শমূয়েলের প্রথম পুস্তক

1

ইল‌্কানা পরিবারের শীলোতে উপাসনা

1পাহাড়ী দেশ ইফ্রয়িমের রামা অঞ্চলে ইল‌্কানা নামে একজন লোক ছিল। ইল‌্কানা সূফ পরিবার থেকে এসেছিল; তার পিতার নাম ছিল যিরোহম, যিরোহমের পিতা হচ্ছে ইলীহূ, ইলীহূর পিতা তোহূ, তোহূর পিতা সূফ। সে ইফ্রয়িমের পরিবারগোষ্ঠী থেকে এসেছিল।

2ইল‌্কানার দুই স্ত্রী ছিল। একজনের নাম হান্না, অন্য জনের নাম পনিন্না। পনিন্নার সন্তানাদি ছিল, কিন্তু হান্না ছিল নিঃসন্তান।

3প্রতি বছরই ইল‌্কানা রামা শহর থেকে শীলোতে চলে যেত। শীলোয় গিয়ে সে সর্বশক্তিমান প্রভুর উপাসনা করত ও তাঁকে বলি নিবেদন করত। সেখানে হফ্নি এবং পীনহস যাজক হিসেবে প্রভুর সেবা করত। এরা দুই জন ছিল এলির পুত্র। 4প্রত্যেকবার ইল‌্কানা বলি দিয়ে এসে তার একটা ভাগ তার স্ত্রী পনিন্নাকে দিত এবং সে পনিন্নার সন্তানদেরও কিছুটা ভাগ দিত। 5ইল‌্কানা আর একটা সমান অংশ হান্নাকেও দিত। প্রভু হান্নার কোলে সন্তান না দিলেও ইল‌্কানা তাকে বলির ভাগ দিত, কারণ সে হান্নাকে সত্যিই ভালবাসত।

পনিন্না হান্নাকে বিরক্ত করল

6পনিন্না সব সময় হান্নাকে বিরক্ত করত। এতে হান্নার খুব মন খারাপ হত। হান্নার সন্তান হয়নি বলে পনিন্না তাকে এই রকম করত। 7বছরের পর বছর এই ঘটনা ঘটত। যখনই ইল‌্কানা তার পরিবারের সঙ্গে শীলোয় প্রভুর গৃহে উপাসনা করতে যেত, পনিন্না হান্নাকে বিরক্ত করত। একদিন ইল‌্কানা সবাইকে যখন বলির ভাগ দিচ্ছিল, হান্না মনের দুঃখে কেঁদে ফেলল। সে কিছুই খেল না। 8ইল‌্কানা তাকে বলল, “হান্না, তুমি কাঁদছ কেন? কেন তুমি কিছু খাচ্ছ না? কিসের জন্য তোমায় এমন শুকনো দেখাচ্ছে? তোমার জন্য তো আমি আছি। আমি তোমার স্বামী। দশটি পুত্রের চেয়ে আমাকে তোমার বেশী ভাল বলে বিবেচনা করা উচিৎ‌।”

হান্নার প্রার্থনা

9খাওয়া দাওয়া এবং পান সেরে হান্না চুপচাপ উঠে পড়ল। সে প্রভুর কাছে প্রার্থনা করতে গেল। প্রভুর পবিত্র মন্দিরের দরজার পাশে একটা চেয়ারে যাজক এলি বসেছিল। 10দুঃখিনী হান্না প্রভুর কাছে প্রার্থনার সময় খুবই কাঁদল। 11ঈশ্বরের কাছে সে এক বিশেষ ধরণের মানত করল। সে বলল, “হে সর্বশক্তিমান প্রভু, দেখো আমি বড় দুঃখী। আমাকে ভুলে যেও না। আমাকে মনে রেখ। তুমি যদি আমাকে একটি পুত্র দাও, আমি সেই পুত্রকে তোমাকেই উৎসর্গ করব। সে হবে নাসরতীয়। সে দ্রাক্ষারস বা কোন রকম কড়া পানীয় পান করবে না। কেউ কখনও তার চুল কাটবে না।”+ 1:11 কেউ … না নাসরতীয় ছিল সেই লোকরা যারা ঈশ্বরকে এক বিশেষ উপায়ে সেবা করার প্রতিশ্রুতি নিয়েছিল। তারা তাদের চুল কাটত না। তারা দ্রাক্ষা খেত না এবং দ্রাক্ষারস পান করত না।

12অনেকক্ষণ ধরে হান্না প্রভুর কাছে প্রার্থনা করল। হান্না যখন প্রার্থনা করছিল তখন এলি তার মুখগহ্বরের দিকে দেখছিল। 13হান্না মনে মনে প্রার্থনা করছিল। সে শব্দ করে কিছু বলছিল না, শুধু তার ঠোঁট দুটো নড়ছিল। এলি মনে করল যে হান্না মাতাল হয়ে গেছে। 14তাই এলি হান্নাকে বলল, “তুমি খুব বেশী পান করেছ! এখন দ্রাক্ষারস সরিয়ে রাখার সময় হয়েছে।”

15হান্না বলল, “না মহাশয়, আমি দ্রাক্ষারস বা সুরা কিছুই পান করি নি। আমার হৃদয় তীব্র বেদনায় কাতর। আমি প্রভুর কাছে আমার সব কষ্টের কথা জানাচ্ছিলাম। 16ভাববেন না যে আমি খারাপ মেয়ে। আমি সারাক্ষণ শুধু প্রার্থনাই করছিলাম। কারণ আমার অনেক দুঃখ এবং আমি খুবই বিচলিত।”

17এলি বলল, “নিশ্চিন্তে বাড়ি যাও। ইস্রায়েলের ঈশ্বর তোমার মনোবাঞ্ছা পূরণ করুন।”

18হান্না বলল, “আশা করি আমার ওপর আপনি সন্তুষ্ট হয়েছেন।” এই বলে হান্না চলে গেল এবং পরে কিছু মুখে দিল। তারপর থেকে সে আর দুঃখী ছিল না।

19পরদিন খুব সকালে ইল‌্কানার বাড়ির সকলে ঘুম থেকে উঠল। তারা সকলে প্রভুর উপাসনা করল। তারপর তারা রামায় ফিরে গেল।

শমূয়েলের জন্ম

ইল‌্কানা হান্নার সঙ্গে মিলিত হল। প্রভু হান্নাকে মনে রেখেছিলেন। 20পরের বছর হান্না একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিল। হান্না পুত্রের নাম রাখল, শমূয়েল। সে বলল, “আমি প্রভুর কাছে এর জন্যে প্রার্থনা করেছিলাম, তাই এর নাম দিয়েছি শমূয়েল।”

21সেই বছর ইল‌্কানা শীলোতে গেল। ঈশ্বরের কাছে প্রতিশ্রুতি পালনের জন্য এবং বলি দিতেই সে সেখানে সপরিবারে গিয়েছিল। 22কিন্তু হান্না যেতে চাইল না। সে ইল‌্কানাকে বলল, “যখন পুত্র বড় হবে, শক্ত খাবার-দাবার খেতে শিখবে তখন আমি শীলোতে যাব। শীলোয় গিয়ে প্রভুর কাছে পুত্রকে দান করব। পুত্র হবে নাসরতীয়। সে শীলোতেই থাকবে।”

23ইল‌্কানা তার স্ত্রী হান্নাকে বলল, “যা ভাল বোঝ তাই কর। পুত্র বড় না হওয়া পর্যন্ত, তার শক্ত খাবার খাওয়ার শক্তি না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতেই থাকতে পারে। প্রভু তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করুন।”+ 1:23 প্রভু … করুন সম্ভবতঃ এখানে ইল‌্কানা এলির হান্নাকে আশীর্বাদের কথা বলতে চাইছেন।

সুতরাং পুত্র শক্ত খাবার খাওয়ার উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত হান্না পুত্রের সেবা শুশ্রূষার জন্য বাড়িতে থেকে গেল।

শমূয়েলকে নিয়ে হান্না শীলোয় এলির কাছে গেল

24বালকটি যখন বেশ বড়সড় হল, খাবার চিবোতে শিখল, তখন হান্না তাকে নিয়ে শীলোয় প্রভুর গৃহে গেল। সে তিন বছরের একটা ষাঁড়ও সঙ্গে নিল। এ ছাড়াও সে নিল 20 পাউণ্ড ছাঁকা ময়দা এবং এক বোতল দ্রাক্ষারস।

25তারা প্রভুর সামনে গেল। ইল‌্কানা ষাঁড়টিকে বলি দিল যেমন সে সাধারণতঃ করত। তারপর হান্না এলিকে তার পুত্র দিল। 26হান্না এলিকে বলল, “মার্জনা করবেন মহাশয়। আমিই সেই মহিলা যে একদিন আপনার কাছে দাঁড়িয়েছিলাম এবং প্রভুর কাছে প্রার্থনা করেছিলাম। বিশ্বাস করুন, আমি সত্যি কথাই বলছি। 27আমি এই ছেলের জন্যেই প্রার্থনা করেছিলাম এবং প্রভু আমার সেই প্রার্থনার উত্তর দিয়েছেন। প্রভু এই ছেলেকে আমায় দিয়েছেন। 28আমি এখন সেই ছেলেকে প্রভুর কাছে উৎসর্গ করছি। সে সারা জীবন তাঁর সেবা করবে।”

এই কথা বলে, হান্না ছেলেটিকে সেখানে রাখল এবং প্রভুর উপাসনা করল।

2

হান্নার ধন্যবাদ জ্ঞাপন

1হান্না বলল,

“প্রভুতেই আমার হৃদয় খুশী।

আমি আমার ঈশ্বরে শক্তিশালী!

তাই আমি আমার শত্রু দেখে হাসি।

আমি তোমার প্রদত্ত পরিত্রাণে খুবই আনন্দিত।

2প্রভুর মত পবিত্র আর কোন ঈশ্বর নেই।

তুমি ছাড়া আর কোন ঈশ্বর নেই।

আমাদের ঈশ্বরের মত আর কোন শিলা নেই।

3আর দম্ভ করো না।

গর্বের শব্দ যেন উচ্চারিত না হয়

কারণ প্রভু ঈশ্বর সবই জানেন।

ঈশ্বরই লোকদের চালনা ও বিচার করেন।

4বলবান সৈন্যর ধনু ভেঙ্গে যায়

এবং দুর্বল লোক শক্তিশালী হয়।

5অতীতে যাদের প্রচুর খাদ্য ছিল

এখন তাদের এক মুঠো খাদ্যের জন্য কঠিন সংগ্রাম করতে হবে।

কিন্তু অতীতে যারা ক্ষুধার্ত ছিল

তাদের এখন প্রচুর খাদ্য আছে।

যে নারী ছিল বন্ধ্যা তার

এখন সাতটি সন্তান।

কিন্তু যে নারীর বহু সন্তান ছিল এখন সে দুঃখী।

কারণ তার সন্তানরা চলে গেছে।

6প্রভুই মারেন ও বাঁচান,

প্রভুই কবরে শায়িত করেন ও উর্দ্ধে তোলেন।

7প্রভুই কাউকে গরীব করেন,

আবার কাউকে ধনে ভরে দেন।

কাউকে নম্র করেন,

আবার কাউকে সম্মান দেন।

8প্রভু ধূলি থেকে দরিদ্রদের তোলেন

এবং তিনি দুঃখ হরণ করে নেন।

তিনি তাদের গুরুত্বপূর্ণ করে তোলেন

এবং তাদের রাজকুমারদের সঙ্গে বসান ও তাদের সম্মানীয় আসন দেন।

প্রভু হচ্ছেন সেই জন যিনি সমগ্র বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন

এবং সমগ্র বিশ্ব যাঁর অধিকারভুক্ত।

9প্রভু তাঁর পবিত্র লোকদের

হোঁচট খাওয়া থেকে রক্ষা করেন।

দুষ্ট লোকরা অন্ধকারে ধ্বংস হয়ে যাবে।

তাদের ক্ষমতা তাদের বিজয়ী করতে পারে না।

10প্রভু তাঁর শত্রুদের ধ্বংস করেন।

তিনি তাদের বিরুদ্ধে স্বর্গে বজ্র নির্ঘোষ ঘটাবেন।

প্রভু দূরের দেশগুলিরও বিচার করবেন।

তিনি তাঁর রাজাকে ক্ষমতা দেবেন

এবং তাঁর অভিষিক্ত রাজাকে শক্তিশালী করবেন।”

11ইল‌্কানা সপরিবারে তার নিজের দেশ রামায় ফিরে এলো। কিন্তু ছেলেটি শীলোয় থেকে গেল। সেখানে সে যাজক এলির তত্ত্বাবধানে প্রভুর সেবা করেছিল।

এলির দুষ্ট সন্তানগণ

12এলির পুত্ররা ছিল খুব মন্দ, তারা প্রভুকে মানতো না। 13এমনকি লোকদের সাথে যাজকদের কিরূপ আচার ব্যবহার করা উচিৎ‌ সেই নিয়ে তারা বিন্দুমাত্র মাথা ঘামাতো না। যাজকদের এইসব কাজ করণীয় ছিল: লোক যখন কোন উৎসর্গ আনবে তখন যাজকদের সেই উৎসর্গের মাংস একটা গরম জলের পাত্রে রাখতে হবে। তারপর যাজকের ভৃত্য একটা বিশেষ ধরণের তিন মুখো কাঁটা চামচ আনবে। 14যাজকের ভৃত্যকে সেই পাত্র থেকে কিছুটা মাংস তুলে নেবার জন্য কাঁটাটা ব্যবহার করতে হবে। সেই কাঁটায় যতটুকু মাংস উঠত যাজক শুধু সেই মাংসটুকুই পেত। যেসব ইস্রায়েলীয়রা শীলোতে বলি আনত তাদের সকলের প্রতি যাজকদের এই কাজটা করতে হত।

15কিন্তু এলির পুত্ররা তা করত না। বেদীর ওপর চর্বির পোড়ানোর আগেই তাদের ভৃত্য ভক্তদের বলত, “যাজককে কিছু মাংস দাও, সেটা ঝলসানো হবে। সে সেদ্ধ মাংস নেবে না।”

16যদি ভক্ত বলত, “আগে চর্বিটা পোড়াই, তারপর যা চাও দিচ্ছি।” তার উত্তরে ভৃত্য বলত, “না, এক্ষুনি মাংস দাও। না দিলে আমি তোমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেবো!”

17এভাবে হফ্নি ও পীনহস প্রভুর জন্য দেওয়া বলিকে অসম্মান করত। সন্দেহ নেই প্রভুর বিরুদ্ধে এটা ছিল খুবই মারাত্মক পাপ।

18কিন্তু শমূয়েল প্রভুর সেবা করত। সেই তরুণ সহকারী, যাজকের বিশেষ ধরণের জামা এফোদ পরত। 19প্রতি বছর শমূয়েলের মা একটা ছোট পোশাক তৈরী করত এবং সেটা তার জন্য শীলোয় নিয়ে যেত। সে স্বামীর সাথে সেখানে প্রতি বছর বলি দিতে যেত।

20ইল‌্কানা আর তার স্ত্রীকে এলি আশীর্বাদ করে বলত, “প্রভু তোমাকে হান্নার মাধ্যমে আরও সন্তান দিক। এরাই হান্নার মানত করা ছেলের জায়গা নেবে।”

ইল‌্কানা তার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ী ফিরে গেল। 21প্রভু হান্নার উপর সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। হান্নার তিনটি ছেলে, দুটি মেয়ে হল। এদিকে শমূয়েল তো প্রভুর সেবা করতে করতেই পবিত্র স্থানে বড় হয়ে উঠছিল।

দুষ্ট সন্তানদের সামলাতে এলি ব্যর্থ হল

22এলি বেশ বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলো। শীলোতে সমস্ত ইস্রায়েলের সঙ্গে পুত্ররা কি করত সে সম্বন্ধে সে প্রায়ই শুনতে পেত। এলি এও শুনেছিল যে সমাগম তাঁবুর প্রবেশ দ্বারে যে সব স্ত্রী লোকরা সেবা করত তাদের সঙ্গে তার পুত্ররা শুয়ে রাত কাটাত।

23এলি তার পুত্রদের বলল, “লোকরা তোমাদের সম্বন্ধে নানা কথা আমায় বলছে। কেন তোমরা এত বাজে কাজ করছ? 24শোন বাছারা, এরকম অন্যায় কাজ কোরো না। প্রভুর লোকরা তোমাদের নিন্দে করছেন। 25মানুষ যদি মানুষের কাছে পাপ করে ঈশ্বর তাকে ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু প্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করলে কে তাকে রক্ষা করবে?”

কিন্তু পুত্ররা কেউ তাকে গ্রাহ্য করল না। তাই প্রভু তাদের শেষ করবেন বলে স্থির করলেন।

26অন্যদিকে শমূয়েল বড় হতে লাগল। সে ঈশ্বর এবং লোকদের কাছে আনন্দদায়ক ছিল।

এলির পরিবার সম্পর্কে ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎবাণী

27ঈশ্বর একজন লোককে এলির কাছে পাঠালেন। লোকটি এলিকে বলল, “প্রভু এই কথাগুলি বলেছেন, ‘তোমার পূর্বপুরুষরা ছিল ফরৌণ কুলের ক্রীতদাস কিন্তু তাদের কাছে আমি দেখা দিয়েছিলাম। 28ইস্রায়েলের সমস্ত পরিবারগোষ্ঠীর ভেতর থেকে আমার যাজকসমূহ হবার জন্য আমি তোমার পরিবারকে নির্বাচিত করেছিলাম। আমার বেদীতে বলি উৎসর্গ দেবার জন্য তোমাদের মনোনীত করেছিলাম। তারাই ধূপ জ্বালাবে, তারাই পরবে এফোদ। আমি এই জন্যই তাদের নির্বাচন করেছিলাম। আমিই তোমাদের পরিবারগোষ্ঠীকে অধিকার দিয়েছি যেন তারাই ইস্রায়েলীয়দের দেওয়া বলির মাংস পায়। 29তাহলে কেন তোমরা এইসব বলি এবং নৈবেদ্যকে সম্মান করবে না? তুমি আমার চেয়েও তোমার পুত্রদের বেশী সম্মান দিয়ে থাক। আমার লোক, ইস্রায়েলীয়রা আমাকে উৎসর্গীকৃত করবার জন্য যে মাংস নিয়ে আসে তার থেকে সব চেয়ে ভালো অংশগুলি খেয়ে তোমরা মোটা হয়ে যাচ্ছো।’

30“ইস্রায়েলের প্রভু ঈশ্বর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তোমার পিতার পরিবারের লোকরা তাঁকে চিরকাল সেবা করবে। কিন্তু আজ প্রভু এই কথা বলছেন, ‘না, তা আর কখনও হবে না। আমি তাদেরই সম্মান করব যারা আমাকে সম্মান করবে। আর যারা আমায় সম্মান করতে অস্বীকার করবে, তাদের অমঙ্গল হবে। 31সেই সময় আসছে যেদিন আমি তোমাদের সমস্ত উত্তরপুরুষদের বিনাশ করব। তোমাদের ঘরে কেউই বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত বাঁচবে না। 32ইস্রায়েলে ভাল জিনিস ঘটবে, কিন্তু খারাপ জিনিসগুলি তোমরা তোমাদের বাড়ীতে ঘটতে দেখবে। তোমার ঘরে কেউ বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত বাঁচবে না। 33একজন মানুষকে আমি বাঁচাব। সেই আমার বেদীতে যাজকের কাজ করবে। সে দীর্ঘজীবী হবে। যতদিন পর্যন্ত তার দৃষ্টিশক্তি থাকবে, শরীরে শক্তি থাকবে ততদিন সে বেঁচে থাকবে। তোমার উত্তরপুরুষরা তরবারির কোপে মরবে। 34আমি তোমাকে এমন একটি চিহ্ন দেখাব যাতে বুঝতে পারবে যে এইসব কথা সত্য। একই দিনে তোমার দুই পুত্র হফ্নি আর পীনহস মারা যাবে। 35নিজের জন্য আমি একজন বিশ্বস্ত যাজক মনোনীত করব। সে আমার কথা শুনবে এবং আমি যা চাই তাই করবে। আমি তার পরিবারকে শক্তিশালী করব। আমার মনোনীত রাজার সামনে এই যাজক সর্বদা আমার সেবা করবে। 36তারপর তোমার পরিবারের যারা বেঁচে থাকবে তারা এই যাজকের কাছে এসে মাথা নীচু করে দাঁড়াবে। তারা কয়েক টুকরো রূপো অথবা এক টুকরো রুটির জন্য ভিক্ষে চাইবে। তারা বলবে, “আমাকে দয়া করে একটা যাজকের কাজ দাও যাতে দু মুঠো খেতে পারি।”’”

3

ঈশ্বর শমূয়েলকে ডাকলেন

1এলির অধীনে থেকে বালক শমূয়েল প্রভুর সেবা করতে লাগল। সেই সময় প্রভু প্রায়ই লোকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেন না। দর্শন ছিল বিরল।

2এলির দৃষ্টিশক্তি এত কমে গিয়েছিল যে এক রকম অন্ধই বলা চলে। এক রাত্রিতে সে শুয়ে ছিল, 3শমূয়েল প্রভুর পবিত্র মন্দিরে শুয়ে ছিল। সেখানেই ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক ছিল। প্রভুর প্রদীপ তখনও জ্বলছিল। 4প্রভু শমূয়েলকে ডাকলেন; শমূয়েল সাড়া দিল, “এই যে, আমি এখানে।” 5শমূয়েল মনে করেছিল, এলি তাকে ডাকছে। তাই সে ছুটে এলির কাছে গেল। এলিকে বলল, “এই যে আমি। আপনি আমাকে ডাকছিলেন?”

এলি বলল, “কই, আমি তো তোমাকে ডাকি নি, তুমি ঘুমোও।”

শমূয়েল চলে গেল। 6আবার প্রভু ডাকলেন, “শমূয়েল!” শমূয়েল ছুটে গেল এলির কাছে। এলিকে বলল, “এই যে আমি। আপনি আমাকে ডাকছিলেন?”

এলি বলল, “আমি তোমাকে ডাকি নি। তুমি ঘুমোও।”

7শমূয়েল তখনও পর্যন্ত প্রভুকে জানত না, চিনত না। কারণ প্রভু তখনও তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন নি।

8প্রভু তৃতীয়বার শমূয়েলকে ডাকলেন। আবার শমূয়েল উঠল, এলির কাছে আবার গেল। সে বলল, “এই যে আমি, আপনি আমাকে ডাকছিলেন?”

তখন এলি বুঝতে পারল ছেলেটিকে আসলে স্বয়ং প্রভুই ডেকেছেন। 9এলি শমূয়েলকে বলল, “এখন তুমি শোও। এবার যদি কেউ তোমাকে ডাকে, তুমি তার কাছে গিয়ে বলবে, ‘বলুন প্রভু, আপনার দাস শুনছে।’”

শমূয়েল শুতে গেল। 10প্রভু সেখানে এসে দাঁড়ালেন। আবার তিনি আগের মতো ডাকলেন: “শমূয়েল, শমূয়েল!”

এবার শমূয়েল সাড়া দিল: “বলুন প্রভু, আপনার দাস শুনছে।”

11প্রভু শমূয়েলকে বললেন, “শোনো, আমি শীঘ্রই ইস্রায়েলে একটা কিছু ঘটাব। যারা এই সম্বন্ধে শুনবে তারা অতিশয় বেদনাহত হবে। 12এলি আর তার পরিবারের বিরুদ্ধে আমি যা যা করবার করব। আমি একেবারে গোড়া থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত সব কিছুই করব। 13আমি এলিকে বলেছিলাম, ওর পরিবারকে চিরকালের জন্যে আমি শাস্তি দেবই। আমি শাস্তি দেব, কারণ এলি জানত তার পুত্ররা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ কাজ করছে। কিন্তু এলি তাদের সামলায় নি। 14তাই আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, যতই বলি আর শস্য নৈবেদ্য উৎসর্গ করা হোক্ না কেন, তাতে এলির পুত্রদের পাপ ঘুচবে না।”

15ভোর পর্যন্ত শমূয়েল বিছানায় শুয়ে রইল। ভোর হলে সে প্রভুর মন্দিরের দরজা খুলল। দর্শনে কি দেখেছে এবং কি শুনেছে তা এলিকে জানাতে শমূয়েল সাহস করল না।

16কিন্তু এলি শমূয়েলকে বলল, “শমূয়েল, আমার পুত্র!”

শমূয়েল বলল, “আমি এইখানে।”

17এলি জিজ্ঞাসা করল, “প্রভু তোমায় কি বলেছেন? আমার কাছে কিছু লুকিও না। লুকোলে ঈশ্বর তোমাকে শাস্তি দেবেন।”

18অগত্যা শমূয়েল এলিকে সব খুলে বলল, কিছুই গোপন করল না।

এলি বলল, “তিনি প্রভু, তিনি যা ভাল বুঝবেন তাই করুন।”

19প্রভু শমূয়েলের সঙ্গে ছিলেন আর শমূয়েল বড় হয়ে উঠতে লাগল। শমূয়েলের একটি কথাকেও প্রভু মিথ্যা প্রমাণিত হতে দিলেন না। 20দান থেকে বের্-শেবা পর্যন্ত সমস্ত ইস্রায়েলের লোকরা জেনে গেল যে শমূয়েল প্রভুর একজন প্রকৃত ভাববাদী। 21শীলোতে শমূয়েলের সামনে প্রভু প্রায়ই দেখা দিতে লাগলেন। প্রভু নিজেকে শমূয়েলের কাছে প্রভুর বাক্য হিসেবে প্রকাশ করলেন।

4

1শমূয়েলের খবর সমস্ত ইস্রায়েলে জানাজানি হয়ে গেল। এলি খুব বৃদ্ধ হয়ে গেল। তার পুত্ররা প্রভুর চোখের সামনে অন্যায় চালিয়ে যেতে থাকল।

পলেষ্টীয়রা ইস্রায়েলীয়দের হারাল

সেই সময় পলেষ্টীয়রা ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য বেরিয়ে পড়ল। ইস্রায়েলীয়দের তাঁবু পড়ল এবন্ এষরে। পলেষ্টীয়রা তাঁবু গাড়ল অফেকে। 2পলেষ্টীয়রা ইস্রায়েলকে আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হল। যুদ্ধ শুরু হল।

পলেষ্টীয়রা ইস্রায়েলীয়দের হারিয়ে দিয়ে 4000 ইস্রায়েলীয় সৈন্যদের হত্যা করল। 3ইস্রায়েলীয় সৈন্যরা তাদের তাঁবুতে ফিরে এল। তাদের প্রবীণরা জানতে চাইল, “কেন প্রভু পলেষ্টীয়দের কাছে আমাদের হারিয়ে দিলেন? চলো আমরা শীলো থেকে প্রভুর সাক্ষ্যসিন্দুক আনি। তিনি যুদ্ধে আমাদের সহায় হবেন। তিনিই শত্রুদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করবেন।”

4শীলোয় লোক পাঠানো হল। তারা প্রভু সর্বশক্তিমানের সাক্ষ্যসিন্দুক নিয়ে ফিরে এল। সিন্দুকের ওপর দুটি করূব, যেন প্রভুর সিংহাসন। এলির দুই পুত্র হফ্নি আর পীনহস সেই পবিত্র সিন্দুক নিয়ে এসেছিল।

5শিবিরে প্রভুর সেই সাক্ষ্য সিন্দুক আসার সঙ্গে সঙ্গে ইস্রায়েলীয়রা জোরে চেঁচিয়ে উঠল। তাদের চিৎকারে মাটি কেঁপে উঠল। 6পলেষ্টীয়রা ইস্রায়েলীয়দের সেই চিৎকার শুনতে পেল। তারা বলাবলি করতে লাগল, “ইব্রীয়দের শিবিরের লোকরা এত উত্তেজিত কেন?”

তারপর পলেষ্টীয়রা জানতে পারল ইস্রায়েলীয় শিবিরে প্রভুর পবিত্র সিন্দুক আনা হয়েছে। 7পলেষ্টীয়রা ভয় পেয়ে গেল। তারা বলল, “ঈশ্বর ওদের শিবিরে এসেছেন। আমাদের এখন বেশ বিপদ। এরকম তো আগে কখনও হয় নি। 8আমরা বিপদে পড়েছি। কে আমাদের এই পরাক্রমী দেবতাদের হাত থেকে বাঁচাবে? এইসব দেবতারা মিশরীয়দের নানা ব্যাধি, ভয়ঙ্কর সব অসুখ দিয়েছিলেন। 9হে পলেষ্টীয়রা, সাহস রাখো। বীরের মতো লড়াই করো। অতীতে ইব্রীয়রা ছিল আমাদের ক্রীতদাস। তাই বলছি, বীরের মতো লড়াই চালাও, নইলে তোমরাই তাদের ক্রীতদাস হবে!”

10তাই পলেষ্টীয়রা প্রবল বিক্রমে যুদ্ধ করে ইস্রায়েলীয়দের পরাজিত করল। ইস্রায়েলীয়দের প্রত্যেকটি সৈন্য তাঁবুতে পালিয়ে গেল। ইস্রায়েলীয়দের পক্ষে এটা একটা মারাত্মক পরাজয় ছিল। 30,000 ইস্রায়েলীয় সৈন্য নিহত হল। 11পলেষ্টীয়রা ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে এলির পুত্র হফ্নি আর পীনহসকে হত্যা করল।

12সেদিন বিন্যামীন গোষ্ঠীর একজন লোক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে এল। সে যে কত দুঃখী তা বোঝানোর জন্যে কাপড় চোপড় ছিঁড়ে ফেলল, মাথায় ধূলো মাখল। 13নগরের ফটকের কাছে এলি একটা চেয়ারে বসেছিল। এমন সময় ঐ লোকটা শীলোতে এল। ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক নিয়ে এলির খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছিল। সেই জন্য সে বসে বসে প্রতীক্ষা করছিলো। তারপর ঐ বিন্যামীন গোষ্ঠীর লোকটি শীলোয় এসে দুঃসংবাদটা জানালে শহরের সবাই চেঁচিয়ে কাঁদতে শুরু করল। 14 আটানব্বই বছরের বৃদ্ধ এলি চোখে কিছু দেখতে পেতো না। কিন্তু লোকদের চিৎকার করে কান্না তার কানে আসছিল। সে জিজ্ঞেস করল, “লোকরা কিসের জন্য এত চেঁচামেচি করছে?”

বিন্যামীন গোষ্ঠীর লোকটি দৌড়ে গিয়ে এলিকে সব জানাল। 16সেই লোকটা এলিকে বলল, “যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আমি এই মাত্র এসেছি। আমি আজ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে এসেছি।”

এলি জিজ্ঞেস করল, “কি হয়েছিল বাছা?”

17বিন্যামীন গোষ্ঠীর লোকটি বলল, “ইস্রায়েলীয়রা পলেষ্টীয়দের দেখে পালিয়ে গিয়েছিল। ইস্রায়েলের অনেক সৈন্য মারা গেছে। তোমার দুই পুত্রও মারা গেছে। আর পলেষ্টীয়রা ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক নিয়ে গেছে।”

18লোকটির মুখ থেকে ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুকের কথা শোনা মাত্র এলি চেয়ার থেকে দরজার কাছেই পড়ে গেল। তার ঘাড় ভেঙ্গে গেল। সে বৃদ্ধ এবং মোটা ছিল, তাই সে বাঁচল না। সে 20 বছর ইস্রায়েলকে নেতৃত্ব দিয়েছিল।

গৌরব অপসারিত হয়েছে

19এলির পুত্রবধূ অর্থাৎ‌ পীনহসের স্ত্রী গর্ভবতী ছিল। তার সন্তান প্রসবের সময় হয়ে এসেছিল। সে জানতে পারল ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক বেহাত হয়ে গেছে। আরও শুনলো তাঁর শ্বশুর এলি আর স্বামী পীনহসও বেঁচে নেই। খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গেই তার প্রসব যন্ত্রণা শুরু হল, সন্তান ভূমিষ্ঠ হল। 20সে যখন প্রায় মরণাপন্ন তখন যে সমস্ত স্ত্রীলোক তার দেখাশুনা করছিল তারা বলল, “দুঃখ করো না। তোমার পুত্র হয়েছে।”

কিন্তু এলির পুত্রবধূ সে কথায় কান দিল না। 21সে বলল, “ইস্রায়েলের মহিমা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।” সে শিশুটির নাম দিল ঈখাবোদ যার অর্থ হল মহিমা নেই। সে এ কাজটি করল কারণ ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক শত্রুর হাতে গিয়েছিল এবং তার শ্বশুর ও স্বামী দুজনেই মারা গিয়েছিল। 22সে বলল, “ইস্রায়েলের মহিমা নিয়ে নেওয়া হয়েছে” কারণ পলেষ্টীয়রা ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক নিয়ে গিয়েছিল।

5

পবিত্র সিন্দুক দ্বারা পলেষ্টীয়দের যন্ত্রণা

1পলেষ্টীয়রা এবন্-এষর থেকে অস্‌দোদে ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক নিয়ে গেল। 2পলেষ্টীয়রা ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুকটি দাগোনের মন্দিরে এনে সেটা দাগোনের মূর্ত্তির পাশে রাখল। 3পরদিন সকালে অস্‌দোদের লোকরা দেখল দাগোনের মূর্ত্তিটা প্রভুর সিন্দুকের সামনেই মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে আছে।

অস্‌দোদের লোকরা মূর্ত্তিটাকে তুলে তার জায়গায় ঠিক করে রাখল। 4কিন্তু তার পরের দিন ঘুম থেকে উঠে তারা আবার দেখল, দাগোন আবার মাটিতে পড়ে আছে। প্রভুর পবিত্র সিন্দুকের সামনে দাগোন উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছে। এবার দাগোনের মাথা এবং দুটো হাত ভাঙ্গা ছিল এবং চৌকাঠের ওপর পড়ে ছিল। শুধু দেহটাই আস্ত রয়েছে। 5এই কারণে, এমনকি, আজও দাগোনের মন্দিরের চৌকাঠে যাজক অথবা অন্যান্য লোকরা কেউই পা মাড়াতে চায় না।

6প্রভু এবার অস্‌দোদের লোকদের এবং তাদের প্রতিবেশীদের জীবন দুর্বিষহ করে তুললেন। প্রভু তাদের যথেষ্ট বিপদে ফেললেন। তাদের গায়ে জায়গায় জায়গায় টিউমার বা অর্বুদ দেখা দিল। সবই তাঁর আঘাত। তারপর তিনি ওদের দিকে অসংখ্য ইঁদুর ছেড়ে দিলেন। তারা জাহাজে এবং মাটিতে ছোটাছুটি করতে লাগল। শহরের লোকরা বেশ ভয় পেয়ে গেল। 7এইসব দেখে অস্‌দোদের লোকরা বলাবলি করল, “ইস্রায়েলের ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক এখানে যেন না থাকে, ইস্রায়েলের ঈশ্বর আমাদের আর দেবতা দাগোনকে শাস্তি দিচ্ছেন।”

8অস্‌দোদের লোকরা পাঁচজন পলেষ্টীয় শাসককে ডাকল। তাদের ওরা জিজ্ঞেস করল, “ইস্রায়েলের ঈশ্বরের এই পবিত্র সিন্দুক নিয়ে আমাদের কি করা উচিৎ‌?”

শাসকরা বলল, “ইস্রায়েলের ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক গাতে নিয়ে যাও।” সেই মতো পলেষ্টীয়রা পবিত্র সিন্দুক সেখান থেকে সরিয়ে দিল।

9কিন্তু তারা ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক গাতে নিয়ে যাবার পর প্রভু সেখানকার শহরের লোকদের শাস্তি দিলেন। তারা বেশ ভয় পেয়ে গেল। তারা বিপদে পড়ল। বালক বৃদ্ধ সকলের গায়েই টিউমার বা অর্বুদ দেখা গেল। 10তাই পলেষ্টীয়রা ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক ইক্রোণে পাঠিয়ে দিল।

কিন্তু সেটা ইক্রোণে এলে সেখানকার লোকরা ক্রন্দন করে বলল, “কেন তোমরা ইস্রায়েলের ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক আমাদের ইক্রোণে আনলে? তোমরা কি আমাদের ও আমাদের লোকদের মেরে ফেলতে চাও?” 11ইক্রোণের লোকরা পলেষ্টীয় শাসকদের ডেকে বলল, “ইস্রায়েলের ঈশ্বরের সিন্দুক যেখানে ছিল সেখানেই পাঠিয়ে দাও। এই সিন্দুক আমাদের এবং আমাদের লোকদের মেরে ফেলার আগেই কাজটা করে ফেল।”

সারা শহরের যেখানেই ঈশ্বরের হাতের আঘাত পড়েছিল সেখানে ভয়ঙ্কর শাস্তি হয়েছিল। 12বহু লোক মারা গেল। আর যারা বেঁচে রইল তাদের গায়ে আব দেখা দিল। স্বর্গের দিকে তাকিয়ে তারা খুব কাঁদতে শুরু করল।

6

ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক ঘরে ফিরিয়ে দেওয়া হল

1সাত মাস পলেষ্টীয়রা তাদের দেশে পবিত্র সিন্দুকটিকে রেখে দিয়েছিল। 2তারা যাজক আর যাদুকরদের ডাকল। তাদের জিজ্ঞাসা করল, “প্রভুর এই সিন্দুক নিয়ে আমাদের কি করা উচিৎ‌? কি করে আমরা সেটা যথাস্থানে ফিরিয়ে দিতে পারি?”

3যাজক আর যাদুকররা বলল, “যদি তোমরা ইস্রায়েলের ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক ফিরিয়ে দাও তাহলে কখনও তা খালি পাঠাবে না। অবশ্যই তোমরা নৈবেদ্য সাজিয়ে দেবে। তাহলেই ইস্রায়েলের ঈশ্বর তোমাদের পাপ মুক্ত করবেন। তোমরা সুস্থ হবে। যা বললাম তাই করো, তাহলে ঈশ্বর তোমাদের আর শাস্তি দেবেন না।”

4পলেষ্টীয়রা জিজ্ঞেস করল, “ইস্রায়েলের ঈশ্বরের মার্জনা পেতে হলে কি ধরণের উপহার দিতে হবে?”

যাজক আর যাদুকররা বলল, “পাঁচজন পলেষ্টীয় শাসক রয়েছে। এরা প্রত্যেকে এক একটি শহরের নেতা। তোমাদের সমস্ত লোকের ও নেতাদের সমস্যা একই রকম। তাই এক কাজ করো, পাঁচটা সোনার ইঁদুর আর পাঁচটা টিউমার তৈরী করো। 5টিউমারগুলির এবং ইঁদুরের সোনার মূর্ত্তি তৈরী কর যা তোমাদের দেশকে ধ্বংস করছে এবং তাদের ইস্রায়েলের ঈশ্বরের কাছে নিবেদন করো। তাহলে হয়তো তিনি তোমাদের আর তোমাদের দেবতাদের আর সেই সঙ্গে তোমাদের দেশের ওপর সমস্ত শাস্তি রদ করতে পারেন। 6ফরৌণ আর মিশরীয়দের মতো কখনও হৃদয় অনমনীয় করো না। ঈশ্বর মিশরীয়দের শাস্তি দিয়েছিলেন, আর সেই জন্যই মিশরীয়রা ইস্রায়েলীয়দের মিশর ছেড়ে চলে যেতে দিয়েছিল।

7“তোমরা অবশ্যই একটা নতুন টানাগাড়ি তৈরী করো আর সদ্য বিয়োনো দুটো গাভী জোগাড় করো। গাভী দুটো যেন মাঠে কখনও কাজ না করে থাকে। ওদের গাড়ীর সঙ্গে জুড়ে দাও। তারপর বাছুরগুলোকে গোয়ালে পুরে দাও। কিছুতেই যেন তারা মায়েদের পিছু না নেয়। 8গাড়ীর মধ্যে এবার প্রভুর পবিত্র সিন্দুকটি রাখো। আর সিন্দুকের পাশে থলিতে সোনার ছাঁচগুলো রাখবে। সোনার ছাঁচগুলো ঈশ্বরের প্রতি তোমাদের উপহার, যাতে তিনি তোমাদের ক্ষমা করেন। তারপর গাড়ীটা ছেড়ে দাও। 9গাড়ীটার দিকে লক্ষ্য রাখবে। যদি সেটা ইস্রায়েলের বৈৎ‌-শেমশের দিকে যায় তাহলেই বুঝবে প্রভু আমাদের এই ভয়ানক রোগ দিয়েছেন। আর যদি সোজাসুজি বৈৎ‌-শেমশের দিকে না যায় তবে জানবে যে ইস্রায়েলের ঈশ্বর আমাদের শাস্তি দেন নি। তাহলে আমরা জানব আমাদের এমন রোগ এমনিই হয়েছে।”

10পলেষ্টীয়রা যাজক ও যাদুকরদের কথামত কাজ করল। সদ্য বিয়োনো গাভী তারা পেয়ে গেল। গাভী দুটো গাড়ীর সঙ্গে জুড়ে দিল আর বাছুরদের গোয়ালে ঢুকিয়ে দিল। 11তারপর পলেষ্টীয়রা ভেতরে রেখে দিল প্রভুর পবিত্র সিন্দুক। সোনার টিউমার আর ইঁদুরের ছাঁচগুলোর থলিটাও রেখে দিল। 12গাভীদুটো সোজা বৈৎ‌-শেমশের দিকে গেল, সমস্ত রাস্তা তারা হাম্বা হাম্বা শব্দ করে চলল। ডাইনে কি বাঁয়ে একবারও ঘুরল না। পলেষ্টীয় শাসকরা বৈৎ‌-শেমশের সীমানা পর্যন্ত গাভী দুটোর পেছনে পেছনে গেল।

13বৈৎ‌-শেমশের লোকরা উপত্যকার ক্ষেত্র থেকে গম তুলছিল। তারা পবিত্র সিন্দুকটা দেখে খুব খুশী হয়ে সিন্দুকটা পাবার জন্য ছুটে গেল। 14 মাঠটা ছিল বৈৎ‌-শেমশের বাসিন্দা যিহোশূয়ের। সেই মাঠের ওপর একটা বড় পাথরের কাছে এসে গাড়ীটা থামল। বৈৎ‌-শেমশের লোকরা গরুর গাড়ী থেকে গাড়ীটা আলাদা করে গাভী দুটোকে মেরে ফেলল এবং সেগুলো তারা প্রভুর কাছে নিবেদন করল।

লেবীয়রা প্রভুর পবিত্র সিন্দুক আর সোনার ছাঁচের থলেটা নামিয়ে আনল। তারা প্রভুর সিন্দুক আর থলেটা পাথরের ওপর রাখল। সেদিন বৈৎ‌-শেমশের লোকরা প্রভুকে হোমবলি নিবেদন করল।

16পাঁচজন পলেষ্টীয় শাসক বৈৎ‌-শেমশে এই সমস্ত ক্রিয়াকাণ্ড দেখে সেদিনই ইক্রোণে ফিরে গেল।

17এভাবেই পলেষ্টীয়রা প্রভুর কাছে যে পাপ করেছিল তা স্খালনের জন্য টিউমারের সোনার ছাঁচগুলো উপহার হিসেবে পাঠিয়ে দিয়েছিল। তারা প্রত্যেক পলেষ্টীয় শহরে একটি করে টিউমারের সোনার ছাঁচ পাঠিয়ে দিয়েছিল। পলেষ্টীয়দের এই শহরগুলি হচ্ছে: অস্‌দোদ, ঘসা, অস্কিলোন, গাৎ‌ এবং ইক্রোণ। 18পলেষ্টীয়রা সোনার ইঁদুরের ছাঁচ পাঠিয়েছিল। পলেষ্টীয় শাসকদের যতগুলো শহর ছিল, সোনার তৈরী ইঁদুরও ছিল ততগুলো। শহরগুলো ছিল পাঁচিলে ঘেরা। আবার প্রত্যেক শহর ছিল গ্রাম দিয়ে ঘেরা।

বৈৎ‌-শেমশের লোকরা প্রভুর পবিত্র সিন্দুক পাথর খণ্ডের ওপর রেখে দিল। বৈৎ‌-শেমশের যিহোশূয়ের মাঠে আজও সেই পাথর দেখা যাবে। 19কিন্তু বৈৎ‌-শেমশের লোকরা যখন প্রভুর পবিত্র সিন্দুক দেখতে পেল তখন সেখানে কোন যাজক ছিল না। তাই ঈশ্বর বৈৎ‌-শেমশের 70 জন লোককে হত্যা করলেন। প্রভুর এই কঠোর শাস্তির জন্য বৈৎ‌-শেমশের লোকরা খুব কাঁদল। 20লোকরা বলল, “এই পবিত্র সিন্দুকটির দেখাশোনা করবার যাজক কোথায়? এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে আমরা এটাকে কোথায় পাঠাবো?”

21কিরিয়ৎ-যিয়ারীমে একজন যাজক ছিল। বৈৎ‌-শেমশের লোকরা সেখানে দূত পাঠাল। দূতরা বলল, “পলেষ্টীয়রা প্রভুর পবিত্র সিন্দুক ফিরিয়ে দিয়েছে। এবার তোমরা নেমে এসো। সিন্দুকটি তোমাদের শহরে নিয়ে যাও।”

7

1কিরিয়ৎ-যিয়ারীমের লোকরা এসে সেই প্রভুর পবিত্র সিন্দুকটি গ্রহণ করল। তারা সেটা পর্বতের ওপর অবীনাদবের বাড়িতে নিয়ে গেল। অবীনাদবের পুত্র ইলিয়াসকে তৈরী করবার জন্য তারা একটি বিশেষ অনুষ্ঠান করল যাতে সে পবিত্র সিন্দুক পাহারা দিতে পারে। 2কিরিয়ৎ-যিয়ারীমে সিন্দুকটি দীর্ঘ 20 বছর ধরে ছিল।

প্রভু ইস্রায়েলীয়দের রক্ষা করলেন

ইস্রায়েলীয়রা আবার প্রভুকে অনুসরণ করতে শুরু করল। 3শমূয়েল ইস্রায়েলীয়দের বলল, “যদি তোমরা সত্যিই মনে প্রাণে প্রভুর কাছে ফিরে আসো তাহলে ভিন-দেশী অন্যান্য মূর্ত্তিকে অবশ্যই তোমাদের ফেলে দিতে হবে। অষ্টারোতের সমস্ত মূর্ত্তিকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে। প্রভুর সেবায় অবশ্যই তোমাদের সম্পূর্ণভাবে নিজেকে সমর্পণ করতে হবে। তোমাদের শুধু মাত্র প্রভুরই সেবা করতে হবে। তাহলেই তিনি তোমাদের পলেষ্টীয়দের হাত থেকে রক্ষা করবেন।”

4একথা শুনে ইস্রায়েলীয়রা বাল এবং অষ্টারোতের মূর্ত্তি ফেলে দিয়ে কেবলমাত্র প্রভুরই সেবা করতে লাগল।

5শমূয়েল বলল, “সমস্ত ইস্রায়েলীয়কে মিস্পায় জমায়েত হতে হবে। আমি তোমাদের জন্য প্রভু ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করব।”

6ইস্রায়েলীয়রা মিস্পায় সমবেত হল। তারা জল তুলল এবং সেটা প্রভুর সামনে ঢেলে দিল। এইভাবে তারা উপবাস কাল শুরু করল। সেই দিন তারা কোন খাদ্য গ্রহণ না করে সমস্ত পাপ স্বীকার করল। তারা বলল, “আমরা প্রভুর কাছে পাপ করেছি।” এইভাবে মিস্পায় ইস্রায়েলীয়দের বিচারক হিসেবে শমূয়েল কাজ করতে লাগল।

7পলেষ্টীয়রা জানতে পারল ইস্রায়েলীয়দের মিস্পায় সমবেত হবার খবর। ইস্রায়েলীয়দের বিরুদ্ধে পলেষ্টীয় শাসকরা যুদ্ধ করতে গেল। পলেষ্টীয়দের আসার সংবাদে ইস্রায়েলীয়রা ভয় পেয়ে গেল। 8ইস্রায়েলীয়রা শমূয়েলকে বলল, “আমাদের জন্য, আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করো, থেমো না! তাঁকে বলো, হে প্রভু পলেষ্টীয়দের হাত থেকে আমাদের বাঁচান!”

9শমূয়েল একটা মেষশাবক নিয়ে এল। প্রভুকে সে এই মেষটি একটি সম্পূর্ণ হোমবলি হিসাবে নিবেদন করল। ইস্রায়েলের জন্য শমূয়েল প্রভুর কাছে প্রার্থনা করতে লাগল। প্রভু সেই প্রার্থনায় সাড়া দিলেন। 10শমূয়েল যখন মেষটি পোড়াচ্ছিল, সেই সময় পলেষ্টীয়রা ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এল। আর তখন প্রভু পলেষ্টীয়দের দিকে প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাত করলেন। এতে তারা হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল। ভয় পেয়ে গেল। ওদের নেতারাই ওদের সামলাতে পারল না। তাই যুদ্ধে ইস্রায়েলীয়রা পলেষ্টীয়দের হারিয়ে দিল। 11মিস্পা থেকে বেরিয়ে ইস্রায়েলীয়রা পলেষ্টীয়দের তাড়া করল। বৈৎ‌-কর পর্যন্ত সারাটা রাস্তা তাড়িয়ে নিয়ে গেল। আর সমস্ত পলেষ্টীয় সৈন্যদের ওরা পথে মেরে ফেলল।

ইস্রায়েলে শান্তি এল

12এরপর শমূয়েল একটা বিশেষ ধরণের প্রস্তর স্থাপন করল। উদ্দেশ্য, লোকরা যাতে প্রভুর কর্মকাণ্ড ভুলে না যায়। পাথরটা রইল মিস্পা এবং সেন এর মাঝখানে। শমূয়েল পাথরটির নাম দিল “সাহায্যের পাথর।” সে বলল, “প্রভু সমস্ত রাস্তা ঘুরে আমাদের এখানে আসতে সাহায্য করেছেন!”

13পলেষ্টীয়রা হেরে গেল। তারা আর ইস্রায়েলে ঢুকল না। শমূয়েলের বাকি জীবনে প্রভু পলেষ্টীয়দের বিরুদ্ধে ছিলেন। 14পলেষ্টীয়রা ইস্রায়েলের কিছু শহর দখল করেছিল। তারা ইক্রোণ থেকে গাৎ‌ পর্যন্ত সমস্ত শহর নিয়ে নিয়েছিল। সে সব ইস্রায়েলীয়রা আবার ফিরে পেল। এই শহরগুলোর চারপাশের ভূখণ্ডগুলিও তারা জিতে নিল।

ইস্রায়েল এবং ইমোরীয়দের মধ্যে শান্তি স্থাপিত হল।

15শমূয়েল সারাজীবন ধরে ইস্রায়েলকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। 16নানা জায়গায় ঘুরে ঘুরে সে ইস্রায়েলীয়দের বিচার করত। প্রত্যেক বছর সে সারা দেশ ঘুরত। বৈথেল, গিল্গাল, আর মিস্পা এইসব জায়গায় গিয়ে ইস্রায়েলের লোকের শাসন ও বিচার করত। 17শমূয়েলের বাড়ী ছিল রামাতে। তাই প্রত্যেকবার তাকে রামায় ফিরে যেতে হত। ঐ শহর থেকেই সে ইস্রায়েল শাসন করত, বিচারের কাজকর্ম চালাত। রামায় শমূয়েল প্রভুর উদ্দেশ্যে একটা বেদী তৈরী করেছিল।

8

ইস্রায়েলীয়রা একজন রাজা চাইল

1শমূয়েল বৃদ্ধ হলে সে তার পুত্রদের ইস্রায়েলের বিচারক করল। 2শমূয়েলের প্রথম পুত্রের নাম যোয়েল। দ্বিতীয় পুত্রের নাম অবিয়। যোয়েল ও অবিয় ছিল বের্-শেবার বিচারক। 3পুত্ররা শমূয়েলের মতো জীবনযাপন করত না। যোয়েল ও অবিয় ঘুষ নিত, গোপনে টাকা নিয়ে বিচারসভায় রায় বদলে দিত। এমন কি বিচারালয়ে লোক ঠকাত। 4এই কারণে ইস্রায়েলের প্রবীণরা সবাই মিলে শমূয়েলের সঙ্গে দেখা করতে রামায় গেল। 5তারা শমূয়েলকে বলল, “আপনি বৃদ্ধ হয়েছেন, আর আপনার পুত্ররা ঠিকভাবে জীবন কাটাচ্ছে না। তারা আপনার মতো নয়। তাই বলছি, আপনি আমাদের একটা রাজার ব্যবস্থা করুন, অন্যান্য সব দেশে যেমন থাকে।”

6এইভাবে প্রবীণরা তাদের নেতৃত্ব দিতে পারে এমন একজন রাজা চাইল। কিন্তু শমূয়েলের মনে হল এটা একটা খারাপ চিন্তা। তাই তিনি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন। 7প্রভু বললেন, “লোকরা যা বলছে তাই করো। তারা তোমাকে প্রত্যাখ্যান করে নি। তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, কারণ তারা রাজা হিসেবে আমাকে চায় না। 8অতীতের মত বার বার সেই একই কাজ তারা করছে। আমি ওদের মিশর থেকে বার করে নিয়ে এসেছিলাম; কিন্তু সেই ওরা আমাকেই ছেড়ে দিয়ে অন্য সব দেবতার পূজো করেছিল। তোমার ক্ষেত্রেও এরা সেই এক কাজ করছে। 9ঠিক আছে, ওদের কথা মতোই চলো; কিন্তু তাদের একবার সাবধান করো, ওদের বলে দিও একজন রাজা তাদের প্রতি কি ব্যবহার করবে এবং কিভাবে একজন রাজা তাদের শাসন করবে।”

10লোকরা একজন রাজা চাইছিল। তখন শমূয়েল তাদের কাছে প্রভুর কথিত সমস্ত কথাই শোনাল। 11শমূয়েল বলল, “যদি তোমরা রাজা চাও তাহলে সে কি কি করবে শোন। সে তোমাদের পুত্রদের তোমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবে এবং জোর করে তাদের দিয়ে নিজের সেবা করিয়ে নেবে। তাদের জোর করে সৈন্য করবে, রথ আর অশ্ববাহিনীতে ঢুকিয়ে তাদের দিয়ে লড়াই করাবে। রাজার রথকে সামলানোর জন্য সেই রথের সামনে ছুটে ছুটে তারা পাহারা দেবে।

12“রাজা তোমাদের পুত্রদের জোর করে সৈন্যবাহিনীতে ঢোকাবে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ 1000 জনের ওপর অধিকর্তা হবে। আবার কেউ কেউ 50 জনের ওপর অধিকর্তা হবে।

“তাছাড়া সে তোমাদের পুত্রদের দিয়ে জোর করে চাষ করাবে, ফসল তোলাবে। সে জোর করে যুদ্ধের জন্য অস্ত্র ও রথের জন্য জিনিসপত্র তৈরী করাবে।

13“একজন রাজা তোমাদের কন্যাদের ধরবে এবং তাদের নিয়ে যাবে। তাদের দিয়ে রাজা নিজের জন্য সুগন্ধি দ্রব্য তৈরী করাবে। এছাড়া তাদের দ্বারা রান্নাবান্না, রুটি বানানো এইসব কাজও করিয়ে নেবে।

14“রাজা তোমাদের ভাল ভাল জমি, দ্রাক্ষা আর জলপাইয়ের বাগান কেড়ে নিয়ে তা তার কর্মচারীদের বিলিয়ে দেবে। 15তোমাদের শস্য আর দ্রাক্ষার দশভাগের একভাগ নিয়ে তার কর্মচারী আর ভৃত্যদের দিয়ে দেবে।

16“একজন রাজা তোমাদের দাস ও দাসীদের নিয়ে নেবে। সে তোমাদের সব চেয়ে সেরা গবাদি পশু ও গাধাদের নেবে। সে তার নিজের উদ্দেশ্যে তাদের ব্যবহার করবে। 17তোমাদের পালের পশুদের দশ ভাগের একভাগ রাজা নিয়ে নেবে।

“আর তোমরা সবাই হবে রাজার ক্রীতদাস। 18এমন একটা সময় আসবে যখন তোমরা তোমাদের মনোনীত করা রাজার জন্য কাঁদবে। কিন্তু সেই সময় প্রভু তোমাদের ডাকে সাড়া দেবেন না।”

19কিন্তু শমূয়েলের কথা লোকরা শুনল না। তারা বলল, “না, আমরা আমাদের শাসক হিসেবে একজন রাজাই চাইছি। 20রাজা থাকলে আমরা সবাই অন্যান্য দেশের লোকদের মতো থাকতে পারব। আমাদের রাজাই আমাদের চালাবেন। যুদ্ধের সময় তিনি আমাদের আগে যাবেন এবং আমাদের যুদ্ধে লড়াই করবেন।”

21এই শুনে শমূয়েল প্রভুর কাছে লোকের কথাগুলো সব শোনালেন। 22প্রভু বললেন, “ওদের কথা শোন! ওদের জন্য একজন রাজার ব্যবস্থা করে দাও।”

তখন শমূয়েল ইস্রায়েলবাসীদের বলল, “বেশ তাই হবে। তোমরা একজন নতুন রাজা পাবে। এখন তোমরা সবাই বাড়ি যাও।”

9

পিতার গাধাগুলোর খোঁজে শৌল

1কীশ ছিলেন বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি। কীশের পিতার নাম অবীয়েল। অবীয়েলের পিতা সরোর। সরোরের পিতা বখোরত, বখোরতের পিতা অফীহ, তিনি বিন্যামীনের লোক। 2কীশের একজন পুত্র ছিল, তার নাম শৌল। সুদর্শন যুবক শৌলের মতো এত সুন্দর আর কেউ ছিল না। ইস্রায়েলের সকলের চেয়ে সে ছিল মাথায় লম্বা।

3একদিন কীশের গাধা হারিয়ে গেলে তিনি তাঁর পুত্র শৌলকে বললেন, “একজন ভৃত্যকে নিয়ে গাধাগুলো খুঁজে আনো।” 4শৌল গাধাগুলো খুঁজতে বেরিয়ে গেল। সে ইফ্রয়িম পাহাড়ের মধ্যে এবং শালিশার আশেপাশের জায়গার মধ্যে দিয়ে গেল। কিন্তু শৌল আর তার ভৃত্য গাধাগুলো খুঁজে পেল না। এবার তারা শালীমের দিকে হাঁটা শুরু করল, সেদিকেও গাধাগুলোর খোঁজ পেল না। অগত্যা শৌল বিন্যামীনদের দেশের দিকে রওনা হল। এমনকি সেখানেও তারা গাধাগুলো খুঁজে পেল না।

5অবশেষে শৌল ও তার ভৃত্য সূফ শহরে এল। শৌল ভৃত্যটিকে বলল, “চল আমরা বাড়ী ফিরি। আমার পিতা গাধাগুলোর জন্য চিন্তা থামিয়ে তার পরিবর্তে আমাদের নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু করবেন।”

6ভৃত্যটি বলল, “এই শহরেই ঈশ্বরের একজন ভাববাদী রয়েছেন যাকে লোকরা খুবই ভক্তি করে। তিনি যা বলেন তাই সত্য হয়। চলুন আমরা শহরের ভেতরে যাই। তিনি হয়তো আমাদের বলে দিতে পারেন, এরপর আমাদের কোথায় যেতে হবে।”

7শৌল তাকে বলল, “বেশ, আমরা নয় শহরের ভেতরে ঢুকলাম; কিন্তু তাকে আমরা কি দিতে পারি? তাকে দেবার মত কোন উপহার তো আমাদের হাতে নেই। এমন কি আমাদের ঝুলিতে খাদ্যদ্রব্যও শেষ। কি দেব তাকে?”

8ভৃত্যটি শৌলকে বলল, “শোন, আমার কাছে যৎ‌সামান্য কিছু অর্থ আছে, সেটা আমি ঈশ্বরের লোককে দেব। তিনিই আমাদের রাস্তা বলে দেবেন।”

9 শৌল বলল, “ভাল কথা, তাহলে চলো।” তাই তারা সেই শহরে গেল, যেখানে ঈশ্বরের ভাববাদী থাকত।

শৌল ও তার ভৃত্যটি পর্বতের পথ দিয়ে শহরের দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় যুবতীরা জল নিতে আসছে দেখে তারা জিজ্ঞাসা করল, “দর্শনকারী কি এই জায়গায় রয়েছেন?” (অতীতে ইস্রায়েলের লোকরা ভাববাদীকে “দর্শনকারী” বলেও ডাকত। তাই ঈশ্বরের কাছে কিছু বিষয়ে প্রশ্ন করতে চাইলে তারা বলত, “চলো দর্শনকারীর কাছে যাই।”)

12যুবতীরা উত্তর দিলো, “হ্যাঁ, দর্শনকারী এখানেই আছেন। তিনি ওখানে আছেন, তোমাদের আগে। তিনি আজ এই শহরে এসেছেন। কিছু লোক মঙ্গল নৈবেদ্য উৎসর্গ করার জন্য আজ উপাসনা স্থানে সমবেত হচ্ছে। 13তাই শহরে গেলে তোমরা তাঁর দেখা পাবে। যদি তোমরা দ্রুত পথ চল তবে তিনি উপাসনার স্থানে খেতে বসার আগেই তোমরা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবে। দর্শনকারী নৈবেদ্য বলি আশীর্বাদ করেন। তাই তিনি সেখানে না পৌঁছানো পর্যন্ত লোকে খেতে বসবে না। তাড়াতাড়ি পথ চললে তোমরা দর্শনকারীর দেখা পাবে।”

14শৌল ও তার ভৃত্য শহরে যাবার জন্যে পাহাড়ে উঠলে, শহরে ঢোকার সময়ই তারা দেখল শমূয়েল তাদের দিকেই আসছে। শমূয়েল তখন সবে উপাসনার স্থানে যাবার জন্যে বার হয়েছে।

15এর আগের দিন প্রভু শমূয়েলকে বলেছিলেন, 16“আগামীকাল ঠিক এই সময়েই আমি তোমার কাছে একজনকে পাঠাবো। সে বিন্যামীন পরিবারের লোক। তুমি তার অভিষেক করে তাকে ইস্রায়েলের নতুন নেতা করবে। এই লোকটিই পলেষ্টীয়দের হাত থেকে আমার লোকদের রক্ষা করবে। আমি তাদের দুঃখ দুর্দশা দেখেছি, আমি তাদের কান্না শুনেছি।”

17শমূয়েল শৌলকে দেখতে পেল এবং প্রভু শমূয়েলকে বললেন, “আমি এই লোকটার কথাই তোমাকে বলেছিলাম। সে আমার লোকদের ওপর শাসন করবে।”

18ফটকের কাছে শৌল একজন লোকের কাছে পথ নির্দেশ জিজ্ঞেস করতে গেল। ঘটনাচক্রে এই লোকটি ছিল শমূয়েল। শৌল তাকে জিজ্ঞাসা করল, “কোথায় সেই দর্শনকারীর বাড়ি আমায় দয়া করে বলে দিন।”

19শমূয়েল বলল, “আমিই সেই দর্শক। আমার আগে আগে উপাসনার স্থানের দিকে এগিয়ে যাও। তুমি তোমার ভৃত্যকে নিয়ে আজ আমার সঙ্গে খাবে। কাল সকালে তোমার বাড়ি যেও। আমি তোমার সব প্রশ্নেরই উত্তর দেব। 20তিন দিন আগে যে গাধাগুলো তুমি হারিয়েছ, তাদের নিয়ে আর মন খারাপ করো না; তাদের পাওয়া গেছে। এখন ইস্রায়েলের প্রত্যেকে একজনকে খুঁজছে। তুমিই সেই ব্যক্তি। তারা তোমাকে এবং তোমার পিতার পরিবারের সকলকে চায়।”

21শৌল বলল, “কিন্তু আমি তো বিন্যামীন পরিবারের একজন। ইস্রায়েলের এটাই সবচেয়ে ছোট পরিবারগোষ্ঠী এবং এই পরিবারগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে ছোট হচ্ছে আমার পরিবার। তবে আপনি কেন বলছেন ইস্রায়েলের আমাকে প্রয়োজন?”

22তারপর শমূয়েল, শৌল ও তার ভৃত্যকে নিয়ে খাবার জায়গায় গেল। বলির নৈবেদ্য ভাগ করে খাবার জন্য প্রায় 30 জন লোককে পংক্তি ভোজনে নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল। শৌল ও তার ভৃত্যটিকে শমূয়েল টেবিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসালো। 23শমূয়েল পাচককে বলল, “সরিয়ে রাখার জন্য যে মাংস আমি তোমাকে দিয়েছিলাম সেটা এবার আমায় দাও।”

24পাচক ঊরু দেশের মাংসটা শৌলের টেবিলের সামনে রেখে দিলে শমূয়েল শৌলকে বলল, “তোমার সামনে রাখা মাংসটা খাও। আমি এটা তোমার জন্য রেখেছি। এই বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য আমি এটা রেখেছিলাম।” তাই সেদিন শৌল শমূয়েলের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করল।

25খাওয়ার পর তারা উপাসনার স্থান থেকে নেমে এসে শহরে ফিরে গেল। শমূয়েল শৌলের জন্য ছাদে বিছানা পেতেছিল। শৌল ঘুমোতে গেল। 26পরদিন ভোরে শমূয়েল চেঁচিয়ে শৌলকে ডাকল। সে বলল, “উঠে পড়ো। আমি তোমায় রাস্তায় পৌঁছে দেব।” শৌল উঠে শমূয়েলের সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল।

27শমূয়েল, শৌল ও তার ভৃত্য সবাই মিলে শহরের সীমানা পর্যন্ত গেল। তখন শমূয়েল শৌলকে বলল, “তোমার ভৃত্যকে এগিয়ে যেতে বলো। তোমাকে একটা বাণী দেব। ঈশ্বরের কাছ থেকে এই বাণী এসেছে।” তাই ভৃত্যটি এগিয়ে গেল।

10

শমূয়েল শৌলকে অভিষিক্ত করল

1শমূয়েল তার তেলের বোতল শৌলের মাথায় ঢেলে দিল। তারপর সে শৌলকে চুমু খেয়ে বলল, “প্রভু তোমাকেই তাঁর লোকদের নেতা হিসাবে মনোনীত করেছেন। তুমিই প্রভুর লোকদের নিয়ন্ত্রণ করবে। চতুর্দিকে যে সব শত্রু আছে তাদের হাত থেকে তুমি তাদের বাঁচাবে। এই চিহ্ন থেকে বুঝবে কথাটা সত্য। 2আমার কাছ থেকে চলে যাবার পর তুমি রাচেলের সমাধির কাছে বিন্যামীন সীমানার সেল্সহতে দুটি লোকের সাক্ষাৎ পাবে। ঐ লোক দুটো তোমাকে বলবে, ‘যে গাধাগুলো তোমরা খুঁজছ তা কোন একজন দেখতে পেয়েছে। তোমার পিতা গাধাগুলো নিয়ে আর দুশ্চিন্তা করছেন না, বরং তোমাকে নিয়েই তাঁর যত ভাবনা। শুধু বলছেন, আমার পুত্রের ব্যাপারে আমি কি করব।’”

3শমূয়েল বলল, “তারপর যেতে যেতে তাবোরের কাছে একটা বড় ওক গাছ দেখতে পাবে। সেখানে তিনজন লোক তোমার সঙ্গে দেখা করবে। ঐ তিনজন বৈথেলে ঈশ্বরের উপাসনার জন্য যাচ্ছে। তুমি তাদের মধ্যে একজনের সঙ্গে তিনটে বাচ্চা ছাগল দেখতে পাবে। দ্বিতীয় জনের কাছে থাকবে তিন টুকরো রুটি। তৃতীয় জনের কাছে থাকবে এক বোতল দ্রাক্ষারস। 4এই তিনজন লোক তোমায় অভিবাদন করবে। তারা তোমায় দু-টুকরো রুটি দেবে। তুমি তাদের কাছ থেকে সেটা নেবে। 5তারপর তুমি যাবে গিবিয়াথ এলোহিম। সেখানে একটা পলেষ্টীয় দুর্গ আছে। এই শহরে তুমি যখন আসবে তখন একদল ভাববাদী বার হয়ে আসবে। তারা আসবে উপাসনার স্থান থেকে। তারা ভাববাণী+ 10:5 ভাববাণী সম্ভবতঃ এর অর্থ “ঈশ্বরের কথা বলা।” কিন্তু এখানে এর অর্থ প্রভুর আত্মা একজন ব্যক্তিকে নাচাবে। করতে থাকবে। তারা বীণা, তম্বুরা, বাঁশি ও অন্যান্য তন্ত্রবাদ্য বাজাবে। 6তারপর প্রভুর আত্মা তোমার ওপর সবলে ভর করবেন। তুমি বদলে যাবে। তুমি একজন আলাদা ব্যক্তির মত হবে। তুমি অন্য ভাববাদীদের সঙ্গে ভাববাণী করতে শুরু করবে। 7যখন এইসব চিহ্নগুলি পরিপূর্ণ হবে, তখন তুমি যা চাইবে তাই করতে পারবে। কারণ তখন ঈশ্বর তোমার সঙ্গেই বিরাজ করবেন।

8“এবার আমার আগে গিল‌্গলে যাও। আমি তোমাকে যেতে দেখব। তারপর আমি সেখানে তোমার সঙ্গে দেখা করব। তারপর হোমবলি ও মঙ্গল নৈবেদ্য উৎসর্গ করব; কিন্তু সাতদিন তোমায় অপেক্ষা করতে হবে। তারপর আমি এসে তোমায় কি করতে হবে বলে দেব।”

শৌল ভাববাদীদের মত হয়ে গেলেন

9শমূয়েলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যে মূহুর্তে শৌল ঘাড় ফেরালেন, ঈশ্বর শৌলের হৃদয়ের সম্পূর্ণ পরিবর্তন ঘটালেন। সেই দিন ঐসব চিহ্নগুলি পরিপূর্ণ হয়েছিল। 10শৌল আর তার ভৃত্য গিবিয়াথ এলোহিমে চলে গেল। সেখানে একদল ভাববাদীর সঙ্গে শৌলের দেখা হল। সেই সময় শৌলের ওপর সবলে ঈশ্বরের আত্মা নেমে এল। অন্য ভাববাদীদের সঙ্গে তিনিও ভাববাণী করলেন। 11যারা শৌলকে আগেই জানত, তারা এখন শৌলকে অন্য ভাববাদীদের সঙ্গে ভাববাণী করতে দেখল। তারা বলাবলি করল, “কীশের পুত্রর এ কি হল? শৌলও কি একজন ভাববাদী হয়ে গেল?”

12একটি লোক যে গিবিয়াথ এলোহিমে থাকত, সে বলল, “ওদের পিতা কে?” সেই থেকে এই কথাটা একটা প্রসিদ্ধ প্রবাদে পরিণত হয়েছে: “শৌলও কি ভাববাদীদের মধ্যে একজন?”

শৌল বাড়ী এলেন

13ভাববাণী করবার পর, সে তার বাড়ির কাছে উপাসনার জায়গায় পৌঁছল।

14শৌলের কাকা শৌলকে ও তার ভৃত্যকে জিজ্ঞাসা করল, “তোমরা কোথায় ছিলে?”

শৌল বলল, “আমরা গাধা খুঁজতে গিয়েছিলাম, কিন্তু গাধা খুঁজে না পেয়ে আমরা শমূয়েলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম।”

15শৌলের কাকা বলল, “শমূয়েল তোমায় কি বলল দয়া করে বল।”

16শৌল বলল, “শমূয়েল বলছে গাধাগুলো পাওয়া গেছে।” শৌল তার কাকাকে সবটা বলল না। রাজত্ব সম্বন্ধে শমূয়েল তাকে যা বলেছিল সে বিষয়ে শৌল কিছুই বলল না।

শমূয়েল শৌলকে রাজা বলে ঘোষণা করল

17শমূয়েল ইস্রায়েলবাসীদের মিস্পায় প্রভুর সঙ্গে মিলিত হবার জন্য বলল। 18সে বলল, “ইস্রায়েলীয়দের ঈশ্বর, আমাদের প্রভু বলেন, ‘আমি ইস্রায়েলীয়দের মিশর থেকে বার করে এনেছি। আমি তোমাদের মিশরের ক্ষমতা থেকে এবং যে সমস্ত রাজ্যগুলি তোমাদের নিষ্পেষিত করে দুর্দশাগ্রস্ত করেছিল, তাদের থেকে বাঁচিয়েছি।’ 19কিন্তু আজ তোমরা সেই ঈশ্বরকে পরিত্যাগ করেছ। ঈশ্বরই তোমাদের সব বিপদ ও বিপত্তি থেকে উদ্ধার করেছেন, কিন্তু তোমরা বলছ, ‘আমাদের শাসন করবার জন্য আমরা একজন রাজা চাই।’ বেশ তবে তাই হোক্। এখন তোমাদের পরিবারগোষ্ঠী অনুসারে প্রভুর সামনে দাঁড়াও।”

20শমূয়েল ইস্রায়েলবাসীদের সমস্ত পরিবারগোষ্ঠীকে তার কাছে ডাকল। তারপর সে নতুন রাজা মনোনয়ন করতে শুরু করল। প্রথমে বাছা হল বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীকে। 21সেই পরিবারগোষ্ঠীর প্রত্যেক পরিবারকে শমূয়েল তার সামনে দিয়ে হেঁটে যেতে বলল। শমূয়েল এবার পছন্দ করল মট্রীয়দের পরিবার। তারপর মট্রীয়দের পরিবারের প্রত্যেককে শমূয়েল হেঁটে যেতে বলল। কীশের পুত্র শৌলকে সে এবার মনোনীত করল।

কিন্তু লোকরা যখন শৌলকে খুঁজল, তারা তাকে পেল না। 22তখন তারা প্রভুকে জিজ্ঞাসা করল, “শৌল কি এখানে এসেছে?”

প্রভু বললেন, “শৌল জিনিসপত্রের পেছনেই লুকিয়ে রয়েছে।”

23লোকরা ছুটে গিয়ে সেখান থেকে শৌলকে বার করে আনলে শৌল সকলের মাঝখানে দাঁড়াল। সকলের মধ্যে শৌলই ছিল লম্বায় এক মাথা উঁচু।

24শমূয়েল সকলকে বলল, “এর দিকে তাকিয়ে দেখ। প্রভু একেই মনোনীত করেছেন। শৌলের মতো এখানে তোমাদের মধ্যে আর কেউ নেই।”

লোকরা বলে উঠল, “রাজা দীর্ঘায়ু হোন্।”

25শমূয়েল তাদের সমস্ত রাজকীয় নিয়ম ও বিধিগুলি বুঝিয়ে দিল। সে সেগুলো একটা বইয়ে লিখে রাখল। পরে প্রভুর সামনে সেই বইখানি রেখে শমূয়েল সবাইকে বাড়ি চলে যেতে বলল।

26শৌলও গিবিয়ায় তার বাড়ি চলে গেল। ঈশ্বর সাহসীদের হৃদয় স্পর্শ করল। এই সাহসীরা শৌলকে অনুসরণ করল। 27কিন্তু কিছু অশান্তি সৃষ্টিকারী লোক বলল, “এই লোকটা কি করে আমাদের রক্ষা করবে?” শৌলকে নিয়ে তারা নিন্দামন্দ করতে লাগল। তারা শৌলকে কোন উপহার দিল না। কিন্তু শৌল এ নিয়ে কিছু বলল না।

অম্মোনদের রাজা নাহশ

অম্মোনদের রাজা নাহশ গাদ আর রূবেণ পরিবারগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন চালাত। এদের প্রত্যেকেরই ডান চোখ সে উপড়ে নিয়েছিল, কেউ তাদের সাহায্য করুক নাহশ তা চাইত না। যর্দন নদীর পূর্বদিকে যেসব ইস্রায়েলীয় বসবাস করত, তাদের ডান চোখ সে উপড়ে নিয়েছিল। কিন্তু 7000 ইস্রায়েলীয় অম্মোনদের হাত থেকে পালিয়ে গিয়ে যাবেশ গিলিয়দে চলে গিয়েছিল।

11

1প্রায় একমাস পর অম্মোনদের রাজা নাহশ তার সৈন্যসামন্ত নিয়ে যাবেশ গিলিয়দ ঘিরে ফেলল। যাবেশের লোকেরা নাহশকে বলল, “যদি আমাদের সঙ্গে তুমি একটি শান্তি চুক্তি কর তাহলে আমরা তোমার সেবা করব।”

2নাহশ বলল, “তোমাদের প্রত্যেকের ডান চোখ যদি উপড়ে নিয়ে নিতে পারি তাহলেই তোমাদের সঙ্গে চুক্তি করতে পারি। তবেই সমস্ত ইস্রায়েলীয়রা লজ্জা পাবে!”

3যাবেশের নেতারা বলল, “সাতদিন সময় দাও। সমস্ত ইস্রায়েলে আমরা দূত পাঠাব। যদি কেউ সাহায্য করতে না আসে তাহলে আমরা তোমার কাছে এসে আত্মসমর্পণ করব।”

শৌল যাবেশ গিলিয়দকে বাঁচালেন

4বার্তাবাহকরা গিবিয়ায় এল; সেখানেই শৌল থাকতেন। তারা লোকদের খবরটি জানালে লোকরা কেঁদে উঠল। 5শৌল তখন মাঠে গরু চরাতে গিয়েছিলেন। মাঠ থেকে ফিরে তিনি তাদের কান্না শুনতে পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের কি হয়েছে? তোমরা কাঁদছ কেন?”

তারা শৌলকে যাবেশের বার্তাবাহকরা কি বলেছিল তা বলল। 6শৌল সব শুনলেন। তারপর ঈশ্বরের আত্মা সবলে তাঁর ওপর এল। তিনি খুব রেগে গেলেন। 7এক জোড়া বলদ নিয়ে তিনি তাদের কেটে টুকরো টুকরো করলেন। তারপর তিনি বার্তাবাহকদের হাতে সেই বলদের টুকরোগুলো দিয়ে তাদের সেই টুকরোগুলি নিয়ে সমস্ত ইস্রায়েলে ঘুরতে বললেন। ইস্রায়েলবাসীদের কাছে বার্তাবাহকরা কি বলবে তাও তিনি বলে দিলেন। এই ছিল তাঁর বাণী: “তোমরা সকলে শৌল এবং শমূয়েলকে অনুসরণ কর। যদি কেউ তাদের সাহায্য না করে তবে তাদের অবস্থা হবে বলদের এই টুকরোর মতো!”

লোকদের মনে প্রভুর প্রতি মহা ভয় এলো এবং তারা সবাই মিলে একটি মানুষের একতা নিয়ে বাইরে এল। 8শৌল বেষকে সকলকে একত্র করল। ইস্রায়েল থেকে এসেছিল 300,000 লোক, যিহূদা থেকে 30,000 জন।

9শৌল এবং তার সৈন্যরা যাবেশের বার্তাবাহকদের বলল, “গিলিয়দে যাবেশের যত লোক আছে তাদের গিয়ে বল, কাল দুপুরের মধ্যেই তোমাদের রক্ষা করা হবে।”

শৌলের বাণী বার্তাবাহকরা যাবেশের লোকদের শোনাল। শুনে তারা খুব খুশী হল। 10তারপর তারা অম্মোনের রাজা নাহশকে বলল, “আমরা কাল তোমার কাছে আসব। তখন তুমি আমাদের নিয়ে যা চাও তাই করবে।”

11পরদিন সকালে শৌল তার সৈন্যদের তিনটে দলে ভাগ করল। সূর্য উঠলে শৌল সসৈন্যে অম্মোনদের শিবির আক্রমণ করল। সেই সময় ওদের প্রহরীরা পালাবদল করছিল। দুপুরের আগেই শৌল অম্মোনদের পরাজিত করল। অম্মোন সৈন্যরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যে যেদিকে পারল পালিয়ে গেল। সবাই একা হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেল।

12তারপর লোকরা শমূয়েলকে বলল, “কোথায় গেল সেইসব লোক যারা বলেছিল শৌলকে রাজা হিসেবে আমরা চাই না? তাদের ডেকে নিয়ে এসো, আমরা তাদের হত্যা করব!”

13কিন্তু শৌল বলল, “না আজ কাউকে হত্যা কোরো না। প্রভু আজ ইস্রায়েলকে রক্ষা করেছেন!”

14তারপর শমূয়েল লোকদের বলল, “চলো, আমরা গিল‌্গলে যাই। গিল‌্গলে গিয়ে আমরা আবার শৌলকে রাজা করব।”

15সকলে গিল‌্গলে গেল। সেখানে প্রভুর সামনে তারা শৌলকে রাজা হিসেবে ঘোষণা করল। তারা প্রভুকে মঙ্গল নৈবেদ্য উৎসর্গ করল। শৌল ও ইস্রায়েলের সমস্ত লোক মহা আনন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠান করল।

12

শমূয়েল রাজার সম্বন্ধে কথা বলল

1শমূয়েল ইস্রায়েলীয়দের বলল, “তোমরা যা চেয়েছিলে আমি তার সবই করেছি। আমি তোমাদের জন্য একজন রাজা এনে দিয়েছি। 2তোমাদের নেতৃত্ব দেবার জন্য এখন তোমরা একজন রাজা পেয়ে গেছ। আমি বৃদ্ধ হয়েছি; কিন্তু আমার পুত্ররা তোমাদের সঙ্গে থাকবে। আমি সেই ছোটবেলা থেকে তোমাদের নেতা হয়ে আছি। 3আমাকে তো তোমরা জানো। যদি আমি কোন অন্যায় করে থাকি তাহলে নিশ্চয়ই তোমরা সে কথা প্রভুর সামনে এবং মনোনীত রাজার সামনে বলবে। আমি কি কারো গাধা বা গরু চুরি করেছি? আমি কি কাউকে আঘাত করেছি বা ঠকিয়েছি? আমি কি কারো দোষ ত্রুটি অবজ্ঞা করবার জন্য ঘুষ নিয়েছি? যদি তা করে থাকি তবে আমি নিশ্চয়ই সেই অন্যায়ের প্রায়শ্চিত্ত করব।”

4ইস্রায়েলবাসীরা বলল, “না আপনি কখনোই কোন অন্যায় করেন নি। আপনি কখনই আমাদের ঠকান নি বা কোন কিছু নিয়ে যান নি!”

5শমূয়েল বলল, “আজ প্রভু আর তাঁর মনোনীত রাজা সাক্ষী। তোমরা যা বললে তাঁরা সবই শুনেছেন। তাঁরা জানলেন তোমরা আমার কোন দোষ পাও নি।” সকলে বলল, “হ্যাঁ, প্রভুই সাক্ষী!”

6শমূয়েল বলল, “যা যা হয়েছে প্রভু সবই দেখেছেন। তিনিই মোশি এবং হারোণকে মনোনীত করেছিলেন। তিনিই তোমাদের পূর্বপুরুষদের মিশর থেকে এনেছিলেন। 7এবার এখানে দাঁড়াও এবং ঈশ্বর তোমাদের জন্য ও তোমাদের পূর্বপুরুষদের জন্য কি কি ভালো কাজ করেছিলেন সে সম্বন্ধে শোন।

8“যাকোব মিশরে গিয়েছিল। পরবর্তীকালে মিশরীয়রা তার উত্তরপুরুষদের জীবন অতিষ্ঠ করে দিয়েছিল। তাই তারা প্রভুর কাছে সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করেছিল। তখন প্রভু মোশি আর হারোণকে পাঠিয়েছিলেন। তারা তোমাদের পূর্বপুরুষদের মিশর থেকে নিয়ে এসেছিল এবং এই জায়গায় বাস করবার জন্য নেতৃত্ব দিয়েছিল।

9“কিন্তু তোমাদের পূর্বপুরুষরা তাদের প্রভু ঈশ্বরের কথা ভুলে গেল। ফলে ঈশ্বর তাদের সীষরার ক্রীতদাস করে দিলেন। সীষরা ছিল হাৎসোরের সৈন্যদের অধিনায়ক। তারপর প্রভু তাদের পলেষ্টীয় আর মোয়াবের রাজার ক্রীতদাস করে দিলেন। তারা সবাই তোমাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল। 10তখন পূর্বপুরুষরা প্রভুর কাছে সাহায্য চেয়েছিল। তারা বলেছিল, ‘আমরা পাপ করেছি। আমরা প্রভুকে ত্যাগ করে বাল এবং অষ্টারোতের মূর্ত্তির পূজা করেছি; কিন্তু আজ শত্রুদের হাত থেকে আমাদের বাঁচাও। আমরা তোমারই সেবা করব।’

11“তখন প্রভু যিরুব্বাল (গিদিয়ন), বরাক, যিপ্তহ এবং শমূয়েলকে পাঠালেন। প্রভু, তোমাদের চারপাশের শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করলেন। তোমরা নিরাপদে বাস করছিলে। 12কিন্তু তারপর তোমরা দেখলে অম্মোনদের রাজা নাহশ তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে আসছে। অমনি বলে উঠলে, ‘না, আমরা একজন রাজা চাই যে আমাদের শাসন করবে!’ প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর ইতিমধ্যেই তোমাদের রাজা থাকা সত্ত্বেও তোমরা সেটা বলেছিলে। 13এখন তোমরা তোমাদের ইচ্ছে ও পছন্দ অনুযায়ী একজন রাজা পেয়েছ। প্রভু তাকেই তোমাদের শাসন করার ভার দিয়েছেন। 14তোমাদের প্রভুকে ভয় ও সম্মান করে চলা উচিৎ‌। তোমরা অবশ্যই তাঁর সেবা করবে ও তাঁর আজ্ঞা মেনে চলবে। তোমরা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করবে না। তোমরা সবাই আর তোমাদের রাজা অবশ্যই তোমাদের প্রভু ও ঈশ্বরের অনুগত থাকবে। তাহলেই তিনি তোমাদের রক্ষা করবেন। 15কিন্তু তাঁর আদেশ অমান্য করলে অথবা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করলে তিনি তোমাদের বিরোধিতা করবেন, যেমন তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষদের বিরুদ্ধে করেছিলেন।

16“এখন স্থির হয়ে দাঁড়াও এবং প্রভু তোমাদের চোখের সামনে যে সব মহান জিনিসগুলি করবেন তা দেখো। 17এখন গম তোলবার সময়। প্রভুর কাছে আমি প্রার্থনা করব বজ্র আর বৃষ্টির জন্য। তখনই বুঝতে পারবে রাজা চাইতে গিয়ে প্রভুর বিরুদ্ধে তোমরা কি অন্যায় করেছ।”

18শমূয়েল তাই প্রভুর কাছে প্রার্থনা করল। ঠিক সেদিনই প্রভু বজ্র আর বৃষ্টি দিলেন। লোকরা প্রভু আর শমূয়েলকে ভয় পেল। 19তারা সবাই শমূয়েলকে বলল, “তোমার প্রভু ঈশ্বরের কাছে তুমি আমাদের জন্য প্রার্থনা করো। আমরা তোমার ভৃত্য। আমরা যেন মারা না পড়ি। আমরা অনেকবার পাপ করেছি। এবার আবার আমরা রাজা চেয়ে পাপের বোঝা বাড়ালাম।”

20শমূয়েল উত্তরে বলল, “ভয় পেও না। এটা সত্যি, তোমরা এসব অন্যায় করেছিলে। কিন্তু প্রভুর অনুসরণ করে চলো, থেমো না। মনপ্রাণ দিয়ে তোমরা তাঁর সেবা করবে। 21মূর্ত্তি কখনও তোমাদের সাহায্য করতে পারে না। মূর্ত্তি মূর্ত্তিই, তাই ওগুলোর পূজো করো না। ওগুলো কোন কাজেরই নয়। মূর্ত্তিরা তোমাদের সাহায্য বা রক্ষা করতে পারে না।

22“কিন্তু প্রভু কখনও তাঁর লোকদের ছেড়ে যান না। তোমাদের তাঁর আপনজন করে নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট আছেন। তাই তাঁর মহানামের গুনে কখনই তিনি তোমাদের ছেড়ে যাবেন না। 23আমার দিক থেকে বলতে পারি, আমি সবসময় তোমাদের হয়ে প্রার্থনা করব। প্রার্থনা বন্ধ করলে আমি প্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করব। আমি তোমাদের সত্য পথের বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে যাব যেন তোমরা সৎভাবে জীবনযাপন করতে পার। 24তবে তোমরা অবশ্যই প্রভুকে সম্মান করবে। তোমাদের জন্য তিনি যে সব মহৎ‌‌ কর্ম করেছেন সেগুলো মনে রাখবে। 25কিন্তু তোমরা যদি মন্দ কাজ করতে থাকো তাহলে ঈশ্বর তোমাদের আর তোমাদের রাজাকে ধ্বংস করবেন।”

13

শৌলের প্রথম ভুল

1সেই সময় শৌল সবে এক বছর রাজা হয়েছেন। ইস্রায়েলের ওপর দু-বছর রাজত্ব করবার পর,+ 13:1 পদ 1 অথবা “শৌল যখন রাজা হন, তখন তাঁর বয়স ছিল এক বছর। তিনি দু বছর রাজত্ব করেছিলেন।” এই পদটি হিব্রুতে বোঝা খুব কঠিন। হয়তো সংখ্যাগুলির কিছু অংশ হারিয়ে গেছে এবং প্রাচীন গ্রীক অনুবাদে এই পদটি নেই।2তিনি ইস্রায়েল থেকে 3000 পুরুষকে মনোনীত করলেন। বৈথেলের পাহাড়ে মিক্‌মস দেশে শৌলের সঙ্গে রইল 2000 জন। 1000 জন রইল যোনাথনের কাছে। তারা ছিল বিন্যামীনের গিবিয়া শহরে। সৈন্যদলের বাকি লোকদের তিনি বাড়ী পাঠিয়ে দিলেন।

3যোনাথন গেবা শিবিরে পলেষ্টীয়দের প্রধান সেনাপতিকে হত্যা করল। এখবর শুনে পলেষ্টীয়রা বলল, “ইব্রীয়রা বিদ্রোহ করেছে।”

শৌল বলল, “কি হয়েছে ইব্রীয়রা শুনুক।” শৌল তার লোকদের বলল সমস্ত ইস্রায়েলে তারা শিঙা বাজিয়ে দিক। 4ইস্রায়েলীয়রা খবরটা শুনল। তারা বলল, “শৌল পলেষ্টীয় নেতাকে হত্যা করেছে। এবার পলেষ্টীয়রা সত্যিই ইস্রায়েলীয়দের ঘৃণা করবে!”

ইস্রায়েলীয়দের বলা হল, তারা যেন গিল‌্গলে শৌলের সঙ্গে যোগ দেয়। 5পলেষ্টীয়রা জড়ো হয়ে ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গেল। পলেষ্টীয়দের ছিল 3000 রথ আর 6000 অশ্বারোহী সৈন্য। সমুদ্রের বালির মত পলেষ্টীয়দের অসংখ্য সৈন্য ছিল। এদের শিবির পড়ল মিক্‌মসে। মিক্‌মস হচ্ছে বৈৎ‌-আবনের পূর্ব দিকে।

6ইস্রায়েলীয়রা দেখল তারা বিপদের মুখে। ফাঁদে পড়েছে বলে মনে হল তাদের। তারা পালিয়ে গিয়ে গুহায়, পাহাড়ের ফাঁকে ফোকরে লুকিয়ে রইল। লুকিয়ে রইল কুয়োয়, মাটির ভেতরে যে কোন গর্তের মধ্যে। 7কিছু ইব্রীয় যর্দন নদী পেরিয়ে গাদ আর গিলিয়দের দিকেও চলে গেল। শৌল তখনও গিল‌্গলে। তার সৈন্যরা সবাই ভয়ে কাঁপছে।

8শমূয়েল বলল যে সে গিল‌্গলে শৌলের সঙ্গে দেখা করবে। শৌল তার জন্যে সাতদিন অপেক্ষা করে রইলেন। কিন্তু শমূয়েল তবুও গিল‌্গলে এল না। সৈন্যরা শৌলকে ছেড়ে চলে যেতে লাগল। 9তখন শৌল বললেন, “আমার কাছে হোমবলি ও মঙ্গল নৈবেদ্যগুলি এনে দাও।” তারপর শৌল সেই হোমবলি উৎসর্গ করলেন। 10শৌলের হোমবলি উৎসর্গ করা শেষ করতেই শমূয়েল এল। শৌল তার সঙ্গে দেখা করতে গেলেন।

11শমূয়েল বলল, “এ কি করেছ?”

শৌল বললেন, “দেখলাম সৈন্যরা আমায় ছেড়ে চলে যাচ্ছে। তুমিও সময় মতো আসো নি। ওদিকে পলেষ্টীয়রা মিক্‌মসে জড়ো হয়েছে। 12তখন আমি মনে মনে বললাম, ‘পলেষ্টীয়রা এখানে আসবে। ওরা গিল‌্গলে আমাকে আক্রমণ করবে। এখনও আমি প্রভুর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি নি। তাই অবশেষে আমি নিজেই জোর করে হোমবলি উৎসর্গ করেছি।’”+ 13:12 আমি … করেছি যাজক শমূয়েলের পরিবর্তে শৌলের নৈবেদ্য উৎসর্গ করার কোন অধিকার ছিল না।

13শমূয়েল বলল, “খুব বোকামি করেছ! তুমি তোমার প্রভু ঈশ্বরের কথা শোন নি। তাঁর আদেশ শুনলে তিনি তোমাদের পরিবারকে চিরকাল ইস্রায়েলকে শাসন করতে দিতেন। 14কিন্তু এখন আর তোমার রাজত্ব স্থির থাকবে না। প্রভু এমনই একজনকে খুঁজছিলেন যে তাঁর কথা শুনবে। তিনি সেই লোক পেয়ে গেছেন। তিনি তাঁর প্রজাদের জন্য নতুন নেতা হিসেবে তাকেই মনোনীত করেছেন। তুমি প্রভুর কথার বাধ্য হও নি বলেই তিনি নতুন নেতা নির্বাচন করেছেন।” 15এই বলে শমূয়েল উঠে দাঁড়াল এবং গিল‌্গল থেকে চলে গেল।

মিকমশে যুদ্ধ

বাকি সৈন্যদের নিয়ে শৌল গিল‌্গল ছেড়ে বিন্যামীনের গিবিয়ায় চলে গেলেন। শৌল মাথা গুনে দেখলেন তাঁর সঙ্গে রয়েছে প্রায় 600 জন। 16শৌল, তাঁর পুত্র যোনাথন এবং সৈন্যরা বিন্যামীনের গিবিয়াতে গেল।

পলেষ্টীয়রা মিকমশে তাঁবু গেড়েছিল। 17সেখানে যত ইস্রায়েলীয় ছিল তাদের পলেষ্টীয়রা শায়েস্তা করতে চাইল। তাদের সেরা সৈন্যরা আক্রমণের জন্য তৈরী হল। তারা তিনটি দলে ভাগ হয়ে গেল। একটা দল গেল উত্তরে, শূয়ালের কাছে অফ্রার রাস্তায়। 18দ্বিতীয় দল গেল দক্ষিণ পূর্ব দিকে, বৈৎ‌-হোরোণের রাস্তায়। তৃতীয় দল পূর্বদিকে, সীমান্তের পথে। সেই পথে মরুভূমির দিকে সিবোয়িম উপত্যকা চোখে পড়ে।

19ইস্রায়েলের কেউই লোহার জিনিসপত্র তৈরী করতে পারত না। ইস্রায়েলে কোন কামার ছিল না। পলেষ্টীয়রা ওদের এসব বানাতে শেখায়নি। কারণ তাদের ভয় ছিল, ইস্রায়েলীয়রা তাহলে লোহার তরবারি আর বর্শা তৈরী করে ফেলবে। 20পলেষ্টীয়রাই শুধু লোহার জিনিসপত্র ধার দিতে পারত। সেই জন্য যদি ইস্রায়েলীয়দের লাঙল, নিড়ানি, কুড়ুল, কাস্তে শান দিতে হত, তাহলে তাদের পলেষ্টীয়দের কাছেই যেতে হত। 21একটা লাঙল আর নিড়ানির জন্যে পলেষ্টীয়রা মজুরি নিত 1/3 আউন্স রূপো। গাঁইতি, কুড়ুল, আর ষাঁড় খোঁচানো শাবল ধার করার জন্য নিত 1/6 আউন্স রূপো। 22তাই যুদ্ধের দিন শৌলের কোন ইস্রায়েলীয় সৈন্যই লোহার তরবারি বা বর্শা নিয়ে যায় নি। শুধুমাত্র শৌল ও তাঁর পুত্র যোনাথনের কাছেই লোহার অস্ত্র ছিল।

23একদল পলেষ্টীয় সৈন্য মিক্‌মসের গিরিপথ পাহারা দিচ্ছিল।

14

যোনাথন পলেষ্টীয়দের আক্রমণ করল

1সেদিন শৌলের পুত্র যোনাথন তার অস্ত্রবাহকের সঙ্গে কথা বলছিল। যোনাথন বলল, “উপত্যকার অন্যদিকে পলেষ্টীয়রা তাঁবু গেড়েছে। চলো সেদিকে যাওয়া যাক।” পিতাকে সে এ বিষয়ে কোন কথা বলল না।

2শৌল তখন পাহাড়ের ধারে মিগ্রোন নামে একটা জায়গায় একটা ডালিম গাছের নীচে বসেছিলেন। এটা ছিল যেখানে ফসল ঝাড়াই হয় তারই কাছে। শৌলের সঙ্গে ছিল প্রায় 600 জন লোক। 3একজনের নাম ছিল অহিয়। এলি শীলোয় প্রভুর যাজক ছিল। তার জায়গায় এখন অহিয় নামে এক ব্যক্তি যাজক হল। সে পরল যাজকের এফোদ নামক বিশেষ পোশাক। অহিয় ছিল ঈখাবোদের ভাই অহীটুবের পুত্র। ঈখাবোদের পিতার নাম পীনহস। পীনহসের পিতা ছিল এলি।

লোকরা জানত না যে যোনাথন চলে গিয়েছিল। 4গিরিপথের উভয় পাশে একটা বড় শিলা ছিল। যোনাথন ঠিক করল ঐ গিরিপথ দিয়ে সে পলেষ্টীয় শিবিরে পৌঁছবে, একটা শিলার নাম ছিল বোৎ‌সেস; অন্য শিলাটির নাম ছিল সেনি। 5একটি শিলা উত্তরে মিক্‌মস অভিমুখে ছিল এবং অন্যটি ছিল দক্ষিণে গেবার দিকে মুখ করা।

6যোনাথন তার অস্ত্রবাহক যুবক সহকারীকে বলল, “চলো আমরা ঐ বিদেশীদের তাঁবুর দিকে যাই। হয়তো ওদের হারিয়ে দিতে প্রভু আমাদের সাহায্য করতে পারেন। প্রভুকে কেউই থামাতে পারে না। আমাদের সৈন্য কম হোক্ বা বেশী এতে কিছু যায় আসে না।”

7অস্ত্রবাহক যুবকটি তাকে বলল, “যা ভাল বোঝ, করো। আমি তোমার সঙ্গে সমস্ত ব্যাপারে থাকব।”

8যোনাথন বলল, “চলো এগোনো যাক! আমরা উপত্যকা পেরিয়ে পলেষ্টীয় প্রহরীদের দিকে যাব। এমন করব যেন তারা আমাদের দেখতে পায়। 9যদি তারা বলে, ‘আমরা না আসা পর্যন্ত ওখানে দাঁড়াও,’ তাহলে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকব। আমরা ওদের দিকে এগোব না। 10কিন্তু যদি পলেষ্টীয় লোকরা বলে, ‘এদিকে চলে এসো,’ তাহলে আমরা পাহাড় ডিঙিয়ে তাদের দিকে চলে যাব। কেন? কারণ সেটাই হবে ঈশ্বরের দেওয়া চিহ্ন বিশেষ। এর অর্থ হচ্ছে, প্রভু আমাদের সহায় হলেন যাতে ওদের হারিয়ে দিতে পারি।”

11সেই মতো যোনাথন ও তার অস্ত্রবহনকারী পলেষ্টীয়দের একটা সুযোগ করে দিল ওরা যাতে তাদের দেখতে পায়। পলেষ্টীয় প্রহরীরা বলল, “দেখ, গর্ত থেকে ইব্রীয়রা বেরিয়ে আসছে যেখানে তারা লুকিয়ে ছিল!” 12দুর্গের ভেতর থেকে পলেষ্টীয়রা যোনাথন ও তার অস্ত্রবহনকারীকে চিৎকার করে বলল, “এগিয়ে এসো। আমরা তোমাদের উচিৎ‌ শিক্ষা দেব!”

যোনাথন তার অস্ত্রবহনকারীকে বলল, “আমি পাহাড়ে উঠছি। আমার পিছন পিছন এসো। প্রভু ইস্রায়েলীয়দের দিয়ে পলেষ্টীয়দের পরাজিত করতে দিচ্ছেন!”

13 তাই যোনাথন হামাগুড়ি দিয়ে পাহাড়ে উঠল। তার অস্ত্রবহনকারী ঠিক তার পিছনে। যোনাথন ও তার অস্ত্রবহনকারী সেখানে ছিল না। ওরা দুজনে পলেষ্টীয়দের আক্রমণ করল। প্রথম চোটেই তারা আধ একর জমি জুড়ে 20 জন পলেষ্টীয়কে হত্যা করল। সামনে থেকে যারা আক্রমণ করতে আসছিল যোনাথন তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করল। আর তার অস্ত্রবহনকারী পিছন পিছন এসে যারা শুধু আহত হয়েছিল তাদের মেরে ফেলল।

15পলেষ্টীয় সৈন্যরা সকলেই বেশ ভয় পেয়ে গেল। মাঠে, শিবিরে, দুর্গে যে সব সৈন্য ছিল সকলেই ভয় পেয়ে গেল, এমনকি সবচেয়ে সাহসী যারা তারাও। মাটি কাঁপতে লাগল এবং তাতে পলেষ্টীয় বাহিনী সত্যিই বেশ ভয় পেয়ে গেল।

16শৌলের প্রহরীরা ছিল বিন্যামীনের গিবিয়ায়। তারা দেখল পলেষ্টীয়রা যেদিকে পারছে পালাচ্ছে। 17শৌল সৈন্যদের বললেন, “লোকগুলোকে গোন। ক’জন শিবির ছেড়ে গেছে দেখতে চাই।”

ওরা লোক গুনতে শুরু করল। যোনাথন ও তার অস্ত্রবহনকারী সেখানে ছিল না।

18শৌল অহিয়কে বললেন, “এবার ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক আনো।” (সেই সময় ঈশ্বরের পবিত্র সিন্দুক ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে ছিল।) 19শৌল যাজক অহিয়র সঙ্গে কথা বলছিলেন। ঈশ্বরের উপদেশের জন্য তিনি অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু পলেষ্টীয়দের শিবিরে গোলমাল আর চেঁচামেচি ক্রমশঃ বেড়েই চলেছিল। শৌল অধৈর্য্য হয়ে পড়লেন। অবশেষে তিনি যাজক অহিয়কে বললেন, “আর নয়, এবার হাত নামাও। প্রার্থনা শেষ করো।”

20সৈন্যসামন্ত জড়ো করে নিয়ে শৌল যুদ্ধ করতে গেলেন। পলেষ্টীয় সৈন্যরা বিভ্রান্ত হয়ে গেল। এমনকি তারা তাদের তরবারি ব্যবহার করে একে অপরের সঙ্গে লড়াই করছিল। 21কিছু ইব্রীয় আগে পলেষ্টীয়দের সেবা করত এবং তাদের শিবিরেই থাকত। কিন্তু এখন তারা শৌল আর যোনাথনের সঙ্গে মিশে গেল। তারা এখন ইস্রায়েলীয়দের দলে ভিড়ে গেল। 22ইফ্রয়িমের পার্বত্য দেশে যেসব ইস্রায়েলীয় লুকিয়েছিল তারা পলেষ্টীয়দের পালিয়ে যাবার খবর শুনল। এখন এই ইস্রায়েলীয়রাও যুদ্ধে নেমে পলেষ্টীয়দের তাড়িয়ে দিতে শুরু করল।

23এইভাবে প্রভু সেদিন ইস্রায়েলীয়দের রক্ষা করলেন। যুদ্ধ চললো বৈৎ‌-আবন ছাড়িয়ে। সমস্ত সৈন্য এখন শৌলের সঙ্গে। তারা সংখ্যায় প্রায় 10,000 জন পুরুষ। পাহাড়ী অঞ্চলে ইফ্রয়িমের সমস্ত শহরগুলিতে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ল।

শৌলের আরেকটি ভুল

24কিন্তু সেদিন শৌল একটা মস্ত ভুল করেছিলেন। ইস্রায়েলীয়রা ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েছিল। এর কারণ শৌল। তিনি তাদের দিয়ে এই প্রতিশ্রুতি করিয়েছিলেন, “সন্ধ্যার আগে এবং আমি শত্রুদের হারিয়ে দেবার আগে যদি কেউ খায় তাহলে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।” তাই কোন ইস্রায়েলীয় সৈন্য কিছু খায় নি।

25 যুদ্ধ করতে গিয়ে তারা বেশ কিছু জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল। তারপর তারা এক জায়গায় মাটির ওপরে একটি মৌচাক দেখল, কিন্তু মৌচাকের কাছে গিয়েও খেল না। প্রতিশ্রুতি ভাঙ্গতে তাদের ভয় করছিল। 27কিন্তু যোনাথন এই প্রতিশ্রুতির কথা জানত না। সে জানত না যে তার পিতা সৈন্যদের জোর করে এই প্রতিশ্রুতি করিয়েছেন। যোনাথনের হাতে ছিল একটি লাঠি। সে লাঠিটার একটা দিক মৌচাকের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে কিছু মধু বার করে আনলো। মধু খেয়ে সে কিছুটা ভাল বোধ করল।

28সৈন্যদের একজন যোনাথনকে বলল, “তোমার পিতা সৈন্যদের এই বিশেষ প্রতিশ্রুতি করতে বাধ্য করেছিলেন। তোমার পিতা বলেছিলেন কেউ আজ খেলে শাস্তি পাবে। তাই কেউ কিছু খায় নি। সেই জন্য সকলে দুর্বল হয়ে পড়েছে।”

29যোনাথন বলল, “আমার পিতা এই দেশে অনেক অশান্তি নিয়ে এসেছে। এই দেখ সামান্য একটু মধু খেয়েই আমি কেমন সুস্থ বোধ করছি। 30শত্রুদের কাছ থেকে খাবার আদায় করে যদি লোকরা খেয়ে নিত তাহলে অনেক ভাল হতো। তাহলে আমরা আরো অনেক পলেষ্টীয়দের হত্যা কতে পারতাম!”

31সেদিন ইস্রায়েলীয়রা পলেষ্টীয়দের হারিয়ে দিল। মিক্‌মস থেকে অয়ালোন পর্যন্ত সমস্ত জায়গায় ওরা পলেষ্টীয়দের সঙ্গে লড়াই চালিয়েছিল। ফলে তারা ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েছিল। 32পলেষ্টীয়দের মেষ, গরু, বাছুর সব তারা নিয়ে নিয়েছিল। এখন ইস্রায়েলের লোকরা প্রবল ক্ষুধায় সেগুলো মাটিতে ফেলে হত্যা করে রক্তশুদ্ধ খেতে লাগল।

33শৌলকে একজন বলল, “এই দেখ। লোকগুলো আবার প্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করছে। রক্ত লেগে থাকা মাংস ওরা খাচ্ছে!”

তখন শৌল বললেন, “তোমরা পাপ করেছ। এখানে একটা বড় পাথর গড়িয়ে দাও।” 34তারপর শৌল বললেন, “যাও ওদের কাছে গিয়ে বলো, প্রত্যেকেই তার ষাঁড় আর মেষ যেন আমার কাছে নিয়ে আসে। তারপর ওরা এখানে এসে সে সব জন্তুকে যেন মারে। তোমরা প্রভুর বিরুদ্ধে পাপ কোরো না। কখনও রক্ত মাখানো মাংস খেও না।”

সেই রাত্রে প্রত্যেকেই নিজেদের পশু সেখানে নিয়ে এসে বলি দিল। 35তারপর শৌল প্রভুর জন্য একটা বেদী তৈরী করলেন। শৌল নিজেই এই কাজটা করতে লাগলেন।

36শৌল বললেন, “আজ রাত্রে চলো আমরা পলেষ্টীয়দের আক্রমণ করি। তাদের সবকিছু আমরা কেড়ে নিয়ে একেবারে শেষ করে দিই।”

সৈন্যরা বলল, “যা ভাল বোঝ করো।”

কিন্তু যাজক বলল, “ঈশ্বরকে জিজ্ঞেস করে দেখা যাক।”

37তখন শৌল ঈশ্বরকে জিজ্ঞাসা করল, “আমি কি পলেষ্টীয়দের পিছু নিয়ে ওদের হটিয়ে দেব? আপনি কি ওদের পরাজয়ে আমাদের সাহায্য করবেন?” কিন্তু ঈশ্বর সেদিন কোন উত্তর দিলেন না।

38তখন শৌল বললেন, “সমস্ত নেতাকে আমার কাছে ডেকে আনো। খুঁজে দেখা যাক আজ কে পাপ করেছে। 39ইস্রায়েলকে যিনি রক্ষা করেন, সেই প্রভুর নামে আমি শপথ করে বলছি, পাপ যদি আমার পুত্র যোনাথনও করে থাকে তবে তাকেও মরতে হবে।” কেউ কোন কথা বলল না।

40শৌল সমস্ত ইস্রায়েলীয়দের বললেন, “তোমরা এদিকটায় দাঁড়াও, আমি আর যোনাথন ওদিকে দাঁড়াচ্ছি।”

সৈন্যরা বলল, “যা বলবেন তাই হবে।”

41তারপর শৌল প্রার্থনা শুরু করলেন। তিনি বললেন, “হে প্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, কেন আজ তোমার ভৃত্যকে কোনো উত্তর দিলে না? যদি আমি বা আমার পুত্র কোন দোষ করে থাকি, তবে প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর আমাদের উরীম দাও। যদি তোমার ইস্রায়েলীয়রা কোন পাপ করে থাকে, তুমি তবে তুম্মীম দাও। উরীম আর তুম্মীম ছুঁড়ে দেওয়া হল।”

শৌল ও যোনাথন ধরা পড়ল এবং লোকরা বাদ পড়ল। 42শৌল বললেন, “আবার ওগুলো ছুঁড়ে দেখো কে দোষী, আমি না আমার পুত্র যোনাথন?” এবার যোনাথন ধরা পড়ল।

43শৌল যোনাথনকে বললেন, “কি করেছ বলো?”

যোনাথন বলল, “লাঠির মাথায় শুধু একটু মধু নিয়ে খেয়েছি। এর জন্য কি আমাকে মরতে হবে?”

44শৌল বললেন, “আমি যে প্রতিশ্রুতি করেছি। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে ঈশ্বর আমাকে শাস্তি দেবেন। সুতরাং যোনাথন মরবেই।”

45তখন সৈন্যরা শৌলকে বলল, “যোনাথন আজ ইস্রায়েলের জয়ের নায়ক। তাকে কি মরতেই হবে? কখনোই না। আমরা জীবন্ত ঈশ্বরের নামে দিব্যি করে বলছি, কেউ যোনাথনের গায়ে হাত দেব না। তার একটি চুলও মাটিতে পড়বে না। স্বয়ং ঈশ্বর যোনাথনকে পলেষ্টীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করেছেন।” এইভাবে তারা যোনাথনকে বাঁচাল। তাকে আর মরতে হল না।

46শৌল পলেষ্টীয়দের পিছু নিলেন না। পলেষ্টীয়রা নিজেদের জায়গায় ফিরে এলো।

ইস্রায়েলের শত্রুদের সঙ্গে শৌলের যুদ্ধ

47ইস্রায়েলের সম্পূর্ণ কর্ত্তৃত্ব শৌল নিজের হাতে নিলেন। ইস্রায়েলের চারিদিকে যত শত্রু ছিল, তাদের সঙ্গে তিনি যুদ্ধ চালালেন। তিনি মোয়াব, অম্মোনীয়, সোবার রাজা ইদোম এবং পলেষ্টীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করলেন। শৌল যেখানে গেলেন সেখানেই ইস্রায়েলের শত্রুদের হারিয়ে দিলেন। 48শৌল খুব সাহসী ছিলেন। সমস্ত শত্রু, যারা ইস্রায়েলীয়দের লুঠ করতে চাইছিল, তাদের হাত থেকে শৌল ইস্রায়েলীয়দের রক্ষা করেছিলেন। এমনকি অমালেক গোষ্ঠীকেও তিনি হারিয়ে দিয়েছিলেন।

49শৌলের পুত্রদের নাম যোনাথন, যিশবি এবং মল্কীশূয়। তাঁর বড় মেয়ের নাম মেরব, ছোট মেয়ে মীখল। 50শৌলের স্ত্রীর নাম অহীনোয়ম। অহীনোয়মের পিতা হচ্ছে অহীমাস।

শৌলের সেনাপতি অবনের, সে ছিল নেরের পুত্র। নের শৌলের কাকা। 51শৌলের পিতা কীশ এবং অবনেরের পিতা নেব এঁরা দুজনে অবীয়েলের পুত্র।

52শৌল আজীবন সাহসী ছিলেন। তিনি পলেষ্টীয়দের বিরুদ্ধে প্রবলভাবে যুদ্ধ করেছিলেন। যখনই তিনি একটি শক্ত সমর্থ বা সাহসী লোক দেখতে পেতেন, তাকে তাঁর সৈন্যদলে যুক্ত করে নিতেন। এরা তাঁর দেহরক্ষী হিসেবে কাছাকাছি থাকত।

15

পৌল অমালেকীয়দের ধ্বংস করে দিলেন

1একদিন শমূয়েল শৌলকে বলল, “প্রভু তোমায় ইস্রায়েলে তাঁর লোকদের রাজা হিসাবে অভিষেক করতে আমাকে পাঠিয়েছিলেন। তাই এখন প্রভুর বার্তা শোনো। 2সর্বশক্তিমান প্রভু বলেছেন: ‘যখন ইস্রায়েলীয়রা মিশর থেকে বেরিয়ে আসছিল তখন অমালেকীয়রা তাদের কনানে যেতে বাধা দিয়েছিল। অমালেকীয়রা কি করেছে আমি সব দেখেছি। 3এখন যাও, অমালেকীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। ওদের তোমরা একেবারে শেষ করে দাও, ওদের সব কিছু ভেঙ্গে চুরে তছনছ করে দাও। কাউকে বাঁচতে দিও না। ছেলে মেয়ে কাউকে বাদ দেবে না। তাদের সমস্ত গরু, মেষ উটও তোমরা শেষ করে দেবে।’”

4শৌল টলায়ীমে সমস্ত সৈন্য জড়ো করলেন। পদাতিক সৈন্য 200,000 জন আর অন্যান্যরা 10,000 জন। এদের মধ্যে যিহূদার লোকরাও ছিল। 5তারপর শৌল চলে গেলেন অমালেকীয়দের শহরে। উপত্যকায় গিয়ে তিনি অপেক্ষা করতে লাগলেন। 6কেনীয়দের শৌল বললেন, “তোমরা সবাই অমালেকীয়দের ছেড়ে দিয়ে চলে যাও। তাহলে আমি ওদের সঙ্গে তোমাদের বিনষ্ট করব না। যখন ইস্রায়েলীয়রা মিশর ছেড়ে চলে আসছিল, তোমরা ইস্রায়েলীয়দের দয়াদাক্ষিণ্য দেখিয়েছিলে।” একথা শুনে কেনীয়রা অমালেকীয়দের ছেড়ে চলে গেল।

7শৌল অমালেকীয়দের হারিয়ে দিলেন। তাদের তাড়িয়ে নিয়ে গেলেন সেই হবীলা থেকে শূর অবধি যেখানে মিশরের সীমানা। 8অমালেকীয়দের রাজা ছিল অগাগ। শৌল জীবিত অবস্থায় অগাগকে বন্দী করেছিলেন এবং বাকী অমালেকীয়দের হত্যা করেছিলেন। 9সব কিছু ধ্বংস করতে শৌলের এবং ইস্রায়েলীয়দের মন চাইল না। সেইজন্য তারা অগাগকে মেরে ফেলে নি। তাছাড়া পুষ্ট গাভী, সেরা মেষগুলোকেও তারা জীবিত রেখেছিল। সেই সঙ্গে আর যে সব জিনিস রেখে দেবার মতো, সেগুলোও রেখে দিয়েছিল। ঐগুলো তারা নষ্ট করতে চায় নি। যেগুলো রাখার যোগ্য নয়, সেগুলোকে তারা নষ্ট করে দিয়েছিল।

শমূয়েল শৌলকে তার পাপের কথা বলল

10শমূয়েল প্রভুর কাছ থেকে একটি বার্তা পেল। 11প্রভু বললেন, “শৌল আমাকে মানছে না। ওকে রাজা করেছিলাম বলে আমার অনুশোচনা হচ্ছে। সে আমার কথামত কাজ করছে না।” শমূয়েল একথা শুনে ক্রুদ্ধ হল। সারারাত ধরে কেঁদে কেঁদে সে প্রভুর কাছে প্রার্থনা করল।

12পরদিন খুব ভোরে শমূয়েল শৌলের সঙ্গে দেখা করতে গেল। কিন্তু লোকরা শমূয়েলকে বলল, “শৌল যিহূদার কর্মিল শহরে চলে গেছেন। সেখানে তিনি নিজের সম্মান বাড়াতে একটা পাথরের মূর্ত্তি তৈরী করেছেন। তিনি এখন নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সবশেষে তিনি গিল‌্গলে যাবেন।”

তাদের কথা শুনে শমূয়েল শৌল যেখানে ছিলেন সেখানে গেল। তখন শৌল সবে অমালেকীয়দের কাছ থেকে নেওয়া জিনিসগুলোর প্রথম অংশ প্রভুকে নিবেদন করেছিলেন। এগুলো সবই শৌল হোমবলি রূপে প্রভুকে উৎসর্গ করেছিলেন। 13শমূয়েল শৌলের কাছে গেল। শৌল তাকে বললেন, “প্রভু তোমার মঙ্গল করুন। আমি প্রভুর নির্দেশ পালন করেছি।”

14তখন শমূয়েল বলল, “তাহলে আমি কিসের শব্দ শুনলাম? আমি কেন মেষ আর গরুর ডাক শুনতে পেলাম?”

15শৌল বললেন, “ওগুলো সৈন্যরা অমালেকীয়দের কাছ থেকে নিয়ে এসেছে। তারা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে হোমবলি হিসেবে উৎসর্গ করবার জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মেষ আর গবাদি পশু প্রদান করেছিল। কিন্তু বাকি সবকিছুই আমরা শেষ করে দিয়েছি।”

16শমূয়েল বলল, “চুপ করো। গত রাত্রে প্রভু আমাকে যা বলেছিলেন শোনো।”

শৌল বললেন, “বেশ, বলো তিনি কি বলেছিলেন।”

17শমূয়েল বলল, “অতীতে তুমি ভাবতে তুমি গুরুত্বহীন ছিলে। কিন্তু পরে তুমি হয়ে গেলে ইস্রায়েলের পরিবারগোষ্ঠীর নেতা। প্রভু ইস্রায়েলের রাজা হিসাবে তোমাকে মনোনীত করেছিলেন। 18প্রভু তোমাকে একটা বিশেষ কাজে পাঠিয়েছিলেন। প্রভু বললেন, ‘যাও, সমস্ত অমালেকীয়দের হত্যা কর। কারণ তারা সবাই পাপী। সবাইকে শেষ করে দাও। তারা নিঃশেষে বিনষ্ট না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাও।’ 19কিন্তু তুমি প্রভুর সে কথা শোন নি। কারণ তুমি জিনিসপত্র নিজের কাছে রেখে দিতে চেয়েছিলে, তাই প্রভুর কথা অনুযায়ী কাজ করো নি। তাঁর মতে যা খারাপ, সেই কাজ তুমি করেছ!”

20শৌল বললেন, “কিন্তু আমি তো প্রভুর কথা পালন করেছি। তিনি আমায় যেখানে যেতে বলেছিলেন সেখানে গিয়েছিলাম। আমি অমালেকীয়দের সবাইকে হত্যা করেছি। কেবলমাত্র একজনকেই আমি এনে রেখেছি। তিনি হচ্ছেন তাদের রাজা, অগাগ। 21আর সৈন্যরা নিয়েছে সেরা মেষ এবং গরু। তাদের বলি দিতে হবে গিল‌্গলে তোমার প্রভু ঈশ্বরের কাছে।”

22শমূয়েল বলল, “কিন্তু প্রভু কিসে সবচেয়ে বেশী খুশী হন? হোমবলিতে না তাঁর আদেশ পালনে? বলির চেয়ে তাঁর আদেশ পালন করাই শ্রেয়। ভেড়ার চর্বি উৎসর্গ করার চেয়ে ঈশ্বরের বাধ্য হওয়া অনেক ভালো। 23ঈশ্বরের অবাধ্যতা করা মায়াবিদ্যার পাপের মতোই খারাপ। একগুঁয়েমি করা এবং তুমি যা চাও তা করা মূর্ত্তি পূজো করার পাপের মতোই ততটা খারাপ। প্রভুর আদেশ তুমি অমান্য করেছ। তাই তিনি তোমাকে রাজা হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করছেন।”

24এর উত্তরে শৌল শমূয়েলকে বললেন, “আমি পাপ করেছি। প্রভুর আদেশ আমি শুনি নি, আপনার কথাও আমি শুনি নি। লোকদের আমি ভয় পাই, তারা যা চায় আমি তাই করেছি। 25আমার এই পাপের জন্য আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি। আমার সঙ্গে ফিরে চলুন, যেন আমি প্রভুকে উপাসনা করতে পারি।”

26শমূয়েল বলল, “না তোমার সঙ্গে যাব না। তুমি প্রভুর আদেশ মানো নি। তাই প্রভুও ইস্রায়েলের রাজা হিসাবে তোমাকে অস্বীকার করেছেন।”

27শমূয়েল যখন যাবার জন্য পা বাড়িয়েছে, এমন সময় শৌল তাঁর পোশাকটি খপ্ করে ধরে ফেললেন এবং সেটি ছিঁড়ে গেল। 28শমূয়েল শৌলকে বলল, “তুমি যেভাবে আমার আলখাল্লা ছিঁড়ে নিয়েছ সেই ভাবেই প্রভু আজ ইস্রায়েল রাজ্য তোমার কাছ থেকে নিয়ে নিয়েছেন। তিনি এই রাজ্য দিয়েছেন তোমারই বন্ধুদের মধ্যে একজনকে। সে তোমার চেয়ে ভাল লোক। 29প্রভু হচ্ছেন ইস্রায়েলের ঈশ্বর। তিনি অমর। তিনি মিথ্যা বলেন না, মত বদলান না। তিনি মানুষের মতো নন। মানুষই ঘন ঘন মত বদলায়।”

30শৌল বললেন, “স্বীকার করছি, আমি পাপ করেছি। কিন্তু দয়া করে আমার সঙ্গে ফিরে আসুন। প্রবীণদের এবং ইস্রায়েলের লোকদের সামনে আমার সম্মান রাখুন যেন আমি আপনার প্রভু ও ঈশ্বরকে প্রণাম করতে পারি।” 31শমূয়েল শৌলের সঙ্গে ফিরে এলে শৌল প্রভুকে উপাসনা করলেন।

32শমূয়েল বলল, “অমালেকীয়দের রাজা অগাগকে আমার কাছে নিয়ে এসো।”

অগাগ শমূয়েলের কাছে এল। তাকে শিকল দিয়ে বাঁধা হয়েছিল। অগাগ মনে করল, “সে নিশ্চয়ই আমাকে মেরে ফেলবে না।”

33কিন্তু শমূয়েল অগাগকে বলল, “তোমার তরবারি কত মায়ের কোল খালি করেছে। এবার তোমার মায়েরও সেই দশা হবে।” এই বলে শমূয়েল গিল‌্গলে প্রভুর সামনে অগাগকে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলল।

34তারপর শমূয়েল রামাতে চলে গেল। শৌল গিবিয়ায় তাঁর বাড়িতে চলে গেলেন। 35এরপর শমূয়েল তার জীবনে আর কখনও শৌলকে দেখতে পায় নি। সে শৌলের জন্যে খুব দুঃখ বোধ করল। এমনকি প্রভুও শৌলকে ইস্রায়েলের রাজা করেছিলেন বলে খুব দুঃখ পেয়েছিলেন।

16

শমূয়েল বৈৎ‌লেহমে গেল

1প্রভু শমূয়েলকে বললেন, “শৌলের জন্য আর কতদিন তুমি দুঃখ বোধ করবে? শৌলকে আমি ইস্রায়েলের রাজা হিসাবে অস্বীকার করেছি একথা তোমাকে বলবার পরও তুমি ওর জন্য দুঃখ করছ। শিঙায় তেল ভর্ত্তি করে বৈৎ‌লেহেমে যাও। তোমাকে আমি একজনের কাছে পাঠাচ্ছি। তার নাম যিশয়। ও বৈৎ‌লেহমেই থাকে। তারই একজন পুত্রকে আমি নতুন রাজা হিসাবে মনোনীত করেছি।”

2তখন শমূয়েল বলল, “আমি যদি যাই তবে শৌল জানতে পারবে। তখন সে আমায় হত্যা করতে চাইবে।”

প্রভু বললেন, “তুমি বৈৎ‌লেহমে যাও। সঙ্গে একটা বাছুরকে নিও। তুমি বলবে, ‘আমি প্রভুর কাছে একে বলি দিতে এসেছি।’ 3যিশয়কে এই বলি দেখতে আমন্ত্রণ জানাবে। তারপর কি করবে আমি বলে দেব। যাকে আমি দেখিয়ে দেব তার মাথায় জলপাই তেল ঢেলে দিও।”

4প্রভুর কথামতো শমূয়েল যা যা করার করল। সে বৈৎ‌লেহমে চলে গেল। সেখানকার প্রবীণরা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে এল। শমূয়েলের সঙ্গে দেখা করে তারা বলল, “আপনি কি শান্তির ভাব নিয়ে এসেছেন?”

5শমূয়েল জবাব দিল, “হ্যাঁ, আমি শান্তির ভাব নিয়েই এসেছি। আমি প্রভুর কাছে একটা বলি দিতে এসেছি। তোমরা তৈরী হও। আমার সঙ্গে বলিদানে এসো।” শমূয়েল যিশয় আর তার পুত্রদের প্রস্তুত করে বলিদানের অনুষ্ঠান দেখবার জন্য ডেকে আনল।

6যিশয় তার পুত্রদের নিয়ে পৌঁছলে শমূয়েল ইলিয়াবকে দেখতে পেল। শমূয়েল ভাবল, “এই সেই যাকে প্রভু বিশেষভাবে পছন্দ করেছেন।”

7কিন্তু প্রভু শমূয়েলকে বললেন, “ইলীয়াব লম্বা আর সুন্দর দেখতে হলেও এভাবে ব্যাপারটা দেখো না। লোকে যেভাবে কোন জিনিস দেখে বিচার করে ঈশ্বর সেভাবে করেন না। লোকরা মানুষের বাইরের রূপটাই দেখে, কিন্তু ঈশ্বর দেখেন তার অন্তরের রূপ। সেদিক থেকে ইলীয়াব উপযুক্ত লোক নয়।”

8তখন যিশয় তার দ্বিতীয় পুত্র অবীনাদবকে ডাকলো। অবীনাদব শমূয়েলের পাশ দিয়ে হেঁটে গেল। শমূয়েল বলল, “না একেও প্রভু মনোনীত করেন নি।”

9একথা শুনে যিশয় শম্মকে শমূয়েলের পাশে আসতে বলল। শমূয়েল বলল, “না এও চলবে না।”

10যিশয় শমূয়েলকে তার সাত পুত্রকে দেখাল। শমূয়েল বলল, “প্রভু এদের একজনকেও মনোনীত করেন নি।”

11শমূয়েল বলল, “তোমার পুত্র বলতে এরাই কি সব?”

যিশয় বলল, “না আমার আরেকটা পুত্র আছে। সে সবচেয়ে ছোট, কিন্তু সে এখন মেষ চরাচ্ছে।”

শমূয়েল বলল, “তাকে ডেকে নিয়ে এসো। সে না আসা পর্যন্ত আমরা কেউ খেতে বসব না।”

12যিশয় একজনকে পাঠালো তার ছোট ছেলেটিকে ডেকে আনতে। তার ছোট ছেলেটি দেখতে ভাল, রক্ত বর্ণের যুবক।

প্রভু শমূয়েলকে বলল, “এই তো সেই ছেলে। ওঠো, একে অভিষেক করো।”

13শমূয়েল তেল ভর্ত্তি শিঙাটা নিয়ে যিশয়ের সব চেয়ে ছোট ছেলেটার মাথায় ঢেলে দিল। তার ভাই়রা এই ঘটনা দেখল। সেদিন থেকেই প্রভুর আত্মা মহাশক্তিতে দায়ূদের ওপর এল। এরপর শমূয়েল রামায় ফিরে এল।

একটি দুষ্ট আত্মা শৌলকে বিরক্ত করল

14প্রভুর আত্মা শৌলকে ছেড়ে চলে গেলেন। তখন শৌলের কাছে প্রভু এক দুষ্ট আত্মা পাঠালেন। এর ফলে তিনি বেশ মুশকিলে পড়লেন। 15শৌলের ভৃত্যরা তাঁকে বলল, “ঈশ্বরের কাছ থেকে এক দুষ্ট আত্মা এসে আপনাকে উদ্বিগ্ন করছে। 16যদি আপনি আদেশ করেন তাহলে একজন বীণা বাজিয়েকে খুঁজে আনি। প্রভুর কাছ থেকে দুষ্ট আত্মা এলে সে বীণা বাজাবে। তখন আপনি বেশ ভালো বোধ করবেন।”

17শৌল বললেন, “তাহলে একজন ভালো বাজিয়েকে আমার কাছে নিয়ে এসো।”

18একজন ভৃত্য বলল, “যিশয় নামে এক ব্যক্তি আছেন যিনি বৈৎ‌লেহমে বাস করেন। আমি যিশয়ের পুত্রকে দেখেছি সে বীণা বাজাতে জানে। সে সাহসী এবং যুদ্ধ করতেও জানে। সে চতুর, দেখতেও সুন্দর। স্বয়ং প্রভু তার সহায়।”

19তাই শৌল যিশয়ের কাছে কয়েকজন দূত পাঠাল। তারা যিশয়কে বলল, “তোমার দায়ূদ নামে একজন পুত্র আছে, সে তোমার মেষদের দেখাশোনা করে। ওকে আমাদের কাছে ডেকে আনো।”

20যিশয় শৌলের জন্য কিছু উপহার জোগাড় করলো। যিশয় একটা গাধা, কিছু রুটি, এক বোতল দ্রাক্ষারস আর একটা কচি ছাগল দায়ূদের হাতে করে শৌলের কাছে পাঠালো। 21দায়ূদ শৌলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে শৌল দায়ূদকে খুব ভালবেসে ফেললেন। দায়ূদ শৌলের সহকারী হয়ে শৌলের অস্ত্র বইতে লাগল। 22শৌল যিশয়ের কাছে খবর পাঠিয়ে জানিয়ে দিলেন, “দায়ূদ এখানেই থাকুক, আমার কাজকর্ম করুক। আমার ওকে খুব ভাল লেগেছে।”

23যখনই ঈশ্বর হতে শৌলের ওপর দুষ্ট আত্মা আসত, তখন দায়ূদ বীণা তুলে নিয়ে বাজাতেন। সঙ্গে সঙ্গে দুষ্ট আত্মা শৌলকে ছেড়ে যেত, আর তিনি আরাম বোধ করতেন।

17

গলিয়াৎ‌ ইস্রায়েলকে যুদ্ধে আহ্বান করল

1পলেষ্টীয়রা যুদ্ধের জন্যে সৈন্য জড়ো করতে লাগল। যিহূদার সোখোতে তারা জড়ো হল। সোখোর আর অসেকার মাঝখানে তাদের তাঁবু পড়লো। জায়গাটা ছিল এফস্দম্মীম নামে একটা শহরে।

2শৌল এবং ইস্রায়েলের সৈন্যরা একত্র হল। এলা উপত্যকায় তাদের তাঁবু পড়ল। শৌলের সৈন্যরা পলেষ্টীয়দের সঙ্গে যুদ্ধের জন্যে তৈরী হল। 3পলেষ্টীয়রা একটা পাহাড়ে, ইস্রায়েলীয়রা আর একটাতে। উপত্যকাটা এই দুটো পাহাড়ের মাঝখানে।

4পলেষ্টীয়দের মধ্যে একজন বিজয়ী যোদ্ধা ছিল। তার নাম গলিয়াৎ‌। সে গাৎ‌ থেকে এসেছিল। তার দেহ বিশাল লম্বা ছিল। 9 ফুটেরও বেশী। পলেষ্টীয় শিবির থেকে সে বেরিয়ে এলো। 5তার মাথায় পিতলের শিরস্ত্রাণ। গায়ে মাছের আঁশের মতো দেখতে একটা বর্ম, সেটা ছিল পিতলের তৈরী, ওজন প্রায় 125 পাউণ্ড। 6গলিয়াতের পায়েও ছিল পিতলের বর্ম। তার পিঠে ছিল পিতলের বর্শা। 7তার বর্শার কাঠের দণ্ডটা ছিল তাঁতির লাঠির মতো লম্বা। বর্শার ফলকের ওজন 15 পাউণ্ড। গলিয়াতের ঢাল নিয়ে তার সহকারী আগে আগে হাঁটত।

8প্রত্যেকদিন গলিয়াৎ‌ বেরিয়ে এসে ইস্রায়েলীয় সৈন্যদের দিকে যুদ্ধের হুঙ্কার দিয়ে বলত, “কেন তোমরা যুদ্ধের জন্য সারবন্দি দাঁড়িয়ে? তোমরা শৌলের ভৃত্য। আমি একজন পলেষ্টীয়। একজনকে তোমরা বেছে নাও, তাকে আমার সঙ্গে লড়বার জন্য পাঠিয়ে দাও। 9যদি সে আমাকে হত্যা করে তাহলে আমরা পলেষ্টীয়রা সকলেই তোমাদের ক্রীতদাস হব। কিন্তু আমি যদি তাকে হত্যা করি, তাহলে তোমাদের সবাইকে আমাদের ক্রীতদাস হতে হবে এবং আমাদের সেবা করতে হবে।”

10পলেষ্টীয়রা আরো বলল, “এই আমি এখানে দাঁড়িয়ে ইস্রায়েলীয় সৈন্যদের নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করছি। সাহস থাকে তো একজনকে পাঠিয়ে দাও। আমার সঙ্গে হয়ে যাক এক হাত লড়াই।”

11শৌল এবং ইস্রায়েলীয় সৈন্যরা গলিয়াতের এইসব আস্ফালন শুনে বেশ ভয় পেয়ে গেল।

দায়ূদ যুদ্ধ ক্ষেত্রে গেলেন

12দায়ূদ ছিলেন যিশয়ের পুত্র। যিশয় যিহূদার বৈৎ‌লেহমে ইফ্রাথা বংশের লোক। তার আট জন পুত্র ছিল। শৌলের আমলে যিশয় বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। 13যিশয়ের প্রথম তিনটি পুত্র শৌলের সঙ্গে যুদ্ধে গিয়েছিল। প্রথম পুত্রের নাম ইলীয়াব। দ্বিতীয় জনের নাম অমীনাদব, তৃতীয় জনের নাম শম্ম। 14সবচেয়ে যে ছোট তার নাম দায়ূদ। ওঁর তিন দাদা শৌলের সৈন্যদলে যোগ দিয়েছিল। 15কিন্তু দায়ূদ মাঝে মধ্যেই শৌলকে ছেড়ে বৈৎ‌লেহমে তাঁর পিতার কাছে চলে যেতেন। সেখানে তিনি মেষগুলোর দেখাশুনা করতেন।

16সেই পলেষ্টীয় (গলিয়াৎ‌) প্রতিদিন সকালে আর সন্ধ্যায় বেরিয়ে এসে ইস্রায়েলীয় সৈন্যদের সামনে দাঁড়িয়ে হাসি মস্করা করত। এইভাবে 40 দিন কেটে গেল।

17একদিন যিশয় তাঁর পুত্র দায়ূদকে বললেন, “এক ঝুড়ি ভাজা শস্য আর দশটা গোটা পাঁউরুটি নিয়ে শিবিরে তোমার দাদাদের কাছে যাও। 18তাছাড়া দশ টুকরো পনিরও নিয়ে যেও। তোমাদের দাদারা যার অধীনে যুদ্ধ করছে সেই সেনাপতিকে এটা দেবে। সে 1000 জন সৈন্যের সেনাপতি। তোমার ভাইদের কুশল সংবাদ নাও। ওরা যে ভাল আছে সে রকম কিছু চিহ্ন নিয়ে এসো। 19তোমার ভাইরা এলা উপত্যকায় শৌল আর ইস্রায়েলীয় সৈন্যদের সঙ্গে রয়েছে। তারা সেখানে পলেষ্টীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য রয়েছে।”

20যিশয়ের কথা মতো ভোরবেলায় দায়ূদ একজন রাখালের ওপর মেষগুলো দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে খাবার দাবার নিয়ে চলে গেলেন। দায়ূদ শিবিরে ঠেলাগাড়ী চালিয়ে নিয়ে গেলেন। সেখানে পৌঁছে তিনি দেখলেন সৈন্যরা যুদ্ধের জন্য বেরিয়ে যাচ্ছে। ওরা সিংহনাদ দিতে থাকল। 21ইস্রায়েলীয়রা ও পলেষ্টীয়রা সারিবদ্ধ হয়েছিল এবং যুদ্ধের জন্য তৈরী হয়েছিল।

22যে খাবার-দাবার যোগান দেয় তার কাছে সব কিছু রেখে দিয়ে দায়ূদ বেরিয়ে পড়লেন। যেদিকে ইস্রায়েলীয় সৈন্যরা দাঁড়িয়েছিল, সেদিকে তিনি দ্রুত চলে গেলেন। সেখানে গিয়ে তিনি দাদাদের খোঁজ খবর নিলেন। 23তারপর ওদের সঙ্গে দেখা করে দায়ূদ কথা বলতে লাগলেন। তারপর গাতের সেরা যোদ্ধা গলিয়াৎ‌ তাঁবু থেকে বেরিয়ে এলো এবং যথারীতি ইস্রায়েলীয়দের বিরুদ্ধে গর্জাতে লাগল। তার কথাগুলো দায়ূদ সবই শুনলেন।

24গলিয়াতকে দেখে ইস্রায়েলীয় সৈন্যরা ভয় পেয়ে পালিয়ে গেল। 25একজন ইস্রায়েলীয় বলল, “লোকটাকে দেখেছ? একবার ওর দিকে দেখ। গলিয়াৎ‌ বারবার বেরিয়ে আসছিল এবং ইস্রায়েলকে নিয়ে মজা করছিল। যে ওকে মেরে ফেলবে তাকে রাজা শৌল প্রচুর টাকা পয়সা দেবে। গলিয়াতকে যে হত্যা করবে, তার সঙ্গে শৌল তার কন্যার বিয়ে দেবে। শুধু তাই নয়, শৌল তার পরিবারকে ইস্রায়েলে স্বাধীন+ 17:25 ইস্রায়েলে স্বাধীন সম্ভবতঃ এর অর্থ রাজার চাপিয়ে দেওয়া কর এবং কঠিন পরিশ্রমের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া। হয়ে থাকতে দেবে।”

26কাছে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটিকে দায়ূদ জিজ্ঞাসা করলেন, “ও কি বলছে? পলেষ্টীয়কে হত্যা করলে, এবং ইস্রায়েলীয়দের লজ্জা মুছে দিতে পারলে কি পুরস্কার দেওয়া হবে? গলিয়াৎ‌ লোকটা কে? সে তো একজন বিদেশী ছাড়া কেউ নয়। সে একজন পলেষ্টীয় এই যা। সে কি করে ভাবতে পারল যে জীবন্ত ঈশ্বরের সৈন্যদের বিরুদ্ধে গালমন্দ করতে পারে?”

27একথা শুনে ইস্রায়েলীয়রা গলিয়াতকে মারলে কি পুরস্কার পাওয়া যাবে সেসব দায়ূদকে জানাল। 28দায়ূদের বড়দা ইলীয়াব যখন শুনলো দায়ূদ সৈন্যদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছে, তখন সে রেগে গেল। সে দায়ূদকে বলল, “তুমি এখানে কেন? কার হাতে তুমি মরুভূমি অঞ্চলে মেষগুলোর দেখাশুনার দায়িত্ব দিয়ে এলে? কেন এখানে এসেছ সেকি আমি জানি না ভেবেছ? তোমাকে যা বলা হয়েছিল সেগুলো তুমি করতে চাও না। তুমি শুধু যুদ্ধ দেখবার জন্যই এখানে আসতে চেয়েছ।”

29দায়ূদ বললেন, “আমি কি করেছি? আমি তো কোন অন্যায় করি নি, শুধু কথা বলছিলাম মাত্র।” 30এই কথা বলে দায়ূদ অন্যান্য লোকের দিকে ফিরে সেই একই কথা জিজ্ঞেস করলেন। তারা তাঁকে আগের মত ঐ একই উত্তর দিল।

31কয়েক জন লোক দায়ূদকে কথা বলতে দেখল। তারা দায়ূদকে শৌলের কাছে নিয়ে গেলো। শৌলকে তারা বলল, দায়ূদ কি বলেছিল। 32দায়ূদ শৌলকে বললেন, “লোকরা যেন গলিয়াতকে নিরুৎসাহিত করে না দেয়। আমি তোমার ভৃত্য। আমি এই পলেষ্টীয়ের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই।”

33শৌল বললেন, “তুমি তা করতে পারো না। তুমি তো একজন সৈনিকও নও।+ 17:33 তুমি তো … নও অথবা “তুমি একজন বালক মাত্র।” হিব্রুতে “বালক” শব্দের অর্থ “ভৃত্য” অথবা “একটি ব্যক্তি যে একজন সৈন্যর অস্ত্র-শস্ত্র বহন করে।” আর গলিয়াৎ‌ তো ছোটবেলা থেকেই যুদ্ধ করছে।”

34তখন দায়ূদ শৌলকে বললেন, “আমি তোমার ভৃত্য, পিতার মেষগুলোর দেখাশুনা করছিলাম। একটা সিংহ আর একটা ভাল্লুক পাল থেকে একটা মেষ নিয়ে গেল। 35আমি ঐ জন্তুটার পেছনে ধাওয়া করে ওটার মুখ থেকে মেষটাকে টেনে বার করে নিয়ে এলাম। জন্তুটা আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তখন আমি ওর দাড়ি ধরে টেনে জোরে এমন আঘাত করলাম যে সেটা মরে গেল। 36একটা সিংহ আর একটা ভাল্লুককে আমি শেষ করে দিয়েছি। এরপর আমি এই বিদেশী গলিয়াতকে ওদের মতোই হত্যা করব। গলিয়াৎ‌ মরবেই কারণ সে জীবন্ত ঈশ্বরের সৈন্যবাহিনীকে নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করেছে। 37প্রভু আমাকে সিংহ আর ভাল্লুকের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। এই পলেষ্টীয়দের হাত থেকে তিনি আমায় রক্ষা করবেন।”

শৌল দায়ূদকে বললেন, “তবে যাও। প্রভু তোমার সহায় হোন।” 38এই বলে শৌল তাঁর পোশাক দায়ূদকে পরিয়ে দিলেন। ওর মাথায় চড়িয়ে দিলেন পিতলের শিরস্ত্রাণ আর দেহে দিলেন পিতলের বর্ম। 39দায়ূদ কোমরে তরবারি নিলেন। একটু ঘুরে ফিরে বেড়িয়ে দেখলেন সব ঠিক আছে কি না। তিনি শৌলের পোশাকটা পরার চেষ্টা করলেন কিন্তু তিনি এমন ভারী জিনিস পরতে অভ্যস্ত ছিলেন না।

তাই তিনি শৌলকে বললেন, “আমি এইসব জিনিস নিয়ে লড়াই করতে পারব না। আমি ওগুলোতে অভ্যস্ত নই।” তারপর তিনি ওগুলো সব খুলে ফেললেন। 40তারপর তিনি তাঁর বেড়ানোর ছড়িটা হাতে নিয়ে নদীর ধারে গিয়ে পাঁচটা নিটোল নুড়ি পাথর তুলে নিলেন। সেগুলো তিনি মেষপালকের থলেতে রাখলেন। হাতে গুলতি নিয়ে গেলেন গলিয়াতের মুখোমুখি হতে।

দায়ূদ গলিয়াতকে হত্যা করলেন

41পলেষ্টীয় ধীরে ধীরে দায়ূদের দিকে এগিয়ে এলো। গলিয়াতের অস্ত্রবাহক ঢাল নিয়ে ওর আগে-আগে চললো। 42দায়ূদকে দেখে গলিয়াৎ‌ হাসলো। সে দেখল দায়ূদ ঠিক সৈন্য নয়, কিন্তু লাল মুখো একজন সুদর্শন বালক। 43গলিয়াৎ‌ দায়ূদকে জিজ্ঞাসা করল, “এই লাঠিটা কিসের জন্য? তুমি কি এটা দিয়ে কুকুরের মতো আমায় তাড়াবে?” এই বলে সে তার দেবতাদের নাম নিয়ে দায়ূদকে গালমন্দ করতে লাগল। 44গলিয়াৎ‌ বলল, “আয় তোর দেহটাকে নিয়ে পাখি আর জানোয়ারদের খাওয়াই।”

45দায়ূদ পলেষ্টীয়কে বললেন, “তুমি তো তরবারি, বর্শা, বল্লম নিয়ে আমার কাছে এসেছ। কিন্তু আমি এসেছি সর্বশক্তিমান প্রভুর নাম নিয়ে। এই প্রভুই ইস্রায়েলীয় সৈন্যদের ঈশ্বর। তুমি তাঁকে নিয়ে অনেক অকথা কুকথা বলেছ। 46আজ প্রভুর দয়ায় আমি তোমাকে পরাজিত করব। তোমাকে আজ আমি হত্যা করব। তোমার মুণ্ড কেটে নিয়ে জন্তু জানোয়ারদের আর পাখীদের খাওয়াব। শুধু তুমি নয়, সব পলেষ্টীয়দের ঐ একই অবস্থা করব। তখন পৃথিবীর সমস্ত মানুষ জানবে, ইস্রায়েলে একজন ঈশ্বর আছেন। 47এখানে যারা এসেছে তারা সবাই জানবে যে মানুষকে বাঁচাতে প্রভুর কোন তরবারি বা বল্লমের দরকার হয় না। এটাতো প্রভুরই যুদ্ধ। পলেষ্টীয়দের হারাতে প্রভুই আমাদের সহায়ক।”

48গলিয়াৎ‌ দায়ূদকে আক্রমণ করতে উদ্যত হল। সে একটু একটু করে দায়ূদের কাছে ঘেঁষে এল। তখন দায়ূদ ওর দিকে ছুটে গেলেন।

49দায়ূদ থলে থেকে একটা পাথর বের করলেন। সেটাকে তাঁর গুলতির মধ্যে রেখে তিনি ছুঁড়লেন। গুলতি থেকে পাথরটি ছিটকে গিয়ে একেবারে গলিয়াতের দু চোখের মাঝখানে পড়ে ওর মাথার ভেতর অনেকখানি ঢুকে গেল। গলিয়াৎ‌ মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে গেল।

50এইভাবে শুধু একটা গুলতি আর একটি পাথর দিয়েই দায়ূদ এই পলেষ্টীয়কে হারিয়ে দিলেন এবং আঘাত করে মেরে ফেললেন। দায়ূদের হাতে কোন তরবারি ছিল না। 51তাই দায়ূদ গলিয়াতের শরীরের কাছে দৌড়ে গেলেন। তিনি গলিয়াতের তরবারির খাপ থেকে তরবারি বার করে গলিয়াতের মুণ্ড কেটে ফেললেন। এইভাবেই তিনি গলিয়াতকে হত্যা করলেন।

তাদের নায়ককে মৃত দেখে অন্যান্য পলেষ্টীয়রা দৌড় লাগাল। 52ইস্রায়েলীয়রা আর যিহূদার সৈন্যরা হৈ-হৈ করতে করতে পলেষ্টীয়দের তাড়া করল। এইভাবে তারা ধাওয়া করল গাৎ‌ শহরের সীমানা আর ইক্রোণের ফটক পর্যন্ত। তারা অনেক পলেষ্টীয়কে হত্যা করল। শারাইমের রাস্তা ধরে গাৎ‌ আর ইক্রোণ পর্যন্ত তাদের মৃতদেহ ছড়িয়ে পড়েছিল। 53পলেষ্টীয়দের তাড়িয়ে নিয়ে যাবার পর ইস্রায়েলীয়রা পলেষ্টীয়দের শিবিরে ফিরে এসে অনেক জিনিসপত্র লুঠ করল।

54গলিয়াতের মুণ্ড নিয়ে দায়ূদ জেরুশালেমে চলে এলেন। তিনি গলিয়াতের অস্ত্রশস্ত্রগুলো নিজের তাঁবুতে রেখে দিলেন।

শৌল দায়ূদকে ভয় পেতে লাগলেন

55শৌল দায়ূদকে গলিয়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে দেখলেন। সেনাপতি অবনেরকে শৌল জিজ্ঞাসা করলেন, “অব্নের, এ বালকটির পিতা কে বলো তো?”

অব্নের বলল, “দিব্য করে বলছি, আমি জানি না.”

56রাজা শৌল বললেন, “ওর পিতাকে খুঁজে বার করো।”

57গলিয়াতকে হত্যা করে দায়ূদ যখন ফিরে এলেন তখন অবনের তাকে শৌলের কাছে নিয়ে এলো। দায়ূদের হাতে তখন গলিয়াতের কাটা মুণ্ড।

58শৌল দায়ূদকে জিজ্ঞাসা করলেন, “যুবক তোমার পিতা কে?”

দায়ূদ উত্তর দিলেন, “আমি আপনার ভৃত্য বৈৎ‌লেহমের যিশয়ের পুত্র।”

18

দায়ূদ ও যোনাথনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব

1 শৌলের সঙ্গে দায়ূদের কথাবার্তার পর শৌল দায়ূদের বেশ অন্তরঙ্গ হয়ে উঠলেন। তিনি নিজেকে যতটা ভালবাসতেন, দায়ূদকেও ততটা ভালবেসেছিলেন। সে দিন থেকে, শৌল দায়ূদকে তাঁর কাছে রেখে দিলেন। তিনি দায়ূদকে তাঁর পিতার কাছে ফিরে যেতে দিলেন না। 3যোনাথন দায়ূদকে খুব ভালবাসত। সে দায়ূদের সঙ্গে একটা চুক্তি করল। 4যোনাথন নিজের গা থেকে কোট খুলে দায়ূদকে দিল। তার পোশাকও সে দায়ূদকে দিয়ে দিল। এমন কি সে তার ধনুক, তরবারি ও কোমরবন্ধও ওঁকে দিয়ে দিল।

শৌল দায়ূদের সাফল্য লক্ষ্য করলেন

5শৌল দায়ূদকে নানা জায়গায় যুদ্ধ করতে পাঠালেন। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই দায়ূদ ভালভাবেই সফল হলেন। তারপর শৌল তাঁকে সৈন্যদের অধিনায়ক করে দিলেন। এতে সকলেই খুশী হল, এমনকি শৌলের সৈন্যবাহিনীর পদস্থ কর্মীরাও। 6দায়ূদ পলেষ্টীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলেন। যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে ইস্রায়েলের প্রতিটি শহর থেকে মেয়েরা তাঁকে দেখবার জন্য বেরিয়ে এল। তারা তবলা ও বীণা বাজিয়ে আনন্দ উল্লাস করল এবং নাচল। তারা এসব শৌলের সামনেই করল। 7স্ত্রীলোকরা গাইল,

“শৌল বধিলেন শত্রু হাজারে হাজারে,

আর দায়ূদ বধিলেন অযুতে অযুতে।”

8তাদের এই গান শুনে শৌলের মন খারাপ হয়ে গেল। তিনি খুব রেগে গেলেন। তিনি ভাবলেন, “স্ত্রীলোকরা ভাবছে যে দায়ূদ লাখে লাখে শত্রু বধ করছে আর আমি মেরেছি কেবল হাজারে হাজারে। রাজত্ব ছাড়া আর কি সে পেতে পারে?” 9এরপর সেই দিন থেকে শৌল দায়ূদকে খুব সতর্কভাবে লক্ষ্য করতে লাগলেন।

শৌল দায়ূদকে ভয় পেলেন

10ঈশ্বরের কাছ থেকে এক দুষ্ট আত্মা এসে পরদিন শৌলের ওপর ভর করল। শৌল বাড়িতে প্রলাপ বকতে লাগলেন। দায়ূদ রোজকার মত বীণা বাজালেন। 11কিন্তু শৌলের হাতে বর্শা ছিল। তিনি মনে মনে ভাবলেন, “আমি দায়ূদকে দেওয়ালের সঙ্গে গেঁথে দেব।” তিনি দু-দুবার দায়ূদের দিকে বর্শা ছুঁড়েও দিলেন। কিন্তু দুবারই দায়ূদ নিজেকে বাঁচিয়েছিলেন।

12প্রভু দায়ূদের সহায় ছিলেন। তিনি শৌলকে ত্যাগ করেছিলেন। শৌল তাই দায়ূদকে ভয় করতেন। 13তিনি দায়ূদকে তাঁর কাছ থেকে দূর করে দিলেন। শৌল তাঁকে 1000 সৈন্যের অধিনায়ক করেছিলেন। দায়ূদ যুদ্ধে তাঁদের নেতৃত্ব দিলেন। 14প্রভু ছিলেন দায়ূদের সহায়। তাই দায়ূদ সব কাজেই সফল হতেন। 15শৌল দায়ূদের সাফল্য দেখতে দেখতে দায়ূদকে আরও বেশী ভয় করতে লাগলেন। 16কিন্তু ইস্রায়েল ও যিহূদার সমস্ত লোক দায়ূদকে ভালোবাসত। কারণ দায়ূদ তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যেতেন এবং তাদের হয়ে যুদ্ধ করতেন।

শৌল তাঁর কন্যার সঙ্গে দায়ূদের বিয়ে দিতে চাইলেন

17এদিকে শৌল দায়ূদকে মারতে চান। তিনি একটা মতলব আঁটলেন। তিনি দায়ূদকে বললেন, “আমার বড় মেয়ের নাম মেরব। তুমি তাকে বিয়ে কর। তাহলে তুমি আরও শক্তিশালী সৈন্য হতে পারবে। তুমি আমার পুত্রের মতো হবে। প্রভুর জন্য সব যুদ্ধক্ষেত্রে তুমি যুদ্ধ করবে!” এসব ছিল শৌলের ছল চাতুরি। আসলে তিনি ভেবেছিলেন, “আমাকে আর দায়ূদকে মারতে হবে না। পলেষ্টীয়দেরই এগিয়ে দেব আমার হয়ে ওকে মারবার জন্য।”

18দায়ূদ বললেন, “আমি খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ পরিবার থেকে আসি নি। আমি কোন গণ্যমান্য ব্যক্তি নই। আমি রাজকন্যাকে বিয়ে করার যোগ্য নই।”

19তাই দায়ূদের সঙ্গে শৌলের কন্যা মেরবের বিয়ের সময় হলে শৌল মহোলা দেশের অদ্রীয়েলের সঙ্গে তার বিয়ে দিলেন।

20শৌলের আরেকটি কন্যা মীখল দায়ূদকে ভালবাসত। লোকরা শৌলকে জানাল, মীখল দায়ূদকে ভালবাসে। শৌল শুনে খুশী হলেন। 21শৌল চিন্তা করলেন, “আমি এবার মীখলকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করব। আমি দায়ূদের সঙ্গে ওর বিয়ে দেব। তারপর পলেষ্টীয়রা ওকে মেরে ফেলবে।” এই ভেবে তিনি দায়ূদকে দ্বিতীয় বার বললেন, “আমার কন্যাকে তুমি আজই বিয়ে করো।”

22শৌল তাঁর পদস্থ কর্মচারীদের দায়ূদের সঙ্গে আলাদা করে গোপনভাবে কথা বলতে আদেশ দিলেন। তাকে বলবে, “রাজার তোমাকে খুব পছন্দ হয়েছে। তাঁর উচ্চপদস্থ কর্মচারীরাও তোমাকে পছন্দ করে। রাজার কন্যাকে তুমি বিয়ে করো।”

23আধিকারিকরা দায়ূদকে সেইমত সব কিছু বলল। দায়ূদ বললেন, “তুমি কি মনে কর রাজার জামাতা হওয়া সোজা কথা? রাজকন্যার উপযুক্ত টাকাপয়সা খরচ করার সাধ্য আমার নেই। আমি নেহাত একজন সামান্য গরীব ছেলে।”

24তারা শৌলকে দায়ূদের উত্তর জানাল। 25শৌল তাদের বললেন, “তোমরা দায়ূদকে বলবে, ‘দায়ূদ, রাজকন্যার বিয়েতে কোন টাকপয়সা নেবেন না। শৌল তাঁর শত্রুদের শায়েস্তা করতে চান। তাই কনের দাম হবে 100 পলেষ্টীয়ের লিঙ্গত্বক,’” এটাই ছিল শৌলের গোপন মতলব। সে ভেবেছিল এর ফলে পলেষ্টীয়রা তাকে হত্যা করবে।

26শৌলের আধিকারিকরা দায়ূদকে এ সম্বন্ধে জানাল। দায়ূদ রাজার জামাতা হবার সুযোগ পেয়ে খুশী হলেন। সেই জন্যই তিনি সঙ্গে সঙ্গে কিছু করতে চাইলেন। 27দায়ূদ তাঁর লোকদের নিয়ে পলেষ্টীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গেলেন। তিনি 200 জন পলেষ্টীয়কে হত্যা করলেন। আর তাদের লিঙ্গত্বক শৌলকে উপহার দিলেন। তাঁকে রাজার জামাতা হবার জন্য, এই মূল্য দিতে হল।

শৌলের কন্যা মীখলের সঙ্গে দায়ূদের বিয়ে হয়ে গেল। 28শৌল বুঝতে পারলেন, প্রভু দায়ূদের সহায়। তিনি বুঝতে পারলেন মীখল দায়ূদকে ভালবাসে। 29তাই শৌল দায়ূদকে আরও বেশী ভয় পেয়ে গেলেন এবং সারাজীবন তাঁর শত্রু হিসেবে রয়ে গেলেন।

30পলেষ্টীয় সেনাপতিরা ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করতেই থাকল। কিন্তু প্রতিবারই দায়ূদ তাদের যুদ্ধে হারিয়ে দিলেন। এইভাবে তিনি শৌলের সবচেয়ে সেরা অধিকর্তা হয়ে উঠলেন। দায়ূদ বেশ বিখ্যাত হয়ে গেলেন।

19

যোনাথন দায়ূদকে সাহায্য করল

1শৌল তাঁর পুত্র যোনাথনকে এবং আধিকারিকদের দায়ূদকে হত্যা করবার আদেশ দিলেন। কিন্তু যোনাথন দায়ূদকে ভালবাসত। 2 যোনাথন দায়ূদকে সাবধান করে বলল, “সাবধান! শৌল তোমাকে মারবার সুযোগ খুঁজছে। সকাল বেলা মাঠে গিয়ে লুকিয়ে থেকো। আমি পিতাকে নিয়ে সেই মাঠে আসব এবং তুমি যেখানে লুকিয়ে থাকবে তার কাছে গিয়ে দাঁড়াব। আমি তোমার ব্যাপারে পিতার সঙ্গে কথা বলব। তারপর আমি কি জানলাম তা তোমাকে জানাব।”

4পিতার সঙ্গে যোনাথন কথা বলতে লাগল। সে দায়ূদের গুণগান করল। সে পিতাকে বলল, “তুমি হচ্ছ রাজা। দায়ূদ তোমার দাস। সে তোমার কোন ক্ষতি করে নি, সুতরাং তার প্রতি তুমি অন্যায় ব্যবহার করো না। সে তো সর্বদা তোমার ভালই করেছে। 5পলেষ্টীয়কে হত্যা করতে গিয়ে সে তার জীবন বিপন্ন করেছিল। আর প্রভু ইস্রায়েলীয়দের জন্য মহাবিজয় এনেছিলেন। তুমি স্বচক্ষে এসব দেখেছিলে, তুমি খুশিও হয়েছিলে। তাহলে কেন তুমি দায়ূদকে মারতে চাও? সে নির্দোষ। তাকে মেরে ফেলার কোন কারণই দেখছি না।”

6শৌল যোনাথনের কথা শুনলেন। শুনে তিনি প্রতিজ্ঞা করে বললেন, “যেমন প্রভুর অস্তিত্ব নিশ্চিত তেমনই নিশ্চিত হও যে দায়ূদকে হত্যা করা হবে না।”

7যোনাথন দায়ূদকে ডেকে সব বলল। সে দায়ূদকে শৌলের কাছে ডেকে আনল। তাই দায়ূদ আগের মতই শৌলের কাছে থেকে গেলেন।

শৌল আবার দায়ূদকে হত্যা করতে চাইলেন

8আবার যুদ্ধ শুরু হল। দায়ূদ পলেষ্টীয়দের সঙ্গে লড়তে গেলেন। তিনি তাদের হারিয়ে দিলেন। তারা পালিয়ে গেল। 9কিন্তু প্রভুর কাছ থেকে এক দুষ্ট আত্মা শৌলের উপর এল। তিনি ঘরে বসেছিলেন। তাঁর হাতে ছিল বল্লম। দায়ূদ বীণা বাজাচ্ছিলেন। 10শৌল বল্লম ছুঁড়ে দায়ূদকে দেওয়ালে গেঁথে দিতে গেলেন, কিন্তু দায়ূদ লাফ দিয়ে সরে গেলেন। বল্লম ফসকে গিয়ে দেওয়ালে বিঁধে গেল। সেই রাত্রে দায়ূদ পালিয়ে গেলেন।

11দায়ূদের বাড়িতে শৌল লোক পাঠালেন। তারা সারারাত দায়ূদের বাড়ির কাছাকাছি পাহারা দিল। তারা সকালে দায়ূদকে হত্যা করবে বলে অপেক্ষা করছিল। কিন্তু দায়ূদের স্ত্রী মীখল দায়ূদকে সাবধান করে দিয়েছিল। সে বলল, “আজ রাত্রেই তুমি পালিয়ে গিয়ে নিজেকে বাঁচাও, না হলে ওরা কালই তোমাকে মেরে ফেলবে।” 12মীখল দায়ূদকে জানালা দিয়ে নীচে নামতে সাহায্য করল। দায়ূদ পালিয়ে গিয়ে রক্ষা পেলেন। 13মীখল গৃহদেবতাকে নিয়ে তাকে কাপড় পরাল। তারপর বিছানার ওপর মূর্ত্তিটাকে রাখল। মূর্ত্তির মাথায় কিছু ছাগলের চুলও ছড়িয়ে দিল।

14শৌল দায়ূদকে ধরে আনার জন্য লোক পাঠালেন। কিন্তু মীখল বলল, “দায়ূদের অসুখ করেছে।”

15লোকরা শৌলকে একথা বলতে শৌল আবার তাদের দায়ূদকে আনার জন্য পাঠালেন। শৌল তাদের বলে দিলেন, “দায়ূদকে শুয়ে থাকা অবস্থাতেই নিয়ে আসবে। আমি তাকে হত্যা করব।”

16আবার তারা দায়ূদের বাড়ি গেল। বাড়ির ভেতর ঢুকে ঘরে গিয়ে দেখল বিছানার ওপর দেবতার মূর্ত্তি, মূর্ত্তির মাথায় ছাগলের চুল।

17শৌল মীখলকে বললেন, “তুমি কেন আমার সঙ্গে এইভাবে চালাকি করলে? কেন তুমি আমার শত্রুকে পালাতে দিলে? দায়ূদ তো পালিয়ে গেছে!”

মীখল বলল, “দায়ূদ বলেছিলেন, আমি যদি ওকে পালাতে সাহায্য না করি তাহলে তিনি আমাকে হত্যা করবেন।”

দায়ূদ রামায় শিবিরে গেলেন

18দায়ূদ পালিয়ে গিয়ে রামায় শমূয়েলের কাছে এলেন। শৌল তাঁর প্রতি কি করেছেন সে সব দায়ূদ শমূয়েলকে বললেন। তারপর তাঁরা দুজন তাঁবুগুলোর দিকে গেলেন। সেখানে ভাববাদীরা থাকত। সেখানেই দায়ূদ থেকে গেলেন।

19শৌল জেনেছিলেন দায়ূদ রামার কাছাকাছি তাঁবুগুলোর মধ্যেই আছেন। 20শৌল দায়ূদকে বন্দী করে আনার জন্য লোক পাঠালেন। কিন্তু তারা যখন সেখানে এলো, তখন একদল ভাববাদী ভাববাণী করছিল। তাদের নেতা শমূয়েল সেখানে দাঁড়িয়ে। শৌলের লোকদের ওপরও ঈশ্বরের আত্মা এলেন, তাই তারাও ভাববাণী করতে শুরু করল।

21শৌলের কানে এ খবর পৌঁছল। তিনি তখন অন্য একদল লোক পাঠালেন। তারাও সেখানে গিয়ে ভাববাণী করতে শুরু করল। তারপর শৌল তৃতীয় একদল প্রতিনিধি পাঠালেন। তারাও ভাববাণী করতে শুরু করল। 22অবশেষে শৌল নিজেই রামায় গেলেন। যেখানে ফসল ঝাড়াই হয় তার পাশে একটি বড় কুয়োর দিকে শৌল চলে এলেন। কুয়োটা ছিল সেখু নামে একটা জায়গায়। শৌল সেখানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “শমূয়েল আর দায়ূদ কোথায়?”

লোকরা বলল, “তারা রামার কাছে তাঁবুগুলোতে রয়েছে।”

23শৌল তখন রামার কাছে তাঁবুগুলোর দিকে গেলেন। এবার শৌলের উপরও ঈশ্বরের আত্মা নেমে এলো। শৌল ভাববাণী করতে শুরু করলেন। রামার তাঁবুগুলোর দিকে রাস্তায় যতই এগোলেন ততই তিনি আরো বেশী করে ভাববাণী করতে লাগলেন। 24তারপর শৌল তাঁর পোশাক খুলে ফেললেন এবং শমূয়েলের সামনেই ভাববাণী করতে লাগলেন। সমস্ত দিন সমস্ত রাত তিনি নগ্ন হয়ে পড়ে রইলেন।

সেই জন্য লোকে বলে, “শৌল কি তবে ভাববাদীদের মধ্যে একজন?”

20

দায়ূদ ও যোনাথন একটি চুক্তি করলেন

1রামার তাঁবুগুলো থেকে দায়ূদ পালিয়ে গেলেন। যোনাথনের কাছে গিয়ে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমি কি অন্যায় করেছি? কি আমার অপরাধ? কেন তোমার পিতা আমায় হত্যা করতে চাইছে?”

2যোনাথন বলল, “এ হতেই পারে না। আমার পিতা তোমাকে হত্যা করার চেষ্টা করছে না। আমাকে কিছু না বলে সে কোন কাজই করে না। সে কাজ যতই সামান্য হোক্, কি জরুরীই হোক্, আমাকে সে সবই বলে। তাহলে তোমাকে মারার কথাই বা আমাকে সে বলবে না কেন? না, তোমার কথা ঠিক নয়।”

3কিন্তু দায়ূদ বললেন, “তোমার পিতা ভালভাবেই জানে যে আমি তোমার বন্ধু। তোমার পিতা মনে মনে ভেবেছে, যোনাথন যেন আমার মতলব জানতে না পারে। যদি সে এর সম্পর্কে জানতে পারে, তার হৃদয় দুঃখে ভরে যাবে এবং সে দায়ূদকে জানিয়ে দেবে। কিন্তু তুমি এবং প্রভু যেমন নিশ্চিতভাবে জীবিত সেই রকম নিশ্চিতভাবেই আমার মৃত্যু ঘনিয়ে আসছে।”

4যোনাথন বলল, “তুমি যা বলবে আমি তাই করব।”

5দায়ূদ বললেন, “শোন, কাল অমাবস্যার উৎসব। আমার রাজার সঙ্গে খাবার কথা আছে। কিন্তু সন্ধ্যে অবধি আমায় মাঠে লুকিয়ে থাকতে হবে। 6যদি তোমার পিতার চোখে পড়ে যে আমি নেই তবে তাঁকে বোলো, ‘দায়ূদ বৈৎ‌লেহমে বাড়িতে যেতে চাইছিল, কারণ এই উপলক্ষ্যে ওর বাড়িতে খাওয়া দাওয়া আছে। সে আমার কাছে বৈৎ‌লেহমে তার পরিবারের কাছে যাবার অনুমতি চেয়েছিল।’ 7যদি তোমার পিতা বলেন, ‘ভালই তো’ তবেই বুঝব আমার বিপদ কেটে গেছে। আর যদি রেগে যান তাহলে জেনে রেখো তিনি আমায় মারবেনই। 8যোনাথন আমায় দয়া করো। আমি তোমার ভৃত্য। প্রভুর সামনে তুমি আমার সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিলে। যদি আমি দোষী হই, তুমি তোমার নিজের হাতে আমাকে হত্যা কোরো, কিন্তু তোমার পিতার কাছে আমাকে নিয়ে যেও না।”

9যোনাথন বলল, “না না, এ হতেই পারে না। যদি পিতার তোমাকে মারার মতলব আমি জানতে পারি তাহলে তোমায় সাবধান করে দেব।”

10দায়ূদ বললেন, “তোমার পিতা যদি তোমাকে কর্কশভাবে উত্তর দেন তাহলে কে আমায় সাবধান করবে?”

11যোনাথন বলল, “চলো, মাঠে যাওয়া যাক।” যোনাথন আর দায়ূদ মাঠে গেল।

12যোনাথন দায়ূদকে বলল, “ইস্রায়েলের ঈশ্বর, প্রভুর সামনে আমি দিব্য দিয়ে বলছি, পিতা তোমাকে নিয়ে কিভাবেন সব আমি জেনে নেব; তোমার ভাল চাইলেও জানতে পারব, মন্দ চাইলেও জানতে পারব। তারপর তিন দিনের মধ্যে তোমার কাছে মাঠে খবর পাঠাব। 13পিতা তোমাকে মারতে চাইলে তোমায় জানাব। তুমি তখন বিনা বাধায় পালাতে পারবে। আমার কথা রাখতে না পারলে প্রভু আমায় শাস্তি দেবেন। প্রভু তোমার সহায় হোন, যেমন তিনি আমার পিতার সহায়। 14 যতদিন বেঁচে থাকবে আমার প্রতি দয়াশীল থেকো। আমার মৃত্যুর পর আমার পরিবারকে তোমার দয়া দেখাতে ভুলো না। প্রভু তোমার সমস্ত শত্রুকে পৃথিবী থেকে উচ্ছিন্ন করবেন।” 16তখন যোনাথন দায়ূদের পরিবারের সঙ্গে এই মর্মে এক চুক্তি করল: দায়ূদের শত্রুদের প্রভু যেন শাস্তি দেন।

17এই বলে যোনাথন দায়ূদের কাছ থেকে আবার শুনতে চাইল ভালবাসার সেই অঙ্গীকার। যোনাথন দায়ূদকে ভালবাসে, যেমন সে নিজেকে ভালবাসে।

18যোনাথন দায়ূদকে বলল, “কাল অমাবস্যার উৎসব। তোমার আসন ফাঁকা থাকবে। তাহলেই আমার পিতা বুঝবে যে তুমি চলে গেছ। 19তৃতীয় দিনে ঐ একই জায়গায় তুমি লুকিয়ে থাকবে। সেদিন ঝামেলা হতে পারে। পাহাড়ের ধারে অপেক্ষা করবে। 20ঐ দিন আমি পাহাড়ে উঠবো। দেখাব যে আমি তীর ছুঁড়ে লক্ষ্যভেদ করছি। আমি কয়েকটি তীর ছুঁড়বো। 21তারপর ঠিকঠাক চললে আমি ওকে বলব, ‘তুই বহু দূরে চলে গেছিস, তীরগুলো তো আমার অনেক কাছেই রয়েছে। যা আবার ফিরে এসে ওগুলো নিয়ে আয়।’ যদি তা বলি তবে তুমি আর লুকিয়ে থেকো না। প্রভুর দিব্য সেক্ষেত্রে তোমার কোন বিপদ হবে না। 22কিন্তু বিপদ যদি থাকে তাহলে ছেলেটিকে বলবো, ‘তীরগুলো আরো দূরে পড়ে আছে। যা ওগুলো নিয়ে আয়।’ তখন তুমি অবশ্যই চলে যাবে। কারণ প্রভুই তোমাকে দূরে পাঠাচ্ছেন। 23তোমার ও আমার মধ্যে এই চুক্তি হল, তা মনে রেখো। প্রভু চিরজীবন আমাদের মধ্যে সাক্ষী রইলেন।”

24দায়ূদ মাঠে লুকিয়ে পড়লেন।

উৎসবে শৌলের মনোভাব

অমাবস্যার উৎসবের দিন এলে রাজা খেতে বসলেন। 25দেওয়ালের পাশেই সচরাচর যে আসনেতে বসতেন রাজা সেই আসনেই বসলেন। যোনাথন শৌলের মুখোমুখি বসেছিল। শৌলের পাশে বসেছিল অব্নের। কিন্তু দায়ূদের জায়গাটা খালি ছিল। 26সেদিন শৌল কিছুই বললেন না। ভাবলেন, “নিশ্চয়ই দায়ূদের কিছু হয়েছে। তাই সে শুচি হতে পারে নি।”

27পরদিন মাসের দোসরা। সেদিনও আবার দায়ূদের জায়গা খালি রইল। শৌল তাঁর পুত্র যোনাথনকে বললেন, “যিশয়ের পুত্রকে কাল দেখি নি, আজও দেখছি না কেন? অমাবস্যার উৎসবে সে আসছে না কেন?”

28যোনাথন বলল, “দায়ূদ আমাকে বলেছিল ও বৈৎ‌লেহমে যাবে। 29সে বলেছিল, ‘আমি যাব, তুমি অনুমতি দাও। বৈৎ‌লেহেমে আমার বাড়ির সকলে যজ্ঞে বলি দেবে। আমার ভাই যেতে বলেছে। আমি যদি তোমার বন্ধু হই তাহলে আমাকে তুমি যেতে দাও, ভাইদের সঙ্গে দেখা হবে।’ তাই ও রাজার টেবিলে খেতে আসে নি।”

30শৌল যোনাথনের উপর খুব রেগে গেলেন। তিনি তাকে বললেন, “নির্বোধ, হতভাগা ক্রীতদাসীর পুত্র। আমি জানি তুমি দায়ূদের পক্ষে। তুমি, তোমার নিজের কলঙ্ক, তোমার মায়েরও কলঙ্ক। 31যতদিন যিশয়ের পুত্র বেঁচে থাকবে, ততদিন তুমি না হবে রাজা, না পাবে রাজ্য। যাও, এক্ষুনি দায়ূদকে ধরে নিয়ে এসো কারণ সে মৃত্যুর সন্তান।”

32যোনাথন বলল, “কেন দায়ূদকে মারতে হবে? সে কি করেছে?”

33এই কথা শুনে শৌল যোনাথনের দিকে বল্লমটা ছুঁড়ে মারলেন। উদ্দেশ্য তাকেই মেরে ফেলা। এই থেকে যোনাথন বুঝতে পারল, তার পিতা দায়ূদকে সত্যি মেরে ফেলতে চান। 34যোনাথন রেগে গেল। সে টেবিল ছেড়ে উঠে পড়ল। পিতার ব্যাপারে সে এত মুষড়ে পড়ল আর এত রেগে গেল যে দ্বিতীয় দিনের ভোজ সভায় সে কিছু খেল না। তার রাগের কারণ, পিতা তাকে অপমান করেছিল এবং দায়ূদকে হত্যা করতে চায়।

দায়ূদ ও যোনাথন পরস্পরকে বিদায় জানাল

35পরদিন সকালে দায়ূদের সঙ্গে যেমন ব্যবস্থা হয়েছিল সেভাবে যোনাথন মাঠে গেল। যোনাথন, একটা বালককে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল। 36সে বালকটিকে বলল, “যা, যে তীরগুলো আমি ছুঁড়ছি সেগুলো কুড়িয়ে নিয়ে আয়।” বালকটি ছুটতে লাগল, আর যোনাথন তার মাথার উপর দিয়ে তীর ছুঁড়ল। 37তীরগুলো যেখানে পড়েছে সে দিকে বালকটি ছুটে গেল। কিন্তু যোনাথন বলল, “তীর তো আরও দূরে।” 38যোনাথন চেঁচিয়ে বলল, “তাড়াতাড়ি কর। তীরগুলো নিয়ে আয়। ওখানে দাঁড়িয়ে থাকিস না।” বালকটি তীরগুলো কুড়িয়ে মনিবের কাছে এনে দিল। 39কি হচ্ছে তার সে কিছুই বুঝল না। জানত শুধু যোনাথন আর দায়ূদ। 40যোনাথন তীরধনুক বালকটির হাতে দিল। তারপর ওকে বলল, “যা! শহরে ফিরে যা।”

41বালকটি চলে গেলে দায়ূদ পাহাড়ের ওপাশে লুকোনো জায়গা থেকে বেরিয়ে এলো। যোনাথনের কাছে এসে দায়ূদ মাটিতে মাথা নোয়ালেন। এরকম তিনবার তিনি মাথা নোয়ালেন। তারপর দুজন দুজনকে চুম্বন করল। দুজনেই খুব কান্নাকাটি করল। তবে দায়ূদই কাঁদলেন বেশী।

42যোনাথন দায়ূদকে বলল, “যাও শান্তিতে যাও। প্রভুর নাম নিয়ে আমরা বন্ধু হয়েছিলাম। বলেছিলাম, তিনিই হবেন আমাদের দুজন ও পরবর্তী উত্তরপুরুষদের মধ্যে বন্ধুদের চিরকালের সাক্ষী।”

21

যাজক অহীমেলকের সঙ্গে দায়ূদ দেখা করতে গেলেন

1দায়ূদ চলে গেলেন। যোনাথন শহরে ফিরে এলো। দায়ূদ নোব শহরে যাজক অহীমেলকের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন।

অহীমেলক দায়ূদের সঙ্গে দেখা করতে বেরিয়ে এলেন। তিনি তো ভয়ে কাঁপছিলেন। তিনি দায়ূদকে জিজ্ঞেস করলেন, “কি ব্যাপার, তুমি একা কেন? তোমার সঙ্গে কাউকে দেখছি না কেন?”

2দায়ূদ বললেন, “রাজা আমাকে একটি বিশেষ আদেশ দিয়েছেন। তিনি আমাকে বলেছেন, ‘এই আসার উদ্দেশ্য নিয়ে তুমি কাউকে কিছু জানাবে না। আমি তোমাকে কি বলছি কেউ যেন জানতে না পারে।’ আমার লোকদের বলছি কোথায় ওরা আমার সঙ্গে দেখা করবে। 3এখন বলো, তোমার সঙ্গে কি খাবার আছে? তোমার কাছে থাকলে পাঁচটি গোটা রুটি আমাকে দাও, না হলে অন্য কিছু খেতে দাও।”

4যাজক বললেন, “আমার কাছে তো সাধারণ কোন রুটি নেই, কিন্তু পবিত্র রুটি আছে। তোমার লোকরা তা খেতে পারে, অবশ্য যদি কোন নারীর সঙ্গে তাদের যৌন সম্পর্ক না থেকে থাকে।”

5দায়ূদ যাজককে বললেন, “না, এরকম কোন ব্যাপার নেই। যুদ্ধে যাবার সময় এবং সাধারণ কাজের সময়ও তারা তাদের দেহগুলিকে শুদ্ধ রাখে। তাছাড়া এখন আমরা একটি বিশেষ কাজে এসেছি, সুতরাং অশুদ্ধ থাকার প্রশ্নই ওঠে না।”

6পবিত্র রুটি ছাড়া সেখানে অন্য কোন রুটি ছিল না। যাজক দায়ূদকে তা-ই দিলেন। এই রুটিই তারা প্রভুর সামনে পবিত্র টেবিলে রেখে দিত। প্রতিদিন তারা এগুলো বদলে টাটকা রুটি রেখে দিত।

7সেদিন সেখানে শৌলের একজন অনুচর উপস্থিত ছিল। সে ছিল ইদোম বংশীয়, তার নাম দোয়েগ। সে ছিল শৌলের প্রধান মেষপালক। দোয়েগকে সেখানে প্রভুর সামনে রাখা হয়েছিল।

8দায়ূদ অহীমেলককে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার কাছে কি বল্লম বা তরবারি কিছু একটা আছে? রাজার কাজটা জরুরি তাই তাড়াতাড়িতে আমি সঙ্গে কোনো তরবারি বা অস্ত্রশস্ত্র আনি নি।”

9যাজক বললেন, “এখানে তো মাত্র একটাই তরবারি আছে, সেটা পলেষ্টীয় গলিয়াতের তরবারি। তুমি এলা উপত্যকায় তাকে হত্যা করার সময় ওর হাত থেকেই এটা কেড়ে নিয়েছিলে। ওটা কাপড়ে মুড়ে এফোদের পেছনে রাখা আছে। ইচ্ছা হলে এটা তুমি নিয়ে যেতে পারো।”

দায়ূদ বললেন, “ওটাই তুমি আমাকে দাও। গলিয়াতের তরবারির মতো তরবারি আর কোথাও পাওয়া যাবে না।”

দায়ূদ এক শত্রুর কাছ থেকে পালিয়ে গাতে গেলেন

10সেদিন শৌলের কাছ থেকে দায়ূদ পালিয়ে গেলেন। তিনি গাতের রাজা আখীশের কাছে গেলেন। 11আখীশের অনুচররা এটা ভাল মনে করলো না। তারা বলল, “ইনি হচ্ছেন দায়ূদ, ইস্রায়েলের রাজা। এঁকে নিয়েই ওদের লোকেরা গান গায়। ওরা নেচে নেচে এই গানটা করে:

“দায়ূদ মেরেছে শত্রু অযুতে অযুতে

শৌল তো কেবল হাজারে হাজারে।”

12তাদের কথাগুলো দায়ূদ বেশ মন দিয়ে শুনলেন। গাতের রাজা আখীশকে তিনি ভয় করতে লাগলেন। 13শেষে আখীশ ও তার অনুচরদের সামনে দায়ূদ পাগলের ভান করলেন। ওদের কাছে তিনি ইচ্ছে করে পাগলামি করতে লাগলেন। তিনি দরজায় থুতু ছিটাতে লাগলেন। তাঁর দাড়ি দিয়ে থুতু গড়াতে দিলেন।

14আখীশ তার অনুচরদের বলল, “আরে লোকটাকে দেখো, সত্যি মাথা খারাপ। একে আমার কাছে এনেছ কেন? 15আমার আশপাশে যথেষ্ট পাগল রয়েছে। আমার কাছে ঐ জাতীয় লোক আর বেশী আনার দরকার নেই। এটাকে আবার আমার বাড়িতে ঢুকিও না।”

22

দায়ূদ বিভিন্ন জায়গায় গেলেন

1দায়ূদ গাৎ‌ থেকে চলে গেলেন। তিনি পালিয়ে অদুল্লমের গুহায় গেলেন। দায়ূদের ভাই আর আত্মীয়স্বজনরা এই সংবাদ জানতে পারল। তারা সেখানে দায়ূদের সঙ্গে দেখা করতে গেল। 2অনেক লোক দায়ূদের সঙ্গে যুক্ত হল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কোন বিপদে পড়েছিল, কেউ অনেক টাকা ধার করেছিল, আবার কেউ জীবনে সুখ শান্তি পাচ্ছিল না। এরা সকলেই দায়ূদের সঙ্গে যোগ দিল। দায়ূদ হলেন তাদের নেতা। তাঁর সঙ্গে ছিল এরকম 400 জন পুরুষ।

3অদুল্লম থেকে দায়ূদ গেলেন মিস্পাতে। মিস্পা মোয়াবের একটা জায়গা। মোয়াবের রাজাকে দায়ূদ বললেন, “যতদিন না আমি জানতে পারছি ঈশ্বর আমার জন্য কি করবেন, ততদিন দয়া করে আপনি আমার পিতা-মাতাকে আপনার কাছে থাকতে দিন।” 4তারপর দায়ূদ মোয়াবের রাজার কাছে তাঁর পিতামাতাকে রেখে চলে গেলেন। যতদিন দায়ূদ দুর্গে থেকেছিলেন ততদিন তাঁর পিতামাতা মোয়াবের রাজার কাছে রইলেন।

5কিন্তু ভাববাদী গাদ দায়ূদকে বললেন, “দুর্গে থেকো না। যিহূদা দেশে চলে যাও।” দায়ূদ সেইমত দুর্গ ছেড়ে হেরৎ‌ অরণ্যে চলে গেলেন।

শৌল অহীমেলকের পরিবার ধ্বংস করলেন

6শৌল শুনতে পেলেন যে দায়ূদ আর তাঁর সঙ্গীদের সম্বন্ধে লোকরা খবর পেয়েছে। গিবিয়ার পাহাড়ে একটা গাছের নীচে শৌল বল্লম হাতে নিয়ে বসেছিলেন। তাঁর চারপাশে অনুচররা তাঁকে ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিল। 7শৌল তাদের বললেন, “বিন্যামীনের লোকরা শোন, তোমরা কি মনে করো যিশয়ের পুত্র (দায়ূদ) তোমাদের ক্ষেত এবং দ্রাক্ষা ক্ষেতগুলি দেবে? তোমরা কি মনে করো দায়ূদ তোমাদের চাকরির উন্নতি করে দেবে এবং 1000 লোকের উপর বা 100 লোকের উপরে তোমাদের নিযুক্ত করবে? 8তোমরা আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছো। তোমরা চুপিচুপি আমার বিরুদ্ধে গোপনে মতলব আঁটছ। তোমাদের মধ্যে একজনও আমাকে বলেনি যে আমার পুত্র যোনাথন দায়ূদকে উৎসাহিত করেছে। তোমরা কেউ আমাকে গ্রাহ্য করো না। তোমরা কেউ বলনি আমার পুত্র যোনাথন দায়ূদকে উৎসাহ দিয়েছে। যোনাথন আমার ভৃত্য দায়ূদকে গা ঢাকা দিতে বলেছিল, যাতে সে আমাকে আক্রমণ করতে পারে। আর দায়ূদ এখন ঠিক এটাই করে যাচ্ছে।”

9ইদোম পরিবারের দোয়েগ সেখানে শৌলের আধিকারিকদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছিল। দোয়েগ বললেন, “আমি যিশয়ের পুত্রকে নোবে দেখেছিলাম। সে অহীটুবের পুত্র অহীমেলকের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। 10অহীমেলক দায়ূদের জন্য প্রভুর কাছে প্রার্থনা করেছিল। সে দায়ূদকে খাবারও দিয়েছিল। তাছাড়া পলেষ্টীয় গলিয়াতের তরবারিও দিয়েছিল।”

11অতঃপর রাজা শৌল যাজককে ডেকে আনতে কয়েকজনকে পাঠালেন। তিনি অহীটুবের পুত্র অহীমেলক এবং তার সকল আত্মীয়দের ডেকে পাঠালেন। তাঁরা সকলেই নোবের যাজক ছিলেন। তাঁরা সকলেই রাজা শৌলের কাছে এলেন। 12শৌল অহীমেলককে বললেন, “শোনো অহীটুবের পুত্র।”

অহীমেলক বললেন, “বলুন।”

13শৌল বললেন, “কেন তুমি আর যিশয়ের পুত্র আমার বিরুদ্ধে গোপনে চক্রান্ত করছ? তুমি দায়ূদকে রুটি দিয়েছিলে। শুধু তাই নয়, একটা তরবারিও দিয়েছিলে। তুমি তার হয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলে। আর এখন দায়ূদ আমাকে আক্রমণ করার জন্য সময় গুনছে!”

14অহীমেলক বললেন, “দায়ূদ আপনার খুবই অনুগত। আপনার কোনো অনুচরই দায়ূদের মতো প্রভু ভক্ত নয়, সে আপনার জামাতা। আপনার রক্ষীদের দলপতি। আপনাদের বাড়ীর সকলেই দায়ূদকে সম্মান করে। 15দায়ূদের জন্য আমি ঈশ্বরের কাছে এই প্রথমবারই যে প্রার্থনা করেছি তা নয়। এর জন্য, আমায় অথবা আমার কোন আত্মীয়কে আপনি দোষী করবেন না। আমরা আপনার ভৃত্য। কি হচ্ছে আমি তার কিছুই জানি না।”

16তবু রাজা বললেন, “অহীমেলক, তুমি আর তোমার আত্মীয়স্বজন সকলকেই মরতে হবে।” 17রাজা প্রহরীদের কাছে ডেকে বললেন, “যাও প্রভুর সমস্ত যাজকদের হত্যা করে এসো। তাদের হত্যা করো, কারণ তারা দায়ূদের দলে। তারা জানত দায়ূদ পালিয়ে যাচ্ছে, তবুও তারা আমাকে কিছু বলেনি।”

কিন্তু কেউই প্রভুর যাজকদের আঘাত করতে রাজি হল না।

18তখন রাজা দোয়েগকে আদেশ দিলেন। শৌল বললেন, “দোয়েগ, তুমি যাজকদের হত্যা করো।” দোয়েগ গিয়ে যাজকদের হত্যা করলো। সেই দিন সে 85 জন যাজককে হত্যা করল। 19নোব ছিল যাজকদের শহর। শহরের সকলকেই দোয়েগ হত্যা করল। পুরুষ, নারী, শিশু সকলকেই সে তরবারির কোপে শেষ করে দিল। সেই সঙ্গে মেরে ফেলল তাদের গরু, গাধা আর মেষগুলোকেও।

20শুধু বেঁচে গেলেন অবিয়াথর। তাঁর পিতা অহীমেলক। অহীমেলকের পিতা অহীটুব। অবিয়াথর পালিয়ে গিয়ে দায়ূদের সঙ্গে যোগ দিলেন। 21তিনি দায়ূদকে বললেন শৌল সমস্ত যাজকদের হত্যা করেছে। 22দায়ূদ বললেন, “আমি সেদিন নোবে ইদোমীয় দোয়েগকে দেখেছিলাম। আমি জানতাম শৌলকে সে সব বলবে। তোমার পিতার পরিবারের সকলের মৃত্যুর জন্য আমিই দায়ী। 23যে লোকটা তোমাকে হত্যা করতে চায়, সে আমাকেও হত্যা করতে চায়। আমার সঙ্গে থাকো, ভয় পেও না। তুমি নিরাপদেই থাকবে।”

23

কিয়ীলায় দায়ূদ

1লোকরা দায়ূদকে বলল, “দেখুন, পলেষ্টীয়রা কিয়ীলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। তারা ফসল ঝাড়াইয়ের জায়গা থেকে সব ফসল লুঠপাট করে নিচ্ছে।”

2দায়ূদ প্রভুকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি কি পলেষ্টীয়দের সঙ্গে লড়াই করব?”

প্রভু উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, কিয়ীলাকে বাঁচাও। পলেষ্টীয়দের আক্রমণ কর।”

3এদিকে দায়ূদের লোকরা দায়ূদকে বলল, “শুনুন, আমরা যিহূদায় থাকতেই বেশ ভয় পাচ্ছি। তাহলে চিন্তা করুন পলেষ্টীয় সৈন্যদের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইতে আমরা আরও কতখানি ভয় পেতে পারি।”

4দায়ূদ আবার প্রভুকে জিজ্ঞেস করলেন। প্রভু বললেন, “কিয়ীলায় চলে যাও। আমি তোমাকে পলেষ্টীয়দের হারাতে সাহায্য করব।” 5তাই সঙ্গীদের নিয়ে দায়ূদ কিয়ীলায় গেলেন। তাঁর সঙ্গীরা পলেষ্টীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করল। যুদ্ধে তারা পলেষ্টীয়দের হারিয়ে তাদের গরু, মোষ সব দখল করে নিল। এভাবেই দায়ূদ কিয়ীলার লোকদের বাঁচালেন। 6(যখন অবিয়াথর দায়ূদের কাছে গিয়েছিলেন, তখন তিনি তাঁর সঙ্গে একটা এফোদ নিয়েছিলেন।)

7লোকরা শৌলকে বলল, “দায়ূদ এখন কিয়ীলায় আছে।” শৌল বললেন, “ঈশ্বর দায়ূদকে আমার হাতেই দিয়েছেন। দায়ূদ নিজের জালেই নিজেকে জড়িয়েছে। সে এমন একটা শহরে গেল যেখানে অনেক ফটক এবং ফটক বন্ধ করার অনেক খিল আছে।” 8শৌল তাঁর সব সৈন্যদের যুদ্ধ করার জন্য ডাকলেন। তারা দায়ূদ ও তাঁর লোকদের আক্রমণ করার জন্য কিয়ীলায় যাবার জন্য প্রস্তুত হলো।

9শৌলের এই মতলব দায়ূদ জানতে পারলেন। তিনি যাজক অবিয়াথরকে বললেন, “এইখানে সেই এফোদ আনো।”

10দায়ূদ প্রার্থনা করলো, “হে প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর, আমি শুনেছি শৌল আমার জন্য কিয়ীলায় এসে শহর ধ্বংস করার মতলব করেছে। 11শৌল কি কিয়ীলায় আসবে? কিয়ীলায় লোকরা কি ওর হাতে আমায় তুলে দেবে? হে প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর, আমি আপনার সেবক। দয়া করে আমায় বলুন!”

প্রভু বললেন, “শৌল আসবে।”

12আবার দায়ূদ জিজ্ঞেস করলো, “কিয়ীলার লোকরা কি আমায় এবং আমার লোকদের শৌলের হাতে ধরিয়ে দেবে?”

প্রভু বললেন, “হ্যাঁ, ধরিয়ে দেবে।” 13তখন দায়ূদ সঙ্গীদের নিয়ে কিয়ীলা ছেড়ে চলে গেলেন। দায়ূদের সঙ্গে ছিল 600 জন পুরুষ। তারা বিভিন্ন জায়গায় চলে গেল। শৌল জানতে পারলেন দায়ূদ কিয়ীলা থেকে চলে গেছেন। তাই তিনি আর ওখানে গেলেন না।

শৌল দ্বারা দায়ূদের পশ্চাদ্ধাবন

14দায়ূদ মরুভূমিতে গিয়ে সেখানকার উঁচু পাঁচিল ঘেরা দুর্গ নগরে কিছুকাল থেকে গেলেন। তিনি সীফ মরুভূমির পাহাড়ি দেশেও থাকলেন। প্রতিদিন শৌল দায়ূদদের খোঁজ করতেন; কিন্তু প্রভু শৌলের হাতে দায়ূদকে সঁপে দিলেন না।

15সীফ মরুভূমির হোরেশে দায়ূদ গেলেন। শৌল তাকে হত্যা করতে আসছেন বলে তিনি বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। 16কিন্তু শৌলের পুত্র যোনাথন হোরেশে দায়ূদের সঙ্গে দেখা করতে গেল। যোনাথন দায়ূদকে ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস রাখতে সাহায্য করেছিলো। 17যোনাথন দায়ূদকে বলল, “ভয় পেও না। আমার পিতা শৌল তোমাকে মারবে না। তুমি হবে ইস্রায়েলের রাজা। আমি হব তোমার দ্বিতীয় জন। এমনকি আমার পিতাও সেটা জানে।”

18যোনাথন এবং দায়ূদ দুজনে প্রভুর সামনে এক চুক্তি করলো। তারপর যোনাথন ঘরে ফিরে গেলো। দায়ূদ হোরেশে থেকে গেলেন।

সীফের বাসিন্দারা শৌলকে দায়ূদের কথা বলে দিল

19সীফের বাসিন্দারা শৌলের সঙ্গে দেখা করতে গিবায়ায় এল। তারা শৌলকে বলল, “দায়ূদ আমাদের দেশেই লুকিয়ে আছে। দায়ূদ যেশিমোনের দক্ষিণে হখীলা পাহাড়ের ওপর হোরেশের দুর্গে রয়েছেন। 20সুতরাং হে রাজন, যে কোন দিন আপনি আমাদের এখানে চলে আসুন। দায়ূদকে আপনার হাতে ধরিয়ে দেওয়া আমাদের কর্তব্য।”

21শৌল বললেন, “তোমরা আমাকে সাহায্য করেছ। প্রভু তোমাদের মঙ্গল করুন। 22যাও, দায়ূদ সম্বন্ধে আরও খোঁজখবর করো। দেখ, কোথায় সে রয়েছে, কে কে দায়ূদকে সেখানে দেখেছে। শৌল ভাবলেন, ‘দায়ূদ চালাক ও চতুর তাই হয়তো আমার সঙ্গে চালাকি করতে চাইছে।’ 23শৌল বললেন, ‘দায়ূদের লুকোনোর সমস্ত জায়গা খুঁজে বার করো। তারপর ফিরে এসে আমাকে সমস্ত জানাও। জানার পর আমি তোমাদের সঙ্গে যাব। দায়ূদ এখানে থাকলে আমি তাকে খুঁজে বার করবই। যিহূদায় বাড়ী বাড়ী খোঁজ করলেও ওকে আমি পেয়ে যাব।’”

24সীফের বাসিন্দারা সীফে ফিরে গেল। পরে শৌল সেখানে গেলেন।

দায়ূদ আর তাঁর লোকরা থাকতেন মায়োন মরুভূমিতে। জায়গাটা ছিল যেশিমোনের দক্ষিণে। 25শৌল তাঁর লোকদের নিয়ে দায়ূদের খোঁজ করতে লাগলেন। কিন্তু এখানে লোকরা দায়ূদকে সাবধান করে দিল যে শৌল তাঁকে খুঁজছে। দায়ূদ যখন এটা শুনলেন তিনি মায়োন মরুভূমির “রক” অঞ্চলে চলে গেলেন। এ খবর শৌলের কাছে পৌঁছে গেল। সেখানে দায়ূদকে ধরতে ছুটলেন।

26একই পাহাড়ের একদিকে শৌল আর উল্টোদিকে দায়ূদ ও তাঁর সঙ্গীরা। দায়ূদ শৌলের কাছে থেকে পালিয়ে যাবার জন্য তীব্রবেগে ছুটছিলেন। শৌলও দায়ূদকে ধরবার জন্য সৈন্যদের নিয়ে পাহাড়ের চারিদিক ঘিরে ফেললেন।

27সেই সময় শৌলের কাছে একজন দূত এসে বলল, “শিগ্গির এসো, পলেষ্টীয়রা আমাদের আক্রমণ করতে আসছে।”

28তখন শৌল দায়ূদের পিছু নেওয়া বন্ধ করলেন। তিনি পলেষ্টীয়দের সঙ্গে লড়াই করতে গেলেন। সেই কারণে লোকরা ঐ জায়গার নাম দিয়েছিল “পিছল শিলা।” 29দায়ূদ মায়োন মরুভূমি থেকে চলে গেলেন সুরক্ষিত দুর্গ নগরগুলোয়। সেগুলি ঐন-গদীর কাছাকাছি অবস্থিত।

24

দায়ূদ শৌলকে লজ্জায় ফেললেন

1শৌল পলেষ্টীয়দের হারিয়ে দিলেন। এরপর লোকরা তাঁকে জানাল, “দায়ূদ ঐন্-গদীর কাছাকাছি একটা মরুভূমি অঞ্চলে রয়েছে।”

2তখন শৌল ইস্রায়েল থেক 3000 জন পুরুষ বেছে নিলেন। শৌল তাদের সঙ্গে বুনো ছাগলের শিলার কাছে দায়ূদ ও তাঁর সঙ্গীদের খোঁজ করতে লাগলেন। 3শৌল রাস্তার ধারে একটা মেষের গোয়ালে এসে পড়লেন। কাছাকাছি একটা গুহা ছিল। শৌল হাল্কা হতে গুহাটির ভিতর গেলেন। দায়ূদ এবং তাঁর লোকরা গুহার ভিতরে অনেক দূরে লুকিয়ে ছিল। 4সঙ্গীরা দায়ূদকে বলল, “প্রভু আজকের দিনটার কথাই বলেছিলেন। তিনি আপনাকে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার কাছে তোমার শত্রুকে এনে দেব। তারপর তুমি একে নিয়ে যা খুশি তাই করো।’”

দায়ূদ হামাগুড়ি দিয়ে এসে ক্রমে শৌলের বেশ কাছে এসে পড়লেন। তারপর তিনি শৌলের জামার একটা কোণ কেটে ফেললেন। শৌল দায়ূদকে দেখতে পান নি। 5পরে এর জন্য দায়ূদের মন খারাপ হয়ে গেল। 6দায়ূদ তাঁর সঙ্গীদের বললেন, “আমি আশা করি আমার মনিবের বিরুদ্ধে এই ধরণের কাজ প্রভু আর আমায় করতে দেবেন না। শৌল হচ্ছেন প্রভুর মনোনীত রাজা। আমি তাঁর বিরুদ্ধে কিছু করব না।” 7এই কথা বলে দায়ূদ তাঁর সঙ্গীদের থামিয়ে দিলেন। শৌলকে আঘাত করতে তাদের নিষেধ করে দিলেন।

শৌল গুহা ছেড়ে নিজ রাস্তায় চললেন। 8দায়ূদ গুহা থেকে বেরিয়ে এসে চেঁচিয়ে শৌলকে ডাকলেন, “হে রাজা, হে মনিব।”

শৌল পেছন ফিরে তাকালেন। দায়ূদ আভূমি মাথা নোয়ালেন। 9তিনি শৌলকে বললেন, “লোকরা যখন বলে, ‘দায়ূদ আপনাকে হত্যা করতে চায়, তখন সে কথায় আপনি কান দেন কেন?’ 10আমি আপনাকে মারতে চাই না। আপনি নিজের চোখেই দেখে নিন। এই গুহাতে আজ প্রভু আপনাকে আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি আপনাকে হত্যা করতে চাই না। আমি আপনার ওপর সদয় ছিলাম। আমি বললাম, ‘আমি আমার মনিবকে হত্যা করতে চাই না। শৌল হচ্ছেন প্রভুর অভিষিক্ত রাজা।’ 11আমার হাতের এই টুকরো কাপড়টার দিকে চেয়ে দেখুন। আপনার পোশাক থেকে আমি এটা কেটে নিয়েছিলাম। আমি আপনাকে হত্যা করতে পারতাম, কিন্তু করিনি। একটা ব্যাপার আমি আপনাকে বোঝাতে চাই। আপনার বিরুদ্ধে আমি কোন ষড়যন্ত্র করি নি। আপনার প্রতি আমি কোন অন্যায় করি নি বরং আপনিই আমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন, আমায় হত্যা করার জন্য। 12স্বয়ং প্রভুই এর বিচার করবেন। তিনিই আমার ওপর অবিচার করার জন্য আপনাকে শাস্তি দেবেন। আমি নিজে আপনার সঙ্গে যুদ্ধ করব না। 13একটা পুরানো প্রবাদ আছে:

‘মন্দ লোকদের কাছ থেকেই মন্দ জিনিসগুলো আসে।’

“আমি আপনার ওপর কোনো মন্দ কাজ করি নি, আমি আপনার ক্ষতি করবো না। 14কার পেছনে আপনি ধাওয়া করছেন? কার সঙ্গে ইস্রায়েলের রাজা যুদ্ধ করতে চলেছেন? আপনাকে আঘাত করবে এমন কারোর পেছনে আপনি ছুটছেন না। মনে হচ্ছে আপনি যেন একটা মৃত কুকুর অথবা একটা নীল মাছির পেছনে তাড়া করছেন। 15প্রভু এর সুবিচার করুন। তিনিই ঠিক করুন আপনার এবং আমার মধ্যে কে ভাল, কে খারাপ। প্রভু আমাকে সমর্থন করবেন এবং প্রমাণ করবেন যে আমি ঠিক কাজটি করেছি। প্রভু আপনার হাত থেকে আমাকে রক্ষা করবেন।”

16দায়ূদ থামলেন। শৌল জিজ্ঞেস করলেন, “দায়ূদ পুত্র আমার, এ কি তোমার স্বর? এ কার স্বর শুনছি?” এই বলে শৌল কাঁদতে শুরু করলেন। তিনি খুব কাঁদতে লাগলেন। 17শৌল বললেন, “তুমিই ঠিক, আমি ভুল করেছি। তুমি আমার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করলেও আমি তোমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছি। 18যা যা ভালো তুমি করেছ সবই আমাকে বলেছ। প্রভু আমাকে তোমার কাছে এনে দিয়েছিলেন, কিন্তু তুমি আমাকে হত্যা করো নি। 19এতেই প্রমাণ হয় যে আমি তোমার শত্রু নই। একবার শত্রুকে ধরলে কেউ আবার তাকে ছেড়ে দেয়? শত্রুর জন্য সে কখনও ভালো কাজ করে না। আজ তুমি আমায় যে অনুগ্রহ করলে তার জন্য প্রভু তোমায় পুরস্কৃত করবেন। 20আমি জানি তুমি ইস্রায়েলের রাজা হবে। আমি জানি যে তুমি ইস্রায়েল রাজ্যের ওপর শাসন করবে। 21আমাকে তুমি কথা দাও, প্রভুর নামে এই শপথ করো, কথা দাও আমার উত্তরপুরুষদের কাউকে তুমি হত্যা করবে না। কথা দাও, আমার নাম আমাদের বংশ থেকে তুমি মুছে দেবে না।”

22দায়ূদ শৌলকে প্রতিশ্রুতি দিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি শৌলের পরিবারের কাউকে হত্যা করবেন না। তারপর শৌল ফিরে গেলেন। দায়ূদ এবং তাঁর সঙ্গীরা দুর্গে চলে গেলো।

25

দায়ূদ ও নিষ্ঠুর নাবল

1শমূয়েল মারা গেল। সমস্ত ইস্রায়েলবাসীরা একত্রিত হল এবং শমূয়েলের মৃত্যুর জন্য শোক প্রকাশ করল। তারা শমূয়েলকে রামায় তার বাড়িতে কবর দিল।

তারপর দায়ূদ পারণ মরুভূমির দিকে চলে গেলেন। 2মায়োন শহরে এক মস্ত বড় ধনী বাস করত। তার 3000 মেষ আর 1000 ছাগল ছিল। সে তার মেষদের থেকে পশম ছাঁটবার জন্য কর্ম্মিলে গিয়েছিল। 3সেই ব্যক্তির নাম নাবল, সে কালেব পরিবারের লোক। নাবলের স্ত্রীর নাম অবীগল। সে যেমন জ্ঞানী তেমনি সুন্দরী। কিন্তু নাবল ছিল অত্যন্ত নীচ প্রকৃতির আর নিষ্ঠুর ধরণের ব্যক্তি।

4দায়ূদ মরুভূমিতে থাকতে থাকতেই শুনেছিলেন নাবল মেষের গা থেকে পশম ছাঁটছে। 5দায়ূদ দশজন যুবককে নাবলের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাঠিয়েছিলেন। তিনি বললেন, “কর্ম্মিলে গিয়ে নাবলকে খুঁজে বার করো। তারপর তাকে আমার হয়ে অভিবাদন জানিও।” 6দায়ূদ নাবলের জন্য এই বার্তা দিলেন, “আশা করছি তুমি ও তোমার পরিবারের সকলে ভাল আছো। তোমাদের যা যা আছে সবই ভাল আছে। 7শুনলাম, তুমি নাকি মেষের গা থেকে পশম ছেঁটে নিচ্ছ। তোমার মেষপালকরা আমাদের কাছে কিছুদিন ছিল। আমরা তাদের কোন ক্ষতি করি নি। তারা যখন কর্ম্মিলে ছিল তখন তাদের কাছ থেকে আমরা কিছুই নিইনি। 8তোমার ভৃত্যদের জিজ্ঞেস করে দেখবে কথাটা কতখানি সত্য। অনুগ্রহ করে আমার পাঠানো যুবকদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করবে। এই শুভ দিনে আমরা তোমার কাছে এসেছি। এদের যথাসাধ্য দান করো। আশা করি আমার জন্য এটুকু করবে। ইতি তোমার বন্ধু+ 25:8 বন্ধু আক্ষরিক অর্থে, “পুত্র।” দায়ূদ।”

9দায়ূদের লোকরা নাবলের কাছে গিয়ে বার্তাটা দিল। 10কিন্তু নাবল তাদের সঙ্গে জঘন্য ব্যবহার করল। সে বলল, “কে দায়ূদ? যিশয়ের পুত্র কে? কত ক্রীতদাস যে মনিবের কাছ থেকে আজকাল পালিয়ে যাচ্ছে। 11আমার কাছে রুটি আছে, জল আছে, মাংসও আছে। আমার ভৃত্যদের জন্য পশু বলি দিয়ে সেই মাংসের ব্যবস্থা করেছি। তারা আমার মেষগুলোর গা থেকে পশম কেটে নেয়। কিন্তু যাদের আমি চিনি না, তাদের কিছুতেই তা দেব না।”

12দায়ূদের লোকরা ফিরে এলো। যা যা হয়েছে সব তারা দায়ূদকে বলল। 13সব শুনে দায়ূদ বললেন, “এবার তরবারি নাও।” দায়ূদ ও তাঁর লোকরা কোমরে তরবারি এঁটে নিল। প্রায় 400 জন দায়ূদের সঙ্গে গেল। দ্রব্যসামগ্রী রক্ষার জন্যে 200 জন রইল।

অবীগল বিপদ আটকাল

14নাবলের একজন ভৃত্য নাবলের স্ত্রী অবীগলকে বলল, “দায়ূদ মরুভূমি থেকে দূত পাঠিয়েছিলেন আমাদের মনিবের (নাবলের) কাছে। কিন্তু নাবল তাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করেনি। 15অথচ তারা আমাদের সঙ্গে যথেষ্ট ভাল ব্যবহার করেছিল। আমরা যখন মাঠে মেষ চরাতে যেতাম তখন দায়ূদের লোকরা সবসময় আমাদের সঙ্গে সঙ্গে থাকত। ওরা কখনও কোন অন্যায় করে নি। আমাদের কিছু চুরিও যায় নি। 16দায়ূদের লোকরা আমাদের দিন রাত পাহারা দিত। আমাদের চারপাশে ওরা ছিল প্রাচীরের মতো। আমরা যখন মেষদের দেখাশুনা করতাম তখন ওরা আমাদের রক্ষা করত। 17এখন ভেবে দেখুন, আপনি কি করতে পারেন। নাবল এতো পাষণ্ড যে তার সঙ্গে কথা বলে তার মন পরিবর্তন করানো অসম্ভব। আমাদের মনিব আর তার সংসারে ঘোর দুর্যোগ ঘনিয়ে আসছে।”

18অবীগল এই শুনে আর বিন্দুমাত্র দেরী না করে 200 রুটি, দুটো থলে ভর্ত্তি দ্রাক্ষারস, পাঁচটা মেষের রান্নাকরা মাংস, প্রায় এক বুশেল রান্না ডাল, 2 কোয়ার্ট কিস্মিস, 200 টি ডুমুরের পিঠে এইসব জোগাড় করে গাধার পিঠে চাপিয়ে দিল। 19তারপর অবীগল ভৃত্যদের বলল, “তোমরা এগিয়ে যাও। আমি তোমাদের পেছন পেছন আসছি।” এ কথা সে তার স্বামীকে বলল না।

20অবীগল তার গাধার পিঠে চড়ল এবং পর্বতের অন্য দিকে নেমে চলে গেল। অন্যদিক থেকে দায়ূদ তাঁর লোকদের সঙ্গে নিয়ে আসছিলেন।

21অবীগলের সঙ্গে দেখা হবার আগে দায়ূদ বললেন, “মরুভূমিতে আমি নাবলের সম্পত্তি রক্ষা করেছিলাম। তার একটাও মেষ যাতে হারিয়ে না যায় সেই দিকে কড়া নজর রেখেছিলাম। কিন্তু এত উপকার কোন কাজেই লাগল না। আমি তার ভাল করলেও সে আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করল। 22এবার নাবলের বাড়ির একজনকেও যদি কাল সকাল পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখি তাহলে ঈশ্বর যেন আমাকে শাস্তি দেন।”

23ঠিক তখনই অবীগল তার কাছে এসে গেল। দায়ূদকে দেখে মাথা নীচু করে দায়ূদের পায়ে পড়ল। 24দায়ূদের পায়ে পড়ে অবীগল বলল, “মহাশয়, দয়া করে আমাকে কিছু বলতে অনুমতি দিন। আমার কথা শুনুন। যা হয়েছে তার জন্য আপনি আমাকে দোষী করুন। 25আমি আপনার দূতদের দেখি নি। এ অপদার্থ লোকটাকে আপনি মোটেই গ্রাহ্য করবেন না। তার যেমন নাম, সে তেমনি লোক। তার নামের অর্থ ‘দুষ্ট’ আর সে সত্যিই মন্দ কাজ করে। 26প্রভু আপনাকে নিরীহ লোকদের হত্যা করতে দেন নি। জীবন্ত প্রভুর দিব্য এবং আপনার জীবিত প্রাণের দিব্য, যারা আপনার শত্রু, যারা আপনার ক্ষতি করতে চায় তারা সকলেই নাবলের মতো হোক্। 27এখন আমি আপনার জন্য এই উপহার এনেছি। আপনি আপনার যুবকদের এসব দান করুন। 28আমি যে অন্যায় করেছি তার জন্য আপনি অনুগ্রহ করে আমাকে ক্ষমা করুন। প্রভু আপনার পরিবারের সকলকে শক্তিশালী করবেন। আপনার পরিবার থেকেই আবির্ভাব হবে অনেক রাজার। প্রভু এটাই করবেন, কারণ আপনি তাঁর হয়ে যুদ্ধ করেন। যতদিন আপনি বেঁচে আছেন লোকে আপনার কোন দোষ খুঁজে পাবে না। 29যদি কেউ আপনাকে হত্যা করতে আসে, প্রভু আপনার ঈশ্বরই, আপনাকে রক্ষা করবেন। আপনার শত্রুদের তিনি গুলতির ঢিলের মতো ছুঁড়ে ফেলে দেবেন। 30প্রভু আপনার জন্য অনেক ভাল কিছু করবার প্রতিশ্রুতি করেছেন এবং তিনি অবশ্যই তাঁর সকল প্রতিশ্রুতি রাখবেন। তিনি আপনাকে ইস্রায়েলের নেতা করবেন। 31নিরীহ মানুষকে হত্যা করে পাপের ভাগী আপনি হবেন না। সেই ফাঁদে আপনি পা দেবেন না। প্রভু আপনাকে যখন জয়যুক্ত করবেন তখন আপনি দয়া করে আমায় স্মরণ করবেন।”

32দায়ূদ অবীগলকে বললেন, “প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বরের প্রশংসা কর। তিনি তোমাকে আমার কাছে পাঠিয়েছেন বলে তাঁর প্রশংসা কর। 33তোমার সুবিচারের জন্য ঈশ্বর তোমায় আশীর্বাদ করুন। আজ তুমি নিরীহ মানুষদের হত্যা করার পাপ থেকে আমাকে বাঁচালে। 34প্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বরের নামে আমি শপথ করছি, তুমি যদি আমার সঙ্গে তাড়াতাড়ি দেখা করতে না আসতে তাহলে নাবলের বাড়ির লোকরা কেউ কাল সকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকত না।”

35দায়ূদ অবীগলের উপহার গ্রহণ করলেন। তিনি তাকে বললেন, “তুমি শান্তিতে বাড়ী যাও। আমি তোমার অনুরোধ শুনেছি। তুমি যা কিছু চেয়েছ আমি তা করব।”

নাবলের মৃত্যু

36অবীগল নাবলের কাছে ফিরে এলো। নাবল তখন বাড়িতে রাজার মতো তার খাবার খাচ্ছিল। সে মাতাল ছিল এবং খুশী ছিল। তাই সকাল না হওয়া পর্যন্ত অবীগল তাকে কিছু বলল না। 37পরদিন সকালে নাবলের হুঁশ ফিরে এল। তখন অবীগল তাকে সব কথা খুলে বলল। তখন নাবল হৃদরোগে আক্রান্ত হল। দশ দিন ধরে সে পাথরের মতো অনড় হয়ে রইল। 38প্রায় দশ দিন পর প্রভু নাবলের মৃত্যু ঘটালেন।

39নাবলের মৃত্যু সংবাদ শুনে দায়ূদ বললেন, “প্রভুর প্রশংসা করো। নাবল আমার সম্পর্কে খারাপ কথা বলেছিল, কিন্তু প্রভু আমাকে সমর্থন করলেন। তিনি আমায় কোন অন্যায় করতে দেন নি। নাবল অন্যায় করেছিল বলেই তিনি তার মৃত্যু ঘটালেন।”

তারপর দায়ূদ অবীগলকে একটা চিঠি পাঠালেন। তাকে তাঁর স্ত্রী হিসাবে পাবার জন্য প্রস্তাব করলেন। 40দায়ূদের অনুচররা কর্ম্মিলে গিয়ে অবীগলকে বলল, “আপনাকে নিয়ে যাবার জন্য দায়ূদ আমাদের পাঠিয়েছেন। তিনি আপনাকে বিবাহ করতে চান।”

41অবীগল মাটিতে উপুড় হয়ে প্রণাম করে বলল, “আমি তোমাদের দাসী। তোমাদের সেবা করতে আমি প্রস্তুত। আমার মনিবের (দায়ূদের) সেবকদের পা ধুয়ে দিতে আমি প্রস্তুত।”

42অবীগল আর দেরী না করে দায়ূদের অনুচরদের সঙ্গে একটা গাধার পিঠে চড়ে রওনা হল। তার সঙ্গে ছিল পাঁচ দাসী। অবীগল দায়ূদের স্ত্রী হলেন। 43দায়ূদ যিষ্রিয়েলীয় অহীনোয়মকেও বিবাহ করেছিলেন। অবীগল আর অহীনোয়ম দুজনেই দায়ূদের স্ত্রী হল। 44দায়ূদ শৌলের কন্যা মীখলকেও বিবাহ করেছিলেন। কিন্তু শৌল দায়ূদের কাছে থেকে তার কন্যাকে সরিয়ে এনে তার সঙ্গে পল্টির বিয়ে দিলেন। পল্টির পিতার নাম লায়িশ। পল্টির বাড়ি ছিল গল্লীম শহরে।

26

শৌলের শিবিরে দায়ূদ ও অবীশয়ের প্রবেশ

1সীফের লোকরা শৌলের সঙ্গে দেখা করতে গিবিয়ায় গেল। তারা শৌলকে বলল, “দায়ূদ হখীলার পাহাড়ে লুকিয়ে রয়েছে। যেশিমোনের ঠিক অপর দিকেই সেই পাহাড়।”

2সীফের মরুভূমিতে শৌল নেমে এলেন। সমস্ত ইস্রায়েল থেকে শৌল 3000 সৈন্য বেছে নিয়েছিলেন। এদের নিয়ে শৌল সীফের মরু অঞ্চলে দায়ূদকে খুঁজতে লাগলেন। 3হখীলা পাহাড়ে শৌল তাঁবু বসালেন। যেশিমোনের রাস্তার ধারেই ছিল সেই তাঁবু।

দায়ূদ মরুভূমির মধ্যে বাস করতেন। তিনি জানতে পারলেন যে শৌল সেখানেও তাঁর পিছু নিয়েছেন। 4তখন তিনি গুপ্তচর পাঠালেন। শৌল যে হখীলায় এসেছেন সে খবর তিনি জানতেন। 5দায়ূদ শৌলের শিবিরে উপস্থিত হলেন। তিনি দেখলেন কোথায় শৌল আর অব্নের ঘুমাচ্ছিলেন। (অব্নের, শৌলের সেনাপতি, নেরের পুত্র।) শৌল শিবিরের মাঝখানে ঘুমোচ্ছিলেন। সৈন্যরা তাঁর চারপাশে ছিল।

6দায়ূদ হিত্তীয় অহীমেলক আর সরূয়ার পুত্র অবীশয়ের সঙ্গে কথা বললেন। (অবীশয় যোয়াবের ভাই।) তিনি তাদের বললেন, “কে আমার সঙ্গে শৌলের শিবিরে যাবে?”

অবীশয় উত্তরে বলল, “আমি তোমার সঙ্গে যাব।”

7রাত হলে দায়ূদ ও অবীশয় শৌলের শিবিরে গেলেন। শৌল শিবিরের মাঝখানে ঘুমোচ্ছিলেন। তাঁর মাথার কাছে মাটিতে তাঁর বর্শা গাঁথা ছিল। অব্নের ও অন্যান্য সৈন্যরা শৌলের চারপাশে ঘুমাচ্ছিল। 8অবীশয় দায়ূদকে বলল, “আজ ঈশ্বরের দয়ায় আপনি শত্রু জয় করবেন। শৌলের বর্শা দিয়ে শৌলকে মাটিতে গেঁথে দিতে চাই। শুধু একবার আপনি এই কাজটা আমায় করতে দিন।”

9দায়ূদ অবীশয়কে বললেন, “শৌলকে হত্যা কোরো না। প্রভু যাকে রাজা বলে মনোনীত করেছেন তাকে কেউ যেন আঘাত না করে। আঘাত করলে সে অবশ্যই শাস্তি পাবে। 10প্রভু যখন আছেন তখন তিনি নিশ্চয়ই নিজেই শৌলকে শাস্তি দেবেন। তাছাড়া শৌলের স্বাভাবিক মৃত্যুও হতে পারে। কিংবা এও হতে পারে যুদ্ধেই শৌল মারা যাবেন। 11সে যাই হোক্ আমি চাই না যে প্রভু তাঁর নির্বাচিত রাজাকে আমার হাত দিয়ে হত হতে দেন। এখন শৌলের মাথার কাছে বর্শা আর জলের জায়গাটা তুলে নাও। তারপর আমরা চলে যাব।”

12সেই মত দায়ূদ বর্শা আর কুঁজো নেবার পর অবীশয়কে সঙ্গে নিয়ে তাঁবু থেকে বাইরে এলেন। কেউ কিছু জানতে পারল না। কেউ ঘুম থেকে জেগেও উঠল না। শৌল আর সৈন্যরা সকলেই গাঢ় ঘুমে ঢলে পড়েছিল কারণ প্রভু তাদের গাঢ় ঘুমে আক্রান্ত করেছিলেন।

দায়ূদ আবার শৌলকে অপ্রস্তুতে ফেললেন

13দায়ূদ উপত্যকা পেরিয়ে পাহাড়ের শিখরে গিয়ে দাঁড়ালেন। সেই জায়গা থেকে শৌলের শিবির অনেক দূরে ছিল। 14দায়ূদ সৈন্যসামন্ত আর নেরের পুত্র অব্নেরের দিকে চিৎকার করে বললেন, “অব্নের জবাব দাও।”

অব্নের উত্তর দিলো, “কে তুমি? কেন তুমি রাজাকে ডাকছ?”

15দায়ূদ বললেন, “তুমি তো একজন মানুষ, তাই না? ইস্রায়েলের আর পাঁচটা মানুষের চেয়ে তুমি সেরা, ঠিক কি না? তাহলে কেন তুমি তোমার মনিবকে পাহারা দিলে না? একজন সাধারণ মানুষ তাঁবুতে ঢুকে তোমাদের মনিবকে খুন করতে এসেছিল। 16তুমি মস্ত বড় ভুল করেছ। আমি প্রভুর নামে শপথ করে বলছি, তোমাকে আর তোমার লোকদের অবশ্যই মরতে হবে। তুমি কি জানো কেন? কারণ তুমি প্রভুর নির্বাচিত রাজা অর্থাৎ‌ তোমার মনিবকে রক্ষা কর নি। শৌলের মাথার কাছে কোথায় রাজার বর্শা আর জলের কুঁজো আছে? খুঁজে দেখো, কোথায়?”

17শৌল দায়ূদের স্বর চিনতেন। তিনি বললেন, “বৎস দায়ূদ, তুমিই কি কথা বলছ?”

দায়ূদ উত্তর দিলেন, “হে প্রভু, হে রাজন, আপনি আমারই কন্ঠস্বর শুনছেন।” 18দায়ূদ আবার বললেন, “আপনি কেন আমার পিছু নিয়েছেন? আমি কি অন্যায় করেছি? কি আমার দোষ? 19হে আমার মনিব, হে রাজা, আমার কথা শুনুন। আপনি যদি আমার ওপর রাগ করে থাকেন এবং প্রভু যদি এর কারণ হয়ে থাকেন তাহলে তাঁকে তাঁর নৈবেদ্য গ্রহণ করতে দিন। কিন্তু যদি লোকদের কারণে আপনি আমার ওপর রাগ করে থাকেন, তাহলে প্রভু যেন তাদের মন্দ করেন। প্রভু আমায় যে দেশ দান করেছেন সেই দেশ আমি লোকদেরই চাপে ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছি। তারা আমায় বলেছে, যাও, ভিনদেশীদের সঙ্গে বাস করো। সেখানে গিয়ে অন্য মূর্ত্তির পূজা করো। 20শুনুন, প্রভুর সান্নিধ্য থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে আমায় মরতে দেবেন না। ইস্রায়েলের রাজা একটা নীল মাছি খুঁজতে বেরিয়ে এসেছেন। যেমন কেউ পর্বতে উঠে সামান্য একটা তিতির পাখীকে তাড়া করে শিকার করে।”

21তখন শৌল বললেন, “আমি পাপ করেছি। বৎস দায়ূদ, তুমি ফিরে এসো। আজ তুমি দেখালে, তোমার কাছে আমার জীবন কত প্রয়োজনীয়। আমি তোমাকে হত্যা করব না। আমি বোকার মত কাজ করেছি। কি ভুলই আমি করেছি!”

22দায়ূদ বললেন, “এই দেখুন রাজার বর্শা। আপনার একজন যুবককে এখানে পাঠিয়ে দিন। সে এটা নিয়ে যাক্। 23প্রভু প্রতিটি মানুষকে তার কর্মের জন্য প্রতিদান দিয়ে থাকেন। যদি সে উচিৎ‌ কাজ করে তাহলে তিনি তাকে পুরস্কার দেন আর যদি সে অন্যায় করে তাহলে তিনি তাকে শাস্তি দেন। আজ তিনি আপনাকে হারানোর জন্য আমাকে পাঠিয়েছেন। কিন্তু আমি তাঁর মনোনীত রাজাকে কিছুতেই আঘাত করতে পারি না। 24আজ আপনাকে আমি দেখালাম যে, আপনার জীবন আমার কাছে কত মূল্যবান। একইভাবে প্রভুও দেখাবেন, তাঁর কাছে আমার জীবনও কত মূল্যবান। প্রভু আমাকে সব রকম বিপদ থেকে রক্ষা করবেন।”

25শৌল দায়ূদকে বললেন, “বৎস দায়ূদ, ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন। তুমি অনেক মহৎ‌‌ কর্ম করবে এবং তুমি সফল হবে।”

দায়ূদ নিজের পথে চলে গেলেন, আর শৌল তাঁর জায়গায় ফিরে গেলেন।

27

দায়ূদ পলেষ্টীয়দের সঙ্গে বসবাস করলেন

1দায়ূদ মনে মনে বললেন, “একদিন না একদিন শৌল আমাকে নিশ্চয়ই ধরবেন। সবচেয়ে ভাল হয় যদি আমি পলেষ্টীয়দের দেশে চলে যাই। তাহলে শৌল আমাকে ইস্রায়েলে খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। এভাবে আমি শৌলের হাত থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো।”

2সুতরাং 600 জন পুরুষ নিয়ে দায়ূদ ইস্রায়েল ছেড়ে চলে গেলেন। তারা মায়োকের পুত্র আখীশের কাছে গেলেন। আখীশ তখন গাতের রাজা। 3দায়ূদ সপরিবারে তাঁর যুবকদের সঙ্গে গাতের আখীশের সঙ্গে থেকে গেলেন। দায়ূদের সঙ্গে ছিল তাঁর দুই স্ত্রী। যিষ্রিয়েলের অহীনোয়ম আর কর্ম্মিলীয় অবীগল। অবীগল নাবলের বিধবা পত্নী। 4সবাই শৌলকে বলল, দায়ূদ গাৎ‌ দেশে পালিয়ে গেছে। তাই শৌল আর দায়ূদকে খুঁজলেন না।

5দায়ূদ আখীশকে বললেন, “আপনি যদি আমার ওপর প্রসন্ন হন, তবে আপনার যে কোন একটা শহরে আমাকে থাকতে দিন। আমি আপনার একজন ভৃত্য মাত্র। সেখানেই আমার উপযুক্ত জায়গা। এই রাজধানীতে আপনার কাছে থাকা আমার মানায় না।”

6সেদিন আখীশ দায়ূদকে সিক্লগ শহরে পাঠালেন। সেহেতু সিক্লগ আজ পর্যন্ত যিহূদা রাজাদের শহর হয়ে আছে। 7এক বছর চার মাস দায়ূদ পলেষ্টীয়দের সঙ্গে ছিলেন।

দায়ূদ আখীশকে বোকা বানালেন

8দায়ূদ এবং তাঁর সঙ্গীরা অমালেকীয়, গশূরীয়, গির্ষীয় অধিবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেলেন, যারা সেই মিশর পর্যন্ত শূরের কাছে টেলেম অঞ্চলে বাস করত। দায়ূদের কাছে তারা পরাজিত হল। তাদের সব ধনসম্পদ দায়ূদের হাতে গেলো। 9ঐ অঞ্চলের সকলকে হারিয়ে দায়ূদ তাদের মেষ, গরু, গাধা, উট, বস্ত্র সবকিছু নিয়ে আখীশের কাছে তুলে দিলেন। কিন্তু দায়ূদ এই লোকদের মধ্যে একজনকেও জীবিত রাখলেন না।

10এরকম লড়াই দায়ূদ অনেকবার করেছিলেন। প্রত্যেকবারই আখীশ দায়ূদকে জিজ্ঞাসা করতেন কোথায় সে যুদ্ধ করে এত সব জিনিস এনেছে। দায়ূদ বলতেন, “আমি যুদ্ধ করেছি এবং যিহূদার দক্ষিণ অঞ্চল জিতেছি।” অথবা “আমি যুদ্ধ করে যিরহমীলের দক্ষিণ দিক জিতেছি,” অথবা বলতেন, “আমি কেনীয়দের দক্ষিণে লড়াই করে জিতেছি।” 11দায়ূদ গাতে কাউকেই জীবিত আনতেন না। তিনি ভাবলেন, “যদি আমরা কাউকে জীবিত রাখি তাহলে সে আখীশকে বলে দেবে আমি কি করেছি।”

পলেষ্টীয়দের দেশে থাকার সময় দায়ূদ সব সময় এই ধরণের কাজ করতেন। 12আখীশ দায়ূদকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন। আখীশ মনে মনে বলতেন, “নিজের লোকরাই এখন দায়ূদকে ঘৃণা করছে। ইস্রায়েলীয়রা তাকে একেবারেই দেখতে পারে না। এখন থেকে চিরদিন দায়ূদ আমার সেবা করবে।”

28

পলেষ্টীয়রা যুদ্ধের জন্য তৈরী হল

1পরে পলেষ্টীয়রা ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সৈন্য সংগ্রহ করতে লাগল। আখীশ দায়ূদকে বললেন, “লোকদের নিয়ে তুমি আমার সঙ্গে ইস্রায়েলীয়দের বিরুদ্ধে যাবে, বুঝতে পেরেছ?”

2দায়ূদ বললেন, “নিশ্চয়ই, দেখবেন আমি কি করি।”

আখীশ বললেন, “বেশ! তুমি হবে আমার দেহরক্ষী। সবসময় তুমি আমাকে রক্ষা করবে।”

ঐন্-দোরে শৌল এবং একজন স্ত্রীলোক

3শমূয়েল মারা গেল। তার মৃত্যুতে ইস্রায়েলীয়রা সকলেই শোক প্রকাশ করল। তারা তাকে তার নিজের দেশ রামায় কবর দিল।

যারা প্রেতাত্মা নামায় আর ভবিষ্যৎ বলতে পারে তাদের সকলকে শৌল বলপূর্বক ইস্রায়েল থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন।

4পলেষ্টীয়রা যুদ্ধের জন্য তৈরী হল। তারা শূনেমে তাঁবু খাটাল। ইস্রায়েলীয়দের নিয়ে শৌল গিলবোয় তাঁবু খাটালেন। 5পলেষ্টীয় সৈন্যদের দেখে শৌল ভয় পেয়ে গেলেন। ভয়ে তাঁর বুক কাঁপতে লাগলো। 6শৌল, প্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন। কিন্তু প্রভু সে প্রার্থনার কোন উত্তর দিলেন না। স্বপ্নের মধ্যেও ঈশ্বর শৌলকে কিছু বললেন না। ঊরীমের দ্বারাও ঈশ্বর উত্তর দিলেন না। কোনো ভাববাদীর মাধ্যমেও ঈশ্বর শৌলের উদ্দেশ্যে কোন বাণী শোনালেন না। 7অবশেষে, শৌল তাঁর আধিকারিকদের বললেন, “একজন স্ত্রীলোকের খোঁজ কর যে একজন প্রেতাত্মার মাধ্যম। তাকে জিজ্ঞেস করব যুদ্ধে কি হতে পারে।” তারা বলল, “ঐন্-দোরে এরকম একজন আছে।”

8শৌল নানারকম পোশাকে সাজলেন যাতে কেউ তাঁকে চিনতে না পারে। সেই রাত্রে শৌল দুজন লোক নিয়ে সেই স্ত্রীলোকটিকে দেখতে গেলেন। তারপর তার দেখা পেয়ে শৌল বললেন, “আমি চাই তুমি একা আত্মাকে উঠিয়ে আন। সে আমায় ভবিষ্যতে কি হবে না হবে তা বলবে। আমি যার নাম বলব তুমি তাকে ডেকে আনবে।”

9সেই স্ত্রীলোকটি বলল, “শৌল যা করেছেন তার সবই আপনি জানেন। তিনি তো ইস্রায়েলের থেকে সব জ্যোতিষী আর ভূত নামানো মাধ্যমদের জোর করে তাড়িয়ে দিয়েছেন। আপনি আমায় আসলে ফাঁদে ফেলে মেরে ফেলতে চাইছেন।”

10শৌল প্রভুর নামে শপথ করে সেই স্ত্রীলোকটিকে বললেন, “প্রভুর দিব্য দিয়ে বলছি যে তুমি এর জন্য শাস্তি ভোগ করবে না।”

11স্ত্রীলোকটি বলল, “আপনার জন্য কাকে এনে দিতে হবে?”

শৌল বললেন, “শমূয়েলকে উঠিয়ে আন।”

12তাই হল। স্ত্রীলোকটি শমূয়েলকে দেখতে পেয়ে চিৎকার করে উঠল। সে শৌলকে বলল, “তুমি আমাকে প্রতারণা করেছ, তুমিই তো শৌল।”

13রাজা সেই স্ত্রীলোকটিকে বলল, “ভয় পেও না। তুমি কি দেখছ?”

স্ত্রীলোকটি বলল, “আমি দেখছি একটা আত্মা ভূমি থেকে উঠে আসছে।”+ 28:13 ভূমি … আসছেঅথবা “শিওল, মৃত্যুর স্থান।”

14শৌল বলল, “তাকে কার মতো দেখতে?” স্ত্রীলোকটি বলল, “তাকে দেখতে বিশেষ পোশাক পরা একজন বৃদ্ধলোকের মতো।”

শৌল বুঝতে পারলেন উনি হচ্ছেন শমূয়েল। শৌল মাথা নোয়ালেন। মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লেন। 15শমূয়েল শৌলকে বলল, “তুমি কেন আমাকে বিরক্ত করছ? কেন আমাকে তুলে আনলে?”

শৌল বললেন, “আমি বিপদে পড়েছি। পলেষ্টীয়রা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছে, কিন্তু ঈশ্বর আমায় ত্যাগ করেছেন। তিনি আমার ডাকে আর সাড়া দিচ্ছেন না। কোনো ভাববাদী বা কোনো স্বপ্নের মধ্যে দিয়েও তিনি উত্তর দিচ্ছেন না। তাই আমি আপনাকে ডেকেছি। আপনি বলুন আমাকে কি করতে হবে?”

16শমূয়েল বললেন, “প্রভু তোমায় ত্যাগ করেছেন। তিনি এখন তোমার প্রতিবেশী (দায়ূদের) কাছে। তবে কেন আমায় জ্বালাতন করছ? 17আমার মাধ্যমে প্রভু তোমাকে জানিয়েছেন তিনি কি করবেন। এখন তিনি তাঁর কথা অনুযায়ী কাজ করছেন। তিনি তোমার হাত থেকে রাজত্ব কেড়ে নিচ্ছেন। তিনি তোমার একজন প্রতিবেশীকে সেই রাজ্য সমর্পণ করছেন। সেই প্রতিবেশীর নাম দায়ূদ। 18তুমি প্রভুর কথা মান্য করো নি। তুমি অমালেকীয়দের ধ্বংস করো নি এবং তাদের দেখাও নি যে প্রভু তাদের ওপর কত ক্রুদ্ধ ছিলেন। তাই তিনি তোমার সঙ্গে এমন ব্যবহার করছেন। 19তাঁর ইচ্ছাতেই পলেষ্টীয়রা তোমাকে আর ইস্রায়েলীয় যোদ্ধাদের পরাজিত করবে। আগামীকাল তুমি আর তোমার পুত্ররা এখানে আমার কাছে আসবে।”

20শৌল সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে পড়ে গেলেন। তিনি শুয়ে রইলেন। শমূয়েলের কথায় তিনি বেশ ভয় পেয়েছিলেন। তাছাড়া সারাদিন সারারাত কিছু না খেয়ে তিনি খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন।

21স্ত্রীলোকটি শৌলের কাছে এসে দেখল শৌল সত্যিই বেশ ভয় পেয়ে গেছেন। সে তাকে বলল, “শুনুন আমি আপনার দাসী। আপনার আদেশ আমি পালন করেছি। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আপনার কথা আমি শুনেছি। 22এখন দয়া করে আমার কথা শুনুন। আমি আপনাকে কিছু খেতে দিচ্ছি। আপনি খেয়ে শক্তি সঞ্চয় করুন যাতে পথে চলতে ফিরতে পারেন।”

23কিন্তু শৌল কথা শুনলেন না। তিনি বললেন, “আমি খাব না।”

এমনকি শৌলের আধিকারিকরাও স্ত্রীলোকটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে শৌলকে খাবার জন্যে মিনতি করতে লাগল। শেষ পর্যন্ত শৌল তাদের কথা শুনলেন। তিনি মাটি থেকে উঠে বিছানার ওপর বসলেন। 24স্ত্রীলোকটির বাড়িতে একটি মোটাসোটা বাছুর ছিল। সে চট্‌পট্ বাছুরটিকে জবাই করল। কিছু ময়দা খামির না দিয়ে মেখে হাতে লেচি তৈরী করে সেঁকে ফেলল। 25শৌল ও কর্মচারীদের সে খেতে দিল। তারা খাওয়া দাওয়া করে সেই রাত্রে উঠে বেরিয়ে পড়ল।

29

“দায়ূদকে সঙ্গে নিতে আপত্তি”

1পলেষ্টীয়রা অফেকে সৈন্য জড়ো করল। ইস্রায়েলীয়রা তাঁবু গাড়ল যিষ্রিয়েল ঝর্ণার পাশে। 2পলেষ্টীয় শাসকরা 100 জন সৈন্য এবং 1000 জন সৈন্যের এক এক দল নিয়ে কুচকাওয়াজ করে অগ্রসর হলেন। পেছনে পেছনে আখীশের সঙ্গে রইল দায়ূদ ও তার লোকরা। 3পলেষ্টীয় সেনাপতিরা জিজ্ঞাসা করল, “এই ইব্রীয়রা এখানে কি করছে?”

আখীশ বললেন, “এ হচ্ছে দায়ূদ, শৌলের একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক। আমার সঙ্গে ও অনেকদিন রয়েছে। শৌলকে ছেড়ে দেবার পর থেকে যতদিন দায়ূদ আমার কাছে রয়েছে ততদিন ওর মধ্যে খারাপ কিছু দেখি নি।”

4তবুও পলেষ্টীয় সেনাপতিরা আখীশের ওপর রেগে গেল। তারা বলল, “দায়ূদকে ফেরত পাঠিয়ে দাও। ওকে যে শহরে তুমি থাকতে দিয়েছ, সেখানে ওকে ফিরে যেতেই হবে। আমাদের সঙ্গে সে যুদ্ধে যাবে না। ওকে রাখা মানে একজন শত্রুকেই রাখা। সে আমাদের সৈন্যদের মেরে তার রাজা শৌলকেই খুশী করবে। 5দায়ূদকে নিয়ে ইস্রায়েলীয়রা এই গান গেয়ে নাচানাচি করে:

‘শৌল মেরেছে শত্রু হাজারে হাজারে।

দায়ূদ মেরেছে অযুতে অযুতে!’”

6তাই দায়ূদকে ডেকে আখীশ বললেন, “প্রভুর অস্তিত্বের মতোই নিশ্চিত যে তুমি আমার অনুগত। তোমাকে আমার সৈন্যদের মধ্যে রাখলে আমি খুশি হতাম। যেদিন থেকে তুমি আমার কাছে, আমি তোমার কোন অন্যায় দেখি নি। কিন্তু পলেষ্টীয় শাসকরা তোমাকে সমর্থন করে নি। 7তুমি ফিরে যাও। পলেষ্টীয় রাজাদের বিরুদ্ধে তুমি কিছু করো না।”

8দায়ূদ বললেন, “আমি কি এমন অন্যায় করেছি? আজ পর্যন্ত যতদিন আপনার সামনে আছি, আপনি কি এই দাসের কোন দোষ পেয়েছেন? তবে কেন আমার মনিব মহারাজের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে দেবেন না?”

9আখীশ উত্তর দিলেন, “আমি তোমায় একজন ভালো মানুষ হিসাবে গণ্য করি। তুমি একজন ঈশ্বরের দূতের মতো। কিন্তু কি করব, পলেষ্টীয় সেনাপতিরা বলছে, ‘দায়ূদ আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে যাবে না।’ 10খুব সকালে তুমি লোকদের নিয়ে যে শহর আমি তোমাকে দিয়েছি সেই শহরে ফিরে যাও। সেনাপতিরা তোমার নামে যেসব নিন্দা করেছে সেসবে কান দিও না। তুমি ভাল লোক। তাই সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তুমি চলে যাবে।”

11অবশেষে দায়ূদ এবং তাঁর সঙ্গীরা খুব সকালে পলেষ্টীয়দের দেশে ফিরে গেল এবং পলেষ্টীয়রা যিষ্রিয়েল পর্যন্ত গেল।

30

অমালেকীয়রা সিক্লগ আক্রমণ করল

1তৃতীয় দিনে দায়ূদ সিক্লগে উপস্থিত হলেন। সেখানে গিয়ে তারা দেখল অমালেকীয়রা সিক্লগ শহর আক্রমণ করেছে। তারা নেগেভ অঞ্চলে হানা দিয়েছিল। সিক্লগ শহর তারা পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল। 2সিক্লগের স্ত্রীলোকদের তারা বন্দী হিসাবে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। যুবক বৃদ্ধ সকলকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তাদের কাউকে হত্যা করে নি।

3দায়ূদ লোকদের সঙ্গে নিয়ে সিক্লগে এসে দেখলেন শহরটা দাউ দাউ করে জ্বলছে। তাদের স্ত্রীদের, ছেলেমেয়ে সকলকেই অমালেকীয়রা ধরে নিয়ে গেছে। 4দায়ূদ এবং তাঁর লোকরা চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে একেবারে কাহিল হয়ে পড়ল। শেষে দুর্বলতায় আর চিৎকার করতে পারল না। 5অমালেকীয়রা দায়ূদের দুই স্ত্রীকেই, যিষ্রিয়েলীয় অহীনোয়ম আর নাবলের বিধবা অবীগলকে, ধরে নিয়ে গিয়েছিল।

6সব সৈন্যরা দুঃখে আর রাগে অধীর হয়ে পড়েছিল, কারণ তাদের ছেলে মেয়েদের যুদ্ধ বন্দী হিসাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাই তারা দায়ূদকে আক্রমণ করবার ও পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলবার সিদ্ধান্ত নিল। দায়ূদ এসব শুনে মুষড়ে পড়লেন। কিন্তু প্রভু ঈশ্বরেই দায়ূদ তাঁর শক্তি খুঁজে পেলেন। 7দায়ূদ যাজক অবিয়াথরকে বললেন, “এফোদটি এনে দাও” এবং অবিয়াথর দায়ূদকে সেটা এনে দিলেন।

8তারপর দায়ূদ প্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন, “যারা আমাদের ছেলেমেয়েদের ধরে নিয়ে গেছে, আমি কি তাদের পিছু নেব? আমি কি তাদের ধরতে পারব?”

প্রভু বললেন, “যাও ওদের পিছু নাও। তুমি ওদের ধরতে পারবে। তুমি তোমার সকল পরিবারগুলিকে রক্ষা করতে পারবে।”

দায়ূদ একজন মিশরীয় ক্রীতদাসকে দেখতে পেলেন

9 দায়ূদ 600 জন লোক নিয়ে বিষোর স্রোতের কাছে পৌঁছলেন। সেখানে তাঁর লোকদের প্রায় 200 জন থাকল। তারা খুব দুর্বল আর ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তারা আর চলতে পারছিল না। তাই 400 জন পুরুষ নিয়ে দায়ূদ অমালেকীয়দের তাড়া করলেন।

11দায়ূদের লোকরা মাঠের মধ্যে একজন মিশরীয়কে দেখতে পেল। তারা তাকে দায়ূদের কাছে নিয়ে এসে জল আর কিছু খাবার দিল। 12ডুমুরের পিঠে আর দুমুঠো কিস্মিস্ ওকে খেতে দিল। খাওয়া দাওয়ার পর সে একটু ভাল বোধ করল। তিনদিন তিনরাত সে কোন কিছু খেতে পায় নি বা পান করতে পায় নি।

13মিশরীয় লোকটাকে দায়ূদ জিজ্ঞাসা করলেন, “কে তোমার মনিব? কোথা থেকে তুমি আসছ?”

লোকটি বলল, “আমি একজন মিশরীয়। অমালেকের ক্রীতদাস। তিনদিন আগে আমি অসুস্থ হওয়ায় আমার মনিব আমাকে ছেড়ে দিয়ে চলে যায়। 14আমরা নেগেভ আক্রমণ করেছিলাম। ওখানে করেথীয়রা থাকে। আমরা যিহূদা আর নেগেভ অঞ্চল আক্রমণ করেছিলাম। নেগেভে কালেবের লোকরা থাকে। আমরা সিক্লগও পুড়িয়ে দিয়েছিলাম।”

15দায়ূদ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “যারা আমাদের পরিবারগুলিকে নিয়ে নিয়েছে তুমি কি তাদের কাছে আমাদের নিয়ে যাবে?”

মিশরীয় লোকটি বলল, “যদি ঈশ্বরের কাছে প্রতিশ্রুতি করো যে তুমি আমায় হত্যা করবে না বা আমাকে আমার মনিবের কাছে ফিরিয়ে দেবে না, তাহলে আমি তোমাকে সাহায্য করবো।”

দায়ূদ অমালেকীয়দের হারিয়ে দিলেন

16মিশরীয় লোকটি দায়ূদকে অমালেকীয়দের কাছে পৌঁছে দিল। সেই সময় তারা মাটিতে চারিদিকে ছড়িয়ে গড়াগড়ি দিচ্ছিল, খাওয়া দাওয়া ও পান করছিল। পলেষ্টীয়দের দেশ আর যিহূদা থেকে যা লুঠপাট করে এনেছিল সে সব নিয়ে ওরা ফূর্তি করছিল। 17দায়ূদ তাদের আক্রমণ করে হত্যা করলেন। সূর্যোদয় থেকে পরদিন সন্ধ্যে পর্যন্ত তারা যুদ্ধ করলো। 400 জন অমালেক যুবক ঝাঁপ দিয়ে, উটে চড়ে পালিয়ে গেল। বাকীরা সকলে নিহত হল।

18অমালেকীয়রা যা যা নিয়েছিল দায়ূদ তার সব ফিরে পেলেন। তিনি তাঁর দুই স্ত্রীও ফিরে গেলেন। 19কিছুই খোয়া যায় নি। শিশু বৃদ্ধ সকলকেই ফিরে পাওয়া গেল। তারা তাদের সব ছেলে মেয়েদের এবং তাদের দামী জিনিসপত্র সব ফিরে পেল। দায়ূদ সব ফিরিয়ে নিয়ে এলেন। 20দায়ূদ সমস্ত মেষপাল ও গো-পাল নিলেন। দায়ূদের লোকরা এইসব পশুকে আগে আগে চালাল। দায়ূদের লোকরা বলল, “এইসব হচ্ছে দায়ূদের পুরস্কার।”

সকলে সমানভাবে সব কিছু পাবে

21বিষোর স্রোতের ধারে যে 200 জন থেকে গিয়েছিল তাদের কাছে দায়ূদ এলেন। এরা খুব ক্লান্ত আর দুর্বল বলে দায়ূদের সঙ্গে যেতে পারে নি। তারা দায়ূদ ও তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে দেখা করতে এল। তারা কাছে আসতেই বিষোর স্রোতের ধারের লোকরা অভিবাদন জানাল। 22কিন্তু দায়ূদের লোকদের মধ্যে দুষ্ট লোকও ছিল। তারা ঝামেলা বাধাত। তারা বলল, “এই 200 জন লোক আমাদের সঙ্গে আসে নি। তাই এদের আমরা যা এনেছি তার ভাগ দেব না। এরা শুধু নিজেদের স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের ফেরত পাবে।”

23দায়ূদ বললেন, “ভাইসব, এইরকম কাজ করা ঠিক নয়। প্রভু আমাদের কি দিয়েছেন একবার ভেবে দেখো। তিনি আমাদের বিরুদ্ধে আসা শত্রুদের হারিয়ে দিয়েছেন। 24তোমাদের কথা কেউ শুনবে না। যারা দ্রব্যসামগ্রী আগলেছিল আর যারা যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল সকলেই সমান দাবিদার। প্রত্যেকেই সমান ভাগ পাবে।” 25দায়ূদ ইস্রায়েলের জন্য এই বিধি ও শাসন স্থির করলেন। এই বিধান আজও চালু আছে।

26দায়ূদ সিক্লগে এসে পৌঁছালেন। অমালেকীয়দের কাছ থেকে পাওয়া কিছু জিনিসপত্র তাঁর বন্ধুদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। এরা সব যিহূদার দলপতি। দায়ূদ বললেন, “তোমাদের জন্য কিছু উপহার এনেছি। প্রভুর শত্রুদের কাছ থেকে এইসব আমরা পেয়েছি।”

27দায়ূদ অমালেকীয়দের কাছ থেকে নেওয়া জিনিসপত্র থেকে কিছু বৈথেল, নেগেভের রামোৎ এবং যত্তীরের নেতাদের কাছে পাঠালেন। 28অরোয়ের, শিফমোৎ, ইষ্টিমোয়, 29রাখল, যিরহমেলীয়দের নগরগুলিতে, কেনীয়দের নগরগুলিতে 30হর্ম্মা, কোর-আশন, অথাক, 31এবং হিব্রোণ শহরের নেতাদের কাছে দায়ূদ উপহার পাঠালেন। তাছাড়া আর যে যে দেশে দায়ূদ ও তাঁর লোকরা ছিল, সেইসব দেশের নেতাদের কাছেও তিনি উপহার পাঠালেন।

31

শৌলের মৃত্যু

1ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পলেষ্টীয়রা জিতে গেল। ইস্রায়েলীয়রা পলেষ্টীয়দের কাছ থেকে পালিয়ে গেল। গিল্‌বোয় পর্বতের চূড়ায় অনেক ইস্রায়েলীয় মারা গেল। 2শৌল আর তাঁর পুত্রদের বিরুদ্ধে পলেষ্টীয়রা একটা দুর্দান্ত যুদ্ধ চালিয়েছিল। শৌলের তিন পুত্র যোনাথন, অবীনাদব আর মল্কী-শূয়কে পলেষ্টীয়রা হত্যা করল।

3যুদ্ধের অবস্থা শৌলের পক্ষে খারাপ থেকে আরও খারাপ হতে লাগল। তীরন্দাজরা তীর ছুঁড়ে শৌলকে গুরুতরভাবে আহত করল। 4শৌল তাঁর বর্মবহনকারী ভৃত্যকে বললেন, “আমায় তোমার তরবারি দিয়ে মেরে ফেল। তাহলে বিদেশীরা আর আমায় মেরে মজা করতে পারবে না।” কিন্তু ভৃত্য সে কথা শুনলো না। সে বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিল। তাই শৌল নিজের তরবারি দিয়ে নিজেকে হত্যা করলেন।

5ভৃত্যটি যখন দেখল শৌল মারা গেছে, তখন সেও নিজের তরবারি দিয়ে আত্মহত্যা করল। শৌলের সঙ্গে সেও সেখানে পড়ে রইল। 6এইভাবে একই দিনে শৌল ও তাঁর তিন পুত্র আর বর্মধারী ভৃত্য একই সঙ্গে মারা গেল।

পলেষ্টীয়রা শৌলের মৃত্যুতে আনন্দ করল

7উপত্যকার অন্যদিকে বসবাসকারী ইস্রায়েলীয়রা দেখলো ইস্রায়েলীয় সৈন্যরা দৌড়ে পালাচ্ছে। তারা দেখল শৌল আর তার তিন পুত্র মারা গেছে। এবার তারাও শহর ছেড়ে পালাল। তারপর পলেষ্টীয়রা এলো এবং ঐ শহরগুলিতে বসবাস করল।

8পরদিন পলেষ্টীয়রা মৃতদের দেহ থেকে জিনিস লুঠ করতে চলে গেল। গিল্‌বোয় পর্বত চূড়ায় এসে তারা শৌল আর তাঁর তিন পুত্রের মৃতদেহ দেখতে পেল। 9তারা শৌলের মাথাটা কেটে নিল। শৌলের বর্ম নিয়ে নিল। তারা পলেষ্টীয়দের কাছে খবর দিয়ে দিল। তাদের মূর্ত্তিসমূহের মন্দিরেও তারা এই খবর নিয়ে গেল। 10অষ্টারোৎ মূর্ত্তির মন্দিরে তারা শৌলের বর্ম রেখে দিল। শৌলের দেহ তারা ঝুলিয়ে রাখল বেথ শানের দেওয়ালে।

11পলেষ্টীয়দের শৌলের প্রতি কৃতকর্মের কথা যাবেশ গিলিয়দের লোকরা জানতে পারলো। 12সেখানকার সৈন্যরা বৈৎ‌-শানে গেল। তারা সারা রাত ধরে দৃঢ় পদক্ষেপে অগ্রসর হল। সেখানকার দেওয়াল থেকে তারা শৌলের দেহ তুলে নিল। শৌলের পুত্রদের দেহও তারা নামিয়ে আনল। তারপর তারা দেহগুলো নিয়ে যাবেশে গেল। যাবেশের লোকরা এইসব দেহ দাহ করলো। 13এদের অস্থিগুলো যাবেশে একটা বিশাল গাছের তলায় তারা কবর দিল। যাবেশের মানুষ সাতদিন উপবাস করে শোক পালন করল।