করিন্থীয়দের
প্রতি প্রথম পত্র
11পৌল, যিনি ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী খ্রীষ্ট যীশুর প্রেরিতরূপে আহুত তাঁর কাছ থেকে ও আমাদের ভাই সোস্থিনির কাছ থেকে এই পত্র।
2করিন্থের ঈশ্বরের মণ্ডলী ও যারা খ্রীষ্ট যীশুতে পবিত্র বলে গন্য হয়েছে, তাদের উদ্দেশ্যে এই পত্র। তোমরা ঈশ্বরের পবিত্র লোক হবার জন্য আহুত হয়েছ। সব জায়গায় যে সব লোকেরা প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে ডাকে তাদের সঙ্গে তোমরাও আহুত। তিনি তাদেরও এবং আমাদেরও প্রভু।
3আমাদের পিতা ঈশ্বর ও প্রভু যীশু খ্রীষ্টের কাছ থেকে অনুগ্রহ ও শান্তি যেন তোমাদের ওপর বর্ষিত হয়।
পৌল ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন
4খ্রীষ্ট যীশুর মাধ্যমে ঈশ্বর যে অনুগ্রহ তোমাদের দিয়েছেন, তার জন্য আমি সবসময় ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। 5খ্রীষ্ট যীশুর আশীর্বাদে তোমরা সব কিছুতে, সমস্ত রকম বলবার ক্ষমতায় ও জ্ঞানে উপচে পড়ছ। 6এইভাবে খ্রীষ্ট সম্পর্কে সত্য তোমাদের মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। 7এর ফলে ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া বরদানের কোন অভাব তোমাদের নেই। তোমরা প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অপেক্ষায় আছ; 8তিনি তোমাদের শেষ পর্যন্ত স্থির রাখবেন, যেন আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের ফিরে আসার দিন পর্যন্ত তোমরা নির্দোষ থাক। 9ঈশ্বর বিশ্বস্ত; তিনিই সেইজন যাঁর দ্বারা তোমরা তাঁর পুত্র, আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের সহভাগীতা লাভের জন্য আহুত হয়েছ।
করিন্থে খ্রীষ্ট মণ্ডলীতে সঙ্কট
10কিন্তু আমার ভাই ও বোনেরা, আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে আমি তোমাদের কাছে অনুরোধ করছি, তোমাদের পরস্পরের মধ্যে যেন মতৈক্য থাকে, দলাদলি না থাকে। তোমরা সকলে যেন এক মন-প্রাণ হও ও সকলের উদ্দেশ্য একই হয়।
11আমার ভাই ও বোনেরা, আমি ক্লোয়ীর বাড়ির লোকদের কাছে শুনেছি যে তোমাদের মধ্যে নানা বাক্-বিতণ্ডা লেগেই আছে। 12আমি যা বলতে চাই তা হল এই: তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, “আমি পৌলের অনুগামী,” আবার কেউ কেউ বলে, “আমি আপল্লোর,” আর কেউ কেউ বলে, “আমি কৈফার (পিতরের),” আবার কেউ কেউ বলে, “আমি খ্রীষ্টের অনুগামী।” 13খ্রীষ্টকে কি ভাগ করা যায়? পৌল কি তোমাদের জন্য ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন? তোমরা কি পৌলের নামে বাপ্তিস্ম নিয়েছিলে? 14আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই যে, আমি ক্রীষ্প ও গায়ঃ ছাড়া তোমাদের আর কাউকে বাপ্তিস্ম দিই নি। 15যাতে কেউ বলতে না পারে যে তোমরা আমার নামে বাপ্তিস্ম নিয়েছ। 16তবে হ্যাঁ, আমি স্তিফানের পরিবারকেও বাপ্তিস্ম দিয়েছি। এছাড়া আর কাউকে বাপ্তিস্ম দিয়েছি বলে আমার জানা নেই। 17কারণ খ্রীষ্ট আমাকে বাপ্তিস্ম দেবার জন্য নয় কিন্তু সুসমাচার প্রচারের জন্য পাঠিয়েছেন। তিনি আমাকে সেই সুসমাচার জাগতিক জ্ঞানের ভাষায় প্রচার করতে পাঠান নি, যাতে খ্রীষ্টের ক্রুশের পরাক্রম বিফল না হয়।
খ্রীষ্টের মধ্যে ঈশ্বরের পরাক্রম ও প্রজ্ঞা
18যারা ধ্বংসের পথে চলেছে তাদের কাছে ক্রুশের এই শিক্ষা মুর্খতা; কিন্তু আমরা যারা উদ্ধার লাভ করছি আমাদের কাছে এ ঈশ্বরের পরাক্রমস্বরূপ। 19কারণ শাস্ত্রে লেখা আছে:
“আমি জ্ঞানীদের জ্ঞান নষ্ট করব
আর বুদ্ধিমানদের বুদ্ধি ব্যর্থ করব।”+ 1:19 উদ্ধৃতি যিশাইয় 29:14.
20জ্ঞানী লোক কোথায়? শিক্ষিত লোকই বা কোথায়? এ যুগের দার্শনিকই বা কোথায়? ঈশ্বর কি জগতের এইসব জ্ঞানকে মূর্খতায় পরিণত করেন নি? 21তাই ঈশ্বর তাঁর প্রজ্ঞায় যখন বুঝলেন যে জগত তার নিজের জ্ঞান অনুসারে ঈশ্বরকে পেল না, তখন ঈশ্বর স্থির করলেন যে প্রচারিত বার্তার মূর্খতায় যারা বিশ্বাস করে তাদের তিনি উদ্ধার করবেন।
22কারণ ইহুদীরা অলৌকিক চিহ্ন চায়, আর গ্রীকরা প্রজ্ঞার অন্বেষণ করে। 23কিন্তু আমরা সেই খ্রীষ্ট, যিনি ক্রুশে প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁর সম্বন্ধে প্রচার করি। ইহুদীদের কাছে তা প্রবল বাধাস্বরূপ আর অইহুদীদের কাছে তা মূর্খতাস্বরূপ। 24কিন্তু ইহুদী ও অইহুদী, ঈশ্বর যাদের আহ্বান করেছেন তাদের সকলের কাছে খ্রীষ্টই ঈশ্বরের পরাক্রম ও প্রজ্ঞাস্বরূপ। 25কারণ ঈশ্বরের যে মূর্খতা তা মানুষের জ্ঞানের থেকে অনেক বেশী জ্ঞানসম্পন্ন; আর ঈশ্বরের যে দুর্বলতা তা মানুষের শক্তি থেকে অনেক শক্তিশালী।
26আমার ভাই ও বোনেরা, ঈশ্বর তোমাদের আহ্বান করেছেন। একটু ভেবে দেখো তো! জগতের বিচারে তোমরা অনেকে যে জ্ঞানী ছিলে তা নয়, ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি ছিলে তাও নয় বা অনেকে যে অভিজাত বংশে জন্মেছিলে তাও নয়; 27কিন্তু ঈশ্বর জগতের মূর্খ বিষয় সকল মনোনীত করলেন যাতে সেগুলি জ্ঞানীদের লজ্জা দেয়। ঈশ্বর জগতের দুর্বল বিষয় সকল মনোনীত করলেন যাতে ঐগুলি বলবানদের লজ্জা দেয়। 28জগতের কাছে যা তুচ্ছ ও ঘৃণিত, যার কোন মূল্যই নেই, সেই সব ঈশ্বর মনোনীত করলেন, যাতে যা কিছু জগতের ধারণায় মূল্যবান সেই সমস্তকে তিনি ধ্বংস করতে পারেন। 29ঈশ্বর এই কাজ করলেন যাতে কেউ তাঁর সামনে গর্ব করতে না পারে। 30ঈশ্বরই তোমাদের খ্রীষ্ট যীশুর সাথে যুক্ত করেছেন। খ্রীষ্টই আমাদের কাছে ঈশ্বরের দেওয়া জ্ঞান, তিনিই আমাদের ধার্মিকতা, পবিত্রতা ও যুক্তি। 31শাস্ত্রে যেমন লেখা আছে, “যে কেউ গর্ব করে সে প্রভুতেই গর্ব করুক।”+ 1:31 উদ্ধৃতি যির. 9:24.
2ক্রুশের ওপর খ্রীষ্ট বিষয়ে বার্তা
1আমার ভাই ও বোনেরা, যখন আমি তোমাদের কাছে গিয়ে ঈশ্বরের সত্য প্রচার করেছিলাম, তখন আমি তা অলঙ্কারযুক্ত ও বুদ্ধিদীপ্ত ভাষায় প্রচার করি নি। 2কারণ আমি স্থির করেছিলাম যে কেবল যীশু খ্রীষ্ট এবং ক্রুশের ওপর তাঁর মৃত্যুর কথাই তোমাদের জানাবো। 3আমি তোমাদের কাছে দুর্বলের মতো হয়ে কাঁপতে কাঁপতে গিয়েছিলাম। 4তাই আমার শিক্ষা ও আমার প্রচার প্ররোচনামূলক জ্ঞানের কথায় ভরা ছিল না, বরং আমার শিক্ষাগুলিতে আত্মার শক্তির প্রমাণ ছিল, 5যাতে তোমাদের বিশ্বাস যেন মানুষের জ্ঞানের ওপর নির্ভর না করে ঈশ্বরের শক্তির উপর নির্ভর করে।
ঈশ্বরের জ্ঞান
6কিন্তু তবু আমরা পরিপক্কদের কাছে জ্ঞানের কথা বলি, সেই জ্ঞান পার্থিব জ্ঞানের মতো নয়, তা এই যুগের শাসকদের জ্ঞানের মতো নয়, সেই শাসকরা তো শক্তিহীন হয়ে পড়েছে। 7কিন্তু আমরা নিগূঢ়তত্ত্বে ঈশ্বরের জ্ঞানের কথা বলি। সেই জ্ঞান গুপ্ত ছিল এবং ঈশ্বর আমাদের মহিমান্বিত করবেন বলে এবিষয় সৃষ্টির পূর্বেই স্থির করে রেখেছিলেন। 8এই যুগের শাসকদের মধ্যে কেউ তা বোঝেনি, যদি বুঝত তবে তারা কখনও মহিমাপূর্ণ প্রভুকে ক্রুশে বিদ্ধ করত না। 9কিন্তু শাস্ত্রে যেমন লেখা আছে:
“ঈশ্বরকে যারা ভালবাসে,
তাদের জন্য তিনি যা প্রস্তুত করেছেন,
কোন মানুষ তা কখনও চোখে দেখেনি,
কানে শোনেনি, এমন কি কল্পনাও করেনি।”+ 2:9 উদ্ধৃতি যিশাইয় 64:4.
10কিন্তু আমাদের কাছে ঈশ্বর তাঁর আত্মার দ্বারা তা প্রকাশ করেছেন।
কারণ আত্মা সব কিছুর অনুসন্ধান করেন, এমন কি ঈশ্বরের নিগূঢ় তত্ত্বের অনুসন্ধান করেন। 11বিষয়টি এই রকম: কোন মানুষ অপরে কি চিন্তা করছে তা জানে না। কেবল সেই ব্যক্তির আত্মা, যে তার অন্তরে থাকে সেই জানে। তেমনি ঈশ্বর কি চিন্তা করেন তা কেউ জানে না, কেবল ঈশ্বরের আত্মা জানেন। 12আমরা জগতের আত্মাকে গ্রহণ করি নি কিন্তু ঈশ্বরের কাছ থেকে যে আত্মা এসেছেন তাঁকেই আমরা পেয়েছি, যেন ঈশ্বর অনুগ্রহ করে আমাদের যা যা দান করেছেন তা জানতে পারি।
13সেই সব বিষয়ে বলতে গিয়ে আমরা মানবিক জ্ঞানের শিক্ষানুরূপ কথায় নয়, কিন্তু পবিত্র আত্মার শিক্ষানুসারে বলেছি, আত্মিক বিষয় বোঝাতে আত্মিক কথাই ব্যবহার করছি। 14যার মধ্যে ঈশ্বরের আত্মা নেই সে আত্মা থেকে যে বিষয়গুলি আসে তা গ্রহণ করতে পারে না, কারণ তার কাছে সে সব মূর্খতা। যে ব্যক্তির মধ্যে পবিত্র আত্মা নেই সে আত্মিক কথা বুঝতে পারে না, কারণ সেই বিষয়গুলি কেবল, আত্মিকভাবেই বিচার করা যায়। 15কিন্তু আত্মিক ব্যক্তি সকল বিষয়ে বিচার করতে পারে। অন্য কেউ তার সম্বন্ধে বিচার করতে পারে না। কারণ শাস্ত্র বলছে:
16“কে প্রভুর মন জেনেছে,
যে তাঁকে নির্দেশ দিতে পারে?”+ 2:16 উদ্ধৃতি যিশাইয় 40:13.
কিন্তু খ্রীষ্টের মন আমাদের আছে।
3মানুষকে অনুসরণ করা ভুল
1আমার ভাই ও বোনেরা, আমি তোমাদের সঙ্গে আত্মিক লোকদের মতো কথা বলতে পারি নি। খ্রীষ্টীয় জীবনে তোমরা শিশু বলে তোমাদের কাছে জাগতিক ভাবাপন্ন লোকদের মতো কথা বলছি। 2আমি তোমাদের শক্ত কোন খাদ্য না দিয়ে তোমাদের দুধ পান করিয়েছি, কারণ তখনও তোমরা শক্ত খাদ্য গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিলে না; এমন কি তোমরা এখনও প্রস্তুত হও নি। 3তোমরা এখনও আত্মিক লোক হয়ে ওঠো নি। তোমরা আজও জাগতিক ভাবাপন্ন, কারণ তোমাদের মধ্যে ঈর্ষা ও বিবাদ রয়েছে, আর তাতেই জানা যায় যে তোমরা আত্মিক লোক নও; তোমরা জাগতিক লোকদের মতোই চলছ। 4কারণ তোমাদের মধ্যে যখন কেউ বলে, “আমি পৌলের লোক,” আবার কেউ বলে, “আমি আপল্লোর লোক” তখন কি তোমরা জাগতিক লোকদের মতোই ব্যবহার করছ না?
5আপল্লো কে? আর পৌলই বা কে? আমরা ঈশ্বরের দাস মাত্র, যাদের দ্বারা তোমরা বিশ্বাসী হয়েছ। প্রভু আমাদের এক একজনকে যেমন কাজ দিয়েছেন আমরা তেমন করেছি। 6আমি বীজ বুনেছি, আপল্লো জল দিয়েছেন, কিন্তু ঈশ্বরই বৃদ্ধি দান করেছেন। 7তাই যে বীজ বোনে বা যে জল দেয় সে কিছু নয়, কিন্তু ঈশ্বর, যিনি বৃদ্ধি দান করেন তিনিই সব। 8যে বীজ বোনে ও যে জল দেয় তাদের উদ্দেশ্য এক; তারা প্রত্যেকে নিজের নিজের কর্ম অনুসারে ফল পাবে। 9কারণ আমরা পরস্পর ঈশ্বরেরই সহকর্মী। তোমরা এক শস্যক্ষেত্রের মতো, যার মালিক স্বয়ং ঈশ্বর।
তোমরা ঈশ্বরের গৃহ। 10ঈশ্বর আমায় যে ক্ষমতা দিয়েছেন সেই অনুসারে আমি অভিজ্ঞ স্থপতির মতো ভিত গেঁথেছি। কিন্তু অন্যরা তার ওপর গাঁথছে, তবে প্রত্যেকে যেন লক্ষ্য রাখে কিভাবে তারা তার ওপর গাঁথে। 11যে ভিত গাঁথা হয়েছে তা ছাড়া অন্য ভিত্তিমূল কেউ স্থাপন করতে পারে না, সেই ভিত হচ্ছেন যীশু খ্রীষ্ট। 12এই ভীতের ওপরে কেউ যদি সোনা, রূপো, মূল্যবান পাথর, কাঠ, খড় বা বিছালি দিয়ে গাঁথে 13তবে প্রত্যেক লোকের নিজস্ব কাজ স্পষ্টরূপে প্রকাশ পাবেই। সেই বিচারের দিন+ 3:13 বিচারের দিন ঐ দিন খ্রীষ্ট সমস্ত লোকের বিচারের জন্য আসছেন। তা প্রকাশ করে দেবে, কারণ সেই দিনটি আসবে আগুন নিয়ে আর সেই আগুনই প্রত্যেকের কাজ কি রকম তা যাচাই করবে। 14যে যা গেঁথেছে তা যদি টিকে থাকে তবে সে পুরস্কার পাবে, 15আর যদি কারোর কাজ পুড়ে যায় তবে তাকে ক্ষতি স্বীকার করতে হবে। সে নিজে রক্ষা পাবে; কিন্তু তার অবস্থা আগুনের মধ্য দিয়ে পার হয়ে আসা লোকের মতো হবে।
16তোমরা কি জান না যে তোমরা ঈশ্বরের মন্দির, আর ঈশ্বরের আত্মা তোমাদের মধ্যে বাস করেন? 17যদি কেউ ঈশ্বরের মন্দির ধ্বংস করে তবে ঈশ্বর তাকে ধ্বংস করবেন, কারণ ঈশ্বরের মন্দির পবিত্র আর সেই মন্দির তোমাদেরই।
18তোমরা নিজেদের ফাঁকি দিও না। তোমাদের মধ্যে কেউ যদি নিজেকে এই জগতের দিক দিয়ে জ্ঞানী মনে করে, তবে সে মূর্খ হলেও যেন প্রকৃত জ্ঞানী হতে পারে। 19কারণ ঈশ্বরের দৃষ্টিতে এই জগতের জ্ঞান মূর্খতা স্বরূপ। শাস্ত্রে লেখা আছে: “তিনি (ঈশ্বর) জ্ঞানীদের তাদের ধূর্ততায় ধরে ফেলেন।”+ 3:19 উদ্ধৃতি ইয়োব 5:13.20আবার লেখা আছে, “জ্ঞানীদের সমস্ত চিন্তাই যে অসার তা প্রভু জানেন।”+ 3:20 উদ্ধৃতি গীত 94:11.21তাই কেউ যেন মানুষকে নিয়ে গর্ব না করে, কারণ সবই তো তোমাদের; 22তা সে পৌল, আপল্লো, কৈফা (পিতর) হোক্ বা এই জগৎ জীবন বা মৃত্যুই হোক্। বর্তমান বা ভবিষ্যত যা কিছু বল সব কিছু তোমাদের, 23আর তোমরা খ্রীষ্টের ও খ্রীষ্ট ঈশ্বরের।
4খ্রীষ্টের প্রেরিতগণ
1লোকদের কাছে আমাদের পরিচয় এই হোক্ যে, আমরা খ্রীষ্টের সেবক এবং আমরা ঈশ্বরের নিগূঢ়তত্ত্বরূপ সম্পদের ভারপ্রাপ্ত মানুষ। 2যারা এই সম্পদের ভারপ্রাপ্ত মানুষ তারা এই কাজে বিশ্বস্ত কিনা তা দেখতে হবে। 3তোমরা বা কোন মানুষের বিচার সভা আমার বিচার করুক তাতে আমার কিছু যায় আসে না, এমন কি আমি আমার নিজেরও বিচার করি না। 4আমার বিবেক পরিষ্কার, তবুও এতে আমি নির্দোষ প্রতিপন্ন হই না। প্রভুই আমার বিচার করেন। 5তাই যথার্থ সময়ের আগে অর্থাৎ প্রভু আসার আগে, তোমরা কোন কিছুর বিচার করো না। আজ যা কিছু অন্ধকারে লুকানো আছে তিনি তা আলোতে প্রকাশ করবেন; আর তিনি মানুষের মনের গুপ্ত বিষয় জানিয়ে দেবেন।
6ভাই ও বোনেরা, তোমরা যেন বুঝতে পার তাই আপল্লো ও আমার উদাহরণ দিয়ে এইসব কথা বললাম, “যেন তোমরা শেখ যে শাস্ত্রে যা লেখা আছে তার বাইরে যেতে নেই।” তাহলে তোমরা একজনের বিরুদ্ধে অন্য জনকে নিয়ে গর্ব করবে না। 7তুমি যে অন্যদের থেকে ভাল তা কে বলেছে? আর তুমি যা ঈশ্বরের কাছ থেকে দান হিসাবে পাও নি, এমনই বা কি তোমার আছে? আর যখন তুমি সব কিছু দান হিসেবে পেয়েছ, তখন দান হিসেবে পাও নি, কেন এমন গর্ব করছ?
8তোমরা মনে করছ, তোমাদের যা কিছু প্রয়োজন তোমরা এখনই সে সব পেয়ে গিয়েছ। তোমরা মনে কর তোমরা এখন ধনী হয়ে গিয়েছ; আর আমাদের ছাড়াই তোমরা রাজা হয়ে গিয়েছ। অবশ্য সত্যি সত্যিই তোমরা রাজা হয়ে গেলে ভালোই হত! তাহলে আমরাও তোমাদের সঙ্গে রাজা হতে পারতাম। 9হত্যা করা হবে বলে যাদের মিছিলের শেষে প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়, আমার মনে হয় ঈশ্বর আমাদের অর্থাৎ প্রেরিতদের ঠিক তেমনি সকলের শেষে রেখেছেন। আমরা সারা জগতের কাছে অর্থাৎ স্বর্গদূতদের ও মানুষের কাছে যেন দেখার সামগ্রী হয়েছি। 10আমরা খ্রীষ্টের জন্য মূর্খ হয়েছি, আর তোমরা খ্রীষ্টেতে বুদ্ধিমান হয়েছ। আমরা দুর্বল, কিন্তু তোমরা বলবান। তোমরা সম্মান লাভ করেছ, কিন্তু আমরা অসম্মানিত। 11এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কষ্ট পাচ্ছি। আমাদের পরণে জীর্ণ বস্ত্র, আমাদের চপেটাঘাত করা হচ্ছে, আমাদের বাসস্থান বলতে কোন কিছু নেই। 12জীবিকার জন্য আমরা নিজের হাতে কঠিন পরিশ্রম করছি। লোকে আমাদের নিন্দা করলে আমরা তাদের আশীর্বাদ করি, যখন নির্যাতন করে তখন আমরা তা সহ্য করি। 13কেউ অপবাদ দিলে তার সঙ্গে ভাল কথা বলি। আজ পর্যন্ত আমরা যেন জগতের আবর্জনা ও দুনিয়ার জঞ্জাল হয়ে রয়েছি।
14তোমাদের লজ্জা দেবার জন্য আমি এসব কথা লিখছি না বরং আমার প্রিয় সন্তান হিসাবে সাবধান করার জন্যই লিখছি। 15কারণ তোমাদের খ্রীষ্টে দশ হাজার গুরু থাকতে পারে, কিন্তু তোমাদের পিতা অনেক নেই। আমি খ্রীষ্ট যীশুতে সুসমাচার প্রচারের মাধ্যমে তোমাদের আত্মিক পিতা হয়েছি। 16তাই আমি তোমাদের মিনতি করছি, তোমরা আমার অনুগামী হও। 17এই জন্যই আমি প্রভুতে আমার প্রিয় ও বিশ্বস্ত সন্তান হিসাবে তীমথিয়কে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি। খ্রীষ্ট যীশুতে আমি যে সব পথে চলি তা সে তোমাদের মনে করিয়ে দেবে। প্রত্যেক জায়গায় প্রত্যেক মণ্ডলীতে আমি সেই পথের বিষয় শিক্ষা দিয়েছি।
18তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ এই মনে করে খুব গর্ব করে বেড়াচ্ছে যে আমি তোমাদের কাছে আসছি না। 19যাই হোক্ যদি প্রভুর ইচ্ছা হয় তবে খুব শীঘ্রই আমি তোমাদের কাছে আসব এবং এই দাম্ভিক লোকদের কথা শুনতে নয়, তাদের ক্ষমতা কি তা জানব। 20কারণ ঈশ্বরের রাজ্য কেবল কথার ব্যাপার নয়, তা পরাক্রমেরও। 21তোমরা কি চাও? তোমরা কি চাও যে শাস্তি দিতে আমি তোমাদের কাছে বেত নিয়ে আসি, অথবা ভালবাসা ও শান্ত মনোভাবে আসি?
5মণ্ডলীতে নৈতিক সমস্যা
1একথা সত্যি শোনা যাচ্ছে যে তোমাদের মধ্যে যৌন পাপ রয়েছে। এমন যৌন পাপ যা বিধর্মীদের মধ্যেও দেখা যায় না; একজন নাকি তার সত্মার সঙ্গে অবৈধ জীবনযাপন করছে। 2তোমরা তবুও নিজেদের বিষয়ে গর্ব করছ। এর পরিবর্তে তোমাদের কি মর্মাহত হওয়া উচিত ছিল না? এমন পাপ কাজ যে করেছে তাকে তোমাদের সহভাগীতা থেকে বার করে দেওয়া উচিত ছিল। 3দৈহিকভাবে আমি উপস্থিত না থাকলেও আত্মাতে আমি তোমাদের সঙ্গেই আছি। যে এই রকম অন্যায় কাজ করেছে, তোমাদের মধ্যে উপস্থিত থেকেই আমি তার বিচার করেছি। 4প্রভু যীশুর নামে তোমরা একত্রিত হও। সে সভায় আমি আত্মাতে উপস্থিত থাকব, আর প্রভু যীশুর পরাক্রম তোমাদের মধ্যে বিরাজ করবে। 5তখন সেই লোককে শাস্তির জন্য শয়তানের হাতে সঁপে দিও যেন তার পাপময় দেহ ধ্বংস হয়; কিন্তু যেন প্রভু যীশুর দিনে তার আত্মা উদ্ধার লাভ করে।
6তোমাদের গর্ব করা শোভা পায় না। তোমরা তো এ কথা জান যে, “একটুখানি খামির ময়দার সমস্ত তালটাকে ফাঁপিয়ে তোলে।” 7তোমাদের মধ্য থেকে পুরানো খামির বার করে ফেল, যেন তোমরা এক নতুন তাল হতে পার। খ্রীষ্টীয়ান হিসাবে তোমরা তো খামিরবিহীন রুটির মতোই, কারণ খ্রীষ্ট, যিনি আমাদের নিস্তারপর্বীয় মেষশাবক, তিনি আমাদের জন্য বলি হয়েছেন। 8তাই এস, আমরা নিস্তারপর্বের ভোজ সেই রুটি দিয়ে পালন করি যার মধ্যে সেই পুরানো খামির নেই। সেই পুরানো খামির হল পাপ ও দুষ্টতা; কিন্তু এস আমরা সেই রুটি গ্রহণ করি যার মধ্যে খামির নেই, এ হল আন্তরিকতা ও সত্যের রুটি।
9আমার আগের চিঠিতে আমি তোমাদের লিখেছিলাম যেন তোমরা যৌন পাপে লিপ্ত লোকেদের সঙ্গে মেলামেশা না কর। 10তবে হ্যাঁ, এই জগতের যারা নষ্ট চরিত্রের লোক, লোভী, ঠগবাজ বা প্রতিমাপূজক তাদের কথা অবশ্য বলিনি, কারণ তাহলে তো তোমাদের জগতের বাইরে চলে যেতে হবে। 11তবে আমি এখন লিখছি যে, যে কেউ নিজেকে বিশ্বাসী বলে পরিচয় দেয়, অথচ নষ্ট চরিত্রের লোক, লোভী, প্রতিমাপূজক, নিন্দুক, মাতাল বা ঠগবাজ এরকম লোকের সঙ্গে মেলামেশা করো না। এমন কি তার সঙ্গে খাওয়া-দাওয়াও করো না।
12 বাইরের লোকদের বিচার করার আমার কি দরকার? কিন্তু মণ্ডলীর ভেতরের লোকদের বিচার করা কি তোমাদের উচিত নয়? যারা মণ্ডলীর বাইরের লোক তাদের বিচার ঈশ্বর করবেন। শাস্ত্র বলছে, “তোমাদের মধ্য থেকে দুষ্ট লোককে বার করে দাও।”+ 5:12-13 উদ্ধৃতি দ্বি. বি. 22:21, 24.
6খ্রীষ্টীয়ানদের মধ্যে বিচারের সমস্যা
1তোমাদের মধ্যে কারো যদি অপরের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকে তবে সে কোন্ সাহসে ঈশ্বরের পবিত্র লোকদের কাছে না গিয়ে আদালতে বিচারকদের অর্থাৎ অধার্মিকদের কাছে যায়? 2তোমরা নিশ্চয় জান যে ঈশ্বরের লোকরা জগতের বিচার করবে। তোমাদের দ্বারাই যখন জগতের বিচার হবে, তখন তোমরা কি এই সামান্য বিষয়ের বিচার করার অযোগ্য? 3তোমরা কি জান না যে আমরা স্বর্গদূতদেরও বিচার করব? তাই যদি হয় তবে তো এই জীবনের বিষয়গুলি সম্পর্কেও আমরা নিশ্চিতভাবে বিচার করতে পারি। 4তাই তোমাদের নিজেদের মধ্যে যদি কোন নালিশ থাকে, তবে যারা মণ্ডলীর লোক নয় তাদেরই কি তোমরা বিচার করার জন্য ঠিক করবে? 5তোমাদের লজ্জা দেবার জন্য আমি এই কথা বলছি: এটা খুব খারাপ, তোমাদের মধ্যে সত্যিই কি এমন কোন জ্ঞানী লোক নেই যে ভাইদের মধ্যে বিবাদ বাধলে তার মীমাংসা করে দিতে পাবে? 6কিন্তু এক ভাই অন্য ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে যাচ্ছে, তাও আবার অবিশ্বাসীদের সামনে!
7তোমরা যে একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করছ এতে প্রমাণ হচ্ছে যে তোমরা পরাস্ত হয়েছ। তার চেয়ে ভাল হয় যদি তুমি কাউকে তোমার বিরুদ্ধে অন্যায় করতে দাও। ভাল হয় কাউকে যদি তোমায় প্রতারণা করতে দাও। 8কিন্তু তোমরা নিজেরাই অন্যায় করছ, তোমরাই বঞ্চনা করছ! আর তা তোমাদের বিশ্বাসী খ্রীষ্টীয়ান ভাইদের প্রতিই করছ!
9 তোমরা নিশ্চয় জানো যে ঈশ্বরের রাজ্যে অধার্মিক লোকদের কোন স্থান নেই? নিজেদের ঠকিও না! যারা ব্যভিচারী, অনৈতিক যৌনচারী, যারা প্রতিমার পূজা করে, যারা পুংশ্চলী ও পুংসমকামী, ঈশ্বরের রাজ্যে এদের কোন অধিকার নেই। সেই রকম যারা চোর, লোভী, মাতাল, যারা পরনিন্দা করে ও যারা প্রতারক তারা ঈশ্বরের রাজ্যের অধিকারী হবে না। 11তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ এই ধরণের লোক ছিলে, কিন্তু তোমরা প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে ও ঈশ্বরের আত্মায় নিজেদের ধৌত করেছ, পবিত্র হয়েছ, তোমরা ঈশ্বরের কাছে ধার্মিক প্রতিপন্ন হয়েছ।
নিজের দেহ ঈশ্বরের গৌরবের জন্য ব্যবহার কর
12“সব কিছু করার অধিকার আমার আছে,” কিন্তু সব কিছু করা যে হিতকর তা নয়। হ্যাঁ, “সব কিছু করার অধিকার আমার আছে,” কিন্তু আমি কোন কিছুর দাস হব না। 13খাবার তো পেটের জন্য, আর পেট তো খাবারের জন্য, কিন্তু ঈশ্বর এদের উভয়েরই লোপ করবেন। আমাদের দেহ যৌন পাপ কার্যের জন্য নয়, প্রভুরই জন্য আর প্রভুও এই দেহের জন্য। 14ঈশ্বর আপন পরাক্রমের দ্বারা প্রভু যীশুকে মৃতদের মধ্য থেকে উত্থিত করেছেন, তিনি আমাদেরও ওঠাবেন। 15তোমরা কি জান না যে তোমাদের দেহ খ্রীষ্টের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ স্বরূপ? তাহলে কি তোমরা খ্রীষ্টের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নিয়ে বেশ্যার দেহের সঙ্গে যুক্ত করবে? 16না, কখনই না। তোমরা কি জান না, যে বেশ্যার সঙ্গে যুক্ত হয় সে তার সঙ্গে এক দেহ হয়? কারণ শাস্ত্র বলছে, “তারা দুজন এক দেহ হবে।”+ 6:16 উদ্ধৃতি আদি 2:24.17কিন্তু যে প্রভুর সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে, সে তাঁর সঙ্গে আত্মায় এক হয়।
18যৌন পাপ থেকে দূরে থাক। যে ব্যক্তি পাপকার্য্য করে তা তার দেহের বাইরে করে, কিন্তু যে যৌন পাপ করে সে তার দেহের বিরুদ্ধেই পাপ করে। 19তোমরা কি জান না, তোমাদের দেহ পবিত্র আত্মার মন্দির, তিনি তোমাদের মধ্যে বাস করেন, যাকে তোমরা ঈশ্বরের কাছ থেকে পেয়েছ? তোমরা তো আর নিজেদের নও। 20কারণ তোমাদের মূল্য দিয়ে কেনা হয়েছে; তাই তোমাদের দেহের দ্বারা ঈশ্বরের গৌরব কর।
7বিবাহ বিষয়ক কথা
1তোমরা যে সব বিষয়ে লিখেছ সে সম্বন্ধে এখন আলোচনা করব। একজন পুরুষের বিয়ে না করাই ভাল। 2কোন পুরুষের কোন স্ত্রীলোকের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক না থাকাই ভাল। কিন্তু যৌন পাপের বিপদ আছে, তাই প্রত্যেক পুরুষের নিজ স্ত্রী থাকাই উচিত, আবার প্রত্যেক স্ত্রীলোকের নিজ স্বামী থাকা উচিত। 3স্ত্রী হিসাবে তার যা যা বাসনা স্বামী যেন অবশ্যই তাকে তা দেয়; ঠিক তেমনি স্বামীর সব বাসনাও যেন স্ত্রী পূর্ণ করে। 4স্ত্রী নিজ দেহের ওপর দাবী করতে পারে না, কিন্তু তার স্বামী পারে। ঠিক সেই রকম স্বামীরও নিজ দেহের ওপর দাবী নেই, কিন্তু তার স্ত্রীর আছে। 5স্বামী, স্ত্রী তোমরা একে অপরের সঙ্গে মিলিত হতে আপত্তি করো না, কেবল প্রার্থনা করার জন্য উভয়ে পরামর্শ করে অল্প সময়ের জন্য আলাদা থাকতে পার, পরে আবার একসঙ্গে মিলিত হয়ো যেন তোমাদের অসংযমতার জন্য শয়তান তোমাদের প্রলোভনে ফেলতে না পারে। 6আমি এসব কথা হুকুম করার ভাব নিয়ে বলছি না, কিন্তু অনুমতি দিচ্ছি। 7আমার ইচ্ছা সবাই যেন আমার মতো হয়, কিন্তু প্রত্যেকে ঈশ্বরের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বরদান পেয়েছে, একজন এক রকম, আবার অন্যজন অন্য রকম।
8অবিবাহিত আর বিধবাদের সম্পর্কে আমার বক্তব্য, “তারা যদি আমার মতো অবিবাহিত থাকতে পারে তবে তাদের পক্ষে তা মঙ্গল। 9কিন্তু যদি তারা নিজেদের সংযত রাখতে না পারে তবে বিয়ে করুক, কারণ কামের জ্বালায় জ্বলে পুড়ে মরার চেয়ে বরং বিয়ে করা অনেক ভাল।”
10এখন যারা বিবাহিত তাদের আমি এই আদেশ দিচ্ছি। অবশ্য আমি দিচ্ছি না, এ আদেশ প্রভুরই—কোন স্ত্রী যেন তার স্বামীকে পরিত্যাগ না করে। 11যদি সে স্বামীকে ছেড়ে যায় তবে তার একা থাকা উচিত অথবা সে যেন তার স্বামীর কাছে ফিরে যায়। স্বামীর উচিত নয় স্ত্রীকে পরিত্যাগ করা।
12এখন আমি অন্য সমস্ত লোকদের বলি, আমি বলছি, প্রভু নয়। যদি কোন খ্রীষ্টানুসারী ভাইয়ের অবিশ্বাসী স্ত্রী থাকে আর সেই স্ত্রী তার সঙ্গে থাকতে রাজী থাকে, তবে সেই স্বামী যেন তাকে পরিত্যাগ না করে। 13আবার যদি কোন খ্রীষ্টানুসারী স্ত্রীলোকের অবিশ্বাসী স্বামী থাকে আর সেই স্বামী তার সঙ্গে থাকতে রাজী থাকে তবে সেই স্ত্রী যেন তার স্বামীকে ত্যাগ না করে। 14কারণ বিশ্বাসী স্ত্রীর মধ্য দিয়ে সেই অবিশ্বাসী স্বামী আর বিশ্বাসী স্বামীর মধ্য দিয়ে সেই অবিশ্বাসী স্ত্রী পবিত্রতা লাভ করে। তা না হলে তোমাদের ছেলে মেয়েরা অশুচি হত, কিন্তু এখন তারা পবিত্র।
15যাই হোক্ যদি অবিশ্বাসী বিশ্বাসীকে ছেড়ে যেতে চায় তবে তাকে তা করতে দাও। তখন ভাই বা বোন বাধ্যবাধকতার জন্য আটকে থাকবে না। ঈশ্বর আমাদের শান্তিময় জীবনযাপনের জন্যই আহ্বান করেছেন। 16বিশ্বাসী স্ত্রী, তুমি হয়তো তোমার স্বামীকে উদ্ধারের পথ করে দেবে এবং বিশ্বাসী স্বামী তুমি এইভাবে হয়তো তোমার স্ত্রীর উদ্ধারের কারণ হয়ে উঠবে।
ঈশ্বরের আহ্বান অনুসারে জীবনযাপন কর
17প্রভু যাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আর ঈশ্বর যাকে যেমন আহ্বান করেছেন, সে সেইভাবে জীবনযাপন করুক। এই আদেশ আমি সব মণ্ডলীতে দিচ্ছি। 18কাউকে কি সুন্নত হওয়া অবস্থায় আহ্বান করা হয়েছে? সে যেন সুন্নতকে বাতিল না করে। কাউকে কি অসুন্নত অবস্থায় আহ্বান করা হয়েছে? তার সুন্নত হওয়ার প্রয়োজন নেই। 19সুন্নত হোক্ বা না হোক্, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, ঈশ্বরের আদেশ পালনই হল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। 20ঈশ্বর যাকে যে অবস্থায় আহ্বান করেছেন, সে সেই অবস্থাতেই থাকুক। 21যখন তোমাকে আহ্বান করা হয়েছিল, তখন কি তুমি দাস ছিলে? এই অবস্থায় তোমার যেন দুঃখ না হয়; কিন্তু তুমি যদি স্বাধীন হতে পার, তবে তার সুযোগ গ্রহণ কর। 22দাস অবস্থায় প্রভু যাকে আহ্বান করেছেন, সে প্রভুর স্বাধীন লোক। যে স্বাধীন অবস্থায় খ্রীষ্টের ডাক শুনেছে, সে প্রভুর দাসে পরিণত হয়েছে। 23মূল্য দিয়ে তোমাদের কেনা হয়েছে। তোমরা সামান্য মানুষের দাসত্ব করো না। 24ভাই ও বোনেরা, ঈশ্বরের কাছ থেকে নতুন জীবন পাবার সময় তোমরা যে যেমন অবস্থায় ছিলে এখন সেই অবস্থাতেই ঈশ্বরের সঙ্গে থাক।
বিবাহ বিষয়ে প্রশ্ন
25এখন কুমারী মেয়েদের প্রসঙ্গে আসি। তাদের সম্বন্ধে প্রভুর কাছ থেকে আমি কোন আদেশ পাই নি। তবে এ বিষয়ে আমার নিজস্ব মত প্রকাশ করছি। ঈশ্বরের কাছে আমি দয়া পেয়েছি, এই জন্য তোমরা আমার ওপর নির্ভর করতে পার। 26আমি মনে করি, বর্তমানে এই সঙ্কটময় সময়ে কোন ব্যক্তির পক্ষে সে যেমন আছে তেমনি থাকাই ভাল। 27তুমি কি কোন স্ত্রীলোকের সঙ্গে বিবাহিত? তবে তাকে ত্যাগ করার চেষ্টা করো না। তুমি কি কোন স্ত্রীলোক থেকে মুক্ত আছ? তাহলে স্ত্রী পেতে চেয়ো না। 28কিন্তু তুমি যদি বিয়ে কর তাতে তোমার কোন পাপ হয় না; আর কোন কুমারী যদি বিয়ে করে তাহলে সে পাপ করে না। কিন্তু এমন লোকদের জীবনে সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে। এই কষ্ট এড়াতে আমি তোমাদের সাহায্য করতে চাই।
29ভাই ও বোনেরা, আমি তোমাদের যে কথা বলতে চাইছি, সময় খুব বেশী নেই, তাই যাদের স্ত্রী আছে প্রভুর সেবার জন্য এখন থেকে তারা এমনভাবে চলুক যেন তাদের স্ত্রী নেই; 30আর যারা দুঃখ করছে, তারা এমনভাবে চলুক যেন দুঃখ করছে না, যারা আনন্দিত তারা এমনভাবে চলুক যেন আনন্দ করছে না। যারা কেনাকাটা করছে, তারা এমনভাবে করুক যেন যা কিনেছে তা তাদের নিজেদের নয়। 31যারা সংসারে বিষয় বস্তু ব্যবহার করে, তারা যেন পুর্নমাত্রায় তাতে আসক্ত না হয়, কারণ এই সংসারের বর্তমান কাঠামো লুপ্ত হচ্ছে।
32আমি চাই যেন তোমরা দুর্ভাবনা থেকে মুক্ত হও। একজন অবিবাহিত লোক প্রভুর কাজের বিষয়ে বেশী করে চিন্তা করতে পারে, কিভাবে সে প্রভুকে সন্তুষ্ট করবে সেটাই তার চিন্তা হয়। 33কিন্তু যে বিবাহিত সে এই সংসারের বিষয় চিন্তা করে, কিভাবে সে তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করবে, সেই হয় তার চিন্তা। 34সে প্রভুকে সন্তুষ্ট করতে চায় আবার সেই সঙ্গে তার স্ত্রীকে খুশী করতে চায়, এইভাবে দুই দিকেই তার চিন্তা হয়। একজন অবিবাহিতা বা কুমারী মেয়ে প্রভুর বিষয় চিন্তা করে, যেন সে দেহে ও আত্মায় পবিত্র হয়। কিন্তু বিবাহিতা স্ত্রীলোক তার সংসারের প্রতি বেশী চিন্তা করে, আর তার চিন্তা থাকে কিভাবে সে তার স্বামীকে সন্তুষ্ট করবে। 35আমি তোমাদের ভালোর জন্যই একথা বলছি, তোমাদের ওপর কোন বিধি-নিষেধ চাপিয়ে দেবার জন্য নয়, বরং তোমরা যাতে ঠিক পথে চল আর যাতে তোমরা নানা বিষয়ে জড়িয়ে না পড়ো এবং সম্পূর্ণ সমর্পণ দ্বারা প্রভুর উদ্দেশ্যে নিজেদের উৎসর্গ কর সেইজন্যই বলছি।
36কেউ যদি মনে করে যে সে তার কুমারী বাগদত্তার প্রতি সঙ্গত আচরণ করছে না, তার বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে, সে যদি মনে করে যে বিষয়টা শীঘ্রই হওয়াই ভাল তবে সে যা চায় তাই করুক। এতে সে পাপ করছে না, তার বিয়ে হোক্। 37কিন্তু যে তার নিজের মনে দৃঢ়, যার কোন চাপ নেই, যে তার ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে আর তার মনে ঠিক করে যে সে তার বাগদত্তাকে বিয়ে না করেই নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম, তবে সে ভালই করবে। 38তাই তার বাগদত্তা বন্ধুকে বিয়ে করে সে ঠিক কাজই করে; আর যে তাকে বিয়ে না করে সে আরো ভালো করে।
39স্বামী যতদিন বেঁচে থাকে স্ত্রী ততদিনই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ থাকে, কিন্তু স্বামী মারা গেলে সে মুক্ত, সে তখন যাকে ইচ্ছা আবার বিয়ে করতে পারে, অবশ্য সেই লোক যেন প্রভুর হয়। 40তবে আমার মতে সে যদি আর বিয়ে না করে তবে আরো সুখী হবে। এই আমার মত আর আমি মনে করি আমারও ঈশ্বরের আত্মা আছে।
8প্রতিমার প্রসাদ সম্বন্ধে
1এখন প্রতিমার সামনে উৎসর্গ করা খাবারের বিষয়ে বলছি: আমরা জানি যে, “আমাদের সবার জ্ঞান আছে।” “জ্ঞান” মানুষকে আত্মগর্বে ফাঁপিয়ে তোলে; কিন্তু ভালোবাসা অপরকে গড়ে তোলে। 2যদি কেউ মনে করে সে কিছু জানে, তবে তার যা জানা উচিত ছিল এখনও সে তা জানে না। 3কিন্তু কেউ যদি ঈশ্বরকে ভালবাসে, তবে ঈশ্বর তাকে জানেন।
4প্রতিমার কাছে উৎসর্গ করা খাদ্যবস্তুর বিষয়ে বলি, আমরা জানি এই জগতে প্রতিমা আসলে কিছুই নয়, এবং ঈশ্বর মাত্র একজনই। 5স্বর্গে হোক্ বা পৃথিবীতে হোক্, লোকে যাদের দেবতা বলে সেইরকম বহু “দেবতারা” ও বহু “প্রভুরা” থাকলেও 6কিন্তু আমাদের জন্য একমাত্র ঈশ্বর আছেন; তিনি আমাদের পিতা, তাঁর থেকেই সব কিছু সৃষ্টি হয়েছে, আমরা তাঁর জন্যই বেঁচে আছি। একমাত্র প্রভু আছেন, তিনি যীশু খ্রীষ্ট, তাঁর মাধ্যমেই সব কিছু সৃষ্ট, তাঁর মাধ্যমেই আমরা বেঁচে আছি।
7কিন্তু সকলের এ জ্ঞান নেই। কিছু লোক এখনও প্রতিমার সংশ্রবে থাকায় প্রতিমার কাছে উৎসর্গ করা খাদ্য বস্তুকে প্রসাদ জ্ঞানে খায়, আর তাদের বিবেক দুর্বল হওয়াতে দোষী প্রতিপন্ন হয়। 8কিন্তু খাদ্যবস্তু আমাদের ঈশ্বরের কাছে নিয়ে আসে না। ঐ সব যদি আমরা না খাই তাহলে আমাদের কোন ক্ষতি হয় না, আর যদি খাই তাহলেও কোন লাভ হয় না।
9কিন্তু সাবধান, তোমাদের এই স্বাধীনতা যেন দুর্বল এমন লোকদের পাপের কারণ না হয়। 10তুমি জান যে প্রতিমা কিছুই নয়। বেশ, কিন্তু দুর্বল চিত্তের কেউ যদি তোমাকে মন্দিরে বসে খেতে দেখে তবে সে দুর্বল চিত্তের বলে তার বিবেক কি তাকে প্রতিমার কাছে উৎসর্গ করা বলির মাংস খেতে সাহস যোগাবে না? যদিও সে বিশ্বাস করে এটা ঠিক নয়। 11এইভাবে তোমার এই জ্ঞানের দ্বারা সেই দুর্বল চিত্তের ভাই, যার জন্য খ্রীষ্ট মরেছেন, সে ধ্বংস হয়। 12তাই এইভাবে বিশ্বাসী ভাইদের বিরুদ্ধে পাপ করলে ও তাদের দুর্বল বিবেকে আঘাত করলে, তোমরা খ্রীষ্টের বিরুদ্ধেই পাপ কর। 13সেইজন্য কোন খাদ্য খাওয়াতে যদি আমার ভাই পাপে পড়ে, তবে আমি কখনও তা খাব না। আমি মাংস খাওয়া ছেড়ে দেব যাতে আমি আমার ভাইয়ের পাপের কারণ না হই।
9যে সব অধিকার পৌল প্রয়োগ করেন নি
1আমি কি স্বাধীন মানুষ নই? আমি কি একজন প্রেরিত নই? আমাদের প্রভু যীশুকে কি আমি দেখিনি? তোমরাই কি প্রভুতে আমার কাজের দৃষ্টান্ত নও? 2অন্যরা আমাকে যদি প্রেরিত বলে গ্রহণ নাও করে, তবু তোমরা নিশ্চয় আমাকে প্রেরিত বলে মেনে নেবে। প্রভুতে আমি যে প্রেরিত তোমরাই তো তার প্রমাণ।
3কিছু লোক যারা আমার দোষগুণ বিচার করে, তাদের কাছে আমার উত্তর এই; 4আমাদের কি ভোজন পান করার অধিকার নেই? 5অন্যান্য প্রেরিতেরা, প্রভুর আপন ভাইরা ও কৈফা যেমন করেন তেমনভাবে আমাদের কি কোন বিশ্বাসীকে স্ত্রী হিসাবে সঙ্গে নিয়ে যাবার অধিকার নেই? 6বার্ণবা ও আমাকেই কি কেবল জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করতে হবে? 7কোন সৈনিক কি তার নিজের খরচে সৈন্যদলে থাকে? যে দ্রাক্ষা ক্ষেত প্রস্তুত করে সে কি তার ফল খায় না? যে মেষপাল চরায় সে কি মেষদের দুধ পান করে না?
8আমি এসব মানুষের বিচার বুদ্ধির ওপর নির্ভর করে বলছি না। ঈশ্বরের বিধি-ব্যবস্থায় কি একই কথা বলে না? 9কারণ মোশির বিধি-ব্যবস্থায় আছে, “যে বলদ শস্য মাড়ে তার মুখে জালতি বেঁধো না।”+ 9:9 উদ্ধৃতি দ্বি. বি. 25:4. ঈশ্বর কি কেবল বলদের কথা ভেবেই একথা বলেছেন? 10তা নয়, কিন্তু আমাদের কথা চিন্তা করেই তিনি এসব কথা বলেছেন, শাস্ত্রে আমাদের জন্যই এসব লেখা হয়েছে, কারণ যে চাষ করে, সে ফসল পাবার প্রত্যাশাতেই তা করে; আর যে শস্য মাড়াই করে, সে মাড়াই করা শস্য থেকে কিছু পাবার প্রত্যাশাতেই তা করে। 11আমরা তোমাদের মাঝে আত্মিক বীজ বুনেছি, যেন এখন ফসল হিসাবে যদি তোমাদের কাছ থেকে পার্থিব কোন কিছু পাই, তবে তা কি খুব বেশী কিছু পাওয়া হবে? 12এই ব্যাপারে তোমাদের কাছ থেকে অন্যেরা যখন দাবী করে, তখন তা পাবার জন্য আমাদের নিশ্চয় আরও বেশী অধিকার আছে। আমরা তোমাদের ওপর এই অধিকার খাটাই না। আমরা বরং সকলই সহ্য করছি, পাছে খ্রীষ্টের সুসমাচার গ্রহণের পথে কোন বাধার সৃষ্টি হয়। 13তোমরা তো জান, যারা মন্দিরে কাজ করে, তারা মন্দির থেকেই তাদের খাবার পায়। যারা যজ্ঞবেদীর ওপর নিয়মিত নৈবেদ্য উৎসর্গ করে, তারা তারই অংশ পায়। 14তেমনি প্রভুও সুসমাচার প্রচারকদের জন্য এই বিধান দিয়েছেন, যেন সুসমাচার প্রচারের মাধ্যমেই তাদের জীবিকা নির্বাহ হয়।
15কিন্তু আমি এই অধিকার কখনও প্রয়োগ করিনি। আমি তোমাদের কাছ থেকে ঐরকম সাহায্য নেবার জন্যও লিখছি না। এ বিষয়ে আমার যে গর্ব আছে, তা যদি কেউ কেড়ে নেয় তবে তার থেকে আমার মরণ ভাল। 16তবে আমি সুসমাচার প্রচার করি বলে গর্ব করছি না। সুসমাচার প্রচার করা আমার কর্তব্য, এটি আমার অবশ্য করণীয়। আমি যদি সুসমাচার প্রচার না করি তবে তা আমার পক্ষে কত দুর্ভাগ্যের বিষয় হবে! 17যদি নিজের ইচ্ছায় সুসমাচার প্রচার করতাম তবে আমি পুরস্কার পাবার যোগ্য হতাম। কিন্তু যেখানে আমি নিজে থেকে এই কাজ করিনি কিন্তু দায়িত্ব হিসাবে আমার ওপর এই কাজ ন্যস্ত হয়েছে, 18সেখানে আমি কি পুরস্কার পাব? এই আমার পুরস্কার; যখন আমি সুসমাচার প্রচার করি, তা বিনামূল্যে করি। এইভাবে সুসমাচার প্রচার করা কালীন আমার বেতন পাবার যে অধিকার আছে, তা আমি ব্যবহার করি না।
19আমি স্বাধীন! আমি কারোর অধীনে নেই, তবু আমি সকলের দাস হলাম, যাতে অনেককে আমি খ্রীষ্টের জন্য লাভ করতে পারি। 20ইহুদীদের জয় করার জন্য আমি ইহুদীদের কাছে ইহুদীদের মতো হলাম। যারা বিধি-ব্যবস্থার অধীনে জীবন কাটাচ্ছে, তাদের লাভ করার জন্য আমি নিজে বিধি-ব্যবস্থার অধীন না হলেও আমি তাদের মত হলাম। 21আবার যারা বিধি-ব্যবস্থার অধীনে নেই তাদের জয় করার জন্য আমি তাদের মতো হলাম। অবশ্য এর মানে এই নয় যে আমি বিধি-ব্যবস্থা মানি না, আমি তো খ্রীষ্টের বিধি-ব্যবস্থার অধীনে জীবনযাপন করছি। 22যারা দুর্বল, তাদের কাছে আমি দুর্বল হলাম, যেন তাদেরকে জয় করতে পারি। আমি সকলের কাছে তাদের মনের মত হলাম, যাতে সম্ভাব্য সকল উপায়ে তাদের বাঁচাতে পারি। 23আমি এসব সুসমাচারের জন্যই করি, যেন এর আশীর্বাদের সহভাগী হই।
24তোমরা কি জান না, যখন দৌড় প্রতিযোগিতা হয় তখন অনেকেই দৌড়ায়; কিন্তু কেবল একজনই বিজয়ী হয়ে পুরস্কার পায়। তাই এমনভাবে দৌড়োও যেন পুরস্কার পাও! 25আবার দেখ, যে সব প্রতিযোগী খেলায় অংশগ্রহণ করে, তারা কঠিন নিয়ম পালন করে। তারা অস্থায়ী বিজয় মুকুট পাবার জন্য তা করে; কিন্তু আমরা অক্ষয় মুকুটে ভূষিত হবার জন্য করি। 26তাই সেইভাবে একটা লক্ষ্য নিয়ে আমি দৌড়োচ্ছি। শূন্যে মুষ্ট্যাঘাত করছে, এমন লোকের মত আমি লড়াই করি না। 27বরং আমি আমার দেহকে কঠোরতা ও সংযমের মধ্যে রেখেছি, যেন অন্য লোকদের কাছে সুসমাচার প্রচার করার পর নিজে কোনভাবে ঈশ্বরের দৃষ্টিতে অযোগ্য বলে বিবেচিত না হই।
10ইহুদীদের মতো হোয়ো না
1আমার ভাই ও বোনেরা, আমি চাই যে তোমরা একথা জান যে আমাদের পিতৃপুরুষরা যখন মোশিকে অনুসরণ করেছিলেন তখন তাঁদের কি হয়েছিল। তাঁরা সকলে মেঘের নীচে ছিলেন, সকলেই সাগর পার হয়েছিলেন। 2তাঁরা সকলে মোশির অনুগামী হয়ে মেঘে ও সমুদ্রে বাপ্তাইজ হয়েছিলেন। 3তাঁরা সকলে একই ধরণের আত্মিক খাদ্য খেয়েছিলেন; 4আর একই আত্মিক পানীয় পান করেছিলেন। তাঁরা এক আত্মিক শৈল থেকে সেই পানীয় পান করতেন যা তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে যাচ্ছিল, সেই শৈলই হচ্ছেন খ্রীষ্ট। 5কিন্তু তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ লোকের প্রতিই ঈশ্বর সন্তুষ্ট ছিলেন না, আর তাঁরা পথে প্রান্তরের মধ্যে মারা পড়েছিলেন।
6এসব ঘটনা আমাদের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ ঘটল, যাতে তারা যেমন মন্দ বিষয়ে অভিলাষ করেছিল আমরা তা না করি। 7তাদের মধ্যে কিছু লোক যেমন প্রতিমা পূজা শুরু করেছিল তেমন তোমরা প্রতিমা পূজা শুরু করো না। কারণ শাস্ত্রে লেখা আছে: “লোকেরা ভোজন পান করতে বসল আর উঠে দাঁড়িয়ে নাচতে শুরু করল।”+ 10:7 উদ্ধৃতি যাত্রা 32:6.8তাদের মধ্যে যেমন কতক লোক যৌন পাপে পাপী হয়েছিল আর একদিনে তেইশ হাজার লোক তাদের পাপের জন্য মারা পড়েছিল, আমরা যেন তেমনি যৌন পাপ না করি। 9তাদের মধ্যে যেমন কিছু লোক প্রভুকে পরীক্ষা করে সাপের কামড়ে মারা পড়েছিল, আমরা যেন তেমন পরীক্ষা না করি। 10আবার তাদের মধ্যে কিছু লোক যেমন অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল আর ধ্বংসকারী স্বর্গদূতের কবলে পড়ে ধ্বংস হয়েছিল, তোমরা তেমনি অসন্তোষ প্রকাশ করো না।
11তাদের প্রতি যা কিছু ঘটেছিল তা দৃষ্টান্তস্বরূপ রয়ে গেছে। আমাদের সাবধান করে দেবার জন্য এসব কথা লেখা হয়েছে, কারণ আমরা শেষ যুগে এসে পৌঁছেছি। 12তাই যে মনে করে যেন শক্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে, সে সাবধান হোক্, পাছে পড়ে মারা যায়। 13যে প্রলোভনগুলি স্বাভাবিকভাবে লোকদের কাছে আসে তার থেকে বেশী কিছু তোমাদের কাছে আসেনি। তোমরা ঈশ্বরে বিশ্বস্ত থাক, যে সব প্রলোভন প্রতিরোধ করার ক্ষমতা তোমাদের নেই, তিনি তা তোমাদের জীবনে আসতে দেবেন না; কিন্তু প্রলোভনের সাথে সাথে তার থেকে উদ্ধারের পথ তিনিই করে দেবেন, যেন তোমরা সহ্য করতে পার।
14আমার প্রিয় বন্ধুরা, সব রকম প্রতিমা পূজা থেকে দূরে থাক। 15আমি তোমাদের বুদ্ধিমান জেনে একথা বলছি। আমি যা বলি তা তোমরা নিজেরাই বিচার করে দেখ। 16আশীর্বাদের পানপাত্র, যা নিয়ে আমরা ধন্যবাদ দিই তা কি খ্রীষ্টের রক্তের সহভাগীতা নয়? যে রুটি ভেঙে টুকরো টুকরো করে খাওয়া হয়, তা কি খ্রীষ্টের দেহের সহভাগীতা নয়? 17রুটি একটাই কিন্তু আমরা সকলেই সেই একটা রুটি থেকেই অংশ গ্রহণ করি। তাই আমরা অনেক হলেও আসলে আমরা এক দেহ।
18ইস্রায়েল জাতির কথা চিন্তা কর। যারা বলির মাংস খায় তারা কি সেই যজ্ঞবেদীর নৈবেদ্যর সহভাগী হয় না? 19তাহলে আমার কথার অর্থ কি হল? আমি কি এই কথা বলছি যে, প্রতিমার কাছে যেসব ভোগ উৎসর্গ করা হয় তার কোন তাৎপর্য আছে অথবা প্রতিমার কোন বাস্তবতা আছে? 20কিন্তু আমার কথার অর্থ এই লোকেরা যা কিছু প্রতিমার উদ্দেশ্যে বলিদান করে, তারা তা ভূতদের উদ্দেশ্যেই করে, ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে নয়; আর আমি চাই না যে তোমাদের কোনভাবে ভুতদের সঙ্গে সংযোগ থাকে। 21তোমরা প্রভুর পানপাত্র ও ভুতদের পানপাত্র, উভয় থেকে পান করতে পার না। আবার তোমরা প্রভুর টেবিল ও ভুতদের টেবিল উভয় টেবিলে অংশ নিতে পার না। 22তোমরা কি প্রভুকে ঈর্ষান্বিত করতে চাইছ? আমরা কি তাঁর থেকে শক্তিশালী? কখনই না।
তোমাদের স্বাধীনতা ঈশ্বরের মহিমার জন্য ব্যবহার কর
23“আমাদের সব কিছু করার স্বাধীনতা আছে।” তবে সব কিছুই যে মঙ্গলজনক তা নয়। “হ্যাঁ, যে কোন কিছু করার স্বাধীনতা আমাদের দেওয়া আছে।” তবে সব কিছুই যে গড়ে তোলে তা নয়। 24কেউ যেন স্বার্থ সিদ্ধির চেষ্টা না করে; বরং প্রত্যেকে যেন অপরের মঙ্গল চায়।
25বিবেকের প্রশ্ন না তুলে যে কোন মাংস বাজারে বিক্রি হয় তা খাও। 26কারণ শাস্ত্রে যেমন লেখা আছে: “পৃথিবী ও তার মধ্যেকার সব কিছুই প্রভুর।”+ 10:26 গীত 24:1, 50:12, 89:11 হইতে উদ্ধৃত।
27যদি কোন অবিশ্বাসী ভাই তোমাকে নিমন্ত্রণ করে আর যদি তুমি নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে চাও, তবে নিজের বিবেকের কাছে কোন কিছু জিজ্ঞাসা না করে যে কোন খাদ্যদ্রব্য পরিবেশন করে সামনে রাখা হয়, তা খেও। 28কিন্তু কেউ যদি বলে যে, “এ হল প্রতিমার প্রসাদ” তবে যে জানালো, তার কথা চিন্তা করে ও বিবেকের কথা মনে রেখে, তা খেও না। 29আমি কোন ব্যক্তির নিজের বিবেকের নয়, কিন্তু অপর ব্যক্তির বিবেকের বিষয় বলছি। আমার স্বাধীনতা কেন অপরের বিবেক বিচার করবে? 30যদি আমি ধন্যবাদ জানিয়ে খাই, তাহলে যে বিষয়ের জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়েছি সে বিষয়ে আমার সমালোচনা হবে এ আমি চাই না।
31তাই তোমরা আহার কর, কি পান কর বা যা কিছু কর, সব কিছুই ঈশ্বরের মহিমার জন্য কর। 32কি ইহুদী, কি গ্রীক, কি ঈশ্বরের মণ্ডলী, কারো বিঘ্নের কারণ হয়ো না। 33যেমন আমি নিজের ভাল চাই না কিন্তু অপরের ভাল চাই, যেন তারা উদ্ধার লাভ করে।
111আমি যেমন খ্রীষ্টের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করি, তোমরাও তেমনি আমার দৃষ্টান্ত অনুসরণ কর।
কর্ত্তৃত্বের অধীনে থাকা
2আমি তোমাদের প্রশংসা করছি, কারণ তোমরা সব সময় আমার কথা স্মরণ করে থাক, আর তোমাদের আমি যে শিক্ষা দিয়েছি তা তোমরা বেশ ভালভাবে পালন করছ। 3কিন্তু আমি চাই একথা তোমরা বোঝ যে প্রত্যেক পুরুষের মস্তক হচ্ছেন খ্রীষ্ট। স্ত্রীর মস্তক তার স্বামী, আর খ্রীষ্টের মস্তক হলেন ঈশ্বর।
4যদি কোন পুরুষ তার মাথা ঢেকে রেখে প্রার্থনা করে অথবা ভাববাণী বলে তবে সে তার মাথার অসম্মান করে। 5কিন্তু যে স্ত্রীলোক মাথা না ঢেকে প্রার্থনা করে বা ভাববানী বলে, সে তার নিজের মাথার অপমান করে, সে মাথা মোড়ানো স্ত্রীলোকের মত হয়ে পড়ে। 6স্ত্রীলোক যদি তার মাথা না ঢাকে তবে তার চুল কেটে ফেলাই উচিত। কিন্তু চুল কেটে ফেলা বা মাথা নেড়া করা যদি স্ত্রীলোকের পক্ষে লজ্জার বিষয় হয়, তবে সে তার মাথা ঢেকে রাখুক।
7আবার পুরুষ মানুষের মাথা ঢেকে রাখা উচিত নয়, কারণ সে ঈশ্বরের স্বরূপ ও মহিমা প্রতিফলন করে। কিন্তু স্ত্রীলোক হল পুরুষের মহিমা। 8কারণ স্ত্রীলোক থেকে পুরুষের সৃষ্টি হয় নি; কিন্তু পুরুষ থেকেই স্ত্রীলোক এসেছে। 9স্ত্রীলোকের জন্য পুরুষের সৃষ্টি হয় নি, কিন্তু পুরুষের জন্য স্ত্রীলোকের সৃষ্টি হয়েছিল। 10এই কারণে এবং স্বর্গদূতগণের জন্য অধীনতার চিহ্ন হিসাবে একজন স্ত্রীলোক তার মাথা ঢেকে রাখবে।
11যাই হোক্ প্রভুতে স্ত্রীলোক ছাড়া পুরুষ নয়, এবং পুরুষ ছাড়া স্ত্রীলোক নয়। 12যেমন পুরুষ থেকে স্ত্রীলোকের সৃষ্টি হল, তেমন আবার পুরুষের জন্ম স্ত্রীলোক থেকে হল, বাস্তবে এ সবকিছুই ঈশ্বর থেকে হয়।
13তোমরা নিজেরাই বিচার করে দেখ, মাথা না ঢেকে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা কি স্ত্রীলোকের শোভা পায়? 14স্বাভাবিক বিবেচনাও বলে যে পুরুষ মানুষ যদি লম্বা চুল রাখে তবে তার সম্মান থাকে না। 15কিন্তু স্ত্রীলোকের লম্বা চুল তার গৌরবের বিষয় কারণ সেই লম্বা চুল তার মাথা ঢেকে রাখার জন্য তাকে দেওয়া হয়েছে। 16কেউ কেউ হয়তো এ নিয়ে তর্ক করতে চাইবে, কিন্তু আমরা ও ঈশ্বরের সকল মণ্ডলী, এই প্রথা মেনে চলি না।
প্রভুর ভোজ
17কিন্তু এখন আমি যে বিষয়ে তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছি সেই বিষয়ে আমি তোমাদের প্রশংসা করতে পারি না, কারণ তোমরা যখন একত্রিত হও তাতে ভাল না হয়ে শুনছি তোমাদের ক্ষতি হচ্ছে। 18প্রথমতঃ আমি শুনেছি যে তোমরা যখন মণ্ডলীতে সমবেত হও, তখন তোমাদের মধ্যে অনেক দল থাকে, আর আমি এই ব্যাপারে কিছুটা বিশ্বাস করি। 19তোমাদের মধ্যে ভিন্নতা অবশ্যই থাকবে, যাতে তোমাদের মধ্যে যারা যথার্থ খাঁটি তারা স্পষ্ট হয়।
20তাই যখন তোমরা সমবেত হও, তখন তোমরা প্রকৃতপক্ষে প্রভুর ভোজ খাও না। 21কারণ খাবার সময় প্রত্যেকে নিজের নিজের খাবার আগে খেয়ে নেয়, তাতে কেউ বা ক্ষুধার্ত থাকে; আর কেউ কেউ অতিরিক্ত পানাহার করে বেহুঁস হয়ে যায়। 22পানাহার করার জন্য তোমাদের কি নিজেদের বাড়ীঘর নেই? তোমরা কি ঈশ্বরের মণ্ডলীকে তুচ্ছ জ্ঞান কর? আর যাদের কিছু নেই তাদের কি লজ্জায় ফেলতে চাও? আমি তোমাদের কি বলব? এমন কাজ করার জন্য আমি কি তোমাদের প্রশংসা করব? এবিষয়ে আমি তোমাদের প্রশংসা করব না।
23আমি প্রভুর কাছ থেকে যে শিক্ষা পেয়েছি তোমাদের তা দিয়েছি। যে রাত্রে প্রভু যীশুকে হত্যার জন্য শত্রুর হাতে সঁপে দেওয়া হয়, সেই রাত্রে তিনি একটি রুটি নিয়ে, 24ধন্যবাদ দিলেন ও তা ভেঙে বললেন, “এ আমার দেহ; এ তোমাদের জন্য, আমার স্মরণে এটি করো।” 25খাওয়া শেষ হলে, সেইভাবে তিনি পানপাত্র তুলে নিয়ে বললেন, “এই পানপাত্র হল আমার রক্তে স্থাপিত নতুন চুক্তি। তোমরা যতবার এই পানপাত্র থেকে পান করবে আমার স্মরণে তা করো।” 26কারণ তোমরা যতবার এই রুটি খাবে ও এই পানপাত্রে পান করবে, ততবার তোমরা প্রভুর মৃত্যুর কথাই প্রচার করতে থাকবে, যতদিন পর্যন্ত না তিনি ফিরে আসেন।
27তাই যে কেউ অযোগ্যভাবে প্রভুর এই রুটি খায় ও পানপাত্রে পান করে, সে প্রভুর দেহের ও রক্তের জন্য দায়ী হবে। 28এই রুটি খাওয়ার ও সেই পানপাত্রে পান করার আগে প্রত্যেকের উচিত নিজের হৃদয় পরীক্ষা করা। 29কারণ যে অযোগ্যভাবে এই রুটি খায় ও পানপাত্রে পান করে, সে যদি দেহের অর্থ কি তা না বোঝে তবে সেই খাদ্য পানীয় ঈশ্বরের বিচারদণ্ডেই পরিণত হয়। 30সেই জন্য তোমাদের মধ্যে অনেকে আজ দুর্বল ও অসুস্থ, অনেকে মারাও পড়েছে। 31কিন্তু যদি নিজেদের ঠিক মতো পরীক্ষা করতাম, তাহলে ঈশ্বরকে আমাদের বিচার করতে হত না। 32কিন্তু যখন প্রভু আমাদের বিচার করেন, তিনি আমাদের শাসনও করেন, যাতে আমরা জগতের জন্য লোকদের সঙ্গে বিচারপ্রাপ্ত না হই।
33তাই, আমার ভাই ও বোনেরা, তোমরা যখন খাওয়া-দাওয়া করার জন্য সমবেত হও, তখন একজন অন্য জনের জন্য অপেক্ষা করো। 34যদি কারোর খিদে পায়, তবে সে তার বাড়িতে খেয়ে নিক্। এমনভাবে চল যেন তোমরা একত্রিত হলে তোমাদের ওপর ঈশ্বরের দণ্ডাজ্ঞা না আসে; আর আমি যখন যাব তখন অন্য বিষয়গুলির সমাধান করব।
12পবিত্র আত্মা হতে বরদান
1আমার ভাই ও বোনেরা, আমি চাই যে তোমরা সঠিকভাবে এগুলি বুঝে নাও। 2তোমরা জান, যখন তোমরা অবিশ্বাসী ছিলে, তখন তোমরা বোবা প্রতিমাগুলির দিকেই পরিচালিত হতে। 3তাই আমি তোমাদের বলছি যে, ঈশ্বরের আত্মার প্রেরণায় কেউ কথা বললে সে কখনও, “যীশু অভিশপ্ত” একথা বলতে পারে না। আবার পবিত্র আত্মার প্রেরণা ছাড়া কেউ বলতে পারে না, “যীশুই প্রভু।”
4আবার নানা প্রকার আত্মিক বরদান আছে, কিন্তু সেই একমাত্র পবিত্র আত্মাই এইসব বরদান দিয়ে থাকেন। 5নানা প্রকার সেবার কাজও আছে, কিন্তু আমরা সকলে একই প্রভুর সেবা করি। 6কর্ম সাধনের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে, কিন্তু সেই একই ঈশ্বর সব রকম কাজ সকল মানুষের মধ্যে করান।
7মঙ্গলের জন্য প্রত্যেকের কাছে আত্মার দান প্রকাশ করা হয়েছে। 8সেই আত্মার দ্বারা একজনকে প্রজ্ঞার বাণী বলার ক্ষমতা দেওয়া হয়, অন্যজনকে জ্ঞানের বাণী বলার ক্ষমতা দেওয়া হয়। 9আবার একজনকে সেই একই আত্মার দ্বারা বিশ্বাস দেওয়া হয়, অন্যজনকে রোগীদের সুস্থ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়। 10আবার কাউকে অলৌকিক কাজ করার পরাক্রম, ভাববানী বলার ক্ষমতা, বিভিন্ন আত্মাকে চিনে নেবার ক্ষমতা, বিভিন্ন ভাষায় কথা বলার ক্ষমতা বা সেই সব ভাষার তর্জমা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়। 11কিন্তু এইসব কাজ সেই এক আত্মাই সম্পন্ন করেন এবং কাকে কি ক্ষমতা দেবেন তা তিনিই স্থির করেন।
খ্রীষ্টের দেহ
12আমাদের প্রত্যেকের দেহ নানা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নিয়ে গঠিত। যদিও অনেক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ তবু তারা মিলে হয় একটি দেহ; খ্রীষ্টও ঠিক সেই রকম। 13আমাদের মধ্যে কেউ ইহুদী, কেউ অইহুদী, কেউ দাস, আবার কেউ স্বাধীন, কিন্তু আমরা সকলেই দেহেতে এক হওয়ার জন্য এক আত্মার দ্বারা বাপ্তাইজ হয়েছি। আর আমাদের সকলকেই পান করার জন্য একই আত্মা দেওয়া হয়েছে।
14একজনের দেহের মধ্যে একের অধিক অঙ্গ আছে। 15পা যদি বলে, “আমি তো হাত নই; তাই আমি দেহের অঙ্গ নই,” তবে কি তা দেহের অঙ্গ হবে না? 16কান যদি বলে, “আমি তো চোখ নই, তাই আমি দেহের অঙ্গ নই,” তবে কি তা দেহের অঙ্গ হবে না? 17সমস্ত দেহটাই যদি চোখ হত তবে কান কোথায় থাকত? আর সমস্ত দেহটাই যদি কান হত তবে নাক কোথায় থাকত? 18 কিন্তু ঈশ্বর যেমনটি চেয়েছেন সেইভাবে দেহের সমস্ত অংশগুলিকে সাজিয়েছেন। তা না হয়ে সব অঙ্গগুলি যদি একরকম হত তবে দেহ বলে কি কিছু থাকত? 20কিন্তু এখন অঙ্গ অনেক বটে, কিন্তু দেহ এক।
21চোখ কখনও হাতকে বলতে পারে না, “তোমাকে আমার কোন দরকার নেই।” আবার মাথাও পা দুটিকে বলতে পারে না, “তোমাদের আমার কোন প্রয়োজন নেই।” 22বরং দেহের সেই অংশগুলি, যাদের দুর্বল মনে হয় তাদের প্রয়োজন খুবই বেশী। 23যে অঙ্গগুলির প্রতি আমরা যত্নবান নই, তাদের বেশী যত্ন নিতে হবে। আমাদের যে সব অঙ্গ প্রদর্শনের অযোগ্য সেগুলিকেই বেশী করে শালীনতায় ভূষিত করা হয়। 24আমাদের যে সব অঙ্গ সুশ্রী, সেগুলির জন্য বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় না। ঈশ্বর দেহকে এমনভাবে গঠন করেছেন যেন যে অঙ্গের মর্যাদা নেই সে অধিক মর্যাদা পায়, 25যেন দেহের মধ্যে কোন বিভেদ সৃষ্টি না হয়, কিন্তু দেহের প্রতিটি অঙ্গই যেন পরস্পরের জন্য সমানভাবে চিন্তা করে। 26দেহের কোন একটি অঙ্গ যদি কষ্ট পায়, তবে তার সাথে সবাই কষ্ট করে আর একটি অঙ্গ যদি মর্যাদা পায়, তাহলে তার সঙ্গে অপর সকল অঙ্গ ও খুশী হয়।
27ঠিক সেই রকম, তোমরাও খ্রীষ্টের দেহ, আর এক একজন এক একটি অঙ্গ। 28ঈশ্বর মণ্ডলীতে প্রথমতঃ প্রেরিতদের, দ্বিতীয়তঃ ভাববাদীদের, তৃতীয়তঃ শিক্ষকদের রেখেছেন। এরপর নানা প্রকার অলৌকিক কাজ করার ক্ষমতা, রোগীদের আরোগ্য দান করার ক্ষমতা, উপকার করার ক্ষমতা, নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতা ও বিভিন্ন ভাষায় কথা বলার ক্ষমতা দিয়েছেন। 29সকলেই কি প্রেরিত? সকলেই কি ভাববাদী? সকলেই কি শিক্ষক? সকলেই কি অলৌকিক কাজ করার ক্ষমতা পেয়েছে? 30সকলেই কি রোগীকে আরোগ্য দান করার ক্ষমতা পেয়েছে? না। সকলেই কি বিভিন্ন ভাষায় কথা বলার ক্ষমতা পেয়েছে? বা সকলেই কি বিভিন্ন ভাষায় তর্জমা করার ক্ষমতা পেয়েছে? না। 31কিন্তু তোমরা আত্মার শ্রেষ্ঠ বরদানগুলি পাবার জন্য বাসনা কর।
13ভালবাসা শ্রেষ্ঠ বরদান
1আর এখন আমি তোমাদের এসবের থেকে আরো উৎকৃষ্ট একটা পথ দেখাব। আমি যদি বিভিন্ন মানুষের ভাষা, এমনকি স্বর্গদূতদের ভাষাও বলি কিন্তু আমার মধ্যে যদি ভালবাসা না থাকে, তবে আমি জোরে বাজানো ঘন্টা বা ঝনঝন করা করতালের আওয়াজের মতো। 2আমি যদি ভাববাণী বলার ক্ষমতা পাই, ঈশ্বরের সব নিগূঢ়তত্ত্ব ভালভাবে বুঝি এবং সব ঐশ্বরিক জ্ঞান লাভ করি, আমার যদি এমন বড় বিশ্বাস থাকে যার শক্তিতে আমি পাহাড় পর্যন্ত টলাতে পারি, অথচ আমার মধ্যে যদি ভালবাসা না থাকে তবে এসব থাকা সত্ত্বেও আমি কিছুই নয়। 3আমি যদি আমার যথা সর্বস্ব দিয়ে দরিদ্রদের মুখে অন্ন যোগাই, যদি আমার দেহকে আহুতি দেবার জন্য আগুনে সঁপে দিই,
4কিন্তু যদি আমার মধ্যে ভালবাসা না থাকে, তাহলে আমার কিছুই লাভ নেই। ভালবাসা ধৈর্য্য ধরে, ভালবাসা দয়া করে, ভালবাসা ঈর্ষা করে না, অহঙ্কার বা গর্ব করে না। 5ভালবাসা কোন অভদ্র আচরণ করে না। ভালবাসা স্বার্থ-সিদ্ধির চেষ্টা করে না, কখনও রেগে ওঠে না, অপরের অন্যায় আচরণ মনে রাখে না। 6ভালবাসা কোন মন্দ বিষয় নিয়ে আনন্দ করে না, কিন্তু সত্যে আনন্দ করে। 7ভালবাসা সব কিছুই সহ্য করে, সব কিছু বিশ্বাস করে, সব কিছুতেই প্রত্যাশা রাখে, সবই ধৈর্য্যের সঙ্গে গ্রহণ করে।
8ভালবাসার কোন শেষ নেই। কিন্তু ভাববাণী বলার ক্ষমতা যদি থাকে তো লোপ পাবে। যদি অপরের ভাষায় কথা বলার ক্ষমতা থাকে, তবে তাও একদিন শেষ হবে। যদি জ্ঞান থাকে, তবে তাও একদিন লোপ পাবে। 9এসব কিছুর পরিসমাপ্তি ঘটবে কারণ আমাদের যে জ্ঞান ও ভাববাণী বলার ক্ষমতা তা অসম্পূর্ণ। 10কিন্তু যখন সম্পূর্ণ সিদ্ধ বিষয় আসবে, তখন যা অসম্পূর্ণ ও সীমিত সে সব লোপ পেয়ে যাবে।
11আমি যখন শিশু ছিলাম, তখন শিশুর মতো কথা বলতাম, শিশুর মতোই চিন্তা করতাম, ও শিশুর মতোই বিচার করতাম। এখন আমি পরিণত মানুষ হয়েছি, তাই শৈশবের বিষয়গুলি ত্যাগ করেছি। 12এখন আমরা আয়নায় আবছা দেখছি; কিন্তু সেই সময় সরাসরি পরিষ্কার দেখব। এখন আমার জ্ঞান সীমিত, কিন্তু তখন আমি সম্পূর্ণভাবে জানতে পারব, ঠিক যেমন ঈশ্বর এখন আমাকে সম্পূর্ণভাবে জানেন। 13এখন এই তিনটি বিষয় আছে: বিশ্বাস, প্রত্যাশা ও ভালবাসা; আর এদের মধ্যে ভালবাসাই শ্রেষ্ঠ।
14আত্মিক বরদান মণ্ডলীর সাহায্যার্থে ব্যবহার কর
1তোমরা ভালবাসার জন্য চেষ্টা কর এবং অন্য আত্মিক বরদানগুলি লাভ করার জন্য একান্তভাবে চেষ্টা কর। বিশেষ করে যে বরদান পাবার জন্য তোমাদের চেষ্টা করা উচিত, তা হল ভাববাণী বলতে পারা। 2যে ব্যক্তি বিশেষ ভাষায় কথা বলার ক্ষমতা পেয়েছে, সে কোন মানুষের সঙ্গে নয়, ঈশ্বরের সঙ্গেই কথা বলে, কারণ সে কি বলে তা কেউ বুঝতে পারে না, বরং সে আত্মার মাধ্যমে নিগূঢ় তত্ত্বের বিষয় বলে। 3কিন্তু যে ভাববাণী বলে, সে মানুষকে গড়ে তোলে, উৎসাহ ও সান্ত্বনা দেয়। 4যার বিশেষ ভাষায় কথা বলার ক্ষমতা আছে সে নিজেকেই গড়ে তোলে; কিন্তু যে ভাববাণী বলার ক্ষমতা পেয়েছে সে মণ্ডলীকে গড়ে তোলে।
5আমার ইচ্ছা যে তোমরা সকলে বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলার ক্ষমতা পাও; কিন্তু আমার আরো বেশী ইচ্ছা এই তোমরা যেন ভাববাণী বলতে পার। যে ব্যক্তি বিশেষ ভাষায় কথা বলে কিন্তু মণ্ডলীকে গড়ে তোলার জন্য তার অর্থ বুঝিয়ে দেয় না, তার থেকে যে ভাববাণী বলে সেই বরং বড়।
6আমার ভাই ও বোনেরা, আমি যদি তোমাদের কাছে এসে কোন প্রকাশিত সত্য জ্ঞান, ভাববাণী বা কোন শিক্ষার বিষয়ে না বলে নানা ভাষায় কথা বলি, তাতে তোমাদের কোন লাভ হবে না। 7বাঁশী বা বীণার মতো জড় বস্তু, যা সুন্দর সুর সৃষ্টি করে তা যদি স্পষ্ট ধ্বনিতে না বাজে তবে বাঁশীতে বা বীণাতে কি সুর বাজছে তা কিভাবে বোঝা যাবে? 8আর তূরীর আওয়াজ যদি অস্পষ্ট হয়, তবে যুদ্ধে যাবার জন্য কে প্রস্তুত হবে?
9ঠিক তেমনি, তোমাদের জিভ যদি বোধগম্য কথা না বলে, তবে তোমরা কি বললে তা কে জানবে? কারণ এ ধরণের কথা বলার অর্থ বাতাসের সঙ্গে কথা বলা। 10নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, জগতে অনেক রকম ভাষা আছে, আর সেগুলির প্রত্যেকটারই অর্থ আছে। 11তাই, সেই সব ভাষার অর্থ যদি আমি না বুঝতে পারি, তবে যে সেই ভাষায় কথা বলছে তার কাছে আমি একজন বিদেশীর মতো হব; আর সেও আমার কাছে বিদেশীর মতো হবে। 12তোমাদের ক্ষেত্রেও ঠিক সেরকমই; যখন তোমরা আত্মিক বরদান লাভ করার জন্য উদগ্রীব, তখন যা মণ্ডলীকে গড়ে তোলে সে বিষয়ে উৎকৃষ্ট হবার চেষ্টা কর।
13তাই, যে লোক বিশেষ ভাষায় কথা বলে, সে প্রার্থনা করুক যেন তার অর্থ সে বুঝিয়ে দিতে পারে। 14কারণ আমি যদি কোন বিশেষ ভাষায় প্রার্থনা করি, তবে আমার আত্মা প্রার্থনা করছে, কিন্তু আমার বুদ্ধির কোন উপকার হয় না। 15তাহলে আমার কি করা উচিত? আমি আত্মায় প্রার্থনা করব, আবার আমার মন দিয়েও প্রার্থনা করব। আমি আত্মাতে স্তব গীত করব আবার মন দিয়েও স্তব গীত করব। 16কারণ তুমি হয়তো তোমার আত্মাতে ঈশ্বরের প্রশংসা করছ, কিন্তু যে লোক কেবল শ্রোতা হিসাবে সেখানে আছে সে না বুঝে কেমন করে তোমার ধন্যবাদে “আমেন” বলবে? কারণ তুমি কি বলছ, তা তো সে বুঝতে পারছে না। 17তুমি হয়তো খুব সুন্দরভাবে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিচ্ছ, কিন্তু এর দ্বারা অপরকে আত্মিকভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে না।
18আমি তোমাদের সকলের থেকে অনেক বেশী বিশেষ ভাষায় কথা বলতে পারি বলে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই। 19কিন্তু মণ্ডলীর মধ্যে, বিশেষ ভাষায় দশ হাজার শব্দ বলার থেকে, বরং আমি বুদ্ধিপূর্বক পাঁচটি কথা বলতে চাই, যেন এর দ্বারা অপরে শিক্ষালাভ করে।
20আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা, তোমরা বালকদের মতো চিন্তা করো না, বরং মন্দ বিষয়ে শিশুদের মতো হও, কিন্তু তোমাদের চিন্তায় পরিণত বুদ্ধি হও। 21বিধি-ব্যবস্থায় (শাস্ত্রে) বলে:
“অন্য ভাষার লোকদের দ্বারা
ও অন্য দেশীয়দের মুখ দিয়ে
আমি এই জাতির সঙ্গে কথা বলব;
কিন্তু সেই লোকরা আমার কথা শুনবে না।”+ 14:21 উদ্ধৃতি যিশাইয় 28:11-12.
প্রভু এই কথা বলেন।
22তাই বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলার ক্ষমতা, এই চিহ্ন বিশ্বাসীদের জন্য নয় বরং তা অবিশ্বাসীদের জন্যই। কিন্তু ভাববাণী অবিশ্বাসীদের জন্য নয়, তা বিশ্বাসীদের জন্যই। 23সেই জন্য যখন সমগ্র মণ্ডলী সমবেত হয়, তখন যদি প্রত্যেকে বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলতে থাকে; আর সেখানে যদি কোন অবিশ্বাসী বা অন্য কোন বাইরের লোক প্রবেশ করে, তবে তারা কি বলবে না যে তোমরা পাগল? 24কিন্তু যদি সকলে ভাববাণী বলে, সেই সময় যদি কোন অবিশ্বাসী লোক বা অন্য কোন সাধারণ লোক সেখানে আসে, তবে সেই ভাববাণী শুনে সে তার পাপের বিষয়ে সচেতন এবং সেই ভাববাণীর দ্বারাই বিচারপ্রাপ্ত হয়। 25এইভাবে তার অন্তরের গোপন চিন্তা সকল প্রকাশ পায়। সে তখন মাটিতে উপুড় হয়ে পড়ে ঈশ্বরের উপাসনা করবে আর বলবে, “বাস্তবিকই, তোমাদের মধ্যে ঈশ্বর আছেন।”
তোমাদের সভাগুলি মণ্ডলীকে সাহায্য করুক
26আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা, তাহলে তোমরা কি করবে? তোমরা যখন উপাসনার জন্য এক জায়গায় সমবেত হও, তখন কেউ স্তব গীত করবে, কেউ শিক্ষা দেবে, কেউ যদি কোন সত্য প্রকাশ করে, তবে সে তা বলবে, কেউ বিশেষ ভাষায় কথা বলবে, আবার কেউ বা তার ব্যাখ্যা করে দেবে; কিন্তু সব কিছুই যেন মণ্ডলী গঠনের জন্য হয়। 27দুজন কিংবা তিনজনের বেশী যেন কেউ অজানা ভাষায় কথা না বলে। প্রত্যেকে যেন পালা করে বলে, আর একজন যেন তার অর্থ বুঝিয়ে দেয়। 28অর্থ বুঝিয়ে দেবার লোক যদি না থাকে, তাহলে সেই ধরণের বক্তা যেন মণ্ডলীতে নীরব থাকে। সে যেন কেবল নিজের সঙ্গে ও ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলে।
29কেবলমাত্র দুই বা তিনজন ভাববাদী কথা বলুক এবং অন্যরা তা বিচার করুক। 30সেখানে বসে আছে এমন কারো কাছে যদি ঈশ্বরের কোন বার্তা আসে তবে প্রথমে যে ভাববাণী বলছিল সে চুপ করুক, 31যাতে একের পর এক সকলে ভাববাণী বলতে পারে ও সকলে শিক্ষালাভ করে ও উৎসাহিত হয় এবং 32ভাববাদীদের আত্মা ও ভাববাদীদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। 33কারণ ঈশ্বর কখনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন না, তিনি শান্তির ঈশ্বর, যা ঈশ্বরের পবিত্র লোকদের মণ্ডলীগুলিতে সত্য।
34মণ্ডলীতে স্ত্রীলোকরা নীরব থাকুক। ঈশ্বরের লোকদের সমস্ত মণ্ডলীতে এই রীতি প্রচলিত আছে। স্ত্রীলোকদের কথা বলার অনুমোদন নেই। মোশির বিধি-ব্যবস্থা যেমন বলে সেইমত তারা বাধ্য হয়ে থাকুক। 35স্ত্রীলোকরা যদি কিছু শিখতে চায় তবে তারা ঘরে নিজেদের স্বামীদের কাছে তা জিজ্ঞেস করুক, কারণ সমাবেশে কথা বলা স্ত্রীলোকের পক্ষে লজ্জার বিষয়।
36তোমাদের মধ্য থেকেই কি ঈশ্বরের শিক্ষা প্রসারিত হয়েছিল? অথবা কেবল তোমাদের কাছেই কি তা এসেছিল? 37যদি কেউ নিজেকে ভাববাদী বলে বা আত্মিক বরদান লাভ করেছে বলে মনে করে, তবে সে স্বীকার করুক যে আমি তোমাদের কাছে যা লিখছি সে সব প্রভুরই আদেশ;
38আর যদি কেউ তা অবজ্ঞা করে তবে সে অবজ্ঞার শিকার হবে। 39অতএব, আমার ভাই ও বোনেরা, তোমরা ভাববাণী বলার জন্য আগ্রহী হও এবং বিশেষ ভাষায় কথা বলতে লোকদের নিষেধ করো না, 40কিন্তু সবকিছু যেন যথাযথভাবে করা হয়।
15খ্রীষ্টর সম্বন্ধে সুসমাচার
1আমার ভাই ও বোনেরা, তোমাদের কাছে আমি যে সুসমাচার প্রচার করেছি, এখন আমি সে কথা তোমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। তোমরা এই বার্তা গ্রহণ করেছ ও সবল আছ। 2এই বার্তার মাধ্যমে তোমরা উদ্ধার পেয়েছ, অবশ্য তোমরা যদি তা ধরে রাখ এবং তাতে পূর্ণরূপে বিশ্বাস রাখ। তা না করলে তোমাদের বিশ্বাস বৃথা হয়ে যাবে।
3আমি যে বার্তা পেয়েছি তা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। সেগুলি এইরকম: শাস্ত্রের কথা মতো খ্রীষ্ট আমাদের পাপের জন্য মরলেন, 4এবং তাঁকে কবর দেওয়া হয়েছিল। আবার শাস্ত্রের কথা মতো মৃত্যুর তিন দিন পর তাঁকে মৃতদের মধ্যে থেকে জীবিত করা হল। 5আর তিনি পিতরকে দেখা দিলেন এবং পরে সেই বারোজন প্রেরিতকে দেখা দিলেন। 6এরপর তিনি একসঙ্গে সংখ্যায় পাঁচশোর বেশী বিশ্বাসী ভাইদের দেখা দিলেন। তাদের মধ্যে বেশীর ভাগ লোক এখনও জীবিত আছেন। কিছু লোক হয়তো এতদিনে মারা গেছেন। 7এরপর তিনি যাকোবকে দেখা দিলেন এবং পরে প্রেরিতদের সকলকে দেখা দিলেন। 8সব শেষে আমাকেও অসময়ে জন্মেছি যে আমি, সেই আমাকেও দেখা দিলেন।
9প্রেরিতরা আমার থেকে মহান, কারণ ঈশ্বরের মণ্ডলীকে আমি নির্যাতন করতাম; প্রেরিত নামে পরিচিত হবার যোগ্যও আমি নই। 10কিন্তু এখন আমি যা হয়েছি, তা ঈশ্বরের অনুগ্রহের গুনেই হয়েছে। আমার প্রতি তাঁর যে অনুগ্রহ তা নিষ্ফল হয় নি, বরং আমি তাদের সকলের থেকে অধিক পরিশ্রম করেছি। তবে আমি যে এই কাজ করেছিলাম তা নয়; কিন্তু আমার মধ্যে ঈশ্বরের যে অনুগ্রহ ছিল তাতেই তা সম্ভব হয়েছে। 11সুতরাং আমি বা অন্যরা যারাই তোমাদের কাছে প্রচার করে থাকি না কেন, সকলে একই সুসমাচার প্রচার করেছিলাম, যা তোমরা বিশ্বাস করেছ।
আমাদের মৃত্যু থেকে ওঠানো হবে
12কিন্তু আমরা যদি প্রচার করে থাকি যে খ্রীষ্ট মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন, তখন তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ কি করে বলছে যে মৃতদের পুনরুত্থান নেই? 13মৃতদের যদি পুনরুত্থান না হয়, তাহলে খ্রীষ্টও তো উত্থিত হন নি, 14আর খ্রীষ্ট যদি পুনরুত্থিত না হয়ে থাকেন তাহলে তো আমাদের সেই সুসমাচার ভিত্তিহীন, আর তোমাদের বিশ্বাসও ভিত্তিহীন। 15আবার আমরা যে ঈশ্বরের বিষয়ে মিথ্যা সাক্ষী দিচ্ছি, সেই দোষে আমরা দোষী সাব্যস্ত হব, কারণ আমরা ঈশ্বরের বিষয়ে প্রচার করতে গিয়ে একথা বলেছি যে তিনি খ্রীষ্টকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত করেছেন। 16মৃতদের পুনরুত্থান যদি না হয়, তবে খ্রীষ্টও মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হন নি; 17আর খ্রীষ্ট যদি পুনরুত্থিত না হয়ে থাকেন, তাহলে তোমাদের বিশ্বাসের কোন মূল্য নেই, তোমরা এখনও তোমাদের পাপের মধ্যেই আছ। 18হ্যাঁ, আর খ্রীষ্টানুসারী যারা মারা গেছে তারা সকলেই বিনষ্ট হয়েছে। 19খ্রীষ্টের প্রতি প্রত্যাশা যদি শুধু এই জীবনের জন্যই হয়, তবে অন্য লোকদের চেয়ে আমাদের দশা শোচনীয় হবে।
20কিন্তু সত্যিই খ্রীষ্ট মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন, আর যেসব ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তিনি তাদের মধ্যে প্রথম ফসল। 21কারণ একজন মানুষের মধ্য দিয়ে যেমন মৃত্যু এসেছে, মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানও তেমনিভাবেই একজন মানুষের দ্বারা এসেছে। 22কারণ আদমে যেমন সকলের মৃত্যু হয়, ঠিক সেভাবে খ্রীষ্টে সকলেই জীবন লাভ করবে। 23কিন্তু প্রত্যেকে তার পালাক্রমে জীবিত হবে; খ্রীষ্ট, যিনি অগ্রনী, তিনি প্রথমে মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হলেন, আর এরপর যারা খ্রীষ্টের লোক তারা তাঁর পুনরুত্থানের সময়ে জীবিত হয়ে উঠবে। 24এরপর খ্রীষ্ট যখন প্রত্যেক শাসনকর্তার কর্ত্তৃত্ব ও পরাক্রমকে পরাস্ত করে পিতা ঈশ্বরের হাতে রাজ্য সঁপে দেবেন তখন সমাপ্তি আসবে।
25কারণ যতদিন না ঈশ্বর তাঁর সমস্ত শত্রুকে খ্রীষ্টের পদানত করছেন, ততদিন খ্রীষ্টকে রাজত্ব করতে হবে। 26শেষ শত্রু হিসেবে মৃত্যুও ধ্বংস হবে। 27কারণ, “ঈশ্বর সব কিছুই তাঁর অধীনস্থ করে তাঁর পায়ের তলায় রাখবেন।”+ 15:27 উদ্ধৃতি গীত 8:6. যখন বলা হচ্ছে যে, “সব কিছু” তাঁর অধীনস্থ করা হয়েছে, তখন এটি স্পষ্ট যে ঈশ্বর নিজেকে বাদ দিয়ে সব কিছু খ্রীষ্টের অধীনস্থ করেছেন। 28সব কিছু খ্রীষ্টের অধীনস্থ হলে পুত্র ঈশ্বরের অধীনস্থ হবেন। যেন ঈশ্বর, যিনি তাঁকে সব কিছুর ওপর কর্ত্তৃত্ব করতে দিয়েছেন, তিনিই সর্বেসর্বা হন।
29কিন্তু যারা মৃত লোকদের উদ্দেশ্যে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করে তাদের কি হবে? মৃতেরা যদি কখনও পুনরুত্থিত না হয়, তাহলে তাদের জন্য এই লোকেরা কেন বাপ্তাইজ হয়?
30আমরাই বা কেন প্রতি মুহূর্তে বিপদের সম্মুখীন হই? 31আমি প্রতিদিন মরছি। খ্রীষ্ট যীশুতে তোমাদের জন্য আমার যে গর্ব আছে তারই দোহাই দিয়ে আমি বলছি, একথা সত্য। 32যদি শুধু মানবিক স্তরে ইফিষের সেই হিংস্র পশুদের সঙ্গে যুদ্ধ করে থাকি তাহলে আমার কি লাভ হয়েছে? কিছুই না। মৃতদের যদি পুনরুত্থান নেই তবে, “এস ভোজন পান করি কারণ কাল তো আমরা মরবই।”+ 15:32 উদ্ধৃতি যিশ. 22:13, 56:12.
33ভ্রান্ত হয়ো না, “অসৎ সঙ্গ সচ্চরিত্র নষ্ট করে।” 34চেতনায় ফিরে এস, পাপ কাজ বন্ধ কর, কারণ তোমাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা ঈশ্বর সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। তোমাদের লজ্জা দেবার জন্যই আমি একথা বলছি।
আমাদের কি রকম দেহ হবে
35কিন্তু কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করবে, “মৃতেরা কি করে পুনরুত্থিত হয়? তাদের কি রকম দেহই বা হবে?” 36কি নির্বোধের মত প্রশ্ন! তোমরা যে বীজ বোনো, তা না মরা পর্যন্ত জীবন পায় না। 37তুমি যা বোনো, যে “দেহ” উৎপন্ন হবে তুমি তা বোনো না, তার বীজ মাত্র বোনো, সে গমের বা অন্য কিছুর হোক্। 38তারপর ঈশ্বরের ইচ্ছানুসারে তিনি তার জন্য একটা দেহ দেন। প্রতিটি বীজের জন্য তাদের নিজের নিজের দেহ দেন। 39সকল প্রাণীর মাংস এক রকমের নয়; কিন্তু মানুষের এক রকমের মাংস, পশুদের আর এক ধরণের মাংস, পক্ষীদের আবার অন্য রকমের মাংস। 40সেই রকম স্বর্গীয় দেহগুলি যেমন আছে, তেমনি পার্থিব দেহগুলিও আছে। স্বর্গীয় দেহগুলির এক প্রকার ঔজ্জ্বল্য, আবার পার্থিব দেহগুলির অন্যরকম। 41সূর্যের এক প্রকারের ঔজ্জ্বল্য, চাঁদের আর এক ধরণের, আবার নক্ষত্রদের অন্য ধরণের। একটা নক্ষত্র থেকে অন্য নক্ষত্রের ঔজ্জ্বল্য ভিন্ন।
42মৃতদের পুনরুত্থানও সেই রকম। যে দেহ কবর দেওয়া হয় তা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, যে দেহ পুনরুত্থিত হয় তা অক্ষয়। 43যে দেহ মাটিতে কবর দেওয়া হয়, তার কোন কদর থাকে না, যে দেহ পুনরুত্থিত হয় তা গৌরবজনক। যে দেহ মাটিতে কবরস্থ হয়, তা দুর্বল, যে দেহ পুনরুত্থিত হয় তা শক্তিশালী। 44যে দেহ মাটিতে কবরস্থ হয় তা জৈবিক দেহ; আর যে দেহ পুনরুত্থিত হয় তা আত্মিক দেহ।
যখন জৈবিক দেহ আছে, তখন আত্মিক দেহও আছে। 45শাস্ত্রে এই কথাও বলছে: “প্রথম মানুষ (আদম) সজীব প্রাণী হল;”+ 15:45 উদ্ধৃতি আদি 2:7. আর শেষ আদম (খ্রীষ্ট) জীবনদায়ক আত্মা হলেন। 46যা আত্মিক তা প্রথম নয় বরং যা জৈবিক তাই প্রথম; যা আত্মিক তা এর পরে আসে। 47প্রথম মানুষ আদম এলেন পৃথিবীর ধূলো থেকে, দ্বিতীয় মানুষ (খ্রীষ্ট) এলেন স্বর্গ থেকে। 48মৃত্তিকার মানুষটি যেমন ছিল, পৃথিবীর অন্যান্য মানুষও তেমন; আর স্বর্গীয় মানুষরা সেই স্বর্গীয় মানুষ খ্রীষ্টের মত। 49আমরা যেমন মৃত্তিকার সেই মানুষদের মতো গড়া, তেমন আবার আমরা সেই স্বর্গীয় মানুষ খ্রীষ্টের মত হব।
50আমার ভাই ও বোনেরা, তোমাদের বলছি: আমাদের রক্ত মাংস ঈশ্বরের রাজ্যের অধিকারী হতে পারে না। যা কিছু ক্ষয়শীল তা অক্ষয়তার অধিকারী হতে পারে না। 51শোন, আমি তোমাদের এক নিগূঢ়তত্ত্ব বলি। আমরা সকলে মরব এমন নয়, কিন্তু আমাদের সকলেরই রূপান্তর ঘটবে। 52এক মুহূর্তের মধ্যে যখন শেষ তূরী বাজবে তখন চোখের পলকে তা ঘটবে। হ্যাঁ, তূরী বাজবে, তাতে মৃতেরা সকলে অক্ষয় হয়ে উঠবে, আর আমরা সকলে রূপান্তরিত হব। 53কারণ এই ক্ষয়শীল দেহকে অক্ষয়তার পোশাক পরতে হবে; আর এই পার্থিব নশ্বর দেহ অবিনশ্বরতায় ভুষিত হবে। 54এই ক্ষয়শীল দেহ যখন অক্ষয়তার পোশাক পরবে আর এই পার্থিব দেহ যখন অবিনশ্বরতায় ভূষিত হবে তখন শাস্ত্রে যে কথা লেখা আছে তা সত্য হবে:
“মৃত্যু জয়ে কবলিত হল।”+ 15:54 উদ্ধৃতি যিশাইয় 25:8.
55“মৃত্যু তোমার জয় কোথায়?
মৃত্যু তোমার হুল কোথায়?”+ 15:55 উদ্ধৃতি হোশেয় 13:14.
56মৃত্যুর হুল পাপ আর পাপের শক্তি আসে বিধি-ব্যবস্থা থেকে। 57কিন্তু ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই। তিনিই আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে আমাদের বিজয়ী করেন।
58তাই আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা, সুস্থির ও সুদৃঢ় হও। প্রভুর কাজে নিজেকে সব সময় সম্পূর্ণভাবে সঁপে দাও, কারণ তোমরা জান, প্রভুর জন্য তোমাদের পরিশ্রম নিষ্ফল হবে না।
16অন্য বিশ্বাসীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ
1এখন ঈশ্বরের লোকদের দেবার জন্য অর্থ সংগ্রহের বিষয় বলছি: গালাতীয়ার মণ্ডলীকে আমি যেমন বলেছিলাম তোমরাও তেমন করবে; 2সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবার তোমরা তোমাদের উপার্জন থেকে সঙ্গতি অনুসারে যতটা সম্ভব বাঁচিয়ে সেই অর্থ গৃহে বিশেষ কোন স্থানে আলাদা করে জমাবে। তাহলে আমি যখন আসব তখন অর্থ সংগ্রহ করার প্রয়োজন হবে না। 3আমি যখন পৌঁছব, তখন তোমরা যাদের যোগ্য বলে মনে করবে তাদের হাত দিয়ে সেই অর্থ জেরুশালেমে পাঠাবে। আমার লেখা চিঠি পরিচয়পত্র হিসাবে তারা নিয়ে যাবে; 4আর আমার যাওয়া যদি ঠিক বলে মনে হয় তবে তারা আমার সঙ্গেই যাবে।
পৌলের পরিকল্পনা
5আমি মাকিদনিয়া হয়ে যাবার পরিকল্পনা করছি। মাকিদনিয়ার মধ্য দিয়ে যাবার পথে তোমাদের ওখানে যাব। 6সম্ভব হলে হয়তো কিছুদিন তোমাদের ওখানে থেকে যাব। শীতকালটা হয়তো তোমাদের ওখানেই কাটাব। এরপর তোমাদের কাছ থেকে আমি যেখানে যাব, আমার সেখানে যাবার ব্যবস্থায় তোমরা সাহায্য করতে পারবে। 7এখন যাত্রাপথে তোমাদের সঙ্গে দেখা করতে চাই না। প্রভুর ইচ্ছা হলে তোমাদের সঙ্গে অনেকটা সময় কাটাবার ইচ্ছা আছে। 8পঞ্চাশত্তমীর দিন পর্যন্ত আমি ইফিষে থাকব। 9কারণ এখানে যে কাজে ফল পাওয়া যায় সেই রকম কাজের জন্য একটা মস্ত বড় সুযোগ আমার সামনে এসেছে, যদিও এখানে অনেকে বিরোধিতা করছে।
10তীমথিয় তোমাদের কাছে যেতে পারেন, তাঁকে আদর যত্ন করো। দেখো তোমাদের সঙ্গে তিনি যেন নির্ভয়ে থাকতে পারেন। তিনিও আমার মতো প্রভুর কাজ করছেন, কেউ যেন তাঁকে তাচ্ছিল্য না করে। 11তাঁকে তোমরা তাঁর যাত্রা পথে শান্তিতে এগিয়ে দিও, যেন তিনি আমার কাছে আসতে পারেন। ভাইদের সঙ্গে নিয়ে তিনি আমার কাছে আসবেন এই প্রত্যাশায় আছি।
12এখন আমি তোমাদের ভাই আপল্লোর বিষয়ে বলি: আমি তাঁকে অনেক ভাবে উৎসাহিত করেছি যেন তিনি অন্যান্য ভাইদের সঙ্গে তোমাদের কাছে যান। কিন্তু এটা পরিষ্কার যে তোমাদের কাছে যাবার ইচ্ছা তাঁর এখন নেই। তিনি সুযোগ পেলেই তোমাদের কাছে যাবেন।
পৌলের চিঠির শেষ কথা
13তোমরা সতর্ক থেকো, বিশ্বাসে স্থির থেকো, সাহস যোগাও, বলবান হও। 14তোমরা যা কিছু কর তা ভালবাসার সঙ্গে কর।
15আমার ভাইরা, আমি তোমাদের কাছে একটা অনুরোধ করছি, তোমরা স্তিফান ও তাঁর পরিবারের বিষয়ে জান। আখায়াতে (গ্রীসে) তাঁরাই প্রথম খ্রীষ্টানুসারী হন। এখন তাঁরা খ্রীষ্টানুসারীদের সেবায় নিজেদের নিয়োগ করেছেন। ভাইরা, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ, 16তোমরা এইরকম লোকদের, যারা প্রভুর সেবায় নিযুক্ত আছেন, তাঁদের নেতৃত্ব মেনে নাও।
17আমি খুব খুশী কারণ স্তিফান, ফর্তুনাত আর আখায়া এখানে এসে তোমাদের না থাকার অভাব পূর্ণ করে দিয়েছেন। 18তাঁরা তোমাদের মতো আমার আত্মাকে তৃপ্ত করেছেন। তাই তোমরা এরূপ লোকদের চিনতে ভুল করো না।
19এশিয়ার সমস্ত মণ্ডলী তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। আক্কিলা ও প্রিষ্কা আর তাঁদের বাড়িতে যারা উপাসনার জন্য সমবেত হন তাঁরা সকলে তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। 20তোমরা পরস্পর একে অপরকে পবিত্র চুম্বনে শুভেচ্ছা জানিও।
21আমি পৌল, আমি নিজের হাতে এই শুভেচ্ছা বাণী লিখে পাঠালাম।
22প্রভুকে যে ভালবাসে না তার ওপর অভিশাপ নেমে আসুক।
আমাদের প্রভু আসুন।
23প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ তোমাদের সঙ্গে থাকুক।
24খ্রীষ্ট যীশুতে তোমাদের সকলের জন্য আমার ভালবাসা রইল।