করিন্থীয়দের

প্রতি দ্বিতীয় পত্র

1

1আমি পৌল, ঈশ্বরের ইচ্ছায় খ্রীষ্ট যীশুর একজন প্রেরিত হয়েছি।

আমি এবং আমাদের বিশ্বাসী ভাই তীমথিয়, করিন্থ শহরের ঈশ্বরের খ্রীষ্ট মণ্ডলী ও সমগ্র আখায়া প্রদেশে ঈশ্বরের সব লোকদের উদ্দেশ্যে এই চিঠি লিখছি:

2আমাদের পিতা ঈশ্বর ও প্রভু যীশু খ্রীষ্ট তোমাদের সকলকে অনুগ্রহ ও শান্তি দান করুন।

পৌলের ঈশ্বরকে ধন্যবাদজ্ঞাপন

3ধন্য আমাদের ঈশ্বর ও প্রভু যীশু খ্রীষ্টের পিতা। তিনি করুণাময় পিতা ও সকল সান্ত্বনার ঈশ্বর। 4তিনি আমাদের সমস্ত দুঃখ কষ্টের মধ্যে সান্ত্বনা দেন, যেন অপরে যখন দুঃখ কষ্টের মধ্যে পড়ে তখন ঈশ্বরের কাছ থেকে আমরা যে সান্ত্বনা লাভ করেছি তাদের সেই সান্ত্বনা দিতে পারি। 5কারণ আমরা যতই খ্রীষ্টের দুঃখ কষ্টের সহভাগী হব, ততই তাঁর মধ্য দিয়ে সান্ত্বনাও পাব। 6আমরা যদি কষ্ট পাই তবে তা তোমাদের সান্ত্বনার ও পরিত্রাণের জন্য; আর যদি সান্ত্বনা পাই তবে তা তোমাদের সান্ত্বনার উদ্দেশ্যেই পাই। এই সান্ত্বনা আমাদের মত তোমাদেরও একই দুঃখ সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য্য যোগায়। 7তোমাদের বিষয়ে আমরা সুনিশ্চিত, কারণ আমরা জানি তোমরা যেমন আমাদের দুঃখ কষ্টের সহভাগী, সেই রকম আমাদের সান্ত্বনার সহভাগী।

8ভাই ও বোনেরা, এশিয়াতে থাকার সময় আমাদের যে কষ্ট হয়েছিল তা তোমাদের জানাতে চাইছি। সেই দুঃখ কষ্টের চাপ আমাদের সহ্যের অতিরিক্ত হয়ে উঠেছিল। আমরা বাঁচার সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। 9আমরা নিজেদের অন্তরে অনুভব করেছিলাম যে আমাদের মৃত্যু অনিবার্য; কিন্তু এটা এইজন্য ঘটেছিল যাতে আমরা নিজেদের ওপর নির্ভর না করে, ঈশ্বর, যিনি মৃতকে জীবিত করে তোলেন তাঁর ওপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করি। 10তিনিই আমাদের এত ভয়ঙ্কর মৃত্যু থেকে উদ্ধার করলেন। আমরা তাঁর ওপর প্রত্যাশা রাখি যে তিনি ভবিষ্যতেও আমাদের উদ্ধার করবেন; 11তোমরা প্রার্থনা করে আমাদের সাহায্য করতে পার। তাহলে অনেকের প্রার্থনার উত্তরে ঈশ্বর আমাদের যে আশীর্বাদ করবেন, তার দরুন আমাদের জন্য অনেকেই ধন্যবাদ দেবে।

পৌলের মত বদল

12একটি বিষয়ে আমরা গর্বিত এবং আমাদের বিবেকও এই সাক্ষী দিচ্ছে যে আমরা ঈশ্বরের দেওয়া আন্তরিকতা ও সরলতায় জগতের মানুষের প্রতি, বিশেষ করে তোমাদের প্রতি আচরণ করে এসেছি। সংসারের জ্ঞান বুদ্ধি ব্যবহার করে নয়, ঈশ্বরের অনুগ্রহে আমরা তা করেছি। 13হ্যাঁ, তোমরা যা পড়তে বা বুঝতে পারবে না এমন কোন কিছু আমি তোমাদের লিখছি না। আশা করি তোমরা সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পারবে। 14যেমন তোমরা আমাদের সম্বন্ধে কিছুটা বুঝেছ। আমাদের প্রভু যীশুর পুনরাবির্ভাবের দিনে তোমরা যেমন আমাদের গর্বের বিষয় হবে, তেমনি আমরাও তোমাদের গর্বের বিষয় হব।

15আমার মনে এই বিষয়ে এতটা আত্মবিশ্বাস ছিল যে আমি প্রথমেই তোমাদের কাছে যাব বলে ঠিক করেছিলাম, যাতে তোমরা দ্বিতীয়বার উপকৃত হও। 16আমি ঠিক করেছিলাম মাকিদনিয়ায় যাওয়ার পথে তোমাদের ওখানে যাব; আবার মাকিদনিয়া থেকে ফেরার পথেও তোমাদের কাছেই যাব। তাহলে তোমরা সকলে প্রয়োজনীয় সব জিনিস সমেত আমার যিহূদিয়ায় যাওয়ার সব ব্যবস্থা করে দেবে। 17এই পরিকল্পনা করার সময় কি আমি মনস্থির করি নি? আমি কি জগতের সেই লোকদের মত যাঁরা একই সঙ্গে “হ্যাঁ-হ্যাঁ,” আবার “না-না” বলে, তেমনি করে কি আমি কিছু ঠিক করি?

18ঈশ্বর বিশ্বস্ত, একথা যেমন সত্যি তেমনি এটাও সত্যি যে তোমাদের কাছে আমাদের কথা একই সঙ্গে “হ্যাঁ” এবং “না” দুই হয় না। 19ঈশ্বরের পুত্র, যীশু খ্রীষ্টের কথা আমি, তীমথিয় এবং শীল তোমাদের কাছে প্রচার করেছিলাম, সেই যীশু একই সময়ে “হ্যাঁ” এবং “না” নন। তিনি সব সময়েই “হ্যাঁ”। 20ঈশ্বরের সমস্ত প্রতিশ্রুতি তাঁর মধ্য দিয়ে “হ্যাঁ” হয়ে ওঠে। সেইজন্য ঈশ্বরের গৌরব করতে আমরা খ্রীষ্টের মধ্য দিয়ে “আমেন” বলি। 21ঈশ্বরই একজন, যিনি তোমাদের ও আমাদের খ্রীষ্টের সঙ্গে যুক্ত করে সুদৃঢ় করে তোলেন। 22আমরা যে তাঁর নিজস্ব এই কথা নিশ্চিতভাবে বুঝতে তিনি আমাদের ওপর তাঁর ছাপ দিয়েছেন; এবং তাঁর সব প্রতিশ্রুতির জামিন হিসাবে পবিত্র আত্মাকে আমাদের অন্তরে দিয়েছেন।

23কিন্তু আমি ঈশ্বরকে সাক্ষী রেখে বলছি, তোমাদের শাস্তি থেকে রেহাই দেবার জন্যই আমি এখন পর্যন্ত করিন্থে ফিরে যাই নি। 24তোমাদের বিশ্বাসের বিষয়ে আমরা যা বলে দেব তাই-ই তোমাদের মেনে চলতে হবে, এমনটা আমরা চাই না, বরং তোমরা যেন আনন্দ পাও তাই তোমাদের সহকর্মী হয়ে কাজ করতে চাই, কারণ তোমরা বিশ্বাসে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছ।

2

1তাই আমি স্থির করেছিলাম যে আবার তোমাদের দুঃখ দেওয়ার জন্য তোমাদের কাছে যাব না। 2কারণ তোমাদের যদি আমি দুঃখ দিই তবে আমাকে সুখী করবে কে? একমাত্র তোমরাই যারা আমার কাছে দুঃখ পেয়েছ। 3এইজন্য সেই সব কথা লিখেছিলাম, যাতে যখন আমি আসব তখন যাদের কাছ থেকে আমার আনন্দ পাওয়া উচিত, তাদের কাছ থেকে আমায় যেন দুঃখ পেতে না হয়। কারণ তোমাদের সকলের বিষয়ে আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই যে আমার আনন্দে তোমাদের সকলেরই আনন্দ। 4অনেক কষ্ট, মনো বেদনা ও চোখের জলের মধ্যে দিয়ে সেই চিঠি তোমাদের লিখেছিলাম। আমি তোমাদের ব্যথা দিতে চাই নি, কিন্তু বোঝাতে চেয়েছিলাম যে আমি তোমাদের কতো ভালবাসি।

যে অন্যায় করে তাকে ক্ষমা কর

5কিন্তু কেউ যদি ব্যথা দিয়ে থাকে তবে সে যে শুধু আমাকে ব্যথা দিয়েছে তা নয়, বেশী বাড়িয়ে না বলে এটুকু বলছি যে, তোমাদের সকলকেই সে কিছু পরিমাণ ব্যাথা দিয়েছে। 6তোমাদের মধ্যে বেশীর ভাগ লোক মিলে এই ধরণের লোককে যে শাস্তি দিয়েছ সেটাই তার পক্ষে যথেষ্ট। 7কিন্তু এখন তোমাদের বরং তাকে ক্ষমা করা ও সান্ত্বনা দেওয়া উচিত। তা না হলে সে হয়তো অত্যধিক মনোবেদনায় হতাশ হয়ে পড়বে। 8আমি তোমাদের অনুরোধ করছি, তোমরা যে তাকে এখনও ভালবাস এটা তাকে বুঝতে দাও। 9তোমরা সমস্ত বিষয়ে আমার বাধ্য হও কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে আমি তোমাদের কাছে সেই চিঠিটা লিখেছিলাম। 10যদি তোমরা কাউকে ক্ষমা কর, আমিও তাকে ক্ষমা করি। যদি ক্ষমা করার মত কিছু থেকেই থাকে তবে আমি যা ক্ষমা করেছি তা খ্রীষ্টের সামনে তোমাদের ভালোর জন্যেই করেছি। 11যেন আমরা শয়তানের চতুরতার দ্বারা প্রতারিত না হই, কারণ আমরা তার ষড়যন্ত্র সম্বন্ধে অজ্ঞ নই।

খ্রীষ্টর মধ্য দিয়ে জয়লাভ

12আমি যখন ত্রোয়াতে খ্রীষ্ট সম্বন্ধে সুসমাচার প্রচার করতে এসেছিলাম, তখন দেখলাম প্রভু কাজের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছেন। 13কিন্তু আমি খুব উদ্বেগে ছিলাম, কারণ সেখানে আমি আমার ভাই তীতকে পাই নি; তাই আমি তাদের বিদায় জানিয়েছিলাম এবং মাকিদনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম।

14কিন্তু ঈশ্বর ধন্য, কারণ তিনি খ্রীষ্টের মধ্য দিয়ে সর্বদাই আমাদের জয়লাভের পথ দেখান এবং আমাদের মধ্য দিয়ে সর্বত্র তাঁর সম্বন্ধে জ্ঞান সৌরভের মত ছড়িয়ে দেন। 15যারা উদ্ধার পাচ্ছে এবং যারা বিনাশ হচ্ছে তাদের সামনে আমরা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে খ্রীষ্টের সুগন্ধযুক্ত ধূপ। 16যারা হারিয়ে যাচ্ছে তাদের কাছে আমরা মৃত্যুমূলক মৃত্যুজনক গন্ধ; কিন্তু যারা পরিত্রাণ পাচ্ছে তাদের কাছে আমরা জীবনমূলক জীবনদায়ক গন্ধ; সুতরাং কে এইরকম কাজ করার উপযুক্ত? 17অনেকে যেমন করে সেরকম আমরা ঈশ্বরের বাক্য নিয়ে লাভ করার জন্য ফেরিওয়ালার মত ফেরি করে বেড়াই না বরং খ্রীষ্টেতে আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে ঈশ্বর হতে আগত লোক হিসাবে ঈশ্বরের সামনে কথা বলি।

3

ঈশ্বরের সেবকদের নতুন চুক্তি

1আমরা এসব বলে কি আবার নিজেদের বিষয়ে প্রশংসা করতে শুরু করেছি? অথবা কোন কোন লোক যেমন করে থাকে তেমনি তোমাদের কাছে আমাদেরও কি কোন পরিচয় পত্র নিয়ে যেতে হবে, বা তোমাদের সুপারিশের কি আমাদের কোন প্রয়োজন আছে? 2তোমরাই আমাদের পরিচয় পত্র, যা আমাদের হৃদয়ে লেখা আছে, যা সমস্ত মানুষ জানতে ও পড়তে পারে। 3তোমরা যে খ্রীষ্টের লেখা পত্র এবং আমরাই তা পৌঁছে দিয়েছি তা তো দেখতেই পাওয়া যাচ্ছে। তা কালি দিয়ে লেখা নয়, কিন্তু জীবন্ত ঈশ্বরের আত্মা দিয়ে লেখা; পাথরের ফলকে লেখা নয়, মানুষের হৃদয়ের ফলকের ওপরেই লেখা।

4খ্রীষ্টের মাধ্যমে ঈশ্বরের ওপর আমাদের এই রকম দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছে। 5কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আমরা নিজেরা নিজেদের যোগ্যতায় একাজ করতে পারি, তা করার শক্তি ঈশ্বরই দিয়ে থাকেন। 6তিনিই আমাদের নতুন চুক্তির সেবক করেছেন। এই নতুন চুক্তি কোন লিখিত বিধি-ব্যবস্থা নয় কিন্তু আত্মিক ব্যবস্থা, কারণ লিখিত যে বিধি-ব্যবস্থা তা মৃত্যু নিয়ে আসে কিন্তু আত্মা জীবন দান করে।

নতুন চুক্তি মহামহিমা আনে

7যদি পাথরের ফলকের+ 3:7 পাথরের ফলক ঈশ্বর মোশিকে যে বিধি-ব্যবস্থা দিয়েছিলেন, তা পাথরের ফলকের উপর লেখা হয়েছিল। যাত্রা 24:12, 25:16. ওপর লেখা ব্যবস্থা, যার পরিণতি মৃত্যু, তা দেবার সময় এমন ঔজ্জ্বল্যের সাথে এসেছিল যে ইস্রায়েলের লোকেরা ঔজ্জ্বল্যের জন্য মোশির মুখের দিকে সোজা তাকাতে পারছিল না, যদিও সেই উজ্জ্বলতা ম্লান হয়ে যাচ্ছিল, 8তবে আত্মার কাজ কি অনেক বেশী মহিমামণ্ডিত হবে না? 9যে বিধি-ব্যবস্থায় মানুষ দোষী প্রতিপন্ন হচ্ছিল তা যদি মহিমামণ্ডিত হয়ে থাকে, তবে যে বিধি-ব্যবস্থা মানুষকে ঈশ্বরের কাছে ধার্মিক প্রতিপন্ন করে তার মহিমা আরও কত না বেশী হবে। 10বাস্তবিক, তুলনায় নতুন বিধি-ব্যবস্থার মহিমার উজ্জ্বলতার কাছে পুরানো বিধি-ব্যবস্থার মহিমা ম্লান হয়ে যায়। 11যে বিধি-ব্যবস্থা অল্প দিনের মধ্যে লোপ পেয়ে গেল তার মহিমা যদি এত উজ্জ্বল হয়ে থাকে, তবে যে বিধি-ব্যবস্থা চিরস্থায়ী তার মহিমা আরও কত না বেশী উজ্জ্বল হবে!

12অতএব আমাদের এই ধরণের প্রত্যাশা থাকাতে আমরা খুব নির্ভীক হতে পারি। 13আমরা মোশির মত নই। মোশি তো নিজের মুখ ঢেকে রাখতেন যাতে ইস্রায়েলীয়রা সেই উজ্জ্বলতা দেখতে না পায়, কারণ সেই মহিমা কমতে কমতে মিলিয়ে যাচ্ছিল। 14তাদের মন কঠোর হয়ে গিয়েছিল, কারণ যখন শাস্ত্র পড়া হয় তখন মনে হয় আজও তাদের সেই আবরণ রয়েই গেছে। সেই আবরণ এখনও সরে নি, একমাত্র খ্রীষ্টের মাধ্যমেই সেই আবরণ সরিয়ে দেওয়া সম্ভব। 15হ্যাঁ, আজও মোশির বিধি-ব্যবস্থার পুস্তক পড়ার সময় তাদের হৃদয়ের ওপরে আবরণ থাকে। 16কিন্তু যখনই কেউ প্রভুর দিকে ফেরে তখন সেই আবরণ সরে যায়। 17এই প্রভু হলেন আত্মা, আর প্রভুর আত্মা যেখানে সেখানেই স্বাধীনতা। 18তাই, যখন আমরা অনাদৃত মুখে আয়নায় দেখা ছবির মত করে প্রভুর মহিমা দেখতে থাকি, তখন তা দেখতে দেখতে আমরা সকলেই তাঁর সেই (মহিমাময়) রূপে রূপান্তরিত হতে থাকি। সেই রূপান্তর আমাদের মহিমা থেকে উজ্জ্বলতর মহিমার মধ্যে নিয়ে যায়। এই মহিমা আমরা প্রভু, যিনি আজ্ঞা করেন তাঁর কাছ থেকে লাভ করি।

4

মাটির পাত্রে আত্মিক সম্পদ

1ঈশ্বরের দয়ায় আমরা এই কাজের ভার পেয়েছি, তাই আমরা কখনও নিরাশ হই না; 2বরং আমরা লজ্জাজনক গোপন কাজ একেবারেই করি না। আমরা কোন চাতুরী করি না, ঈশ্বরের শিক্ষাকে বিকৃত করি না; বরং যা সত্য তা স্পষ্টভাবে বলে ঈশ্বরের সামনে ও প্রতিটি মানুষের বিবেকের কাছে আমাদের সততা প্রকাশ করি। 3কিন্তু আমরা যে সুসমাচার প্রচার করি তা যদি ঢাকা থাকে, তবে যারা ধ্বংসের পথে চলেছে তাদের কাছেই ঢাকা থেকে যায়। 4এই যুগের দেবতা অবিশ্বাসীদের মন অন্ধ করেছে, যাতে ঈশ্বরের প্রতিমূর্ত্তি যে খ্রীষ্ট, তাঁর মহিমার সুসমাচারের আলো তারা দেখতে না পায়। 5আমরা নিজেদের কথা প্রচার করি না, বরং যীশু খ্রীষ্টকে প্রভু বলে প্রচার করছি এবং আমরা যীশুর অনুসারী বলেই নিজেদের যীশুর সেবক বলে দেখিয়ে থাকি। 6কারণ যে ঈশ্বর বলেছিলেন, “অন্ধকারের মধ্যে থেকে আলোর উদয় হবে!” সেই তিনিই আমাদের অন্তরে ঈশ্বরের জ্ঞানের আলোর মহিমা প্রজ্জ্বলিত করেছিলেন, যে আলো খ্রীষ্টের মুখমণ্ডলেই প্রকাশিত রয়েছে।

7কিন্তু এই সম্পদ আমরা মাটির পাত্রে অর্থাৎ এই মরণশীল দেহে ধারণ করছি, যাতে বুঝতে পারা যায় যে এই মহাপরাক্রম ঈশ্বরের কাছ থেকেই এসেছে, আমাদের নিজেদের কাছ থেকে আসে নি। 8আমরা সবদিক দিয়েই নানা কষ্টদায়ক চাপের মধ্যে রয়েছি, কিন্তু ভেঙে পড়ি নি। আমরা জানি না কি করব, অথচ হাল ছেড়ে দিই না। 9আমরা অত্যাচারিত হলেও ঈশ্বর কখনও আমাদের ছেড়ে দেন না। আমাদের মেরে ধরাশায়ী করে দিলেও আমরা ধ্বংস হচ্ছি না। 10আমরা সবসময় যীশুর মতোই এই দেহে মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছি, যাতে যীশুর জীবনও আমাদের মর্ত্য দেহে প্রকাশ পায়। 11আমরা যারা বেঁচে আছি আমাদের সবসময় যীশুর জন্য মৃত্যুর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, যেন আমাদের মর্ত্য দেহে যীশুর জীবনও প্রকাশ পায়। 12এইভাবে আমাদের মধ্যে মৃত্যু এবং তোমাদের মধ্যে জীবন কাজ করে চলেছে।

13কিন্তু সেই বিশ্বাসের একই আত্মা আমাদের মধ্যে আছে। শাস্ত্রে যেমন লেখা আছে, “আমি বিশ্বাস করেছি বলেই কথা বলেছি।”+ 4:13 উদ্ধৃতি গীত 116:10. তেমনি আমরা বিশ্বাস করেছি বলেই কথা বলছি। 14কারণ আমরা জানি, ঈশ্বর প্রভু, যিনি যীশুকে পুনরুত্থিত করেছেন, তিনি যীশুর সঙ্গে আমাদেরও জীবিত করে তুলবেন এবং তোমাদের সঙ্গে আমাদের (খ্রীষ্টের কাছে) উপস্থিত করবেন। 15সব কিছুই তোমাদের জন্য ঘটেছে। এর ফলে অনেকে ঈশ্বরের অনুগ্রহ পাবে যাতে অনেকে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেয় যাতে তিনি গৌরবান্বিত হন।

বিশ্বাসে জীবন কাটানো

16এইজন্য আমরা হতাশ হই না, কারণ যদিও আমাদের এই দেহ বিনাশপ্রাপ্ত হতে থাকছে তবু আমাদের অন্তরাত্মা দিনে দিনে নতুন হয়ে উঠছে। 17বস্তুত আমাদের এই দুঃখ কষ্ট সাময়িক মাত্র। সাময়িক এই কষ্টভোগ আমাদের জীবনে নিয়ে আসবে শ্রেষ্ঠ শাশ্বত মহিমা যা আমাদের দুঃখ কষ্টের সঙ্গে তুলনার যোগ্য নয়। 18তাই যা দেখা যায় তার দিকে লক্ষ্য না করে বরং যা যা দৃশ্যের অতীত তার ওপরই আমরা দৃষ্টি নিবদ্ধ করি। যা যা দৃশ্যমান তা তো অল্পকালস্থায়ী: কিন্তু যা যা দৃশ্যাতীত তা চিরস্থায়ী।

5

1আমরা জানি পৃথিবীতে আমরা তাঁবুর মত যে বাড়িতে বাস করি তা যদি নষ্ট হয়ে যায় তবে আমাদের একটি ঈশ্বরদত্ত বাড়ি আছে, যে বাড়ি মানুষের তৈরী নয়, স্বর্গে সে বাড়ি চিরকাল ধরেই আছে। 2বাস্তবিক আমরা এই তাঁবুতে থাকতে থাকতে কাতরভাবে আর্তনাদ করছি। আমরা মনেপ্রাণে কামনা করছি যে আমাদের স্বর্গীয় আবাস দিয়ে আমাদের ঢেকে দেওয়া হোক্। 3কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে এই পোশাক পরবার পর দেখা যাবে যে আমরা উলঙ্গ নই। 4বাস্তবে আমরা এই দেহের মধ্যে থেকে ভারাক্রান্ত হওয়াতে আর্তনাদ করছি। আমাদের বর্তমান (দেহরূপ) পোশাকটি ত্যাগ করার ইচ্ছা আমাদের নেই; বরং আমরা চাই যে নতুন (স্বর্গীয় দেহরূপ) পোশাকটি পুরাতনের ওপর পরি যাতে নশ্বর জীবন আবৃত হয়ে যায়। 5আর এর জন্য ঈশ্বর আমাদের প্রস্তুত করেছেন। এইজন্য তিনি পবিত্র আত্মাকে আমাদের কাছে জামিনস্বরূপ পাঠিয়েছেন।

6আমাদের মনে সর্বদা ভরসা আছে; আমরা জানি যতদিন এই দেহের ঘরে বাস করব ততদিন আমরা প্রভুর কাছ থেকে দূরে থাকব। 7আমরা বিশ্বাসের দ্বারা চলি, বাইরের দৃশ্যের দ্বারা নয়। 8তাই আমি বলি যে আমাদের নিশ্চিত ভরসা আছে এবং বাস্তবিক আমরা এই দেহ ত্যাগ করে, আমাদের প্রকৃত আবাস প্রভুর কাছে থাকাই ভাল মনে করি। 9আমাদের লক্ষ্য এই যে আমরা এই দেহের ঘরে বাস করি বা না করি, আমরা যেন ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করে চলি। 10কারণ আমাদের সকলকে খ্রীষ্টের বিচারাসনের সামনে দাঁড়াতে হবে; আর এই নশ্বর দেহে বাস করার সময় আমরা ভাল বা মন্দ যা কিছু করেছি তার উপযুক্ত প্রতিদান আমাদের প্রত্যেককে দেওয়া হবে।

ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন

11তাই প্রভুর ভয় কি, তা জানাতে পেরে আমরা প্রত্যেক মানুষকে বোঝাচ্ছি যেন তারা আমাদের কথায় বিশ্বাস করে। ঈশ্বর আমাদের অন্তরের কথা সুস্পষ্টভাবে জানেন; আর আমি আশাকরি তোমরাও আমাদের অন্তরের কথা জান। 12আমরা আবার তোমাদের কাছে নিজেদের যোগ্য পাত্র বলে প্রমাণ দিতে চাইছি না, কিন্তু আমাদের জন্য গর্ব করার সুযোগ তোমাদের দিচ্ছি; উদ্দেশ্য এই যারা কোন ব্যক্তির হৃদয়ের কথা বিবেচনা না করে দৃশ্যমান বিষয়গুলি নিয়ে গর্ব করে, এইসব লোকদের যেন তোমরা উচিত জবাব দিতে পার। 13যদি আমরা হতবুদ্ধি হয়ে থাকি তবে তা ঈশ্বরের জন্য এবং যদি আমাদের বিচার বুদ্ধি ঠিক থাকে তবে তা তোমাদের জন্য। 14খ্রীষ্টের ভালবাসা আমাদের নিয়ন্ত্রিত করে, কারণ আমরা নিশ্চিতভাবে বুঝেছি তিনি (খ্রীষ্ট) সকলের জন্য মৃত্যুবরণ করলেন, তাতে সকলেরই মৃত্যু হল। 15খ্রীষ্ট সকলের জন্য মৃত্যুবরণ করলেন। তাই যারা জীবন পেল, তারা আর নিজেদের উদ্দেশ্যে নয়, বরং যিনি তাদের জন্য মৃত্যুবরণ করেছিলেন ও পুনরুত্থিত হয়েছেন, তাঁরই উদ্দেশ্যে যেন জীবনযাপন করে।

16তাই এখন থেকে আমরা আর কাউকেই জাগতিক দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে বিচার করি না। যদিও আগে খ্রীষ্টকে আমরা জাগতিক দৃষ্টিভঙ্গী দিয়েই বিচার করেছি তবু এখন আর তা করি না। 17সুতরাং কেউ যদি খ্রীষ্টের সঙ্গে মিলিত হয়, তবে সে এক নতুন সৃষ্টি হয়ে ওঠে, তার জীবনের পুরানো বিষয়গুলি অতীত হয়ে যায়; দেখ, তার সবই এখন নতুন হয়ে উঠেছে। 18সমস্ত কিছুই ঈশ্বর থেকে এসেছে, যিনি খ্রীষ্টের মাধ্যমে নিজের সাথে আমাদের পুনর্মিলিত করেছেন এবং অন্যদের তাঁর সঙ্গে আবার মিলন করিয়ে দেওয়ার কাজ আমাদের দিয়েছেন। 19যেমন বলা হয়ে থাকে: ঈশ্বর খ্রীষ্টের মাধ্যমে জগতকে পুনরায় তাঁর নিজের সঙ্গে মিলিত করার কাজ করছিলেন। তিনি খ্রীষ্টে মানুষের সকল পাপকে পাপ বলে গন্য না করে মিলনের বার্তা জানাবার ভার আমাদের দিয়েছেন। 20খ্রীষ্টের হয়েই আমরা কথা বলেছি। খ্রীষ্টের হয়ে কথা বলতে আমাদের পাঠানো হয়েছে, এইভাবে আমাদের মাধ্যমে ঈশ্বর লোকদের ডাকছেন। আমরা খ্রীষ্টের হয়ে তোমাদের অনুরোধ করছি, তোমরা ঈশ্বরের সাথে মিলিত হও। 21খ্রীষ্ট কোন পাপ করেন নি; কিন্তু ঈশ্বর খ্রীষ্টের ওপর আমাদের পাপের সব দোষ চাপিয়ে দিয়েছেন, যেন খ্রীষ্টের মধ্যে ঈশ্বরের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক স্থাপিত হয়।

6

1ঈশ্বরের সহকর্মী হিসাবে আমরা তোমাদের অনুরোধ করছি, তোমরা ঈশ্বরের যে অনুগ্রহ লাভ করেছ তা নিষ্ফল হতে দিও না। 2কারণ ঈশ্বর বলেন,

“আমি উপযুক্ত সময়ে তোমাদের প্রার্থনা শুনলাম

এবং পরিত্রাণের দিনে আমি তোমাদের সাহায্য করলাম।”+ 6:2 উদ্ধৃতি যিশাইয় 49:8.

আমি যা বলছি শোন, এখনই সেই “উপযুক্ত সময়।” আজই “পরিত্রাণের দিন।”

3আমরা চেষ্টা করি যেন আমাদের কোন কাজের দ্বারা কেউ বিঘ্নিত না হয়। যেন আমাদের কাজের কোন রকম নিন্দা কেউ করতে না পারে। 4আমরা সব বিষয়ে নিজেদের ঈশ্বরের সেবক বলে প্রমাণ করি। আমরা ধৈর্য্যের সঙ্গে দুঃখভোগ করে সবসময় কষ্ট ও নির্যাতন সহ্য করেছি। 5আমাদের মারধোর করা হয়েছে, কারাগারে দেওয়া হয়েছে, মারমুখী জনতার সামনে আমাদের দাঁড়াতে হয়েছে। কাজ করতে করতে অবসন্ন হয়েছি, কত রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছি, এমনকি অনাহারেও কতদিন কেটেছে। 6 এসব সত্ত্বেও আমরা আমাদের জীবনের পবিত্রতা, জ্ঞান, ধৈর্য্য, স্নেহ, মমতা, পবিত্র আত্মা, প্রকৃত ভালবাসা ও সত্যের প্রচার দ্বারা এবং ঈশ্বরের পরাক্রমের দ্বারা, কি আক্রমণে কি আত্মরক্ষায় উভয় ক্ষেত্রেই সদাচারের অস্ত্র ব্যবহার করে প্রমাণ দিয়েছি যে আমরা ঈশ্বরের সেবক।

8আমরা সম্মানিত হয়েছি, আবার অসম্মানিতও হয়েছি। আমরা অপমানিত হয়েছি, আবার প্রশংসিতও হয়েছি। আমাদের মিথ্যাবাদী হিসেবে ধরা হয়েছে যদিও আমরা সত্য বলি। 9কিছু লোক আমাদের প্রেরিত বলে স্বীকার করে না, কিন্তু তবুও আমরা স্বীকৃত। মনে হচ্ছিল আমরা মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু দেখ আমরা মরিনি। আমাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু মেরে ফেলা হচ্ছে না। 10একদিকে মনে হয় আমরা দুঃখ পাচ্ছি কিন্তু আমরা সদাই আনন্দ করছি। মনে হয় আমরা নিঃস্ব, তবু সবকিছুই আমাদের আছে। ধরে নেওয়া হয় আমরা দরিদ্র কিন্তু আমরা অপরকে ধনবান করি।

11হে করিন্থীয়গণ, খোলাখুলিভাবেই আমরা তোমাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের হৃদয় তোমাদের জন্য সম্পূর্ণ খোলা রয়েছে। 12তোমাদের প্রতি আমাদের ভালবাসা অটুট আছে; কিন্তু তোমরা তোমাদের ভালবাসা থেকে আমাদের দূরে রেখেছ। 13আমি তোমাদের সন্তান মনে করে বলছি, আমরা যেমন তোমাদের ভালবেসেছি তোমরাও যেন তেমনি মনপ্রাণ খুলে আমাদের ভালবাস।

অবিশ্বাসীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে সতর্কবাণী

14তোমরা অবিশ্বাসীদের থেকে আলাদা, তাই তাদের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করো না, কারণ ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে কোন যোগ থাকতে পারে না। অন্ধকারের সাথে আলোর কি কোন যোগাযোগ থাকতে পারে? 15খ্রীষ্ট এবং দিয়াবলের মধ্যে কি কোন সম্পর্ক থাকতে পারে? অবিশ্বাসীর সাথে বিশ্বাসীরই বা কি সম্পর্ক? 16ঈশ্বরের মন্দিরের সাথে প্রতিমারই বা কি সম্পর্ক? কারণ আমরাই তো জীবন্ত ঈশ্বরের মন্দির; যেমন ঈশ্বর বলেছেন:

“আমি তাদের মধ্যে বাস করব এবং তাদের মধ্যে যাতায়াত করব;

আমি তাদের ঈশ্বর হবো ও তারা আমার লোক হবে।”+ 6:16 উদ্ধৃতি লেবীয় 26:11-12.

17প্রভু বলেন, “তোমরা তাদের মধ্য থেকে বেরিয়ে এস,

তাদের থেকে পৃথক হও

এবং অশুচি জিনিস স্পর্শ করো না,

তাহলে আমি তোমাদের গ্রহণ করব।”+ 6:17 উদ্ধৃতি যিশাইয় 52:11.

18“আমি তোমাদের পিতা হব

ও তোমরা আমার পুত্র কন্যা হবে।” একথা সর্বশক্তিমান প্রভু বলেন।+ 6:18 উদ্ধৃতি 2 শমুয়েল 7:8, 14.

7

1প্রিয় বন্ধুগণ, এই সমস্ত প্রতিশ্রুতি যখন আমাদের রয়েছে তখন এস, যা কিছু আমাদের দেহ বা আত্মাকে অশুচি করে তার থেকে মুক্ত হয়ে নিজেদের শুচি করি। ঈশ্বরের সম্মান করে নিজেদের পূর্ণরূপে পবিত্র করি।

পৌলের আনন্দ

2তোমাদের হৃদয়ে আমাদের স্থান দিও। আমরা কারও ক্ষতি করি নি, কাউকে সর্বনাশের পথে নিয়ে যাই নি, কাউকে ঠকাই নি। 3আমি তোমাদের দোষী করতে একথা বলছি তা নয়; আমরা তোমাদের এত ভালবাসি যে আমরা মরি তো একসঙ্গে মরব, বাঁচি তো একসঙ্গেই বাঁচব। 4তোমাদের ওপর আমার বড় আস্থা আছে আর তোমাদের নিয়ে আমার খুবই গর্ব। আমাদের সমস্ত কষ্টের মধ্যে তোমাদের কাছ থেকে আমি যথেষ্ট উৎসাহ পেয়েছি, তাই আমার মনে বড় আনন্দ।

5যখন আমরা মাকিদনিয়াতে এসেছিলাম, তখনও আমাদের দৈহিকভাবে বিন্দুমাত্র বিশ্রাম হয় নি। কারণ আমরা সব দিক থেকে কষ্ট পেয়েছিলাম, বাইরে ছিল ঝগড়াঝাটি ও মনে ছিল ভয়। 6তবুও ঈশ্বর যিনি নিরাশ প্রাণে সান্ত্বনা দেন, তিনি তীতকে নিয়ে এসে আমাদের সান্ত্বনা দিলেন। 7কেবল তীতের আসার জন্য নয়, তোমরা তাকে যে সান্ত্বনা দিয়েছ তার জন্যও। তিনি আমাদের জানিয়েছেন আমাদের দেখার জন্য তোমাদের কত গভীর আগ্রহ রয়েছে। তোমরা যা করেছ তার জন্য তোমরা কি পরিমাণ দুঃখিত এবং আমার জন্য তোমাদের আগ্রহের কথাও তীত আমাদের জানিয়েছেন। এর ফলে আমি আরও আনন্দিত হয়েছি।

8যদিও আমার চিঠি তোমাদের কিছু সময়ের জন্য দুঃখ দিয়েছে তবু অনুশোচনা করি না, কারণ প্রথমে অনুশোচনা করলেও আমি দেখছি যে সেই চিঠি তোমাদের মনে মাত্র কিছুকালের জন্য ব্যথা দিয়েছে। 9এখন আমি আনন্দ করছি, তোমরা মনে ব্যথা পেয়েছিলে বলে নয়, কিন্তু তোমাদের সেই দুঃখ ও ব্যথা তোমাদের জীবনকে পরিবর্তিত করেছে বলে। ঈশ্বরের ইচ্ছানুসারেই তোমরা দুঃখ পেয়েছিলে, তাই আমাদের দ্বারা তোমাদের কোনরকম ক্ষতি হয় নি; 10কারণ ঈশ্বরের ইচ্ছানুসারে দুঃখ মানুষের হৃদয়ে ও জীবনে অনুতাপ আনে আর তা মুক্তির দিকে নিয়ে যায় এবং তাতে আমাদের দুঃখ করার কিছু নেই। কিন্তু এই জগতের দেওয়া দুঃখ মানুষকে অনন্ত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। 11দেখ, ঈশ্বরের ইচ্ছানুসারে যে দুঃখ তোমাদের হয়েছে, তা তোমাদের কত মঙ্গল করেছে, তোমাদের কত আন্তরিক করে তুলেছে। নিজেদের নির্দোষ বলে প্রমাণ করার জন্য তোমাদের কত ইচ্ছা হয়েছিল, তোমাদের মনে কত ক্রোধ ও ভয় জেগেছিল, আমাদের দেখার জন্য তোমাদের কত আগ্রহ হয়েছিল, তোমাদের মনে কত দরদ এসেছিল, অন্যায়ের শাস্তি দেবার জন্য তোমাদের কত ইচ্ছা হয়েছিল। সবকিছুতেই তোমরা প্রমাণ করেছ যে সে বিষয়ে তোমরা নির্দোষ। 12আমি তোমাদের কাছে চিঠি লিখেছিলাম বটে, কিন্তু যে অন্যায় করেছে বা যার ওপর অন্যায় করা হয়েছে তাদের জন্য নয়, বরং তোমাদের লিখেছিলাম যাতে ঈশ্বরের সামনে আমাদের প্রতি তোমাদের যে এই আনুগত্য আছে তা উপলদ্ধি করতে পার। 13এইসবের জন্য আমরা উৎসাহিত হয়েছি।

আমাদের সেই উৎসাহের ওপরে তীতের আনন্দ আমাদের আরও আনন্দিত করেছে। তোমাদের সকলের কাছ থেকে তিনি অন্তরে নতুন শক্তি লাভ করেছেন। 14তাঁর কাছে আমি কোন বিষয়ে যদি তোমাদের জন্য গর্ব করে থাকি, তাতে লজ্জিত হই নি; কিন্তু আমরা যেমন তোমাদের কাছে সবকিছুই সত্যভাবে ব্যক্ত করেছি, তেমনি তীতের কাছে আমাদের সেই গর্বও সত্য বলে প্রমাণ হল। 15তোমরা সকলে তাঁকে কেমন মান্য করেছিলে, কেমন ভয় ও সম্মানের সঙ্গে তাঁকে গ্রহণ করেছিলে, সে সব স্মরণ করে তোমাদের প্রতি তাঁর ভালবাসা আরও বেড়ে গেছে। 16এই জন্য আমি খুশী কারণ আমি তোমাদের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করতে পারি।

8

দানের বিষয়

1ভাই ও বোনেরা, মাকিদনিয়ার খ্রীষ্ট মণ্ডলীগুলির মধ্যে ঈশ্বরের অনুগ্রহ যে কাজ করেছে তা আমরা তোমাদের জানাচ্ছি। 2যদিও দুঃখ কষ্ট ভোগ করার মধ্য দিয়ে তাদের পরীক্ষা করা হয়েছে এবং যদিও তারা অতি দরিদ্র, তবু তাদের মনে এতই আনন্দ যে তারা অন্যকে খোলা হাতে দান করেছে। 3আমি সাক্ষী দিচ্ছি যে তারা নিজের ইচ্ছায় যতদূর সাধ্য এমনকি সাধ্যের অতিরিক্ত দান করেছিল। 4তারা আমাদের ঐকান্তিক অনুরোধ জানিয়ে বলেছিল, ঈশ্বরের লোকদের এই সেবার কাজে অংশগ্রহণ করার সুযোগ যেন তাদের দেওয়া হয়। 5তারা এমনভাবে দান করেছিল যা আমরা আশাই করি নি। তারা ঈশ্বরের ইচ্ছামতো প্রথমে নিজেদের প্রভুর কাছে এবং পরে আমাদের দিয়ে দিল।

6সেইজন্য আমরা তীতকে অনুরোধ করলাম যাতে তিনি এর আগে যে কাজ করতে শুরু করেছিলেন, সেই অনুগ্রহের কাজ শেষ করেন। 7সবকিছু যেমন তোমাদের প্রচুর পরিমাণে আছে—বিশ্বাস, বলার ক্ষমতা, জ্ঞান, সব বিষয়ের প্রতি তোমাদের আগ্রহ এবং আমাদের প্রতি ভালবাসা, ঠিক এইভাবে দান করার গুণটিও যেন তোমাদের প্রচুর পরিমাণে থাকে।

8আমি আদেশ করে বলছি না, কিন্তু অন্যের আগ্রহের উদাহরণ দিয়ে তোমাদের ভালবাসা যথার্থ কিনা পরীক্ষা করছি। 9কারণ তোমরা আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহের কথা জান। তিনি ধনী হয়েও তোমাদের জন্য দরিদ্র হলেন, যাতে তোমরা তাঁর দারিদ্র্যে ধনবান হয়ে উঠতে পার।

10এবিষয়ে আমি আমার পরামর্শ তোমাদের দিচ্ছি কারণ তোমাদের পক্ষে এটা মঙ্গলজনক। যেহেতু গত বছর তোমরাই প্রথম কাজ করতে আরম্ভ করেছিলে, শুধু তাই নয় সেই কাজ করার ইচ্ছাও তোমরাই প্রথমে প্রকাশ করেছিলে। 11তোমরা আগ্রহের সাথে যে দেওয়ার কাজ শুরু করেছিলে, এখন তা সেই একই আগ্রহের সঙ্গে তোমাদের সাধ্যমত শেষ কর। 12কারণ দেবার মতো ইচ্ছা থাকলে তবেই তোমাদের দান গ্রাহ্য হবে। তোমাদের যা আছে সেই ভিত্তিতে দিলেই তোমাদের দান গ্রাহ্য হবে, তোমাদের যা নেই সেই অনুযায়ী নয়। 13কারণ আমাদের উদ্দেশ্য এই নয় যে, অন্য সকলে আরাম করবে আর তোমরা কষ্টে পড়বে, বরং সব কিছুতে যেন সমতা থাকে। 14বর্তমানে তোমাদের যথেষ্ট রয়েছে, তার থেকে দিয়ে তাদের প্রয়োজন মেটাতে পারবে, আবার প্রয়োজনে তাদের যা বেশী হবে তা দিয়ে তোমাদের অভাব মিটবে। এইভাবে যেন সর্বত্র সমতা বজায় থাকে। 15শাস্ত্রে যেমন লেখা আছে,

“যে বেশী কুড়োলো, তার বাড়তি থাকল না;

যে অল্প কুড়োলো, তার অভাব হল না।”+ 8:15 উদ্ধৃতি যাত্রাপুস্তক 16:18.

তীত ও তার সঙ্গীরা

16তোমাদের জন্য আমার যে আগ্রহ আছে, ঠিক সেই রকম আগ্রহ ঈশ্বর তীতের অন্তরে দিয়েছেন বলে আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই। 17তীত যে আমাদের অনুরোধ রেখেছেন তাই নয়, তিনি এতই আগ্রহী ছিলেন যে নিজের ইচ্ছায় তোমাদের কাছে যাচ্ছেন। 18আমরা তীতের সঙ্গে সেই ভাইকে পাঠাচ্ছি, যিনি সুসমাচার প্রচারের জন্য সমস্ত মণ্ডলীতে প্রশংসিত। 19কেবল তাই নয়, আমাদের সহযাত্রী হিসেবে প্রভুর মহিমার জন্য এই দান নিয়ে যাবার দরুন ও আমাদের সাহায্য করার ইচ্ছাকে প্রমাণ করতে বাস্তবিক মণ্ডলীগুলি তাকে মনোনীত করেছিল।

20আমরা এই দায়িত্ব সম্পর্কে সতর্ক যাতে এই বিপুল অর্থ বিতরণ সম্পর্কে কেউ যেন আমাদের সমালোচনা না করে। 21কারণ কেবল প্রভুর সামনে নয়, কিন্তু মানুষের দৃষ্টিতে যা ভাল, তাও আমরা লক্ষ্য রাখি।

22আর ওদের সাথে আমাদের ভাইকে পাঠালাম, যাঁকে আমরা অনেকবার অনেক বিষয়ে পরীক্ষা করে এইসব কাজে উদ্যোগী দেখেছি এবং তোমাদের প্রতি তাঁর এই দৃঢ় বিশ্বাসের জন্য এবার আরও বেশী আগ্রহী দেখছি।

23তীতের কথা যদি বলতে হয়, তবে তিনি আমার সহকর্মী ও তোমাদের সাহায্যের কাজে আমার সহকারী। আমাদের ভাইদের বিষয় যদি বলতে হয়, তবে বলি তাঁরা মণ্ডলীগুলির প্রতিনিধিত্ব করেন এবং খ্রীষ্টের পক্ষে গৌরব আনেন। 24অতএব তোমাদের ভালবাসার প্রমাণ এবং তোমাদের ওপর আমাদের গর্বের কারণ, এই দুই বিষয়ের প্রমাণ তাঁদের দেখাও, যাতে সমস্ত মণ্ডলী তা দেখতে পায়।

9

সাথী খ্রীষ্টীয়ানদের সাহায্য

1এখন বুঝতে পারছি যে ঈশ্বরের লোকদের সাহায্যের ব্যাপারে তোমাদের কিছু লেখার প্রয়োজন নেই। 2কারণ আমি তোমাদের আগ্রহ জানি এবং তোমাদের বিষয়ে মাকিদনিয়ানদের কাছে এই গর্ব করে থাকি যে গত বছর থেকে আখায়ার লোকরা অর্থাৎ তোমরা তৈরী হয়ে রয়েছ। আর এই ঘটনা তাদের বেশীর ভাগ লোককে দানের বিষয়ে উৎসাহিত করে তুলেছে, তারাও দিতে চাইছে। 3কিন্তু আমি সেই ভাইদের পাঠাচ্ছি যাতে তোমাদের সম্বন্ধে আমাদের যে গর্ব তা বিফল না হয়, যেন আমি যেমন তাদের বলেছি সেইমতো তোমরা প্রস্তুত হয়ে থাকো। 4তা না হলে মাকিদনিয়ার কিছু লোক যদি আমার সাথে আসে এবং তোমাদের প্রস্তুত না দেখে, তাহলে এই নিশ্চয়তা বোধ আমাদের ও তোমাদের উভয়ের পক্ষেই লজ্জার বিষয় হবে। 5সেইজন্য আমি ভাইদের এই অনুরোধ করা প্রয়োজন মনে করলাম, যাতে তাঁরা আগে তোমাদের কাছে যান এবং দান হিসাবে যে অর্থ তোমরা দেবে বলেছিলে, সেই দান সংগ্রহ করে প্রস্তুত থাকতে পারেন। সেই দান যেন স্বেচ্ছাদান হয়, জোর করে আদায় করা চাঁদার টাকা না হয়।

6মনে রেখো, যে অল্প পরিমাণে বীজ বোনে, সে অল্প পরিমাণ ফসল কাটবে এবং যে যথেষ্ট পরিমাণ বীজ বোনে সে প্রচুর ফসল কাটবে। 7প্রত্যেকে নিজের নিজের অন্তরে যেমন স্থির করেছে, সেই মতোই দান করুক, মনে দুঃখ পেয়ে অথবা জোর করা হয়েছে বলে নয়, কারণ খুশী মনে যারা দেয়, ঈশ্বর তাদের ভালবাসেন। 8ঈশ্বর তোমাদের সর্বপ্রকার আশীর্বাদ প্রচুর পরিমাণে দিয়ে থাকেন, যেন সব সময় তোমাদের সব কিছুই বেশী পরিমাণে থাকে এবং যেন সব রকম ভাল কাজ করার জন্য সর্ব সময়ে তোমাদের ইচ্ছা ও প্রয়োজনের অতিরিক্ত সবই থাকে। 9যেমন শাস্ত্রে লেখা আছে:

“ধার্মিক দরিদ্রকে মুক্ত হস্তে দান করে;

তার সেই সত্‌কাজ চিরস্থায়ী।”+ 9:9 উদ্ধৃতি গীতসংহিতা 112:9.

10যিনি কৃষককে বোনার জন্য বীজ ও আহারের জন্য খাদ্য জুগিয়ে থাকেন, তিনি তোমাদের বোনার জন্য আত্মিক বীজ জোগাবেন এবং তার বৃদ্ধিসাধন করবেন। তোমাদের দানশীলতা প্রচুর ফসল উৎপন্ন করবে। 11ঈশ্বর তোমাদের সব বিষয়ে সমৃদ্ধ করবেন যেন তোমরা সব সময়ে মহত্ হও। আমাদের মাধ্যমে তোমাদের দান যখন অভাবীদের হাতে দেব, তখন তারা আনন্দে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাবে।

12তোমাদের এই দানের ফলে ঈশ্বরের লোকদের শুধু যে অভাব মিটবে তা নয় বরং এই দান ঈশ্বরের প্রতি অনেক ধন্যবাদের দ্বারা উপচে পড়বে। 13তোমাদের এই কাজ যে আনুগত্যের প্রমাণ দেয় তার জন্যে তারা ঈশ্বরের প্রশংসা করবে, এই আনুগত্য তোমাদের খ্রীষ্টের সুসমাচারের ওপর বিশ্বাস থেকে আসে। খোলা হাতে তোমরা যে দান তাদের ও অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছ তার জন্য তারা ঈশ্বরের প্রশংসা করবে। 14তারা যখন তোমাদের জন্য প্রার্থনা করে তখন তোমাদের সাথী হবার ইচ্ছা করবে। তোমাদের ওপরে যে মহা-অনুগ্রহ ঈশ্বর দিয়েছন, তার কথা মনে করেই তারা এমন ইচ্ছা করবে। 15ঈশ্বরের অপূর্ব অবর্ণনীয় দানের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ।

10

নিজের কাজের পক্ষে পৌল

1আমি পৌল নিজে খ্রীষ্টের বিনয় ও সৌজন্যের দোহাই দিয়ে তোমাদের অনুনয় করছি। আমি নাকি তোমাদের সামনে বিনম্র কিন্তু পেছনে চিঠিতে তোমাদের কড়া কড়া কথা বলি। 2কিছু কিছু লোক মনে করে যে আমরা জাগতিক ভাবে চলি। আমি মিনতি করি যখন আমি আসব তখন যেন আমাকে সেই দৃঢ় সাহস দেখাতে না হয়, যে সাহস আমি সেইসব লোকদের কাছে দেখানো আবশ্যক মনে করি। 3আমরা জগতেই বাস করি কিন্তু জগৎ‌ যেভাবে যুদ্ধ করে আমরা সেইভাবে করি না। 4জগৎ‌ যে যুদ্ধের অস্ত্র ব্যবহার করে, আমরা তার থেকে স্বতন্ত্র যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করি। আমাদের যুদ্ধের অস্ত্র ঈশ্বরের পরাক্রম; এই যুদ্ধাস্ত্র শত্রুর সুদৃঢ় ঘাঁটি ধ্বংস করতে পারে। লোকদের বাজে বিতর্ক আমরা বিফল করতে পারি। 5যে সমস্ত গর্বজনক বিষয় ঈশ্বর বিষয়ক জ্ঞানের বিরুদ্ধে যায়, আমরা তাদের প্রত্যেককে ধ্বংস করি এবং সমস্ত চিন্তাকে বশীভূত করে খ্রীষ্টের অনুগত করি। 6যখন তোমরা সম্পূর্ণভাবে আমাদের অনুগত হবে, তখনই আমরা অবাধ্যতার প্রতিটি কাজকে শাস্তি দিতে প্রস্তুত হব।

7তোমাদের সামনের বিষয়গুলির দিকে দেখ, কেউ যদি নিজেদের ওপরে বিশ্বাস রেখে বলে, আমি খ্রীষ্টের লোক, তবে তার আবার একথাও বোঝা উচিত যে তার মত আমরাও খ্রীষ্টের লোক। 8একথা ঠিক যে প্রভু যে কর্ত্তৃত্ব আমাদের দিয়েছেন তাই নিয়ে আমরা বেশ গর্ব করি। তোমাদের ব্যথা দিতে নয়, কিন্তু তোমাদের শক্তিশালী করে তুলতেই তিনি আমাদের এই অধিকার দিয়েছেন, আর তা নিয়ে আমরা লজ্জা পাচ্ছি না। 9আমি চিঠিগুলি দিয়ে যে তোমাদের ভয় দেখাচ্ছি এরকম মনে করো না। 10কেউ কেউ বলে, “তার চিঠিগুলো মনে রেখাপাত করে এবং শক্তিশালী, কিন্তু লোক হিসাবে তিনি দুর্বল এবং তাঁর কথা বলার ধরণ একেবারেই হৃদয়গ্রাহী নয়।” 11এই ধরণের লোক বুঝুক যে অনুপস্থিত থাকাকালীন আমাদের চিঠির মধ্যে যে শক্তি প্রকাশ পেয়েছে, আমরা যখন তোমাদের সামনে উপস্থিত হব তখন আমাদের কাজেও সেই একই শক্তি দেখতে পাবে।

12কারণ এমন কোন লোকের সাথে আমরা নিজেদের গণনা বা তুলনা করতে সাহস করি না, যাঁরা নিজেরাই নিজেদের উচ্চ প্রশংসা করে থাকে। তারা পরস্পরের মধ্যে নিজেদের পরিমাপ করে এবং নিজেদের সাথে নিজেদের তুলনা করে।

13নিজেদের বিষয়ে যতটুকু গর্ব করার অধিকার আমাদের আছে, আমরা তার বেশী করব না, বরং ঈশ্বর আমাদের কর্মক্ষেত্রে যে সীমা নিরূপণ করেছেন সেই সীমার মধ্যে থাকব। সেই সীমার মধ্যে তোমরাও আছো। 14তোমাদের কাছে গিয়েছিলাম বলে তোমাদের নিয়ে আমরা যখন গর্ব করি, তখন সীমার বাইরে কিছু বলি না, কারণ খ্রীষ্টের সুসমাচার নিয়ে আমরাই তোমাদের কাছে প্রথম পৌঁছেছিলাম। 15আমাদের কাজ নিয়ে গর্ব করার যে সীমা তা আমরা ছাড়িয়ে যাব না। অন্যেরা কি করছে তা আমাদের গর্বের বিষয় নয়; পরিবর্তে আমরা আশা করি যে তোমাদের বিশ্বাস বাড়বার সাথে সাথে আমরা তোমাদের মধ্যে আরও কাজ করতে পারব। 16তখন আমরা তোমাদের নগর ছাড়িয়েও জায়গায় জায়গায় সুসমাচার প্রচার করতে পারব। অপরের এলাকার করা কাজের জন্য আমরা গর্ব করব না। 17তবে, “যে গর্ব করতে চায় সে প্রভুকে নিয়েই গর্ব করুক।”+ 10:17 উদ্ধৃতি যির. 9:24.18কারণ যে মানুষ নিজের সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষন করে সে নয়, কিন্তু প্রভু যার সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষন করেন সে-ই ভাল বলে প্রমাণিত হয়।

11

পৌল এবং ভণ্ড প্রেরিতরা

1যখন তোমরা আমার নির্বুদ্ধিতা দেখতে পাও তখন একটু ধৈর্য্য্ ধরে আমাকে সহ্য করবে এই আমি চাই। দয়া করে আমার প্রতি সহিষ্ণু হও। 2আমি অন্তরে তোমাদের জন্য জ্বালা অনুভব করছি। এই অন্তর্জ্বালা স্বয়ং ঈশ্বরের অন্তর থেকে আসে। আমি তোমাদের এক বরের সঙ্গে বিয়ে দিতে প্রতিজ্ঞা করেছি, যেন সতী কন্যা রূপে তোমাদের খ্রীষ্টের কাছে উপহার দিতে পারি। 3কিন্তু আমার ভয় হচ্ছে দুষ্ট সাপ যেমন নিজের চাতুরীতে হবাকে ভুলিয়েছিল, সেইরকম কেউ যেন তোমাদের মন কলুষিত না করে এবং খ্রীষ্টের প্রতি তোমাদের যে পূর্ণ ও বিশুদ্ধ অনুরাগ আছে তা থেকে তোমাদের যেন দূরে সরিয়ে নিয়ে না যায়। 4কোন আগন্তুক যদি এমন আর এক যীশুকে প্রচার করে, যাকে আমরা প্রচার করি নি, অথবা আগেই গ্রহণ করেছ এমন আত্মা ছাড়া যদি তোমরা অন্য কোন আত্মা পাও, বা আগে গ্রহণ কর নি এমন কোন অন্য রকমের সুসমাচার পাও তবে তা ভালভাবে সহ্য করো।

5কারণ আমার মনে হয় না যে আমি তথাকথিত সেই “মহান প্রেরিতদের” থেকে কোন অংশে পিছিয়ে পড়ে আছি। 6কিন্তু যদিও আমি খুব ভাল বক্তা নই, তবুও আমার জ্ঞান সীমিত নয় এবং তা সবরকমেই পরিষ্কারভাবেই তোমাদের দেখিয়ে দিয়েছি।

7তোমরা যেন উন্নত হতে পার তাই নিজেকে নত করে আমি কি পাপ করেছি? তোমাদের মধ্যে বিনা পারিশ্রমিকে ঈশ্বরের সুসমাচার প্রচার করে কি ভুল করেছি? 8তোমাদের মধ্যে সেবার জন্য অন্য মণ্ডলী থেকে টাকা নিয়ে আমি তাদের লুঠ করেছি; 9এবং যখন তোমাদের কাছে ছিলাম তখন আমার অভাব হলেও আমি কাউকে ভারগ্রস্ত করি নি, কারণ মাকিদনিয়া থেকে ভাইরা এসে আমার প্রয়োজন মেটালেন। হ্যাঁ, আমি যাতে কোন বিষয়ে তোমাদের কাছে হাত না পাতি, নিজেকে সেইভাবে রক্ষা করেছি এবং করব। 10সত্যই খ্রীষ্টের সততা যখন নিশ্চিতভাবে আমার মধ্যে আছে, তখন আখায়ার কোন অঞ্চলে কেউ এই গর্ব করা থেকে আমায় বিরত করবে না। আমি তোমাদের বোঝা হতে চাই না। 11তার মানে কি এই যে আমি তোমাদের ভালবাসি না? ঈশ্বর জানেন আমি তোমাদের ভালবাসি।

12কিন্তু এখন আমি যা করছি, সেই কাজ আরও করব যাতে যারা গর্ব করার সুযোগ খোঁজে, তাদের বিরত করতে পারি। যারা গর্ব করে তাদের যেন তোমরা আমাদের সমান ভাব; 13কারণ তারা ভণ্ড প্রেরিত, তারা মিথ্যা বলে। তারা প্রবঞ্চক কর্মী, তারা প্রেরিতের ছদ্মবেশ ধরেছে। তারা এমনভাব দেখায় যাতে লোকে মনে করে যে তারা খ্রীষ্টের প্রেরিত। 14এটা আশ্চর্য নয়, কারণ শয়তান নিজেও নিজেকে দীপ্তিময় স্বর্গদূত হিসাবে দেখাবার জন্য বদলে ফেলে। 15অতএব তার সেবকরাও যে ধার্মিকতার সেবকদের বেশ ধারণ করে, এতে আশ্চর্য হবার কিছুই নেই, পরিণামে তাদের কাজের জন্য তারা শাস্তিভোগ করবে।

পৌল নিজের দুঃখভোগের কথা বললেন

16আমি আবার বলছি, কেউ আমাকে মূর্খ মনে না করুক, কিন্তু যদি তোমরা মনে কর, তবে আমাকে মূর্খ বলেই গ্রহণ কর; তাতে আমিও একটু গর্ব করতে পারব। 17আমি নিজেকে জানি তাই আমি গর্ব করি। এখন আমি যা বলছি তা প্রভুর আদেশ মত বলছি না কিন্তু এক নির্বোধের মতোই এই গর্ব করছি। 18যেহেতু অনেকেই জাগতিক বিষয়ে গর্ব করে, তাই আমিও গর্ব করব। 19কারণ তোমরা যারা বুদ্ধিমান তারা নির্বোধ লোকদের প্রতি আনন্দের সাথে সহিষ্ণুতা দেখিয়ে থাক। 20আমি জানি তোমরা সহিষ্ণু, এমন কি, তাদের প্রতিও যারা তোমাদের আদেশ করে, শোষণ করে, ফাঁদে ফেলে, নিজেদের তোমাদের থেকে ভাল বলে মনে করে অথবা তোমাদের গালে চড় মারে। 21একথা বলতে আমার লজ্জা বোধ হয় যে আমরা তোমাদের প্রতি নিতান্ত “দুর্বল” বলেই দুরকম ব্যবহার করি নি!

কিন্তু গর্ব করার মতো যথেষ্ট সাহস যদি কারো থাকে, তবে আমি সাহসী হব ও গর্ব করব। আমি মূর্খের মতো কথা বলছি। 22তারা কি ইব্রীয়? আমিও তাই। তারা কি ইস্রায়েলী? আমিও তাই। তারা কি অব্রাহামের বংশধর? আমিও তাই। 23তারা কি খ্রীষ্টের সেবক? এমন গর্ব করা পাগলের মত শোনালেও আমি তাদের থেকে অনেক বেশী খ্রীষ্টের সেবা করছি। আমি তাদের থেকে অনেক বেশী কঠোর পরিশ্রম করেছি, তাদের থেকে বহুবার বেশী কারাদণ্ড ভোগ করেছি, অনেকবার চাবুকের মার সহ্য করেছি, অনেকবার মৃত্যুমুখে পড়েছি।

24ইহুদীদের কাছ থেকে পাঁচবার উনচল্লিশটি করে চাবুকের মার খেতে হয়েছে। 25তিনবার আমাকে লাঠিপেটা করেছে, একবার আমার ওপর পাথর ছোঁড়া হয়েছে, তিনবার ঝড়ে জাহাজ ডুবিতে আমি কষ্ট পেয়েছি এবং সারা দিনরাত অগাধ জলের মধ্যে কাটিয়েছি। 26স্থলপথে যাত্রাকালে বহুবার বিপদে পড়েছি, নদী থেকে বিপদ এসেছে, কতবার ডাকাতের হাতে, কতবার আমার আপনজন, ইহুদী ও অইহুদীদের দ্বারা বিপদগ্রস্ত হয়েছি। শহরের মধ্যে মহা বিপদে পড়তে হয়েছে, কখনও গ্রামাঞ্চলে, কখনও বিপদ সঙ্কুল সমুদ্রের মধ্যে এবং ভণ্ড খ্রীষ্টীয়ানদের কাছ থেকে।

27অনেকবার অনাহারে দিন কাটিয়েছি, যথেষ্ট পোশাকের অভাবে প্রচণ্ড শীতে কষ্ট পেয়েছি। 28আর সব সমস্যা যাক, একটি সমস্যা প্রতিদিন আমার ওপরে চেপে রয়েছে, তা হল সমস্ত মণ্ডলীর চিন্তা। 29কেউ দুর্বল হলে আমি কি সেই দুর্বলতার সহভাগী হই না? কেউ বাধা পেয়ে পাপের পথে নেমে গেলে আমি কি রাগে জ্বলে উঠি না?

30যদি গর্ব করতে হয়, তবে আমার নানা দুর্বলতার বিষয়ে গর্ব করব। 31প্রভু যীশু খ্রীষ্টের ঈশ্বর ও পিতা, যিনি যুগে যুগে প্রশংসিত তিনি জানেন যে আমি মিথ্যা বলছি না। 32যখন আমি দম্মেশকে ছিলাম, তখন রাজা আরিতার অধীনস্থ রাজ্যপাল আমাকে বন্দী করার জন্য দম্মেশকীয়দের সেই শহরের চারপাশে পাহারা বসিয়েছিলেন। 33কিন্তু আমার বন্ধুরা শহরের পাঁচিলের একটা ফাঁক দিয়ে একটা ঝুড়িতে করে আমাকে নামিয়ে দিয়েছিলেন। এইভাবে সেই রাজ্যপালের হাত থেকে পালিয়েছিলাম।

12

পৌলের জীবনে এক বিশেষ আশীর্বাদ

1গর্ব করা আমার প্রয়োজন, যদিও এর দ্বারা কোন লাভই হয় না। কিন্তু প্রভুর দেওয়া নানা দর্শন ও প্রকাশের সম্পর্কে আমাকে বলতে হবে। 2আমি খ্রীষ্টে আশ্রিত একটি লোককে জানি, চোদ্দ বছর আগে যাকে তৃতীয় স্বর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সশরীরে না অশরীরে তা জানি না, ঈশ্বর জানেন। 3 এই লোকটির ব্যাপার আমি জানি, সশরীরে কি অশরীরে, তা আমি জানি না, ঈশ্বর জানেন। সে স্বর্গোদ্যানে থাকায় এমন সব বিস্ময়কর কথা শুনেছিল, যা নিয়ে মানুষের কথা বলা উচিত নয়। 5এমন লোকের জন্য গর্ব করব; কিন্তু নিজের জন্য গর্ব করব না। কেবল নানা দুর্বলতার জন্য গর্ব করব।

6যদি আমি নিজের বিষয়ে গর্ব করি তাতেও মূর্খতার পরিচয় দেব না, কারণ আমি সত্যি কথাই বলব। তবুও নিজের বিষয়ে বড়াই করব না কারণ আমাকে তারা যেমন দেখছে এবং আমার কথা যেমন শুনছে, আমাকে যেন তার থেকে মহান বলে মনে না করে।

7ঐসব অসাধারণ প্রকাশের অভিজ্ঞতার জন্য আমি যেন গর্ব না করি, সেইজন্য আমার দেহে একটা কাঁটা (কষ্টদায়ক সমস্যা) দেওয়া হল। যেন শয়তানের এক দূত আমাকে আঘাত করে, যাতে আমি অতি মাত্রায় গর্ব না করি। 8এই ব্যাপারে আমি প্রভুর কাছে তিনবার প্রার্থনা করেছিলাম, যাতে ওর থেকে আমি মুক্তি পাই। 9কিন্তু তিনি আমাকে বললেন, “আমার অনুগ্রহ তোমার জন্য যথেষ্ট; কারণ দুর্বলতার মধ্যে আমার শক্তি সম্পূর্ণতা লাভ করে।” এজন্য আমি বরং অত্যধিক আনন্দের সঙ্গে নানা দুর্বলতার গর্ব করব, যাতে খ্রীষ্টের পরাক্রম আমার ওপরে অবস্থান করে। 10যখন কোন সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাই তখনও আমি আনন্দ পাই। যখন অন্যরা আমায় নির্যাতন করে তাতে আমি আনন্দ পাই; যখন আমার সমস্যা থাকে তখনও আমি আনন্দ পাই। এইসব আমি খ্রীষ্টের জন্য সহ্য করি, কারণ যখন আমি দুর্বল, তখনই আমি বলবান।

করিন্থীয় খ্রীষ্টীয়ানদের জন্য পৌলের ভালবাসা

11আমি বোকার মতো কথা বলছি; তোমরাই আমাকে জোর করে বোকা বানালে। কারণ আমার প্রশংসা করা তোমাদের উচিত ছিল, যদিও আমি কিছু নই, তবু সেই “মহান প্রেরিতদের” থেকে কোন অংশে ছোট নই। 12আমি যে একজন প্রেরিত তার সমস্ত প্রমাণ আমি তোমাদের দিয়েছি এবং প্রকৃত প্রেরিতদের মত ধৈর্য্যের সঙ্গে নানা অলৌকিক চিহ্ন ও আশ্চর্য কাজ সম্পন্ন করেছি। 13অন্য সমস্ত মণ্ডলী যা পেয়েছে তোমরাও সেই একই জিনিস পেয়েছ। তবে তোমরা কোন্ বিষয়ে অন্য মণ্ডলীর থেকে ছোট হলে? কেবল একটি বিষয়ে তোমরা ভিন্ন। আমি তোমাদের গলগ্রহ হই নি, এ যদি অন্যায় হয়ে থাকে তবে আমাকে সেই ভুলের জন্য ক্ষমা করো।

14দেখ, এই তৃতীয়বার আমি তোমাদের কাছে যেতে প্রস্তুত হয়েছি। আমি তোমাদের বোঝা হব না, কারণ আমি তোমাদের কাছ থেকে কোন কিছু চাই না, আমি কেবল তোমাদেরই চাই। কারণ বাবা-মায়ের জন্য অর্থ সঞ্চয় করা ছেলেমেয়েদের কর্তব্য নয়, বরং ছেলেমেয়েদের জন্য বাবা-মায়েরই সঞ্চয় করা কর্তব্য। 15আমার যা কিছু আছে সে সবই তোমাদের অতি আনন্দের সঙ্গে দেব, এমন কি তোমাদের জন্য আমি নিজেকেও ব্যয় করব। তোমাদের জন্য আমার ভালবাসা যখন বেড়েই চলেছে, তখন আমার প্রতি তোমাদের ভালবাসা কি কমে যাবে?

16যাই হোক্, একথা ঠিক যে আমি তোমাদের ওপর খরচের বোঝা হয়ে দাঁড়াই নি; কিন্তু তোমরা বলো আমি চালাক বলে নাকি ছলেবলে তোমাদের ধরেছি। 17আমি যাদের তোমাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম, তাদের মধ্য দিয়ে আমি কি তোমাদের ঠকিয়েছি? তোমরা জান যে আমি তা করি নি। 18আমি তীতকে অনুরোধ করেছিলাম এবং তাঁর সাথে অপর এক ভাইকে পাঠিয়েছিলাম। তীত কি তোমাদের ঠকিয়েছেন? তোমরা জান যে তীত ও আমি, আমরা একই মনোভাব নিয়ে কাজ করি, এবং একই রকম আচরণ করি।

19তোমরা কি মনে কর যে, আমরা নিজেদের রক্ষা করতে তোমাদের কাছে এতদিন ধরে এইসব কথা বলেছি? না, খ্রীষ্টের অনুগামী হিসেবে আমরা এইসব কথা ঈশ্বরের সামনে থেকেই বলেছি। প্রিয় বন্ধুরা, তোমাদের আত্মিকভাবে সবল করার জন্য আমরা এইসব কাজ করেছি। 20কারণ আমার ভয় হয়, পরে আমি তোমাদের যেরকম দেখতে চাই, গিয়ে সেরকম দেখতে না পাই, এবং তোমরা আমাকে যেরকম দেখতে চাও না পাছে সেরকম দেখ। আমার ভয় হয় যে আমি গিয়ে হয়তো তোমাদের মধ্যে ঝগড়া, হিংসা, ক্রোধ, শত্রুতা, গালাগালি, জল্পনা, অহংকার ও বিশৃঙ্খলা দেখতে পাব। 21আমার ভয় হচ্ছে পাছে আমি আবার তোমাদের ওখানে গেলে আমার ঈশ্বর তোমাদের সামনে আমার মাথা নীচু করে দেন। যারা আগে পাপ করেছিল, এবং নিজেদের দুষ্টতা, অশুচিতা, যৌন পাপ ও অশোভন কাজের বিষয়ে যাদের মনে কোন অনুতাপ নেই, এদের সকলের জন্য আমাকে হয়তো অনেক দুঃখ ও ব্যথা বহন করতে হবে।

13

শেষ সতর্ক বার্তা ও শুভেচ্ছা

1এই তৃতীয়বার আমি তোমাদের কাছে যাচ্ছি। “দুই বা তিন জন সাক্ষীর প্রমাণ দ্বারা প্রত্যেক মামলার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।”+ 13:1 উদ্ধৃতি দ্বি. বি. 19:15.2দ্বিতীয় বার আমি যখন তোমাদের ওখানে গিয়েছিলাম, তখন যারা পাপ জীবনযাপন করছিল তাদের আমি তখনই সতর্ক করে দিয়েছিলাম। এখন যখন আমি দূরে তখন আবার তোমাদের সাবধান করছি। যখন আমি পুনরায় তোমাদের দেখতে আসব, তখন সেইসব পাপীদের অথবা অন্য যে কেউ পাপ করে তাকে রেহাই দেব না। 3কারণ খ্রীষ্ট, যিনি আমার মাধ্যমে কথা বলেন, তোমরা তো তাঁরই প্রমাণ চাও। তিনি তোমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে দুর্বল নন, বরং তিনি তোমাদের মধ্যে শক্তিমান। 4কারণ এটা সত্য যে তিনি তাঁর দুর্বলতার জন্য ক্রুশের ওপর পেরেক বিদ্ধ হয়েছিলেন; কিন্তু ঈশ্বরের পরাক্রমে তিনি এখন জীবিত। এও সত্য যে আমরাও তাঁতে (খ্রীষ্টে) দুর্বল, কিন্তু তোমাদের জন্য আমরা ঈশ্বরের পরাক্রম দ্বারা তাঁর সাথে বাস করব।

5নিজেদের পরীক্ষা করে দেখ, তোমাদের বিশ্বাস আছে কি না; প্রমাণের জন্য নিজেদের যাচাই কর। তোমরা কি জান না যে খ্রীষ্ট যীশু তোমাদের মধ্যে আছেন? কিন্তু এ বিষয়ে যদি তোমাদের অন্তরে সেই প্রমাণ না পাও, তবে খ্রীষ্ট তোমাদের মধ্যে নেই। 6আশা করি তোমরা একথা স্বীকার করবে যে আমরা সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। 7আমরা ঈশ্বরের কাছে এই প্রার্থনা করি, যেন তোমরা কোন অন্যায় না কর। এর অর্থ এই নয় যে আমরা যে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি সেটা স্পষ্ট হোক্ বরং আমরা ব্যর্থ হয়েছি মনে হলেও যেন যা ন্যায় তোমরা তাই কর। 8কারণ আমরা সত্যের বিপক্ষে কিছুই করতে পারি না, কেবল সত্যের সপক্ষে করতে পারি। 9তোমরা শক্তিশালী হলে আমরা দুর্বল হলেও আনন্দ করি। আমরা প্রার্থনাও করি, যেন তোমাদের খ্রীষ্টীয় জীবন উত্তরোত্তর শক্তিশালী হয়ে ওঠে। 10এই কারণে যখন আমি তোমাদের থেকে দূরে তখন আমি এই সমস্ত লিখছি; যাতে আমি যখন তোমাদের সাথে থাকব, তখন আমাকে যেন তোমাদের শাস্তি দিতে বা তিরস্কার করতে না হয়। সেই ক্ষমতা তোমাদের ভেঙে ফেলবার জন্য নয়, কিন্তু তোমাদের আত্মিক জীবন গড়ে তোলবার জন্যই প্রভু আমাকে দিয়েছেন।

11আমার ভাই ও বোনেরা, সব শেষে বলি, বিদায়। সিদ্ধি লাভের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা কর, আমি যা বলেছি সেই অনুসারে কাজ কর, একমনা হও, মিলে মিশে শান্তিতে থাক, তাতে প্রেমের ও শান্তির ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে থাকবেন।

12পবিত্র চুম্বন দিয়ে পরস্পরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিও। ঈশ্বরের পবিত্র লোকেরা তোমাদের প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

13প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ, ঈশ্বরের প্রেম এবং পবিত্র আত্মার সহভাগীতা তোমাদের সকলের সহবর্তী হোক্।