বংশাবলির প্রথম খণ্ড

1

আদম থেকে নোহ পর্যন্ত পরিবারবর্গের ইতিহাস

1 আদম, শেখ, ইনোশ, কৈনন, মহললেল, যেরদ, হনোক, মথূশেলহ, লেমক, নোহ।+ 1:1-3 আদম … নোহ এই নামের তালিকাটিতে আছে এক ব্যক্তির নাম। তারপর তার উত্তরপুরুষদের নাম।

4নোহর তিন পুত্র। তাদের নাম ছিল শেম, হাম এবং যেফৎ।

যেফতের উত্তরপুরুষ

5যেফতের সাত পুত্রের নাম হল: গোমর, মাগোগ, মাদয়, যবন, তুবল, মেশক আর তীরস।

6গোমরের পুত্রদের নাম: অস্কিনস, দীফৎ আর তোগর্ম।

7যবনের পুত্ররা হল: ইলীশা, তর্শীশ, কিত্তীম ও রোদানীম।

হামের উত্তরপুরুষ

8হামের পুত্রদের নাম: কূশ, মিশর, পূট ও কনান।

9কূশের পুত্রদের নাম: সবা, হবীলা, সপ্তা, রয়মা ও সপ্তকা।

রয়মার পুত্রদের নাম: শিবা ও দদান।

10কূশের এক উত্তরপুরুষের নাম ছিল নিম্রোদ। তিনি বড় হয়ে পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী ও সাহসী যোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

11লূদ, অনাম, লহাব, নপ্তুহ, 12পথ্রোষ, কস্লূহ, কপ্তোর—এদের সকলের পিতা ছিলেন মিশর। কস্লূহ ছিলেন পলেষ্টীয়দের পূর্বপুরুষ।

13কনানের প্রথম পুত্র ছিল সীদোন। 14কনান—যিবূষীয়, ইমোরীয়, গির্গাশীয়, 15হিব্বীয়, অর্কীয়, সীনীয়, অর্বদীয়, 16সমারীয় আর হমাতীয়দেরও পূর্বপুরুষ।

শেমের উত্তরপুরুষ

17শেমের পুত্রদের নাম: এলম, অশূর, অর্ফক্ষদ, লূদ এবং অরাম। অরামের পুত্ররা হল: ঊষ, হূল, গেথর ও মেশেক।

18অর্ফক্ষদ ছিলেন শেলহর পিতা এবং এবরের পিতামহ।

19এবরের দুই পুত্রের একজনের নাম ছিল পেলগ, কারণ তাঁর জন্মের পর থেকেই পৃথিবীর লোকরা বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে যায়। পেলগের ভাইয়ের নাম ছিল যক্তন। 20(যক্তন এর পুত্রদের নাম: অল্মোদদ, শেলফ, হৎসর্মাবৎ, যেরহ, 21হদোরাম, ঊসল, দিক্ল, 22এবল, অবীমায়েল, শিবা, 23ওফীর, হবীলা ও যোববের পিতা ছিল। এরা সকলে যক্তনের পুত্র।)

24শেমের উত্তরপুরুষ হল অর্ফক্ষদ, শেলহ, 25এবর, পেলগ, রিয়ূ, 26সরূগ, নাহোর, তেরহ আর 27অব্রাম (অব্রাম যাকে অব্রাহামও বলা হয়।)

অব্রাহামের পরিবার

28অব্রাহামের দুই পুত্রের নাম ইস‌্হাক ও ইশ্মায়েল। 29এদের উত্তরপুরুষ নিম্নরূপ:

ইশ্মায়েলের প্রথম ও বড় ছেলের নাম নবায়োৎ। তাঁর অন্যান্য পুত্রদের নাম হল: কেদর, অদ্বেল, মিব্‌সম, 30মিশ্‌ম, দূমা, মসা, হদদ, তেমা, 31যিটূর, নাফীশ ও কেদমা।

32অব্রাহামের উপপত্নী কটূরা—সিম্রণ, যক্ষণ, মদান, মিদিয়ন, যিশ্‌বক ও শূহ প্রমুখ পুত্রদের জন্ম দিয়েছিলেন।

যক্ষণের পুত্রদের নাম: শিবা ও দদান।

33মিদিয়নের পুত্রদের নাম: ঐফা, এফর, হনোক, অবীদ আর ইল‌্দায়া।

এঁরা সকলেই ছিলেন কটূরার উত্তরপুরুষ।

ইস‌্হাকের বংশধর

34অব্রাহামের এক পুত্রর নাম ইস‌্হাক। ইস‌্হাকের দুই পুত্র—এষৌ আর ইস্রায়েল।

35এষৌর পুত্রদের নাম: ইলীফস, রূয়েল, যিয়ূশ, যালম আর কোরহ।

36ইলীফসের পুত্রদের নাম: তৈমন, ওমার, সফী, গয়িতম আর কনস। ইলীফস আর তিম্নর অমালেক নামেও এক পুত্র ছিল।

37রূয়েলের পুত্রদের নাম: নহৎ, সেরহ, শম্ম আর মিসা।

সেয়ীর থেকে ইদোমীয়রা

38সেয়ীরের পুত্রদের নাম: লোটন, শোবল, সিবিয়োন, অনা, দিশোন, এৎ‌সর আর দীশন।

39লোটনের পুত্রদের নাম: হোরি আর হোমম। লোটনের তিম্না নামে এক বোনও ছিল।

40শোবলের পুত্রদের নাম: অলিয়ন, মানহৎ, এবল, শফী আর ওনম।

সিবিয়োনের পুত্রদের নাম: অয়া আর অনা।

41অনার পুত্র হল দিশোন।

দিশোনের পুত্রদের নাম: হম্রণ, ইশ্‌বন, যিত্রণ আর করাণ।

42এৎ‌সরের পুত্রদের নাম: বিল্হন, সাবন আর যাকন।

দিশনের পুত্রদের নাম: ঊষ আর অরাণ।

ইদোমের রাজা

43ইস্রায়েলে রাজতন্ত্র চালু হবার বহু আগে থেকেই ইদোমে রাজতন্ত্র প্রচলিত ছিল। নীচে ইদোমের রাজাদের পরিচয় দেওয়া হল:

ইদোমের প্রথম রাজা ছিলেন বিয়োরের পুত্র বেলা। বেলার রাজধানীর নাম ছিল দিন‌্হাবা।

44বেলার মৃত্যুর পর বস্রার সেরহের পুত্র যোবব নতুন রাজা হলেন।

45যোববের মৃত্যুর পর রাজা হলেন তৈমন দেশের হূশম।

46হূশম মারা গেলে তাঁর জায়গায় বদদের পুত্র হদদ নতুন রাজা হলেন। তাঁর রাজধানীর নাম ছিল অবীৎ। তিনি মোয়াবীয়দের দেশে মিদিয়নকে যুদ্ধে পরাজিত করেছিলেন।

47হদদের মৃত্যুর পর মস্রেকার বাসিন্দা সম্ল তাঁর জায়গায় নতুন রাজা হলেন।

48সম্ল মারা গেলে ফরাৎ নদীর তীরবর্তী রহোবোতের শৌল নতুন রাজা হলেন।

49শৌল মারা গেলে রাজা হলেন অক্‌বোরের পুত্র বাল্-হানন।

50বাল্-হাননের মৃত্যুর পর রাজা হলেন হদদ। তাঁর রাজধানীর নাম ছিল পায় আর তাঁর স্ত্রীর নাম মহেটবেল। মহেটবেল ছিলেন মট্রেদের কন্যা, মেষাহবের দৌহিত্রী। 51তারপর হদদের মৃত্যু হল।

তিম্ন অলিয়া, যিথেৎ, 52অহলীবামা, এলা, পীনোন, 53কনস, তৈমন, মিব্সর, 54মগ্দীয়েল, ঈরম প্রমুখ ব্যক্তিরা ছিলেন ইদোমের নেতা।

2

ইস্রায়েলের পুত্র

1ইস্রায়েলের পুত্রদের নাম: রূবেণ, শিমিয়োন, লেবি, যিহূদা, ইষাখর, সবূলূন, 2দান, যোষেফ, বিন্যামীন, নপ্তালি, গাদ ও আশের।

যিহূদার পুত্র

3যিহূদার পুত্রদের নাম: এর, ওনন এবং শেলা। এঁরা তিনজন কনানীয়া বৎ-শূয়ার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। প্রভু যখন দেখলেন যে, যিহূদার প্রথম পুত্র, এর অসৎ, তখন তিনি তাঁকে হত্যা করলেন। 4যিহূদার পুত্রবধূ তামর ও যিহূদার মিলনের ফলে পেরস ও সেরহর জন্ম হয়। অর্থাৎ‌ সব মিলিয়ে যিহূদার সন্তান সংখ্যা ছিল পাঁচ।

5পেরসের পুত্রদের নাম: হিষ্রোণ আর হামূল।

6সেরহের পাঁচ পুত্রের নাম: শিম্রি, এথন, হেমন, কল্কোল আর দারা।

7শিম্রির পুত্রের নাম কর্মি। কর্মির পুত্রের নাম ছিল আখর। যুদ্ধে লাভ করা জিনিসপত্র ঈশ্বরকে না দিয়ে নিজের কাছে রেখে আখর ইস্রায়েলকে বহুতর সমস্যার মধ্যে ঠেলে দিয়েছিলেন।

8এথনের পুত্রের নাম অসরিয়।

9হিষ্রোণের পুত্রদের নাম: যিরহমেল, রাম আর কালুবায়।

রামের উত্তরপুরুষ

10রাম ছিলেন যিহূদার লোকদের নেতা নহশোনের পিতামহ এবং অম্মীনাদবের পিতা। 11নহশোনের পুত্রের নাম সল্‌মোন, সল্‌মোনের পুত্রের নাম বোয়স, 12বোয়সের পুত্রের নাম ওবেদ, ওবেদের পুত্রের নাম যিশয়, যিশয়ের ছিল সাত পুত্র। 13যিশয়ের বড় ছেলের নাম ইলীয়াব, দ্বিতীয় পুত্রের নাম অবীদানব, তৃতীয় পুত্রের নাম শম্ম, 14চতুর্থ পুত্রের নাম নথনেল, পঞ্চম পুত্রের নাম রদ্দয়, 15ষষ্ঠ পুত্রের নাম ওৎসম আর সপ্তম পুত্রের নাম ছিল দায়ূদ। 16এদের দুই বোনের নাম সরূয়া ও অবীগল। সরূয়ার তিন পুত্র—অবীশয়, যোয়াব ও অসাহেল। 17অবীগলের পুত্রের নাম অমাসা আর তাঁর পিতা যেথর ছিলেন ইশ্মায়েলের বাসিন্দা।

কালেবের উত্তরপুরুষ

18হিষ্রোণের পুত্রের নাম ছিল কালেব। কালেব আর তাঁর স্ত্রী, যিরিয়োতের কন্যা অসূবার মিলনের ফলে যেশর, শোবব ও অর্দোন এই তিন পুত্রের জন্ম হয়। 19অসূবার মৃত্যু হলে কালেব ইফ্রাথাকে বিয়ে করলেন। কালেব আর ইফ্রাথার পুত্রের নাম হূর। 20হূরের পুত্রের নাম ঊরি আর পৌত্রের নাম বৎসলেল ছিল।

21হিষ্রোণ 60 বছর বয়সে গিলিয়দের পিতা মাখীরের কন্যাকে বিয়ে করেন। তাঁর ও মাখীরের কন্যার মিলনে সগূবের জন্ম হয়। 22সগূবের পুত্রের নাম ছিল যায়ীর। গিলিয়দ দেশে যায়ীরের 23টি শহর ছিল। 23কিন্তু কনাত্‌ ও আশপাশের 60টি শহরতলী সহ যায়ীরের সমস্ত গ্রাম গেশূর এবং অরাম কেড়ে নিয়েছিল। ঐ 60 খানা ছোট শহরতলীর মালিক ছিলেন গিলিয়দের পিতা মাখীরের ছেলেপুলেরা।

24ইফ্রাথার কালেব শহরে, হিষ্রোণের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী অবিয়া অস্‌হূর নামে এক পুত্রের জন্ম দিয়েছিলেন। অস্হূরের পুত্রের নাম ছিল তকোয়া।

যিরহমেলের উত্তরপুরুষ

25হিষ্রোণের বড় ছেলে যিরহমেলের পুত্রদের নাম ছিল: রাম, বূনা, ওরণ, ওৎসম আর অহিয়। রাম যিরহমেলের বড় ছেলে। 26অটারা নামে যিরহমেলের আরেকজন স্ত্রী ছিল। তাঁর পুত্রের নাম ওনম।

27যিরহমেলের বড় ছেলে রামের পুত্রদের নাম ছিল: মাষ, যামীন আর একর।

28ওনমের শম্ময় ও যাদা নামে দুই পুত্র ছিল। শম্ময়ের দুই পুত্রের নাম ছিল নাদব ও অবীশূর।

29অবীশূর আর তাঁর স্ত্রী অবীহয়িলের অহবান আর মোলীদ নামে দুই পুত্র ছিল।

30নাদবের পুত্রদের নাম: সেলদ ও অপ্পয়িম। সেলদ অপুত্রক অবস্থায় মারা যান।

31অপ্পয়িমের পুত্রের নাম যিশী। যিশী ছিলেন শেশনের পিতা আর অহলয়ের পিতামহ।

32শম্ময়ের ভাই, যাদার পুত্রদের নাম যেথর ও যোনাথন। যেথর অপুত্রক অবস্থাতেই মারা গিয়েছিলেন।

33যোনাথনের দুই পুত্রের নাম পেলৎ ও সাসা। এই হল যিরহমেলের সন্তান-সন্ততিদের তালিকা।

34শেশনের কোন পুত্র ছিল না। তবে তাঁর এক কন্যা ছিল, যাকে তিনি মিশর থেকে আনা যার্হা নামে 35এক ভৃত্যের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন। এই যার্হা আর তাঁর কন্যার অত্তয় নামে এক পুত্র ছিল।

36অত্তয়ের পুত্রের নাম নাথন, নাথনের পুত্রের নাম সাবদ, 37সাবদ ছিল ইফ্ললের পিতা। ইফ্লল ছিল ওবেদের পিতা। 38ওবেদের পুত্রের নাম যেহূ, যেহূর পুত্রের নাম অসরিয়, 39অসরিয়র পুত্রের নাম হেলস, হেলসের পুত্রের নাম ইলীয়াসা, 40ইলীয়াসার পুত্রের নাম সিস্ময়, সিস্ময়ের পুত্রের নাম শল্লুম, 41শল্লুমের পুত্রের নাম যিকমিয়, আর যিকমিয়র পুত্রের নাম ছিল ইলীশামা।

কালেবের পরিবার

42যিরহমেলের ভাই কালেবের পুত্রদের নাম ছিল মেশা ও মারেশা। মেশার পুত্রের নাম সীফ আর মারেশার পুত্রের নাম হিব্রোণ।

43হিব্রোণের পুত্রদের নাম ছিল: কোরহ, তপূহ, রেকম ও শেমা। 44শেমার পুত্রের নাম রহম। রহমের পুত্রের নাম ছিল যর্কিয়ম। রেকমের পুত্রের নাম ছিল শম্ময়। 45শম্ময়ের পুত্রের নাম মায়োন আর মায়োনের পুত্র ছিল বৈৎ‌-সুর।

46কালেবের দাসী ও উপপত্নী ঐফার পুত্রদের নাম ছিল: হারণ, মোৎসা ও গাসেস। হারণের পুত্রের নামও গাসেস।

47যেহদয়ের পুত্রদের নাম—রেগম, যোথম, গেসন, পেলট, ঐফা ও শাফ।

48কালেবের আরেক দাসী ও উপপত্নী মাখার পুত্রদের নাম ছিল শেবর আর তির্হন: 49এছাড়াও মাখার শাফ ও শিবা নামে দুই পুত্র ছিল। শাফের পুত্রের নাম মদ্মন্না আর শিবার পুত্রদের নাম ছিল মক্বেনার ও গিবিয়া। কালেবের কন্যার নাম ছিল অক্ষা।

50 কালেবের উত্তরপুরুষ নিম্নরূপ: হূর ছিলেন কালেবের বড় ছেলে। তাঁর মা ছিলেন ইফ্রাথা। হূরের পুত্রদের নাম শোবল, শল্মা ও হারেফ। এঁরা তিন জন যথাক্রমে কিরিয়ৎ-যিয়ারীম, বৈৎ‌লেহম আর বৈৎ‌-গাদ শহরের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

52কিরিয়ৎ যিয়ারীমের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শোবল। শোবলের উত্তরপুরুষরা ছিল হারোয়া, মনূহোতের অর্ধেক লোকরা। 53কিরিয়ৎ-যিয়ারীমের পরিবারগোষ্ঠী হল যিত্রীয়, পূথীয়, শূমাথীয় ও মিশ্রায়ীয়রা। আবার সরাথীয় ও ইষ্টায়োলীয়রা মিশ্রায়ীয়দের থেকে উদ্ভূত হয়।

54বৈৎ‌লেহম, নটোফা, অট্রোৎ‌-বেৎ‌-যোয়াব, মনহতের অর্ধেক লোকরা, সরায়ীয়রা 55এবং যাবেশে যে সব লেখকদের পরিবারগুলি বাস করত তারা হল: তিরিয়াথ, শিমিয়থ আর সূখাথ। তারা সকলেই কীনীয় গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এবং বেৎ‌-রেখবের প্রতিষ্ঠাতা হম্মতের বংশধর ছিলেন।

3

দায়ূদের পুত্র

1দায়ূদের কয়েকটি পুত্রের জন্ম হয়েছিল হিব্রোণ শহরে। তাঁর পুত্রদের তালিকা নিম্নরূপ:

দায়ূদের প্রথম পুত্রের নাম অম্নোন। তাঁর মা ছিলেন যিষ্রিয়েলের অহীনোয়ম।

দায়ূদের দ্বিতীয় পুত্র দানিয়েলের মা ছিলেন যিহূদার কর্মিলের অবীগল।

2দায়ূদের তৃতীয় পুত্র অবশালোমের মা গশূররাজ তল্ময়ের কন্যা মাখা।

চতুর্থ পুত্র আদোনিয়র মায়ের নাম ছিল হগীত।

3পঞ্চম পুত্র, শফটিয়র মায়ের নাম ছিল অবীটল।

ষষ্ঠ পুত্র যিত্রিয়মের মায়ের নাম ছিল ইগ্লা, দায়ূদের স্ত্রী।

4হিব্রোনে তাঁর এই ছয় পুত্রের জন্ম হয়।

মহারাজ দায়ূদ হিব্রোণে সাত বছর ছয় মাস রাজত্ব করেছিলেন। আর তিনি জেরুশালেমে মোট 33 বছর রাজত্ব করেন।

5জেরুশালেমে তাঁর যে সমস্ত পুত্র জন্মগ্রহণ করে তারা হল:

অম্মীয়েলের কন্যা বৎসেবার গর্ভে শিমিয়, শোবব, নাথন এবং শলোমন প্রমুখ চার পুত্র। 6 এছাড়া যিভর, ইলীশূয়া, ইলীফেলট, নোগহ, নেফগ, যাফিয়, ইলীশামা, ইলীয়াদা ও ইলীফেলট নামে দায়ূদের আরো নয় পুত্র ছিল।

9উপপত্নীদের সঙ্গে মিলনের ফলেও দায়ূদের বেশ কয়েকটি সন্তান হয়। আর তামর নামে তাঁর একটা কন্যাও ছিল।

দায়ূদের সময়ের পরে যিহূদার রাজা

10শলোমনের পুত্রের নাম রহবিয়াম, রহবিয়ামের পুত্রের নাম অবিয়, অবিয়র পুত্রের নাম আসা, আসার পুত্রের নাম যিহোশাফট, 11যিহোশাফটের পুত্রের নাম ছিল যোরাম, যোরামের পুত্রের নাম অহসিয়, অহসিয়র পুত্রের নাম যোয়াশ, 12যোয়াশের পুত্রের নাম অমৎসিয়, অমৎসিয়র পুত্রের নাম অসরিয়, অসরিয়র পুত্রের নাম যোথম, 13যোথমের পুত্রের নাম আহস, আহসের পুত্রের নাম হিষ্কিয়, হিষ্কিয়র পুত্রের নাম মনঃশি, 14মনঃশির পুত্রের নাম আমোন আর আমোনের পুত্রের নাম যোশিয়।

15যোশিয়র বংশধরদের তালিকা নিম্নরূপ: তাঁর প্রথম পুত্রের নাম যোহানন, দ্বিতীয় পুত্রের নাম যিহোয়াকীম, তৃতীয় পুত্রের নাম সিদিকিয়, চতুর্থ পুত্রের নাম শল্লুম।

16যিহোয়াকীমের পুত্রদের নাম ছিল যিকনিয় আর সিদিকিয়।+ 3:16 যিহোয়াকীমের … সিদিকিয় একে দুভাবে ব্যাখ্যা করা যায়: (1) “এই সিদিকিয় ছিল যিহোয়াকীমের পুত্র এবং যিকনিয়ের ভাই।” (2) “এই সিদিকিয় ছিল যিকনিয়ের পুত্র এবং যিহোয়াকীমের নাতি।”

বাবিলীয় বন্দীত্বের পর দায়ূদের পরিবার

17যিকনিয় বাবিলে বন্দী হবার পর তাঁর পুত্রদের তালিকা নিম্নরূপ: শল্টীয়েল, 18মল্কীরাম, পদায়, শিনত্‌সর, যিকমিয়, হোশামা ও নদবিয়।

19পদায়ের পুত্রদের নাম সরুব্বাবিল আর শিমিয়ি। মশুল্লম আর হনানিয় হল সরুব্বাবিলের দুই পুত্র; তাঁদের শলোমীৎ‌ নামে এক বোনও ছিল। 20হশুবা, ওহেল, বেরিখিয়, হসদিয়, যুশব-হেষদ নামে সরুব্বাবিলের আরো পাঁচজন পুত্র ছিল।

21হনানিয়র পুত্রের নাম পলটিয়। পলটিয়র পুত্রের নাম যিশায়াহ। যিশায়াহর পুত্রের নাম রফায়, রফায়ের পুত্রের নাম অর্ণন, অর্ণনের পুত্রের নাম ওবদিয় আর ওবদিয়র পুত্রের নাম শখনিয়।

22শখনিয়র পুত্র শময়িয়; এবং শময়িয়ের পুত্র হটূশ, যিগাল, বারীহ, নিয়রিয় আর শাফট মোট ছয় জন।

23ইলীযৈনয়, হিষ্কিয় আর অস্রীকাম নামে নিয়রিয়র তিনটি পুত্র ছিল।

24আর ইলীয়ৈনয়ের হোদবিয়, ইলীয়াশীব, পলায়ঃ অক্কুব, যোহানন, দলায় আর অনানি নামে সাত পুত্র ছিল।

4

যিহূদার অন্যান্য পরিবারগুলির পরিচয়

1যিহূদার পাঁচ পুত্রের নাম:

পেরস, হিষ্রোণ, কর্মী, হূর আর শোবল।

2শোবলের পুত্রের নাম রায়া, রায়ার পুত্রের নাম যহত্ আর যহতের দুই পুত্রের নাম ছিল অহূময় ও লহদ। সরাথীয়রা অহূময় ও লহদের উত্তরপুরুষ ছিল।

3ঐটমের পুত্রদের নাম: যিষ্রিয়েল, যিশ্মা ও যিদ্বশ। এদের বোনের নাম ছিল হৎসলিল-পোনী।

4পনূয়েলের পুত্রের নাম ছিল গাদোর। এসর ছিল হূশের পিতা।

এরা ছিল হূরের পুত্র। হূর ছিল ইফ্রাথার প্রথম পুত্র। ইফ্রাথা ছিলেন বৈৎ‌লেহমের প্রতিষ্ঠাতা।

5তকোয়ের পিতা অস্হূরের হিলা ও নারা নামে দুই স্ত্রী ছিল। 6নারা ও অস্হূরের পুত্রদের নাম: অহুষম, হেফর, তৈমিনি ও অহষ্টরি। 7হিলা আর অস্হূরের পুত্রদের নাম: সেরত্‌, যিত্‌সোহর, ইৎ‌নন আর কোস। 8কোসের দুই পুত্রের নাম ছিল আনূব আর সোবেবা। কোস হারুমের পুত্র অহর্হলের পরিবারের পূর্বপুরুষ ছিলেন।

9যাবেশের জন্ম তার অন্যান্য ভাইদের জন্মের থেকে বেশী বেদনাদায়ক ছিল। যাবেশের মা বলেছিলেন, “ও হবার সময় আমায় খুব কষ্ট পেতে হয়েছিল বলে আমি ওর এই নাম রেখেছি!” 10যাবেশ ইস্রায়েলের ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে বলেন, “আমি আপনার প্রকৃত আশীর্বাদ প্রার্থনা করি। আমি চাই আপনি আমাকে আরো জমি-জমা দিন। সব সময় আমার কাছাকাছি থেকে যারা আমাকে আঘাত করতে চায় তাদের থেকে আমায় রক্ষা করুন, তাহলে আর আমায় কোন কষ্ট ভোগ করতে হবে না।” ঈশ্বর তাঁর এসমস্ত মনোবাসনা পূর্ণ করেছিলেন।

11শূহের ভাই কলূবের পুত্রের নাম ছিল মহীর। মহীরের পুত্রের নাম ইষ্টোন, 12ইষ্টোনের পুত্রদের নাম বৈৎ‌রাফা, পাসেহ ও তহিন্ন। তহিন্নর পুত্রের নাম ঈরনাহস। এঁরা সকলেই রেকার বাসিন্দা ছিলেন।

13কনসের দুই পুত্রের নাম: অৎনীয়েল আর সরায়। অৎনীয়েলের দুই পুত্রের নাম: হথত্‌ আর মিয়োনোথয়। 14মিয়োনোথয়ের পুত্রের নাম ছিল অফ্রা।

সরায়ের পুত্রের নাম ছিল যোয়াব। এই যোয়াব ছিলেন কুশলী শিল্পী গে হারাসিমদের পূর্বপুরুষ।

15যিফুন্নির পুত্র ছিল কালেব। কালেবের পুত্রদের নাম: ঈরূ, এলা ও নয়ম। এলার পুত্রের নাম ছিল কনস।

16যিহলিলেলের পুত্রদের নাম: সীফ, সীফা, তীরিয় আর অসারেল।

17 ইষ্রার পুত্রদের নাম: যেথর, মেরদ, এফর আর যালোন। মেরদের এক পক্ষের স্ত্রীর গর্ভে জন্মায় মরিয়ম, শম্ময় ও যিশ্বহ। যিশ্বহ ছিল ইষ্টিমোয়র পিতা। মেরদের মিশরীয় স্ত্রী ফরৌণের কন্যা বিথিয়ার গর্ভে যেরদ গদোরের পিতা, হেবর সোখোর পিতা, আর যিকুথীয়েল সানোহর পিতা জন্মগ্রহণ করেন। এই তিন জনের পুত্রদের নাম ছিল যথাক্রমে গদোর, সোখোর ও সানোহ।

19মেরদের স্ত্রী ছিলেন যিহূদার বাসিন্দা এবং নহমের বোন। তাঁর পৌত্রদের নাম কিয়ীলা আর ইষ্টিমোয়। কিয়ীলা আর ইষ্টিমোয় যথাক্রমে গর্ম্মীয় ও মাখাথীয়দের পূর্বপুরুষ। 20শীমোনের পুত্রদের নাম ছিল অম্নোন, রিণ্ন, বিন্-হানন আর তীলোন।

যিশীর দুই পুত্রের নাম সোহেত্‌ আর বিন্-সোহেৎ‌।

21 শেলা ছিলেন যিহূদার সন্তান। তাঁর পুত্রদের নাম এর, লাদা আর যোকীম। কোষেবার লোকরাও তাঁরই বংশধর। এছাড়াও যোয়াশ আর সারফ নামে তাঁর দুই পুত্র মোয়াবীয় মেয়েদের বিয়ে করে বৈৎ‌লেহমে চলে গিয়েছিলেন। এরের পুত্রের নাম ছিল লেকার। লাদা ছিলেন মারেশার পিতা এবং বৈৎ‌ অসবেয়ের তাঁতিদের পরিবারগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা। এই পরিবার সম্পর্কে যা কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছে তা খুবই প্রাচীন। 23শেলার বংশধররা মাটির জিনিষপত্র বানাতেন। এঁরা নতায়ীম ও গদেরায় বাস করতেন ও সেখানকার রাজাদের জন্য কাজ করতেন।

শিমিয়োনের সন্তান-সন্ততি

24শিমিয়োনের পুত্রদের নাম নমূয়েল, যামীন, যারীব, সেরহ আর শৌল। 25শৌলের পুত্রের নাম শল্লুম, শল্লুমের পুত্রের নাম মিব্‌সম আর মিব্‌সমের পুত্রের নাম ছিল মিশ্‌ম।

26মিশ্‌মের পুত্রের নাম হম্মুয়েল, হম্মুয়েলের পুত্রের নাম শক্কূর আর শক্কূরের পুত্রের নাম ছিল শিময়ি। 27শিময়ির ষোল জন পুত্র আর ছয় কন্যা ছিল। কিন্তু শিময়ির ভাইদের খুব বেশি পুত্রকন্যা ছিল না। যিহূদার অন্যদের তুলনায় তাদের পরিবারগোষ্ঠী যথেষ্ট ছোট ছিল।

28শিময়ির উত্তরপুরুষরা বের্-শেবা, হৎসর-শূয়াল, মোলাদা শহরতলীসমূহে বাস করত। 29বিল্হা, এৎ‌সম, তোলদ, 30বথূয়েল, হর্ম্মা, সিক্লগ, 31বৈৎ‌-মর্কাবোত্‌, হৎসর-সূষীম, বৈৎ‌-বিরী, শারযিম প্রমুখ শহরগুলোয় দায়ূদের রাজত্ব কালের আগে পর্যন্ত বাস করতেন। 32এইসব শহরগুলোর কাছে যে পাঁচটি গ্রাম ছিল, সেগুলি হল: ঐটম, ঐন, রিম্মোণ, তোখেন ও আশন। 33বালত্‌ পর্যন্ত আরো অনেক গ্রাম ছিল যেখানে শিময়ির বংশধররা থাকতেন। তাঁরা তাঁদের পারিবারিক ইতিহাসও লিখে গিয়েছেন।

34 মশোবব, যম্লেক, অমৎসিয়ের পুত্র যোশঃ, যোয়েল, যোশিবিয়র পুত্র যেহূ, সরায়ের পুত্র যোশিবিয়, অসীয়েলের পুত্র সরায়, ইলিয়ৈনয়, যাকোবা, যিশোহায়, অসায়, অদীয়েল, যিশীমীয়েল, বনায়, অলোনের পৌত্র ও শিফির পুত্র সীষঃ প্রমুখ ছিলেন এইসব পরিবারগোষ্ঠীর প্রধান ও নেতা। আলোন ছিলেন যিদয়িয়র পুত্র এবং শিম্রির নাতি। আবার শিম্রি ছিলেন শময়িয়ের পুত্র।

এই লোকদের পরিবার অতিশয় বৃদ্ধি পেল। 39তারা তাদের মেষ ও গবাদি পশুর জন্য চারণভূমির খোঁজে উপত্যকার পূর্বদিকে গদোরের বহিরাঞ্চলে চলে গেল। 40এভাবে খুঁজতে খুঁজতে তারা উর্বর সবুজ ও শান্তিপূর্ণ জমি খুঁজে পেলো। হামের উত্তরপুরুষরা অতীতে সেখানে বসবাস করতেন। 41রাজা হিষ্কিয়র যিহূদায় রাজত্ব কালে এই ঘটনা ঘটেছিল। এই সমস্ত লোক গদোরে এসেছিল, হামীয়দের তাঁবুগুলি ধ্বংস করেছিল, তারা মিয়ূনীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের ধ্বংস করেছিল। আজ অবধি তাদের একজনও বেঁচে নেই। অতঃপর তারা সেখানে থাকতে শুরু করল কারণ ওখানকার জমিতে তাদের মেষের খাবার মত প্রচুর পরিমাণে ঘাস ছিল।

42শিমিয়োনের পরিবারগোষ্ঠীর পাঁচশো লোক সেয়ীর পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করতে গিয়েছিলেন। পলটিয়, নিয়রিয়, রফায়িয় ও উষীয়েল প্রমুখ যিশীর পুত্ররা এই দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। শিমিয়োনের বংশধররাও এখানকার বাসিন্দা অমালেকীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল এবং 43যারা বেঁচেছিল সেই সমস্ত অমালেকীয়দের তারা মেরে ফেলেছিল। তারপর থেকে আজ অবধি সেই শিমিয়োনীয়রা সেয়ীরেই বাস করছেন।

5

রূবেণের উত্তরপুরুষ

1 রূবেণ ছিলেন ইস্রায়েলের প্রথম সন্তান। তাই, প্রথামত তাঁরই বড় ছেলের বিশেষ সম্মান ও সুবিধে পাবার কথা। কিন্তু যেহেতু রূবেণ তাঁর পিতার স্ত্রীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন সেই কারণে বড় ছেলের অধিকার যোষেফের পুত্ররা পেয়েছিলেন। পারিবারিক ইতিহাসেও, রূবেণের নাম বড় ছেলে হিসেবে নথিভুক্ত করা নেই। যিহূদা যেহেতু তাঁর ভাইদের থেকে বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলেন, সেহেতু তাঁর পরিবার থেকেই নেতা স্থির করা হত। তা সত্ত্বেও, বড় ছেলের বিশেষ অধিকার ও অন্যান্য ক্ষমতা যোষেফের বংশের লোকরাই ভোগ করতেন।

রূবেণের পুত্ররা ছিল হনোক, পল্লু, হিষ্রোণ ও কর্মী।

4যোয়েলের উত্তরপুরুষদের তালিকা নিম্নরূপ: যোয়েলের পুত্রের নাম শিময়িয়, শিময়িয়র পুত্রের নাম গোগ, গোগের পুত্রের নাম শিমিয়ি, 5শিমিয়ির পুত্রের নাম মীখা, মীখার পুত্রের নাম রায়া, রায়ার পুত্রের নাম বাল, 6বালের পুত্রের নাম ছিল বেরা। অশূররাজ তিগ্লৎ‌-পিলেষর রূবেণ পরিবারগোষ্ঠীর এই নেতাকে তার জায়গা ছাড়তে বাধ্য করেন এবং তাঁকে নির্বাসন দেন।

7যোয়েলের ভাইদের ও তাঁর পরিবারের পরিচয় তাঁর পরিবারগোষ্ঠীর ইতিহাস অনুযায়ী ছিল নিম্নরূপ: এই বংশের বড় ছেলে ছিলেন যিয়ীয়েল, তারপর সখরিয় আর 8আসসের পুত্র বেলা। আসস ছিলেন শেমার পুত্র। শেমা ছিলেন যোয়েলের পুত্র। এঁরা অরোয়ের থেকে নবো এবং বাল্-মিয়োন পর্যন্ত অঞ্চলে বাস করতেন। 9পূর্বদিকে ফরাৎ নদীর কাছে মরুভূমি পর্যন্ত অঞ্চলে এঁদের বসবাস ছিল। বসবাসের জন্য তাঁরা এই অঞ্চল বেছে নিয়েছিলেন কারণ তাঁদের গিলিয়দে অনেক গবাদি পশু ছিল। 10শৌলের রাজত্ব কালে, বেলার লোকরা হাগরীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করে, তাঁদের হারিয়ে তাঁদের তাঁবুতে বসবাস করতে শুরু করেন এবং গিলিয়দের পূর্বপ্রান্ত পর্যন্ত অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেন।

গাদের উত্তরপুরুষ

11গাদের পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা রূবেণ পরিবারগোষ্ঠীর লোকদের কাছেই বাশন অঞ্চলের শহর সলখা পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে বাস করতেন। 12বাশনের প্রথম নেতা ছিলেন যোয়েল। তারপরে যথাক্রমে শাফম ও যানয় নেতা হন। 13মীখায়েল, মশুল্লম, শেবা, যোরায়, যাকন, সীয় আর এবর হলেন এই পরিবারের সাত ভাই। 14এঁরা সকলেই হূরির পুত্র অবীহয়িলের উত্তরপুরুষ। আবার হূরি ছিলেন যারোহর পুত্র, যারোহ গিলিয়দের পুত্র, গিলিয়দ মীখায়েলের পুত্র, মীখায়েল যিশীশয়ের পুত্র, যিশীশয় যহদোর পুত্র আর যহদো ছিলেন বূষের পুত্র। 15অন্য এক পরিবারের নেতা অহির পিতার নাম অব্দিয়েল। তিনি ছিলেন গূনির পুত্র।

16গাদ পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা গিলিয়দ অঞ্চলে বসবাস করত। এঁরা বাশন ও বাশনের পার্শ্ববর্তী ছোট খাটো শহর থেকে সীমান্তে শারোণ পর্যন্ত সমস্ত সমভূমিতে বসতি স্থাপন করেছিলেন।

17এই সমস্ত নামগুলি গাদের পারিবারিক ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করা হয় এবং এগুলি যিহূদার রাজা যোথম ও ইস্রায়েলের রাজা যারবিয়ামের সময়ে নথিভুক্ত করা হয়।

যুদ্ধে কিছু রন-কুশলী সৈনিক

18রূবেণ, গাদ ও অর্ধেক মনঃশি পরিবারগোষ্ঠী থেকে 44,760 জন সাহসী লোক ছিল। ঢাল-তরোয়াল ছাড়াও তীর-ধনুক নিয়ে যুদ্ধ করাতেও তারা ছিল পারদর্শী। 19এরা হাগরীয়, যিটূর, নাফীশ ও নোদবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। 20মনঃশি, রূবেণ ও গাদ পরিবারগোষ্ঠীর লোকরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে যুদ্ধে তাদের সাহায্য করার জন্য প্রার্থনা করেন। ঈশ্বর তাদের সাহায্য করেন কারণ তারা তাঁকে বিশ্বাস করেছিল এবং তারা হাগরীয়দের ও অন্যান্য সকলকে যুদ্ধে পরাস্ত করে। 21তাদের 50,000 উট, 250,000 মেষ এবং 2000 গাধা নিয়ে নেওয়া ছাড়াও তারা 100,000 ব্যক্তিকে বন্দী করেছিলেন। 22ঈশ্বর স্বয়ং রূবেণের বংশের লোকদের সহায় হওয়ায় বহু হাগরীয় যুদ্ধে নিহত হন এবং অতঃপর মনঃশি, রূবেণ ও গাদ পরিবারের লোকেরা হাগরীয়দের বাসভূমিতে থাকতে শুরু করেন। ইস্রায়েলের লোকরা বন্দী হওয়ার আগে পর্যন্ত তাঁরা ওখানেই বাস করেছেন।

23মনঃশির পরিবারগোষ্ঠীর অর্ধেক লোক বাল্-হর্ম্মোণ, সনীর ও হর্ম্মোণ পর্বত পর্যন্ত বাশন অঞ্চলে বসবাস করতেন। এমশঃ তাঁরা একটি বড় গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছিলেন।

24এফর, যিশী, ইলীয়েল, অস্রীয়েল, যিরমিয়, হোদবিয়, যহদীয়েল প্রমুখ বিখ্যাত সাহসী বীররা ছিলেন এঁদের নেতা। 25কিন্তু এঁরা তাঁদের পূর্বপুরুষের আরাধ্য ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ আচরণ করে এই অঞ্চলের প্রাক-বাসিন্দাদের ভ্রান্ত দেবদেবীর আরাধনা শুরু করলেন। এ কারণেই ঈশ্বর কিন্তু প্রাক-বাসিন্দাদের ধ্বংস করেছিলেন।

26ফলতঃ, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, অশূররাজ পূল যিনি তিগ্লৎ-পিলেষর নামেও পরিচিত ছিলেন, যুদ্ধ করবার উস্কানি দিলেন এবং তিনি রূবেণ, গাদ ও অর্ধেক মনঃশির পরিবারগোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধ করে তাদের বন্দী করে নির্বাসনে নিয়ে গেলেন। এই সমস্ত বন্দীদের পূল হেলহ, হাবোর ও হারা এবং গোষণ নদীর কাছে নিয়ে এলেন। সে দিন থেকে আজ পর্যন্ত তারা সেখানেই বসবাস করে আসছেন।

6

লেবির উত্তরপুরুষ

1লেবির পুত্রদের নাম ছিল: গের্শোন, কহাৎ‌ আর মরারি।

2কহাতের পুত্রদের নাম ছিল: অম্রাম, যিষ্‌হর, হিব্রোণ আর উষীয়েল।

3অম্রামের সন্তানদের নাম ছিল: হারোণ, মোশি আর মরিয়ম।

হারোণের পুত্ররা ছিল নাদব, অবীহূ, ইলিয়াসর এবং ঈথামর। 4ইলিয়াসরের পুত্রের নাম পীনহস, পীনহসের পুত্রের নাম অবিশূয়, 5অবিশূয়র পুত্রের নাম বুক্কি, বুক্কির পুত্রের নাম উষি, 6উষির পুত্রের নাম সরহিয়, সরহিয়র পুত্রের নাম মরায়োৎ‌, 7মরায়োতের পুত্র অমরিয়, অমরিয়র পুত্রের নাম অহীটূব, 8অহীটূবের পুত্রের নাম সাদোক, সাদোকের পুত্রের নাম অহীমাস, 9অহীমাসের পুত্রের নাম অসরিয়, অসরিয়র পুত্রের নাম যোহানন, 10যোহাননের পুত্রের নাম অসরিয়। এই অসরিয় শলোমনের জেরুশালেমে বানানো মন্দিরের যাজক ছিলেন। 11অসরিয়র পুত্রের নাম অমরিয়, অমরিয়র পুত্রের নাম অহীটূব, 12অহীটূবের পুত্রের নাম সাদোক, সাদোকের পুত্রের নাম শল্লুম, 13শল্লুমের পুত্রের নাম হিল্কিয়, হিল্কিয়র পুত্রের নাম অসরিয়, 14অসরিয়র পুত্রের নাম সরায় আর সরায়ের পুত্রের নাম ছিল যিহোষাদক।

15প্রভু যখন যিহূদা আর জেরুশালেমের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন, যিহোষাদকও তখন বাসভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। প্রভু নবূখদ্‌নিৎ‌সরকে দিয়ে এই সময় যিহূদা আর জেরুশালেমের সমস্ত লোকদের বন্দী করিয়ে ভিন দেশে পাঠিয়ে ছিলেন।

লেবির অন্যান্য উত্তরপুরুষ

16লেবির পুত্ররা ছিল: গের্শোন, কহাৎ‌ আর মরারি।

17গের্শোনের পুত্রদের নাম ছিল লিব্‌নি আর শিমিয়ি।

18কহাতের পুত্রদের নাম ছিল অম্রাম, যিষ্‌হর, হিব্রোণ আর উষীয়েল।

19মরারির দুই পুত্রের নাম মহলি আর মূশি।

পিতৃপুরুষদের নামানুসারে লেবীয় পরিবারের তালিকা নিম্নরূপ:

20গের্শোনের উত্তরপুরুষ: গের্শোমের পুত্র ছিল লিব্‌নি, লিব্‌নির পুত্র যহত্, যহতের পুত্র সিম্ম, 21সিম্মর পুত্র যোয়াহ, যোয়াহের পুত্র ইদ্দো, ইদ্দোর পুত্র সেরহ আর সেরহর পুত্র ছিল যিয়ত্রয়।

22কহাতের উত্তরপুরুষ: কহাতের পুত্র ছিল অম্মীনাদব, অম্মীনাদবের পুত্র কোরহ, কোরহের পুত্র অসীর, 23অসীরের পুত্র ইল‌্কানা, ইল‌্কানার পুত্র ইবীয়াসফ, ইবীয়াসফের পুত্র অসীর, 24অসীরের পুত্র তহৎ, তহতের পুত্র ঊরীয়েল, ঊরীয়েলের পুত্র ঊষিয় আর ঊষিয়র পুত্র শৌল।

25ইল‌্কানার পুত্রের নাম ছিল অমাসয় আর অহীমোৎ। 26ইল‌্কানার আরেক পুত্রের নাম ছিল সোফী, তার পুত্রের নাম নহৎ, 27নহতের পুত্রের নাম ইলীয়াব, ইলীয়াবের পুত্রের নাম যিরোহম, যিরোহমের পুত্রের নাম ইল‌্কানা আর ইল‌্কানার পুত্রের নাম ছিল শমূয়েল। 28শমূয়েলের দুই পুত্রের নাম যোয়েল আর অবিয়। যোয়েল ছিল শমূয়েলের বড় ছেলে।

29মরারির বংশধর: মরারির পুত্রের নাম মহলি, মহলির পুত্রের নাম লিব্‌নি, লিব্‌নির পুত্রের নাম শিমিয়ি, শিমিয়ির পুত্রের নাম উষঃ, 30উষঃর পুত্রের নাম শিমিয়, শিমিয়র পুত্রের নাম হগিয় আর হগিয়র পুত্রের নাম ছিল অসায়।

মন্দিরের গায়করা

31সাক্ষ্যসিন্দুক রাখার সিন্দুকটি প্রভুর গৃহতে রাখার পর মহারাজ দায়ূদ নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের সেখানকার ভজন ও কীর্তনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। 32শলোমন প্রভুর জন্য জেরুশালেমে মন্দির বানানোর আগে পর্যন্ত এই সমস্ত গায়করা এই পবিত্র তাঁবু বা সমাগম তাঁবুতে তাঁদের কর্মসূচী অনুযায়ী গান-বাজনা আরাধনা করতেন।

33এঁরা হলেন কহাতের পরিবারের:

যোয়েলের পুত্র গায়ক হেমন, যোয়েলের পিতা শমূয়েল, 34শমূয়েলের পিতা ইল‌্কানা, ইল‌্কানার পিতা যিরোহম, যিরোহমের পিতা ইলীয়েল, ইলীয়েলের পিতা তোহ, 35তোহর পিতা সূফ, সূফের পিতা ইল‌্কানা, ইল‌্কানার পিতা মাহত, মাহতের পিতা অমাসয়, 36অমাসয়ের পিতা ইল‌্কানা, ইল‌্কানার পিতা যোয়েল, যোয়েলের পিতা অসরিয়, অসরিয়র পিতা সফনিয়, 37সফনিয়র পিতা তহত, তহতের পিতা অসীর, অসীরের পিতা ইবীয়াসফ, ইবীয়াসফের পিতা কোরহ, 38কোরহর পিতা যিষ্‌হর, যিষ্‌হরের পিতা কহাৎ‌, কহাতের পিতা লেবি আর লেবির পিতা ছিলেন ইস্রায়েল।

39আসফ ছিলেন হেমনের আত্মীয় এবং তিনি হেমনের ডানদিকে দাঁড়িয়ে কাজ করতেন। আসফের পিতা ছিলেন বেরিখিয়, বেরিখিয়র পিতা শিমিয়, 40শিমিয়র পিতা মীখায়েল, মীখায়েলের পিতা বাসেয়, বাসেয়র পিতা মল্কিয়, 41মল্কিয়়র পিতা ইৎ‌নির, ইৎ‌নিরের পিতা সেরহ, সেরহের পিতা অদায়া, 42অদায়ার পিতা এথন, এথনের পিতা সিম্ম, সিম্মর পিতা শিমিয়ি, 43শিমিয়ির পিতা যহত, যহতের পিতা গের্শোন আর গের্শোন ছিলেন লেবির পুত্র।

44মরারির উত্তরপুরুষরা হেমন আর আসফের আত্মীয় ছিলেন এবং তাঁরা হেমনের বাঁদিকে দাঁড়িয়ে গান করতেন। এথন ছিলেন কীশির পুত্র, কীশি অব্দির পুত্র, অব্দি মল্লূকের পুত্র, 45মল্লূক হশবিয়র পুত্র, হশবিয় অমৎসিয়ের পুত্র, অমৎসিয় হিল্কিয়র পুত্র, 46হিল্কিয় অম্সির পুত্র, অম্সি বানির পুত্র, বানি শেমরের পুত্র, 47শেমর মহলির পুত্র, মহলি মূশির পুত্র, মূশি মরারির পুত্র আর মরারি লেবির পুত্র।

48হেমন আর আসফের ভাইরাও লেবীয় পরিবারগোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন। লেবির পরিবারগোষ্ঠীকে লেবীয়ও বলা হত। ঈশ্বরের গৃহ, পবিত্র তাঁবুতে কাজ করার জন্যই লেবীয়দের বেছে নেওয়া হয়েছিল। 49তবে বেদীতে ধুপধূনো দেবার এবং হোমবলি ও বলিদানের অধিকার ছিল শুধুমাত্র হারোণের উত্তরপুরুষদের। প্রভুর গৃহের পবিত্রতম স্থানের সমস্ত কাজ করতেন হারোণের পরিবারের সদস্যরা। ইস্রায়েলের লোকদের প্রায়শ্চিত্ত করাবার জন্য যে সমস্ত আচার অনুষ্ঠান করা হত সেটিও তাঁরাই করতেন। তাঁরা প্রভুর দাস মোশি প্রদত্ত সমস্ত বিধি ও আইনগুলি মেনে চলতেন।

হারোণের উত্তরপুরুষ

50হারোণের পুত্রের নাম ছিল ইলিয়াসর, ইলিয়াসরের পুত্রের নাম ছিল পীনহস, পীনহসের পুত্রের নাম অবীশূয়, 51অবীশূয়র পুত্রের নাম বুক্কি, বুক্কির পুত্রের নাম উষি, উষির পুত্রের নাম সরাহিয়, 52সরাহিয়র পুত্রের নাম মরায়োৎ, মরায়োতের পুত্রের নাম অমরিয়, অমরিয়র পুত্রের নাম অহীটূব, 53অহীটূবের পুত্রের নাম সাদোক আর সাদোকের পুত্রের নাম ছিল অহীমাস।

লেবীয় পরিবারের বাসস্থান

54হারোণের উত্তরপুরুষরা তাদের যে জমি দেওয়া হয়েছিল সেখানে তাঁবু খাটিয়ে বসবাস করত। লেবীয়দের যে জমি দেওয়া হয়েছিল তার প্রথম অংশটি পেয়েছিল কহাৎ‌ পরিবারগুলি। 55তাঁদের যিহূদার হিব্রোণ ও তার আশেপাশের জমিতে বাস করতে দেওয়া হয়েছিল। 56হিব্রোণের দূরবর্তী মাঠ-ঘাট ও গ্রামাঞ্চলগুলি যিফুন্নির পুত্র কালেবকে দেওয়া হয়। 57হারোণের উত্তরপুরুষদের হিব্রোণ, নিরাপত্তার শহর+ 6:57 নিরাপত্তার শহর একটি বিশেষ শহর যেখানে একজন ইস্রায়েলীয় কাউকে দুর্ঘটনাবশতঃ হত্যা করলে তার আত্মীয়দের ক্রোধ থেকে রক্ষা পাবার জন্য এই শহরে পালিয়ে গিয়ে নিজেকে বাঁচাতে পারত। দেওয়া হয়। লিব‌্না, যত্তীর, ইষ্টিমোয়, 58হিলেন, দবীর, 59আশন, বৈৎ‌শেমশ প্রমুখ শহর ও তার পার্শ্ববর্তী মাঠগুলি তাঁদের দেওয়া হয়েছিল। 60বিন্যামীনের পরিবারগোষ্ঠীর সদস্যরা গিবিয়োন, গেবা, অনাথোৎ, আলেমৎ‌ প্রমুখ শহর ও তার আশেপাশের মাঠগুলি পেয়েছিলেন।

কহাতের পরিবারদের তেরোটি শহর দেওয়া হয়।

61কহাতের উত্তরপুরুষের বাদবাকি সদস্যরা মনঃশি পরিবারগোষ্ঠীর অর্ধেকের মধ্যে থেকে দশটি শহর পেয়েছিলেন।

62গের্শোমের উত্তরপুরুষরা 13টি শহর পেয়েছিল। তারা শহরগুলি ইষাখর পরিবার, আশের পরিবার, নপ্তালি পরিবার, বাশনে বসবাসকারী মনঃশি পরিবারগোষ্ঠীর একাংশের কাছ থেকে পেয়েছিল।

63মরারির উত্তরপুরুষরা, রূবেণ, গাদ আর সবূলূন পরিবারগোষ্ঠীর কাছ থেকে অক্ষ নিক্ষেপ করে 12 টি শহর পেয়েছিলেন।

64এইভাবে ইস্রায়েলীয়রা লেবীয়দের শহর ও জমিজমা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে দিলেন। 65এই সমস্ত শহরই যিহূদা, শিমিয়োন ও বিন্যামীনের পরিবারগোষ্ঠীর ছিল। তাঁরাই অক্ষ নিক্ষেপ করে কোন্ লেবীয় পরিবার কোন্ শহর পাবেন তা ঠিক করেছিলেন।

66ইফ্রয়িমের পরিবারগোষ্ঠী কহাৎ‌ পরিবারের কিছু লোককে কয়েকটি শহরতলী দিলেন। ঘুঁটি চেলে এই শহরতলীসমূহ নির্বাচিত হয়েছিল। 67নিরাপত্তার শহর শিখিম তাদের দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও তাদের দেওয়া হয়েছিল গেষর নগর। 68যক্মিয়াম, বৈৎ‌-হোরণ, 69আইজালন এবং গাৎ‌-রিম্মোণ শহরগুলি। এই শহরগুলির সঙ্গে তারা ইফ্রয়িমের পার্বত্য অঞ্চলের মাঠগুলিও পেয়েছিল। 70এবং কহাতের বাকি পরিবারগুলিকে ইস্রায়েলীয়রা মনঃশি পরিবারের অর্ধেকের কাছ থেকে দিল আনের, বিল্যম এবং তাদের মাঠগুলি।

অন্যান্য লেবীয়রাও বাসস্থান পেলেন

71মনঃশি পরিবারগোষ্ঠীর অর্ধেকের কাছ থেকে গের্শোন পরিবারের সদস্যরা বাশনের গোলন শহর ও অষ্টারোৎ এবং তার আশেপাশের মাঠগুলো বসবাসের জন্য পেলেন।

72 এছাড়াও তাঁরা ইষাখর পরিবারগোষ্ঠীর কাছ থেকে কেদশ, দাবরত্‌, রামোৎ ও গন্নিম প্রমুখ শহর ও তার সংলগ্ন মাঠগুলো পেলেন।

74 আশের পরিবারগোষ্ঠীর কাছ থেকে তাঁরা পেলেন মশাল, আব্দোন, হূকোক, রহোব প্রমুখ শহর ও তার সংলগ্ন মাঠগুলো।

76নপ্তালি পরিবারগোষ্ঠীর কাছ থেকে তাঁরা পেলেন গালীলের কেদশ, হম্মোন, কিরিয়াথয়িম প্রমুখ শহর ও তার সংলগ্ন মাঠগুলো। 77লেবীয়দের বাদবাকিরা ছিলেন মরারি পরিবারের সদস্য। তারা সবূলূন পরিবারগোষ্ঠীর কাছ থেকে যখনিয়ম, করতহ, রিম্মোণো এবং তাবোর প্রমুখ শহর ও তার নিকটবর্তী মাঠগুলো পেলেন।

78 মরারি পরিবারের সদস্যরা এছাড়াও মরু অঞ্চলের বেৎ‌সর নগর, যাহসা, কদমোৎ, মেফাত্‌ প্রমুখ শহর ও তার আশেপাশের মাঠগুলো রূবেণ পরিবারগোষ্ঠীর কাছ থেকে পেলেন। রূবেণের উত্তরপুরুষরা যর্দন নদী ও যিরিহো শহরের পূর্বপ্রান্তে বসবাস করতেন।

80 মরারি পরিবারের সদস্যরা গাদ পরিবারগোষ্ঠীর কাছ থেকে পেয়েছিলেন গিলিয়দের রামোৎ, মহনয়িম, হিষ্বোণ, যাসের প্রমুখ শহরের নিকটবর্তী মাঠগুলো।

7

ইষাখরের উত্তরপুরুষ

1ইষাখরের চার পুত্রের নাম ছিল তোলয়, পূয়, যাশূব আর শিম্রোণ।

2তোলয়়ের পুত্ররা সকলেই তাদের পরিবারের নেতা ছিলেন। এদের নাম: উষি, রফায়, যিরীয়েল, যহময়, যিব্সম আর শমূয়েল। এঁরা এবং এঁদের উত্তরপুরুষদের সকলেই ছিলেন বীর সৈনিক। দায়ূদের রাজত্বের সময় এদের পরিবারে 22,600 সৈনিক ছিল।

3উষির পুত্রের নাম ছিল যিষ্রাহিয়। যিষ্রাহিয়ের পুত্ররা ছিল: মীখায়েল, ওবদিয়, যোয়েল ও যিশিয়। এঁরা পাঁচজনই ছিলেন তাঁদের পরিবারের নেতা। 4তাঁদের বংশতালিকা থেকে জানতে পারা যায়, এই পরিবারে 36,000 সৈনিক ছিলেন। বহু বিবাহের কারণে এদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা যথেষ্ট বেশি ছিল।

5পারিবারিক ইতিহাস অনুযায়ী ইষাখরের পরিবারগোষ্ঠীতে সব মিলিয়ে 87,000 বীর সৈনিক জন্মেছিলেন।

বিন্যামীনের উত্তরপুরুষ

6বেলা, বেখর ও যিদীয়েল নামে বিন্যামীনের তিন পুত্র ছিল।

7ইষ্বোণ, উষি, উষীয়েল, যিরেমোৎ আর ঈরী নামে বেলার পাঁচ পুত্র ছিল। এদের পারিবারিক ইতিহাস অনুযায়ী এই পরিবারের মোট 22,034 জন সৈনিক ছিলেন।

8বেখরের পুত্রেরা ছিল সমীরাঃ যোয়াশ, ইলীয়েষর, ইলিয়ো-ঐনয়, অম্রি, যিরেমোৎ, অবিয়, অনাথোৎ‌ আর আলেমৎ‌। তারা সকলেই বেখরের সন্তান। 920,200 জন বীর সৈনিক যাঁরা তাঁদের পরিবারের নেতা ছিলেন, তাঁদের নাম পারিবারিক ইতিহাসে তাঁদের পরিবারগোষ্ঠী অনুসারে নথিবদ্ধ আছে।

10যিদীয়েলের পুত্রের নাম বিল্হন। বিল্হনের পুত্রদের নাম ছিল: যিয়ূশ, বিন্যামীন, এহূদ, কনানা, সেথন, তর্শীশ আর অহীশহর। 11যিদীয়েলের পুত্ররা সকলেই তাদের পরিবারের নেতা ছিলেন এবং এই বংশে মোট সৈনিকের সংখ্যা ছিল 17,200 জন।

12শুপপীম আর হুপপীম দুজনেই ছিলেন ঈরের উত্তরপুরুষ। অহেরের পুত্রের নাম ছিল হূশীম।

নপ্তালির উত্তরপুরুষ

13নপ্তালির পুত্রদের নাম ছিল যহসিয়েল, গূনি, যেৎ‌সর আর শল্লূম।

আর এরা সকলেই বিল্হারের উত্তরপুরুষ ছিলেন।

মনঃশির উত্তরপুরুষ

14মনঃশির পরিবারের বিবরণ নিম্নরূপ:

মনঃশির অরামীয়া উপপত্নীর অস্রীয়েল নামে এক পুত্র ছিল। তাঁর গর্ভে গিলিয়দের পিতা মাখীরেরও জন্ম হয়। 15মাখীর হুপ্পীম আর শুপ্পীমের পরিবারের একজনকে বিয়ে করেছিলেন। মাখীরের বোনের নাম দেওয়া হয়েছিল মাখা। দ্বিতীয় পুত্রের নাম সলফাদ। তার শুধু কয়েকটি কন্যা সন্তান ছিল। 16মাখীরের স্ত্রী মাখা একটি পুত্রের জন্ম দিয়েছিলেন এবং তার নাম রেখেছিলেন পেরশ। পেরশের ভাইয়ের নাম ছিল শেরশ। শেরশের পুত্রদের নাম ছিল ঊলম ও রেকম।

17ঊলমের পুত্রের নাম বদান।

গিলিয়দের উত্তরপুরুষ নিম্নরূপ: গিলিয়দ ছিলেন মাখীরের পুত্র, মাখীর মনঃশির পুত্র। 18মাখীরের বোন হম্মোলেকতের পুত্র ছিল ঈশ্হোদ, অবীয়েষর আর মহলা।

19শমীদার পুত্রদের নাম ছিল অহিয়ন, শেখম, লিক্হি ও অনীয়াম।

ইফ্রয়িমের উত্তরপুরুষ

20ইফ্রয়িমের উত্তরপুরুষ নিম্নরূপ: ইফ্রয়িমের পুত্রের নাম ছিল শূথেলহ, শূথেলহের পুত্র বেরদ, বেরদের পুত্র তহৎ, 21তহতের পুত্র ইলিয়াদা, ইলিয়াদার পুত্র তহৎ, তহতের পুত্র সাবদ আর সাবদের পুত্রের নাম ছিল শূথেলহ।

গাত শহরের কিছু বাসিন্দা এৎ‌সর ও ইলিযদকে হত্যা করে কারণ তাঁরা দুজন এই শহর থেকে গবাদি পশু আর মেষ চুরি করার চেষ্টা করেছিলেন। 22এদের দুজনের পিতা ইফ্রয়িম পুত্রদের মৃত্যুশোকে অনেকদিন কান্নাকাটি করেছিলেন। তারপর তাঁর পরিবারের লোকরা এসে তাঁকে সান্ত্বনা দিলে 23তিনি তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে আবার মিলিত হলেন এবং তাঁর স্ত্রীর গর্ভে একটি পুত্র জন্মালে ইফ্রয়িম সেই পুত্রের নাম দিলেন বরীয়, কারণ এই পরিবারে একটি দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। 24ইফ্রয়িমের কন্যার নাম ছিল শীরা। তিনি উর্দ্ধ ও নিম্ন বৈৎ‌-হোরোণ এবং উষেণ শীরা পত্তন করেছিলেন।

25ইফ্রয়িমের আর এক পুত্রের নাম ছিল রেফহ। রেফহের পুত্রের নাম রেশফ, রেশফের পুত্রের নাম তেলহ, তেলহের পুত্রের নাম তহন, 26তহনের পুত্রের নাম লাদন, লাদনের পুত্রের নাম অম্মীহূদ, অম্মীহূদের পুত্রের নাম ইলীশামা, 27ইলীশামার পুত্রের নাম নূন আর নূনের পুত্রের নাম ছিল যিহোশূয়।

28ইফ্রয়িমের উত্তরপুরুষরা বৈথেল ও তার আশেপাশের গ্রামগুলোয়, পূর্বদিকে নারণ, পশ্চিমে গেষর ও তার চারপাশের শহরে, শিখিম এবং এর আশেপাশের গ্রামগুলিতে আয়া এবং এর গ্রামগুলির অঞ্চলে পর্যন্ত বাস করত। 29মনঃশিদের জমির সীমান্ত বরাবর ছিল বৈৎ‌শান, তানক, মগিদ্দো, দোর এবং তাদের গ্রামগুলি। ইস্রায়েলের পুত্র যোষেফের উত্তরপুরুষরা এই সমস্ত শহরে থাকতেন।

আশেরের উত্তরপুরুষ

30আশেরের পুত্রদের নাম ছিল যিম্ন যিশ্বাঃ, যিশ্বী আর বরীয়। এদের বোনের নাম সেরহ।

31বরীয়র পুত্রদের নাম হেবর আর মল্কীয়েল। মল্কীয়েলের পুত্রের নাম বির্ষোত।

32হেবরের পুত্রদের নাম যফ্লেট, শোমের আর হোথম। এঁদের বোনের নাম শূয়া।

33যফ্লেটের পুত্রদের নাম ছিল: পাসক, বিম্হল আর অশ্বৎ।

34শেমরের পুত্রদের নাম ছিল: অহি, রোগহ, যিহুব্ব আর অরাম।

35শেমরের ভাই হেলমের পুত্রদের নাম ছিল: শোফহ, যিম্ন শেলশ আর আমল।

36সোফহর পুত্রদের নাম: সূহ, হর্ণেফর, শূয়াল, বেরী, যিম্র, 37বেৎ‌সর, হোদ, শম্ম, শিল্শ, যিত্রণ আর বেরা।

38যেথরের পুত্রদের নাম: যিফুন্নি, পিস্প আর অরা।

39উল্লের পুত্রদের নাম: আরহ, হন্নীয়েল আর রিৎসিয়।

40আশেরের এই সমস্ত উত্তরপুরুষরা ছিলেন বীর যোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের নেতা এবং শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। এঁদের পরিবারের মোট যোদ্ধার সংখ্যা ছিল 26,000 জন।

8

রাজা শৌলের পারিবারিক ইতিহাস

1 বিন্যামীনের প্রথম পুত্র বেলা, দ্বিতীয় পুত্র অস্বেল, তৃতীয় পুত্র অহর্হ, চতুর্থ পুত্র নোহা আর পঞ্চম পুত্র রাফা।

3 বেলার পুত্রদের নাম: অদ্দর, গেরা, অবীহূদ, অবীশূয়, নামান, আহোহ, গেরা, শফূফন আর হূরম।

6 নামান, অহিয় আর গেরা ছিলেন এহুদের উত্তরপুরুষ। এঁরা সকলেই গেবায় নিজেদের পরিবারের নেতা ছিলেন। উষঃ ও অহীহূদের পিতা গেরা এঁদের বাড়ি ছেড়ে মানহতে উঠে যেতে বাধ্য করেছিলেন।

8শহরযয়িম মোয়াব অঞ্চলে তাঁর স্ত্রী হূশীম ও বারাক উভয়কেই বিদায় দিয়ে আর একটি বিবাহ করেন এবং সেই বিবাহের ফলস্বরূপ কয়েকটি সন্তান হয়। 9 স্ত্রী হোদশের মাধ্যমে যোবব, সিবিয়, মেশা, মল্কম, যিয়ূশ, শখিয় আর মির্ম নামে তাঁর সাত পুত্র হয়। এঁরাও সকলে নিজেদের পরিবারের নেতা ছিলেন। 11শহরয়িম আর তাঁর স্ত্রী হূশীমেরও অহীটূব আর ইল্পাল নামে দুই পুত্র ছিল।

12 ইল্পালের পুত্রদের নাম ছিল এবর, মিশিয়ম, শেমদ, বরীয় আর শেমা। শেমদ, ওনো এবং লোদের শহরগুলি ও তার পার্শ্ববর্তী নগরগুলি গড়ে তুলেছিলেন। বরীয় আর শেমা অয়ালোনে বসবাসকারী পরিবারগুলোর নেতা ছিলেন এবং গাতে যাঁরা বাস করতেন তাঁদের তাঁরা উঠে যেতে বাধ্য করেছিলেন।

14বরীয়র পুত্রদের নাম ছিল শাশক, যিরেমোৎ, 15সবদিয়, অরাদ, এদর, 16মীখায়েল, যিশ্পা আর যোহ। 17ইল্পালের পুত্রদের নাম সবদিয়, মশুল্লম, হিষ্কি, হেবর, 18যিশ্মরয়, যিষ্লিয় আর যোবব।

19শিমিয়ির পুত্রদের নাম ছিল যাকীম, সিখ্রি, সব্দি, 20ইলীয়ৈনয়, সিল্লথয়, ইলীয়েল, 21অদায়া, বরায়া আর শিম্রত্‌।

22শাশকের পুত্রদের নাম ছিল: যিশ্পন, এবর, ইলীয়েল, 23অব্দোন, সিখ্রি, হানন, 24হনানিয়, এলম, অন্তোথিয়, 25যিফদিয় আর পনূয়েল।

26যিরোহমের পুত্রদের নাম শিম্শরয়, শহরিয়, অথলিয়, 27যারিশিয়, এলিয় আর সিখ্রি।

28এঁরা সকলেই জেরুশালেমে বাস করতেন এবং নিজেদের পরিবারের নেতা ছিলেন। একথা এঁদের পারিবারিক ইতিহাসে লেখা আছে।

29যিয়ীয়েল ছিলেন গিবিয়োনের পিতা। তিনি গিবিয়োনে থাকতেন। তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল মাখা। 30যিয়ীয়েলের পুত্রদের নাম হল জ্যেষ্ঠ অব্দোন এবং তারপর যথাক্রমে সূর, কীশ, বাল, নের, নাদব, 31গদোর, অহিয়ো, সখর আর মিক্লোত। 32মিক্লোতের পুত্রের নাম শিমিয়। এঁরা সকলে জেরুশালেমে তাঁদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছাকাছি বাস করতেন।

33নেরের+ 8:33 নের এখানে উল্লিখিত নের হয়ত 1ম শমূ: 9:1 এ উল্লিখিত অবীয়েল হতে পারে। পুত্রের নাম ছিল কীশ। কীশের পুত্র ছিল শৌল আর শৌলের পুত্রদের নাম ছিল: যোনাথন, মল্কীশূয়, অবীনাদব ও ইশ্বাল।

34যোনাথনের পুত্রের নাম: মরীব্-বাল আর মরীব্-বালের পুত্রের নাম ছিল মীখা।

35মীখার পুত্রদের নাম ছিল: পিথোন, মেলক, তরেয় আর আহস।

36আহসের পুত্রের নাম যিহোয়াদা, যিহোয়াদার পুত্রদের নাম আলেমৎ‌, অস্মাবৎ আর সিম্রি। সিম্রির পুত্রের নাম মোৎসা, 37মোৎসার পুত্রের নাম ছিল বিনিয়া, বিনিয়ার পুত্রের নাম রফায়, রফায়ের পুত্র ছিল ইলীয়াসা আর ইলীয়াসার পুত্র ছিল আৎসেল।

38আৎসেলের ছয় পুত্রের নাম: অস্রীকাম, বোখরূ, ইশ্মায়েল, শিয়রিয়, ওবদিয় আর হানান।

39আৎসেলের ভাই এশকের পুত্রদের নাম ছিল: জ্যেষ্ঠ ঊলম, দ্বিতীয় যিয়ূশ আর তৃতীয় পুত্র এলীফেলট। 40ঊলমের পুত্ররা সকলেই ছিল বীর সৈনিক, তীর ধনুক চালাতে পারদর্শী। এদের সকলেরই অনেক অনেক পুত্র ও পৌত্র ছিল। সব মিলিয়ে মোট 150 জন পুত্র ও পৌত্র ছিল।

এঁরা সকলেই বিন্যামীনের উত্তরপুরুষ।

9

1ইস্রায়েলের সমস্ত বাসিন্দাদের নাম তাদের পারিবারিক ইতিহাসে লিপিবদ্ধ ছিল। সেই সমস্ত পারিবারিক ইতিহাস সঙ্কলিত করে ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস গ্রন্থটি লেখা হয়।

জেরুশালেমের লোক

যিহূদার লোকদের জোর করে বাবিলে নির্বাসিত করা হয়েছিল কারণ তারা ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বস্ত হয়েছিল। 2পরবর্তীকালে নিজেদের বাসস্থানে প্রথম যাঁরা ফিরে এসে আবার বাস করতে শুরু করেন তাঁদের মধ্যে যাজকবর্গ, লেবীয়, মন্দিরের দাস ছাড়াও কিছু ইস্রায়েলীয় ব্যক্তি ছিলেন।

3জেরুশালেমে বসবাসকারী যিহূদা, বিন্যামীন, ইফ্রয়িম আর মনঃশি পরিবার গোষ্ঠীর লোকদের তালিকা নিম্নরূপ:

4উথয়ের পিতা অম্মীহূদ, অম্মীহূদের পিতা অম্রি, অম্রির পিতা ইম্রি, ইম্রির পিতা বানি, যিনি ছিলেন যিহূদার সন্তান খোদ পেরসের উত্তরপুরুষ।

5শীলোনীয়দের মধ্যে জেরুশালেমে থাকতেন অসায় আর তাঁর পুত্ররা।

6সেরহদের মধ্যে যুয়েল ও তাঁর আত্মীয়-স্বজন সহ মোট 690 জন থাকতেন।

7বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর যাঁরা জেরুশালেমে থাকতেন তাঁরা হলেন: সল্লূর পিতা মশুল্লম, মশুল্লমের পিতা হোদবিয়, হোদবিয়র পিতা হস্নূয়, 8যিরোহমের পুত্র ছিল যিব্নিয়, এলা ছিল উষির পুত্র, উষি ছিল মিখ্রির পুত্র, মশুল্লম ছিল শফটিয়র পুত্র, শফটিয় ছিল রূয়েলের পুত্র এবং রূয়েল ছিল যিব্নিয়র পুত্র। 9বিন্যামীনদের পারিবারিক ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই পরিবারের মোট 956 জন জেরুশালেমে বাস করতেন এবং এঁরা সকলেই নিজেদের পারিবারিক নেতা ছিলেন।

10যাজকদের মধ্যে জেরুশালেমে বাস করতেন যিদয়িয়, যিহোয়ারীব, যাখীন এবং হিল্কিয়র পুত্র অশূরীয়। 11হিল্কিয় ছিলেন মশুল্লমের পুত্র, তাঁর পিতা ছিলেন সাদোক। সাদোকের পিতা মরায়োত, তাঁর পিতা অহীটূব। অহীটূব ঈশ্বরের মন্দিরের একজন গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী ছিলেন। 12এঁরা ছাড়াও বাস করতেন: অদায়ার পিতা যিরোহম, তাঁর পিতা পশ‌্হূর, তাঁর পিতা মল্কিয়, আর অদীয়েলের পুত্র মাসয়, অদীয়েলের পিতা যহসেরা, তাঁর পিতা মশুল্লুম, তাঁর পিতা মশিল্লমীত ও মশিল্লমীতের পিতা ইম্মের প্রমুখ।

13সব মিলিয়ে যাজকদের সংখ্যা ছিল 1760 জন। এঁরা সকলে ঈশ্বরের মন্দিরে সেবার জন্য নিযুক্ত ও নিজেদের পরিবারের নেতা ছিলেন।

14লেবীয় পরিবারের মধ্যে যাঁরা জেরুশালেমে বাস করতেন তাঁদের তালিকা নিম্নরূপ: শময়িয়র পিতা হশূব, তাঁর পিতা অস্রীকাম, তাঁর পিতা মরারির উত্তরপুরুষ হশবিয়। 15এছাড়াও জেরুশালেমে থাকতেন বকবকর, হেরশ, গালল আর মত্তনিয়। মত্তনিয় ছিলেন মীখার পুত্র, মীখা সিখ্রির পুত্র, সিখ্রি আসফের পুত্র। 16ওবদিয় ছিলেন শময়িয়র পুত্র, শময়িয় গাললের পুত্র, গালল যিদূথূনের পুত্র, যিদূথূন বেরিখিয়র পুত্র, বেরিখিয় আসার পুত্র আর আসা ছিল ইল‌্কানার পুত্র। বেরিখিয় নটোফার লোকদের কাছাকাছি ছোট শহরগুলোয় বসবাস করতেন।

17দ্বাররক্ষীদের মধ্যে জেরুশালেমে বাস করতেন শল্লুম, অক্কুব, টল্‌মোন, অহীমান এবং তাঁদের আত্মীয়রা। শল্লুম ছিলেন এঁদের নেতা। 18এঁরা ছিলেন লেবি পরিবারগোষ্ঠীর সদস্য এবং পূর্বদিকে রাজদ্বারের পাশে দাঁড়াতেন। 19শল্লুম ছিলেন কোরির পুত্র, কোরি ইবীয়াসফের পুত্র, ইবীয়াসফ কোরহের পুত্র ছিলেন। শল্লুম এবং তাঁর ভাইরা ছিলেন কোরহ পরিবারের সদস্য এবং তাঁদের পূর্বপুরুষদের মতোই তাঁরাও পবিত্র তাঁবুর দরজায় পাহারা দিতেন। 20অতীতে ইলিয়াসরের পুত্র পীনহস মন্দিরের দ্বার রক্ষীদের তত্ত্বাবধান করতেন। প্রভু তাঁর সহায় ছিলেন। 21মশেলেমিয়র পুত্র সখরিয়ও পবিত্র তাঁবুর দ্বাররক্ষীর কাজ করতেন।

22সব মিলিয়ে 212 জন ব্যক্তি পবিত্র তাঁবুর প্রবেশ পথগুলো পাহারা দিতেন। এঁদের সকলের নামই তাঁদের পারিবারিক ইতিহাসে লেখা আছে। এঁরা সকলে বিশ্বাসী ছিলেন বলেই ভাববাদী দায়ূদ ও শমূয়েল তাঁদের ও 23তাঁদের উত্তরপুরুষদের প্রভুর গৃহ ও পবিত্র তাঁবুর প্রবেশ পথ পাহারার কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। 24উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম সব মিলিয়ে মোট চারটি প্রবেশ-পথ ছিল। 25প্রায়ই দ্বাররক্ষীদের আত্মীয়রা তাদের ছোট ছোট শহরতলী থেকে এসে এঁদের 7 দিনের জন্য সাহায্য করতেন। 26লেবীয় পরিবারের চারজন এই সমস্ত দ্বাররক্ষীদের নেতা ছিলেন। এঁদের সকলেরই কাজ ছিল ঈশ্বরের মন্দিরের ঘর-দোরের যত্ন নেওয়া ও মন্দিরের ধনসম্পদ রক্ষা করা। 27সারা রাত ধরে তাঁরা মন্দির পাহারা দিতেন এবং তারপর সকালে ঈশ্বরের মন্দিরের দরজা খুলে দিতেন।

28কিছু দ্বার রক্ষীদের কাজ ছিল মন্দিরের নিত্য ব্যবহৃত থালার হিসেব রাখা। এঁরা এই সমস্ত থালা বাইরে আনা ও নিয়ে যাওয়ার সময়ে গুনে রাখতেন। 29কিছু দ্বার রক্ষী আসবাবপত্র, বিশেষ বিশেষ কাজে ব্যবহৃত থালা ছাড়াও ময়দা, দ্রাক্ষারস, তেল, ধুপধূনো ও বিশেষ তেলের+ 9:29 বিশেষ তেল অথবা “সুগন্ধী দ্রব্য,” এই জাতীয় তেল যাজক, ভাববাদী এবং রাজাদের অভিষিক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। দেখাশোনা করত। 30কিন্তু যাজকরাই ব্যবহৃত সুগন্ধী তেলের দেখাশোনা করতেন।

31কোরহ পরিবারের শল্লুমের বড় ছেলে মত্তিথিয় নামে জনৈক লেবীয় হোমের জন্য ব্যবহৃত রুটি সেঁকার দায়িত্বে ছিলেন। 32কোরহ পরিবারের কিছু দ্বার রক্ষীর কাজ ছিল বিশ্রামের দিনে যে সমস্ত রুটি টেবিলে পরিবেশন করা হত সেগুলি প্রস্তুত করা।

33যে সমস্ত লেবীয়রা গান গাইতেন এবং তাঁদের পরিবারের নেতা ছিলেন তাঁরা মন্দিরের ভেতরে ঘরে বাস করতেন। যেহেতু তাঁদের সারা দিন সারা রাত মন্দিরের কাজ করতে হত সেহেতু তাঁদের অন্য কোন কাজ করতে হত না।

34পারিবারিক ইতিহাসে জেরুশালেমে বসবাসকারী এই সমস্ত লেবীয়দের তাঁদের পরিবারের নেতা হিসেবে উল্লেখ করা আছে।

রাজা শৌলের পারিবারিক ইতিহাস

35গিবিয়োনের পিতা যিয়ীয়েল গিবিয়োনে বাস করতেন। তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল মাখা। 36তাঁদের পুত্রদের নাম যথাক্রমে অব্দোন, সূর, কীশ, বাল, নের, নাদব, 37গাদোর, অহিয়ো, সখরিয় ও মিক্লোত্‌। 38মিক্লোতের পুত্র ছিল শিমিয়াম। যিয়ীয়েলের পরিবারের সকলেই তাঁদের আত্মীয়দের কাছাকাছি জেরুশালেমে বাস করতেন।

39নেরের পুত্রের নাম ছিল কীশ, কীশের পুত্রের নাম শৌল, আর শৌলের পুত্রদের নাম ছিল যোনাথন, মল্কীশূয়, অবীনাদব ও ইশ্বাল।

40যোনাথনের পুত্রের নাম ছিল মরিব্-বাল আর পৌত্রের নাম মীখা।

41মীখার পুত্রদের নাম ছিল পিথোন, মেলক, তহরেয় আর আহস। 42আহসের পুত্র ছিল যারঃ। যারের পুত্ররা ছিল আলেমৎ‌, অস্মাবৎ এবং সিম্রি। সিম্রি ছিল মোৎসার পিতা। 43মোৎসার পুত্রের নাম বিনিয়া, বিনিয়ার পুত্রের নাম রফায়, রফায়ের পুত্রের নাম ছিল ইলীয়াসা আর ইলীয়াসার পুত্রের নাম আৎসেল।

44আৎসেলের ছয় পুত্রের নাম ছিল অস্রীকাম, বোখরূ, ইশ্মায়েল, শিয়রিয়, ওবদিয় আর হানান।

10

রাজা শৌলের মৃত্যু

1পলেষ্টীয়রা ইস্রায়েলীয় লোকদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে এলে ইস্রায়েলীয়রা পালিয়ে গিয়েছিল। গিল্‌বোয় পাহাড়ে মারাও গিয়েছিল অনেকে। 2পলেষ্টীয়রা রাজা শৌল ও তাঁর পুত্রদের পেছনে ধাওয়া করে শেষ পর্যন্ত তাঁদের ধরে ফেলে হত্যাও করেছিল। শৌলের তিন পুত্র যোনাথন, অবীনাদব ও মল্কি-শূয় পলেষ্টীয়দের হাতে মারা পড়েছিলেন। 3এবং শৌলের চারপাশে যুদ্ধ তীব্র হয়ে ওঠে এবং শৌলকে পলেষ্টীয় তীরন্দাজরা তীর ছুঁড়ে আহত করে।

4রাজা শৌল তখন তাঁর অস্ত্রবাহককে বললেন, “তুমি তরবারি বের করে নিজের হাতে আমায় হত্যা কর। তাহলে আর এই ভিন দেশীরা এসে আমায় নিয়ে মস্করা করতে বা আমায় আঘাত করতে পারবে না।”

কিন্তু রাজার অস্ত্রবাহক মহারাজকে হত্যা করতে ভয় পেল। তাই শৌল তখন নিজের তরবারি দিয়েই আত্মহত্যা করলেন। 5অস্ত্রবাহক যখন দেখতে পেল রাজা শৌলের মৃত্যু হয়েছে তখন সেও নিজের তরবারি দিয়ে নিজেকে হত্যা করল। 6অর্থাৎ‌ রাজা শৌল ও তাঁর তিন পুত্র এক সঙ্গে মারা গেলেন।

7সমতল ভূমিতে বসবাসকারী ইস্রায়েলের বাসিন্দারা দেখল তাদের সেনাবাহিনী রণক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়েছে আর রাজা শৌল ও তাঁর তিন পুত্র মারা গিয়েছে। তখন তারাও তাদের শহর ছেড়ে পালাল। পলেষ্টীয়রা সেই সমস্ত শহর দখল করে সেখানে বাস করতে শুরু করল।

8পরের দিন পলেষ্টীয়রা মৃতদেহ থেকে দামী জিনিসপত্র খুলে নিতে এসে গিল্‌বোয় পর্বতে রাজা শৌল ও তাঁর তিন পুত্রের মৃতদেহ খুঁজে পেল। 9শৌলের দেহ থেকে দুর্মূল্য জিনিসপত্র নিয়ে নেওয়ার পর পলেষ্টীয়রা শৌলের মুণ্ড এবং বর্ম নিয়ে নিল এবং তাদের লোকদের এবং তাদের দেবতাদের খবরটা জানানোর জন্য রাজ্যের সর্বত্র বার্তাবাহক পাঠাল। 10তারপর তাদের ভ্রান্ত দেবতার মন্দিরে শৌলের কাটা মুণ্ডুটা ঝুলিয়ে দিল।

11যাবেশ-গিলিয়দের সমস্ত লোকরা যখন জানতে পারল পলেষ্টীয়রা শৌলের কি দশা করেছে 12তখন তারা শহরের সাহসী লোকদের রাজা ও রাজপুত্রদের মৃতদেহ ফেরত আনতে পাঠাল। যাবেশ-গিলিয়দে রাজা ও রাজপুত্রদের মৃতদেহ নিয়ে আসার পর তারা চার জনকেই যাবেশে একটা বড় গাছের তলায় সমাধিস্থ করে সাত দিন ধরে শোক প্রকাশ এবং উপোস করল।

13প্রভুর প্রতি অনুগত না হওয়ার কারণেই এবং প্রভুর বাণী উপেক্ষা করার জন্যই শৌলের মৃত্যু হয়েছিল। প্রভুর উপদেশ নেবার পরিবর্তে শৌল এক মাধ্যমের কাছে পরামর্শের জন্য যেতেন। 14এসব কারণেই প্রভু রাজা শৌলের মৃত্যু ঘটিয়ে যিশয়ের পুত্র দায়ূদের হাতে রাজ্য তুলে দিয়েছিলেন।

11

দায়ূদ ইস্রায়েলের রাজা হলেন

1হিব্রোণে ইস্রায়েলের সমস্ত লোক দায়ূদের কাছে এসে বলল, “আপনার সঙ্গে আমাদের রক্তের সম্পর্ক। 2আগে, রাজা শৌল জীবিত থাকা কালীন আপনি আমাদের যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রভু স্বয়ং আপনাকে বলেছিলেন, ‘দায়ূদ, তুমি আমার লোকদের, ইস্রায়েলের লোকদের মেষপালক হবে। একদিন তুমিই তাদের নেতা হবে।’”

3ইস্রায়েলের সমস্ত নেতারাও হিব্রোণে দায়ূদের সঙ্গে দেখা করতে এলে, তিনি প্রভুর সাক্ষাতে তাঁদের সকলের সঙ্গে সেখানে চুক্তিবদ্ধ হলেন এবং নেতারা সকলে তাঁর গায়ে সুগন্ধী তেল ছিটিয়ে তাঁকে ইস্রায়েলের নতুন রাজা হিসেবে অভিষেক করলেন। শমূয়েলের মাধ্যমে প্রভু আগেই একথা ভবিষ্যৎ ‌বাণী করেছিলেন।

দায়ূদ জেরুশালেম দখল করলেন

4দায়ূদ এবং ইস্রায়েলের সমস্ত লোকরা তখন জেরুশালেমে গেলেন। সে সময়ে জেরুশালেম শহরের নাম ছিল যিবূষ। আর সেখানে যারা বাস করত তাদের যিবূষীয় বলা হত। এই সমস্ত যিবূষীয়রা 5দায়ূদকে তাদের শহরে ঢুকতে দিতে অস্বীকার করলে, দায়ূদ তাদের যুদ্ধে পরাজিত করে সিয়োনের দুর্গ দখল করলেন। এই অঞ্চলটিই পরবর্তী কালে দায়ূদ নগরী বা দায়ূদের শহর নামে পরিচিত হয়।

6দায়ূদ বললেন, “যিবূষীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যে আমার সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দেবে তাকেই আমি আমার সেনাবাহিনীর সেনাপতি করব।” তখন সরূয়ার পুত্র যোয়াব সেই আক্রমণের নেতৃত্ব দিলেন এবং তাঁকে ইস্রায়েলীয় সেনাবাহিনীর সেনাপতি করা হল।

7 দায়ূদ ঐ দুর্গে তাঁর বসতি বিস্তার করে দুর্গের চারপাশে শহর বানিয়ে ছিলেন বলেই এই জায়গার নাম দায়ূদ নগরী হয়েছিল। দায়ূদ মিল্লো থেকে দুর্গের প্রাচীর পর্যন্ত অঞ্চলে শহর স্থাপন করেছিলেন। যোয়াব শহরের অন্যান্য অঞ্চলের সংস্কার সাধন করেছিলেন। 9এদিকে সর্বশক্তিমান প্রভুর সহায়তায় উত্তরোত্তর দায়ূদের শক্তিবৃদ্ধি হতে থাকল।

তিন জন বীর সৈনিক

10ইস্রায়েলে দায়ূদের শাসন কালে তিনজন নেতা ক্ষমতা ও খ্যাতির শিখর স্পর্শ করেছিলেন। এঁরা দায়ূদের বিশিষ্ট সেনাবাহিনীর ওপর কর্তৃত্ব করতেন এবং ইস্রায়েলের সমস্ত লোকদের সঙ্গে একত্রিতভাবে ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দায়ূদের রাজ্যকে সহায়তা করতেন।

11এই তিন জন ব্যক্তির মধ্যে প্রথম জন হলেন হক্মোনীয়ের পুত্র যাশবিয়াম।

তিনি ছিলেন রথ-পরিচালক অধিকর্তাদের নেতা। একবার যাশবিয়াম তাঁর বর্শা দিয়ে এক সঙ্গে 300 জনকে হত্যা করেছিলেন।

12দ্বিতীয় জন হলেন অহোহের দোদোর পুত্র ইলিয়াসর। 13 তিনি পস্-দম্মীমে পলেষ্টীয়দের সঙ্গে যুদ্ধের সময় দায়ূদকে সঙ্গ দিয়েছিলেন। ইস্রায়েলের লোকরা যখন পলেষ্টীয়দের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য পালাতে শুরু করেছিল সে সময় এই তিন জন বিরোধী সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে এক ক্ষেত ভর্ত্তি যব রক্ষা করে এবং বিপক্ষীয় শত্রুদের প্রভুর সহায়তায় পরাজিত করে।

15এক দিন যখন দায়ূদ অদুল্লমের গুহাতে আটকা পড়েছেন এবং রফায়ীম উপত্যকা পর্যন্ত পলেষ্টীয় সেনাবাহিনী এগিয়ে এসেছে, সে সময় এই তিন বীর হামাগুড়ি দিয়ে সমস্ত পথটুকু গিয়ে দায়ূদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন।

16আর এক বার এক দল পলেষ্টীয় সেনা তখন বৈৎ‌লেহমে আর দায়ূদ ছিলেন দুর্গের ভেতরে। 17নিজের বাসভূমির এক গণ্ডুষ জল পান করার জন্য তৃষ্ণার্ত দায়ূদ কথা প্রসঙ্গে সবে বলেছেন, “ইস, কেউ যদি এখন আমায় বৈৎ‌লেহমের সিংহদরজার পাশের কুঁয়োটা থেকে একটু জল পান করাতে পারত।” দায়ূদ সত্যি করে চাইছিলেন না, কেবল মাত্র বলছিলেন। 18সঙ্গে সঙ্গে এই তিন বীর যোদ্ধা পলেষ্টীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে গিয়ে বৈৎ‌লেহমের যে কুঁয়োর জল দায়ূদ পান করতে চেয়েছিলেন, সেই জল নিয়ে আসলেন। দায়ূদ তখন সেই জল নিজে পান না করে নৈবেদ্য স্বরূপ ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে মাটিতে ঢেলে দিয়ে বললেন, 19“হে প্রভু, নিজেদের জীবন তুচ্ছ করে যারা এই জল আমার জন্য এনেছে তা পান করা আর তাদের রুধির পান করা সমতুল্য। তাই দায়ূদ জল পান করতে অস্বীকার করলেন।” দায়ূদের ঐ তিন জন নায়ক এই ধরণের আরো অনেক বীরত্বপূর্ণ কাজকর্ম করেছিলেন।

অন্যান্য বীর সৈনিকরা

20যোয়াবের ভাই অবীশয় ছিলেন এই তিন বীরের নেতা। তিনি একবার বর্শা দিয়ে 300 জনকে হত্যা করেছিলেন। 21অবীশয়ের খ্যাতি এদের কারো থেকে কম তো ছিলই না বরঞ্চ সেরা তিরিশ জন সেনার তুলনায়ও দ্বিগুণ ছিল। যদিও তিনি তিন বীরের একজন ছিলেন না, তবুও তিনি তাদের নেতা হয়েছিলেন।

22যিহোয়াদার পুত্র বনায় একজন বীরযোদ্ধা ছিলেন। তিনি কব্‌সেলের লোক ছিলেন এবং বহু দুঃসাহসিক কাজ করেছিলেন। তিনি মোয়াবের দুই সাহসী যোদ্ধাকে হত্যা করা ছাড়াও একবার এক তুষারাচ্ছন্ন দিনে একটা গুহায় প্রবেশ করে একটা সিংহ মেরেছিলেন। 23এছাড়াও বনায়, তাঁতীর দণ্ডের মত সুবিশাল বল্লমধারী 71/2 ফুট দীর্ঘ এক মিশরীয় সেনাকে মেরে ফেলেছিলেন। বনায়ের ছিল শুধু একটা লাঠি কিন্তু মিশরীয়র হাত থেকে তার বল্লমটা কেড়ে নিয়ে তিনি তাই দিয়েই ঐ ব্যক্তিকে হত্যা করেন। 24যিহোয়াদার এই বীরপুত্রের খ্যাতি ঐ তিন জন নায়কের তুলনায় কোন অংশে কম ছিল না। 25এমনকি ঐ তিন জনের একজন না হয়েও তাঁর খ্যাতি সেরা তিরিশ জন সৈনিকের থেকে বেশি ছিল। দায়ূদ তাঁকে তাঁর দেহরক্ষীদের নেতা নিযুক্ত করেছিলেন।

30 জন বীর সৈনিক

26যোয়াবের ভাই অসাহেল,

বৈৎ‌লেহমের দোদোর পুত্র ইল্হানন,

27হরোরের শম্মোৎ,

পলোনের হেলস,

28তকোয়ের ইক্কেশের পুত্র ঈরা,

অনাথোতের অবীয়েষর,

29হূশাতীয় সিব্বখয়,

অহোহর ঈলয়,

30নটোফার মহরয়,

নটোফার বানার পুত্র হেলদ,

31বিন্যামীন পরিবারের গিবিয়ার রীবয়ের পুত্র ইথয়,

পিরিয়াথোনের বনায়,

32গাশ-উপত্যকা নিবাসী হূরয়,

অর্ব্বতীয় অবীয়েল,

33বাহরূমের অস্মাবৎ,

শাল্বোনের ইলিয়হবঃ,

34গিষোণের হাষেমের পুত্র হরারী,

শাগির পুত্র যোনাথন,

35হরারী সাখরের পুত্র অহীয়াম,

ঊরের পুত্র ইলীফাল,

36মখেরাতের হেফর,

পলোনার অহিয়,

37কর্মিলের হিষ্রো,

ইষ্বয়ের পুত্র নারয়,

38নাথনের ভাই যোয়েল,

হগ্রির পুত্র মিভর,

39অম্মোনের সেলক,

সরূয়ার পুত্র যোয়াবের অস্ত্রবাহক বেরোতের নহরয়,

40যিত্রয়ের ঈরা

আর গারেব,

41হিত্তীয়ের ঊরিয়,

অহলয়ের পুত্র সাবদ,

42রূবেণ পরিবারগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান শীষার পুত্র অদীনা ও তাঁর ত্রিশ জন সঙ্গী,

43মাখার পুত্র হানান,

মিত্নর যোশাফট,

44অষ্টরোতের উষিয়,

অরোয়েরবের হোথমের দুই পুত্র শাম ও যিয়ীয়েল,

45শিম্রির পুত্র যিদীয়েল

আর তাঁর ভাই তীষীয় যোহা,

46মহবীর ইলীয়েল,

ইল্নামের দুই পুত্র যিরীবয় আর যোশবিয়,

মোয়াবের যিৎমা,

47ইলীয়েল, ওবেদ আর মসোবায়ের যাসীয়েল প্রমুখ সকলেই ছিলেন দায়ূদের “সেরা তিরিশ” সৈন্যদলের সেনা।

12

যে সমস্ত সাহসী লোকরা দায়ূদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল

1দায়ূদ যখন কীশের পুত্র শৌলের ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন তখন যে সমস্ত যোদ্ধারা সিক্লগে তাঁর কাছে এসেছিল এটি হল তাদের তালিকা। তারা দায়ূদকে যুদ্ধে সাহায্য করেছিল। 2এরা যে কোন হাতেই তীর ছুঁড়তে পারতো, দু’হাতে গুলতিও চালাতে পারতো। এরা সকলেই বিন্যামীনের পরিবারগোষ্ঠীর সদস্য এবং শৌলের আত্মীয় ছিল।

3অহীয়েষর ছিলেন এঁদের দলের নেতা, এছাড়াও এই দলে ছিলেন তাঁর ভাই যোয়াশ (এঁরা গিবিয়াতের শমায়ের পুত্র), অস্মাবতের পুত্র যিষীয়েল আর পেলট, অনাথোত শহরের বরাখা আর যেহূ, 4গিবিয়োনের যিশ্ময়িয় (ইনি সেই ত্রিশ জন বীরের অন্যতম এবং তাদের অধ্যক্ষ ছিলেন।), যিরমিয়, যহসীয়েল, যোহানন, গদেরাথের যোষাবদ, 5ইলিয়ূষয়, যিরীমোৎ, বালিয়, শমরিয়, হরূফের শফটিয়, 6ইল‌্কানা, যিশিয়, অসরেল, যোয়েষর, যাশবিয়াম প্রমুখ কোরহ পরিবারগোষ্ঠীর যোদ্ধারা 7আর গদোর শহরের যিরোহমের পুত্র যোয়েলা আর সবদিয়।

গাদীয় লোক

8গাদ পরিবারগোষ্ঠীর একাংশও মরুভূমিতে দায়ূদের দুর্গে গিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। এরাও সকলেই সিংহের মত পরাক্রমশালী এবং কুশলী যোদ্ধা ছিলেন। বর্শা আর ঢাল নিয়ে যুদ্ধ করা ছাড়াও এঁরা সকলেই পাহাড়ী পথে হরিণের মত দৌড়তে পারতেন।

9গাদ পরিবারগোষ্ঠীর এই দলের নেতা ছিলেন এষর; দ্বিতীয় ওবদিয় এবং তৃতীয় ইলীয়াব। 10চতুর্থ মিশমান্না, পঞ্চম যিরমিয়, 11ষষ্ঠ অত্তয়, সপ্তম ইলীয়েল, 12অষ্টম যোহানন, নবম ইল্সাবাদ, 13দশম যিরমিয় আর একাদশ মগ্বন্নয়।

14এঁরা সকলেই গাদীয় সেনাবাহিনীর সেনাপতি ছিলেন এবং এই দলের দুর্বলতম ব্যক্তিও একাই 100 জনের সঙ্গে যুদ্ধ করার ক্ষমতা রাখতেন। দলের সর্বাপেক্ষা যিনি শক্তিমান ছিলেন তিনি একা 1000 জনের মোকাবিলা করতে পারতেন। 15গাদ পরিবারগোষ্ঠীর এই সমস্ত সৈনিকরা বছরের প্রথম মাসে, যখন যর্দন নদীতে প্রবল বন্যা হচ্ছে সে সময়ে নদী পার হয়ে উপত্যকার লোকদের পূর্ব ও পশ্চিমে তাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।

অন্যান্য সৈনিকরাও দায়ূদের সঙ্গে যোগ দিলেন

16বিন্যামীন ও যিহূদা পরিবারগোষ্ঠীর অন্যান্য ব্যক্তিরাও দুর্গে এসে দায়ূদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। 17দায়ূদ তাঁদের সঙ্গে দেখা করে বললেন, “আপনারা যদি শান্তিতে আমাকে সাহায্য করতে এসে থাকেন তাহলে আমি আপনাদের সকলকে স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু আমি কিছু অন্যায় না করা সত্ত্বেও আপনারা যদি আমার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করতে এসে থাকেন তাহলে আমার পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর যেন তা দেখেন এবং আপনাদের শাস্তি দেন।”

18অমাসয় ছিলেন সেই তিরিশ জন বীরের নেতা। তখন আত্মার ভর হলে তিনি বলে উঠলেন:

“দায়ূদ আমরা তোমার পক্ষে।

আমরা তোমার সঙ্গে আছি। হে যিশয়ের পুত্র—শান্তি!

তোমার শান্তি হোক্।

এবং যারা তোমায় সাহায্য করে তাদের শান্তি হোক্। কারণ তোমার ঈশ্বর তোমায় সাহায্য করেন।”

দায়ূদ তখন এই সমস্ত ব্যক্তিকেই তাঁর দলে স্বাগত জানিয়ে, তাঁদের ওপর নিজের সেনাবাহিনীর দায়িত্ব দিলেন।

19মনঃশি পরিবারগোষ্ঠীর অনেকেই দায়ূদ যখন পলেষ্টীয়দের সঙ্গে শৌলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলেন তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। তবে পলেষ্টীয় নেতাদের আপত্তি থাকায় শেষ পর্যন্ত দায়ূদ শৌলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পলেষ্টীয়দের সাহায্য করেন নি। এই সমস্ত পলেষ্টীয় নেতারা বলেছিল, “দায়ূদ যদি তাঁর মনিব, শৌলের কাছে ফিরে যান তবে আমাদের মুণ্ড কাটা পড়বে।” 20মনঃশি পরিবারগোষ্ঠীর যে সমস্ত ব্যক্তি সিক্লগ শহরে এসে দায়ূদের দলে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁরা হলেন—অদ্ন, যোষাবদ, যিদীয়েল, মীখায়েল, যোষাবদ, ইলীহূ আর সিল্লথয়। এঁরা সকলেই মনঃশি পরিবারে সৈন্যাধ্যক্ষ ছিলেন। 21অসৎ‌ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাঁরা দায়ূদকে সাহায্য করেছিলেন। এই সমস্ত অসৎ‌ ব্যক্তিরা সারা দেশে সুযোগ সুবিধে মত চুরি-চামারি চালিয়ে যাচ্ছিল। মনঃশি পরিবারের বীর যোদ্ধারা দায়ূদের সেনাবাহিনীর নেতায় পরিণত হয়েছিলেন।

22প্রতি দিন দলে দলে লোক এসে দায়ূদের পাশে দাঁড়ানোয় এমশঃ তিনি এক সুবিশাল ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তুললেন।

হিব্রোণে দায়ূদের সঙ্গে যোগদানকারী অন্যান্য লোকরা

23এইসব ব্যক্তিবর্গ যাঁরা হিব্রোণ শহরে দায়ূদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন এবং যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন এবং প্রভু যা বলেছিলেন সেই অনুযায়ী শৌলের রাজধানী দায়ূদের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন, তাঁরা সংখ্যায় হলেন নিম্নরূপ:

24যিহূদা পরিবারগোষ্ঠীর 6800 জন কুশলী ও তৎপর যোদ্ধা। এঁরা সকলেই বর্শা ও বল্লমধারী ছিলেন।

25শিমিয়োনের পরিবারগোষ্ঠীর 7100 জন বীর যোদ্ধা ছিলেন।

26লেবি পরিবারগোষ্ঠীর 4600 জন। 27হারোণ বংশের নেতা যিহোয়াদাও 3700 জন নিয়ে এই দলে যোগ দিয়েছিলেন। 28এছাড়া পরিবারের আরো 22 জন নেতাসহ যোগ দিয়েছিলেন সাহসী ও তরুণ সেনা সাদোক।

29শৌলের আত্মীয় এবং তখনও পর্যন্ত তার প্রতি অনুগত বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর 3000 জনও যোগ দিয়েছিলেন এই দলে।

30ইফ্রয়িমের পরিবারগোষ্ঠী থেকে এসেছিলেন 20,800 জন বীরযোদ্ধা। তারা তাদের পরিবারে বিখ্যাত ছিল।

31মনঃশি পরিবারগোষ্ঠী থেকে এসেছিলেন 18,000 জন দায়ূদকে রাজা বানাতে।

32ইষাখরের পরিবার থেকে আত্মীয়সহ এসেছিলেন 200 জন প্রাজ্ঞ নেতা। তাঁরা হলেন সেই সব লোক যাঁরা ইস্রায়েলের মঙ্গলের জন্য কখন কি করা প্রয়োজন তা ভাল ভাবেই বুঝতেন।

33সবূলূনের পরিবারগোষ্ঠী থেকে যোগ দিয়েছিলেন সর্বাস্ত্রে পারদর্শী 50,000 জন কুশলী যোদ্ধা। এঁরা সকলেই দায়ূদের একান্ত অনুগত ছিলেন।

34নপ্তালির পরিবারগোষ্ঠী থেকে 1000 জন অধ্যক্ষ ছিল। তাঁদের সঙ্গে 37,000 জন ব্যক্তি ছিল। তাঁরা বর্শা ও ঢাল নিয়ে এসেছিলেন।

35দান পরিবারগোষ্ঠী থেকে এসেছিলেন 28,600 জন রণ-কুশলী যোদ্ধা।

36আশের পরিবারগোষ্ঠী থেকেও রণ-কুশলী 40,000 জন এসেছিলেন।

37এবং যর্দন নদীর পূর্বদিক থেকে রূবেণ, গাদ ও অর্ধেক মনঃশি পরিবার মিলিয়ে মোট 120,000 ব্যক্তি বিভিন্ন রকমের অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে এই দলে যোগ দিয়েছিলেন।

38এই সমস্ত বীর যোদ্ধারা দায়ূদকে ইস্রায়েলের রাজা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে হিব্রোণে এসেছিলেন। ইস্রায়েলের অবশিষ্ট লোকদেরও এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন ছিল। 39এঁরা সকলে হিব্রোণে দায়ূদের সঙ্গে তিন দিন পানাহার করে ও তাঁদের আত্মীয়-পরিজনের বানানো খাবার-দাবার খেয়ে কাটালেন। 40ইষাখর, সবূলূন ও নপ্তালি পরিবারগোষ্ঠীরা উট, ঘোড়া, গাধা ও ষাঁড়ের পিঠে চড়িয়ে ময়দা, ডুমুরের পিঠে, কিস্মিস্, দ্রাক্ষারস, তেল, ছাগল এবং মেষ প্রভৃতি এনেছিলেন। ইস্রায়েলের সকলেই খুব খুশী হয়েছিলেন।

13

সাক্ষ্যসিন্দুক ফেরৎ‌ আনা

1দায়ূদ তাঁর সেনাবাহিনীর সমস্ত অধ্যক্ষদের সঙ্গে কথা বলার পর 2ইস্রায়েলের লোকদের এক জায়গায় জড়ো করে বললেন, “প্রভুর যদি ইচ্ছে হয় এবং তোমরা সকলেও যদি তাই মনে কর, তাহলে ইস্রায়েলের সর্বত্র আমাদের সহ-নাগরিক ও জ্ঞাতিদের, যাজক ও লেবীয়দের সবাইকে, যাঁরা বিভিন্ন শহরে ও তার আশেপাশে আমাদের জ্ঞাতিদের সঙ্গে বাস করেন, তাঁদের খবর পাঠিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে বলা হোক্। 3তারপর আমরা সাক্ষ্যসিন্দুকটা জেরুশালেমে আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনি। শৌল রাজা থাকাকালীন আমরা ঐ সাক্ষ্যসিন্দুকটার ব্যাপারে কোন খোঁজ খবর নিতে পারিনি।” 4দায়ূদের সঙ্গে ইস্রায়েলের সমস্ত লোকরা এক মত হল এবং তারা সকলে ভাবল এটিই তাদের করা উচিৎ‌।

5কিরিয়ৎ-যিয়ারীম থেকে সাক্ষ্যসিন্দুক ফিরিয়ে আনার জন্য মিশরে সীহোর নদী থেকে লেবো হমাত শহর পর্যন্ত ইস্রায়েলের সকলকে জড়ো করলেন। 6তারপর দায়ূদ ও এই সমস্ত লোকরা মিলে যিহূদার বালা (অর্থাৎ‌ কিরিয়ৎ-যিয়ারীমে) সাক্ষ্যসিন্দুক ফিরিয়ে আনতে গেলেন। ঐ সাক্ষ্যসিন্দুককে করূব দূতদের ঊর্দ্ধে যিনি বসেন সেই প্রভু ঈশ্বরের সিন্দুকও বলা হত।

7সবাই মিলে সাক্ষ্যসিন্দুকখানা অবীনাদবের বাড়ি থেকে বের করে নতুন একটা ঠেলা গাড়িতে বসালেন। উষঃ আর অহিয়ো ঐ গাড়িকে পথ দেখাচ্ছিলেন।

8দায়ূদ ও ইস্রায়েলের লোকরা বাঁশি, বীণা, ঢাক, খোল, কর্তাল, শিঙা বাজিয়ে ঈশ্বরের বন্দনা গান গেয়ে ঈশ্বরের সামনে উৎসব পালন করছিলেন।

9কীদোনের শস্য মাড়াইয়ের উঠান পর্যন্ত আসার পর যে ষাঁড়গুলো গাড়ি টানছিল তারা হোঁচট খাওয়ায় সাক্ষ্যসিন্দুকটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল, উষঃ কোনমতে হাত বাড়িয়ে সিন্দুকটাকে আটকালেন। 10কিন্তু ঐ সিন্দুক স্পর্শ করার অপরাধে ক্রুদ্ধ প্রভু ঘটনাস্থলেই উষের প্রাণ নিলেন। 11এই ঘটনায় দায়ূদ অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন। তারপর থেকে ঐ জায়গা “পেরস-উষঃ” নামে পরিচিত।

12ঈশ্বরের রোষে ভয় পেয়ে দায়ূদ বললেন, “আমি আর এই সাক্ষ্যসিন্দুক আমার কাছে নিতে পারব না!” 13তাই দায়ূদ সাক্ষ্যসিন্দুকটি দায়ূদ নগরে নিজের কাছে না এনে গাতের ওবেদ-ইদোমের বাড়িতে রেখে এলেন। 14সাক্ষ্যসিন্দুকটা তিন মাসের জন্য ওবেদ-ইদোমের বাড়িতে রাখা হয়েছিল। এজন্য ওবেদ-ইদোমের পরিবারের প্রতি এবং তার নিজের সব জিনিষের ওপর প্রভুর আশীর্বাদ বর্ষিত হয়।

14

দায়ূদের রাজ্য বিস্তার

1সোরের রাজা হীরম, দায়ূদের জন্য একটি সুন্দর বাড়ি বানাতে চেয়ে তাঁর কাছে কাঠের গুঁড়ি এবং পাথর-কাটুরে ও ছুতোর মিস্ত্রি পাঠালেন। 2দায়ূদ তখন উপলব্ধি করলেন যে প্রভু আসলে তাঁকে ইস্রায়েলের রাজা হিসেবে মনোনীত করেছেন। প্রভু দায়ূদের সাম্রাজ্য সুবিশাল ও তার ভিত সুদৃঢ় করেছিলেন কারণ ঈশ্বর দায়ূদ ও ইস্রায়েলের লোকদের ভালবাসতেন।

3দায়ূদ জেরুশালেম শহরে অনেককে বিয়ে করেন এবং তাঁর বহু পুত্রকন্যা হয়। 4জেরুশালেমে দায়ূদের যে সমস্ত সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিল তাদের নাম: শম্মূয়, শোবব, নাথন, শলোমন, 5যিভর, ইলীশূয়, ইল্পেলট, 6নোগহ, নেফগ, যাফিয়, 7ইলীশামা, বীলিয়াদা এবং ইলীফেলট।

দায়ূদ পলেষ্টীয়দের পরাজিত করলেন

8পলেষ্টীয়রা যখন দায়ূদ সম্পর্কে জানতে পারল যে দায়ূদ ইস্রায়েলের রাজা হিসেবে মনোনীত হয়েছে, তারা তখন দায়ূদকে খুঁজতে বের হল। দায়ূদ পলেষ্টীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রা করলেন। 9পলেষ্টীয়রা রফায়ীমের লোকদের আক্রমণ করে তাদের জিনিসপত্র অপহরণ করল। 10দায়ূদ ঈশ্বরকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমি কি পলেষ্টীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রা করব? আপনি কি আমার সহায় হয়ে পলেষ্টীয়দের যুদ্ধে হারাতে সাহায্য করবেন?”

প্রভু দায়ূদকে উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ যাও। আমি পলেষ্টীয়দের বিরুদ্ধে জয় লাভে তোমার সহায় হব।”

11তখন দায়ূদ ও তাঁর লোকরা গিয়ে বাল্-পরাসীমে জড়ো হলেন এবং সেখানে তাঁরা পলেষ্টীয়দের যুদ্ধে পরাজিত করলেন। দায়ূদ বললেন, “বাঁধ ভাঙা জল যেমন তোড়ে বেরিয়ে আসে ঈশ্বর সেই ভাবে আমার শত্রুদের ভেদ করেছেন। ঈশ্বর আমার সহায় ছিলেন বলেই এটা সম্ভব হল।” সেই কারণে ঐ জায়গার নাম বাল্-পরাসীম রাখা হয়েছিল। 12পলেষ্টীয়রা ওখানে ওদের আরাধ্য দেবদেবীর মূর্ত্তি ফেলে গিয়েছিল। দায়ূদ তাঁর লোকেদের সেই সমস্ত পুড়িয়ে দিতে নির্দেশ দিলেন।

পলেষ্টীয়দের বিরুদ্ধে আরেকটি জয়যাত্রা

13পলেষ্টীয়রা রফায়িম উপত্যকার লোকদের আবার আক্রমণ করলে, 14দায়ূদ ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলেন। ঈশ্বর সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বললেন, “দায়ূদ, আক্রমণের সময় পলেষ্টীয়দের পিছু ধাওয়া করে পাহাড়ে না গিয়ে চতুর্দিক থেকে ঘিরে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থেকো। 15তারপর গাছের ওপর কাউকে তুলে দিয়ে নজর রাখবে। যেই পলেষ্টীয়দের পায়ের শব্দ শুনতে পাবে, তাদের আক্রমণ করবে। আমি, ঈশ্বর তোমাদের আগে বেরিয়ে যাব এবং পলেষ্টীয় সেনাদলকে পরাজিত করব।” 16দায়ূদ হুবহু ঈশ্বরের নির্দেশ অনুযায়ী পথ অনুসরণ করে পলেষ্টীয় সেনাবাহিনীকে পরাজিত করলেন এবং গিবিয়োন শহর থেকে গেষর পর্যন্ত পলেষ্টীয় সেনাদের হত্যা করলেন। 17এ ঘটনার পর দায়ূদের খ্যাতি সমস্ত দেশগুলিতে ছড়িয়ে পড়ল এবং প্রভু সমস্ত জাতিদের দায়ূদের পরাক্রমের ভয়ে ভীত করে তুললেন।

15

জেরুশালেমে সাক্ষ্যসিন্দুক

1দায়ূদ নগরে নিজের জন্য প্রাসাদ বানানোর পর দায়ূদ সাক্ষ্যসিন্দুকটি রাখার জন্য একটি বিশেষ তাঁবু নির্মাণ করে বললেন, 2“শুধুমাত্র লেবীয়রাই এই সাক্ষ্যসিন্দুকটা বয়ে নিয়ে যেতে পারবে কারণ কেবলমাত্র প্রভু তাদেরই এই কাজের জন্য এবং চিরদিন তাঁর সেবার জন্য বেছে নিয়েছেন।”

3সাক্ষ্যসিন্দুকটি রাখার জন্য যে জায়গাটি তৈরী হয়েছিল সেখানে সাক্ষ্যসিন্দুকটি আনবার জন্য দায়ূদ ইস্রায়েলের সমস্ত লোকদের জেরুশালেমে জড়ো হতে ডাক দিলেন। 4এরপর দায়ূদ হারোণ ও লেবীয় বংশের সমস্ত উত্তরপুরুষদের ডেকে পাঠালেন।

5এঁদের মধ্যে 120 জন ছিলেন কহাতের পরিবারগোষ্ঠীর সদস্য, ঊরীয়েল তাঁদের নেতা।

6মরারি পরিবারগোষ্ঠী থেকে অসায়ের নেতৃত্বে এসেছিলেন 220 জন,

7গের্শোন পরিবারগোষ্ঠী থেকে যোয়েলের নেতৃত্বে 130 জন,

8শময়িয়র নেতৃত্বে ইলীষাফণ পরিবারগোষ্ঠী থেকে 200 জন,

9হিব্রোণ পরিবারগোষ্ঠী থেকে ইলীয়েলের নেতৃত্বে 80 জন আর

10অম্মীনাদবের নেতৃত্বে উষীয়েল পরিবারগোষ্ঠী থেকে এসেছিলেন 112 জন ব্যক্তি।

যাজক ও লেবীয়দের সঙ্গে কথা বললেন দায়ূদ

11এরপর দায়ূদ যাজক সাদোক আর অবিয়াথর ছাড়াও, লেবীয়দের মধ্যে ঊরীয়েল, অসায়, যোয়েল, শময়িয়, ইলীয়েল ও অম্মীনাদবকে ডেকে পাঠিয়ে 12তাঁদের বললেন, “তোমরা সকলেই লেবীয় পরিবারগোষ্ঠীর নেতা। তোমরা প্রথমে নিজেদের পবিত্র করে তারপর সাক্ষ্যসিন্দুকটা রাখার জন্য আমি যে জায়গা তৈরী করেছি সেখানে নিয়ে এস। 13গতবার আমরা প্রভুর কাছে সাক্ষ্যসিন্দুকটা কিভাবে নেওয়া হবে তা জিজ্ঞেসও করিনি এবং তোমরা লেবীয়রাও সাক্ষ্যসিন্দুকটা বহন কর নি। তাই প্রভু আমাদের শাস্তি দিয়েছিলেন।”

14তখন যাজকগণ ও লেবীয়রা প্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বরের সাক্ষ্যসিন্দুকটা বহন করার জন্য নিজেদের পবিত্র করলেন। 15এবং মোশি যে ভাবে ঈশ্বরের কথা অনুযায়ী সাক্ষ্যসিন্দুক বহন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ঠিক সেভাবেই লেবীয়রা বিশেষ ধরণের খুঁটি ব্যবহার করে কাঁধে করে সাক্ষ্যসিন্দুকটা বয়ে নিয়ে এলেন।

গায়ক দল

16দায়ূদ লেবীয় নেতাদের সঙ্গে তাঁদের সতীর্থ গায়কদেরও ডেকে পাঠিয়ে বীণা, বাঁশি, খোল, কর্তাল, ভেঁপু বাজিয়ে আনন্দের গান গাইতে বললেন।

17লেবীয়রা তখন যোয়েলের পুত্র হেমন ও তার ভাই আসফ ও এথনকে নির্বাচিত করল। আসফ ছিল বেরিখিয়র পুত্র। এথন ছিল কূশায়ার পুত্র। এইসব পুরুষরা ছিল মরারি পরিবারগোষ্ঠীর লোক। 18তাদের সঙ্গে ছিল তাদের সাহায্যকারীরা, তাদের আত্মীয়স্বজন, সখরিয়, যাসীয়েল, শমীরামোৎ, যিহীয়েল, উন্নি, ইলীয়াব, বনায়, মাসেয়, মত্তিথিয়, ইলীফলেহূ, মিক্নেয়, ওবেদ-ইদোম ও যিয়ীয়েল। এরা ছিল লেবীয় দ্বাররক্ষীগণ।

19হেমন, আসফ আর এথন বাজালেন কর্তাল। 20সখরিয়, অসীয়েল, শমীরামোৎ, যিহীয়েল, উন্নি, ইলীয়াব, মাসেয় আর বনায় বাজালেন বীণা, 21মত্তিথিয়, ইলীফলেহূ, মিক্নেয়, ওবেদ-ইদোম, যিয়ীয়েল আর অসসিয় নীচু সুরে বীণা বাজালেন। 22লেবীয় নেতা কননিয় ছিলেন গানের দায়িত্বে কারণ তিনি ছিলেন গানে পারদর্শী।

23সাক্ষ্যসিন্দুকের জন্য দুই রক্ষী ছিলেন বেরিথিয় আর ইল‌্কানা। 24শবনিয়, যিহোশাফট, নথলেন, অমাসয়, সখরিয়, বনায় আর ইলীয়েষর যাজকরা শিঙা বাজিয়ে সাক্ষ্যসিন্দুকের সামনে হাঁটতে লাগলেন। ওবেদ-ইদোম ও যিহিয়ও সাক্ষ্যসিন্দুক পাহারা দেবার কাজে নিযুক্ত ছিলেন।

25দায়ূদ, ইস্রায়েলের নেতৃবর্গ ও সেনাধ্যক্ষরা সকলে সাক্ষ্যসিন্দুকটা ওবেদ-ইদোমের বাড়ি থেকে আনতে গেলেন, সকলেই তখন উল্লসিত। 26যে সমস্ত লেবীয়রা সাক্ষ্যসিন্দুক বহন করছিলেন ঈশ্বর অন্তরাল থেকে তাদের সহায় হলেন। সাতটা ষাঁড় ও মেষকে এই উপলক্ষ্যে উৎসর্গ করা হল। 27যে সমস্ত লেবীয়রা সাক্ষ্যসিন্দুক বহন করেছিলেন তাঁরা সকলেই মিহি মসীনার তৈরী বিশেষ পরিচ্ছদ পরেছিলেন। কনানিয়, যিনি গানের এবং সমস্ত গায়কদের দায়িত্বে ছিলেন তিনি এবং দায়ূদও মিহি মসীনার তৈরী পোশাক পরেছিলেন। দায়ূদ মিহি মসীনার তৈরী এফোদও পরেছিলেন।

28আনন্দে চিৎকার করতে করতে ভেড়ার শিঙা, তূরী-ভেরী বাজাতে বাজাতে, বীণা, বাদ্যযন্ত্র এবং খঞ্জনীর বাজনার সঙ্গে ইস্রায়েলের লোকরা সাক্ষ্য-সিন্দুকটা নিয়ে এলেন।

29সাক্ষ্যসিন্দুকটা দায়ূদ নগরীতে এসে পৌঁছনোর পর দায়ূদ যখন নাচছিলেন এবং উদ্‌যাপন করছিলেন তখন শৌলের কন্যা মীখল একটা জানলা দিয়ে দেখছিল। দায়ূদের প্রতি তার যাবতীয় শ্রদ্ধা অন্তর্হিত হল কারণ সে ভাবল দায়ূদ বোকার মতো আচরণ করছে।

16

1সাক্ষ্যসিন্দুকটা নিয়ে এসে লেবীয়রা সেটাকে দায়ূদের বানানো তাঁবুর মধ্যে রাখলেন। তারপর ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে হোমবলি ও মঙ্গল নৈবেদ্য উৎসর্গ করা হল। 2দায়ূদের নৈবেদ্য অর্পণ করা শেষ হলে তিনি প্রভুর নামে সমস্ত লোকদের শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানালেন। 3এরপর তিনি ইস্রায়েলের প্রত্যেক পুরুষ ও নারীকে একখানা করে গোটা পাঁউরুটি, কিছু খেজুর, কিস্মিস্ ও পিঠে বিতরণ করলেন।

4সাক্ষ্যসিন্দুকের সামনে কাজকর্ম করবার জন্য দায়ূদ কিছু লেবীয়কে নিয়োগ করলেন। এই সমস্ত লেবীয়দের মূল কাজ ছিল প্রভুর স্তবগান ও প্রশংসা করা। 5 যে দলটি খঞ্জনী বাজাত, আসফ ছিল সেই দলটির নেতা। সখরিয় ছিলেন দ্বিতীয় দলটির নেতা। অন্যান্য লেবীয়রা ছিলেন উজীয়েল, শমীরামোৎ, যিহীয়েল, মত্তিথিয়, ইলীয়াব, বনায়, ওবেদ-ইদোম এবং যিয়ীয়েল। এদের কাজ ছিল বীণা এবং অন্য এক ধরণের তন্ত্রবাদ্য বাজানো। যাজক বনায় ও যহসীয়েল সাক্ষ্যসিন্দুকের সামনে শিঙা ও কাড়া-নাকাড়া বাজানোর দায়িত্ব পালন করতেন। সেই দিন দায়ূদ, আসফ ও তাঁর সতীর্থদের প্রভুর প্রশংসা ও কীর্তনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

দায়ূদের ধন্যবাদ গীত

8প্রভুর প্রশংসা কর আর তাঁর নাম নাও।

তিনি যে সমস্ত মহান কাজ করেছেন সবাইকে সে কথা বলো।

9প্রভুর উদ্দেশ্যে গান গাও। তাঁর প্রশংসা কর।

তাঁর মহৎ‌‌ কীর্তির কথা সবাইকে জানাও।

10প্রভুর পবিত্র নাম করে গর্বিত হও।

তোমরা যারা তাঁকে চাও তারা আনন্দিত হও!

11প্রভুর দিকে এবং তাঁর শক্তির দিকে তাকাও।

সর্বদা তাঁর সন্ধান কর।

12তিনি যে সব অলৌকিক কাজ করেছেন সেই সব মনে রেখো।

মনে রেখো তাঁর সমস্ত সিদ্ধান্ত আর তাঁর দ্বারা কৃত চমৎ‌‌কার!

13ইস্রায়েলের লোকরা, যাকোবের উত্তরপুরুষরা

সকলেই প্রভুর দাস এবং প্রভুর মনোনীত লোক।

14প্রভু আমাদের ঈশ্বর

এবং তাঁর সিদ্ধান্ত সর্বত্র বিরাজমান।

15সর্বদা তাঁর চুক্তি মনে রেখো।

হাজার হাজার পুরুষ ধরে তাঁর আজ্ঞা মনে রেখো।

16অব্রাহামের সঙ্গে তাঁর যে চুক্তি হয়েছিল সেটি

এবং ইস‌্হাককে করা তাঁর প্রতিশ্রুতি মনে রেখো।

17যাকোবের জন্য প্রভু এটিকে একটি আইনস্বরূপ করে দিয়েছিলেন।

ইস্রায়েলের সঙ্গে তিনি একটি চুক্তি করেছিলেন যা চিরস্থায়ী হবে।

18প্রভু ইস্রায়েলকে বলেছিলেন, “কনানীয়দের বাসভূমি আমি তোমাদেরই দেবো।

প্রতিশ্রুত ভূখণ্ডটি তোমাদের হবে।”

19তখন জনসংখ্যা ছিল কম,

মুষ্টিমেয় কিছু লোক।

20যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াতো

দেশ থেকে দেশান্তরে।

21কিন্তু প্রভু কাউকে তাদের আঘাত করতে দেননি

এবং রাজাদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন যেন তারা তাদের কোন ক্ষতি না করে।

22এইসব রাজাদের প্রভু বলেছেন: “আমার মনোনীত লোকদের

এবং ভাববাদীদের কেউ যেন আঘাত না করে।”

23সমস্ত ভুবন, প্রভুর বন্দনা করো।

প্রভু কেমন করে আমাদের রক্ষা করেন সেই সুখবর প্রতিদিন বলো।

24সমস্ত জাতিকে প্রভুর মহিমার কথা বলো।

তাঁর অলৌকিক কীর্তির কথাও সবাইকে বলো।

25প্রভু মহান এবং প্রশংসার যোগ্য।

অন্য সমস্ত দেবতাদের থেকে তিনি শ্রদ্ধেয় ও ভীতিকর।

26কেন? কারণ অন্য সমস্ত জাতির দেবদেবী শুধু মূল্যহীন পুতুলমাত্র।

প্রভু স্বয়ং আকাশ বানিয়েছেন।

27প্রভু মহিমাময় এবং দীপ্তিমান।

তিনি যেখানে থাকেন সেখানে শক্তি এবং আনন্দ বিরাজ করে।

28সমস্ত লোক ও পরিবারগুলি

প্রভুর মহিমা ও শক্তির প্রশংসা করো!

29প্রভুর মহিমার গান গাও। তাঁর নামের মাহাত্ম্য কীর্তন করো।

প্রভুর চরণে তোমাদের নৈবেদ্য উৎসর্গ করো।

তাঁকে সুন্দর ও পবিত্র পোশাকে উপাসনা করো।

30প্রভুর সামনে সমস্ত পৃথিবীর ভয়ে কম্পমান হওয়া উচিৎ‌,

কিন্তু ঈশ্বর পৃথিবীকে সুদৃঢ় করেছেন সুতরাং তা নড়বে না।

31আকাশে এবং মাটিতে আনন্দ ধ্বনিত হোক্;

বিশ্ব-চরাচরে সবাই বলে উঠুক, “প্রভুই এই পৃথিবীর নিয়ামক।”

32সমুদ্র এবং তার ভেতরের সব কিছুই আনন্দে চিৎকার করুক।

মাঠগুলি এবং সেখানে যা কিছু আছে তারা আনন্দ প্রকাশ করুক।

33আনন্দে মশগুল অরণ্যের বৃক্ষরাশি প্রভুর সামনে গান করবে!

কেন? কারণ প্রভু আসছেন পৃথিবীর বিচার করতে।

34প্রভুকে ধন্যবাদ দাও কারণ তিনি ভাল।

তাঁর আশীর্বাদ ও করুণা চিরন্তন।

35প্রভুকে বলো,

“হে ঈশ্বর, আমাদের পরিত্রাতা, আমাদের ঐক্যবদ্ধ কর।

সমস্ত জাতির হাত থেকে

আমাদের রক্ষা করো।

তাহলে আমরা তোমার পবিত্র নামের প্রশংসা করতে পারবো।

তোমার মহিমার প্রশংসা করতে পারবো।”

36ইস্রায়েলের ঈশ্বর সর্বদা যেভাবে প্রশংসিত হয়েছেন,

চিরদিন সে ভাবেই তাঁর প্রশংসা হোক্।

সমস্ত লোক প্রভুর প্রশংসা করে সমবেতভাবে বলে উঠলো, “আমেন!”

37তারপর আসফ আর তাঁর ভাইদের দায়ূদ প্রতিদিন সাক্ষ্যসিন্দুকের সামনে সেবা করার জন্য রেখে গেলেন। 38যিদূথূনের পুত্র ওবেদ-ইদোম ও আরো 68 জন লেবীয়কেও দায়ূদ আসফের কাছে রেখে গেলেন। ওবেদ-ইদোম আর হোষা দুজনেই প্রহরী ছিলেন।

39গিবিয়োনে প্রভুর তাঁবুতে বেদীর সামনে সেবা করার জন্য দায়ূদ সাদোক ও তাঁর সতীর্থ যাজকদের রেখে এসেছিলেন। 40প্রতি দিন সকালে আর বিকেলে সাদোক ও অন্যান্য যাজকরা মিলে প্রভুর ইস্রায়েলকে দেওয়া বিধি-পুস্তক অনুসারে বেদীতে হোমবলি উৎসর্গ করতেন। 41প্রভুর প্রশংসা গীত গাইবার জন্য হেমন, যিদূথূন এবং অন্যান্য লেবীয়দের প্রত্যেকের নাম ধরে নির্বাচন করা হয়েছিল, কারণ তাঁর প্রেম চির প্রবহমান। 42হেমন আর যিদূথূনকে সকলের সঙ্গে খঞ্জনি এবং তূরী-ভেরী বাজাতে হত। ঈশ্বরের নাম বন্দনার সময়ে তাঁরা অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রও বাজাতেন। যিদূথূনের পুত্ররা তাঁবুর দরজায় পাহারা দিতো।

43এই সমস্ত উৎসবের পর প্রত্যেকে যে যার বাড়িতে ফিরে গেল। রাজা দায়ূদও তাঁর পরিবারকে আশীর্বাদ করতে নিজের প্রাসাদে ফিরে গেলেন।

17

দায়ূদকে ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি

1প্রাসাদে ফিরে আসার পর দায়ূদ ভাববাদী নাথনকে বললেন, “আমি এরস কাঠের তৈরি রাজপ্রাসাদে বাস করি, কিন্তু সাক্ষ্যসিন্দুকটা পড়ে আছে তাঁবুতে। আমি ওটির জন্য একটা মন্দির বানাতে চাই।”

2নাথন উত্তর দিলেন, “তুমি যা করতে চাও করো, ঈশ্বর স্বয়ং তোমার সহায়।”

3 সে দিন রাতে, ঈশ্বরের বার্তা নাথনের কাছে এলো। ঈশ্বর বললেন,

“যাও আমার নাম করে আমার সেবক দায়ূদকে গিয়ে বলো: ‘দায়ূদ আমার মন্দির তুমি বানাবে না। 5 ইস্রায়েলীয়দের মিশর থেকে উদ্ধার করার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমি কোন মন্দিরে বাস করি নি। আমি তাঁবু থেকে তাঁবুতে ঘুরে বেড়িয়ে অধিষ্ঠান করেছি, ইস্রায়েলীয়দের জন্য নেতা নির্বাচন করেছি। ঐ সমস্ত নেতারা আমার ভক্ত ও সেবকদের দিশারী হবে। এক তাঁবু থেকে আরেক তাঁবুতে বাস করার সময় আমি কখনো এইসব নেতাদের বলিনি, তোমরা কেন আমার জন্য দামী কাঠের মন্দির বানাও নি?’

7“এখন আমার সেবক দায়ূদকে গিয়ে বলো: সর্বশক্তিমান প্রভু বলেছেন, ‘আমি তোমাকে মাঠ থেকে তুলে এনে মেষপালকের পরিবর্তে ইস্রায়েলে আমার ভক্তদের রাজা বানিয়েছি। 8তুমি যখন যেখানে গিয়েছ আমি তোমার সহায় হয়ে, তোমার আগে আগে সেখানে গিয়ে তোমার শত্রুদের নিধন করেছি। এবার আমি তোমাকে পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা খ্যাতিমান ব্যক্তিদের একজনে পরিণত করব। 9আমি এই জায়গা ইস্রায়েলীয়দের দিলাম। আমি ওদের এখানে বসালাম এবং ওরা এখানে বসবাস করবে। কেউ তাদের উত্যক্ত করবে না। দুষ্ট জাতিরাও আগের মতো তাদের আক্রমণ করবে না। 10যেদিন থেকে আমি আমার লোকদের নেতৃত্ব দেবার জন্য বিচারকদের নিযুক্ত করেছি, সেই দিন থেকে আমি তোমাদের শত্রুদের জয় করে চলেছি।

“‘এবার, আমি তোমায় বলছি যে প্রভু তোমার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ করবেন।+ 17:10 এবার … করবেন এর অর্থ কোন সত্যিকারের গৃহ নয়। এর অর্থ প্রভু দায়ূদ পরিবারের লোকদের বহু বছরের জন্য রাজা করবেন।11মৃত্যুর পর তুমি যখন তোমার পূর্বপুরুষদের সঙ্গে যোগ দেবে আমি তোমার নিজের পুত্রকে নতুন রাজা করব এবং তার রাজত্ব সুদৃঢ় করব। 12তোমার পুত্র আমার জন্য একটি মন্দির বানাবে আর আমি তোমার পুত্রের পরিবারকে আজীবন রাজত্ব করতে দেব। 13তোমার আগে যিনি রাজা হিসাবে শাসন করতেন সেই শৌলের ওপর থেকে যদিও আমি আমার সমর্থন সরিয়ে নিয়েছিলাম কিন্তু তোমার পুত্রকে আমি সব সময়ই ভালবাসব। আমি হব তার পিতা এবং সে হবে আমার পুত্র। 14তাকে চির জীবনের জন্য আমার মন্দির ও রাজত্বের ভার অর্পণ করব। আর তার শাসন চিরস্থায়ী হবে।’”

15নাথন দায়ূদকে এই দর্শন এবং ঈশ্বর যা বলেছেন তা জানালেন।

দায়ূদের প্রার্থনা

16রাজা দায়ূদ তখন পবিত্র তাঁবুতে গিয়ে প্রভুর সামনে বসে বললেন,

“হে প্রভু ঈশ্বর, তুমি কোন অজ্ঞাত কারণে আমার ও আমার পরিবারের প্রতি বরাবর অসীম করুণা করে এসেছো।” 17ঈশ্বর এটা কি তোমার কাছে এত ক্ষুদ্র, যে তুমি আমায় দূর ভবিষ্যতে আমার পরিবারের ভাগ্য বলবে? হে ঈশ্বর, তুমি কি আমাকে সামান্য লোকের চেয়ে বেশী কিছু দেখো? 18তুমি আমার জন্য এতো করেছ আমি আর কি-ই বা বলতে পারি! তুমি তো জানোই আমি তোমার আজ্ঞাবহ দাসানুদাস মাত্র। 19হে প্রভু, শুধু তোমার ইচ্ছাতেই আমার জীবনে এইসব মহৎ‌‌ ঘটনা ঘটেছে। তুমি এ সমস্ত মহৎ‌‌ ঘটনাকে জ্ঞাত করতে চেয়েছিলে। 20এ জগতে তোমার মতো আর কেই বা আছে? তুমি ছাড়া অন্য কোন ঈশ্বর নেই। তুমি ছাড়া আর কোন দেবতা কখনো এতো বিস্ময়কর ও মহান কাজ করেননি! 21ইস্রায়েলই পৃথিবীতে একমাত্র দেশ যার জন্য তুমি এত মহৎ‌‌ ও শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়ের কাজকর্ম করেছ। তুমিই আমাদের মিশর থেকে উদ্ধার করে মুক্ত করেছ। নিজ গুণেই তুমি খ্যাতি অর্জন করেছ। তোমার ভক্তদের নেতৃত্ব দিয়ে তুমি বিজাতীয়দের আমাদের জন্য তাদের নিজস্ব বাসভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য করেছ। অন্য কোন লোকের ঈশ্বর এই রকম করেনি। 22ইস্রায়েলীয়দের তুমি চিরকালের জন্য তোমার লোক হিসেবে বেছে নিয়েছো। এবং তুমিই তাঁদের ঈশ্বর হয়েছো।

23“হে প্রভু, তুমি আমার ও আমার পরিবারের কাছে যে প্রতিজ্ঞা করলে তা যেন চির দিন তোমার স্মরণে থাকে। তুমি যা বললে তাই যেন ঘটে। 24তোমার নাম চিরকালের জন্য বিশ্বাস ভাজন ও মহান হোক্। লোকরা যেন বলে, ‘সর্বশক্তিমান প্রভু হলেন ইস্রায়েলের ঈশ্বর!’ যেন তোমার সেবক হিসাবে দায়ূদের গৃহ চিরকালের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

25“হে প্রভু, তুমি আমাকে, তোমার দাসকে বলেছ যে, আমার বংশকে তুমি রাজবংশে পরিণত করবে। তাই আমি এতো সাহস করে তোমার কাছে এই সমস্ত প্রার্থনা করতে পারছি। 26হে প্রভু, তুমিই ঈশ্বর, তুমি তোমার নিজের কথা দিয়েই আমার জন্য এইসব জিনিষ করতে সম্মত হয়েছিলে। 27প্রভু, তুমি দয়া করে আমার পরিবারকে আশীর্বাদ করেছ এবং আমার কাছে প্রতিজ্ঞা করেছ যে আমার পরিবার তোমায় সেবা করে চলবে। প্রভু যেহেতু তুমি স্বয়ং আমার পরিবারকে আশীর্বাদ করেছ তারা চিরকালই তোমার আশীর্বাদ-ধন্য থাকবে।”

18

দায়ূদের বিভিন্ন দেশ জয়

1দায়ূদ পলেষ্টীয়দের আক্রমণ করে তাদের যুদ্ধে পরাজিত করেন এবং পলেষ্টীয়দের কাছ থেকে গাৎ‌ ও তার পার্শ্ববর্তী ছোটখাটো শহরগুলি দখল করে নিয়ে নেন।

2এরপর তিনি মোয়াবীয়দের হারিয়ে তাদের নিজের বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করান। মোয়াবীয়রা দায়ূদের জন্য নিয়মিত উপঢৌকন পাঠাতো।

3সোবার রাজা হদরেষরের সেনাবাহিনীর সঙ্গেও দায়ূদ যুদ্ধ করেন। হদরেষর ফরাৎ নদী পর্যন্ত তাঁর রাজত্ব বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু দায়ূদ তাঁর সেনাবাহিনীকে হমাত পর্যন্ত পিছু হঠতে বাধ্য করেছিলেন। 4তিনি হদরেষরের কাছ থেকে 7000 রথের সারথী সহ 1000 রথ, 20,000 সৈনিক আদায় করা ছাড়াও হদরেষরের অধিকাংশ রথ নষ্ট করে দিয়েছিলেন। শুধুমাত্র 100 রথ তিনি অবশিষ্ট রেখেছিলেন।

5অরামীয়রা দম্মেশক থেকে সোবার রাজা হদরেষরকে সাহায্য করতে এলে দায়ূদ তাদেরও পরাজিত করেন এবং 22,000 অরামীয় সেনাকে হত্যা করেন। 6এরপর দায়ূদ অরামের দম্মেশকে দুর্গ বানান। অরামীয়রা তাঁর বশ্যতা স্বীকার করে তাঁর জন্য উপঢৌকন আনতে শুরু করে। প্রভু দায়ূদকে সর্বত্র বিজয়ী করেছিলেন।

7হদরেষরের সেনাবাহিনীর থেকে সোনার ঢালগুলি দায়ূদ জেরুশালেমে এনেছিলেন। 8টিভৎ ও কূন শহর থেকে তিনি প্রচুর পরিমাণে পিতলও এনেছিলেন। এই শহরগুলি ছিল হদরেষরের অধিকারে। পরবর্তীকালে, শলোমন এই সমস্ত পিতল মন্দিরের জন্য পিতলের জলাধার, পিতলের থামসমূহ এবং পিতলের অন্যান্য জিনিষ বানাবার কাজে ব্যবহার করেছিলেন।

9হমাতের রাজা তয়ূ যখন খবর পেলেন, দায়ূদ সোবার রাজা হদরেষরের সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেছেন, 10তখন তিনি তাঁর পুত্র হদোরামকে দিয়ে সন্ধিপ্রস্তাব করে দায়ূদের কাছে আশীর্বাদ নিতে পাঠালেন যেহেতু দায়ূদ হদরেষরকে পরাজিত করেছিলেন। হদরেষর তয়ূর সঙ্গে যুদ্ধ করছিলেন। দায়ূদ, হদরেষরকে পরাজিত করায় তয়ূ হদোরামের হাত দিয়ে সোনা, রূপো ও পিতলের বহু মূল্যবান সামগ্রী পাঠিয়েছিলেন। 11ইদোম, মোয়াব, অম্মোন, অমালেক এবং পলেষ্টীয় থেকে দায়ূদ যে সোনা, রূপো এবং পিতলের জিনিষপত্র পেয়েছিলেন তা দিয়ে তিনিও একই কাজ করলেন। তিনি এগুলি প্রভুর উদ্দেশ্যে নিবেদন করলেন।

12লবণ উপত্যকায় সরূয়ার পুত্র অবীশয় 18,000 ইদোমীয়কে হত্যা করে। 13অবীশয় ইদোমে এক সৈন্যবাহিনীর দলও বসাল এবং ইদোমীয়রা দায়ূদের বশ্যতা স্বীকার করে। প্রভু দায়ূদকে সর্বত্রই বিজয়ী করেছিলেন।

দায়ূদের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকবর্গ

14সমস্ত ইস্রায়েলের শাসক দায়ূদ তাঁর সমস্ত প্রজাদের প্রতি ন্যায় ও সমবিচার নিয়ে ইস্রায়েল শাসন করেন। 15তাঁর সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন সরূয়ার পুত্র যোয়াব। অহীলূদের পুত্র যিহোশাফট দায়ূদের সমস্ত কার্যকলাপ লিপিবদ্ধ করে গিয়েছেন। 16অহীটূবের পুত্র সাদোক আর অবিয়াথরের পুত্র অবীমেলক যাজক ছিলেন। শব্শ ছিলেন লেখক। 17যিহোয়াদার পুত্র বনায়ের দায়িত্ব ছিল করেথীয় ও পলেথীয়দের পরিচালনা করা। দায়ূদের পুত্ররাও গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং পিতার পাশে থেকে রাজকার্যে সহায়তা করতেন।

19

অম্মোনীয়দের হাতে দায়ূদের লোকদের লাঞ্ছনা

1অম্মোনীয়দের রাজা নাহশের মৃত্যু হলে তাঁর জায়গায় তাঁর পুত্র হানূন রাজা হলেন। 2দায়ূদ তখন বললেন, “নাহশের সঙ্গে আমার বন্ধুর সম্পর্ক ছিল, এই শোকের সময় তাঁর পুত্র হানূনকে আমার সহানুভূতি দেখানো কর্তব্য।” এই বলে তিনি অম্মোনে হানূনকে সমবেদনা জানাতে বার্তাবাহক পাঠালেন।

3কিন্তু অম্মোনীয় নেতারা নতুন রাজাকে কুমন্ত্রণা দিয়ে বললেন, “মোটেই ভাববেন না যে দায়ূদ সহানুভূতি জানানোর জন্য এইসব লোকদের পাঠিয়েছে। এরা আসলে দায়ূদের গুপ্তচর। দায়ূদ আপনার রাজ্য ধ্বংস করতে চায়। তাই আপনার ও আপনার রাজত্বের গোপন খবর সংগ্রহ করতে এদের পাঠিয়েছে।” 4হানূন তখন দায়ূদের কর্মচারীদের গ্রেপ্তার করে তাদের দাড়ি কেটে পরণের পোশাক ছিঁড়ে তাদের ফেরত পাঠিয়ে দিলেন।

5দায়ূদের কর্মচারীরা এভাবে ঘরে ফিরতে খুবই লজ্জা পাচ্ছিলেন। কয়েকজন গিয়ে দায়ূদকে তাঁর কর্মচারীদের দুর্গতির কথা জানালে তিনি খবর পাঠালেন, “দাড়ি আবার বড় না হওয়া পর্যন্ত তোমরা যিরীহোতে থাকো। দাড়ি বড় হবার পর ঘরে ফিরে এসো।”

6অম্মোনীয়রা বুঝলেন যে তাঁরা নিজ দোষে নিজেদের দায়ূদের ঘৃণিত শত্রুতে পরিণত করেছেন। হানূন ও অম্মোনীয়রা তখন 75,000 পাউণ্ড রূপো মূল্যস্বরূপ দিলেন এবং মেসোপটেমিয়া, মাখার শহরগুলি ও অরামের সোবা থেকে রথ আর তার জন্য সারথী ভাড়া করে আনলেন। 7অম্মোনীয়রা 32,000 রথ আনলেন, এছাড়াও তাঁরা অর্থের বিনিময়ে মাখার রাজার সেনাবাহিনীর সাহায্য চাইলেন। মাখার রাজা আর তাঁর সৈন্যসামন্ত এসে মেদবা শহরের কাছে শিবির গেড়ে বসল। আম্মোনীয়রাও শহর থেকে বেরিয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে লাগল।

8দায়ূদ খবর পেলেন অম্মোনীয়রা যুদ্ধের তোড়জোড় করছে। তিনি তখন অম্মোনীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সেনাপতি যোয়াবের নেতৃত্বে ইস্রায়েলের সমগ্র সেনাবাহিনী পাঠালেন। 9তখন অম্মোনীয়রা যুদ্ধের জন্য তৈরী হয়ে শহরের সিংহ দরজা পর্যন্ত এলেন। কিন্তু রাজারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাননি এবং নিজেরা মাঠে রয়ে গিয়েছিলেন।

10যোয়াব দেখলেন তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সামনে ও পেছনে সশস্ত্র দুদল সেনাবাহিনী প্রস্তুত হয়ে আছে। যোয়াব তখন ইস্রায়েলের কিছু সেরা সৈনিককে বেছে নিয়ে তাদের অরামের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পাঠালেন। 11আর বাদবাকি সৈনিকদের তাঁর ভাই অবীশযের নেতৃত্বে অম্মোনীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পাঠালেন। 12যোয়াব অবীশয়কে বললেন, “অরামের সেনারা যদি আমার পক্ষে বেশি শক্তিশালী হয় তো তুমি আমায় সাহায্য করতে এসো। আর যদি ওরা তোমার চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয় তো আমি তোমায় সাহায্য করব! 13চলো এবার বীরত্ব ও সাহসের সঙ্গে আমাদের ঈশ্বরের শহরগুলোর জন্য ও আমাদের দেশের লোকদের জন্য ওদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ি। তারপর তো সবই প্রভুর ইচ্ছে!”

14এই না বলে, যোয়াব অরামীয় সেনাবাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। অরামীয় সেনারা তখন পালাতে শুরু করল। 15আর অম্মোনীয় সেনারা যখন তাদের পালাতে দেখল, তখন তারা নিজেরাও অবীশয় আর তাঁর সেনাবাহিনীর হাত থেকে প্রাণ বাঁচানোর জন্য পালাতে শুরু করল। অম্মোনীয়রা নিজেদের শহরে আর যোয়াব জেরুশালেমে ফিরে গেলেন।

16অরামীয় নেতারা, তাঁরা ইস্রায়েলীয়দের কাছে হেরে গিয়েছেন দেখে ফরাৎ নদীর পূর্বদিকের অরামীয়দের কাছে সাহায্য চেয়ে দূত পাঠালেন। শোফক ছিলেন অরামের রাজা হদরেষরের সেনাবাহিনীর সেনাপতি। শোফক অন্য অরামীয় বাহিনীরও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

17দায়ূদ যখন অরামের সেনাবাহিনীদের যুদ্ধের জন্য একত্র হবার খবর পেলেন, তিনিও ইস্রায়েলের লোকদের একত্র করে তাদের যর্দন নদীর ওপারে পাঠিয়ে দিলেন এবং অরামীয় সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হয়ে তাদের আক্রমণ করলেন। 18তারা প্রাণ বাঁচাবার জন্য পালাতে শুরু করল। দায়ূদ ও তাঁর সেনাবাহিনী 7000 অরামীয় সারথী, 40,000 অরামীয় সেনা ও অরামীয়দের সেনাপতি শোফককে হত্যা করলেন।

19হদরেষরের পদস্থ রাজকর্মচারীরা যখন দেখলেন তাঁরা ইস্রায়েলের হাতে পরাজিত হয়েছেন তাঁরা তখন দায়ূদের সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করে তাঁর বশ্যতা স্বীকার করলেন এবং অম্মোনীয়দের আর কখনও সাহায্য না করতে স্বীকৃত হলেন।

20

যোয়াব অম্মোনীয়দের ধ্বংস করলেন

1বসন্তের সময় যোয়াবের নেতৃত্বে ইস্রায়েলের সেনাবাহিনী আবার যুদ্ধ করতে বেরোল। সচরাচর এসময়ই রাজা-মহারাজারা যুদ্ধযাত্রা করলেও দায়ূদ কিন্তু জেরুশালেমেই থাকলেন। ইস্রায়েলীয় সেনাবাহিনী অম্মোনে গিয়ে অম্মোন ধ্বংস করে রব্বা শহর চারপাশ থেকে অবরোধ করে সেখানে শিবির গাড়লো। এইভাবে রব্বা অবরোধ করে শেষ পর্যন্ত যোয়াবের নেতৃত্বে ইস্রায়েলীয় বাহিনী যুদ্ধ করে রব্বাও ধ্বংস করল।

2দায়ূদ এসে তাদের রাজার মাথা থেকে মুকুট খুলে নিলেন। মুকুটের ওজন ছিল প্রায় 75 পাউণ্ড এবং এটি ছিল বহুমূল্য পাথর খচিত ও সোনার তৈরী। এবং সেই মুকুটটি দায়ূদের মাথায় পরানো হল, তবে তিনিও রব্বা থেকে আরো অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে এলেন। 3দায়ূদ রব্বার লোকদের ও অম্মোন শহরের বাসিন্দাদের নিয়ে এলেন এবং তাদের করাত, গাঁইতি আর কুঠার দিয়ে কাজ করতে বাধ্য করে, আবার জেরুশালেমে ফিরে গেলেন।

পলেষ্টীয় দানব সন্তান মারা গেল

4পরবর্তী কালে, পলেষ্টীয়দের সঙ্গে গেষর শহরে ইস্রায়েলীয়দের যুদ্ধ হয়। সে সময়ে, হূশার সিব্বখয় সিপ্পয় নামে এক দানব সন্তানকে হত্যা করল। তাই পলেষ্টীয়রা ইস্রায়েলের কাছে নিজেদের সমর্পণ করল।

5আর একবার পলেষ্টীয়দের সঙ্গে ইস্রায়েলীয়দের যখন যুদ্ধ হচ্ছিল, যায়ীরের পুত্র ইল্হানন লহমিকে হত্যা করেন, যদিও লহমির হাতে একটি বিশাল ও তীক্ষ্ণ বর্শা ছিল। লহমি ছিল গলিয়াতের ভাই। গলিয়াত ছিল গাতের লোক।

6এরপর গাতে ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে পলেষ্টীয়দের আবার যুদ্ধ হয়। সে সময় গাতে এক ব্যক্তি বাস করত; তার প্রতি হাতে-পায়ে ছ’টি করে মোট 24টা আঙুল ছিল। দানবের পুত্র ছিল বলে সে এক বিশাল আকার পুরুষ ছিল। 7ইস্রায়েলকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করার অপরাধে দায়ূদের ভাই শিমিয়র পুত্র যোনাথন তাকে হত্যা করে।

8এই পলেষ্টীয়রা ছিল গাতের দানবদের সন্তান। দায়ূদ ও তাঁর লোকরা এই সমস্ত দানবদের হত্যা করেছিলেন।

21

ইস্রায়েলকে গণনা করে দায়ূদের পাপ

1শয়তান ইস্রায়েলের লোকদের বিপক্ষে ছিল। তার প্ররোচনায় পা দিয়ে দায়ূদ ইস্রায়েলে আদমশুমারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। 2তিনি যোয়াব ও ইস্রায়েলের নেতাদের ডেকে বললেন, “যাও বের্-শেবা থেকে দান পর্যন্ত সমগ্র ইস্রায়েলের জনসংখ্যা গণনা করে আমাকে জানাও। আমি যাতে বুঝতে পারি এদেশে মোট কত জন বাস করে।”

3কিন্তু যোয়াব উত্তর দিলেন, “প্রভু তাঁর লোকদের শতগুণ বাড়িয়ে চলুন! মহারাজ, ইস্রায়েলের সমস্ত বাসিন্দাই তো আপনার অনুগত ভৃত্য। কেন আপনি এই কাজ করতে চাইছেন? আপনি সমস্ত ইস্রায়েলীয়দের পাপের ভাগী করবেন।”

4কিন্তু রাজা দায়ূদ তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় যোয়াব তাঁর আদেশ মানতে বাধ্য হলেন। তিনি সমগ্র ইস্রায়েলে ঘুরে ঘুরে জনসংখ্যা গুনে আবার জেরুশালেমে ফিরে খবর দিলেন যে 5ইস্রায়েলে মোট 1,100,000 লোক আছে যারা তরবারির ব্যবহার জানে। আর যিহূদায় এই ধরণের লোকের সংখ্যা 470,000। 6রাজা দায়ূদের নির্দেশ মনঃপুত না হওয়ায় যোয়াব লেবি ও বিন্যামীন পরিবারের বংশধরদের জনসংখ্যা গণনা করেন নি। 7ঈশ্বরের দৃষ্টিতে দায়ূদ একটি খারাপ কাজ করেছিলেন। তাই প্রভু ইস্রায়েলকে শাস্তি দিলেন।

ঈশ্বরের ইস্রায়েলেকে শাস্তি

8দায়ূদ তারপর ঈশ্বরকে বললেন, “আমি মূর্খের মতো জনসংখ্যা গণনা করে গুরুতর পাপ করেছি। এখন আমি তোমায় অনুনয় করছি, তুমি আমায়, তোমার দাসকে এই পাপ থেকে মুক্ত কর।”

9 প্রভু তখন দায়ূদের ভাববাদী গাদকে বললেন, “যাও দায়ূদকে গিয়ে বল: ‘প্রভু এই কথা বলেছেন: তোমাকে শাস্তি দেবার জন্য আমি তিনটে উপায়ের কথা ভেবেছি। তুমি যে ভাবে বলবে সে ভাবেই আমি তোমায় শাস্তি দেব।’”

11 তখন, গাদ নির্দেশ মত দায়ূদকে গিয়ে বললেন, “প্রভু বলেছেন, ‘তোমায় শাস্তি দেবার জন্য তিনটি পথের কথা আমি ভেবেছি। প্রথমটি হল—তিন বছর দেশে দুর্ভিক্ষ হবে। দ্বিতীয়টি হল—যারা তরবারি নিয়ে তাড়া করবে সেই সব শত্রুদের কাছ থেকে তোমায় তিনমাস ধরে পালিয়ে বেড়াতে হবে। আর তৃতীয়টি হল—তিন দিন তোমাকে প্রভুর হাতে শাস্তি ভোগ করতে হবে। মহামারীতে দেশ ছেয়ে যাবে। প্রভুর দূতরা ইস্রায়েলের ঘরে ঘরে লোকদের প্রাণ নেবে।’ এবার তুমি বল আমি প্রভুকে কি জানাব।”

13দায়ূদ গাদকে বললেন, “হায়! কি বিপদে পড়েছি! আমি কিভাবে শাস্তি পাবো তা ঠিক করার ভার আমি অন্যদের হাতে দিতে চাই না। প্রভু করুণাময়, তিনিই আমায় যথাযোগ্য শাস্তি দেবেন।”

14অতঃপর প্রভু ইস্রায়েলে মহামারী পাঠালেন, তাতে 70,000 লোকের মৃত্যু হল। 15প্রভু জেরুশালেমকে ধ্বংস করতে একজন দেবদূতও পাঠালেন। কিন্তু সে যখন জেরুশালেম ধ্বংস করতে শুরু করল তখন প্রভুর করুণা হল। যিবূষীয় অর্ণানের শস্য মাড়াইয়ের উঠানের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা সেই দূতকে প্রভু বললেন, “আর নয়, থাক! যথেষ্ট হয়েছে।”

16দায়ূদ ও নেতারা ওপরে তাকিয়ে, জেরুশালেমের ওপর প্রভুর তরবারি হাতে প্রভুর সেই দূতকে দেখতে পেলেন। তখন তারা শোকের পোশাক পরে আভূমি নত হলেন। 17দায়ূদ ঈশ্বরকে বললেন, “আমি জনসংখ্যা গণনা করতে বলে পাপ করেছি। আমিই পাপাত্মা। ইস্রায়েলের লোকরা তো নিরপরাধ। প্রভু আমার ঈশ্বর, মহামারীতে ওদের প্রাণ না নিয়ে তুমি আমায় আর আমার পরিবারকে শাস্তি দাও।”

18তখন প্রভুর দূত গাদকে বললেন, “দায়ূদকে যিবূষীয় অর্ণানের খামারের কাছে প্রভুর উপাসনার জন্য একটা বেদী নির্মাণ করতে বলো।” 19গাদ দায়ূদকে একথা জানালে তিনি অর্ণানের খামারে গেলেন।

20অর্ণান তখন গম ঝাড়াই করছিল। সে পেছন ফিরে দূতকে দেখতে পেল। অর্ণানের চার পুত্র ভয়ে লুকিয়ে পড়লো। 21দায়ূদ স্বয়ং হেঁটে হেঁটে টিলার ওপরে অর্ণানের কাছে গেলেন। তাঁকে দেখতে পেয়ে খামার ছেড়ে এসে অর্ণান তাঁর সামনে আভূমি নত হলেন।

22দায়ূদ বললেন, “তোমার খামার বাড়িটা আমায় বেচে দাও। যা দাম লাগে আমি দেব। তারপর আমি এখানে প্রভুর উপাসনার জন্য একটি বেদী বানাব। তাহলে এই মহামারী বন্ধ হবে।”

23অর্ণান দায়ূদকে বলল, “আপনিই আমার রাজা ও প্রভু। আপনার যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আপনি অবশ্যই আমার শস্য মাড়াই এর ক্ষেত্রটা নিতে পারেন। এছাড়াও আমি হোমবলির জন্য আপনাকে ষাঁড় আর গম দিচ্ছি এবং ময়দা শস্য নৈবেদ্যর জন্য আপনার যা কিছু দরকার সবই আপনাকে দেব।”

24কিন্তু রাজা দায়ূদ উত্তর দিলেন, “না, তা সম্ভব নয়। আমি তোমার থেকে বিনামূল্যে কিছু নিয়ে তা প্রভুকে দিতে পারব না। আমি ঈশ্বরকে এমন কিছুই দেব না যার জন্য আমায় দাম দিতে হবে না। তোমাকে আমি এ সব কিছুর পুরো দাম দেব।”

25তখুনি তিনি অর্ণানকে জায়গাটির জন্য প্রায় 15 পাউণ্ড সোনা দিলেন। 26তারপর দায়ূদ সেই শস্য মাড়াইয়ের জায়গায় প্রভুর উপাসনার জন্য বেদী বানালেন। সেই বেদীতে হোমবলি ও মঙ্গল নৈবেদ্য দিয়ে দায়ূদ প্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন। প্রভু আকাশ থেকে বেদীতে অগ্নিশিখা পাঠিয়ে সেই ডাকে সাড়া দিলেন। 27তারপর প্রভু তাঁর দেবদূতকে উন্মুক্ত তরবারী কোষবদ্ধ করতে আদেশ দিলেন।

28দায়ূদ দেখলেন, অর্ণানের খামার বাড়িতে প্রভু তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। তিনি সেখানেই প্রভুর উদ্দেশ্যে বলিদান উৎসর্গ করলেন। 29(পবিত্র তাঁবু এবং হোমবলি অর্পণের বেদীটি ছিল গিবিয়োন শহরে একটি উঁচু জায়গায়। ইস্রায়েলের বাসিন্দারা যখন মরুভূমিতে ঘুরছিলেন তখন মোশি এই পবিত্র তাঁবু বানিয়ে ছিলেন। 30কিন্তু দায়ূদ ঈশ্বরের দূতের তরবারীর ভয়ে পবিত্র তাঁবুতে ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলতে যাননি।)

22

1দায়ূদ বললেন, “প্রভু ঈশ্বরের মন্দির ও ইস্রায়েলের লোকদের জন্য বেদী এখানেই বানানো হবে।”

দায়ূদ মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা করলেন

2দায়ূদ ইস্রায়েলে বসবাসকারী সমস্ত বিদেশীদের এক জায়গায় জড়ো হতে নির্দেশ দিলেন। তারপর তিনি তাদের মধ্যে থেকে পাথর-কাটুরেদের বেছে নিলেন। এদের কাজ ছিল, ঈশ্বরের যে মন্দির হবে তার জন্য তখন থেকেই পাথর কেটে রাখা। 3পেরেক ও দরজার কব্জা বানানোর জন্য দায়ূদ লোহা আনালেন এবং এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে পিতল সংগ্রহ করলেন। 4অজস্র এরস কাঠের গুঁড়িও আনা হল। সীদোন ও সোরীয়ের বাসিন্দারা অনেক অনেক দামী কাঠের গুঁড়ি এনে দিয়েছিল।

5দায়ূদ বললেন, “আমরা প্রভুর জন্য সুবিশাল একটা মন্দির বানাতে চলেছি। কিন্তু আমার পুত্র শলোমনের বয়স এখনও কম। এসম্পর্কে উপযুক্ত জ্ঞান তার হয়নি। প্রভুর এই সুবিশাল মন্দিরের খ্যাতি তার সৌন্দর্য্যের কারণে পৃথিবীর দেশে দেশে যাতে ছড়িয়ে পড়ে সে কারণে আমি সেই মন্দিরের নকশা ও পরিকল্পনা করে যাচ্ছি।” কথা মতো তাঁর মৃত্যুর আগেই দায়ূদ মন্দিরের জন্য অনেক পরিকল্পনা ও নকশা করে গিয়েছিলেন।

6দায়ূদ তাঁর পুত্র শলোমনকে ডেকে প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বরের মন্দির বানানোর নির্দেশ দিয়ে বললেন, 7“শলোমন, আমি প্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বরের জন্য একটা মন্দির বানাতে চেয়েছিলাম। 8কিন্তু প্রভু আমাকে জানালেন, ‘দায়ূদ তুমি অনেক যুদ্ধ করেছ। বহু ব্যক্তির রক্তে ঐ হাত রঞ্জিত করেছ। তাই আমার নামে তুমি কোন মন্দির বানাতে পারবে না। 9কিন্তু তোমার এক পুত্র হবে শান্তির ধারক ও বাহক। তাকে আমি একটি শান্তিপূর্ণ জীবন দেব এবং তার আশেপাশের শত্রুরা যাতে তাকে উত্যক্ত না করে দেখব। 10তার নাম শলোমন এবং তার শাসনকালে আমি ইস্রায়েলকে শান্তি দেব। আমি তাকে সন্তান-জ্ঞানে পালন করব এবং তার রাজ্যকে সুদৃঢ় করব। তার পরিবারের কেউ না কেউ আজীবন ইস্রায়েলে শাসন করবে।’”

11দায়ূদ শলোমনকে আরো বললেন, “প্রভু তোমার সহায় হোন, যাতে তুমি তাঁর কথা মতোই তোমার প্রভু ঈশ্বরের জন্য এই মন্দির বানাতে সফল হতে পারো। 12প্রভু তোমায় ইস্রায়েলের রাজা করবেন। রাজ্য পরিচালনা এবং প্রভু তোমার ঈশ্বরের বিধি ও অনুশাসন অনুসরণ করার মতো জ্ঞান-বুদ্ধি ও বিচার বিবেচনাও যেন তোমাকে দেন। 13প্রভু প্রদত্ত মোশির বিধি অনুসরণ করে সতর্ক ভাবে জীবন কাটালে তুমি অবশ্যই সফল হবে। ভয়ের কোন কারণ নেই। সাহসে ভর করে বীরপুরুষের মতো জীবনযাপন করো।

14“শোনো শলোমন, প্রভুর মন্দির বানানোর পরিকল্পনার জন্য আমি বহু পরিশ্রম করেছি। আমি 3750 টন সোনা আর 37,500 টন রূপো ছাড়াও যে পরিমাণ লোহা আর পিতল জমিয়েছি তা ওজন করা প্রায় অসম্ভব! আর আছে অজস্র কাঠ এবং পাথর। শলোমন, এইসব কিছুই তুমি বাড়াতে পার। 15সুদক্ষ ছুতোর আর পাথর-কাটুরে ছাড়াও সব রকম কাজে দক্ষ কারিগর আর মিস্ত্রিও তোমার আছে। 16সোনা, রূপো, লোহা, পিতলের কাজ জানা অসংখ্য কারিগর তুমি পাবে। এবার তোমার কাজ শুরু কর। প্রভু তোমার সহায় হোন।”

17তারপর দায়ূদ ইস্রায়েলের সমস্ত নেতাদের তাঁর পুত্র শলোমনকে সাহায্য করার নির্দেশ দিয়ে বললেন, 18“এখন স্বয়ং ঈশ্বর তোমাদের সহায়। তিনি আপনাদের শান্তির সময় দিয়েছেন, চারপাশের বহিঃশত্রুদের পরাজিত করতে আমায় সাহায্য করেছেন। প্রভু ও তাঁর লোকরা এখন এই দেশকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। 19এখন প্রভুকে সমস্ত মন-প্রাণ ঢেলে দাও এবং তিনি যা বলেন তাই কর। তাঁর উপযুক্ত করে মন্দির বানানোর কাজে আত্মনিয়োগ কর। তাঁর নামে মন্দির বানিয়ে সাক্ষ্যসিন্দুক ও আর যা কিছু পবিত্র জিনিস আছে মন্দিরে নিয়ে এসো।”

23

মন্দিরে সেবা করবার নিমিত্ত লেবীয়দের জন্য পরিকল্পনা

1রাজা দায়ূদের বয়স হওয়ায় তিনি তাঁর পুত্র শলোমনকে ইস্রায়েলের রাজপদে অধিষ্ঠিত করে 2ইস্রায়েলের সমস্ত নেতা, যাজক ও লেবীয়দের ডেকে পাঠালেন। 3তিনি গুনে দেখলেন 30 বছরের বেশি বয়স্ক লেবীয়দের সর্বমোট সংখ্যা 38,000 জন। 4দায়ূদ আদেশ দিলেন, “24,000 জন লেবীয় প্রভুর মন্দির বানানোর কাজের তত্ত্বাবধান করবে। 6000 লেবীয় আধিকারিক ও বিচারকের কাজ করবে। 54000 লেবীয় দ্বাররক্ষী হবে। এবং আরো 4000 জন গায়ক হিসেবে কাজ করবে। আমি এদের জন্য যে বিশেষ বাদ্যযন্ত্র বানিয়েছি তাই দিয়ে তারা প্রভুর প্রশংসা গীত গাইবে।”

6দায়ূদ গের্শোন, কহাৎ‌ ও মরারি লেবির পুত্রদের পরিবারগোষ্ঠী অনুসারে তিন ভাগে ভাগ করলেন।

গের্শোনের পরিবারগোষ্ঠী

7গের্শোন পরিবারগোষ্ঠী থেকে ছিলেন লাদন আর শিমিয়ি। 8লাদনের তিন পুত্রের নাম যথাক্রমে যিহীয়েল, সেথম ও যোয়েল। 9আর লাদন পরিবারের নেতা শিমিয়ির তিন পুত্রের নাম শলোমোৎ, হসীয়েল ও হারণ।

10শিমিয়ির চার পুত্রের নাম যথাক্রমে যহত্, সীন, যিয়ূশ ও বরীয়। 11যহত্ ছিল প্রধান এবং সীষ ছিল দ্বিতীয়। কিন্তু যিয়ূশ আর বরীয়র বেশী পুত্রকন্যা ছিল না বলে তাদের এক পরিবারভুক্ত হিসেবে গণনা করা হয়।

কহাতের পরিবারগোষ্ঠী

12কহাতের চার পুত্রের নাম অম্রাম, যিষ্‌হর, হিব্রোণ ও উষীয়েল। 13অম্রামের পুত্রদের নাম ছিল হারোণ আর মোশি। হারোণ এবং তাঁর উত্তরপুরুষদের বরাবরের জন্য বিশিষ্ট জন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। তাঁরা প্রভুর যাবতীয় পূজো-অর্চনা ও ভজনার কাজ সম্পাদন করতেন, প্রভুর সামনে ধুপধূনো দিতেন ও যাজকের কাজও করতেন। প্রভুর নামে লোকদের আশীর্বাদ করবার মর্যাদাও তাঁদের দেওয়া হয়েছিল।

14মোশি ছিলেন ঈশ্বরের লোক। 15তাঁর পুত্র গের্শোম আর ইলীয়েষরকে লেবীয় পরিবারগোষ্ঠীর অন্তর্গত হিসেবে ধরা হয়। 16ইলীয়েষরের বড় ছেলের নাম রহবিয় আর 17গের্শোমের বড় ছেলের নাম ছিল শবূয়েল। ইলীয়েষরের আর কোনো পুত্র না থাকলেও রহবিয়ের আরো অনেক পুত্র ছিল।

18যিষ্‌হরের বড় ছেলের নাম শলোমীত্‌।

19হিব্রোণের পুত্রদের মধ্যে প্রধান যিরিয়, দ্বিতীয় অমরিয়, তৃতীয় যহসীয়েল আর চতুর্থ যিকমিয়াম।

20উষীয়েলের পুত্রদের নাম যথাক্রমে মীখা ও যিশিয়।

মরারির পরিবারগোষ্ঠী

21মরারির পুত্রদের নাম মহলি আর মূশি। মহলির পুত্রদের নাম ইলিয়াসর আর কীশ। 22ইলিয়াসর অপুত্রক অবস্থাতেই মারা গিয়েছিলেন। তাঁর শুধু কয়েকটি কন্যা ছিল, যারা নিজেদের আত্মীয়দের মধ্যেই কীশের পুত্রদের বিয়ে করেছিল। 23মূশির পুত্রদের নাম মহলি, এদর ও যিরেমোৎ।

লেবীয়দের কাজ

24কুড়ি বছরের বেশি বয়স্ক লেবির উত্তরপুরুষদের মধ্যে যারা প্রভুর মন্দিরে কাজ করেছিল, পরিবার অনুযায়ী তাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। এরা সকলেই নিজেদের পরিবারের প্রধান ছিল।

25দায়ূদ বলেছিলেন, “ইস্রায়েলের ঈশ্বর তাঁর লোকদের শান্তি দিয়েছেন। চির দিনের জন্য তিনি জেরুশালেমে থাকতে এসেছেন। 26তাই লেবীয়দের আর পবিত্র তাঁবু বা প্রভুর সেবার উপকরণ বইতে হবে না।”

27ইস্রায়েলের লোকদের প্রতি দায়ূদের শেষ আদেশ ছিল লেবি পরিবারগোষ্ঠীর উত্তরপুরুষের লোকসংখ্যা গণনা করা। 20 বছর বা তার বেশি বয়স্ক সমস্ত লেবীয়দের গোনা হয়েছিল।

28লেবীয়রা হারোণের উত্তরপুরুষদের মন্দিরে প্রভুর কাজকর্মের সহায়তা করতেন, এছাড়াও তাঁরা মন্দিরের উঠোন এবং আশেপাশের ঘরগুলোর তদারকি করতেন। পবিত্র সামগ্রীর এবং ঈশ্বরের মন্দিরের সমস্ত আসবাবপত্রের শুচিতা রক্ষা করার দায়িত্বও ছিল তাঁদের ওপর। 29টেবিলের ওপর রুটি রাখবার এবং গম, শস্য নৈবেদ্য ও খামিরবিহীন রুটি রাখবারও দায়িত্ব ছিল তাঁদের ওপর। মন্দিরের বাসন-কোসন এবং নৈবেদ্য সামলানো ছাড়াও জিনিসপত্র মাপা ও ওজন করার কাজও তাঁদেরই করতে হত। 30প্রতি দিন সকালে ও সন্ধ্যায় তাঁরা প্রভুর প্রশংসা করতেন ও তাঁকে ধন্যবাদ দিতেন। 31লেবীয়রা প্রভুর কাছে বিশ্রামের দিন, অমাবস্যার দিন ও অন্যান্য উৎসবের দিনগুলিতে হোমবলি উৎসর্গ করতেন। প্রতিদিন তাঁরা প্রভুর সেবা করতেন। প্রতি বার কতজন লেবীয় সেবা করবে সে ব্যাপারে বিশেষ নিয়ম ছিল এবং তাঁরা এই নিয়মগুলি অনুসরণ করতেন। 32লেবীয়রা তাঁদের আত্মীয়দের, যে যাজকরা ছিলেন হারোণের উত্তরপুরুষ, প্রভুর মন্দিরে সেবার কাজে সাহায্য করতেন। তাঁরা পবিত্র তাঁবু এবং পবিত্র স্থানেরও যত্ন নিতেন।

24

যাজক গোষ্ঠী

1হারোণের পুত্রদের নাম নাদব, অবীহূ, ইলিয়াসর আর ঈথামর। 2হারোণের আগেই নাদব আর অবীহূর অপুত্রক অবস্থায় মৃত্যু হয়। তাই ইলিয়াসর এবং ঈথামর যাজকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। 3ইলিয়াসর এবং ঈথামরের পরিবারগোষ্ঠীকে দায়ূদ দুটি পৃথক গোষ্ঠীতে ভাগ করেছিলেন যাতে তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে পারেন। দুই পরিবারকে পৃথক করার সময় দায়ূদ ইলিয়াসরের উত্তরপুরুষ সাদোক এবং ঈথামরের উত্তরপুরুষ অহীমেলকের সাহায্য নিয়েছিলেন। 4ঈথামরের পরিবারের তুলনায় ইলিয়াসরের পরিবার থেকে হওয়া নেতার সংখ্যা বেশি ছিল। ইলিয়াসরের পরিবারের মোট নেতার সংখ্যা ছিল 16 আর ঈথামরের পরিবারের নেতার সংখ্যা ছিল 8। 5ঘুঁটি চেলে প্রত্যেক পরিবার থেকে নেতা নির্বাচিত করা হত। কিছু লোককে পবিত্র স্থানের দায়িত্বে বেছে নেওয়া হয়েছিল এবং ইলিয়াসর ও ঈথামরের পরিবারগোষ্ঠী থেকে অন্যদের যাজক হিসাবে বাছা হয়েছিল।

6লেবি পরিবারগোষ্ঠীর নথনেলের পুত্র শময়িয় ছিলেন সচিব। রাজা দায়ূদের সামনে তিনি যাজক সাদোক, অবিয়াথরের পুত্র অহীমেলক ও যাজকগণ এবং লেবি পরিবারগোষ্ঠীর নেতাদের নাম লিপিবদ্ধ করেছিলেন। এক একবার অক্ষ নিক্ষেপ করে এক এক জনের নাম উঠতো আর শময়িয় তা লিখে নিতেন। এইভাবে ইলিয়াসর এবং ঈথামর পরিবারের মধ্যে কাজকর্ম ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল।

7এইভাবে প্রথম বার উঠেছিল যিহোয়ারীব গোষ্ঠীর নাম।

দ্বিতীয় বার যিদয়িয় গোষ্ঠীর নাম।

8তৃতীয় বার হারীম গোষ্ঠীর নাম।

চতুর্থ বার সিয়োরীম গোষ্ঠীর নাম।

9পঞ্চম বার মল্কিয় গোষ্ঠীর নাম।

ষষ্ঠ বার মিয়ামীন গোষ্ঠীর নাম।

10সপ্তম বার হক্কোষ গোষ্ঠীর নাম।

অষ্টম বার অবিয় গোষ্ঠীর নাম।

11নবম বার যেশূয় গোষ্ঠীর নাম।

দশম বার শখনিয় গোষ্ঠীর নাম।

12একাদশ বার ইলীয়াশীব গোষ্ঠীর নাম।

দ্বাদশ বার যাকীম গোষ্ঠীর নাম।

13ত্রয়োদশ বার হুপ্পের গোষ্ঠীর নাম।

চতুর্দশ বার যেশবাব গোষ্ঠীর নাম।

14পঞ্চদশ বার বিল্গা গোষ্ঠীর নাম।

ষষ্ঠদশ বার ইম্মের গোষ্ঠীর নাম।

15সপ্তদশ বার হেষীরে গোষ্ঠীর নাম।

অষ্টাদশ বার হপ্পিসেস গোষ্ঠীর নাম।

16উনবিংশতি বার পথাহিয় গোষ্ঠীর নাম।

বিংশতি বার যিহিষ্কেল গোষ্ঠীর নাম।

17একবিংশতি বার যাখীন গোষ্ঠীর নাম।

দ্বাবিংশতি বার গামূল গোষ্ঠীর নাম।

18ত্রয়োবিংশতি বার দলায় গোষ্ঠীর নাম।

আর চতুর্বিংশতি বার উঠল মাসিয় গোষ্ঠীর নাম।

19এইভাবে যাদের নাম উঠল তাদের প্রভুর মন্দিরের কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল। হারোণকে প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর প্রদত্ত নিয়ম অনুযায়ী এঁদের মন্দিরের কাজ করতে হত।

অন্যান্য লেবীয়রা

20অন্যান্য লেবিদের উত্তরপুরুষদের মধ্যে যাঁরা ছিলেন তাঁদের তালিকা দেওয়া হল:

অম্রামের উত্তরপুরুষদের মধ্যে ছিলেন শবূয়েল

আর শবূয়েলের উত্তরপুরুষদের মধ্যে থেকে যেহদিয়়।

21রহবিয়র বংশধরদের মধ্যে ছিলেন বড় ছেলে যিশিয়।

22যিষহরীয় পরিবারগোষ্ঠী থেকে ছিলেন শলোমোৎ।

আর শলোমোতের পরিবার থেকে যহৎ।

23হিব্রোণের পুত্রদের মধ্যে যথাক্রমে যিরিয়,

অমরিয়, যহসীয়েল

এবং যিকমিয়াম।

24উষীয়েলের পুত্রদের মধ্যে মীখা

আর তার পুত্র শামীর।

25মীখার ভাই যিশিয়র

পুত্রদের মধ্যে সখরিয়।

26মরারির উত্তরপুরুষদের মধ্যে মহলি, মূশি আর যাসিয়।

27এবং যাসিয়ের পুত্ররা ছিল শোহম, সক্কুর ও ইব্রি।

28মহলির পুত্র ইলিয়াসরের কোনো পুত্র ছিল না।

29কীশের পুত্রদের মধ্যে ছিলেন যিরহমেল।

30আর মূশির পুত্রদের মধ্যে মহলি, এদর আর যিরেমোৎ।

পরিবার অনুযায়ী এই সমস্ত লেবির নেতাদের নামই নথিভুক্ত আছে। 31তারা বিশেষ কাজের জন্য মনোনীত হয়েছিল। তারা তাদের আত্মীয় হারোনের উত্তরপুরুষদের যাজকদের মতো ঘুঁটি চালতো। তারা লেবীয়র রাজা দায়ূদ, সাদোক অহীমেলক এবং যাজক ও লেবীয় পরিবারের নেতাদের সামনে ঘুঁটি চেলে ঠিক করতেন যে কে কি কাজ করবে। কাজের ভার দেবার সময় বড় পরিবার ও ছোট পরিবারগুলির সঙ্গে একই রকম ব্যবহার করা হত।

25

গায়ক গোষ্ঠী

1দায়ূদ এবং সৈন্যাধ্যক্ষরা আসফের পুত্র হেমন আর যিদূথূনের ঈশ্বরের দৈববাণী বীণা, তানপুরা, খোল ও কর্তালের সঙ্গে গানের মাধ্যমে পরিবেশন করার জন্য পৃথক করেছিলেন। এই কাজে যাঁরা নিযুক্ত হয়েছিলেন তাঁদের তালিকা নিম্নরূপ:

2আসফের পরিবার থেকে এই কাজের জন্য দায়ূদ আসফকে বেছে নিয়েছিলেন। আসফ তাঁর পুত্র সক্কুর, যোষেফ, নথনিয় ও অসারেলকে এই কাজে নেতৃত্ব দিতেন।

3যিদূথূনের পরিবার থেকে যিদূথূন তাঁর ছয় পুত্র গদলিয়, সরী, শিমিয়ি, যিশায়াহ, হশবিয় ও মত্তিথিয়কে নিয়ে বীণা বাজিয়ে প্রভুর প্রশংসা করতেন ও প্রভুকে ধন্যবাদ দিতেন।

4দায়ূদের নিজস্ব ভাববাদী হেমনের পুত্রদের মধ্যে ছিলেন বুক্কিয়, মত্তনিয়, উষীয়েল, শবূয়েল, যিরীমোৎ, হনানিয়, হনানি, ইলীয়াথা, গিদ্দল্তি, রোমাম্তি, এষর, যশ্বকাশা, মল্লোথি, হোথীর, মহসীয়োৎ প্রমুখ। 5ঈশ্বর হেমনকে বলশালী ও বীর্যবান করেছিলেন। তাঁর চোদ্দ জন পুত্র আর তিনটি কন্যা ছিল।

6প্রভুর মন্দিরে বীণা, তানপুরা, খোল ও কর্তাল সহ সঙ্গীতে হেমন তাঁর পুত্রদের নেতৃত্ব দিতেন। আর রাজা ছিলেন আসফ, যিদূথূন এবং হেমনের আদেশকর্ত্তা। দায়ূদ নিজে এদের সবাইকে মনোনীত করেছিলেন। 7এদের এবং লেবি পরিবারগোষ্ঠী এদের আত্মীয়দের মোট 288 জনকে প্রভুর প্রশংসা করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। 8কে কি করবে তার জন্য অক্ষ নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এখানে নবীন এবং প্রবীণ, শিক্ষক এবং ছাত্র সকলের সাথে সমান ব্যবহার করা হত।

9প্রথম বার আসফ (যোষেফ) এর পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

দ্বিতীয় বার গদলিয়র পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

10তৃতীয় বার সক্কুরের পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

11চতুর্থ বার যিষ্রি পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

12পঞ্চম বার নথনিয়়র পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

13ষষ্ঠ বার বুক্কিয়়র পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

14সপ্তম বার যিশারেলার পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

15অষ্টম বার যিশায়াহের পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

16নবম বার মত্তনিয়র পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

17দশম বার শিমিয়ির পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

18একাদশ বারে অসরেলের পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

19দ্বাদশ বারে হশবিয়ের পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

20ত্রয়োদশ বারে শবূয়েলের পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

21চতুর্দশ বারে মত্তিথিয়র পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

22পঞ্চদশ বারে যিরেমোতের পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

23ষষ্টদশ বারে হনানিয়র পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

24সপ্তদশ বারে যশ্বকাশার পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

25অষ্টাদশ বারে হনানির পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

26উনবিংশতি বারে মল্লোথির পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

27বিংশতি বারে ইলীয়াথার পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

28একবিংশতি বারে হোথীর পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

29দ্বাবিংশতি বারে গিদ্দল্তির পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

30ত্রয়োবিংশতি বারে মহসীয়োতের পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

31আর চতুর্বিংশতি বারে রোমাম্তি এষরের পরিবার থেকে 12 জন পুত্র এবং আত্মীয়কে বাছা হয়েছিল।

26

দ্বাররক্ষীদের গোষ্ঠী

1দ্বাররক্ষীদের গোষ্ঠীর মধ্যে:

আসফের পরিবারগোষ্ঠীর কোরহ পরিবার থেকে ছিলেন কোরহের পুত্র মশেলিমিয় আর তাঁর পুত্ররা। 2মশেলিমিয়র পুত্রদের নাম যথাক্রমে সখরিয়, যিদীয়েল, সবদিয়, যৎনীয়েল, 3এলম, যিহোহানন আর ইলিহৈনয়।

4ওবেদ-ইদোমের পরিবার থেকে ছিলেন তাঁর পুত্ররা, যথাক্রমে—শময়িয়, যিহোষাবদ, যোয়াহ, সাখর, নথনেল, 5অম্মীয়েল, ইষাখর আর পিয়ূল্লতয়। ওবেদ-ইদোম ঈশ্বরের আশীর্বাদে ধন্য হয়েছিলেন। 6তাঁর পুত্র শময়িয়র পুত্ররাও ছিলেন বীরযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের নেতা। 7শময়িয়র পুত্রদের নাম অৎনি, রফায়েল, ওবেদ, ইল্সাবদ, ইলীহূ ও সমথিয়। ইল্সাবদের আত্মীয়রা ছিলেন দক্ষ ও কুশলী কর্মী। 8ওবেদ-ইদোমের 62 জন উত্তরপুরুষের সকলেই ছিলেন প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তি এবং সুদক্ষ দ্বাররক্ষক।

9মশেলিমিযর পরিবার থেকেও ছিলেন শক্তিশালী ও সুদক্ষ 18 জন।

10মরারি পরিবার থেকে ছিলেন হোষার পুত্র শিম্রি। শিম্রি আসলে বড় ছেলে না হলেও তাঁর পিতা তাঁকেই প্রথম জাত সন্তান বলে মনোনীত করেছিলেন। 11এছাড়া ছিলেন যথাক্রমে হিল্কিয়, টবলিয়, সখরিয়—সব মিলিয়ে মোট 13 জন।

12এঁরা হলেন দ্বাররক্ষীদের দলের নেতারা এবং তাঁদের আত্মীয়দের মতোই তাঁরাও প্রভুর মন্দিরে সেবা করতেন। 13দ্বাররক্ষীদের প্রত্যেক গোষ্ঠীকে একটি নির্দিষ্ট দরজা পাহারা দিতে হত। অক্ষ নিক্ষেপ করে এই দরজা বেছে নেওয়া হত এবং একাজে বড় ও ছোট পরিবারদের সমান গুরুত্ব দেওয়া হত।

14মশেলিমিয়কে বাছা হয়েছিল পূর্ব দিকের দরজা পাহারা দেবার জন্য। এরপর অক্ষ নিক্ষেপ করে উত্তর দিকের দরজার ভার দেওয়া হয় তাঁর পুত্র বিচক্ষণ সখরিয়কে। 15ওবেদ-ইদোম পান দক্ষিণ দিকের দরজার দায়িত্ব। ওবেদ-ইদোমের পুত্রদের মন্দিরের ধনাগার রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়। 16শুপ্পীম আর হোষা পশ্চিম দিকের দরজা এবং উত্তরাপথের শল্লেখৎ ফটক রক্ষার দায়িত্ব পান।

এই সমস্ত রক্ষীরা সকলে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকতেন। 17প্রত্যেক দিন সকালে 6 জন লেবীয় দাঁড়াতেন পূর্বদিকের ফটকে, চার জন দক্ষিণ দিকের ফটকে, চার জন উত্তরের ফটকে, দুজন ধনাগারের সামনে, 18চার জন পশ্চিমদিকের উঠোনে আর দুজন উঠোনের রাস্তার মুখে।

19মরারি ও কোরহ গোষ্ঠীর দ্বাররক্ষীরা এইভাবে মন্দিরে পাহারা দিতেন।

কোষাধ্যক্ষ ও অন্যান্য আধিকারিকবর্গ

20লেবীয় পরিবারগোষ্ঠীর অহিয়র দায়িত্ব ছিল ঈশ্বরের মন্দিরের দুর্মূল্য জিনিসপত্র ও কোষাগার আগলে রাখা।

21গের্শোন বংশের লাদন পরিবারগোষ্ঠীর নেতাদের একজন ছিলেন যিহীয়েলি। 22যিহীয়েলির পুত্র সেথম আর তাঁর ভাই যোয়েলেরও কাজ ছিল প্রভুর মন্দিরের মূল্যবান জিনিসপত্রের ওপর নজর রাখা।

23এছাড়া অম্রাম, যিষহর, হিব্রোণ আর উষীয়েলের পরিবারগোষ্ঠী থেকে অন্যান্য দলপতিদের বেছে নেওয়া হয়েছিল।

24প্রভুর মন্দিরের দুর্মূল্য জিনিসপত্র যারা দেখাশোনা করত, গের্শোনের পুত্র মোশির পৌত্র শবূয়েল তাঁদের নেতা ছিল। 25এঁরা ছিলেন শূবয়েলের আত্মীয়রা: ইলিয়ষেরের থেকে তাঁর আত্মীয়রা ছিলেন: ইলীয়ষেরের পুত্র রহবিয়, রহবিয়র পুত্র যিশায়াহ, যিশায়াহর পুত্র যোরাম, যোরামের পুত্র সিখ্রি আর সিখ্রির পুত্র শলোমোৎ। 26শলোমোৎ আর তাঁর আত্মীয়দের কাজ ছিল দায়ূদ মন্দিরের জন্য যে সব জিনিসপত্র সংগ্রহ করেছেন তার দেখাশোনা করা।

সেনাবাহিনীর অধ্যক্ষরাও মন্দিরের জন্য অনেক কিছু দান করেছিলেন। 27তাঁরা যুদ্ধের সময় যে সব জিনিস আহরণ করেছিলেন তার অনেক কিছুই প্রভুর মন্দির বানানোর কাজে দান করেন। 28শলোমোৎ আর তাঁর আত্মীয়রা ভাববাদী শমূয়েল, কীশের পুত্র শৌল, নেরের পুত্র অব্নের, সরূয়ার পুত্র যোয়াবের দেওয়া পবিত্র ও দুর্মূল্য সম্পদ এবং লোকেরা প্রভুর মন্দিরে যে সব জিনিসপত্র দান করতেন তার দেখাশোনা করতেন।

29যিষ্‌হর বংশের কনানিয় ও তাঁর পুত্রদের মন্দিরের বাইরে ইস্রায়েলে বিভিন্ন জায়গায় আধিকারিক ও বিচারকের কাজ দেওয়া হয়েছিল। 30হিব্রোণ বংশের হশবিয় আর তাঁর আত্মীয়রা 1700 জন সৈন্যসহ ইস্রায়েলে যর্দন নদীর ওপারে পশ্চিমদিক পর্যন্ত প্রভুর যাবতীয় কাজ এবং রাজার কাজের দায়িত্বে ছিলেন। 31হিব্রোণ বংশের পারিবারিক ইতিহাস থেকে জানা যায় যে যিরিয় ছিলেন এই বংশের নেতা। দায়ূদের রাজত্বের 40 তম বছরে, তিনি লোকদের পারিবারিক ইতিহাস ঘেঁটে শক্তিশালী ও দক্ষ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। গিলিয়দের যাসেরে বসবাসকারী হিব্রোণ পরিবারের অনেককে এইভাবে খুঁজে বার করা হয়েছিল। 32যিরিয়র মোট 2700 জন শক্তিশালী ও কর্মপটু আত্মীয় ছিলেন, যাঁরা তাঁদের পরিবারের নেতা। রাজা দায়ূদ এই 2700 জনকে রূবেণ, গাদ ও মনঃশি পরিবারগোষ্ঠীর অর্ধেককে নেতৃত্ব দেবার দায়িত্ব দিলেন, যারা প্রভু ও রাজার কাজে নিযুক্ত ছিলেন।

27

সৈন্যদল

1রাজার সৈন্যবাহিনীতে যে সমস্ত ইস্রায়েলীয়রা কাজ করতেন এবারে তার একটা তালিকা দেওয়া যাক। 24,000 সেনার এক একটি দল প্রতি মাসে একটা দল হিসেবে সারা বছর জুড়ে কাজে নিযুক্ত থাকত। এই দলে পরিবারের নেতা থেকে শুরু করে সেনাপতি, সৈন্যাধ্যক্ষ, সাধারণ সান্ত্রী সবাই থাকত।

2 বছরের প্রথম মাসে 24,000 সৈন্যর যে দলটি কাজ করত তাদের দায়িত্বে থাকতেন পেরসের উত্তরপুরুষ সব্দীয়েলের পুত্র যাশবিয়াম। প্রথম মাসে যাশবিয়াম সৈন্যাধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করতেন।

4দ্বিতীয় মাসের দলটির দায়িত্বে থাকতেন অহোহর দোদয়। তাঁর দলে 24,000 লোক ছিল।

5তৃতীয় মাসের সেনাপতি ছিলেন নেতৃস্থানীয় যাজক যিহোয়াদার পুত্র বনায়। তাঁর দলে 24,000 পুরুষ ছিল। 6তাঁকে পরিচালনার কাজে তাঁর পুত্র অম্মীষাবাদ সাহায্য করতেন। বনায় ছিলেন সেই তিরিশ জন বীর যোদ্ধার অন্যতম।

7চতুর্থ মাসের সেনাপতি ছিলেন যোয়াবের ভাই অসাহেল। তাঁর পরে তাঁর পুত্র সবদিয় এই দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তাঁর দলে 24,000 পুরুষ ছিল।

8পঞ্চম মাসের সেনাপতি হিসেবে কাজ করেছিলেন সেরহ পরিবারের শমহূত্‌। তাঁর দলে 24,000 পুরুষ ছিল।

9ষষ্ঠ মাসে সৈন্যদল পরিচালনা করতেন তকোয়ার ইক্কেশের পুত্র ঈরা। তাঁর দলে 24,000 পুরুষ ছিল।

10সপ্তম মাসের দায়িত্বে ছিলেন ইফ্রয়িমের উত্তরপুরুষের পলোনার অধিবাসী হেলস। তাঁর দলে 24,000 পুরুষ ছিল।

11অষ্টম মাসের দায়িত্বে ছিলেন হূশাতের অধিবাসী সেরহ পরিবারের সিব্বখয়। তাঁর দলে 24,000 পুরুষ ছিল।

12নবম মাসের দায়িত্বে ছিলেন অনাথোতের বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর অবীয়েষর। তাঁর দলে 24,000 পুরুষ ছিল।

13নটোফাতের সেরহ পরিবারের মহরয়ের দায়িত্ব ছিল দশম মাসের সৈন্যদল পরিচালনা করা। তাঁর দলে 24,000 পুরুষ ছিল।

14পিরিয়াথোনের ইফ্রয়িম পরিবারগোষ্ঠীর বনায় একাদশ মাসে সৈন্যদল পরিচালনা করতেন। তাঁর দলে 24,000 পুরুষ ছিল।

15এবং দ্বাদশ মাসে সৈন্যদল পরিচালনা করতেন নটোফাতের অৎনিয়েল পরিবারের হিল‌্দয়। তাঁর দলে 24,000 পুরুষ ছিল।

পরিবারগোষ্ঠীর নেতারা

16ইস্রায়েলের বিভিন্ন পরিবারগোষ্ঠীর নেতারা ছিলেন:

রূবেণের বংশে: সিখ্রির পুত্র ইলীয়েষর,

শিমিয়োন বংশে: মাখার পুত্র শফটিয়।

17লেবির বংশে: কমূয়েলের পুত্র হশবিয়,

হারোণ বংশে: সাদোক।

18যিহূদার বংশে: ইলীহূ নামে দায়ূদের জনৈক ভাই।

ইষাখরের বংশে: মীখায়েলের পুত্র অম্রি।

19সবূলূনের বংশে: ওবদিয়র পুত্র যিশ্মায়য়,

নপ্তালির বংশে: অস্রীয়েলের পুত্র যিরেমোৎ।

20ইফ্রয়িম বংশে: অসয়িয়ের পুত্র হোশেয়,

পশ্চিম মনঃশিতে: পদায়ের পুত্র যোয়েল।

21এবং পূর্ব মনঃশিতে: সখরিয়র পুত্র যিদ্দো,

বিন্যামীন বংশে: অব্নেরের পুত্র যাসীয়েল এবং

22দান বংশের নেতা ছিলেন যিরোহমের পুত্র অসরেল।

এঁরাই ইস্রায়েল পরিবারগোষ্ঠীর নেতা ছিলেন।

দায়ূদের ইস্রায়েলীয়দের গণনা

23রাজা দায়ূদ ইস্রায়েলের জনসংখ্যা গণনা করবেন বলে মনস্থির করেছিলেন। কিন্তু ইস্রায়েলের জনসংখ্যা প্রায় গণনার অতীত ছিল কারণ ঈশ্বর বলেছিলেন, মহাকাশের অগণিত নক্ষত্রের মতোই তিনি ইস্রায়েলের জনসংখ্যা বৃদ্ধি করবেন। দায়ূদ কেবলমাত্র 20 বছর বা তার বেশি বয়সের যারা ইস্রায়েলে বাস করত তাদের গণনা করেছিলেন। 24সরূয়ার পুত্র যোয়াবকে দিয়ে তাদের জনসংখ্যা গণনার কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু তাও শেষ হয়নি। এর ফলে ঈশ্বর লোকদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন; যে কারণে রাজা দায়ূদের ইতিহাস গ্রন্থে ইস্রায়েলের কোন জনসংখ্যার উল্লেখ করা হয় নি।

রাজার প্রশাসকবর্গ

25রাজসম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যাঁদের ওপর দেওয়া হয়েছিল তাঁদের তালিকা নিম্নরূপ:

অদীয়েলের পুত্র অস্মাবৎ ছিলেন রাজার কোষাধ্যক্ষ।

গ্রাম, দুর্গ ও ছোট শহরগুলোর কোষাগারের দায়িত্বে ছিলেন উষিয়ের পুত্র যোনাথন।

26কলূবের পুত্র ইষ্রি কৃষকদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন।

27রামার শিমিয়ির কাজ ছিল রাজার দ্রাক্ষা ক্ষেতগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করা।

এই সমস্ত ক্ষেত থেকে যে দ্রাক্ষারস প্রস্তুত হত শিফমের সব্দি তার রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি করতেন।

28গদেরের বাল-হানন পশ্চিমের পার্বত্য অঞ্চলের জলপাই গাছগুলি এবং সুকমোর+ 27:28 সুকমোর এক ধরণের ডুমুর গাছ। গাছগুলি রক্ষণাবেক্ষণ করতেন।

তেলের ভাঁড়ার সামলাতেন যোয়াশ।

29শারোণের আশেপাশের গবাদি পশুর দায়িত্ব ছিল সিট্রয়ের ওপর।

অদ্লয়ের পুত্র শাফট ছিলেন সমভূমিতে যে সমস্ত গবাদি পশু চরে বেড়ায় তার দায়িত্বে।

30উট তদারকির দায়িত্ব ছিল ইশ্মায়েলের ওবীলের ওপর।

গাধার তদারকিতে ছিলেন মেরোণোথের যেহদিয়।

31মেষ চরাতেন হাগরের যাসীষ।

এই সমস্ত লোকরা ছিলেন নেতা যাঁরা রাজা দায়ূদের সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন।

32দায়ূদের কাকা যোনাথন ছিলেন বিচক্ষণ পরামর্শদাতা ও লেখক। হক্মোনির পুত্র যিহীয়েল রাজপুত্রদের দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। 33অহীথোফল ছিলেন রাজার মন্ত্রণাদাতা এবং অর্কীয় হূশয় ছিলেন রাজার বন্ধু। 34পরবর্তীকালে মন্ত্রণাদাতা হিসেবে অহীথোফলের জায়গা নিয়েছিলেন বনায়ের পুত্র যিহোয়াদা আর অবিয়াথর। সেনাবাহিনীর অধ্যক্ষর দায়িত্বে ছিলেন যোয়াব।

28

দায়ূদের মন্দির পরিকল্পনা

1রাজা দায়ূদ ইস্রায়েলের সমস্ত পরিবারগোষ্ঠীর নেতাদের, সৈন্যদলের সেনাপতিদের, সৈন্যাধ্যক্ষদের, সেনানায়কদের ও সৈনিকদের, বীর যোদ্ধাদের, রাজকর্মচারী, যারা রাজার সম্পত্তি এবং রাজা ও রাজপুত্রের পশুগুলি দেখাশুনা করতেন এবং রাজার গন্যমান্য আধিকারিকদের জেরুশালেমে আসতে নির্দেশ দিলেন।

2এঁরা সকলে এক জায়গায় জড়ো হবার পর রাজা দায়ূদ উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, “আমার লোকরা ও আমার ভাইরা, আমার মনে বহু দিন ধরে ইচ্ছে ছিল প্রভুর সাক্ষ্যসিন্দুকটা রাখার মতো একটা জায়গা বানানো। আমি চেয়েছিলাম সেই জায়গাটি হবে ঈশ্বরের পাদুকাদানি।+ 28:2 পাদুকাদানি এখানে এর অর্থ পবিত্র সিন্দুক। ঈশ্বর যেন রাজা, তাঁর সিংহাসনে মন্দিরের পবিত্র সিন্দুকের ওপর পা উঠিয়ে বসে আছেন যা দায়ূদ তৈরী করতে চেয়েছিলেন। এ কারণে আমি ঈশ্বরের একটা মন্দির বানানোর পরিকল্পনাও করেছিলাম। 3কিন্তু ঈশ্বর আমায় বললেন, ‘দায়ূদ, তুমি একজন সৈনিক। বহু লোককে তুমি হত্যা করেছ। তুমি কখনোই আমার নামে একটি বাড়ি বানাবে না কারণ তুমি রক্তপাত ঘটিয়েছ।’

4“প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর যিহূদার পরিবারগোষ্ঠীকে ইস্রায়েলের 12টি মূল পরিবারগোষ্ঠীকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আর ঐ পরিবারগোষ্ঠী থেকে আমার পিতার পরিবার ও আমাকে বরাবরের মতো ইস্রায়েলে রাজত্ব করার জন্য প্রভু মনোনীত করেছিলেন। 5প্রভু আমাকে বহুপুত্রক করেছেন এবং তার মধ্যে থেকে আমার পুত্র শলোমনকে তিনি ইস্রায়েলের নতুন রাজা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইস্রায়েল হল প্রভুর রাজত্ব। 6প্রভু আমাকে বললেন, ‘দায়ূদ, তোমার পুত্র শলোমন আমার মন্দির ও তার সংলগ্ন সব কিছু বানাবে। কেন? কারণ আমি শলোমনকে আমার সন্তান হিসেবে বেছে নিয়েছি এবং আমি হব তার পিতা। 7শলোমন আমার বিধি এবং আদেশগুলো বর্তমানে মেনে চলে। ও যদি বরাবর তাই করে আমিও তাহলে চিরদিনের মতো শলোমনের রাজত্বের ভিত শক্তিশালী ও দৃঢ় করে তুলব।’”

8দায়ূদ বলল, “এখন, ইস্রায়েলের সমস্ত লোক এবং ঈশ্বরের সাক্ষাতে আমি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছি, যত্ন সহকারে এবং ভক্তিভরে প্রভুর সমস্ত নীতি-নির্দেশ মেনে চলো। একমাত্র তাহলেই তোমরা এই ভালো ভূখণ্ডের অধিকারী হতে পারবে এবং এই দেশ চির দিনের মতো তোমাদের উত্তরপুরুষদের হাতে তুলে দিয়ে যেতে পারবে।

9“আর তুমি আমার পুত্র শলোমন, তুমিও ঈশ্বরকে পিতা রূপে জানবে। পবিত্র মনে, আনন্দ ও ভক্তিভরে আজীবন ঈশ্বরের সেবা করো। কারণ ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজমান, তিনি তোমার মনের সমস্ত কথাই জানতে পারেন। তুমি যদি কখনও তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো, তিনি নিশ্চয়ই তোমার ডাকে সাড়া দেবেন। আর যদি কখনও তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, তিনিও চিরদিনের মত তোমায় ত্যাগ করে যাবেন। 10মনে রেখো, প্রভু স্বয়ং তাঁর মন্দির বানানোর কাজ তোমার হাতে অর্পণ করেছেন। সুতরাং সবল হও এবং সফলতার সঙ্গে এটি সম্পূর্ণ কর।”

11এরপর দায়ূদ, তাঁর পুত্র শলোমনের হাতে মন্দির ও তার শৌধ, ভাঁড়ার ঘর, ওপর তলার ঘর, এর ভেতরের ঘর, করুণা আসনের ঘর—এ সবের নকশা তুলে দিলেন। 12দায়ূদ মন্দিরের, এমনকি মন্দিরের উঠানের, এর চারদিকের ঘরের, মন্দিরে ব্যবহৃত পবিত্র জিনিষপত্র রাখার মত ভাঁড়ার ঘর সব কিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিকল্পনা করেছিলেন। তারপর তিনি এইসব পরিকল্পনা শলোমনকে দেন। 13তিনি যাজক ও লেবীয়দের কার্যাবলী সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিলেন। তিনি প্রভুর মন্দির তৈরীর সমস্ত কাজ সম্পর্কে এবং ঈশ্বরের সেবায় যত জিনিষ ব্যবহৃত হয় সব কিছু সম্পর্কেও নির্দেশ দিলেন। 14 এছাড়াও তিনি শলোমনকে মন্দির সেবার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র বানাতে কি পরিমাণ সোনা এবং রূপো লাগবে তা বোঝালেন। সোনার বাতি ও সোনার বাতিদান, রূপোর বাতি ও রূপোর বাতিদান এবং বিভিন্ন বাতিদানগুলি তাদের ব্যবহার অনুযায়ী কোথায় থাকবে তাও পরিকল্পনা করা ছিল। 16দায়ূদ বললেন, পবিত্র রুটি রাখার জন্য কত সোনার প্রয়োজন হবে এবং রূপোর টেবিলের জন্য কতটা রূপো লাগবে। 17কাঁটাচামচ ও বাসনপত্রের ও কলসের জন্য কি পরিমাণ খাঁটি সোনা দরকার। 18এবং কলম তৈরীর জন্য কতটা খাঁটি সোনা ব্যবহৃত হবে, প্রতিটি সোনার পাত্রের জন্য কতটা সোনা এবং প্রতিটি রূপোর পাত্রের জন্য কতটা রূপো ব্যবহৃত হবে, যেখানে ধুপ রাখা হবে সেই বেদীটি বানাতে কতটা সোনা দরকার, এসবই দায়ূদ শলোমনকে ভাল করে বুঝিয়ে দিলেন এবং প্রভুর রথ, করুণা আসন+ 28:18 করুণা আসন হিব্রুতে এর অর্থ “ঢাকনা” বা “জায়গা যেখানে পাপ ক্ষমা করা হয়।” এবং সাক্ষ্যসিন্দুকের ওপর ডানা ছড়িয়ে রাখা সোনার করুব দূতদের জন্য তিনি যত নকশা ও পরিকল্পনা করেছিলেন সে সমস্তই শলোমনকে দিলেন।

19দায়ূদ বললেন, “এসব প্রভুর আদেশে আমিই লিপিবদ্ধ করেছি। প্রভু আমাকে এই সমস্ত নকশার সব কিছু ভাল করে বুঝতে ও করতে সাহায্য করেছিলেন।”

20এছাড়াও দায়ূদ তাঁর পুত্র শলোমনকে বললেন, “ভয় পেও না। বুকে সাহস নিয়ে বীরের মতো এই কাজ শেষ করো। আমার প্রভু ঈশ্বর একাজে তোমার সহায় হবেন। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি স্বয়ং তোমার পাশে পাশে থাকবেন, তোমাকে ছেড়ে যাবেন না। তুমি অবশ্যই প্রভুর মন্দির বানাতে পারবে। 21যাজক ও লেবীয়রা ছাড়াও সমস্ত দক্ষ কারিগররা ঈশ্বরের মন্দির বানাতে তোমাকে সাহায্য করতে প্রস্তুত হয়ে আছে। রাজকর্মচারী ও লোকরাও তোমার সমস্ত নির্দেশ মেনে চলবে।”

29

মন্দির বানানোর জন্য উপহার

1ইস্রায়েলের যে সমস্ত লোক একসঙ্গে জড়ো হয়েছিল রাজা দায়ূদ তাদের বললেন, “ঈশ্বর যদিও আমার পুত্র শলোমনকে বেছে নিয়েছেন, ও এখনও তরুণ। এই কাজের মতো যথোপযুক্ত অভিজ্ঞতা বা বিচারবুদ্ধি ওর হয়নি। তবে এই কাজটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটা কোনো মানুষের বসতি বাড়ি তৈরির ব্যাপার নয়। এটা স্বয়ং প্রভু ঈশ্বরের জন্য। 2আমি আমার প্রভুর মন্দির বানানোর উপাদান প্রস্তুত করার জন্য আমার যথাসাধ্য করেছি। সোনার জিনিসের জন্য সোনা, রূপোর জিনিষের জন্য রূপো দিয়েছি। আমি পিতলের জিনিষপত্রের জন্য পিতল দিয়েছি। লোহা আর কাঠের জিনিসের জন্য আমি লোহা আর কাঠ দিয়েছি। তাছাড়াও গোমেদক মণি, তেজস্বী পাথর, শ্বেত পাথর, নানা রঙের দুর্মূল্য পাথর ও অনেক কিছুই প্রভুর মন্দির বানানোর জন্য দিয়েছি। 3ঈশ্বরের মন্দির যাতে সত্যি সত্যিই ভাল ভাবে বানানো হয় সে জন্য আমি আরো বেশ কিছু পরিমাণ সোনা ও রূপো উপহার হিসেবে দিচ্ছি। 4ওফীর থেকে 110 টন খাঁটি সোনা ছাড়াও আমি মন্দিরের দেওয়াল মুড়ে দেবার জন্য 260 টন খাঁটি রূপো এই কাজের জন্য দান করছি। 5এইসব সোনা ও রূপো দিয়ে যাতে দক্ষ কারিগররা এবং যারা স্বেচ্ছাসেবক হবে প্রভুর কাছে মন্দিরের জন্য বিভিন্ন জিনিসপত্র বানাতে পারে সে জন্যই আমি এই সমস্ত কিছু দিলাম।”

6ইস্রায়েলের কিছু পরিবারগোষ্ঠীর নেতারা, সৈন্যাধ্যক্ষ, সেনাপতি, সেনানায়ক থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরা সকলেই স্বেচ্ছায় আধিকারিকদের সঙ্গে রাজার এই পরিকল্পনায় কাজ করতে এগিয়ে এলেন। 7তাঁরা ঈশ্বরের গৃহে সব মিলিয়ে 190 টন সোনা, 375 টন রূপো, 675 টন পিতল, 3750 টন লোহা তো দান করলেনই, 8উপরন্তু যাদের কাছে দামী ও দুর্মূল্য পাথর ছিল তাঁরা সেগুলিও দান করলেন। গের্শোন পরিবারের যিহীয়েল এই সমস্ত দামী পাথরের দায়িত্ব নিলেন। 9লোকরা সকলেই খুব উৎ‌ফুল্ল ছিল যেহেতু তাদের নেতারা খুশি মনে এই সমস্ত দান করছিলেন। রাজা দায়ূদও খুবই আনন্দিত হলেন।

দায়ূদের অনুপম প্রার্থনা

10রাজা দায়ূদ তারপর সমবেত লোকদের সামনে প্রভুর প্রশংসা করে বললেন:

“প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর, হে আমাদের পিতা,

যুগে যুগে, আবহমান কাল যেন তোমারই বন্দনা হয়!

11যা কিছু সত্য, শক্তি, মহিমা, বিজয় ও সন্মান, এসবই তো তোমার,

কারণ এই পৃথিবী ও আকাশ—এই মহাবিশ্বের সব কিছুই তোমার।

হে প্রভু, এই রাজত্বও তোমার।

তুমিই শীর্ষস্থানীয়। সব কিছুর শাসক, সবেরই নিয়ামক।

12সম্পদ ও সম্মান, তোমার কাছ থেকেই আসে।

তুমি সব কিছু শাসন কর।

ক্ষমতা ও শক্তি তোমার হাতে রয়েছে।

একমাত্র তুমিই আর কাউকে মহান ও শক্তিশালী করতে পার।

13হে আমাদের ঈশ্বর, তোমাকে ধন্যবাদ,

আমরা সকলে তোমারই মহান নাম বন্দনা করি।

14আমরা যা কিছু দান করেছি প্রকৃতপক্ষে সেসব আমার বা আমার লোকদের কাছ থেকে আসেনি।

সে সব তোমার কাছ থেকেই এসেছে।

আমরা তোমায় তাই দিচ্ছি যা আমরা তোমার হাত থেকেই পেয়েছি।

15আমরা তো আমাদের পূর্বপুরুষের মতোই এই পৃথিবীতে শুধুই পথিক,

আমাদের জীবন এই পৃথিবীতে ক্ষণিকের ছায়া মাত্র ও আশাবিহীন।

16হে আমাদের প্রভু, তোমার নামকে সম্মানিত করবার জন্য,

তোমার মন্দির তৈরী করবার জন্য আমরা যা কিছু সংগ্রহ করেছি

তার সবই তোমার কাছ থেকেই এসেছে।

এ সমস্ত তোমারই।

17আমার ঈশ্বর, আমি জানি তুমি মানুষের পরীক্ষা নাও

আর যখন কেউ ভাল কিছু করে তুমি আনন্দিত হও।

আমার অন্তঃকরণ থেকে এই সমস্ত কিছু

আমি তোমায় দান করলাম।

আমি দেখতে পাচ্ছি, তোমার ভক্তরা সবাই আজ এখানে জড়ো হয়েছে

আর তোমাকে এইসব কিছু দেওয়া হচ্ছে বলে, তারা সকলেই খুবই আনন্দিত।

18প্রভু, তুমি আমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম,

ইস‌্হাক আর ইস্রায়েলের ঈশ্বর।

তোমার ভক্তদের সঠিক পরিকল্পনায় সাহায্য করো।

তোমার প্রতি তাদের ভক্তি ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রাখতেও সাহায্য করো!

19আর আমার পুত্র শলোমনেরও যাতে তোমার প্রতি অটুট ভক্তি থাকে,

তোমার বিধি ও নির্দেশ যাতে মেনে চলতে পারে তা তুমি দেখো।

আমি যে রাজধানীর পরিকল্পনা করেছি তা বানাতে

তুমি শলোমনকে সাহায্য করো।”

20তারপর দায়ূদ সমবেত সমস্ত ধরণের লোকদের উদ্দেশ্য করে বললেন, “এবার তোমরা সকলে মিলে প্রভু তোমাদের ঈশ্বরের প্রশংসা করো।” তখন সমবেত লোকরা তাদের পূর্বপুরুষের প্রভু ঈশ্বরের প্রশংসা করতে লাগলেন। মাটিতে মাথা নত করে তারা সকলে প্রভু ও রাজার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলো।

শলোমন রাজা হলেন

21পরের দিন লোকরা প্রভুর উদ্দেশ্যে পেয় নৈবেদ্যসহ 1000 ষাঁড়, 1000 মেষ ও 1000 মেষশাবক বলিদান করল এবং হোমবলি উৎসর্গ করল। এবং ইস্রায়েলের সমস্ত লোকেদের উৎসবে খাওয়ার জন্য প্রচুর পরিমাণে মঙ্গল নৈবেদ্য উৎসর্গ করল। 22প্রভুর সামনে বসে পানাহার করতে করতে সেদিন সকলে উল্লসিত হয়ে উঠেছিল।

এরপর সকলে মিলে সেখানেই পবিত্র তেল ছিটিয়ে দ্বিতীয় বারের জন্য শলোমনকে রাজপদে ও সাদোককে যাজকের পদে অভিষিক্ত করল।

23তারপর শলোমন রাজা হয়ে তাঁর পিতার জায়গায় প্রভুর সিংহাসনে বসলেন। শলোমন জীবনে খুবই সফল হয়েছিলেন। ইস্রায়েলের সকলেই শলোমনকে মান্য করতেন। 24সমস্ত নেতা, সৈনিক, দায়ূদের অন্যান্য পুত্ররাও তাঁকে রাজা হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন এবং তাঁর আজ্ঞাধীন ছিলেন। 25প্রভু শলোমনকে অত্যন্ত মহৎ‌‌ ও শক্তিশালীও করেছিলেন আর ইস্রায়েলের সমস্ত লোক একথা জানতেন। প্রভু শলোমনকে একজন রাজার যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়েছিলেন যা তাঁর আগে ইস্রায়েলের অন্য কোন রাজাই পাননি।

দায়ূদের মৃত্যু

26 যিশয়ের পুত্র দায়ূদ 40 বছর ইস্রায়েলে রাজত্ব করেছিলেন। তিনি হিব্রোণে সাত বছর এবং জেরুশালেমে 33 বছর রাজত্ব করেন। 28ভাল ও দীর্ঘ জীবনযাপন করার পর বার্ধক্যের কারণে দায়ূদের মৃত্যু হয়। তিনি জীবনে বহু সম্পত্তি ও খ্যাতি লাভ করেছিলেন। তাঁর পরে তাঁর পুত্র শলোমন নতুন রাজা হলেন।

29রাজা দায়ূদ আজীবন যে সমস্ত কাজ করেছিলেন তা ভাববাদী শমূয়েল, ভাববাদী নাথন ও ভাববাদী গাদের লেখা পুস্তকে বর্ণিত হয়েছে। 30এই সমস্ত পুস্তকে ইস্রায়েলের রাজা হিসেবে তিনি যা কিছু কাজ করেছিলেন সে সবেরই উল্লেখ আছে। এই সমস্ত লেখকরা ইস্রায়েল ও তার প্রতিবেশী রাজ্যের বিবরণ এবং দায়ূদের ক্ষমতা শক্তি ও তাঁর জীবনের সমস্ত ঘটনা লিখে গিয়েছেন।