, “অম্মোনদের লোকরা যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদের আক্রমণ করে। আমরা লড়াই করে, তাদের শহরের প্রবেশ দ্বার পর্যন্ত তাড়া করি। 24তখন নগর প্রাচীরের ওপর থেকে বিপক্ষের লোকরা আপনার লোকদের ওপর তীর চালায়। এতে আপনার কিছু লোক মারা যায়। আপনার আধিকারিক হিত্তীয় ঊরিয় তাদের মধ্যে একজন।”
25দায়ূদ বার্তাবাহককে বললেন, “যোয়াবকে গিয়ে বল, ‘এ নিয়ে অতিরিক্ত বিমর্ষ হয়ো না। একটা তরবারি একজনের পর আর একজনকে হত্যা করতে পারে। রাজাদের বিরুদ্ধে আরও জোরদার আক্রমণ চালাও—তোমাদের জয় হবেই।’ এই কথাগুলি বলে যোয়াবকে উৎসাহিত কর।”
দায়ূদ বৎশেবাকে বিয়ে করলেন
26বৎশেবা তাঁর স্বামীর মৃত্যুর খবর পেলেন এবং তাঁর জন্য কাঁদলেন। 27তাঁর দুঃখের দিন অতিক্রান্ত হলে, দায়ূদ তাঁকে তাঁর বাড়ীতে নিয়ে যাবার জন্য ভৃত্য পাঠালেন। তিনি দায়ূদের পত্নী হলেন এবং দায়ূদের জন্য একটা সন্তানের জন্ম দিলেন। কিন্তু দায়ূদের এই পাপ প্রভু পছন্দ করলেন না।
12নাথন দায়ূদের সঙ্গে কথা বললেন
1প্রভু নাথনকে দায়ূদের কাছে পাঠালেন। নাথন দায়ূদের কাছে গেলেন। নাথন বললনে, “এক শহরে দু’জন লোক ছিল। একজন ছিল ধনী, অন্যজন দরিদ্র। 2ধনী লোকটির অনেক মেষ ও গবাদি পশু ছিল। 3দরিদ্র লোকটির একটা স্ত্রী মেষ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। দরিদ্র লোকটি মেষটাকে খাওয়াতো। মেষটা ঐ দরিদ্র লোক ও তার সন্তান-সন্ততিদের সঙ্গেই বড় হল। মেষটা গরীব লোকটার থেকেই খাবার খেত এবং তার পেয়ালা থেকেই পান করত। মেষটা ঐ লোকটির বুকের ওপর ঘুমাতো। মেষটা লোকটির মেয়ের মতই ছিল।
4“একদিন এক পথিক ধনী লোকটির সঙ্গে দেখা করতে এলো। ধনী লোকটি পথিককে কিছু খাবার দিতে চাইলো। কিন্তু পথিককে দেবার জন্য ধনী লোকটি তার মেষ বা গবাদি পশুর থেকে কিছুই নিতে চাইল না। ধনী লোকটি, দরিদ্র লোকটির মেষটা নিয়ে এলো এবং তাকে কেটে পথিকের জন্য রান্না করলো।”
5দায়ূদ ধনী লোকটির ওপর ভীষণ রেগে গেলেন। তিনি নাথনকে বললেন, “এ কথা জীবন্ত প্রভুর মতই সত্য যে, যে লোক এ কাজ করেছে সে অবশ্যই মারা যাবে। 6তাকে ঐ মেষের মূল্যের চারগুণ বেশী দিতে হবে কারণ সে এমন ভয়াবহ কাজ করেছে এবং তার কোন করুণা ছিল না।”
নাথন দায়ূদকে তার পাপকর্মের কথা বললেন
7নাথন দায়ূদকে বললেন, “তুমিই সেই ধনী ব্যক্তি। প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর এই কথাই বলেন, ‘আমি তোমাকে ইস্রায়েলের রাজারূপে মনোনীত করেছি। আমি তোমাকে শৌলের হাত থেকে রক্ষা করেছি। 8আমিই তোমাকে তার পরিবার এবং স্ত্রীগণকে দিয়েছি। এবং আমি তোমাকে ইস্রায়েল এবং যিহূদার রাজা করেছিলাম। তাও যেন যথেষ্ট ছিল না, আমি তোমাকে আরো আরো অনেক কিছু দিয়েছি। 9কিন্তু কেন তুমি প্রভুর আদেশ অমান্য করলে? কেন তুমি সেই কাজ করলে যা তিনি (ঈশ্বর) গর্হিত বলে ঘোষণা করেছেন? তুমি হিত্তীয় ঊরিয়কে অম্মোনদের দ্বারা হত্যা করালে এবং তার স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিলে। এইভাবে তুমি তরবারির দ্বারা ঊরিয়কে হত্যা করালে। 10এই কারণে তোমার পরিবারও তরবারি থেকে রক্ষা পাবে না। তুমি ঊরিয় হিত্তীয়ের স্ত্রীকে তোমার স্ত্রী করার জন্য নিয়ে এসেছ। এইভাবে তুমি বুঝিয়ে দিয়েছ যে তুমি আমায় ঘৃণা করেছ।’
11“প্রভু এ কথাই বলেন: ‘আমি তোমাকে সমস্যায় ফেলব। এই সমস্যা তোমার নিজের পরিবার থেকেই আসবে। আমি তোমার স্ত্রীদের তোমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাবো এবং তোমারই ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজনকে দিয়ে দেব। সে তাদের সঙ্গে শয়ন করবে এবং প্রত্যেকে তা দিনের আলোর মত জানতে পারবে। 12তুমি বৎশেবার সঙ্গে গোপনে শয়ন করেছিলে। কিন্তু আমি তোমাকে এমন শাস্তি দেব যাতে সব ইস্রায়েলীয় তা জানতে পারে।’”+ 12:12 আমি … পারে আক্ষরিক অর্থে, “ইস্রায়েলের সকলের সামনে এবং সূর্যের সামনে।”
13তখন দায়ূদ নাথনকে বললেন, “আমি প্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করেছি।”
নাথন দায়ূদকে বললেন, “এই পাপের জন্যও প্রভু তোমায় ক্ষমা করে দেবেন। তুমি মরবে না। 14কিন্তু তুমি এমন কাজ করেছ যাতে প্রভুর বিরোধীরা তাঁর ওপর থেকে শ্রদ্ধা হারিয়েছে। তাই তোমার শিশু সন্তান মারা যাবে।”
দায়ূদ ও বৎশেবার সন্তান মারা গেল
15তারপর নাথন বাড়ী চলে গেলেন। দায়ূদ এবং বৎশেবার যে শিশুপুত্র জন্মেছিল, প্রভু তাকে অসুস্থ করলেন। 16শিশু সন্তানটির জন্য দায়ূদ ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলেন। দায়ূদ খাওয়া দাওয়া ত্যাগ করলেন। তিনি ঘরের ভিতরে গিয়ে সারারাত সেখানে থাকলেন। সারারাত তিনি মেঝেতে শুয়ে কাটালেন।
17দায়ূদের পরিবারের লোকরা এসে তাঁকে মেঝে থেকে ওঠানোর চেষ্টা করল। তিনি সেই সব নেতাদের সঙ্গে খাবার খেতে অস্বীকার করলেন। 18সপ্তম দিনে, শিশুটি মারা গেল। শিশুটি যে মারা গেছে এ কথা দায়ূদের ভৃত্যরা দায়ূদকে বলতে ভয় পেল। তারা বলল, “দেখ, শিশুটি যখন বেঁচেছিল তখন আমরা দায়ূদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম। তিনি কিন্তু আমাদের কথা শুনতে চান নি। যদি আমরা বলি যে শিশুটি মারা গেছে, হয়তো তিনি নিজের ক্ষতি করবেন।”
19দায়ূদ তাঁর ভৃত্যদের ফিসফিস করে কথা বলতে দেখলেন। তখন তিনি বুঝতে পারলেন শিশুটি মারা গেছে। দায়ূদ তাঁর ভৃত্যদের জিজ্ঞাসা করলেন, “শিশুটি কি মারা গেছে?”
ভৃত্যরা উত্তর দিল, “হ্যাঁ, সে মারা গেছে।”
20তখন দায়ূদ মেঝে থেকে উঠে পড়লেন। তিনি স্নান করলেন। জামাকাপড় বদল করে, অন্য কাপড় পরলেন। প্রভুর উপাসনার জন্য তিনি প্রভুর ঘরে গেলেন। তারপর তিনি বাড়ী গেলেন এবং কিছু খাবার চাইলেন। তাঁর ভৃত্যরা তাঁকে কিছু খাবার এনে দিল এবং তিনি খেলেন।
21দায়ূদের দাসরা তাঁকে বলল, “কেন আপনি এইসব কাজ করছেন? শিশুটি যখন বেঁচেছিল তখন আপনি কিছু খেলেন না। আপনি কাঁদলেন। কিন্তু শিশুটি মারা যেতে আপনি উঠলেন এবং খাবার খেলেন।”
22দায়ূদ বলল, “শিশুটি যখন বেঁচেছিল তখন আমি আহার ত্যাগ করেছিলাম এবং কেঁদেছিলাম কারণ আমি ভেবেছিলাম, ‘কে বলতে পারে? হয়তো প্রভু আমার প্রতি করুণা করবেন এবং শিশুটিকে বাঁচতে দেবেন।’ 23কিন্তু এখন তো শিশুটি মৃত। তাই আমি কি আহার ত্যাগ করব? আমি কি শিশুটিকে আর ফিরে পাবো? না! একদিন আমি তার সঙ্গে মিলিত হব, কিন্তু সে আমার কাছে ফিরে আসতে পারে না।”
শলোমনের জন্ম হল
24দায়ূদ তাঁর স্ত্রী বৎশেবাকে সান্ত্বনা দিলেন। তিনি তাঁর সঙ্গে শুলেন এবং মিলিত হলেন। বৎশেবা পুনর্বার গর্ভবতী হলেন। তাঁর আর একটি সন্তান হল। দায়ূদ তার নাম রাখলেন শলোমন। 25প্রভু ভাববাদী নাথনের মারফৎ তাঁর বার্তা পাঠালেন। নাথন শলোমনের নাম রাখলেন যিদীদীয়। প্রভুর জন্যেই নাথন এই কাজ করলেন।
দায়ূদ রব্বা অধিকার করলেন
26রব্বা অম্মোনদের রাজধানী শহর ছিল। যোয়াব রব্বার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তা দখল করেন। 27যোয়াব দায়ূদের কাছে বার্তাবাহক পাঠালেন এবং বললেন, “আমি রব্বার জলের শহরটি যুদ্ধ করে জয় করেছি। 28এখন অন্যান্য লোকদের পাঠিয়ে এই শহর আক্রমণ করুন। আমি অধিকার করবার আগেই আপনাকে এই শহর দখল করতে হবে। যদি আমি এই শহর দখল করি তবে এই শহর আমার নামে পরিচিত হবে।”
29তখন দায়ূদ সব লোকদের একসঙ্গে জড়ো করলেন এবং রব্বার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। তিনি রব্বার বিরুদ্ধে লড়াই করলেন এবং রব্বা শহর দখল করলেন। 30দায়ূদ তাদের রাজার মাথা+ 12:30 তাদের রাজার মাথা অথবা “মিল্কমের মাথা।” অম্মোনীয়রা মিল্কমের মূর্ত্তির পূজা করত। থেকে মুকুট কেড়ে নিলেন। মুকুটটিতে প্রায় 75 পাউণ্ড সোনা ছিল। মুকুটটিতে অনেক মূল্যবান মনিমুক্তো ছিল। তারা সেই মুকুট দায়ূদের মাথায় পরিয়ে দিল। সেই শহর থেকে দায়ূদ অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে এসেছিলেন।
31দায়ূদ রব্বার লোকদেরও বার করে আনেন এবং তাদের দিয়ে করাত, গাঁইতি ও কুড়ুল দিয়ে কাজ করিয়েছিলেন। তিনি তাদের ইঁট দিয়ে গাঁথুনির কাজ করতে বাধ্য করেছিলেন। অম্মোনদের শহরগুলোর সকলের সঙ্গে দায়ূদ এই একই রকম কাজ করেছিলেন। তারপর দায়ূদ এবং তাঁর সব সৈন্যসামন্ত জেরুশালেমে ফিরে গিয়েছিল।
13অম্নোন এবং তামর
1অবশালোম নামে দায়ূদের এক পুত্র ছিল। অবশালোমের বোন ছিল তামর। তামর ছিল অত্যন্ত সুন্দরী। দায়ূদের আর এক পুত্র অম্নোন 2তামরকে ভালোবেসেছিল। তামর ছিল কুমারী। অম্নোন কখনও ভাবে নি যে সে তামরের প্রতি কোন খারাপ ব্যবহার করবে। কিন্তু অম্নোন তাকে প্রচণ্ডভাবে চাইত। অম্নোন তামর সম্পর্কে খুব চিন্তা করত এবং একসময় সে ভান করে নিজেকে অসুস্থ করে তুলল।
3শিমিয়ের পুত্র যোনাদব অম্নোনের বন্ধু ছিল। (শিমিয় ছিল দায়ূদের ভাই।) যোনাদব প্রচণ্ড চালাক ছিল। 4যোনাদব তাকে বলল, “প্রতিদিনই তুমি রোগা হয়ে যাচ্ছ! তুমি তো রাজার পুত্র। তোমার তো খাওয়ার অভাব নেই, তাহলে কেন তোমার স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে? আমাকে বল!”
অম্নোন যোনাদবকে বলল, “আমি তামরকে ভালোবাসি। কিন্তু সে আমার ভাই অবশালোমের বোন।”
5যোনাদব অম্নোনকে বলল, “যাও, বিছানায় শুয়ে অসুস্থতার ভান কর। যখন তোমার পিতা তোমাকে দেখতে আসবেন তখন তাকে বলবে, ‘তামরকে আমার কাছে আসতে দিন। সে আমার জন্য খাবার আনুক। সে আমার সামনে আহার প্রস্তুত করুক। আমি তার রান্না করা দেখব এবং তার হাতে খাব।’”
6এরপর অম্নোন বিছানায় শুয়ে পড়ে অসুস্থতার ভান করল। রাজা দায়ূদ তাকে দেখতে এলেন। অম্নোন রাজা দায়ূদকে বলল, “আমার বোন তামরকে আমার কাছে আসতে দিন। আমার সামনে তাকে দুটো পিঠে বানাতে দিন। তারপর আমি ওর হাতেই পিঠে খাব।”
7দায়ূদ তামরের বাড়ীতে বার্তাবাহক পাঠালেন। বার্তাবাহক গিয়ে তামরকে বলল, “তোমার ভাই অম্নোনের বাড়ী যাও এবং তার জন্য খাবার তৈরী কর।”
8তখন তামর তার ভাই অম্নোনের বাড়ী গেল। অম্নোন বিছানায় শুয়ে ছিল। তামর এক তাল ময়দা নিয়ে দু হাতে মেখে পিঠে তৈরী করল। সে যখন এইসব করছিল তখন অম্নোন দেখছিল। 9তারপর তামর চাটু থেকে পিঠেগুলিকে অম্নোনের জন্য উঠিয়ে আনলো। কিন্তু অম্নোন তা খেল না। অম্নোন তার ভৃত্যদের বলল, “এখান থেকে বেরিয়ে যাও। আমাকে একা থাকতে দাও।” তখন তার সব ভৃত্য ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
অম্নোন তামরকে ধর্ষণ করল
10তখন অম্নোন তামরকে বলল, “খাবারগুলি আমার শোবার ঘরে নিয়ে এসো এবং আমাকে নিজে হাতে খাইয়ে দাও।”
তখন তামর তার তৈরী করা পিঠেগুলি নিয়ে তার ভাইয়ের শোবার ঘরে গেল। 11সে যখন অম্নোনকে খাওয়াতে শুরু করেছে তখন অম্নোন তার হাত চেপে ধরল। সে তাকে বলল, “বোন, এসো আমার সঙ্গে শোও।”
12তামর অম্নোনকে বলল, “না ভাই! আমাকে এইসব করতে বাধ্য করো না। এই ধরণের লজ্জাজনক কাজ করো না। এই ধরণের ভয়াবহ কাজ ইস্রায়েলে হওয়া উচিৎ নয়। 13আমি আমার লজ্জা থেকে কোনদিন মুক্তি পাব না। লোকরা ভাববে যে তুমি অপরাধীদের একজন। রাজার সঙ্গে কথা বল, তিনি তোমাকে আমায় বিয়ে করতে অনুমতি দেবেন।”
14কিন্তু অম্নোন তামরের কথা শুনল না। সে তামরের থেকে শক্তিশালী ছিল। সে তাকে নিজের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করল। 15তারপর অম্নোন তামরকে ঘৃণা করতে শুরু করল। অম্নোন আগে তামরকে যতখানি ভালোবেসেছিল এখন তার থেকে বেশী ঘৃণা করতে লাগল। অম্নোন তামরকে বলল, “ওঠো এবং এখান থেকে বেরিয়ে যাও।”
16তামর অম্নোনকে বলল, “না! আমাকে এইভাবে তাড়িয়ে দিও না। এমনকি আমার সঙ্গে একটু আগে যা করলে তার থেকেও সেটা খারাপ কাজ হবে।”
অম্নোন তার কথা শুনল না। 17অম্নোন তার ভৃত্যদের ডেকে বলল, “এই মেয়েটাকে এখুনি আমার ঘর থেকে দূর করে দাও এবং দরজা বন্ধ করে দাও।”
18তখন অম্মোনের ভৃত্যরা তামরকে ঘর থেকে দূর করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল।
তামর বহু রঙে রঙিন একটা বড় কাপড় পরেছিল। রাজার কুমারী মেয়েরা এই ধরণের কাপড় পরতো। 19তামর সেই কাপড় ছিঁড়ে ফেলল এবং মাথায় কিছুটা ছাই দিল। তারপর সে নিজের মাথায় হাত দিয়ে কাঁদতে লাগল।
20তখন তামরের ভাই অবশালোম তাকে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি কি তোমার ভাই অম্নোনের কাছে ছিলে? সে কি তোমায় আঘাত দিয়েছে? বোন আমার, এখন শান্ত হও।+ 13:20 বোন … হও অবশালোম তাকে এই কথা সকলের সামনে প্রকাশ করতে না বলল। সম্ভবতঃ তিনি নিজের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করলেন যাতে লোকদের গুজব এবং লজ্জা এড়ানো যায়। অম্নোন তোমার ভাই, তাই এই ব্যাপারটা আমরা ভেবে দেখব। তুমি কিছু চিন্তা করো না।” তাই তামর কিছু না বলে চুপচাপ তার ভাই অবশালোমের বাড়ী গেল এবং সেই খানেই থাকল।
21এই সংবাদ শুনে রাজা দায়ূদ প্রচণ্ড রেগে গেলেন। 22অবশালোম অম্নোনকে ঘৃণা করতে শুরু করল। অবশালোম অম্নোনকে ভালো বা মন্দ কোন কথাই বলল না। অবশালোম অম্নোনকে ঘৃণা করতে লাগল কারণ অম্নোন তার বোন তামরকে ধর্ষণ করেছিল।
অবশালোমের প্রতিশোধ
23দু বছর পরে, অবশালোমের লোকরা তাদের মেষের গা থেকে পশম কাটতে বাল্-হাৎসোরে এলো। অবশালোম তা পর্যবেক্ষণ করার জন্য রাজার সব সন্তানদের ডাকল। 24অবশালোম রাজার কাছে গিয়ে বলল, “আমার কিছু লোকরা আমার মেষগুলির গা থেকে লোম কাটতে আসছে। দয়া করে আপনার ভৃত্যদের সঙ্গে নিয়ে এসে দেখুন।”
25রাজা দায়ূদ অবশালোমকে বলল, “না, পুত্র। আমরা যাব না। তাতে তোমার সমস্যাই বাড়বে।”
অবশালোম, দায়ূদকে যাওয়ার জন্য অনেক অনুনয় বিনয় করলো। কিন্তু দায়ূদ গেলেন না, তিনি তাকে তাঁর আশীর্বাদ দিলেন।
26অবশালোম বলল, “যদি আপনি যেতে না চান তাহলে আমার ভাই অম্নোনকে আমার সঙ্গে যেতে দিন।”
রাজা দায়ূদ অবশালোমকে জিজ্ঞাসা করলেন, “কেন সে তোমার সঙ্গে যাবে?”
27অবশালোম দায়ূদের কাছে অনুনয় করেই চলল। সব শেষে দায়ূদ, অম্নোন এবং রাজার অন্যান্য সন্তানদের অবশালোমের সঙ্গে যেতে দিতে রাজী হলেন।
অম্নোন নিহত হল
28তারপর অবশালোম তার ভৃত্যদের এই নির্দেশ দিল, “অম্নোনকে নজরে রাখ। যখন দেখবে সে দ্রাক্ষারস পান করে মেজাজে আছে তখন আমি তোমাদের নির্দেশ দেব। তোমরা অবশ্যই অম্নোনকে আক্রমণ করবে এবং হত্যা করবে। তোমরা কেউ শাস্তি পাবার ভয় করো না। সর্বোপরি তোমরা তো কেবল আমার আদেশ পালন করবে। বীরের মত সাহসী হও।”
29অতএব অবশালোমের সৈন্যরা তাই করল যা সে তাদের করতে বলেছিল। তারা অম্নোনকে হত্যা করল। কিন্তু দায়ূদের অন্যান্য পুত্ররা পালিয়ে গেল। প্রতিটি পুত্র তাদের খচ্চরে চড়ে পালাল।
দায়ূদ অম্নোনের মৃত্যুর খবর শুনলেন
30রাজার ছেলেরা তখনও নগরীর পথেই রয়েছে। কিন্তু কি ঘটেছে তা রাজা দায়ূদ সংবাদ পেয়ে গেছেন। কিন্তু তিনি এ রকম ভুল সংবাদ পেয়েছিলেন: “অবশালোম রাজার সব ছেলেদেরই হত্যা করেছে এবং একটা ছেলেও বেঁচে নেই।”
31রাজা দায়ূদ শোকে দুঃখে নিজের জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেললেন এবং মাটিতে শুয়ে পড়লেন। দায়ূদের যে সব আধিকারিক তাঁর কাছে দাঁড়িয়েছিল তারাও নিজেদের জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলল।
32কিন্তু, তখন যোনাদব, শিমিয়র পুত্র যে দায়ূদের একজন ভাই ছিল, সে বলল, “একথা ভাববেন না যে রাজার সব ছেলেই মারা গেছে। একমাত্র অম্নোনই মারা গেছে। যে দিন অম্নোন তামরকে ধর্ষণ করে সেদিন থেকেই অবশালোম এই ঘটনা ঘটানোর জন্য ফন্দি আঁটছিলো। 33হে আমার মনিব এবং রাজা, আপনি ভাববেন না যে আপনার সব ছেলে মারা গেছে, শুধুমাত্র অম্নোনই মারা গেছে।”
34অবশালোম দৌড়ে পালিয়ে গেল।
নগরীর প্রাচীরে একজন প্রহরী দাঁড়িয়েছিল। সে দেখল পাহাড়ের ওদিক থেকে বহু লোকজন আসছে। 35তখন যোনাদব রাজা দায়ূদকে বলল, “দেখুন, আমি কি বলেছি! রাজার পুত্ররা আসছে।”
36যোনাদব এই কথা বলার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রাজার পুত্ররা এসে পড়ল। তারা উচ্চস্বরে কাঁদছিল। দায়ূদ এবং তাঁর সব আধিকারিকরাও কাঁদতে শুরু করে দিল। তারা সকলে উথালি পাথালি হয়ে কাঁদল। 37দায়ূদ প্রতিদিনই তাঁর পুত্র অম্নোনের জন্য কাঁদতেন।
অবশালোম গশূরে পালালেন
অবশালোম গশূরের রাজা, অম্মীহূরের পুত্র তল্ময়ের কাছে পালিয়ে গেল। 38গশূরে পালিয়ে যাবার পর অবশালোম সেখানে তিন বছর ছিল। 39অম্মোনের মৃত্যুতে রাজা দায়ূদকে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি অবশালোমের অভাব প্রচণ্ডভাবে অনুভব করেছিলেন।
14যোয়াব দায়ূদের কাছে একজন জ্ঞানী মহিলাকে পাঠালেন
1সরূয়ার পুত্র যোয়াব জানতেন যে রাজা দায়ূদ প্রচণ্ডভাবে অবশালোমের অভাব বোধ করছেন। 2যোয়াব তকোয়েতে সেখান থেকে একজন জ্ঞানী মহিলাকে আনতে আদেশ দিয়ে বার্তাবাহকদের পাঠালেন। যোয়াব সেই জ্ঞানী মহিলাকে বললেন, “প্রচণ্ড দুঃখের ভান কর এবং বিমর্ষ লাগে এমন জামাকাপড় পর। একদম সাজ-গোজ করো না। এমন নিপুণ অভিনয় করবে যেন দেখে মনে হয়, তুমি দীর্ঘদিন ধরে কাঁদছ। 3রাজার কাছে যাও এবং তাকে ঠিক এ কথাগুলোই বলবে যা আমি তোমায় শিখিয়ে দিচ্ছি।” তারপর যোয়াব, সেই জ্ঞানী মহিলাটিকে কি কি বলতে হবে তা বলে দিলেন।
4তখন তকোয়ের সেই মহিলা রাজার সঙ্গে কথা বলল। মাটির দিকে মাথা নত করে সে বলল, “রাজা, দয়া করে আমায় বাঁচান।”
5রাজা দায়ূদ তাকে বললেন, “তোমার সমস্যা কি?”
মহিলা বলল, “আমি একজন বিধবা। আমার স্বামী মারা গেছে। 6আমার দুটি পুত্র ছিল। তারা মাঠে লড়াই করছিল। তাদের বাধা দেবার মত কেউ ছিল না। আমার এক পুত্র আর এক পুত্রকে হত্যা করেছে। 7এখন গোটা পরিবার আমার বিরুদ্ধে। তারা আমাকে বলল, ‘সেই পুত্রকে নিয়ে এসো যে তার ভাইকে মেরেছে—আমরাও তাকে মেরে ফেলবো। কেন? কারণ সে তার ভাইকে হত্যা করেছে।’ আমার আগুনের শেষ স্ফুলিঙ্গের মত যদি ওরা আমার পুত্রকে মেরে ফেলে তাহলে সেই আগুন জ্বলে শেষ হয়ে যাবে। সেই একমাত্র জীবিত সন্তান যে তার পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে। অন্যাথায়, আমার স্বামীর সম্পত্তি ভুল হাতে পড়বে এবং তার নাম সেই জমি থেকে মুছে যাবে।”
8তখন রাজা সেই মহিলাকে বললেন, “বাড়ী চলে যাও, আমি তোমার বিষয়গুলি দেখব।”
9তকোয়ের মহিলা রাজাকে বলল, “আমার মনিব এবং রাজা, সব দোষ আমার ওপর এবং আমার পরিবারের ওপর আসুক। আপনি এবং আপনার রাজত্ব নির্দোষ হোক্।”
10রাজা দায়ূদ বললেন, “কেউ যদি তোমাকে খারাপ কিছু বলে, তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। সে দ্বিতীয়বার তোমাকে জ্বালাতন করবে না।”
11মহিলা বলল, “আপনার প্রভু ঈশ্বরের নামে শপথ করে বলুন যে আপনি সেই সব লোকদের বাধা দেবেন। তারা আমার পুত্রকে তার ভাইকে হত্যা করার জন্য শাস্তি দিতে চাইছে। আপনি শপথ করুন যে ঐ লোকদের আপনি আমার পুত্রকে হত্যা করতে দেবেন না।”
দায়ূদ বললেন, “অস্তিত্বময় প্রভুর নামে শপথ নিয়ে বলছি, কেউ তোমার পুত্রের ক্ষতি করতে পারবে না। এমনকি তার মাথার একটা চুলও মাটিতে পড়বে না।”
12মহিলা বলল, “হে আমার মনিব এবং রাজা, আপনাকে আর কয়েকটা কথা বলতে দিন।”
রাজা বললেন, “বল।”
13তারপর সেই মহিলা বলল, “কেন আপনি ঈশ্বরের লোকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন? হ্যাঁ, যখন আপনি এই ধরণের কথাবার্তা বলেন তখন আপনি বুঝিয়ে দেন যে আপনি অপরাধী। কেন? কারণ যে সন্তানকে আপনি ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করেছেন, তাকে আপনি ঘরে ফিরিয়ে আনেন নি। 14আমরা প্রত্যেকেই একদিন না একদিন মরব। আমরা প্রত্যেকেই মাটিতে ফেলে দেওয়া জলের মত হব। সেই জলকে কেউই পুনরায় মাটি থেকে তুলে আনতে পারে না। আপনি জানেন ঈশ্বর মানুষকে ক্ষমা করেন। যারা নিরাপত্তার জন্য পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়, ঈশ্বর তাদের জন্য পরিকল্পনা করেছিলেন। ঈশ্বর তাঁর কাছ থেকে পালিয়ে যাবার জন্য কাউকে বাধ্য করেন না। 15হে আমার মনিব এবং রাজা এই কথাই আমি আপনাকে বলতে এসেছি। কেন? কারণ লোকরা আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছে। আমি নিজেকেই বললাম, ‘আমি রাজার সঙ্গে কথা বলব। হয়তো রাজা আমাকে সাহায্য করতে পারবেন। 16রাজা আমার কথা শুনবেন এবং যারা আমাকে ও আমার পুত্রকে মেরে ফেলতে চাইছে তাদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করবেন। ঈশ্বর আমাদের যা দিয়েছিলেন, সেই লোকটি তা পাওয়া থেকে আমাদের বঞ্চিত করতে চায়।’ 17আমি জানি আমার মনিব রাজার কথা আমাকে স্বস্তি দেবে, কারণ আপনি ঈশ্বরের দূতের মত। আপনি ভাল এবং মন্দ দুটো বিষয়েই অবগত আছেন এবং প্রভু, আপনার ঈশ্বর আপনার সঙ্গেই উপস্থিত আছেন।”
18রাজা দায়ূদ প্রত্যুত্তরে সেই মহিলাকে বললেন, “আমি যে প্রশ্ন করব তুমি অবশ্যই তার উত্তর দেবে।”
মহিলাটি বলল, “হে গুরু, আমার রাজা, আপনার প্রশ্ন করুন।”
19রাজা দায়ূদ জিজ্ঞাসা করলেন, “যোয়াব কি তোমাকে এইসব কথা বলতে বলেছে?”
মহিলা উত্তর দিল, “আপনার দিব্যি, হে আমার মনিব রাজা, আপনি ঠিকই বলেছেন। আপনার আধিকারিক যোয়াবই আমাকে এইসব কথা আপনাকে বলতে বলেছে। 20যোয়াব এই কাজগুলি করেছে যাতে আপনি এই ঘটনাগুলিকে অন্যভাবে দেখতে পান। হে আমার মনিব, আপনি ঈশ্বরের দূতের মতই জ্ঞানী। এই পৃথিবীতে যা যা ঘটে আপনি তার সবই জানেন।”
অবশালোম জেরুশালেমে ফিরে এল
21রাজা যোয়াবকে বললেন, “দেখ, আমি যা প্রতিজ্ঞা করেছি, আমি তাই করব। তরুণ অবশালোমকে ফিরিয়ে নিয়ে এস।”
22যোয়াব নত হলেন এবং রাজা দায়ূদকে আশীর্বাদ করলেন। তিনি রাজাকে বললেন, “আজ আমি জানতে পারলাম আপনি আমার প্রতি প্রসন্ন, কারণ আমি যা চেয়েছিলাম আপনি তাই করেছেন।”
23তারপর যোয়াব উঠে পড়লেন এবং গশূরে গিয়ে অবশালোমকে জেরুশালেমে নিয়ে এলেন। 24কিন্তু রাজা দায়ূদ বললেন, “অবশালোম তার নিজের বাড়ীতে ফিরে যেতে পারে। সে আমার সঙ্গে দেখা করতে পারবে না।” তখন অবশালোম নিজের বাড়ীতে ফিরে গেল। অবশালোম রাজার কাছে দেখা করতে যেতে পারল না।
25লোক অবশালোমের সৌন্দর্য্যের প্রশংসা করত। অবশালোমের মত সুদর্শন গোটা ইস্রায়েলে কেউ ছিল না। পা থেকে মাথা পর্যন্ত অবশালোমের কোথাও কোন খুঁত ছিল না। 26বছরের শেষে অবশালোম তার মাথা থেকে চুল কেটে ফেলত এবং সেই চুল ওজন করত। সেই চুল ওজনে প্রায় আড়াই সেরের মত হত। 27অবশালোমের তিনটি পুত্র এবং একটি কন্যা ছিল। তার কন্যার নাম ছিল তামর। তামর অতীব সুন্দরী ছিল।
অবশালোম যোয়াবকে তার সঙ্গে দেখা করতে বাধ্য করল
28অবশালোম পুরো দু বছর জেরুশালেমে ছিল। এই সময়ে রাজা দায়ূদের সঙ্গে তার দেখা করার অনুমতি ছিল না। 29অবশালোম যোয়াবের কাছে বার্তাবাহক পাঠালো। বার্তাবাহক যোয়াবকে বলল অবশালোমকে রাজার কাছে পাঠাতে। কিন্তু যোয়াব অবশালোমের কাছে এলেন না। দ্বিতীয়বার অবশালোম খবর পাঠাল। এবারও যোয়াব এলেন না।
30তখন অবশালোম তার ভৃত্যদের বলল, “দেখ, আমার জমির পাশেই যোয়াবের জমি। সে তার ক্ষেতে যব ফলিয়েছে। তোমরা গিয়ে আগুন ধরিয়ে দাও।”
তখন অবশালোমের ভৃত্যরা গিয়ে যোয়াবের জমিতে আগুন ধরিয়ে দিল। 31যোয়াব অবশালোমের বাড়ী এলেন। যোয়াব অবশালোমকে বললেন, “কেন তোমার ভৃত্যরা আমার জমিতে আগুন দিয়েছে?”
32অবশালোম যোয়াবকে বলল, “আমি তোমাকে একটা খবর পাঠিয়েছিলাম, এখানে আসতে বলেছিলাম। আমি তোমাকে রাজার কাছে পাঠাতে চেয়েছিলাম। আমি চেয়েছিলাম তুমি তাঁকে জিজ্ঞাসা কর কেন তিনি আমাকে গশূর থেকে ঘরে ফিরে আসতে বলেছিলেন। যেহেতু আমার তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি নেই, কাজেই আমার পক্ষে সেখানে থেকে যাওয়াই ভাল হত। এখন আমাকে রাজার সঙ্গে দেখা করতে দাও। যদি আমি কোন অন্যায় করে থাকি, তবে তিনি আমায় হত্যা করতে পারেন।”
রাজা দায়ূদের সঙ্গে অবশালোম দেখা করলেন
33যোয়াব রাজার কাছে এসে অবশালোমের সব কথা বললেন। রাজা অবশালোমকে ডেকে পাঠালেন। অবশালোম রাজার কাছে এলো। রাজার সামনে এসে অবশালোম মাটিতে নত হয়ে রাজাকে প্রণাম করল এবং রাজা অবশালোমকে চুম্বন করলেন।
15অবশালোম অনেককে বন্ধু করে নিল
1এরপর অবশালোম নিজের জন্য একটা রথ এবং অনেকগুলো ঘোড়া নিল। যখন সে রথ চালিয়ে যেত তখন তার রথের সামনে দৌড়াবার জন্য 50 জন লোকও থাকত। 2অবশালোম প্রতিদিন সকালে খুব ভোরে উঠে ফটকের কাছে+ 15:2 ফটকের কাছে এটি সেই জায়গা যেখানে লোকরা ব্যবসার জন্য আসত এবং কিছু মামলা সমাপ্ত করত। এসে দাঁড়াত। অবশালোম এমন একজনকে খুঁজত যে তার সমস্যা নিয়ে বিচারের জন্য রাজা দায়ূদের কাছে যাচ্ছে। অবশালোম তার সঙ্গে কথা বলত। অবশালোম বলত, “কোন শহর থেকে তুমি আসছ?” লোকটা হয়তো বলত, “আমি ইস্রায়েলের অমূক পরিবারগোষ্ঠীর অমূক পরিবারের লোক।” 3তখন অবশালোম তাকে বলত, “দেখ, তুমি ঠিক বলেছ কিন্তু রাজা তো তোমার কথা শুনবেন না।”
4অবশালোম বলত, “আহা, আমার ইচ্ছা হয় কেউ বেশ আমাকে এই দেশের বিচারক করে দিত। তাহলে যারা সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসত তাদের প্রত্যেককে আমি সাহায্য করতে পারতাম। তার সমস্যার সুষ্ঠ সমাধান পেতে আমি তাকে সাহায্য করতে পারতাম।”
5যদি কোন ব্যক্তি অবশালোমের কাছে এসে মাথা নীচু করে, তাহলে সে তার সঙ্গে তার সবচেয়ে ভাল বন্ধুর মতই ব্যবহার করত। আবশালোম গিয়ে তাকে হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরত এবং চুম্বন করত। 6সমস্ত ইস্রায়েলীয়রা, যারা রাজা দায়ূদের কাছে ন্যায়ের জন্য আসত তাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই অবশালোম একই রকম আচরণ করত। এইভাবে অবশালোম ইস্রায়েলের লোকদের মন জয় করেছিল।
অবশালোম দায়ূদের রাজ্য অধিকার করার পরিকল্পনা করল
7চার বছর+ 15:7 চার বছর কিছু প্রাচীন লেখায় আছে “40 বছর।” পর অবশালোম রাজা দায়ূদকে বলল, “হিব্রোণে থাকার সময় প্রভুর কাছে যে বিশেষ প্রতিজ্ঞা করেছিলাম তা পূরণ করার জন্য আমাকে যেতে দিন। 8অরামের গশূরে থাকার সময়েও আমি সেই একই প্রতিশ্রুতি করেছিলাম। আমি বলেছিলাম, ‘প্রভু যদি আমাকে জেরুশালেমে ফিরিয়ে আনেন, আমি প্রভুর সেবা করব।’”
9রাজা দায়ূদ বলেন, “শান্তিতে যাও।”
অবশালোম হিব্রোণে চলে গেলেন। 10কিন্তু অবশালোম ইস্রায়েলের প্রত্যেকটা পরিবারগোষ্ঠীর কাছে গুপ্তচর পাঠাল। চররা লোকদের বলতে লাগল, “যখন তোমরা শিঙার রব শুনবে তখন বলবে ‘অবশালোম হিব্রোণের রাজা হয়েছে।’”
11অবশালোম তার সঙ্গে যাবার জন্য 200 জন লোককে ডাকল। তারা তার সঙ্গে জেরুশালেম থেকে চলে গেল কিন্তু তারা জানে না, সে কি পরিকল্পনা করেছে। 12অহীথোফল দায়ূদের অন্যতম একজন পরামর্শদাতা ছিল। অহীথোফল ছিল গীলো শহরের লোক। অবশালোম যখন উৎসর্গ নিবেদন করেছিল তখন সে অহীথোফলকে তার শহর গীলো থেকে ডেকে পাঠাল। অবশালোমের ফন্দি খুব ভালভাবেই কার্যকরী হয়েছিল এবং বহু লোক তাকে সমর্থন করেছিল।
দায়ূদ অবশালোমের পরিকল্পনা জানতে পারলেন
13দায়ূদকে সংবাদ দিতে একজন লোক এলো। সে বলল, “ইস্রায়েলের লোকরা অবশালোমকে অনুসরণ করতে শুরু করেছে।”
14তারপর দায়ূদ জেরুশালেমে বসবাসকারী তাঁর সব আধিকারিকদের বললেন, “আমরা পালিয়ে যাব। আমরা যদি পালিয়ে না যাই, অবশালোম আমাদের যেতে দেবে না। তাড়াতাড়ি কর, যেন অবশালোম আমাদের ধরতে না পারে। সে আমাদের এবং জেরুশালেমের সব লোককে মেরে ফেলবে।”
15রাজার আধিকারিকরা তাঁকে বলল, “আপনি আমাদের যা বলবেন, আমরা তাই করব।”
দায়ূদ এবং তাঁর লোকরা পালিয়ে গেল
16রাজা দায়ূদ লোকজন সহ পালিয়ে গেলেন। রাজা তাঁর বাড়ী দেখাশোনা করার জন্য তাঁর দশজন উপপত্নীকে রেখে গেলেন। 17রাজা চলে যেতে সব লোকরাও তাঁকে অনুসরণ করল। শেষ বাড়ীতে গিয়ে তারা থামল। 18তাঁর সমস্ত আধিকারিক তাঁর সামনে দিয়ে হেঁটে সবলে গেল। করেথীয়, পলেথীয় এবং (গাতের 600 পুরুষ) রাজার সামনে দাঁড়াল।
19রাজা গাতের ইত্তয়কে বললেন, “কেন তুমিও আমাদের সঙ্গে যাচ্ছ? ফিরে যাও। নতুন রাজা অবশালোমের সঙ্গে যোগ দাও। তুমি একজন ভিন দেশী। এটা তোমার দেশ নয়। 20কেবলমাত্র গতকাল তুমি আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছ। তুমি নিশ্চয়ই আমার সঙ্গে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় ঘুরে বেড়াবে না? তুমি তোমার ভাইদের নাও এবং যাও। তোমার প্রতি দয়া ও আনুগত্য প্রদর্শিত হোক্।”
21কিন্তু ইত্তয় রাজাকে উত্তর দিল, “আমি প্রভুর নামে শপথ নিয়ে বলছি, আপনি যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন আমি আপনার সঙ্গেই থাকব!”
22দায়ূদ ইত্তয়কে বললেন, “এসো, আমরা কিদ্রোণ স্রোত পার হয়ে যাই।”
তখন গাতের ইত্তয় এবং তার সব লোক তাদের ছেলে-মেয়েসহ কিদ্রোণ স্রোত পার হয়ে গেল। 23সব লোকরা উচ্চৈস্বরে কাঁদছিল। রাজা দায়ূদ কিদ্রোণ স্রোত পার হয়ে গেলেন। তারপর সব লোক মরুভূমির পথে পা বাড়াল। 24সাদোক এবং তার সঙ্গে অন্যান্য লেবীয়রা ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক বয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তারা ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক নামিয়ে রাখল। যতক্ষণ পর্যন্ত না সব লোক জেরুশালেম ত্যাগ করল, ততক্ষণ পর্যন্ত অবিয়াথর পবিত্র সিন্দুকের পাশে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং প্রার্থনা করলেন।
25রাজা দায়ূদ সাদোককে বললেন, “ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক জেরুশালেমে নিয়ে যাও। প্রভু যদি আমার প্রতি প্রসন্ন হন, তিনি আবার আমায় জেরুশালেমে ফিরিয়ে আনবেন এবং আমাকে জেরুশালেম ও তাঁর আবাস স্থান দেখতে দেবেন। 26আর যদি প্রভু আমার প্রতি প্রসন্ন না হন, তিনি আমার প্রতি তাঁর যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন।”
27রাজা যাজক সাদোককে বললেন, “তুমিও একজন ভাববাদী। তুমি শান্তিতে নগরীতে ফিরে যাও। তোমার পুত্র অহীমাস এবং অবীয়াথরের পুত্র যোনাথনকে সঙ্গে নিয়ে এস। 28মরুভূমিতে যাবার জন্য যে জায়গায় সবাই নদী পার হয়, সেখানে আমি তোমার কাছ থেকে কোন খবর না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করব।”
29সেই মত, সাদোক এবং অবীয়াথর ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক জেরুশালেমে নিয়ে গিয়ে রেখে দিল।
দায়ূদ অহীথোফলের বিরুদ্ধে প্রার্থনা করলেন
30দায়ূদ জৈতুন পর্বতে উঠলেন। তিনি কাঁদছিলেন। তিনি মাথা ঢেকে খালি পায়ে গেলেন। অন্যান্য সকলে মাথা ঢেকে দায়ূদের সঙ্গে গেল। তারাও কাঁদতে কাঁদতে দায়ূদের সঙ্গে গেল।
31একজন লোক দায়ূদকে বলল, “যারা অবশালোমের সঙ্গে ফন্দি আঁটছে অহীথোফল তাদের মধ্যে একজন।” তখন দায়ূদ প্রার্থনা করলেন, “প্রভু আমরা তোমার কাছে প্রার্থনা করি তুমি অহীথোফলের চক্রান্ত ব্যর্থ কর।” 32দায়ূদ পর্বতের শিখরে এলেন। এখান থেকে তিনি মাঝে মাঝে ঈশ্বরের উপাসনা করতেন। সেই সময় অর্কীয় হূশয় তাঁর কাছে এল। তার মাথায় ধূলোবালি এবং পরণে ছিন্নবস্ত্র।
33দায়ূদ হূশয়কে বললেন, “যদি তুমি আমার সঙ্গে যাও তাহলে আমাকে দেখাশোনা করবার জন্য তুমি হবে আর একজন ব্যক্তি। 34কিন্তু যদি তুমি জেরুশালেমে ফিরে যাও তবে তুমি অহীথোফলের চক্রান্তকে ব্যর্থ করতে পারবে। অবশালোমকে গিয়ে বল, ‘হে রাজা আমি আপনার দাস। আমি আপনার পিতার সেবা করেছি। এখন আমি আপনার সেবা করব।’ 35সাদোক এবং অবিয়াথর যাজকগণ তোমার সঙ্গে থাকবেন। রাজার বাড়ীতে তুমি যা যা শুনেছ, তুমি অবশ্যই তাদের সবই বলে দেবে। 36সাদোকের পুত্র অহীমাস এবং অবিয়াথরের পুত্র যোনাথন তাদের সঙ্গে থাকবে। তুমি রাজার প্রাসাদে যা কিছু শুনবে, তা ওদের মাধ্যমে আমাকে জানাতে থাকবে।”
37তারপর দায়ূদের বন্ধু হূশয় সেই শহরে চলে গেল। অবশালোমও জেরুশালেমে এল।
16সীবঃ দায়ূদের সঙ্গে দেখা করল
1দায়ূদ জৈতুন পর্বতের চূড়ার দিকে যখন কিছুটা উঠেছেন, তখন মফীবোশতের ভৃত্য সীবঃর সঙ্গে দায়ূদের দেখা হল। সীবঃর গাধা দুটি তাদের পিঠে বস্তাভরা জিনিস বয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তাতে 200টা রুটি, 100 থোকা কিস্মিস্, 100টা গ্রীষ্মের মরশুমী ফলসহ এক কূপা দ্রাক্ষারস ছিল। 2রাজা দায়ূদ সীবঃকে জিজ্ঞাসা করলেন, “এই জিনিসগুলো কি কাজে লাগবে?”
সীবঃ উত্তর দিল, “গাধাগুলি রাজপরিবারের লোকদের চড়ার জন্য। রুটি এবং গ্রীষ্মের ফলগুলো রাজার আধিকারিকদের খাওয়ার জন্য। মরুভূমির পথে কেউ যদি দুর্বল হয়ে পড়ে সে এই দ্রাক্ষারস পান করতে পারে।”
3তখন রাজা জিজ্ঞাসা করলেন, “মফীবোশৎ কোথায়?”
সীবঃ উত্তর দিল, “মফীবোশৎ এখন জেরুশালেমে রয়েছে। সে ভাবছে, ‘ইস্রায়েলীয়রা আজ আমার দাদুর রাজত্ব আমায় ফিরিয়ে দেবে।’”
4তখন রাজা সীবঃকে বললেন, “সেই কারণে মফীবোশতের যা কিছু আছে তা আমি তোমাকে দিলাম।”
সীবঃ বলল, “আমি আপনাকে প্রণাম করি। আমার বিশ্বাস, আমি সর্বদাই আপনাকে সন্তুষ্ট রাখতে পারব।”
শিমিয়ি দায়ূদকে অভিশাপ দিল
5দায়ূদ বহুরীমে এলেন। শৌলের পরিবারের একজন লোক বহুরীম থেকে এল। লোকটার নাম শিমিয়ি—সে গেরার পুত্র। শিমিয়ি দায়ূদের উদ্দেশ্যে অহিতকর কথা বলতে বলতে বেরিয়ে এল। এবং বার বার সে খারাপ কথাই বলতে থাকল।
6শিমিয়ি দায়ূদ এবং তাঁর আধিকারিকদের দিকে পাথর ছুঁড়ছিল। কিন্তু সব লোক এবং সৈন্যরা দায়ূদকে ঘিরে দাঁড়াল এবং তাঁর চারদিকে জড়ো হল। 7শিমিয়ি দায়ূদকে এই বলে অভিশাপ দিল: “বেরিয়ে যাও, বেরিয়ে যাও, তুমি একজন জঘন্য খুনী! 8প্রভু তোমায় শাস্তি দিচ্ছেন। কেন? কারণ তুমি শৌলের পরিবারের লোকদের মেরে ফেলেছ। তুমি চুরি করে শৌলের জায়গায় রাজা হয়ে বসেছ। এখন সেরকমই খারাপ কিছু তোমার নিজের ক্ষেত্রে ঘটছে। প্রভু তোমার রাজত্ব তোমার পুত্র অবশালোমকে দিয়েছেন। কেন? কারণ তুমি একজন খুনী।”
9সরূয়ার পুত্র অবীশয় রাজাকে বলল, “এই মরা কুকুরটা কেন আপনাকে অভিশাপ করবে? হে রাজা, প্রভু আমার, আমাকে যেতে দিন, আমি গিয়ে শিমিয়ির মুণ্ডু কেটে উড়িয়ে দিই।”
10কিন্তু রাজা উত্তর দিলেন, “ওহে সরূয়ার পুত্র, এটা তোমার কোন ব্যাপার নয়। সে তো আমাকে অভিশাপ দিচ্ছে। প্রভু তাকে বলেছেন আমাকে অভিশাপ দিতে। প্রভু যা করেন সে বিষয়ে কে তাঁকে প্রশ্ন করতে পারে?”
11দায়ূদ অবীশয় এবং তাঁর ভৃত্যদের আরও বললেন, “দেখ, আমার নিজের পুত্র অবশালোম আমাকে হত্যা করতে চাইছে। বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর এই ব্যক্তির (শিমিয়ি) আমাকে হত্যা করার অনেক বেশী অধিকার আছে। ওকে একা ছেড়ে দাও। ওকে আমায় অভিশাপ দিয়ে যেতে দাও। প্রভু ওকে এই কাজ করতে বলেছেন। 12হয়তো আমার প্রতি যা কিছু ভুল করা হয়েছে প্রভু তা দেখবেন। তাহলে শিমিয়ি আজ আমার বিরুদ্ধে যা যা খারাপ কথা বলেছে, প্রভু হয়তো তার জন্য আমাকে ভাল কিছু দেবেন।”
13অতএব দায়ূদ এবং তাঁর লোকরা রাস্তা দিয়ে পুনরায় চলতে লাগল। কিন্তু শিমিয়ি দায়ূদকে অনুসরণ করতে থাকলো। রাস্তার অন্যদিক দিয়ে সে পাহাড়ের ধারে ধারে চলতে থাকলো। পথে যেতে যেতে শিমিয়ি দায়ূদের উদ্দেশ্যে খারাপ খারাপ কথা বলতে থাকলো। শিমিয়ি দায়ূদের উদ্দেশ্যে পাথর এবং কাদা ছুঁড়তে লাগল।
14রাজা দায়ূদ এবং তাঁর সব লোকরা যর্দন নদীর কাছে এসে পৌঁছলেন। রাজা এবং তাঁর লোকরা খুব ক্লান্ত ছিলেন। তাঁরা সেখানে বিশ্রাম নিয়ে নিজেদের খানিকটা চাঙ্গা করে নিলেন।
15অবশালোম, অহীথোফল এবং ইস্রায়েলের সব লোক জেরুশালেমে এল। 16দায়ূদের বন্ধু অর্কীয় হূশয় অবশালোমের কাছে এল। হূশয় অবশালোমকে বলল, “রাজা দীর্ঘজীবী হোক্! রাজা দীর্ঘজীবী হোক্!”
17অবশালোম উত্তর দিল, “তুমি তোমার বন্ধু দায়ূদের প্রতি একনিষ্ঠ নও কেন? তুমি তোমার বন্ধুর সঙ্গে জেরুশালেম থেকে চলে গেলে না কেন?”
18হূশয় বলল, “প্রভু যাকে বেছে নেন আমি তো তারই। লোকরা এবং ইস্রায়েলের সব লোকরা আপনাকে বেছে নিয়েছে। আমি আপনার সঙ্গে অবশ্যই থাকব। 19অতীতে আমি আপনার পিতার সেবা করেছি। অতএব এখন আমি দায়ূদের পুত্রের সেবা করব। আমি আপনারই সেবা করব।”
অবশালোম অহীথোফলের কাছ থেকে উপদেশ চাইল
20অবশালোম অহীথোফলকে জিজ্ঞাসা করল, “বল, এখন কি করা উচিৎ।”
21অহীথোফল অবশালোমকে বলল, “তোমার পিতা এখানে ঘর-বাড়ী দেখাশোনা করার জন্য তাঁর কয়েকজন উপপত্নীদের রেখে গেছেন। যাও এবং তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন কর। তখন সব ইস্রায়েলীয় জানবে তোমার পিতা তোমাকে ঘৃণা করে। তোমার সব লোকরা তোমাকে সমর্থন করতে উৎসাহিত হবে এবং তোমাকে তাদের পূর্ণ সমর্থন দেবে।”
22তখন তারা বাড়ীর ছাদে অবশালোমের জন্য একটা তাঁবু ফেলল। অবশালোম তার পিতার উপপত্নীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করল। সব ইস্রায়েলীয়ই তা দেখল। 23সেই সময় থেকে অহীথোফলের উপদেশ অবশালোম এবং দায়ূদ উভয়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তা ছিল মানুষের কাছে ঈশ্বরের বাক্যের মতই গুরুত্বপূর্ণ।
17দায়ূদ সম্পর্কে অহীথোফলের উপদেশ
1অহীথোফল অবশালোমকে বলল, “আমাকে 12,000 লোক বেছে নিতে দাও। আজ রাতেই আমি দায়ূদকে তাড়া করব। 2যখন সে ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে যাবে তখন আমি তাকে ধরব। আমি তাকে ভীত ও আতঙ্কিত করে তুলব। তার সব লোকরা দৌড়ে পালিয়ে যাবে। কিন্তু আমি শুধু রাজা দায়ূদকেই হত্যা করব। 3তারপর আমি সব লোককে তোমার কাছে ফিরিয়ে নিয়ে আসব। যদি দায়ূদ মারা যায়, তাহলে সব লোকরা শান্তিতে ফিরে আসবে।”
4অবশালোম এবং ইস্রায়েলের সব নেতার কাছেই এই প্রস্তাব ভাল বলে মনে হল। 5কিন্তু অবশালোম বলল, “এখন আমি অর্কীয় হূশয়কে ডাকি। সে কি বলে তাও আমি শুনতে চাই।”
হূশয় অহীথোফলের প্রস্তাব পণ্ড করে দিল
6হূশয় অবশালোমের কাছে এল। অবশালোম হূশয়কে বলল, “অহীথোফল এই পরামর্শ দিয়েছে। আমরা কি এটাই অনুসরণ করব? তা যদি না হয় তাহলে বল কি করা উচিৎ?”
7হূশয় অবশালোমকে বলল, “অহীথোফলের উপদেশ এই সময়ে উপযোগী নয়।” 8হূশয় আরও বলল, “তুমি জানো যে তোমার পিতা এবং তার লোকরা খুবই শক্তিশালী। বাচ্চা কেড়ে নিলে বুনো ভাল্লুক যেমন হিংস্র হয়ে ওঠে ওরাও তেমনিই ভয়ঙ্কর। তোমার পিতা একজন দক্ষ যোদ্ধা। তিনি কখনও সারারাত ওই লোকদের সঙ্গে থাকবেন না। 9সম্ভবতঃ তিনি কোন গুহা বা অন্য কোথাও ইতিমধ্যে লুকিয়ে পড়েছেন। যদি তোমার পিতা তোমার লোকদের আগে আক্রমণ করে, লোক এই সংবাদ জানতে পারবে। এবং তারা ভাববে, ‘অবশালোমের লোকরা হেরে যাচ্ছে!’ 10তখন সিংহের মত সাহসী যোদ্ধারাও ভীত ও আতঙ্কিত হবে। কেন? কারণ গোটা ইস্রায়েল এই কথা জানে যে তোমার পিতা শক্তিশালী যোদ্ধা এবং তাঁর লোকরা অত্যন্ত সাহসী।
11“আমার প্রস্তাব হল এই: তুমি অবশ্যই দান থেকে বের্-শেবা পর্যন্ত সব ইস্রায়েলীয়দের একসঙ্গে জড়ো করবে। সমুদ্রে যেমন অগুনতি বালি থাকে সেরকমই সেখানে অনেক লোক হবে। তারপর, তুমি নিজে অবশ্যই যুদ্ধে যাবে। 12দায়ূদ যেখানে লুকিয়ে আছে সেখানেই আমরা তাকে ধরব। অগণিত সৈন্যসহ আমরা দায়ূদকে আক্রমণ করব। ভূমিকে ঢেকে দেওয়া অসংখ্য শিশির কণার মত আমরা ওদের ঢেকে দেব। আমরা দায়ূদ এবং তাঁর লোকদের হত্যা করব। কাউকে জীবিত ছাড়া হবে না। 13যদি দায়ূদ নগরের ভিতরে পালিয়ে যান সকল ইস্রায়েলীয় মিলে দড়ি দিয়ে আমরা নগরের প্রাচীর ভেঙ্গে দেব। তাদের সবাইকে আমরা উপত্যকায় টেনে নামাব। নগরের একটা ছোট্ট পাথর পর্যন্ত আমরা রাখতে দেব না।”
14অবশালোম এবং সকল ইস্রায়েলীয় বলল, “অর্কীয় হূশয়ের উপদেশ অহীথোফলের উপদেশের চেয়ে ভাল।” তারা একথা বলল কারণ তা ছিল প্রভুর পরিকল্পনা। অবশালোমকে শাস্তি দেবার জন্য প্রভু অহীথোফলের সৎ উপদেশকে বিফল করার ফন্দি এঁটেছিলেন।
হূশয় দায়ূদকে একটি সাবধানবাণী পাঠাল
15ঐ সব কথা হূশয় সাদোক এবং অবীয়াথর এই দুই যাজকদের বলল। অহীথোফল অবশালোম এবং ইস্রায়েলের নেতাদের যে পরামর্শ দিয়েছে হূশয় তাও বলল। হূশয় নিজে যা যা পরামর্শ দিয়েছিল তাও তাদের বলল। হূশয় বলেছিল, 16“খুব শীঘ্র দায়ূদকে এই খবর দাও। তাঁকে বল, যেখান দিয়ে নদী পার হয়ে লোকে মরুভূমিতে ঢোকে তিনি যেন সেখানে আজ রাতে না থাকেন। তাঁকে এখুনি যর্দন নদী পার হয়ে যেতে বল। যদি তিনি নদী পার হয়ে চলে যান তবে রাজা এবং তাঁর লোকরা ধরা পড়বে না।”
17যাজকের দুই পুত্র যোনাথন এবং অহীমাস ঐন্-রোগেলে অপেক্ষা করছিল। তারা চাইত না কেউ তাদের শহরে প্রবেশ করতে দেখুক। শুধুমাত্র এক দাসী এসে তাদের সব খবরাখবর দিয়ে যেত। তারপর যোনাথন এবং অহীমাস রাজা দায়ূদের কাছে গিয়ে সব কথা বলত।
18কিন্তু এক বালক যোনাথন এবং অহীমাসকে দেখে ফেলল। এই ঘটনা অবশালোমকে বলার জন্য বালকটি ছুটে চলে গেল। যোনাথন এবং অহীমাসও তাড়াতাড়ি দৌড়ে পালাল এবং বহুরীমে এক লোকের বাড়ীতে এসে উপস্থিত হল। লোকটার বাড়ীর বাইরের প্রাঙ্গণে একটা কুয়ো ছিল। যোনাথন এবং অহীমাস সেই কুয়োতে নেমে গেল। 19সেই লোকটির স্ত্রী কুয়োর ওপর একটা আচ্ছাদন রেখে দিল। তারপর সে সেই কুয়োর ওপর গমের বীজ বিছিয়ে দিল, তাই সেটি শস্যের স্তুপের মতই দেখতে লাগছিল। তাই লোকরা জানতে পারল না যে যোনাথন এবং অহীমাস তার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে। 20অবশালোমের ভৃত্যরা সেই বাড়ীতে এসে সেই মহিলাকে জিজ্ঞাসা করল, “অহীমাস এবং যোনাথন কোথায়?”
মহিলা অবশালোমের ভৃত্যদের বলল, “ইতিমধ্যেই তারা নদী পার হয়ে গেছে।”
তখন অবশালোমের ভৃত্যরা যোনাথন ও অহীমাসের সন্ধানে চলে গেল। কিন্তু তারা তাকে খুঁজে পেল না। অতঃপর অবশালোমের ভৃত্যরা জেরুশালেমে ফিরে এল।
21অবশালোমের ভৃত্যরা চলে যাওয়ার পর, যোনাথন ও অহীমাস কুয়ো থেকে বাইরে বেরিয়ে এল। তারা রাজা দায়ূদের কাছে গেল এবং দায়ূদকে বলল, “খুব তাড়াতাড়ি নদী পার হয়ে চলে যান। অহীথোফল আপনার বিরুদ্ধে এইসব ষড়যন্ত্র করেছে।”
22তখন দায়ূদ এবং তাঁর লোকরা যর্দন নদী পার হয়ে গেল। সূর্যোদয়ের আগেই দায়ূদের সব লোকরা যর্দন নদী পার হয়ে গেল।
অহীথোফল আত্মহত্যা করল
23অহীথোফল দেখল যে তার উপদেশ ইস্রায়েলীয়রা গ্রহণ করে নি। সে তার গাধার পিঠে জিন চড়িয়ে তার নিজের নগরে ফিরে এল। তার পরিবারের যথাবিহিত ব্যবস্থা করে সে গলায় দড়ি দিল। অহীথোফল মারা গেলে লোকরা তাকে তার পিতার কবরেই কবর দিল।
অবশালোম যর্দন নদী পার হল
24দায়ূদ মহনয়িমে এলেন।
অবশালোম এবং তার সঙ্গে যে সব ইস্রায়েলীয়রা ছিল তারা যর্দন নদী পার হয়ে গেল। 25অবশালোম অমাসাকে তার সৈন্যদলের অধিনায়করূপে নিযুক্ত করল। অমাসা যোয়াবের জায়গা নিল। অমাসা ছিল যিথ্র, একজন ইশ্মায়েলীয়+ 17:25 ইশ্মায়েলীয় হিব্রুতে আছে “ইস্রায়েলীয়।” কিন্তু 1ম বংশাবলি 2:17 এবং প্রাচীন গ্রীক অনুবাদে আছে “ইশ্মায়েলীয়।” ছেলে। অমাসার মায়ের নাম অবীগল। সে সরূয়ার বোন নাহশের মেয়ে। সরূয়া ছিল যোয়াবের মা।
26অবশালোম এবং ইস্রায়েলীয়রা গিলিয়দে তাঁবু ফেলে অবস্থান করল।
শোবি, মাখীর এবং বর্সিল্লয়
27দায়ূদ মহনয়িমে এলেন। শোবি, মাখীর এবং বর্সিল্লয় সেইখানেই ছিল। শোবি অম্মোনদের রব্বা শহরের নাহশের পুত্র। মাখীর হল লোদবার নিবাসী অম্মীয়েলের পুত্র। আর বর্সিল্লয় গিলিয়দের, রোগলীমের থেকে এসেছিল। 28 সেই তিনজন লোক বলল, “মরুভূমিতে যে লোকরা রয়েছে তারা ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত এবং তৃষ্ণার্ত।” তাই তারা দায়ূদের জন্য এবং তাঁর সঙ্গে যে লোকরা ছিল তাদের জন্য অনেক কিছু জিনিস এনেছিল। তারা বিছানা এবং অন্যান্য পাত্রাদি এনেছিল। এছাড়াও তারা গম, যব, ময়দা, ভাজা শস্য, বীন, শাক, শুকনো বীজ, মধু, মাখন, মেষ এবং পনীর এনেছিল।
18দায়ূদ যুদ্ধের প্রস্তুতি করলেন
1দায়ূদ তাঁর লোকদের একবার গুনে নিলেন। তিনি 1000 জন এবং 100 জন করে লোক ভাগ করে প্রতিটি দলের জন্য একজন অধিনায়ক নিযুক্ত করলেন। 2দায়ূদ তাঁর লোকদের তিনটে দলে ভাগ করে দিলেন এবং তারপর তাদের পাঠিয়ে দিলেন। যোয়াব এক তৃতীয়াংশ লোকের নেতৃত্বে ছিল। যোয়াবের ভাই সরূয়ার পুত্র অবীশয় অপর একভাগ লোককে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এবং গাতের ইত্তয় বাকী অংশের নেতৃত্বে ছিল।
রাজা দায়ূদ তাঁদের বললেন, “আমিও তোমাদের সঙ্গে যাব।”
3কিন্তু লোকরা বলে উঠল, “না! আপনি আমাদের সঙ্গে একদম আসবেন না। কেন? কারণ আমরা যদি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাই, তাহলে অবশালোমের লোকরা ধর্তব্যের মধ্যেই আনবে না। এমনকি, আমাদের অর্ধেক লোক যদি মারাও যায় তাতেও অবশালোমের লোকদের কিছু এসে যাবে না, কিন্তু আপনি আমাদের 10,000 লোকর সমান। তাই আপনার পক্ষে শহরে থাকাই ভাল। তখন আমরা সাহায্য চাইলে আপনি আমাদের সাহায্য করতে পারবেন।”
4রাজা তাদের বললেন, “তোমরা যা ভাল বোঝ আমি তাই করব।”
তখন রাজা ফটকের একদিকে দাঁড়ালেন। সৈন্যবাহিনী বেরিয়ে গেল। শ’য়ে শ’য়ে এবং হাজারে হাজারে সেনাবাহিনী বেরিয়ে এল।
5যোয়াব, অবীশয় এবং ইত্তয়কে রাজা আদেশ দিলেন। তিনি বললেন, “আমার মুখ চেয়ে তোমরা এই কাজ কর। তরুণ অবশালোমের সঙ্গে সংযত ও ভাল আচরণ কর।” সব লোক দাঁড়িয়ে শুনল যে অধিনায়কের প্রতি অবশালোম সম্পর্কে রাজা আদেশ দিলেন।
দায়ূদের সৈন্য অবশালোমের সৈন্যদের হারিয়ে দিল
6অবশালোমের পক্ষের ইস্রায়েলীয়দের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য দায়ূদের সৈন্যরা যুদ্ধক্ষেত্রে রওনা হল। তারা ইফ্রয়িমের অরণ্যে যুদ্ধ করল। 7দায়ূদের লোকরা ইস্রায়েলীয়দের পরাজিত করল। সেদিন 20,000 সৈন্যকে হত্যা করা হয়েছিল। 8সারা দেশে সেই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু সে দিন যুদ্ধক্ষেত্রের চেয়ে অরণ্যেই বেশী লোক মারা গিয়েছিল।
9এমন হল যে অবশালোম দায়ূদের আধিকারিকদের মুখোমুখি হল। অবশালোম তার খচ্চরের ওপর লাফিয়ে পড়ে পালাতে চেষ্টা করল। খচ্চরটা একটা বড় ওক গাছের ডালের তলা দিয়ে যেতে চেষ্টা করল। অবশালোমের মাথাটা গাছের ডালে আটকে গেল। খচ্চরটা তলা দিয়ে পালিয়ে গেল। আবশালোম গাছের ডালে ঝুলে রইল।+ 18:9 আবশালোম … রইল আক্ষরিক অর্থে, “স্বর্গ ও মর্ত্যের মাঝখানে।”
10একজন ব্যক্তি এই ঘটনা ঘটতে দেখল। সে যোয়াবকে বলল, “আমি অবশালোমকে একটা ওক গাছে ঝুলতে দেখেছি।”
11যোয়াব তাকে জিজ্ঞাসা করল: “কেন তুমি তাকে হত্যা করলে না এবং তাকে মাটিতে ফেলে দিলে না? তাহলে আমি তোমাকে একটা কোমরবন্ধ ও দশটা রৌপ্য মুদ্রা দিতাম।”
12ব্যক্তিটি যোয়াবকে বলল, “তুমি আমাকে 1000 রজত মুদ্রা দিলেও আমি রাজার পুত্রকে আঘাত করার চেষ্টা করতাম না। কেন? কারণ তোমার প্রতি অবীশয় এবং ইত্তয়ের প্রতি রাজার আদেশ শুনেছি। রাজা বলেছেন, ‘দেখো, তরুণ অবশালোমকে আঘাত করো না।’ 13যদি আমি অবশালোমকে হত্যা করতাম রাজা নিজেই আমাকে খুঁজে বের করতেন এবং তুমি আমাকে শাস্তি দিতে।”
14যোয়াব বলল, “তোমার সঙ্গে এখানে আমি সময় নষ্ট করব না।”
অবশালোম তখনও দেবদারু গাছে ঝুলে ছিল এবং তখনও বেঁচেছিল। যোয়াব তিনটে বর্শা নিয়ে অবশালোমের দিকে ছুঁড়ে দিল। বর্শাগুলি অবশালোমের বুক বিদীর্ণ করে দিল। 15দশজন তরুণ সৈন্য যোয়াবকে যুদ্ধে সাহায্য করত। তারা দশজনে মিলে অবশালোমকে ঘিরে দাঁড়াল ও তাকে হত্যা করল।
16যোয়াব তূর্য বাজাল এবং তার লোকদের ইস্রায়েলীয়দের তাড়া না করতে আদেশ দিল। 17তারপর যোয়াবের লোকরা অবশালোমের দেহটি জঙ্গলের খাদে ফেলে দিল। সেই খাদটি তারা বড় বড় পাথর দিয়ে বুজিয়ে দিল।
সব ইস্রায়েলীয় যারা অবশালোমকে অনুসরণ করছিল তারা পালিয়ে গিয়ে যে যার বাড়ী চলে গেল।
18অবশালোমের জীবনকালে রাজার উপত্যকায় সে একটা স্তম্ভ তৈরী করেছিল এবং সেটা নিজের নামে নাম দিয়েছিল কারণ সে ভেবেছিল: “আমার নাম রক্ষা করার জন্য আমার কোন সন্তানাদি নেই।” আজও স্তম্ভটিকে “অবশালোমের স্তম্ভ” বলা হয়।
যোয়াব দায়ূদকে এই সংবাদ পাঠিয়ে দিল
19সাদোকের পুত্র অহীমাস যোয়াবকে বলল, “আমাকে দৌড়ে গিয়ে রাজা দায়ূদকে এই খবর জানাতে দাও। আমি তাঁকে বলব আপনার জন্য প্রভু আপনার শত্রুকে হত্যা করেছেন।”
20যোয়াব অহীমাসকে উত্তর দিল, “না, আজ এই খবর তুমি রাজা দায়ূদকে দেবে না। অন্যদিনে তুমি এই খবর দিতে পার কিন্তু আজ নয়। কেন? কারণ রাজার ছেলে মারা গেছে।”
21তখন যোয়াব কূশীয়কে বলল, “যাও এবং তুমি যা যা দেখেছ তা রাজাকে বল।”
তখন সেই কূশীয় যোয়াবকে প্রণাম করে রাজা দায়ূদের উদ্দেশ্যে রওনা হল।
22কিন্তু সাদোকের পুত্র অহীমাস আবার যোয়াবের কাছে অনুরোধ করল, “যা ঘটে গেছে তা নিয়ে চিন্তিত হয়ো না, আমাকেও ঐ কূশীয়র পিছনে ছুটে যেতে দাও!”
যোয়াব জিজ্ঞাসা করল, “পুত্র, কেন তুমি এই সংবাদ নিয়ে যেতে চাইছ? এই সংবাদের জন্য তুমি কোন পুরস্কার পাবে না।”
23অহীমাস উত্তর দিল, “যাই ঘটুক না কেন তা নিয়ে চিন্তা করি না। আমি দায়ূদের কাছে দৌড়ে যাব।”
যোয়াব অহীমাসকে বলল, “ভাল, দায়ূদের কাছে দৌড়ে যাও।”
তখন অহীমাস যর্দন উপত্যকার মধ্যে দিয়ে দৌড়লো এবং কূশীয় বার্তাবাহককে অতিক্রম করে গেল।
দায়ূদ এই সংবাদ শুনলেন
24শহরের দুই সিংহদ্বারের মাঝামাঝি দায়ূদ বসেছিলেন। একজন প্রহরী সিংহদ্বার সংলগ্ন প্রাচীরের ওপর উঠে দেখল একজন লোক একা দৌড়োচ্ছে। 25প্রহরী চিৎকার করে দায়ূদকে সে কথা বলল।
রাজা দায়ূদ বললেন, “যদি লোকটা একা হয় তা হলে সে সংবাদ নিয়ে আসছে।”
লোকটা ক্রমে নগরের কাছে এসে গেল। 26তখন প্রহরী দেখল আরও একজন দৌড়ে আসছে। প্রহরী দ্বাররক্ষীকে ডেকে বলল, “দেখ আরও একজন লোক একা ছুটে আসছে।”
রাজা বললেন, “ওই লোকটিও সংবাদ নিয়ে আসছে।”
27প্রহরী বলল, “আমার মনে হয় প্রথম লোকটি সাদোকের পুত্র অহীমাসের মত দৌড়োয়।”
রাজা বলল, “সে একজন ভাল লোক। সে নিশ্চয়ই শুভ সংবাদ নিয়ে আসছে।”
28অহীমাস রাজাকে বলল, “সবই কুশল!” অহীমাস রাজাকে প্রণাম করল এবং তাঁকে বলল, “আপনার প্রভু, ঈশ্বরের প্রশংসা করুন! হে আমার মনিব, যারা আপনার বিরোধী ছিল প্রভু তাদের পরাজিত করেছেন।”
29রাজা জিজ্ঞাসা করলেন, “অবশালোম কেমন আছে?”
অহীমাস উত্তর দিল, “যোয়াব যখন আমাকে পাঠিয়েছিল, আমি একদল লোককে দেখেছিলাম এবং তারা বিভ্রান্ত ছিল। কিন্তু কি ব্যাপারে তারা উত্তেজিত তা আমি জানি না।”
30তখন রাজা বললেন, “তুমি একটু সরে দাঁড়াও এবং অপেক্ষা কর।” অহীমাস সরে গেল এবং দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করল।
31সেই কূশীয় এল। সে বলল, “হে আমার প্রভু এবং রাজা, আপনার জন্য সংবাদ আছে। যারা আপনার বিরুদ্ধে ছিল প্রভু তাদের আজ শাস্তি দিয়েছেন।”
32রাজা সেই কূশীয়কে জিজ্ঞাসা করলেন, “অবশালোম ভালো আছে তো?”
কূশীয়টি উত্তর দিল, “আপনার শত্রুরা এবং সেইসব লোকরা যারা আপনাকে আঘাত করবার চেষ্টা করছে তাদের যেন শাস্তি হয় এবং তাদের ভাগ্য যেন অবশালোমের মত হয় আমি এই কামনা করি।”
33তখন রাজা জানতে পারলেন অবশালোম মারা গেছে। রাজা ভীষণভাবে ভেঙ্গে পড়লেন। শহরে সিংহদ্বারের ওপর ঘরে গিয়ে কাঁদলেন। সেই সবচেয়ে ওপর তলায় যেতে যেতে তিনি বিলাপ করে কাঁদতে লাগলেন, “হায় অবশালোম! হায় আমার পুত্র অবশালোম! তোমার বদলে যদি আমি মরতাম! হায়রে অবশালোম! হায় আমার পুত্র!”
19যোয়াব দায়ূদকে ভর্ত্সনা করল
1লোকরা যোয়াবকে এসে সংবাদ দিয়ে বলল, “রাজা দায়ূদ অবশালোমের জন্য দুঃখে ভেঙ্গে পড়েছেন এবং কাঁদছেন।” 2সেদিন দায়ূদের সৈন্যরা যুদ্ধে জয়ী হয়েছিল। কিন্তু সেই জয় তাদের সকলের কাছে একটা বিষাদের দিন হয়ে উঠেছিল। তা বিষন্নতার দিন ছিল কারণ লোকরা জানতে পারল, “রাজা তাঁর পুত্রের জন্য শোকমগ্ন।”
3লোকরা বিমর্ষ হয়ে সেই শহরে এল। তারা যুদ্ধে যারা পরাজিত হয়েছে এবং লজ্জায় যারা ছুটে পালিয়ে গেছে সেই লোকদের মত ব্যবহার করল। 4রাজা তাঁর মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। তিনি উচ্চস্বরে কাঁদছিলেন, “অবশালোম, অবশালোম, হায় পুত্র, পুত্র আমার!”
5যোয়াব রাজার প্রাসাদে গেল। সে রাজাকে বলল, “আপনি আপনার প্রত্যেকটি আধিকারিকদের অবমাননা করছেন। দেখুন ঐ আধিকারিকরা আজ আপনার প্রাণ বাঁচিয়েছে। তারা আপনার ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী এবং দাসীদেরও প্রাণ বাঁচিয়েছে। 6যারা আপনাকে ঘৃণা করে তাদের আপনি ভালোবাসেন এবং যারা আপনাকে ভালোবাসে তাদের আপনি ঘৃণা করেন। আপনি আজ পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিলেন যে আপনার আধিকারিক এবং অন্যান্য লোকরা আপনার কাছে একান্তই অর্থহীন। আমি বুঝতে পারছি আমরা সকলে মারা গিয়ে অবশালোম বেঁচে থাকলে আপনি প্রকৃতই সুখী হতেন। 7এখন উঠুন, আপনার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলুন। ওদের উৎসাহিত করুন। আমি প্রভুর নামে শপথ করে বলছি, যদি আপনি এখনই বাইরে গিয়ে এই কাজ না করেন, আজ রাতে আপনার সঙ্গে একজন লোককেও পাবেন না। এবং তা যদি হয় তাহলে শৈশবকাল থেকে আপনি যে সব সমস্যায় পড়েছেন, এটা হবে তাদের তুলনায় কঠিনতম সমস্যা।”
8তখন রাজা গিয়ে নগরীর প্রবেশ পথে বসলেন। রাজা যে নগরদ্বারের বাইরে এসেছেন এই খবর ছড়িয়ে পড়ল। তাই লোকরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এল। ইস্রায়েলীয়রা যারা অবশালোমকে অনুসরণ করছিল তারা সকলে দৌড়ে পালিয়ে যে যার বাড়ী চলে গেল।
দায়ূদ পুনরায় রাজা হলেন
9প্রত্যেক পরিবারগোষ্ঠীর প্রত্যেকটি লোক নিজেদের মধ্যে কলহ শুরু করে দিল। তারা বলল, “রাজা দায়ূদ আমাদের পলেষ্টীয় এবং অন্যান্য শত্রুদের থেকে বাঁচিয়েছেন। দায়ূদ অবশালোমের হাত থেকে পালিয়ে গেছেন। 10তাই আমরা অবশালোমকে আমাদের শাসকরূপে বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু এখন অবশালোম মারা গেছে। সে যুদ্ধে হত হয়েছে। তাই দায়ূদকে আমরা আবার রাজা হিসেবে গ্রহণ করব।”
11রাজা দায়ূদ সাদোক এবং অবিয়াথর এই দুই যাজককে বার্তা পাঠালেন। দায়ূদ বললেন, “যিহূদার নেতাদের সঙ্গে কথা বল। তাদের বল, ‘রাজা দায়ূদকে তাঁর প্রাসাদে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে তোমরা সব চেয়ে শেষ পরিবারগোষ্ঠী কেন? দেখ, সারা ইস্রায়েলের লোক রাজা দায়ূদকে তাঁর স্বস্থানে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বলাবলি করছে। 12তোমরা আমার ভাই, তোমরাই আমার পরিবার। তবে রাজাকে স্বস্থানে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কেন তোমরা পিছিয়ে থাকা পরিবার হবে?’ 13অমাসাকে গিয়ে বল, ‘তুমি আমার পরিবারের একজন। যদি আমি তোমাকে যোয়াবের জায়গায় আমার সৈনিকদের সেনাপতি না করি, তবে ঈশ্বর যেন আমায় শাস্তি দেন।’”
14দায়ূদ যিহূদার সব লোকের হৃদয় স্পর্শ করলেন এবং তারা সকলে একাত্ম হয়ে সম্মতি জানাল। যিহূদার লোকরা রাজার কাছে বার্তা পাঠাল। তারা বলল, “আপনি এবং আপনার সব আধিকারিকরা ফিরে আসুন।”
15রাজা দায়ূদ যর্দন নদীর কাছে এলেন। যিহূদার লোকরা রাজার সঙ্গে দেখা করার জন্য এবং তাঁকে যর্দন নদী পার করে নিয়ে যাবার জন্য গিল্গলে এসে উপস্থিত হল।
শিমিয়ি দায়ূদের কাছে ক্ষমা চাইল
16গেরার পুত্র শিমিয়ি বিন্যামীনের পরিবারের একজন। সে বহুরীমে বাস করত। দায়ূদের সঙ্গে দেখা করার জন্য সে তাড়াতাড়ি এল। সে যিহূদার লোকদের সঙ্গে এল। 17শিমিয়ির সঙ্গে বিন্যামীনের পরিবারগোষ্ঠী থেকে আরও 1000 জন লোক এসেছিল, শৌলের পরিবারের দাস সীবঃও এসেছিলো। সীবঃ তার 15 জন পুত্র এবং 20 জন ভৃত্যকে সঙ্গে এনেছিল। এইসব লোক রাজা দায়ূদের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাড়াতাড়ি যর্দন নদীর তীরে এসে উপস্থিত হল।
18রাজার পরিবারকে যিহূদায় ফিরিয়ে আনার জন্য লোকরা সাহায্য করতে নদীর ওপারে চলে গেল। রাজা যা যা বললেন লোকরা তাই করল। যখন রাজা নদী পার হচ্ছেন তখন গেরার পুত্র শিমিয়ি তার সঙ্গে দেখা করতে এল। শিমিয়ি এসে রাজাকে প্রণাম করল। 19শিমিয়ি রাজাকে বলল, “হে আমার প্রভু, আমি যা ভুল করেছি তা নিয়ে ভাববেন না। হে রাজা, যখন আপনি জেরুশালেম ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তখন আপনার সঙ্গে যে যে খারাপ আচরণ করেছি তা আর মনে রাখবেন না। 20আপনি জানেন আমি পাপ করেছি। সেই জন্যই যোষেফের পরিবার থেকে আমিই প্রথম আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।”
21কিন্তু সরূয়ার পুত্র অবীশয় বলল, “আমরা শিমিয়িকে অবশ্যই হত্যা করব কারণ প্রভুর দ্বারা অভিষিক্ত রাজাকে সে অভিশাপ দিয়েছিল।”
22দায়ূদ বললেন, “সরূয়ার পুত্র, তোমার কি ব্যাপার বল তো, যে তুমি আমার বিরুদ্ধাচরণ করছ? ইস্রায়েলে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না। আজ আমি জানি যে আমি সমগ্র ইস্রায়েলের রাজা।”
23তখন রাজা শিমিয়িকে বললেন, “তোমাকে হত্যা করা হবে না।” রাজা শিমিয়ির কাছে প্রতিজ্ঞা করলেন যে তিনি নিজে শিমিয়িকে হত্যা করবেন না।+ 19:23 রাজা … না দায়ূদ শিমিয়িকে হত্যা করে নি। কিন্তু কয়েক বছর পরে দায়ূদের পুত্র শলোমন শিমিয়িকে হত্যা করার আদেশ দিয়েছিল।
মফীবোশৎ দায়ূদের সঙ্গে দেখা করতে গেল
24শৌলের বড় নাতি মফীবোশৎ রাজা দায়ূদের সঙ্গে দেখা করতে এল। রাজা জেরুশালেম ত্যাগ করা থেকে নিশ্চিন্তে ফিরে আসা পর্যন্ত মফীবোশৎ তার পায়ের যত্ন নেয় নি, দাড়ি কামায নি, এমনকি কাপড়ও ধোয নি। 25মফীবোশৎ যখন জেরুশালেমে রাজার সঙ্গে দেখা করল তখন রাজা বললেন, “যখন আমি জেরুশালেম থেকে চলে গেলাম তখন তুমি আমার সঙ্গে গেলে না কেন?”
26মফীবোশৎ উত্তর দিল, “হে আমার মনিব, আমার দাস আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমি পঙ্গু তাই আমি আমার দাস সীবঃকে বলেছিলাম, ‘আমার গাধার পিঠে একটা জিন পরিয়ে দাও। আমি তাতে চড়ে রাজার সঙ্গে যাব।’ 27কিন্তু আমার দাস আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সে একাই আপনার কাছে এসেছে এবং আমার সম্পর্কে আপনার কাছে নিন্দাবাদ করেছে। হে আমার প্রভু, আপনি ঈশ্বরের দূতের মত। যা ভালো মনে হয় আপনি তাই করুন। 28আপনি আমার দাদুর পরিবারের সব লোককেই মেরে ফেলতে পারতেন। কিন্তু আপনি তা করেন নি। বরং আপনি আমাকে তাদের সঙ্গে স্থান দিয়েছেন যারা আপনার সঙ্গে একাসনে বসে আহার করে। অতএব কোন বিষয়েই রাজার কাছে কোন অভিযোগ করার অধিকার আমার নেই।”
29রাজা মফীবোশতকে বললেন, “তোমার সমস্যা সম্পর্কে আর বেশী কিছু বলো না। আমি স্থির করেছি; তুমি এবং সীবঃ জমি ভাগ করে নেবে।”
30মফীবোশৎ রাজাকে বললেন, “হে আমার রাজা, হে প্রভু, আপনি যে নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরে এসেছেন এই আমার কাছে যথেষ্ট। জমি সীবঃকেই নিতে দিন।”
দায়ূদ বর্সিল্লয়কে তাঁর সঙ্গে যেতে বললেন
31বর্সিল্লয় গিলিয়দীয় রোগলীম থেকে ফিরে এল। সে দায়ূদের সঙ্গে যর্দন নদীর ধার পর্যন্ত এল। সে নদীর অপর পার পর্যন্ত রাজাকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে। 32বর্সিল্লয় অত্যন্ত বৃদ্ধ ছিল। তার বয়স 80 বছর। দায়ূদ যখন মহনয়িমে ছিলেন তখন সে তাকে খাবার এবং অন্যান্য দ্রব্যাদি দিয়েছিল। বর্সিল্লয় এইসব করতে পেরেছিল কারণ সে বেশ ধনী ব্যক্তি ছিল। 33দায়ূদ বর্সিল্লয়কে বললেন, “আমার সঙ্গে নদীর অন্য পাড়ে এস। যদি তুমি আমার সঙ্গে জেরুশালেমে থাক আমি তোমার বিষয়ে যত্ন নেব।”
34কিন্তু বর্সিল্লয় রাজাকে বলল, “আপনি কি জানেন আমার বয়স কত? 35আমার বয়স 80 বছর। আমি যথেষ্ট বৃদ্ধ, তাই ভাল মন্দ কোনটাই বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এমনকি আমার পান-আহারের স্বাদ কি তা বলাও আমার পক্ষে অসম্ভব। নারী বা পুরুষের গানের সুরও আমি আর শুনতে পাই না। কেন আপনি আমাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে সমস্যায় পড়তে চাইছেন? 36আপনি আমাকে যা যা দিতে চান তার কিছুরই আমার প্রয়োজন নেই। আমি আপনার সঙ্গে যর্দন নদী পার হয়ে যাব। 37দয়া করে আমাকে বাড়ী ফিরে যেতে দিন। তাহলে আমি আমার নিজের শহরে মরতে পারব এবং আমার মাতা-পিতার কবরেই সমাধিপ্রাপ্ত হতে পারব। হে আমার মনিব এবং রাজা, কিম্হম আপনার ভৃত্য হতে পারে। তাকে আপনার সঙ্গে যেতে দিন। তার সঙ্গে আপনি যেমন খুশি ব্যবহার করবেন।”
38রাজা উত্তর দিলেন, “কিম্হম আমার সঙ্গে ফিরে যাবে। তোমার জন্য আমি ওর প্রতি সদয় হব। তুমি যা বলবে তোমার জন্য আমি তাই করব।”
দায়ূদ ঘরে ফিরে গেলেন
39রাজা বর্সিল্লয়কে চুমু খেলেন এবং আশীর্বাদ করলেন। বর্সিল্লয় ঘরে ফিরে গেল। রাজা এবং তাঁর সব লোক নদী পার হয়ে গেল।
40রাজা নদী পার হয়ে গিল্গলে গেলেন। কিম্হম তাঁর সঙ্গে গেল। যিহূদার সব লোক এবং ইস্রায়েলের অর্ধেক লোক দায়ূদকে নদী পার করে নিয়ে গেল।
ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে যিহূদার লোকরা তর্ক করল
41সব ইস্রায়েলীয় রাজার কাছে এল। তারা রাজাকে বলল, “আমাদের যিহূদাবাসী ভাইরা কেন আপনাকে চুরি করে আনল এবং আপনার লোকজন সহ আপনার পরিবারের সকলকে যর্দন নদী পার করিয়ে নিয়ে এল?”
42যিহূদার সব লোক ইস্রায়েলীয়দের উত্তর দিল, “কারণ রাজা আমাদের নিকট আত্মীয়। রাজার ব্যাপারে কেন তোমরা আমাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হচ্ছ? আমরা রাজার পয়সায় কিছু খাই নি। রাজা আমাদের কোন উপহারও দেন নি।”
43ইস্রায়েলীয়রা উত্তর দিলো, “রাজার ওপর আমাদের এক দশমাংশের অধিকার আছে। তাই রাজার প্রতি তোমাদের থেকে আমাদের দাবী বেশী। কিন্তু তোমরা আমাদের দাবী উপেক্ষা করছ। কেন? আমরাই তারা যারা প্রথম আমাদের রাজাকে ফিরিয়ে আনবার কথা জিজ্ঞাসা করেছিলাম।”
কিন্তু যিহূদার লোকরা ইস্রায়েলীয়দের খুব কর্কশভাবে উত্তর দিল। তারা, ইস্রায়েলীয়রা যা বলেছিল তার চেয়েও বেশী কর্কশ ছিল।
20শেবঃ ইস্রায়েলকে দায়ূদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করল
1সেই খানে বিখ্রিয়ের পুত্র শেবঃ নামে একটি লোক ছিল। শেবঃ বিন্যামীনের পরিবারগোষ্ঠীর এক অকাল কুষ্মাণ্ড। শুধু অন্যদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করত। শেবঃ সকলকে একসঙ্গে জড়ো করার জন্য শিঙা বাজাল এবং বলল,
“দায়ূদের ওপর আমাদের কোন অধিকার নেই।
যিশয়ের পুত্রের ওপরেও আমাদের কোন অধিকার নেই।
হে ইস্রায়েলবাসী, চল আমরা নিজেদের তাঁবুতে ফিরে যাই।”
2 তখন ইস্রায়েলীয়রা+ 20:2 ইস্রায়েলীয়রা এখানে ইহার অর্থ যিহূদার সঙ্গে যুক্ত নয় এমন পরিবারগোষ্ঠী। দায়ূদকে ছেড়ে শেবঃকে অনুসরণ করল। কিন্তু যিহূদার লোকরা সকলেই যর্দন নদী থেকে জেরুশালেমের সারা পথ দায়ূদের সঙ্গে ছিল। দায়ূদ তাঁর জেরুশালেমের বাড়ীতে ফিরে গেলেন। দায়ূদ তাঁর বাড়ী দেখাশোনা করার জন্য দশজন উপপত্নী রেখেছিলেন। দায়ূদ সেই মহিলাদের এক বিশেষ বাড়ীতে রেখে এসেছিলেন। সেই বাড়ীর চারদিকে তিনি প্রহরী মোতায়েন করেছিলেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত সেই মহিলারা সেই বাড়ীতেই ছিল। দায়ূদ সেই মহিলাদের প্রতি খেয়াল রাখতেন। তিনি তাদের খাবার পাঠাতেন, কিন্তু তাদের সঙ্গে কোন যৌন সম্পর্ক করেন নি। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তারা সেখানে বিধবার মতই থাকত।
4রাজা অমাসাকে বললেন, “যিহূদার লোকদের বল তারা যেন তিন দিনের মধ্যে আমার সঙ্গে দেখা করে এবং তুমিও তাদের সঙ্গে থাকবে।”
5তখন অমাসা যিহূদার লোকদের একসঙ্গে জমায়েত করতে চলে গেল। কিন্তু রাজা যে সময় তাকে দিয়েছিলেন সে তার থেকেও বেশী সময় নিল।
দায়ূদ অবীশয়কে বললেন শেবঃকে হত্যা করতে
6দায়ূদ অবীশয়কে বললেন, “বিখ্রিয়ের পুত্র শেবঃ আমাদের পক্ষে অবশালোমের চেয়েও ভয়ঙ্কর। তাই আমার আধিকারিকদের সঙ্গে নাও এবং শেবঃকে তাড়া কর। কোন প্রাচীর ঘেরা শহরে সে প্রবেশ করার আগেই এই কাজ কর। যদি সে কোন সুরক্ষিত শহরে ঢুকে পড়ে আমরা তাকে আর ধরতে পারব না।”
7সুতরাং বিখ্রিয়ের পুত্র শেবঃকে তাড়া করার জন্য যোয়াব জেরুশালেম ত্যাগ করল। যোয়াব তার নিজের লোক ছাড়াও করেথীয়, পলেথীয় ও অন্যান্য সৈন্যদের তার সঙ্গে নিল।
যোয়াব অমাসাকে হত্যা করল
8যোয়াব এবং তার সৈন্যরা যখন গিবিয়োন প্রান্তরের কাছে পৌঁছল, অমাসা তাদের সঙ্গে দেখা করতে এল। যোয়াব তখন সৈনিকের পোশাক পরেছিল। যোয়াব একটা কটিবন্ধ পরল এবং একটা খাপে তার তরবারি কটিবন্ধে আটকানো ছিলো। যোয়াব যখন অমাসার সঙ্গে দেখা করার জন্য যাচ্ছিল, তখন যোয়াবের তরবারি খাপ থেকে পড়ে গেল। যোয়াব তরবারিটি তুলে নিয়ে তার হাতে ধরে রইলো। 9যোয়াব অমাসাকে জিজ্ঞাসা করল, “কেমন আছো ভাই?” তারপর যোয়াব ডান হাত দিয়ে চুম্বন করার ভঙ্গীতে অমাসার গলা জড়িয়ে ধরল। 10যোয়াবের বাঁ হাতে যে তরবারি রয়েছে সে দিকে অমাসা কোন নজরই দেয় নি। কিন্তু যোয়াব অমাসার পেটে তরবারি বসিয়ে দিল। অমাসার নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে মাটিতে পড়ে গেল। যোয়াবকে দ্বিতীয়বার আর তরবারি চালাতে হল না—ইতিমধ্যেই সে মারা গেছে।
দায়ূদের লোকজন শেবঃকে খুঁজতে থাকল
তারপর যোয়াব এবং তার ভাই অবীশয় আবার বিখ্রিয়ের পুত্র শেবঃকে তাড়া করতে থাকল। 11যোয়াবের এক তরুণ সৈন্য অমাসার দেহের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সে বলল, “তোমরা সকলে যারা দায়ূদ এবং যোয়াবকে সমর্থন কর তারা সবাই এস, আমরা যোয়াবকে অনুসরণ করি।”
12অমাসা রক্তাক্ত হয়ে রাস্তার মাঝখানে পড়েছিল। তরুণ সৈন্যটি লক্ষ্য করছিল যে সমস্ত লোকই দেখার জন্য থেমে যাচ্ছে। তখন সে দেহটিকে রাস্তার ধারে মাঠের দিকে গড়িয়ে দিল এবং একটা কাপড় দিয়ে দেহটি ঢেকে দিল। 13অমাসার দেহ রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর, লোকরা যোয়াবকে অনুসরণ করে, বিখ্রিয়ের পুত্র শেবঃর পিছনে তাড়া করতে চলে গেল।
শেবঃ আবেল ও বৈৎমাখায় পালিয়ে গেল
14বিখ্রিয়ের পুত্র শেবঃ আবেল ও বৈৎমাখায় যাবার সময় ইস্রায়েলের সব পরিবারগোষ্ঠীর মধ্যে দিয়েই গেল। সব বেরীয় এক সঙ্গে জড় হয়ে শেবঃকে অনুসরণ করল।
15যোয়াব এবং তার লোকরা আবেল বৈৎমাখায় উপস্থিত হল। যোয়াবের সৈন্য শহরকে ঘিরে ফেলল। শহরের প্রাচীরের পাশে তারা উঁচু করে ময়লা জড়ো করল যাতে তারা শহরের প্রাচীরে উঠতে পারে। যোয়াবের লোকরা প্রাচীরটাকে ফেলে দেবার জন্য প্রাচীরের ইঁট পাথর ভাঙ্গা শুরু করল।
16কিন্তু সেই শহরে একজন প্রচণ্ড বুদ্ধিমতী স্ত্রীলোক ছিল। সে শহর থেকে চিৎকার করে বলল, “আমার কথা শোন! যোয়াবকে এখানে আসতে বল। আমি তার সঙ্গে কথা বলতে চাই।”
17যোয়াব সেই স্ত্রীলোকটির সঙ্গে কথা বলতে গেল। স্ত্রীলোকটি তাকে জিজ্ঞাসা করল, “তুমিই কি যোয়াব?”
যোয়াব বলল, “হ্যাঁ, আমিই যোয়াব।”
স্ত্রীলোকটি বলল, “আমার কথা শোন।”
যোয়াব বলল, “আমি শুনছি।”
18তখন সেই স্ত্রীলোকটি বলল, “অতীতে লোকরা বলত ‘সাহায্যের জন্য আবেল যাও, তোমার যা দরকার তা পাবে।’ 19আমি এই শহরের বহু শান্তিপ্রিয় ও নিষ্ঠাবান লোকদের একজন। তুমি ইস্রায়েলের এক গুরুত্বপূর্ণ শহর ধ্বংস করতে চেষ্টা করছ। কেন তুমি প্রভুর সম্পত্তি নষ্ট করতে চাইছ?”
20যোয়াব উত্তর দিল, “না, আমি কোন কিছু ধ্বংস করতে চাই নি। 21কিন্তু ইফ্রয়িমের একজন লোক এই শহরে আছে, সে বিখ্রিয়ের পুত্র, নাম শেবঃ। সে রাজা দায়ূদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। তাকে আমার কাছে এনে দাও। আমি এই শহর ছেড়ে চলে যাব।”
সেই স্ত্রীলোকটি যোয়াবকে বলল, “ঠিক আছে। তার মাথা দেওয়ালের ওপারে তোমাদের ছুঁড়ে দেওয়া হবে।”
22তখন সেই স্ত্রীলোকটি খুব বিচক্ষণতা সহকারে শহরের সব লোকের সঙ্গে কথা বলল। লোকরা বিখ্রিয়ের পুত্র শেবঃর মাথা কেটে ফেলল। তারপর লোকজন সেই কাটা মাথা শহরের দেওয়ালের ওপাশে যোয়াবের দিকে ছুঁড়ে দিল।
তখন যোয়াব শিঙা বাজালো এবং সৈন্যরা শহর ছেড়ে চলে গেল। সৈন্যরা বাড়ী ফিরে গেল এবং যোয়াব জেরুশালেমে রাজার কাছে ফিরে এল।
দায়ূদের সহকারীগণ
23যোয়াব ইস্রায়েলের সৈন্যবাহিনীর প্রধান ছিল। যিহোয়াদার পুত্র বনায় করেথীয় ও পলেথীয়দের নেতৃত্ব দিয়েছিল। 24যাদের কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য করা হয়েছিল, অদোরাম তাদের নেতৃত্বে ছিল। অহীলূদের পুত্র যিহোশাফট ছিল ঐতিহাসিক। 25শবা ছিল সচিব। সাদোক এবং অবিয়াথর ছিল যাজক। 26যায়ীরীয় ঈরা দায়ূদের প্রধান ভৃত্য+ 20:26 প্রধান ভৃত্য অথবা “উপদেষ্টা।” আক্ষরিক অর্থে, “যাজক।” ছিল।
21শৌলের পরিবার শাস্তি পেল
1দায়ূদ যখন রাজা ছিলেন তখন একটা দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। সেই দুর্ভিক্ষ কবলিত অনাহারের দিন টানা তিন বছর চলেছিল। দায়ূদ প্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন এবং প্রভু তার উত্তর দিলেন। প্রভু বললেন, “শৌল এবং তার খুনী পরিবারই এই দুর্ভিক্ষের কারণ। শৌল গিবিয়োনীয়দের মেরে ফেলেছে বলে এই দুর্ভিক্ষ এসেছে।” 2গিবিয়োনীয়রা ইস্রায়েলী ছিল না। তারা ইমোরীয়দের একটি গোষ্ঠী। ইস্রায়েলীয়রা শপথ করেছিল যে তারা গিবিয়োনীয়দের আঘাত করবে না। কিন্তু শৌল গিবিয়োনীয়দের হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। শৌল এ কাজ করেছিল কারণ ইস্রায়েল এবং যিহূদার লোকদের সম্পর্কে তার ভাবানুভূতি অত্যন্ত তীব্র ছিল।
রাজা দায়ূদ গিবিয়োনীয়দের একসঙ্গে ডেকে তাদের সঙ্গে কথা বললেন। 3দায়ূদ গিবিয়োনীয়দের বললেন, “তোমাদের জন্য আমি কি করতে পারি? ইস্রায়েলের পাপ খণ্ডনের জন্য আমি কি করলে তোমরা প্রভুর সন্তানদের আশীর্বাদ করবে?”
4গিবিয়োনীয়রা দায়ূদকে বলল, “শৌলের পরিবারের লোকরা যা করেছে তার মূল্য দেওয়ার জন্য তাদের পরিবারের যথেষ্ট সোনা ও রূপো নেই। কিন্তু আমাদের কোন অধিকার নেই যে ইস্রায়েলের কোন লোককে হত্যা করি।”
দায়ূদ বলল, “বেশ, তা হলে আমি তোমাদের জন্য কি করব?”
5গিবিয়োনীয়রা উত্তর দিল, “শৌল আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। আমাদের যত লোক ইস্রায়েলে বাস করে তাদের সকলকে সে হত্যা করতে চেয়েছিল। 6শৌলের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে থেকে সাতটি পুত্র আমাদের দাও। শৌল প্রভুর মনোনীত রাজা ছিল। তাই আমরা শৌলের গিবিয়া পর্বতে, প্রভুর সামনে তার ছেলেদের ফাঁসি দেব।”
রাজা দায়ূদ বললেন, “উত্তম, তাদের আমি তোমাদের হাতে সঁপে দেব।” 7কিন্তু যোনাথনের পুত্র মফীবোশতকে রাজা নিরাপত্তা দিলেন। যোনাথনও শৌলের পুত্র, কিন্তু রাজা যোনাথনের কাছে প্রভুর নামে একটি শপথ গ্রহণ করেছিলেন।+ 21:7 কিন্তু … করেছিলেন দায়ূদ এবং যোনাথন পরস্পরের কাছে প্রতিশ্রুতি করেছিল যে তারা একে অন্যের পরিবারের ক্ষতি করবে না।8দায়ূদ অর্মোণি এবং মফীবোশতকে+ 21:8 মফীবোশৎ এ আর একজন লোক যার নাম মফীবোশৎ। যোনাথনের পুত্র নয়। তাদের হাতে তুলে দিলেন। এরা ছিল শৌল এবং তার স্ত্রী রিস্পার পুত্র। মেরাব নামে শৌলের এক কন্যাও ছিল। মহোলাতীয় বর্সিল্লয়ের পুত্র অদ্রীয়েলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। দায়ূদ মেরাব এবং অদ্রীয়েলের পাঁচ ছেলেকে নিলেন। 9দায়ূদ এই সাতজন পুরুষকে গিবিয়োনীয়দের দিয়ে দিলেন যারা তাদের গিবিয়া পর্বতে নিয়ে গিয়েছিল এবং প্রভুর সামনে ফাঁসি দিয়েছিল। এই সাতজন পুরুষ একই সঙ্গে মারা গেল। ফসল তোলার প্রথম দিকেই তাদের হত্যা করা হল। সময়টা ছিল বসন্তকাল এবং এটা ছিল যবের ফসল তোলার গোড়ার দিকে।
দায়ূদ এবং রিস্পা
10অয়ার কন্যা রিস্পা দুঃখের পোশাক গ্রহণ করল এবং শিলার উপরে তা রাখল। চাষবাসের শুরুর সময় থেকে বৃষ্টি আসা পর্যন্ত সেই দুঃখের পোশাক সেই পাথরেই পড়ে রইল। রিস্পা দিনরাত সেই দেহগুলি পাহারা দিত। দিনের বেলায় কোন হিংস্র পাখী বা রাতের বেলায় কোন হিংস্র প্রাণীকে সে দেহগুলির কাছে আসতে দিত না।
11শৌলের দাসী রিস্পা যা করছে, সে সম্পর্কে লোকরা রাজা দায়ূদকে বলল। 12তখন রাজা দায়ূদ শৌল ও যোনাথনের হাড়গুলো যাবেশ গিলিয়দের কাছ থেকে নিয়ে নিলেন। (শৌল ও যোনাথনের গিল্বোয়াতে মৃত্যুর পর যাবেশ গিলিয়দরা সেই হাড়গুলি এনেছিল। পলেষ্টীয়রা শৌল ও যোনাথনের দেহ দুটি বৈৎশানের (নিকটস্থ) দেওয়ালে ঝুলিয়ে রেখেছিল। কিন্তু বৈৎশানের লোকরা সেখানে গিয়ে দেহগুলি চুরি করে আনে।) 13যাবেশ গিলিয়দের কাছ থেকে দায়ূদ শৌল এবং তার পুত্র যোনাথনের হাড়গুলি নিয়ে আসেন। সেই সাত জন যাদের ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, তাদের দেহও তারা নিয়ে গিয়েছিল। 14শৌল এবং যোনাথনের হাড় তারা বিন্যামীন দেশে কবরস্থ করল। শৌলের পিতা কীশের কবরের মধ্যে তারা তাদের কবর দিল। রাজা যা যা বলেছিলেন, লোকরা ঠিক তাই তাই করল। তাই ঈশ্বর সেই দেশের লোকের প্রার্থনা শুনলেন।
পলেষ্টীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ
15পলেষ্টীয়রা ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে আর একটি যুদ্ধে লিপ্ত হল। দায়ূদ এবং তার লোকরা পলেষ্টীয়দের সঙ্গে লড়াই করতে গেলেন। কিন্তু দায়ূদ প্রচণ্ড ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়লেন। 16যিশ্বী-বনোব একজন দৈত্য ছিল। তার বর্শার ওজন ছিল প্রায় 7.5 পাউণ্ড পিতল। তার একটা নতুন তরবারি ছিল। সে দায়ূদকে হত্যা করার চেষ্টা করল। 17কিন্তু সরূয়ার পুত্র অবীশয় সেই পলেষ্টীয়কে হত্যা করে দায়ূদকে বাঁচিয়ে দিল।
তখন দায়ূদের লোকরা দায়ূদের কাছে একটা শপথ করল। তারা তাঁকে বলল, “আপনি আর কোনভাবেই আমাদের সঙ্গে যুদ্ধে যেতে পারবেন না। যদি যান তাহলে ইস্রায়েল হয়তো তার মহান নেতাকে হারাবে।”
18পরে গোব নামক স্থানে পলেষ্টীয়দের সঙ্গে আর একটি যুদ্ধ হল। হূশাতীয় সিব্বখয় দৈত্যদের মধ্যে সফ নামে আর একজনকে হত্যা করল।
19পরে পলেষ্টীয়দের বিরুদ্ধে গোব নামক স্থানে আর একটা যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধ বৈৎলেহমবাসী যারেওরগীমের পুত্র ইলহানন, গাতীয় গলিয়াতকে হত্যা করল। তার বর্শা তাঁতির তাঁতের দণ্ডের মতই বড় ছিল।
20গাতে আরও একটা যুদ্ধ হয়। একজন খুব লম্বা চেহারার লোক ছিল যার প্রত্যেকটি হাতে এবং পায়ের পাতায় ছটা করে, মোট 24টা আঙ্গুল ছিল। এই লোকটাও একজন রাফার সন্তান। 21ঐ লোকটা ইস্রায়েলকে বিদ্রূপ করল (কিন্তু যোনাথন, শিমিয়ির পুত্র যে ছিল দায়ূদের ভাই, তাকে হত্যা করল।)
22এই চারজন প্রত্যেকেই দৈত্যদের সন্তান এবং এরা গাত থেকে এসেছিল। তারা দায়ূদ এবং তার লোকদের দ্বারা নিহত হয়েছিল।
22প্রভুর উদ্দেশ্যে দায়ূদের প্রশংসা গীত
1প্রভু যখন দায়ূদকে শৌল এবং অন্যান্য শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করলেন তখন দায়ূদ এই গীত গাইলেন:
2প্রভু আমার শিলা, আমার দুর্গ, আমার নিরাপদ আশ্রয়।
3আমার ঈশ্বর হচ্ছেন আমার শিলা যার কাছে আমি নিরাপত্তার জন্য ছুটে যাই।
ঈশ্বর আমার ঢাল, তাঁর ক্ষমতা আমায় রক্ষা করে।
প্রভু আমার লুকিয়ে থাকার জায়গা।
উঁচু পাহাড়ে, তিনি আমার নিরাপদ স্থান।
নৃশংস শত্রুর থেকে তিনি আমায় রক্ষা করেন।
4প্রভু প্রশংসার যোগ্য।
আমি প্রভুর কাছে সাহায্য চেয়েছি
এবং তিনি আমাকে আমার শত্রুর কাছ থেকে রক্ষা করেছেন।
5আমার শত্রুরা আমায় হত্যা করতে চাইছিল।
আমার চারপাশে মৃত্যুর তরঙ্গ মালার উচ্ছসিত কোলাহল অদম্য স্রোতে আমি মৃত্যুর দিকে ভেসে যাচ্ছিলাম।
6আমার সামনে মৃত্যুর ফাঁদ,
আমার চারপাশে কবরের দড়ি।
7বদ্ধ আমি, আমার প্রভুর কাছে সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করলাম,
হ্যাঁ, আমার ঈশ্বরকে ডাকলাম।
ঈশ্বর তাঁর মন্দিরে ছিলেন। তিনি আমার ডাক শুনলেন।
আমার সাহায্যের জন্য প্রার্থনা তাঁর কানে গেল।
8তখন মাটি কেঁপে উঠল।
অন্তরীক্ষের ভিত নড়ে উঠল।
কেন? কারণ, প্রভু ক্রোধান্বিত হলেন।
9ঈশ্বরের নাক থেকে ধোঁয়া বেরিয়ে এল।
তাঁর মুখ থেকে অগ্নিশিখা
এবং স্ফুলিঙ্গ বিচ্ছুরিত হতে লাগল।
10প্রভু গগনমণ্ডল বিদীর্ণ করে নীচে নেমে এলেন।
একটি গাঢ় কৃষ্ণবর্ণ মেঘের ওপর তিনি দাঁড়ালেন।
11তিনি করূব দূতগণের পিঠে চড়ে
এবং বাতাসে ভর দিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছিলেন।
12তাঁর চারপাশে, একটা তাঁবুর মত গাঢ় কাল মেঘ দিয়ে প্রভু নিজেকে ঘিরে রেখেছিলেন।
সেই বজ্র বিদ্যুৎময় মেঘে, তিনি জলরাশি জমা করেছিলেন।
13তাঁর চারপাশ থেকে জ্বলন্ত কয়লার মত
আলোকমালা বিকীর্ণ হতে লাগল।
14প্রভু আকাশ থেকে বজ্রপাত করলেন।
পরাৎপর তাঁর কন্ঠস্বর শ্রুতিগোচর করলেন।
15প্রভু শত্রুদের ছিন্ন ভিন্ন করবার জন্য তাঁর শর নিক্ষেপ করলেন।
প্রভু বিদ্যুৎ প্রেরণ করলেন এবং লোকরা বিভ্রান্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়লো।
16হে প্রভু, আপনি দৃঢ়কণ্ঠে কথা বলেছিলেন।
তাঁর মুখ থেকে তীব্রগতি বাতাস বয়ে গিয়েছিল এবং জলকে পিছনে ঠেলে দিয়েছিলেন।
সেদিন আমরা সমুদ্রের তলদেশ দেখেছিলাম।
আমরা সেদিন পৃথিবীর ভিত্তিভূমিও দেখেছিলাম।
17সেইভাবে প্রভু আমাকেও সাহায্য করেছিলেন। প্রভু ওপর থেকে আমার কাছে নেমে এসেছিলেন।
প্রভু তাঁর দুটি হাত দিয়ে আমায় জড়িয়ে ধরে বিপদ থেকে টেনে উদ্ধার করেছিলেন।
18আমার শত্রুরা আমার চেয়ে শক্তিশালী ছিল। সেই লোকরা আমায় ঘৃণা করত।
আমার শত্রুরা আমার পক্ষে একটু বেশী শক্তিশালীই ছিল, তাই ঈশ্বর আমায় রক্ষা করলেন।
19যখন আমি সমস্যায় জর্জরিত তখন শত্রুরা আমায় আক্রমণ করে।
কিন্তু, একমাত্র প্রভুই আমার পাশে ছিলেন।
20প্রভু আমায় ভালোবাসেন, তিনি আমায় উদ্ধার করেছেন।
তিনি আমায় নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে গেছেন।
21প্রভু আমাকে আমার পুরস্কার দেবেন, কারণ যা সত্য আমি তাই করেছি।
তাই তিনি আমার ভাল করবেন।
22কেন? কারণ আমি প্রভুকে মান্য করে চলেছি।
আমার প্রভুর বিরুদ্ধে আমি কোন পাপ করি নি।
23আমি সর্বদাই প্রভুর সিদ্ধান্তসকল স্মরণে রাখি
ও তাঁর বিধিগুলি অনুসরণ করি।
24তাঁর সামনে আমি নিজেকে সর্বদাই
শুচি এবং নির্দোষ রাখি।
25এই জন্য প্রভু আমাকে আমার পুরস্কার দেবেন। কেন? কারণ যা সত্য আমি তাই করেছি।
আমি কোন অন্যায় করি নি, তাই তিনি আমার মঙ্গল করবেন।
26যদি কোন ব্যক্তি আপনাকে প্রকৃতই ভালবাসে, তাহলে তার প্রতি আপনি প্রকৃত ভালোবাসা দেখাবেন।
যদি কোন ব্যক্তি আপনার প্রতি নিষ্ঠাবান হন তাহলে তার প্রতি আপনিও নিষ্ঠাবান হন।
27হে প্রভু, যারা শুচি এবং ভাল আপনিও তাদের প্রতি শুচি ও ভাল।
কিন্তু আপনি চতুর ও কুচক্রী ব্যক্তিকে পরাস্ত করতে সক্ষম।
28হে প্রভু, সরল সৎ লোকদের আপনি সাহায্য করেন।
কিন্তু অহঙ্কারীদের আপনি লজ্জিত করেন।
29হে প্রভু, আপনি আমার জ্বলন্ত দ্বীপ,
প্রভু আমার চারপাশের অন্ধকারকে আলোকিত করেন।
30হে প্রভু, আপনার সহায়তায় আমি সৈন্যদের সঙ্গে দৌড়তে পারি।
ঈশ্বরের সহায়তায় আমি শত্রু পক্ষের দেওয়াল অতিক্রম করতে পারি।
31ঈশ্বরের পথই পরিপূর্ণ।
প্রভুর বাক্য পরীক্ষিত সত্য।
যারা তাঁকে বিশ্বাস করে, তিনি তাদের রক্ষা করেন।
32প্রভু ছাড়া দ্বিতীয় কোন ঈশ্বর নেই।
আমাদের ঈশ্বর ব্যতীত অন্য কোন শিলা নেই।
33ঈশ্বরই আমার দূর্গ।
তিনি সৎ মানুষকে জীবনের সঠিক পথ দেখান।
34প্রভু আমাকে হরিণের মত দ্রুত দৌড়াতে সাহায্য করেন।
উচ্চস্থানে তিনি আমায় অবিচল রাখেন।
35প্রভু আমাকে যুদ্ধ বিদ্যা শিখিয়েছিলেন।
সেই কারণে আমার বাহু একটি শক্তিশালী শর নিক্ষেপ করতে পারে।
36হে প্রভু! আপনি আমায় রক্ষা করেছেন। আপনি আমাকে জয়ী হতে সাহায্য করেছেন।
আপনি আমার শত্রুকে পরাজিত করতে সাহায্য করেছেন।
37আমার হাঁটু এবং পা দুটিকে সবল করে দিন
যেন না খুঁড়িয়ে দ্রুত দৌড়াতে পারি।
38আমার শত্রুদের নিধন না করা পর্যন্ত আমি তাদের তাড়া করতে চাই।
তারা ধ্বংস প্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আমি ফিরে আসতে চাই না।
39আমি আমার শত্রুদের ধ্বংস করেছি
আমি তাদের পরাজিত করেছি।
তারা আর উঠে দাঁড়াবে না।
হ্যাঁ, আমার শত্রুরা আমার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়েছে।
40হে ঈশ্বর, আপনিই আমায় যুদ্ধে শক্তিশালী করেছেন,
আপনিই আমার শত্রুদের আমার পায়ের কাছে লুটিয়ে দিয়েছেন।
41আমার শত্রুর গলা কেটে তাদের লুটিয়ে ফেলার সুযোগ
আপনিই আমাকে দিয়েছেন।
42আমার শত্রুরা সাহায্য চেয়েছিল কিন্তু তাদের সাহায্য করার কেউ ছিল না।
এমনকি তারা প্রভুর কাছেও সাহায্য চেয়েছিল কিন্তু প্রভু তার কোন উত্তর দেন নি।
43আমি শত্রুদের ছিন্ন ভিন্ন করে
তাদের ধূলোয় পরিণত করেছি।
তাদের আমি চূর্ণবিচূর্ণ করেছি।
রাস্তার কাদার মত আমি তাদের মাড়িয়ে গিয়েছি।
44আমার বিরুদ্ধে আমার নিজের লোক যারা লড়াই করেছে, হে প্রভু, আপনি তাদের হাত থেকে আমায় রক্ষা করেছেন।
আপনি আমাকে জাতির শাসক করেছেন।
যে লোকদের আমি জানতাম না, তারা এখন আমার সেবা করে।
45অন্য দেশের লোকরাও আমায় মান্য করেছে। যখন তারা আমার নির্দেশ শুনেছে, তৎক্ষনাৎ তারা তা পালন করেছে।
সেই সব বিদেশীরা আমাকে ভয় করেছে।
46সেই সব বিদেশীরা ভয়ে শুকিয়ে গেছে।
ভয়ে ভীত হয়ে তারা গোপন আস্তানা থেকে বেরিয়ে এসেছে।
47প্রভু জীবিত!
আমি আমার শিলাকে প্রশংসা করি!
ঈশ্বর মহান! তিনিই সেই শিলা যিনি আমাকে রক্ষা করেন।
48তিনি সেই ঈশ্বর যিনি আমার জন্য আমার শত্রুদের শাস্তি দিয়েছেন।
লোকদের তিনি আমার শাসনের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
49হে ঈশ্বর, আপনি আমায় শত্রুদের থেকে রক্ষা করেছেন।
যারা আমার বিরোধিতা করেছিল তাদের পরাজিত করতে আপনি আমায় সাহায্য করেছেন।
শত্রুদের হাত থেকে আপনি আমায় রক্ষা করেছেন।
50তাই হে প্রভু, আমি জাতিগুলির মধ্যে আপনার প্রশংসা করি!
এই কারণে আমি আপনার নামে গান গাই।
51প্রভু তাঁর মনোনীত রাজাকে যে কোন যুদ্ধে জয়ী হতে সাহায্য করেন।
তাঁর মনোনীত রাজার জন্য প্রভু তাঁর করুণা বর্ষণ করেন।
তিনি দায়ূদের প্রতি এবং তাঁর উত্তরসূরীদের প্রতি সর্বদা বিশ্বস্ত থাকবেন।
23দায়ূদের শেষ বাক্য
1এইগুলি হল যিশয়ের পুত্র দায়ূদের শেষ বাক্য।
“এই বার্তা এসেছে সেই লোকটির কাছ থেকে
যাকে ঈশ্বর মহান করেছেন।
যিনি যাকোবের ঈশ্বরের মনোনীত রাজা,
ইস্রায়েলের সুমধুর গায়ক, এইগুলি তাঁর বাণী।
2প্রভুর আত্মা আমার মধ্য দিয়ে কথা বলেছেন।
আমার মুখ দিয়ে তাঁর বাক্য উচ্চারিত হয়েছে।
3ইস্রায়েলের ঈশ্বর কথা বলেছেন।
ইস্রায়েলের ঈশ্বর আমায় বলেছেন,
‘সেই ব্যক্তি যিনি সৎভাবে শাসন করেন।
4সেই ব্যক্তি যে ঈশ্বরে শ্রদ্ধা রেখে শাসন করে।
সেই ব্যক্তি ঊষাকালের প্রভাত কিরণের মত,
পরিষ্কার আকাশের মত, বৃষ্টির পর সূর্য কিরণের মত,
সেই বৃষ্টির মত যার ছোঁয়ায় মাটির ওপর নতুন ঘাস জন্ম নেয়।’
5“ঈশ্বর আমার পরিবারকে শক্তিশালী এবং সুরক্ষিত করেছেন।
আমার সঙ্গে তিনি চিরদিনের জন্য একটি চুক্তি করেছেন।
এই চুক্তিকে ঈশ্বর সবদিক থেকে
সুরক্ষিত ও সুনিশ্চিত করেছেন।
তাই, নিশ্চিতভাবে তিনি আমায় সকল জয় ও সাফল্য দেবেন।
আমি যা চাই তার সবই তিনি আমায় দেবেন।
6“কিন্তু মন্দ লোকরা কাঁটার মত।
লোক কাঁটা রাখে না;
তারা কাঁটাগুলো ছুঁড়ে ফেলে দেয়।
7লোক যখন সেই কাঁটাগুলি স্পর্শ করে,
তারা কাঠের বর্শার মত অথবা লোহার ডাণ্ডার মত নিজেদের আহত করে।
হ্যাঁ, সেইসব লোক কাঁটার মত।
তাদের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে,
তারা সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত হবে।”
তিনজন বীর যোদ্ধা
8এইগুলি হল দায়ূদের বীর সৈনিকের নাম:
তখমোনীয় যোশেব-বশেবৎ। যোশেব-বশেবৎ তিনজন শৌর্য্যপূর্ণ সেনার অধিনায়ক ছিল। তাকে ইস্নীয আদীনো বলে ডাকা হত। যোশেব-বশেবৎ একসঙ্গে 800 লোককে হত্যা করেছিল।
9পরবর্ত্তী বীর হল, অহোহীয়ের অধিবাসী, দোদয়ের পুত্র ইলিয়াসর। ইলিয়াসর সেই তিনজন যোদ্ধাদের একজন যারা পলেষ্টীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় দায়ূদের সঙ্গে ছিল। তারা যুদ্ধের জন্য জমায়েত হয়েছিল কিন্তু ইস্রায়েলীয় সেনারা দৌড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। 10ইলিয়াসর প্রচণ্ড অবসন্ন হওয়ার আগে পর্যন্ত পলেষ্টীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। সে দৃঢ়ভাবে তরবারি ধরে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিল। সেই দিন প্রভু ইস্রায়েলকে একটা বড় জয় এনে দিলেন। ইলিয়াসর যুদ্ধে জয়ী হলে লোকরা সকলে ফিরে এল। কিন্তু তারা শুধুমাত্র মৃত শত্রুদের থেকে জিনিসপত্র নিতে এসেছিল।
11পরবর্তী বীর শম্ম। সে হরারীয় আগির সন্তান। পলেষ্টীয়রা একসঙ্গে যুদ্ধ করতে এল। একটি মুসুর ক্ষেতে তাদের লড়াই হল। পলেষ্টীয়দের কাছ থেকে লোকরা ছুটে পালিয়ে গেল। 12কিন্তু শম্ম যুদ্ধক্ষেত্রের মাঝে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ করল। সে পলেষ্টীয়দের পরাজিত করল। সেই দিন, প্রভু ইস্রায়েলকে এক মহান বিজয় এনে দিলেন।
13একদিন, দায়ূদ অদুল্লম গুহাতে অবস্থান করছিলেন এবং পলেষ্টীয়রা রফায়ীম উপত্যকায় ছিল। দায়ূদের খুব ঘনিষ্ঠ ত্রিশ জন বীর যোদ্ধার+ 23:13 ত্রিশ … যোদ্ধার এই লোকরা দায়ূদ গোষ্ঠীর বিখ্যাত বীর যোদ্ধা। মধ্য থেকে এই তিন জন মাটিতে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ে সরীসৃপের মত বুকে ভর দিয়ে দায়ূদের গুহায় পৌঁছে গিয়েছিল এবং দায়ূদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল।
14অন্য আর এক সময়, দায়ূদ এক দুর্গের মধ্যে ছিলেন এবং সেই সময় একদল পলেষ্টীয় সেনা বৈৎলেহমে ছিল। 15একটু জলের জন্য দায়ূদ তৃষ্ণার্ত ছিলেন। তিনি বললেন, “আমার ইচ্ছা, বৈৎলেহমের নগরদ্বারের কুয়ো থেকে কেউ আমায় খানিকটা জল এনে দিক!” আসলে দায়ূদ প্রকৃতই জল চান নি, তিনি এমনি সে কথা বলেছিলেন।
16কিন্তু সেই তিনজন শৌর্য্যপূর্ণ যোদ্ধা পলেষ্টীয় সেনাদের মধ্যে দিয়ে যুদ্ধ করল এবং গিয়ে বৈৎলেহম শহরের ফটকের কাছে কুয়ো থেকে জল এনেছিল। তারা সেই জল দায়ূদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল। কিন্তু দায়ূদ সেই জল পান করতে অস্বীকার করলেন। তিনি সেই জল মাটিতে ঢেলে দিয়ে তা প্রভুর কাছে উৎসর্গ করলেন। 17দায়ূদ বললেন, “হে প্রভু, এই জল আমি পান করতে পারি না। যদি আমি এই জল পান করি, তাহলে তা তাদের রক্ত পান করার মতই অন্যায় কাজ হবে, যারা আমার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই জল এনেছে।” এই কারণে দায়ূদ সেই জল পান করতে অস্বীকার করেন। এই তিন জন বীর এই রকম আরও অনেক সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে।
অন্যান্য বীর সৈন্যদের কথা
18যোয়াবের ভাই এবং সরূয়ার পুত্রের নাম অবীশয়। অবীশয় এই তিনজন যোদ্ধার নেতা ছিল। অবীশয় 300 শত্রুর বিরুদ্ধে তার বর্শাকে ব্যবহার করেছে এবং তাদের হত্যা করেছে। সেও এই তিন জন বীর যোদ্ধার মতই বিখ্যাত হয়েছিল। 19অবীশয় ঐ তিন জন বীরের মতই বিখ্যাত হয়েছিল। যদিও সে ঐ তিন জন বীরের একজনও নয় তবু সে ঐ তিন বীরের নেতা হয়ে গিয়েছিল।
20এছাড়া যিহোয়াদার পুত্র বনায় ছিল আর এক বীর। সে এক পরাক্রমশালী পিতার সন্তান। সে কব্সেল থেকে এসেছিল। বনায় অনেকগুলি দুঃসাহসের কাজ করেছিল। মোয়াবীয় অরীয়েলের দুই পুত্রকে সে হত্যা করেছিল। একদিন যখন তুষারপাত হচ্ছে, বনায় মাটির একটা গর্তের মধ্যে ঢুকে এক সিংহকে বধ করে। 21বনায় এক মিশরীয় সৈন্যকেও হত্যা করে। মিশরীয় সৈন্যটির হাতে একটা বর্শা ছিল। কিন্তু বনায়ের হাতে একটি মাত্র মুগুর ছিল। বনায় মিশরীয় সৈন্যটির বর্শাটা মুঠো করে চেপে ধরে এবং তার কাছ থেকে তা ছিনিয়ে নেয়। তারপর তার নিজের বর্শা দিয়ে সেই মিশরীয় সৈন্যকে হত্যা করে। 22যিহোয়াদার পুত্র বনায় এই রকম নানা দুঃসাহসিক কাজ করেছিল। সে সেই তিন বীরপুরুষের মতই বিখ্যাত ছিল। 23বনায় সেই ত্রিশ জন বীরের থেকেও বিখ্যাত ছিল, কিন্তু সে সেই তিন জন বীরপুরুষের একজন ছিল না। দায়ূদ বনায়কে তার দেহরক্ষীদের নেতা রূপে মনোনীত করেন।
তিরিশ জন বীরের কথা
24ত্রিশ জন যোদ্ধার অন্যান্য বীররা হল:
যোয়াবের ভাই অসাহেল;
বৈৎলেহমের দোদয়ের পুত্র ইল্হানন;
25হরোদীয় শম্ম;
সহরোদীয় ইলীকা;
26পল্টীয় হেলস্;
তকোয়ীয় ইক্কেশের পুত্র ঈরা;
27অনাথোতীয় অবীয়েষর;
হূশাতীয় মবুন্নয়;
28অহোহীয় সল্মোন;
নটোফাতীয় মহরয়;
29নটোফৎ থেকে বানা এর পুত্র হেলব;
গিবিয়ার বিন্যামীনের রীবয়ের পুত্র ইত্তয়;
30পিরিয়াথোনীয় বনায়;
গাশ উপত্যকা নিবাসী হিদ্দয়;
31অর্বতীয় অবি-যলবোন;
বরহূমীয় অস্মাবৎ;
32শাল্বোনীয় ইলিয়হবা;
যাশেনের পুত্ররা;
33হরার থেকে শম্মের পুত্র যোনাথন;
হরার থেকে সাররের পুত্র অহীয়াম;
34মাখাথীয় অহসবয়ের পুত্র ইলীফেলট;
গীলোনীয় অহীথোফলের পুত্র ইলীয়াম;
35কর্মিলীয় হিষ্রয়;
অব্বীয় পারয়;
36সোবা নিবাসী নাথনের পুত্র যিগাল;
গাদীয় বানী;
37অম্মোনীয় সেলক;
বেরোতীয় নহরয় (যে সরূয়ার পুত্র যোয়াবের বর্ম বহন করেছিল।)
38যিত্রীয় ঈরা;
যিত্রীয় গারেব;
39এবং হিত্তীয় ঊরিয়।
সেই দলে মোট 37জন ছিল।
24দায়ূদ তাঁর সৈন্য গণনার সিদ্ধান্ত নিলেন
1প্রভু ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে আবার ক্রুদ্ধ হলেন। প্রভু দায়ূদকে ইস্রায়েলীয়দের বিরুদ্ধে প্ররোচিত করলেন। তিনি দায়ূদকে বললেন, “যাও, গিয়ে ইস্রায়েল এবং যিহূদার লোকসংখ্যা গণনা কর।”
2রাজা দায়ূদ তাঁর সেনাপতি যোয়াবকে বললেন, “যাও, দান থেকে বের-শেবা পর্যন্ত লোকসংখ্যা গণনা করে এসো। তাহলে আমি জানতে পারব সেখানে কত লোকজন আছে।”
3যোয়াব রাজাকে বললেন, “ঠিক কত সংখ্যক লোক আছে তাতে কিছু এসে যায় না। প্রভু, আপনার ঈশ্বর যেন তার 100 গুণ বেশী লোকজন আপনাকে দেন। এই ঘটনাগুলি যেন আপনি নিজের চোখে ঘটতে দেখেন। কিন্তু কেন আপনি এই গণনার কাজ করতে চাইছেন?”
4রাজা দায়ূদ বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে তাঁর সেনাপতিদের এবং যোয়াবকে লোকগণনার হুকুম দিলেন। তখন যোয়াব এবং সেনাপতি রাজার কাছ থেকে চলে গেল এবং লোকগণনার কাজ করতে লাগল। 5তারা যর্দন নদী পার হয়ে গেল। অরোয়ের নামক স্থানে তারা ঘাঁটি গাড়লো। তাদের ঘাঁটি শহরের ডানদিকে অবস্থিত ছিল। (এই শহরটি যাসেরের পথে যেতে গাদ উপত্যকার মধ্যে অবস্থিত ছিল।)
6তারপর তারা পূর্বদিকে গিয়ে তহতীম-হদ্শি দেশের দিকে গিলিয়দে এল। তারপর তারা উত্তরদিকে দান-যান হয়ে সীদোন পর্যন্ত গেল। 7তারা সোর দূর্গেও গিয়েছিল। তারা হিব্বীয় ও কনানীয়দের প্রত্যেকটি শহরে গিয়েছিল। দক্ষিণ দিকে তারা যিহূদার দক্ষিণস্থ বের্-শেবা পর্যন্ত গিয়েছিল। 8গোটা দেশে যেতে তাদের 9 মাস 20 দিন সময় লেগেছিল। তারা 9 মাস 20 দিন পরে জেরুশালেমে ফিরে এসেছিল।
9যোয়াব রাজার হাতে লোকসংখ্যার তালিকা তুলে দিল। তরবারি ব্যবহার করতে পারে এমন লোকের সংখ্যা ইস্রায়েলে ছিল 800,000 এবং যিহূদার লোকসংখ্যা ছিল 500,000 জন।
প্রভু দায়ূদকে শাস্তি দিলেন
10লোকসংখ্যা গণনার পর দায়ূদ লজ্জিত হলেন। দায়ূদ প্রভুকে বললেন, “আমি যা করেছি তাতে আমার মস্ত বড় পাপ হয়েছে। হে প্রভু, মিনতি করি, আপনি আমার পাপ ক্ষমা করে দিন। আমি সত্যি বোকার মত কাজ করেছি।”
11দায়ূদ যখন সকালে ঘুম থেকে উঠলেন, তখন দায়ূদের ভাববাদী গাদের কাছে প্রভুর বাক্য নেমে এল। 12প্রভু গাদকে বললেন, “যাও গিয়ে দায়ূদকে বল, ‘প্রভু এই কথাই বললেন: আমি তোমাকে তিনটি বিষয় দিচ্ছি। তুমি পছন্দ কর কোনটা আমি তোমার প্রতি বরাদ্দ করব।’”
13গাদ দায়ূদের কাছে এসে বলল, “তিনটি বিষয়ের মধ্যে থেকে একটা বেছে নাও: তোমার রাজ্যে সাত বছরের দুর্ভিক্ষ। তোমার শত্রুরা তিন মাস ধরে তোমায় তাড়া করবে। তোমার দেশে তিন দিনের মহামারী আসবে। এ বিষয়ে চিন্তা করে, তিনটের মধ্যে একটা বিষয় বেছে নাও। তোমার কোনটা পছন্দ হল সে সম্পর্কে আমি প্রভুকে বলব। প্রভু আমাকে তোমার কাছে পাঠিয়েছেন।”
14দায়ূদ গাদকে বলল, “আমি সত্যিই খুব সমস্যায় পড়েছি। কিন্তু প্রভু সত্যি বড় ক্ষমাশীল। সুতরাং প্রভুই আমাদের শাস্তি দিন। আমার শাস্তি যেন লোকদের কাছ থেকে না আসে।”
15অতএব প্রভু ইস্রায়েলে একটি মহামারী পাঠালেন। এই মহামারী সকালে শুরু হল এবং মনোনীত সময় পর্যন্ত চলল। দান থেকে বের্-শেবা পর্যন্ত সারা ইস্রায়েলের 70,000 লোক মারা গেল। 16দেবদূত জেরুশালেমকে ধ্বংস করার জন্য তাঁর বাহু ওপরে ওঠালেন। ঈশ্বর শাস্তির ব্যাপারে তাঁর মন পরিবর্তন করলেন। যে দূত ধ্বংস করছিলেন, প্রভু তাঁকে বললেন, “অনেক হয়েছে। তোমার হাত গুটিয়ে নাও।” সেই সময় তাঁরা যিবূষীয় অরৌনার খামারের কাছে ছিলেন।
দায়ূদ অরৌণার শস্য মাড়ানোর জমি কিনলেন
17যে দূত লোকদের হত্যা করছিল দায়ূদ তাকে দেখলেন। দায়ূদ প্রভুর সঙ্গে কথা বললেন। দায়ূদ বললেন, “আমি পাপ করেছি। আমি গর্হিত কাজ করেছি। আমি ওদের যা করতে বলেছি এইসব লোক তাই করেছে। তারা বাধ্য মেষের মত আমায় অনুসরণ করেছে। তারা কোন ভুল করে নি। দয়া করে আপনার শাস্তি আমাকে এবং আমার পিতার পরিবারকে দিন।”
18সেই দিন গাদ দায়ূদের কাছে এল। গাদ দায়ূদকে বলল, “যাও, যিবূষীয় অরৌণার শস্য মাড়ানোর জমিতে প্রভুর জন্য একটি বেদী তৈরী কর।” 19যেমন গাদ তাকে বলল সেইমত দায়ূদ করল। প্রভু যা চান দায়ূদ ঠিক তাই করল। দায়ূদ অরৌণার সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। 20অরৌণা দেখল যে রাজা দায়ূদ এবং তাঁর আধিকারিকরা তার সঙ্গে দেখা করতে আসছে। অরৌণা বাইরে বেরিয়ে গিয়ে মাথা নত করে প্রণাম করল। 21অরৌণা বলল, “আমার গুরু এবং রাজা কেন আমার কাছে এসেছেন?”
দায়ূদ উত্তর দিলেন, “আমি তোমার কাছ থেকে খামার বাড়ীটি কিনতে এসেছি। তারপর আমি প্রভুর জন্য একটা বেদী বানাব। তাহলে এই মহামারী বন্ধ হয়ে যাবে।”
22অরৌণা দায়ূদকে বলল, “হে আমার গুরু এবং রাজা, ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ হিসেবে আপনি যা খুশী তাই নিতে পারেন। এখানে হোমবলির জন্য কিছু গরু এবং কাঠের জন্য এই ধান ঝাড়াইয়ের পাটাতন এবং বাঁকগুলোও দিয়ে দিচ্ছি। 23হে রাজা, এইসব আমি আপনাকে দিয়ে দিচ্ছি!” অরৌণা রাজাকে আরও বলল, “প্রভু, আপনার ঈশ্বর, যেন আপনার প্রতি প্রসন্ন হন।”
24কিন্তু রাজা অরৌণাকে বললেন, “না! আমি তোমাকে এই জমির দাম দিয়ে দেব। আমি আমার প্রভু ঈশ্বরকে হোমবলি উৎসর্গ করব না যার জন্য আমি কোন অর্থ দিইনি।”
তখন দায়ূদ 50 শেকেল রূপোর বিনিময়ে সেই ঢেঁকি এবং গরুগুলো কিনে নিলেন। 25তারপর দায়ূদ প্রভুর উদ্দেশ্যে সেখানে এক বেদী নির্মাণ করলেন। তিনি তার ওপরে হোমবলি এবং মঙ্গলার্থক বলি উৎসর্গ করলেন।
সারা দেশের জন্য দায়ূদের প্রার্থনায় প্রভু সাড়া দিলেন। প্রভু সেই মহামারীকে ইস্রায়েলে থামিয়ে দিলেন।