রাজাবলির দ্বিতীয় খণ্ড
1অহসিয়র জন্য একটি বার্তা
1রাজা আহাবের মৃত্যুর পর, মোয়াব দেশটি ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল।
2এক দিন, অহসিয় যখন শমরিয়ায় তাঁর বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তিনি পড়ে গিয়ে নিজেকে জখম করেন। তিনি তখন তাঁর বার্তাবাহকদের ইক্রোণের বাল্-সবূবের যাজকদের কাছে জানতে পাঠালেন, জখম অবস্থা থেকে তিনি সুস্থ হতে পারবেন কি না।
3প্রভুর দূতরা তিশ্বীয় ভাববাদী এলিয়কে বললেন, “রাজা অহসিয় শমরিয়া থেকে কয়েকজন বার্তাবাহক পাঠিয়েছেন। ওঠ এবং যাও, তাদের সঙ্গে দেখা করে বলো, ‘ইস্রায়েলের কি কোন ঈশ্বর নেই যে তোমরা ইক্রোণের বাল্-সবূবের কাছে জিজ্ঞাসা করতে বার্তাবাহক পাঠিয়েছ?’ 4রাজা অহসিয়কে বলো, ‘যেহেতু তুমি এরকম করেছ, প্রভু বলেন, তুমি বিছানা ছেড়ে উঠতে পারবে না। তোমার মৃত্যু অনিবার্য্য!’” তারপর এলিয় গেলেন এবং অহসিয়র ভৃত্যদের একথা জানালেন।
5বার্তাবাহকরা অহসিয়র কাছে ফিরে এল। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, “এ কি, তোমরা এতো তাড়াতাড়ি কি করে ফিরলে?”
6তারা বলল, “এক ব্যক্তি এসে আমাদের বললেন, রাজার কাছে ফিরে গিয়ে, প্রভু কি বলেছেন সে কথা জানাও। প্রভু বললেন, ‘ইস্রায়েলের কি কোন ঈশ্বর নেই যে তুমি ইক্রোণর বাল্-সবূবের কাছে জিজ্ঞাসা করতে বার্তাবাহকদের পাঠিয়েছ? যেহেতু তুমি একাজ করেছ, তুমি আর কখনো বিছানা ছেড়ে উঠতে পারবে না। তোমার মৃত্যু অনিবার্য্য!’”
7অহসিয় তাদের জিজ্ঞেস করলেন, “যার সঙ্গে তোমাদের দেখা হয়েছিল, যে এসব কথা বলেছে তাকে কি রকম দেখতে বলো তো?”
8বার্তাবাহকরা অহসিয়কে উত্তর দিল, “এই লোকটা একটা রোমশ কোট পরেছিল আর ওর কোমরে একটা চামড়ার কটিবন্ধ ছিল।”
তখন অহসিয় বললেন, “এ হল তিশ্বীয় এলিয়া!”
অহসিয়র পাঠানো সেনাবাহিনীকে আগুন ধ্বংস করল
9অহসিয় তখন 50 জন লোক সহ এক সেনাপতিকে এলিয়র কাছে পাঠালেন। এলিয় তখন এক পাহাড়ের চূড়ায় বসেছিলেন। সেই সেনাপতিটি এসে এলিয়কে বললো, “হে ঈশ্বরের লোক, ‘রাজা তোমাকে নীচে নেমে আসতে হুকুম দিয়েছেন।’”
10এলিয় তাঁকে উত্তর দিলেন, “আমি যদি সত্যিই ঈশ্বরের লোক হই, তবে স্বর্গ থেকে আগুন নেমে আসুক এবং আপনাকে ও আপনার 50 জন লোককে ধ্বংস করুক!”
অতএব স্বর্গ থেকে আগুন নেমে এলো এবং সেনাপতি ও তার 50 জন লোককে ভস্মীভূত করে দিল।
11অহসিয় তখন 50 জন লোক দিয়ে আরো একজন সেনাপতিকে এলিয়র কাছে পাঠালেন। সে এসে এলিয়কে বললো, “এই যে ঈশ্বরের লোক, ‘রাজা তোমায় তাড়াতাড়ি নীচে নেমে আসতে হুকুম দিয়েছেন!’”
12এলিয় তার কথার উত্তরে বললেন, “বেশ তো, তোমার কথামতো আমি যদি ঈশ্বরের লোক হই, তাহলে স্বর্গ থেকে অগ্নি বৃষ্টি হয়ে তুমি আর তোমার সকল লোক ধ্বংস হোক্!”
কথা শেষ হতে না হতেই আকাশ থেকে ঈশ্বরের পাঠানো অগ্নিশিখা নেমে এসে সেই সেনাপতি আর তার 50 জন সেনাকে পুড়িয়ে ছাই করে দিল।
13অহসিয় তখন আবার তৃতীয় বার 50 জন সৈন্য দিয়ে আরেক সেনাপতিকে পাঠালেন। সে এলিয়র কাছে এসে হাঁটু গেড়ে অনুনয় করে বললো, “হে ঈশ্বরের লোক, আমার আর আমার এই 50 জন সেনার প্রাণের কোনো মূল্যই কি আপনার কাছে নেই? 14স্বর্গ থেকে অগ্নি বৃষ্টি হয়ে আমার আগের দুই সেনাপতি আর তাদের সঙ্গের 50 জন মারা পড়েছে। দয়া করে আপনি আমাদের প্রাণে মারবেন না, আমাদের প্রাণ আপনার কাছে মূল্যবান হোক্।”
15তখন প্রভুর দূত এলিয়কে বললেন, “ভয় পেও না, তুমি এর সঙ্গে যাও।”
এলিয় তখন এই সেনাপতির সঙ্গে রাজা অহসিয়র কাছে গিয়ে তাঁকে বললেন,
16প্রভু যা বলেন তা হল এই: “ইস্রায়েলে কি কোন ঈশ্বর নেই যে তুমি জিজ্ঞাসা করবার জন্য ইক্রোণর দেবতা বাল্-সবূবের কাছে বার্তাবাহকদের পাঠিয়েছ? যেহেতু তুমি এরকম করেছ, তুমি আর বিছানা ছেড়ে উঠতে পারবে না। তোমার মৃত্যু অনিবার্য্য!”
যিহোরাম অহসিয়র স্থান নিলেন
17প্রভু যে ভাবে এলিয়র মাধ্যমে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন, ঠিক সে ভাবেই অহসিয়ের মৃত্যু হল। যেহেতু অহসিয়র কোন পুত্র ছিল না, তার পরে যোরাম ইস্রায়েলের নতুন রাজা হলেন। যিহূদার রাজা যিহোশাফটের পুত্র যিহোরামের রাজত্বের দ্বিতীয় বছরে যোরাম ইস্রায়েলের নতুন রাজা হলেন।
18অহসিয় আর যা কিছু করেছিলেন সে সবই ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে।
2এলিয়কে নেওয়ার জন্য প্রভুর পরিকল্পনা
1ঘূর্ণিঝড় পাঠিয়ে প্রভুর যখন এলিয়কে স্বর্গে নিয়ে যাবার সময় হয়ে এসেছে, এলিয় এবং ইলীশায় তখন গিল্গল থেকে ফিরে আসার পথে।
2এলিয় ইলীশায়কে বললেন, “তুমি এখানেই থাকো, কারণ প্রভু আমাকে বৈথেল পর্যন্ত যেতে বলেছেন।”
কিন্তু ইলীশায় বললেন, “আমি জীবন্ত প্রভুর নামে ও আপনার নামে শপথ করে বলছি যে আমি আপনাকে একলা ছেড়ে যাবো না।” সুতরাং তাঁরা দুজনেই তখন বৈথেলে গেলেন।
3বৈথেলে ভাববাদীদের একদল শিষ্য এসে ইলীশায়কে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি কি জানেন যে আজ প্রভু আপনার মনিবকে আপনার কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাবেন?”
ইলীশায় বললেন, “হ্যাঁ জানি। ওকথা থাক।”
4এলিয় ইলীশায়কে আদেশ করলেন, “তুমি এখানেই থাকো কারণ প্রভু আমাকে যিরীহোতে যেতে বলেছেন।”
কিন্তু ইলীশায় আবার বললেন, “আমি জীবন্ত প্রভু এবং আপনার নামে শপথ করে বলছি যে আমি আপনাকে ছেড়ে যাব না!” তখন তাঁরা দুজনে এক সঙ্গেই যিরীহোতে গেলেন।
5যিরীহোতে আবার ভাববাদীদের একদল শিষ্য এসে ইলীশায়কে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কি জানেন যে প্রভু আজই আপনার মনিবকে আপনার কাছ থেকে দূরে নিয়ে যাবেন?”
ইলীশায় উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, জানি। আমাকে সেটা মনে করিয়ে দেবেন না।”
6এলিয় তখন ইলীশায়কে বললেন, “এখন তুমি এখানেই থাকো। প্রভু আমাকে যর্দন নদীতে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন।”
কিন্তু ইলীশায় উত্তর দিলেন, “আমি জীবন্ত প্রভু এবং আপনার নামে শপথ করে বলছি যে আমি আপনাকে ছেড়ে যাব না!” তখন তাঁরা দুজনে এক সঙ্গেই যেতে লাগলেন।
7ভাববাদীদের প্রায় 50 জন শিষ্যের একটি দল তাঁদের পেছন পেছন যাচ্ছিলেন। এলিয় এবং ইলীশায় যখন যর্দন নদীর সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন তখন ঐ দলটিও তাঁদের থেকে বেশ কিছুটা দূরত্ব রেখে দাঁড়িয়ে পড়লো। 8এলিয় তাঁর পরণের শাল খুলে সেটাকে ভাঁজ করলেন এবং সেটা দিয়ে জলে আঘাত করলেন। জলধারা ডাইনে ও বামে ভাগ হয়ে গেল। এলিয় আর ইলীশায় তখন শুকনো মাটির ওপর দিয়ে হেঁটে নদী পার হলেন।
9নদী পার হবার পর এলিয় ইলীশায়কে বললেন, “ঈশ্বর আমাকে তোমার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার আগে বলো, আমি তোমার জন্য কি করতে পারি?”
ইলীশায় বলল, “আমি চাই আপনার আত্মার দ্বিগুণ অংশ আমার ওপর ভর করুক।”
10এলিয় বললেন, “তুমি বড় কঠিন বস্তু চেয়েছ। আমাকে যখন তোমার কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে, তখন যদি তুমি আমাকে দেখতে পাও তাহলে তোমার মনের ইচ্ছা পূর্ণ হবে; কিন্তু যদি দেখতে না পাও তাহলে তোমার মনের ইচ্ছা অপূর্ণই থেকে যাবে।”
ঈশ্বর এলিয়কে স্বর্গে তুলে নিলেন
11এসব কথাবার্তা বলতে বলতে এলিয় আর ইলীশায় একসঙ্গে হাঁটছিলেন। হঠাৎ কোথা থেকে আগুনের মতো দ্রুত গতিতে ঘোড়ায় টানা একটা রথ এসে দুজনকে আলাদা করে দিল। তারপর একটা ঘূর্ণি ঝড় এসে এলিয়কে স্বর্গে তুলে নিয়ে গেল।
12ইলীশায় স্বচক্ষে এ ঘটনা দেখে চিৎকার করে উঠলেন, “আমার মনিব! হে আমার পিতা! তোমরা সবাই দেখ! ইস্রায়েলের রথ আর তাঁর অশ্ববাহিনী!”+ 2:12 ইস্রায়েলের … অশ্ববাহিনী এটি সম্ভবতঃ “ঈশ্বর এবং তাঁর স্বর্গীয় বাহিনী (দূতরা)।”
ইলীশায় এরপর আর কখনও এলিয়কে দেখতে পান নি। এ ঘটনার পর ইলীশায় মনের দুঃখে তাঁর পরিধেয় বস্ত্র ছিঁড়ে ফেললেন। 13এলিয়র শালটা তখনও মাটিতে পড়ে ছিল, তাই ইলীশায় সেটা তুলে নিলেন। তারপর তিনি নদীর জলে আঘাত করলেন এবং বললেন, “কই, কোথায় প্রভু? এলিয়র ঈশ্বর কই?”
14যে মূহুর্তে শালটা গিয়ে জলে পড়ল, জলরাশি দুভাগ হয়ে গেল, আর ইলীশায় হেঁটে নদী পার হলেন!
ভাববাদীরা এলিয়কে চাইল
15ভাববাদীদের সেই দলটি যখন যিরীহোতে ইলীশায়কে দেখতে পেলেন, তাঁরা বললেন, “এলিয়র আত্মা এখন ইলীশায়ের ওপরে ভর করেছেন!” তারপর তাঁরা ইলীশায়ের কাছে এলেন এবং তাঁর সামনে মাথা নত করলেন। 16তাঁরা তাঁকে বললেন, “দেখুন, আমাদের নিয়ে এখানে 50 জন লোক আছে, তারা সবাই যোদ্ধার জাত। আপনি যদি অনুমতি করেন, ওরা আপনার মনিবের খোঁজে যাবে। হয়তো প্রভুর আত্মা আপনার মনিবকে তুলে নিয়েছে এবং কোন পর্বতের ওপর বা কোন উপত্যকায় ফেলে গেছেন!”
কিন্তু ইলীশায় বললেন, “না না, ওঁর খোঁজে কাউকে পাঠানোর প্রয়োজন নেই!”
17কিন্তু ভাববাদীদের সেই শিষ্যদের দল ইলীশায়কে এমন ভাবে মিনতি করতে লাগলো যে তিনি হতবুদ্ধি হয়ে পড়লেন। তারপর তিনি বললেন, “ঠিক আছে। এলিয়কে খুঁজতে কাউকে পাঠাও।”
ভাববাদীদের দলটি এলিয়কে খুঁজে বার করবার জন্য 50 জন শিষ্যকে পাঠিয়ে দিলেন। তিনদিন খোঁজাখুজির পরেও তাঁরা এলিয়কে খুঁজে পেলেন না। 18অতএব তাঁরা যিরীহোতে থাকাকালীন সময়ে ইলীশায়ের কাছে ফিরে গেলেন এবং তাঁকে এখবর দিলেন। ইলীশায় তাদের বললেন, “আমি তো আগেই তোমাদের যেতে বারণ করেছিলাম।”
ইলীশায় জল শুদ্ধ করলেন
19শহরের লোকরা এসে ইলীশায়কে বলল, “মহাশয় আপনি তো দেখতেই পাচ্ছেন যে এটি শহরের জন্য একটি উত্তম জায়গা। কিন্তু এখানকার জল খুবই খারাপ এবং জমি সুফলা নয়।”
20ইলীশায় বললেন, “একটা নতুন বাটিতে করে আমাকে কিছুটা লবণ এনে দাও।”
লোকরা কথা মতো ইলীশায়কে বাটি এনে দিতে, 21ইলীশায় সেটাকে জলের উৎসের কাছে নিয়ে গেলেন, লবণটা তাতে ফেলে দিলেন এবং বললেন, “প্রভু যা বলেন তা হল এই: ‘আমি এই জল পবিত্র করলাম! এরপর থেকে এই জল খেলে আর কারো মৃত্যু হবে না। এই জমিতেও এবার থেকে ফসল হবে।’”
22ইলীশায়ের কথা মতো তখন সেই জল বিশুদ্ধ হয়ে গেল এবং আজ পর্যন্ত তা সে রকমই আছে!
ইলীশায়কে নিয়ে কিছু ছেলের মস্করা
23সেখান থেকে ইলীশায় বৈথেল শহরে গেলেন। তিনি যখন শহরে যাবার জন্য পর্বত পার হচ্ছিলেন তখন শহর থেকে একদল বালক বেরিয়ে এসে তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা শুরু করলো। তারা ইলীশায়কে বিদ্রূপ করল এবং বললো, “এই যে টাকমাথা, তাড়াতাড়ি কর! তাড়াতাড়ি পর্বতে ওঠ! টেকো!”
24ইলীশায় মাথা ঘুরিয়ে তাদের দিকে দেখলেন, তারপর প্রভুর নামে তাদের অভিশাপ দিলেন। তখন জঙ্গল থেকে হঠাৎ দুটো বিশাল ভাল্লুক বেরিয়ে এসে সেই 42 জন বালককে তীব্র ভাবে ক্ষত-বিক্ষত করে দিল।
25ইলীশায় বৈথেল থেকে কর্ম্মিল পর্বত হয়ে শমরিয়াতে ফিরে গেলেন।
3যিহোরাম ইস্রায়েলের রাজা হলেন
1যিহূদায় যিহোশাফটের রাজত্বের 18তম বছরে আহাবের পুত্র যিহোরাম, শমরিয়ায় ইস্রায়েলের রাজা হয়ে বসলেন। তিনি 12 বছর রাজত্ব করেছিলেন। 2যিহোরাম প্রভুর চোখের সামনে মন্দ কাজ করেছিলেন! তবে তিনি তাঁর পিতা বা মাতার মতো ছিলেন না, কারণ তাঁর পিতা বাল মূর্ত্তির আরাধনার জন্য যে স্মরণস্তম্ভ তৈরী করেছিলেন, তিনি সেটা সরিয়ে দিয়েছিলেন। 3কিন্তু তিনি পাপ কাজ চালিয়ে গেলেন যা নবাটের পুত্র যারবিয়াম করেছিলেন। যারবিয়াম ইস্রায়েলকে পাপ কাজ করতে বাধ্য করেছিলেন। যিহোরাম এই পাপ আচরণ বন্ধ করেন নি।
মোয়াব ইস্রায়েল থেকে আলাদা হল
4মোয়াবের রাজা মেশা ছিলেন একজন মেষ বংশ বৃদ্ধিকারক। মেশা ইস্রায়েলের রাজাকে 100,000 মেষ ও 100,000 পুরুষ মেষের উল দিতেন। 5কিন্তু আহাবের মৃত্যুর পর মোয়াবের রাজা ইস্রায়েলের রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন।
6তখন রাজা যিহোরাম শমরিয়া থেকে গিয়ে ইস্রায়েলের সমস্ত বাসিন্দাদের জড়ো করলেন এবং 7যিহোরাম যিহূদার রাজা যিহোশাফটের কাছে বার্তাবাহক পাঠিয়ে বললেন, “মোয়াবের রাজা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। আপনি কি আমার সঙ্গে মোয়াবের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেবেন?”
যিহোশাফট বললেন, “হ্যাঁ! আমাদের দুজনের সেনাবাহিনী সম্মিলিত ভাবে যুদ্ধ করবে। আমার লোক, ঘোড়া এসবও আপনার।”
তিন জন রাজা ইলীশায়ের পরামর্শ চাইলেন
8যিহোশাফট যিহোরামকে প্রশ্ন করলেন, “আমরা কোন্ পথে যাবো?”
যিহোরাম বললেন, “আমরা ইদোমের মরুভূমির মধ্যে দিয়ে যাবো।”
9ইস্রায়েলের রাজা তখন যিহূদা ও ইদোমের রাজার সঙ্গে যোগ দিলেন। তাঁরা প্রায় সাতদিন চললেন। পথে সেনাবাহিনী ও তাঁদের জন্তু জানোয়ারদের জন্য উপযুক্ত পরিমাণ জল তাঁরা পাননি। 10ইস্রায়েলের রাজা যিহোরাম বললেন, “আমার মনে হয়, মোয়াবীয়দের কাছে পরাজিত হবার জন্য প্রভু আমাদের তিন জন রাজাকে একত্রিত করেছেন!”
11যিহোশাফট বললেন, “প্রভুর কোন ভাববাদী কি এখানে চারপাশে নেই? আমরা কি করব তাঁকে জিজ্ঞেস করা যাক।”
তখন ইস্রায়েলের রাজার ভৃত্যদের একজন বললো, “শাফটের পুত্র ইলীশায়, যিনি এলিয়র শিষ্য ছিলেন, তিনি এখানে আছেন।”
12যিহোশাফট বললেন, “আমি শুনেছি প্রভু নিজে ইলীশায়ের মুখ দিয়ে কথা বলেন!”
তখন ইস্রায়েলের রাজা যিহোরাম, যিহোশাফট ও ইদোমের রাজা ইলীশায়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন।
13ইলীশায় ইস্রায়েলের রাজা যিহোরামকে প্রশ্ন করলেন, “আমি আপনার জন্য কি করতে পারি? আপনি কেন আপনার পিতামাতার ভাববাদীর কাছেই যাচ্ছেন না?”
তখন ইস্রায়েলের রাজা ইলীশায়কে বললেন, “না, আমরা আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি, কারণ মোয়াবীয়দের কাছে হেরে যাবার জন্যই প্রভু আমাদের তিন জন রাজাকে এনে একত্রিত করেছেন।”
14ইলীশায় বললেন, “আমি সর্বশক্তিমান প্রভুর সেবক। তবে আমি যিহূদার রাজা যিহোশাফটকে শ্রদ্ধা করি বলেই এখানে এসেছি। যিহোশাফট এখানে না থাকলে, আমি আপনার দিকে হয়ত মনোযোগ দিতাম না। 15যাই হোক্ এখন আমার কাছে এমন একজনকে নিয়ে আসুন যে বীণা বাজাতে পারে।”
বীণাবাদক এসে বীণা বাজাতে শুরু করলে প্রভুর শক্তি ইলীশায়ের ওপর এসে ভর করল। 16তখন ইলীশায় বলে উঠলেন, “প্রভু বলেন, ‘নদীর তলদেশ খাতময় করে দাও।’ 17তোমরা কোন বাতাস বা বাদলা দেখতে না পেলেও, জলে ভরে উঠবে সমভূমি। তখন তোমরা আর তোমাদের গরু, বাছুর এবং অন্যান্য জন্তু-জানোয়ার খাবার জল পাবে। 18প্রভুর পক্ষে এটি খুব সহজ, তিনি তোমাদের জন্য মোয়াবীয়দের পরাজিত করবেন। 19প্রত্যেকটা সুদৃঢ়, শক্ত-পোক্ত আর ভালো শহর তোমরা আক্রমণ করবে। কেটে ফেলবে প্রত্যেকটা সতেজ-সবল গাছ। প্রত্যেকটা ঝর্ণার উৎস বন্ধ করে দেবে আর পাথর ছুঁড়ে ছুঁড়ে নষ্ট করবে প্রত্যেকটা ভালো ক্ষেত।”
20সকাল হলে, প্রভাতী বলিদানের সময়ে ইদোমের দিক থেকে জল এসে সমভূমি ভরিয়ে দিল।
21মোয়াবের লোকরা শুনতে পেল, রাজারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছেন। তখন তারা মোয়াবে বর্ম পরার মতো বয়স যাদের হয়েছে তাদের সবাইকে এক জায়গায় জড়ো করে যুদ্ধ বাধার জন্য সীমান্তে অপেক্ষা করে থাকলো। 22মোয়াবের লোকরা সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে সমতল ভূমির উপর জল দেখতে পেল। সূর্যকে পূব আকাশের রাঙা আলোয় রক্তের মত লাল দেখাচ্ছিল। 23তারা সমস্বরে বলে উঠল, “দেখ, দেখ রক্ত! রাজারা নিশ্চয়ই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মারা পড়েছে। চল এবার আমরা গিয়ে ওদের গা থেকে দামী জিনিসগুলো নিয়ে নিই!”
24মোয়াবীয়রা ইস্রায়েলীয়দের কাছে আসতেই ইস্রায়েলীয়রা মোয়াবীয় সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করলো। মোয়াবীয়রা তাদের থেকে দৌড়ে পালিয়ে গেল, কিন্তু ইস্রায়েলীয়রা তাদের ধাওয়া করে যুদ্ধ করল। 25একের পর এক শহর ধ্বংস করে তারা সমস্ত ঝর্ণার মুখ বন্ধ করে দিল। তারা উর্বর ক্ষেত পাথর ছুঁড়ে ছুঁড়ে ভর্ত্তি করে দিল, সমস্ত সতেজ গাছ কেটে ফেলল। সারা পথ যুদ্ধ করতে করতে তারা কীর্ হরাসত পর্যন্ত গেল। তারা শহরটাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে অধিকার করল।
26মোয়াবের রাজা দেখলেন, তাঁর পক্ষে আর যুদ্ধ করা সম্ভব না। তারপর তিনি সবলে সৈন্যব্যূহ ভেদ করে ইদোমের রাজাকে হত্যা করবার জন্য তাঁর সঙ্গে 700 সৈনিক নিলেন। কিন্তু তারা ইদোমের রাজার ধারে কাছেও পৌঁছতে পারলো না। 27তখন মোয়াবের রাজা তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র যুবরাজকে শহরের বাইরে চারপাশের দেওয়ালের কাছে নিয়ে গিয়ে হোমবলি হিসেবে উৎসর্গ করলেন। এতে ইস্রায়েলীয়রা অত্যন্ত বিপর্য্যস্ত হল, তাই মোয়াবের রাজাকে ছেড়ে দিয়ে তারা তাদের দেশে ফিরে গেল।
4একজন ভাববাদীর বিধবা স্ত্রী ইলীশায়ের সাহায্য চাইলেন
1একজন বিবাহিত ভাববাদীর মৃত্যু হলে তার স্ত্রী এসে ইলীশায়ের কাছে কেঁদে পড়লো, “আমার স্বামী অনুগত ভৃত্যের মতো আপনার সেবা করেছেন। কিন্তু এখন তিনি মৃত! আপনি জানেন আমার স্বামী প্রভুকে সম্মান করেন কিন্তু তিনি একজন পুরুষের কাছে টাকা ধার করেছিলেন। এখন সেই মহাজন ক্রীতদাস বানানোর জন্য আমার দুই পুত্রকে নিতে আসছে।”
2ইলীশায় জিজ্ঞেস করলেন, “কিন্তু আমি কি করে তোমায় সাহায্য করবো? তোমার বাড়িতে কি আছে বলো?”
সেই স্ত্রীলোকটি বললো, “আমার বাড়িতে এক জালা তেল ছাড়া আর কিছুই নেই।”
3তখন ইলীশায় বললেন, “যাও তোমার পাড়া প্রতিবেশীদের কাছ থেকে যতো পারো খালি বাটি জোগাড় করে নিয়ে এসো। 4তারপর বাড়ি গিয়ে সমস্ত দরজা বন্ধ করে দাও, ঘরে যেন তুমি আর তোমার পুত্ররা ছাড়া কেউ না থাকে। এরপর ঐ জালা থেকে তেল ঢেলে প্রত্যেকটা বাটি ভর্ত্তি করে আলাদা আলাদা জায়গায় সরিয়ে রাখো।”
5তখন সেই স্ত্রীলোকটি বাড়ী ফিরে গিয়ে সমস্ত দরজা বন্ধ করে দিল। সে আর তার পুত্ররাই শুধুমাত্র ঘরে ছিল। পুত্ররা একটার পর একটা বাটি আনছিল। 6স্ত্রীলোকটি সেগুলোতে তেল ঢালছিল। এমনি করে করে বহু পাত্র ভরা হল। অবশেষে সে তার পুত্রদের বললো, “আমাকে আর একটি বাটি এনে দাও।”
তার এক পুত্র তাকে বললো, “আর তো বাটি নেই।” তৎক্ষণাৎ জালার তেল ফুরিয়ে গেল।
7স্ত্রীলোকটি গিয়ে ঈশ্বরের লোক, ইলীশায়কে একথা জানালো। ইলীশায় তাকে বললেন, “যাও, তেল বিক্রি করে দেনা মিটিয়ে ফেলো। যা বাকী টাকা থাকবে তাতে তোমার আর তোমার পুত্রদের জন্য যথেষ্ট হবে।”
শূনেমের এক মহিলা ইলীশায়কে থাকতে ঘর দিল
8ইলীশায় যখন একদিন শূনেমে যান, সেখানকার এক ধনবতী মহিলা তাঁকে নিজের বাড়িতে খাবার জন্য নেমন্তন্ন করল। এরপর থেকে ইলীশায় ওখান দিয়ে গেলেই ঐ মহিলার বাড়িতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করতেন।
9সেই মহিলা তাঁর স্বামীকে বলল, “আমি জানি ইনি ঈশ্বরের একজন পবিত্র মানুষ। সব সময়ই তিনি আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে যাতায়াত করেন। 10চলো না, ওঁর জন্য ছাদে একটা ছোটো ঘর তুলে দিই। সেখানে একটা বিছানা, টেবিল, চেয়ার আর বাতিদান রেখে দেব। তাহলে এরপর যখন তিনি আমাদের বাড়ি আসবেন ঐ ঘরখানা নিজের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন।”
11এক দিন ইলীশায় এই মহিলার বাড়ীতে এলেন, তিনি কক্ষে গিয়ে বিশ্রাম নিলেন। 12ইলীশায় তাঁর ভৃত্য গেহসিকে বললেন, “ঐ শূনেমীয় মহিলাটিকে ডাক।”
ভৃত্যটি মহিলাকে ডেকে আনার পর, সে সামনে দাঁড়ালে ইলীশায় 13তাঁর ভৃত্যকে বললেন, “ওকে বলো, ‘দেখো তুমি আমাদের দুজনের যত্ন নেবার জন্য তোমার যথাসাধ্য করেছো। এখন আমরা তোমার জন্য কি করতে পারি? আমরা কি তোমার হয়ে রাজা বা সেনাপতির কাছে কিছু বলবো?’”
তখন মহিলা উত্তর দিল, “আমি এখানে আমার আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে দিব্যি আছি।”
14ইলীশায় তখন গেহসিকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমরা তাহলে ওর জন্য কি করতে পারি?”
গেহসি উত্তর দিলো, “দাঁড়ান, আমি যতদূর জানি এই মহিলার কোনো পুত্র নেই আর ওঁর স্বামীরও যথেষ্ট বয়স হয়েছে।”
15ইলীশায় বললেন, “ওকে ডেকে নিয়ে এসো।” গেহসি তখন সেই মহিলাকে ডাকতে গেলো। মহিলা এসে দরজার কাছে দাঁড়ালে 16গেহসি তাকে বলল, “প্রায় একই সময়, আগামী বছর তুমি তোমার নিজের পুত্রকে আদর করবে।”
একথা শুনে মহিলাটি বলল, “হে প্রভু, আমার সঙ্গে মিথ্যে ছলনা করবেন না!”
শূনেমের মহিলার একটি সন্তান লাভ
17ইলীশায়ের কথা মতোই, পরের বছর সেই মহিলা তার পুত্র সন্তানের জন্ম দিল।
18ছেলেটি বড় হবার পর একদিন মাঠে তার পিতার ও অন্যদের সঙ্গে শস্য কাটা দেখতে গেল। 19সেখানে গিয়ে ছেলেটা হঠাৎ বলে উঠল, “ওফ্ আমার বড্ড মাথা ব্যথা করছে!”
তার পিতা ভৃত্যদের বলল, “ওকে তাড়াতাড়ি ওর মায়ের কাছে নিয়ে যাও!”
20ভৃত্যরা ছেলেটিকে তার মায়ের কাছে নিয়ে যাবার পর ও দুপুর পর্যন্ত মায়ের কোলে বসে থেকে তারপর মারা গেল।
মহিলাটি ইলীশায়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন
21মহিলাটি তখন মৃত ছেলেটিকে ইলীশায়ের ঘরে তাঁর বিছানায় শুইয়ে দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে এল। 22স্বামীকে ডেকে বলল, “ওগো, আমায় একটা গাধা আর একজন ভৃত্য দাও। আমি একবার তাড়াতাড়ি ঈশ্বরের লোকের কাছ থেকে ঘুরে আসি।”
23মহিলার স্বামী বলল, “আজ কেন ওঁর কাছে যেতে চাইছো? আজ তো অমাবস্যাও নয়, বিশ্রামের দিনও নয়।”
সে স্বামীকে বলল, “কিছু ভেবো না, সব ঠিক হয়ে যাবে।”
24তারপর গাধার পিঠে জিন চাপিয়ে মহিলা তার কাজের লোককে বলল, “চলো এবার তাড়াতাড়ি যাওয়া যাক! কেবল মাত্র যখন আমি বলব তখন ধীরে যেও!”
25ইলীশায়ের সঙ্গে দেখা করতে মহিলা কর্মিল পর্বতে গেল।
ইলীশায় দূর থেকে শূনেমীয় মহিলাকে আসতে দেখে তাঁর ভৃত্য গেহসিকে বললেন, “দেখো, সেই শূনেমীয় মহিলা আসছেন! 26তুমি তাড়াতাড়ি দৌড়ে গিয়ে খোঁজ নাও তো, ‘কি হল সব ঠিক আছে তো? তোমার স্বামী কেমন আছে? বাচ্চাটার শরীর ভালো আছে তো?’”
গেহসি মহিলাকে এসব জিজ্ঞেস করতে সে বলল, “সবই ঠিকঠাক আছে।”
27তারপর পাহাড়ের ওপরে ইলীশায়ের সামনে নত হয়ে তাঁর পা জড়িয়ে ধরলেন। গেহসি মহিলাকে ছাড়িয়ে নিতে গেলে ইলীশায় বললেন, “ওকে কিছু ক্ষণ আমার সঙ্গে একা থাকতে দাও! ও খুবই ভেঙ্গে পড়েছে। আর প্রভুও আমাকে এখবর দেন নি, আমার কাছে গোপন করেছিলেন।”
28তখন সেই শূনেমীয় মহিলা বলল, “আমি তো আপনার কাছে কখনও কোন পুত্র চাইনি। আমি তো আপনাকে বলেছিলাম, ‘আমার সঙ্গে ছলনা করবেন না!’”
29একথা শুনে, ইলীশায় গেহসিকে বললেন, “কোমর বেঁধে তৈরি হও, আমার লাঠিটা নাও এবং এক্ষুনি যাও। পথে কারো সঙ্গে কথা বলার জন্য থেমো না। যদি কারো সঙ্গে দেখা হয়, কি কেমন পর্যন্ত বলার দরকার নেই। তোমাকেও কেউ বললে, কোন উত্তর দেবে না। মহিলার বাড়িতে পৌঁছে আমার লাঠিটা বাচ্চাটার মুখে ছুঁইয়ে দিও।”
30কিন্তু ছেলেটির মা বলল, “আমি জীবন্ত প্রভু এবং আপনার নামে শপথ করে বলছি: আমি আপনাকে ছেড়ে যাব না!”
তাই ইলীশায় উঠে দাঁড়ালেন এবং তাকে অনুসরণ করলেন।
31এদিকে গেহসি মহিলা ও ইলীশায়ের আগে আগে বাড়িতে এসে সেই লাঠিটা নিয়ে বাচ্চাটার মুখে ছোঁয়ালো, কিন্তু তাতে কোন জীবনের লক্ষণ দেখা গেল না। গেহসি তখন ফিরে এসে ইলীশায়কে বলল, “ছেলেটা তো উঠল না প্রভু!”
শূনেমীয় মহিলাটির পুত্র আবার বেঁচে উঠল
32ইলীশায় বাড়ির ভেতর তাঁর ঘরে গিয়ে দেখলেন, মৃত শিশুটিকে তাঁরই বিছানায় শোওয়ানো আছে। 33ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলেন ইলীশায়। এখন সেখানে শুধু তিনি আর সেই মৃত ছেলেটি, এরপর তিনি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন। 34তারপর বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লেন সেই মৃত ছেলেটির দেহের ওপর। তিনি ছেলেটির মুখের ওপর নিজের মুখ রাখলেন, তার চোখের ওপর নিজের চোখ এবং তার হাতের ওপর নিজের হাত রাখলেন। এভাবে ঐ মৃত শরীরটা গরম হয়ে না ওঠা পর্যন্ত শুয়ে থাকলেন ইলীশায়।
35তারপর উঠে পড়ে ঘরটার চারপাশে কিছুক্ষণ হেঁটে আবার গিয়ে ঐ দেহের ওপর শুলেন তিনি। ওভাবেই তিনি শুয়ে থাকলেন, যত ক্ষণ না সাতবার হাঁচার পর চোখ মেলে উঠে বসল ছেলেটা।
36ইলীশায় গেহসিকে বললেন, “যাও গিয়ে ওর মাকে ডেকে নিয়ে এসো!”
গেহসি তাকে নিয়ে এলে, ইলীশায় বললেন, “ছেলেকে কোলে নাও।”
37তখন সেই মহিলা ঘরে ঢুকে ভক্তি ভরে ইলীশায়ের পায়ে প্রণাম করে ছেলেকে কোলে তুলে বেরিয়ে গেল।
ইলীশায় ও বিষ মেশানো ঝোল
38গিল্গলে তখন দুর্ভিক্ষ চলছিল। ইলীশায় আবার সেখানে গেলেন। ভাববাদীদের দলটি তাঁর সামনে বসে ছিল। ইলীশায় তাঁর ভৃত্যকে বললেন, “বড় পাত্রটা আগুনে বসিয়ে এদের জন্য একটু রান্না কর।”
39একজন মাঠে শাকসব্জি তুলতে গেল। মাঠে গিয়ে একটা ফলভরা জঙ্গলী লতা দেখতে পেয়ে লোকটা ফল ছিড়ে কোঁচড়ে বেঁধে নিয়ে এলো। তারপর সেই ফল কেটে পাত্রে দিয়ে দিল, যদিও ভাববাদীদের দল আদৌ জানতো না ওটা কি ধরণের ফল।
40ঝোল রান্না হলে পাত্রে কিছুটা ঢেলে সবাইকে খেতে দেওয়া হল। কিন্তু সকলে সেই ঝোল মুখে দিয়েই চিৎকার করে ইলীশায়কে বলল, “ঈশ্বরের লোক! পাত্রে বিষ মেশানো আছে!” ঝোলের স্বাদ বিষাক্ত হওয়ায় ওরা কেউই তা খেতে পারলো না।
41ইলীশায় তখন কিছুটা ময়দা আনতে বললেন। ময়দা আনা হলে, তিনি সেই ময়দা পাত্রে ছুঁড়ে দিয়ে বললেন, “এবার ঐ ঝোল সবাইকে খেতে দাও।”
আর আশ্চর্য ব্যাপার, ঝোলটা বেশ খাবার যোগ্য হয়ে গেল।
ইলীশায় ভাববাদীদের দলকে খাওয়ালেন
42বাল্-শালিশা থেকে একজন ইলীশায়ের জন্য নবান্নের ফসল হিসেবে 20 খানা যবের রুটি আর ঝোলা ভরে শস্য উপহার নিয়ে এসেছিল। ইলীশায় বললেন, “এইসব খাবার এখানে যারা আছে তাদের খেতে দাও।”
43ইলীশায়ের ভৃত্য বললো, “এখানে প্রায় 100 জন লোক আছে। এত জন লোককে আমি এইটুকু খাবার কি করে দেব?”
কিন্তু ইলীশায় বললেন, “আমি বলছি তুমি খেতে দাও। প্রভু বলছেন, ‘সবাই খাওয়ার পরেও খাবার পড়ে থাকবে।’”
44তখন ইলীশায়ের ভৃত্য সেই সব খাবার নিয়ে ভাববাদীদের সামনে ধরলো। তাদের পেট ভরে খাওয়ানোর পরেও, প্রভু যেমন বলেছিলেন দেখা গেল তখনও খাবার পড়ে আছে।
5নামানের সমস্যা
1অরামের রাজার সেনাপতি ছিল নামান। রাজার কাছে নামান ছিল একজন মহান এবং খুব শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি, কারণ প্রভু সব সময় তাঁর মাধ্যমে অরামকে বিজয়ের পথে নিয়ে যেতেন। নামান খুবই শক্তিশালী ও মহান হলেও তিনি কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত ছিলেন।
2অরামীয়রা বহুবার ইস্রায়েলে যুদ্ধ করতে সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিল। এইসব সেনারা এখানকার লোকদের ক্রীতদাস করেও নিয়ে গিয়েছে। একবার তারা ইস্রায়েল থেকে একটা বাচ্চা মেয়েকে তুলে নিয়ে যায়। কালক্রমে এই ছোট মেয়েটি নামানের স্ত্রীর এক দাসীতে পরিণত হয়। 3মেয়েটি নামানের স্ত্রীকে বলল, “মনিব শমরিয়ায় বাসকারী ভাববাদীর সঙ্গে দেখা করলে তিনি নিশ্চয়ই তাঁর কুষ্ঠরোগ সারিয়ে দিতেন।”
4নামান তাঁর মনিবকে (অরামের রাজাকে) গিয়ে ইস্রায়েলীয় মেয়েটা কি বলেছে তা বললেন।
5তখন অরামের রাজা বললেন, “ঠিক আছে, তুমি এখনই যাও। আমি ইস্রায়েলের রাজাকে একটা চিঠি দিচ্ছি।”
নামান তখন 750 পাউণ্ড রূপো, 6000 টুকরো সোনা আর দশ প্রস্থ পোশাক উপহার স্বরূপ নিলেন এবং ইস্রায়েলে গেলেন। 6নামানের সঙ্গে ইস্রায়েলের রাজাকে লেখা অরামের রাজার চিঠিও ছিল যাতে লেখা ছিল, “আমি আমার সেবক নামানকে কুষ্ঠরোগ সারানোর জন্য আপনার কাছে পাঠালাম।”
7চিঠিটা পড়ে ইস্রায়েলের রাজা মনোকষ্টে তাঁর পোশাক ছিঁড়ে ফেলে বললেন, “আমি তো আর ঈশ্বর নই! জীবন-মৃত্যুর ওপর আমার যখন কোন হাত নেই, তখন কেন অরামের রাজা কুষ্ঠরোগাক্রান্ত একজনকে আমার কাছে সারিয়ে তোলার জন্য পাঠালেন? এটা খুবই স্পষ্ট যে তিনি একটি যুদ্ধ বাধাবার পরিকল্পনা করছেন!”
8ঈশ্বরের লোক ইলীশায় খবর পেলেন শোকার্ত ইস্রায়েলের রাজা তাঁর পোশাক ছিঁড়ে ফেলেছেন। তখন তিনি রাজাকে খবর পাঠালেন: “তুমি কেন পোশাক ছিঁড়ে কষ্ট পাচ্ছ? নামানকে আমার কাছে আসতে দাও, তাহলে ও বুঝবে ইস্রায়েলে সত্যি সত্যিই একজন ভাববাদী বাস করে!”
9নামান তখন তাঁর রথ ও ঘোড়া নিয়ে ইলীশায়ের বাড়ির বাইরে এসে দাঁড়ালেন। 10ইলীশায় একজনকে দিয়ে খবর পাঠালেন, “যাও যর্দন নদীতে গিয়ে সাত বার স্নান করো, তাহলেই তোমার চামড়া ঠিক হয়ে যাবে আর তুমিও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠবে।”
11নামান খুবই ক্রুদ্ধ হয়ে চলে গেলেন। তিনি বললেন, “আমি ভেবেছিলাম একবার অন্তত ইলীশায় বাইরে এসে তাঁর প্রভু ঈশ্বরের নাম নিয়ে আমার গায়ের ওপর হাত নেড়ে আমার কুষ্ঠরোগ সারিয়ে তুলবেন! 12দম্মেশকের অবানা আর পর্পর নদীর জল ইস্রায়েলের যে কোন জলের থেকেই ভালো! ওই সব নদীতে গা ধুলে কেন হবে না?” নামান প্রচণ্ড রেগে গিয়ে ফিরে যাবেন বলে ঠিক করলেন।
13কিন্তু নামানের ভৃত্যরা তাঁকে গিয়ে বললো, “মনিব, ভাববাদী যদি আপনাকে খুব শক্ত কিছু বলতেন, আপনি নিশ্চয়ই তা শুনতেন, তাই না? উনি যখন আপনাকে খুব সহজ একটা কাজ বলেছেন, সেটা অবশ্যই করা উচিৎ। উনি তো বলেই ছিলেন, ‘ধুলেই তুমি শুচি হয়ে যাবে।’”
14নামান তখন ইলীশায়ের কথামতো, যর্দন নদীর জলে সাতবার ডুব দিলেন এবং নামানের দেহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও নিরাময় হয়ে উঠল। একেবারে শিশুদের ত্বকের মতোই নরম হয়ে গেল!
15নামান আর তাঁর দলের সবাই তখন ইলীশায়ের কাছে ফিরে এলেন। ইলীশায়ের সামনে দাঁড়িয়ে নামান বললেন, “এতদিনে আমি বুঝলাম ইস্রায়েল ছাড়া পৃথিবীতে আর কোথাও কোন ঈশ্বর নেই! এখন আপনি অনুগ্রহ করে আমার কাছ থেকে একটা উপহার গ্রহণ করুন!”
16কিন্তু ইলীশায় বললেন, “আমি প্রভুর সেবা করি এবং আমার প্রতিজ্ঞা, যতদিন প্রভু আছেন আমি কোন উপহার নিতে পারব না।”
নামান উপহার নেবার জন্য ইলীশায়কে অনেক অনুনয় বিনয় করেও টলাতে পারলেন না। 17তখন নামান বললেন, “আপনি যখন নিতান্তই কোন উপহার নেবেন না, অন্তত আমাকে ইস্রায়েল থেকে দু-টুকরি এখানকার ধূলো আমার দুটো খচ্চরের পিঠে চাপিয়ে নিয়ে যেতে অনুমতি দিন। কারণ এরপর থেকে আমি আর কোন মূর্ত্তিকেই হোমবলি বা কোন নৈবেদ্য দেব না। আমি শুধুমাত্র প্রভুকেই বলিদান করব। 18আর আমি আগে থাকতেই ক্ষমা চেয়ে প্রভুর কাছে প্রার্থনা করে নিচ্ছি: ভবিষ্যতে আমার মনিব অরামরাজ যখন রিম্মোণের মন্দিরের মূর্ত্তিকে পূজো দিতে যাবেন, তাঁর ওপর ভর নামবে বলে আমায় সেখানে মাথা নীচু করতেই হবে। কিন্তু প্রভু যেন সেজন্য আমাকে ক্ষমা করেন।”
19ইলীশায় তখন নামানকে আশীর্বাদ করে বললেন, “যাও সুখে শান্তিতে থাকো।”
নামান যখন ইলীশায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কিছু দূর গিয়েছেন, 20ইলীশায়ের ভৃত্য গেহসি বলল, “দেখেছো, আমার প্রভু কোন উপহার না নিয়েই অরামীয় নামানকে ছেড়ে দিলেন। আমি বরঞ্চ এই বেলা গিয়ে ওর কাছ থেকে কিছু হাতানোর ব্যবস্থা করি!” 21এই বলে গেহসি নামানের পেছন পেছন দৌড়তে লাগল।
নামান যখন দেখতে পেলেন একজন কেউ ছুটতে ছুটতে আসছে তিনি তখন রথ থেকে নেমে গেহসিকে প্রশ্ন করলেন, “কি, সব ঠিক আছে তো?”
22গেহসি বললো, “হ্যাঁ সব ঠিকই আছে। আমার মনিব আমাকে বলে পাঠালেন, ‘ইফ্রয়িমের পার্বত্য অঞ্চলের ভাববাদীদের দলের দুজন এসেছে। অনুগ্রহ করে তাদের যদি 75 পাউণ্ড রূপো আর দু-প্রস্থ পোশাক-আশাক দাও তো বড়-ভালো হয়।’”
23একথা শুনে নামান বললেন, “75 পাউণ্ড কেন? 150 পাউণ্ড নাও!” তারপর নামান দুটো বস্তায় 150 পাউণ্ড রূপো ভরে, তার সঙ্গে দু-প্রস্থ জামাকাপড় দিয়ে জোর করে তাঁর দুজন ভৃত্যকে গেহসির সঙ্গে পাঠালেন। 24ভৃত্যরা এইসব জিনিস বয়ে পাহাড় পর্যন্ত নিয়ে আসার পর, গেহসি জিনিসগুলি নিয়ে ওদের ফেরৎ পাঠিয়ে দিল। তারপর ও এই সমস্ত জিনিস বাড়িতে লুকিয়ে রাখলো।
25গেহসি এসে মনিবের সামনে দাঁড়ানোর পর ইলীশায় জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কোথায় গিয়েছিলে?”
গেহসি উত্তর দিল, “কোথাও না তো।”
26ইলীশায় তখন বললেন, “শোন, নামান যখন রথ থেকে নেমে তোমার সঙ্গে দেখা করে, তখন আমার হৃদয় তোমার সঙ্গে ছিল, এটা টাকাপয়সা, জামাকাপড়, জলপাই কুঞ্জ, দ্রাক্ষা ক্ষেত, গরু, মেষ, দাস-দাসী নেবার সময় নয়। 27এখন নামানের রোগ তোমার আর তোমাদের উত্তরপুরুষদের হবে। তোমাদের কুষ্ঠ হবে।”
গেহসি যখন ইলীশায়ের কাছ থেকে চলে গেল, তখন ওর গায়ের চামড়া বরফের মত সাদা হয়ে গেল।
6ইলীশায় আর কুড়ুলের বৃত্তান্ত
1তরুণ ভাববাদীরা ইলীশায়কে বলল, “আমরা ওখানে যে জায়গায় থাকি সেটা আমাদের পক্ষে বড্ড ছোট। 2চলুন যর্দন নদীর তীর থেকে কিছু কাঠ কেটে আনা যাক। আমরা প্রত্যেকে একটা করে গুঁড়ি নিয়ে এসে ওখানেই একটা থাকার জায়গা বানানো যাক।”
ইলীশায় বললেন, “বেশ তো, যাও না।”
3ওদের একজন বললো, “আপনিও চলুন না আমাদের সঙ্গে।”
ইলীশায় বললেন, “ঠিক আছে, চলো আমিও যাচ্ছি।”
4ইলীশায় তখন ওদের সঙ্গে যর্দন নদীর তীরে গেলেন। সেখানে গিয়ে তরুণ ভাববাদীরা সবাই গাছ কাটতে শুরু করলো। 5গাছ কাটার সময় একজনের কুড়ুলের লোহার ডগাটা হাতল থেকে পিছলে গিয়ে একেবারে জলে গিয়ে পড়লো। লোকটা চেঁচিয়ে উঠলো, “যাঃ! এখন কি হবে? প্রভু, আমি যে অন্য লোকের কুড়ুল ধার করে এনেছিলাম!”
6ইলীশায় জিজ্ঞেস করলেন, “ঠিক কোথায় পড়েছে ওটা?”
লোকটা ইলীশায়কে জায়গাটা দেখানোর পর, তিনি একটা ছড়ি কেটে সেটা জলে ছুঁড়ে ফেললেন। এতে কুড়ুলের মাথাটা সেই ছড়ির সঙ্গে ভেসে উঠলো! 7ইলীশায় বললেন, “যাও ওটা তুলে নাও এবার।” কৃতজ্ঞ চিত্তে লোকটি কুড়ুলের মাথাটা তুলে নিল।
অরামের ইস্রায়েলকে ফাঁদে ফেলার চক্রান্ত
8অরামের রাজা ইস্রায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ করছিলেন। তিনি তাঁর সেনাবাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে একটি পরিষদীয় বৈঠক করলেন। তিনি বললেন, “আমি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় শিবির স্থাপন করব।”
9কিন্তু ঈশ্বরের লোকটি ইস্রায়েলের রাজাকে একটি খবর দিয়ে সতর্ক করে দিলেন, “ওখান দিয়ে যাতায়াত করো না! খুব সাবধান! কারণ ওখানে অরামীয় সেনাবাহিনীর লোকরা লুকিয়ে আছে!”
10খবর পেয়ে ইস্রায়েলের রাজা সঙ্গে সঙ্গে যে জায়গা সম্পর্কে ইলীশায় তাঁকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, তাঁর লোকদের জানিয়ে দিলেন এবং তিনি তাঁর বাহিনীর অনেকের জীবন রক্ষা করতে পারলেন।
11এঘটনায় অরামের রাজা খুবই বিচলিত হয়ে তাঁর সেনাবাহিনীর প্রধানদের এক বৈঠকে ডেকে বললেন, “এখানে ইস্রায়েলের হয়ে কে গুপ্তচরের কাজ করছে বল?”
12তখন অরামীয় সেনাপ্রধানদের একজন বললেন, “আমার মনিব এবং রাজা, আমাদের মধ্যে কেউই গুপ্তচর নয়! ইস্রায়েলের ভাববাদী ইলীশায়, ইস্রায়েলের রাজাকে অনেক গোপন খবরই দৈববলে জানিয়ে দিতে পারেন। এমন কি আপনি শোবার ঘরে যে সব কথাবার্তা বলেন তাও উনি জানতে পারেন!”
13অরামের রাজা বললেন, “আমি লোক পাঠাচ্ছি। এই ইলীশায়কে খুঁজে বার করতেই হবে!”
ভৃত্যরা রাজাকে খবর দিল, “ইলীশায় এখন দোথনে আছেন!”
14অরামের রাজা তখন রথবাহিনী, ঘোড়া ইত্যাদি সহ সেনাবাহিনীর একটা বড় দল দোথনে পাঠালেন। তারা রাতারাতি সেখানে এসে শহরটাকে চারপাশ দিয়ে ঘিরে ফেললো। 15সেই দিন, ঈশ্বরের লোকটির ভৃত্য খুব ভোরে উঠে পড়ল, বাইরে গিয়ে দেখে ঘোড়া রথসহ বিরাট এক সেনাবাহিনী শহরের চারপাশ ঘিরে আছে!
সে ছুটে গিয়ে ঈশ্বরের লোককে জিজ্ঞেস করল, “প্রভু আমরা এখন কি করব?”
16ইলীশায় বললেন, “ভয় পেও না! আমাদের জন্য যে সেনাবাহিনী যুদ্ধ করে তা অরামের সেনাবাহিনীর থেকে অনেক বড়!”
17ইলীশায় তারপর প্রার্থনা করে বললেন, “হে প্রভু, আমার ভৃত্যের চক্ষু উন্মিলীত কর যাতে ও দেখতে পায়।”
যেহেতু প্রভু সেই তরুণ ভৃত্যকে অলৌকিক দৃষ্টি দিলেন, ও দেখতে পেল, গোটা শহরটা শত সহস্র ঘোড়া আর আগুনের রথে ভরে রয়েছে! ইলীশায়কে ঘিরে আছে এই বাহিনী।
18এই সুবিশাল বাহিনী ইলীশায়ের আদেশের অপেক্ষায় নেমে এলে, তিনি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করে বললেন, “তুমি ঐসব সেনার দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নাও।”
ইলীশায়ের প্রার্থনা মতো প্রভু তখন অরামীয় সেনাবাহিনীর দৃষ্টিশক্তি হরণ করলেন। 19ইলীশায় অরামীয় সেনাবাহিনীকে ডেকে বললেন, “এটা সঠিক পথ বা শক্ত শহর নয়। আমার সঙ্গে সঙ্গে এসো। তোমরা যাকে খুঁজছো, আমি তোমাদের তার কাছে পৌঁছে দেব চল।” একথা বলে ইলীশায় তাদের শমরিয়ায় নিয়ে গেলেন।
20শমরিয়ায় পৌঁছনোর পর ইলীশায় বললেন, “প্রভু এবার ওদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দাও যাতে ওরা আবার দেখতে পায়।”
প্রভু তখন তাদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলে অরামীয় সেনাবাহিনী দেখলো তারা সকলে শমরিয়া শহরের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। 21ইস্রায়েলের রাজা অরামীয় সেনাবাহিনীকে দেখার পর ইলীশায়কে জিজ্ঞেস করলেন, “হে আমার পিতা, আমি কি এদের হত্যা করব?”
22ইলীশায় বললেন, “না, ওদের তুমি হত্যা করো না। যুদ্ধে তরবারি আর তীর-ধনুকের বলে যাদের তুমি বন্দী করবে, তাদের হত্যা করবে না। অরামীয় সেনাদের এখন রুটি আর জল পান করতে দাও। খাওয়া-দাওয়া হলে ওদের রাজার কাছে ওদের বাড়ীতে ফেরৎ পাঠিয়ে দিও।”
23তখন ইস্রায়েলের রাজা অরামীয় সেনাবাহিনীর জন্য অনেক খাবার বানালেন। অরামের সেনারা সে সব খাবার পর মহারাজ তাদের নিজেদের বাড়িতে ফেরৎ পাঠিয়ে দিলেন। অরামীয় সেনাবাহিনী তাদের মনিবের কাছে দেশে ফিরে গেল। এরপর আর কখনও অরামীয়রা লুঠপাট চালানোর জন্য ইস্রায়েলে কোন সেনাবাহিনী পাঠায় নি।
শমরিয়ায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ
24এই ঘটনার পর, অরামের রাজা বিন্হদদ তাঁর সমস্ত সেনাবাহিনী জড়ো করে শমরিয়া শহরকে ঘেরাও করে আক্রমণ করতে যান। 25অরামীয় সেনারা লোকদের বাইরে থেকে শহরে খাবার আনতে দিচ্ছিল না। ফলে শমরিয়ায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ শুরু হল। খাবারের দাম এতো বেশী ছিল যে গাধার মাথা কিনতে দিতে হচ্ছিল 80 টুকরো রৌপ্য মুদ্রা, এমনকি ঘুঘু পাখীর বিষ্ঠাও বিক্রি হচ্ছিল পাঁচ টুকরো রৌপ্য মুদ্রায়।
26ইস্রায়েলের রাজা শহরের চারপাশের প্রাচীরের ওপর পায়চারি করছিলেন, হঠাৎ এক মহিলা চেঁচিয়ে উঠলো, “হে রাজন, দয়া করে আমার প্রাণ বাঁচান!”
27তখন ইস্রায়েলের রাজা বললেন, “প্রভু যদি নিজে তোমাকে রক্ষা না করেন, আমি কি করতে পারি বল? তোমাকে দেবার মতো আমার কিছুই নেই। এমনকি শস্য মাড়াইয়ের জমিতেও কোন শস্য নেই বা দ্রাক্ষা পেষার যন্ত্র থেকেও দ্রাক্ষারস নেই।” 28তা যাকগে, “তোমার সমস্যাটা কি বলো?”
মহিলা উত্তর দিলেন, “দেখুন ঐ মহিলাটি আমায় বলেছিল, ‘আজকে তোমার ছেলেটাকে দাও, মেরে খাওয়া যাক। কাল আমারটাকে খাওয়া যাবে।’ 29তখন আমরা আমার ছেলেটাকে সেদ্ধ করে খেলাম। আর পরের দিন আমি খাবার জন্য ওর ছেলেটাকে আনতে গিয়ে দেখি, ও ওর ছেলেটাকে লুকিয়ে ফেলেছে!”
30একথা শুনে রাজা অত্যন্ত মনোকষ্টে, শোক প্রকাশের জন্য নিজের পোশাক ছিঁড়ে ফেললেন। দেওয়ালের ওপর দিয়ে যাবার সময়, লোকরা দেখতে পেল মহারাজ তাঁর পোশাকের তলায় শোক প্রকাশের চটের জামা পরে আছেন।
31রাজা তখন মনে মনে বললেন, “এসবের পরেও যদি আজ বিকেল পর্যন্ত শাফটের পুত্র ইলীশায়ের ধড়ে মুণ্ডুটা আস্ত থাকে, তবে যেন ঈশ্বর আমাকে শাস্তি দেন!”
32রাজা ইলীশায়ের কাছে একজন বার্তাবাহক পাঠালেন। ইলীশায় আর প্রবীণরা তখন ইলীশায়ের বাড়ীতে এক সঙ্গে বসেছিলেন। ইলীশায় প্রবীণদের বললেন, “দেখো খুনীর বেটা রাজা, আমার মুণ্ডু কাটার জন্য লোক পাঠিয়েছে! দূত এলে দরজাটা বন্ধ করে দিও, ওকে কিছুতেই ভেতরে ঢুকতে দেবে না। ওর পেছন পেছন ওর মনিবের পায়ের আওয়াজ পাচ্ছি আমি!”
33ইলীশায় যখন এসব কথাবার্তা বলছেন, বার্তাবাহক খবরটা নিয়ে পৌঁছল। খবরটা হল: “প্রভু যখন স্বয়ং এই বিপদ ডেকে এনেছেন তখন আমি কেন আর প্রভুর ওপর বিশ্বাস রাখব?”
71ইলীশায় বললেন, “প্রভুর বার্তা শোন! প্রভু বলেন: ‘আগামীকাল এ সময়ের মধ্যেই শমরিয়া শহরের ফটকগুলোর পাশের বাজারে এক টুক্রি মিহি ময়দা অথবা দু টুক্রি যব কেবলমাত্র এক শেকেল দিয়ে কিনতে পাওয়া যাবে।’”
2রাজার ঠিক পাশেই যে সেনাপতি ছিল সে বলে উঠল, “প্রভু যদি স্বর্গে ছেঁদা করার ব্যবস্থাও করেন, তাহলেও আপনি যা বলছেন তা ঘটা অসম্ভব!”
ইলীশায় বললেন, “সম্ভব কি অসম্ভব তা তুমি নিজের চোখেই দেখতে পাবে। তবে তুমি ঐ খাবার ছুঁতেও পারবে না।”
কুষ্ঠরোগীরা দেখল অরামীয় শিবির শূন্য
3শহরের প্রবেশদ্বারের কাছে চার জন কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়েছিল। তারা একে অপরকে বলল, “এখানে আমরা না খেয়ে শুকিয়ে মরছি কেন? 4শমরিয়ায় তো একদানা খাবারও নেই। শহরে গেলেও আমরা মরব, এখানে থাকলেও মারা পড়ব। তার চেয়ে চল অরামীয়দের তাঁবুর দিকে যাওয়া যাক। ওরা চাইলে আমরা বেঁচেও যেতে পারি, আর নয়তো মরতে হবে।”
5কথা মতো সেদিন বিকেলবেলা কুষ্ঠরোগীরা অরামীয়দের তাঁবুতে গিয়ে উপস্থিত হল। তাঁবুর কাছাকাছি এসে ওরা দেখল, ধারে কাছে কেউই নেই! 6প্রভুর মহিমায়, অরামীয় সেনাবাহিনীর লোকরা বাইরে রথবাহিনী, ঘোড়া-টোড়া নিয়ে বিশাল এক সেনাবাহিনীর এগিয়ে আসার আওয়াজ শুনে ভেবেছিল, “নিশ্চয়ই ইস্রায়েলের রাজা হিত্তীয় আর মিশরীয় রাজাকে আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য ভাড়া করে এনেছে!”
7তাই অরামীয়রা সেদিন বিকেল-বিকেলই তাঁবু, ঘোড়া, গাধা সব কিছু পেছনে ফেলেই প্রাণের দায়ে পালিয়ে গেল।
শত্রুশিবিরে কুষ্ঠরোগী
8তারপর শত্রুশিবিরে এসে কুষ্ঠরোগীরা একটা তাঁবুতে ঢুকে প্রাণভরে খাওয়া-দাওয়া করল। তারপর চারজন মিলে তাঁবু থেকে সোনা, রূপো, পোশাক-আশাক বার করে নিয়ে সে সব লুকিয়ে রাখল। তারপর চার জন আরেকটা তাঁবু থেকেও এইভাবে জিনিসপত্র সরানোর পর বলাবলি করল, 9“আমরা খুব অন্যায় করছি। এতো বড় একটা সুখবর পাওয়ার পরেও আমরা চুপচাপ আছি। আমরা যদি এভাবে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খবরটা চেপে থাকি, আমাদের শাস্তি পেতে হবে। এখন চলো গিয়ে রাজবাড়ীর লোকদের খবরটা দেওয়া যাক।”
কুষ্ঠরোগীরা সুখবর দিল
10এই কুষ্ঠরোগীরা তখন এসে শহরের প্রহরীদের ডাকাডাকি শুরু করল। তারা প্রহরীদের বলল, “আমরা অরামীয়দের শিবিরে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে কাউকে দেখতে পেলাম না। এমন কি কারো কোন সাড়া-শব্দ অবধি পেলাম না। কোন লোক জন সেখানে নেই। কিন্তু তাঁবুর ভেতরে ঘোড়া, গাধা যেমনকার তেমন বাঁধা আছে। অথচ লোক জন কেউ নেই, সব ফাঁকা।”
11প্রহরীরা তখন চেঁচিয়ে রাজবাড়ীর লোকদের এখবর দিল। 12কিন্তু তখন রাত্রি। রাজামশাই বিছানা ছেড়ে উঠে সেনাপতিদের বললেন, “আমি অরামীয় সেনাদের মতলবটা বুঝতে পেরেছি। ওরা জানে আমরা খুবই ক্ষুধার্ত। তাই তাঁবু ফাঁকা করে ঘাপটি মেরে মাঠে লুকিয়ে ভাবছে, ‘ইস্রায়েলীয়রা শহর থেকে এসে হানা দিলেই ওদের জ্যান্ত পাকড়াবো। তখন আবার আমাদের পিছু হটতে হবে।’”
13রাজার একজন সেনাপতি বলল, “পাঁচটা ঘোড়া নিয়ে গিয়ে কয়েক জন ব্যাপারটা সরেজমিনে দেখেই আসুক না! ঐ পাঁচটা ঘোড়া তো আমাদের মতোই শেষ অবধি না খেয়ে মরবে। কিন্তু আসল কথাটা জানা দরকার।”
14তারা ঘোড়াসহ দুটি রথ বেছে নিল এবং রাজা তাদের অরামীয় সৈন্যবাহিনীর পরে পাঠালেন। তিনি বললেন, “যাও, দেখে এসো কি হয়েছে।”
15এরা যর্দন নদীর তীর পর্যন্ত অরামীয় সেনাদের সন্ধানে গিয়ে দেখল, সারাটা পথে জামাকাপড় আর অস্ত্র শস্ত্র ছড়িয়ে আছে। তাড়াহুড়ো করে পালানোর সময় অরামীয় সেনারা এই সমস্ত জিনিস ফেলে গেছে।
16সকলের জন্যই অপর্যাপ্ত জিনিসপত্র ছড়িয়ে আছে। ঠিক যেন প্রভু যেমনটি বলেছিলেন, এক পয়সায় এক টুক্রি মিহি ময়দা আর দু-টুক্রি যবের গুঁড়ো পাওয়া যাবে!
17রাজা তাঁর ঘনিষ্ঠ একজন সেনাপতিকে, সেই যিনি আগে স্বর্গ ছেঁদা করার কথা বলেছিলেন, শহরের দরজা আগলানোর দায়িত্ব দিলেন। কিন্তু ততক্ষণে লোকরা শত্রু শিবির থেকে খাবার আনার জন্য দৌড়েছে। উন্মত্ত জনতা সেই সেনাপতিকে ঠেলে, মাড়িয়ে, পিষে চলে গেল। রাজার বাড়ীতে দেখা করতে আসার পর ইলীশায় যা দৈববাণী করেছিলেন সে সবই অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেল। 18ইলীশায় বলেছিলেন, “যে কোন ব্যক্তি শমরিয়ার প্রবেশদ্বারে বাজার থেকে এক শেকেলে এক ঝুড়ি মিহি ময়দা অথবা দুই ঝুড়ি যব কিনতে পারে।” 19কিন্তু ঐ আধিকারিক ঈশ্বরের লোককে উত্তর দিল, “এমনকি প্রভু যদি স্বর্গে জানালা তৈরী করেন, তবু এ ঘটনা ঘটবে না!” এবং ইলীশায় আধিকারিককে বললেন, “তুমি তোমার নিজের চোখে দেখবে, কিন্তু ঐ খাবার তুমি খাবে না।” 20আধিকারিকের সঙ্গে একই ঘটনা ঘটল, লোকেরা তাকে ধাক্কা মেরে ফটকের উপর ফেলে তার উপর দিয়ে হেঁটে গেল এবং সে মারা গেল।
8রাজা ও শূনেমীয় মহিলাটি
1এক দিন ইলীশায় সেই মহিলাটিকে ডাকলেন যার পুত্রকে তিনি বাঁচিয়ে তুলেছিলেন। তাকে বললেন, “তুমি ও তোমার বাড়ীর সবাই এই দেশ ছেড়ে চলে যাও, কারণ প্রভুর ইচ্ছানুসারে এখানে এখন সাত বছর ধরে দুর্ভিক্ষ চলবে।”
2ভাববাদী ইলীশায়ের নির্দেশ মতো সেই মহিলা ও তার পরিবারের লোকরা দেশ ছেড়ে সাত বছর পলেষ্টীয়দের দেশে গিয়ে থাকল। 3তারপর সাত বছর সময় কেটে গেলে আবার সেখান থেকে ফিরে এল।
ফিরে আসার পর মহিলা মহারাজের কাছে তার জমি ও বাড়ি ফিরে পাবার ব্যাপারে সাহায্য প্রার্থনার জন্য কথাবার্তা বলতে যায়।
4মহারাজ তখন ইলীশায়ের ভৃত্য গেহসির সঙ্গে কথা বলছিলেন। তিনি গেহসিকে জিজ্ঞেস করছিলেন, “ইলীশায় যেসব অতিপ্রাকৃত ঘটনা ঘটিয়েছেন, তুমি আমাকে সে সবের কথা বল।”
5ইলীশায় কিভাবে এক মৃত ব্যক্তিকে জীবনদান করেছিলেন গেহসি মহারাজকে সে কথা বলছিল। সে সময় এই মহিলা, যার ছেলেকে ইলীশায় বাঁচিয়ে তুলেছিলেন, জমি ও বাড়ীর ব্যাপারে সাহায্য প্রার্থনা করতে রাজার সঙ্গে দেখা করতে গেল। তাকে দেখেই গেহসি বলে উঠল, “আমার মনিব এবং রাজা এ কি কাণ্ড! এই সেই মহিলা, আর ঐ সেই ছেলে যাকে ইলীশায় বাঁচিয়ে তুলেছিলেন!”
6রাজা মহিলাকে, সে কি চায় তা জিজ্ঞেস করলে, মহিলা তাঁকে সব কিছু জানাল।
রাজা এক রাজকর্মচারীকে ডেকে নির্দেশ দিলেন, “শোনো, ওর যা ন্যায্য প্রাপ্য তা ওকে ফিরিয়ে তো দেবেই, আর তাছাড়া ও যেদিন থেকে দেশ ছেড়ে গিয়েছে, তার পরদিন থেকে ওর জমিতে উৎপন্ন শস্যও যেন ওকে দেওয়া হয়।”
বিন্হদদ হসায়েলকে ইলীশায়ের কাছে পাঠালেন
7একবার অরামের রাজা বিন্হদদের অসুস্থতার সময় ইলীশায় দম্মেশকে আসেন। বিন্হদদকে একজন একথা জানালে তিনি হসায়েলকে বললেন,
8“একটা কোন উপহার নিয়ে গিয়ে এই ভাববাদীর সঙ্গে দেখা করে প্রভুকে জিজ্ঞেস করতে বলো, আমি সুস্থ হয়ে উঠব কি না।”
9হসায়েল তখন দম্মেশকে যা যা ভাল জিনিসপত্র পাওয়া যায় উপহার হিসেবে সে সব নিয়ে ইলীশায়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। তিনি যা উপহার নিয়েছিলেন সে সব বয়ে নিয়ে যেতে 40টা উট লেগেছিল! হসায়েল ইলীশায়কে গিয়ে বললেন, “আপনার অনুগামী অরামের রাজা বিন্হদদ আমাকে পাঠিয়েছেন। তাঁর জিজ্ঞাস্য, তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন কি না।”
10তখন ইলীশায় হসায়েলকে বললেন, “তুমি গিয়ে বিন্হদদকে বল, ‘উনি বেঁচে থাকবেন,’ কিন্তু যদিও প্রভু আমাকে বলেছেন, ‘ওর মৃত্যু হবে।’”
হসায়েল সম্পর্কে ইলীশায়ের ভবিষ্যৎবাণী
11ইলীশায় তারপর অনেক ক্ষণ একদৃষ্টে হসায়েলের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। এতে হসায়েল লজ্জিত বোধ করছিলেন। এরপর ঈশ্বরের লোক কাঁদতে শুরু করলেন। 12হসায়েল আর থাকতে না পেরে জিজ্ঞেস করলেন, “মহাশয় আপনি কাঁদছেন কেন?”
ইলীশায় বললেন, “আমি কাঁদছি, কারণ আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি তুমি ইস্রায়েলীয়দের কি কি ক্ষতি করবে! তুমি তাদের সুদৃঢ় শহরগুলো পুড়িয়ে দেবে, ধারালো তরবারি দিয়ে একের পর এক ইস্রায়েলীয় যুবক ও শিশুকে হত্যা করবে, ওদের গর্ভবতী মহিলাদের কেটে দু টুকরো করবে।”
13হসায়েল বললেন, “আমার সে অধিকার বা ক্ষমতা কোনটাই নেই! আমার দ্বারা এসব ভয়ঙ্কর কাজ কখনও হবে না!”
ইলীশায় উত্তর দিলেন, “প্রভু আমাকে দেখালেন তুমি এক দিন অরামের রাজা হবে।”
14তারপর হসায়েল ইলীশায়ের কাছ থেকে তার রাজার কাছে ফিরে এলে, বিন্হদদ প্রশ্ন করলেন, “ইলীশায় তোমাকে কি বললেন?”
হসায়েল জবাব দিলেন, “আপনি বেঁচে থাকবেন।”
হসায়েল বিন্হদদকে হত্যা করলেন
15ঠিক তার পরের দিনই, হসায়েল একটা মোটা কাপড় জলে ডুবিয়ে, সেটাকে বিন্হদদের মুখের ওপর বিছিয়ে দিয়ে তাঁর শ্বাসরোধ করলেন। বিন্হদদের মৃত্যু হলে হসায়েল নতুন রাজা হলেন।
যিহোরাম তাঁর শাসন কার্য শুরু করলেন
16যিহোশাফটের পুত্র যিহোরাম ছিলেন যিহূদার রাজা। আহাবের পুত্র ইস্রায়েলের রাজা যোরামের রাজত্বের পঞ্চম বছরে যিহোরাম, যিহূদার সিংহাসনে বসেন। 17তিনি যখন সিংহাসনে বসেন তখন তাঁর বয়স ছিল 32 বছর। যিহোরাম আট বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেছিলেন। 18কিন্তু যিহোরাম ইস্রায়েলের অন্যান্য রাজাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রভুর বিরুদ্ধে বহু পাপ আচরণ করেন। যিহোরাম আহাবের পরিবারের লোকদের মতোই জীবনযাপন করতেন কারণ তাঁর স্ত্রী ছিলেন আহাবেরই কন্যা। 19কিন্তু প্রভু তাঁর দাস দায়ূদকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যিহূদাকে ধ্বংস করেন নি। প্রভু দায়ূদকে কথা দিয়েছিলেন সেখানে সব সময়ই তাঁর বংশের কেউ না কেউ রাজা হিসেবে শাসন করবে।
20যিহোরামের রাজত্ব কালে ইদোম যিহূদার অধীনতা অস্বীকার করে, যিহূদার রাজত্ব থেকে ভেঙে বেরিয়ে যায় এবং সেখানকার লোকরা নিজেদের আলাদা রাজা ঠিক করে নেয়।
21তখন যিহোরাম তাঁর সমস্ত রথ নিয়ে সায়ীরে গেলে, ইদোমীয় সৈন্যরা তাঁদের ঘিরে ফেলে। তখন যিহোরাম ও তাঁর সেনাপতিরা ইদোমীয়দের আক্রমণ করলেন এবং পালিয়ে গেলেন। যিহোরামের সেনারা সব পালিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। 22অর্থাৎ ইদোমীয়রা যিহূদার শাসন থেকে ভেঙ্গে বেরিয়ে এলো এবং আজ পর্যন্ত তারা স্বাধীন আছে।
একই সময় লিব্নাও যিহূদার শাসন থেকে বেরিয়ে এসেছিল।
23যিহোরাম যা যা করেছিলেন সে সবই যিহূদার রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে।
24যিহোরামের মৃত্যুর পর তাঁকে দায়ূদ নগরীতে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে কবর দেওয়া হল এবং নতুন রাজা হলেন যিহোরামের পুত্র অহসিয়।
অহসিয় তাঁর শাসনকার্য শুরু করলেন
25আহাবের পুত্র যোরামের ইস্রায়েলে রাজত্বের 12 বছরে যিহোরামের পুত্র অহসিয় যিহূদার রাজা হন। 26অহসিয় যখন রাজা হন তাঁর বয়স ছিল 22 বছর। তিনি এক বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেছিলেন। তাঁর মা অথলিয়া ছিলেন ইস্রায়েলের রাজা অম্রির নাতনি। 27প্রভু যা যা নিষেধ করেছিলেন, আহাবের পরিবারবর্গের মতো সে সমস্ত খারাপ কাজই অহসিয় করেছিলেন। এর কারণ অহসিয়র স্ত্রী ছিলেন আহাবের পরিবারেরই মেয়ে।
হসায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আহত হলেন যোরাম
28যোরাম ছিলেন আহাবের পরিবারের সদস্য। অহসিয় যোরামকে নিয়ে রামোৎ-গিলিয়দে অরামের রাজা হসায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে আহত হন। অরামের রাজা হসায়েলের বিরুদ্ধে যখন তিনি যুদ্ধ করেছিলেন, অরামীয়রা রামোতে তাঁকে আহত করেছিলেন। সেই আঘাত থেকে সেরে ওঠার জন্য 29রাজা যোরাম ইস্রায়েলের যিষ্রিয়েলে চলে যান। যিহোরামের পুত্র যিহূদার রাজা অহসিয় তখন যিষ্রিয়েলে যোরামকে দেখতে গিয়েছিলেন।
9ইলীশায় একজন ভাববাদীকে যেহূকে অভিষিক্ত করতে বললেন
1কয়েক জন তরুণ ভাববাদীকে ডেকে ইলীশায় বললেন, “তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে নাও এবং এই ছোট তেলের শিশিটা নিয়ে রামোৎ-গিলিয়দে যাও। 2সেখানে গিয়ে নিম্শির পৌত্র যিহোশাফটের পুত্র যেহূকে ওর ভাইদের মধ্যে থেকে তুলে তাকে ভেতরের ঘরে নিয়ে যাবে। 3তারপর এই ছোট তেলের শিশিটা ওর মাথায় উপুড় করে দিয়ে বলবে, ‘প্রভু বলেছেন, আমি ইস্রায়েলের নতুন রাজা হিসেবে তোমায় অভিষেক করলাম।’ একথা বলেই দরজা খুলে দৌড়ে চলে আসবে। আর অপেক্ষা করবে না!”
4তখন এই তরুণ ভাববাদী রামোৎ-গিলিয়দে গেল। 5সেখানে সেনাবাহিনীর সমস্ত সেনাপতিরা বসে আছেন। তরুণ ভাববাদীটি বলল, “সেনাপতিমশাই আপনার জন্য খবর আছে।”
যেহূ বললেন, “আরে আমরা তো এখানে সবাই সেনাপতি! তুমি কার জন্য খবর এনেছো?”
ভাববাদী বলল, “আপনারই জন্য!”
6তখন যেহূ উঠে বাড়ির ভেতরে গেলেন। তরুণ ভাববাদীটি সঙ্গে সঙ্গে যেহূর মাথায় তেল ঢেলে দিয়ে বলল, “প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর বলেছেন, ‘আমি তোমাকে আমার ইস্রায়েলের সেবকদের নতুন রাজা হিসেবে অভিষেক করলাম। 7তুমি তোমার রাজা আহাবের পরিবারকে ধ্বংস করবে। আমার ভৃত্যদের, ভাববাদীদের এবং প্রভুর সমস্ত সেবকদের হত্যা করবার জন্য আমি এইভাবে ঈষেবলকে শাস্তি দেব। 8আহাবের বংশের সকলকে মরতে হবে। ওর বংশের কোন পুরুষ শিশুকেও আমি জীবিত থাকতে দেব না। 9ওর পরিবারের দশা আমি নবাটের পুত্র যারবিয়াম এবং অহিয়ের পুত্র বাশার পরিবারের মতো করব। 10ঈষেবলকে কবরে সমাধিস্থ করা হবে না। যিষ্রিয়েলের রাস্তার কুকুর ওর দেহ ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাবে।’”
একথা বলবার পর, তরুণ ভাববাদীটি দরজা খুলে দৌড়ে পালিয়ে গেল।
ভৃত্যরা যেহূকে রাজা ঘোষণা করল
11যেহূ আবার রাজকর্মচারীদের মধ্যে ফিরে গেলে একজন জিজ্ঞেস করলেন, “কি হে, সব কিছু ঠিক আছে তো? ক্ষ্যাপাটা তোমার কাছে কেন এসেছিল?”
যেহূ ওঁর অধীনস্থদের বললেন, “লোকটা যে কি সব পাগলের প্রলাপ বকে গেল!”
12সেনাপতিরা সকলে বললেন, “ও সব বললে হবে না। ও কি বলে গেল আমাদের সত্যি সত্যি বলতে হবে।” যেহূ তখন তাঁদের তরুণ ভাববাদী কি বলেছে জানালেন, “ও বলল, ‘প্রভু বলেছেন, আমি তোমায় ইস্রায়েলের নতুন রাজা হিসেবে অভিষেক করলাম।’”
13তখন সেখানে উপস্থিত প্রত্যেকটি সেনাপতি তাঁদের পোশাক খুলে যেহূর পায়ের নীচে রাখলেন। তারপর তারা শিঙা বাজিয়ে চিৎকার করে উঠলেন, “যেহূ হলেন রাজা!”
যেহূ যিষ্রিয়েলে গেলেন
14অতঃপর নিম্শির পৌত্র ও যিহোশাফটের পুত্র যেহূ যোরামের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলেন।
সে সময় যোরাম ও ইস্রায়েলীয়রা অরামের রাজা হসায়েলের হাত থেকে রামোৎ-গিলিয়দ রক্ষা করতে চেষ্টা করছিলেন। 15রাজা যোরাম অরামের রাজা হসায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সময় অরামীয় সেনাবাহিনীর হাতে আহত হয়েছিলেন। তিনি (এ সময়) তাঁর ক্ষতস্থানের শুশ্রূষার জন্য যিষ্রিয়েলে ছিলেন।
যেহূ উপস্থিত রাজকর্মচারীদের সবাইকে বললেন, “তোমরা যদি সত্যি সত্যিই নতুন রাজা হিসেবে আমাকে মেনে নিয়ে থাকো, তাহলে খেয়াল রেখো কেউ যেন শহর থেকে পালিয়ে যিষ্রিয়েলে গিয়ে এ খবর দিতে না পারে।”
16যোরাম তখন যিষ্রিয়েলে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। যেহূ তাঁর রথে চড়ে যিষ্রিয়েলে গেলেন। যিহূদার রাজা অহসিয়ও সে সময় যোরামকে দেখতে যিষ্রিয়েলে এসেছিলেন।
17জনৈক প্রহরী তখন যিষ্রিয়েলের প্রহরা দেবার উচ্চ কক্ষে দাঁড়িয়েছিল। সদলবলে যেহূকে আসতে দেখে ও চেঁচিয়ে বলল, “আমি এক দল লোক দেখতে পাচ্ছি!”
যোরাম বললেন, “একজন ঘোড়সওয়ারকে ওদের সঙ্গে দেখা করতে পাঠাও। ওরা কিসের জন্য আসছে খোঁজ নিক।”
18তখন ঘোড়সওয়ার একজন বার্তাবাহক সেখানে গিয়ে যেহূকে বলল, “রাজা এই কথা বললেন, ‘আপনি কি শান্তিতে এসেছেন?’”
যেহূ বললেন, “শান্তি নিয়ে তোমার অতো মাথাব্যথা কিসের হে? আমাকে অনুসরণ করো।”
প্রহরী যোরামকে বললো, “ঘোড়া নিয়ে একজন খোঁজ নিতে গিয়েছে, কিন্তু এখনও ফেরে নি।”
19যোরাম তখন একজনকে অশ্বারোহণে পাঠালেন। সে এসে বলল, “রাজা যোরাম ‘শান্তি বজায় রাখতে চান।’”
যেহূ উত্তর দিলেন, “শান্তি নিয়ে তোমার এতো মাথাব্যথা কিসের হে? আমাকে অনুসরণ করো।”
20প্রহরী যোরামকে খবর দিল, “পরের ঘোড়সওয়ারও এখনো ফিরে আসে নি। এদিকে নিম্শির পুত্র যেহূর মত কে যেন একটা পাগলের মত রথ চালিয়ে আসছে।”
21যোরাম বললেন, “আমার রথ নিয়ে এস।”
তখন সেই ভৃত্য গিয়ে যোরামের রথ নিয়ে এলে, ইস্রায়েলের রাজা যোরাম ও যিহূদার রাজা অহসিয়, যে যার রথে চড়ে যেহূর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। তাঁরা যিষ্রিয়েলের নাবোতের সম্পত্তির কাছে যেহূর দেখা পেলেন।
22যোরাম যেহূকে দেখতে পেয়ে বললেন, “তুমি বন্ধুর মতো এসেছো যেহূ?”
যেহূ উত্তর দিলেন, “যতদিন তোমার মা ঈষেবল বেশ্যাবৃত্তি ও ডাইনিগিরি চালিয়ে যাবে ততদিন বন্ধুত্বের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”
23পালানোর জন্য ঘোড়ার মুখ ঘোরাতে ঘোরাতে যোরাম অহসিয়কে বললেন, “এ সমস্ত চক্রান্ত!”
24কিন্তু ততক্ষণে যেহূর সজোরে নিক্ষিপ্ত জ্যামুক্ত তীর গিয়ে যোরামের পিঠে বিদ্ধ হয়েছে। এই তীর যোরামের পিঠ ফুঁড়ে হৃৎপিণ্ডে গিয়ে ঢুকলো, রথের মধ্যেই যোরামের মৃতদেহ লুটিয়ে পড়ল।
25যেহূ তাঁর রথের সারথি বিদ্করকে বললেন, “যোরামের দেহ তুলে নাও এবং যিষ্রিয়েলের নাবোতের জমিতে ছুঁড়ে ফেলে দাও। মনে আছে, যখন তুমি আর আমি এক সঙ্গে যোরামের পিতা আহাবের সঙ্গে ঘোড়ায় চড়ে আসছিলাম, প্রভু ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন, 26‘গতকাল আমি নাবোত আর ওর ছেলেদের রক্ত দেখেছি, তাই এই মাঠেই আমি আহাবকে শাস্তি দেব।’ প্রভুই একথা বলেছিলেন, অতএব যাও গিয়ে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী যোরামের দেহ মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দাও।”
27এসব কাণ্ড-কারখানা দেখে যিহূদার পিতা অহসিয় বাগানবাড়ির মধ্যে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করতে যেহূ তাঁর পিছু পিছু ধাওয়া করতে করতে বললেন, “এটাকেও শেষ করে দিই!”
রথে করে যিব্লিয়মের কাছাকাছি গূরে আসতে আসতে অহসিয়ও আহত হলেন এবং মগিদ্দোতে পালিয়ে এলেও সেখানেই তাঁর মৃত্যু হল। 28অহসিয়র ভৃত্যরা রথে করে তাঁর মৃতদেহ জেরুশালেমে নিয়ে গিয়ে সেখানে দায়ূদ নগরীতে তাঁর পূর্বপুরুষদের সমাধিস্থলে তাঁকে কবর দিল।
29যোরামের ইস্রায়েলে রাজত্ব কালের একাদশ বছরে অহসিয় যিহূদার রাজা হয়েছিলেন।
ঈষেবলের ভয়াবহ মৃত্যু
30যেহূ যিষ্রিয়েলে পৌঁছতে ঈষেবল সে খবর পেল। সে সেজেগুজে চুল বেঁধে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখল, 31যেহূ শহরে ঢুকছে। ঈষেবল চেঁচিয়ে বলল, “কি হে সিম্রি! তুমিও একই ভাবে মনিব খুন করলে!”
32যেহূ ওপরে জানালার দিকে তাকিয়ে হাঁক দিলেন, “কে আমার পক্ষে আছো? কে?”
দু-তিনজন নপুংসক প্রহরী জানালা দিয়ে মুখ বাড়াতেই 33যেহূ তাদের হুকুম দিলেন, “ওকে নীচে ফেলে দাও!”
তখন নপুংসক প্রহরীরা ঈষেবলকে নীচে ছুঁড়ে ফেলে দিল। ঈষেবলের রক্তের ছিটে দেওয়ালে আর ঘোড়াদের গায়ে লাগল। ঘোড়ারা ঈষেবলের দেহ মাড়িয়ে চলে গেল। 34যেহূ বাড়ির ভেতরে গিয়ে পানাহার করে বললেন, “এই শাপগ্রস্তাকে এবার কবর দেবার ব্যবস্থা করো। হাজার হলেও রাজকন্যা তো বটে।”
35ভৃত্যরা ঈষেবলকে কবর দিতে গিয়ে দেহের কোন হদিস পেল না। তারা কেবল ঈষেবলের মাথার খুলি, পায়ের পাতা আর হাতের তালু খুঁজে পেল। 36তারা ফিরে এসে যেহূকে এ খবর দিতে যেহূ বললেন, “প্রভু আগেই তাঁর দাস তিশ্বীর এলিয়কে জানিয়েছিলেন, ‘যিষ্রিয়েলের অধিকারভুক্ত অঞ্চলে কুকুররা ঈষেবলের দেহ খেয়ে নেবে। 37একতাল গোবরের মত ঈষেবলের দেহ যিষ্রিয়েলের পথে পড়ে থাকবে, লোকরা দেখে চিনতেও পারবে না।’”
10যেহূ শমরিয়ার নেতাদের চিঠি দিলেন
1আহাবের 70 জন ছেলে শমরিয়ায় বাস করত। যেহূ এই সমস্ত ছেলেদের যারা মানুষ করেছে তাদের, শমরিয়ার শাসকদের ও যিষ্রিয়েলের নেতাদের চিঠি লিখে পাঠালেন। 2 এই সমস্ত চিঠিতে লেখা হল: “এ চিঠি পাবার সঙ্গে সঙ্গেই আপনারা আপনাদের ভাইদের মধ্যে যাকে যোগ্যতম বলে মনে করেন, তাকে তার পিতার সিংহাসনে বসিয়ে পিতৃকুলপতিদের আধিপত্যের জন্য সংগ্রাম শুরু করার জন্য প্রস্তুত হন। রথ আর ঘোড়া তো আপনাদের যথেষ্টই আছে, উপরন্তু আপনারা সকলেই সুরক্ষিত শহরের মধ্যে বাস করেন!”
4কিন্তু যেহূর পাঠানো এই চিঠি পেয়ে যিষ্রিয়েলের নেতা ও শাসকবর্গ খুবই ভয় পেয়ে গেল। তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি শুরু করল, “যোরাম আর অহসিয় দুই রাজাই যখন যেহূকে থামাতে পারল না, তখন আমরাই কি পারব?”
5আহাবের বাড়ির চৌকিদার, নগরপাল, শহরের নেতা ও আহাবের সন্তানদের পালকপিতারা যেহূকে খবর পাঠাল: “আমরা আপনার আজ্ঞাধীন দাসানুদাস। আপনি যা বলবেন আমরা তাই করতে রাজী আছি। আমরা নিজেদের কোন রাজা নির্বাচন করছি না, এবার আপনি যা ভাল মনে করবেন তাই করুন।”
শমরিয়ার নেতারা আহাবের সন্তানদের হত্যা করলেন
6যেহূ তখন এই সমস্ত নেতাদের দ্বিতীয় এক চিঠিতে নির্দেশ দিলেন, “আপনারা সত্যি সত্যিই যদি আমাকে সমর্থন করেন এবং আমার বশ্যতা স্বীকার করেন তাহলে আহাবের ছেলেদের মুণ্ডুগুলো কেটে আগামীকাল এই সময় আমার কাছে, যিষ্রিয়েলে নিয়ে আসবেন।”
আহাবের 70 জন ছেলে ঐ শহরেই নেতাদের সঙ্গে বাস করত যারা তাদের প্রতিপালন করেছিল। 7শহরের নেতারা এই চিঠি পেয়ে 70 জন রাজপুত্রকে হত্যা করে তাদের মুণ্ডুগুলো টুক্রিতে রাখলেন। তারপর সেই টুক্রিগুলো যিষ্রিয়েলে যেহূর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। 8বার্তাবাহক এসে যেহূকে খবর দিল, “তারা রাজপুত্রদের মুণ্ডুগুলো নিয়ে এসেছে!”
তখন যেহূ বললেন, “ঐ কাটা মুণ্ডুগুলো কাল সকাল পর্যন্ত শহরের ফটকে দুটো গাদা করে সাজিয়ে রাখ।”
9সকাল বেলা যেহূ গিয়ে লোকদের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমরা সকলেই নির্দোষ। আমি আমার অন্নদাতার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে তাঁকে হত্যা করেছি। কিন্তু আহাবের এই সমস্ত ছেলেদের কে হত্যা করল? তোমরা! 10শোন, মনে রেখো প্রভু যা বলেন তা অবশ্যই হবে। আহাবের পরিবারের পরিণতি সম্পর্কে প্রভু আগেই এলিয়র মাধ্যমে এইসব কথা ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন। এখন তিনি তা শুধু কাজে পরিণত করলেন।”
11শেষ পর্যন্ত যেহূ যিষ্রিয়েলে বসবাসকারী আহাবের পরিবারের সমস্ত সদস্য, আহাবের ঘনিষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, বন্ধুবান্ধব, যাজকবর্গ সকলকেই হত্যা করলেন। আহাবের কোন নিকট জনই রক্ষা পেল না।
যেহূ অহসিয়র আত্মীয়দের হত্যা করলেন
12এরপর যেহূ যিষ্রিয়েল থেকে শমরিয়ায় গেলেন। পথে “মেষপালকদের আড্ডা” বলে একটা জায়গায় যেখানে মেষপালকরা মেষদের গা থেকে লোম ছাড়াত সেখানে থামলেন। 13যেহূ যিহূদার রাজা অহসিয়র আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে বললেন, “তোমরা কারা?”
তারা উত্তর দিল, “আমরা সকলেই যিহূদার রাজা অহসিয়র আত্মীয়। আমরা সকলে মহারাজ আর রাণীমার ছেলেপুলেদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করতে এসেছি।”
14যেহূ তখন তাঁর দলবলকে নির্দেশ দিলেন, “এগুলোকে জ্যান্ত ধর।”
যেহূর লোকরা তখন অহসিয়ের 42 জন আত্মীয়স্বজনকে বন্দী করে নিয়ে গিয়ে মেষলোমচ্ছেদক গৃহের কুয়োর কাছে হত্যা করল, কেউই রক্ষা পেল না।
যিহোনাদবের সঙ্গে যেহূর সাক্ষাৎ
15সেখান থেকে যাবার পথে রেখবের পুত্র যিহোনাদবের সঙ্গে যেহূর দেখা হল। যিহোনাদব তখন যেহূর সঙ্গেই দেখা করতে আসছিলেন। যেহূ তাঁকে অভিবাদন জানিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “আমি যে রকম আপনাকে বিশ্বাসী বন্ধু বলে মনে করি, আপনিও কি আমাকে তাই করেন?”
যিহোনাদব উত্তর দিলেন, “অবশ্যই! আমিও আপনার বিশ্বাসী বন্ধু।”
যেহূ বললেন, “তাই যদি হয় তবে আপনি আমার হাতে হাত রাখুন।”
এই বলে নিজের হাত বাড়িয়ে দিয়ে যিহোনাদবকে নিজের রথে টেনে তুললেন।
16যেহূ বললেন, “আমার সঙ্গে চলুন। দেখতেই পাচ্ছেন প্রভুর প্রতি আমার অবিচল ভক্তি আছে।”
যিহোনাদব তখন যেহূর রথে চড়েই রওনা হলেন। 17শমরিয়ায় এসে যেহূ আহাবের পরিবারের অবশিষ্ট জীবিত ব্যক্তিবর্গকে হত্যা করলেন। প্রভু এলিয়র কাছে যে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন ঠিক সে ভাবেই যেহূ আহাবের পরিবারের সবাইকে হত্যা করলেন, কাউকে রেহাই দিলেন না।
যেহূ বালের মূর্ত্তি পূজারীদের ডেকে পাঠালেন
18তারপর যেহূ সমস্ত লোকদের জড়ো করে বললেন, “আহাব আর বাল মূর্ত্তির জন্য কি এমন কাজ করেছিলেন, যেহূ তার থেকে অনেক বেশি করবে! 19বাল মূর্ত্তির সমস্ত ভক্ত, ভাববাদী আর যাজকদের ডেকে নিয়ে এস, যাও। দেখো কেউ আবার যেন বাদ না পড়ে! বাল মূর্ত্তির চরণে আমি এক মহার্ঘ বলিদান করতে চাই। এই অনুষ্ঠানে যে আসবে না আমি তাকে হত্যা করব!”
আসলে এটা যেহূর একটা চাল ছিল, তিনি বালপূজকদের ধ্বংস করতে চাইছিলেন। 20যেহূ বললেন, “বাল মূর্ত্তির জন্য এক পবিত্র অনুষ্ঠানের আয়োজন করো।” যাজকরা সেই যজ্ঞের দিন ঘোষণা করল। 21যখন যেহূ সমগ্র ইস্রায়েলে এ খবর জানিয়ে দিলেন, বাল মূর্ত্তির সমস্ত পূজারীরা সেখানে এসে হাজির হল, কেউই বাড়ীতে পড়ে থাকল না। তারা সকলে এসে বাল মূর্ত্তির মন্দিরে উপস্থিত হলে বালের মন্দির কানায় কানায় ভরে গেল।
22যেহূ বস্ত্রাগারের অধ্যক্ষকে বাল মূর্ত্তির সমস্ত পূজকদের জন্য পূজার বিশেষ পোশাক বার করার নির্দেশ দিতে, সেই লোকটি সে সব বার করে নিয়ে এল।
23তখন যেহূ আর রেখবের পুত্র যিহোনাদব দুজনে মিলে বাল মূর্ত্তির মন্দিরে গেলেন। যেহূ ভক্তদের বললেন, “দেখো মন্দিরে যেন শুধুমাত্র বাল মূর্ত্তির ভক্তরাই থাকে।” 24বাল মূর্ত্তির ভক্তরা যজ্ঞে আহুতি দিতে ও বলিদান করতে সবাই মিলে মন্দিরের ভেতরে গেল।
এদিকে মন্দিরের বাইরে যেহূ 80 জন প্রহরীকে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন। তিনি তাদের বললেন, “দেখো কেউ যেন পালাতে না পারে। কারোর দোষে যদি একজনও পালিয়ে যায় তো আমি তাকে হত্যা করব।”
25যেহূ হোমবলিতে জলসিঞ্চন করে উৎসর্গের কাজ শেষ করলেন এবং তাঁর সেনাপতিদের আর প্রহরীদের আদেশ দিয়ে বললেন, “এখন যাও আর বাল মূর্ত্তির পূজকদের মেরে ফেল। কেউ যেন মন্দির থেকে প্রাণ নিয়ে বেরোতে না পারে!”
তখন সেনাপতিরা তাদের তীক্ষ্ণ তরবারি দিয়ে বাল মূর্ত্তির সমস্ত পূজকদের হত্যা করল। তারা ও রক্ষীরা মিলে পূজকদের মৃতদেহগুলো ছুঁড়ে ছুঁড়ে বাইরে ফেলল। তারপর প্রহরী ও সেনাপতিরা মন্দিরের গর্ভগৃহে ঢুকে 26পাথরের ফলক ও স্মরণ-স্তম্ভ বের করে এনে সেগুলোকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে মন্দিরটাকে পুড়িয়ে দিল। 27তারপর তারা বালের স্মরণ-স্তম্ভ এবং বালের মন্দির ভেঙ্গে ফেলল, তারা মন্দিরটাকে ধ্বংস করে তার জায়গায় একটা বিশ্রামাগার বানালো। লোকরা এখনও সেটাকে শৌচালয় হিসেবে ব্যবহার করে।
28এইভাবে যেহূ ইস্রায়েলে বাল মূর্ত্তির পূজো বন্ধ করলেন। 29কিন্তু তা সত্ত্বেও, নবাটের পুত্র যারবিয়াম যে সমস্ত পাপ কাজ করতে ইস্রায়েলের লোকদের বাধ্য করেছিলেন সে সমস্ত পাপ কাজ যেহূ অব্যাহত রাখলেন। তিনি বৈথেল ও দানের সেই সোনার বাছুর দুটোকে ধ্বংস করেন নি।
ইস্রায়েলে যেহূর শাসন
30প্রভু যেহূকে বললেন, “তুমি খুব ভাল কাজ করেছো। আমি যা ভাল বলেছিলাম তুমি তাই করলে। যে ভাবে আমি আহাবের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিলাম তুমি ঠিক সে ভাবেই তাদের ধ্বংস করেছো। এই জন্য তোমার উত্তরপুরুষরা চার পুরুষ ধরে ইস্রায়েলে শাসন করবে।”
31কিন্তু যেহূ সমস্ত হৃদয় দিয়ে প্রভুর বিধি-নির্দেশ পালন করেন নি। যারবিয়াম ইস্রায়েলের বাসিন্দাদের যে সব পাপ আচরণে বাধ্য করেছিলেন তা তিনি বন্ধ করতে পারেন নি।
হসায়েল ইস্রায়েলকে পরাজিত করলেন
32প্রভু এসময় ইস্রায়েল থেকে টুকরো টুকরো ভূখণ্ড বিচ্ছিন্ন করছিলেন। ইস্রায়েলের প্রত্যেক সীমান্তেই অরামের রাজা হসায়েলের হাতে ইস্রায়েলীয় বাহিনী পরাজিত হল। 33যর্দন নদীর পূর্ব তীরে গিলিয়দের সমগ্র অঞ্চল ছাড়াও গাদীয়, রূবেণীয় ও মনঃশীয়দের পরিবারগোষ্ঠীর দেশ, অর্ণোন উপত্যকার কাছে অরোয় থেকে গিলিয়দ ও বাশন পর্যন্ত সমস্ত অঞ্চল হসায়েল দখল করে নিলেন।
যেহূর মৃত্যু
34যেহূ আর যা কিছু স্মরণীয় কাজ করেছিলেন সে সমস্ত কিছুই ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা আছে। 35যেহূ মারা গেলেন এবং তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে শমরিয়ায় সমাধিস্থ করা হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র যিহোয়াহস ইস্রায়েলের নতুন রাজা হলেন। 36যেহূ শমরিয়াতে ইস্রায়েলের উপর 28 বছর রাজত্ব করেছিলেন।
11যিহূদায় রাজপুত্রদের হত্যা করলেন অথলিয়া
1অহসিয়ের মা অথলিয়া যখন দেখলেন তাঁর পুত্র মারা গিয়েছে, তিনি তখন উঠে রাজ পরিবারের সবাইকে হত্যা করলেন।
2যিহোশেবা ছিলেন রাজা যোরামের কন্যা, অহসিয়ের বোন। তিনি যখন দেখলেন সমস্ত রাজপুত্রদের হত্যা করা হচ্ছে, তখন অহসিয়ের এক পুত্র যোয়াশকে নিয়ে একটা শয়ন ঘরে একজন পরিষেবিকার সঙ্গে তাকে লুকিয়ে রাখলেন। অতএব তাঁরা যোয়াশকে অথলিয়ার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখলেন এবং এইভাবে সে নিহত হল না।
3এরপর অথলিয়া যিহূদায় ছ’বছর রাজত্ব করেন। সে সময় যোয়াশকে নিয়ে যিহোশেবা প্রভুর মন্দিরে লুকিয়ে থাকেন।
4সপ্তম বছরে প্রভুর মন্দিরের মহাযাজক যিহোয়াদা রাজার বিশেষ দেহরক্ষীদের প্রধান ও প্রধান সেনাপতিকে এক সঙ্গে মন্দিরে ডেকে পাঠালেন। তারপর প্রভুর সামনে গোপনীয়তা রক্ষার প্রতিশ্রুতি করিয়ে যিহোয়াদা তাঁদের রাজপুত্র যোয়াশের সঙ্গে সাক্ষাৎ করালেন।
5অতঃপর যিহোয়াদা তাঁদের নির্দেশ দিয়ে বললেন, “একটা কাজ তোমাদের করতেই হবে। তোমাদের দলের এক-তৃতীয়াংশ প্রত্যেকটা বিশ্রামের দিনের শুরুতে এসে রাজাকে তাঁর বাড়িতে পাহারা দেবে। 6আর এক-তৃতীয়াংশ সূর দরজার কাছে থাকবে। আর বাকি এক-তৃতীয়াংশ দরজার কাছে প্রহরীদের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকবে। 7প্রত্যেকটা বিশ্রামের দিন শেষ হলে তোমাদের দুই-তৃতীয়াংশ প্রভুর মন্দির ও রাজা যোয়াশকে পাহারা দেবে। 8তিনি কোথাও গেলে তোমরা সবসময়ে তাঁর সঙ্গে সঙ্গে থাকবে। পুরো দলটাই যেন সশস্ত্র থাকে এবং রাজাকে সবসময়ে ঘিরে থাকে। সন্দেহ জনক কাউকে দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে তাকে হত্যা করবে।”
9সেনাপতিরা যাজক যিহোয়াদার সমস্ত নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করলেন। প্রত্যেক সেনাপতি তাঁর লোকবল নিয়ে শনিবারে একটা দল রাজাকে পাহারা দেবে বলে কথা হল, আর বাদবাকি সপ্তাহ আরেকটা দল পাহারা দেবার কথা ঠিক হল। এই সমস্ত সৈনিক যাজক যিহোয়াদার কাছে গেলে 10তিনি তাঁদের প্রভুর মন্দিরে দায়ূদের রাখা বর্শা ও ঢাল দিলেন। 11প্রহরীরা সকলে সশস্ত্র অবস্থায় মন্দিরের ডান কোণ থেকে বাঁ কোণ পর্যন্ত, বেদীর চারপাশে এবং রাজা যখনই কোথাও বেরোতেন তাঁকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকত। 12এরা সকলে যোয়াশকে বার করে তাঁর মাথায় মুকুট পরিয়ে, তাঁর হাতে রাজা ও ঈশ্বরের চুক্তিপত্রটি তুলে দিল। তারপর মাথায় মন্ত্রপূতঃ তেল ঢেলে তাঁকে রাজপদে অভিসিক্ত করে হাততালি দিয়ে সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠল, “মহারাজের জয় হোক্!”
13মহারাণী অথলিয়া সৈনিক ও লোকদের কোলাহল শুনে প্রভুর মন্দিরে গিয়ে দেখলেন, 14সেখানে স্তম্ভের কাছে যেখানে রাজাদের দাঁড়ানোর কথা, রাজা দাঁড়িয়ে আছেন এবং নেতারা সকলে তাঁকে ঘিরে শিঙা বাজাচ্ছেন। সকলকে খুব খুশী দেখতে পেয়ে মর্মাহত রাণী শোক প্রকাশের জন্য নিজের পরিধেয় পোশাক ছিঁড়ে ফেলে চিৎকার করে উঠলেন, “বিদ্রোহ, বিদ্রোহ!”
15যিহোয়াদা তখন সেনাপতিদের নির্দেশ দিয়ে বললেন, “অথলিয়াকে মন্দির চত্বরের বাইরে নিয়ে যাও। তাঁর সমর্থকদের যাকে খুশী তুমি মারতে পারো, কিন্তু প্রভুর মন্দিরের বাইরে।” কারণ যাজক বলেছিলেন, “তাঁকে যেন মন্দিরে হত্যা না করা হয়।”
16একথা শুনে সৈনিকরা অথলিয়াকে চেপে ধরল। তারপর তিনি রাজপ্রাসাদের ঘোড়া ঢোকার দিকের দরজা পার হতে না হতেই তাঁকে হত্যা করলো।
17যিহোয়াদা তখন প্রভু রাজা ও প্রজাদের মধ্যে মধ্যস্থতা করে একটি চুক্তি করলেন। এই চুক্তিতে বলা হল, রাজা ও প্রজা উভয়েই প্রভুর আশ্রিত। এছাড়াও এই চুক্তিপত্রে রাজা ও প্রজার পরস্পরের প্রতি কর্তব্য নির্ধারিত হল।
18এরপর সমস্ত লোক এক সঙ্গে বালদেবতার মন্দিরে গিয়ে বালদেবতার মূর্ত্তি ও বেদীগুলো ধ্বংস করল। বেদীগুলোকে টুকরো টুকরো করে ভাঙ্গবার পর, তারা বালদেবতার যাজক মত্তনকেও হত্যা করল।
এরপর যিহোয়াদা মন্দিরের দেখাশোনা করবার জন্য আধিকারিকদের রাখলেন। 19সবাইকে নেতৃত্ব দিয়ে মন্দির থেকে রাজপ্রাসাদে নিয়ে গেলেন। রাজার বিশেষ দেহরক্ষী ও সেনাপতিরা রাজার সঙ্গে গেলেন। সবাই মিলে রাজপ্রাসাদের প্রবেশ পথে পৌঁছালে রাজা যোয়াশ সিংহাসনে গিয়ে বসলেন। 20সমস্ত লোকরা তখন খুবই খুশী হল। শহরে শান্তি ফিরে এল। কারণ রাণী অথলিয়াকে তরবারি দিয়ে রাজপ্রাসাদের কাছেই হত্যা করা হয়েছিল।
21যোয়াশ যখন রাজা হন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র সাত বছর।
12যোয়াশের শাসনকার্য শুরু
1ইস্রায়েলে যেহূর রাজত্বের সপ্তম বছরে সিংহাসনে আরোহণ করার পর, যোয়াশ 40 বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেন। যোয়াশের মা ছিলেন বের্-শেবা নিবাসিনী সিবিয়া। 2যোয়াশ প্রভুর নির্দেশিত পথে জীবনযাপন করেন। রাজা যোয়াশ ঈশ্বরের সামনে ঠিক কাজগুলি করেছিলেন যতদিন তাঁকে যিহোয়াদা নির্দেশ দিয়েছিলেন। 3তবে তিনিও ভিন্ন মূর্ত্তির পূজোর জন্য উঁচু জায়গায় বানানো বেদীগুলো ধ্বংস করেন নি। লোকরা সেই সব বেদীগুলিতে বলিদান করা ও ধুপধূনো দেওয়া চালিয়ে গেল।
যোয়াশ মন্দির সংস্কারের নির্দেশ দিলেন
4 যোয়াশ যাজকদের বললেন, “প্রভুর মন্দিরে কোন অর্থাভাব নেই। মন্দিরে জিনিসপত্র দান করা ছাড়াও, সময় সময় লোকরা মন্দির করও দিয়ে এসেছে। খুশি মত উপহার তারা দিয়েছে। আপনারা, যাজকরা মন্দির মেরামতের জন্য ঐ অর্থ ব্যবহার করবেন। প্রত্যেক যাজক লোকেদের জন্য কাজ করে, তাদের কাছ থেকে যে দক্ষিণা পান সেই টাকা দিয়েই তাদের প্রভুর মন্দির সংস্কার করা উচিৎ।”
6কিন্তু যাজকরা মন্দির সংস্কার করলেন না। যোয়াশের রাজত্বের 23 বছরের মাথায়ও যখন যাজকরা মন্দির সারালেন না, 7তখন রাজা যোয়াশ যাজক যিহোয়াদা ও অন্যান্য যাজকদের ডেকে পাঠিয়ে জানতে চাইলেন, “আপনারা কেন এখনও মন্দিরটা সারান নি? অবিলম্বে আপনারা লোকদের কাজ করে দক্ষিণা নেওয়া বন্ধ করুন। দক্ষিণার টাকাও আর বাজে খরচ করবেন না। ঐ টাকা অবশ্যই মন্দির সংস্কারের কাজে যাওয়া উচিৎ।”
8যাজকরা লোকদের কাছ থেকে দক্ষিণা নেওয়া বন্ধ করবেন বলে রাজী হলেও, তাঁরা ঠিক করলেন যে মন্দির তাঁরা সারাবেন না। 9তখন যাজক যিহোয়াদা একটা বাক্স বানিয়ে বাক্সটার ওপরে একটা ফুটো করে সেটাকে বেদীর দক্ষিণ দিকে, যে দরজা দিয়ে দর্শনার্থীরা মন্দিরে ঢোকে, রেখে দিলেন। কিছু যাজক মন্দিরের দরজা আগলে বসে থাকতেন। তারা প্রভুকে প্রণামী হিসেবে দেওয়া টাকা পয়সাগুলো ঐ বাক্সটায় পুরে দিলেন।
10এরপর থেকে লোকরাও মন্দিরে এলে ঐ বাক্সটার মধ্যে টাকা পয়সা ফেলতে শুরু করল। যখনই মহারাজের সচিব এবং যাজক দেখতেন বাক্সটার মধ্যে অনেক টাকা পয়সা জমে গিয়েছে, তাঁরা তখন সমস্ত টাকা পয়সা বাক্স থেকে বের করে গুণে গেঁথে ব্যাগে ভরে রাখতেন। 11তাঁরা ঐ অর্থ দিয়ে প্রভুর মন্দিরের কাঠের মিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, 12পাথর-কাটিয়ে, খোদাইকর ও অন্যান্য যেসব মিস্ত্রিরা প্রভুর মন্দিরে কাজ করত তাদের মাইনে দিতেন। এছাড়াও ঐ টাকা দিয়ে মন্দির সারানোর জন্য কাঠের গুঁড়ি, পাথর থেকে শুরু করে যা যা প্রয়োজন কিনতেন।
13 প্রভুর মন্দিরের জন্য লোকরা যে টাকা দিতেন তা দিয়ে কিন্তু যাজকরা সোনা ও রূপোর পাত্র, বাতিদান, বাদ্যযন্ত্র এসব কিনতে পারতেন না। কারণ কারিগররা যারা মন্দির সারাচ্ছিল তাদের মাইনে ঐ অর্থ থেকে দেওয়া হত। 15কেউই পাই পয়সার হিসেব নিতেন না বা টাকা কিভাবে খরচ হল—এ প্রশ্ন মিস্ত্রিদের করতেন না। কারণ সমস্ত মিস্ত্রিরা খুব বিশ্বাসী ছিল।
16দোষ মোচন ও পাপমোচনের নৈবেদ্যর থেকে পাওয়া টাকা কারিগরদের মাইনে দেবার জন্য ব্যবহৃত হত না কারণ ওটাতে ছিল যাজকদের অধিকার।
যোয়াশ হসায়েলের হাত থেকে জেরুশালেমকে রক্ষা করলেন
17অরামের রাজা হসায়েল গাৎ শহরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলেন। গাতদের হারানোর পর হসায়েল জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
18যিহোশাফট, যিহোরাম, অহসিয় প্রমুখ যিহূদার রাজারা ছিলেন যোরামের পূর্বপুরুষ। এরা সকলেই প্রভুকে অনেক কিছু দান করেছিলেন। সে সব জিনিসই মন্দিরে রাখা ছিল। যোয়াশ নিজেও প্রভুকে বহু জিনিসপত্র দিয়েছিলেন। জেরুশালেমকে অরামের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য যোয়াশ এই সমস্ত জিনিসপত্র এবং তাঁর বাড়িতে ও মন্দিরে যত সোনা ছিল, সব কিছুই অরামের রাজা হসায়েলকে পাঠিয়ে দেন।
যোয়াশের মৃত্যু
19যোয়াশ যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন সে সমস্ত যিহূদার রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে।
20যোয়াশের কর্মচারীরা তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে তাঁকে সিল্লা যাবার পথে মিল্লো বলে একটা বাড়িতে হত্যা করে। 21শিমিয়তের পুত্র যোষাখর ও শোমরের পুত্র যিহোষাবদ আধিকারিক ছিল। এই দুজন মিলে যোয়াশকে হত্যা করেছিল।
যোয়াশকে দায়ূদ নগরীতে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সমাধিস্থ করার পর তাঁর পুত্র অমৎসিয় নতুন রাজা হলেন।
13যিহোয়াহসের শাসনকার্য শুরু
1অহসিয়ের পুত্র, যোয়াশের যিহূদায় রাজত্বের 23তম বছরে যেহূর পুত্র যিহোয়াহস শমরিয়ায় ইস্রায়েলের নতুন রাজা হয়েছিলেন এবং তিনি 17 বছর রাজত্ব করেছিলেন।
2প্রভু যা কিছু করতে বারণ করেছিলেন, যিহোয়াহস সে সবই করেছিলেন। নবাটের পুত্র যারবিয়াম যে সমস্ত পাপ আচরণ করতে ইস্রায়েলের লোকদের বাধ্য করেছিলেন, যিহোয়াহস সেই সমস্ত পাপ আচরণ করেছিলেন। তিনি সেই সব কাজ বন্ধ করলেন না। 3প্রভু তখন ইস্রায়েলের প্রতি বিরূপ হয়ে, ইস্রায়েলকে অরামের রাজা হসায়েল ও তাঁর পুত্র বিন্হদদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
ইস্রায়েলের লোকদের প্রতি প্রভুর করুণা
4যিহোয়াহস তখন প্রভুর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলে, প্রভু সেই ডাকে সাড়া দিলেন। প্রভু ইস্রায়েলের বিপদ সচক্ষে দেখা ছাড়াও অরামের রাজা কিভাবে ইস্রায়েলীয়দের অত্যাচার করছে দেখেছিলেন।
5তখন প্রভু ইস্রায়েলকে বাঁচানোর জন্য এক ব্যক্তিকে পাঠালেন। অরামীয়দের হাত থেকে মুক্ত হয়ে ইস্রায়েলীয়রা আগের মত নিজেদের বাড়ি ফিরে গেল।
6কিন্তু তা সত্ত্বেও যারবিয়াম যে সকল পাপ দ্বারা ইস্রায়েলীয়দের পাপ আচরণে বাধ্য করেছিলেন, তারা সে সকল পাপ আচরণ বন্ধ করল না, কিন্তু আশেরার মূর্ত্তিকে শমরিয়াতে থাকতে দিল।
7অরামের রাজা যিহোয়াহসের সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেছিলেন। সেনাবাহিনীর অধিকাংশ ব্যক্তিকেই হত্যা করেছিলেন। তিনি কেবলমাত্র 50 জন অশ্বারোহী সৈনিক, 10 খানা রথ ও 10,000 পদাতিক সৈন্য অবশিষ্ট রেখেছিলেন। যিহোয়াহসের বাদবাকি সেনাবাহিনী যেন ঝড়ের মুখে খড় কুটোর মত উড়ে গিয়েছিল!
8যিহোয়াহস যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন তা ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। 9যিহোয়াহসের মৃত্যুর পর লোকরা তাঁকে শমরিয়ায় তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সমাধিস্থ করেছিল। যিহোয়াহসের পর তাঁর পুত্র যোয়াশ নতুন রাজা হলেন।
ইস্রায়েলে যিহোয়াশের শাসন
10যিহূদায় যোয়াশের রাজত্বের 37তম বছরে শমরিয়ায় যিহোয়াহসের পুত্র যিহোয়াশ ইস্রায়েলের নতুন রাজা হলেন। তিনি মোট 16 বছর ইস্রায়েল শাসন করেন। 11প্রভু যা কিছু বারণ করেছিলেন ইস্রায়েলের রাজা যিহোয়াস সে সমস্তই করেন। নবাটের পুত্র যারবিয়ামের মতোই তিনি ইস্রায়েলের লোকদের পাপের পথে চালিত করেন। 12যোয়াশ যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন এবং অমৎসিয়ের সঙ্গে তাঁর যুদ্ধের বিবরণ ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। 13যিহোয়াসের মৃত্যুর পর তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে শমরিয়ায় সমাধিস্থ করা হয়। যিহোয়াসের মৃত্যুর পর যারবিয়াম নতুন রাজা হয়ে যোয়াশের সিংহাসনে বসেন।
যিহোয়াশ ইলীশায়কে দেখতে গেলেন
14ইলীশায় অসুস্থ হয়ে পড়লেন। পরে এই অসুস্থতায় ইলীশায় মারা গেলেন। ইস্রায়েলের রাজা যিহোয়াশ তাঁকে দেখতে গেলেন। সেখানে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে যিহোয়াশ বললেন, “হে আমার পিতা, আমার পিতা! স্বর্গ থেকে কখন ঈশ্বরের পাঠানো ঘোড়ায়-টানা রথ এসে তোমাকে তুলে নিয়ে যাবে?”+ 13:14 স্বর্গ থেকে … যাবে অর্থ “এটাই কি ঈশ্বরের এসে তোমাকে নিয়ে যাওয়ার সময়?”
15ইলীশায় যিহোয়াশকে বললেন, “তীর ধনুক হাতে নাও।”
তার কথা মতো যিহোয়াশ একটা ধনুক ও কিছু তীর নিলেন। 16তখন ইলীশায় ইস্রায়েলের রাজাকে বললেন, “এবার তোমার হাতে ধনুক রাখো।” যিহোয়াশ ধনুকে হাত রাখার পর ইলীশায় তাঁর হাত রাজার হাতের ওপর রাখলেন। 17ইলীশায় বললেন, “পূর্বদিকের জানালাটা খুলে দাও।” কথা মতো যিহোয়াশ জানালা খুলে দিলেন। ইলীশায় নির্দেশ দিলেন, “তীর নিক্ষেপ কর।”
যিহোয়াশ তীর ছুঁড়লেন। তখন ইলীশায় বলে উঠলেন, “ঐ তীর হল প্রভুর বিজয় বাণ! অরামের বিরুদ্ধে বিজয় বাণ! তুমি অবশ্যই অফেকে অরামীয়দের যুদ্ধে হারাতে ও ধ্বংস করতে পারবে।”
18এরপর ইলীশায় আবার বললেন, “তীর নাও।” যিহোয়াশ তীর নিলে ইলীশায় ইস্রায়েলের রাজাকে নির্দেশ দিলেন, “তীরগুলি দিয়ে ভূমিতে আঘাত কর।”
যিহোয়াশ পরপর তিন বার ভূমিতে তীর দিয়ে আঘাত করলেন, তারপর তিনি থামলেন। 19ইলীশায় রেগে গিয়ে বললেন, “তোমার অন্তত পাঁচ-ছ’বার ভূমিতে তীর দিয়ে আঘাত করা উচিৎ ছিল। তাহলে তুমি অরামীয় সেনাদের পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারতে! কিন্তু এখন তুমি ওদের শুধু মাত্র তিন বার যুদ্ধে হারাতে পারবে!”
ইলীশায়ের সমাধিতে এক অদ্ভুত ঘটনা
20ইলীশায়ের মৃত্যু হলে লোকরা তাঁকে সমাধিস্থ করল।
একবার বসন্তকালে, একদল মোয়াবীয় সৈন্য ইস্রায়েল আক্রমণ করল। 21ইস্রায়েলীয় কিছু ব্যক্তি সে সময়ে একটি শবদেহ সমাধিস্থ করতে যাচ্ছিল। তারা মোয়াবীয় সেনাদের দেখে ঐ শবদেহটি ইলীশায়ের কবরে ছুঁড়ে ফেলে পালিয়ে গেল। কিন্তু যেই মূহুর্তে এই মৃতদেহটি ইলীশায়ের অস্থি স্পর্শ করল, সেই মূহুর্তে সেই লোকটি বেঁচে উঠে দাঁড়াল।
যিহোয়াশ ইস্রায়েলের শহরসমূহ পুনরায় জয় করলেন
22যিহোয়াশের রাজত্বের সময় অরামের রাজা হসায়েল নানাভাবে ইস্রায়েলকে বিপাকে ফেলেছেন। 23কিন্তু ইস্রায়েলীয়দের প্রতি প্রভুর কৃপা দৃষ্টি ছিল। তিনি করুণাবশতঃ ইস্রায়েলীয়দের পক্ষ গ্রহণ করেছিলেন। অব্রাহাম, ইস্হাক ও যাকোবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন বলে প্রভু ইস্রায়েলীয়দের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেন নি।
24অরামের রাজা হসায়েলের মৃত্যু হলে বিন্হদদ সে জায়গায় নতুন রাজা হলেন। 25মৃত্যুর আগে হসায়েল, যিহোয়াশ ও যিহোয়াহসের পিতার সঙ্গে যুদ্ধ করে বেশ কয়েকটা শহর জিতে নিয়েছিলেন। যিহোয়াশ, হসায়েলের পুত্র বিন্হদদের কাছ থেকে সেগুলো পুনরুদ্ধার করলেন। যিহোয়াশ বিন্হদদকে তিনবার যুদ্ধে পরাজিত করে, ইস্রায়েলের হৃত শহরগুলি পুনর্দখল করেন।
14যিহূদায় অমৎসিয়র শাসনকার্য শুরু
1যিহোয়াহসের পুত্র যিহোয়াশের ইস্রায়েলে শাসনের দ্বিতীয় বছরে যিহূদায় রাজা যোয়াশের পুত্র অমৎসিয় নতুন রাজা হলেন। 2পঁচিশ বছর বয়সে যিহূদার রাজা হবার পর অমৎসিয় মোট 29 বছর জেরুশালেমে শাসন করেন। অমৎসিয়ের মা ছিলেন জেরুশালেমের যিহোয়দ্দিন। 3অমৎসিয় প্রভুর নির্দেশিত পথে চললেও তিনি দায়ূদের মত একনিষ্ঠভাবে ঈশ্বরের সেবা করেন নি। তাঁর পিতা যিহোয়াশ যা যা করতেন, অমৎসিয়ও তাই করতেন। 4তিনি মূর্ত্তির উচ্চস্থানগুলি ধ্বংস করেন নি। এমনকি তাঁর রাজত্ব কালেও সেখানে লোকেরা বলিদান করত ও ধুপধূনো দিত।
5তাঁর সমস্ত বিরোধীদের সরিয়ে দিয়ে অমৎসিয় রাজ্যের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ রাখলেন। যে সমস্ত আধিকারিকরা তাঁর পিতাকে হত্যা করেছিল, অমৎসিয় তাদের প্রাণদণ্ড দিয়েছিলেন। 6কিন্তু এই সমস্ত ঘাতকদের হত্যা করলেও তিনি তাদের সন্তানদের নিষ্কৃতি দিয়েছিলেন কারণ মোশির বিধিপুস্তকে লিখিত আছে: “সন্তানের অপরাধের জন্য পিতামাতাকে যেমন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে না, তেমনই পিতামাতার অপরাধের জন্য কোন সন্তানের মৃত্যুদণ্ড দেওয়াও ঠিক নয়। কোন ব্যক্তিকে শুধুমাত্র তার কৃত কোন অপরাধের জন্যই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে।”
7অমৎসিয় লবণ উপত্যকায় 10,000 ইদোমীয় সেনাকে হত্যা করেন। তিনি যুদ্ধ করে সেলা দখল করে, সেলার নাম পাল্টে “যক্তেল” রাখেন। ঐ অঞ্চল এখনো পর্যন্ত এই নামেই পরিচিত।
অমৎসিয় যিহোরামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চাইলেন
8অমৎসিয় ইস্রায়েল-রাজ যেহূর পৌত্র, যিহোয়াহসের পুত্র যিহোরামের কাছে দূত পাঠিয়ে তাঁকে সম্মুখ সমরে আহবান করলেন।
9ইস্রায়েলের রাজা যিহোরাম তখন যিহূদার রাজা অমৎসিয়কে খবর পাঠালেন, “লিবানোনের কাঁটাঝোপ লিবানোনের বটগাছকে বলেছিল, ‘আমার ছেলের বিয়ের জন্য তোমার মেয়েকে দাও।’ কিন্তু সে সময়ে একটা বুনো জন্তু যাবার পথে লিবানোনের কাঁটাঝোপকে মাড়িয়ে চলে যায়! 10ইদোমকে যুদ্ধে হারাবার পর তোমার বড় গর্ব হয়েছে দেখছি! বেশি বাড় না বেড়ে চুপচাপ বাড়িতে বসে থাকো। নিজের বিপদ ডেকে এনো না কারণ, তাহলে তুমি একা নও, তোমার সঙ্গে সঙ্গে যিহূদারও সর্বনাশ হবে।”
11কিন্তু অমৎসিয় যিহোয়াশের সতর্কবাণীর কোন গুরুত্ব দিলেন না। অবশেষে ইস্রায়েলের রাজা যিহোয়াশ যিহূদার রাজা অমৎসিয়র সঙ্গে যুদ্ধ করতে বৈৎশেমশে গেলেন। 12যুদ্ধে ইস্রায়েল যিহূদাকে হারিয়ে দিলে, যিহূদার সমস্ত লোক বাড়িতে পালিয়ে গেল। 13বৈৎ-শেমশে ইস্রায়েলের রাজা যিহোয়াশ যিহূদার রাজা যোয়াশের পুত্র অমৎসিয়কে বন্দী করলেন। তিনি অমৎসিয়কে জেরুশালেমে নিয়ে গিয়ে জেরুশালেমের প্রাচীরের ইফ্রয়িমের দ্বার থেকে কোণের দরজা পর্যন্ত জেরুশালেমের 600 ফুট দেওয়াল ভেঙে 14প্রভুর মন্দিরের যাবতীয় সোনা, রূপো, বাসন, দুর্মূল্য জিনিসপত্র লুঠ করে নিয়ে যান। এরপর আরো অনেককে বন্দী করে যিহোয়াশ শমরিয়ায় ফিরে গেলেন।
15যিহোয়াশ যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন এবং অমৎসিয়ের বিরুদ্ধে তাঁর যুদ্ধের বিবরণ সব কিছুই ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। 16যিহোয়াশের মৃত্যুর পর তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে শমরিয়ায় সমাধিস্থ করা হয়। এরপর তাঁর পুত্র যারবিয়াম নতুন রাজা হলেন।
অমৎসিয়ের মৃত্যু
17যিহূদারাজ যোয়াশের পুত্র অমৎসিয়, ইস্রায়েলের রাজা যিহোয়াহসের পুত্র যিহোয়াশের মৃত্যুর পর আরো 15 বছর বেঁচে ছিলেন। 18অমৎসিয় যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন সে সমস্তই যিহূদার রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। 19জেরুশালেমের লোকরা অমৎসিয়ের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলে তিনি লাখীশে পালিয়ে যান। লোকরা তাঁকে লাখীশেই হত্যা করে। 20লোকরা ঘোড়ার পিঠে অমৎসিয়ের মৃতদেহ নিয়ে এসে দায়ূদ নগরীতে তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সমাধিস্থ করে।
অসরিয়ের যিহূদার ওপর শাসনকাল শুরু
21যিহূদার সবাই মিলে তখন অসরিয়কে নতুন রাজা বানালেন। সে সময় অসরিয়ের বয়স ছিল মাত্র 16 বছর। 22অর্থাৎ রাজা অমৎসিয়ের মৃত্যু হলে নতুন রাজা হলেন অসরিয়। তিনি এলত্ শহর পুনর্দখল করে তা নতুন করে বানান।
ইস্রায়েলে দ্বিতীয় যারবিয়ামের শাসনকাল শুরু
23যোয়াশের পুত্র অমৎসিয়ের যিহূদায় রাজত্বকালের 15তম বছরে ইস্রায়েলরাজ যিহোয়াশের পুত্র যারবিয়াম শমরিয়ায় নতুন রাজা হলেন। যারবিয়াম 41 বছর রাজত্ব করেছিলেন এবং 24প্রভু যা কিছু বারণ করেছিলেন তিনি সেই সব করেন। তিনিও নবাটের পুত্র যারবিয়াম ইস্রায়েলের লোকদের যে সমস্ত পাপ আচরণে বাধ্য করেছিলেন তা বন্ধ করেন নি। 25ইস্রায়েলের প্রভু, গাৎ-হেফরীয়, অমিত্তয়ের পুত্র, তাঁর দাস, ভাববাদী যোনাকে যেমন বলেছিলেন সে ভাবেই তিনি লেবো-হমাৎ থেকে মৃত সাগর পর্যন্ত ইস্রায়েলের ভূখণ্ড ফেরৎ নিয়েছিলেন। 26প্রভু দেখলেন ইস্রায়েলীয়রা খুবই সমস্যায় পড়েছে। স্বাধীন বা পরাধীন এমন কেউই ছিল না যে ইস্রায়েলকে এই দুর্দশার হাত থেকে বাঁচাতে পারে। 27কিন্তু প্রভু (তাও) একথা বলেন নি, যে তিনি পৃথিবী থেকে ইস্রায়েলের নাম মুছে দেবেন। তিনি যিহোয়াশের পুত্র যারবিয়ামকে ইস্রায়েলের লোকদের উদ্ধারের জন্য ব্যবহার করেছিলেন।
28যারবিয়াম যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন সে সব ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। এখানে যারবিয়াম কিভাবে যিহূদার কাছ থেকে দম্মেশক ও হমাৎ শহর দুটি ইস্রায়েলের জন্য পুনর্দখল করেন সে কথাও লেখা আছে। 29যারবিয়ামের মৃত্যু হলে তাঁকে ইস্রায়েলের রাজাদের সঙ্গে, তার পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সমাধিস্থ করা হল। তাঁর মৃত্যুর পর তার পুত্র সখরিয় নতুন রাজা হলেন।
15যিহূদায় অসরিয়ের শাসনকাল শুরু
1যারবিয়ামের রাজত্বের 27 তম বছরে অমৎসিয়ের পুত্র অসরিয় যিহূদার নতুন রাজা হয়েছিলেন। 2অসরিয় যখন রাজা হন, তাঁর বয়স ছিল মাত্র 16 বছর। তিনি 52 বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেছিলেন। অসরিয়ের মা ছিলেন যিথলিয়া থেকে। 3অসরিয় তাঁর পিতা অমৎসিয়ের মত, প্রভুর চোখে যেগুলো ঠিক সেই কাজগুলো করেছিলেন। 4কিন্তু তিনি উঁচু বেদীগুলো ধ্বংস করেন নি। তখনও পর্যন্ত এইসব বেদীতে লোকরা বলিদান করত ও ধূপধুনো দিত।
5প্রভু রাজা অসরিয়কে কুষ্ঠরোগীতে পরিণত করেছিলেন এবং অসরিয় কুষ্ঠরোগী হিসেবেই শেষ পর্যন্ত মারা যান। তিনি একটা আলাদা ঘরে বাস করতেন এবং রাজপুত্র যোথম রাজপ্রাসাদের দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও লোকদের বিচার করতেন।
6অসরিয় যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন সে সমস্তই যিহূদার রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। 7অসরিয়র মৃত্যুর পর তাঁকে দায়ূদ নগরীতে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সমাধিস্থ করা হয়। তাঁর মৃত্যুর পর নতুন রাজা হলেন তাঁর পুত্র যোথম।
ইস্রায়েলে সখরিয়র সংক্ষিপ্ত শাসনকাল
8যারবিয়ামের পুত্র সখরিয়, ইস্রায়েলের শমরিয়ায় ছ’মাস রাজত্ব করেছিলেন। তিনি অসরিয়ের যিহূদায় রাজত্ব কালের 38তম বছরে শমরিয়ার শাসক হয়েছিলেন। 9প্রভু যা কিছু বারণ করেছিলেন সখরিয় সে সবই করেন। নবাটের পুত্র যারবিয়াম ইস্রায়েলের বাসিন্দাদের যে সমস্ত পাপ আচরণে বাধ্য করেছিলেন, তিনি তা বন্ধ করেন নি।
10যাবেশের পুত্র শল্লুম চক্রান্ত করে সখরিয়কে ইবলিযমে হত্যা করে নিজে নতুন রাজা হয়ে বসলেন। 11সখরিয় আর যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন সে সব ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। 12প্রভু যেহূর উত্তরপুরুষরা চারপুরুষ ধরে ইস্রায়েলে শাসন করবে বলে যে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন, তা এইভাবে সত্যে পরিণত হল।
ইস্রায়েলে শল্লুমের সংক্ষিপ্ত শাসনকাল
13যিহূদায় উষিয়ের রাজত্বের 39তম বছরে যাবেশের পুত্র শল্লুম ইস্রায়েলের রাজা হন। তিনি এক মাস শমরিয়ায় রাজত্ব করেছিলেন।
14গাদির পুত্র মনহেম তির্সা থেকে শমরিয়ায় এসে যাবেশের পুত্র শল্লুমকে হত্যা করে তাঁর জায়গায় নতুন রাজা হয়ে বসলেন।
15শল্লুম যা কিছু করেছিলেন, এমন কি সখরিয়ের বিরুদ্ধে তাঁর চক্রান্তের কথা এ সবই ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে।
ইস্রায়েলে মনহেমের শাসনকাল
16শল্লুমের মৃত্যুর পর মনহেম তিপ্সহ ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়ী হন। সেখানকার নাগরিকরা শহরের দরজা খুলে দিতে অস্বীকার করায় মনহেম তাদের পরাজিত করে জোর করে শহরে ঢুকে সেখানকার সমস্ত গর্ভবতী মহিলাদের কেটে ফেলেন।
17যিহূদায় অসরিয়ের রাজত্বের 39 বছরের মাথায় ইস্রায়েলের রাজা হবার পর গাদির পুত্র মনহেম 10 বছরের জন্য শমরিয়ায় রাজত্ব করেছিলেন। 18প্রভু যা কিছু করতে বারণ করেছিলেন মনহেম সে সমস্ত কাজই করেছিলেন। নবাটের পুত্র যারবিয়ামের মতোই তিনি ইস্রায়েলের লোকদের পাপ আচরণ করতে বাধ্য করেছিলেন।
19অশূর-রাজ পূল ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এলে মনহেম তাঁকে 75,000 পাউণ্ড রূপো দিয়ে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা করেন। 20ধনী ও প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে কর আদায় করে মনহেম এই টাকা তুলেছিলেন। তিনি প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় 20 আউন্স করে রূপো কর হিসেবে আদায় করে, তারপর সেই অর্থ অশূর রাজের হাতে তুলে দিলে, অশূর রাজ ইস্রায়েল ছেড়ে চলে যান।
21মনহেম যা কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন সে সবই ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। 22মনহেমের মৃত্যুর পর তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সমাধিস্থ করা হয়। এরপর মনহেমের পুত্র পকহিয় তাঁর জায়গায় নতুন রাজা হন।
ইস্রায়েলে পকহিয়র শাসনকাল
23যিহূদায় অসরিয়ের রাজত্বের 50তম বছরে মনহেমের পুত্র পকহিয় শমরিয়ায় ইস্রায়েলের রাজা হয়েছিলেন এবং তিনি দু বছর রাজত্ব করেছিলেন। 24পকহিয় সে সমস্ত কাজই করেছিলেন, যেগুলো ছিল প্রভুর দ্বারা নিষিদ্ধ। নবাটের পুত্র যারবিয়ামের মতই তিনিও ইস্রায়েলের লোকদের পাপ আচরণের পথে ঠেলে দিয়েছিলেন।
25পকহিয়র সেনাপতি ছিলেন রমলিয়ের পুত্র পেকহ। পেকহ অর্গব এবং অরিযি সমেত গিলিয়দের 50 জন ব্যক্তিকে তাঁর সঙ্গে নিয়েছিলেন এবং রাজপ্রাসাদের মধ্যে পকহিয়কে হত্যা করেছিলেন।
26পকহিয় যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন সেসব ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে।
ইস্রায়েলে পেকহর শাসনকাল
27রাজা অসরিয়ের যিহূদায় রাজত্বের 52তম বছরে রমলিয়ের পুত্র পেকহ শমরিয়ায় ইস্রায়েলের রাজা হন। পেকহ 20 বছর রাজত্ব করেছিলেন। 28এবং প্রভু যা কিছু বারণ করেছিলেন পেকহ সে সবই করেছিলেন। নবাটের পুত্র যারবিয়ামের মত পেকহও ইস্রায়েলের লোকদের পাপ আচরণে বাধ্য করেন।
29অশূররাজ তিগ্লৎপিলেষর এসে ইয়োন, আবেল-বৈৎ-মাখা, যানোহ, কেদশ, হাৎসোর, গিলিয়দ, গালীল ও নপ্তালির সমগ্র অঞ্চল দখল করে এখানকার লোকদের অশূরে বন্দী করে নিয়ে যান। এটা হয়েছিল যখন পেকহ ইস্রায়েলের রাজা ছিলেন।
30উষিয়ের পুত্র যোথমের যিহূদায় রাজত্বকালের 20 বছরের মাথায় এলার পুত্র হোশেয়, রমলিয়র পুত্র রাজা পেকহের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে তাঁকে হত্যা করেন এবং নিজে নতুন রাজা হয়ে বসেন।
31পেকহ যা কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন সে সবই ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে।
যিহূদায় যোথমের শাসনকাল
32রমলিয়র পুত্র পেকহর ইস্রায়েলে রাজত্বের দ্বিতীয় বছরে উষিয়ের পুত্র যোথম যিহূদার নতুন রাজা হলেন। 33যোথম যখন রাজা হন তাঁর বয়স ছিল 25 বছর। তিনি 16 বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেছিলেন। তাঁর মা ছিলেন সাদোকের কন্যা যিরূশা। 34যোথম তাঁর পিতা উষিয়ের মতোই প্রভু নির্দেশিত কাজকর্ম করেছিলেন। 35কিন্তু তিনিও মূর্ত্তি পূজোর জন্য নির্মিত উঁচু বেদীগুলো ধ্বংস করেন নি। তখনও পর্যন্ত এইসব বেদীতে লোকেরা বলিদান করত ও ধুপধূনো দিত। যোথম প্রভুর মন্দিরের ওপরের দরজাটি তৈরী করেছিলেন। 36যোথম যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন সে সবই যিহূদার রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে।
37তাঁর রাজত্বকালে, অরামের রাজা রৎসীনকে এবং রমলিয়র পুত্র পেকহকে প্রভু যিহূদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পাঠিয়েছিলেন।
38যোথমের মৃত্যু হলে তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে দায়ূদ নগরীতে সমাধিস্থ করার পর তাঁর পুত্র আহস নতুন রাজা হলেন।
16আহস যিহূদার রাজা হলেন
1রমলিয়র পুত্র পেকহর ইস্রায়েলে রাজত্বের 17তম বছরে যোথমের পুত্র আহস যিহূদার রাজা হলেন। 2আহস যখন রাজা হন সে সময়ে তাঁর বয়স ছিল 20 বছর। তিনি 16 বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেছিলেন। আহস তাঁর পূর্বপুরুষ দায়ূদের মত ছিলেন না, তিনি তাঁর রাজত্ব কালে প্রভুর অভিপ্রেত কাজকর্ম করেন নি। 3আহস ইস্রায়েলের রাজাদের মতো জীবনযাপন করতেন। এমন কি তিনি তাঁর নিজের পুত্রকেও আগুনে বলিদান দিয়েছিলেন।+ 16:3 তিনি … দিয়েছিলেন অর্থ, “তার পুত্রকে আগুনের মধ্যে দিয়ে যেতে বাধ্য করেছিল।” ইস্রায়েলীয়দের আবির্ভাবের আগে, প্রভু বীভৎস পাপ আচরণের জন্য যে সমস্ত দেশ পরিত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন, আহস সেই সমস্ত পাপ কার্য অনুসরণ করেছিলেন। 4বলিদান করা ছাড়াও, আহস উচ্চস্থানে, পাহাড়ে ও প্রতিটি সবুজ গাছের নীচে ধুপধূনো দিতেন।
5অরামের রাজা রৎসীন ও রমলিয়ের পুত্র ইস্রায়েলের রাজা পেকহ জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসে আহসকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেললেও শেষপর্যন্ত পরাজিত করতে পারেন নি। 6কিন্তু, সেই সময়ে, অরামরাজ রৎসীন যিহূদার লোকদের যারা সেখানে বাস করত তাদের তাড়িয়ে এলত্ দখল করেন। এরপর অরামীয়রা এলতে বসবাস শুরু করে এবং তারা এখনো সেখানেই আছে।
7আহস অশূররাজ তিগ্লৎ-পিলেষরের কাছে দূত পাঠিয়ে জানালেন, “আমি আপনার দাসানুদাস। আমাকে আপনার সন্তান জ্ঞান করে অরামের রাজা এবং ইস্রায়েলের রাজার হাত থেকে রক্ষা করুন! এরা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছে!” 8প্রভুর মন্দিরের এবং রাজকোষের সমস্ত সোনা রূপো নিয়ে আহস উপহারস্বরূপ সেসব অশূররাজকে পাঠিয়ে দেন। 9আহসের মিনতিতে সাড়া দিয়ে অশূররাজ দম্মেশকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দম্মেশক দখল করেন এবং রৎসীনকে হত্যা করে সেখানকার লোকদের বন্দী করে কীরে নিয়ে যান।
10দম্মেশকে অশূররাজ তিগ্লৎ-পিলষরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে আহস সেখানকার বেদীটি দেখে তার একটা নকশা যাজক ঊরিয়র কাছে পাঠান। 11যাজক ঊরিয় তখন আহস ফিরে আসার আগেই দম্মেশকের বেদীটির মতো অবিকল দেখতে আরেকটা বেদী বানিয়ে রাখলেন।
12দম্মেশক থেকে ফিরে এসে আহস সেই বেদীতে শস্য নৈবেদ্য ও হোমবলি দিলেন। 13এছাড়াও তিনি ওই বেদীতে হোমবলি ও শস্য নৈবেদ্য পোড়ালেন। তিনি বেদীর ওপর পেয় নৈবেদ্য ঢাললেন এবং মঙ্গল নৈবেদ্যের রক্ত ছিটিয়ে দিলেন।
14মন্দিরের সামনে প্রভুর সম্মুখভাগ থেকে আগের পিতলের বেদীটি আহস তুলে ফেলেন কারণ এটি তাঁর বানানো বেদী ও প্রভুর মন্দিরের মাঝখানে ছিল। আগের বেদীটাকে আহস তাঁর নিজের বানানো বেদীর উত্তর দিকে বসিয়ে দেন। 15আহস যাজক ঊরিয়কে নির্দেশ দিয়ে বলেন, “সকালের হোমবলি, বিকেলের শস্য নৈবেদ্য ও দেশের লোকদের পেয় নৈবেদ্য যেন বড় বেদীর ওপর দেওয়া হয়। বলিদানের পর ও হোমবলির নৈবেদ্য থেকেও সমস্ত রক্ত যেন বড় বেদীটায় ঢালা হয়। পিতলের বেদীটা আমি ঈশ্বরকে প্রশ্ন করার সময় ব্যবহার করব।” 16যাজক ঊরিয় রাজা আহসের নির্দেশ মতোই সমস্ত কাজ করেছিলেন।
17মন্দিরে যাজকদের হাত ধোবার জন্য পাটাতনের ওপর পিতলে খোপ ও গামলা বসানো ছিল। আহস সেই সমস্ত খোপ ও গামলা সরিয়ে পাটাতনটি কেটে ফেলেন। তিনি ওটার তলায় রাখা পিতলের ষাঁড়ের সঙ্গে লাগানো বড় জল রাখার পাত্রটাও খুলে সান বাঁধানো মেঝেতে নামিয়ে দিয়েছিলেন। 18কর্মীরা বিশ্রামের দিনের জমায়েতের জন্য মন্দিরের ভেতরে একটা ঢাকা জায়গা তৈরী করছিল। কিন্তু আহস সেই জায়গাটা সরিয়ে দেন। এছাড়াও আহস প্রভুর মন্দিরের বাইরের রাজাদের প্রবেশদ্বারটি খুলে নিয়েছিলেন। এসবই তিনি অশূররাজের জন্য করেছিলেন।
19আহস যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন সে সব যিহূদার রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। 20আহসের মৃত্যুর পর, তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে দায়ূদ নগরীতে সমাধিস্থ করা হয়। তারপর তাঁর পুত্র হিষ্কিয় নতুন রাজা হলেন।
17ইস্রায়েলে হোশেয়ের শাসন কাল শুরু
1রাজা আহসের যিহূদায় রাজত্বকালের 12তম বছরে এলার পুত্র হোশেয় শমরিয়াতে ইস্রায়েলের রাজা হলেন এবং 9 বছর রাজত্ব করেন। 2যদিও হোশেয় সে সব কাজ করেছিলেন, প্রভুর দ্বারা যে সব কাজ ভুল বলে গণ্য হত, তবু তিনি তাঁর পূর্ববর্তী ইস্রায়েলের রাজাদের মত খারাপ ছিলেন না।
3অশূররাজ শল্মনেষর হোশেয়র বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন, যিনি একদা তাঁর ভৃত্য ছিলেন এবং যিনি তাঁকে বশ্যতার কর দিতেন।
4কিন্তু পরে তিনি মিশররাজ সোর কাছে সাহায্য চেয়ে পাঠিয়ে অশূররাজকে কর পাঠানো বন্ধ করে দিলেন। অশূররাজ, হোশেয়র এই চক্রান্তের কথা জানতে পেরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলে আটক করেন।
5ইস্রায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণ করতে করতে অশূররাজ শেষ পর্যন্ত শমরিয়ায় এসে পৌঁছান এবং শমরিয়ার বিরুদ্ধে তিনি টানা তিন বছর যুদ্ধ করেন। 6হোশেয়র ইস্রায়েল শাসনের নবম বছরে শমরিয়া দখল করেন। অশূররাজ বহু ইস্রায়েলীয়কে বন্দী করে তাদের অশূর দেশে নিয়ে গিয়েছিলেন। এই সমস্ত বন্দীদের তিনি হলহ, হাবোর ও গোষণ নদীর তীরে ও মাদীয়দের বিভিন্ন শহরে বসবাসে বাধ্য করেছিলেন।
7ইস্রায়েলীয়রা তাদের প্রভু ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ আচরণ করেছিল বলেই এ ঘটনা ঘটেছিল। অথচ প্রভুই তাদের মিশর থেকে উদ্ধার করেছিলেন, মিশরের ফরৌণের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন! কিন্তু তারপরেও, ইস্রায়েলীয়রা বিভিন্ন মূর্ত্তির পূজা শুরু করেছিল। 8ঈশ্বরকে মেনে চলার পরিবর্তে, লোকরা সেই সব লোকদের বিধি, যাদের প্রভু দেশ থেকে উৎখাত করেছিলেন এবং ইস্রায়েলীয় রাজাদের প্রবর্তিত বিধিসমূহ মানতে শুরু করল। 9ইস্রায়েলীয়রা প্রভু, তাদের ঈশ্বরের বিরুদ্ধে গোপনে গোপনে পাপ আচরণ করতে শুরু করল যাকে কোন মতেই সঠিক কাজ বলা যায় না।
ইস্রায়েলীয়রা ছোট ছোট শহর থেকে শুরু করে বড় বড় শহরে প্রত্যেক জায়গায় উচ্চস্থান তৈরী করল। 10পাহাড়ে ও গাছের তলায় স্মরণস্তম্ভ ও দেবী আশেরার জন্য খুঁটি বসিয়েছিল। 11এইসব জায়গায় তারা প্রভু কর্ত্তৃক বিতাড়িত অন্যান্য জাতির মত ধুপধূনো দিতে শুরু করেছিল, যার ফলে প্রভু ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। 12তারা মূর্ত্তি পূজাও শুরু করেছিল। প্রভু বহুবার ইস্রায়েলীয়দের সতর্ক করে বলেছিলেন, “তোমরা এইসব পাপ আচরণ করো না।”
13প্রভু প্রত্যেকটি ভাববাদী ও দ্রষ্টার মাধ্যমে ইস্রায়েল ও যিহূদাকে পাপ আচরণ থেকে দূরে থাকতে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, “আমি আমার দাসদের হাত দিয়ে তোমাদের পূর্বপুরুষদের যে নিয়ম ও আদেশ দিয়েছি তোমরা তা অনুসরণ করে চলো।”
14কিন্তু তবুও লোকরা কর্ণপাত করেনি। তারা তাদের পূর্বপুরুষদের মতই গোঁযার্তুমি করে প্রভু, তাদের ঈশ্বরের অবজ্ঞা করেছে, তাঁর প্রতি আস্থা রাখেনি। 15লোকরা তাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে প্রভুর যে চুক্তি হয়েছিল সেটা বা তাঁর নির্দেশিত আদেশগুলি অনুসরণ করে নি। প্রভুর সাবধানবাণী না মেনে এবং অযোগ্য মূর্ত্তি পূজা করে এবং প্রতিবেশী দেশসমূহের মত জীবনযাপন করে তারা নিজেদের অপদার্থ প্রতিপন্ন করেছিল। অথচ প্রভু তাদের বারবার সতর্ক করে দিয়েছিলেন।
16প্রভু, তাদের ঈশ্বরের আদেশ অস্বীকার করে লোকরা সোনার বাছুর তৈরী করেছে। আশেরার খুঁটি পুঁতেছে; আকাশের চাঁদ, তারা, বাল মূর্ত্তিকে পূজা দিয়েছে; 17এমন কি তাদের ছেলেমেয়েদের হোমবলি দিয়েছে। ভবিষ্যৎ জানার জন্য তারা মন্ত্র-তন্ত্র, ডাকিনী বিদ্যা আয়ত্ত করতে চেষ্টা করেছে। এমন কি পাপ আচরণের জন্য দেহ বিক্রয় পর্যন্ত করেছে। এসব কাজের জন্য প্রভু তাদের ওপর ক্রুদ্ধ হয়ে 18তাদের নিজের চোখের সামনে থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। যিহূদার পরিবারগোষ্ঠী ছাড়া আর কোন ইস্রায়েলীয় পরিবারই প্রভুর কোপ দৃষ্টি থেকে রক্ষা পায়নি।
যিহূদার লোকরাও দোষী ছিল
19যিহূদার লোকরাও নির্দোষ ছিল না, তারাও প্রভু, তাদের ঈশ্বরের আদেশগুলো মানেনি এবং ইস্রায়েলের বাসিন্দাদের মতই পাপ আচরণে লিপ্ত হয়েছিল।
20প্রভু ইস্রায়েলের সমগ্র লোকদের বাতিল করে দিলেন ও তাদের কাছে নানা সঙ্কট ও বিপদ এনে দিয়েছিলেন। অন্যান্য জাতিদের হাতে তাদের ধ্বংস করে শেষাবধি নিজের চোখের সামনে থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন। 21 প্রভু ইস্রায়েলীয়দের দায়ূদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করেন এবং ইস্রায়েলীয়রা নবাটের পুত্র যারবিয়ামকে তাদের রাজা করেন। আর যারবিয়াম ইস্রায়েলীয়দের প্রভু নির্দেশিত পথ থেকে দূরে সরিয়ে এনে ভয়ঙ্কর সমস্ত পাপের পথে নিয়ে যান ও তাদের পাপ আচরণে বাধ্য করেন। 23প্রভু তাদের চোখের সামনে থেকে দূর না করে দেওয়া পর্যন্ত তারা এইসব পাপ আচরণ করা বন্ধ করেনি। তাই প্রভু এই সমস্ত বিপর্যয়ের কথা জানিয়ে আগেই তাঁর ভাববাদীদের মুখ দিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করিয়েছিলেন। ফলস্বরূপ ইস্রায়েলীয়রা গৃহচ্যুত হয়ে অশূর রাজ্যে যেতে বাধ্য হল এবং এখনও পর্যন্ত তারা সেখানেই বাস করে।
শমরিয়ার লোকদের আদিকথা
24ইস্রায়েলীয়দের হাত থেকে শমরিয়া অধিকার করে নিয়ে অশূরের রাজা বাবিল, কূথা, অব্বা, হমাৎ ও সফর্বয়িম থেকে নতুন বাসিন্দা নিয়ে এসে তাদের শমরিয়া ও তার আশেপাশের শহরগুলোয় বসিয়ে দিলেন। 25এই সমস্ত লোক শমরিয়ায় এসে প্রভুকে অবজ্ঞা করলে প্রভু তাদের আক্রমণ করার জন্য সিংহ পাঠিয়ে দিলেন। ফলস্বরূপ সিংহের আক্রমণে এদের কিছু লোক মারা পড়ল। 26কিছু লোক তখন অশূররাজকে বলল, “আপনি যে সমস্ত লোকদের শমরিয়ার শহরগুলোতে বসিয়ে দিয়েছিলেন তারা ওখানকার দেবতার নীতি-নির্দেশগুলো জানত না। সে কারণেই সেখানকার দেবতা এই সমস্ত অজ্ঞ লোকদের হত্যা করার জন্য সিংহ পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।”
27তখন অশূররাজ নির্দেশ দিলেন, “শমরিয়া থেকে যে সমস্ত যাজকদের ধরে আনা হয়েছিল, তাদের একজনকে আবার শমরিয়াতে পাঠিয়ে দাও যাতে সে ওখানকার লোকদের ঐ দেশের মূর্ত্তির নীতি-নির্দেশগুলো শিখিয়ে পড়িয়ে তুলতে পারে।”
28তখন যে সমস্ত যাজকদের অশূররা শমরিয়া থেকে ধরে এনেছিল তাদের একজনকে বৈথেলে থাকতে পাঠানো হল, যাতে তিনি শমরিয়ার নতুন লোকদের প্রভুকে সম্মান জানানোর পথগুলি শেখাতে পারেন।
29কিন্তু তা সত্ত্বেও, শমরিয়ার লোকরা বিভিন্ন শহরে অনেক উচ্চস্থান তৈরী করেছিল। সেখানে বিভিন্ন প্রকারের জাতি বাস করত এবং প্রত্যেক জাতির নিজস্ব দেবতা ছিল। এইসব লোকরা তাদের নিজস্ব দেবতাকে যেখানে তারা বাস করত সেই সব উচ্চস্থানে রেখেছিল। 30বাবিলের লোকরা এইভাবে তাদের মূর্ত্তি সুক্কোৎ-বনোত্কে স্থাপন করল; কূথের লোকরা নের্গলের মূর্ত্তি বানালো; হমাতের লোকরা অশীমার মূর্ত্তি বানালো; 31অব্বীয়েরা স্থাপন করলো নিভস ও তর্ত্তকের মূর্ত্তি আর সফর্বীয়েরা তাদের দেবতা অদ্রম্মেলক ও অনম্মেলকের উদ্দেশ্যে নিজেদের ছেলেমেয়েদের আগুনে বলি দিতে লাগল।
32এসবের পাশাপাশি এই সমস্ত লোক প্রভুরও উপাসনা করতো! সাধারণ লোকদের মধ্যে থেকে তারা বেদীতে পূজা করার জন্য যাজকদের বেছে নিয়েছিল, যারা লোকদের হয়ে মন্দিরে ও বেদীতে উপাসনা করতো ও বলি দিত। 33তারা নিজেদের দেশের রীতিনীতি অনুযায়ী নিজেদের দেবদেবীর সঙ্গে প্রভুরও উপাসনা করতো।
34এমনকি এখনও অতীতের মতোই এই সমস্ত লোক প্রভুর প্রতি যথোচিত শ্রদ্ধা ও সম্মান না দেখিয়ে বাস করে। তারা মোটেই ইস্রায়েলীয়দের নিয়ম এবং আদেশগুলি পালন করে নি। যাকোবের সন্তানদের প্রভু যে বিধি ও আজ্ঞা দিয়েছিলেন তা তারা পালন করে নি। 35প্রভু ইস্রায়েলের লোকদের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিলেন, “তোমরা অন্য মূর্ত্তিসমূহ পূজা করবে না, তাদের সম্মান দেখাবে না বা তাদের জন্য বলিদান করবে না। 36তোমরা শুধুমাত্র প্রভুকে, যে প্রভু ঈশ্বর তোমাদের মিশর থেকে উদ্ধার করেছিলেন, তাঁকেই অনুসরণ করবে। প্রভু তোমাদের উদ্ধার করার জন্য তাঁর ক্ষমতা প্রদর্শন করেছিলেন, তোমরা একমাত্র তাঁরই উপাসনা করবে এবং তাঁর উদ্দেশ্যে বলিদান করবে। 37তোমরা অবশ্যই তাঁর নিয়ম, বিধি, শিক্ষা অনুসারে চলবে এবং সব সময় তিনি যে ভাবে বলেছেন সেই ভাবে জীবনযাপন করবে। অন্য দেবতাদের সম্মান করো না। 38তোমরা কখনো আমার সঙ্গে তোমাদের চুক্তির কথা ভুলে যেও না। অন্য কোন দেবদেবীর আনুগত্য স্বীকার করো না। 39তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের প্রতি সম্মান দেখাও, তাহলে তিনি তোমাদের সমস্ত শত্রুর হাত থেকে, সমস্ত বিপদে-আপদে রক্ষা করবেন।”
40কিন্তু ইস্রায়েলীয়রা সে কথা শুনল না। তারা আগের মতোই পাপ আচরণ করে যেতে লাগলো। 41তাই এখন, অন্যান্য জাতির লোকরা প্রভুর প্রশংসা করে, কিন্তু তারা তাদের নিজেদের মূর্ত্তিও পূজা করে। আর পিতামহ-প্রপিতামহদের অনুসরণ করে তাদের ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনি, পূর্বপুরুষরা এখনও পর্যন্ত সে ভাবেই পূজা করে আসছে।
18যিহূদায় হিষ্কিয়র শাসনকাল শুরু
1এলার পুত্র হোশেয়ের ইস্রায়েলে রাজত্বের তৃতীয় বছরে আহসের পুত্র হিষ্কিয় যিহূদার রাজা হন। 2পঁচিশ বছর বয়সে রাজা হয়ে হিষ্কিয় মোট 29 বছর জেরুশালেম শাসন করেছিলেন। তাঁর মা অবী ছিলেন সখরিয়ের কন্যা।
3তাঁর পূর্বপুরুষ দায়ূদের মতোই হিষ্কিয় প্রভুর নির্দেশিত পথে জীবন কাটিয়েছিলেন।
4হিষ্কিয় উচ্চস্থানগুলি এবং স্মরণ স্তম্ভগুলো ভেঙে ফেললেন এবং আশেরার খুঁটিগুলিও কেটে ফেলেছিলেন। সে সময় ইস্রায়েলের লোকরা “নহুষ্টন” নামে মোশির বানানো পিতলের একটা সাপের মূর্ত্তির সামনে ধুপধূনো দিত। হিষ্কিয় লোকদের এই পুতুল পূজা বন্ধ করার জন্য পিতলের সাপটাকে টুকরো টুকরো করে ভেঙে দিয়েছিলেন।
5প্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বরের ওপর হিষ্কিয়র সম্পূর্ণ আস্থা ছিল। হিষ্কিয়র আগে বা পরে যিহূদার কোন রাজাই তাঁর মত ছিলেন না। 6হিষ্কিয় সম্পূর্ণরূপে প্রভুর অনুগত ছিলেন এবং তিনি সব সময়ই প্রভুকে অনুসরণ করে চলেছিলেন। তিনি মোশিকে দেওয়া প্রভুর আদেশগুলো মেনে চলেছিলেন। 7তাই প্রভুও সর্বক্ষেত্রে হিষ্কিয়র সহায় হয়েছিলেন। হিষ্কিয় যা কিছু করছিলেন, তাতেই সফল হন।
হিষ্কিয় অশূররাজের আধিপত্য অস্বীকার করে তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন বন্ধ করেন। 8তিনি ঘসা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ছোট বড় সমস্ত পলেষ্টীয় শহরগুলোকে যুদ্ধে পরাজিত করেছিলেন।
অশূররা শমরিয়া দখল করল
9অশূররাজ শলমনেষর, হিষ্কিয়র যিহূদায় রাজত্বের চতুর্থ বছরে এবং এলার পুত্র হোশিয়র ইস্রায়েলে রাজত্বের সপ্তম বছরে, শমরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলেন। অশূররাজের সেনাবাহিনী চতুর্দিক থেকে শমরিয়া ঘিরে ফেলে 10এবং তৃতীয় বছরে অশূররাজ শলমনেষর শমরিয়া দখল করেন। হিষ্কিয়র যিহূদায় শাসনের ষষ্ঠ বছরে এবং হোশিযর ইস্রায়েলে শাসনের নবম বছরে শমরিয়া অশূররাজের পদানত হয়। 11অশূররাজ ইস্রায়েলীয়দের বন্দী করে তাঁর সঙ্গে অশূর রাজ্যে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি তাদের হলহ, হাবোর, গোষণ নদীর তীরে মাদীয়দের বিভিন্ন শহরে বসবাস করতে বাধ্য করেন। 12ইস্রায়েলীয়রা তাদের প্রভু ঈশ্বরের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করায় এবং প্রভুর সঙ্গে তাদের চুক্তি ভঙ্গ করার জন্যই এ ঘটনা ঘটেছিল। প্রভুর দাস মোশি যে আদেশগুলি দিয়েছিলেন বা ইস্রায়েলীয়দের যে নীতি-শিক্ষা দিয়েছিলেন, তা তারা পালন না করার জন্যই এই দুর্যোগ ঘনিয়ে আসে।
অশূর-রাজ যিহূদা দখল করার জন্য প্রস্তুত হলেন
13হিষ্কিয়র রাজত্বের 14তম বছরে, অশূর-রাজ সন্হেরীব যিহূদার দূর্গ বেষ্টিত সমস্ত শহরগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রা করেন এবং তাদের পরাজিত করেন। 14তখন যিহূদার রাজা হিষ্কিয় লাখীশে অশূররাজের কাছে একটা খবর পাঠালেন। হিষ্কিয় বললেন, “আমি অন্যায় করেছি। আপনি আমার রাজত্ব ছেড়ে চলে গেলে, আপনি যা চাইবেন আমি তাই দিতে প্রস্তুত আছি।”
তখন অশূররাজ হিষ্কিয়ের কাছে 11 টন রূপো ও 1 টন সোনা চেয়ে পাঠালেন! 15হিষ্কিয় প্রভুর মন্দিরে ও রাজকোষে যত রূপো ছিল সবই অশূররাজকে দিয়ে দেন। 16হিষ্কিয় প্রভুর মন্দিরের দরজা ও দরজার থামে যেসব সোনা বসিয়েছিলেন, সে সবও কেটে অশূররাজকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
অশূররাজ জেরুশালেমে লোক পাঠালেন
17অশূররাজ লাখীশ থেকে জেরুশালেমে হিষ্কিয়র কাছে তাঁর সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনজন সেনাপতি, রব্শাকি, তর্ত্তয় ও রব্সারিসের অধীনে একটি বড় সেনাবাহিনী পাঠান। তারা ধোপাদের ঘাটের কাছের রাস্তার ওপরের খাঁড়ির কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। 18তিনি হিল্কিয়ের পুত্র রাজপ্রাসাদের তত্ত্বাবধায়ক ইলিয়াকীম, সচিব শিব্ন ও একজন তথ্যসংগ্রাহক আসফের পুত্র যোয়াহ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বাইরে এল।
19তিনজন সেনাপতিদের একজন, রব্শাকি বললেন, “হিষ্কিয়কে গিয়ে জানাও যে অশূররাজ বলেছেন:
‘তোমার আত্মবিশ্বাসের পেছনে কি কারণ আছে? 20তুমি বলো, “যুদ্ধ করবার মতো যথেষ্ট শক্তি তোমার আছে।” কিন্তু সে তো কথার কথা মাত্র! কার ভরসায় তুমি আমার অধীনতা অস্বীকার করেছ? 21তুমি কি মিশরের ওপর, একটি বেনু বাঁশের তৈরী চলবার ছড়ির ওপর নির্ভর করছ? মনে রেখো এই ছড়ির ওপর বেশী ভর দিলে, ছড়ি তো ভাঙবেই এমন কি তার চোঁচও তোমার হাতে ফুটে তোমায় জখম করতে পারে! মিশরের রাজার উপরে তুমি নির্ভর করতে পার না। 22একথা শুনে তুমি হয়তো বলবে, “আমাদের প্রভু, ঈশ্বরের ওপরে আস্থা আছে।” কিন্তু আমি এও জানি, তোমার লোকরা প্রভুকে যে উঁচু বেদীগুলোয় উপাসনা করত, তুমি সেই সমস্ত ভেঙে দিয়ে যিহূদার লোকদের বলেছ, “তোমরা শুধুমাত্র জেরুশালেমের বেদীর সামনে উপাসনা করবে।”
23‘এখন অশূররাজের সঙ্গে এই চুক্তিটি করে ফেলো এবং আমি তোমাকে 2000 ভাল ঘোড়া দেব যদি তুমি ততগুলো অশ্বারোহী জোগাতে পার। 24কারণ তোমরা মিশরের রথ আর অশ্বারোহীদের ওপর ভরসা করে আমাদের সেনাবাহিনীর একজন জমাদারকেও হারাতে পারবে না!
25‘আমরা প্রভুর বিনা সম্মতিতে জেরুশালেম ধ্বংস করতে আসি নি। প্রভুই স্বয়ং বলেছেন, “যাও, এই দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এই দেশকে ধ্বংস করো!”’”
26একথা শুনে, হিল্কিয়ের পুত্র ইলিয়াকিম, শিব্ন ও যোয়াহ সেই সেনাপতিকে বলল, “অনুগ্রহ করে আমাদের সঙ্গে আরামিক ভাষায় কথা বলুন। কারণ যদি আপনি ইহুদীদের ভাষায় কথা বলেন, তাহলে দেওয়ালের ওপরের লোকরা আমাদের কথাবার্তা শুনতে পাবে!”
27কিন্তু এই সেনাপতি রব্শাকি তখন বললেন, “আমাদের রাজা আমায় কেবলমাত্র তোমার বা তোমার রাজার সঙ্গে কথা বলতে পাঠান নি। আমি দেওয়ালের ওপরে বসে থাকা লোকদের সঙ্গেও কথা বলছি। কারণ তাদেরও তোমাদের মতো নিজেদের বিষ্ঠা খেতে হবে, আর নিজেদের মূত্র পান করতে হবে!”
28তারপর এই সেনাপতি উঁচু গলায় ইহুদীদের ভাষায় বললেন:
“মহামান্য অশূররাজের বলে পাঠানো এই কথাগুলো মন দিয়ে শোন! 29অশূররাজ বলেছেন, ‘হিষ্কিয়র চালাকিতে আকৃষ্ট হয়ো ন! ও কোন ভাবেই আমার হাত থেকে তোমাদের বাঁচাতে পারবে না!’ 30হিষ্কিয়র কথা মেনো না এবং প্রভুর ওপরেও ভরসা করো না। হিষ্কিয় বলে, ‘প্রভু আমাদের রক্ষা করবেন! অশূররাজ এই শহর দখল করতে পারবে না!’
31“কিন্তু হিষ্কিয়র কথা শুনো না! ‘অশূররাজ বলে পাঠিয়েছেন; আমার সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করো। আমার আনুগত্য স্বীকার করলে তোমরা তোমাদের নিজেদের ক্ষেতের ফসল, বাড়ির কুঁয়োর জল খেতে পারবে। 32তোমরা যদি আমি আসার পর আমার সঙ্গে সঙ্গে চলে আসো তাহলে তোমাদের এমন এক দেশে নিয়ে যাব, যেখানে সবুজ ক্ষেত শস্যে ভরে থাকে, অপর্যাপ্ত দ্রাক্ষারস আর গাছ-গাছালি ফলে ভরে থাকে। তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে, খাবার ও বস্ত্রসহ থাকতে পারবে। কিন্তু হিষ্কিয়র কথায় তোমরা কান দিও না।’
“ও তোমাদের দলে টানতে চেষ্টা করছে, বলছে, ‘প্রভু আমাদের রক্ষা করবেন।’ 33কিন্তু ভেবে দেখো কোন দেশের দেবতাই কি তাঁর উপাসকদের অশূররাজের কবল থেকে বাঁচাতে পেরেছেন? না! 34কোথায় গেল হমাত আর অর্পদের দেবতারা? কিংবা সফর্বযিম, হেনা আর ইব্বার দলবল? তাঁরা কি আমার হাত থেকে শমরিয়াকে বাঁচাতে পারলেন? না! 35অন্য কোন দেবতা কি আমার হাত থেকে তাঁদের দেশ রক্ষা করতে পেরেছেন? না! প্রভু কেমন করে আমার হাত থেকে জেরুশালেম রক্ষা করবেন?”
36কিন্তু একথা শুনেও লোকরা নিশ্চুপ হয়ে থাকল। তারা একটা কথাও উচ্চারণ করল না কারণ মহারাজ হিষ্কিয় তাদের বলে দিয়েছিলেন, “ওর সঙ্গে তোমরা কোন কথা বলো না।”
37রাজপ্রাসাদের তত্ত্বাবধায়ক (হিল্কিয়ের পুত্র ইলিয়াকীম), রাজ-সচিব (শেব্ন) এবং তথ্যসংগ্রাহক (আসফের পুত্র যোয়াহ) হিষ্কিয়র কাছে এল। শোকপ্রকাশের জন্য তারা ছেঁড়া জামাকাপড় পরেছিল। অশূররাজের সেনাপতি তাদের কি বলেছেন, তারা সেই সব রাজা হিষ্কিয়কে জানাল।
19হিষ্কিয় ভাববাদী যিশাইয়র সঙ্গে কথা বললেন
1সমস্ত কথা শুনে রাজা হিষ্কিয়ও শোকার্ত হয়ে ভাল পোশাক ছিঁড়ে চটের পোশাক পরে প্রভুর মন্দিরে গেলেন।
2হিষ্কিয় রাজপ্রাসাদের তত্ত্বাবধায়ক ইলীয়াকীম, রাজ-সচিব শিব্ন ও প্রধান যাজকদের আমোসের পুত্র ভাববাদী যিশাইয়র কাছে পাঠালেন। তারাও সকলে শোক প্রকাশের জন্য চটের পোশাক পরেছিল। 3এরা সকলে গিয়ে যিশাইয়কে বলল, “হিষ্কিয় বলেছেন, ‘এই সঙ্কটের দিনে আমাদের করা ভুল-ভ্রান্তি ও পাপ আচরণের কথা স্মরণ করা উচিৎ। কিন্তু অবস্থা এখন এরকম যে নবজাতকের জন্ম দিতে হবে অথচ প্রসূতির কোন শক্তি নেই। 4অশূররাজের সেনাপতি এসে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে পর্যন্ত প্রশ্ন তুলেছে, অনেক খারাপ কথা শুনিয়ে গিয়েছে। সম্ভবতঃ আপনার প্রভু ঈশ্বর সে সবই শুনতে পেয়েছেন, হয়তো এর জন্য প্রভু তাঁর শত্রুদের যথোচিত শাস্তিও দেবেন। অনুগ্রহ করে আপনি, যে সমস্ত লোক এখনও জীবিত আছে তাদের জন্য প্রার্থনা করুন।’”
5মহারাজ হিষ্কিয়র উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীরা যিশাইয়র কাছে গেলে 6তিনি তাদের বললেন, “তোমাদের গুরুকে গিয়ে খবর দাও: ‘প্রভু বলেছেন: অশূররাজের কর্মচারীরা আমাকে অপমান করার জন্য যে সব কথা বলে গিয়েছে, তা শুনে ভয় পাবার কোন কারণ নেই! 7আমি ওর ওপর ভর করার জন্য এক অপদেবতাকে পাঠাচ্ছি। তারপর দেখো, গুজবে ভয় পেয়ে ও নিজেই নিজের দেশে ছুটে পালাবে। সেখানে আমি তরবারির আঘাতে ওর মৃত্যুর জন্য সমস্ত আয়োজন করে রাখছি।’”
হিষ্কিয়কে অশূর-রাজ আবার সতর্ক করলেন
8অশূর-রাজের সেনাপতি খবর পেলেন, তাদের মহারাজ লাখীশ ছেড়ে গিয়ে লিব্নার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। 9ইতিমধ্যে অশূর-রাজ গুজব শুনলেন, “কূশদেশের রাজা তির্হকঃ তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আসছেন!”
তখন অশূর-রাজ হিষ্কিয়র কাছে আবার দূত মারফৎ খবর পাঠালেন। এই বার্তায় বলা হল: 10“যিহূদা-রাজা হিষ্কিয় সমীপেষু,
‘আপনাদের ঈশ্বরের দ্বারা প্রতারিত হয়ে যদি আস্থা রাখেন অশূর-রাজ জেরুশালেমকে পদানত করতে পারবেন না তাহলে ভুল করবেন। 11আপনি নিশ্চয়ই অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে অশূর-রাজের যুদ্ধযাত্রা ও তাদের পরিণতির কথা অবগত আছেন। এই সমস্ত দেশকে আমরা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছি। আপনারা কি ভাবছেন যে আপনারা উদ্ধার পাবেন? 12এই সমস্ত জাতির দেবতা তাঁদের নিজেদের লোকদের বাঁচাতে পারেন নি। আমার পূর্বপুরুষরা, গোষণ, হারণ, রেৎসফ, তলঃশর এদোনের লোকরা এদের সবাইকেই ধ্বংস করেছিলেন। 13কোথায় গেলেন হমাৎ, অর্পদ, সফর্বয়িম, হেনা, ইব্বার রাজারা? এঁরা সকলেই মরে ভূত হয়ে গিয়েছেন!’”
হিষ্কিয় প্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন
14দূতদের কাছ থেকে এই চিঠি নিয়ে পড়ার পর হিষ্কিয় প্রভুর মন্দিরে গিয়ে প্রভুর সামনে চিঠিখানা মেলে ধরলেন। 15তারপর তিনি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করে বললেন, “প্রভু করূব দূতদের মধ্যে আসীন ইস্রায়েলের ঈশ্বর আপনি এই পৃথিবীর সমস্ত ভূ-ভাগ, সমস্ত দেশেরই নিয়ামক। স্বর্গ ও পৃথিবী আপনারই হাতে গড়া। 16প্রভু, অনুগ্রহ করে আমার কথা শুনুন, চোখ খুলে এই চিঠিখানা দেখুন। কিভাবে সন্হেরীব জীবন্ত ঈশ্বরকে অপমান করেছেন তা শুনুন। 17প্রভু এটা সত্য অশূর-রাজ এসমস্ত দেশ ধ্বংস করেছেন। 18তারা তাদের মূর্ত্তিসমূহকে আগুনে ছুঁড়ে ফেলেছেন এসবই সত্যি কথা। কিন্তু সেই সব মূর্ত্তি তো আসলে মানুষের বানানো কাঠ এবং পাথরের পুতুল মাত্র ছিল। যে কারণে অশূর-রাজ ওদের ধ্বংস করতে পেরেছিলেন। 19কিন্তু এখন প্রভু, আমাদের ঈশ্বর অশূর-রাজের কবল থেকে উদ্ধার করুন। তাহলে পৃথিবীর সর্বত্র সবাই জানবে প্রভুই একমাত্র ঈশ্বর।”
20আমোসের পুত্র যিশাইয়, হিষ্কিয়কে খবর পাঠালেন, “প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর জানিয়েছেন: তুমি সন্হেরীবের বিরুদ্ধে আমার কাছে যে প্রার্থনা করেছো, আমি তা শুনতে পেয়েছি।
21“সন্হেরীব সম্পর্কে প্রভু বলেন:
‘সিয়োনের কুমারী কন্যা মনে করে তুমি খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নও।
তাই সে তোমায় টিটকিরি করে,
তোমার পেছনে তোমায় অপমান করছে।
22তুমি কাকে অপমান করেছ এবং ঈশ্বরের নামে কাকে অভিশাপ দিয়েছ বলে মনে কর?
তুমি কার বিরুদ্ধে গলা তুলেছ এবং গর্বিত ভাবে তাকিয়েছ?
সেটা ইস্রায়েলের সেই পবিত্র একজনের বিরুদ্ধে।
23তাই তুমি তোমার বার্তাবাহকদের এই কথা বলবার জন্য পাঠিয়ে প্রভুকে অপমান করেছ।
তুমি বলেছ, “আমার অজস্র রথবাহিনী নিয়ে আমি উচ্চতম পর্বত থেকে লিবানোনের গভীরতম প্রদেশ পর্যন্ত গিয়েছি।
সেখানকার উচ্চতম দেবদারু গাছ থেকে শুরু করে সব চেয়ে ভাল আর দুর্মূল্য গাছও কেটে টুকরো করেছি।
আমি লিবানোনের সবচেয়ে উঁচু প্রান্তর থেকে গভীর জঙ্গল পর্যন্ত গিয়েছি।
24আমি কুয়ো খুঁড়ে নিত্যনতুন জায়গার জল পান করেছি।
মিশরের নদীর জল শুকিয়ে,
খট্খটে শুকনো জমিতে পায়ে হেঁটেছি।”
25‘তুমি তো তাই বললে। কিন্তু প্রভু যা বলেন তা তুমি তোমার দূরদেশে শোনোনি।
এসবই আমার (ঈশ্বর) পূর্ব পরিকল্পিত।
সেই অনাদি-অনন্তকাল থেকে
আমিই সব ঠিক করে ঘটিয়ে চলেছি!
যে কারণে তুমি একের পর এক শক্তিশালী দেশ ধ্বংস করে,
তাদের পাথরের ভগ্নস্তূপে পরিণত করতে পেরেছ।
26এই সমস্ত দেশের লোক শক্তিহীন।
এই লোকরা ভীত এবং বিভ্রান্ত
তারা জমিতে ঘাস ও গাছপালা
এবং বাড়ীর ছাদের উপর ঘাস ও গাছপালা বড় না হতেই মারা যায়।
27আমি এটা জানি তুমি কখন বসে থাকো,
কখন আসো, কখন যাও
এবং কখন তুমি আমার বিরুদ্ধে।
28তুমি কখন আমাকে অপমান করো,
কখন তোমার সঙ্গীত নাসা শূন্যে তুলে গর্ব কর, সে সবই আমি খেয়াল রাখি।
এবার তাই আমি তোমার এই সঙ্গীত নাসায় দড়ি বেঁধে
তোমায় কলুর বলদের মতো ঘোরাবো আর জাবর কাটাবো,
ঠিক যে ভাবে তোমায় টেনে তুলেছিলাম
সে ভাবেই এক ফুঁয়ে তোমায় নীচে ফেলবো।’”
হিষ্কিয়র প্রতি প্রভুর বার্তা
29এটি হবে তোমার পক্ষে একটি চিহ্নস্বরূপ। এবছর তুমি মাঠে যে শস্য আপনিই জন্মায় তাই খাবে। পরের বছর তুমি বীজ থেকে যে শস্য হয় তাই খাবে। আর তার পরের বছর, তৃতীয় বছরে তুমি তোমার নিজের বোনা বীজের শস্য থেকে খেতে পারবে। এর থেকেই, আমি যে তোমার সহায় তা প্রমাণিত হবে। তুমি দ্রাক্ষা ক্ষেতে গাছ পুঁতে সেই দ্রাক্ষা নিজে খাবে। 30যিহূদার যে সমস্ত লোক পালিয়ে গিয়েছে এবং বেঁচে আছে আবার সংখ্যায় বৃদ্ধি পাবে। 31যে সমস্ত অল্প সংখ্যক লোক বাকী আছে তারা জেরুশালেম থেকে বেরিয়ে আসবে এবং কিছু সংখ্যক সিয়োন পর্বত ছেড়ে চলে যাবে।
32“তাই প্রভু অশূর-রাজ সম্পর্কে জানিয়েছেন:
‘অশূর-রাজ এ শহরে নিজের দল নিয়ে আসবে না
বা এখানে একটা তীরও ছুঁড়তে পারবে না।
এ শহর আক্রমণ করে, দেয়াল ভেঙে
ধূলোর পাহাড়ও বানাতে পারবে না।
33যে পথ দিয়ে অশূর-রাজ এসেছিল, সে পথেই আবার ফিরে যাবে।
এ শহরে তার ঢোকা আর হবে না!
34আমি এই শহরকে রক্ষা করব আর বাঁচাব।
আমার নিজের জন্য আর আমার সেবক দায়ূদের জন্যই আমি এই কাজ করব।’”
অশূর-রাজের সেনাবাহিনী ধ্বংস হল
35সেই রাতেই প্রভুর পাঠানো দূত গিয়ে অশূর-রাজের 185,000 সেনা ধ্বংস করলেন। সকালে উঠে সবাই শুধু মৃতদেহ দেখতে পেল।
36সন্হেরীব তখন নীনবীতে ফিরে গিয়ে বাস করতে শুরু করলেন। 37এক দিন তিনি যখন তাঁর ইষ্টদেবতা নিষ্রোকের মন্দিরে পূজা করছিলেন, সে সময় তাঁর দুই পুত্র অদ্রম্মেলক ও শরেৎসর তাঁকে তরবারির আঘাতে হত্যা করে অরারট দেশে পালিয়ে গেলে, তাঁর আর এক পুত্র এসর-হদ্দোন তাঁর জায়গায় নতুন রাজা হলেন।
20অসুস্থ হিষ্কিয় মৃত্যু মুখে পতিত হলেন
1এই সময় একবার অসুস্থ হয়ে হিষ্কিয়র প্রায় মর মর অবস্থা হলে আমোসের পুত্র ভাববাদী যিশাইয় তাঁর সঙ্গে দেখা করে বললেন, “প্রভু তোমায় সব হাতের কাজ আর ঘর গেরস্থালী গোছগাছ করে নিতে বলেছেন। কারণ তুমি আর বাঁচবে না, তোমার মৃত্যু হবে!”
2হিষ্কিয় তখন দেওয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে প্রভুর কাছে প্রার্থনা করে বললেন, 3“প্রভু মনে রেখ আমি সমস্ত অন্তঃকরণ দিয়ে মনে প্রাণে তোমার সেবা করেছি। যা কিছু ভাল কাজ তুমি করতে বলেছ সবই আমি করেছি।” তারপর হিষ্কিয় খুব কান্নাকাটি করলেন।
4যিশাইয় যাবার পথে যখন তিনি উঠোনের মাঝখান পর্যন্ত গিয়েছেন, সে সময় প্রভুর বাণী তাঁর কানে প্রবেশ করল। প্রভু বললেন, 5“যাও, আমার লোকদের নেতা হিষ্কিয়কে গিয়ে বল, ‘তোমার পিতা দায়ূদের প্রভু তোমার প্রার্থনা শুনেছেন এবং তোমার চোখের জল দেখেছেন। তাই আমি তোমায় সারিয়ে তুলব। আজ থেকে তিন দিনের মাথায় তুমি আবার প্রভুর মন্দিরে যেতে পারবে। 6আর আমি তোমার পরমায়ু আরো 15 বছর বাড়িয়ে দেব। তোমাকে আর এই শহরকে অশূর-রাজের কবল থেকে বাঁচিয়ে, আমি এই শহর রক্ষা করব। আমি আমার নিজের জন্য এবং আমার সেবক দায়ূদকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থেই এই কাজ করব।’”
7যিশাইয় তখন বললেন, “ডুমুর ফল বেটে রাজার ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দাও।”
কথা মতো হিষ্কিয়র ক্ষতস্থানে ডুমুরের প্রলেপ লাগাতে হিষ্কিয় সুস্থ হয়ে উঠলেন।
8হিষ্কিয় বললেন, “আমি কি করে বুঝব যে প্রভু আবার আমায় সারিয়ে তুলবেন, আর তিন দিনের মাথায় আমি তাঁর মন্দিরে যেতে পারব?”
9যিশাইয় বললেন, “তুমি কি চাও? ছায়াটা কি দশ পা এগিয়ে যাবে, না দশ পা পিছিয়ে যাবে?+ 20:9 তুমি … যাবে সম্ভবতঃ এর অর্থ বাইরের দিকের একটি বিশেষ বাড়ির সিঁড়ির ধাপ যেগুলি হিষ্কিয় ঘড়ি হিসেবে ব্যবহার করত। সূর্যকিরণ সিঁড়ির ওপর পড়লে বোঝা যেত এটা দিনের কোন্ সময়। প্রভু যে কথা বলেছেন তা যে সফল করবেন তার এই চিহ্ন তোমার জন্য।”
10হিষ্কিয় উত্তর দিলেন, “না না, ছায়ার পক্ষে এগিয়ে চলাটাই সহজ! আপনি বরঞ্চ আহসের সিঁড়িতে ছায়াটাকে দশ পা পিছু হটিয়ে দিন।”
11যিশাইয় তখন প্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন এবং প্রভু সেই ছায়াটাকে আহসের সিঁড়িপথে দশ পা পিছিয়ে দিলেন যেখানে সেটা একটু আগেই ছিল।
হিষ্কিয় ও বাবিলের লোকরা
12সেসময়ে বাবিলের রাজা ছিলেন বলদনের পুত্র বরোদক্বলদন্। হিষ্কিয়র অসুস্থতার কথা শুনে তিনি লোক মারফৎ তাঁর জন্য চিঠি ও একটি উপহার পাঠিয়েছিলেন। 13হিষ্কিয় বাবিলের এই ব্যক্তিদের স্বাগত জানিয়ে তাঁদের রাজপ্রাসাদের ও তাঁর রাজত্বের সোনা, রূপো, মশলাপাতি, দুর্মূল্য আতর, অস্ত্রশস্ত্র ও রাজকোষের যা কিছু সম্ভার, তা দেখিয়েছিলেন। সারা রাজ্যে এমন কিছু ছিল না যা হিষ্কিয় তাদের দেখান নি।
14তখন ভাববাদী যিশাইয় হিষ্কিয়র কাছে এসে প্রশ্ন করলেন, “এরা কোত্থেকে এসেছে? কি বলছে?”
হিষ্কিয় বললেন, “এরা বাবিল নামে বহু দূরের এক দেশ থেকে এসেছে।”
15যিশাইয় জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার প্রাসাদে ওরা কি দেখল?”
হিষ্কিয় বললেন, “সবই দেখেছে। রাজকোষে এমন কোন জিনিস নেই, যা আমি ওদের দেখাই নি।”
16তখন যিশাইয় হিষ্কিয়কে বললেন, “প্রভু যা বলছেন মন দিয়ে শোনো। তিনি বলছেন, 17শীঘ্রই এমন দিন আসছে যখন তোমার রাজপ্রাসাদের সবকিছু, যা কিছু তোমার পূর্বপুরুষরা আজ পর্যন্ত সঞ্চয় করে গিয়েছেন, বাবিলে নিয়ে যাওয়া হবে! কিছুই আর পড়ে থাকবে না। 18বাবিলের লোকরা তোমার পুত্রদেরও সেখানে নিয়ে যাবে এবং তাদের নপুংসক করে বাবিলের রাজপ্রাসাদে রাখা হবে।”
19হিষ্কিয় তখন যিশাইয়কে বললেন, “খবরটা বেশ ভালই!” (কারণ তিনি ভাবলেন, “আমার জীবিতকালে শান্তি বজায় থাকলেই আমি খুশী!”)
20হিষ্কিয় যা কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন, যেমন করে তিনি জলের ডোবা ও সুড়ঙ্গ গড়েছিলেন এবং শহরের ভেতরে জল এনেছিলেন, সে সবই যিহূদার রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। 21হিষ্কিয়র মৃত্যু হলে তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সমাধিস্থ করা হলে তাঁর পুত্র মনঃশি নতুন রাজা হলেন।
21যিহূদায় মনঃশির কু-শাসন শুরু
1মাত্র 12 বছর বয়সে রাজা হয়ে মনঃশি মোট 55 বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেন। তাঁর মায়ের নাম ছিল হিফ্সীবা।
2প্রভু যে সব পাপ আচরণ করতে বারণ করেন মনঃশি সেসবই করেছিলেন। ইতিপূর্বে যে সব ভয়ঙ্কর পাপ আচারের জন্য প্রভু বিভিন্ন জাতিকে দেশচ্যূত করেছিলেন, মনঃশি সেই সমস্ত পাপ আচরণ করেন। 3তাঁর পিতা হিষ্কিয় যে সমস্ত উচ্চস্থান ভেঙে দিয়েছিলেন, মনঃশি আবার নতুন করে সেই সব বেদী নির্মাণ করেছিলেন। বাল মূর্ত্তির পূজার জন্য বেদী বানানো ছাড়াও, ইস্রায়েলের রাজা আহাবের মতই মনঃশি আশেরার খুঁটি পুঁতেছিলেন। তিনি আকাশের তারাদেরও পূজা করতেন। 4মূর্ত্তিসমূহের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে তিনি প্রভুর প্রিয় ও পবিত্র মন্দিরের মধ্যেও বেদী বানিয়েছিলেন। (এই সেই জায়গা যেখানে প্রভু বলেছিলেন, “আমি জেরুশালেমে আমার নাম স্থাপন করব।”) 5মন্দিরের দুটো উঠোনে তিনি আকাশের নক্ষত্ররাজির জন্য বেদী বানান। 6তাঁর নিজের পুত্রকে তিনি যজ্ঞবেদীর আগুনে আহুতি দেন। ভবিষ্যৎ জানার জন্য তিনি প্রেতাত্মা ও পিশাচদের কাছে যাতায়াত করতেন।
প্রভুকে অসন্তুষ্ট করার মত আরো অনেক কাজই মনঃশি করেছিলেন। ফলতঃ প্রভু খুবই ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। 7মনঃশি পাথর কুঁদে আশেরার একটা মূর্ত্তি বানিয়ে সেটাকে মন্দিরে বসিয়েছিলেন। প্রভু দায়ূদ ও তাঁর পুত্র শলোমনকে বলেছিলেন, “সমস্ত শহরের মধ্যে থেকে আমি জেরুশালেমকে বেছে নিয়েছি। এখানকার এই মন্দিরে আমার নাম চির দিনের জন্য থাকবে। 8ইস্রায়েলীয়দের পূর্বপুরুষদের আমি যে ভূখণ্ড দিয়েছিলাম, ইস্রায়েলীয়রা যদি আমায় মান্য করে চলে, আমার দাস মোশির দেওয়া বিধি ও আদেশগুলো অনুসরণ করে, তাহলে সেই ভূখণ্ড থেকে আমি কখনও তাদের উৎখাত করব না।” 9কিন্তু লোকরা ঈশ্বরের কথা গ্রাহ্য করল না। মনঃশি লোকদের বিপথে চালনা করলেন, যাতে তারা আরো বেশী পাপ কাজ করল সেই সব জাতিসমূহের চেয়েও, যাদের প্রভু ধ্বংস করেছিলেন এবং ইস্রায়েলীয়দের দিয়ে দিয়েছিলেন।
10প্রভু তাঁর দাস ভাববাদীদের মাধ্যমে বলে পাঠিয়েছিলেন: 11“যিহূদার রাজা মনঃশি, ইমোরীয়দের থেকেও বহুগুণে ঘৃণ্য অপরাধ করেছে এবং মূর্ত্তিপূজা করে যিহূদাকেও পাপের পথে ঠেলে দিয়েছে। তাই 12ইস্রায়েলের প্রভু বলেছেন, ‘জেরুশালেম ও যিহূদায় আমি এমন সঙ্কট ঘনিয়ে তুলব যে, যে শুনবে সেই শিউরে উঠবে, আতঙ্কিত হবে। 13আমি জেরুশালেমের ওপর শমরিয়াতে যে সূত্র এবং আহাবকুলে যে ওলন ব্যবহার করেছিলাম, তা বিস্তৃত করব। মানুষ যে ভাবে থালা মুছে, উপুড় করে রাখে ঠিক সে ভাবেই আমি জেরুশালেমের সব কিছু ওলট-পালট করে খল নলচে পাল্টে দেব। 14তবে আমার কিছু ভক্ত থাকবে, যাদের আমি রেহাই দিলেও, শত্রুর হাত থেকে তারা বাঁচতে পারবে না। শত্রুরা তাদের বন্দী করে সঙ্গে নিয়ে যাবে। তারা সে রকম মূল্যবান জিনিসের মতো যাকে সৈন্যরা যুদ্ধে পেয়ে থাকে। 15কারণ যে সব কাজ করাকে আমি অন্যায় বলেছিলাম ওরা তাই করেছে। মিশর থেকে ওদের পূর্বপুরুষরা আসার পর থেকে এইভাবে ক্রমে ক্রমে ওরা আমায় ক্ষেপিয়ে তুলেছে। 16আর মনঃশি বহু নির্দোষ ব্যক্তিকেও হত্যা করেছে। মনঃশি জেরুশালেম রক্তে পরিপূর্ণ করেছে। তার এই সমস্ত পাপ, পক্ষান্তরে যিহূদারই পাপের ভার বৃদ্ধি করেছে। প্রভু যা করতে বারণ করেছেন, মনঃশি তা করতে যিহূদাকে বাধ্য করেছে।’”
17মনঃশি যে সমস্ত কাজ করেছিলেন, এমন কি তাঁর সমস্ত পাপ আচরণের কথাও যিহূদার রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। 18মনঃশির মৃত্যুর পর তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে তাঁর বাড়ীর “বাগান উষে” সমাধিস্থ করা হল এবং তাঁর পুত্র আমোন নতুন রাজা হলেন।
আমোনের সংক্ষিপ্ত শাসনকাল
19আমোন 22 বছর বয়সে রাজা হয়ে মাত্র দু বছরের জন্য জেরুশালেম শাসন করেছিলেন। তাঁর মা ছিলেন যট্বাস্থ হারুষের কন্যা মশুল্লেমৎ।
20পিতা মনঃশির মতোই আমোনও প্রভুর মনঃপূত নয় এমন সমস্ত কাজকর্ম করেছিলেন। 21তাঁর পিতা যে সমস্ত মূর্ত্তিগুলোকে পূজা করতেন, আমোনও তাদের পূজা করতেন। আমোন তাঁর পিতার মতোই জীবনযাপন করেছেন। 22তিনি তাঁর প্রভু পূর্বপুরুষদের ঈশ্বরের অভিপ্রায় অনুযায়ী জীবনযাপন না করে তাঁকে পরিত্যাগ করেন।
23আমোনের ভৃত্যরা তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে তাঁকে তাঁর নিজের বাড়িতেই হত্যা করে। 24ক্রুদ্ধ সাধারণ মানুষ আমোনের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীদের হত্যা করে তাঁর পুত্র যোশিয়কে তাঁর জায়গায় নতুন রাজা করল।
25আমোন আর যা কিছু করেছিলেন সে সমস্তই যিহূদার রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। 26আমোনকেও তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে উষের বাগানে সমাধিস্থ করা হয়। এরপর তাঁর পুত্র যোশিয় রাজ্য পরিচালনা শুরু করেন।
22যিহূদায় যোশিয়র শাসনকাল শুরু
1যোশিয় যখন যিহূদার সিংহাসনে বসেন তাঁর বয়স ছিল মাত্র আট বছর! তিনি মোট 31 বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেছিলেন। তাঁর মা ছিলেন বস্কতীর আদায়ার কন্যা যিদীদা। 2যোশিয় প্রভুর অভিপ্রায় অনুযায়ী, তিনি যে ভাবে বলেছিলেন ঠিক সে ভাবেই রাজ্য শাসন করেছিলেন। তিনি তাঁর পূর্বপুরুষ দায়ূদের মতোই ঈশ্বরকে অনুসরণ করেছিলেন।
যোশিয় মন্দির সংস্কারের নির্দেশ দিলেন
3তাঁর রাজত্বের 18তম বছরে, যোশিয় মশুল্লমের পৌত্র ও অৎসলিয়ের পুত্র সচিব শাফনকে প্রভুর মন্দিরে পাঠিয়ে ছিলেন। 4প্রধান যাজক হিল্কিয়কে লোকরা প্রভুর মন্দিরে যা প্রণামী দেয় তা সংগ্রহ করতে বলেন। তিনি বলেন, “দারোয়ানরা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে এই প্রণামী নিয়ে থাকে। 5যাজকদের এই টাকা দিয়ে মিস্ত্রি ডেকে প্রভুর মন্দির সারানো উচিৎ। যাজক যেন অবশ্যই যে সমস্ত লোক প্রভুর মন্দির সারানোর কাজের তদারকি করবে, তাদের হাতে এইসব টাকাপয়সা তুলে দেন। 6এই টাকা দিয়ে ছুতোর মিস্ত্রি, পাথর খোদাইকার, পাথর কাটিয়েদের মাইনে দেওয়া ছাড়াও যেন প্রয়োজন মতো মন্দির সারানোর কাঠ, পাথর ও অন্যান্য জিনিসপত্র কেনা হয়। 7মিস্ত্রিদের গুণে টাকা পয়সা দেবার কোন দরকার নেই, কারণ ওরা সকলেই খুব বিশ্বাসী।”
মন্দিরে বিধিপুস্তক পাওয়া গেল
8প্রধান যাজক হিল্কিয়, সচিব শাফনকে বললেন, “দেখো, আমি প্রভুর মন্দিরের ভেতরে বিধিপুস্তক খুঁজে পেয়েছি!” তিনি শাফনকে পুস্তকটি দিলে শাফন তা পড়ে দেখলেন।
9অতঃপর সচিব শাফন গিয়ে রাজা যোশিয়কে মন্দির সম্পর্কিত সব কথাবার্তা বললেন। তিনি বললেন, “আপনার কর্মচারীরা মন্দিরের সমস্ত প্রণামী সংগ্রহ করে, প্রভুর মন্দির সংস্কারের জন্য তা যারা তদারকি করবে তাদের হাতে তুলে দিয়েছে।” 10তখন সচিব শাফন রাজাকে বলল, “যাজক হিল্কিয়, আমাকে এই পুস্তকটি দিয়েছেন।” একথা বলে শাফন রাজাকে পুস্তকটি পড়ে শোনালেন।
11 বিধিপুস্তকে বর্ণিত কথা শুনে মহারাজ দুঃখ ও শোক প্রকাশের জন্য নিজের পরিধেয় পোশাক ছিঁড়ে ফেললেন। 12তারপর তিনি যাজক হিল্কিয়, শাফনের পুত্র অহীকাম, মীখায়ের পুত্র অক্বোর, সচিব শাফন ও তাঁর নিজস্ব ভৃত্য অসায়কে ডেকে নির্দেশ দিলেন, 13“আমার হয়ে, আমার প্রজাদের হয়ে, সমগ্র যিহূদার হয়ে প্রভুকে জিজ্ঞেস কর আমরা কি করব? খুঁজে পাওয়া এই বিধিপুস্তকের বাণী সম্পর্কেও তাঁকে প্রশ্ন করো। প্রভু আমাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন কারণ আমাদের পূর্বপুরুষরা এই বিধিপুস্তকের কথা আমাদের যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তা মেনে চলেন নি।”
যোশিয় এবং ভাববাদিনী হুল্দা
14যাজক হিল্কিয়, অহীকাম, অক্বোর, শাফন আর অসায় তখন মহিলা ভাববাদিনী হুল্দার কাছে গেলেন। হুল্দা ছিলেন বস্ত্রাগারের তত্ত্বাবধায়ক হর্হসের পৌত্র, তিক্বেরের পুত্র ও শল্লুমের স্ত্রী, দ্বিতীয় বিভাগে থাকতেন। তাঁরা সকলে জেরুশালেমের কাছেই হুল্দার কাছে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে কথাবার্তা বললেন।
15হুল্দা তাঁদের জানালেন, “প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর বলছেন: ‘তোমাকে আমার কাছে যে পাঠিয়েছে তাকে বল: 16প্রভু বলছেন: আমি এই স্থান এবং এখানকার বাসিন্দাদের জীবনে দুর্যোগ ঘনিয়ে তুলছি। এই দুর্যোগের কথা, যিহূদার রাজা ইতিমধ্যেই যে বই পড়েছেন তাতে বর্ণিত আছে। 17যিহূদার লোকরা আমায় ত্যাগ করে অন্য মূর্ত্তির সামনে ধুপধূনো দিয়েছে। তারা মূর্ত্তি পূজা করেছে। এসব করে আমায় ক্রুদ্ধ করে তুলেছে। আমি তাই এই জায়গার ওপর আমার ক্রোধ প্রকাশ করব। আগুনের শিখার মতো আমার ক্রোধাগ্নি কেউ নির্বাপিত করতে পারবে না!’
18 “যিহূদার রাজা যোশিয় তোমাদের প্রভুর কাছে পরামর্শ নিতে পাঠিয়েছেন, তাঁকে গিয়ে তোমরা প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর বলা যে সব কথা শুনলে তা জানাও। তোমরা সকলেই এখানে আর এখানকার লোকদের জীবনে কি ঘটতে চলেছে শুনলে। তোমাদের হৃদয় কোমল, আমি জানি এসব ভয়ঙ্কর কথা শুনে তোমাদের খুব খারাপ লেগেছে। তোমরা তোমাদের পোশাক ছিঁড়ে, কাঁদতে কাঁদতে শোকপ্রকাশ করেছ বলেই আমি তোমাদের কথা শুনেছি, প্রভু একথা বলেন। 20‘যাও, তোমরা সকলেই অন্তত শান্তিতে মরতে পারবে। প্রভু বলেছেন, তিনি জেরুশালেমে যে দুর্যোগ ঘনিয়ে তুলবেন তা তোমাদের দেখে যেতে হবে না।’”
তখন যাজক হিল্কিয়, অহীকাম, অক্বোর, শাফন আর অসায় রাজাকে গিয়ে এসব কথা জানালেন।
23লোকে বিধির কথা শুনল
1রাজা যোশিয় যিহূদা ও জেরুশালেমের সমস্ত নেতাদের এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে নির্দেশ দিলেন। 2তারপর তিনি প্রভুর মন্দিরে গেলেন। যিহূদা ও জেরুশালেমের সমস্ত লোক ও যাজকগণ, ভাববাদীগণ, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মহান ব্যক্তিও তাঁর সঙ্গে মন্দিরে গেল। তারপর তিনি প্রভুর মন্দিরে খুঁজে পাওয়া বিধিপুস্তকটি সবাইকে উচ্চস্বরে পড়ে শোনালেন।
3স্তম্ভের পাশে দাঁড়িয়ে রাজা যোশিয় প্রভুর কাছে তাঁর সমস্ত বিধি ও নীতিগুলি মেনে চলবেন বলে প্রতিজ্ঞা করলেন। তিনি কায়মনোবাক্যে এই সমস্ত ও বিধিপুস্তকে যা কিছু বর্ণিত আছে তা পালনে প্রতিশ্রুত হলেন। সমস্ত লোক, রাজার প্রার্থনায় যে তাদেরও মত আছে তা দেখাতে উঠে দাঁড়ালো।
4তারপর রাজা যোশিয়, প্রধান যাজক হিল্কিয়, অন্যান্য যাজকদের, মন্দিরের দাররক্ষী প্রভুর মন্দির থেকে বাল মূর্ত্তি, আশেরা ও নক্ষত্রদের পূজা ও আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত সমস্ত থালা ও অন্যান্য জিনিসপত্র বার করে আনতে নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি এইসব কিছু জেরুশালেমের বাইরে কিদ্রোণের উপত্যকায় নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে সেই ছাই বৈথেলে নিয়ে এলেন।
5যিহূদার রাজারা হারোণের পরিবারের বাইরের কিছু কিছু সাধারণ লোককে যাজক হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। এইসব ভ্রান্ত যাজকরা জেরুশালেম ও যিহূদার সর্বত্র মূর্ত্তিদের জন্য বানানো উচ্চস্থানে বাল মূর্ত্তিকে, সূর্যকে, চাঁদকে, এবং নক্ষত্ররাজির উদ্দেশ্যে ধুপধূনো দিতো। যোশিয় এইসব আচার বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
6তারপর প্রভুর মন্দির চত্বর থেকে আশেরার মূর্ত্তির জন্য পোঁতা সমস্ত খুঁটি উপড়ে তুলে শহরের বাইরে কিদ্রোণ উপত্যকায় নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে, সেই ছাই সাধারণ মানুষদের কবরে ছড়িয়ে দিলেন।
7এরপর যোশিয় প্রভুর মন্দির চত্বরের ভেতরে বসবাসকারী পুরুষদেহ ব্যবসায়ীদের ঘরগুলো ভেঙে ফেললেন। গণিকারাও এইসব ঘরগুলো ব্যবহার করত এবং আশেরার মূর্ত্তির প্রতি তাদের আনুগত্য জানাতে ছোট ছোট ছাউনি টাঙাতো।
8 সে সময় যাজকরা যিহূদার বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে বসবাস করত এবং জেরুশালেমে প্রভুর মন্দিরের বেদীতে বলিদান না করে মূর্ত্তিসমূহের জন্য সর্বত্র বানানো উঁচু বেদীগুলোয় বলিদান করতো ও ধুপধূনো দিত। গেবা থেকে বের্শেবা পর্যন্ত সব জায়গাতেই এই বেদীগুলো ছিল। যাজকরা জেরুশালেমের মন্দিরে তাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার পরিবর্তে সাধারণ লোকদের সঙ্গে যেখানে খুশী বসে খামিরবিহীন রুটি খেত। যোশিয় সমস্ত যাজকদের জেরুশালেমে আসতে বাধ্য করে, সমস্ত উঁচু বেদী, নগরদ্বারের বাঁ পাশের যাবতীয় বেদী সবই ভেঙে দিয়েছিলেন।
10হিন্নোম সোন উপত্যকার তোফতে মোলকের মূর্ত্তির উদ্দেশ্যে লোকরা বেদীতে নিজেদের ছেলেমেয়েকে আগুনে আহুতি দিত। যোশিয় এই পাপ আচরণ বন্ধ করার জন্য এই বেদী এমন ভাবে ভেঙে দিয়েছিলেন যাতে তা আর ব্যবহার করা না যায়। 11যিহূদার আগের রাজারা প্রভুর মন্দিরের প্রবেশপথে নথন মোলক নামে এক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীর ঘরের পাশে সূর্য দেবতাকে সম্মান জানানোর জন্য একটা ঘোড়ায় টানা রথ তৈরী করে দিয়েছিলেন। যোশিয় সেই রথের ঘোড়াগুলো সরিয়ে রথটাকে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন।
12আগেকার রাজারা আহসের বাড়ির ছাদে এবং মনঃশি প্রভুর মন্দিরের দুটো উঠোনেই মূর্ত্তিসমূহের পূজোর জন্য যে বেদীগুলো বানিয়েছিলেন, যোশিয় সেই সব বেদী টুকরো টুকরো করে ভেঙে, ভাঙা টুকরোগুলো কিদ্রোণ উপত্যকায় ফেলে দেন।
13রাজা শলোমনও অতীতে জেরুশালেমের কাছে বিনাশ পাহাড়ের দক্ষিণে এই ধরণের কিছু উঁচু বেদী বানিয়েছিলেন, যেখানে সীদোনীয়দের ঘৃণ্য মূর্ত্তি অষ্টোরতের পূজার জন্য এইসব বেদী ব্যবহার করা হত। এছাড়াও মহারাজ শলোমন মোয়াবীয়দের কমোশ ও আমোনীয়দের মিল্কম প্রমুখ ঘৃণ্য মূর্ত্তির জন্য যে সমস্ত উঁচু বেদী বানিয়েছিলেন, যোশিয় সে সমস্তই ভেঙে দিয়েছিলেন। 14তিনি যাবতীয় স্মৃতিফলক, আশেরার খুঁটি ভেঙে দিয়ে সে সব জায়গায় নরকঙ্কাল ছড়িয়ে দেন।
15নবাটের পুত্র যারবিয়াম ইস্রায়েলকে পাপ আচরণের পথে ঠেলে দিয়েছিলেন। তিনি বৈথেলে যে উচ্চস্থান বানান যোশিয় তা ভেঙে ধূলোয় মিশিয়ে, আশেরার খুঁটিতে আগুন ধরিয়ে দিলেন। 16যোশিয় পর্বতের আশেপাশে তাকিয়ে অনেক কবরখানা দেখতে পেলেন। লোক পাঠিয়ে সেখান থেকে মৃত মানুষের হাড় তুলিযে এনে, যোশিয় সেই সমস্ত হাড় যজ্ঞবেদীতে পুড়িয়ে, যজ্ঞবেদী অশুচি করে দেন। ভাববাদীদের মুখ দিয়ে প্রভু, যারবিয়াম যখন সেই বেদীর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তখনই এইসব ভবিষ্যৎবাণী করিয়েছিলেন।
যোশিয় চারপাশে তাকিয়ে সেই ভাববাদীদের সমাধিস্থল দেখতে পেলেন।
17যোশিয় প্রশ্ন করলেন, “ওটা কিসের ফলক?”
শহরের লোকরা তাঁকে উত্তর দিলো, “এটা সেই যিহূদা থেকে আসা ভাববাদীর কবর। আপনি বৈথেলের বেদীতে যা করলেন তা তিনি বহু দিন আগেই ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন।”
18যোশিয় তখন বললেন, “দেখো ওঁর কবরে যেন কোন রকম হাত না পড়ে। ওঁকে শান্তিতে থাকতে দাও।” তখন লোকরা শমরিয়ার সেই ভাববাদীর সমাধিস্থল যে ভাবে ছিল, সে ভাবেই অবিকৃত অবস্থায় রেখে দিল।
19শমরিয়ায় শহরগুলোয় মূর্ত্তিসমূহের বেদীর আশেপাশে যে সমস্ত মন্দির গড়ে উঠেছিল যোশিয় সেগুলোও ভেঙে দিয়েছিলেন। ইস্রায়েলের আগেকার রাজারা এই সমস্ত মন্দির বানিয়ে প্রভুকে খুবই অসন্তুষ্ট করে তুলেছিলেন। যোশিয় এইসব মন্দিরের দশা বৈথেলের বেদীর মতোই করেছিলেন।
20যোশিয় শমরিয়ার উচ্চস্থানের সমস্ত যাজকদেরই হত্যা করলেন। তিনি বেদীর ওপরে মানুষের অস্থি পোড়ালেন। এইভাবে তিনি পূজার জায়গা পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে জেরুশালেমে ফিরে গেলেন।
যিহূদার লোকদের নিস্তারপর্ব উদ্যাপন
21এরপর যোশিয় সমস্ত লোকদের নির্দেশ দিলেন, “ বিধিপুস্তকে যেভাবে লেখা আছে, সেভাবে তোমরা প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের জন্য নিস্তারপর্ব উদ্যাপন কর।”
22ইস্রায়েলে বিচারকদের শাসনকালের পর আর কেউ এভাবে নিস্তারপর্ব উদ্যাপন করেনি। ইস্রায়েল বা যিহূদার আর কোন রাজাই আগে কখনও এত সমারোহের সঙ্গে নিস্তারপর্ব পালন করেন নি। 23যোশিয়র রাজত্বের 18তম বছরে লোকরা এই নিস্তারপর্ব পালন করেছিল।
24যিহূদা ও জেরুশালেমে লোকরা প্রেতসাধনা, ডাকিনী-পিশাচ-তন্ত্রসাধনা, মূর্ত্তিপূজা প্রভৃতি যেসব ঘৃণ্য পাপ আচরণ করত, যাজক হিল্কিয়র খুঁজে পাওয়া বিধি অনুসারে যোশিয় এসবই সমূলে উৎপাটন করেন।
25এর আগের আর কোন রাজাই যোশিয়র মত ছিলেন না। যোশিয় কায়মনোবাক্যে, সমস্ত হৃদয় ও শক্তি দিয়ে প্রভু ও মোশির বিধি অনুসরণ করে জীবনযাপন করেছিলেন। এখনো পর্যন্ত কোন রাজাই তাঁর মত শাসন করেন নি।
26কিন্তু তবুও যিহূদার লোকদের ওপর থেকে প্রভুর রাগ পড়েনি। মনঃশির করা কার্যকলাপের জন্যই প্রভু তখনও তাদের ওপর রেগে ছিলেন। 27প্রভু বলেছিলেন, “আমি ইস্রায়েলের লোকদের তাদের বাসভূমি ছাড়তে বাধ্য করেছিলাম। যিহূদার সঙ্গেও আমি তাই করব। যিহূদাকে আমার দুচোখের সামনে থেকে সরিয়ে দেব। এমনকি জেরুশালেমকেও আমি আর দেখতে চাই না। হ্যাঁ, যদিও আমি নিজেই ঐ শহর বেছে নিয়ে বলেছিলাম, ‘ওখানে আমার নাম থাকবে।’ কিন্তু আমি ঐ মন্দিরটিকেও ধ্বংস করে ফেলব।”
28যোশিয় আর যা কিছু করেছিলেন, সে সবই যিহূদার রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে।
যোশিয়র মৃত্যু
29যোশিয়র রাজত্বকালে মিশরের ফরৌণ-নখো ফরাৎ নদীর তীরে অশূর-রাজের সঙ্গে যুদ্ধ করতে যান। যোশিয় মগিদ্দোতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলে, দেখা হওয়া মাত্র ফরৌণ-নখো তাঁকে হত্যা করেন। 30যোশিয়র পদস্থ আধিকারিকরা রথে করে তাঁর মৃতদেহ মগিদ্দো থেকে জেরুশালেমে নিয়ে এসে তাঁকে তাঁর পরিবারের সমাধিস্থলে সমাধি দিলেন।
এরপর লোকরা যোশিয়র পুত্র যিহোয়াহসকে নতুন রাজা হিসেবে অভিষেক করলেন।
যিহোয়াহস যিহূদার রাজা হলেন
31যিহোয়াহস 23 বছর বয়সে রাজা হয়ে মাত্র তিন মাসের জন্য জেরুশালেমে রাজত্ব করেছিলেন। তাঁর মা ছিলেন লিব্নার যিরমিয়ের কন্যা হমূটল। 32প্রভু যে সব কাজ করতে বারণ করেছিলেন, যিহোয়াহস সেই সমস্ত কাজ করেছিলেন। তিনি তাঁর অধিকাংশ পূর্বপুরুষদের মতই পাপের পথ অনুসরণ করেন।
33ফরৌণ-নখো, যিহোয়াহসকে হমাৎ দেশের রিব্লাতে জেলে আটক করেন, ফলত যিহোয়াহসের পক্ষে আর জেরুশালেমে রাজত্ব করা সম্ভব হয় নি। তাঁকে, ফরৌণ-নখো 7500 পাউণ্ড রূপো এবং 75 পাউণ্ড সোনা দিতে বাধ্য করেছিলেন।
34ফরৌণ, যোশিয়র আরে এক পুত্র। ইলিয়াকীমকে নতুন রাজা বানিয়ে তাঁর নাম পাল্টে যিহোয়াকীম রাখেন। আর যিহোয়াহসকে তিনি মিশরে নিয়ে যান। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। 35যিহোয়াকীম ফরৌণকে সোনা ও রূপো দিলেন। কিন্তু তিনি সাধারণ লোককে ফরৌণ-নখোকে দেওয়ার জন্য দেশে কর ধার্য্য করলেন। তাই প্রত্যেক ব্যক্তি তাদের সোনা ও রূপোর অংশ ফরৌণ-নখোকে দেওয়ার জন্য রাজা যিহোয়াকীমকে দিত।
36যিহোয়াকীম 25 বছর বয়সে রাজা হয়ে এগারো বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেছিলেন। তাঁর মা ছিলেন রূমার পদায়ের কন্যা সবীদা। 37যিহোয়াকীমও প্রভু যে সমস্ত কাজ করতে বারণ করেন, তাঁর অধিকাংশ পূর্বপুরুষদের মত সেই সমস্ত কাজ করেছিলেন।
24রাজা নবূখদ্নিৎসর যিহূদায় এলেন
1যিহোয়াকীমের রাজত্বকালে বাবিল-রাজ নবূখদ্নিৎসর যিহূদায় আসেন। তিন বছর তাঁর বশ্যতা স্বীকার করার পর যিহোয়াকীম তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। 2প্রভু বাবিলীয়, অরামীয়, মোয়াবীয়, অম্মোনীয়দের দলকে যিহোয়াকীমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিয়ে তাঁকে ধ্বংস করতে পাঠিয়েছিলেন। প্রভু তাঁর সেবক ভাববাদীদের মুখ দিয়ে করা ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী এই সমস্ত শত্রুদের যিহূদা ধ্বংস করার জন্য পাঠান।
3এইভাবেই প্রভু যিহূদাকে তাঁর চোখের সামনে থেকে সরিয়ে দেবার পরিকল্পনা করেন। মনঃশির পাপ আচরণের জন্যই প্রভু এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। 4মনঃশি বহু নিরীহ লোককে হত্যা করে জেরুশালেম রক্তে পরিপূর্ণ করেছিলেন যা প্রভু কখনও ক্ষমা করেন নি।
5যিহোয়াকীম অন্যান্য যে সমস্ত কাজ করেছিলেন সে সবই যিহূদার রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। 6যিহোয়াকীমের মৃত্যুর পর তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সমাধিস্থ করা হয়। তাঁর পরে, তাঁর পুত্র যিহোয়াখীন নতুন রাজা হলেন।
7এদিকে বাবিল-রাজ মিশরের খাঁড়ি থেকে শুরু করে ফরাৎ নদী পর্যন্ত সমস্ত অঞ্চল দখল করায় মিশর-রাজ তাঁর দেশ ছেড়ে আর বেরোনোর চেষ্টাই করেন নি। এই সমস্ত অঞ্চলই আগে তাঁর শাসনাধীন ছিল।
নবূখদ্নিৎসর জেরুশালেম দখল করলেন
8যিহোয়াখীন 18 বছর বয়সে রাজা হবার পর মাত্র তিন মাস জেরুশালেমে রাজত্ব করেছিলেন। তাঁর মা ছিলেন জেরুশালেমের ইল্নাথনের কন্যা নহুষ্টা। 9যিহোয়াখীন তাঁর পিতার মতই প্রভু যে সমস্ত কাজ করতে বারণ করেছিলেন, সেই সব কাজ করেছিলেন।
10সেই সময়, নবূখদ্নিৎসরের সেনাপতিরা এসে চারপাশ থেকে জেরুশালেম ঘিরে ফেলেছিলেন। 11তারপর নবূখদ্নিৎসর স্বয়ং শহরে আসেন। 12যিহূদার রাজা যিহোয়াখীন, তাঁর মা, সেনাপতিদের, নেতাদের ও আধিকারিকদের সকলকে নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলে বাবিলরাজ তাঁকে বন্দী করেন। নবূখদ্নিৎসরের শাসন কালের অষ্টম বছরে এই ঘটনা ঘটেছিল।
13নবূখদ্নিৎসর জেরুশালেমের প্রভুর মন্দির ও রাজপ্রাসাদ থেকে সমস্ত সম্পদ অপহরণ করে নিয়ে যান। রাজা শলোমন প্রভুর মন্দিরে যে সমস্ত সোনার থালা বসিয়েছিলেন, প্রভুর ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ীই নবূখদ্নিৎসর মন্দির থেকে সে সমস্ত থালা খুলে নিয়ে গিয়েছিলেন।
14নবূখদ্নিৎসর নেতা ও ধনীলোক সহ জেরুশালেম থেকে 10,000 ব্যক্তিকে বন্দী করে নিয়ে যান। হতদরিদ্র লোক ছাড়া, কারিগর থেকে শ্রমিক সমস্ত লোককেই তিনি বন্দী করেন। 15রাজা যিহোয়াখীন ও তাঁর মা, স্ত্রীদের, আধিকারিক ও প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তিদের বন্দী করে বাবিলে নিয়ে গিয়েছিলেন। 16মোট 7000 দক্ষ সৈনিক ও 1000 কুশলী কারিগরকে বাবিলরাজ নবূখদ্নিৎসর বাবিলে বন্দী করে নিয়ে যান।
রাজা সিদিকিয়
17বাবিল-রাজ নবূখদ্নিৎসর, যিহোয়াখীনের কাকা মত্তনিয়ের নাম পাল্টে সিদিকিয় রেখে তাঁকে রাজা করেছিলেন। 18সিদিকিয় 21 বছর বয়সে রাজা হয়ে 11 বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেন। তাঁর মা ছিলেন লিব্নার যিরমিয়ের কন্যা হমূটল। 19যিহোয়াখীনের মতই সিদিকিয়, প্রভু যা কিছু করতে বারণ করেছিলেন সে সমস্ত কাজই করেছিলেন। 20জেরুশালেম ও যিহূদার ওপর প্রভু এত ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন যে প্রভু এই দুই দেশকে তাঁর চোখের সামনে থেকে মুছে ফেলেন।
নবূখদ্নিৎসর সিদিকিয়ের শাসন বন্ধ করলেন
সিদিকিয় বাবিল-রাজের কর্ত্তৃত্ব অস্বীকার করেছিলেন।
251তাই বাবিল-রাজ নবূখদ্নিৎসর, তাঁর সমস্ত সেনাবাহিনী নিয়ে জেরুশালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এলেন। সিদিকিয়র রাজত্ব কালের নবম বছরের 10 মাসের 10 দিনে এই ঘটনা ঘটেছিল। জেরুশালেম শহরে যাতায়াত বন্ধ করতে নবূখদ্নিৎসর শহরের চারপাশে তাঁর সেনাবাহিনী মোতায়েন করে একটা দেওয়াল বানিয়ে শহরটা অবরোধ করেছিলেন। 2এইভাবে তাঁর সেনাবাহিনী সিদিকিয়র রাজত্বের একাদশ বছর পর্যন্ত জেরুশালেম ঘিরে রেখেছিল। 3এদিকে শহরের ভেতরে খাদ্যাভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছিল। চতুর্থ মাসের 9ম দিনের পর থেকে শহরে সাধারণ মানুষের খাবার মত এককণা খাবারও আর অবশিষ্ট ছিল না।
4শেষ পর্যন্ত নবূখদ্নিৎসরের সেনাবাহিনী শহরের প্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়লে, সে রাতেই বাগানের গুপ্তপথের ফাঁপা দেওয়ালের মধ্যে দিয়ে রাজা সিদিকিয় ও তাঁর সেনাবাহিনীর লোকরা পালিয়ে যায়। যদিও শত্রুপক্ষের সেনাবাহিনী সারা শহর ঘিরে রেখেছিল, কিন্তু তবুও সিদিকিয় ও তাঁর পার্শ্বচররা মরুভূমির পথে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। 5কিন্তু বাবিলের সেনাবাহিনী তাঁদের ধাওয়া করে যিরীহোর কাছে রাজা সিদিকিয়কে বন্দী করে। সিদিকিয়র সমস্ত সেনা তাঁকে একলা ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
6বাবিলীয়রা তাঁকে বন্দী করে বাবিলে রাজার কাছে নিয়ে যায় যা তখন ছিল রিব্লাতে যিনি তাকে শাস্তি দেন। 7তারা সিদিকিয়র সামনেই তাঁর চার পুত্রকে হত্যা করে, তাঁর চোখ গেলে দিয়ে শিকল পরিয়ে তাঁকে বাবিলে নিয়ে গিয়েছিল।
জেরুশালেম ধ্বংস হল
8নবূখদ্নিৎসরের বাবিল শাসনের উনিশ বছরের পঞ্চম মাসের সপ্তম দিনে নবূষরদন জেরুশালেমে আসেন। নবূষরদন ছিলেন তাঁর সর্বাপেক্ষা রণকুশলী সৈন্যদের সেনাপতি। 9তিনি প্রভুর মন্দির এবং রাজপ্রাসাদ পুড়িয়ে ফেললেন। তিনি ছোট বড় সমস্ত ঘর বাড়ীও ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।
10এরপর, নবূখদ্নিৎসরের সৈন্যবাহিনীর সেনারা জেরুশালেমের চারপাশের প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলে 11অবশিষ্ট যে কজন লোক তখন পড়ে ছিল তাদের বন্দী করে নিয়ে যায়। এমনকি যে সমস্ত লোক আত্মসমর্পণ করতে চেয়েছিল তাদেরও রেহাই দেওয়া হয় নি। 12নবূষরদন একমাত্র দীনদরিদ্র লোকদের দ্রাক্ষা ক্ষেত ও শস্য ক্ষেতের দেখাশোনা করার জন্য ফেলে রেখে গিয়েছিলেন।
13বাবিলীয় সেনাবাহিনী প্রভুর মন্দিরের পিতলের সমস্ত জিনিসপত্র ভেঙে টুকরো টুকরো করে। পিতলের জলাশয়, সেই ঠেলাগাড়িটা কিছুই তারা ভাঙতে বাকি রাখেনি। তারপর সেই পিতলের ভাঙা টুকরোগুলো তারা বাবিলে নিয়ে যায়। 14গাছের টব, কোদাল, বাতিদানের শিখা উস্কানোর যন্ত্র থেকে শুরু করে পিতলের থালা, চামচ, কড়াই, পাত্র, 15সোনা ও রূপোর সমস্ত জিনিসপত্রই নবূষরদন সঙ্গে করে নিয়ে যান। 16 তিনি যা নিয়েছিলেন তার তালিকা নীচে দেওয়া হল: 27 ফুট দৈর্ঘ্যের 2টি পিতলের স্তম্ভ, স্তম্ভের মাথার ওপরের কারুকার্যখচিত 4 1/2 ফুট উঁচু গম্বুজ, পিতলের বড় জলাধার, প্রভুর মন্দিরের জন্য শলোমনের তৈরী করা ঠেলাগাড়িটা; সব মিলিয়ে এগুলোর ওজন সঠিক কত ছিল তা বলাও কঠিন!
যিহূদার লোকদের বন্দী করা হল
18মন্দির থেকে নবূষরদন, প্রধান যাজক সরায়, সহকারী যাজক সফনিয়, প্রবেশদ্বারের তিন জন দারোয়ানকে বন্দী করে নিয়ে গিয়েছিলেন।
19আর শহর থেকে তিনি 1 জন সেনাসচিব, রাজার 5 জন পরামর্শদাতা, সেনাপ্রধানের ব্যক্তিসচিব যিনি লোকদের মধ্যে থেকে বাছাই করে সেনা নিয়োগ করতেন, এরা ছাড়াও 60 জন সাধারণ মানুষকে বন্দী করেন।
20 তারপর নবূষরদন এদের সবাইকে হমাতের রিব্লায বাবিল-রাজের কাছে নিয়ে গেলে, বাবিল-রাজ সেখানেই তাদের হত্যা করেন। আর যিহূদার লোকদের বন্দী করে তাঁরা সঙ্গে নিয়ে যান।
যিহূদার রাজ্যপাল গদলিয়
22বাবিল-রাজ নবূখদ্নিৎসর কিছু লোককে যিহূদায় রেখে গিয়েছিলেন। তিনি শাফনের পৌত্র অহীকামের পুত্র গদলিয়কে এই সমস্ত লোকদের শাসন করার জন্য শাসক হিসেবে যিহূদায় বসিয়ে যান।
23এদিকে এ খবর পেয়ে নথনিয়়ের পুত্র ইশ্মায়েল, কারেয়ের পুত্র যোহানন, নটোফাতীয় তনহূমতের পুত্র সরায় আর মাখাথীয়ের পুত্র যাসনিয় প্রমুখ সেনাবাহিনীর প্রধানরা তাদের দলবল নিয়ে মিস্পাতে গদলিয়র সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। 24গদলিয় তাদের আশ্বস্ত করে বললেন, “বাবিলীয় রাজকর্মচারীদের ভয় পাবার কোন কারণ নেই। তোমরা যদি এখানে থেকে বাবিল-রাজের অধীনে কাজ কর তাহলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।”
25কিন্তু নথনিয়ের পুত্র ইশ্মায়েল ছিলেন রাজপরিবারের সদস্য। এভাবে সাতমাস কাটার পর তিনি ও তাঁর দলের দশ জন মিলে গদলিয় ও সমস্ত ইহুদীদের হত্যা করলেন। মিস্পাতে গদলিয়র সঙ্গে যে সমস্ত বাবিলীয়রা বাস করছিল তারাও রক্ষা পেল না। 26তারপর সেনাবাহিনীর লোক থেকে শুরু করে ছোট বড় সবাই বাবিলীয়দের ভয়ে মিশরে পালিয়ে গেল।
27পরবর্তীকালে ইবিল-মরোদক বাবিলের রাজা হলেন। তিনি যিহূদার রাজা যিহোয়াখীনকে তাঁর বন্দীত্বের 37 বছরের মাথায় জেল থেকে মুক্ত করলেন। মরোদকের রাজত্বের বারো মাসের 27 দিনের মাথায় এই ঘটনা ঘটেছিল। 28তিনি যিহোয়াখীনের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করেছিলেন এবং রাজসভায় অন্যান্য রাজাদের তুলনায় তাঁকে আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসার অধিকার দিয়েছিলেন। 29মরোদক, যিহোয়াখীনের আসামীর পোশাক খুলে দিয়েছিলেন। এবং জীবনের বাকী কটা দিন যিহোয়াখীন মরোদকের সঙ্গে একই টেবিলে বসে খাওয়া দাওয়া করেন। 30রাজা ইবিল-মরোদক যিহোয়াখীনকে এরপর থেকে পোষণ করছিলেন।